Tag: Xi Jinping

Xi Jinping

  • Modi Xi Meeting: “প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, ভারত-চিনকে পার্টনার হিসেবে দেখতে হবে”, বলল উচ্ছ্বসিত বেজিং

    Modi Xi Meeting: “প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, ভারত-চিনকে পার্টনার হিসেবে দেখতে হবে”, বলল উচ্ছ্বসিত বেজিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের (Modi Xi Meeting) বৈঠকে ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। দুই দেশ একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং পার্টনার হিসেবে দেখবে—এই বিষয়টিকেই বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল হিসেবে তুলে ধরেছেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই (Wang Yi)।

    গত ১২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে দু’দিনের সফরে আসা জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। উচ্ছ্বসিত ওয়াং জানিয়েছেন, বৈঠকে দুই নেতা ভারত-চিন সম্পর্কের কৌশলগত, দীর্ঘমেয়াদি এবং বৃহত্তর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা ও গভীর আলোচনা করেন।

    ভারত-চিন অংশীদারিত্বে জোর (Modi Xi Meeting)

    ওয়াং বলেন, দুই নেতার মধ্যে যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, তা হল ভারত ও চিনকে পরস্পরের অংশীদার হিসেবে দেখা উচিত। চিনের বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, জিনপিং বৈঠকে বলেন, দুই দেশ একে অপরের শক্তির সদ্ব্যবহার করতে পারে, পরস্পরকে সহযোগিতা করতে পারে এবং যৌথ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে।

    ওয়াং আরও বলেন, মোদি এবং জিনপিংয়ের বৈঠক আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-চিন সম্পর্কের যে উন্নতি হয়েছে, তা শুধুমাত্র সম্পর্ক পুনরায় শুরু করার পর্যায়ে নেই; বরং তা নয়া উচ্চতায় উন্নীত হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রও।

    সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার বার্তা

    ভারত ও চিন সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা যৌথভাবে বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওয়াং। তিনি বলেন, দুই পক্ষ রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি মতপার্থক্য ও বিরোধগুলি যথাযথভাবে পরিচালনা করার এবং সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।

    মোদির সঙ্গে বৈঠকে জিনপিং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে বাধাগুলি তৈরি হয়েছে, সেগুলি কাটিয়ে উঠতে পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। ভারত-চিন সম্পর্ক এবং সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে অগ্রগতির পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। তাঁর মতে, এই দুই ক্ষেত্রে অগ্রগতি পরস্পরকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

    ওয়াং জানিয়েছেন, জিনপিংয়ের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মোদি ইতিবাচক সাড়া দেন। মোদি স্পষ্ট করেন, ভারত কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই চিনের সঙ্গে সম্পর্ককে দেখে (Modi Xi Meeting)।

    চিনের প্রতিপক্ষ নয়, অংশীদার হতে প্রস্তুত ভারত

    বৈঠকের বিষয়ে ওয়াংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছেন, ভারত চিনের প্রতিপক্ষ নয়, পার্টনার হতে প্রস্তুত। মোদি আরও বলেছেন, দুই দেশের উন্নয়নকে ভারত কোনও চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে না; বরং এটিকে একটি সুযোগ হিসেবেই দেখতে চায়। ওয়াং বলেন, পারস্পরিক সম্মান ও আস্থার ভিত্তিতে চিনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আদান-প্রদান বজায় রাখা, কৌশলগত যোগাযোগ আরও জোরদার করা এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    ব্রিকস-সহ বহুপাক্ষিক মঞ্চে সহযোগিতা

    ব্রিকসে একে অপরের সভাপতিত্বকে সমর্থন করার বিষয়েও মোদি ও জিনপিং একমত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওয়াং (Wang Yi)। রাষ্ট্রসংঘ, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা এবং জি২০-সহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক মঞ্চে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    এর পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও জনসংযোগমূলক আদান-প্রদান এবং দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে। ওয়াং বলেন, ভারত ও চিনের উচিত পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে সহযোগিতা আরও গভীর করা এবং গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখা (Modi Xi Meeting)।

    ঐকমত্য বাস্তবায়নে ভারতের সঙ্গে কাজ করবে চিন

    চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানিয়েছেন, মোদি ও জিনপিংয়ের বৈঠকে যে বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে ভারতের সঙ্গে কাজ করবে বেজিং। তিনি বলেন, সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করা, দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও আদান-প্রদান আরও গভীর করা এবং বহুপাক্ষিক মঞ্চগুলিতে পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে (Modi Xi Meeting)।

    গুও আরও জানান, ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির জন্য চিন তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে দুই দেশ পরস্পরের উন্নয়নকে সমর্থন করবে, যাতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্তরে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা যায়।

    ব্রিকস বৈঠকের পর চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং (Wang Yi) ফের জোর দিয়ে বলেন, ভারত ও চিনের সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত অংশীদারিত্ব, প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়। সীমান্তে শান্তি, ব্রিকসে সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে (Modi Xi Meeting)।

  • BRICS: “ব্রিকসের কাছে বিশ্বের প্রত্যাশা এখন সুনির্দিষ্ট ফলাফলে পৌঁছনোর”, বললেন মোদি

    BRICS: “ব্রিকসের কাছে বিশ্বের প্রত্যাশা এখন সুনির্দিষ্ট ফলাফলে পৌঁছনোর”, বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃতীয় দশকে প্রবেশ করতে চলেছে ব্রিকস (BRICS)। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের প্রত্যাশা এখন শুধু ভাবনা ও প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে সুনির্দিষ্ট ফলাফলে পৌঁছনোর। রবিবার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের উন্মুক্ত অধিবেশনে এমনই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। একই সঙ্গে ২০২৭ সালে পরবর্তী শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক দেশ চিনকে শুভেচ্ছা জানান তিনি।

    ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ব্রিকস তৃতীয় দশকে প্রবেশ করতে চলেছে। এখন বিশ্ব আমাদের কাছ থেকে শুধু ভাবনা ও প্রতিশ্রুতি নয়, সুনির্দিষ্ট ফলাফল প্রত্যাশা করে। আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা অবশ্যই এই প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হব।”

    চিনকে শুভেচ্ছা মোদির (BRICS)

    ২০২৭ সালে ব্রিকসের পরবর্তী আয়োজক দেশ হিসেবে চিনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মোদি নয়াদিল্লি সম্মেলন সফল করার জন্য সদস্য দেশগুলির নেতৃবৃন্দ এবং তাঁদের দলগুলির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “পরবর্তী আয়োজক দেশ হিসেবে চিনকে আবারও আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। নয়াদিল্লি সম্মেলনকে সফল করে তোলার জন্য আপনাদের প্রত্যেককে এবং আপনাদের দলগুলিকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাই। আপনাদের সকলের নিরাপদ ও আনন্দময় যাত্রা কামনা করি।”

    এর আগে রবিবার সকালে ভারত মণ্ডপমে ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির নেতৃবৃন্দ, আমন্ত্রিত দেশগুলির প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “ভারত মণ্ডপমে আরও একটি ফলপ্রসূ সকাল। ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির নেতৃবৃন্দ, আমন্ত্রিত দেশগুলির প্রতিনিধিদের এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির প্রধানদের স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত।”

    রবিবার ব্রিকস নেতাদের বৈঠকে “স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্ব: অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ভবিষ্যৎ নির্মাণ” শীর্ষক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় (BRICS)।

    অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্রিকসের প্রতি গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির আস্থা বেড়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মধ্যে সহযোগিতা এবং পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত ব্রিকসের মঞ্চের মাধ্যমে বন্ধুত্ব, অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার চেতনাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে।”

    সবাই ব্রিকসের সহযোগিতার অংশীদার হয়ে উঠুন

    তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছি, যাতে ব্রিকসের সহযোগিতা শুধু সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। আমরা চাই আমাদের উদ্যোগপতি, কৃষক, গবেষক, মহিলা, যুবসমাজ এবং সাধারণ নাগরিকরাও এর সক্রিয় অংশীদার হয়ে উঠুন।”

    গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির মধ্যে ব্রিকসের প্রতি আস্থা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যে ব্রিকসের প্রতি আস্থা বেড়েছে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির। কারণ এখানে তাদের কণ্ঠস্বর শোনা হয়, তাদের অভিজ্ঞতাকে সম্মান করা হয় এবং সমাধান শুধু তাদের জন্য তৈরি করা হয় না, তাদের সঙ্গে নিয়েই তৈরি করা হয়।”

    ব্রিকসের শক্তি তার বৈচিত্র্য ও সহযোগিতার মধ্যে নিহিত বলেও মন্তব্য করেন মোদি। তাঁর কথায়, “আমরা হয়তো ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত, কিন্তু সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যাই এবং মানবতার কল্যাণে বিকশিত হই। আমাদের বৈচিত্র্য যেন আমাদের পরিচয় হয়ে থাকে, আমাদের সহযোগিতা যেন আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায় এবং আমাদের অগ্রগতি যেন সমগ্র মানবজাতির উপকারে আসে।”

    এদিকে, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও ব্রিকসকে গ্লোবাল সাউথের স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ব্রিকস দেশগুলিকে “ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ” করার আহ্বান জানান।

    জিনপিং বলেন, ব্রিকসের উচিত আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি “সক্রিয়, স্থিতিশীল ও ইতিবাচক শক্তি” হয়ে ওঠা। চিনের বিদেশমন্ত্রকের প্রকাশিত সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই দুই দিনের সম্মেলনে স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গ্লোবাল সাউথের অগ্রাধিকার, বহুপাক্ষিকতা, টেকসই উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিকে ব্রিকসের আলোচনার কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

    ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দু’দিনের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর রবিবার নয়াদিল্লি ছেড়ে চিনে ফিরে যান জিনপিং। ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে অংশ নেন তিনি।

    সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) ও জিনপিং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন। দুই প্রতিবেশী দেশের (BRICS) মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • PM Modi: ব্রিকস নেতাদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ, দিল্লিতে মোদির সঙ্গে বৈঠকে জিনপিং

    PM Modi: ব্রিকস নেতাদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজ, দিল্লিতে মোদির সঙ্গে বৈঠকে জিনপিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত অষ্টাদশ ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে আসা রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিদের সম্মানে শনিবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে নৈশভোজের আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস-সহ একাধিক বিশিষ্ট অতিথি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন (Gala Dinner)।

    নৈশভোজের আসরে রাষ্ট্রনেতারা (PM Modi)

    নৈশভোজে যোগ দিতে প্রথমে ভারত মণ্ডপমে পৌঁছন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর সেখানে আসেন কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।

    ভারতের সভাপতিত্বে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রতিনিধি এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মান জানাতেই এই নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, সর্বানন্দ সোনোয়াল এবং অর্জুন রাম মেঘওয়াল, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ-সহ একাধিক মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী একসঙ্গে বাসে করে ভারত মণ্ডপমে পৌঁছন। এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, শিবরাজ সিং চৌহান ও কিরেন রিজিজু-সহ অন্য মন্ত্রীরা অনুষ্ঠানের উদ্দেশে রওনা দেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাও অন্যান্য মন্ত্রীর সঙ্গে ভারত মণ্ডপমের উদ্দেশে রওনা দেন।

    নৈশভোজে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন

    নৈশভোজ উপলক্ষে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান “নবরস—অভিন্ন অনুভূতির মহাবিশ্ব” পরিবেশিত হয়। পাশাপাশি ছিল ব্রিকসের বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান “এক ছন্দ, বহু সংস্কৃতি”। ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির শিল্পীরা যৌথভাবে এই সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

    বিভিন্ন দেশের সঙ্গীত ঐতিহ্যকে একত্রিত করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের লক্ষ্য ছিল ব্রিকস পরিবারের সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি, বৈচিত্র্য এবং পারস্পরিক ঐক্যের ভাবনাকে তুলে ধরা।

    এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ব্রিকসের নেতারা সর্বসম্মতভাবে ২০২৬ সালের নয়াদিল্লি ঘোষণা গ্রহণ করেন। এই ঘোষণায় বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলির আরও শক্তিশালী প্রতিনিধিত্বের দাবি জানানো হয়েছে।

    মোদি-জিনপিং বৈঠক

    শনিবার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভারত-চিন সম্পর্ককে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন জিনপিং।

    জিনপিং বলেন, “দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদি দ্বিপাক্ষিক উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে এসেছে।”

    তিনি আরও বলেন, “দুই দেশ একে অপরের থেকে ভিন্ন হলেও অভিন্ন উন্নয়ন অর্জনের ক্ষেত্রে আমরা একে অপরকে সহযোগিতা ও সাহায্য করতে পেরেছি।”

    নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করে চিনা প্রেসিডেন্ট বলেন, “নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে এবং আপনার সঙ্গে আবার দেখা করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ভারতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনের সাফল্যের জন্য আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।”

    তিনি জানান, ১২ বছরের মধ্যে এটি তাঁর দ্বিতীয় নয়াদিল্লি সফর। এই সময়ে দুই দেশের দুই নেতা ২০ বারেরও বেশি সাক্ষাৎ করেছেন এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।

    বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুই দেশ এবং বিশ্ব দক্ষিণের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ভারত ও চিনের অভিন্ন দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন জিনপিং। তিনি বলেন, “দুই দেশ ভিন্ন হলেও অভিন্ন উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা একে অপরকে সহযোগিতা ও সাহায্য করতে পেরেছি। চিন ও ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ এবং বিশ্ব দক্ষিণের অংশ। মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যতের কারণে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। মানুষের স্বার্থকে ভিত্তি করে উচ্চমানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে এবং আরও ন্যায়সঙ্গত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, উন্মুক্ত ও অর্থনৈতিকভাবে সংযুক্ত বিশ্বের জন্য কাজ করতে হবে। এর মাধ্যমে বিশ্বশান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।”

    কৃতজ্ঞতা প্রকাশ মোদির

    ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের সময়ে চিনের সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    তিনি বলেন, “আপনাকে আন্তরিক স্বাগত জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। ব্রিকস সম্মেলনে আপনার ইতিবাচক বক্তব্যের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের সময়ে চিনের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।”

    মোদি আরও বলেন, “এখন আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ রয়েছে। আবারও আপনাকে ভারতে আন্তরিক স্বাগত জানাই।”

    পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

    ভারত-চিন বৈঠকের আগে ব্রিকস দেশগুলি সর্বসম্মতভাবে নয়াদিল্লি ঘোষণা গ্রহণ করে। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ঘোষণায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি রুখতে সর্বোচ্চ সংযম দেখানো এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    অসামরিক নাগরিক এবং অসামরিক পরিকাঠামো রক্ষার ওপর জোর দিয়ে স্থায়ী শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে ব্রিকস।

    আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় থাকা অসামরিক পরিকাঠামো এবং শান্তিপূর্ণ পরমাণু স্থাপনায় হামলা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সশস্ত্র সংঘাতের সময়ও পরমাণু নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ এবং নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং মানবিক সহায়তা যাতে সম্পূর্ণ ও বাধাহীনভাবে পৌঁছতে পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

    আগামী বছর ব্রিকসের দায়িত্ব চিনের

    জিনপিং ঘোষণা করেন, আগামী বছর চিন ব্রিকসের সভাপতিত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং (PM Modi) উনিশতম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবে।

    চিনের মুখপাত্র মাও নিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, জিনপিং বলেন, “চিন এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঐকমত্য তৈরি করবে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করবে।”

    তিনি আরও (BRICS) বলেন, “আমরা একসঙ্গে ব্রিকস সহযোগিতার তৃতীয় স্বর্ণযুগের সূচনা করব।”

    উল্লেখ্য, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর (Gala Dinner) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। ভারতের সভাপতিত্বে এবারের সম্মেলনের মূল ভাবনা হল “সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ” (PM Modi)।

     

     

  • XI Jinping: ব্রিকস সম্মেলনে যোগ, দিল্লিতে প্রেসিডেন্ট জিনপিং, মোদির সঙ্গে বৈঠকের আগে সহযোগিতার বার্তা

    XI Jinping: ব্রিকস সম্মেলনে যোগ, দিল্লিতে প্রেসিডেন্ট জিনপিং, মোদির সঙ্গে বৈঠকের আগে সহযোগিতার বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে শনিবার ভারতে পৌঁছলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (XI Jinping)। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদ। জিনপিংকে স্বাগত জানাতে উত্তর-পূর্ব ভারত-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যের সাংস্কৃতিক দল ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন করে (BRICS Summit)।

    বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানানো হয়েছে, “১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে আগত গণপ্রজাতন্ত্রী চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে উষ্ণ স্বাগত। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদ। ব্রিকস যখন সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং আরও ভারসাম্যপূর্ণ, প্রতিনিধিত্বশীল ও বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্ব গঠনে অবদান রাখছে, তখন আমরা গঠনমূলক আলোচনার দিকে তাকিয়ে রয়েছি।”

    জিনপিংয়ের সঙ্গী (XI Jinping)

    জিনপিংয়ের সঙ্গে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ দফতরের পরিচালক ছাই ছি এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ও কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ওয়াং ই-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক রয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়ে আশাব্যঞ্জক বার্তা দিয়েছেন চিনের সাংবাদিক ওয়েনতিং শিয়ে। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করলে তা ভারত ও চিন—উভয়েরই স্বার্থ রক্ষা করবে।

    তিনি বলেন, “চিন ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নত করার জন্য এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ। দুই দেশই বৃহৎ উন্নয়নশীল দেশ এবং বিশ্ব দক্ষিণের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। আমার মনে হয়, চিন ও ভারত একসঙ্গে কাজ করলে দুই দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা হবে এবং বিশ্ব দক্ষিণের উন্নয়নেও তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”

    তিনি আরও বলেন, “চিন ভারতের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত। যোগাযোগ আরও জোরদার করা, সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, মতপার্থক্যগুলি যথাযথভাবে সামাল দেওয়া এবং একে অপরের সাফল্যে সহায়ক অংশীদার হিসেবে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। দুই দেশেরই উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। চিন ও ভারতের সহযোগিতা বিশ্ব দক্ষিণের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। আর গ্লোবাল সাউথও সেটিই দেখতে চায় (XI Jinping)।”

    চিনা সংবাদ সংস্থা শিনহুয়ার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে যে ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন জিনপিং, ব্রিকস সম্মেলনেও গ্লোবাল সাউথের সহযোগিতা নিয়ে একই ধরনের উদ্যোগের কথা তিনি তুলে ধরতে পারেন।

    দায়িত্বে চিন

    ২০২৭ সালে ব্রিকসের পর্যায়ক্রমিক সভাপতিত্বের দায়িত্ব নেবে চিন। চিনা সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, প্রকৃত বহুপাক্ষিকতার মাধ্যমে ঐক্যের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা এবং সহযোগিতার বিভিন্ন মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন কৌশলের মধ্যে আরও বেশি সমন্বয় গড়ে তোলার চেষ্টা করবে চিন।

    একই সঙ্গে অভিন্ন উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিশ্ব উন্নয়ন উদ্যোগ, বিশ্ব নিরাপত্তা উদ্যোগ, বিশ্ব সভ্যতা উদ্যোগ এবং বিশ্ব শাসন উদ্যোগের মতো কর্মসূচির উপরও জোর দেওয়া হবে। ডিজিটাল অর্থনীতি, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, দারিদ্র্য হ্রাস এবং কৃষির উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির লক্ষ্যে কাজ করবে চিন।

    এদিকে, ভারতের আয়োজনে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের মূল ভাবনা— “সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ”। এই ভাবনায় বিদ্যমান সাফল্যগুলিকে আরও শক্তিশালী করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা বৃদ্ধির উপর ভারতের গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়েছে।

    সম্মেলনের আলোচনায় উন্নয়ন, স্থায়িত্ব এবং উদ্ভাবনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গ্লোবাল সাউথের আকাঙ্ক্ষাকেও সামনে রাখা হয়েছে। ভারত ব্রিকসকে (BRICS Summit) আরও গঠনমূলক এবং সমস্যা সমাধানমুখী আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবে শক্তিশালী করতে চায় বলেই অভিমত (XI Jinping) বিশেষজ্ঞদের।

     

  • BRICS Summit: শনিবার দিল্লিতে শুরু ব্রিকস! খাদ্য, জ্বালানি থেকে সরবরাহ শৃঙ্খল, ঐক্যবদ্ধ স্থিতিস্থাপকতায় জোর ভারতের

    BRICS Summit: শনিবার দিল্লিতে শুরু ব্রিকস! খাদ্য, জ্বালানি থেকে সরবরাহ শৃঙ্খল, ঐক্যবদ্ধ স্থিতিস্থাপকতায় জোর ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার থেকে ভারতে শুরু হতে চলেছে দু’দিনের গুরুত্বপূর্ণ ব্রিকস সম্মেলন (BRICS Summit)। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক বিভাজন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং একের পর এক আঞ্চলিক সংকটের আবহে এবারের সম্মেলনে সমষ্টিগত স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানোর (Food Energy Resilience) উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে চলেছে ভারত। খাদ্য, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল—এই ক্ষেত্রগুলিতে সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করাই সম্মেলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

    বিশ্ব অর্থনীতির নয়া চাপ (BRICS Summit)

    নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এই শীর্ষ সম্মেলন এমন একটা সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অভিঘাত এখনও বিশ্ব অর্থনীতিতে স্পষ্ট। এর পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকট, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী অবরোধ, এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য ও শুল্কনীতি আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিকসকে একটি কার্যকর সমন্বয়কারী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যেই ভারতের এবারের সভাপতিত্বে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনেতার উপস্থিত থাকার কথা। ফলে এবারের বৈঠককে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    যৌথ ঘোষণাপত্র

    তবে সম্মেলনের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—ব্রিকসের সদস্য দেশগুলি কি যৌথ ঘোষণাপত্র নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারবে? পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে মতপার্থক্য এখনও রয়েছে। ফলে সম্মেলনের শেষে সর্বসম্মত ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

    ব্রিকসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি সাধারণত ঐকমত্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়। প্রথম দিকে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত এই জোট ২০২৪ সালে সম্প্রসারিত হয়। সেই সময় মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং সৌদি আরব এই গোষ্ঠীতে যোগ দেয়। ২০২৫ সালে ইন্দোনেশিয়াও ব্রিকসের সদস্য হয়।

    গত বছর বেলারুশ, বলিভিয়া, কাজাখস্তান, কিউবা, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান এবং ভিয়েতনামকে অংশীদার দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান অর্থনীতিগুলিকে নিয়ে গঠিত এই জোটের আন্তর্জাতিক প্রভাব আরও বেড়েছে।

    বর্তমানে ব্রিকসের ১১টি সদস্য দেশে মিলিয়ে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯.৫ শতাংশ বসবাস করে। বিশ্ব মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় ২৬ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে এই গোষ্ঠী। ফলে বিশ্ব অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ব্রিকসের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে।

    ভারতের সভাপতিত্বের মূল ভিত্তি

    ভারতের এবারের সভাপতিত্বের মূল ভিত্তি চারটি—স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্ব। এই চারটি স্তম্ভকে সামনে রেখেই সারা বছর ধরে একাধিক বৈঠক এবং উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। ভারতের মূল ভাবনা হল, আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে এমন একটি জনকেন্দ্রিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা, যার ভিত্তি হবে “মানবতা সর্বাগ্রে”—এই ধারণা (Food Energy Resilience)।

    ভারতীয় আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, স্থিতিস্থাপকতার স্তম্ভের অধীনে স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, জ্বালানি, দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলির পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানো সম্মেলনের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে চলেছে (BRICS Summit)।

    বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সম্মেলনে ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলিও আলোচনা করা হবে। বিশ্বের বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে সদস্য দেশগুলির পারস্পরিক স্বার্থ এবং উদ্বেগের জায়গাগুলি নিয়েও রাষ্ট্রনেতারা মতবিনিময় করবেন।

    ব্রিকসের লক্ষ্য

    ভারতের সভাপতিত্বে চলতি বছরে দেশের ২৫টিরও বেশি শহরে ৩৫০টির বেশি বৈঠক এবং উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল ব্রিকসের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করা। এই অংশীদারিত্বের তিনটি মূল স্তম্ভ হল রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, অর্থনৈতিক ও আর্থিক সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ (BRICS Summit)।

    ব্রিকসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ভারত এর আগে ২০১২, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে এই গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব করেছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ভারত চতুর্থবারের জন্য ব্রিকসের সভাপতিত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করে।

    বিদেশমন্ত্রকের প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে সম্মেলনের সূচনা হবে সদস্য দেশগুলির রাষ্ট্রনেতাদের নিয়ে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকের মাধ্যমে। বৈঠকের বিষয় “অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব পরিচালনব্যবস্থা এবং বহুপাক্ষিকতার শক্তিশালীকরণ”। এরপর বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে রাষ্ট্রনেতারা “ভারত উদ্ভাবন প্রদর্শনী” পরিদর্শন করবেন। বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে সম্মেলনস্থল ভারত মণ্ডপমের প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রনেতাদের নিয়ে হবে আনুষ্ঠানিক আলোকচিত্র গ্রহণ এবং তার পর যৌথ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।

    শনিবারের কর্মসূচির শেষ পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আয়োজনে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হবে (BRICS Summit)।

    রবিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিট থেকে ব্রিকসের সদস্য দেশ, অংশীদার দেশ এবং আমন্ত্রিত দেশগুলির প্রতিনিধিরা সম্মেলনে উপস্থিত হবেন। সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে হবে আনুষ্ঠানিক দলগত আলোকচিত্র গ্রহণ। এরপর সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে শুরু হবে মূল উন্মুক্ত অধিবেশন (BRICS Summit)। এর বিষয় “স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্ব: অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির জন্য ভবিষ্যৎ নির্মাণ” (Food Energy Resilience)।

    শেষ পর্বের কর্মসূচি

    দু’দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের শেষ পর্বে প্রকাশ করা হবে নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্র। তবে তার আগে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক বিষয়ে সদস্য দেশগুলির মধ্যে ঐকমত্য কতটা তৈরি হয়, সেদিকেই নজর থাকবে কূটনৈতিক মহলের। বর্তমান বিশ্বে যখন যুদ্ধ, বাণিজ্যিক সংঘাত, জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলি পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত, তখন ব্রিকস সেই চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলায় কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে, এবারের সম্মেলনেই তার একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশ পাওয়া যেতে পারে (BRICS Summit) বলেই ধারণা সংশ্লিষ্টমহলের।

     

  • Eknath Shinde: এসসিও সম্মেলনের ছবি থেকে মোদিকে বাদ, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ছিছিক্কার

    Eknath Shinde: এসসিও সম্মেলনের ছবি থেকে মোদিকে বাদ, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ছিছিক্কার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সাম্প্রতিক সম্মেলনের একটি সম্পাদিত ছবি প্রকাশকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে কূটনৈতিক বিতর্ক। কিরগিজস্তানের বিশকেকে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনের দলগত ছবিতে (SCO Group Photo) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছবি বাদ দিয়ে শুধু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং (Eknath Shinde) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে রাখা হয়েছিল। সরকারি দফতর থেকে প্রকাশিত ছবিতে এই পরিবর্তন সামনে আসতেই ভারতের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

    কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী (Eknath Shinde)

    ঘটনাটিকে ভারতের একাধিক রাজনৈতিক নেতা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং অত্যন্ত নিম্নমানের রুচির পরিচয় বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক মঞ্চে কোনও দেশের প্রতিনিধিকে একটি সরকারি দলগত ছবি থেকে বাদ দেওয়ার মতো পদক্ষেপ শুধু রাজনৈতিক বিদ্বেষের পরিচয় নয়, বরং সংশ্লিষ্ট দেশের কূটনৈতিক মানসিকতারও প্রতিফলন। পরে অবশ্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিজের সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে সম্মেলনের আসল ছবিটি প্রকাশ করেন। ফলে সরকারি দফতরের প্রকাশিত সম্পাদিত ছবি নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়। যদিও পরে মূল ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, তবুও প্রথমে কেন ছবিটি সম্পাদনা করে নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্টকে বাদ দেওয়া হল, তা নিয়ে বিতর্ক থামেনি।

    ভারতীয় নেতাদের কড়া প্রতিক্রিয়া

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন। সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ছবির বাইরে রাখার চেষ্টা কোনওভাবেই তাঁর আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে কমিয়ে দিতে পারে না।

    শিন্ডে বলেন, “পাকিস্তান যা করেছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। পাকিস্তান সবসময়ই এই ধরনের কাজ করার চেষ্টা করে। তবে আমি বলব, তারা মোদিজির ছবি সরিয়ে দিতে পারে, কিন্তু মোদিজি চাইলে গোটা বিশ্বের ছবিতেই পাকিস্তানকে সরিয়ে দিতে পারেন।”

    শিন্ডের বক্তব্য, একটি ছবি সম্পাদনা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে কোনও আন্তর্জাতিক পরিসর থেকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তাঁর দাবি, নরেন্দ্র মোদি দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে যে রাজনৈতিক ও আবেগগত গুরুত্ব বহন করেন, কোনও ছবি থেকে তাঁর উপস্থিতি বাদ দেওয়া সেই বাস্তবতাকে বদলাতে পারে না।

    তিনি এও বলেন, ছবিতে কারও উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি দিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনও নেতার গুরুত্ব নির্ধারিত হয় না। বরং এই ধরনের ঘটনা সংশ্লিষ্ট দেশের আচরণ এবং মানসিকতাকেই প্রকাশ করে (Eknath Shinde)।

    আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাকিস্তান নিজেকেই হাসির খোরাক করছে”

    প্রাক্তন বিদেশ প্রতিমন্ত্রী এমজে আকবরও পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে সরকারি ছবি সম্পাদনা করে কোনও রাষ্ট্রনেতাকে বাদ দেওয়ার ঘটনা পাকিস্তানের জন্যই বিব্রতকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    আকবর বলেন, “প্রতিটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাকিস্তান এভাবেই নিজেকে হাসির পাত্রে পরিণত করে। ছবির এই সেন্সরশিপ ঔদ্ধত্যের চরম প্রকাশ। শুধু আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এমনভাবে ছবি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেন তিনি সেখানে ছিলেনই না, তার ওপর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে ছবির কেন্দ্রে রাখা হয়েছে এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে প্রান্তে রাখা হয়েছে (SCO Group Photo)।”

    আকবরের বক্তব্যে স্পষ্ট, ছবির সম্পাদনার ধরন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর মতে, ছবিতে নেতাদের অবস্থান পরিবর্তন করে পাকিস্তান নিজের রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু বাস্তবে এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভাবমূর্তির উপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    সমাজবাদী পার্টির নেতার কটাক্ষ

    সমাজবাদী পার্টির নেতা এসটি হাসানও এই ঘটনাকে “সস্তা এবং লজ্জাজনক” বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অর্থনীতি, উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক প্রভাব এবং অন্যান্য বহু ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে একটি ছবি সম্পাদনা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা পাকিস্তানের কোনও রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারবে না (Eknath Shinde)।

    হাসান বলেন, “এটি অত্যন্ত সস্তা এবং লজ্জাজনক কাজ। পাকিস্তানের এতটা নীচে নামা উচিত নয়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমাদের দেশ পাকিস্তানের থেকে অনেক এগিয়ে।”

    তাঁর আরও অভিযোগ, পাকিস্তানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি বড় অংশ ভারতবিরোধিতা এবং সন্ত্রাসবাদকে ঘিরে আবর্তিত হয়। তাঁর মতে, এই ধরনের আচরণ পাকিস্তানের সেই মানসিকতাকেই আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।

    বিজেপির পাল্টা আক্রমণ

    বিজেপির মুখপাত্র সদিনেনি ইয়ামিনী শর্মাও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান ক্রমশ শক্তিশালী হওয়ায় পাকিস্তানের দ্বিচারিতা আন্তর্জাতিক মহলে প্রকাশ্যে চলে আসছে।

    ইয়ামিনী শর্মা বলেন, “পাকিস্তান সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সরকারি সম্মেলনের দলগত ছবি সম্পাদনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্টকেও সেই ছবি থেকে বাদ দিয়েছে। সন্ত্রাসবাদের পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্ভীক ও দৃঢ় কূটনীতি পাকিস্তানের দ্বিমুখী সন্ত্রাসবাদী অবস্থানকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসছে।”

    বিজেপির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, ভারত আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানের ভূমিকার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অবস্থান নিয়েছে। সেই কারণে নরেন্দ্র মোদির কূটনৈতিক অবস্থান পাকিস্তানের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে বলেও দাবি করা হয়েছে (SCO Group Photo)।

    ছবি নিয়ে বিতর্ক, বাড়ছে কূটনৈতিক চাপ

    একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সরকারি ছবি সাধারণত নিছক একটি ছবি নয়। সেখানে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রনেতাদের উপস্থিতি, তাঁদের অবস্থান এবং ছবির প্রকাশভঙ্গির মধ্যেও কূটনৈতিক বার্তা নিহিত থাকে। ফলে কোনও রাষ্ট্রনেতার ছবি ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হলে তা নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক (Eknath Shinde)।

    এই ঘটনায়ও মূল বিতর্ক সেখানেই। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দফতর কেন এমন একটি সম্পাদিত ছবি প্রকাশ করল, তা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনও সামনে আসেনি। পরবর্তী সময়ে শাহবাজ শরিফ নিজেই মূল ছবি প্রকাশ করায় সম্পাদিত ছবিটি নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক মহলে চর্চার খোরাক শরিফের দেশের আচরণ

    ভারতীয় রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, এই ধরনের পদক্ষেপে ভারতের আন্তর্জাতিক অবস্থান বা নরেন্দ্র মোদির গ্রহণযোগ্যতার কোনও ক্ষতি হবে না। বরং পাকিস্তানের আচরণই আন্তর্জাতিক মহলে চর্চার খোরাক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে চিন ও রাশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনেতাদের উপস্থিতি থাকা একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ছবি নিয়ে এমন সম্পাদনা পাকিস্তানের কূটনৈতিক পরিপক্বতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।

    সব মিলিয়ে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের একটি দলগত ছবি ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক ভারত-পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনার নতুন একটি দিক সামনে নিয়ে এসেছে। ছবিতে নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতি মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, সেই সম্পাদনাই শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের পদক্ষেপকে আরও বেশি করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। ভারতের রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনও রাষ্ট্রনেতার গুরুত্ব একটি ছবির ফ্রেম দিয়ে নির্ধারিত হয় না। বরং তাঁর দেশের কূটনৈতিক অবস্থান, আন্তর্জাতিক প্রভাব এবং নীতিগত দৃঢ়তাই সেই গুরুত্ব নির্ধারণ করে (SCO Group Photo)। কিস্তিমাত করতে গিয়ে ফাউল করে ফেলল শাহবাজ শরিফের দেশ (Eknath Shinde)!

     

  • PM Modi at SCO Summit: ‘সন্ত্রাসের পুরো ইকোসিস্টেম ভাঙতেই হবে, কোনও দুমুখো নীতি চলবে না’ এসসিও সম্মেলনে শেহবাজের সামনেই মোদির কড়া বার্তা

    PM Modi at SCO Summit: ‘সন্ত্রাসের পুরো ইকোসিস্টেম ভাঙতেই হবে, কোনও দুমুখো নীতি চলবে না’ এসসিও সম্মেলনে শেহবাজের সামনেই মোদির কড়া বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর শীর্ষ সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ, যুদ্ধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi at SCO Summit)। মঙ্গলবার কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এসসিও-র রাষ্ট্রপ্রধানদের পরিষদের বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সব দেশকে একসঙ্গে, একই সুরে কথা বলতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধান যুদ্ধের ময়দানে নয়, আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এসসিও-র (SCO) ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা।

    সন্ত্রাসবাদের ইকোসিস্টেম ভাঙতে হবে

    সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রসঙ্গের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ নিয়েও অত্যন্ত কড়া অবস্থান নেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে এবং এক ভাষায় কথা বলতে হবে। সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের ‘দুমুখো নীতি’ মেনে নেওয়া যায় না। শুধু সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেই হবে না, তাদের সম্পূর্ণ পরিকাঠামো ভেঙে দিতে হবে—সন্ত্রাসে অর্থ জোগান, নিয়োগ, উগ্রপন্থায় প্ররোচনা এবং নিরাপদ আশ্রয়—সবকিছুর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এককথায়, পাক প্রধানমন্ত্রীর সামনে বসে সন্ত্রাসবাদের ইকোসিস্টেম ভাঙার কথা বলেন মোদি। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে কোনও দ্বিচারিতার জায়গা থাকা উচিত নয়। সন্ত্রাসের গোটা পরিকাঠামো—অর্থ জোগান, নিয়োগ, উগ্রপন্থায় প্ররোচনা এবং নিরাপদ আশ্রয়—ধ্বংস করতে হবে।”

    ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ চলতে পারে না

    মোদির বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ। ভারত দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠী ও তাদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগ তুলে এসেছে। এসসিও-র মঞ্চে তাই ‘দুমুখো নীতি’র বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর বার্তাকে পাকিস্তানের উদ্দেশে কূটনৈতিক চাপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। শেহবাজ শরিফ যখন একই হলে উপস্থিত, তখন এই বক্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। পাকিস্তানের সরকারি তথ্যও নিশ্চিত করে যে শেহবাজ শরিফ এসসিও-র রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানের পটভূমিতে রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলা-সহ সীমান্তপারের জঙ্গি হামলার অভিজ্ঞতা। ২০২৫ সালের পহেলগাঁও হামলার পর ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসবাদ ও তাকে মদত দেওয়া শক্তির বিরুদ্ধে আরও জোরালো অবস্থান নেয়। এসসিও-র আগের সম্মেলনেও মোদি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, সন্ত্রাসবাদকে আশ্রয় দেওয়া বা সমর্থন করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর বিরুদ্ধে ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ চলতে পারে না। মোদির কথায়, যে দেশগুলি রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করে এবং সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও সহযোগিতা দেয়, তাদের কাছে স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। “সন্ত্রাসবাদ কখনও কারও কৌশলগত সম্পদ হতে পারে না,” বলেন প্রধানমন্ত্রী।

    যুদ্ধ নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান

    আন্তর্জাতিক সংঘাত প্রসঙ্গে মোদির বক্তব্য, যুদ্ধের ময়দানে কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সমস্ত যুদ্ধ ও সংঘাত আলোচনার টেবিল এবং কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করতে হবে বলে জানান তিনি। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে কোনও একটি অঞ্চলের সংঘাত আর সেই অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। তার প্রভাব পড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার উপর। এই ধরনের অস্থিরতার সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করতে হয় গ্লোবাল সাউথের দেশগুলিকে। সম্মেলনের মঞ্চ থেকে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, যুদ্ধক্ষেত্রের মাধ্যমে কোনও সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সমস্ত যুদ্ধ ও দ্বন্দ্বের অবসান ঘটাতে হবে একমাত্র আলোচনা এবং কূটনীতির মাধ্যমেই।

    মাদক পাচার নিয়েও উদ্বেগ

    মাদক পাচারকে শুধুমাত্র অপরাধ হিসেবে দেখলে হবে না বলেও সতর্ক করেন মোদি। তাঁর মতে, মাদক পাচার তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি এবং একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও তা গুরুতর সমস্যা তৈরি করছে।

    আফগানিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতার উপর জোর

    শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ইউরেশিয়ার লক্ষ্যের সঙ্গে আফগানিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতা সরাসরি যুক্ত বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আফগানিস্তানের মানুষের উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তায় ভারত ধারাবাহিকভাবে কাজ করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

    যোগাযোগ ব্যবস্থায় সার্বভৌমত্বের গুরুত্ব

    আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য প্রসঙ্গে মোদি বলেন, বাজারকে সংযুক্ত করা, বাণিজ্য সহজ করা এবং উন্নয়নের নতুন পথ তৈরি করার সমস্ত উদ্যোগকে ভারত সমর্থন করে। তবে একই সঙ্গে প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এসসিও-র সনদেরও এটাই মৌলিক চেতনা। আগামী দিনে যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিধি আরও বাড়বে। শুধু সড়ক, রেল ও বিমানপথ নয়, শুল্ক প্রক্রিয়া সরল করা, ডিজিটাল নথিপত্রের ব্যবহার বাড়ানো এবং লজিস্টিক ব্যবস্থা আরও দক্ষ করার উপরও জোর দিতে হবে।

    বিশ্ব-শান্তি ও উন্নয়নই ভারতের লক্ষ্য

    অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান জানিয়ে পরিকাঠামো প্রকল্পগুলোতে সহযোগিতার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। চিনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ বা পাকিস্তানের দখল করা কাশ্মীরের উপর দিয়ে যাওয়া ‘চিন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর’ (সিপিইসি)-এর মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোর ক্ষেত্রে ভারতের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এই মঞ্চ থেকেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ২০০১ সালে গঠিত ১০ সদস্যের এসসিও জোটে ২০১৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগ দেয়। চলতি বছরের এই শীর্ষ সম্মেলনটি সম্প্রসারিত ‘এসসিও-প্লাস’ ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে তুরস্ক, আজারবাইজান, আর্মেনিয়া, মঙ্গোলিয়া সহ এক ডজনেরও বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশ নিয়েছেন। এসসিও (SCO) সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্যে একদিকে যেমন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের আহ্বান উঠে এসেছে, অন্যদিকে যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিবর্তে কূটনীতি, আঞ্চলিক শান্তি এবং অর্থনৈতিক যোগাযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাও স্পষ্ট হয়েছে।

  • PM Modi: ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন বার্তা, আসন্ন ব্রিকসে মোদি-জিনপিং বৈঠকের সম্ভাবনা

    PM Modi: ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন বার্তা, আসন্ন ব্রিকসে মোদি-জিনপিং বৈঠকের সম্ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও চিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সীমান্ত উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে ব্যক্তিগত কূটনীতির ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত (SCO Summit) দেখা গেল। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ২৬তম শীর্ষ সম্মেলনে পারিবারিক ছবি তোলার আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে খানিক সময়ের জন্য হাত মেলাতে দেখা গেল। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অবস্থিত ইরিস অর্দো কংগ্রেস হলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ক্যামেরার সামনে দুই নেতার এই সাক্ষাৎ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সেই সময় তাঁদের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও উপস্থিত ছিলেন।

    সৌজন্য বিনিময় (PM Modi)

    ভারত ও চিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সংক্ষিপ্ত সৌজন্য বিনিময় এমন একটা সময়ে হয়েছে, যখন দুই দেশই সীমান্ত ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং পারস্পরিক যোগাযোগের নতুন পথ খোঁজার চেষ্টা করছে। সীমান্তে একাধিক পর্যায়ে সামরিক ও কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি বহুপাক্ষিক সংগঠনগুলিকেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চিনের প্রেসিডেন্টকে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। ভারত চলতি মাসের শেষ দিকে এই সম্মেলনের আয়োজন করবে। মোদির আমন্ত্রণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জিনপিং, আশ্বাস দেন চিনের পক্ষ থেকে ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের প্রতি সমর্থনের। এই ঘটনাকে ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন অনেকে। কারণ, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সীমান্ত বিরোধ। সেই পরিস্থিতিতে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হওয়া বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

    চিনা সাংবাদিকের বক্তব্য

    ভারত-চিন সম্পর্ক এবং আসন্ন ব্রিকস সম্মেলন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চিনা বিশ্ব টেলিভিশন নেটওয়ার্কের সাংবাদিক ঝাও ইউনফেই মঙ্গলবার বলেন, দুই দেশের উচিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা এবং ব্রিকসের মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং অভিন্ন স্বার্থ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা। ঝাও ইউনফেইয়ের মতে, এই দুই আন্তর্জাতিক মঞ্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মতো শীর্ষ নেতাদের মুখোমুখি হওয়ার এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

    তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, এর ফলে দুই প্রেসিডেন্টের সাক্ষাতের জন্য একাধিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভারত ও চিন প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় এটি দুই দেশের সম্পর্কের জন্য সত্যিই ভালো হবে। চিন সবসময় তার প্রতিবেশী দেশগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। আমরা প্রতিবেশী, তাই আমাদের সমস্ত মতপার্থক্য মিটিয়ে এক সঙ্গে অভিন্ন ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে হবে এবং এই অঞ্চলের মানুষের অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।” সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ভূমিকা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা সত্যিই একটি মঞ্চ তৈরি করেছে। আশা করি, ব্রিকসও দুই পক্ষের জন্য একটি ভালো মঞ্চ হবে।”

    ভারতে আসবেন জিনপিং!

    ২০২৬ সালের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে চিনা প্রেসিডেন্ট ভারতে আসবেন কি না, সেই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ঝাও বলেন, চিনা নেতার কর্মসূচি সম্পর্কে (SCO Summit) তাঁর কাছে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই। তবে ভবিষ্যতে এই বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসবে বলেই তিনি আশা প্রকাশ করেন (PM Modi)।

    ঝাও বলেন, “আমাদের কাছে এই বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে আমরা আশা করছি, প্রেসিডেন্ট শি-র কর্মসূচি সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসবে। অবশ্যই ব্রিকস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর সদস্যরা বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতিগুলির প্রতিনিধিত্ব করে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি বিশ্বের দক্ষিণের দেশগুলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ তৈরি করেছে।”

    ভারত ও চিনের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সীমান্ত ব্যবস্থাপনা। গত ২৬ অগাস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে দুই দেশ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার লক্ষ্যে জেনারেল স্তরের ব্যবস্থা বা সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক করার জন্য আরও দু’টি বৈঠকস্থল নির্ধারণে সম্মত হয়েছে।

    গলছে সম্পর্কের বরফ!

    এর পাশাপাশি সীমান্তের পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে সামরিক হটলাইন যোগাযোগের জন্য আরও দু’টি ব্যবস্থা চালু করার বিষয়েও দুই দেশ সম্মত হয়েছে। এর ফলে সীমান্তে কোনও ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা তৈরি হলে দুই দেশের সামরিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এই সিদ্ধান্ত ভারত ও চিনের সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ২৫তম দফার আলোচনায় অর্জিত আটটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ঐকমত্যের অংশ। বেজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন (SCO Summit)।

    সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সামরিক যোগাযোগের পথ খোলা রাখা এবং উচ্চপর্যায়ে রাজনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও ব্রিকসের মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চে দুই দেশের নেতাদের নিয়মিত যোগাযোগ ভারত-চিন সম্পর্কের জটিলতা কমানোর ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।

    দূর সীমান্তে আশার আলো

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সীমান্ত সমস্যা এখনও পুরোপুরি সমাধান না হলেও, সামরিক পর্যায়ে যোগাযোগের নতুন ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক স্তরে শীর্ষ নেতৃত্বের সাক্ষাতের সম্ভাবনা দুই দেশের সম্পর্ককে কিছুটা স্বাভাবিক করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এই যোগাযোগ কতটা স্থায়ী ও ফলপ্রসূ হবে, তা নির্ভর করবে সীমান্ত পরিস্থিতি, পারস্পরিক আস্থা এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অগ্রগতির ওপর (PM Modi)।

    সব মিলিয়ে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে মোদি ও জিনপিংয়ের করমর্দন যেমন প্রতীকী বার্তা বহন করছে, তেমনই ব্রিকসের আসন্ন মঞ্চ দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বকে আরও বিস্তৃত আলোচনার সুযোগ দিতে পারে। সীমান্তে উত্তেজনা কমানো থেকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা—দুই দেশের সামনে এখনও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ফলে আগামী দিনে (SCO Summit) বহুপাক্ষিক মঞ্চগুলি ভারত-চিন সম্পর্কের নয়া কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন (PM Modi)।

     

  • India China Talks: চিনা উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করলেন ডোভাল, জোর সীমান্তে শান্তি-দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে

    India China Talks: চিনা উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করলেন ডোভাল, জোর সীমান্তে শান্তি-দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বেজিংয়ে দু’দিনের সফরে গিয়ে মঙ্গলবার চিনের উপ-রাষ্ট্রপতি হান ঝেংয়ের সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA Ajit Doval) অজিত ডোভাল। বৈঠকে ভারত-চিন (India China Talks) সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অর্থনীতি, রাজনীতি এবং বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক আরও উন্নত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে বেজিংয়ে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস।

    ডোভালের চিন সফর (India China Talks)

    ডোভালের চিন সফর এমন একটা সময়ে হচ্ছে, যখন নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের মধ্যে কয়েক বছর ধরে চলা টানাপোড়েনের পর সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হল ভারত-চিন সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৫তম দফার বৈঠক। মঙ্গলবারই চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে সেই বৈঠকে বসার কথা ডোভালের। সীমান্ত-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক নিয়েও মতবিনিময় হওয়ার কথা রয়েছে। হান ঝেংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর চিনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ২৫ অগাস্ট ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং ভারত-চিন সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি অজিত ডোভাল চিনের উপ-রাষ্ট্রপতি হান ঝেংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুই পক্ষ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতাবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে। পাশাপাশি দুই দেশের নেতাদের মধ্যে ইতিমধ্যেই যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, তার ভিত্তিতে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রগুলিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ব্যবস্থা

    সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের এই আলোচনা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থা ২০০৩ সালে গড়ে ওঠে। এর উদ্দেশ্য হল ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যার একটি সামগ্রিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। এর আগে ২০২৫ সালের অগাস্টে ২৪তম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকে সীমান্ত প্রশ্ন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার বিষয়ে একাধিক সমঝোতা হয়েছিল (NSA Ajit Doval)। এবারের বৈঠকও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক দুই দেশের মধ্যে এই বিষয়ে আলোচনার প্রধান মাধ্যম। একই সঙ্গে এটি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগেরও গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। এবারের আলোচনায় সীমান্ত প্রশ্নের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হওয়ার কথা।

    “গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী” আলোচনা

    ডোভাল ও ওয়াং ই-র মধ্যে এর আগে জুন মাসে নয়াদিল্লিতে সাক্ষাৎ হয়েছিল। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকের ফাঁকে পার্শ্ববৈঠকে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। সেই বৈঠকের পর ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক দুই পক্ষের আলোচনাকে “গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী” বলে বর্ণনা করেছিল। তখন সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক ঘটনাপ্রবাহ পর্যালোচনা করে দুই দেশ ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানিয়েছিল। ভারতীয় পক্ষের বক্তব্য ছিল, স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য এবং গঠনমূলক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে (India China Talks)। ভারত-চিন সম্পর্কের সাম্প্রতিক গতিপথে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্ক গভীর সংকটের মধ্যে পড়েছিল। পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক উত্তেজনা বজায় ছিল। পরবর্তী সময়ে একাধিক দফায় কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে আলোচনা হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে কাজানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ায় নতুন গতি দেখা যায়।

    মোদি-জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক

    এর পর ২০২৫ সালের ৩১ অগাস্ট চিনের তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ইতিবাচক গতি এবং অগ্রগতিকে স্বাগত জানান। তাঁরা দুই দেশকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং উন্নয়ন-সহযোগী হিসেবে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে মতপার্থক্য যাতে বিরোধে পরিণত না হয়, সেই বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয় (NSA Ajit Doval)। ওই বৈঠকে সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ এবং একে অপরের সংবেদনশীলতার প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছিল। ভারতীয় পক্ষের মতে, ভারত ও চিনের মধ্যে স্থিতিশীল সহযোগিতা শুধু দুই দেশের উন্নয়নের জন্যই নয়, বহুমেরু বিশ্ব এবং বহুমেরু এশিয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

    ডোভালের বেজিং সফরের গুরুত্ব

    অজিত ডোভালের এবারের বেজিং সফর সেই বৃহত্তর সম্পর্ক-স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে যেমন সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে, তেমনই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন করে আস্থা তৈরির চেষ্টা চলছে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান এখনও হয়নি। ফলে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রেখে আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য কমানোই আপাতত নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য (India China Talks)।আগামী দিনের ভারত-চিন সম্পর্ক কতটা স্থিতিশীল হবে, তার ক্ষেত্রে এই আলোচনাগুলির ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা, সামরিক উত্তেজনা এড়ানো এবং নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপরই দুই দেশের সম্পর্কের পরবর্তী পর্ব অনেকটাই নির্ভর করছে। অজিত ডোভাল ও ওয়াং ই-র ২৫তম দফার বৈঠক তাই শুধু সীমান্ত সমস্যা নিয়ে (NSA Ajit Doval) আলোচনা নয়, বরং বৃহত্তর ভারত-চিন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ (India China Talks)।

     

  • Ajit Doval: সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে দিল্লির বার্তা পৌঁছে দিতে বেজিং গেলেন অজিত ডোভাল

    Ajit Doval: সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে দিল্লির বার্তা পৌঁছে দিতে বেজিং গেলেন অজিত ডোভাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের (Xi Jinping) সম্ভাব্য ভারত সফরের আগেই সোমবার বেজিং গিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval)। চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা নিয়ে বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে চলা ভারত-চিন সীমান্ত বিরোধের অবসানে ২০০৩ সালে গড়ে ওঠা এই ব্যবস্থার অধীনে এটি হবে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৫তম বৈঠক। ভারত ও চিনের মধ্যে ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ।

    জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফরের ঠিক আগে ডোভালের বেজিং সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও ভারত বা চিন—কোনও পক্ষই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে শি-র সফরের কথা ঘোষণা করেনি, সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে চিনের প্রেসিডেন্টের। সে ক্ষেত্রে সাত বছর পর প্রথম বার ভারতে আসবেন শি। গত বছর তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল তাঁর।

    অরুণাচলে ভারত-চিন সেনার মুখোমুখি অবস্থান (Ajit Doval)

    চিনের বিশেষ প্রতিনিধির সঙ্গে সীমান্ত বৈঠকের জন্য ডোভালের এই সফরের মধ্যেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অরুণাচল প্রদেশে ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে সাম্প্রতিক মুখোমুখি অবস্থানের খবর সামনে এসেছে। চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির তথাকথিত অনুপ্রবেশের মাত্রা নিয়ে এখনও প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফে কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। শনিবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ফের একবার স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, সীমান্তের পরিস্থিতিই সামগ্রিক ভারত-চিন সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণ করবে।

    জয়শঙ্কর বলেন, “আমার মনে হয়, ২০২০ সালের গ্রীষ্ম থেকে ২০২৪ সালের শরৎ কাল পর্যন্ত আমরা অত্যন্ত খারাপ একটি সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। এর প্রধান কারণ ছিল সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি।” লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সামরিক অচলাবস্থার প্রসঙ্গেই এই মন্তব্য করেন তিনি। ওই সংঘাতের জেরে গত ছ’দশকের মধ্যে ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

    সীমান্তে কি মিলবে সমাধানের পথ?

    ২০২৪ সালের অক্টোবরে লাদাখে সামরিক মুখোমুখি অবস্থানের অবসান ঘটাতে দুই দেশ সম্মত হওয়ার পর রাশিয়ায় জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই বৈঠকে দুই নেতা স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ মেটানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ করার বিষয়ে একমত হন।

    এর পর ভারত ও চিনের মধ্যে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা ফের চালু করা, চিনা নাগরিকদের জন্য ভিসা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা এবং সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনরায় চালুর মতো একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে এখনও চোখে পড়ার মতো কোনও অগ্রগতি হয়নি।

    ডোভালের বেজিং সফরে যদি সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কোনও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়, তা হলে আগামী মাসে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও জিনপিংয়ের সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পথ আরও মসৃণ হতে পারে।

    বৈঠকের আলোচনায় কী থাকবে?

    বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠকে মূলত দু’টি বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। প্রথমত, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পূর্ব লাদাখ ও অরুণাচল প্রদেশের পরিস্থিতি পর্যালোচনা। দ্বিতীয়ত, সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর জন্য কার্যকর ব্যবস্থা খুঁজে বের করা (Ajit Doval)।

    গত ৬ অগাস্ট নয়াদিল্লিতে ভারত-চিন সীমান্ত বিষয়ক কর্মব্যবস্থা সংক্রান্ত পরামর্শ ও সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ভারতের বিবৃতি অনুযায়ী, বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আগের বৈঠকের পর দুই দেশ সীমান্তের সীমানা নির্ধারণ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সীমান্ত-পারাপার সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে।

    ডোভালের আসন্ন বেজিং সফরে সেই আলোচনাই আরও (Xi Jinping) এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা, উত্তেজনা কমানো এবং ভারত-চিন সম্পর্ককে স্বাভাবিক পথে ফেরানোর বিষয়ে দু’দেশের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আসে, সেটাই দেখার (Ajit Doval)।

LinkedIn
Share