Blog

  • Suvendu Adhikari: তিন মাসে রাজস্ব বৃদ্ধি প্রায় ১৮%, কর না বাড়িয়েই আয় বাড়ানোর দাবি রাজ্যের

    Suvendu Adhikari: তিন মাসে রাজস্ব বৃদ্ধি প্রায় ১৮%, কর না বাড়িয়েই আয় বাড়ানোর দাবি রাজ্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকার বদলের পর রাজ্যের রাজস্ব আদায়ে যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছিল, তিন মাসের হিসাবেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, নতুন কোনও কর চাপানো হয়নি, অথচ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রথম তিন মাসে রাজস্ব আদায় বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। এর আগে (Suvendu Adhikari) প্রথম এক মাসেই অতিরিক্ত প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের কথা জানিয়েছিল রাজ্য সরকার। রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতিতে এই বৃদ্ধিকে (Revenue Collection) তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। একদিকে বিপুল ঋণের দায়, অন্যদিকে সামাজিক প্রকল্প, সরকারি কর্মীদের বেতন-পেনশন, মহার্ঘ ভাতা এবং পরিকাঠামো খাতে ক্রমবর্ধমান ব্যয়—সব মিলিয়ে রাজ্যের নিজস্ব আয় বাড়ানো এখন অর্থ ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

    নজর কর ফাঁকি ও রাজস্ব ফাঁক বন্ধে (Suvendu Adhikari)

    রাজ্য সরকারের বক্তব্য, করের হার বাড়িয়ে নয়, আদায়ের ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করেই এই সাফল্য এসেছে। স্টেট জিএসটি, আবগারি, স্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশন ফি, মোটর ভেহিকল ট্যাক্স, বিদ্যুৎ শুল্ক এবং পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের উপর ভ্যাট—রাজ্যের নিজস্ব কর-রাজস্বের গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলিতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

    খনি, পাথর খাদান ও বালি-সহ প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে সরকারের প্রাপ্য অর্থ নিশ্চিত করার উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রয়্যালটি আদায়, খনিজ পরিবহণের বৈধ কাগজপত্র পরীক্ষা এবং করযোগ্য লেনদেনের সঠিক হিসাব রাখার ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

    জেলাভিত্তিক রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যানও নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কোথায় প্রত্যাশার তুলনায় সরকারি আয় কম হচ্ছে, তার কারণ খুঁজে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। সরকারের লক্ষ্য, নিয়মিত করদাতাদের উপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে কর সংগ্রহের পরিধি এবং দক্ষতা বাড়ানো।

    তিন মাসেও ঊর্ধ্বমুখী রাজস্ব

    সরকারের প্রথম মাসেই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যান সামনে এসেছিল। পরে আড়াই মাসের হিসাবেও রাজস্ব বৃদ্ধির হার প্রায় ১৫ শতাংশে পৌঁছনোর কথা জানানো হয়। তিন মাসের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ্যে আসার পর সেই হার আরও বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। অর্থ দফতরের কর্তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রথম মাসের সাময়িক সাফল্য পরের দু’মাসেও ধরে রাখা গিয়েছে।

    রেভিনিউ লিকেজ’ বন্ধে জোর

    সরকারি মহলের একটি বড় অংশের মতে, রাজস্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হল এতদিনের ফাঁকফোকর বন্ধ করা। বিশেষ করে খনি, খাদান, বালি ও পাথরের ব্যবসায় সরকারের প্রাপ্য অর্থ পুরোপুরি কোষাগারে পৌঁছচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    প্রশাসনের দাবি, বৈধ নথি ছাড়া খনিজ পরিবহণ, রয়্যালটি ফাঁকি কিংবা করযোগ্য লেনদেনের সম্পূর্ণ হিসাব সরকারি ব্যবস্থার বাইরে থেকে গেলে রাজস্বের বড় অংশ হারিয়ে যায়। সেই ধরনের অনিয়ম রুখতেই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সরকারের আশা, এই ব্যবস্থা আরও কার্যকর হলে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ আরও বাড়বে (Suvendu Adhikari)।

    তবে এই সাফল্যের স্থায়িত্ব নিয়েই এখন উঠছে বড় প্রশ্ন। একটি আর্থিক বছরের কয়েক মাসে রাজস্ব বাড়লেই দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয় না। বছরের শেষ পর্যন্ত এই বৃদ্ধির হার ধরে রাখা সম্ভব হয় কি না, সেটাই হতে চলেছে সরকারের সামনে পরবর্তী পরীক্ষা।

    বিপুল ঋণের মধ্যে বাড়তি রাজস্বের গুরুত্ব

    রাজ্যের ঋণের পরিমাণ ইতিমধ্যেই সাড়ে ৭ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি। ঋণের সুদ পরিশোধেই প্রতি বছর বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, কর্মীদের বেতন-পেনশন, মহার্ঘ ভাতা এবং উন্নয়নমূলক পরিকাঠামো খরচ।

    এই পরিস্থিতিতে নিজস্ব রাজস্বের পরিমাণ বাড়ানো গেলে সরকারের উপর অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতার চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে নতুন প্রকল্প বা উন্নয়নমূলক কর্মসূচির জন্য আর্থিক পরিসরও বাড়তে পারে।

    সরকারের অবস্থান, করের হার বাড়িয়ে সাধারণ মানুষ বা ব্যবসায়ীদের উপর নতুন বোঝা চাপানোর পরিবর্তে করের আওতা বাড়ানো এবং ফাঁকি রোখাই আপাতত বেশি কার্যকরী পথ। প্রথম মাসে অতিরিক্ত রাজস্ব এবং তিন মাসে প্রায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধির পরিসংখ্যানকে সেই নীতির প্রাথমিক ফল হিসেবেই দেখছে প্রশাসন।

    দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির জন্য শিল্প ও বিনিয়োগ জরুরি

    অর্থনীতিবিদদের একাংশ অবশ্য মনে করছেন, শুধু কর ফাঁকি বন্ধ করা বা প্রশাসনিক নজরদারি বাড়িয়ে দীর্ঘদিন রাজস্ব বৃদ্ধির একই হার ধরে রাখা সম্ভব নয়। এর জন্য রাজ্যে নতুন শিল্প স্থাপন, ব্যবসার সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার প্রয়োজন। শিল্পায়ন এবং বিনিয়োগকে তাই রাজস্ব বৃদ্ধির স্থায়ী ভিত্তি হিসেবে দেখছে সরকার (Suvendu Adhikari)। প্রথম তিন মাসের পরিসংখ্যান আপাতত রাজ্য প্রশাসনকে স্বস্তি দিয়েছে। তবে এই গতি আগামী মাসগুলিতেও অব্যাহত থাকে কি না, আর রাজস্ব বৃদ্ধির (Revenue Collection) সঙ্গে রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কতটা গতি পায়— আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।

     

  • Food Safety Raids: বিশেষ খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহে কড়া নজরদারি, প্রথম তিন দিনেই প্রকাশ্যে ৮৮% প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম

    Food Safety Raids: বিশেষ খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহে কড়া নজরদারি, প্রথম তিন দিনেই প্রকাশ্যে ৮৮% প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যজুড়ে খাবারে ভেজাল, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং খাদ্য লাইসেন্স সংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর (Food Safety Raids)। ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে ‘স্পেশাল ফুড সেফটি উইক’। সেই কর্মসূচির প্রথম তিন দিনেই রাজ্যের ২,৩৩৭টি খাদ্য ও পানীয় সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ২,০৫৬টি প্রতিষ্ঠানে গুরুতর অনিয়মের হদিশ মিলেছে। অর্থাৎ, পরিদর্শন করা (West Bengal) প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৮ শতাংশের বিরুদ্ধেই কোনও না কোনও বড় ধরনের অসঙ্গতি সামনে এসেছে।

    সংশোধনমূলক পদক্ষেপ করার নির্দেশ (Food Safety Raids)

    দফতর সূত্রে খবর, অনিয়ম ধরা পড়ার পর ২,০৩৯টি ক্ষেত্রে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ করার নির্দেশ বা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১,২৭৭টি খাদ্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর ৪২৮টি, ২ সেপ্টেম্বর ৪৭৩টি এবং ৩ সেপ্টেম্বর ৩৭৬টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। শুধু নজরদারি নয়, অনিয়মের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপও করা হয়েছে। ১৬টি প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ১৭টি প্রতিষ্ঠান সিল করে দেওয়া হয়েছে। পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। ১৭টি ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ১ সেপ্টেম্বর ৯০৬টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। পরের দিন ৮২৪টি এবং তার পরের দিন আরও ৬০৭টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়।

    মালদায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

    তিন দিনের অভিযানে মালদায় একাধিক খাদ্য ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ‘টেস্টি ফুড প্রোডাক্টে’র ক্ষেত্রে বৈধ ও আপডেট খাদ্য লাইসেন্স দেখাতে না পারার অভিযোগ ওঠে। তার উপর কেক তৈরির জায়গার পরিচ্ছন্নতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন দেখা দেয়। পরিস্থিতির জেরে সেখানে খাদ্যপণ্য বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

    একই জেলায় ‘হায়দরাবাদি বিরিয়ানি’র বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বৈধ খাদ্য লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশনের নথি দেখাতে না পারার পাশাপাশি খোলা জায়গায় নর্দমার উপর রান্না করার অভিযোগও সামনে এসেছে। ফলে ওই প্রতিষ্ঠানেও বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    মালদার পানীয় জল প্রস্তুতকারী ‘পিওর বুন্দ’ এবং ‘পাইলট পানি’র ক্ষেত্রেও লাইসেন্স সংক্রান্ত অনিয়ম ধরা পড়ে। খাদ্য সুরক্ষা বিধিতে নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি এবং অন্যান্য আবশ্যিক শর্ত মানা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। দুই সংস্থার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে (Food Safety Raids)।

    হলুদে মেটানিল ইয়েলো, বন্ধ দুধঘর

    উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের ‘দুধ ঘরে’ বৈধ খাদ্য লাইসেন্স না থাকার অভিযোগের পাশাপাশি অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সন্ধান মেলে। স্পট টেস্টে হলুদ গুঁড়োয় ‘মেটানিল ইয়েলো’ নামে অননুমোদিত রং শনাক্ত হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ভিতর থেকেও খাবারের মেশানো রং উদ্ধার হয়। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়, খাদ্য বিক্রির উপর জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞা।

    হুগলিতে বন্ধ পানীয় জল প্রস্তুতকারী সংস্থা

    হুগলির পুইনানে ‘নূর এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি পানীয় জল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ হয়েছে। খাদ্য ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত পক্ষের তরফে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা এনফোর্সমেন্ট শাখার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    লাইসেন্স নেই, জল পরীক্ষার রিপোর্টও অনুপস্থিত

    ৩ সেপ্টেম্বর কালীগঞ্জের দেবগ্রামের ‘তারা মা হোটেল’ এবং চাপড়ার ‘জনপ্রিয় হোটেলে’র বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয় পুলিশ। দুই প্রতিষ্ঠানই বৈধ খাদ্য লাইসেন্স দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ। এর পাশাপাশি পানীয় জলের পরীক্ষার রিপোর্ট অনুপস্থিত ছিল এবং খাবার সংরক্ষণ ও রান্নার পরিবেশও স্বাস্থ্যসম্মত ছিল না। পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণের উপযুক্ত ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসম্মত বাসনপত্রের ঘাটতিও নজরে আসে (Food Safety Raids)।

    পশ্চিম বর্ধমানে জরিমানা

    পশ্চিম বর্ধমানেও অভিযান চালিয়ে সাতটি খাদ্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হয়েছে। ২০১৬ সালের সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট রুলস অনুযায়ী এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। এদিকে, কলকাতার তাজ বেঙ্গলে পরিদর্শনের সময় বড় কোনও নিয়মভঙ্গ নজরে আসেনি বলেও রিপোর্টে উল্লেখ (West Bengal) করা হয়েছে। খাদ্য সুরক্ষা দফতরের এই বিশেষ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হল খাদ্যপণ্যের গুণমান বজায় রাখা, খাদ্য সুরক্ষা বিধি কার্যকর করা এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত নিয়ম মানার বিষয়টি নিশ্চিত করা। ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এই বিশেষ নজরদারি। ফলে আগামী দিনগুলিতে আরও বিভিন্ন খাদ্য ও পানীয় প্রতিষ্ঠানে অভিযান এবং নিয়মভঙ্গের ক্ষেত্রে পদক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে (Food Safety Raids)।

     

  • Durga Puja Drone Show: তিন হাজার ড্রোনের আলোয় কলকাতার আকাশে ফুটবে দুর্গাপুজোর গল্প, মহালয়া থেকে অষ্টমী— মেগা অনুষ্ঠান, পরিকল্পনা রাজ্যের

    Durga Puja Drone Show: তিন হাজার ড্রোনের আলোয় কলকাতার আকাশে ফুটবে দুর্গাপুজোর গল্প, মহালয়া থেকে অষ্টমী— মেগা অনুষ্ঠান, পরিকল্পনা রাজ্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজো মানেই কলকাতার আলো, আনন্দ আর উৎসবের রঙ। এবার সেই উৎসবের আকাশেই যোগ হতে চলেছে এক নতুন মাত্রা। ২০২৬-এর দুর্গাপুজোয় (Durga Puja 2026) কলকাতার আকাশে দেখা যেতে পারে প্রায় তিন হাজার ড্রোনের (Durga Puja Drone Show) অভিনব লাইট শো। মহালয়া থেকে অষ্টমী—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিনে আয়োজন করা হবে একাধিক মেগা অনুষ্ঠান। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বাঙালি সংগঠন এবং ভারতীয় দূতাবাসগুলিকেও সরাসরি যুক্ত করা হবে সেই উৎসবে।

    তিন হাজার ড্রোনের অভিনব লাইট শো

    রাজ্যের পর্যটন দফতর সূত্রে খবর, এবার দুর্গাপুজোয় কলকাতার আকাশে দেখা যেতে পারে অভূতপূর্ব দৃশ্য। কমপক্ষে ৩ হাজার ড্রোনের আলোয় ফুটে উঠবে দুর্গাপুজোর নানা অনুষঙ্গ। ড্রোনের আলোয় আকাশজুড়ে ফুটিয়ে তোলা হবে বাংলার সংস্কৃতির বিভিন্ন চিত্র। একের পর এক ড্রোন নির্দিষ্ট বিন্যাসে উড়ে তৈরি করবে আলোকচিত্র ও বিভিন্ন আকৃতি—যা মাটিতে দাঁড়িয়ে দর্শকদের কাছে একেবারে অন্যরকম অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। জানা গিয়েছে, পুজোর রাতের পাশাপাশি মহালয়াকে ঘিরেও থাকছে বিশেষ বর্ণাঢ্য আয়োজন। দুর্গাপুজোর ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বাংলার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সামনে রেখে সাজানো হতে পারে এই অনুষ্ঠান। এর আগে কলকাতার গঙ্গার তীরে ড্রোন ও লেজার শো দর্শকদের নজর কেড়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে গিয়ে এবার দুর্গাপুজোর সঙ্গে প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন হতে চলেছে বলে খবর।

    দুর্গাপুজো গ্লোবাল কানেক্ট ২০২৬

    ‘বিশ্ব জুড়ে বাঙালির আবেগ – দুর্গাপুজো গ্লোবাল কানেক্ট ২০২৬’ নামে এই আন্তর্জাতিক কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে রাজ্যের পর্যটন দফতর। গোটা আয়োজনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের জন্য একটি অভিজ্ঞ ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা বাছাই করতে ইতিমধ্যেই রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল প্রকাশ করেছে সরকার। সরকারি নথি অনুযায়ী, দুর্গাপুজোকে শুধুমাত্র বাংলার শ্রেষ্ঠ উৎসব হিসেবে তুলে ধরাই এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য নয়। ইউনেস্কোর স্বীকৃতিকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই মূল লক্ষ্য।

    অনাবাসী ভারতীয়রাও আড্ডায় মাতবেন

    এই কর্মসূচির আর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘গ্লোবাল বেঙ্গলি কানেক্ট’ বা ‘ঢাক কানেক্ট’। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাঙালি সংগঠন, অনাবাসী ভারতীয় এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষকে বাংলার দুর্গাপুজোর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে চাইছে সরকার। এর জন্য বিদেশের ভারতীয় দূতাবাস এবং মিশনগুলির সহযোগিতা নেওয়া হবে। বিভিন্ন শহরের বাঙালি সংগঠনের অনুষ্ঠান, ঢাক এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা কলকাতার মূল অনুষ্ঠানের সঙ্গে লাইভ যুক্ত হতে পারে। অনুমোদন মিললে দুই প্রান্তের মধ্যে সরাসরি কথোপকথনের ব্যবস্থাও থাকবে। অনুষ্ঠান যাতে মাঝপথে ব্যাহত না হয়, তার জন্য প্রতিটি আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের ইন্টারনেট সংযোগ, ব্যান্ডউইথ এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা আগে থেকে পরীক্ষা করা হবে। সব লাইভ ফিড পরিচালনার জন্য থাকবে একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম।

    বিদেশেও পুজোর প্রচার

    নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়্যার থেকে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা। লন্ডনের পিকাডিলি লাইটস থেকে সিডনি ও জাপানের বিমানবন্দর। এ বার বিশ্বের একাধিক আইকনিক জায়গায় দেখা যেতে পারে বাংলার দুর্গাপুজোর ঝলক। শুধু বিদেশে নয়, দেশের ১০টি বিমানবন্দর, ৫০টি রেলস্টেশন এবং বাংলার ১ হাজার পুজো প্যান্ডেলেও চলবে প্রচার। ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়া মিলিয়ে লক্ষ্যমাত্রা ২০০ কোটি ভিউ ও ইমপ্রেশন। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাজারে অন্তত একটি করে যৌথ প্রচারমূলক অনুষ্ঠান বা অ্যাক্টিভেশন আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। শুধু ইংরেজিতে নয়, যে দেশে প্রচার হবে, সেই দেশের প্রধান ভাষাতেও বিজ্ঞাপন, ভিডিও এবং প্রচারের অন্যান্য উপকরণ তৈরি করা হবে।

    সরকারি মাধ্যমে সরাসরি পুজোর অনুষ্ঠান!

    রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ও স্থাপত্য আলো দিয়ে সাজানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে সরকারি কাঠামোয় কেবলমাত্র স্থাপত্যভিত্তিক আলোকসজ্জা করা যাবে। সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া সেখানে কোনও মঞ্চ তৈরি বা জনসমাবেশ করা যাবে না। এই অনুষ্ঠানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও ভিভিআইপি অতিথিদের উপস্থিতির সম্ভাবনাও মাথায় রাখা হয়েছে। প্রধান অনুষ্ঠানগুলি সরকারি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি প্রসার ভারতী, দূরদর্শন, আকাশবাণী এবং অনুমোদিত দেশি-বিদেশি সম্প্রচার মাধ্যমে দেখানো হবে।

    থিম-বাংলার পুজো-বাঙালির আবেগ

    মহালয়ার পাশাপাশি পুজোর আরও দু’টি নির্ধারিত দিনে বিশেষ অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা রয়েছে। তার মধ্যে একটি অনুষ্ঠান অষ্টমীকে কেন্দ্র করে হতে পারে। সেখানে ধুনুচি নাচ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং বিশেষ আলোকসজ্জার ব্যবস্থা থাকবে। কোনও বড় স্টেডিয়াম, অডিটোরিয়াম বা অন্য কোনও উপযুক্ত জায়গায় প্রায় চার ঘণ্টার ‘গ্র্যান্ড দুর্গাপুজো কনসার্ট’ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে পর্যটন দফতর। সেখানে জনপ্রিয় শিল্পী, সেলিব্রিটি এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দল অংশ নেবে। ঢাক ও ধুনুচি নাচের পাশাপাশি ছৌ, ঝুমুর, বাউল, কীর্তন, রবীন্দ্রসঙ্গীত, নেপালি সংস্কৃতি, লোকসঙ্গীত এবং সমকালীন শিল্পকলাকেও তুলে ধরা হবে। বাংলার থিম প্যান্ডেল, আচার-অনুষ্ঠান, খাবার, হস্তশিল্প ও তাঁতশিল্পও জায়গা পাবে প্রচারে।

    ড্রোন শো-এর চূড়ান্ত দিন, সময়

    এই ড্রোন শোর জন্য আলাদা গল্প, স্টোরিবোর্ড, অ্যানিমেশন, থ্রি-ডি প্রিভিজুয়াল এবং সঙ্গীতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোরিওগ্রাফি তৈরি করা হবে। ড্রোনের চলাচল, আলো, সঙ্গীত এবং মঞ্চের অনুষ্ঠান – সবকিছুকে একসঙ্গে মিলিয়ে দৃশ্যায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই আয়োজনের আগে ডিজিসিএ-সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। একাধিকবার পরীক্ষামূলক উড়ান ও নিরাপত্তা মহড়ার পরেই চূড়ান্ত ড্রোন শো হবে। যদি এই আয়োজন সম্পূর্ণ করা যায়, তাহলে ঢাকের বাদ্যি, ধুনুচির ধোঁয়া, আলোর রোশনাইয়ের পাশাপাশি এবার কলকাতার আকাশও হয়ে উঠতে পারে দুর্গাপুজোর এক বিশাল ক্যানভাস—যেখানে হাজার হাজার আলোর বিন্দুতে ফুটে উঠবে মা দুর্গা, বাংলার সংস্কৃতি এবং শারদোৎসবের গল্প। তবে ড্রোন শো-এর চূড়ান্ত দিন, সময় ও দর্শকদের জন্য নির্দিষ্ট ভিউয়িং জোন নিয়ে পরিকল্পনা চলছে।

    ধর্মীয় পবিত্রতা রক্ষা, পরিবেশবান্ধব আয়োজন

    তবে দুর্গাপুজোর ধর্মীয় পবিত্রতা ও বাঙালির চিরাচরিত রীতি যাতে কোনওভাবে ক্ষুণ্ণ না হয়, সে ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পুরোহিত, ধর্মীয় আচার-বিশেষজ্ঞ, সাংস্কৃতিক গবেষক ও ঐতিহ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হবে। আয়োজনকে পরিবেশবান্ধব রাখার নির্দেশও রয়েছে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমানো, ডিজিটাল আমন্ত্রণ ও রেজিস্ট্রেশন, বর্জ্য পৃথকীকরণ, বিদ্যুৎ ও জল সাশ্রয় এবং স্থানীয় পণ্য ও কর্মীদের ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

  • Nandotsav 2026: জন্মাষ্টমী শেষ, আজ নন্দোৎসব! কৃষ্ণের জন্মের পরই কেন পালিত হয় এই উৎসব? জানুন মাহাত্ম্য

    Nandotsav 2026: জন্মাষ্টমী শেষ, আজ নন্দোৎসব! কৃষ্ণের জন্মের পরই কেন পালিত হয় এই উৎসব? জানুন মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাতভর শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসবের পর এবার আনন্দের পালা নন্দোৎসবের। শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে পালিত হয়েছে শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী। আর শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে নন্দোৎসব। বৈষ্ণব পঞ্জিকা অনুযায়ী, জন্মাষ্টমীর পরের দিনই নন্দোৎসব পালনের রীতি রয়েছে। ২০২৬ সালেও সেই নিয়মেই শনিবার নন্দোৎসব পালিত হচ্ছে।

    কেন পালিত হয় নন্দোৎসব?

    পুরাণকথা অনুযায়ী, মথুরায় দেবকী ও বাসুদেবের সন্তান হিসেবে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হলেও কংসের অত্যাচার থেকে তাঁকে রক্ষা করতে বাসুদেব তাঁকে গোকুলে নন্দ মহারাজের গৃহে রেখে আসেন। সেখানে যশোদা ও নন্দের স্নেহে বড় হতে থাকেন বালক কৃষ্ণ।

    কৃষ্ণের জন্মের সংবাদ গোকুলে পৌঁছতেই আনন্দে মেতে ওঠেন নন্দ মহারাজ ও ব্রজবাসীরা। সন্তানের জন্ম উপলক্ষে নন্দ মহারাজ যে আনন্দোৎসব করেছিলেন, সেই স্মৃতিরই প্রতীক নন্দোৎসব। বৈষ্ণব ঐতিহ্যে এটি ‘নন্দ মহোৎসব’ নামেও পরিচিত।

    শ্রীমদ্ভাগবতের দশম স্কন্ধের পঞ্চম অধ্যায়েও কৃষ্ণের জন্মের পর নন্দ মহারাজের আয়োজিত উৎসব ও দানের উল্লেখ পাওয়া যায়। কথিত আছে, সেই সময় ব্রজবাসীদের মধ্যে বিপুল পরিমাণ দান করা হয়েছিল এবং গোটা গোকুল আনন্দে ভরে উঠেছিল।

    নন্দোৎসবে কী কী করা হয়?

    নন্দোৎসব মূলত আনন্দ, ভক্তি ও দানের উৎসব। এই দিনে বহু বাড়িতে বালক কৃষ্ণের বিশেষ পুজো করা হয়। কোথাও কীর্তন, কোথাও ভজন এবং কোথাও গীতাপাঠের আয়োজন থাকে।

    অনেক পরিবারে জন্মাষ্টমীর পরের দিন থেকেই উপবাসের পর্ব সম্পূর্ণ হয় এবং কৃষ্ণকে নানা ধরনের ভোগ নিবেদন করে প্রসাদ গ্রহণ করা হয়। বিভিন্ন বৈষ্ণব পরম্পরায় নন্দোৎসবের রীতিতে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও কৃষ্ণের প্রতি ভালোবাসা ও ভক্তিই এই উৎসবের মূল ভাবনা।

    ব্রজ অঞ্চলের ঐতিহ্যে নন্দোৎসবের সঙ্গে দধি, দুধ, মাখন ও হলুদ দিয়ে আনন্দ প্রকাশের বিশেষ রীতিও জড়িত। নন্দোৎসবকে ঘিরে কোথাও কোথাও দই-হাঁড়ির উৎসবও অনুষ্ঠিত হয়।

    নন্দোৎসবের দিনে কী ভোগ দেবেন?

    নন্দোৎসবের অন্যতম আকর্ষণ বিশেষ ভোগ। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, এই দিনে কৃষ্ণকে খিচুড়ি ভোগ দেওয়ার চল রয়েছে বহু বাড়িতে। তার সঙ্গে মিষ্টি বা অন্য কোনও পছন্দের নিরামিষ পদও নিবেদন করা হয়।

    অনেক পরিবারে কাঁচকলার তৈরি তরকারি বা অন্য কোনও পদও রান্না করার রীতি রয়েছে। তবে অঞ্চল ও পারিবারিক প্রথা অনুযায়ী ভোগের ধরন বদলাতে পারে। তাই নির্দিষ্ট কোনও খাবার বাধ্যতামূলক—এমনটা নয়; ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গেই ভোগ নিবেদন করাই মূল কথা।

    পুজো শেষে সেই ভোগ প্রসাদ হিসেবে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। জন্মাষ্টমীর উপবাস পালনকারীরাও নিজেদের পারিবারিক ও ধর্মীয় রীতি মেনে এদিন প্রসাদ গ্রহণ করেন।

    নন্দোৎসবে দানের গুরুত্ব

    নন্দোৎসবের সঙ্গে দানের একটি বিশেষ যোগ রয়েছে। ধর্মীয় কাহিনি অনুযায়ী, কৃষ্ণের জন্মের আনন্দে নন্দ মহারাজ ব্রজবাসীদের মধ্যে নানা সামগ্রী দান করেছিলেন। সেই স্মৃতিতে আজও এই দিনে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দান করার রীতি রয়েছে।

    অসহায় মানুষকে খাবার দেওয়া, বস্ত্রদান কিংবা প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেওয়া—যে কোনও সেবামূলক কাজকেই এই দিনে শুভ বলে মনে করেন ভক্তরা। কারণ নন্দোৎসবের মূল বার্তাই হল আনন্দ ভাগ করে নেওয়া।

    জন্মাষ্টমীর পর নন্দোৎসব কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

    জন্মাষ্টমীর রাতের মূল আবহ যেখানে কৃষ্ণের জন্মকে কেন্দ্র করে উপবাস, মধ্যরাতের পুজো ও ভক্তিতে পরিপূর্ণ, সেখানে নন্দোৎসব সেই জন্মের আনন্দকে সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার উৎসব। তাই অনেকের কাছে জন্মাষ্টমীর মতোই গুরুত্বপূর্ণ নন্দোৎসব।

    অর্থাৎ, জন্মাষ্টমী যদি হয় কৃষ্ণের আবির্ভাবের পবিত্র মুহূর্ত, তবে নন্দোৎসব হল সেই আবির্ভাবকে ঘিরে আনন্দ, ভক্তি, প্রসাদ, কীর্তন ও দানের উৎসব। ২০২৬ সালে সেই আনন্দেই শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে নন্দোৎসব।

  • Teachers Day 2026: কেন ৫ সেপ্টেম্বরই শিক্ষক দিবস? জানুন ড. রাধাকৃষ্ণণের জীবনের অজানা কাহিনি

    Teachers Day 2026: কেন ৫ সেপ্টেম্বরই শিক্ষক দিবস? জানুন ড. রাধাকৃষ্ণণের জীবনের অজানা কাহিনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, ৫ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে পালিত হয় শিক্ষক দিবস (Teacher’s Day)। দিনটি যাঁর জন্মদিনের স্মরণে পালিত হয়, তিনি হলেন ড. সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণ (Dr Sarvepalli Radhakrishnan)। শিক্ষা, উন্নয়ন এবং মানব কল্যাণকেই তিনি করে নিয়েছিলেন জীবনের ব্রত। কারণ শিক্ষার জগতে তাঁর অবদান অপরিসীম। তিনি একজন অত্যন্ত দক্ষ শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, দার্শনিক ছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি, দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ছিলেন।

    রাধাকৃষ্ণণের শিক্ষাজীবন (Teacher’s Day)

    ১৮৮৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণ (Dr Sarvepalli Radhakrishnan) তামিলনাড়ুর তিরুত্তানিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বাবা সর্বপল্লি বীরস্বামী এবং মা সীতাম্মা। লুথার্ন মিশনারি স্কুল, তিরুপতি এবং ভেলোরে প্রাথমিক শিক্ষা (Teacher’s Day)। ছোট থেকেই পড়াশোনায় তাঁর তেমন মন ছিল না। এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ানোই ছিল পয়লা পছন্দের। ছেলের এমন মতিগতি দেখে চিন্তায় পড়ে যান বাবা। তাই তাঁকে ভর্তি করিয়ে দেন ভেলোরের একটি মিশনারি স্কুলে। মন পড়াশোনায় না বসলে কী হবে, স্কুলজীবন থেকেই পড়াশুনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন তিনি। বরাবরই সে জন্য তিনি বৃত্তি পেয়ে এসেছেন। এরপর মাদ্রাজ খ্রিস্টান কলেজ থেকে দর্শনশাস্ত্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছিলেন। ১৯১৬ সাল থেকে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন।

    বিবেচিত হয়েছিলেন নোবেল পুরস্কারের জন্যও

    জীবনের বড় সময় শিক্ষকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ছিলেন ছাত্র সমাজের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। একবার তাঁকে ফুলসজ্জিত কার্ট নিয়ে স্টেশন থেকে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এরই মধ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তিনি যে সব বক্তৃতা দিয়েছিলেন, তা নিয়ে আলোড়ন পড়ে যায়। তাঁর হাতে সৃষ্টি হয়েছে একাধিক দার্শনিক গ্রন্থ, যা নিয়েও হইচই পড়ে গিয়েছিল। তাঁর ‘অ্যান আইডিয়ালিস্ট ভিউ অফ লাইফ’ বিবেচিত হয়েছিল নোবেল প্রাইজের জন্যও। ১৯৭৫ সালে ‘প্রগতিতে ধর্মের অবদান’ রচনা তাঁকে এনে দিয়েছিল ‘টেম্পলটন’ পুরস্কার। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু কাজের মধ্যে রয়েছে— Reign of Religion in Contemporary Philosophy, Philosophy of Rabindranath Tagore, The Hindu View of Life, Kalki or the Future of Civilisation, An Idealist View of Life, The Religion We Need, India and China, and Gautama the Buddha.

    প্রশাসনিক জীবন

    সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণ (Teacher’s Day) ১৯৩১ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। এরপর ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। ১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত ছিলেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এর মধ্যে, ১৯৪৯ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। ১৯৫২ সালে তিনি ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি এবং ১৯৬২ সালে দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৮৪ সালে, তিনি মরণোত্তর ভারতরত্ন পেয়েছিলেন।

    কেন পালিত হয় শিক্ষক দিবস? (Teacher’s Day)

    রাধাকৃষ্ণণ (Dr Sarvepalli Radhakrishnan) একজন মহান শিক্ষাবিদ। শিক্ষার প্রসারে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। শিক্ষাকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে নিরন্তর ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। দেশে শিক্ষার প্রসারের জন্য ১৯৬২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষক দিবস পালন শুরু হয়। সেটা ছিল তাঁর ৭৭তম জন্মদিন। এই দিনে প্রথমবার শিক্ষক দিবস পালন করা হয়। ১৯৬৩ সাল থেকে আজ পর্যন্ত এই দিনকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্কুল-কলেজে শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ছাত্রছাত্রীরা নাচ, গান, আবৃত্তি সহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মান জানিয়ে থাকেন।

    আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস

    ৫ সেপ্টেম্বর দিনটিকে সম্মান জানিয়ে ১৯৯৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস (Teacher’s Day) পালন করা হয়ে থাকে। রাষ্ট্রসংঘের একটি বিশেষ সংগঠন ইউনেস্কো (ইউনাইটেড নেশনস এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন) এবং ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশনের যৌথ উদ্যোগে এই দিনটি স্মরণ করা হয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস উদযাপন করার পিছনে একটি বড় কারণ হল, শিক্ষকদের শ্রমকে আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি দেওয়া। সমাজ গঠনে শিক্ষকের বিশেষ ভূমিকা থাকে। তাই মানুষ গড়ার এই কারিগরদের শ্রমের মর্যাদা দেওয়ার জন্যই আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস পালন করা হয়ে থাকে।

  • Sheikh Hasina: ‘ভয় আমার কর্তব্য নির্ধারণ করতে পারে না’, ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা

    Sheikh Hasina: ‘ভয় আমার কর্তব্য নির্ধারণ করতে পারে না’, ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরতে চান, সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। মুজিব কন্যা জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষিত হলেও আদালতের মুখোমুখি হতে তিনি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ৭৮ বছর বয়সি আওয়ামি লিগ নেত্রী। তবে একইসঙ্গে শেখ হাসিনার দাবি, বিচারপ্রক্রিয়া অবশ্যই নিরপেক্ষ হতে হবে। কোনও পূর্বনির্ধারিত রায়ের ভিত্তিতে বিচার হলে তা ন্যায়বিচার হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

    ‘বাংলাদেশ আমার দেশ, দায়িত্বও আমার’

    বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শেখ হাসিনা (Hasina on Returning Bangladesh) বলেন, বাংলাদেশই তাঁর দেশ এবং রাজনৈতিক জীবনের প্রায় পুরোটাই তিনি দেশের মানুষের সঙ্গে কাটিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘বাংলাদেশ আমার দেশ। আমার রাজনৈতিক জীবনের পুরোটা আমি বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে কাটিয়েছি। আমার মা, ভাই এবং পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে বাংলাদেশের মাটিতেই হত্যা করা হয়েছিল। আমার শিকড় সেখানে, আমার মানুষ সেখানে, আমার দায়িত্বও সেখানে।’’ দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংকটজনক বলে উল্লেখ করে হাসিনা বলেন, এমন সময়ে দেশের বাইরে থেকে তিনি রাজনীতি করতে চান না। মানুষের পাশে দাঁড়াতেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। হাসিনা বলেন, ‘‘আমি ফিরতে চাই। এই কঠিন সময়ে আমি আমার মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। আমি আদালতের মুখোমুখি হতে এবং নিজের পক্ষে সওয়াল করতে প্রস্তুত। কিন্তু বিচার মানে পূর্বনির্ধারিত রায় নয়।’’

    ক্ষমতা দখল নয়, রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার দাবি

    দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত ক্ষমতা পুনর্দখলের উদ্দেশ্যে নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, আওয়ামি লিগের সমর্থকদের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা করাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত দেশের মানুষকেই নিতে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, ভারতের বন্ধুত্বকে তিনি সবসময়ই মূল্য দিয়েছেন। তবে বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁর নিজের রাজনৈতিক ও নৈতিক সিদ্ধান্ত। ভারত তাঁর প্রত্যর্পণ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি তিনি। হাসিনার বক্তব্য, ভারত একটি সার্বভৌম দেশ এবং প্রত্যর্পণের বিষয়টি তাদের নিজস্ব আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ঠিক হবে।

    মৃত্যুদণ্ড নিয়েও ‘ভয় নেই’

    নিজের বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের প্রসঙ্গেও সরব হয়েছেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেওয়া কোনও মৃত্যুদণ্ডকে সত্যের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে স্বাভাবিক, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য বিচারপ্রক্রিয়ায় নিজের বক্তব্য পেশ করার যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়নি। হাসিনার কথায়, ‘‘আদালতে আমাকে হাজির হতে দিন। আমাকে প্রমাণ পেশ করতে দিন। আমার আইনজীবীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিন। সাক্ষীদের জেরা করতে দিন। প্রমাণকেই কথা বলতে দিন।’’ তাঁর আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য আদালত, আইন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    ‘আমার বিরুদ্ধে ১৯ বার প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টা’

    বাংলাদেশে ফেরার ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ অবগত বলেও জানিয়েছেন। শেখ হাসিনার দাবি, তাঁর জীবনে ১৯ বার প্রাণনাশের চেষ্টা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের হত্যার কথাও স্মরণ করেন তিনি। ২০০৪ সালের আগস্টে গ্রেনেড হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন হাসিনা। তাঁর দাবি, সেই হামলার লক্ষ্য ছিল তাঁকে এবং আওয়ামি লিগের নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করা। তিনি বলেন, ‘‘আমি কারাবাস, সামরিক শাসন, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং বারবার হুমকির মুখোমুখি হয়েছি। তাই ঝুঁকি সম্পর্কে আমি জানি। কিন্তু রাজনৈতিক জীবনে শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তাই সবকিছু হতে পারে না। মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকার চেয়ে দেশে ফিরে যা আসবে, তার মুখোমুখি হওয়াই আমি বেছে নেব।’’

    নিজের সরকারের কাজের সাফাই

    নিজের দীর্ঘ শাসনকালের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেছেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের কল্যাণই তাঁর সরকারের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল। বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্প্রসারণ, গ্রামীণ এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প, ভূমিহীনদের জন্য ঘর ও জীবিকার ব্যবস্থা, শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং নারীর ক্ষমতায়নের মতো বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। হাসিনার দাবি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তাঁর সরকার বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছিল।

    আওয়ামি লিগের বিরুদ্ধে ‘দমন-পীড়নের’ অভিযোগ

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামি লিগের নেতা, কর্মী এবং সাধারণ সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, বহু নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং হামলা ও ভয় দেখানোর ঘটনা ঘটেছে। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। হাসিনার অভিযোগ, আওয়ামি লিগের লক্ষ লক্ষ সমর্থক এবং সাধারণ নাগরিককে এমনভাবে দেখা হচ্ছে যেন নিজেদের দেশেই তাঁদের কোনও রাজনৈতিক অধিকার নেই। তবে আওয়ামি লিগ বাংলাদেশ ছেড়ে যাবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। হাসিনার কথায়, ‘‘আমরা গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ছেড়ে যাব না। আওয়ামি লিগ মানুষের কাছে ফিরে আসবে, কারণ আমাদের রাজনীতি মানুষের জন্যই।’’ ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা এবং মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হয়েও আদালতে নিজের বক্তব্য রাখার প্রস্তুতির কথা জানিয়ে শেখ হাসিনার এই সাক্ষাৎকার বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে তাৎপর্য তৈরি করেছে।

     

     

     

     

     

  • EOS-05: জিস্যাট-১ ব্যর্থতার ৫ বছর পর বড় কামব্যাক! ইসরোর ইওএস-০৫ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

    EOS-05: জিস্যাট-১ ব্যর্থতার ৫ বছর পর বড় কামব্যাক! ইসরোর ইওএস-০৫ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকাশ থেকে পৃথিবীর উপর নজরদারির ক্ষেত্রে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এগিয়ে গেল ভারত। শুক্রবার ভোরে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হল ভারতের নতুন প্রজন্মের আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট বা ইওএস-০৫। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো-র জিএসএলভি-এফ১৭ রকেটে চেপে শ্রীহরিকোটা থেকে মহাকাশে পাড়ি দিল প্রায় ২,৩৬৭ কেজি ওজনের এই উপগ্রহ। সবচেয়ে বড় বিষয়, ইওএস-০৫-কে সাধারণ নিম্ন কক্ষপথে নয়, সাব-জিটিও বা সাব-জিওসিনক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী ধাপে নিজস্ব প্রপালশন সিস্টেম ব্যবহার করে নির্দিষ্ট জিওসিনক্রোনাস কক্ষপথে পৌঁছবে উপগ্রহটি।

    ভোররাতে শ্রীহরিকোটা থেকে সফল উৎক্ষেপণ

    শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ভোর ২টা ৫৫ মিনিটে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের সেকেন্ড লঞ্চ প্যাড থেকে জিএসএলভি-এফ১৭-এর সফল উৎক্ষেপণ হয়। প্রায় ৫১.৭ মিটার লম্বা রকেটটি নির্ধারিত সময়েই আকাশে উড়ে যায়। উৎক্ষেপণের প্রায় ১৮-১৯ মিনিট পর রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয় ইওএস-০৫। এরপর উপগ্রহটিকে নির্ধারিত সাব-জিটিও-তে স্থাপন করা হয়। অর্থাৎ, এই মুহূর্তে ইওএস-০৫ এখনও তার চূড়ান্ত ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতার অপারেশনাল জিওসিনক্রোনাস অবস্থানে পৌঁছয়নি। সেটি হবে পরবর্তী অরবিট-রেইজিং ম্যানুভারের মাধ্যমে। এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উপগ্রহটি সফলভাবে মহাকাশে পৌঁছে গেলেও তার পূর্ণাঙ্গ অপারেশনাল মিশন শুরু হতে এখনও কয়েকটি ধাপ বাকি।

    ইওএস-০৫ কেন অন্য আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইটের থেকে আলাদা?

    ইওএস-০৫-এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল জিওসিনক্রোনাস অরবিট থেকে ইমেজিং করার ক্ষমতা। সাধারণ আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইটের বড় অংশই লো আর্থ অরবিট (এলইও) বা সান-সিনক্রোনাস অরবিটে (এসএসও) কাজ করে। এই উপগ্রহগুলি পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করার সময় বিভিন্ন অঞ্চলের ছবি তোলে। ফলে কোনও নির্দিষ্ট এলাকার ছবি পাওয়ার জন্য পরবর্তী অরবিটাল পাসের অপেক্ষা করতে হয়।

    ইওএস-০৫-এর ধারণাটি সম্পূর্ণ আলাদা। প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় জিওসিনক্রোনাস অরবিটে অবস্থান করলে উপগ্রহটি পৃথিবীর ঘূর্ণনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রদক্ষিণ করবে। ফলে ভারতের মতো একটি বড় ভৌগোলিক অঞ্চলের দিকে প্রায় একই অবস্থান থেকে ক্রমাগত নজর রাখা সম্ভব হবে। অর্থাৎ, ইওএস-০৫-এর মূল শক্তি শুধু অত্যন্ত উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি তোলা নয়। এর আসল সুবিধা হল একই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ঘন ঘন আপডেটেড ছবি পাওয়া।

    ৩৬ হাজার কিলোমিটার দূরে গিয়েও কেন সুবিধা?

    সাধারণভাবে মনে হতে পারে, পৃথিবীর যত কাছাকাছি থাকা যায়, তত বেশি স্পষ্ট ছবি তোলা সম্ভব। সেই যুক্তিতে লো আর্থ অরবিটের উপগ্রহ অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি তুলতে সুবিধাজনক। কিন্তু ইওএস-০৫-এর লক্ষ্য আলাদা। ধরা যাক, বঙ্গোপসাগরে দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে একটি ঘূর্ণিঝড়। লো আর্থ অরবিটের কোনও স্যাটেলাইট সেই সময় অন্য জায়গার উপর দিয়ে উড়ে গেলে, নির্দিষ্ট অঞ্চলের পরবর্তী ছবি পেতে পরবর্তী পাসের অপেক্ষা করতে হতে পারে।

    ইওএস-০৫ অপারেশনাল হলে একই বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে অনেক বেশি ঘন ঘন পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।ফলে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ, মেঘের গঠন, বন্যার বিস্তার কিংবা আগুনের মতো দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির উপর নজরদারিতে এই ব্যবস্থা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আগের জিস্যাট কর্মসূচি সংক্রান্ত সরকারি তথ্যেও নির্দিষ্ট সেক্টরের ছবি ঘন ঘন সংগ্রহ এবং উপযুক্ত পরিস্থিতিতে প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে সমগ্র ভারতীয় ভূখণ্ডের ছবি পাওয়ার লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

    দুর্যোগ মোকাবিলায় বড় হাতিয়ার হতে পারে ইওএস-০৫

    ইওএস-০৫-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারগুলির মধ্যে অন্যতম হতে পারে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা। ভারতের মতো দেশে প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, ভূমিধস, দাবানল-সহ একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যায়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে কয়েক ঘণ্টা আগের তথ্য অনেক সময় যথেষ্ট হয় না। কোথায় জল ঢুকছে, কোন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি, ঘূর্ণিঝড়ের মেঘ কোথায় তৈরি হচ্ছে—এসব তথ্য যত দ্রুত পাওয়া যায়, প্রশাসনের পক্ষে তত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। জিওসিনক্রোনাস ইমেজিং স্যাটেলাইট সেই জায়গাতেই বড় সুবিধা দিতে পারে।

    উপগ্রহের ছবি ব্যবহার করে—

    • ● ঘূর্ণিঝড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ,
    • ● মেঘের বিকাশ ও আবহাওয়ার পরিবর্তন শনাক্ত,
    • ● বন্যাকবলিত এলাকা চিহ্নিত,
    • ● বনাঞ্চলে আগুনের বিস্তার পর্যবেক্ষণ,
    • ● দুর্যোগের পর ভূমি ও উদ্ভিদের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা সম্ভব হতে পারে।

    তবে ইওএস-০৫ ভারতের অন্যান্য আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইটকে প্রতিস্থাপন করবে না। বরং এটি দেশের বর্তমান উপগ্রহ ব্যবস্থার সঙ্গে একটি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের অবজারভেশন সক্ষমতা যোগ করবে।

    কৃষি থেকে পরিবেশ—বহু ক্ষেত্রে ব্যবহার

    ইওএস-০৫-এর গুরুত্ব শুধু দুর্যোগ মোকাবিলাতেই সীমাবদ্ধ নয়। আর্থ অবজারভেশন ডেটা কৃষি, বন, পরিবেশ এবং ভূমি ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন স্পেকট্রাল ব্যান্ডে ইমেজিংয়ের মাধ্যমে শুধুমাত্র কোনও এলাকার ছবি নয়, সেই এলাকার উদ্ভিদ, ফসল, মাটি এবং পরিবেশের পরিবর্তন সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যায়। ভিজিবল ও নিয়ার-ইনফ্রারেডের মতো বিভিন্ন স্পেকট্রাল ব্যান্ড ব্যবহার করে কোনও অঞ্চলের উদ্ভিদের স্বাস্থ্য বা পরিবেশগত পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা সম্ভব।

    অর্থাৎ প্রশ্নটা শুধু নয় যে—“এই জায়গাটা দেখতে কেমন?” বরং স্যাটেলাইট ডেটা থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়—“এই জায়গায় কী পরিবর্তন হচ্ছে?” কৃষিক্ষেত্রে ফসলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, পরিবেশগত পরিবর্তন বিশ্লেষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ল্যান্ড-ইউজ মনিটরিংয়ের ক্ষেত্রে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ইওএস-০৫

    ইওএস-০৫-কে সরাসরি কোনও ডেডিকেটেড মিলিটারি স্পাই স্যাটেলাইট হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না। এটি মূলত একটি আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট, যার অসামরিক এবং কৌশলগত—দুই ধরনের ব্যবহারই থাকতে পারে।  তবে জিওসিনক্রোনাস অরবিট থেকে ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ও আশপাশের জলভাগকে ঘন ঘন পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।

    বিশেষ করে দেশের সংবেদনশীল সীমান্ত অঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা এবং সামুদ্রিক অঞ্চলের উপর নিয়মিত নজরদারির ক্ষেত্রে এই ধরনের হাই-ফ্রিকোয়েন্সি স্যাটেলাইট ইমেজারি সহায়ক হতে পারে। এখানেই ইওএস-০৫-এর কৌশলগত গুরুত্ব। এটি কোনও একটি সামরিক লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে তৈরি নয়, বরং একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলের উপর নিয়মিত ও দ্রুত আপডেটেড নজরদারি সক্ষমতা তৈরি করছে।

    জিস্যাট-১ ব্যর্থতার পাঁচ বছর পর নতুন সাফল্য

    ইওএস-০৫-এর এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ অতীত। উপগ্রহটির সঙ্গে জিস্যাট কর্মসূচির সরাসরি যোগ রয়েছে। মূল পরিকল্পনায় জিওস্টেশনারি অরবিটে ইমেজিং স্যাটেলাইট পাঠিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশের উপর প্রায় রিয়েল-টাইম অবজারভেশন সক্ষমতা তৈরি করার লক্ষ্য ছিল।

    কিন্তু ২০২১ সালের অগাস্টে জিএসএলভি-এফ১০ মিশন ব্যর্থ হয়। সেই মিশনে জিস্যাট-১-কে কক্ষপথে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ক্রায়োজেনিক আপার স্টেজের অপারেশনের সময় সমস্যার কারণে উপগ্রহটি নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছতে পারেনি। প্রায় পাঁচ বছর পর ইওএস-০৫-এর সফল উৎক্ষেপণ সেই বৃহত্তর পরিকল্পনাকেই নতুন করে এগিয়ে দিল।

    জিএসএলভি-এফ১৭-এর সফল মিশন শুধু একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ নয়; এটি জিওসিনক্রোনাস ইমেজিং সক্ষমতা তৈরির ক্ষেত্রে ইসরো-র জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তনও।

    জিএসএলভি-এফ১৭-ও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়

    এই মিশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল জিএসএলভি-এফ১৭। এটি ভারতের জিওসিনক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকলের ১৯তম উড়ান। রকেটটিতে রয়েছে সলিড কোর, চারটি লিকুইড স্ট্র্যাপ-অন মোটর, লিকুইড সেকেন্ড স্টেজ এবং ভারতের নিজস্ব ক্রায়োজেনিক আপার স্টেজ। তুলনামূলকভাবে ভারী স্পেসক্রাফ্টকে জিওসিনক্রোনাস অরবিটের দিকে পাঠানোর ক্ষেত্রে জিএসএলভি ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চ ভেহিকল। ইওএস-০৫-কে সাব-জিটিও-তে সফলভাবে স্থাপন করে জিএসএলভি-এফ১৭ সেই সক্ষমতারই আরও একটি প্রমাণ দিল।

    এখন কী হবে ইওএস-০৫-এর?

    এখনও ইওএস-০৫-এর কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। সাব-জিটিও-তে পৌঁছনোর পর উপগ্রহটি নিজস্ব অনবোর্ড প্রপালশন সিস্টেম ব্যবহার করে ধাপে ধাপে কক্ষপথের উচ্চতা বাড়াবে। একাধিক অরবিট-রেইজিং ম্যানুভার-এর পর সেটি তার নির্দিষ্ট জিওসিনক্রোনাস অবস্থানে পৌঁছবে। এরপর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, ক্যালিব্রেশন এবং কমিশনিং সম্পন্ন হলে শুরু হবে অপারেশনাল ইমেজিং। তাই ইওএস-০৫ ইতিমধ্যেই ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতার ফাইনাল জিওসিনক্রোনাস অরবিটে পৌঁছে গিয়েছে—এমন দাবি করা প্রযুক্তিগতভাবে সঠিক হবে না। লঞ্চ এবং অরবিটাল ইনজেকশন সফল হয়েছে; ফাইনাল অপারেশনাল অরবিটে পৌঁছনোর যাত্রা এখনও বাকি।

    ভারতের স্পেস অবজারভেশনে নতুন যুগের সূচনা?

    ভারতের আর্থ অবজারভেশন কর্মসূচি ইতিমধ্যেই যথেষ্ট শক্তিশালী। বিভিন্ন রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের উচ্চমানের ছবি এবং তথ্য সংগ্রহ করছে। কিন্তু ইওএস-০৫ সেই ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। লো আর্থ অরবিট স্যাটেলাইটের বড় সুবিধা হল ডিটেল বা স্পেশিয়াল রেজোলিউশন। অন্যদিকে জিওসিনক্রোনাস ইমেজিং প্ল্যাটফর্মের বড় শক্তি হল ফ্রিকোয়েন্সি এবং পারসিস্টেন্স—একই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পরিবর্তনকে আরও ঘন ঘন পর্যবেক্ষণ করা।

    দুর্যোগের সময় এই পার্থক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একটি ঘূর্ণিঝড়, বন্যা কিংবা দাবানলের ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা আগের ছবি এবং সদ্য পাওয়া ছবির মধ্যে ব্যবধানই কখনও কখনও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য তৈরি করে। সেই জায়গায় ইওএস-০৫ ভারতের জন্য শুধুমাত্র আরও একটি স্যাটেলাইট নয়। এটি বড় অঞ্চলের উপর দ্রুত, ঘন ঘন এবং ধারাবাহিক আর্থ অবজারভেশনের নতুন সক্ষমতা তৈরি করতে পারে।

    মহাকাশে ভারতের নতুন চোখ

    জিএসএলভি-এফ১৭-এর সফল উৎক্ষেপণ এবং ইওএস-০৫-এর সাব-জিটিও-তে সঠিকভাবে পৌঁছে যাওয়া ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জন্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। এখন নজর থাকবে উপগ্রহটির অরবিট-রেইজিং, কমিশনিং এবং অপারেশনাল ইমেজিংয়ের দিকে। চূড়ান্তভাবে কাজ শুরু করলে ইওএস-০৫-এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যেতে পারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, কৃষি, পরিবেশ এবং কৌশলগত নজরদারি—এই একাধিক ক্ষেত্রে। অর্থাৎ, মহাকাশ থেকে ভারতকে দেখার ক্ষমতা শুধু আরও শক্তিশালী হচ্ছে তাই নয়—কত দ্রুত সেই ছবি পাওয়া যাচ্ছে, সেই ক্ষমতাতেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে ইওএস-০৫।

  • Nepal Floods Rescue Operation: অলৌকিক অভিযান! ভয়াবহ বন্যার নয়দিন পর, নেপালের ত্রিশূলী-৩এ সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার দুই কর্মী

    Nepal Floods Rescue Operation: অলৌকিক অভিযান! ভয়াবহ বন্যার নয়দিন পর, নেপালের ত্রিশূলী-৩এ সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার দুই কর্মী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের ভয়াবহ বন্যার (Nepal Floods Rescue Operation) ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মিলল আশার আলো। ভয়াবহ বন্যার নয় দিন পর নেপালের রাসুয়া জেলার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ (Trishuli 3A tunnel in Nepal) থেকে জীবিত উদ্ধার হলেন দুই কর্মী। শুক্রবার উদ্ধারকাজের সময় তাঁদের সন্ধান মেলে। জীবিত অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার ঘিরে সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা আরও কর্মীদের বেঁচে থাকার আশা জোরালো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দুই কর্মী হলেন কাঠমান্ডুর বাসিন্দা ৪৫ বছরের কবীর মহার্জন এবং সপ্তরী জেলার ৩০ বছরের সঞ্জয় সাহ। কবীর আপার ত্রিশূলী-৩এ-এর হাইড্রোপাওয়ার অটোমেশন প্রকল্পের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করতেন। সঞ্জয় ছিলেন ফোরম্যান।

    মনের জোরেই উদ্ধার

    নেপালের জ্বালানি, জলসম্পদ ও সেচমন্ত্রীর সচিবালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, দু’জনকেই উদ্ধার করার পর বিমানপথে কাঠমান্ডু নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার প্রথমে সঞ্জয়কে উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা হয় কবীরকে। এর আগে সুড়ঙ্গের ভিতর থেকে মানুষের আওয়াজ শুনতে পান উদ্ধারকারীরা। এরপর ভিতরে আটকে থাকা কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগও স্থাপন করা সম্ভব হয়। তাঁদের আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য বারবার আশ্বস্ত করেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। নেপাল সেনা ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা এরপর আরও জোরদার করেন উদ্ধার অভিযান। শেষ পর্যন্ত সেই অভিযানেই মিলল সাফল্য। ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যা ও ধসের পর কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষে টানেলের মুখ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ১৭০ মিটার গভীরে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে দিন-রাত অভিযান চালায় নেপাল সেনা, প্রযুক্তিবিদ এবং উদ্ধারকারী দল। শেষ পর্যন্ত জীবিত অবস্থায় তাঁদের বের করে আনা হয়েছে।

    মৃতের সংখ্যা ১২০০ ছাড়িয়েছে

    গত ২৬ আগস্ট ত্রিশূলী নদীর উপত্যকা দিয়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা বা ফ্ল্যাশ ফ্লাড বয়ে যায়। প্রবল জলের তোড়ে নদী করিডরের বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই বিপর্যয়ে অন্তত ১,২৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫,০৫৩ জন এখনও নিখোঁজ। বন্যার পর থেকেই নেপালি সেনা, সশস্ত্র পুলিশ এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

    চলছে সুড়ঙ্গ ড্রিলিং ও হোলিংয়ের কাজ

    বন্যার ভয়াবহ প্রভাব পড়ে ৬০ মেগাওয়াটের আপার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেও। প্রকল্পের সুড়ঙ্গ ও অন্যান্য পরিকাঠামোয় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এরপর থেকেই সুড়ঙ্গ ও বিভিন্ন স্থাপনার ভিতরে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। উদ্ধার অভিযানে নেপাল সেনা ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি চিনা বিশেষজ্ঞরাও যুক্ত রয়েছেন। পাঁচটি এক্সক্যাভেটর, কম্প্রেসর ও ব্রেকার ব্যবহার করে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ পরিষ্কার করার কাজ চলছে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে সুড়ঙ্গ ড্রিলিং ও হোলিংয়ের কাজ। সুড়ঙ্গের বিভিন্ন অংশে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে থাকা বাকিদের সন্ধান চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকারী দলের কাছে আরও কয়েকজন শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকার তথ্য রয়েছে বলেও জানিয়েছেন নিউপানে। ফলে প্রতিটি অংশ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

    সুড়ঙ্গের ভিতরে বড় পাথর সরাতেই সাফল্য

    উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের ভিতরে একটি বড় পাথরও দেখতে পান। সেটি সরাতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করা হয়, যাতে আরও ভিতরে পৌঁছে আটকে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধান করা যায়। এদিকে, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থাগুলির সংগঠন ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত প্রায় ৯৪৫ জনের এখনও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। দুই কর্মীকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় তাই নতুন করে আশার আলো দেখছেন উদ্ধারকারীরা। সুড়ঙ্গের ভিতরে আরও কেউ আটকে থাকলে তাঁদেরও দ্রুত জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হবে—এখন সেই লক্ষ্যেই জোরকদমে চলছে অভিযান।

    এভাবেও ফিরে আসা যায়!

    ভূগোলের দৃষ্টিতে এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে টানেলের ভিতরে তৈরি হওয়া বদ্ধ বায়ুস্তর বা ‘এয়ার পকেট’। বাইরে থেকে বিপুল পরিমাণ জল, কাদা ও পলি ঢুকে টানেলের একাধিক অংশ বন্ধ করে দিলেও সব জায়গা যে একইভাবে জলে পূর্ণ হয়ে যাবে, এমন নয়। কোনও অংশ তুলনামূলকভাবে শুকনো থাকলে সেখানে আটকে থাকা মানুষের জন্য সীমিত পরিমাণে শ্বাস নেওয়ার বাতাসের জায়গা তৈরি হতে পারে। ভূ-প্রাকৃতিক দিক থেকেও ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। হিমালয়ের নদীখাত অত্যন্ত খাড়া হওয়ায় আকস্মিক বন্যার সময় জলের সঙ্গে পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের প্রবাহের গতি এবং ধ্বংসক্ষমতা অনেক বেশি হয়। ফলে টানেলের মুখের সামনে ৪০ মিটার দীর্ঘ ও প্রায় ২০ মিটার উচ্চতার ধ্বংসস্তূপ জমে যাওয়ায় উদ্ধারকারীদের প্রথম কাজ হয়ে দাঁড়ায় প্রবেশপথ তৈরি করা। রিপোর্ট অনুযায়ী, উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্যেই টানেলের ভিতরে ঢুকেছিল এবং আরও গভীরে পৌঁছনোর জন্য বোল্ডার সরানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। অবশেষে মিলল সাফল্য।

    উদ্ধার অভিযানে পাশে ভারত

    নেপালের চিলিমে ও লাংটাং এলাকার জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির সুড়ঙ্গে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালাল ভারতের উদ্ধারকারী দল। নেপালি সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথ ভাবে কাজ করছে তারা। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “চিলিম জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুরঙ্গে অবস্থান নেওয়ার পর ভারতীয় সুরঙ্গ উদ্ধারকারী দলকে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। অত্যন্ত সংকীর্ণ ও অপ্রশস্ত স্থান, দুর্গম ভৌগোলিক গঠনের কারণে বিশেষ সরঞ্জামের ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা এবং সুরঙ্গের ভেতরের কর্দমাক্ত মেঝের কারণে অনুসন্ধান প্রক্রিয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। উদ্ভাবনী কৌশল এবং তৈরি করা বিশেষ ভেলায় ভর দিয়ে দলটি সুরঙ্গের আরও গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। ভেতরে কেউ আটকে থাকলে তাকে উদ্ধারে দলটির প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

  • Jaishankar-Zelensky Meet: ‘১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি চাহিদা উপেক্ষা করা যায় না’ রুশ তেল কেনা নিয়ে জেলেনস্কিকে জবাব জয়শঙ্করের

    Jaishankar-Zelensky Meet: ‘১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি চাহিদা উপেক্ষা করা যায় না’ রুশ তেল কেনা নিয়ে জেলেনস্কিকে জবাব জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে ইউক্রেনের উদ্বেগের জবাব দিল নয়াদিল্লি। ইউক্রেন সফরে গিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (Jaishankar-Zelensky Meet) স্পষ্ট করে জানালেন, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি কোনওভাবেই উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শুধুমাত্র বাণিজ্য ও জ্বালানি সম্পর্কের উপর চাপ তৈরি করে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধান সম্ভব নয়। বৃহস্পতিবার কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি এবং বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহার (Andrii Sybiha) সঙ্গে বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। বৈঠকে মূলত যুদ্ধের অবসান, শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা এবং ভারত-ইউক্রেন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান, দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের (Russia Ukraine War) অবসান ঘটাতে ভারত সব ধরনের সাহায্য করতে প্রস্তুত।

    রুশ তেল কেনে ভারত, ব্যাখ্যা জয়শঙ্করের

    রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে ইউক্রেনের উদ্বেগের প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, ভারতের সামনে রয়েছে বিপুল জ্বালানি চাহিদা। প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের দেশে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘‘১৪০ কোটি মানুষের জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন গোটা বিশ্বের জ্বালানি পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন।’’ ইউক্রেনের অবস্থান ভারত বুঝতে পারছে বলেও জানান বিদেশমন্ত্রী। তবে একই সঙ্গে ভারতের নিজস্ব স্বার্থ ও উদ্বেগগুলিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেন তিনি।

    ‘তেল কেনা বন্ধ করলেই যুদ্ধ শেষ হবে না’

    জয়শঙ্করের বক্তব্যে স্পষ্ট, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে যুদ্ধের সমাধানের সঙ্গে এক করে দেখতে নারাজ নয়াদিল্লি। তাঁর কথায়, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের অবসান শুধুমাত্র কেউ তেল, অ্যালুমিনা, খনিজ, ধাতু বা সার কিনছে কি না—তার উপর নির্ভর করবে না। বিদেশমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই সংঘাত ইতিমধ্যেই পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে। তাই অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুদ্ধের সমাধান হবে—এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই।’’রুশ তেল কেনা নিয়ে ইউক্রেনের আপত্তির মধ্যেই জয়শঙ্করের এই বক্তব্য ফের স্পষ্ট করে দিল—রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান স্বাধীন এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই নয়াদিল্লি তার বিদেশনীতি পরিচালনা করবে।

    আলোচনাই সমাধানের পথ, বার্তা ভারতের

    ভারতের (India Ukraine Relation) দীর্ঘদিনের অবস্থান ফের তুলে ধরে জয়শঙ্কর বলেন, যুদ্ধের পরিবর্তে আলোচনা, কূটনীতি এবং আলোচনার মাধ্যমেই স্থায়ী সমাধানের পথে এগোতে হবে। তিনি বলেন, ‘‘এই সংঘাতের সমাধান হবে আলোচনা, কূটনীতি এবং আলোচনার মাধ্যমেই। আর সেই কারণেই আমরা এই পথকে উৎসাহিত করতে চাই।’’ অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে সামরিক শক্তির পরিবর্তে কূটনৈতিক আলোচনাকেই ভারত সমাধানের প্রধান পথ হিসেবে দেখছে। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির দিকে ইঙ্গিত দিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যেদিন আলোচনার আশা জাগালেন, ঠিক সেই দিনেই দিল্লির এই অবস্থান বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।

    যুদ্ধ নয়, শান্তিই একমাত্র নীতি ভারতের

    বৈঠক শেষে জয়শঙ্কর বলেন, “ভারত শুরু থেকেই বলে আসছে যে এটি যুদ্ধের যুগ নয় এবং যুদ্ধক্ষেত্র থেকে স্থায়ী কোনও সমাধান বেরিয়ে আসবে না।” সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে বিশকেকে পুতিনের মুখোমুখি হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে শান্তির বার্তা দিয়েছিলেন, সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিদেশমন্ত্রী বলেন, “সংঘাতের প্রতিটি দিন মানেই আরও মানুষের মৃত্যু এবং বিপুল ধ্বংসযজ্ঞ। স্বাভাবিকভাবেই, সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষকেই নিজেদের মধ্যে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে; তবে সেই প্রক্রিয়ায় ভারত যদি কোনোভাবে সহায়তা করতে পারে, আমরা তার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।” রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ অবসান করার বার্তা দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দ্রুত ওই যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার পক্ষেও সওয়াল করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। আর, বৃহস্পতিবারই প্রায় সাড়ে ৫ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। ইউক্রেনের সঙ্গে চলা যুদ্ধের অবসানের জন্য শান্তি চুক্তির সম্ভবনা আছে বলেও জানিয়েছেন পুতিন।

    ভারতকে ধন্যবাদ জেলেনস্কির

    এদিকে জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের পর ভারতের শান্তি প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে ভারতের প্রতিশ্রুতির জন্য ইউক্রেন কৃতজ্ঞ। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এটি যুদ্ধের সময় নয়। শান্তি প্রয়োজন। এটাই ভারতের স্পষ্ট অবস্থান।’’ একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংঘাত থামিয়ে বিশ্বজুড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে অন্য দেশগুলিও ভারতের মতো এমন স্পষ্ট ও গঠনমূলক ভূমিকা গ্রহণ করবে। তবে জয়শঙ্করের কিয়েভ সফরের সময় রাশিয়ার হামলা নিয়েও দাবি করেন জেলেনস্কি। তাঁর অভিযোগ, ভারতীয় প্রতিনিধিদল কিয়েভে থাকাকালীন রাশিয়া জেট-চালিত শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালায়। যদিও ইউক্রেনের দাবি, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ড্রোনকে আটকে দেয় এবং ভারতীয় প্রতিনিধিদল নিরাপদেই ছিল।

    ভারত-ইউক্রেন দ্বিপাক্ষিক সহায়তা

    যুদ্ধ থামানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে ভারত ও ইউক্রেনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়েও বিস্তারিত কথা হয়। দুই দেশের প্রতিনিধিরা ওষুধ, খাদ্য, কৃষি, সার, ভারী যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক ও ভোগ্যপণ্যের বাণিজ্যে সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছেন। কূটনীতি ও ব্যবসার এই মেলবন্ধন প্রমাণ করে যে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও ইউক্রেনের সাথে ভারতের সামগ্রিক যোগাযোগের সমীকরণ আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।

  • Janmashtami 2026: আজ জন্মাষ্টমী, গোপালকে এই জিনিসগুলি অর্পণ করুন, রইল পুজোর নিয়ম, উপকরণের তালিকা

    Janmashtami 2026: আজ জন্মাষ্টমী, গোপালকে এই জিনিসগুলি অর্পণ করুন, রইল পুজোর নিয়ম, উপকরণের তালিকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এখন ঘরে ঘরে পালিত হচ্ছে জন্মাষ্টমী। দৃক সিদ্ধান্ত বা বিশুদ্ধ সিদ্ধান্তমতে জন্মাষ্টমীর অষ্টমী তিথি আরম্ভ হচ্ছে আজ, শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে অষ্টমী তিথি আরম্ভ হয়েছে ৪ সেপ্টেম্বর (বাংলায় ১৬ ভাদ্র) বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ২টো ২৭ মিনিটে। অষ্টমী তিথি শেষ হচ্ছে ৫ সেপ্টেম্বর (১৭ ভাদ্র), শুক্রবার মধ্যরাত ১২টা ১৪ মিনিটে। অন্যদিকে, গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুসারে অষ্টমী তিথি আরম্ভ হয়েছে ৪ সেপ্টেম্বর (বাংলায় ১৬ ভাদ্র) মধ্যরাত ১টা ৪৪ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে। শেষ হচ্ছে ৫ সেপ্টেম্বর (১৭ ভাদ্র) গভীর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট ৫২ সেকেন্ডে।

    জন্মাষ্টমী পুজোর উপকরণ—

    ধূপকাঠি, কর্পূর, জাফরান, চন্দন, সিঁদুর, সুপারি, পান, পদ্ম, তুলসীর মালা, ধনে, যজ্ঞবেত ৫, কুমকুম, ধান, আবির, কাঁচা হলুদ, গোপালের গয়না, সপ্তমৃত্তিকা, সপ্তধন, কুশ ও দূর্বা, শুকনো ফল, গঙ্গাজল, মধু, চিনি, মিছরি, তুলসী ডাল, খাঁটি ঘি, দই, দুধ, মৌসুমি ফল, নৈবেদ্য বা মিষ্টান্ন, ছোট এলাচ, লবঙ্গ, সুগন্ধি, সিংহাসন, ঝুলা।

    এই পুজোতে লাগে— আমপল্লব, পঞ্চামৃত, কলা পাতা, ওষুধ, শ্রী কৃষ্ণের মূর্তি বা ছবি, গণেশের ছবি, অম্বিকার ছবি, ভগবানের পোশাক, গণেশকে নিবেদনের পোশাক, অম্বিকাকে নিবেদনের পোশাক, সাদা কাপড়, লাল কাপড়, পঞ্চ রত্ন, প্রদীপ, পান, নারকেল, চাল, গম, গোলাপ ও লাল পদ্মফুল, দূর্বা, অর্ঘ্য পাত্র, পঞ্চগব্য, পঞ্চগুড়ি, পাট, বালি, পঞ্চবর্ণের গুড়ো, মধুপর্কের বাটি।

    জন্মাষ্টমীর পুজোয় ময়ূরের পালক ও বাঁশির মাহাত্ম্য

    ময়ুর পালক

    ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মবার্ষিকীতে ময়ূরের পালক দেওয়া ভগবান কৃষ্ণের আরাধনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটা বিশ্বাস করা হয় যে ভগবান কৃষ্ণ বাঁশির মতো ময়ূরের পালক অত্যন্ত পছন্দ করেন। তাই তিনি এটিকে মুকুট হিসাবে ব্যবহার করতেন। জন্মাষ্টমীর পুজো সফল করতে ময়ূরের পালক ও একটি মুকুট অর্পণ করুন গোপালকে। ঘরের সমস্ত নেতিবাচক শক্তি দূরে সরিয়ে সমৃদ্ধি পেতে চাইলে বাড়িতে রাখুন ময়ূরের পালক। জন্মাষ্টমীর পুজোতেও ময়ূরের পালক রাখা প্রয়োজন। এতে ঘরে সুখ শান্তি আসে।

    বাঁশি

    ময়ূরের পালকের মতো বাঁশি ছাড়াও পুজো করা অসম্পূর্ণ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে বাঁশি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের খুব প্রিয়। আপনি যদি চান যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আশীর্বাদ আপনার উপর বর্ষিত হোক, তা হলে আপনাকে অবশ্যই গোপালকে জন্মবার্ষিকীতে বাঁশি নিবেদন করতে হবে। বলা হয়, কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর দিন বাড়িতে বাঁশি রাখলে খুবই উপকার হয়। এতে ঘরে ধন-সম্পত্তির পরিমাণ বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ে সুখ ও শান্তি। ফলে পুজোর বেদীতে শ্রীকৃষ্ণের বাঁশি রেখে দিতে পারেন।

    শঙ্খ ও তুলসীর তাৎপর্য

    শঙ্খ

    জন্মাষ্টমীর পুজোতে শঙ্খ ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। শঙ্খকে সনাতন ঐতিহ্যে শুভর প্রতীক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। জন্মাষ্টমীর উৎসবে গোপালকে স্নান করাতে এবং পুজোর সময় শঙ্খ ব্যবহার করা হয়। জন্মাষ্টমীর পুজোর সময় সঙ্গে রাখুন একটি শঙ্খ।

    তুলসী

    জন্মাষ্টমীর পুজোয় তুলসী পাতা অবশ্যই নিবেদন করতে হয় গোপালকে। কারণ তুলসী ভগবান শ্রীকৃষ্ণের খুব প্রিয়। এটা বিশ্বাস করা হয় যে জন্মাষ্টমীর পুজোয় তুলসী নিবেদন করলে শীঘ্রই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ প্রসন্ন হন এবং কাঙ্খিত বরদান করেন।

    জন্মাষ্টমীর বিশেষ ভোগ-

    জন্মাষ্টমীর ভোগের মধ্যে ৫৬ ভোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ৫৬ রকমের নৈবেদ্যর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা পৌরাণিক কাহিনি। নিয়ম অনুসারে ৫৬ ভোগে থাকে ১৬ ধরনের জলখাবার, ২০টি মিষ্টি এবং ২০ ধরণের শুকনো ফল। যার মধ্যে দুধের তৈরি খাবার সবার আগে পরিবেশন করতে হয়। তবে, যদি বাড়িতে ৫৬ ভোগ করা সম্ভব না হয়, তাহলে লুচি, ছোলার ডাল এবং সুজি প্রস্তুত করুন। গোপাল পুজোয় ঘরে ঘরে তৈরি হয় তালের বড়া ও তালের ক্ষীর, মালপোয়া, মোহনভোগ, নারকেল নাড়ু, মাখন, ক্ষীর, মিষ্টি, পায়েস, বাসন্তী পোলাও। এর পাশাপাশি আপনাকে অবশ্যই দুধ-দই, কাঁচা মাখন বা ননীর ব্যবস্থা করতে হবে, কারণ গোপাল দুধ-দই এবং মাখন খুব পছন্দ করেন। পঞ্চামৃত তৈরি করুন এবং সব ধরনের ফল রাখুন।

    জন্মাষ্টমী পুজোর পদ্ধতি

    জন্মাষ্টমীর আগের দিন নিরমিষ অন্ন খেয়ে সংযম পালন করতে হবে এবং রাত ১২টার মধ্যে খেয়ে নিতে হবে। ঘুমনোর আগে অবশ্যই ভাল করে মুখ ধুয়ে ঘুমতে হবে। পুজোর দিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্নান করে নিন। ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করুন। বাড়ির মন্দিরে প্রদীপ জ্বালান। সমস্ত দেবতার জলাভিষেক করুন।

    এই দিনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শিশু-রূপের পুজো করা হয়। এই শিশু রূপের অনেক নাম রয়েছে। যেমন— নন্দগোপাল, ননীগোপাল, নাড়ুগোপাল ইত্যাদি। নাড়ুগোপালকে ছেলের মতো যত্ন করে ভোগ নিবেদন করুন। নাড়ুগোপালের জলাভিষেক করে তাকে দোলনায় রাখুন। এরপর আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী নাড়ুগোপালকে ভোগ নিবেদন করুন। মনে রাখবেন যে শুধুমাত্র সাত্ত্বিক জিনিস ঈশ্বরের কাছে নিবেদন করা হয়।

    এই দিনে রাতের পুজোর তাৎপর্য রয়েছে, কারণ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ রাতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। রাতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বিশেষ পুজো করুন। সেই সময় নাড়ুগোপালকে চিনি, মিছরি এবং শুকনো ফল নিবেদন করুন। নাড়ুগোপালকে ভোগ নিবেদন করুন। নাড়ুগোপালের আরতি করুন।

LinkedIn
Share