মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালা বদলের পরই ক্রীড়াক্ষেত্রকে (West Bengal Sports Sector) আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার (Suvendu Adhikari)। ক্ষমতায় আসার পরই ময়দানে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছিল। বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলার ক্রীড়াবিদ এবং সামগ্রিক ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়নে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খেলোয়ারদের মোটিভেট করতে নানা পদক্ষেপ করছে সরকার। চালু হতে চলেছে “শ্যামা প্রসাদ মুখার্জী ক্রীড়া সহায়তা প্রকল্প”। এই প্রকল্পের আওতায় ক্রীড়াক্ষেত্রে জাতীয় ও রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতা আয়োজন ও অংশগ্রহণের জন্য সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এমনকি খেলাধুলায় পুরস্কার ও সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো নিয়েও বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য সরকার।
শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি ক্রীড়া সহায়তা প্রকল্প
জানা গিয়েছে, ক্রীড়াক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। অলিম্পিক্সে সোনা, রুপো ও ব্রোঞ্জ জয়ী ক্রীড়াবিদদের জন্যও বিরাট অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার দেবে রাজ্য সরকার।‘শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি ক্রীড়া সহায়তা প্রকল্প’ চালু করতে চলেছে সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে রাজ্যের ক্রীড়াবিদদের। জাতীয় গেমস বা জাতীয় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করলে প্রত্যেক দলকে এবং ব্যক্তিগত খেলার ক্রীড়াবিদকে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা দেওয়া হবে। কেবল ক্রীড়াবিদ নয়, আয়োজক সংস্থাগুলিকেও আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনে ১ কোটি, রাজ্য গেমস আয়োজনে ৫০ লক্ষ টাকা মিলতে পারে। এছাড়া অন্য রাজ্যে জাতীয় ও জোনাল প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দলগত বিভাগে যথাক্রমে সর্বোচ্চ ৪০ লক্ষ ও ২০ লক্ষ টাকা এবং ব্যক্তিগত বিভাগে ২০ লক্ষ ও ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হবে। রাজ্য স্তরের চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনে দলগত ও ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে যথাক্রমে ২০ লক্ষ ও ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। জেলাস্তরে অন্তত ৬টি দল নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করলে দলগত খেলায় ১০ লক্ষ টাকা এবং ব্যক্তিগত খেলায় ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সরকারি সহায়তা মিলবে ।
অটল খেল সম্মান পুরস্কার
এদিনের বৈঠকে কৃতি ক্রীড়াবিদদের জন্য ‘অটল খেল সম্মান পুরস্কার’ চালুর প্রস্তাবে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র, যুব, জুনিয়র, সাব-জুনিয়র এবং বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন (দিব্যাঙ্গ) বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পদকজয়ীরা এই আর্থিক সুবিধা পাবেন। অটল খেল সম্মানের আওতায় অলিম্পিকে সোনা জিতলে ১ কোটি টাকা পুরস্কার দেবে রাজ্য। রুপো জিতলে ৭৫ লক্ষ এবং ব্রোঞ্জ জিতলে ৫০ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। কমনওয়েলথ ও এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ীদের জন্য থাকবে ৫০ লক্ষ টাকার পুরস্কার। রুপোর জন্য ৩০ লক্ষ এবং ব্রোঞ্জের জন্য ২০ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে সোনাজয়ীদেরও দেওয়া হবে ৫০ লক্ষ টাকা। রুপোজয়ীরা ৩৭.৫০ লক্ষ এবং ব্রোঞ্জজয়ীরা ২৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার পাবেন। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা, রুপো ও ব্রোঞ্জজয়ীদের যথাক্রমে ২৫ লক্ষ, ১৫ লক্ষ ও ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। জাতীয় গেমস এবং জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে সোনাজয়ীরা পাবেন ১০ লক্ষ টাকা। রুপো এবং ব্রোঞ্জজয়ীরা পাবেন যথাক্রমে ৫ লক্ষ এবং ৩ লক্ষ টাকা।
মুখ্যমন্ত্রী কৃতি ক্রীড়াবিদ সম্মান যোজনা
বর্তমান প্রজন্মের পাশাপাশি, অতীতের তারকাদের প্রতিও দায়বদ্ধতা দেখিয়েছে রাজ্য। চালু করা হচ্ছে ‘মুখ্যমন্ত্রী কৃতি ক্রীড়াবিদ সম্মান যোজনা’। অতীতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাজ্য বা দেশের প্রতিনিধিত্ব করে গৌরব এনে দিয়েছেন, এমন যোগ্য অবসরপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদদের প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে সম্মানীয় পেনশন বা ভাতা দেওয়া হবে। তৃণমূল স্তর থেকে প্রতিযোগিতা আয়োজনে বিপুল সরকারি অনুদানেরও অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলার ক্রীড়াবিদ এবং সামগ্রিক ক্রীড়া পরিকাঠামোর স্বার্থে একগুচ্ছ যুগান্তকারী নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে সরকারের এক আধিকারিক জানান, রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করা, তৃণমূল স্তর থেকে প্রতিভাদের তুলে আনা এবং ক্রীড়াবিদদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য। নয়া সরকারের এই সর্বাত্মক উদ্যোগ রাজ্যের ক্রীড়া পরিমণ্ডলে নতুন উদ্যম তৈরি করবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষ ক্রীড়া কর্মসূচি মোদির
কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নতির দিকে বিশেষ নজর দিয়েছিল মোদি সরকার। সম্প্রতি শেষ হওয়া কমনওয়েলথ গেমসে ভারত পদক তালিকায় চতুর্থ স্থান অধিকার করেছিল। গেমসে ভারতের এই সাফল্য ছিল মোদি সরকারের ক্রীড়ানীতির উজ্জ্বল উদাহারণ। গ্লাসগো যাওয়ার আগে ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশ্বমানের কোচিং, স্পোর্টস সায়েন্স, ফিজিওথেরাপি, পুষ্টিবিদ এবং আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করেছিল ক্রীড়া মন্ত্রক। সাই-টপস প্রকল্পের আওতায় সম্ভাব্য পদকজয়ীদের ব্যক্তিগত সহায়তা, বিদেশে প্রশিক্ষণ এবং বিশেষজ্ঞ সাপোর্ট স্টাফের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। ফলে বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে সমানে লড়াই করার মতো প্রস্তুতি নিয়েই গ্লাসগোয় পৌঁছেছিলেন ভারতীয় অ্যাথলিটরা। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণেও প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছিলেন দেশে ক্রীড়া অন্বেষণের কথা। ৫-১৫ বছরের বালক-বালিকাদের জন্য বিশেষ ক্রীড়া কর্মসূচি। গ্রামে গ্রামে প্রতিভা খুঁজে বের করা হবে। লালকেল্লা থেকে ঘোষণা করেছিলেন মোদি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০৩০ সালে কমনওয়েলথ, ২০৩৬ সালে ভারতে অলিম্পিক হবে। যে খেলাগুলিতে ভারত কোয়ালিফাই করতে পারে না। আমরা সেখানে ছাপ রাখব।” প্রধানমন্ত্রী মোদির দেখানো পথেই এবার রাজ্য ক্রীড়ায় বিস্তর ফারাক আনতে চলেছে শুভেন্দু সরকার।









