Tag: West Bengal Foundation Day

West Bengal Foundation Day

  • Shyama Prasad Mukherjee: আজ, ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন, জানুন তাঁর জীবনকথা

    Shyama Prasad Mukherjee: আজ, ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন, জানুন তাঁর জীবনকথা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজেপির পূর্বতন ভারতীয় জনসঙ্ঘ গঠন, পশ্চিমবঙ্গকে পাকিস্তানে যেতে না দেওয়া, স্বাধীনতা পরবর্তীকালে কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বিলোপের দাবিতে আন্দোলন-এই সব গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বাঙালি নাম। তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। আজ শনিবার তাঁর জন্মদিন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) জন্ম ১৯০১ সালের ৬ জুলাই। ‘বাংলার বাঘ’ বলে খ্যাত আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ও যোগমায়াদেবীর পুত্র একাধারে ছিলেন শিক্ষাবিদ, অন্যদিকে একজন জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক নেতা। তাঁর জন্মস্থান কলকাতার ৭৭ রুসা রোডে (বর্তমানে আশুতোষ মুখার্জি রোড)। জন্মদিনে আমরা জানব শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবনী।

    শিক্ষাজীবন ও বিবাহ

    ১৯০৬ সালের ২৩ জুলাই কলকাতার ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন। 

    ১৯১৭ সালে মিত্র ইনস্টিটিউশন থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় মেধা বৃত্তি (১০ টাকা প্রতি মাসে) সহ উত্তীর্ণ হন। 

    ১৯১৯ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে আর্টসে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

    ১৯২১ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বিএ পাস করেন, ইংরেজি অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। 

    ১৯২২ সালের ১৬ এপ্রিল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shyama Prasad Mukherjee) বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ডাঃ বেণীমাধব চক্রবর্তীর কন্যা সুধাদেবীর সঙ্গে। 

    ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন।

    মাত্র ২৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো (Shyama Prasad Mukherjee)

    ১৯২৪ সালের ২৫ মে বিহারের পাটনায় স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই ঘটনা গভীর রেখাপাত করে যুবক শ্যামাপ্রসাদের মনে। তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন, পিতার মৃত্যুতে তাঁর জীবন থেকে সমস্ত আনন্দ উধাও হয়ে যায়। এরপরেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় মাত্র ২৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো নির্বাচিত হন। ১৯২৬ সালে আইন পড়তে তিনি ইংল্যান্ড যান। ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সম্মেলনে ওই বছরেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন। কলকাতায় ফিরে আইনজীবী হিসেবে হাইকোর্টে যোগদান করেন। তবে হাইকোর্টের কর্মজীবনকে তিনি খুব বেশি গুরুত্ব দেননি। ১৯২৯ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে বিধানসভায় প্রবেশ করেন। ১৯৩৩ সালে তাঁর জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে, প্রয়াত হন স্ত্রী সুধাদেবী।

    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ 

    ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এই সময়ে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। নতুন কোর্স হিসেবে এগ্রিকালচারের ওপর ডিপ্লোমা তিনিই চালু করেন। চিনা ও তিব্বতীয় ভাষাশিক্ষার ওপরে কোর্স চালু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁর আমলে নতুনভাবে তৈরি হয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরি হল। তিনি (Shyama Prasad Mukherjee) উপাচার্য থাকাকালীন প্রতি বছর ২৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করতেন। ১৯৩৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবারের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আমন্ত্রণ জানান বক্তব্য রাখতে।

    হিন্দু মহাসভায় যোগদান 

    ১৯৩৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তিনি নির্বাচিত হন। ওই বছরেই হিন্দু মহাসভায় যোগদান করেন তিনি। ১৯৩৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডি-লিট উপাধি প্রদান করে। ১৯৩৯ সালে বিনায়ক দামোদর সাভারকারের সভাপতিত্বে কলকাতায় বসে হিন্দু মহাসভার অধিবেশন। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ১৯৪০ সালে তিনি হিন্দু মহাসভার কার্যকরী সভাপতি নির্বাচিত হন।

    শ্যামা-হক মন্ত্রিসভা 

    ১৯৪১ সালে সাম্প্রদায়িক মুসলিম লিগকে বাংলার ক্ষমতা থেকে দূরে রাখার জন্য হিন্দু মহাসভার সঙ্গে জোট হয় ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টির। এই জোট জনপ্রিয় ছিল শ্যামা-হক মন্ত্রিসভা নামে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ওই মন্ত্রিসভায় অর্থ মন্ত্রকের দায়িত্ব নেন। ১৯৪১ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৯৪২ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বে ছিলেন।

    দাঙ্গা বিধ্বস্ত বাংলায় উদ্বাস্তুদের পাশে 

    ১৯৪৪ সালে মধ্যপ্রদেশের বিলাসপুরে বসে হিন্দু মহাসভার সর্বভারতীয় অধিবেশন। ওই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। সে বছর থেকেই চালু করেন ‘ন্যাশনালিস্ট’ পত্রিকা। ১৯৪৬ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। ১৯৪৬ সালে কলকাতায় ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ এবং নোয়াখালি দাঙ্গা করে মুসলিম লিগ। সে সময় আক্রান্ত হিন্দুদের পাশে থাকা, উদ্বাস্তুদের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের ব্যবস্থা করা, সবটাই তিনি নিজে হাতে করেছিলেন। সে সময় তিনি তৈরি করেছিলেন হিন্দুস্থান ন্যাশনাল গার্ড।

    পশ্চিমবঙ্গ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা

    ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভায় এক ভোটাভুটির মাধ্যমে অবিভক্ত বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন হয় পশ্চিমবঙ্গ। বাঙালি হিন্দু পায় তার নিজস্ব বাসভূমি। মুসলিম লিগের হাত থেকে পশ্চিমবঙ্গের ভারত-ভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shyama Prasad Mukherjee)। তারপর থেকে এই দিনটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ‘প্রতিষ্ঠা দিবস’। হিন্দু সংখ্যাগুরু পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রতিনিধিদের ৫৮-২১ ভোটে বাংলা ভাগ করার পক্ষে রায় যায়। পৃথক হয় পশ্চিমবঙ্গ। সরকার ২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে ঘোষণাও করে।

    স্বাধীন ভারতের প্রথম শিল্পমন্ত্রী

    ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট নেহরুর মন্ত্রিসভায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় শিল্পমন্ত্রী রূপে শপথ গ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীনের পর হিন্দু মহাসভাকে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজে আত্মনিয়োগের পরামর্শ দেন তিনি। ভারতের শিল্পমন্ত্রী থাকাকালীন শিল্প উন্নয়ন নিগম, প্রথম শিল্পনীতি প্রণয়ন, চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ স্থাপন, সিন্ধ্রি সার কারখানা-সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তিনি। খড়্গপুরে ভারতের প্রথম ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি স্থাপনা, কলকাতার প্রথম ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্থাপনার ভাবনা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত। ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার বেড়ে চলে। হত্যা, লুন্ঠন, নারীর সম্ভ্রমহানি নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৫০ সালের ১৪ এপ্রিল নেহরু মন্ত্রিসভার মন্ত্রী হয়েও এর প্রতিবাদে লোকসভায় গর্জে ওঠেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং পদত্যাগ করেন।

    ভারতীয় জনসঙ্ঘ (BJS) গঠন

    দেশভাগের পরবর্তীকালে হিন্দু শরণার্থীদের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের বন্দোবস্ত তিনিই করেন নিজে দাঁড়িয়ে থেকে। একমাত্র জাতীয়তাবাদী সাংসদ হিসেবে তিনিই আইনসভায় হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব হতেন। এমন সময় জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল স্থাপনের উদ্দেশ্যে গুরুজি গোলওয়ালকারের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। রাজনীতি ক্ষেত্রে গুরুজি কয়েকজন স্বয়ংসেবককে পাঠান, তাঁরা হলেন, দীনদয়াল উপাধ্যায়, অটলবিহারী বাজপেয়ি, লালকৃষ্ণ আদবানি, জগদীশ মাথুর, সুন্দর সিং ভাণ্ডারি প্রমুখ। ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর দিল্লির রাঘোমাল গার্লস স্কুলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রতিষ্ঠা করেন ভারতীয় জনসঙ্ঘ (BJS)। তিনিই ছিলেন প্রথম সভাপতি। প্রতীক ছিল প্রদীপ। দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে জনসঙ্ঘ তিনটি আসন পায়। যার মধ্যে দক্ষিণ কলকাতা থেকে জেতেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নিজে।

    জেলবন্দি অবস্থায় রহস্যজনক মৃত্যু  

    দেশের প্রধান বিরোধী কণ্ঠস্বর তখন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারার বিলোপের জন্য তিনি আন্দোলন শুরু করেন। দাবি ছিল ‘এক প্রধান-এক নিশান-এক বিধান’। কারণ কাশ্মীরের জন্য ছিল তখন আলাদা পতাকা। কাশ্মীরে চালু ছিল না ভারতের সংবিধানও। বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল ৩৭০ ধারার মাধ্যমে। এই ধারা কার্যত কাশ্মীরকে পৃথক করে রেখেছিল ভারত থেকে। কাশ্মীরে প্রবেশ করতে ভারতীয়দের লাগত অনুমতিও। এর প্রতিবাদ করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। বিনা পারমিটে কাশ্মীরে প্রবেশ করতে গেলে ফারুক আবদুল্লার সরকার তাঁকে গ্রেফতার করে ১৯৫৩ সালের ১১ মে। জেলবন্দি অবস্থায় তাঁর (Shyama Prasad Mukherjee) রহস্যজনক মৃত্যু হয় ১৯৫৩ সালের ২৩ জুন।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Shyama Prasad Mukherjee: শ্যামাপ্রসাদ না থাকলে পশ্চিমবঙ্গ যেত পাকিস্তানে, জানুন সেই ইতিহাস

    Shyama Prasad Mukherjee: শ্যামাপ্রসাদ না থাকলে পশ্চিমবঙ্গ যেত পাকিস্তানে, জানুন সেই ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯০১ সালের ৬ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shyama Prasad Mukherjee)। তাঁকে ‘ভারত কেশরী’ বলেও সম্বোধন করা হয়। ঐতিহাসিকদের মতে, তিনিই ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের জনক। মুসলিম লিগের পাতা ফাঁদ থেকে তিনি উদ্ধার করতে সমর্থ হয়েছিলেন বাঙালি হিন্দুদের। মূলত তাঁর প্রচেষ্টাতেই অখণ্ড বাংলার হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ পশ্চিমাংশ থেকে যায় ভারতে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অখণ্ড বাংলাকে নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনে সুরাবর্দীর প্রস্তাবও ব্যর্থ করেন তিনি। আজ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনে আমরা জানব কীভাবে তিনি পশ্চিমবঙ্গকে (West Bengal) ভারতে রাখতে সমর্থ হলেন!

    পাকিস্তানের দাবিতে ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ ও নোয়াখালি গণহত্যা

    ১৯৪৬ সালের ১৬ অগাস্ট দিনটি ছিল শুক্রবার। বাঙালি হিন্দুর জীবনে সেদিন নেমে আসে এক ভয়ঙ্কর বিপর্যয়। ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবসে’র নামে, পাকিস্তানের দাবিতে মুসলিম লিগ শুরু করল হিন্দু নিধনযজ্ঞ। অবিভক্ত বাংলায় তখন ছিল সুরাবর্দীর নেতৃত্বাধীন মুসলিম লিগের সরকার। মুসলিম লিগের গুন্ডারা হিন্দুদের ওপর ভয়াবহ সম্প্রদায়িক হামলা শুরু করে। পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়। কয়েক হাজার হিন্দুকে হত্যা করা হয়। হাজার হাজার হিন্দু নারী ধর্ষিতা হন। লুট করা হয় সম্পত্তি। ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’-এর পরেই নোয়াখালিতে মুসলিম লিগ শুরু করে ফের এক হিন্দু নিধনযজ্ঞ। উদ্দেশ্য একটাই, পাকিস্তান। বর্তমান বাংলাদেশের নোয়াখালি, লক্ষ্মীপুর, ফেনী জেলা নিয়ে মেঘনার বাম তীরে অবস্থিত ছিল ব্রিটিশ আমলের নোয়াখালি জেলা। এই জেলাতে তৎকালীন সময়ে হিন্দুদের জনসংখ্যা ছিল ১৮ শতাংশ। ১৯৪৬ সালের ১০ অক্টোবর ছিল কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো। স্থানীয় হিন্দু বাড়িগুলিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে লিগের গুন্ডারা। গণহত্যা, লুট, গৃহে অগ্নিসংযোগ, অপহরণ ,নারী ধর্ষণ-এই সমস্ত কিছুই চলতে থাকে মুসলিম লিগের নেতা মওলানা গোলাম সারোয়ারের নেতৃত্বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এক নোয়াখালিতেই হত্যা করা হয়েছিল ১০ হাজার হিন্দু বাঙালিকে। এর থেকেও বেশি সংখ্যক মানুষকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা হয়। অগণিত মহিলাকে ধর্ষিতা হতে হয়।

    হিন্দু বাঙালির অস্তিত্ব বিপন্ন করতে মুসলিম লিগের ফাঁদ 

    অবিভক্ত বাংলায় তখন মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। মুসলিম লিগ নেতৃত্বের দাবি, কলকাতা সহ সমগ্র বাংলাকেই পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সেই দাবিতেই ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ ও ‘নোয়াখালি গণহত্যা’। এদিকে সমগ্র বাংলাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তিকরণের বিরুদ্ধে হিন্দু বাঙালিদের মধ্যেও গড়ে উঠেছে প্রবল জনমত। মুসলিম লিগের নেতা তথা ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’- এর খলনায়ক সুরাবর্দী তখন এক ফাঁদ পাতলেন। দুই বাংলাকে নিয়ে অখণ্ড স্বাধীন রাষ্ট্র তৈরি করার প্রস্তাব রাখলেন তিনি। অর্থাৎ অখণ্ড বাংলা, না হবে ভারতের, না পাকিস্তানের। কিন্তু এরপরেও বাংলাতে হিন্দুরা সংখ্যালঘু হয়ে যেত। আশ্চর্যজনকভাবে অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্রের দাবিতে সম্মতি দিলেন মহম্মদ আলি জিন্না। অর্থাৎ যেনতেন প্রকারেন তৎকালীন অখণ্ড বঙ্গের পশ্চিমাংশ যা বর্তমানের পশ্চিমবাংলা, যেখানে হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেটিকে ভারত থেকে আলাদা করতেই হবে। সুরাবর্দীর এমন পাতা ফাঁদে পা দেন কংগ্রেসের দুই নেতা শরৎচন্দ্র বসু ও কিরণশঙ্কর রায়। এমন সময়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বুঝতে পারলেন যে হিন্দু বাঙালির অস্তিত্ব বিপন্ন করতে ফাঁদ পেতেছে মুসলিম লিগ। হয়তো পাকিস্তানে নিয়ে যেতে চাইছে অথবা স্বাধীন রাষ্ট্রের নামে একটি ইসলামিক রাষ্ট্রে হিন্দুদের তারা সংখ্যালঘু করে রাখতে চাইছে।

    আন্দোলনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shyama Prasad Mukherjee) 

    সেই সময় থেকেই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তাঁর সমস্ত শক্তিকে নিয়োজিত করলেন হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গকে ভারতে রাখার জন্য। ১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেই হিন্দু মহাসভার নেতৃত্বে তিনি একটি কমিটি গঠন করেন এবং সারা বাংলা জুড়ে সফর শুরু করেন। বড় বড় জনসভাগুলিতে বক্তব্য রাখেন। মানুষকে বাংলা ভাগের প্রয়োজনীয়তা তিনি বোঝাতে থাকেন। কংগ্রেসের নেতাদের কাছেও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shyama Prasad Mukherjee) আবেদন রাখেন যে তাঁরা যেন বাংলা ভাগের দাবিকে সমর্থন জানান। ১৯৪৭ সালের ১৫ মার্চ কলকাতায় হিন্দু মহাসভা একটি দু-দিনব্যাপী আলোচনাসভার আয়োজন করে। এতে হাজির ছিলেন ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার, ভাষাবিদ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, হেমেন্দ্রচন্দ্র ঘোষ প্রমুখ। এই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে হিন্দু মহাসভা। অখণ্ড বাংলার হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলিকে নিয়ে একটি আলাদা প্রদেশ গঠন করার কথা লেখা হয় প্রস্তাবে। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ওই প্রস্তাব পেশও করে হিন্দু মহাসভা। ঠিক এমন আবহে তৎকালীন জনপ্রিয় দৈনিক ‘অমৃতবাজার পত্রিকা’ ১৯৪৭ সালের ২৩ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত একটি সমীক্ষা করে। বিষয় ছিল, বাংলা ভাগ করা উচিত কিনা। এই সমীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয় ১৯৪৭ সালের ২৩ এপ্রিল। জানা যায়, এতে মোট ৫ লাখ ৩৪ হাজার ২৪৯ জন মানুষ নিজেদের মতামত রাখেন। ৯৮. ৩ শতাংশ মানুষই বাংলা ভাগের পক্ষে কথা বলেন। অন্যদিকে, বাংলা ভাগের বিপক্ষে কথা বলেন ০.৬ শতাংশ মানুষ। ১.১ শতাংশ মানুষের মতামত বাতিল হয়।

    মাউন্টব্যাটেন-শ্যামাপ্রসাদ বৈঠক

    এমন সময় ১৯৪৭ সালের ২৩ এপ্রিল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) সঙ্গে বড়লাট মাউন্টব্যাটেনের একটি বৈঠক হয়। সেখানে ভারত কেশরী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় লর্ড মাউন্টব্যাটেনকে বোঝান, ‘কেন বাংলা ভাগ করা প্রয়োজন’। আবার ১৯৪৭ সালের ২ মে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় মাউন্টব্যাটেনকে বাংলা ভাগের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে একটি দীর্ঘ পত্র লেখেন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের এমন আন্দোলন সে সময় খবরের শিরোনামেও আসে। তৎকালীন কলকাতার দৈনিক ‘দ্য স্টেটসম্যান’ ১৯৪৭ সালের ২৪ এপ্রিল একটি খবর প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে তারা জানায়, বাংলা ভাগ করার আন্দোলন একটি বিশাল ঝড়ে পরিণত হয়েছে। এই ঝড় আরম্ভ করেছিল হিন্দু মহাসভা। ঝড়ের কেন্দ্রভূমি হচ্ছে কলকাতা। ১৯৪৭ সালের মে মাসের প্রথম দিকে ভারত কেশরী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, বাংলা ভাগের প্রয়োজনীয়তার কথা মহাত্মা গান্ধী ও জওহরলাল নেহরুকেও বলেন। তবে তাঁরা এ বিষয়টি খুব একটা আমল দেননি বলেই জানা যায়। ১৯৪৭ সালের ১৩ মে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সোদপুরে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন। সেখানেও তাঁকে একই কথা বলেন।

    বল্লভভাই প্যাটেলের চিঠি

    তৎকালীন কংগ্রেস নেতা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে চিঠি লেখেন এবং সেখানে তিনি বলেন, ‘‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। বাংলার হিন্দুরা যতদিন নিজেদের স্বার্থ বুঝছে এবং নিজেদের অবস্থান থেকে না সরছে, ততদিন ভয়ের কোনও কারণও নেই। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলার ডাক মুসলিম লিগের পাতা ফাঁদ ছাড়া কিছু নয়। বাংলাকে কখনই ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না।’’ এই সময়ে বাংলা ভাগের দাবিতে বারোটিরও বেশি জনসভা করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। পাঁচটি করেন কংগ্রেসের সঙ্গে যৌথভাবে। কংগ্রেস বাংলা ভাগের দাবিকে শেষ মুহূর্তে সমর্থন জানায়। তার কারণ ছিল একটাই যে তাদের হিন্দু ভোটাররা যেন না সরে যায়।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াসে পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) গঠন

    দীর্ঘ আন্দোলন এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াসের পরে ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় আইন পরিষদের পশ্চিমাংশের সদস্যরা বাংলার দ্বিখণ্ডীকরণের প্রস্তাব বা পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) প্রস্তাব ৫৮-২১ ভোটে পাশ করান। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় মুসলিম লিগের পাতা ফাঁদ থেকে বের করে আনেন হিন্দু বাঙালিকে। হিন্দু বাঙালি পায় তার নিজস্ব হোমল্যান্ড। ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ ও নোয়াখালির দাঙ্গার পরেও মুসলিম লিগ সমগ্র বাংলাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করতে ব্যর্থ হয়। ব্যর্থ হয় স্বাধীন বাংলা রাষ্ট্র গঠনের নামে হিন্দু বাঙালিকে দাস করে রাখার পরিকল্পনা। মুসলিম লিগের যাবতীয় চক্রান্তকে প্রতিহত করতে সমর্থ হন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • All Party Meeting: আজ নবান্নে মমতার ডাকা সর্বদল বৈঠকে যাবে না বিজেপি! নেই বাম-কংগ্রেসও

    All Party Meeting: আজ নবান্নে মমতার ডাকা সর্বদল বৈঠকে যাবে না বিজেপি! নেই বাম-কংগ্রেসও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, পশ্চিমবঙ্গ দিবস নিয়ে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে (All Party Meeting) থাকবে না বিজেপি। দলের অন্যতম মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য সোমবার বলেন, ‘‘একটি অনৈতিহাসিক ও অবৈজ্ঞানিক তত্ত্বকে সামনে এনে ইতিহাস বিকৃত করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত হচ্ছে। তার শরিক বিজেপি হবে না।’’ প্রধান বিরোধী বিজেপির পাশাপাশি বৈঠকে যাচ্ছে না সিপিআইএম, সিপিআইয়ের মতো দলগুলি। কংগ্রেসও যাবে না বলেই খবর।

    বিজেপির মত

    রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা সর্বদল বৈঠকে (All Party Meeting)  যাচ্ছে না তাঁর দলের কোনও প্রতিনিধি। সেই সঙ্গে, তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, আগামী দিনেও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কোনও ক্ষেত্রে মঞ্চ ভাগাভাগি করবে না বিজেপি বিধায়করা। ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ কবে পালিত হবে, তা ঠিক করতে মঙ্গলবার বিকেল চারটে থেকে নবান্নে রয়েছে এই বৈঠক।  সেখানে বহু বিশিষ্টজনকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, রাজ্য বিধানসভায় ইতিমধ্যেই এ নিয়ে একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। কিন্তু সেই কমিটির সদস্যরা নিজেদের ব্যাখ্যা দিয়ে বিভিন্ন দিনে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালিত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। সেখানে দিনটি নিয়ে ঐক্যমত হয়নি। তার পরেই সর্বদল বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী। 

    আরও পড়ুন: ভয় ধরাচ্ছে অগাস্ট! শেষ এক মাসে ডেঙ্গি সংক্রমণ ১০ হাজার

    বিরোধী-জোটে মতভেদ

    বামেরা যে মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা সর্বদল বৈঠকে (All Party Meeting)  যাবে না, তা লিখিত ভাবেও মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান তথা বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা বিমান বসু জানিয়েছেন, দেশভাগের যন্ত্রণা এখনও লক্ষ লক্ষ মানুষের মনে জাগরূক। সেই প্রেক্ষাপটে এই ধরনের কোনও প্রতিষ্ঠা দিবস পালনে আমরা বিশ্বাসী নই। বৈঠকে যোগদান করবে না কংগ্রেসও । প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর নির্দেশে কংগ্রেসের কোনও প্রতিনিধি ওই বৈঠকে যাবেন না। যুক্তি হিসাবে কংগ্রেস জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ দিবসের নামে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিজেপির লড়াই চলছে। এ নিয়ে কংগ্রেসের কোনও আগ্রহ নেই। যদি সর্বদল বৈঠক ডাকতেই হয়, তাহলে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকুন। সূত্রের খবর, একদিকে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক হচ্ছে, অন্যদিকে এ রাজ্যে বাম-কংগ্রেসের মনোভাবে শাসক দলের অনেকেই বিরক্ত। এ প্রসঙ্গে কটাক্ষ করেছে বিজেপির নানা সূত্র। কেন্দ্র-বিরোধী জোটে ঐক্য ও মতাদর্শের কতটা ফারাক তা এর থেকে বোঝা যায় বলে অভিমত, রাজনৈতিক মহলের।

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ

  • Bengali Hindu Homeland: ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পশ্চিমবঙ্গের অস্তিত্ব রক্ষার ঘোষণা

    Bengali Hindu Homeland: ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পশ্চিমবঙ্গের অস্তিত্ব রক্ষার ঘোষণা

    মোহিত রায়

     

    পশ্চিমবঙ্গ যুক্ত বাংলার পশ্চিম ভাগের শুধু একটি মানচিত্র মাত্র নয়, এটি বাঙালি হিন্দুর মুক্তির ভাবনা। সাড়ে পাঁচশ বছরের ইসলামী শাসন বাংলার কয়েক হাজার বছরের ধর্ম সংস্কৃতি ভাষাকে ধ্বংস করতে চেয়েছে। বাংলায় তাই নেই কোনও প্রাচীন মন্দির, বৌদ্ধ বিহার। বলপূর্বক ধর্মান্তরকরণে হিন্দু-বৌদ্ধের বাংলাকে বানানো হয়েছে ইসলাম প্রধান বাংলা। ব্রিটিশ শাসন এই দুঃশাসন থেকে মুক্তি দেয়, বাঙালির নবজাগরণের অগ্রদূত রাজা রামমোহন রায় যাকে বলেছেন “ডিভাইন প্রভিডেন্স বা বিধির আশীর্বাদ”। 

    ১৮৭২ সালের প্রথম জনগণনার পর সরকারীভাবে প্রতিষ্ঠিত হল বাংলায় মুসলমান জনসংখ্যা হিন্দুর চেয়ে কিছু বেশী। ১৯৩১ পর্যন্ত এ পার্থক্য তেমন বেশি ছিল না। ৫৫ শতাংশ মুসলমান, ৪৫ শতাংশ হিন্দু। কিন্তু এই সুযোগেই ব্রিটিশ সরকার আনল ১৯৩৫ সালের সাম্প্রদায়িক চুক্তি বা কমিউনাল অ্যাওয়ার্ড। বাংলার আইনসভায় মুসলমান আসন হল ১৩০ টি। হিন্দু আসন, তফসিলি আসন মিলিয়ে, মাত্র ৯০। 

    এই চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়, ডাঃ নীলরতন সরকার, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও অন্যান্যরা। তাঁদের বিবৃতিতে তাঁরা খুব স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে সংখ্যায় মুসলমানরা বেশি হলেও শিক্ষা, সংস্কৃতি, চিকিৎসা, ব্যাবসা বানিজ্য সবকিছুতেই হিন্দুরা অনেক এগিয়ে। সুতরাং বাংলার ভালমন্দের সিদ্ধান্ত কেবল জনসংখ্যার মানদণ্ডে হতে পারে না। বাংলার কংগ্রেস, বিশেষতঃ সুভাষচন্দ্র বসু, এই চুক্তির বিরোধিতা করেছিলেন।

    ১৯৩৫-এর কমিউনাল অ্যাওয়ার্ড মেনে ১৯৩৭-এর নির্বাচন থেকে শুরু হল আবার মুসলিম লিগের ইসলামী শাসন। স্বাধীনতা ও দেশভাগের আবহাওয়ায় তপ্ত হয়ে উঠল বাংলায় ইসলামী অত্যাচার। ১৯৪৬-এর কলকাতার মহাদাঙ্গা ও নোয়াখালীর হিন্দু গণহত্যার পর বাঙালি হিন্দু বুঝে গেল আগামী দিনে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলায় তাদের অবস্থা কী হবে। 

    এগিয়ে এলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, সরব হলেন বাংলার মনীষীরা। ইতিহাসবিদ যদুনাথ সরকার, রমেশচন্দ্র মজুমদার, ভাষাবিদ সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়, বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা, শিশির মিত্র, নমশুদ্র নেতা প্রমথরঞ্জন ঠাকুর বললেন বাঙালি হিন্দুর হোমল্যান্ড চাই। এগিয়ে এলেন বাংলার কংগ্রেস নেতারাও, ডাঃ বিধান রায়, অতুল্য ঘোষ। 

    বাঙালি হিন্দুর কয়েক হাজার বছরের ধর্ম সংস্কৃতি বাঁচাতে, হিন্দু নারীর সম্মান রক্ষার্থে, বাঙালি হিন্দুর নিজের বাসস্থানের দাবিতে তৈরি হল পশ্চিমবঙ্গ। ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় আইনসভা বাংলা ভারত বা পাকিস্তান যোগদানের প্রশ্নে একমত হল না। তখন হিন্দু প্রধান অঞ্চল নিয়ে হল পশ্চিমবঙ্গ আইনসভা ও মুসলমান প্রধান অঞ্চল নিয়ে হল পূর্ববঙ্গ আইনসভা। 

    পশ্চিমবঙ্গ আইন সভায় সংখ্যাধিক্যের ভোটে পশ্চিমবঙ্গের ভারতভুক্তি নিশ্চিত হয়। যুক্ত বাংলার সব মুসলমান সদস্যরা পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দেন, কতিপয় তফসিলি সদস্য ছাড়া সব তফসিলি সদস্য সহ সব হিন্দু সদস্যরা ভারতভুক্তির পক্ষে ভোট দেন। পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পক্ষে ভোট দেন কমিউনিস্ট জ্যোতি বসু ও রতনলাল ব্রাহ্মণ। বাংলাকে পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত করার বিরুদ্ধে ভোট দেন মতুয়া গুরু পি আর ঠাকুর।

    ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন এই ভাবনাকে প্রতিষ্ঠা করার অঙ্গীকার। কেউ বলছেন, আমরা বাংলায় বিভাজন করছি। বিভাজন তো হয়ে গেছে আজ থেকে আটশো বছর আগে যখন নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আগুনে পুড়িয়ে বখতিয়ার খিলজি বাঙলায় ঢুকল। তারপর থেকে বাঙলার একটিও পুরনো মন্দির আর দাঁড়িয়ে নেই। যতদিন ত্রিবেনীর জাফর খানের মসজিদ, আদিনার মসজিদ অপসারিত না হচ্ছে ততদিন বিভাজন তো থাকবেই। 

    পশ্চিমবঙ্গকে রক্ষা করাই আমাদের প্রাথমিক কাজ। আজ খুব দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে হবে বাংলায় কথা বললেই সে বাঙালি নয়, তাকে পাঁচ হাজার বছরের ভারতীয় সভ্যতার উত্তরাধিকারও স্বীকার করতে হবে। বাংলাভাষী ও বাঙালি এক নয়। পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি হিন্দু আজ বহন করছে সেই উত্তরাধিকারের দায়িত্ব। পারসী, সিন্ধি, কাশ্মিরী পণ্ডিতদের আজ আর নিজেদের দেশ নেই, তাঁরা হারিয়ে যাচ্ছেন ভারতের বিভিন্ন কোণে, হারিয়ে যাচ্ছে তাঁদের ভাষা-সংস্কৃতি।

    শ্যামাপ্রসাদ পশ্চিমবঙ্গ গড়েছিলেন বলেই আজও বাঙালি হিন্দু তাঁর ধর্ম-ভাষা-সংস্কৃতি নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু আর কতদিন? পশ্চিমবঙ্গকে পাকিস্তান বানাতে ইসলামী মৌলবাদী শক্তি নাগরিকত্ব আইন ও এনারসির বিরোধিতায় রাজ্য সরকারের প্রশ্রয়ে ১৩ থেকে ১৫ ডিসেম্বর সারা বাংলা জুড়ে হিংসাত্মক আক্রমণ চালায়। কিন্তু শ্যামাপ্রসাদের পশ্চিমবঙ্গকে আমরা ধ্বংস করতে দেব না। সেজন্যই আজ প্রয়োজন পশ্চিমবঙ্গ প্রতিষ্ঠা ও রক্ষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বোঝা ও দিকে দিকে ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করা।

     

    (মতামত লেখকের ব্যক্তিগত)

  • West Bengal Day: ১৯৪৭ সালে আজকের দিনে পাশ হয় পশ্চিমবঙ্গ গঠনের প্রস্তাব, কী ঘটেছিল সেদিন?

    West Bengal Day: ১৯৪৭ সালে আজকের দিনে পাশ হয় পশ্চিমবঙ্গ গঠনের প্রস্তাব, কী ঘটেছিল সেদিন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৪৭ সালের বঙ্গভাগ বাংলার রাজনৈতিক ভূগোলে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের অধ্যায়। এই বিভাজন করা হয়েছিল মূলত সাম্প্রদায়িক সংখ্যাতত্ত্বকে ভিত্তি করেই। হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলার পশ্চিমাঞ্চলকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্বাঞ্চল অন্তর্ভুক্ত হয় পূর্ব পাকিস্তানে।

    ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী হিন্দু প্রত্যাখ্যান করলেও কংগ্রেসবিরোধী মুসলমান বিশেষ করে পূর্ববাংলার জনগণ, তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল। কিন্তু, ১৯৪৭ সালে বঙ্গভাগের প্রস্তাব করেছিল হিন্দুরা, বিশেষ করে হিন্দু মহাসভা। মুসলিম নেতৃত্ব প্রথমে প্রস্তাবের বিরোধিতা করলেও পরবর্তী সময়ে তারা তা গ্রহণ করেছিল।

    ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৭ সালের মধ্যে অবিভক্ত বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সুরাওয়ার্দির নেতৃত্বাধীন মুসলিম লিগ শাসনকালে অকথ্য ও বর্বরোচিত অত্যাচারের সাক্ষী থেকেছিল হিন্দুরা। সেই সময়ই ঘটেছিল ৪৬-এর দাঙ্গা, নোয়াখালির দাঙ্গা এবং ‘দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’-এর ঘটনাপ্রবাহ।

    অচিরেই, হিন্দুদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল। হিন্দুরা বুঝতে পারছিলেন যে, বাংলা অবিভক্ত থাকলে সেখানে সংখ্যাধিক্যের কারণে মুসলমানদেরই আধিপত্য থাকবে এবং হিন্দুরা নিপীড়নের শিকার হবে। হিন্দুরা চাইছিল ভারতের অঙ্গরাজ্য হিসেবে থাকতে। অন্যদিকে, মুসলিমরা চাইছিল পাকিস্তানে যোগ দিতে।

    হিন্দুদের সেই আতঙ্ক যে অমূলক ছিল না, তার প্রমাণ মেলে বঙ্গভাগের পর। ইতিহাস সাক্ষী আছে, বঙ্গ বিভাজনের পর এপারে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় বসবাসকারী মুসলিমরা বিশাল সংখ্যায় যে ওপারে চলে গিয়েছেন, এমন নিদর্শন পাওয়া যায়নি। অথচ অন্যদিকে, অন্তত ৭০ লক্ষ থেকে ১ কোটি হিন্দু এপারে চলে এসেছিলেন উদ্বাস্তু হয়ে। এর থেকেই পরিষ্কার ছিল যে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় হিন্দুদের কী অবস্থা ছিল।

    আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গ দিবসের শপথ: আমি ভয় করব না, ভয় করব না

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও অন্যান্যদের একান্ত চেষ্টায় ১৯৪৭ সালের ৩ জুন, বঙ্গ বিভাজন এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য নীতি ও পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই বছরের ২০ জুন বঙ্গভাগের প্রস্তাব বঙ্গীয় আইনসভার সদস্যদের দ্বারা গৃহীত হয়েছিল। তিন দফা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

    প্রথম ভোটাভুটি হয় অবিভক্ত বাংলার আইনসভার সকল সদস্যদের নিয়ে। প্রস্তাব ছিল ভারতে যোগদান নিয়ে। হিন্দুরা ছিলেন প্রস্তাবের পক্ষে। অর্থাৎ, ভারতে যুক্ত হতে। মুসলিমরা ছিলেন বিপক্ষে। অর্থাৎ, তারা পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে ছিলেন। যৌথ অধিবেশনের ভোটাভুটিতে বিপক্ষে ১২৬টি এবং পক্ষে ৯০টি ভোট পড়েছিল। অর্থাৎ, প্রস্তাবটি গৃহীত হয়নি। 

    দ্বিতীয় ভোটাভুটি হয় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকার সদস্যদের নিয়ে। ভোটাভুটির প্রস্তাব ছিল বঙ্গ ভাগ করা। তাঁরা প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেন। একইসঙ্গে, তাঁরা পাকিস্তানে যোগদানের জন্য একটি প্রস্তাব পাশ করেছিলেন। ভোটাভুটির ফল ছিল ১০৬-৩৫। 

    এর পর তৃতীয় ভোটাভুটি হয় হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকার সদস্যদের নিয়ে। প্রস্তাব ছিল পূর্ব পাকিস্তান ভেঙে পৃথক পশ্চিমবঙ্গ গঠন। হিন্দু সদস্যদের ভোটে পাশ হয়ে যায় প্রস্তাব। ভোটাভুটির ফল ছিল ৫৮-২১। তৃতীয় ভোটাভুটিতে পৃথক পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পক্ষে একজোট হয়ে ভোট দিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও জ্যোতি বসু। 

    নথি বলছে, পৃথক পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পক্ষে যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁরা সকলেই হিন্দু বা অমুসলিম। অন্যদিকে, এই প্রস্তাবের বিপক্ষে যাঁরা ভোট দিয়েছিলেন, তাঁরা সকলেই আইনসভার মুসলিম সদস্য।  এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কারা কারা পৃথক পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন এবং কারা বিপক্ষে। 

    আরও পড়ুন: ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পশ্চিমবঙ্গের অস্তিত্ব রক্ষার ঘোষণা



  • Bengali Hindu Homeland: পশ্চিমবঙ্গ দিবসের শপথ: আমি ভয় করব না, ভয় করব না

    Bengali Hindu Homeland: পশ্চিমবঙ্গ দিবসের শপথ: আমি ভয় করব না, ভয় করব না

    ড. জিষ্ণু বসু

     

    আমি একজন বাঙালি হিন্দু। আমার জীবনে আমি কখনও কোনও ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষের কোনও ভাবাবেগে আঘাত দেওয়ার মতো কিছু বলিনি। আমার স্বর্গতঃ পিতৃদেব রামকৃষ্ণ মিশনের দীক্ষিত ও একান্ত অনুগামী ছিলেন। আমি আশৈশব অন্য ধর্মের শ্রদ্ধেয় প্রাতঃস্মরণীয়দের সম্মান করতেই শিখেছি। আমার ঠাকুরদাদা মশাইও কখনও কোনও ধর্মের বিশ্বাসে আঘাত করেছেন বলে শুনিনি।

    সূত্রাপুরের লক্ষীনারায়ণ জীউ মন্দিরের উল্টোদিকে আমাদের ঢাকার বাসাটা ১৯৫১ সালে নেহরু লিয়াকত চুক্তি হওয়ার পরেও ছিল। চুক্তিতে ঠিক হয়েছিল পাকিস্তানে হিন্দু আর ভারতের মুসলমান শান্তিতে, সসম্মানে থাকতে পারবে। ১৯৫১ সালে পূর্ব-পাকিস্তানে হিন্দুর সংখ্যা ছিল ২৪ শতাংশ, ২০১১ সালে তা কমে হয়েছে ৮ শতাংশ। গত দশ বছরে সংখ্যাটা আরও কমেছে। দুপারের বঙ্গভুমিতে হিন্দু বাঙালির মোট জনসংখ্যা ১৯৪১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত  ১৭ শতাংশ কমে গিয়েছে। 

    যাঁরা খুন হননি বা ধর্মান্তরিত হননি তাঁরা পালিয়ে এসেছেন। এখনও আসছেন। এই পালিয়ে আসা মানুষের মধ্যে খুব কম, হাতেগোনা হিন্দু হয়ত দারিদ্রের কারণে এখানে এসেছেন। কিন্তু বাকি কেউই এখানে ২ টাকা কেজি চাল খাওয়ার জন্য আসেননি। একান্ত প্রান বাঁচাতে, বাড়ির মেয়েদের ইজ্জত বাঁচাতে পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন বা কান্ধামাল, দন্ডকারণ্যে গেছেন।

    গত বছর থেকে আমরা ‘খেলা হবে’ স্লোগানটা খুব শুনছি। কিন্তু এই খেলা আমরা বিগত সত্তর আশি বছর থেকে দেখছি। এই খেলায় সবথেকে বড় ভুমিকা ছিল শাসকদের। যিনি রক্ষক তিনিই ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

    ১৯৬৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর, কাশ্মীরের হজরতবাল মসজিদের থেকে উধাও হয়ে গেল পবিত্র কেশরাজি। এই ঘটনায় পূর্ববঙ্গের হিন্দুদের বিরুদ্ধে জেহাদের ডাক দিলেন ইসলামিক বোর্ডের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আব্দুল হাই। পাকিস্তানের তদানিন্তন রাষ্ট্রপতি আয়ুব খাঁ ঢাকা বিমানবন্দর ছাড়ার সময় বলে গেলেন, “সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর আঘাত এলে তার দায়িত্ব সরকারের নয়!” 

    ১৯৬৪ সালে ভয়াবহ দাঙ্গায় পূর্ববঙ্গের কয়েক হাজার হিন্দু বাঙালির প্রাণ যায়। এই গণহত্যার সঙ্গে, অগনিত হিন্দু মহিলা ধর্ষিতা হন, গ্রাম থেকে শহরে লুঠ আর মহিলা অপহরণ চলে, কয়েকশ মন্দির ভাঙা হয়। ঢাকার টিকাটুলির রামকৃষ্ণ মিশনে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। কিছুদিন পরেই মসজিদে কেশরাজি ফিরে এল, অপরাধীও ধরা পড়ল। কিন্তু খেলার একটি অধ্যায়ে সর্বশ্রান্ত  হয়ে গেলেন, উদ্বাস্তু হলেন লক্ষাধিক বাঙালি হিন্দু।

    ২০২২ সালের কলকাতা। নূপুর শর্মার বক্তব্যের বিরুদ্ধে এরাজ্যের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার যিনি সর্বাধিকারী, তিনি ৯ জুন তারিখে ট্যুইট করলেন, ”আমি জোরালোভাবে দাবি করছি, দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহ্য ও ঐক্য রক্ষার স্বার্থে এবং সর্বসাধারণের মানসিক শান্তির প্রয়োজনে বিজেপির অভিযুক্ত নেতা-নেত্রীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা হোক।”

    ১০ জুন সকাল থেকে হাওড়া সহ বিভিন্ন জায়গায় নাশকতা শুরু হয়। যে সব স্থানে বাঙালি হিন্দুরা সংখ্যালঘু সেখানে গ্রামের পর গ্রাম পুড়তে থাকে। ভীতসন্ত্রস্ত মানুষ প্রাণ বাঁচাতে পালাতে থাকে। পাঁচলার মতো বহু জায়গায় পুলিশের সামনেই দোকান লুঠ হয়। হিন্দুদের দোকান জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। তারপর একসময় পুলিশের দুটি গাড়িও পোড়ানো হয়।

    ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক প্রায় ১১ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকে। নাশকতা পরপর কয়েকদিন চলতে থাকে। এরাজ্যে হিন্দু দেবদেবী নিয়ে আপত্তিকর কিছু বললে, ‘সর্বসাধারণের মানসিক শান্তির’ কিছু তারতম্য হয় না। কাশীতে বীরেশ্বর শিবের বরে   মা ভুবনেশ্বরী দেবী স্বামী বিবেকানন্দকে পেয়েছিলেন। তাই ছোট্ট বিলে দুষ্টুমি করলে মা তাঁর মাথায়, “শিব, শিব” বলে জল ঢেলে শান্ত করতেন। 

    হিন্দু বাঙালির জীবনের প্রতিটি অংশ জুড়ে আছেন দেবাদিদেব মহাদেব। ভগবান শিবের নামে কেউ অসম্মানজনক কথা বললে তাকে এই রাজ্যের রাজনৈতিক শক্তি পুরষ্কৃত করে। সম্প্রতি শিব ঠাকুরের নামে অশ্রাব্য কথা বলার প্রতিবাদে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর থানায় একটি অভিযোগপত্র জমা হয় এমাসের ১৩ তারিখে। অভিযোগকারী ৪১ বছরের ছেলেটির জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পুলিশ তো অভিযোগ গ্রহণ করে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেইনি, বরং ছেলেটিকে বারবার পার্টি অফিসে নিয়ে শাসানি চলছে নিয়মিত, গত ১৮ জুন তারিখে ছেলেটিকে লক্ষ্য করে দুই রাউন্ড গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। কেন? পশ্চিমবঙ্গ তো বেঙ্গলি হিন্দু হোমল্যান্ড। এখানে কোনও হিন্দুর আরাধ্য দেবতাকে নিয়ে কদর্য কথা বললে পুলিশ কেন এফআইআর গ্রহণ করবে না? কেন অভিযোগকারীর নিরাপত্তার ব্যবস্থা হবে না? গত ১১ বছর ধরে হিন্দুদের উপরে অত্যাচার করা একটা বার্ষিক উৎসব হয়ে উঠেছে। কোনও না কোনও একটা অছিলা চাই।

    ২০১৪ সালের খাগড়াগড়ের ঘটনার পরে সিমুলিয়ার মতো মাদ্রাসার ছবি খবরে উঠে এল। হিন্দুদের নিকেষ করার জন্য কী ভীষণ প্রস্তুতি চলছে। এরাজ্যের সরকার প্রথমে ঘটনাটা ঢাকতেই চেয়েছিল। ২০১৫ সালে জামালপুরের তফশিলি সম্পদায়ের হিন্দুদের উৎসব ধর্মরাজের মেলা ছিল ছুতো। নদিয়া জেলার জুড়ানপুরে সেই বাহানায় খুন করা হল মারু হাজরাদের মত ৫ জন তফশিলি সম্প্রদায়ের গরিব অসহায় হিন্দুকে।

    ২০১৬ সালের বাহানা ছিল, কমলেশ তিওয়ারির ফাঁসির দাবি। সেই অপরাধে মালদার কালিয়াচকে থানা জ্বালিয়ে দেওয়া হল। হিন্দু গ্রাম আক্রান্ত হল, গুলিবিদ্ধ হল সাধারণ মানুষ। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরেরই শুরু হল ধূলাগড়ের দাঙ্গা। এবারের বাহানা ছিল নবী দিবসের। মিলাত-উল-নবী পালন করার উৎসাহে ধূলাগড়ের মতো বহু জায়গায় আগুন জ্বলল। জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হল ঘণ্টার পর ঘণ্টা। 

    ২০১৭ সালে উওর ২৪ পরগণার বাদুড়িয়ায় একটি ১৭ বছরের বালকের সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট ছিল বাহানা। হিন্দু মন্দির ভাঙা হল, ঘর পোড়ানো হল, বসিরহাটে দিনের আলোয় খুন হলেন নিরীহ হিন্দু। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে আসানশোলে রামনবমীর মিছিল আক্রান্ত হল। প্রাণ গেল নিরীহ হিন্দুদের। পঞ্চায়েত নির্বাচনের গ্রামে গ্রামে সন্ত্রাস ছড়ানো হয়েছিল। বিডিও অফিসে অফিসে হার্মাদদের ঘর দেওয়া হয়েছিল। নিহত, ধর্ষিতা আর আক্রান্তদের প্রায় সকলেই হিন্দু বাঙালি।

    ২০১৯ সালে সিএএ বিরোধিতার নামে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ হয়েছে। জাতীয় সড়ক অবরোধ, রেল স্টেশনে স্টেশনে চরম নাশকতা। মাসাধিক কাল উওরবঙ্গ আর দক্ষিণবঙ্গ রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। গ্রামে গ্রামে আক্রমণের লক্ষ্য ছিল বাঙালি হিন্দু, বিশেষ করে পূর্ববঙ্গের থেকে সব হারিয়ে আসা উদ্বাস্তু হিন্দু।

    ২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পরেও হিন্দুদের উপর এই সিএএ বিরোধী অত্যাচার থামেনি। ২০২১ সালে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ছুতোয় হত্যা, ধর্ষণ আর লুঠের তাণ্ডবলীলা চলল। অর্ধশতাধিক হিন্দু বাঙালির প্রাণ গেল। যাঁরা তথাকথিত বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক, যাঁরা “ক্যা ক্যা ছি ছি” করে পূর্ববঙ্গের হিন্দু উদ্বাস্তুর অধিকার পেতে দিলেন না, তাঁরা কিন্তু হিন্দু বাঙালির দুঃখের কথা বলবেন না।

    ভারতের কোথাও নির্বাচনের নামে এত লোক মারা যান না। এত বর্বরতা কোনও প্রদেশের মানুষের নেই। অথচ আমরা শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতিতে কত এগিয়ে! এগিয়ে বাংলা! এবার একটা কথা পরিস্কার বলা প্রয়োজন। এই তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা নিকারাগুয়ার জন্য, গাজা ভূখণ্ডের জন্য কথা বলবেন, আর পশ্চিমবঙ্গ যখন বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে তখন অন্য কোথাও পালিয়ে যাবেন পাথেয় নিয়ে।

    পূর্ববঙ্গের থেকে পালিয়ে আসা সর্বশ্রান্ত মানুষদের আশ্রয়ের জন্য ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো মনীষীরাই এই “বেঙ্গলি হিন্দু হোমল্যান্ড” আদায় করেছিলেন। মহম্মদ আলি জিন্না ১৯৪৭ সালে বহুবার আক্ষেপ করেছিলেন কলকাতা পেলেন না বলে। কিন্তু বাঙালি হিন্দু সেদিন এক ছিল। সুচেতা কৃপালিনী কংগ্রেসের নেত্রী, অধ্যাপক মেঘনাদ সাহা বামপন্থী, কিন্তু তাঁরা শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে ছিলেন। তাঁদের সমবেত প্র‍য়াসেই ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় আইনসভায় ঠিক হয়েছিল হিন্দুপ্রধান জেলাগুলি নিয়ে তৈরি হবে পশ্চিমবঙ্গ, সেই পশ্চিমবঙ্গ ভারতবর্ষে থাকবে, বেঙ্গলি হিন্দু হোমল্যান্ড হিসেবে।

    এরপর একের পর এক জেলায় হিন্দুরা সংখ্যালঘু হয়েছে। ২০২১ সালের আদমসুমারিতে স্পষ্টতঃ দক্ষিণ ২৪ পরগনা নতুন করে এই তালিকায় যুক্ত হবে। তাতে যে কি এল গেল, তা গতবছরের মৃত্যু তালিকা থেকে বোঝা যায়। ২ মে তারিখের পর থেকে ৯ জন খুন হয়েছেন এই জেলায়। ২ জুন সোনারপুরের হারান অধিকারী, ৩ জুন মগরাহাটের সৌরভ বর, ১০ জুন সন্দেশখালির আস্তিক দাস, ১৬ জুন ফলতার অরিন্দম মিদ্দে, ২০ জুন উওর সোনারপুরের নির্মল মণ্ডল,  ২৯ জুন ডায়মন্ড হারবারের রাজু সামন্ত, ২ অগাস্ট সাতগাছিয়ার চন্দনা হালদার, ২৫ অগাস্ট কাকদ্বীপের সমরেশ পাল, ২২ অক্টোবর মগরাহাটের মানস সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় খুন হয়েছেন। এর মধ্যে ৬ জন কেবলমাত্র ডায়মন্ড হারবার লোকসভায়। একটি মাত্র লোকসভা এলাকায় নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় এই মৃত্যু স্বাধীন ভারতের সর্বকালের রেকর্ড।
      
    তাতে অবশ্য এখানে কর্মরত কোনও প্রশাসনিক আধিকারিকের লজ্জাবোধ হয় না! যেসব ঝকঝকে রুপোলি পর্দার তারকারা ‘আমরা অন্য কোথাও যাবো না’ নাটক করেছিলেন তাঁদেরও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটেনি। যে যার পুরস্কারের ভাগ পেয়েছেন। পূর্ববঙ্গের হিন্দু উদ্বাস্তুদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার পুরস্কার হিসেবে কেউ ডেউচা পাচামির কমিটির সদস্য হয়েছেন।

    বাঙালি জল্লাদদের হাতে কোতল হলে এইসব তারকাদের কিচ্ছুটি যায় আসে না। এনাদের নিজেদের জীবদ্দশায় ভোগটুকু হলেই হল। কারণ নিশ্চিতভাবে এনাদের উত্তরপুরুষ হিন্দু নামধারী হলে পশ্চিমবঙ্গে থাকতে পারবে না। লোকের বাড়িতে কাজ করা তফশিলি জাতির যে মেয়েটি বুকের পাটা টানটান করে বিধানসভায় এসেছে, তাঁকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ রসালো বিষয়েই কেবল এগিয়ে থাকা সংবাদমাধ্যমের আগ্রহ। স্বাধীনতার পরে ৭৫ বছরে এরাজ্যে এই মানুষগুলি কেন নেতৃত্বে আসেননি? এই প্রসঙ্গে ওই সব কাগজে একটি সম্পাদকীয়, কোনও ফ্রন্ট পেজার বা উত্তর সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়নি।

    কিন্তু ঈশ্বরের তো কিছু পরিকল্পনা থাকে। বাঙালি হিন্দু ২০৪০ সালের মধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবার হলে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু, স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রী অরবিন্দ বা গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ বঙ্গভূমিতে আসতেন না। আজ ৭৫ তম পশ্চিমবঙ্গ দিবসে আমাদের শক্তি আর দুর্বলতার হিসেব করা প্রয়োজন। যাকে ব্যবস্থাবিজ্ঞানের ভাষায় “এস.ডাব্লিউ.ও.টি. অ্যানালিসিস” বলে। বাঙালি হিন্দুর বেঁচে থাকার পক্ষে শক্তি কতটা আর দুর্বলতা কী কী?

    পশ্চিমবঙ্গের জন্য ১৯৪৭ সালে যাঁরা লড়াই করেছিলেন, যাঁরা চেয়েছিলেন যে বাঙালিকে পাকিস্তানের নেকড়েরা যেন দাঁতে নখে না ছিঁড়ে খায়, রাজনৈতিক ভাবে শ্যামাপ্রসাদের দল পশ্চিমবঙ্গ তৈরির পরে সর্বকালের রেকর্ড শক্তি নিয়ে উঠে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতেও বিরোধী দল হিসেবেও ৭৭ জন বিধায়ক, কেবল যুক্তফ্রন্টের অতি সল্পকালীন সময় ছাড়া আর কোনও দিন, কোনও দলের ছিল না। তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধী দল হিসেবে কখনও পঞ্চাশের গণ্ডি পার করেনি। কিন্তু পয়সা আর ক্ষমতার কাছে বিক্রি হওয়া প্রচারমাধ্যম সে কথা ভুলেও বলে না।

    আর সব থেকে বড় দুর্বলতা হল ভয়। আজ ২০ জুন, ঠিক একমাস আগে চুকনগর দিবস গেল। ১৯৭১ সালের ২০ মে ভারতের সীমান্তবর্তী খুলনার চুকনগরে খান সেনারা ১০ হাজার হিন্দু বাঙালিকে একদিনে হত্যা করেছিল। ওই হতভাগ্যরা কেবল বেঁচে থাকার জন্য ভারতে আসতে চেয়েছিলেন। মাত্র ১০ থেকে ১৫ জন বন্দুকধারী এই নরসংহার করেছিল। যার অর্থ এক একজন সেমি অটোমেটিক রাইফেল দিয়ে সাত-আট’শ মানুষকে মেরেছিল। যদি সমবেত নিরস্ত্র মানুষ কেবল পালিয়ে না গিয়ে আক্রমণকারীদের উপর ঝাঁপিয়ে পরত। রাইফেল ছিনিয়ে নিত? বাঘযতীনের রক্ত যাদের শরীরের মধ্যে বইছে, তাদের কাছে এটি বেশি চাওয়া?

    গুরুদেবের সেই কথাটা বারবার মনে হচ্ছে, ” যত বড়ই তুমি হও তুমি তো মৃত্যুর চেয়ে বড় নও।” আজ বাঙালি হিন্দুর মনে রাখা উচিত, এরা কত কষ্ট দেবে? কষ্ট তো মৃত্যু পর্যন্তই! 

    শ্রীমদ্ভাগবতগীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন—
    “যদৃচ্ছায়া চোপপন্নং স্বর্গদ্বারমপাবৃতম।
    সুখিনং ক্ষত্রিয়াং পার্থ লভন্তে যুদ্ধমীদৃশম।।”
    হে পার্থ, অনায়াসপ্রাপ্ত, উন্মুক্ত স্বর্গদ্বারসদৃশ এই প্রকার ধর্মযুদ্ধ ভাগ্যবান ক্ষত্রিয়গণই লাভ করেন। ভগবানের অশেষ করুণা আজকের বাঙালি হিন্দুকে সেই সুযোগ দিয়েছেন। 

    অত্যাচারীর পায়ে মাথা ঘষলেই মুক্তি মিলবে না। নিজেদের মা বোনেদের ইজ্জত বাঁচাতে, ধনপ্রাণ রক্ষা করতে সংগঠিত হতে হবে, প্রয়োজনে পুলিশে কর্মরত ভাইবোনেদের রক্ষা করতে হবে। দেখতে হবে দেগঙ্গার মতো, ধূলাগড়ের মতো, পাঁচলার মতো আর একটা পুলিশের জিপও যেন না পোড়ে। কালিয়াচকের মতো থানা যেন না জ্বলে। সে ক্ষমতা আমাদের আছে কেবল আমাদেরই আছে। 

    ক্ষুদিরাম বসু জেলের দেওয়ালে  কাঠকয়লা দিয়ে লিখেছিলেন— 
    “বাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায়
    নবানি গৃহ্নতি নরোহপরাণি।
    তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণা
    ন্যন্যাতি সংযাতি নবানি দেহী।।”

    ওই তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের লেখা কাগজে পড়ুন, তারকা অভিনেতার সিনেমা দেখুন, বম্বের থেকেও প্রতিভাবান বাঙালি শিল্পীর গান শুনুন কিন্তু নিজেদের রোল মডেল করুন প্রফুল্ল চাকি, ক্ষুদিরাম, নেতাজি সুভাষচন্দ্রকে। উদ্বোধন কার্যালয়, ভারত সেবাশ্রম সংঘ, গীতা প্রেস বা ইস্কনের স্টল থেকে একটা বাংলা গীতা কিনে নিন। একটি লাল শালুতে মুড়ে নিন। ওটাই আপনার বেঁচে থাকার, জিতে যাওয়ার অস্ত্র।

    আমি, আপনি সাধারণ মানুষ। কেউ কোনও “শ্রী” আপনাকে দেয়নি, ওই পাপের সম্মানে পদাঘাত করুন!  শ্রীচৈতন্য বুদ্ধিজীবীদের দিকে তাকাননি, আমার আপনার দিকে তাকিয়েই “শ্রী শিক্ষাষ্টকম” লিখেছিলেন। এই ক্ষমতালোভী রাজনৈতিক শক্তি জল্লাদদের সামনে যত মাথা নোয়াবে, আমাদের শিরদাঁড়া তত টানটান হবে, উন্নত হবে শির।
    তোমাদের হাতে আমাকে ভয় দেখানোর আর কিছু নেই। আমরা মৃত্যুঞ্জয়। মৃত্যু আমাদের কাছে পরমানন্দ মাধবের আশির্বাদ।

    খেলা তো হবেই। এটা শেষ খেলা। আমরাই জিতব।

     

    (এই মতামত লেখকের ব্যক্তিগত)

LinkedIn
Share