Blog

  • Baby Trafficking: দিল্লিতে নবজাতক পাচার চক্রের পর্দাফাঁস, হাসপাতাল মালিক-সহ গ্রেফতার ৪

    Baby Trafficking: দিল্লিতে নবজাতক পাচার চক্রের পর্দাফাঁস, হাসপাতাল মালিক-সহ গ্রেফতার ৪

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাত্র চার-পাঁচ দিনের নবজাতককে দরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে কিনে বা বিভিন্নভাবে জোগাড় করে কয়েক লক্ষ টাকায় নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে বিক্রি (Baby Trafficking) করত একটি পাচারচক্র। দিল্লি পুলিশের অভিযানে সেই চাঞ্চল্যকর শিশু পাচার চক্রের পর্দাফাঁস হয়ে (Delhi) গিয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে বেসরকারি ওই হাসপাতালের মালিক-সহ ৪জনকে। উদ্ধার করা হয়েছে পাঁচ নবজাতককে।

    শিশুর দর (Baby Trafficking)

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশু কন্যা হলে বিক্রি হত ৩ থেকে ৪ লাখ টাকায়, ছেলে হলে এটাই হয়ে যেত ডবল। পুত্র শিশুকে বিক্রি করা হত ৬ থেকে ৮ লাখ টাকায়। গরিব পরিবারের কাছ থেকে কন্যাশিশুকে প্রায় ১ লাখ এবং ছেলে শিশুকে প্রায় ২ লাখ টাকার বিনিময়ে জোগাড় করা হত বলেই জেনেছেন তদন্তকারীরা।

    কীভাবে পর্দাফাঁস?

    মধ্য দিল্লির পাহাড়গঞ্জ এলাকার এক বাসিন্দা পুলিশকে জানান, এক মহিলা নিয়মিত এলাকায় বিভিন্ন নবজাতককে নিয়ে আসছেন এবং প্রতিবারই শিশুটি আলাদা। সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের এক মহিলা অফিসার ক্রেতা সেজে ওই মহিলার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ২০ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে একটি শিশুর জন্য চুক্তি হয়। শিশুটি হস্তান্তরের সময় অভিযুক্ত জ্যোতি ওরফে কমলেশকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। কমলেশকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে (Baby Trafficking), রাজস্থান ও গুজরাটের দরিদ্র পরিবার থেকে নবজাতক সংগ্রহ করে সেগুলি দিল্লির মাধ্যমে হরিয়ানা ও মধ্যপ্রদেশের নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে বিক্রি করা হত। এরপর একে একে গ্রেফতার করা হয় শালু, ললিত, প্রতিভা ও বিপিনকে। তাদের কাছ থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা নগদও উদ্ধার হয়েছে। দু’সপ্তাহের তদন্তের পর এক মাসেরও কম বয়সী পাঁচ শিশুকে (Delhi) উদ্ধার করে পুলিশ।

    পাচারচক্রের প্রধান পীঠস্থান

    তদন্তকারীরা জেনেছেন, পশ্চিম দিল্লির রোহিণীর বেগমপুর এলাকায় অবস্থিত হীরা মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল এই পাচারচক্রের প্রধান পীঠস্থান হিসেবেই কাজ করত। হাসপাতালের মালিক বিবেকীই এই পাচারচক্রের মূল হোতা বলেই দাবি পুলিশের। অভিযোগ, হাসপাতালেই শিশুদের রাখা হত, পরে সুযোগ বুঝে মা এবং সেখান থেকেই ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হতো। পাশাপাশি জন্মসনদ, প্রসব সংক্রান্ত নথি ও অন্যান্য সরকারি কাগজপত্র (Baby Trafficking) জাল করে দেখানো হত যে, শিশুগুলির জন্ম হয়েছে ওই হাসপাতালেই। পুলিশ গুজরাটের সাবরকাঁঠা থেকে সবাভাই ঘামার ওরফে কালিয়াকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, সে রাজস্থানের পালি ও গুজরাটের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরিব পরিবারের নবজাতক সংগ্রহ করে দিল্লির এই চক্রের হাতে তুলে দিত।

    জৈবিক বাবা-মায়ের খোঁজ

    পুলিশ এখন উদ্ধার হওয়া শিশুদের জৈবিক বাবা-মায়ের খোঁজ করছে। যদি প্রমাণিত হয় যে তারা স্বেচ্ছায় সন্তান বিক্রি করেছেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তকারীরা জেনেছেন, গত এক বছরে অন্তত ৩০ জন নবজাতককে পাচার করেছে এই চক্র। ইতিমধ্যেই হরিয়ানার পানিপথ এবং মধ্যপ্রদেশের গ্বালিয়রের কয়েকজন ক্রেতা দম্পতিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে (Baby Trafficking)।জানা গিয়েছে, এক দম্পতিকে একটি ছেলে ও একটি শিশুকন্যা ‘যমজ’ বলে পরিচয় দিয়ে মোট ৯ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল। পরে (Delhi) জানা যায়, শিশুদুটি আলাদা আলাদা জায়গা থেকে জোগাড় করা হয়েছিল, তারা আদৌ যমজ ছিল না। উদ্ধার হওয়া পাঁচ নবজাতককে আপাতত চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির (CWC) তত্ত্বাবধানে পালনা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। তাদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেই খবর (Baby Trafficking)।

     

  • Assam: অসমে প্রথমবার ভারত-জাপান শীর্ষ বৈঠক, খুলছে উত্তর-পূর্বে উন্নয়ন-লগ্নির নতুন দোর!

    Assam: অসমে প্রথমবার ভারত-জাপান শীর্ষ বৈঠক, খুলছে উত্তর-পূর্বে উন্নয়ন-লগ্নির নতুন দোর!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের কূটনৈতিক ইতিহাসে সূচনা হতে চলেছে এক নয়া অধ্যায়ের। এই প্রথমবার রাজধানী নয়াদিল্লির বাইরে অসমের (Assam) গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ভারত-জাপান বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলন (Japan Summit)। জুলাই মাসেই জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি অসম সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে অংশ নেবেন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে।

    ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ (Assam)

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’ আরও গতি পাবে এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে আন্তর্জাতিক স্তরে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও যোগাযোগের প্রবেশদ্বার হিসেবে দেখা হয়। ফলে গুয়াহাটিতে এই শীর্ষ বৈঠক আয়োজনের মাধ্যমে জাপান, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পরিকাঠামোগত সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে অসম-সহ গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলেই অনুমান। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের মাধ্যমে অসমকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা হবে। রাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদ, দক্ষ যুবশক্তি এবং দ্রুত উন্নয়নশীল পরিকাঠামো বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

    জাপানের প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর

    জাপান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যিক সংযোগ বৃদ্ধি পেলে পরিবহণ ব্যয় ও সময় কমবে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের পক্ষে একটা বড় সমস্যার সমাধানে করবে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সানায়ে তাকাইচির এটি হবে প্রথম ভারত সফর। তাঁর সঙ্গে ভারতে আসবেন ৫০ জনেরও বেশি শীর্ষ শিল্পপতি ও কর্পোরেট প্রতিনিধি। প্রতিনিধি দলে থাকবেন সুজুকি মোটরের প্রেসিডেন্ট তোশিহিরো সুজুকি, ইতোচু কর্পোরেশন এবং টয়োটা সুশোর শীর্ষ আধিকারিকরাও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও সানায়ে তাকাইচির বৈঠকে শুধু পরিকাঠামো নয়, সেমিকন্ডাক্টর, উন্নত প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন, সাপ্লাই চেন (Japan Summit) রেজিলিয়েন্স, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে (Assam)। এই বৈঠকের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতে উৎপাদন শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে নয়া  বিনিয়োগের দ্বার খুলে দিতে পারে বলেই আশা বিশেষজ্ঞদের।

    আরও বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা

    ইতিমধ্যেই জাপান অসম ও উত্তর-পূর্ব ভারতে একাধিক পরিকাঠামো, এবং যোগাযোগ প্রকল্পে সহযোগিতা করছে। ২০২৩ সালে জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার ভারত সফরে ঘোষিত ‘বে অফ বেঙ্গল–নর্থইস্ট ইন্ডিয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেন কনসেপ্ট’ উত্তর-পূর্ব ভারতকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উৎপাদন ও লজিস্টিক্স কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছিল। এদিকে, টাটা গোষ্ঠীর সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি ইউনিট, রিলায়েন্সের ডেটা সেন্টার এবং আদানি গোষ্ঠীর বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো বড় শিল্প লগ্নি শুরু হয়েছে অসমে। ফলে জাপানি সংস্থাগুলির আরও বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে (Assam)। অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি ভারত-জাপান অংশীদারিত্ব উত্তর-পূর্ব ভারতে নিরাপত্তা ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সম্মেলনের মাধ্যমে অসম এবং সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারত আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও কৌশলগত মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করবে, এবং (Japan Summit) জাপান আত্মপ্রকাশ করবে এই অঞ্চলের (Assam) অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে।

     

  • PM Modi: “পশ্চিমবঙ্গ ভারতে থেকে গিয়েছিল শ্যামাপ্রসাদের জন্যই”, তারকেশ্বরে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “পশ্চিমবঙ্গ ভারতে থেকে গিয়েছিল শ্যামাপ্রসাদের জন্যই”, তারকেশ্বরে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবে থেকে যাওয়ার নেপথ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Modi)। শনিবার, ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস (Paschim Banga Divas) উপলক্ষে হুগলির তারকেশ্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, ‘দেশভাগের সময় পশ্চিমবঙ্গকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার ষড়যন্ত্র চলছিল। সেই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নেতৃত্ব হাল ছেড়ে দিলেও, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় দৃঢ়ভাবে তার বিরোধিতা করেছিলেন, এবং পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের সঙ্গে রাখার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন।’ শনিবার বিকেলে তারকেশ্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। সভামঞ্চে তাঁকে ডোকরার দুর্গামূর্তি, তারকনাথের ছবি, রসগোল্লা এবং জলভরা সন্দেশ উপহার দিয়ে স্বাগত জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল আর এন রবিও।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী? (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০ জুন পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। ১৯৪৭ সালের এই দিনেই বাংলার প্রাদেশিক আইনসভায় পশ্চিমবঙ্গকে পৃথক করে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের নেপথ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” এদিন সকালে কলকাতায় আসার আগে এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লিখেছিলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে আমার বোন ও ভাইদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। এই রাজ্য সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প, আধ্যাত্মিকতা, বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও ব্যবসা, সমাজ সংস্কার এবং আরও অনেক বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্রে তার অবদানের মাধ্যমে ভারতের ইতিহাসকে রূপদান করেছে। ভারতের জাতীয় চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছে।’’ পশ্চিমবঙ্গ দিবসের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে ২০ জুন দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনেই নিশ্চিত করা হয়েছিল যে, পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটি অংশ হিসাবে থাকবে। এর নেপথ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অমূল্য অবদান ছিল। ২০২৬ সালে আমরা তাঁর ১২৫তম জন্মজয়ন্তী পালন করছি (PM Modi)।’’

    পশ্চিমবঙ্গ দিবস

    প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন নিয়ে অতীতে ঢের রাজনৈতিক বিতর্ক হয়েছে। তবে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার ২০ জুনকেই সরকারিভাবে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই উপলক্ষেই তারকেশ্বরে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানেই শ্যামাপ্রসাদের অবদান স্মরণ করা হয় বিশেষভাবে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে তারকেশ্বরজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা। সভাস্থল পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যের নানা প্রতীক দিয়ে সাজানো হয়েছিল (Paschim Banga Divas)। কলকাতার হলুদ ট্যাক্সি, হাতে টানা রিকশা, দক্ষিণেশ্বর মন্দির, বেলুড় মঠের প্রতিরূপের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের নানা ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছিল (PM Modi) মঞ্চ।

     

  • Bangladesh Hindus Protest: ভগবান রামের ছবির অবমাননা ইসলামপন্থীদের, প্রতিবাদ মিছিল হিন্দুদের, সরকারকে আল্টিমেটাম

    Bangladesh Hindus Protest: ভগবান রামের ছবির অবমাননা ইসলামপন্থীদের, প্রতিবাদ মিছিল হিন্দুদের, সরকারকে আল্টিমেটাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মৌলবাদীদের চাপে পড়ে বাংলাদেশের গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে প্রস্তাবিত ৮১ ফুট উচ্চতার ভগবান রামের মূর্তি নির্মাণ স্থগিত করে দিয়েছে প্রশাসন। তার জেরেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে (Bangladesh Hindus Protest) বিএনপি শাসিত বাংলাদেশে। অভিযোগ, মূর্তি নির্মাণের বিরোধিতা করা ইসলামপন্থীদের একটি বিক্ষোভে ভগবান রামের ছবির অবমাননা (Lord Ram Image Desecration) করা হয়। তারই প্রতিবাদে শুক্রবার ঢাকায় মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন হাজার হাজার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ, স্লোগান দেন ‘জয় শ্রী রাম’।

    বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি (Bangladesh Hindus Protest)

    বিক্ষোভকারীদের দাবি, গাইবান্ধার এক সমাবেশে ভগবান রামের ছবির ওপর জুতো রেখে অপমান করা হয়েছে সমগ্র হিন্দু সম্প্রদায়কে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা সরকারকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ করা না বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা। হিন্দু মহাজোটের ডাকে রাজধানী ঢাকার শাহবাগ মোড় থেকে শুরু হয় প্রতিবাদ মিছিল। শেষ হয় জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত গিয়ে। প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন তাঁরা। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির কাছেও আলাদা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। এদিনই রংপুরে হিন্দুদের একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সামান্য তর্কাতর্কিও হয়।

    নির্মীয়মাণ রামমূর্তির কাজ বন্ধ

    এদিকে, পলাশবাড়িতে নির্মীয়মাণ রামমূর্তির কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়ে গিয়েছে। তার পরে আর কাজ এগোয়নি। ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে নির্মাণকাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির কমিটির তরফে। কমিটির সভাপতি হরিদাস চন্দ্র দাসের দাবি, মূর্তি নির্মাণ কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে (Bangladesh Hindus Protest) উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মীয়মাণ এই প্রকল্পে ৮১ ফুটের রামমূর্তির পাশাপাশি ৫০ ফুট উচ্চতার কৃষ্ণমূর্তি এবং ৩০ ফুটের শিবমূর্তিও নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই আপাতত মূর্তি নির্মাণের কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে।

    মন্দির কমিটির বক্তব্য

    শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরের উপদেষ্টা শ্যামল কুমার মহন্ত জানান, “সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে মন্দির কমিটি আপাতত রাম মূর্তি স্থাপনের কাজ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা সমালোচনার মধ্যে থাকতে চাই না। কারও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হোক, আমরা সেটাও চাইব না। এ দেশে সবাই নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে। তবে কোনও কিছু করতে হলে ধর্মের প্রতিই সম্মান রেখেই করতে হবে। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। এই নীতিতে আমরা সবাই বিশ্বাসী (Bangladesh Hindus Protest)।” এদিকে, হিন্দু মহাজোট সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যদি পলাশবাড়ির এই প্রকল্প ফের শুরু করার অনুমতি দেওয়া না হয়, তাহলে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায়ই এক এক করে রামমন্দির নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শনিবার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রকে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পাশাপাশি দেশব্যাপী নয়া কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

    কী বললেন তসলিমা নাসরিন?

    নির্বাসিত লেখিকা বাংলাদেশের তসলিমা নাসরিন বলেন, “ধর্মীয় স্বাধীনতা যদি একটি মৌলিক অধিকার হয়, তবে তা সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু—উভয় সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। দেশে নতুন নতুন মসজিদ নির্মাণ করা গেলে একটি রামমূর্তি বা মন্দির নির্মাণ নিয়ে এত আপত্তি কেন?” তসলিমা জানান, প্রকল্পটিকে ঘিরে যে ধরনের হুমকি, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং বিদ্বেষমূলক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কোনও মতভেদ বা ধর্মীয় অবস্থান অন্য সম্প্রদায়ের উপাসনালয় বা ধর্মীয় প্রকল্পে বাধা দেওয়ার কারণ হতে পারে না।” পলাশবাড়ি এলাকায় (Lord Ram Image Desecration) আগেও হিন্দু মন্দিরে হামলা এবং প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনার কথাও মনে করিয়ে (Bangladesh Hindus Protest) দেন নির্বাসিত লেখিকা।

    উত্তেজনা বাংলাদেশের নানা প্রান্তে

    ভগবান রামের প্রতিকৃতি অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বাংলাদেশের নানা প্রান্তে। ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তাঁরা। ‘সচেতন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দে’র ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্রনিবাসের আবাসিকরাও যোগ নেন। পরে ওই মিছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে গিয়ে পৌঁছয় শাহবাগ মোড়ে। রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদও জানিয়েছিলেন (Bangladesh Hindus Protest) প্রতিবাদীরা। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে হিন্দুরা দেশের বৃহত্তম ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশই তারা। সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলেই খবর (Lord Ram Image Desecration)।

     

  • Paschimbanga Divas: ইতিহাস ‘সংশোধনের’ বার্তা! পালিত হল পশ্চিমবঙ্গ দিবস, শ্যামাপ্রসাদকে স্মরণ মুখ্যমন্ত্রীর

    Paschimbanga Divas: ইতিহাস ‘সংশোধনের’ বার্তা! পালিত হল পশ্চিমবঙ্গ দিবস, শ্যামাপ্রসাদকে স্মরণ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পালিত হল পশ্চিমবঙ্গ দিবস (Paschimbanga Divas)। রাজ্যে প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠনের পর মহাসাড়ম্বরে পালিত হল পশ্চিমবঙ্গ দিবস। ২০ জুন উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে একাধিক সরকারি অনুষ্ঠান, স্কুল-কলেজে বিশেষ কর্মসূচি এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) অবদান নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এই আবহেই পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস ও পরিচয় নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সূচনা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, পূর্বতন সরকার ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির স্বার্থে এই দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আড়াল করার চেষ্টা করেছিল। পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির ইতিহাস এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে ইচ্ছাকৃতভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়নি।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-এর অবদান

    বিজেপি সরকারে আসার পরেই ২০ জুন নিয়ে যে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নয়। বরং বঙ্গ বিজেপি বরাবরই ২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালন করার উপর জোর দিয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে টানাপোড়েনও চলে আসছিল। তৃণমূল পয়লা বৈশাখকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য দিবস হিসেবে পালন করে। আর অন্যদিকে, বিজেপির যুক্ত হল, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় আইনসভায় (বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলি) বাংলা ভাগের পক্ষে ভোটাভুটি হয়েছিল। ওই দিনই বাংলা ভাগ হয়ে জন্ম হয় পশ্চিমবঙ্গের। এই অংশ জুড়ে যায় পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে। অন্যদিকে, পূর্ববঙ্গ জুড়ে যায় পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর দাবি, “শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় না থাকলে ভারতের মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ নামের কোনো রাজ্যের অস্তিত্বই থাকত না।”

    বাংলার ঐতিহ্য ও গৌরব পুনরুদ্ধারের সময়

    একই দিনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছাবার্তা দেন। তিনি বলেন, বাংলা দেশের সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতা, জ্ঞানচর্চা এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বাংলার ঐতিহ্য ও গৌরব পুনরুদ্ধারের কাজ এগিয়ে চলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সঙ্গে সঙ্গে বাংলা ভাগেরও ঘোষণা করেছিল তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। কিন্তু বাংলার হিন্দু-প্রধান অংশের কাছে সুযোগ ছিল ভারতে জুড়ে যাওয়ার। এরজন্য তৎকালীন বঙ্গীয় আইনসভার ভোটাভুটিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই ভোটেই ঠিক হয়, বাংলা ভাগ হয়ে জুড়বে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে। বিজেপির দাবি, ওই দিন বাংলা ভাগ না হলে, পশ্চিমবঙ্গ তৈরিই হত না। আর এই প্রদেশ জুড়ে যেত বাংলাদেশের সঙ্গে।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দূরদর্শিতা

    এদিকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত পশ্চিমবঙ্গ দিবস অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় মানুষের কাছ থেকে আড়াল করে রাখা হয়েছিল। তাঁর কথায়, “এবার আর শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যাবে না। মানুষ প্রকৃত ইতিহাস জানতে চাইছে।” মন্ত্রী আরও দাবি করেন, দেশভাগের সময় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা না থাকলে পশ্চিমবঙ্গের বৃহৎ অংশ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হতে পারত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও পশ্চিমবঙ্গের ভারতভুক্তি প্রসঙ্গে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকার উল্লেখ করেন।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পক্ষ

    রাজ্য সরকারের নির্দেশে ১৯ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালিত হচ্ছে। পাশাপাশি ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পক্ষ’ পালনেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সময় রাজ্যজুড়ে তাঁর জীবন, রাজনৈতিক দর্শন এবং দেশভাগের সময়কার ভূমিকা নিয়ে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে কেন্দ্র করে ইতিহাসের পুনর্মূল্যায়ন এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে চর্চার মাধ্যমে বিজেপি সরকার বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বয়ানে একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করতে চাইছে।

    স্বাধীন মতপ্রকাশের পীঠস্থান

    অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন, ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের তৎকালীন রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং অনমনীয় মনোভাব যদি সেই সময় না থাকত, তবে আজ হয়তো ভারতের মানচিত্রটাই অন্যরকম হত। আজ বাঙালি হিন্দুরা যে নিজেদের রাজ্যে স্বাধীনভাবে বাস করতে পারছেন, তার কৃতিত্ব যে এই মানুষটিরই প্রাপ্য। একই মঞ্চে উপস্থিত থেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য আশুতোষ ঘোষও মন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। তিনিও প্রকাশ্যে স্বীকার করে নেন যে, দেশভাগের সেই অত্যন্ত জটিল ও অগ্নিগর্ভ সময়ে কলকাতাকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত রাখার পিছনে এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই অন্যতম কনিষ্ঠতম প্রাক্তন উপাচার্য ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের এক বিরাট ও অনস্বীকার্য ভূমিকা ছিল। ইতিহাসের সেই পাতাগুলি আজ নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা অত্যন্ত প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মুক্ত চিন্তা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের এই পবিত্র পীঠস্থানে কোনও নির্দিষ্ট মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়া হবে না। বরং তিনি চান, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, তাঁর আদর্শ এবং বাংলার জন্য তাঁর অবদান নিয়ে ডানপন্থী, বামপন্থী কিংবা অন্য যে কোনও রাজনৈতিক ও সামাজিক পক্ষের মধ্যেই পক্ষে-বিপক্ষে স্বাধীনভাবে আলোচনা ও বিতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বিতর্ক এবং আলোচনার মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য মানুষের সামনে বেরিয়ে আসবে।

  • RG Kar Case Update: আরজি কর কাণ্ডে বিস্ফোরক অভিযোগ! মমতার অন্য ভাইপো আবেশকে জেরা করার দাবি নিহত চিকিৎসকের পরিবারের

    RG Kar Case Update: আরজি কর কাণ্ডে বিস্ফোরক অভিযোগ! মমতার অন্য ভাইপো আবেশকে জেরা করার দাবি নিহত চিকিৎসকের পরিবারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ফের নতুন মোড়। নিহত চিকিৎসকের পরিবার এবার সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো তথা চিকিৎসক আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। পরিবারের দাবি, ঘটনার রাতে তাঁর মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন আরজি কর হাসপাতাল চত্বরে পাওয়া গিয়েছিল। তাই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)-র উচিত তাঁকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা।

    কী অভিযোগ রত্না দেবনাথের?

    নিহত চিকিৎসকের মা তথা পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ বৃহস্পতিবার এই দাবি তুলে বলেন, তদন্তের স্বার্থে ঘটনার সময় হাসপাতাল চত্বরে উপস্থিত প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, সিবিআই ইতিমধ্যেই এই মামলায় একাধিক ব্যক্তিকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সম্প্রতি প্রাক্তন পানিহাটি বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ দে-কে তলব করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন এখনও ডাকা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

    ‘মৃত্যুর সময়সীমার মধ্যে উপস্থিত সকলকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক’

    রত্না দেবনাথ দাবি করেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী তাঁর মেয়ের মৃত্যু হয়েছিল ২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট মধ্যরাত থেকে ভোর ৬টার মধ্যে। ফলে ওই সময় হাসপাতাল চত্বরে কারা ছিলেন, কারা ঘটনাস্থলের আশেপাশে ঘোরাফেরা করেছেন, তা তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “আজ নির্মল ঘোষকে সিবিআই ডেকেছে, সঙ্গে ডাকা হয়েছে সোমনাথ দে-কে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বলছে, আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে। তাহলে আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন ডাকা হবে না? তাঁর টাওয়ার লোকেশনও সেখানে পাওয়া গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত।”

    প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ

    নিহত চিকিৎসকের মা আরও অভিযোগ করেন, আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং প্রমাণ নষ্ট করার ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় ফরেন্সিক বিজ্ঞান গবেষণাগার (সিএফএসএল)-এর রিপোর্টে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে যে তরুণী চিকিৎসককে হাসপাতালের সেমিনার রুমে খুন করা হয়নি। রত্না দেবনাথের অভিযোগ, প্রকৃত হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল হাসপাতালের পিজিটি (পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি) রুমে, যেখানে চিকিৎসক ও ছাত্রছাত্রীরা বিশ্রাম নিতেন। পরে মৃতদেহটি সেখান থেকে সরিয়ে সেমিনার রুমের সামনে ফেলে রাখা হয়, যাতে তদন্তকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া যায় এবং প্রকৃত অপরাধের চিহ্ন মুছে ফেলা সম্ভব হয়। তাঁর বক্তব্য, “এত বড় মাত্রার প্রমাণ লোপাট ও ঘটনাস্থল পরিবর্তনের ঘটনা তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ মদত ছাড়া সম্ভব ছিল না।” তিনি আরও দাবি করেন, এই ‘ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের দায়িত্ব’ আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়া হয়েছিল।

    নিহত চিকিৎসকের বাবার বিস্ফোরক অভিযোগ

    শুক্রবার নিহত চিকিৎসকের বাবা শেখর রঞ্জন দেবনাথও একই অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেন। তাঁর দাবি, আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার রাতে আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায় হাসপাতালের একটি বাথরুমে স্নান করেছিলেন, কারণ তাঁর শরীরে রক্তের ছিটে লেগেছিল। শেখরবাবুর দাবি, ওই বাথরুমটিই পরবর্তীকালে দ্রুত ভেঙে ফেলা হয়।

    বাথরুম ও বিশ্রামকক্ষ ভাঙার ঘটনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

    উল্লেখ্য, আরজি কর কাণ্ডের পরদিনই হাসপাতালের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ চিকিৎসকদের একটি বিশ্রামকক্ষ এবং কর্মীদের ব্যবহৃত একটি শৌচাগার ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। এই দুটি ঘরই সেই সেমিনার হলের কাছাকাছি ছিল, যেখানে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ঘটনার পরদিনই ওই অংশ ‘সংস্কারের’ নির্দেশ কেন দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল। তদন্ত চলাকালীন এই সিদ্ধান্তকে সন্দেহের চোখে দেখেছেন তদন্তকারীরা এবং বিভিন্ন মহল।

    ‘ঘটনাস্থলে হাজার হাজার মানুষের পদচারণা’

    শেখর রঞ্জন দেবনাথ আরও দাবি করেন, ঘটনার রাতভর তৎকালীন কলকাতা পুলিশের কমিশনার বিনীত গোয়েলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, অপরাধ প্রকাশ্যে আসার পর হাসপাতালের সেমিনার রুমে অসংখ্য মানুষ প্রবেশ করেছিলেন, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ ফরেন্সিক প্রমাণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তিনি দাবি করেন, সিবিআইয়ের তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২,০০০ মানুষের পদচিহ্নের উপস্থিতির কথা উঠে এসেছে।

    এখনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অনড় পরিবার

    ২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ভিতরে কর্মরত ৩১ বছর বয়সি এক পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা দেশজুড়ে প্রবল ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। চিকিৎসক মহল, ছাত্রসমাজ এবং সাধারণ মানুষের আন্দোলনে উত্তাল হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ-সহ গোটা দেশ। এই মামলায় মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায় গ্রেফতার হন এবং পরে আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। তবে শুরু থেকেই নিহত চিকিৎসকের পরিবার দাবি করে আসছে, শুধুমাত্র সঞ্জয় রায় নয়, এই ঘটনার পিছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ও প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, তদন্ত এখনও সম্পূর্ণ হয়নি এবং প্রকৃত দোষীদের অনেকেই আইনের আওতার বাইরে রয়ে গিয়েছেন।

    প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করা হয়েছে, অভিযোগ নিহতের পরিবারের

    রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন নিহত চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ। ব্যক্তিগত শোককে রাজনৈতিক লড়াইয়ে রূপান্তরিত করে তিনি বিজেপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং জয়লাভ করেন। এরপর থেকে তিনি বারবার অভিযোগ করে আসছেন যে, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, নিহত চিকিৎসকের পরিবারের এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সিবিআই, আবেশ বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্তকারী সংস্থাও এই নতুন অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি। বর্তমানে মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পরিবারের উত্থাপিত নতুন অভিযোগ তদন্তের গতিপথে কোনও প্রভাব ফেলে কি না, তা এখন দেখার।

  • France: ভারত থেকে গেছে খোদাই করা পাথর, ফ্রান্সে গড়ে উঠল স্বপ্নের হিন্দু মন্দির! উদ্বোধন সেপ্টেম্বরে

    France: ভারত থেকে গেছে খোদাই করা পাথর, ফ্রান্সে গড়ে উঠল স্বপ্নের হিন্দু মন্দির! উদ্বোধন সেপ্টেম্বরে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সেপ্টেম্বরেই ফ্রান্সে প্রথম ঐতিহ্যবাহী বিএপিএস স্বামীনারায়ণ হিন্দু মন্দিরের উদ্বোধন হচ্ছে। প্রবাসী ভারতীয়দের মতে, এটিই হবে প্যারিসের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ঐতিহ্যবাহী হিন্দু মন্দির, যা প্রাচীন ভারতীয় মন্দির স্থাপত্যশৈলী অনুসরণ করে নির্মিত হয়েছে।মন্দির নির্মাণে ব্যবহৃত বিশেষ বেলেপাথর ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে জোগাড় করা হয়েছে। সেই পাথর ভারতেই খোদাই করার পর ফ্রান্সে নিয়ে গিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে মন্দিরটি। এই প্রকল্প ভারতের সাংস্কৃতিক ও সভ্যতার ঐতিহ্যের পাশাপাশি ফ্রান্সের মানুষের ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং আগ্রহেরও প্রতীক হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

    ১৫ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান (France)

    মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষে ১৫ দিনব্যাপী বিশেষ সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা এই উৎসবে যোগ দেবেন বলেই আশা উদ্যোক্তাদের। উদ্বোধনের পর মন্দিরের দ্বার খুলে দেওয়া হবে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য। ফ্রান্সে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্য ভাভি পারেখ জানান, এই মন্দির ভারতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতিফলন। তিনি বলেন, “মন্দিরটি ভারতে নির্মিত ও খোদাই করা হয়েছে, পরে ফ্রান্সে এনে বসানো হয়েছে। এই ঐতিহাসিক উপাসনালয়ে সবাইকে স্বাগত জানাতে আমরা মুখিয়ে রয়েছি।” বিএপিএস সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও জানিয়েছেন, ভারত থেকে বিশেষভাবে আনা পাথর ব্যবহার করে মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়েছে। এটি ভারতীয় শিল্প ও স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন।

    ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক

    মন্দির উদ্বোধনের খবরটি প্রকাশ্যে আসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফ্রান্স সফরের সময়। জি-৭ সম্মেলন ও ভিভাটেক সামিটে যোগ দিতে তিনি প্যারিসে পৌঁছলে প্রবাসী ভারতীয়রা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রীও ফ্রান্সে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক অবদান এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন হিন্দু মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, বরং ইউরোপে ভারতের সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক ও সভ্যতার ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিত্বকারী কেন্দ্র হিসেবেই আত্মপ্রকাশ করবে। এর মাধ্যমে ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রসার আরও বিস্তৃত হবে বলেই ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের।

     

  • Infiltration in West Bengal: এসআইআর ও প্রশাসনিক কড়াকড়িতে থমকে অবৈধ অনুপ্রবেশের চক্র! বছরে ৯০০ কোটির ‘ধুর পারাপার’ ব্যবসা কার্যত বন্ধ

    Infiltration in West Bengal: এসআইআর ও প্রশাসনিক কড়াকড়িতে থমকে অবৈধ অনুপ্রবেশের চক্র! বছরে ৯০০ কোটির ‘ধুর পারাপার’ ব্যবসা কার্যত বন্ধ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ অনুপ্রবেশের বিশাল চক্র কার্যত ভেঙে পড়েছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের জেরে  এই চক্র একেবারেই কাজ করতে পারছে না। সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় এই নেটওয়ার্কের কার্যপদ্ধতি এবং তার আর্থিক বিস্তার পুরোপুরিভাবে ব্যহত হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমা থেকে শুরু করে সুন্দরবন পর্যন্ত সোনাই ও ইছামতী নদী সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে ছিল অসংখ্য ‘ঘাট’, যেগুলির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করানো হতো মানুষকে। স্থানীয় ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে বলা হতো ‘ধুর পারাপার’। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এই কাজ এখন প্রায় বন্ধ।

    কীভাবে চলত অনুপ্রবেশের চক্র?

    সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের দিকের দালালরা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গতিবিধি নজরে রেখে অনুপ্রবেশকারীদের সীমান্তের কাছে জড়ো করত। অন্যদিকে ভারতের অংশে থাকা ‘লাইনম্যান’রা ধান ও পাটখেতের আড়ালে থেকে বিএসএফের টহল পর্যবেক্ষণ করত। নিরাপদ সংকেত মিললেই ‘ঘাট পার্টি’ অনুপ্রবেশকারীদের সীমান্ত পার করিয়ে আনত। যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করা হতো সীমান্তের দুই দেশের সিম কার্ড। আর্থিক লেনদেন চলত মোবাইল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম, বিশেষ করে বাংলাদেশের জনপ্রিয় অ্যাপ বিকাশ (bKash)-এর মাধ্যমে।

    বছরে ৮০০-৯০০ কোটি টাকার কারবার!

    গোয়েন্দা সূত্রে খবর, প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে ভারতে প্রবেশের জন্য প্রায় ১৫ হাজার বাংলাদেশি টাকা দিতে হতো। এর মধ্যে ভারতীয় দালালদের ভাগে আসত প্রায় ৩ হাজার টাকা, যা বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হতো। অনুপ্রবেশকারীদের পরে শিয়ালদহ বা হাওড়ার মতো বড় পরিবহণ কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল গাইডদের ওপর। শুধু হাকিমপুর সীমান্ত এলাকাতেই প্রতিদিন গড়ে ৩০-৩৫ জনের অবৈধ প্রবেশ ঘটত বলে দাবি করা হয়েছে। এক একটি ঘাট থেকে মাসে প্রায় ৬ লক্ষ টাকা আয় হতো। হিসেব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১,০০০টি ঐতিহাসিক পারাপার-পয়েন্টকে কেন্দ্র করে এই অবৈধ ব্যবসার মাসিক আয় ছিল ৭০-৮০ কোটি টাকা। বার্ষিক হিসেবে যার পরিমাণ দাঁড়াত প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ কোটি টাকা।

    জাল নথি তৈরির অভিযোগ

    এই চক্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভারতীয় পরিচয়পত্র পাইয়ে দেওয়া। কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত পঞ্চায়েত প্রতিনিধি ও ব্লকস্তরের কর্মীরা ভুয়ো জন্মসনদ, ভোটার কার্ড এবং আধার কার্ড তৈরিতে সহায়তা করতেন। স্বরূপনগরের এক প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে এমনই এক জালিয়াতির অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি নকল জন্মসনদকে পুরনো দেখানোর জন্য বিশেষ কৌশলে কাগজে দাগ তৈরি করে এবং চালের বস্তার মধ্যে রেখে কৃত্রিমভাবে ‘পুরনো’ করে তুলেছিলেন। ফলে নথিটি প্রথমদিকে যাচাই প্রক্রিয়াতেও ধরা পড়েনি।

    কড়া নজরদারিতে ভেঙে পড়েছে চক্র?

    ভোটার তালিকা সংশোধন, নথি যাচাই এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের ফলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সক্রিয় এই সিন্ডিকেট এখন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সীমান্তের একাধিক চেকপোস্টে আত্মসমর্পণের ঘটনাও বেড়েছে বলে। পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে রাজ্য সরকার “ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট” (শনাক্তকরণ, বাতিল ও বহিষ্কার) নীতি গ্রহণ করে একটি কঠোর অভিযান শুরু করেছে। এই উদ্যোগের ফলে উত্তর ২৪ পরগনা ও মালদার মতো জেলাগুলোতে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে এবং অনেক অনুপ্রবেশকারী স্বেচ্ছায় সীমান্ত পেরিয়ে ফিরে যেতে শুরু করেছে।

    রাজ্য সরকারের নতুন পদক্ষেপ

    রাজ্যে পালাবদলের পরে অনুপ্রবেশ রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছেন মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের তরফে বিএসএফ-কে ১৪২.৭৯ একর জমি দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।

    • সরাসরি বিএসএফের হাতে হস্তান্তর: আটক অবৈধ বাংলাদেশিদের আদালতে না পাঠিয়ে সরাসরি বিএসএফ (BSF)-এর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য রাজ্য পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশকে (RPF) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
    • হোল্ডিং সেন্টার: অবৈধ বিদেশিদের যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হওয়ার আগে রাখার জন্য বিভিন্ন জেলায় “হোল্ডিং সেন্টার” বা আটককেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে।
    • সীমান্ত কাঁটাতার: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং অনুপ্রবেশ চক্র রুখতে রাজ্য সরকার বিএসএফের হাতে দ্রুত জমি হস্তান্তর করছে।  ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ- এর যতটা জমি প্রয়োজন, ততটাই স্থানান্তর করা হবে, বলে জানিয়েছে শুভেন্দু সরকার। সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখতে এবং সীমান্তের সুরক্ষার্থে তৎপর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। এর আগে বহুবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহর মুখে পূর্বের রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ-বিক্ষোভ, অভিযোগ শোনা গিয়েছে সীমান্তে বিএসএফ-কে জমি দেওয়ার প্রসঙ্গ নিয়ে।
    • সীমান্তে কড়া নিরাপত্তা: সীমান্ত পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাসাম্প্রতিক অভিযানে হাজার হাজার সন্দেহভাজন অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কোচবিহারের কুচলিবাড়ি ও মেখলিগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি সীমান্তে বিএসএফের সতর্ক নজরদারির কারণে একাধিক বড় অনুপ্রবেশের চেষ্টা ভেস্তে দেওয়া হয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB) এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর যৌথ টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

  • Matangini Hazra Rani Shiromani: বাংলায় প্রথম হচ্ছে দুই মহিলা স্টেট পুলিশ রিজার্ভ ফোর্স ব্যাটালিয়ন, নামকরণ মাতঙ্গিনী-রানি শিরোমণির নামে

    Matangini Hazra Rani Shiromani: বাংলায় প্রথম হচ্ছে দুই মহিলা স্টেট পুলিশ রিজার্ভ ফোর্স ব্যাটালিয়ন, নামকরণ মাতঙ্গিনী-রানি শিরোমণির নামে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইনশৃঙ্খলা-রক্ষা বাহিনীতে আরও বেশি করে মহিলাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকার। রাজ্যে এই প্রথম দু’টি বিশেষ মহিলা স্টেট পুলিশ রিজার্ভ ফোর্স ব্যাটালিয়ন (SPRF Battalions) গড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই দুই ব্যাটালিয়নের নাম রাখা হচ্ছে বাংলার দুই বীর স্বাধীনতা সংগ্রামী মাতঙ্গিনী হাজরা এবং রানি শিরোমণির (Matangini Hazra Rani Shiromani) নামে। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এবং বিশেষত নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় মহিলা পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা।

    নয়া মহিলা ব্যাটালিয়নের কাজ (Matangini Hazra Rani Shiromani)

    প্রশ্ন হল, কী কী দায়িত্ব পালন করবে নতুন মহিলা ব্যাটালিয়ন? সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বিশেষ মহিলা ব্যাটালিয়নগুলির প্রধান দায়িত্বের মধ্যে থাকবে— নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ, দাঙ্গা-বিরোধী অভিযান চালানো, এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ও উদ্ধার সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম মহিলা পুলিশ সদস্যদের দাঙ্গা দমন অভিযানে মোতায়েন করা হবে। এর মাধ্যমে রাজ্যের পুলিশ ব্যবস্থায় নারীদের ভূমিকা আরও ডানা মেলতে চলেছে। জানা গিয়েছে, মাতঙ্গিনী হাজরা মহিলা এসপিআরএফ ব্যাটালিয়নের জন্য উপযুক্ত জমি ও প্রশাসনিক সুবিধা বিবেচনা করে জায়গা বেছে নেওয়া হবে।

    মহিলা কর্মসংস্থানের নয়া সুযোগ

    এদিকে, রানি শিরোমণি মহিলা এসপিআরএফ ব্যাটালিয়ন গড়ে তোলা হবে ব্যারাকপুর পুলিশ ব্রিগেড এলাকার এসএপি (SAP) ৮ম ব্যাটালিয়নের যে ক্যাম্পাস রয়েছে, সেখানে। সেখানে আগে থেকেই যে পরিকাঠামো রয়েছে, সেটি ব্যবহার করে দ্রুত এই ইউনিটকে কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র নারীদের জন্য পৃথক পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠন রাজ্যে মহিলা কর্মসংস্থানের নয়া সুযোগ তৈরি করবে। এর (SPRF Battalions) পাশাপাশি নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ মোকাবিলা, সংবেদনশীল পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ আরও নিবিড় হবে বলেই আশা ওয়াকিবহাল মহলের। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ নারী (Matangini Hazra Rani Shiromani) ক্ষমতায়নের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কার্যক্ষমতা এবং জনসুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

     

  • FATF: সন্ত্রাসে অর্থ জোগান রুখতে ভারতের হাতে বড় শক্তি, বিশ্ব নজরদারি সংস্থার শীর্ষপদে বিবেক আগরওয়াল

    FATF: সন্ত্রাসে অর্থ জোগান রুখতে ভারতের হাতে বড় শক্তি, বিশ্ব নজরদারি সংস্থার শীর্ষপদে বিবেক আগরওয়াল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের শীর্ষ আর্থিক নজরদারি সংস্থা ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (Financial Action Task Force/ FATF)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের সচিব বিবেক আগরওয়াল (Vivek Aggarwal)। এই প্রথম ভারত থেকে কেউ এই পদে অধিষ্ঠিত হল। এই সংস্থা বিশ্বজুড়ে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এর ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগান ও মানি লন্ডারিংয়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় সাফল্য পেল ভারত। এই নিয়োগকে ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    কে এই বিবেক আগরওয়াল

    বিবেক আগরওয়াল মধ্যপ্রদেশ ক্যাডারের ১৯৯৪ ব্যাচের আইএএস অফিসার। তিনি অতীতে এফএটিএফ-এ ভারতীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (FIU)-এর পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বিবেক। সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন চিহ্নিত করা এবং মানি লন্ডারিং রোধে এফআইইউ দেশের প্রধান সংস্থা।২০২৪ সালে যখন ভারতের সর্বশেষ পারস্পরিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল, তখন তিনি কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

    ভারতের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার স্বীকৃতি

    সরকারি সূত্রের মতে, আগরওয়ালের নির্বাচন আন্তর্জাতিক মহলে সন্ত্রাসে অর্থ জোগান, মানি লন্ডারিং এবং অন্যান্য আর্থিক অপরাধ মোকাবিলায় ভারতের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পক্ষে সওয়াল করে আসছে এবং এফএটিএফ-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে সীমান্তপারের সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে এসেছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আগরওয়ালের নির্বাচনকে ভারতের জন্য একটি “বড় জয়” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর কথায়, এই নেতৃত্বের ভূমিকা বৈশ্বিক সন্ত্রাসী অর্থায়ন নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারতের নিরলস প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করে। তিনি বলেন, “ভারত যেহেতু সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শূন্য-সহনশীলতা নীতি অব্যাহত রেখেছে, এই নেতৃত্বের ভূমিকা বৈশ্বিক সন্ত্রাসী অর্থায়ন নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই এবং অবৈধ আর্থিক ব্যবস্থাগুলো ভেঙে ফেলার ওপর আমাদের নিরলস মনোযোগকে আরও জোরদার করে”। জয়সওয়াল বলেছেন, ভারতীয় এফএটিএফ প্রতিনিধিদলের প্রাক্তন প্রধান হিসেবে আগরওয়ালের ‘গভীর দক্ষতা’ আর্থিক অখণ্ডতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংস্থাটির ম্যান্ডেটকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে।

    ঐতিহাসিক নিয়োগ

    কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রক এই নিয়োগটিকে একটি “ঐতিহাসিক” নিয়োগ বলে অভিহিত করেছে। এটি ২০০টিরও বেশি অধিক্ষেত্রে ভারতের অর্জিত বিপুল আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতারই প্রতিফলন, যা ডিজিটাল পেমেন্ট ও ভার্চুয়াল অ্যাসেটের মতো উদীয়মান ঝুঁকি বিষয়ে বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণে দেশটির সক্রিয় ভূমিকাকে তুলে ধরে। এই অর্জন ভারতের প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক অখণ্ডতার প্রতি যৌথ অঙ্গীকারের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে। অর্থ মন্ত্রক এই ঘটনাটিকে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী লড়াইয়ে ভারতের ক্রমবর্ধমান নেতৃত্বের একটি “ঐতিহাসিক স্বীকৃতি” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

    এফএটিএফ কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    এফএটিএফ (FATF) হলো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধে বৈশ্বিক মানদণ্ড নির্ধারণ করে। সদস্য দেশগুলির আইন ও ব্যবস্থার মূল্যায়ন করে সংস্থাটি। পাশাপাশি, যারা আন্তর্জাতিক মান পূরণে ব্যর্থ হয়, তাদের ‘গ্রে লিস্ট’ বা ‘ব্ল্যাক লিস্ট’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিবেক আগরওয়াল এফএটিএফ (FATF)-এর নীতি নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর অভিজ্ঞতা ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে, বিশেষ করে সীমান্তপারের সন্ত্রাসে অর্থ জোগান এবং সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের আর্থিক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর ক্ষেত্রে।

    বিবেকের প্রতিক্রিয়া

    নিয়োগের পর এক বিবৃতিতে বিবেক আগরওয়াল বলেছেন যে, “এই নিয়োগটি ভারতের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং আমাদের অর্থ পাচার বিরোধী ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন বিরোধী শক্তিশালী কাঠামোর স্বীকৃতি। এই দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়ে আমি গভীরভাবে সম্মানিত এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থাকে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল রাখতে এফএটিএফ গ্লোবাল নেটওয়ার্কের সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি উন্মুখ হয়ে আছি।”

    ভারতের প্রশংসা

    উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বরে এফএটিএফ (FATF) তাদের “Asset Recovery Guidance and Best Practices” প্রতিবেদনে ভারতের সম্পদ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার প্রশংসা করেছিল। সংস্থাটি এনফোর্সমেনট ডিরেক্টরেট (ED)-কে অপরাধ ও মানি লন্ডারিং-সংক্রান্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি আদর্শ সংস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছিল। সম্পত্তি পুনরুদ্ধার নির্দেশিকা সংক্রান্ত এফএটিএফ একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। সেই রিপোর্টে অপরাধ এবং আর্থিক নয়ছয়ের সঙ্গে যুক্ত সম্পত্তি কার্যকর ভাবে বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতের পদ্ধতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে ভারতের যে আইনি বিধান রয়েছে, তারও প্রশংসা করেছে এফএটিএফ। এ ছাড়াও, তারা জানিয়েছে, ইডির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নীল নকশা অনেক বেশি গোছানো, প্রযুক্তিগত সমৃদ্ধ। এফএটিএফ ভারতের আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনের প্রশংসা করেছে। তারা উল্লেখ করেছে, এই সংক্রান্ত বিধান কোনও অভিযুক্ত দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই অপরাধে যুক্ত অর্থ এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ‘সবুজ সঙ্কেত’ দেয়। ভারতের বিভিন্ন কার্যকর তদন্তকারী সংস্থা নিজেদের মধ্যে যে সমন্বয় করে কাজ করে, তা যথেষ্ট প্রশংনীয়। এই সমন্বয়ের কথা বলতে গিয়ে এফএটিএফ সিবিআই, ইডি এবং ভারতের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (এফআইউ-আইএনডি) উল্লেখ করেছে। আর্থিক অপরাধ শুধু খুঁজে বার করা নয়, তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এবং বিচারব্যবস্থাকে একত্রীভূত করাকে ‘মডেল’ হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে।

    কড়া নজরে পাকিস্তান

    বিশ্বের কোনও দেশের আর্থিক মদতে সন্ত্রাস বা জঙ্গি কার্যকলাপ হচ্ছে কি না, তার উপর কড়া নজর রাখে এফএটিএফ। তাদের রিপোর্ট সব সময়ই গুরুত্ব পায়। কোনও দেশকে আর্থিক সাহায্য বা ঋণ দেওয়ার ব্যাপারে এফএটিএফ-এর মতামত খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। জঙ্গিগোষ্ঠীগুলিকে আর্থিক মদত দেওয়ার অভিযোগে পাকিস্তানকে দীর্ঘ দিন ধরে ধূসর তালিকাভুক্ত করে রেখেছিল এফএটিএফ। ২০২২ সালে ওই তালিকা থেকে মুক্ত করা হয় পাকিস্তানকে। তার পরেও এই সংক্রান্ত নজরদারি থেকে তারা মুক্ত নয় বলে পাকিস্তানকে সতর্ক করেছে এফএটিএফ।

LinkedIn
Share