Blog

  • Rahul Gandhi: হালদ্বানিতে ‘শুদ্ধিকরণ’ বিতর্কে নয়া মোড়, রাহুলের অভিযোগ খারিজ দলিত ব্যক্তির

    Rahul Gandhi: হালদ্বানিতে ‘শুদ্ধিকরণ’ বিতর্কে নয়া মোড়, রাহুলের অভিযোগ খারিজ দলিত ব্যক্তির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরাখণ্ডের হালদ্বানিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সভাস্থলে ‘শুদ্ধিকরণ’ যজ্ঞকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কে নতুন মোড়। রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) যেখানে ঘটনাটিকে দলিতদের বিরুদ্ধে অস্পৃশ্যতার প্রকাশ বলে অভিযোগ করেছেন, সেখানে ওই যজ্ঞে অংশ নেওয়া দলিত সম্প্রদায়েরই এক ব্যক্তি সেই অভিযোগ খারিজ করেছেন (BJP)।

    অঙ্কিত পাল নামে ওই ব্যক্তি বাল্মীকি সম্প্রদায়ের সদস্য এবং ‘শ্রী রাম সেবা ধর্মার্থ ন্যাসে’র সঙ্গে যুক্ত বলে খবর। সংগঠনটির সদস্যরাই গত ১০ অগাস্ট হালদ্বানির রামলীলা ময়দানে যজ্ঞ ও কথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠান করেছিলেন। এর দু’দিন আগে, ৮ অগাস্ট ওই একই জায়গায় কংগ্রেসের একটি জনসভা হয়েছিল। সভায় উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, যিনি আবার দলিত সম্প্রদায়ের নেতা।

    ২৯ অগাস্ট সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অঙ্কিত দাবি করেন, খাড়গে দলিত হওয়ার কারণে ওই যজ্ঞ করা হয়নি। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেসের সভার পর রামলীলা আয়োজনের ঐতিহ্যবাহী ওই জায়গাটি নোংরা অবস্থায় পড়ে ছিল। সভায় আসা কিছু মানুষ সেখানে প্রস্রাব ভর্তি বোতলও ফেলে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। সেই কারণেই জায়গাটি পরিষ্কার করার পর পবিত্রতা ফিরিয়ে আনতে যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।

    অঙ্কিত আরও দাবি করেন, ওই কংগ্রেস সভায় হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠান হওয়ার জন্য ব্যবহৃত মঞ্চ থেকে ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগানও দেওয়া হয়েছিল। তবে এই স্লোগান ঠিক কোথা থেকে এবং কী পরিস্থিতিতে দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। যদিও, খবরের সত্যতা যাচাই করা হয়নি।

    শুদ্ধিকরণ যজ্ঞ! (Rahul Gandhi)

    অঙ্কিত বলেন, “শুদ্ধিকরণ যজ্ঞ করা হয়েছিল কারণ ওই মঞ্চে একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান হয়েছিল। প্রথমত, এটি একটি সাংস্কৃতিক মঞ্চ এবং কোনও রাজনৈতিক দলকে ওই মঞ্চ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। ওই মঞ্চ থেকেই ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল, আমরা যে ভিডিয়োগুলি পেয়েছি তাতে তা দেখা গিয়েছে। তাই জায়গাটির শুদ্ধিকরণের জন্য সেখানে যজ্ঞ করা হয়েছিল।”

    অঙ্কিতের এই বক্তব্য কংগ্রেসের সেই অভিযোগকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে ফেলেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে খাড়গে দলিত হওয়ার কারণেই সভাস্থলের ‘শুদ্ধিকরণ’ করা হয়েছিল। একইসঙ্গে, যজ্ঞের সঙ্গে বিজেপির সরাসরি যোগ থাকার অভিযোগও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অঙ্কিত জানিয়েছেন, তিনি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত নন; তিনি ‘শ্রী রাম সেবা ধর্মার্থ ন্যাসে’র সঙ্গে যুক্ত (Rahul Gandhi)।

    রাহুলের অভিযোগ, ‘শুদ্ধিকরণ’ আসলে অস্পৃশ্যতা

    এর আগে কংগ্রেস এই ঘটনাকে দলিত-বিরোধী মানসিকতার প্রকাশ বলে অভিযোগ করেছিল। কংগ্রেসের বক্তব্য ছিল, খাড়গের মতো একজন দলিত নেতা সভায় আসার পর মঞ্চের ‘শুদ্ধিকরণ’ করা আসলে অস্পৃশ্যতারই একটি রূপ।

    ২৯ অগাস্ট রাহুল এই ইস্যুতে সরব হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতির উপর অত্যাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করার দাবি জানান। তাঁর অভিযোগ, ঘটনাটি সংবিধানবিরোধী এবং বিজেপি-আরএসএসের মানসিকতার প্রতিফলন।

    রাহুল বলেন, “এটি একটি অপরাধ। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী এটি একটি অপরাধ।”

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, দলিতরা যত বেশি সাফল্য অর্জন করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে তত বেশি আক্রমণ হয়। তাঁর দাবি, হালদ্বানির ঘটনাটি শুধু খাড়গের বিষয় নয়, দেশের সমস্ত দলিত মানুষের সম্মানের সঙ্গে যুক্ত।

    বিজেপির পাল্টা দাবি

    কংগ্রেসের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। পদ্ম শিবিরের বক্তব্য, ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠানটি খাড়গের জাতিগত পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না। হালদ্বানি ময়দানে সভার পর (BJP) পড়ে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করার পর ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল (Rahul Gandhi)।

     

  • Mohan Bhagwat: ভাগবতের ভাষণের প্রতিবাদ, আমেরিকায় ভারতের জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ

    Mohan Bhagwat: ভাগবতের ভাষণের প্রতিবাদ, আমেরিকায় ভারতের জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউইয়র্কের (New York) ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের (Mohan Bhagwat) ভাষণ ঘিরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার ভাগবত সেখানে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তাঁর সফরের প্রতিবাদে খালিস্তানপন্থী শিখদের একাংশ ভারতের জাতীয় পতাকা অবমাননা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদকারীদের মধ্যে নিষিদ্ধ খালিস্তানপন্থী সংগঠন ‘শিখস ফর জাস্টিসে’র সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

    ভারতের জাতীয় পতাকার অবমাননা (Mohan Bhagwat)

    ঘটনার কয়েকটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিয়োতে দেখা যায়, এক খালিস্তানপন্থী ব্যক্তি ভারতের জাতীয় পতাকা নিজের পায়ের চারপাশে বেঁধে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন এবং পতাকা নিয়ে অবমাননাকর আচরণ করছেন। অন্য একটি ভিডিয়োতে কয়েকজন প্রতিবাদকারী ভারতের তেরঙ্গা পতাকা ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলছেন এবং নাচতে নাচতে উল্লাস করছেন দেখা যায়।ভাগবতের আমেরিকা সফরের প্রতিবাদে খালিস্তানপন্থীদের একটি দল ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের বাইরে বিক্ষোভ দেখায়। তাদের হাতে থাকা ব্যানার ও পোস্টারে ভারতের বিরুদ্ধে আপত্তিকর বার্তা দেখা যায়। এমনই একটি পোস্টারে লেখা ছিল, “মোদি হিন্দু সন্ত্রাসের মুখ।” পাশাপাশি তারা খালিস্তানের সমর্থনে এবং ভারতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। বিক্ষোভকারীরা মোহন ভাগবতের একটি প্রতিকৃতি-সহ পোস্টারও প্রদর্শন করেন। সেই প্রতিকৃতির গলায় জুতোর মালা পরানো হয় বলে অভিযোগ।

    মোহন ভাগবতকে আমেরিকান হিন্দুদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও সংলাপ বিষয়ক সংগঠনের পক্ষ থেকে “সার্বজনীন একাত্মতা উদ্‌যাপন” শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের ভিতরের ইনফোসিস থিয়েটারে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    খালিস্তানপন্থীদের অতি সক্রিয়তা

    আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে সংগঠনের কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে তিনটি দেশ সফরে বেরিয়েছেন ভাগবত। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই মঙ্গলবার তিনি আমেরিকায় পৌঁছন। তবে তাঁর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে একাধিক ভারতবিরোধী ও খালিস্তানপন্থী গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং এই সুযোগে তারা নিজেদের ভারতবিরোধী প্রচার চালায় বলে অভিযোগ (Mohan Bhagwat)।

    ভারত সরকার ‘শিখস ফর জাস্টিস’কে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। সংগঠনটির বিরুদ্ধে অতীতেও ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার এবং ভারত সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

    ভাগবতের আমেরিকা সফরের আগে মার্কিন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনও আরএসএসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানায়। কমিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন পাকিস্তানে জন্মগ্রহণকারী মার্কিন নাগরিক চিকিৎসক আসিফ মাহমুদ।

    ভাগবতের সফরকে ঘিরে প্রতিবাদ এবং পাল্টা প্রতিবাদের ঘটনায় আমেরিকার মাটিতে ভারতীয় জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে, এই ঘটনাকে (New York) কেন্দ্র করে ভারতবিরোধী ও খালিস্তানপন্থী প্রচার কতটা সক্রিয় হচ্ছে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে (Mohan Bhagwat)।

     

  • PM Modi: উজবেকিস্তানে যোগ অনুষ্ঠানে মোদি, দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও মজবুত করার বার্তা

    PM Modi: উজবেকিস্তানে যোগ অনুষ্ঠানে মোদি, দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও মজবুত করার বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উজবেকিস্তানের (Uzbekistan) রাজধানী তাশখন্দে ‘যোগ ফেডারেশন অব উজবেকিস্তান’ আয়োজিত একটি যোগ অনুষ্ঠানে আজ, রবিবার অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। উজবেকিস্তানে দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে রয়েছেন তিনি। ২৯ অগাস্ট তাশখন্দে পৌঁছনোর পর এটি ছিল মধ্য এশিয়ার এই দেশে তাঁর চতুর্থ সফর। চলতি সফরে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শওকত মিরজিয়য়েভের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল যোগাযোগ, জ্বালানি, শিক্ষা এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের মতো একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন দুই নেতা। ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখাও নির্ধারণ করা হবে।

    ভারত-ময় উজবেকিস্তান (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে উজবেকিস্তানের রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভবন ভারতীয় জাতীয় পতাকার তেরঙ্গা রঙে সেজে ওঠে। এর মধ্যে ছিল তাশখন্দের অন্যতম পরিচিত হিলটন হোটেলও। যোগ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের পাশাপাশি তাশখন্দের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। যোগপ্রেমীদের সঙ্গে দলীয় ছবিতেও অংশ নেন তিনি। মধ্য এশিয়ার একটি দেশে প্রধানমন্ত্রীর যোগ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ভারতের সাংস্কৃতিক প্রভাবের শক্তিকেই তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য ও সুস্থতার ক্ষেত্রে যোগের গুরুত্ব যে গোটা বিশ্ব স্বীকার করেছে, তারও প্রতিফলন ঘটেছে এই অনুষ্ঠানে।

    দুই দেশের সেতু

    তাশখন্দের বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীর যোগ অনুষ্ঠানের প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, ভারত ও উজবেকিস্তানের সম্পর্ক আরও গভীর করতে যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

    অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর তাশখন্দের বাসিন্দা ক্রিস্টিনা বলেন, “এটি দারুণ একটি অভিজ্ঞতা ছিল। বিশেষ করে এত বড় একজন ব্যক্তি উজবেকিস্তানে এসেছেন, তাঁর সঙ্গে এই অনুষ্ঠানে থাকা সত্যিই অসাধারণ অভিজ্ঞতা। আমার মনে হয়, যোগ দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এটি দুই দেশকে আরও কাছাকাছি আনবে এবং বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করবে (PM Modi)।”

    আর এক বাসিন্দা মারিয়ামও অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন। সংবাদ মাধ্যমে তিনি বলেন, “এটি খুবই সুন্দর একটি অনুভূতি। এখানে এসে আমি সুস্থ ও অত্যন্ত আনন্দিত বোধ করছি। এ বছর আন্তর্জাতিক যোগ দিবস-সহ আমরা অনেক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। আজকের অনুষ্ঠানটিও খুব ভালো হয়েছে। এখানে আমন্ত্রিত হয়ে এই অনুষ্ঠানের অংশ হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা ভারতীয় যোগকেন্দ্রে আমাদের দলের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিয়েছি।”

    ভারতের সফট পাওয়ারের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ যোগ

    ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ভারতের ‘সফট পাওয়ার’ সপ্তধারার সপ্তম শক্তি। যোগের পাশাপাশি হস্তশিল্প, চলচ্চিত্র, অ্যানিমেশন, খেলাধুলা ও ডিজিটাল বিষয়বস্তু এবং বৃহত্তর সৃজনশীল ক্ষেত্রকে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছিলেন তিনি।

    উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শওকত মিরজিয়য়েভের সঙ্গে প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার জন্য একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল যোগাযোগ, জ্বালানি, শিক্ষা এবং দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন দুই নেতা।

    গত কয়েক বছরে নয়াদিল্লি ও তাশখন্দের দ্বিপাক্ষিক এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট মিরজিয়য়েভের ভারত সফর এবং ২০১৯ সালে ভাইব্র্যান্ট গুজরাট বিশ্ব সম্মেলনে তাঁর অংশগ্রহণ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়।

    উজবেকিস্তান সফর শেষ করে কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের আমন্ত্রণে (Uzbekistan) বিশকেকে যাবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি অংশ নেবেন সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ২৬তম শীর্ষ সম্মেলনে (PM Modi)।

     

  • China: নেপালের ভয়াবহ বন্যায় চিনের ক্ষতি কত? তথ্য গোপনের অভিযোগে কাঠগড়ায় ড্রাগনের দেশ

    China: নেপালের ভয়াবহ বন্যায় চিনের ক্ষতি কত? তথ্য গোপনের অভিযোগে কাঠগড়ায় ড্রাগনের দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালে কয়েক দিন আগে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ৫০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হলেও একই দুর্যোগে চিনের তিব্বত অঞ্চলে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার প্রকৃত হিসাব পাওয়া কঠিন। তিব্বত থেকে পাওয়া তথ্যের উপর চিনা (China) সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণেই এই পরিস্থিতি বলে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। চিনা কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত জানিয়েছে, আকস্মিক বন্যার প্রবল স্রোতে কাদা ও বিশালাকার পাথর ভেসে এসে এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে (Flood Damage Assessment)। তবে নেপাল সীমান্তবর্তী চিনা অংশের গ্রামগুলিতে হাজার হাজার মানুষ বসবাস করতেন বলে ব্রিটিশ সংবাদপত্র গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    চিনের ক্ষতি কত (China)

    দুর্যোগের পর নেপালের সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলের দিকে যান। পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে তাঁরা যতটা সম্ভব দুর্গত এলাকার কাছাকাছি পৌঁছনোর চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে ক্যামেরার সামনে তাঁদের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন সাংবাদিকেরা। ফলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের একটি সামগ্রিক চিত্র প্রকাশ্যে আসে।অন্যদিকে, চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে মূলত উদ্ধারকাজ নিয়েই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বন্যার স্রোতে ঠিক কী কী ধ্বংস হয়েছে বা কতজনের মৃত্যু হয়েছে, সেই বিষয়ে তেমন কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “তিব্বতের একটি ত্রাণকেন্দ্র থেকে সম্প্রচারিত প্রতিবেদনে চিনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক তাঁর পিছনে বসে থাকা কোনও মানুষের সঙ্গেই কথা বলেননি।”

    সুড়ঙ্গে আটকে বহু শ্রমিক

    তিব্বত চিনের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি অঞ্চল। স্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার দাবিতে সেখানে তিব্বতিদের বিক্ষোভের ঘটনা অতীতেও ঘটেছে। এর মধ্যে আত্মদাহের ঘটনাও রয়েছে। চিনা সরকারের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত বিশেষ সফর ছাড়া বিদেশি সংবাদমাধ্যমের পক্ষে তিব্বতে সহজে প্রবেশ করাও কঠিন। এদিকে নেপালি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গে বহু শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুড়ঙ্গের ভিতরে সফলভাবে একটি পাইপ ঢোকানোর পর তাঁদের উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে (China)।

    নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “ছোট ওই খোলা জায়গা দিয়ে বাতাস পাঠানো শুরু হয়েছে।” তবে বৃষ্টি এবং নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকারী দলগুলিকে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।

    আশঙ্কা করা হচ্ছে, এখনও ১০০-র বেশি শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভিতরে জীবিত অবস্থায় আটকে থাকতে পারেন। ত্রিশূলী-৩এ এবং ত্রিশূলী-৩বি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকাতেই উদ্ধারকাজে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সুড়ঙ্গ ধসের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় এই ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা।

    রাষ্ট্রসংঘের বক্তব্য

    রাষ্ট্রসংঘের জলবায়ু বিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিল এক বিবৃতিতে বলেন, “হিমবাহের আকস্মিক ধস এবং আকস্মিক বন্যা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, পাহাড়ি পরিবেশ কতটা ভঙ্গুর হতে পারে।”

    এদিকে নেপালের উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং বিশেষ প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম নিয়ে ভারতের আরও একটি বিমান আজ কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

    তিনি জানান, ভারতীয় বায়ুসেনার একটি সি-১৩০ বিমান নেপালে অতিরিক্ত সহায়তা নিয়ে পৌঁছেছে। বিমানে বিশেষজ্ঞ দল এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। এর (Flood Damage Assessment) মধ্যে রয়েছে সুড়ঙ্গ-সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের একটি দল, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজের সরঞ্জাম, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম (China)।

     

  • Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দুদের ওপর বিরুদ্ধে হামলা, ভারত থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনার ঝলক

    Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দুদের ওপর বিরুদ্ধে হামলা, ভারত থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনার ঝলক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের ওপর হামলা, বৈষম্য ও বিদ্বেষের ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। অন্তত এমনই দাবি করা হয়েছে সাম্প্রতিক এক সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে (Hindus Under Attack)। খুন, ধর্মান্তরে চাপ, জমি দখল, মন্দির ও মূর্তির অবমাননা, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্যের একাধিক অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে (Weekly Roundup)।

    প্রতিবেদনটির দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দুদের বিরুদ্ধে এই ধরনের ঘটনাগুলি দীর্ঘদিন ধরে ঘটলেও, আন্তর্জাতিক পরিসরে এর ব্যাপকতা ও গভীরতা যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতিকে হিন্দুদের প্রতি ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষের প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনের সম্পাদকীয় নোট (Hindus Under Attack)

    প্রতিবেদনের সম্পাদকীয় নোটে জানানো হয়েছে, ভারতে এবং বিদেশে হিন্দুদের পরিস্থিতি তুলে ধরাই এই ধারাবাহিক প্রতিবেদনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    সেখানে আরও বলা হয়েছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় হওয়া সত্ত্বেও ভারতের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও হিন্দুরা বৈষম্য ও নিপীড়নের মুখোমুখি হচ্ছেন—এই বাস্তবতা সামনে আসা তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা।

    প্রতিবেদনে ধর্মনিরপেক্ষতা, সর্বধর্মসমভাব এবং “বসুধৈব কুটুম্বকমে”র মতো ধারণা নিয়ে নতুন করে ভাবনা-চিন্তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনের লেখকদের মতে, এর কয়েকটি ধারণাকে মূল প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে হিন্দু সমাজ দুর্বল হয়েছে।

    প্রতিবেদনটির দাবি, ধর্মনিরপেক্ষতার নামে অতিরিক্ত সহনশীলতার ফলে কিছু বিদ্বেষমূলক অপরাধ যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। হিন্দু সমাজকে ধর্ম ও সংস্কৃতি রক্ষায় আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিবেদনে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ ও ছত্রপতি সম্ভাজি মহারাজের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।

    ২৩ থেকে ২৯ আগস্ট ২০২৬ সময়কালের ঘটনাগুলির ভিত্তিতে প্রতিবেদনে ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের একাধিক ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।

    মেঘালয়ে জাতিগত ও ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ

    মেঘালয়ে পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং গির্জার প্রভাবের কারণে বিপুল সংখ্যক হিন্দু বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং অ-উপজাতি জনগোষ্ঠীর একাংশ পদ্ধতিগত জাতিগত ও ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    শিলংয়ে খাসি ছাত্র সংগঠনের একটি সমাবেশের পর অসমীয়া ও বাঙালি বাসিন্দা এবং শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগও তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ৩১টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এগুলির অধিকাংশই অসম থেকে আসা ব্যক্তিদের ব্যবহৃত গাড়ি বলে দাবি করা হয়েছে। বাঙালি ও অসমীয়াদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া এবং শারীরিক হামলার অভিযোগও রয়েছে।

    নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিবিজড়িত ভাস্কর্য ও মূর্তিতেও হামলা চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে।

    হোসুরে হিন্দু ধর্মীয় রীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রচারপত্র

    তামিলনাড়ুর হোসুরে হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা একটি প্রচারপত্র বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। মন্দিরে নারকেল ভাঙা, চুলে ফুল পরা, কর্পূর ও ধূপজাতীয় সামগ্রী ব্যবহার-সহ বিভিন্ন প্রচলিত আচারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ওই প্রচারপত্রে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন।

    মুম্বইয়ে গণেশ মূর্তির কাছে ডিম ছোড়ার অভিযোগ

    মুম্বইয়ের মাজগাঁওয়ে গণেশ মণ্ডলের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রায় উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, শোভাযাত্রার সময় এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি গণেশ মূর্তির কাছে ডিম ছুড়ে দেন। ঘটনায় উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

    বরলক্ষ্মী ব্রত নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক

    দেশ-বিদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বরলক্ষ্মী ব্রত পালন করার সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনেত্রী চিন্ময়ী শ্রীপাদার একটি মন্তব্য নিয়েও বিতর্কের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনটির দাবি, নিজেকে নারীবাদী হিসেবে পরিচয় দেওয়া চিন্ময়ী হিন্দু নারীদের “পিতৃতন্ত্রের প্রহরী” বলে মন্তব্য করেছেন। একই প্রতিবেদনে তাঁর পুরনো রমজান-সংক্রান্ত একটি মন্তব্যের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০১২ সালে তিনি লিখেছিলেন, “রমজানের উপবাসে থাকা বন্ধুদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তাদের উপবাস ভাঙার আগে পর্যন্ত তাদের সামনে খাওয়া বা পান না করি।”

    টিপু সুলতানকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টে গ্রেফতার

    কর্নাটকের চিক্কমাগালুরুতে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ৪০ ফুট উচ্চতার টিপু সুলতানের প্রতিকৃতি-সহ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন, যার সঙ্গে পাক সেনা ও মুজাহিদিনের সঙ্গে যুক্ত একটি গান ব্যবহার করা হয়েছিল (Weekly Roundup)।

    আফরিদ নামে ওই যুবককে আদালতে হাজির করা হলে তাঁকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    স্কুলের দেওয়ালে উসকানিমূলক স্লোগান

    পাঞ্জাবের বঠিন্ডা জেলার জয় সিংহ ওয়ালা গ্রামের একটি সরকারি স্কুল এবং অন্য একটি দেওয়ালে “শহিদ দিলাওয়ার বাব্বর” এবং শিখস ফর জাস্টিসের উল্লেখ-সহ উসকানিমূলক স্লোগান লেখার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

    শিক্ষা বাজেট নিয়ে বিচারপতির মন্তব্য

    সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালে মহারাষ্ট্রে শিক্ষা খাতে বাজেট কমে যাওয়া এবং মারাঠি-মাধ্যমের স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।প্রতিবেদনের বক্তব্য, নাসিক-ত্র্যম্বকেশ্বর সিংহস্থ কুম্ভমেলার জন্য বরাদ্দ অর্থের সামান্য অংশও যদি ওই স্কুলগুলির জন্য ব্যবহার করা যেত, তাহলে বেশ কয়েকটি স্কুলকে রক্ষা করা সম্ভব হত। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে হজ, মাদ্রাসা, মসজিদ ও গির্জার জন্য সরকারি অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    মাদ্রাসার অর্থায়ন খতিয়ে দেখছে এটিএস

    গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরপ্রদেশের সন্ত্রাসদমন শাখা রাজ্যের হাজার হাজার মাদ্রাসার ব্যাংক হিসাব, অর্থের উৎস এবং পড়ুয়াদের নথি পরীক্ষা শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    বিশেষ করে সরকারি অনুদান ছাড়াই পরিচালিত প্রায় ১৬ হাজার মাদ্রাসার অর্থের উৎস, আয়-ব্যয় এবং সেখানে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ঈদ-ই-মিলাদ মিছিল ঘিরে সংঘর্ষের অভিযোগ

    বেঙ্গালুরুর বাসবনগুড়ি এলাকায় ঈদ-ই-মিলাদ উপলক্ষে আয়োজিত মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    ঘটনাস্থলের বলে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে কয়েকজন হিন্দু যুবকের ওপর হামলা চালানোর দৃশ্য দেখা যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি লোহার রড দিয়ে হামলার অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে পরবর্তী পুলিশি পদক্ষেপে হামলার শিকার হিন্দু যুবক এবং ঘটনার প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট ও কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় ধর্মীয় স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আরএসএসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের পরিকল্পিত আমেরিকা সফরের কয়েক সপ্তাহ আগে এই আহ্বান জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে (Weekly Roundup)।

    সংস্থাটি আরএসএসের বিরুদ্ধে “ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখার” অভিযোগ তুলেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির প্রধান আসিফ মাহমুদের পাকিস্তানের সঙ্গে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    দীপাবলিতে আতশবাজি নিষেধাজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন

    প্রতিবেদনের শেষাংশে বলা হয়েছে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধের পেছনে কিছু ধর্মীয় শিক্ষা এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে বলে লেখকদের অভিমত। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুদের বিরুদ্ধে বৈরিতা তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট হলেও নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে পরিচয় দেওয়া রাষ্ট্রগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও সূক্ষ্ম হিন্দুবিদ্বেষ দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    এই ধরনের বৈষম্য অনেক সময় সরাসরি চোখে পড়ে না এবং প্রচলিত আইন ও নীতির ধরন বিশ্লেষণ করলেই তা বোঝা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারের ওপর ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞাকে এর একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের বক্তব্য, পরিবেশদূষণের দিক থেকে এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তিসঙ্গত বলে মনে হলেও, হিন্দু উৎসবগুলির ওপর আরোপিত অন্যান্য বিধিনিষেধ এবং সেগুলির যুক্তির মধ্যে থাকা সামঞ্জস্যহীনতা বিবেচনা করলে বিষয়টি নতুনভাবে দেখা (Weekly Roundup) প্রয়োজন।

    প্রতিবেদনটির এই সমস্ত অভিযোগ ও বক্তব্য সংশ্লিষ্ট ঘটনার স্বাধীন যাচাই বা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ছাড়া চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয় (Hindus Under Attack)।

     

  • Odisha: ওড়িশায় ফের মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডারের হদিস, পাঁচ দিনে মিলল তিন গোপন ডেরার হদিশ

    Odisha: ওড়িশায় ফের মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডারের হদিস, পাঁচ দিনে মিলল তিন গোপন ডেরার হদিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওড়িশার (Odisha) কান্ধমাল জেলায় জঙ্গলে লুকিয়ে রাখা মাওবাদীদের অস্ত্র (Maoist Arms) ও বিস্ফোরকের ভাণ্ডারের হদিস পেল নিরাপত্তা বাহিনী। দারিংবাড়ি থানার আওতায় মাতরাবাড়ি গ্রামের কাছে জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে এই অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গত পাঁচ দিনে ওড়িশার বিভিন্ন জঙ্গলে এটি তৃতীয় মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা।

    অভিযানে মিলল প্রচুর অস্ত্র (Odisha)

    ২৮ অগাস্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কান্ধমাল জেলার একাধিক জঙ্গল এলাকায় যৌথ তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। ওই এলাকায় মাওবাদীদের অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অন্যান্য সামগ্রী লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে তথ্য পাওয়ার পরেই অভিযান শুরু হয়। সশস্ত্র তল্লাশি অভিযানে বিশেষ অভিযান গোষ্ঠী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। রায়কিয়া, বালিগুড়া, দারিংবাড়ি এবং কোটগড় থানার আওতাধীন বিস্তীর্ণ জঙ্গল এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানের আওতায় বাবুতি, জিমাবাড়ি, কারাহাপাঙ্গা, গারারমহা, জিমারাহা, তেলসি, সিদুপদর, পদলামালা, মাতাবাড়ি, তেরানিপাঙ্গা, ঝাঝিবাড়ি, টুকুবাড়ি, সাতারি, সালাকিঙ্গিয়া, পরিগড়া এবং পেনামাল-সহ একাধিক এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। সেই সময় জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর সদস্যরা মাতরাবাড়ি গ্রামের কাছে মাটির নীচে বা জঙ্গলের আড়ালে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডারটির সন্ধান পান।

    উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও বিস্ফোরকের মধ্যে রয়েছে একটি ১২ বোরের রাইফেল, একটি একনলা রাইফেল এবং একটি এসবিএল গ্রেনেড। এছাড়াও উদ্ধার হয়েছে ১৯টি বৈদ্যুতিক ডেটোনেটর, দুটি টিফিন-বাক্স আইইডি, এক বান্ডিল কর্ডেক্স এবং দুটি জেলাটিন স্টিক। অস্ত্রভাণ্ডার থেকে ১৩ রাউন্ড শূন্য দশমিক ৩০৩ ক্যালিবারের গুলি এবং একনলা রাইফেলের ১০ রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি মাওবাদীদের শিবিরে ব্যবহৃত আরও বেশ কিছু সামগ্রী, যার মধ্যে বৈদ্যুতিক তার এবং অন্যান্য উপকরণ রয়েছে, সেগুলিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিস্ফোরক সামগ্রী থাকায় সেগুলি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় ও সরিয়ে নেওয়ার জন্য বোমা শনাক্তকরণ ও নিষ্ক্রিয়করণ দলকে অভিযানে মোতায়েন করা হয়।

    ন’টি দল নিয়ে অভিযান

    কান্ধমালের পুলিশ সুপার রমেন্দ্র প্রসাদ জানিয়েছেন, এই অভিযানে একাধিক নিরাপত্তা দল অংশ নিয়েছিল। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বিশেষ অভিযান গোষ্ঠীর পাঁচটি দল, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ১০৮ নম্বর ব্যাটালিয়নের তিনটি ইউনিট এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর একটি দল যৌথভাবে তল্লাশি চালায়।

    গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই জঙ্গলে মাওবাদীদের লুকিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডারের সন্ধানে এই অভিযান চালানো হয়েছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, কান্ধমালকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে মাওবাদীমুক্ত ঘোষণা করা হলেও, জেলায় তল্লাশি ও এলাকা নিয়ন্ত্রণের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে যেসব জঙ্গল এলাকায় অতীতে মাওবাদীদের সক্রিয়তা ছিল, সেখানে পুরনো অস্ত্রভাণ্ডার ও বিস্ফোরক উদ্ধারে নজর দেওয়া হচ্ছে।

    নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, সাম্প্রতিক এই উদ্ধার প্রাক্তন মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় পড়ে থাকা অবশিষ্ট পরিকাঠামো চিহ্নিত ও নিষ্ক্রিয় করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই অংশ।

    অভিযান চলবে

    জেলার স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে নজরদারি এবং নিয়মিত তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করার পাশাপাশি পুরনো মাওবাদী ঘাঁটিগুলিকে যাতে ফের সশস্ত্র কার্যকলাপের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা না যায়, তা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য (Odisha)।

    পুলিশ সুপার রমেন্দ্র প্রসাদ জানিয়েছেন, জেলার ঝুঁকিপূর্ণ এবং অতীতে মাওবাদী প্রভাবিত এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে। সাম্প্রতিক অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা কান্ধমালে অবশিষ্ট মাওবাদী পরিকাঠামো ভেঙে ফেলার প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করবে বলে মনে করা হচ্ছে (Maoist Arms)।

    আগেও মিলেছে মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডারের খোঁজ

    কান্ধমালে চলতি বছরে মাওবাদীদের লুকিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা এই প্রথম নয়। ১৬ জুন নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীতাগুড়হা, গঞ্জুগুড়হা, কুটিবারহি, গুড়িকিয়া এবং লাঞ্জাম গ্রামের আশপাশের জঙ্গল থেকে আরও একটি মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়েছিল। এলাকাগুলি কোটগড়, বালিগুড়া এবং তুমুড়িবান্ধা থানার আওতাধীন।

    এর আগে ১১ জুন বালিগুড়া এলাকাতেও একটি মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডারের সন্ধান পেয়েছিল নিরাপত্তা বাহিনী। সেখান থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং বিভিন্ন ধরনের অভিযানে ব্যবহৃত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

    কান্ধমালকে ৩১ মার্চ ২০২৬ মাওবাদীমুক্ত ঘোষণা করা হলেও, বারবার অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা থেকে স্পষ্ট, জঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় পুরনো মাওবাদী পরিকাঠামোর সন্ধানে তল্লাশি এখনও জারি রয়েছে।

    ২৬ অগাস্ট মালকানগিরিতেও অস্ত্র উদ্ধার

    কান্ধমালের ঘটনার দু’দিন আগে, ২৬ অগাস্ট ওড়িশা-ছত্তিশগঢ় সীমান্তবর্তী মালকানগিরি জেলার একটি জঙ্গল থেকেও মাওবাদীদের লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও গোলাবারুদের ভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়।

    আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই অস্ত্রভাণ্ডারের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। এরপর জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর সদস্যরা মথিলি থানার আওতাধীন চেরকোটলা, কিরমিটি, কোটওয়াপদর এবং কাদাভাটা এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালান।

    কৌশলগত দিক থেকেও এলাকাটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি প্রতিবেশী ছত্তিশগঢ়ের বস্তার জেলার দরভা থানা এলাকা এবং সুকমা জেলার পুসপাল থানা এলাকার সংলগ্ন।

    অস্ত্র মিলেছিল সুন্দরগড়েও

    এর আগে ২৪ অগাস্ট সুন্দরগড় জেলার কে বালাং থানার আওতাধীন সিলকুটা সংরক্ষিত জঙ্গল থেকেও মাওবাদীদের একটি গোপন অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়। জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী এবং বোমা শনাক্তকরণ ও নিষ্ক্রিয়করণ দলের যৌথ অভিযানে এই উদ্ধার হয়।

    আত্মসমর্পণকারী নকশালদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই অভিযান চালানো হয়েছিল। পুলিশের মতে, অস্ত্রভাণ্ডারটি প্রায় চার বছরের পুরনো। সেখান থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক সামগ্রী, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং মাওবাদীদের ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার হয়।

    অবশিষ্ট মাওবাদী পরিকাঠামো ভাঙতেই নজর

    মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে ওড়িশার তিনটি জঙ্গল এলাকা থেকে মাওবাদীদের গোপন অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা নিরাপত্তা সংস্থাগুলির ধারাবাহিক তল্লাশি অভিযানের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। ঝুঁকিপূর্ণ জঙ্গল এলাকাগুলিতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, চিরুনি তল্লাশি এবং এলাকা নিয়ন্ত্রণের অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে।

    আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যও এই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিরাপত্তা বাহিনী মনে করছে, পুরনো অস্ত্রভাণ্ডার ও মাওবাদী পরিকাঠামোর অবশিষ্ট অংশগুলি (Maoist Arms) সম্পূর্ণভাবে চিহ্নিত ও নিষ্ক্রিয় করা গেলে ভবিষ্যতে নতুন করে মাওবাদী নেটওয়ার্ক সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা আরও কমানো সম্ভব হবে (Odisha)।

     

  • Mohan Bhagwat: ‘বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য ভারতের বার্তা’, প্রবাসী ভারতীয়দের কর্মভূমির প্রতি নিষ্ঠার বার্তা ভাগবতের

    Mohan Bhagwat: ‘বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য ভারতের বার্তা’, প্রবাসী ভারতীয়দের কর্মভূমির প্রতি নিষ্ঠার বার্তা ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—সমগ্র বিশ্বই এক পরিবার (Universal Oneness), এই চিরন্তন ভারতীয় দর্শনের কথা তুলে ধরে বিশ্বকে ঐক্য ও সহাবস্থানের বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানালেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। তাঁর বক্তব্য, দেশ শুধু ভৌগোলিক সীমানায় আবদ্ধ কোনও সত্তা নয়। প্রতিটি দেশেরই একটি বিশেষ দায়িত্ব, বার্তা ও লক্ষ্য রয়েছে। আর ভারতের দায়িত্ব হল বৈচিত্র্যের মধ্যেও নিহিত ঐক্যের সত্যকে উপলব্ধি করা এবং সেই বার্তা বিশ্বের সামনে তুলে ধরা।

    ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’ (Mohan Bhagwat)

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে  ভাগবত বলেন, আমেরিকার ক্ষেত্রে ‘বহুত্ববাদ’ শব্দটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই ভারতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’। তাঁর কথায়, ভারতের চেতনার মধ্যেই ঐক্য এবং বৈচিত্র্য—দু’টিই রয়েছে। বৈচিত্র্যকে তাই শুধু মেনে নেওয়া নয়, তাকে সম্মান ও উদ্‌যাপন করাও প্রয়োজন। একইসঙ্গে মানুষের মধ্যে যে মৌলিক একাত্মবোধ রয়েছে, সেটিও মনে রাখতে হবে। ভাগবত বলেন, “জাতি কেবল ভৌগোলিক সত্তা নয়। জাতির একটি দায়িত্ব রয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, প্রত্যেক জাতির একটি বার্তা রয়েছে, একটি লক্ষ্য পূরণ করার রয়েছে এবং একটি নিয়তি রয়েছে। ভারতের সেই নিয়তি কী? ভারতকে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের সত্য উপলব্ধি করতে হবে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বকেও সেই ঐক্যের উপলব্ধি করাতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা এক, আর বৈচিত্র্যের কারণে সেই একত্ব আরও সুন্দরভাবে প্রকাশিত হয়। তাই বৈচিত্র্যকে উদ্‌যাপন করতে হবে, সম্মান করতে হবে, গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে আমাদের একত্বের অনুভূতিকেও মনে রাখতে হবে।”

    সঠিক চিন্তার গুরুত্ব

    মানবজীবনে সঠিক চিন্তার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন ভাগবত। তাঁর মতে, সঠিক ও ভুলের পার্থক্য বোঝার ক্ষমতা মানুষের রয়েছে বলেই সমগ্র বিশ্বকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্বও মানুষের উপর বর্তায়। সঠিক চিন্তা মানুষকে ঈশ্বরের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে, আর ভুল চিন্তা তাকে পশুসুলভ প্রবৃত্তির দিকে ঠেলে দিতে পারে। ভাগবতের কথায়, “মানুষকে পশুর থেকে আলাদা করে যে বিশেষ গুণ, তা হল চিন্তা করার ক্ষমতা। মানুষ যদি সঠিকভাবে চিন্তা করে, তাহলে সে সমগ্র বিশ্বকে টিকিয়ে রাখতে পারে। সঠিক ও ভুল বোঝার ক্ষমতা মানুষের রয়েছে বলেই বিশ্বের প্রতি তার দায়িত্বও রয়েছে।” তিনি বলেন, বৈচিত্র্যের মধ্যেও মানুষের মধ্যে একটি অভিন্ন সত্তা রয়েছে। শরীর, পরিচয় কিংবা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য আলাদা হলেও, মানুষের অন্তরে এমন কিছু রয়েছে যা সবাইকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে। এই উপলব্ধিকেই তিনি ‘অস্তিত্বের ঐক্য’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “আমরা একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। অস্তিত্বের ঐক্যই আমাদের সত্য। বিশ্বকে এক হিসেবে দেখাই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি (Mohan Bhagwat)।”

    সভ্যতার দুই বিপরীত প্রবণতা

    সভ্যতার দু’টি বিপরীত প্রবণতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। একদিকে রয়েছে ‘বাঁচো এবং অন্যকেও বাঁচতে দাও’-এর মানসিকতা। অন্যদিকে রয়েছে এমন প্রবণতা, যেখানে নিজের মত ও আদেশ মেনে চললেই অন্যকে বাঁচার অধিকার দেওয়া হয়। দ্বিতীয় প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা বলে, “তুমি আমাদের কথা মেনে চলো, আমরা তোমাকে রক্ষা করব”, তাদের তিনি রাক্ষসসুলভ প্রবৃত্তির প্রতীক হিসেবে দেখেন। ভারতীয় সাধু-সন্তদের আদর্শের উল্লেখ করে ভাগবত বলেন, ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য অন্যের প্রতি বিদ্বেষ দূর করার শিক্ষা দেয়। মানুষের মনে থাকা শত্রুতা ও ঘৃণা দূর করাই হওয়া উচিত প্রার্থনা ও সাধনার অন্যতম লক্ষ্য।

    প্রবাসীদের উদ্দেশে মোহন-বার্তা

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেন ভাগবত। তিনি বলেন, যে দেশে তাঁরা কাজ করছেন এবং বসবাস করছেন, সেই কর্মভূমির প্রতি তাঁদের সম্পূর্ণ নিষ্ঠাবান থাকা উচিত। কর্মভূমির দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার পর জন্মভূমির জন্য কিছু করার ইচ্ছা থাকলে, তা ভারতের কাছ থেকে পাওয়া মূল্যবোধের ভিত্তিতে করতে হবে (Universal Oneness)। ভাগবতের (Mohan Bhagwat) বক্তব্য, “আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয়দের তাঁদের কর্মভূমির প্রতি নিষ্ঠাবান থাকতে হবে। সেই কর্তব্য পালন করার পর জন্মভূমির জন্য কিছু করার আকাঙ্ক্ষা থাকলে, ভারত যে মূল্যবোধ আপনাদের দিয়েছে, সেই মূল্যবোধ নিয়েই জীবনযাপন করুন।” ভারতের ঐতিহাসিক দায়িত্বের কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, হিমালয় থেকে সমুদ্র পর্যন্ত ভারতের একটাই দায়িত্ব—এই জ্ঞান ও জীবনদর্শনকে বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তবে তা শুধু বক্তৃতা বা প্রচারের মাধ্যমে নয়, নিজেদের জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে দেখাতে হবে। তিনি বলেন, “ভারতের একজন মানুষের দায়িত্ব হল অনুশীলনের মাধ্যমে বিশ্বের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া, শুধু বক্তৃতা দিয়ে নয়।”

    ধর্ম কি

    ধর্মের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ধর্ম কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের পরিচয়মাত্র নয়। বিশ্বব্যবস্থাকে সঠিকভাবে পরিচালিত ও টিকিয়ে রাখার যে নীতি, সেটিই ধর্ম। মানুষের জীবনযাত্রার গুণমান বজায় রাখার ক্ষেত্রেও ধর্ম একটি নিয়ামক শক্তি। তাঁর (Mohan Bhagwat) মতে, ধর্ম হল মধ্যপন্থা—যেখানে দায়িত্ব, সংযম এবং পারস্পরিক সম্মানের সমন্বয় ঘটে। ভাগবত বলেন, “ধর্ম হল সেই নীতি, যার মাধ্যমে বিশ্ব টিকে থাকে। ধর্ম হল সেই নীতি, যার মাধ্যমে মানুষ জীবনের গুণমান বজায় রাখতে পারে। মধ্যপন্থাই ধর্ম। আমরা একত্বে ঐক্যবদ্ধ এবং বৈচিত্র্যে সজ্জিত। বৈচিত্র্য স্বাভাবিক, আর ঐক্যই সত্য।” অর্থনৈতিক জীবন সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন তিনি। তাঁর মতে, একজন মানুষ কত অর্থ উপার্জন করলেন, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল তিনি সমাজ ও বিশ্বকে কতটা ফিরিয়ে দিলেন। ভারতীয় ঐতিহ্যের মূল শিক্ষা হল নিজের অর্জনের একটি অংশ অন্যদের কল্যাণে বিলিয়ে দেওয়া। আরএসএস কর্তা বলেন, “আমরা বিশ্বের কাছ থেকে অনেক কিছু নিয়েছি। তাই বিশ্বকে আমাদের ফিরিয়ে দিতে হবে। আমরা কত উপার্জন করি, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, আমরা কতটা বিতরণ করি, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ফিরিয়ে দিতে হবে। এটাই আমাদের পরম্পরা (Universal Oneness)।”

    বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সূত্র

    বক্তব্যের একেবারে শেষে ভাগবত বলেন, দায়িত্ববোধ, পারস্পরিক সম্মান, আত্মসংযম এবং নিঃস্বার্থভাবে সমাজকে দেওয়ার মানসিকতার উপর ভিত্তি করেই একটি টেকসই ও সম্প্রীতিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ে উঠতে পারে। তাঁর মতে, বৈচিত্র্যকে বাদ দিয়ে নয়, বরং তার মধ্যেকার একত্বকে স্বীকার করেই বিশ্বে স্থায়ী শান্তি ও ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব। ভারতীয় জীবনদর্শন তাই শুধু ভারতের জন্য নয়, সমগ্র বিশ্বের জন্যই একটি টেকসই জীবনপদ্ধতির ভিত্তি হতে পারে (Mohan Bhagwat)।

     

  • Mohan Bhagwat:  নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে মোহন ভাগবতের ছবি, ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ

    Mohan Bhagwat:  নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে মোহন ভাগবতের ছবি, ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কোয়ারে আজ, শুক্রবার আরএসএস (RSS) প্রধান মোহন ভাগবতের (Mohan Bhagwat) ছবি সম্বলিত বিশাল ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়েছে। এ দিনই নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্যও রাখবেন তিনি।

    সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ম্যানহাটনের ঐতিহাসিক এই সংযোগস্থলের একটি ডিজিটাল পর্দায় ভাগবতের ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে। আজ, ২৯ অগাস্ট আয়োজিত হতে চলা “বিশ্ব ঐক্য উদ্‌যাপন” অনুষ্ঠানের আগে এই প্রচার চালানো হয়েছে।

    তিনটি দেশ সফরের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন ভাগবত। তাঁর সফরসূচিতে কানাডা এবং ব্রিটেনও রয়েছে। আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপনের বছরেই তাঁর এই বিদেশ সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

    ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে বক্তব্য রাখবেন ভাগবত (Mohan Bhagwat)

    “বিশ্ব ঐক্য উদ্‌যাপন” অনুষ্ঠানে ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের ইনফোসিস থিয়েটারে বক্তব্য রাখার কথা আরএসএস প্রধানের। আমেরিকান হিন্দুদের মধ্যে সম্পৃক্ততা ও আলোচনার লক্ষ্যে গঠিত সংগঠন অ্যাহেড এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।

    স্থানীয় সময় দুপুর ২টো থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি চলবে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী তা আজ, শনিবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে পরদিন ভোর ৩টা পর্যন্ত। অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক, সঙ্গীত ও শিল্পকলার বিভিন্ন পরিবেশনাও থাকবে।

    আয়োজকদের দাবি, বিভিন্ন সম্প্রদায় ও দেশের মধ্যে ঐক্যের বার্তা তুলে ধরাই এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। এর ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হয়েছে “বসুধৈব কুটুম্বকম” বা “সমস্ত পৃথিবী এক পরিবার”—এই প্রাচীন ভারতীয় ভাবনাকে। আয়োজকদের মতে, ২০০-রও বেশি হিন্দু-আমেরিকান সংগঠন এই কর্মসূচিকে সমর্থন করছে।

    ঐতিহাসিক ইসকন মন্দিরে মোহন ভাগবত

    ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানের আগে এদিন নিউইয়র্কের ২৬ সেকেন্ড অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক ইসকন মন্দির পরিদর্শন করেন ভাগবত।

    সেখানে ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীল প্রভুপাদের প্রতিকৃতিতে মাল্য দান করেন তিনি। অংশ নেন গৃহহীনদের মধ্যে খাবার বিতরণের একটি কর্মসূচিতেও।

    ইসকনের পরিচালন পর্ষদের কমিশনার গৌরাঙ্গ দাস এই স্থানটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৬৬ সালে স্বামী প্রভুপাদ এই স্থানেই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

    ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ

    ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে নিউইয়র্কে বিরোধিতাও শুরু হয়েছে। হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস এবং তাদের সহযোগী কয়েকটি সংগঠন শনিবার অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।

    সংগঠনটির দাবি, ৬১টি আন্তঃধর্মীয় ও ধর্মনিরপেক্ষ সংগঠন ভাগবতের অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করে একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে (Mohan Bhagwat)।

    নিউইয়র্কের মেয়রও এই অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, আরএসএস একটি “বর্জনমূলক দৃষ্টিভঙ্গির” ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা আন্দোলন।

    তবে একই সঙ্গে মেয়র জোহরান মামদানি স্বীকার করেছেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত কোনও অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার মতো (RSS) আইনি ক্ষমতা নিউইয়র্ক প্রশাসনের নেই।

    মার্কিন ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের হস্তক্ষেপ

    ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্কে হস্তক্ষেপ করেছে মার্কিন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনও।

    কমিশনের চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ মার্কিন সরকারের কাছে আরএসএসের সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ভাগবতের ভিসা বাতিলের দাবিও তুলেছিলেন। পরে অবশ্য তিনি জানান, আলোচনার জন্য আরএসএস প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তিনি প্রস্তুত।

    কমিশনের এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। ভারতের বিদেশমন্ত্রক কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ তুলে বলেছে, ভারতকে নিয়ে ওই সংস্থা বারবার “ভুল ও উসকানিমূলক বক্তব্য” দিয়েছে।বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সংস্থাটিকে পক্ষপাতদুষ্ট এবং বিশ্বাসযোগ্যতাহীন বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই সংস্থা দীর্ঘদিন ধরেই ভারত সম্পর্কে ভুল এবং উসকানিমূলক মন্তব্য করে আসছে এবং নিজস্ব উদ্দেশ্য রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্ব না দেওয়াই উচিত।

    নিউ ইয়র্কের মেয়রের বক্তব্য

    এদিকে, নিউ ইয়র্কের মেয়র মামদানি মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছিলেন, তিনি ম্যাডিসন স্কোয়্যার গার্ডেনের এই অনুষ্ঠানকে সমর্থন করেন না। তবে একই সঙ্গে তিনি কবুল করেন, একটি বেসরকারি অনুষ্ঠানের আয়োজন বাতিল করার আইনি ক্ষমতা শহর প্রশাসনের আদৌ রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে (Mohan Bhagwat)।

    মামদানি আরও বলেন, তিনি নিউ ইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম ভারতীয়-আমেরিকান মেয়র। তাঁর মায়ের পরিবারের অধিকাংশ সদস্য এখনও ভারতে রয়েছেন। নিজের পারিবারিক পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারত সম্পর্কে তাঁর পরিবারের ধারণা ছিল একটি বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ দেশের, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে (RSS) একটি বর্জনমূলক রাজনৈতিক ভাবনার উত্থান তাঁকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে এবং তিনি সেই মতাদর্শের বিরোধী (Mohan Bhagwat)।

     

  • India Kuwait Pact: ভারত-কুয়েতের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর, পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তির একদিন পরই টেক্কা দিল্লির

    India Kuwait Pact: ভারত-কুয়েতের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর, পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তির একদিন পরই টেক্কা দিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন পরেই ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার করল কুয়েত। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হল ভারত-কুয়েতের প্রথম যৌথ প্রতিরক্ষা কমিটি (JDC)-র বৈঠক। বৈঠকে দুই দেশ সামরিক প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া, সামরিক চিকিৎসা, স্টাফ পর্যায়ের আলোচনা, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং গবেষণা ও উন্নয়ন—একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এই বৈঠকটি ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-কুয়েত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সমঝোতাপত্র (MoU) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কুয়েত সফরের সময় ওই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

    প্রথমবার বৈঠকে যৌথ প্রতিরক্ষা কমিটি

    শুক্রবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত প্রথম JDC বৈঠকে ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের যুগ্মসচিব অমিতাভ প্রসাদ। কুয়েতের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রায়েদ আলসাকরান। ভারতীয় প্রতিনিধি দলে সেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনার আধিকারিকদের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা উৎপাদন দফতর, প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO), সশস্ত্র বাহিনীর চিকিৎসা পরিষেবা এবং বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যতে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার জন্য এই কমিটিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

    প্রশিক্ষণ থেকে প্রতিরক্ষা গবেষণা—একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা

    বৈঠকে সামরিক প্রশিক্ষণ, যৌথ সামরিক মহড়া, সামরিক চিকিৎসা, স্টাফ পর্যায়ের আলোচনা, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং গবেষণা ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্প ও গবেষণা ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। দেশীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন এবং রফতানি বাড়ানোর লক্ষ্যে ভারত বর্তমানে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও উৎপাদন ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কুয়েতের প্রতিনিধি দল নয়াদিল্লির ডিপিএসইউ ভবন-ও পরিদর্শন করে। সেখানে ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। কুয়েতি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আরও একটি শিল্পক্ষেত্রভিত্তিক বৈঠকেরও আয়োজন করা হয়।

    ভারত-কুয়েত চুক্তির কৌশলগত গুরুত্ব

    ভারত-কুয়েত জেডিসি বৈঠকের ঠিক একদিন আগে কুয়েত ও পাকিস্তান প্রোটোকল এগ্রিমেন্ট ২০২৬ স্বাক্ষর করেছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের বিদ্যমান সামরিক সহযোগিতার কাঠামো আরও বিস্তৃত হয়েছে। পাকিস্তান-কুয়েত চুক্তিতে সামরিক প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং পারস্পরিক সম্মত অন্যান্য প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতার কথা রয়েছে। তবে ভারত-কুয়েতের সাম্প্রতিক বৈঠককে সরাসরি পাকিস্তান-কুয়েত চুক্তির প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছে না সংশ্লিষ্ট মহল। কারণ ভারত ও কুয়েতের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি রয়েছে এবং ২০২৪ সালেই দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মউ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে সময়ের দিক থেকে পরপর এই দুই চুক্তি উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা সমীকরণের প্রেক্ষাপটে ভারত-কুয়েত বৈঠককে অবশ্যই বাড়তি কৌশলগত গুরুত্ব দিচ্ছে।

    ১৯৬২ থেকে সম্পর্ক, ২০২৪-এ ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’

    ভারত ও কুয়েতের কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা ১৯৬২ সালে। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং জনসংযোগের সম্পর্ক রয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী মোদির কুয়েত সফরের সময় দুই দেশের সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এ উন্নীত করা হয়। প্রতিরক্ষার পাশাপাশি জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক সহযোগিতাও এই অংশীদারিত্বের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। কুয়েতে বসবাসকারী বিপুল ভারতীয় সম্প্রদায়ও দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। একইসঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে কুয়েতের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভারতের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক স্বার্থের কারণে দেশটির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা নয়াদিল্লির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    উপসাগরে ভারতের প্রতিরক্ষা কূটনীতিতে আরও এক ধাপ

    জেডিসি গঠনের ফলে ভারত ও কুয়েতের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে নিয়মিত আলোচনার একটি স্থায়ী মঞ্চ তৈরি হল। এর মাধ্যমে শুধু সামরিক প্রশিক্ষণ বা মহড়াই নয়, দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় এবং পারস্পরিক পরিচিতিও আরও বাড়তে পারে। সামরিক চিকিৎসা ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথভাবে সেরা পদ্ধতিগুলি গ্রহণেরও সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্প ও গবেষণাকে আলোচনার আওতায় আনার ফলে দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহ্যগত সামরিক বিনিময়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    প্রতিরক্ষা শিল্পেও কুয়েতকে পাশে চাইছে ভারত

    ভারত বর্তমানে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির কাছে নিজেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির সম্ভাব্য সরবরাহকারী হিসেবে তুলে ধরছে। JDC বৈঠকে প্রতিরক্ষা উৎপাদন দফতর এবং ডিআরডিও-র প্রতিনিধিদের উপস্থিতি সেই বৃহত্তর কৌশলেরই ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির প্রয়োজন অনুযায়ী সরঞ্জাম, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে কোনও নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা প্রকল্প চূড়ান্ত হবে কি না, তা নির্ভর করবে পরবর্তী আলোচনা এবং কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনের উপর।

    উপসাগরীয় নিরাপত্তায় ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি

    সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ওমান এবং কুয়েতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা শিল্প—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এই সহযোগিতা বাড়ছে। কুয়েতের জন্য একাধিক দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রাখা নিরাপত্তা অংশীদারিত্বকে বৈচিত্র্যময় করার সুযোগ দেয়। অন্যদিকে ভারতের জন্য উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে গভীরতর প্রতিরক্ষা সম্পর্ক তার বৃহত্তর কৌশলগত উপস্থিতি শক্তিশালী করে। কারণ এই অঞ্চল ভারতের জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্যিক রুট এবং বিপুল প্রবাসী ভারতীয় জনগোষ্ঠীর দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ভারত-কুয়েতের প্রথম যৌথ প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠককে নিছক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। উপসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত বদলে যাওয়া নিরাপত্তা সমীকরণের মধ্যেই দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে একটি স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে এল এই জেডিসি।

  • India-Canada Ties: কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যে বড় বদল ভারতের, ২০ কোটি ডলার ঘাটতি থেকে ১৪০ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত

    India-Canada Ties: কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যে বড় বদল ভারতের, ২০ কোটি ডলার ঘাটতি থেকে ১৪০ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কানাডার সঙ্গে পণ্য বাণিজ্যে বড়সড় পালাবদল ঘটেছে ভারতের (India-Canada Ties)। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০ কোটি ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি থেকে ভারত পৌঁছে গিয়েছে প্রায় ১৪০ কোটি ডলার উদ্বৃত্তে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে (FY2026) কানাডা থেকে ভারতের (India-Canada Bilateral Trade) আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ার পাশাপাশি দেশটিতে ভারতের রফতানি বেড়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রকের তথ্যের ভিত্তিতে রুবিক্স ডেটা সায়েন্সেসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কানাডা থেকে ভারতের আমদানি আগের বছরের তুলনায় ২৬.১ শতাংশ কমে ৩৩০ কোটি ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে, কানাডায় ভারতের রফতানি ১০.৬ শতাংশ বেড়ে ৪৭০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এই আবহে আমেরিকার সঙ্গে কানাডার বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়া এবং দুদেশের মধ্যে শুরু হওয়া ট্যারিফ যুদ্ধের আবহে ভারতের সামনে বড় সুযোগ খুলল। দুদেশের অর্থমন্ত্রীর বৈঠকে অনেকটাই এগোল ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আলোচনা।

    অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন-এর কানাডা সফর

    এই পরিবর্তন এমন সময়ে ঘটেছে, যখন ভারত ও কানাডা দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ২৫ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কানাডা ও আমেরিকা সফর করছেন। কানাডার অর্থ ও ন্যাশনাল রেভিনিউ মন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেনের সঙ্গে প্রথম ভারত-কনাডা অর্থনৈতিক ডায়ালগ (India-Canada Economic and Financial Dialogue)-এও অংশ নেওয়ার কথা তাঁর। এই বৈঠকে সামষ্টিক অর্থনীতি, আর্থিক ক্ষেত্রের সহযোগিতা, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

    বাণিজ্য ঘাটতি থেকে উদ্বৃত্ত—কীভাবে?

    ভারত-কানাডা বাণিজ্যের (India-Canada Bilateral Trade) এই পরিবর্তনের পিছনে মূল কারণ রফতানির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নয়, বরং আমদানির উল্লেখযোগ্য পতন। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে কানাডায় ভারতের রফতানি ছিল প্রায় ৩৮০ কোটি ডলার। ২০২৩-২৪ সালে তা কমে ৩৮০ কোটি ডলারে দাঁড়ালেও পরের বছর বেড়ে ৪২০ কোটি এবং ২০২৫-২৬ সালে তা ৪৭০ কোটি ডলারে পৌঁছয়। অর্থাৎ ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬-এর মধ্যে ভারতের রফতানি বেড়েছে বার্ষিক গড়ে প্রায় ৬ শতাংশ হারে। অন্যদিকে, কানাডা থেকে ভারতের আমদানি ২০২১-২২ সালে ৩১০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ২০২৩-২৪ সালে ৪৬০ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল। ২০২৪-২৫ সালে তা সামান্য কমে ৪৪০ কোটি ডলার হলেও ২০২৫-২৬ সালে বড় ধাক্কা খেয়ে নেমে আসে ৩৩০ কোটি ডলারে। ফলে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ২০২৩-২৪ সালে যেখানে ছিল ৭০ কোটি ডলার, ২০২৪-২৫ সালে ২০ কোটি ডলার, সেখান থেকে ২০২৫-২৬ সালে ভারত ১৪০ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত অর্জন করেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে দুই দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্য বেড়েছে। বরং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দুই দেশের মোট পণ্য বাণিজ্য কমে ৮০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৮৭০ কোটি ডলার। অর্থাৎ আমদানি যতটা কমেছে, রফতানি বৃদ্ধির পরিমাণ তার তুলনায় কম।

    কানাডায় কী বিক্রি করছে ভারত?

    ভারতের কানাডা-রফতানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য হয়ে উঠেছে ওষুধ। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের মোট রফতানির প্রায় ১১ শতাংশ এসেছে ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য থেকে। ২০২১-২২ সালে এই হার ছিল ৮ শতাংশ। এ ছাড়াও অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, হিরে, মূল্যবান ধাতুর গয়না এবং ক্রাস্টেশিয়ান জাতীয় সামুদ্রিক খাদ্য—প্রতিটি পণ্যশ্রেণি ভারতের রফতানিতে প্রায় ৩ শতাংশ করে অবদান রেখেছে। অন্যদিকে, কানাডা থেকে ভারতের আমদানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ডাল ও অন্যান্য শুকনো শুঁটি জাতীয় খাদ্যশস্য। ২০২৫-২৬ সালে কানাডা থেকে ভারতের মোট আমদানির প্রায় ১৯ শতাংশ ছিল এই পণ্যগুলি। ২০২১-২২ সালে যা ছিল ১৩ শতাংশ। কানাডা থেকে বিমানের যন্ত্রাংশ ও মহাকাশযান-সংক্রান্ত পণ্যের অংশও বেড়েছে—৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে। পটাশিয়াম-ভিত্তিক সারের অংশ ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৮ শতাংশ। তবে কয়লার ক্ষেত্রে চিত্র উল্টো। ভারতের মোট কানাডিয় আমদানিতে কয়লার অংশ ২০২১-২২ সালে ১৫ শতাংশ থাকলেও ২০২৫-২৬ সালে তা কমে ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া তামার আকরিক ও কনসেনট্রেটের অংশ ছিল প্রায় ৪ শতাংশ।

    আমেরিকা-কানাডা শুল্কযুদ্ধ

    ভারত-কানাডা বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার আরেকটি কারণ হয়ে উঠতে পারে আমেরিকা ও কানাডার মধ্যে চলা শুল্ক সংঘাত। ২২ আগস্ট থেকে আমেরিকা কানাডার প্রায় ২৭৬০ কোটি ডলারের পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। পাল্টা হিসেবে কানাডাও ৮ সেপ্টেম্বর থেকে নির্দিষ্ট মার্কিন পণ্যের উপর ১৫, ২৫ এবং ৫০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছে। ইস্পাত, কৃষি সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, পাল্প ও কাগজ এবং ইলেকট্রনিক্স-সহ বিভিন্ন পণ্য এই শুল্কের আওতায় রয়েছে। ফলে মার্কিন পণ্য কানাডায় ব্যয়বহুল হয়ে উঠলে কানাডিয় আমদানিকারকরা বিকল্প সরবরাহকারীর সন্ধান করতে পারেন। সেক্ষেত্রে ভারতীয় সংস্থাগুলির সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। রুবিক্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বৃহৎ পণ্যশ্রেণিগুলিতে ভারত ইতিমধ্যেই ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কানাডায় প্রায় ১০০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। এর মধ্যে যন্ত্রপাতি ও মেকানিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্সের রফতানি ছিল প্রায় ৩৭৯.৪৪ মিলিয়ন ডলার। লোহা ও ইস্পাতজাত পণ্য থেকে এসেছে ২৯২.৫১ মিলিয়ন ডলার, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি থেকে ২২৬.০১ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া লোহা ও ইস্পাতের রফতানি ছিল ১০২.৪৩ মিলিয়ন ডলার এবং কাগজ ও পেপারবোর্ডের রফতানি প্রায় ৩৮ মিলিয়ন ডলার।

    ১০০ কোটি ডলারের সুযোগ অনিশ্চিত

    আমেরিকা-কানাডা শুল্ক সংঘাতের কারণে ভারতীয় রফতানিকারকদের সামনে সরাসরি ১০০ কোটি ডলারের নতুন বাজার খুলে যাবে—এমন নিশ্চয়তা এখনও নেই। কারণ, এই হিসেব করা হয়েছে পণ্যের বৃহৎ দুই-অঙ্কের হারমোনাইজড সিস্টেম (HS) ধরে। অন্যদিকে কানাডার পাল্টা শুল্ক প্রায় ৬২৯টি নির্দিষ্ট ট্যারিফ লাইনের উপর কার্যকর হবে। ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলি বাস্তবে কতটা লাভবান হবে তা নির্ভর করবে কোন পণ্য শুল্কের আওতায় পড়ছে, মার্কিন পণ্যের তুলনায় ভারতীয় পণ্যের মূল্য কতটা প্রতিযোগিতামূলক, ভারতের উৎপাদন ক্ষমতা, কানাডার চাহিদা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক বিধিনিষেধের উপর। তবে আমেরিকা-কানাডা শুল্ক সংঘাত এমন এক সময়ে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে, যখন ভারত ও কানাডা নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

    ভারত-কানাডা বাণিজ্য সম্পর্ক

    ভারত ও কানাডা (India-Canada Ties) দুই দেশ বর্তমানে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (Comprehensive Economic Partnership Agreement বা CEPA) নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। জুলাইয়ে তৃতীয় দফার আলোচনা হয়েছে। ২০২৬ সালের শেষের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে দুই দেশের। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত-কানাডা পণ্য ও পরিষেবা বাণিজ্য ৫০০০ কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, গত দুই বছরে ভারত-কানাডা বাণিজ্যে ভারতের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে বদলেছে। যে ভারত কিছুদিন আগেও কানাডার সঙ্গে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতিতে ছিল, এখন সেই ভারতই কানাডায় অনেক বেশি পণ্য বিক্রি করছে, আমদানি করছে তুলনামূলকভাবে কম। সিইপিএ এবং আন্তর্জাতিক শুল্ক-সমীকরণের পরিবর্তনের মধ্যে আগামী দিনে এই বাণিজ্য সম্পর্ক কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর।

LinkedIn
Share