Tag: west bengali

west bengali

  • Kishenji: মাও ‘দমনে’ বিরাট সাফল্য, আত্মসমর্পণ কিষেনজির ভাইবউ বিমলা-সহ ১১ মাওবাদীর

    Kishenji: মাও ‘দমনে’ বিরাট সাফল্য, আত্মসমর্পণ কিষেনজির ভাইবউ বিমলা-সহ ১১ মাওবাদীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাও ‘দমনে’ মিলল বড় সাফল্য। আত্মসমর্পণ করলেন কিষেনজির (Kishenji) ভাইবউ। বুধবার মহারাষ্ট্রের গঢ়ছিরৌলিতে বিদর্ভ অঞ্চলের যে ১১ জন মাওবাদী (CPI Maoist) নেতানেত্রী সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন, সেই তালিকায় প্রথম নাম বিমলা চন্দ সিদাম ওরফে তারাক্কার। তিনি পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মির কমান্ডার তথা দণ্ডকারণ্য জোনাল কমিটির নেত্রী। তাঁর স্বামী মাল্লোজুলা বেণুগোপাল রাও ওরফে ভূপতি ওরফে বিবেক ওরফে সোনু সিপিআই (মাওবাদী)-র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। এই বিমলাই সম্পর্কে কিষেনজির ভাইবউ।

    কিষেনজির ভাইবউ (Kishenji)

    গত ৩৮ বছর ধরে নকশালপন্থী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বিমলা। ১৯৮৩ সালে সিপিআইএমএল (পিডব্লিউজি)-র হাত ধরে সশস্ত্র বিপ্লবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। দ্রুত তিনি হয়ে ওঠেন কিষেনজির আস্থাভাজন। বছর পনের আগে পশ্চিমবাংলার ঝাড়গ্রামের বুড়িশোলের জঙ্গলে যৌথবাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল কিষেনজির। তার আগেই অবশ্য বিমলার স্বামী বেণুগোপালও সংগঠনের প্রথম সারির নেতা হয়ে গিয়েছিলেন। বিমলার বিরুদ্ধে গঢ়ছিরৌলিতে একটি পুলিশ ফাঁড়িতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ১৮ জনকে খুন করার অভিযোগ রয়েছে। বিমলার সঙ্গেই এদিন আত্মসমর্পণ করেছেন আরও ১০ জন মাওবাদী।

    মাওবাদীদের মাথার দাম

    এঁদের সম্মিলিত মাথার দাম এক কোটি তিন লাখ টাকা। মুখ্যমন্ত্রী ফড়ণবীশের হাত থেকে ভারতীয় সংবিধান হাতে নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন এই ১১ জন মাওবাদী। এঁদের মধ্যে রয়েছেন সিপিআই মাওবাদীর গঢ়ছিরৌলি ডিভিশনের নাংশু তুমরেতি ওরফে গিরিধর ও তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা উসেন্দি ওরফে ললিতাও। গিরিধর ১৭০টি ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত। তাঁর মাথার দাম ছিল ২৫ লাখ টাকা (CPI Maoist)। মহারাষ্ট্র পুলিশের দাবি, গঢ়ছিরৌলি-সহ বিদর্ভের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি ছত্তীশগড়েও একাধিক নাশকতার ঘটনায় জড়িত বিমলা-সহ আত্মসমর্পণকারী ১১ জন মাওবাদী নেতানেত্রী।

    কিষেনজির স্ত্রী

    ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে পুলিশের জালে ধরা পড়েছিলেন কিষেনজির স্ত্রী পোথুলা কল্পনা ওরফে সুজাতা। তেলঙ্গানা পুলিশের স্পেশাল ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ সূত্র মারফত খবর পেয়ে গোপন ডেরা থেকে গ্রেফতার করেছিল কিষেনজির স্ত্রীকে। পুলিশ সূত্রে খবর, কিষেনজির স্ত্রী সাউথ সাব জোনাল ব্যুরোর ইনচার্জ হয়ে কাজ সামলাচ্ছিলেন। কিষেনজির মৃত্যুর পর নানা রাজ্যে গা ঢাকা দিয়েছিলেন সুজাতা। তাঁর আদত বাড়ি তেলঙ্গনার জগুলাম্বা গাড়োয়াল জেলার পেঞ্চিকালপেট গ্রামে। কিষেনজির স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হলেও, আত্মসমর্পণ করলেন তাঁর (CPI Maoist) ভাইবউ (Kishenji)।

    আরও পড়ুন: জেএমবি-র সদস্যরাই এখন এবিটি-তে সক্রিয়, কবুল করল মুর্শিদাবাদে ধৃত বাংলাদেশি জঙ্গিরা

    মাওবাদী আত্মসমর্পণ

    এ নিয়ে গত তিন সপ্তাহে তিন বার বিদর্ভ এলাকায় মাওবাদী আত্মসমর্পণের ঘটনা ঘটল। ২৭ ডিসেম্বর মলাজখণ্ড দলাম ও ৯ নম্বর পামেড় প্লাটুনের কমান্ডার দেব ওরফে অর্জুন ওরফে রাকেশ সুমদো মুদাম গোন্ডিয়া আত্মসমর্পণ করেছিলেন জেলা পুলিশ সুপারের কাছে। তাঁর মাথার দাম ছিল ৭ লাখ টাকা। ডিসেম্বরেই গঢ়ছিরৌলি জেলায় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন দুই মাওবাদী কমান্ডার রামাসু পয়াম ওরফে নরসিং এবং রমেশ কুঞ্জম ওরফে গোবিন্দ। রামাসুর মাথার দাম ছিল ৬ লাখ টাকা, রমেশের ২ লাখ। বুধবার আত্মসমর্পণ কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী ফড়ণবীশ বলেন, “আমাদের রাজ্যে মাওবাদীদের শেষের শুরু হয়ে গিয়েছে। মহারাষ্ট্র শীঘ্রই মাওবাদী মুক্ত হবে।” তাঁর দাবি, উত্তর গঢ়ছিরৌলি ইতিমধ্যেই মাওবাদী মুক্ত হয়েছে। 

    বড় সাফল্য

    শুধু মহারাষ্ট্র নয়, দেশজুড়ে মাওবাদী বিরোধী অভিযানের প্রেক্ষিতেও বিমলার আত্মসমর্পণ সাম্প্রতিক কালের সব চেয়ে বড় সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে। গত অক্টোবরেই বস্তারে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয়েছিল ২৮ জন মাওবাদীর। নারায়ণপুর-দান্তেওয়াড়া আন্তঃজেলা সীমানায় আবুঝমাডে থুলথুলি ও নেন্দুর গ্রামের মাঝে জঙ্গলে দুপক্ষে গুলি বিনিময় শুরু হয়। নিহত হন ২৮ জন মাওবাদী। মৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছিল একে ৪৭ রাইফেল এবং সেল্ফ লোডিং রাইফেল। গত ১৬ এপ্রিল কাঁকের জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে নিহত হন ২৯ জন মাওবাদী। এঁদের মধ্যে ওয়ান্টেড মাওবাদীও ছিলেন কয়েকজন।

    শাহের বক্তব্য

    প্রসঙ্গত, গত অগাস্টের শেষ দিকে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে মাওবাদী (Kishenji) দমন নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, “২০০৪ সাল থেকে ২০১৪-এর মধ্যে সারা দেশে যত মাওবাদী হামলার ঘটনা ঘটেছিল, সেই তুলনায় ২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মাওবাদী হামলার ঘটনা কমে গিয়েছে ৫৩ শতাংশ।” তিনি বলেছিলেন, “এবার কঠোর পরিকল্পনার মাধ্যমে মাওবাদী সন্ত্রাসের সমস্যা মোকাবিলার জন্য চূড়ান্ত আঘাত হানার সময় এসে গিয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে দেশকে মাওবাদী সন্ত্রাসের কবল থেকে মুক্ত করতে পারব।”

    দিন কয়েক আগে এসএসবির একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলায় এসেছিলেন শাহ। ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, “মাওবাদী দমন অভিযানগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে এসএসবির। তারা সিআরপিএফ এবং স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযানে শামিল হয়। চার দশক পর বিহার ও ঝাড়খণ্ড এখন মাওবাদীমুক্ত হয়েছে। ছত্তিশগড়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এসএসবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে (CPI Maoist)। এবার ওই রাজ্য থেকেও মাওবাদীদের অবলুপ্তি ঘটবে (Kishenji)।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  WhatsappFacebookTwitterTelegram এবং Google News পেজ।

  • Jawhar Sircar: ‘‘মানুষকে কথা দিয়েছি…’’, মমতার অনুরোধ ফেরালেন জহর, জানিয়ে দিলেন কারণও

    Jawhar Sircar: ‘‘মানুষকে কথা দিয়েছি…’’, মমতার অনুরোধ ফেরালেন জহর, জানিয়ে দিলেন কারণও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “মানুষকে কথা দিয়েছি। তাই আর ফেরা সম্ভব নয়।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) মুখের ওপর এ কথা বলে দিলেন প্রাক্তন আমলা তথা তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ জহর সরকার (Jawhar Sircar)। রবিবার সাংসদ পদে ইস্তফা ও রাজনৈতিক জীবনে ইতি টানার কথা ঘোষণা করেন জহর। তার পরেই তাঁকে ফোন করেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং।

    কী বললেন জহর? (Jawhar Sircar)

    বেশ কিছুক্ষণ কথা হয় দুজনের মধ্যে। তৃণমূল সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগ না করতে অনুরোধ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। সাফ জানিয়ে দেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর পক্ষে আর সাংসদ পদে থাকা সম্ভব নয়। তাঁর ফিরতে না পারার কারণও ব্যাখ্য করেন প্রাক্তন আমলা।জানা গিয়েছে, ১১ সেপ্টেম্বর দিল্লি যাবেন তিনি। সেখানে উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে দেখা করে ইস্তফাপত্র তুলে দেবেন জহর। তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে তাঁর কী কথা হয়েছে, সে বিষয়ে মুখ খোলেননি এই প্রাক্তন আমলা। শুধু বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আমায় ফোন করেছিলেন। আমার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে। কিন্তু তাঁর সঙ্গে আমার এ বিষয়ে কী আলোচনা হয়েছে বা কী কথা হয়েছে, তা আমি প্রকাশ্যে বলব না।”

    সেই মমতা কই?

    দলনেত্রীকে পাঠানো চিঠিতে জহর (Jawhar Sircar) লিখেছেন, “গত এক মাস ধৈর্য ধরে আরজি কর হাসপাতালের ঘৃণ্য ঘটনার বিরুদ্ধে সবার প্রতিক্রিয়া দেখেছি আর ভেবেছি, আপনি কেন সেই পুরানো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে সরাসরি জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলছেন না। এখন সরকার যেসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা এক কথায় অতি অল্প এবং অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।” প্রাক্তন এই আমলা লিখেছেন, “আমার বিশ্বাস, এই আন্দোলনে পথে নামা মানুষরা অরাজনৈতিক ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ করছেন। তাই রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে এই আন্দোলনকে প্রতিরোধ করা সমীচীন হবে না। এঁরা কেউ রাজনীতি পছন্দ করেন না। শুধু এক বাক্যে বিচার ও শাস্তির দাবি তুলেছেন।” জহর (Jawhar Sircar) লিখেছেন, “আমি আমার দায়িত্ব পালন করলাম। তবে আমার রাজ্যে (Mamata Banerjee) দুর্নীতি আর দলীয় নেতাদের একাংশের অন্যায় দাপট দেখে আমি হতাশাগ্রস্ত।”

    আরও পড়ুন: ‘সরকারের সিদ্ধান্তে সম্পূর্ণ সমর্থন’, বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসনের ইঙ্গিত ভাগবতের?

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Monohora Sweet: রসের বাঁধন, অথচ শুকনো! মনোহরার ইতিহাস সত্যিই যেন মন হরণ করে নেয়

    Monohora Sweet: রসের বাঁধন, অথচ শুকনো! মনোহরার ইতিহাস সত্যিই যেন মন হরণ করে নেয়

    হরিহর ঘোষাল

    রাজ্যজুড়ে মিষ্টির বাহার প্রচুর। জায়গা ভেদে সেখানকার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিখ্যাত, নামকরা কিছু মিষ্টি। রসগোল্লা, পান্তুয়া ছাড়াও রসের মিষ্টি হোক কিংবা ছানার সন্দেশ-মিষ্টির তালিকা বললে শেষ করা যাবে না। তবে, নাম যাই হোক না কেন, মিষ্টি খাওয়াতে খাদ্যরসিক বাঙালির জুড়ি ভার। এই প্রতিবেদনে আমরা জানাব, ব্রিটিশ আমলে তৈরি হওয়া মনোহরা (Monohora Sweet) মিষ্টির আদি কথা। বাংলাদেশের ঢাকার প্রাণহরার সঙ্গে মনোহরার ব্যুৎপত্তিগত সাদৃশ্যকে তুলে ধরার জন্য কবি মোহিতলাল মজুমদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বলতেন, “তোরা মিষ্টির নাম রাখিস প্রাণহরা, আর আমরা নাম রাখি মনোহরা।”

     নবাবি আমলের মনোহরা! (Monohora Sweet)

    মনোহরা হুগলি না মুর্শিদাবাদের, তা নিয়ে বিতর্ক চলতেই পারে। হুগলিবাসীর দাবি, এই মিষ্টি জনাইয়ে প্রথম তৈরি হয়েছিল। মুর্শিদাবাদে নবাবের দেশের মানুষরা আবার মনোহরা মিষ্টির (Monohora Sweet) তৈরির কৃতিত্ব বেলডাঙা, কান্দির ময়রাদের দিতে চান। বিতর্কে না গিয়ে, দুটি জেলারই মিষ্টি তৈরির ইতিহাস আমরা তুলে ধরছি। একটি মত থেকে জানা যায়, উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে রজগোপাল সাহা বেলডাঙায় প্রথম মনোহরা মিষ্টি তৈরি করেছিলেন। বাংলা টপ্পার জনক রামনিধি গুপ্ত ওরফে নিধুবাবু শহরের বাবুগিরির গানে লিখেছেন “খাওয়াইব গণ্ডা গণ্ডা মনোহরা দেদো মণ্ডা। খেয়ে খেয়ে যাবে প্রাণটা, বলবে বলিহারি যাই।” মুর্শিদাবাদের কান্দি, বেলডাঙার মনোহরার সুখ্যাতি সেকালে কালাপানি পাড় হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল সাহেবদের দেশেও।

    অন্য একটি মতে, মুর্শিদাবাদের নবাবদের খাস ময়রা এই মিষ্টি অষ্টাদশ শতকে আবিষ্কার করেন। জনৈক ময়রা বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার দহগ্রামের নিকট কিরীটকোনা গ্রামের কিরীটেশ্বরী মন্দিরের নিকট বাস করতেন। সেখানেই তিনি প্রথম মনোহরা মিষ্টি প্রস্তুত করেন। মুর্শিদাবাদের নবাবরা ডাবের শাঁস, কাজুবাদাম, এলাচ ও ক্ষীর দিয়ে তৈরি মনোহরা পছন্দ করতেন। নবাবির পতনের সঙ্গে সঙ্গে মনোহরা রাজকীয় পৃষ্ঠাপোষকতা থেকে বঞ্চিত হয়। যে মিষ্টি এককালে সমগ্র মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রস্তুত হত, তা ক্রমে বেলডাঙা, কান্দির মতো বিশেষ কিছু জায়গায় প্রস্তুত হতে থাকে। বাংলার মিষ্টির ইতিহাস নিয়ে যাঁরা চর্চা করেন, মনোহরার জন্মবৃত্তান্ত নিয়ে তাঁদের মধ্যে অনেক মতভেদ রয়েছে। সে যাই হোক, দুধসাদা মনোহরার মাথায় বাহারি কিসমিসের অলঙ্করণে সত্যিই মনোহরা মুর্শিদাবাদের এই মিষ্টি। বেলডাঙার মনোহরা যদি অসিত সাহা, মদনগোপাল সাহারা বাঁচিয়ে রাখেন, তবে কান্দির সুনাম রক্ষা করে চলেছেন শিবশক্তি দে বা রুদ্রদেব দত্তেরা। সেই ট্রাডিশন এখনও চলছে।

    কীভাবে বানানো হয়?

    চাঁচি, ক্ষীর আর ছানার সঙ্গে এলাচ, জায়ফল আর জয়িত্রীর মিশ্রণে তৈরি ‘পুর’ চিনির মোটা রসের আস্তরণে ঢেকে রাখার অননুকরণীয় শিল্পের নাম মনোহরা। ছানা এবং চিনি হল এই মিষ্টির আসল উপকরণ। ছানা ভালো করে মেখে নেওয়ার পরেই তাকে চিনির সঙ্গে পাক দেওয়া হয়। মেশানো হয় এলাচ, ডাবের শাসের পাতলা আস্তরণ। তারপর সেই পাক হাতে গোল করে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে এটিকে রূপদান করা হয়। সবশেষে শিরায় সেটিকে মেশানো হয়। একবার কোট করেই তুলে নেওয়া হয়। ব্যস, মনোহরা তৈরি!

    জনাইয়ের মনোহরা

    হুগলির (Hooghly) জনাইয়ে প্রথম মনোহরা (Monohora Sweet) তৈরি হয়েছিল। এই মিষ্টি তৈরির ইতিহাস দু’শো বছরের ওপর। জনাইয়ের মনোহরার উৎপত্তি নিয়ে একাধিক মত প্রচলিত আছে। একটি মতে, ভীমচন্দ্র নাগের পিতা পরাণচন্দ্র নাগ ছিলেন বর্ধমান রাজের দেওয়ান। এক সময়ে তিনি দেওয়ানের চাকরি ছেড়ে মিষ্টির ব্যবসায় নামেন। হুগলি জেলার জনাইতে তিনি মিষ্টির ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেন। এই সময়েই তিনি মনোহরা নামক মিষ্টির প্রচলন করেন। আর একটি মত থেকে জানা যায়, জনাইয়ের ময়রারা সন্দেশকে সংরক্ষণ করার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সময় ভুলবশতঃ সন্দেশকে চিনির রসে ডুবিয়ে ফেলেন। তার থেকেই সৃষ্টি হয় মনোহরা। এছাড়া জনাইয়ের জনৈক ললিত ময়রা ১৮৬০-এর দশকে মনোহরা মিষ্টি তৈরি করেন বলে দাবি করা হয়। আর একটি মত থেকে জানা যায়, জনাইয়ের জমিদার তখন কালীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ান ছিলেন। সমৃদ্ধি ছিল শহরে। এমনই এক সময় ইংরেজ এক সাহেবের আগমনে রাজবাড়ি (কালীবাবুর বাড়ি) জুড়ে হইহই রইরই রব। মিষ্টি তো সবাই বানায়। তবে রসের বাঁধন থাকবে, ধাঁচ হবে শুকনো এমন মিষ্টি কোথায় পাওয়া যায়? সালটা ১৮৬৮ হবে, কালীবাবুর অনুরোধেই ন্যাড়া ময়রা বানালেন দুর্দান্ত স্বাদের এক মিষ্টি, নাম তখনও অজানা। ইংরেজ সাহেবের পাতে পড়তেই স্বাদ আস্বাদনে আর দেরি করলেন না। মিষ্টি মুখে দেওয়ার পরই একেবারে মিলিয়ে গেল। আবেগে আপ্লুত সাহেব কাটা কাটা বাংলায় বললেন, “এই মিষ্টি আমার মন হরণ করে নিয়েছে।” ব্যস! সেই থেকে মন হরণ করা এই মিষ্টির নাম হল মনোহরা।

    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মনোহরার খুব ভক্ত ছিলেন!

    জনাইয়ের মনোহরা (Monohora Sweet) এক সময় কলকাতার রসগোল্লা, শক্তিগড়ের ল্যাংচা ও বর্ধমানের সীতাভোগের মতো সমান জনপ্রিয় ছিল। মুখে মুখে এর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে সারা বাংলায় এবং ক্রমে সারা ভারতে। ব্রিটিশ আমলে ভারতীয় এবং ব্রিটিশ অভিজাতরা অতিথি আপ্যায়নের জন্য জনাইয়ের মনোহরা আনাতেন। ক্রমে ব্রিটেনেও মনোহরার বাজার তৈরি হয়। পরবর্তীকালে মনোহরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জার্মানিতেও রফতানি হতে থাকে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মনোহরার (Monohora Sweet) খুব ভক্ত ছিলেন। ছবি বিশ্বাস, উত্তম কুমার ও ছায়া দেবীর মতো বাংলা চলচ্চিত্রের নায়ক-নায়িকারা আউটডোর শুট করে কলকাতা ফেরার পথে প্রায়ই গাড়ি থামিয়ে মনোহরা কিনে বাড়ি ফিরতেন। আজও হাজারো মিষ্টির ভিড়ে মনোহরা নিজের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। মুর্শিদাবাদ-হুগলিবাসী বলে নয়, মনোহরার স্বাদ একবার যিনি চেখে দেখেছেন, তাঁর মন জয় করে নিয়েছে ব্রিটিশ আমলে জন্ম নেওয়া এই মিষ্টি।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • CPM: দুর্দিনের বাজারে জামানত খুইয়েছেন ২১ সিপিএম প্রার্থী, কত টাকা খোয়াল আলিমুদ্দিন?

    CPM: দুর্দিনের বাজারে জামানত খুইয়েছেন ২১ সিপিএম প্রার্থী, কত টাকা খোয়াল আলিমুদ্দিন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক সময় যে বামেদের দাপটে ট্যাঁ-ফোঁ করার জো ছিল বাংলায়, এখন সেখানেই কিনা খাবি খাচ্ছে বামফ্রন্ট! রাজ্যে লোকসভার আসন সংখ্যা ৪২ (CPM)। তার মধ্যে ২৩টিতে প্রার্থী দিয়েছিল সিপিএম। বামফ্রন্টের শরিকদলগুলি প্রার্থী দিয়েছিল সাতটি আসনে। সিপিএম যে ২৩টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল, তার মধ্যে ২১ জন প্রার্থীই জামানত খুইয়েছেন। দলের এই দুর্দিনে জলে গিয়েছে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এ রাজ্যে সিপিএমের একজন প্রার্থীও জিততে পারেননি। তবে জামানত বাঁচিয়ে মুখরক্ষা করেছেন দুই বাম প্রার্থী।

    বৃদ্ধতন্ত্রের তকমা ঝেড়ে ফেলতে নয়া মুখ! (CPM)

    দলের গা থেকে বৃদ্ধতন্ত্রের তকমা ঝেড়ে ফেলতে এবার একঝাঁক তরুণ মুখকে প্রার্থী করেছিল বিমান বসুদের দল (CPM)। এঁদের সকলেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তমলুকে বিজেপি প্রার্থী করেছিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে। তাঁর বিরুদ্ধে সিপিএম লড়িয়ে দিয়েছিল পেশায় আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বামেরা বোধহয় ভেবেছিলেন, সমানে সমানে টক্কর হবে। ওমা! কোথায় কী! এই কেন্দ্রে মাত্র ৫.৪১ শতাংশ ভোট পেয়ে জামানত খুইয়েছেন সিপিএমের আইনজীবী প্রার্থী।

    বাজেয়াপ্ত জামানত

    ৫.৬৮ শতাংশ ভোট পাওয়ায় জামানত রক্ষা করতে পারেননি ডায়মন্ড হারবারের সিপিএম প্রার্থী প্রতীক-উর রহমানও। এই কেন্দ্রে হইহই করে জিতে গিয়েছেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জামানত খুইয়েছেন যাদবপুরের সিপিএম প্রার্থী সৃজন ভট্টাচার্য এবং শ্রীরামপুরের দীপ্সিতা ধরও। তবে হেরে গেলেও, জামানত বাঁচিয়েছেন মুর্শিদাবাদের সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সেলিম এবং দমদমের সুজন চক্রবর্তী। রাজনীতি তো বটেই, বয়সেও যাঁরা প্রবীণ। সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে মাত্র ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে সিপিএম। উনিশের লোকসভা নির্বাচনে এই হার ছিল ৬.৩৩ শতাংশ। সব শরিক মিলিয়ে বামেরা এবার সাকুল্যে ৬.১৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে। উনিশে এই হার ছিল ৭.৫ শতাংশ। ২০১৪ সালে ছিল ১৬.৭২ শতাংশ।

    আর পড়ুন: এনডিএ শিবিরে তৎপরতা, সরকার গড়ার প্রস্তুতি সারা, শুক্রবারই রাষ্ট্রপতির কাছে দাবি পেশ?

    জামানত রক্ষা হয়নি বামফ্রন্টের বাকি শরিকদের প্রার্থীদেরও। আরএসপি তিনটি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। সিপিআই এবং ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী দিয়েছিল দুটি করে আসনে। এই সাত কেন্দ্রেই জামানত খুইয়েছেন বাম প্রার্থীরা। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও কেন্দ্রে প্রার্থী হতে গেলে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা রাখতে হয়। একে জামানত বলে। লোকসভা নির্বাচনে জামানতের পরিমাণ ২৫ হাজার টাকা। কোনও একটি কেন্দ্রে যত ভোট পড়ে, তার এক ষষ্ঠাংশ ভোট পেলে কোনও প্রার্থীর জামানত রক্ষা হয়। না হলে টাকা জমা থাকে নির্বাচন কমিশনে। ফেরত পাওয়া যায় না (CPM)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • Lady Truck Driver: প্রথমবার পেট্রাপোল পেরিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছালেন মহিলা ট্রাকচালক

    Lady Truck Driver: প্রথমবার পেট্রাপোল পেরিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছালেন মহিলা ট্রাকচালক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথমবার পেট্রাপোল (Petrapole Border) পেরিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছালেন মহিলা ট্রাকচালক (Lady Truck Driver)। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক পণ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে বনগাঁ সীমান্তের পেট্রাপোল বন্দরে এদিন তৈরি হল এক ইতিহাস। নারীর প্রগতিতে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ভারত। 

    মহিলা ট্রাকচালকের পরিচয় (Lady Truck Driver)

    বন্দর সূত্রে খবর, ওই মহিলা ট্রাকচালকের (Lady Truck Driver) নাম অন্নপূর্ণা রানি রাজকুমার। জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর বাসিন্দা তিনি। রবিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট নাগাদ তামিলনাড়ুর ওই মহিলা ছয় চাকার একটি কন্টেনার ট্রাক নিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে পেট্রাপোল বন্দর হয়ে বাংলাদেশে (Bangladesh) যান। সেই সময় বন্দরে উপস্থিত ছিলেন পেট্রাপোল ল্যান্ড পোর্ট অথরিটির ম্যানেজার কমলেশ সাইনি। সাইনি বলেন, “পেট্রাপোল বন্দরের ক্ষেত্রে এটি একটি ঐতিহাসিক দিন। প্রথম মহিলা ট্রাকচালক পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে গেলেন। তাঁর জন্য বন্দরের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছিল।”

    পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং ফরওয়ার্ডিং সম্পাদকের বক্তব্য

    এ প্রসঙ্গে পেট্রাপোল ক্লিয়ারিং ফরওয়ার্ডিং-এর সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, “গত ১৯ শে মার্চ পেট্রাপোলে ভারত সরকারের অর্থ মন্ত্রকের সদস্য রেখা রায়কর কুমার বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, পুরুষদের পাশাপাশি মহিলারাও (Lady Truck Driver) সমানভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে ট্রাক নিয়ে যাতে যেতে পারে, সে দিকে নজর দিতে হবে। সেই মতোই রবিবার সকালে প্রথম কোনও মহিলা ট্রাকচালক (Lady Truck Driver) ভারত থেকে বাংলাদেশ পণ্য বোঝাই ট্রাক নিয়ে পাড়ি দিলেন।” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে মহিলা চালকদের ট্রাক চলাচলে বিশেষ নিরাপত্তাও দেওয়া হবে। আগামী দিনে এই পেশাতেও মহিলাদের প্রাধান্য দেখা যাবে।”

    আরও পড়ুনঃ “এতদিন বাঘিনী ছিলেন, এখন বিড়াল হয়ে গেছেন”, মমতাকে তোপ দিলীপ ঘোষের

    জানানো হল অভ্যর্থনা

    উল্লেখ্য প্রতিদিন পেট্রাপোল বন্দর (Petrapole Border) দিয়ে যে পণ্যবাহী ট্রাক যায়, এত দিন সেই সমস্ত ট্রাকের চালক ছিল পুরুষ। তবে এবার সেই রেকর্ড ভাঙল। এই প্রথম বার কোনও মহিলা ট্রাকচালক পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পণ্য নিয়ে গেলেন। প্রথম মহিলা ট্রাকচালক (Lady Truck Driver) হিসেবে পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ায় বন্দরের পক্ষ থেকে তাঁকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। সব মিলিয়ে এদিনের এই পদক্ষেপ ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও মজবুত করল বলেই মনে করছেন সীমান্ত এলাকার মানুষজন।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • South 24 Parganas: ভোটের মুখে বিজেপি-র কর্মিসভায় হামলা, অভিযুক্ত তৃণমূল

    South 24 Parganas: ভোটের মুখে বিজেপি-র কর্মিসভায় হামলা, অভিযুক্ত তৃণমূল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের মুখে বিজেপির কর্মিসভায় তৃণমূলের হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। রবিবার ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Parganas) জীবনতলার মাঠেরদিঘি এলাকায়। হামলার জেরে বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী জখম হন। পরে, বিজেপি প্রতিহত করার চেষ্টা করে। তাতে জখম হয়েছেন দুপক্ষের অন্তত সাতজন। আহতদের মধ্যে তৃণমূলের তিনজন এবং বিজেপির চারজন বলেই জানা গিয়েছে।

    ঠিক কী ঘটনা ঘটেছে? (South 24 Parganas)

    সরকারি অনুমতি নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Parganas) জীবনতলার মাঠেরদিঘি এলাকায় বিজেপি-র কর্মিসভা হচ্ছিল। সেখানেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা ঢুকে পড়ে। বিজেপি কর্মীদের বেধড়ক মারধর করে হামলাকারীরা। বিজেপির দাবি, পুলিশকে হামলার কথা জানানো হয়। তা সত্ত্বেও আহত দলীয় কর্মীদের উদ্ধারে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যদিও হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। ভোটের আগে এই অশান্তিকে কেন্দ্র করে থমথমে জীবনতলা থানার মাঠেরদিঘি এলাকা। বিজেপির হাতাহাতিতে জখম দুপক্ষের অন্তত সাতজন। আহতদের মধ্যে তৃণমূলের তিনজন এবং বিজেপির চারজন বলেই দাবি। ক্যানিং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বিজেপির দুই কর্মীকে। যাঁদের মধ্যে সুব্রত দাস নামে এক মণ্ডল সভাপতির অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্যানিংয়ের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক রামকুমার মণ্ডলের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্যানিং থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

    আরও পড়ুন: বিজেপি প্রার্থীর গাড়িতে হামলা, কর্মীদের মারধর, অভিযুক্ত তৃণমূল

    শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা

    বিজেপির জয়নগর সাংগঠনিক জেলার (South 24 Parganas) সাধারণ সম্পাদক বিকাশ সর্দার বলেন, দলীয় কর্মিসভায় তৃণমূল পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। কর্মীরা জখম হন। সন্ত্রাস করে সব কিছু শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে তৃণমূল। তৃণমূলের ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রের বিধায়ক শওকত মোল্লা বলেন, “আমাদের দলীয় কর্মীরা বাইকে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় বিজেপির লোকজনেরা কুৎসিত ভাষায় আক্রমণ করে। তা থেকে গণ্ডগোলের সূত্রপাত। অশান্তির জেরে আমাদের কয়েকজন কর্মীও আহত হয়েছেন।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Madan Mitra: ‘লেবুতলা পার্কের রাম মন্দিরের দিকে যাচ্ছেন সৌগত’, কেন বললেন মদন?

    Madan Mitra: ‘লেবুতলা পার্কের রাম মন্দিরের দিকে যাচ্ছেন সৌগত’, কেন বললেন মদন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুর-নিয়োগ দুর্নীতি ইস্যুতে নাজেহাল অবস্থা তৃণমূল পরিচালিত কামারহাটি পুরসভার। ইডি-র ডাকে বার বার সিজিওতে ছুটতে হচ্ছে পুর চেয়ারম্যান গোপাল সাহাকে। এরই মধ্যে বিজয়া সম্মেলনীতে প্রকাশ্যে গোপালকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করেছেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। গোপালের পাশে দাঁড়িয়ে কার্যত বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের মতো দলের বিধায়ক তথা ‘কালারফুল বয়’ মদন মিত্র (Madan Mitra) বেলাগাম আক্রমণ করেছেন। সৌগতবাবুর মতো বর্ষীয়ান নেতাকে যে ভাবে আক্রমণ করা হয়েছে. বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারাও সেই ঢঙে কথা বলেন না। সামনেই লোকসভা নির্বাচন। তার আগেই কি কামারহাটি কাণ্ড নিয়ে দমদম লোকসভায় তৃণমূলের চেহারা বেআব্রু হয়ে গেল। সাংসদের নাম করে বিধায়ক মদনের কড়া সমালোচনার ঘটনায় তৃণমূলের কোন্দল আরও একবার প্রকাশ্যে চলে এল।

    কামারহাটি নিয়ে সৌগত রায় ঠিক কী বলেছেন?

    কামারহাটিতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিজয়া সম্মেলনীর আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে হাজির ছিলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। মঞ্চে উপস্থিত গোপাল সাহার পাশে দাঁড়িয়ে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, কামারহাটি পুরসভায় ঠিকমতো কাজ হচ্ছে না। কোন অর্ডার পাস হচ্ছে না। মানুষ কোনও পরিষেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ জানাচ্ছেন। পরিষেবা দেওয়াটা সবার আগে দরকার। এই পুরসভায় এত কাউন্সিলার আছে, নিজেদের মধ্যে অন্য গল্প না করে নাগরিক পরিষেবা যাতে আরও উন্নত করা যায় সেই বিষয়ে আলোচনা করা উচিত। এমনকী পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহাকে নাগরিক পরিষেবা উন্নত করার জন্য ধমক দেন তিনি।

    সৌগত রায়কে নিয়ে ঠিক কী বলেছেন মদন? (Madan Mitra)

    সৌগত রায়ের বক্তব্য সামনেই আসতেই মুখ খুলেছেন তৃণমূলের ‘কালারফুল বয়’ (Madan Mitra)। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, ওনার (সৌগত রায়) একটাই উদ্দেশ্য, যেই গোপালকে ইডি ডাকল, তখন উনি বলতে শুরু করলেন, ঠাকুর ঘরে কে? আমি তো কলা খাইনি’। ‘কী বোঝাতে চাইছেন? পুর দুর্নীতিতে আমি নেই! গোপালরা দুর্নীতি করেছে? যা বলার স্পষ্ট বলুন’। ‘আর ৯ বছরে এসব চোখে পড়ল না, এসব ভোটের আগে ঠিক মনে হল আপনার, কোথায় একটা গন্ধ আছে মনে হচ্ছে’। ‘দলের খাবেন আর সুযোগ পেলেই দলের পিছনে পিন বাজি? অথচ, আপনার বাংলোটা শ্রেষ্ঠ বাংলো, আপনি মন্ত্রী থাকাকালীন ম্যানেজ করে নিয়েছেন, আর এখন গোপাল ভূত, আর আপনি রাজা হয়ে গেলেন’। ‘কিছু বলার থাকলে পার্টির মধ্যে বলুন, তবে আপনার গুণ আছে, পিসি সরকারের ম্যাজিকের মত পাল্টি খাওয়া’।

    লেবুতলা পার্কের রাম মন্দিরের দিকে যাচ্ছেন সৌগত, দাবি মদনের

    তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়কে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে মদন মিত্র (Madan Mitra) বলেন, ‘সৌগত রায় ১৫ বছরে ১০টা ছেলে দেখান, যারা আপনার কাছ থেকে সাহায্য পেয়েছে’। ‘বেশি কিছু বলবেন না, দিনকাল ভালো নয় তো’। ‘হঠাৎ আপনি মেরুকরণ করে গিরগিটির মতো পাল্টাচ্ছেন কেন? জেনে রেখে দেবেন, মদন মিত্র আছে’। ‘আপনার ডানদিকে বাঁদিকে যাঁরা ঘোরেন, ওরা তো সব চোর’ । কংগ্রেস আমলে পুরানো ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে মদন বলেন,  ‘লোকে জানে আপনি শিক্ষিত, কিন্তু ৭৭ সালে এমন রিগিং করেছিলেন, যে এসডিপিওকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। তারপর থেকে বারাকপুর হাতছাড়া হয়ে গেল’। এরপর এসব বলার জন্য দল ব্যবস্থা নেবে ধরে নিয়ে মদন মিত্র বলেন. ‘পার্টির কাছে ক্ষমা চাইছি, এইসব কথা বলার জন্য আমার শাস্তি হতে পারে, উত্তর চাইতে পারে, কিন্তু উত্তর আমি দেব’। ‘তবে এটাও বলে রাখি, স্পেসিফিক কিছু না পেলে মদন মিত্ৰ বলে না’। ‘ওনার (সৌগত রায়) বলার স্টাইলটা যেন মনে হচ্ছে, লেবুতলা পার্কের রাম মন্দিরের দিকে এগোচ্ছে। তবে, কিছু যায় আসে না, তুড়ি মারব, উড়ে যাবে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share