Blog

  • India: আমদানিকারী থেকে জ্বালানি রফতানিকারী—পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যে বিশ্ববাজারে উত্থান ভারতের

    India: আমদানিকারী থেকে জ্বালানি রফতানিকারী—পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যে বিশ্ববাজারে উত্থান ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একসময় ভারতকে (India) বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত খনিজ তেল আমদানিকারী দেশ হিসেবেই চিহ্নিত করা হত। দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বিদেশের ওপর (Global Energy Leader) নির্ভরশীলতাই ছিল ভারতের ভবিতব্য। সেই বাস্তবতা এখনও পুরোপুরি বদলায়নি। তবে গত কয়েক দশকে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ভারতের ভূমিকার আমূল বদল হয়েছে। এখন শুধু অপরিশোধিত তেল আমদানি নয়, সেই তেল পরিশোধন করে উচ্চমূল্যের পেট্রোলিয়াম পণ্য তৈরি করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি করছে ভারত। বর্তমানে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানিকারী দেশগুলির মধ্যে ভারত অন্যতম। এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা-সহ বিশ্বের বহু দেশে ভারত থেকে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারতের গুরুত্ব যেমন বেড়েছে, তেমনই দেশের অর্থনীতিতেও তৈরি হয়েছে নয়া মূল্য সংযোজন।

    পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি খাতে ভারতের আয় (India)

    বর্তমানে পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি থেকে ভারতের বছরে প্রায় ৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রোজগার হয়। এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ রফতানি খাত। আগামী কয়েক বছরে এই রফতানি আয় প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়ে ৫৫ থেকে ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছতে পারে বলেই আশা। এই প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তি হল দেশের পরিশোধন পরিকাঠামো সম্প্রসারণ। দেশের বৃহত্তম তেল পরিশোধন ও বিপণন সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড হরিয়ানার পানিপথ, গুজরাতের ভদোদরা এবং বিহারের বরৌনি শোধনাগার সম্প্রসারণে ৭৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেছে। এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে বছরে অতিরিক্ত ১৭.৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন পরিশোধন ক্ষমতা যুক্ত হবে। ফলে দেশের মোট পরিশোধন ক্ষমতা বছরে হবে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রফতানির পরিমাণও আরও বাড়বে (Global Energy Leader)।

    ভারতে রয়েছে অত্যাধুনিক তেল শোধনাগার

    ভারত এখন অপরিশোধিত তেল নয়, বরং উচ্চমূল্যের বিভিন্ন পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি করছে। এর মধ্যে রয়েছে পেট্রোল, উচ্চগতির ডিজেল, বিমান জ্বালানি, সামুদ্রিক জ্বালানি, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস, ন্যাফথা, পেট্রোরসায়ন শিল্পের কাঁচামাল এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত পেট্রোলিয়াম পণ্য। অপরিশোধিত তেলকে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে পরিশোধিত জ্বালানিতে রূপান্তর করে ভারত (India) একদিকে যেমন রফতানি আয় বাড়িয়েছে, অন্যদিকে বিশ্বের বহু দেশের পরিবহণ, শিল্প, বিমান চলাচল ও জ্বালানি চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর তেল শোধনাগার ভারতের রয়েছে। এই শোধনাগারগুলিতে রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা নানা ধরনের অপরিশোধিত তেল শোধনের ক্ষমতা রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের প্রাপ্যতা ও দামের ভিত্তিতে উৎপাদন পরিকল্পনা বদলানো সম্ভব হয়, যা ভারতীয় সংস্থাগুলিকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখে।

    পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি বৃদ্ধি

    কম পরিচালন ব্যয়, দক্ষ শ্রমশক্তি, আধুনিক পরিকাঠামো এবং ভারত মহাসাগরীয় গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের কৌশলগত অবস্থানের কারণে ভারত ধীরে ধীরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিশোধন কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে (India)। বিশ্বজুড়ে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের সময় ভারতের এই সক্ষমতার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। যখন বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিয়েছিল, তখনও ভারতীয় শোধনাগারগুলি আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়মিত পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে (Global Energy Leader)। এর ফলে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি অংশীদার হিসেবে ভারতের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে। বিশ্ববাজারে পরিশোধিত জ্বালানির চাহিদা বজায় থাকায় আগামী দিনে ভারতের সম্প্রসারিত পরিশোধন নেটওয়ার্ক বিভিন্ন অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি বৃদ্ধি ভারতের অর্থনীতিতেও বহুমুখী ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়ছে, শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, উৎপাদনভিত্তিক শিল্প আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ক্রমেই হচ্ছে মজবুত। পাশাপাশি বাড়ছে জ্বালানি নিরাপত্তাও (India)।

    বাড়ছে বিনিয়োগও

    এছাড়া, বৃহৎ পরিসরে শোধনাগার সম্প্রসারণের ফলে পরিবহণ ব্যবস্থা, পেট্রোরসায়ন শিল্প, সংরক্ষণাগার, পাইপলাইন এবং বন্দর পরিকাঠামোয় নতুন বিনিয়োগ বাড়ছে। এর ইতিবাচক প্রভাব অর্থনীতির একাধিক ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি শিল্পোন্নয়নকে আরও গতি দিচ্ছে। ভারতের জ্বালানি খাতের গল্প এখন আর শুধুমাত্র অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীলতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পরিশোধন দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ভারত এখন মূল্য সংযোজন, রফতানি বৃদ্ধি এবং বিশ্ব পেট্রোলিয়াম বাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। পরিশোধন ক্ষমতা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন প্রতি বছরে পৌঁছনোর পথে, বিপুল বিনিয়োগ হচ্ছে এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানি প্রায় ২৫ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনার মধ্যে ভারত ধীরে ধীরে শুধুমাত্র অপরিশোধিত তেল আমদানিকারী দেশ থেকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য রপ্তানিকারী দেশে পরিণত হচ্ছে।

    এই পরিবর্তন শুধু শিল্পোন্নয়নের প্রতিফলন নয়, বরং বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে ভারতের ক্রমবর্ধমান অবস্থানেরও পরিচয় বহন করে। আগামী দিনে পরিশোধন ক্ষমতা ও রফতানি আরও বাড়লে (Global Energy Leader) বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ভারতের গুরুত্ব যে আরও বৃদ্ধি পাবে, তা বলাই বাহুল্য (India)।

     

  • POK: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে হত ৬, আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ দাবি

    POK: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে হত ৬, আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (POK) জ্বলল অশান্তির আগুন। রাওয়ালকোটে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের (Pakistan) নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের জেরে নিউ বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ। সংঘর্ষ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৬ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন জাহিদ মুঘল, জাফর মুঘল, আরসালান আকবর এবং ওয়াজিদ হায়াত। তাঁদের মধ্যে ওয়াজিদ রাওয়ালাকোটের মাতিয়াল মিরা বাস টার্মিনাল এলাকায় নিহত হন বলে খবর।

    ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তুঙ্গে (POK)

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। রক্তক্ষয়ী ঘটনার এক দিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের সামনে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যরা বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের দাবি, ওই অঞ্চলে মানবিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মহলের অবিলম্বে এ বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত।বিক্ষোভে প্রায় ১০০ জন অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে নারী, শিশু এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা ছিলেন। বিক্ষোভকারীরা পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানান। পাশাপাশি, নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অভিযোগে আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

    মানবিক সাহায্যের আবেদন

    বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ভারতের কাছে মানবিক সাহায্যের আবেদনও জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে ত্রাণ ও জরুরি সাহায্য পৌঁছে দিতে পুঞ্চ এবং ডোডা সীমান্ত দিয়ে নিয়ন্ত্রণরেখা খুলে দেওয়া হোক (POK)। এদিকে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা তীব্র অর্থনৈতিক সঙ্কটে রয়েছেন। ২০২৫ সালে ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় ৬৬ শতাংশ মানুষ কৃষি ও পশুপালনের ওপর নির্ভরশীল হলেও, ৫৭ শতাংশেরও বেশি পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রায় ২৯ শতাংশ মানুষ অপুষ্টির শিকার, যা পাকিস্তানের জাতীয় গড় ১৯.৯ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। পার্বত্য এলাকাগুলিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। সেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবারই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে।

    কী বলল ভারত?

    স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের ছবিও উদ্বেগজনক। পাকিস্তানের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত জাতীয় পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ বছরের কম বয়সি ৩৯ শতাংশ শিশু খর্বাকৃতির সমস্যায় ভুগছে। প্রতি এক লাখ জীবিত সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মৃত্যু হচ্ছে ১০৪ জন মায়ের। এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের তীব্র সমালোচনা করেছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। মঙ্গলবার মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে যে বিক্ষোভ চলছে, তা পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের পদ্ধতিগত শোষণ, মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চনা এবং বেআইনি ও জোরপূর্বক দখলে থাকা এলাকায় প্রশাসনিক নিপীড়নের প্রত্যক্ষ ফল।” তিনি এও বলেন, “স্থানীয় মানুষের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার পরিবর্তে পাকিস্তান চরম পুলিশি দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। নারী ও শিশুদের ওপরও অত্যাচার চালানো হয়েছে। খাদ্য ও ওষুধ-সহ প্রয়োজনীয় সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে, যার ফলে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে (POK)।” ভারতের দাবি, পাক (Pakistan) অধিকৃত কাশ্মীরে সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়নের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের কাছে জবাবদিহি করতে হবে পাকিস্তানকে।

     

  • India-UK FTA: ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর! সস্তা হবে স্কচ, চকোলেট, শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে ভারতীয় রফতানি

    India-UK FTA: ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর! সস্তা হবে স্কচ, চকোলেট, শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে ভারতীয় রফতানি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে স্বাক্ষরিত কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (CETA) বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হচ্ছে। এই ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে একদিকে যেমন ভারতে স্কচ হুইস্কি, জিন, চকোলেট, বিস্কুট, প্রসাধনী-সহ একাধিক ব্রিটিশ পণ্য ধাপে ধাপে সস্তা হবে, অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রায় ৯৯ শতাংশ ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হবে। ফলে ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য খুলে যাবে বিশাল বাজার। প্রায় এক বছর আগে, ২৪ জুলাই ২০২৫-এ স্বাক্ষরিত এই চুক্তি ১৪ দফা আলোচনার পর চূড়ান্ত হয়। মোট ৩০টি অধ্যায় নিয়ে তৈরি এই চুক্তিতে শুধু পণ্যের শুল্ক হ্রাস নয়, ডিজিটাল বাণিজ্য, টেলিকম, আর্থিক পরিষেবা, মেধাস্বত্ব, উদ্ভাবন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, টেকসই উন্নয়ন, সরকারি ক্রয় এবং স্বচ্ছতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    ভারতীয় রফতানিতে বড় সুবিধা

    এই চুক্তির ফলে ব্রিটেনে ভারতীয় পণ্যের প্রায় ৯৯ শতাংশ ট্যারিফ লাইনে শূন্য শুল্ক প্রযোজ্য হবে। এর ফলে বস্ত্র, চামড়াজাত পণ্য, জুতো, সামুদ্রিক খাদ্য, খেলনা, ক্রীড়াসামগ্রী, রত্ন ও গয়না শিল্প সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। পাশাপাশি ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, অটো পার্টস, ইঞ্জিন এবং জৈব রাসায়নিক রফতানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ব্রিটিশ পণ্য হবে আরও সস্তা

    ভারত ধাপে ধাপে ৯০ শতাংশ ট্যারিফ লাইনে শুল্ক কমাবে বা তুলে দেবে। এর মধ্যে ৮৫ শতাংশ পণ্য আগামী ১০ বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত হবে। সবচেয়ে বড় সুবিধা পাবে ব্রিটিশ স্কচ হুইস্কি ও জিন শিল্প। বর্তমানে স্কচের ওপর ১৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রথম ধাপে ৭৫ শতাংশে নামবে এবং আগামী ১০ বছরে তা ৪০ শতাংশে নেমে আসবে। এছাড়া নির্দিষ্ট কোটার আওতায় ব্রিটিশ গাড়ির ওপর বর্তমান ১১০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ধাপে ধাপে কমে ১০ শতাংশে পৌঁছাবে। বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রেও একইভাবে পর্যায়ক্রমে শুল্ক কমানো হবে। চকোলেট, মিষ্টি বিস্কুট, সফট ড্রিংকস এবং বিভিন্ন ব্রিটিশ খাদ্যপণ্যও এই চুক্তির ফলে তুলনামূলক সস্তা হবে।

    ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য বড় স্বস্তি

    চুক্তির পাশাপাশি ডাবল কন্ট্রিবিউশন কনভেনশন (DCC)-ও ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে। এর ফলে ব্রিটেনে অস্থায়ীভাবে কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীদের আর দুই দেশেই একসঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা (Social Security) বাবদ অর্থ জমা দিতে হবে না। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়ালের দাবি, এর ফলে ভারতীয় কর্মীরা তাঁদের বেতনের প্রায় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারবেন এবং সেই অর্থ ভারতের প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF)-এ জমা হয়ে সুদও পাবে।

    দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে নতুন গতি

    ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২৫.১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের ২৩.১৩ বিলিয়ন ডলার থেকে বেশি। তবে একই সময়ে ব্রিটেন থেকে ভারতের আমদানি ৩৬.১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১১.৬৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ফলে ভারতের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কমে ১.৭৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা আগের অর্থবর্ষে ছিল ৫.৯৭ বিলিয়ন ডলার।

    ২০৪০ সালের মধ্যে বাণিজ্যে বড় সাফল্যের আশা

    ব্রিটেন সরকারের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে ২০৪০ সালের মধ্যে দুই দেশের বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ২৫.৫ বিলিয়ন পাউন্ড বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে ভারতের বাজারে ব্রিটিশ রফতানি প্রায় ৬০ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে ভারতীয় রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

    কৃষিক্ষেত্রে ভারতের সুরক্ষা, বিস্তৃত সহযোগিতা

    ভারত এই চুক্তিতে দেশের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় দুগ্ধজাত পণ্য, আপেল, চিজ, চিনি, চাল, শূকরের মাংস, মুরগি ও ডিমের মতো সংবেদনশীল কৃষিপণ্যকে শুল্ক ছাড়ের বাইরে রেখেছে। ফলে দেশীয় কৃষি ও দুগ্ধ শিল্পের ওপর বিদেশি প্রতিযোগিতার চাপ বাড়বে না। এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে ডিজিটাল বাণিজ্য, গবেষণা ও উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, মেধাস্বত্ব, নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ, পেশাজীবীদের অস্থায়ী চলাচল এবং সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় সহযোগিতার মতো একাধিক নতুন ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে ইস্পাত রফতানির কোটা ব্যবস্থা এবং ২০২৭ সাল থেকে কার্যকর হতে চলা ব্রিটেনের কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম (CBAM) নিয়ে এখনও কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে ভারতীয় ইস্পাত রফতানিকারকদের এই নতুন নিয়মের দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে।

  • Sagar Beg Threat Case: সাগর বেগকে ‘খুনের হুমকি’, পাকিস্তান-ভিত্তিক ‘জঙ্গি-গ্যাংস্টার’ সিন্ডিকেটের পর্দাফাঁস! নেপথ্যে কে?

    Sagar Beg Threat Case: সাগর বেগকে ‘খুনের হুমকি’, পাকিস্তান-ভিত্তিক ‘জঙ্গি-গ্যাংস্টার’ সিন্ডিকেটের পর্দাফাঁস! নেপথ্যে কে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের হিন্দু নেতা সাগর বেগ (Sagar Beg)। এবার সেই হিন্দু নেতাকেই প্রকাশ্যে হুমকির অভিযোগের (Sagar Beg Threat Case) ঘটনায় চাঞ্চল্য। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (Intelligence Agencies) ও দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের তদন্তে উঠে এসেছে বিস্ফোরক তথ্য। এই হুমকির নেপথ্যে নাকি রয়েছে পাকিস্তানি কুখ্যাত “টেরর-ক্রাইম সিন্ডিকেট” (Terror-Gangster Syndicate)।

    কে এই হিন্দু নেতা?

    মহারাষ্ট্রের আহিল্যানগর (পূর্বতন আহমেদনগর) জেলার শ্রীরামপুর (Shrirampur) এলাকার বাসিন্দা সাগর বেগ (Sagar Beg)।২০২৪ সালের মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে শ্রীরামপুর আসন থেকে স্বতন্ত্র (Independent) প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। প্রায় ২১.৯৫% ভোটও পেয়েছিলেন সাগর বেগ (Sagar Beg)। তিনি মূলত হিন্দুত্ববাদী বিভিন্ন ইস্যুতে কড়া ও উগ্র বক্তব্য রাখার জন্য পরিচিত। সম্প্রতি শ্রীরামপুরের এই নেতার বাড়িতেই বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়া এবং তাঁকে খুনের জন্য গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির সিন্ডিকেট থেকে সরাসরি হুমকির অভিযোগ ওঠে।

    কী অভিযোগ সাগর বেগের?

    হিন্দু নেতার অভিযোগ,”পাকিস্তানের কুখ্যাত গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টি এবং আজমল গুজ্জর তাঁর এবং তাঁর ভাইয়ের উপর নজরদারি চালাচ্ছে। শুধু তাই নয়, তাঁদের বাড়ি পেট্রল বোমা বা আইইডি (IED) দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার জন্য ভারতের স্থানীয় অপরাধীদের মোটা অঙ্কের টাকা ও অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে”। বান্টি জাহাঙ্গীরদার হত্যাকাণ্ডেও তাঁর নাম জড়ানো নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছেন। সাগর বেগের আরও দাবি, তিনি একজন হিন্দুত্ববাদী নেতা হিসেবে সনাতন ধর্মের জন্য কাজ করেন এবং রাজনৈতিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন। তাই তাঁর বিরোধীরা পাকিস্তানের এই অপরাধী সিন্ডিকেটের সঙ্গে হাত মিলিয়ে খুনের মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি, মহারাষ্ট্র সরকারের কাছে ‘জেড প্লাস’ বা সর্বোচ্চ স্তরের কড়া নিরাপত্তা দাবি করেছেন সাগর বেগ (Sagar Beg)।

    পরিকল্পনা ‘টার্গেট কিলিং’!

    গোয়েন্দা সংস্থাগুলির প্রাথমিক ধারণা, ভারতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্যই এই ধরনের “টার্গেট কিলিং”-এর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। হুমকিদাতাদের সঙ্গে পাকিস্তানের কুখ্যাত অপরাধী ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অভ্যন্তরে নাশকতা চালানোর চেষ্টা করছে।

    সরকারের পদক্ষেপ

    এদিকে, সাগর বেগের উপর হামলার হুমকির (Sagar Beg Threat Case) বিষয়টি জানার পরই কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে মহারাষ্ট্র (Maharashtra) সরকার। তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জোরদার করা হয়েছে। সেরাজ্যের পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলো হুমকিদাতাদের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট, আইপি অ্যাড্রেস এবং যোগাযোগের উৎসগুলো চিহ্নিত করার জন্য প্রযুক্তিগত তদন্ত শুরু করেছে। মহারাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং সন্দেহভাজনদের গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

    হত্যা-হুমকির মূল ট্রিগার

    তদন্তকারী সংস্থাগুলোর মতে, সাগর বেগকে হত্যার এই প্রকাশ্য হুমকির নেপথ্যে রয়েছে শ্রীরামপুর এলাকার সাম্প্রতিক তীব্র রাজনৈতিক ও অপরাধমূলক শত্রুতা, যার ট্রিগার ছিল বান্টি জাহাঙ্গীরদার হত্যাকাণ্ড।

    কে এই বান্টি জাহাঙ্গীরদার? আসলাম সাব্বির শেখ ওরফে বান্টি জাহাঙ্গীরদার। ২০১২ সালের পুনে সিরিয়াল বম্ব ব্লাস্ট (Jangli Maharaj Road blasts) মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত। ২০২৩ সালে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে আহমেদনগরের শ্রীরামপুর এলাকায় ফিরে আসে এবং স্থানীয় রাজনীতিতে নিজের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করতে থাকে। ২০২৫-এর ৩১ ডিসেম্বর, দুই বাইক আরোহী শুটারের এলোপাথাড়ি গুলিতে খুন হয় আসলাম সাব্বির শেখ ওরফে বান্টি জাহাঙ্গীরদার। এই খুনের নেপথ্যে নাম জড়িয়েছিল সাগর বেগেরও। বান্টি জাহাঙ্গীরদারের এই খুনের পরই পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টি এবং আজমল গুজ্জরের সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। জাহাঙ্গীরদারের হত্যার “প্রতিশোধ” নিতেই এই পাকিস্তানি নেক্সাসটি প্রকাশ্যে সাগর বেগকে তাদের পরবর্তী টার্গেট হিসেবে ঘোষণা করেছে, বলেও মনে করা হচ্ছে।

    নেপথ্যে মাস্টারমাইন্ড শাহজাদ ভাট্টি!

    কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রটি প্রথাগত কোনও একক জঙ্গি সংগঠন নয়। এটি অপরাধ ও সন্ত্রাসের মেলবন্ধনে তৈরি একটি “হাইব্রিড মডেল”, যার মাস্টারমাইন্ড পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টি (Shahzad Bhatti)। সূত্রের খবর, শাহজাদ ভাট্টি ও তার সহযোগী আজমল গুজ্জর বর্তমানে পাকিস্তান অথবা বিদেশের কোনও নিরাপদ আস্তানা থেকে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে অপরাধ চক্র পরিচালনা করছে। সূত্রের খবর, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করে ভারতের বেকার বা লক্ষ্যচ্যুত যুবকদের টার্গেট করা হচ্ছে। ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা ও সুরক্ষায় ভাট্টি এই নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে।

    ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল

    সীমান্তপার থেকে পরিচালিত এই বিপজ্জনক নেক্সাসকে গুঁড়িয়ে দিতে এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বহুমুখী কৌশল গ্রহণ করেছে। এই হাইব্রিড থ্রেট মোকাবিলায় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA), গোয়েন্দা ব্যুরো (IB), রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (R&AW) এবং বিভিন্ন রাজ্যের স্পেশাল সেল বা এটিএস (ATS) এখন যৌথভাবে কাজ করছে। রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে যে কোনও চক্রান্ত শুরুতেই নসাৎ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান সীমান্ত দিয়ে ড্রোন অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (BSF) এখন অত্যাধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, জ্যামার এবং থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে। শাহজাদ ভাট্টির মতো গ্যাংস্টাররা যেহেতু ভারতের তরুণদের ফাঁদে ফেলতে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছে, তাই সাইবার উইংগুলো ডার্ক ওয়েব, সন্দেহভাজন ইনস্টাগ্রাম/টেলিগ্রাম গ্রুপগুলোর উপর কড়া নজর রাখছে। উস্কানিমূলক আইডিগুলো ব্লক করার পাশাপাশি এদের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ট্র্যাক করা হচ্ছে। বিদেশে বসে ভারতের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা গ্যাংস্টারদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকার কঠোর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। ইন্টারপোলের মাধ্যমে এই গ্যাংস্টারদের বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিশ (Red Corner Notice) জারি করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে এদের আর্থিক লেনদেন বন্ধ করার জন্য কাজ চলছে।

    ভারতের অটল অবস্থান

    ভারতের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নীতি এখন অত্যন্ত স্পষ্ট—”জিরো টলারেন্স” (Zero Tolerance)। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে বারবার স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, ভারতের অভ্যন্তরীণ শান্তি বিঘ্নিত করার কোনও অপচেষ্টাই বরদাস্ত করা হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সাগর বেগের মতো সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রশাসন যেকোনও চরম পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। পাকিস্তান-ভিত্তিক এই ধূর্ত ও হাইব্রিড নেটওয়ার্কের কোমর ভেঙে দিতে ভারতের এই সর্বাত্মক প্রতিরোধ যুদ্ধ আগামী দিনে আরও তীব্র হবে।

     

  • IB Officer Murder Verdict: অঙ্কিত শর্মা হত্যা মামলায় তাহির হুসেন দোষী সাব্যস্ত, কেজরিওয়ালকে তীব্র আক্রমণ বিজেপির

    IB Officer Murder Verdict: অঙ্কিত শর্মা হত্যা মামলায় তাহির হুসেন দোষী সাব্যস্ত, কেজরিওয়ালকে তীব্র আক্রমণ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অঙ্কিত শর্মা হত্যা (IB Officer Murder Verdict) মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন আম আদমি পার্টির প্রাক্তন কাউন্সিলর তাহির হুসেন। তারপর মঙ্গলবার আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে তীব্র আক্রমণ করলেন বিজেপির (BJP) জাতীয় মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া। তাঁর দাবি, তাহির হুসেনের পাশাপাশি এই ঘটনার সবচেয়ে বড় অপরাধী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কারণ তিনি হুসেনকে রাজনৈতিক সুরক্ষা দিয়েছিলেন।

    বিজেপি নেতার বক্তব্য (IB Officer Murder Verdict)

    সাংবাদিক বৈঠকে আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে গৌরব বলেন, “এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন তাহির হুসেন। ওই সময় তিনি আম আদমি পার্টির কাউন্সিলর ছিলেন এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। আজ তিনি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় খুন, ৩৬৫ ধারায় অপহরণ এবং ১৫৩এ ধারায় বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে জাভেদ, আনাস, নাজিম এবং কাসিমকেও শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তাহির হুসেনের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় অপরাধী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর নির্দেশেই এই ঘটনা ঘটেছিল এবং পরে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।” ভাটিয়ার দাবি, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও, দিল্লির সাম্প্রদায়িক হিংসায় নিহত প্রায় ৬০ জনের জন্য কিংবা অঙ্কিতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে কেজরিওয়াল একটি কথাও বলেননি।

    জনতাকে উসকে দেন তাহির

    আদালতের পর্যবেক্ষণের উল্লেখ করে বিজেপি মুখপাত্র বলেন, “আদালত জানিয়েছে, অঙ্কিত যখন নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনতার সামনে এসেছিলেন, তখন তাহির জনতাকে উসকে দেন। আদালত আরও বলেছে, অভিযুক্তরা একটি ষড়যন্ত্র ও অভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে হিন্দুদের হত্যা করতে চেয়েছিল এবং সেই কারণেই অঙ্কিত শর্মাকেও হত্যা করা হয়।” তাঁর প্রশ্ন, “কেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল তাহিরকে রাজনৈতিক সুরক্ষা দিয়েছিলেন? কেন তিনি অঙ্কিতের পরিবারের পাশে দাঁড়াননি?” আম আদমি পার্টির নেতা আমানতুল্লা খানের মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। ভাটিয়ার অভিযোগ, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণেই অভিযুক্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে আম আদমি পার্টি। তিনি জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী অঙ্কিতের দেহে ৫১টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর অভিযোগ, এত নৃশংস ঘটনার পরেও কেজরিওয়াল কখনও শর্মা পরিবারের পাশে দাঁড়াননি।

    আপ এবং কংগ্রেসকেও নিশানা

    কংগ্রেসকেও নিশানা করেন এই বিজেপি কর্তা। তাঁর অভিযোগ, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে ভুয়ো আতঙ্ক ছড়িয়ে কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিল। তিনি বলেন, “সংসদে আইন পাস হওয়ার পর সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী এমন পরিবেশ তৈরি করেছিলেন, যাতে মনে হয় মুসলিমদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে। আজ আমি জানতে চাই, কতজন ভারতীয় মুসলিম তাঁদের নাগরিকত্ব হারিয়েছেন? উত্তর একটিও নয়।” সোনিয়া গান্ধীর ‘শেষ পর্যন্ত লড়াই’ মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে (IB Officer Murder Verdict) ভাটিয়া বলেন, “যখন কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হচ্ছিল না, তখন এই লড়াই কীসের জন্য ছিল?” রাহুলকে নিশানা করে তিনি বলেন, “তিনি (রাহুল) দাঙ্গা কবলিত এলাকায় গিয়ে একটি মসজিদে গিয়েছিলেন, যদিও অঙ্কিতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেননি। এটি নিরাময়ের স্পর্শ নয়, বরং রক্তাক্ত করার স্পর্শ ছিল।”

    শেষে বিজেপির পক্ষ থেকে অরবিন্দ কেজরিওয়াল, সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীর কাছে দিল্লিবাসী ও দেশের মানুষের উদ্দেশে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি, সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে আমানতুল্লা খান এবং ইমরান মাসুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা (BJP) নেওয়ারও দাবি তোলেন ভাটিয়া। তিনি বলেন, “যে-ই যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, আইনের হাত থেকে রেহাই পাবেন না। দিল্লির সাম্প্রদায়িক হিংসার প্রত্যেক অপরাধীকেই আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে (IB Officer Murder Verdict)।”

     

  • India: লর্ডসে ইতিহাস গড়ে ইংল্যান্ডকে ২৭০ রানে উড়িয়ে দিল ভারত, শতরানে উজ্জ্বল যাস্তিকা

    India: লর্ডসে ইতিহাস গড়ে ইংল্যান্ডকে ২৭০ রানে উড়িয়ে দিল ভারত, শতরানে উজ্জ্বল যাস্তিকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লর্ডসের ১৪২ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার অনুষ্ঠিত হওয়া মহিলাদের টেস্ট ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখল ভারত (India)। ঐতিহাসিক এই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২৭০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে একতরফা জয় তুলে নিল হরমনপ্রীত কৌরের দল। ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই (Womens Test) ইংল্যান্ডকে ছাপিয়ে গিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল ভারতের প্রমীলা বাহিনী।

    টেস্ট ক্রিকেটে অটুট ভারতের দাপট (India)

    এই জয়ের ফলে মহিলাদের টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের সাম্প্রতিক দাপট আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। শেষ ১১টি টেস্টে ভারতের ঝুলিতে রয়েছে সাতটি জয়, তিনটি ড্র এবং মাত্র একটি হার। পাশাপাশি ইংল্যান্ডের মাটিতে খেলা ১১টি মহিলাদের টেস্টেও এখনও অপরাজিত ভারত।ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য ৪৫৭ রানের কঠিন লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছিল নরেন্দ্র মোদির দেশের ‘দুর্গা’রা। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিনের খেলায় মাত্র ১৮৬ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ফলে অনায়াসেই ২৭০ রানের জয় নিশ্চিত করে ভারত। ভারতের এই ঐতিহাসিক জয়ের ভিত গড়ে দেন যাস্তিকা ভাটিয়া। দ্বিতীয় ইনিংসে দুরন্ত শতরান করে তিনি লর্ডসে টেস্টে শতরান করা প্রথম মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান। তাঁর অনবদ্য ইনিংসের সুবাদে ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে সাত উইকেটে ৩৪১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। প্রথম ইনিংসে ১১৫ রানের লিড থাকায় ভারতের মোট লিড দাঁড়ায় ৪৫৬ রান। স্মৃতি মন্ধনা ৭০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। রিচা ঘোষ অপরাজিত ৫০ রান করে ইংল্যান্ডের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেন।

    ‘অপরাজিতা’…

    এর আগে প্রথম ইনিংসে ভারত ২৮৫ রান তোলে। স্মৃতি মন্ধনা ৮৩, অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর ৫৮ এবং দীপ্তি শর্মা ৫৭ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলেন। জবাবে ইংল্যান্ড মাত্র ১৭০ রানেই অলআউট হয়ে যায়। অভিষেক ম্যাচেই পেসার ক্রান্তি গাউড পাঁচ উইকেট নিয়ে ভারতের প্রথম ইনিংসের লিড নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা নেন (India)। ৪৫৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। ট্যামি বিউমন্ট শূন্য রানে প্রথম বলেই আউট হন। অভিজ্ঞ হেদার নাইটও অল্প রান করে ফিরে যান (Womens Test)। এরপর অ্যামি জোনস ও সোফি একলস্টোন কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। একলস্টোন ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও লড়াই করেন। তবে ভারতের বোলিং আক্রমণের সামনে সেই প্রতিরোধ টেকেনি। শেষ দিনে দীপ্তি শর্মা চার উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের ইনিংস গুটিয়ে দেন এবং ভারতের স্মরণীয় জয় নিশ্চিত করেন। এই জয়ের মাধ্যমে মহিলাদের টেস্ট ক্রিকেটে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত। যাস্তিকার ঐতিহাসিক শতরান এবং ক্রান্তির অভিষেকেই পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব যেমন ভারতের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি (Womens Test) হয়ে রইল, তেমনই অভিজ্ঞ হেদার নাইট ও ট্যামি বিউমন্টের বিদায়ী টেস্ট ইংল্যান্ডের কাছে (India) হতাশার স্মৃতি হয়ে রইল।

     

  • Ankit Sharma Murder Case: আই বি আধিকারিক অঙ্কিত শর্মা খুনের ঘটনায় দীর্ঘ ছয় বছর পর দোষী তাহির হুসেন

    Ankit Sharma Murder Case: আই বি আধিকারিক অঙ্কিত শর্মা খুনের ঘটনায় দীর্ঘ ছয় বছর পর দোষী তাহির হুসেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ছয় বছর পর মিলল বিচার। ২০২০ সালের উত্তর-পূর্ব দিল্লি দাঙ্গার সময় ইন্টিলিজেন্স ব্যুরোর আধিকারিক অঙ্কিত শর্মা হত্যাকাণ্ডে (Ankit Sharma Murder Case) প্রাক্তন আম আদমি পার্টি কাউন্সিলর তাহির হুসেন-সহ (Tahir Hussain) পাঁচজনকে দোষী সাব্যস্ত করল দিল্লির একটি আদালত। সোমবার করকরডুমা আদালত তাহির হুসেন, জাভেদ, আনাস, নাজিম এবং কাসিমকে হত্যাকাণ্ডে দোষী ঘোষণা করেছে। সোমবার রায়ে তাহিরের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানো, দাঙ্গায় অংশ নেওয়া, হামলা এবং খুনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিচারক। তবে এখনও শাস্তি ঘোষণা হয়নি প্রাক্তন আপ নেতার।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    অঙ্কিত শর্মা হত্যা মামলায় মোট ১১ জনের জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। এর মধ্যে ৬ জনকে বেকসুর খালাস করেছে আদালত। বিচারক জানিয়েছেন, ওই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ পেশ করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা। আর পাঁচ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। দোষীদের সাজা এখনও ঘোষণা করেনি আদালত। সাজা নির্ধারণ নিয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত। এর আগে দিল্লি হাইকোর্ট মামলার অভিযোগ ও নথিপত্র বিবেচনা করে তাহির হুসেনের জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল। ইতিমধ্যেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আবেদন করার কথা জানিয়েছেন তাহিরের আইনজীবী আবদুল গফফর।তাহিরকে দোষী সাব্যস্ত করার পরেই তাঁর মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দাবি জানিয়েছেন নিহত আইবি আধিকারিক অঙ্কিত শর্মার ভাই অঙ্কুর শর্মা।

    দিল্লি পুলিশের দাবি

    ঘটনায় দিল্লি পুলিশের কমিশনার সতীশ গোলছা বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরপেক্ষ তদন্তই অগ্রাধিকার ছিল। তদন্তকারী দল সমস্ত তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে আদালতে পেশ করেছে। আদালতের রায়ে সেই তদন্তেরই প্রতিফলন ঘটেছে।’ উল্লেখ্য, ২০২০-তে সিএএ বিরোধী আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল গোটা দিল্লি। রাজধানী জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল হিংসা। চলছিল দেদার লুটপাট, ভাঙচুর। সেই সময়ে খাজুরি খাস এলাকার একটি নর্দমা থেকে আইবি আধিকারিক অঙ্কিত শর্মার দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর শরীরে ৫১টি ছুরির আঘাত ছিল বলে অভিযোগ। এখানেই শেষ নয়। অভিযোগ, পরিচয় গোপন করতে মুখ এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে অ্যাসিড ঢেলে পুড়িয়ে দিয়েছিল দুষ্কৃতীরা।

  • Bangladesh: গ্রেফতার ৮১ ফুটের রাম মূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা, ‘বাছাইকৃত বিচার’- সরব হিন্দু সংগঠনগুলো

    Bangladesh: গ্রেফতার ৮১ ফুটের রাম মূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা, ‘বাছাইকৃত বিচার’- সরব হিন্দু সংগঠনগুলো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পটপরিবর্তনের আবহে ফের একবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার এবং বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠল। সম্প্রতি ৮১ ফুটের একটি শ্রীরাম মূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার (Haridas Chandra Arrest) করেছে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আর এই গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে একাধিক হিন্দু অধিকার রক্ষা সংগঠন। তাদের দাবি, দেশে সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে “বাছাইকৃত বিচার” (Selective Justice) চালানো হচ্ছে।

    ঘটনার প্রেক্ষাপট

    স্থানীয় সূত্র ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের গাইবান্ধায় বিশাল আকৃতির (৮১ ফুট) একটি রাম মূর্তি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। দাবি করা হচ্ছিল, এটি নির্মিত হলে তা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ এবং বিশ্বের অন্যতম উঁচু রাম মূর্তি হতো। এই উদ্যোগের পর থেকেই স্থানীয় কিছু গোষ্ঠী ও প্রশাসনের একাংশের পক্ষ থেকে আপত্তি তোলা হয়। মূর্তি নির্মাণের আইনি বৈধতা, জমির মালিকানা এবং ধর্মীয় অনুভূতির অজুহাত দেখিয়ে এই প্রকল্পের বিরোধিতা করা শুরু হয়। এই বিতর্কের জেরেই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার (Haridas Chandra Arrest) করে পুলিশ।

    পুলিশের দাবি

    পুলিশের দাবি, এই গ্রেপ্তারের সঙ্গে রাম মূর্তি বিতর্কের কোনও সম্পর্ক নেই, বরং এটি একটি সুনির্দিষ্ট আর্থিক অপরাধের মামলা।২০২০- ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তাঁর ৫টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং ৪টি মোবাইল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমা হয় এবং প্রায় সমপরিমাণ টাকা তুলেও নেওয়া হয়। কোনও বৈধ পেশা বা আয়ের উৎস ছাড়াই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। সিআইডির দাবি, হরিদাস এবং তাঁর সহযোগীরা অবৈধ ‘হুন্ডি’ ও হাওয়ালার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের একটি চক্র গড়ে তুলেছিল।

    হিন্দু সংগঠনগুলোর তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া

    পুলিশ বিষয়টিকে মানি লন্ডারিং হিসেবে দেখালেও, হিন্দু ধর্মীয় ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি ভিন্ন। তাদের অভিযোগ, মন্দিরের জন্য সংগৃহীত অনুদানকে অবৈধ প্রতিপন্ন করতে এবং ৮১ ফুটের রাম মূর্তি নির্মাণের উদ্যোগকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিতেই পুলিশ এই সাজানো মামলা এনেছে। হরিদাস চন্দ্রের গ্রেপ্তারের (Haridas Chandra Arrest) খবর সামনে আসতেই তীব্র নিন্দা বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক স্তরের বিভিন্ন হিন্দু অধিকার রক্ষা গোষ্ঠীর। সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে:

    “বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত সংখ্যালঘু হিন্দুদের ধর্মীয় উপাসনালয় ভাঙচুর, জমি দখল এবং উৎসব উদযাপনে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। সেই সমস্ত ঘটনায় দোষীরা পার পেয়ে গেলেও, একটি ধর্মীয় মূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় হরিদাস চন্দ্রকে যেভাবে দ্রুততার সাথে গ্রেপ্তার করা হলো, তা চরম বৈষম্যমূলক।”

    তাদের আরও অভিযোগ, অপরাধের বিচার সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। কিন্তু এখানে বেছে বেছে শুধু হিন্দুদের কণ্ঠরোধ করার জন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ দেখানো হচ্ছে। নিজের জমিতে বা নির্দিষ্ট নিয়মে ধর্মীয় প্রতীক বা মূর্তি নির্মাণ করা যেকোনও নাগরিকের মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। এই গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সেই স্বাধীনতাই খর্ব করা হয়েছে। এই ধরণের আইনি পদক্ষেপের ফলে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও বেশি মাত্রায় ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

    বাংলাদেশে (Bangladesh) ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বারবার সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে আসছে। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র এবং হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের মতো ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের ঘটনা সরকারের সেই আশ্বাসকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। অধিকারকর্মীরা দ্রুত হরিদাস চন্দ্রের নিঃশর্ত মুক্তি এবং এই ঘটনার পিছনে থাকা প্রকৃত উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

  • Israel: ইজরায়েলের গোপন পরিকল্পনায় ইরানের শীর্ষে মাহমুদ আহমাদিনেজাদ! বিস্ফোরক দাবি নিউ ইয়র্ক টাইমসের

    Israel: ইজরায়েলের গোপন পরিকল্পনায় ইরানের শীর্ষে মাহমুদ আহমাদিনেজাদ! বিস্ফোরক দাবি নিউ ইয়র্ক টাইমসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের গোয়েন্দা সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলেছিল ইজরায়েল (Israel)। ইরানে শাসন ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও, তাঁকেই দেশের নতুন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও ছকেছিল তেল আভিভ (ইজরায়েলের রাজধানী)। মার্কিন সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনেই এমনই দাবি করা হয়েছে (Ahmadinejad Intelligence Asset)।

    ইজরায়েলের ছক! (Israel)

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের প্রথম দিকেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। সেই সময় তেহরানে আহমাদিনেজাদের বাসভবন থেকে তাঁকে গোপনে সরিয়ে একটি নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন মোসাদের সদস্যরা। যদিও শেষ পর্যন্ত আহমাদিনেজাদ স্বয়ং ওই উদ্ধার অভিযানে অসন্তুষ্ট হয়ে পড়েছিলেন, এবং আস্থা হারিয়েছিলেন ইরানে শাসন ক্ষমতার পরিবর্তনের ইজরায়েলি পরিকল্পনার সাফল্যে। ফলে গোটা পরিকল্পনাটাই ভেস্তে গিয়েছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক একটি সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়ে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে গিয়েছিলেন আহমাদিনেজাদ। সম্মেলনটি ছিল আসলে ইজরায়েলি গোয়েন্দাদের সঙ্গে তাঁর গোপন বৈঠকের আড়াল। সেই সময় মোসাদের প্রধান ডেভিড বারনিয়া নিজেও বুদাপেস্টে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

    আহমাদিনেজাদ-রহস্য

    গত বছরের জুন মাসে আবারও বুদাপেস্ট সফরে গিয়েছিলেন আহমাদিনেজাদ। তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ইরানি রক্ষীরা পরে জানান, ওই সফরে অন্তত দু’বার তিনি তাঁদের নজর এড়িয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য গোপন বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। আহমাদিনেজাদ তাঁদের জানিয়েছিলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, তাঁর বিদেশ সফর এবং থাকা-খাওয়ার খরচও বহন করেছিল ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা (Israel)। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আহমাদিনেজাদের বাসভবন লক্ষ্য করে ইজরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। হামলায় তাঁর দেহরক্ষীদের থাকার ভবন এবং সাঁজোয়া গাড়ি ধ্বংস হয়। এর কিছুক্ষণ পর একটি কালো রঙের পিউজো গাড়ি সেখানে পৌঁছে তাঁকে সরিয়ে নিয়ে যায়। মার্কিন ও ইরানি কর্তাদের বক্তব্য দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন মোসাদের সদস্যরা।

    ভূখণ্ড দখলের ছক!

    এরপর তাঁকে একটি গোপন নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়। একই সময়ে ইরানের সরকার উৎখাতের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইরানি কুর্দি বিরোধী যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ভূখণ্ড দখল এবং পরে তেহরানের দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হয়নি। পরে কীভাবে আহমাদিনেজাদ নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে বেরিয়ে আসেন, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। এর কিছুদিন পরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্যের যাত্রায় খানিকক্ষণের জন্য প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল আহমাদিনেজাদকে। তিনি নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে ছিলেন, এবং কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। নিউ ইয়র্ক টাইমসের দাবি, ইরানের চার প্রবীণ আধিকারিক জানিয়েছেন, বর্তমানে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর গোয়েন্দা শাখার হেফাজতে রয়েছেন আহমাদিনেজাদ, তাঁকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঘনিষ্ঠদের কাছে আহমাদিনেজাদ (নাকি) জানিয়েছিলেন, বিদেশি সমর্থনে তিনি আবার ক্ষমতায় ফিরতে চান। শাসন পরিবর্তনের পর তিনি ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার পক্ষেও প্রস্তুত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে (Israel)। তবে এই সব অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত মোসাদ কিংবা আহমাদিনেজাদের মুখপাত্রের পক্ষ থেকে (Ahmadinejad Intelligence Asset) কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তাই জানা যায়নি, সত্যটা ঠিক কী।

     

  • Rath Yatra Weather Update: রথযাত্রায় দুর্যোগের ভ্রূকুটি! দক্ষিণবঙ্গে টানা ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, সমুদ্রযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা মৎস্যজীবীদের

    Rath Yatra Weather Update: রথযাত্রায় দুর্যোগের ভ্রূকুটি! দক্ষিণবঙ্গে টানা ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, সমুদ্রযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা মৎস্যজীবীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রথের মেলায় এবার সঙ্গী হতে চলেছে ছাতা আর রেনকোট! আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস তো তেমনটাই বলছে। আগামী ১৬ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে রথযাত্রা। এবার রথযাত্রার দিনসহ বৃষ্টিতে ভিজতে চলেছে বাংলা (Rath Yatra Weather Update)। কী বলছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর?

    হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস (Rath Yatra Weather Update)

    পবিত্র রথযাত্রার দিনসহ আগামী কয়েক দিন রাজ্যজুড়ে দফায় দফায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে বৃষ্টির দাপট বেশি থাকবে। একই সঙ্গে সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে হাওয়া অফিসের তরফে। কলকাতার আকাশ মেঘলা থাকবে এবং দফায় দফায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টি নামবে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

    রথের দিন বৃষ্টির দাপট আরও বাড়বে বলেই জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর (Heavy Rain Forecast)। হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। উৎসবের দিনেই দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, যা রথের আনন্দ কিছুটা মাটি করতে পারে বলেও আশঙ্কা। অন্যদিকে, সপ্তাহের শেষে বৃষ্টির দাপট মূলত পশ্চিমের জেলাগুলোতে বেশি থাকবে। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

    সপ্তাহান্তে উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টি!

    হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় সপ্তাহের মাঝে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কম থাকবে । বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও কোনও বিশেষ সতর্কতা বা অ্যালার্ট নেই। তবে শনিবার থেকে চিত্রটা বদলে যাবে। সপ্তাহান্তে ফের দুর্যোগ ফিরবে পাহাড়ে। আগামী রবিবার জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং দার্জিলিংয়ে অতি ভারী বৃষ্টির (Heavy Rain Forecast) লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তরের বাকি জেলাগুলিতেও বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

    মৎস্যজীবীদের জন্য লাল সতর্কতা

    সক্রিয় নিম্নচাপ অক্ষরেখা এবং ঘূর্ণাবর্তের জেরে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত সমুদ্র চরম উত্তাল থাকবে। এই সময়ে সমুদ্রের উপর ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। মৎস্যজীবীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত সমুদ্রে যাওয়ার উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।

    কেন এই অকাল দুর্যোগ?

    আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চল হয়ে মণিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশের উপর থাকা ঘূর্ণাবর্তটি আরও দক্ষিণে সরে এসে উত্তর বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থান করছে। বিহার থেকে মণিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত আরও একটি অক্ষরেখার কারণে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে। এই জোড়া ফলার প্রভাবেই রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে অঝোর ধারায় বৃষ্টির পরিস্থিতি।

    অন্যদিকে, আজ শহরের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি এবং ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছানোর কারণে বৃষ্টি না হলে ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তিও বজায় থাকবে।

LinkedIn
Share