Blog

  • RG Kar: আরজি করকাণ্ডে বদলে ফেলা হয়েছিল তিলোত্তমার সংরক্ষিত ভিসেরা নমুনা!

    RG Kar: আরজি করকাণ্ডে বদলে ফেলা হয়েছিল তিলোত্তমার সংরক্ষিত ভিসেরা নমুনা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের নয়া বিতর্ক তিলোত্তমা ধর্ষণ ও খুন মামলায়। রাজ্য ফরেনসিক পরীক্ষাগারে সংরক্ষিত ভিসেরা নমুনা ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট বা বদলে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে আরজি করকাণ্ডে (RG Kar) নির্যাতিতার পরিবার। প্রাক্তন এক ফরেনসিক আধিকারিকের পাঠানো চিঠির ভিত্তিতেই এই অভিযোগ (Rape Murder Case) প্রকাশ্যে এসেছে। পরিবারের দাবি, চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, রাজ্য ফরেনসিক বিভাগের তিন আধিকারিক গুরুত্বপূর্ণ নমুনা পরিবর্তন বা নষ্ট করার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এই ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

    বদলে ফেলা হয়েছিল ভিসেরা নমুনা! (RG Kar)

    পরিবারের বক্তব্য, কয়েক দিন আগে নির্যাতিতার বাবার নামে ওই চিঠি পৌঁছয়। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ময়নাতদন্তের সময় সংগ্রহ করা লিভার, কিডনি ও পাকস্থলীর ভিসেরা নমুনা পরে বদলে ফেলা হয়। সাধারণত মৃত্যুর আগে কোনও বিষাক্ত পদার্থ বা ঘুমের ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, তা জানতে এই নমুনাগুলি পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়। অভিযোগ, সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণই পরে বদলে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের আরও অভিযোগ, শুধু রাজ্য ফরেনসিক পরীক্ষাগারেই নয়, সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর সময়ও নমুনা বদল করা হয়েছে। তাই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। যদিও এই অভিযোগের সমর্থনে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি নথি বা স্বাধীন তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসেনি।

    সিবিআই তদন্তের দাবি

    এই পরিস্থিতিতে প্রাপ্ত চিঠিটি শিয়ালদহ আদালতে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তিলোত্তমার পরিবার। আদালতের কাছে তাদের আবেদন, অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে পৃথক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হোক। পরিবারের দাবি, “এত গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া প্রকৃত সত্য সামনে আসবে না এবং (RG Kar) বিচারপ্রক্রিয়াও প্রশ্নের মুখে পড়বে।” চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল সরকারের আমলে রাজনৈতিক হিংসায় নিহত বিজেপি এবং সিপিএম কর্মীদের একাধিক মামলায়ও ওই তিন ফরেনসিক কর্মী ভিসেরা নমুনা নষ্ট করেছিলেন। যদিও এই দাবির পক্ষেও এখনও পর্যন্ত কোনও প্রমাণ পেশ করা হয়নি। এদিকে, তিলোত্তমার পরিবারের করা অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীরা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুললেও, সংশ্লিষ্ট ফরেনসিক বিভাগ বা রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ (Rape Murder Case) বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এখন রাজ্যবাসী তাকিয়ে আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে (RG Kar)।

     

  • TMC Update: তৃণমূলে ‘আসল’ কারা? দলের নাম-প্রতীক ও তহবিল কার হাতে থাকবে? নির্বাচন কমিশনে ঋতব্রত শিবির

    TMC Update: তৃণমূলে ‘আসল’ কারা? দলের নাম-প্রতীক ও তহবিল কার হাতে থাকবে? নির্বাচন কমিশনে ঋতব্রত শিবির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC Update) অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবার পৌঁছল জাতীয় স্তরে। দলের প্রতীক ‘জোড়াফুল’ এবং দলীয় তহবিলের আসল মালিকানার দাবি নিয়ে বৃহস্পতিবার নতুন দিল্লিতে ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ECI) সদর দফতরে দেখা করল তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সহ কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠকে বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তারাই ‘আসল তৃণমূল’ এবং এই সংক্রান্ত সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র ইতিমধ্যেই কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ঋতব্রত ছাড়াও প্রতিনিধিদলে রয়েছেন, সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান, আখরুজ্জামান, অরূপ রায়, শুভাশিস দাস, গোলাম রব্বানি-সহ ১০ জন।

    ‘আমি’ নয়, এখানে সবাই ‘আমরা’

    গত ২২ জুন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ডাকা একটি বিশেষ অধিবেশনের পর থেকেই এই আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের সূত্রপাত। বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “গত ২২ জুন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর পরপরই আমরা লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানাই এবং কলকাতায় সশরীরে দেখা করি। আজ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনাররা আমাদের বক্তব্য অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে শুনেছেন। আমরা আমাদের যুক্তিগুলো তুলে ধরেছি এবং আশা করছি কমিশন খুব দ্রুত এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।” একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি কটাক্ষ করেন, “আমি কোনও দাবিতে যেতে চাই না। তবে ২৯১টি বিধানসভা কেন্দ্রেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছিল, তা সত্ত্বেও তৃণমূল হেরেছে। বাংলার জনমত স্পষ্টভাবেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে গিয়েছে। দলটা আসলে একটা পারিবারিক পার্টিতে পরিণত হয়েছিল। তবে আমাদের এখানে কেউ ‘আমি’ নয়, এখানে সবাই ‘আমরা’।”

    প্রতীক ও তহবিলের দখল নেওয়ার জন্য কমিশনের দরবারে

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৪ জনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের হাত ছেড়ে বেরিয়ে আসায় দলের অন্দরে সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি পরবর্তীতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে সমর্থন জানায় এবং একটি নতুন ৩০ সদস্যের জাতীয় কর্মসমিতি (NWC) ঘোষণা করে। নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের কাছে এই নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠনের বিষয়টিও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। দলীয় প্রতীক ও তহবিলের নিয়ন্ত্রণ ঘিরেই মূল লড়াই—এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের ধারণা, ঋতব্রতরা মূলত কালীঘাট শিবিরের হাত থেকে দলের প্রতীক এবং তহবিলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চাইছেন। বিশেষ করে তাঁদের নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ আখরুজ্জামানের হাতে দলীয় তহবিলের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার দাবিই কমিশনের কাছে জানানো হয়ে থাকতে পারে।

    তৃণমূল কংগ্রেস দলটি কার

    আসলে তৃণমূল কংগ্রেস দলটি কার, সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে। আর এমন পরিস্থিতিতেই ঋতব্রতর নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের ১০ জন বিধায়কের একটি প্রতিনিধি দল আজ নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঋতব্রত জানান, তাঁরা কমিশনকে দাবি করেছেন যে তাঁরাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস। দলের কেন্দ্রীয় কমিটি, সংসদীয় দল, বিধায়ক দল, জেলার স্তরের অধিকাংশ সংগঠন তাঁদের সঙ্গেই রয়েছে। তারপর তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা খুব শীঘ্রই আমাদের দাবি এবং জমা দেওয়া নথিপত্র খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে।’

    তৃণমূলের দ্বৈরথে এখন সংকটে নির্বাচন কমিশন

    হাত গুটিয়ে বসে নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও। ঋতব্রতরা যখন জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি তৈরির তোড়জোড় করছিলেন, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ আলাদা একটি নতুন কমিটির তালিকা তৈরি করে নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানে চেয়ারপার্সন হিসেবে নিজেই সই করেছেন নেত্রী। স্বাভাবিকভাবেই জোড়া কমিটির এই দ্বৈরথে এখন সংকটে নির্বাচন কমিশন। একই দলের সমান্তরাল দুটি দাবি জমা পড়ায় কমিশন শেষ পর্যন্ত কাকে ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে, আর কার হাতে উঠবে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল জল্পনা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দলের রাশ কার হাতে থাকবে সেই লড়াই আগামী দিনে নির্বাচন কমিশনের গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে।

    রাজনৈতিক গুরুত্ব

    ২১ জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশের আগে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, যদি নির্বাচন কমিশন দলীয় প্রতীক ও সংগঠনের প্রশ্নে কোনও পদক্ষেপ নেয়, তবে তা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।  সূত্রের খবর, ঋতব্রতপন্থীদের সঙ্গে কথা বলার পরে জাতীয় নির্বাচন কমিশন কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের প্রতিনিধিদেরও ডেকে পাঠিয়ে তাঁদের বক্তব্য জানতে চাইবে।

  • Modi Takaichi Meet: ঐতিহাসিক চুক্তি ভারত-জাপানের! এআই থেকে প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি, একসঙ্গে বড় বাজি মোদি-তাকাইচির

    Modi Takaichi Meet: ঐতিহাসিক চুক্তি ভারত-জাপানের! এআই থেকে প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি, একসঙ্গে বড় বাজি মোদি-তাকাইচির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সূর্যোদয়ের দেশের হাত ধরে ভারতে বিনিয়োগের নতুন সকাল! ভারত-জাপান সম্পর্ককে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। আগামী ১০ বছরে ভারতের জন্য ১০ লক্ষ কোটি ইয়েন বিনিয়োগ করতে সম্মত হল দুই দেশ।

    হাজার বছরের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক দুই দেশের

    বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৬তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি এবং উন্নত প্রযুক্তি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতার ঘোষণা করেছে দুই দেশ। ভারত সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মোদি বলেন, ভারত ও জাপানের সম্পর্কের ভিত্তি শুধু কৌশলগত নয়, দুই দেশের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গেও তা গভীরভাবে যুক্ত।

    এআই ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় বড় জোর

    এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্ষেত্রে সহযোগিতা। দুই দেশ যৌথ বিবৃতি প্রকাশের পাশাপাশি ভারত ও জাপানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এআই সংস্থার মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। মোদির কথায়, প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বই আগামী দিনে ভারত-জাপান সম্পর্কের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি হয়ে উঠবে। তাঁর দাবি, জাপানের নিখুঁত প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ভারতের সফটওয়্যার সক্ষমতার সমন্বয় বিশ্বব্যাপী এআই উন্নয়নে নতুন গতি আনবে।
    এছাড়াও সেমিকন্ডাক্টর, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা (Advanced Manufacturing) এবং পরবর্তী প্রজন্মের পরিবহণ প্রযুক্তি নিয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও স্থিতিশীল ও নিরাপদ করতেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

    প্রতিরক্ষায় নতুন অধ্যায়

    শীর্ষ বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাতেও বড় অগ্রগতি হয়েছে। ভারত ও জাপান প্রথমবারের মতো যৌথভাবে একটি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন প্রকল্পে হাত মিলিয়েছে। ‘নেভাল রেডিও অ্যান্টেনা ইউনিকর্ন’ (Naval Radio Antenna ‘Unicorn’) প্রকল্পের মাধ্যমে দুই দেশ যৌথভাবে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরি করবে। মোদির বক্তব্য, এই প্রকল্প শুধু দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককেই নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে না, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

    স্বাস্থ্য ও বায়োটেক ক্ষেত্রেও জোর

    ওষুধ শিল্প, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং বায়োটেকনোলজি ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির মতে, ভারতের উৎপাদন ক্ষমতা এবং জাপানের উচ্চমানের প্রযুক্তির সমন্বয়ে বিশ্বের জন্য আরও সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা তৈরি করা সম্ভব হবে।

    বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে দুই দেশ

    অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার লক্ষ্যও স্পষ্ট করেছে ভারত ও জাপান। আগামী এক দশকে ভারতে ১০ ট্রিলিয়ন (১০ লক্ষ কোটি) ইয়েন বিনিয়োগের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেছে দুই দেশ। পাশাপাশি ভারতে জাপানি সংস্থার সংখ্যা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। মোদি জানান, গত এক বছরে ভারত ও জাপানের মধ্যে প্রায় ১২০টি নতুন ব্যবসায়িক চুক্তি হয়েছে, যার মাধ্যমে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি জাপানি বিনিয়োগ ভারতে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন উদ্যোগ

    দুই দেশ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সহযোগিতার একটি নতুন রোডম্যাপ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি ‘ইন্ডিয়া-জাপান বায়োগ্যাস ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এক হাজার বায়োগ্যাস ও জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এই উদ্যোগ দেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি এবং জ্বালানি নিরাপত্তাকেও নতুন গতি দেবে বলে মনে করছে দুই দেশ।

    ইন্দো-প্যাসিফিকে যৌথ কৌশল

    শীর্ষ বৈঠকের শেষে নরেন্দ্র মোদি বলেন, বর্তমানে ভারত ও জাপান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি। তাই একটি মুক্ত, সমৃদ্ধ ও নিয়মভিত্তিক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলাই দুই দেশের যৌথ অগ্রাধিকার। তাঁর কথায়, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক ও বাজারভিত্তিক অর্থনীতির মধ্যে অন্যতম ভারত ও জাপান। এদিন ঘোষিত বিভিন্ন উদ্যোগ শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেই শক্তিশালী করবে না, বরং গোটা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের নতুন পথ তৈরি করবে। একসময় যে ভারত-জাপান সম্পর্ক মূলত অবকাঠামো উন্নয়ন ও উন্নয়ন সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক কৌশলগত সহযোগিতার বিস্তৃত অংশীদারিত্বে পরিণত হয়েছে। এবারের শীর্ষ বৈঠকের একাধিক চুক্তি সেই পরিবর্তনেরই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিল।

  • Whatsapp Username: মেটা-কে নোটিস কেন্দ্রের! ভারতে এখনই চালু করা যাবে না হোয়াটসঅ্যাপ-এর ইউজারনেম ফিচার

    Whatsapp Username: মেটা-কে নোটিস কেন্দ্রের! ভারতে এখনই চালু করা যাবে না হোয়াটসঅ্যাপ-এর ইউজারনেম ফিচার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হোয়াটসঅ্যাপ-এ ইউজারনেম (Whatsapp Username) ফিচার এখনই ভারতে চালু করা যাবে না৷ এই মর্মে মেটা-কে নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় সরকার৷ হোয়াটসঅ্যাপ-এ নতুন ইউজারনেম ফিচার চালু করার কথা জানিয়েছিল মেটা৷ ভারতেও এই ফিচার চালু হওয়ার কথা ছিল৷ সূত্রের খবর, হোয়াটসঅ্যাপ-এর এই নতুন ফিচারের কথা সামনে আসতেই কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে মেটা-কে বিষয়টি নিয়ে নোটিস দেওয়া হয়েছে৷ সরকারের সাথে আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি চালু না করার জন্য মেটাকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে, আগামী ৩ দিনের মধ্যে এই ফিচারের যাবতীয় খুঁটিনাটি ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার জন্য মেটাকে নোটিশ পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

    কেন এই নির্দেশ

    সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই ফিচারটির সুবিধা নিয়ে অপরাধীরা সহজেই ছদ্মবেশ ধারণ করতে পারে। এর ফলে অনলাইন জালিয়াতি, ফিশিং এবং বিপজ্জনক ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’এর মতো কেলেঙ্কারি মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া, বিভিন্ন সরকারি অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা নামী ব্যক্তিত্বের আসল ইউজারনেমের নকল তৈরি করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা এবং পরিচয় জালিয়াতি করা আরও সহজ হয়ে উঠবে। কেন্দ্রীয় সরকারের আশঙ্কা, হোয়াটসঅ্যাপ-এর ব্যবহার নম্বরের বদলে ইউজারনেম ভিত্তিক হয়ে গেলে টেলিগ্রাম অ্যাপ ঘিরে যে ধরনের নিরাপত্তার ফাঁক বা ঝুঁকির অভিযোগ উঠেছিল, সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে৷ ইউজারনেম ফিচার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য কেন্দ্রীয় সরকারকে তিন দিনের মধ্যে জানানোর জন্যও মেটা-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ভারতে হোয়াটসঅ্যাপ-এ ইউজারনেম ফিচার চালু না করার জন্যও মেটা-কে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র৷

    হোয়াটসঅ্যাপ-এ ইউজারনেম ফিচার

    ২০২৬ সালের ২৯শে জুন প্রকাশ্যে আসা এই ফিচারের মূল আকর্ষণ হলো, এবার থেকে নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর গোপন রেখেই শুধু একটি স্বতন্ত্র ‘ইউজারনেম’ ব্যবহার করে চ্যাট করা যাবে। ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দমতো ইউজারনেম বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ইউজারনেম ফিচার চালু হলে ফোন নম্বরের গোপনীয়তা রক্ষা হবে বলেও দাবি করেছিল মেটা৷ এতদিন ফোন নম্বরের উপর নির্ভর করেই হোয়াটসঅ্যাপে একজনের সঙ্গে অন্যজন ব্যবহারকারী যোগাযোগ করতে পারতেন৷ হোয়াটসঅ্যাপে যে কোনও ব্যবহারকারী যে কারও মোবাইল নম্বর দেখতে পারতেন৷ কিন্তু ইউজারনেম ফিচার চালু হলে আর সেই সুযোগ থাকবে না৷ একজন ব্যবহারকারী চাইলে তবেই অন্য আর একজন ব্যবহারকারীর সঙ্গে নিজের মোবাইল নম্বর শেয়ার করতে পারবেন৷ নতুন নিয়মে একজন ব্যবহারকারী একটি ইউনিক ইউজারনেম বেছে নিতে পারবেন৷ সেই ইউজারনেম দিয়েই অন্যরা হোয়াটসঅ্যাপ-এ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন৷ ইউজারনেম-এর দৈর্ঘ্য ৩ থেকে ৩৫ ক্যারেক্টার-এর মধ্যে হতে হবে৷ যা প্রথম দেখায় দারুণ মনে হলেও এর আড়ালে লুকিয়ে থাকা বড়সড় নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়েই তৈরি হয়েছে মূল বিতর্ক।

     

     

     

     

  • Russia: রাশিয়ায় জ্বালানি সঙ্কট চরমে, ভারত থেকে পেট্রোল কিনছে পুতিনের দেশ, কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

    Russia: রাশিয়ায় জ্বালানি সঙ্কট চরমে, ভারত থেকে পেট্রোল কিনছে পুতিনের দেশ, কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় বিপর্যস্ত রাশিয়া (Russia)। ভ্লাদিমির পুতিনের দেশের তেল শোধনাগারগুলির উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রাশিয়ায় দেখা দিয়েছে জ্বালানি সঙ্কট। এই সমস্যা থেকে (Gasoline Supplies) বেরতে ভারত থেকে পেট্রোল আমদানি শুরু করেছে মস্কো। একসময় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানিকারী দেশ হিসেবে পরিচিত রাশিয়াকে এখন অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শিল্প সূত্রে খবর, সমুদ্রপথে ভারতের পাঠানো পেট্রোলের চালান ইতিমধ্যেই রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করছে, তেমনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামোর ওপর চাপও স্পষ্ট করে দিয়েছে।

    ইউক্রেনের ড্রোন হামলার জের (Russia)

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত থেকে রাশিয়ার পেট্রোল আমদানির প্রধান কারণ হল ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় একের পর এক তেল শোধনাগারের ক্ষতি। গত কয়েক মাসে ইউক্রেন রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। ফলে একাধিক রিফাইনারির উৎপাদন কমে গিয়েছে। প্রত্যাশিতভাবেই সঙ্কট দেখা দিয়েছে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি সরবরাহে। এই পরিস্থিতির জেরে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে পেট্রোলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বহু জায়গায় পেট্রোল পাম্পে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। জোগানের তুলনায় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতির সূত্র মেনে বেড়ে গিয়েছে জ্বালানির দাম। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু এলাকায় রেশনিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে। দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের ওপর চাপও দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে (Gasoline Supplies)। হঠাৎ করে সৃষ্টি হওয়া এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় ভারত ছাড়াও প্রতিবেশী বেলারুশ থেকে জ্বালানি জোগাড়ের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে মস্কো।

    ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধন কেন্দ্র

    গত এক দশকে ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধন কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দেশের আধুনিক রিফাইনারিগুলিতে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে কেনা বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেলও রয়েছে। সেই তেল পরিশোধনের পর তৈরি হওয়া পেট্রোলিয়াম পণ্যই এখন আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি রাশিয়াতেও (Russia) রফতানি হচ্ছে। অর্থাৎ, রাশিয়া থেকে কেনা অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে ফের সেই দেশেই পেট্রোল হিসেবে পাঠাচ্ছে ভারত। শিল্পমহলের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই অন্তত ৬০ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল ভারতের বন্দর থেকে রাশিয়ার উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। একাধিক ট্যাঙ্কার বর্তমানে রাশিয়ার বন্দরের পথে রয়েছে। এও জানা গিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে কয়েক লাখ টন করে পেট্রোল আমদানির পরিকল্পনাও করছে রাশিয়া।

    ইউক্রেনের সামরিক কৌশল

    সম্প্রতি, ইউক্রেন তাদের সামরিক কৌশলে বড়সড় (Gasoline Supplies) পরিবর্তন এনেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি সংঘর্ষের পাশাপাশি রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামোকে টার্গেট করে হামলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সে দেশের তেল শোধনাগার, জ্বালানি সংরক্ষণ কেন্দ্র, ফুয়েল ডিপো এবং পরিবহণ নেটওয়ার্কে ধারাবাহিক ড্রোন হামলার লক্ষ্য রাশিয়ার (Russia) সামরিক ও অসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করা। এরই প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদনে। যার জেরে পুতিনের দেশে দেখা গিয়েছে ঘোরতর তেল সঙ্কট। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনও স্বীকার করেছেন, ড্রোন হামলার ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে। যদিও সরকারের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে,  এবং চেষ্টা চলছে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার।

    রাশিয়ার পেট্রোল আমদানির প্রভাব

    বিশ্লেষকদের মতে, ভারত থেকে রাশিয়ার এই পেট্রোল আমদানির প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। ভারতীয় পরিশোধিত জ্বালানির রফতানির চাহিদা বাড়তে পারে, ভারত-রাশিয়া সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বিশ্বব্যাপী পেট্রোল বাণিজ্যের রুটেও আসতে পারে বড়সড় পরিবর্তন। ভবিষ্যতে রাশিয়ার শোধন ক্ষমতা আরও কমে গেলে আঞ্চলিক জ্বালানির দামেও তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়তে পারে আগের চেয়ে আরও অনেক বেশি।

    জ্বালানি সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ভারত ও রাশিয়ার (Russia) মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ছাড় মূল্যে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড আমদানিতে ভারত বর্তমানে রাশিয়ার অন্যতম বড় ক্রেতা। এবার সেই সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেল, কারণ এবার পাল্টা পরিশোধিত পেট্রোল ভারত থেকে রফতানি হচ্ছে রাশিয়ায়। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও কীভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে, এই ঘটনা তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

    বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

    বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী দিনে এই আমদানির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে ইউক্রেনের হামলার তীব্রতা এবং রাশিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত রিফাইনারিগুলি কত দ্রুত মেরামত করা যায়, তার ওপর। যদি হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে রাশিয়াকে আরও দীর্ঘ সময় ভারত-সহ অন্যান্য দেশের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে পরিশোধিত জ্বালানি পেতে। অন্যদিকে, শোধনাগারগুলির উৎপাদন স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে আমদানি কমে আসতে পারে। তবে আপাতত জ্বালানি সঙ্কটের মোকাবিলায় ভারতের ভূমিকা রাশিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের (Gasoline Supplies)। উল্লেখ্য, রাশিয়ার ১১টি টাইম জোনজুড়েই জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সেই কারণেই চালু করতে হয়েছে রেশনিং ব্যবস্থা, ফিলিং স্টেশনগুলিতে দীর্ঘ গাড়ির সারি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় চড়া দরে বিকোচ্ছে গ্যাসোলিন। ক্রেমলিন (Russia) জানিয়েছে, রাশিয়া অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, এবং গ্রহণযোগ্য মূল্যে জ্বালানি আমদানি নিয়েও আলোচনা করছে।

     

  • Ex TMC MLA: ক্যানিংয়ে সরকারি জমি দখল করে ক্যাফে, তৃণমূলের ইমরান মোল্লার ‘ব্যবসা কেন্দ্রে’ বুলডোজার অভিযান

    Ex TMC MLA: ক্যানিংয়ে সরকারি জমি দখল করে ক্যাফে, তৃণমূলের ইমরান মোল্লার ‘ব্যবসা কেন্দ্রে’ বুলডোজার অভিযান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ের মৌখালিতে সরকারি জমি দখল করে তৈরি হয়েছিল ক্যাফে। এই অভিযোগে ক্যাফে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন (Matla River Encroachment)। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বুলডোজার দিয়ে ‘অরণ্যের কূলে’ নামের ওই ক্যাফের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়। ক্যাফেটির মালিকানা রয়েছে তৃণমূল নেতা তথা ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার ছেলে ইমরান মোল্লার নামে (Ex TMC MLA)।

    গড়াগড়ি খাচ্ছে ইমরানের সাধের ক্যাফে (Ex TMC MLA)

    প্রশাসন সূত্রে খবর, মৌখালি সেতুর কাছাকাছি মাতলা নদীর চর এবং সেচ দফতরের জমির ওপর অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল ক্যাফেটি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট দফতর বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নেয়। তারপরেই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে জারি করা হয় নোটিশ। শেষমেশ ভেঙে দুরমুশ করে দেওয়া সরকারি জমি দখল করে গড়ে তোলা ব্যবসার কেন্দ্র। জানা গিয়েছে, তদন্ত চলাকালীন ইমরানকে ক্যাফের বৈধ নথিপত্র জমা দেওয়ার জন্য মহকুমাশাসকের দফতরে ডাকা হয়েছিল। প্রশাসনের দাবি, জমা পড়া নথি যাচাই করে দেখা যায়, ক্যাফে নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনের কোনও বৈধ প্রমাণ মেলেনি। সরকারি জমি দখলের অভিযোগও প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়। এরপরই জারি করা হয় ক্যাফে ভাঙার নির্দেশ।

    বুলডোজার অভিযান

    ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় এনআইএর হাতে শওকত গ্রেফতার হওয়ার পর তদন্তের সূত্র ধরেই এই ক্যাফে নিয়ে নতুন করে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই জমির নথি ও নির্মাণের বৈধতা খতিয়ে দেখা হয় (Ex TMC MLA)। অভিযান চলাকালীন এলাকায় যাতে অপ্রীতিকর কোনও পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, তাই ব্যবস্থা করা হয়েছে কড়া নিরাপত্তার। বুলডোজার অভিযান চলাকালীন সময়ে ঘটনাস্থলে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলেন ক্যানিং মহকুমা পুলিশের আধিকারিক, জীবনতলা থানার কর্তারা এবং প্রশাসনের অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিক। মোতায়েন করা হয়েছে রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রচুর জওয়ানকে।

    অবৈধ জমির ওপর কারবার!

    ক্যাফে ভাঙার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমিতে ব্যবসা চললেও, এতদিন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই সময় যত গড়িয়েছে, ততই ফুলে ফেঁপে উঠেছে অবৈধ জমির ওপর গড়ে তোলা কারবার। প্রশাসনের দাবি, জমি দখল ও বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই আইন অনুযায়ী এই (Matla River Encroachment) পদক্ষেপ করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ক্যাফে ভাঙার কাজ শেষ হওয়ার পর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়াও (Ex TMC MLA)।

  • FIFA World Cup 2026: টিকে রইল বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড! মেক্সিকো ও কানাডার পর বিশ্বকাপের তৃতীয় আয়োজক দেশ আমেরিকাও প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে

    FIFA World Cup 2026: টিকে রইল বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড! মেক্সিকো ও কানাডার পর বিশ্বকাপের তৃতীয় আয়োজক দেশ আমেরিকাও প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জেতা ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) থেকে বিদায় নিল সেনেগাল। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত বেলজিয়ামকে দাঁড়াতে দেয়নি তারা। কিন্তু তার পরেই হঠাৎ তিন মিনিটের ঝড়ে ০-২ থেকে ২-২ করল বেলজিয়াম। খেলা গড়াল অতিরিক্ত সময়ে। যখন দেখে মনে হচ্ছে খেলা টাইব্রেকারে যাবে তখনই নাটক। শেষ মিনিটে পেনাল্টি পেল বেলজিয়াম। ঠান্ডা মাথায় গোল করলেন অধিনায়ক ইউরি টিয়েলেম্যানস। ৩-২ গোলে সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম। অন্য ম্যাচে হ্যারি কেনের জোড়া গোলে বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছল ইংল্যান্ড। লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠে দাপট দেখাল আমেরিকাও। গোটা ম্যাচ জুড়ে বসনিয়া ও হারজেগোভিনা তাদের তাড়া করে গেল। এমনকি, ১০ জন হয়ে যাওয়ার পরেও আমেরিকাকে হারাতে পারল না তারা। বসনিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ। মেক্সিকো ও কানাডার পর বিশ্বকাপের তৃতীয় আয়োজক দেশও উঠল প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে।

    মন জিতলেও স্বপ্নভঙ্গ সেনেগালের

    সাইডলাইনের পাশে বসে থাকা সাদিয়ো মানেকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না আর বিশ্বকাপে নেই তাঁর দেশ। হয়তো শেষ বারের মতো তিনিও বিশ্বকাপ খেলে ফেললেন। বিশ্বাস হচ্ছিল না সিয়াটলের স্টেডিয়ামের ৬৬ হাজার দর্শকের অর্ধেকের। যাঁদের গায়ে ছিল সবুজ জার্সি। হাতে সিংহ। আফ্রিকার এই দেশের ফুটবল দলকে বলা হয় ‘দ্য লায়ন্স’। সেই সিংহ হুঙ্কার দিলেও শিকার করতে পারল না। ৮৫ মিনিটের আগে সেনেগালের সমর্থকদের অনেকেই শেষ ষোলোর ম্যাচের টিকিট কাটতেও হয়তো শুরু করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার দেশে ফেরার বিমানের টিকিট কাটতে হবে তাঁদের। প্রথম ৮৫ মিনিট বোঝা যায়নি সেনেগালের প্রতিপক্ষ দলের নাম বেলজিয়াম। যে দলটা কয়েক বছর আগেও ফিফা ক্রমতালিকায় এক নম্বরে ছিল। অবশ্য দলটার সোনালি প্রজন্ম প্রায় শেষের পথে। দেখে মনে হচ্ছিল, কেভিন দ্য ব্রুইন, থিবো কুর্তোয়ারা শেষ ম্যাচ খেলে ফেললেন। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজা না পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে হালকা নিতে নেই। সেই ভুলটাই করল সেনেগাল। ৮৬ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে ট্রসার্ডের ক্রস পায়ের টোকায় জালে জড়িয়ে দেন লুকাকু। প্রথম পোস্টেই ছিলেন গোলরক্ষক দিয়াও। গোটা ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছেন তিনি। কিন্তু সেই শট বাঁচাতে পারলেন না। ৮৯ মিনিটের মাথায় আবার ট্রসার্ডের ক্রস। এ বার বেরিয়ে পাঞ্চ করার চেষ্টা করেন দিয়াও। কিন্তু তিনি হাত লাগানোর আগেই হেড করেন টিয়েলেম্যানস। বল গোলে ঢোকে। দু’টি গোলের ক্ষেত্রেই সেনেগালের রক্ষণ দায়ী। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষে আরও একটি ভুল করল সেনেগালের রক্ষণ। বল বার করতে গিয়ে টিয়েলেম্যানসকে ফাউল করেন কামারা। ভার রিপ্লে দেখে পেনাল্টি দেন রেফারি। সকলে ভেবেছিলেন লুকাকু শট মারবেন। কিন্তু দায়িত্ব নেন অধিনায়ক। ঠান্ডা মাথায় গোল করে বেলজিয়ামকে পরের রাউন্ডে তোলেন তিনি।

    ভালো খেলেও ইংল্যান্ডের কাছে হার কঙ্গোর

    ফুটবল বিশ্বের সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত হয়ে থাকতে পারে এ বারের বিশ্বকাপ। বুধবারের ইংল্যান্ড-ডিআর কঙ্গো ম্যাচ সেই পরিবর্তনের উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে। ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়নদের বাড়তি সমীহ করেনি প্রথম বার বিশ্বকাপ খেলতে আসা কঙ্গো। বরং আগ্রাসী ফুটবল খেলছে। প্রতিযোগিতার অন্যতম সেরা ডিফেন্সকে ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করেছে। আফ্রিকার দেশের রক্ষণও পাল্লা দিয়ে লড়াই করেছে। গোলরক্ষক লিয়োনেল এমপাসি দুরন্ত খেললেন। বেশ কয়েকটা ভাল সেভ করলেন। কঙ্গোর রক্ষণের প্রাচীর ভাঙতে হিমশিম খেলেন জুড বেলিংহ্যাম, মার্কাসরা। ম্যাচের ৭ মিনিটে ব্রায়ান সিপেনগার দুরন্ত গোলে এগিয়ে যায় কঙ্গো। বক্সের মধ্যে অরক্ষিত অবস্থায় বল পান সিপেনগা। তাঁর ডান পায়ের শক্তিশালী শট আটকাতে পারেননি জর্ডন পিকফোর্ড। পিছিয়ে পড়ার পর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইংল্যান্ড। ৪ মিনিট পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে আটকে রেখেছিল কঙ্গো। সমতা ফেরান সেই কেন। ৭৫ মিনিটে বক্সের মধ্যে অ্যান্টনি গর্ডনের ভাসিয়ে দেওয়া বলে হেড দিয়ে গোল করেন কেন। এমপাসি চেষ্ট করেও আটকাতে পারেননি। কেনই ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন ৮৬ মিনিটে। সেই গর্ডনের পাস থেকেই বক্সের মধ্যে বল পান ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ডান পায়ের জোরাল শটে পরাস্ত করেন কঙ্গোর গোলরক্ষককে।

    শেষ ষোলোয় আয়োজক আমেরিকা

    মেক্সিকো ও কানাডার পর বিশ্বকাপের তৃতীয় আয়োজক দেশ আমেরিকাও পৌঁছল শেষ ষোলোয়। ১০ জনের আমেরিকাকেও হারাতে পারল না বসনিয়া ও হার্জ়েগোভিনা। লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠে বিপুল জনসমর্থন নিয়েই প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালের ছাড়পত্র আদায় করে নিল আমেরিকা। ২০০২-এর পর আবার বিশ্বকাপের নক-আউটে এগোল তারা। প্রথম থেকেই আক্রমণে যাচ্ছিল আমেরিকা। টিলমানের ক্রস ধরে গোল করেও ফেলেছিলেন বালোগুন। কিন্তু অফসাইডের জন্য তা বাতিল হয়। প্রথমার্ধের একেবারে শেষে বসনিয়ার রক্ষণের ভুলে বল পেয়ে গোল করেন বালোগুন। তবে দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই, ৬৪ মিনিটে সেই বালোগুনই লাল কার্ড দেখেন। বিশ্বকাপের নক-আউটে গোল ও লাল কার্ড, এর আগে শুধু ছিল জিনেদিন জিদানের। ২০০৬-এর সালের ফাইনালে ইটালির বিরুদ্ধে। বালোগুন উঠে যাওয়ার পর থেকে ১০ জনে খেলতে হয় আমেরিকাকে। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপে তাঁর তিনটি গোল হয়ে গেলেও প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে খেলতে পারবেন না তিনি। ১০ জনের আমেরিকাকে বেশ কিছুক্ষণ চাপে রেখেছিল বসনিয়া ও হার্জ়েগোভিনা। কিন্তু দশ জনেও পাল্টা আক্রমণের কৌশল নেয় আমেরিকা। তারা আরও একটি গোল করলেও তা অফসাইডে বাতিল হয়। তবে ৮২ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোল করে আমেরিকাকে ২-০ এগিয়ে দেন টিলমান। তখনই আমেরিকার জয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়।

     

     

     

  • Sanae Takaichi in India: রাষ্ট্রপতি ভবনে জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা, মোদির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

    Sanae Takaichi in India: রাষ্ট্রপতি ভবনে জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা, মোদির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির ভারত সফর ঘিরে আরও একবার উষ্ণ হল নয়াদিল্লি-টোকিও সম্পর্ক। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজের মন্ত্রিসভার সদস্য ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন। এই সফরকে ভারত-জাপান কৌশলগত সম্পর্কের আরও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারত সফরে এসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে জাপানও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জাপান সরকারের ক্যাবিনেট পাবলিক রিলেশনস অফিসার লিখেছেন, “উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। ভারত সফর নিয়ে আমরা অত্যন্ত উৎসাহিত।”

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি?

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স-এ সানায়ে তাকাইচিকে স্বাগত জানিয়ে লেখেন, “ভারতে আপনাকে আন্তরিক স্বাগত, প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।” তিনি জানান, এই সফরে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে এবং ভারত-জাপান ‘স্পেশাল স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড গ্লোবাল পার্টনারশিপ’-কে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি, মুক্ত, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার বিষয়েও দুই নেতা মতবিনিময় করবেন।

    তিন দিনের সরকারি সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী

    বুধবার তিন দিনের সরকারি সফরে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। পালাম বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন তাকাইচি। বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সেমিকন্ডাক্টর, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, উন্নত প্রযুক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় থাকবে বলে জানা গেছে। এছাড়া ভারত-জাপান যৌথ অর্থনৈতিক ফোরামেও অংশ নিচ্ছেন ১০০-রও বেশি জাপানি শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী। এই ফোরামের লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করা।

    বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও বিনিয়োগে জোর

    দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব চলমান দ্বিপাক্ষিক প্রকল্পগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হবে। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতাও বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয়। বিশেষ করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সরবরাহ শৃঙ্খলের (Supply Chain) স্থিতিস্থাপকতা, উদীয়মান প্রযুক্তি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়গুলিও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

    আরও মজবুত হবে ভারত-জাপান সম্পর্ক

    ভারত ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের স্পেশাল স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড গ্লোবাল পার্টনারশিপ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিকের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ভারতের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ হিসেবে জাপান ইতিমধ্যেই বুলেট ট্রেন প্রকল্প, অবকাঠামো নির্মাণ, শিল্পোন্নয়ন-সহ একাধিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি যৌথ সামরিক মহড়া এবং নিয়মিত কৌশলগত সংলাপের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির এই সফর ভারত-জাপান সম্পর্ককে নতুন গতি দেবে এবং বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর করবে।

  • Kolkata Trams: বিদেশি প্রযুক্তির হাত ধরে পুনরুত্থানের আশায় কলকাতার ট্রাম! ভাবনায় কালীঘাট-দক্ষিণেশ্বর রুট, শুরু সমীক্ষা

    Kolkata Trams: বিদেশি প্রযুক্তির হাত ধরে পুনরুত্থানের আশায় কলকাতার ট্রাম! ভাবনায় কালীঘাট-দক্ষিণেশ্বর রুট, শুরু সমীক্ষা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক ট্রামকে (Kolkata Trams) আধুনিক রূপে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্যের পরিবহণ দফতর। শহরের বিভিন্ন (Australian French Technology) রুটে বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রাম পরিষেবা ফের চালু করা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রামকে সময়োপযোগী করে তোলার লক্ষ্যে সমীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা রাইটসকে (RITES)।

    সমীক্ষায় রাইটস (Kolkata Trams)

    পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই ট্রাম পরিষেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি ও তথ্য রাইটসের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সমীক্ষার সময় অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্সের আধুনিক ট্রাম প্রযুক্তি এবং নগর পরিবহণ ব্যবস্থার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হবে। সংশ্লিষ্ট বিদেশি সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা করেই রাইটস এই সমীক্ষা করবে। পরিবহণ দফতরের এক আধিকারিক বলেন, “কলকাতায় ট্রাম চলছে ব্রিটিশ আমল থেকে। এই সময় থেকে এখনও পর্যন্ত কলকাতা ট্রামের কোনও প্রযুক্তিগত উন্নতি হয়নি। ট্রামকে সময়োপযোগী করে তুলতে প্রযুক্তির উন্নয়ন প্রয়োজন। তাই অস্ট্রেলিয়া এবং ফ্রান্সের দু’টি সংস্থার সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তাদের সঙ্গে সমীক্ষার কাজ করবে রাইটস।”

    ‘তৃণ’ জমানায় ট্রামের ‘মূলে’ কুঠারাঘাত!

    সরকারি সূত্রে খবর, বাঙালির আবেগ ও কলকাতার ঐতিহ্যের সঙ্গে ট্রামের গভীর সম্পর্ক থাকলেও (Kolkata Trams) গত কয়েক বছরে এই পরিষেবার পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ট্রাম পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও জমি আগের সরকারের আমলে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই শুধু ট্রামের বাহ্যিক কাঠামো অবশিষ্ট রয়েছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও পরিকাঠামোর বড় অংশ আর নেই। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম পরিষেবাকে পুনরুজ্জীবিত করার নির্দেশ দিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংহ। রাইটসের সমীক্ষায় মূলত খতিয়ে দেখা হবে, যে সব রুটে ট্রাম পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছে, সেখানে ফের ট্রাম চালানো যায় কি না এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তির সাহায্যে পরিষেবাকে আরও কার্যকর করে তোলা যায় কীভাবে।

    কী বলছেন পালাবদলের পরিবহণমন্ত্রী?

    পরিবহণমন্ত্রী বলেন, “ট্রামের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এটি সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত একটি পরিবহণ ব্যবস্থা। পরিবহণ দফতর চেষ্টা করছে যাতে ট্রাম চালানোর জন্য রাজ্য সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা না চাপে (Australian French Technology)। আমরা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছি।” পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণেশ্বর থেকে কালীঘাট এবং গঙ্গা থেকে আদিগঙ্গা সংযোগকারী বিশেষ ট্রাম রুট চালুর বিষয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে (Kolkata Trams)। এর পাশাপাশি ট্রাম পরিষেবাকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পর্যটন দফতরের সহযোগিতা নেওয়া হতে পারে। শুধু কলকাতাই নয়, ভবিষ্যতে নিউটাউন- রাজারহাট এলাকায়ও ট্রাম পরিষেবা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। ওই অঞ্চলের বর্তমান গণপরিবহণ ব্যবস্থা নিয়ে সরকার পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় বলেই প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

    বাঁচবে তিলোত্তমাও

    পরিবহণ দফতরের একাংশের মতে, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগর পরিবহণ ব্যবস্থার চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তির সাহায্যে ট্রামকে নব কলেবরে ফিরিয়ে আনা গেলে একদিকে যেমন কলকাতার ঐতিহ্য সংরক্ষণ হবে, তেমনই নগর পরিবহণ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে, দূষণের হাত থেকে রক্ষা পাবে তিলোত্তমা। এমতাবস্থায় রাইটসের সমীক্ষা রিপোর্টের দিকেই (Australian French Technology) তাকিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্যের পদ্ম সরকার (Kolkata Trams)।

  • Suvendu On Abhishek Sebashray: অভিষেকের সেবাশ্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ! ‘ইটস আ ক্রাইম…তদন্ত হবে’ আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu On Abhishek Sebashray: অভিষেকের সেবাশ্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ! ‘ইটস আ ক্রাইম…তদন্ত হবে’ আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার কালীঘাট তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেবাশ্রয় নিয়ে উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ। এ নিয়ে বুধবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার সন্ধ্যায় ডায়মন্ড হারবার লোকসভার অধীন বিষ্ণুপুরের ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের হাসপাতালের একটি ইউনিটের উদ্বোধন করতে যান তিনি। সেখানেই তাঁকে সেবাশ্রয় সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হলে তদন্তের কথা জানিয়ে দেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘অভিযোগ যখন এসেছে, তখন পুলিশ প্রশাসন তদন্ত করে দেখবে।’’

    সেবাশ্রয় কী

    পুরো ডায়মন্ড হারবার জুড়ে পোস্টার লাগানো হয়েছিল। ‘সেবাশ্রয়ে’ চিকিৎসা পাওয়ার জন্য ভিড় করতেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু মানুষ। মাঝেমধ্য়েই ক্যাম্প পরিদর্শনে যেতেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। চিকিৎসাপ্রাপ্ত রোগীদের সঙ্গে কথা বলতেন। সে সব ছবি পোস্ট করা হত তৃণমূল ও অভিষেকের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে। সেই সেবাশ্রয় নিয়েই এবার উঠল বিস্ফোরক অভিযোগ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। বিষ্ণুপুর থানা সূত্রে খবর, ১ জুলাই অভিযোগপত্রটি গৃহীত হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ

    অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, ক্যাম্পে চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। অননুমোদিত চিকিৎসার পাশাপাশি ভুয়ো নথি ব্যবহার, বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহার করা হয়েছে। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকদের দিয়ে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ। এছাড়াও দাবি, চিকিৎসক পড়ুয়াদের এনে চিকিৎসা করানো হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অভিজিৎ দাস। অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে প্রচারপত্র, নথি, ছবি, ভিডিয়ো দেওয়া হয়েছে। ববির আরও অভিযোগ, ওই ক্যাম্পগুলিতে আল্ট্রাসাউন্ড, পোর্টেবল এক্স-রের মতো নিয়ন্ত্রিত ডায়াগনস্টিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারে বিধি ভাঙা হয়েছে। বিজেপি নেতার দাবি, সরকারি হাসপাতাল থেকে জোর করে বিভিন্ন মেশিনপত্র সেবাশ্রয়ের জন্য নিয়ে যাওয়া হত।

    কী কী অভিযোগ?

    বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাবি করেছেন, ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্যশিবিরে আলট্রাসনোগ্রাফি, পোর্টেবল এক্সরে-সহ একাধিক আধুনিক যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইন এবং সরকারি বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ওই স্বাস্থ্যশিবিরের চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিজিৎ। বিজেপি নেতার দাবি, অযোগ্যদের দিয়ে চিকিৎসা করানো হত ‘সেবাশ্রয়ে’। অভিযোগ, ওই শিবিরে ভুয়ো প্রেসক্রিপশন দেওয়া হত। এ ছাড়াও, স্বাস্থ্যশিবির পরিচালনার ক্ষেত্রে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন অভিজিৎ। তাঁর দাবি, ওই স্বাস্থ্যশিবিরে বায়োমেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি ছিল। এ ছাড়াও, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের কথাও রয়েছে অভিজিতের অভিযোগপত্রে। তাঁর আরও দাবি, সরকারি প্রচারপত্র, কনসালটেশন শিট, রেফারেল স্লিপ, ছবি, ভিডিয়ো যাচাই করে এবং সরেজমিনে খতিয়ে দেখার পরই অভিযোগ করা হয়েছে।

    তদন্তে অনেক কিছু বেরোবে

    সেবাশ্রয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা এক চিকিৎসক দাবি করেছেন, তদন্ত করলে অনেক কিছু বেরিয়ে আসবে। ৫ থেকে ১০ শতাংশ এমবিবিএস চিকিৎসক ছিল, ৯০ শতাংশই হোমিওপ্যাথি বা আয়ুর্বেদ চিকিৎসককে দিয়ে চিকিৎসা করানো হত। বুধবার বিষ্ণুপুর থানায় অভিষেক, তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায় ও সুমিতের ঘনিষ্ঠ অয়ন ঘোষদস্তিদার-সহ সমস্ত সেবাশ্রয় শিবিরের উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্তির দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ববি। তাঁর অভিযোগ, “ডায়মন্ডহারবারবাসীর স্বাস্থ্য নিয়ে ছেলেখেলা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কত মানুষের ক্ষতি করে দিয়েছেন তদন্ত করলেই তা বোঝা যাবে। ‘সেবাশ্রয়’ থেকে স্থানান্তরিত হওয়া একজন সুস্থ মহিলার অপারেশনের নামে পা কেটে বাদ দেওয়াও হয়। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে ডায়মন্ডহারবার কেন্দ্রে অভিষেকের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিজেপি নেতা অভিজিতের অভিযোগ, “হোমিওপ্যাথির ও হাতুড়ে চিকিৎসকদের সাদা অ্যাপ্রন পরিয়ে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসক সাজিয়ে আনা হয়েছিল শিবিরগুলিতে। রোগীদের যে সমস্ত প্রেসক্রিপশন করা হয়েছিল সেগুলি দেখলেই বোঝা যাবে এমন প্রেসক্রিপশন কোনও অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসকের হতে পারে না।”

    তদন্তের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘অভিযোগ এসেছে। আমি দেখেছি, এখানে এসপি আছেন, তিনি তদন্ত করবেন। জেলাশাসক এবং স্বাস্থ্য দফতরের যা সাহায্য লাগবে, তা করা হবে। ইটস আ ক্রাইম। আর ক্রাইম হলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতাতে যা করার করা হবে।’’ জোকায় ভারত সেবাশ্রম সংঘের হাসপাতালের অনুষ্ঠান শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার ও জেলা প্রশাসনের কর্তাদের পাশে নিয়ে বুধবার সন্ধ্যাবেলা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সেবাশ্রয়-এ অনিয়ম নিয়ে তদন্তের আশ্বাস দেন মুখ্যুখ্যমন্ত্রী।

    মুখ্যমন্ত্রীর উপর আস্থা অভিযোগকারীদের

    বিজেপির পাশাপাশি বিভিন্ন মহল থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতারের জোরাল দাবিও উঠছে। এই পরিস্থিতিতে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখে সেবাশ্রয় শিবির বিতর্ক ইসুতে ‘এটা ক্রাইম’ বলে পুলিশি তদন্তের কথা বলাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। খোদ পুলিশমন্ত্রী তথা মুখ‍্যমন্ত্রীর মুখে এদিন পুলিশি তদন্তের বিষয়টি উঠতেই নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিষেকের সেবাশ্রয় নিয়ে পুলিশের তদন্তে আরও গতি পাবে বলেও মত অনেকেরই। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত জিরো টলারেন্সের নীতিতে সেবাশ্রয় নিয়ে অভিযোগকারীরাও বিচার পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর উপর আমাদের ভরসা আছে।’’ বলছেন অভিযোগকারীরা।

     

     

     

     

LinkedIn
Share