Blog

  • Amit Shah Attacks Rahul: ‘সত্যি আলোচনা চান, মোদিকে চিঠি লিখুন’, রাহুলকে পাল্টা বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের

    Amit Shah Attacks Rahul: ‘সত্যি আলোচনা চান, মোদিকে চিঠি লিখুন’, রাহুলকে পাল্টা বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর (SIR) নিয়ে সংসদে আলোচনার জন্য বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে (Amit Shah Attacks Rahul) সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই ইস্যুতে আলোচনার জন্য কেন্দ্র সরকার সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতেও প্রস্তুত বলে জানিয়ে দিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) হরিয়ানার কর্নালে বিজেপির ‘লোকতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচির জনসভা থেকে এই বার্তা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে অযৌক্তিক জটিলতা

    সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্য বিতর্কে বসার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। সেই প্রসঙ্গ টেনেই অমিত শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন রাহুল। সত্যিই যদি আলোচনা করতে চান, তা হলে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি লিখুন। সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে আলোচনার ব্যবস্থা করতে কেন্দ্র প্রস্তুত। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও জবাবদিহির দাবি জানিয়েছে তারা। এই পরিস্থিতিতে সংসদে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে বিরোধীদের পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন শাহ।

    সংসদ অচল করার অভিযোগ কংগ্রেসের বিরুদ্ধে

    এদিনের সভা থেকে কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীকে নিশানা করতেও ছাড়েননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার পরিবর্তে বারবার অধিবেশনের কাজে বাধা তৈরি করছে কংগ্রেস। সংসদ অচল করে দেওয়াই তাদের রাজনৈতিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অমিত শাহ বলেন, “দেশের মানুষ পরপর তৃতীয়বার নরেন্দ্র মোদিকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছেন। কিন্তু রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের পরাজয়ের ধারা অব্যাহত রয়েছে।” কেন বিজেপি এই কর্মসূচি করছে, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়েই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সংসদের কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগ তোলেন তিনি।

    ভিয়েতনাম সফর নিয়ে রাহুলকে প্রশ্ন শাহের

    শুধু সংসদ বা এসআইআর নয়, রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফর নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অমিত শাহ। বিশেষ করে ভিয়েতনাম সফরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, রাহুল গান্ধী সম্প্রতি ভিয়েতনাম থেকে ফিরেছেন। তাঁর বিদেশ সফর সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জানার অধিকার রয়েছে। শাহের কথায়, বিরোধী দলনেতার মতো সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তির জনসাধারণের কাছে জবাবদিহি করা উচিত। জনজীবনে কোনও দায়িত্বপূর্ণ পদে থাকলে নিজের আচরণ ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    রাহুলের চ্যালেঞ্জের জবাব

    সম্প্রতি সমাজমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করেন রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি সাহায্যের উপর নির্ভর করেই প্রধানমন্ত্রী পদে এসেছেন মোদি। এমনকী, প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক ব্যবস্থাও বিদেশিদের নিয়ন্ত্রণ ও সমর্থনে চলছে বলে দাবি করেন তিনি। বিদেশি সমাজমাধ্যমও মোদিকে সমর্থন করছে বলে অভিযোগ তোলেন কংগ্রেস নেতা। এর পরেই প্রধানমন্ত্রীকে প্রকাশ্য বিতর্কে বসার চ্যালেঞ্জ জানান রাহুল। তাঁর বক্তব্য, যে কোনও জায়গায়, যে কোনও সময়ে এই বিতর্ক হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, সাহস থাকলে আলোচনায় আসুন। তাঁর দাবি, তাঁর জানা বিভিন্ন তথ্য সামনে আসার ভয়েই প্রধানমন্ত্রী এই বিতর্ক এড়িয়ে যাবেন। রাহুলের সেই চ্যালেঞ্জের জবাবে এবার সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডেকে আলোচনার প্রস্তাব দিলেন অমিত শাহ। ফলে এসআইআর ইস্যুতে বিজেপি ও কংগ্রেসের রাজনৈতিক সংঘাত এবার সংসদের বিশেষ অধিবেশন ঘিরে নতুন মাত্রা পেল।

  • US Midterm Election: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কা, ভারতের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী হতে পারেন ট্রাম্প, মত বিশেষজ্ঞদের

    US Midterm Election: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কা, ভারতের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী হতে পারেন ট্রাম্প, মত বিশেষজ্ঞদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে (US Midterm Election) রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের প্রভাব পড়তে পারে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্কে। নির্বাচনী ধাক্কার পর ভারতের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করতে উদ্যোগী হতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনটাই মনে করছেন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া, চিন ও ইরানের ক্ষেত্রে বিদেশনীতি সংক্রান্ত চাপ সৃষ্টির কৌশল প্রত্যাশিত ফল না দেওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিজেদের প্রভাব প্রমাণ করতে চাইবেন ট্রাম্প। সেই লক্ষ্যেই ভারতের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি তাঁর কাছে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    আমেরিকার বাণিজ্যনীতির মূল অভিমুখে পরিবর্তন

    মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে মার্কিন ভোটাররা। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রদেশের গভর্নর পদেও জয় পেয়েছে বিরোধী দল। টেক্সাস, জর্জিয়া ও আইওয়ার মতো রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতেও পরাজয়ের মুখে পড়েছে ট্রাম্পের দল। অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (GTRI)-এর প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তবের মতে, নির্বাচনের ফলাফল আমেরিকার বাণিজ্যনীতির মূল অভিমুখে বড় পরিবর্তন আনবে না। কারণ, ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলই অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ, দেশীয় উৎপাদন এবং শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থার পক্ষে। তাঁর কথায়, রাশিয়া, চিন ও ইরানের ক্ষেত্রে বিদেশনীতি সংক্রান্ত প্রভাব খাটানোর প্রচেষ্টা প্রত্যাশিত ফল না দেওয়ায় ট্রাম্পের এখন দ্রুত সাফল্য প্রয়োজন। সেই কারণে ভারতের উপর বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার চাপ বাড়তে পারে। আমেরিকার কৃষি ও শিল্পজাত পণ্যের জন্য ভারতীয় বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার এবং মার্কিন সংস্থাগুলির জন্য একাধিক ছাড় আদায়ের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট তাঁর প্রশাসনিক ক্ষমতাও ব্যবহার করতে পারেন বলে মনে করছেন তিনি।

    ভারতীয় পণ্য ও পরিষেবার জন্য আমেরিকার বাজার

    অন্যদিকে, ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনস (FIEO)-এর সভাপতি এস সি রালহানের বক্তব্য, ভারতীয় পণ্য ও পরিষেবার জন্য আমেরিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার। আগামী কয়েক মাসে মার্কিন শুল্কনীতি এবং বাজারে প্রবেশাধিকারের বিষয়টি কীভাবে নির্ধারিত হয়, সেটাই ভারতীয় রফতানিকারীদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলির (MSME) জন্য স্থিতিশীল বাণিজ্যিক পরিবেশ প্রয়োজন। তবেই তারা নির্ভরযোগ্যভাবে পণ্যের দাম নির্ধারণ এবং আগাম রফতানির পরিকল্পনা করতে পারবে। জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান কিরিত ভানসালিও মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে সে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, হিরে ও গয়না রফতানির ক্ষেত্রে আমেরিকা ভারতের অন্যতম প্রধান বাজার। তাই দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্যে ধারাবাহিক আলোচনা প্রয়োজন।

    ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত

    ভানসালির আশা, মার্কিন কংগ্রেসের গঠন পরিবর্তনের ফলে বাণিজ্যনীতি নিয়ে আলোচনা ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে কিছু প্রভাব পড়লেও প্রস্তাবিত ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (BTA) নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তাঁর বক্তব্য, এর আগে যে শুল্কগুলি আরোপ করা হয়েছিল, সেগুলি কংগ্রেসের মাধ্যমে আইন করে নয়, বরং প্রেসিডেন্টের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কার্যকর হয়েছিল। তিনি আরও জানান, ভারতীয় রফতানিকারীরা দ্রুত এই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। চুক্তি সম্পন্ন হলে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা কমবে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়বে এবং দুই দেশের রত্ন ও গয়না শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ সুরক্ষিত হবে। উল্লেখ্য, ভারত ও আমেরিকা ইতিমধ্যেই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রথম পর্যায়ের জন্য একটি কাঠামো চূড়ান্ত করেছে। তবে আমেরিকার পরিবর্তিত শুল্ক পরিস্থিতির কারণে চুক্তি নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিযোগী দেশগুলির তুলনায় ভারতীয় পণ্যের উপর কম শুল্ক আরোপের দাবি জানাচ্ছে নয়াদিল্লি। ফলে নির্বাচনের পর ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান এবং ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনার গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলের।

  • Dhanteras 2026: সোনা কেনার সামর্থ্য নেই? ধনতেরাসে এই সামান্য কয়েকটি জিনিস কিনলেও মিলতে পারে লক্ষ্মীর আশীর্বাদ!

    Dhanteras 2026: সোনা কেনার সামর্থ্য নেই? ধনতেরাসে এই সামান্য কয়েকটি জিনিস কিনলেও মিলতে পারে লক্ষ্মীর আশীর্বাদ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়ে গিয়েছে দীপাবলি ও কালীপুজোর প্রস্তুতি। আর এই উৎসবের সূচনা হয় ধনতেরাসের (Dhanteras) মধ্য দিয়ে। কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে পালিত হয় ধনতেরাস, যা ধনত্রয়োদশী নামেও পরিচিত। এই দিন দেবী লক্ষ্মী, ভগবান কুবের এবং ধন্বন্তরীর আরাধনা করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস, ধনতেরাসে শুভ সময়ে সোনা, রুপো কিংবা অন্যান্য ধাতব সামগ্রী কিনলে সংসারে সুখ, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য আসে।

    তবে ধনতেরাস মানেই শুধু কেনাকাটা নয়। এই দিন কোন জিনিস কেনা শুভ, কোন সামগ্রী কেনা এড়িয়ে চলা উচিত, কীভাবে পুজো করবেন এবং সন্ধ্যায় কেন জ্বালানো হয় যম প্রদীপ—এসব নিয়েও রয়েছে নানা ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত রীতি। জেনে নিন ধনতেরাসে কী করবেন, কী করবেন না এবং কেনাকাটার তালিকায় কোন কোন জিনিস রাখবেন।

    ধনতেরাসে কী কী কেনা শুভ?

    ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, ধনতেরাসের দিনে কয়েকটি বিশেষ সামগ্রী কেনা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী সোনা-রুপো থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু জিনিসও কেনা যেতে পারে।

    • ১. সোনা ও রুপো: ধনতেরাসে সোনা ও রুপো কেনার বিশেষ প্রচলন রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে মূল্যবান ধাতু কিনলে সংসারে ধনসম্পত্তি ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়। সোনার গয়না, রুপোর কয়েন কিংবা রুপোর সামগ্রী কেনা যেতে পারে।
    • ২. কাঁসা ও পিতলের বাসন: সোনা বা রুপো কেনা সম্ভব না হলে কাঁসা কিংবা পিতলের বাসন কেনাও শুভ বলে মনে করা হয়। তবে একটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। নতুন বাসন খালি অবস্থায় বাড়িতে না এনে তার মধ্যে জল, চাল, দুধ কিংবা মধু ভরে নিয়ে আসার রীতি রয়েছে। অনেকে সাত ধরনের শস্য ভরে বাসন বাড়িতে আনাকেও শুভ মনে করেন।
    • ৩. ঝাড়ু: ধনতেরাসে ঝাড়ু কেনার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ঝাড়ুকে দেবী লক্ষ্মীর প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। এই দিনে নতুন ঝাড়ু কিনলে সংসার থেকে দারিদ্র্য ও আর্থিক সমস্যা দূর হয়।
    • ৪. জমি, বাড়ি ও গাড়ি: অনেকেই ধনতেরাসকে নতুন সম্পত্তি কেনার শুভ দিন হিসেবে বেছে নেন। এই দিনে জমি, বাড়ি কিংবা গাড়ি কেনাও শুভ বলে মনে করা হয়।
    • ৫. লক্ষ্মী-গণেশের মূর্তি: ধনতেরাসে দেবী লক্ষ্মী ও ভগবান গণেশের মূর্তি কেনার প্রচলন রয়েছে। দীপাবলির পুজোয় এই মূর্তি ব্যবহার করা হয়।
    • ৬. অন্যান্য শুভ সামগ্রী: ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, ধনতেরাসে নুন, গুড়ের বাতাসা, গাঁট হলুদ, কড়ি, গোমতীচক্র, জায়ফল, হরিতকি, সুপুরি ও ধান কেনাও শুভ। অনেকে এই দিন বাড়িতে নতুন নুন নিয়ে আসেন এবং সেই নুন দিয়েই রান্না করেন।

    ধনতেরাসে কোন কোন জিনিস কেনা উচিত নয়?

    যেমন কিছু জিনিস কেনাকে শুভ মনে করা হয়, তেমনই কিছু সামগ্রী কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন অনেকে। প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনতেরাসে কেনাকাটার সময় কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা উচিত।

    • ● লোহার সামগ্রী: এই দিনে লোহার জিনিস কেনা এড়িয়ে চলার রীতি রয়েছে।

    • ● কাচের জিনিস: কাচের তৈরি সামগ্রী কেনাও অনেকে অশুভ বলে মনে করেন।

    • ● অ্যালুমিনিয়ামের বাসন: ধনতেরাসে অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি জিনিস না কেনার প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে।

    • ● প্লাস্টিকের সামগ্রী: প্লাস্টিকের তৈরি জিনিস কেনাও এড়িয়ে চলতে বলা হয়।

    • ● ধারালো জিনিস: ছুরি, কাঁচি, ব্লেডের মতো ধারালো সামগ্রী এই দিনে না কেনাই ভাল বলে মনে করা হয়।

    • ● নকল সোনার গয়না: আসল সোনার পরিবর্তে নকল সোনার গয়না কেনা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    • ● কালো পোশাক: এই দিনে পোশাক কিনলে কালো রং এড়িয়ে চলার রীতি রয়েছে।

    • ● মিশ্র ধাতুর সামগ্রী: অনেকে ধনতেরাসে মিশ্র ধাতুর বদলে বিশুদ্ধ ধাতুর জিনিস কেনাকেই বেশি গুরুত্ব দেন।

    এছাড়া প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনতেরাসের দিনে কাউকে টাকা ধার দেওয়া কিংবা অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার নেওয়া উচিত নয়। তেল ও ঘি পুজোয় প্রয়োজন হলেও এই দিনে না কিনে আগে থেকেই কিনে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    সন্ধ্যায় কেনাকাটার তালিকায় কী রাখবেন?

    ধনতেরাসের সন্ধ্যায় কেনাকাটার পাশাপাশি পুজোর প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত লক্ষ্মী-কুবেরের আরাধনার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী আগে থেকেই গুছিয়ে রাখা উচিত। সোনা, রুপো কিংবা পিতল-কাঁসার বাসন কেনার পাশাপাশি নুন, ধান, হলুদ, কড়ি ও গোমতীচক্রের মতো সামগ্রীও কেনাকাটার তালিকায় রাখতে পারেন। তবে কেনাকাটার ক্ষেত্রে নিজের আর্থিক সামর্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়াই সবচেয়ে জরুরি। ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে অপ্রয়োজনীয় খরচ বা ঋণ করে কেনাকাটা করার কোনও প্রয়োজন নেই।

    ধনতেরাসে কেন জ্বালানো হয় যম প্রদীপ?

    ধনতেরাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রীতি হল যম প্রদীপ বা যম দীপদান। এই দিন সন্ধ্যায় বাড়ির দক্ষিণ দিকে মৃত্যুর দেবতা যমরাজের উদ্দেশ্যে একটি চারমুখী প্রদীপ জ্বালানোর প্রচলন রয়েছে।

    পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, বাড়ির দক্ষিণ দিকের অধিপতি যমরাজ। ধনতেরাসের সন্ধ্যায় তাঁর উদ্দেশ্যে প্রদীপ জ্বালালে অকালমৃত্যুর আশঙ্কা দূর হয় এবং পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে।

    প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, আটার তৈরি চারমুখী প্রদীপে সর্ষের তেল দিয়ে তা বাড়ির বাইরে দক্ষিণ দিকে মুখ করে জ্বালানো হয়। অনেকে বাড়ির বাইরে আবর্জনা ফেলার স্থানের কাছেও এই প্রদীপ রাখেন। বিশ্বাস করা হয়, যমরাজের উদ্দেশ্যে এই দীপদান করলে পরিবারকে অকালমৃত্যুর ভয় থেকে রক্ষা করা যায়।

    কিছু পরিবারে ধনতেরাস থেকে ভাইফোঁটা পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন যম প্রদীপ জ্বালানোর রীতিও রয়েছে। প্রদীপ জ্বালানোর সময় পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা করা হয়।

    ধনতেরাসে কোথায় কোথায় প্রদীপ জ্বালাবেন?

    ধনতেরাসের সন্ধ্যায় ১৩টি প্রদীপ জ্বালানো শুভ বলে প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে। যম প্রদীপ ছাড়াও বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় প্রদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে।

    • ● বাড়ির প্রধান প্রবেশদ্বারে।

    • ● তুলসী গাছের কাছে।

    • ● বাড়ির ছাদে।

    • ● পিপল (অশ্বত্থ বা বোধি) গাছের নীচে।

    • ● বাড়ির বাথরুম ও জানলার কাছে।

    • ● কাছাকাছি কোনও মন্দিরে।

    এছাড়া বাড়ির মূল প্রবেশদ্বারে গরুর ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালানোও শুভ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এতে দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ লাভ হয় এবং সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়।

    ধনতেরাসের পৌরাণিক তাৎপর্য কী?

    ধনতেরাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভগবান ধন্বন্তরীর আবির্ভাবের কাহিনি। পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, সমুদ্র মন্থনের সময় অমৃতের কলস হাতে আবির্ভূত হয়েছিলেন ধন্বন্তরী। তাঁকে আয়ুর্বেদ ও চিকিৎসাশাস্ত্রের দেবতা হিসেবেও মানা হয়। তাই এই দিন ধনসম্পদের পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনাও বিশেষ গুরুত্ব পায়।

    সব মিলিয়ে ধনতেরাস শুধু সোনা-রুপো বা নতুন সামগ্রী কেনার উৎসব নয়। এই দিন লক্ষ্মী-কুবেরের আরাধনা, ধন্বন্তরীর পুজো, যম প্রদীপ জ্বালানো এবং পরিবারের মঙ্গল কামনার মধ্য দিয়ে দীপাবলির উৎসবের সূচনা হয়। প্রচলিত রীতি ও বিশ্বাস মেনে উৎসবে সামিল হওয়ার পাশাপাশি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কেনাকাটা করাই হতে পারে ধনতেরাস উদযাপনের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।

  • Nithya Raman: লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র পদে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিত্যা রমন

    Nithya Raman: লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র পদে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিত্যা রমন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস তৈরি করলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিত্যা রমন (Nithya Raman)। লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে জয়ী হয়ে শহরের প্রথম ভারতীয়-আমেরিকান এবং দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হওয়ার নজির গড়লেন কেরলে জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিক। তাঁর কাছে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন বিদায়ী মেয়র ক্যারেন বাস। পাশাপাশি নতুন মেয়রের (Los Angeles Mayor) হাতে দায়িত্বভার তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে মসৃণ ক্ষমতা হস্তান্তরের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

    রাজনৈতিক জীবনে উত্থান

    লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন নিত্যা (Nithya Raman)। ২০২০ সালে প্রথমবার কাউন্সিলের নির্বাচনে জয়ী হন তিনি। ২০২৪ সালে ফের নির্বাচিত হন। এবার সরাসরি মেয়র পদে জয়ী হয়ে আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরের প্রশাসনিক দায়িত্ব পেতে চলেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যম এক্স-এ নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নিত্যা লেখেন, “লস অ্যাঞ্জেলেস, (Los Angeles Mayor) আপনাদের পরবর্তী মেয়র হতে পেরে আমি গভীরভাবে সম্মানিত।”

    কত ভোটের ব্যবধানে জয়ী

    লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির সর্বশেষ নির্বাচনী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টে ৩৪ মিনিট পর্যন্ত গণনা হওয়া ভোটের মধ্যে নিত্যা পেয়েছেন ৪ লক্ষ ৬০ হাজার ৭৭২টি ভোট। যা মোট গণনা হওয়া ভোটের ৫২.৭০ শতাংশ। অন্যদিকে, ক্যারেন বাস পেয়েছেন ৪ লক্ষ ১৩ হাজার ৫১৯টি ভোট, অর্থাৎ ৪৭.৩০ শতাংশ। ফলে ৪৭ হাজার ২৫৩ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন নিত্যা। এর আগে দিনের প্রথম দিকে তাঁর ব্যবধান ছিল ৩৪ হাজার ৬৫৪ ভোট। যদিও মঙ্গলবারের নির্বাচনে পড়া সমস্ত ব্যালটের গণনা এখনও শেষ হয়নি। তাই এই পরিসংখ্যান আপাতত অস্থায়ী।

    পরাজয় স্বীকার করে নেন ক্যারেন বাস

    নিত্যার সঙ্গে কথা বলার পরেই পরাজয় স্বীকার করে নেন ক্যারেন বাস। এক্স-এ তিনি লেখেন, কাউন্সিল সদস্য নিত্যা রমনকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। বিদায়ী মেয়র তাঁর সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান এবং শহরের মানুষের জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান। অন্যদিকে, নিত্যাও ক্যারেন বাসের সঙ্গে কথা বলে তাঁর নেতৃত্ব ও দীর্ঘদিনের জনসেবার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

    কেরলে জন্ম নিত্যা রমনের

    নিত্যার নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল লস অ্যাঞ্জেলেসের আবাসন সমস্যা, গৃহহীন মানুষের দুর্দশা এবং নাগরিক পরিষেবার উন্নয়ন। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধানে রাস্তার আলো রক্ষণাবেক্ষণ, রাস্তার গর্ত মেরামত এবং পুলিশি ব্যবস্থায় সংস্কারের মতো বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি। কেরলে জন্ম নিত্যা রমনের। মাত্র ছয় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে আমেরিকায় পাড়ি দেন তিনি। পড়াশোনা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে নগর পরিকল্পনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৩ সালে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে চলে আসেন।

    প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত প্রতিনিধি

    রাজনীতিতে আসার আগে গৃহহীন মানুষের সমস্যা নিয়ে কাজ করেছেন নিত্যা। পাশাপাশি গৃহহীনদের সহায়তায় কাজ করা ‘সেলাহ নেবারহুড হোমলেস কোয়ালিশন’ নামে একটি সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতাও তিনি। ২০২০ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি কাউন্সিলে নির্বাচিত হয়ে প্রথম এশীয়-আমেরিকান মহিলা এবং প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত প্রতিনিধি হওয়ার নজির গড়েছিলেন নিত্যা। চার বছর পর পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পরে এবার মেয়র পদে জয়। কেরল থেকে আমেরিকা, আর সেখান থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের প্রশাসনের শীর্ষ পদ—নিত্যা রমনের রাজনৈতিক যাত্রায় যুক্ত হল এক নতুন অধ্যায়।

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত নেতাদের জয়জয়কার

    নিত্যা রমনের জয়ের ফলে আমেরিকার দুটি বৃহত্তম শহরের শাসনভার এখন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নেতাদের হাতে। অন্য শহরটি হল নিউইয়র্ক। গত বছর নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন জোহরান মামদানি। তাঁর বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রিপাবলিকানদের প্রবল প্রচার সত্ত্বেও নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে নেন তিনি। আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রিপাবলিকানদের কাছে হতাশাজনক হলেও ভারতীয়দের পক্ষে অন্য ভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। নিত্যা এবং মামদানি দু’জনেই ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার প্রার্থী। মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষ, সেনেট এবং হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস হাতছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দলের। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই নির্বাচনে নজর কেড়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজনীতিকরা। কেউ চিকিৎসক, কেউ আইনজীবী, কেউ বা আবার প্রশাসনিক কর্তা। আমেরিকার মাটিতে জন্ম কিংবা বেড়ে ওঠা হলেও তাঁদের শিকড় জড়িয়ে রয়েছে ভারতে। সেই তালিকাতেই নতুন নাম নিত‌্যার।

    নির্বাচনে বাজিমাত অরুণার

    শুধু নিত্যাই নয়, মার্কিন মুলুকে নির্বাচনে বাজিমাত করা ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহিলাদের মধ্যে রয়েছেন অরুণা মিলারও। ১৯৬৪ সালের ৬ নভেম্বর তিনি হায়দরাবাদে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ৭ বছর বয়সে তিনি পরিবারের সঙ্গে চলে আসেন আমেরিকায়। মিসৌরি ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা। ১৯৮৯ সালে অরুণা স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর দীর্ঘদিন তিনি সরকারি চাকরি করেন। পরবর্তীকালে রাজনীতিতে যোগ দেন অরুণা। ২০১০ সালে মেরিল্যান্ড হাউস অফ ডেলিগেটসে দায়িত্ব পান তিনি। ২০২২ সালে প্রথমবার অরুণা মেরিল্যান্ডের লেফটেন্যান্ট গভর্নর হন (ডেমোক্র্যাটি শিবির)। এই নির্বাচনে ফের জয় পেলেন তিনি।

    নতুন মুখ ছিলেন পিয়া ডান্ডিয়া

    এছাড়াও আমেরিকার এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নতুন মুখ ছিলেন পিয়া ডান্ডিয়া। ফ্লোরিডার ২২ নম্বর কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসাবে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রায় ৫১.৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন তিনি। এই জয়ের ফলে প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসাবে হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে নির্বাচিত হয়েছেন পেশায় শিক্ষাবিদ পিয়া। এই ডেমোক্র্যাট নেত্রীর জন্ম ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টিতে। তিনি তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন শিক্ষক হিসাবে। পরে নিউ ইয়র্কের হারলেমে একটি হাইস্কুলের অধ্যক্ষ হন পিয়া।

  • Bharosa Scheme: বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ‘ভরসা’ শুভেন্দুর! জানুয়ারিতেই মিলবে মাসিক ৩ হাজার টাকা

    Bharosa Scheme: বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ‘ভরসা’ শুভেন্দুর! জানুয়ারিতেই মিলবে মাসিক ৩ হাজার টাকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। ক্ষমতায় এলে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ধাঁচে বেকারদের জন্য নতুন প্রকল্প চালুর আশ্বাস দিয়েছিল তারা। রাজ্যে পালাবদলের পর এবার সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে হাঁটল নতুন সরকার। বৃহস্পতিবার হুগলির পুরশুড়া থেকে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য নতুন প্রকল্পের নাম ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Bharosa Scheme)। প্রকল্পের নাম রাখা হয়েছে ‘ভরসা স্কিম’। একই সঙ্গে কবে থেকে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

    মাসিক আর্থিক সহায়তা

    ২০২৬ সালের রাজ্য বাজেটেই এই প্রকল্পের ঘোষণা করেছিল বিজেপি সরকার। সেই সময় জানানো হয়েছিল, ২১ থেকে ৪৫ বছর বয়সি যোগ্য শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীরা এই প্রকল্পের আওতায় মাসিক আর্থিক সহায়তা পাবেন। গ্র্যাজুয়েট ও নন-গ্র্যাজুয়েটদের জন্য মাসে ৩,০০০ টাকা এবং অন্যান্য যোগ্য বেকারদের জন্য মাসে ২,০০০ টাকা ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। তবে প্রকল্পটি কবে থেকে কার্যকর হবে, তা নিয়ে এতদিন ধোঁয়াশা ছিল।

    ‘ভরসা স্কিম’-এর অনুমোদন

    বৃহস্পতিবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ২৩ তারিখ মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘ভরসা স্কিম’-এর (Bharosa Scheme) অনুমোদন দেওয়া হবে। এরপর জানুয়ারি মাস থেকেই উপভোক্তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে শুরু করবেন। পুরশুড়ার সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমার যুবক ভাইরা, গ্র্যাজুয়েট এবং নন-গ্র্যাজুয়েট, আপনাদের স্কিমের নাম দিচ্ছি আমরা ‘ভরসা স্কিম’। আগামী ২৩ তারিখ মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হবে। জানুয়ারি মাস থেকে এই প্রকল্পের সুবিধা মিলবে। যে সমস্ত বেকার যুবক-যুবতী অন্য কোনও প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না, তাঁদের পাশে দাঁড়াবে সরকার। যতদিন না তাঁরা চাকরি পাচ্ছেন, ততদিন সরকার তাঁদের পাশে থাকবে।”

    সুবিধা চালুর সময়সীমা

    এর আগে তৃণমূল সরকারের আমলে বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তা দিতে চালু হয়েছিল ‘যুবসাথী’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপভোক্তাদের মাসে ১,৫০০ টাকা করে দেওয়া হত। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন সরকারের আমলে সেই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তবে প্রথম রাজ্য বাজেটেই বেকারদের জন্য নতুন আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের ঘোষণা করে বিজেপি সরকার। এবার সেই প্রকল্পের নাম, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের সম্ভাব্য দিন এবং সুবিধা চালুর সময়সীমাও জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে নতুন বছরের শুরুতেই রাজ্যের যোগ্য বেকার যুবক-যুবতীদের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছনোর পথ খুলতে চলেছে।

  • West Bengal Investment: তালিকায় প্রতিরক্ষা থেকে মহাকাশ শিল্প, বাংলায় ৬,০০০ কোটির বিনিয়োগের প্রস্তাব জয় বালাজি গ্রুপের!

    West Bengal Investment: তালিকায় প্রতিরক্ষা থেকে মহাকাশ শিল্প, বাংলায় ৬,০০০ কোটির বিনিয়োগের প্রস্তাব জয় বালাজি গ্রুপের!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার শিল্পক্ষেত্রে বড় বিনিয়োগের প্রস্তাব দিল জয় বালাজি গ্রুপ (Jai Balaji Group)। আগামী কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। বিশেষ ইস্পাত উৎপাদন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, মহাকাশ গবেষণার উপযোগী যন্ত্রাংশ, প্রিসিশন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি—মূলত এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে সামনে রেখেই বিনিয়োগের পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। সংস্থার দাবি, এই সম্প্রসারণ বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে অতিরিক্ত ২০ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ শিল্পে বিশেষ নজর

    • ● জয় বালাজি গ্রুপের প্রস্তাবিত বিনিয়োগ পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নতমানের কাঁচামাল এবং যন্ত্রাংশ উৎপাদন। এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য বিশেষ অ্যালয় এবং উচ্চমানের ইস্পাত তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
    • ● পাশাপাশি রেল এবং মহাকাশ শিল্পের জন্য উচ্চ-নির্ভুলতাসম্পন্ন (High-Precision) উপাদান ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনেও জোর দিতে চায় সংস্থাটি। বিশেষ ধরনের তামা ও অ্যালুমিনিয়াম অ্যালয়, স্টিল কাস্টিং এবং ফোরজিংস উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
    • ● এছাড়া রেল, প্রতিরক্ষা, অটোমোবাইল, মহাকাশ এবং অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের চাহিদা মেটাতে প্রিসিশন ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য ও তার পরবর্তী উৎপাদনশৃঙ্খল বা ডাউনস্ট্রিম প্রোডাক্টের ক্ষেত্রেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চায় গোষ্ঠীটি।

    ২০ হাজারের বেশি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

    • ● এই বিনিয়োগের অন্যতম বড় ইতিবাচক দিক কর্মসংস্থান। জয় বালাজি গ্রুপের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সম্প্রসারণের ফলে রাজ্যে অতিরিক্ত ২০ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সহযোগী ক্ষেত্রেও কাজের সুযোগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    উল্লেখ্য, বর্তমানে জয় বালাজি গ্রুপের বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন। জাজোদিয়া পরিবারের প্রতিষ্ঠিত এই শিল্পগোষ্ঠীর ইস্পাত ও উৎপাদন শিল্পে চার প্রজন্মের অভিজ্ঞতা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং ছত্তিশগড় মিলিয়ে তাদের মোট ১০টি উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে আটটিই পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত।

    সবুজ শক্তি ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনেও জোর

    • ● শুধু উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি নয়, শিল্পের শক্তির চাহিদা মেটাতে সৌরবিদ্যুৎ এবং গ্রিন পাওয়ার জেনারেশনের ক্ষেত্রেও বিনিয়োগ করতে চায় জয় বালাজি গ্রুপ। এর লক্ষ্য, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় শক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি, বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ এবং কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ কমানো।

    সংস্থার বর্তমান সমন্বিত উৎপাদন পরিকাঠামোয় প্রায় ১০০ মেগাওয়াট নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া বর্জ্য তাপ (Waste Heat) এবং কঠিন শিল্পবর্জ্য ব্যবহার করেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করে গোষ্ঠীটি। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে এই ধরনের পরিবেশবান্ধব শক্তি ব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    বাংলার শিল্পায়নে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ এই বিনিয়োগ?

    পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগ টানতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগের মধ্যেই জয় বালাজি গ্রুপের এই ঘোষণা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, রেল এবং উন্নত ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের মতো উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিকল্পনা রাজ্যের শিল্প পরিকাঠামোর বহুমুখীকরণে সাহায্য করতে পারে।

    এর পাশাপাশি বিশেষ ইস্পাত, অ্যালয়, কাস্টিং এবং ফোরজিংসের মতো শিল্পে উৎপাদন বাড়লে সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী সংস্থা এবং পরিবহণ ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ, সম্ভাব্য ২০ হাজার কর্মসংস্থানের বাইরেও বৃহত্তর শিল্প অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    সংস্থার বিবৃতি অনুযায়ী, রাজ্যের শিল্প সম্ভাবনা এবং নতুন সরকারের অধীনে গড়ে ওঠা ব্যবসায়িক পরিবেশের উপর আস্থা রেখেই এই বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী দিনে রাজ্যের শিল্পনীতি ও বিনিয়োগবান্ধব উদ্যোগের সঙ্গে এই পরিকল্পনা কতটা সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

  • Suvendu Adhikari on Singur: টাটা-ন্যানো স্মৃতি! সিঙ্গুরে নতুন শিল্পের সম্ভাবনা, অশোক লে-ল্যান্ডকে নিয়ে বড় ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari on Singur: টাটা-ন্যানো স্মৃতি! সিঙ্গুরে নতুন শিল্পের সম্ভাবনা, অশোক লে-ল্যান্ডকে নিয়ে বড় ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় দু’দশক আগে সিঙ্গুর (Suvendu Adhikari on Singur) থেকে বিদায় নিয়েছিল গাড়ি কারখানা। টাটা মোটরসের ন্যানো প্রকল্প ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক, আন্দোলন এবং দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর শিল্পের স্বপ্ন কার্যত অধরাই থেকে গিয়েছে এই এলাকার মানুষের কাছে। এবার কি সেই সিঙ্গুরেই ফিরতে চলেছে গাড়ি শিল্প? নতুন করে আশার কথা শোনালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করতে গিয়ে শিল্পায়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। শিল্পপতিদের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি রাজ্যের জমি নীতি এবং সিঙ্গুরের শিল্প পরিকাঠামোকে নতুন করে কাজে লাগানোর বিষয়েও ইঙ্গিত দেন তিনি।

    সিঙ্গুর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি

    সিঙ্গুর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সিঙ্গুর নিয়ে অবশ্যই আমরা কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করব। কিছু একটা করব। অশোক লে-ল্যান্ডের সঙ্গে আমার প্রাথমিক স্তরের কথা হয়েছে। তবে আগের সরকারের মতো দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে শুধু সমঝোতাপত্র (মউ) স্বাক্ষর করে দায় সারতে চাই না। তাই এখনই বিস্তারিত কিছু বলছি না।” শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাপস রায়ও সিঙ্গুরে টাটা মোটরসকে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। প্রয়োজনে নিজে টাটা কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়ার কথাও বলেছিলেন তিনি। তবে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর অশোক লে-ল্যান্ডের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনার কথা প্রকাশ্যে আসায় সিঙ্গুরে শিল্প ফেরানোর সম্ভাবনা নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এদিন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বলেন, “সিঙ্গুরের গাড়ি কারখানার জমিতে শিল্প গড়ে উঠুক, এটাই সেখানকার মানুষের প্রত্যাশা। মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগে তাঁরা অবশ্যই খুশি হবেন। গাড়ি কারখানার জমিতে একই ধরনের শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যেই সরকার উদ্যোগী হয়েছে।”

    শিল্পমহলের প্রতিক্রিয়া

    মুখ্যমন্ত্রীর সিঙ্গুর-ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছে শিল্পমহল। বণিকসভার সদস্য আরএ বাঙ্গুরের মতে, পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ভাবমূর্তির সঙ্গে সিঙ্গুরের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেখানে নতুন করে শিল্প গড়ে উঠলে তা রাজ্যের অর্থনীতির পক্ষেও ইতিবাচক হবে। এমএসএমই-র প্রতিনিধি লক্ষ্মীকান্ত রাও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুরের পরিস্থিতি এবং সেখানকার মানুষের চাহিদা সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত। সেই জায়গা থেকে সিঙ্গুরে নতুন করে কিছু করার উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। সেখানে শেষ পর্যন্ত গাড়ি কারখানা গড়ে উঠলে একাধিক অনুসারী শিল্পেরও সম্ভাবনা তৈরি হবে। উপকৃত হবেন এলাকার সাধারণ মানুষ।”  বণিক সভার সদস্য আরএ বাঙ্গুর বলেন, “সিঙ্গুর রাজ্যের শিল্পের ভাবমূর্তির জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ নাম। সিঙ্গুরের মাটিতে শিল্প এলে আদতে রাজ্যেরই লাভ।”

    সিঙ্গুরে শিল্প প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন

    সিঙ্গুরে শিল্প প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নতুন নয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন, জমি অধিগ্রহণ, আদালতের লড়াই এবং জমি ফেরতের পরেও আজ পর্যন্ত সেখানে বড় কোনও শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। একসময় শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ দেখেছে সিঙ্গুর। পরে সেই জমি ফেরত পাওয়ার আন্দোলনও প্রত্যক্ষ করেছে। কৃষিজমিতে আবার চাষের স্বপ্ন দেখা হলেও কৃষি ও শিল্প—কোনও ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি।

    সিঙ্গুর ও টাটাদের অধরা ন্যানো প্রকল্প

    সিঙ্গুরকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলন পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ২০০৬ সালের মে মাসে সপ্তমবারের জন্য ক্ষমতায় ফেরার পর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকার ঘোষণা করে, টাটা মোটরস পশ্চিমবঙ্গে এক লক্ষ টাকার ছোট গাড়ি ন্যানো তৈরির কারখানা গড়বে। হুগলির সিঙ্গুরে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের পাশে প্রায় ৯৯৭ একর জমি চিহ্নিত করা হয়।

    জমি অধিগ্রহণ ও অনিচ্ছুক কৃষকদের প্রতিবাদ: ২০০৬ সালের নভেম্বর মাসে ১৮৯৪ সালের জমি অধিগ্রহণ আইন অনুসারে জমি অধিগ্রহণ শুরু করে রাজ্য সরকার। অনেক কৃষক ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করলেও একাংশ জমি দিতে অস্বীকার করেন। তাঁদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে কৃষিজমি রক্ষা কমিটি।

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলন ও অনশন: ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে অনিচ্ছুক কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলনে নামেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার ধর্মতলায় টানা ২৬ দিনের অনশন রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

    কারখানা নির্মাণ ও রাজনৈতিক সংঘাত: কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে সিঙ্গুরে কারখানা নির্মাণের কাজ শুরু করে টাটা মোটরস। তৈরি হতে থাকে কারখানার শেড ও অন্যান্য পরিকাঠামো। কিন্তু জমির বাইরে আন্দোলন ও বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। ক্রমে সিঙ্গুরের আন্দোলন জাতীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে।

    রাজভবনে বৈঠক, কিন্তু মেলেনি সমাধান: অনিচ্ছুক কৃষকদের প্রায় ৪০০ একর জমি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল কংগ্রেসের আন্দোলন তীব্র হয়। কারখানা ঘেরাও এবং দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধের ঘটনাও ঘটে। তৎকালীন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধির মধ্যস্থতায় রাজভবনে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হলেও জমি ফেরত নিয়ে কোনও ঐকমত্য তৈরি হয়নি।

    সিঙ্গুর ছেড়ে গুজরাটে ন্যানো প্রকল্প: শেষ পর্যন্ত আন্দোলন, অচলাবস্থা এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে ২০০৮ সালের ৩ অক্টোবর রতন টাটা সিঙ্গুর থেকে ন্যানো প্রকল্প সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে গুজরাতের সানন্দে স্থানান্তরিত হয় প্রকল্পটি।

    রাজনৈতিক পালাবদল: ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের অবসান ঘটে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস।

    জমি ফেরানোর উদ্যোগ ও আইনি লড়াই: ক্ষমতায় এসেই সিঙ্গুরের জমি কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় নতুন সরকার। বিধানসভায় পাশ হয় সিঙ্গুর ল্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাক্ট, ২০১১। তবে টাটা মোটরস এই আইনের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়। কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ আইনটি বহাল রাখলেও ২০১২ সালের জুন মাসে ডিভিশন বেঞ্চ তা অসাংবিধানিক ঘোষণা করে খারিজ করে দেয়। এরপর সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার।

    সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়: ২০১৬ সালের ৩১ অগস্ট সুপ্রিম কোর্ট জানায়, ২০০৬ সালে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া বেআইনি ছিল। আদালত প্রায় ৯৯৭ একর জমি কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ক্ষতিপূরণের টাকা যাঁরা নিয়েছিলেন, তাঁদেরও সেই অর্থ ফেরত দিতে হয়নি। ওই বছরের ২০ অক্টোবর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষকদের হাতে জমির পরচা ও দখল হস্তান্তর করেন।

    জমি ফিরেছে, কিন্তু ফেরেনি শিল্প

    সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জমি কৃষকদের হাতে ফিরলেও বাস্তবে পরিস্থিতি খুব একটা বদলায়নি। দীর্ঘদিন কারখানার নির্মাণকাজ, কংক্রিটের ভিত্তি এবং ভারী যন্ত্রপাতির কারণে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রশাসনের তরফে জমিকে আবার চাষযোগ্য করে তোলার চেষ্টা হলেও সব জমিতে আগের মতো কৃষিকাজ সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে টাটা মোটরস চলে যাওয়ার পর সিঙ্গুরে বড় কোনও বিকল্প শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। ফলে একদিকে কৃষির সীমাবদ্ধতা, অন্যদিকে শিল্পের অভাব—এই দুইয়ের মধ্যে আটকে পড়েছেন এলাকার বহু মানুষ। যে যুবসমাজ একসময় কারখানায় চাকরির স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাঁদের অনেকের কাছেই সেই প্রত্যাশা আজও অধরা। ফলে সিঙ্গুরে আবার শিল্প গড়ে তোলার দাবি ক্রমশ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

    স্বপ্ন দেখাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে অশোক লে-ল্যান্ড-এর কথা

    ভারতের বাণিজ্যিক গাড়ি নির্মাণ শিল্পে পরিচিত নাম অশোক লে-ল্যান্ড। হিন্দুজা গোষ্ঠীর এই সংস্থার যাত্রা শুরু ১৯৪৮ সালে, অশোক মোটরস নামে। ১৯৫৫ সালে সংস্থার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় অশোক লে-ল্যান্ড। বর্তমানে বাস ও বাণিজ্যিক যানবাহন নির্মাণের ক্ষেত্রে দেশের অন্যতম বড় সংস্থা এটি। ফলে সিঙ্গুরে অশোক লে-ল্যান্ডের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর প্রাথমিক আলোচনা ঘিরে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে আলোচনা কতটা এগোবে, সেখানে আদৌ গাড়ি কারখানা হবে কি না, কিংবা কত কর্মসংস্থান তৈরি হবে—সব প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। সিঙ্গুরের মানুষ অতীতে শিল্পের স্বপ্ন দেখেছেন, আন্দোলন করেছেন, জমি ফিরে পেয়েছেন। এবার তাঁদের প্রত্যাশা, প্রতিশ্রুতির গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তবেই ফিরুক শিল্প। অশোক লে-ল্যান্ড কি সেই স্বপ্নপূরণের নতুন অধ্যায় লিখবে? আপাতত সেই দিকেই তাকিয়ে সিঙ্গুর তথা গোটা বাংলা।

  • Fast Track Special Courts: ধর্ষণ ও পকসো মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে আরও ৫ বছর ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট, ৩,৭৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দ কেন্দ্রের

    Fast Track Special Courts: ধর্ষণ ও পকসো মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে আরও ৫ বছর ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট, ৩,৭৮৮ কোটি টাকা বরাদ্দ কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ধর্ষণ ও শিশুদের উপর যৌন নির্যাতনের (পকসো) মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ফাস্ট ট্র্যাক স্পেশাল কোর্ট (FTSC) প্রকল্পের মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পৌরোহিত্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০৩১ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রকল্পের (Fast Track Special Courts) জন্য মোট ৩,৭৮৮.০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রের অংশ ২,৩৫৩.১৫ কোটি টাকা এবং রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির অংশ ১,৪৩৪.৮৯ কোটি টাকা। কেন্দ্রের বরাদ্দের অর্থ আসবে নির্ভয়া তহবিল থেকে।

    ফাস্ট ট্র্যাক স্পেশাল কোর্টের সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০

    কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন অনুযায়ী, দেশজুড়ে বর্তমানে ৭৭৯টি ফাস্ট ট্র্যাক স্পেশাল কোর্টের সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০টি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে থাকবে বিশেষ পকসো আদালতও। ধর্ষণ এবং ২০১২ সালের পকসো আইনের আওতায় থাকা মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তিই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। মামলার সংখ্যা ও বিচারাধীন অবস্থার ভিত্তিতে অতিরিক্ত জেলাগুলিতে নতুন আদালত গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের জন্য একজন করে বিচারক, একজন বিশেষ সরকারি আইনজীবী (স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর) এবং ছ’জন সহায়ক কর্মী নিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে আদালতের প্রশাসনিক কাজের চাপ কমবে এবং দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকা মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে বলে মনে করছে কেন্দ্র।

    শিশু-বান্ধব ও সংবেদনশীল পরিবেশ তৈরি

    এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নির্যাতিতাদের জন্য শিশু-বান্ধব ও সংবেদনশীল বিচারিক পরিবেশ তৈরি করা। বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের সাক্ষ্যগ্রহণের সময় যাতে তাঁদের নতুন করে মানসিক আঘাতের মুখে পড়তে না হয়, সেজন্য ভালনারেবল উইটনেশ ডিপোজিশন সেন্টার (VWDC) এবং শিশু-বান্ধব আদালতকক্ষ গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার মন্ত্রকের বিচার বিভাগ (Department of Justice)। সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করা হবে। আদালতগুলির কাজের অগ্রগতি, মামলার নিষ্পত্তির হার এবং বিচারাধীন মামলার সংখ্যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ জন্য FTSC ড্যাশবোর্ড, পর্যায়ক্রমিক রিপোর্ট এবং ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা করা হবে।

    মহিলা ও শিশুদের বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য কমবে

    কেন্দ্রের মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশেষত মহিলা ও শিশুদের বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য কমবে। ধর্ষণ ও পকসো মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি নির্যাতিতদের সময়মতো বিচার পাওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ফৌজদারি আইন সংশোধনী এবং ২০১৯ সালের ২৫ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতে ২০১৯ সালের ২ অক্টোবর ফাস্ট ট্র্যাক স্পেশাল কোর্ট (Fast Track Special Courts) প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। পকসো আইনের আওতায় ১০০টির বেশি বিচারাধীন মামলা রয়েছে, এমন জেলাগুলিতে বিশেষ আদালত গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এবার আরও পাঁচ বছরের জন্য প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে দেশের বিচারব্যবস্থায় যৌন অপরাধ সংক্রান্ত মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • COPD Awareness: সিওপিডি রুখতে সচেতনতার রং গেরুয়া! কেন এই রংকে প্রচারের হাতিয়ার করা হচ্ছে?

    COPD Awareness: সিওপিডি রুখতে সচেতনতার রং গেরুয়া! কেন এই রংকে প্রচারের হাতিয়ার করা হচ্ছে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ক্রমশ বাড়ছে রোগের দাপট! বিশেষত আক্রান্তের তালিকায় শিশুদের সংখ্যা বাড়ছে। তাই উদ্বেগও বাড়ছে।
    ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) ভারতের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সঙ্কট হতে চলেছে! ইতিমধ্যেই ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের তরফে জানানো হয়েছে, গোটা বিশ্বের মোট সিওপিডি আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন ভারতে! চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতে এই নিয়ে সচেতনতা না বাড়লে, ভবিষ্যতে আরও বেশি বিপদ হতে পারে।

    সিওপিডি কী? কেন এই রোগ নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সিওপিডি হল ফুসফুসের একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। এই রোগে আক্রান্ত হলে ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই রোগ ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে ফুসফুসের নানান রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। সিওপিডি আক্রান্ত হলে হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়। তাছাড়া সিওপিডি আক্রান্তের নিউমোনিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে ক্রমশ সিওপিডি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। শিশু থেকে বয়স্ক, সমস্ত বয়সেই এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। পাশপাশি সিওপিডি-র কারণে মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে। তাই এই রোগ নিয়ে বাড়তি সচেতনতা জরুরি।

    সচেতনতা বাড়াতে কেন গেরুয়া রঙে ভরসা?

    নভেম্বর মাস সিওপিডি সচেতনতার মাস। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই রোগ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। পাশপাশি রোগের দাপট কমাতে সামগ্রিক সচেতনতা প্রয়োজন। কারণ, পরিবেশ এই রোগে একটা গুরুত্ব বিষয়। দূষণ মুক্ত সুস্থ পরিবেশ থাকলে সিওপিডি-র মতো রোগের প্রকোপ কমবে। তাই এই মাস জুড়ে একাধিক কর্মশালা ও সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।
    চলতি বছরে প্রচারের মূল বিষয়— ‘‘অরেঞ্জ ইস পাওয়ার!’’ অর্থাৎ, গেরুয়া রঙকে হাতিয়ার করেই এই রোগ সম্পর্কে সচেতন করা হবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, গেরুয়া রং উজ্জ্বল। তাছাড়া গেরুয়া রং শুদ্ধতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়। তাই এই রোগ প্রতিরোধে গেরুয়া রং বেছে নেওয়া হয়েছে।
    সিওপিডি -র মতো রোগ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ পরিবেশের দূষণ এবং ক্ষতিকারক অভ্যাস। গেরুয়া বার্তা জানান দেবে শুদ্ধ পরিবেশের গুরুত্ব। তাছাড়া উজ্বল রঙের স্পর্শে সচেতনতা কর্মসূচিকে‌‌ বাড়তি আকর্ষণীয় করে তুলবে। শিশুদের কাছেও এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বার্তা পৌঁছনো সহজ হবে। আগামী প্রজন্মের কাছে সবচেয়ে বড় রোগের বোঝা হতে চলেছে সিওপিডি। তাই আগাম সচেতনতা জরুরি।

    ভারতীয় শিশুরা কেন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে?

    একাধিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতীয় শিশুদের মধ্যে ফুসফুসের রোগের প্রকোপ বাড়ছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।
    বক্ষঃরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বায়ুদূষণের জেরে গর্ভস্থ শিশুদের ফুসফুসের গঠনে নানান জটিলতা দেখা দিচ্ছে। জন্মের পরেও দূষিত পরিবেশ শিশুর ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। এর জেরেই ভারতীয় শিশুদের মধ্যে সিওপিডি-র মতো রোগের দাপট ক্রমশ বাড়ছে।
    ভারতীয় শিশুদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ, ধূমপান নিয়ে অসচেতনতা। এই অভ্যাস শুধু ধূমপান কারীর শরীরেই ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে না। বরং তার আশপাশের মানুষের শরীরেও মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। ফলে, গর্ভস্থ মহিলার সামনে ধূমপান করলে সেই গর্ভস্থ শিশুর শরীরে প্রভাব পড়ে। আবার শিশুদের সামনে ধূমপান করলে শিশুর শরীরে ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে। তাই তাদের সিওপিডি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

    এই রোগের প্রকোপ কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    ধূমপান বন্ধ!

    চিকিৎসকদের পরামর্শ, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে এবং সিওপিডি-র মতো রোগের দাপট কমাতে ধূমপানের অভ্যাস ছাড়তে হবে। ভারতে কম বয়সীদের মধ্যেও ধূমপানের অভ্যাস রয়েছে। স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যেও এই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ক্রমশ বাড়ছে। তাই সে নিয়ে সচেতনতা জরুরি।

    বায়ুদূষণ নিয়ে সচেতনতা!

    পরিবেশ সম্পর্কে আরও বেশি সচেতনতা জরুরি। বায়ু দূষণ যাতে না বাড়ে, সেটা নিয়ে সব মহলে সতর্কতা জরুরি। পাশপাশি বাইরে বেরলে মাস্কের ব্যবহার প্রয়োজন। ঠিকমতো নাক ও মুখ ঢাকা মাস্ক পরলে ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

    রোগ নির্ণয় জরুরি!

    ভারতে সিওপিডি চিকিৎসায় অন্যতম সমস্যা হল রোগ নির্ণয় হয় দেরিতে। ভারতীয়দের মধ্যে এই রোগ নিয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। অনেক সময়েই লাগাতার কাশি হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয় না।‌ সিওপিডি-র অন্যতম প্রাথমিক উপসর্গ হল দীর্ঘদিন কাশির ভোগান্তি। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন , রোগ দ্রুত নির্ণয় হলে জটিলতা কমে।

    স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন জরুরি!

    রোগ থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন জরুরি। ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত যোগাভ্যাস প্রয়োজন। রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়বে। আবার শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তিও বাড়বে। ফলে যেকোনো সংক্রামক রোগে সহজে কাবু হবে না।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • West Bengal Industrial Policy: বাংলার শিল্পের পুনরুত্থানে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দু সরকারের! বিনিয়োগ টানতে নয়া শিল্পনীতিতে একগুচ্ছ সুবিধা

    West Bengal Industrial Policy: বাংলার শিল্পের পুনরুত্থানে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দু সরকারের! বিনিয়োগ টানতে নয়া শিল্পনীতিতে একগুচ্ছ সুবিধা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এবং বাংলাকে নতুন করে শিল্প বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগী হল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার। নতুন সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার লক্ষ্ণী বারে পশ্চিমবঙ্গের নয়া শিল্পনীতি (West Bengal Industrial Policy) ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু নতুন শিল্প স্থাপন নয়, দীর্ঘদিনের শিল্প সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো, বন্ধ ও রুগ্‌ণ কারখানার পুনরুজ্জীবন, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং পিছিয়ে থাকা এলাকায় শিল্পের প্রসার—সবকিছুকেই এই নীতির আওতায় আনার চেষ্টা হয়েছে।

    রাজ্যের শিল্পায়নের ক্ষেত্রে এই নীতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে শুধু করছাড় বা আর্থিক অনুদানের ঘোষণা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন স্থায়ী নীতিগত সহায়তা, পরিকাঠামোগত সুবিধা, দ্রুত প্রশাসনিক অনুমোদন এবং দক্ষ কর্মী পাওয়ার নিশ্চয়তা। নয়া শিল্পনীতিতে এই বিষয়গুলির উপরেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান তৈরির সঙ্গে আর্থিক সুবিধাকে যুক্ত করা, মহিলা কর্মীদের নিয়োগে বাড়তি উৎসাহ এবং ভবিষ্যৎমুখী শিল্পক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধার সংস্থান রাজ্যের শিল্প অর্থনীতিকে নতুন দিশা দেখাতে পারে।

    বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা, কর্মসংস্থানই অগ্রাধিকার

    • ● নয়া শিল্পনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে শিল্প সংস্থাগুলিকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া। যোগ্য কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার ইপিএফ (EPF) অবদানের একটি অংশ ফেরত দেবে রাজ্য সরকার। এর ফলে নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে শিল্পোদ্যোগীদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে।
    • ● ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) ক্ষেত্রে মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মীদের জন্য নিয়োগকর্তার ইপিএফ অবদানের ১০০ শতাংশ এবং পুরুষ কর্মীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে। এই সুবিধা সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত পাওয়া যেতে পারে।
    • ● পরিষেবা ক্ষেত্রের যোগ্য সংস্থাগুলির ক্ষেত্রেও মহিলা কর্মীদের নিয়োগে ৭৫ শতাংশ এবং পুরুষ কর্মীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ ইপিএফ সহায়তার সংস্থান রাখা হয়েছে। ২০০-র বেশি কর্মী থাকা যোগ্য পরিষেবা ইউনিটগুলি পাঁচ বছর পর্যন্ত এই সুবিধা পেতে পারে।
    • ● বৃহৎ শিল্প ও মেগা প্রকল্পের ক্ষেত্রেও রয়েছে পিএফ সহায়তা। অগ্রাধিকার এলাকায় অন্তত ২০০ জন এবং অন্যত্র অন্তত ৪০০ জন কর্মী থাকা যোগ্য শিল্প ইউনিট পাঁচ বছর পর্যন্ত নিয়োগকর্তার ইপিএফ অবদানের ৫০ শতাংশ সহায়তা পেতে পারে।
    • ● এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একদিকে যেমন নতুন নিয়োগে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে মহিলা কর্মসংস্থান এবং শিল্পক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থানের উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    নতুন শিল্পের পাশাপাশি পুরনো শিল্পের পুনরুজ্জীবনেও নজর

    বাংলার শিল্পের পুনরুত্থান বলতে শুধু নতুন কারখানা তৈরি বোঝায় না। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা রুগ্‌ণ অবস্থায় থাকা শিল্প ইউনিটগুলিকে পুনরায় উৎপাদনের উপযোগী করে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নয়া শিল্পনীতিতে সেই বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    • ● অনুমোদিত পুনরুজ্জীবন পরিকল্পনার আওতায় রুগ্‌ণ ও বন্ধ শিল্পের জন্য বিশেষ বিদ্যুৎ সহায়তা, জমির ঊর্ধ্বসীমায় ছাড় এবং জমির বিকল্প ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট পুনরুজ্জীবন সেলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে।

    এর ফলে রাজ্যের বিদ্যমান শিল্প সম্পদকে নতুন করে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। নতুন করে বিপুল পরিমাণ জমি ও পরিকাঠামো তৈরি করার পাশাপাশি আগে থেকেই থাকা শিল্প পরিকাঠামোর পুনর্ব্যবহারও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    • ● শুধু তাই নয়, পুরনো শিল্প ইউনিট সম্প্রসারণ করেও সরকারি সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে সেক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির শর্ত পূরণ করতে হবে। কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকারের অনুমতির শর্ত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান ধরে রাখার বিষয়টিও নীতিতে গুরুত্ব পেয়েছে।

    পিছিয়ে থাকা এলাকাতেও শিল্পের প্রসারের পরিকল্পনা

    • ● শিল্পায়নের সুফল যাতে শুধু কয়েকটি পরিচিত শিল্পাঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেদিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। শিল্প ও পরিকাঠামোর বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে রাজ্যের নির্দিষ্ট মহকুমাগুলিকে অগ্রাধিকার এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এই সমস্ত এলাকায় বিনিয়োগ করলে তুলনামূলক বেশি আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি, কিছু সুবিধার ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের ন্যূনতম শর্তও কম রাখা হবে।

    এই উদ্যোগের গুরুত্ব যথেষ্ট। কারণ, পিছিয়ে থাকা এলাকায় শিল্প স্থাপিত হলে শুধু প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানই তৈরি হয় না, স্থানীয় পরিবহণ, আবাসন, বাজার, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রেও নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হয়।

    • ● অগ্রাধিকার এলাকার তালিকা প্রতি তিন বছর অন্তর পর্যালোচনা করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ফলে সময়ের সঙ্গে এলাকার শিল্প ও পরিকাঠামোগত পরিস্থিতির পরিবর্তন বিবেচনা করে নীতিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ থাকবে।

    বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১২০ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ

    শিল্পোদ্যোগীদের কাছে আর্থিক নিশ্চয়তা একটি বড় বিষয়। সেই দিকটি বিবেচনা করেই প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতিতে অনুমোদিত বিনিয়োগের ভিত্তিতে সরকারি সহায়তার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    • ● সাধারণ শিল্প ইউনিটের ক্ষেত্রে অনুমোদিত বিনিয়োগের ১০০ শতাংশ পর্যন্ত, থ্রাস্ট সেক্টর অথবা অগ্রাধিকার এলাকার শিল্প ইউনিটের ক্ষেত্রে ১১০ শতাংশ পর্যন্ত এবং অগ্রাধিকার এলাকায় অবস্থিত থ্রাস্ট সেক্টরের ইউনিটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১২০ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তার সীমা রাখা হয়েছে।

    তবে এই সহায়তা এককালীন নগদ অনুদান নয়। উৎপাদন শুরু হওয়ার পর নির্দিষ্ট নিয়মে ধাপে ধাপে তা পাওয়া যাবে। বার্ষিক সীমা এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও প্রযোজ্য। নির্ধারিত ঊর্ধ্বসীমায় পৌঁছলে অথবা ১০ বছর পূর্ণ হলে, যেটি আগে হবে, সেই অনুযায়ী সহায়তা বন্ধ হবে।

    ভবিষ্যতের শিল্পে বাংলাকে এগিয়ে রাখার পরিকল্পনা

    • ● বিশ্বজুড়ে শিল্প ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে রাজ্যের নয়া শিল্পনীতি। সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, গ্রিন হাইড্রোজেন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বস্ত্রশিল্প, ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনের মতো ক্ষেত্রগুলিতে বাড়তি সুবিধার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    এই শিল্পগুলি আগামী দিনে বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং কর্মসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। ফলে এই ধরনের শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারলে বাংলার শিল্প অর্থনীতির বহুমুখীকরণের সুযোগ তৈরি হবে।

    বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর ও বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ এলে তার সঙ্গে যুক্ত আনুষঙ্গিক শিল্প, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং দক্ষ কর্মীর চাহিদাও বাড়তে পারে। অর্থাৎ, একটি বড় শিল্প প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

    মেগা প্রকল্পের জন্য বিশেষ প্যাকেজ, পরিকাঠামোতেও সহায়তা

    • ● বড় বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য কৌশলগত ও মেগা প্রকল্পের ক্ষেত্রে পৃথক বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিনিয়োগের পরিমাণ, শিল্পক্ষেত্র এবং একসঙ্গে অন্তত ৫০০ জনের কর্মসংস্থানের মতো নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে প্রকল্পভিত্তিক বিশেষ সুবিধার আবেদন করা যাবে।
    • ● বড় শিল্প প্রকল্পের ক্ষেত্রে রাস্তা, জল সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ সংযোগের মতো পরিকাঠামো তৈরিতেও সহায়তার সুযোগ রয়েছে।

    এই সংস্থান বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ, একটি বড় শিল্প প্রকল্পের ক্ষেত্রে জমি ও মূলধনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করাও বড় চ্যালেঞ্জ। সেই ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক বাধা কমাতে পারে।

    উৎপাদন ও পরিষেবা—দুই ক্ষেত্রেই পৃথক সুবিধা

    • ● উৎপাদনকারী শিল্পের জন্য এসজিএসটি-সংযুক্ত আর্থিক সহায়তা, পাঁচ বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ শুল্ক প্রতিপূরণ, প্রকল্পের জমিতে স্ট্যাম্প ডিউটি ফেরত এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনে সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।
    • ● পরিষেবা ক্ষেত্রের জন্যও পৃথক প্যাকেজ রাখা হয়েছে। পাঁচ বছর পর্যন্ত এসজিএসটি-সংযুক্ত সহায়তা, ইপিএফ প্রতিপূরণ, বিদ্যুৎ শুল্কে সুবিধা এবং লিজে নেওয়া জায়গার ভাড়ায় সহায়তা দেওয়া হতে পারে।
    • ● এছাড়া, হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতো পরিকাঠামো ক্ষেত্রকেও নির্দিষ্ট শর্তে শিল্পনীতির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্তত ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং নির্ধারিত পরিষেবা দেওয়ার শর্ত পূরণ করলে এই প্রতিষ্ঠানগুলিও সুবিধা পেতে পারে। পিএম-শ্রী মডেলে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রেও সুযোগ রাখা হয়েছে।

    সবুজ শিল্প ও প্রশাসনিক সরলীকরণে বিশেষ গুরুত্ব

    • ● আধুনিক শিল্পায়নের অন্যতম শর্ত পরিবেশবান্ধব উৎপাদন। সেই বিষয়টিও নয়া শিল্পনীতিতে গুরুত্ব পেয়েছে। পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুতের ওপেন অ্যাক্সেসের ক্ষেত্রে মার্চ ২০৩০ পর্যন্ত সারচার্জ মকুবের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে শিল্প সংস্থাগুলি বিকল্প ও পরিচ্ছন্ন শক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত হতে পারে।
    • ● অন্যদিকে, বিনিয়োগকারীদের প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে সিঙ্গল উইন্ডো পোর্টালের মাধ্যমে একটিমাত্র আবেদনে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
    • ● নীতিতে নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগ স্থির হওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে সার্টিফিকেট অব ইনটেন্ট এবং উৎপাদন শুরু হওয়ার পর ৪৫ দিনের মধ্যে সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর্থিক সহায়তার দাবি মঞ্জুর এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প ইউনিটের অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রেও ৩০ দিনের সময়সীমা রাখা হয়েছে।

    প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় গতি আনা গেলে বিনিয়োগকারীদের কাছে রাজ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে যে সংস্থাগুলি একাধিক রাজ্যে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে, তাদের কাছে দ্রুত অনুমোদন ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

    শিল্পের পুনরুত্থানে নীতিগত পদক্ষেপ, এবার নজর বাস্তবায়নে

    সামগ্রিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের নয়া শিল্পনীতি রাজ্যের শিল্প অর্থনীতিকে নতুন করে গতিশীল করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি পুরনো শিল্পের পুনরুজ্জীবন, মহিলা কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসার, পিছিয়ে থাকা এলাকার উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ শিল্পে বিনিয়োগ—একাধিক দিককে একই ছাতার তলায় আনার চেষ্টা হয়েছে।

    এই নীতির ইতিবাচক দিক হল, শিল্প সংস্থাকে শুধু আর্থিক সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়নি, বরং কর্মসংস্থান তৈরি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে সরকারি সহায়তাকে যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার উদ্যোগও উল্লেখযোগ্য।

    অবশ্যই, কোনও শিল্পনীতি ঘোষণার পরই রাতারাতি শিল্পের চেহারা বদলে যায় না। বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন, জমি ও পরিকাঠামোর জোগান, দক্ষ শ্রমশক্তি, বিদ্যুৎ এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বাস্তব প্রয়োগ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক কাজ প্রয়োজন। সেই সঙ্গে ঘোষিত সুবিধা যাতে যোগ্য শিল্প সংস্থার কাছে সময়মতো পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

    তবে নীতিগতভাবে শিল্পের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির যে বার্তা এই নয়া শিল্পনীতিতে দেওয়া হয়েছে, তা তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলার শিল্পের পুনরুত্থান এবং কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরির লক্ষ্যে সরকারের এই উদ্যোগ কতটা সফল হয়, এবার তার প্রমাণ মিলবে বাস্তব বিনিয়োগ ও নতুন শিল্প প্রকল্পের হাত ধরে।

LinkedIn
Share