Tag: Water Security

  • Arunachal Pradesh: অরুণাচলে বাঁধবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে তাণ্ডব, আগুনে পুড়ল জলবিদ্যুৎ সংস্থার দফতর-থানা

    Arunachal Pradesh: অরুণাচলে বাঁধবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে তাণ্ডব, আগুনে পুড়ল জলবিদ্যুৎ সংস্থার দফতর-থানা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্যাপক হিংসা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের জেরে উত্তপ্ত অরুণাচল প্রদেশের (Arunachal Pradesh) পূর্ব সিয়াং জেলার পাসিঘাট এলাকা। প্রস্তাবিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার এই ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত জনতার হামলায় জাতীয় জলবিদ্যুৎ নিগমের একটি দফতর, স্থানীয় থানার ভবন এবং পুলিশের সাতটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে একাধিক পুলিশকর্মী জখম হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়তে হয় পুলিশকে (Mob Attacks)।

    প্রস্তাবিত সিয়াং উচ্চ বহুমুখী প্রকল্পের বিরোধিতায় ১২ ঘণ্টার বন্‌ধকে কেন্দ্র করে অশান্তির সূত্রপাত। সিয়াং, পূর্ব সিয়াং ও উচ্চ সিয়াং—এই তিন জেলায় বন্‌ধের প্রভাব পড়ে। একাধিক এলাকায় দোকানপাট ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। ব্যাহত হয় স্বাভাবিক জনজীবন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশকে বাড়ির ভিতরেই থাকতে হয়।

    প্রশাসনের দাবি, বন্‌ধের নামে বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করে। পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয় এবং নিরাপত্তারক্ষীদের কাজে বাধা দেওয়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। তার পরেও অশান্তি থামেনি। রণগড় মোড়ে পুলিশের কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পাসিঘাটের থানা ও জলবিদ্যুৎ নিগমের দফতরেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

    রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িতেও হামলা (Arunachal Pradesh)

    হিংসার সময় একাধিক রাজনৈতিক নেতার বাড়ি এবং আবাসনেও হামলা এবং ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপি বিধায়ক নিনং এরিং, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির বিধায়ক ওনি প্যানিয়াং এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি কলিং মোয়ং।

    সিয়াং জেলার পুলিশ সুপার কামদাম শিখোমের বক্তব্য, উচ্চ সিয়াং জেলার গেকু ও কোমকার এলাকা থেকে ১৫০ থেকে ২০০ জনের একটি দল ডিতে-ডিমে এলাকায় জড়ো হয়েছিল। তারা সিয়াং জেলায় ঢোকার চেষ্টা করে। ওই দলের সদস্যদের হাতে ছিল দা, লাঠি, গুলতি-সহ বিভিন্ন সামগ্রী। তারা পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙা, নিরাপত্তাকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া এবং জেলাশাসকের জারি করা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ।

    প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার পূর্ব সিয়াংয়ের জেলাশাসক জয়ন্তী পার্টিন বন্‌ধ অবৈধ ঘোষণা করেন। শুক্রবার বন্‌ধ শেষ হওয়ার পরেও পাসিঘাটের বিভিন্ন এলাকায় একদল লোক জোর করে বন্‌ধ কার্যকর করার চেষ্টা করেন। তার জেরেই পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    কেন প্রকল্পের বিরোধিতা?

    সিয়াং উচ্চ বহুমুখী প্রকল্পের বিরোধিতায় স্থানীয় কয়েকটি সংগঠন ও বিক্ষোভকারী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চালাচ্ছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, প্রকল্পের বিরোধিতায় আগের আন্দোলনের সময় গ্রেফতার হওয়া ১০ জনকে মুক্তি দিতে হবে, সিয়াং অঞ্চল থেকে নিরাপত্তাবাহিনী প্রত্যাহার করতে হবে এবং প্রকল্পের প্রাক্‌সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

    এই দাবিগুলিকে সামনে রেখে তিন জেলায় বন্‌ধের ডাক দেওয়া হয়। গেকু যুব সংগঠন এবং জন অধিকার সংগঠনের সিয়াং শাখা এই কর্মসূচিকে সমর্থন করে বলে খবর।

    বিক্ষোভের কয়েকটি কর্মসূচিতে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পরিচয় সামনে আনা হয়। পাসিঘাট-রানাঘাট সড়কে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ থেকে ‘আজাদি’ স্লোগান-সহ একাধিক আপত্তিকর স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে স্লোগানগুলির প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

    চিনের সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতির আবহে প্রকল্পের গুরুত্ব

    অরুণাচল প্রদেশে (Arunachal Pradesh) প্রস্তাবিত এই প্রকল্পকে ঘিরে বিতর্ক এমন সময়ে বাড়ল, যখন ভারত-চিন সীমান্তে নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় চিনের পরিকাঠামো নির্মাণের মোকাবিলায় ভারতও সড়ক, যোগাযোগ ও অন্যান্য কৌশলগত পরিকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে।

    সিয়াং উচ্চ বহুমুখী প্রকল্পকে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। চিনের দিক থেকে ইয়ারলুং সাংপো নদীর উজানে জল নিয়ন্ত্রণ ও পরিকাঠামো নির্মাণের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় ভারতের জলনিরাপত্তা জোরদার করাও এই প্রকল্পের অন্যতম কৌশলগত উদ্দেশ্য।

    সিয়াং উচ্চ বহুমুখী প্রকল্প

    সিয়াং উচ্চ বহুমুখী প্রকল্প অরুণাচল প্রদেশের উচ্চ সিয়াং জেলায় সিয়াং নদীর উপর প্রস্তাবিত ১১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বৃহৎ জলবিদ্যুৎ ও পরিকাঠামো প্রকল্প। জাতীয় জলবিদ্যুৎ নিগমের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে ভারতীয় উপমহাদেশের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির অন্যতম হয়ে উঠতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ জল সংরক্ষণের ক্ষমতা বর্ষাকালে নদীর জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এর ফলে অরুণাচল প্রদেশ ও অসমের ভাটির এলাকায় বন্যার ঝুঁকি কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

    এছাড়া, উজানে চিনের বাঁধ থেকে হঠাৎ জল ছাড়া বা আকস্মিক বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হলে জলাধারটি জলপ্রবাহের প্রভাব সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে প্রকল্পের পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে (Mob Attacks)।

    প্রকল্পটির সমর্থকদের মতে, এটি অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান এবং স্বনিযুক্তির সুযোগ বাড়াতে পারে। তবে প্রকল্পের বিরোধীদের দাবি, তাঁদের উদ্বেগ ও দাবিগুলির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সমীক্ষা ও উন্নয়নের কাজ বন্ধ রাখা উচিত।

    বিক্ষোভ ঘিরে হিংসা, সরকারি সম্পত্তিতে (Arunachal Pradesh) অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়েছে। প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশাসন, স্থানীয় বাসিন্দা ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আলোচনার পথ কতটা প্রশস্ত হয়, এখন সেটাই দেখার।

     

  • POK Atrocities: যুদ্ধের হুমকি, পাকিস্তানকে মুখের মতো জবাব ভারতের, পিওকে-তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

    POK Atrocities: যুদ্ধের হুমকি, পাকিস্তানকে মুখের মতো জবাব ভারতের, পিওকে-তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফের সাম্প্রতিক যুদ্ধের হুমকির কড়া জবাব দিল (POK Atrocities) ভারত। মঙ্গলবার ভারতের (India) বিদেশমন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, এই ধরনের মন্তব্য পাকিস্তানের নিজস্ব ব্যর্থতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলি থেকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর ঘোরানোর মরিয়া চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।

    কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের (POK Atrocities)

    সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য সম্পর্কে আমরা রিপোর্ট দেখেছি। এই ধরনের বক্তব্য পাকিস্তানের ব্যর্থতা আড়াল করা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেওয়ার একটি মরিয়া চেষ্টা। আমরা এই সব ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি।” পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) যে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে, সে প্রসঙ্গ টেনে পাকিস্তানকে নিশানা করেন তিনি। জয়সওয়ালের দাবি, পিওকের বর্তমান পরিস্থিতি পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক শোষণ, মৌলিক অধিকার হরণ এবং প্রশাসনিক দমননীতিরই ফল।

    আন্দোলন দমনে পুলিশি নির্যাতন

    তাঁর অভিযোগ, আন্দোলন দমনে পাক প্রশাসন চরম পুলিশি নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে। প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহে বাধা, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা এবং নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের মতো ঘটনাও ঘটেছে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, “এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। আমরা আশা করি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পাকিস্তানের এই কাজকর্ম, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দমনপীড়ন নীতির জন্য জবাবদিহি চাইবে।”

    আসিফের হুঁশিয়ারি

    প্রসঙ্গত, গত শনিবার পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে দেওয়া (POK Atrocities) সাক্ষাৎকারে আসিফ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, সিন্ধু নদীর জল নিয়ে যদি ভারতের পদক্ষেপ পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে হুমকিস্বরূপ হয়ে ওঠে, তাহলে ইসলামাবাদ সামরিক পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না। তিনি বলেন, “যখনই আমরা অনুভব করব যে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জল নিরাপত্তা, হুমকির মুখে পড়েছে, তখন আমরা অবশ্যই ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে পারি।” প্রসঙ্গত, জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে গত বছরের জঙ্গি হামলার পর ভারত সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে। নয়াদিল্লির (India) অবস্থান, পাকিস্তান যতদিন না সীমান্তপারের সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার পরিকাঠামো ভেঙে ফেলার জন্য দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ করছে, ততদিন পর্যন্ত চুক্তি স্থগিতই থাকবে (POK Atrocities)।

     

LinkedIn
Share