Tag: West Bengal Politics

West Bengal Politics

  • CID SIT Probe: অভিষেককে তলবের মাঝেই বড় পদক্ষেপ সিআইডির! সই জালিয়াতি মামলায় বিশেষ সিট গঠন

    CID SIT Probe: অভিষেককে তলবের মাঝেই বড় পদক্ষেপ সিআইডির! সই জালিয়াতি মামলায় বিশেষ সিট গঠন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে তদন্তে আরও তৎপর হল সিআইডি (CID)। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানীভবনে তলব করার পাশাপাশি মামলার তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। সূত্রের খবর, এক ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিকের নেতৃত্বে এই দলে রয়েছেন এক ডিএসপি, দুই ইনস্পেক্টর এবং আরও কয়েকজন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

    সইকাণ্ডে সিট গঠন সিআইডির

    সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে হাজিরার নোটিস পাঠানো হয়েছে। তবে সম্প্রতি সোনারপুরে হেনস্তার ঘটনার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার কারণে তিনি নির্ধারিত দিনে উপস্থিত থাকতে পারবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সিট গঠনের সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারী মহলের একাংশ। সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করেই আলাদা তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। দ্রুত তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করাই এই দলের মূল লক্ষ্য। ইতিমধ্যেই তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বাহারুল ইসলাম এবং কুণাল ঘোষের কাছেও নোটিস পাঠানো হয়েছে।

    বিতর্কের কেন্দ্রে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন

    বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। গত ৬ মে কালীঘাটে তৃণমূল বিধায়কদের বৈঠকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয় এবং উপস্থিত বিধায়কেরা হাত তুলে সেই প্রস্তাবে সমর্থন জানান। তবে সেই সময় বিধানসভায় জমা দেওয়ার প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পূর্ণ করা হয়নি। পরবর্তীতে ১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় শপথগ্রহণের সময় বিধায়কদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়। এরপর ১৯ মে কালীঘাটে আরেকটি বৈঠকে উপস্থিত সদস্যদের সই নেওয়া হয়। অভিযোগ, ওই স্বাক্ষরের ভিত্তিতেই ৭০ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র বিধানসভায় জমা দেওয়া হয়েছিল।

    গণস্বাক্ষরে জালিয়াতির সন্দেহ…

    বিধানসভার সচিবালয় নথি যাচাই করতে গিয়ে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষরে অসঙ্গতি খুঁজে পায়। দুটি পৃথক নথিতে স্বাক্ষরের অমিল ধরা পড়ায় জালিয়াতির সন্দেহ তৈরি হয়। এরপর বিধানসভার সচিব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডি। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, কারা স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছিলেন, কী পরিস্থিতিতে নথি প্রস্তুত হয়েছিল এবং কোনও স্বাক্ষর জাল করা হয়েছিল কি না। প্রয়োজনে আরও কয়েকজন বিধায়ক ও দলের নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে বলেও সূত্রের দাবি। এদিকে, গোটা ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করছে তদন্তকারী সংস্থা। তাঁর সম্ভাব্য হাজিরার আগেই সিট গঠন হওয়ায় স্পষ্ট, মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সিআইডি।

  • Suvendu Government Full Cabinet: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত, শপথ নিলেন ৩৫ মন্ত্রী, দেখুন পূর্ণ তালিকা

    Suvendu Government Full Cabinet: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত, শপথ নিলেন ৩৫ মন্ত্রী, দেখুন পূর্ণ তালিকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হল সোমবার। কলকাতার লোকভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল আরএন রবি মোট ৩৫ জন বিধায়ককে মন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান। নতুন মন্ত্রিসভায় ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে দফতর বণ্টনের ঘোষণা করা হয়নি। এর আগে গত ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় তাঁর সঙ্গে প্রথম দফায় শপথ গ্রহণ করেন অগ্নিমিত্রা পাল, দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনিয়া এবং ক্ষুদিরাম টুডু। ইতিমধ্যেই তাঁদের দফতর নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ‘বন্দেমাতরম’, ‘জন গণ মন’-তে অনুষ্ঠানের সূচনা

    সোমবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয় জাতীয় গান ‘বন্দেমাতরম’ এবং জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-র মাধ্যমে। এরপর মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল একে একে নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিধায়করা ছাড়াও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালসহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। লোকভবনে শপথ নিতে আসা অধিকাংশ নেতাকেই দেখা যায় ধুতি-পাঞ্জাবি বা ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পোশাকে। অনেকেই পরিবার-পরিজনকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন—

    • দীপক বর্মন (ফালাকাটা)
    • তাপস রায় (মানিকতলা)
    • মনোজকুমার ওঁরাও (কুমারগ্রাম)
    • শঙ্কর ঘোষ (শিলিগুড়ি)
    • জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (সিউড়ি)
    • স্বপন দাশগুপ্ত (রাসবিহারী)
    • অর্জুন সিং (নোয়াপাড়া)
    • গৌরীশংকর ঘোষ (মুর্শিদাবাদ)
    • অরূপকুমার দাস (সিঙ্গুর)
    • দুধকুমার মণ্ডল (ময়ূরেশ্বর)
    • শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (বিধাননগর)
    • কল্যাণ চক্রবর্তী (খড়দা)
    • অজয়কুমার পোদ্দার (কুলটি)

    স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন—

    • মালতী রাভা রায় (তুফানগঞ্জ)
    • রাজেশ মাহাতো (গোপীবল্লভপুর)
    • ইন্দ্রনীল খাঁ (বেহালা পশ্চিম)

    প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন—

    • জুয়েল মুর্মু (হবিবপুর)
    • আনন্দময় বর্মন (মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি)
    • অশোক দিন্দা (ময়না)
    • শান্তনু প্রামাণিক
    • উমেশ রাই
    • পূর্ণিমা চক্রবর্তী
    • কৌশিক চৌধুরী
    • দিবাকর ঘরামি
    • কলিতা মাজি
    • গার্গী দাস ঘোষ
    • দীপঙ্কর জানা
    • সুমনা সরকার
    • হরেকৃষ্ণ বেরা (তমলুক)
    • বিশাল লামা (কালচিনি)
    • মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র (বর্ধমান দক্ষিণ)
    • নাদিয়ার চাঁদ বাউরি (পারা)
    • বিরাজ বিশ্বাস (করণদিঘি)
    • ভাস্কর ভট্টাচার্য (শ্রীরামপুর)
    • অমিয় কিস্কু (নয়াগ্রাম)

    এদিকে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে দফতর বণ্টনের দিকে। সূত্রের খবর, শপথগ্রহণের পর নবনিযুক্ত মন্ত্রীরা সরাসরি নবান্নে যান এবং সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর দফতর বণ্টন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা হতে পারে। সরকার গঠনের মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন হওয়ায় প্রশাসনিক কাজকর্মে গতি আসবে বলেই মনে করছে শাসক শিবির।

  • Abhishek Banerjee: অভিষেককে দেখেই আছড়ে পড়ল জনরোষ, ‘ভাইপো’কে লক্ষ্য করে ছোড়া হল ডিম

    Abhishek Banerjee: অভিষেককে দেখেই আছড়ে পড়ল জনরোষ, ‘ভাইপো’কে লক্ষ্য করে ছোড়া হল ডিম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের সেকেন্ড ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee) লক্ষ্য করে ছোড়া হল পাথর, জুতো এবং ডিম। তাঁকে ঘুষি এবং লাথি মারার চেষ্টাও করা হয়। দেওয়া হয় ‘চোর, চোর’ স্লোগানও (Sonarpur Visit)। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক শনিবার গিয়েছিলেন সোনারপুর এলাকায়, ভোট-পরবর্তী হিংসার শিকার পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করতে। সেখানেই তিনি পড়েন বিক্ষোভের মুখে। গত এক মাস আগেও বাংলার রাজনীতিতে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র ছিলেন তৃণমূলের এই সেকেন্ড ইন-কমান্ড। তৃণমূল-রাজ শেষ হতেই তাঁকে দেখে জনতা উগরে দিল একরাশ ঘৃণা। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার ২৫ দিন পর এটি ছিল অভিষেকের প্রকাশ্যে আসা। সোনারপুর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিবেকানন্দনগর এলাকায় গিয়েছিলেন জনৈক সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে। অভিযোগ, সঞ্জু নির্বাচন-উত্তর হিংসার শিকার।

    অভিষেককে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান (Abhishek Banerjee)

    সরকার পরিবর্তনের আগে পর্যন্ত অভিষেক পেতেন জেড-প্লাস নিরাপত্তা। এদিন গাড়ি থেকে নামতেই তাঁকে উদ্দেশ্য করে ‘চোর, চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়। এর পর এসইউভি থেকে নেমে তিনি ওঠেন বাইকে। জনরোষের মুখে পড়ে বাইকটিও। পরে একটি হেলমেট পরে, ছেঁড়া জামা গায়ে, নিরাপত্তারক্ষীদের সাহায্যে তিনি ভবানীপুর থেকে আসা কয়েকজন তৃণমূল সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে কর্মকার পরিবারের বাড়ির দিকে হেঁটে যান। এই সময় অভিষেকের ধারে-কাছে দেখা যায়নি সোনারপুরের কোনও তৃণমূল নেতা বা কর্মীকে (Abhishek Banerjee)।স্থানীয় এক মহিলা বলেন, “ও এখানে কেন এসেছে? নিশ্চয়ই টাকা নিতে! ডাক্তার ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার পর সে পানিহাটিতে কেন যায়নি?” উপস্থিত জনতা উত্তেজিত হয়ে পড়লে পুলিশ হেলমেট পরিয়ে এবং নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে করে তাঁকে ওই বাড়ির ভেতরে নিয়ে যায় (Sonarpur Visit)।

    অভিষেকের অনুযোগ

    অভিষেক বলেন, “ওরা আমায় মেরে ফেলতে চায়। প্রশাসন ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আমি এই জায়গা বা এই পরিবারকে ছেড়ে যাব না। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, এখানে কোনও সরকারি আধিকারিক উপস্থিত নেই। সব কিছু ভিডিওতে রেকর্ড হয়েছে। আমি রাজ্যপাল এবং হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।” সঙ্গে আসা অনুগামীদের সরকারি আধিকারিকদের ফোন করার নির্দেশ দেন অভিষেক। মেসেজ পাঠান হোয়াটসঅ্যাপেও। কেউ সাড়া না দেওয়ায় স্ক্রিনশট তুলে রেখে দেন।

    কী বললেন শমীক

    কর্মকার পরিবারের বাড়ির বাইরে পুরুষ, মহিলা এবং শিশুরা অভিষেককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায়। কয়েকজন মহিলার অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের হুমকির কারণে তাঁদের ভিটে ছাড়া হতে হয়েছিল (Abhishek Banerjee)। এক মহিলা বলেন, “আমরা জানতে চাই, উনি আমাদের রক্ষা করেননি কেন? মহিলাদের নিরাপত্তাহীন অবস্থায় কেন ফেলে রাখা হয়েছিল?” বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “স্থানীয় পুলিশের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, “বিজেপি এই ধরনের রাজনীতি করে না। পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের প্রাক্তন মহিলা মোর্চা নেত্রী রূপা গাঙ্গুলি কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, মানুষ তা মনে রেখেছেন (Sonarpur Visit)। বাংলার মানুষ এই হিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন (Abhishek Banerjee)।”

     

  • Samik Bhattacharya: ফের সিঙ্গুরে টাটা? শিল্পের হারানো অধ্যায় ফিরিয়ে আনতে বড় বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের

    Samik Bhattacharya: ফের সিঙ্গুরে টাটা? শিল্পের হারানো অধ্যায় ফিরিয়ে আনতে বড় বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় দুই দশক আগে সিঙ্গুর থেকে টাটা মোটরসের ন্যানো প্রকল্প সরে যাওয়ার ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই ঘটনার জেরে রাজ্যের শিল্প ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে দেশ-বিদেশে যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল, তা বদলাতে এবার সিঙ্গুরে ফের টাটা গোষ্ঠীকে ফিরিয়ে আনার ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শুক্রবার এক সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শমীক বলেন, টাটা গোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন শুধুমাত্র একটি শিল্প প্রকল্পের ফিরে আসা হবে না, বরং তা পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। তাঁর বক্তব্য, “আমরা চাই টাটারা আবার সিঙ্গুরে ফিরুক। এর মাধ্যমে দেশ ও বিশ্বের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে যে পশ্চিমবঙ্গ বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত এবং এখানে শিল্প স্থাপনের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে।”

    ন্যানো প্রকল্পের প্রস্থান ও তার প্রভাব

    ২০০৮ সালে সিঙ্গুরে টাটা মোটরসের ন্যানো প্রকল্প ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক সংঘাত তৈরি হয়। জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের জেরে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে গুজরাটে স্থানান্তরিত হয়। সেই সময়ের ঘটনাপ্রবাহকে দেশের শিল্পমহলের একাংশ পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-বিরোধী মনোভাবের প্রতীক হিসেবে দেখেছিল। শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, ন্যানো প্রকল্প চলে যাওয়ার পর রাজ্য সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল। তাঁর মতে, সিঙ্গুরে টাটা প্রকল্পের সমাপ্তি শুধু একটি শিল্প উদ্যোগের অবসান ছিল না, বরং তা বাংলার শিল্পোন্নয়নের পথেও বড় ধাক্কা দিয়েছিল। তিনি বলেন, “টাটার প্রস্থান রাজ্যের বিনিয়োগ পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করেছে। অনেক কর্পোরেট সংস্থার মধ্যে এই ধারণা তৈরি হয়েছিল যে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নেই।”

    শিল্পায়নের পথে নতুন বার্তা

    বিজেপির রাজ্য সভাপতির মতে, টাটা গোষ্ঠী অটোমোবাইল শিল্পে ফিরুক বা অন্য কোনও ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করুক, মূল লক্ষ্য হল বাংলায় বৃহৎ শিল্পের পুনরুজ্জীবন। তিনি মনে করেন, টাটা গোষ্ঠীর মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্বস্ত শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ নতুন করে শিল্পপতিদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। শমীকের বক্তব্য, “টাটাদের প্রত্যাবর্তন শুধু একটি সংস্থার ফিরে আসা নয়। এটি হবে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-সম্ভাবনার উপর নতুন করে আস্থা স্থাপনের প্রতীক। দেশ ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এর একটি শক্তিশালী বার্তা যাবে।” তাঁর দাবি, ন্যানো প্রকল্পের পরবর্তী সময়ে রাজ্যে কাটমানি সংস্কৃতি, সিন্ডিকেট রাজ এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ শিল্প পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছিল। ফলে বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে রাজ্য পিছিয়ে পড়ে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে শিল্পের প্রতি আস্থা পুনর্গঠন জরুরি বলে মনে করছে বিজেপি।

    সিঙ্গুরে বড় ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব গড়ার পরিকল্পনা

    শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, সিঙ্গুরে কৃষকরা জমি ফিরে পেলেও সেই জমি আর আগের মতো কৃষিকাজের উপযোগী নেই, কারণ দীর্ঘদিনে তার চরিত্র বদলে গিয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে ওই এলাকায় একটি শিল্পকেন্দ্র বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর দাবি, সেখানে ইতিমধ্যেই প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের পাশে সরকার থাকবে। সিঙ্গুরকে শিল্পোন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য, যাতে পশ্চিমবঙ্গে আবারও ভারী শিল্পের বিকাশ ঘটানো যায়।

    সিঙ্গুরের রাজনৈতিক ও প্রতীকী গুরুত্ব

    সিঙ্গুর শুধুমাত্র একটি শিল্প প্রকল্পের স্থান নয়, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জমি আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় আসার পথ সুগম হয়েছিল। তবে বিজেপির মতে, যে সিঙ্গুর একসময় শিল্প ও জমি আন্দোলনের সংঘাতের প্রতীক হয়ে উঠেছিল, সেই সিঙ্গুরকেই এখন শিল্প প্রত্যাবর্তনের প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। শমীক বলেন, “সিঙ্গুরকে শিল্পের বিদায়ের প্রতীক থেকে শিল্পের প্রত্যাবর্তনের প্রতীকে রূপান্তরিত করা গেলে তা পশ্চিমবঙ্গের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে।”

    জমি নীতি নিয়েও ইঙ্গিত

    শিল্পায়নের প্রসঙ্গে জমি অধিগ্রহণ নীতির প্রশ্নও উত্থাপন করেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, সুস্পষ্ট ও কার্যকর ভূমিনীতি ছাড়া বৃহৎ শিল্পায়ন সম্ভব নয়। পূর্ববর্তী সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “শিল্পপতিদের পক্ষে বাড়ি বাড়ি ঘুরে জমি সংগ্রহ করা বাস্তবসম্মত নয়।” যদিও সম্ভাব্য নতুন ভূমিনীতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। তাঁর বক্তব্য, সরকার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে এবং আগামী দিনে তার ফল দৃশ্যমান হবে।

    রাজ্যের প্রাকতিক সম্পদও নজর শমীকের

    শমীক ভট্টাচার্য বলেন, পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ও অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর দাবি, রাজ্যে অশোকনগর তেলক্ষেত্র, রানাঘাটের প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার এবং ম্যাঙ্গানিজ আকরিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ইতিমধ্যেই চিহ্নিত হয়েছে। পাশাপাশি, বিষ্ণুপুর বা কালিম্পং অঞ্চলের কোথাও সোনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও জানান, পুরুলিয়ায় বিরল খনিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা রাজ্যের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার অনুরোধ করা হয়েছে। তাঁর মতে, এই খনিজ সম্পদের সুষ্ঠু নিলাম হলে পশ্চিমবঙ্গ উল্লেখযোগ্য আর্থিক লাভের মুখ দেখতে পারে।

    বিজেপির শিল্পায়ন রূপরেখা

    বিজেপির দাবি, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বৃহৎ বিনিয়োগ আকর্ষণ করাই তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণে সিঙ্গুরকে আবার শিল্প মানচিত্রে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজ্য বিজেপির নেতৃত্বের মতে, টাটা গোষ্ঠীর মতো একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন সম্ভব হলে তা শুধু সিঙ্গুর নয়, গোটা পশ্চিমবঙ্গের বিনিয়োগ পরিবেশ সম্পর্কে নতুন বার্তা দেবে। একইসঙ্গে দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীদের কাছেও রাজ্যকে একটি শিল্প-বান্ধব গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে সাহায্য করবে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকা সিঙ্গুরকে ঘিরে আবারও শিল্পায়নের নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। টাটা গোষ্ঠীর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন আদৌ বাস্তবায়িত হয় কি না, তা ভবিষ্যৎই বলবে। তবে বিজেপি ইতিমধ্যেই সিঙ্গুরকে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প পুনর্জাগরণের প্রতীক হিসেবে সামনে আনতে শুরু করেছে।

  • Amit Shah Praises Suvendu: বিএসএফকে দ্রুত জমি, অনুপ্রবেশে জিরো টলারেন্স! শুভেন্দুর সরকারের ভূয়সী প্রশংসায় অমিত শাহ

    Amit Shah Praises Suvendu: বিএসএফকে দ্রুত জমি, অনুপ্রবেশে জিরো টলারেন্স! শুভেন্দুর সরকারের ভূয়সী প্রশংসায় অমিত শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ ও সীমান্ত সুরক্ষায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ করেছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক তৎপরতার এবার ভূয়সী প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিএসএফ-কে দ্রুত জমি হস্তান্তর এবং অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের কড়া অবস্থানের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ভূয়সী প্রশংসা অমিত শাহর

    বৃহস্পতিবার গান্ধিনগরে নিজের সংসদীয় ক্ষেত্রের এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে পূর্বতন সরকারের সমালোচনাও করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন প্রতিদিন সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটত। কিন্তু রাজ্যে আমাদের সরকার আসার পর সেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হয়েছে।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অনুপ্রবেশ ঠেকাতে অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-কে জমি দেওয়ার প্রক্রিয়াও দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর কথায়, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে রাজ্য ও কেন্দ্রের সমন্বিত উদ্যোগ ইতিমধ্যেই ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করেছে।

    সাত দিনের মধ্যেই ৬০০ হেক্টর জমি হস্তান্তর

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বড়সড় পরিবর্তন শুরু হয়েছে বলে দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাত দিনের মধ্যেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য ৬০০ হেক্টর জমি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর হাতে তুলে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে রাজ্য সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করেছে এবং কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ শুরু করেছে। অমিত শাহ বলেন, “অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কেন্দ্র সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও সেই নীতিতেই কাজ করছে।”

    ‘চিকেন’স নেক’ করিডরের ১২১ হেক্টর জমিও হস্তান্তর

    সভা থেকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উত্তরবঙ্গের কৌশলগত ‘চিকেন’স নেক’ করিডর এলাকার ১২১ হেক্টর জমিও ভারত সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই করিডরটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগ রক্ষা করে। ফলে এলাকাটির নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানোকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কেন্দ্র। অমিত শাহের দাবি, এই জমি হস্তান্তরের ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ আরও দ্রুত এগোবে।

    তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ

    এদিনের বক্তব্যে প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের কড়া সমালোচনাও করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, পূর্বতন সরকারের আমলে প্রতিদিনই পশ্চিমবঙ্গে অবাধ অনুপ্রবেশ চলত এবং সীমান্ত সুরক্ষার প্রশ্নে প্রশাসনিক উদাসীনতা ছিল স্পষ্ট।
    অমিত শাহ বলেন, বিজেপি বিধানসভা নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। তিনি দাবি করেন, নতুন সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

    দ্রুত শুরু হবে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিএসএফ-এর হাতে জমি হস্তান্তরের ফলে সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে। দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বহু এলাকায় বেড়া নির্মাণের কাজ আটকে ছিল বলে কেন্দ্রের দাবি। কেন্দ্র মনে করছে, সীমান্তে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা, অতিরিক্ত চৌকি নির্মাণ এবং কাঁটাতারের বেড়া অনুপ্রবেশ অনেকটাই কমিয়ে আনবে।

    জেলায় জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ

    রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করতে প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এই উদ্দেশ্যে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিশেষ ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশও জারি করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে অমিত শাহ বলেন, “কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি ও আইন প্রয়োগের ফলে অনুপ্রবেশকারীদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই বহু অনুপ্রবেশকারী স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যেতে শুরু করেছেন।”

    দেশজুড়ে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার পরিকল্পনা

    সভা থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা দেশ থেকেই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে বহিষ্কার করার ব্যাপারে কেন্দ্র সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি বলেন, “যাঁরা স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে চান, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রশাসন সহযোগিতা করবে। কিন্তু দেশের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করা হবে না।” অমিত শাহের দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ অভিযানের ফলে অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং বড়সড় অভিযান শুরু হওয়ার আগেই অনেকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অমিত শাহের এই বক্তব্যকে সামনে রেখে বিজেপি নেতৃত্ব সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ রোধে সরকারের কঠোর অবস্থানকে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে।

  • Suvendu Adhikari: বাংলার আমলা-সংস্কৃতির ভোল বদলালেন শুভেন্দু, পদ্ম-জমানায় ফিরল ‘আপনি’ সম্বোধন

    Suvendu Adhikari: বাংলার আমলা-সংস্কৃতির ভোল বদলালেন শুভেন্দু, পদ্ম-জমানায় ফিরল ‘আপনি’ সম্বোধন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের হাল ধরেছেন পদ্ম-নেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রী পদে তিনি বসেছেন সপ্তাহ দুয়েক হল। এর মধ্যেই নন্দীগ্রামের ‘ভূমিপুত্র’ (রাজনৈতিক মহলের একাংশ তাঁকে এই সম্বোধনই করেন) শুভেন্দু নবান্নে ফিরিয়ে এনেছেন বাংলার হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি (Bengal Bureaucratic Culture)। শুভেন্দু যে চেয়ারে বসেছেন, টানা ১৫ বছর ধরে তাতে বসেছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর প্রাক্তন সতীর্থ তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মা-মাটি-মানুষের দলের নেত্রী মমতা নবান্নেও ‘কলতলার কালচার’ শুরু করেছিলেন বলে অভিযোগ। সরকারি বিভিন্ন বৈঠকে তিনি আমলাদেরও ‘আপনি’র পরিবর্তে ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করতেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এহেন সম্বোধন শুনতে অভ্যস্ত না হলেও, শুনতে শুনতে সয়ে নিয়েছিলেন আইএএস-আইপিএস পরীক্ষা দিয়ে পাশ করা আধিকারিকরা। রাজ্যে বিজেপি জমানা শুরু হতেই বাংলার হারানো সংস্কৃতি ফেরালেন শুভেন্দু।

    নৈশভোজের আসরেও বদলের বার্তা (Suvendu Adhikari)

    ফেরা যাক খবরে। সোমবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের নয়া মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ আমলাদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক নৈশভোজের। আলিপুরের ‘সৌজন্য অডিটোরিয়ামে’ হওয়া এই ভোজসভাকে অনেকেই সাধারণ সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখছেন না। প্রশাসনিক মহলের পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সংঘাতমুখী প্রশাসনিক পরিবেশের পর নয়া বিজেপি সরকার রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও আমলাতন্ত্রের সম্পর্ককে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চাইছে। কয়েকজন আধিকারিকের মতে, এহেন উদ্যোগের উদ্দেশ্য হল আমলাদের এই বলে আশ্বস্ত করা যে, শুভেন্দুর প্রশাসন আরও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, সমন্বয় এবং কম প্রকাশ্য সংঘাতের মাধ্যমে পরিচালিত হবে (Suvendu Adhikari)।

    ‘তুই’, ‘তুমি’ কিংবা ‘আপনি’-র ফারাক

    শুভেন্দুর প্রশাসনিক শৈলীর সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলির অন্যতম হল সরকারি আধিকারিকদের সম্বোধনের ক্ষেত্রে তাঁর ভাষা ব্যবহার। নবান্ন সূত্রে খবর, নয়া মুখ্যমন্ত্রী আধিকারিকদের পরামর্শ দিয়েছেন এই বলে যে, সরকারি বৈঠকে যাতে আমলাদের ক্যাজুয়ালি সম্বোধন না করা হয়, বজায় রাখা হয় প্রশাসনিক মর্যাদা এবং প্রোটোকল (Bengal Bureaucratic Culture)। নয়া রাজ্য সরকারের এই ‘সাংস্কৃতিক’ পরিবর্তনটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে আমলাদের। কারণ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা প্রশাসনিক বৈঠকে প্রায়ই আধিকারিকদের ‘তুমি’ বলেই সম্বোধন করতেন (Suvendu Adhikari)। পদ্ম-জমানায় ইতি পড়েছে এই সংস্কৃতিতে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু সিনিয়র আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ‘আপনি’ ব্যবহার করছেন। ইংরেজিতে অবশ্য ‘তুই’, ‘তুমি’ কিংবা ‘আপনি’ সম্বোধন করতে ‘ইউ’ ব্যবহার করা হয়। তবে বাংলার সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে এদের ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

    আধিকারিকদের বিব্রত করত আগের সরকার

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন কম ভীতিপ্রদ এবং আরও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশাসনিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার বৃহত্তর প্রচেষ্টারই অংশ (Bengal Bureaucratic Culture)। মমতার রাজত্বে আধিকারিকদের ট্যাঁ-ফোঁ করার অধিকার ছিল না বলেই অভিযোগ। তিনি নিজেকে  ‘আয়রন লেডি’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন, যিনি দুর্নীতি, প্রশাসনিক গাফিলতি ও শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়ে সরাসরি আধিকারিকদের প্রশ্ন করতেন (Suvendu Adhikari)। তাঁর অনেক প্রশাসনিক বৈঠক টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হত। সেখানে প্রায়ই জেলাশাসক, পুলিশ আধিকারিক এবং আমলাদের প্রকাশ্যে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে দেখা যেত।

    আধিকারিকদের প্রকাশ্যে ভর্ৎসনা

    সব চেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলির একটি ঘটেছিল ২০২২ সালে, পুরুলিয়ার এক প্রশাসনিক বৈঠকে। সেখানে মমতা প্রকাশ্যে জেলাশাসক রাহুল মজুমদারকে ইটভাটা রাজস্ব সংগ্রহে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আপনি জেলাটা কীভাবে চালাচ্ছেন?” বিষয়টি তদন্তের নির্দেশও দিয়েছিলেন। এই ধরনের ঘটনা তাঁর সরকারের সময় একাধিকবার ঘটেছে। ২০১৭ সালে উত্তর ২৪ পরগনার একটি প্রশাসনিক বৈঠকে টিটাগড় থানার তৎকালীন আইসিকে একটি জাহাজ নির্মাণ ইউনিটের দখলদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে প্রকাশ্যে তিরস্কার করেছিলেন তৃণমূল পরিচালিত সরকারের মুখ্যমন্ত্রী।

    শুভেন্দুর আশ্বাস

    মমতার স্তাবকদের মতে, এই ধরনের হস্তক্ষেপ ছিল জবাবদিহি নিশ্চিত করার শক্ত অবস্থান (Suvendu Adhikari)। তবে সমালোচকদের দাবি, প্রকাশ্যে বারবার ভর্ৎসনা প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। আধিকারিকদের দাবি, শুভেন্দু আমলাদের এই মর্মে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন যে তাঁরা নির্ভয়ে কাজ করতে পারবেন (Bengal Bureaucratic Culture)। সূত্রের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় দফতরগুলির মধ্যে মসৃণ সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়েছেন, বিশেষ করে বিজেপি সরকার পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প রূপায়ণের কথা ঘোষণা করার পরে।

    তাই এই নৈশভোজকে এখন অনেকেই একটি প্রতীকী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে নতুন ধরনের আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতির সূচনা করার বার্তা দিতে চাইছে বিজেপি সরকার। তাদের দাবি, এই সংস্কৃতি প্রকাশ্য সংঘাতের পরিবর্তে পেশাদারিত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক সম্মান ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেবে (Suvendu Adhikari)।

     

  • PM Modi on Falta Repoll: ‘গণতন্ত্রের জয়, ভয়ভীতি প্রদর্শনের পরাজয়’ ফলতায় রেকর্ড ব্যবধানে জয়ের পরে রাজ্যবাসীকে অভিনন্দন মোদির

    PM Modi on Falta Repoll: ‘গণতন্ত্রের জয়, ভয়ভীতি প্রদর্শনের পরাজয়’ ফলতায় রেকর্ড ব্যবধানে জয়ের পরে রাজ্যবাসীকে অভিনন্দন মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে দক্ষিণ ২৪ পরগণার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের (PM Modi on Falta Repoll) নির্বাচনে জয়ী হলেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা। ফলতার এই ঐতিহাসিক ফলাফলের পর বিজেপি প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১,০৯,০২১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে ফলতা বিজয়র পর সোশ্যাল মিডিয়ায় মোদির বার্তা, “ফলতাবাসী নিজেদের রায় দিয়ে দিয়েছে! গণতন্ত্রের জয় হয়েছে। ভয়ভীতি-হুমকি হেরে গিয়েছে।” একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের উন্নতির জন্য, বিকশিত বাংলার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করলেন রাজ্যবাসীর কাছে।

    অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাব

    ফলতায় বিজেপি প্রার্থীর জয়ের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “ফলতা থেকে রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী হওয়ার জন্য দেবাংশু পণ্ডাজিকে আন্তরিক অভিনন্দন। এই জয় পশ্চিমবঙ্গের মানুষের বিজেপির প্রতি অটুট আস্থা ও বিশ্বাসেরই প্রতিফলন। রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অসাধারণ কাজ মানুষ প্রত্যক্ষ করছেন, আর সেই কারণেই তাঁরা আমাদের প্রতি আরও আশীর্বাদ ও সমর্থন জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বিজেপির সকল কর্মী ও সমর্থকদের তাঁদের অসাধারণ পরিশ্রম ও নিষ্ঠার জন্য আমার আন্তরিক অভিনন্দন। আগামী দিনেও আমরা পশ্চিমবঙ্গের উন্নতি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাব।” নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার দু’সপ্তাহ পরেই এই নির্বাচন হয়েছে। রাজ্যের নতুন সরকার যে ইতিমধ্যে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে, তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীও। তিনি লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ কাজ করে চলেছে, তা মানুষের নজর এড়ায়নি। এই কারণেই পশ্চিমবঙ্গবাসী আবার আমাদের আশীর্বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”

    কেন প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ

    রাজনৈতিক মহলের মতে, ফলতার ফল শুধু একটি বিধানসভা আসনে পুনর্নির্বাচনের ফল নয়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মন্ড হারবার মডেলের অন্যতম অংশ এই ফলতা। নির্বাচন কমিশন ফলতায় পুনর্নির্বাচন ঘোষণার পর অভিষেক বলেছিলেন, ‘দশ জন্মেও আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলকে দমাতে পারবে না। দিল্লি থেকে যত শক্তশালী, যাকে খুশি আনুন, ক্ষমতা থাকলে ফলতায় লড়ে দেখাও।’ এই ফলতায় ভোটাররা বছরের পর বছর ভোট দিতে পারেননি বলে অভিযোগ। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে ‘দাদাগিরির’ অভিযোগ ওঠে। চব্বিশের লোকসভা ভোটে এই ফলতায় ১ লক্ষ ৬৫ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন অভিষেক। সেই ফলতাতে বিজেপি প্রার্থীর লক্ষাধিক ভোটে জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী বার্তা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। এ বারের নির্বাচনে যে বিজেপি জিতবে, তা প্রত্যাশিতই ছিল। তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ভোটের আগেই ময়দান ছেড়েছেন। তবে বিজেপি যে এই বিপুল ব্যবধানে ফলতায় বিজয়ধ্বজা ওড়াবে, তা আগে থেকে অনুমান করতে পারেনি অনেকেই। ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটে জিতেছেন বিজেপির দেবাংশু পান্ডা। তৃণমূল সেখানে নেমে গিয়েছে চতুর্থ স্থানে।

  • Modi-Suvendu Meeting: ডবল ইঞ্জিন সরকারের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি? দিল্লিতে মোদির সঙ্গে বৈঠকে শুভেন্দুর নজরে বাংলার উন্নয়ন

    Modi-Suvendu Meeting: ডবল ইঞ্জিন সরকারের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি? দিল্লিতে মোদির সঙ্গে বৈঠকে শুভেন্দুর নজরে বাংলার উন্নয়ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’দিনের সফরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর এটাই তাঁর প্রথম দিল্লি সফর। রাজধানীতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। দিল্লিতে পৌঁছেই তিনি যান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) বাসভবনে। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দু’জনের মধ্যে বৈঠক হয়। শুক্রবার সকালে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ সারেন শুভেন্দু। এরপর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তাঁর। দুপুরে উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের পর বিকেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের (Nitin Nabin) সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

    রাজ্যে মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে আলোচনা…

    বাংলায় পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন কবে হবে এবং কোন নেতার হাতে কোন দফতরের দায়িত্ব যাবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছিল। এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারীর দিল্লি সফরকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে বাংলার মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। খুব শীঘ্রই রাজ্যে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা ঘোষণা হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে।

    সিএএ প্রসঙ্গে কথা…

    শাহ-শুভেন্দু বৈঠকে মন্ত্রিসভা গঠন ছাড়াও সীমান্তে কাঁটাতারের কাজ এবং সিএএ বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। মন্ত্রিসভায় কাদের জায়গা দেওয়া হবে, তা নিয়েও বিস্তারিত কথা হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক ও আঞ্চলিক স্তর থেকে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে খবর। শুধু প্রাক্তন বিধায়ক নন, পুরসভা ও পঞ্চায়েত স্তরে জনপ্রতিনিধিত্বের অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

    আলোচনা কাঁটাতার ও সীমান্ত নিয়েও…

    এছাড়াও সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতার নির্মাণের জন্য জমি সংক্রান্ত অনুমোদন এবং পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ কার্যকর করার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের ভূমিকা কী হবে, সেই বিষয়টিও বৈঠকে উঠে এসেছে। পাশাপাশি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন অমিত শাহ।

    বিকেলের মোদি-শুভেন্দু বৈঠকে নজর

    অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন, ডবল ইঞ্জিন সরকারের রূপরেখা এবং আগামী দিনের প্রশাসনিক পরিকল্পনা নিয়ে দু’জনের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। নতুন সরকার গত দুই সপ্তাহে কী কী পদক্ষেপ করেছে, সে বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রের কাছে বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের দাবি তোলা হতে পারে বলেও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা রয়েছে। দীর্ঘদিনের বকেয়া, কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় এবং পশ্চিমবঙ্গে ভারী শিল্প ও অন্যান্য বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

  • Falta Repoll: ছাপ্পা-রিগিং বিতর্কের পর পুনর্নির্বাচনের ফলতায় চলছে ভোটগ্রহণ, সকাল থেকেই বুথে বুথে লাইন ভোটারদের

    Falta Repoll: ছাপ্পা-রিগিং বিতর্কের পর পুনর্নির্বাচনের ফলতায় চলছে ভোটগ্রহণ, সকাল থেকেই বুথে বুথে লাইন ভোটারদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে আজ, বৃহস্পতিবার ২১ মে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৬টা পর্যন্ত। এই কেন্দ্রের মোট ২৮৫টি বুথে পুনরায় ভোট নেওয়া হচ্ছে। মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ২৫ হাজার। আগামী ২৪ মে ভোটগণনা হবে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, ২৯ এপ্রিলের ভোটে একাধিক অনিয়ম ও ভোটপ্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার অভিযোগের জেরে গোটা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ভোটে অনিয়মের অভিযোগ

    গত ২৯ এপ্রিল ছিল রাজ্যের শেষ দফার বিধানসভা নির্বাচন। সেই দিন ফলতা কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথ থেকে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ ওঠে, একাধিক ইভিএমে আতর, কালি ও টেপ লাগানো হয়েছিল। কোথাও বুথ দখল, কোথাও ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ জমা পড়ে। ভোটারদের ভয় দেখানো, ভোট দিতে বাধা দেওয়া এবং ভুয়ো ভোটারের মাধ্যমে অন্যের হয়ে ভোট দেওয়ার মতো অভিযোগও ওঠে। এছাড়াও বেশ কিছু বুথে সিসিটিভি বা ভিডিও রেকর্ডিং পাওয়া যায়নি বলে জানা যায়। কোথাও দীর্ঘ সময় নজরদারি ব্যবস্থা বন্ধ ছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। কিছু বুথে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মীদের অযাচিত উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

    কমিশনের সিদ্ধান্ত

    ফলতা থেকে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসার পর পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য ছিল, পরিস্থিতি বিচার করে নির্বাচন কমিশনের উচিত পুনরায় ভোট করানো। পরে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তর রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, ভোটের দিন সকালে কয়েকটি বুথে ক্যামেরা বন্ধ ছিল এবং পরে “টেপ রিমুভড” বলে তথ্য দেওয়া হয়। ওই সময়ের মধ্যেই বিপুল ভোট পড়ে যায় বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। এরপর নির্বাচন কমিশন জানায়, ফলতায় “স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক ভোটপ্রক্রিয়া” বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। সেই কারণেই কেন্দ্রের সবকটি বুথে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    পুনর্নির্বাচন ঘিরে ফলতায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর সূত্রে খবর, আগের ভোটের তুলনায় নিরাপত্তা প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। এবার প্রতিটি বুথে ৮ জন করে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (CAPF) জওয়ান মোতায়েন থাকবেন। গত ২৯ এপ্রিল বুথপিছু মাত্র ৪ জন কেন্দ্রীয় বাহিনী ছিল। মোট ২৮৫টি বুথের জন্য প্রায় ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩০টি কুইক রেসপন্স টিম (QRT) প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

    ওয়েবকাস্টিং ও ড্রোন নজরদারি

    প্রতিটি বুথের ভেতরে দুটি এবং বাইরে একটি করে ওয়েব ক্যামেরা বসানো হয়েছে। গোটা ভোটপ্রক্রিয়ার লাইভ ওয়েবকাস্টিং করা হচ্ছে, যা জেলা নির্বাচন আধিকারিক ও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়া তদারকির জন্য তিন জন বিশেষ নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।

    ভোটের আগে সরে দাঁড়ালেন জাহাঙ্গির

    পুনর্নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগেই ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, তিনি আর এই নির্বাচনে লড়ছেন না। নিজেকে “ফলতার ভূমিপুত্র” উল্লেখ করে জাহাঙ্গির বলেন, তিনি চান ফলতায় শান্তি ও উন্নয়ন বজায় থাকুক। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    রাজনৈতিক সমীকরণে বদল

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, একসময় ফলতার রাজনীতিতে জাহাঙ্গির খানের যথেষ্ট প্রভাব ছিল। কিন্তু এবারের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। এলাকায় তৃণমূল বিরোধী সুর জোরালো হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর রোড শোও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, প্রচারের পুরো পর্বে জাহাঙ্গির খানের সমর্থনে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতিও রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই তাঁর ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানো নতুন করে জল্পনা তৈরি করে।

  • Abhishek Banerjee Properties: অভিষেকের ২৪, সোনা পাপ্পুর ২৪, জাভেদ খানের ছেলের ৯০টা সম্পত্তি! ‘‘আমি ছেড়ে দেওয়ার মানুষ নই’’ বললেন শুভেন্দু

    Abhishek Banerjee Properties: অভিষেকের ২৪, সোনা পাপ্পুর ২৪, জাভেদ খানের ছেলের ৯০টা সম্পত্তি! ‘‘আমি ছেড়ে দেওয়ার মানুষ নই’’ বললেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ফের তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সরকার গঠনের পর থেকেই দুর্নীতি ও সম্পত্তি কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতির কথা বলে আসা বিজেপি সরকার এবার সরাসরি নিশানায় আনে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক প্রভাবশালী নেতাকে। সম্প্রতি বিস্ফোরক দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানান, তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ চারজনের বিপুল সম্পত্তির খতিয়ান সরকারের হাতে এসেছে এবং সেই সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    সক্রিয় পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পরই তিনি পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে নির্দিষ্ট কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পত্তির নথি সংগ্রহের নির্দেশ দেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই তিনি জনসমক্ষে একাধিক নাম ও সম্পত্তির সংখ্যা প্রকাশ করেন। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “বাংলাকে যারা লুট করেছে, তাদের কাউকে ছাড়া হবে না। সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করে যারা প্রাসাদ গড়েছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের মুখোমুখি করা হবে।”

    কার কত সম্পত্তি?

    মুখ্যমন্ত্রীর প্রকাশ করা তালিকায় প্রথমেই উঠে আসে বেলেঘাটার তৃণমূল নেতা রাজু নস্করের নাম। শুভেন্দুর দাবি, তাঁর নামে ১৮টি সম্পত্তি রয়েছে। দ্বিতীয় নাম কসবার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দার, যার নামে ২৪টি সম্পত্তির হদিশ মিলেছে বলে দাবি সরকারের। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী আক্রমণের কেন্দ্রে আনেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর অভিযোগ, “ভাইপো”-অভিষেকের নামে ও তাঁর সঙ্গে যুক্ত সংস্থা লিপস্ অ্যান্ড বাউন্ডস্-এর নামে মিলিয়ে মোট ২৪টিরও বেশি সম্পত্তি রয়েছে। এছাড়াও অভিষেকের বাবার নামেও একাধিক সম্পত্তির উল্লেখ করেন তিনি। তালিকার চতুর্থ নাম হিসেবে উঠে আসে কসবার তৃণমূল বিধায়ক জাভেদ খানের ছেলের নাম, যার নামে একাই ৯০টি সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    অভিষেকের ৪৩টি সম্পত্তির তালিকা বিজেপির হাতে!

    সূত্রের দাবি, ২৪ নয়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত মোট ৪৩টি সম্পত্তির তালিকা নাকি হাতে এসেছে বিজেপি সরকারের। যদিও সেই তালিকার সব সম্পত্তিই তাঁর একক মালিকানাধীন নয়। বেশ কিছু ক্ষেত্রে তিনি যুগ্ম মালিক বা পারিবারিক অংশীদার হিসেবে রয়েছেন। তবুও এই বিপুল সম্পত্তির উৎস কী, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক সম্পত্তির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে হেম দে লেন, ধর্মতলা রোড, গিরিন্দ্র শেখর বোস রোড, পণ্ডিত মদন মোহন মালব্য সরণী, দেবেন্দ্র ঘোষ রোড, রাজকৃষ্ণ ঘোষাল রোড, বৈষ্ণবঘাটা বাই লেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু রোড, পূর্বাচল রোড, বরাখোলা, ব্রহ্মপুর এবং কালিয়াপাড়া মুখার্জি রোডের একাধিক ঠিকানা। কয়েকটি সম্পত্তি ফ্ল্যাট, আবার কয়েকটি আবাসন ও বাণিজ্যিক ইউনিট হিসেবেও চিহ্নিত হয়েছে বলে দাবি।

    ‘‘আমি ছেড়ে দেওয়ার মানুষ নই’’

    এই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কলকাতা পুরসভার ফাইল খোলা হচ্ছে। কীভাবে বাংলাকে লুট করা হয়েছে, মানুষ কল্পনাও করতে পারবে না। আমরা ক্যাবিনেটে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছি। এই কমিটি প্রত্যেকটি অভিযোগ খতিয়ে দেখবে। আমি ছেড়ে দেওয়ার মানুষ নই।” শুভেন্দু অধিকারী আরও দাবি করেন, ইতিমধ্যেই দুর্নীতির অভিযোগে প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বোস এবং পুলিশ আধিকারিক শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে আরও বড় রাঘববোয়ালদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযান চলবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

    ইডির জালে সোনা পাপ্পু, পুলিশের হাতে রাজু নস্কর…

    এরইমধ্যে, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর ইডি গ্রেফতার করেছে সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারকে। জমি দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, হাওয়ালা লেনদেন এবং তোলাবাজির অভিযোগে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, বেলেঘাটার রাজু নস্করও ইতিমধ্যেই অপহরণ ও মারধরের মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। ফলে তৃণমূলের একাধিক স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি চাপ ক্রমশ বাড়ছে।

    গ্রেফতারি এড়াতে হাইকোর্টে অভিষেক!

    এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে দায়ের হওয়া একটি মামলায় সম্ভাব্য গ্রেফতার এড়াতে সোমবারই তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বলে জাান গিয়েছে। যদিও তৃণমূলের তরফে এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ জবাব দেওয়া হয়নি, দলের অন্দরে এই ইস্যু ঘিরে চাপা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি।

    “দুর্নীতিবিরোধী সরকার” হওয়ার লক্ষ্যে…

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদলের পর বিজেপি প্রশাসনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়ে উঠছে দুর্নীতি ও সম্পত্তি তদন্ত। একদিকে যেমন বিরোধী শিবিরে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে এই অভিযানকে সামনে রেখে নিজেদের “দুর্নীতিবিরোধী সরকার” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। আগামী দিনে এই তদন্ত কতদূর গড়ায় এবং সত্যিই কোনও বড় আইনি পদক্ষেপ হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।

LinkedIn
Share