Tag: West Bengal Elections 2026

  • West Bengal Elections 2026: এক বছরের মধ্যে ‘ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি, ডেবরায় বড় ঘোষণা অমিত শাহের

    West Bengal Elections 2026: এক বছরের মধ্যে ‘ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি, ডেবরায় বড় ঘোষণা অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন নির্বাচনকে (West Bengal Elections 2026) কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি যখন তুঙ্গে, তখন বঙ্গবাসীকে বড় আশার কথা শোনালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit shah)। রাজ্যের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা মেটাতে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন তিনি।

    ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন (West Bengal Elections 2026)

    ঘাটালবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দেন যে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি (West Bengal Elections 2026) ক্ষমতায় এলে আগামী এক বছরের মধ্যেই ‘ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান’ কার্যকর করা হবে। বছরের পর বছর বন্যার কবলে পড়া এই অঞ্চলের মানুষের স্থায়ী সমাধানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার বদ্ধপরিকর বলে তিনি জানান। অমিত শাহ বলেন, “নরেন্দ্র মোদিজি এই প্রকল্পের জন্য দেড় হাজার কোটি টাকা পাঠিয়েছিলেন। ৬০ শতাংশ অর্থ কেন্দ্রীয় সরকার দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তৃণমূল সরকারই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানকে আক্ষরিক অর্থে জঞ্জালে পরিণত করেছে। আপনারা রাজ্যে বিজেপির সরকার আনুন, আমি কথা দিচ্ছি মাত্র এক বছরের মধ্যে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে এই অঞ্চলের নিকাশি সমস্যার স্থায়ী সমাধান করে দেব।”

    অনুপ্রবেশ রুখতে কঠোর পদক্ষেপ

    আন্তর্জাতিক সীমান্তে নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলে কড়া বার্তা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Amit shah)। তিনি আশ্বাস দেন, বিজেপি সরকার গঠন করলে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে। বাংলার সীমান্তকে সুরক্ষিত করাই তাঁদের অন্যতম অগ্রাধিকার। অমিত শাহ বলেন, “বাংলার মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং গরিব মহিলাদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। তাঁদের ক্ষমতায়নের বদলে কেবল রাজনীতির বোড়ে হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি বদলাতেই বিজেপির বড় প্রতিশ্রুতি — মাসের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যেই সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে ৩,০০০ টাকা।” তৃণমূলের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাল্টা হিসেবেই এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি।

    রাজ্য সরকারের সমালোচনা

    বর্তমান রাজ্য সরকারের (West Bengal Elections 2026) কঠোর সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে অনীহা দেখানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে রাজ্যের উন্নয়নের গতি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের মতো সংবেদনশীল ইস্যুকে সামনে আনা এবং অনুপ্রবেশের প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নেওয়া—এই দুই কৌশলী প্রচারের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গ উভয় প্রান্তের ভোটারদের বিশেষ বার্তা দিতে চেয়েছেন। অমিত শাহের এই উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতি ২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইয়ে বিজেপিকে অনেকটাই সুবিধা করে দেবে বলে বলছেন বিজেপি সমর্থকরা।

    দিদির সদিচ্ছার অভাব

    অমিত শাহ (Amit shah) সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, “দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) বছরের পর বছর ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কেবল প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কিন্তু তা বাস্তবায়নে কোনো আন্তরিকতা দেখাননি।” তাঁর দাবি, রাজ্য সরকারের অসহযোগিতা ও সঠিক পরিকল্পনার অভাবেই এই প্রকল্প থমকে রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বলেন, “ঘাটালবাসীর বন্যার কষ্টকে তৃণমূল সরকার স্রেফ ভোটের রাজনীতিতে পরিণত করেছে। প্রতি বছর বর্ষায় সাধারণ মানুষ যখন ঘরবাড়ি হারান, তখন রাজ্য সরকার কেন্দ্রের ওপর দোষ চাপিয়ে নিজের দায় এড়াতে চায়।”

    বিজেপির সংকল্প

    অমিত শাহ (Amit shah) পুনরায় প্রতিশ্রুতি দেন যে, বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন করলেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান সম্পন্ন করা হবে। তাঁর কথায়, “আমরা যা বলি, তা করে দেখাই। মেদিনীপুরের মানুষকে আর বন্যার আতঙ্কে দিন কাটাতে হবে না।” প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য যুবকদের ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। যাঁরা দুর্নীতির জন্য চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের ৫ বছর পর্যন্ত বয়সে ছাড় দেওয়া হবে। বিজেপি-র ইস্তেহারে আরও বলা হয়েছে, যোগ্যদের মেধার ভিত্তিতে স্থায়ী চাকরি নিশ্চিত করা হবে। রাজ্যের সব চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হবে।

    তৃণমূলের পাল্টা অবস্থান

    অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বরাবরের মতোই দাবি করা হয়েছে যে, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের জন্য প্রয়োজনীয় কেন্দ্রীয় বরাদ্দ আটকে রেখেছে দিল্লি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার জানিয়েছেন, কেন্দ্র টাকা না দিলে রাজ্য সরকার নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এই কাজ শেষ করার চেষ্টা করবে। বিজেপি নেতার এই সফরকে ‘নির্বাচনী গিমিক’ বলেও কটাক্ষ করেছে শাসক শিবির।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, মেদিনীপুর ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। নির্বাচনের আগে অমিত শাহের এই সরাসরি আক্রমণ এবং প্রকল্পের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের মনে যে নতুন করে আশার সঞ্চার হবে, তা বলাই বাহুল্য।

  • West Bengal Elections 2026: বিচারের আর্তনাদ নিয়ে বিজেপির প্রচারে মুর্শিদাবাদে নিহত হরগোবিন্দ দাস-চন্দন দাসের পরিবার

    West Bengal Elections 2026: বিচারের আর্তনাদ নিয়ে বিজেপির প্রচারে মুর্শিদাবাদে নিহত হরগোবিন্দ দাস-চন্দন দাসের পরিবার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Elections 2026) কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ। এই আবহে মুর্শিদাবাদে (Murshidabad) সংঘটিত পূর্বতন হিংসার স্মৃতি উসকে দিয়ে নির্বাচনী প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করল ভারতীয় জনতা পার্টি। গত বছর ওয়াকফ বিল নিয়ে সৃষ্টি হিংসায় প্রাণ হারানো হরগোবিন্দ দাস এবং চন্দন দাসের পরিবারের সদস্যরা এবার বিজেপির হয়ে ময়দানে নেমেছেন।

    স্বজনহারাদের লড়াই (West Bengal Elections 2026)!

    শামসেরগঞ্জের (West Bengal Elections 2026) ধুলিয়ানে গত বছর ওয়াকফ কেন্দ্রিক গোলমালে নৃশংসভাবে খুন হন বাবা হরগোবিন্দ ও ছেলে চন্দন দাস। এই নির্বাচনে তাঁদের বিধবা স্ত্রীরা বিজেপির নির্বাচনী কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের উপস্থিতি প্রচারের ময়দানে (Murshidabad) এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে।

    পদ্ম শিবির এই হত্যার ঘটনাকে ‘আইনশৃঙ্খলার অবনতি’ এবং ‘তোষণ নীতির ফল’ হিসেবে বর্ণনা করছে। নিহতদের পরিবারের মাধ্যমে তারা ভোটারদের কাছে হিন্দু সামাজের নিরাপত্তার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

    আবেগ ও ন্যায়বিচার

    নির্বাচনী (West Bengal Elections 2026) জনসভাগুলোতে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা বিচারের দাবি জানাচ্ছেন। তাঁদের কান্নায় ভেজা আবেদনকে সামনে রেখে বিজেপি সাধারণ মানুষের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছে।

    রাজনৈতিক মহলের মতে, মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলায় ওয়াকফ বিতর্ক এবং সেই সংক্রান্ত হিংসার শিকার পরিবারগুলোকে প্রচারে নামানো বিজেপির একটি অত্যন্ত সুচিন্তিত রাজনৈতিক কৌশল। এর মাধ্যমে তারা মূলত হিন্দু সুরক্ষা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার ইস্যুটিকে জনমানসে বড় করে তুলে ধরতে চাইছে।

    ভোটদাতাদের মনে প্রভাব ফেলবে

    তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য এই প্রচারকে ‘লাশের রাজনীতি’ বলে পাল্টা আক্রমণ করেছে। শাসক দলের মতে, বিজেপি একটি দুঃখজনক ব্যক্তিগত ঘটনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে, জেলাজুড়ে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে প্রচার চালালেও, হরগোবিন্দ ও চন্দন দাসের পরিবারের এই সক্রিয় উপস্থিতি ভোটদাতাদের মনে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে চলছে জোর চর্চা।

  • BJP Sankalp Patra: অনুপ্রবেশে ‘জিরো টলারেন্স’, ৪৫ দিনে সপ্তম বেতন কমিশন! বিজেপির নির্বাচনী “সংকল্প পত্র”-এ আর কী কী?

    BJP Sankalp Patra: অনুপ্রবেশে ‘জিরো টলারেন্স’, ৪৫ দিনে সপ্তম বেতন কমিশন! বিজেপির নির্বাচনী “সংকল্প পত্র”-এ আর কী কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন থেকে শুরু করে কৃষকদের সহায়তা বৃদ্ধি, সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন থেকে রাজ্যে নতুন উপনগরী তৈরির বার্তা উঠে এল বিজেপির সংকল্প পত্রে। বাদ যায়নি সিঙ্গুরের পড়ে থাকা জমি থেকে তাজপুরের সমুদ্র বন্দর প্রসঙ্গ। গুরুত্ব পেয়েছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বাস্তবায়নের কথাও। শুধু উন্নয়নের বার্তাই নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে হওয়া দুর্নীতির বিচার ও অভিযুক্তদের শাস্তি দেওয়ারও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বিজেপির সংকল্প পত্রে। শুক্রবার নিউ টাউনের একটি হোটেলে সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপির এই নির্বাচনী ইস্তেহার ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

    অনুপ্রবেশে ‘জিরো টলারেন্স’

    বাংলার জন্য সংকল্প পত্রে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া মনোভাব ফের একবার স্পষ্ট করল বিজেপি ৷ সংকল্প পত্রে বলা হয়েছ, ‘‘অনুপ্রবেশে ‘জিরো টলারেন্স’। আমরা ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট নীতির মাধ্যমে বেছে বেছে অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্য থেকে বার করব। দেশকে সুরক্ষিত করব।’’ বিজেপির দাবি, ‘‘বাংলায় সকল নাগরিকের জন্য এক আইন নিশ্চিত করা হবে। অনুপ্রবেশকারীদের জন্য সীমানা সুরক্ষিত করার পাশাপাশি গরু পাচার একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হবে।’’

    সংকল্প পত্রে কী কী বলা হল

    ডিএ সুনিশ্চিত: সকল সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের ডিএ সুনিশ্চিত করা হবে। ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা হবে।

    বেকারত্ব ঘুচবে: নতুন রোজগারের পথ খুলবে বিজেপি। তাতে বেকারত্ব ঘুচবে। বেকারদের মাসে তিন হাজার টাকা করে অর্থসাহায্য করা হবে।

    রাজনৈতিক হিংসার তদন্ত: সকল রাজনৈতিক হিংসার তদন্তের জন্য সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের দিয়ে কমিটি গড়ে দ্রুত তদন্তের ব্যবস্থা করা হবে।

    বিশেষ স্কোয়াড: মহিলাদের সুরক্ষায় বিশেষ স্কোয়াড গঠন করা হবে। আলু চাষিদের জন্যেও বিশেষ ব্যবস্থা করার আশ্বাস রয়েছে বিজেপির ইস্তাহারে।

    নতুন প্রতিষ্ঠান: উত্তরবঙ্গে এমস, আইআইটি, আইআইএম এবং ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে আলাদা আলাদা জেলায়। রাজ্যে বন্দেমাতরম মিউজিয়াম গঠন করার কথাও জানালেন অমিত শাহ।

    মাফিয়ারাজের মোকাবিলা: যে সব জমির কাজ আটকে আছে, ৪৫ দিনের মধ্যেই ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তা ছেড়ে দেবে। মাফিয়ারাজের মোকাবিলার রোড ম্যাপ সরকারে এলে প্রথম ছ’দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।

    মেধার ভিত্তিতে স্থায়ী চাকরি: সুনির্দিষ্ট ও দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়ায় যোগ্যদের মেধার ভিত্তিতে স্থায়ী চাকরি নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া, যাঁরা দুর্নীতির জন্য চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের পাঁচ বছর পর্যন্ত বয়সে ছাড় দেওয়া হবে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য যুবদের ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

    মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ : রাজ্যের সব চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হবে। সব মণ্ডলে মহিলা থানা থাকবে। প্রতি পুলিশ জেলায় মহিলা ডেস্ক থাকবে। দিনরাত সেখানে কাজ হবে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রীকে কখনও এমন কথা বলতে হবে না যে, মহিলারা কেন রাতে বাইরে বেরিয়েছেন। মহিলাদের জন্য ১০০ শতাংশ বিনা শুল্ক পরিবহণ নিশ্চিত করবে বিজেপি সরকার। সন্দেশখালির মতো ঘটনা আটকাতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণে তদন্ত হবে।

    প্রধান রফতানি ক্ষেত্র : তাজপুর, কুলপিতে বিশেষ ডিপ সি পোর্ট তৈরির পরিকল্পনা। চা এবং পাট শিল্পেও জোর দেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গকে ব্লু ইকনমির প্রধান রফতানি ক্ষেত্র বানানো হবে।

    চারটি নতুন উপনগরী: রাজ‍্যে চারটি নতুন উপনগরী তৈরি করা হবে। জায়গা বেছে করা হবে। আগামীর সম্ভাবনাকে আরও বিকশিত করাই লক্ষ্য। হলদিয়া বন্দরের বিকাশের জন্য আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাকে একসঙ্গে রেখে পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়ন করা হবে। দার্জিলিংকে হেরিটেজ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পর্যটন শিল্পে জোর দেওয়া হবে। কলকাতাকে সারা বিশ্বের সামনে ‘লিভিং সিটি’ হিসাবে প্রকাশ করা হবে।

    ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় গঠন: উত্তরবঙ্গে একটি ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করা হবে। কৃষকদের ধানের মূল্য নির্দিষ্ট করা হবে। আয়ুষ্মান ভারতের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর যোজনাও যোগ করা হবে। প্রত্যেক গরিব মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। উত্তরবঙ্গে নতুন ক্যানসার হাসপাতাল তৈরি হবে যেখানে সব সুবিধা থাকবে।

    প্রধানমন্ত্রী কিসান প্রকল্প: প্রধানমন্ত্রী কিসান প্রকল্পের টাকা বাড়ানো হবে। কেন্দ্রের ৬০০০ টাকার সঙ্গে রাজ্য সরকারের ৩০০০ টাকা যোগ করে মোট ৯০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। চৈতন্য মহাপ্রভু আধ্যাত্মিক সার্কিটের উন্নয়ন হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরি করা হবে। থিয়েটারের জন‍্য আধুনিক ইনস্টিটিউট তৈরি করা হবে। থিয়েটারের বার্ষিক অনুদান বাড়িয়ে এক লক্ষ করা হবে।

  • West Bengal Elections 2026: কেলেঘাই নদী সংস্কারের অঙ্গীকার, পতাকা হাতে সাঁতরে অভিনব প্রচারে বিজেপি প্রার্থীর

    West Bengal Elections 2026: কেলেঘাই নদী সংস্কারের অঙ্গীকার, পতাকা হাতে সাঁতরে অভিনব প্রচারে বিজেপি প্রার্থীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Elections 2026) সামনে রেখে পটাশপুর কেন্দ্রে জোরকদমে প্রচার শুরু করেছেন বিজেপি প্রার্থী তথা প্রাক্তন জেলা সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মী তপন মাইতি। নির্বাচনী প্রচারের শুরুতেই তিনি বেছে নিয়েছেন এলাকার দীর্ঘদিনের জ্বলন্ত সমস্যা কেলেঘাই নদীর সংস্কার। অপর দিকে যখন প্রচারের পারদ চড়াচ্ছে, ঠিক তখনই বিনপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ধরা পড়ল এক বিরল ও ব্যতিক্রমী চিত্র। ভোটের প্রচার মাঝপথে থামিয়ে অসুস্থ রোগীর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করলেন বিজেপি (BJP) প্রার্থী ডাঃ প্রণব টুডু।

    নদীতে সাঁতার কেটে সংকল্প (West Bengal Elections 2026)

    নির্বাচনী লড়াইয়ে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ শাসক ও বিরোধী (West Bengal Elections 2026)। বিজেপি (BJP) সবরকম ভাবে ভোটারের মন জয় করতে প্রচারে নেমে পড়েছে। নদী সংস্কারের দাবিকে জোরালো করতে দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে কেলেঘাই নদীতে সাঁতার কাটেন তপন মাইতি ও আরেক বিজেপি নেতা। তাঁদের এই সাহসী পদক্ষেপ স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

    আরতি ও নদী সংস্কারের অঙ্গীকার

    নদীর পাড়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি করার মাধ্যমে তিনি শপথ নেন যে, নির্বাচিত (West Bengal Elections 2026) হলে কেলেঘাই নদী সংস্কারকেই তিনি অগ্রাধিকার দেবেন। প্রচার চলাকালীন প্রার্থী নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে ঘুরে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনেন। বিশেষ করে নদী ভাঙন এবং বন্যার ফলে কৃষকদের যে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়, তা নিয়ে গ্রামবাসীর ক্ষোভের কথা গুরুত্ব সহকারে শোনেন তিনি।

    পটাশপুরবাসীর কাছে কেলেঘাই নদী একাধারে আশীর্বাদ ও অভিশাপ। প্রতি বছর বন্যার জলে চাষের জমি প্লাবিত হওয়া এবং ঘরবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়া স্থানীয়দের নিত্যদিনের সমস্যা। বিজেপি (BJP) প্রার্থী তপন মাইতি এই জনসমস্যাকে তাঁর নির্বাচনী প্রচারের প্রধান হাতিয়ার করেছেন। তাঁর মতে, এলাকার দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের জন্য নদী সংস্কার এবং ভাঙন রোধ করা একান্ত প্রয়োজন।

    চিকিৎসক সত্তার জয়

    বেলপাহাড়ির ভেলাইডিহা এলাকায় দলীয় কর্মীদের নিয়ে যখন নিবিড় জনসংযোগে ব্যস্ত ছিলেন ডাঃ প্রণব টুডু, ঠিক তখনই খবর আসে স্থানীয় এক ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। খবর পাওয়া মাত্রই রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশ সরিয়ে রেখে তিনি ছুটে যান ওই ব্যক্তির বাড়িতে।

    গলায় স্টেথোস্কোপ ঝুলিয়ে একজন পেশাদার চিকিৎসকের মতোই অসুস্থ ব্যক্তির প্রাথমিক পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন তিনি। প্রচারের ঝকঝকে আলো ছেড়ে তাঁর এই শান্ত সমাহিত সেবাভাব দেখে মুগ্ধ হন স্থানীয় বাসিন্দারা।

    বিনপুরে এবার নির্বাচনী (West Bengal Elections 2026) লড়াই অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি। শাসক দল যেখানে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজকে হাতিয়ার করে ময়দান কাঁপাচ্ছে, সেখানে একজন বিরোধী প্রার্থীর (BJP) এই মানবিক আচরণ রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি অনেকেই দেন, কিন্তু বিপদের মুহূর্তে এভাবে পাশে পাওয়াটা অভাবনীয়।

    জনসেবাই রাজনীতির মূল লক্ষ্য

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনপুর বিধানসভা কেন্দ্রে শাসক ও বিরোধীদের এই লড়াইয়ে ডাঃ প্রণব টুডুর এই ‘মানবিক ভাবমূর্তি’ ভোটারদের মনে গভীর রেখাপাত করতে পারে। রাজনীতির উত্তপ্ত আবহে বেলপাহাড়ির এই দৃশ্য যেন মনে করিয়ে দিল যে—জনসেবাই রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

    ভোটের লড়াইয়ে জয়-পরাজয় (West Bengal Elections 2026) যাই হোক না কেন, চিকিৎসকের এই নিষ্ঠা ও মানবতাবোধ ইতিমধ্যেই বিনপুরের মানুষের মন জয় করে নিয়েছে। এখন দেখার, এই মানবিক ভাবমূর্তি শেষ পর্যন্ত ভোটবাক্সে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

  • BJP Manifesto: ‘‘ভয়রহিত আর ভরসাযুক্ত বাংলা গড়া’’-র ডাক, বিজেপির নির্বাচনী “সংকল্প পত্র” প্রকাশ অমিত শাহের

    BJP Manifesto: ‘‘ভয়রহিত আর ভরসাযুক্ত বাংলা গড়া’’-র ডাক, বিজেপির নির্বাচনী “সংকল্প পত্র” প্রকাশ অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় আসন্ন বিধানসভা ভোট উপলক্ষে বিজেপির নির্বাচনী “সংকল্প পত্র” (BJP Manifesto) প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার নিউটাউনের একটি হোটেল থেকে বিজেপির ‘সংকল্পপত্র’ প্রকাশ করলেন শাহ (Amit Shah)। ইস্তাহারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভয় নয় ভরসা’। শাহ বলেন, এই সংকল্প পত্র বাংলার সমাজের “প্রতিটি অংশের” প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ ও জনবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে চায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের শাসনকে “অন্ধকারের যুগ” আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, রাজ্যের মানুষ এখন ভীত ও পরিবর্তন চাইছে।

    কারা কারা প্রকাশ করলেন সংকল্প পত্র

    ভোটের মুখে ফের রাজ্য সফরে এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর আগে তিনি পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের ‘অপশাসন’-এর চার্জশিট প্রকাশ করতে এসেছিলেন। পরে এসেছিলেন ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার রোড শো-তেও। এবার প্রকাশ করলেন নির্বাচনী সংকল্প পত্র। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, দুই বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার ও শান্তনু ঠাকুর, বিজেপি নেতা তাপস রায়, বিজেপি মহিলা মোর্চা সভানেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, প্রমুখ। ইস্তাহার তৈরির জন্য বিজেপি যে কমিটি গড়েছিল, তার সভাপতিত্ব করেন তাপস রায়।

    প্রত্যাশা পূরণ হয়নি

    সভামঞ্চে উঠে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এদিন অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, গত ১৫ বছর বাংলার মানুষের জন্য ‘কালরাত্রি’ হিসেবে কেটেছে। দীর্ঘ দিনের বাম শাসনের পর পরিবর্তনের আশায় মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সুযোগ দিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সভামঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, “গত ১৫ বছর বাংলার মানুষের জন্য কালরাত্রি হয়ে রয়েছে। দীর্ঘ কমিউনিস্ট অপশাসনের পর মানুষ পরিবর্তনের আশায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সুযোগ দিয়েছিল, কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বরং রাজ্যে অপশাসন, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক হিংসা বেড়েছে। তাঁর কথায়, বাংলার মানুষ এখন নতুন পরিবর্তন চাইছে এবং বিজেপি গত ১০ বছরে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছে।”

    ভরসাযুক্ত বাংলা গড়ার ডাক

    অনুষ্ঠানে অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন—‘‘ভয়রহিত বাংলা গড়া আর ভরসাযুক্ত বাংলা গড়া— আমাদের সঙ্কল্পপত্রের মূল ভাব এটাই। গত প্রায় পাঁচ দশক বাংলাকে শুধু নীচে নামানো হয়েছে। আমরা বাংলায় আবার সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ আনব। দুর্নীতিমুক্ত রাজ্য বানাব। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অনুপ্রবেশ মুক্তি, শিল্পোন্নয়ন, কৃষকের উন্নয়নে জোর দেবে নতুন সরকার।’’ তাঁর কথায়, ‘‘এই ইস্তাহার পশ্চিমবঙ্গের ভীত মহিলা, যুবদের আস্থা জোগাবে। নরেন্দ্র মোদির বিকশিত ভারতের ‘রোড ম্যাপ’ রাজ্যের জনগণের সামনে রাখবে।’’

    নববর্ষের দিনে প্রচার যাত্রা শুরু

    ‘‘বাঙালি নববর্ষের দিন সঙ্কল্পের সঙ্গে আমাদের প্রচারের যাত্রা শুরু হবে। তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনের দুঃস্বপ্ন ঘুচবে। আগামী পাঁচ বছরে বিজেপি সরকার এ রাজ্যের বিকাশের রাস্তা খুলবে। মমতা দিদি ভয়, ভ্রষ্টাচার প্রতিস্থাপিত করেছেন। এটা আইনের শাসনের ভরসা। রোজগারের ভরসা। সোনার বাংলা তৈরি করব আমরা। আমার বিশ্বাস, বাংলার জনতা আমাদের এখানে পাঁচ বছরের জন্য সরকার তৈরির সুযোগ দেবেন। আমরা সেই ভরসার ভিত্তিতে রাজ্যের পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করব।’’

    রাজ্যে এ দফায় শাহের কর্মসূচি

    সংকল্পপত্র প্রকাশের (BJP Manifesto) পর জেলায় নির্বাচনী প্রচারে পশ্চিম মেদিনীপুরে যাবেন শাহ। সেখানে একাধিক কর্মসূচি রয়েছে। এদিন ডেবরায় একটি জনসভা এবং খড়্গপুরে একটি রোড শো করার কথা রয়েছে। শনিবার শাহের কর্মসূচি রয়েছে বাঁকুড়ার ছাতনা এবং পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডিতে। যেখানে ভোট প্রচারের বার্তা তুলে ধরবেন অমিত শাহ। পাশাপাশি, সাংগঠনিক বৈঠকও করার কথা তাঁর। অন্যদিকে, শনিবার ফের পশ্চিমবঙ্গে আসবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওইদিন কৃষ্ণনগর, জিয়াগঞ্জ ও কুশমণ্ডিতে সভা করবেন তিনি।

  • Assembly Election 2026: ৯১ শতাংশ ভোট পুদুচেরিতে! গণতন্ত্রের উৎসবে পিছিয়ে নেই অসম ও কেরলও

    Assembly Election 2026: ৯১ শতাংশ ভোট পুদুচেরিতে! গণতন্ত্রের উৎসবে পিছিয়ে নেই অসম ও কেরলও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হল অসম, কেরল ও পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election 2026) ভোটপর্ব। কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া মোটের উপর ভোট ছিল শান্তিপূর্ণ। নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারিতে সমাপ্ত হল ভোটপর্ব। উৎসবের আবহেই ভোট (Assembly Election) হল এই রাজ্যগুলিতে। ধরা পড়ছে তার খণ্ড খণ্ড চিত্র। কোথাও দেখা গেল, বিয়ের সাজেই ভোট দিতে চলে এসেছেন কনে। আবার কোথাও স্টার প্রার্থীকে ঘিরে সেলফি তোলার ভিড়। অসমে ভোট দিলেন প্রয়াত গায়ক জুবিন গর্গের স্ত্রী গরিমা গর্গও। দুই রাজ্য অসম ও কেরল এবং কেন্দ্রশাসিত পুদুচেরিতে ব্যাপক ভোটদানের হার নজর কেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবার ভোটারদের অংশগ্রহণ আগের সব রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের “অটুট আস্থা”-র প্রমাণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    কোথায় কত শতাংশ ভোট

    পুদুচেরিতে সর্বোচ্চ ৯১.২ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা এর আগে ২০১১ সালের ৮৬.২ শতাংশের রেকর্ড ভেঙেছে। অসমে ভোটদান হয়েছে ৮৫.৮ শতাংশ—২০১৬ সালের ৮৪.৭ শতাংশের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে কেরলে ৭৮.২ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা ১৯৮৭ সালের পর সর্বোচ্চ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এই ভোটদানকে “ঐতিহাসিক” বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর কথায়, “এটি শুধু ভারতের নয়, গোটা বিশ্বের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।” নির্বাচন কমিশনের একাধিক আধিকারিক জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা সংশোধন (Special Intensive Revision) এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের ফলে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। মৃত, স্থানান্তরিত বা ডুপ্লিকেট নাম বাদ পড়ায় মোট ভোটার সংখ্যা কিছুটা কমলেও ভোটদানের হার বেড়েছে।

    অসমে সংখ্যালঘু এলাকায় ভোটের জোয়ার

    অসমে ভোটদানের চিত্র সমান নয়। মুসলিম অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। দরং জেলার দলগাঁও কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৯৪.৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। এরকম প্রায় ১৫টি কেন্দ্রে ৯০ শতাংশের বেশি ভোটদান হয়েছে। অন্যদিকে, আপার অসমের হিন্দু প্রধান এলাকায় ভোটের হার ছিল প্রায় ৮২ শতাংশ, যা রাজ্যের গড়ের নিচে। বোধো অঞ্চলে ৮৫ শতাংশ, বরাক উপত্যকায় ৮২.৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে কার্বি আংলং ও দিমা হাসাও পাহাড়ি জেলায়—৭৪.২ শতাংশ। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই ভোটদানকে “ঐতিহাসিক” বলে উল্লেখ করে ১২৬ আসনের মধ্যে ৯০টির বেশি আসনে জয়ের আশা প্রকাশ করেছেন।

    রেকর্ড পরিমাণ ভোট

    বুধবার রাত থেকেই দফায় দফায় ভারী বৃষ্টি হয়েছে অসমের বিভিন্ন প্রান্তে। বৃহস্পতিবার সকালেও ছিল আকাশের মুখ ভার। ছিল বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতও। তবে সেসব উপেক্ষা করেই এদিন গণতন্ত্রের উৎসবে সামিল হয়েছিলেন সেরাজ্যের মানুষ। অসমের আইজি (আইন-শৃঙ্খলা) অখিলেশ কুমার সিং জানিয়েছেন, বুধবরা রাতে সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল তমুলপুর ও শিবসাগর বিধানসভা কেন্দ্র। পাথারকান্দি, মেরাপানি, রাহার বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে অশান্তি হয়েছে। অন্যদিকে শ্রীভূমি, গোলাঘাট ও নগাঁও জেলায় বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে ছোটখাটো সংঘর্ষ হয়েছে।

    সরকার গড়বে বিজেপি-ই!

    কামরূপ শহরের গরাল বুনিয়াদি এলপি স্কুলের বুথে সপরিবারে ভোট দেন অসমের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। উল্লেখ্য, অসমে পরপর দু’বার সরকারে বিজেপি। প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াইয়ে নামছেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তাঁর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী গৌরব গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস। বিভিন্ন জনমত সমীক্ষায় অসমে বিজেপিকে এগিয়ে রাখছে। যদিও কংগ্রেসের দাবি, অসমে পরিবর্তনের চোরাস্রোত বইছে। যেভাবে অহমের মূল নিবাসীরা বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে, তাতে রাজ্যে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। যদিও বিজেপি ১০০ আসন জয়ের টার্গেট বেঁধে রেখেছে।

    কেরলে উৎসাহ, তাপদাহ উপেক্ষা করেও লম্বা লাইন

    কেরলেও তাপদাহ উপেক্ষা করে ভোটারদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বহু জেলায় ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়েও ভোটকেন্দ্রে লাইন ছিল। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, বিরোধী নেতা ভি ডি সতীশান এবং বিজেপি নেতা রাজীব চন্দ্রশেখর সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি ভোট দেন। চলচ্চিত্র জগতের মম্মুট্টি, মোহনলাল, সুরজ ভেঙ্কারামুডু ও আসিফ আলিও ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তিরুবনন্তপুরমে প্রথমবার ভোটদাতাদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়—তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় হালুয়ার বাক্স ও ধন্যবাদ কার্ড, যা ভোটে অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে সাহায্য করেছে।

    কেরলে শান্তিপূর্ণ ভোট

    দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবেই মিটল কেরলের ভোটগ্রহণ পর্বও। জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী এলডিএফ ও ইউডিএফ-উভয় শিবিরই। ভোটদানের পর মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেন, ‘কেরল উন্নত রাজ্য হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই ভোটেও যাত্রা অব্যাহত থাকবে।’ অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা শশী থারুর বলেন, ‘ভোটদানের হার বেশি। এর থেকেই প্রমাণ হয় মানুষ সরকার বদল চায়।’ পাশাপাশি কেরলে বিজেপি কোনো ফ্যাক্টর নয় বলেও জানান তিনি। ভোটারদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথমবারের ভোটারদের জন্য এর্নাকুলামে ভোটকেন্দ্র গুলিতে ছিল বিশেষ ব্যবস্থা। ভোটদানে উৎসাহ দিতে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় হালুয়ার প্যাকেট। অন্যদিকে বিয়ের মণ্ডপ থেকে এদিন সরাসরি ভোটকেন্দ্রে চলে আসেন সদ্য বিবাহিত দম্পতি দিব্যশ্রী ও অশ্বনাথ লম্বোদরণ। নির্বাচন কমিশনের মতে, এই বিপুল ভোটদান প্রমাণ করে যে মানুষ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর আস্থা রাখছেন এবং সচেতনভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।

  • Election Commission: সুপ্রতিমকে তামিলনাড়ু যেতেই হবে! ভোটের আগে আরও ১৪৯ পুলিশ আধিকারিককে সরাল নির্বাচন কমিশন

    Election Commission: সুপ্রতিমকে তামিলনাড়ু যেতেই হবে! ভোটের আগে আরও ১৪৯ পুলিশ আধিকারিককে সরাল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের (WB Assembly Polls 2026) আগে রাজ্য পুলিশে ফের রদবদল করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। ৮১ জন পুলিশ ইনস্পেক্টরকে ভোটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। সরানো হল ৬৮ জন সাব-ইনস্পেক্টরকেও। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ, এই আধিকারিকেরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কোনও কাজের সঙ্গেই আর যুক্ত থাকতে পারবেন না। কলকাতার সদ্য প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে না। তাঁকে ভোটের দায়িত্ব পালনের জন্য পর্যবেক্ষক হিসেবে তামিলনাড়ুতেই যেতে হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।

    তামিলনাড়ুতেই যেতে হবে সুপ্রতিম সরকারকে

    শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তামিলনাড়ুর পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন কলকাতার সদ্য প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার। কিন্তু কমিশন তাঁর সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, তাঁকে তামিলনাড়ুতেই ভোটের দায়িত্ব পালন করতে যেতে হবে। উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত কয়েকটি জনসভা থেকে সুপ্রতিম সরকারের এই বদলি ও দায়িত্ব প্রদান নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন।

    শুক্রবারই দায়িত্ব নিতে হবে

    কমিশনের (Election Commission) বৃহস্পতিবার জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অপসারিত ৮১ জন ইনস্পেক্টরকে আজ, শুক্রবার বিকেল ৫টার মধ্যে তাঁদের নতুন পদে দায়িত্ব নিতে হবে। কমিশনের নির্দেশে এঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারেরা। কমিশন জানিয়েছে, এই পুলিশ অফিসারেরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ভোটের (WB Assembly Polls 2026) কাজে হস্তক্ষেপ করবেন না, এই মর্মে পুলিশ সুপারদের মুচলেকা দিতে হবে। সাব-ইনস্পেক্টরদের বদলি সংক্রান্ত পৃথক বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে কমিশন। তাতে বলা হয়েছে, গত ২৯ মার্চ ১৫০ জন ইনস্পেক্টর এবং সাব-ইন্সপেক্টরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে ৪৯ জন এসআই বিভিন্ন থানায় কাজ করছেন। সেই ৪৯ জন যে জেলায় কর্মরত, সেখান থেকে তাঁদের অন্য জেলায় সরিয়ে দিতে হবে। তাঁরা ভোটের কাজে কোনও ভাবেই যুক্ত থাকতে পারবেন না। এ ছাড়া আর একটি বিজ্ঞপ্তিতে আলাদা করে ১৯ জন সাব-ইনস্পেক্টরকে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কোন জেলায় কতজনকে সানো হল

    কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যে সমস্ত ইনস্পেক্টরকে ভোটের (WB Assembly Polls 2026) কাজ থেকে সরানো হয়েছে, তাঁদের মধ্যে কোচবিহারের দু’জন, রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার চার জন, ইসলামপুর পুলিশ জেলার চার জন, আলিপুরদুয়ারের এক জন, দক্ষিণ দিনাজপুরের তিন জন, শিলিগুড়ির দু’জন, ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার তিন জন, বারুইপুর পুলিশ জেলার দু’জন, বারাসত পুলিশ জেলার তিন জন, বসিরহাট পুলিশ জেলার এক জন, বনগাঁ পুলিশ জেলার এক জন, ব্যারাকপুরের চার জন, বিধাননগরের ছ’জন, কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার চার জন, রানাঘাট পুলিশ জেলার চার জন, আসানসোল দুর্গাপুরের এক জন, পশ্চিম মেদিনীপুরের তিন জন, পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁচ জন, পুরুলিয়ার দু’জন, বীরভূমের দু’জন, জলপাইগুড়ির এক জন, মালদহের তিন জন, বাঁকুড়ার এক জন ইনস্পেক্টর রয়েছেন।

  • Election Commission India: ৫ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত বুথফেরত সমীক্ষায় নিষেধাজ্ঞা জারি করল নির্বাচন কমিশন

    Election Commission India: ৫ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত বুথফেরত সমীক্ষায় নিষেধাজ্ঞা জারি করল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা (West Bengal Elections 2026) নির্বাচনের (Election Commission India) পরিপ্রেক্ষিতে বড় পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (EC)। ভোট চলাকালীন জনমত প্রভাবিত হওয়া রুখতে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ‘এক্সিট পোল’ বা বুথফেরত সমীক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আগামী ২৯শে এপ্রিল পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

    নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা (Election Commission India)

    নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভোট (Election Commission India)  প্রক্রিয়ার শুরু থেকে ২৯শে এপ্রিল সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো সংবাদমাধ্যম বা সংস্থা বুথফেরত সমীক্ষার ফল প্রকাশ করতে পারবে না।

    কেন এই নিষেধাজ্ঞা?

    অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশন মনে করছে যে, নির্বাচনের মাঝপথে বুথফেরত সমীক্ষার ফল প্রকাশ করলে তা ভোটারদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করতে পারে।

    আইনি পদক্ষেপ

    জনপ্রতিনিধিত্ব আইন (Representation of the People Act, 1951)-এর ১২৬এ ধারা অনুযায়ী এই নির্দেশ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission India)। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কারাদণ্ড বা জরিমানা হতে পারে।

    প্রভাবিত রাজ্য

    যে পাঁচটি রাজ্যে বর্তমানে বিধানসভা নির্বাচন বা উপনির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি চলছে, সেখানে এই নিয়ম কঠোরভাবে বলবৎ থাকবে।

    নির্বাচন কমিশনের (West Bengal Elections 2026) এই কড়া নির্দেশের পর এখন সমস্ত সংবাদমাধ্যমকে ২৯শে এপ্রিলের চূড়ান্ত সময়সীমা পার হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তার পরেই জানা যাবে জনমতের প্রাথমিক ইঙ্গিত কোন দিকে।

  • West Bengal Elections 2026: “বগটুইয়ে যা হয়েছে তা শুধু একটি ঘটনা নয়, সেটি মানবতার কলঙ্ক’’, সিউড়িতে আক্রমণ মোদির

    West Bengal Elections 2026: “বগটুইয়ে যা হয়েছে তা শুধু একটি ঘটনা নয়, সেটি মানবতার কলঙ্ক’’, সিউড়িতে আক্রমণ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে আসন্ন বিধানসভার (West Bengal Elections 2026) ভোটে তৃণমূলকে ধরাশায়ী করতে নির্বাচনী প্রচারে এসেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। হলদিয়া, আসানসোল ও সিউড়িতে পরপর তিন জায়গায় সভা করলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। বীরভূমের বগটুই হত্যাকাণ্ড এবং বোমাবাজির কথা মনে করিয়ে জঙ্গলরাজ সমাপ্ত করার ডাক দিলেন তিনি। এদিন সিউড়ির জনসভায় তারা মায়ের নাম নিয়ে ভাষণ শুরু করেছেন। তিনি বললেন, ‘‘জয় মা তারা, জয় নিতাই।’’ বীরভূমের মাটিতে দাঁড়িয়ে তারাশঙ্করকেও শ্রদ্ধা জানান তিনি।

    আওয়াজ শোনা যাচ্ছে, পাল্টানো দরকার (West Bengal Elections 2026)

    প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বীরভূমের সভায় বললেন “এই মাটি অনেক মণীষীদের। ওই বীরভূমেই পরিবর্তনের ঝড় আসতে চলেছে। এই যে বিশাল সমাগম, এটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে, ঝড় আসছে। হেলিকপ্টার থেকে দেখছিলাম, কত উৎসাহ নিয়ে এখানে আপনার এসেছে। আমাকে আশীর্বাদ করবেন। আমাদের এই বীরভূম বাউল সঙ্গীতে মাটি। এখন এখানে শোনা যায় একটা শব্দ, গান, আওয়াজ শোনা যাচ্ছে, পাল্টানো দরকার। বীরভূমের লালমাটিতে পরিবর্তনের ঝড় উঠেছে। তৃণমূলের জঙ্গলরাজের সাক্ষী বীরভূম। তৃণমূল জমানায় বগটুইয়ে নৃশংস ঘটনা ঘটেছিল। বগটুইয়ে যা হয়েছে তা শুধু একটি ঘটনা নয়। সেটি মানবতার কলঙ্ক। এটা জঙ্গলরাজ নয় তো কী? এই মহাজঙ্গলরাজের (West Bengal Elections 2026) শেষ হওয়া দরকার।’’

    মালদায় কী ঘটেছে গোটা দেশ দেখেছে

    বীরভূমের বালি পাচার, পাথর পাচার এবং কয়লা পাচার নিয়ে তৃণমূলের মাফিয়ারাজকে সমাপ্ত করার কথা জোর দিয়ে বলেন নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তিনি বলেন,‘‘তৃণমূলের আমলেই বীরভূমে বালি, পাথর, কয়লা লুট। মা-মাটি-মানুষদের মধ্যে মায়ের অবস্থা খারাপ। অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানো হবে। অনুপ্রবেশকারীদের মাথাদের জেলে ভরা হবে। অনুপ্রবেশকারীরা স্থানয় মানুষের কাছ থেকে কাজ ছিনিয়ে নিচ্ছে। আর স্থানীয়দের বাইরে কাজে যেতে হচ্ছে। আর এই দিন চলবে না। মালদায় কী ঘটেছে গোটা দেশ দেখেছে। বিচারকদের বন্ধক বানানো হয়েছিল। বাংলায় ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এই ভয় থেকে বাংলার মানুষকে মুক্তি (West Bengal Elections 2026) দেওয়ার প্রয়োজন।’’

    অহংকারী তৃণমূল সরকার

    রাষ্ট্রপতিকে চরম অপমান করেছিলেন তৃণমূল সরকার, এই বিষয়কে হাতিয়ার করে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, ‘‘মাননীয় রাষ্ট্রপতি এ রাজ্যে এসেছিলেন। সাওতাঁল সমাজের একটি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন তিনি। যে সরকারই থাকুক না কেন, রাষ্ট্রপতিকে উচিত সম্মান দেওয়া সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু এই অহংকারী তৃণমূল সরকার দেশের রাষ্ট্রপতিকেও কিছু মনে করেননি। গত বছরের ঘটনা আপনাদের সকলের মনে আছে। বীরভূমে স্কুলে এক আদিবাসী মেয়ের সঙ্গে যা হয়েছে, তা বিচলিত করার মতো। যাঁরা নিজেদের মেয়েদের হারিয়েছেন, কোনও টাকাপয়সা তা পূরণ করতে পারবে না। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ঘটনাও নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে। কথা দিয়ে যাচ্ছি, বাংলাকে ভয়মুক্ত করব। এখানে এক এক করে স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যেখানে স্কুল বন্ধ, ভবিষ্যৎ বন্ধ। বাংলা (West Bengal Elections 2026) চায় ভরসা। তৃণমূলের নির্মম সরকারকে বিদায় দেবে বাংলার যুবশক্তি। কেন্দ্রীয় সরকার রোজগার মেলার আয়োজন করে। যেখানে বিজেপি সরকার সেখানে এই মেলার আয়োজন করা হয়। গত আড়াই বছরে ৭০ লক্ষের বেশি সরকারি চাকরি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে চাকরি লুটের খেলা চলছে।’’

    তাজা বোমার কারখানা তৈরি হচ্ছে

    রাজ্যের গ্রামে গ্রামে বোমা কারখানার মূলে তৃণমূল। এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) বলেন, ‘‘তৃণমূল এখানে গলি গলিতে তাজা বোমার কারাখানা তৈরি করছে। এটিকে তৃণমূল সরকার ক্ষুদ্রশিল্পে পরিণত করেছে। রাজ্যে ক্ষুদ্রশিল্প বন্ধ হয়েছে। তাজা বোমার কারখানা তৈরি হচ্ছে। এই সব বন্ধ হয়ে যাবে। তৃণমূল কী ভাবে মনরেগার নামে গরিব, দলিত, আদিবাসী পরিবারকে ঠকিয়েছে আপনারা জানেন। কেন্দ্রীয় সরকার আইন নিয়ে এসেছে। গরিবদের রোজগার দেব। কৃষক, পশিপাক, মৎস্যজীবীদের নতুন সুবিধা মিলবে (West Bengal Elections 2026)। গ্রামে ১২৫ দিনের রোজগার মিলবে। কাজের পুরো টাকা আপনাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যাবে। কোনও সিন্ডিকেট হাত লাগাতে পারবে না। কোনও কাটমানি নয়, সিন্ডিকেট নয়। এটা মোদির গ্যারান্টি।’’

  • PM Modi: “কাটমানির খেলা, মাফিয়াদের মেলা আর চলবে না, ৪ মে-র পর বেছে বেছে হিসাব হবে”, আসানসোলে মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তোপ মোদির

    PM Modi: “কাটমানির খেলা, মাফিয়াদের মেলা আর চলবে না, ৪ মে-র পর বেছে বেছে হিসাব হবে”, আসানসোলে মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তোপ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অষ্টাদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Elections 2026) রাজ্যে বিজেপির প্রচার এখন তুঙ্গে। বিধানসভা ভোটের প্রচারে ফের রাজ্যে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। বৃহস্পতিবার বেলায় তিনি সভা করেছেন পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায়। দ্বিতীয় সভাটি তিনি করেন আসানসোলের পোলো গ্রাউন্ড ময়দানে। এদিন প্রধানমন্ত্রীর তৃতীয় তথা শেষ সভা সিউড়িতে। আসানসোলের সভায় রাজ্যের মা মাটি সরকারের তোলাবাজি, সিন্ডিকেট, নারী সুরক্ষা, বেকারত্ব সহ একাধিক ইস্যুতে ব্যাপক আক্রমণ করেছেন এই বিজেপির প্রবীণ নেতা নরেন্দ্র মোদি। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, “৪ মে-র পর সব দুষ্কৃতীদের হিসেব নেওয়া হবে।” আগামিকাল (শুক্রবার) ডেবরা, খড়গপুর সদরে সভা করবেন অমিত শাহ। পরশু, অর্থাৎ শনিবার ফের পশ্চিমবঙ্গে আসবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ওইদিন কৃষ্ণনগর, জিয়াগঞ্জ ও কুশমণ্ডিতে সভা করবেন তিনি।

    পিছিয়ে বাংলা, সম্পত্তি লুট করা হচ্ছে (West Bengal Elections 2026)

    আসানসোলে সভা (West Bengal Elections 2026) করে প্রধানমন্ত্রী বললেন, “গোটা দেশে উন্নয়ন হচ্ছে, কিন্তু পিছিয়ে বাংলা। তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গকে পিছিয়ে দিচ্ছে। তৃণমূলের গুন্ডারাজ চলছে, বাংলার সম্পত্তি লুট করা হচ্ছে। উন্নতির জন্য তৃণমূলমুক্ত বাংলা চাই।  বাংলার উন্নতির জন্য তৃণমূলমুক্ত রাজ্য গড়া এখন সময়ের দাবি। তৃণমূলের আমলে আসানসোলে কয়লা, বালি ও মাটি মাফিয়ারা সাধারণ মানুষের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিন্ডিকেট রাজের দাপটে নাজেহাল মানুষ। আগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে কাজ করতে আসতেন, আর আজ এখানকার যুবকদের বাইরে কাজ খুঁজতে যেতে হচ্ছে।”

    এলাকার প্রতিটি সমস্যার সমাধান হবে

    নির্মম সরকার গত ১৫ বছর ধরে জঙ্গলরাজ কায়েম করেছে। এই প্রসঙ্গে মোদি (PM Modi) তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেন, “বাংলায় (West Bengal Elections 2026) তৃণমূলের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে। তৃণমূল নির্মমতার সব সীমা পার করে দিয়েছে। ওদের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে। বাংলায় পরের সরকার ডবল ইঞ্জিন সরকার হবে। ৪ মে-র পর বাংলা উন্নয়নের এক নতুন যুগে প্রবেশ করবে। আসানসোল ও দুর্গাপুর ভারতের মেগা সিটি হওয়ার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু দূষণ, রাস্তাঘাট ও সেতুর বেহাল দশা বড় বাধা। বিজেপি ক্ষমতায় এলেই এলাকার প্রতিটি সমস্যার সমাধান হবে এবং ৪ মে-র পর বাংলা উন্নয়নের নতুন যুগে প্রবেশ করবে।”

    অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে

    রাজ্যে (West Bengal Elections 2026) লাগাতার নারী নির্যাতন এবং ধর্ষণের ঘটনায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তিনি বলেন, “বাংলায় মহিলারা আর সুরক্ষিত নয়। অপরাধীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তৃণমূল সরকার অপরাধীদের পক্ষে। মহিলাদের সুরক্ষা দিতে পারে বিজেপিই। মহিলাদের ওপর অত্যাচার, প্রতিটি ধর্ষণের ফাইল খোলা হবে। ৪ মে বাংলায় নতুন উন্নয়নের সুযোগ আসছে। বাংলায় এবার ডবল ইঞ্জিন গঠন হবে। কেন্দ্র-রাজ্য একসঙ্গে কাজ করলেই মানুষের ফায়দা। পিএম-সিএম যদি একজোট হয়ে কাজ করেন তাহলেই সব সুবিধা পাবেন আপনারা। কিন্তু বাংলা থেকে তো সহযোগিতা পাওয়া যায় না। তৃণমূলের পিএম শব্দকে অপছন্দের জন্যই সকলে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই কারণেই ডবল ইঞ্জিন সরকার পশ্চিমবঙ্গের জন্য জরুরি।”

    কয়লা বালি পাচারে তোপ মোদির

    আসানসোলের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi) বালিপাচার, কয়লাপাচার নিয়ে তোপ দেগেছেন। তিনি বলেন, “তৃণমূলের আমলে আসানসোলে কয়লা ও বালি মাফিয়ারা এখন মানুষের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের অন্যান্য প্রান্তে উন্নয়নের জোয়ার এলেও বাংলা আজ পিছিয়ে পড়ছে শুধুমাত্র এই মাফিয়া রাজের কারণে। বাংলার সব জায়গায় এখন পরিবর্তনের তাজা হাওয়া চলছে। মানুষের উৎসাহই বলে দিচ্ছে তৃণমূলের যাওয়ার সময় হয়ে গিয়েছে। সিপিএম-এর মতো তৃণমূলও ভয় আর আতঙ্ককে হাতিয়ার করেছে, কিন্তু বাংলার মানুষ যেমন বামেদের হারিয়েছিল, এবার এদেরও একইভাবে বিদায় জানাবে। তৃণমূলের মাথার ঠিক নেই। মালদায় ওরা ঘাবড়ে গিয়ে বিরাট ভুল করে ফেলেছে। এই ঘটনাই ওদের মহাজঙ্গলরাজের কফিনে শেষ পেরেক হয়ে দাঁড়াবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে তৃণমূলের আক্রমণ অত্যন্ত নিন্দার। তৃণমূল এতই ভয় পেয়েছে যে দেশের সুরক্ষা বাহিনীকেও গালি দিচ্ছে। এর জবাব বাংলার দেশভক্ত মানুষ ব্যালটেই (West Bengal Elections 2026) দিয়ে দেবেন।”

LinkedIn
Share