Blog

  • Bastar Dussehra Celebration: নকশালমুক্ত বস্তারে ৭৫ দিনের দশেরা, ঐতিহ্যবাহী উৎসবে যোগ দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

    Bastar Dussehra Celebration: নকশালমুক্ত বস্তারে ৭৫ দিনের দশেরা, ঐতিহ্যবাহী উৎসবে যোগ দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলে উৎসবের আবহ। ৭৫ দিন ধরে চলা ঐতিহ্যবাহী বস্তার দশেরা উৎসবকে কেন্দ্র করে জড়ো হচ্ছেন বিভিন্ন গ্রামের মানুষ। গত ১২ অগস্ট পাট যাত্রার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হবে ২৭ অক্টোবর মা দন্তেশ্বরীর বিদায় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে (Bastar Dussehra Celebration)। উৎসবে যোগ দিতে দু’দিনের সফরে বস্তারে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ছয় শতাব্দীরও বেশি প্রাচীন এই উৎসব ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের দশেরা উদ্‌যাপনের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে রাবণবধ নয়, বরং বস্তারের আরাধ্য দেবী মা দন্তেশ্বরীর পুজোই উৎসবের মূল আকর্ষণ। বস্তারের রাজপরিবারের কুলদেবী মা দন্তেশ্বরীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে এই উৎসবের সূচনা। কাকতীয় রাজবংশের আমলে শুরু হওয়া এই ঐতিহ্য আজও স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের উদ্যোগে বহমান। বস্তারের আদিবাসী সমাজের ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং সামাজিক ঐক্যের সঙ্গে এই উৎসব গভীরভাবে জড়িত (Red Terror Eradication)।

    নানা আচার-অনুষ্ঠানে সমৃদ্ধ বস্তার দশেরা (Bastar Dussehra Celebration)

    পাটযাত্রা, রথযাত্রা, কাঞ্চন গাদি এবং মুরিয়া দরবার—একাধিক প্রাচীন আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হয় বস্তার দশেরা। পাশাপাশি থাকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের হরিয়ালি অমাবস্যায় পবিত্র কাঠের আনুষ্ঠানিক পুজো, অর্থাৎ পাটযাত্রার মাধ্যমে উৎসব শুরু হয়। বস্তার অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রাম থেকে দেবদেবী, পুরোহিত ও কারিগরেরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

    উৎসবের দিনগুলিতে তৈরি করা হয় বিশাল রথ। জগদলপুর শহরজুড়ে চলে শোভাযাত্রা। রাতে অনুষ্ঠিত হয় দেবীর বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান। বিভিন্ন গ্রামের আরাধ্য দেবদেবীর সমাবেশও এই উৎসবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

    উৎসবের শেষ পর্বে আয়োজিত হয় মুরিয়া দরবার। মূল রথযাত্রা ও দশেরার প্রধান আচার-অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর জগদলপুরে এই বিশেষ সমাবেশ বসে। ঐতিহ্যগতভাবে মুরিয়া আদিবাসী সম্প্রদায়-সহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা রাজদরবারে নিজেদের সমস্যা ও সামাজিক বিষয়গুলি তুলে ধরতেন। আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজদরবারের প্রশাসনিক ভূমিকা আর না থাকলেও, মুরিয়া দরবার বস্তারের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক কাঠামো, জনসংলাপ এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক অংশগ্রহণের প্রতীক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

    নকশাল আতঙ্ক কাটিয়ে উৎসবে ফিরছেন মানুষ

    দীর্ঘদিন ধরে নকশাল হিংসার কারণে বস্তারের বহু গ্রামের মানুষ এই উৎসবে যোগ দিতে পারতেন না। সুকমা, বিজাপুর ও নারায়ণপুরের মতো সংঘর্ষপ্রবণ এলাকার বহু জনপদ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। মাওবাদী হিংসার ছায়ায় বছরের পর বছর উৎসবের চেনা জৌলুসও ব্যাহত হয়েছে।

    তবে এ বছর পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। একসময় নকশাল-প্রভাবিত প্রায় ৫০টি গ্রামের দেবদেবী প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক বস্তার দশেরা উৎসবে অংশ নিয়েছেন। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ কেন্দ্রীয় সরকার দেশে নকশালবাদ অবসান করার কথা ঘোষণা করার পর এই অংশগ্রহণ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

    দীর্ঘদিন ধরে নকশাল সমস্যায় জর্জরিত অঞ্চলের আদিবাসীরা এখন স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার নিরাপত্তা অভিযান, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকায় মাওবাদী প্রভাব কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

    গত বছর জগদলপুরে বস্তার দশেরা উৎসবে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে নকশালবাদ নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়েছিলেন। মাওবাদী মতাদর্শে যুক্ত স্থানীয় আদিবাসীদের অস্ত্র ছেড়ে মূলস্রোতে ফেরার আহ্বানও জানান তিনি। নকশালমুক্ত ঘোষিত প্রতিটি গ্রামকে এক কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল রাজ্য সরকার (Bastar Dussehra Celebration)।

    নকশাল দমনে অভিযান, নিরাপত্তা জোরদার

    নকশালবাদের অবসান ঘটাতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান, কেন্দ্র ও রাজ্যের বাহিনীগুলির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ ছিল সেই কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একদিকে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটিগুলিতে অভিযান চালানো হয়েছে।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নকশাল দমনে অভিযান আরও জোরদার করা হয়। কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী, বিশেষ কোবরা ইউনিট, জেলা রিজার্ভ গার্ড এবং রাজ্য পুলিশকে বিভিন্ন নকশাল-প্রভাবিত এলাকায় মোতায়েন করা হয়। তথ্য সংগ্রহ ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উপগ্রহচিত্রের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়।

    এই অভিযানে একাধিক শীর্ষ মাওবাদী নেতা নিহত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)-র সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের প্রধান নাম্বালা কেশব রাও, যিনি বাসবরাজু নামেও পরিচিত, এবং মাওবাদী কমান্ডার মাডভি হিডমা। তাঁদের মৃত্যুর ফলে মাওবাদী সংগঠনগুলির নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো বড় ধাক্কা খায়।

    ছত্তিশগড় ছাড়াও ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলঙ্গানার নকশাল-প্রভাবিত এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পাশাপাশি মাওবাদীদের আর্থিক জোগানের পথ বন্ধ করতে তল্লাশি ও তদন্ত চালায় সরকারি সংস্থাগুলি। বিভিন্ন অভিযানে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গত কয়েক বছরে বহু মাওবাদী সদস্য অস্ত্র সমর্পণ করেছেন, আবার নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অনেকে নিহতও হয়েছেন।

    জঙ্গলের জীবন থেকে স্বাভাবিক জীবনে

    নকশাল-প্রভাবিত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির প্রভাব এখন সাধারণ মানুষের জীবনেও দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের অগাস্টে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে একটি আদিবাসী পোশাক প্রদর্শনীতে অংশ নেন মাওবাদী মতাদর্শের সঙ্গে একসময় যুক্ত কয়েকজন মহিলা। জাতীয় তাঁত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁরা ঐতিহ্যবাহী তাঁতের পোশাক পরে মঞ্চে হাঁটেন।

    একসময় যাঁদের হাতে অস্ত্র নিয়ে নকশাল-প্রভাবিত জঙ্গলে ঘুরতে হত, তাঁদের কাছে এই অংশগ্রহণ ছিল স্বাভাবিক জীবনে ফেরার এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। মাওবাদী সংগঠন ছেড়ে মূলস্রোতে ফেরার ফলে তাঁরা নতুন করে সামাজিক জীবন গড়ে তোলার সুযোগ (Red Terror Eradication) পাচ্ছেন।

    উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছচ্ছে প্রত্যন্ত গ্রামেও। চলতি বছরের এপ্রিলে নারায়ণপুর জেলার একটি দুর্গম গ্রামে প্রথমবার নলবাহিত পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছয়। নকশাল হুমকির কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত ছিল। মাওবাদী প্রভাবের জেরে বহু আদিবাসী গ্রামে উন্নয়নমূলক কাজ পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছিল।

    নকশাল হিংসা কমার পর কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, পানীয় জল ও অন্যান্য নাগরিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা জোরদার করা হয়েছে (Bastar Dussehra Celebration)।

    সব মিলিয়ে, বস্তার দশেরায় এ বছর প্রায় ৫০টি প্রাক্তন নকশাল-প্রভাবিত গ্রামের দেবদেবীদের অংশগ্রহণ শুধু একটি ধর্মীয় উৎসবের পরিসর বাড়ায়নি, বরং দীর্ঘ সংঘাতের পর ওই অঞ্চলে সামাজিক যোগাযোগ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসারও ইঙ্গিত দিচ্ছে। ছয় শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব তাই এ বছর সাংস্কৃতিক উদ্‌যাপনের পাশাপাশি বস্তারের পরিবর্তিত পরিস্থিতিরও প্রতীক হয়ে উঠেছে বলেই অভিমত ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • Health Minster Of Bengal: ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো টানা ছুটি নয়! সরকারি হাসপাতালে ‘৭৯ বছরের রীতি’ বন্ধ করার ঘোষণা রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

    Health Minster Of Bengal: ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো টানা ছুটি নয়! সরকারি হাসপাতালে ‘৭৯ বছরের রীতি’ বন্ধ করার ঘোষণা রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী বছর দুর্গাপুজো থেকে আর টানা ছুটি পাবেন না রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের কর্মীরা। দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী থেকে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত, প্রায় ১০ দিন ছুটি আর হবে না। শুক্রবার দ্বাদশীর দিন এ কথা ঘোষণা করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আর পাঁচটা সরকারি দফতরের মতো স্বাস্থ্য দফতর নয়। স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিবর্গকে জরুরি পরিষেবা দিতে হয়। মানুষের স্বার্থে পুজোর মধ্যে সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। চিকিৎসক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত রস্টার ডিউটি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

    ‘৭৯ বছরের রীতি’ বন্ধ!

    রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানান, স্বাধীনতার পর থেকে রাজ্যে অঘোষিত একটি রেওয়াজ ছিল যে, ষষ্ঠী মানেই অফিস-কাছারিতে পুজো-পুজো ভাব। সেই ছুটির রেশ চলে যায় একেবারে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত। শারদ্বতের কথায়, ‘‘ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত ছুটি নেওয়া বন্ধ হোক। এত দিন ধরে এটা রীতি-রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ১৯৪৭ সালের পর থেকে ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো হাসপাতালে একটা ছুটি-ছুটি ভাব ছিল। এটাই চলে আসছিল।’’ তার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সংযোজন, ‘‘পরের বার থেকে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমীর জন্য শুধু পুজো রস্টার হবে। আজ থেকেই যাঁরা ছুটিতে ছিলেন তাঁদের ছুটি বাতিল করে কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে।’’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এ বছরই বাকি সরকারি দফতরের মতো মেডিক্যাল কলেজগুলোর শিক্ষক, অধ্যক্ষ, এমএসভিপি, নন-মেডিক্যাল সুপারিনটেন্ডেন্ট থেকে সাফাইকর্মী, সকলেই কাজে ফিরে এসেছেন। চোরবাগানের দুর্ঘটনার পরে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও আধিকারিকদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় শুক্রবার স্বাস্থ্য ভবনে মেডিক্যাল কলেজগুলির অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মন্ত্রী।

    স্বাস্থ্য পরিষেবা জরুরি পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, পুজোর সময়ে হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসক ও অন্য কর্মীদের উপস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়েই একাংশের অনুপস্থিতির বিষয়টি নজরে আসে। পুজোর সময়ে পুরলিয়ার দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আচমকা পরিদর্শনে গিয়ে সাফাইয়ের দুরবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো সরাসরি ফোন করে বিষয়টি জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে। তাতে অনুপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে আরও জলঘোলা হয়। মন্ত্রীর বক্তব্য, ‘স্বাস্থ্য পরিষেবা জরুরি পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত। ফলে উৎসবের মরশুমেও দায়িত্ব পালনে কোনও শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না।’ সরকারি কর্মীদের জনগণের করের টাকায় চলা পরিষেবার প্রতি দায়বদ্ধতার কথা মনে করিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কাজ করানোর জন্যেও কি নির্দেশিকা জারি করতে হবে?’এ বারও পুজোর চার দিনের জন্যে বিশেষ রস্টার চালু থাকলেও আগামী বছর থেকে চিকিৎসক ও নার্সদের ক্ষেত্রে তা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্য কর্মীদের জন্য আগের মতোই রস্টার ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। আগাম ছুটি নিয়ে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার প্রবণতা বন্ধ করতেও কড়া অবস্থান নিচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর।

  • Weather Update: লক্ষ্মীপুজোতেও দুর্যোগ! ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়, আছড়ে পড়তে পারে কোন উপকূলে?

    Weather Update: লক্ষ্মীপুজোতেও দুর্যোগ! ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড়, আছড়ে পড়তে পারে কোন উপকূলে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লক্ষ্মীপুজোর আগেই বঙ্গোপসাগরে চোখ রাঙাচ্ছে ঘূর্ণিঝড়ের ভ্রুকুটি। নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়ে গিয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সোমবার সকালের মধ্যেই সাগরে তৈরি হয়ে যেতে পারে ঘূর্ণিঝড়। তা ক্রমে উপকূলের দিকে ধেয়ে যাবে। তার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ের তাণ্ডবের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোই আবহাওয়া ঠিক থাকবে বলেই পূর্বাভাস। হাওয়া বদল ঘটতে পারে বুধবার থেকে। সোমবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে কোনও সতর্কতা নেই। মঙ্গলবার থেকে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। জারি হয়েছে লাল সতর্কতা। ওই দিন থেকে উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। দমকা হাওয়ার বেগ পৌঁছে যেতে পারে ৬০ কিলোমিটারেও। ফলে সমুদ্র উত্তাল থাকবে।

    কোথায় তৈরি হয়েছে নিম্নচাপ!

    হাওয়া অফিস জানিয়েছে, পূর্ব-মধ্য এবং সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর শুক্রবার নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়েছে। তার আশপাশে ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে সমুদ্রতল থেকে ৫.৮ কিলোমিটার উচ্চতায়। নিম্নচাপ অঞ্চলটি আরও ঘনীভূত হয়ে শনিবার নিম্নচাপে পরিণত হবে। ক্রমশ পশ্চিম-উত্তর পশ্চিমে সরতে সরতে তা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে রবিবার। সোমবার সকালের মধ্যে সমুদ্রেই গভীর নিম্নচাপ থেকে জন্ম নিতে পারে ঘূর্ণিঝড়। সেটি পরবর্তী দু’দিনে আরও শক্তি সঞ্চয় করে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে এগিয়ে যাবে। তার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে বুধবার থেকে। উত্তরবঙ্গেও ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারে। উত্তরের বাকি জেলাগুলিতে ওই দু’দিন বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে।

    দক্ষিণবঙ্গের ছ’টি জেলায় ভারী বৃষ্টি!

    কলকাতায় বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা বৃষ্টি এবং বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। ঝোড়ো হাওয়ার বেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার। একই পূর্বাভাস রয়েছে হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায়। দক্ষিণবঙ্গের ছ’টি জেলায় ভারী বর্ষণের (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) সম্ভাবনা রয়েছে বুধবার থেকে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরে বুধবার, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত টানা ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার। মঙ্গলবার বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং দুই মেদিনীপুরে।

     

  • ITBP: ড্রোন প্রযুক্তিতে চিনের মোকাবিলা করা সম্ভব, জানালেন আইটিবিপি প্রধান

    ITBP: ড্রোন প্রযুক্তিতে চিনের মোকাবিলা করা সম্ভব, জানালেন আইটিবিপি প্রধান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনের সঙ্গে প্রচলিত পদ্ধতিতে যুদ্ধে লড়াই করা ভারতের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং চালকবিহীন ড্রোনের সাহায্যে সেই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলাও করা সম্ভব। এমনই মন্তব্য করলেন ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (ITBP) ডিজি শত্রুজিৎ কাপুর। অরুণাচল প্রদেশে (Arunachal) ভারত ও চিনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পরিস্থিতিতে আইটিবিপির শৌর্য প্লাটুনের ভূমিকারও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। তাঁর দাবি, চিনা বাহিনীর অনুপ্রবেশ রুখতে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর এই বিশেষ বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজস্থানের আলওয়ারে আইটিবিপির ৬৫তম প্রতিষ্ঠা দিবসের আগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাহিনীর জওয়ানদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন মহাপরিচালক। ২৪ অক্টোবর বাহিনীর প্রতিষ্ঠা দিবস।

    শৌর্য প্লাটুনের কমান্ডোদের অসাধারণ দক্ষতা (ITBP)

    অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে অরুণাচল প্রদেশে সাম্প্রতিক মুখোমুখি সংঘাতের সময় শৌর্য প্লাটুনের কমান্ডোরা অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। চিনের মোকাবিলায় বাহিনীর প্রস্তুতি জোরদার করার কথা জানিয়ে শত্রুজিৎ বলেন, আইটিবিপির সমস্ত সদস্যকে বিশেষ আঘাত হানা ও প্রতিরোধমূলক অভিযানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ২০২৭ সালের শেষের মধ্যে এই প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। গালওয়ানের মতো পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য সীমান্তের সামনের সারির সমস্ত চৌকিতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা হচ্ছে। ডিজি আরও জানান, উচ্চ পার্বত্য সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং দেশের সীমান্ত রক্ষার জন্য আইটিবিপি ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়েছে। প্রচলিত গেরিলা যুদ্ধকৌশলে আইটিবিপির বিশেষ দক্ষতার উল্লেখ করে তিনি বাহিনীকে দেশের অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

    ড্রোন প্রযুক্তিতে বড় শক্তিকেও চ্যালেঞ্জ

    চিনের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতের প্রসঙ্গে শত্রুজিৎ জানান, অরুণাচল প্রদেশে ভারত-চিন সীমান্তে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি এখনও অব্যাহত। তাঁর বক্তব্য, সামরিক শক্তির ব্যাপক সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের কারণে চিনের বিরুদ্ধে প্রচলিত যুদ্ধপদ্ধতিতে লড়াই করা কঠিন। তবে আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, বিশেষত চালকবিহীন ড্রোনের ব্যবহার এই সমীকরণ বদলে দিতে পারে। উদাহরণ হিসেবে ইউক্রেনের যুদ্ধের উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, ড্রোন প্রযুক্তির সাহায্যে ইউক্রেনের মতো দেশও রাশিয়ার মতো সামরিক শক্তিধর রাষ্ট্রকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পেরেছে। কাপুরের কথায়, “প্রচলিত পদ্ধতিতে চিনের মোকাবিলা করা এখন কঠিন হবে। চিন তার সামরিক বাহিনীর আধুনিকীকরণে বিপুল বিনিয়োগ করেছে এবং অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। কিন্তু ড্রোনের সাহায্যে ছোট দেশও বড় দেশকে লড়াইয়ে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। রাশিয়া-ইউক্রেন এবং ইরান-আমেরিকার সংঘাতেও আমরা তার উদাহরণ দেখেছি।” ড্রোন প্রযুক্তির উন্নয়নে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়লেও, একই সঙ্গে জওয়ান ও সামরিক পরিকাঠামোকে ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখার নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে জানান আইটিবিপি প্রধান। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় সীমান্তের সামনের সারির কয়েকটি চৌকিতে মাটির নীচে সুরক্ষিত আশ্রয়স্থল তৈরি করেছে বাহিনী। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর বাহিনীর প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করতেই এই উদ্যোগ। নতুন ধরনের হুমকির মোকাবিলায় সরঞ্জাম, পরিকাঠামো এবং অভিযান পরিচালনার সক্ষমতাও উন্নত করা হচ্ছে (ITBP)।

    ১,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা

    ২০৩০ সালের মধ্যে বাহিনীর জন্য আরও বেশি আর্থিক বরাদ্দের প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন শত্রুজিৎ কাপুর। তাঁর বক্তব্য, ড্রোন এবং ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আইটিবিপি নির্দিষ্টভাবে ১,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে (Arunachal)। আধুনিকীকরণ পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বাহিনীর চলাচলের সক্ষমতা এবং উন্নত সরঞ্জাম সংগ্রহের উপর। এর মধ্যে রয়েছে দুর্গম ভূখণ্ডে চলাচলে সক্ষম যান, স্বয়ংক্রিয় স্থলযান, দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল যান এবং আধুনিক গোলাবারুদ সংগ্রহ। সীমান্তে পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাহিনীর সামরিক প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোই এই পরিকল্পনার মূল (ITBP) লক্ষ্য।

     

  • Bombay HC: জাল নথিতে আধার-প্যান- ভোটার কার্ড, ভারতে গভীরে অনুপ্রবেশ বিদেশিদের! কড়া তদন্তের নির্দেশ বম্বে হাইকোর্টের

    Bombay HC: জাল নথিতে আধার-প্যান- ভোটার কার্ড, ভারতে গভীরে অনুপ্রবেশ বিদেশিদের! কড়া তদন্তের নির্দেশ বম্বে হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাল নথি জমা দিয়ে আধার কার্ড, প্যান কার্ড ও ভোটার পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে বিদেশি নাগরিকেরা ভারতের অভ্যন্তরে গভীর পর্যন্ত অনুপ্রবেশ করতে পেরেছে। এই কাজে সাহায্যকারীদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়ে এমনই পর্যবেক্ষণ করেছে বম্বে হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ, বিদেশি নাগরিকদের ভারতে প্রবেশ ও বসবাসের সুযোগ করে দেওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে (Bombay HC)। অপরাধে তাঁদের যোগসূত্র প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। বিচারপতি এএস গড়করি এবং বিচারপতি কমল খাতার ডিভিশন বেঞ্চ ১২ অক্টোবরের রায়ে ভারতীয় স্বতন্ত্র পরিচয় কর্তৃপক্ষকে (ইউআইডিএআই) প্রয়োজনীয় আধার নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ২০১৮ সালে নবি মুম্বইয়ের সন্ত্রাসবিরোধী শাখা (এটিএস) বাংলাদেশের নাগরিকদের বেআইনি বসবাস সংক্রান্ত যে মামলা করেছিল, সেই তদন্তের স্বার্থেই এই নথি চাওয়া হয়েছিল (Aadhaar Voter IDs)। রায়ে আদালত বলেছে, “ভারতের সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকারী বিদেশি নাগরিকেরা দেশের অভ্যন্তরে গভীর পর্যন্ত প্রবেশ করেছে।” আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিযুক্তেরা জাল নথি জমা দিয়ে প্যান কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র এবং আধার কার্ড সংগ্রহ করেছিলেন। এর মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন। বিষয়টিকে গুরুতর উদ্বেগের বলে উল্লেখ করে দ্রুত তদন্ত শেষ করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে আদালত।

    গ্রেফতার পাঁচ বাংলাদেশি (Bombay HC)

    মামলার সূত্রপাত ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রায়গড় জেলার পানভেলের জুইগাঁও এলাকায় অভিযান চালায় এটিএস। সেখানে পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিক বেআইনিভাবে বসবাস করছেন বলেও অভিযোগ। অভিযানে পাঁচ জনকেই গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, মহম্মদ আলাউদ্দিন ওরফে মুন্না বা মাস্টার উসমান আনসারি, প্রবীণ আনন্দ পাটিল, অজয় ভীমরাও সুরভে এবং বিশাল জনার্দন শেড়গের সহায়তায় অভিযুক্তেরা ভারতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এই পরিচয়পত্র তৈরির জন্য অভিযুক্তেরা আধার কার্ডের আবেদন করার সময় যে নথি জমা দিয়েছিলেন, সেগুলি হাতে পাওয়ার জন্য ২০১৮ সালে বিচার আদালতে ফৌজদারি বিবিধ আবেদন নম্বর ১৭৭ দায়ের করে প্রসিকিউশন পক্ষ। ওই বছরের ৪ এপ্রিল নবি মুম্বইয়ের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক পাঁচ অভিযুক্তের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করার নির্দেশ দেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে।

    অভিযুক্তের আধার নথি পায়নি তদন্তকারী সংস্থা

    তদন্তকারী সংস্থা ইয়াসিন জালাল শেখ, মহম্মদ রফিক আজ্জু শেখ, জামাল ইসমাইল হুসেন-সহ আরও এক অভিযুক্তের আধার সংক্রান্ত নথি পেয়েছিল। কিন্তু বাকার হাসান শেখ নামে অন্য এক অভিযুক্তের নথি কর্তৃপক্ষ দেননি। এর পর ২০১৯ সালে সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্দেশ জারির আবেদন জানিয়ে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় এটিএস। ২০১৯ সালের রিট পিটিশন নম্বর ৬০১৯-এ আধার আইন, ২০১৬-এর ৩৩(১) ধারা উল্লেখ করে বাকার হাসান শেখের পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য ও আধার যাচাইকরণের নথি প্রকাশের দাবি জানানো হয় (Bombay HC)। আট বছরেরও বেশি সময় আগে শুরু হওয়া তদন্তে আধার নথি পাওয়ার এই দাবি অবশেষে হাই কোর্টে নিষ্পত্তির পর্যায়ে পৌঁছয়।

    সাহায্যকারীদেরও জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

    রায়ের সপ্তম অনুচ্ছেদে আদালত বিদেশি নাগরিকদের ভারতে প্রবেশ এবং সরকারি পরিচয়পত্র সংগ্রহে সহায়তাকারীদের ভূমিকা নিয়ে পৃথকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিচারপতিদের নির্দেশ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এবং সহ-অভিযুক্তদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। অপরাধে তাঁদের জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা চালাতে হবে। আদালত আরও স্পষ্ট করে বলেছে, “তদন্তকে তার যৌক্তিক পরিণতি পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে।” এটিএসের আবেদন মঞ্জুর করে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, বাকার হাসান শেখের আধার কার্ড পাওয়ার জন্য জমা দেওয়া নথি রায়টি আদালতের সরকারি ওয়েবসাইটে আপলোড হওয়ার তারিখ থেকে দু’সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ করতে হবে (Aadhaar Voter IDs)। মহারাষ্ট্র সরকার বনাম ভারতীয় স্বতন্ত্র পরিচয় কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য মামলায় এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলাটির নম্বর রিট পিটিশন ৬০১৯/২০১৯। আপাতত আদালতের নির্দেশ এক অভিযুক্তের আধার সংক্রান্ত নথি প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, পর্যবেক্ষণে বিদেশি নাগরিকদের ভারতীয় পরিচয়পত্র পেতে সাহায্যকারী ব্যক্তিদের ভূমিকার বিষয়টিও উঠে এসেছে। তদন্তে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তাঁদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছে আদালত (Bombay HC)।

     

  • Suvendu Adhikari: ঝাড়গ্রামের সার্বিক উন্নয়নে ৩৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ, জনজাতি কল্যাণে গুচ্ছের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: ঝাড়গ্রামের সার্বিক উন্নয়নে ৩৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ, জনজাতি কল্যাণে গুচ্ছের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়গ্রাম জেলার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ৩৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ করল রাজ্য সরকার। শুক্রবার ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়ার লোধা-শবর অধ্যুষিত কালাঝাড়িয়া গ্রামে বিশেষ উন্নয়নমূলক কর্মসূচির সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এই প্রথম ওই গ্রামে সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিলেন তিনি। জনজাতি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে একাধিক প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সাপ্তাহিক পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ, জনজাতি পড়ুয়াদের বৃত্তি, মহিলাদের আর্থিক সহায়তা, কর্মসংস্থান এবং আবাস যোজনার মতো (Lodha Shabar Tribes) একাধিক বিষয় উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।

    বাড়ি বাড়ি পুষ্টিকর খাদ্য (Suvendu Adhikari)

    চলতি রাজ্য বাজেটে জনজাতি পরিবারের হাতে বিশেষ খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়ার যে ঘোষণা করা হয়েছিল, এদিন কালাঝাড়িয়া থেকেই তার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এবার থেকে প্রতি সপ্তাহে জনজাতি পরিবারের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে পুষ্টিকর খাবারের প্যাকেট। রেশন ব্যবস্থার বাইরে অতিরিক্ত সহায়তা হিসেবে দেওয়া এই প্যাকেটে থাকবে চাল, ডাল, তেল ও সয়াবিন। এই প্রকল্পের আওতায় পশ্চিম মেদিনীপুরের ৪৫ হাজার এবং ঝাড়গ্রামের ২৫ হাজার পরিবার উপকৃত হবে। এর পাশাপাশি, লোধা-শবর জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ খাদ্য প্যাকেট বরাদ্দের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। ঝাড়গ্রাম জেলার ২ লাখ পড়ুয়াকে ৮০০ টাকা করে তফসিলি উপজাতি বৃত্তি দেওয়ার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। আদিবাসী মহিলা সমৃদ্ধি যোজনা চালুর পাশাপাশি ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা এবং নতুন জবকার্ড দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলায় ২ লাখ ৭২ হাজার ৯০৩ জন অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাচ্ছেন।

    আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগ

    পূর্ববর্তী সরকারের আমলের দুর্নীতি নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে বর্তমান সরকার ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস যোজনা’ করেছে। আগের সরকারের আমলে প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়া ২৬ হাজার ৭০০ জনের মধ্যে বহু ভুয়ো উপভোক্তার সন্ধান মিলেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে প্রকৃত দরিদ্রদের বঞ্চিত করে বাড়ি তৈরির পরিবর্তে গরুর গোয়ালঘর দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমান সরকার নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে ১৭ হাজার ৯৮৩ জন উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পাঠিয়েছে।

    মাও-হিংসার দিনগুলির স্মৃতিচারণ

    জঙ্গলমহলের অতীত পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এক সময় মাওবাদী ও সিপিএমের আমলে এই অঞ্চলে চরম অত্যাচার চলত। হাঁসদা, সোরেন, টুডু, মুর্মু, মাঝি, সিং ও মাহাতোদের মতো জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষকে মাওবাদী তকমা দিয়ে নির্যাতন করা হত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে তিনি লাগাতার লড়াই করেছেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। ২০০৯ সালের নির্বাচনে জঙ্গলমহলে মাত্র ৩৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সময় দেশবিরোধী শক্তি ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছিল। সেই সংকট কাটিয়ে বর্তমানে জঙ্গলমহলে শান্তি ফিরেছে বলেও দাবি করেন (Suvendu Adhikari) তিনি।

    ঝাড়গ্রামের সার্বিক উন্নয়নের নির্দেশ

    পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল। তাঁর দাবি, আগের সরকার পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে নামমাত্র কাজ করেছিল। তবে বর্তমান সরকার এই অঞ্চলকে কোনওভাবেই বঞ্চিত করবে না বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের দায়িত্ব বর্তমানে তাঁর নিজের হাতে রয়েছে। আগামী ছ’মাসের মধ্যে ঝাড়গ্রামের সার্বিক উন্নয়নের জন্য জেলাশাসককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছেন (Lodha Shabar Tribes) তিনি। ১২ নভেম্বর বাঁকুড়ায় বাঁধনা পরবে যোগ দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে তাঁর।

    জনজাতি ও প্রান্তিক মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, পুষ্টি, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং আবাসনকে সামনে রেখে একাধিক ঘোষণার মধ্যে দিয়ে ঝাড়গ্রাম জেলার উন্নয়নে রাজ্য সরকারের অগ্রাধিকারের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

     

  • India Pakistan: কার্গিল যুদ্ধে নিহত পাক সেনাদের দেহ ফিরিয়ে নেয়নি ইসলামাবাদ! রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তীব্র আক্রমণ ভারতের

    India Pakistan: কার্গিল যুদ্ধে নিহত পাক সেনাদের দেহ ফিরিয়ে নেয়নি ইসলামাবাদ! রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তীব্র আক্রমণ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরে নিহত ব্যক্তিদের শেষকৃত্য ও তাঁদের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল পাকিস্তান। রাষ্ট্রসংঘে সেই অভিযোগের কড়া জবাব দিল ভারত। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে নয়াদিল্লি মনে করিয়ে দিল, নিজেদের সেনাদের মৃত্যুর ঘটনাও একসময় স্বীকার করতে চায়নি ইসলামাবাদ। অথচ আজ তারাই ধর্মীয় স্বাধীনতা, বিশ্বাস ও শেষকৃত্যের অধিকার নিয়ে সরব হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রসংঘে বিশেষ পরিস্থিতিতে শেষকৃত্যের অধিকার সংক্রান্ত এক আলোচনায় ভারতের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি ভাবিকা মঙ্গলানন্দন।

    শেষকৃত্যের অধিকার খর্ব করার অভিযোগ

    ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বিশ্বাসের অধিকার সংক্রান্ত রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূত নাজিলা ঘানিয়ার একটি অন্তর্বর্তী রিপোর্টকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। ওই রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়, জম্মু-কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত ব্যক্তিদের শেষকৃত্যের অধিকার পদ্ধতিগতভাবে খর্ব করা হয়েছে। পরিবারের হাতে মৃতদেহ তুলে না দেওয়া এবং দূরবর্তী স্থানে গোপনে দেহ সমাধিস্থ করার মতো ঘটনাও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় রীতিনীতির সঙ্গে এই ধরনের ঘটনার অসঙ্গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

    পাকিস্তানকে নিশানা ভারতের

    এর জবাবে পাকিস্তানকে নিশানা করে ভাবিকা মঙ্গলানন্দন বলেন, “যে রাষ্ট্র ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধে নিহত নিজেদের সেনাদের মৃতদেহ পর্যন্ত গ্রহণ করেনি, সেই রাষ্ট্রই আজ ধর্মবিশ্বাস, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমাধিস্থ করার অধিকার নিয়ে জোরালো বক্তব্য রাখছে—এ এক গভীর পরিহাস।” উল্লেখ্য, কার্গিল যুদ্ধের সময় পাকিস্তান তাদের সেনা সদস্যদের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছিল। সেই পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী নিহত পাকিস্তানি সেনাদের দেহ উদ্ধার করে সামরিক মর্যাদায় এবং ইসলামি রীতি মেনে তাঁদের সমাধিস্থ করেছিল বলে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়। জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের লাগাতার মন্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেন ভারতের প্রতিনিধি। তিনি বলেন, ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের অতিরিক্ত আগ্রহ না দেখিয়ে তাদের উচিত পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন অঞ্চলের পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়া। এ প্রসঙ্গে তিনি রাওয়ালকোটের কথাও উল্লেখ করেন।

    সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়েও পাকিস্তানকে আক্রমণ

    রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মঙ্গলানন্দন। তাঁর অভিযোগ, দেশটিতে সংখ্যালঘুদের জনসংখ্যা ক্রমশ কমছে এবং তাঁদের অধিকার বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “যে রাষ্ট্র নিজের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, ভারতকে উপদেশ দেওয়ার কোনও নৈতিক অধিকার তার নেই।” পাকিস্তানে হিন্দু, খ্রিস্টান ও শিখ-সহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এই মন্তব্য করেন। এদিকে, হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তানের প্রকাশিত সপ্তম বার্ষিক রিপোর্টেও (Sanctuary Denied: Freedom of Religion or Belief in 2025/26) দেশটির সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। রিপোর্টে ধর্মনিন্দা সংক্রান্ত আইনের অপব্যবহার, জোরপূর্বক বিয়ে ও ধর্মান্তর এবং বৈষম্যমূলক আচরণের মতো বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়েছে।

    সন্ত্রাসবাদীদের শেষকৃত্য নিয়ে প্রশ্ন ভারতের

    রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শেষকৃত্যের অধিকার নিয়েও আপত্তি জানান ভারতের প্রতিনিধি। তাঁর বক্তব্য, রিপোর্টে রাষ্ট্রের তরফে সন্ত্রাসবাদীদের শেষকৃত্যের অধিকার সীমিত করার সুযোগ স্বীকার করা হলেও সেই ক্ষেত্রে আইনি সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়েছে। মঙ্গলানন্দনের মতে, এই আইনি সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সার্বভৌম অধিকারের বিষয়টিও বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদীরা নিরীহ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি একটি গোটা জাতির মানসিকতার উপর গভীর আঘাত হানে। ভারতের প্রতিনিধির অভিযোগ, রিপোর্টে সন্ত্রাসবাদীদের অধিকারের উপর যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, সন্ত্রাসের শিকার হওয়া মানুষদের অধিকারের ক্ষেত্রে ততটা গুরুত্ব দেখা যায়নি। তিনি আরও দাবি করেন, রিপোর্টে ভারতের প্রসঙ্গ টানতে প্রায় পাঁচ বছর আগের ঘটনাগুলির উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অঞ্চলে এবং উন্নত দেশগুলিতে ঘটে যাওয়া গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনাগুলিকে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি।

    কোভিড পরিস্থিতি নিয়েও রিপোর্টকে নিশানা

    কোভিড-১৯ মহামারির সময় মৃতদেহের শেষকৃত্য ও ধর্মীয় আচরণ নিয়ে বৈষম্যের প্রসঙ্গেও রিপোর্টের সমালোচনা করেন মঙ্গলানন্দন। তাঁর বক্তব্য, রিপোর্টে এমনভাবে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, যেন এই ধরনের ঘটনা মূলত গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলিতেই ঘটেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, উন্নত দেশগুলিতে একই ধরনের মর্মান্তিক পরিস্থিতির উল্লেখ করা হয়নি কেন। মানুষের যন্ত্রণা ও মৃত্যুকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন ভারতের প্রতিনিধি। রাষ্ট্রসংঘে এই বক্তব্যের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের অভিযোগের পাল্টা জবাব দেওয়ার পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের অধিকার, সন্ত্রাসবাদ এবং আন্তর্জাতিক রিপোর্টের নিরপেক্ষতা নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করল নয়াদিল্লি।

  • WhatsApp Telegram: ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে সক্রিয় সিম ছাড়া চলবে না হোয়াটসঅ্যাপ! কী বদল আসছে ব্যবহারকারীদের জন্য?

    WhatsApp Telegram: ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে সক্রিয় সিম ছাড়া চলবে না হোয়াটসঅ্যাপ! কী বদল আসছে ব্যবহারকারীদের জন্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp), টেলিগ্রাম (Telegram)-সহ একাধিক জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য আসতে চলেছে নতুন নিয়ম। কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ দফতর (DoT)-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মোবাইল নম্বরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সক্রিয় সিম কার্ডের সংযোগ বজায় রাখতে হবে নির্দিষ্ট মেসেজিং অ্যাপগুলিকে। সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা এবং ভুয়ো পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের মতো ঘটনা রুখতেই এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়েছে। এই নির্দেশিকা মেনে চলার সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর করা হয়েছে। ফলে নতুন বছরের শুরু থেকেই নিয়মটি কার্যকর হওয়ার কথা।

    কী এই সিম-বাইন্ডিং নিয়ম?

    এতদিন হোয়াটসঅ্যাপ-এর মতো অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় মোবাইল নম্বর যাচাই করলেই সাধারণত চলত। একবার অ্যাকাউন্ট চালু হয়ে গেলে, সংশ্লিষ্ট সিম কার্ড ফোন থেকে খুলে নিলেও অনেক ক্ষেত্রে অ্যাপ ব্যবহার করা যেত। একইভাবে লিঙ্কড ডিভাইসের মাধ্যমে ল্যাপটপ বা ট্যাবলেট থেকেও মেসেজিং পরিষেবা ব্যবহার করা সম্ভব হত। নতুন নিয়মে সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে। সিম-বাইন্ডিং ব্যবস্থার অধীনে, অ্যাকাউন্টের পরিচয় হিসেবে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের সঙ্গে যুক্ত সক্রিয় সিম কার্ডের উপস্থিতি ও সংযোগ বজায় রাখার শর্ত কার্যকর হবে। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট সিম কার্ড সরিয়ে নেওয়া, নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া কিংবা নির্দিষ্ট ডিভাইসে সিমের সংযোগ না থাকলে অ্যাপ ব্যবহারে সমস্যা হতে পারে। তবে ঠিক কীভাবে এই নিয়ম কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলির বাস্তবায়ন পদ্ধতির উপর নির্ভর করবে। কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ দফতর (DoT)-এর নির্দেশিকার আওতায় রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp), টেলিগ্রাম (Telegram), সিগনাল (Signal), স্ন্যাপচ্যাট (Snapchat), শেয়ারচ্যাট (ShareChat), জিওচ্যাট (JioChat), আরাতাই (Arattai) এবং জোশ (Josh)-সহ মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করে এমন একাধিক পরিষেবা।

    কেন এই পদক্ষেপ কেন্দ্রের?

    সাইবার অপরাধ দমনে কড়া পদক্ষেপ হিসেবেই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতারকরা ভারতীয় মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে একবার অ্যাকাউন্ট যাচাই করার পর সংশ্লিষ্ট সিম সরিয়ে ফেলেও দূর থেকে সেই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারে। এর ফলে প্রতারণার উৎস শনাক্ত করা এবং অপরাধীদের নাগাল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষত, পরিচয় জালিয়াতি, ফিশিং, ভুয়ো বিনিয়োগের প্রলোভন এবং ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর নামে প্রতারণার মতো অপরাধ মোকাবিলায় এই ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছে সরকার। কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ দফতর (DoT)-এর বক্তব্য, দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত সাইবার প্রতারণার ক্ষেত্রেও এই ধরনের ব্যবস্থার অপব্যবহার হচ্ছে। তাই মোবাইল নম্বর, সক্রিয় সিম কার্ড এবং মেসেজিং পরিষেবার মধ্যে ধারাবাহিক সংযোগ বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দফতরের ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতে সাইবার প্রতারণার কারণে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২২,৮০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছিল।

    হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব ব্যবহারকারীদের কী হবে?

    নতুন নির্দেশিকায় ওয়েব-ভিত্তিক পরিষেবা এবং লিঙ্কড ডিভাইস ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। প্রাথমিক নির্দেশিকায় হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব (WhatsApp Web)-এর মতো পরিষেবার সেশন সর্বোচ্চ ছ’ঘণ্টার মধ্যে লগ-আউট করার কথা বলা হয়েছিল। লগ-আউটের পর কিউআর কোড স্ক্যান করে পুনরায় সংযোগ স্থাপনের সুযোগ রাখার কথাও ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সরকার জানিয়েছে, ওয়েব সেশনের লগ-আউটের সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে ঝুঁকি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে। ফলে সব ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ছ’ঘণ্টার সময়সীমা বাধ্যতামূলক হবে কি না, তা স্পষ্টভাবে আলাদা করে দেখা জরুরি। অর্থাৎ, অফিসে দীর্ঘক্ষণ হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব (WhatsApp Web) ব্যবহার করেন যাঁরা, তাঁদের ভবিষ্যতে নতুন করে কিউআর কোড স্ক্যান করে লগ-ইন করতে হতে পারে। তবে এর সুনির্দিষ্ট নিয়ম সংশ্লিষ্ট পরিষেবার বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করবে।

    সরকার কী জানিয়েছে?

    রাজ্যসভায় এক লিখিত উত্তরে কেন্দ্রীয় যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী পেম্মাসানি চন্দ্র শেখর জানান, গ্রাহক বা ব্যবহারকারীর পরিচয় নির্ধারণ কিংবা পরিষেবা প্রদানের জন্য ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিম কার্ডকে মেসেজিং অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশিকা মেনে চলার সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর।

    সাধারণ ব্যবহারকারীদের কী করণীয়?

    নতুন নিয়ম কার্যকর হলে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি—

    • ● সিম সক্রিয় রাখুন: যে মোবাইল নম্বর দিয়ে মেসেজিং অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, তার সঙ্গে যুক্ত সিম কার্ড সক্রিয় রাখুন।
    • ● সিম ছাড়া অন্য ডিভাইস ব্যবহারে সতর্ক থাকুন: ওয়াই-ফাই-নির্ভর ট্যাবলেট বা সিমবিহীন দ্বিতীয় ফোনে পরিষেবা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।
    • ● হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব (WhatsApp Web)-এর জন্য প্রস্তুত থাকুন: প্রয়োজনে পুনরায় কিউআর কোড স্ক্যান করে লগ-ইন করতে হতে পারে।
    • ● নম্বর পরিবর্তনের আগে সতর্ক হন: সিম নিষ্ক্রিয় করা বা মোবাইল নম্বর বদলানোর আগে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের পরিষেবা সংক্রান্ত নির্দেশিকা দেখে নিন।

    বন্ধ হচ্ছে না হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রাম

    নতুন নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার অর্থ এই নয় যে ভারতে হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রাম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বরং ভারতীয় মোবাইল নম্বরের সঙ্গে যুক্ত অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত কার্যকর হতে চলেছে। সাইবার প্রতারণা রুখতে সরকারের এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয় এবং একই সঙ্গে সাধারণ ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন কাজে কতটা প্রভাব ফেলে, তা বোঝা যাবে নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর।

  • India Poland: প্রতিরক্ষা, পরমাণু শক্তি, মহাকাশে সহযোগিতা বাড়াতে আলোচনায় ভারত-পোল্যান্ড, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য

    India Poland: প্রতিরক্ষা, পরমাণু শক্তি, মহাকাশে সহযোগিতা বাড়াতে আলোচনায় ভারত-পোল্যান্ড, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা, মহাকাশ ও পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করতে সম্মত হল ভারত ও পোল্যান্ড। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পোল্যান্ডের (India Poland) প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বর্তমান স্তর থেকে দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে জোর দেওয়া হয়। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার।

    ২০২৪ সালে মোদির পোল্যান্ড সফরের পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন গতি পায়। গত ৪৫ বছরে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সেটিই ছিল প্রথম পোল্যান্ড সফর। বর্তমানে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা হয়ে উঠেছে দুই দেশের সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পোল্যান্ড ইউরোপের বৃহত্তম সামরিক আধুনিকীকরণ কর্মসূচি চালাচ্ছে। দেশটি তার মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করছে।

    ‘চমৎকার’ আলোচনা (India Poland)

    টাস্কের সঙ্গে আলোচনাকে ‘চমৎকার’ বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি জানান, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, পরমাণু শক্তি, মহাকাশ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও আলোচনায় উঠে আসে। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতির জন্য ভারতের সাম্প্রতিক প্রস্তাবকে পোল্যান্ড স্বাগত জানিয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় আধিকারিকরা।

    টাস্কের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মোদি বলেন, “আজ আমরা প্রতিরক্ষা, মহাকাশ ও পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করতে সম্মত হয়েছি। এই সমস্ত কৌশলগত ক্ষেত্রে যৌথ উন্নয়ন ও যৌথ উৎপাদনের জন্য আমরা পোল্যান্ডের সংস্থাগুলিকে ভারতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।”

    খনিজ ও কৌশলগত সম্পদের ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার গুরুত্ব তুলে ধরে টাস্ক বলেন, “রাজনৈতিক হুমকি সম্পর্কে আমরা যথেষ্ট সচেতন। খনিজ ও কৌশলগত সম্পদের ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব স্বাধীন হয়ে ওঠার প্রয়োজনীয়তাও আমরা বুঝি, যাতে পোল্যান্ড ও ভারত এই ক্ষেত্রগুলিতে আত্মনির্ভর হতে পারে।”

    কী বললেন মোদি

    মোদি বলেন, আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা ও পরিবর্তনের সময়ে ভারত এবং পোল্যান্ড, দুই দেশই অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তাঁর কথায়, “গত বছর পোল্যান্ডের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ঐতিহাসিকভাবে এক লাখ কোটি মার্কিন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। আর, গত ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮ শতাংশ।”

    প্রস্তাবিত ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাণিজ্য চুক্তি পোল্যান্ডে যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক, প্লাস্টিক এবং প্রকৌশলজাত পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে ভারতের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে রেল, পরিবহণ ব্যবস্থা, উন্নত উৎপাদন শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং জৈবপ্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে পোল্যান্ডের কাছ থেকে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করবে ভারত।

    টাস্কের সঙ্গে প্রায় ১০০টি পোলিশ সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বড় ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল ভারতে এসেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য পূরণে নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে এই প্রতিনিধিদল গুরুত্ব দেবে বলেও জানান মোদি।

    নয়া অংশীদারিত্ব

    গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং পোল্যান্ডের প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে কয়লা থেকে গ্যাস উৎপাদনের ক্ষেত্রেও দুই দেশ নয়া অংশীদারিত্ব গড়ে তুলবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং আর্থিক প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশের মধ্যে একটি ‘প্রারম্ভিক উদ্যোগ সেতু’ গড়ে তোলা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

    পোল্যান্ডের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লি ও বেঙ্গালুরুতে আয়োজিত দু’টি ব্যবসায়িক সম্মেলনে অংশ নেবে। প্রতিরক্ষা, কৃষি প্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ওষুধশিল্প, খনি, প্রযুক্তি এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখাই এই সম্মেলনগুলির লক্ষ্য। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার। পোল্যান্ডে ভারতীয় বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়ে ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। সেখানে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলিরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে (India Poland)।

    টাস্ক বলেন, দুই দেশের মধ্যে স্বার্থের সংঘাত বা এমন কোনও ঐতিহাসিক সমস্যা নেই, যা তাদের বিভক্ত করতে পারে। সেই কারণেই উভয় দেশ সহজেই পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে পেরেছে। বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে মোদির ভূমিকার প্রশংসা করে তাঁকে ‘আশার আলোকবর্তিকা’ বলেও উল্লেখ করেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।

    টাস্কের বক্তব্য

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রসঙ্গে টাস্ক বলেন, “সম্প্রতি আমাদের ড্রোনগুলি অত্যন্ত কার্যকর ছিল। আমি নিশ্চিত, উপগ্রহ ও ড্রোনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংকটের সময় আমাদের দেশগুলিকে সাহায্য করেছে।”

    গত বছর কাশ্মীরে পহেলগাঁও হামলার জবাবে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে জঙ্গি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে ভারত পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুরে’র সময় ভারতীয় সেনার ব্যবহৃত পোলিশ ড্রোনের দিকেই টাস্ক ইঙ্গিত করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। পোল্যান্ডের ডব্লিউবি গোষ্ঠী ২০২২ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ১০০টি ‘ওয়ারমেট’ আত্মঘাতী ড্রোন সরবরাহ করেছিল। চলতি বছরের গোড়ায় পোল্যান্ডের আধিকারিকরা জানান, ভারতীয় সেনাবাহিনী আরও তিনটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

    ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে ইউক্রেনকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহের কারণে পোল্যান্ডের নিজস্ব মজুত কমেছে। সেই মজুত পূরণ করতে ভারতীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদকদের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়েও আগ্রহী ওয়ারশ। তবে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক নিয়ে পোল্যান্ডের কয়েকটি সংস্থার উদ্বেগ রয়েছে। প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়াতে নিরাপদে তথ্য আদানপ্রদানের বিষয়ে একটি চুক্তিও চূড়ান্ত করছে নয়াদিল্লি এবং ওয়ারশ।

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পশ্চিম বিভাগের সচিব সিবি জর্জ সাংবাদিকদের জানান, দুই দেশ গোপনীয় তথ্যের পারস্পরিক সুরক্ষা ও আদানপ্রদান নিয়ে একটি চুক্তি তৈরির কাজ করছে। প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ক্রমবর্ধমান আস্থার ভিত্তিতে এই চুক্তি গড়ে উঠবে বলেই আশা।

    যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম তৈরি ও উৎপাদনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে পারস্পরিক আস্থা এবং তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার ব্যবস্থা জরুরি বলেও জানান তিনি। দুই দেশ প্রতিরক্ষা শিল্প নিয়ে একটি সংলাপ এবং সন্ত্রাসবাদ দমন সংক্রান্ত একটি পৃথক আলোচনা চালু করতেও সম্মত হয়েছে। চলতি বছরের গোড়ায় ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব পোল্যান্ডের সঙ্গে প্রতিরক্ষা, সন্ত্রাসবাদ দমন, প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, মহাকাশ এবং জাহাজ নির্মাণ ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতার অতিরিক্ত কাঠামো তৈরি (India Poland) করেছে বলেও জানান জর্জ।

    শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভারতের করণীয়

    আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে মোদি বলেন, “ইউক্রেন হোক বা পশ্চিম এশিয়া, শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিটি অর্থবহ উদ্যোগকে ভারত সমর্থন করে যাবে।” রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়ে ভারতের অবস্থানকে পোল্যান্ড ‘অত্যন্ত প্রশংসা’ করেছে বলে জানান জর্জ। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথনে মোদি ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ থেকে ‘যুদ্ধের অবসানের’ দিকে এগোনোর যে আহ্বান জানিয়েছেন, সেটিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা, খাদ্যশস্য ও জ্বালানি রফতানি এবং পরস্পরের উপর আক্রমণ না করার সম্ভাবনা নিয়েও ভারত রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রস্তাব ভাগ করে নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

    জনগণের সম্পর্কের গুরুত্ব

    দুই দেশের নেতাই জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জামনগর ও কোলহাপুরের রাজপরিবার হাজার হাজার পোলিশ শিশু ও পরিবারকে আশ্রয় দিয়েছিল। ২০২২ সালে ইউক্রেন থেকে হাজার হাজার ভারতীয় পড়ুয়াকে সরিয়ে আনতেও পোল্যান্ড কর্তৃপক্ষ সহায়তা করেছিলেন। বর্তমানে পোল্যান্ডে প্রায় ৩০ হাজার ভারতীয় বসবাস করেন, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩,৫০০ জনই পড়ুয়া।

    প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, জ্বালানি এবং বাণিজ্য—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর এই উদ্যোগ ভারত-পোল্যান্ড সম্পর্ককে আরও কৌশলগত ও অর্থনৈতিক ভিত্তি দিতে পারে। ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য পূরণে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ এখন বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে (India Poland) বলেই অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

     

  • Hindu Code of Conduct: বারাণসীতে সংস্কৃতি সংসদের আয়োজন, ব্রিটেনে থাকা মনুস্মৃতি পাণ্ডুলিপি ফেরানোর উদ্যোগ

    Hindu Code of Conduct: বারাণসীতে সংস্কৃতি সংসদের আয়োজন, ব্রিটেনে থাকা মনুস্মৃতি পাণ্ডুলিপি ফেরানোর উদ্যোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সনাতন ঐতিহ্য সংরক্ষণ, প্রাচীন জ্ঞানচর্চার প্রসার এবং ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপি দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ সামনে রেখে আগামী ৩ থেকে ৫ নভেম্বর বারাণসীতে হবে সংস্কৃতি সংসদ ২০২৬। তিন দিনের এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সমাবেশে প্রস্তাবিত ‘হিন্দু আচরণবিধি’ (Hindu Code of Conduct), ব্রিটেনে সংরক্ষিত মনুস্মৃতির ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপি ভারতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ভারতীয় দর্শন ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলি গুরুত্ব পাবে। জানা গিয়েছে, বারাণসীর রুদ্রাক্ষ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এই সমাবেশে অংশ নেবেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ধর্মীয় নেতা, সাধুসন্ত, ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং যুব প্রতিনিধিরা। তাঁদের বক্তব্য, ভারতের সভ্যতাগত ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করা এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে দেশের আধ্যাত্মিক ও বৌদ্ধিক উত্তরাধিকারের সংযোগ স্থাপন করাই এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য (Varanasi Sanskriti Sansad)। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন অখিল ভারতীয় সন্ত সমিতি ও গঙ্গা মহাসভার সাধারণ সম্পাদক স্বামী জিতেন্দ্রানন্দ সরস্বতী এবং সংস্কৃতি সংসদের আয়োজক কমিটির সভাপতি তথা বিজেপির প্রাক্তন জাতীয় সম্পাদক সুনীল দেওধর।

    হাজার হাজার সাধুসন্তের যোগদানের সম্ভাবনা (Hindu Code of Conduct)

    আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংস্কৃতি সংসদে ১২৭টি ধর্মীয় সম্প্রদায়, ১৩টি আখড়া এবং ১৮টি খালসার প্রতিনিধির অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে শিখ সম্প্রদায়ের তিনটি বিশিষ্ট আখড়ার প্রতিনিধিরাও থাকবেন। আয়োজকদের অনুমান, সমাবেশে ৩ হাজারেরও বেশি সাধুসন্ত এবং ৭ হাজারেরও বেশি যুব প্রতিনিধি যোগ দেবেন। ধর্মীয় ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা এবং ভারতের নিজস্ব জ্ঞানব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে এই অনুষ্ঠান।সাড়ে চারশো বছরেরও বেশি ঐতিহ্যসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে আয়োজকদের বর্ণনায় উঠে এসেছে শ্রী কাশী বিদ্বৎ পরিষদের নাম। অংশগ্রহণকারী ধর্মীয় সংগঠনগুলিকে দিশা দেখানোর দায়িত্বে থাকবে এই প্রতিষ্ঠানের।

    আলোচনায় প্রস্তাবিত ‘হিন্দু আচরণবিধি’

    সংস্কৃতি সংসদ ২০২৬-এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হতে চলেছে প্রস্তাবিত ‘হিন্দু আচরণবিধি’। উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, সামাজিক দায়িত্ব এবং সনাতন ঐতিহ্য পালনের ক্ষেত্রে এই আচরণবিধির মাধ্যমে দিশা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।অবশ্য এই প্রস্তাবিত আচরণবিধির নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু, পরিধি এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে সাংবাদিক সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হয়নি (Hindu Code of Conduct)।

    ব্রিটেন থেকে মনুস্মৃতির পাণ্ডুলিপি ফেরানোর উদ্যোগ

    সংস্কৃতি সংসদের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ঐতিহাসিক মনুস্মৃতির পাণ্ডুলিপি ভারতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ। আয়োজকদের দাবি, ১৭৯৩ সালে ব্রিটিশরা এই পাণ্ডুলিপিগুলি ভারত থেকে নিয়ে গিয়েছিল এবং বর্তমানে সেগুলি লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটির কাছে রয়েছে। পাণ্ডুলিপিগুলি দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ শুরু করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট পাণ্ডুলিপিগুলির প্রকৃত ইতিহাস, বর্তমান অবস্থান এবং মালিকানা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন (Varanasi Sanskriti Sansad)। বিদেশে সংরক্ষিত ভারতের অন্যান্য ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপি ও গুরুত্বপূর্ণ নথি শনাক্তকরণ, নথিভুক্তকরণ এবং সংরক্ষণের বিষয়েও আলোচনা হবে। সম্ভব হলে সেগুলি দেশে ফিরিয়ে আনার পথ খোঁজার কথা জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের মতে, এর মাধ্যমে ভারতের বৌদ্ধিক ঐতিহ্য রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রাচীন জ্ঞানসূত্রের সঙ্গে পরিচিত করানো সম্ভব হবে।

    তরুণ প্রজন্মকে ঐতিহ্য ও জ্ঞানচর্চায় যুক্ত করার পরিকল্পনা

    ধর্মীয় আলোচনা ছাড়াও তরুণ প্রজন্মকে ভারতের দর্শন, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক গ্রন্থ এবং দেশীয় জ্ঞানব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত করানোর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ৭ হাজারেরও বেশি যুব প্রতিনিধির সম্ভাব্য অংশগ্রহণের কথা জানিয়ে আয়োজকেরা দাবি করেছেন, ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান যেন কেবল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তার চর্চা ও সংরক্ষণ অব্যাহত থাকে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ (Hindu Code of Conduct)।

    ‘রাষ্ট্র আগে’ ভাবনার প্রসঙ্গ তুললেন সুনীল দেওধর

    সাংবাদিক সম্মেলনে সুনীল দেওধর সংস্কৃতি সংসদকে ভারতের সাংস্কৃতিক পরিচয় সুদৃঢ় করা এবং ‘রাষ্ট্র আগে’ ভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বারাণসী কেন্দ্র থেকে নরেন্দ্র মোদির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রসঙ্গ তুলে দেওধর দাবি করেন, সেই সময় কয়েকটি আদর্শগত আক্রমণের মোকাবিলা করতে সাধুসন্তরা একজোট হয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, সেই উদ্যোগ থেকেই সংস্কৃতি পরিষদের প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তী সময়ে সংস্কৃতি সংসদের সূচনা। বর্তমানে প্রতি দু’বছর অন্তর এই সমাবেশের আয়োজন করা হয় বলে জানান তিনি। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ এবং হিন্দুত্ব নিয়ে করা মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন দেওধর। তাঁর দাবি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ ও হিন্দুত্বের আদর্শে নারীশক্তির গুরুত্ব স্বীকৃত (Varanasi Sanskriti Sansad)।

    ত্রিপুরার ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক

    ত্রিপুরায় এক জনজাতি সম্প্রদায়ের বালককে ঘিরে একটি ঘটনা নিয়েও অভিযোগ তোলেন দেওধর। তাঁর দাবি, কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত এক মুসলিম ইউটিউবার ওই বালকের প্রতি অপমানজনক আচরণের জন্য দায়ী। ঘটনাটিকে উত্তর-পূর্ব ভারতের জনজাতি সম্প্রদায়গুলির সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের মানুষের বিভেদ তৈরির বৃহত্তর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ বলেও অভিযোগ করেন তিনি। হিন্দু উৎসব চলাকালীন ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন বক্তারা। তাঁদের বক্তব্য, এই ধরনের ঘটনা সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব ফেলতে পারে। ধর্মীয় উৎসবে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে অভিযুক্ত রাজনৈতিক শক্তিগুলিকে সতর্ক করে বক্তারা জানান, এই ধরনের হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে সাধুসন্ত ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিয়ে দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে (Hindu Code of Conduct)।

    ধর্ম, ইতিহাস ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে আলোচনায় গুরুত্ব

    গঙ্গা মহাসভার আয়োজনে এবং অখিল ভারতীয় সন্ত সমিতি, অখিল ভারতীয় আখড়া পরিষদ ও শ্রী কাশী বিদ্বৎ পরিষদের নির্দেশে সংস্কৃতি সংসদ ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ধর্মীয় আচরণবিধি, ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণ, সাংস্কৃতিক শিক্ষা, যুবসমাজের অংশগ্রহণ এবং জাতীয় পরিচয়—বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই সমাবেশে আলোচনা হওয়ার কথা (Varanasi Sanskriti Sansad)। সূত্রের খবর, ৩ থেকে ৫ নভেম্বর বারাণসীতে এই আয়োজন ঘিরে প্রস্তাবিত হিন্দু আচরণবিধি এবং ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপি দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। একই সঙ্গে হিন্দুত্ব, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও ভারতের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার নিয়ে চলমান বৃহত্তর বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এই সমাবেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক তাৎপর্যও নজরে থাকবে (Hindu Code of Conduct)।

     

LinkedIn
Share