Blog

  • I-PAC: তৃণমূল-সঙ্গ ছাড়ল আইপ্যাক, ভোটের মুখে দিশেহারা মমতার সাধের দল!

    I-PAC: তৃণমূল-সঙ্গ ছাড়ল আইপ্যাক, ভোটের মুখে দিশেহারা মমতার সাধের দল!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের মুখে কার্যত গাড্ডায় পড়ে গেল তৃণমূল! ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Election 2026) বিজেপির হাতে বধ হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া সাধের দল তৃণমূল। সেই কলঙ্কের কালি যাতে গায়ে না লাগে, তাই তৃণমূল-বধ নিশ্চিত জেনেই পগার পার হল তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)। জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে সমস্ত কাজ বন্ধ করে দিয়েছে আইপ্যাক।

    আইপ্যাকের বক্তব্য (I-PAC)

    নির্দিষ্ট কিছু আইনি ‘বাধ্যবাধকতা’র কথা উল্লেখ করে সংস্থার কর্মচারীদের ইমেলে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটকুশলী সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, আইনি ‘বাধ্যবাধকতা’র কারণে পশ্চিমবঙ্গে কাজ আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্মচারীদের ২০ দিনের সাময়িক ছুটিতে পাঠানো হচ্ছে। ১১ মে-র পর আবার তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হবে। ইমেলে ওই সংস্থার কর্মীদের বলা হয়েছে, ‘‘আইনকে আমরা শ্রদ্ধা করি এবং গোটা প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছি। নির্দিষ্ট সময়ে বিচার মিলবে, আমরা নিশ্চিত।’’ আইপ্যাক কর্মীদের ধৈর্য ধরতে বলা হয়েছে। আইপ্যাকের এই সিদ্ধান্ত রাজ্যে বিধানসভা ভোটের মুখে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে বিপাকে ফেলল বলেই ধারণা ভোট-বিশেষজ্ঞদের (I-PAC)।

    আইপ্যাক কর্তা গ্রেফতার

    এ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হবে দু’দফায় – ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল। আইপ্যাক ২০ দিনের বিরতির কথা বলেছে। ভোটকুশলী এই সংস্থার এই বিরতি-পর্বেই রাজ্যে চুকে যাবে নির্বাচন-পর্ব। গড়া হয়ে যাবে নয়া সরকারও (Assembly Election 2026)। প্রসঙ্গত, কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তের সূত্রে গত সোমবার নয়াদিল্লিতে আইপ্যাকের অন্যতম পরিচালক তথা সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করেছিল ইডি। তিনি এখন রয়েছেন কেন্দ্রীয় সংস্থার হেফাজতেই। এর আগে আইপ্যাকের কলকাতার দফতর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি। তল্লাশি চলাকালীন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, তল্লাশি চলাকালীনই বেশ কিছু নথি তিনি ফাইলে করে নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।

    চোরের মায়ের বড় গলা!

    তৃণমূল সুপ্রিমো মমতার অভিযোগ, প্রতীকের বাড়ি এবং আইপ্যাকের দফতর থেকে তাঁর দলের নির্বাচন সংক্রান্ত পরিকল্পনা, গুরুত্বপূর্ণ এবং গোপন নথি ‘চুরি’ করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এই মামলার জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত (I-PAC)। মামলাটি আপাতত দেশের শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন। এহেন আবহেই পশ্চিমবঙ্গে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল আইপ্যাক। এদিকে, কেন্দ্রীয় সংস্থার এক আধিকারিক জানান, পশ্চিমবঙ্গে কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় তৃণমূলের রাজনৈতিক উপদেষ্টা সংস্থার ডিরেক্টরকে সোমবার রাতের দিকে আর্থিক তছরুপ বিরোধী আইনের (পিএমএলএ) আওতায় গ্রেফতার করা হয়েছে (Assembly Election 2026)। দুয়ারে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে আইপ্যাকের এহেন সিদ্ধান্তে ঘোর বিপাকে তৃণমূলের ভোট ম্যানেজাররা। এখন দেখার, তৃণমূল এবার কীভাবে পার হয় আসন্ন বিধানসভার ভোট-বৈতরণী (I-PAC)!

     

  • ED: রবি-সকালে ইডির হানা কলকাতা পুলিশ কর্তার বাড়িতে

    ED: রবি-সকালে ইডির হানা কলকাতা পুলিশ কর্তার বাড়িতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন হওয়ার কথা ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার। তার আগে রবিবার সাতসকালে ইডির (ED) হানা কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (Kolkata Police DC) শান্তনু সিং বিশ্বাসের বাড়িতে। বালিগঞ্জের ফার্ন রোডে এই পুলিশ কর্তার বাড়িতে হানা দেন ইডির আধিকারিকরা। তার পরেই শুরু হয় তল্লাশি। সূত্রের খবর, বালিগঞ্জে সোনা পাপ্পুর মামলার জেরে ইডির এই অভিযান। এই শান্তনু একসময় কালীঘাট থানার ওসি ছিলেন। রবিবার সকালে বেহালার এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও হানা দেন ইডির আধিকারিকরা।

    খোদ ডিসির বাড়িতেই অভিযান (ED) 

    বালিগঞ্জে অশান্তির ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সোনা পাপ্পুকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। যদিও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে প্রকাশ্যে আসতে এবং ‘লাইভ’ করতে দেখা গিয়েছে। এই ঘটনায় এর আগেও এক আইপিএস আধিকারিককে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইডি। আর এবার খোদ ডিসির বাড়িতেই চালানো হল তল্লাশি অভিযান। জানা গিয়েছে, বেহালায় ব্যবসায়ী জয় কামদারের বাড়িতে এদিন হানা দিয়েছে ইডি। স্থানীয়দের দাবি, তিনি মূলত প্রোমোটিংয়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এর আগেও তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশির সূত্রেই জয়ের নাম উঠে এসেছিল। বেশ কিছু নগদ অর্থ বেহালার এই বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই ব্যবসায়ীকে দু’বার তলবও করেছিল ইডি। কিন্তু দু’বারই হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। তার পর ফের রবিবার তাঁর বাড়িতে অভিযান তদন্তকারীদের (ED)।

    বেহালায় ব্যবসায়ীর বাড়িতেও তদন্ত ইডির আধিকারিকদের

    এদিন ভোরেই সিজিও কমপ্লেক্স থেকে রওনা দেয় ইডির একাধিক দল। সঙ্গে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। বেহালায় ওই ব্যবসায়ীর বাড়ির সামনে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের। অভিযোগ, বার বার ডাকাডাকি করা সত্ত্বেও বাড়ির দরজা খুলছিলেন না কেউ (Kolkata Police DC)। অনেকক্ষণ পরে দরজা খোলা হয়, এবং ইডি ঘরে ঢোকে। বালিগঞ্জেও ভোরেই পৌঁছে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এই সংস্থার আধিকারিকরা। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যের ২৯৪টি আসনে দু’দফায় ভোট হবে। ফল প্রকাশ হবে ৪ মে। নির্বাচনী প্রচার বন্ধ হওয়ার আগেই জোরকদমে প্রচার করছে রাজনৈতিক দলগুলি। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন মামলায় খাস কলকাতায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে ইডি।

    প্রসঙ্গত, বেআইনি নির্মাণ মামলায় শুক্রবার শহরের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। দিন কয়েক আগে নিয়োগ কেলেঙ্কারি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতেও হানা দিয়েছিল তারা (Kolkata Police DC)। রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে হানা দিয়েছিল আয়কর দফতর (ED)।

     

  • West Bengal: তিনে থাকা পশ্চিমবঙ্গ সাত দশকে কীভাবে নেমে এল চব্বিশে? জানুন পতনের সেই কাহিনি…

    West Bengal: তিনে থাকা পশ্চিমবঙ্গ সাত দশকে কীভাবে নেমে এল চব্বিশে? জানুন পতনের সেই কাহিনি…

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশ যখন স্বাধীন হয়, সেই ১৯৪৭ সালেও পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) ছিল এই উপমহাদেশের অর্থনীতির ভরকেন্দ্র। তার পর থেকে যতই গড়িয়েছে (Twenty Fourth State) সময়ের জল, ততই একটু একটু করে পতনের দিকে এগিয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। মাথাপিছু আয়কে মানদণ্ড ধরে যদি ভারতের রাজ্যগুলিকে ক্রমানুসারে সাজানো হয় এবং সাত দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করা হয়, তাহলেই বেরিয়ে আসবে ঝুলি থেকে বেড়াল। ১৯৬০-৬১ সালে, স্বাধীনতা যখন নিতান্তই শিশু, ভারত নামক দেশটি যখন সবেমাত্র একটু একটু করে গুছিয়ে উঠছিল, তখনও ভারতীয় রাজ্যগুলির মধ্যে তৃতীয় স্থানে ছিল বাংলা। সেই সোনার বাংলার আগে ছিল মাত্রই দুটি রাজ্য- এক, পাঞ্জাব ও দুই মহারাষ্ট্র।

    ত্রি-শক্তির সুশাসনে’র ফল! (West Bengal)

    ভারতের অন্য সব অঞ্চলের চেয়ে এগিয়ে থাকা বাংলাই পরবর্তীকালে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে নয়া সংজ্ঞা দিয়েছিল। এহেন সোনার বাংলায় রাজ করে প্রথমে কংগ্রেস, পরে বামফ্রন্ট এবং বর্তমানে তৃণমূল। এই ‘ত্রি-শক্তির সুশাসনে’র ফলে ২০২৩-২৪ সাল নাগাদ সমীক্ষায় দেখা যায় দেশটি চব্বিশতম স্থানে নেমে এসেছে। বঙ্গ নামক এই অঙ্গরাজ্যটির পতন ক্রমান্বয়িক ছিল না,  এমন কোনও সামান্য হ্রাসও ছিল না যা সামান্য আপেক্ষিক পতনের ইঙ্গিত দিতে পারে। এটি আদতে ছিল কাঠামোগত, ক্রমবর্ধমান এবং সুনির্দিষ্টভাবে পরিমাপযোগ্য। মাথাপিছু আয় জাতীয় গড়ের ১২৭.৫ শতাংশ থেকে কমে হয় ৮৩.৭ শতাংশ। এটি কেবল গরিব রাজ্যগুলির এগিয়ে আসার গল্প নয়। এটি আসলে এমন একটি রাজ্যের গল্প, যা একসময় এগিয়ে থাকলেও, ধীরে ধীরে তার পেছনে থাকা ওড়িশা, তেলঙ্গনা এবং কর্নাটকের মতো রাজ্যগুলির মতো ক্রমেই পিছিয়ে পড়তে থাকে। এই রাজ্যগুলি এখন জাতীয় গড়ের সমান বা তার চেয়েও বেশি এগিয়ে গিয়েছে, অথচ বাংলার পতন অব্যাহত রয়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গের মাথাপিছু আয়

    পশ্চিমবঙ্গের মাথাপিছু আয়, যা একসময় জাতীয় গড়ের চেয়ে ২৭.৫ শতাংশ বেশি ছিল, গত ছ’দশকে তা কমে ১৬.৩ শতাংশ নীচে নেমে এসেছে। বঙ্গের শুরুর দিকের অবস্থানটিই তার এই গতিপথকে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ১৯৪৭ সালে, যখন রক্ত-কালি দিয়ে বাংলার সীমানা নতুন করে আঁকা হচ্ছিল, তখনও এটি ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের অর্থনৈতিক কেন্দ্রভূমি। কলকাতা ছিল ব্রিটিশ রাজের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর, সাম্রাজ্যবাদী প্রশাসন, ব্যাঙ্কিং এবং বাণিজ্যের এক মহানগরী। শহর কলকাতা থেকে উত্তরে বিস্তৃত হুগলি শিল্পাঞ্চল ছিল এই অঞ্চলের উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি—এক শতাব্দীর ঔপনিবেশিক বিনিয়োগে গড়ে ওঠা বিদ্যুৎ, ইস্পাত, পাট, কাগজ এবং রাসায়নিকের এক কেন্দ্রীভূত ভৌগোলিক এলাকা। ১৯৫১ সালে, যখন স্বাধীন ভারতের প্রথম আদমশুমারি হয়, তখন বাংলায় ১,৪৯৩টি নথিভুক্ত কারখানা ছিল। এই সংখ্যাটি মহারাষ্ট্র এবং গুজরাটের সম্মিলিত কারখানার সংখ্যার চেয়েও বেশি।

    বাংলার অবদান

    ভারতের মোট শিল্প উৎপাদনের প্রায় ২৭ শতাংশই ছিল এই বঙ্গের অবদান। এগুলি কোনও তাত্ত্বিক সুবিধা বা পরিকল্পিত সম্ভাবনা নয়, এটি আদতে ছিল চলমান, বাস্তব এবং কার্যকর সক্ষমতা, যেখানে নিরন্তর শোনা যেত শিল্প-কারখানার যন্ত্রের ঘরঘরানি শব্দ। ভোরের সাইরেন বাজার সঙ্গে সঙ্গেই কারখানার গেটে শ্রমিকদের ব্যস্ততা উঠত তুঙ্গে। শিল্প-কারখানার যন্ত্রের মতো আবর্তিত হচ্ছিল পুঁজিও। মুনাফা বেশি হওয়ায় উদ্যোক্তারা নিচ্ছিলেন একের পর এক নয়া শিল্প-কারখানা স্থাপনের   সিদ্ধান্ত। বাংলার এই উত্তরাধিকারের কী হল, সেটাই আমাদের পরবর্তী আলোচনার বিষয়। একে ‘বেঙ্গল কার্ভ’ বলা যেতেই পারে। কারণ এটি কোনও একটি রাজনৈতিক ব্যর্থতা বা কোনও একটি সরকারের ভুল পদক্ষেপের ফল বলে মনে হয় না (West Bengal)। এটি সাত দশক ধরে তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের শাসন কালে নেওয়া ক্রমবর্ধমান কাঠামোগত সিদ্ধান্তের ফল, যার প্রতিটিই নিজস্ব সীমাবদ্ধতার স্তরকে যুক্ত করেছে এবং রাজ্যটিকে তার আগের অবস্থার চেয়ে দুর্বল করে রেখে গিয়েছে। এর হিসেব নির্মম। সর্বভারতীয় গড়ের তুলনায় এক দশকের দুর্বল পারফরম্যান্সের অর্থ হল অর্থনৈতিক গুরুত্বের এমন এক ক্ষতি, যাকে পুনরুদ্ধার করাই যায়। দু’দশক ধরে চলতে থাকলেও, পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়, এটি একটি কাঠামোগত সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সাত দশক ধরে চলতে থাকলেও, এটি ভারতের অর্থনৈতিক মানচিত্রকেই নতুন করে লিখে দিয়েছিল বলেই মনে হয়।

    সঙ্কটে পাটশিল্প

    ১৯৪৭–১৯৭৭ বাংলার পতনের প্রথম পর্যায় শুরু হয়েছিল নির্বাচনের ফল বা আদর্শগত পরিবর্তনের মাধ্যমে নয়, বরং ভূগোল এবং দেশভাগের ধারালো ছুরির মাধ্যমে। যখন নয়া ভারতের সীমানা নির্ধারণ করা হল, তখন পশ্চিমবঙ্গ এমন একটি রাজ্য উত্তরাধিকার সূত্রে পেল যার অর্থনৈতিক ভিত্তি কার্যত করুণ হয়ে গিয়েছিল। হুগলির কলকারখানাগুলিকে সচল রাখতে পাট আসত পূর্ববঙ্গের জেলাগুলি থেকে, যে অংশগুলি এখন পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত। স্রেফ একটিমাত্র প্রশাসনিক পদক্ষেপে, বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শিল্পপুঞ্জ তার প্রধান কাঁচামালের জোগান হারাল (Twenty Fourth State)। পাটশিল্প, যা লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান করেছিল এবং বাংলার সমৃদ্ধি এনেছিল, পরবর্তী তিন দশক ধরে সেটাই এমন এক ভৌগোলিক অবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে লাগল যা তার অস্তিত্বকে আর সমর্থন করে না (West Bengal)। কলকারখানাগুলি থাকলেও, আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় তারা ক্রমশ নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে লাগল এবং পুরানো শিল্পপুঞ্জগুলির অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কাজ করতে লাগল। তবে, কাঁচামাল সরবরাহের এই ব্যাঘাত ছিল কেবল শুরু। ব্রিটিশ ভারতের অর্থনৈতিক কাঠামোটি কলকাতাকে কেন্দ্র করে একটি ঔপনিবেশিক শোষণ যন্ত্র হিসেবেই পরিকল্পিত হয়েছিল। রেলপথ, বন্দর, আর্থিক পরিকাঠামো—সবকিছুই সাম্রাজ্যের শোষণমূলক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য বাংলা থেকে বাইরের দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।

    বিপর্যয়কর সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

    যখন সেই সাম্রাজ্যের পতন ঘটল, তখন টিকে রইল কেবল কেন্দ্রাভিমুখী কাঠামোটি। অচিরেই সেটিও উধাও হয়ে গেল। স্বাধীনতার প্রথম বছরগুলিতে কেন্দ্রীয় সরকার এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা জাতীয় বণ্টনের দৃষ্টিকোণ থেকে যৌক্তিক মনে হলেও, বাংলার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে তা বিপর্যয়কর বলেই প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল মালবাহী ভাড়া সমতাকরণ নীতি। এই নীতি অনুযায়ী দূরত্ব বা স্থানীয় সুবিধা নির্বিশেষে সারাদেশে একই মালবাহী ভাড়া ধার্য করার একটি সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত। এই নীতির উদ্দেশ্য ছিল শিল্পের বিকেন্দ্রীকরণকে উৎসাহিত করা এবং ঐতিহ্যবাহী ঔপনিবেশিক কেন্দ্রগুলিতে শিল্পের কেন্দ্রীভবন রোধ করা। এটি ঠিক সেই লক্ষ্যই অর্জন করেছিল — কিন্তু তা করতে গিয়ে এটি বাংলাকে তার অবশিষ্ট কয়েকটি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধার একটি থেকে বঞ্চিত করে, সেটি হল কাঁচামাল, বিদ্যুৎ এবং বন্দরের ভৌগোলিক নৈকট্য। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকার পুনর্বণ্টন করেছিল  তার করের ভাগ। ১৯৫০-এর শুরুর দিকে বিধানচন্দ্র রায় এবং জওহরলাল নেহরুর মধ্যে হওয়া পত্রালাপ এই আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তুলে ধরে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তখন বিসি রায়। তাঁর আশা ছিল, দেশের প্রধান শিল্পোন্নত রাজ্য হিসেবে তাদের অবদান অনুযায়ী তারা করের ভাগের একটা বড় অংশ পাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, আয়কর ভাগে পশ্চিমবঙ্গের অংশ ক্রমাগত কমেছে, প্রথমদিকে প্রায় ২০ শতাংশ থেকে ছ’য়ের দশকে সেটি নেমে আসে ১২ শতাংশে (West Bengal)।

    শরণার্থী সঙ্কট

    বস্তুত, এটি এমন একটি নয়া অর্থনৈতিক সম্পর্কের সূচনা করে, যেখানে রাজ্য সম্পদ উৎপাদন করলেও তার অনুপাতে কম অর্থ ফিরে পায়। পরিকাঠামো, শিক্ষা এবং শিল্পোন্নয়নের জন্য যে অর্থ ফেরত আসার কথা ছিল, তা দেশের অন্যান্য রাজ্যে শিল্পের ভিত্তি গড়তে ব্যবহার করা হয়। দেশভাগের ফলে শরণার্থী সঙ্কট এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। প্রায় ৩.৭ মিলিয়ন মানুষ পূর্ববঙ্গ থেকে আসে পশ্চিমবঙ্গে, যা (Twenty Fourth State) আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ অভিবাসন। এদের মধ্যে অনেকেই শিক্ষিত ও দক্ষ হলেও তাদের পুনর্বাসনের জন্য বিপুল চাপ তৈরি হয়। শিল্পের জন্য নির্ধারিত জমি আবাসনের কাজে ব্যবহার করতে হয়। মাথাপিছু চাষযোগ্য জমির পরিমাণ কমে যায়। ছ’য়ের দশকের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়। এই সময়ের পরিসংখ্যান সংকোচনের গল্প বলে। ১৯৪৭ সালে ভারতের মোট শিল্প উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গের অংশ ছিল ২৭ শতাংশ, ১৯৬০-৬১ সালে এটিই কমে দাঁড়ায় ১৭.২ শতাংশে। রাজ্যের জিডিপি অংশও কমে ১০.৫ শতাংশ থেকে হয় ৯.৭ শতাংশ। মাথাপিছু আয়, যা আগে জাতীয় গড়ের ১২৭.৫ শতাংশ ছিল, কমে দাঁড়ায় ১১৪ শতাংশে।

    বাম জমানায়ও অব্যাহত পতন

    ১৯৭৭ সালে রাজ্যের কুর্সি দখল করে বামফ্রন্ট। তারা ক্ষমতায় আসার পরেও এই পতন থামেনি, বরং আরও দ্রুত হয়েছে। শিল্পের অংশ কমে দাঁড়ায় ১৩.৫ শতাংশ এবং জিডিপির অংশ ৯.৭ শতাংশ। এই প্রবণতা ঘুরে দাঁড়ানোর বদলে স্থায়ী রূপ পায় (West Bengal)। ১৯৭৮ সালের শিল্পনীতি বড় পুঁজিকে নিয়ন্ত্রণের কথা বলে। “ঘেরাও” আন্দোলন—যেখানে শ্রমিকরা মালিকদের ঘিরে রেখে দাবি আদায় করত—অনেক ক্ষেত্রেই তাদের মদত জোগানো হত সরকারিভাবে। এতে বিনিয়োগকারীদের কাছে এই বার্তা যায় যে, পশ্চিমবঙ্গ একটি ঝুঁকিপূর্ণ লগ্নিস্থল।পরিসংখ্যান থেকে জানা গিয়েছে, ১৯৬৫ সালে ধর্মঘট হয় ১৭৯টি। ১৯৭০-এ এটি বেড়ে হয় ৬৭৮টি। লকআউটও বাড়ে। ২০০১–২০০৬ সালে ধর্মঘট কমলেও, লকআউট বেড়ে দাঁড়ায় ২২৬৬-এ। ২০০৮ সালে দেশের মোট নষ্ট হওয়া কর্মদিবসের ৮৫.৬ শতাংশ একাই পশ্চিমবঙ্গের। এই পর্বে বামেদের শ্রমিক সংগঠন সিটু কার্যত একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। শিল্পে বিনিয়োগ কমতে থাকে। ১৯৭৭ সালে দ্বিতীয় স্থানে থাকা পশ্চিমবঙ্গ ২০০৭-০৮ সালে সপ্তম স্থানে নেমে যায়।

    শিল্পের বিকল্প হতে পারেনি কৃষি

    কারখানার সংখ্যা বৃদ্ধির হারও কমে হয় ৬৪ শতাংশ। অথচ গুজরাটে এই হার ১৩৫ শতাংশ এবং তামিলনাড়ুতে ২৩৩ শতাংশ। উৎপাদন খরচও বেশি হয়। ভূমি সংস্কার কিছুটা সাফল্য আনলেও, দীর্ঘমেয়াদে তা ধোপে টেকেনি। ২০০৬ সালে ৪১.৬ শতাংশ গ্রামীণ পরিবার ভূমিহীন হয়ে পড়ে। শিল্পের বিকল্প হতে পারেনি কৃষি (Twenty Fourth State)। ২০১০-১১ সালে রাজ্যের ঋণ রাজস্বের ৩৯৬ শতাংশ হয়, যা সবচেয়ে বেশি। পরিকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে। শুরুতে বিনিয়োগবান্ধব অবস্থান নেওয়া হলেও, পরিকাঠামোগত সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যায়নি। রাজ্যের জিডিপির অংশ ২০১১-১২ সালে ৬.৭ শতাংশ থেকে ২০২৩-২৪ সালে ৫.৬ শতাংশে নেমে আসে। মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে তৃতীয় স্থান থেকে ২৪তম স্থানে নেমে যায় পশ্চিমবঙ্গ। এখন তার পরিমাণ জাতীয় গড়ের ৮৩.৭ শতাংশ। কমে গিয়েছে বৃদ্ধির হারও। ২৪-২৫ অর্থবর্ষে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৯.৯১ শতাংশ। অথচ, এই পর্বে রকেটের গতিতে এগোতে থাকে (West Bengal) বিহার, তেলঙ্গনা এবং  ওড়িশা।

    “কম্পাউন্ডিং ডিক্লাইনের” উদাহরণ

    বস্তুত, পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক পতন একটি দীর্ঘমেয়াদি “কম্পাউন্ডিং ডিক্লাইনের” উদাহরণ। প্রতি বছর একটু একটু করে পিছিয়ে পড়তে থাকা এই রাজ্য কয়েক দশকে বিশাল ব্যবধান সৃষ্টি করে। একসময় ভারতের ২৭ শতাংশ শিল্প উৎপাদনকারী রাজ্য এখন প্রায় ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। মাথাপিছু আয়ে তৃতীয় থেকে ২৪তম স্থানে পতন ঘটেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটি কেবলমাত্র অর্থনৈতিক পরিবর্তন নয়—এটি একটি অঞ্চলের ভবিষ্যৎ গড়ার ক্ষমতার সংকোচন (Twenty Fourth State)।

     

  • India-UK Trade Deal: ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি মে মাসে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা, ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ বিকিকিনি

    India-UK Trade Deal: ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি মে মাসে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা, ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ বিকিকিনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) আগামী মে মাসে কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল। তিনি জানান, গত বছরের জুলাই মাসে স্বাক্ষরিত এই বিস্তৃত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি (CETA)-র অধীনে ভারতের ৯৯ শতাংশ রফতানি পণ্যে ব্রিটিশ বাজারে (India-UK Trade Deal) শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার মিলবে। এর বদলে ভারত ব্রিটিশ কিছু পণ্যের উপর, যেমন গাড়ি ও হুইস্কি, শুল্ক কমাবে। আগরওয়াল বলেন, “আমরা আশা করছি মে মাসের মধ্যেই এই চুক্তি কার্যকর হবে। নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঠিক হয়নি, কারণ যুক্তরাজ্যের পক্ষেও কিছু আলোচনা বাকি রয়েছে।”

    চুক্তির ফলে ভারতের লাভ

    দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির ফলে ব্রিটেনের বাজারে ভারতের বেশ কিছু কৃষিজাত এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য আমদানির জন্য কোনও শুল্ক লাগবে না। নতুন চুক্তি অনুসারে, হলুদ, গোলমরিচ, এলাচের মতো কৃষিপণ্য এবং আমের শাঁস, আচার, ডালের মতো প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যগুলি ব্রিটিশ বাজারে বিনা শুল্কে প্রবেশ করতে পারবে। পাশাপাশি ভারতীয় মৎস্যজীবীরাও উপকৃত হবেন। ভারতের চিংড়ি, টুনা মাছ-সহ বিভিন্ন সামুদ্রিক খাদ্যপণ্য বিনা শুল্কে ব্রিটেনের বাজারে আমদানি করা যাবে। এই চুক্তির ফলে ভারত থেকে রফতানি হওয়া প্রায় ৯৯ শতাংশ পণ্যই ব্রিটেনের বাজারে বিনাশুল্কে প্রবেশ করতে পারবে। ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ হতে পারে। তবে স্থানীয়দের স্বার্থের কথা ভেবে আপেল, চিজ, দুগ্ধজাত পণ্য চুক্তির আওতায় আনেনি ভারত। এগুলি আমদানির ক্ষেত্রে কর ছাড় থাকছে না।

    ব্রিটেনের লাভ

    অন্য দিকে ব্রিটেন থেকে ভারতে রফতানি করা বিভিন্ন পণ্যের উপর দফায় দফায় শুল্ক কমিয়ে আনা হবে। এতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে ব্রিটেনের খাদ্য এবং পানীয় প্রস্তুতকারী ক্ষেত্র। এর মধ্যে রয়েছে রয়েছে ব্রিটেনের স্কচ হুইস্কি। বর্তমানে ব্রিটেনের স্কচ হুইস্কির উপর ভারতীয় বাজারে ১৫০ শতাংশ হারে শুল্ক নেওয়া হয়। নতুন চুক্তিতে এই শুল্ক প্রথম ধাপে কমিয়ে ৭৫ শতাংশ করা হবে। তার পরে এক দশকের মধ্যে শুল্ক আরও কমিয়ে ৪০ শতাংশ করে দেওয়া হবে।ব্রিটেন থেকে আমদানি করা স্কচ হুইস্কির এবং জিনের পাশাপাশি জাগুয়ার, ল্যান্ডরোভারের মতো গাড়ি, মেডিক্যাল যন্ত্র, প্রসাধনী, চকোলেট, নরম পানীয়ও সস্তা হবে। ব্রিটেন থেকে আমদানি করা বৈদ্যুতিন গাড়ির উপর বর্তমানে ১১০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। সেটি কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হবে নতুন চুক্তিতে। ফলে বৈদ্যুতিন গাড়ির দামও কমতে পারে ভারতে।

    ভারতের বাণিজ্য চুক্তি সমূহ

    এছাড়াও তিনি জানান, ওমান-এর সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি আগামী ১ জুনের মধ্যে কার্যকর হতে পারে। গত ডিসেম্বরে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির ফলে টেক্সটাইল, কৃষিপণ্য ও চামড়াজাত দ্রব্যসহ ভারতের ৯৮ শতাংশ রফতানি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। অন্যদিকে ভারত ওমানের খেজুর, মার্বেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের উপর শুল্ক কমাবে। আগরওয়াল আরও বলেন, নিউজিল্যান্ড-এর সঙ্গে ভারতের এফটিএ আগামী ২৭ এপ্রিল স্বাক্ষরিত হতে পারে। এই চুক্তির লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা এবং ভারতীয় পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা। পাশাপাশি, আগামী ১৫ বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার সম্ভাবনাও রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর সঙ্গে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি চলতি বছরেই সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। সরকারের লক্ষ্য, এই চুক্তি আগামী অর্থবছরের শেষের আগেই কার্যকর করা। অন্যদিকে কানাডা-র সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে। মে মাসে পরবর্তী দফার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান বাণিজ্য সচিব।

  • Daily Horoscope 19 April 2026: আবেগ নিয়ন্ত্রণ জরুরি এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 19 April 2026: আবেগ নিয়ন্ত্রণ জরুরি এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ (Aries)

    ১. নতুন সুযোগ আসতে পারে
    ২. অর্থনৈতিক উন্নতি
    ৩. পরিবারে আনন্দ

    বৃষ (Taurus)

    ১. অর্থ লাভের সম্ভাবনা
    ২. পুরনো সমস্যা দূর হবে
    ৩. শরীরের যত্ন নিন

    মিথুন (Gemini)

    ১. কাজের চাপ বাড়বে
    ২. বন্ধুদের সাহায্য পাবেন
    ৩. মানসিক চাপ থাকতে পারে

    কর্কট (Cancer)

    ১. পরিবারে সুখ-শান্তি
    ২. প্রেমে ভালো সময়
    ৩. পরিকল্পনা সফল হবে

    সিংহ (Leo)

    ১. আত্মবিশ্বাস বাড়বে
    ২. কর্মক্ষেত্রে উন্নতি
    ৩. অহংকার এড়িয়ে চলুন

    কন্যা (Virgo)

    ১. কিছু বাধা আসতে পারে
    ২. ধৈর্য ধরলে লাভ
    ৩. স্বাস্থ্য মোটামুটি থাকবে

    তুলা (Libra)

    ১. সম্পর্ক ভালো থাকবে
    ২. নতুন যোগাযোগ
    ৩. অর্থ স্থিতিশীল

    বৃশ্চিক (Scorpio)

    ১. সতর্ক থাকা দরকার
    ২. শত্রুর সঙ্গে মোকাবিলা
    ৩. শেষে সাফল্য

    ধনু (Sagittarius)

    ১. ভ্রমণের সুযোগ
    ২. নতুন কাজ শুরু
    ৩. মন ভালো থাকবে

    মকর (Capricorn)

    ১. কাজের চাপ বাড়বে
    ২. পরিশ্রমের ফল পাবেন
    ৩. পরিবার পাশে থাকবে

    কুম্ভ (Aquarius)

    ১. নতুন চিন্তা
    ২. ব্যবসায় লাভ
    ৩. বন্ধুদের সঙ্গে সময়

    মীন (Pisces)

    ১. আবেগ নিয়ন্ত্রণ জরুরি
    ২. বড় সিদ্ধান্ত এড়ান
    ৩. আধ্যাত্মিক মনোভাব বাড়বে

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • Ramakrishna 627: “সমাধিমন্দিরে ও মা কে তুমি গো একা বসি; অভয়-পদ-কমলে, প্রেমের বিজলী জ্বলে, চিন্ময় মুখমণ্ডলে শোভে অট্ট অট্ট হাসি”

    Ramakrishna 627: “সমাধিমন্দিরে ও মা কে তুমি গো একা বসি; অভয়-পদ-কমলে, প্রেমের বিজলী জ্বলে, চিন্ময় মুখমণ্ডলে শোভে অট্ট অট্ট হাসি”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    ষড়্‌বিংশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৭শে অক্টোবর
    শ্রীরামকৃষ্ণ—নরেন্দ্র, গিরিশ, সরকার প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে
    ভজনানন্দে—সমাধিমন্দিরে

    ২৭শে অক্টোবর, ১৮৮৫, মঙ্গলবার, বেলা সাড়ে পাঁচটা। আজ নরেন্দ্র, ডাক্তার সরকার, শ্যাম বসু, গিরিশ, ডাক্তার দোকড়ি, ছোট নরেন্দ্র, রাখাল, মাস্টার ইত্যাদি অনেকে উপস্থিত। ডাক্তার আসিয়া হাত দেখিলেন ও ঔষধের ব্যবস্থা করিলেন (Kathamrita)।

    পীড়াসম্বন্ধীয় কথার পর শ্রীরামকৃষ্ণের (Ramakrishna) ঔষধ সেবনের পর ডাক্তার বলিলেন, ‘তবে শ্যামবাবুর সঙ্গে তুমি কথা কও, আমি আসি।’

    শ্রীরামকৃষ্ণ ও একজন ভক্ত বলিয়া উঠিলেন, ‘গান শুনবেন?”

    ডাক্তার — তুমি যে তিড়িং মিড়িং করে ওঠো। ভাব চেপে রাখতে হবে।

    ডাক্তার আবার বসিলেন। তখন নরেন্দ্র মধুরকণ্ঠে গান করিতেছেন। তৎসঙ্গে তানপুরা ও মৃদঙ্গ ঘন ঘন বাজিতেছে। গাহিতেছেন (Kathamrita):

    (১)     চমৎকার অপার জগৎ রচনা তোমার,
    শোভার আগার বিশ্ব সংসার।
    অযুত তারকা চমকে রতন-কাঞ্চন-হার
    কত চন্দ্র কত সূর্য নাহি অন্ত তার।
    শোভে বসুন্ধরা ধনধান্যময়, হায় পূর্ণ তোমার ভাণ্ডার
    হে মহেশ, অগণনলোক গায় ধন্য ধন্য এ গীতি অনিবার।

    (২)     নিবিড় আঁধারে মা তোর চমকে ও রূপরাশি।
    তাই যোগী ধ্যান ধরে হয়ে গিরি-গুহাবাসী।
    অনন্ত আঁধার কোলে, মহানির্বাণ হিল্লোলে,
    চিরশান্তি পরিমল, অবিরল যায় ভাসি।
    মহাকাল রূপ ধরি, আঁধার বসন পরি,
    সমাধিমন্দিরে ও মা কে তুমি গো একা বসি;
    অভয়-পদ-কমলে, প্রেমের বিজলী জ্বলে
    চিন্ময় মুখমণ্ডলে শোভে অট্ট অট্ট হাসি।

    ডাক্তার মাস্টারকে বলিলেন, “It is dangerous to him!”

    এ-গান ঠাকুরের পক্ষে ভাল নয়, ভাব হইলে অনর্থ ঘটিতে পারে)।

  • Dattatreya Hosabale: “প্রযুক্তি এগিয়ে চললেও শিক্ষা স্থবির হয়ে পড়ে, সমাজে বৈষম্য বাড়ার ঝুঁকি থাকে”, বললেন হোসাবলে

    Dattatreya Hosabale: “প্রযুক্তি এগিয়ে চললেও শিক্ষা স্থবির হয়ে পড়ে, সমাজে বৈষম্য বাড়ার ঝুঁকি থাকে”, বললেন হোসাবলে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “যখন শিক্ষাব্যবস্থা পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে একটি সভ্যতার বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সঠিকভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়, তখনই জন্ম হয় কুসংস্কারের (Superstitions)।” কথাগুলি বললেন আরএসএসের সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে (Dattatreya Hosabale)। সান ফ্রান্সিসকোয় গ্লোবাল সায়েন্স ইনোভেশন ফোরাম আয়োজিত এক ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে অংশ নিয়ে হোসাবলে অতীতের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানকে পুনরুজ্জীবিত করে শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে তা প্রচারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

    বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এবং আধ্যাত্মিকতা আলাদা নয় (Dattatreya Hosabale)

    তিনি বলেন, “আমাদের ঐতিহ্যে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এবং আধ্যাত্মিকতা আলাদা নয়, বরং তারা গভীরভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।” হোসাবলে এও বলেন, “বিশ্বে এমন একটি সময় ছিল যখন ধর্ম এবং বিজ্ঞানকে পরস্পরবিরোধী হিসেবে দেখা হত। কিন্তু ভারতীয় সভ্যতার ঐতিহ্যে একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী প্রায়ই বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং আধ্যাত্মিক চর্চা—দুটিতেই যুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, “এই বৌদ্ধিক ঐতিহ্য দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের সভ্যতার জ্ঞানের অংশ। তাই শাসনব্যবস্থায়ও এই ভিত্তির প্রতিফলন থাকা উচিত।”

    শিক্ষা স্থবির হয়ে পড়লে বিপদ!

    হোসাবলে মনে করিয়ে দেন, প্রাচীন ব্যবস্থা ছিল নৈতিক এবং বৈজ্ঞানিক উভয়ই, যা নিরাপত্তা, জীবিকা এবং দৈনন্দিন জীবনের বাস্তব দিকগুলির সমাধান করত। তিনি বলেন, “যদি আমরা মানবজাতি ও নাগরিকদের জন্য সুযোগ এবং ক্ষমতায়ন বাড়াতে চাই, তাহলে এই উপাদানগুলিকে শিক্ষার মাধ্যমে পরিচালিত করতে হবে। প্রযুক্তি এগিয়ে চললেও যদি শিক্ষা স্থবির হয়ে পড়ে, তবে সমাজে বৈষম্য বাড়ার ঝুঁকি থাকে। সমাজের কিছু অংশ শিক্ষা বা বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতে পিছিয়ে পড়লে বৈষম্য আরও গভীর হয়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা এবং জীবনমান—সবই পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।” আরএসএসের এই কর্তা বলেন, “এই কারণেই সরকারগুলিকে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। একদিকে আমাদের সমাজের বৈষম্য, পক্ষপাত এবং কুসংস্কার দূর করতে হবে। অন্যদিকে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতিও অব্যাহত রাখতে হবে। যদি শিক্ষা এই বিষয়গুলি স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়, তবে অতীতের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানগুলিকে কুসংস্কার হিসেবে ভুল বোঝা হতে পারে (Dattatreya Hosabale)।”

    কী বললেন হোসাবলে?

    হোসাবলে বলেন, “শিক্ষাব্যবস্থার একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ (Superstitions) হল মানুষকে প্রকৃত বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এবং কুসংস্কারের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করতে সক্ষম করা। আমাদের সমাজ দীর্ঘদিন ধরে এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, তবে একই সঙ্গে এমন প্রচেষ্টাও চলেছে যা দেখায় যে অতীতের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানগুলি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শিক্ষায় এবং পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত ছিল। এখন সেই জ্ঞানব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে, যেখানে ভারতীয় জ্ঞানব্যবস্থা থাকবে অগ্রভাগে।”

    স্ট্যানফোর্ড ফ্যাকাল্টি ক্লাবে অনুষ্ঠিত জিএসআইএফ থ্রাইভ-২০২৬ সম্মেলন একটি বৈশ্বিক মঞ্চ, যেখানে একটি উন্নত বিশ্বের লক্ষ্যে বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন এবং প্রাচীন জ্ঞানের মিলন ঘটে। সম্মেলনটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিনোদ খোসলার অংশগ্রহণে একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনের মাধ্যমে শুরু হয়। এতে (Superstitions) প্রাক্তন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচ আর ম্যাকমাস্টার-সহ একাধিক চিন্তাবিদ  অংশ নেন (Dattatreya Hosabale)।

     

  • Iran Speaker: ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দিল ইরান, হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী বললেন ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার?

    Iran Speaker: ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দিল ইরান, হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী বললেন ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন দাবি উড়িয়ে দিলেন ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ (Iran Speaker)। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তিনি মিথ্যে প্রচার করার অভিযোগে কাঠগড়ায় তুলে বলেন, “ওয়াশিংটনের এই বয়ান দিয়ে না জেতা যাবে যুদ্ধ, না সফল হবে আলোচনা।” গালিবাফ এই মর্মে সতর্ক করে দেন যে বিশ্বের অন্যতম (Hormuz Strait) গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণের পথ হরমুজ প্রণালী খোলা থাকবে না, যদি আমেরিকা ইরানের বন্দরগুলিতে তাদের নৌ-অবরোধ চালিয়ে যায়। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, প্রণালীর মাধ্যমে যে কোনও চলাচল এখন সম্পূর্ণভাবে ইরানের অনুমতি ও নির্ধারিত রুটের ওপর নির্ভর করবে। এ থেকে একটি জিনিস স্পষ্ট, তা হল চাপ অব্যাহত থাকলে তেহরান নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করতে প্রস্তুত।

    ইরানের বক্তব্য (Iran Speaker)

    ইরানের তরফে এই সতর্কবার্তা এসেছে এমন একটি সময়ে, যখন তেহরান নিজেই কিছুটা পরস্পরবিরোধী সংকেত দিচ্ছে। গালিবাফের মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরান ঘোষণা করেছিল, বর্তমানে যে যুদ্ধবিরতি চলছে, সেই সময় প্রণালীটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ খোলা। যদিও সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘিচি বিশ্ববাজারকে শান্ত করার চেষ্টা করে বলেন, “ইরানের পূর্ব-অনুমোদিত রুট ধরে জাহাজগুলি নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।” এদিকে, ওয়াশিংটন তাদের অবস্থানে অনড়। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে একটি বৃহত্তর চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত নৌ- অবরোধ চলবে। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, আলোচনা একেবারে শেষ পর্যায়ে (Iran Speaker)। ইরানকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ফের বোমা ফেলা শুরু করতে পারে।”

    ভিত্তিহীন দাবি, বলল ইরান

    অন্যদিকে, তেহরান (ইরানের রাজধানী) ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশেষ করে, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে—এমন দাবি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানি আধিকারিকরা। তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন, এই ধরনের কোনও প্রস্তাব কখনও আলোচনার অংশই ছিল না। প্রসঙ্গত, এহেন অচলাবস্থার কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালী—একটি সরু কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যার মাধ্যমে বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ করা হয়। যদিও ইরান এটি ফের খোলার কথা ঘোষণা করেছে, তা সত্ত্বেও রয়ে গিয়েছে অনিশ্চয়তা। নিরাপত্তা নিয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা না মেলায় হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল করছে সতর্কতা অবলম্বন করে (Hormuz Strait)।

    বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলগতভাবে হরমুজ প্রণালী এখন শুধু একটি বাণিজ্য পথ নয়, এটি কার্যত একটি চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার, প্রায় প্রতিরোধমূলক অস্ত্রের মতো, যার মাধ্যমে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ ছাড়াই ইরান বিশ্ব অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে যে চিত্রটি সামনে এসেছে, তা অত্যন্ত ভঙ্গুর। যদিও বাস্তবে পারস্পরিক অবিশ্বাস, সামরিক চাপ এবং তীব্রভাবে ভিন্ন বয়ানের দ্বারা পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রিত (Iran Speaker)।

  • Suvendu Adhikari: ভুয়ো প্রেস কার্ড দিয়ে ছদ্মবেশী সাংবাদিকদের বুথে ঢোকানোর ছক তৃণমূল, আইপ্যাকের! বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ভুয়ো প্রেস কার্ড দিয়ে ছদ্মবেশী সাংবাদিকদের বুথে ঢোকানোর ছক তৃণমূল, আইপ্যাকের! বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসকদল তৃণমূলের নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থা ‘আইপ্যাক’ (I-PAC)-এর বিরুদ্ধে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, ভোটকেন্দ্রে অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে তৃণমূল কর্মীদের হাতে সুপরিকল্পিতভাবে ‘ভুয়ো’ প্রেস কার্ড বা সাংবাদিক পরিচয়পত্র তুলে দেওয়া হচ্ছে।

    বাহিনীর নজর এড়িয়ে স্পর্শকাতর বুথে ঢুকবে আইপ্যাক (Suvendu Adhikari)

    রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁর সামাজিক মাধ্যমে করা এক পোস্টে দাবি করেছেন, “আইপ্যাক (I-PAC) সুসংগঠিতভাবে এমন ব্যক্তিদের সাংবাদিকের পরিচয়পত্র দিচ্ছে যারা প্রকৃতপক্ষে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত নন।” তাঁর আশঙ্কা, এই ‘ছদ্মবেশী সাংবাদিকরা’ প্রেস কার্ডের বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজর এড়িয়ে বুথ এবং স্পর্শকাতর প্রশাসনিক দফতরে প্রবেশ করবে। সেখানে গিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করা বা ভোট প্রক্রিয়ায় কারচুপি করার মতো বেআইনি পরিকল্পনা রয়েছে শাসকদলের। তিনি একে তৃণমূলের একটি সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক কৌশল বা ‘প্লে-বুক স্ট্র্যাটেজি’ বলে মন্তব্য করেছেন।

    পরিচয়পত্র পুনরায় যাচাই

    এই বিষয়ে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে (ECI) দ্রুত হস্তক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে তিনি বেশ কিছু পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছেন। নতুন পরিচয়পত্রধারী সাংবাদিকদের গতিবিধির ওপর কঠোর নজরদারি চালানো উচিত বলে দাবি করেছেন। শুধুমাত্র স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদেরই ভোটকেন্দ্রের নির্দিষ্ট পরিধির মধ্যে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার দাবি করেছেন। সেই সঙ্গে সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র পুনরায় যাচাই বা ‘সেকেন্ডারি ভেরিফিকেশন’-এর (I-PAC) ব্যবস্থা করার কথাও বলেন।

    শাসকদলের ওপর বাড়তি চাপ

    ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে এই ‘ভুয়ো প্রেস কার্ড’ ইস্যু রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি কয়লা পাচার মামলায় আইপ্যাকের অন্যতম শীর্ষকর্তা ভিনেশ চান্ডেলের গ্রেফতারি (I-PAC) এবং সংস্থার অন্যান্য আধিকারিকদের ইডি-র তলব নিয়ে ইতিমধ্যেই চাপানউতোর চলছে। এই আবহে শুভেন্দু অধিকারীর নতুন এই অভিযোগ শাসকদলের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

  • Delhi Terror Plot: খেলনা গাড়িতে বোমা! দিল্লি পুলিশের জালে ৪ জঙ্গি, রাজধানীতে হামলার ছক বানচাল

    Delhi Terror Plot: খেলনা গাড়িতে বোমা! দিল্লি পুলিশের জালে ৪ জঙ্গি, রাজধানীতে হামলার ছক বানচাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানী দিল্লিকে লক্ষ্য করে এক বড় জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা (Delhi terror plot) বানচাল করে দিল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা ও বিহার থেকে চার ‘র‌্যাডিক্যালাইজড’ যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে আইইডি (ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) এবং খেলনা গাড়িতে বোমা লাগিয়ে হামলা চালানোর সরঞ্জাম। পুলিশের অভিযোগ, তারা সংবেদনশীল স্থানগুলোর রেকি করেছিল, অনলাইন এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আরও লোককে নিয়োগের চেষ্টা করছিল এবং দিল্লিতে বড় ধরনের হামলার ছক কষছিল।

    বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ

    ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল ও মহারাষ্ট্র এটিএস-এর যৌথ অভিযানে মুম্বইয়ের কুর্লা ও খাদাভলি এলাকা থেকে দুজনকে প্রথমে আটক করা হয়। পরে তদন্তের সূত্র ধরে ওড়িশা ও বিহার থেকে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। আটক চারজনের মধ্যে দুজনের নাম মোসাব আহদাম ওরফে কালাম কল্যাণ এবং মোহাম্মদ হামাদ কোল্লারা। তারা জইশ-ই-মোহাম্মদ (জেএম) এবং আইএসআইএস-এর প্রভাবিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। অনলাইনে ‘মিশন খিলাফত’ ও ‘সোলজার্স অফ জিহাদ’-এর মতো গ্রুপের মাধ্যমে তারা র‌্যাডিক্যালাইজড হয়েছে। টেলিগ্রামের মতো এনক্রিপ্টেড অ্যাপে বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত বলে জানা গিয়েছে।

    জঙ্গিদের লক্ষ্যে ছিল রাম মন্দির, সংসদ ভবন

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা খেলনা গাড়ির ভিতরে আইইডি লুকিয়ে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা করছিল। এই পদ্ধতির উদ্দেশ্য ছিল নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট এড়িয়ে ভিড়াক্রান্ত এলাকায় পৌঁছে হামলা চালানো। তারা দিল্লির সংবেদনশীল স্থানগুলোর রেকি করেছিল এবং আইইডি তৈরির প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে সংবেদনশীল নথি, ডিজিটাল চ্যাট, বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ এবং একাধিক আইইডি। পুলিশের দাবি, ভুবনেশ্বরের শেখ ইমরান এমন কিছু অনলাইন গ্রুপ তৈরি করেছিল যেখানে “জিহাদ”, “খিলাফত” এবং সম্ভাব্য টার্গেট হিসেবে রাম মন্দির, সংসদ ভবন ও সামরিক স্থাপনা নিয়ে আলোচনা হত। অন্যদিকে, সোহেল একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট চালিয়ে যুবকদের উসকানি দিত এবং অর্থ সংগ্রহ করত। এছাড়াও, এক অভিযুক্ত দিল্লির লালকেল্লা-সহ কয়েকটি সংবেদনশীল স্থানে গিয়ে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ। গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে এই জঙ্গিদের ধরতে অভিযান চালায় স্পেশাল সেল।

    খেলনা গাড়ির মতো সাধারণ জিনিসে বিস্ফোরক

    এই গ্রেফতার দেশজুড়ে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অভিযানের এক বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। দিল্লি পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, “অনলাইন র‌্যাডিক্যালাইজেশন এখন নতুন চ্যালেঞ্জ। যুবকরা সোশ্যাল মিডিয়া ও এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এ ধরনের ছক কষছে। খেলনা গাড়ির মতো সাধারণ জিনিসকে অস্ত্র বানানোর চেষ্টা দেখে বোঝা যায়, জঙ্গিরা নতুন নতুন কৌশল নিচ্ছে।” তদন্তে আরও বড় নেটওয়ার্কের সন্ধান মিলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

LinkedIn
Share