Blog

  • Asian Games 2026: হকি থেকে কুস্তি—এশিয়ান গেমসে ১৩তম দিনে ভারতের ঝুলিতে ৬ সোনা-সহ ১০ পদক

    Asian Games 2026: হকি থেকে কুস্তি—এশিয়ান গেমসে ১৩তম দিনে ভারতের ঝুলিতে ৬ সোনা-সহ ১০ পদক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ান গেমসের ১৩তম দিনটি ভারতের ক্রীড়াক্ষেত্রে স্মরণীয় হয়ে থাকল। একদিনেই ৬টি সোনা, ২টি রুপো এবং ২টি ব্রোঞ্জ-সহ মোট ১০টি পদক জিতে নিল ভারত। তিরন্দাজি, বক্সিং, কুস্তি এবং হকিতে একের পর এক সাফল্যে উজ্জ্বল হয়ে উঠল ভারতের পদক তালিকা। দিনের সবচেয়ে বড় সাফল্য এল ভারতীয় মহিলা হকি দলের হাত ধরে—৪৪ বছর পর এশিয়ান গেমসে (Asian Games 2026) সোনা জিতে তারা সরাসরি ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে জায়গা নিশ্চিত করল। শেষে মহিলা হকি দলের ১-০ ব্যবধানে চিনকে হারানো সেই দিনকে আরও স্মরণীয় করে তুলল। চলতি এশিয়ান গেমসে ১৬টি সোনা হল ভারতের।

    ৪৪ বছর পর মহিলা হকিতে এশিয়ান গেমস সোনা

    দিনের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ভারতীয় মহিলা হকি দলের হাত ধরে। গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে ফাইনালে চিনকে ১-০ গোলে হারিয়ে ৪৪ বছর পর এশিয়ান গেমসে মহিলা হকির সোনা জেতে ভারত। ফাইনালের একমাত্র গোলটি করেন লালরেমসিয়ামি। তাঁর গোলই শেষ পর্যন্ত ভারতের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে। এই সোনার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় অলিম্পিক্সের টিকিট নিশ্চিত হওয়ায়। এশিয়ান গেমসের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে ভারত সরাসরি ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ১৯৮২ সালে প্রথম এশিয়ান গেমসে মহিলা হকিতে সোনা জিতেছিল ভারত। তার পর এ বারই সোনা জিতল তারা। ম্যাচের আগে সম্মান জানানো হয় লালরেমসিয়ামিকে। তিনি ২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন। সেই ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখলেন গোল করে। তাঁর একমাত্র গোলেই ভারত এশিয়াডে সোনা জিতল দীর্ঘ দিন পর। গত অলিম্পিক্সে রুপো পেয়েছিল চিন। মহিলাদের হকিতে তারা যথেষ্ট শক্তিশালী দল। এ দিন শুরু থেকেই আক্রমণ করতে থাকে তারা। বার বার ঢুকে পড়তে থাকে ভারতের ডি বক্সে। তবে খেলার বিপরীতে গিয়ে প্রথম কোয়ার্টারেই এগিয়ে যায় ভারত। চিনের ডি বক্সে বল পেয়েছিল ভারত। বৃত্তের মধ্যে থেকে লালরেমসিয়ামির শট গোলে ঢুকে যায়। লেখা হয়ে যায় ইতিহাস।

    জন্মদিনে সোনার মুকুট লাভলিনার

    নিজের জন্মদিনেই সোনা জিতে নিলেন ভারতীয় বক্সার লাভলিনা বরগোহাঁই। মহিলা ৭৫ কেজি বিভাগের ফাইনালে চিনের বাও জিই-কে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা নিশ্চিত করেন তিনি। এই সাফল্যের ফলে এশিয়ান গেমসে সোনা জেতা দ্বিতীয় ভারতীয় মহিলা বক্সার হলেন লাভলিনা। এর আগে ২০১৪ সালে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন এমসি মেরি কম। আগের এশিয়ান গেমসে রুপো জিতেছিলেন লাভলিনা। এবার সেই রুপোকে সোনায় বদলে দিলেন তিনি। জয়ী হওয়ার পর লাভলিনা বলেন, “আমি খুব ভালো অনুভব করছি। ভেবেছিলাম জন্মদিনে নিজেকেই সোনার পদক উপহার দিতে হবে। এক মুহূর্তের জন্যও হারার কথা মাথায় আসেনি। লড়াইটা কঠিন ছিল, কিন্তু আমি সব সময় ভেবেছি যে আমাকে জিততেই হবে।”

    প্রত্যাবর্তনের পর পারভিন হুডার সোনা

    বক্সিংয়ে ভারতের দ্বিতীয় সোনা আসে পারভিন হুডার হাত ধরে। মহিলা ৬৫ কেজি বিভাগের ফাইনালে চিনা তাইপেইয়ের চেন নিয়েন-চিনকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জেতেন পারভিন। চেন নিয়েন-চিন প্যারিস অলিম্পিক্সে ব্রোঞ্জ পদকজয়ী। তাঁর বিরুদ্ধে এই জয় তাই পারভীনের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই সাফল্যের সঙ্গে ভারতীয় মহিলা বক্সিংয়ের ইতিহাসেও নাম লেখালেন পারভীন। এশিয়ান গেমসে সোনা জেতা ভারতীয় মহিলা বক্সারদের তালিকায় তিনি তৃতীয়। এর আগে ২০১৪ সালে মেরি কম এবং এদিনই লভলিনা এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।

    মহিলা রিকার্ভ দলগত তিরন্দাজিতে ঐতিহাসিক সোনা

    দিনের শুরুতেই ইতিহাস গড়ে ভারত। মহিলা রিকার্ভ দলগত ইভেন্টের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-৩ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জেতে অঙ্কিতা ভকত, কীর্তি শর্মা এবং ১৭ বছরের কুমকুম মহোদের দল। কঠিন আবহাওয়া ও প্রবল বাতাসের মধ্যেও ভারতীয় তিরন্দাজরা অসাধারণ সংযম দেখান। সেমিফাইনালে চিনকে ৫-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ভারত। এরপর কুমকুম মহোদ ধীরজ বোম্মাদেভারার সঙ্গে মিশ্র রিকার্ভ দলগত ইভেন্টেও ফাইনালে পৌঁছন। এশিয়ান গেমসে এই ইভেন্টে প্রথমবার ফাইনালে ওঠে ভারত। তবে ফাইনালে চিনের কাছে ৩-৫ ব্যবধানে হেরে রুপোতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের।

    সুজিতের অবিশ্বাস্য কামব্যাক

    কুস্তির ম্যাটেও দেখা গেল নাটকীয় প্রত্যাবর্তন। পুরুষদের ৬৫ কেজি ফ্রিস্টাইল বিভাগের ফাইনালে তাজিকিস্তানের আবদুলমজিদ কুদিয়েভের বিরুদ্ধে একসময় ২-৯ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন সুজিত কালকাল। ম্যাচ প্রায় হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার মুহূর্তে দুর্দান্ত আক্রমণে ফিরে আসেন ভারতীয় কুস্তিগির। শেষদিকে একের পর এক পয়েন্ট তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ১০-৯ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেন তিনি। সেমিফাইনালেও বড় চমক দিয়েছিলেন সুজিত। জাপানের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন কোটারো কিয়োকাওয়াকে ৩-৩ ব্যবধানে আটকে দিয়ে ক্রাইটেরিয়ায় ফাইনালে ওঠেন তিনি।

    ২০১৮-এর পর পুরুষ বক্সিংয়ে আবার সোনা

    ভারতের তৃতীয় বক্সিং সোনা আসে পুরুষদের ৮০ কেজি বিভাগে। আনকুশ পাংহাল জিতে নেন এশিয়ান গেমসের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব। এই সাফল্যের মাধ্যমে ২০১৮ সালের পর প্রথমবার কোনও ভারতীয় পুরুষ বক্সার এশিয়ান গেমসে সোনা জিতলেন। ফলে একই দিনে লাভলিনা, পারভিন এবং আনকুশ—তিন ভারতীয় বক্সারের হাত ধরে তিনটি সোনা আসে।

     

     

     

     

  • Putin Praised PM Modi: ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে মোদির ‘ভালো ভাবনা’ রয়েছে! ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় প্রেসিডেন্ট পুতিন

    Putin Praised PM Modi: ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে মোদির ‘ভালো ভাবনা’ রয়েছে! ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় প্রেসিডেন্ট পুতিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Putin Praised PM Modi)। তাঁর দাবি, সংঘাতের অবসান ঘটাতে মোদির কাছে ‘ভালো ভাবনা’ রয়েছে এবং তিনি উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ খুঁজতে আগ্রহী। এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুতিন বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী মোদি নিয়মিতভাবে ইউক্রেন সংঘাতের অবসানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। পুতিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেই বিশ্বনেতাদের একজন, যিনি আমাদের অত্যন্ত ভালো বন্ধু। তবে রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও ইউক্রেন সংঘাতের অবসানের বিষয়টি নিয়মিতভাবে তিনি তুলে ধরেছেন।”

    সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে আগ্রহী মোদি

    রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের (India Russia Relation) বিষয়ে মোদির গভীর আগ্রহ রয়েছে। তাঁর মতে, পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার লক্ষ্যে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কিছু ‘খুব ভালো ভাবনা’ রয়েছে। পুতিনের ভাষায়, মোদি এ বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছেন, তবে একইসঙ্গে সংঘাতের অবসানের ব্যাপারে তাঁর গভীর আগ্রহ রয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট এ ধরনের উদ্যোগের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানান। তিনি বলেন, “শান্তিপূর্ণ উপায়ে এবং যত দ্রুত সম্ভব এই সংঘাতের অবসান ঘটানোর তাঁর ইচ্ছার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”

    সংলাপ ও কূটনীতির ওপর জোর ভারতের

    ইউক্রেন সংঘাতের শুরু থেকেই ভারত সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও একাধিকবার বলেছেন, সংঘাতের সমাধানে আলোচনা ও কূটনীতিই এগিয়ে যাওয়ার পথ। আগস্টে জাপানের সংবাদপত্র দ্য ইয়োমিউরি শিমবুন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোদি বলেন, ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান ‘নীতিনিষ্ঠ ও মানবিক’। তাঁর দাবি, এই অবস্থান রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি—উভয়ের কাছেই প্রশংসিত হয়েছে। মোদি জানান, দুই নেতাই তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সংঘাতের পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভারত তার নীতিনিষ্ঠ ও ধারাবাহিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে সংঘাতের সমাধানে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর জোর দিয়েছে।

    শান্তি প্রচেষ্টায় সহযোগিতার বার্তা

    ইউক্রেন সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে অর্থবহ উদ্যোগকে ভারত সমর্থন করতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন মোদি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় দেশের সঙ্গেই ভারতের সুসম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে দ্রুত এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। সম্প্রতি সেপ্টেম্বর মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও পুতিনের বৈঠক হয়। সেখানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য, পরিকাঠামো, জ্বালানি, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি দুই দেশ তাদের ‘প্রোগ্রাম ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন ২০৩০’ বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা করে।

    বরাবরই শান্তির পক্ষে ভারত

    চোখের বদলে চোখ উপড়ে নিলে একদিন গোটা পৃথিবী অন্ধ হয়ে যাবে, মন্তব্য করেছিলেন মহাত্মা গান্ধী। একটানা চলা দুই যুদ্ধ— ইউক্রেন-রাশিয়া ও আমেরিকা-ইরানে কার্যত সেই অবস্থা! ভেঙে পড়ছে ভারত-সহ গোটা পৃথিবীর অর্থনীতি। এই অবস্থায় ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগের প্রশংসা করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ২ অক্টোবর গান্ধীর জন্মদিনে রুশ প্রেসিডেন্টের বার্তা, যুদ্ধের বদলে শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিষয়ে মোদির কাছে “দুর্দান্ত কিছু ভাবনা” রয়েছে। গত মাসে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফর করেন পুতিন। সেই সময় রুশ প্রেসিডেন্টের সামনেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ১১ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে মোদি বলেছিলেন, সংঘাত নিরসনে আলোচনা ও কূটনীতিই একমাত্র পথ। উল্লেখ্য, দুটি যুদ্ধ (ইউক্রেন-রাশিয়া ও আমেরিকা-ইরান) অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে দেশে খাদ্যাভাব দেখা দিতে পারে, কদিন আগেই এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। নেপথ্যে জ্বালানি, সারের মতো জরুরি পণ্য সামগ্রী আমদানিতে বাঁধা। এই অবস্থায় যুদ্ধ থামাতে মরিয়া চিরকাল শান্তিপ্রিয় ভারত।

    রুশ প্রেসিডেন্টের শ্রদ্ধা

    রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধে ভারত বরাবর নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে। মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়লেও সংঘাতের প্রশ্নে কখনও কোনও এক পক্ষকে সমর্থন জানায়নি নয়াদিল্লি। ভারতের এই অবস্থানকে শ্রদ্ধা করে রাশিয়া, এবার তা নিজেই বুঝিয়ে দিলেন পুতিন। সেই সঙ্গে জানালেন, শান্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে মোদীর চেষ্টা এবং চিন্তাভাবনাগুলি যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য। মস্কোয় ভালদাই ফোরাম অফ ইন্টারন্যাশনাল রাশিয়া এক্সপার্টের মঞ্চে ভাষণ দিতে গিয়ে মোদীর প্রসঙ্গ টানেন পুতিন। বলেন, ‘‘নরেন্দ্র মোদী সেই রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে একজন, যিনি আমাদের মধ্যে খুব ভাল ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বার বার ইউক্রেনের সঙ্গে সংঘাত থামানোর বিষয়ে কথা বলেন এবং এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।’’

     

     

     

     

     

  • PM Modi Smit Machchhar Talk: ‘এটা না ঘটলে ভারতীয় পাইলটদের কী সহ্য করতে হত কে জানে’, মচ্ছরকে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা মোদির

    PM Modi Smit Machchhar Talk: ‘এটা না ঘটলে ভারতীয় পাইলটদের কী সহ্য করতে হত কে জানে’, মচ্ছরকে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাঝআকাশে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা রুখে দেওয়া ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সঙ্গে কথা বলার সময় গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে চিকিৎসাধীন মচ্ছরের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনায় পরিস্থিতি অন্যরকম হলে শুধু বিমানে থাকা যাত্রীদের জীবনই বিপন্ন হত না, ভারতীয় পাইলটদের নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারত। তাঁর মতে, মচ্ছরের সাহসিকতা কার্যত বহু মানুষের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি ভারতীয় পাইলটদের ভাবমূর্তিও রক্ষা করেছে।

    ‘কীভাবে দেখা হত ভারতীয় পাইলটদের, কে জানে’

    মচ্ছরের সঙ্গে কথোপকথনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘যদি এটা না ঘটত, কে জানে ভারতকে কী কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হত, ভারতীয় পাইলটদের কী কী সহ্য করতে হত এবং ভারতীয় পাইলটদের কীভাবে দেখা হত। আপনি সবাইকে বাঁচিয়েছেন। আপনি অত্যন্ত বড় কাজ করেছেন।’’

    প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের তাৎপর্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি অংশের তরফে এমন প্রশ্ন উঠেছিল—বিমানটি যদি শেষ পর্যন্ত দুর্ঘটনার শিকার হত, তাহলে কি পুরো ঘটনার দায় ভারতীয় ক্যাপ্টেনের উপর চাপত? প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ওই সামাজিক মাধ্যমের পোস্টগুলির উল্লেখ করেননি। তবে তাঁর বক্তব্যে ভারতীয় পাইলটদের ভাবমূর্তি নিয়ে যে আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে, তা সেই বিতর্কের সঙ্গেই সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে।

    ‘ভারতীয়রা প্রাণ নেয় না, প্রাণ বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রাখে’

    মোদির কথায়, ‘‘দেশ গর্ব করে বলতে পারে, ভারতীয়রা এমন মানুষ নয় যারা প্রাণ নেয়। বরং অন্যদের বাঁচাতে নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে প্রস্তুত।’’ এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মচ্ছরের ভূমিকার বৃহত্তর তাৎপর্য তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি কেবল একটি বিমানের ভিতরে হামলা প্রতিহত করার ঘটনা ছিল না। একজন ভারতীয় পাইলট হিসেবে মচ্ছর এমন পরিস্থিতিতে নিজের জীবন বিপন্ন করে যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

    কী হয়েছিল সেই বিমানে?

    ইজরায়েলের তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই বিমানে মাঝআকাশে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। অভিযোগ, ওমানি কো-পাইলট আচমকাই ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর ছুরি নিয়ে হামলা চালান। গুরুতর আঘাত পেয়েও মচ্ছর প্রতিরোধ চালিয়ে যান।

    পরিস্থিতি সামলাতে তিনি ককপিটের দরজা খুলে দেন। এরপর যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন। এই পদক্ষেপের ফলে সম্ভাব্য বিমান ছিনতাই বা আরও বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয় বলে জানা গিয়েছে।

    বিমানে ১৭০-রও বেশি যাত্রী ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে মচ্ছরের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং আত্মসংযমই বড় বিপর্যয় ঠেকানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় বলে তাঁর প্রশংসা করা হচ্ছে।

    ‘আমি হনুমান চালিসা পাঠ করছিলাম’

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনে ৩৯ বছর বয়সি দুই সন্তানের বাবা মচ্ছর জানান, হামলার সময় তিনি হনুমান চালিসা পাঠ করছিলেন। গুরুতর আহত হওয়ার পরেও তিনি নিজেকে সামলে নিয়ে ফের পরিস্থিতির মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নেন।

    মচ্ছর প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘‘আমি এত আঘাত পেয়েছিলাম। কিন্তু নিজেকে বলেছিলাম, আমাকে উঠতেই হবে এবং ব্যবস্থা নিতেই হবে। তা না হলে আমি মারা যেতাম।’’

    তাঁর এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, হামলার মুহূর্তে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ ছিল এবং নিজের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি বিমানে থাকা অন্যদের নিরাপত্তার দায়িত্বও তাঁকে একই সঙ্গে সামলাতে হয়েছিল।

    কেন মোদির মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ?

    মচ্ছরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কথোপকথনের পর নতুন করে সামনে এসেছে সামাজিক মাধ্যমের সেই বিতর্ক। ঘটনার পর একাংশের পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, বিমানটি যদি তেল আভিভে পৌঁছনোর আগেই ভেঙে পড়ত, তাহলে ভারতীয় ক্যাপ্টেনের দক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারত।

    কিছু পোস্টে এমনও দাবি করা হয়, কো-পাইলটের হামলা সফল হলে শেষ পর্যন্ত ক্যাপ্টেনকেই বিমানটির পরিণতির জন্য দায়ী করা হত। তবে এগুলি সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীদের বক্তব্য; এগুলিকে কোনও সরকারি তদন্তের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যায় না।

    প্রধানমন্ত্রীও তাঁর বক্তব্যে এই পোস্টগুলির সত্যতা বা কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির অভিযোগকে সমর্থন করেননি। বরং তিনি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ঘটনাটি অন্যভাবে ঘটলে ভারতীয় পাইলটদের কীভাবে দেখা হত, তা বলা কঠিন।

    এয়ার ইন্ডিয়া এআই১৭১ দুর্ঘটনার প্রসঙ্গও কেন উঠছে?

    মোদির মন্তব্যের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট রয়েছে। ২০২৫ সালের ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার এআই১৭১ বিমান দুর্ঘটনার তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে তখন আলোচনা চলছিল।

    বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিমানে থাকা ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জনের মৃত্যু হয়। মাটিতে থাকা আরও ১৯ জন প্রাণ হারান।

    দুর্ঘটনার প্রায় এক মাস পরে প্রকাশিত প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছিল, উড্ডয়নের পর বিমানের দুই ইঞ্জিনের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণকারী সুইচ প্রায় একই সময়ে অন্য অবস্থানে চলে গিয়েছিল। সেই রিপোর্টে পাইলটদের উপর কোনও দায় চাপানো হয়নি।

    তবে ককপিট ভয়েস রেকর্ডারের একটি সংক্ষিপ্ত অংশকে কেন্দ্র করে কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে পাইলটদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কেন্দ্রের তরফে একাধিকবার স্পষ্ট করা হয়েছিল যে, প্রাথমিক রিপোর্টে পাইলটদের দায়ী করা হয়নি।

    দুই ঘটনার মধ্যে পার্থক্য কী?

    এআই১৭১ দুর্ঘটনা এবং ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনাটি এক নয়। একটি হল দুর্ঘটনা, অন্যটি হল বিমানের ভিতরে সম্ভাব্য হামলা ও ছিনতাইয়ের চেষ্টা প্রতিহত করার ঘটনা। তাই দুটির তদন্ত, পরিস্থিতি এবং দায় নির্ধারণের বিষয়ও আলাদা।

    তবে দুটির মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা তৈরি হয়েছে—বিমান দুর্ঘটনা বা মাঝআকাশে গুরুতর বিপদের ক্ষেত্রে পাইলটের ভূমিকা কীভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং তদন্তের আগে সামাজিক মাধ্যমে কীভাবে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়ে।

    এই প্রেক্ষাপটেই মচ্ছরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কথোপকথনে ভারতীয় পাইলটদের ভাবমূর্তির প্রসঙ্গ বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

    ‘শুধু বিমান নয়, আরও বড় কিছু বাঁচিয়েছেন’

    মচ্ছর বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে চিকিৎসাধীন। হামলার সময় গুরুতর আহত হওয়ার পরেও তিনি যে ভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তা আন্তর্জাতিক স্তরেও প্রশংসিত হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্যে সেই সাহসিকতার পাশাপাশি আরও একটি দিক সামনে এসেছে—বিপদের মুহূর্তে একজন ভারতীয় পাইলটের সিদ্ধান্ত শুধু বিমানে থাকা যাত্রীদের জীবনই নির্ধারণ করতে পারে না, সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাঁর পেশাগত পরিচয় এবং বৃহত্তরভাবে ভারতীয় বিমানচালকদের ভাবমূর্তিও জড়িয়ে থাকতে পারে।

    মচ্ছরের ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্তের ফল হয়েছে জীবনরক্ষা। আর সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে কথোপকথনে বলেছেন, ‘‘আপনি সবাইকে বাঁচিয়েছেন। আপনি অত্যন্ত বড় কাজ করেছেন।’’

    মচ্ছরের সাহসিকতা তাই এখন শুধু একটি বিমানকে সম্ভাব্য বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার ঘটনা নয়; মাঝআকাশের সংকটময় মুহূর্তে পাইলটের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে জনপরিসরে তৈরি হওয়া বয়ান—সবকিছুকেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

  • ED Investigation: ইন্দ্রনীলের সংস্থা থেকে মমতার অ্যাকাউন্টে ‘ট্রান্সফার’ ৩০ লক্ষ টাকা! বড় দাবি ইডির, ইউনেস্কো-কাণ্ডের তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়

    ED Investigation: ইন্দ্রনীলের সংস্থা থেকে মমতার অ্যাকাউন্টে ‘ট্রান্সফার’ ৩০ লক্ষ টাকা! বড় দাবি ইডির, ইউনেস্কো-কাণ্ডের তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে একের পর এক তথ্য সামনে আনছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক-নেতা ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি সংস্থা ও ব্যক্তির আর্থিক লেনদেন। ১ অক্টোবর প্রকাশিত ইডির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, মাসআর্ট সোসাইটির মাধ্যমে টিকিট বিক্রি, সরকারি টেন্ডার এবং ইন্দ্রনীলের সঙ্গে যুক্ত ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর ব্যাঙ্ক লেনদেন—এই তিনটি সূত্রে আর্থিক অনিয়মের একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেই প্রথমবার প্রকাশ্যে আসে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর তথ্য। ইডির দাবি, অক্টেভ রেকর্ডসের অ্যাকাউন্ট থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছিল। তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে ইন্দ্রনীল ওই অর্থকে গানের রয়্যালটি বাবদ দেওয়া টাকা বলে দাবি করেছেন বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। তবে ওই অর্থের প্রকৃতি নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইডির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়নি।

    কলকাতার ১৫টি জায়গায় তল্লাশি

    ইডি জানিয়েছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর কলকাতার ১৫টি জায়গায় তল্লাশি ও বাজেয়াপ্তের অভিযান চালানো হয়। প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের (PMLA) ১৭ নম্বর ধারায় এই অভিযান চালানো হয়েছিল। তল্লাশির আওতায় ছিল মাসআর্ট সোসাইটির অফিস ও আবাসিক ঠিকানা, সংস্থার পদাধিকারীদের জায়গা এবং ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে যুক্ত একাধিক স্থান।

    বৌবাজার থানায় কলকাতা পুলিশের দায়ের করা একটি এফআইআরের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইডি। ওই এফআইআরে ইন্দ্রনীল সেন ছাড়াও মাসআর্টের সভাপতি মধুছন্দা সেন, সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি বসু, সহ-সভাপতি সায়ন্তন মৈত্র এবং কোষাধ্যক্ষ রঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। আরও কয়েক জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অভিযোগের কথা জানানো হয়েছে।

    ইউনেস্কোর নাম-লোগো ব্যবহার করে টিকিট বিক্রির অভিযোগ

    ইডির তদন্তের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু মাসআর্ট সোসাইটির দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে কলকাতার ২৪টি নির্বাচিত পুজোমণ্ডপে এই অনুষ্ঠানের জন্য সাধারণ মানুষের কাছে টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল।

    টিকিটের দাম ছিল ১,৭৪৯ টাকা থেকে ৫,৪৯৯ টাকা পর্যন্ত। ইডির দাবি, ২০২৩ ও ২০২৪ সালেই এক লক্ষের বেশি টিকিট ইস্যু করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, মাসআর্ট নিজেদের ইউনেস্কোর পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরে এবং ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছিল। এই ধরনের বাণিজ্যিক ব্যবহারের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি না, সেটিও তদন্তের অংশ।

    এখানে কলকাতার দুর্গাপুজোর ইউনেস্কো স্বীকৃতি এবং কোনও নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক অনুষ্ঠানের জন্য ইউনেস্কোর অনুমোদন—এই দুই বিষয়কে আলাদা করে দেখছে তদন্ত। ইডির অভিযোগ মূলত ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহের বিষয়কে ঘিরে।

    টিকিটের টাকা কোথায় গেল?

    ইডির বক্তব্য অনুযায়ী, মাসআর্টের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে নগদে তোলা হয়েছিল। অন্য অংশ বিভিন্ন খরচের নামে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি। এর মধ্যে ‘বিবিধ খরচ’-এর উল্লেখও রয়েছে।

    তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, সংগৃহীত অর্থের একাংশ ব্যক্তিগত লাভের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত মোট কত টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছিল, তার মধ্যে কত টাকা নগদে তোলা হয়েছিল এবং নির্দিষ্ট ভাবে কার কাছে কত টাকা পৌঁছেছিল—তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করেনি ইডি। ফলে এই আর্থিক লেনদেনের চূড়ান্ত চরিত্র তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।

    ইন্দ্রনীলের মন্ত্রিত্বকালে ৮৫ কোটির বেশি টেন্ডার

    মাসআর্টের আর্থিক লেনদেনের তদন্ত করতে গিয়ে ইন্দ্রনীল সেনের মন্ত্রিত্বকালের সরকারি টেন্ডারের বিষয়টিও সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে ইডি।

    তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ইন্দ্রনীল সেন মন্ত্রী থাকাকালীন পর্যটন ও সংস্কৃতি দফতরের একাধিক টেন্ডার ধ্রুবজ্যোতি বসু এবং দীপেশ রায়ের মালিকানাধীন সংস্থাগুলি পেয়েছিল। ইডির হিসাব অনুযায়ী, ওই টেন্ডারগুলির সম্মিলিত মূল্য ৮৫ কোটি টাকারও বেশি। তদন্তকারীরা দু’জনকেই ইন্দ্রনীলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    ইডির আরও দাবি, টেন্ডার পাওয়া সংস্থাগুলি থেকে পরবর্তী সময়ে ইন্দ্রনীলের আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে বড় অঙ্কের নগদ টাকা তোলার তথ্যও তদন্তে পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

    তবে সরকারি টেন্ডারের মোট মূল্য ৮৫ কোটির বেশি হওয়া এবং সেই পুরো অর্থ বেআইনি ভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে—এই দুই বিষয় এক নয়। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না এবং পরবর্তী অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে তার কোনও বেআইনি যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

    অক্টেভ রেকর্ডসের অ্যাকাউন্টে ৩.৮ কোটি টাকার বেশি নগদ জমা

    ইডির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে যুক্ত ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ইন্দ্রনীলের মন্ত্রিত্বকালে ওই সংস্থার অ্যাকাউন্টে ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকারও বেশি নগদ অর্থ জমা পড়েছিল।

    এই অর্থের উৎস কী ছিল, কারা ওই টাকা জমা করেছিলেন এবং কোন ধরনের ব্যবসায়িক কার্যকলাপ থেকে তা এসেছিল—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে ইডির তদন্তের সূত্রে জানা যাচ্ছে। তবে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ওই নগদ জমার প্রতিটি লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।

    মমতার অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা

    তদন্তের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য তথ্যগুলির একটি হল অক্টেভ রেকর্ডস থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর দাবি।

    ইডির প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অক্টেভ রেকর্ডসের অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার মাধ্যমে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে ইন্দ্রনীল সেন ওই অর্থকে গানের রয়্যালটি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন বলে জানিয়েছে ইডি।

    তবে কোন গান বা কোন কাজের জন্য এই রয়্যালটি দেওয়া হয়েছিল, কোন সময়কালের হিসাবের ভিত্তিতে অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছিল কিংবা সংশ্লিষ্ট চুক্তি ও হিসাবপত্রে কী রয়েছে—এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

    একই সঙ্গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর তথ্য উল্লেখ করলেও ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ইডি এই লেনদেনকে বেআইনি বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। লেনদেনটির প্রকৃতি এবং এর সঙ্গে তদন্তাধীন অন্য আর্থিক সূত্রগুলির কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তেই নির্ধারিত হবে।

    প্রায় ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ ইন্দ্রনীলকে

    ২৯ সেপ্টেম্বরের তল্লাশির পরের দিন ইডির সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হন ইন্দ্রনীল সেন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁকে প্রায় ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

    মাসআর্টের টিকিট বিক্রি, সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংস্থাগুলির ভূমিকা এবং বিভিন্ন ব্যাঙ্ক লেনদেন নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয় বলে তদন্ত সূত্রের খবর। এর আগে ইন্দ্রনীল সেন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

    তল্লাশি অভিযানে একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস ও গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইডি। তদন্তকারীদের মতে, ওই নথি ও ডিজিটাল তথ্য আর্থিক লেনদেনের গতিপথ খতিয়ে দেখতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

    এখন তদন্তের নজরে তিন আর্থিক সূত্র

    ইডির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই তদন্তে আপাতত তিনটি বড় আর্থিক সূত্র সামনে এসেছে—মাসআর্টের ‘প্রিভিউ শো’-এর টিকিট বিক্রি, ইন্দ্রনীলের মন্ত্রিত্বকালে ৮৫ কোটির বেশি মূল্যের সরকারি টেন্ডার এবং অক্টেভ রেকর্ডসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নগদ জমা ও সেখান থেকে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর।

    এই তিনটি সূত্রের মধ্যে কোনও বেআইনি যোগসূত্র রয়েছে কি না, অর্থের প্রকৃত ব্যবহার কী ছিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা কতটা—তা তদন্তের পরবর্তী ধাপে স্পষ্ট হওয়ার কথা। ইডি জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে। ফলে আরও নথি, ব্যাঙ্ক লেনদেন এবং জিজ্ঞাসাবাদ থেকে নতুন তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Seva Setu Abhiyan: সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাননি! রাজ্যজুড়ে চলছে ‘সেবা সেতু অভিযান’ শিবির, কী কী মিলছে?

    Seva Setu Abhiyan: সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাননি! রাজ্যজুড়ে চলছে ‘সেবা সেতু অভিযান’ শিবির, কী কী মিলছে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে আবেদন করেছেন, কিন্তু এখনও মেলেনি পরিষেবা? কোথায় আবেদন করবেন বা আবেদনের পর নিজের নামের স্ট্যাটাস কী, তা নিয়ে সমস্যায় রয়েছেন? এবার সেই সমস্যা মেটাতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে সেবা সেতু অভিযান শিবির (Seva Setu Abhiyan)। আজ, শুক্রবার, ২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ শিবির চলবে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত।

    রাজ্য প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই তিন দিনের শিবিরে একই জায়গা থেকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের জন্য আবেদন করার সুযোগ মিলছে। পাশাপাশি বেশ কিছু প্রকল্পের আবেদনের স্ট্যাটাসও জানা যাচ্ছে। ফলে সরকারি পরিষেবা পেতে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন দফতরে ঘুরতে হবে না।

    রাজ্যজুড়ে ৩৩০০টি শিবির

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্লক, পুরসভা, কর্পোরেশন-সহ বিভিন্ন স্তরে রাজ্যজুড়ে মোট ৩৩০০টি সেবা সেতু অভিযান শিবির চালু হয়েছে। এই শিবিরগুলিতে এক ছাদের নিচে প্রায় ৬০টি সরকারি প্রকল্পের পরিষেবা পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিবিরে গিয়ে সরকারি প্রকল্পের জন্য আবেদন করা যাবে। একইসঙ্গে যাঁরা ইতিমধ্যে কোনও প্রকল্পে আবেদন করেছেন, তাঁরাও নির্দিষ্ট পরিষেবার ক্ষেত্রে আবেদনের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারবেন।

    কোন কোন প্রকল্পের সুবিধা মিলছে?

    সেবা সেতু অভিযান শিবিরে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্পের পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

    • ● অন্নপূর্ণা যোজনা
    • ● আয়ুষ্মান ভারত
    • ● প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা
    • ● শিক্ষাশ্রী
    • ● জয় জোহার
    • ● পিএম কিষান ক্রেডিট কার্ড
    • ● পিএম কিষান স্বনিধি
    • ● বিধবা ভাতা
    • ● বয়স্ক ভাতা
    • ● বিশেষভাবে সক্ষমদের ভাতা

    এছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের জন্যও প্রয়োজনীয় পরিষেবা ও আবেদনপত্রের ব্যবস্থা থাকছে।

    অন্নপূর্ণা যোজনায় নতুন করে আবেদন

    এই শিবিরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হল অন্নপূর্ণা যোজনায় নতুন করে আবেদন করার সুযোগ। যাঁরা এখনও এই প্রকল্পের সুবিধা পাননি, তাঁরা শিবির থেকে আবেদনের ফর্ম সংগ্রহ করে আবেদন করতে পারবেন। অন্নপূর্ণা যোজনায় ইতিমধ্যে আবেদন করে থাকলে তার স্ট্যাটাস সম্পর্কেও খোঁজ নেওয়া যাবে। একইভাবে আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের স্ট্যাটাস জানার ব্যবস্থাও থাকছে।

    বিধবা ও বয়স্ক ভাতার জন্যও আবেদন

    শুধু অন্নপূর্ণা বা আয়ুষ্মান নয়, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের ক্ষেত্রেও এই শিবির গুরুত্বপূর্ণ। বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের ভাতার জন্য নতুন আবেদনপত্র বিলি করা হচ্ছে। ফলে যোগ্য ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে শিবিরে গিয়ে আবেদন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

    থাকছে ব্যাঙ্কের বিশেষ ক্যাম্পও

    সরকারি প্রকল্পের পাশাপাশি সেবা সেতু অভিযান শিবিরে ব্যাঙ্কের বিশেষ ক্যাম্পেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেখানে ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ থাকছে। এর ফলে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কিং পরিষেবার প্রয়োজন থাকলেও একই জায়গায় তার সমাধান করার সুযোগ মিলবে।

    কলকাতা ও হাওড়ায় কোথায় শিবির?

    কলকাতা পুরনিগম এলাকায় দুটি ওয়ার্ড পিছু একটি করে সেবা সেতু অভিযান শিবির চালু করা হয়েছে। ফলে শহরের বিভিন্ন প্রান্তের বাসিন্দারা নিজেদের এলাকার নির্দিষ্ট শিবিরে গিয়ে পরিষেবা নিতে পারবেন।অন্যদিকে হাওড়া পুরনিগমের ৫০টি ওয়ার্ডের জন্য ২৬টি জায়গায় সেবা সেতু অভিযান শিবিরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    আপনার এলাকার শিবির কোথায়, জানবেন কীভাবে?

    নিজের এলাকার সেবা সেতু অভিযান শিবির কোথায় হয়েছে, তা নিয়ে কোনও সংশয় থাকলে ফোন করেই তথ্য জানা যাবে। প্রশাসনের তরফে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করে নিকটবর্তী শিবিরের ঠিকানা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া যাবে।

    হেল্পলাইন নম্বর:
    ● ১৮০০ ৩৪৫ ০১১৭
    ● ০৩৩-২২১৪ ০১৫২

    তাই অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, পিএম কিষান, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা কিংবা অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে যাঁরা আবেদন করতে চাইছেন, তাঁরা ২ থেকে ৪ অক্টোবরের মধ্যে সেবা সেতু অভিযান শিবিরে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরিষেবা নিতে পারেন।

  • Asian Games 2026: ৪৪ বছরের কোরীয় আধিপত্যের অবসান! এশিয়ান গেমসে রিকার্ভে ঐতিহাসিক সোনা ভারতের

    Asian Games 2026: ৪৪ বছরের কোরীয় আধিপত্যের অবসান! এশিয়ান গেমসে রিকার্ভে ঐতিহাসিক সোনা ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রিকার্ভ আর্চারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার ৪৪ বছরের আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে ইতিহাস গড়ল ভারতীয় মহিলা দল। এশিয়ান গেমসের (Asian Games 2026) মহিলা রিকার্ভ দলগত ইভেন্টের ফাইনালে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-৩ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জিতলেন অঙ্কিতা ভকত, কীর্তি শর্মা ও কুমকুম মহোড। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কোরিয়ার বিরুদ্ধে ভারতের এই জয় নিঃসন্দেহে দেশের রিকার্ভ আর্চারির (Asian Games Recurve Gold) এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ফাইনালের আগে কোরিয়াকেই স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে রাখা হয়েছিল। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটির অন্যতম সদস্য ছিলেন বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে তিন নম্বরে থাকা কাং চায়ে-ইয়ং। রিকার্ভ ইভেন্টে দীর্ঘদিন ধরেই কোরিয়ার দাপট। কিন্তু প্রতিপক্ষের খ্যাতি বা র‍্যাঙ্কিং নিয়ে মাথা ঘামাননি ভারতের তিন তিরন্দাজ।

    চিনকে ৫-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে

    সেমিফাইনালেই নিজেদের আত্মবিশ্বাসের প্রমাণ দিয়েছিল ভারত। চিনকে ৫-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে অঙ্কিতা-কীর্তি-কুমকুমের দল। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং নাগোয়ার কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তিনজনের মধ্যে বোঝাপড়া ছিল চোখে পড়ার মতো। চিনের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কীর্তির নিখুঁত ১০ পয়েন্টের শট ভারতকে এগিয়ে দেয়। প্রথম ও দ্বিতীয় সেটের শেষ তিরে তাঁর ১০ পয়েন্ট ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। শেষ সেটেও প্রয়োজনের সময় নিজের সেরাটা দিয়ে দলকে ফাইনালে পৌঁছে দেন তিনি। এরপর ফাইনালে সামনে ছিল শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়া। শুরু থেকেই কাং, লি এবং ওহ ই-জিনের কোরীয় দল চাপ তৈরি করেছিল। কিন্তু ভারতীয় দলও একটুও পিছিয়ে যায়নি। প্রথম সেটে কোরিয়া ৫৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করলে ভারতও একই স্কোর করে। দ্বিতীয় সেটে কোরিয়ার ৫৬ পয়েন্টের জবাবেও ৫৬-ই করে ভারত। ফলে দুই সেটের পর স্কোর দাঁড়ায় ২-২। তৃতীয় সেটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। কোরিয়ার ছয়টি তিরের মধ্যে চারটিই ৮ পয়েন্টে গিয়ে লাগে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারত ৫৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করে এবং সেট জিতে ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। চতুর্থ সেটে কোরিয়া ৫৪ পয়েন্ট তোলে। ফলে সোনা নিশ্চিত করতে ভারতকে অন্তত ৫৪ পয়েন্ট করতেই হত। শুরুতে কীর্তির একটি তির ৮ পয়েন্টে গিয়ে লাগে। পরে রিভিউয়ের পর সেটি ৯ পয়েন্ট হিসেবে গণ্য হয়। শেষ পর্যন্ত ভারতও ৫৪ পয়েন্টে পৌঁছে যায়। সেটটি টাই হওয়ায় ভারত ৫-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে এবং ইতিহাসে প্রথমবার মহিলা রিকার্ভ দলগত ইভেন্টে কোরিয়াকে হারিয়ে সোনা জেতে।

    সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সাফল্য

    এই সাফল্যের নেপথ্যে তিন তিরন্দাজের পথচলাও আলাদা করে নজর কাড়ার মতো। কুমকুম মাত্র তিন বছর আগে রিকার্ভে প্রশিক্ষণ শুরু করেন। তাঁর আর্চারির যাত্রা শুরু হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী বাঁশের ধনুক দিয়ে। অন্যদিকে, কীর্তিকে একসময় বলা হয়েছিল যে তাঁর গড়ন খুবই পাতলা—রিকার্ভ বো ধরে রাখার মতো শক্তি তাঁর নেই। সেই সংশয়কে পিছনে ফেলে আজ তিনি এশিয়ান গেমসের সোনাজয়ী দলের সদস্য। অঙ্কিতা ভকত অবশ্য দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ মুখ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে মোট ২৩টি পদক। হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে ভারতীয় মহিলা রিকার্ভ দল ব্রোঞ্জ জিতেছিল। সেটিই ছিল দলের আগের সেরা সাফল্য; ফাইনালে ওঠার সুযোগ হয়নি। এবার সেই ইতিহাস বদলে দিলেন অঙ্কিতা, কীর্তি ও কুমকুম। ভারতীয় মহিলা ক্রীড়াঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সাফল্য নতুন দিগন্ত খুলেছে। হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে কম্পাউন্ড আর্চাররা নজর কেড়েছিলেন। এবার রিকার্ভ বিভাগেও বিশ্বসেরাদের সঙ্গে সমানে টক্কর দেওয়ার বার্তা দিয়ে দিল ভারত। নাগোয়ায় তিন ‘সোনার মেয়ে’ দেখিয়ে দিলেন—কোরিয়ার দীর্ঘ আধিপত্যও ভাঙা সম্ভব। এখন মিশ্র দল ও পুরুষ রিকার্ভ দলও সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।

  • Smit Machchhar Health Update: মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে কেমন আছেন ক্যাপ্টেন স্মিত? ‘হাসিমুখে পরিবারের সঙ্গে কথা বলছেন’, জানালেন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত

    Smit Machchhar Health Update: মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে কেমন আছেন ক্যাপ্টেন স্মিত? ‘হাসিমুখে পরিবারের সঙ্গে কথা বলছেন’, জানালেন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্লাইদুবাই বিমানের ককপিটে হামলার ঘটনায় আহত ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার এখন সুস্থ হয়ে উঠছেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে স্থানান্তরের পর হাসপাতালে পরিবারের সঙ্গে দেখা হয়েছে তাঁর। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি হাসিমুখে সময় কাটাতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। শুক্রবার এই খবর জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তল।

    সংযুক্ত আরব আমিরশাহির একটি হাসপাতালে ক্যাপ্টেন স্মিতের সঙ্গে দেখা করেন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত। পরে প্রসার ভারতীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পাইলটের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তাঁর কথায়, স্মিতের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি এবং তাঁকে দেখে স্বস্তি পেয়েছেন।

    দীপক মিত্তল বলেন, “আমি ওঁর সঙ্গে এবং ওঁর পরিবারের সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করেছি। উনি ভালো আছেন। ওঁকে দেখে আমি খুব খুশি এবং স্বস্তি পেয়েছি। ওঁর অবস্থা যথেষ্ট স্থিতিশীল।”

    রাষ্ট্রদূত আরও জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন স্মিত। কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও তাঁর চিকিৎসা ভালোভাবেই চলছে। মিত্তলের কথায়, “উনি কথা বলছিলেন, পরিবারের সঙ্গে গল্প করছিলেন। কিছুটা অস্বস্তি রয়েছে, তবে ভালো চিকিৎসা চলছে।”

    পরিবারের সঙ্গে ফের দেখা, স্বস্তি ক্যাপ্টেন স্মিতের

    ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে হামলার পর ক্যাপ্টেন স্মিতের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগে ছিল তাঁর পরিবার। প্রথমে সৌদি আরবের তাবুকে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। পরে তাঁকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর দেখা হওয়ার ব্যবস্থা করে স্থানীয় প্রশাসন।

    রাষ্ট্রদূত মিত্তল জানান, পরিবারের সদস্যরাও স্মিতকে দেখে যথেষ্ট স্বস্তি পেয়েছেন। তাঁরা তাঁর সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। পরিবারের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর স্মিতও খুশি হয়েছেন এবং তাঁদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছেন।

    ভারতীয় দূতাবাসও জানিয়েছে, ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার ভালোভাবে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে দূতাবাস।

    কী হয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে?

    ঘটনাটি ঘটে ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ বিমানে। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ওই বিমানে মোট ১৭৪ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। মাঝআকাশে বিমানের ককপিটে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, বিমানের সহকারী পাইলট কুঠার দিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের উপর হামলা করেন।

    ঘটনার জেরে বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। রিপোর্ট অনুযায়ী, মাত্র ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নীচে নেমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

    শেষ মুহূর্তে গুরুতর আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন স্মিত ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যানকে উদ্ধৃত করে দ্য টাইমস অফ ইজরায়েল জানিয়েছে, রক্তাক্ত অবস্থাতেও নিজের “শেষ শক্তিটুকু” ব্যবহার করে ককপিটের দরজা খোলেন স্মিত।

    দরজা খোলার পর যাত্রী এবং বিমানের কর্মীরা ককপিটে ঢুকে অভিযুক্ত সহকারী পাইলটকে কাবু করেন। ওই বিমানে যাত্রী হিসেবে থাকা আরও দুই ফ্লাইদুবাই পাইলটও পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটিকে নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুকে অবতরণ করানো হয়।

    ১৭৪ জনের প্রাণরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

    ককপিটে হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের নেওয়া সিদ্ধান্তই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফেরানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার ফলে যাত্রী ও ক্রুরা ভিতরে ঢোকার সুযোগ পান। এরপর হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় এবং বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়।

    এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক স্তরে ক্যাপ্টেন স্মিতকে সাহসিকতার জন্য প্রশংসা করা হচ্ছে। ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তল তাঁকে “ভারতের সাহসী সন্তান” বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, স্মিতের ভূমিকা শুধু বিমানের যাত্রীদের রক্ষা করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তিনি একটি বড় বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করে মানবতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন।

    বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ক্যাপ্টেন স্মিত। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলছেন তিনি—এই খবরেই আপাতত স্বস্তি ফিরেছে তাঁর পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে।

  • ICC World Cup 2027 Schedule: ২০২৭ বিশ্বকাপে ভারতের অভিযান শুরু অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে, ১০ অক্টোবর পাকিস্তানের মুখোমুখি

    ICC World Cup 2027 Schedule: ২০২৭ বিশ্বকাপে ভারতের অভিযান শুরু অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে, ১০ অক্টোবর পাকিস্তানের মুখোমুখি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রকাশিত হল ২০২৭ সালের আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের সূচি (ICC World Cup 2027 Schedule)। আগামী ২ অক্টোবর থেকে শুরু হবে ক্রিকেটের মহাযজ্ঞ। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও নামিবিয়া যৌথভাবে আয়োজন করবে ১৪ দলের এই বিশ্বকাপ। ২১ নভেম্বর জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। ফাইনালের জন্য ২২ নভেম্বর রাখা হয়েছে রিজার্ভ ডে। এবারের বিশ্বকাপে থাকছে নতুন ফরম্যাট। প্রথমে উইন্ডহোকে হবে তিন দলের সুপার সিরিজ। এরপর ১২ দলকে নিয়ে হবে গ্রুপ পর্ব। গ্রুপ পর্বের পর শুরু হবে ‘সুপার ৭’ পর্ব। সেখান থেকে সেরা চার দল জায়গা করে নেবে সেমিফাইনালে।

    অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শুরু ভারতের বিশ্বকাপ অভিযান

    ভারত রয়েছে গ্রুপ এ-তে। এই গ্রুপে ভারতের সঙ্গে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, জিম্বাবোয়ে এবং কোয়ালিফায়ার এ। ৭ অক্টোবর কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ভারত (India Australia Pakistan)। ফলে ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতি আবারও ফিরে আসবে। ২০২৩ সালে আহমেদাবাদের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। ভারতের দ্বিতীয় ম্যাচই রয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই। ১০ অক্টোবর জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্সে মুখোমুখি হবে দুই প্রতিবেশী দেশ। বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হিসেবে এই লড়াই ঘিরে ইতিমধ্যেই ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে।

    কোন গ্রুপে কারা?

    গ্রুপ এ: ভারত, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, জিম্বাবোয়ে ও কোয়ালিফায়ার এ।

    গ্রুপ বি: নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ ও কোয়ালিফায়ার বি।

    গ্রুপ পর্ব চলবে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। দুই গ্রুপের প্রথম তিনটি করে দল এবং চতুর্থ স্থানে থাকা দুই দলের মধ্যে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে থাকা দল—মোট সাতটি দল—সুপার ৭ পর্বে জায়গা করে নেবে।

    নভেম্বরেই সেমিফাইনাল ও ফাইনাল

    সুপার ৭ পর্বের শেষে সেরা চার দল সেমিফাইনালে উঠবে। প্রথম সেমিফাইনাল ১৭ নভেম্বর কেপটাউনে এবং দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ১৮ নভেম্বর তাসওয়ানে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২১ নভেম্বর জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্সে হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল। ফাইনালের রিজার্ভ ডে হিসেবে রাখা হয়েছে ২২ নভেম্বর। এবারের বিশ্বকাপে মোট ৫৭টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও নামিবিয়ার মোট ১২টি ভেন্যুতে হবে ম্যাচগুলি। এই বিশ্বকাপের মাধ্যমে প্রথমবার সিনিয়র পুরুষদের বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন করবে নামিবিয়া।

  • Gandhi Jayanti: “বাপুর চিরন্তন বার্তা বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাবে” গান্ধী জয়ন্তীতে রাজঘাটে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর, স্মরণ শাস্ত্রীকেও

    Gandhi Jayanti: “বাপুর চিরন্তন বার্তা বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাবে” গান্ধী জয়ন্তীতে রাজঘাটে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর, স্মরণ শাস্ত্রীকেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে শুক্রবার রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর (Gandhi Jayanti) সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী। শান্তি, অহিংসা ও স্বচ্ছতার বার্তা স্মরণ করে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে দেশের নানা প্রান্তে। রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে আয়োজিত সর্বধর্ম প্রার্থনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi’s Tribute To Bapu)। এরপর তিনি বিজয় ঘাটে গিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর জন্মবার্ষিকীতেও শ্রদ্ধা জানান। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও রাজঘাটে সর্বধর্ম প্রার্থনায় অংশ নিয়ে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে বিজয় ঘাটে গিয়ে লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর সমাধিতেও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। রাজঘাটে গান্ধীজিকে শ্রদ্ধা জানান দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর তরণজিৎ সিং সান্ধু, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

    বাপুর চিরন্তন বার্তা

    রাজঘাটে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের ছবি এবং ভিডিও ইতিমধ্যেই এক্স হ্যান্ডেলে সামনে এসেছে। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতি সৌধে ফুল ছড়িয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেন। এক্সে মোদি জানান, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের এই আত্ম বলিদান দেশের প্রগতি এবং উন্নতির এবং ‘বিকশিত ভারতের’ ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। এই প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, “বাপুর চিরন্তন বার্তা আমাদের উন্নত এবং বিকশিত ভারত উন্নতির লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাবে।” একই সঙ্গে গত কয়েক বছরে গান্ধী জয়ন্তীর পালনের মুহূর্তের ছবিও এক্সে টুইট করেন মোদি।

    দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গান্ধী জয়ন্তী পালন

    রাজস্থানের জয়পুরে রাজ্য সচিবালয়ে মহাত্মা গান্ধীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা। একই সঙ্গে তিনি লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর জন্মবার্ষিকীতেও শ্রদ্ধা জানান। হরিয়ানার গুরুগ্রামে স্বচ্ছ ভারত অভিযানে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী নায়াব সিং সাইনি। শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানান তিনি। অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়ায় গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে ‘স্বচ্ছাথন ২০২৬’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ‘স্বচ্ছতা হি সেবা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গান্ধী জয়ন্তীতে কলকাতাতেও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তিতে সম্মান জানাতে উপস্থিত হয়েছেন প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী।

    শান্তি ও অহিংসার বার্তা স্মরণ রাষ্ট্রপতির

    গান্ধী জয়ন্তীর প্রাক্কালে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গান্ধীজির শান্তি ও অহিংসার বার্তা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতির বার্তায় বলা হয়, মহাত্মা গান্ধীর জীবন ও আদর্শ বিশ্বজুড়ে সম্মানিত। বর্তমান সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিস্থিতির মধ্যে তাঁর শান্তি ও অহিংসার দর্শন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে দেশ। উন্নয়নের সুফল যাতে সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছয়, তার জন্য সহমর্মিতা ও অন্তর্ভুক্তির মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গান্ধীজির ‘সর্বোদয়’-এর আদর্শের সঙ্গে এই ভাবনার সামঞ্জস্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    গান্ধী জয়ন্তী থেকে ৩০ দিনের স্বচ্ছতা অভিযান

    গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে দেশজুড়ে ৩০ দিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় কয়লা ও খনিমন্ত্রী জি কিশান রেড্ডি। ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তী থেকে ৩১ অক্টোবর সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মবার্ষিকী পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালানোর জন্য সাধারণ মানুষ, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং অন্যান্য সংস্থাকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর গুজরাটের পোরবন্দরে জন্মগ্রহণ করেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। তাঁর জন্মদিনটি প্রতিবছর গান্ধী জয়ন্তী হিসেবে পালিত হয়। রাষ্ট্রসংঘও ২ অক্টোবরকে ‘আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস’ হিসেবে পালন করে। মহাত্মা গান্ধীকে ‘জাতির জনক’ আখ্যা দিয়েছিলেন স্বয়ং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। আর তাঁর জন্মদিন উপলক্ষেই দেশজুড়ে প্রতি বছর জাতীয় ছুটি পালন করা হয়।

    লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর ১২২তম জন্মবার্ষিকী

    এদিনই পালিত হচ্ছে ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর ১২২তম জন্মবার্ষিকী। ১৯০৪ সালের ২ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের মুঘলসরাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন শাস্ত্রী। স্বাধীনতার পর শাস্ত্রী উত্তর প্রদেশে এবং পরে কেন্দ্রীয় সরকারে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। রেলমন্ত্রী থাকাকালীন, ১৯৫৬ সালের একটি বড় ট্রেন দুর্ঘটনার পর তিনি সেই মর্মান্তিক ঘটনার নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এই দৃষ্টান্তটি আজও জনজীবনে জবাবদিহিতার এক উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। পরবর্তীতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ‘জয় জওয়ান, জয় কিষান’ স্লোগানের জন্য বিশেষভাবে স্মরণীয় লাল বাহাদুর শাস্ত্রী। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় তাঁর নেতৃত্ব এবং কৃষি ও আত্মনির্ভরতার ওপর জোর দেওয়ার জন্যও তিনি স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন।  তিনি খাদ্য স্বনির্ভরতার পক্ষে ছিলেন এবং সবুজ বিপ্লবের ভিত্তি স্থাপনে সহায়তা করেন। এছাড়াও তিনি দেশজুড়ে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্বেত বিপ্লবকেও সমর্থন করেছিলেন।

  • Albanese Praised PM Modi: মোদির আমলে ভারতে জ্বালানি সংযোগের বিস্তার নজিরবিহীন, দাবি অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রীর

    Albanese Praised PM Modi: মোদির আমলে ভারতে জ্বালানি সংযোগের বিস্তার নজিরবিহীন, দাবি অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতে জ্বালানি পরিষেবার প্রসারের প্রশংসা করলেন অস্ট্রেলিয়ার (India Australia Relation) প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ (Albanese Praised PM Modi)। তাঁর দাবি, ভারতের যত মানুষ গত এক দশকে বিদ্যুৎ, রান্নার গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি পরিষেবার আওতায় এসেছেন, মানব ইতিহাসে কোনও দেশ, অঞ্চল বা কোনও দশকে এত বড় পরিসরে এমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের (UNGA) পার্শ্ববৈঠকে প্রাক্তন অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাডের সঙ্গে এক আলোচনায় এই মন্তব্য করেন আলবানিজ। ২৪ সেপ্টেম্বরের ওই আলোচনায় মোদির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং ভারত-অস্ট্রেলিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন তিনি।

    উজ্জ্বলা থেকে সৌরবিদ্যুৎ—বেড়েছে জ্বালানি পরিষেবার পরিধি

    আলবানিজ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদিকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। তাঁর নেতৃত্বে ভারতে যত মানুষ জ্বালানি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, মানব ইতিহাসে কোনও দেশ, অঞ্চল বা কোনও দশকে এত মানুষকে এভাবে সংযুক্ত করার নজির নেই।” মূলত ভারতে বিদ্যুৎ সংযোগ, রান্নার গ্যাস এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির প্রসারের প্রেক্ষিতেই এই মন্তব্য করেন অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মহিলাদের মধ্যে ১০.৫৭ কোটিরও বেশি এলপিজি সংযোগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ২০১৭ সালে চালু হওয়া সৌভাগ্য যোজনা-র মাধ্যমে ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ২.৮৬ কোটি পরিবারে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রেও দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনা (PM Surya Ghar Muft Bijli Yojana)-র আওতায় ২০২৬ সালের আগস্টে উপকৃত পরিবারের সংখ্যা ৫০ লক্ষ ছাড়িয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। PM-KUSUM প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২১.৭৭ লক্ষেরও বেশি কৃষক উপকৃত হয়েছেন। এই প্রকল্পের আওতায় সৌরচালিত কৃষি পাম্প-সহ বিভিন্ন বিকেন্দ্রীভূত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রসার ঘটানো হচ্ছে।

    ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হবে, আলবানিজ

    আলোচনায় ভারতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভারত ভবিষ্যতে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ভারত ইতিমধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ। গত এক দশকে ভারত তার জ্বালানি আমদানির উৎসও বৈচিত্র্যময় করেছে। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, আগে যেখানে ২৭টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করা হত, এখন সেই সংখ্যা বেড়ে ৪১টি দেশ হয়েছে। এর ফলে কোনও একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা দেশের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে নানা ধরনের অস্থিরতার মধ্যেও দেশে পেট্রল, ডিজেল ও এলপিজি-এর সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়েছে ভারত।

    জ্বালানি নিরাপত্তায় ভারত-অস্ট্রেলিয়া সহযোগিতা

    পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক অস্থিরতার জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে সরবরাহে সমস্যা তৈরি হলে অস্ট্রেলিয়াও ভারতকে এলএনজি সরবরাহ করেছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।

    ‘আরও অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে’

    ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্ক নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন আলবানিজ। তাঁর কথায়, দুই দেশের সম্পর্ক “ক্রমশ শক্তিশালী হয়েছে”। তবে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে আরও অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। আলবানিজ জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দু’বার ভারত সফর করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী মোদিও দু’বার অস্ট্রেলিয়া সফর করেছেন। মেলবোর্নের একটি স্টেডিয়ামে মোদিকে ঘিরে বিপুল জনসমাগমের কথাও স্মরণ করেন তিনি। হালকা মেজাজে আলবানিজ বলেন, কোনও রাজনৈতিক সম্মেলনে নেতাদের জন্য যতটা উচ্ছ্বাস দেখা যায়, “মোদির স্টেডিয়াম অনুষ্ঠান না দেখলে সেই উচ্ছ্বাসের প্রকৃত মাত্রা বোঝা কঠিন।” তিনি জানান, ডিসেম্বরে আমেরিকায় আয়োজিত নির্ধারিত জি২০ বৈঠকের পর তিনি মুম্বই সফর করবেন। সেখানে ব্যবসা-কেন্দ্রিক ‘গুড ডে নমস্তে’ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সফরের শেষে চেন্নাইয়ে একটি ক্রিকেট ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি। রাজনীতি ও ক্রিকেটের বাইরেও ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের বিস্তৃত সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন আলবানিজ। কমনওয়েলথের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, ইংরেজি ভাষার যোগাযোগ এবং দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আলবানিজের কথায়, ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের সম্ভাবনাকে এতদিন পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি। আগামী দিনে দুই দেশের সরকারই এই অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী।

LinkedIn
Share