Tag: West Bengal

West Bengal

  • Assembly Elections 2026: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হবে দু’দফায়! জোর জল্পনা, ভোট ঘোষণা কবে?

    Assembly Elections 2026: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হবে দু’দফায়! জোর জল্পনা, ভোট ঘোষণা কবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুয়ারে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন। দু’দিন আগেই বঙ্গ সফর শেষ করে নয়াদিল্লি ফিরে গিয়েছে নির্বাচন কমিশনের (EC) ফুল বেঞ্চ। তার পরেই শুরু হয়েছে রাজ্যে নির্বাচন কবে এবং ক’দফায় হবে, তা নিয়ে জোর জল্পনা। জানা (Assembly Elections 2026) গিয়েছে, বঙ্গে নির্বাচন হতে পারে দু’দফায়। অন্তত নির্বাচন কমিশনের এক শীর্ষ আধিকারিক সূত্রেই এমন ইঙ্গিত মিলেছে। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন হতে পারে দু’দফায়। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করেই ভোট গ্রহণের দফা কমানোর কথা ভাবা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পর্যায়ের বৈঠক এবং রাজ্যের সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পরেই নির্বাচনের নির্ঘণ্ট এবং ভোট গ্রহণের দফার বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা করা হবে।

    বৈঠক রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে (Assembly Elections 2026)

    এ রাজ্যে এসে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ বৈঠক করে রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে, আলোচনা করেন রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গেও। বৈঠকে রাজ্যের বিরোধী দলগুলি, বিশেষত বিজেপি, সিপিআই(এম) এবং কংগ্রেস কমিশনের কাছে এক বা সর্বাধিক দু’দফায় নির্বাচন করানোর জোরালো দাবি জানিয়েছে। বিরোধীদের বক্তব্য, বেশি দফায় নির্বাচন হলে দুষ্কৃতীদের এক কেন্দ্র থেকে অন্যত্র যাওয়ার সুযোগ থাকে। তাই অবাধ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ ভোটের স্বার্থে কম দফায় নির্বাচন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

    হিংসার ঘটনা

    এর আগে রাজ্যে যেসব নির্বাচন হয়েছে, সেগুলিতে প্রায়ই হিংসার ঘটনা ঘটেছে। তাই নির্বিঘ্নে এ রাজ্যে ভোট সাঙ্গ করা কমিশনের কাছেও বড়ই উদ্বেগের। তাই এবার নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার অনেক আগে থেকেই রাজ্যে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যাতে ভোটারদের আস্থা তৈরি করা যায়। প্রসঙ্গত, রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরাও কমিশনকে আশ্বস্ত করেছেন, ভোটের আগে ও পরে রাজ্যে কড়া নিরাপত্তা বজায় রাখা হবে।

    রাজ্যে পৌঁছল নির্দেশিকা

    এদিকে, ইতিমধ্যেই নির্দেশ চলে এসেছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে। নির্দেশিকা পৌঁছে গিয়েছে রাজ্যের সব জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছেও। তাতে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহেই সব বুথ তৈরি করে ফেলতে হবে। পানীয় জল, দরজা, জানলা, বিদ্যুৎ-সহ বয়স্কদের জন্য ঢোকা ও বেরোনোর জায়গা ঠিক করতে হবে। বুথের ভেতরে ক্যামেরা লাগানোর জায়গা ঠিক করতে হবে। যে গাড়িগুলি ভোটের দিন টহলদারির কাজে ব্যবহার করা হবে, সেই গাড়ির মাথায় এখনই ক্যামেরা লাগিয়ে টেস্ট করে রাখতে হবে (Assembly Elections 2026)। যেসব বুথে ১২০০-র বেশি ভোটার রয়েছেন, সেগুলিকে দু’ভাগে ভাগ করে অক্সিলিয়ারি বুথ চিহ্নিতকরণ করতে হবে। সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হলে, তা এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে। জাতীয় কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী একটুও খামতি রাখতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন (EC)।

    আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

    এবার বঙ্গ সফরে এসে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ বৈঠক করে রাজ্যের ২৩টি জেলার জেলাশাসক, জেলা ও পুলিশ জেলার সুপার এবং রাজ্য ও কেন্দ্রের ২৪টি সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্বয়ং। শুধু ভোটের সময় নয়, নির্বাচনোত্তর হিংসার ঘটনা নিয়েও রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনকে কড়া বার্তা দেন জ্ঞানেশ কুমার। রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর কমিশনের ফুল বেঞ্চ মনে করছে, ক্ষেত্রবিশেষে কোথাও কোথাও কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুব খারাপ রয়েছে বলেও মনে করছে না কমিশন (Assembly Elections 2026)।

     

  • Gyanesh Kumar: “পশ্চিমবঙ্গে ভোট হবে অবাধ, শান্তিপূর্ণ”, বললেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার

    Gyanesh Kumar: “পশ্চিমবঙ্গে ভোট হবে অবাধ, শান্তিপূর্ণ”, বললেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পশ্চিমবঙ্গে ভোট (Assembly Election 2026) হবে অবাধ, শান্তিপূর্ণ। কোনওরকম হিংসা বরদাস্ত করা হবে না।” মঙ্গলবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে একথাই বললেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ভোটের কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ভয় দেখানো বা হুমকি দেওয়া যাবে না। এ সংক্রান্ত অভিযোগ পেলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। এসআইআর প্রসঙ্গে তিনি জানান, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং এসআইআর অনুযায়ী ভোটার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না।

    ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি (Gyanesh Kumar)

    এসআইআরের লক্ষ্য হল, স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি করা। তিনি জানান, কিছু ভোটার রয়েছেন, যাঁদের রাজনৈতিক দলগুলি বোঝাতে পারেনি যে যাঁদের নাম নেই, তাঁরা ফর্ম ৬ পূরণ করতে পারেন এবং ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারেন। তাঁর দাবি, সেই কারণেই এই সংঘাত। তিনি জানান, কোনও ভোটার বা ভোটকর্মীকে ভয় দেখানো যাবে না। কমিশন এই বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেবে। কমিশন জানিয়েছে, দু’ঘণ্টা অন্তর প্রিসাইডিং অফিসাররা জানাবেন ভোটদানের (Assembly Election 2026) হার। এটি আপলোড করা হবে ইসিআইনেট অ্যাপ এবং কমিশনের সাইটে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রাজ্যের সব ভোটকেন্দ্রে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। কোনও প্রার্থী চাইলে নির্বাচনের পর এক সপ্তাহের মধ্যে ইভিএম পরীক্ষা করাতে পারবেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জানান, ইভিএমে প্রার্থীদের রঙিন ছবি দেওয়া থাকবে। পশ্চিমবঙ্গে ৮০ হাজারেরও বেশি বুথ থাকবে।

    ভোটার সহায়তা কেন্দ্র

    প্রতিটি বুথে থাকবে ভোটার সহায়তা কেন্দ্র। থাকবে পানীয় জলের ব্যবস্থাও। কোনও বুথে ১২০০-এর বেশি ভোটার থাকবে না। বুথের বাইরে করা হবে মোবাইল রাখার জায়গা। সেখানে মোবাইল রেখে ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে পারবেন ভোটাররা। জ্ঞানেশ কুমার জানান, এ রাজ্যে নির্বাচন হবে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ। বয়স্ক ভোটারদের কথা মাথায় রেখে সব ভোটকেন্দ্র হবে একতলায়। ব্যবস্থা থাকবে হুইল চেয়ার এবং র‌্যাম্পেরও। বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে। ৮৫ বছরের বেশি যাঁদের বয়স, তাঁদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বাড়ি থেকে (Gyanesh Kumar)।

    পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই আইন কার্যকর করার নির্দেশ

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জানান (Assembly Election 2026), সব অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনও ভয় বা পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই আইন কার্যকর করুন। কোনও সরকারি কর্মী বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করবেন না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসপি, জেলাশাসকদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ভোটারদের সুরক্ষার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি জানান, কত দফায় ভোট হবে, তা জানানো হবে আলোচনার পর। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যুব সম্প্রদায়কে ভোটদানে উৎসাহিত করতে কমিশন প্রচার করবে রাজ্যের কলেজগুলিতে। তরুণ ভোটারদের উৎসাহিত করতে প্রতিটি বিধানসভায় ক্যাম্পেন করবেন বিশেষ অফিসাররা (Gyanesh Kumar)। জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “ভারত গণতান্ত্রিক দেশ। সকলের বাক্-স্বাধীনতা আছে। রাজনৈতিক দল কিছু বলতেই পারে। তা নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। আমরা রাজনৈতিক মন্তব্যের উত্তর দিই না।”

    প্রসঙ্গত, এদিন কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। জ্ঞানেশ কুমারের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশী এবং সুখবীর সিংহ সান্ধু। ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী (Assembly Election 2026) আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালও। সূত্রের খবর, কমিশন এ রাজ্যে ভোটের ঘণ্টা বাজিয়ে দিতে পারে ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারি। সেদিনই জানানো হবে ভোটের নির্ঘণ্ট (Gyanesh Kumar)।

     

  • RN Ravi: রাজ্যপাল পদে ইস্তফা আনন্দ বোসের, অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে তামিলনাড়ুর রাজ্যপালকে

    RN Ravi: রাজ্যপাল পদে ইস্তফা আনন্দ বোসের, অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে তামিলনাড়ুর রাজ্যপালকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটমুখী বাংলায় আচমকাই পদত্যাগ করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তাঁর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। আজ, বৃহস্পতিবারই ইস্তফা দেন আনন্দ বোস। এ রাজ্যের (West Bengal) অন্তর্বর্তী রাজ্যপালের দায়িত্ব দেওয়া হল তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আরএন রবিকে (RN Ravi)। তামিলনাড়ুর পাশাপাশি বাংলার দায়িত্বও সামলাবেন তিনি। রাজ্যপাল পদে আসীন হওয়ার আগে রবি ছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এবং আইবিতে। এ রাজ্যে দুয়ারে বিধানসভা নির্বাচন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের আগে প্রাক্তন আইপিএস অফিসারকে অন্তর্বর্তী রাজ্যপালের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।

    মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া (RN Ravi)

    ঘটনায় যারপরনাই বিস্ময় এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, এর কারণ তাঁর জানা নেই। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগাম কোনও পরামর্শ ছাড়াই আরএন রবির নয়া রাজ্যপাল হিসেবে আসন্ন নিয়োগের বিষয়ে জানিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিত, এই পরিবর্তনটি হয়তো নির্বাচনী স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকারকে তিনি এমন একটি সরকার হিসেবে বর্ণনা করেন, যা ক্রমশ পদত্যাগের মাধ্যমে চিহ্নিত হয়ে উঠছে।

    বোস-বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক

    বোসের সঙ্গে বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সম্পর্ক ছিল অম্ল-মধুর। দায়িত্ব নেওয়ার পরে পরেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নানা বিষয়ে মনান্তর হয়েছে রাজ্যপালের। পরে আবার মিটমাটও হয়ে গিয়েছে। ওদিকে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রবির সঙ্গে সে রাজ্যের (RN Ravi) স্টালিন সরকারের ‘সংঘাতে’র খবরও প্রায়ই শিরোনাম হয়েছে সংবাদ মাধ্যমের। গত বছর স্বাধীনতা দিবসে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রবির চা-চক্রে অংশ নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী স্টালিন। এ নিয়ে রীতিমতো বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছিলেন তিনি। রাজ্যপালের নাম না করে ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল যিনি প্রতিনিয়ত তামিলনাড়ুর জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজ করছেন, তাঁর আমন্ত্রণে সাড়া দেবেন না মুখ্যমন্ত্রী। চেন্নাইয়ের রাজভবনে রাজ্যের অন্য মন্ত্রীরাও যাবেন না বলে জানানো হয়েছিল সেই বিজ্ঞপ্তিতে। তারপর ২০২৩ সাল থেকে রাজ্যপালের চা চক্র এড়িয়েই চলছে তামিলনাড়ুর স্টালিন সরকার।

    দায়িত্ব আরএন রবির হাতে

    কয়েক বছর আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে রাজ্যপালকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছিল তামিলনাড়ু সরকার। এর পরে বিধানসভায় পাশ হওয়া ১০টি বিল রাজ্যপাল আটকে রেখেছেন বলে অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও করেছিল স্টালিন সরকার। শেষমেশ সুপ্রিম নির্দেশে ২০২৫ সালের শুরুতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে বিলগুলিতে স্বাক্ষর করেছিলেন রবি। তারপরেও রবির সঙ্গে স্টালিন সরকারের সম্পর্ক আক্ষরিক অর্থেই অহি-নকুলের। চলতি বছরের শুরুতে তামিলনাড়ু বিধানসভায় জাতীয় সঙ্গীত অবমাননার অভিযোগও তোলেন রাজ্যপাল। সরকারের লিখিত ভাষণ পাঠ না করেই অধিবেশন ছেড়ে চলেও গিয়েছিলেন (West Bengal) রবি। এহেন রবির ওপরই বর্তেছে বঙ্গের রাজ্যপালের দায়িত্বও, তাও আবার বিধানসভা নির্বাচনের আগে আগে (RN Ravi)।

    এখন দেখার, কোথাকার জল কোথায় গড়ায়!

     

  • BJP: রাজ্যসভায় যাচ্ছেন বিজেপির রাহুল সিনহা, শমীক জমানায় বাড়ল গুরুত্ব

    BJP: রাজ্যসভায় যাচ্ছেন বিজেপির রাহুল সিনহা, শমীক জমানায় বাড়ল গুরুত্ব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার বিজেপির তরফে ঘোষণা করা হল ছ’টি রাজ্যের মোট ন’টি রাজ্যসভা (Rajya Sabha) আসনের প্রার্থীর নাম। পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপির (BJP) প্রার্থী হচ্ছেন রাহুল সিনহা। তালিকায় নাম রয়েছে নিতিন নবীনেরও। রাহুল বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। পরে হয়েছিলেন জাতীয় সম্পাদক। গত কয়েক বছর ধরে বিজেপির কোনও পদে অবশ্য ছিলেন না রাহুল।

    বিজেপির প্রার্থী রাহুল সিনহা (BJP)

    জাতীয় সম্পাদকের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে বসানো হয়েছিল অনুপম হাজরাকে। সেই সময় দলীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন রাহুল, যদিও বিজেপি ছাড়েননি। শমীক ভট্টাচার্য বিজেপির রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর থেকে বঙ্গ বিজেপিতে গুরুত্ব বাড়তে থাকে রাহুলের। পরিবর্তন সংকল্প যাত্রার সভায় রাজ্যের বেশ কয়েকটি জায়গায় প্রধান বক্তা হিসেবে পাঠানো হচ্ছিল রাহুলকে। এবার তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হল রাজ্যসভার সদস্য করে। প্রসঙ্গত, বিধানসভার যা বিন্যাস, তাতে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের চারটি এবং বিজেপির একটি আসনে নির্বাচিত হয়ে রাজ্যসভায় যাওয়ার কথা প্রার্থীদের। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল আগেই ঘোষণা করে দিয়েছে চার প্রার্থীর নাম। বিজেপিও ঘোষণা করে দিল তাদের প্রার্থীর নাম (BJP)। ফলত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়ে রাজ্যসভায় যাচ্ছেন বাংলার এই পাঁচজন।

    আর কোন কোন রাজ্য থেকে কে?

    এদিকে, গত ডিসেম্বরে নিতিনকে বিজেপির কার্যনির্বাহী সর্বভারতীয় সভাপতি করেছিল বিজেপি। দায়িত্ব নেন ২০ জানুয়ারি। তার আগে বিধানসভা নির্বাচনে বিহারের পাটনার বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন নবীন। তাই তিনি এখন বিধায়ক। যেহেতু সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে এখন নবীনকে বছরের অনেকটা সময় দিল্লিতেই কাটাতে হয়, তাই বিধানসভায় তিনি খুব একটা সময় দিতে পারবেন না বলেই মনে করেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই কারণেই নিতিনকে পাঠিয়ে দেওয়া হল রাজ্যসভার সাংসদ করে। নিতিন ছাড়াও বিহার থেকে বিজেপির তরফে সংসদে যাচ্ছেন শিবেশ কুমার। অসম থেকে পাঠানো হচ্ছে তেরশ গোয়ালা এবং যোগেন মোহনকে। ছত্তিশগড় থেকে যাচ্ছেন (Rajya Sabha) লক্ষ্মী বর্মা, হরিয়ানা থেকে সঞ্জয় ভাটিয়া, ওড়িশা থেকে যাচ্ছেন মনমোহন সামল এবং সুজিত কুমার (BJP)।

     

  • CAA: ভারতীয় নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য আরও দু’টি কমিটি গঠন কেন্দ্রের

    CAA: ভারতীয় নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য আরও দু’টি কমিটি গঠন কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ), ২০১৯-এর অধীনে ভারতীয় নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য আরও দুটি অতিরিক্ত ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটি গঠন করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক (CAA)। রাজ্যে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক আবেদনের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে খবর (Citizenship Applications)। এই সিদ্ধান্তের ফলে পশ্চিমবঙ্গে এখন মোট চারটি ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটি সিএএর আওতায় দাখিল হওয়া নাগরিকত্ব দাবিগুলি পরীক্ষা ও নিষ্পত্তির দায়িত্বে থাকবে।

    কেন আরও কমিটি গঠন? (CAA)

    প্রশ্ন হল, কেন আরও কমিটি গঠন করা হল? সোমবার জারি করা এক সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সংশোধিত আইনের অধীনে ভারতীয় নাগরিকত্বের আবেদনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সম্প্রসারণ প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছিল। আধিকারিকরা জানান, নতুন কমিটিগুলি মুলতুবি মামলাগুলির যাচাই ও নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া দ্রুততর করবে। সিএএর বিধি আনুষ্ঠানিকভাবে ১১ মার্চ, ২০২৪-এ বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশিত হয়। সংসদে আইনটি পাস হওয়ার প্রায় চার বছর পর তা কার্যকর করা হয় (CAA)। সর্বশেষ গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতিটি ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটির সভাপতি হবেন ভারত সরকারের ডেপুটি সেক্রেটারি পদমর্যাদার নীচে নন—এমন এক আধিকারিক, যাঁকে ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও জনগণনা কমিশনার মনোনীত করবেন।

    কমিটির গঠন প্রণালী

    এছাড়ও কমিটিগুলিতে থাকবেন সাবসিডিয়ারি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর একজন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট এলাকার ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)-এর একজন মনোনীত প্রতিনিধি, ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার (এনআইসি), পশ্চিমবঙ্গের স্টেট ইনফরমেটিক্স অফিসার কর্তৃক মনোনীত একজন প্রতিনিধি, পশ্চিমবঙ্গের পোস্ট মাস্টার জেনারেল অথবা সমপদমর্যাদার কোনও মনোনীত ডাক কর্মকর্তা। এছাড়াও, কমিটির কার্যক্রমে দু’জন আমন্ত্রিত সদস্য অংশ নেবেন। এঁরা হলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রধান সচিব (স্বরাষ্ট্র) বা অতিরিক্ত মুখ্য সচিব (স্বরাষ্ট্র)-এর দফতরের একজন প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট বিভাগের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের দফতরের একজন প্রতিনিধি। এর আগে, ১১ মার্চ ২০২৪-এ জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন ডিরেক্টর (সেন্সাস অপারেশনস) এবং সেখানে মোট সাতজন সদস্য ছিলেন।

    প্রসঙ্গত, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯ সালে পাস হয় এবং ২০২৪ সালের মার্চ মাসে কেন্দ্রীয় সরকার বিধি জারি করার পর তা কার্যকর হয়। এই আইন অনুযায়ী, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আগত নথিবিহীন অ-মুসলিম অভিবাসীরা, যাঁরা ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ বা তার আগে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার একটি পথ তৈরি করা হয়েছে (Citizenship Applications)। আইনটি পাস হওয়ার পর থেকেই এটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে (CAA) রয়ে গিয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এ নিয়ে বিতর্ক ও প্রতিবাদ হয়েছে।

     

  • SIR Final List: মুখ্যমন্ত্রীর ভবানীপুরে ৪৭ হাজার ভোটারের নাম বাদ! ওই কেন্দ্রে দাঁড়াবেন কি মমতা, কী বলছে বিজেপি?

    SIR Final List: মুখ্যমন্ত্রীর ভবানীপুরে ৪৭ হাজার ভোটারের নাম বাদ! ওই কেন্দ্রে দাঁড়াবেন কি মমতা, কী বলছে বিজেপি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর-র চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুর বিধানসভায় মোট ৪৭ হাজারের বেশি নাম বাদ পড়েছে। ২০২১ সালের উপনির্বাচনে ওই কেন্দ্র থেকে ৫৮ হাজার ৮৩২ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন মমতা। সেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিজেপি-র প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল। বেশ কিছুদিন ধরে বিজেপি হুঙ্কার দিচ্ছে, এই কেন্দ্রে তারা জিতবে। এই আবহে কত নাম বাদ পড়বে, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। শনিবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর সংখ্যাটা সামনে এল।

    মোট কত ভোটার বাদ পড়ল ভবানীপুরে

    এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর সময় কমিশন জানিয়েছিল, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে মোটা ভোটারের সংখ্যা ২ লক্ষ ৬ হাজার ২৯৫। গত ১৬ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, ৪৪ হাজার ৭৮৬ জনের নাম বাদ পড়েছে। এবার চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় আরও ২ হাজার ৩২৪ জনের নাম বাদ পড়ল। সবমিলিয়ে ভবানীপুর কেন্দ্রে বাদ পড়েছে ৪৭ হাজার ৯৪ জনের নাম। শুধু ৪৭ হাজার নাম বাদ নয়, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে আরও ১৪ হাজার ১৫৪ জনের নাম অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে। নথি যাচাইয়ের পর বাদ পড়লে ভবানীপুরে নাম বাদের সংখ্যা আরও বাড়বে। ভবানীপুর কেন্দ্রে বর্তমানে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৫৯,২০১ জন।

    ভবানীপুরে দাঁড়াবেন মমতা!

    এই নাম বাদের কোনও প্রভাব কি বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026) পড়বে? উঠছে প্রশ্ন। এদিন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “২ জায়গার ভোটার কিংবা যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের নাম বাদ গিয়েছে। আবার এই তালিকা প্রকাশের পরও নাম তোলার সুযোগ রয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৪৭ হাজার নাম বাদ গিয়েছে। তবে যাই হোক না কেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার ভবানীপুরে দাঁড়াতে সাহস পাবেন বলে মনে হয় না।” ছাব্বিশের নির্বাচনের প্রাক্কালে শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদাররা একাধিকবার ভবানীপুরে এসে দাবি করেছেন, এবার বিজেপি এই আসনে জিতবে। শুক্রবার শুভেন্দু বলেছিলেন, “উনি জানেন কাদের ভোটে জিতেছিলেন। ওটা বিজেপির জায়গা। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, আপনি দাঁড়ান। পালাবেন না। বাকিটা বুঝে নেব।”

    রাজ্যে কত ভোটারের নাম বাদ পড়ল

    কমিশন সূত্রে খবর, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার খসড়া তালিকা প্রকাশের আগেই ৫৮ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। এরপর নতুন করে আরও ৭ লক্ষ ভোটারের নামের পাশে ‘ডিলিটেড’ (Deleted) বা মুছে ফেলা হয়েছে এমন মন্তব্য লেখা হয়েছে। অর্থাৎ, সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ৬৫ লক্ষ নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর বাইরে, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় থাকলেও তার পাশে ‘বিচারাধীন’ লেখা রয়েছে। এই নামগুলি চূড়ান্ত কি না, তা নিয়ে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা সমস্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন।

  • BJP: ১ মার্চ থেকেই বঙ্গে শুরু পরিবর্তন যাত্রা, তৃণমূলকে মাত দিতে পুরানো অস্ত্রেই শান বিজেপির!

    BJP: ১ মার্চ থেকেই বঙ্গে শুরু পরিবর্তন যাত্রা, তৃণমূলকে মাত দিতে পুরানো অস্ত্রেই শান বিজেপির!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পয়লা মার্চেই এ রাজ্যে শুরু হয়ে যাচ্ছে বিজেপির (BJP) পরিবর্তন যাত্রা (Parivartan Yatra)। চলবে ১০ মার্চ পর্যন্ত। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এভাবেই হাইভোল্টেজ জনসংযোগ অভিযান শুরু করতে চলেছে গেরুয়া শিবির। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গের ৯টি আলাদা আলাদা জায়গা থেকে এই যাত্রা পরিচালিত হবে। যাত্রা ছুঁয়ে যাবে ২৩০টির বেশি বিধানসভা কেন্দ্রকে। এহেন আবহে ৬৪টি বড় জনসভারও পরিকল্পনা করেছে বিজেপি। ছোট জনসভা হবে ২৮০টির বেশি। পরিবর্তন যাত্রা হবে ৫০০০ কিলোমিটারজুড়ে। বিজেপি সূত্রে খবর, এই যাত্রার মাধ্যমে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হবে ১ কোটিরও বেশি মানুষের সঙ্গে।

    রাজসূয় যজ্ঞের আয়োজন (BJP)

    এই রাজসূয় যজ্ঞের আয়োজনই বলে দিচ্ছে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ কোনও সাধারণ রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি সরাসরি মাঠে নেমে মসনদ দখলের এক হাই-ভোল্টেজ অভিযান। এর লক্ষ্য জনসংযোগ, কর্মীদের চাঙা করা এবং রাজ্যজুড়ে অপরাজেয় সাংগঠনিক একটি শক্তি গড়ে তোলা। যাত্রার শেষে মেগা জনসভা হবে ব্রিগেডে। সেখানে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের সিংহভাগের মতে, পরিবর্তন অনিবার্য করবে পরিবর্তন যাত্রা। এই যাত্রার মাস্টারস্ট্রোক একদিকে যেমন শাসকদলকে চাপে ফেলবে, অন্যদিকে তেমনি বিরোধী ভোটকে একছাতার তলায় আনবে। পরিবর্তন যাত্রার এই ১০ দিনে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সংবাদমাধ্যমের নজর বিজেপির দিকে থাকবে, যা গেরুয়া শিবিরকে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবে টিভির পর্দার মাধ্যমে (BJP)।

    পরিবর্তন যাত্রা

    পশ্চিমবঙ্গে এই পরিবর্তন যাত্রা আরও একটি বিশেষ কাজ করবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। বর্তমানে বাংলার রাজনীতির মেরুকরণ হয়ে গিয়েছে। একদিকে রয়েছে তৃণমূল এবং অন্যদিকে বিজেপি। এই পরিবর্তন যাত্রার মাধ্যমে তৃণমূল-বিরোধী ভোট এককাট্টা হবে এবং তা পদ্ম ঝুলিতে পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ মানুষের মনে এই বিশ্বাস তৈরি হয়েছে যে তৃণমূলকে পরাস্ত করতে পারে একমাত্র বিজেপি-ই। অন্যদিকে কংগ্রেস বা সিপিএমকে ভোট দেওয়া মানে ভোট কেটে তৃণমূলের সুবিধা করা। তাই বিরোধী ভোট এই পরিবর্তন যাত্রার মাধ্যমে আসবে বলেই মনে করছেন অনেকে (Parivartan Yatra)।

    পটপরিবর্তনে বিজেপির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন যাত্রা

    আসুন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বিজেপির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন যাত্রাগুলি সম্পর্কে ফের একবার জেনে নিই। রাম জন্মভূমি আন্দোলন নয়ের দশকের শুরুতে বিজেপির রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনে। একাধিক পরিবর্তন যাত্রায় বিজেপির সংগঠন মজবুত হয়। একটা প্রান্তিক সংসদীয় দল থেকে বিজেপি জাতীয় শক্তিতে পরিণত হয়। এই আন্দোলন উত্তর ও পশ্চিম ভারতে দলের সংগঠন ও সমর্থক বাড়াতে সাহায্য করে। অযোধ্যা মামলা দীর্ঘদিন আদালতে চললেও, শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর সেখানে রাম মন্দির নির্মাণের পথ খুলে যায়। বিজেপির মতে, এটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রচেষ্টার ফল (BJP)।

    ‘গুজরাট গৌরব যাত্রা’

    ২০২২ সালে গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি ‘গুজরাট গৌরব যাত্রা’ শুরু করেছিল। এটা ছিল বড় ধরনের প্রাক-নির্বাচনী প্রচার। মাত্র ১০ দিনে ১৮২টি কেন্দ্র ও প্রায় ৫,৭০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছিল সেই যাত্রা। এর ফলে বিজেপির আসন সংখ্যা ৯৯ থেকে বেড়ে ১৫৬ হয়। ভোটের হার ৪৯ শতাংশ থেকে বেড়ে হয় ৫২.৫ শতাংশ। গুজরাটের ইতিহাসে সেই প্রথম কোনও দল ৫০ শতাংশের গণ্ডি অতিক্রম করে (Parivartan Yatra)।

    ‘বিকাশ যাত্রা’

    ২০২৩ সালের মধ্যপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি ‘বিকাশ যাত্রা’ এবং সেপ্টেম্বরে ‘জন আশীর্বাদ যাত্রা’ করেছিল। সব মিলিয়ে এই দুই যাত্রা অতিক্রম করেছিল ১০,৬৪৩ কিমি পথ। যাত্রা পৌঁছেছিল ২৩০টির মধ্যে ২১০টি আসনে। এর ফলে নির্বাচনে বিজেপির আসন ১০৯ থেকে বেড়ে ১৬৩ হয়। ভোটের হার ৪১ শতাংশ থেকে বেড়ে হয় ৪৮.৬ শতাংশ। মহিলাদের ভোট বাড়ে ৭–৮ শতাংশ। আদিবাসী আসন ১৬ থেকে ২৪ হয়। মালওয়া-নিমার অঞ্চলে আসন ২৭ থেকে বেড়ে হয় ৪৭টি (BJP)।

    ‘পরিবর্তন যাত্রা’

    ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ছত্তিশগড়ে পরাজয়ের পর বিজেপি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু করে। দলের দাবি, এটি ছিল সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং তৃণমূলস্তরের কর্মীদের সঙ্গে পুনরায় সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগ। ১৬ দিনে প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করা হয়। নির্বাচনে বিজেপির আসন সংখ্যা ১৫ থেকে বেড়ে ৫৪ হয় এবং ভোটের হার ৩৩ শতাংশ থেকে ৪৬.৩ শতাংশে গিয়ে পৌঁছয়। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতা দখল করে বিজেপি।

    ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’

    ২০১৮ সালের পরাজয়ের পর বিজেপি রাজস্থানে ২০২৩ সালের নির্বাচনের আগে ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’ আয়োজন করেছিল। চার দফায় ২০ দিনে প্রায় ৯০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করা হয়েছিল সেবার (Parivartan Yatra)। নির্বাচনে বিজেপির আসন ৭৩ থেকে বেড়ে হয়েছিল ১১৫টি। ভোটের হার ৩৯.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে হয় ৪১.৬ শতাংশ। ক্ষমতায় আসে বিজেপি (BJP)।

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির এই ‘পরিবর্তন যাত্রা’ কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং বাংলা দখলের চূড়ান্ত রণকৌশল। রাম জন্মভূমি আন্দোলন থেকে শুরু করে গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ বা ছত্তিশগড়ের ঐতিহাসিক বিভিন্ন নজির প্রমাণ করে যে, যখনই বিজেপি এই ধরনের বৃহৎ আকারের যাত্রা করেছে, তখনই তা সফল হয়েছে। অতীতের রেকর্ড বলছে, বিজেপির এই যাত্রাই (Parivartan Yatra) বদলে দিয়েছে বিভিন্ন রাজ্যের ভাগ্য। বঙ্গে বিজেপির ভাগ্যের চাকা ঘোরে কিনা, এখন সেটাই দেখার (BJP)।

     

  • Bomb Scare in Courts: এসআইআর-এর কাজ শুরু হতেই বোমাতঙ্ক! কেন রাজ্যের আদালতগুলিকে টার্গেট করা হল?

    Bomb Scare in Courts: এসআইআর-এর কাজ শুরু হতেই বোমাতঙ্ক! কেন রাজ্যের আদালতগুলিকে টার্গেট করা হল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক জেলা আদালতে মঙ্গলবার একযোগে বোমাতঙ্কের (Bomb Scare in Courts) ইমেল ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এর জেরে বেশ কিছুক্ষণের জন্য ব্যাহত হয় বিচারপ্রক্রিয়া। আতঙ্কে আদালত চত্বর থেকে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের সরাতে গিয়ে তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। সবচেয়ে বেশি চাঞ্চল্য ছড়ায় কলকাতার সিটি সিভিল কোর্টে। আদালত সূত্রে খবর, প্রধান বিচারকের ইমেলে বোমা রাখার দাবি করা হয়। খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ বম্ব স্কোয়াড ও ডগ স্কোয়াড নিয়ে পৌঁছে যায় পুলিশ। পুরো ভবন খালি করে চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর সন্দেহজনক কিছু মেলেনি।

    এসআইআর-এর কাজ শুরু হতেই বোমাতঙ্ক

    শুধু কলকাতা নয়। আসানসোল, বহরমপুর, চুঁচুড়া, দুর্গাপুরে জেলা আদালতেও বোমাতঙ্ক ছড়ায়। সূত্রের খবর মেল ও ফোনে বোমা থাকার হুঁশিয়ারি এসেছে৷ কোনও একটা জায়গাতে নয়, একাধিক জেলা আদালতে প্রায় একই প্যাটার্নে বোম থাকার হুশিয়ারি দিয়েছে কেউ বা কারা! কিন্তু কেন? কেন রাজ্যের আদালতগুলিকে হঠাৎ টার্গেট করা হচ্ছে? কেনই বা রাজ্যের একাধিক জেলা আদালতে বোম থাকার খবর কেউ বা কারা ছড়িয়ে দিচ্ছে? সম্প্রতি এসআইআর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট৷ কলকাতা হাইকোর্টের নজরদারিতে হবে এসআইআর প্রক্রিয়া। এসআইআর-এ সমস্ত রকমের অসঙ্গতি দেখার জন্য জুডিসিয়াল অফিসার নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত৷ জেলা স্তরের জাজদের জুডিসিয়াল অফিসার হিসেবে নিয়োগের কথা বলে আদালত। আবার এই জুডিসিয়াল অফিসারদের পরামর্শ দেবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা। এসআইআর-এর কাজে গতি এনে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ‍্যে তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সম্পূর্ণ তালিকা প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে বাকিটা পরে অতিরিক্ত তালিকা হিসেবে প্রকাশ করা যাবে বলেও জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পরই সোমবার কাজে নেমে পড়েছেন অনেক জাজ। তারপরই জেলায় জেলায় আদালতে এই বোমাতঙ্ক কি নেহাত কাকতালীয় নাকি কোনও ষড়যন্ত্র? উঠছে সেই প্রশ্নও।

    বিচারকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই লক্ষ্য

    এদিকে, বিচারকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার বদ্ধপরিকর বলে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী জানিয়েছন। নবান্নে আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, কলকাতা, কৃষ্ণনগর, বহরমপুর-সহ একাধিক আদালতে বোমা রাখার হুমকি ইমেল এসেছে। সাধারণ মানুষ ও বিচারকরা সমস্যায় পড়েছেন ঠিকই, তবে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করেছে। নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করা হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পান্ডে জানান, প্রশাসন সব পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত। কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার বলেন, ব্যাঙ্কশাল ও সিটি সিভিল কোর্টে হুমকি ইমেল এসেছিল। দু’টিই ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে কে বা কারা আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • PM Modi: বঙ্গে আসন্ন নির্বাচন, রাজ্যবাসীকে বাংলায় খোলা চিঠি প্রধানমন্ত্রীর, দিলেন ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’ গড়ার ডাক

    PM Modi: বঙ্গে আসন্ন নির্বাচন, রাজ্যবাসীকে বাংলায় খোলা চিঠি প্রধানমন্ত্রীর, দিলেন ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’ গড়ার ডাক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুয়ারে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন। তার আগে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ করবে বিজেপি। এরপর ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) জনসভা থেকে বিধানসভা ভোটের ভেরি বাজাতে চাইছে গেরুয়া শিবির। পরিবর্তন যাত্রার সূচনা করতে মার্চের প্রথম সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, রাজনাথ সিং, দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ, শিবরাজ সিং চৌহান, নিতিন গড়করি, স্মৃতি ইরানির মতো হেভিওয়েটরা রাজ্যে আসবেন (Assembly Polls)। এহেন আবহেই বঙ্গবাসীর উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রী। ওই চিঠিতে রাজ্যের উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা এবং কল্যাণমূলক প্রকল্পের বিষয়গুলি তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। হিন্দি এবং বাংলা ভাষায় লেখা চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে ‘সোনার বাংলার’ স্বপ্ন দেখেন এমন প্রত্যেকেই কষ্ট পাচ্ছেন।

    রাজ্যের ভবিষ্যৎ (PM Modi)

    চিঠিতে তিনি বলেছেন, আগামী মাসগুলিতে রাজ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে এবং এই সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর নির্ভর করে। রাজ্যকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে তাঁর সংকল্পের কথা ফের একবার মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। রাজ্যবাসীকে উন্নয়ন যাত্রায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর চিঠিটি মা কালীর প্রশংসা দিয়ে শুরু করেছেন। তিনি লিখেছেন যে পশ্চিমবঙ্গের ভূমি দেশকে অনেক মহান ব্যক্তিত্ব দিয়েছে। ওই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, গত ১১ বছরে কেন্দ্রীয় সরকার জনকল্যাণ ও সামগ্রিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। কৃষক, যুবক, মহিলা এবং দরিদ্রদের জন্য চালু করা প্রকল্পগুলি ইতিবাচক ফল দিয়েছে। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকারের অসহযোগিতা সত্ত্বেও, কেন্দ্রীয় সরকারের বেশ কয়েকটি প্রকল্পের সুবিধা পশ্চিমবঙ্গের লাখ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। জন-ধন-যোজনার আওতায় লাখ লাখ মানুষ ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন (Assembly Polls)। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং শিল্পকে ঋণের সুবিধা দিয়েছে, সুযোগ বৃদ্ধি করেছে কর্মসংস্থানের (PM Modi)।”

    উন্নত বাংলার প্রতিশ্রুতি

    প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি বাংলাকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন। বাংলার মা ও বোনেরা নিরাপদ নন। অবৈধ অভিবাসন এবং মহিলাদের বিরুদ্ধে হিংসা রাজ্যকে কলঙ্কিত করেছে। সংকীর্ণ ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি, হিংসা এবং অরাজকতার মধ্যে জড়িয়ে পড়েছে রাজ্য। ভুয়ো ভোটাররা আস্তানা গেড়েছে। এই অবৈধ অভিবাসন থেকে নিজেদের মুক্ত করতে হবে আমাদের, অনুসরণ করতে হবে সুশাসন। ওই চিঠিতেই প্রধানমন্ত্রী আরও লিখেছেন, স্বাধীনতার পরে পশ্চিমবঙ্গ শিল্প উন্নয়নে শীর্ষস্থান দখল করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক দশকগুলিতে পিছিয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক হিংসা, দুর্নীতি এবং তোষণমূলক রাজনীতি রাজ্যের অগ্রগতির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুবসমাজের অভিবাসন এবং বিনিয়োগের অভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)।

    মহান ব্যক্তিত্বদের প্রসঙ্গ

    ওই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, মহান ব্যক্তিত্বদের আশীর্বাদপ্রাপ্ত বাংলার ভূমির একটি নতুন দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। তিনি রাজ্যের উন্নয়নের জন্য তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কথাও স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আয়ুষ্মান ভারতের মতো কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পগুলি স্বাস্থ্যসেবা, দরিদ্রদের জন্য আবাসন এবং মহিলাদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। তিনি নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের মাধ্যমে শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদানের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন (Assembly Polls)।

    ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’

    চিঠির শেষে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’ গড়ে তোলার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “২০২৬ সালের মধ্যে রাজ্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য।” প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “আমার স্বপ্নের সোনার বাংলার নারী, পুরুষ ও শিশুরা চরম বঞ্চনার শিকার। তাঁদের কষ্ট, যন্ত্রণা, বঞ্চনা আমার হৃদয়কে ভারাক্রান্ত করছে।” তিনি জানান, অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে তিনি পশ্চিমবঙ্গকে সমৃদ্ধ ও উন্নত রাজ্যে রূপান্তরিত করার শপথ নিয়েছেন। তাঁর বার্তা, “উন্নয়ন ও পরিবর্তনের পথে রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে (PM Modi)।”

    বিকশিত বাংলা গড়ার অঙ্গীকার

    চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী বিকশিত বাংলা গড়ার অঙ্গীকারও করেন। বলেন, রাজ্যে নতুন কর্মসংস্থান ও জনজীবন উন্নয়নে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আসন্ন নির্বাচনে বিজেপিকে সমর্থন করার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে রাজ্যের মানুষের সিদ্ধান্তের ওপরেই। তাঁর অভিযোগ, সীমান্তবর্তী রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের সমস্যা গুরুতর আকার নিয়েছে। শুধু তাই নয়, এই সমস্যা রাজ্যের নিরাপত্তা ও জনজীবনে প্রভাব ফেলছে। তিনি বলেন, “নারী-সুরক্ষা নিশ্চিত করা বিজেপির অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি (Assembly Polls)। আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে, তা নির্ভর করছে মানুষের বিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্তের ওপর (PM Modi)।”

     

  • Nirmala Sitaraman: “বাংলাজুড়ে বোমার সংস্কৃতি, ৩৬টা রাজ্যের মধ্যে ৩৫ নম্বরে বাংলা, কেন?” লোকসভায় তৃণমূলকে প্রশ্ন নির্মলার

    Nirmala Sitaraman: “বাংলাজুড়ে বোমার সংস্কৃতি, ৩৬টা রাজ্যের মধ্যে ৩৫ নম্বরে বাংলা, কেন?” লোকসভায় তৃণমূলকে প্রশ্ন নির্মলার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একটা সময়ে দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী বাংলায় এখন ‘বোমের সংস্কৃতি’ চলে বলে কটাক্ষ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। জিএসটি নিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে বুধবার লোকসভায় বাংলায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি, নারী নির্যাতনের অভিযোগ তুললেন নির্মলা। তুললেন দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ধর্ষণের প্রসঙ্গও। একই সঙ্গে বাজেটে (Central Budget) কোনও রাজ্যের সঙ্গে বঞ্চনা করা হয়নি বলেও দাবি নির্মলার।

    বাংলায় বোমার সংস্কৃতি

    অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে তীব্র আক্রমণ করলেন নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর অভিযোগ, অভিষেক তাঁর বক্তব্যে সাংসদদের ‘বেওকুফ’ বানিয়েছেন। রীতিমতো অঙ্গভঙ্গি করে নাটুকে টোনে অভিষেকের উদ্দেশ্যে কটাক্ষবাণ শানিয়ে নির্মলা বলেন, ‘হে ভগবান কেউ এত মিথ্যে কথা কী করে বলতে পারে!’ তুলোধনা করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। বোমা ফেটে মৃত্যুর ঘটনায় নির্মলার দাবি, বাংলায় আইন নয়, বোমা চলে। বাংলার সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নির্মলা। আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে তুলে আনেন এনসিআরবি তথ্য। সেই তথ্য তুলে ধরেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, “কালীগঞ্জে বোম ফেটে একজন শিশু মারা গিয়েছে। একজন তৃণমূল নেতা গ্রেফতার হয়েছে। মেদিনীপুরে বোমা নিয়ে তৃণমূল নেতা গ্রেফতার হয়েছে। বাংলায় বোমা চলে, আইন নয়। এনসিআরবি তথ্য অনুযায়ী ক্রাইম রেটে ৩৬টা রাজ্যের মধ্যে ৩৫ নম্বরে আছে বাংলা। এরা আমাদের কথা বলে!”

    নারী নির্যাতন নিত্যদিনের ঘটনা

    আইনের শাসন চালাতে রাজ্য সরকার ব্যর্থ বলেও দাবি করেছেন তিনি। আরজি কর কাণ্ড ও নারীদের বিরুদ্ধে অগ্রাসনের প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, “একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী যদি মহিলাদের রাতের বেলা বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।” ২০২৫ সালের অক্টোবরে দুর্গাপুরে ঘটে যাওয়া ডাক্তারি ছাত্রীর নির্যাতনের প্রসঙ্গও তুলে আনেন। বাংলার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নির্মলা বলেন, “ওড়িশার একজন এমবিবিএস ছাত্রী দুর্গাপুরে গণধর্ষণের শিকার হয়। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী নিজে মহিলা হওয়া সত্ত্বেও পাবলিকলি বলেছেন, মহিলাদের রাতে বেরোনো ঠিক নয়। একজন সাংসদ বলেছেন, যদি বন্ধু ধর্ষণ করে তাহলে আমরা কী করতে পারি? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, ধর্ষণ রোধে আমরা আইন বানিয়েছি। রাজ্যপালকে পাঠিয়েছি। রাজ্যপাল রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়েছেন, এখনও অনুমোদন পাওয়া যায়নি। কিন্তু রাজ্যের এই হাল, আইন দিয়ে সবকিছু হয়ে যাবে?”

    মৃত্যুর পরেও দিতে হয় কাটমানি

    গত মঙ্গলবার ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট (Budget 2026-27) নিয়ে আলোচনায় কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধনা করে অভিষেক বলেছিলেন, ‘জন্ম থেকে মৃত্যু গোটা জীবনটাই কাটছে ট্যাক্সের ফাঁদে।’ বর্তমানে ধূপের উপরে ৫ শতাংশ হারে জিএসটি দিতে হয়। সেই নিয়ে তাঁর কটাক্ষ ছিল, ‘মৃত্যুর পরে শোকসভায় ধূপ জ্বালানোর জন্যও পরিবারকে ট্যাক্স দিতে হয়।’ এ দিন জিএসটি প্রসঙ্গ তোলেননি নির্মলা। তবে অভিষেকের মন্তব্যকে ‘দুঃখজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর পরেও জিএসটি, খুবই দুঃখের কথা। আসলে বাংলায় মৃত্যুর পরে কাটমানি নেওয়াটাই স্বাভাবিক।’ পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, সাধারণ মানুষের উপর চাপ কমাতে চাইলে পশ্চিমবঙ্গে পেট্রলের দাম কেন ১০ টাকা বেশি? এভাবেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন।

    পূর্বোদয় কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য বাংলা

    এদিন অর্থমন্ত্রী (Nirmala Sitharaman) বলেন, পশ্চিমবঙ্গ পূর্বোদয় কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য। ইস্টার্ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডরে দুর্গাপুর অ্যাঙ্কর সিটি ও হলদিয়ার কাছে কেমিক্যাল পার্ক গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সিটি ইকোনমিক রিজিয়ন প্রকল্পে বছরে ১,০০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে এবং এতে কলকাতা, হাওড়া, দুর্গাপুর অংশ নিতে পারে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজ্য প্রস্তাব দিলে কেন্দ্রীয় অর্থ বরাদ্দ সহজ হবে, বিশেষ করে জুট, লেদার শিল্প ও রফতানিতে সুবিধা মিলবে। এছাড়া অর্থমন্ত্রী বারাণসী থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত হাইস্পিড ট্রেন প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন, যা উত্তরবঙ্গের পর্যটন ও বাণিজ্য খাতে গতি আনবে এবং শিলিগুড়িকে একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। লোকসভায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানান, চলতি বাজেটে ডানকুনির উল্লেখ করা হয়েছে পূর্ব-পশ্চিম করিডর গড়ে তোলার লক্ষ্যেই।

    তৃণমূলের মিথ্যাচার

    বাজেটে ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত একটি নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর গড়ার ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি এ দাবি করেন, এটি একেবারেই পুরনো পরিকল্পনার পুনরাবৃত্তি নয়, বরং সম্পূর্ণ নতুন প্রকল্প, যা পূর্ব-পশ্চিম মালবাহী যোগাযোগকে আরও শক্তিশালী করবে। নির্মলা (Nirmala Sitharaman) বলেন, “আমরা ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত একটি ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর তৈরি করতে চাই। তাই এই বাজেটে ডানকুনির কথা বলা হয়েছে।” এ প্রসঙ্গে তিনি পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের সমালোচনা করে বলেন, “বাংলার কিছু নেতা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন এই প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন এবং আমরা নতুন কিছু করছি না। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডোর ঘোষণা করেছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) লুধিয়ানা থেকে কলকাতা হয়ে ডানকুনি পর্যন্ত কিছু ঘোষণা করেছিলেন। এর থেকে কিছুই বেরিয়ে আসেনি। আমি যা ঘোষণা করেছি তা নতুন। তাই, সবকিছুতেই কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করবেন না।”

    ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন পূরণ

    এদিন বক্তৃতায় সীতারমন কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬–২৭-এর গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলিও তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে সহায়তাসহ ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে কার্যকর মূলধনী ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭.১ লক্ষ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৪.৪ শতাংশ। এর লক্ষ্য ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন পূরণ। বাজেট আলোচনায় জিএসটি নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় অর্থমন্ত্রী জানান, দুধ, শিক্ষা, বই, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও ফিউনারেল এসেনশিয়ালে জিএসটি নেই। পাশাপাশি হেলথ ও লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ামেও শূন্য হার বজায় আছে। বিরোধীদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। এছাড়াও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) শিক্ষায় জোর, উদ্যোগপতিত্ব বৃদ্ধি, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ ও শিল্পোন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মেগা টেক্সটাইল পার্ক, দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প ও লজিস্টিক ব্যবস্থার উন্নতিতে রাজ্যগুলির সঙ্গে একযোগে কাজ করতে কেন্দ্র প্রস্তুত বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

LinkedIn
Share