Tag: water falls

water falls

  • Baranti: ছোট ছোট পাহাড়, ঝর্না, শাল-পলাশ-শিমুল-মহুয়া গাছের অরণ্য, ‘বড়ন্তি’ যেন ছবি!

    Baranti: ছোট ছোট পাহাড়, ঝর্না, শাল-পলাশ-শিমুল-মহুয়া গাছের অরণ্য, ‘বড়ন্তি’ যেন ছবি!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বেড়াতে যাওয়া মানেই কি অনেক দূরে, নিজের রাজ্য ছেড়ে অন্য রাজ্যে পাড়ি দেওয়া? আমাদের নিজের রাজ্য, অর্থাৎ এই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এমন বহু স্থান, নৈসর্গিক সৌন্দর্যের নিরিখে যে স্থানগুলি অনায়াসে মুগ্ধ করতে পারে প্রকৃতিপ্রেমিক পর্যটকদের। এমনই একটি অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থান হল পুরুলিয়া জেলার ‘বড়ন্তি’ (Baranti)। এমনিতেই ছোট ছোট পাহাড়, ঝর্ণা, শাল, পলাশ, শিমুল, মহুয়া গাছের অরণ্য দিয়ে সাজানো এই পুরুলিয়া। আর এই পুরুলিয়ার প্রধান আকর্ষণ যদি হয় অযোধ্যা পাহাড়, দ্বিতীয় আকর্ষণ অবশ্যই হতে পারে এই বড়ন্তি।

    অরণ্যের ছায়ায় ঢাকা এই বড়ন্তি (Baranti)

    আদ্যন্ত আদিবাসী অধ্যুষিত ছোট্ট একটি পাহাড়ি গ্রাম বড়ন্তি। প্রকৃতি যেন নিজের হাতে সাজিয়েছেন বড়ন্তিকে। ছোট ছোট পাহাড়, সুবিশাল জলাশয়, অগভীর অরণ্য, সেই অরন্যের বুক চিরে চলে গিয়েছে লাল মাটির রাস্তা। দুপাশে ছোট ছোট আদিবাসী মানুষজনের মাটির কুটির। সেই সব আদিবাসী কুটিরের মাটির প্রাচীরের গায় রং-বেরঙের অসাধারণ আলপনার শিল্প। পূর্ণিমার রাতে যখন এই সব আদিবাসী গ্রাম থেকে ভেসে আসে বাঁশের বাঁশিতে ঝুমুর গানের সুর “কালো জলে কুচলা তলে ডুবলো সনাতন/আজ সারানা কাল সারানা পাই যে দরশন”-তখন মন উদাস হয়ে যায় বৈকি। শাল, পলাশ, মহুয়া গাছের অরণ্যর ছায়ায় ঢাকা এই বড়ন্তি (Baranti)। তার মাঝেই মুরাডি পাহাড়ের (Small hills) গা ঘেঁষে চলে গিয়েছে বড়ন্তি নদী। এই নদীর বুকেই বাঁধ দিয়ে তৈরি হয়েছে বড়ন্তি রামচন্দ্র জলসেচ প্রকল্প। চারদিকে ছোটখাট পাহাড়, বিশাল জলাধারে শীতকালে বসে হরেক রঙের হরেক কিসিমের পাখির মেলা। দেখা মেলে অসংখ্য বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখির। ইচ্ছে হলে বড়ন্তি থেকে ঘুরে আসা যায় মুরাডির ছিন্নমস্তা মন্দির বা প্রায় আধ ঘণ্টার দূরের জয়চণ্ডী পাহাড়, প্রায় সমদূরত্বে অবস্থিত বিহারীনাথ পাহাড়, গড় পঞ্চকোট থেকেও।

    যাতায়াত, থাকা-খাওয়া (Baranti)

    বড়ন্তি যাওয়ার জন্য প্রথমে আসতে হবে আসানসোল। হাওড়া থেকে প্রচুর ট্রেন আসছে আসানসোল। এখান থেকে লোকাল বা প্যাসেঞ্জার ট্রেনে সামান্য দূরত্বে অবস্থিত মুরাডি। মুরাডি থেকে অটো বা গাড়িতে মাত্র ৫ কিমি দূরে বড়ন্তি। এখানে রয়েছে রিসর্ট সলিটারি ভেল। এখানে বাচ্চাদের খেলার ব্যবস্থা, সুইমিং পুল, রেস্তোরাঁ, মিনি জু সহ সব রকমের সুব্যবস্থা আছে। ফোন ৯৪৩৪৩২২৫৩২, ৭৫৮৪০২৪৬৬৮। এছাড়াও আছে বড়ন্তি ভিলেজ রিসর্ট, বড়ন্তি (Baranti) ইকো ট্যুরিজম রিসর্ট প্রভৃতি।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Netarhat: নেতারহাটের ‘ম্যাগনোলিয়া পয়েন্ট’-এর ইতিহাস শুনলে আজও যেন গায়ে কাঁটা দেয়!

    Netarhat: নেতারহাটের ‘ম্যাগনোলিয়া পয়েন্ট’-এর ইতিহাস শুনলে আজও যেন গায়ে কাঁটা দেয়!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডের লাতেহার জেলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। এখানকার অন্যতম জনপ্রিয় এবং অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এক পর্যটনকেন্দ্র হল নেতারহাট। বিশেষ করে যাঁরা বেতলা অরণ্যে গিয়েছেন, নেতারহাট (Netarhat) না গেলে ভ্রমণটাই যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। সাধারণত বেতলা আর নেতারহাট একসঙ্গেই বেড়িয়ে নেন প্রকৃতিপ্রেমিক পর্যটকেরা। বেতলা থেকে নেতারহাটের সড়কপথে দূরত্ব প্রায় ১২০ কিমি। পথ হল এই রকম-বেতলা-কেড়-ছুপাদোহর-গাড়ু-মারুমার-বারেসাদ (এখান থেকেই জঙ্গলের ভিতরে রয়েছে আর একটি স্পট ‘সুগাবাধ’)।

    বারেসাদ থেকে মহুয়াডার। এখানে থেকে বাঁ দিকের উঁচু-নিচু, জঙ্গলাকীর্ণ পথে খানিকটা পথ গেলে দেখা যাবে এক অপূর্ব জলপ্রপাত ‘লোধ ফলস’। মহুয়াডার থেকে প্রায় ১৪ কিমি দূরে অবস্থিত এই জলপ্রপাতটি বুরহা নদীর জলধারা থেকে সৃষ্ট। এটি ঝাড়খণ্ডের উচ্চতম এবং ভারতের ২১ তম উচুঁ ফলস। প্রায় ১৪৩ মিটার উচ্চতা থেকে পাহাড়ের কঠিন পাথরের বুকে ধাক্কা খেতে খেতে নেমে এসেছে জলধার, যার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আসামান্য।

    ‘ম্যাগনোলিয়া পয়েন্ট’ (Netarhat)

    মহুয়াডার থেকে আরও প্রায় ১৯ কিমি পথ নেতারহাট। নেতারহাটের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ স্পট হল সান সেট পয়েন্ট, যার অপর নাম ‘ম্যাগনোলিয়া পয়েন্ট’। এই নামের পিছনে রয়েছে এক হৃদয়বিদারক ব্যর্থ প্রেমের গল্প। এক বৃটিশ তরুণী আর এক রাখাল যুবকের মধ্যেকার অসম প্রেম মেনে নিতে পারেননি তরুণীর উচ্চপদস্থ বৃটিশ রাজ কর্মচারীর বাবা। হঠাৎ-ই একদিন কোনও অজ্ঞাত কারণে নিখোঁজ হয়ে যান রাখাল যুবক। এর ঠিক পরেই সকলে দেখেন, এক বৃটিশ তরুণী প্রবল গতিতে ঘোড়া ছুটিয়ে এসে পাহাড়ের অতল খাদে মরণঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুবরণ করলেন। সেই থেকে এই জায়গার নাম ‘ম্যাগনোলিয়া পয়েন্ট’। কারণ, সেই বিরহের যন্ত্রণাকাতর বৃটিশ তরুণীর নাম ছিল যে ‘ম্যাগনোলিয়া’। এখানে দাঁড়িয়ে চতুর্দিকে ঢেউ খেলানো পাহাড়ের সারির মধ্যে ধীরে চারদিকে রক্তিম আলো ছড়িয়ে সূর্যের অস্ত যাওয়ার মনোরম দৃশ্য দেখতেই মানুষ এখানে (Netarhat) আসেন। ঘুরে নেওয়া যায় আপার ঘাঘড়ি নামের একটি ছোট্ট, কিন্তু অপূর্ব সুন্দর ঝর্নাও।

    লোয়ার ঘাঘড়ি ফলস (Netarhat)

    নেতারহাটের অন্যতম আকর্ষণ প্রায় ১০ কিমি দূরের লোয়ার ঘাঘড়ি ফলস। ঘন অরণ্যের অভ্যন্তরে, নির্জন পরিবেশে এই ফলসটি। ঘাঘড়ি নদীর জলধারা থেকে সৃষ্ট এই ফলসটি ভারতের ৩৩ তম উচুঁ ফলস। প্রায় ৩২২ ফুট উচ্চতা নেমে এসেছে জলধারা। অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। দেখে নিন এখানকার (Netarhat) ন্যাশপাতি বাগানগুলো, বিখ্যাত রেসিডেন্সিয়াল স্কুল প্রভৃতি।

    যাতায়াত এবং থাকা (Netarhat)

    দুভাবে ঘোরা যায় নেতারহাট-১) ট্রেনে বেতলা এসে গাড়ি নিয়ে নেতারহাট ঘুরে রাঁচি হয়ে ফেরা যায়। আবার রাঁচি গিয়ে সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে নেতারহাট-বেতলা ঘুরে ট্রেনে কলকাতা ফিরে আসা যায়। আর এই পথে রয়েছে বেশ কিছু বন বাংলো, ট্রি হাউজ প্রভৃতি (Netarhat)। এগুলোর বুকিংয়ের জন্য যোগাযোগ: ডিএফও, ডাল্টনগঞ্জ অথবা ফোন করুন ০৯৯৫৫৫২৭৩৭১ নম্বরে। আর নেতারহাটে আছে জেটিডিসি-র হোটেল বনবিহার (ফোন ০৯১০২৪০৩৮৮২) অথবা কলকাতায় এদের অফিস ১২-এ, ক্যামাক স্ট্রিট, কল-১৭ থেকে। আর জঙ্গল সাফারি প্রভৃতির জন্য যোগাযোগ করতে পারেন ০৬২০৬২২০৩১৪ নম্বরে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share