Tag: West Bengal Election News

  • Bengal Elections 2026: এবার ভবানীপুর সহ কলকাতার ৩১ থানার ওসি, জেলায় ১৪২ থানায় আইসি বদল কমিশনের

    Bengal Elections 2026: এবার ভবানীপুর সহ কলকাতার ৩১ থানার ওসি, জেলায় ১৪২ থানায় আইসি বদল কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের মুখে ফের পুলিশের একাধিক পদে বড়সড় রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। রবিবার জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যের মোট ১৭৩টি থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) ও ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ (আইসি) বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে কলকাতা পুলিশের আওতাধীন ৩১টি থানাও রয়েছে। কমিশনের দাবি, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। এই বদলির তালিকায় রয়েছে কলকাতার ভবানীপুর এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। পাশাপাশি কোচবিহার, মালদা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা—এই সব জেলার একাধিক থানার ওসি ও আইসি-দেরও সরানো হয়েছে।

    ভবানীপুর থানার নতুন ওসি

    কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এ কর্মরত সৌমিত্র বসু ভবানীপুর থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। নির্বাচনের আগে এই ধরনের রদবদল যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। ফলে এই কেন্দ্রের দিকে বিশেষ নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের। সেই প্রেক্ষিতে ভোটের আগে এই থানার আইসি বদলি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

    কলকাতায় বহু থানার ওসি বদল

    এছাড়াও কলকাতার আলিপুর, ইকবালপুর, হরিদেবপুর, এন্টালি, জোড়াসাঁকো, গড়িয়াহাট, নিউ মার্কেট, বউবাজার, টালিগঞ্জ, অ্যামহার্স্ট স্ট্রিট, তারাতলা ও বেহালা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ থানায় নতুন ওসি নিয়োগ করা হয়েছে। এদিকে, আরজি কর-কাণ্ডের সময় টালা থানর ওসি ছিলেন অভিজিৎ মণ্ডল। তাঁকে উত্তর কলকাতার মানিকতলা থানার ওসি করেছিল কমিশন। তবে, নোটিস জারির পরে কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, অনিচ্ছাকৃত ভাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া অভিজিৎ মানিকতলা থানায় যোগদান করছেন না। তিনি পর্ণশ্রী থানাতেই আগের দায়িত্বে বহাল থাকবেন। মানিকতলা থানার ওসি করা হচ্ছে নিরূপম নাথকে।

    জেলাতেও বিপুল সংখ্যক আইসি বদলি

    জেলা স্তরেও একাধিক বদলি হয়েছে। দেবদুলাল মণ্ডল হালদিয়ার আইসি, কাজল দত্ত কোলাঘাটের দায়িত্বে, সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় এগরার আইসি এবং চন্দ্রকান্ত শাসমল পটাশপুরের ওসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। শুধু পুলিশ নয়, প্রশাসনিক স্তরেও বদল এনেছে কমিশন। পূর্ব মেদিনীপুরে নন্দীগ্রাম–১ ও নন্দীগ্রাম–২ সহ মোট ১৪ জন বিডিওকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নন্দীগ্রাম থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শুভব্রত নাথকে। এর আগে তিনি চন্দননগর থানায় কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি, খেজুরি, চণ্ডীপুর, হলদিয়া, কোলাঘাট, তমলুক, এগরা ও পটাশপুর-সহ একাধিক থানার ওসি পদেও রবিবার বদল আনা হয়েছে। অন্যদিকে, শীতলকুচি থানার ওসি করা হয়েছে অভিষেক লামাকে, যিনি আগে কোচবিহারের কোতোয়ালি থানায় এসআই পদে ছিলেন। এছাড়াও দিনহাটা, মাথাভাঙা, গোকসাডাঙা, রায়গঞ্জ, ইটাহার, কালিয়াগঞ্জ, করণদিঘি, চোপড়া ও ইসলামপুর-সহ একাধিক থানার ওসি বদল করেছে নির্বাচন কমিশন। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পিন্টু মুখোপাধ্যায়কে দার্জিলিঙের ডিআইবি পদে পাঠানো হয়েছে।

    কী বলছে কমিশন?

    দেখা যাচ্ছে, একই জেলায় যাঁরা দীর্ঘদিব ধরে রয়েছেন, মূলত সেইসব পুলিস আধিকারিকদেরও সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। আবার সাইবার সেল, ট্রাফিক বা পুলিসে বিশেষ শাখার কর্মরত অফিসারদের থানায় দায়িত্বে আনা হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য, এই রদবদলের মূল উদ্দেশ্য হল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং ভোটের সময় স্থানীয় প্রভাব কমানো। এর আগে কমিশন ১৮টি জেলায় ৮৩ জন বিডিও ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারকেও বদলি করেছিল। এদিকে, নির্বাচন ঘিরে এই ধরনের প্রশাসনিক বদলি নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে টানাপোড়েনও বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার অভিযোগ করেছেন, এই বদলিগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নতুন করে পুলিশে এই রদবদল হওয়ায় বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

  • 2nd Supplementary Voter List: ১২ লক্ষ বিবেচনাধীনের দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ কমিশনের

    2nd Supplementary Voter List: ১২ লক্ষ বিবেচনাধীনের দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২৭ মার্চ গভীর রাতে, প্রায় সাড়ে ১১টা নাগাদ এসআইআর-এর দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা (2nd Supplementary Voter List) প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। আগের বারের মতো এবারও কতজন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য জানানো হয়নি। উল্লেখযোগ্যভাবে, নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) রিপোর্ট অনুযায়ী, সোমবার প্রথম তালিকায় প্রায় ১০ লক্ষ ভোটার, যারা বিবেচনাধীন ছিলেন, তাদের তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। গতকাল প্রকাশিত তালিকায় আরও ১২ লক্ষ বিবেচনাধীনের ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে।

    দ্বিতীয় অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ কমিশনের

    ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। ৬৩ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছিল। আরও প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বিবেচনাধীন অবস্থায় ছিল। এই পরিস্থিতিতে বিবেচনাধীন ভোটারদের যোগ্যতা যাচাই করতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারপতিদের নিয়োগ করা হয়। সেই প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যেই দুই দফায় বিবেচনাধীন তালিকার অর্ধেকেরও বেশি নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। যদিও পূর্ববর্তী একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল, প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা (2nd Supplementary Voter List) থেকেই প্রায় ১০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। দুই তালিকা মিলিয়ে মোট প্রায় ২২ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারদের নাম প্রকাশ হল। এখনও ২৩ লক্ষ ভোটারের নামের নিষ্পত্তি বাকি।

    শুক্রবার সন্ধ্যাতেই সিইও মনোজ আগরওয়াল (Election Commission) জানিয়েছিলেন, বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিচারকেরা যা তথ্য দিয়েছেন, তা ‘প্রসেস’ করে প্রকাশ করা হবে দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা। সেক্ষেত্রে ঘণ্টা পাঁচেক সময় লেগে যেতে পারে বলে আগেই আভাস দিয়েছিলেন। সেই মতো, মধ্যরাতের কিছু আগে দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর আগে, ২৩ মার্চ প্রথমে জানানো হয়েছিল রাত ৯টার মধ্যে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা (2nd Supplementary Voter List) প্রকাশ করা হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গিয়ে সেই তালিকা প্রকাশিত হয় প্রায় রাত পৌনে ১২টা নাগাদ। প্রথম অতিরিক্ত তালিকায় কত নিষ্পত্তি হয়েছে এবং সেখান থেকে কত জন ভোটার যোগ হয়েছেন, তা জানায়নি কমিশন। তবে জানা যাচ্ছে, দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের আগে পর্যন্ত সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ৭৬ লক্ষের নাম বাদ গিয়েছে।

    কোথায়, কীভাবে নিজেদের নাম দেখবেন ভোটাররা?

    ভোটাররা সহজেই নিজেদের নাম যাচাই করতে পারেন নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) ওয়েবসাইটে গিয়ে। এর জন্য voters.eci.gov.in-এ লগ ইন করতে হবে। চাইলে সরাসরি নির্দিষ্ট লিঙ্কে গিয়ে ভোটার তালিকা ডাউনলোডের পাতাতেও পৌঁছে যাওয়া যায়। পাশাপাশি, জেলাশাসকের দফতর, এসডিও বা এডিএম অফিসে গিয়েও তালিকা দেখা সম্ভব। এছাড়া প্রতিটি বুথেও তালিকা টাঙিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে। ওয়েবসাইটে (ECI Voter Portal) ঢোকার পর রাজ্যের নাম, তালিকা সংশোধনের বছর, রোলের ধরন, জেলা, বিধানসভা কেন্দ্র এবং ভাষা নির্বাচন করে ক্যাপচা পূরণ করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট তালিকা (2nd Supplementary Voter List) স্ক্রিনে দেখা যাবে। সেখান থেকে নিজের বুথ নির্বাচন করে ডাউনলোড বাটনে ক্লিক করলে পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড হয়ে যাবে। নিজের নাম খুঁজতে ‘রোল টাইপ’ থেকে ‘Adjudication Supplementary List No. 2’ অপশনটি বেছে নিতে হবে। যদি সেখানে নাম না পাওয়া যায়, তবে ‘Adjudication Deleted List No. 2’-এ খুঁজে দেখা যেতে পারে।

    নাম বাদ গেলে কত তারিখের মধ্যে আবেদন করতে হবে?

    যাদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তারা অবসরপ্রাপ্ত বিচারক-বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত ট্রাইবুনালে আপিল করতে পারবেন। এই উদ্দেশ্যে মোট ১৯টি ট্রাইবুনাল (Voter List Appeal Tribunal) তৈরি করা হয়েছে। আবেদন করা যাবে অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই। অনলাইনে ইসিআই নেট অ্যাপ (ECI NET) বা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে আবেদন করা যাবে। অন্যদিকে, অফলাইনে জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক বা মহকুমাশাসকের দফতরেও আবেদন করা সম্ভব। উল্লেখ্য, ২৩ মার্চ প্রকাশিত তালিকায় যাদের নাম ‘ডিলিটেড’ (2nd Supplementary Voter List) তালিকায় রয়েছে, তারা ৬ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। আর ২৭ মার্চের তালিকায় যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১১ এপ্রিল।

  • Intimidatory Tactics: ‘ভয় দেখানোর মাধ্যমে সাংবিধানিক কর্তব্যে বাধা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হবে’, সাফ জানাল কমিশন

    Intimidatory Tactics: ‘ভয় দেখানোর মাধ্যমে সাংবিধানিক কর্তব্যে বাধা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হবে’, সাফ জানাল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ভয় দেখানোর মাধ্যমে সাংবিধানিক কর্তব্যে বাধা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হবে।’ সাফ জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) এবং রাজ্যের চিফ ইলেক্টোরাল অফিসারের (CEO) বিরুদ্ধে পুলিশে দায়ের করা অভিযোগগুলির তীব্র নিন্দাও করেছে কমিশন (Intimidatory Tactics)। নির্বাচন কমিশনের মতে, এই ধরনের পুলিশি অভিযোগ প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, যা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে কোনও রকম ভয় বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার করা হবে না।

    কমিশনের সাফ কথা (Intimidatory Tactics)

    কমিশনের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্তম্ভ হিসেবে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি, এবং সেই স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের যে কোনও প্রচেষ্টার মোকাবিলা করা হবে কঠোরভাবে।নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, এই ধরনের ভীতি প্রদর্শনের কৌশল শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবেই এবং সংবিধান অনুযায়ী কমিশন তার দায়িত্ব পালন করে যাবে। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন (Intimidatory Tactics) কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পুলিশি অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। কমিশনের মতে, এই অভিযোগগুলি ‘পরিকল্পিত, ভিত্তিহীন এবং ভীতিপ্রদর্শনের উদ্দেশ্যে করা’।

    অভিযোগগুলি পূর্বপরিকল্পিত

    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশিত একাধিক সরকারি পোস্টে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা এমন সংবাদ প্রতিবেদন লক্ষ্য করেছে যেখানে বলা হয়েছে (Election Commission), ২০২৬ সালের জন্য যে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে, তাকে কেন্দ্র করে দুই শীর্ষ নির্বাচন আধিকারিকের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযোগ (Intimidatory Tactics) দায়ের হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই অভিযোগগুলি পূর্বপরিকল্পিত, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ২০২৬ সালের এসআইআর সংক্রান্ত আইনগত দায়িত্ব পালনকারী আধিকারিকদের ভয় দেখিয়ে দমন করার এক স্থূল প্রচেষ্টা।” কমিশনের সাফ কথা, “নির্বাচনী যন্ত্রকে ভয় দেখিয়ে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা এবং সংবিধানস্বীকৃত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিপথে চালিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া এই (Election Commission) ধরনের ভীতিপ্রদর্শনমূলক কৌশল নিঃসন্দেহে ব্যর্থ হতে বাধ্য (Intimidatory Tactics)।”

    নিরপেক্ষতা রক্ষার অঙ্গীকার

    কমিশন মনে করিয়ে দিয়েছে, নির্বাচনী আধিকারিকরা সংবিধান অনুযায়ী নিয়মিতভাবে ভোটার তালিকা সংশোধনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং বর্তমানে যে এসআইআর প্রক্রিয়াটি চলছে, তা সম্পূর্ণভাবে আইন ও প্রতিষ্ঠিত বিধি মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। কমিশনের ইঙ্গিত, তারা এই অভিযোগগুলিকে বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিগত অভিযোগ হিসেবে দেখছে না, বরং এগুলিকে একটি সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। কোন পরিস্থিতিতে এই অভিযোগগুলি দায়ের করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানিয়েছে কমিশন। কমিশনের কড়া বার্তা, “এই ধারাবাহিক ও মনগড়া অভিযোগগুলির নেপথ্যে থাকা ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটনে চেষ্টার কসুর করা হবে না। শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে আইনের শাসন এবং সত্যই (Intimidatory Tactics)।” নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থ রক্ষায় তাদের অঙ্গীকারের কথাও জানিয়ে দিয়েছে আরও একবার (Election Commission)।

    জনস্বার্থেই কাজ

    রাজ্যে নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের দৃঢ় সংকল্পের কথা তুলে ধরে কমিশন জানিয়েছে, বাহ্যিক চাপ বা ভয়ভীতির মুখেও পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী ব্যবস্থা দৃঢ়তা ও নৈতিকতার সঙ্গে, সম্পূর্ণভাবে জনস্বার্থে কাজ করে যাবে। নির্বাচন কমিশনের এই কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে এমন একটা সময়ে, যখন পশ্চিমবঙ্গের দুই প্রবীণ ভোটারের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সোমবার ওই দুই প্রবীণ ভোটার শুনানির নোটিশ পাওয়ার পরের মারা যান। এই নোটিশগুলি এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল (Intimidatory Tactics)।

    এসআইআর নিয়ে বিতর্ক

    পুরুলিয়া জেলার বছর বিরাশির দুর্জন মাঝির ছেলের অভিযোগ, তাঁর বাবার নাম ২০০২ সালের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের সময় প্রস্তুত করা কাগজে থাকা ভোটার তালিকায় থাকলেও, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা সংশ্লিষ্ট তালিকায় সেই নাম নেই। অভিযোগ, এই অসঙ্গতির কারণেই ওই প্রবীণ ভোটারকে শুনানির নোটিশ পাঠানো হয় (Election Commission)। নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত শুনানির সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই ওই প্রবীণ ব্যক্তি আত্মহত্যা করেন। অভিযোগকারীরা এই ঘটনার জন্য সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-কে দায়ী করেছেন। পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    ডেটাবেসে নাম বাদ পড়া নিয়ে ওঠা উদ্বেগ

    ভোটার তালিকার ডেটাবেসে নাম বাদ পড়া নিয়ে ওঠা উদ্বেগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ২৭ ডিসেম্বর জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তির কথা উল্লেখ করেছে। কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০০২ সালের এসআইআরের ভোটার তালিকায় প্রায় ১.৩ লাখ ভোটারের নাম রয়েছে, কিন্তু প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে যাঁদের নাম অনলাইন ডেটাবেসে প্রতিফলিত হয়নি, তাঁদের কোনও শুনানিতে হাজির হতে হবে না (Election Commission)। নির্বাচন কমিশনের মতে, পুরানো ভোটার তালিকার ডিজিটাল রূপান্তরের সময় সৃষ্ট প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের কারণে যাতে কোনও ভোটার হয়রানি বা অযথা অসুবিধার সম্মুখীন না হন, সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে (Intimidatory Tactics)।

    এসআইআর প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য

    কমিশনের আধিকারিকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হল ভোটার তালিকার নির্ভুলতা বাড়ানো, যার মধ্যে রয়েছে দ্বৈত নাম বাদ দেওয়া, ভুল সংশোধন করা এবং যোগ্য ভোটারদের তালিকাভুক্ত করা। প্রকৃত বা বৈধ ভোটারদের বাদ দেওয়া বা ভয় দেখানো এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য নয়। উল্লেখ্য, এসআইআর একটি সংবেদনশীল প্রক্রিয়া, বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত রাজ্যগুলিতে, যেখানে নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা নিয়মিত কড়া নজরদারির মধ্যে থাকে (Election Commission)।

    নির্বাচন কমিশন একাধিকবার জানিয়েছে যে, এসআইআর ২০২৬ সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে এবং আইনি বিধান মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে এই প্রক্রিয়ায় একাধিক সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও দাবি কমিশনের (Intimidatory Tactics)।

LinkedIn
Share