Tag: West Bengal government change

  • Rath Yatra 2026: ‘‘প্রভু অহঙ্কার সয় না, তাই উল্টে গেল মমতার সরকার’’! দিঘা মন্দির নিয়ে পুরীর প্রধান সেবায়েতের বিস্ফোরক মন্তব্য

    Rath Yatra 2026: ‘‘প্রভু অহঙ্কার সয় না, তাই উল্টে গেল মমতার সরকার’’! দিঘা মন্দির নিয়ে পুরীর প্রধান সেবায়েতের বিস্ফোরক মন্তব্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না কি কথাই শোনেননি! দিঘার পাথরের মূর্তিতে ঘটা করে ‘ধাম’ লিখেছিলেন। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কোনও শাস্ত্রীয় পরামর্শ শোনেননি! মহাপ্রভু কারও দম্ভ বা অহঙ্কার সহ্য করেন না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেদ আর অহঙ্কারের জন্যই বাংলায় সরকার টিকে থাকতে পারেনি। একদিকে রথযাত্রার (Rath Yatra 2026) পুণ্য উৎসবে যখন পুরীধাম ভক্তদের ভিড়ে গমগম করছে, ঠিক তখনই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এবং দিঘার জগন্নাথ মন্দির নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন পুরীর জগন্নাথদেবের প্রধান পানিগ্রাহী (সেবায়েত) জগন্নাথ দয়িতাপতি।

    কেন ক্ষুব্ধ সেবায়েত?

    জগন্নাথ দয়িতাপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘‘তিনি কোনও দলীয় রাজনীতি করেন না। কেবল শাস্ত্রীয় ও আইনি সত্যটাই তুলে ধরছেন।’’ তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কোনও পরামর্শ বা শাস্ত্রীয় বিধান মানেননি।  জগন্নাথ ধাম বলতে আদি পুরী ধামকেই বোঝায়। কিন্তু দিঘার নবনির্মিত মন্দিরকে ‘ধাম’ হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল, যা শাস্ত্রসম্মত নয়। মন্দিরে দারুব্রহ্ম বা কাঠের মূর্তির পরিবর্তে পাথরের মূর্তি তৈরি করা নিয়েও তাঁর ঘোর আপত্তি ছিল। জগন্নাথ দয়িতাপতি বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) আমার কথা শুনলেন না। আমার শিষ্য শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এসে সেই ভুল শুধরে দিয়েছেন, সে ধাম লেখাটি বাদ দিয়েছে। ভুল কাজের জন্যই শেষ পর্যন্ত সরকার উল্টে গেল।’’

    বৃষ্টির মাঝেই পুরীতে রথযাত্রার (Rath Yatra 2026) মহাসমারোহ

    রাজনৈতিক বিতর্কের আবহেও পুরীতে রথযাত্রার আনন্দ ও ভক্তিতে কিন্তু কোনও খামতি নেই। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষা সৈকত শহরে দফায় দফায় ভারী বৃষ্টি উপেক্ষা করেই রথের রশি ছুঁতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তের ঢল নেমেছে। এ বছরও শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য মেনে বিশেষ কাঠ দিয়ে তৈরি হয়েছে তিনটি মূল রথ- জগন্নাথদেবের ‘নন্দীঘোষ’, বলভদ্রের ‘তালধ্বজ’ এবং সুভদ্রার ‘দর্পদলন’। সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী, রথযাত্রার (Rath Yatra 2026) এই যাত্রাপথের একটি গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য রয়েছে।

    • বলরামের রথ (তালধ্বজ): বলরাম হলেন গুরুর প্রতীক, যিনি ভক্তকে সঠিক পথ দেখান।
    • সুভদ্রার রথ (দর্পদলন): সুভদ্রা হলেন ভক্তির প্রতীক।
    • জগন্নাথের রথ (নন্দীঘোষ): জগন্নাথ স্বয়ং ঈশ্বরের প্রতীক। অর্থাৎ, গুরুর হাত ধরে ভক্তির পথ পেরিয়েই ভক্ত ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ করতে পারেন।

    বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে বাংলার প্রতি নিজের গভীর অনুরাগের কথাও জানিয়েছেন প্রধান সেবায়েত। তিনি বলেন, ‘‘চৈতন্য মহাপ্রভুর পুণ্যভূমি বাংলাকে হৃদয় থেকে ভালোবাসি ও শ্রদ্ধা করি। বাংলার প্রতিটি মানুষের উপর মহাপ্রভুর আশীর্বাদ বজায় থাকুক।’’ উল্লেখ্য, প্রতিবারের মতো এবারও রথযাত্রা (Rath Yatra 2026) উপলক্ষে পুরীর সমুদ্র সৈকতে বালি দিয়ে মহাপ্রভুর এক নয়নাভিরাম প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তুলেছেন পদ্মশ্রী জয়ী বিশ্ববিখ্যাত বালুশিল্পী সুদর্শন পট্টনায়ক।

LinkedIn
Share