Blog

  • Uttar Pradesh: উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ৯ বছর পূর্ণ করলেন যোগী, দেখুন উন্নয়নের খতিয়ান

    Uttar Pradesh: উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ৯ বছর পূর্ণ করলেন যোগী, দেখুন উন্নয়নের খতিয়ান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ৯ বছর পূর্ণ করলেন যোগী আদিত্যনাথ। ২০২৬ সালের মার্চে ৯ বছর পূরণ হয়েছে তাঁর। রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘতম নিরবচ্ছিন্ন শাসনকাল। যোগীর মতো একজন নয়া শাসককে নিয়ে যে সন্দেহ ছিল, তা ধীরে ধীরে আধুনিক ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাসন-গল্পে পরিণত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার অবক্ষয় ও প্রশাসনিক শিথিলতার জন্য পরিচিত একটি রাজ্য থেকে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণকারী এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের উদাহরণ হয়ে ওঠার এই যাত্রা সম্ভব হয়েছে একটি নির্দিষ্ট শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে, যেখানে পুলিশিং, অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং প্রযুক্তি একসূত্রে গাঁথা হয়েছে। যোগী যখন মুখ্যমন্ত্রী হন, তখন উত্তরপ্রদেশ সংগঠিত অপরাধের জন্য কুখ্যাত ছিল। মাফিয়া চক্রগুলি প্রায় নির্বিঘ্নে অপরাধ করত, জাতিগত হিংসাও ছিল রোজকার ঘটনা।

    হাতিয়ার যখন বুলডোজার (Uttar Pradesh) 

    নয়া সরকার এসব রুখতে দ্রুত পদক্ষেপ করে। তার জেরে অল্প সময়ের মধ্যেই অপরাধীদের সম্পত্তি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, গ্যাংস্টার আইনের প্রয়োগ বাড়ে এবং পুলিশের এনকাউন্টারে খতম হয় বহু কুখ্যাত অপরাধী। সমালোচকরা একে “বুলডোজার ন্যায়বিচার” আখ্যা দেন এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিজেপি সমর্থকদের মতে, খুনের হার ৪০ শতাংশেরও বেশি কমেছে, অপহরণ প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে এবং দস্যুবৃত্তি প্রায় বিলুপ্ত হয়েছে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগত উন্নয়নও হয়েছে। প্রতিটি জেলায় সাইবার পুলিশ স্টেশন, আধুনিক ফরেনসিক ল্যাব, ‘মিশন শক্তি’, অ্যান্টি-রোমিও স্কোয়াড এবং সিসিটিভি-ভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মহিলাদের নিরাপত্তা বাড়িয়েছে। ফলে উত্তরপ্রদেশ এখন আর বিনিয়োগকারীদের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ রাজ্য হিসেবে বিবেচিত হয় না।

    রাজ্যের জিএসডিপি

    ২০১৭ সালে রাজ্যের জিএসডিপি ছিল প্রায় ১৩ লাখ কোটি টাকা। এখানে পৌঁছতে স্বাধীনতার পর লেগেছিল ৭০ বছর। এখন তা বেড়ে হয়েছে ৩৬ লাখ কোটি টাকা। ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের লক্ষ্য ৪০ লাখ কোটি টাকার গন্ডি ছোঁওয়া। ভারতের অর্থনীতিতে রাজ্যের অংশ ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৯.৫ শতাংশ। মাথাপিছু আয় প্রায় ৪৩ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১.২ লাখ টাকারও বেশি। ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বাজেট হয়েছে ৯.১২ লাখ কোটি টাকা। এটি রাজ্যের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে ঋণের হার কমিয়ে আনা হয়েছে এবং আর্থিক ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। গ্লোবাল ইনভেস্টরস সামিটে ৫০ লাখ কোটি টাকার বিনিয়োগ চুক্তি হয়েছে।

    এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক

    উত্তরপ্রদেশ এখন ভারতের মোট এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্কের ৫৫ শতাংশের ‘মালিক’। পূর্বাঞ্চল, বুন্দেলখণ্ড-সহ একাধিক এক্সপ্রেসওয়ে চালু হয়েছে। গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে উত্তরপ্রদেশের এই অংশ ছাড়াবে ৬০ শতাংশ। ২০১৭ সালের আগে রামের দেশে ছিল মাত্র ২টি বিমানবন্দর। এখন সেটাই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬টিতে। এর মধ্যে আবার ৪টি আন্তর্জাতিক। মেট্রো পরিষেবা ৭টি শহরে চালু হয়েছে, চলছে দিল্লি-মিরাট র‍্যাপিড রেলও। গ্রামীণ সড়ক ও বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়েছে ১০০ শতাংশ। জল জীবন মিশনের মাধ্যমে পানীয় জল পৌঁছেছে কোটি কোটি পরিবারে।

    ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট’

    আখ চাষিদের বকেয়া ১ লাখ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এমএসপি ক্রয় ডিজিটাল করা হয়েছে। সেচ ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে এবং কোটি কোটি কৃষক সরকারি সহায়তা পেয়েছেন। ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট’ (ODOP) প্রকল্পে ভাদোহির কার্পেট, মোরাদাবাদের পিতলশিল্প, বারাণসীর সিল্ক পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের (DBT) মাধ্যমে ৩ লাখ কোটি টাকা সরাসরি মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গিয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা, আবাসন, গ্যাস সংযোগ ও স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ৯ লাখ কর্মপ্রার্থীকে দেওয়া হয়েছে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র। ১৫ লাখ যুবক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। ২৫ লাখ শিক্ষার্থী ট্যাবলেট বা স্মার্টফোন পেয়েছে। মেয়েদের জন্য স্কুটি প্রকল্প চালু হয়েছে। স্টার্টআপ সংখ্যা ৫০,০০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে।

    “বিমারু থেকে বুমিং”

    অযোধ্যার রাম মন্দির প্রকল্প বিশাল নগরোন্নয়ন ঘটিয়েছে। বারাণসী করিডোর ও মথুরা উন্নয়ন প্রকল্প ধর্মীয় পর্যটন বাড়িয়েছে। পর্যটন খাতে আয় প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে ১০ লাখের কাছাকাছি। পূর্ব উত্তরপ্রদেশ এখনও পশ্চিমাঞ্চলের তুলনায় পিছিয়ে। এই বৈষম্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৭ সালের নির্বাচনই হবে প্রকৃত পরীক্ষা। সেই সময়ই জানা যাবে এই উন্নয়ন সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলেছে। একসময় পিছিয়ে পড়া রাজ্য হিসেবে পরিচিত উত্তরপ্রদেশ এখন বড় অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হচ্ছে। জিএসডিপি তিনগুণ হয়েছে, উন্নত হয়েছে পরিকাঠামো, বেড়েছে কর্মসংস্থান। “বিমারু থেকে বুমিং”—এটি শুধু এখন আর স্লোগান নয়, গত নবছরে উত্তরপ্রদেশের বাস্তব পরিবর্তনের প্রতিফলন।

     

  • Uttar Pradesh: উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ৯ বছর পূর্ণ করলেন যোগী, দেখুন উন্নয়নের খতিয়ান

    Uttar Pradesh: উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ৯ বছর পূর্ণ করলেন যোগী, দেখুন উন্নয়নের খতিয়ান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ৯ বছর পূর্ণ করলেন যোগী আদিত্যনাথ। ২০২৬ সালের মার্চে ৯ বছর পূরণ হয়েছে তাঁর। রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘতম নিরবচ্ছিন্ন শাসনকাল। যোগীর মতো একজন নয়া শাসককে নিয়ে যে সন্দেহ ছিল, তা ধীরে ধীরে আধুনিক ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাসন-গল্পে পরিণত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার অবক্ষয় ও প্রশাসনিক শিথিলতার জন্য পরিচিত একটি রাজ্য থেকে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণকারী এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের উদাহরণ হয়ে ওঠার এই যাত্রা সম্ভব হয়েছে একটি নির্দিষ্ট শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে, যেখানে পুলিশিং, অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং প্রযুক্তি একসূত্রে গাঁথা হয়েছে।

    সংগঠিত অপরাধের জন্য কুখ্যাত (Uttar Pradesh)

    যোগী যখন মুখ্যমন্ত্রী হন, তখন উত্তরপ্রদেশ সংগঠিত অপরাধের জন্য কুখ্যাত ছিল। মাফিয়া চক্রগুলি প্রায় নির্বিঘ্নে অপরাধ করত, জাতিগত হিংসাও ছিল রোজকার ঘটনা। নয়া সরকার এসব রুখতে দ্রুত পদক্ষেপ করে। তার জেরে অল্প সময়ের মধ্যেই অপরাধীদের সম্পত্তি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, গ্যাংস্টার আইনের প্রয়োগ বাড়ে এবং পুলিশের এনকাউন্টারে খতম হয় বহু কুখ্যাত অপরাধী। সমালোচকরা একে “বুলডোজার ন্যায়বিচার” আখ্যা দেন এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিজেপি সমর্থকদের মতে, খুনের হার ৪০ শতাংশেরও বেশি কমেছে, অপহরণ প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে এবং দস্যুবৃত্তি প্রায় বিলুপ্ত হয়েছে।

    উন্নয়নের জোয়ার

    আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগত উন্নয়নও হয়েছে। প্রতিটি জেলায় সাইবার পুলিশ স্টেশন, আধুনিক ফরেনসিক ল্যাব, ‘মিশন শক্তি’, অ্যান্টি-রোমিও স্কোয়াড এবং সিসিটিভি-ভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মহিলাদের নিরাপত্তা বাড়িয়েছে। ফলে উত্তরপ্রদেশ এখন আর বিনিয়োগকারীদের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ রাজ্য হিসেবে বিবেচিত হয় না। ২০১৭ সালে রাজ্যের জিএসডিপি ছিল প্রায় ১৩ লাখ কোটি টাকা। এখানে পৌঁছতে স্বাধীনতার পর লেগেছিল ৭০ বছর। এখন তা বেড়ে হয়েছে ৩৬ লাখ কোটি টাকা। ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের লক্ষ্য ৪০ লাখ কোটি টাকার গন্ডি ছোঁওয়া। ভারতের অর্থনীতিতে রাজ্যের অংশ ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৯.৫ শতাংশ। মাথাপিছু আয় প্রায় ৪৩ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১.২ লাখ টাকারও বেশি।

    ৫০ লাখ কোটি টাকার বিনিয়োগ চুক্তি

    ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বাজেট হয়েছে ৯.১২ লাখ কোটি টাকা। এটি রাজ্যের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে ঋণের হার কমিয়ে আনা হয়েছে এবং আর্থিক ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। গ্লোবাল ইনভেস্টরস সামিটে ৫০ লাখ কোটি টাকার বিনিয়োগ চুক্তি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ এখন ভারতের মোট এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্কের ৫৫ শতাংশের ‘মালিক’। পূর্বাঞ্চল, বুন্দেলখণ্ড-সহ একাধিক এক্সপ্রেসওয়ে চালু হয়েছে। গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে উত্তরপ্রদেশের এই অংশ ছাড়াবে ৬০ শতাংশ। ২০১৭ সালের আগে রামের দেশে ছিল মাত্র ২টি বিমানবন্দর। এখন সেটাই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬টিতে। এর মধ্যে আবার ৪টি আন্তর্জাতিক। মেট্রো পরিষেবা ৭টি শহরে চালু হয়েছে, চলছে দিল্লি-মিরাট র‍্যাপিড রেলও। গ্রামীণ সড়ক ও বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়েছে ১০০ শতাংশ। জল জীবন মিশনের মাধ্যমে পানীয় জল পৌঁছেছে কোটি কোটি পরিবারে।

    সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র

    আখ চাষিদের বকেয়া ১ লাখ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এমএসপি ক্রয় ডিজিটাল করা হয়েছে। সেচ ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে এবং কোটি কোটি কৃষক সরকারি সহায়তা পেয়েছেন। ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট’ (ODOP) প্রকল্পে ভাদোহির কার্পেট, মোরাদাবাদের পিতলশিল্প, বারাণসীর সিল্ক পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের (DBT) মাধ্যমে ৩ লাখ কোটি টাকা সরাসরি মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গিয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা, আবাসন, গ্যাস সংযোগ ও স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ৯ লাখ কর্মপ্রার্থীকে দেওয়া হয়েছে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র। ১৫ লাখ যুবক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। ২৫ লাখ শিক্ষার্থী ট্যাবলেট বা স্মার্টফোন পেয়েছে। মেয়েদের জন্য স্কুটি প্রকল্প চালু হয়েছে। স্টার্টআপ সংখ্যা ৫০,০০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে।

    বিমারু থেকে বুমিং

    অযোধ্যার রাম মন্দির প্রকল্প বিশাল নগরোন্নয়ন ঘটিয়েছে। বারাণসী করিডোর ও মথুরা উন্নয়ন প্রকল্প ধর্মীয় পর্যটন বাড়িয়েছে। পর্যটন খাতে আয় প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে ১০ লাখের কাছাকাছি। পূর্ব উত্তরপ্রদেশ এখনও পশ্চিমাঞ্চলের তুলনায় পিছিয়ে। এই বৈষম্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৭ সালের নির্বাচনই হবে প্রকৃত পরীক্ষা। সেই সময়ই জানা যাবে এই উন্নয়ন সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলেছে। একসময় পিছিয়ে পড়া রাজ্য হিসেবে পরিচিত উত্তরপ্রদেশ এখন বড় অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হচ্ছে। জিএসডিপি তিনগুণ হয়েছে, উন্নত হয়েছে পরিকাঠামো, বেড়েছে কর্মসংস্থান। “বিমারু থেকে বুমিং”—এটি শুধু এখন আর স্লোগান নয়, গত ন’বছরে উত্তরপ্রদেশের বাস্তব পরিবর্তনের প্রতিফলন।

     

  • Vikram Misri: ইরান যুদ্ধের আবহে ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন বিক্রম মিশ্রি, কেন জানেন?

    Vikram Misri: ইরান যুদ্ধের আবহে ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন বিক্রম মিশ্রি, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন (US) সফরে যাবেন বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি (Vikram Misri)। সেখানে তিনি মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা পর্যালোচনা করা হবে, হবে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব নিয়ে আলোচনাও। এটি বিশ্বজুড়ে বহু দেশকে প্রভাবিত করেছে।

    মিশ্রির ওয়াশিংটন সফর (Vikram Misri)

    মিশ্রি ৮ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ওয়াশিংটনে থাকবেন। ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর পশ্চিম এশিয়ায় যে সংঘাত শুরু হয়, তার পর এই প্রথম কোনও পদস্থ ভারতীয় কর্তা আমেরিকা সফরে যাচ্ছেন। এই সফরটি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ফেব্রুয়ারি মাসের ওয়াশিংটন সফরের পরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এটি দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ধারাবাহিকতার অংশ বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক।

    নজিরবিহীন চাপ

    মন্ত্রক জানিয়েছে, এই সফরটি ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্ণ পরিসর পর্যালোচনা এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যে সহযোগিতা চলছে, তাকে এগিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ। মিশ্রি মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সঙ্গে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। উল্লেখ্য, এই সফর এমন একটা সময়ে হচ্ছে, যখন দুই দেশই সম্পর্ক স্থিতিশীল করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন, যার মধ্যে রাশিয়ার জ্বালানি কেনার জন্য ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শাস্তিমূলক শুল্কও ছিল (Vikram Misri)। এর ফলে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি হয়। গত মে মাসে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সংঘাত বন্ধে নিজের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের বারবার দাবি সম্পর্ককে প্রভাবিত করেছে।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘোষণা

    ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেন যে দুই দেশ একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির দিকে কাজ করছে এবং মার্কিন শুল্ক কমানো হয়েছে, যা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ তৈরি করেছে। প্রস্তাবিত এই বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো ইতিমধ্যে নির্ধারিত হয়েছে এবং মিশ্রির বৈঠকগুলিতে এটি আলোচনায় আসতে পারে (US)। প্রসঙ্গত, গত মাসের শেষ দিকে ট্রাম্প মোদিকে ফোন করে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, ভারত অঞ্চলে দ্রুত শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার পক্ষে এবং বৈশ্বিক স্বার্থে হরমুজ প্রণালী খোলা ও নিরাপদ রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

    ভারত সংঘাত দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহও নিশ্চিত করতে চায় ভারত।  কারণ এটি দেশের খাদ্য, জ্বালানি ও সার নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে, পশ্চিম এশিয়ার সব গুরুত্বপূর্ণ পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সেখানে বসবাসরত এক (US) কোটিরও বেশি ভারতীয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি (Vikram Misri)।

     

  • Manipur: ফের অশান্ত মণিপুর, ২ শিশুর মৃত্যু, জখম মা

    Manipur: ফের অশান্ত মণিপুর, ২ শিশুর মৃত্যু, জখম মা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের অশান্তির আগুন জ্বলল মণিপুরের (Manipur) একাংশে। রাজ্যের পাঁচ জেলায় তিনদিনের জন্য মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করল সরকার। বিষ্ণুপুর জেলায় একটি বোমা বিস্ফোরণে (Rocket Attack) নিহত হয় দুই শিশু, জখম হন তাদের মা। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে নতুন করে বিক্ষোভ ও হিংসা ছড়িয়ে পড়েছে।

    ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ (Manipur)

    ৭ এপ্রিল জারি করা স্বরাষ্ট্র দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে ইম্ফল পূর্ব, ইম্ফল পশ্চিম, থৌবল, কাকচিং এবং বিষ্ণুপুর জেলায়। মঙ্গলবার মধ্যরাতের কিছু পরে যেখানে হামলা হয়, সেই বিষ্ণুপুর জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ভুল তথ্য ও গুজব ছড়ানো রুখতে এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে এমন কার্যকলাপ ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্দেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে সাময়িকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত বা নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন এবং আজ, ৭ এপ্রিল দুপুর ২টা থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।

    ঘুমন্ত অবস্থায় নিহত ২

    মোইরাংয়ের ত্রোংলাওবি আওয়াং লেইকাই গ্রামে সন্দেহভাজন কয়েকজন জঙ্গি একটি বাড়িতে বিস্ফোরক ছুড়লে ঘুমন্ত অবস্থায় নিহত হয় ৫ বছরের এক ছেলে ও ৬ মাসের এক কন্যাশিশু। জখম হন তাদের মা। প্রসঙ্গত, এই এলাকা মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে চলা উত্তেজনার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা একটি পেট্রোল পাম্পের কাছে দুটি তেলের ট্যাঙ্কার ও একটি ট্রাকে আগুন লাগিয়ে দেয়। স্থানীয় থানার সামনে টায়ার জ্বালানো হয়, ভাঙচুর করা হয় একটি অস্থায়ী পুলিশ পোস্ট। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী (Manipur)।

    কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর শিবিরে হামলা

    পরে জনতা বিষ্ণুপুর-চূড়াচাঁদপুর সীমান্তের কাছে পি জেলমোল পাহাড়ের পাদদেশে থাকা কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (CRPF) একটি শিবিরে হামলা চালায়। ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়, ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাসের সেল। আধিকারিকরা জানান, গুলিচালনায় অন্তত ১৯ জন জখম হন। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। হিংসার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন সাংবাদিকরাও। একটি খালের পাশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং এই ঘটনাকে ‘বর্বরোচিত কাজ’ এবং ‘মানবতার ওপর সরাসরি আঘাত’ বলে নিন্দে করেছেন। তিনি বলেন, “যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় কঠোরভাবে শাস্তি দেওয়া হবে। এই ধরনের (Rocket Attack) জঙ্গি কার্যকলাপ কোনও অবস্থায়ই সহ্য করা হবে না (Manipur)।”

    স্থানীয় বিধায়ক এনপিপির টিএইচ শান্তি সিংয়ের অভিযোগ, এই হামলা কুকি মাদক-পাচারকারীদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে। তিনি বলেন, “এই জঘন্য ঘটনা সন্ত্রাসবাদের চেয়ে কম নয়। এই ধরনের অমানবিক কাজ আমাদের সমাজে কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর কঠোর  নিন্দা হওয়া উচিত।” এই ঘটনায় ফের একবার এলাকায় নষ্ট হয়েছে শান্তি, ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে উপত্যকার বিভিন্ন জেলায় (Rocket Attack)।

     

  • India Bangladesh Relation: ভারতে এলেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী, কোন কোন অ্যাজেন্ডা নিয়ে দিল্লি সফরে খলিলুর রহমান?

    India Bangladesh Relation: ভারতে এলেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী, কোন কোন অ্যাজেন্ডা নিয়ে দিল্লি সফরে খলিলুর রহমান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তৈরি হওয়া টানাপড়েন কাটিয়ে ফের দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে হাঁটছে ঢাকা। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে মঙ্গলবার ভারতে (India Bangladesh Relation) এক গুরুত্বপূর্ণ সফরে এলেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর। বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, এই সফরে গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণ, জ্বালানি সঙ্কটের মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় সভাপতি পদে ভারতের সমর্থন আদায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে তিনি আলোচনা করবেন। সূত্রের খবর, ভারতে থাকাকালীন খলিলুর বৈঠক করতে পারেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল, পেট্রলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে।

    কতদিন ভারতে থাকবেন খলিলুর

    বাংলাদেশে (India Bangladesh Relation) তারেক রহমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পরে এই প্রথম ভারত সফরে আসছেন সে দেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। মূলত মরিশাস যাওয়ার পথে মঙ্গলবার দিল্লিতে নামেন তিনি। কয়েক মাস আগেই ভারতে এসেছিলেন খলিলুর রহমান। তবে তখন তিনি ছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। এবার তিনি তারেক রহমানের সরকারের বিদেশমন্ত্রী। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের শীতলতা দূর হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। তার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ ভারত থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ। আর এবার খলিলুরের ভারত সফরের আবহে দুই দেশের সম্পর্ক আরও কিছুটা ইতিবাচক গ্রাফে এগোবে বলে আশা করা হচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, খলিলুর ৭ থেকে ৯ এপ্রিল ভারতে থাকবেন। ভারতে আসার আগে খলিলুর এই সফর নিয়ে বলেন, “আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মর্যাদা ও স্বার্থের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক চাই।”

    বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নতির আশা

    ইউনুস জমানায় ভারত-বাংলাদেশে (India Bangladesh Relation) বাণিজ্যিক সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। তবে তারেকের অধীনে বাংলাদেশ ফের ভারতের সঙ্গে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী। বর্তমানে ভারত দিয়ে তৃতীয় দেশে পণ্য রফতানি করতে পারছে না বাংলাদেশ। স্থলবন্দর দিয়েও বাংলাদেশের বেশ কিছু পণ্য ভারতে রফতানি করেতে পারছে না বাংলাদেশ। এই সব নিয়ে বেশ চাপে আছে ঢাকা। এরই সঙ্গে বর্তমানে বিশ্ব জুড়ে যে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে, সেই পরিস্থিতিতে ভারতের কাছ থেকে সাহায্য চায় বাংলাদেশ। এই আবহে খলিলুরের এই সাক্ষাৎ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।

    নিরাপত্তা ও সুরক্ষাজনিত সমঝোতাপত্র

    প্রথম বৈঠকই হতে চলেছে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে। দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও সুরক্ষাজনিত সমঝোতাপত্র ও চুক্তি বিগত বছরগুলিতে কঠোরভাবে রক্ষিত হয়েছে। হাসিনা সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে জঙ্গি আসার পরিমাণ কমে গিয়েছে, এই তথ্য খলিলুরকে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে আশা প্রকাশ করা হবে, যাতে ওই প্রতিশ্রুতি নতুন সরকারও পালন করে। দোভালের সঙ্গে দুই দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আলোচনায় উঠে আসবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের পর থেকে হিন্দুদের উপর অত্যাচার বৃদ্ধি ও ভারত বিরোধিতার বিষয়টি। বুধবার খলিলুর রহমান ভারতের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ও পেট্রলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর সঙ্গেও বৈঠক করবেন। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকরের সঙ্গে খলিলুর রহমানের বৈঠক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একঝাঁক বকেয়া চুক্তির পুনর্নবীকরণ নিয়ে উভয় পক্ষই আশাবাদী।

    ফরাক্কায় গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি

    পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বকেয়া চুক্তি হল ফরাক্কায় গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি। যা ডিসেম্বর মাসে সমাপ্ত হচ্ছে। তাই কীভাবে সেই চুক্তি রিনিউ করা যায়, সেই রূপরেখা নিয়েই আলোচনা হবে। তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ দাবি উত্থাপন করলেও, এখনই পদক্ষেপ করছে না দিল্লি। এছাড়া, বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে থমকে যাওয়া বা ধীরগতি সম্পন্ন একাধিক রেল ও সড়ক প্রকল্পের কাজ পুনরায় দ্রুত শুরু করার বিষয়েও জোর দেওয়া হবে। বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের সব ধরনের ভিসা চালুর বিষয়টি নিয়েও এই সফরে আলোচনা করতে পারেন খলিলুর।

    তারেকের সঙ্গে বৈঠক ভারতীয় হাই কমিশনার

    বাংলাদেশের (India Bangladesh Relation) বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানের ভারতে আসার আগে সোমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় বর্মা। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সংকট নিয়ে তারেক এবং প্রণয়ের কথা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ মন্ত্রক বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর জানান, ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির বিষয়ে কথা হয়েছে দু’জনের। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়েও কথা হয় বৈঠকে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বৈঠকে তারেক রহমানের কাছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন প্রণয় বর্মা। এদিকে বৈঠকে নাকি প্রণয়কে তারেক বলেন, “ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি নতুন ও সুদৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব।” ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় বর্মাও বলেন, “আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী ভারত।”

  • PM Modi in Bengal: বাংলায় সরকার পাল্টানোর ডাক! চলতি সপ্তাহে তিন দিন রাজ্যে প্রচারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi in Bengal: বাংলায় সরকার পাল্টানোর ডাক! চলতি সপ্তাহে তিন দিন রাজ্যে প্রচারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন (West Bengal Election 2026) দোরগোড়ায়। পয়লা বৈশাখের আগে ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) উত্তাপে উত্তপ্ত বাংলা। এই আবহেই নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তুলতে বঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। রাজ্যে পরিবর্তনের জন্য, পাল্টানোর জন্য, বিজেপিকে জেতানোর জন্য কার্পেট বম্বিং করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিজেপির নির্বাচনী কৌশলে মোদির এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    চলতি সপ্তাহে রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

    বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার, পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া, বীরভূমের সিউড়ি, পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর ১১ এপ্রিল, শনিবার দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমুন্ডি, নদিয়ার কৃষ্ণনগর ও মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে জনসভা রয়েছে তাঁর। পরের দিন ১২ এপ্রিল, রবিবার উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে রোড শো করার কথা রয়েছে মোদির। এছাড়াও কলকাতায় দুটি রোড শো করতে পারেন তিনি। অর্থাৎ বঙ্গের সিংহাসন দখল করতে মোদিকে আরও বেশি করে সামনে রেখে দলের প্রচার-ভাষ্য জোরদার করার চেষ্টা চলছে বিজেপির। প্রসঙ্গত, ভবানীপুরের দলীয় প্রার্থী তথা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় পাশে পেয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। এমনকি দলের প্রচারের জন্য রাজনাথ সিং, নিতিন নবীন, জগৎপ্রকাশ নড্ডা, ধর্মেন্দ্র প্রধান, সুনীল বনসল, নিতিন গডকড়ি সহ ৪০ জন ‘তারকা প্রচারকে’র তালিকায় তৈরি করেছে বঙ্গ বিজেপি।

    ১৪টি সভা করার পরিকল্পনা মোদির

    বাংলায় ভোট ঘোষণার পর গত রবিবার কোচবিহারে প্রথম জনসভা সেরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, গোটা নির্বাচনী প্রচারে অন্তত ১৪টি সভা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এদিকে দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এখনও একটি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা বাকি রয়েছে। সেটি ঘোষণা হয়ে গেলে এবং ৯ এপ্রিল মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ হলেই প্রকাশ করা হবে দলের ইস্তেহার বা ‘সংকল্প পত্র’। উল্লেখ্য, কোচবিহারের জনসভা থেকেই আক্রমণাত্মক সুরে শাসক দলকে নিশানা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ওই সভা থেকেই প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থায় রাজ্যের সাধারণ মানুষ ভয়ের পরিবেশে বসবাস করছে। তবে নির্বাচনের পর সেই পরিস্থিতি আর থাকবে না বলেই তাঁর দাবি। তাঁর কথায়, আগামী দিনে রাজ্যে এমন পরিবেশ তৈরি হবে যেখানে মানুষ নিশ্চিন্তে নিজের জীবনযাপন করতে পারবে। ভয়ের বদলে মানুষের মনে ভরসা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও শোনা যায় তাঁর বক্তব্যে।

  • West Asia Conflict: পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার-জ্বালানি মজুত রয়েছে, ইরান সঙ্কট নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে জানাল কেন্দ্র

    West Asia Conflict: পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার-জ্বালানি মজুত রয়েছে, ইরান সঙ্কট নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে জানাল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলা সংঘাত এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে এর ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষিতে, ৬ এপ্রিল আন্তঃমন্ত্রকের তরফে আয়োজিত বৈঠকে পরিস্থিতি সম্পর্কে আপডেট জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। বিদেশমন্ত্রক, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক-সহ বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিরা বিদেশে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দেশের ভেতরে জরুরি সরবরাহ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপগুলি তুলে ধরেন। সরকার জানিয়েছে, তারা বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলি ও ইরানের পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। শুধু তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি ও সরবরাহ শৃঙ্খলে সম্ভাব্য বিঘ্ন মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

    খাদ্য নিরাপত্তা (West Asia Conflict)

    বৈঠকে আলোচিত প্রধান বিষয়গুলির একটি ছিল খাদ্য নিরাপত্তা। এ ব্যাপারে আধিকারিকরা আশ্বস্ত করেন, দেশে জরুরি পণ্যের কোনও ঘাটতি নেই। ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব অনুপম মিশ্র বলেন, “খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং খাদ্যশস্য সরবরাহ বজায় রাখতে আমরা কড়া নজর রাখছি। ১৯৫৫ সালের আবশ্যিক পণ্য আইন অনুযায়ী মজুতদারি ও কালোবাজারি রোধে নজরদারি করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, এ বছর ডাল উৎপাদন বেশি হয়েছে এবং পর্যাপ্ত বাফার স্টক রাখা হয়েছে। পেঁয়াজ, আলু ও টমেটোর উৎপাদনও গত বছরের মতোই রয়েছে। তাই সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে।

    রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ

    মিশ্র বলেন, “আমরা রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি, যাতে কালোবাজারি ও মজুতদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।   এটি মূল্য পর্যবেক্ষণ ও রাজ্যগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ অনায়াস করছে। ১৯১৫ নম্বর ভোক্তা হেল্পলাইন ১৭টি ভাষায় চালু রয়েছে।” খাদ্য দফতরের কর্তারা জানান, ভারতে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। জয়েন্ট সেক্রেটারি সি শিখা বলেন, “আমাদের কাছে গম ও চালের মজুত রয়েছে নির্ধারিত মানের তিনগুণ বেশি। গম প্রায় ২২২ লাখ মেট্রিক টন এবং চাল প্রায় ৩৮০ লাখ মেট্রিক টন—মোট ৬০২ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে।” তিনি জানান, এই মজুত সরকারি বিতরণ ব্যবস্থা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট। ভোজ্য তেল এবং চিনির সরবরাহও স্থিতিশীল।

    দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক

    সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক তেলবাজার প্রভাবিত হলেও দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যৌথ সচিব সুজাতা শর্মা বলেন, “৩৫ দিনের বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্কট চললেও, এলপিজির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত আমদানি করা হয়েছে।” তিনি জানান, প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে। গত পাঁচ সপ্তাহে প্রায় ১৮ কোটি পরিবারের কাছে সিলিন্ডার পৌঁছানো হয়েছে। অনলাইন বুকিং ৯৭ শতাংশ এবং ৯০ শতাংশ সরবরাহ ওটিপি যাচাইয়ের মাধ্যমে হচ্ছে।

    ছোট সিলিন্ডার

    ছোট সিলিন্ডার সম্পর্কে তিনি বলেন, “পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। গ্রাহকরা নিকটস্থ ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে ৫ কেজির সিলিন্ডার কিনতে পারবেন।” তিনি জানান, ৫,৫০০-এর বেশি সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ও রিফাইনারি কার্যকলাপ স্বাভাবিক রয়েছে। সরকার এলপিজি উৎপাদন বাড়াতে অতিরিক্ত উপাদান সরবরাহ এবং শুল্ক সমন্বয়ের মতো পদক্ষেপও নিয়েছে। দেশজুড়ে পেট্রোল পাম্প স্বাভাবিকভাবে চলছে। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে এলপিজি সরবরাহ ৭০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। গৃহস্থালির চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পিএনজি এবং সিএনজি সরবরাহও জোরদার করা হয়েছে।

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ইরান থেকে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান হয়ে ১,৭৭৭ জন ভারতীয়কে সরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৯৫ জন ছাত্র এবং ৩৪৫ জন মৎস্যজীবিও রয়েছেন। মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। অতিরিক্ত সচিব অসীম মহাজন বলেন, “ভারতীয়দের নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকার। ২৪ ঘণ্টা কন্ট্রোল রুম ও হেল্পলাইন চালু রয়েছে।” প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় ৭.৩ লাখ যাত্রী ভারতে ফিরেছেন। আকাশপথে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকায় বিকল্প রুট ব্যবহার করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে ভারতীয় নাবিকরা নিরাপদে রয়েছেন। জাহাজমন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব মুকেশ মঙ্গল বলেন, “গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় জাহাজের ক্ষেত্রে কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি।” তিনি জানান, দুটি এলপিজি বহনকারী জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার হয়েছে। বর্তমানে ১৬টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে ৪০০-এরও বেশি ভারতীয় কাজ করছেন।

     

  • Anil Basu’s Son Joins BJP: ‘এখন বামপন্থা হলো চকচকে এলিটের প্রতিনিধি’, সিপিএম ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ অনিল পুত্রের

    Anil Basu’s Son Joins BJP: ‘এখন বামপন্থা হলো চকচকে এলিটের প্রতিনিধি’, সিপিএম ছেড়ে বিজেপি-তে যোগ অনিল পুত্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রয়াত আরএসপি নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর কনিষ্ঠ কন্যা কস্তুরির পর এবার বিজেপিতে যোগ দিলেন প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ অনিল বসুর ছেলে সৌম্য বসুও (Anil Basu’s Son Joins BJP)। পাঁচ বিজেপি প্রার্থীর মনোনয়নকে ঘিরে চুঁচুড়া ঘড়ির মোড়ে সভা করল বিজেপি। সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। আরামবাগের প্রাক্তন সিপিআইএম সাংসদ অনিল বসুর ছেলে সৌম্য বসুকে দেখা গেল সেই সভায়। সৌম্য এক সময় ছাত্র রাজনীতি করেছেন। এসএফআই, ডিওয়াইএফআই করেছেন। তবে আজ তিনি যোগদান করলেন বিজেপিতে।

    বিজেপি দেশভক্তের দল

    অনিল বসু বাম আমলের প্রবল প্রতাপশালী নেতা ছিলেন। আরামবাগ থেকে সিপিএম এর সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন ছ’বার। ২০০৪ সালে শেষবার আরামবাগ থেকে রেকর্ড প্রায় ছ’লক্ষ ভোটে জিতেছিলেন অনিল বসু। ব্যাপক রিগিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল সেসময়। ২০১৮ সালে ২ অক্টোবর মৃত্যু হয় তাঁর। সেই অনিল বসুর ছেলে সৌম্য বলেন, “বাবা সাংসদ বিধায়ক মন্ত্রী থাকলেই সেই দল করতে হবে এমন কোনও কারণ নেই। প্রত্যেক মানুষের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার আছে। যে রাজনৈতিক দলকে তাঁর পছন্দ, সে তার সঙ্গেই থাকুক। বিজেপি দেশভক্তের দল। সেইটাই আমাকে আকর্ষণ করে। শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করেছি ধন্যবাদ জানিয়েছি উনি বলেছেন প্রার্থীকে জেতাতে হবে। প্রার্থী জিতবে, সুবীর নাগের সঙ্গে আমি আছি।”

    বামেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

    এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে বাম শিবির ছেড়েছেন প্রয়াত আরএসপি নেতা ক্ষিতি গোস্বামীর কন্যাও। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেন প্রয়াত ক্ষিতি গোস্বামীর কন্যা কস্তুরী। এবার বাম আমলের দৌর্দন্ডপ্রতাপ অনিল বসুর ছেলে ভোটের মুখে গেলেন গেরুয়া শিবিরে। ঘটনায় চাঞ্চল্য বঙ্গ রাজনীতিতে। আলোচনার ঝড়, সিপিএম প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য নিয়েও। তিনি বলেন, “আগে বামপন্থা ছিল গরিব মেহনতি মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা। এখন বামপন্থা হলো মধ্যবিত্ত শ্রেণির, চকচকে এলিটের প্রতিনিধি।” ভোটের মুখে এই ঘটনায় রাজ্যে বামেদের ভবিষ্যত নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।

  • 800 km BrahMos-LR: শত্রুর গভীরে আঘাতের প্রস্তুতি! ৮০০ কিমি পাল্লার ব্রহ্মোস কিনতে চলেছে ভারতীয় সেনা?

    800 km BrahMos-LR: শত্রুর গভীরে আঘাতের প্রস্তুতি! ৮০০ কিমি পাল্লার ব্রহ্মোস কিনতে চলেছে ভারতীয় সেনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের আবহে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপের পথে ভারতীয় সেনাবাহিনী। ৮০০ কিলোমিটার পাল্লার উন্নত ব্রহ্মোস-এলআর (লং রেঞ্জ) সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য বড় অর্ডার দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ভারতীয় সেনা, প্রতিরক্ষা সূত্রে এমনই খবর।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ ৮০০ কিমি পাল্লার ব্রহ্মোস?

    বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে থাকা ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার। বর্তমানে স্থল, নৌ ও বায়ু—তিন বাহিনীতেই এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু আধুনিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আরও দূরপাল্লার নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষমতা বাড়াতে এবার ৮০০ কিমি পাল্লার সংস্করণ অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ব্রহ্মোসের এই উন্নত ভ্যারিয়েন্টটি ভারতের ডিআরডিও (DRDO) এবং রাশিয়ার এনপিও মাশিনোস্ত্রোয়েনিয়া যৌথভাবে তৈরি করেছে। নতুন সংস্করণটি মাক ৩ (শব্দের তিনগুণ বেশি) গতিবেগ বজায় রেখেই শত্রুপক্ষের গভীর এলাকায় অবস্থিত কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম। বর্তমানে, এই মিসাইলের একাধিক উড়ান পরীক্ষা চলছে।

    ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিলের বৈঠক শীঘ্রই!

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে খুব শিগগিরই এই প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য তোলা হবে বলে জানা গেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC)-এর বৈঠকে এই বড় ক্রয় পরিকল্পনা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। অনুমোদন মিললে এটি হবে দীর্ঘ-পাল্লার ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম বৃহৎ অর্ডার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ভারতের ‘স্ট্যান্ড-অফ ডিটারেন্স’ ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে, যা আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। একইসঙ্গে, ভবিষ্যতে ব্রহ্মোসের পরবর্তী প্রজন্মের সংস্করণ তৈরি করে দেশীয় যুদ্ধবিমান তেজসেও তা ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    সাম্প্রতিক সংঘাত কী শেখাচ্ছে?

    ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময় ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছিল। ‘অপারেশন সিদুঁর’-এ ভারতীয় বাহিনী এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একাধিক ঘাঁটিতে সফল আঘাত হানে। একই সঙ্গে ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের চলমান সংঘাতও দেখিয়ে দিয়েছে যে ভবিষ্যতের যুদ্ধ অনেকটাই নির্ভর করবে দূরপাল্লার নির্ভুল অস্ত্র ব্যবস্থার উপর। এতে যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি মানবসম্পৃক্ততার ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে।

    সেনাবাহিনীর কাঠামোগত পরিবর্তন

    এই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় সেনাবাহিনী দ্রুত নিজেদের বাহিনী কাঠামোতেও পরিবর্তন আনছে। বড় সংখ্যায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি আর্টিলারি ও পদাতিক রেজিমেন্টে বিশেষ ড্রোন ইউনিট গঠন করা হচ্ছে। এমনকি সেনার নিজস্ব কর্মশালায় বড় আকারে ড্রোন উৎপাদনও শুরু হয়েছে। পাশাপাশি একটি পৃথক মিসাইল ফোর্স গঠনের দিকেও নজর দিচ্ছে প্রতিরক্ষা বাহিনী। ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিকে একত্রিত করে একটি আধুনিক, নেটওয়ার্কভিত্তিক মাল্টি-ডোমেইন স্ট্রাইক ফোর্স গড়ে তোলাই এখন লক্ষ্য।

    কৌশলগত বার্তা কী?

    ৮০০ কিমি পাল্লার ব্রহ্মোস অন্তর্ভুক্তির সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র সামরিক শক্তি বৃদ্ধির পদক্ষেপ নয়, বরং একটি স্পষ্ট কৌশলগত বার্তা—ভারত ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে, যেখানে গতি, নির্ভুলতা এবং দূরপাল্লার আঘাতই হবে মূল নির্ধারক। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিলের অনুমোদন মিললে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে বড় ধাপ এগোবে। সব মিলিয়ে, ব্রহ্মোসের দীর্ঘ-পাল্লার সংস্করণ শুধু একটি অস্ত্র নয়—এটি ভারতের সামরিক চিন্তাধারার এক গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরের প্রতীক।

  • Iran: আমেরিকা-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান, কী বলল তেহরান?

    Iran: আমেরিকা-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান, কী বলল তেহরান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান (Iran)। সোমবারই ওই প্রস্তাব নাকচ করা হয়। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছিল ওই প্রস্তাব (US Ceasefire Plan)। এর পরিবর্তে ইরান যুদ্ধে ইতি টানতে একটি ১০ দফা রূপরেখা প্রস্তাব করেছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ (IRNA) জানিয়েছে। এই পরিকল্পনায় তেহরানের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের শর্তাবলীও তুলে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যতে হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা, সাময়িক যুদ্ধবিরতির বদলে স্থায়ীভাবে শত্রুতা বন্ধ করা, এবং লেবাননে ইজরায়েলি সামরিক কার্যকলাপ বন্ধ করা। এতে আমেরিকার সমস্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়েছে।

    প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ দিক (Iran)

    এই প্রস্তাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল,  উত্তেজনা হ্রাসকে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত করা। তেহরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে তারা এই কৌশলগত জলপথ ফের খুলে দেবে। শর্তগুলির মধ্যে রয়েছে প্রতিটি জাহাজের জন্য ২০ লাখ মার্কিন ডলার ট্রানজিট ফি, ওমানের সঙ্গে আয় ভাগাভাগি, এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার ব্যবস্থা। ইরানের প্রস্তাব, এই আয় ক্ষতিপূরণের বদলে পুনর্গঠনের কাজে ব্যয় করা যেতে পারে। এর আগে ইরান আমেরিকার প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনাকে “অত্যধিক দাবি-সম্পন্ন” ও অবাস্তব বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তারা জানিয়েছে, তাদের শর্ত পূরণ হলেই কেবল আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব। এ থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, সংঘাত দ্বিতীয় মাসে প্রবেশ করায় ইরান আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে (Iran)।

    মার্কিন অভিযানের বিষয়েও উদ্বেগ 

    তেহরান ইসফাহানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক একটি অভিযানের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, এই অভিযানটি ইউরেনিয়াম দখলের উদ্দেশ্যেও হতে পারে। যদিও ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, এটি একটি ভূপাতিত এফ-১৫ বিমানের সঙ্গে যুক্ত এক সেনা সদস্যকে উদ্ধারের জন্য পরিচালিত হয়েছিল। ইরান সতর্ক করেছে, এই ধরনের পদক্ষেপ আস্থার সঙ্কট তৈরি করতে পারে (US Ceasefire Plan) এবং আলোচনাকে জটিল করে তুলতে পারে (Iran)। ইরানের বিদেশমন্ত্রক সতর্ক করে বলেছে, শক্তিশালী নিশ্চয়তা ছাড়া কোনও যুদ্ধবিরতি প্রতিপক্ষকে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দিতে পারে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, যে কোনও চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে শত্রুতার অবসান নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে, হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে নিরাপদ নৌ-যাতায়াত নিশ্চিত করতে অব্যাহত রয়েছে ওমানের সঙ্গে আলোচনা।

LinkedIn
Share