Tag: west bengal border

west bengal border

  • Bangladeshi Infiltrators: ‘‘তৃণমূলের লোকজনই ভোটার-রেশন কার্ড পাইয়ে দিয়েছিল’’! বাংলাদেশিদের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তিতে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

    Bangladeshi Infiltrators: ‘‘তৃণমূলের লোকজনই ভোটার-রেশন কার্ড পাইয়ে দিয়েছিল’’! বাংলাদেশিদের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তিতে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের কড়া পদক্ষেপের জেরে এবার বড়সড় চাপে পড়েছেন অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা। রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া ব্যাপক ধরপাকড়, নজরদারি এবং পরিচয়পত্র যাচাই অভিযানের পর বহু বাংলাদেশি বর্তমানে সীমান্তবর্তী এলাকা ও ট্রানজিট পয়েন্টে ভিড় জমাচ্ছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে। অনেকে স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ বহু বছর ধরে ভারতে বসবাস করার পর হঠাৎ পরিস্থিতির বদলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

    রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পেরোনো, সক্রিয় দালালচক্র

    বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি সুসংগঠিত দালালচক্র সক্রিয় ছিল, যারা বাংলাদেশিদের অবৈধভাবে ভারতে ঢোকানোর ব্যবস্থা করত। সীমান্তের যে অংশে বিএসএফের টহলে “ফাঁক” থাকত, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে সীমান্ত পার করিয়ে দেওয়া হতো। বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার এক কাঠমিস্ত্রি জানিয়েছেন, তিনি রাতের অন্ধকারে বিএসএফের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য এক দালালকে ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। এরপর সুযোগ বুঝে তাঁকে ভারতে ঢোকানো হয়। তাঁর কথায়, “কখনও পুরো রাত অপেক্ষা করতে হয়, আবার কখনও ১০ মিনিটেই সীমান্ত পার হওয়া যায়।” আরও এক অনুপ্রবেশকারী জানিয়েছেন, সীমান্তে কড়া নজরদারি থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রায় ২০ হাজার টাকা দিয়ে এজেন্টের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি করে ট্রেনে করে বেঙ্গালুরু পৌঁছে যান।

    জাল আধার, ভোটার কার্ড ও সরকারি সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ

    সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে পরিচয়পত্র জালিয়াতি এবং রাজনৈতিক মদতের প্রসঙ্গে। একাধিক বাংলাদেশি দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহায়তায় তাঁদের ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড ও আধার কার্ড তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। এক বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের লোকজনই আমাকে ভোটার কার্ড ও রেশন কার্ড পাইয়ে দিয়েছিল। এমনকি আমি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকাও দুই-তিন বছর পেয়েছি।”
    অন্য এক ব্যক্তি দাবি করেন, মাত্র ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে আধার কার্ড তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর তাঁরা সহজেই ভাড়াবাড়ি নেওয়া, কাজ পাওয়া এবং বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে সক্ষম হন।

    “বাবা ছোটবেলায় ভারতে নিয়ে এসেছিল”

    সীমান্তে অপেক্ষারত অনেকেই জানিয়েছেন, তাঁরা বহু বছর ধরে ভারতে বসবাস করছেন। বাংলাদেশের খুলনার সালাম দালি নামে এক ব্যক্তি বলেন, তিনি প্রায় পাঁচ বছর আগে ৮-১০ হাজার টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে ভারতে ঢুকেছিলেন এবং কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। আরেক ব্যক্তি বলেন, “আমি যখন ১০ বছরের মতো, তখন বাবা-মা আমাকে ভারতে নিয়ে আসে। বাবা কাঠমিস্ত্রির কাজ করত। এতদিন কেউ কিছু বলেনি। আমরা শুধু কাজ করেছি।” একটি প্রতিবেদনে খাতুন নামে এক মহিলার কথাও উঠে এসেছে, যিনি গৃহপরিচারিকার কাজ করতে ভারতে এসেছিলেন। কিন্তু এখন আটক শিবির ও জোরপূর্বক নির্বাসনের ভয়ে স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরছেন।

    বদলে যাওয়া প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে আতঙ্ক

    বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে বলে দাবি করছেন বহু অনুপ্রবেশকারী। তাঁদের বক্তব্য, আগে প্রশাসন বা স্থানীয় স্তরে তেমন কড়াকড়ি ছিল না, কিন্তু এখন নিয়মিত নথি যাচাই, পুলিশি অভিযান এবং নজরদারি চালানো হচ্ছে। এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, “তৃণমূল আমলে কেউ কিছু বলত না। এখন সরকার বদলে গেছে। বাড়ির মালিকেরাও ভয় পাচ্ছেন। বাংলাদেশি কাউকে রাখলে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা ও জেলের ভয় দেখানো হচ্ছে।” এই পরিস্থিতিতে বহু পরিবার নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে সীমান্তের দিকে রওনা দিয়েছেন। কেউ কেউ আবার স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছেন, যাতে আটক হয়ে হোল্ডিং সেন্টারে যেতে না হয়।

    কঠোর অবস্থানে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অবৈধ বাংলাদেশিদের আদালতে পাঠানো বা আশ্রয় দেওয়ার পরিবর্তে সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি যাঁরা জাল নথির মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছেন, তাঁদের তালিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় পরিচয়পত্র যাচাই, ভাড়াটে তল্লাশি এবং সন্দেহভাজনদের উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে সম্পত্তির মালিকদেরও সতর্ক করা হয়েছে যাতে তাঁরা বৈধ নথি ছাড়া কাউকে আশ্রয় না দেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই অভিযান আগামী দিনে আরও জোরদার হতে পারে এবং জাল পরিচয়পত্র চক্রের বিরুদ্ধে পৃথক তদন্তও শুরু হতে পারে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

    শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তা

    রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের আদালতে হাজির না করে সরাসরি সীমান্তে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা যাতে কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা না পান, তার জন্যও বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, প্রায় ৩০ লক্ষ অযোগ্য ব্যক্তি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন। তাঁদের মধ্যে বহু ভুয়ো পরিচয়ধারী ও অ-ভারতীয় নাগরিকও ছিলেন বলে অভিযোগ। নতুন “অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার” প্রকল্পে এই ধরনের সুবিধাভোগীদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বৃহস্পতিবার বলেন, “যেহেতু অনুপ্রবেশকারীরা নিজেরাই ফিরে যাচ্ছে, তাই তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে না।”

    সীমান্তপথে অনুপ্রবেশের পুরনো রুট এখনও সক্রিয়

    ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,০৯৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে রয়েছে নদীঘেরা এলাকা, কৃষিজমি এবং ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল, যেখানে এখনও সম্পূর্ণ নজরদারি বজায় রাখা কঠিন। এই দুর্বল অংশগুলিকেই কাজে লাগায় মানব পাচার ও চোরাচালান চক্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ৩,২৩২ কিলোমিটার অংশে বেড়া বা নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট সীমান্তের প্রায় ৭৯ শতাংশ। তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তের বহু নদীঘেরা ও দুর্গম অংশ এখনও অনুপ্রবেশের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান ও মানব পাচার চক্র এই রুটগুলিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশিদের ভারতে প্রবেশ করাচ্ছে।

  • Suvendu Adhikari: অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাছাড়া করতে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, কী বললেন শুভেন্দু?

    Suvendu Adhikari: অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাছাড়া করতে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, কী বললেন শুভেন্দু?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনুপ্রবেশ রুখতে এবং অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাছাড়া করতে অল আউট খেলছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। দিন দুয়েক আগেই রাজ্যের সব জেলায় অনুপ্রবেশকারীদের (Bangladeshi Immigrants) পাকড়াও করে হোল্ডিং সেন্টারে রাখার দাওয়াই দিয়েছিলেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী। তার পরে রাজ্যের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত দুই জেলা মালদা এবং মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেফতার করা হয় ১৪ অনুপ্রবেশকারীকে। তাঁদের ঠাঁই হয়েছে নবগঠিত হোল্ডিং সেন্টারে। এহেন আবহে অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশে এবার কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার প্রশাসনিক বৈঠক শেষে শুভেন্দু বলেন, “এঁদের চলে যাওয়া উচিত। ওই দেশের মুখপাত্র বলেছিলেন যে বাংলাদেশিদের ফেরত নেবেন। জলদি জলদি ভাগো। জলদি জলদি ভাগো। নাহলে এই সরকার যা করার করবে।”

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী? (Suvendu Adhikari) 

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা বলে দিয়েছি, বাংলাদেশের অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ধরে কোর্টে পাঠানোর কোনও দরকার নেই। আইনে নেই। সরাসরি পুলিশ নেবে এবং বিএসএফের হাতে হ্যান্ডওভার করবে। ভারত সরকার, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিএসএফের যে এগ্রিমেন্ট আছে, সেই অনুযায়ী, বাংলাদেশি প্রমাণ করে হস্তান্তর করে দেবে। আমাদের জেলে তিন মাস, ছ’মাস, কিংবা দু’বছর রেখে, আপনার চাল, আপনার ডাল, আপনার তেল, আপনার মাছ, আপনার ডিম, আপনার কাপড়, আপনার ওষুধ ওদের দেব কেন? ভারতীয়দেরই ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের রাজ্যেরই ক্ষতি হচ্ছে। সেইজন্যই আইনটা এতদিন ছিল। ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে কেউ বা কারা ব্যবহার করেননি। আমরা ভোটব্যাঙ্কের বাইরে গিয়ে, দেশের স্বার্থে, রাজ্যের স্বার্থে এই আইন কার্যকর করছি (Suvendu Adhikari)।”

    হাকিমপুর চেকপোস্টে অনুপ্রবেশকারীরা

    প্রসঙ্গত, রবিবারই হোল্ডিং সেন্টার চালু করার কথা ঘোষণা করেছিলেন রাজ্যে পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে দ্রুত তাঁদের নিজেদের দেশে ফেরানোর কথাও ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তার জেরেই ব্যাপক ভিড় উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুর চেকপোস্টে। সেখানেই বাংলাদেশে ফেরত যাওয়ার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুণছেন বাম-তৃণমূলের জমানায় পশ্চিমবঙ্গে ঢুকে পড়া অনুপ্রবেশকারীরা। এঁদের অনেকেই কাজ করছিলেন রাজারহাট নিউটাউন এলাকায়। অনেকেই পাঁচ-সাত বছর ধরে ছিলেন এ রাজ্যে (Suvendu Adhikari)। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হতেই এঁরা বাংলাদেশে ফিরে যেতে ভিড় করেছেন সীমান্তের বিভিন্ন চেকপোস্টে। বিএসএফের কাছে আত্মসমর্পণের পর (Bangladeshi Immigrants) এঁদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশে।

     

  • Dakshin Dinajpur: ভোট এলেই প্রতিশ্রুতির বন্যা, জীবনের আঁধার আজও কাটল না!

    Dakshin Dinajpur: ভোট এলেই প্রতিশ্রুতির বন্যা, জীবনের আঁধার আজও কাটল না!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের পর ভোট আসে, আসেন নেতারাও। তারপর ভোট যায়, আর দেখা পাওয়া যায় না তাঁদের। বছরের পর বছর সেই আঁধারেই থেকে যান সীমান্ত অঞ্চলের বাসিন্দারা। কাঁটাতারে আটকে গিয়েছে তাঁদের স্বাধীনতাও। ভারতীয় ভূখণ্ডে বাস করেও ভারতীয় হওয়ার স্বাদ নিতে পারেন না তাঁরা। সমস্যার সুরাহা হওয়ার প্রতিশ্রুতি মেলে, কিন্তু সুরাহা মেলে না বলেই আক্ষেপ স্থানীয় বাসিন্দাদের। আবারও ভোট আসছে। প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের তরফ থেকে প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে আশ্বাস দিচ্ছেন। তবে এবার আর নিছক আশ্বস্ত হয়ে থামতে চান না তাঁরা। সীমান্তবর্তী এই এলাকার সমস্যার পুরোপুরি সমাধান চাইছেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি থানা এলাকার ওই সব গ্রামের বাসিন্দারা। দক্ষিণ দিনাজপুর (Dakshin Dinajpur) জেলার তিন দিকে রয়েছে বাংলাদেশের সীমান্ত। দৈর্ঘ্যে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার সেই সীমান্ত। তার মধ্যে এখনও ৩০ কিলোমিটার এলাকায় নেই কাঁটাতার। আর অন্যদিকে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি থানা এলাকাতেই বেশ কয়েকটি গ্রাম রয়েছে, যা কাঁটাতারের ওপারে। ভারতীয় হলেও গ্রামগুলির বাসিন্দারা দিনের পর দিন এক অদ্ভূত সঙ্কটে কাটাচ্ছেন। ফলে ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হলেও এখনও স্বাধীনতার স্বাদ অধরা তাঁদের কাছে।

    কী অভিযোগ গ্রামবাসীদের (Dakshin Dinajpur)?

    গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সীমান্তে ওই এলাকায় বাস করার কারণে তাঁরা সাধারণ ভারতীয়ের মতো সুযোগ পান না। বঞ্চিত হন অনেক সুবিধা থেকেও। স্বাধীনভাবে চলাচল করার সুযোগ পর্যন্ত তাঁদের নেই। গ্রামবাসীরা (Dakshin Dinajpur) জানান, বিএসএফ-এর তল্লাশির সময় তাঁদের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। পানীয় জল বা রাস্তা, সব ক্ষেত্রে বেহাল অবস্থা। সরকারি প্রকল্পের সুযোগসুবিধা ঠিকমতো মেলে না বলেও অভিযোগ। বিশেষত পড়ুয়াদের অবস্থা আরও খারাপ। একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর গ্রামে প্রবেশ করতেও তাঁদের বাধা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। এ নিয়ে পড়ুয়াদের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ।

    কী বলছেন বিজেপি এবং তৃণমূল নেতৃত্ব (Dakshin Dinajpur)?

    বিজেপি বিধায়ক বুধরাই টুডু এই প্রসঙ্গে বলেন, সীমান্ত (Dakshin Dinajpur) এলাকায় চলাচলের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়ম আছে, যেগুলো সবাইকেই মেনে চলতে হয়। তিনি জানিয়েছেন, সীমান্তে নতুন করে কাঁটাতার দেওয়া হবে, আর সেগুলি থাকবে গ্রামগুলির পিছন দিয়ে। তাহলে সমস্যা মিটবে বলেই মনে করেন তিনি। তবে তৃণমূলের দাবি, ভোটের সময় নয়, সারা বছরই খোঁজখবর করা হয়। হিলির তৃণমূল ব্লক সভাপতি মিহির সরকার বলেন, “ভোটের আগে এবং পরে আমরা নিয়মিত যাই গ্রামে। এবার গ্রামকে বাঁচিয়ে নতুন করে কাঁটাতারের বেড়া তৈরি হবে। তবে সীমান্তের বিষয়টি মূলত কেন্দ্রের অধীন। সেখানে রাজ্যের কিছু করার থাকে না।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share