Blog

  • Mass Ukrainian Drone Attack: মস্কোয় শত শত ড্রোন হামলা, নিহত ২, ক্ষতিগ্রস্ত আস্ত তেল শোধনাগার

    Mass Ukrainian Drone Attack: মস্কোয় শত শত ড্রোন হামলা, নিহত ২, ক্ষতিগ্রস্ত আস্ত তেল শোধনাগার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার সংসদীয় নির্বাচনের শেষ দিনে মস্কো ও সংলগ্ন এলাকায় শত শত ড্রোন হামলায় (Mass Ukrainian Drone Attack) অন্তত দু’জন নিহত এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রুশ কর্তৃপক্ষ। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ১,৬০০টিরও বেশি ড্রোন শনাক্ত করে ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৫০টি ড্রোন মস্কোকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল।

    রাশিয়ার অভিযোগ (Mass Ukrainian Drone Attack)

    রাশিয়ার অভিযোগ, কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে অনুষ্ঠিত তিনদিনের নির্বাচনে বিঘ্ন ঘটাতেই ইউক্রেন এই হামলা চালিয়েছে। এই নির্বাচন শেষ হলে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ২৬ বছরের ক্ষমতার মেয়াদ আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সোবিয়ানিন বলেন, “এই নজিরবিহীন হামলা যে নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিত হয়েছিল, তা স্পষ্ট। তবে শত্রুপক্ষ সফল হয়নি।” ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার প্রশংসা করে বলেন, “গত রাতে মস্কো অঞ্চলে আমাদের দূরপাল্লার পাল্টা হামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়েছে।” এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেল শিল্পের একটি স্থাপনা এবং আগ্রাসী বাহিনীর একটি রসদ সরবরাহ কেন্দ্রে আঘাত হানা হয়েছে। এই স্থাপনাগুলি থেকে যুদ্ধযন্ত্র চালানোর জন্য যে অর্থ আসে, তার পরিমাণ কয়েকশো কোটি ডলার।” মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, দু’টি পৃথক জায়গায় ড্রোন হামলায় অন্তত দু’জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন প্রৌঢ়া, অন্যজন বৃদ্ধ। ভোরোবিয়ভ জানান, ২১ তলা একটি ভবনে একটি ড্রোন আছড়ে পড়ার পর আগুন ধরে যায়। দ্রুত প্রায় ৪০০ জনকে ভবনটি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। যদিও ড্রোনগুলি কোথা থেকে আসছিল, সে প্রসঙ্গে তিনি কিছু জানাননি। এদিকে, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের মস্কোর দখলে থাকা খেরসন অঞ্চলের একটি অংশে ড্রোন হামলার ঘটনায় একটি বাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই হামলায় দু’জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন নির্বাচনী কমিশনের সদস্য ছিলেন।

    নির্বাচন চলাকালীন হামলা

    গত কয়েক মাস ধরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা আরও জোরদার করেছে কিয়েভ (ইউক্রেনের রাজধানী)। বিশেষ করে রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে ক্রেমলিনের আয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসে আঘাত করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে (Mass Ukrainian Drone Attack)। সোবিয়ানিন আরও জানান, মস্কো তেল শোধনাগারের একটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সেখানে হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। জরুরি পরিষেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারটি গত কয়েক মাসে ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্য হয়েছে। সাম্প্রতিক হামলাটি এমন একটা সময়ে হল, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

    রাশিয়ায় নির্বাচন

    এদিকে, শুক্রবার রাশিয়ার নাগরিকেরা ভোট দিতে শুরু করেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মস্কো ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর পর এটাই দেশটির প্রথম সংসদীয় নির্বাচন। ওই সামরিক সংঘাতের ফলে কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন পক্ষের দাবি। রাশিয়ায় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য মূলত প্রেসিডেন্ট পুতিন ও ক্রেমলিনের সামরিক অভিযানের সমর্থক দলগুলিকেই নিবন্ধিত করা হয়েছে। মস্কো ইউক্রেনের দখল করা এলাকাগুলিতেও ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করেছে। পুতিনের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড রাশিয়া দল আবারও সহজেই জয়ী হবে—এমনটাই জানিয়েছেন সিংহভাগ রাশিয়ান। এই নির্বাচন ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি রুশ জনগণের সমর্থনের মাত্রা বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে (Mass Ukrainian Drone Attack) বলে ধারণা সংশ্লিষ্টমহলের।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন, প্রকাশ্যে একাধিক ঘটনা

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে সাপ্তাহিক প্রতিবেদন, প্রকাশ্যে একাধিক ঘটনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু ও হিন্দু ধর্মীয় (Hindus Under Attack) প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, হিংসা ও বৈষম্যের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর—এই সময়কালের ঘটনাগুলিকে ঘিরে একটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে (Weekly Roundup) এমন কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে থাকা অভিযোগগুলির সবক’টির সত্যতা যাচাই করা হয়নি।

    বিনায়ক চতুর্থীর আয়োজন নিয়ে বিতর্ক (Hindus Under Attack)

    তামিলনাড়ুতে বিনায়ক চতুর্থী উপলক্ষে মূর্তি স্থাপন ও উৎসব আয়োজনের অনুমতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। এ বছরও বিভিন্ন জায়গায় অনুমতি এবং প্রশাসনিক বিধিনিষেধ নিয়ে অভিযোগ ওঠে। তবে সরকারি নির্দেশিকায় পরিবেশ রক্ষা এবং নির্দিষ্ট জায়গায় মূর্তি বিসর্জনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। ৫ সেপ্টেম্বর রাজ্য সরকার মাটি দিয়ে তৈরি এবং পরিবেশবান্ধব মূর্তি ব্যবহারের পাশাপাশি প্রশাসন নির্ধারিত জায়গায় বিসর্জনের নির্দেশিকা প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কয়েকটি ক্ষেত্রে উৎসবের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং মূর্তি আটক করা হয়েছে।

    খাবারের বিজ্ঞাপন নিয়ে বিতর্ক

    তামিলনাড়ুর তিরুনেলভেলিতে একটি বিরিয়ানি দোকানের বিজ্ঞাপনী ব্যানারে ভগবান গণেশকে বিরিয়ানি খেতে দেখা যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দোকানের মালিককে গ্রেফতার করে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে মামলা করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪ সেপ্টেম্বর এই ঘটনা সামনে আসে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কেরলে বিষু উৎসবের সময় কয়েকটি রেস্তরাঁর বিজ্ঞাপনে শ্রীকৃষ্ণের ছবির সঙ্গে মুরগির মাংস, বিরিয়ানি-সহ আমিষ খাবারের ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। এই ধরনের বিজ্ঞাপন নিয়ে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও বিজ্ঞাপনে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের সীমা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    মন্দিরের জমি উদ্ধারের দাবি

    চেন্নাইয়ের নুঙ্গামবাক্কমে অবস্থিত অখিলাণ্ডেশ্বরী সমেত অঘতীশ্বরের মন্দিরের জমি উদ্ধারের দাবি তুলেছেন কয়েকজন ভক্ত এবং জাতীয় হিন্দু মন্দির ফেডারেশন (Hindus Under Attack)। ভক্তদের অভিযোগ, কয়েক দশক ধরে মন্দিরের বিপুল পরিমাণ জমি ধীরে ধীরে হাতছাড়া হয়েছে।

    ফেডারেশনের দাবি, প্রায় ৪১৫ গ্রাউন্ড জমি উদ্ধারের প্রয়োজন রয়েছে এবং মোট ৪৫০-এর বেশি গ্রাউন্ড জমি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এক গ্রাউন্ড জমি ২,৪০০ বর্গফুটের সমান। প্রতিবেদনে প্রাক্তন ট্রাস্টি ও সংশ্লিষ্ট দফতরের কিছু আধিকারিকের ভূমিকা থাকার অভিযোগও করা হয়েছে (Weekly Roundup)।

    গুলিতে জখম ১

    মধ্যপ্রদেশের সিরোঞ্জ কৃষি বাজারের কাছে শ্রমিকদের কাজের তদারকির দায়িত্ব নিয়ে বিরোধের জেরে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ, আমির মাভিয়া নামে এক ব্যক্তি বিক্রম আহিরওয়ার নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করেন। আহত বিক্রমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদিশায় পাঠানো হয়।উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে জনেশ্বর মিশ্র পার্কের কাছে এক মহিলাকে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগে শাহনওয়াজ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মহিলা গাড়িটির সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এরপর গাড়িটি চলতে শুরু করলে তিনি গাড়ির বনেটে ধরে থাকার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাঁকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে।

    বাংলাদেশ

    বাংলাদেশে হিন্দু-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল ও অন্যান্য হিংসতার অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ- খ্রিস্টান-ঐক্য পরিষদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে বলে সংগঠনের দাবি। তাদের হিসাবে, এর মধ্যে ৪৪টি মৃত্যুর ঘটনা, উপাসনালয়ে ৬২টি হামলা এবং বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ৪৭টি হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা রয়েছে (Hindus Under Attack)।

    ইসলাম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে যুবক আটক

    নীলফামারীর বছর বাইশের হিন্দু যুবক দেবাশিস রায়কে আটক করেছে রংপুরের পুলিশ। অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়ায় ইসলাম সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশ করায় আটক করা হয়েছে তাঁকে। শুরু হয়েছে তদন্ত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১ সেপ্টেম্বর জুম্মার নমাজের পর স্থানীয় মুসলিম তৌহিদ জনতার ব্যানারে একটি মিছিল ও সমাবেশ হয় এবং দেবাশিসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। তার পরেই আটক করা হয় (Weekly Roundup) তাঁকে। হিন্দুদের জনসংখ্যা হ্রাস নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের একটি গবেষণার উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বিভিন্ন সংস্থা ও সংবাদপ্রতিবেদনে তাঁর একটি পূর্বাভাস উদ্ধৃত করা হয়েছে যে বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা অত্যন্ত কমে যেতে পারে, এমনকি শূন্যের কাছাকাছিও পৌঁছতে পারে (Hindus Under Attack)।

    ধর্মীয় বৈষম্য ও উৎসব নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্ন

    প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, ধর্মীয় বিদ্বেষের পাশাপাশি আইন, প্রশাসন ও সামাজিক পরিসরে সূক্ষ্ম বৈষম্যও হিন্দুদের জন্য সমস্যার পরিবেশ তৈরি করতে পারে। দীপাবলিতে বাজি ব্যবহারে বিধিনিষেধকে এর একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    তবে বাজি নিষিদ্ধ বা সীমিত করার ক্ষেত্রে পরিবেশদূষণ, বায়ুর গুণমান এবং জনস্বাস্থ্যের মতো কারণও সরকারি নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই কোনও নির্দিষ্ট বিধিনিষেধকে ধর্মীয় বৈষম্য হিসেবে চিহ্নিত করার আগে সংশ্লিষ্ট আইন, সরকারি নির্দেশিকা এবং তার প্রয়োগের ধরন আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তামিলনাড়ুর ২০২৬ সালের বিনায়ক চতুর্থী নির্দেশিকাতেও (Weekly Roundup) পরিবেশ সুরক্ষাকে বিধিনিষেধের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

     

  • Durga Puja: দুর্গাপুজোকে ঘিরে হিংসা, প্রশাসনিক বাধা-রাজনৈতিক বিতর্ক, নতুন করে সামনে ফের পুরনো প্রশ্ন

    Durga Puja: দুর্গাপুজোকে ঘিরে হিংসা, প্রশাসনিক বাধা-রাজনৈতিক বিতর্ক, নতুন করে সামনে ফের পুরনো প্রশ্ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেরও অন্যতম বড় পরিসর। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজোকে (Durga Puja) মানবতার বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ইউনেস্কো। তাদের নথিতে দুর্গাপুজোকে ধর্ম, শিল্প, কারুশিল্প ও সমবেত সামাজিক অংশগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    তবে গত এক দশকে দুর্গাপুজোকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক হিংসাত্মক ঘটনা, প্রশাসনিক বিধিনিষেধ, পুলিশি পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক বিতর্ক সামনে এসেছে। এর মধ্যে কিছু ঘটনায় পুজোমণ্ডপ বা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের অভিযোগ রয়েছে, আবার কিছু ঘটনায় প্রতিবাদ, মতপ্রকাশের অধিকার এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে উৎসবের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    শারদোৎসব না দুর্গাপুজো? (Durga Puja)

    ২০২৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বিধানসভায় দুর্গাপুজোর মণ্ডপের কাছে বামপন্থী সংগঠনগুলির বইয়ের স্টল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, যে সব বামপন্থী বইয়ের স্টলে “দুর্গাপুজো”র পরিবর্তে “শারদোৎসব” শব্দ ব্যবহার করা হবে, সেই স্টলকে পুজো কমিটিগুলির অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। তাঁর অভিযোগ, “শারদোৎসব” শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে উৎসবের ধর্মীয় চরিত্রকে খাটো করা হচ্ছে।

    সিপিআই(এম)-এর তরফে এই বক্তব্যের বিরোধিতা করা হয়েছে। দলটির সঙ্গে যুক্ত বইয়ের স্টলগুলির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের কথাও সামনে এসেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৫৪ সালে পার্ক সার্কাসে মুজফ্ফর আহমেদের উদ্যোগে এই ধরনের প্রথম বামপন্থী-সংযুক্ত বইয়ের স্টল বসেছিল। সেখানে রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত বইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে সাহিত্য ও অন্যান্য বই বিক্রি করা হয়েছিল।

    সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, “গণতন্ত্র মানে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ভাবনার সহাবস্থান।” দলের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, তাদের বইয়ের স্টলে স্বামী বিবেকানন্দ, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-সহ বিভিন্ন ভারতীয় ব্যক্তিত্বের উপর বইও থাকে।

    ফলে বিতর্কটি কেবল একটি শব্দ ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। দুর্গাপুজোকে প্রধানত ধর্মীয় উৎসব হিসেবে দেখা হবে, নাকি ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবেও তার পরিচয় থাকবে—তা নিয়েও রাজনৈতিক মতপার্থক্য সামনে এসেছে। ২০২৪ সালের দুর্গাপুজোর সময় কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

    হাওড়ার শ্যামপুরে অশান্তি

    অক্টোবর ২০২৪-এ হাওড়ার শ্যামপুরে একটি ছবি নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি পরে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরে গড়ায়। পুলিশের তরফে ৬৭ জনকে গ্রেফতারের কথা জানানো হয়। এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি এবং মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবায় বিধিনিষেধের কথাও প্রকাশ্যে আসে। একই ঘটনায় পুজো কমিটির এক সদস্যের বিরুদ্ধেও মামলা হয়।

    গার্ডেনরিচের পুজোমণ্ডপে উত্তেজনা

    ১১ অক্টোবর কলকাতার গার্ডেনরিচের নিউ বেঙ্গল স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোমণ্ডপে একদল যুবকের প্রবেশ ও ধর্মীয় আচার চলাকালীন বাজানো শব্দ নিয়ে আপত্তির অভিযোগ ওঠে। পুজো কমিটির অভিযোগ, ৫০-৬০ জন সেখানে এসে অনুষ্ঠান বন্ধ করার দাবি জানিয়েছিলেন এবং প্রতিমা ভাঙার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা করে তদন্ত শুরু করে।

    তবে ঘটনাটির প্রেক্ষাপট নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য আলাদা। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবারের নমাজের সময়ে পুজোর শব্দ নিয়ে আপত্তি থেকে বচসার সূত্রপাত এবং পরে স্থানীয় প্রবীণদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি (Durga Puja) নিয়ন্ত্রণে আসে।

    বিসর্জনকে ঘিরে সংঘর্ষ

    নরকেলডাঙায় কালীপুজোর বিসর্জনের সময় সংঘর্ষ, পাথর ও কাচের বোতল ছোড়ার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক চর্চা হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, ঘটনাটির সূত্রপাত একটি মোটরবাইক পার্কিং নিয়ে বিবাদের জেরে এবং নির্দিষ্ট কোনও বিসর্জন মিছিলকে লক্ষ্য করে হামলা হয়নি। পুলিশের বক্তব্য, নির্ধারিত বিসর্জনের শোভাযাত্রা পরে নিরাপত্তার মধ্যে সম্পন্ন হয়।

    এই ঘটনায় জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদারও রাজ্যপালের কাছে পুলিশি আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের খবর।

    আরজি কর আন্দোলন এবং পুজোর সময় পুলিশের পদক্ষেপ

    ২০২৪ সালের পুজোর সময় আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদও দুর্গাপুজোর পরিসরে এসে পড়ে। ৯ অক্টোবর জুনিয়র চিকিৎসকদের “অভয়া পরিক্রমা” কর্মসূচিকে কলকাতা পুলিশ আটকে দেয়। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে চিকিৎসকদের উত্তেজনা তৈরি হয়।

    ১৫ অক্টোবর সরকারি দুর্গাপুজো কার্নিভালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তপোব্রত রায়কে প্রতিবাদী ব্যাজ পরার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। মামলাটির তদন্তে কলকাতা হাইকোর্ট অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশও দেয়। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ব্যাজে লেখা বক্তব্যকে আপত্তিকর মনে করে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছিল।

    বস্তুত, আরজি করকাণ্ডের প্রতিবাদ, প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘাত এবং উৎসবের সরকারি অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রতিবাদের প্রশ্নও এর সঙ্গে যুক্ত ছিল।

    ১১২ ফুটের দুর্গাপ্রতিমা নিয়ে বিতর্ক

    নদিয়ার রানাঘাটে ২০২৪ সালে ১১২ ফুট উচ্চতার দুর্গাপ্রতিমা স্থাপনের পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। আয়োজকদের বক্তব্য, প্রশাসনিক অনুমতি না মেলায় পুজো বন্ধ রাখতে হয়। পরে ওই জায়গায় মন্দির নির্মাণের সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছিল। এখানে প্রশাসনের আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং আয়োজকদের পুজো আয়োজনের অধিকার—দুই দিকই আলোচনায় আসে।

    সাংবাদিক গ্রেফতারির ঘটনায় বিতর্ক

    ২০২৪ সালের নভেম্বরে কলকাতার একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিক অনন্য গুপ্তকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছিল, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো একটি প্রতিবেদনে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে থাকা ব্যক্তিরা অনন্যর গ্রেফতারির সমালোচনা করেন।

    ২০১৪-র বর্ধমান বিস্ফোরণ

    দুর্গাপুজোর সময় পশ্চিমবঙ্গে নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনায় ২০১৪ সালের বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণও গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রচলিত কিছু প্রতিবেদনে তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। বিস্ফোরণটি ঘটে ২ অক্টোবর ২০১৪ সালে; কিন্তু ১৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় ২৮ অগাস্ট ২০১৯ সালে। দোষী সাব্যস্তদের মধ্যে চারজন বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন। মামলাটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্কের তদন্তের সঙ্গেও সম্পর্কিত ছিল।

    অতএব, ঘটনাটিকে “২০১৪ সালের ২৮ আগস্টের মামলা” বলা সঠিক নয়; ২৮ আগস্ট ২০১৯ ছিল দোষী সাব্যস্ত হওয়ার তারিখ।

    দুর্গাপুজোর সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন

    ইউনেস্কোর নথিতে কলকাতার দুর্গাপুজোকে শুধু ধর্মীয় আচার হিসেবে নয়, শিল্পী, কারিগর, পুজো কমিটি, পুরোহিত, ঢাকি এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। নথিতে বলা হয়েছে, উৎসবের সময়ে শ্রেণি, ধর্ম ও জাতিগত বিভাজন অনেকাংশে অতিক্রম করে মানুষ পুজোমণ্ডপ পরিদর্শনে অংশ নেয়।

    এই কারণেই পুজোকে ঘিরে হিংসা, প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ, প্রশাসনিক বিধিনিষেধ কিংবা মতপ্রকাশের উপর নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ—প্রতিটি ঘটনাই বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ও নাগরিক অধিকারের আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়।

    তবে ঘটনাগুলির প্রকৃতি এক নয়। কোথাও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার অভিযোগ, কোথাও ব্যক্তিগত বা স্থানীয় বিবাদ, কোথাও রাজনৈতিক আন্দোলন, আবার কোথাও প্রশাসনিক অনুমতি বা আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন রয়েছে। ফলে সব ঘটনাকে একই ধরনের “পরিকল্পিত হামলা” হিসেবে দেখার আগে প্রত্যেকটির প্রেক্ষাপট, পুলিশের বক্তব্য, মামলা ও আদালতের পর্যবেক্ষণ আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    সুমুখে যেসব প্রশ্ন

    ২০২৬ সালের বইয়ের স্টল-বিতর্ক এই পুরনো আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে দুর্গাপুজোর ধর্মীয় পরিচয়কে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার দাবি রয়েছে। অন্যদিকে বামপন্থী দলগুলি দীর্ঘদিনের বই বিক্রির ঐতিহ্য এবং মতাদর্শগত প্রকাশের অধিকারের কথা বলছে।

    একই সঙ্গে, দুর্গাপুজোকে (Durga Puja) ইউনেস্কোর স্বীকৃত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ—সবক’টিই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজো তাই একই সঙ্গে ধর্মীয় আচার, সাংস্কৃতিক উৎসব, সামাজিক সমাবেশ এবং রাজনৈতিক বিতর্কের ক্ষেত্র। ২০২৬-এর পুজোর আগে বইয়ের স্টল ঘিরে নতুন বিতর্ক দেখিয়ে দিল, উৎসবের পরিচয় ও জনপরিসরে তার অর্থ নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য এখনও যথেষ্ট তীব্র। সামনে (West Bengal) প্রশাসন, পুজো কমিটি, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষ কীভাবে এই মতপার্থক্য সামলান, তার উপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে উৎসবের পরিবেশ।

     

  • Kerala Police: এঝিমালা নৌ অ্যাকাডেমিতে বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেফতার, কেরলে চলছে নথিবিহীন বাংলাদেশিদের ধরপাকড়

    Kerala Police: এঝিমালা নৌ অ্যাকাডেমিতে বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেফতার, কেরলে চলছে নথিবিহীন বাংলাদেশিদের ধরপাকড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের কান্নুর জেলার উচ্চ-নিরাপত্তাবেষ্টিত এঝিমালা ভারতীয় নৌ অ্যাকাডেমির ভিতর থেকে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতারের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে নথিবিহীন বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে চলা অভিযানে নতুন করে নজর পড়েছে (Kerala Police)। ৩২ বছরের বিপ্লব সোরেন নামে ওই ব্যক্তি প্রায় এক বছর ধরে নৌ অ্যাকাডেমির ধোপাখানায় চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে (Bangladeshi National) কাজ করছিলেন। অভিযোগ, ভারতীয় নাগরিক হিসেবে পরিচয় গোপন করতে তিনি আধার কার্ড এবং পুলিশের ছাড়পত্র ব্যবহার করেছিলেন।

    এঝিমালার এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার ঠিক এক দিন আগে কান্নুর পুলিশ জেলায় বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়াই থাকা ও কাজ করার অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশি মহিলাকে গ্রেফতার করেছিল। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কান্নুর রেলস্টেশনের কাছে একটি স্পা থেকে সালিনা আক্তারকে আটক করার মধ্যে দিয়ে ওই অভিযান শুরু হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরে আরও চার মহিলার সন্ধান পায় পুলিশ। তাঁরা হলেন নাজমা আখতার, কে তসলিমা, কে মইনা এবং নাসরিন বিবি। পুলিশের দাবি, তাঁরা ভাড়া বাড়িতে থাকতেন এবং স্পা ও ম্যাসেজ সেন্টারে কাজ করতেন।

    তদন্তকারীদের হাতে জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র, যার মধ্যে আধার কার্ডও রয়েছে, উদ্ধার হয়েছে। পরিচয়পত্র তৈরি, যাতায়াত, থাকার ব্যবস্থা এবং কাজের সুযোগ করে দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত একটি আন্তঃরাজ্য চক্রের সম্ভাব্য ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের তদন্তে পশ্চিমবঙ্গ, গুয়াহাটি, মুম্বই, কর্নাটক এবং কেরলের মধ্যে যোগাযোগের ইঙ্গিত মিলেছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন জাল পরিচয়পত্রের জন্য একটি আন্তঃরাজ্য জালিয়াতি চক্রকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়েছিলেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    জুন থেকেই শুরু ধরপাকড় (Kerala Police)

    কেরলে বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে এই ধারাবাহিক অভিযান শুরু হয়েছিল জুন মাসে। ৮ জুন কোল্লাম জেলার কুলশেখরপুরম থেকে মুমতাজ বেগম নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করে কেরলের সন্ত্রাসদমন শাখা। তদন্তকারীদের দাবি ছিল, স্থানীয় ঠিকানা ব্যবহার করে নথিবিহীন বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতীয় পরিচয়পত্র জোগাড় করে দেওয়ার একটি চক্রে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে (Kerala Police)।

    তদন্তে তাঁর নামে কেরলের ঠিকানা-সহ রেশন কার্ডের সন্ধান পাওয়া যায় বলে সেই সময়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল। কয়েকটি অক্ষয় কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়েও তদন্তকারীরা নজর দিয়েছিলেন। ওই সময়ের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, সাম্প্রতিক অভিযানে কেরল পুলিশ ও সন্ত্রাসদমন শাখা মোট ৩৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছিল এবং কীভাবে নথিবিহীন বাংলাদেশি নাগরিকদের কেরলে এনে বিভিন্ন এলাকায় বসবাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছিল ও ভারতীয় নথি দেওয়া হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছিল।

    এরপর ২৪ জুন কোল্লামের একটি ইসলামি মাদ্রাসা থেকে ১৯ বছরের মোশিউর খান ওরফে আমান খানকে গ্রেফতার করে কেরলের সন্ত্রাসদমন শাখা। অভিযোগ, বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা প্রবেশের নথি ছাড়াই তিনি করুণাগাপল্লির পুথেনথেরুভু মুসলিম জামাত মসজিদের অধীন শরিয়াতুল ইসলাম মাদ্রাসায় থাকছিলেন ও পড়াশোনা করছিলেন। তাঁর কাছ থেকে জাল আধার কার্ড, রেশন কার্ড এবং ভোটার পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। তাঁকে আশ্রয় দেওয়া, মাদ্রাসায় পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়া এবং স্থানীয় নথি সংগ্রহে সহায়তা করার অভিযোগও তদন্তের আওতায় আসে।

    ২৫ জুন কেরল পুলিশ, বিশেষ শাখা, সন্ত্রাসদমন শাখা এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর যৌথ অভিযানে কোচির কাছে ত্রিপুনিথুরার এরুর এলাকায় দুটি ভাড়া বাড়ি থেকে আরও ছয় বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের নাম মেইদি হাসান, মহম্মদ আসিম, তারেক, সোখির, মহম্মদ সোহেল এবং মহম্মদ মিজান। রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁরা পুরনো লোহালক্কড় ও বাতিল সামগ্রী সংগ্রহের কাজ করতেন। তাঁদের কাছে ভারতে থাকার প্রয়োজনীয় নথি বা বৈধ অনুমতি ছিল না বলে অভিযোগ।

    জুলাইতেও অব্যাহত অভিযান

    ১ জুলাই কোঝিকোড় থেকে তিন বাংলাদেশি নাগরিক—মহম্মদ উলা, মহম্মদ মাফদি হাসান এবং মহম্মদ হাসান আলি—গ্রেফতার হন বলে রিপোর্টে জানানো হয়। অভিযোগ, বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়াই তাঁরা ভারতে ছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে জাল পরিচয়পত্র, মুঠোফোনের সিম কার্ড এবং স্থানীয় যোগাযোগের সূত্র নিয়ে তদন্ত করা হয় বলে জানা যায়।

    এরপর ২৯ জুলাই নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কোঝিকোড়ের মাভুরের কায়ালম বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে আরও এক বাংলাদেশি নাগরিক, মহম্মদ হাসানকে গ্রেফতার করে কেরলের সন্ত্রাসদমন শাখা। অভিযানে বাংলাদেশি পরিচয়পত্র ও মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তাঁর এক সহযোগী পালিয়ে যায় বলেও তদন্তকারীদের দাবি।

    এই গ্রেফতারিগুলিকে রাজ্যজুড়ে চলা একটি অভিযানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, কেরল পুলিশ ও সন্ত্রাসদমন শাখার সাম্প্রতিক অভিযানে ৬০ জনেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    একই ধরনের নথি ও যোগাযোগের সূত্র

    এখন পর্যন্ত সামনে আসা ঘটনাগুলিতে কয়েকটি মিল খুঁজে পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। জাল আধার ও অন্যান্য ভারতীয় পরিচয়পত্র, ভাড়া বাড়িতে থাকা, মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে কাজ পাওয়া, স্থানীয় যোগাযোগ এবং নথি জোগাড় করে দেওয়ার কথিত চক্র—এই বৈশিষ্ট্যগুলি একাধিক মামলায় উঠে এসেছে।

    ফলে বিভিন্ন জেলা ও পেশায় নথিবিহীন বাংলাদেশি নাগরিকদের যাতায়াত ও বসবাসে সহায়তা করার জন্য কোনও সংগঠিত ব্যবস্থা বা নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই সম্ভাব্য নেটওয়ার্কের পরিধি ও প্রকৃতি এখনও তদন্তাধীন।

    কোচিন শিপইয়ার্ডের ঘটনাতেও নিরাপত্তা প্রশ্ন

    এর মধ্যে কেরলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আরও একটি পৃথক ঘটনা সামনে আসে। ১২ জুন কোচিন শিপইয়ার্ডে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য থাকা একটি জাহাজের ভিতরের দেওয়ালে ধারালো কোনও বস্তু দিয়ে “আমি পাকিস্তানকে ভালোবাসি” লেখা পাওয়া যায়। ঘটনাটি সামনে আসার পর কোচি সিটি পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করে।

    যে অংশে জাহাজটি রাখা হয়েছিল, সেখানে নজরদারি ক্যামেরা না থাকায় তদন্তে সমস্যা তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়। জাহাজে কারা প্রবেশ করেছিলেন, তাঁদের নথি এবং কর্মীদের উপস্থিতির রেকর্ডও পরীক্ষা করা হয়। তবে তদন্তকারীরা ওই ঘটনাকে বাংলাদেশি নাগরিকদের গ্রেফতারের সঙ্গে যুক্ত করেননি।

    নজরে এবার কান্নুর

    কোল্লাম, কোচি, কোঝিকোড় এবং কান্নুর—একাধিক জেলায় চলা অভিযানের পর বিষয়টি কোনও একটি এলাকা বা নির্দিষ্ট পেশার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বলেই তদন্তের গতিপ্রকৃতি থেকে স্পষ্ট। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পুরনো লোহালক্কড় সংগ্রহের কর্মী, ভাড়া বাড়ির বাসিন্দা, মাদ্রাসার ছাত্র, স্পা ও ম্যাসেজ সেন্টারের কর্মী এবং সর্বশেষ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চুক্তিভিত্তিক কর্মীও রয়েছেন।

    এঝিমালা নৌ অ্যাকাডেমির ঘটনায় এখন তদন্তের মূল প্রশ্নগুলির মধ্যে রয়েছে—বিপ্লব সোরেন কীভাবে জাল নথি সংগ্রহ করলেন, কে তাঁকে চাকরি পেতে সহায়তা করেছিল এবং কীভাবে প্রায় এক বছর ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে তাঁর কর্মরত থাকা শনাক্ত হয়নি। তাঁর ভারতে অবস্থানের সময়কাল এবং এই ঘটনায় বৃহত্তর কোনও নিরাপত্তাজনিত যোগসূত্র রয়েছে (Bangladeshi National) কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    কান্নুরে সাম্প্রতিক গ্রেফতারের পর একই ধরনের প্রতিষ্ঠানে আরও কোনও নথিবিহীন বিদেশি নাগরিক কাজ করছেন কি না, তা যাচাইয়ের জন্য পুলিশ নজরদারি (Kerala Police) ও নথি পরীক্ষা আরও জোরদার করেছে বলেও খবর।

     

  • Nila Vikhe Patil: শিকড় মহারাষ্ট্রে, সুইডেনের সংসদে নীলা ভিখে পাটিল

    Nila Vikhe Patil: শিকড় মহারাষ্ট্রে, সুইডেনের সংসদে নীলা ভিখে পাটিল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের শিক্ষাবিদ অশোক ভিখে পাটিলের মেয়ে নীলা ভিখে পাটিল (Nila Vikhe Patil) সুইডেনের জাতীয় নির্বাচনে স্টকহোম সিটি কেন্দ্র থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন (Sweden Parliament)। ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর বছর একচল্লিশের নীলা ৩৪৯ সদস্যের সুইডিশ সংসদে প্রবেশ করেছেন। সুইডেনের সংসদের সরকারি তথ্যেও তাঁকে স্টকহোম সিটি কেন্দ্রের গ্রিন পার্টির সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    নির্বাচনে জয়ের পর সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে নীলা বলেন, “৩৪৯ সদস্যের সংসদের অংশ হতে পেরে ভালো লাগছে। শহর ও দেশের জন্য অবদান রাখার অপেক্ষায় আছি।”

    তিনি আরও বলেন, “যাঁরা ভোট দিতে পারেন না, তাঁদের কণ্ঠস্বর হতে চাই। এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে অবদান রাখতে চাই, যেখানে প্রতিটি শিশু একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ পাওয়ার সুযোগ পায়। আমাদের এমন একটি বাসযোগ্য গ্রহ দরকার, যেখানে থাকবে বিশুদ্ধ জল, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের কারণে যতটা সম্ভব কম প্রাকৃতিক বিপর্যয়।”

    নীলা এশিয়ার প্রথম সমবায় চিনি কারখানার প্রতিষ্ঠাতা ভিতলরাও ভিখে পাটিলের প্রপৌত্রী এবং প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বালাসাহেব ভিখে পাটিলের নাতনি। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী রাধাকৃষ্ণ ভিখে পাটিল তাঁর কাকা।

    দাদার কথা স্মরণ করে নীলা বলেন, “আমি আশা করি, আমার দাদা আমাকে নিয়ে গর্বিত হবেন। আমি যখন ১৫ বছরের, তখন তিনি আমাকে রাজ্যের বাজেট পড়তে দিয়েছিলেন।”

    মহারাষ্ট্রে কেটেছে শৈশব (Nila Vikhe Patil)

    নীলার জন্ম সুইডেনে। তবে শৈশবের একটা গুরুত্বপূর্ণ সময় তিনি মহারাষ্ট্রের আহমেদনগরে কাটিয়েছেন। পরে সুইডেনেই তাঁর রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবন গড়ে ওঠে।

    শিক্ষাজীবনে তিনি গোথেনবার্গ স্কুল অব বিজনেস থেকে অর্থনীতি ও আইন নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি এবং ব্যবসা প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। মাদ্রিদের কমপ্লুতেন্সে বিশ্ববিদ্যালয়েও তিনি ব্যবসা প্রশাসন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন।

    প্রধানমন্ত্রীর দফতরেও কাজ করেছেন

    সুইডেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী স্তেফান লোফভেনের সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রীর দফতরে রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন নীলা। সেখানে অর্থনীতি, করব্যবস্থা ও আবাসন-সহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর দায়িত্ব ছিল।

    এর আগে তিনি স্টকহোমের নগর পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। গ্রিন পার্টির সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত তিনি। বর্তমানে তিনি (Nila Vikhe Patil) স্টকহোম গ্রিন পার্টির নির্বাচন কমিটির সদস্য।

    মহারাষ্ট্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি বড় পরিসরের শৃঙ্খল পরিচালনাকারী ভিখে পাটিল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অশোক ভিখে পাটিল মেয়ের সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেছেন।

    ভারতের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে নীলা বলেন, “আমি ভারতকে খুব ভালোবাসি এবং ভারতের সঙ্গে নিজেকে গভীরভাবে যুক্ত মনে করি। আমার অনেক ঘনিষ্ঠ ভারতীয় বন্ধু রয়েছেন।”

    দাদার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। নীলা বলেন, “আমি আমার দাদাকে খুব মিস করি। তাঁর জীবনের শেষ কয়েক বছরে তিনি প্রায় প্রতি সপ্তাহেই আমাকে ফোন করতেন।”

    সুইডেনের নির্বাচনে বিরোধীদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা

    ১৩ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে সুইডেনের চারটি বিরোধী দল মিলিয়ে ৩৪৯ আসনের সংসদে ১৭৬টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে বিদায়ী রক্ষণশীল নেতৃত্বাধীন সরকারকে গঠন বা সমর্থন করা চারটি দল পেয়েছে ১৭৩টি আসন।

    এই বিরোধী জোটের অন্যতম দল গ্রিন পার্টি পরিবেশ সংরক্ষণ, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং পরিবেশবান্ধব নীতির ওপর গুরুত্ব দেয়। নীলা প্রায় ২৫ বছর ধরে গ্রিন পার্টির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত।

    ২০১৬ সালেও সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীর দফতরে নীলার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সেই সময় তাঁর দায়িত্বের মধ্যে করব্যবস্থা, লিঙ্গনীতি ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিষয়ও ছিল।

    ২০২০ সাল থেকে নীলা আন্তর্জাতিক পেশাদারি পরিষেবা সংস্থা প্রাইসওয়াটারহাউসকুপার্সে কাজ করছেন। সেখানে কৌশল, ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি ও ঝুঁকি-সংক্রান্ত পরামর্শ পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন (Sweden Parliament) তিনি। সুইডিশ সংসদের সরকারি প্রোফাইলেও গ্রিন পার্টির সংসদ সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে তাঁকে (Nila Vikhe Patil)।

     

  • PM Modi: ২০তম রোজগার মেলায় ৫১ হাজারের বেশি নিয়োগপত্র, যুবশক্তিকে দেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তি বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: ২০তম রোজগার মেলায় ৫১ হাজারের বেশি নিয়োগপত্র, যুবশক্তিকে দেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তি বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন সরকারি দফতর ও সংস্থায় নবনিযুক্ত ৫১ হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। শনিবার ২০তম রোজগার মেলার মাধ্যমে ভিডিও সম্মেলনে এই নিয়োগপত্র বিতরণ করা হয়। নবনিযুক্তদের উদ্দেশে ভাষণও দেন প্রধানমন্ত্রী। দেশজুড়ে ৪৫টি কেন্দ্রে এই রোজগার মেলার আয়োজন করা হয়েছিল (Rozgar Mela)।

    মোদি বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে দেশের যুবশক্তিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাঁর কথায়, নিয়োগপত্র পাওয়া তরুণদের জন্য এটি জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তাঁদের সাফল্যের পিছনে প্রার্থীদের কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি বাবা-মায়ের ত্যাগও রয়েছে।

    নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবারে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের সহকর্মী যুবসমাজ এবং দেশের নাগরিকদের প্রতি বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। ভারতীয় তরুণদের প্রতিভা ও দক্ষতার উপর বিশ্বের আস্থা তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা এবং যুবসমাজের কাছ থেকে বিশ্বের প্রত্যাশা ক্রমশ বাড়ছে।

    আন্তর্জাতিক সুযোগের উপর জোর (PM Modi)

    সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের প্রসঙ্গ তুলে মোদি বলেন, ভারতের লক্ষ্য এখন শুধুমাত্র সরকার-থেকে-সরকারের সম্পর্কের মধ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে সীমাবদ্ধ রাখা নয়। এর পরিবর্তে উদ্যোক্তা, কৃষক, মহিলা এবং যুবসমাজকেও আন্তর্জাতিক অংশীদারির সঙ্গে যুক্ত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    এক্ষেত্রে ব্রিকস সংযোগ এবং ব্রিকস ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ সহযোগিতা পোর্টালের মতো উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতীয় সমাজের বিভিন্ন অংশ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ পেতে পারে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নতুন বাজার ও অংশীদারির দরজা খুলছে। এর ফলে ভারতীয় উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি যুবকদের জন্য কর্মজীবনের নতুন সম্ভাবনাও সৃষ্টি হচ্ছে (Rozgar Mela)।

    কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা উন্নয়নে জোর

    পরিবর্তনশীল অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে যুবকদের দক্ষ করে তুলতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় শিক্ষানীতি, দক্ষতা ভারত অভিযান, প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা এবং শিক্ষানবিশ কর্মসূচির উল্লেখ করেন তিনি।

    সরকারি শিল্প প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলিকে আধুনিক করে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী সেতু প্রকল্পের কথাও বলেন মোদি। এই প্রকল্পে ১,০০০টি সরকারি শিল্প প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকীকরণে ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে এবং শিল্পক্ষেত্রের অংশগ্রহণও বাড়ানো হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, যুবকদের শিক্ষা ও দক্ষতা যেন পরিবর্তিত অর্থনীতির প্রয়োজনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোয়, সেটিই সরকারের লক্ষ্য (PM Modi)।

    বড় শহরের বাইরে ছড়াচ্ছে নতুন উদ্যোগ

    ভারত বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম নতুন উদ্যোগ-ভিত্তিক অর্থনৈতিক পরিমণ্ডল বলে উল্লেখ করেন মোদি। তাঁর বক্তব্য, নতুন উদ্যোগের বিস্তার আর শুধু বড় মহানগরগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। স্বীকৃত নতুন উদ্যোগগুলির প্রায় অর্ধেকই এখন দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের শহরগুলিতে রয়েছে।

    গ্রাম, ছোট শহর ও মফস্‌সলের তরুণরা নিজেদের নতুন ভাবনা নিয়ে সংস্থা তৈরি করছেন এবং অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

    বেসরকারি ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ

    বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত কর্মসংস্থান যোজনার কথা উল্লেখ করেন। প্রায় এক লাখ কোটি টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পের লক্ষ্য প্রথমবারের মতো প্রায় ২ কোটি যুবক-যুবতীকে আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের আওতায় নিয়ে আসা।

    প্রকল্পের আওতায় প্রথমবার চাকরিতে যোগ দেওয়া কর্মীরা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা পেতে পারেন। একইসঙ্গে অতিরিক্ত কর্মসংস্থান তৈরি করা নিয়োগদাতাদেরও আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

    মোদি বলেন, অর্থনীতির বৃদ্ধি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন শিল্পের প্রতিষ্ঠা এবং উদীয়মান ক্ষেত্রের সম্প্রসারণের সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়ে। প্রথম ত্রৈমাসিকে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ এবং বিনিয়োগ ১২ শতাংশ বেড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মূল্যায়নকারী সংস্থার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)।

    নাগরিককেন্দ্রিক প্রশাসনের বার্তা

    নবনিযুক্ত সরকারি কর্মীদের উদ্দেশে প্রশাসনিক সংস্কারকে ধারাবাহিক রাখার আহ্বান জানান মোদি। কর-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সরল করা, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করা, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে সংস্কার এবং নতুন ক্ষেত্রে উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরির উপর জোর দেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের প্রতিটি সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হওয়া উচিত নাগরিকদের সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা দূর করা, নতুন ভাবনাকে উৎসাহ দেওয়া এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী বিনিয়োগকে সহজতর করা। তাঁর কথায়, সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে যে সমস্যাগুলির মুখোমুখি হতে হয়েছে নতুন কর্মীদের, তাঁদের এমনভাবে কাজ করতে হবে যাতে পরবর্তী প্রজন্মের যুবকদের একই সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয় (Rozgar Mela)।

    শিক্ষার উপর গুরুত্ব

    পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি ও কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকারি কর্মীদের নিয়মিত নতুন দক্ষতা অর্জনের পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। কর্মযোগী কাঠামোর মাধ্যমে আজীবন শিক্ষার উপর জোর দেন তিনি।

    নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য কর্মযোগী প্রারম্ভ মডিউল তৈরি করা হয়েছে বলে জানান মোদি। পাশাপাশি, ১ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি সরকারি কর্মী ইতিমধ্যেই আইগট কর্মযোগী মঞ্চে যুক্ত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি (PM Modi)।

    নাগরিকের পরিষেবাই জাতীয় পরিষেবা

    প্রশাসনে জনআস্থার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। প্রবীণদের পেনশন, পড়ুয়াদের বৃত্তি কিংবা কৃষকদের ভর্তুকির মতো সরকারি পরিষেবা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে বলে জানান তিনি।

    সরকারি কর্মীদের আচরণ, দক্ষতা, সততা এবং সংবেদনশীলতার উপর নাগরিকের সরকারের প্রতি অভিজ্ঞতা অনেকটাই নির্ভর করে বলেও মন্তব্য করেন মোদি।

    ভাষণের শেষে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের “নাগরিক দেবো ভব” নীতি অনুসরণ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। নাগরিকের সেবাকে জাতীয় সেবার সমতুল্য বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আপনাদের কাজ যখন কোনও নাগরিকের জীবনকে আরও সহজ করে তুলবে, তখনই আপনাদের সাফল্য আরও বড় হয়ে উঠবে (Rozgar Mela)।”

    ২০তম রোজগার মেলার মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দফতর ও সংস্থায় মোট প্রায় ১২.৭৫ লাখ যুবক-যুবতী নিয়োগপত্র পেয়েছেন বলে সরকারি তথ্যে জানানো হয়েছে (PM Modi)।

     

  • Supreme Court: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়ে নয়া তথ্য, বাদ পড়া ২৭.১৬ লাখের মধ্যে সিংহভাগেরই পুনর্বহালের আবেদন

    Supreme Court: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়ে নয়া তথ্য, বাদ পড়া ২৭.১৬ লাখের মধ্যে সিংহভাগেরই পুনর্বহালের আবেদন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়া ভোটারদের আবেদনের সংখ্যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) নতুন তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে নাম অন্তর্ভুক্তি ও নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে (EC) চ্যালেঞ্জ করে মোট ৩৮.৩১ লাখ আবেদনপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২২.২১ লাখ আবেদন করেছেন সেই ভোটাররা, যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, বাদ পড়া ২৭.১৬ লাখ ভোটারের প্রায় ৮২ শতাংশ নিজেদের নাম ফের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আবেদন করেছেন।

    তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে এই তথ্য জানায়। কমিশনের বক্তব্য, আপিল ট্রাইব্যুনালগুলির সামনে থাকা মোট ৩৮.৩১ লাখ আবেদনের মধ্যে ২২.২১ লাখ আবেদন করেছেন বাদ পড়া ভোটাররা। অন্যদিকে, ১৬.১০ লাখ আবেদন করা হয়েছে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নামের বিরুদ্ধে। অর্থাৎ, ওই আবেদনগুলির উদ্দেশ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম আরও বাদ দেওয়ার দাবি জানানো। এই ১৬.১০ লাখ আবেদন কারা করেছেন, তা কমিশন স্পষ্ট করেনি। তবে কোনও ভোটার বা নির্বাচনী আধিকারিক কোনও ব্যক্তিকে ভোটার হিসেবে অযোগ্য বলে মনে করলে তাঁর নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন।

    আপিলের দ্রুত নিষ্পত্তিতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব (Supreme Court)

    আপিলের বিপুল সংখ্যা সামলাতে পশ্চিমবঙ্গে আপিল ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, আবেদনগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করতে রাজ্যের লোকসভা কেন্দ্রের সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আপিল ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

    কমিশনের বক্তব্য, “বিচারাধীন আপিলগুলির নিষ্পত্তি আরও সুশৃঙ্খল ও দ্রুত করার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গে আপিল ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা রাজ্যের লোকসভা কেন্দ্রের সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এর ফলে বিচারাধীন আপিলগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে।”

    ৬০ লাখেরও বেশি ভোটারের যোগ্যতা যাচাই

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের ‘যুক্তিগত অসঙ্গতি’ চিহ্নিত করা ব্যবস্থার মাধ্যমে ৬০.০৬ লাখ ভোটারের নাম যাচাইয়ের আওতায় এসেছিল। ২০ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের মধ্যে একটি অংশের ভোটার হিসেবে যোগ্যতা বিচার করার দায়িত্ব বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের উপর দেয়। সেই সময় তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে আস্থার ঘাটতির কথাও আদালত উল্লেখ করেছিল।

    পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার প্রায় ৭০০ বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের যাচাইয়ের পর ২৭.১৬ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং বাকিদের নাম বহাল রাখা হয় (Supreme Court)।

    এর পর ১০ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট বাদ দেওয়া বা অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনতে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দেয়। ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় এবং ১৩ এপ্রিল থেকে সেগুলি কাজ শুরু করে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের ভোটগ্রহণের কয়েক দিন আগে থেকেই ট্রাইব্যুনালগুলি কাজ করছিল।

    ভোটের আগে মাত্র ১,৬০৭ জনের নাম ফেরানো সম্ভব

    নির্বাচনের আগে দায়ের হওয়া বিপুল সংখ্যক আবেদনের মধ্যে মাত্র ১,৬০৭ জন ভোটারের নাম সময়মতো ভোটার তালিকায় ফেরানো সম্ভব হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বহু আবেদনকারী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি।

    তবে পরবর্তী সময়ে ট্রাইব্যুনালগুলির নিষ্পত্তির সংখ্যা বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ অগাস্ট পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া ৮২,৭৮২টি আবেদনের মধ্যে ৭৫,৪৪৩ জনের নাম ফের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ৭,৩৩৯ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে (EC)।

    বর্তমানে অবশ্য আবেদনের বড় অংশই এখনও বিচারাধীন। ১৮ সেপ্টেম্বরের কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩৮,২০,৬৮৩টি আবেদনের মধ্যে ১,০২,২৩১টির নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ৩৭,১৮,৪৫২টি আবেদন তখনও বাকি ছিল (Supreme Court)।

     

  • Operation Sindoor: অপারেশন সিঁদুরের ১৬ মাস পরও সারগোধা রানওয়ের মেরামতি চলছে, দাবি রিপোর্টে

    Operation Sindoor: অপারেশন সিঁদুরের ১৬ মাস পরও সারগোধা রানওয়ের মেরামতি চলছে, দাবি রিপোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) ১৬ মাস পরেও সারগোধায় পাকিস্তান বায়ুসেনার (PAF) মুশাফ ঘাঁটির রানওয়ের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে নতুন করে মেরামতির কাজ চলছে। সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে রানওয়ের একটি অংশে ফের খোঁড়াখুঁড়ি ও সংস্কারের চিহ্ন দেখা গিয়েছে। এনডিটিভির এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর উচ্চ-রেজোলিউশনের ভানতুর উপগ্রহচিত্রে মুশাফ ঘাঁটির মূল রানওয়ে ও ট্যাক্সি ট্র্যাকের সংযোগস্থলে একটি স্পষ্ট কালো অংশ দেখা যাচ্ছে। আশপাশের অ্যাসফল্টের তুলনায় ওই জায়গার রং ও গঠন আলাদা। এর ফলে সেখানে নতুন করে খনন বা রাস্তা পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কাজের জায়গার কাছে একটি লাল রঙের গাড়িও দেখা গিয়েছে। এই জায়গাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ২০২৫ সালের ১০ মে অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় বায়ুসেনার হামলায় মুশাফ ঘাঁটির মূল রানওয়ের যে দুটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তার মধ্যে এটি একটি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আগের মেরামতির অংশেই ফের কাজ

    সারগোধায় অবস্থিত মুশাফ বিমানঘাঁটি লাহোর থেকে প্রায় ১৭২ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং অমৃতসরের কাছে ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে। সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে দেখা যাচ্ছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর যে অংশটি আগে মেরামত করা হয়েছিল, সেটিই ফের খুঁড়ে নিচের স্তর বা সাবগ্রেড পর্যন্ত কাজ করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর অর্থ হতে পারে, পাকিস্তান ওই অংশে শুধু নতুন করে অ্যাসফল্টের প্রলেপ দিচ্ছে না, বরং আরও বড় ধরনের পুনর্নির্মাণ করছে। তবে উপগ্রহচিত্র দেখে এই খননের সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। রানওয়ের নিচে বসে যাওয়া, অসমতল হয়ে যাওয়া, উপরের স্তরে ক্ষতি কিংবা আগের মেরামতির নীচে কোনও সমস্যা—এর মধ্যে একাধিক কারণ থাকতে পারে।

    উপগ্রহচিত্রে রানওয়ে মেরামতির  ছবি

    ছবিতে রানওয়ের বিভিন্ন অংশে ধাপে ধাপে সংস্কারের চিহ্নও দেখা যাচ্ছে। কোথাও তুলনামূলক গাঢ় ও মসৃণ পৃষ্ঠ দেখা যাচ্ছে, আবার অন্য একটি অংশে মেরামতির কাজ এখনও চলছে বলে মনে হচ্ছে। এর আগে ২৮ আগস্ট ২০২৬-এর উপগ্রহচিত্রে ওই হামলাস্থলটি মেরামত হয়ে গিয়েছে বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু সর্বশেষ ছবিতে একই জায়গায় ফের কাজ শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। সর্বশেষ উপগ্রহচিত্র অবশ্য রানওয়ের বর্তমান মেরামতির সুনির্দিষ্ট কারণ বা কাজের পূর্ণ পরিধি নিশ্চিত করে না।

    রানওয়ের দুটি জায়গায় আঘাত

    ২০২৫ সালের ১০ মে-র উপগ্রহচিত্রে মুশাফ ঘাঁটির প্রায় ৩,২০০ মিটার দীর্ঘ মূল রানওয়ের উপর দুটি পৃথক আঘাতের চিহ্ন দেখা গিয়েছিল। বিশ্লেষকদের অনুমান অনুযায়ী, রানওয়ের সংযোগস্থলে তৈরি গর্তটির প্রস্থ ছিল প্রায় ৮-৯ মিটার এবং গভীরতা ৪-৫ মিটার। আঘাতের জায়গার চারপাশে অ্যাসফল্ট ও কংক্রিটের ধ্বংসাবশেষ এবং বেশ কিছু স্থলযানও দেখা গিয়েছিল। রানওয়ের একই অংশে প্রায় ৬৬০ মিটার দূরে দ্বিতীয় একটি আঘাতের জায়গাও চিহ্নিত করা হয়েছিল। মুশাফ ঘাঁটিতে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট অস্ত্রের নাম ভারতীয় বায়ুসেনা প্রকাশ্যে জানায়নি। তবে গর্তের আকার ও ক্ষয়ক্ষতির ধরন বিশ্লেষণ করে কিছু বিশেষজ্ঞের ধারণা, এটি সুখোই-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষিপ্ত এয়ার-লঞ্চড ব্রহ্মোসের আঘাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। তবে এটি বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ মাত্র; সরকারি ভাবে অস্ত্রটির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি।

    এক বছরেরও বেশি সময় পর ফের সংস্কার

    সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্র থেকে মুশাফ ঘাঁটির ওই অংশে এখনও পুনর্গঠনের কাজ চলার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৫ সালের মে মাসের হামলার পর একবার মেরামত করা অংশে এক বছরেরও বেশি সময় পরে ফের খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে নজরে এসেছে। ভারতীয় সামরিক সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ মে অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের একাধিক সামরিক পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করা হয়েছিল। এর মধ্যে কয়েকটি বিমানঘাঁটিতে, রাডার ব্যবস্থা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোও ছিল। অপারেশন সিঁদুরের সময় সরগোধা এবং কিরানা হিলসের আশপাশে একাধিক ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। এই ড্রোনগুলির মূল কাজ ছিল পাকিস্তানের রাডার ব্যবস্থা খুঁজে বের করা।

    ভারতের সবচেয়ে বড় প্রত্যাঘাত

    ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরপরই ভারত সরকার প্রমাণের স্তূপ তুলে ধরেছিল। পাকিস্তানের নয়টি জঙ্গি ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলার বিস্তারিত ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের ১১টি সামরিক ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আসল ফুটেজও বিশ্ববাসীর সামনে এনেছিল ভারত। আন্তর্জাতিক মুক্ত তথ্যসূত্র গোয়েন্দা সংস্থা (OSINT) এবং উচ্চ-রেজোলিউশনের স্যাটেলাইট চিত্রেও পাকিস্তানের ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা প্রমাণিত হয়। ভোলারি, সারগোধা এবং নুর খানের মতো একাধিক পাক বিমানঘাঁটির রানওয়ে ও হ্যাঙ্গারে গভীর ক্ষতের ছবি ধরা পড়েছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ এই প্রত্যাঘাতকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তানি সামরিক পরিকাঠামোর ওপর ভারতের সবচেয়ে বড় হামলা বলে উল্লেখ করেছিল।

  • BCCI Chief Selector: প্রধান নির্বাচকের পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত আজিত আগরকরের, নতুন নির্বাচক খুঁজবে বিসিসিআই

    BCCI Chief Selector: প্রধান নির্বাচকের পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত আজিত আগরকরের, নতুন নির্বাচক খুঁজবে বিসিসিআই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বড়সড় পরিবর্তনের পথে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI Chief Selector)। জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচকের পদে আর থাকতে চান না আজিত আগরকর (Ajit Agarkar)। বিসিসিআইয়ের শীর্ষ কর্তাদের ইতিমধ্যেই নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি। ফলে তাঁর উত্তরসূরি খুঁজতে শীঘ্রই প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে বোর্ড। আগরকরের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৪ অক্টোবর। শুক্রবার বিসিসিআইয়ের ৯৫তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)-তেও তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় বোর্ডের সদস্য ইউনিটগুলি নির্বাচক কমিটি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অফিস-বেয়ারারদের হাতে তুলে দেয়।

    জুনিয়র নির্বাচকদের নিয়েও সিদ্ধান্ত

    এজিএম শেষে এক সিনিয়র বিসিসিআই (BCCI) কর্তা বলেন, “নির্বাচক কমিটি সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অফিস-বেয়ারারদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।” তবে আগরকরের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি। সূত্রের খবর, আগরকর ইতিমধ্যেই বোর্ডকে জানিয়েছেন যে তিনি আর এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব চালিয়ে যেতে আগ্রহী নন। ২০২৩ সালে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ভারতীয় দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। এদিকে শুধু সিনিয়র নির্বাচক কমিটিই নয়, জুনিয়র নির্বাচক কমিটির পাঁচটি পদও পূরণ করতে চলেছে বিসিসিআই। এই পদের জন্য বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে বলে জানিয়েছেন বোর্ড সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া। তিনি বলেন, আবেদনকারীদের প্রাথমিক বাছাইয়ের পর তালিকা ক্রিকেট কমিটির কাছে পাঠানো হবে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বোর্ডের। কারণ বর্তমান জুনিয়র নির্বাচকদের পাঁচজনেরই মেয়াদ খুব শীঘ্রই শেষ হতে চলেছে।

    ফিল্ডিং কোচ নিয়োগ নিয়ে আলোচনা

    ভারতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ শুভদীপ ঘোষের নিয়োগ নিয়েও বিস্তারিত জানিয়েছেন সাইকিয়া। আপাতত তাঁকে স্বল্পমেয়াদি ভিত্তিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বেঙ্গালুরুর বিসিসিআইয়ের সেন্টার অব এক্সেলেন্সেও তিনি ফিল্ডিং কোচ হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। সাইকিয়া জানান, ভারতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ হিসেবে শুভদীপ ঘোষের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করা হবে। দলের ম্যানেজমেন্টের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামতের ভিত্তিতে তাঁর সঙ্গে চুক্তি দীর্ঘায়িত করা হবে কি না, সে বিষয়ে পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এজিএমে বিসিসিআইয়ের বিভিন্ন রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার প্রতিনিধিদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন ভারতীয় পেসার বেঙ্কটেশ প্রসাদও।

  • India: লোহিত সাগরে হুথি হামলা নিয়ে কড়া বার্তা ভারতের, মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টায়ও উদ্বেগ

    India: লোহিত সাগরে হুথি হামলা নিয়ে কড়া বার্তা ভারতের, মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টায়ও উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লোহিত সাগর অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ক্রমাবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারত। সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হুথিদের হামলার (Houthi Attacks) তীব্র নিন্দা করে নয়াদিল্লি (India) জানিয়েছে, এই ধরনের হামলা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ বাব আল-মান্দাব দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতাও এর ফলে হুমকির মুখে পড়ছে।

    ১৮ সেপ্টেম্বর বিদেশমন্ত্রকের তরফে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, লোহিত সাগর এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে ভারত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সৌদি আরবের সার্বভৌম ভূখণ্ডে হামলা, বিশেষ করে সাধারণ মানুষ ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে নিশানা করার ঘটনায় ভারতের নিন্দার কথাও জানান তিনি।

    উদ্বেগ প্রকাশ জয়সওয়ালের (India)

    জয়সওয়াল বলেন, “লোহিত সাগর এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সাধারণ মানুষ ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামো-সহ সৌদি আরবের সার্বভৌম ভূখণ্ডে হামলার আমরা নিন্দা জানিয়েছি। পবিত্র শহর মক্কায় হামলার চেষ্টার পরে আমরা যে বিবৃতি দিয়েছিলাম, সেটিও আপনারা দেখেছেন।”

    তিনি আরও বলেন, “এই ধরনের হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে বা দুর্বল করে এবং বাব আল-মান্দাব দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতার জন্যও হুমকি তৈরি করে। বিভিন্ন কারণেই বিষয়টি আমাদের কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আশা করি, খুব দ্রুত ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।”

    মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টায় উদ্বেগ

    লাল সাগর অঞ্চলে উত্তেজনার মধ্যেই ১৫ সেপ্টেম্বর সৌদি কর্তৃপক্ষ জানান, ইয়েমেন থেকে উৎক্ষেপণ করা একটি ড্রোন মক্কার দক্ষিণে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, ড্রোনটি পবিত্র শহরের নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি ঘটনাটিকে “শত্রুতামূলক ও জঙ্গি কর্মকাণ্ড” বলে অভিহিত করেন এবং দুই পবিত্র মসজিদ ও তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তাকে “লাল রেখা” বলে উল্লেখ করেন।

    ১৬ সেপ্টেম্বর ভারত ওই ঘটনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। জয়সওয়াল বলেন, সৌদি আরবের সার্বভৌম ভূখণ্ডে হামলা এবং সাধারণ মানুষের জীবন ও পরিকাঠামোকে বিপন্ন করে এমন কর্মকাণ্ডের নিন্দা করে ভারত। মক্কার বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    সৌদি আরবের দাবি অস্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনকারীরা। তাঁদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগকে “মনগড়া কথা ও মিথ্যা” বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, হুথিদের সামরিক অভিযান সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে এবং সেগুলি পবিত্র স্থানগুলি থেকে অনেক দূরে অবস্থিত।

    পশ্চিম এশিয়ায় বাড়ছে সংঘাত

    এই পরিস্থিতির মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। ইয়েমেনে হুথি বাহিনী ও সৌদি-সমর্থিত পক্ষগুলির মধ্যে লড়াই বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিরা রেড সি উপকূলের কৌশলগতভাবে (India) গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকায় অগ্রসর হয়েছে। বাব আল-মান্দাব প্রণালীর আশপাশে তাদের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও সৌদি আরবের তেল রফতানি নিয়েও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

    ভারতের উদ্বেগের অন্যতম কারণ বাব আল-মান্দাব। রেড সি ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে আঞ্চলিক সংঘাতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যও প্রভাবিত হতে পারে।

    সৌদি আরব ভ্রমণে সতর্ক করল আমেরিকা

    এদিকে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে আমেরিকাও সৌদি আরব ভ্রমণ নিয়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে। ১৫ সেপ্টেম্বর আমেরিকার বিদেশ দফতর সৌদি আরবের জন্য তৃতীয় স্তরের “ভ্রমণ পুনর্বিবেচনা করুন” সতর্কতা জারি করে। একই সঙ্গে ইয়েমেন সীমান্তবর্তী অঞ্চলের জন্য সর্বোচ্চ চতুর্থ স্তরের “ভ্রমণ করবেন না” সতর্কতা বহাল রাখা হয়েছে (India)।

    আমেরিকার সতর্কবার্তায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা, সশস্ত্র সংঘাত, সন্ত্রাসবাদ, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সোশ্যাল মিডিয়া-সংক্রান্ত স্থানীয় আইনের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইয়েমেন সীমান্তবর্তী সৌদি এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলার আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে (Houthi Attacks)।

    সব মিলিয়ে লোহিত সাগর, ইয়েমেন ও সৌদি আরবকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভারত দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর আহ্বান জানিয়েছে, একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ ও নিরাপদ জাহাজ চলাচলের গুরুত্বের কথা (India)।

     

LinkedIn
Share