Tag: West Bengal Politics

West Bengal Politics

  • Abhishek Banerjee: বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনী, ৫ ঘণ্টা ধরে অভিষেকের বাড়িতে অভিযান পুলিশের, কোন মামলায়?

    Abhishek Banerjee: বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনী, ৫ ঘণ্টা ধরে অভিষেকের বাড়িতে অভিযান পুলিশের, কোন মামলায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার ভোররাতে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার বাড়িতে হঠাৎ পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভোর ৩টার কিছু পরে রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ এবং শালবনি থানার একাধিক আধিকারিকের উপস্থিতিতে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয়। ঘটনাস্থলে মোতায়েন ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোররাতেই পুলিশের একাধিক গাড়ি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়। শালবনি থানার আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন মহিলা পুলিশকর্মীরাও। তবে কোন মামলার তদন্তে এই অভিযান চালানো হয়েছে, তা নিয়ে সকাল পর্যন্ত সরকারি ভাবে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

    দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা, পরে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ

    প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বাড়িতে প্রবেশের আগে দীর্ঘক্ষণ ধরে দরজায় ডাকাডাকি করেন পুলিশ আধিকারিকেরা। প্রথমে কোনও সাড়া না পাওয়ায় তালা ভাঙার সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। পরে বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হলে পুলিশ ভিতরে প্রবেশ করে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে পুলিশ ও তদন্তকারী আধিকারিকরা বাড়ির ভিতরে অবস্থান করেন। এদিকে বাড়ির বাইরে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা গোটা এলাকা ঘিরে রাখেন, যার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগ আরও বাড়ে। সকাল ৭টার পর কয়েকজন পুলিশ আধিকারিককে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পরে তাঁরা ফের ভিতরে প্রবেশ করেন। শেষ পর্যন্ত সকাল ৮টার কিছু পরে পুলিশ বাহিনী বাড়ি ছাড়ে।

    খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    পুলিশি তৎপরতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি কিছু সময় সেখানে অবস্থান করেন। পুলিশ বাহিনী বাড়ি ছাড়ার পর তিনিও সেখান থেকে চলে যান। মমতার উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বাড়ে। যদিও তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও মন্তব্য করেননি।

    একের পর এক তদন্তের মুখে অভিষেক

    উল্লেখযোগ্যভাবে, গত কয়েকদিন ধরেই একাধিক মামলায় তদন্তকারী সংস্থার নজরে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি তাঁকে বিধানসভার সই জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করে। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে সেদিন সন্ধ্যায় তিনি ভবানী ভবনে সিআইডি দফতরে হাজিরা দেন। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে জেরা। রাত সাড়ে ১১টার পরে তিনি ভবানী ভবন থেকে বেরিয়ে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান। এই মামলায় গ্রেফতারি বা কঠোর পদক্ষেপের আশঙ্কায় তিনি আগে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। আদালত জানিয়েছে, মামলার পরবর্তী শুনানি দু’সপ্তাহ পরে হবে। ততদিন পর্যন্ত সিআইডি তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে না। তবে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    শুক্রবারও গিয়েছিল সিআইডি

    শুক্রবারও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছেছিল সিআইডির একটি দল। তবে সেবারের তদন্ত ছিল অন্য একটি মামলাকে কেন্দ্র করে। একটি বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে সল্টলেক সাইবার থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের তদন্তে তাঁর হাতে নোটিস তুলে দিতে গিয়েছিলেন গোয়েন্দারা। তখন তিনি বাড়িতে ছিলেন না বলে জানা যায়। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর অভিষেক বাড়ি ফিরলে তাঁকে নোটিস দেওয়া হয়। সেই মামলায় আগামী ১৬ জুন তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সামনে আরও একাধিক হাজিরা

    তদন্তকারী সংস্থাগুলির তৎপরতার মধ্যে আগামী কয়েকদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যস্ততা আরও বাড়তে চলেছে। সূত্রের খবর, সই জালিয়াতি মামলায় তাঁকে ফের ১৪ জুন ভবানী ভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনি তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি ১৫ জুন তাঁকে তলব করেছে।

    কোন মামলায় অভিযান…

    শনিবারের অভিযানের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে শালবনি থানার পুলিশের উপস্থিতি। কলকাতার কালীঘাটে অবস্থিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনি থানার আধিকারিকরা কেন পৌঁছেছিলেন, কোন মামলার সূত্রে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সূত্রের খবর, অর্থের বিনিময়ে টিকিট দেওয়ার অভিযোগে তদন্ত করতে এসেছিল শালবনী থানার পুলিশ। অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ। সেই সূত্রেই অভিষেকের বাড়িতে হাজির হয় পুলিশ। শালবনির পুলিশকর্মীদের সঙ্গে কালীঘাট থানার পুলিশও উপস্থিত ছিল বলে জানা গিয়েছে। ফলে তদন্তের পরিধি এবং মামলার প্রকৃতি নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে প্রশাসনিক স্তর— সব জায়গাতেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। আগামী দিনে তদন্তকারী সংস্থাগুলি কী তথ্য প্রকাশ করে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।

  • Mamata TMC Rebellion: ফাটল চওড়া তৃণমূলে! অভিষেককে ধুয়ে দিলেন কল্যাণ, ‘আলটিমেটাম’ মমতাকেও

    Mamata TMC Rebellion: ফাটল চওড়া তৃণমূলে! অভিষেককে ধুয়ে দিলেন কল্যাণ, ‘আলটিমেটাম’ মমতাকেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আপনি যদি অভিষেকের ওপরই নির্ভর করেন, তাহলে তাঁর সঙ্গেই থাকুন। আর যদি তাঁর থেকে দূরে সরে আসেন, তাহলে আমি আপনার পাশে আছি।” বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে এমনই বার্তা দিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata TMC Rebellion)। মমতার হাতে গড়া সাধের তৃণমূলে একের পর এক উইকেট পড়তে থাকায় এমনিতেই শ্যাম রাখি না কূল দশা তৃণমূল সুপ্রিমোর।

    ‘ভাইপো কালচারে’র জের! (Mamata TMC Rebellion)

    এহেন আবহে কল্যাণের এই হুমকি বার্তায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন তৃণমূলের মমতাপন্থী নেতারা। তৃণমূলে ‘ভাইপো কালচার’ শুরুর পর থেকেই বইতে শুরু করেছিল অশান্তির চোরাস্রোত। তবে সে সবকে কোনওদিনই পাত্তা দেননি (Kalyan Banerjee) দলনেত্রী। উল্টে সাপ এবং ব্যাঙ-দু’পক্ষকেই তাঁবে রাখতে একের পর এক ‘গেম’ খেলে গিয়েছেন তিনি। তবে তাতে যে বিশেষ কাজ হয়নি, তার প্রমাণ মিলল ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল গাড্ডায় পড়তেই। ভেঙে দু’খান হয়ে গেল কংগ্রেস ভাঙিয়ে তৃণমূল গড়ার ‘কারিগর’ মমতার দল।

    অভিষেককে নিশানা কল্যাণের

    এদিন কল্যাণ প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। সই জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁর পরিবর্তে অন্য আইনজীবী নিয়োগ করাকে কেন্দ্র করে ‘ভাতিজা’র বিরুদ্ধে অসম্মান করার অভিযোগ তোলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। তিনি জানান, একজন সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে তাঁকে অপমান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আর তিনি যে অভিষেকের হয়ে কোনও মামলায় সওয়াল করবেন না, তাও জানিয়ে দেন এই তৃণমূল সাংসদ। অভিষেককে নিশানা করে কল্যাণ বলেন, “ওঁর অহংকারী মনোভাবের কারণেই দলের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। উনি কাউকেই সম্মান করতে জানেন না।” তিনি জানান, দলের প্রবীণ নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও, মমতা এখনও ফোন করেননি। তবে তিনি যে তৃণমূলের অন্যান্য সাংগঠনিক ও আইনি বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন, তাও জানিয়ে দিয়েছেন এই আইনজীবী নেতা।

    ফাটল চওড়া হচ্ছে তৃণমূলে

    এদিকে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলের ফাটল ক্রমেই চওড়া হচ্ছে। গত তিনদিনে পদত্যাগ করেছেন রাজ্যসভার তিন সাংসদ। বুধবার রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়েন প্রকাশ চিক বরাইক। ৮ জুন ইস্তফা দিয়েছিলেন সুখেন্দুশেখর রায়। আর ১০ জুন পদত্যাগ করেন সুস্মিতা দেব। প্রকাশ জানান, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মতামতকে সম্মান জানিয়েই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরে তাঁকে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের বাসভবনে যেতে দেখা যায়, যা নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনার পারদ আরও চড়েছে।এদিকে, তৃণমূলের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনও সংযুক্তির জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। যদিও বুধবার দিল্লিতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন (Mamata TMC Rebellion) অভিষেক। অন্যদিকে, বিদ্রোহী তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁদের সঙ্গে সমর্থন রয়েছে ৬৪ জন বিধায়কের সমর্থন। বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, লোকসভায় ২০ জন সাংসদ পৃথক আসন বিন্যাসের দাবি জানিয়েছেন। এ থেকেই (Kalyan Banerjee) স্পষ্ট, তৃণমূলের ছত্রখান হওয়াটা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

     

  • Prakash Baraik: তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা আরও জোরালো, এবার রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা প্রকাশ চিক বরাইকের

    Prakash Baraik: তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা আরও জোরালো, এবার রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা প্রকাশ চিক বরাইকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের অন্দরে চলতে থাকা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই রাজ্যসভার সদস্যপদে ইস্তফা দিলেন দলের প্রকাশ চিক বরাইক (Prakash Baraik)। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের রায়কে সম্মান জানিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রকাশ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যে মতামত দিয়েছেন, তা (BJP) মেনে নিয়েই আমি রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি।” প্রসঙ্গত, গত এক সপ্তাহে এটি তৃণমূলের তৃতীয় রাজ্যসভা সাংসদের পদত্যাগ। এর আগে ৮ জুন পদত্যাগ করেন সুখেন্দু শেখর রায়। তার ঠিক দুদিন পরে, ১০ জুন রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়েন সুস্মিতা দেব। এবার সেই তালিকায় উঠে গেল প্রকাশের নাম।

    বিজেপি সাংসদের বাড়িতে প্রকাশ (Prakash Baraik)

    এহেন পরিস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনাও উসকে দিয়েছেন প্রকাশ। এদিন ইস্তফাপত্র জমা দিয়ে প্রকাশ চলে যান বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের বাসভবনে। সেখানে তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে করা এক প্রশ্নের উত্তরে প্রকাশ বলেন, “সময়ই সব বলবে। এখনই কিছু বলতে চাই না। ভবিষ্যতে রাজনীতিতে কী করব, তা সময়ই ঠিক করবে।” তিনি জানান, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর কোনও ব্যক্তিগত ক্ষোভ নেই। তবে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন বলেও ইঙ্গিত দেন প্রকাশ। ইস্তফার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের জনমত বিজেপির পক্ষেই ছিল। আমার নিজের এলাকায়ও তৃণমূল একটি আসনও জিততে পারেনি। উত্তরবঙ্গের ফলও আশানুরূপ হয়নি। সেই কারণেই আমি মনে করেছি, এই পদে আমার থাকা আর নৈতিকভাবে ঠিক নয়। তাই আমি সাংসদ পদ এবং দলের প্রাথমিক সদস্যপদ—দুই থেকেই ইস্তফা দিয়েছি।”

    ক্রমেই চওড়া হচ্ছে তৃণমূলের ফাটল

    এদিকে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়েছে বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন (Prakash Baraik), বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে কংগ্রেসের কোনও ধরনের সংযুক্তির প্রশ্নই নেই এবং গোটা বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ঋতব্রতের দাবি, তাঁদের শিবিরে এখন ৬৪ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে, যা আগের ৫৮ জনের তুলনায় বেশি। খুব শীঘ্রই তাঁরা স্পিকারের কাছে (Prakash Baraik) সমর্থনের চিঠি জমা দেবেন বলেও জানান তিনি।তৃণমূল কংগ্রেসে ধারাবাহিক পদত্যাগ ও বিদ্রোহী শিবিরের সক্রিয়তায় বঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি (BJP) নয়া মোড় নিতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

     

  • Agnimitra Paul: ‘১৬ বোর্ডের টাকার হিসাব না দিলে রেহাই নেই’! পাহাড়ে ঘুরে কড়া বার্তা অগ্নিমিত্রার

    Agnimitra Paul: ‘১৬ বোর্ডের টাকার হিসাব না দিলে রেহাই নেই’! পাহাড়ে ঘুরে কড়া বার্তা অগ্নিমিত্রার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাহাড়ের উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে লেপচা, ভুটিয়া-সহ বিভিন্ন জনজাতির জন্য গঠিত ১৬টি উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। একইসঙ্গে পাহাড়ের স্বশাসিত প্রশাসনিক সংস্থা জিটিএ (গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)-কেও তদন্তের আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

    উত্তরবঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিনে সোমবার দার্জিলিং, মিরিক ও দুধিয়া এলাকা পরিদর্শনের সময় অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আগের সরকার পাহাড়ে বারবার এলেও প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি। ১৬টি বোর্ডে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেই অর্থ কীভাবে খরচ হয়েছে তার পূর্ণ হিসাব দিতে হবে। প্রতিটি বোর্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। জিটিএ-ও কোনও ছাড় পাবে না।”

    পাহাড় চষে বেড়ালেন মন্ত্রী

    সোমবার সকালেই দার্জিলিংয়ের মহাকাল মন্দিরে পুজো দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। এরপর পাহাড়ের একাধিক এলাকা ঘুরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখেন মন্ত্রী। তিনি প্রথমে যান শহরের প্রধান পানীয় জলের উৎস সিনচেল এলাকায়। সেখানে চলমান জল প্রকল্পের অগ্রগতি, প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পরে হ্যাপি ভ্যালির একটি আইসিডিএস কেন্দ্র পরিদর্শন করে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরিষেবার বাস্তব চিত্র সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

    মিরিককে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরার পরিকল্পনা

    পরিদর্শনের পর মন্ত্রী মিরিক লেকে যান এবং পর্যটন সম্ভাবনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক পরিকল্পনার কথা জানান অগ্নিমিত্রা। তাঁর বক্তব্য, মিরিককে আরও আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি জানান, মিরিক লেক সংলগ্ন পার্ক ও পর্যটন অবকাঠামোকে নতুনভাবে সাজানো হবে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য ওয়াই-ফাই পরিষেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। পরে ইন্দো-নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন পশুপতিনাথ মন্দিরেও যান মন্ত্রী।

    দুধিয়া সেতুর কাজ শেষ হবে ২০২৭ সালের মধ্যে

    দিনের শেষ কর্মসূচি ছিল দুধিয়া এলাকায়। সেখানে গত বছরের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন করেন অগ্নিমিত্রা। সেতুটি এখনও সম্পূর্ণ না হওয়ায় স্থানীয়দের ভোগান্তির বিষয়টিও খতিয়ে দেখেন তিনি। মন্ত্রী জানান, “দুধিয়া সেতুর নির্মাণকাজ ২০২৭ সালের মধ্যেই শেষ করা হবে। আমাদের সরকার উন্নয়ন করতে এসেছে, শুধুমাত্র সফর করতে নয়।” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, গত বর্ষায় যাঁদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তাঁদের জন্য আগের সরকার প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণের সম্পূর্ণ অর্থ দেয়নি। অবশিষ্ট অর্থ দ্রুত প্রদান করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

    ‘হিমালয়ান হিল সিটি’ গঠনের ঘোষণা

    এর আগে রবিবার উত্তরকন্যায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, সাংসদ রাজু বিস্তা, জয়ন্ত রায়-সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার জনপ্রতিনিধি, জেলাশাসক ও পুলিশ আধিকারিকরা। বৈঠকের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘোষণা ছিল ‘হিমালয়ান হিল সিটি’ প্রকল্প। শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং এবং মিরিক— এই পাঁচটি শহরকে একত্রে পরিকল্পিত উন্নয়নের আওতায় আনা হবে। রাজ্য সরকারের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে পর্যটন, পানীয় জল, পরিবহণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগর পরিকাঠামো এবং নাগরিক পরিষেবার ব্যাপক আধুনিকীকরণ করা হবে। প্রতিটি বাড়িতে কিউআর কোড সংযুক্তকরণ, সরকারি জমিতে আবাসন নির্মাণ এবং আধুনিক জনশৌচাগার তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    নারী ও শিশু পাচার রোধে বিশেষ টাস্ক ফোর্স

    সীমান্তবর্তী উত্তরবঙ্গে নারী ও শিশু পাচার দীর্ঘদিনের সমস্যা। সেই প্রেক্ষিতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের ঘোষণা করেছে।
    প্রশাসন, পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে নিয়ে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হবে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, কিশোরী গর্ভধারণ এবং মানবপাচার রোধে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিযায়ী শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

    পরিচ্ছন্নতা ও প্লাস্টিক বিরোধী কঠোর অভিযান

    শহরাঞ্চলে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ১ সেপ্টেম্বর থেকে উন্মুক্ত স্থানে আবর্জনা ফেলা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহারের উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি হবে। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের জরিমানা ধার্য করা হবে। পাশাপাশি যত্রতত্র থুতু ফেলা, অবৈধ পার্কিং এবং রাস্তা দখলের বিরুদ্ধেও কঠোর আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী আরও জানান, ১ জুলাই থেকে পার্কিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অটোমেটেড করা হবে। নির্মল বন্ধু কর্মীদের উপস্থিতিও বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হবে।

    মাদকচক্র ও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান

    উত্তরবঙ্গ জুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গাঁজা, ব্রাউন সুগার এবং অন্যান্য মাদক চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের জন্য পৃথক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। বেআইনি নির্মাণ এবং সরকারি জমি দখলের অভিযোগ তদন্তে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি বেআইনি মাদ্রাসাগুলির উপর নজরদারি এবং তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈধ মাদ্রাসাগুলির ক্ষেত্রেও শিক্ষা ও পরিকাঠামোর মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    ধর্মীয় পর্যটন ও ক্ষুদ্র শিল্পে জোর

    উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরগুলির তালিকা আগামী ২০ জুনের মধ্যে প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব মন্দিরে সারা বছর বিপুল সংখ্যক ভক্ত সমাগম হয়, সেই এলাকাগুলিকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় পর্যটন এবং সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও মন্দিরকেন্দ্রিক ধূপকাঠি শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

    রাজনৈতিক জল্পনা

    উল্লেখযোগ্যভাবে, উত্তরকন্যার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না রাজ্যের মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। যদিও তিনি সেদিন শিলিগুড়িতেই ছিলেন বলে জানা যায়। তাঁর অনুপস্থিতিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার জলপাইগুড়িতে প্রশাসনিক বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে অগ্নিমিত্রা পালের। সেখানে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন সংক্রান্ত আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

  • Ritabrata Banerjee: সই জালিয়াতি থেকে বিদ্রোহ! বহিষ্কৃত ঋতব্রতর নেতৃত্বে বিধানসভায় ৫৮ বিধায়কের শক্তিপ্রদর্শন, কাঁপছে তৃণমূল

    Ritabrata Banerjee: সই জালিয়াতি থেকে বিদ্রোহ! বহিষ্কৃত ঋতব্রতর নেতৃত্বে বিধানসভায় ৫৮ বিধায়কের শক্তিপ্রদর্শন, কাঁপছে তৃণমূল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শোভনদেব না ঋতব্রত? বিরোধী দলনেতা বিতর্কে নজিরবিহীন বিদ্রোহ তৃণমূলে। যার জেরে ভেঙে দু’টুকরো ঘাসফুল!

    তৃণমূল কংগ্রেসে নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকট

    ভোটের ফল প্রকাশের মাত্র দু’মাসের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসে নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন কার্যত দলীয় ভাঙনের রূপ নিয়েছে। বুধবার বিধানসভার স্পিকারের কাছে ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষর-সহ একটি চিঠি জমা পড়েছে, যেখানে উলুবেড়িয়ার বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার দাবি জানানো হয়েছে। পরে আরও ছ’জন এসে সই করবেন বলে জানানো হল ‘নতুন’ তৃণমূলের তরফে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সংখ্যার বিচারে তৃণমূলের বৃহত্তর অংশ এখন ঋতব্রতর নেতৃত্বে অবস্থান করছে বলে দাবি উঠেছে। যদিও বিদ্রোহী বিধায়করা এখনও নতুন কোনও রাজনৈতিক দল গঠনের পথে হাঁটেননি এবং তাঁরা প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাঁদের সর্বোচ্চ নেত্রী।

    কী রয়েছে স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতে?

    বুধবার সকালে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কয়েকজন তৃণমূল বিধায়ক বিধানসভায় গিয়ে স্পিকার রথীন্দ্র বসুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁদের হাতে ছিল ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষরযুক্ত একটি চিঠি। সেই চিঠিতে শুধু ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার আবেদনই নয়, বিধানসভার তৃণমূল পরিষদীয় দলের নতুন কাঠামোরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেখানে—

    • ● বিরোধী দলনেতা: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
    • ● উপদলনেতা: সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান ও শিউলি সাহা
    • ● মুখ্য সচেতক: আখরুজ্জামান

    তবে স্পিকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই চিঠি গ্রহণ করেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী স্পিকার চিঠি গ্রহণ করে স্বীকৃতি দিলেই ঋতব্রত আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা পাবেন।

    কোথা থেকে শুরু হল বিতর্ক?

    এই রাজনৈতিক নাটকের সূত্রপাত বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের কাছে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব পাঠান। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, সেই প্রস্তাবপত্রে বহু বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আনেন তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক—ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। তাঁরা স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। পরে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয় এবং তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তে সহায়তা করতে নামে সিআইডিও। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই সিআইডি অন্তত ১৩ জন বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছে। স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকে।

    বহিষ্কারের পরই বাড়ে বিদ্রোহ

    স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত উল্টো ফল দেয় বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। এরপর একের পর এক বিধায়ক প্রকাশ্যে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অসন্তোষ জানাতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে বিদ্রোহী শিবিরের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত ৫৮ জন বিধায়ক ঋতব্রতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে দাবি করা হয়। এর ফলে বিধানসভার অন্দরে কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে তৃণমূল।

    ‘আদি’ বনাম ‘নব’ তৃণমূল?

    বুধবারের ঘটনাপ্রবাহের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে—‘আদি তৃণমূল’ ও ‘নব তৃণমূল’। ঋতব্রত শিবিরের দাবি, তাঁরা কোনও নতুন দল গঠন করছেন না। তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসেরই প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখনও দলের সভানেত্রী হিসেবে মানেন। স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতেও মমতার নাম সভানেত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিধানসভার সংখ্যার হিসাব বলছে, বিদ্রোহী শিবিরে ৫৮ জন বিধায়ক রয়েছেন, অন্যদিকে শোভনদেবকে সমর্থনকারী শিবিরে রয়েছেন ২২ জন বিধায়ক। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রশ্নে ঋতব্রত শিবিরের অবস্থান অনেক বেশি শক্তিশালী বলে মনে করা হচ্ছে।

    প্রতীক নিয়ে জল্পনা

    তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে আরও একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে— দলের নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কোনও আইনি লড়াই তৈরি হতে পারে কি? যদিও এখনও পর্যন্ত বিদ্রোহী বিধায়করা আলাদা দল গঠনের কোনও ঘোষণা করেননি, তবুও সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের সমর্থন তাঁদের দিকে থাকলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

    কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া

    পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বিদ্রোহী বিধায়কদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন।
    তাঁর বক্তব্য, যারা আজ এই পদক্ষেপ করছেন, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি নিয়ে প্রচার করেছেন এবং তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন। এখন যদি তাঁরা নেত্রীকে উপেক্ষা করে অন্য কোনও স্বার্থে বা প্ররোচনায় কাজ করেন, তাহলে সাধারণ তৃণমূল কর্মী ও মানুষ তার বিচার করবেন। কুণাল আরও বলেন, ‘‘কারা কী জন্য কী করেছেন, তাঁরা চিঠি দিয়েছেন। আইনি পথে যা হওয়ার হবে। কিন্তু এভাবে চোরা-গোপ্তা কাজ করার কোনও প্রয়োজন ছিল না।’’

    এখন নজর স্পিকারের সিদ্ধান্তে

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মুহূর্তে পুরো পরিস্থিতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। ৫৮ বিধায়কের সমর্থনপত্র গ্রহণ করে তিনি যদি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন, তাহলে তা হবে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় ঘটনা। ২০২২ সালে মহারাষ্ট্রে শিবসেনার মধ্যে এধরনের বিভাজন ঘটেছিল। অন্যদিকে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো প্রস্তাবও এখনও আলোচনায় রয়েছে। ফলে স্পিকারের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে বিধানসভায় তৃণমূলের আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে। রাজ্যের রাজনীতিতে এই সংঘাত আগামী দিনে আরও বড় সাংগঠনিক ও আইনি লড়াইয়ের রূপ নেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

  • Ritabrata Bandyopadhyay: তৃণমূলে মহাভাঙনের ইঙ্গিত! ৬০ বিধায়কের সমর্থনে নতুন শিবির গড়তে চলেছেন ঋতব্রত?

    Ritabrata Bandyopadhyay: তৃণমূলে মহাভাঙনের ইঙ্গিত! ৬০ বিধায়কের সমর্থনে নতুন শিবির গড়তে চলেছেন ঋতব্রত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার জল্পনা তুঙ্গে। বুধবার সকালেই বিধানসভায় পৌঁছে যান তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে একাধিক তৃণমূল বিধায়কও বিধানসভায় উপস্থিত হতে শুরু করেন। সূত্রের খবর, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূল বিধায়কদের সমর্থনপত্র নিয়ে বিধানসভার স্পিকারের কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। সেই চিঠিতে প্রায় ৬০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। যদিও এই দাবির কোনও সরকারি বা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ এখনও হয়নি। এর পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন—তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন কি এবার প্রকাশ্যে আসতে চলেছে? নতুন কোনও গোষ্ঠী কি আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে বিধানসভার অন্দরে?

    সাসপেনশনের পর থেকেই জল্পনার সূত্রপাত

    সম্প্রতি ‘সই জাল’ কাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর তৃণমূল কংগ্রেস ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে দল থেকে সাসপেন্ড করে। তারপর থেকেই দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের নানা খবর সামনে আসতে থাকে। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, সাসপেনশনের পর থেকেই ঋতব্রত নিজের রাজনৈতিক অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা শুরু করেন। তাঁর সঙ্গে একাংশ তৃণমূল বিধায়কের যোগাযোগও তৈরি হয়েছে বলে খবর। সেই প্রক্রিয়ারই পরিণতি হিসেবে নতুন একটি গোষ্ঠী গঠনের পরিকল্পনা সামনে এসেছে বলে জল্পনা।

    বিরোধী দলের মর্যাদা পাওয়ার অঙ্ক

    এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টি আসন পেয়েছিল। তবে সাসপেনশনের কারণে ঋতব্রত ও সন্দীপন কার্যত দলের মূল শিবিরের বাইরে অবস্থান করছেন। সূত্রের দাবি, প্রায় ৬০ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে যদি নতুন গোষ্ঠী স্পিকারের কাছে নিজেদের দাবি পেশ করে, তাহলে বিধানসভায় বিরোধী দলের স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে তারা। সেই কারণেই এই চিঠিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, স্পিকারের কাছে জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা চিঠিতে শুধু সমর্থনকারী বিধায়কদের নামই নয়, সম্ভাব্য বিরোধী দলনেতা এবং মুখ্য সচেতকের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

    সিদ্ধান্ত স্পিকারের

    বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, কোন দল বা গোষ্ঠী বিরোধী দলের মর্যাদা পাবে এবং কে বিরোধী দলনেতা হবেন, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা স্পিকারের হাতেই থাকে। ফলে চিঠি জমা পড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনও রাজনৈতিক স্বীকৃতি মিলবে কি না, তা নির্ভর করবে অধ্যক্ষের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্তের উপর। বিধানসভা বিশেষজ্ঞদের মতে, সংখ্যার অঙ্কের পাশাপাশি দলত্যাগ বিরোধী আইন, বিধানসভার বিধি এবং সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রশ্নগুলিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    বাংলার রাজনীতিতে নজিরবিহীন পরিস্থিতি

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে শাসক দলের ভাঙন বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের নজির থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার ভিতরে এই মাত্রার সমীকরণ পরিবর্তনের ঘটনা কার্যত অভূতপূর্ব। যদি সত্যিই বিপুল সংখ্যক বিধায়ক নতুন গোষ্ঠীর পক্ষে অবস্থান নেন, তাহলে তা শুধু তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য নয়, গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণের ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

    তাপস রায়ের মন্তব্যে বেড়েছে জল্পনা

    এরই মধ্যে মঙ্গলবার বিধানসভায় ঢোকার পথে বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং দলের ভিতরে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এখন প্রকাশ্যে আসছে। তাপস রায়ের কথায়, “দলীয় ফলাফল প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অনেকেই অসন্তোষ চেপে রেখেছিলেন। এখন সেই ক্ষোভ সামনে আসছে।” তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো এবং বিভিন্ন স্তরে অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের গুরুত্ব দেওয়া নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষই বর্তমান পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।

    নজর আজ স্পিকারের দফতরে

    সব মিলিয়ে বুধবারের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘিরে নজর এখন বিধানসভা এবং স্পিকারের দফতরের দিকে। সত্যিই কি ৬০ বিধায়কের সমর্থনপত্র জমা পড়বে? নতুন কোনও গোষ্ঠী কি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করবে? নাকি সবটাই রাজনৈতিক জল্পনা? এই প্রশ্নগুলির উত্তর মিলতে পারে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। তবে এতটুকু স্পষ্ট, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সম্ভাবনা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে।

  • CID SIT Probe: অভিষেককে তলবের মাঝেই বড় পদক্ষেপ সিআইডির! সই জালিয়াতি মামলায় বিশেষ সিট গঠন

    CID SIT Probe: অভিষেককে তলবের মাঝেই বড় পদক্ষেপ সিআইডির! সই জালিয়াতি মামলায় বিশেষ সিট গঠন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে তদন্তে আরও তৎপর হল সিআইডি (CID)। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানীভবনে তলব করার পাশাপাশি মামলার তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। সূত্রের খবর, এক ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিকের নেতৃত্বে এই দলে রয়েছেন এক ডিএসপি, দুই ইনস্পেক্টর এবং আরও কয়েকজন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

    সইকাণ্ডে সিট গঠন সিআইডির

    সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে হাজিরার নোটিস পাঠানো হয়েছে। তবে সম্প্রতি সোনারপুরে হেনস্তার ঘটনার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার কারণে তিনি নির্ধারিত দিনে উপস্থিত থাকতে পারবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সিট গঠনের সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারী মহলের একাংশ। সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করেই আলাদা তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। দ্রুত তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করাই এই দলের মূল লক্ষ্য। ইতিমধ্যেই তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বাহারুল ইসলাম এবং কুণাল ঘোষের কাছেও নোটিস পাঠানো হয়েছে।

    বিতর্কের কেন্দ্রে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন

    বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। গত ৬ মে কালীঘাটে তৃণমূল বিধায়কদের বৈঠকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয় এবং উপস্থিত বিধায়কেরা হাত তুলে সেই প্রস্তাবে সমর্থন জানান। তবে সেই সময় বিধানসভায় জমা দেওয়ার প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পূর্ণ করা হয়নি। পরবর্তীতে ১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় শপথগ্রহণের সময় বিধায়কদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়। এরপর ১৯ মে কালীঘাটে আরেকটি বৈঠকে উপস্থিত সদস্যদের সই নেওয়া হয়। অভিযোগ, ওই স্বাক্ষরের ভিত্তিতেই ৭০ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র বিধানসভায় জমা দেওয়া হয়েছিল।

    গণস্বাক্ষরে জালিয়াতির সন্দেহ…

    বিধানসভার সচিবালয় নথি যাচাই করতে গিয়ে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষরে অসঙ্গতি খুঁজে পায়। দুটি পৃথক নথিতে স্বাক্ষরের অমিল ধরা পড়ায় জালিয়াতির সন্দেহ তৈরি হয়। এরপর বিধানসভার সচিব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডি। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, কারা স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছিলেন, কী পরিস্থিতিতে নথি প্রস্তুত হয়েছিল এবং কোনও স্বাক্ষর জাল করা হয়েছিল কি না। প্রয়োজনে আরও কয়েকজন বিধায়ক ও দলের নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে বলেও সূত্রের দাবি। এদিকে, গোটা ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করছে তদন্তকারী সংস্থা। তাঁর সম্ভাব্য হাজিরার আগেই সিট গঠন হওয়ায় স্পষ্ট, মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সিআইডি।

  • Suvendu Government Full Cabinet: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত, শপথ নিলেন ৩৫ মন্ত্রী, দেখুন পূর্ণ তালিকা

    Suvendu Government Full Cabinet: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত, শপথ নিলেন ৩৫ মন্ত্রী, দেখুন পূর্ণ তালিকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হল সোমবার। কলকাতার লোকভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল আরএন রবি মোট ৩৫ জন বিধায়ককে মন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান। নতুন মন্ত্রিসভায় ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে দফতর বণ্টনের ঘোষণা করা হয়নি। এর আগে গত ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় তাঁর সঙ্গে প্রথম দফায় শপথ গ্রহণ করেন অগ্নিমিত্রা পাল, দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনিয়া এবং ক্ষুদিরাম টুডু। ইতিমধ্যেই তাঁদের দফতর নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ‘বন্দেমাতরম’, ‘জন গণ মন’-তে অনুষ্ঠানের সূচনা

    সোমবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয় জাতীয় গান ‘বন্দেমাতরম’ এবং জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-র মাধ্যমে। এরপর মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল একে একে নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিধায়করা ছাড়াও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালসহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। লোকভবনে শপথ নিতে আসা অধিকাংশ নেতাকেই দেখা যায় ধুতি-পাঞ্জাবি বা ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পোশাকে। অনেকেই পরিবার-পরিজনকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন—

    • দীপক বর্মন (ফালাকাটা)
    • তাপস রায় (মানিকতলা)
    • মনোজকুমার ওঁরাও (কুমারগ্রাম)
    • শঙ্কর ঘোষ (শিলিগুড়ি)
    • জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (সিউড়ি)
    • স্বপন দাশগুপ্ত (রাসবিহারী)
    • অর্জুন সিং (নোয়াপাড়া)
    • গৌরীশংকর ঘোষ (মুর্শিদাবাদ)
    • অরূপকুমার দাস (সিঙ্গুর)
    • দুধকুমার মণ্ডল (ময়ূরেশ্বর)
    • শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (বিধাননগর)
    • কল্যাণ চক্রবর্তী (খড়দা)
    • অজয়কুমার পোদ্দার (কুলটি)

    স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন—

    • মালতী রাভা রায় (তুফানগঞ্জ)
    • রাজেশ মাহাতো (গোপীবল্লভপুর)
    • ইন্দ্রনীল খাঁ (বেহালা পশ্চিম)

    প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন—

    • জুয়েল মুর্মু (হবিবপুর)
    • আনন্দময় বর্মন (মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি)
    • অশোক দিন্দা (ময়না)
    • শান্তনু প্রামাণিক
    • উমেশ রাই
    • পূর্ণিমা চক্রবর্তী
    • কৌশিক চৌধুরী
    • দিবাকর ঘরামি
    • কলিতা মাজি
    • গার্গী দাস ঘোষ
    • দীপঙ্কর জানা
    • সুমনা সরকার
    • হরেকৃষ্ণ বেরা (তমলুক)
    • বিশাল লামা (কালচিনি)
    • মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র (বর্ধমান দক্ষিণ)
    • নাদিয়ার চাঁদ বাউরি (পারা)
    • বিরাজ বিশ্বাস (করণদিঘি)
    • ভাস্কর ভট্টাচার্য (শ্রীরামপুর)
    • অমিয় কিস্কু (নয়াগ্রাম)

    এদিকে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে দফতর বণ্টনের দিকে। সূত্রের খবর, শপথগ্রহণের পর নবনিযুক্ত মন্ত্রীরা সরাসরি নবান্নে যান এবং সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর দফতর বণ্টন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা হতে পারে। সরকার গঠনের মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন হওয়ায় প্রশাসনিক কাজকর্মে গতি আসবে বলেই মনে করছে শাসক শিবির।

  • Abhishek Banerjee: অভিষেককে দেখেই আছড়ে পড়ল জনরোষ, ‘ভাইপো’কে লক্ষ্য করে ছোড়া হল ডিম

    Abhishek Banerjee: অভিষেককে দেখেই আছড়ে পড়ল জনরোষ, ‘ভাইপো’কে লক্ষ্য করে ছোড়া হল ডিম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের সেকেন্ড ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) লক্ষ্য করে ছোড়া হল পাথর, জুতো এবং ডিম। তাঁকে ঘুষি এবং লাথি মারার চেষ্টাও করা হয়। দেওয়া হয় ‘চোর, চোর’ স্লোগানও (Sonarpur Visit)। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক শনিবার গিয়েছিলেন সোনারপুর এলাকায়, ভোট-পরবর্তী হিংসার শিকার পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করতে। সেখানেই তিনি পড়েন বিক্ষোভের মুখে। গত এক মাস আগেও বাংলার রাজনীতিতে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র ছিলেন তৃণমূলের এই সেকেন্ড ইন-কমান্ড। তৃণমূল-রাজ শেষ হতেই তাঁকে দেখে জনতা উগরে দিল একরাশ ঘৃণা। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার ২৫ দিন পর এটি ছিল অভিষেকের প্রকাশ্যে আসা। সোনারপুর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিবেকানন্দনগর এলাকায় গিয়েছিলেন জনৈক সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে। অভিযোগ, সঞ্জু নির্বাচন-উত্তর হিংসার শিকার।

    অভিষেককে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান (Abhishek Banerjee)

    সরকার পরিবর্তনের আগে পর্যন্ত অভিষেক পেতেন জেড-প্লাস নিরাপত্তা। এদিন গাড়ি থেকে নামতেই তাঁকে উদ্দেশ্য করে ‘চোর, চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়। এর পর এসইউভি থেকে নেমে তিনি ওঠেন বাইকে। জনরোষের মুখে পড়ে বাইকটিও। পরে একটি হেলমেট পরে, ছেঁড়া জামা গায়ে, নিরাপত্তারক্ষীদের সাহায্যে তিনি ভবানীপুর থেকে আসা কয়েকজন তৃণমূল সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে কর্মকার পরিবারের বাড়ির দিকে হেঁটে যান। এই সময় অভিষেকের ধারে-কাছে দেখা যায়নি সোনারপুরের কোনও তৃণমূল নেতা বা কর্মীকে (Abhishek Banerjee)।স্থানীয় এক মহিলা বলেন, “ও এখানে কেন এসেছে? নিশ্চয়ই টাকা নিতে! ডাক্তার ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পর সে পানিহাটিতে কেন যায়নি?” উপস্থিত জনতা উত্তেজিত হয়ে পড়লে পুলিশ হেলমেট পরিয়ে এবং নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে করে তাঁকে ওই বাড়ির ভেতরে নিয়ে যায় (Sonarpur Visit)।

    অভিষেকের অনুযোগ

    অভিষেক বলেন, “ওরা আমায় মেরে ফেলতে চায়। প্রশাসন ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আমি এই জায়গা বা এই পরিবারকে ছেড়ে যাব না। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, এখানে কোনও সরকারি আধিকারিক উপস্থিত নেই। সব কিছু ভিডিওতে রেকর্ড হয়েছে। আমি রাজ্যপাল এবং হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।” সঙ্গে আসা অনুগামীদের সরকারি আধিকারিকদের ফোন করার নির্দেশ দেন অভিষেক। মেসেজ পাঠান হোয়াটসঅ্যাপেও। কেউ সাড়া না দেওয়ায় স্ক্রিনশট তুলে রেখে দেন।

    কী বললেন শমীক

    কর্মকার পরিবারের বাড়ির বাইরে পুরুষ, মহিলা এবং শিশুরা অভিষেককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায়। কয়েকজন মহিলার অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের হুমকির কারণে তাঁদের ভিটে ছাড়া হতে হয়েছিল (Abhishek Banerjee)। এক মহিলা বলেন, “আমরা জানতে চাই, উনি আমাদের রক্ষা করেননি কেন? মহিলাদের নিরাপত্তাহীন অবস্থায় কেন ফেলে রাখা হয়েছিল?” বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “স্থানীয় পুলিশের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, “বিজেপি এই ধরনের রাজনীতি করে না। পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের প্রাক্তন মহিলা মোর্চা নেত্রী রূপা গাঙ্গুলি কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, মানুষ তা মনে রেখেছেন (Sonarpur Visit)। বাংলার মানুষ এই হিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন (Abhishek Banerjee)।”

     

  • Samik Bhattacharya: ফের সিঙ্গুরে টাটা? শিল্পের হারানো অধ্যায় ফিরিয়ে আনতে বড় বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের

    Samik Bhattacharya: ফের সিঙ্গুরে টাটা? শিল্পের হারানো অধ্যায় ফিরিয়ে আনতে বড় বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় দুই দশক আগে সিঙ্গুর থেকে টাটা মোটরসের ন্যানো প্রকল্প সরে যাওয়ার ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই ঘটনার জেরে রাজ্যের শিল্প ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে দেশ-বিদেশে যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল, তা বদলাতে এবার সিঙ্গুরে ফের টাটা গোষ্ঠীকে ফিরিয়ে আনার ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শুক্রবার এক সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শমীক বলেন, টাটা গোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন শুধুমাত্র একটি শিল্প প্রকল্পের ফিরে আসা হবে না, বরং তা পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। তাঁর বক্তব্য, “আমরা চাই টাটারা আবার সিঙ্গুরে ফিরুক। এর মাধ্যমে দেশ ও বিশ্বের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে যে পশ্চিমবঙ্গ বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত এবং এখানে শিল্প স্থাপনের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে।”

    ন্যানো প্রকল্পের প্রস্থান ও তার প্রভাব

    ২০০৮ সালে সিঙ্গুরে টাটা মোটরসের ন্যানো প্রকল্প ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক সংঘাত তৈরি হয়। জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের জেরে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে গুজরাটে স্থানান্তরিত হয়। সেই সময়ের ঘটনাপ্রবাহকে দেশের শিল্পমহলের একাংশ পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-বিরোধী মনোভাবের প্রতীক হিসেবে দেখেছিল। শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, ন্যানো প্রকল্প চলে যাওয়ার পর রাজ্য সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল। তাঁর মতে, সিঙ্গুরে টাটা প্রকল্পের সমাপ্তি শুধু একটি শিল্প উদ্যোগের অবসান ছিল না, বরং তা বাংলার শিল্পোন্নয়নের পথেও বড় ধাক্কা দিয়েছিল। তিনি বলেন, “টাটার প্রস্থান রাজ্যের বিনিয়োগ পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করেছে। অনেক কর্পোরেট সংস্থার মধ্যে এই ধারণা তৈরি হয়েছিল যে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নেই।”

    শিল্পায়নের পথে নতুন বার্তা

    বিজেপির রাজ্য সভাপতির মতে, টাটা গোষ্ঠী অটোমোবাইল শিল্পে ফিরুক বা অন্য কোনও ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করুক, মূল লক্ষ্য হল বাংলায় বৃহৎ শিল্পের পুনরুজ্জীবন। তিনি মনে করেন, টাটা গোষ্ঠীর মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্বস্ত শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ নতুন করে শিল্পপতিদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। শমীকের বক্তব্য, “টাটাদের প্রত্যাবর্তন শুধু একটি সংস্থার ফিরে আসা নয়। এটি হবে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-সম্ভাবনার উপর নতুন করে আস্থা স্থাপনের প্রতীক। দেশ ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এর একটি শক্তিশালী বার্তা যাবে।” তাঁর দাবি, ন্যানো প্রকল্পের পরবর্তী সময়ে রাজ্যে কাটমানি সংস্কৃতি, সিন্ডিকেট রাজ এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ শিল্প পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছিল। ফলে বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে রাজ্য পিছিয়ে পড়ে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে শিল্পের প্রতি আস্থা পুনর্গঠন জরুরি বলে মনে করছে বিজেপি।

    সিঙ্গুরে বড় ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব গড়ার পরিকল্পনা

    শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, সিঙ্গুরে কৃষকরা জমি ফিরে পেলেও সেই জমি আর আগের মতো কৃষিকাজের উপযোগী নেই, কারণ দীর্ঘদিনে তার চরিত্র বদলে গিয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে ওই এলাকায় একটি শিল্পকেন্দ্র বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর দাবি, সেখানে ইতিমধ্যেই প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের পাশে সরকার থাকবে। সিঙ্গুরকে শিল্পোন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য, যাতে পশ্চিমবঙ্গে আবারও ভারী শিল্পের বিকাশ ঘটানো যায়।

    সিঙ্গুরের রাজনৈতিক ও প্রতীকী গুরুত্ব

    সিঙ্গুর শুধুমাত্র একটি শিল্প প্রকল্পের স্থান নয়, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জমি আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় আসার পথ সুগম হয়েছিল। তবে বিজেপির মতে, যে সিঙ্গুর একসময় শিল্প ও জমি আন্দোলনের সংঘাতের প্রতীক হয়ে উঠেছিল, সেই সিঙ্গুরকেই এখন শিল্প প্রত্যাবর্তনের প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। শমীক বলেন, “সিঙ্গুরকে শিল্পের বিদায়ের প্রতীক থেকে শিল্পের প্রত্যাবর্তনের প্রতীকে রূপান্তরিত করা গেলে তা পশ্চিমবঙ্গের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে।”

    জমি নীতি নিয়েও ইঙ্গিত

    শিল্পায়নের প্রসঙ্গে জমি অধিগ্রহণ নীতির প্রশ্নও উত্থাপন করেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, সুস্পষ্ট ও কার্যকর ভূমিনীতি ছাড়া বৃহৎ শিল্পায়ন সম্ভব নয়। পূর্ববর্তী সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “শিল্পপতিদের পক্ষে বাড়ি বাড়ি ঘুরে জমি সংগ্রহ করা বাস্তবসম্মত নয়।” যদিও সম্ভাব্য নতুন ভূমিনীতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। তাঁর বক্তব্য, সরকার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে এবং আগামী দিনে তার ফল দৃশ্যমান হবে।

    রাজ্যের প্রাকতিক সম্পদও নজর শমীকের

    শমীক ভট্টাচার্য বলেন, পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ও অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর দাবি, রাজ্যে অশোকনগর তেলক্ষেত্র, রানাঘাটের প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার এবং ম্যাঙ্গানিজ আকরিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ইতিমধ্যেই চিহ্নিত হয়েছে। পাশাপাশি, বিষ্ণুপুর বা কালিম্পং অঞ্চলের কোথাও সোনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও জানান, পুরুলিয়ায় বিরল খনিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা রাজ্যের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার অনুরোধ করা হয়েছে। তাঁর মতে, এই খনিজ সম্পদের সুষ্ঠু নিলাম হলে পশ্চিমবঙ্গ উল্লেখযোগ্য আর্থিক লাভের মুখ দেখতে পারে।

    বিজেপির শিল্পায়ন রূপরেখা

    বিজেপির দাবি, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বৃহৎ বিনিয়োগ আকর্ষণ করাই তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণে সিঙ্গুরকে আবার শিল্প মানচিত্রে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজ্য বিজেপির নেতৃত্বের মতে, টাটা গোষ্ঠীর মতো একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন সম্ভব হলে তা শুধু সিঙ্গুর নয়, গোটা পশ্চিমবঙ্গের বিনিয়োগ পরিবেশ সম্পর্কে নতুন বার্তা দেবে। একইসঙ্গে দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীদের কাছেও রাজ্যকে একটি শিল্প-বান্ধব গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে সাহায্য করবে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকা সিঙ্গুরকে ঘিরে আবারও শিল্পায়নের নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। টাটা গোষ্ঠীর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন আদৌ বাস্তবায়িত হয় কি না, তা ভবিষ্যৎই বলবে। তবে বিজেপি ইতিমধ্যেই সিঙ্গুরকে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প পুনর্জাগরণের প্রতীক হিসেবে সামনে আনতে শুরু করেছে।

LinkedIn
Share