Tag: Women Empowerment

Women Empowerment

  • Rashtra Sevika Samiti: সমালখায় রাষ্ট্র সেবিকা সমিতির তিন দিনের বৈঠক শুরু, নারী জাগরণেই জোর

    Rashtra Sevika Samiti: সমালখায় রাষ্ট্র সেবিকা সমিতির তিন দিনের বৈঠক শুরু, নারী জাগরণেই জোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হরিয়ানার পানিপথ জেলার সমালখায় (Samalkha) শুরু হয়েছে রাষ্ট্র সেবিকা সমিতির (Rashtra Sevika Samiti) অখিল ভারতীয় কার্যকারিণী ও প্রতিনিধি মণ্ডলের প্রথম অর্ধবার্ষিক তিন দিনের বৈঠক। সমালখার মাধব স্মৃতি পরিষরে আয়োজিত এই বৈঠকে দেশের ৩৮টি প্রান্ত থেকে ৪৯৬ জন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। আগামী তিন দিনে সংগঠনের গত এক বছরের কাজের মূল্যায়ন, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, নারী জাগরণ, সমাজসেবা এবং সংগঠন সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

    প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে সূচনা

    হরিয়ানার পানিপথ জেলার সমালখার (Samalkha) মাধব স্মৃতি পরিষরে আয়োজিত বৈঠকের সূচনা হয় প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমিতির (Rashtra Sevika Samiti) প্রধান সঞ্চালিকা শান্তাক্কা এবং প্রধান কার্যবাহিকা সীতা গায়ত্রী। বৈঠকের শুরুতে সংগঠনের প্রয়াত কর্মী, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, সন্ত্রাসবাদী হামলায় নিহত নাগরিক, শহিদ জওয়ান এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারানো মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

    নারীর ভূমিকার উপর জোর

    উদ্বোধনী ভাষণে প্রধান কার্যবাহিকা সীতা গায়ত্রী বলেন, “ভারত আজ এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে, যখন উন্নত রাষ্ট্র বা বিকশিত ভারত গড়ার জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ, সাংস্কৃতিক শক্তি এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা দেশের রয়েছে। তবে এই লক্ষ্য পূরণে সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিষ্ঠাতা বন্দনীয়া লক্ষ্মীবাই মৌসিজি কেলকর যে নারী জাগরণের আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন, গত ৯০ বছরে তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। সমিতি শতবর্ষের দিকে এগোচ্ছে এবং সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আগামী দিনেও নারী নেতৃত্ব, চরিত্রগঠন ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উপর জোর দেওয়া হবে।”

    ৯০ বছরের পথচলার মূল্যায়ন

    বৈঠকে জানানো হয়, দীর্ঘ নয় দশকের যাত্রায় রাষ্ট্র সেবিকা সমিতি (Rashtra Sevika Samiti) শুধু সাংগঠনিক বিস্তারই ঘটায়নি, সমাজজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও নিজেদের কার্যক্রম বাড়িয়েছে। নারীকে পরিবার, সমাজ এবং জাতি গঠনের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সংগঠনটি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছে।

    দেশজুড়ে পরিষেবা প্রকল্প

    বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ২,৮৬৬টি পরিষেবা প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে- শিক্ষা ও সংস্কারমূলক কার্যক্রম, স্বাস্থ্য পরিষেবা, স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির উদ্যোগ, যোগ ও ব্যক্তিত্ব বিকাশ কর্মসূচি, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বিভিন্ন সেবামূলক প্রকল্প।

    প্রশিক্ষণ শিবিরে ১৫ হাজারের বেশি সেবিকা

    চলতি বছরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ২৫০টি প্রশিক্ষণ শিবির আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে ১৫,২৪১ জন সেবিকা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংগঠনিক দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শারীরিক সক্ষমতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের বিকাশের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    বিভিন্ন রাজ্যের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ

    বৈঠকে বিভিন্ন প্রান্তের বিশেষ কর্মকাণ্ডও তুলে ধরা হয়। পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ বিরতির পর সফলভাবে পথ সঞ্চালনের আয়োজন, জম্মুতে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও প্রশিক্ষণ শিবির পরিচালনা, ছত্তীসগঢ়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মহিলাদের নিয়ে সামাজিক সম্প্রীতির উদ্যোগ এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সমাজসেবামূলক প্রকল্পের অভিজ্ঞতা প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরা হয়।

    আগামী তিন দিনের আলোচ্যসূচি

    তিন দিনের বৈঠকে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসূচি, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, পরিষেবা প্রকল্পের বিস্তার, বিভিন্ন প্রান্তের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পাশাপাশি দেশের বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতিতে নারীর ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও মতবিনিময় হবে। আগামী ২৬ জুলাই এই বৈঠক শেষ হওয়ার কথা। বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা আগামী দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Annapurna Yojana: চালু হয়ে গেল অন্নপূর্ণা যোজনা, ৩০০০ টাকা করে পড়ল মহিলাদের অ্যাকাউন্টে, কতজন পেলেন?

    Annapurna Yojana: চালু হয়ে গেল অন্নপূর্ণা যোজনা, ৩০০০ টাকা করে পড়ল মহিলাদের অ্যাকাউন্টে, কতজন পেলেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১ জুলাই থেকে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) আর্থিক সহায়তা দেওয়া। কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মালতি রাভা রায়। অনুষ্ঠানে হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগণা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং কলকাতার উপভোক্তারাও যোগ দেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মহিলা আবেদন করেছেন। আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ কোটি ৯ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৮ জনের আধার সংযুক্ত থাকায় তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকেই সরাসরি অর্থ পাঠানো হয়।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী? (Annapurna Yojana)

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘না জাগিলে ললনা, এ বিশ্ব জাগে না। প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকার গঠিত হলে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করা হবে। আজ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে আমরা বড় পদক্ষেপ করলাম। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’’ আবেদন যাচাইয়ের প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘‘প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ আবেদনপত্র জমা পড়েছিল। প্রতিটি আবেদনপত্র নিয়ম মেনে খতিয়ে দেখা হয়েছে, যাতে অযোগ্য কেউ সরকারি সুবিধা না পান (Annapurna Yojana)। সরকারি অর্থ শুধুমাত্র প্রকৃত প্রাপকদের কাছেই পৌঁছানো হবে। এটি কারও ব্যক্তিগত অর্থ নয়। আমরা সব মহিলা বিধায়ককে ডেকেছি, কোনও রাজনৈতিক বিভাজন করিনি। ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম নেই, তাঁদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে, কারণ সরকারি সুবিধা শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকরাই পাবেন।’’ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘আমাদের সরকার মাত্র দেড় মাসের পুরানো। এই সময়ের মধ্যেই ১ কোটি ৬০ লাখ আবেদন পত্রের মধ্যে প্রায় ২৬ লাখ বাতিল করা হয়েছে। বাকি সমস্ত যোগ্য উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হচ্ছে। কোনও প্রকৃত উপভোক্তাকে বঞ্চিত করা হবে না। এটি তাঁদের অধিকার।’’

    পূর্ববর্তী সরকারের একাধিক অনিয়ম

    তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে একাধিক অনিয়ম ধরা পড়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘আগের প্রকল্পগুলিতে মৃত ব্যক্তি, একাধিক জায়গায় নাম থাকা ব্যক্তি, এমনকি ভারতীয় নন, এমন অনেকের নামও ছিল। সেগুলি চিহ্নিত করে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থীদের মধ্যে যাঁরা সিএএর জন্য আবেদন করেছেন, তাঁদের সামাজিক ভাতা চালু থাকবে।’’ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘‘৩ জুন আমরা ঘোষণা করেছিলাম যে টাকা দেওয়া শুরু হবে। জুলাই ও অগাস্ট মাসেও আবেদন করার সুযোগ থাকবে। সরকারি সুবিধা শুধুমাত্র যোগ্যদেরই দেওয়া হবে। আগামী দিনে সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য গোলাপি কার্ড চালু করা হবে। অনেক মহিলা কর্মী নিজে টিকিট কেটে যাতায়াত করতে চান, তাঁদের আমি (Suvendu Adhikari) সম্মান জানাই। এই পরিষেবার জন্য সরকারকে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে (Annapurna Yojana)।’’

     

  • Matangini Hazra Rani Shiromani: বাংলায় প্রথম হচ্ছে দুই মহিলা স্টেট পুলিশ রিজার্ভ ফোর্স ব্যাটালিয়ন, নামকরণ মাতঙ্গিনী-রানি শিরোমণির নামে

    Matangini Hazra Rani Shiromani: বাংলায় প্রথম হচ্ছে দুই মহিলা স্টেট পুলিশ রিজার্ভ ফোর্স ব্যাটালিয়ন, নামকরণ মাতঙ্গিনী-রানি শিরোমণির নামে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইনশৃঙ্খলা-রক্ষা বাহিনীতে আরও বেশি করে মহিলাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকার। রাজ্যে এই প্রথম দু’টি বিশেষ মহিলা স্টেট পুলিশ রিজার্ভ ফোর্স ব্যাটালিয়ন (SPRF Battalions) গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দুই ব্যাটালিয়নের নাম রাখা হচ্ছে বাংলার দুই বীর স্বাধীনতা সংগ্রামী মাতঙ্গিনী হাজরা এবং রানি শিরোমণির (Matangini Hazra Rani Shiromani) নামে। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এবং বিশেষত নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় মহিলা পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা।

    নয়া মহিলা ব্যাটালিয়নের কাজ (Matangini Hazra Rani Shiromani)

    প্রশ্ন হল, কী কী দায়িত্ব পালন করবে নতুন মহিলা ব্যাটালিয়ন? সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বিশেষ মহিলা ব্যাটালিয়নগুলির প্রধান দায়িত্বের মধ্যে থাকবে— নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ, দাঙ্গা-বিরোধী অভিযান চালানো, এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও উদ্ধার সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম মহিলা পুলিশ সদস্যদের দাঙ্গা দমন অভিযানে মোতায়েন করা হবে। এর মাধ্যমে রাজ্যের পুলিশ ব্যবস্থায় নারীদের ভূমিকা আরও ডানা মেলতে চলেছে। জানা গিয়েছে, মাতঙ্গিনী হাজরা মহিলা এসপিআরএফ ব্যাটালিয়নের জন্য উপযুক্ত জমি ও প্রশাসনিক সুবিধা বিবেচনা করে জায়গা বেছে নেওয়া হবে।

    মহিলা কর্মসংস্থানের নয়া সুযোগ

    এদিকে, রানি শিরোমণি মহিলা এসপিআরএফ ব্যাটালিয়ন গড়ে তোলা হবে ব্যারাকপুর পুলিশ ব্রিগেড এলাকার এসএপি (SAP) ৮ম ব্যাটালিয়নের যে ক্যাম্পাস রয়েছে, সেখানে। সেখানে আগে থেকেই যে পরিকাঠামো রয়েছে, সেটি ব্যবহার করে দ্রুত এই ইউনিটকে কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র নারীদের জন্য পৃথক পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠন রাজ্যে মহিলা কর্মসংস্থানের নয়া সুযোগ তৈরি করবে। এর (SPRF Battalions) পাশাপাশি নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ মোকাবিলা, সংবেদনশীল পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ আরও নিবিড় হবে বলেই আশা ওয়াকিবহাল মহলের। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ নারী (Matangini Hazra Rani Shiromani) ক্ষমতায়নের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কার্যক্ষমতা এবং জনসুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

     

  • BSF Women Expedition Team: এভারেস্টের চূড়ায় ‘বন্দে মাতরম’! ইতিহাস গড়লেন বাংলার মুনমুন সহ বিএসএফ-এর ৪ মহিলা জওয়ান

    BSF Women Expedition Team: এভারেস্টের চূড়ায় ‘বন্দে মাতরম’! ইতিহাস গড়লেন বাংলার মুনমুন সহ বিএসএফ-এর ৪ মহিলা জওয়ান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে ইতিহাস গড়লেন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর (Border Security Force) চার মহিলা কনস্টেবল। বিএসএফ এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘মিশন বন্দে মাতরম’। দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ইতিহাসে এটিই বিএসএফ-এর প্রথম সর্ব-মহিলা এভারেস্ট অভিযান। দেশজুড়ে ইতিমধ্যেই বিএসএফ-এর এই কৃতিত্ব নিয়ে প্রশংসার ঝড় উঠেছে। বলা হচ্ছে, এই সাফল্য শুধু পর্বতারোহণ নয়, দেশের নিরাপত্তা বাহিনীতে মহিলাদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা ও সক্ষমতারও প্রতীক।

    চার সাহসিনী কারা?

    এই চার সাহসী আরোহী হলেন লাদাখের কাউসার ফাতিমা, পশ্চিমবঙ্গের মুনমুন ঘোষ, উত্তরাখণ্ডের রেবেকা সিং এবং কার্গিলের সেরিং চোরোল। গত ৬ এপ্রিল নয়াদিল্লি থেকে বিএসএফ-এর ডিরেক্টর জেনারেল প্রবীণ কুমার অভিযানের সূচনা করেছিলেন। বিএসএফ-এর ডায়মন্ড জুবিলি বর্ষ এবং ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখেই এই বিশেষ অভিযান সংগঠিত হয়। বুধবার সকাল ৮টা নাগাদ ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার উচ্চতার এভারেস্ট শৃঙ্গে পৌঁছে ভারতের জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গেয়ে নজির সৃষ্টি করেন তাঁরা।

    এভারেস্টের চূড়ায় ‘বন্দে মাতরম’

    বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, শৃঙ্গে পৌঁছনোর পর চার মহিলা কনস্টেবল একসঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গেয়ে ওঠেন। এত উচ্চতায় দাঁড়িয়ে এই প্রথমবার জাতীয় গান পরিবেশিত হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। এভারেস্ট বেস ক্যাম্প থেকে রেডিও লিঙ্কের মাধ্যমে দলের সঙ্গে কথা বলেন বিএসএফ ডিজি প্রবীণ কুমার। তিনি অভিযাত্রীদের অভিনন্দন জানান এবং তাঁদের এই সাফল্যকে গোটা দেশের গর্ব বলে উল্লেখ করেন।

    অমিত শাহের অভিনন্দনবার্তা

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) বিএসএফ-এর সর্ব-মহিলা দলের এই সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, “নারীশক্তি বিএসএফ-এর অদম্য ক্ষমতার প্রমাণ দিল। বাহিনীর ডায়মন্ড জুবিলি উপলক্ষে বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয় করে এবং আকাশে বন্দে মাতরম ধ্বনি তুলে তাঁরা সাহস, দেশপ্রেম ও আত্মনিবেদনের এক বিরল উদাহরণ স্থাপন করেছেন।” এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, বিএসএফ অমিত শাহের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনস্থ।

    বাংলার মুনমুন ঘোষের এভারেস্ট-জয়

    চারজনই দেশের চার ভিন্ন ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক অঞ্চল থেকে উঠে এসেছেন। কাউসার ফাতিমা এবং সেরিং চোরোল উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের বাসিন্দা হওয়ায় তাঁদের শরীর স্বাভাবিকভাবেই কম অক্সিজেনের পরিবেশে মানিয়ে নিতে সক্ষম। হিমালয় অভিযানে এই অভিজ্ঞতা বড় সুবিধা হিসেবে কাজ করেছে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুনমুন ঘোষ এবং উত্তরাখণ্ডের রেবেকা সিং বিএসএফ-এর সর্বভারতীয় নিয়োগ ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করছেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, চারজনই কনস্টেবল পদমর্যাদার জওয়ান। ভারতীয় সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীতে উচ্চতর পর্বতারোহণ অভিযানে সাধারণত উচ্চপদস্থ বা বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদেরই দেখা যায়। সেই জায়গায় কনস্টেবল পদে থাকা মহিলা জওয়ানদের এই সাফল্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    বিএসএফ-এর পর্বতারোহণ ইতিহাস

    বিএসএফ-এর দীর্ঘদিনের পর্বতারোহণ ঐতিহ্য রয়েছে। বাহিনীটি ইতিমধ্যেই ৫০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ শৃঙ্গ জয় করেছে। এর আগে ২০০৬ এবং ২০১৮ সালে বিএসএফ-এর পুরুষ সদস্যদের দল সফলভাবে এভারেস্ট অভিযান সম্পন্ন করেছিল। ভারতীয় মহিলা পর্বতারোহণের ইতিহাসে প্রথম বড় মাইলফলক আসে ১৯৮৪ সালে, যখন বচেন্দ্রী পাল প্রথম ভারতীয় মহিলা হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন। পরে ১৯৯২ সালে সাত ভারতীয় মহিলার একটি দল একসঙ্গে এভারেস্টে ওঠেন। ২০১৩ সালে ৪৮ বছর বয়সে প্রেমলতা আগরওয়ালও এভারেস্ট জয় করে ইতিহাস গড়েছিলেন। বিএসএফ-এর এই নতুন সাফল্য সেই দীর্ঘ সংগ্রামী ঐতিহ্যেরই নতুন অধ্যায় বলে মনে করা হচ্ছে।

    ২০২৬ মরশুমে এভারেস্টে ভিড়

    এ বছর নেপালের দিক থেকে এভারেস্ট অভিযানে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নেপাল সরকার রেকর্ড সংখ্যক ক্লাইম্বিং পারমিট ইস্যু করেছে। ফলে ২০২৬ সালের মরশুমকে এভারেস্ট ইতিহাসের অন্যতম ব্যস্ত মরশুম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এবার লক্ষ্য লোৎসে

    মহিলা দলের এভারেস্ট জয়ের পর এবার বিএসএফ-এর একটি সর্ব-পুরুষ দল বিশ্বের চতুর্থ উচ্চতম শৃঙ্গ লোৎসে (৮,৫১৬ মিটার) জয়ের চেষ্টা করবে। এভারেস্ট এবং লোৎসের রুট অনেকটাই এক হলেও ক্যাম্প ৩-এর পর পথ আলাদা হয়ে যায়। লোৎসে ফেস পেরিয়ে আলাদা কুলোয়ার ধরে শৃঙ্গে পৌঁছতে হয়।

  • PM Modi: “নারীদের স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষা চূর্ণ হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নারী শক্তি”, মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস না হওয়ায় বিরোধীদের নিশানা প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: “নারীদের স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষা চূর্ণ হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নারী শক্তি”, মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস না হওয়ায় বিরোধীদের নিশানা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “নারীদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা চূর্ণ হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নারী শক্তি (Womens Bill) ও দেশের অগ্রগতি—উভয়ই।” ১৮ এপ্রিল, শনিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে কথাগুলি বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস না হওয়ায় এদিন বিরোধী দলগুলিকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। বিরোধীরা সংবিধান এবং মহিলাদের আকাঙ্ক্ষা—উভয়ের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলেও তোপ দাগেন প্রধানমন্ত্রী।

    বিরোধীদের তোপ প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi)

    অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য এই আইনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই বিলটি একবিংশ শতাব্দীর মহিলাদের জন্য ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল।” প্রধানমন্ত্রী একে ‘সময়ের দাবি’ বলেও বর্ণনা করেন। তিনি এও বলেন, “ভারতের উন্নয়নের যাত্রায় নারীদের সমান অংশীদার করার জন্য এটি (বিলটি) একটি পরিষ্কার ও সৎ উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হয়েছিল।” লোকসভায় বিলটি পাশ না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশ দেখছে কীভাবে নারীদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা চূর্ণ হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নারী শক্তি ও দেশের অগ্রগতি—উভয়ই।” সংসদে বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া জানানোরও সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “তাঁরা যা করেছেন, তা শুধু ডেস্কে আঘাত করা নয়, বরং মহিলাদের আত্মসম্মানের ওপর আক্রমণ।”

    বিরোধীদের আসল চেহারা প্রকাশ

    কংগ্রেস, ডিএমকে, তৃণমূল কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টির মতো দলগুলিকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী তাদের সংবিধান ও নারী ক্ষমতায়নের বিরোধী বলে অভিহিত করেন। তাঁর অভিযোগ, তারা (বিরোধীরা) ঐতিহাসিকভাবে নারীদের সংরক্ষণ আনার প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করেছে (PM Modi)। তিনি বলেন, “কংগ্রেস মহিলাদের সংরক্ষণের ধারণাকে ঘৃণা করে এবং সবসময় বাধা সৃষ্টি করেছে (Womens Bill)। বিরোধীরা দেশের সামনে তাদের আসল চেহারাও প্রকাশ করেছে।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “আমি আশা করেছিলাম কংগ্রেস তাদের দীর্ঘদিনের ভুল সংশোধন করবে, মহিলাদের সমর্থনে দাঁড়াবে, কিন্তু তারা ইতিহাস গড়ার সুযোগ হারিয়েছে।” বিরোধীদের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলে তিনি জানান, তাদের কাজ আবারও প্রমাণ করেছে যে তাদের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার জাতীয় স্বার্থের ওপরে (PM Modi)।

     

  • Mayawati: ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ বিল সমর্থন বিএসপি সুপ্রিমো মায়াবতীর

    Mayawati: ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ বিল সমর্থন বিএসপি সুপ্রিমো মায়াবতীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লোকসভার জন্য প্রস্তাবিত ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ বিল (Womens Reservation Bill) সমর্থন করেছেন বহুজন সমাজবাদী পার্টির প্রধান মায়াবতী (Mayawati)। এই বিলটি পাশ করাতে কয়েক দিনের মধ্যে একটি বিশেষ অধিবেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংসদ। এই অধিবেশনেই মহিলাদের সংরক্ষণ বিল নিয়ে আলোচনা ও পাস করা হবে। এই প্রেক্ষিতে বহুজন সমাজ পার্টি সুপ্রিমোর ভিন্ন সুরে যারপরনাই খুশি বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ। মায়াবতী বলেন, “এটি অন্তত মহিলাদের প্রাপ্য প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার একটি সূচনা।
    সংখ্যাটা হয়তো কম, কিন্তু এটি একটি শুরু, এবং আমরা একে স্বাগত জানাই। ৫০ না হলেও, ৩৩ শতাংশই চলবে।”

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য (Mayawati)

    উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দল বিএসপি আগে থেকেই মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্য কোনও দল এতে রাজি হয়নি, ভবিষ্যতেও সম্মত হবে বলে মনে হয় না। আমরা শ্রদ্ধেয় বিআর আম্বেদকরকেও ধন্যবাদ জানাই, যিনি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমান ভোটাধিকারের ব্যবস্থা করেছিলেন।” তিনি জানান, ২০২৩ সালে প্রথম পাশ হওয়া আইন বাস্তবায়িত হতে দেরি হলেও তার দল একে স্বাগত জানায় এবং ঐতিহাসিকভাবে বঞ্চিত মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “যদিও দেরি হয়েছে, তবুও আমরা একে স্বাগত জানাই। যদি প্রকৃতপক্ষে শোষিত ও বঞ্চিত মহিলাদের—বিশেষত এসসি, এসটি এবং ওবিসি সম্প্রদায়ের মহিলাদের জন্য আলাদা সংরক্ষণ দেওয়া হয়, তবে তা যথাযথ ও ঐতিহাসিক (Mayawati) হবে।”

    নারী ক্ষমতায়ন নিয়েও আলোচনা

    মহিলাদের ক্ষমতায়ন নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মায়াবতী বলেন, “মহিলাদের অধিকার নিয়ে অনেক কথা বলা হলেও সুস্পষ্ট নীতি ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির অভাবে তা বাস্তবায়িত হয়নি। আগামীকাল থেকে সংসদের তিন দিনের অধিবেশন শুরু হচ্ছে। নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে অনেক আলোচনা হলেও সঠিক নীতি ও ইচ্ছেশক্তির অভাবে তা যথাযথভাবে এগোয়নি। অন্যান্য (Womens Reservation Bill) বঞ্চিত গোষ্ঠীর মতো মহিলারাও এখনও বিভিন্ন অপরাধ ও হিংসার শিকার হচ্ছেন (Mayawati)।”

    কংগ্রেসকে নিশানা মায়াবতীর

    কংগ্রেসকে নিশানা করে তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর দলটির নীতিতে জাতিভেদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল এবং এর ফলে মহিলাদের সংরক্ষণ বিলম্বিত হয়েছে।” মায়াবতী বলেন, “তৎকালীন কংগ্রেস সরকার জাতিভেদের কারণে এটি গ্রহণ করেনি এবং পরে ধাপে ধাপে তা পাশ করে। ফলে আম্বেদকরকে দেশের প্রথম আইনমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে হয়। কারণ ওবিসিদের জন্য সংরক্ষণ এবং মহিলাদের নিরাপত্তা ও উন্নতির জন্য যথেষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।” প্রসঙ্গত, এর আগে মঙ্গলবার, সরকার ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার লক্ষ্যে লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০ করার প্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে ৮১৫টি আসন রাজ্যগুলির জন্য এবং ৩৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত হবে বলে সূত্রের খবর। বর্তমানে লোকসভায় ৫৪৩টি আসন রয়েছে। সরকার ১৬, ১৭ এবং ১৮ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনী বিল আনতে চায়, যাতে ২০২৯ থেকে লোকসভায় ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা যায় (Mayawati)। প্রস্তাবিত সীমানা পুনর্নির্ধারণের ফলে সব রাজ্যের আসন সংখ্যা বাড়বে। এই বিশেষ অধিবেশনে নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম, ২০২৩ সংশোধন এবং প্রস্তাবিত (Womens Reservation Bill) ডিলিমিটেশন বিলও নিয়ে আলোচনা হবে।

     

  • Droupadi Murmu: আন্তর্জাতিক নারী দিবসে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতির

    Droupadi Murmu: আন্তর্জাতিক নারী দিবসে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানালেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu)। তিনি বলেন, “শিক্ষিত ও ক্ষমতায়িত নারীরাই একটি প্রগতিশীল জাতির প্রধান স্তম্ভ।” এক্স হ্যান্ডেলে করা এক পোস্টে তিনি বলেন, “নারীরা যখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করছে এবং সাহসিকতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তখন তারা একটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ সমাজের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করছে (International Womens Day)।”

    নারী দিবসের শুভেচ্ছা (Droupadi Murmu)

    রাষ্ট্রপতি বলেন, “আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। শিক্ষিত ও ক্ষমতায়িত নারীরা একটি প্রগতিশীল জাতির স্তম্ভ। নারী শক্তি যখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করছে এবং সাহসের সঙ্গে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তখন তা একটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ সমাজের ভিত্তিকে শক্তিশালী করে।” তিনি আরও বলেন, “এমন একটি সমাজ গড়ে তোলার জন্য আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা দরকার, যেখানে প্রত্যেক নারী সমান সুযোগ পাবে এবং স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারবে।” রাষ্ট্রপতি বলেন, “এই উপলক্ষে আসুন আমরা আবারও আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করি, একটি এমন সমাজ গড়ে তুলতে, যেখানে প্রত্যেক নারী উন্নতি করার সমান সুযোগ পাবে এবং মর্যাদা, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার সঙ্গে বেঁচে থাকবে। আসুন আমরা একসঙ্গে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করি, যেখানে নারীদের স্বপ্ন ও সাফল্য একটি আরও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলে (Droupadi Murmu)।”

    জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনের বক্তব্য

    এদিকে জাতীয় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহাতকরও আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশবাসীকে। প্রশংসা করেছেন কর্তব্যপথে আয়োজিত ‘শক্তি ওয়াক’ উদ্যোগেরও। সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “এই উদ্যোগ নারীদের জন্য প্রণীত বিভিন্ন নীতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করবে।” এর পাশাপাশি তিনি স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে মহিলাদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন (Droupadi Murmu)। চেয়ারপার্সন বলেন, “আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এই উপলক্ষে সবাইকে আমার শুভেচ্ছা। আজ ভারতের নারী ও শিশু উন্নয়নমন্ত্রক অত্যন্ত সুন্দরভাবে কার্তব্যপথে একটি পদযাত্রার আয়োজন করেছে। এর মাধ্যমে নারীদের জন্য নেওয়া বিভিন্ন নীতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হবে। নারীদের জন্য উন্নত তহবিল গঠন করা হচ্ছে, তাদের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া হচ্ছে এবং শিক্ষাক্ষেত্রেও তারা আজ খুব ভালো জায়গায় রয়েছে। নারীরা এই সুযোগগুলি কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসবে (International Womens Day)।”

    ‘শক্তি ওয়াক’

    প্রসঙ্গত, ভারতের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রক আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে এদিন নয়াদিল্লির কর্তব্যপথে “শক্তি ওয়াক#শিলিডসভারত” নামে একটি নারী-নেতৃত্বাধীন পদযাত্রার আয়োজন করে (Droupadi Murmu)। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হল একটি প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভারত গঠনে মহিলাদের মুখ্য ভূমিকার কথা তুলে ধরা। ‘শক্তি ওয়াকে’র লক্ষ্য হল বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের নেতৃত্ব ও অবদান উদযাপন করা, নারীদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা, নারীদের জন্য চালু বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পের কথা তুলে ধরা, বিভিন্ন পটভূমি থেকে উঠে আসা নারীদের মধ্যে ঐক্য ও গর্বের অনুভূতি তৈরি করা এবং নারী-নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন যে জাতীয় অগ্রগতির কেন্দ্রবিন্দু, সেই বার্তা প্রচার করা (International Womens Day)। ফি বছর ৮ মার্চ বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়। এই দিনটি সমাজের সব ক্ষেত্রেই নারীদের সাফল্য, নেতৃত্ব এবং অবদানকে উদযাপন করে এবং লিঙ্গসমতা, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও নারীর ক্ষমতায়নের প্রতি বৈশ্বিক অঙ্গীকারকে ফের সুদৃঢ় করে (Droupadi Murmu)।

     

  • PM Modi: নয়া ঠিকানায় গিয়েই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিতে স্বাক্ষর প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: নয়া ঠিকানায় গিয়েই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিতে স্বাক্ষর প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবারই প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO) সাউথ ব্লক ছেড়ে পাকাপাকিভাবে চলে গেল সেবা তীর্থ কমপ্লেক্সের নয়া ঠিকানায়। তার পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) কৃষক, নারী, যুবসমাজ এবং অসহায় নাগরিকদের কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিতে স্বাক্ষর করেন। সেবা তীর্থ থেকে নেওয়া তাঁর প্রথম সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পিএম রাহাত প্রকল্প চালুর অনুমোদন দেন, ঘোষণা করেন লাখপতি দিদি উদ্যোগের ব্যাপক সম্প্রসারণের। এর পাশাপাশি তিনি কৃষি পরিকাঠামো তহবিলের বরাদ্দ দ্বিগুণ করেন এবং অনুমোদন করেন স্টার্টআপ ইন্ডিয়া ফান্ড অফ ফান্ডস ২-এর।

    পিএম রাহাত প্রকল্প চালু

    জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী যে পিএম রাহাত প্রকল্প চালুর অনুমোদন দিয়েছেন, তার লক্ষ্য হল দুর্ঘটনাগ্রস্তদের জন্য সর্বোচ্চ ১.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদবিহীন চিকিৎসার সুবিধা দেওয়া। আধিকারিকরা জানান, জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ও ক্যাশলেস চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে প্রাণহানি রোধ করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

    ছ’কোটি  লাখপতি দিদি-র লক্ষ্য (PM Modi)

    সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, নির্ধারিত মার্চ ২০২৭ সময়সীমার আগেই তিন কোটির ‘লাখপতি দিদি’ লক্ষ্যমাত্রার চৌকাঠ পার করা হয়েছে। এই অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় সরকার মার্চ ২০২৯-এর মধ্যে ছ’কোটি ‘লাখপতি দিদি’ তৈরির নয়া লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। লাখপতি দিদি উদ্যোগের লক্ষ্য স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত মহিলাদের টেকসই জীবিকামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বছরে কমপক্ষে ১ লক্ষ টাকা আয় করতে সক্ষম করে তোলা (PM Modi)।

    বাড়ল কৃষি পরিকাঠামো তহবিলের বরাদ্দ

    কৃষিক্ষেত্রকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী কৃষি পরিকাঠামো তহবিলের বরাদ্দ ১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি টাকা করেছেন। এই তহবিল ফসল-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা পরিকাঠামো এবং গুদামঘর, কোল্ড স্টোরেজ ইউনিট ও প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের মতো সামষ্টিক কৃষি সম্পদ উন্নয়নে সহায়তা করে। আধিকারিকরা জানান, এই বর্ধিত বরাদ্দ কৃষি মূল্যশৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করবে এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

    স্টার্টআপ ইন্ডিয়া ফান্ড অফ ফান্ডস ২-এর অনুমোদন

    ভারতকে বৈশ্বিক উদ্ভাবন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ১০,০০০ কোটি টাকার করপাস-সহ স্টার্টআপ ইন্ডিয়া ফান্ড অফ ফান্ডস ২-এর অনুমোদন করেছেন। এই নয়া তহবিল প্রাথমিক পর্যায়ের স্টার্টআপ এবং ডিপ টেক ও অগ্রসর উৎপাদন খাতের মতো উচ্চ-বৃদ্ধির ক্ষেত্রকে সাহায্য করবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের (PM Modi)।

  • Ahilyabai: ৩১ মে তাঁর জন্মদিন, নারী ক্ষমতায়ন ও সশক্তিকরণের প্রতীক লোকমাতা অহল্যা বাঈ

    Ahilyabai: ৩১ মে তাঁর জন্মদিন, নারী ক্ষমতায়ন ও সশক্তিকরণের প্রতীক লোকমাতা অহল্যা বাঈ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৩১ মে জন্মদিন লোকমাতা অহল্যা বাঈয়ের (Ahilyabai)। ৩০০ বছর আগে ১৭২৫ সালে আজকের দিনেই জন্ম নেন লোকমাতা অহল্যা বাঈ। সুশাসন, জনকল্যাণের কারণে তাঁর শাসন ব্যবস্থা ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে। লোকমাতা অহল্যা বাঈয়ের শাসন ছিল ধর্মের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। এভাবেই তাঁর রাজত্বে প্রতিধ্বনিত হত প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর শাসনব্যবস্থা শুধুমাত্র একটি সুশাসন ছিল না, উপরন্ত একটি পবিত্র জনকল্যাণমূলক পরিষেবা ছিল। যার ভিত্তি ছিল প্রাচীন ভারতের আধ্যাত্মিকতা। প্রতিদিন ভোর ৪টেতে উঠতেন রানি। শৈব, বৈষ্ণব এই দুই মতে সারতেন পুজো। তারপর বসতেন নিজের দরবারে।

    আদর্শ রানি লোকমাতা অহল্যা বাঈ (Ahilyabai)

    নারী ক্ষমতায়নের দিক থেকে তিনি একটি আদর্শ উদাহরণ তৈরি করতে পেরেছিলেন তিনি। পাশ্চাত্যের সঙ্গে যদি ভারতীয় সভ্যতার তুলনা টানা হয় মধ্যযুগের নারী সশক্তিকরণের ক্ষেত্রে, সেখানে লোকমাতা অহল্যা বাঈ নয়া অধ্যায় লিখতে পেরেছিলেন। অহল্যা বাঈ হোলকার জন্মগ্রহণ করেন মহারাষ্ট্রের এক অখ্যাত গ্রাম নাম চন্ডীতে। জন্মের পরেই পারিবারিকভাবে তিনি ক্ষমতার অলিন্দে প্রবেশ করেননি। বর্তমান দিনের পাশ্চাত্যের যে আধুনিক ফেমিনিজম, সেটিকে দূরে সরিয়ে, বিপরীতে হেঁটে রানি পদে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন অহল্যা বাঈ।

    নারী ক্ষমতায়ন ও সশক্তিকরণের প্রতীক অহল্যা বাঈ (Ahilyabai)

    প্রাচীন ভারতে এবং মধ্যযুগে নারীদের নাকি কোনও ক্ষমতাই ছিল না এবং তাঁদেরকে নাকি পর্দা প্রথার মধ্যে থাকতে হত। প্রচলিত এই মিথ-কে একেবারেই ভেঙে তছনছ করে দিয়েছেন অহল্যা বাঈ। সুশাসন, জনকল্যাণ মূলক কাজ, মন্দির প্রতিষ্ঠা- এই সমস্ত কিছুর ভিত্তিতে তিনি দেখিয়ে গিয়েছেন যে মধ্যযুগেও এই ভারতবর্ষের নারী শক্তি কতটা এগিয়েছিল। একজন বিধবা নারী যাঁকে হয়তো ঘরের ভিতরেই থাকতে হত। কিন্তু তাঁর ভাগ্য, তাঁর জন্য অন্য কিছু পরিকল্পনা করেছিল। তাঁর শ্বশুর ছিলেন অত্যন্ত দেশপ্রেমিক মালহার হোলকার। তিনি ছিলেন মারাঠা সাম্রাজ্যের একজন অগ্রণী সেনা নায়ক। অহল্যা বাঈ তাঁর কাছ থেকেই শিক্ষা পেয়েছিলেন। প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন সুশাসনের এবং কূটনীতির। সামরিক অভিযানে স্বামীর মৃত্যুর পরে তিনি এবং তাঁর শ্বশুর মালহার, হোলকার সাম্রাজ্যকে নতুন ভাবে গড়ে তুলতে শুরু করেন।

    রাজধানী ছিল মাহেশ্বর (Ahilyabai)

    অহল্যা বাঈ হোলকারের রাজধানী ছিল মাহেশ্বর। এই জনপদকেই তিনি সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতা এবং সুশাসনের কেন্দ্র ভূমিতে পরিণত করেন। তাঁর রাজত্বে ছিল সুবিচার, জনকল্যাণ ও অহিংসা- এই সমস্ত কিছুরই প্রাণকেন্দ্র। অহল্যা বাঈকে জানতে গেলে আগে বুঝতে হবে, তাঁর মাহেশ্বর সাম্রাজ্যকে। কীভাবে তিনি তাঁর এই রাজধানীকে গড়ে তুলেছিলেন নর্মদা নদীর ধারে। এটি পরিণত হয়েছিল একটি কর্মভূমিতে। যেখানে প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতা প্রতিধ্বনিত হত। সহাবস্থান করত প্রাচীন ভারতীয় নৈতিকতা এবং আধ্যাত্মিকতা। তাঁর দরবারে ছিলেন বিদ্বান, জ্ঞানী, পণ্ডিত, শিল্পী, সাধু সন্তরা এবং কূটনীতিকরা।

    জনগণ তাঁর দরবারে আসতে উৎসাগহিতবোধ করত

    তাঁর প্রতিদিনকার শাসনের মধ্যে থাকত তন্ত্র চুক্তি এবং রাজধর্ম। এই দুই নীতির উপর ভিত্তি করেই তিনি রাজত্ব চালাতেন। যেটি তিনি অর্থশাস্ত্রের মতো গ্রন্থগুলি থেকে নিয়েছিলেন। রাজ্যের বিচার ব্যবস্থা এবং নাগরিকদের জীবনোন্নয়নের মানকে তিনি অনেক ওপরে তুলতে পেরেছিলেন। তাঁর দরবারে আসতে জনগণ উৎসাহিত বোধ করত। কারণ তারা জানত এখানেই মিলবে সুবিচার। এখানেই মিলবে সুশাসন। তিনি তাঁর মন্ত্রীদের বলতেন যে প্রত্যেকটি প্রশাসনিক পদক্ষেপে যেন নৈতিকতা এবং সুবিচারের আবরণ থাকে। অহল্যাবাঈ সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য প্রতিদিন গণ শুনানির ব্যবস্থা করতেন। তাঁর রাজ্যের আদালতের সিদ্ধান্তের প্রতি কারও আপত্তি থাকলে, অহল্যাবাঈ ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের সমস্যার কথা শুনতেন।

    সংস্কারমূলক কাজ

    অহল্যা বাঈয়ের (Ahilyabai Holkar) শাসন সেই অষ্টাদশ শতাব্দীর সময়কার। যেসময়ে মুঘল সাম্রাজ্যের পতন হচ্ছে এবং ব্রিটিশরা ভারতবর্ষে প্রবেশ করছে। আফগান আক্রমণ হচ্ছে ও মারাঠা সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ছে। সেই সময় তিনি নতুনভাবে এই ভারতবর্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে গাঁথার কাজ শুরু করেছিলেন। অহল্যা বাঈ হোলকার সাধু মহাত্মাদের জন্য আশ্রম তৈরি করে দিতেন। ভগ্ন মন্দির তিনি প্রতিষ্ঠা করতেন। যে মন্দিরগুলিকে ইসলামিক আক্রমণকারীরা বারবার হামলা করে ভেঙে দিয়ছিল। এর পাশাপাশি তিনি অনেক বাণিজ্য পথ তৈরি করেছিলেন, মধ্য ভারতের ওপর দিয়ে। অহল্যা বাঈয়ের আগে যেভাবে ভারতবর্ষ শাসন হয়েছে, সেখানে ইসলামিক আমলে মধ্যযুগের শুধুমাত্র ধ্বংস এবং হিংসার রাজনীতির দেখা দিয়েছে।

    আগ্রাসনে বিশ্বাস রাখতেন না

    দেশীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে তিনি কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক রেখে চলতেন। শুধু তাই নয়, সেখানে তিনি দূত নিয়োগও করতেন। তিনি কখনও আগ্রাসনকারীর ভূমিকা নেননি। পাশ্চাত্যের রাজনৈতিক তত্ত্বগুলিতে যে ধরনের কূটনীতি দেখা যায়, অহল্যা বাঈ হোলকার (Ahilyabai Holkar) সম্পূর্ণ তার বিপরীত পথে হেঁটেছিলেন এবং তাঁর কূটনীতিতে একেবারেই ব্রাত্য ছিল আগ্রাসন।

  • Mahakumbh 2025: প্রথম কোনও কুম্ভে হাজারেরও বেশি মহিলা সন্ন্যাস ধর্মে দীক্ষা নিতে চলেছেন

    Mahakumbh 2025: প্রথম কোনও কুম্ভে হাজারেরও বেশি মহিলা সন্ন্যাস ধর্মে দীক্ষা নিতে চলেছেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৪৪ বছর পরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মহাকুম্ভ (Mahakumbh 2025)। প্রয়াগরাজে দেখা যাচ্ছে, নারী সশক্তিকরণের প্রতিফলন। জানা গিয়েছে, মহাকুম্ভে হাজারেরও বেশি মহিলা তপস্বী দীক্ষা গ্রহণ করবেন এবং সন্ন্যাস ধর্ম পালনের ব্রত নেবেন। মৌনী অমাবস্যার অমৃত স্নানের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সেই সময়তেই অসংখ্য মহিলাকে দীক্ষা নিতে দেখা যাবে।

    সন্ন্যাসিনী শ্রী পঞ্চদশনাম জুনা আখড়ার তপস্বিনী কী বলছেন? 

    ইতিমধ্যেই বিভিন্ন আখড়া সন্ন্যাস ধর্মে (Mahakumbh 2025) দীক্ষা গ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতিও শুরু করেছে। মনে করা হচ্ছে চলতি মহাকুম্ভে একদম রেকর্ড স্থাপন হতে পারে। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মহিলা তপস্বী সন্ন্যাস ধর্মে দীক্ষা নিতে পারেন। সন্ন্যাসিনী শ্রী পঞ্চদশনাম জুনা আখড়ার তপস্বিনী দিব্যা গিরি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁদের আখড়ার অধীনে ২০০-রও বেশি মহিলা তপস্বী সন্ন্যাসধর্মে দীক্ষা (Diksha) নেবেন। অন্যদিকে, অন্যান্য আখড়াগুলিকে জুড়লে, সংখ্যাটা হাজার ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভাবনা। তিনি আরও জানিয়েছেন, আগামী ২৭ জানুয়ারি তাঁরা দীক্ষাদান করবেন।

    গুজরাতে সংস্কৃত বিষয়ের ছাত্রী দীক্ষা নিচ্ছেন সন্ন্যাস ধর্মে

    সন্ন্যাস ধর্মে (Mahakumbh 2025) দীক্ষা নিচ্ছেন এমনই একজন এসেছেন গুজরাট থেকে। তিনি রাধেনন্দ ভারতী। পিএইচডির এই ছাত্রীর বিষয় হল সংস্কৃত। গুজরাটের কালিদাস রামেটক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী তিনি। জানা গিয়েছে, আধ্যাত্মিকতার অনুশীলনের জন্য তিনি সংসার ধর্ম ত্যাগ করছেন এবং সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ করতে চলেছেন। বিগত ১২ বছর ধরে তিনি তাঁর গুরু সেবায় নিযুক্ত থেকেছেন এবং বর্তমানে সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ করছেন। প্রসঙ্গত, শ্রী পঞ্চদশনাম জুনা আখড়া ইতিমধ্যে সন্ন্যাসিনীদের জন্য নতুন একটি শাখাও তৈরি করেছে এবং যার নাম দিয়েছে সন্ন্যাসিনী শ্রী পঞ্চদশনাম জুনা আখড়া। এই সিদ্ধান্তেই বোঝা যাচ্ছে যে হিন্দু ধর্মে (Mahakumbh 2025) আধ্যাত্মিকতাতে পুরুষদের সমান মহিলারাও অংশগ্রহণ করতে পারেন। সনাতন ধর্মে আধ্যাত্মিকতার অনুশীলনে কোনও লিঙ্গবৈষম্য নেই।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share