তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল
ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের দাপট রয়েছে! কিন্তু তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে একাধিক ভাইরাস ঘটিত অসুখ। কলকাতায় বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু রোগের দাপট। ফলে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
সোয়াইন ফ্লু সহ স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে নানান রোগের দাপট বাড়ছে। অনেক সময়েই ভাইরাস চরিত্র বদল করছে। ফলে অবস্থা আরও জটিল হয়ে যাচ্ছে।
কী বলছে স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট?
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু রোগের প্রকোপ। কলকাতার একাধিক হাসপাতালে ১৯ জন সোয়াইন ফ্লু আক্রান্তের চিকিৎসা চলছে। আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসক মহল। তবে স্বাস্থ্য কর্তারা জানাচ্ছেন, আক্রান্তদের চিকিৎসা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। সোয়াইন ফ্লু আক্রান্ত হলেও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। রোগ যাতে আরও ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেদিকে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষত শিশুদের মধ্যে যাতে রোগের প্রকোপ না বাড়ে সেদিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কোন বিপদ নিয়ে উদ্বিগ্ন চিকিৎসকেরা?
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, গত পনেরো দিনে রাজ্য জুড়ে একাধিক ভাইরাস ঘটিত অসুখের দাপট উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বর্ষার মরশুমে ভাইরাসের দাপট বাড়ে। তার সঙ্গে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত অসুখের দাপট ও বাড়ে। তবে চলতি বছরে বাড়তি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ভাইরাসের চরিত্র বদল। মরশুমের চেনা ভাইরাস ঘটিত অসুখ হঠাৎ করেই জটিল হয়ে উঠছে। সংক্রমণের শক্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে ভোগান্তি আরও বাড়ছে। রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করতেই অনেকটা সময় চলে যাচ্ছে। যার জেরে শিশুদের ভোগান্তি বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার মতো সোয়াইন ফ্লু-তেও শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, আগাম সতর্ক না থাকলে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
স্কুল থেকেই কি সংক্রমণ বেশি ছড়াচ্ছে?
চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুদের মধ্যে সহজেই যেকোন ভাইরাস ঘটিত রোগের সংক্রমণ ঘটে। কারণ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ শক্তি প্রাপ্ত বয়স্কদের তুলনায় কম থাকে। ফলে, শিশুরা সহজেই আক্রান্ত হয়। শিশুদের স্কুল থেকেই রোগ সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি থাকে। এমনটাই মনে করছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, দিনভর পাশপাশি বসে থাকা, হাতে স্পর্শ, খাবার ভাগ করে নেওয়া হয়। অনেক সময়েই শিশুরা হাঁচি-কাশির সময়ে ঠিকমতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে না। আবার অনেক সময়েই খাবার খাওয়ার আগে বা পরে ঠিকমতো হাত ধোয়া হয় না। যার জেরেই আরও বেশি সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই স্কুল থেকে সহজেই শিশুরা ভাইরাস ঘটিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া কিংবা সোয়াইন ফ্লু-র মতো ভাইরাসের পাশপাশি মরশুমের নানান ভাইরাস ও সংক্রমণের ক্ষমতা বাড়াচ্ছে। নিজেদের চরিত্র বদল করছে। এর জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।
কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন?
জ্বর হলেই বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন!
চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, জ্বর হলেই বাড়তি সজাগ থাকতে হবে। কোনো রকম অবহেলা করা চলবে না। ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়া-সোয়াইন ফ্লু হোক কিংবা বর্ষার মরশুমের সাধারণ ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণ, প্রধান উপসর্গ হলো জ্বর। তাই রোগ নির্ণয়ের জন্য জ্বর হলেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি। নির্দিষ্ট শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই রোগ নির্ণয় সম্ভব হয়। তাই কেন জ্বর হয়েছে, সেটা জানা জরুরি।
পাশপাশি, বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মাথা ব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। কারণ, পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে। যেকোনো সময়েই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কাজ কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই শ্বাসকষ্ট হলে হাসপাতালে ভর্তি করা জরুরি।
আক্রান্তের থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকা!
পরিবারের কেউ জ্বর বা অন্য কোনো ভাইরাস ঘটিত রোগে আক্রান্ত হলে শিশুদের আলাদা থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। আবার শিশুদের শিশুদের শরীরে ঢুকে ভাইরাস চরিত্র বদল করতে পারে। তাই আক্রান্তের থেকে শিশুকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা জরুরি।
স্কুল যাওয়ার বিধি-নিষেধ!
শিশুর সর্দি-কাশি হলে স্কুলে না পাঠানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, যেকোনো ভাইরাসে আক্রান্ত শিশু স্কুল বা যেকোনো ভিড় জায়গায় গেলে, সংক্রমণ যেমন ছড়াবে, তেমনি আক্রান্ত শিশুর ও শারীরিক পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। ভাইরাস আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। ক্লান্তি বাড়তে পারে। ফলে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে।
ভিড় এড়িয়ে চলা!
যেকোনো ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণ থেকে বাঁচতে ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, পার্ক, মেলা বা এমন যেসব জায়গায় ভিড় হয়, সেখানে গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই কয়েক দিন সেই সব জায়গা এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।
মাস্ক পরা জরুরি!
বাইরে মাস্ক পরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, সোয়াইন ফ্লু সহ একাধিক ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে। তাই মাস্ক ব্যবহার জরুরি।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা!
খাবার খাওয়ার আগে ও পরে ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই মরশুমের একাধিক ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।









