Tag: world suicide prevention day

world suicide prevention day

  • Gen Z Suicide Trend: অনলাইনে হাজার বন্ধু, বাস্তবে নিঃসঙ্গ! কেন জেন জি-র মধ্যে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা?

    Gen Z Suicide Trend: অনলাইনে হাজার বন্ধু, বাস্তবে নিঃসঙ্গ! কেন জেন জি-র মধ্যে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আশপাশের পরিচিত মহলেই এখন আর জীবনের গন্ডি আটকে থাকছে না! মুখোমুখি যোগাযোগ না থাকলেও, মুঠোফোনের দৌলতে এখন বহু দূর দেশে, কখনো না দেখা মানুষ ও সহজেই জেনে যান জীবনের খুঁটিনাটি! তাঁদের মতামত, তার প্রত্যাশাও সহজেই চাপিয়ে দেওয়া যায়। সোশ্যাল মিডিয়ার ভার্চুয়াল জগত এখন জীবনের অনেক ওঠা-পড়া আর সফল-অসফলের মানদণ্ড নির্ধারণ করে। আর এতেই বাড়ছে বিপদ! এমনটাই মনে করছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞেরা।

    ১০ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড সুইসাইড প্রিভেনশন ডে! বিশ্ব জুড়ে আত্মহত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বাদ নেই ভারত। ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই প্রবণতা বিপজ্জনক হারে বেড়েছে। তাই আগাম সচেতনতা জরুরি। প্রথম থেকেই জীবন যাপনের কিছু বদল প্রয়োজন। তবেই সুস্থ ও সুন্দর দীর্ঘ জীবন কাটানো যাবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কী বলছে পরিসংখ্যান?

    ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। ওই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট আত্মহত্যার ঘটনায় দুই তৃতীয়াংশের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। অর্থাৎ দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। যা যথেষ্ট বিপজ্জনক।

    ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো সূত্রে জানা গিয়েছে, তরুণ প্রজন্মের আত্মহত্যার কারণ বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, ৩৩.৫ শতাংশ পারিবারিক কারণে আত্মহত্যা করেছেন। অসুস্থতার কারণে ১৮% আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই অসুস্থতা শারীরিক এবং মানসিক। মাদক আসক্তির জেরে ৮ শতাংশ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

    কেন জেন জি-দের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে?

    সামাজিক প্রত্যাশার চাপ!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সামাজিক প্রত্যাশার তীব্র চাপের জেরেই তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানসিক অবসাদ‌ তৈরি হচ্ছে। হতাশার জন্ম নিচ্ছে। এর জেরেই আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পড়াশোনার চাপ, চাকরির চাপ , পেশাগত জীবনে সফল হওয়ার চাপ থাকে। অনেক সময়েই এগুলো মানসিক অবসাদের কারণ হয়ে ওঠে। আশপাশের মানুষের প্রত্যাশার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হওয়া কঠিন হয়ে যায়। তার উপরে এখন ভার্চুয়াল জগতের চাপ, বাড়তি হতাশা তৈরি করছে। ব্যক্তিগত সম্পর্কেও সেই চাপ দেখা যায়।

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সামাজিক মাধ্যমে সবকিছুই সুন্দর আর সফল দেখানোর প্রবণতা বাড়ছে। সেগুলোই জীবনে বেঁচে থাকার একমাত্র চাবিকাঠি হয়ে উঠছে। কিন্তু বাস্তবে সব সময় সেটা সম্ভব হয় না। তখন ধাক্কা লাগছে। অনেক সময়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরিচিত মানুষদের সীমাহীন মন্তব্য জীবন যাপনের দিক নির্ধারণ করছে। এগুলো একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়। এর ফলে অনেক সময়েই হতাশা, উদ্বেগ এবং অবসাদ তৈরি হচ্ছে। ফলে, আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটছে।

    পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কে টানাপড়েন!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ১৮-৩০ বছর বয়সে মানুষ একাধিক নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এই সময়ে জীবনের নানান নতুন সম্পর্কের সমীকরণ তৈরি হয়। পারিবারিক সম্পর্কও জটিল হয়ে যায়। অনেকের ব্যক্তিগত জীবনে জটিলতা তৈরি হয়। সবটা সহজে ভারসাম্য বজায় থাকে না। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতার কারণেই জেন জি-র আত্মহত্যার ঘটনা সবচেয়ে বেশি।

    বাস্তবে একাকিত্ব!

    জেন জি প্রজন্মের অন্যতম সমস্যা বাস্তবে একাকিত্ব! এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনলাইনে হাজার হাজার বন্ধু থাকলেও বিপদে পাশে থাকার মতো বন্ধুর অভাব দেখা দিচ্ছে। গল্প করা, সময় কাটানো, নিজেদের অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া মানুষের অভাব মানসিক জটিলতা তৈরি করে। ফলে, কোনো সমস্যা দেখা দিলে সেটা ভাগ করে নেওয়া যায় না। আত্মহত্যার মতো ঘটনা বাড়ে।

    মদ্যপান ও আসক্তি!

    ভারতে তরুণ প্রজন্মের আত্মহত্যার অন্যতম কারণ মাদক ও মদে আসক্তি। এমনটিই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, আসক্তি থাকলে হঠকারিতা বাড়ে। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে। আর তার ফলেই আত্মহত্যার মতো ঘটনা বাড়ে।

    কীভাবে আত্মহত্যার ঘটনা কমতে পারে?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, আত্মহত্যার ঘটনা ঠেকাতে জীবন যাপন স্বাস্থ্যকর করা জরুরি।‌ কারণ, প্রথম থেকেই শরীর ও মনের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিলে আত্মহত্যার মতো দূর্ঘটনা এড়ানো সহজ‌ হবে।

    পারিবারিক সম্পর্কে বাড়তি নজর!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে বাড়তি নজরদারি জরুরি।‌ যেকোনো সমস্যার কথা পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যাবে, এই পরিবেশ আর নিশ্চয়তা জরুরি। তবেই যেকোনো সঙ্কটে পরিবারের সঙ্গে সমস্যা ভাগ করে নেওয়া যাবে। হঠকারি সিদ্ধান্ত নিতে হবে না।‌ ছোট থেকেই শিশু মনে পরিবার নিয়ে এই নিশ্চয়তা দিতে হবে। যাতে সে বড় হলেও যেকোনো সমস্যা পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, পরিবারের মধ্যে যেকোনো একজনকে তরুণ প্রজন্মের কাছে এমন বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে হবে, যাতে সে সহজ‌ ভাবে মনের কথা প্রকাশ করতে পারে।

    ভার্চুয়াল জগতের আসক্তি কমানো!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভার্চুয়াল জগতের আসক্তি কমলে মানসিক চাপ ও হতাশা কমবে। সোশ্যাল মিডিয়া জীবন মাপকাঠি ঠিক করে দেবে না। বরং, জীবনের সব ঠিক-ভুলের খুঁটিনাটির হিসাব সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। ভার্চুয়াল জগতের আসক্তি কমালে, ভার্চুয়াল জগতের প্রত্যাশার চাপ সহজেই এড়ানো যাবে।

    পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি!

    সুস্থ জীবন যাপনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম হলে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর বিশ্রাম হয়। শরীরের পাশপাশি মন ভালো থাকে। হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। যেকোনো বিষয়ে গভীর ভাবে ভাবার ক্ষমতা থাকে। তাই সুস্থ শরীর ও মনের জন্য নিয়মিত রাতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি।

    প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ!

    ভারত সরকার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে যথেষ্ট সক্রিয়। দেশে আত্মহত্যার ঘটনা কমাতে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা প্রসারের পাশাপাশি চিকিৎসা নিয়েও সক্রিয়। তাই যেকোনো মানসিক চাপ ও উদ্বেগ ভাগ করে নেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়ার জন্য দিনের যেকোনো সময়ে ‘টেলি মানস’-এ যোগাযোগ করা যাবে। নিজের সমস্যা ভাগ করে নেওয়া যাবে। আবার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পাওয়া যাবে। মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সেগুলো সাহায্য করবে। ফলে আত্মহত্যার মতো বিপদ কমবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Suicide Prevention: ‘আত্মহত্যা’ সবচেয়ে বড় ‘মহামারি’! কীভাবে রুখবেন প্রবণতা?

    Suicide Prevention: ‘আত্মহত্যা’ সবচেয়ে বড় ‘মহামারি’! কীভাবে রুখবেন প্রবণতা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আত্মহত্যা (Suicide) নিয়ে কটাক্ষ নয়। বরং আত্মহত্যা সম্পর্কে সতর্কতা জরুরি। প্রতিবছর ১০ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড সুইসাইড প্রিভেনশন ডে (World Suicide Prevention Day) পালিত হয়। এছাড়া, ভারতে ৭ থেকে ১৩ তারিখ ন্যাশনাল সুইসাইড প্রিভেনশন উইক (National Suicide Prevention Week) পালিত হচ্ছে। কেন্দ্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, দেশ জুড়ে আত্মহত্যা সম্পর্কে সতর্কতা ও সচেতনতা জরুরি (Prevent Suicide)। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আত্মহত্যা ‘মহামারি’-র আকার ধারণ করবে। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই ভয়ঙ্কর প্রবণতা মারাত্মক ভাবে‌ বাড়ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের (Union Health Ministry) তথ্য অনুযায়ী, ভারতে গত তিন বছরে প্রায় ২৭ শতাংশ আত্মহত্যার ঘটনা বেড়েছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, কে আত্মহত্যার চেষ্টা করতে পারেন, সেই লক্ষণ সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি। আর এই মহামারি রুখতে সবচেয়ে জরুরি মানসিক স্বাস্থ্য (Mental Health) সম্পর্কে সচেতন হওয়া। তাই দেশ জুড়ে চলছে আত্মহত্যা সম্পর্কে সচেতনতা (Suicide Awareness) কর্মসূচি।

    কাদের জন্য উদ্বেগ বাড়ছে? কর্মশালার লক্ষ্য কী?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা বেশি দেখা যাচ্ছে। মানসিক অবসাদ (Mental Depression), হতাশা বাড়ছে।‌ তার থেকেই আত্মহত্যার চেষ্টা বাড়ছে। গত কয়েক বছরে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সি ছেলেমেয়েদের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। বিশেষত ছেলেদের মধ্যে এই ঘটনা আরও বেশি। চলতি বছরে ন্যাশনাল সুইসাইড প্রিভেনশন উইক উপলক্ষে দেশ জুড়ে সচেতনতা কর্মসূচি (Prevent Suicide) পালন চলছে। মূল লক্ষ্য আত্মহত্যা নিয়ে কটাক্ষ বন্ধ করা। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে এ দেশে সচেতনতার হার এখনও অনেক কম। তাই কেউ আত্মহত্যা করবেন, জানালে অনেকেই এ নিয়ে কটাক্ষ করেন।

    এমন কথা অনেক সময়েই বলা হয়, যাতে সেই ব্যক্তির আত্মহত্যা করার ঝোঁক আরও বেড়ে যায়‌। আবার পরিবারের কেউ আত্মহত্যা করলে বাকিদের অনেক সময়েই নানান সামাজিক কটাক্ষের শিকার হতে হয়। যার ফলে তাদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হয়। আত্মহত্যার ঝুঁকিও বাড়ে। তাই চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আত্মহত্যা নিয়ে কটাক্ষ নয়। বরং আত্মহত্যার লক্ষণ সম্পর্কে সতর্কতা জরুরি। এই লক্ষ নিয়েই মূলত দেশ জুড়ে একাধিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। মূলত স্কুলগুলোতে নাটক, নাচ, গানের মাধ্যমে এই বিষয়ে কর্মশালা চলছে।‌ যাতে স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হয়। অবসাদ কিংবা হতাশার মতো সমস্যা হলে কীভাবে‌ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া যায় এবং আবার স্বাভাবিক জীবন যাপন করা যায় সে সম্পর্কেও জানানো হচ্ছে।

    কীভাবে আত্মহত্যার প্রবণতা (Suicidal Tendencies) রুখবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আত্মহত্যার ঘটনা কমানোর জন্য এই সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, হঠাৎ কেউ অতিরিক্ত চুপচাপ হয়ে গেলে পরিবারের অন্য সদস্যদের সতর্ক‌ (Prevent Suicide) থাকা প্রয়োজন। বিশেষত বয়ঃসন্ধিকালে থাকা ছেলেমেয়েরা যদি দিনের অতিরিক্ত সময় ঘর বন্ধ করে একলা থাকে, তাহলে বাড়তি নজরদারি জরুরি। একাকিত্ব আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। পরিবারের কেউ কোনও ঘটনায় মারাত্মক আবেগপ্রবণ হয়ে উঠলেও বাকিদের সতর্কতা জরুরি। আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে, অনেক সময় আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটে।

    বন্ধু কিংবা পরিবারের কোনও সদস্য মানসিক অবসাদে ভুগছেন কিনা সে সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি। আত্মহত্যার অন্যতম কারণ মানসিক অবসাদ। অনেক সময়েই অবসাদের মতো জটিল রোগকে নিছক মন খারাপের তকমা দেওয়া হয়। এর ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটে। তাই এই সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মহত্যা রুখতে শুধুই কথা বলা নয়। প্রয়োজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং চিকিৎসা। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখতে‌ যেমন রোগীকে, তাঁর পরিবারের যত্নের পাশাপাশি চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধের প্রয়োজন হয় (Prevent Suicide)। ঠিক তেমনি আত্মহত্যার প্রবণতার মতো জটিল মানসিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন থেরাপি। তাই পরিবার ও বন্ধুদের পাশে থাকার পাশপাশি মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও থেরাপিও জরুরি। তাই কাছের মানুষের মধ্যে এই ধরনের প্রবণতা তৈরি হলে দেরি করা উচিত নয়। বরং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। তবেই‌ বড় বিপদ আটকানো সম্ভব হবে। আত্মহত্যাকে মহামারির আকার দেওয়া যাবে না।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Suicide Prevention Day: আত্মহত্যার নিরিখে প্রথম পাঁচে পশ্চিমবঙ্গ! পরকীয়ার জেরেই কি বাড়ছে আত্মহত্যা?

    Suicide Prevention Day: আত্মহত্যার নিরিখে প্রথম পাঁচে পশ্চিমবঙ্গ! পরকীয়ার জেরেই কি বাড়ছে আত্মহত্যা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে বাড়ছে আত্মহত্যা! গত দু’বছরে রাজ্যে আত্মহত্যা বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ! আত্মহত্যার সংখ্যার নিরিখে দেশের প্রথম পাঁচ রাজ্যের মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ব্যক্তিগত জটিলতাই বাড়াচ্ছে আত্মহত্যার প্রবণতা। তাই ১০ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড সুইসাইড প্রিভেনশন ডে (Suicide Prevention Day) উপলক্ষ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, সমস্যাই জীবন। কিন্তু তারপরেও জীবনকেই বেছে নিতে হবে! তবেই আনন্দ অনুভব করা যাবে।

    কী বলছে সমীক্ষা? 

    ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে আত্মহত্যা বাড়ছে। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের নিঃশব্দ মহামারি হতে চলেছে আত্মহত্যা। মানসিক অবসাদ ও অন্যান্য মানসিক অসুস্থতা আত্মহত্যার কারণ হয়ে উঠছে। ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে আত্মহত্যার নিরিখে প্রথম পাঁচ রাজ্যের মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। ২০২০ সাল থেকে এ রাজ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে এক বছরে প্রায় ১৪ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করে। শুধুমাত্র কলকাতাতেই ২০২০ সালের তুলনায় ২০২২ সালে ৪৯ শতাংশ আত্মহত্যা বেড়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের আত্মহত্যার (Suicide Prevention Day) সংখ্যা বেশি। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এ রাজ্যে বছরে ৮,২৯০ জন পুরুষ আত্মহত্যা করছে। মহিলাদের এক বছরে আত্মহত্যার সংখ্যা ৫,২০৯ জন।

    কেন বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা (Suicide Prevention Day)? 

    ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, এ রাজ্যে আত্মহত্যার ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ, ব্যক্তিগত জীবনে জটিলতা। বিশেষত পরকীয়া আত্মহত্যার অন্যতম কারণ। সম্পর্কে জটিলতার জেরেই মানসিক অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, মোট আত্মহত্যার ৩৪ শতাংশের মৃত্যুর কারণ হিসাবে ব্যক্তিগত সম্পর্কে জটিলতা কিংবা পরকীয়ার মতো তথ্য উঠে আসে। তবে, এর পাশপাশি, কর্মক্ষেত্রে চাপ ও অস্থিরতা, পরিবারের বিভিন্ন বিষয়ে চাপ দেওয়ার জেরে মানসিক অবসাদের জেরে আত্মহত্যার (Suicide Prevention Day) ঘটনা ঘটছে।

    আত্মহত্যা (Suicide Prevention Day) রুখতে কী পরামর্শ দিচ্ছে বিশেষজ্ঞ মহল? 

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সামাজিক অস্থিরতা মানসিক স্থিতাবস্থাকে আঘাত করছে। পরিবারের সম্পর্ক কতখানি গুরুত্বপূর্ণ, সে সম্পর্কে সকলকেই সজাগ থাকতে হবে। পরকীয়ার মতো সমস্যা নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। তাই এই ধরনের সমস্যা এড়াতে প্রয়োজন পারিবারিক শিক্ষা ও নৈতিক শিক্ষার উপর গুরুত্ব দেওয়া। 
    তবে, মনোরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, কয়েকটি লক্ষণ স্পষ্ট হলে আন্দাজ করা যায়, আত্মহত্যাপ্রবণ (Suicide Prevention Day) হয়ে উঠছে কিনা। সে সম্পর্কে সতর্ক থাকলে বিপদ এড়ানো সম্ভব। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, পরিবারের কেউ খুব চুপচাপ হয়ে গেলে, নিজেকে সমস্ত বিষয় থেকে হঠাৎ গুটিয়ে নিলে পরিবারকে সতর্ক হতে হবে। তিনি কোনও রকম মানসিক সমস্যায় ভুগছেন কি না, তা আন্দাজ করা যায়। তখনই সতর্ক হলে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করালে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়। 
    পাশপাশি কথা বলার সময়, হতাশাগ্রস্ত কিনা তা খেয়াল করা জরুরি। অনেকেই এমন ভাবে কথা বলেন, তাতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তিনি নিরাশায় ভুগছেন। এমন লক্ষণ স্পষ্ট হলে তাঁর বাড়তি যত্ন জরুরি। কারণ, এই ধরনের লক্ষণ মানসিক অবসাদের ইঙ্গিত দেয়। 
    তবে, কেউ যদি কখনও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন, তাহলে তাঁকে বকাবকি করা কিংবা নিছক মজা করা, আসলে অসচেতনতা বলেই জানাচ্ছেন মনোরোগ চিকিৎসকরা। কেউ আত্মহত্যা করবেন, এমন বললে কিংবা আত্মহত্যার চেষ্টা করলে, তাঁকে দ্রুত বিশেষজ্ঞদের কাছে নিয়ে যাওয়া জরুরি। যাতে ঠিকমতো চিকিৎসা এবং থেরাপির মাধ্যমে, তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটানো যায়।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share