Blog

  • Username Feature: হোয়াটসঅ্যাপের পর টেলিগ্রাম, সিগন্যালকেও নোটিস কেন্দ্রের, ইউজারনেম ফিচার বন্ধ করবে জোহোর আরাট্টাই

    Username Feature: হোয়াটসঅ্যাপের পর টেলিগ্রাম, সিগন্যালকেও নোটিস কেন্দ্রের, ইউজারনেম ফিচার বন্ধ করবে জোহোর আরাট্টাই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হোয়াটসঅ্যাপের প্রস্তাবিত ইউজারনেম (Username) ফিচার নিয়ে আপত্তি জানানোর পর এবার একই বিষয়ে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম ও সিগন্যালকেও নোটিস পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) দুই সংস্থার কাছে জানতে চেয়েছে, ফোন নম্বর গোপন রেখে ইউজারনেমের মাধ্যমে যোগাযোগের সুবিধা কীভাবে প্রতারণা, ফিশিং, ডিজিটাল অ্যারেস্ট কেলেঙ্কারি এবং ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, সেই উদ্বেগ মোকাবিলায় তারা কী ব্যবস্থা নিয়েছে।

    ইউজারনেম ফিচার নিয়ে টেলিগ্রামকে নোটিস

    সরকারি সূত্রের খবর, টেলিগ্রামকে পাঠানো নোটিসে বিশেষভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তাদের বিদ্যমান ইউজারনেম ফিচার চালু রাখার অনুমতি দেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলির মতে, ফোন নম্বরের পরিবর্তে ইউজারনেম ব্যবহার করলে অপরাধীদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে বিদেশি নম্বর বা বিভ্রান্তিকর পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর আগে ১ জুলাই মেটা-র মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপকে বিস্তারিত নোটিস পাঠানো হয়। সেখানে জানানো হয়, ভারতে ইউজারনেম ফিচার চালুর আগে সরকারের সঙ্গে আলোচনা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই পরিষেবা চালু করা যাবে না। তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং ২০২১ সালের আইটি বিধি অনুযায়ী, উল্লেখযোগ্য সামাজিক মাধ্যম মধ্যস্থতাকারী (Significant Social Media Intermediary) হিসেবে হোয়াটসঅ্যাপের দায়িত্ব রয়েছে ভুয়ো পরিচয়, প্রতারণা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার। পাশাপাশি পরিচয় চুরি ও প্রতারণা সংক্রান্ত আইনি বিধানগুলিও নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হোয়াটসঅ্যাপের দাবি, নতুন ফিচারে একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অপরিচিত অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যোগাযোগে সীমাবদ্ধতা, বিদেশি বা অচেনা ব্যবহারকারীর বার্তার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কবার্তা-সহ বিভিন্ন সুরক্ষা ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে সংস্থার বক্তব্য।

    সরকারের কড়া নজরে হোয়াটসঅ্যাপ

    ভারত বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপের সবচেয়ে বড় বাজার, যেখানে ৫০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে। সেই তুলনায় টেলিগ্রামের ব্যবহারকারী সংখ্যা অনেক কম হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিতর্কের কারণে সংস্থাটি সরকারের কড়া নজরে রয়েছে। গত মাসে ভুয়ো ও ফাঁস হওয়া নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়া এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে টেলিগ্রাম ও তার ওয়েব পরিষেবা সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হলে পরিষেবা পুনরায় চালু হয়। এদিকে দেশীয় প্রযুক্তি সংস্থা জোহোর মেসেজিং অ্যাপ স্বেচ্ছায় তাদের ইউজারনেম-ভিত্তিক অ্যাকাউন্ট ফিচার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আরাটাই-এর চিফ সায়েন্টিস্ট শ্রীধর সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, পরিবর্তিত নিয়ন্ত্রক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যবহারকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সংস্থা ভবিষ্যতেও নিরাপদ ও গোপনীয় যোগাযোগ পরিষেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    সাইবার অপরাধ দমনে সক্রিয় সরকার

    টেলিগ্রাম, সিগন্যাল এবং অন্যান্য মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের ওপর সরকারের এই বাড়তি নজরদারি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষার পাশাপাশি সাইবার অপরাধ, পরিচয় জালিয়াতি ও অনলাইন প্রতারণা রোধকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্র। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিস্তারিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। সরকারের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকর তদন্তের ক্ষেত্রে কোনওরকম আপস করা হবে না।

  • Suvendu Adhikari: প্রশাসনে স্বচ্ছতা জরুরি! বিভিন্ন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা অফিসারদের নাম-নম্বর পোর্টালে প্রকাশের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: প্রশাসনে স্বচ্ছতা জরুরি! বিভিন্ন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা অফিসারদের নাম-নম্বর পোর্টালে প্রকাশের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশাসনে স্বচ্ছতা আনতে হবে। সেটাই বর্তমান রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক বৈঠকে অফিসারদের মোট পাঁচ দফা নির্দেশ দেওয়া হয়। সেগুলিকেই গাইডলাইন ধরে কাজের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নবান্নে এ দিনের প্রশাসনিক বৈঠকে মন্ত্রী, বিভিন্ন দফতরের সচিব ও অন্যান্য আধিকারিক ছাড়াও জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকে শুভেন্দু নির্দেশ দিয়েছেন, যে অফিসাররা রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের নাম এবং ফোন নম্বর ওয়েবসাইট-পোর্টালে প্রকাশ করতে হবে। যাতে আমজনতা থেকে উপভোক্তা— সকলেই সরাসরি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

    শুভেন্দুর পাঁচ দফা নির্দেশ

    এদিন নবান্ন সভাঘরে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়াই প্রশাসনের আধিকারিকদের কর্তব্য। সেখানে যেন গাফিলতির অভিযোগ না আসে। এ দিনের বৈঠকে শুভেন্দুর দ্বিতীয় নির্দেশ— ‘প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্ট ক্যালেন্ডার’ তৈরি করতে হবে, যাতে কোনও কাজ অনির্দিষ্ট কাল ধরে না চলে, তার আভাস সব দফতরের কাছেই থাকে। যেগুলি দফতরের নির্দিষ্ট কাজের মধ্যে পড়ে, সেই রুটিন কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করে তার মধ্যে শেষ করতে হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পের কাজও টাইমলাইন ধরে শেষ করতে হবে। তৃতীয় নির্দেশ হলো— সরকারি তহবিলের সঠিক ব্যবহার। যে প্রকল্পের জন্য যে টাকা বরাদ্দ করা হবে, তা যেন সেই কাজেই ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া ‘আনটায়েড’ বা সাধারণ ফান্ডেরও যেন সঠিক ব্যবহার হয়, তার দিকে যেন কড়া নজরদারি থাকে, সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর নির্দেশ, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজন ছাড়া অযথা খরচ করা যাবে না। রাজস্ব ফাঁকির মোকাবিলায় প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ করার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশে শুভেন্দুর চতুর্থ বার্তা, ‘রাজস্ব অর্থাৎ রেভিনিউ কোনও ভাবেই যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তার দিকে আপনারা নজর দিন। বালি বা পাথরের উপরে রাজস্বে কেউ যাতে ফাঁকি না দিতে পারে, তা দেখতে হবে। রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ পেলেই কড়া পদক্ষেপ করবেন।’ মুখ্যমন্ত্রীর পঞ্চম নির্দেশ— জেলা আধিকারিকদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলতে হবে। অন্তত মাসে একদিন সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনার জন্য ‘জনতার দরবার’ করতে হবে তাঁদেরও।

    জনহিতকর প্রকল্প নিয়ে নির্দেশ

    এ ছাড়াও স্কুল এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামোতে জোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। জনহিতকর যে সব প্রকল্প আছে, সেই সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে ওই প্রজেক্টের ‘শর্ট টার্ম প্ল্যানিং’ তৈরি করতে হবে, যাতে নির্দিষ্ট সময় মেনে কাজ করা যায়। এ ছাড়াও স্বচ্ছ ডেটাবেস তৈরিতেও জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিভিন্ন প্রকল্পের উপভোক্তাদের নথি আর তথ্য জমা নিচ্ছে সরকার। সেগুলি যাতে সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করা হয়, সেই প্রসঙ্গেও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু। পুজোর মধ্যেই ‘স্বাস্থ্যসাথী’র উপভোক্তাদের নাম ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পে স্থানান্তর করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, ১৫ জুলাই থেকে রাজ্যে এই স্বাস্থ্য পরিষেবা চালু করতে হবে।

    ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড নিয়ে নির্দেশ

    ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই যাঁদের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড রয়েছে, তাঁদের সবাইকে ‘আয়ুষ্মান ভারতে’ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ‘যোগ্য’ পরিবারের নতুন বধূ, নবজাতকের নাম আয়ুষ্মান কার্ডে যুক্ত করার সুযোগ করে দিতে হবে। এই কাজটা পরিবারগুলি বাড়িতে বসেই যাতে করতে পারে অথবা নিকটতম কমন সার্ভিস সেন্টার বা তালিকাভুক্ত সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালের আয়ুষ্মান মিত্রের কাছে গিয়েও এই ব্যাপারে সাহায্য পান, সেই নির্দেশও দিয়েছেন শুভেন্দু। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবকে তিনি বলেন, ‘শুধু হাসপাতাল তৈরি করলেই হবে না, হাসপাতালের শূন্য পদ পূরণ করতে হবে। অনেক হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই।’ দ্রুত নিয়োগ এজেন্সিগুলির সঙ্গে তিনি বৈঠকে বসবেন বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর নির্দেশ, বিভিন্ন প্রকল্পে পূর্বতন সরকারের বকেয়া টাকা ঠিকাদারদের মেটানোর আগে ভালো ভাবে খতিয়ে দেখতে হবে, সেই কাজ ঠিকমতো হয়েছে কি না।

  • Suvendu Adhikari: ‘বিধায়কদের সম্মান ছিল না’! প্রশিক্ষণ শিবিরে তৃণমূল জমানাকে নিশানা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘বিধায়কদের সম্মান ছিল না’! প্রশিক্ষণ শিবিরে তৃণমূল জমানাকে নিশানা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের নবনির্বাচিত বিধায়কদের উদ্দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বিধানসভার মর্যাদা এবং উন্নয়নমুখী রাজনীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত বিধায়কদের বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি একদিকে যেমন বাংলার ঐতিহাসিক গৌরব পুনরুদ্ধারের ডাক দেন, তেমনই নাম না করে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনাও করেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, অতীতে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় এমন এক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, যেখানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হত না। তাঁর কথায়, ‘‘একজন বিধায়ক বা সাংসদের ফোন পর্যন্ত অনেক সময় প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা ধরতেন না।’’ বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের সরকারি অনুষ্ঠান কিংবা প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হত না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    বিধানসভার ইতিহাস তুলে ধরে শ্যামাপ্রসাদকে স্মরণ

    ভাষণের শুরুতেই বাংলার বিধানসভার ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘‘দেশভাগের কঠিন সময় অবিভক্ত বাংলার একাংশকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত রাখতে বিধানসভা এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’’ তাঁর দাবি, সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত না হলে আজকের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সম্ভব হত না।

    ‘৩৪ বছর পার্টি অফিস থেকেই সব নিয়ন্ত্রণ হত

    অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনে প্রশাসনের বড় অংশ দলীয় নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হত। পাশাপাশি, গত ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের সময়ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। যদিও কোনও দলের নাম তিনি সরাসরি উল্লেখ করেননি। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে শুভেন্দু জানান, বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তাঁকে একাধিক প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকা হয়নি। এমনকি বহুবার বিধানসভা থেকে সাসপেন্ডও করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

    ‘এখন সব বিধায়কই সমান গুরুত্ব পাচ্ছেন’

    বর্তমান সরকারের দেড় মাসের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সরকার প্রশাসনিক বৈঠকে শাসক ও বিরোধী— উভয় পক্ষের বিধায়কদেরই আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।’’ বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রেও কোনও রাজনৈতিক বিভাজন রাখা হয়নি বলে দাবি তাঁর। বাংলার উন্নয়নের জন্য দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    বিধায়কদের দায়িত্ব নিয়ে কী বললেন ওম বিড়লা?

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা। তিনি নবনির্বাচিত বিধায়কদের উদ্দেশে বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ এমন একটি রাজ্য, যা স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্রে গোটা দেশের কাছে অনুপ্রেরণা।’’ জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, সংসদীয় ঐতিহ্য রক্ষা এবং শুধু নিজের কেন্দ্র নয়, গোটা রাজ্যের উন্নয়নের দায়িত্বও প্রতিটি বিধায়কের বলে উল্লেখ করেন তিনি। ওম বিড়লা আরও জানান, এবারের বিধানসভায় ১২১ জন নতুন বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তাঁদের সংসদীয় রীতি-নীতি ও সাংবিধানিক মূল্যবোধ মেনে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

    শুভেন্দুর প্রশংসায় হরিবংশ, ডিজিটাল বিধানসভার ঘোষণা রিজিজুর

    রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিং বলেন, ‘‘খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’’ তাঁর বিশ্বাস, নতুন সরকার বাংলার অতীত গৌরবকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু ঘোষণা করেন, ‘‘আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হবে।’’ ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান অ্যাপ্লিকেশন’ প্রকল্পের আওতায় দেশের সমস্ত বিধানসভাকে একটি অভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

    কারা ছিলেন অনুষ্ঠানে?

    বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারের এই প্রশিক্ষণ শিবিরে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা, রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিং, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু, রাজ্য বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুসহ একাধিক রাজ্যের বিধানসভার অধ্যক্ষরা। উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা এবং উত্তরাখণ্ডের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

  • UNICORN Stealth Naval Mast: রেডারে সহজে ধরা পড়বে না যুদ্ধজাহাজ, ভারত-জাপানের প্রথম যৌথ প্রতিরক্ষা প্রকল্প ‘ইউনিকর্ন’! কী এটা?

    UNICORN Stealth Naval Mast: রেডারে সহজে ধরা পড়বে না যুদ্ধজাহাজ, ভারত-জাপানের প্রথম যৌথ প্রতিরক্ষা প্রকল্প ‘ইউনিকর্ন’! কী এটা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও জাপানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। প্রথমবারের মতো যৌথভাবে একটি অত্যাধুনিক নৌ-প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরির প্রকল্পে হাত মিলিয়েছে দুই দেশ। এই প্রকল্পের নাম ইউনিফায়েড কমপ্লেক্স রেডিও অ্যান্টেনা, সংক্ষেপে ‘ইউনিকর্ন’ (UNICORN)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একে ভারত-জাপান প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতার ‘‘নতুন অধ্যায়’’ বলে উল্লেখ করেছেন। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকের পর এই ঘোষণা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজকে আরও স্টেলথ বা রেডারে কম দৃশ্যমান করে তুলবে, ফলে শত্রুপক্ষের পক্ষে জাহাজ শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু করা অনেক বেশি কঠিন হবে।

    কী এই ইউনিকর্ন (UNICORN) প্রযুক্তি?

    বর্তমানের অধিকাংশ যুদ্ধজাহাজে রেডার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নেভিগেশন ও অন্যান্য সেন্সরের জন্য ডেকের উপরে অসংখ্য অ্যান্টেনা বসানো থাকে। এই অ্যান্টেনাগুলিই রেডারে যুদ্ধজাহাজকে সহজে শনাক্ত করার অন্যতম কারণ। ইউনিকর্ন প্রযুক্তিতে সেই একাধিক অ্যান্টেনাকে একটি সমন্বিত রেডোম (Radome)-এর ভিতরে রাখা হয়। ফলে জাহাজের রেডার ক্রস সেকশন (RCS) উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। সহজ কথায়, যুদ্ধজাহাজের ‘রেডার সিগনেচার’ অনেকটাই কমে যাওয়ায় শত্রুপক্ষের রেডারে সেটি ধরা পড়া কঠিন হয়ে ওঠে। এটি শুধু স্টেলথ ক্ষমতাই বাড়ায় না, একই সঙ্গে বিভিন্ন যোগাযোগ ও সেন্সর ব্যবস্থার মধ্যে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক হস্তক্ষেপও কমায়।

    ইউনিকর্ন মাস্টে কী কী থাকবে?

    ইউনিকর্ন সিস্টেমে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিকে একটি কমপ্যাক্ট মাস্টের মধ্যে একত্রিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

    • ● লিঙ্ক-১৬ ডেটা লিঙ্ক: নিরাপদ ও রিয়েল-টাইম তথ্য আদানপ্রদানের ব্যবস্থা।
    • ● ট্যাকান (ট্যাকটিক্যাল এয়ার নেভিগেশন): জাহাজভিত্তিক হেলিকপ্টারের নেভিগেশন ও অবতরণে সহায়তা করে।
    • ● আইএফএফ (আইডেন্টিফিকেশন ফ্রেন্ড অর ফো): বন্ধু ও শত্রুপক্ষের বিমান বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম শনাক্ত করার ব্যবস্থা।
    • ● ইলেকট্রনিক সাপোর্ট মেজার্স (ইএসএম): শত্রুপক্ষের রেডার ও যোগাযোগ সংকেত শনাক্ত, পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণের প্রযুক্তি।
    • ● ইউএইচএফ/ভিএইচএফ যোগাযোগ ব্যবস্থা: স্বল্প দূরত্বে ভয়েস ও ডেটা যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়।
    • ● অফশোর ওয়্যারলেস রাউটার: বাইস্ট্যাটিক ও মাল্টিস্ট্যাটিক সোনার অভিযানের সময় তথ্য আদানপ্রদানে সহায়তা করে।

    ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনিকর্ন প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল স্টেলথ সক্ষমতা বৃদ্ধি। বর্তমানে সমুদ্রপথে নজরদারি ও যুদ্ধজাহাজ শনাক্তকরণে রেডার প্রযুক্তির উপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভর করা হয়। যুদ্ধজাহাজের রেডার সিগনেচার কমিয়ে আনলে প্রতিপক্ষের পক্ষে জাহাজের অবস্থান নির্ণয়, শ্রেণিবিন্যাস এবং লক্ষ্যবস্তু করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে যায়। জাপানের মোগামি-শ্রেণির স্টেলথ ফ্রিগেট ইতিমধ্যেই এই ইউনিকর্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দাবি, এই প্রযুক্তির ফলে ওই শ্রেণির যুদ্ধজাহাজের রেডার প্রতিফলন প্রচলিত যুদ্ধজাহাজের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

    ভারত-জাপানের যৌথ উৎপাদন

    এখানে বলে দেওয়া প্রয়োজন, বেশ কিছুদিন আগেই মোগামি শ্রেণি জাহাজে ব্যবহৃত নকশা ও প্রযুক্তি ভারতকে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল জাপান। এবার সেই নিয়ে দুদেশের চুক্তি হল। এই প্রকল্পে উন্নত প্রযুক্তিগত নকশা ও ডিজাইন দেবে জাপান, আর ভারতে উৎপাদন ও সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের দায়িত্বে থাকবে ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL)। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় এই অত্যাধুনিক স্টেলথ মাস্ট ভারতেই যৌথভাবে তৈরি করা হবে। এর ফলে শুধু প্রযুক্তি স্থানান্তরই নয়, ভবিষ্যতে ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ইউনিকর্ন প্রযুক্তি মূলত জাপানের এনইসি কর্পোরেশন, সাম্পা কোগিও কেকে এবং দ্য ইয়োকোহামা রাবার কোম্পানি লিমিটেড যৌথভাবে তৈরি করেছে।

    আগে থেকেই শুরু হয়েছিল প্রস্তুতি

    এই প্রকল্পের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল ২০২২ সালের ‘ভারত-জাপান ২+২’ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে। পরে ২০২৪ সালের নভেম্বরে টোকিওতে দুই দেশের মধ্যে একটি মেমোরান্ডাম অফ ইমপ্লিমেন্টেশন (MoI) সই হয়। সেই চুক্তির ফলেই এবার আনুষ্ঠানিকভাবে যৌথ উন্নয়ন ও উৎপাদনের ঘোষণা করা হল।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি?

    যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘‘প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত ও জাপানের প্রথম যৌথ কো-ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প হিসেবে নৌবাহিনীর রেডিও অ্যান্টেনা ‘ইউনিকর্ন’-এর চুক্তি হয়েছে। এই প্রকল্প আমাদের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আমরা যৌথভাবে এমন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরি করব, যা আঞ্চলিক শান্তি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।’’

    ভারতীয় নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনিকর্ন প্রকল্প শুধু একটি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং ভারত-জাপান কৌশলগত সম্পর্কেরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত উন্নত স্টেলথ প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আত্মনির্ভরতা, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং নিরাপদ প্রতিরক্ষা সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে ভারতীয় নৌবাহিনীর ভবিষ্যতের যুদ্ধজাহাজ আরও কম দৃশ্যমান, বেশি নিরাপদ এবং প্রযুক্তিগতভাবে আরও আধুনিক হয়ে উঠবে। বিশেষ করে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

  • PM Modi on Amarnath Yatra: অমরনাথ যাত্রার পুণ্যার্থীদের পাঁচ সংকল্প নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী মোদির, কী কী?

    PM Modi on Amarnath Yatra: অমরনাথ যাত্রার পুণ্যার্থীদের পাঁচ সংকল্প নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী মোদির, কী কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অমরনাথ যাত্রার প্রথম দিনেই তীর্থযাত্রীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi on Amarnath Yatra)। এই যাত্রাকে তিনি এক ‘মহা সৌভাগ্যের বিষয়’ বলে বর্ণনা করেছেন। একইসঙ্গে ভক্তি, শৃঙ্খলা এবং জাতীয়তাবোধ নিয়ে এই পবিত্র যাত্রা সম্পন্ন করার জন্য পুণ্যার্থীদের কাছে আর্জি জানিয়েছেন। অমরনাথ যাত্রায় অংশগ্রহণকারী ভক্তদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সংকল্প গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি (Narendra Modi)। একইসঙ্গে যাত্রাপথে নিরাপত্তা ও পরিষেবা নিশ্চিত করতে নিয়োজিত ভারতীয় সেনা, বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রশাসনের ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন।

    অমরনাথ যাত্রীদের উদ্দেশ্যে মোদির চিঠি

    শিবভক্তদের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “জম্মু ও কাশ্মীরে পবিত্র অমরনাথ যাত্রায় অংশ নেওয়াটা একটা বিরাট সৌভাগ্যের ব্যাপার। প্রতি বছর বাবা বরফানির সরাসরি দর্শন পাওয়ার এই সুযোগ লক্ষ লক্ষ শিবভক্তের জন্য এক অত্যন্ত শুভ ও অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। এই বছরের যাত্রার শুরুতে আমি আপনাদের, সকল শিবভক্তদের, আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।” উল্লেখ্য, শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ৫৭ দিনব্যাপী বার্ষিক অমরনাথ যাত্রা। প্রথম দিন প্রায় ১০ হাজার তীর্থযাত্রী পবিত্র অমরনাথ গুহার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন।

    ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এক চিরন্তন অধ্যায়

    এই তীর্থযাত্রাকে ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এক চিরন্তন অধ্যায় বলে উল্লেখ করে মোদি বলেন, “বাবা অমরনাথের আশীর্বাদ পাওয়ার এই যাত্রা ভারতের আধ্যাত্মিক যাত্রার ঐতিহ্যে এক চিরন্তন অধ্যায়। প্রতি বছর সনাতন সংস্কৃতি মেনে চলা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত এই যাত্রায় অংশ নিতে জম্মু ও কাশ্মীরে পৌঁছন। ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা, ভিন্ন ভাষায় কথা বলা এবং বিভিন্ন রীতিনীতি পালন করা মানুষ মহাদেবের আশীর্বাদ পাওয়ার একই সংকল্প নিয়ে এই যাত্রা সম্পন্ন করেন।” যাত্রা যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় সেনা, সিআরপিএফ, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, আইটিবিপি, বিএসএফ, এনডিআরএফ-এর জওয়ানদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একইসঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসনিক আধিকারিক, সাফাইকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকদেরও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, “এই দু’মাস ধরে বাবা বরফানির পবিত্র ধামে ভারতের ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’-এর এক অসাধারণ ছবি দেখা যায়।”

    ভক্তদের পাঁচটি সংকল্প গ্রহণের আহ্বান

    অমরনাথ যাত্রাকে আরও সুশৃঙ্খল ও অর্থবহ করে তুলতে প্রধানমন্ত্রী ভক্তদের পাঁচটি সংকল্প গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রথমত, যাত্রাপথে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং গোটা তীর্থপথ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। দ্বিতীয়ত, প্রশাসনের সমস্ত নির্দেশ, ট্রাফিক বিধি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেন। বর্ষাকালে পিচ্ছিল রাস্তা ও তীব্র ঠান্ডার কারণে বিশেষ সতর্ক থাকার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তৃতীয়ত, ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর ভাবনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যাত্রার মোট ব্যয়ের অন্তত ১০ শতাংশ জম্মু ও কাশ্মীরের স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্য কেনার জন্য ব্যয় করার আহ্বান জানান তিনি। এতে স্থানীয় পরিবার ও যুবকদের জীবিকা আরও শক্তিশালী হবে বলে তাঁর মত। চতুর্থত, অমরনাথ যাত্রার সমাপনী দিন, যা এ বছর রাখিবন্ধন উৎসবের সঙ্গে মিলেছে, সেই উপলক্ষে ভাই বা বোনকে একটি গাছের চারা উপহার দেওয়ার এবং ‘এক পেড় মা কে নাম’ অভিযানে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পঞ্চমত, ‘নেশন ফার্স্ট’-এর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সারা বছর সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন এবং উন্নত ভারত বা ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের লক্ষ্যে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    অমরনাথ যাত্রায় কড়া নিরাপত্তা

    অমরনাথ যাত্রার জন্য জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখা ও আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারি বাড়াচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। সরকারি সূত্রে খবর, উত্তর কাশ্মীরে গুরেজ, কেরান, উরি সহ বিভিন্ন অঞ্চলে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে, জম্মুতে কাঠুয়া, পুঞ্চ-রাজৌরি বেল্ট সহ একাধিক সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি চালানো হচ্ছে। বাহিনীর এক অফিসার বলেন, ‘তীর্থযাত্রার রুটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মজুত রয়েছে।’ জম্মুর সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলিতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী। বাসিন্দাদের প্রতি মুহূর্তে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গাড়িতে নাকা তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সন্দেহ হলেই পরিচয়পত্র সহ যাবতীয় নথি খতিয়ে দেখছে বাহিনী। জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় হাইওয়েতেও নিয়মিত তল্লাশি অভিযান চলছে।

    নিরাপত্তায় বহু-স্তরীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা

    বার্ষিক অমরনাথ যাত্রার নিরাপত্তায় বহু-স্তরীয় সুরক্ষা ব্যবস্থাও রয়েছে। রয়েছে নো-ফ্লাই জোন (বিমান চলাচলে নিষিদ্ধ এলাকা), পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, ইলেকট্রনিক নজরদারি এবং যানবাহনের চলাচলের ওপর রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ। জম্মু ও কাশ্মীরে প্রতি বছর যেসব ব্যাপক কার্যক্রম বা আয়োজন করা হয়ে থাকে, তার মধ্যে অমরনাথ যাত্রা সংক্রান্ত নিরাপত্তা পরিকল্পনা অন্যতম। অমরনাথ যাত্রার সময় উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ ‘পহেচান’ (Pehchaan) নামে একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু করেছে। এর মাধ্যমে তীর্থযাত্রী ও নিরাপত্তা কর্মীরা স্থানীয় পরিষেবা প্রদানকারীদের পরিচয় ও নথিপত্র সঙ্গে সঙ্গে যাচাই করতে পারবেন। এই অমরনাথ যাত্রার সঙ্গে যুক্ত ছোট ঘোড়ার মালিক, কুলি, পরিবহন অপারেটর, গাইড এবং বিক্রেতাদের রেজিস্টার ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এই অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। এটি অনুমোদিত কর্মীদের একটি ডিজিটাল ডেটাবেস তৈরি করেছে। যার ফলে পুলিশ তীর্থযাত্রার পথে কর্মরত ব্যক্তিদের ওপর নজর রাখতে পারবে। একইভাবে যাচাই-বাছাইহীন যেসব মানুষ থাকবেন তাঁদের শনাক্ত করতে এবং প্রতারণা রোধ করতে সক্ষম হবে। অমরনাথ যাত্রার সময় যাতে জঙ্গিরা ছোট ঘোড়ার মালিক, পালকি বাহক বা অন্যান্য পরিষেবা প্রদানকারীর ছদ্মবেশ ধারণ করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে এই তীর্থযাত্রার সঙ্গে যুক্ত সকল অনুমোদিত কর্মীর জন্য কিউআর কোড-ভিত্তিক ও টেম্পার-প্রুফ (যা সহজে বিকৃত বা পরিবর্তন করা যায় না) পরিচয়পত্র চালু করল জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ।

  • West Bengal Illegal Infiltration: ৭ জুলাই দিল্লিতে বড় বৈঠক, অনুপ্রবেশ রুখতে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা

    West Bengal Illegal Infiltration: ৭ জুলাই দিল্লিতে বড় বৈঠক, অনুপ্রবেশ রুখতে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে চলেছে। আগামী ৭ জুলাই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা। বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও বৈঠকে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ রোধ এবং জনবিন্যাস সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনেই রাজ্য সরকার সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ রুখতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে চলেছে। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে এই প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হবে।

    ৪৫ দিনে ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠানোর দাবি

    মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গত ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্ত সুরক্ষাবাহিনী (বিএসএফ)-এর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় ১২টি বিশেষ ‘হোল্ডিং স্টেশন’ চালু করা হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই হোল্ডিং স্টেশনগুলির মাধ্যমে ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে সীমান্ত পার করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আরও প্রায় এক থেকে দেড় হাজার মানুষ ওই কেন্দ্রগুলিতে রয়েছেন বলেও তিনি জানান। সরকারের দাবি, সীমান্তবর্তী থানাগুলি এখন বিএসএফ-এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে। সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি জেলে পাঠানোর পরিবর্তে প্রথমে হোল্ডিং স্টেশনে রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও আন্তর্জাতিক প্রোটোকল অনুসরণ করে পরে তাঁদের নিজ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সরকার জানিয়েছে।

    ১ অগাস্ট থেকে ডিজিটাল জাতিগত জনগণনার পরিকল্পনা

    মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ১ অগাস্ট থেকে পশ্চিমবঙ্গে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জাতিগত জনগণনা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রথমবারের মতো ‘সেলফ ডিক্লারেশন’ বা স্ব-ঘোষণার সুযোগ রাখা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই জনগণনার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই সমীক্ষার মাধ্যমে রাজ্যের জনবিন্যাসের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে এবং ভবিষ্যতে অনুপ্রবেশ রোধে আরও কার্যকর নীতি গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

    পশ্চিমবঙ্গে আসছে কেন্দ্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল

    এদিকে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে জনবিন্যাসের পরিবর্তন ও তার প্রভাব খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রের গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি শীঘ্রই বিভিন্ন রাজ্য সফর শুরু করবে। প্রথম পর্যায়েই পশ্চিমবঙ্গ তাদের সফরসূচিতে রয়েছে বলে সূত্রের খবর। বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাসভবনে কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক হয়। জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য কমিটি ইতিমধ্যেই একটি বিস্তারিত প্রশ্নমালা তৈরি করেছে। বিভিন্ন সীমান্ত রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ, জনবিন্যাসের পরিবর্তন এবং তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নই হবে এই কমিটির মূল লক্ষ্য।

  • Election Commission of India: দল কার, প্রতীক কার? মমতা-ঋতব্রত, তৃণমূলের দুই পক্ষকেই নোটিস ধরাল নির্বাচন কমিশন

    Election Commission of India: দল কার, প্রতীক কার? মমতা-ঋতব্রত, তৃণমূলের দুই পক্ষকেই নোটিস ধরাল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে? তৃণমূলের অধিকার নিয়ে মমতা এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, দুই পক্ষকেই নোটিস দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। কেন প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেসের মান্যতা দেওয়া হবে সেই প্রসঙ্গে নিজেদের সমর্থনে তথ্য দিয়ে নোটিসের জবাব দিতে হবে। ৬ জুলাই, আগামী সোমবার, বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে দুই পক্ষকেই নোটিসের জবাব জমা দিতে হবে এমনই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করে স্বীকৃতি আদায় করতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই কমিশনের তরফে দুই শিবিরকেই চিঠি দেওয়া হয়।

    দুই পক্ষের দাবি

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরই ঘাসফুল শিবিরে ভাঙন ধরে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ও তাঁর সাংসদ ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির থেকে বেরিয়ে এসে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি গোষ্ঠী তৈরি হয়। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দাবি, দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫-রও বেশি জনের সমর্থন রয়েছে তাঁদের কাছে। ইতিমধ্যে ঋতব্রত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিতও হয়েছেন। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীদের যুক্তি, বিধানসভার সংখ্যার চেয়ে সাংগঠনিক শক্তিই দলের কর্তৃত্ব নির্ধারণ করে। দলের সংবিধান বা নিজস্ব আইন রয়েছে। সেই মোতাবেক সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ এখনও দৃঢ়ভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই রয়েছে। তাঁরা সেই সংক্রান্ত নথিও জমা করেছেন কমিশনে।

    কমিশনের বিজ্ঞপ্তি-তে কী বলা হল

    সাম্প্রতিক, কালে তৃণমূলের ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি নিয়েও জট ক্রমেই বেড়েছে। প্রশ্ন উঠেছে বৈধতা নিয়ে। এই আবহে ঋতব্রত শিবিরের বক্তব্য, ২০২৫ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে পুরনো ওয়ার্কিং কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। তারপর আর কোনও অভ্যন্তরীণ নির্বাচন হয়নি। অপরদিকে মমতা শিবিরের বক্তব্য, ২০২৬ এর ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁরা কমিটির তালিকা পাঠিয়ে দিয়েছেন। ফলে বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকার কথা নয়। এখন এর মূলেই যেতে চাইছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কারা ‘আসল’ তৃণমূল এবং কাদের হাতে দলের প্রতীক, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী ও অন্য সাংগঠনিক বিষয় পরিচালনার অধিকার থাকবে- তা নিয়ে উভয় পক্ষের দাবির প্রেক্ষিতে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে দুই পক্ষকেই উত্তর দিতে হবে।

  • VB G RAM G: ভারতের গ্রামীণ শ্রমিকদের জন্য বড় ঘোষণা, ১০ শতাংশের বেশি বাড়ল মজুরি, কত হল জানেন?

    VB G RAM G: ভারতের গ্রামীণ শ্রমিকদের জন্য বড় ঘোষণা, ১০ শতাংশের বেশি বাড়ল মজুরি, কত হল জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের গ্রামীণ শ্রমিকদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে ‘বিকশিত ভারত–রোজগার ও আজীবিকা গ্যারান্টি মিশন (গ্রামীণ) আইন, ২০২৫’। নয়া আইনের আওতায় সারা (VB G RAM G) দেশে গ্রামীণ শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে (Minimum Wage)। পাশাপাশি যোগ্য গ্রামীণ পরিবারগুলিকে বছরে ১২৫ দিনের নিশ্চিত মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থানের আইনি অধিকার দেওয়া হয়েছে।

    বাড়ল গড় দৈনিক মজুরি (VB G RAM G)

    নয়া ব্যবস্থায় জাতীয় স্তরে ঘোষিত গড় দৈনিক মজুরি ২৯৮.৮ টাকা থেকে বেড়ে ৩২৭.৪ টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ গড়ে ১০ শতাংশেরও বেশি মজুরি বেড়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, দেশের কোনও এলাকায়ই ঘোষিত ন্যূনতম দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকার নীচে থাকবে না। সমস্ত রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং নির্ধারিত মজুরি অঞ্চলের জন্য সংশোধিত মজুরির হার ইতিমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, অসম, অরুণাচল প্রদেশ এবং হিমাচল প্রদেশে দৈনিক মজুরি ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নতুন আইনে গ্রামীণ পরিবারগুলির জন্য নিশ্চিত কর্মসংস্থানের সীমা ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের ফলে গ্রামীণ কর্মসংস্থান আরও স্বচ্ছ, কার্যকর এবং ফলপ্রসূ হবে।

    মন্ত্রীর বক্তব্য

    সরকারের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী গ্রামীণ সম্পদ গড়ে তোলা, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং গ্রামে মহিলাদের নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। নতুন আইন নির্বিঘ্নে কার্যকর করতে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য অন্তর্বর্তী বরাদ্দ হিসেবে ৯৫ হাজার ৬৯২ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা দিয়ে দিয়েছে। এই অর্থ কর্মসংস্থান অব্যাহত রাখা, সময়মতো মজুরি দেওয়া এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের কাজে ব্যয় করা হবে। কেন্দ্রীয় গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, “বিকশিত ভারত–রোজগার ও আজীবিকা গ্যারান্টি মিশন (গ্রামীণ) আইন, ২০২৫ গ্রামীণ ভারতের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এই আইন গ্রামীণ শ্রমিকদের আরও বেশি জীবিকা সুরক্ষা, মর্যাদা এবং আত্মবিশ্বাস জোগাবে (VB G RAM G)।”

    সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন

    তিনি বলেন, “১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের আইনি নিশ্চয়তা গ্রামীণ পরিবারের পাশে থাকার সরকারের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। সরকারের অগ্রাধিকার হল, প্রত্যেক যোগ্য শ্রমিক যাতে প্রয়োজনের সময় কাজ পান, তা নিশ্চিত করা (Minimum Wage)।” মন্ত্রী জানান, নয়া আইন কার্যকর করার জন্য কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার প্রশাসনিক, আর্থিক ও কারিগরি সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। তাঁর আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, দীর্ঘস্থায়ী গ্রামীণ সম্পদ গড়ে উঠবে, মহিলাদের ক্ষমতায়ন আরও জোরদার হবে এবং আত্মনির্ভর ও উন্নত গ্রামীণ ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্য পূরণে গতি আসবে। একই সঙ্গে তিনি দেশের নাগরিকদের শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর গ্রাম গড়ে তোলার কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান (VB G RAM G)।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন যাঁরা

    এই আইনের জাতীয় সূচনা অনুষ্ঠান হয় বৃহস্পতিবার অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতি জেলার ওবুলভারিপল্লে মণ্ডলের মুক্কাভারিপল্লে গ্রামে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু, উপমুখ্যমন্ত্রী কোনিদেলা পবন কল্যাণ, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী চন্দ্র শেখর পেম্মাসানি, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী কমলেশ পাসওয়ান-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। অনুষ্ঠানে নতুন কর্মসূচির সূচনা, উপভোক্তাদের গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি কার্ড বিতরণ, নতুন সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম চালু, বিভিন্ন (Minimum Wage) প্রকাশনা প্রকাশ, উপভোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং আইন কার্যকর করতে একাধিক উদ্যোগেরও সূচনা করা হয় (VB G RAM G)।

     

  • West Bengal Cabinet: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বড় সিদ্ধান্ত! কাঁটাতার বসানোর কাজে কেন্দ্রকে ৫৪ একর জমি দিল রাজ্য

    West Bengal Cabinet: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বড় সিদ্ধান্ত! কাঁটাতার বসানোর কাজে কেন্দ্রকে ৫৪ একর জমি দিল রাজ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, নতুন সীমান্ত চৌকি গড়ে তোলা এবং সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা সীমান্তরক্ষী বাহিনীগুলিকে ৫৪.২৪ একর সরকারি খাস জমি স্থায়ীভাবে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা।

    মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবে অনুমোদন

    বৃহস্পতিবার নবান্নে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, জমিগুলি মূলত বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এবং সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-র প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজে ব্যবহার করা হবে।

    ৬ জেলায় জমি হস্তান্তর

    সরকারি সূত্রের খবর, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক সীমান্তবর্তী জেলায় এই জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর এবং মালদা। যেসব এলাকায় এখনও সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া সম্পূর্ণ হয়নি অথবা নতুন বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) তৈরির প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে এই জমি কাজে লাগানো হবে। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, হস্তান্তরিত জমিতে নতুন সীমান্ত চৌকি নির্মাণের পাশাপাশি অসম্পূর্ণ কাঁটাতারের বেড়ার কাজ শেষ করা হবে। একই সঙ্গে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর টহল ও যাতায়াত আরও সহজ করতে নতুন রাস্তা তৈরির কাজও করা হবে।

    জমি-জটে আটকে কাঁটাতারের কাজ

    উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন অংশে জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ থমকে ছিল। এই ইস্যুতে অতীতে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে একাধিকবার মতবিরোধও সামনে এসেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অভিযোগ ছিল, প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত না মেলায় সীমান্ত সুরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং অন্যান্য বেআইনি কার্যকলাপ রুখতে দ্রুত সীমান্ত বেড়া সম্পূর্ণ করার ওপর বরাবরই জোর দিয়ে এসেছে কেন্দ্র।

    বিএসএফ ও এসএসবি-র সুবিধা

    সাম্প্রতিক প্রশাসনিক উদ্যোগের ফলে সেই অচলাবস্থা কাটতে শুরু করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সীমান্তে নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণের গতি বাড়বে, পাশাপাশি বিএসএফ ও এসএসবি-র কাজ পরিচালনাও আরও সহজ হবে। প্রশাসনিক মহলের মতে, জমি সংক্রান্ত জটিলতা দূর হওয়ায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা একাধিক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত হবে।

  • Juvenile Arthritis: খেলতে গিয়ে হাঁটতে কষ্ট, বারবার জ্বর? অবহেলা করবেন না, শিশুর হাড়েও বাসা বাঁধতে পারে আর্থারাইটিস!

    Juvenile Arthritis: খেলতে গিয়ে হাঁটতে কষ্ট, বারবার জ্বর? অবহেলা করবেন না, শিশুর হাড়েও বাসা বাঁধতে পারে আর্থারাইটিস!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    মাঝেমধ্যেই জ্বর, গায়ে ব্যথা আবার কখনো হাঁটতে বা ছুটতে গেলেই ক্লান্তি গ্রাস করে! পরিবারের একরত্তি সদস্যের এমন সমস্যায় উদ্বেগ বাড়ে অভিভাবকদের! চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সাধারণ এমন উপসর্গ জটিল রোগের জানান দেয়। তাই আগাম সচেতনতা জরুরি। তবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। রোগ সম্পর্কে জানলে তবে রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। জুলাই মাস জুভেনাইল আর্থারাইটিস অ্যাওয়ারনেস মান্থ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর হাড়েও সমস্যা হতে পারে। আর্থারাইটিস প্রৌঢ় বয়সে দেখা দেয়। কিন্তু শিশুদের মধ্যেও এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে। একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতে প্রত্যেক বছর কয়েক হাজার শিশু এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বর্তমানে কয়েক লাখ শিশু আর্থারাইটিসের মতো রোগে কাবু। সম্প্রতি এই রোগের প্রকোপ আরও বেড়েছে। তাই এই নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    জুভেনাইল আর্থারাইটিস কী?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ১৬ বছরের কম বয়সি ছেলেমেয়েদের হাড় এবং দেহের একাধিক জয়েন্টে যন্ত্রণা এবং হাড়ের ক্ষমতা কমতে থাকার এক ধরনের অসুখ হলো জুভেনাইল আর্থারাইটিস।

    কেন এই রোগ হয়?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, জুভেনাইল আর্থারাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট একটি কারণ থাকে না। তবে কয়েকটি ঘটনা এই রোগে আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। পরিবারের কেউ আর্থারাইটিসে আক্রান্ত হলে শিশুর জুভেনাইল আর্থারাইটিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়‌। এই রোগ জিনগত। তাই বংশানুক্রমিক ভাবে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে। অর্থাৎ পরিবারের কেউ আর্থারাইটিসে আক্রান্ত থাকলে, পরবর্তী প্রজন্মের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। শিশুর এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। এমনটাই জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, আর্থারাইটিস অনেক সময়েই অটোইমিউন ডিজিজ হিসাবে দেখা যায়। অর্থাৎ নিজের দেহের রোগ প্রতিরোধ শক্তি, শরীরে সমস্যা সৃষ্টি করছে। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে এমন জটিলতা থাকলে, এই ধরনের রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। পরিবেশগত কারণেও জুভেনাইল আর্থারাইটিস হতে পারে বলেই জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা। অর্থাৎ এমন কোনো ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ শিশু দেহে হতে পারে, তার থেকে এই ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়‌।

    কীভাবে বুঝবেন সন্তানের সমস্যা রয়েছে কিনা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি উপসর্গ সম্পর্কে সচেতন থাকলেই এই রোগ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশু অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়লে অভিভাবকদের নজর দেওয়া জরুরি। বারবার জ্বর হওয়া, ত্বকে নানান রকম দাগ দেখা দেওয়া, হাঁটাচলা বা খেলার সময়ে হঠাৎ করেই পায়ে অসুবিধা হয়ে যাওয়া, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে হাঁটতে অসুবিধা হওয়া কিংবা পায়ের জয়েন্ট ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, শিশুর বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে কিনা সেদিকে নজর দেওয়া। অর্থাৎ ওজন ঠিকমতো বাড়ছে কিনা, উচ্চতাও ঠিকমতো বাড়ছে কিনা এগুলো নজর দেওয়া প্রয়োজন। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ১ থেকে ৫ বছর বয়সের মধ্যে শিশুদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি‌ থাকে। আবার ১২-১৬ বছর বয়সিদের মধ্যেও এই রোগের প্রকোপ নতুন করে বেশি দেখা দিতে পারে। তাই এই বয়সে বাড়তি নজরদারি জরুরি।

    সন্তানকে সুস্থ রাখতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, রোগের ঝুঁকি কমানো জরুরি। কিন্তু পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়‌। এই রোগে আক্রান্ত হলে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠাও সম্ভব হয় না।‌ এই রোগে আক্রান্তের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন। তবে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য কয়েকটি দিকে বাড়তি নজরদারি জরুরি। শিশুর প্রত্যেক দিন সুষম খাবার প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুর হাড় মজবুত করতে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া দরকার। তাছাড়া এই রোগে শিশুর শরীরে ক্লান্তিবোধ আরও তৈরি হয়। তাই প্রোটিন ও ভিটামিন জাতীয় খাবার খাওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নিয়মিত শিশুকে দুধ, ডিম, মাছ এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে সব্জি খাওয়াতে হবে। যাতে শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলের চাহিদা পূরণ হয়। শিশুর নিয়মিত শারীরিক কসরত করা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শারীরিক কসরত করলে তবেই হাড়, পেশি, স্নায়ু সচল থাকে। জুভেনাইল আর্থারাইটিসের মতো রোগের মোকাবিলায় শারীরিক সক্রিয়তা অত্যন্ত জরুরি। দিনে নূন্যতম তিরিশ মিনিট যাতে শিশু শারীরিক কসরত করে, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। শিশুকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম হলে তবেই শরীর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পাবে। ক্লান্তি দূর হবে। আবার পেশি ও স্নায়ুর উপরেও চাপ কমবে। ফলে শিশু স্বাভাবিক কাজ সহজেই করতে পারবে। এছাড়াও নিয়মিত চিকিৎসার ফলোআপ করানো জরুরি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
LinkedIn
Share