মাধ্যম নিউজ ডেস্ক : অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান চুরি বিতর্ককে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে তুমুল পারদ চড়ল। দানবাক্স থেকে টাকা গায়েব হওয়ার ঘটনা নিয়ে বিজেপি সরকারকে যখন সমাজবাদী পার্টি (SP) ও কংগ্রেস কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই অযোধ্যার মাটি থেকে বিরোধীদের অতীত মনে করিয়ে দিয়ে পাল্টা নজিরবিহীন আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের।
যোগীর বিস্ফোরক অভিযোগ (Ram Mandir)
অযোধ্যার এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) বলেন, “সমাজবাদী পার্টির নেতারা একসময় মন্দিরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে ভক্তদের দেওয়া অনুদানের টাকা পকেটে পুরতেন। এরপর সেই মন্দিরের অনুদানের টাকা ডাইভার্ট করে মসজিদের পাঁচিল তৈরিতে ব্যবহার হত।”
বিরোধীদের গিরগিটির সাথে তুলনাও করলেন ইউপির মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্য়নাথ। “কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি এখন অযোধ্যার প্রতি ভক্তির কথা বলছে! অথচ এই কংগ্রেসই একসময় সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে বলেছিল ভগবান রামের কোনও অস্তিত্ব নেই। আর সমাজবাদী পার্টি তো রামভক্ত কারসেবকদের উপর গুলি চালিয়েছিল। আজ হঠাৎ তাদের রামভক্তি জেগে উঠল কী করে?” প্রশ্ন যোগীর।
‘সনাতন ধর্মের ভাবাবেগে আঘাত!’ সুর চড়াল সমাজবাদী পার্টি
অন্যদিকে, রাম মন্দিরের (Ram Mandir) দানবাক্স থেকে কোটি কোটি টাকার অনুদান এবং সোনা-রুপোর গয়না গায়েব হওয়ার ঘটনাকে ‘বিরাট কেলেঙ্কারি’ বলে উল্লেখ সমাজবাদী পার্টির (SP)। সপা সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবের কাঠগড়ায় যোগী সরকার। অভিযোগ,”সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগের দান ও কোটি কোটি টাকার অনুদান ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারেনি মন্দির ট্রাস্ট। দানবাক্স থেকে টাকা গায়েব হয়ে যাওয়া আসলে কোটি কোটি সনাতনীদের ভাবাবেগে বড় আঘাত। রাজ্যের বিজেপি সরকার বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি ও আইনশৃঙ্খলার মতো আসল সমস্যা থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই বিরোধীদের উপর উল্টে আক্রমণ করছে। মেরুকরণের রাজনীতি করছে।”
চুরির ঘটনায় যোগীর কঠোর অবস্থান
রাম মন্দিরের (Ram Mandir) অনুদান চুরি নিয়ে নিজের অবস্থান আগেই স্পষ্ট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath)। তাঁর সাফ বার্তা, “কাউকেই রেয়াত করা হবে না। মন্দিরের ট্রাস্ট নিজেই চুরির ঘটনাটি সরকারের নজরে এনে তদন্ত চেয়েছিল। সরকার অবিলম্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। ইতিমধ্যেই ঘটনায় জড়িত ৮ জনকে শনাক্ত করে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে ও তাদের গ্রেফতারও করা হয়েছে।” উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, “অপরাধীদের যখন শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, তখন গুটি কয়েক মানুষের পাপের জন্য পুরো রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টকে বদনাম করার এবং অযোধ্যাকে অপমান করার কোনও অধিকার বিরোধীদের নেই।”
এদিকে, ২০২৭-এই রয়েছে উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে রাম মন্দিরকে কেন্দ্র করে তপ্ত রাজনীতি। উত্তরপ্রদেশে নিজেদের ঘাঁটি শক্ত করতে মরিয়া বিরোধীরা, বারাবার সরকারের দিকেই আঙুল তুলছে। যদিও বিরোধীদের চক্রান্তে একেবারেই কান দিতে নারাজ যোগী সরকার। বিরোধীদের বারবার নিজেদের জায়গা বুঝিয়ে দিচ্ছেন ‘বুলডোজার বাবা’। এখন দেখার কোন দিকে মোড় নেয় এই বিতর্ক?









