Blog

  • Vietnam: ভিয়েতনামে পর্যটকবাহী স্পিডবোট দুর্ঘটনা, মৃত্যু অন্তত ১৫ ভারতীয়ের

    Vietnam: ভিয়েতনামে পর্যটকবাহী স্পিডবোট দুর্ঘটনা, মৃত্যু অন্তত ১৫ ভারতীয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভিয়েতনামের (Vietnam) দক্ষিণাঞ্চলের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ফু কুয়ক দ্বীপের কাছে শনিবার উল্টে গেল যাত্রিবোঝাই স্পিডবোট (Indian Tourists Capsizes)। শনিবার ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন ভারতীয় পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। মোট ৩২ জন ভারতীয় যাত্রী এবং চারজন নাবিককে নিয়ে চলা ওই স্পিডবোটটি উল্টে গেলে ঘটে দুর্ঘটনা। খবর পেয়েই দ্রুত সমুদ্রে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন। আহত ও নিখোঁজদের খোঁজে জারি রয়েছে তল্লাশি অভিযান। ফু কুয়ক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ‘ওশান পার্ল আইল্যান্ড’ নামে একটি সংস্থা পরিচালিত স্পিডবোটটি হন মে রুট দ্বীপ থেকে আন থই বন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। দুপুর ১টা নাগাদ হন মে রুট দ্বীপ থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে পৌঁছতেই উত্তাল সমুদ্রে ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে যায় সেটি। হাবুডুবু খেতে থাকেন যাত্রী ও নাবিকরা।

    শুরু হয় উদ্ধারকাজ (Vietnam)

    দুর্ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিপন্নদের উদ্ধার করতে ছুটে আসে আশপাশে থাকা পর্যটকবাহী নৌকোগুলি। শুরু হয় উদ্ধারকাজ। এক নাবিক বলেন, “আমরা পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাই। কিন্তু অনেক যাত্রী উল্টে যাওয়া নৌকোর ভেতরে আটকে পড়েছিলেন। তাই উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। অল্প কয়েকজনকেই জীবিত অবস্থায় বাইরে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।” দুর্ঘটনার পরপরই ভিয়েতনামে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানায়, তারা পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সাহায্য করতে হো চি মিন সিটি ও হ্যানয়ে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। দূতাবাসের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “ফু কুয়ক দ্বীপের কাছে ভারতীয় পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া একটি স্পিডবোট দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে এবং ঘটনার সঠিক বিবরণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সব ধরনের সাহায্য দিতে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।”

    চলছে যাচাইকরণ

    ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, সরকারি সূত্রের ভিত্তিতে স্পিডবোটে থাকা ৩২ জন ভারতীয় পর্যটকের নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। নিহত ও আহতদের শনাক্ত করতে চলছে যাচাইকরণ। পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন তথ্য প্রকাশ করা হবে (Vietnam)। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি বলেন, “ভিয়েতনামের ফু কুয়ক দ্বীপের কাছে ভারতীয় নাগরিকদের নিয়ে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় আমি অত্যন্ত মর্মাহত। যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই (Indian Tourists Capsizes)। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।” তিনি আরও জানান, ভিয়েতনামে ভারতীয় দূতাবাস ও কনস্যুলেট স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বতোভাবে সাহায্য করছে।

    অন্ধ্রপ্রদেশের মন্ত্রীর তৎপরতা

    অন্ধ্রপ্রদেশের মন্ত্রী নারা লোকেশও ঘটনাটির পরপরই প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা শুরু করেন। তিনি অন্ধ্রপ্রদেশ ভবন এবং রাজ্য সরকারের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত পর্যটকদের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের কয়েকজন বাসিন্দাও থাকতে পারেন। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা তাঁকে জানান, ভিয়েতনামে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে যাত্রীদের পরিচয় ও অবস্থার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। মন্ত্রী নির্দেশ দেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে (Vietnam)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় সমুদ্র ছিল উত্তাল। বৃষ্টি না হলেও, ঢেউ ছিল প্রবল। তার মধ্যেই চলাচল করছিল পর্যটকবাহী স্পিডবোটগুলি। স্পিডবোট পরিচালনাকারী সংস্থার এক প্রতিনিধি জানান, স্পিডবোটটি দ্বীপভ্রমণ করাতেই পর্যটকদের নিয়ে যাচ্ছিল। চালকের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাও ছিল (Indian Tourists Capsizes)।

    মে রুট দ্বীপপুঞ্জ

    প্রসঙ্গত, মে রুট দ্বীপপুঞ্জ ফু কুয়কের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। স্বচ্ছ সমুদ্রের জল, সাদা বালুকাবেলা এবং প্রবালপ্রাচীরের জন্য দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক সেখানে বেড়াতে যান। স্নরকেলিং, ডাইভিং-সহ বিভিন্ন জলক্রীড়ার জন্য এলাকাটি বিশেষ পরিচিত। আন থই বন্দর থেকে স্পিডবোটে সাধারণত ২০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যেই সেখানে পৌঁছনো যায় (Vietnam)। গত বছরও ভিয়েতনামে বড় ধরনের নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছিল। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে হা লং উপসাগরে একটি পর্যটকবাহী স্পিডবোট প্রবল ঝড়ের মধ্যে পড়ে উল্টে গেলে অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনায় বহু শিশুও প্রাণ হারিয়েছিল। পরপর এমন দুর্ঘটনার পর ভিয়েতনামের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে নৌ-নিরাপত্তা এবং (Indian Tourists Capsizes) জরুরি উদ্ধার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েই উঠছে গুচ্ছের প্রশ্ন (Vietnam)।

     

  • Baruipur Incident: ‘ছোট ঘটনা, লাভ অ্যাফেয়ার্স বলবে না সরকার!’, বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ শুভেন্দুর

    Baruipur Incident: ‘ছোট ঘটনা, লাভ অ্যাফেয়ার্স বলবে না সরকার!’, বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারুইপুরে নির্যাতিতার বাড়িতে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ বারুইপুরে গণপিটুনি কাণ্ডে (Baruipur Incident) নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের বাড়িতেও শনিবার যান মুখ্যমন্ত্রী৷ গণপিটুনিতে নিহতের পরিবারের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দিয়েছেন তিনি। যুবকের দাদাকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরিও দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, নির্যাতিতার পরিবারের পাশেও দাঁড়িয়েছে সরকার। তবে সেখানে কোনও আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে কি না, কী ভাবে পাশে দাঁড়ানো হয়েছে, তা খোলসা করতে চাননি। জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তা পরিবার জানাবে।

    নির্যাতিতার পরিবারের আবেদন মেনে পুলিশ ফাঁড়ি

    শনিবার বারুইপুরের সূর্যপুরে নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করেন শুভেন্দু। গত মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবার তাঁর সঙ্গে দেখা করে এই পুলিশ ফাঁড়ির আবেদন জানিয়েছিল। চার দিনের মধ্যেই তা প্রস্তুত করা হয়েছে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, দু’টি ঘটনাতেই অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। সূর্যপুর থেকে শুভেন্দু বলেন, ‘‘এখানে একটি একরত্তি মেয়েকে যে ভাবে অত্যাচার করে খুন করা হয়েছে, পরিবারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ যে ওঁরা তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। প্রথম থেকেই পরিবারের পাশে আছি। যে চার জনের নামে অভিযোগ করা হয়েছিল, তাঁদের পুলিশ গ্রেফতার করেছে। কেউ কেউ বসিরহাটের বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্তও পালিয়ে গিয়েছিল। ধরে আনা হয়েছে। বারুইপুর জেলা পুলিশ ভাল কাজ করেছে। বাকি যা ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে সিআইডি তদন্ত করছে। আমি কিছু বলব না।’’

    কামদুনির নির্যাতিতার পাশে সরকার

    বারুইপুরে ঘটনায় সুবিচারের আশ্বাস দেওয়ার মাঝেই ফের কামদুণি কাণ্ড নিয়েও বড় ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী৷ নির্যাতিতার পরিবারকে সরকারি আইনজীবী দিয়ে সহায়তা করা হবে, জানালেন তিনি৷ কামদুনির বিচার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘কামদুনির নির্যাতিতার পরিবার সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল৷ নির্যাতিতার পরিবারকে সরকার সরকারি আইনজীবী দিয়ে সহায়তা করবে৷ এবার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের হাতে৷ কারণ আদালতের ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারি না৷ বারাসাত আদালতের রায়কে বাতিল করেছিল সুপ্রিম কোর্ট৷ শীর্ষ আদালতে এতদিন রাজ্য সরকার বিরোধিতা করেছিল৷ কিন্তু এবার আর রাজ্য বিরোধিতা করবে না৷’’

    তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ

    পূর্বতন সরকারকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু এদিন বলেন, ‘‘এসব ক্ষেত্রে সরকার কোনও ত্রুটি রাখবে না৷ ছোট ঘটনা বলবে না, লাভ অ্যাফেয়ার্স বলবে না, মহিলা অন্ত:স্বত্তা বলবে না, ১০ লক্ষ দেওয়া যেতেই পারে, এমন কথা কেউ বলবে না৷’’ শনিবার সকাল ১১টা বেজে ৩২ মিনিট নাগাদ নির্যাতিতার বাড়িতে যান শুভেন্দু অধিকারী৷ কিশোরীর বাবা-মায়েরা সঙ্গে ১০ মিনিট কথা বলেন শুভেন্দু৷ নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘‘আমি পরিবারকে বলে এসেছি, দোষীদের কাস্টডি ট্রায়াল হবে। মুখ্যমন্ত্রীর মনিটরিংয়ে কনভিকশন হবে। সরকারের তরফে আমাদের কিছু দায়িত্ব ছিল। পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। সেটা আমি বলব না। পরিবার চাইলে বলবে।’’

    গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে শুভেন্দু

    এদিন ১১টা বেজে ৪৭ মিনিট নাগাদ তিনি যান, গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে৷ সেখানেও তাঁর বাবা-মায়েরা সঙ্গে কথা কথা বলেন তিনি৷ পরে পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়, তাঁদের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে৷ তাঁর দাদা বাপি মণ্ডলকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়া হয়েছে৷ সূর্যপুরের আউটপোস্টে তাঁর পোস্টিং হয়েছে৷ এই সব কিছুর জন্য পুলিশ এবং জেলাশাসকের প্রতি ধন্যবাদ প্রকাশ করেন শুভেন্দু ৷ বলেন, ‘‘নাম-পরিচয় দেখে খুন করা হয়েছে। ৩৫ বছরের অবিবাহিত যুবককে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়েছে। যাঁরা ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, এর পিছনে তাঁদের উস্কানি রয়েছে। ভিডিয়োতে যত জনের ছবি দেখা গিয়েছে, সকলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বকখালি, দিঘা থেকেও অভিযুক্তদের ধরে এনেছে পুলিশ।’’ নিহত ইন্দ্রজিতের দাদাকে সূর্যপুরের পুলিশ ফাঁড়িতেই সিভিক ভলান্টিয়ার হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে, জানিয়েছেন শুভেন্দু। ওই পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছে সরকার। তাঁদের বাড়ি মেরামত করে দেওয়া হয়েছে। বাবার বার্ধক্য ভাতা এবং মায়ের অন্নপূর্ণা ভান্ডার চালু করা হয়েছে। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘ছেলেটাকে তো আমরা ফেরাতে পারব না। তবে এই পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছি। ইন্দ্রের খুনিরা আইন অনুযায়ী চরম শাস্তি পাবে।’’

    ভয়ের কারণ নেই, আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

    গত রবিবার সূর্যপুরের একটি পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার করা হয়। তাকে গণধর্ষণ এবং খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সে দিন নাবালিকার দেহ ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখানো হয় এলাকায়। রেল অবরোধও করা হয়েছিল। পুলিশকে মারধর এবং রেল অবরোধের ঘটনায় পৃথক মামলা করে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। এলাকায় ধরপাকড় চলছে। নির্যাতিতার পরিবারের কাছে স্থানীয়েরা অনেকেই তা নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। শুভেন্দুকে শনিবার সে কথা বলেন নির্যাতিতার বাবা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রেললাইনের ক্ষতি করেছেন যাঁরা, তাঁরা দেশবিরোধী। তাঁদের শাস্তি পেতে হবে। তবে নিরীহ কেউ যাতে পুলিশি হেনস্থার শিকার না-হন, তা নিশ্চিত করতে বলেছেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘খুনি, ধর্ষক, ভাঙচুরকারীরা ভয়ে থাকুক। বাকিদের ভয়ের কারণ নেই।’’

  • Jammu Kashmir India: বাংলাদেশের সেমিনারে ভারতের ভুল মানচিত্র প্রদর্শন, প্রকাশ্যেই আপত্তি ভারতীয় কূটনীতিক পূজার

    Jammu Kashmir India: বাংলাদেশের সেমিনারে ভারতের ভুল মানচিত্র প্রদর্শন, প্রকাশ্যেই আপত্তি ভারতীয় কূটনীতিক পূজার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার একটি নীতিনির্ধারণী সেমিনার থেকে তামাম বিশ্বকে বড় বার্তা দিয়ে খবরের শিরোনামে ভারতীয় কূটনীতিক পূজা কুমারী ঝা (Pooja Kumari Jha)। ভারতের মানচিত্রে জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu Kashmir India) ভুল উপস্থাপন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে প্রচারের আলোকে চলে এসেছেন তিনি। ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)-এ আয়োজিত “আস্থা পুনর্গঠন, আঞ্চলিক সংহতির নবায়ন: সার্ক পুনরুজ্জীবনের পথ” শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য রাখছিলেন পূজা। সেখান থেকেই দৃঢ় গলায় জানিয়ে দেন জন্মু-কাশ্মীরের ভুল উপস্থাপন নিয়ে তাঁর প্রবল আপত্তির কথা।

    জম্মু-কাশ্মীর ভারতেরই (Jammu Kashmir India)

    জানা গিয়েছে, ঢাকার ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন ভারতে বাংলাদেশের প্রাক্তন হাইকমিশনার আহমেদ তারিক করিম। তিনি ২০০৯ থেকে ’১৪ পর্যন্ত ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বক্তব্যের সময় তাঁর উপস্থাপনায় ভারতের একটি মানচিত্র দেখানো হয়। সেই ম্যাপে জম্মু- কাশ্মীরের সীমানা ভারতের সরকারি অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। উপস্থিত দর্শকদের মধ্যেই ছিলেন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব পূজা। তিনি সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান। ভারতীয় এই কূটনীতিক বলেন, “এখানে ভারতের যে মানচিত্রটি দেখানো হচ্ছে, সেটি ঠিকঠাক নয়। জম্মু-কাশ্মীর ভারতেরই অবিচ্ছেদ্য এবং অবিচ্ছিন্ন অংশ।” তাঁর আপত্তির জবাবে আহমেদ তারিক করিম বলেন, “এই মানচিত্রটি কেবল উপস্থাপনার সুবিধার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এটি প্রকৃত আন্তর্জাতিক সীমানা তুলে ধরার উদ্দেশ্যে প্রদর্শিত হয়নি।” তবে তাঁর এই ব্যাখ্যার পরেও ভারতের সরকারি অবস্থান মনে করিয়ে দেন পূজা। বলেন, “আমি আপনার বক্তব্য বুঝতে পারছি। কিন্তু জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এবং এখানে সেটাই ভুলভাবে দেখানো হয়েছে। তাই বিষয়টি তুলে ধরা প্রয়োজন বলে মনে করেছি।”

    ঢোক গিলতে হল বাংলাদেশকে!

    এই সময় (Jammu Kashmir India) করিম জানতে চান, তিনি ভারতের প্রতিনিধি কি না। উত্তরে নিজের পরিচয় দিয়ে পূজা জানান, তিনি ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব। বাধ্য হয়ে করিম বলেন, “আপনার বক্তব্য নথিভুক্ত করা হল।” এই বলেই তিনি তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যেতে থাকেন। দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলির রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতা তুলে ধরে করিম জানান, ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলি আইনি সার্বভৌমত্ব অর্জন করলেও, তাদের পরিচয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং ভূখণ্ডগত নিরাপত্তা নিয়ে নানা উদ্বেগ রয়ে গিয়েছে। তাঁর মতে, ঔপনিবেশিক শাসন শুধু সীমান্ত নির্ধারণ করেনি, বরং রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার ধরনও বদলে দিয়েছিল। এর ফলে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলিকে অনেক সময় সহযোগী নয়, সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

    দেশভাগের জের

    তিনি আরও জানান, ঔপনিবেশিক শাসনের আগে দক্ষিণ এশিয়া কঠোরভাবে বিভক্ত ভূখণ্ড ছিল না। সাম্রাজ্য, দেশীয় রাজ্য, বাণিজ্যপথ, তীর্থযাত্রা, ভাষাগত ধারাবাহিকতা এবং পরিবেশগত সংযোগের মাধ্যমে মানুষ অবাধে চলাচল করত, বাণিজ্য হত, বিবাহ ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের চলও ছিল। দেশভাগের ফলে পরিবার, বাজার, নদী, রেলপথ, বন্দর, স্মৃতি এবং (Jammu Kashmir India) পরিচয় বিভক্ত হয়ে যায়। তাঁর ভাষায়, “দেশভাগ ছিল যেন একটি পরিবারের বাড়িকে ভাগ করে দেওয়ার মতো ঘটনা (Pooja Kumari Jha)।” সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, পারস্পরিক আস্থা এবং সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।

    কে এই পূজা?

    এদিকে, ভারতীয় কূটনীতিক পূজার এই প্রতিবাদের একটি ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিওতে দেখা যায়, মানচিত্রে আপত্তি তুলে ধরে পূজা স্পষ্ট ভাষায় ভারতের অবস্থান তুলে ধরছেন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। পূজা ভারতীয় বিদেশ পরিষেবার ২০২২ ব্যাচের আধিকারিক। ওই বছরই তিনি প্রথমবারের চেষ্টায়ই ইউপিএসসির সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সর্বভারতীয় ৮২তম স্থান লাভ করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্রই ২৫ বছর। বর্তমানে তিনি ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২২ সালে এক সাক্ষাৎকারে পূজা জানিয়েছিলেন, তাঁর শৈশব আর্থিক সঙ্কট ও সামাজিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে কেটেছে। পরিবারের দ্বিতীয় কনিষ্ঠ সন্তান হিসেবে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করেই তিনি দেশের অন্যতম কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেন।

    জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থান

    জম্মু-কাশ্মীর (Jammu Kashmir India) প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান বরাবরই এক। নয়াদিল্লির দাবি, সমগ্র জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একই সঙ্গে ভারত বরাবরই পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর খালি করার দাবি জানিয়ে এসেছে, এবং এই ইস্যুতে কোনও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে (Pooja Kumari Jha)।ঢাকার এই সাম্প্রতিক ঘটনায়ও ভারতীয় কূটনীতিক পূজা সরকারের সেই অবস্থানই আরও একবার জানিয়ে দিলেন প্রকাশ্যে। উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ সরকার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান বিআইআইএসএস। এর লক্ষ্য হল নানা আন্তর্জাতিক, নিরাপত্তা, কৌশলগত ও উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে গবেষণা ও পর্যালোচনা পরিচালনা করা। এটি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় থিঙ্ক ট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠান হিসেবেই পরিচিত (Jammu Kashmir India)।

     

  • PM Modi in New Zealand: ‘ভারত শুধু বাজার নয়, বিশ্ব প্রবৃদ্ধির লঞ্চপ্যাড’ নিউজিল্যান্ডে শিল্পমহলের সামনে বার্তা মোদির

    PM Modi in New Zealand: ‘ভারত শুধু বাজার নয়, বিশ্ব প্রবৃদ্ধির লঞ্চপ্যাড’ নিউজিল্যান্ডে শিল্পমহলের সামনে বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত এখন শুধু একটি বড় বাজার নয়, বরং বিশ্বের প্রবৃদ্ধির অন্যতম ‘লঞ্চপ্যাড’। নিউজিল্যান্ড সফরে সে দেশের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী মহলের সামনে এমনই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi in New Zealand)। একই সঙ্গে ভারত-নিউজিল্যান্ডের সদ্য স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, পরিষেবা এবং দক্ষ জনশক্তির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলেও মন্তব্য করেন মোদি। দুই দিনের নিউজিল্যান্ড সফরের অংশ হিসেবে ইন্ডিয়া-নিউজিল্যান্ড বিজনেস অ্যান্ড স্পোর্টস এনগেজমেন্ট অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাত্র নয় মাসের রেকর্ড সময়ে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর মতে, এই চুক্তির ফলে আগামী দিনে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে। এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হবে, বলেও বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর।

    ভারতের উন্নয়ন-যাত্রার অংশীদার

    প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ১৫ বছরে নিউজিল্যান্ড ভারতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। তিনি বলেন, “এটি শুধু বিনিয়োগ নয়, ভারতের উন্নয়নের যাত্রার অংশীদার হওয়ার অঙ্গীকার। ভারতের অর্থনৈতিক শক্তির কথা তুলে ধরে মোদি বলেন, “বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে ভারতের ভিত্তি এখন আরও শক্তিশালী হয়েছে। দ্রুত বাড়তে থাকা মধ্যবিত্ত, ডিজিটাল রূপান্তর এবং ব্যাপক পরিকাঠামো উন্নয়নের ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ভারত অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। সংস্কার, কর্মদক্ষতা এবং রূপান্তর— এই তিন স্তম্ভের উপরই আমাদের শাসনব্যবস্থা দাঁড়িয়ে রয়েছে। ভারতে রয়েছে নীতিগত স্থিতিশীলতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি। তাই বিশ্বের উদ্দেশে আমাদের বার্তা স্পষ্ট— ভারত শুধু একটি বাজার নয়, বিশ্ব প্রবৃদ্ধির লঞ্চপ্যাড।”

    ভারতে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ

    দেশে বিনিয়োগের নতুন সুযোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি জানান, স্মার্ট সিটিজ মিশনের অধীনে দেশের ১০০টি শহরে ৮,০০০-রও বেশি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। নগর পরিবহণ, জল ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের সংস্থাগুলিকে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকেও ভারতে ক্যাম্পাস স্থাপনের আমন্ত্রণ জানান। নিউজিল্যান্ডের মাওরি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের উদ্দেশেও বিশেষ বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভারতের প্রাচীন সভ্যতার মূল্যবোধ এবং মাওরি সংস্কৃতির মধ্যে প্রকৃতি, সমাজ ও টেকসই উন্নয়নের প্রতি একই ধরনের শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে। নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে মাওরি ব্যবসায়ীদের জন্যও বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    ইন্ডিয়া-নিউজিল্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ

    পরে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন আয়োজিত এক নৈশভোজে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদি বলেন, গত বছর লাক্সনের ভারত সফরের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক নতুন গতি পেয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ড সফর করছেন। মোদির কথায়, “আমার পূর্বসূরিরা অনেক ভালো কাজ অসম্পূর্ণ রেখে গিয়েছিলেন। সেই কাজগুলিই আমি সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করছি।” এদিন দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এ উন্নীত করে এবং ‘ইন্ডিয়া-নিউজিল্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ: রোডম্যাপ টু ২০৩০’ গ্রহণ করে। এই রোডম্যাপে বাণিজ্য, কৃষি, প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, উদ্ভাবন, শিক্ষা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের পণ্য ও পরিষেবা বাণিজ্য ৭ বিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সদ্য স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার ব্যাপারেও উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।

    লাক্সন-মোদি শীর্ষ বৈঠকে ১০টি সমঝোতা স্মারক

    লাক্সন-মোদি শীর্ষ বৈঠকে ১০টি সমঝোতা স্মারক (MoU) সাক্ষর হয়েছে। প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পর্যটন, কৃষি, ক্রীড়া, শিক্ষা ও সংস্কৃতি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য চুক্তিগুলির মধ্যে রয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী ও নিউজিল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্সের মধ্যে পারস্পরিক লজিস্টিকস সহায়তা, সামুদ্রিক সহযোগিতা, হাইড্রোগ্রাফি এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন। এছাড়া দুর্যোগ মোকাবিলা, পশুপালন ও দুগ্ধ শিল্প, পর্যটন, ক্রীড়া, সামুদ্রিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্পর্কেও একাধিক সমঝোতা হয়েছে। এছাড়াও মেরিটাইম সিকিউরিটি ডায়ালগ চালু করা, ইন্দো-প্যাসিফিক ওশানস ইনিশিয়েটিভ (IPOI)-এর সামুদ্রিক নিরাপত্তা অংশে নিউজিল্যান্ডের যোগদান, গ্লোবাল বায়োফুয়েলস অ্যালায়েন্সে সদস্যপদ গ্রহণ, নাগাল্যান্ড ও উত্তরাখণ্ডে কিউইফ্রুট সেন্টার অফ এক্সেলেন্স স্থাপন, অ্যান্টার্কটিকা গবেষণা এবং খাদ্য প্রযুক্তি শিক্ষায় সহযোগিতা বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাও করা হয়েছে।

  • Trump: “ইরানের দিকে তাক করে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র রাখা হয়েছে’’! হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন ট্রাম্প, কেন জানেন?

    Trump: “ইরানের দিকে তাক করে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র রাখা হয়েছে’’! হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন ট্রাম্প, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তাঁকে হত্যার চেষ্টা হলে ইরানের বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব সামরিক হামলার নির্দেশ আগে থেকেই দেওয়া রয়েছে বলে দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে করা এক পোস্টে তিনি জানান, ইরান যদি তাঁকে হত্যার চেষ্টা করে, তাহলে আমেরিকার পক্ষ থেকে তৎক্ষণাৎ ভয়াবহ সামরিক জবাব দেওয়া হবে।

    ট্রাম্পের বক্তব্য (Trump)

    ট্রাম্প লিখেছেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি কার্যকর করা হলে বা একজন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হত্যার চেষ্টা করা হলে ইরানের দিকে তাক করে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র রাখা হয়েছে।’’ তাঁর আরও দাবি, প্রথম দফার হামলার পরপরই হাজার হাজার অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে। ট্রাম্পের কথায়, ‘‘আগেই প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক বছরের জন্য, প্রয়োজনে যার মেয়াদ আরও বাড়ানো যেতে পারে, মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের সব এলাকা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম।” এর আগে নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেছিলেন, “আমি অনেক দিন ধরেই তাদের টার্গেট। এটাই বাস্তবতা। যদি আমার সঙ্গে কিছু ঘটে, তা হলে এমন মাত্রায় ইরানে বোমাবর্ষণের নির্দেশ দিয়ে রেখেছি, যা তারা আগে কখনও দেখেনি।’’

    ইরানের পয়লা নম্বর টার্গেট

    তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তাঁকে হত্যার নতুন কোনও ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য নেই। ইজরায়েল এই ধরনের নতুন কোনও তথ্য পেয়েছে বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “না, না। ইজরায়েল এমন কিছুই পায়নি। আমি বহু দিন ধরেই ইরানের হত্যার তালিকায় এক নম্বরে আছি। এটাই বাস্তবতা।” চলতি সপ্তাহেই নিজেকে ইরানের পয়লা নম্বর টার্গেট বলে উল্লেখ করেছিলেন ট্রাম্প। এদিন তিনি ফের জানান, ইরানকে কখনওই পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া যাবে না। তবে ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে কোনও সংঘাত হলেও, তা দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে তিনি মনে করেন না। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ট্রাম্পের নির্দেশে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের কাছে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেইমানি নিহত হন। সেই ঘটনার পর থেকেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে ইরান। পরে মার্কিন প্রশাসন ট্রাম্পকে হত্যার একাধিক কথিত ইরান-যোগের ষড়যন্ত্রের তথ্য প্রকাশ করলেও, তেহরান বরাবরই সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    যুদ্ধবিরতির অধ্যায় শেষ!

    এদিকে ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, ইরান ফের আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে ওয়াশিংটন তেহরানকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে যুদ্ধবিরতির অধ্যায় শেষ হয়ে গিয়েছে। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আমাদের কাছে আবার আলোচনায় বসার অনুরোধ জানিয়েছে। আমরা তাতে সম্মত হয়েছি। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গিয়েছে।’’

  • Suvendu Adhikari: ‘২০৯’-এর টার্গেট! রেজিনগরে পদ্ম ফোটানোর ডাক শুভেন্দুর, বললেন ‘যা চাইবেন দু’হাত ভরে দেব’

    Suvendu Adhikari: ‘২০৯’-এর টার্গেট! রেজিনগরে পদ্ম ফোটানোর ডাক শুভেন্দুর, বললেন ‘যা চাইবেন দু’হাত ভরে দেব’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের রেজিনগর উপনির্বাচনকে সামনে রেখেই রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র করে তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কর্মিসভা থেকে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ২০৯-এ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করার পাশাপাশি রেজিনগরের মানুষের জন্য একাধিক উন্নয়ন প্রতিশ্রুতিও দিলেন তিনি। একই সঙ্গে নাম না করেই নিশানা করলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে।

    ‘যা চাইবেন দু’হাত ভরে দেব’

    রেজিনগরের কর্মিসভা থেকেই কার্যত উপনির্বাচনের প্রচারের সূচনা করে দেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামে জয় নিয়ে তিনি একেবারেই আত্মবিশ্বাসী। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামটা আমার উপর ছেড়ে দিন। ওখানে কত ভোটে জিতব আমি জানি। সীমা নেই, অনেক বড় ভোটে জিতব।” এরপরই রেজিনগরের মানুষের উদ্দেশে একের পর এক প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “রেজিনগরটা দেবেন তো? একটা নয়, দুটো ব্রিজ দেব। পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরাব। যত আবাস লাগে দেব। যা চাইবেন দু’হাত ভরে দেব। নন্দীগ্রাম জিতে ২০৮ বিধায়ক হবে বিজেপির। এবার সংখ্যাটা ২০৯ হবে কিনা রেজিনগরের উপর নির্ভর করবে।”

    পদ্ম ফোটানোর লক্ষ্যে…

    রেজিনগর দীর্ঘদিন ধরেই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এখান থেকে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর ১ লক্ষ ২৩ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হন। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ছিল ৫১ শতাংশেরও বেশি। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী বাপন ঘোষ পেয়েছিলেন প্রায় ৬৪ হাজার ভোট, যা মোট ভোটের প্রায় ২৭ শতাংশ। তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছিল ১৭ শতাংশের কিছু বেশি ভোট। এই পরিসংখ্যান সত্ত্বেও উপনির্বাচনে রেজিনগর থেকেই পদ্ম ফোটানোর বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বিজেপি নেতৃত্ব।

    হুমায়ুনকে নাম না করেই আক্রমণ

    সভা থেকে হুমায়ুন কবীরের নাম উচ্চারণ না করেই তীব্র আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, “কাকে পাঠাবেন বিধানসভায়? যে ঝগড়া করবে, ধমকাবে, কমিউনিটির কথা বলবে, হিন্দু-মুসলমান করবে, মন্দির-মসজিদ করবে, না উন্নয়ন চাইবেন?” এরপর আরও কড়া সুরে তিনি বলেন, “দম্ভটা ভাঙতে হবে, অহঙ্কারটা ভাঙতে হবে। কার অহঙ্কার ভাঙতে হবে নামটা বললাম না। সামঝদারো কা ইশারা কাফি হ্যা। নাম বললে অনেকে হিরো হয়। তাই নাম বলার দরকার নেই।” উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, “উন্নয়ন যদি চান, হাতে কাজ, পেটে ভাত, মাথায় ছাদ, আরও স্কুল, আরও কলেজ, আরও রাস্তা, আরো ব্রিজ, ঘরে ঘরে জল, কৃষকের অধিকার, পরিযায়ী শ্রমিকরা বাড়ি ফিরবে– যদি চান তাহলে পদ্ম ফোটাতে হবে। ৮ বিধায়ক দিয়েছেন, ৯ জন চাই। রেজিনগরটা চাই।”

    আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কড়া বার্তা

    বহরমপুরের রবীন্দ্র সদনে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গেও কড়া অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এখানে কিছু ভাষণবাজি হয়েছে। কিন্তু কোনও বড় ঘটনা হয়নি। কোথাও পুলিশ খারাপ কাজ করলে কিংবা প্রশাসন খারাপ কাজ করলে আমাকে জানান। আমি ব্যবস্থা নেব। (কিন্তু) থানার সামনে গিয়ে কেউ বলবে, ‘এই করব, ওই করব’, কেউ বলবে, ‘জেলে ৪৭০০ লোকের জায়গা হয়, আমি তার থেকে বেশি লোক নিয়ে যাব’, দয়া করে এই সব ভাষণবাজি আর করবেন না।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যও ছিল হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পাল্টা জবাব।

    পুলিশের উদ্দেশে ‘ডু ইট নাউ’ নির্দেশ

    পুলিশ প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “ধুলিয়ান, সামশেরগঞ্জ, বেলডাঙা, রেজিনগর, শক্তিপুরের মতো ঘটনা ঘটলে কাউকে ফোন করার দরকার নেই। ভারতীয় ন্যয় সংহিতাতে যা বলা আছে, আপনি যে শৃঙ্খলিত বাহিনীর ট্রেনিং নিয়ে এসেছে সেই অনুযায়ী ডু ইট নাউ। পরিষ্কার খোলা ছুট দেওয়া হয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী সোমবার থেকেই রাজ্যে গুন্ডাদমন আইন কার্যকর হবে। তাঁর কথায়, “ট্রেন, বাস জ্বালানো, পুলিশকে মারধর— এ সব এ বার অতীত। নারীসুরক্ষা, পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মামলার বিচার হবে দ্রুত। শমসেরগঞ্জ, ধুলিয়ানে যা হয়েছে, সে সব আর হবে না। হলেই কড়া ব্যবস্থা।”

    নারী সুরক্ষায় জোর

    নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “নারী, শিশু কন্যাদের উপর অত্যাচার কার্যত ব্যধিতে পরিণত হয়েছে। এ ব্যধিকে কী করে মুক্ত করতে হয় আপনাদের বন্ধু শুভেন্দু জানে।” পুলিশের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, “থানায় থানায় মহিলা হেল্প ডেস্ক চালু হয়েছে, দুর্গা স্কোয়াড মাঠে নেমেছে। আপনারা বারুইপুরে পুলিশ মন্ত্রীর ভূমিকা দেখেছেন। আরও দেখতে পাবেন।” এরপর পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “আজই বলেছি নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির যত পুরনো কেস আছে সব বের করুন। চার্জশিট না হলে তা করুন, এফআইআর না হলে তা করুন। ছাড়া হবে না কাউকে।”

    ‘ফলতা মডেল’-এর উদাহরণ

    বক্তৃতার শেষদিকে একাধিকবার ‘ফলতা মডেল’-এর উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ফলতার মানুষ যেমন পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন, তেমনই রেজিনগরেও উন্নয়নের পক্ষে মানুষ ভোট দেবেন। বারুইপুরের সাম্প্রতিক পুলিশি পদক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ফলতার মানুষ কথা দিয়েছিল রেখেছে। বারুইপুরের ওই ছোট্ট মেয়েটির পরিবারের লোকেরাও সংখ্যালঘু। ওনারা আমার উপর আস্থা রেখেছেন। বাকিরাও রাখুন। ফল হাতেনাতে পাবেন।” রেজিনগরের উপনির্বাচনকে ঘিরে এখন থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। একদিকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক বার্তা— দুইয়ের মিশেলেই বিজেপির প্রচারের সুর স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

  • Sheikh Hasina: মৃত্যুদণ্ডের রায় সত্ত্বেও ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন হাসিনা, জানালেন আদালতে আত্মসমর্পণের কথাও

    Sheikh Hasina: মৃত্যুদণ্ডের রায় সত্ত্বেও ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন হাসিনা, জানালেন আদালতে আত্মসমর্পণের কথাও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরছেন পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। তাঁর সঙ্গেই স্বদেশে (Bangladesh) ফিরবেন নিষিদ্ধ আওয়ামি লিগের একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব। বর্তমানে ভারতে রয়েছেন হাসিনা। তিনি জানান, ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। নিজের জীবনের ঝুঁকি রয়েছে জেনেও, বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা।সংবাদসংস্থাকে দেওয়া ঘণ্টাখানেকের টেলিফোনিক সাক্ষাৎকারে আশি ছুঁইছুঁই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বলেন, “আমি দেশে ফিরব। আমায় গ্রেফতার করা হতে পারে। হত্যা করা হলেও, আমি ফিরব।”

    ‘যদি মৃত্যুই আসে…'(Sheikh Hasina)

    তিনি বলেন, “আমার দলের নেতা-কর্মীদের ওপর ভয়াবহ দমন-পীড়ন চলছে। যদি মৃত্যুই আসে, তবে আমি চাই সেটি আমার নিজের মাটিতেই আসুক, যেখানে আমার বাবা-মা শায়িত আছেন এবং যেখানে তাঁদের রক্ত ঝরেছে।” এটাই প্রথমবার, যখন হাসিনা প্রকাশ্যে দেশে ফেরার সম্ভাব্য সময়সীমা জানালেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, আওয়ামি লিগের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতাও তাঁর সঙ্গে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও। হাসিনার পাশাপাশি এঁকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের আদালত। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনের জেরে টানা কয়েক সপ্তাহের হিংসাত্মক বিক্ষোভের জেরে বাংলাদেশ (Bangladesh) ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন হাসিনা। সেনাপ্রধানের পরামর্শেই নিরাপত্তার স্বার্থে দেশ ছাড়েন বলে সেই সময় জানা গিয়েছিল। এরপর থেকে হাসিনা রয়েছেন ভারতেই।

    মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হাসিনা

    গত নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমনে তাঁর ভূমিকার অভিযোগে দেশে না থাকা অবস্থায়ও হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। যদিও প্রথম থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন পড়শি দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী (Sheikh Hasina)। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার বারবার হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন জানাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, “ঢাকার কর্তৃপক্ষ আমাকে ফেরাতে ভারতের কাছে বারবার চিঠি পাঠাচ্ছে। কিন্তু আমি নিজেই দেশে ফিরব।” তিনি জানান, দেশে ফেরার বিষয়ে কোনও বিদেশি সরকারের সঙ্গে তিনি আলোচনা করেননি। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আওয়ামি লিগের রাজনৈতিক অধিকার কোনও গোপন আলোচনার বিষয় নয়। তাই এ নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।’’ ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এর আগে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত আবেদন আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে নয়াদিল্লি ঢাকার সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

    রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা

    তাঁর বিরুদ্ধে (Sheikh Hasina) দায়ের হওয়া মামলাগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে হাসিনা বলেন, “আমি বিচারব্যবস্থার ওপর (Bangladesh) বিশ্বাস রাখি। আদালতে মামলা শুরু হলে মানুষ বুঝতে পারবেন এই বিচার কতটা প্রহসনের।” তিনি বলেন,  ‘‘আমাদের প্রায় সব নেতা এবং কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অধিকাংশই আত্মগোপন করে রয়েছেন। তাই আমি বলেছি, এ বার আমি ঘরে ফিরছি। এক দিন আপনাদের সকলকেই ফিরতে হবে। আমরা সকলে একসঙ্গে আদালতে আত্মসমর্পণ করব। বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলে আদালতের প্রহসনমূলক চরিত্র প্রকাশিত হয়ে যাবে। আমি সেটাই চাই।’’ মহম্মদ ইউনূসের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিষেধাজ্ঞার জেরে গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আওয়ামি লিগ। হাসিনা চান, তাঁর দলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করুক বাংলাদেশের জনগণ। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘‘আমাদের প্রায় সব নেতা এবং কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অধিকাংশই আত্মগোপন করে রয়েছেন।

    কারাবাসের ভয় নেই

    তিনি জানান (Sheikh Hasina), কারাবাসের ভয় তাঁর নেই। অতীতেও একাধিকবার তাঁকে জেলে যেতে হয়েছে। বিশেষ করে ২০০৭ সালে, সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁকে। অবশ্য তাঁর কারাবাস দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কারণ ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবারও ক্ষমতায় ফেরেন আওয়ামি লিগ সুপ্রিমো হাসিনা। হাসিনা এও জানান, নিষিদ্ধ হওয়ার পরেও আওয়ামি লিগকে পুনর্গঠন করতে তিনি অনলাইনে বাংলাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করছেন। তিনি মনে করেন, আওয়ামি লিগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা উচিত নয়।

    আত্মসমালোচনা হাসিনার

    দীর্ঘ ২০ বছরের রাজপাট নিয়ে আত্মসমালোচনাও করেন হাসিনা। তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলে ভুল হতেই পারে। কোনও সরকারই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তবে একটি সরকারের ভালো-মন্দের বিচার করার অধিকার জনগণের। সেই বিচার আমি জনগণের হাতেই ছেড়ে দিচ্ছি (Sheikh Hasina)।” আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে ঢাকা-দিল্লি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি হতে পারে। হাসিনা ভারত ছেড়ে নিজের দেশে না ফেরায় দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই টানাপড়েন চলছিল। চলতি বছরেই তিনি যে বাংলাদেশে (Bangladesh) ফিরবেন, তা আগেই জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী। তবে এ বার নির্দিষ্ট করে জানিয়ে দিলেন, ডিসেম্বরেই তিনি ফিরছেন বাংলাদেশে (Sheikh Hasina)।

     

  • RSS: আরএসএসের সর্বভারতীয় প্রান্ত প্রচারক বৈঠক শুরু, বেলগাভির সভায় শাখা সম্প্রসারণ, শতবর্ষ কর্মসূচিতে জোর

    RSS: আরএসএসের সর্বভারতীয় প্রান্ত প্রচারক বৈঠক শুরু, বেলগাভির সভায় শাখা সম্প্রসারণ, শতবর্ষ কর্মসূচিতে জোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার কর্নাটকের বেলগাভিতে শুরু হয়ে গেল আরএসএসের (RSS) বার্ষিক সর্বভারতীয় প্রান্ত প্রচারক বৈঠক।তিনদিনের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে (Belagavi Meet) দেশজুড়ে শাখা সম্প্রসারণের গতি বাড়ানো, শতবর্ষ উপলক্ষে নেওয়া কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং আগামী এক বছরের সাংগঠনিক অগ্রাধিকার চূড়ান্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    বৈঠকে উপস্থিত মোহন ভাগবত (RSS)

    বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলে, সমস্ত সহ-সরকার্যবাহ, সর্বভারতীয় বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, ক্ষেত্র প্রচারক, সহ-ক্ষেত্র প্রচারক, দেশের ৪৬টি প্রান্তের প্রান্ত প্রচারক ও সহ-প্রচারক এবং সংঘ-অনুপ্রাণিত বিভিন্ন সংগঠনের সাংগঠনিক মন্ত্রীরা। বৈঠকে তৃণমূল স্তরে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি বছরের মার্চের পর দেশজুড়ে আয়োজিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ শিবিরের রিপোর্ট বেলগাভির বৈঠকে বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি শাখা স্তরে গৃহীত কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়নের অগ্রগতিও খতিয়ে দেখা হবে।

    আলোচ্য সূচি

    আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে দেশব্যাপী যে শাখা সম্প্রসারণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, তার অগ্রগতি মূল্যায়নের পাশাপাশি আগামী দিনে আরও কীভাবে শাখার বিস্তার ঘটানো যায়, সেই কৌশলও নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া শতবর্ষ উপলক্ষে ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির মূল্যায়ন এবং আগামী ২০ অক্টোবর বিজয়াদশমী পর্যন্ত নির্ধারিত বাকি অনুষ্ঠানগুলির পরিকল্পনাও এই বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে। বিজয়াদশমীর দিনই বছরব্যাপী শতবর্ষ উদ্‌যাপনের সমাপ্তি হবে। বৈঠকে মোহন ভাগবতের ২০২৬-২৭ সালের দেশব্যাপী সফরসূচি এবং সংঘের অন্যান্য সাংগঠনিক অগ্রাধিকার নিয়েও আলোচনা হবে (RSS)। এদিকে, কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (কেপিসিসি) সভাপতি বি কে হরিপ্রসাদ বেলগাভিতে অনুষ্ঠিত আরএসএসের এই বৈঠক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “বেলগাভিতে কেন এই বৈঠক হচ্ছে, তা আমি জানি না। কী ধরনের বিপর্যয় ঘটে, তা দেখা যাক। তারপর আমি এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেব।” অযোধ্যার রাম মন্দিরে চুরির ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “রাম মন্দিরে চুরির ঘটনার জেরে (Belagavi Meet) কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করছে (RSS)।”

     

  • Suvendu Adhikari: আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা না পেলে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনায় মিলবে ৫ লক্ষ! বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা না পেলে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনায় মিলবে ৫ লক্ষ! বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চালু হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা। এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের কোনো নাগরিকই আর নিখরচায় চিকিৎসা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন না। মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে সমস্ত নাগরিক নির্দিষ্ট কিছু সরকারি নিয়মের গেরোয় পড়ে কেন্দ্রীয় প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন না তাঁদের জন্য রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে চালু করেছে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা। এই নতুন প্রকল্পের অধীনে উপভোক্তারা বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস অর্থাৎ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন যা কেবল পশ্চিমবঙ্গেই নয় বরং গোটা দেশের যেকোনো তালিকাভুক্ত হাসপাতালে সমানভাবে কার্যকর হবে। রাজ্য সরকারের এই মানবিক ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে চিকিৎসা বিভ্রাট ও বিপুল খরচের হাত থেকে রেহাই পাবেন কোটি কোটি সাধারণ মানুষ।

    কেন এই নতুন স্বাস্থ্য বিমা

    কেন্দ্রীয় আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী মূলত নির্দিষ্ট দিনমজুর, গৃহহীন, কাঁচা বাড়িতে বসবাসকারী, ভিখারি, রিকশাচালক এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া দরিদ্র পরিবারের মানুষেরা বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পান। এর পাশাপাশি আয়-নির্বিশেষে ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী দেশের সমস্ত প্রবীণ নাগরিক এবং অগ্রাধিকার প্রাপ্ত ও বিশেষ অগ্রাধিকার প্রাপ্ত ডিজিটাল রেশন কার্ডধারীরাও এই প্রকল্পের আওতায় ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হন। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের ঘরে ঘরে এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের ফর্ম তোলার কাজ জোরকদমে চললেও নির্দিষ্ট আর্থ-সামাজিক মাপকাঠির কারণে কারা শেষ পর্যন্ত এই সুবিধা পাবেন আর কারা বাদ পড়বেন তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে এক তীব্র সংশয় ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। জনগণের এই দুশ্চিন্তা দূর করতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সরকারের নিজস্ব প্রকল্পের কথা ভাবেন।

    পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সুরক্ষাকবচ

    মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের নিয়মের জালে আটকে যারা এই তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাবেন তাঁদেরকে সুরক্ষাকবচ দেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিজস্ব মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা। এই সমপরিমাণ ৫ লক্ষ টাকার ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা চালু হওয়ায় রাজ্যের প্রতিটি পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষা একশো শতাংশ নিশ্চিত করা সম্ভব হলো। নতুন এই ঘোষণার ফলে একদিকে যেমন দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর থেকে চিকিৎসার খরচের মস্ত বড় বোঝা নেমে গেল, অন্যদিকে তেমনই দেশের যে কোনও প্রান্তে আপদকালীন পরিস্থিতিতে বিনামূল্যে উন্নত মানের চিকিৎসা পাওয়ার পথও সুগম হলো।

    আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তি

    রাজ্য জুড়ে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির কাজ চলছে। জেলায় জেলায় ফর্ম পূরণ করছেন সাধারণ নাগরিক। তবে যাঁরা পূর্বতন সরকারের স্বাস্থ্যবিমা স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা পেতেন, তাঁরা সকলেই আয়ুষ্মান পাবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে। এর আগে নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, জুলাই থেকে রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু হবে। নাম নথিভুক্তিকরণের কাজ শুরু হয়েছে। জুলাই মাস থেকেই সরকারি স্বাস্থ্যবিমার কার্ড বিতরণ করাও সম্ভব হবে। যাঁরা স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁরাও আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন। তবে ধাপে ধাপে এগোবে গোটা প্রক্রিয়া। তৃণমূল আমলে কেন্দ্র-রাজ্য রাজনৈতিক টানাপড়েনে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে চালু হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দু জানান, আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলি সরকারি এবং তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। ভূমিহীন এবং দিনমজুর পরিবার, তফসিলি জাতি এবং জনজাতিভুক্ত পরিবার, যাঁরা কাঁচাবাড়ি কিংবা এক কামরার বাড়িতে বসবাস করেন, যে পরিবারে ১৬ থেকে ৫৯ বছর বয়সি কোনও রোজগেরে পুরুষ সদস্য নেই, তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। তবে ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে সমস্ত প্রবীণ নাগরিক এই প্রকল্পের আওতাধীন। বাকিদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।

    একাধিক সরকারি প্রকল্পের ঘোষণা

    শুক্রবার মুর্শিদাবাদে জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, যাঁরা আয়ুষ্মান পাবেন না, তাঁরা আলাদা প্রকল্পের অধীনে সরকারি স্বাস্থ্যবিমা পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার অধীনে ৫ লক্ষ টাকার সুবিধা মিলবে বলেই জানিয়েছেন তিনি।মুর্শিদাবাদের সভায় তিনি বলেন, “আমরা সাড়ে ছয় কোটি মানুষকে আয়ুষ্মান ভারত দেব। যাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না, তাঁদের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার অধীনে ৫ লক্ষ টাকা করে বিমার সুবিধা দেব। শুধু রাজ্যে নয়, যাতে ভিনরাজ্যেও এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যায়, তার ব্যবস্থা করবে আপনাদের সরকার।” শুধুমাত্র আয়ুষ্মান ভারত বা মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা রেজিনগর থেকে একাধিক সরকারি প্রকল্পের কথা শোনা গিয়েছে শুভেন্দুর মুখে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা থেকে জি রামজি প্রকল্প রাজ্যে সুষ্ঠু চালু হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান বিধি যোজনায় কেন্দ্রের ৬ হাজার টাকার সঙ্গে আরও ৩ হাজার টাকা যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যায় ‘বিদ্ধ’ মুর্শিদাবাদে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রতিশ্রুতি পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনবে বিজেপি সরকার।

  • FIFA World Cup 2026: শেষবেলায় সুপার সাবের গোল! ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন, বেলজিয়ামকে হারিয়ে সামনে এবার ফ্রান্স

    FIFA World Cup 2026: শেষবেলায় সুপার সাবের গোল! ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন, বেলজিয়ামকে হারিয়ে সামনে এবার ফ্রান্স

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দাপট বজায় রেখেই কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে (FIFA World Cup 2026) স্পেন। আরও এক বার দেশকে জেতালেন ‘সুপার সাব’ মিকেল মেরিনো। সংযুক্তি সময়ে গোল করে দলকে জেতালেন তিনি। সেমিফাইনালে স্পেনের সামনে ফ্রান্স (Spain vs France)। ফ্রান্স এবং স্পেন দুই দেশই যে এ বার বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার, তা প্রতিযোগিতা শুরুর আগে থেকেই বলছিলেন বিশেষজ্ঞেরা। তবে ইউরোপের দুই শক্তিধর দেশের দেখা ফাইনালে নয়, হচ্ছে সেমিফাইনালেই। মঙ্গলবার রাত ১২.৩০টা থেকে শুরু ম্যাচ।

    ফ্রান্সকে হুঁশিয়ারি ইয়ামালের

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে ফ্রান্সকে হুঁশিয়ারি লামিনে ইয়ামালের। তাঁর দাবি, কিলিয়ান এমবাপেদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বরং ফ্রান্সেরই উচিত তাঁদের সমীহ করা। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক জয়গুলির কথা উল্লেখ করে ইয়ামালের দাবি, প্রতিযোগিতার দুই সেরা দলের লড়াই হবে। ইয়ামাল মনে করছেন সেমিফাইনালে চাপে থাকবে দিদিয়ের দেশঁর দলই। ১৮ বছরের স্ট্রাইকার বলেছেন, ‘‘আমরা সত্যিই খুব উত্তেজিত। বিশ্বকাপ শুরুর সময়েই আমরা এই ম্যাচটা খেলার আশায় ছিলাম। স্পেন-ফ্রান্স ম্যাচের প্রত্যাশা ছিল। আমার মতে, প্রতিযোগিতার সেরা দুটো দল মুখোমুখি হতে চলেছে।’’ বিশ্বকাপে বেশ ভাল খেলছে ফ্রান্স। এমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে স্পেন কি খেলার ধরন বদল করবে? ইয়ামাল মনে করেন না, এমন কিছুর প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘‘এমন একটা দলের বিরুদ্ধে খেলা পড়েছে, যারা নিশ্চিত ভাবে আমাদের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করবে। তবে গোটা ম্যাচ চাপে রাখতে পারবে না। আমরা আমাদের মতোই খেলব। ফ্রান্স যদি কোনও দলকে সমীহ করে, সেটা আমরাই। কারণ আমরাই ওদের আগের প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে দিয়েছিলাম।’’

    সেমিফাইনালে চাপে ফ্রান্স!

    ২০২৪ সালের ইউরোর সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে তাঁদের ২-১ ব্যবধানে জয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন ইয়ামাল। যখন তাঁর বয়স ছিল ১৬। ইয়ামালের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে দু’দলের ম্যাচের ফলাফলগুলিই ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে চাপে রাখবে। বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত একটি গোল করেছেন ইয়ামাল। তবে সবচেয়ে বেশি ১৭টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন। শেষ দু’টি ম্যাচে গোলে ন’টি শট মেরেছেন বার্সেলোনার স্ট্রাইকার। ইয়ামাল অবশ্য ব্যক্তিগত সাফল্যকে গুরুত্ব দিতে চাইছেন না। তিনি বলেছেন, ‘‘এটা হতাশার কোনও কারণ নয়। আমি তো ইউরো কাপেও একটা গোল করেছিলাম। দল যতক্ষণ এগিয়ে চলেছে, ততক্ষণ ভাবার বা হতাশার কোনও কারণ নেই। দলই আমার কাছে আগে। আশা করছি, আমরা আরও একটা ভাল জয় পাব।’’ ফ্রান্সে এমবাপের মতো ফুটবলার রয়েছেন। তাও সেমিফাইনাল নিয়ে দৃঢ়চেতা ইয়ামাল বলেছেন, ‘‘আমরা আত্মবিশ্বাসী। ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। আরে শেষ দুটো ম্যাচে আমরাই জিতেছি। ওদেরই বরং আমাদের ভয় পাওয়া উচিত। সেমিফাইনালে উঠে আমরা খুশি। আমরা বেশ ভাল খেলছি। অন্য দলগুলো আমাদের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। আমরা এখানে এসেছি ট্রফি জিততে। সেটাই আসল।’’

    সুপার-সাবের গোলেই বাজিমাত

    পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে যেখানে শেষ করেছিলেন, বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে সেখান থেকেই যেন শুরু করলেন মিকেল মেরিনো। শেষ মুহূর্তে বদলি হিসেবে নেমে গোল করে আগের ম্যাচে স্পেনকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। এবার একই নাটকের পুনরাবৃত্তি করে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুললেন লা রোজাদের। শুক্রবার রাতে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের হয়ে গোল করেন ফাবিয়ান রুইজ ও মিকেল মেরিনো। বেলজিয়ামের একমাত্র গোলটি করেন চার্লস ডি কেটেলেয়েরে।

    গোলকিপারদের লড়াই, চোট কুর্তোয়ার

    ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল এবং আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে স্পেন। লামিন ইয়ামাল, দানি ওলমো, ফেরান তোরেসরা একের পর এক আক্রমণ শানালেও বেলজিয়ামের গোলপোস্টের নিচে যেন প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন থিবাউট কুর্তোয়া। ৩০ মিনিটে অবশেষে গোলের দেখা পায় স্পেন। ইয়ামালের সঙ্গে দারুণ ওয়ান-টু খেলে পেদ্রো পোরো বল বাড়ান দানি ওলমোকে। ওলমোর নিচু শট প্রথমে ঠেকিয়ে দেন কুর্তোয়া। কিন্তু ফিরতি বলে সুযোগ নষ্ট করেননি ফাবিয়ান রুইজ। পাঁচ মিনিট পর আবারও ইয়ামালের দারুণ ফ্রি-কিক অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন কর্তোয়া। স্পেনের একের পর এক আক্রমণের মাঝেও সুযোগের অপেক্ষায় ছিল বেলজিয়াম। ৪১ মিনিটে সেই সুযোগ কাজে লাগান চার্লস ডি কেটেলেয়েরে। কেভিন ডি ব্রুইনের নিখুঁত ক্রসে গোলমুখে হেড করে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন তিনি। ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ। এই গোলটা খেয়ে সিমন ৬৪৯ মিনিট পর গোল খেলেন। দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার কমায়নি স্পেন। ৫৮ মিনিটে দূরপাল্লার শটে ইয়ামালকে হতাশ করেন কুর্তোয়া। এরপর ৬১ মিনিটে ফের একক প্রচেষ্টায় গোলের সুযোগ তৈরি করলেও বেলজিয়ান গোলরক্ষক দুর্দান্ত সেভ করেন। অন্যদিকে, ডি ব্রুইনের শট দারুণভাবে আটকে দেন স্পেন গোলকিপার উনাই সিমন। দুই গোলকিপারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচের উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। ৭১ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন থিবাউট কুর্তোয়া। চোখে জল নিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি। তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামেন সেনে লামেন্স। কর্তোয়ার বিদায়ের পরও বেশ কিছুক্ষণ বেলজিয়ামের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি স্পেন।

    মিকেল মেরিনোর ম্যাজিক

    ৮৪ মিনিটে দানি ওলমোর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মিকেল মেরিনো। মাঠে নামার মাত্র ১১৫ সেকেন্ড পরই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন তিনি। ৮৮ মিনিটে পাউ কুবার্সির দূরপাল্লার শট প্রথমে ঠেকালেও বল পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি লামেন্স। সেই সুযোগ লুফে নিয়ে গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন মেরিনো। এই গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন। শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষেও বদলি নেমে জয়সূচক গোল করেছিলেন মেরিনো। এবার কোয়ার্টার ফাইনালেও একই কীর্তি গড়লেন তিনি। এর ফলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা দুই ম্যাচে ৮০ মিনিটের পর জয়সূচক গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়লেন স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার। এছাড়া মাঠে নামার ১১৫ সেকেন্ডের মধ্যে গোলটি বিশ্বকাপে স্পেনের কোনও বদলি ফুটবলারের দ্রুততম গোল। এতদিন এই রেকর্ড ছিল ১৯৮২ সালে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে এনরিকে সাউরার (১৫৯ সেকেন্ড)।

     

     

     

LinkedIn
Share