Blog

  • Nandigram-Rejinagar By-Election: রেকর্ড গড়ে নন্দীগ্রামে ১,২২, ৭৫৩ ভোটে জয়ী হাসিরানি রথ, ৭৪ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত রেজিনগরেও জিতল বিজেপি

    Nandigram-Rejinagar By-Election: রেকর্ড গড়ে নন্দীগ্রামে ১,২২, ৭৫৩ ভোটে জয়ী হাসিরানি রথ, ৭৪ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত রেজিনগরেও জিতল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে বিধানসভা উপ নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে (Nandigram-Rejinagar By-Election) রেকর্ড মার্জিনে জয় বিজেপির। ১৫ রাউন্ড গণনার শেষে নন্দীগ্রামে ১,২২৭৫৩ ভোটে জয়ী হলেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। ১৫ রাউন্ডের শেষে রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ৭৫,৭৪৮ ভোটে জয়ী হয়েছেন। উপনির্বাচনের ফল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “দুই কেন্দ্রেই রাষ্ট্রবাদী শক্তি জিতেছে। সংখ্যালঘুরাও সরকারের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে নিয়েছেন।” নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর, উভয় কেন্দ্রেই নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের বহু যোজন পেছনে ফেলে দিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন গেরুয়া শিবিরের প্রার্থীরা।

    নন্দীগ্রামে শুভেন্দুকেও পিছনে ফেললেন হাসিরানি

    নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর রেকর্ড ভাঙলেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। উপ নির্বাচনে ১ লক্ষ ২০ হাজার ভোটের মার্জিনে জয়ী হলেন হাসিরানি। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ৮১ হাজারের বেশি ভোটের মার্জিনে জিতেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম থেকেও ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। দু’টি কেন্দ্রেই জেতেন তিনি। পরে ভবানীপুর রেখে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। রেজিনগরেও অনুরূপ ঘটনা ঘটে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি) বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ওই কেন্দ্রের পাশাপাশি লড়েছিলেন নওদা থেকেও। নওদা নিজের হাতে রেখে তিনি রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন । ফলে নির্বাচন কমিশনকে এই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের আয়োজন করতে হয়।

    রেজিনগরেও রেকর্ড

    ৭৪ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত রেজিনগরেও জিতল বিজেপি, ব্যবধান ৭৫ হাজার। গত ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর দুই কেন্দ্রে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবার উপনির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে প্রায় ৭৯.৩৯ শতাংশ এবং রেজিনগর কেন্দ্রে প্রায় ৭৮.৪২ শতাংশ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলেন। রেজিনগরের ফল ঘোষণার পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্ন থেকে বললেন, ”রেজিনগরে এত বড় জয় আসত না, যদি সংখ্যালঘুরা আমাদের সঙ্গে না থাকতেন । সংখ্যালঘুদের নামে যে মিথ্যাচার করা হয়েছিল, তাকে আমল না দিয়ে সঙ্গে থেকেছেন সংখ্যালঘুরা । বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাঁরা”। তিনি আরও বলেন, ১৯৭২ সালে কংগ্রেসের সময়ে নির্বাচনে যে দৃশ্য দেখা গেছিল , তার কোনওটাই এই নির্বাচনে দেখা যায়নি। এখন রাজ্যে এখন ভয়মুক্ত, ভরসার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সংখ্যালঘুরা সরকারের সঙ্গে থাকতে চায়। তাই তাঁরা বিজেপিতে ভোট দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংখ্যালঘুদের ডিটেনশন সেন্টারের যে ভয় দেখানো হয়েছিল। তা মিথ্যে প্রমাণিত হয়েছে। তাঁর কথায়, ”বাংলার মানুষ আর পচা শামুকে পা কাটতে চান না”। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রেজিনগরের সংখ্যালঘুরা বিজেপির সঙ্গে আছেন।

    সংখ্যালঘুরা সাড়া দিয়েছেন,বললেন শুভেন্দু

    আজ যখন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ফলাফল প্রকাশ হচ্ছে, তখন কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ফ্রেন্ডশিপ বানালিয়া’। এবিভিপি-র একটি অনুষ্ঠানে এদিন আরজি কর হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রবেশ করার সময় দুই আঙুলে জয়ের চিহ্ন দেখান তিনি। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে যেভাবে সংখ্যালঘু ভোট বিজেপির দিকে এসেছে, সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘ফ্রেন্ডশিপ বানালিয়া’, সংখ্যালঘুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে ফেলেছি। উপনির্বাচনের ভোটপ্রচারে গিয়ে সংখ্যালঘুদের বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভোটের ফল প্রকাশ হতেই সেই বন্ধুত্বের ছবি স্পষ্ট। সংখ্যালঘুরা আবেদনে সাড়া দিয়েছেন। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে এমনটাই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী। করজোড়ে সংখ্যালঘুদের ধন্যবাদ জানালেন তিনি। বলেন, “সরকারের বন্ধুত্বের হাত ধরেছেন সংখ্যালঘুরা, সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে বন্ধুত্ব করতে চান, আমি খুশি”।

    সংখ্যালঘু ফ্যাক্টর

    উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়ে শুভেন্দু বলেন, ” ভারতীয় জনতা পার্টিকে জিতিয়েছিলেন ফলতার মানুষ। তারপর দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন ছিল। এই উপনির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক ভোটে নন্দীগ্রাম থেকে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে হাসিরানি রথ বিপুল সংখ্যক ভোটে জয়যুক্ত হয়েছেন।” সংখ্যালঘু ভোট প্রসঙ্গে বলেন, “২০২১ সালের পর প্রথম নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ৬০টি বুথে ভারতীয় জনতা পার্টি লিড নিয়েছে। আমরা সরকারের সঙ্গে থেকে থেকে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে সামিল হওয়ার যে আবেদন করেছিলাম, তা গ্রহণ করেছেন। রেজিনগর কেন্দ্রেও ঠিক একইভাবে চূড়ান্ত ফল প্রায় এসে গিয়েছে। শাখারভ সরকারকে জনতা আশীর্বাদ করেছেন। আমার যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, নির্বাচন বিধি প্রত্যাহার হয়নি, তাই যেতে পারিনি। কারণ নির্বাচনী বিধি থাকলে হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারি না। তাই এখান থেকে রেজিনগরের ভোটারদের প্রণাম করছি।” বাংলার যে কোনও নির্বাচনেই সংখ্যালঘু ভোট একটা বড় ফ্যাক্টর। ২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বড় জয় পেয়ে রাজ্যে সরকার গঠন করে, যেখানে তাদের ভোটব্যাংকে বড় ধরনের মেরুকরণ ও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছিল। উপনির্বাচনের আগে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে বার্তা দিয়ে তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সরকারের সঙ্গে থাকার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উন্নয়ন তথা ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের পক্ষ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন, “সংখ্যালঘু ভোটারদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ এবং তাদের প্রধানমন্ত্রী মোদীর উন্নয়নের ধারায় সামিল হতে হবে।” তাতে সাড়াও মিলল।

     

     

     

     

  • Flydubai Terror Attack: বীরত্বের স্বীকৃতি, ইজরায়েলের সর্বোচ্চ অসামরিক সাহসিকতা পুরস্কার পাচ্ছেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছর

    Flydubai Terror Attack: বীরত্বের স্বীকৃতি, ইজরায়েলের সর্বোচ্চ অসামরিক সাহসিকতা পুরস্কার পাচ্ছেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাঝ আকাশে বিমান ছিনতাই ও দুর্ঘটনার চেষ্টা রুখে দেওয়ার সাহসিকতার জন্য ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করতে চলেছে ইজরায়েল। তাঁকে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড ফর সিভিলিয়ান হিরোইজম’ বা অসামরিক বীরত্বের জন্য রাষ্ট্রপতির পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেছেন ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। ইজরায়েলের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা প্রতিহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন ছয় ইজরায়েলি যাত্রী। বৃহস্পতিবার তাঁদের হাতে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল ফর সিভিলিয়ান হিরোইজম’ তুলে দেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। সেই অনুষ্ঠানেই ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেন তিনি।

    ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতার প্রশংসা

    হারজগ বলেন, ক্যাপ্টেন মাচ্ছর যাতে দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন, সেই কামনা করছেন তাঁরা। তাঁর কথায়, “ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের অসামান্য সাহস, বীরত্ব এবং পেশাদারিত্ব এক ভয়াবহ বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছে। তিনি সুস্থ হয়ে উঠলে ইজরায়েলের জনগণের পক্ষ থেকে তাঁকে এই সম্মান প্রদান করা আমার কাছে গর্বের বিষয় হবে।” এই ঘটনায় সাহসিকতার পরিচয় দেওয়ার জন্য যে ছয় ইজরায়েলি নাগরিককে সম্মানিত করা হয়েছে, তাঁরা হলেন তালি মানেস, জভিকা মানেস, ইয়ানিভ হায়ুন, চিকিৎসক শোটা মুসায়েভ, আসাফ রাজুয়ান এবং অর পার্দিলভ।

    মাঝ আকাশে প্রাণঘাতী হামলা

    গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানে ঘটে যায় এক ভয়াবহ ঘটনা। অভিযোগ, বিমানের ওমানি সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি ককপিটের ভিতরে ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের উপর কুড়ুল দিয়ে হামলা চালান। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বিমানটিকে ভেঙে ফেলা। গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও পরিস্থিতির মোকাবিলা করেন ক্যাপ্টেন মাচ্ছর। তিনি ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এর পর যাত্রী এবং বিমানে থাকা কর্তব্যরত নন, এমন কয়েকজন ক্রু সদস্য ককপিটে ঢুকে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। এই সংঘর্ষের জেরে বিমানটি দ্রুত নীচের দিকে নামতে শুরু করে। মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার ফুট নীচে নামে বিমানটি। পরে ছিনতাই-সংক্রান্ত জরুরি সংকেত পাঠানো হয়। শেষ পর্যন্ত বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে নিয়ে গিয়ে জরুরি অবতরণ করানো হয়। বিমানে থাকা ১৮০ জন যাত্রী ও কর্মী নিরাপদে নেমে আসেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    আবুধাবির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাইলট

    বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আবুধাবির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। গুরুতর আঘাতের পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি। বুধবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, মাচ্ছরের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে এবং চিকিৎসায় তিনি ভালো সাড়া দিচ্ছেন। তাঁর কথায়, “ক্যাপ্টেন মাচ্ছর আবুধাবির হাসপাতালে রয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ভারতের দূতাবাস তাঁর পরিবার, চিকিৎসক, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।” এর আগে মঙ্গলবারও আবুধাবিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের তরফে তাঁর স্বাস্থ্যের বিষয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে জানানো হয়, ক্যাপ্টেন স্মিতের শারীরিক অবস্থার ধারাবাহিক উন্নতি হচ্ছে। তাঁর পরিবার, চিকিৎসক এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে দূতাবাস নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে।

    সাহসিকতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

    মাঝ আকাশে প্রাণঘাতী হামলার মুখেও নিজের কর্তব্যে অবিচল থেকে বড়সড় বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। তাঁর এই সাহসিকতাকে স্বীকৃতি জানিয়ে ইজরায়েলের রাষ্ট্রপতির বিশেষ সম্মান প্রদানের ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলে তাঁর ভূমিকার গুরুত্ব আরও একবার তুলে ধরল। এখন সুস্থ হয়ে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছেন ক্যাপ্টেন মাচ্ছর। তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে ভারতীয় দূতাবাসের আধিকারিকরা।

  • Ganga Underwater Road Tunnel: গঙ্গার নীচে ট্রাক টানেল তৈরিতে আগ্রহী আদানি! ১১ হাজার কোটির প্রকল্প ঘিরে বড় সম্ভাবনা

    Ganga Underwater Road Tunnel: গঙ্গার নীচে ট্রাক টানেল তৈরিতে আগ্রহী আদানি! ১১ হাজার কোটির প্রকল্প ঘিরে বড় সম্ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলায় ১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের আশ্বাস দিয়েছেন গৌতম আদানি। দার্জিলিংয়ের পাহাড়ে রোপওয়ে নির্মাণ থেকে নিউটাউনে হাসপাতাল, বাংলায় বিনিয়োগের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে আদানি গোষ্ঠী। এবার কলকাতা ও হাওড়ার মধ্যে গঙ্গার নীচ দিয়ে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলের জন্য প্রস্তাবিত সড়ক টানেল প্রকল্পেও আগ্রহ দেখাল শিল্পগোষ্ঠীটি। নবান্ন সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে এই প্রকল্পে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি। প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হলে তাতে অংশ নিতে প্রস্তুত গোষ্ঠী। তবে এখনও নির্মাণের বরাত বা বিনিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

    মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে টানেল প্রকল্প নিয়ে আলোচনা

    সূত্রের দাবি, কলকাতা সফরে এসে ‘সৌজন্য’ ভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন গৌতম আদানি ও তাঁর প্রতিনিধিরা। সেখানে কলকাতা বন্দর থেকে হাওড়ার দিকে পণ্য পরিবহণের বিকল্প পথ হিসেবে প্রস্তাবিত তারাতলা–সাঁকরাইল আন্ডারওয়াটার সড়ক টানেল প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রকল্পের পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পরে আদানি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা দরপত্রে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।

    সূত্রের আরও দাবি, এই প্রকল্প নিয়ে আগাম প্রস্তুতি নিয়েই বৈঠকে এসেছিলেন আদানি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা। যদিও সম্ভাব্য বিনিয়োগের অঙ্ক, প্রকল্পে অংশগ্রহণের ধরন কিংবা নির্মাণের সময়সীমা নিয়ে এখনও নির্দিষ্ট কোনও তথ্য সামনে আসেনি।

    ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলায় এক লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের পরিকল্পনা

    আদানিদের এই আগ্রহের পিছনে রয়েছে বাংলায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের বৃহত্তর পরিকল্পনা। গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিউটাউনে আদানি আরোগ্য মন্দিরের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে গৌতম আদানি জানিয়েছিলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করতে চায় তাঁর গোষ্ঠী।

    সেই ঘোষণায় বন্দর, পণ্য পরিবহণ, সড়ক, সেতু-সহ একাধিক পরিকাঠামো ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বণ্টন, সিমেন্ট, রোপওয়ে এবং হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টারের মতো ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য বিনিয়োগের কথা উঠে এসেছিল।

    নিউটাউনে হাসপাতাল নির্মাণের পাশাপাশি মহাকরণ সংস্কার ও দার্জিলিংয়ে রোপওয়ে তৈরির সম্ভাবনা নিয়েও আদানি গোষ্ঠীর আগ্রহের কথা সামনে এসেছে। এবার সেই তালিকায় গঙ্গার নীচ দিয়ে সড়ক যোগাযোগের প্রস্তাব যুক্ত হওয়ায় রাজ্যে গোষ্ঠীটির সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিধি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    কেন প্রয়োজন গঙ্গার নীচে সড়ক টানেল?

    কলকাতা বন্দরের পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করাই প্রস্তাবিত টানেল প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। বর্তমানে বন্দরে আসা এবং বন্দর থেকে বেরিয়ে যাওয়া ট্রাক ও কন্টেনারবাহী গাড়িকে শহরের একাধিক ব্যস্ত রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। গার্ডেনরিচ, খিদিরপুর, হেস্টিংস এবং বিদ্যাসাগর সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে চলাচলের ফলে অনেক সময় যানজটের মুখে পড়ে পণ্যবাহী গাড়ি।

    এর সঙ্গে রয়েছে ভারী যানবাহন চলাচলের সময়সীমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ। ফলে বন্দরের পণ্য নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া অনেক ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

    এই পরিস্থিতিতে গঙ্গার নীচ দিয়ে বিকল্প সড়কপথ তৈরি করা গেলে কলকাতা বন্দরের সঙ্গে হাওড়ার দিকের জাতীয় সড়ক ব্যবস্থার যোগাযোগ আরও সহজ হতে পারে। শহরের ব্যস্ত রাস্তার উপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি ভারী যানবাহনের চলাচলও আরও মসৃণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যানজট কতটা কমবে এবং প্রকল্পটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত নকশা ও পরিবহণ পরিকল্পনার উপর।

    ১১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প, কী ছিল প্রাথমিক পরিকল্পনা?

    গঙ্গার নীচ দিয়ে সড়ক টানেল তৈরির ভাবনা নতুন নয়। কয়েক বছর ধরেই কলকাতা বন্দরকে নদীর পশ্চিম পাড়ের জাতীয় সড়ক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পিএম গতিশক্তি পরিকল্পনার আওতায় এই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়টিও বিবেচনায় ছিল।

    প্রায় দু’বছর আগে করা সমীক্ষায় প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। সেই সময়ে রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল জানিয়েছিলেন, সম্ভাব্য রুটের খসড়া রিপোর্ট বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে জমা পড়েছে। প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও শুরু করার পরিকল্পনা ছিল।

    প্রাথমিক সমীক্ষা অনুযায়ী, টানেল এবং তার সঙ্গে যুক্ত সড়ক মিলিয়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব ছিল। অর্থাৎ, সম্পূর্ণ ১৫ কিলোমিটার পথ নদীর তলা দিয়ে যাওয়ার কথা নয়। কলকাতার দিকে মেটিয়াবুরুজ এবং হাওড়ার দিকে বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন এলাকায় সংযোগ তৈরির সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছিল।

    তবে বর্তমানে আলোচনায় থাকা তারাতলা–সাঁকরাইল প্রকল্পের চূড়ান্ত রুট, প্রবেশ ও প্রস্থানপথ এবং মোট দৈর্ঘ্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। অনুমোদিত নকশা ও বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট তৈরি হলে এই বিষয়গুলি স্পষ্ট হবে। একইভাবে, আগের সমীক্ষায় উল্লেখ করা ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যয়ই চূড়ান্ত প্রকল্পমূল্য হবে কি না, তা-ও এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

    আদানির বিনিয়োগ পরিকল্পনায় কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প?

    গৌতম আদানির ঘোষিত বিনিয়োগ পরিকল্পনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু পরিকাঠামো। উন্নত বন্দর, সড়ক ও সেতুর সঙ্গে পণ্য পরিবহণ এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটিয়ে শিল্পের বিকাশ ঘটানোই এই পরিকল্পনার মূল ভাবনা।

    নিউটাউনের অনুষ্ঠানে গৌতম আদানি বলেছিলেন, “পরিকাঠামো লক্ষ লক্ষ মানুষের সম্ভাবনাকে বদলে দিতে পারে। আদানি গোষ্ঠীতে আমরা যা করি, তার কেন্দ্রেই রয়েছে পরিকাঠামো।”

    তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা ছিল, উন্নত বন্দর পণ্য পরিবহণকে শক্তিশালী করে। সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা শিল্পকে আকর্ষণ করে এবং শিল্পের বিকাশের সঙ্গে বাড়ে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ। এর জন্য প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং উন্নত ডিজিটাল পরিকাঠামোও।

    ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকেও পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন আদানি। তাঁর মতে, ভারতের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ এবং বঙ্গোপসাগরের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে পৌঁছনোর সুযোগ রাজ্যকে বাড়তি সুবিধা দেয়।

    সেই দৃষ্টিকোণ থেকে কলকাতা বন্দর ও হাওড়ার দিকের জাতীয় সড়কের মধ্যে দ্রুত পণ্য পরিবহণের ব্যবস্থা গড়ে উঠলে তা বন্দরনির্ভর শিল্প, লজিস্টিক পরিষেবা এবং বাণিজ্যিক পরিবহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এই সম্ভাবনার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে প্রকল্পের অনুমোদন, অর্থের জোগান এবং নির্মাণের অগ্রগতির উপর।

    আগ্রহ প্রকাশ, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি

    নবান্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, আপাতত গঙ্গার নীচে প্রস্তাবিত সড়ক টানেলের দরপত্রে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে আদানি গোষ্ঠী। কিন্তু এই আগ্রহকে প্রকল্পের বরাত পাওয়া বা নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

    প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সম্ভাব্যতা, সরকারি অনুমোদন এবং দরপত্রের শর্ত চূড়ান্ত হওয়ার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। আদানি গোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত দরপত্রে অংশ নেয় কি না, অংশ নিলে কী ধরনের প্রস্তাব দেয়, সেদিকেও নজর থাকবে।

    একদিকে নিউটাউনে হাসপাতাল, অন্যদিকে দার্জিলিংয়ে রোপওয়ে এবং এবার গঙ্গার নীচে সড়ক টানেল—পরিকাঠামো ক্ষেত্রে আদানি গোষ্ঠীর আগ্রহের তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলায় এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের ঘোষণার পর এখন বড় প্রশ্ন, এই সম্ভাব্য প্রকল্পগুলির মধ্যে কোনগুলি বাস্তবে রূপ পায় এবং রাজ্যের পরিকাঠামো ও কর্মসংস্থানে কতটা প্রভাব ফেলে।

  • Elderly Health Care: বাড়িতে বয়স্ক বাবা-মা? পুজোর সময় বিপদ এড়াতে আগাম এই ৮টি প্রস্তুতি নিন

    Elderly Health Care: বাড়িতে বয়স্ক বাবা-মা? পুজোর সময় বিপদ এড়াতে আগাম এই ৮টি প্রস্তুতি নিন

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বাতাসে এখন পুজোর গন্ধ! ফুটে ওঠা পদ্ম আর মাঠের কাশফুল জানান দিচ্ছে মা আসছেন! আর মাত্র কয়েক দিন। শহর থেকে গ্রাম, উৎসবের আনন্দে সেজে উঠেছে‌। কিন্তু সব আনন্দের মাঝেও উদ্বেগ রয়েছে! বিশেষত বাড়িতে বয়স্ক বাবা-মায়ের স্বাস্থ্য নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন। পুজোর মরশুমে এলাকার পরিচিত চিকিৎসক, এমনকি নানান হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মীদের অনেকেই ছুটিতে থাকেন। ফলে, সহজেই স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। এমনকি পুজোর সময় বিশেষ দিনে ওষুধের দোকান ও বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য সঙ্কট তো যেকোনো সময় হতে পারে! তখন? এই প্রশ্ন ভাবিয়ে তোলে!
    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আগাম কিছু পরিকল্পনা করে রাখলে এবং কয়েকটি ব্যাপারে বাড়তি নজরদারি ও সচেতনতা বজায় রাখলে, পুজোর দিনগুলোতে বড় বিপদ আটকানো যেতে পারে। পরিবারের বয়স্ক সদস্যেরাও যাতে নির্বিঘ্নে পুজোর দিনগুলোতে আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, তার জন্য প্রয়োজন বাড়তি একটু সচেতনতা।

    পুজোর আগে কী পরিকল্পনা করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা!

    অধিকাংশ পরিবারের বয়স্ক সদস্যকে কোনো একজন নির্দিষ্ট চিকিৎসক দেখেন। তাঁর পরামর্শ মেনেই তিনি নিয়মিত ওষুধ খান। তাঁর সঙ্গে আগাম আলোচনা জরুরি। রোগীর শারীরিক অবস্থা কেমন,‌ কোন ধরনের বিপদ ঘটতে পারে, কোন দিকে বাড়তি নজর রাখতে হবে, সেগুলো চিকিৎসক সবচেয়ে ভালো পরামর্শ দিতে পারবেন। রোগীর শারীরিক পরিস্থিতির নিরিখে, সেগুলো বুঝতে পারলে বড় সঙ্কট এড়ানো সহজ হয়‌।

    ওষুধের তালিকা স্পষ্ট থাকা জরুরি!

    বহু পরিবারেই বয়স্কেরা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ কিংবা কিডনির অসুখে ভুগছেন। তাঁদের নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়। এই ওষুধ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। কোন ওষুধ কতটা পরিমাণে কখন খেতে হবে, সে ব্যাপারে চিকিৎসকের কাছে পরিষ্কার জেনে নেওয়া দরকার। ওষুধের তালিকা স্পষ্ট থাকা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে বাড়িতে রাখা দরকার। কারণ, পুজোর সময়ে অনেকক্ষেত্রে ওষুধের দোকান বন্ধ রাখা হয়। ফলে, হঠাৎ যাতে সমস্যা না হয়, সেটা দেখা জরুরি।

    জরুরি পরিস্থিতিতে কী করবেন, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা!

    রোগীর কোন ধরনের সমস্যা রয়েছে, কিডনি হোক বা হৃদরোগ, কখন বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে, কোন পরিস্থিতিতে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা জরুরি। কারণ, সেই অসচেতনতা অনেক সময় বড় বিপদ ঘটায়। তাই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। তাহলে বাড়তি উদ্বেগ কমবে আবার বিপদ ঘটলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ হবে‌।

    প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কিডনি, হার্টের সমস্যা বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে পুজোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো শারীরিক পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি। কারণ, শারীরিক পরীক্ষা করালে বিপদ সম্পর্কে আন্দাজ পাওয়া সহজ হয়। ফলে পরিকল্পনা সেই মতো করা যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কিনা, উচ্চ রক্তচাপ বাড়তি বিপদ তৈরি করছে কিনা কিংবা কিডনির সমস্যা থাকলে কতখানি সঙ্কট হতে পারে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। তাই আগাম আন্দাজ পেতে কিছু শারীরিক পরীক্ষা বাড়তি সাহায্য করবে।

    হাসপাতাল এবং অ্যাম্বুলেন্সের যোগাযোগ নম্বর এবং বিকল্প চিকিৎসকের খোঁজ রাখা জরুরি!

    দুর্গাপুজোর সময় অনেকেই ছুটিতে থাকেন। আবার কেউ কেউ কর্মরত থাকেন। এলাকায় বিকল্প কোন চিকিৎসকদের পুজোর মরশুমে সহজে পাওয়া যেতে পারে, সেই যোগাযোগ নম্বর রাখা জরুরি। তাহলে বড় সমস্যা হলে সহজেই পরামর্শ নেওয়া যাবে। আবার স্থানীয় কয়েকটি হাসপাতাল এবং অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর রাখা জরুরি। কারণ গভীর রাতে বা এমন কোনো সময় হঠাৎ সমস্যা হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য এগুলো অত‌্যন্ত জরুরি। পুজোর দিনে সেগুলোর পরিষেবা পাওয়া যাবে কিনা, সেটা আগাম যাচাই করে রাখতে হবে।

    প্রস্তুত রাখতে হবে চেক লিস্ট!

    • বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বাড়িতে বয়স্কেরা থাকলে পুজোর সময় একটা চেক লিস্ট রাখা জরুরি। অর্থাৎ, হঠাৎ বড় বিপদ হলে যাতে সহজেই সামলে দেওয়া যায়, তাই আগাম কয়েকটি জিনিস তৈরি করে রাখতে হবে।
      তাঁদের পরামর্শ,
      ● ১. প্রেসক্রিপশন ও ওষুধের তালিকা এমন জায়গায় রাখতে হবে, যাতে সহজেই পাওয়া যায়।
      ● ২. বয়স্ক সদস্য ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যায় আক্রান্ত হলে গ্লুকোমিটার, রক্তচাপ মাপার যন্ত্র বাড়িতে রাখতে হবে। যাতে আচমকা শর্করা বা রক্তচাপ ওঠানামা করছে কিনা সেটা যাচাই করতে হবে।
      ● ৩. পরিচয় পত্র ও স্বাস্থ্য বিমার কার্ড নির্দিষ্ট জায়গায় রাখতে হবে, যাতে বড় বিপদ হলেও পরিস্থিতি সামলানো সহজ হয়।
      ● ৪. হাসপাতাল ও ব্লাড ব্যাঙ্কের মতো জরুরি পরিষেবা পাওয়া যায়, এমন জায়গায় নম্বর ঠিকমতো জেনে রাখা দরকার। যাতে আপদকালীন সময়ে সাহায্য পাওয়া সহজ হয়।

    উৎসবের দিনগুলোতেও জীবন যাপনে বাড়তি নজর!

    উৎসবের দিনে অনিয়ম হয়ে যায়। কিন্তু বাড়ির বয়স্কদের সুস্থ রাখতে জীবন যাপনে নজরদারি প্রয়োজন। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, উৎসব বা আনন্দের দিনে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া, বিশেষত অনিয়মিতভাবে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া যাতে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। বয়স্কদের অতিরিক্ত তেল মশলা জাতীয় খাবার না দেওয়া বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে।
    বয়স্কদের পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কিনা সেদিকে নজর রাখতে হবে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম না হলে বয়স্কদের অনিয়মিতভাবে রক্তচাপ ওঠানামা করতে পারে। ফলে, নানান শারীরিক সমস্যা হতে পারে। তাই আনন্দ উদযাপনের মধ্যেও বয়স্কদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের দিকটি নজরে রাখতে হবে।
    জল খাওয়ার দিকে নজর দিতে হবে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা ‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, বহু অসুখ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণে জল না খাওয়া। তাই পরিবারের বয়স্কেরা ঠিকমতো জল পান করছেন কিনা সেটাও নজরে রাখা জরুরি।

    পড়ে যাওয়া আটকাতে বাড়তি সতর্কতা!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স্কদের বিপদ বাড়িয়ে দেয় হঠাৎ পড়ে যাওয়া। তাই বাড়িতে বয়স্ক বাবা-মা থাকলে অ্যান্টি স্কিপ ম্যাট লাগিয়ে রাখা দরকার। তাছাড়া মাথা ঘোরা বা এমন ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে কখনোই একা ছাড়া উচিত নয়। বিছানা থেকে শৌচালয় যাওয়ার পথে পর্যাপ্ত আলো রাখতে হবে। আবার বাথরুম যাতে শুকনো থাকে সেদিকেও নজর দিতে হবে। রাতের দিকে একা শৌচালয়ে যাওয়া চলবে না। বরং পরিবারের কেউ সঙ্গে থাকা দরকার। যাতে বড় বিপদ না হয়।

    কখন বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে?

    পরিবারের বয়স্ক সদস্য হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে গেলে কিংবা শ্বাসকষ্টের‌ মতো উপসর্গ দেখা দিলে বাড়তি সতর্ক হতে হবে। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা বারবার বমির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেয়ে হবে। অপেক্ষা করা উচিত নয়। বরং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Durga Puja 2026: ষষ্ঠী থেকে দশমী শিয়ালদা-হাওড়া ডিভিশনে সারা রাত ট্রেন, বড় সিদ্ধান্ত রেলের

    Durga Puja 2026: ষষ্ঠী থেকে দশমী শিয়ালদা-হাওড়া ডিভিশনে সারা রাত ট্রেন, বড় সিদ্ধান্ত রেলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোয় (Durga Puja 2026) যাঁরা রাত জেগে মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা দর্শনের কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য ভাল খবর নিয়ে এল পূর্ব রেল (Eastern Railway)। ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত দর্শনার্থীদের অনায়াস যাতায়াত সুনিশ্চিত করতে এবং স্টেশনগুলির উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে একগুচ্ছ বাড়তি ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাওড়া ডিভিশন। শুধু দিনে বা সন্ধ্যায় নয়, রাতে ঠাকুর দেখে নিরাপদে বাড়ি ফেরার সুবিধার্থে বিশেষ নাইট লোকাল ট্রেনের পরিষেবাও রাখা হচ্ছে। এর পাশাপাশি যাত্রীদের সুরক্ষার স্বার্থে স্টেশন প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা, অতিরিক্ত টিকিট কাউন্টার চালু করা এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা পরিষেবা সুনিশ্চিত করার মতো একাধিক প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

    নাইট লোকাল পরিষেবা ও যাত্রী নিরাপত্তা

    রেল সূত্রে খবর, পুজোর দিনগুলিতে রাত ১১টা থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত লোকাল ট্রেন পরিষেবা পাওয়া যাবে। পুজোর দিনগুলিতে একাধিক স্পেশাল ট্রেনের ঘোষণাও করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বার শিয়ালদা ডিভিশনে স্পেশাল ট্রেনের সংখ্যা বেড়েছে। পুজোর আগে লালগোলা ডিভিশনের জন্য স্পেশাল ট্রেন দেওয়া হয়েছে। রয়েছে আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। শিয়ালদা স্টেশনে প্রফুল্ল দ্বার, নর্থ, মেন, সেন্ট্রাল ও সাউথ গেট দিয়ে ঢোকার ও বেরনোর নির্দিষ্ট ব্যবস্থা হয়েছে। একটি বিশেষ ২৪ ঘণ্টা ওয়ার রুম চালু থাকবে। সিসিটিভি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ চলবে। গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে স্ট্যান্ডবাই ট্রেন রেক, রিজার্ভ লোকো ক্রু, মেডিক্যাল বুথ, হেল্প ডেস্ক এবং মোবাইল মেইনটেন্যান্স টিম থাকছে। শিয়ালদা, বালিগঞ্জ ও দমদম স্টেশনে অতিরিক্ত শৌচাগার ব্লক তৈরি হয়েছে। শিয়ালদা ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (DRM) রাজীব সাক্সেনা বলেন, ‘দুর্গাপুজো বাংলার সবচেয়ে বড় উৎসব। প্রত্যেক দর্শনার্থীর জন্য নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করাই অগ্রাধিকার। পুজোর সময়ে যাত্রীদের যাতে কোনওরকম অসুবিধা না হয়, তার জন্য আমাদের সব ফ্রন্টলাইন টিম ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত রয়েছে।’

    কখন কখন চলবে বিশেষ ট্রেন

    ১৬-২১ অক্টোবর: মোট ৫১টি স্পেশাল ট্রেন চলবে। গত বছর চলেছিল ৩১টি স্পেশাল ট্রেন। এগুলির মধ্যে যাত্রীদের সুবিধার জন্য মেন, নর্থ ও সাউথ সেকশনে ৩৮টি ওভারনাইট স্পেশাল এমু পরিষেবা চলবে। সন্ধ্যার সময়ে ১৩টি স্পেশাল ট্রেন চলবে।

    ১০-১৫ অক্টোবর: শিয়ালদা–লালগোলা সেকশনে প্রি-পুজো স্পেশাল ট্রেন চালানো হবে। এক্ষেত্রে চারটি স্পেশাল এমু ট্রেন চালানো হবে। পুজোর দিনে দুপুর ২টোর পর শহরতলির সব মেমু ও এমু ট্রেন সব স্টেশনে দাঁড়াবে। অর্থাৎ গ্যালোপিং ট্রেন থাকছে না।

    হাওড়া ডিভিশনেও বাড়তি নাইট পরিষেবা

    পুজো চলাকালীন হাওড়া স্টেশনে প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ লক্ষ মানুষের সমাগম হতে পারে বলে আগাম আঁচ করছেন আধিকারিকরা। ইতিমধ্যেই হাওড়া ডিভিশনের ওপর দিয়ে মোট ২৫ জোড়া পুজো স্পেশাল ট্রেন চলাচল করছে। ১৭ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত মোট সাত জোড়া বিশেষ দূরপাল্লার ট্রেন যাতায়াত করবে। এর পাশাপাশি স্থানীয় যাত্রীদের কথা ভেবে সাত জোড়া বিশেষ ইএমইউ (EMU) লোকাল ট্রেন চালুর বন্দোবস্ত করা হয়েছে। বিশেষ নাইট লোকাল ট্রেনের পরিষেবাও রাখা হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষের আশা, এই সমস্ত অতিরিক্ত ট্রেনের দৌলতে উৎসবের দিনগুলিতে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানো অনেক বেশি মসৃণ ও আরামদায়ক হবে। এছাড়া, যাত্রীদের সুরক্ষার স্বার্থে স্টেশন প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা, অতিরিক্ত টিকিট কাউন্টার চালু করা এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা পরিষেবা সুনিশ্চিত করার মতো একাধিক প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

  • Suvendu Adhikari: ভয়ঙ্কর অবস্থা ভুতনির! বন্যা-ভাঙন রোধে কেন্দ্রের কাছে ৩৩০০ কোটির প্রকল্পের প্রস্তাব শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ভয়ঙ্কর অবস্থা ভুতনির! বন্যা-ভাঙন রোধে কেন্দ্রের কাছে ৩৩০০ কোটির প্রকল্পের প্রস্তাব শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদার মানিকচকের ভুতনি ও সংলগ্ন এলাকার ভয়ংকর বন্যা (Malda flood)এবং নদী ভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আশ্বাস দিলেন আর এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না। ভাঙন ও বন্যা রোধে ৩৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প কেন্দ্রকে পাঠানো হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু। বৃহস্পতিবার কপ্টারে ভুতনি এবং রতুয়ার গঙ্গার ভাঙ্গন ও বন্যা পরিস্থিতির খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরে মানিকচক ব্লকের মথুরাপুর বিএসএস হাইস্কুল মাঠে এক অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে চেক তুলে দেন। প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী এই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করলেন।

    ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা

    ভুতনির এই ধংসলীলা দেখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রায় ১,৪০০ মিটার বাঁধ গঙ্গা গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। বিগত দিনে বাম ও তৃণমূল সরকার ভুতনিকে বাঁচাতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। তবে এবার দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ কাটাতে স্থায়ী সমাধানের পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মথুরাপুর বিএসএস হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক সরকারি অনুষ্ঠানে সভা মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, বন্যা ও ভাঙনে সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিকদের ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্তদের ৯০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এই আর্থিক অনুদানের পাশাপাশি আসন্ন দুর্গোৎসব উপলক্ষে দুর্গতদের নতুন পোশাক, মশারি, ত্রিপল ও ৫ দিনের রেশন সামগ্রী প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রায় ২৪২ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন মানিকচক ব্লকের ভুতনি, ইংরেজবাজার ব্লকের মিল্কি, খাসকোল এবং রতুয়া ১ ব্লকের বিলাইমারি ও মহানন্দাটোলা এলাকার প্রায় ২৪,৫৯৫টি বানভাসি পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করা হয়। এদিনের এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সেচ দফতরের প্রতিমন্ত্রী জোয়েল মুর্মু, জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর, পুলিশ সুপার অনুপম সিং সহ প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা।

    ভুতনি বন্যা ও ভাঙন ঠেকাতে পদক্ষেপ

    এ দিন শুভেন্দু বলেন, ‘ভুতনির প্রায় ১,৪০০ মিটার বাঁধ উড়ে গিয়েছে। যার ফলে লক্ষাধিক মানুষকে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। ইতিমধ্যে কানপুরের আইআইটি বিশেষজ্ঞরা ভুতনির বন্যা ও ভাঙন ঠেকাতে স্থায়ী সমাধানের জন্য তদারকি করে গিয়েছেন। আশা করছি এই সমস্যা আগামী দিনে আর হবে না।’ তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ৩৩০০ কোটি টাকার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে কেন্দ্র ৫০০ কোটি টাকার অনুমোদন করেছে। এর পাশাপাশি রাজ্যে ১২৪৮ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে নতুন করে এক লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের বার্তাও দিয়েছেন তিনি।

  • Bhagwat-Suvendu Meeting: বর্ধমানে মোহন ভাগবতের সঙ্গে বৈঠক শুভেন্দুর, এক ঘণ্টায় নানা বিষয়ে আলোচনা

    Bhagwat-Suvendu Meeting: বর্ধমানে মোহন ভাগবতের সঙ্গে বৈঠক শুভেন্দুর, এক ঘণ্টায় নানা বিষয়ে আলোচনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)-এর সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পশ্চিমবঙ্গে সংগঠনকে মজবুত করতে তিন দিনের রাজ্য সফরে এসেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। বৃহস্পতিবার থেকে বর্ধমানের উল্লাসের মধ্যবঙ্গ প্রান্ত কার্যালয়ে শুরু হয়েছে সাংগঠনিক ‘একত্রীকরণ’ কর্মসূচি ও সাংগঠনিক বৈঠক। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গে আরএসএসের বিস্তার কেমন, শাখার সংখ্যা বাড়ছে কি না, মূলত সেটাই বুঝতে চাইছেন ভাগবত।

    নানা বিষয়ে আলোচনা ভাগবত-শুভেন্দুর

    বৃহস্পতিবার, রাতে বর্ধমানের আরএসএস কার্যালয়ে গিয়ে মোহন ভাগবতের সঙ্গে বৈঠক করেন শুভেন্দু। প্রায় এক ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয় দু’জনের। সূত্রের খবর, রাজ্য সরকারের গত পাঁচ মাসের কাজকর্ম থেকে শুরু করে সাংগঠনিক বিষয়, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সূত্রের খবর, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর গত পাঁচ মাসে কী কী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য মোহন ভাগবতের সামনে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে পাশাপাশি, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর আরএসএস-এর প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়ছে বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়। যাঁরা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, তা নিয়েও কথা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তাঁর সঙ্গে বৈঠক সেরে রাত ৯টার পর বর্ধমান থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    গীতা পাঠের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ, দুর্গাপুজো থেকে সংখ্যালঘু প্রসঙ্গ

    শুধু সাংগঠনিক বিষয় নয়, রাজ্যের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। কলকাতার পাশাপাশি জেলার দুর্গাপুজোগুলিকেও আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে কথা হয়েছে। এছাড়া, রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়নের দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে বলে সূত্রের খবর। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগের প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আগামী ২৯ ডিসেম্বর কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে গীতা পাঠের কর্মসূচি রয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য মোহন ভাগবতকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    সেবামূলক কর্মসূচির উপর জোর

    এদিন সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গেও মত বিনিময় করেন ভাগবত। সূত্রের দাবি, রাজ্যে সেবামূলক কর্মসূচির সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন মোহন ভাগবত। সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে সমাজসেবামূলক কাজের উপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার উল্লাসের প্রান্ত কার্যালয়ে কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পরে বিকেলে বর্ধমান মডেল স্কুলেও একটি সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নেন ভাগবত। সেখানে আরএসএসের মুখ্য শিক্ষক ও কার্যবাহীদের নিয়ে কিছু সময় শরীরচর্চা করেন এবং তাঁদের সঙ্গে সঙ্ঘের বিস্তার নিয়ে আলোচনা করেন। এখানে মূলত একত্রীকরণ কর্মসূচি’ ছিল সঙ্ঘ প্রধানের।

    ১০২তম প্রতিষ্ঠা দিবসের আগেই রাজ্যে ভাগবত

    আরএসএস সূত্রে খবর, বৈঠকে সংঘের প্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ভাগবত। আরও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে বলেছেন। ১৯২৫ সালের বিজয়া দশমীতে সংঘের প্রতিষ্ঠা। ২০২৫ সাল জুড়ে গোটা দেশে ‘শতাব্দী বর্ষ’ পালন করছিল সংঘ। তার অঙ্গ হিসেবে সামাজিক কর্মসূচি এবং জনসংযোগ বৃদ্ধিতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছিল। সে সব কর্মসূচির বেশ কয়েকটি ২০২৬ সালেও চলছিল। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তেও সংঘের নানা জনসংযোগ কর্মসূচি হয়েছিল গত এক বছরে। তাতে লাভ কতটা হল, তৃণমূল স্তরে সংগঠনের কী অবস্থা, রাজ্যে সংঘের শাখা কতটা বিস্তার পেল, তার হিসাবও নিয়েছেন ভাগবত। সংঘের ১০২তম প্রতিষ্ঠা দিবসের সপ্তাহ দুয়েক আগেই তিনি রাজ্যে এসেছেন। শুক্রবার বর্ধমানের সংঘ কার্যালয়েই থাকবেন। সেখানে একাধিক সাংগঠনিক বৈঠক হওয়ার কথা।

    শাখার সংখ্যা ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার

    জানা গিয়েছে, আজ শুক্রবারও একাধিক কর্মসূচি রয়েছে মোহন ভাগবতের। তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেন বিজেপি নেতা ও রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। থাকতে পারেন বিজেপি নেতা অমিতাভ চক্রবর্তীও। তাঁদের সঙ্গে সংগঠন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে খবর। রাজ্যে আরএসএসের শাখার সংখ্যা ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল। ১০ অক্টোবরের মধ্যে তা করার কথা। সেই কাজ কতটা হয়েছে, সেই সব বিষয়ে বর্ধমানে সঙ্ঘের বৈঠকে আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে। সঙ্ঘের আগামী দিনের সাংগঠনিক পরিকল্পনা, সমাজের বিভিন্ন স্তরে জনসংযোগ বৃদ্ধি এবং শতবর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে চলা কর্মসূচির অগ্রগতি— ভাগবতের সফরে মূলত এই বিষয়গুলিই গুরুত্ব পাচ্ছে।

    সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কাজের হিসেব পেশ 

    এ রাজ্যে আরএসএস-এর তিনটি সাংগঠনিক প্রান্তই দশ দিনের বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল শাখার সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে। মধ্যবঙ্গে শুরু হয়েছিল ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে শুরু হয়েছিল ১ অক্টোবর থেকে। ১০ অক্টোবর মহালয়া। তার পর দিন থেকে দেবীপক্ষ শুরু, উৎসবের ঢাকে কাঠি। তাই মহালয়ার মধ্যেই শাখার বৃদ্ধির অভিযান শেষ করা হচ্ছে। অভিযান শেষ হওয়ার দু’দিন আগেই ভাগবত বর্ধমানে বৈঠক বসছেন। ফলে শাখা বৃদ্ধির চূড়ান্ত হিসাব তাঁর সামনে পেশ করা সম্ভব হবে না। তবে শাখা বৃদ্ধি অভিযানের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কাজের হিসেব হাতে নিয়েই পশ্চিমবঙ্গের আরএসএস পদাধিকারীরা সরসঙ্ঘচালকের মুখোমুখি হয়েছেন। দক্ষিণবঙ্গ আরএসএস-এর প্রচার প্রমুখ বিপ্লব রায় জানিয়েছেন, শতাব্দী বর্ষে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ‘প্রবুদ্ধ নাগরিক সম্পর্ক’ অভিযান করেছে সংঘ। কোথাও বিশিষ্ট নাগরিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেখা করা হয়েছে। কোথাও তাঁদের অনেককে একসঙ্গে কোনও কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ করে আনা হয়েছে। বিভিন্ন মঠ ও মিশন বছরভর রাজ্যের নানা প্রান্তে ‘হিন্দু সম্মেলন’ আয়োজন করেছে। সবশেষে রাজ্য জুড়ে ৮০০-রও বেশি জায়গায় হয়েছে ‘যুব সম্মেলন’। বিপ্লবের কথায়, ‘‘এত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ হল,  সঙ্ঘ সম্পর্কে তাঁদের উৎসাহ বাড়ল। সে উৎসাহকে এ বার কাজে লাগানোর সময় এসেছে। যাঁদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ স্থাপন হয়েছে, তাঁদের শাখায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অনেক জায়গায় সঙ্ঘের সংস্পর্শে আসা মানুষজন নিজেরাই শাখা শুরু করার আগ্রহ দেখিয়েছেন।’’ আগামিকাল, শনিবার সকালে বর্ধমানে শেষ দফার কর্মসূচি সেরে কলকাতা বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেবেন মোহন ভাগবত।

     

     

     

     

  • Naxal Hotbed: কল্পবৃক্ষের নারকেলেই বদলাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতির ছবি, রফতানিতে বিপুল লক্ষ্মীলাভ ভারতের

    Naxal Hotbed: কল্পবৃক্ষের নারকেলেই বদলাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতির ছবি, রফতানিতে বিপুল লক্ষ্মীলাভ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খাদ্য, পানীয়, ওষুধ, তন্তু, কাঠ ও জ্বালানি—জীবনের প্রায় প্রতিটি প্রয়োজন মেটাতে পারে একটি গাছ। তাই (Naxal Hotbed) ভারতীয় সংস্কৃতিতে নারকেলকে বলা হয় ‘কল্পবৃক্ষ’, অর্থাৎ এমন এক বৃক্ষ যা মানুষের প্রায় সমস্ত প্রয়োজন পূরণ করতে পারে। ক্রান্তীয় অঞ্চলের বহু সভ্যতাই হাজারো ব্যবহারের কারণে নারকেল গাছকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। ভারতে এই গাছের চাষ ও ব্যবহার নিয়ে প্রায় তিন হাজার বছরের নথিবদ্ধ ইতিহাস রয়েছে (Coconut Hub)।

    বিয়ে থেকে মন্দিরের প্রবেশদ্বার, রান্নাঘর থেকে ওষুধের বাক্স—সর্বত্রই নারকেলের উপস্থিতি। বর্তমানে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এর গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। দেশের প্রায় ৩ কোটি মানুষ নারকেলভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত, যার মধ্যে প্রায় ১ কোটি কৃষক।

    এই ক্ষেত্রের বড় অংশই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের হাতে। ফলে নারকেল চাষকে অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক বৃদ্ধির একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে নারকেলের মূল্যশৃঙ্খলকে শক্তিশালী করা গেলে তার সুফল প্রথমে পৌঁছয় ক্ষুদ্রতম জমির মালিকের কাছেই। এই ভাবনা সরাসরি অন্ত্যোদয়ের দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    নারকেল উৎপাদনে বিশ্বসেরা ভারত (Naxal Hotbed)

    বিশ্বে নারকেল উৎপাদনে ভারত প্রথম এবং চাষের জমির পরিমাণের বিচারে তৃতীয়। বিশ্ব উৎপাদনের ৩১.২৪ শতাংশ এবং মোট চাষের জমির ১৭.৯০ শতাংশ ভারতের দখলে।

    কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ২১.৯ লক্ষ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ২০,৩০১.২২ মিলিয়ন নারকেল উৎপাদিত হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড় উৎপাদন হয়েছে ৯,২৪৯টি নারকেল।

    চাষের জমির পরিমাণে কেরল এগিয়ে। সেখানে প্রায় ৭.৫৪ লক্ষ হেক্টর জমিতে নারকেল চাষ হয় এবং উৎপাদন প্রায় ৫,১৪৯.৮৭ মিলিয়ন। উৎপাদনে তামিলনাড়ু এগিয়ে, আর উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রে শীর্ষে অন্ধ্রপ্রদেশ। এরপর রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু।

    একসময় মূলত উপকূলীয় অঞ্চলের ফসল হিসেবে পরিচিত নারকেল এখন ওড়িশা, গুজরাট, অসম এমনকি অরুণাচল প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে এটি ক্রমেই জাতীয় জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত হচ্ছে।

    বস্তারে নারকেল চাষে নীরব বিপ্লব

    এই পরিবর্তনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ এসেছে ছত্তিশগঢ়ের বস্তার মালভূমি থেকে। একসময় নকশাল সমস্যার জন্য পরিচিত এই অঞ্চলের কৃষকেরা মূলত ধান, বিভিন্ন ধরনের বাজরা, ভুট্টা এবং ক্ষুদ্র বনজ পণ্য উৎপাদন করতেন।

    কোণ্ডাগাঁওয়ে নারকেল উন্নয়ন পর্ষদের প্রদর্শনী ও বীজ উৎপাদন খামারের উদ্যোগে সেখানে নারকেল চাষ একটি সম্ভাবনাময় জীবিকার পথ হিসেবে উঠে এসেছে। নতুন নারকেল গাছ ফলন দেওয়া শুরু করার আগে গাছের মধ্যবর্তী খালি জমিতে উপযুক্ত সাথি ফসল চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় কৃষকদের। ফলে নারকেল গাছ থেকে ফলন আসার আগেই কৃষকের হাতে আয় আসতে শুরু করে।

    বাকাওয়ান্ড ব্লকের ৩৬ বছর বয়সি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক ঈশাংশ সিংহ রাঠোর এই উদ্যোগের অন্যতম উদাহরণ। কৃষক পরিবারের সন্তান রাঠোর কর্পোরেট ক্ষেত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে পর্ষদের কারিগরি সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে নারকেল চাষ শুরু করেন। তিনি ২,৫০০টি নারকেল গাছ লাগিয়েছেন, যার বেশিরভাগই খাটো জাতের। এর মধ্যে প্রায় ৫০০টি গাছে ইতিমধ্যেই ফলন শুরু হয়েছে।

    এর পর তিনি বহুস্তরীয় চাষপদ্ধতি গড়ে তোলেন। নারকেল বাগানের নীচে ৪,০০০টি আনারস, ৮০০টি ড্রাগন ফল, ১,০০০টি আমগাছ এবং ৬০০টি লেবুজাতীয় গাছ লাগিয়েছেন। পাশাপাশি রয়েছে কলা, পেয়ারা, পেপে, লিচু, কফি, স্ট্রবেরি ও মরসুমি সবজি।

    ফলে জমির উৎপাদনশীলতা বেড়েছে এবং সারা বছর আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাঁর খামার থেকে বছরে নারকেল বিক্রি করে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা আয় হয়। সাথি ফসল থেকে আরও প্রায় ১০ লাখ টাকা আসে (Naxal Hotbed)।

    রাঠোরের সাফল্য বস্তারের বহু কৃষককে এই নারকেলভিত্তিক চাষপদ্ধতি গ্রহণে উৎসাহিত করেছে। এর ফলে একসময় কৃষির দিক থেকে পিছিয়ে থাকা একটি জেলা উচ্চমূল্যের উদ্যানপালনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

    শুকনো নারকেল থেকে কুমারী তেল, রফতানিতে বড় লাফ

    নারকেলজাত পণ্যের রফতানিতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে নারকেলজাত পণ্যের রফতানি বেড়ে ৭,০৩৮.৩৫ কোটি টাকা বা ৭৯৪.৭০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। আগের বছর এই রফতানির পরিমাণ ছিল ৪,৩৪৯.০৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে বৃদ্ধি প্রায় ৬২ শতাংশ।

    ২০০১-০২ অর্থবর্ষে নারকেলজাত পণ্যের রফতানি ছিল মাত্র ২৫.৩ কোটি টাকা। তখন মূলত নারকেলের খোলের কাঠকয়লা ও নারকেল তেলের মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্যই রফতানি হত। গত পাঁচ বছরেও এই খাতের লেনদেন ৩,২৩৬.৮৩ কোটি টাকা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

    রফতানি পণ্যের ধরনও বদলেছে। এখন ভারত বিশ্ববাজারে কুমারী নারিকেল তেল, নারিকেলের দুধ ও নারকেলের জল সরবরাহ করছে। সক্রিয় কার্বন, নারিকেল তেল, তাজা, হিমায়িত ও কোরানো নারিকেল, শুকনো নারকেল এবং শুষ্ক নারকেল অন্যতম প্রধান রফতানি পণ্য। এর মধ্যে সক্রিয় কার্বন ধারাবাহিকভাবে রফতানির পরিমাণে বড় অংশ দখল করে রয়েছে।

    আগে রফতানি মূলত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক ছিল। এখন ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াতেও বাজার বিস্তৃত হয়েছে। গত পাঁচ বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, শ্রীলঙ্কা, জার্মানি, রাশিয়া, তুরস্ক, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য এবং নেদারল্যান্ডস গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হয়ে উঠেছে।

    কাঁচা পণ্য রফতানি থেকে মূল্য সংযোজিত ও ব্র্যান্ডভিত্তিক পণ্যের দিকে এই পরিবর্তনকে আত্মনির্ভরতার বাস্তব রূপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ২ লাখ কোটি মার্কিন ডলার এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ২১ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের রফতানির লক্ষ্যে এই খাতও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে (Naxal Hotbed)।

    বৃদ্ধির পিছনে নারকেল উন্নয়ন পর্ষদ

    ১৯৮১ সালের ১২ জানুয়ারি কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের অধীনে নারকেল উন্নয়ন পর্ষদ গঠিত হয়। কোচিতে সদর দফতর থাকা এই পর্ষদ দেশের ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নারকেল চাষ ও শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে।

    উন্নত মানের চারা সরবরাহ, চাষের এলাকা সম্প্রসারণ, পুরনো বাগানে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, কীটপতঙ্গ ও রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ—পর্ষদের মূল লক্ষ্যগুলির মধ্যে রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পর্ষদের বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য ১৪৭.২১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়।

    নারকেলের খোসা ও তন্তু থেকে তৈরি পণ্য বাদে অন্যান্য নারকেলজাত পণ্যের জন্য পর্ষদ রফতানি উন্নয়ন পরিষদ হিসেবেও কাজ করে। ২০২৫-২৬ পর্যন্ত ৮,২৯৯ জন রফতানিকারী পর্ষদের সঙ্গে নথিভুক্ত ছিলেন। ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮,৭০০।

    গত পাঁচ বছরে পর্ষদ দেশের ২০টি বাণিজ্য মেলায় ৭২ জন উদ্যোক্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ২২৪ জন রফতানিকারীর অংশগ্রহণে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি ৩৯২টি দেশীয় ক্রেতা-বিক্রেতা সম্মেলনও আয়োজিত হয়েছে (Coconut Hub)।

    ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে কৃষকের আয় সুরক্ষা

    নারকেল চাষিদের জন্য সবচেয়ে তাৎক্ষণিক সহায়তা হল দামের নিশ্চয়তা। শুকনো নারকেলের শাঁস, অর্থাৎ কোপরা, ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আওতাভুক্ত ২২টি নির্ধারিত ফসলের অন্যতম।

    ভারতে মূলত দুই ধরনের কোপরা উৎপাদিত হয়। একটি হল মিলিং কোপরা, যা খোল থেকে শাঁস বের করে শুকিয়ে তৈরি করা হয় এবং মূলত তেল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। অন্যটি বল কোপরা, যেখানে গোটা পাকা নারকেল শুকিয়ে ভিতরের শাঁস শক্ত করা হয়। এটি শুকনো ফল হিসেবে খাওয়া হয় এবং ধর্মীয় আচারেও ব্যবহার করা হয়।

    ২০২৬ মরসুমের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। মিলিং কোপরার দাম প্রতি কুইন্টালে ১২,০২৭ টাকা এবং বল কোপরার দাম ১২,৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের যথাক্রমে ১১,৫৮২ টাকা ও ১২,১০০ টাকার তুলনায় বৃদ্ধি হয়েছে ৪৪৫ টাকা ও ৪০০ টাকা। উভয় ক্ষেত্রেই উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ৫০ শতাংশ বেশি রাখা হয়েছে (Naxal Hotbed)।

    কেন্দ্রীয় সংগ্রহের জন্য নাফেড ও এনসিসিএফকে কেন্দ্রীয় নোডাল সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজ্যস্তরের সংস্থাগুলিও এই কাজে সহায়তা করছে।

    চারা উৎপাদন থেকে ভবিষ্যতের বাগান সম্প্রসারণ

    নারকেল চাষের ভিত্তি মজবুত করতে প্রথমেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উন্নত মানের চারা উৎপাদনে। প্রদর্শনী ও বীজ উৎপাদন খামার প্রকল্পের অধীনে নতুন তৈরি খামারগুলির জন্য প্রথম দুই বছরে ৩০ লাখ টাকা এবং তৃতীয় বছর থেকে ফলন স্থিতিশীল হওয়া পর্যন্ত প্রতি হেক্টরে বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়। ফলন স্থিতিশীল হতে সাধারণত ১৫ থেকে ২০ বছর সময় ধরা হয়।

    ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১১টি প্রদর্শনী ও বীজ উৎপাদন খামারে ২.৪১ লাখ উন্নত মানের চারা উৎপাদন করা হয়েছে।

    বীজ উদ্যানগুলির জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ২০.২৯ লাখ টাকা ব্যবহার হয়েছে। সহায়তার মাধ্যমে ১২টি নতুন নার্সারি তৈরি হয়েছে। এগুলির সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ১.০৬ লাক চারা। পাশাপাশি ছয়টি পুরনো নার্সারিও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে।

    সরকারি নার্সারিগুলিকে ২৩৯.৩৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ১১.৯৭ লাখ চারা উৎপাদনের ব্যবস্থা হয়েছে, যা আনুমানিক ৬,৮৫০ থেকে ৭,৫০০ হেক্টর জমির জন্য যথেষ্ট।

    চাষের এলাকা বাড়াতে প্রতি হেক্টরে ৫৬ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। দুই কিস্তিতে এই টাকা দেওয়া হয় এবং একজন সুবিধাভোগী সর্বোচ্চ দুই হেক্টর ও সর্বনিম্ন ০.০৮ হেক্টর জমির জন্য এই সহায়তা পেতে পারেন।

    ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ২০৯.২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে আরও ২,৯৭৯ হেক্টর জমি নারকেল চাষের আওতায় এসেছে। উপকৃত হয়েছেন ১৩,০৬৮ জন কৃষক। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কেরল ও কর্নাটক থেকে ওড়িশা, অসম ও অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যে প্রায় ২,১৭৫ হেক্টর জমিতে নতুন করে চাষ হয়েছে। এ জন্য ৬৩২.৭৭ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

    নারকেলভিত্তিক মিশ্র চাষে বাড়ছে উৎপাদনশীলতা

    নারকেলভিত্তিক ফসল ব্যবস্থা কর্মসূচির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর উদ্যোগও চলছে। গুচ্ছভিত্তিক এই কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ দুই হেক্টর জমির জন্য প্রতি হেক্টরে ৪২ হাজার টাকা, অর্থাৎ ১০০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হয়।

    ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২৬৬টি গুচ্ছে ১৮,৮০০ হেক্টর জমি এই কর্মসূচির আওতায় আসে। উপকৃত হন ৪৮,৬৯৬ জন কৃষক। এর জন্য খরচ হয়েছে ৩,৯৪৩ লাখ টাকা। রাজ্য সরকারের সমন্বিত সহায়তায় আরও ৫,৯৩৫ হেক্টর জমি যুক্ত হয়েছে এবং ব্যয় হয়েছে ১,২৪৬ লাখ টাকা।

    শুধু কেরলেই এই কর্মসূচির আওতায় এসেছে ৮,০৮৯ হেক্টর জমি এবং উপকৃত হয়েছেন ৩৩,২৫০ জন কৃষক। চলতি বছরে এই কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে ২২,৪৩০ হেক্টর করা হয়েছে।

    পুরনো ও বয়স্ক বাগানের জন্য পুনরায় চারা রোপণ ও পুনরুজ্জীবন কর্মসূচি রয়েছে। দুই বছরে প্রতি হেক্টরে সর্বোচ্চ ৫৪ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়। গত পাঁচ বছরে ২৫,৫১৭ হেক্টর জমি এই প্রকল্পের আওতায় এসেছে এবং খরচ হয়েছে ১৩০.৪৬ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষেই ১,৬৭২ হেক্টর জমি এই প্রকল্পের আওতায় এসেছে।

    এর পাশাপাশি জলসম্পদ তৈরি, জৈব চাষ এবং কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

    দক্ষতা, উদ্যোগ এবং ‘নীরা’-র সম্ভাবনা

    কেউ গাছে উঠতে না পারলে নারকেল গাছের পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব নয়। তাই এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘নারকেল গাছের বন্ধু’ কর্মসূচির মাধ্যমে বেকার যুবকদের যন্ত্রের সাহায্যে নারকেল গাছে ওঠার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গাছের সুরক্ষা ও উদ্যোগ গড়ে তোলার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে আরও ৩৭৮ জনকে গাছে ওঠার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

    একইসঙ্গে গাছের বিভিন্ন অংশ দিয়ে হস্তশিল্পের সামগ্রী তৈরির প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে তরুণদের।

    ২০২৫ সালে পর্ষদ একক প্রশিক্ষণ থেকে সংগঠিত উদ্যোগের দিকে এগিয়েছে। ‘কোকোমিত্র’ নামে নারকেল গাছে ওঠার কর্মীবাহিনী তৈরি করা হয়েছে। প্রশিক্ষিত কর্মীদের ছয় থেকে দশজনের নিবন্ধিত দলে সংগঠিত করা হচ্ছে। আধুনিক গাছে ওঠার যন্ত্র, উদ্ভিদ সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং চলাচলের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে তাদের।

    ‘কেরা কৌশল কেন্দ্রে’র মাধ্যমে খোল, কাঠ ও তন্তু দিয়ে তৈরি পণ্যের জন্য হস্তশিল্প কেন্দ্রের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। ১৫ সদস্যের দলকে আইনগত সংস্থা হিসেবে নথিভুক্ত করে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ থেকে ২.৬৭ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    নারিকেল গাছের পুষ্পমঞ্জরি থেকে সংগ্রহ করা অপরিশোধিত ও অপরিস্ফুটিত রস ‘নীরা’ নামেও পরিচিত। এতে অ্যালকোহল নেই এবং এটি পুষ্টিকর পানীয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নীরা সংগ্রহের জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত কৃষক উৎপাদক সংগঠনের মাধ্যমে সাত দিনের মাঠভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রস সংগ্রহের জন্য প্রযুক্তিবিদ তৈরি করাই এই প্রশিক্ষণের লক্ষ্য। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পর্ষদ ৪১৪টি সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করেছে।

    গাছে ওঠার শ্রমিক, নীরা সংগ্রহকারী প্রযুক্তিবিদ, সংকরায়ন কর্মী এবং নারকেল শ্রমিকদের দুর্ঘটনা থেকে সুরক্ষা দিতে ‘কেরা সুরক্ষা বিমা প্রকল্প’ চালু রয়েছে। পাশাপাশি কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ ও প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তির উন্নয়নে নারকেল বিষয়ক প্রযুক্তি মিশন কাজ করছে (Naxal Hotbed)।

    ২০২৬-২৭ বাজেটে নারকেলের জন্য নতুন উদ্যোগ

    ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে নারিকেল উন্নয়নের জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘নারকেল উন্নয়ন প্রকল্পে’র মাধ্যমে কীটপতঙ্গের আক্রমণ, শিকড় শুকিয়ে যাওয়ার রোগ এবং বয়স্ক বাগানের সমস্যা মোকাবিলায় বড় আকারে চারা উৎপাদন, সম্ভাবনাময় এলাকায় চাষ সম্প্রসারণ, ধাপে ধাপে পুনরায় চারা রোপণ, সমন্বিত ফসল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এবং মূল্য সংযোজন ও রফতানির জন্য সমন্বিত প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    কাজটি মোট ৩৫০ কোটি টাকার উচ্চমূল্যের কৃষি খাতের বৃহত্তর বরাদ্দের অংশ। এই বরাদ্দের আওতায় কাজুবাদাম ও কোকো চাষও রয়েছে। লক্ষ্য হল ২০৩০ সালের মধ্যে নারকেল ও নারকেল তন্তু রপ্তানিতে ভারতকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং একইসঙ্গে কৃষকদের আয় বাড়ানো (Coconut Hub)।

    পরিসংখ্যান বলছে, সেই লক্ষ্য এখন আর দূরের নয়। ২৫.৩ কোটি টাকার রফতানি থেকে ৭,০০০ কোটিরও বেশি টাকায় পৌঁছনো, উপকূলীয় ফসল থেকে অরুণাচল প্রদেশের মতো দূরবর্তী অঞ্চলে চাষের বিস্তার, কাঁচা কোপরা থেকে সক্রিয় কার্বন ও কুমারী নারকেল তেল উৎপাদন—সব মিলিয়ে ভারতের ‘কল্পবৃক্ষ’ তার প্রাচীন নামের যথার্থতা প্রমাণ করছে (Naxal Hotbed)।

     

  • Kolkata Metro on Puja: সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত সারা রাত মেট্রো, পুজোর সাত দিন কোন লাইনে কখন থেকে শুরু পরিষেবা?

    Kolkata Metro on Puja: সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত সারা রাত মেট্রো, পুজোর সাত দিন কোন লাইনে কখন থেকে শুরু পরিষেবা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সারা রাত ঠাকুর দেখতে পারেন শহরবাসী। গাড়ি না থাকলেও, চিন্তা নেই চলবে মেট্রো। প্রতি বছরের মতো এবারও দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে সারা রাত মেট্রো পরিষেবা পাওয়া যাবে। কলকাতা মেট্রোর তরফে বৃহস্পতিবার পুজোর বিশেষ সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর, পঞ্চমী থেকে ২১ অক্টোবর, দশমী পর্যন্ত পুজোর জন্য ওই বিশেষ সূচি মেনে মেট্রো চলবে। ভিড় নিয়ন্ত্রণেও আলাদা ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

    ব্লু লাইন (দক্ষিণেশ্বর-শহিদ ক্ষুদিরাম) মেট্রো চলবে কখন

    পঞ্চমী এবং ষষ্ঠী (১৫ অক্টোবর এবং ১৬ অক্টোবর)— সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত আপ এবং ডাউন লাইনে মোট ২৮৪টি মেট্রো চলবে। ব্যস্ত সময়ে দু’টি মেট্রোর মধ্যে ব্যবধান থাকবে ছ’মিনিটের। এই দু’দিন রাতে দক্ষিণেশ্বর থেকে শহিদ ক্ষুদিরামের শেষ মেট্রো ছাড়বে ১০টা ৪৮ মিনিটে। শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে দক্ষিণেশ্বরের শেষ মেট্রো ছাড়বে ১০টা ৫০ মিনিটে। এ ছা়ড়া, দক্ষিণেশ্বর থেকে টালিগঞ্জের শেষ মেট্রো এবং শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে দমদমের শেষ মেট্রো ছাড়বে রাত ১১টায়।

    সপ্তমী (এ বার দু’দিন), অষ্টমী এবং নবমীতে (১৭ অক্টোবর, ১৮ অক্টোবর, ১৯ অক্টোবর এবং ২০ অক্টোবর)— ব্লু লাইনে সারা রাত মেট্রো চলবে। মেট্রো পরিষেবা এই চার দিন শুরু হবে বেলা ১টা থেকে। চলবে ভোর ৪টে পর্যন্ত। দমদম, দক্ষিণেশ্বর, শহিদ ক্ষুদিরাম, টালিগঞ্জ, গীতাঞ্জলি, শ্যামবাজার এবং নোয়াপাড়া থেকে বেলা ১টায় প্রথম মেট্রো ছাড়বে চার দিনই। দক্ষিণেশ্বর থেকে শহিদ ক্ষুদিরামের শেষ মেট্রো ছাড়বে ভোর ৩টে ৪৬ মিনিট নাগাদ। দক্ষিণেশ্বর থেকে ভোর ৪টেয় শেষ যে মেট্রোটি ছাড়বে, তা যাবে টালিগঞ্জ পর্যন্ত। শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে দক্ষিণেশ্বরের শেষ মেট্রো পাওয়া যাবে ভোর ৩টে ৪৮ মিনিটে। শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে ভোর ৪টের মেট্রোটি দমদম পর্যন্ত যাবে।

    দশমী (২১ অক্টোবর)— মেট্রোর সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকবে। শহিদ ক্ষুদিরাম, দক্ষিণেশ্বর, দমদম, নোয়াপাড়া এবং টালিগঞ্জ থেকে দশমীতে প্রথম মেট্রো ছাড়বে বেলা ১টা-১টা ৫ মিনিট নাগাদ। ওই দিন দক্ষিণেশ্বর থেকে শহিদ ক্ষুদিরামের শেষ মেট্রো পাওয়া যাবে রাত ১০টা ২০ মিনিটে। টালিগঞ্জ যাওয়ার শেষ মেট্রো পাওয়া যাবে রাত সাড়ে ১০টায়। শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে দক্ষিণেশ্বরের শেষ মেট্রো ছাড়বে রাত ১০টা ২০ মিনিটে। দমদমের শেষ মেট্রো পাওয়া যাবে রাত সাড়ে ১০টায়।

    গ্রিন লাইন (হাওড়া ময়দান-সল্টলেক সেক্টর ফাইভ)-এ মেট্রোর বিশেষ সময়

    পঞ্চমী এবং ষষ্ঠী (১৫ অক্টোবর এবং ১৬ অক্টোবর)— মেট্রো চলবে সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত।

    সপ্তমী (এ বার দু’দিন), অষ্টমী এবং নবমীতে (১৭ অক্টোবর, ১৮ অক্টোবর, ১৯ অক্টোবর এবং ২০ অক্টোবর)— এই লাইনে বেলা দেড়টা থেকে মেট্রো চালু হবে। চলবে ভোর ৪টে পর্যন্ত। হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভের প্রথম মেট্রো দেড়টায় এবং শেষ মেট্রো ভোর ৩টে ৫২ মিনিটে ছাড়বে। সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে হাওড়া ময়দানের প্রথম মেট্রো বেলা ১টা ৩৪ মিনিটে এবং শেষ মেট্রো ৩টে ৫৯ মিনিটে ছাড়বে।

    দশমী (২১ অক্টোবর)— গ্রিন লাইনে মেট্রো পরিষেবা বেলা দেড়টা থেকে চালু হলেও তা সারা রাত থাকবে না। হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে হাওড়া ময়দানের শেষ মেট্রো সে দিন ছাড়বে রাত সাড়ে ১০টায়।

    ইয়েলো লাইন (নোয়াপাড়া-জয়হিন্দ বিমানবন্দর)

    পঞ্চমী এবং ষষ্ঠী (১৫ অক্টোবর এবং ১৬ অক্টোবর)— ইয়েলো লাইনে নোয়াপাড়া থেকে জয়হিন্দ বিমানবন্দরের প্রথম মেট্রো ছাড়বে সকাল ৭টা ১৮ মিনিটে, শেষ মেট্রো ছাড়বে রাত ৯টায়। বিমানবন্দরের দিক থেকে নোয়াপাড়ার প্রথম মেট্রো সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে এবং শেষ মেট্রো রাত ৯টা ২০ মিনিটে পাওয়া যাবে।

    সপ্তমী (এ বার দু’দিন), অষ্টমী এবং নবমীতে (১৭ অক্টোবর, ১৮ অক্টোবর, ১৯ অক্টোবর এবং ২০ অক্টোবর)—এই লাইনে সারা রাত মেট্রো পাওয়া যাবে না। নোয়াপাড়া থেকে প্রথম মেট্রো বিকেল ৩টে, শেষ মেট্রো রাত সাড়ে ১০টায় ছাড়বে। জয়হিন্দ বিমানবন্দর থেকে প্রথম মেট্রো বিকেল ৩টে ২৪ মিনিটে এবং শেষ মেট্রো রাত ১০টা ৫৩ মিনিটে পাওয়া যাবে।

    দশমী (২১ অক্টোবর)— বিকেল ৩টে থেকে পরিষেবা মিলবে। তবে শেষ মেট্রো ওই দিন নোয়াপাড়া থেকে ছাড়বে রাত ৯টা ১৪ মিনিটে এবং জয়হিন্দ বিমানবন্দর থেকে ছাড়বে রাত ৯টা ৩৮ মিনিটে।

    পার্পল লাইন (জোকা-মাঝেরহাট)

    পঞ্চমী এবং ষষ্ঠী (১৫ অক্টোবর এবং ১৬ অক্টোবর)—পার্পল লাইনে অর্থাৎ জোকা থেকে মাঝেরহাট পর্যন্ত পঞ্চমী এবং ষষ্ঠীতে মেট্রো চলবে ২১ মিনিটের ব্যবধানে। জোকা থেকে প্রথম মেট্রো সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে, শেষ মেট্রো রাত ৯টা ৫ মিনিটে ছাড়বে। মাঝেরহাট থেকে প্রথম মেট্রো ৭টা ৩ মিনিটে এবং শেষ মেট্রো রাত ৯টা ২৬ মিনিটে ছাড়বে।

    সপ্তমী (এ বার দু’দিন), অষ্টমী এবং নবমীতে (১৭ অক্টোবর, ১৮ অক্টোবর, ১৯ অক্টোবর এবং ২০ অক্টোবর)— এই লাইনে ২৫ মিনিট অন্তর মেট্রো পাওয়া যাবে। জোকা থেকে প্রথম মেট্রো বিকেল ৩টেয়, শেষ মেট্রো রাত সাড়ে ১০টায় ছাড়বে। মাঝেরহাট থেকে প্রথম মেট্রো বিকেল ৩টে ২৫ মিনিটে এবং শেষ মেট্রো রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে পাওয়া যাবে।

    অরেঞ্জ লাইন (কবি সুভাষ-বেলেঘাটা)

    পঞ্চমী এবং ষষ্ঠী (১৫ অক্টোবর এবং ১৬ অক্টোবর)—অরেঞ্জ লাইনে অর্থাৎ কবি সুভাষ থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত পঞ্চমী এবং ষষ্ঠীতে মেট্রো পাওয়া যাবে ২৫ মিনিটের ব্যবধানে। কবি সুভাষ থেকে প্রথম মেট্রো সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে এবং শেষ মেট্রো রাত ৮টা ২০ মিনিটে ছাড়বে। বেলেঘাটা থেকে প্রথম মেট্রো সকাল ৮টা ১০ মিনিটে এবং শেষ মেট্রো রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ছাড়বে।

    সপ্তমী (এ বার দু’দিন), অষ্টমী এবং নবমীতে (১৭ অক্টোবর, ১৮ অক্টোবর, ১৯ অক্টোবর এবং ২০ অক্টোবর)—এই লাইনে সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত মেট্রো চলবে না।

  • Pak Espionage Case: সমাজমাধ্যমে বন্ধুত্ব, প্রেমের ফাঁদ, ভয় দেখিয়ে কৌশলে তথ্য হাতিয়ে নেওয়া! কীভাবে পাক গোয়েন্দাদের ফাঁদে ১৬ নৌসেনাকর্মী?

    Pak Espionage Case: সমাজমাধ্যমে বন্ধুত্ব, প্রেমের ফাঁদ, ভয় দেখিয়ে কৌশলে তথ্য হাতিয়ে নেওয়া! কীভাবে পাক গোয়েন্দাদের ফাঁদে ১৬ নৌসেনাকর্মী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঘটনার শুরু মাস ছয়েক আগে। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে নৌসেনাঘাঁটির এক গাড়িচালক আন্নাম সাই ভারাপ্রসাদের কাছে সমাজমাধ্যমে এক মহিলা ‘ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট’ পাঠান। নিজেকে ওই মহিলা জাহাজ নির্মাণ সংস্থার কর্মী বলে পরিচয় দেন। পাশের রাজ্যেরই বাসিন্দা বলে দাবি করেন। তদন্তকারী সূত্রের খবর, ভারাপ্রসাদের প্রথমে একটু সন্দেহ হয়েছিল। কিন্তু সেই মহিলা ধীরে ধীরে তাঁর বিশ্বাস অর্জন করেন। শুরু হয় সমাজমাধ্যমে দু’জনের কথোপকথন। তারপর প্রেম ও যৌনতার গল্প। এভাবেই বেড়ে চলে আলাপ। তারপর শুরু হয় অন্য খেলা (Pak Espionage Case)।

    সন্দেহ দূর করতে দেখা করার প্রতিশ্রুতি

    প্রথম দিকে, ওই মহিলা ভারাপ্রসাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জানতে চেয়েছিলেন। কোথায় থাকেন, কী করেন, কেন এখনও বিয়ে করছেন না ইত্যাদি। এ ছাড়াও তাঁর কাজ, বেতন, কী ধরনের গাড়ি চালান— ছোট ছোট এই তথ্যগুলি ভারাপ্রসাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন। তদন্তকারী সূত্রে খবর, একটু ঘনিষ্ঠতা বাড়তেই ওই মহিলা ভারপ্রসাদকে ইঙ্গিতপূর্ণ নানা রকম মেসেজ এবং ভিডিয়ো, ছবি পাঠানো শুরু করেন। শুধু তা-ই নয়, ভারাপ্রসাদের মনের সন্দেহ দূর করতে বিশাখাপত্তনমে তাঁর সঙ্গে দেখা করারও প্রতিশ্রুতি দেন। আলাপচারিতার সময় ভারাপ্রসাদ যখন জানিয়েছিলেন যে, তিনি নৌসেনা আধিকারিকদের গাড়ি চালান, তাঁর কাছ থেকে ওই আধিকারিকদের তথ্য কৌশলে সংগ্রহ করে নেন মহিলা।

    গ্রেফতারির ভয়, ব্ল্যাকমেল

    তার পর ভারাপ্রসাদের কাছে নৌঘাঁটি সম্পর্কে আরও কিছু জানতে চাইলে তিনি দিতে নারাজ হন। তখন ওই মহিলা ভারাপ্রসাদকে গ্রেফতারির ভয় দেখান। তাঁর সিনিয়রদের কাছে রিপোর্ট করার হুমকি দিতে থাকেন। তদন্তকারী সূত্রের খবর, এ ভাবে ক্রমাগত ব্ল্যাকমেল করে ভারাপ্রসাদের কাছ থেকে নৌসেনা সংক্রান্ত তথ্য, কোথায় রণতরী নোঙর করা, কোথায় রণতরী বানানো হচ্ছে ইত্যাদি তথ্য হাতিয়ে নেন মহিলা। নৌসেনা সংক্রান্ত আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করেন ওই মহিলা। তবে যেহেতু নৌঘাঁটির অভ্যন্তরীণ বিষয় ভারাপ্রসাদের নাগালের মধ্যে ছিল না, তাই সেই তথ্য পাচার করতে পারেননি বলেই তদন্তকারীরা মনে করছেন। ভারাপ্রসাদের গতিবিধির উপর এক মাস ধরে নজরদারি চালাচ্ছিল অন্ধ্রপ্রদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স (সিআই)।

    সমাজ মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি করে যৌনতার ফাঁদ

    তদন্তকারী সূত্রের খবর, ভারাপ্রসাদের মাধ্যমেই বাঙালি নৌসেনাকর্মী প্রদীপ মুখোপাধ্যায় সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন ওই মহিলা। তার পর ঠিক একই কৌশলে প্রদীপের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেন। তাঁর কাছ থেকে বিশাখাপত্তনম এবং কোয়েম্বাটুরের নৌসেনাঘাঁটি সম্পর্কে তথ্য আদায় করেন ব্ল্যাকমেল করে। ভারাপ্রসাদ এবং প্রদীপকে ঢাল বানিয়ে ঠিক একই কৌশলে দেশের ১০ রাজ্যে ১৬ নৌসেনাকর্মীকে যৌনতার ফাঁদে ফেলেন পাক গোয়েন্দারা। তার পর তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে ভারাপ্রসাদ এবং প্রদীপকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি করে যৌনতার ফাঁদে ফেলা এবং পরে ব্ল্যাকমেলের মাধ্যমে সামরিক তথ্য সংগ্রহই ছিল এই চক্রের কৌশল।

LinkedIn
Share