Tag: west bengal assembly election 2026

west bengal assembly election 2026

  • ED At Supreme Court: রাজীবকে সাসপেন্ড করার আর্জি! “এমন কী ছিল, যা লুকোনোর জন্য তৎপর মুখ্যমন্ত্রী, সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্ন ইডির

    ED At Supreme Court: রাজীবকে সাসপেন্ড করার আর্জি! “এমন কী ছিল, যা লুকোনোর জন্য তৎপর মুখ্যমন্ত্রী, সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্ন ইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইপ্যাক মামলায় (IPAC ED Raid) কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের ডিজিপি রাজীব কুমার (DGP Rajeev Kumar), কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ কুমার বর্মা (CP Manoj Verma) এবং দক্ষিণ কলকাতার ডিসিপি প্রিয়ব্রত রায়কে সাসপেন্ড করার আবেদন জানাল ইডি। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলায় (IPAC ED Raid) শুনানির শুরুতেই এই আর্জি দাখিল করা হয় ইডির পক্ষ থেকে। দুর্ব্যবহার এবং অসহযোগিতার অভিযোগে রাজ্য পুলিশের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণের আর্জি জানানো হল ইডি-র তরফে। একই সঙ্গে ইডি জানতে চায়, “এমন কী ছিল, একটা অফিসে, যা লুকোনোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী পুরো পুলিশবাহিনী নিয়ে সেখানে ঢুকে পড়লেন? ”

    সুপ্রিম দুয়ারে ইডির আর্জি

    শীর্ষ আদালতে ইডি-র দাবি, আইন মেনে তল্লাশি চালানোর সময় নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হয়েছিল, তল্লাশিতে তুলকালাম নিয়ে আর্জিতে উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাদের অভিযোগ, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান তদন্তপ্রক্রিয়ায় নাক গলিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন সরকারি আধিকারিক ও সঙ্গী-সাথীরা। কেন্দ্রীয় কর্মিবর্গ ও প্রশিক্ষণ দফতর ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিক সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতে দায়ের করা নতুন আর্জিতে জানাল ইডি। গত সপ্তাহে বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটির (I-PAC) কলকাতা অফিসে ইডি তল্লাশি অভিযান চালায়। কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় (Coal Smuggle Case) চলা ওই তল্লাশির সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) আইপ্যাকের অফিসে (IPAC Kolkata Office) হাজির হন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের শীর্ষস্তরের নেতারা। তাঁরা ইডি অফিসারদের কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ। ‌সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) দাখিল করা অভিযোগে ইডি বলেছে, তল্লাশির জায়গায় মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি এবং কিছু ডকুমেন্ট সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সংস্থার কাজে বাধা দেওয়ার শামিল। এদিন সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি পিকে মিশ্র ও বিপুল পাঞ্চোলির এজলাসে মামলাটির শুনানি শুরু হয়েছে।

    কোনও নথি সরানো হয়নি

    বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) দায়ের করা আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। শুনানির সময় ইডি-র তরফে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু স্পষ্ট ভাষায় জানান, প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের ফ্ল্যাট কিংবা সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতর থেকে ইডি (ED Raid at IPAC) কোনও নথি বা ডিজিটাল এভিডেন্স বাজেয়াপ্ত করেনি। তাঁর দাবি, যে কাগজপত্র ওই জায়গাগুলি থেকে সরানো হয়েছে, তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই করা হয়েছে। এই বক্তব্য শোনার পর তৃণমূলের আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামী আদালতে জানান, ইডি (ED) যদি অন রেকর্ড স্বীকার করে যে তারা কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করেনি, তা হলে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) এই মামলাটি নিষ্পত্তি করতে পারে। জবাবে এসভি রাজু ফের বলেন, ইডি কোনও নথি বা ডিজিটাল প্রমাণ বাজেয়াপ্ত করেনি – এই অবস্থান তারা অন রেকর্ডেই জানাচ্ছে।

    ইডি কোনও সাধারণ সংস্থা নয়

    ইডির হয়ে সলিসিটর জেনারল মেহতার সওয়াল, “পিএমএলএ আইনের ৮ নম্বর ধারা অনুসারে, ইডি শুধু সরকারের একটি সাধারণ দফতর নয়। ইডির একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য আছে। ইডি অবৈধ ভাবে উপার্জিত সম্পত্তি চিহ্নিত করে, তা বাজেয়াপ্ত করে এবং দখলে নেয়।” সুপ্রিম কোর্টে ইডির সওয়াল, “আমাদের বিরুদ্ধে উল্টে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ মুছে দেওয়া হয়েছে।” ইডি বলে, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং পুলিশের তরফে ইডির বিরুদ্ধে তিনটি এফআইআর করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে যে ইডি বেআইনি কাজ করেছে, মানুষকে ভয় দেখিয়েছে ইত্যাদি। এই এফআইআরগুলির ভিত্তিতেই না কি ইডি অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরা সরিয়ে ফেলা হয়েছে।”

    কী লুকোতে চান মুখ্যমন্ত্রী?

    ইডির আইনজীবী আরও সওয়াল করেন, “এমন কী ছিল, যা লুকোনোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী পুরো পুলিশবাহিনী নিয়ে সেখানে ঢুকে পড়লেন? পুলিশ অফিসারদের পুরো বিষয়টি বুঝিয়ে বলার সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সেখানে প্রবেশ করেন। তাঁকে হস্তক্ষেপ না করার অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি তা মানেননি। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। এই মামলায় সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।” ইডির সওয়াল, “ওরা বলছে আমরা না কি সেখানে গিয়েছিলাম এসআইআর-এর তথ্য সংগ্রহ করতে। কিন্তু যে কেউ বুঝবে—এসআইআর-এর তথ্য তো ওয়েবসাইটেই পাওয়া যায়। সেটা আনতে সেখানে যাওয়ার কোনও মানে নেই। এমন কাজ কোনও বোকা লোকও করবে না। অবৈধ কয়লা পাচার মামলার তদন্তে আইপ্যাক-এ তল্লাশি করতে গিয়েছিল। কয়লা কেনাবেচার টাকা নগদে লেনদেন করা হত। ইডি যে সমন পাঠিয়েছিল, তার কোনও জবাব দেওয়া হয়নি। তদন্তে দেখা গিয়েছে, একটি হাওয়ালা চ্যানেল মারফত প্রায় ২০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।” মেহতা আদালতে বলেন, “ইডি আগেই ইমেল করে রাজ্যের আধিকারিকদের জানিয়ে দিয়েছিল। আমাদের কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না।” ওই দিনের ঘটনার ছবি দেখতে চান বিচারপতি।

  • SIR: নির্বাচন কমিশনের বিশেষ উদ্যোগ, ১২ রাজ্যে ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনায় ২০০৩-০৪ সালের তালিকাই ‘মূল ভিত্তি’

    SIR: নির্বাচন কমিশনের বিশেষ উদ্যোগ, ১২ রাজ্যে ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনায় ২০০৩-০৪ সালের তালিকাই ‘মূল ভিত্তি’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশে জুড়ে শুরু হয়েছে এসআইআর। ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া চলছে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে, যার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য—উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, ছত্তিশগড়, রাজস্থান ও গুজরাট। এই প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ২৭ অক্টোবর রাত ১২টার পর। শুরু হতে চলেছে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ভোটার তথ্য যাচাইয়ের অভিযান। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে চূড়ান্ত সংশোধিত তালিকা প্রকাশের লক্ষ্য নিয়েছে কমিশন। এই উদ্যোগের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত—২০০৩-০৪ সালের ভোটার তালিকাকে “বেসলাইন” বা মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা।

    কেন ২০০৩-০৪ সালকে ভিত্তি ধরা হলো?

    কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০০২-০৩ ও ২০০৩-০৪ সালে দেশব্যাপী শেষবারের মতো একটি ব্যাপক ভোটার যাচাই অভিযান হয়েছিল, যখন প্রথমবার ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে রূপান্তরিত হয়। সেই সময়কার ডেটা কমিশনের মতে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও যাচাইযোগ্য নথি। এক কমিশন কর্মকর্তা বলেন, “২০০৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভারতের জনসংখ্যা প্রায় ৩০ কোটি বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ অভিবাসন, নগরায়ণ ও জনবিন্যাসের ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে পুরনো তালিকার সঙ্গে তুলনা করলেই বোঝা যাবে কোথায় দ্বৈত নাম, মুছে যাওয়া ভোটার বা জনসংখ্যাগত অস্বাভাবিকতা রয়েছে।” তবে কমিশন স্পষ্ট করেছে—২০০৩-০৪ সালের তালিকা শুধুই তুলনামূলক রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হবে, কোনো নাগরিকের ভোটাধিকার নির্ধারণে এটি চূড়ান্ত ভিত্তি নয়।

    কীভাবে চলছে যাচাই প্রক্রিয়া?

    ১. বিদ্যমান তালিকা ফ্রিজ: ২৭ অক্টোবর মধ্যরাতের পর থেকে বর্তমান ভোটার তালিকায় কোনো পরিবর্তন করা যাবে না।
    ২. ঘরে ঘরে যাচাই: বুথ লেভেল অফিসার (BLO) তিন দফা বাড়ি-বাড়ি গিয়ে বয়স, ঠিকানা, নাগরিকত্ব ও নথিপত্র যাচাই করবেন।
    ৩. পুরনো নাম স্বয়ংক্রিয় নিশ্চিতকরণ: ২০০৩-০৪ সালের তালিকায় যাদের নাম রয়েছে, তাদের নতুন করে কোনো নথি দিতে হবে না।
    ৪. নতুন ভোটারদের জন্য কাগজপত্র: ২০০৪ সালের পর যাদের নাম যুক্ত হয়েছে, তাদের বয়স, অভিভাবকত্ব ও নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র দিতে হবে।
    ৫. চূড়ান্ত প্রকাশ: শুনানি ও আপত্তি নিষ্পত্তির পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন তালিকা প্রকাশ করা হবে।

    নাগরিকত্ব বিতর্কের ছায়া

    কমিশন যদিও জানিয়েছে এই পদক্ষেপের সঙ্গে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কোনো সম্পর্ক নেই, তবু পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও অসমের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয়—যেমন মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর ২৪ পরগনা ও কিশানগঞ্জে—এই সিদ্ধান্ত নতুন করে বিতর্ক জাগিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এটি জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (NRC) ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর বিতর্ককে ফের উস্কে দিতে পারে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, “২০০৩-০৪ সালে কারও নাম না থাকায় তাকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে না। এটি কেবল তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নয়।”

    উচ্চ সতর্কতায় পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ ও তামিলনাড়ু

    এই ১২ রাজ্যের মধ্যে কয়েকটি রাজ্যকে “হাই স্ক্রুটিনি জোন” হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের ২,২০০ কিমি দীর্ঘ বাংলাদেশ সীমান্ত, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের অভ্যন্তরীণ অভিবাসন, তামিলনাড়ু ও ছত্তিশগড়ের শিল্পাঞ্চলে জনবসতি পরিবর্তন—সবই এই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। কমিশন রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া বজায় রাখতে এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ বা যোগ করার আগে সর্বজনীন শুনানি আয়োজন করতে।

    কমিশনের বার্তা: “এটি রাজনৈতিক নয়, প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ”

    জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো ভারতের ৯৫ কোটির বেশি ভোটারের তালিকাকে আরও নির্ভুল করা। কমিশনের আহ্বান—সব ভোটার যেন এনভিএসপি পোর্টাল বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের নাম যাচাই করেন এবং বিএলও-দের সঙ্গে সহযোগিতা করেন। কমিশন সতর্ক করেছে, নির্ধারিত সময়ে যাচাই না করলে নাম সাময়িকভাবে স্থগিত হতে পারে, তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে আপিলের সুযোগ থাকবে। যদিও নির্বাচন কমিশন বারবার বলছে এটি একটি “ডেটা ভেরিফিকেশন এক্সারসাইজ”, রাজনৈতিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু ও উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে এই পদক্ষেপের সময়কাল এবং প্রেক্ষাপট একে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে যদি এই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়, তবে এটি ভবিষ্যতে দেশজুড়ে ভোটার তালিকা রক্ষণাবেক্ষণের নতুন মডেল হয়ে উঠতে পারে—এমনটাই আশা করছে নির্বাচন কমিশন।

  • BJP West Bengal: পাখির চোখ বিধানসভা! ফের রাজ্যে বিজেপি-র কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক, বৈঠকে ভূপেন্দ্র যাদব-বিপ্লব দেব

    BJP West Bengal: পাখির চোখ বিধানসভা! ফের রাজ্যে বিজেপি-র কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক, বৈঠকে ভূপেন্দ্র যাদব-বিপ্লব দেব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজো শেষ হতেই ২০২৬ সালের বিধানসভা (BJP West Bengal) ভোট প্রস্তুতি শুরু করে দিল বঙ্গ বিজেপি। সংগঠনের মোর্চা প্রধানদের নিয়ে কলকাতার হেড অফিসে সভার আয়োজন করা হল। সেখানে উপস্থিত থাকবেন ভোট প্রস্তুতির পর্যবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিপ্লব দেব এবং ভূপেন্দ্র যাদব। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটা তাদের দ্বিতীয় মিটিং। এই মিটিংয়ে সংগঠনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা হবে বলেই খবর। সেখানে সংগঠনের ত্রুটি এবং শক্তির জায়গা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে। সেই মতো পরবর্তী রুটম্যাপ ঠিক হবে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বৈঠকে থাকবেন শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার। বৈঠকে থাকার কথা বঙ্গ বিজেপির অন্যান্য নেতা-নেত্রীদেরও।

    ভোটের প্রস্তুতি চলছে

    পুজোর আগে তিন তিনবার রাজ্য়ে ঘুরে গেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। পুজোর আগে এবং পুজোর মধ্যে রাজ্যে এসেছেন অমিত শাহ। সূত্রের দাবি, চলতি মাস থেকেই ধারাবাহিক কর্মসূচি শুরু করে দিচ্ছে বিজেপি। অক্টোবর ও নভেম্বর জুড়ে চলবে লাগাতার কর্মসূচি। জানুয়ারি থেকে দ্বিগুণ তৎপরতা নিয়ে এরাজ্য়ে ঝাঁপাবে বিজেপি। একাদশীতেই কলকাতায় এসে ছাব্বিশের প্রাথমিক ‘স্ট্র্য়াটেজি মিটিং’ সেরে ফেলেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা। আলোচনার মাধ্যমে সংগঠনের একদম বুথ লেভেলের পরিস্থিতি জানতে চাইছেন ভূপেন্দ্র যাদব এবং বিপ্লব দেব। কোথাও নিচু তলার সংগঠন দুর্বল হলে, সেটা ঠিক করার পরামর্শ দিচ্ছে তারা। তবে কোথায় পরিস্থিতি খারাপ, আর কোথায় ভালো, সেটা বুঝতে গেলে সংগঠনের সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তাই দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই সভা করে যাচ্ছেন দুই কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক বলে দাবি।

    কী কী নিয়ে আলোচনা

    পশ্চিমবঙ্গে (BJP West Bengal) আগামি বছর হবে বিধানসভা ভোট। সেই মতো রাজ্যে এসআইআর-এর প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এই মাসেই হয়তো ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনের দিন ঘোষণা হয়ে যাবে। সেই সময় বিজেপি-এর সভ্যরা ঠিক কীভাবে কাজ করবে, সেটাও আগেভাগে ছকে রাখতে চাইছে বিজেপি। এখানেই শেষ নয়, সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের ভোটের আগে নিজেদের আরও শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করাতে চাইছে বিজেপি। তারা প্রাথমিকভাবে সংগঠনের বাস্তবিক পরিস্থিতি ঝালিয়ে নিচ্ছে। এর পর কোন আসনে কাকে দাঁড় করানো যায়, সেটা দেখার পালা। তবে এখনই এই নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হবে না। বরং একটা সম্ভাব্য লিস্ট সাজিয়ে রাখতে চাইছেন উচ্চ নেতারা। সেই লিস্টে এখনও অনেক অদলবদলের রয়েছে সম্ভাবনা। একদম ভোটের আগেই বেরবে শেষ প্রার্থী তালিকা।

  • Assembly Election 2026: ছাব্বিশের ভোটে বাংলার দায়িত্বে ভূপেন্দ্র যাদব, বিপ্লব দেব! কেন এই দুজনকে বাছল বিজেপি?

    Assembly Election 2026: ছাব্বিশের ভোটে বাংলার দায়িত্বে ভূপেন্দ্র যাদব, বিপ্লব দেব! কেন এই দুজনকে বাছল বিজেপি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election 2026) আগে রাজ্যে সংগঠন মজবুত করতে নয়া দায়িত্ব ভাগ করে দিল বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী দায়িত্বে কেন্দ্রের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবকে করা হল রাজ্য নির্বাচনী ইনচার্জ। তাঁর সঙ্গে সহ-ইনচার্জ হিসেবে থাকবেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান সাংসদ বিপ্লবকুমার দেব। এই ঘোষণার পরই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘোষণা থেকেই পরিষ্কার শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদারদের মতো রাজ্যের নেতাদের জন্য কৌশল ঠিক করে দেবেন ভূপেন্দ্র যাদবরা।

    ভূপেন্দ্র যাদবের ট্র্যাক রেকর্ড

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গকে পাখির চোখ করে এগোচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা। সেই কারণেই এত তাড়াতাড়ি ভূপেন্দ্র যাদবের নাম ঘোষণা করা হল। নির্বাচনী রাজনীতিতে তাঁর যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই তাঁকেই বাংলার মতো দুর্জয় ঘাঁটির দায়িত্ব দেওয়া হল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভূপেন্দ্রকে বাংলায় দায়িত্ব দেওয়ার পিছনে রয়েছে তাঁর ট্র্যাক রেকর্ড। ২০২০ সালে তিনি একই দায়িত্বে ছিলেন বিহারের। সেখানে তিনি চমকপ্রদ ফল এনে দেন। বিজেপি এনডিএ জোটের মধ্যে এককভাবে বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এর আগেও একাধিক রাজ্যের ভোটে নিজের দক্ষতার প্রমাণ বারবার দিয়েছেন ভূপেন্দ্র। এর আগে রাজস্থান, গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রের মতো চ্যালেঞ্জিং রাজ্যের দায়িত্বও পালন করেছিলেন তিনি। সেই সব জায়গায় দলের নির্বাচনী কৌশল ঠিক করা, নবীন-প্রবীণের দ্বন্দ্ব মেটানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কাজ করেছেন।

    কেন বিপ্লব দেবকেও দায়িত্ব? 

    বাংলার একেবারে লাগোয়া রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকেই ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে দায়িত্ব দিয়েছে বিজেপি। দিল্লির কার্যকর্তা থেকে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী, তারপর লোকসভায় বিজেপির সদস্য। একটি মানুষের রাজনীতি ও সাংগঠনিক দক্ষতা কতটা ভালো, এই প্রোফাইলেই তার ইঙ্গিত মেলে। ভোট রাজনীতিতে জনপ্রিয়তা ও সংগঠন সামলানোর মিশেল। ত্রিপুরার রাজনীতিতে বিপ্লব দেবের এন্ট্রি ২০১৫ সালে। উত্তর-পূর্ব ভারতের এই রাজ্যে বলা যায় বিজেপির টার্নিং পয়েন্ট। শুধু বিজেপি কর্মী সমর্থকদের সঙ্গেই নয়, সিপিএম এর নেতা ও পরিবারের সঙ্গেও নিজে গিয়ে দেখা করতে শুরু করলেন। যাকে বলা যায়, একেবারে মাঠে নেমে রাজনীতি। মানুষের সঙ্গে মেলামেশা। ত্রিপুরার মানুষের মন বোঝার চেষ্টা। ২০১৬ সালে ত্রিপুরায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি নির্বাচিত হন বিপ্লব। তারপর মাত্র দু’বছরেই ত্রিপুরায় পরিবর্তন। ৬০ আসনের বিধানসভার ত্রিপুরায় ৩৬টি আসন নিয়ে জিতল বিজেপি। ২৫ বছরের বাম শাসনের অবসান। বিপ্লব দেব হলে ত্রিপুরার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী। যেন এলেন, দেখলেন, জয় করলেন। বিপ্লব দেবের এই বহুমুখী দক্ষতাকেই পশ্চিমবঙ্গে কাজে লাগাতে চাইছেন অমিত শাহ। একই সঙ্গে প্লাস পয়েন্ট হল, বিপ্লব দেব বাংলাও একেবারেই সরগর। ফলে হিন্দিভাষী তকমা জুটবে না। আসলে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দেখছে, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ভাবে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে ত্রিপুরার অনেক মিল রয়েছে।

LinkedIn
Share