Tag: West Bengal industrial investment

  • Suvendu Adhikari: হলদিয়ায় আসছে পেপসি, হরিণঘাটায় হবে ক্যাম্পা কোলা! বাংলায় শিল্পায়নে এক জোড়া বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: হলদিয়ায় আসছে পেপসি, হরিণঘাটায় হবে ক্যাম্পা কোলা! বাংলায় শিল্পায়নে এক জোড়া বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর আবহেই পশ্চিমবঙ্গে নতুন শিল্প বিনিয়োগের একাধিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার হলদিয়ায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে তৈরি দেশের বৃহত্তম ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে নদিয়ার হরিণঘাটায় ক্যাম্পা কোলার নতুন কারখানা তৈরির ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। হলদিয়ায় আরও দুটি শিল্পপ্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। রাজ্যে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং আমদানি নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে এই উদ্যোগগুলি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

    হলদিয়ায় ৬ হাজার কোটির ফেনল-অ্যাসিটোন কারখানা

    হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেডের সম্পূর্ণ অধীনস্থ সংস্থা অ্যাডপার্মা প্রাইভেট লিমিটেড এই ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কেন্দ্রটি তৈরি করেছে। প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে ওঠা এই কারখানা দেশের বৃহত্তম ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কেন্দ্র বলে জানানো হয়েছে।

    শিল্পপ্রকল্পটির উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হলদিয়ায় ইতিমধ্যেই ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ পাইপলাইনে রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই কারখানা চালু হওয়ায় রাসায়নিকের জন্য বিদেশ থেকে আমদানির উপর নির্ভরতা কমবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যপূরণেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

    শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে হলদিয়ার শিল্পাঞ্চলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগও তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কারখানায় সরাসরি প্রায় ৪০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। পরোক্ষভাবে কাজ পেয়েছেন আরও প্রায় ১,০০০ জন। ফলে স্থানীয় অর্থনীতি এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

    হরিণঘাটায় ক্যাম্পা কোলা, ২৮ অক্টোবর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

    রাজ্যে নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় ঘোষণা এসেছে ক্যাম্পা কোলাকে ঘিরে। নদিয়ার হরিণঘাটায় এই পানীয় সংস্থার কারখানা তৈরি করতে চলেছে রিলায়েন্স গোষ্ঠী। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৮ অক্টোবর, বুধবার প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।

    রাজ্যে শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে। এর আগে লাক্স কোজি এবং আমূলের মতো সংস্থার কারখানা ঘিরেও রাজ্যে শিল্প সম্প্রসারণের উদ্যোগের কথা সামনে এসেছে। পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরের দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

    বিনিয়োগ টানতে শিল্পপতিদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রাখছে রাজ্য সরকার। মুকেশ আম্বানি ও গৌতম আদানির মতো শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠকের কথাও উঠে এসেছে। নিউটাউনে আদানি গোষ্ঠীর হাসপাতাল প্রকল্পের পাশাপাশি রাজ্যে নতুন শিল্প ও পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    হলদিয়ায় পেপসির প্ল্যান্ট, তৈরি হবে চিকিৎসা সরঞ্জামও

    হলদিয়াকে ঘিরে আরও দুটি শিল্পপ্রকল্পের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রায় ৯৮ একর জমিতে পেপসির উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে উঠবে। অন্যদিকে, প্রায় ৫০ একর জমিতে চিকিৎসা সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি তৈরির কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই দ্বিতীয় প্রকল্পের সঙ্গে প্রভিস কোম্পানির নাম উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে হলদিয়ার শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন ক্ষেত্রের পরিধি আরও বাড়তে পারে। রাসায়নিক শিল্পের পাশাপাশি পানীয় এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনের মতো পৃথক ক্ষেত্রেও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে স্থানীয় কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সহায়ক শিল্প ও পরিষেবা ক্ষেত্রেও নতুন কাজের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

    এ ছাড়া হলদিয়ায় আইডব্লিউএল এবং আইওসিএলের প্ল্যান্টের জন্যও কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে এই প্রকল্পগুলির বিনিয়োগের অঙ্ক ও বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি।

    শ্রমিকদের চিকিৎসায় ৫০ শয্যার ট্রমা সেন্টার

    শিল্প বিনিয়োগের পাশাপাশি হলদিয়ার শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা পরিষেবার উন্নয়নেও জোর দিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে হলদিয়ায় ৫০ শয্যার একটি ট্রমা সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

    শিল্পাঞ্চলে কাজ করার সময় দুর্ঘটনা ঘটলে শ্রমিকদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়াই এই কেন্দ্র তৈরির অন্যতম উদ্দেশ্য। উন্নত জরুরি চিকিৎসার পরিকাঠামো গড়ে উঠলে দুর্ঘটনাগ্রস্ত শ্রমিকদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ভাতার বদলে দক্ষতা ও স্বনির্ভরতায় জোর

    শিল্পপ্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্থানীয় যুবক-যুবতীদের শিল্পের উপযোগী করে তুলতে প্রশিক্ষণ এবং স্কিল ডেভেলপমেন্টের উপর জোর দেন।

    তাঁর বক্তব্য, আর্থিক সহায়তার উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে স্বনির্ভর হয়ে ওঠা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভাতা নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে আত্মনির্ভর হতে হবে। এটাই আজ আমাদের শপথ হওয়া উচিত।’

    রাজ্যে নতুন শিল্পপ্রকল্প তৈরি হলে সেই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য স্থানীয় যুবক-যুবতীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরি করা গেলে একদিকে যেমন সংস্থাগুলির কর্মী নিয়োগ সহজ হবে, তেমনই স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।

    দীপাবলির আগে নতুন শিল্পনীতি ঘোষণার ইঙ্গিত

    রাজ্যে আরও বিনিয়োগ টানতে নতুন শিল্পনীতি তৈরির কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। দিওয়ালির আগেই সেই নীতি ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে নতুন শিল্পনীতির নির্দিষ্ট রূপরেখা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

    পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক দীর্ঘদিনের। রাজ্যের ক্ষমতার পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে শিল্পের অভাব ও কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগের বিষয়টি উঠে এসেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন বিনিয়োগ, উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন এবং পরিকাঠামো উন্নয়নকে সামনে রেখে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির বার্তা দিচ্ছে রাজ্য সরকার।

    হলদিয়ার ফেনল-অ্যাসিটোন কারখানা, হরিণঘাটায় ক্যাম্পা কোলার প্রকল্প এবং হলদিয়ায় প্রস্তাবিত পেপসি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন কেন্দ্র—সব মিলিয়ে রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই উদ্যোগগুলির দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে প্রকল্পগুলি কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, কতটা কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং স্থানীয় যুবক-যুবতীরা সেই সুযোগ কতটা কাজে লাগাতে পারেন, তার উপর।

  • Birla Group Bengal Investment: বাংলায় বড় লগ্নির ইঙ্গিত! কুমার মঙ্গলম বিড়লার সঙ্গে বৈঠক শমীকের, এবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের অপেক্ষা

    Birla Group Bengal Investment: বাংলায় বড় লগ্নির ইঙ্গিত! কুমার মঙ্গলম বিড়লার সঙ্গে বৈঠক শমীকের, এবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের অপেক্ষা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ও বিনিয়োগের পরিসর বাড়ানোর উদ্যোগে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে রাজ্য সরকার। সেই আবহেই বাংলায় নতুন করে লগ্নির বার্তা দিল আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠী। রাজ্যসভায় সাংসদ তথা বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে বৈঠকে গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান কুমার মঙ্গলম বিড়লা পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন বলে দাবি শমীকের। এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামী এক-দু’দিনের মধ্যেই সেই বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি।

    বাংলায় পুরনো ব্যবসা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা

    রবিবার কলকাতায় কুমার মঙ্গলম বিড়লার সঙ্গে বৈঠক করেন শমীক ভট্টাচার্য। বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর বর্তমান ব্যবসায়িক পরিসর আরও বাড়ানো এবং নতুন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। শমীকের বক্তব্য অনুযায়ী, বৈঠকটি ইতিবাচক হয়েছে এবং রাজ্যে গোষ্ঠীটির নতুন লগ্নির সম্ভাবনা রয়েছে।

    শমীক জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে নতুন ও সমন্বিত শিল্পনীতি তৈরির কাজ চলছে। বড় শিল্পগোষ্ঠী ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের রাজ্যে আরও বেশি করে বিনিয়োগে উৎসাহিত করাই এই নীতির অন্যতম লক্ষ্য। এই প্রেক্ষাপটে আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর মতো দীর্ঘদিনের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

    বঙ্গ বিজেপি সভাপতির দাবি, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বিড়লা গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, অতীতে শ্রমিক সংগঠনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া শিল্প-পরিবেশের কারণে রাজ্য থেকে বেশ কিছু শিল্পগোষ্ঠীর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। নতুন শিল্পনীতির মাধ্যমে সেই পরিস্থিতি বদলে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেই স্পষ্ট হতে পারে লগ্নির রূপরেখা

    শমীকের সঙ্গে বৈঠকের পর এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কুমার মঙ্গলম বিড়লার সম্ভাব্য বৈঠক ঘিরে শিল্পমহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এই বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ, চলতি ব্যবসার সম্প্রসারণ এবং নতুন প্রকল্প নিয়ে আরও নির্দিষ্ট আলোচনা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

    অর্থাৎ শুধু নতুন করে লগ্নি নয়, বাংলায় ইতিমধ্যে যে ক্ষেত্রগুলিতে আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর ব্যবসা রয়েছে, সেগুলির পরিসর বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। তবে সম্ভাব্য বিনিয়োগের নির্দিষ্ট অঙ্ক বা প্রকল্পের তালিকা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

    পুরুলিয়ায় এক বছরে ১ লক্ষ কোটির বিনিয়োগের লক্ষ্য

    আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর বিনিয়োগ-বার্তার পাশাপাশি রাজ্যের শিল্পায়নের পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে পুরুলিয়া। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আগামী এক বছরে জেলায় প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসতে পারে। প্রতিরক্ষা, স্টিল, সিমেন্ট এবং সৌরবিদ্যুৎ-সহ একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

    ইতিমধ্যেই রঘুনাথপুরে প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের ভূমিপুজো হয়েছে। পাশাপাশি পুরুলিয়ায় আরও শিল্প প্রকল্প আনার জন্য জমি ও পরিকাঠামোগত সুযোগ কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। শিল্পের পাশাপাশি পর্যটন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকেও এই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। লক্ষ্য, পুরুলিয়াকে শুধু শিল্পাঞ্চল নয়, একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা।

    উড়ান প্রকল্পে পুরুলিয়ায় বিমানবন্দর

    পুরুলিয়ার শিল্পায়নের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বিমান যোগাযোগও। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কেন্দ্রের উড়ান (UDAN—‘উড়ে দেশ কা আম নাগরিক’)—প্রকল্পের আওতায় পুরুলিয়ায় বিমানবন্দর তৈরির জন্য ২৮ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্যের তরফে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয় লাইসেন্সের জন্য আবেদনও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    রাজ্য সরকারের মতে, বিমানবন্দর চালু হলে পুরুলিয়ার শিল্প, পর্যটন এবং সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নে নতুন গতি আসতে পারে। বিশেষ করে শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলির সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    শিল্পায়নের সঙ্গে পরিকাঠামো উন্নয়নেও জোর

    পুরুলিয়াকে একটি বড় শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার পাশাপাশি রাস্তা, বিমান যোগাযোগ, পর্যটন পরিকাঠামো এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানের দিকেও নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা থেকে স্টিল, সিমেন্ট থেকে সৌরবিদ্যুৎ—বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে প্রস্তাব আসছে। একই সঙ্গে পর্যটন ও পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    ফলে একদিকে কলকাতা ও রাজ্যের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলে বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ টানার চেষ্টা, অন্যদিকে পুরুলিয়ার মতো জেলাগুলিতে নতুন শিল্প ও যোগাযোগ পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা—দুই দিকেই জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাব্য বৈঠকে বিনিয়োগের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও প্রকল্প বা আর্থিক প্রতিশ্রুতি সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর শিল্পমহলের।

LinkedIn
Share