Blog

  • Amit Shah: সংসদ চলতে দিন, ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে ২৪ ঘণ্টা আলোচনার প্রস্তাব শাহের

    Amit Shah: সংসদ চলতে দিন, ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে ২৪ ঘণ্টা আলোচনার প্রস্তাব শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছাত্র বিক্ষোভ এবং আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে সংসদে চলতে থাকা সরকার ও বিরোধীদের সংঘাতের মধ্যেই আলোচনার জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা প্রস্তাব করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। বুধবার বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর আবেদন, সংসদের কাজ স্বাভাবিক হতে দেওয়া হোক এবং ছাত্র বিক্ষোভ ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হোক। সেই আলোচনায় সাংসদদের বক্তব্য শোনার পর তিনি নিজেই বিস্তারিত জবাব দেবেন (Student Protests)। বিরোধী দলগুলি বেশ কিছু দিন ধরেই দাবি করে আসছে, দিল্লিতে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরাসরি সংসদে বিবৃতি দিতে হবে। বিশেষ করে পুলিশের বলপ্রয়োগের অনুমতি কে দিয়েছিল এবং অভিযানের সময় গুলি ছোড়ার অভিযোগের সত্যতা কী—এই প্রশ্নগুলির জবাব চাইছেন বিরোধীরা। এই দাবিতে বারবার সংসদের অধিবেশন অচল হয়েছে। এদিকে, সরকারের বক্তব্য, এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংসদের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই আলোচনা করতে হবে। সরাসরি আলাদা বিবৃতি দেওয়ার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়টি সংসদের সামনে তোলা উচিত বলে মত কেন্দ্রের।

    ২৪ ঘণ্টা ধরে আলোচনার প্রস্তাব (Amit Shah)

    এই পরিস্থিতিতেই শাহ বুধবার সংসদে আলোচনার জন্য কার্যত এক দিনের সময় দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তাঁর বক্তব্য, বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টে পর্যন্ত আলোচনা চালানো যেতে পারে। পুরো আলোচনা পর্বে তিনি নিজে উপস্থিত থাকবেন এবং সাংসদদের বক্তব্য শোনার পর বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টেয় বিস্তারিত জবাব দেবেন। শাহ বলেন, “আলোচনা শুরু করা যাক। আমি সভায় থাকব এবং বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টেয় বিস্তারিত জবাব দেব।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, আলোচনার আগে পৃথক কোনও বিবৃতি দেওয়ার দাবি তিনি মানতে রাজি নন। তাঁর যুক্তি, সংসদের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে এবং এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সেই নিয়ম মেনেই আলোচনা হওয়া উচিত। তিনি বলেন, “সংসদে আলোচনার নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমি শুধু একটি বিবৃতি দিতে পারি না। আগে আলোচনা হোক, তারপর আমি বিস্তারিত জবাব দেব।” শাহের বক্তব্য, বিরোধী সাংসদরা যে প্রশ্নগুলি তুলতে চান, তার প্রত্যেকটির উত্তর দিতে তিনি প্রস্তুত। তবে তার আগে সংসদের কাজ স্বাভাবিকভাবে চলতে দিতে হবে। তাঁর মতে, সংসদ অচল রেখে কোনও সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় (Amit Shah)।

    পলাতক’ তকমা নিয়েও জবাব

    সংসদে না আসা এবং বিরোধীদের প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে শাহের বিরুদ্ধে। বিরোধী সদস্যদের একাংশ তাঁকে ‘পলাতক’ বলেও কটাক্ষ করেছেন। সেই অভিযোগেরও জবাব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, তিনি নিয়মিত সংসদে আসছেন এবং নিজের দফতরে উপস্থিত থাকছেন। কিন্তু বিরোধীরা সংসদের কাজ চলতে না দেওয়ায় তিনি সভাকক্ষে যেতে পারছেন না (Student Protests)। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমি প্রতিদিনই আমার কক্ষে থাকি। আমি সভার ভিতরে যাই না। কারণ বিরোধীরা সংসদ চলতে দিচ্ছে না।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন বিরোধীরা ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে তাঁর কাছ থেকে সরাসরি ব্যাখ্যা দাবি আরও জোরদার করেছেন। বিরোধীদের প্রশ্ন, আন্দোলনরত ছাত্রদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে বলপ্রয়োগের নির্দেশ কে দিয়েছিলেন? সেই নির্দেশের ভিত্তি কী ছিল? পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ব্যবহৃত পদ্ধতি কতটা আইনসঙ্গত ছিল?

    সরকারের লুকোনোর কিছু নেই’, দাবি শাহের

    নিজের প্রস্তাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শাহ জানান, সরকার দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করতেও প্রস্তুত। সাংসদরা যে সব বিষয় তুলবেন, সেগুলির জবাব দেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টে পর্যন্ত আমরা সব ধরনের আলোচনার জন্য প্রস্তুত। আমি নিজে সভায় বসব, প্রত্যেকের কথা শুনব এবং সব প্রশ্নের উত্তর দেব। সরকারের লুকোনোর কিছু নেই। আপনারা কেন আলোচনা চাননি, সেটাও আমি আলোচনা করব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট সরকার সব বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত।” তিনি এও বলেন, “শুধু সংসদ চলতে দিন। আজ বিভিন্ন মাধ্যমে আমি বিরোধীদের বলতে চাই, দুপুর ২টোর মধ্যে সভাধ্যক্ষকে একটি চিঠি দিন। আমরা দুপুর ৩টে থেকে আলোচনা শুরু করব এবং বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টের মধ্যে আমি সব প্রশ্নের উত্তর দেব। সংসদে আলোচনার জন্য নিয়ম ও পদ্ধতি নির্ধারিত রয়েছে। এখন কেউ যদি আমাকে শুধু একটি বিবৃতি দিতে বলে, এত গুরুতর বিষয়ে তা কীভাবে সম্ভব?” শাহের এই প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্ট যে, সরকার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করতে প্রস্তুত। যদিও বিরোধীরা সেই প্রস্তাব কীভাবে গ্রহণ করবেন, তা স্পষ্ট নয়।

    দিল্লিতে ছাত্র বিক্ষোভ ঘিরেই মূল বিরোধ

    সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০ জুলাই দিল্লিতে ছাত্রদের বিক্ষোভ এবং তার পর পুলিশের পদক্ষেপ। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, আন্দোলনরত ছাত্রদের দমন করতে পুলিশ অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে (Amit Shah)। বিরোধী দলগুলির নেতৃত্বে থাকা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ একাধিক নেতা দাবি করেছেন, ছাত্রদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অনুমোদন কে দিয়েছিল, তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংসদে স্পষ্ট করতে হবে। বিশেষ করে অভিযানের সময় গুলি ছোড়ার অভিযোগ নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে (Student Protests)। বিরোধীদের অভিযোগ, ছাত্রদের প্রতিবাদ দমনে পুলিশ যে পদ্ধতি নিয়েছে, তা নিয়ে সরকারের কাছ থেকে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রয়োজন। তাঁদের বক্তব্য, সংসদে এই প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ চলবে।

    সংসদের বাইরে বিরোধীদের বিক্ষোভ

    বুধবার সংসদের বাইরে বিরোধী নেতারাও বিক্ষোভ দেখান। সেখানে শাহের জবাব চেয়ে স্লোগান দেওয়া হয়। “অমিত শাহ জবাব দাও”—এই স্লোগানে সরব হন বিরোধী দলের নেতা ও সাংসদরা। বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি ছিল, ছাত্রদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরাসরি জবাব দিতে হবে। শুধু দিল্লি নয়, অন্যান্য রাজ্যেও ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। ছাত্র বিক্ষোভের বিষয়টি আরও বড় রাজনৈতিক সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সর্বভারতীয় স্তরে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রফাঁস, ছাত্রদের প্রতিবাদ এবং তার পর পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে সংসদেও।

    সরকার-বিরোধী সংঘাত মেটাবে কি আলোচনা?

    একদিকে বিরোধীরা চাইছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি বক্তব্য দিয়ে পুলিশের পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দিন। অন্যদিকে শাহের বক্তব্য, সংসদের নিয়ম মেনে আলোচনা হলেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব। ফলে মূল বিরোধ এখন আর আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে নয়, বরং আলোচনাটি কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় হবে, তা নিয়ে (Amit Shah)। শাহের ২৪ ঘণ্টার আলোচনার প্রস্তাব তাই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বিরোধীরা সংসদের কাজ চালু করতে দিলে তিনি দীর্ঘ আলোচনা শুনতে এবং প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি বিরোধীদের সংসদ অচল না করে নিয়ম মেনে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন (Student Protests)।

  • Jharkhand Recruitment Scam: ৪০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি! নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে ঝাড়খণ্ড সরকারকে নিশানা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

    Jharkhand Recruitment Scam: ৪০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি! নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে ঝাড়খণ্ড সরকারকে নিশানা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (Jharkhand Recruitment Scam) পরীক্ষায় দুর্নীতি ঘিরে উত্তাল গোটা দেশ। প্রশ্নপত্র লিক, উত্তরপত্রে জালিয়াতি এবং গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থাতেই গলদ ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নেমেছেন সেই রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীরা। এবার ঝাড়খণ্ডে জেপিএসসি ও জেএসএসসি-এর নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সরব হলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ সঞ্জয় শেঠ (Union Minister Sanjay Seth)। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি হয়েছে। পাশাপাশি, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-কে তদন্তের অনুমতি না দেওয়ার জন্য হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলেন তিনি।

    আন্দোলনরত ছাত্রদের হুমকি কেন

    সঞ্জয় শেঠের অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর প্রশাসন দমনমূলক পদক্ষেপ করছে। তিনি দাবি করেন, মঙ্গলবার গভীর রাতে রাঁচির জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা আন্দোলনরত ছাত্রদের হুমকি দেন এবং রাত ১টার সময় আন্দোলনস্থলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। শেঠের বক্তব্য, নিজেদের খরচে পড়ুয়ারা জেনারেটরের ব্যবস্থা করে বিদ্যুৎ পরিষেবা চালু করার চেষ্টা করলে পুলিশ সেটিও সরিয়ে দেয়। ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জ এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, জেপিএসসি হোক বা জেএসএসসি—সমগ্র ঘটনায় প্রায় ৪০০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। এই অর্থের ভাগ কারা পেয়েছেন এবং এর সঙ্গে কারা যুক্ত, তা তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আনার দাবি জানান তিনি।

    সিবিআই তদন্ত কেন নয়

    রাজ্য সরকার কেন সিবিআই তদন্তে সম্মতি দিচ্ছে না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সঞ্জয় শেঠ। তাঁর অভিযোগ, শাসক জোটের প্রভাবশালী নেতা এবং মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম তদন্তে উঠে আসতে পারে বলেই সিবিআই তদন্তে আপত্তি জানানো হচ্ছে। অন্যদিকে সিবিআই তদন্তের দাবিতে জেপিএসসি (JPSC) ও জেএসএসসি (JSSC)-এর পরীক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং সিবিআই তদন্তের দাবিতে রাঁচিতে একাধিক কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনকারীরা।  ইতিমধ্যেই বিতর্কিত জেপিএসসি (ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন) পরীক্ষাগুলি বাতিল করতে সরকার রাজি বলে  ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। পরীক্ষার আয়োজনকারী সংস্থার বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। এমনকি, আইআইটি ও আইআইএমের সাহায্যে পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারেরও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।তবে, পরীক্ষার্থীদের দাবি, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

  • Ram Mandir Scam: ‘রাম মন্দিরে কোনও বড়সড় দুর্নীতি হয়নি’! ৩,৩০০ কোটি টাকা অনুদানের হিসেব সম্পূর্ণ

    Ram Mandir Scam: ‘রাম মন্দিরে কোনও বড়সড় দুর্নীতি হয়নি’! ৩,৩০০ কোটি টাকা অনুদানের হিসেব সম্পূর্ণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাম মন্দিরের অনুদান (Ram Mandir Scam) ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাম্প্রতিক নানা জল্পনার মধ্যে সরকারি সূত্রের তরফে দাবি করা হয়েছে, শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের কাছে জমা পড়া প্রায় ৩,৩০০ কোটি অনুদানের পুরো অর্থই হিসেবভুক্ত এবং অডিট করা হয়েছে। বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগকে সরকারি সূত্রগুলি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। সূত্রের দাবি, স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের বহিরাগত অডিটর -এর মাধ্যমে ট্রাস্টের আর্থিক লেনদেন পরীক্ষা করা হয়েছে। মন্দির নির্মাণে প্রায় ১,৮০০ কোটি এবং জমি অধিগ্রহণে প্রায় ৪০০ কোটি ব্যয় হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই বড় অঙ্কের লেনদেনে নগদ ব্যবহার করা হয়নি এবং নির্দিষ্ট ব্যাঙ্কিং প্রক্রিয়া মেনেই অর্থ প্রদান করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের দাবি।

    মন্দির ট্রাস্টের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগ নেই

    সরকারি সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, যে চুরির ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটি মেশিনে টাকা গণনার আগে ম্যানুয়ালি নগদ বাছাই ও গোনার সময় ঘটে যাওয়া একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে ছয়জন বহিরাগত কর্মীকে চিহ্নিত করা হয়। তাঁরা সৈনিক সিকিউরিটি সার্ভিসের Sainik Security ServicesSSS)-এর মাধ্যমে নিযুক্ত ছিলেন। SSS আবার স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (SBI) চুক্তিভিত্তিক পরিষেবা সংস্থা হিসেবে কাজ করছিল বলে সূত্রের দাবি। অভিযুক্তদের গ্রেফতারও করা হয়েছে। সরকারি সূত্র স্পষ্ট করেছে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মন্দির প্রশাসন বা শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক ছিল না।

    সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্ত

    ঘটনার তদন্তের জন্য পুনর্গঠিত সিট (SIT) কাজ করছে। তদন্ত প্রক্রিয়াটি সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে রয়েছে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে। সিনিয়র আইপিএস আধিকারিকদের নেতৃত্বে তদন্ত চালানো হচ্ছে, যাতে তদন্তের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকে। সূত্রের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এলাকায় জমির বাজারদর বেড়ে যাওয়া এবং জমির সঙ্গে থাকা বাণিজ্যিক কাঠামোর নিষ্পত্তির কারণে অধিগ্রহণের খরচ বেশি হয়েছে।

  • Howrah Municipal Corporation: কলকাতা-হাওড়া পুরসভা সংশোধনী বিল পাশ, বাড়ল প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসা ভাতা

    Howrah Municipal Corporation: কলকাতা-হাওড়া পুরসভা সংশোধনী বিল পাশ, বাড়ল প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসা ভাতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার বিধানসভার অধিবেশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা সংক্রান্ত সংশোধনী (Howrah Municipal Corporation) বিল ধ্বনিভোটে পাশ হওয়ার পাশাপাশি অসমের ভয়াবহ বন্যায় দুর্গতদের জন্য ১০ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাক্তন বিধায়কদের মাসিক চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি এবং প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিধায়ক সেবাকেন্দ্র চালুর কথাও জানানো হয়েছে (West Bengal Assembly)। সেবাকেন্দ্র পরিচালনার জন্য শর্তসাপেক্ষে মাসিক ৩০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।

    পুরসভা সংক্রান্ত দু’টি পৃথক সংশোধনী বিল (Howrah Municipal Corporation)

    মঙ্গলবার বিধানসভায় পুরসভা সংক্রান্ত দু’টি পৃথক সংশোধনী বিল পেশ করা হয়। আলোচনার পর ধ্বনিভোটে দু’টি বিলই পাশ হয়ে যায়। বিল নিয়ে আলোচনার সময় বিরোধীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।  মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, বিধি বা নিয়ম সরিয়ে কোনও বিল পাশ করানো হচ্ছে না। কলকাতা পুরসভার আসন সংখ্যা নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়েও এদিন আলোচনা হয়। কলকাতা পুরসভার নিজস্ব আইন রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্বিন্যাসের কাজ নির্বাচন কমিশন করবে বলেও জানান তিনি। খসড়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে তা নিয়ে মতামত জানানোর জন্য ৬০ দিন সময় পাওয়া যাবে। এই প্রক্রিয়ায় দু’টি সর্বদলীয় বৈঠকও হবে। প্রথম বৈঠক হবে খসড়া প্রকাশের আগে এবং দ্বিতীয়টি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে।

    মানবিক সরকার

    অসমের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বন্যায় ইতিমধ্যেই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অসমে বহু বাংলাভাষী মানুষ বসবাস করেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে অসমের বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের পক্ষ থেকে অসমের বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ১০ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করা হয় (Howrah Municipal Corporation)। প্রাক্তন বিধায়কদের আর্থিক সুরক্ষা এবং তাঁদের প্রতি সম্মান জানাতে চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আগের সরকারের আমলে এই বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    প্রাক্তন বিধায়কদের পাশেও সরকার

    সততার সঙ্গে কাজ করেছেন এমন বহু প্রবীণ প্রাক্তন বিধায়ককে তিনি দেখেছেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। মহিষাদলের প্রাক্তন বিধায়ক দীনবন্ধু রায় এবং বাসন্তীর প্রাক্তন মন্ত্রী সুভাষ নস্করের মতো বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের স্মরণ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বর্ষীয়ান প্রাক্তন বিধায়কদের প্রতি সরকারের কিছু দায়িত্ব রয়েছে।” সেই দায়িত্বের কথা মাথায় রেখে প্রাক্তন বিধায়কদের মাসিক চিকিৎসা ভাতা ৬ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছনোর পাশাপাশি বিধায়কদের কাজের সুবিধার জন্য প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে একটি করে সেবাকেন্দ্র চালুর কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই শাসকদলের শতাধিক বিধায়ক এই ধরনের সেবাকেন্দ্র চালু করেছেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    চালু হচ্ছে সেবাকেন্দ্র!

    তবে এই সেবাকেন্দ্র চালু করতে ইচ্ছুক বিধায়কদের জন্য দু’টি শর্তের কথা জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, সেবাকেন্দ্রের নাম রাখতে হবে “নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্র”। পাশাপাশি কেন্দ্রের ভিতরে নেতাজির ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত ছবি রাখতে হবে। এই দু’টি শর্ত পূরণ করলে (West Bengal Assembly) সংশ্লিষ্ট বিধায়করা সেবাকেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা করে (Howrah Municipal Corporation) অনুদান পাবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

     

  • Balochistan Independence Day: ‘স্বাধীনতা দিবস’ পালন বালুচিস্তানে, আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ‘স্বাধীন দেশ’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি

    Balochistan Independence Day: ‘স্বাধীনতা দিবস’ পালন বালুচিস্তানে, আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ‘স্বাধীন দেশ’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের শৃঙ্খল ভেঙে ১১ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবস পালন করল বালুচিস্তান (Balochistan Independence Day)। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও দাবি করল বালুচরা। বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মীর ইয়ার বালুচ জানান বালুচিস্তান, পাকিস্তান থেকে সম্পূর্ণভাবে আলাদা। মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট, ‘বালুচিস্তান স্বাধীনতা দিবস’ পালনের মধ্যেই এক বার্তায় রাষ্ট্রসংঘ, আশিয়ান, আফ্রিকান ইউনিয়ন, ওআইসি-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের কাছে এই দাবি জানান তিনি। এরপরই দেশের সবচেয়ে বড় প্রদেশ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় মরিয়া হয়ে মাঠে নেমে পড়েছে পাক সেনা। বালুচদের স্বাধীনতা উৎসব পালনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি কারফিউ জারি করা হয়েছে ওই অঞ্চলে। শুরু হয়েছে ব্যাপক ধরপাকড়, বন্ধ করা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা।

    আন্তর্জাতিক স্তরে সমর্থনের আহ্বান

    সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ প্রকাশিত বার্তায় মীর ইয়ার বালুচ বলেন, বালুচিস্তানকে আর পাকিস্তানের একটি প্রদেশ হিসেবে উল্লেখ না করে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, বালুচ স্বাধীনতা আন্দোলন এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে মূল লক্ষ্য আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বীকৃতি অর্জন। বালুচ নেতার বার্তায় পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করা হয়। বালুচিস্তানের মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক ‘নৈতিক সমর্থন’ অব্যাহত রাখার আবেদনও জানান তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের সদস্য দেশ, আশিয়ান, আফ্রিকান ইউনিয়ন, ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (OIC) এবং ইউরোপীয় দেশগুলির কাছে বালুচিস্তানের স্বাধীনতার দাবিকে সমর্থনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে ধন্যবাদ

    বালুচিস্তান ইস্যুকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরার ক্ষেত্রে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকারও প্রশংসা করেন মীর ইয়ার বালুচ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, গবেষক এবং বিভিন্ন থিঙ্ক ট্যাঙ্ককে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁদের প্রচারের ফলে বালুচিস্তানের পরিস্থিতি বিশ্ববাসীর নজরে এসেছে। বার্তায় আরও বলা হয়েছে, বালুচ রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিভিন্ন অংশকে একত্রিত করার চেষ্টা চলছে। স্বাধীন বালুচিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলে নিজস্ব পাসপোর্ট, মুদ্রা, সংবাদমাধ্যম, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং কূটনৈতিক মিশন গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে। বিদেশনীতি, প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি ও কূটনীতির দায়িত্বও স্বাধীন রাষ্ট্রের নিজস্ব প্রশাসন পরিচালনা করবে বলে দাবি করা হয়েছে।

    ১১ অগাস্টের ঐতিহাসিক দাবিকে সামনে রেখে প্রচার

    মীর ইয়ার বালুচের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের স্বাধীনতার দাবি ১৯৪৭ সালের ১১ অগাস্টের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের দাবি, ব্রিটিশ ভারতের বিভাজনের আগে ওই দিন বালুচিস্তান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল। এবার সেই ঐতিহাসিক দাবির স্মরণে সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের দিকে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে বালুচিস্তানের সম্পর্ক নিয়ে সংঘাত তৈরি হয় এবং ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানি বাহিনী কালাত দখল করে। অন্যদিকে, বালুচিস্তানে স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি ঠেকাতে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। কিছু এলাকায় মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। বালুচ গোষ্ঠীর দাবি, বিভিন্ন বাধা সত্ত্বেও বালুচিস্তানের একাধিক এলাকায় সমর্থকেরা ‘বালুচিস্তান স্বাধীনতা দিবস’ পালন করেছেন। তাঁরা ১৪ অগাস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস পালন না করার আহ্বানও জানিয়েছেন।

    দীর্ঘদিনের সংঘাত ও রাজনৈতিক বিরোধ

    তবে পাকিস্তান সরকার বরাবরই বালুচিস্তানকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে আসছে। প্রদেশটিতে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে। ফলে স্বাধীন বালুচিস্তানের দাবি নিয়ে ইসলামাবাদ ও বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত ও রাজনৈতিক বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশে ১১ অগাস্ট ‘বালুচিস্তান স্বাধীনতা দিবস’ পালনকে ঘিরে বিভিন্ন শহরে কর্মসূচি ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। বালুচ জাতীয়তাবাদী নেতারা দিনটিকে পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতার দাবির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তথাকথিত ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’-কে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। বালুচ নেতাদের দাবি, পাকিস্তানি প্রশাসন ও নিরাপত্তাবাহিনীর কড়া নজরদারি এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধ সত্ত্বেও কোয়েটা, নৌশকি, কালাত, গওয়াদর, তুরবত ও খুজদারসহ একাধিক এলাকায় স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কোথাও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কোথাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গান ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মিষ্টিও বিতরণ করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

    পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগ

    বালুচ মানবাধিকারকর্মী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মীর ইয়ার বালুচ অভিযোগ করেছেন, স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি ব্যাহত করতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁর দাবি, বহু এলাকায় ভারী নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং জনসমাবেশ ও মিছিলের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখারও অভিযোগ উঠেছে। তবে বালুচ নেতৃত্বের দাবি, এসব পদক্ষেপ সত্ত্বেও স্বাধীনতার দাবিতে কর্মসূচি থামেনি। তাঁদের বক্তব্য, নিরাপত্তাবাহিনীর উপস্থিতির মধ্যেও সাধারণ মানুষের একাংশ স্বাধীনতার পক্ষে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করেছেন।

    ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’-এর দাবি

    সম্প্রতি মীর ইয়ার বালুচ ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’ নামে একটি নথি প্রকাশ করে স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি আরও জোরদার করেছেন। ওই ঘোষণায় নতুন প্রশাসনিক কাঠামো, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীতের কথা বলা হয়েছে। এমনকি ‘বালুচি ফালুস’ নামে নতুন মুদ্রা চালুর দাবিও করা হয়েছে। মীর ইয়ার বালুচের পক্ষ থেকে বালুচিস্তানের প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা তাঁদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বালুচ নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে বালুচিস্তানকে না দেখে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করার আবেদন জানিয়েছে। তাঁদের দাবি, বালুচ জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। উল্লেখ্য, বালুচিস্তান বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বাধীন রাষ্ট্র নয়। পাকিস্তানের অংশ হিসেবেই স্বীকৃত। ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’-এর স্বাধীনতার ঘোষণা মূলত বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতৃত্বের রাজনৈতিক দাবি; এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। দীর্ঘদিনের বিদ্রোহ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, নিরাপত্তা অভিযান এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বালুচিস্তান পাকিস্তানের অন্যতম সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল। ১১ আগস্টের কর্মসূচি সেই দীর্ঘস্থায়ী স্বাধীনতার আন্দোলনকে ফের আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

  • Abhijit Dipke: সিজেপিতে অন্তর্কলহ! অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্ব নিয়ে ‘ককরোচ’দের মধ্যে বাড়ছে বিক্ষোভ!

    Abhijit Dipke: সিজেপিতে অন্তর্কলহ! অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্ব নিয়ে ‘ককরোচ’দের মধ্যে বাড়ছে বিক্ষোভ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হল ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের (Abhijit Dipke) নেতৃত্ব ও দলের কার্যপদ্ধতির বিরুদ্ধে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসা দুই যুবক। সোমবার, ১০ অগাস্ট শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তাঁদের চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানালে পুলিশ অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। অসুস্থ হয়ে পড়া দুই আন্দোলনকারী হলেন মণীশ ব্রহ্মভট্ট ও রাহুল পাণ্ড্য। দু’জনেই আহমেদাবাদের বাসিন্দা এবং ককরোচ জনতা পার্টির সদস্য। গত ৬ অগাস্ট থেকে তাঁরা বিভাগীয় কমিশনারের দফতর চত্বরে অনশন শুরু করেছিলেন। দলের নেতৃত্ব এবং মূল কমিটি গঠনের পদ্ধতি নিয়েও তাঁরা আপত্তি জানিয়েছিলেন।

    দলের মূল কমিটি গঠন নিয়ে ক্ষোভ (Abhijit Dipke)

    মণীশ ও রাহুলের অভিযোগ, অভিজিৎ নিজের ইচ্ছামতো দলের মূল কমিটি গঠন করেছেন। তাঁদের দাবি, এই সংগঠন কোনও এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেনি, বরং এটি একটি বৃহত্তর জাতীয় আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই বিভিন্ন রাজ্য থেকে আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন। আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, দীপকের গঠিত মূল কমিটিতে প্রতিটি রাজ্য থেকে পাঁচজন করে সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাঁদের বক্তব্য, দলের নেতৃত্বের কাছে বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও, তাঁদের দাবির বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এরপরই ৬ অগাস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। প্রথমে অভিজিতের বাসভবনের কাছে বসেই তাঁরা অনশন শুরু করেছিলেন। পুলিশ তাঁদের জানায়, তাঁর বাসভবনের কাছে অনশন চালিয়ে যাওয়া যাবে না। পরে পুলিশ আধিকারিকদের পরামর্শে তাঁরা বিভাগীয় কমিশনারের দফতর চত্বরে গিয়ে অনশন শুরু করেন।

    চতুর্থ দিনেই শারীরিক অবস্থার অবনতি

    সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ চিকিৎসাকর্মীরা দুই আন্দোলনকারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। পরীক্ষা শেষে তাঁরা পুলিশকে জানান, দু’জনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে এবং তাঁদের চিকিৎসার প্রয়োজন। এরপর পুলিশ অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যায় (CJP)। দুই মূল অনশনকারী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় অনশন আদৌ বন্ধ হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যদিও আন্দোলন থামেনি বলেই খবর। অনশন চালিয়ে যেতে শৃঙ্খল অনশনের পথ নেওয়া হয়েছে আন্দোলনকারীদের তরফে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া দুই যুবকের পরিবর্তে আরও তিন যুবক শৃঙ্খল অনশনে যোগ দিয়েছেন বলে খবর। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের আয়ান খান, জলনার ফারুক খান এবং আহমেদাবাদের সুনীল দেশাই। ফলে মূল দুই অনশনকারী হাসপাতালে ভর্তি হলেও অভিজিতের নেতৃত্ব এবং ককরোচ জনতা পার্টির মূল কমিটি গঠন নিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

    এবার দীপকের বিরুদ্ধে পুলিশকর্মীদের সংগঠনের বিক্ষোভ

    এমন আবহেই অভিজিতের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে সরব হয়েছে পুলিশ বয়েজ অ্যাসোসিয়েশন। মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের জেলাশাসকের দফতরের বাইরে সংগঠনের সদস্যরা মৌন বিক্ষোভ দেখান (Abhijit Dipke)।সংগঠনের দাবি, অভিজিৎকে দেওয়া পুলিশি নিরাপত্তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। গত ৭ আগস্ট নিজের বাসভবনের বাইরে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের আচরণ নিয়ে অভিজিৎ অভিযোগ তোলেন। তার পরেই সূত্রপাত হয় এই বিরোধের।

    কী নিয়ে পুলিশের সঙ্গে অভিজিতের বিরোধ?

    অভিজিতের অভিযোগ ছিল, তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসা লোকজনের সঙ্গে তাঁর বাসভবনের বাইরে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা দুর্ব্যবহার করেন। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিজিৎ বলেছিলেন, কার সঙ্গে তিনি দেখা করবেন তা ঠিক করার জন্য পুলিশের প্রয়োজন নেই। তিনি এক পুলিশ আধিকারিককে সেখান থেকে চলে যেতে বলেছিলেন বলেও অভিযোগ। অজিজিতের এহেন মন্তব্যের পরেই পুলিশ বয়েজ অ্যাসোসিয়েশন প্রতিবাদে নামে। সংগঠনের অভিযোগ, তিনি পুলিশ- প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর আচরণকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে সংগঠনটি পুলিশকর্মী ও তাঁদের পরিবারের অধিকার লঙ্ঘনেরও অভিযোগ তুলেছে (CJP)।

    পুলিশি নিরাপত্তা প্রত্যাহারের দাবি

    পুলিশ বয়েজ অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, অভিজিতকে দেওয়া পুলিশি নিরাপত্তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। সংগঠনের বক্তব্য, নাগরিকদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কোনও পুলিশকর্মীকে প্রকাশ্যে অপমান করা শুধু একজন আধিকারিককে অপমান করা নয়, এটি গোটা পুলিশবাহিনী এবং আইনের শাসনের প্রতি অসম্মান (Abhijit Dipke)। জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর আপাতত বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে নেয় সংগঠনটি। তবে অভিজিতের “দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে”র বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

    গোটা পুলিশবাহিনীর প্রতি অপমান”

    পুলিশ বয়েজ অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, প্রশাসনের কাছে আগে দেওয়া স্মারকলিপির ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ না হওয়ায় মৌন বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। সংগঠনের বহু পদাধিকারী ও কর্মী এতে অংশ নেন। তাঁদের বক্তব্য, এই বিক্ষোভ পুলিশকর্মী এবং তাঁদের পরিবারের মর্যাদা ও আত্মসম্মান রক্ষার দাবিতে করা হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, অভিজিতের পুলিশি নিরাপত্তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত। কোনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপও করতে হবে (CJP)। এই আন্দোলনের ফলে ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে অভিজিতকে ঘিরে এখন দু’টি পৃথক বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে। একদিকে দলের কার্যপদ্ধতি ও মূল কমিটি গঠন নিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যদের আন্দোলন, অন্যদিকে পুলিশকর্মীদের সঙ্গে তাঁর আচরণ নিয়ে পুলিশ বয়েজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবাদ—দুই ক্ষেত্রেই চাপের মুখে পড়েছেন ‘আরশোলা পার্টি’ সুপ্রিমো স্বয়ং (Abhijit Dipke)।

     

  • Vande Mataram: ‘বন্দে মাতরম’কে জাতীয় সঙ্গীতের সমান আইনি সুরক্ষা, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর পরিণত আইনে

    Vande Mataram: ‘বন্দে মাতরম’কে জাতীয় সঙ্গীতের সমান আইনি সুরক্ষা, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর পরিণত আইনে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বন্দে মাতরম’কে (Vande Mataram) জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমান আইনি সুরক্ষা দিল কেন্দ্র। মঙ্গলবার ১১ অগাস্ট, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু জাতীয় (National Anthem) সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধন) বিল, ২০২৬-এ সম্মতি দেন। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর বিলটি আইনে পরিণত হয়েছে।

    শাস্তিযোগ্য অপরাধ (Vande Mataram)

    সংসদ গত মাসেই ১৯৭১ সালের জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ আইনে সংশোধনী হিসেবে এই বিলটি পাশ করেছিল। নতুন আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গান থামিয়ে দেওয়া অথবা জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় কোনও সমাবেশে বিঘ্ন ঘটানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা একই সঙ্গে কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে। ১৯৭১ সালের আইনে নির্দিষ্টভাবে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সুরক্ষার কথা বলা ছিল। ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া বন্ধ করে দেওয়া অথবা তা গাওয়ার সময় কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান ছিল। দ্বিতীয় বা পরবর্তী দোষের ক্ষেত্রে ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে।

    আইনি সুরক্ষার আওতায় ‘বন্দে মাতরম’ 

    নতুন সংশোধনীর ফলে ‘বন্দে মাতরম’-ও একই আইনি সুরক্ষার আওতায় চলে এল। সংশোধনী বিলে বলা হয়েছিল, জাতীয় গান ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করে দেওয়া বা গাওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করা রুখতে ১৯৭১ সালের আইনে এতদিন কোনও নির্দিষ্ট বিধান ছিল না। সেই কারণে আইনের ৩ নম্বর ধারায় ‘বন্দে মাতরম’কে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘বন্দে মাতরম’-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও সংশোধনী আইনে তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি গণপরিষদের সভাপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ জানিয়েছিলেন, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই গানকে ‘জন গণ মন’-এর সমান মর্যাদা দেওয়া হবে (Vande Mataram)।

    প্রথমে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’

    এদিকে, জাতীয় গান পরিবেশন নিয়ে নতুন নিয়মও চালু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ২৮ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির আগমন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং রাজ্যপালদের ভাষণের মতো সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর ছ’টি স্তবকই গাওয়া হবে। পুরো গানটি গাইতে সময় লাগবে প্রায় ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড। ‘বন্দে মাতরম’ এবং ‘জন গণ মন’ একই অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হলে প্রথমে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হবে। উপস্থিত সকলের তখন সতর্ক অবস্থানে দাঁড়িয়ে থাকার কথা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, এ বছর স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রথমবার লালকেল্লা থেকে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করা হবে (National Anthem)। দেশের স্কুলগুলিতেও দিনের কর্মসূচি জাতীয় গানটির সমবেত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Vande Mataram)।

     

  • Supreme Court: নেতাজির চিতাভস্ম জাপান থেকে ভারতে ফেরানোর আর্জি, কেন্দ্রকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের

    Supreme Court: নেতাজির চিতাভস্ম জাপান থেকে ভারতে ফেরানোর আর্জি, কেন্দ্রকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাপানের টোকিওর রেনকোজি মন্দিরে সংরক্ষিত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর চিতাভস্ম (Netaji Bose Ashes Tokyo) ভারতে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ চেয়ে দায়ের করা আবেদনের শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। নেতাজির কন্যা অনিতা বি পাফ এই আবেদনটি করেছিলেন। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। আবেদনকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী এএম সিংভি আদালতকে জানান, নেতাজির কন্যা দীর্ঘদিন ধরেই প্রকাশ্যে তাঁর বাবার দেহাবশেষ ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

    “শেষকৃত্য, মর্যাদা এবং চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য…” (Supreme Court)

    সিংভি বলেন, “শেষকৃত্য, মর্যাদা এবং চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য…” তাঁর বক্তব্য, এর আগে শীর্ষ আদালত নেতাজির উত্তরাধিকারীকে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই এবার তাঁর কন্যা সরাসরি আদালতে এসেছেন। সওয়াল-জবাবের পর কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিশ জারি করে আদালত। গত মার্চেই নেতাজির গ্র্যান্ড নেফিউ (নাতি-ভাইপো) আশিস রায় তাঁর দেহাবশেষ ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিল শীর্ষ আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, নেতাজির উত্তরাধিকারী যদি তাঁর চিতাভস্ম ভারতে ফিরিয়ে আনতে চান, তাহলে তাঁকেই আদালতের সামনে আসতে হবে। আদালত আরও জানিয়েছিল, “আমরা তাঁর আবেগকে সম্মান করি এবং তাঁর আবেগকে আইনি পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করব (Supreme Court)।”

    সিংভির সওয়াল

    সেই শুনানির সময় সিংভি আদালতকে জানিয়েছিলেন, সুভাষচন্দ্র বসুর কন্যা ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানিতে উপস্থিত রয়েছেন এবং তিনি ওই আবেদন সমর্থন করছেন। তবে বেঞ্চের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এর আগে একই ধরনের একাধিক আবেদন করা হয়েছে এবং সেগুলি খারিজ হয়ে গিয়েছে। প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন, “এই বিষয়টি আর কতবার আদালতের সামনে আসবে?” সিংভি জবাব দেন, এবারের বিষয়টি আগের আবেদনের মতো নয়। তখন বেঞ্চ মৌখিকভাবে মন্তব্য করে, “পরোক্ষভাবে হোক বা সরাসরি… এই আবেদন আবার কেন আসছে? প্রথমত, চিতাভস্ম কোথায় রয়েছে? তার প্রমাণ কী?” এর জবাবে সিংভি জানান, নেতাজির একমাত্র উত্তরাধিকারী তাঁর কন্যা, যাঁর বয়স ৮৪ বছর এবং যিনি সেই সময় আদালতের শুনানিতে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও জানান, ভারতে দায়িত্ব পালন করা প্রায় প্রত্যেক রাষ্ট্রপ্রধানই জাপানের রেনকোজি মন্দিরে গিয়ে সেখানে সংরক্ষিত নেতাজির চিতাভস্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন (Netaji Bose Ashes Tokyo)।

    প্রধান বিচারপতির বক্তব্য

    প্রধান বিচারপতি বলেন, “প্রথমত, আমরা জানতে চাই নেতাজির পরিবারের কতজন সদস্য জীবিত রয়েছেন। নেতাজি নিঃসন্দেহে এই দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতা। তাঁর সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের জন্য আমাদের অনেকেই তাঁর সামনে মাথা নত করি।” সিংভি জানান, নেতাজির একমাত্র সন্তান অনিতা এবং তিনিই একমাত্র উত্তরাধিকারী। তিনি বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় বসবাস করেন। তবে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, তিনি এই মামলার আবেদনকারী নন। তাঁর বক্তব্য, “উত্তরাধিকারীকে আমাদের সামনে আসতে দিন… উত্তরাধিকারী যদি চিতাভস্ম আমাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চান, তাহলে তাঁকেই আমাদের সামনে আসতে হবে।” বেঞ্চের অবস্থান দেখে সিংভি আশিস রায়ের দায়ের করা আবেদনটি প্রত্যাহারের অনুমতি চান। তিনি জানান, নেতাজির কন্যা নিজে পরবর্তী সময়ে আবেদন করবেন। এরপর আদালত আবেদনটি প্রত্যাহার করার অনুমতি দিয়ে মামলাটির নিষ্পত্তি করে।

    রেনকোজি মন্দিরে নেতাজির চিতাভস্ম সংরক্ষিত রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করা হয়ে আসছে। সেই চিতাভস্ম ভারতে ফিরিয়ে আনা হবে কি না, তা নিয়ে বহু বছর ধরেই (Netaji Bose Ashes Tokyo) বিতর্ক ও আইনি জটিলতা রয়েছে। এবার নেতাজির কন্যার সরাসরি আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।

     

  • Organ Donation in India: মৃত্যুর পর কয়েক ঘণ্টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ! অঙ্গদান বাঁচাতে কোন ৩ পদক্ষেপ জরুরি?

    Organ Donation in India: মৃত্যুর পর কয়েক ঘণ্টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ! অঙ্গদান বাঁচাতে কোন ৩ পদক্ষেপ জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ভারতে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি নয়া দিশা দেখাচ্ছে। বাদ নেই স্বাস্থ্য ক্ষেত্র! একের পর এক সাফল্যে দেশ এগিয়ে চলেছে। কিন্তু এখনও কয়েকটি জায়গায় হোঁচট খেতে হচ্ছে! রোগীর প্রাণ বাঁচাতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ভারতে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ অঙ্গদান! বিশেষত রোগীর ব্রেন ডেথ হওয়ার পরে দেহদান নিয়েই চলে নানান জটিলতা! অগাস্ট মাসে বিশ্ব জুড়ে অঙ্গদান নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি চলে। ভারতেও পালন করা হয় ন্যাশনাল অরগ্যান ডোনেশন ডে! আর সেই উপলক্ষে একাধিক কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট মহল জানাচ্ছেন, ভারতে অঙ্গদানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে ওঠে প্রশাসনিক জটিলতা। বিশেষত ব্রেন ডেথ রোগীর অঙ্গদানের ক্ষেত্রে সেই জটিলতা আরও বাড়ে।

    কোন জটিলতায় পিছিয়ে যাচ্ছে অঙ্গদান?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, রোগীর ব্রেন ডেথ হলে, অর্থাৎ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা সম্পূর্ণ শেষ হলে, তাকে মৃত হিসাবে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তারপরেও সেই রোগীর শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন হৃদপিণ্ড, কিডনি, লিভারের কার্যক্ষমতা বজায় থাকে। কিন্তু মস্তিষ্কের মৃত্যুর কারণে রোগীর বেঁচে থাকা সম্ভব হয় না। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত তার অঙ্গ সংরক্ষণ কিংবা প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করা জরুরি। এক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত দেরি হয়ে গেলে সেই ব্যক্তির অঙ্গ অন্য রোগীর প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায় না। বিশেষত হৃদপিণ্ড, চোখের মতো অঙ্গ দ্রুত প্রতিস্থাপন প্রয়োজন। কিন্তু উপযুক্ত যোগাযোগ ও তৎপরতার অভাবে অনেক সময়েই অঙ্গদান‌ হচ্ছে না।

    একাধিক বিভাগের সমন্বয়ের অভাব

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, রোগীর মৃত্যুর পরে, তার পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। সেই সময় অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা কিংবা এক সরকারি অফিস থেকে আরেক সরকারি অফিস ছুটোছুটি করার মতো পরিস্থিতি থাকে না। এক ছাদের তলায় সহজে অঙ্গদানের সুযোগ ও পরিকাঠামো থাকলে তবেই এই পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব। অনেকেই জানাচ্ছেন, অঙ্গদানে ইচ্ছুক থাকলেও, হাসপাতালকে জানানোর পরেও অঙ্গদান হয় না। বিশেষত ছুটির দিনে সরকারি জটিলতা আরও বাড়ে। এর ফলে অঙ্গদান সম্ভব হয় না। অনেক সময় রোগীর পরিবার দ্রুত অনুমতি দেওয়ার পরেও একাধিক বিভাগের সমন্বয়ের অভাবে অঙ্গদান ব্যর্থ হয়‌।

    মরণোত্তর অঙ্গদানের ক্ষেত্রেও সময় গুরুত্বপূর্ণ

    তাছাড়া মরণোত্তর অঙ্গদানের ক্ষেত্রেও সময় সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ কোনও ব্যক্তি তাঁর মৃত্যুর আগে স্বেচ্ছায় অঙ্গদানে আগ্রহী। তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর পরিবার অঙ্গদানে ইচ্ছুক। কিন্তু সেক্ষেত্রেও প্রশাসনিক জটিলতায় কাজ এগোতে পারে না। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, রোগীর মৃত্যুর পরে পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত তার শরীরের একাধিক অঙ্গ সংরক্ষণ করলে পরবর্তীতে সেটা প্রতিস্থাপনের কাজে লাগানো যেতে পারে। কিন্তু মরণোত্তর অঙ্গদান পর্বের প্রশাসনিক জটিলতার জেরে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেহ চিকিৎসাশাস্ত্র পড়ানোর কাজ ছাড়া, অন্য কোনও ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যায় না।

    কেন অঙ্গদানে বাড়তি গুরুত্ব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের উন্নতি হয়েছে। সেই উন্নতিকে কাজে লাগাতে মানুষের সাহায্য প্রয়োজন। একাধিক রোগীর সুস্থতার জন্য অঙ্গদান অত‌্যন্ত জরুরি। ভারতের একাধিক মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে চোখ, লিভার, কিডনি, ত্বক এমনকি হৃদপিণ্ড প্রতিস্থাপন হয়। একজন রোগীর দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রতিস্থাপিত করে, সে সুস্থ জীবন যাপন করতে পারেন। কিন্তু অঙ্গদানে ঘাটতির জন্য সেই সুস্থতার পথে বাধা আসে। ঠিকমতো অঙ্গ সংরক্ষণ কিংবা দ্রুত প্রতিস্থাপনের বন্দোবস্ত না থাকার জেরে, প্রতি বছর এদেশে বহু রোগী মারা যান। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, লিভার, কিডনি কিংবা হৃদপিণ্ডের জটিল সমস্যা নিয়ে প্রতি বছর কয়েক হাজার রোগী অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু ঠিকমতো যথেষ্ট অঙ্গদাতা না থাকার জেরে রোগীর ভোগান্তি বাড়ে। এমনকি প্রাণ সংশয়ও হয়।‌ অন্যান্য দেশের নিরিখে ভারতে অঙ্গদানের হার কম। তাই চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সব মহলে এই নিয়ে আরো বেশি সচেতনা জরুরি।

    অঙ্গদানের জটিলতা কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, তিনটি বিষয়ে খেয়াল রাখলেই অঙ্গদানের হার বাড়ানো যাবে। পাশাপাশি দেশ জুড়ে সফল অঙ্গ প্রতিস্থাপনের হার বাড়বে।

    জনসচেতনতার হার বাড়ানো দরকার!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে অঙ্গদানের প্রবণতা বাড়াতে এই নিয়ে লাগাতার সচেতনতা প্রয়োজন। ব্রেন ডেথ সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, কখন একজন রোগীর ব্রেন ডেথ ঘোষণায় করা হবে, সে সম্পর্কে সচেতনতা নেই। চিকিৎসায় কোনও সাড়া না দিলে, মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ শক্তি হারালে তবেই ব্রেন ডেথ ঘোষণা করা হয়। তখন তাঁর অঙ্গদান করলে, একাধিক রোগী সুস্থ জীবন ফিরে পেতে পারেন, এই সম্পর্কে জনসচেতনতা জরুরি। কিন্তু এই নিয়ে ঘাটতি রয়েছে। তাঁদের পরামর্শ, প্রত্যেক হাসপাতালে এই নিয়ে আলাদা বিভাগ প্রয়োজন। রোগীর পরিবারকে এই সম্পর্কে বোঝানো প্রয়োজন। তাঁদের মানসিক অবস্থা বিশ্লেষণ করেই তাঁদের এই সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি। পরিবারের সম্মতি পেলে তবেই বাকি কাজ করা সম্ভব হবে। কারণ, হৃদপিণ্ড সক্রিয় থাকলেও মস্তিষ্কের মৃত্যু হতে পারে। আর মস্তিষ্কের মৃত্যু হলে আর বাঁচানো সম্ভব হয় না। এটা সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষের স্পষ্ট ধারণা নেই।

    হাসপাতাল ও প্রশাসনের অন্যান্য মহলে সমন্বয়!

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পশ্চিমবঙ্গ সহ একাধিক রাজ্যে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মূল সমস্যা সরকারি মহলে জটিলতা। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এই জটিলতা কমাতেই হবে। কারণ অঙ্গদান ও প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রক্রিয়া জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি হলে অঙ্গদান ব্যর্থ হবে। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরের যাতে সহজেই দ্রুত যোগাযোগ হয় এবং প্রয়োজনীয় রোগীরা যাতে অঙ্গ পেতে পারেন, সেদিকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষত ছুটির দিনেও যাতে কাজ আটকে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। আলাদা এই বিশেষ দফতরে যাতে রুটিন মাফিক কর্মী উপস্থিত থাকেন, সেদিকেও নজরদারি জরুরি।

    অঙ্গ পরিবহণে বাড়তি জোর!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অঙ্গ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ট্র্যান্সপ্লান্ট সেন্টারে পৌঁছনো জরুরি। না হলে অঙ্গদান সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে। তাই প্রয়োজন অঙ্গ পরিবহণের পরিকাঠামো। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অঙ্গ নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছতে পারে না। সেদিকে স্বাস্থ্য দফতরের পাশপাশি অন্যান্য দফতরের খেয়াল রাখতে হবে। তবেই এত বড় বিষয়টি সফল হবে।

  • West Bengal STF: রেল-সেনার গতিবিধিতে নজর, বাংলাদেশে পালানোর ছক! রাজ্য এসটিএফ-এর জালে পাক নাগরিক সহ ২

    West Bengal STF: রেল-সেনার গতিবিধিতে নজর, বাংলাদেশে পালানোর ছক! রাজ্য এসটিএফ-এর জালে পাক নাগরিক সহ ২

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবসের আগে পশ্চিমবঙ্গে ফের পাক-যোগের সন্দেহে গ্রেফতার এক ব্যক্তি। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ-হাবড়া এলাকা থেকে পাকিস্তানের নাগরিক বলে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF)। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ব্যক্তি ওয়াহাব আলম ওরফে রানা রউফ/রানা রাউত নামে ভারতে বসবাস করছিল এবং ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেছিল। প্রাথমিক তদন্তে তার সঙ্গে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর যোগাযোগের সন্দেহও সামনে এসেছে। এই ঘটনায় কলকাতার তপসিয়া থেকে মহম্মদ ইজাজ নামে আরও এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, রানাকে ভুয়ো নথি তৈরি করতে সাহায্য করেছিল ইজাজ। সূত্রের খবর, বুধবার ভোরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালায় এসটিএফ। সেই অভিযানে রানাকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিল সে। সেই খবর পাওয়ার পরই সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়িয়ে তাকে আটক করা হয়।

    পাকিস্তানের ফয়সালাবাদ থেকে নেপাল হয়ে ভারতে?

    প্রাথমিক তদন্তে এসটিএফ জানতে পেরেছে, রানা আদতে পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের বাসিন্দা। প্রায় ২০১২ সাল নাগাদ নেপাল হয়ে সে বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান। তবে ভারতে আসার পর কোথায় কোথায় ছিল এবং এর আগে একাধিকবার সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ঢুকেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, কলকাতার তপসিয়া এলাকায় বেশ কিছুদিন বসবাস করেছিল রানা। সেখানে ছোটখাটো কাজ করার পাশাপাশি ওয়াহাব আলম নাম ব্যবহার করে আধার কার্ড-সহ একাধিক ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেছিল বলে অভিযোগ। এই ভুয়ো নথি তৈরির ক্ষেত্রে তপসিয়ার বাসিন্দা মহম্মদ ইজাজ তাকে সাহায্য করেছিল বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করছে এসটিএফ। রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ইজাজের নাম সামনে আসে। এরপর তপসিয়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের অনুমান, রানা ভারতে নিজের পরিচয় গোপন রেখে থাকতে ইজাজের সাহায্য নিয়েছিল।

    পাক সেনা ও আইএসআই-যোগের সন্দেহ

    রানার সঙ্গে পাকিস্তানের আইএসআই-এর যোগাযোগ ছিল কি না, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। তদন্তকারীদের একটি সূত্রের দাবি, রানা পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে এবং আইএসআই-এর হ্যান্ডলার হিসেবেই নেপাল হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল। তবে এই দাবিগুলির বিষয়ে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, ভারতে থাকার সময়ে রানা কার কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখত এবং পাকিস্তানে বসে থাকা কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছ থেকে সে নির্দেশ পেত কি না।

    ভারতীয় রেল ও সেনার গতিবিধিতে নজর?

    রানার বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। তদন্তকারীদের অনুমান, ভারতে থাকার সময়ে সে ভারতীয় রেল এবং সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গতিবিধির উপর নজর রাখছিল। কোন ধরনের তথ্য সে সংগ্রহ করেছিল, সেই তথ্য কোথাও পাঠানো হয়েছিল কি না এবং এর পিছনে কোনও নির্দিষ্ট নেটওয়ার্ক কাজ করছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে এসটিএফ।  বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বাংলাদেশের দিকে পালানোর চেষ্টা কেন করছিল রানা, বাংলাদেশে তার জন্য কেউ অপেক্ষা করছিল কি না এবং সীমান্তের ওপারে কোনও যোগাযোগ ছিল কি না—এই প্রশ্নগুলিও তদন্তের আওতায় এসেছে।

    হামিম মণ্ডল গ্রেফতারের পরই নতুন সূত্র

    রানাকে গ্রেফতারের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয় বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। এর আগে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে জঙ্গি-যোগের সন্দেহে হামিম মণ্ডল নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছিল এসটিএফ। হামিমের কাছ থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভিআইপি গতিবিধি, রুট ম্যাপ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি উদ্ধার হয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।তদন্তে উঠে আসে, হামিমের যোগাযোগ ছিল আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর সঙ্গে। তাকে পুলওয়ামা হামলার অন্যতম মূলচক্রী সাজ্জাদ ভাটের ঘনিষ্ঠ বলেও দাবি করেছে তদন্তকারী সূত্র। বর্ধমানে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়ার আগে হামিম কলকাতার নিউটাউন এলাকায় থাকত বলে তদন্তে জানা যায়। তার সূত্র ধরেই এসটিএফ পরে তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী অর্পিতা সরকার এবং আদিত্য সিং ওরফে রাজ-কেও গ্রেফতার করে।

    অর্পিতাকে ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ

    তদন্তকারীদের দাবি, হামিমের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরে অর্পিতার পাকিস্তান-যোগও সামনে আসে। পাকিস্তানের বিভিন্ন গোষ্ঠী এবং কুখ্যাত গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির গোষ্ঠীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ। অর্পিতাকে ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে ব্যবহার করে নেতা, মন্ত্রী এবং আমলাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলেও তদন্তকারীদের দাবি। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে যোগাযোগ করা হত বলে জানা গিয়েছে। তবে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে বাস্তবে কোনও অপহরণ বা নাশকতার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সেই কারণে অর্পিতার যোগাযোগ এবং পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য খতিয়ে দেখছে এসটিএফ।

    একই নেটওয়ার্কের যোগসূত্র খুঁজছে এসটিএফ

    রানা-ইজাজ গ্রেফতারের পর তদন্তকারীদের সামনে এখন একাধিক প্রশ্ন। পাকিস্তান থেকে বেআইনি ভাবে ভারতে ঢোকার পর রানা কীভাবে এত বছর ধরে নিজের পরিচয় গোপন রেখেছিল? কে তাকে ভুয়ো নথি তৈরিতে সাহায্য করেছিল? ভারতীয় রেল ও সেনার গতিবিধি সম্পর্কে সে কী তথ্য সংগ্রহ করেছিল? সেই তথ্য কোথায় পাঠানো হত? আর বাংলাদেশে পালানোর পরিকল্পনার পিছনে কারা ছিল? এর পাশাপাশি হামিম মণ্ডল, অর্পিতা সরকার, আদিত্য সিংহ এবং নতুন করে গ্রেফতার হওয়া রানা ও ইজাজের মধ্যে কোনও সরাসরি বা পরোক্ষ যোগাযোগ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ, একের পর এক গ্রেফতারের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে সক্রিয় সন্দেহভাজন পাক-যোগ এবং জঙ্গি নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য চক্রটি আরও বড় আকার নিচ্ছে। এসটিএফ এখন এই সমস্ত সূত্রকে এক জায়গায় এনে পাকিস্তান, আইএসআই, জঙ্গি সংগঠন, ভুয়ো পরিচয়পত্র, সীমান্তপথ এবং পশ্চিমবঙ্গে সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটাই খুঁজে দেখছে।

LinkedIn
Share