Tag: WB Election 2026

  • Mamata Banerjee: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগে অস্বীকার করায় বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আর.এন. রবি

    Mamata Banerjee: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগে অস্বীকার করায় বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আর.এন. রবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকটের সাক্ষী থাকল রাজ্য। নির্বাচনী বিপর্যয়ের পরেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) পদত্যাগে অস্বীকার করায় শেষ পর্যন্ত বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আর.এন. রবি (R N Ravi)।

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮০-তে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং ভবানীপুর কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন।

    অচলাবস্থার মূল কারণ (Mamata Banerjee)

    সাধারণত পরাজয়ের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের (R N Ravi) কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি পদত্যাগ করবেন না। তাঁর অভিযোগ:

    • নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মিলে ‘ভোট লুট’ করেছে।
    • নির্বাচনী ফলাফলকে তিনি ‘চক্রান্ত’ এবং ‘জালিয়াতি’ বলে অভিহিত করেছেন।
    • তাঁর দাবি, জনমতকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাই নৈতিকভাবে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য নন।রাজ্যপালের কড়া পদক্ষেপ

    রাজ্য সরকারের বর্তমান মেয়াদের শেষ দিন ছিল ৭ মে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) মুখ্যমন্ত্রী স্বেচ্ছায় পদ না ছাড়ায় এবং নতুন সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত না হওয়ায় সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করেন রাজ্যপাল আর.এন. রবি (R N Ravi)। বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেন। রাজ্যপালের এই পদক্ষেপের ফলে বিদায়ী মন্ত্রিসভার আইনি বৈধতা আর রইল না।

    আইনি বিশেষজ্ঞদের মত

    প্রবীণ আইনজীবীদের মতে, যখন কোনও সরকার নির্বাচনে গরিষ্ঠতা হারায় এবং মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেন, তখন রাজ্যপালের হাতে বিধানসভা ভেঙে দেওয়া ছাড়া আর কোনও বিকল্প থাকে না। পরিস্থিতি জটিল হলে পুলিশি সহায়তায় প্রশাসনিক ভবন খালি করার মতো কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।

    রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

    বিজেপি শিবির এই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে দেখছে এবং দ্রুত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করেছে। অন্যদিকে, অখিলেশ যাদবের মতো বিরোধী নেতারা কলকাতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে দেখা করেছেন। রাজ্য রাজনীতির এই উত্তাল পরিস্থিতিতে এখন সবার নজর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার দিকে।

  • Chandranath Rath: চন্দ্রনাথকে খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত খুনিদের বাইক উদ্ধার করল পুলিশ, মিলেছে আরও চাঞ্চাল্যকর তথ্য

    Chandranath Rath: চন্দ্রনাথকে খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত খুনিদের বাইক উদ্ধার করল পুলিশ, মিলেছে আরও চাঞ্চাল্যকর তথ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari PA) আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের (Chandranath Rath) নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। চন্দ্রনাথ রথকে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত বাইক উদ্ধার করল পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে এই বাইকে করে চেপেই পালিয়ে গিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। এ বার ওই দু’টি বাইকের মধ্যে একটি বাইক উদ্ধার করল পুলিশ। অপরটির খোঁজ এখনও চলছে। তবে বাইকটি কোন এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে, তা প্রাথমিক ভাবে জানা যায়নি। আবার এই অপরাধে ব্যবহৃত ঘাতক গাড়িটির নম্বর প্লেট এবং চেসিস নম্বর নিয়ে চাঞ্চাল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গাড়ির মালিক উইলিয়াম জোশেফ জানিয়েছেন, “গাড়িটি বিক্রির জন্য আমি ইন্টারনেটে দিয়েছিলাম।” এরপর মাটিগাড়া থানায় পুলিশরা তাঁর গাড়ির পুরো ভেরিফিকেশন করেছে।

    নম্বর প্লেট ও চেসিস নম্বরে কারসাজি (Chandranath Rath)

    তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, চন্দ্রনাথ (Chandranath Rath) খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত চারচাকা গাড়িটির নম্বর প্লেটটি পরিকল্পিতভাবে জালিয়াতি করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, গাড়িটির পরিচয় মুছে ফেলতে বনেট, দরজা এবং অন্যান্য অংশ থেকে চেসিস নম্বর ঘষে তুলে দেওয়া হয়েছে। সাধারণত কোনও পেশাদার অপরাধী গোষ্ঠী ছাড়া এত নিখুঁতভাবে গাড়ির পরিচয় গোপন করা সম্ভব নয় বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।

    গাড়ির মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি

    শুভেন্দুর পিএ খুনের (Suvendu Adhikari PA) তদন্তে দেখা গিয়েছে, গাড়িটির যে নম্বর প্লেট ব্যবহার করা হয়েছিল, তা উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ির বাসিন্দা উইলিয়াম জোসেফ নামে এক ব্যক্তির নামে নথিভুক্ত। তিনি পেশায় চা-শিল্পের কর্মী। তবে পুলিশ (Chandranath Rath)  তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি দাবি করেন, তাঁর গাড়িটি বর্তমানে শিলিগুড়িতেই রয়েছে। এর থেকে স্পষ্ট হয় যে, অপরাধীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে আসল গাড়ির মডেল ও নম্বর নকল করে এই ‘ভুয়ো’ গাড়িটি তৈরি করেছিল।

    হামলার ধরন ও নৃশংসতা

    ঘটনাটি ঘটে রাত ১০টা থেকে ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে, যখন চন্দ্রনাথ রথ মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তদন্তে জানা গিয়েছে যা যা তা হল–

    তিনজন এই হত্যার (Suvendu Adhikari PA) হামলায় অংশ নেয়। একজন গাড়ি চালক এবং বাকি দুইজন মোটরসাইকেলে। ঘাতক গাড়িটি চন্দ্রনাথের (Chandranath Rath) গাড়ির সামনে আড়াআড়িভাবে দাঁড়িয়ে গতিরোধ করে। এরপর মোটরবাইকে আসা দুষ্কৃতীরা গাড়ির জানলার কাঁচে বন্দুক ঠেকিয়ে চন্দ্রনাথের মৃত্যু নিশ্চিত করতে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালায়। তিনটি গুলি লাগে চন্দ্রনাথের শরীরে।

    ৬ ঘণ্টা ধরে রেকি

    চারচাকা গাড়িটি চন্দ্রনাথের গাড়ি মাঝরাস্তায় আটকেছিল, সেটি বুধবার বিকেল ৩টে ৫৭ মিনিট নাগাদ দোলতলা সাহারা ব্রিজের কাছে দেখা গিয়েছে সিসিটিভি ফুটেজে। অর্থাৎ খুনের প্রায় ৬ ঘণ্টা আগে মধ্যমগ্রাম এলাকায় ঢুকে গিয়েছিল গাড়িটি। পুলিশের অনুমান, এরপর চন্দ্রনাথের বাড়ির কাছে ওই গাড়ি নিয়ে রেকি করেছিল আততায়ীরা, কীভাবে খুন করা যায় তার পরিকল্পনা ছকে নেওয়া হয়েছিল বলে অনুমান পুলিশের। খুনের আগে পিছন থেকে এসে আচমকা চন্দ্রনাথের গাড়ির গতি আটকায় এই চারচাকা গাড়িটি।

    পুলিশের পদক্ষেপ

    রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক (ডিজি) সিদ্ধিনাথ গুপ্ত জানিয়েছেন, বারাসাত ও মধ্যমগ্রাম এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই খুনের (Suvendu Adhikari PA) রহস্য উদ্ঘাটনে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) এখন কাজ করছে। বিরোধী দলনেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগীর এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং তাতে ব্যবহৃত গাড়ির পরিচয় লোপাটের এই নয়া তথ্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

  • Model Code of Conduct: নির্বাচনী বিধিনিষেধের অবসান, চার রাজ্য ও এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে ‘মডেল কোড অফ কনডাক্ট’ প্রত্যাহার করল কমিশন

    Model Code of Conduct: নির্বাচনী বিধিনিষেধের অবসান, চার রাজ্য ও এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে ‘মডেল কোড অফ কনডাক্ট’ প্রত্যাহার করল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের (Bengal Assembly Election 2026) মহাযজ্ঞ সম্পন্ন হওয়ার পর দেশজুড়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে জনজীবন ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড। বৃহস্পতিবার ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) পশ্চিমবঙ্গসহ চার রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে ‘আদর্শ আচরণবিধি’ (Model Code of Conduct) প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছে।

    কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ (Model Code of Conduct)

    বিধিনিষেধ মুক্ত এলাকা

    পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে তামিলনাড়ু, কেরালা, আসাম এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (Bengal Assembly Election 2026) পুদুচেরি।

    স্বাভাবিক হবে প্রশাসনিক কাজ

    নির্বাচনী আচরণবিধি উঠে যাওয়ার ফলে এখন থেকে এই রাজ্যগুলোর সরকার (Model Code of Conduct) জনকল্যাণমূলক নতুন প্রকল্প ঘোষণা, উন্নয়নমূলক কাজে অনুমোদন এবং প্রশাসনিক রদবদল বা বদলির মতো কাজগুলো পুনরায় শুরু করতে পারবে।

    কমিশনের নির্দেশনা

    কমিশনের (Bengal Assembly Election 2026) পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর মুখ্য সচিবদের চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, নির্বাচনের ফলাফল সরকারিভাবে গেজেটভুক্ত হওয়ার পর এখন আর নির্বাচনী আচরণবিধি বলবৎ রাখার প্রয়োজন নেই।

    প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নজরদারি ছিল

    উল্লেখ্য, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে সরকারি (Model Code of Conduct) কর্মকাণ্ডে এক ধরনের বিধিনিষেধ নেমে এসেছিল। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নজরদারি ছিল কমিশনের (Bengal Assembly Election 2026)। বিধানসভা ভেঙে দেওয়া এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির মাঝে এই বিধিনিষেধ প্রত্যাহার প্রশাসনিক গতিবিধি পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় আর কোনও আইনি বা নীতিগত বাধা থাকল না। দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে কাজ শুরু করার পথ প্রশস্ত হলো।

  • Suvendu Adhikari: “গুন্ডাদের দমন করার দায়িত্ব আমার, নন্দীগ্রামে জয়ের অভিনন্দন”, জানিয়ে বার্তা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “গুন্ডাদের দমন করার দায়িত্ব আমার, নন্দীগ্রামে জয়ের অভিনন্দন”, জানিয়ে বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ও রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে জয় নিশ্চিত করলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পরাজিত করার পর তাঁর এই জয় রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের পাতায় নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রটি এক অবিস্মরণীয় নাম। তবে ২০২১ সালের প্রেক্ষাপটে এই কেন্দ্রটি কেবল একটি নির্বাচনী ক্ষেত্র নয়, বরং হয়ে উঠেছিল মর্যাদার লড়াইয়ের এক চূড়ান্ত রণাঙ্গন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে জয়ী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক অবস্থান এবং তাঁর বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামের (Nandigram) মানুষ আমায় বিশ্বাস করেছেন, আমি তাঁদের সেই বিশ্বাসের অমর্যাদা করব না।”

    জয়ের নেপথ্যে জনগণের রায় (Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তাঁর বক্তব্যে বারংবার নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্র হওয়ার আবেগকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই জয় কেবল কোনও রাজনৈতিক দলের সাফল্য নয়, বরং এটি নন্দীগ্রামের (Nandigram) আত্মসম্মান ও অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের জয়। ভূমিপুত্র বনাম বহিরাগত তত্ত্বে ভূমি পুত্রের জয় হয়েছে। জনগণের জনাদেশ সেই ভাবাবেগকেই সিলমোহর দিয়েছে। আপনারা নিশ্চিন্ত থাকুন, আপনাদের ঋণ আমি শোধ করব। তবে আমার আবেদন, শান্তি বজায় রাখুন। কুকুর মানুষের পায়ে কামড়ায়, মানুষ তাকে কামড়ায় না। তাই আইন কেউ হাতে নেবেন না।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, বহিরাগত শক্তির আক্রমণ রুখে দিয়ে নন্দীগ্রামের মানুষ যে আস্থা তাঁর ওপর রেখেছেন, তার প্রতি তিনি চিরকাল দায়বদ্ধ থাকবেন।

    গণতন্ত্র ও আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট

    নন্দীগ্রামের (Nandigram) ফলাফল ঘোষণা নিয়ে ভোট গণনার দিন যে চরম নাটকীয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কারোর অজানা নয়। শুরুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের খবর চাউর হলেও, শেষ পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জয়ী হয়েছিলেন। এই ফলাফলকে কেন্দ্র করে শাসকদলের পক্ষ থেকে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, তার জবাবে শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর আস্থার কথাকেই প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাবে বলেন, “নির্বাচন কমিশনের শংসাপত্রই শেষ কথা এবং কোনও প্রকার ভয়ভীতি বা আইনি চাপের কাছে মাথা আমরা নত করব না। ২০১১ সালের পরিবর্তনেও আমি ছিলাম, আর এবারের আসল পরিবর্তনেও আমিই রয়েছি।”

    বিরোধী দলনেতা হিসেবে আগামীর লক্ষ্য

    নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নন্দীগ্রামের (Nandigram) প্রতিনিধি হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ভূমিকা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি কেবল তাঁর নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের কথাই বলেননি, বরং সমগ্র বাংলার বিরোধী রাজনীতির একটি শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। তাঁর ভাষণে বলেন, “আগামী ১ বছরের মধ্যে রাজ্যের মানুষ প্রকৃত পরিবর্তনের স্বাদ পাবেন। মোদির গ্যারান্টি, অমিত শাহর ঘোষিত সংকল্পপত্র অক্ষরে অক্ষরে সময় মতো পূরণ করার ক্ষেত্রে বিজেপি দায়বদ্ধ। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে আইন মেনে প্রত্যেকটি পুরনো মামলা পুনরায় চালু করবে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো কর্মীদের মুক্তি ও আইনি বিচারের ব্যবস্থা করা হবে। গুন্ডাবাহিনীকে মোকাবিলা করার দায়িত্ব আমার নিজের কাঁধে।”

    উন্নয়নের রাজনীতি

    শুভেন্দু বলেন, ‘‘মহিলারা দরকারে যখন খুশি বাড়ি থেকে বেরোবেন। রাতে বেরনো যাবে না, এরকম কথা আগের মুখ্যমন্ত্রীর মতো আগামীর মুখ্য়মন্ত্রী বলবেন না।’’ ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে এবং এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনিক সক্রিয়তার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন শুভেন্দু। দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে তিনি বারবার অভয় দিয়েছেন যে, জয়ী প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সর্বদা তাঁদের পাশে থাকবেন। নন্দীগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের সামাজিক সুরক্ষা ও সরকারি পরিষেবা নিশ্চিত করাই তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার হবে।

    কোনও অলৌকিক ঘটনা নয়

    শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) এই জয় রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপির অবস্থানকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। নন্দীগ্রামের মতো একটি সংবেদনশীল কেন্দ্র থেকে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানকে পরাজিত করা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত দুঃসাধ্য ছিল। শুভেন্দুর মতে, এটি কোনও অলৌকিক ঘটনা নয়, বরং বছরের পর বছর মানুষের সাথে মিশে থাকা এবং তাঁদের সুখ-দুঃখের ভাগীদার হওয়ার ফল।

    বাংলার রাজনীতিতে ‘নন্দীগ্রাম মডেল’

    শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নন্দীগ্রাম (Nandigram) জয়ের পরবর্তী অবস্থান কেবল বিজয়োল্লাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাঁর মার্জিত অথচ কঠোর রাজনৈতিক অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, আগামী দিনগুলোতে তিনি বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে শাসকদলের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেকে আরও শক্তিশালী করে তুলবেন। নন্দীগ্রামের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাংলার রাজনীতিতে ‘নন্দীগ্রাম মডেল’ আগামী দিনেও প্রাসঙ্গিক থাকবে এবং তাঁর এই জয় আগামী দিনের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের সোপান হিসেবে কাজ করবে।

  • Amit Shah: ১৫২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১৬টিতেই জয়! অমিত শাহের প্রথম দফার পূর্বাভাসকেও ছাপিয়ে বিজেপির জয়জয়কার

    Amit Shah: ১৫২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১৬টিতেই জয়! অমিত শাহের প্রথম দফার পূর্বাভাসকেও ছাপিয়ে বিজেপির জয়জয়কার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথম দফায় ভোট হওয়া আসনগুলিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের করা ভবিষ্যৎবাণীকেও ছাপিয়ে গেল ভারতীয় জনতা পার্টি। ১৫২টি আসনের মধ্যে বর্তমান প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১১৬টি আসনেই বিজেপি প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন বা এগিয়ে রয়েছেন (এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত)। উল্লেখ্য বিধানসভার নির্বাচনী (West Bengal Elections 2026) প্রচারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) আত্মবিশ্বাসী হয়ে বলেছিলেন, “১৫২-র মধ্যে ১১০ পাবই।” এবারে ফলাফলে একই চিত্র দেখা গিয়েছে।

    পূর্বাভাস ও বর্তমান চিত্র (Amit Shah)

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) পূর্বে যে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছিলেন, গণনার প্রাথমিক ঝড়ে বিজেপি সেই গণ্ডিও অতিক্রম করে গিয়েছে। প্রথম দফার অন্তর্গত ১৫২টি আসনের মধ্যে ১১৬টিতে বিজেপির জয়লাভ করা বা এগিয়ে থাকা রাজনৈতিক মহলের অনেক সমীকরণই বদলে দিয়েছে। তবে এই ফলাফলে বিজেপি ৬টি আসন বেশি পেয়েছে বিজেপি। প্রথম পর্যায়েই বড়সড় পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। এই প্রথম পর্বে বিজেপি ১১৬টি পেলেও তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ৩২টি আসন। প্রবীণ বিজেপি নেতা শাহের বক্তব্যে সিলমোহর পড়েছে।

    শক্তিশালী নির্ণায়ক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব

    এই বিপুল ব্যবধান শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরের জন্যই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদি এই প্রবণতা বজায় থাকে, তবে তা চূড়ান্ত ফলাফলে (West Bengal Elections 2026) বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। প্রাথমিক এই ফলাফলের ঝোঁক বিজেপি শিবিরে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দফার এই ফলাফল সামগ্রিক নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে এক শক্তিশালী নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে। যদিও চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এই পরিসংখ্যান পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Suvendu Adhikari: “ডায়মন্ড হারবারেও বিজেপি প্রার্থী এগোচ্ছে, এটা ভালো সংকেত”, বললেন শুভেন্দু অধিকারী

    Suvendu Adhikari: “ডায়মন্ড হারবারেও বিজেপি প্রার্থী এগোচ্ছে, এটা ভালো সংকেত”, বললেন শুভেন্দু অধিকারী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘‘বিজেপিই সরকার গড়ছে’’, গণনার (West Bengal Elections 2026) শুরুর দিকেই আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, “ভাষার নামে আর জাতের নামে ভাগ হয়নি হিন্দু ভোট। ডায়মণ্ড হারবারেও বিজেপি প্রার্থী এগোচ্ছে,  সিদ্দিকুল্লা হারছেন, এটা খুব ভালো সংকেত। মোদিজির জয়, পশ্চিমবঙ্গের জনগণের জয়। জনগণের স্পষ্ট মতামত, বিজেপি সরকার গড়ছে।” প্রাথমিক প্রবণতার পরই মন্তব্য শুভেন্দু অধিকারী এবং সেই সঙ্গে দিলেন কর্মীদের সংযত থাকার বার্তা।

    শান্তি বজায় রাখার আবেদন (Suvendu Adhikari)

    রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে যখন রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে, ঠিক তখনই রাজ্যের শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি স্পষ্ট ভাবে বলেন, “জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন, বাংলার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং শান্তি বিঘ্নিত হওয়া কোনওভাবেই কাম্য নয়।” দলীয় কর্মীদের উস্কানিমূলক আচরণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, “ভোট গণনা একটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতি এবং একে সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হতে দেওয়া সকলের নৈতিক দায়িত্ব।”

    ব্যক্তিগত বা সামাজিক শত্রুতার নয়

    নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) ফলাফল পরবর্তী সময়ে রাজ্যে যে কোনও প্রকার হিংসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে শুভেন্দু কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক লড়াই কেবল আদর্শের হওয়া উচিত, ব্যক্তিগত বা সামাজিক শত্রুতার নয়। বাংলার মানুষ শান্তি চায়। গণনার দিন এবং পরবর্তী সময়ে শান্তি বজায় রাখাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।”

    ১৯৩ আসনে এগিয়ে বিজেপি

    এই মুহূর্তে বিজেপির এগিয়ে থাকা আসনসংখ্যা ১৯৩। অন্যদিকে, রাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল তৃণমূলের এগিয়ে থাকা আসনসংখ্যা ৯৩। ২৯৪ আসনের এই বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য কোনও দলের প্রয়োজন ১৪৮ আসনে জয়। ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন। অন্যদিকে তৃণমূল পেয়েছিল ২১৪টি আসন। এবারে সরকার গঠন নিয়ে বিজেপি অত্যন্ত প্রত্যয়ী।

  • Samik Bhattacharya: “শ্যমাপ্রসাদের মাটিতে প্রথমবার শ্যামাপ্রসাদের সরকার হতে চলেছে”, বললেন শমীক

    Samik Bhattacharya: “শ্যমাপ্রসাদের মাটিতে প্রথমবার শ্যামাপ্রসাদের সরকার হতে চলেছে”, বললেন শমীক


    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের প্রাক্কালে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) দলের জয় নিয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন যে, আসন্ন গণনায় ভারতীয় জনতা পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে। সংখ্যা গরিষ্ঠ আসনে এখন বিজেপি এগিয়ে। তৃণমূল কংগ্রেস টানা ১৫ বছরের শাসন ধরে রাখার পর এবার ধরাশায়ীর পথে। দলের কর্মীদের জয়ের উচ্ছ্বাসকে ধরে রাখতে কর্মীদের সংযত রাখার বার্তা দিয়েছেন রাজ্য সভাপতি।

    রাজ্যের শান্তি বিঘ্নিত যাতে না হয় (Samik Bhattacharya)

    জয়ের আগাম আভাস পেয়েই দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি শমীক ভট্টাচার্য বিশেষ বার্তা—ফলাফল পরবর্তী পরিস্থিতিতে যেন কোনওভাবেই রাজ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়। তিনি কর্মীদের শান্ত ও সংযত থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। শমীক ভট্টাচার্যের (Samik Bhattacharya) কথায়, “জয়ের আনন্দে আত্মহারা হয়ে এমন কিছু করা উচিত নয় যাতে সাধারণ মানুষের অসুবিধা হয় বা রাজ্যের শান্তি বিঘ্নিত হয়।” ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে শমীক বলেন, “২৭ দিনে আমাদের ৫৬ জন বিজেপি কর্মী খুন হয়েছিলেন। ২৭ জন মহিলা ক‍্যামেরার সামনে এসে জানিয়েছিলেন যে তাঁরা গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন।”

    যে অত‍্যাচারের শিকার হয়েছিলেন

    দলের রাজ্য সভাপতি শমীক (Samik Bhattacharya)  বলেন, “এর আগের নির্বাচনগুলির পরে বিজেপি কর্মীরা যে অত‍্যাচারের শিকার হয়েছিলেন, এ বার যেন বিজেপি কর্মীরা তার পাল্টা পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা না করেন। আমরা যে অত‍্যাচারের শিকার হয়েছি, আমাদের কর্মীদের পরিবারগুলি যে যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, আমরা চাই না অন্যদের এখন সেই যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে হোক। স্বাধীনতার পরে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ একটা ভিন্ন নির্বাচনের স্বাদ পেয়েছেন। স্বাভাবিক ভাবে এই জয় সংসদীয় গণতন্ত্রের জয়, সামগ্রিক ভাবে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতার জয়। প্রথম দিন থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে, শ্যামাপ্রসাদের মাটিতে প্রথম বার শ্যামাপ্রসাদের সরকার হতে চলেছে।”

    শান্তিপূর্ণভাবে জয়ের আনন্দ উদযাপন

    পশ্চিমবঙ্গের ভোট-সংস্কৃতির পরিবর্তন চান। অতীতে যেমন ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ উঠে এসেছিল, তার পুনরাবৃত্তি চাইছেন না তিনি। গণনা কেন্দ্রের বাইরে বা রাজ্যের কোথাও যাতে কোনও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে বিজেপি নেতৃত্ব সতর্ক দৃষ্টি রাখার কথা বলেছেন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মর্যাদা রক্ষা করে শান্তিপূর্ণভাবে জয়ের আনন্দ উদযাপনের জন্য তিনি কর্মীদের প্রতি বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন। বিজেপি কর্মীরা যাতে কোনও ভাবেই হিংসা বা অশান্তিতে জড়িয়ে না-পড়েন, যাতে তাঁরা কোনও ভাবেই হিংসার আশ্রয় না-নেন, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক করেছেন শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)।

  • Suvendu Adhikari: গণনার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য ও ডিউটি রস্টার ফাঁসের অভিযোগে কমিশনের দ্বারস্থ শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: গণনার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য ও ডিউটি রস্টার ফাঁসের অভিযোগে কমিশনের দ্বারস্থ শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামিকাল ৪ মে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) ভোট গণনা। তার ঠিক আগে গণনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা রক্ষা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুললেন বিধানসভার বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, “গণনার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য এবং তাঁদের ডিউটি রস্টার আগেই ফাঁস হয়ে গিয়েছে, যা আদতে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন। গণনাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হবে।”

    শুভেন্দুর মূল অভিযোগ (West Bengal Election 2026)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেন্দুর দাবি, গণনা কর্মীদের তালিকা ও তাঁদের কর্মস্থলের তথ্য নির্দিষ্ট মহলের হাতে পৌঁছে গিয়েছে। তাঁর মতে, এটি ‘ইলেকশন প্রোটোকল’ বা নির্বাচনী শিষ্টাচারের গুরুতর অবমাননা। তাই তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “আমার নজরে এসেছে যে, গণনার দিনের (Counting Day) দায়িত্বে থাকা বেশ কিছু আধিকারিক তাঁদের নির্দিষ্ট ডিউটির বিবরণ, স্থান এবং পদমর্যাদার তথ্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় সংস্থা ও সংগঠনগুলিকে জানিয়ে দিয়েছেন। আমি তথ্য পেয়েছি যে, কিছু স্প্রেডশিট এবং তালিকা প্রচার করা হচ্ছে যেখানে আধিকারিকরা স্বেচ্ছায় বা চাপের মুখে তাঁদের ‘নির্বাচন ডিউটি সংক্রান্ত তথ্য’ এবং গণনা প্রক্রিয়ায় তাঁদের নির্দিষ্ট ভূমিকা কী হবে, তা পূরণ করছেন। এই তথ্য ফাঁস হওয়ার ফলে গণনার (West Bengal Election 2026) দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে, যা নিরপেক্ষ ফল ঘোষণায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।”

    কমিশনের কাছে দাবি

    নির্বাচনী (West Bengal Election 2026) গণনাকেন্দ্রে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে জোরালো অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, যেভাবে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে তার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে, গণনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে যাতে কোনওভাবেই যেন গণনা প্রভাবিত না হয়। সর্বোপরি, যেসব আধিকারিক বা কর্মীরা এই তথ্য ফাঁসের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

    অযাচিত প্রভাবের ঝুঁকি

    যখন কোনও আধিকারিকের নির্দিষ্ট নিয়োগের তথ্য রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত কোনও সংগঠন বা ইউনিয়নের কাছে জানাজানি হয়ে যায়, তখন তা অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক প্রভাব এবং হুমকির পথ প্রশস্ত করে।

    নিরপেক্ষতার সঙ্কট 

    গণনা প্রক্রিয়ার পবিত্রতা নির্ভর করে কর্মীদের নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তার ওপর। এই গোপনীয়তা ভঙ্গ হলে তা সরাসরি ফলের নিরপেক্ষতাকে প্রভাবিত করে।

    চাপ সৃষ্টির কৌশল

    সংগঠনগুলির দ্বারা এই ধরণের ‘তথ্য সংগ্রহ’ করার বিষয়টি অনেক সময় আধিকারিকদের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি প্রচ্ছন্ন প্রচেষ্টা মাত্র, যাতে গণনার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁরা শাসক দলকে সুবিধা পাইয়ে দেন।

    অবিলম্বে কঠোর নির্দেশিকা জারির দাবি

    ভোট পরবর্তী হিংসা এবং স্ট্রংরুম পাহারা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত। তার মধ্যে শুভেন্দু অধিকারীর এই নতুন অভিযোগ আগামিকালের গণনা প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিল বলেই দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। শুভেন্দু বলেন, “আমি ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে জোরালো আবেদন জানাচ্ছি। কোনও আধিকারিক যাতে কোনও সংস্থা বা সংগঠনের কাছে তাঁদের নির্ধারিত গণনা ডিউটির তথ্য প্রকাশ না করেন, সেই মর্মে অবিলম্বে কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হোক। এছাড়া, যে সমস্ত সংগঠন এই ধরণের সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি।”

    বিজেপি শিবিরের দাবি, শাসক দল প্রশাসনকে ব্যবহার করে গণনায় কারচুপি করার চেষ্টা করছে। যদিও শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং ‘হারার আগে অজুহাত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনী গণনা (West Bengal Election 2026) বিষয়ে বিরোধী দলনেতার এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন শেষ মুহূর্তে কোনো বড় পদক্ষেপ নেয় কি না।

  • CRPF: ‘সিআরপিএফের ধাক্কায় মৃত্যু হাওড়ার বৃদ্ধের’! ভিডিও প্রকাশ করে অভিষেকের মিথ্যা অভিযোগ নস্যাৎ কমিশনের

    CRPF: ‘সিআরপিএফের ধাক্কায় মৃত্যু হাওড়ার বৃদ্ধের’! ভিডিও প্রকাশ করে অভিষেকের মিথ্যা অভিযোগ নস্যাৎ কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ধাক্কা মেরে অতীশিপর বৃদ্ধকে মেরে ফেলেছে সিআরপিএফ (CRPF)! এমন একটি গুরুতর অভিযোগে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সরব হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjees)। একই ভাবে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। এবার নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগের পাল্টা সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে মৃত্যুর আসল কারণ প্রকাশ্যে এনে তৃণমূল নেতাকে পাল্টা জবাব দিয়েছে। বিরোধীদের দাবি, ভোট আবহে অস্থিরতা এবং গুজব ছড়িয়ে মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলার ষড়যন্ত্র করছে তৃণমূল। ঘটনার প্রকৃত সত্যতা প্রকাশ্যে আসতেই প্রকট হয়ে গেল তৃণমূলের মানুষ ক্ষেপানোর ষড়যন্ত্র। ফের মুখ পুড়ল শাসকদলের।

    বুথের ভিতরের ভিডিও প্রকাশ (CRPF)

    নির্বাচনের দিন হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের একটি বুথে এক বৃদ্ধ ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjees) অভিযোগ করেন যে, লাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী সিআরপিএফ ধাক্কা দিয়েছে তাই পরে যান বৃদ্ধ, এরপর পরিস্থিতির চাপে ওই ভোটারের মৃত্যু হয়েছে। আর এই ঘটনার জন্য নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরাই দায়ী করেছেন অভিষেক। তবে ঘটানা যে তা ঘটেনি, তা বলেই এরপর ওই বুথের ভিতরের ভিডিও প্রকাশ করে কমিশন। একই ভাবে এই তৃণমূল নেতার সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট দেখে বেশকিছু সংবাদ মাধ্যম সংবাদ পরিবেশনও করেছে।

    কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই

    চিকিৎসকের রিপোর্ট ও প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওই ভোটারের মৃত্যু হয়েছে শারীরিক অসুস্থতা বা হৃদরোগের কারণে। এর সঙ্গে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই। কমিশন এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করে এবং প্রাথমিক তদন্তের পর একটি ভিডিও তথ্য প্রকাশ করে বিবৃতি দেয়। ভিডিওতে কথাও দেখা যায়নি কেন্দ্রীয় বাহিনী (CRPF) বুথের ভিতরে রয়েছেন। কমিশনের বক্তব্য-

    অসন্তোষজনক অভিযোগ

    অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjees) দাবিকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে কমিশন জানিয়েছে যে, ভোটারদের নিরাপত্তার জন্য বুথগুলিতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা (CRPF) ছিল। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়কে ব্যবহার করা অনুচিত। বাহিনীর বিরুদ্ধে গুজব ছড়িয়ে যে মানুষকে বিভ্রান্ত করার একটা অপচেষ্টার প্রবণতা তৈরি হয়েছে তাও কমিশন অঙ্গিত দেয়।

    মনোবল ভাঙার চেষ্টা

    হাওড়ায় ভোটারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের তোলা অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে কমিশন। কমিশনের মতে, এটি একটি দুর্ভাগ্যজনক স্বাভাবিক মৃত্যু, যার পেছনে কোনও প্রশাসনিক ত্রুটি ছিল না। তৃণমূল নেতৃত্বের (Abhishek Banerjees) দাবি, কমিশন নিরপেক্ষভাবে তদন্ত না করেই এই রিপোর্ট দিয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের তরফে বলা হয়েছে, ভুয়ো দাবি করে লোক ক্ষেপানোর কাজ করছেন মমতা-অভিষেক। পরাজয় নিশ্চিত জেনেই শাসকদল সাধারণ মানুষের মৃত্যুকে নিয়ে রাজনীতি করছে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর (CRPF) মনোবল ভাঙার চেষ্টা চালাচ্ছে। কমিশন এই বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে চূড়ান্ত ময়না তদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছে। তবে আপাতত কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা কোনও অভিযোগই ধোপে টেকেনি। তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের গালে সপাটে চড় পড়েছে।

  • West Bengal election 2026: ৪ মে সকাল ৮টা থেকে গণনা শুরু, কারা সরকার গড়বে স্পষ্ট হবে দুপুর ১২টার মধ্যেই?

    West Bengal election 2026: ৪ মে সকাল ৮টা থেকে গণনা শুরু, কারা সরকার গড়বে স্পষ্ট হবে দুপুর ১২টার মধ্যেই?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে  রাজ্যবাসী। গত ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল— দুই দফায় সম্পন্ন হয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ (West Bengal election 2026)। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সেই রায় এখন ইভিএম-বন্দি হয়ে স্ট্রংরুমে অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী সোমবার, ৪ মে সকাল ৮টা থেকে শুরু হতে চলেছে সেই বহুপ্রতীক্ষিত ভোট গণনা। কার হাতে উঠবে পশ্চিমবঙ্গের শাসনের  চাবিকাঠি, তার প্রাথমিক ইঙ্গিত সোমবার দুপুরের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন (Election Commission India) ইতিমধ্যে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

    গণনা কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি (West Bengal election 2026)

    নির্বাচন কমিশনের (Election Commission India) পক্ষ থেকে ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে অভূতপূর্ব নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি জেলায় নির্ধারিত গণনা কেন্দ্রের চারপাশে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। স্ট্রংরুম (West Bengal election 2026) থেকে শুরু করে গণনা কক্ষ পর্যন্ত প্রতিটি পদক্ষেপেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারি থাকবে। ভোটারদের ভোট প্রথমে ইভিএমে, তারপর ভিভিপ্যাটে জমা হয়। ইভিএমের দু’টি অংশ। এক, ব্যালট ইউনিট। দুই, কন্ট্রোল ইউনিট। সব বুথেই ইভিএম মেশিনের পাশে ছিল একটি ভিভিপ্যাট মেশিন। ভোটারেরা ইভিএমে বোতাম টিপে নিজের মত জানান। তবে তিনি যেখানে ভোট দিলেন, সেই প্রার্থীর নামেই ভোটটি সংরক্ষিত হল কি না, তা ভোটারেরা দেখতে পান ভিভিপ্যাট মেশিনে।

    স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা

    ভোটগ্রহণের (West Bengal election 2026) পর ইভিএমগুলি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ‘সিল’ করে নির্দিষ্ট স্ট্রংরুমে রাখা হয়েছে। গণনার দিন সকালে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সেই সিল খোলা হবে। কমিশন সব পক্ষকে সমানে রেখেই গণনার কাজ করবে বলে জানিয়েছে। যেহেতু এই ইভিএমে আগামী সরকার গড়ার ভোট বন্দি রয়েছে তাই তাকে সবদিক থেকে সুরক্ষিত রাখাই কমিশনের একমাত্র কাজ। ৪ ঘণ্টাই স্ট্রংরুমগুলির পাহারায় থাকে কেন্দ্রীয় বাহিনী। আগে স্ট্রংরুমগুলির নিরাপত্তায় ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। ওই সংখ্যা আর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়ার জন্য ন্যূনতম ২৪ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে।

    গণনা কক্ষের বিন্যাস

    প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের (West Bengal election 2026) জন্য আলাদা আলাদা গণনা কক্ষ বা হলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যদি কোনও কক্ষ আকারে বড় হয়, তবে নিয়ম মেনে সেটিকে সুনির্দিষ্ট অংশে বিভক্ত করা হয়েছে। এককক্ষ থেকে অন্য কক্ষে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও থাকছে কড়া বিধিনিষেধ। গণনায় প্রযুক্তি ও স্বচ্ছতার মেলবন্ধন করবে কমিশন। এবারের নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ভারতীয় নির্বাচন কমিশন বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

    গণনা কেন্দ্রের স্ট্রংরুমে থাকবে একটিই প্রবেশপথ। ঘরের দরজায় রয়েছে ‘ডবল লক সিস্টেম’। কে, কখন স্ট্রং রুমে ঢুকছেন, কখন বার হচ্ছেন, সবটাই লিখে রাখতে হচ্ছে লগবুকে। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক সেই কাজ করছেন সবসময়। স্ট্রংরুমের পাশাপাশি ভোট গোনার জন্য আলাদা ভাবে গণনাকক্ষ তৈরি করা হেয়ছে। সেটিও নিরাপত্তার বলয়ে সুরক্ষিত থাকবে। প্রতিটি কক্ষের জন্য আলাদা প্রবেশ ও বাহির পথ থাকবে, সেটাই নিয়ম।

    কিউআর কোড যুক্ত পরিচয়পত্র

    গণনাকেন্দ্রে অবৈধ প্রবেশ রুখতে এবার কমিশন নতুন প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে। ভোট গণনা কর্মী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক এজেন্ট (West Bengal election 2026)— প্রত্যেকের পরিচয়পত্রে একটি সুনির্দিষ্ট কিউআর (QR) কোড থাকবে। তিন স্তরের যাচাই পর্ব পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে এই কোড স্ক্যান করার পরেই তবেই গণনাকক্ষে প্রবেশের অনুমতি মিলবে। গণনা কক্ষে থাকবেন রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, কাউন্টিং স্টাফ, টেকনিক্যাল স্টাফ, কাউন্টিং সুপারভাইজ়ার, কমিশনের অনুমোদিত ব্যক্তি ও অবজ়ার্ভার, দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী, প্রার্থী বা তাঁদের এজেন্ট।

    ভিডিও নজরদারি ও নিষেধাজ্ঞা

    নির্বাচন কমিশনের সাফ নির্দেশ, গণনাকেন্দ্রের (West Bengal election 2026) ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং ইভিএম বা ব্যালট পেপারের ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে গোটা প্রক্রিয়াটি সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে থাকবে এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলি ভিডিওগ্রাফি করা হবে।

    ভোট গণনার পর্যায়ক্রম

    সোমবার সকাল ৮টায় যখন গণনা শুরু হবে, তখন প্রথমেই গুরুত্ব পাবে পোস্টাল ব্যালট। সাধারণত প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে পোস্টাল ব্যালটের ঝোঁক বোঝা সম্ভব হয়। এরপর সকাল ৮টা ৩০ মিনিট নাগাদ শুরু হবে ইভিএম (EVM) মেশিনে জমা পড়া ভোটের গণনা। প্রতিটি রাউন্ডের শেষে রিটার্নিং অফিসার আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল (West Bengal election 2026) ঘোষণা করবেন, যা সরাসরি কমিশনের পোর্টালে আপলোড করা হবে।

    গণনার হিসাব রাখার জন্য মূলত দু’টি ফর্ম দেওয়া হয়। ফর্ম ১৭সি এবং ফর্ম ২০। ফর্ম ১৭সি-র প্রথম অংশ পূরণ করেন প্রিসাইডিং অফিসার। সেই অংশে থাকে— মোট কত জন ভোট দিয়েছেন, কত ভোট ইভিএমে রেকর্ড হয়েছে— গণনার সময় এটি ব্যবহার হয়। দ্বিতীয় অংশ পূরণ করেন গণনা পর্যবেক্ষক। এই অংশে থাকে নোটায় কত ভোট পড়েছে, প্রতিটি প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন। দ্বিতীয় অংশের ফলাফল প্রথম অংশের মোট ভোটের সঙ্গে মিলতেই হবে

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জনমানস

    পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের এই লড়াইয়ে এবার মূলত দ্বিমুখী বা ত্রিমুখী সংঘর্ষের চিত্র ফুটে উঠেছে। একদিকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস তাদের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে চতুর্থবারের জন্য জনসমর্থন চাইছে, অন্যদিকে বিরোধী দল বিজেপি এবং বাম-কংগ্রেস জোট পরিবর্তনের ডাক দিয়ে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে। বুথ ফেরত সমীক্ষা বা এক্সিট পোলগুলি ইতিমধ্যেই নানা ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছে, তবে বাংলার সাধারণ মানুষের প্রকৃত রায় জানার জন্য সোমবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে।

    ফলাফল ঘোষণার পর শান্তি ও শৃঙ্খলা

    ২০২৬ সালের এই বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal election 2026) শুধু একটি সরকার গঠনের লড়াই নয়, বরং রাজ্যের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণের এক অগ্নিপরীক্ষা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে যেন ফলাফল ঘোষণার পর শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়। আগামী ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের ললাট লিখন স্পষ্ট হবে। জনগণের রায় যে পক্ষেই যাক না কেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ গণনা প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই গণতন্ত্রের জয়গান ঘোষিত হবে— এটাই কাম্য।

LinkedIn
Share