Tag: West Bengal Industry

  • Prasun Mukherjee: কাটতে চলেছে বঙ্গের হা-শিল্প দশা? নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রবাসী শিল্পপতির বৈঠকের পর বাড়ছে আশা

    Prasun Mukherjee: কাটতে চলেছে বঙ্গের হা-শিল্প দশা? নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রবাসী শিল্পপতির বৈঠকের পর বাড়ছে আশা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাটতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের হা-শিল্প দশা? নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং শিল্পপতি প্রসূন মুখোপাধ্যায়ের (Prasun Mukherjee) সৌজন্যমূলক বৈঠক ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমহলে শুরু হয়েছে নতুন করে জল্পনা। সোমবার এই বৈঠক হয়। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সম্ভাব্য শিল্প বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের দিক থেকে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি (Prasun Mukherjee)

    মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রধান শুভেন্দু শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে বহুজাতিক সংস্থা ‘ইউনিভার্সাল সাকসেস এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডে’র  চেয়ারম্যান প্রসূন মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিনিয়োগ ঘোষণার খবর সামনে না এলেও, এই বৈঠককে ঘিরে ভবিষ্যতে বড় শিল্প প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে করা পোস্টে জানান, প্রসূন মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ অত্যন্ত আনন্দদায়ক ছিল। তিনি নবান্নে এসেছিলেন সৌজন্যমূলক বৈঠক করতে। মুখ্যমন্ত্রীর আশা, ভবিষ্যতে দু’পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে, যা পশ্চিমবঙ্গের প্রবৃদ্ধি ও কৌশলগত উন্নয়নের নয়া দিগন্ত উন্মোচন করবে।

    কী বলছেন মুখ্যমন্ত্রী?

    তিনি এও জানান, এই ধরনের সহযোগিতার মাধ্যমে রাজ্যের মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের পথ আরও সুগম হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর থেকেই শিল্প ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত মহলে প্রসূন-শুভেন্দুর এই বৈঠক নিয়ে চড়ছে আগ্রহের পারদ। এদিকে, রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগের ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই মিলেছে। সম্প্রতি গুজরাটের দুগ্ধ সমবায় সংস্থা আমূল হাওড়ার সাঁকরাইলে বড় লগ্নির কথা ঘোষণা করেছে। সেখানে দেশের অন্যতম বৃহৎ দই উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। সংস্থাটি উত্তরবঙ্গেও ব্যবসা সম্প্রসারণের রূপরেখা তৈরি করছে (Prasun Mukherjee)।

    বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

    এহেন পরিস্থিতিতে সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাঙালি শিল্পপতি প্রসূনের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠককে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য শিল্প সহযোগিতার সূচনা হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এই (Suvendu Adhikari) বৈঠকের ফলশ্রুতিতে অদূর ভবিষ্যতে রাজ্যে নয়া বিনিয়োগ, শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের কতটা সুযোগ সৃষ্টি হয়, এখন সেটাই দেখার (Prasun Mukherjee)।

     

  • Samik Bhattacharya: ফের সিঙ্গুরে টাটা? শিল্পের হারানো অধ্যায় ফিরিয়ে আনতে বড় বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের

    Samik Bhattacharya: ফের সিঙ্গুরে টাটা? শিল্পের হারানো অধ্যায় ফিরিয়ে আনতে বড় বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় দুই দশক আগে সিঙ্গুর থেকে টাটা মোটরসের ন্যানো প্রকল্প সরে যাওয়ার ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই ঘটনার জেরে রাজ্যের শিল্প ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে দেশ-বিদেশে যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল, তা বদলাতে এবার সিঙ্গুরে ফের টাটা গোষ্ঠীকে ফিরিয়ে আনার ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শুক্রবার এক সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শমীক বলেন, টাটা গোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন শুধুমাত্র একটি শিল্প প্রকল্পের ফিরে আসা হবে না, বরং তা পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। তাঁর বক্তব্য, “আমরা চাই টাটারা আবার সিঙ্গুরে ফিরুক। এর মাধ্যমে দেশ ও বিশ্বের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে যে পশ্চিমবঙ্গ বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত এবং এখানে শিল্প স্থাপনের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে।”

    ন্যানো প্রকল্পের প্রস্থান ও তার প্রভাব

    ২০০৮ সালে সিঙ্গুরে টাটা মোটরসের ন্যানো প্রকল্প ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক সংঘাত তৈরি হয়। জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের জেরে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে গুজরাটে স্থানান্তরিত হয়। সেই সময়ের ঘটনাপ্রবাহকে দেশের শিল্পমহলের একাংশ পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-বিরোধী মনোভাবের প্রতীক হিসেবে দেখেছিল। শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, ন্যানো প্রকল্প চলে যাওয়ার পর রাজ্য সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল। তাঁর মতে, সিঙ্গুরে টাটা প্রকল্পের সমাপ্তি শুধু একটি শিল্প উদ্যোগের অবসান ছিল না, বরং তা বাংলার শিল্পোন্নয়নের পথেও বড় ধাক্কা দিয়েছিল। তিনি বলেন, “টাটার প্রস্থান রাজ্যের বিনিয়োগ পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করেছে। অনেক কর্পোরেট সংস্থার মধ্যে এই ধারণা তৈরি হয়েছিল যে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নেই।”

    শিল্পায়নের পথে নতুন বার্তা

    বিজেপির রাজ্য সভাপতির মতে, টাটা গোষ্ঠী অটোমোবাইল শিল্পে ফিরুক বা অন্য কোনও ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করুক, মূল লক্ষ্য হল বাংলায় বৃহৎ শিল্পের পুনরুজ্জীবন। তিনি মনে করেন, টাটা গোষ্ঠীর মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্বস্ত শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ নতুন করে শিল্পপতিদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। শমীকের বক্তব্য, “টাটাদের প্রত্যাবর্তন শুধু একটি সংস্থার ফিরে আসা নয়। এটি হবে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-সম্ভাবনার উপর নতুন করে আস্থা স্থাপনের প্রতীক। দেশ ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এর একটি শক্তিশালী বার্তা যাবে।” তাঁর দাবি, ন্যানো প্রকল্পের পরবর্তী সময়ে রাজ্যে কাটমানি সংস্কৃতি, সিন্ডিকেট রাজ এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ শিল্প পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছিল। ফলে বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে রাজ্য পিছিয়ে পড়ে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে শিল্পের প্রতি আস্থা পুনর্গঠন জরুরি বলে মনে করছে বিজেপি।

    সিঙ্গুরে বড় ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব গড়ার পরিকল্পনা

    শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, সিঙ্গুরে কৃষকরা জমি ফিরে পেলেও সেই জমি আর আগের মতো কৃষিকাজের উপযোগী নেই, কারণ দীর্ঘদিনে তার চরিত্র বদলে গিয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে ওই এলাকায় একটি শিল্পকেন্দ্র বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর দাবি, সেখানে ইতিমধ্যেই প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের পাশে সরকার থাকবে। সিঙ্গুরকে শিল্পোন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য, যাতে পশ্চিমবঙ্গে আবারও ভারী শিল্পের বিকাশ ঘটানো যায়।

    সিঙ্গুরের রাজনৈতিক ও প্রতীকী গুরুত্ব

    সিঙ্গুর শুধুমাত্র একটি শিল্প প্রকল্পের স্থান নয়, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জমি আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় আসার পথ সুগম হয়েছিল। তবে বিজেপির মতে, যে সিঙ্গুর একসময় শিল্প ও জমি আন্দোলনের সংঘাতের প্রতীক হয়ে উঠেছিল, সেই সিঙ্গুরকেই এখন শিল্প প্রত্যাবর্তনের প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। শমীক বলেন, “সিঙ্গুরকে শিল্পের বিদায়ের প্রতীক থেকে শিল্পের প্রত্যাবর্তনের প্রতীকে রূপান্তরিত করা গেলে তা পশ্চিমবঙ্গের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে।”

    জমি নীতি নিয়েও ইঙ্গিত

    শিল্পায়নের প্রসঙ্গে জমি অধিগ্রহণ নীতির প্রশ্নও উত্থাপন করেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, সুস্পষ্ট ও কার্যকর ভূমিনীতি ছাড়া বৃহৎ শিল্পায়ন সম্ভব নয়। পূর্ববর্তী সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “শিল্পপতিদের পক্ষে বাড়ি বাড়ি ঘুরে জমি সংগ্রহ করা বাস্তবসম্মত নয়।” যদিও সম্ভাব্য নতুন ভূমিনীতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। তাঁর বক্তব্য, সরকার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে এবং আগামী দিনে তার ফল দৃশ্যমান হবে।

    রাজ্যের প্রাকতিক সম্পদও নজর শমীকের

    শমীক ভট্টাচার্য বলেন, পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ও অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর দাবি, রাজ্যে অশোকনগর তেলক্ষেত্র, রানাঘাটের প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার এবং ম্যাঙ্গানিজ আকরিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ইতিমধ্যেই চিহ্নিত হয়েছে। পাশাপাশি, বিষ্ণুপুর বা কালিম্পং অঞ্চলের কোথাও সোনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও জানান, পুরুলিয়ায় বিরল খনিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা রাজ্যের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার অনুরোধ করা হয়েছে। তাঁর মতে, এই খনিজ সম্পদের সুষ্ঠু নিলাম হলে পশ্চিমবঙ্গ উল্লেখযোগ্য আর্থিক লাভের মুখ দেখতে পারে।

    বিজেপির শিল্পায়ন রূপরেখা

    বিজেপির দাবি, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বৃহৎ বিনিয়োগ আকর্ষণ করাই তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণে সিঙ্গুরকে আবার শিল্প মানচিত্রে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজ্য বিজেপির নেতৃত্বের মতে, টাটা গোষ্ঠীর মতো একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন সম্ভব হলে তা শুধু সিঙ্গুর নয়, গোটা পশ্চিমবঙ্গের বিনিয়োগ পরিবেশ সম্পর্কে নতুন বার্তা দেবে। একইসঙ্গে দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীদের কাছেও রাজ্যকে একটি শিল্প-বান্ধব গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে সাহায্য করবে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকা সিঙ্গুরকে ঘিরে আবারও শিল্পায়নের নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। টাটা গোষ্ঠীর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন আদৌ বাস্তবায়িত হয় কি না, তা ভবিষ্যৎই বলবে। তবে বিজেপি ইতিমধ্যেই সিঙ্গুরকে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প পুনর্জাগরণের প্রতীক হিসেবে সামনে আনতে শুরু করেছে।

  • Shamik Bhattacharya: ‘‘১০০ দিনের মধ্যে শিল্পক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হবে’’ বণিক মহলকে আশ্বাসবার্তা শমীকের

    Shamik Bhattacharya: ‘‘১০০ দিনের মধ্যে শিল্পক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হবে’’ বণিক মহলকে আশ্বাসবার্তা শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন সরকার বাংলায় বিনিয়োগের (West Bengal Industry) বন্ধ দুয়ার খুলে দিতে বদ্ধপরিকর। সোমবার কলকাতার ‘ভারত চেম্বার অফ কমার্স’ (Bharat Chamber of Commerce)-এর মঞ্চ থেকে রাজ্যের শিল্পমহল ও বণিকসভাকে আশ্বাস দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। বণিকমহল ও বঙ্গবাসীকে ‘১০০ দিনের’ প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি। কলকাতার বুক থেকে বিগত বাম ও তৃণমূল জমানায় বড় বড় কর্পোরেট কোম্পানিগুলির রাজ্য ছাড়ার ঐতিহাসিক ধাক্কাকে চূড়ান্ত লজ্জাজনক ও দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যা দেন শমীক।

    বাংলায় শিল্পের জোয়ার আনতে ম্যাজিক

    এদিন ‘ভারত চেম্বার অফ কমার্স’-এর অনুষ্ঠানে রাজ্য বিজেপি সভাপতি বলেন, “আজ এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আমি আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছি। আগামী মাত্র ১০০ দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রে আমরা এমন কিছু বৈপ্লবিক পদক্ষেপ করতে চলেছি, যা দেখার পর আপনারা প্রত্যেকে আমাদের নতুন সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করতে বাধ্য হবেন।’’ ব্যবসায়ী ও পুঁজিপতিদের আশ্বস্ত করে রাজ্য বিজেপি সভাপতি মনে করিয়ে দেন, “এই মাটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পবিত্র ভূমি। এটাই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ-বান্ধব অঞ্চল হওয়ার যোগ্য ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিগত জমানার অপশাসনে বাংলার সেই বিপুল সম্ভাবনা কোনও দিন ডানা মেলতেই পারেনি। আমরা এবার যা প্রয়োজনীয়, ঠিক তাই করব।’’

    শিল্পের স্বার্থে সময়োপযোগী ও কড়া আইন

    শমীক জানান, খুব দ্রুত এমন সময়োপযোগী ও কড়া আইন তৈরি করা হবে, যা এ রাজ্যের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের জন্য চূড়ান্ত লাভদায়ক এবং সুরক্ষামূলক হবে। তবে শমীকের সংযোজন, এই কর্মযজ্ঞ কেবল একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে একা করতে পারা সম্ভব নয়। রাজ্যের বুদ্ধিজীবী ও আমজনতাকেও এই পরিবর্তনের পক্ষে জোরালো সওয়াল করতে হবে।

    ক্ষুদ্র শিল্পের নামে কী হচ্ছে?

    এদিন বাংলার শিল্পায়নের (Industrial Sector of Bengal) বেহাল দশা বোঝাতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা ‘এমএসএমই’ (MSME) সেক্টরের বর্তমান করুণ অবস্থার এক জ্বলন্ত উদাহরণ টানেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “আমি নতুন ও বড় বিনিয়োগকারীদের বাংলায় আসার জন্য খোলা আহ্বান জানাচ্ছি। কিন্তু আমাদের রাজ্যে ক্ষুদ্র শিল্পের নামে কী হচ্ছে? একটা সাধারণ পানের দোকান বা চায়ের দোকানকেও এমএসএমই-র তালিকায় রেজিস্টার্ড করিয়ে সংখ্যা বাড়িয়ে বাহবা নেওয়া হচ্ছে! এটাই কি আমাদের কাম্য ছিল? আমাদের এর চেয়ে অনেক উন্নত ও খাঁটি এমএসএমই পরিকাঠামো গড়তে হবে।”

    ভূমি নীতি তৈরি করা জরুরি

    এদিনের অনুষ্ঠান থেকে উত্তরবঙ্গের (North Bengal) দীর্ঘদিনের বঞ্চনা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, উত্তরবঙ্গের পর্যটন (Tourism) থেকে শুরু করে বিশ্ববিখ্যাত চা শিল্প (Tea Industry) – কোনও কিছু নিয়েই আগে সঠিক পরিকল্পনা করা হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরে ধুঁকছেন গরিব চা শ্রমিকেরা, ক্ষোভে ফুঁসছেন টেক্সটাইল বা বস্ত্রশিল্পের কারিগররা। একই সঙ্গে শমীক বলেন,  “নতুন শিল্প গড়ার স্বার্থে রাজ্যে একটি অত্যন্ত সুসংহত এবং যুগোপযোগী ‘ল্যান্ড পলিসি’ বা ভূমি নীতি তৈরি করা জরুরি।”

    মহারাষ্ট্রের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের তুলনামূলক খতিয়ান

    মহারাষ্ট্রের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের তুলনামূলক খতিয়ান দিয়ে শমীক আক্ষেপের সুরে জানান, এক সময় শিল্পে ও অর্থনীতিতে মহারাষ্ট্রের সঙ্গে সমানে সমানে টক্কর দিত পশ্চিমবঙ্গ। আর আজ দেশের মোট এফডিআই (FDI)-এর প্রায় ৩৬ শতাংশ যাচ্ছে একা মহারাষ্ট্রে, সেখানে কলকাতায় সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের হার তলানিতে ঠেকে মাত্র ০.৬ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে! এই চরম লজ্জার অবসান ঘটাতে নতুন ডাবল ইঞ্জিন সরকার পরিকাঠামো ক্ষেত্রে এক বিশাল ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছে।

    বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ভয়হীন পরিবেশ চাই

    শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা এখন এক চূড়ান্ত ডিজিটাল যুগে (Digital Age) বাস করছি। আমাদের রাজ্যকে দ্রুত ডেটা সেন্টার (Data Centers) শিল্পে অংশ নিতে হবে এবং বাইরে থেকে আসা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ভয়হীন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা নিরপেক্ষ প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করে দিতে হবে। বিনিয়োগকারীরা এ রাজ্যে কোটি কোটি টাকা ঢালতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু বিগত সরকার প্রস্তুত ছিল না। তবে এবার আমরা তৈরি।”

    বিগত সরকারের গাফিলতি

    উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে খনিজ তেলের সন্ধান মেলা সত্ত্বেও তা নিয়ে বিগত সরকারের গড়িমসি এবং পরিকাঠামো স্তরের চূড়ান্ত ব্যর্থতা নিয়ে এদিন সুর চড়ান রাজ্য বিজেপি সভাপতি। তাঁর দাবি, পূর্বতন সরকারের কোনও সুনির্দিষ্ট দূরদর্শিতা না থাকায় সেই প্রকল্পের কাজ থমকে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইএম বাইপাসের ওপর চিংড়িঘাটা মেট্রো লাইনের কাজ বছরের পর বছর ধরে কেন আটকে রাখা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শমীক। তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, রাজ্য পালাবদলের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। আগামী তিন মাসের মধ্যেই রাজ্যে শিল্প বান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হবে। গড়ে তোলা হবে আত্মনির্ভর বাংলা।

     

     

     

     

     

LinkedIn
Share