Blog

  • Rajnath Singh: প্রতিরক্ষা খাতে ২.১২ লক্ষ কোটি টাকার অনুমোদন কেন্দ্রের! ৮২% কেনাকাটা দেশীয় সংস্থার কাছ থেকে

    Rajnath Singh: প্রতিরক্ষা খাতে ২.১২ লক্ষ কোটি টাকার অনুমোদন কেন্দ্রের! ৮২% কেনাকাটা দেশীয় সংস্থার কাছ থেকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে আরও এক বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। তিন বাহিনীর আধুনিকীকরণ ও যুদ্ধক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রায় ২.১২ লক্ষ কোটি টাকার মূলধনী সামরিক সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাবে প্রাথমিক অনুমোদন দিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই বিপুল অঙ্কের কেনাকাটার প্রায় ৮২ শতাংশই করা হবে ভারতীয় শিল্পসংস্থাগুলির কাছ থেকে। এর ফলে একদিকে যেমন ভারতীয় সেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনার সামরিক সক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পও বড়সড় উৎসাহ পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    সোমবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে বসে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল বা ডিএসি-র (DAC) বৈঠক। সেখানেই তিন বাহিনীর একাধিক সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি কেনার প্রস্তাবে Acceptance of Necessity (AoN) বা প্রয়োজনীয়তার প্রাথমিক প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রস্তাবগুলির আনুমানিক আর্থিক মূল্য প্রায় ২,১২,০০০ কোটি টাকা।

    স্থলসেনার জন্য আধুনিক কামান, হেলিকপ্টার ও আত্মঘাতী ড্রোন

    স্থলসীমান্তে অভিযান, দুর্গম এলাকায় সেনা চলাচল, নজরদারি এবং শত্রুপক্ষের আকাশপথে হামলা মোকাবিলার ক্ষমতা বাড়াতে ভারতীয় সেনার জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    অনুমোদিত সরঞ্জামগুলির মধ্যে রয়েছে হাই মোবিলিটি ভেহিকল (HMV), স্বচালিত ট্র্যাকড গান সিস্টেম, গান শট রেসপন্স সিস্টেম (GSRS), লাইট মাল্টি-রোল হেলিকপ্টার (LMRH), ভেরি শর্ট-রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (VSHORADS), প্ল্যাটফর্ম-ভিত্তিক কাউন্টার-আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (C-UAS), দূরপাল্লার আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম, নজরদারি ড্রোন, সমন্বিত নজরদারি ও আঘাত হানার ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার কামিকাজে ড্রোন সিস্টেম।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, উচ্চ গতিশীলতাসম্পন্ন যানগুলি দুর্গম ভূখণ্ডে সেনার চলাচল, রসদ সরবরাহ এবং অভিযানের সক্ষমতা বাড়াবে। অন্যদিকে, স্বচালিত ট্র্যাকড গান সিস্টেম যান্ত্রিক বাহিনীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কামানের গতিশীলতা ও গোলাবর্ষণের ক্ষমতা বাড়াবে। গান শট রেসপন্স সিস্টেমের মাধ্যমে সেনা আরও দ্রুত পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পাবে। যুদ্ধক্ষেত্রে কোথা থেকে গুলি চালানো হচ্ছে, সেই সংক্রান্ত তথ্য শনাক্ত করতে ও তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি বুঝতে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    ড্রোন হামলা মোকাবিলা ও নজরদারিতে বাড়তি জোর

    আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ছোট ড্রোন, মনুষ্যবিহীন আকাশযান এবং নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম প্রযুক্তির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই সেনার জন্য একাধিক ড্রোন ও ড্রোন-বিরোধী ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    ভেরি শর্ট-রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (VSHORADS) নতুন প্রজন্মের ছোট আকারের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় সাহায্য করবে। অন্যদিকে, কাউন্টার-আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (C-UAS) আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ট্যাঙ্কের সুরক্ষা ও টিকে থাকার ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

    এছাড়া নজরদারি ইউএভি, সমন্বিত নজরদারি ও আঘাত হানার ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার কামিকাজে ড্রোন সেনার শত্রুপক্ষের গতিবিধি শনাক্ত করা, লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আঘাত হানার ক্ষমতা বাড়াবে।

    বিশেষত, দূরপাল্লার ড্রোন ও সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থার সংযোজনের ফলে দূরবর্তী এলাকায় পরিস্থিতির উপর নজর রাখা এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও কার্যকর হতে পারে।

    সেনা ও বায়ুসেনার জন্য একসঙ্গে হেলিকপ্টার

    লাইট মাল্টি-রোল হেলিকপ্টার (LMRH) কেনার প্রস্তাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, এই হেলিকপ্টার ব্যবহার করবে ভারতীয় সেনা এবং ভারতীয় বায়ুসেনা—দুই বাহিনীই।

    পুনরীক্ষণ ও নজরদারি, যুদ্ধকালীন অভিযান, বিপদে পড়া সেনাকর্মীদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার এবং মানবিক সহায়তা ও বিপর্যয় মোকাবিলার মতো একাধিক কাজে এই হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে।

    দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল কিংবা যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত এমন এলাকায় সেনার কাছে দ্রুত পৌঁছনো, আহতদের উদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের হেলিকপ্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    নৌসেনার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা

    ভারতীয় নৌসেনার জন্য অ্যাক্টিভ অফবোর্ড ডিকয় সিস্টেম (AODS) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌ-সামরিক প্ল্যাটফর্ম কেনার প্রস্তাবেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    AODS-এর প্রধান উদ্দেশ্য হল শত্রুপক্ষের জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে নৌসেনার প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানো। এই ধরনের ডিকয় সিস্টেম শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্রকে আসল জাহাজ থেকে সরিয়ে অন্যদিকে আকৃষ্ট করার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। ফলে জাহাজের উপর সরাসরি আঘাতের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে এই প্রযুক্তি।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য, দেশীয় প্রযুক্তিতে নকশা ও নির্মাণ করা গুরুত্বপূর্ণ নৌ-সামরিক প্ল্যাটফর্মগুলি আধুনিক যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করবে এবং ভারতীয় নৌসেনার সামগ্রিক যুদ্ধক্ষমতা বাড়াবে।

    ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের সুরক্ষা এবং সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলার ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রযুক্তির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে।

    বায়ুসেনার জন্য হেলিকপ্টার, এয়ার ডিফেন্স ও আবহাওয়া রেডার

    ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য হেলিকপ্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অস্ত্রশস্ত্র এবং মোবাইল এক্স-ব্যান্ড ডপলার আবহাওয়া রেডার সিস্টেম কেনার প্রস্তাবেও প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    বিশেষ উপযোগিতার হেলিকপ্টারগুলি বায়ুসেনার গুরুত্বপূর্ণ বিমান পরিবহণের চাহিদা পূরণে সাহায্য করবে। সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণ, দুর্গম এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং বিভিন্ন অভিযানে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের হেলিকপ্টার কার্যকর হতে পারে।

    অন্যদিকে, মোবাইল এক্স-ব্যান্ড ডপলার আবহাওয়া রেডার সামনের সারির সামরিক এলাকাগুলিতে স্থানীয় আবহাওয়ার উচ্চ রেজোলিউশনের তথ্য সরবরাহ করবে। এর সাহায্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরও নির্ভুলভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

    সামরিক অভিযানে দৃশ্যমানতা, বৃষ্টিপাত, ঝড় এবং অন্যান্য আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই রেডার ব্যবস্থা বিমান অভিযান ও সামরিক পরিকল্পনায় সহায়ক হতে পারে।

    দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে বড় সুযোগ

    এই অনুমোদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলির একটি হল, মোট প্রস্তাবিত কেনাকাটার প্রায় ৮২ শতাংশ ভারতীয় শিল্পসংস্থাগুলির কাছ থেকে করা হবে। অর্থাৎ, প্রায় ২.১২ লক্ষ কোটি টাকার মোট প্রস্তাবিত ব্যয়ের বড় অংশ দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

    এর সম্ভাব্য প্রভাব একাধিক ক্ষেত্রে পড়তে পারে। প্রথমত, দেশীয় সংস্থাগুলির জন্য সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি উৎপাদনের বাজার সম্প্রসারিত হবে। দ্বিতীয়ত, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে গবেষণা, প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং উৎপাদন পরিকাঠামোয় বিনিয়োগের সুযোগ বাড়তে পারে। তৃতীয়ত, দেশীয় সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের জন্য নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

    তবে মনে রাখতে হবে, AoN বা Acceptance of Necessity চূড়ান্ত বরাত কিংবা সরঞ্জাম সরবরাহের সমান নয়। এটি কেনাকাটার প্রয়োজনীয়তার প্রাথমিক অনুমোদন। এর পরে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুযায়ী দরপত্র, চুক্তি, উৎপাদন এবং সরবরাহের মতো একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

    সব মিলিয়ে, তিন বাহিনীর জন্য এই বিপুল অঙ্কের প্রস্তাবিত সামরিক কেনাকাটা ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দেশীয় শিল্পের অংশগ্রহণের উপর জোর দেওয়ার ফলে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিরক্ষা উৎপাদনে স্বনির্ভরতার লক্ষ্যও আরও গতি পেতে পারে। তবে বাস্তব সাফল্য নির্ভর করবে অনুমোদিত প্রস্তাবগুলি কত দ্রুত চুক্তি, উৎপাদন ও কার্যকর সামরিক ব্যবহারের পর্যায়ে পৌঁছয়, তার উপর।

  • SIR: এসআইআর-এর তিন নির্দেশই সর্বসম্মত! ফর্ম ৬-এ কোনও সংশোধন হয়নি, সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা নির্বাচন কমিশনের

    SIR: এসআইআর-এর তিন নির্দেশই সর্বসম্মত! ফর্ম ৬-এ কোনও সংশোধন হয়নি, সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা নির্বাচন কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে জারি করা এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত তিনটি নির্দেশই সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছিল বলে সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় দাবি করেছে কমিশন। একই সঙ্গে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ব্যবহৃত ফর্ম-৬ (Form 6)-এ কোনও সংশোধন করা হয়নি বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার রাতে সুপ্রিম কোর্টে এই হলফনামা জমা দেয় নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ তুলে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার জবাবে এই বক্তব্য পেশ করা হয়েছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩.৩৬ কোটি নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তগুলির সম্পর্ক রয়েছে। উপনির্বাচন কমিশনারের স্বাক্ষরিত এই যৌথ হলফনামাটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং দুই নির্বাচন কমিশনারের তরফে জমা দেওয়া হয়েছে। আজ, মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত এই মামলা এবং অন্যান্য আবেদনগুলির শুনানি হওয়ার কথা।

    এসআইআর-এর সিদ্ধান্ত নিয়ে কী জানাল কমিশন?

    নির্বাচন কমিশনের দাবি, ২০২৫ সালের ২৪ জুন, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর এবং ২০২৬ সালের ১৪ মে জারি করা SIR সংক্রান্ত নির্দেশগুলি যথাযথ অনুমোদন নিয়েই কার্যকর করা হয়েছিল। কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে হলফনামায় বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের মতামত ও পরামর্শ বিবেচনা করার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোনও ক্ষেত্রে সর্বসম্মতিক্রমে, আবার কোনও ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে। হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, কোনও নির্বাচন কমিশনারের পর্যবেক্ষণ বা প্রশ্নকে একা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য করা যায় না। ২০২৩ সালের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের নিয়ে তৈরি (Appointment, Conditions of Service and Term of Office) আইনের ১৮ নম্বর ধারার উল্লেখ করে এই বক্তব্য পেশ করেছে কমিশন। জরুরি পরিস্থিতিতে কমিশনের সদস্যদের কাছ থেকে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অনুমোদন নেওয়া হয় এবং পরে তা সংশ্লিষ্ট নথিতে নথিভুক্ত করা হয় বলেও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নির্বাচন কমিশন।

    ফর্ম ৬ সংশোধন নিয়ে কী দাবি কমিশনের?

    এসআইআর বিতর্কে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ ছিল, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন ছাড়াই নির্বাচন কমিশন ফর্ম ৬ (Form 6)-এ পরিবর্তন এনেছে। এই ফর্মের মাধ্যমে নতুন ভোটাররা ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করেন। হলফনামায় কমিশনের দাবি, ফর্ম ৬-এ কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। বরং ভোটারদের দেওয়া তথ্য যাচাই এবং পূর্ববর্তী ভোটার তালিকার সঙ্গে তাঁদের যোগসূত্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি পৃথক ঘোষণাপত্র বা ডিক্লারেশন ফর্ম চালু করা হয়েছিল। এই ঘোষণাপত্রে আবেদনকারীরা নিজেদের অথবা বাবা-মা কিংবা দাদু-দিদা বা ঠাকুরদা-ঠাকুমার পূর্ববর্তী নিবিড় সংশোধনের সময়কার ভোটার তালিকায় থাকা তথ্য দিতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট যোগসূত্রের তথ্য পাওয়া না গেলে নির্ধারিত সহায়ক নথি জমা দিতে হতে পারে। বিহারে এসআইআর পরিচালনার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ঘোষণাপত্রের কাঠামো সহজ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে কমিশন। এর উদ্দেশ্য ছিল আবেদনকারীদের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং ভোটার তালিকার সঙ্গে তাঁদের যোগসূত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া দ্রুত করা। তবে অনলাইনে ফর্ম ৬ পূরণের সময় ঘোষণাপত্রটি যেভাবে দেখানো হচ্ছিল, তাতে মনে হতে পারে যে মূল ফর্মটিতেই সংশোধন আনা হয়েছে—হলফনামায় এই বিষয়টি স্বীকার করেছে কমিশন। এই বিভ্রান্তি দূর করতে ২০২৬ সালের ২১ অক্টোবর জারি করা নির্দেশের মাধ্যমে অনলাইনে ফর্ম ৬ পূরণের পদ্ধতি পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন ঘোষণাপত্রটি পৃথক অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে, যেমনটি কাগজে পূরণ করা ফর্মের ক্ষেত্রে করা হয়। এর ফলে আবেদনকারীদের একবারই ওটিপি এবং ই-সই ব্যবহার করতে হবে বলে আগে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে কমিশন।

    ভোটারদের নাম বাদ পড়া আটকাতে কী ব্যবস্থা?

    এসআইআর-এর কারণে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা নিয়েও নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দাবি, প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা রাখা হয়েছে। খসড়া ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম নেই এবং যাঁদের তথ্য পূর্ববর্তী ভোটার তালিকার সঙ্গে মেলানো যাচ্ছে না, তাঁদের ক্ষেত্রে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ERO) নোটিস দিতে হবে। এ ছাড়া, বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-রা সংশ্লিষ্ট ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করবেন এবং তা যাচাইয়ের জন্য আপলোড করবেন। এই ধরনের ভোটারদের সশরীরে শুনানিতে হাজির হওয়ার প্রয়োজন হবে না বলেও জানিয়েছে কমিশন। প্রয়োজন অনুযায়ী অনলাইন ব্যবস্থার পাশাপাশি গৃহহীন ব্যক্তি এবং নাইট শেল্টারে বসবাসকারীদের মতো অসহায় গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ শিবিরের ব্যবস্থাও করা হবে।

    আধার কার্ডের প্রসঙ্গে কমিশনের বক্তব্য

    এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও যোগ্য ব্যক্তিরা ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানাতে পারবেন। তবে সেই আবেদন সংশ্লিষ্ট নিয়মের অধীন থাকবে। আধার কার্ডের প্রসঙ্গে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, আধার নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। এটি শুধুমাত্র পরিচয় যাচাইয়ের নথি হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

    ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে কী বক্তব্য?

    ইসিআইনেট (ECINet) ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও হলফনামায় বক্তব্য রেখেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দাবি, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (Electoral Registration Officer)-এর নির্দেশ ছাড়া ইসিআইনেট-এ কোনও ভোটারের নাম যোগ করা, বাদ দেওয়া বা পরিবর্তন করা হয় না। এই ব্যবস্থার আইন মেনে চলা নিশ্চিত করতে ১৪ অক্টোবর একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে আইআইটি মুম্বই এবং আইআইএসসি বেঙ্গালুরুর দু’জন স্বাধীন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন বলে আদালতকে জানিয়েছে কমিশন।

    গোয়ার ৯৭ ভোটার এবং বাংলার আবেদন নিয়ে বক্তব্য

    গোয়ায় ৯৭ জন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার বিষয়টিও হলফনামায় উল্লেখ করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, তাঁদের মধ্যে ৮৮ জন ইতিমধ্যেই ফর্ম-৬ জমা দিয়েছেন এবং তাঁদের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। ছ’জন দেশের বাইরে রয়েছেন। বাকি তিনজন পর্তুগিজ পাসপোর্টধারী অথবা বিদেশি নাগরিক বলে জানানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দায়ের করা আপিল প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের আধিকারিকরা ওই আবেদনগুলি দায়ের করেছিলেন। বিষয়গুলি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরের নজরে আনা হয়নি বলেও হলফনামায় দাবি করা হয়েছে।

    সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উল্লেখ কমিশনের

    ভোটারদের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নথি নির্ধারণ করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে হলফনামায়। এ ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের চলতি বছরের মে মাসের রায়ের উল্লেখ করেছে কমিশন। তাদের বক্তব্য, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখা এবং আইন মেনে চলার উদ্দেশ্যে যুক্তিসংগত নথিপত্র চাওয়া যেতে পারে।

  • Gaighata Encounter: আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকেই পরপর গুলি, আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলিতে মৃত্যু গাইঘাটায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ-খুনে ধৃতের

    Gaighata Encounter: আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকেই পরপর গুলি, আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলিতে মৃত্যু গাইঘাটায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ-খুনে ধৃতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নারী নির্যাতনের মতো ঘৃণ্য অপরাধে কোনও রকম আপস নয়, অপরাধীদের মনে আইনের ভয় থাকা জরুরি—এই বার্তাই কি আরও একবার সামনে এল গাইঘাটার ঘটনায়? একাদশ শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ধৃত ২৩ বছরের প্রহ্লাদ দাসের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের গুলিতে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পুনর্নির্মাণ শেষে ফেরার পথে এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায় অভিযুক্ত। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হন পুলিশকর্মীরা।

    পুলিশের দাবি, আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে গুলি চালায় অভিযুক্ত

    গত রবিবার, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর সকালে গাইঘাটা থানা এলাকায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করে। সে নির্যাতিতারই এক আত্মীয় বলে জানা গিয়েছে।

    সোমবার রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পুলিশ সূত্রের দাবি, ফেরার পথে প্রস্রাব করার কথা বলে গাড়ি থামাতে বলে প্রহ্লাদ। গাড়ি থেকে নামার পর এক পুলিশকর্মীর হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি চালায় সে। প্রাণ বাঁচাতে এক পুলিশকর্মী পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেন। ঘটনায় এক পুলিশকর্মী আহত হন বলে খবর।

    এরপর আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায় বলে দাবি। তাতে প্রহ্লাদের পায়ে ও শরীরের একাধিক জায়গায় গুলি লাগে। পরে চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

    আগেই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী

    নারী সুরক্ষার প্রশ্নে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর বার্তা ছিল, ‘সকালে জমা, বিকেলে খরচ’। অর্থাৎ, অপরাধের ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপের ক্ষেত্রে কোনও ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না, এমনই বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। নারী নির্যাতনের ঘটনায় দোষীদের রেয়াত করা হবে না এবং আইন ভাঙলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলেও স্পষ্ট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। গাইঘাটায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ধৃতের পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর ঘটনা সেই বার্তাকেই ফের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

    ‘পুলিশকে কিছু অপ্রিয় কাজ করতে হবে’, বলছেন দিলীপ ঘোষ

    গাইঘাটার ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে দিলীপ ঘোষও অপরাধীদের মনে ভয় তৈরি করা এবং পুলিশের উপর মানুষের আস্থা ফেরানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। আইন অমান্য করলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।

    দিলীপ ঘোষ বলেন, “এর আগেও ঘটনা ঘটেছে। খুনি পালাচ্ছিল। এনকাউন্টার হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনাতে। এখানেও হয়েছে। বিচারের সামনে সবাইকে আনতে হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। কেউ যদি আইন অমান্য করে, তাহলে তার সঙ্গে এরকমই হবে।”

    পুলিশের উপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পুলিশকে মানুষকে ন্যায় দিতে হবে। মানুষ তাঁদের উপর ভরসা রাখতে ভুলে গিয়েছে। ভরসা ফিরিয়ে আনতে গেলে পুলিশকে কিছু অপ্রিয় কাজ করতে হবে।”

    তাঁর আরও বক্তব্য, অপরাধের পুনরাবৃত্তি রুখতে সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধীদের শাস্তির দৃষ্টান্ত তৈরি করা জরুরি। দিলীপ ঘোষ বলেন, “ভয় তো এত সহজে কেউ পায় না। কারণ আইন-কানুন ব্যবস্থা বহু বছর বাংলায় নেই। কিন্তু আইন-কানুনের রাজত্ব যদি প্রতিষ্ঠা হয়, তাহলে সবাই ভয় পাবে। সতর্ক হবে। দু’টো জিনিস করতে হবে। যেমন সমাজে সুবিচার আনা, পরিবেশ ঠিক করা। যাতে লোকে এই ধরনের কাজ না করে। আর করলে তার যে সাজা হবে, তা যেন উদাহরণ হিসেবে থাকে।”

    বারুইপুরের ঘটনারও পুনরাবৃত্তি?

    গাইঘাটার আগে বারুইপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের মামলাতেও পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। পুলিশের দাবি ছিল, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে সে। পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগও ওঠে। এরপর আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে মৃত্যু হয় প্রভাসের। গাইঘাটার ঘটনাতেও পুলিশের বক্তব্য, অভিযুক্তের গুলির মুখে আত্মরক্ষার্থেই পাল্টা গুলি চালানো হয়েছে।

  • Israel Election 2026: ইজরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জয়-পরাজয় নয়াদিল্লি-তেল আভিভ সম্পর্কে কতটা প্রভাব ফেলবে? বিশ্লেষণ

    Israel Election 2026: ইজরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জয়-পরাজয় নয়াদিল্লি-তেল আভিভ সম্পর্কে কতটা প্রভাব ফেলবে? বিশ্লেষণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েলে ২৬তম নেসেট (সংসদ) নির্বাচনের (Israel Election 2026) দিকে নজর রাখছে নয়াদিল্লি। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতায় ফিরবেন, নাকি বিরোধীদের হাত ধরে আসবে নতুন সরকার—এই প্রশ্নের মধ্যেই উঠে আসছে ভারত-ইজরায়েল কৌশলগত সম্পর্কের (India Israel Relation) ভবিষ্যৎ। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে দুই দেশের সম্পর্ক আগামী দিনে কোন পথে এগোবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬-এ ইজরায়েলে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এবং ইজরায়েলের প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট-সহ একাধিক বিরোধী নেতা। এই নির্বাচনের ফলাফলের উপর নির্ভর করবে ইজরায়েলের ১২০ সদস্যের নেসেটের গঠন এবং পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া।

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে কি বদল আসবে?

    ভারতের কাছে ইজরায়েল একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সহযোগী দেশ। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা থেকে শুরু করে কৃষি, জল ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের মতো একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা রয়েছে। ফলে ইজরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে কি না, তা নয়াদিল্লির কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নির্বাচনের আগে প্রকাশিত বিভিন্ন সমীক্ষার উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কোনও একটি দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে সরকার গঠনের জন্য একাধিক দলের মধ্যে জোট-আলোচনার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। নতুন সরকারের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দৃষ্টিভঙ্গি ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কের কিছু ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন হলেই যে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড়সড় পরিবর্তন আসবে, এমনটা মনে করছেন না সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। কারণ, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতাই এই সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি।

    অটুট থাকবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক

    ইজরায়েলের নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় থাকার বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইজরায়েলি দূতাবাস। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইজরায়েলি দূতাবাসের মুখপাত্র মিশেল সিরোটা বলেন, “কে নির্বাচিত হবেন, তা-নির্বিশেষে ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্কের সামান্যতম পরিবর্তনও হবে না।” তিনি আরও জানান, নির্বাচনের মাধ্যমে যে দলই পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব পাক, তার সঙ্গেই কাজ করতে প্রস্তুত ইজরায়েলি দূতাবাস। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইজরায়েলের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কোনও নির্দিষ্ট প্রধানমন্ত্রী বা রাজনৈতিক দলের মেয়াদের উপর নির্ভরশীল নয়।

    মোদি-নেতানিয়াহু সম্পর্কের পর ভবিষ্যৎ সমীকরণ কী?

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর আমলে ভারত ও ইজরায়েলের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, কৃষি এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠেছে। তবে ইজরায়েলে নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিলে কূটনৈতিক অগ্রাধিকার ও দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের ধরনে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সমীকরণও দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগে ভূমিকা নিতে পারে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইজরায়েলি লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যালেক পোলার্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ভারত ও ইজরায়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী এলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিই থাকবে সহযোগিতার মূল ভিত্তি

    ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, কৃষি উৎপাদন, জল ব্যবস্থাপনা এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। ইজরায়েলের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে এই ক্ষেত্রগুলিতে চলমান সহযোগিতা বজায় রাখা ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নতুন সরকার পশ্চিম এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইজরায়েলের অবস্থান কীভাবে নির্ধারণ করে, সেদিকেও নজর রাখবে নয়াদিল্লি। সব মিলিয়ে, ইজরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জয় বা পরাজয় দুই দেশের রাজনৈতিক যোগাযোগের ধরনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

    ইজরায়েলে নির্বাচনী লড়াই

    ইজরায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্বে থাকা নেতা নেতানিয়াহু আরও একবার ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করছেন। যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে সামনে রেখেই তিনি নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। তবে তাঁর লিকুদ পার্টি এবং দক্ষিণপন্থী সহযোগী দলগুলিকে প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলির চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। ইজরায়েলের ভোটের আগে ফের এক বার ‘বন্ধু’ বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর হয়ে প্রচারে নেমেছেন ট্রাম্প। আজ, মঙ্গলবার ইজরায়েলে নির্বাচন রয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে ইজরায়েলি ভূখণ্ডে হামাসের হামলার পর এই প্রথম নির্বাচন হচ্ছে সে দেশে।

    ইজরায়েলি দূতাবাসের বার্তা

    ভারতের সঙ্গে ইজরায়েলের দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ক সম্পূর্ণ অটুট রয়েছে এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের ফলাফলের কারণে এতে বিন্দুমাত্র কোনো পরিবর্তন আসবে না। ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলি দূতাবাসের মুখপাত্র মিশেল সিরোটা (Mishelle Sirota) ইজরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের আগেই জানান, ইজরায়েলের অভ্যন্তরে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যেই ভারতকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার ব্যাপারে একটি দৃঢ় ও অভিন্ন ঐক্যমত্য বা ‘ক্রস-পার্টি কনসেনসাস’ রয়েছে। তাই জরায়েলে নির্বাচনের মাধ্যমে যে দলই সরকার গঠন করুক বা যে নেতাই প্রধানমন্ত্রী হোন না কেন, ভারতের সাথে দীর্ঘস্থায়ী ও গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে তার কোনো প্রভাব পড়বে না। ১৯৯২ সালে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে আজ পর্যন্ত একাধিকবার সরকার এবং জোটের পরিবর্তন হলেও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার পরিধি কেবল বৃদ্ধিই পেয়েছে। বর্তমানে ভারত ও ইজরায়েলের এই অংশীদারিত্ব শুধু কূটনীতিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা প্রতিরক্ষা, উন্নত প্রযুক্তি, কৃষি ও জল ব্যবস্থাপনার মতো একাধিক ক্ষেত্রে একটি সুদৃঢ় ভিত্তি লাভ করেছে।

  • Suvendu Adhikari: ‘ধর্ম যার যার, ধর্ম রক্ষার দায়িত্বও তার তার, এটাই নতুন পশ্চিমবঙ্গ’, বিজয়া সম্মিলনীতে বার্তা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘ধর্ম যার যার, ধর্ম রক্ষার দায়িত্বও তার তার, এটাই নতুন পশ্চিমবঙ্গ’, বিজয়া সম্মিলনীতে বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। কিন্তু ধর্ম যার যার, ধর্ম রক্ষা করার দায়িত্বও তার তার।” পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজো-পরবর্তী বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে এই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, “এটাই নতুন পশ্চিমবঙ্গ, পরিবর্তনের পশ্চিমবঙ্গ।” সোমবার কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে রাজ্য সরকারের আয়োজিত বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একদিকে যেমন রাজ্যের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও উৎসবের পরিবেশের কথা তুলে ধরেন, অন্যদিকে চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন তিনি। আগামী বছরের দুর্গাপুজোর আগে তদন্ত কমিটির সুপারিশ রাজ্যের সমস্ত পুজো কমিটির কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    ‘ধর্ম যার যার, ধর্ম রক্ষার দায়িত্বও তার তার’

    বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে ধর্মীয় স্বাধীনতা, উৎসব পালন এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, ধর্মীয় পরিচয় প্রত্যেকের নিজস্ব বিষয় হলেও ধর্ম রক্ষার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজের। এ বার পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এই বিষয়টি বুঝেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “ধর্ম যার যার উৎসব সবার—এটা তো ঘটনা। কিন্তু ধর্ম যার যার, ধর্ম রক্ষা করার দায়িত্বও তার তার। এটা এবারে পশ্চিমবঙ্গের সকলে বুঝেছেন। এটাই নতুন পশ্চিমবঙ্গ, পরিবর্তনের পশ্চিমবঙ্গ।”

    দুর্গাপুজোয় মাইক ব্যবহারের অনুমতি এবং প্রতিমা বিসর্জনের রুট নিয়ন্ত্রণের প্রসঙ্গেও অতীতের প্রশাসনিক ব্যবস্থার সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় দুর্গাপুজোর মাইক বাজানো নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হত। আলিপুরদুয়ারের ভালাকাটা, মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার মহেশপুর এবং কলকাতার উপকণ্ঠে গার্ডেনরিচের মতো এলাকার উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। বিসর্জনের রুট নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “আমি কোনও সম্প্রদায়কে দায়ী করি না। আমি দায়ী করি বিগত দিনে যারা প্রশাসনে ছিলেন তাঁদের। তাঁরা আত্মসমর্পণ করতেন।”

    চোরবাগান দুর্ঘটনা ‘হিউম্যান এরর’, নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস

    বক্তব্যের শুরুতেই চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “চোরবাগানের ঘটনা আমাদের মন, হৃদয় একেবারে নাড়িয়ে দিয়েছে।” দুর্ঘটনাটিকে ‘হিউম্যান এরর’ বা মানুষের ভুল বলে উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তবে ঠিক কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং কারা দায়ী, তা নির্ধারণের দায়িত্ব তদন্ত কমিটির উপরেই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির পরামর্শে এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকার নিজেরাই তদন্ত না করে নিরপেক্ষ তদন্তের দায়িত্ব অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির হাতে তুলে দিয়েছে বলে জানান তিনি।

    তদন্তে কোনও পক্ষপাতের জায়গা থাকবে না বলে আশ্বাস দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আমি ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব আনব না। আমি ছোট্ট ঘটনা বলব না। আমি বলব, যাদেরই ভুলে এই ঘটনা ঘটে থাকুক না কেন, তার মূল্যায়ন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ম্যাডাম মহোদয়া করবেন। ওই ঘটনার জন্য দায়ী কাউকে আড়াল করবে না সরকার।”

    তদন্ত কমিটির সুপারিশ শুধু প্রকাশ্যে আনাই নয়, আগামী বছরের দুর্গাপুজোর আগে প্রচারপত্রের মাধ্যমে রাজ্যের সমস্ত পুজো কমিটির কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে পুজোর আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    আহত ২৫ জনের পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্য

    চোরবাগানের দুর্ঘটনায় আহত ২৫ জনের পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। নিহতদের পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জানান তিনি। দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালের পরিষেবা নেওয়ার প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনও অহঙ্কারকে গুরুত্ব না দিয়ে উন্নত পরিষেবা নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার ছিল।

    এ দিনের বিজয়া সম্মিলনীতে দুর্ঘটনার কারণে শোকের আবহ বজায় ছিল। বাতিল করা হয় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের লোকসংস্কৃতিকে একই মঞ্চে তুলে ধরার পরিকল্পনাও সংক্ষিপ্ত করা হয়।চোরবাগানের ঘটনায় বিহারের মুজফফরপুরের দুই বাসিন্দার মৃত্যুর প্রসঙ্গও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রতিমন্ত্রী উমেশ রায়ের নেতৃত্বে সরকারি প্রতিনিধি দল সেখানে যাওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।

    রাজ্যে প্রায় ৬৬ হাজার দুর্গাপুজো, শান্তিপূর্ণ উৎসবের দাবি

    দুর্গাপুজোর সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী জানান, এ বছর রাজ্যে ৫৮ হাজার অনুমোদিত দুর্গাপুজো হয়েছে। বাড়ি এবং মঠ-মিশনের পুজো যুক্ত করলে মোট সংখ্যা প্রায় ৬৬ হাজার। চোরবাগানের দুর্ঘটনা বাদ দিলে রাজ্যের বাকি দুর্গাপুজোগুলি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    সোমবারের অনুষ্ঠানে কলকাতা, হাওড়া, চন্দননগর, বিধাননগর ও ব্যারাকপুরের প্রায় ছ’হাজার পুজো কমিটির প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সামনে আগামী দিনের উৎসব আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সতর্কতা ও নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

    কালীপুজো, ছটপুজো ঘিরে আগাম প্রস্তুতি

    দুর্গাপুজো শেষ হলেও রাজ্যে একের পর এক উৎসব রয়েছে। সামনে কালীপুজো, দীপাবলি, ছটপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো ও কার্তিক পুজো। এই উৎসবগুলিকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    বিশেষ করে ছটপুজোয় বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে আগাম প্রস্তুতির উপর জোর দেন তিনি। আগামী ২৮ অক্টোবর সরকারি অফিস খোলার পর উৎসবগুলির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষ বৈঠক হবে বলে জানান শুভেন্দু।

    চোরবাগানের দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও বড় জমায়েতগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখার বার্তাই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    আন্তর্জাতিক মানে গঙ্গাসাগর মেলা, সামনে ‘ওয়ার্ল্ড এনার্জি উইক’

    গঙ্গাসাগর মেলাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও এ দিনের সভায় জানান মুখ্যমন্ত্রী। বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগমের কথা মাথায় রেখে মেলার আয়োজন ও ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার উপর গুরুত্ব দেন তিনি।

    পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব, প্রবাসী ভারতীয় সম্মেলন এবং ‘ওয়ার্ল্ড এনার্জি উইক’-এর মতো আসন্ন কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন শুভেন্দু। আগামী ২৭ জানুয়ারি কলকাতায় ‘ওয়ার্ল্ড এনার্জি উইক’ আয়োজনের প্রসঙ্গ তুলে বড় কর্মসূচিগুলির প্রস্তুতি যথাযথভাবে সম্পন্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

    এ দিনের অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর, রাজ্যের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা মিঠুন চক্রবর্তী, পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ ওরফে কার্তিক মহারাজ, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

    চোরবাগান দুর্ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং আগামী বছরের দুর্গাপুজোর আগে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সুপারিশগুলি সমস্ত পুজো কমিটির কাছে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এ দিনের সভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ধর্ম রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যও রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

  • India Polio-Free Status: পোলিওমুক্ত ভারত, তবুও কাটেনি বিপদ! কোন ৫টি সতর্কতা শিশুদের জন্য জরুরি?

    India Polio-Free Status: পোলিওমুক্ত ভারত, তবুও কাটেনি বিপদ! কোন ৫টি সতর্কতা শিশুদের জন্য জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    পোলিও মুক্ত দেশ হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু তারপরেও পুরোপুরি বিপদ মুক্ত নয় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাই সাবধানতা এবং সচেতনতা অবশ্যই নিতে হবে। ওয়ার্ল্ড পোলিও ডে উপলক্ষে দেশজুড়ে একাধিক সচেতনতা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভারত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পোলিওমুক্ত দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু পোলিওমুক্ত হওয়া মানেই পোলিওর ঝুঁকি চিরতরে শেষ হয়ে যাওয়া নয়। যত দিন বিশ্বের অন্য কোথাও পোলিও ভাইরাসের সংক্রমণ থাকবে, তত দিন ভারতেও বিদেশ থেকে ভাইরাস প্রবেশের আশঙ্কা এবং টিকাবিহীন শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকবে।
    বিশেষ করে শিশুদের সম্পূর্ণ টিকাকরণ, নিয়মিত নজরদারি এবং পোলিও সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতনতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

    ভারত পোলিওমুক্ত হলেও ঝুঁকি কোথায়?

    বিদেশ থেকে ভাইরাসের প্রবেশ!

    পোলিও মুক্ত হলেও পোলিও-র বিপদ কমেনি। কারণ বিদেশ থেকে পোলিও-র ভাইরাস সংক্রমণ হতেই পারে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে প্রচুর পোলিও ভাইরাসের সংক্রমণ এখনও রয়েছে। আন্তর্জাতিক যাতায়াতের মাধ্যমে ভাইরাস অন্য দেশেও পৌঁছতে পারে।

    টিকাবিহীন শিশুদের ঝুঁকি

    কোনও এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক শিশু টিকা না পেলে ভাইরাস ছড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। তাই শিশুদের ঠিকমতো টিকা দেওয়া হচ্ছে কিনা সেদিকে নজর দিতে হবে। বিশেষত সদ্যোজাতেরা যাতে কোনো টিকার ডোজ থেকে বাদ না পড়ে, সেদিকে নজর দিতে হবে।

    ওয়ার্ল্ড পোলিও ডে উপলক্ষে কী বিশেষ বার্তা?

    এ বছরে ওয়ার্ল্ড পোলিও ডে- উপলক্ষে বিশেষ ভাবে বলা হচ্ছে, পোলিও রুখতে একটি দিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ! অর্থাৎ, টিকা করণের দিন সবচেয়ে জরুরি। একদিন পোলিও টিকা করণ পোলিও বিপদ অনেকটাই কমিয়ে দেবে। তাই এ বছরের বার্তা, “One day, one focus, ending polio for good: Together let us build a polio-free future.” অর্থাৎ, একটি দিন, একটি লক্ষ্য—চিরতরে পোলিও নির্মূল। এবছর প্রচারের মূল লক্ষ্য হলো, বিশ্ব থেকে পোলিও সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত টিকাকরণ, জনসচেতনতা ও নজরদারি অব্যাহত রাখা কতখানি প্রয়োজন, সেদিকে নজর দেওয়া।

    পোলিও রুখতে কোন কোন দিকে বাড়তি নজরদারি জরুরি?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, পোলিও ভাইরাসের বিপদ কমাতে কয়েকটি দিকে বাড়তি সতর্কতা ও নজরদারি জরুরি।

    পালস পোলিও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ!

    নিয়মিত টিকা নেওয়া থাকলেও সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী পালস পোলিও অভিযানে শিশুকে নিয়ে যেতে হবে। অভিযানের অতিরিক্ত ডোজ এবং নিয়মিত টিকাকরণ পরস্পরের বিকল্প নয়।

    প্রান্তিক গোষ্ঠী ও পরিযায়ী পরিবারের কাছে টিকাকরণ কর্মসূচি পৌঁছনো!

    পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবার, বস্তি, দুর্গম এলাকা, নবজাতক এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত শিশুদের টিকাকরণে বিশেষ নজর প্রয়োজন। বিশেষত পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাস করেন। সেই শিশুদের নিয়মিত টিকাকরণ হচ্ছে কিনা, সেদিকে বাড়তি নজর রাখতে হবে। কোনো ভাবেই যাতে পোলিও-র ডোজ বাদ না পড়ে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

    সংক্রমণের দ্রুত শনাক্তকরণ

    স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে পোলিও-সদৃশ উপসর্গ, বিশেষত হঠাৎ হাত-পা দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়ার ঘটনা দ্রুত রিপোর্ট করতে হবে। মল পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় এবং পরিবেশগত নজরদারিও গুরুত্বপূর্ণ।

    অভিভাবকদের জন্য কোন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি সহজ বিষয়ে নজর রাখলেই সন্তানের পোলিও সংক্রমণের ঝুঁকি নিশ্চিহ্ন করা যাবে। তাই পোলিও রুখতে চিকিৎসকদের কিছু বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—

    • ● শিশুর টিকাকরণের কার্ড দেখে সমস্ত ডোজ সম্পূর্ণ হয়েছে কি না যাচাই করতে হবে।
    • ● সরকারি পালস পোলিও অভিযানের ঘোষণা অনুসরণ করতে হবে। তাহলে টিকার ডোজ বাদ পড়ার ঝুঁকি থাকবে না।
    • ● শিশুর টিকা বাদ পড়লে পরবর্তী সুযোগের জন্য অপেক্ষা না করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে।
    • ● পোলিওমুক্ত দেশ বলে টিকা বন্ধ করলে চলবে না বা ঝুঁকিকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না।
    • ● শিশুর হঠাৎ হাত-পা দুর্বল হয়ে যাওয়া বা অবশ হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। বিশেষত সন্তানের বয়স পাঁচ বছরের কম হলে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন।
  • Neville Roy Singham Row: নেভিল রয় সিংহাম বিতর্ক! ভারতে ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর অভিযোগে কেন মার্কিন ধনকুবেরকে ঘিরে রাজনৈতিক শোরগোল?

    Neville Roy Singham Row: নেভিল রয় সিংহাম বিতর্ক! ভারতে ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর অভিযোগে কেন মার্কিন ধনকুবেরকে ঘিরে রাজনৈতিক শোরগোল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা নেভিল রয় সিংহামের নাম সামনে এনে বিজেপির অভিযোগ, আন্তর্জাতিক কর্মী সংগঠনগুলির একটি নেটওয়ার্ক ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এই বিতর্কে কংগ্রেস, বিরোধী নেতাদের বিদেশি যোগাযোগ এবং বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রসঙ্গও তুলে ধরেছে গেরুয়া শিবির। সম্প্রতি বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে সাংবাদিক বৈঠকে নেভিল রয় সিংহামকে ঘিরে একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্কের অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে রাহুল গান্ধী, ক্রিপ্টোকারেন্সি, বিটকয়েন, অনলাইন জুয়া এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলির প্রসঙ্গ। বিজেপির দাবি, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত কিছু সংগঠন ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে।

    কে এই নেভিল রয় সিংহাম?

    নেভিল রয় সিংহাম একজন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং আন্তর্জাতিক বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিচিত অর্থদাতা। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শদাতা সংস্থা থট ওয়ার্কস (Thoughtworks)-এর প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৭ সালে প্রাইভেট ইক্যুইটি সংস্থার কাছে প্রায় ৭৮৫ মিলিয়ন ডলারে সংস্থাটি বিক্রি করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সিংহাম নিউ ইয়র্কভিত্তিক বামপন্থী অলাভজনক সংগঠন দ্য পিপলস ফোরাম (The People’s Forum)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থদাতা হিসেবেও পরিচিত। তাঁর স্ত্রী জোডি ইভান্স যুদ্ধবিরোধী সংগঠন কোডপিঙ্ক (CODEPINK)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। সংস্থা বিক্রির পর সিংহাম আন্তর্জাতিক স্তরে বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক প্রচার সংগঠন এবং থিঙ্কট্যাঙ্ককে অর্থসাহায্য করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কেন্দ্র সাংহাইয়ে সরিয়ে নেওয়ার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে। এই অর্থসাহায্য এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বিশেষ করে চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের পরিসরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। তবে সিংহম চিন সরকারের নির্দেশে কাজ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    কী এই ‘রেজিম চেঞ্জ’ অভিযোগ?

    বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, বিভিন্ন দেশের কিছু রাজনৈতিক ও কর্মী সংগঠন প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রচার এবং প্রসার ঘটাতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তাদের অভিযোগ, এই ধরনের কার্যকলাপ ভারতের নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে। বিজেপি মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারী ‘Global Chaos Inc Grows to 101 Groups’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করেছেন। ওই প্রতিবেদনে ১৩টি দেশের ১০১টি সংগঠনের একটি নেটওয়ার্কের কথা বলা হয়েছে, যারা বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রচার, সংগঠন বা প্রসারে ভূমিকা রাখছে বলে অভিযোগ। বিজেপির তরফে ভারত, ফ্রান্স, স্পেন এবং আলবেনিয়ায় প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি সিংহামের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দাবি করা কিছু সংগঠনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলির সঙ্গে বিরোধী নেতাদের যোগাযোগ এবং ভারতের বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে বিভিন্ন দেশের প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্যে যোগসূত্র থাকার দাবি থেকেই ভারতে সরকার পরিবর্তনের কোনও পরিকল্পনা প্রমাণিত হয় না।

    রাহুল গান্ধীকে ঘিরে নিশিকান্ত দুবের প্রশ্ন

    এই বিতর্কে সরাসরি কংগ্রেস এবং রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেছেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি প্রশ্ন তোলেন, গত পাঁচ বছরে রাহুল গান্ধী ক্রিপ্টোকারেন্সি, অনলাইন জুয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা বিভিন্ন মহলের কার কার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দুবে আরও প্রশ্ন করেন, ওই মহলের কেউ রাহুল গান্ধীর ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ কিংবা অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন কি না। বিদেশ সফরের সময় তাঁর বৈঠকগুলির উদ্দেশ্য কী ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিজেপি সাংসদ। এ ছাড়া ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি সংক্রান্ত দাবিতে চলা প্রতিবাদ কর্মসূচিগুলিকেও বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেছে বিজেপি।

    ২০২৩ সালেই ভারতে আলোচনায় উঠে আসে সিংহামের নাম

    ভারতে নেভিল রয় সিংহামকে ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত আরও আগে। ২০২৩ সালে মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে সিংহামের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত বিভিন্ন সংগঠন এবং চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের পরিসরের সঙ্গে তাঁর কথিত যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রতিবেদনটিতে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম নিউজক্লিকের (NewsClick) সঙ্গে সিংহামের আর্থিক যোগসূত্রের অভিযোগও উঠে আসে। নিউজক্লিকের প্রতিষ্ঠাতা প্রবীর পুরকায়স্থ। অভিযোগ ছিল, আন্তর্জাতিক অর্থসাহায্যের একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমটি অর্থ পেয়েছিল। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিউজক্লিকের অর্থের উৎস এবং বিদেশি অর্থপ্রবাহ নিয়ে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি তদন্ত শুরু করে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে দিল্লি পুলিশ প্রবীর পুরকায়স্থ এবং নিউজক্লিকের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান অমিত চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করে। তাঁদের বিরুদ্ধে বেআইনি বিদেশি অর্থসাহায্য এবং চিনপন্থী প্রচার চালানোর অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্তের বিষয়টি আলাদা করে বিবেচনা করা জরুরি।

    ফ্রান্সের বিক্ষোভ ও দিল্লির প্রতিবাদের মধ্যে যোগসূত্র?

    এই বিতর্কে ফক্স নিউজ-এর একটি প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করেছে বিজেপি। ওই প্রতিবেদনে ফ্রান্সের দাঙ্গা এবং দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্যে সম্ভাব্য যোগাযোগের দাবি করা হয়েছে বলে বিজেপির বক্তব্য। প্রতিবেদনটির দাবি অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা ১০১টি সংগঠনের একটি নেটওয়ার্ক প্রতিবাদ কর্মসূচির সমন্বয়, আয়োজন অথবা প্রচারে ভূমিকা রাখছে। বিজেপি এই দাবিকে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য প্রভাবের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে। তবে এই দাবিগুলির স্বাধীন যাচাই, সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির নির্দিষ্ট ভূমিকা এবং প্রতিবাদ কর্মসূচিগুলির মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের প্রমাণ আলাদাভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কোনও সংগঠন প্রতিবাদের পক্ষে প্রচার চালালেই তার পিছনে বিদেশি সরকারের নির্দেশ বা সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বিতর্ক?

    নেভিল রয় সিংহামকে ঘিরে বিতর্ক মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে।
    – বিদেশি অর্থসাহায্যের স্বচ্ছতা: আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলিকে দেওয়া অর্থ কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে তা পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
    – রাজনৈতিক প্রতিবাদের স্বাধীনতা: কোনও প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক সংগঠনের সমর্থন থাকলেই সেটিকে ষড়যন্ত্র বলা যায় না। অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য প্রমাণ থাকা জরুরি।
    – রাজনৈতিক যোগাযোগ ও জবাবদিহি: রাজনৈতিক নেতাদের বিদেশি যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে যোগাযোগের অস্তিত্ব এবং বেআইনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ এক বিষয় নয়।
    সব মিলিয়ে, নেভিল রয় সিংহামকে কেন্দ্র করে বিতর্ক নতুন করে ভারতের রাজনীতিতে বিদেশি অর্থসাহায্য, আন্তর্জাতিক কর্মী সংগঠন এবং রাজনৈতিক প্রতিবাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিজেপি এই ঘটনাকে মোদি সরকারকে অস্থিতিশীল করার সম্ভাব্য প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে।

  • Coochbehar: কোচবিহারে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে উত্তেজনা, বালি পাচার রুখতে ধোঁয়া গ্রেনেড ছুড়ল বিএসএফ

    Coochbehar: কোচবিহারে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে উত্তেজনা, বালি পাচার রুখতে ধোঁয়া গ্রেনেড ছুড়ল বিএসএফ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোচবিহার (Coochbehar) জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বালি পাচারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল। অভিযোগ, বাংলাদেশের ৩০ থেকে ৫০ জনের একটি দল ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে সানিয়াজান নদী থেকে বালি খনন ও পাথর সংগ্রহ করছিল। বিএসএফের জওয়ানেরা বাধা দিতে গেলে তাঁদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ওই দল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ধোঁয়া গ্রেনেড ব্যবহার করেন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানেরা। ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে (Bangladeshi Sand Smugglers)। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৪ অক্টোবর, শনিবার, মেখলিগঞ্জ ব্লকের ভোতবাড়ি গ্রামের কাছে সানিয়াজান নদী এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, নদী থেকে বালি ও পাথর সংগ্রহ করছিল বাংলাদেশের দিক থেকে আসা ওই দলটি। বিএসএফের জওয়ানেরা তাঁদের বাধা দিতে গেলে বাঁশের লাঠি, রড ও অন্যান্য অস্ত্র নিয়ে তাঁরা জওয়ানদের দিকে এগিয়ে যান বলে অভিযোগ।

    বিএসএফকে আক্রমণের অভিযোগ (Coochbehar)

    বালি পাচারের খবর পেয়ে কোশি সীমান্ত চৌকিতে মোতায়েন বিএসএফের ৬২ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ানেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। নদীতে নেমে অবৈধভাবে বালি তোলা বন্ধ করা এবং অনুপ্রবেশকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা। অভিযোগ, সংখ্যায় বেশি থাকায় ওই দলটি বিএসএফের জওয়ানদের উপর লাঠি ও রড নিয়ে হামলা চালায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাল্টা ধোঁয়া গ্রেনেড ব্যবহার করেন জওয়ানেরা। এর পরেই ঘটনাস্থল থেকে সরে যায় দলটি। ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে সংঘর্ষের সময় চিৎকার-চেঁচামেচির দৃশ্য দেখা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে বালি-পাথর তোলার অভিযোগ

    স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই সানিয়াজান নদী থেকে বালি ও পাথর তোলার ঘটনা ঘটছে। তাঁদের অভিযোগ, বিএসএফ মাঝেমধ্যে পদক্ষেপ করলেও বাংলাদেশের দিক থেকে আসা লোকজন বারবার নদীতে ঢুকে ওই সমস্ত সামগ্রী সংগ্রহ করে।মেখলিগঞ্জ এলাকায় সীমান্তের বেড়া থাকলেও, সানিয়াজান নদী ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বেপরোয়াভাবে নদী থেকে বালি তোলা চলতে থাকলে নদীর গতিপথ বদলে যেতে পারে। এর ফলে নদী সংলগ্ন এলাকায় ভাঙন এবং বসবাসকারী মানুষের নানা সমস্যার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা প্রশান্ত কুমার রায়ের দাবি, বিএসএফ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর সময় ৪০ থেকে ৫০ জন নদী থেকে বালি খনন ও পাথর সংগ্রহ করছিলেন। তিনি বলেন, “বিএসএফের জওয়ানেরা বাধা দিতে গেলে ওই দলটি তাঁদের কথা শোনেনি। উল্টে জওয়ানদের উপর হামলা চালায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাহিনীকে গ্রেনেড ব্যবহার করতে হয়।” প্রশান্ত আরও বলেন, নদীটি ভারতের ভূখণ্ডের মধ্যে রয়েছে। তাই বারবার বালি ও পাথর তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ করা প্রয়োজন। তাঁর আশঙ্কা, অবৈধভাবে বালি তোলার ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হতে পারে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে (Coochbehar)।

    সীমান্তে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অবৈধভাবে বালি তোলা বন্ধ করা এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে প্রশাসনের কাছে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন (Bangladeshi Sand Smugglers) স্থানীয়রা। ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে খবর। নতুন করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে এই ঘটনা নিয়ে বিএসএফের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি (Coochbehar)।

     

  • Para Asian Games 2026: প্যারা এশিয়ান গেমসে রেকর্ড পদক! ৩০টি সোনা-সহ ১১৪টি পদক, শুভেচ্ছাবার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    Para Asian Games 2026: প্যারা এশিয়ান গেমসে রেকর্ড পদক! ৩০টি সোনা-সহ ১১৪টি পদক, শুভেচ্ছাবার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্যারা এশিয়ান গেমসে মোট ১১৪টি পদক নিয়ে তালিকায় চতুর্থ স্থানে শেষ করল ভারত। ইতিহাসে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স করলেন ভারতের ক্রীড়াবিদরা। এত পদক এর আগে কোনও এশিয়ান গেমসে জেতেনি ভারত। ঝুলিতে তাঁরা পুরেছে মোট ৩০টি সোনা। দেশের প্যারা ক্রীড়াবিদদের সাফল্যের পর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি উল্লেখ করেছেন যে এই সাফল্য গোটা দেশের জন্য গর্বের, গোটা দেশ ক্রীড়াবিদদের জন্য গর্বিত। দেশের প্যারা এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এটাই সেরা সাফল্য বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    গোটা দেশের জন্য গর্বের

    নিজের সোশ্য়াল মিডিয়া পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘দুর্দান্ত পারফরম্য়ান্স ভারতের ক্রীড়াবিদদের জন্য। ১১৪টি পদক জিতেছে ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা। এটা গোটা দেশের জন্য গর্বের। প্রত্যেকে দেশের জন্য নিজেদের সেরা পারফরম্য়ান্সটা দিয়ে থাকেন। আমি প্রত্যেক ক্রীড়াবিদকে শুভেচ্ছা জানাতে চাই। প্রত্যেক অ্য়াথলিট তাঁদের সেরাটা দিয়েছেন।’২০২৩ এশিয়ান গেমস হাংঝাউতে মোট ১০৮টি পদক জেতে। সেবার ২৭টি সোনা জিতেছিলেন ভারতের প্যারা অ্য়াথলিটরা। এবার পুরুষদের শটপাট এফ ৪৬ ইভেন্টে ভারতের প্যারা ক্রীড়াবিদরা ‘ক্লিন সুইপ’ করে তিনটি পদকই জিতেছিল। প্যারা তিরন্দাজি, প্যারা সাঁতার ও পাওয়ারলিফটিংয়েও ভারত পদক পেয়েছে।

    কোন বিভাগে কয়টি পদক

    এবারের প্যারা এশিয়ান গেমসে ২০৪টি সোনা, ১১৫টি রুপো ও ১০৮টি ব্রোঞ্জ নিয়ে প্রতিযোগিতায় একক আধিপত্য বজায় রেখে শীর্ষে শেষ করেছিল চিন। ৬৩টি সোনা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান ও ৪৫টি সোনা জিতে তৃতীয় স্থান দখল করেছে উজবেকিস্তান। ভারতের এবারের পদক তালিকায় সাফল্যের সিংহভাগ এসেছে প্যারা অ্য়াথলেটিক্স থেকে। সেখানে থেকেই ভারত সর্বাধিক ৬৫টি পদক জিতেছে। এরমধ্য়ে ২২টি সোনা ছিল। এছাড়া প্যারা ব্যাডমিন্টন থেকে এসেছে ১৬টি পদক ও প্যারা সাঁতার থেকে এসেছে ১১টি পদক। অন্যদিকে প্যারা-আর্চারি থেকে ৬টি ও প্যারা শ্যুটিং থেকে ৫টি পদক এসেছে এবারের প্যারা এশিয়ান গেমস থেকে।

    প্যারা অ্যাথলেটিক্স: ২২টি সোনা, ১৯টি রুপো, ২৪টি ব্রোঞ্জ নিয়ে মোট ৬৫টি পদক

    প্যারা সাঁতার: ০টি সোনা, ৩টি রূপাে ও ৮টি ব্রোঞ্জ নিয়ে মোট ১১টি পদক

    প্যারা টেবিল টেনিস: ০টি সোনা, ০টি রূপো ও ৭টি ব্রোঞ্জ নিয়ে মোট ৭টি পদক

    প্যারা শ্যুটিং: ২টি সোনা, ২টি রূপা ও ১টি ব্রোঞ্জ নিয়ে মোট ৫টি পদক

    প্যারা জুডো: ০টি সোনা, ১টি রুপাে ও ১টি ব্রোঞ্জ নিয়ে মোট ২টি পদক

    প্যারা পাওয়ারলিফটিং: ০টি সোনা, ২টি রূপা, কোনও ব্রোঞ্জ জেতেনি এই ইভেন্টে ভারত, মোট ২টো পদক

    প্যারা আর্চারি (তিরন্দাজি): ৩টি সোনা, ৩টি রুপাে, কোনও ব্রোঞ্জ নেই, মোট ৬টি পদক

    প্যারা ব্যাডমিন্টন: ৩টি সোনা, ৫টি রূপাে ও ৮টি ব্রোঞ্জ নিয়ে মোট ১৬টি পদক

  • Modi Ka Baap Remark: খাড়গের ‘মোদির বাবাও চলে যাবেন’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক বিজেপির

    Modi Ka Baap Remark: খাড়গের ‘মোদির বাবাও চলে যাবেন’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের ‘মোদির বাবাও চলে যাবেন’ মন্তব্যকে (Modi Ka Baap Remark) কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। এই মন্তব্যের প্রতিবাদে সোমবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করার অভিযোগ তুলে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরপ্রদেশের বিজেপি নেতারা (BJP Protest)। খাড়গের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানিয়েছে গেরুয়া শিবির।

    বিজেপির তরফে দলের রাজ্য শাখাগুলিকে নিজ নিজ দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, খাড়গের মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত বাবাকে অপমান করেছে।

    রবিবার পটনায় বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিংয়ের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এই বিতর্কের সূত্রপাত। সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি কখনও পদ ছাড়বেন না। তার জবাব দিতে গিয়ে খাড়গে বলেন, “মোদির বাবাও চলে যাবেন।” তাঁর এই মন্তব্যের পরেই আপত্তি জানাতে শুরু করেন বিজেপি নেতারা।

    কংগ্রেসকে নিশানা বিজেপি নেতাদের (Modi Ka Baap Remark)

    খাড়গের মন্তব্যকে দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেছেন বিহারের সমবায়মন্ত্রী রাম কৃপাল যাদব। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস নেতৃত্ব রাজনৈতিক বিতর্কের মান ক্রমশ নামিয়ে আনছে।

    সংবাদ সংস্থাকে রাম কৃপাল যাদব বলেন, “কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি খাড়গে গতকাল প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিয়ে যে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এটি কংগ্রেস পার্টি, রাহুল গান্ধী এবং দলীয় সভাপতির মানসিকতার প্রতিফলন। এটাই কংগ্রেসের সংস্কৃতি, যে কারণে দলটি ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা করার জন্য শালীন ভাষা ব্যবহার করা উচিত। ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কটূক্তি রাজনৈতিক নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষও কংগ্রেস নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার কারণেই কংগ্রেস নেতারা ব্যক্তিগত আক্রমণের পথ বেছে নিচ্ছেন।

    দিলীপ বলেন, “আজ শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও মোদিজির নেতৃত্ব সম্মানিত। বিজেপি ধারাবাহিকভাবে জয়ী হচ্ছে এবং মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিচ্ছে। ফলে তারা রাজনৈতিক লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়েছে। সেই কারণেই মোদিজি এবং আমাদের অন্যান্য নেতাদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে, যা আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

    উত্তরপ্রদেশের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী যোগেন্দ্র উপাধ্যায়ও কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মূল্যবোধের অভাবের অভিযোগ তুলেছেন।

    তিনি বলেন, “কটূক্তি করা ওদের সংস্কৃতির অংশ। কাউকে উপহার না দিলে সে কিছুক্ষণ কাঁদে। কাউকে মূল্যবোধের শিক্ষা না দিলে সে সারা জীবন কাঁদে। আর কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তির মধ্যে মূল্যবোধের অভাব থাকলে তিনি শুধু নিজেই কাঁদেন না, গোটা সমাজ ও দেশকেও কাঁদান। যাঁদের নেতৃত্বে মূল্যবোধের অভাব রয়েছে, তাঁরাই এই ধরনের মন্তব্য করেন।”

    বিজেপির বিরুদ্ধে বক্তব্য বিকৃতির অভিযোগ

    এদিকে, বিতর্কের মধ্যেই খাড়গের পাশে দাঁড়িয়েছে সমাজবাদী পার্টি (এসপি)। তাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়গুলি থেকে মানুষের নজর ঘোরাতে বিজেপি কংগ্রেস সভাপতির বক্তব্যের একটি অংশকে বেছে নিয়ে প্রচার করছে (Modi Ka Baap Remark)।

    সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র আশুতোষ বর্মা বলেন, সংবিধানকে দুর্বল করার চেষ্টার সমালোচনা করতে গিয়েই খাড়গে ওই মন্তব্য করেছিলেন। তাই তাঁর বক্তব্যকে সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপটে বিচার করা উচিত।

    বর্মার কথায়, “তাঁর বক্তব্যকে প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে তুলে ধরা হচ্ছে। বিজেপি স্লোগান বদলে সেগুলিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে, যা রাজনীতির পক্ষে ঠিক নয়। রাজনীতি হওয়া উচিত বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে।”

    বিজেপি কংগ্রেস সভাপতির ওই মন্তব্যকে রাজনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে অগ্রহণযোগ্য বলে দাবি করেছে। ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে দলীয় রাজ্য শাখাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে গেরুয়া পার্টি (Modi Ka Baap Remark)।

     

LinkedIn
Share