মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজকের সত্যটা শুনলে আপনার পায়ের তলার মাটি সরে যাবে। আচ্ছা, আপনি যে জমিতে আজ বাড়ি বানিয়ে শান্তিতে ঘুমাচ্ছেন, কাল সকালে উঠে যদি শোনেন সেই জমিটা আর আপনার নয়, ওটা রাতারাতি একটা ধর্মীয় বোর্ডের সম্পত্তি হয়ে গেছে—কেমন লাগবে আপনার? ভাবছেন অবাস্তব? কাল্পনিক গল্প? একদমই নয়! দেশের বুকে এটাই এখন রূঢ় বাস্তব। কেরলের এরনাকুলাম জেলার মুনামবাম (Munambam) গ্রাম। যেখানে ৬০০-র বেশি সনাতন এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের দরিদ্র মৎস্যজীবী পরিবার গত চার দশক ধরে নিজেদের রক্ত জল করা টাকায় কেনা জমিতে বাস করছেন, সরকারকে ট্যাক্স দিচ্ছেন, রেজিস্ট্রি দলিল পকেটে নিয়ে ঘুরছেন—আজ তারা নিজেদের ভিটেমাটি হারানোর ভয়ে রাস্তায় বসে কাঁদছেন! বর্তমান ইউডিএফ (UDF) সরকার চুপ।
গোটা অন্যায়ের পেছনে কারা দাঁড়িয়ে আছে (Munambam)?
কারণটা কী জানেন? কারণ, কেরলের ওয়াকফ বোর্ড হঠাৎ ফতোয়া জারি করেছে—পুরো মুনামবাম (Munambam) গ্রামটাই নাকি তাদের সম্পত্তি! দলিল, আইন, আদালত—সব কিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক নিমেষে কয়েকশো পরিবারকে রিফিউজি বানানোর ছক কষা হয়েছে। আর এই গোটা অন্যায়ের পেছনে কারা দাঁড়িয়ে আছে? কেরলের বামপন্থী আর কংগ্রেস জোটের সেই চেনা ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’ (Appeasement Politics)! সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক বাঁচানোর জন্য তারা আজ নিশ্চুপ, অসহায় সাধারণ মানুষের কান্না তাদের কানে পৌঁছাচ্ছে না।
কিন্তু পাপ তো আর চাপা থাকে না! মোদি সরকার যখনই ওয়াকফ বোর্ডের এই একনায়কতন্ত্রের ডানা ছাঁটতে ‘উমিদ’ (UMEED) পোর্টাল আনল এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং শুরু করল—অমনি কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে পড়ল! ওয়াকফ বোর্ডের ভেতরের এই বিশাল জমি দখলের খেলা আজ হাতেনাতে ধরা পড়ে গেছে। কী এই মুনামবাম বিতর্ক? কীভাবে ওয়াকফ আইনের অপব্যবহার করে একটি আস্ত গ্রাম গিলে খাওয়ার চেষ্টা চলছে?
শিক্ষার উন্নতির জন্য জমি দেওয়া হয়েছিল
কীভাবে একটা আস্ত গ্রামকে ওয়াকফ সম্পত্তির তকমা দিয়ে সাধারণ মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়ার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হল? ঘটনার সূত্রপাত ১৯৫০ সালে থেকেই। সিদ্দীক শেঠ নামের এক মুসলিম ব্যবসায়ী কোঝিকোড়ের ফারুক কলেজকে (Farook College) শিক্ষার প্রসারের জন্য মুনামবাম (Munambam) এলাকার প্রায় ৪০৪ একর উপকূলীয় জমি দান করেন। তবে এটি ছিল ফারুক কলেজকে দেওয়া একটি সাধারণ দানপত্র বা ‘গিফট ডিড’। শিক্ষার উন্নতির জন্য জমি দেওয়া হয়েছিল, কোনও ধর্মীয় ওয়াকফ করার জন্য নয়।
১৯৮৮ সালে ফারুক কলেজ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় এই জমির কিছু অংশ তারা বিক্রি করে দেবে। এলাকার প্রায় ৬১০টি গরিব পরিবার—যাদের সিংহভাগই খ্রিস্টান এবং হিন্দু মৎস্যজীবী সম্প্রদায়—নিজেদের জীবনের সমস্ত সঞ্চয়, আনুমানিক ৩৩ লক্ষ টাকা দিয়ে আইনি রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে ফারুক কলেজের থেকে এই জমি কিনে নেয়। বিগত প্রায় ৪০ বছর ধরে এই মানুষগুলো সেখানে ঘর বানিয়েছে, রক্ত জল করে চাষবাস করেছে, প্রতি বছর সরকারকে জমির ট্যাক্স দিয়েছে। কিন্তু ২০১৯ সালে ঘটল সেই ভয়ঙ্কর কাণ্ড! কেরল রাজ্য ওয়াকফ বোর্ড হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে দাবি করল—এই পুরো ৪০৪ একর জমি আদতে ফারুক কলেজের নয়, ওটা ওয়াকফ সম্পত্তি! অতএব, ১৯৮৮ সালে সাধারণ মানুষ যে জমি কিনেছিল, সেই কেনাবেচার কোনো আইনি মূল্যই নেই! সরকারও গোটা বিষয় (UDF) নিয়ে চুপ।
কেরলের কংগ্রেস আর বামপন্থীরা মায়া
আজ কেরলের কংগ্রেস আর বামপন্থীরা মায়াকান্না কাঁদছে। মুখ্যমন্ত্রী ভি. ডি. সতীশন বলছেন, “কাউকে উচ্ছেদ করা হবে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যখন ২০১৯ সালে ওয়াকফ বোর্ড এই তুঘলকি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তখন এই তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো কোথায় ছিল? ভোটব্যাংক হাতছাড়া হওয়ার ভয়ে তারা চুপ করে বসে ওয়াকফ বোর্ডের এই আগ্রাসনকে লাইসেন্স দিয়েছিল।”
ইতিমধ্যে মুনামবামের হিন্দু এবং খ্রিস্টান সমাজ একজোট হয়ে রাস্তায় নেমেছে। তারা বুঝে গেছে, এই ছদ্ম-ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো তাদের রক্ষা করবে না। আজ সারা দেশের মানুষ স্পষ্ট দেখছে—কেন মোদি সরকারের ওয়াকফ সংশোধন বিল আনাটা কতটা জরুরি ছিল। যদি এই আইন সংশোধন না করা হয়, তবে আজ কেরলের মুনামবাম (Munambam), কাল আপনার বা আমার ঘরের জমিও এভাবে ওয়াকফ বোর্ড কেড়ে নিতে পারে!
মুনামবাম গ্রামে আজ শত শত হিন্দু ও খ্রিস্টান পরিবার চোখের জল ফেলছে, এর আসল অপরাধী কে? এর আসল খলনায়ক হলো ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং তাদের দশকের পর দশক ধরে চালানো নির্লজ্জ ‘মুসলিম তোষণ’ নীতি।
আজ কংগ্রেসের নেতারা কেরলে গিয়ে বড় বড় কথা বলছেন, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ভণ্ডামি করছেন। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী আছে, এই ওয়াকফ বোর্ডকে দেশের সংবিধান এবং আদালতের ওপরে বসিয়ে দিয়ে একটা ‘সমান্তরাল সরকার’ চালানোর লাইসেন্স কারা দিয়েছিল? উত্তরটা হল—কংগ্রেস (UDF)!
ফিরে যান ১৯৯৫ সালে। কেন্দ্রে তখন পি. ভি. নরসিমা রাও-এর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার। সংখ্যালঘু ভোটব্যাংককে নিজেদের পকেটে রাখতে কংগ্রেস দেশের সংসদে এমন এক কালো আইন পাস করল, যা স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বৈষম্যমূলক—’ওয়াকফ অ্যাক্ট ১৯৯৫’।
ওয়েনাডের সাংসদ একটা শব্দও উচ্চারণ করেননি?
কেরলের (Munambam) পরিস্থিতি আরও মারাত্মক। সেখানে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (UDF) জোটের অন্যতম প্রধান অংশীদার হলো ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (IUML)। কেরলে ক্ষমতা (UDF) টিকিয়ে রাখতে এবং মুসলিম লীগের ভোটব্যাংক নিশ্চিত করতে কংগ্রেস সেখানে সবসময় ওয়াকফ বোর্ডের প্রতিটি অন্যায় পদক্ষেপের সামনে নতজানু হয়ে থেকেছে।
২০১৯ সালে যখন ওয়াকফ বোর্ড মুনামবামের গরিব মৎস্যজীবীদের জমি নিজেদের বলে কেড়ে নিল, তখন কেন কংগ্রেসের রাজপুত্র রাহুল গান্ধী—যিনি কেরলেরই ওয়েনাডের সাংসদ ছিলেন—একটা শব্দও উচ্চারণ করেননি? কেন তখন ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ পরা এই দলগুলো নীরব ছিল? কারণ একটাই—সাধারণ হিন্দু বা খ্রিস্টান মৎস্যজীবীদের কান্নার চেয়ে তাদের কাছে মুসলিম লীগের ভোটব্যাংকের মূল্য অনেক বেশি!
মুনামবামের ঘটনা আজ ভারতের চোখ খুলে দিয়েছে। দেশের মানুষকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, কংগ্রেসের এই তোষণের রাজনীতি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য এবং সাধারণ মানুষের সম্পত্তির অধিকারের জন্য কতটা বড় হুমকি!
মৎস্যজীবীদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে
আজ কেরলের মৎস্যজীবীদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। কিন্তু সুখের বিষয় এটাই যে, আজ আর ভারত আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে নেই। দিল্লিতে আজ এমন এক সরকার রয়েছে, যারা ভোটব্যাংকের তোষণ নয়, বরং ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস’-এর নীতিতে বিশ্বাস করে।
আজ নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শিতার কারণেই ‘উমিদ’ পোর্টালের মাধ্যমে ওয়াকফ বোর্ডের প্রতিটি গোপন পদক্ষেপ দেশের মানুষের সামনে চলে আসছে। আর সেই কারণেই আজ দেশের আপামর জনতা—তা সে হিন্দু হোক বা খ্রিস্টান—একজোট হয়ে মোদি সরকারের ওয়াকফ সংশোধন বিলের পক্ষে সওয়াল করছে। দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করতে এই বৈষম্যমূলক আইনের পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি (UDF)।
মুনামবামের মানুষ আজ লড়াই করছেন তাদের ভিটেমাটি বাঁচানোর জন্য, আর আমাদের লড়াই করতে হবে এই তোষণের রাজনীতির ধারক-বাহকদের দেশ থেকে রাজনৈতিকভাবে উপড়ে ফেলার জন্য। যাতে ভবিষ্যতে ভারতের আর কোনো মুনামবাম গ্রামকে এভাবে চোখের জল ফেলতে না হয়।









