Blog

  • Railway Recruitment 2026: রেলে চাকরির বড় সুযোগ! স্টেশন মাস্টার পদে ১,২৬৫ জন নিয়োগ, আবেদন শেষ ২৫ নভেম্বর

    Railway Recruitment 2026: রেলে চাকরির বড় সুযোগ! স্টেশন মাস্টার পদে ১,২৬৫ জন নিয়োগ, আবেদন শেষ ২৫ নভেম্বর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় রেলে চাকরি করতে ইচ্ছুক স্নাতক চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় সুযোগ। স্টেশন মাস্টার পদে মোট ১,২৬৫টি শূন্যপদে নিয়োগের ঘোষণা করা হয়েছে। সেন্ট্রালাইজড এমপ্লয়মেন্ট নোটিফিকেশন (CEN) নম্বর ০৮/২০২৬-এর অধীনে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। প্রকাশিত নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন ২০২৬ সালের ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত। দেশের বিভিন্ন রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের (RRB) অধীনে এই নিয়োগ করা হবে। রেলে স্থায়ী চাকরির সুযোগ খুঁজছেন, এমন প্রার্থীদের জন্য এই নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে আবেদন করার আগে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া সমস্ত শর্ত ও যোগ্যতার মাপকাঠি ভালো করে দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    কোন আরআরবি-তে কত শূন্যপদ?

    প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ডে স্টেশন মাস্টার পদের শূন্যপদের সংখ্যা নিম্নরূপ—
    – আরআরবি মুম্বই: ১৭৭টি পদ
    – আরআরবি জম্মু-শ্রীনগর: ১২২টি পদ
    – আরআরবি চেন্নাই: ১১৯টি পদ
    সব মিলিয়ে এই নিয়োগ অভিযানে মোট ১,২৬৫টি শূন্যপদ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    কারা আবেদন করতে পারবেন?

    স্টেশন মাস্টার পদে আবেদনের জন্য প্রার্থীদের স্নাতক হতে হবে। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি বয়সসীমা, সংরক্ষণ সংক্রান্ত নিয়ম এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। এই সমস্ত বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি খতিয়ে দেখা জরুরি। নিয়োগের নির্বাচন পদ্ধতি, পরীক্ষার ধরন এবং অন্যান্য শর্ত সম্পর্কেও বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া নির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে।

    কীভাবে করবেন আবেদন?

    আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন সংক্রান্ত তথ্য এবং বিজ্ঞপ্তি দেখতে নিচের ওয়েবসাইটগুলি ব্যবহার করা যেতে পারে—
    – সরকারি আরআরবি ওয়েবসাইট: rrb.indianrailways.gov.in
    – অনলাইন আবেদন পোর্টাল: rrbapply.gov.in
    – নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি: CEN 08/2026-এর স্টেশন মাস্টার নিয়োগ

    আবেদনের পদ্ধতি অনলাইন

    অনলাইনে আবেদন করার আগে সরকারি বিজ্ঞপ্তি থেকে শূন্যপদের সংখ্যা, বয়সসীমা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পরীক্ষার পদ্ধতি এবং আবেদনের শেষ তারিখ যাচাই করে নিন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত সমস্ত শর্ত পূরণ করলেই আবেদন করা উচিত।

  • Supreme Court on Firecracker: দীপাবলিতে বাজি নিষিদ্ধ করতে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট, উৎসবের আনন্দ বজায় রেখেই দূষণ নিয়ন্ত্রণের বার্তা

    Supreme Court on Firecracker: দীপাবলিতে বাজি নিষিদ্ধ করতে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট, উৎসবের আনন্দ বজায় রেখেই দূষণ নিয়ন্ত্রণের বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীপাবলি এলেই দূষণের কথা মনে পড়ে! ক্রিসমাস, নববর্ষের সময়ও বাজি ফাটে, তখন এই উদ্বেগ কেন চোখে পড়ে না? দূষণ রোধ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ মানুষের উৎসব উদযাপনের অধিকার। একটা ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। দীপাবলিতে দিল্লি-এনসিআর এলাকায় বাজি পোড়ানোর উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারির পক্ষে নয় সুপ্রিম কোর্ট। পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেও মানুষের উৎসব পালনের অধিকার ও আনন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ, দূষণ রোধ করতে হবে ঠিকই, তবে তার জন্য উৎসবের আনন্দকে সম্পূর্ণভাবে স্তব্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। তাই বাজি নিয়ে কোনও চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপের পক্ষেই মত আদালতের। দীপাবলি উদ্‌যাপনের সময় আমজনতাকে কম দূষণকারী বিকল্প গ্রহণ করার পরামর্শও দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

    বেআইনিভাবে বাজি বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

    বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, বিচারপতি এম এম সুন্দ্রেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালের বেঞ্চ এ বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। বেঞ্চটি মন্তব্য করে, “প্রতি বছরই আমরা এই বিষয়ে নির্দেশ জারি করি… কিন্তু আমাদের কাছে এটি এখন কেবল একটি ‘তাত্ত্বিক চর্চা’য় পরিণত হয়েছে। আমাদের নির্দেশগুলো মানার চেয়ে অমান্যই বেশি করা হয়।” আদালত আরও বলে, এখন সময় এসেছে “নতুন ও উদ্ভাবনী কিছু” করার। বাজি সংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়ে শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট জানায়, বেআইনিভাবে বাজি বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উপরেও জোর দেয় আদালত। প্রতি বছর একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে কতটা সুফল মিলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আদালত। কারণ, বারবার নির্দেশ দেওয়া হলেও তার যথাযথ পালন হচ্ছে না। ফলে শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেই ইঙ্গিত দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

    ভারতীয় ক্রিকেটার বিরাট কোহলির সহায়তা!

    দিল্লি-এনসিআরে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে দীপাবলিতে বাজি পোড়ানো থেকে মানুষকে বিরত রাখতে সচেতনতামূলক প্রচারে বিরাট কোহলির (Virat Kohli) মতো জনপ্রিয় ক্রিকেটারদের যুক্ত করার প্রস্তাব দিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, রাজধানী অঞ্চলের বায়ুদূষণ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে কেন্দ্র ও দিল্লির কর্তৃপক্ষকে এই পরামর্শ দেয় বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালের বেঞ্চ। আদালতের মতে, জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের মাধ্যমে মানুষের কাছে পরিবেশবান্ধব দীপাবলির বার্তা পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, উৎসবের সময় মানুষের উৎসাহ ও উদ্দীপনায় বাধা দিতে চায় না তারা। বর্তমান প্রজন্মও বাজি পোড়ানোর ফলে পরিবেশের ক্ষতি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন।

    দিল্লির দূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপের প্রস্তাব

    সম্পূর্ণ বাজি নিষিদ্ধের বিষয়ে আপত্তি থাকলেও দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। দিল্লি-এনসিআরের বায়ুদূষণের ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শুনানিতে দিল্লি সরকার দূষণ মোকাবিলায় একাধিক প্রস্তাবের কথা জানিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে বিএস-৬ নির্গমন মান পূরণ করে না, এমন পুরনো গাড়ির প্রবেশে বিধিনিষেধ, সরকারি অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে স্মগ গান ব্যবহারের মতো পদক্ষেপ। শীতের মরশুমে দিল্লির বাতাসের গুণমান ক্রমশ খারাপ হওয়ার বিষয়টিও আদালতের নজরে রয়েছে। একাধিক কারণে এই সময় দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। তাই শুধু বাজির উপর বিধিনিষেধ আরোপ না করে সামগ্রিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে এসেছে শুনানিতে।

    বাজির ধোঁয়ায় স্বাস্থ্যের ঝুঁকি, উদ্বেগ আদালতের

    শুনানিতে আদালত নিযুক্ত অ্যামিকাস কিউরিয়েও বাজির ধোঁয়া থেকে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন। বিশেষ করে পিএম২.৫-এর মতো সূক্ষ্ম দূষিত কণার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করা হয়। জানানো হয়, এই অতি সূক্ষ্ম কণাগুলি শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে পারে। এর ফলে শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে এই দূষিত কণাগুলি। এমনকী, পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন ক্র্যাকারও সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত নয় বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। সাধারণ বাজির তুলনায় এগুলি কম দূষণ ছড়ালেও বায়ুদূষণে এর প্রভাব থেকে যায়।

    শুধু দীপাবলিতেই কেন দূষণ নিয়ে এত বিতর্ক?

    সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণের পর নতুন করে সামনে এসেছে উৎসব ও পরিবেশ দূষণ নিয়ে বিতর্ক। প্রতি বছর দীপাবলি এলেই বাজি পোড়ানো এবং বায়ুদূষণ নিয়ে সংবাদমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। বাজি নিষিদ্ধ করার দাবিও ওঠে। পরিবেশ দূষণ যে একটি বাস্তব সমস্যা এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। তবে প্রশ্ন উঠছে, অন্যান্য উৎসব বা উদযাপনের ক্ষেত্রেও কি একইভাবে দূষণ নিয়ে আলোচনা ও সচেতনতা দেখা যায়? দেশের বিভিন্ন জায়গায় বর্ষবরণ কিংবা বড়দিনের উদযাপনেও আতশবাজি ব্যবহার করা হয়। সেক্ষেত্রেও কি একই ধরনের পরিবেশগত পর্যালোচনা হওয়া উচিত নয়?

    পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব সবার

    পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব কোনও নির্দিষ্ট উৎসব বা সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। দূষণের মাত্রা, নির্গমনের পরিমাণ, নিয়ম মেনে চলা এবং প্রশাসনিক নজরদারি—সব ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দীপাবলির মতো ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে প্রতি বছর দূষণের একমাত্র কারণ হিসেবে তুলে না ধরে, সমস্ত উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিবেশবিধি মেনে চলার উপর জোর দেওয়া উচিত বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের। বাজির ব্যবহার কমানো, পরিবেশবান্ধব বিকল্প বেছে নেওয়া এবং সচেতনভাবে উৎসব পালনের উদ্যোগকে উৎসাহিত করার প্রয়োজনীয়তাও উঠে আসছে।

     

     

     

     

     

  • Indian Navy: ৪০ হাজার কোটির স্টেলথ করভেট প্রকল্পে সিলমোহর কেন্দ্রের! নৌবাহিনীর জন্য তৈরি হবে ৮টি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ

    Indian Navy: ৪০ হাজার কোটির স্টেলথ করভেট প্রকল্পে সিলমোহর কেন্দ্রের! নৌবাহিনীর জন্য তৈরি হবে ৮টি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় নৌবাহিনীর শক্তি আরও বাড়াতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS) ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ৮টি নেক্সট জেনারেশন করভেট (Next Generation Corvettes) তৈরির প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে। প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE) এবং গোয়া শিপইয়ার্ড লিমিটেড (GSL) এই যুদ্ধজাহাজগুলি তৈরি করবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দুই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।

    এই প্রকল্প শুধু ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নয়, দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন, অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (IOR) ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি জোরদার করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    কী বিশেষত্ব এই নেক্সট জেনারেশন করভেটগুলির?

    প্রস্তাবিত আটটি করভেট হবে প্রায় ২,০০০ টন ওজনের উচ্চগতিসম্পন্ন যুদ্ধজাহাজ। ঘণ্টায় নয়, নৌবাহিনীর প্রচলিত গতির একক নট অনুযায়ী, এগুলির সর্বোচ্চ গতি হতে পারে প্রায় ৩০ নট। ভারতীয় নৌবাহিনীর নিজস্ব নকশায় তৈরি এই যুদ্ধজাহাজগুলিতে ব্যবহার করা হবে অত্যাধুনিক জাহাজ নির্মাণ প্রযুক্তি এবং স্টেলথ প্রযুক্তি। ফলে শত্রুপক্ষের নজরদারি ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সামরিক অভিযানে এগুলিকে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

    নকশার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল বহুমুখী অভিযানে অংশ নেওয়ার ক্ষমতা। সমুদ্রপৃষ্ঠে শত্রুর যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে অভিযান, সাবমেরিন শনাক্ত ও মোকাবিলা এবং আকাশপথ থেকে আসা হুমকি প্রতিহত করার মতো কাজে ব্যবহার করা যাবে এই করভেটগুলি। পাশাপাশি নজরদারি, যুদ্ধজাহাজকে এসকর্ট করা, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখার মতো দায়িত্বও পালন করতে পারবে এগুলি।

    উন্নত সেন্সর, অস্ত্রব্যবস্থা, স্টেলথ নকশা এবং উচ্চ চালনক্ষমতার সমন্বয়ে ভারতীয় নৌবাহিনীর অভিযানের পরিধি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষত উপকূলবর্তী জলসীমা থেকে শুরু করে ভারত মহাসাগরের বিস্তৃত এলাকায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো এবং একাধিক ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে এই যুদ্ধজাহাজগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    ৫টি যুদ্ধজাহাজ তৈরি করবে জিআরএসই, বাকি ৩টি জিএসএল

    প্রকল্পটির দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে দুই রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ নির্মাণ সংস্থার মধ্যে। বাণিজ্যিক দরপত্র খোলার পর ২০২৫ সালের মে মাসে জিআরএসই সর্বনিম্ন দরদাতা বা L1 হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কলকাতার জিআরএসই তৈরি করবে পাঁচটি করভেট। বাকি তিনটি তৈরি করবে গোয়া শিপইয়ার্ড লিমিটেড। দুই সংস্থার ক্ষেত্রেই প্রতি যুদ্ধজাহাজের নির্মাণমূল্য একই রাখার কথা।

    কলকাতার জিআরএসই-র জন্য এই প্রকল্প বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বড় অঙ্কের এই বরাত সংস্থাটির দীর্ঘমেয়াদি কাজের নিশ্চয়তা বাড়াবে। পাশাপাশি গোয়া শিপইয়ার্ডের উৎপাদন ও নির্মাণ পরিকাঠামোও উপকৃত হবে। যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME), যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী এবং অন্যান্য সহযোগী সংস্থার কাছেও নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার কর্মসংস্থান তৈরির আশা করা হচ্ছে।

    ৭০ শতাংশের বেশি দেশীয় প্রযুক্তি ও উপকরণ

    প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল দেশীয় উপাদানের ব্যবহার। আটটি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে ৭০ শতাংশের বেশি দেশীয় সামগ্রী ও প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্প, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী হতে পারে।

    কেন্দ্রের আত্মনির্ভর ভারত (Atmanirbhar Bharat) উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। বিদেশি প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় নকশা, উৎপাদন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোই এর অন্যতম লক্ষ্য।

    একই সঙ্গে প্রকল্পটি ভারতের SAGAR—Security and Growth for All in the Region—ভাবনার সঙ্গেও সম্পর্কিত। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং ভারতের উপস্থিতি জোরদার করার ক্ষেত্রে আধুনিক যুদ্ধজাহাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

    ২০৩০ সালের মধ্যে প্রথম যুদ্ধজাহাজ হাতে পাওয়ার লক্ষ্য

    প্রকল্পের অনুমোদন মিললেও এবার মূল নজর নির্মাণের সময়সীমার দিকে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে প্রথম করভেটের নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রথম যুদ্ধজাহাজটি নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নির্মাণের সময় আরও কমিয়ে আনা যায় কি না, তা নিয়েও দুই শিপইয়ার্ডের তরফে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    পরবর্তী যুদ্ধজাহাজগুলির সরবরাহ ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রকল্পের বাস্তবায়ন কত দ্রুত এগোয়, তার উপর নির্ভর করবে নৌবাহিনী কত তাড়াতাড়ি নতুন করভেটগুলিকে সক্রিয় পরিষেবায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

    ২০২২ সালে শুরু, এবার চূড়ান্ত অনুমোদন

    নেক্সট জেনারেশন করভেট তৈরির পরিকল্পনা বেশ কয়েক বছর ধরেই বিবেচনাধীন ছিল। ২০২২ সালের জুন মাসে প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ (Defence Acquisition Council) আটটি করভেট নির্মাণের জন্য Acceptance of Necessity বা প্রাথমিক প্রয়োজনীয়তার অনুমোদন দেয়। সেই সময় প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ছিল প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা।

    এরপর দরপত্র প্রক্রিয়া, ২০২৫ সালের মে মাসে জিআরএসই-র সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়া এবং ২০২৬ সালে মূল্য নিয়ে আলোচনা-সহ একাধিক ধাপ অতিক্রম করে প্রকল্পটি। এদিকে নৌবাহিনীর ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরোর সহযোগিতায় নেভাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল ল্যাবরেটরি (NSTL) সফলভাবে হাইড্রোডাইনামিক মডেল পরীক্ষাও সম্পন্ন করেছে। এবার CCS-এর অনুমোদনের ফলে চুক্তি স্বাক্ষর এবং নির্মাণকাজ শুরুর পথ আরও প্রশস্ত হল।

    চিনের উপস্থিতির মধ্যে কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প?

    ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক উপস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু বড় যুদ্ধজাহাজ নয়, দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং বিভিন্ন ধরনের অভিযানে সক্ষম করভেটও নৌবাহিনীর কৌশলগত পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রস্তাবিত করভেটগুলি ভারতীয় নৌবাহিনীর পুরনো খুখরি-শ্রেণি ও কোরা-শ্রেণির করভেটগুলির জায়গা নিতে পারে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নতুন যুদ্ধজাহাজগুলির কার্যকরী সক্ষমতা শুধু পুরনো জাহাজের বিকল্প হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নজরদারি, এসকর্ট, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা এবং সমুদ্রপথে দ্রুত সামরিক প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রেও এগুলি নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

    বর্তমানে নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ কর্মসূচিতে নীলগিরি-শ্রেণির ফ্রিগেট, পরবর্তী প্রজন্মের ডেস্ট্রয়ার এবং ফ্লিট সাপোর্ট শিপের মতো বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাটফর্ম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার সঙ্গে আটটি নেক্সট জেনারেশন করভেট যুক্ত হলে ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে আরও আধুনিক ও বহুমুখী যুদ্ধজাহাজের সমন্বয় তৈরি হবে।

    সব মিলিয়ে, ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের এই প্রকল্প প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি ভারতীয় নৌবাহিনীর সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি বড় পদক্ষেপ। এখন চুক্তি স্বাক্ষর, নির্মাণের অগ্রগতি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুদ্ধজাহাজ সরবরাহ—এই তিনটি বিষয়ই প্রকল্পের সাফল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

  • Kolkata Police Recruitment: কলকাতা পুলিশে ৫,৮৯৩ পদে নিয়োগে রাজ্যের অনুমোদন, শীঘ্রই প্রকাশিত হতে পারে বিজ্ঞপ্তি

    Kolkata Police Recruitment: কলকাতা পুলিশে ৫,৮৯৩ পদে নিয়োগে রাজ্যের অনুমোদন, শীঘ্রই প্রকাশিত হতে পারে বিজ্ঞপ্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা পুলিশে (Kolkata Police Recruitment) একসঙ্গে প্রায় ৫,৯০০ শূন্যপদে নিয়োগের প্রশাসনিক অনুমোদন দিল রাজ্য সরকার (West Bengal Govt)। দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা থাকা মোট ৫,৮৯৩টি পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করার সবুজ সংকেত মিলেছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের (WBPRB) মাধ্যমে সম্পূর্ণ মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এই নিয়োগ সম্পন্ন হবে। নবান্ন সূত্রে খবর, গত ২৭ অক্টোবর এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, কলকাতা পুলিশের প্রশাসনিক কাজকর্ম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর একাধিক পদে নিয়োগের প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার। সেই প্রস্তাব পর্যালোচনার পর অর্থ দফতর এবং রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়ায় নিয়োগের ক্ষেত্রে আর কোনও প্রশাসনিক বাধা রইল না।

    কোন কোন পদে নিয়োগ

    অনুমোদিত শূন্যপদগুলির মধ্যে রয়েছে ৬৪৮টি সার্জেন্ট এবং ৪২৫টি সাব-ইনস্পেক্টর পদ। সাব-ইনস্পেক্টর পদগুলির মধ্যে ৭০টি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। পাশাপাশি ৪,৩১৯টি কনস্টেবল পদেও নিয়োগ করা হবে। এর মধ্যে মহিলা প্রার্থীদের জন্য রয়েছে ৪৩০টি পদ। তবে কবে থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি কবে প্রকাশিত হবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানানো হয়নি। নির্দেশিকায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে। রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর কর্মসংস্থান ও সরকারি নিয়োগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে নতুন সরকার। সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়া ফের চালু করা—একাধিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছে প্রশাসন। এর আগে বিভিন্ন সরকারি দফতরে ১৪ হাজার ৪৫৪টি পদে নিয়োগের প্রস্তাবেও মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিলেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় কলকাতা পুলিশের এই নিয়োগকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এক লক্ষ সরকারি চাকরি

    কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারি চাকরি নিয়ে রাজ্যের যুবক-যুবতীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে নিয়োগে অনিয়ম এবং ওবিসি তালিকা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বহু নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই আইনি ও প্রশাসনিক সমস্যা কাটিয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ইতিমধ্যেই ১২ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (PSC) দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা পরীক্ষাগুলিও ফের চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও আশ্বাস দিয়েছেন, চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই ধাপে ধাপে এক লক্ষ সরকারি চাকরি দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা হবে। যোগ্য প্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

  • VBGRAMG: গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে জোর, মোদি সরকারের আমলে ভিবি-জিরামজিতে রেকর্ড শ্রমদিবস সৃষ্টি

    VBGRAMG: গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে জোর, মোদি সরকারের আমলে ভিবি-জিরামজিতে রেকর্ড শ্রমদিবস সৃষ্টি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দাবি করল কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এখনও পর্যন্ত ৩১.৬৯ কোটিরও বেশি শ্রমদিবস তৈরি হয়েছে। ‘বিকশিত ভারত—গ্রামীণ রোজগার ও আজীবিকা মিশন’ (VBGRAMG) নামের এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য গ্রামীণ পরিবারগুলিকে মজুরির বিনিময়ে কাজের আইনি নিশ্চয়তা দেওয়া এবং সেই সঙ্গে গ্রামে স্থায়ী পরিকাঠামো গড়ে তোলা।

    ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে ‘বিকশিত ভারত—গ্রামীণ রোজগার ও আজীবিকা মিশন আইন, ২০২৫’। এর ফলে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইনের পরিবর্তে নতুন কাঠামো চালু হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকার যোগ্য পরিবারগুলির প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যেরা অদক্ষ কায়িক শ্রমে কাজ করতে আগ্রহী হলে প্রতি অর্থবর্ষে ১২৫ দিনের মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থানের আইনি নিশ্চয়তা পাবেন (Person Days)।

    সরকারের দাবি, নয়া ব্যবস্থা চালুর সময় থেকেই প্রয়োজনীয় ডিজিটাল পরিকাঠামো কার্যকর ছিল। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ সম্পদ নির্মাণ, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং গ্রামস্তরে উন্নয়ন পরিকল্পনা—এই চারটি দিককে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ে তোলার বৃহত্তর লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    ২.২৩ কোটিরও বেশি গ্রামীণ পরিবারকে কাজ দেওয়ার দাবি (VBGRAMG)

    সরকারি তথ্য অনুয়ায়ী, ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই কর্মসূচিতে সক্রিয় শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ১০.৮৮ কোটি। প্রায় ২.২৩ কোটি গ্রামীণ পরিবারের ২.৮১ কোটিরও বেশি শ্রমিক কাজের চাহিদা অনুযায়ী কর্মসংস্থান পেয়েছেন।

    চলতি অর্থবর্ষে কর্মসূচিতে মহিলাদের অংশগ্রহণের হার ৬১.৬৫ শতাংশ। গ্রামীণ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে মহিলাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিরই প্রতিফলন এই পরিসংখ্যান।

    সরকার জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থার অধীনে ২.৮৩ লাখ সম্পদ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, ৯৭.১৭ লাখ উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। দেশজুড়ে প্রায় ২০.১৬ লক্ষ কর্মস্থল চালু রয়েছে এবং ২.৩১ লাখের কাছাকাছি গ্রাম পঞ্চায়েত বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

    ভবিষ্যতে কাজের চাহিদা মেটানোর জন্য অনুমোদিত ৭৩.২৪ লাখ কাজ বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া, ১৫.১৭ কোটি গ্রামীণ রোজগার নিশ্চয়তা কার্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।

    এই কর্মসূচিতে দৈনিক মজুরির হার ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রযোজ্য মজুরির হার অনুযায়ী শ্রমিকেরা অর্থ পাবেন।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরিকাঠামো নির্মাণ এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজেও জোর দেওয়া হচ্ছে। অনুমোদিত প্রকল্পের সংখ্যা বেশি থাকায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষে কাজের চাহিদা অনুযায়ী প্রকল্প (VBGRAMG) চালু করা সহজ হবে বলে মনে করছে সরকার।

    ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে বরাদ্দ ৯৩,৮৪১ কোটি টাকা

    নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে অন্তর্বর্তী বরাদ্দ হিসেবে ৯৩,৮৪১ কোটি টাকা দিয়েছে কেন্দ্র। সরকারি তথ্য বলছে, এর মধ্যে প্রথম কিস্তিতে ২৫,৮৮০ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে।

    এই অর্থ দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা। অনুমোদিত কাজ শুরু করা, শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং সময়মতো মজুরি মেটানোর জন্য নিয়মিত অর্থের জোগান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে উল্লিখিত সময় পর্যন্ত এই কর্মসূচিতে সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর ব্যবস্থার মাধ্যমে ৩.৭৬ কোটি লেনদেন হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে মজুরি পাঠানোর ফলে অর্থ বণ্টনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং লেনদেনের উপর নজরদারি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের বাস্তবায়নে অনিয়ম কমানো, হিসাব সংরক্ষণ এবং দায়বদ্ধতা বাড়ানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    গ্রাম পঞ্চায়েতের পরিকল্পনায় গুরুত্ব

    নতুন কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ‘বিকশিত গ্রাম পঞ্চায়েত পরিকল্পনা’। এর মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়নকে আরও অংশগ্রহণমূলক, তথ্যনির্ভর এবং স্থানীয় মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    গ্রামসভা ও গ্রাম পঞ্চায়েতের অংশগ্রহণে তৈরি এই পরিকল্পনায় গ্রামের বর্তমান সম্পদের তালিকা প্রস্তুত করা, পরিকাঠামোর ঘাটতি চিহ্নিত করা এবং স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়।

    কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে তৈরি সম্পদেরও তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর ফলে কোন এলাকায় কী ধরনের পরিকাঠামো রয়েছে এবং কোথায় নতুন বিনিয়োগ প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করা সহজ (VBGRAMG) হবে।

    এই কাজে ভৌগোলিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং ‘যুক্তধারা’ ও ‘প্রধানমন্ত্রী গতি শক্তি’র মতো ডিজিটাল মঞ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

    গ্রামস্তরে তৈরি পরিকল্পনাগুলিকে ব্লক, জেলা, রাজ্য এবং জাতীয় স্তরে একত্রিত করার ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে ‘বিকশিত ভারত জাতীয় গ্রামীণ পরিকাঠামো কাঠামো’ গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    এই পদ্ধতির উদ্দেশ্য হল, বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন প্রকল্প চালানোর পরিবর্তে গ্রামের প্রয়োজনকে বৃহত্তর উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করা। ফলে পরিকাঠামো নির্মাণে সমন্বয় বাড়বে এবং সরকারি অর্থের ব্যবহার আরও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে (Person Days)।

    চারটি ক্ষেত্রে ৩১৮ ধরনের কাজের অনুমোদন

    নতুন পরিকল্পনা কাঠামোয় চারটি প্রধান ক্ষেত্রের অধীনে মোট ৩১৮ ধরনের কাজ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ক্ষেত্রগুলি হল—জল নিরাপত্তা, মৌলিক গ্রামীণ পরিকাঠামো, জীবিকা-সহায়ক পরিকাঠামো এবং চরম আবহাওয়াজনিত বিপর্যয়ের প্রভাব প্রশমন।

    জল নিরাপত্তার আওতায় জল সংরক্ষণ এবং জলের সহজলভ্যতা বাড়ানোর মতো প্রকল্প নেওয়া যেতে পারে। মৌলিক গ্রামীণ পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে গ্রামের প্রয়োজনীয় সম্পদ ও পরিষেবা উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হবে।

    জীবিকা-সহায়ক পরিকাঠামোর লক্ষ্য গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে শক্তিশালী করা এবং মানুষের আয়ের সুযোগ বাড়ানো। অন্যদিকে, চরম আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাজও এই কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত (VBGRAMG)। পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গ্রামীণ এলাকার সহনশীলতা বাড়ানোই এর উদ্দেশ্য।

    সরকারের বক্তব্য, বিভিন্ন দফতর ও প্রকল্পের সম্পদকে একত্রে কাজে লাগিয়ে একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি এড়ানো এবং গ্রামস্তরে উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলির মধ্যে সমন্বয় তৈরি করাই এই ব্যবস্থার লক্ষ্য।

    কর্মসংস্থানের সঙ্গে স্থায়ী সম্পদ নির্মাণকে যুক্ত করার ফলে সরকারি ব্যয়ের মাধ্যমে একদিকে যেমন গ্রামীণ পরিবারের আয় বাড়বে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে গ্রামের পরিকাঠামোরও উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই লক্ষ্য পূরণে স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প নির্বাচন, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা এবং নির্মিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।

    নজরদারিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি

    ‘বিকশিত ভারত—গ্রামীণ রোজগার ও আজীবিকা মিশনে’র বাস্তবায়নে প্রযুক্তির ব্যবহারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকের পরিচয় যাচাই, উপস্থিতি নথিভুক্ত করা, মজুরি প্রদান এবং উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে একাধিক ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে।

    এই ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে ই-কেওয়াইসি, মুখমণ্ডল ও জীবমিতিক পরিচয় যাচাই, ভৌগোলিক অবস্থান-চিহ্নিতকরণ, ডিজিটাল পরিমাপ এবং বৈদ্যুতিন পরিমাপের খাতা। সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর ব্যবস্থার মাধ্যমে মজুরি পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি, তাৎক্ষণিক তথ্যচিত্র এবং স্থানভিত্তিক প্রযুক্তির সাহায্যে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমেও নজরদারি, প্রতিবেদন তৈরি এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়তা পাওয়ার কথা। স্থানীয় স্তরে প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও কার্যকর করতে পৃথক ডিজিটাল মঞ্চ, নাগরিকদের অংশগ্রহণের ব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষণমূলক উদ্যোগও রাখা হয়েছে।

    এই প্রযুক্তিগুলি প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, নথি সংরক্ষণ এবং বাস্তবায়নের সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করতে সাহায্য করতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল পরিকাঠামো, তথ্যের নির্ভুলতা এবং স্থানীয় আধিকারিক ও শ্রমিকদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগের উপর।

    সরকারের লক্ষ্য, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে কর্মসংস্থান প্রদান ও গ্রামীণ উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি বাড়ানো।

    কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্থায়ী সম্পদ নির্মাণে জোর

    নতুন কর্মসূচির মূল লক্ষ্য শুধু মজুরির বিনিময়ে কাজ দেওয়া নয়, একই সঙ্গে গ্রামের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের উপযোগী সম্পদ তৈরি করা। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে পরিকল্পনা তৈরি এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা চলছে।

    ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ৩১.৬৯ কোটিরও বেশি শ্রমদিবস তৈরির পরিসংখ্যান কর্মসূচির প্রাথমিক অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। কতগুলি পরিবার কাজ পেয়েছে, মহিলাদের অংশগ্রহণ কতটা, কতগুলি প্রকল্প চলছে এবং কত অর্থ বরাদ্দ হয়েছে—এই তথ্যগুলি কর্মসূচির ব্যাপ্তি সম্পর্কে ধারণা দেয় (VBGRAMG)।

    তবে প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে কাজের চাহিদা নিয়মিত মেটানো যাচ্ছে কি না, শ্রমিকেরা সময়মতো মজুরি পাচ্ছেন কি না এবং তৈরি হওয়া সম্পদগুলি স্থানীয় মানুষের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন পূরণ করছে কি না, তার উপর।

    প্রতি অর্থবর্ষে ১২৫ দিনের মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থানের আইনি নিশ্চয়তা, ৯৩,৮৪১ কোটি টাকার অন্তর্বর্তী বরাদ্দ এবং ৩১৮ ধরনের অনুমোদিত কাজের পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্র গ্রামীণ জীবিকা ও পরিকাঠামো উন্নয়নকে একসূত্রে বাঁধতে চাইছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই কর্মসূচি কতটা কার্যকর হয়, তা (Person Days) নির্ধারণ করবে বাস্তবায়নের গুণমান এবং গ্রামীণ মানুষের কাছে এর সুফল পৌঁছনোর মাত্রা।

     

  • Bhutan Flash Flood: ভুটানে হিমবাহ হ্রদ ফেটে হড়পা বান, বন্যা সতর্কতা জারি অসম ও বাংলার ৫ জেলায়

    Bhutan Flash Flood: ভুটানে হিমবাহ হ্রদ ফেটে হড়পা বান, বন্যা সতর্কতা জারি অসম ও বাংলার ৫ জেলায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের পর ভুটান। হিমবাহ হ্রদ ফেট হড়পা বান আছড়ে পড়ল ভুটানের (Bhutan Flash Flood) গাসা জেলায়। জলের তোড়ে বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারেও। ভুটানের লেমথাং (Lemthang) এলাকায় বড়সড় হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটেছে, ঠিক যেমনটা ঘটেছিল দুই মাস আগে নেপালে। গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড (GLOF) বা হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণে উপচে পড়েছে হ্রদের জল। এই চলকে পড়া জলই মফু নদী হয়ে নামছে সঙ্কোশ নদীর দিকে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভুটানের গাসা জেলার ওয়াকিলা পর্বতের নীচে অবস্থিত শিনতাফু হ্রদ (Shintaphu Tsho) থেকে এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত। হড়পা বানের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ প্রকল্প। পাশাপাশি পাহাড়ি রাস্তার একটি অংশে জমেছে বিপুল পরিমাণ পাথর, মাটি ও ধ্বংসাবশেষ। এই ঘটনার জেরে ভারতের উত্তরবঙ্গ ও অসমের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে হড়পা বানের জেরে ভুটানে ক্ষয়ক্ষতি হলেও উত্তরবঙ্গে সঙ্কোশ নদীর জলস্তর খুব একটা বাড়েনি। ফলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন আলিপুরদুয়ার জেলার ভুটান সীমান্তবর্তী কুমারগ্রাম ব্লকের বাসিন্দারা।

    কীভাবে ঘটল বিপর্যয়?

    ভুটানের গাসা জেলার ওয়াকিলা পর্বতের নীচে অবস্থিত শিনতাফু হ্রদটি মো চু নদী অববাহিকার উচ্চ পার্বত্য এলাকায় অবস্থিত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই হ্রদের জল উপচে পড়ে। হ্রদটি ভুটানের ১৭টি সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিমবাহ হ্রদের মধ্যে অন্যতম। ভুটানের ন্যাশনাল সেন্টার ফর হাইড্রোলজি অ্যান্ড মেটিওরোলজি (NCHM)-এর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, তাকতসিমাখাং এলাকায় জলস্তর পর্যবেক্ষণের একটি কেন্দ্র রয়েছে। তবে প্রাথমিক খবর পাওয়ার সময় সেখানে কোনও সতর্কবার্তা সক্রিয় হয়নি। হ্রদ থেকে ঠিক কতটা জল বেরিয়েছে এবং তার প্রভাব কতদূর পর্যন্ত পড়তে পারে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ভুটানের পুনাখা জেলার গুমা গেওগের অন্তর্গত দোচুখা-জোমলিংথাং-রিতসা চিওগ এলাকায় সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ উত্তোলন ব্যবস্থা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলতি বছরেই স্থানীয় বাসিন্দাদের জলের সমস্যা মেটাতে এই প্রকল্পটি চালু করা হয়েছিল। হড়পা বানের জেরে বর্তমানে প্রকল্পটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, পুনাখা-গাসা হাইওয়ের জোমলিংথাং এলাকার একটি অংশে বানের জলে ভেসে আসা পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ জমে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ভুটানের দুর্গম লায়া অঞ্চল।

    কী এই হিমবাহ হ্রদ ফেটে হড়পা বান?

    হিমবাহ গলে তৈরি হওয়া হ্রদে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ জল জমা থাকে। প্রাকৃতিকভাবে তৈরি বরফ, পাথর বা মাটির বাঁধ ভেঙে গেলে কিংবা কোনও কারণে সেই বাঁধ অতিক্রম করে জল বেরিয়ে এলে ভয়াবহ হড়পা বান তৈরি হতে পারে। একেই বলা হয় গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড (Glacial Lake Outburst in Bhutan)। পাহাড়ি উপত্যকা দিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নেমে আসে এই জলস্রোত। সঙ্গে থাকে পাথর, কাদা, গাছের গুঁড়ি এবং অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ। ফলে মুহূর্তের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বসতি, সেতু, রাস্তা, কৃষিজমি ও অন্যান্য পরিকাঠামো। শিনতাফু হ্রদটি পুনাতসাংছু নদী অববাহিকার মধ্যে অবস্থিত। এই নদী ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করার পর সঙ্কোশ নামে পরিচিত। ফলে ভুটানে হ্রদ ফেটে যাওয়ার ঘটনায় ভারতের নিম্ন অববাহিকার এলাকাগুলিতেও বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    উত্তরবঙ্গ ও অসমের পাঁচ জেলায় সতর্কতা

    ভুটানে হড়পা বানের খবর পাওয়ার পর ভারতের তরফে সঙ্কোশ নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার এবং অসমের ধুবড়ি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে নদী সংলগ্ন নিচু এলাকা ও বসতিগুলির বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ ও বক্সিরহাট এলাকায় এনডিআরএফ এবং এসডিআরএফ-এর দল মোতায়েন করা হয়েছে। দুই এলাকাই সঙ্কোশ নদীর কাছাকাছি এবং অসম সীমান্ত সংলগ্ন। সম্ভাব্য বিপদের কথা জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। প্রশাসনিক সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছিল, ভুটান থেকে নেমে আসা বন্যার জল ছয় থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে ভারত-ভুটান সীমান্তে পৌঁছতে পারে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিকে।

    বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরানোর আবেদন মন্ত্রীর

    সঙ্কোশ নদীর জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কায় আলিপুরদুয়ার জেলার নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বনমন্ত্রী তথা কুমারগ্রামের বিধায়ক মনোজ কুমার ওরাঁও। ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, আগামী এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে কুমারগ্রাম এলাকায় সঙ্কোশ নদীতে জলের প্রবাহ বাড়তে পারে। তাই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে আগাম নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য বাসিন্দাদের অনুরোধ করেন তিনি। পাশাপাশি প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতার আবেদনও জানান। দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তাও সমাজমাধ্যমে জনসাধারণের উদ্দেশে সতর্কবার্তা জারি করেন। তাঁর দাবি, ভুটানের লেমথাং এলাকায় হিমবাহ হ্রদ ফেটে হড়পা বান তৈরি হয়েছে। সেই জল মফু নদী হয়ে সংকোশ নদীর দিকে এগিয়ে আসছে। সংকোশ এবং তার শাখা নদীগুলির অববাহিকায় বসবাসকারী মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। দার্জিলিং পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের বাসিন্দাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সাংসদ।

    আশ্রয়কেন্দ্রে কয়েক হাজার মানুষ

    প্রশাসনের সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হড়পা বানের সম্ভাব্য বিপজ্জনক সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের ভারতীয় অংশে এখনও পর্যন্ত সব বাসিন্দাই নিরাপদ রয়েছেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে কয়েক হাজার মানুষকে সরিয়ে ত্রাণশিবিরে রাখা হয়েছে। আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিত কুমার শ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ভুটানের প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমন্বয় রেখে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই প্রায় ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ মানুষকে স্কুলবাড়িতে তৈরি ত্রাণশিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়াও ৬,০০০-এর বেশি মানুষকে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এসডিআরএফ-এর কর্মীরা মোতায়েন রয়েছেন। এনডিআরএফ-এর একটি দলও পৌঁছনোর পথে রয়েছে। প্রস্তুতিতে সাহায্য করছে সিভিল ডিফেন্সের দল।

    ভারতীয় এলাকায় সবাই নিরাপদ

    ভুটান থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নদীতে জলের প্রবাহের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। তবে সঙ্কোশ নদী ব্যবস্থায় এখনও রেড অ্যালার্ট জারি রয়েছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, নদীর জলের সঙ্গে মৃত মাছ, বড় বড় গাছের গুঁড়ি, কাঠ এবং কংক্রিটের ধ্বংসাবশেষ ভেসে আসতে পারে। কুমারগ্রাম ব্লক প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্লকের ১৮টি ত্রাণশিবিরে বাসিন্দাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্কুল, কমিউনিটি হল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং চা-বাগানের বিভিন্ন পরিকাঠামোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অসমের কিছু এলাকার বাসিন্দারাও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। ত্রাণশিবিরগুলিতে শুকনো খাবার, পানীয় জল এবং শৌচাগারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। সব মিলিয়ে ভুটানে হিমবাহ হ্রদ ফেটে হড়পা বানের ঘটনায় উত্তরবঙ্গ ও অসমের নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতে সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।

     

     

     

     

     

     

  • Down Syndrome: একটি ক্রোমোজোমের হেরফেরেই বদলে যায় জীবন! কী এই ডাউন সিনড্রোম?

    Down Syndrome: একটি ক্রোমোজোমের হেরফেরেই বদলে যায় জীবন! কী এই ডাউন সিনড্রোম?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    একটি ক্রোমোজোমের হেরফের! বদলে যায় জীবন! যাপনের ভঙ্গি! এমনকি বোঝার ও শেখার ক্ষমতাতেও পরিবর্তন আনে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে ডাউন সিনড্রোম। জন্মের সময় থেকেই শিশু এই সমস্যায় আক্রান্ত থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঠিকমতো যত্ন না নিলে, পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়। অক্টোবর মাস ডাউন সিনড্রোম সচেতনতা মাস হিসাবে পালন করা হয়। এই সমস্যা সম্পর্কে সমাজের সর্বস্তরে জানানো এবং সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, পরিবার ও সমাজ সচেতন ও সংবেদনশীল হলে তবেই ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের জীবন যাপন সহজ হবে। সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারবেন।

    ডাউন সিনড্রোম কী?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ডাউন সিনড্রোম এমন একটি জিনগত অবস্থা, যা শিশুর শারীরিক বিকাশ, শেখার ক্ষমতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে ডাউন সিনড্রোম নিয়ে জন্মানো মানেই যে শিশু স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন, পড়াশোনা, খেলাধুলো কিংবা সামাজিক জীবনে অংশ নিতে পারবে না, তা নয়। সঠিক সময়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিশেষ শিক্ষার ব্যবস্থা, পরিবারের সহযোগিতা এবং উপযুক্ত সরকারি সহায়তা পেলে অনেক শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ যথেষ্ট স্বনির্ভর জীবন কাটাতে পারেন।

    কেন হয় ডাউন সিনড্রোম?

    মানুষের শরীরের কোষে সাধারণত ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে, যা ২৩ জোড়ায় সাজানো। ক্রোমোজোমের মধ্যে থাকা জিন শরীরের বৃদ্ধি ও বিকাশ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডাউন সিনড্রোমে সাধারণত ২১ নম্বর ক্রোমোজোমের দুটি কপির বদলে তিনটি কপি থাকে। একে ট্রাইসোমি ২১ বলা হয়। এর ফলে শিশুর বিকাশের ধরনে কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি কোষ বিভাজনের সময় আকস্মিকভাবে ঘটে। সাধারণত এটি প্রতিরোধ করার কোনও নির্দিষ্ট উপায় নেই। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গর্ভধারণের সময় মায়ের বয়স ৩৫ বা তার বেশি হলে ডাউন সিনড্রোমের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    প্রথম থেকে নেওয়া কোন পদক্ষেপ সহজ করবে ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের জীবন যাপন?

    প্রত্যেক শিশুর চাহিদা, বোঝার ক্ষমতা এবং মানিয়ে নেওয়ার শক্তি আলাদা! ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের ক্ষেত্রেও তাই। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সন্তান ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত হলে প্রথম থেকেই অভিভাবকদের কয়েকটি পদক্ষেপ ভাবনা চিন্তা করে নেওয়া জরুরি। তাহলে ছোটো থেকেই তাদের জীবন যাপন অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।

    স্কুল নির্বাচনে বাড়তি নজরদারি!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এলাকার ভালো স্কুল বা নামী স্কুল হলেই চলবে না। ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত সন্তানের জন্য তার উপযুক্ত স্কুল নির্বাচন করতে হবে। স্কুলে ভর্তির সময়ে খেয়াল রাখতে হবে, বিশেষ শিশুকে দেখভাল করা এবং শেখানোর মতো উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষক রয়েছেন কিনা!
    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর শেখার ক্ষমতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী অন্তর্ভুক্তিমূলক স্কুল, বিশেষ শিক্ষকের সাহায্য এবং ব্যক্তিগত শিক্ষণ পরিকল্পনা ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের জীবনের বিকাশের কাজে বিশেষ সাহায্য করতে পারে। ছবি, খেলা, ছড়া, পুনরাবৃত্তি এবং ছোট ছোট নির্দেশের সাহায্যে শেখানো অনেক শিশুর ক্ষেত্রে বিশেষ কার্যকর হয়। সন্তানের কোন দিকে শেখার আগ্রহ হচ্ছে, কীভাবে সেটা কার্যকর হয়, সেদিকে বাড়তি খেয়াল রাখতে হবে। তবেই আক্রান্ত শিশুর মানসিক বিকাশ সম্ভব।

    নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত শিশুর মানসিক ও বৌদ্ধিক বিকাশের সমস্যা ছাড়াও নানান শারীরিক জটিলতা থাকতে পারে। তাই ভোগান্তি রুখতে ও জীবন যাপন সহজ করতে নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা করানো জরুরি। তাঁদের পরামর্শ, ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত শিশুর জন্মগত হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা, শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি, থাইরয়েড, দাঁত, বৃদ্ধি এবং ঘুমের সমস্যা আছে কি না, সেটা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষজ্ঞর পরামর্শে পরীক্ষা করাতে হবে। সমস্যা দ্রুত শনাক্ত হলে উপযুক্ত চিকিৎসাও করতে হবে। পাশাপাশি জীবন যাপন সহজ করতে কিছু থেরাপিও প্রয়োজন। ছোটো থেকেই এই থেরাপিগুলো ধারাবাহিকভাবে করতে পারলে শিশুদের নানান সমস্যা কমে। পেশি ও স্নায়ুর সক্রিয়তা বাড়ে। এমনকি বৌদ্ধিক জটিলতাও কমতে পারে।

    খেলাধুলো ও সামাজিক মেলামেশার সুযোগ প্রয়োজন!

    মনস্তাত্ত্বিকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স ও শারীরিক ক্ষমতা অনুযায়ী ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত শিশুকে নানান সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। পাশপাশি নিয়মিত খেলাধুলোর অভ্যাস তৈরি করাও প্রয়োজন। এতে একাধিক শারীরিক ও মানসিক জটিলতা কমবে। মস্তিষ্কের বিকাশের কাজ সহজ হবে। অভিভাবকদের জন্য তাঁদের পরামর্শ, খেলাধুলো, গান, নাচ, আঁকা, সাঁতার বা অন্য পছন্দের কাজে অংশ নিতে উৎসাহিত করতে হবে। ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তকে অন্য শিশুদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ গড়ে দিতে হবে। যাতে তাদের আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ে।

    ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের জন্য সরকারি সহযোগিতা কি রয়েছে?

    স্বাস্থ্য প্রশাসনের কর্তারা জানাচ্ছেন, সন্তান ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত হলে, রোগ নির্ণয়ের উপযুক্ত তথ্য সহ নিজের জেলার সরকারি মেডিক্যাল কলেজ বা জেলা হাসপাতালের প্রতিবন্ধকতা মূল্যায়ন বিভাগে অভিভাবকদের যোগাযোগ করতে হবে। তাহলে প্রয়োজনীয় নথি পরীক্ষার পরে জেলা সমাজকল্যাণ দফতর বা District Disability Rehabilitation Centre (DDRC) থেকে যোগাযোগ করা হবে। প্রয়োজনীয় শংসাপত্র দেওয়া হবে। যা থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ হিসাবে ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত নানান সামাজিক প্রকল্পের সুযোগ ও সুবিধা পাবেন‌। সরকারের তরফে নানান প্রকল্প রয়েছে। যেখানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের সম্মানের সঙ্গে বাঁচার পথ সহজ হয়।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Jiu-jitsu to Capt Smit: মাথার সেলাই দেখে চমকে উঠল বিশ্ব! সুস্থ হয়ে উঠলে জিউ-জিৎসু শেখাব, ভারতীয় পাইলটকে ইউএই প্রেসিডেন্টের বিশেষ প্রস্তাব

    Jiu-jitsu to Capt Smit: মাথার সেলাই দেখে চমকে উঠল বিশ্ব! সুস্থ হয়ে উঠলে জিউ-জিৎসু শেখাব, ভারতীয় পাইলটকে ইউএই প্রেসিডেন্টের বিশেষ প্রস্তাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েলগামী বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা রুখে দিয়ে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর (Captain Smit Machchhar)। তাঁর সাহসিকতার স্বীকৃতি দিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)। তবে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সকলের নজর কাড়ল তাঁর মাথার পিছনে থাকা সেলাইয়ের দীর্ঘ দাগ। পাইলটের ভয়াবহ আঘাতের চিহ্ন দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। সেই সাক্ষাতেই স্মিতকে সুস্থ হয়ে ওঠার পর জিউ-জিৎসু (Jiu-jitsu to Capt Smit) শেখানোর প্রস্তাব দিলেন তিনি।

    জিউ-জিৎসু শেখানোর প্রস্তাব

    বুধবার ইউএই-তে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছর এবং ফ্লাইদুবাইয়ের (Fly Dubai Attack) অন্যান্য কর্মীদের সম্মানিত করা হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইজরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে হামলার ঘটনায় ১৭৪ জন যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তাঁরা। সেই সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘ফার্স্ট ক্লাস অর্ডার অফ জায়েদ ২’ সম্মান। অনুষ্ঠানে স্মিতের বাঁ হাত ছিল স্লিংয়ে বাঁধা। মাথার পিছনে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল সেলাইয়ের দীর্ঘ দাগ। তাঁর এই শারীরিক অবস্থা থেকেই হামলার ভয়াবহতা সম্পর্কে প্রথমবার স্পষ্ট ধারণা পেল বিশ্ব। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে স্মিতের সঙ্গে ইউএই-র প্রেসিডেন্টের কথোপকথনের একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। সেখানে প্রেসিডেন্টকে স্মিতের মাথার আঘাতের দাগ ও হাতের স্লিংয়ের দিকে নজর দিতে দেখা যায়। স্মিত কবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন, তা জানতে চান তিনি। উত্তরে ভারতীয় পাইলট জানান, সুস্থ হতে সম্ভবত আরও দু’মাস সময় লাগতে পারে। এরপরই প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমার একটা পরিকল্পনা আছে। তুমি সুস্থ হয়ে উঠলে আমি তোমার সঙ্গে একটি সেশন করতে চাই। তোমাকে লড়াই করতে শেখাব—একটি জিউ-জিৎসু সেশন।” প্রেসিডেন্টের এই প্রস্তাবে হেসে ফেলেন স্মিত। তিনি বলেন, “এটা আমার কাছে সবচেয়ে বড় সম্মান।” এরপর দু’জনকে হাসিমুখে আলিঙ্গন করতেও দেখা যায়।

    মাথায় কুড়ুলের আঘাত, তবুও হাল ছাড়েননি স্মিত

    ঘটনাটি ঘটে যখন বিমানটি ইজরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে চলেছিল। অভিযোগ, সেই সময় ৩৮ বছর বয়সি স্মিত মাচ্ছরের উপর পিছন থেকে ক্র্যাশ অ্যাক্স বা ভারী কুড়ুল দিয়ে হামলা চালান তাঁর ওমানি সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি। বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তেল আভিভের একটি বহুতলে বিমানটি আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া সত্ত্বেও স্মিত দমে যাননি। প্রচণ্ড যন্ত্রণা ও দ্রুত রক্তক্ষরণের মধ্যেও তিনি ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। এরপর বিমানকর্মী ও যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে কাবু করেন। এই তীব্র বিশৃঙ্খলার মধ্যে মাত্র দু’মিনিটে বিমানটি প্রায় ১৭ হাজার ফুট নীচে নেমে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিমানে থাকা দুই অফ-ডিউটি পাইলটের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    ভেঙে গিয়েছিল মাথার খুলি

    এই হামলায় স্মিতের মাথার খুলি ভেঙে যায়। তাঁর বাঁ হাতেও গুরুতর আঘাত লাগে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর ‘ডিপ্রেসড স্কাল ফ্র্যাকচার’ হয়েছিল। এই ধরনের আঘাতে খুলির ভাঙা হাড়ের একটি অংশ ভিতরের দিকে মস্তিষ্কের দিকে ঢুকে যায়। সৌদি আরবে জরুরি চিকিৎসার সময় চিকিৎসকেরা তাঁর খুলির পুনর্গঠন করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ইউএই-তে নিয়ে যাওয়া হয়। মাথা ও হাতের পাশাপাশি তাঁর হাত-পা, বুক এবং পেটের উপরিভাগেও আঘাতের চিহ্ন ছিল। স্মিত মাচ্ছরের মাথার আঘাতের একটি ক্লোজ-আপ ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন ব্রিটেনের অতি-ডানপন্থী নেতা টমি রবিনসন। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, সব নায়ক কেপ পরে থাকেন না, কেউ কেউ যুদ্ধের ক্ষতচিহ্ন বহন করেন। ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরকে নায়ক হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেন তিনি।

    জিউ-জিৎসু কী

    জিউ-জিৎসু একটি মার্শাল আর্ট বা আত্মরক্ষার কৌশল। ইউএই-তে, বিশেষত আবু ধাবিতে, এই খেলার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। দেশটি আন্তর্জাতিক স্তরেও জিউ-জিৎসুর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ইউএই-র এই সম্মান স্মিতের প্রাপ্ত স্বীকৃতির তালিকায় আরও একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। গুজরাট সরকার তাঁকে ‘বিশিষ্ট গুজরাট গরিমা’ সম্মানে ভূষিত করেছে। অন্যদিকে, ইজরায়েল সরকারও তাঁকে বেসামরিক সাহসিকতার জন্য প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। গত সপ্তাহে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরকে ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মশাল প্রজ্বলনের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মাথায় গুরুতর আঘাত, শরীরে অসংখ্য ক্ষত—সবকিছুকে উপেক্ষা করে ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন রক্ষায় স্মিতের ভূমিকা আজ আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসিত। তাঁর সাহসিকতার কাহিনি আরও একবার প্রমাণ করল, বিপদের মুহূর্তে দায়িত্ববোধ ও উপস্থিত বুদ্ধিই হয়ে উঠতে পারে বহু মানুষের জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

  • Spain: স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, মৃত অন্তত ৬৮! পরিবহণমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব কর্মী সংগঠন

    Spain: স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, মৃত অন্তত ৬৮! পরিবহণমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব কর্মী সংগঠন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্পেনে পরপর দু’টি ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় বিপর্যস্ত রেল পরিষেবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বুধবার মধ্য স্পেনের কাস্তিয়া-লা মানচা অঞ্চলে দু’টি ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে (Spain)। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন যাত্রী। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দেশে দ্বিতীয় প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনার পর (Train Crash) পরিবহণমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তের পদত্যাগ দাবি করেছে দেশের শ্রমিক সংগঠন সিএসআইএফ। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দ্রুত, নিরপেক্ষ, কঠোর ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবিও জানিয়েছে তারা। দুর্ঘটনার জেরে রেলপথের নিরাপত্তা, পরিকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং কর্মীদের কাজের পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে তিনদিনের জাতীয় শোক পালনের কথা ঘোষণা করেছে স্পেন সরকার। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।

    দায় এড়ানোর চেষ্টা, অভিযোগ শ্রমিক সংগঠনের

    সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সিএসআইএফ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার দায় স্বীকার করার পরিবর্তে পরিবহণমন্ত্রী রেলকর্মীদের উপর দায়িত্ব চাপানোর চেষ্টা করছেন। রেল পরিকাঠামোর দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থা আদিফের ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ বিভাগের এক কর্মীকে সম্ভাব্য বলির পাঁঠা হিসেবে তুলে ধরা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে দোষী বিবেচনা না করার এবং নির্দোষ বলে গণ্য হওয়ার আইনি অধিকার বজায় রাখার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে তারা। পাশাপাশি, গত সেপ্টেম্বরেই আদিফের কর্মীদের অতিরিক্ত কাজের সময় নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে সিএসআইএফ। সংগঠনটির বক্তব্য, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে রেল পরিকাঠামোর উন্নয়ন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পুরনো ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য আরও অর্থ বরাদ্দ করা প্রয়োজন। তবে পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি পরিবহণমন্ত্রী পুয়েন্তে।

    কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?

    বুধবার কাস্তিয়া-লা মানচা অঞ্চলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সরকারি রেল সংস্থা রেনফের একটি ট্রেন গিয়ে ধাক্কা মারে বেসরকারি সংস্থা ইরিওর একটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের পিছনে। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে তল্লাশি চালান উদ্ধারকারীরা। হতাহতের সংখ্যা এবং দুর্ঘটনার ভয়াবহতার কারণে ঘটনাটিকে ২০১৩ সালের পর ইউরোপের অন্যতম প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিবহণমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রায় ৬৯ কিলোমিটার রেলপথে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরে নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকে ফের ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী পরিস্থিতিকে ‘ব্যাখ্যাতীত’ বলে উল্লেখ করেছেন। এরপর রেনফের ট্রেনটি প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে দাঁড়িয়ে থাকা ইরিওর ট্রেনটির সঙ্গে ধাক্কা খায়। নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ঠিক কী ধরনের ত্রুটি হয়েছিল এবং কেন ফের ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তদন্তে সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হবে বলে মনে করা হচ্ছে (Spain)।

    পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস সানচেজের

    প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হবে এবং তদন্তে কোনও গাফিলতি বা ব্যবস্থাগত ত্রুটি ধরা পড়লে তা সংশোধনের পদক্ষেপ করবে সরকার। মাদ্রিদের দক্ষিণে দুর্ঘটনাস্থলের কাছে এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। উদ্ধারকারী দল ও জরুরি পরিষেবার কর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। চলতি বছরে স্পেনে ঘটে যাওয়া দু’টি প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনার কারণ পরস্পরের থেকে আলাদা বলেই প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সানচেজ। তবে দেশের দ্রুতগতির রেল পরিষেবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও মজবুত করা এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্বীকার করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দ্রুতগতির রেল পরিষেবার উপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে যদি নিরাপত্তা আরও জোরদার করার প্রয়োজন হয়, আমরা তা করব। এক বছরে এই ধরনের দু’টি দুর্ঘটনা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” এদিকে, আগামী মাসে নির্ধারিত নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার চালাচ্ছিল বিরোধী দল পিপলস পার্টি। দুর্ঘটনার শোকের আবহে বৃহস্পতিবারের জন্য নির্ধারিত প্রচার কর্মসূচি বাতিল করেছে দলটি।

    দ্বিতীয় প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা

    স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে গত জানুয়ারিতে ঘটে যাওয়া আর একটি রেল দুর্ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। সেই ঘটনায় ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তার কয়েক মাসের মধ্যেই ফের এত বড় দুর্ঘটনা ঘটায় দেশের রেল নিরাপত্তা এবং দ্রুতগতির রেলপথের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সিএসআইএফের দাবি, রেল ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের পাশাপাশি কর্মীদের কাজের পরিবেশ উন্নত করা এবং নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। সরকারের বক্তব্য, জানুয়ারির দুর্ঘটনার তদন্ত থেকে আলাদাভাবে সাম্প্রতিক ঘটনার অনুসন্ধান করা হবে। তদন্তে যে সমস্ত ত্রুটি সামনে আসবে, সেগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    ভারতীয় নাগরিকদের জন্য জরুরি যোগাযোগ নম্বর জারি

    স্পেনে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, গত ২৮ অক্টোবর তোলেদোর উর্দা এলাকার কাছে দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রেনগুলিতে কোনও ভারতীয় নাগরিক যাত্রা করে থাকলে, তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দূতাবাসের যোগাযোগ করা উচিত (Spain)। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে দূতাবাস দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিক ও তাঁদের পরিবারের জন্য জরুরি যোগাযোগের তথ্য (Train Crash) জানিয়েছে। প্রয়োজনে ভারতীয় নাগরিকেরা দূতাবাসের সঙ্গে +34650339008 নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। এ ছাড়া cons.madrid@mea.gov.in-এ ইমেল পাঠিয়েও সাহায্য চাওয়া যাবে। দুর্ঘটনায় কোনও ভারতীয় নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে দ্রুত দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার আবেদনও জানিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস।

     

  • Muhammad Yunus: হাসিনার পতনের দু’দিন আগেই ইউনুসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল!

    Muhammad Yunus: হাসিনার পতনের দু’দিন আগেই ইউনুসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের দু’দিন আগেই নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসকে (Muhammad Yunus) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বুধবার, ২৮ অক্টোবর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে তিনি এই দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, হাসিনা সরকারের পতন (Hasina Ouster) এবং ইউনুসকে ক্ষমতার শীর্ষে নিয়ে আসার পরিকল্পনা অত্যন্ত গোপনে তৈরি হয়েছিল।

    শফিকুলের দাবি, হাসিনার বিদায়ের পর অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ইউনুসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বাংলাদেশের সাংবাদিক কাদারুদ্দিন শিশির। ছাত্রনেতাদের হয়ে ইউনুসকে এই দায়িত্ব গ্রহণের আমন্ত্রণ জানানোর জন্যই শিশিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে তাঁর বক্তব্য।

    আলমের কথায়, “হাসিনা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের কাছে পৌঁছতে ছাত্রনেতাদের একজন বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন ছিল। কাদারুদ্দিন শিশির সেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।” তাঁর আরও দাবি, গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে পরিচালনা করা হয়েছিল এবং হাতে গোনা কয়েকজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি ছাড়া কেউই এই পরিকল্পনার কথা জানতেন না।

    আলমের বিস্ফোরক দাবি (Muhammad Yunus)

    আলমের বক্তব্য, ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী ইউনুসের সঙ্গে ছাত্রনেতাদের প্রাথমিক আলোচনা শুরু করানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন শিশির। হাসিনা দেশ ছাড়ার দু’দিন আগেই এই যোগাযোগ ও আলোচনা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

    আলম আরও বলেন, “হাসিনা তখনও দু’দিন ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু গণহত্যা ও অপহরণের অভিযোগে অভিযুক্ত তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এই পরিকল্পনার কোনও খবরই পায়নি। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে শিশির এবং আমাদের পুরো এএফপি দলকে সম্ভবত আয়নাঘরে বন্দি হতে হত।”

    ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। তার আগে জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের একটি বড় দল প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের দিকে এগিয়ে গেলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী হাসিনাকে জানায়, বিক্ষোভকারীদের আর আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

    এরপর হাসিনা পদত্যাগ করেন এবং ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত দেশ ছাড়েন। প্রথমে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে তাঁদের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় (Muhammad Yunus)। পরে সামরিক পরিবহণ বিমানে তাঁরা বাংলাদেশ ছাড়েন। মানবিক কারণে ভারতে আশ্রয় পান হাসিনা।

    হিন্দু সংগঠনগুলিকে ‘হাসিনার পোষা কুকুর’ বলেছিলেন আলম

    হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসে। বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন এবং সংখ্যালঘু প্রতিনিধিরা একাধিক ঘটনার কথা তুলে ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    তবে আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির উদ্বেগকে গুরুত্ব না দিয়ে তাদের শেখ হাসিনা সরকারের “পোষা কুকুর” বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার অভিযোগ এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে তখনও প্রশ্ন উঠছিল।

    এর পাশাপাশি, আলম দাবি করেছিলেন, শেখ হাসিনার (Muhammad Yunus) শাসনকালের তুলনায় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশে হিন্দুরা বেশি নিরাপদে রয়েছেন। সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁর এই বক্তব্যও বিতর্কের জন্ম (Hasina Ouster) দিয়েছিল।

     

LinkedIn
Share