Blog

  • Rajya Sabha Realignment: রাঘব চাড্ডা সহ আপ-এর ৭ জনকে বিজেপি সাংসদ হিসেবে ঘোষণা রাজ্যসভায়, বদলে গেল উচ্চকক্ষের সমীকরণ

    Rajya Sabha Realignment: রাঘব চাড্ডা সহ আপ-এর ৭ জনকে বিজেপি সাংসদ হিসেবে ঘোষণা রাজ্যসভায়, বদলে গেল উচ্চকক্ষের সমীকরণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যসভায় (Rajya Sabha Realignment) বড় রাজনৈতিক পালাবদল। আপ (Aam Aadmi Party)-এর সাতজন সাংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি-তে (Bharatiya Janata Party) যোগ দিলেন। আম আদমি পার্টি-র ৭ জন সাংসদকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি সাংসদ হিসেবে ঘোষণা করলেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি। এর ফলে উচ্চকক্ষে বিজেপির সাংসদ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১৩-এ। এই মর্মে অনুমোদন দিয়েছেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণণ (C. P. Radhakrishnan)। এই ঘটনায় আপের শক্তি বড় ধাক্কা খেল। আগে যেখানে তাদের ১০ জন সাংসদ ছিল, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩-এ। অন্যদিকে, বিজেপি আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে এবং একক বৃহত্তম দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে।

    একসঙ্গে দলবদল, আইনি বিতর্ক শুরু

    আপ সাংসদ রাঘব চাড্ডা (Raghav Chadha)-সহ সঞ্জীব পাঠক, অশোক মিত্তল, হরভজন সিং, বিক্রমজিৎ সাহনি, স্বাতী মালিওয়াল ও রাজিন্দর গুপ্তা একযোগে চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন জানান বিজেপিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য। আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর রাজ্যসভার ওয়েবসাইটে তাদের নাম বিজেপির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই দলবদল ঘিরে ‘দলত্যাগ বিরোধী আইন’ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, যদি কোনো দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একসঙ্গে অন্য দলে যোগ দেন, তাহলে তা বৈধ ‘মার্জার’ হিসেবে গণ্য হয়—ফলে অযোগ্য ঘোষণার সম্ভাবনা কম।

    জনসেবার স্বার্থেই বিজেপিতে যোগ

    এই ঘটনায় আপ তীব্র প্রতিবাদ করে সাত সাংসদের সদস্যপদ বাতিলের দাবি জানিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেছে। রাজনৈতিক মহল আপের জন্য এই ঘটনাকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে পাঞ্জাবে সরকারে থাকা দলটির জাতীয় স্তরের প্রভাব কমে গেল। অন্যদিকে, বিজেপির ক্ষেত্রে এটি একটি কৌশলগত সাফল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে, যা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে। দলত্যাগী সাংসদরা জানিয়েছেন, আপের মধ্যে কাজের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছিল এবং জনসেবার স্বার্থেই তারা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত শুক্রবার, আম আদমি পার্টির সাংসদ রাঘব চাড্ডা-সহ ছ’জন দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন। জানা গেছে, দলত্যাগী এই সাংসদদের বিজেপির সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সময় চেয়েছিল আপ। তবে সেই আবেদন কার্যকর হওয়ার আগেই সংযুক্তির সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়।

  • Election Commission India: বাংলার গণতন্ত্রে নারীশক্তির জয়গান, প্রথম দফায় পুরুষদের ছাপিয়ে গেল মহিলা ভোটারদের হার, শীতলকুচিতে ৯৭.৫৩ শতাংশ

    Election Commission India: বাংলার গণতন্ত্রে নারীশক্তির জয়গান, প্রথম দফায় পুরুষদের ছাপিয়ে গেল মহিলা ভোটারদের হার, শীতলকুচিতে ৯৭.৫৩ শতাংশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় পশ্চিমবঙ্গ বরাবরই রাজনৈতিক সচেতনতার (Bengal Assembly Election 2026) নিরিখে অগ্রগণ্য। সম্প্রতি গত ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় সেই সচেতনতার এক অনন্য প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। বিশেষত জঙ্গলমহল ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে যেখানে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, সেখানে এক অভূতপূর্ব ভোটদানের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে— পুরুষ ভোটারদের তুলনায় মহিলা ভোটারদের উপস্থিতির হার অনেক বেশি। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission India) জানিয়েছে ১৫২টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়েছে। তার মধ্যে ২৩টি কেন্দ্রে পুরুষের তুলনায় মহিলারা বেশি পরিমাণে ভোট প্রদান করেছেন। এটি কেবল একটি সংখ্যাতাত্ত্বিক পরিসংখ্যান নয়, বরং বাংলার গ্রামীণ ও প্রান্তিক স্তরে নারী ক্ষমতায়ন এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের এক বিরাট ইঙ্গিত।

    পরিসংখ্যানের দর্পণে নারী ভোটাধিকার (Election Commission India)

    নির্বাচন কমিশনের (Election Commission India) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার বেশ কিছু কেন্দ্রে দেখা গিয়েছে যে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে মহিলারা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় ছিলেন। অনেক কেন্দ্রে দেখা গিয়েছে, পুরুষদের ভোটের হার যেখানে ৭৯ বা ৮০ শতাংশের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে, সেখানে মহিলাদের ভোটের হার ৮৩ থেকে ৮৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের মতো জেলাগুলোতে এই চিত্র অত্যন্ত স্পষ্ট। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে রোদ উপেক্ষা করেও মহিলাদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ (Bengal Assembly Election 2026) প্রমাণ করে যে, নীতি নির্ধারণ এবং সরকার গঠনে নিজেদের ভূমিকার গুরুত্ব তাঁরা উপলব্ধি করতে পেরেছেন।

    এই পরিবর্তনের নেপথ্যে কী কারণ?

    সমাজতাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল মহিলা ভোটের হার বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ কাজ করছে। যা হল-

    রাজনৈতিক সচেতনতা ও প্রচার

    সবকটি রাজনৈতিক দলই বর্তমানে তাদের নির্বাচনী ঘোষণাপত্রে মহিলাদের জন্য বিশেষ প্রতিশ্রুতি রেখেছে। রাজনৈতিক সভাগুলোতে মহিলাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। নারীদের কেন্দ্র করে যে ধরণের প্রচার চালানো হয়েছে, তা তাঁদের মধ্যে এক ধরণের গুরুত্ববোধ তৈরি করেছে।

    নিরাপদ পরিবেশ

    নির্বাচন কমিশনের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি মহিলাদের মনে সাহস জুগিয়েছে। নির্ভয়ে ভোট (Bengal Assembly Election 2026) দেওয়ার পরিবেশ তৈরি হওয়ার কারণেই ঘরের কাজ সামলেও গ্রাম বাংলার মহিলারা দলে দলে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছেছেন।

    গণতন্ত্রের সুফল ও ভবিষ্যতের ইঙ্গিত

    ভোটার তালিকায় লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার জন্য নির্বাচন কমিশন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্তকরণ থেকে শুরু করে সচেতনতা শিবির—সবক্ষেত্রেই মহিলাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রথম দফার এই পরিসংখ্যান (Election Commission India) সেই প্রচেষ্টারই সাফল্য।

    আসুন দেখে নিই কোন জেলায় ভোটের পরিমাণ কত

    ভোট পড়েছে ৯৩.১৯ শতাংশ। মোট ভোটদাতার সংখ্যা ৩ কোটি ৩৬ লক্ষ।

    • শীতলকুচিতে— ৯৭.৫৩ শতাংশ। ভোটদানের হারে তার পরেই রয়েছে ভগবানগোলা— ৯৬.৯৫ শতাংশ, রানিনগর— ৯৬.৯৫ শতাংশ এবং রঘুনাথগঞ্জ— ৯৬.৯ শতাংশ। প্রথম দফার মোট ৪৪টি কেন্দ্রে ৯৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে।
    • কান্দিতে পুরুষ ও মহিলা ভোটদাতার ব্যবধান সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১৫ হাজার। সেখানে মহিলার চেয়ে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা দু’হাজার কম। ভোট দিয়েছেন ৯১ হাজার পুরুষ এবং ১.০৬ লক্ষ মহিলা। ভোটের হার ৮৪.৯৪ শতাংশ।
    • ঘাটালে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা মহিলার চেয়ে প্রায় ছ’হাজার বেশি। তবে সেখানে ভোট বেশি পড়েছে মহিলাদেরই। ১.২৩ লক্ষ মহিলা এবং ১.১৬ লক্ষ পুরুষ ভোট দিয়েছেন এই কেন্দ্রে। পুরুষ ও মহিলা ভোটদাতার ব্যবধান প্রায় সাত লক্ষ।
    • দাসপুরে মহিলাদের চেয়ে প্রায় তিন হাজার বেশি পুরুষ ভোটার রয়েছেন। তবে ১.১৯ লক্ষ পুরুষ ভোট দিয়েছেন এই কেন্দ্রে। মহিলা ভোটদাতার সংখ্যা ১.৩১ লক্ষ।
    • ডেবরায় ১.০৭ লক্ষ পুরুষ বুথে গিয়ে ভোট দিয়েছেন। মহিলা ভোটদাতার সংখ্যা ১.০৮ লক্ষ। তবে ভোটার হিসাবে মহিলার চেয়ে পুরুষের সংখ্যা হাজারখানেক বেশি এই কেন্দ্রে।
    • মেদিনীপুরেও মহিলারা বেশি ভোট দিয়েছেন। এই কেন্দ্রে অবশ্য পুরুষের চেয়ে মহিলা ভোটারের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার বেশি। ভোট দিয়েছেন ১.১৮ লক্ষ পুরুষ এবং ১.২২ লক্ষ মহিলা।
    • বাঁকুড়ায় পুরুষ এবং মহিলা ভোটারের সংখ্যায় তফাত সামান্য। মহিলাদের চেয়ে সেখানে প্রায় ৫০০ জন পুরুষ বেশি রয়েছেন। তবে ভোট মহিলারাই বেশি দিয়েছেন। এই কেন্দ্রে ১.১৭ লক্ষ পুরুষ এবং ১.১৮ লক্ষ মহিলা ভোট দিয়েছেন।
    • ময়ূরেশ্বরে মহিলার চেয়ে হাজারখানেক পুরুষ ভোটার বেশি রয়েছেন। ১.০৫ লক্ষ পুরুষ এবং ১.০৬ লক্ষ মহিলা সেখানে ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৯৩.৮৪ শতাংশ।
    • রামপুরহাটে পুরুষের চেয়ে মহিলা ভোটারের সংখ্যা প্রায় দু’হাজার বেশি। এই কেন্দ্রে ১.১৪ লক্ষ পুরুষ এবং ১.১৬ লক্ষ মহিলা ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৯৪.৫৩ শতাংশ।
    • রামনগরে মহিলার তুলনায় পুরুষ ভোটার বেশি ছ’হাজার। তবে মহিলাদের ভোট বেশি পড়েছে। ১.২০ লক্ষ পুরুষ এবং ১.২২ লক্ষ মহিলা সেখানে ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৯০.০২ শতাংশ।
    • বহরমপুরে পুরুষের চেয়ে চার হাজার বেশি মহিলা ভোটার রয়েছে। ১.০৮ লক্ষ পুরুষ এবং ১.১২ লক্ষ মহিলা ভোট দিয়েছেন এই কেন্দ্রে। ভোটের হার ৯১.৭২ শতাংশ।
    • ভরতপুরে মহিলাদের চেয়ে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার বেশি। কিন্তু সেখানে ১.০৫ লক্ষ পুরুষ এবং ১.০৭ লক্ষ মহিলা ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৮৯.১৭ শতাংশ।
    • বড়ঞায় মহিলার চেয়ে ন’হাজার বেশি পুরুষ ভোটার রয়েছেন। ভোট দিয়েছেন ৯১ হাজার পুরুষ এবং ৯৬ হাজার মহিলা। ভোটের হার ৮৭.৮০ শতাংশ।
    • খড়গ্রামে মহিলাদের চেয়ে ১০ হাজার পুরুষ ভোটার বেশি রয়েছেন। ভোট দিয়েছেন ৯৮ হাজার পুরুষ এবং ১.০৪ লক্ষ মহিলা। ভোটের হার ৮৮.৩২ শতাংশ।
    • নবগ্রামে পুরুষের সংখ্যা মহিলার চেয়ে ছ’হাজার বেশি। ভোট দিয়েছেন ১.০৭ লক্ষ পুরুষ এবং ১.১২ লক্ষ মহিলা। ভোটের হার ৯০.৭৩ শতাংশ।
    • শামসেরগঞ্জে মহিলার চেয়ে পাঁচ হাজার বেশি পুরুষ ভোটার রয়েছেন। ভোট দিয়েছেন ৭৪ হাজার পুরুষ এবং ৮০ হাজার মহিলা। ভোটের হার ৯৬.০৪ শতাংশ।
    • মালদহের ইংলিশ বাজারে পুরুষের চেয়ে মহিলা ভোটার দু’হাজার বেশি। সেখানে ভোট দিয়েছেন ১.১৩ লক্ষ পুরুষ এবং ১.১৭ লক্ষ মহিলা। ভোটের হার ৯২.৬৮ শতাংশ।
    • মালদায় মহিলাদের চেয়ে পুরুষ ভোটার বেশি তিন হাজার। ভোট দিয়েছেন ১ লক্ষ ৯ হাজার ১৬১ জন পুরুষ এবং ১ লক্ষ ৯ হাজার ৭৩৪ জন মহিলা। ভোটের হার ৯৪.৬২ শতাংশ।
    • রায়গঞ্জে মহিলার চেয়ে হাজারখানেক পুরুষ ভোটার বেশি রয়েছেন। ভোট দিয়েছেন ৮০ হাজার পুরুষ এবং ৮১ হাজার মহিলা। ভোটের হার ৯২.৯৭ শতাংশ।
    • মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি কেন্দ্রে মহিলা ভোটারের সংখ্যা পুরুষের চেয়ে হাজারখানেক বেশি। ভোট দিয়েছেন ১.২২ লক্ষ পুরুষ এবং ১.২৫ লক্ষ মহিলা। ভোটের হার ৯২.৬৯ শতাংশ।
    • কার্শিয়াঙে মহিলা ভোটারের সংখ্যা চার হাজার বেশি। সেখানে ৮৭ হাজার পুরুষ এবং ৯২ হাজার মহিলা ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৮৩.১৪ শতাংশ।
    • দার্জিলিঙে মহিলা ভোটারের সংখ্যা পুরুষের চেয়ে হাজারখানেক বেশি। সেখানে ৮৪ হাজার পুরুষ এবং ৮৬ হাজার মহিলা ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৮২.২৭ শতাংশ।
    • মালকেন্দ্রে মহিলাদের চেয়ে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৪০০ বেশি। সেখানে ১ লক্ষ ১১ হাজার ৭৮১ জন পুরুষ, ১ লক্ষ ১১ হাজার ৮৩৯ জন মহিলা ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৯৪.১৭ শতাংশ।
    • ঝাড়গ্রামে পুরুষের চেয়ে মহিলা ভোটারের সংখ্যা দু’হাজার বেশি। সেখানে ১.০৮ লক্ষ পুরুষ এবং ১.০৯ লক্ষ মহিলা ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ৯২.৬৩ শতাংশ।

    মহিলাদের এই বাড়তি হার রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি বড় বার্তা। এখন আর কেবল পুরুষদের পছন্দ-অপছন্দের ওপর ভিত্তি করে নির্বাচন জেতা সম্ভব নয়। বরং ‘মহিলা ভোটব্যাঙ্ক’ যে কোনও দলের ভাগ্য নির্ধারণে নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে। এই প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ রাজনীতি উপহার দেবে বলে আশা করা যায়।

    গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও মজবুত

    প্রথম দফার এই চিত্রটি কেবল একটি নির্বাচনের (Election Commission India) খবর নয়, এটি বাংলার সমাজব্যবস্থার এক ইতিবাচক পরিবর্তনের দলিল। যখন মায়েরা, বোনেরা এবং গৃহবধূরা নিজের অধিকার প্রয়োগে ঘরের চৌকাঠ পেরিয়ে গণতন্ত্রের উৎসবে শামিল হন, তখন সেই দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি আরও মজবুত হয়। আগামী দফার নির্বাচনগুলোতেও (Bengal Assembly Election 2026) এই নারীশক্তির জয়যাত্রা বজায় থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা বিশেষজ্ঞ মহলের। 

  • India New Zealand FTA: ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে স্বাক্ষরিত হল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, কী কী সুবিধে মিলবে?

    India New Zealand FTA: ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে স্বাক্ষরিত হল মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, কী কী সুবিধে মিলবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষর করল ভারত ও নিউজিল্যান্ড। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে (India New Zealand Relation) একটি বিরাট কৌশলগত মাইলফলক। ১৬ মার্চ ২০২৫ সালে শুরু হয়ে রেকর্ড সময়ে সম্পন্ন হওয়া এই চুক্তি বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগকে সমর্থন (India New Zealand Relation)

    এই অংশীদারিত্বের একটি প্রধান স্তম্ভ হল, আগামী ১৫ বছরে নিউজিল্যান্ড ভারতকে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে সাহায্য করবে। ভারতের মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগকে সমর্থন করার জন্য পরিকল্পিত এই মূলধন প্রবাহ। চুক্তিতে উৎপাদন, পরিকাঠামো, পরিষেবা এবং উদ্ভাবন খাতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চুক্তিটি নিউজিল্যান্ডের ১০০ শতাংশ ট্যারিফ লাইনে শুল্ক তুলে দিয়ে ভারতীয় শিল্পকে তাৎক্ষণিক প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দিচ্ছে। জানা গিয়েছে, এই শূন্য-শুল্ক সুবিধা সরাসরি শ্রমনির্ভর খাতগুলিকে সাহায্য করবে। এর মধ্যে রয়েছে বস্ত্রশিল্প, পোশাক শিল্প, চামড়া শিল্প, জুতো শিল্প, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য এবং অটোমোবাইল শিল্প। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় ভারত গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন উপকরণে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, কাঠের লগ, কোকিং কয়লা এবং ধাতব স্ক্র্যাপ।

    ওষুধ শিল্পের জন্য নিয়ন্ত্রক অনুমোদন

    জানা গিয়েছে, এই চুক্তি ভারতীয় ওষুধ শিল্পের জন্য নিয়ন্ত্রক অনুমোদন দ্রুত করবে। বিশ্বমানের সমমানের নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরিদর্শন রিপোর্ট গ্রহণ করা হবে। এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ভবিষ্যতমুখী কাঠামো গড়ে তুলেছে, যেখানে (FTA) ভারতকে বৈশ্বিক প্রতিভার প্রধান সরবরাহকারী দেশ হিসেবে স্থাপন করা হয়েছে (India New Zealand Relation)। এদিকে, একটি নতুন অস্থায়ী কর্মসংস্থান প্রবেশ পথ চালু করা হয়েছে, যেখানে যে কোনও সময় ৫,০০০ ভারতীয় পেশাজীবীর জন্য নির্দিষ্ট কোটা থাকবে। এর অধীনে রয়েছে, আইটি, স্বাস্থ্যসেবা, ইঞ্জিনিয়ারিং, আয়ূষ চিকিৎসক, যোগ প্রশিক্ষক এবং ভারতীয় শেফ। এই চুক্তির ফলে সংখ্যাগত সীমা ছাড়াই ভারতীয় শিক্ষার্থীরা উন্নত পোস্ট-স্টাডির অধিকার পাবে। এসটিইএম ব্যাচেলর ও মাস্টার্স স্নাতকরা সর্বোচ্চ ৩ বছর কাজ করতে পারবেন, ডক্টরাল গবেষকরা সর্বোচ্চ ৪ বছর কাজ করতে পারবেন।

    ওয়ার্ক অ্যান্ড হলিডে ভিসা

    দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করতে ১,০০০ ওয়ার্ক অ্যান্ড হলিডে ভিসাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশীয় উৎপাদকদের সুরক্ষার জন্য এই এফটিএতে কঠোর ব্যতিক্রম ও সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে (FTA)। সংবেদনশীল বিভিন্ন খাতকে বাজার প্রবেশাধিকার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুধ, ক্রিম, চিজ, দই, চিনি, ভোজ্য তেল, পেঁয়াজ এবং মসলা (India New Zealand Relation)। কেবল বাণিজ্য নয়, এই চুক্তি উৎপাদনশীলতা অংশীদারিত্বে জোর দিয়েছে। আপেল, কিউই ফল এবং মধুর জন্য উৎকর্ষ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। প্রযুক্তি হস্তান্তর ও গবেষণা সহযোগিতার মাধ্যমে ভারতীয় কৃষকদের আয় বাড়ানোই এর লক্ষ্য।

    কী বললেন পীযূষ গোয়েল?

    এই সহযোগিতার সঙ্গে কোটা এবং ন্যূনতম আমদানি মূল্যের ভিত্তিতে নিউজিল্যান্ডের পণ্যের সীমিত বাজার প্রবেশাধিকারও যুক্ত থাকবে (FTA)। ভারত ১১৮টি খাতজুড়ে পরিষেবা সুবিধা অর্জন করেছে এবং ১৩৯টি উপ-খাতে মোস্ট ফেভারর্ড নেশন (MFN) প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। প্রধান ক্ষেত্রগুলি হল, আইটি-সক্ষম পরিষেবা, পেশাগত পরিষেবা, নির্মাণ এবং পর্যটন। এর ফলে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মসংস্থানের নয়া সুযোগ সৃষ্টি হবে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, “এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হল মানুষকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য গড়ে তোলা।” তিনি এও বলেন, “এই চুক্তি ভারতের যুবসমাজ, উদ্যোক্তা এবং কৃষকদের জন্য বৈশ্বিক সুযোগের দুয়ার খুলে দেবে (India New Zealand Relation)।”

  • Pakistan: যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নামা পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলল ইরান

    Pakistan: যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নামা পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলল ইরান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়েছে পাকিস্তান (Pakistan)। সেই পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েই গুরুতর সন্দেহ প্রকাশ করলেন এক ইরানি আইনপ্রণেতা (Iranian Lawmaker)। তার জেরে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মুহূর্তে নিরপেক্ষতা নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে গভীর উদ্বেগের।

    কী বললেন ইব্রাহিম রেজায়ি? (Pakistan) 

    দাশতেস্তানের প্রতিনিধি তথা ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি বলেন, “পাকিস্তানের মধ্যস্থতা করার মতো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।” এক্স হ্যান্ডেলে এক বিবৃতিতে তিনি পাকিস্তানকে “ভালো বন্ধু ও প্রতিবেশী” বলে উল্লেখ করলেও, বলেন, এটি (পাকিস্তান) উপযুক্ত মধ্যস্থতাকারী নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলে। রেজায়ির আরও অভিযোগ, ইসলামাবাদ প্রকাশ্যে ওয়াশিংটনের সমালোচনা এড়িয়ে চলে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেসব প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি, যেমন লেবানন প্রসঙ্গ ও অবরুদ্ধ সম্পদ, সেগুলিও তুলে ধরে না। তিনি বলেন, “মধ্যস্থতাকারীকে অবশ্যই নিরপেক্ষ হতে হয়। সব সময় এক পক্ষের দিকে ঝুঁকে থাকা চলে না।”

    আসরে আরাঘচি

    বস্তুত, রেজায়িরও এই মন্তব্য এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন আব্বাস আরাঘচি অনিশ্চয়তার মধ্যেও আলোচনা চালিয়ে যেতে বাড়িয়েছেন কূটনৈতিক তৎপরতা। প্রসঙ্গত, আরাঘচি সম্প্রতি তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার ইসলামাবাদ সফর করেন। সেখানে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে সংঘাত এবং সম্ভাব্য সমাধানের পথ নিয়েও আলোচনা করেন (Iranian Lawmaker)। ইরানের বিদেশমন্ত্রী এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং অন্যান্য প্রবীণ আধিকারিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর পর তিনি ইসলামাবাদ থেকে ওমানে পৌঁছন। সেখানে তিনি সুলতান হাইথাম বিন তারিক আল-সঈদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়েও আলোচনা হয় (Pakistan)।

    আলোচ্য বিষয়

    ইরানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনা শুধু পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, হরমুজ প্রণালীর জন্য নতুন আইনি কাঠামোর প্রস্তাব, ক্ষতিপূরণের দাবি, ভবিষ্যতে সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা  প্রত্যাহারের বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে (Iranian Lawmaker)। উল্লেখ্য, ইসলামাবাদে সংক্ষিপ্ত সফরের পর আরাঘচির মস্কো সফরে যাওয়ার কথা। কারণ তেহরান (ইরানের রাজধানী) আলোচনার গতি ধরে রাখতে চাইছে। এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত সমাধানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা গতি হারাতে থাকায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরান যদি আলোচনা চায় তবে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যের আগেই ওয়াশিংটন যোগাযোগ কমিয়ে দেয় এবং পাকিস্তানে পরিকল্পিত এক দফা আলোচনাও বাতিল করে দেয় (Pakistan)।

    সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, আলোচনা ফের শুরু করতে চাইলে ইরান নিজেই যোগাযোগ করতে পারে। তিনি বলেন, “যদি তারা কথা বলতে চায়, তারা আমাদের কাছে আসতে পারে, অথবা ফোন করতে পারে। আপনি (Iranian Lawmaker) জানেন, টেলিফোন আছে। আমাদের উন্নত এবং নিরাপদ যোগাযোগ লাইন রয়েছে।”

     

  • PM Modi Election Rally: ‘‘এ বার যা দেখলাম, পূর্বোদয় হবেই’’ ভাটপাড়ার সভা থেকে বললেন মোদি

    PM Modi Election Rally: ‘‘এ বার যা দেখলাম, পূর্বোদয় হবেই’’ ভাটপাড়ার সভা থেকে বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট। ১৪২টি আসনে হবে ভোটগ্রহণ। সোমবার দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচারের শেষ দিন। ব্যারাকপুরের ভাটপাড়ায় সভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী মোদির হাতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মঙ্গল পাণ্ডে, বড়মার ছবি তুলে দেওয়া হয়। ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলে ভাষণ শুরু করেন নরেন্দ্র মোদি। যাঁরা তাঁর ছবি এঁকে এনেছিলেন, তাঁদের থেকে তা সংগ্রহ করার নির্দেশ দেন তিনি। প্রার্থীদের ডেকে নেন পাশে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘১৮৫৭ সালে এই ব্যারাকপুরে স্বাধীনতার প্রথম লড়াইকে শক্তি জুগিয়েছিল। আজ এই ভূমি বাংলায় পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করছে। একটাই ধ্বনি, পাল্টানো দরকার।’’ রাজ্যের ভোটের ফল ঘোষণা ৪ মে। এই প্রেক্ষিতে বিজেপির নেতৃত্বাধীন পরবর্তী সরকার গঠনের সময় বঙ্গে আসার প্রতিশ্রুতিও দেন। তিনি বলেন, ‘‘সকাল সকাল আমাকে আশীর্বাদ দিতে এসেছেন বহু মানুষ। হেলিপ্যাড থেকে যখন আসছিলাম, রাস্তার দু’পাশে মানুষের উৎসাহ দেখে আমি অভিভূত। কল্পনা করতে পারিনি। এই ভোটে আমার এটা শেষ সভা। বাংলায় যেখানে যেখানে গিয়েছি, মানুষের যা মেজাজ দেখেছি, এই বিশ্বাস নিয়ে যাচ্ছি যে, ৪ মে-র পরে বিজেপির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আসতেই হবে।’’

    অঙ্গ, কলিঙ্গের পর বঙ্গ…

    বাংলার এই ভোটকে পূর্ব ভারতের ভাগ্য বদলানোর ভোট বলে উল্লেখ করেন মোদি। তিনি বলেন, ‘‘বাংলার সেবা করা, সুরক্ষিত করা, বড় চ্যালেঞ্জ থেকে তাকে রক্ষা করা আমার ভাগ্যে লেখা রয়েছে। আমার দায়িত্বও। এই দায়িত্ব থেকে পিছু হঠব না। বাংলার এই ভোট, গোটা পূর্ব ভারতের ভাগ্য বদলানোর ভোট। যখন ভারত সমৃদ্ধ ছিল অতীতে, তখন তিনটি মজবুত স্তম্ভ ছিল— অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ অর্থাৎ বিহার, বাংলা, ওড়িশা। এই তিন স্তম্ভ দুর্বল যখন হয়, গোটা ভারতে ঝটকা লেগেছে। আজ বিকশিত ভারতে এই তিন স্তম্ভ জরুরি। ভারতের ভাগ্যোদয় পূর্বোদয় ছাড়া সম্ভব নয়। ভারতের ভাগ্যোদয় এবং পূর্বোদয় পরস্পরের পরিপূরক। ২০১৩ সাল থেকে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে থেকে বলছি, পূর্ব ভারত যখন এগোবে, তখন দেশ এগোবে। অঙ্গ, কলিঙ্গে কমল ফুটেছে। এখন বাংলার পালা।’’

    বাংলায় পূর্বোদয় হচ্ছেই…

    বাংলায় পূর্বোদয় যে হচ্ছেই, সে বিষয়ে নিশ্চিত প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘এ বার যা দেখলাম, পূর্বোদয় হবেই। অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গের নারীশক্তি ভরসা করে বিজেপি-তে। বাংলা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে সাংসদ করেছিল। তার প্রেরণা বিজেপির সঙ্কল্প হয়। জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা রদ করে তাঁর একটি সঙ্কল্প পূরণ করেছি। আরও একটি সঙ্কল্প রয়েছে শ্যামাপ্রসাদের— বাংলার সমৃদ্ধি এবং শরণার্থীদের সমস্যার সমাধান। বাংলায় বিজেপির সরকার গঠন হলে শ্যামাপ্রসাদের সঙ্কল্প পূরণ করার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি বলেন, ‘‘বাংলায় যে বিজেপি সরকার আসছে, তারা শ্যামাপ্রসাদের সঙ্কল্প পূরণ করবে। ভারতের প্রগতি, সংস্কৃতি, স্বাধীনতায় বাংলার সন্তানদের ভূমিকা ছিল বড়। কিছু দূরে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি। বন্দে মাতরমের দেড়শো বছর পূর্তিতে বাংলাও ঐতিহাসিক পরিবর্তন করতে চলেছে। বন্দে মাতরম দাসত্ব থেকে মুক্তির মন্ত্র ছিল। এ বার বাংলার নব নির্মাণের মন্ত্র তৈরি করতে হবে। সুজলং, সুফলংকে নীতি করব, শস্য শ্যামলং -কে রোজগারের পথ করব। মলয়জ শীতলং-কে সুখ সমৃদ্ধির পথ করব। দুর্গার শক্তিকে সুরক্ষার গ্যারান্টি করব।’’

    তৃণমূলের কাছে কোনও রূপরেখা নেই…

    মোদি জানান, বাংলার মানুষের ভবিষ্যতের জন্য তৃণমূলের কাছে কোনও রূপরেখা নেই। তাই কোনও তৃণমূল নেতা রিপোর্ট কার্ড দেয়নি। তিনি বলেন, ‘‘প্রচারের সময় বাংলার বিকাশ নিয়ে বিজেপির পরিকল্পনা তুলে ধরেছি। তৃণমূলের নেতারা একবারও মা-মাটি-মানুষের নাম নেয়নি এই ভোটে। যে মন্ত্র নিয়ে তারা বাংলায় সরকার গড়েছিল, তা ওরা ভুলে গিয়েছে। ১৫ বছর ওদের সুযোগ দিয়েছেন, মায়ের জন্য, নারী সুরক্ষার জন্য কিছু করেনি। মাটি, কৃষক, যুবক, মানুষের জন্য কিছু করেনি। কিছু বলার নেই বলে একটাই ফর্মুলা নিয়েছে, গালি দাও, হুমকি দাও, মিথ্যা বলো। মোদীকে, সেনাকে গালি দিয়েছে। বাংলার লোকজনকে হুমকি দিয়েছে। তৃণমূলের এক জন নেতাও রিপোর্ট কার্ড দেয়নি। যারা নিজের কাজের রিপোর্ট দিতে পারে না, তাঁদের কি সুযোগ দেওয়া উচিত? কিছু করেন, বরবাদীর জন্য সুযোগ দেবেন?’’ বাংলার মানুষের ভবিষ্যতের জন্য তৃণমূলের কাছে কোনও রূপরেখা নেই। কী করা হবে, কোথায় নিয়ে যাবে, তা-ও বলে না তৃণমূল। কারণ ওদের কোনও ইচ্ছা নেই, দূরদর্শিতা নেই।’’

    তৃণমূলের সিন্ডিকেট-রাজকে উৎখাতের ডাক

    ব্যারাকপুরে কেন পরিবর্তন প্রয়োজন, তার ব্যাখ্যা এদিন সভায় দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘পরিবর্তন কেন জরুরি, তা ব্যারাকপুরের থেকে বেশি কেউ জানে না। যে ব্যারাকপুরে আগে বাইরে থেকে লোক আসতেন, কাজের জন্য, আজ সেখান থেকে লোক পালিয়ে যাচ্ছেন। বাধ্য হচ্ছেন। এখানে কারখানার শব্দ আসত এক সময়, আজ গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। অকল্যান্ড পাটকলে কী হল, সবাই দেখেছেন। আজ ব্যারাকপুরের দুর্ভাগ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাট, কাপড়কল বন্ধ হয়েছে একটার পর একটা। ব্যারাকপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল বেল্টে গত কয়েক মাসে এক ডজন পাটকল বন্ধ হয়েছে।’’ এক সময় শিল্পের জন্য পরিচিত ব্যারাকপুর এখন গুলি-বোমার জন্য কুখ্যাত। সেই কথা মনে করিয়ে তৃণমূলের সিন্ডিকেট-রাজকে উৎখাতের ডাক দেন মোদি। বলেন, ‘‘আপনাদের রোজগার বন্ধ হচ্ছে। গুন্ডাদের রোজগারের জায়গা, বোমার কারখানা ফুলেফেঁপে উঠছে। তৃণমূলের সিন্ডিকেটের দোকান বাড়ছে। এটাই ওদের জঙ্গলরাজ। নিজের বাড়ি, দোকান নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে ওদের সিন্ডিকেটকে জিজ্ঞেস করতে হয়। তৃণমূলের সিন্ডিকেটকে ভাগাতে হবে, ওদের হারাতে হবে। তৃণমূলকে সরাবেন তো? আজ ভারতের জন্য গোটা দুনিয়া উৎসাহিত। আমি আশ্বাস দিচ্ছি, কলকাতা এবং আশপাশের এসব এলাকা মেক ইন্ডিয়ার বড় হাব হবে। বিজেপি সরকার কারখানা নিয়ে সব সমস্যার সমাধান করবে। পরিকল্পনা করব। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী করুন। পিএম, সিএম এক সঙ্গে উন্নয়ন করবে।’’

    মোদির গ্যারান্টি…

    ক্ষমতায় এলে বিজেপি কী কী করবে, তার একটা আভাস দিয়ে রাখেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘এখানে রোজগার নেই। তাই যুবসমাজ বাধ্য হয়ে বাইরে কাজ করতে গিয়েছে। বৃদ্ধেরা একা হয়ে গিয়েছেন। বৃদ্ধাবাসের সংখ্যা বাড়ছে। বিজেপি সরকার এসে বাংলার যুবকদের এখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। সরকারি নিয়োগ সময়ে হবে। নিয়োগ পত্র দেওয়া হবে। শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করা হবে। সরকারি কর্মীদের তৃণমূলের ভয় থেকে মুক্ত করা হবে। মোদির গ্যারান্টি শুনে নিন, সপ্তম কমিশনের লাভ পাবেন সরকারি কর্মীরা। এখানে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির বিস্তার হবে। আর্ট, গেমিং ক্ষেত্রে নতুন মঞ্চ করা হবে যুবসমাজের জন্য। বাংলার স্কুলে যাতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব হয়, সেই চেষ্টা করা হবে। গ্রামে ১২৫ দিনের আয়ের গ্যারান্টি দেওয়া হবে। জিরামজি আইন কার্যকর করা হবে। পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা, মৎস্য যোজনা কার্যকর করা হবে, যাতে কারিগর, শিল্পীরা, মৎস্যজীবীদের আয় বৃদ্ধি হবে।’’ ডাবল ইঞ্জিন সরকারের হয়ে জোর সওয়াল করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘পিএম স্বনিধি যোজন, ফুটপাথে যারা কাজ করেন, তারাও ব্যাঙ্ক থেকে সাহায্য পাবেন। এগুলো মোদির গ্যারান্টি। এখানে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী করুন, ডাবল ইঞ্জিনের লাভ পাবেন। কলকাতায় মেট্রোর যাতে দ্রুত বিস্তার হয়, তাই বিজেপি-কে ভোট দিন। বৈদ্যুতিন বাসের নতুন নেটওয়ার্ক হবে।

    মহিলাদের বিশেষ প্রতিশ্রুতি…

    মহিলাদের ওপর হওয়া অন্যায়-অত্যাচারের প্রত্যেকটা হিসেব নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘এই মাটি রানি রাসমণির সাহসের গাঁথায় সমৃদ্ধ। সেখানকার মেয়েদের ভয় দেখাচ্ছে তৃণমূল। এই রাজ্যকে অসুরক্ষিত করেছে মহিলাদের জন্য। ভোট দিতে যাওয়ার সময়ে গুন্ডাদের কথা মনে করবেন। যে বোনদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে, তাঁরা ন্যায় পাবেন। হিসাব নেব। সব ফাইল খুলব। মহিলাদের রোজগার, চিকিৎসা বিজেপির প্রাথমিক লক্ষ্য। বাংলায় বিজেপি সরকার গর্ভবতীদের ২১ হাজার টাকা দেবে। মেয়ে হলে সুকন্যা সমৃদ্ধির সুবিধা দেবে। কলেজে ভর্তি হলে টাকা পাবেন। নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাইলে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। পাকা ঘর পাবেন। তৃণমূল আপনাদের অধিকারের চাল লুটে নেয়। বিজেপি বন্ধ করবে। বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে আয়ুষ্মান ভারত কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মুক্ত চিকিৎসা হবে। ১৫ বছরে কলকাতার পরিচয় বদলে দিয়েছেন। অনুপ্রবেশকারীদের এনেছে। সকলে মিলে এ সব বন্ধ করব। কলকাতাকে সিটি অফ ফিউচার করব।’’

    বাংলাকে সব বন্ধন থেকে মুক্তি করার ডাক

    বিজেপিকে সমর্থন করার জন্য সব ধর্মের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘‘বিজেপি জমানায় কোনও ভারতীয় নাগরিক, যে ধর্মেরই হোন তিনি, তাঁদের সমস্যা হবে না। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীদের ছাড়া হবে না। মতুয়া, নমশূদ্রদের বলছি, নাগরিকত্ব মিলবেই। সব কাগজ, অধিকার পাবেন, যা ভারতীয় নাগরিকেরা পান। এটা মোদির গ্যারান্টি। নেতাজি বলেছিলেন, রক্ত দাও, স্বাধীনতা দেব। আপনারা ৭০ বছর কংগ্রেস, বাম, তৃণমূলকে দিয়েছেন। আজ তারা সব জোটে রয়েছে। একটা সুযোগ বিজেপি-কে দিন, মোদিকে দিন, সকলে মিলে বাংলাকে সব বন্ধন থেকে মুক্তি দেব। হিংসা, তৃণমূলের দুর্নীতি, ভয়, সিন্ডিকেট, অনুপ্রবেশকারী, বেকারত্ব, পরিবারবাদ, তোষণের রাজনীতি থেকে মুক্তি দেব। পুরনো গৌরব ফিরে আসবে। সব বুথ থেকে তৃণমূলকে সাফ করুন। কমল চিহ্নে ভোট দিন।’’

  • Bengal Assembly Election 2026: অশান্তি পাকানো হতে পারে! যাদবপুর, কলকাতা, আলিয়ার ছাত্রাবাসে কড়া নজর কমিশনের

    Bengal Assembly Election 2026: অশান্তি পাকানো হতে পারে! যাদবপুর, কলকাতা, আলিয়ার ছাত্রাবাসে কড়া নজর কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে (Bengal Assembly Election 2026) বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission India)। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলগুলোতে কড়া নজরদারি ও বিশেষ তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বিশেষ নজরে রয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। ইতিমধ্যে বহিরাগত এবং নানা কর্মকাণ্ডের গোপন সূত্রে খবর মেলায় সক্রিয় ভূমিকায় নেমেছে নির্বাচন কমিশ।

    অশান্তি সৃষ্টির আশঙ্কা (Election Commission India)!

    কমিশন (Election Commission India) সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের প্রাক্কালে কোনওভাবেই যাতে বহিরাগতরা হস্টেলগুলোতে আশ্রয় নিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। বিশেষ করে যে জেলাগুলোতে ভোট রয়েছে, সেই সংলগ্ন এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ছাত্রাবাসগুলোর ওপর বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

    বুধবার ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচন (Bengal Assembly Election 2026)। সাতটি জেলার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। জেলাগুলির মধ্যে রয়েছে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া। তাই এই জেলাগুলির একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়ছে বলে খবর।

    নজরে কোন কোন ক্যাম্পাসের হোস্টেল?

    একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও হস্টেলে বহিরাগতদের জামায়েতের ইঙ্গিত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Bengal Assembly Election 2026)। তাই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়, বেলগাছিয়ার ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়, কল্যাণীর বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে নজরে রাখা হয়েছে। এছাড়াও তেঘরিয়ায় হজ টাওয়ার, নিউটাউনে হজ হাউস, পার্ক সার্কাসে হজ হাউস, রাজারহাট নিউটাউনে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস, পার্ক সার্কাসে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস, তালতলার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসকেও সজাগ দৃষ্টি রাখা হয়েছে। সল্টলেকে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের যুব আবাস সহ ৫৬টি বিভিন্ন‌ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস রয়েছে, যেখানে থাকবে কমিশনের (Election Commission India) কড়া নজরদারি

    বহিরাগত ব্যক্তিদের উপর নজর

    ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্তৃপক্ষকে এই মর্মে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। হস্টেলগুলোতে কারা অবস্থান করছেন, কোনও বহিরাগত ব্যক্তি সেখানে আছেন কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের (Bengal Assembly Election 2026) আগে যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নির্বাচন কমিশন (Election Commission India) এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

  • IPL 2026: ধোনির রেকর্ড ভাঙলেন রিঙ্কু! লখনউ ম্যাচে ইতিহাস কেকেআর তারকার, সুপার ওভারে জয় নাইটদের

    IPL 2026: ধোনির রেকর্ড ভাঙলেন রিঙ্কু! লখনউ ম্যাচে ইতিহাস কেকেআর তারকার, সুপার ওভারে জয় নাইটদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাহির রেকর্ড ভেঙে এখন কেকেআর-এর ‘সঙ্কটমোচন’ রিঙ্কু সিং। দলের বিপদে রিঙ্কু যখন ক্রিজে নামেন, কেকেআর সমর্থকরা তখন ভরসা পান। মাঝে যদিও সময়টা ভালো যাচ্ছিল না কিন্তু আবারও নিজেকে প্রমাণ করলেন রিঙ্কু (Rinku Singh)। লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে ৫১ বলে অপরাজিত ৮৩ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে কেবল দলকে জেতাননি, বরং আইপিএলের ইতিহাসে (IPL 2026) কিংবদন্তি মহেন্দ্র সিং ধোনির এক দীর্ঘস্থায়ী রেকর্ড নিজের নামে করে নিলেন কেকেআরের এই বাঁহাতি ব্যাটার।

    ধোনির রেকর্ড-এ থাবা

    আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম ইনিংসে ৬ নম্বর বা তার নিচে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি এতদিন ছিল এমএস ধোনির দখলে। ২০১১ সালে আরসিবির বিরুদ্ধে ধোনি করেছিলেন ৭০ রান। দীর্ঘ ১৫ বছর পর সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়লেন রিঙ্কু সিং। লখনউয়ের বিপক্ষে তাঁর অপাজিত ৮৩ রানের ইনিংসটি এখন তালিকার শীর্ষে। এই তালিকায় তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছেন যথাক্রমে দীনেশ কার্তিক (৬৯) এবং শার্দূল ঠাকুর (৬৮)। প্রথম ইনিংসে লোয়ার অর্ডারে (৬ বা তার নিচে) নেমে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে দ্বিতীয় সর্বাধিক রানের মালিকও এখন রিঙ্কু। এখানে তাঁর আগে রয়েছেন কেবল কেকেআরের সতীর্থ আন্দ্রে রাসেল, যিনি ২০১৮ সালে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে ৮৮ রান করেছিলেন। দুই ইনিংস মিলিয়ে আইপিএল ইতিহাসে ৬ বা তার নিচে নেমে সর্বাধিক রানের এলিট ক্লাবেও এখন জ্বলজ্বল করছে রিঙ্কুর নাম। যেখানে হার্দিক (৯১), আন্দ্রে রাসেল (৮৮), জিতেশ শর্মা (৮৫) এবং মহেন্দ্র সিং ধোনির (৮৪) মতো বিগ হিটাররা রয়েছেন। সেখানে পাঁচ নম্বরে রয়েছেন রিঙ্কু সিং।

    সুপার ফিনিশার রিঙ্কু

    ইডেনে রাজস্থান রয়‌্যালসের বিরুদ্ধে টিমকে প্রথম জয় এনে দিয়েছিলেন। আর লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে রিঙ্কু যা করলেন, সেটা এককথায় অতিমানবীয়। টস হেরে প্রথমে ব‌্যাট করে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় কেকেআর। ৩১ রানের মধ্যে চারটে উইকেট চলে যায়। সেখান থেকেই টিমকে টানতে থাকেন রিঙ্কু। শেষ ওভারে টানা চারটে ছয়। সেটাই কেকেআরকে লড়াই করার মতো জায়গায় পৌঁছে দেয়। তারপর ফিল্ডিংয়ে পাঁচটা ক‌্যাচ (একটা সুপার ওভারে)। রিঙ্কুর দৌলতেই সুপার ওভারে লখনউকে হারিয়ে ম্যাচে নাটকীয় জয় পায় নাইটরা। ম্যাচ শেষে হর্ষ ভোগলে তাঁকে ‘সঙ্কটমোচন’ বলে ডাকলেও ম্যাচের সের রিঙ্কু তা বিনম্রভাবে হাসিমুখে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে পরিসংখ্যান বলছে, ধোনির উত্তরসূরি হিসেবে একজন নিখুঁত ফিনিশারের খোঁজে থাকা ভারতীয় ক্রিকেটে রিঙ্কু সিং এখন এক অপরিহার্য নাম।

  • Donald Trump: ‘‘পিডোফাইল, ধর্ষক…’’! হামলার আগে ট্রাম্প-বিরোধী ইস্তাহার লিখে পরিবারকে পাঠিয়েছিলেন গুলিকাণ্ডে ধৃত যুবক

    Donald Trump: ‘‘পিডোফাইল, ধর্ষক…’’! হামলার আগে ট্রাম্প-বিরোধী ইস্তাহার লিখে পরিবারকে পাঠিয়েছিলেন গুলিকাণ্ডে ধৃত যুবক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হোয়াইট হাউসে নৈশভোজের আসরে গুলি চালানোর অভিযোগে যাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই কোল অ্যালেন আগে থেকেই একটি ট্রাম্প-বিরোধী ইস্তাহার তৈরি করে (Donald Trump) নিজের পরিবারের সদস্যদের পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ‘পিডোফাইল, ধর্ষক এবং দেশদ্রোহী’ শব্দগুলি (Shooting) ব্যবহার করেছিলেন। সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না থাকলেও, অনেকেই মনে করছেন, ওই কথাগুলি অভিযুক্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টকে লক্ষ্য করেই লেখা হয়েছিল।

    ইস্তাহারে কী লিখেছিলেন ধৃত যুবক (Donald Trump)

    হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস’ ডিনারে গুলি চালানোর অভিযোগে ধৃত যুবক কোল অ্যালেন ওই ইস্তাহারে লিখেছিলেন, “আমি আর কোনও পিডোফাইল, ধর্ষক এবং দেশদ্রোহীর অপরাধে আমার হাত রক্তাক্ত হতে দিতে রাজি নই।” যদিও সেখানে তিনি সরাসরি ট্রাম্প বা মার্কিন প্রশাসনের কোনও কর্তার নাম উল্লেখ করেননি। ঘটনার পর ট্রাম্প সিবিএসের ‘৬০ মিনিটসে’ সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হিংসার অভিযোগগুলি উড়িয়ে দিয়ে একে ‘উগ্রপন্থায় প্রভাবিত’ ইস্তাহার বলে মন্তব্য করেন। মিডিয়াকে ‘ভয়ঙ্কর মানুষ’ বলে দেগে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, “হ্যাঁ, ও (কোল অ্যালেন) এটা লিখেছিল। আমি ধর্ষক নই। আমি কাউকে ধর্ষণ করিনি।”

    “আমি পিডোফাইল নই”

    নিউজ অ্যাঙ্কর তাঁর কাছে জানতে চান, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ট্রাম্পকেই বোঝাতে চেয়েছিলেন কি না। জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমি পিডোফাইল নই। মাফ করবেন, আমি পিডোফাইল নই। আমি ধর্ষক নই। কোনও অসুস্থ মানুষের লেখা এসব বাজে কথা আপনি পড়ছেন? আমার সঙ্গে এমন সব বিষয়ের নাম জড়ানো হয়েছে, যার সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্কই নেই। আমি পুরোপুরি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি।” তদন্তকারীরা ওই যুবকের ইস্তাহার খতিয়ে দেখছেন (Shooting)। হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়েছে, ইস্তাহার থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে সন্দেহভাজনের লক্ষ্য ছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের কর্তারা। প্রসঙ্গত, শনিবার রাতে গুলির শব্দ শোনা গেলে ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের আধিকারিকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

    ‘ফ্রেন্ডলি ফেডেরাল অ্যাসাসিন’!

    কর্তৃপক্ষের মতে, ঘটনাটি বলরুমের বাইরে ঘটে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি এক বা দু’রাউন্ড গুলি ছোড়ার পর সিঁড়ির কাছে তাঁকে আটক করা হয়। হোয়াইট হাউসের এই হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানে হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি হামলার কয়েক মিনিট আগে তাঁর পরিবারকে একটি উদ্বেগজনক ইস্তাহার পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি নিজেকে একজন ‘ফ্রেন্ডলি ফেডেরাল অ্যাসাসিন’ বলে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, কোনও ইরানি অপারেটিভ সহজেই নিরাপত্তা ভেদ করে ঢুকে পড়তে পারে—এভাবে অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল বলেই তুলে ধরে তিনি। ইস্তাহারে ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসনের আধিকারিকদের টার্গেট করার ইচ্ছের কথাও উল্লেখ ছিল। রাজনৈতিক হিংসার বারংবার উল্লেখও পাওয়া গিয়েছে ওই ইস্তাহারে।

    ‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’কে এক মার্কিন কর্তা জানান, ওই নথিতে ‘সর্বোচ্চ পদমর্যাবদা থেকে সর্বনিম্ন পর্যন্ত’ কর্তাদের টার্গেট হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। যদিও এফবিআই (FBI) পরিচালক কাশ প্যাটেলের নাম ওই তালিকায় ছিল না। হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে অভিযুক্ত লিখেছিলেন (Shooting), দেওয়াল ভেদ কম করার জন্য সে স্লাগের বদলে বাকশট ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন তিনি, যাতে (Donald Trump) প্রয়োজনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যদের ভেদ করেও এগিয়ে যাওয়া যায়।

  • Assembly Election 2026: দফায় দফায় আক্রান্ত বিজেপি প্রার্থী! থানার সামনেই সংঘর্ষ, জওয়ানকে লক্ষ্য করে ‘গুলি’, উত্তপ্ত জগদ্দল

    Assembly Election 2026: দফায় দফায় আক্রান্ত বিজেপি প্রার্থী! থানার সামনেই সংঘর্ষ, জওয়ানকে লক্ষ্য করে ‘গুলি’, উত্তপ্ত জগদ্দল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের (Assembly Election 2026) আগে উত্তপ্ত ভাটপাড়ার জগদ্দল এলাকা। অভিযোগ, নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং-এর উপর হামলা চালায় রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের কর্মীরা। হামলা চালানো হয় ভাটপাড়ার বিজেপি প্রার্থী পবন কুমার সিংয়ের বাড়িতেও। থানার ভিতরে পুলিশের সামনেই আক্রান্ত হন জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থী তথা প্রাক্তন আইপিএস অফিসার রাজেশ কুমার। রবিবার রাতেই জগদ্দল থানার (TMC-BJP Clash Jagaddal) সামনে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এই সময় দুই দলের কর্মীরা একে অপরের দিকে পাথর ছোড়ে বলে প্রাথামিকভাবে অভিযোগ। যার জেরে ইতিমধ্যেই পুলিশ স্টেশনের বাইরে কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় রয়েছে চাপা উত্তেজনা। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ান। অভিযোগ, বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংয়ের বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। গুলিও চালানো হয়। সেইসময়ই গুলিবিদ্ধ হন এক সিআইএসএফ জওয়ান। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তৃণমূল কাউন্সিলর-সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনায় রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন।

    বিজেপি প্রার্থীদের উপর দফায় দফায় হামলা

    নির্বাচনের আগে নৈহাটি থেকে জগদ্দল বা ভাটপাড়ায় উত্তেজনা-সংঘর্ষ নতুন নয়। তবে গত কয়েক দিন সে ভাবে অশান্তি দেখা যায়নি। কিন্তু দ্বিতীয় দফা ভোটের দু’দিন আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলে। ওই বিধানসভা এলাকার আটচালা বাগানে তৃণমূল এবং বিজেপির সংঘর্ষ হয়। সে নিয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমার এবং নোয়াপাড়ার প্রার্থী অর্জুন সিং-এর উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। থানা থেকে বেরিয়ে প্রাক্তন আইপিএস অফিসার তথা বিজেপি প্রার্থী রাজেশের কটাক্ষ, ‘‘চটিচাটা পুলিশ গুন্ডা দিয়ে আক্রমণ করিয়েছে।’’ জগদ্দল এলাকায় রবিবার সন্ধ্যায় দুই দলের সংঘর্ষের খবর পেয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং র‌্যাফ নামে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে জগদ্দল থানায় অর্জুনকে নিয়ে উপস্থিত হন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার তথা বিজেপি প্রার্থী রাজেশ।

    তৃণমূল নেত্রী মমতার প্ররোচনাতেই হামলা

    বিজেপির অভিযোগ, থানার সামনেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাদের উপর হামলা চালিয়েছে। তাঁদের উপর ইটবৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ করেন অর্জুন। থানা থেকে বেরিয়ে রাজেশ আঙুল তোলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। তাঁর কথায়, ‘‘আমার বিরুদ্ধে বিদায়ী চিফ মিনিস্টার মানুষকে উস্কেছেন। বলেছেন, সকলে বদলা নেবেন কি না। একটা থানার ভিতরে আমাদের উপর হামলা করা হয়েছে। আইসি-রা পালিয়েছেন। গুন্ডারা এসে আমাদের লোকেদের পিটিয়েছে।’’ অশান্তির সূত্রপাত গতকাল রাতে। জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থী রাজেশ শর্মার অভিযোগ, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন। এফআইআর করা হয়নি। কবে করবে তিনি জানেন না। তারপরই দেখা যায় তৃণমূলের একটা গুণ্ডাবাহিনী থানায় ঢুকে যায়। প্রায় দেড়-দুশো লোক ছিল। তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। সেইসময় পুলিশ পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ তোলেন রাজেশ শর্মা। খবর পেয়ে থানায় পৌঁছন অর্জুন সিং।

    তালা মেরে বসেছিল পুলিশ!

    নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন জানান, হামলার খবর পেয়ে তিনি থানায় আসেন। তৃণমূলের প্রচুর লোক সেইসময় ঘটনাস্থলে ছিল। সেইসময় ভয়ে তালা মেরে থানার ভিতরে বসেছিল পুলিশ। এমনই অভিযোগ অর্জুন সিংয়ের। এই আবহে অর্জুনকে ঘিরে একপ্রস্থ ধস্তাধস্তি চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।

    গুলিবিদ্ধ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান

    এরপরই বিজেপি প্রার্থী পবন সিংয়ের বাড়িতে হামলা অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, আচমকা তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ইট ছুড়তে শুরু করেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। সেইসময় বেরিয়ে আসেন পবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআইএসএফ জওয়ান যোগেশ শর্মা। তখনই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। তাঁর পায়ে গুলি লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আহত জওয়ানকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে।

    তৃণমূল কাউন্সিলর-সহ ৪ জনকে গ্রেফতার

    ঘটনার পর থেকে থমথমে ভাটপাড়া। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। অশান্তির ঘটনার পরই ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। তৃণমূল কাউন্সিলর-সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও এক তৃণমূল কাউন্সিলরের খোঁজে পলিশ। ভাটপাড়ার ভাইস চেয়ারম্যানের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান।

    হিংসাই তৃণমূলের হাতিয়ার

    বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোট ২৯ এপ্রিল। এই দফাতেও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে চায় নির্বাচন কমিশন। যদিও নির্বাচনের আগে একের পর এক অশান্তির খবর আসছে। যেমন ভাঙড়ে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর তাজা বোমা। তৃণমূলকর্মীর বাড়ি থেকেই মিলেছে বোমাগুলি। এর পিছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যার ফলে এই ঘটনার তদন্তের ভার পুলিশের থেকে এনআইএর কাঁধে চলে গিয়েছে। তারপর আবার জগদ্দলে এমন ঘটনা ঘটল। তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষে উত্তপ্ত হল এলাকা। আক্রান্ত হলেন একের পর এক বিজেপি প্রার্থী-সহ কর্মী-সমর্থকেরা।  গেরুয়া শিবিরের দাবি, প্রথম দফায় শান্তিপূর্ণ মানুষের বিপুল ভোটদান রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের মনে ভয় ধরিয়েছে। তাই দ্বিতীয় দফা ভোটে হিংসাকেই হাতিয়ার করতে চাইছে তারা।

  • Assembly Election 2026: বোমা তৈরির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান, ভাঙড়ে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ

    Assembly Election 2026: বোমা তৈরির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান, ভাঙড়ে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে দ্বিতীয় দফা ভোটের (Assembly Election 2026) মুখে ষড়যন্ত্রের আভাস পেল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। সতর্ক নির্বাচন কমিশনও। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের মাঝেরহাট এলাকায় পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে কাঁচা বোমা উদ্ধারের ঘটনায় এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। বোমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করতে বিশেষ অভিযান চালানোর জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে প্রথম দফা ভোটের মতোই নির্বিঘ্নে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনা করতে বদ্ধপরিকর কমিশন। কিন্তু তা পণ্ড করার উদ্দেশে নানারকম ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সন্দেহ

    শনিবার কলকাতা পুলিশের একটি দল গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর কাশীপুর থানা এলাকার মাঝেরহাটের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে হানা দেয়। সেখান থেকে ৭৯টি কাঁচা বোমা উদ্ধার হয়। মেলে বোমা তৈরির নানা কাঁচামাল, প্রায় ৩.৩৭ কেজি গান পাউডার, ১.৬১ কেজি সালফার, পাটের দড়ি ইত্যাদি। কয়েক জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি নিষিদ্ধ জিনিসগুলো জড়ো করেছিলেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সন্দেহ, কোনও ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা হচ্ছিল ওই স্থানে। ইতিমধ্যে এনআইএ একটি এফআইআর-ও দায়ের করেছে। রবিবার অমিত শাহের মন্ত্রকের ওই ঘটনার ‘গুরুত্ব’ বিচার করে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। নোটিসে বলা হয়েছে, অবৈধ জিনিসপত্র জড়ো করা, বিস্ফোরক তৈরি করা ইত্যাদি সাধারণ মানুষের মনে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে। তাঁদের নিরাপত্তার খাতিরে এবং ষড়যন্ত্রীদের ধরার জন্য জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেফতার

    পুলিশ বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে। কিন্তু অভিযুক্তদের কেউ এখনও গ্রেফতার হননি। আগামী বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট রয়েছে। রাজ্যের সাত জেলায় মোট ১৪২টি আসনে হবে ভোটগ্রহণ। প্রথম দফার ভোট মোটের উপর শান্তিপূর্ণ ভাবেই মিটেছে। প্রথম দফায় কোনও বুথেই পুনর্নির্বাচন হচ্ছে না। এই অবস্থায় দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ পর্বও শান্তিপূর্ণ ভাবে করার লক্ষ্যে। দ্বিতীয় দফার ভোটের মুখে বোমা নিষ্ক্রিয় করতে পুলিশকে অবিলম্বে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। বলা হয়েছে, ভোটের দিন যে কোনও ভাবেই বোমা বিস্ফোরণের মতো ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশকে। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) তদন্ত চালাচ্ছে, এমন ক্ষেত্রেও পুলিশ পদক্ষেপ করতে পারবে বলে জানিয়েছে কমিশন।

    পুলিশকেও পড়তে হবে শাস্তির মুখে

    রাজ্যে অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনের সময়ে বোমাবাজির অভিযোগ উঠছে। তবে গত বৃহস্পতিবার রাজ্যের ১৬ জেলার ১৫২টি আসনের কোথাও বোমাবাজির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসেনি। দ্বিতীয় দফার ভোটও সেই রকমই শান্তিপূর্ণ রাখার লক্ষ্যে নজরদারি আরও বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে বুথমুখী রাস্তাগুলিতেও থাকবে কমিশনের ‘চোখ’। এত দিন বুথের মধ্যে একটি এবং বাইরে একটি করে সিসি ক্যামেরা বসানো থাকত। এবার বুথমুখী রাস্তাতেও বসবে সিসি ক্যামেরা। কমিশন সূত্রে খবর, কলকাতার পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে ডিসি, এসপি, আইসি এবং ওসি স্তর পর্যন্ত সকল পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশেও কড়া বার্তা দিয়ে রেখেছে নির্বাচন কমিশন। তারা জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের এলাকা থেকে যদি কোনও বিস্ফোরক উদ্ধার হয় বা কেউ ভয় দেখানোর কৌশল ব্যবহার করেন, তবে সংশ্লিষ্ট ওসি বা আইসি-কে নজিরবিহীন পরিণতির মুখে পড়তে হবে। সে ক্ষেত্রে কাউকেই যে ছাড় দেওয়া হবে না, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে বলেই কমিশন সূত্রে খবর।

    ভাঙড় আছে ভাঙড়ে

    ভাঙড় আছে ভাঙড়ে। এই রাজ্যে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক হিংসার সাক্ষী থাকা জায়গাগুলির তালিকায় ওপরের দিকে নাম রয়েছে ভাঙড়ের। সেই ভাঙড়েই ভোটের আগেই গত ১৮ এপ্রিল তৃণমূল নেতার পরিত্যক্ত বাড়িতে থেকে দুই ড্রাম ভর্তি বোমা উদ্ধার হয়েছিল। রবিবারই ভাঙড়ে আর একটি বিস্ফোরণের ঘটনায় অহিদুল ইসলাম মোল্লা নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। দীর্ঘ দিন পলাতক থাকার পর শনিবার তাঁকে একটি গাড়িতে দেখে মারধর করেছিলেন স্থানীয় কয়েক জন। পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল। গত মার্চে বিস্ফোরণে এক জনের মৃত্য এবং তিন জন জখম হওয়ার ঘটনায় ওই অভিযুক্তকে পরে এনআইএ গ্রেফতার করেছে। উল্লেখ্য, এবার ভাঙড়ে লড়াই মূলত আইএসএফের বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি বনাম তৃণমূলের শওকত মোল্লার। আবার একদা তৃণমূলের ‘তরতাজা সৈনিক’ আরাবুল ইসলাম দল বদল করে আইএসএফে যোগ দিয়েছেন। আরাবুল ক্য়ানিং পূর্ব থেকে লড়ছেন। তবে ভাঙড়ের এই নেতার দলবদলে আইএসএফ-তৃণমূল সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে ওই এলাকায়। সব মিলিয়ে ভোটের আগে উত্তপ্ত ভাঙড়।

    বিরোধীদের অভিযোগ

    এই ঘটনা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে ভোটদান থেকে বিরত রাখতেই অন্ধকারের সুযোগ নেওয়া হচ্ছে। এর আগে এই ভাঙড়েই বহুবার বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছিল। ভোটের মুখে এভাবে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিরোধীরা। এই আবহে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে কমিশন। ভাঙড়ে এবারের বিজেপি প্রার্থী জয়ন্ত গায়েনের দাবি, বরাবরই এই অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন সাধারণ মানুষ। আগামী ২৯ এপ্রিল যাতে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন কমিশনের কাছে সেই আর্জি রাখেন তিনি।

     

     

     

     

LinkedIn
Share