Blog

  • Assam: অসমে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া নজর, কাছাড়ে ২২ জনকে পুশব্যাক

    Assam: অসমে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া নজর, কাছাড়ে ২২ জনকে পুশব্যাক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করেছে অসম (Assam)। বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা কিংবা রাজ্যে বেআইনিভাবে বসবাস করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী (Infiltrators Pushed Back)। সর্বশেষ অভিযানে কাছাড় জেলার সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করা ২২ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে আটক করে সীমান্তের ওপারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবারের ঘটনা।

    বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী গ্রেফতার (Assam)

    এর পাশাপাশি, অসম পুলিশ রাজ্যে বেআইনিভাবে বসবাসকারী আরও ছয় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের তুলে দেওয়া হয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, “রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা সমস্ত দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের বাহিনী সতর্ক রয়েছে।”

    এ ধরনের কার্যকলাপ প্রতিরোধে রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। অন্য একটি ঘটনায়, অসম পুলিশ দুই সাজাপ্রাপ্ত বাংলাদেশি নাগরিককে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। পরে সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাঁদের বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে।

    গবাদি পশু পাচার ঘিরে ফের তৎপরতা

    এদিকে, সীমান্তপারের গবাদি পশু পাচারকে কেন্দ্র করে পৃথক একটি ঘটনায় অসমের শ্রীভূমি জেলায় চার বাংলাদেশি নাগরিক এবং তাঁদের এক ভারতীয় সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তাঁরা গরু ও মহিষ বেআইনিভাবে সীমান্ত পার করে পাচারের চেষ্টা করছিলেন।

    পুলিশের কাছে এলাকায় সন্দেহজনক সীমান্তপারের গবাদি পশু পাচারের চেষ্টার খবর আসার পর সোমবার রাতে বদরপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযানে পাঁচজনকে আটক করা হয় (Assam)।

    পুলিশ জানিয়েছে, বদরপুর থানার অন্তর্গত মহাকাল গ্রামে চার বাংলাদেশি নাগরিককে ধরা হয়। তাঁদের নাম রেজাউল করিম, সাব্বির আহমেদ, রাচেল আহমেদ এবং হাসান আহমেদ তাহিম। তাঁরা বাংলাদেশের সিলেট জেলার জকিগঞ্জের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।

    এই ঘটনায় এক ভারতীয় নাগরিককেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর নাম ফজলউদ্দিন। তিনি কাছাড় জেলার কাটিগড়া বিধানসভা এলাকার জগদীশপুর গ্রামের বাসিন্দা। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সীমান্ত পার করে গবাদি পশু নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে তিনি স্থানীয় সহযোগী হিসেবে কাজ করছিলেন।

    পুলিশের বক্তব্য

    প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অভিযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিকরা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের টুকরগ্রাম এলাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। অভিযোগ, পরে গবাদি পশুগুলি ফের বাংলাদেশে পাচার করার উদ্দেশ্য ছিল তাঁদের।

    কীভাবে তাঁরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকলেন, এর নেপথ্যে আরও বড় কোনও পাচারচক্র সক্রিয় রয়েছে কি না এবং এই চক্রের সঙ্গে কারা যুক্ত, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    পাঁচ অভিযুক্তকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁদের ভারতে প্রবেশের পথ, পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় এবং গবাদি পশু পাচারের পিছনে থাকা গোটা ব্যবস্থার সন্ধান চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

    মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা আরও বলেন, “সীমান্তের ওপারে হোক বা রাজ্যের ভিতরে, আমরা প্রত্যেক অবৈধ কার্যকলাপে যুক্ত ব্যক্তিকে খুঁজে বের করব (Infiltrators Pushed Back) এবং রাজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে (Assam)।”

     

  • Donald Trump: ইরানের বিকল্প পথে জ্বালানি সরবরাহে জোর, ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ করিডরকে সমর্থন ট্রাম্পের

    Donald Trump: ইরানের বিকল্প পথে জ্বালানি সরবরাহে জোর, ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ করিডরকে সমর্থন ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিকাঠামোকে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন পথ থেকে সরিয়ে বিকল্প রুট গড়ে তোলার পক্ষে জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এ ক্ষেত্রে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডরকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বহুপাক্ষিক বৈঠকে মঙ্গলবার এ কথা (IMEC) বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    ট্রাম্প বলেন, “প্রতিবেশী দেশগুলিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের জঙ্গি হামলা দেখিয়ে দিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিকাঠামোকে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন পথ থেকে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।”

    তিনি আরও বলেন, “এই কারণেই আমার প্রশাসন ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর এবং তেল বাইরে নিয়ে যাওয়ার অন্যান্য পথ—তা পাইপলাইন হোক বা অন্য কোনও ব্যবস্থা—দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে। একসঙ্গে আমরা এমন সব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠার দ্বারপ্রান্তে রয়েছি, যেগুলি এক দশক ধরে এই অঞ্চলকে সমস্যায় রেখেছে।”

    ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর (Donald Trump)

    ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর একটি বহুদেশীয় পরিবহণ, জ্বালানি ও যোগাযোগ পরিকাঠামো প্রকল্প। ২০২৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারত, আমেরিকা, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই প্রকল্প নিয়ে সমঝোতাপত্রে সই করে।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই করিডরের একটি পূর্বাঞ্চলীয় পথ ভারতকে উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে এবং একটি উত্তরাঞ্চলীয় পথ উপসাগরীয় অঞ্চলকে ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত করবে। এর মধ্যে রেলপথ, বন্দর-সংযোগ এবং সমুদ্র ও স্থলপথের যৌথ পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রকল্পের আওতায় জ্বালানি ও ডিজিটাল যোগাযোগের জন্য তার এবং পরিষ্কার হাইড্রোজেন পরিবহণের জন্য পাইপলাইন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। এর লক্ষ্য ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক সংযোগ আরও বাড়ানো।

    চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের বিকল্প হিসেবেও এই করিডরকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি ইরান-নিয়ন্ত্রিত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভারত ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহণের সময় কমানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

    বাড়ছে বিকল্প জ্বালানি পথের গুরুত্ব

    বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জ্বালানি পরিবহণপথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে অস্থিরতার কারণে বিকল্প জ্বালানি করিডরের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্যেও এই প্রেক্ষাপট স্পষ্ট হয়েছে।

    তবে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ করিডর এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। প্রকল্পটির অগ্রগতি নিয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে রেলপথ, বন্দর ও মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। তবে প্রকল্পের পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট সামগ্রিক সময়সীমা এখনও স্পষ্ট নয় (Donald Trump)।

    ইরানকে ফের কড়া হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    এদিকে, রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া আগের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে ইরানকে ফের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমেরিকা ইরানকে আর্থিকভাবে বিচ্ছিন্ন করেছে। তেহরান দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলেও আশা করছেন তিনি।

    ট্রাম্প বলেন, “একটা সময় আসবে যখন অনেক দেরি হয়ে যাবে এবং একটি দেশ হিসেবে তাদের টিকে থাকার সুযোগ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি আমাদের হাতে আর থাকবে না। আমি সেটা দেখতে চাই না। তবে এই টেবিলে বসে থাকা মানুষগুলির অনেকেই সেটাই দেখতে চান।”

    ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প গত বছরের মার্কিন সামরিক অভিযান ‘মিডনাইট হ্যামারে’র কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ওই অভিযানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট পরমাণু স্থাপনাগুলি ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যায় (IMEC)।

    তবে ২০২৫ সালের ওই হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের দাবির বাইরে বিভিন্ন মূল্যায়নে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থার নথি অনুযায়ী, ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের পরমাণু স্থাপনাগুলিতে হামলা চালানো হয়েছিল। পরে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন নিয়ে ট্রাম্পের “সম্পূর্ণ ধ্বংস” দাবির মাত্রা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয় (Donald Trump)।

     

  • Mirabai Chanu: ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান, এশিয়ান গেমসে রুপো মীরাবাই চানুর

    Mirabai Chanu: ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান, এশিয়ান গেমসে রুপো মীরাবাই চানুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অলিম্পিক্সে রুপো, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা, কমনওয়েলথ গেমসে একের পর এক সাফল্য— কিন্তু একটাই সাফল্য অধরা ছিল মীরাবাই চানুর (Mirabai Chanu)। এশিয়ান গেমসে কোনও পদক ছিল না ভারতের এই তারকা ওয়েটলিফটারের। অবশেষে মিটল সেই অপূর্ণতা। বুধবার এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ৪৯ কেজি ভারোত্তোলনে রুপো জিতলেন মীরাবাই চানু। মোট ১৯৮ কেজি ওজন তুলে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেন মণিপুরের তারকা ভারোত্তোলক। একই সঙ্গে এশিয়ান গেমসে ভারোত্তোলনে ভারতের ২৮ বছরের পদক-খরা কাটালেন তিনি। চলতি এশিয়াডে ভারতের পদক সংখ্যা বেড়ে হলো ১২।

    ভারোত্তোলনে পদক-খরা কাটল

    শেষবার এশিয়ান গেমসে (Asian Games 2026) ভারোত্তোলনে ভারত পদক জিতেছিল ১৯৯৮ সালে। ব্যাংককে রুপো জিতেছিলেন কারনাম মল্লেশ্বরী। ২৮ বছর আর কোনও পদক পায়নি ভারত। বুধবার সেই খরা কাটালেন মীরাবাই চানু। ব্যক্তিগত ভাবেও অধরা ছিল এশিয়ান গেমসের পদক। সেটাও পূর্ণ করলেন চানু। উল্লেখ্য, এর আগে দু’বার এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়েও পদক জিততে পারেননি মীরাবাই। এদিন সোনা জেতেন উত্তর কোরিয়ার রি সং গাম। মোট ২১৫ কেজি ওজন (স্ন্যাচে ৯৪ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১২১ কেজি) তুলে বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি।

    জয়ের ধারা অব্যাহত ভারতের কবাডি দলের

    এশিয়ান গেমসে জয়ের ধারা অব্যাহত ভারতের কবাডি দলের। বুধবার গ্রুপ পর্বের ম্যাচে আইচি-নাগোয়াতে ইরানকে ৩৭-২৩ গোলে হারাল ভারতের মেয়েরা। শুরুটা মন্থর করে ভারত। প্রথমার্ধে একটা সময় ৯-১১ গোলে পিছিয়ে পড়ে। তারপর দুরন্ত কামব্যাক। মোমেন্টাম ফিরে পায় ভারতের মেয়েরা। প্রথমার্ধের শেষে ১৯-১৫ তে লিড নিয়ে নেয়। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন ভাবনা দেবী। কয়েকটি দুর্দান্ত ট্যাকেল করেন। ম্যাচের কন্ট্রোল ধরে রাখেন পূজা। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ায় ভারত। শেষপর্যন্ত ৩৭-২৩ গোলে ইরানকে হারায়। এশিয়ান গেমসে কবাডিতে জোড়া জয় তুলে নিল ভারতের মেয়েরা। এর আগে ওপেনিং ম্যাচে বাংলাদেশকে ৪২-২১ গোলে হারায় ভারত। বৃহস্পতিবার জাপানের মুখোমুখি ভারতের মেয়েরা। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশকে (Bangladesh) সহজেই হারিয়ে চলতি এশিয়ান গেমসে পুরুষদের কবাডির সেমি-ফাইনালে জায়গা করে নিল ভারতীয় দল। বুধবার আইচির টোকাই সিটিজেন জিমন্যাশিয়ামে ভারতের পক্ষে ম্যাচের ফল ৪৮-২৫। চলতি এশিয়ান গেমসে এখনও পর্যন্ত তিন ম্যাচ খেলে তিন ম্যাচেই জয় পেয়েছে ভারতের পুরুষ কবাডি দল। গ্রুপ এ-তে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে শুরু থেকেই দাপট দেখায় গতবারের এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী ভারতীয় দল। দুই সেমি-ফাইনালে পরাজিত দলই ব্রোঞ্জ পদক পাবে। ফলে ভারতীয় দলের পদক নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। পুরুষদের কবাডিতে ভারত এশিয়ান গেমসের রেকর্ড আটবারের চ্যাম্পিয়ন। এশিয়ান গেমসে কবাডি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর জাকার্তা ২০১৮ ছাড়া প্রতিটি আসরেই সোনা জিতেছে ভারত। ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইরান।

    ভারতের সাফল্য

    এশিয়ান গেমস ২০২৬-এ শুটিংয়ে ভারতের পদক অভিযান অব্যাহত। মহিলাদের স্কিট দলের পর এবার পুরুষদের স্কিট দলও ব্রোঞ্জ পদক জিতে নিল। ভবতেগ সিং গিল, অনন্তজিৎ সিং নারুকা এবং মেরাজ আহমেদ খানের ত্রয়ী ফাইনালে ৩৪৬ স্কোর করে তৃতীয় স্থান দখল করেছে। তবে এদিন পদক হাতছাড়া হয় মনু ভাকেরের। তাঁকে ঘিরে সোনা জয়ের স্বপ্ন ছিল। কিন্তু পঞ্চম স্থানে শেষ করেন অলিম্পিকের জোড়া পদকজয়ী। সফট টেনিসেও নিশ্চিত হয় পদক। পুরুষদের সিঙ্গলস কোয়ার্টার ফাইনালে ফিলিপিন্সের শেরউইন নাগুইটকে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ৪-৩ গেমে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠেন জয় মীনা। শেষ চারে ওঠা চার খেলোয়াড়ই পদক নিশ্চিত করায়, সফট টেনিসে এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে ভারতের প্রথম পদক নিশ্চিত হয়েছে। এর পাশাপাশি রোয়িং, ক্যানো স্প্রিন্ট এবং টেবিল টেনিসেও নজরকাড়া পারফরম্যান্স ভারতের।

  • India Canada: ভারত-কানাডার বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ফের আলোচনা, আগামী তিন মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বললেন পীযূষ গোয়েল

    India Canada: ভারত-কানাডার বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ফের আলোচনা, আগামী তিন মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বললেন পীযূষ গোয়েল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের গতি পেতে চলেছে ভারত ও কানাডার (India Canada) মধ্যে প্রস্তাবিত ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি নিয়ে আলোচনা। ৫ অক্টোবর থেকে এই চুক্তির পঞ্চম দফার আলোচনা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। দুই দেশই আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি বছরের শেষের মধ্যে চুক্তির আলোচনা শেষ করার লক্ষ্যও রয়েছে।

    সাংবাদিক বৈঠকে গোয়েল ভারত-কানাডা সম্পর্কের ক্ষেত্রে আগামী তিন মাসকে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, “আগামী ৯০ দিন ভারত-কানাডা সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় হতে চলেছে।”

    আলোচনার গতি বাড়ানোয় জোর (India Canada)

    সম্প্রতি মুম্বইয়ে কানাডার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রী মানিন্দর সিধুর সঙ্গে গোয়েলের বৈঠকে চতুর্থ দফার আলোচনা শেষ হয়েছে। দুই পক্ষই আলোচনার গতি বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের পরেই ৫ অক্টোবর থেকে পঞ্চম দফার আলোচনা শুরু করার কথা জানানো হয়েছে।

    প্রস্তাবিত চুক্তির মূল লক্ষ্য হল দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও পরিষেবার বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ আরও বাড়ানো। পাশাপাশি একে অপরের বাজারে প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারণ, বাণিজ্যিক বাধা কমানো এবং রফতানিকারী ও আমদানিকারীদের জন্য আরও নিশ্চয়তা তৈরির বিষয়েও চুক্তিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আলোচনায় দুই দেশের স্বার্থ ও উদ্বেগকে বিবেচনায় রেখে পারস্পরিক সুবিধাজনক সমঝোতায় পৌঁছনোর চেষ্টা করা হবে।

    ভারত ও কানাডার মধ্যে ওষুধ, প্রকৌশলজাত পণ্য, বস্ত্র, কৃষি, জ্বালানি এবং পরিষেবা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০৩০ সালের মধ্যে সেই বাণিজ্য ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

    চুক্তির প্রক্রিয়া

    প্রস্তাবিত ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু হওয়ার পর ২০২২ ও ২০২৩ সালে মোট নয় দফা আলোচনা হয়েছিল। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যে ২০২৩ সালের আগস্টে আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। পরে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ফের সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং ২০২৬ সালে নতুন করে চুক্তির প্রক্রিয়া এগোয়। মার্চ ২০২৬-এ দুই দেশের মধ্যে আলোচনার কাঠামো সংক্রান্ত শর্তাবলিতেও সম্মতি হয় (India Canada)।

    কানাডার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মন্ত্রকও ২১ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে, দুই দেশ ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং চলতি বছরের মধ্যে পারস্পরিকভাবে লাভজনক একটি চুক্তিতে পৌঁছনোর বিষয়ে কানাডার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

    পরবর্তী দফার আলোচনা

    ফলে ৫ অক্টোবর শুরু হতে চলা পরবর্তী দফার আলোচনায় এখনও অমীমাংসিত বিষয়গুলিতে কতটা অগ্রগতি হয় এবং দুই দেশ চুক্তির দিকে কতটা এগোতে পারে, এখন সেটাই দেখার। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সাম্প্রতিক আলোচনার গতি এবং দুই দেশের নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাস ভারত-কানাডার অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে (India Canada)।

     

  • Sahil Wakode Suicide: ‘দাঙ্গা উসকে দিতে ভুয়ো খবর ’, সাহিল ওয়াকোড়ের আত্মহত্যার ঘটনায় আইআইটি বম্বের অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    Sahil Wakode Suicide: ‘দাঙ্গা উসকে দিতে ভুয়ো খবর ’, সাহিল ওয়াকোড়ের আত্মহত্যার ঘটনায় আইআইটি বম্বের অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইআইটি বম্বের ছাত্র সাহিল ওয়াকোড়ের আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ছাত্রের বিরুদ্ধে মুম্বই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ পত্রে, আইআইটি বম্বের হিউম্যানিটিজ বিভাগের অধ্যাপক সূর্যকান্ত ওয়াঘমোরে, প্রবীণ আইনজীবী মিহির দেশাই, আইনজীবী নবনীত, ছাত্রী হুমা নামাল, অমরকান্ত ঠাকুর-সহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে। অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সামাজিক মাধ্যমে এমন কিছু তথ্য ও পোস্ট ছড়িয়েছেন, যা তাদের দাবি অনুযায়ী ‘ভুয়ো খবর’ ছড়িয়ে জাতপাতের ভিত্তিতে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ উসকে দিতে পারে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে প্ররোচনামূলক পোস্টের মাধ্যমে হিংসা, সামাজিক অস্থিরতা এবং জাতপাতের ভিত্তিতে সমাজকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।

    পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান

    অভিযোগে আইনজীবী মিহির দেশাইয়ের সঙ্গে এইচআরএলএন-এসএলটিসি নামে একটি সংগঠনের যোগসূত্রের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ওই সংগঠন জার্মান ক্যাথলিক চার্চ-সম্পর্কিত এক এনজিও-র কাছ থেকে অর্থসাহায্য পায়। তবে এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। আরও অভিযোগ, নবনীত মিহির দেশাইয়ের চেম্বারে কাজ করেন এমন এক ব্যক্তি সাহিল ওয়াকোড়ের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে থাকাকালীন তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি পরিবারকে অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লার বিরুদ্ধে তফসিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের অধীনে অভিযোগ দায়ের করার জন্য উৎসাহিত করেন। এদিকে মুম্বই পুলিশের সূত্রের দাবি, সাহিল ওয়াকোড়েকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগের ক্ষেত্রে আইআইটি বম্বের অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লার বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ। পুলিশ সূত্র আরও জানিয়েছে, সাহিলের বিরুদ্ধে জাতপাত সংক্রান্ত কটূক্তি করা হয়েছিল—পরিবারের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ করা হলেও, সেই দাবিকে সমর্থন করার মতো কোনও প্রত্যক্ষদর্শী বা নির্দিষ্ট প্রমাণ এখনও তদন্তকারীদের হাতে আসেনি।

    পরীক্ষার হলের সিসিটিভি ফুটেজ

    তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে অধ্যাপক দুল্লা যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফুটেজে সাহিলকে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। এরপর তাঁকে পরীক্ষার ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এরপর অধ্যাপক দুল্লা সাহিলকে একটি আলাদা ঘরে নিয়ে যান। সেখানে আরও এক অধ্যাপক এবং বিভাগের একজন আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় সাহিলকে পরে নিজের হস্টেল কক্ষে যেতে এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতেও দেখা যায় বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। এই ঘটনায় তিন অধ্যাপককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তাঁদের বক্তব্যও রেকর্ড করা হয়েছে। তবে মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা দাবিগুলির সত্যতা আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া হয়নি।

  • Forest Operations: ছত্তিশগড়ের বীজাপুর-সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ডেরার খোঁজ, বাজেয়াপ্ত বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ

    Forest Operations: ছত্তিশগড়ের বীজাপুর-সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ডেরার খোঁজ, বাজেয়াপ্ত বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলের জঙ্গলগুলিতে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে তল্লাশি, মাইনমুক্তকরণ এবং এলাকায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অভিযান আরও (Forest Operations) জোরদার করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। এই অভিযানে বীজাপুর ও সুকমা জেলায় একাধিক গোপন মাওবাদী ডেরা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে।

    চলতি মাসেই বীজাপুর জেলায় একাধিক অস্ত্রভাণ্ডারের খোঁজ মিলেছে। এর মধ্যে বেদ্রে থানার অধীন লঙ্কা পাহাড়ি এলাকার জঙ্গলে মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা একটি বড় অস্ত্রভাণ্ডারও রয়েছে। সেখান থেকে একটি এসএলআর/এলএমজি রাইফেল, একটি ইনসাস রাইফেল, একটি ০.৩১৫ বোরের বন্দুক, দুটি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার, বিপুল গোলাবারুদ, ম্যাগাজিন এবং একটি চিনা হ্যান্ড গ্রেনেড উদ্ধার হয়েছে (Maoist)।

    সুকমা জেলার চিন্তলনা থানার অধীন ছোট কাঞ্চলা গ্রামের কাছের জঙ্গল থেকেও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী একটি গোপন মাওবাদী ডেরার খোঁজ পেয়েছে। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি একনলা বন্দুক, বেতার যোগাযোগের সরঞ্জাম, হাতে বহনযোগ্য তাপ-অনুসন্ধানী যন্ত্র, বৈদ্যুতিন সামগ্রী, মোবাইল ফোন, অপটিক্যাল সরঞ্জাম, মাওবাদী সাহিত্য এবং অন্যান্য উপকরণ। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, মাওবাদী কার্যকলাপের সময় জঙ্গলের প্রত্যন্ত এলাকায় লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী খুঁজে বের করতে লাগাতার তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

    চিনা হ্যান্ড গ্রেনেড-সহ অস্ত্র উদ্ধার (Forest Operations)

    বীজাপুরের লঙ্কা পাহাড়ি এলাকার জঙ্গলে বেদ্রে থানার অধীনে সাম্প্রতিক বড়সড় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। ওই সময় নিরাপত্তাকর্মীরা একটি সন্দেহজনক জায়গা চিহ্নিত করেন। সেখানে তল্লাশি চালাতেই মেলে মাটির নীচে লুকানো অস্ত্রভাণ্ডারের হদিশ।

    পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি এসএলআর/এলএমজি, একটি ইনসাস রাইফেল এবং একটি ০.৩১৫ বোরের বন্দুক। দুটি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চারও উদ্ধার করা হয়েছে (Forest Operations)।

    উদ্ধার হওয়া গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছে ১৭টি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চারের গোলা, একটি চিনা হ্যান্ড গ্রেনেড, ৪৯টি তাজা এসএলআর গুলি, ০.৩১৫ বোরের ১৫টি গুলি এবং ১৫টি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চারের কার্তুজ। চারটি এসএলআর ম্যাগাজিন এবং একটি ০.৩১৫ বোরের ম্যাগাজিনও বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

    ঘটনাস্থল থেকে আরও বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। শুরু হয়েছে তদন্ত।

    পুলিশ আধিকারিক সিদ্ধার্থ সিং চৌহান বলেন, “বীজাপুরে লাগাতার তল্লাশি ও মাইনমুক্তকরণ অভিযান চলছে। এই অভিযানেই অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে। চলতি মাসের বিভিন্ন দিনেও অভিযানের সময় অস্ত্র এবং অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।”

    একের পর এক অস্ত্রভাণ্ডারের হদিশ

    লঙ্কা পাহাড়ির উদ্ধার অভিযানটি সেপ্টেম্বর মাসে বীজাপুরে হওয়া একাধিক অভিযানের একটি।

    ২০ সেপ্টেম্বর ভৈরামগড় থানার আদওয়ারা জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে একটি একে-৪৭, ০.৩১৫ বোরের অস্ত্র, একটি একনলা পিস্তল, গোলাবারুদ এবং ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

    ১৬ সেপ্টেম্বর বডে আলওয়াড়া জঙ্গল থেকে একটি ০.৩১৫ বোরের রাইফেল, ৪৯টি তাজা গুলি, ২৫টি ০.৩০৩ গুলি, ৪৯টি ১২ বোরের গুলি, জিলেটিন, বেতার যন্ত্র এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার হয়।

    ৫ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর ১৯৯ নম্বর ব্যাটেলিয়ন পিডিয়া-কুপ্পাগুড়া এলাকায় বড়সড় অভিযান চালায়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এদরি, হররা, নয়াপাড়া এবং সরপঞ্চপাড়ার আশপাশের জঙ্গলে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে ১৪টি সন্দেহভাজন মাওবাদী ডেরা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক, ডেটোনেটর, হাতে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয় (Forest Operations)।

    ৩ সেপ্টেম্বর নীলামডগু নদীর তীরবর্তী এলাকায়ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। একটি ফাঁপা গাছের ভিতরে লুকিয়ে রাখা একটি দেশি ১২ বোরের বন্দুক, ক্ষতিগ্রস্ত একটি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার রাইফেল, আটটি গ্রেনেড লঞ্চার সেল এবং ১০টি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

    বীজাপুরের পুলিশ সুপার উমেশ প্রসাদ গুপ্ত জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ জঙ্গল এলাকাগুলিতে তল্লাশি ও মাইনমুক্তকরণ অভিযান অব্যাহত রয়েছে, যাতে মাওবাদীরা অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম লুকিয়ে রাখতে না পারে (Maoist)।

    সুকমায় মাওবাদী ডেরার খোঁজ

    এদিকে সুকমা জেলার চিন্তলনা থানার ছোট কাঞ্চলা গ্রামের জঙ্গলেও মিলেছে মাও-ডেরার খোঁজ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর ১৫০ নম্বর ব্যাটালিয়ন এই অভিযান চালায়। ২০ সেপ্টেম্বর ইউনিটের গোয়েন্দা শাখা মাটির নীচে লুকোনো আস্তানার খোঁজ পায়। শুরু হয় অভিযান।

    দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং ঘন জঙ্গল পেরিয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা সন্দেহভাজন এলাকায় পৌঁছন। সেখানে হাতে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র থাকার আশঙ্কায় এলাকাটি ঘিরে ফেলা হয়। এরপর প্রশিক্ষিত কুকুরের দল এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সাহায্যে তল্লাশি চালানো হয়।

    প্রশিক্ষিত কুকুরের দল একটি সন্দেহজনক জায়গা চিহ্নিত করে। সেখান থেকে মাটির নীচে পুঁতে রাখা দুটি লোহার ড্রাম উদ্ধার করা হয়।

    বাজেয়াপ্ত নানা সামগ্রী

    উদ্ধার হওয়া ড্রামের ভিতরে ছিল বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী। এর মধ্যে রয়েছে একটি একনলা বন্দুক, তাপ-অনুসন্ধানী যন্ত্র, ভিএইচএফ বেতার যন্ত্র, বেতার যন্ত্রের ব্যাটারি চার্জার, বিভিন্ন বৈদ্যুতিন বর্তনী, অ্যান্টেনা এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম (Forest Operations)। দুটি মোবাইল ফোন, দূরবীক্ষণ যন্ত্র, সাইরেনের শব্দ তৈরির যন্ত্র এবং ঢালের কোণ মাপার যন্ত্রও উদ্ধার হয়েছে।

    নিরাপত্তাকর্মীরা মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একটি লাল পতাকা এবং মাওবাদী সাহিত্যও বাজেয়াপ্ত করেছেন। উদ্ধার হয়েছে একটি পিঠু ব্যাগ, গ্যাস সিলিন্ডার, ওষুধ এবং হেডফোনও।

    তদন্তকারীদের বিশেষ নজরে এসেছে উদ্ধার হওয়া কয়েকটি বেতার যোগাযোগের সরঞ্জামে থাকা চিহ্ন। ওই যন্ত্রগুলিতে “পিএল-০৪” এবং “পামদে ডিভিশনে”র মতো ইউনিট-চিহ্ন রয়েছে।

    এই চিহ্ন এবং বেতার সরঞ্জামগুলি কী কাজে ব্যবহার করা হত এবং মাওবাদী নেটওয়ার্কের সঙ্গে এগুলির কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    বেতার সরঞ্জামের উৎস খতিয়ে দেখছে পুলিশ

    কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর কর্তা আনন্দ সিং রাজপুত বলেন, “মাওবাদী ডেরা থেকে উদ্ধার হওয়া বেতার যন্ত্রগুলি পরীক্ষা করা হচ্ছে। মাওবাদীরা কোথা থেকে এই বেতার যন্ত্রগুলি লুট করেছিল বা সংগ্রহ করেছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।”

    উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামগুলির উৎস, মাওবাদী সংগঠনের কোন কোন ইউনিট সেগুলি ব্যবহার করত এবং কোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সেগুলি তাদের হাতে পৌঁছেছিল, তা খতিয়ে দেখছেন (Maoist) তদন্তকারীরা।

    বস্তারজুড়ে তল্লাশি ও নিরাপত্তা অভিযান অব্যাহত

    বীজাপুর ও সুকমায় এই অস্ত্রভাণ্ডারের খোঁজ মেলার পর বস্তারজুড়ে শুরু হয়েছে জোরদার নিরাপত্তা অভিযান। পুলিশের বক্তব্য, ৩১ মার্চ ছত্তিশগড়কে সশস্ত্র মাওবাদী উপস্থিতি থেকে মুক্ত ঘোষণা করার পরেও, জঙ্গলে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র, বিস্ফোরক, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী খুঁজে বের করতে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তাবাহিনী।

    বিস্তীর্ণ জঙ্গল, প্রত্যন্ত বসতি এবং দুর্গম যাতায়াতের পথের কারণে এই অঞ্চলে নিয়মিত নজরদারি ও মাইনমুক্তকরণ অভিযানকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সন্দেহভাজন এলাকাগুলিতে তল্লাশির পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডার ও অন্যান্য সামগ্রীর খোঁজও চালানো হচ্ছে।

    সেপ্টেম্বর মাসে একাধিক এলাকায় অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনা থেকে স্পষ্ট, তল্লাশি কোনও একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই; বস্তারের বিভিন্ন জঙ্গল এলাকাতেই অভিযান চালানো হচ্ছে।

    বীজাপুরের লঙ্কা পাহাড়ি এলাকায় অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার এবং সুকমার ছোট কাঞ্চলার কাছে মাটির নীচে লুকোনো ডেরার খোঁজ মেলার পর আশপাশের জঙ্গলে নজরদারি ও তল্লাশি আরও বাড়ানো হয়েছে।

    সন্দেহজনক সামগ্রী দেখলে পুলিশকে জানানোর আবেদন

    বীজাপুর পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা, জঙ্গলে বসবাসকারী মানুষ এবং প্রত্যন্ত এলাকার মধ্যে দিয়ে যাতায়াতকারী ব্যক্তিদের কাছে আবেদন জানিয়েছে, কোনও সন্দেহজনক বস্তু, অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক বা অপরিচিত সামগ্রী চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দিতে।

    বিশেষ করে নির্জন জঙ্গল এলাকায় কোনও সন্দেহজনক বস্তু দেখা গেলে সেটি স্পর্শ, সরানো বা তার কাছে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। মাটির নীচে বা অন্যত্র লুকিয়ে রাখা সামগ্রী গুরুতর বিপদের কারণ হতে পারে (Forest Operations) বলেও বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।

     

  • Cross Border Terrorism: সীমান্তপারের সন্ত্রাসে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ করতে হবে পাকিস্তানকে, সাফ জানাল ভারত

    Cross Border Terrorism: সীমান্তপারের সন্ত্রাসে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ করতে হবে পাকিস্তানকে, সাফ জানাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ (Cross Border Terrorism) মোকাবিলায় পাকিস্তানকে (Pakistan) কথার পাশাপাশি বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ করতে হবে। পাকিস্তান কী বলছে, তা আন্তর্জাতিক মহল বিশ্বাস করার আগে ইসলামাবাদকে কাজের মাধ্যমে তার প্রতিশ্রুতি পূরণের দাবি প্রমাণ করতে হবে বলে মঙ্গলবার জানাল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।

    মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান তথা প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। মুনির জানিয়েছিলেন, দেশে জঙ্গি তৎপরতা বাড়তে থাকা হুমকির মধ্যে সন্ত্রাসবাদ পরাস্ত করতে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    এর জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “পাকিস্তানকে পদক্ষেপ এবং দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রমাণ দিতে হবে। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তাদের বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা যা বলছে, তা সত্যিই করবে—বিশ্বকে তা বিশ্বাস করাতে হলে এই পদক্ষেপ জরুরি।”

    গত বছর পহেলগাঁও হামলার পর থেকেই নয়াদিল্লি বলে আসছে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেওয়া থেকে পাকিস্তানকে বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ীভাবে সরে আসতে হবে।

    পেশোয়ারে আসিম মুনিরের বার্তা (Cross Border Terrorism)

    এর আগে মঙ্গলবার পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বলেছিলেন, দেশে জঙ্গি হুমকি বাড়তে থাকলেও, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, মুনির পেশোয়ারের সেনা সদর দফতর পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং প্রদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং সেখানে মোতায়েন বাহিনীর প্রস্তুতি নিয়েও তাঁকে জানানো হয়।

    পাক সেনাবাহিনীর তরফে বলা হয়েছে, মুনির জোর দিয়ে জানান, দেশের জনগণের অবিচল সমর্থন নিয়ে সশস্ত্র বাহিনী সন্ত্রাসবাদ পরাস্ত করতে এবং সারা দেশে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিহতদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।

    আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলার নিন্দা ভারতের

    এদিকে আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানের বিমান হামলারও তীব্র নিন্দা করেছে ভারত। জয়সওয়াল বলেন, সার্বভৌম প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে এই ধরনের আগ্রাসনের ঘটনা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আফগানিস্তানের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি ভারতের সমর্থনের কথাও জানান তিনি।

    পাকিস্তান সোমবার জানিয়েছিল, আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসবাদীদের শিবির ও গোপন আস্তানায় বিমান হামলা চালিয়েছে তাদের নিরাপত্তা বাহিনী। পাকিস্তানের দাবি, ওই হামলায় আত্মঘাতী হামলাকারী-সহ ২৮ জন সন্ত্রাসবাদী নিহত হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়।

    তবে আফগানিস্তান পাকিস্তানের এই দাবি ও পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। কাবুলের তরফে আফগান ভূখণ্ড পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হয়—এমন অভিযোগও অস্বীকার করা হয়েছে।

    পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই কাবুলের তালিবান প্রশাসনের কাছে আফগান ভূখণ্ডে থাকা সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত ঘাঁটিগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের অভিযোগ, এসব জায়গা থেকে তাদের দেশে হামলা চালানো হয় (Cross Border Terrorism)।

    সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়েও ভারত-পাকিস্তান মতবিরোধ

    এদিকে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে সালিশি আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তথ্য বিকৃতির অভিযোগ তুলেছে ভারত।

    পাকিস্তান এই সিদ্ধান্তকে স্থায়ী সালিশি আদালতের রায় হিসেবে তুলে ধরছে—এমন প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “প্রথমত, পাকিস্তানের মন্ত্রী যেভাবে বিষয়টি তুলে ধরছেন, তথাকথিত এই সিদ্ধান্ত স্থায়ী সালিশি আদালতের রায় নয়। এটি একটি বেআইনিভাবে গঠিত আদালতের সিদ্ধান্ত। আমরা একে বাস্তবতাকে বিকৃত করার পাকিস্তানের আর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছি। এই বিষয়ে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট এবং আমরা তা একাধিকবার জানিয়েও দিয়েছি।”

    অগাস্টের শেষের দিকে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্তে সালিশি সংস্থা (Pakistan) জানিয়েছিল, চুক্তিটি কার্যকর রয়েছে এবং ভারত একতরফাভাবে সেটিকে স্থগিত রাখতে পারে না। ভারত অবশ্য ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে স্পষ্ট জানিয়েছিল, তারা ওই সালিশি প্রক্রিয়াকে স্বীকৃতিই দেয় না (Cross Border Terrorism)।

     

  • Hamid Ansari: হিন্দু দক্ষিণপন্থী সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে হামিদ আনসারির মন্তব্যে বিতর্ক, তীব্র আক্রমণ ইমাম ইলিয়াসির

    Hamid Ansari: হিন্দু দক্ষিণপন্থী সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে হামিদ আনসারির মন্তব্যে বিতর্ক, তীব্র আক্রমণ ইমাম ইলিয়াসির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারির (Hamid Ansari) “হিন্দু দক্ষিণপন্থী সাম্প্রদায়িকতা” সংক্রান্ত মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন অল ইন্ডিয়া ইমাম অর্গানাইজেশনের প্রধান ইমাম উমর আহমেদ ইলিয়াসি (Imam Ilyasi)। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের মন্তব্য দেশের সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে।

    গত ১৯ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির ইন্ডিয়া ইসলামিক কালচারাল সেন্টারে প্রয়াত সংবিধান বিশেষজ্ঞ তথা লেখক এজি নূরানির স্মরণে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আনসারি। সেখানে তিনি নূরানির ২০১৯ সালের বই ‘দ্য আরএসএস: আ মেনেস টু ইন্ডিয়া’র প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর একটি পুরনো বক্তব্যের উল্লেখ করেন। আনসারি বলেন, নেহরুর মতে ভারতের জন্য প্রকৃত বিপদ সাম্যবাদ নয়, বরং হিন্দু দক্ষিণপন্থী সাম্প্রদায়িকতা। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নাগরিক জাতীয়তাবাদের প্রতিষ্ঠিত ধারণার পরিবর্তে সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই প্রবণতার মাধ্যমে ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে নির্বাচনী সংখ্যাগরিষ্ঠতার সঙ্গে এক করে রাজনৈতিক ক্ষমতা একচেটিয়া করার চেষ্টা হতে পারে। আনসারি আরও বলেন, এর ফলে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকদের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করা, অসহিষ্ণুতাকে উৎসাহ দেওয়া এবং সমাজে অন্যত্ব, অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    ইমাম ইলিয়াসির আক্রমণ (Hamid Ansari)

    আনসারির বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন ইলিয়াসি। তাঁর অভিযোগ, মুসলিম সমাজের মধ্যে নিজের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যেই আনসারি এই ধরনের মন্তব্য করেছেন। ইলিয়াসি বলেন, “আমি এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করছি। হামিদ আনসারি সাহেব আবার মুসলিমদের কথা মনে করেছেন। তিনি যখন ক্ষমতায় ছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন, তখন তিনি ধর্মনিরপেক্ষ ছিলেন। আজ তিনি মুসলিমদের কথা মনে করছেন।” তিনি আরও বলেন, “মুসলিমরা তাঁর সম্পর্কে জানতে চাইছেন না। তাঁদের মধ্যে নিজের ভাবমূর্তি উন্নত করার জন্যই তিনি এই ধরনের মন্তব্য করেছেন।” দেশের পরিবেশ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে ইলিয়াসির মন্তব্য, “আমার মনে হচ্ছে, কোথাও না কোথাও দেশের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য এটি একটি বড় ষড়যন্ত্র।”

    ভাগবতের বক্তব্য সমর্থনের পরামর্শ

    ইলিয়াসি বলেন, মুসলিম সমাজ নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবতের কিছু বক্তব্যকেও স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, “মোহন ভাগবতজি যখন বলেছেন যে সব ভারতীয়ের ডিএনএ এক, মসজিদের নীচে শিবলিঙ্গ খোঁজা উচিত নয় এবং সম্প্রতি আমেরিকা সফরের সময় মুসলিমদের অধিকারের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন, তখন সেই বক্তব্যগুলিকেও সমর্থন করা উচিত (Hamid Ansari)।”

    বিজেপি এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদেরও সমালোচনা

    আনসারির মন্তব্যের সমালোচনা করেছে বিজেপি এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদও। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা বিনোদ বনসলের অভিযোগ, উপরাষ্ট্রপতি পদে থাকার সময়ে আনসারি উগ্রপন্থী সংগঠন হিসেবে বর্ণিত পিএফআই এবং এসডিপিআইয়ের আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। বনসল বলেন, “ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সমাজের কাছ থেকে কোনও হুমকি নেই। হুমকি তাদের কাছ থেকে, যারা উগ্র মানসিকতা নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘুর বিভাজনের বিষ ছড়ায় এবং যারা উগ্রপন্থাকে উৎসাহ দেয়, তাদের রক্ষা করার চেষ্টা করে।” বিজেপির অভিযোগ, আনসারির বক্তব্য কংগ্রেসের তথাকথিত হিন্দু-বিরোধী রাজনীতির প্রতিফলন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় রাহুল গান্ধীর অতীতের হিন্দু সংগঠন ও সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রসঙ্গও টেনে আনে পদ্ম শিবির। ঘটনায় (Imam Ilyasi) রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি নাগরিক জাতীয়তাবাদ, সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে (Hamid Ansari) চর্চা।

     

  • Cyclone Arnab: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাব তিন রাজ্যে, কোন কোন জেলার জন্য জারি ‘রেড অ্যালার্ট’?

    Cyclone Arnab: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাব তিন রাজ্যে, কোন কোন জেলার জন্য জারি ‘রেড অ্যালার্ট’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত নিম্নচাপ আরও শক্তি বাড়িয়েছে। সম্ভাবনা রয়েছে ক্যাটেগরি-৩ ঘূর্ণিঝড়ে (Cyclone Arnab) পরিণত হওয়ারও। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)-এর তথ্য় অনুযায়ী ইতিমধ্যেই বঙ্গোপসাগরে অ্যাক্টিভ হয়েছে নিম্নচাপ। আগামী কয়েক ঘণ্টার এটি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। আর শক্তি বাড়লেই এটি পরিণত হবে গভীর নিম্নচাপে। সকাল থেকেই মুখ ভারি আকাশের। ভোর রাত থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টিও। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের কারণে, আজ থেকে ৪ দিন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় প্রবল বৃষ্টির (Weather Update)সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপ উপকূলীয় রাজ্যগুলির জন্য মারাত্মক ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফল কখন কোথায়

    ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) অনুসারে, নিম্নচাপটি বর্তমানে ওড়িশার পুরী থেকে প্রায় ২১০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে ২২০ কিমি পূর্বে অবস্থিত। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে যে, সিস্টেমটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে থাকায়, ২৩শে সেপ্টেম্বর রাতের মধ্যে এটি বিশাখাপত্তনম এবং গোপালপুরের মধ্যবর্তী উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ-দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল গভীর নিম্নচাপ রূপে অতিক্রম করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টার মধ্যে যেকোনও সময়ে স্থলভাগে প্রবেশের সম্ভাবনা। সম্ভাব্য ল্যান্ডফল এলাকা: ওড়িশার গোপালপুর থেকে অন্ধ্রপ্রদেশের কলিঙ্গপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল। হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টার মধ্যে যেকোনও সময়ে গোপালপুর ও কলিঙ্গপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে এই সিস্টেম। ল্যান্ডফলের সময় ঝড়ের দাপট আরও বাড়ার আশঙ্কা।

    ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ

    আলিপুর আবহাওয়া দফতর ও ভারতীয় মৌসম ভবন সূত্রে খবর,ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর নাম দিয়েছে বাংলাদেশ। ঘূর্ণিঝড়ের নামের আঞ্চলিক তালিকা অনুসারে, উত্তর ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট হতে যাওয়া পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘অর্ণব’, যার বাংলা অর্থ মহাসাগর। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তাণ্ডবের আশঙ্কা তিন রাজ্যে। অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে প্রবল ঝড়ের পাশাপাশি ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই মৎস্যজীবীদের জন্য জারি হয়েছে কড়া সতর্কতা। ২৩ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ বুধবার থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং বাংলাদেশের মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

    দীঘায় সমুদ্রে নামতে মানা

    ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আপাতত ‘রিজার্ভ’ বা প্রভাবহীন অবস্থায় রয়েছে, তবুও এর ফলে সৃষ্ট নিম্নচাপের ধাক্কায় পূর্ব মেদিনীপুর ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপকূল এলাকায় বুধবার পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি এবং কিছু অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দিঘা, শঙ্করপুর, জুনপুট ও পেটুয়াঘাটসহ আশপাশের এলাকায় মেঘলা আকাশের পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে সমুদ্রের পরিস্থিতি বেশ বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। সমুদ্র উত্তাল থাকার পূর্বাভাসের কারণে বুধবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, সমুদ্রে থাকা মাছ ধরার নৌকাগুলিকে অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। পর্যটকদের নিরাপত্তায় দিঘা, শঙ্করপুর, তাজপুর ও মন্দারমণি সৈকত এলাকায় মাইকিং চালিয়ে পুলিশ প্রশাসন সতর্কবার্তা দিচ্ছে। সমুদ্রের বেশি গভীরে না যেতে এবং প্রশাসনের সমস্ত নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলতে বলা হচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব না থাকলেও সমুদ্র উত্তাল হওয়ার পুরো আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসন প্রতিনিয়ত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং যেকোনো সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাবতীয় আপৎকালীন পরিকাঠামো।

    কলকাতায় দুর্যোগের প্রভাব

    ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর পরোক্ষ প্রভাবে কলকাতাতেও আবহাওয়ার দ্রুত অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সকাল থেকেই কখনও হালকা আবার কখনও ঝেঁপে বৃষ্টি হচ্ছে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। বিশেষ করে, দঃ ২৪ পরগনা, ২ মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে হতে পারে ভারী বৃষ্টি। পুরুলিয়া, বীরভূম, হাওড়ার একাংশেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। দিনভর বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে।

    ওড়িশায় জারি রেড অ্যালার্ট

    ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ওড়িশা সরকার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। ওড়িশার রাজস্ব ও বিপর্যয় মোকাবিলা মন্ত্রী সুরেশ পূজারি জানিয়েছেন যে, পশ্চিম-মধ্য এবং সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি গত ৬ ঘণ্টা ধরে ঘণ্টায় ১৮ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আইএমডি-র তথ্য অনুযায়ী, এই গভীর নিম্নচাপের কারণে ২৩-২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোরাপুট, গজপতি এবং গঞ্জাম জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এবং এই তিনটি জেলা রেড জোনের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর কালাহান্ডি, নবরঙ্গপুর, কোরাপুট এবং মালকানগিরি ছাড়াও নিকটবর্তী জেলা যেমন বালেশ্বর এবং বৌধও রেড জোনের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলোর মধ্যে ওড়িশা অন্যতম হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, এর বিভিন্ন অংশে ইতিমধ্যেই ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে বেশ কয়েকটি জেলার কর্তৃপক্ষ স্কুল বন্ধ করে দিয়েছেন এবং সম্ভাব্য বন্যা ও অন্যান্য আবহাওয়াজনিত ঘটনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। খুরদা, জগৎসিংহপুর, গঞ্জাম ও গজপতিতে স্কুল বন্ধের ঘোষণা করেছে সরকারের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে মালকানগিরিতে ২৪শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলোও ২৪শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।

    অন্ধ্রপ্রদেশে প্রবল দুর্যোগের আশঙ্কা

    ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর প্রভাব পড়তে পারে পূর্ব উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকায়। ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথের অন্যতম প্রভাব পড়তে পারে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে। উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া থেকে প্রবল ঝড় হতে পারে। এর সঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। সমুদ্রও উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। অন্ধ্রের পাশাপাশি ওড়িশা উপকূলেও দুর্যোগের আশঙ্কা। প্রবল ঝড়ের সঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে। ইতিমধ্যেই সমুদ্রের পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জারি হয়েছে। আগামী কয়েকদিন মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে ২৫শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশের কিছু অংশে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ, ইয়ানাম ও রায়লসীমায় বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Drug Regulator Warning: বারবার ব্যথার ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে কিডনির ঝুঁকি, সতর্ক করল ওষুধ নিয়ন্ত্রক

    Drug Regulator Warning: বারবার ব্যথার ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে কিডনির ঝুঁকি, সতর্ক করল ওষুধ নিয়ন্ত্রক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই বারবার ব্যথার ওষুধ নৈব নৈব চ! সর্দি-কাশি, পেটের কমপ্লেন পটাপট অ্যান্টিবায়োটিক সেবন থেকেও বিরত থাকুন। নইলে ক্ষতি হতে পারে কিডনির। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে তৈরি হতে পারে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স। এই পরিস্থিতিতে ব্যথানাশক ও অ্যান্টিবায়োটিকের নির্বিচার ব্যবহার বন্ধ করার জন্য চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক করল কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (CDSCO)। সিডিএসসিও-এর জারি করা পরামর্শে বলা হয়েছে, ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত ওষুধ (NSAIDs) এবং অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত। ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত, বারবার বা দীর্ঘদিনের ব্যবহার এড়ানোর পরামর্শ (Drug Regulator Warning) দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

    চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক নয়

    সাধারণ মানুষকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (CDSCO)। বিশেষ করে অধিকাংশ সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। তাই সর্দি-কাশি বা সাধারণ ভাইরাল অসুস্থতার ক্ষেত্রে নিজের সিদ্ধান্তে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হলে নির্দিষ্ট নিয়ম ও সময় মেনে তা খেতে হবে। অন্যের সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক ভাগ করে নেওয়া বা আগের প্রেসক্রিপশনের অব্যবহৃত ওষুধ পরে নিজে থেকে খাওয়া উচিত নয়।

    কিডনির রোগীদের বিশেষ সতর্কতা

    যাদের আগে থেকেই কিডনির সমস্যা রয়েছে বা কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের এই ধরনের ওষুধ ব্যবহারের আগে চিকিৎসককে বিষয়টি জানাতে বলা হয়েছে। এছাড়াও শরীরে জলশূন্যতা, কিডনির সমস্যা, হৃদ্‌রোগ বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ শারীরিক পরিস্থিতি থাকলে ব্যথানাশক ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে সিডিএসসিও। ব্যথা, জ্বর বা অন্য কোনও উপসর্গ বারবার ফিরে এলে নিজের মতো করে ব্যথানাশক বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্কতা

    অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ শুধুমাত্র ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট অসুখের ক্ষেত্রেই কাজ করে ভাইরাস বাহিত অসুখে নয়! অনেক ক্ষেত্রে ভাইরাল ইনফেকশনেও অ্যান্টিবায়োটিক ড্রাগ খেয়ে নেন অনেকে। এর ফলে হিতে বিপরীত হতে পারে। শুধু তাই না বরং অ্যান্টিবায়োটিক অতিরিক্ত সেবনের ফলে শরীরে নানারকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। মনে রাখতে হবে, অ্যান্টিবায়োটিক অতিরিক্ত খেলে শরীরে একটি অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়ে যায়, যার ফলে যে অ্যান্টিবায়োটিকগুলি প্রয়োজনেও কাজ করা বন্ধ করে দেয় । অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ফলে দেখা যায় ওষুধগুলি পাচক ক্রিয়ায় ব্যবহৃত ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলিকেও মেরে ফেলছে। বিশেষত ক্ষুদ্রান্ত্রে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলিও অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে নষ্ট হয়ে যায়। অ্যান্টিবায়োটিকের ডোজ ঠিকমতো না নেওয়ার ফলে বা ভুল ভাবে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ফলে শরীরে নানা রকমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন ইনফেকশনের পরে পেট ফুলে যাওয়ার মত সমস্যা । বারবার মলত্যাগের বেগ পাওয়ার মত সমস্যা হতে পারে।

    ব্যথার ওষুধে সমস্যা

    অসহ্য ব্যথায় ওষুধ খেতেই হবে। কিন্তু মাথাব্যথা একটু হল কি হল না, তাতে ওষুধ খেয়ে নেওয়ার প্রবণতা থাকে অনেকের। এ কাজ ঠিক নয়। তাতে উল্টে বিপদ ঘটতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথার ওষুধ না খাওয়াই ভাল। খোলা বাজারে যা সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়, তার মধ্যে প্রধান হল এনসেড বা নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি গোত্রের ওষুধ৷ যেমন ডাইক্লোফেনাক, অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন, ন্যাপ্রোক্সেন ইত্যাদি৷ ব্যথা কমানোর পাশাপাশি ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহও কমায় বলে এই সব ওষুধে চটজল্দি কাজ হয়৷ অ্যাসিটামিনোফেন বা প্যারাসিটামল ব্যথা কমালেও, প্রদাহ কমাতে পারে না। তা সবচেয়ে নিরাপদ হলেও কার্যকারিতা এনসেড-এর চেয়ে কম৷ এ বার আসা যাক ক্ষতির কথায়৷ এনসেড গোত্রের ওষুধ পেটের গোলমাল ঘটাতে পারে৷ বদহজম, পেটব্যথার মতো সমস্যা হয়৷ কারও কারও গ্যাসট্রাইটিস হয়৷ আলসার এবং পাকস্থলি ও অন্ত্রে রক্তপাত হয় কিছু ক্ষেত্রে৷ নিয়মিত ডাইক্লোফেনাক খেলে কারও কারও হার্ট ও রক্তনালির অসুখ হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে৷ বয়স যাঁদের ৬৫-র বেশি, ব্যথার ওষুধ থেকে তাঁদের সমস্যা হতে পারে।

    চিকিৎসকদের জন্যও নির্দেশিকা

    চিকিৎসকদের শুধুমাত্র চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজন থাকলেই ব্যাথার ওষুধ এবং অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা, অন্যান্য রোগ, চলতি ওষুধ এবং কিডনি-সহ বিভিন্ন ঝুঁকির বিষয় বিবেচনা করে ওষুধ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ব্যথার ওষুধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম কার্যকর ডোজ এবং প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন সময়ের জন্য ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে যাঁদের কিডনির সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেশি। অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে সংক্রমণের সম্ভাব্য জীবাণু, সংক্রমণের স্থান ও তীব্রতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষার ফল বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। অপ্রয়োজনীয়ভাবে একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক একসঙ্গে ব্যবহার, ভুল ওষুধ নির্বাচন, ভুল ডোজ এবং প্রয়োজনের তুলনায় দীর্ঘদিন অ্যান্টিবায়োটিক চালিয়ে যাওয়া এড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রিতে সতর্কতা

    ফার্মাসিস্ট, ওষুধের দোকানদার এবং ডিস্ট্রিবিউটরদেরও প্রেসক্রিপশন-নির্ভর ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন ও নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (CDSCO)। বিশেষ করে সিডিউল এইচ এবং এইচ ১-এর অন্তর্ভুক্ত ওষুধ প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি না করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক বা প্রেসক্রিপশন-নির্ভর ওষুধের মাধ্যমে স্ব-চিকিৎসাকে উৎসাহিত বা সহযোগিতা না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    হাসপাতালগুলিতেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ

    হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলিকে ব্যাথার ওষুধ এবং অ্যান্টিবায়োটিকের যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ, প্রেসক্রিপশন পর্যালোচনা এবং রোগীদের সঠিকভাবে ওষুধ ব্যবহারের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পাশাপাশি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, ওষুধ বিক্রেতা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ওষুধগুলির নির্বিচার ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

     

     

     

     

     

LinkedIn
Share