Blog

  • India Beats Sri Lanka: নবাগত পাড়িক্কাল, সুথারের দাপটে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে ১৬৫ রানে জয় ভারতের

    India Beats Sri Lanka: নবাগত পাড়িক্কাল, সুথারের দাপটে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে ১৬৫ রানে জয় ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের জয়ের জন্যই যেন অপেক্ষা করছিলেন বরুণ দেবতা! শ্রীলঙ্কার শেষ উইকেট পতনের পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ঝেঁপে বৃষ্টি নামল গলে। তার আগে অবশ্য প্রথম টেস্টে ১৬৫ রানে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দেয় ভারত। ফলে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ এগিয়ে গেল শুভমন গিলরা। জয়ে বড় ভূমিকা রাখলেন তরুণ স্পিনার মানব সুতার। ভারতের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে একাই ৬ উইকেট তুলে নিলেন। ফলে ৩৭২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ২০৬ রানে গুটিয়ে গেল শ্রীলঙ্কার ইনিংস। দুই ইনিংস মিলিয়ে ম্যাচে মোট ১০ উইকেট নিলেন মানব।

    মানব-ম্যাজিক

    শুরু থেকেই ভাল খেলছিল তারা। প্রত্যাশামতোই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট জিতে নিল ভারত। বুধবার টেস্টের পঞ্চম দিনে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংসের বাকি ছ’টি উইকেট ফেলে দিল তারা। টেস্ট জিততে শ্রীলঙ্কার দরকার ছিল ৩৭২ রান। তাদের ইনিংস শেষ হয়ে যায় ২০৬ রানেই। ভারত জিতেছে ১৬৫ রানে। মানব সুতার এক ওভারে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। শ্রীলঙ্কার শেষ চারটি উইকেট ফেলেন তিনিই। সারাংশ জৈন না মানব, কাকে প্রথম টেস্টে খেলানো হবে তা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছিল। শেষমেশ শিকে ছেঁড়ে মানবের। সুযোগ পেয়েই আস্থার দাম রাখলেন এই বাঁহাতি স্পিনার। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নিলেন তিনি। এক সময় গলে রাজ করেছেন শ্রীলঙ্কার বাঁহাতি স্পিনার রঙ্গনা হেরাথ। সোমবার গল দেখল আর এক বাঁহাতি স্পিনারের দাপট। পঞ্চম দিনে লড়াই করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু দু’ওভারে চারটি উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে একাই শেষ করে দেন মানব।

    ভারতের জয়ের কারিগর

    ভারতের জন্য এই টেস্টের জয়ের সবথেকে ইতিবাচক বিষয়টি হল জয়ের কারিগররা। গিল, রাহুল বা জাডেজার মতো প্রতিষ্ঠিত মহাতারকারা নন, বরং এই ম্যাচে ভারতের জয়ের কারিগর দ্বিতীয় টেস্ট খেলা সুথার ও তৃতীয় টেস্টে মাঠে নামা দেবদত্ত পাড়িক্কাল (Devdutt Padikkal)। সুথার বোলিংয়ে ১০ উইকেট নেন, আর পাড়িক্কাল ব্যাট হাতে ম্যাচের দুই ইনিংসে ২০০-র অধিক রান করেন। তবে, টেস্ট জিতলেও ভারতের চিন্তা থাকবে শুভমন গিল এবং যশস্বী জয়সওয়ালের ফর্ম নিয়ে। শুভমন প্রথম ইনিংসে ১৬ করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ রান করেন। যশস্বী দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৩২ এবং ০ রান করেছেন। দু’জনের খারাপ ফর্মের কারণে টপ অর্ডার বেশি অবদান রাখতে পারেননি। দেবদত্ত পডিক্কলের ইনিংসের সৌজন্যে বড় রান তোলা গিয়েছে। দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিংও ভাল হয়নি ভারতের।

  • RSS: জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা ও যুবসমাজের মাদকাসক্তি ইস্যুতে শুরু আরএসএসের তিন দিনের সমন্বয় বৈঠক

    RSS: জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা ও যুবসমাজের মাদকাসক্তি ইস্যুতে শুরু আরএসএসের তিন দিনের সমন্বয় বৈঠক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা, যুবসমাজের মাদকাসক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা নিয়ে আগামী তিন দিন ধরে আলোচনা করবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)। বুধবার বিশাখাপত্তনমের কাছে গুড়িলোভায় বিজ্ঞান বিহার বিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে আরএসএসের এই বার্ষিক সর্বভারতীয় সমন্বয় বৈঠক। মঙ্গলবার বিকেলে বৈঠকের জায়গায় সাংবাদিক সম্মেলন করেন আরএসএসের সর্বভারতীয় প্রচারপ্রমুখ সুনীল আম্বেকর। তিনি জানান, ১৯ অগাস্ট (বুধবার) সকাল ৯টায় বৈঠক শুরু হবে, চলবে ২১ অগাস্ট সন্ধ্যা পর্যন্ত। সঙ্ঘের ভাবধারায় প্রাণিত ৩২টি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীরা তিন দিনের এই বৈঠকে অংশ নেবেন। আরএসএসের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত, সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে, সহ-সরকার্যবাহ এবং কেন্দ্রীয় স্তরের অন্যান্য পদাধিকারীরাও উপস্থিত রয়েছেন।

    বৈঠকে যোগ দিয়েছেন যাঁরা (RSS)

    সংঘ সূত্রে খবর, এদিন শুরু হওয়া ওই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন (Demographic Imbalance) ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, ভারতীয় জনতা পার্টি, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ, ভারতীয় কিষান সঙ্ঘ এবং রাষ্ট্র সেবিকা সমিতি-সহ বিভিন্ন সঙ্ঘ-প্রাণিত সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সংগঠন সম্পাদকরা। সব মিলিয়ে প্রায় ৩২৭ জন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সংগঠনগুলির ২৫৩ জন পদাধিকারী। এঁদের মধ্যে আবার রয়েছেন, ৪৯ জন মহিলা। তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন আরএসএসের শীর্ষ নেতারাও।

    সুনীল আম্বেকরের বক্তব্য

    সুনীল আম্বেকর স্পষ্ট করে জানান, এটি কোনও নির্বাহী সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৈঠক নয়। বিভিন্ন সংগঠনের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সমাজের কল্যাণে তাদের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। জনকল্যাণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের মতো বিষয় নিয়ে সঙ্ঘ ও তার অনুপ্রাণিত সংগঠনগুলি কাজ করে। সেই কাজের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে বৈঠকে আলোচনা হবে। দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, সামাজিক পরিবর্তন এবং উদীয়মান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের বাস্তবসম্মত সমাধান নিয়েও পর্যালোচনা হবে, হবে আলোচনাও। বৈঠকে দেশের জনসংখ্যার পরিবর্তিত প্রবণতা, তার বৃহত্তর প্রভাব এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

    আলোচ্যসূচিতে গুরুত্ব

    তিন দিনের এই বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাবে যুবসমাজকে মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত রাখার বিষয়টি। ক্রমবর্ধমান মাদকাসক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি যুবসমাজকে মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার থেকে দূরে রাখতে একটি সুসংবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা তৈরি এবং ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হবে (RSS)।আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপনের প্রাক্কালে সমাজে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, যাকে বলা হচ্ছে ‘পঞ্চ পরিবর্তন’। এর মধ্যে রয়েছে সামাজিক সম্প্রীতি, পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন, পরিবারবোধ ও পারিবারিক মূল্যবোধ, স্ব-বোধ বা দেশীয় চেতনা এবং নাগরিক কর্তব্য পালন। শতবর্ষের এই পর্বে দেশজুড়ে এই পাঁচটি বিষয় নিয়ে আলোচনা ও প্রচার চালানো হচ্ছে। তিন দিনের এই সমন্বয় বৈঠকেও পঞ্চ পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে পরবর্তী কর্মসূচি ও উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হবে (Demographic Imbalance)।

    ‘ভারতীয় উন্নয়ন মডেল’

    সুনীল আম্বেকর এও জানান, অর্থনৈতিক উন্নতির পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে একটি সামগ্রিক ‘ভারতীয় উন্নয়ন মডেল’ গড়ে তোলার বিষয়টিও রয়েছে বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে। তাঁর মতে, প্রকৃত উন্নয়নকে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সূচকের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। সমাজের সব ক্ষেত্রে সামগ্রিক অগ্রগতিই প্রকৃত উন্নয়নের ভিত্তি হওয়া উচিত। আরএসএসের শতবর্ষের এই পর্বে সংগঠনটির প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে। ‘আরএসএসে যোগ দিন’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৫৭ হাজার ৪২৩ জন নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। ২০২৬ সালে ওই একই সময়ে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ২৮৭। নথিভুক্তদের মধ্যে ৬৫ শতাংশেরও বেশি ৩০ বছরের কম বয়সি এবং প্রায় ৮৫ শতাংশের বয়স ৪০ বছরের কম (RSS)।

    এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে সুনীল আম্বেকর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ-মধ্য ক্ষেত্রের (Demographic Imbalance) সহ-সঙ্ঘচালক শ্রী দুঙ্গি রামকৃষ্ণ, সহ-প্রচারপ্রমুখ শ্রী প্রদীপ জোশী, অন্ধ্রপ্রদেশ প্রান্তের প্রচারপ্রমুখ বায়্যা বাসু এবং সহ-প্রচারপ্রমুখ বাসুদেব রাও (RSS)।

     

  • Jharkhand: নেই উসকানিমূলক স্লোগান, বিরোধিতা রাজনীতিকরণেও, জন্তর-মন্তরের থেকে কোথায় আলাদা ঝাড়খণ্ডের জেন জি আন্দোলন?

    Jharkhand: নেই উসকানিমূলক স্লোগান, বিরোধিতা রাজনীতিকরণেও, জন্তর-মন্তরের থেকে কোথায় আলাদা ঝাড়খণ্ডের জেন জি আন্দোলন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে ঝাড়খণ্ডে (Jharkhand) পড়ুয়াদের আন্দোলনে (Recruitment Irregularities) এল বড়সড় সাফল্য। আন্দোলনকারীদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নিয়েছে হেমন্ত সোরেনের জোট সরকার। যদিও সরকারের ঘোষণার পরেও, আন্দোলন প্রত্যাহার করেনি পড়ুয়ারা। তাঁদের মূল দাবি এখনও পূরণ হয়নি। নিয়োগ পরীক্ষায় তথাকথিত অনিয়মের তদন্ত সিবিআইকে দিয়ে করানোর দাবিতে অনড় তাঁরা।

    ১৭ অগাস্ট ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বাধীন সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এর মধ্যে রয়েছে ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের স্নাতক স্তরের পরীক্ষা বাতিল, ২০১৪ সাল থেকে টিএসআর ডেটা প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে পরিচালিত পরীক্ষা ও নিয়োগ-সংক্রান্ত কার্যক্রম বাতিল এবং রাজ্যে হওয়া নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে বিস্তৃত তদন্ত।

    এ ছাড়াও নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার। প্রবীণ আইএএস আধিকারিক অমিতাভ কৌশলের নেতৃত্বে এই কমিটি নিয়োগ পরীক্ষাকে আরও স্বচ্ছ করা এবং ভবিষ্যতে অনিয়ম ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ করবে।

    তবে পড়ুয়াদের আন্দোলন এখনও চলছে। তাঁদের প্রধান দাবি, গোটা বিষয়টির তদন্ত করতে হবে সিবিআইকে দিয়ে।

    কীভাবে শুরু হয় ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়াদের আন্দোলন (Jharkhand)

    রাঁচিতে ২৫ জুলাই থেকে এই আন্দোলনের সূচনা। ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পড়ুয়া এবং সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীরা জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে জড়ো হয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রতিবাদ করতে শুরু করেন।

    চতুর্দশ ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের স্নাতক স্তরের পরীক্ষা-সহ একাধিক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আন্দোলনকারীরা।

    ২০২৪ সালে সম্মিলিত স্নাতক স্তরের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে ওঠে। পড়ুয়াদের দাবি ছিল, অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, নিয়োগ পরীক্ষার ব্যবস্থায় সংস্কার করতে হবে এবং গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে হবে। তাঁদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল সিবিআই তদন্ত।

    আন্দোলনের শুরু থেকেই পড়ুয়ারা জানিয়ে আসছেন, তাঁদের লড়াই ছাত্রছাত্রী এবং সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। তাই এই আন্দোলনকে কোনও রাজনৈতিক দল বা বাইরের সংগঠনের প্রভাবমুক্ত রাখার কথাও তাঁরা বারবার বলেছেন (Recruitment Irregularities)।

    বিধানসভা ঘেরাও ঘিরে পুলিশের লাঠিচার্জ

    ১০ অগাস্ট আন্দোলনের তীব্রতা আরও বাড়ে। সেদিন পড়ুয়ারা বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হন।

    পুলিশি পদক্ষেপের পরেও আন্দোলন থামেনি। নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে পড়ুয়ারা অবস্থান চালিয়ে যান। ফলে রাজ্য সরকারের উপরও চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে।

    বিষয়টি পরে রাজনৈতিক মহলেও গুরুত্ব পায়। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী মুখ্যমন্ত্রীকে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে তাঁদের সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান। তিনি পড়ুয়াদের দাবিকে ন্যায্য এবং তাঁদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। ফলে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার নেতৃত্বাধীন সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়ে (Jharkhand)।

    সরকারের একাধিক বড় সিদ্ধান্ত

    ১৭ অগাস্ট রাজ্য সরকার পড়ুয়াদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নেওয়ার কথা ঘোষণা করে।

    প্রথমত, ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের স্নাতক স্তরের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।

    দ্বিতীয়ত, ২০১৪ সাল থেকে টিএসআর ডেটা প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে পরিচালিত পরীক্ষা এবং নিয়োগ-সংক্রান্ত সমস্ত কার্যক্রম বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই সংস্থার মাধ্যমে প্রকাশিত ফলাফলও এর আওতায় পড়বে। একই সঙ্গে সংস্থাটিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে রাজ্য সরকার।

    শুধু স্নাতক স্তরের পরীক্ষা নয়, ২০১৪ সাল থেকে রাজ্যে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মেরও বিস্তৃত তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের অপরাধ তদন্ত বিভাগ এই তদন্ত করবে। অনিয়ম বড় না ছোট—তা বিবেচনা না করে তদন্তের আওতায় সমস্ত অভিযোগ আনা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

    নিয়োগ পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য অমিতাভ কৌশলের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নিয়োগ পরীক্ষাকে আরও স্বচ্ছ করা এবং অনিয়ম প্রতিরোধের জন্য কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন, সেই বিষয়ে সুপারিশ করবে কমিটি।

    এত কিছুর পরেও আন্দোলন কেন চলছে?

    সরকার একাধিক দাবি মেনে নেওয়ার পরেও আন্দোলন প্রত্যাহার করেননি পড়ুয়ারা। এর প্রধান কারণ সিবিআই তদন্তের দাবি (Recruitment Irregularities)।

    আন্দোলনকারীরা চাইছেন, রাজ্য সরকারের অধীনস্থ সংস্থা নয়, একটি স্বাধীন কেন্দ্রীয় সংস্থা নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত করুক। রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে দিয়ে তদন্ত এবং পরীক্ষা সংস্কারের জন্য কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তে তাঁদের কয়েকটি দাবি পূরণ হলেও, সিবিআই তদন্তের বিষয়টি এখনও অমীমাংসিত।

    ফলে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপরেই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে। সরকার যদি সিবিআই তদন্তের দাবি মেনে নেয়, তাহলে আন্দোলন প্রত্যাহারের পথ তৈরি হতে পারে। আর দাবি না মেনে নেওয়া হলে আন্দোলন আরও চলতে পারে।

    রাজনৈতিক ইস্যুর বদলে নিয়োগ পরীক্ষায়ই জোর

    ঝাড়খণ্ডের এই আন্দোলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, পড়ুয়ারা শুরু থেকেই একে নিয়োগ পরীক্ষা এবং সরকারি চাকরির প্রশ্নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছেন।

    তাঁদের বক্তব্য, এটি কোনও রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, বরং সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং নিয়োগ ব্যবস্থার স্বচ্ছতার জন্য আন্দোলন। প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষায় অনিয়ম, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ—এগুলিই তাঁদের মূল দাবি।

    বাইরের রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত সংগঠনগুলির প্রভাব থেকেও আন্দোলনকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন পড়ুয়ারা। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চললেও, তাঁরা একে বৃহত্তর দলীয় বা মতাদর্শগত আন্দোলনে পরিণত হতে দেননি।

    বাইরের রাজনৈতিক প্রভাবের বিরোধিতা

    ৭ অগাস্ট আন্দোলনে বাইরের রাজনৈতিক সংগঠনের হস্তক্ষেপ নিয়ে পড়ুয়াদের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে যায়। সেদিন সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠনের জাতীয় সভাপতি নেহা বোরারা আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়াতে কর্মসূচিতে যোগ দেন।

    কিন্তু আন্দোলনকারীদের একাংশ তাঁর উপস্থিতির বিরোধিতা করেন। অভিযোগ, বক্তব্য রাখার সময় তাঁকে কটূক্তির মুখে পড়তে হয় এবং মঞ্চ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।

    ঘটনাটি থেকে স্পষ্ট হয়, আন্দোলনকারীরা তাঁদের আন্দোলনের নেতৃত্ব, দিকনির্দেশ এবং বক্তব্য নিজেদের হাতেই রাখতে চাইছেন। বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংগঠন হলেও, তাঁর হস্তক্ষেপকে তাঁরা স্বাগত জানাননি (Jharkhand)।

    শুধু হেমন্ত সরকারকে সমর্থনকারী বা বিরোধী রাজনৈতিক সংগঠন নয়, কোনও রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত সংগঠনের প্রভাব থেকেই আন্দোলনকে দূরে রাখার পক্ষেই পড়ুয়াদের একাংশ অবস্থান নিয়েছে। তাদের বক্তব্য, আন্দোলনের মূল বিষয় হওয়া উচিত নিয়োগ পরীক্ষা এবং সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ।

    উসকানিমূলক স্লোগান বা পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ নেই

    ঝাড়খণ্ডের আন্দোলনকে অন্যান্য কিছু বিতর্কিত ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করা হলেও, এখানে মূলত নিয়োগ পরীক্ষা ও সরকারি চাকরির বিষয়গুলিই সামনে রয়েছে।

    আন্দোলন চলাকালীন “আজাদি” বা “ব্রাহ্মণ্যবাদ থেকে আজাদি”র মতো স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসেনি। হিন্দু-বিরোধী বক্তব্য, পাথর ছোড়া বা পুলিশের উপর হামলার অভিযোগও এই আন্দোলনে শোনা যায়নি।

    পরীক্ষা সংস্কারকে কেন্দ্র করে নতুন পর্যায়ে আন্দোলন

    ঝাড়খণ্ডের আন্দোলন এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকার স্নাতক স্তরের পরীক্ষা বাতিল করেছে, ২০১৪ সাল থেকে টিএসআর ডেটা প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে যুক্ত পরীক্ষা ও নিয়োগ-সংক্রান্ত কার্যক্রম বাতিল করেছে, অনিয়মের অভিযোগের তদন্তের জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগকে দায়িত্ব দিয়েছে এবং নিয়োগ পরীক্ষা সংস্কারের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করেছে।

    একটি ছাত্র আন্দোলনের প্রাথমিক দাবি ছিল নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের এই সিদ্ধান্তগুলি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

    অতঃপর?

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আন্দোলনের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে সিবিআই তদন্তের দাবি নিয়ে সরকারের অবস্থানের উপর (Recruitment Irregularities)।

    সরকার এই দাবি মেনে নিলে আন্দোলন সমাধানের দিকে এগোতে পারে। কিন্তু দাবি প্রত্যাখ্যান করা হলে, সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারেন (Jharkhand) পড়ুয়ারা।

    এই মুহূর্তে ঝাড়খণ্ডের আন্দোলন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ দীর্ঘ সময় ধরে চলার পরেও তা মূলত নিয়োগ পরীক্ষা, সরকারি চাকরি এবং পরীক্ষা সংস্কারের বিষয়েই কেন্দ্রীভূত রয়েছে।

    সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নিয়েছে। কিন্তু নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের তদন্ত সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি এখনও পূরণ হয়নি। ফলে চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করা এই আন্দোলনের সামনে এখন প্রশ্ন একটাই—তদন্তকারী সংস্থা নিয়ে বাকি মতপার্থক্য কি আন্দোলনকে আরও দীর্ঘায়িত না করেই মেটানো সম্ভব হবে (Jharkhand)?

     

  • Satyendar Jain: দিল্লি জল বোর্ডের টেন্ডার দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার আপ নেতা সত্যেন্দ্র, জালে আরও ৫

    Satyendar Jain: দিল্লি জল বোর্ডের টেন্ডার দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার আপ নেতা সত্যেন্দ্র, জালে আরও ৫

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লি জল বোর্ডের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও অনিয়মের (Jal Board Corruption Case) অভিযোগে আম আদমি পার্টির নেতা এবং দিল্লির প্রাক্তন জলমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈনকে (Satyendar Jain) গ্রেফতার করল দুর্নীতি দমন শাখা। অর্থ পাচার মামলায় ইতিমধ্যেই ১৮ মাস জেলে কাটিয়েছেন জৈন। তাঁর এই গ্রেফতারিকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

    যেসব অভিযোগে গ্রেফতার সত্যেন্দ্ররা (Satyendar Jain)

    এই মামলায় জৈন ছাড়াও আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দিল্লি জল বোর্ডের প্রাক্তন প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক তথা আইএএস অফিসার উদিত প্রকাশ রাই, প্রাক্তন চুক্তিভিত্তিক পরামর্শদাতা অঙ্কিত শ্রীবাস্তব এবং তিন বেসরকারি ব্যক্তি নাগেন্দ্র যাদব, রাজা কুমার কুররা ও পঙ্কজ বর্মা। দিল্লি দুর্নীতি দমন শাখার দাবি, ২০২৪ সালের ১১ মে দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতেই এই গ্রেফতারি। দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছিল। দিল্লির জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের সরকারের নজরদারি অধিদফতরের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার সূত্রপাত। অভিযোগ, দিল্লি জল বোর্ডের অধীনে নিকাশি জল শোধনাগারের সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের জন্য বিভিন্ন কাজের বরাত দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছিল। টেন্ডারের শর্ত বদলে দেওয়া, প্রক্রিয়ায় কারচুপি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগও উঠেছে। মামলায় ঘুষ, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি দমন শাখার বক্তব্য, তদন্তে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারচুপির প্রাথমিক প্রমাণ সামনে আসার পরেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে।

    আপের প্রশ্ন

    গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম হল সত্যেন্দ্র (Satyendar Jain)। দিল্লির জলমন্ত্রী থাকাকালীন জল বোর্ডের সঙ্গে তাঁর সরাসরি প্রশাসনিক যোগ ছিল। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সময়কাল ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আম আদমি পার্টি। দলের নেতা ধান্ডা সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, “আর কত প্রমাণ দরকার যে বিজেপি আম আদমি পার্টিকে ভয় পায়?” তাঁর আরও প্রশ্ন, জৈন যখন ১৮ মাস জেলে ছিলেন, তখন তাঁর অনুপস্থিতিতে ঘটে যাওয়া অনিয়মের জন্য তাঁকে কীভাবে দায়ী করা যায়? জৈনের গ্রেফতারির সঙ্গে আসন্ন পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনকেও যুক্ত করেছে আম আদমি পার্টি। বর্তমানে পাঞ্জাবে দলের সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হিসেবে কাজ করছেন জৈন। দলের অভিযোগ, সেই কারণেই এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এদিকে, দুর্নীতি দমন শাখা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, দিল্লি জল বোর্ডের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও কারচুপির অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবেই গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তদের। মামলায় সত্যেন্দ্রকে দিল্লির প্রাক্তন জলমন্ত্রী, উদিত প্রকাশ রাইকে দিল্লি জল বোর্ডের প্রাক্তন প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক এবং অঙ্কিত শ্রীবাস্তবকে প্রাক্তন চুক্তিভিত্তিক পরামর্শদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। নাগেন্দ্র, রাজা, এবং পঙ্কজকে এফআইআরে নাম থাকা সংস্থাগুলির সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    পুরো তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নিকাশি জল শোধন পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিভিন্ন চুক্তিতে অনিয়মের অভিযোগ। ফলে অভিযুক্তদের (Satyendar Jain) রাজনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ জনপরিকাঠামো প্রকল্পও (Jal Board Corruption Case) এই মামলাকে করে তুলেছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

     

  • Jharkhand Recruitment Row: ঝাড়খণ্ডে নিয়োগে বড়সড় পদক্ষেপ, বাতিল ৪৪ পরীক্ষা; অনিয়মের মামলায় ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট

    Jharkhand Recruitment Row: ঝাড়খণ্ডে নিয়োগে বড়সড় পদক্ষেপ, বাতিল ৪৪ পরীক্ষা; অনিয়মের মামলায় ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ ও দীর্ঘদিনের ছাত্র আন্দোলনের জেরে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল ঝাড়খণ্ড সরকার (Jharkhand Recruitment Row)। মঙ্গলবার রাতে একসঙ্গে আটটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্যে ২০১৪ সাল থেকে হওয়া ৪৪টি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বাতিল হওয়া পরীক্ষাগুলির মধ্যে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC)-এর পাশাপাশি আউটসোর্সিং সংস্থা টিডিপিএল (TDPL)-এর মাধ্যমে পরিচালিত পরীক্ষাও রয়েছে। বাতিলের তালিকায় রয়েছে ড্রাগ ইনস্পেক্টর, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, ডেপুটি কালেক্টর, ডেন্টাল ডাক্তার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, সিভিল জজ, অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর এবং ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগ পরীক্ষা। সরকারি পলিটেকনিকের লেকচারার, সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার-সহ আরও বেশ কিছু প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত পদে নিয়োগ পরীক্ষাও এই তালিকায় রয়েছে।

    ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের আবেদন

    শুধু পরীক্ষা বাতিল নয়, নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের কাছে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের আবেদন জানাবে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি জেপিএসসি এবং জেএসএসসি—দুই কমিশনেই একটি করে অভ্যন্তরীণ ভিজিল্যান্স সেল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেপিএসসি এবং জেএসএসসি (JPSC ও JSSC)-র নিয়োগ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ করার জন্য গঠিত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন প্রবীণ আইএএস আধিকারিক অমিতাভ কৌশল। ওই কমিটিকে আগামী দুই মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

    চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা

    এই সিদ্ধান্তের সূত্রপাত সোমবারের রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে। সেখানে জেএসএসসি কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল (JSSC Combined Graduate Level বা CGL) পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল এই পরীক্ষা বাতিল করা। একইসঙ্গে টিডিপিএল-এর মাধ্যমে পরিচালিত সমস্ত পরীক্ষা এবং ওই সংস্থার প্রকাশিত ফলাফলও বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তেই নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। জেএসএসসি কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল পরীক্ষায় সফল হয়ে ইতিমধ্যেই সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া ২,০০০-এরও বেশি প্রার্থী তাঁদের চাকরি নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন। সম্প্রতি তাঁরা রাজ্য সচিবালয় থেকে রাঁচির বিরসা চকের দিকে মিছিল করে তাঁদের নিয়োগ যাতে বহাল থাকে, সেই দাবি জানান।

    কেন এই দোলাচল

    পরীক্ষা পরিচালনাকারী এক বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে প্রশ্ন ফাঁস ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে অসন্তোষ দানা বেঁধেছিল। সিআইডি (CID) তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। জানা যায়, পরীক্ষার আগে পরীক্ষার্থীদের হাজারিবাগ, বোকারো, আসানসোল এমনকি নেপালের মতো বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে প্রায় ১৫০টির মধ্যে ১২০টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর মুখস্থ করানো হয়। এই নিয়ে মামলা গড়ায় ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। গত ডিসেম্বর মাসে হাইকোর্ট সন্দেহজনকদের বাদ দিয়ে বাকিদের নিয়োগপত্র দেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শীর্ষ আদালতও পরীক্ষা বাতিলের আর্জি খারিজ করে দেয়। সেই আইনি সুরক্ষার ভরসাতেই চাকরিপ্রার্থীরা চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু রাজ্য সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে সেই স্বস্তি এক নিমেষে উধাও হয়ে গেছে।

    নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম

    গত কয়েক মাস ধরে ঝাড়খণ্ডে জেপিএসসি এবং জেএসএসসি (JPSC ও JSSC)-র নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ বাড়ছিল। পরীক্ষার ফল প্রকাশে দেরি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং দীর্ঘ অপেক্ষা নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর। বছরের পর বছর সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া প্রার্থীদের কাছে এই অভিযোগ ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। অনেকেই একাধিকবার পরীক্ষায় বসেছেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় ছিলেন। ফলে কোনও পরীক্ষা বাতিল হলে তাঁদের বহু বছরের প্রস্তুতি ও পরিশ্রম বিফলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    আন্দোলনে মাথা নোয়াল সরকার

    ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand Recruitment Row) এই আন্দোলন জাতীয় স্তরে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম নিয়ে চলা বিতর্কের মধ্যেই আরও বড় আকার নেয়। দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি (CJP)-র নেতৃত্বে চলা ছাত্র আন্দোলনও দেশের তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে পরীক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভকে সামনে এনেছিল। ঝাড়খণ্ডের আন্দোলনকারীরাও ওই আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। দুই আন্দোলনের ইস্যু আলাদা হলেও মূল দাবিতে মিল রয়েছে—স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য ও দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ ব্যবস্থা। ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনের সূচনা হয় ২৯ জুলাই, রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে। জেপিএসএসসি ও জেএসএসসি-র নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থার দাবিতে সেখানে আন্দোলনে বসেন চাকরিপ্রার্থীরা।

    পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা

    পরবর্তীতে আন্দোলনে রাজনৈতিক সমর্থনও বাড়ে। ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহতো ২ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন, যার ফলে সরকারের উপর চাপ আরও বাড়তে থাকে। অবশেষে ৪৪টি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল, জেপিএসএসসি-জেএসএসসি-তে ভিজিল্যান্স সেল গঠন এবং অনিয়মের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টের উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পথে হাঁটল ঝাড়খণ্ড সরকার। তবে বাতিল হওয়া পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত চাকরিপ্রার্থী এবং ইতিমধ্যেই চাকরিতে যোগ দেওয়া সফল প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • Education Minister: প্রশ্নপত্র যাচাইয়ে চার স্তরের ব্যবস্থা! ৬০০ বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর

    Education Minister: প্রশ্নপত্র যাচাইয়ে চার স্তরের ব্যবস্থা! ৬০০ বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরীক্ষার নিরাপত্তা ও প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় বড়সড় সংস্কারের পথে হাঁটল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর নির্দেশের পর পরীক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। এরই অংশ হিসেবে প্রায় ৬০০ জন বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে নতুন বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র খতিয়ে দেখতে চালু করা হচ্ছে চার স্তরের যাচাই ব্যবস্থা, যাতে ভুলের সম্ভাবনা আরও কমানো যায়। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) পর্যালোচনা বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী আধিকারিকদের পরীক্ষার নিরাপত্তা, পরিকাঠামো এবং গোপনীয়তা সংক্রান্ত সমস্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। বৈঠকে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি-র ডিরেক্টর জেনারেল সংস্থার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য দেন।

    ২০ থেকে ২৫ জন আধিকারিককে নিয়োগ

    নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এনটিএ-তে ২০ থেকে ২৫ জন আধিকারিককে নিয়োগ করা হবে। সংস্থার আরও নিয়োগ ও নতুন কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করা হয়েছে। পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও পেশাদার করতে এনটিএ ইতিমধ্যেই ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পেশাদার নেতৃত্বের পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চিফ টেকনোলজি অফিসার, চিফ ফিনান্স অফিসার, চিফ ইনফরমেশন সিকিউরিটি অফিসার, জেনারেল ম্যানেজার (টেস্ট সিকিউরিটি) এবং জেনারেল ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ও সাইকোমেট্রিক্স)-এর মতো পদ। এছাড়া সাইবার সিকিউরিটি, সাইকোমেট্রিক্স এবং প্রশ্নপত্র তৈরির মতো বিশেষ ক্ষেত্রে বেসরকারি ক্ষেত্রের ডোমেন বিশেষজ্ঞদের এনটিএ-তে যুক্ত করা হচ্ছে।

    বহু কর্মীকে সরানোর সিদ্ধান্ত

    জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় স্বচ্ছতা আনতে ও বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-তে বড়সড় সংস্কারের উদ্যোগ নিল কেন্দ্র। একধাক্কায় ৬০০ জন বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে দেওয়া হল এনটিএ থেকে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী এক্স মাধ্যমে পোস্ট করে এই পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এনটিএ-র পরীক্ষার টিমে ইতিমধ্যেই পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রায় ৬০০ জন বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে নতুন বিশেষজ্ঞদের নিযুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আরও ২০ থেকে ২৫ জন আধিকারিককে এনটিএ-তে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    অফিস স্থানান্তর

    এনটিএ-র অফিসও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নতুন জায়গায় স্থানান্তর করা হবে। পরীক্ষার নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী (CISF)-এর দল মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। ১৭ অগাস্ট এনটিএ-র পরীক্ষা ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অডিট করার নির্দেশ দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। ৩০ দিনের মধ্যে সংশোধনমূলক পদক্ষেপের রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জুনে হওয়া ইউজিসি-নেট পরীক্ষার তিনটি বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ত্রুটির জেরে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারপরই এই সংস্কারের উদ্যোগ আরও জোরদার করা হয়েছে।

    চারটি স্তরে যাচাই

    এছাড়া পর্যালোচনা বৈঠকের পর প্রশ্নপত্র তৈরির ক্ষেত্রে চারটি স্তরের যাচাই করার ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র যাতে নির্ভুল হয়, তা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে চার স্তরের স্ক্রুটিনি। বর্তমানে এনটিএ-তে একাধিক পর্যায়ে যাচাই করা হয়। নতুন পদ্ধতিতে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। সম্প্রতি উচ্চশিক্ষাসচিব এবং স্কুল শিক্ষা সচিব-সহ অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানেই এনটিএ-র পরীক্ষা ব্যবস্থার নানা গলদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং কাজের পদ্ধতিতে একাধিক পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই এই সংস্থায় ব্যাপক রদবদল শুরু হয়েছে।

    প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষায় পদক্ষেপ

    প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষায়ও একাধিক কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এনটিএ-কে কনফিডেনসিয়াল অপারেশন (CONOPS) আর্কিটেকচার সম্পূর্ণভাবে ঢেলে সাজাতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে পৃথক ও সুরক্ষিত কক্ষ, ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন এয়ার গ্যাপ সিস্টেম এবং পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের মোবাইল-সহ অন্যান্য ডিভাইস নির্দিষ্ট স্থানে জমা রাখার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একের পর এক সর্বভারতীয় পরীক্ষায় অস্বচ্ছতা, কখনও প্রশ্নপত্র ফাঁস তো কখনও প্রশ্নে ভুল। দু’বার করে একই পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে পরীক্ষার্থীদের। ফলত ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এই নিয়ে দেশ জুড়ে আন্দোলনের জেরে এবার বড় পরিবর্তনের পথে পরীক্ষক সংস্থা এনটিএ। বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় ভূমিকায় নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। কেন্দ্রীয় শিক্ষাসচিবদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করে তাঁর মন্ত্রক জানিয়েছে, এনটিএ-র কাজের ধারায় আমূল পরিবর্তন করা হবে।

    সরকারের লক্ষ্য, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ

    প্রহ্লাদ যোশী এনটিএ-কে পরীক্ষার সমস্ত নির্ধারিত প্রোটোকল কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সংস্থার গোটা পরীক্ষা পরিচালনা ব্যবস্থার একটি সমন্বিত অডিট করে কী কী সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, নিরাপত্তা ও পরিচালন পদ্ধতি নিয়ে ওঠা বিভিন্ন বিতর্কের পর ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির এই সংস্কারমূলক পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করে পরীক্ষার নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং নির্ভুলতা আরও শক্তিশালী করা।

    সাড়ে ৭ কোটি টাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা!

    প্রশ্নপত্র ফাঁস, জালিয়াতি এবং নিরাপত্তার ফাঁকফোকর রুখতে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলারও উদ্যোগ নিয়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। ইতিমধ্যেই এ জন্য টেন্ডারও ডাকা হয়েছে।এনটিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী দু’বছরের জন্য একটি পেশাদার নিরাপত্তা সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। দিল্লির মিন্টো রোডে এনটিএ-র প্রধান কার্যালয়, ওখলার আঞ্চলিক অফিস, প্রশ্নপত্র সংরক্ষণের স্ট্রং রুম, সার্ভার রুম, গুদাম এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রাখার জায়গায় ২৪ ঘণ্টা কড়া নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে। লক্ষ্য একটাই, কোনওভাবেই যাতে প্রশ্নপত্র ফাঁস বা অন্য কোনও ধরনের জালিয়াতির সুযোগ না থাকে।

  • Coronavirus Alert: ফের কি ফিরছে করোনা আতঙ্ক? রাজ্যে চিকিৎসকের মৃত্যু ঘিরে উদ্বেগ, সতর্ক থাকার পরামর্শ

    Coronavirus Alert: ফের কি ফিরছে করোনা আতঙ্ক? রাজ্যে চিকিৎসকের মৃত্যু ঘিরে উদ্বেগ, সতর্ক থাকার পরামর্শ

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    পুরোনো আতঙ্ক কি ফের ফিরে আসছে? এই নিয়ে উদ্বেগে সাধারণ মানুষ থেকে চিকিৎসকদের একাংশ। দিন কয়েক আগে রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে এক চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে! আর তারপরেই ফের আতঙ্ক বাড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আগাম সতর্কতা না থাকলে ফের বিপদ বাড়তে পারে‌।

    কেন আবার করোনা নিয়ে উদ্বেগ?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন কয়েক আগে দিঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক সন্দীপ বাগ মারা যান। জানা যায়, তাঁর শরীরে করোনা সদৃশ ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। ওই চিকিৎসক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ওই চিকিৎসকের ফুসফুসের কার্যক্ষমতা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। ডেথ সার্টিফিকেটে অবশ্য মৃত্যুর কারণ হিসাবে, ম্যাসিভ অ্যাকিউট মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্রাকশন’ অর্থাৎ গুরুতর হার্ট অ্যাটাকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সংক্রমণ থেকে হার্টের একটি বড় অংশে রক্ত সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলেই এই পরিণতি ঘটে। তবে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা শেষ হয়ে যাওয়ার নেপথ্যে করোনার মতো ভাইরাস সক্রিয় ছিল বলেই জানা যায়। তাঁর বয়স ছিল ৪৩ বছর। হঠাৎ এই মৃত্যুতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের মৃত্যুর পরে বাড়তি সতর্কতার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ।

    করোনা পরিস্থিতি কতখানি উদ্বেগজনক?

    স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। তবে অবশ্যই সতর্কতা ও সচেতনতা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাছাড়া করোনা টিকা করণ হয়ে গিয়েছে। ফলে, ২০১৯ সালের মতো পরিস্থিতি আর হয়তো তৈরি হবে না। সংক্রমণ ঘটলেও রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। মৃত্যু মিছিল আটকানো যাবে। কারণ এই ভাইরাসের প্রতিষেধক নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা সম্পর্কেও এখন ধারণা রয়েছে। তাছাড়া রাজ্যে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, এমন কোনো তথ‌্য নেই। তাই অযথা উদ্বিগ্ন বা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কিন্তু অবশ্যই সচেতনতা জরুরি।

    কী পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা?

    করোনা মহামারির দাপট যাতে ফের ফিরে না আসে, তার জন্য প্রথম থেকেই সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণ রুখতে সচেতনতা জরুরি। করোনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সেই সচেতনতা জারি রাখতে হবে।

    চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, ফের মাস্ক ব্যবহারের অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে হবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, করোনা ফুসফুসের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। ফুসফুসের কার্যক্ষমতা শেষ করেই এই ভাইরাস মৃত্যু ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই মাস্ক করোনা রুখতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে‌। হাতে তালু দিয়ে করোনা নাক ও মুখে প্রবেশ করে। আর সেখান থেকেই এই ভাইরাস শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তাই করোনা সংক্রমণ রুখতে অন্যতম হাতিয়ার মাস্ক। নাক ও মুখ ঢাকা মাস্ক পরে তবেই বাইরে যাওয়া উচিত। বিশেষত বয়স্কদের অবশ্যই বাইরে ভিড় এলাকায় যাওয়ার আগে মাস্ক পরা প্রয়োজন। বয়স্কদের করোনা বাড়তি বিপদ তৈরি করতে পারে। তাই ষাটোর্ধ্বদের বেশি সচেতন থাকতে হবে।

    হাত পরিষ্কারের স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মেনে চলতে হবে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁদের পরামর্শ, বাইরে থেকে ফিরলেই ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার খাওয়ার আগে এবং পরেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাত পরিষ্কার করতে হবে। যাতে হাতে ভাইরাসের সংক্রমণ না হয়। যাতে হাত থেকে শরীরের ভিতরে ভাইরাস সংক্রমিত না হতে পারে।

    তাছাড়া জ্বর, সর্দি-কাশি হলে একেবারেই অবহেলা করা উচিৎ নয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বর্ষার মরশুমে অনেকেই জ্বর-সর্দি-কাশিতে কাবু হচ্ছেন‌। অনেক সময়েই সেটা সাধারণ ভাইরাস ঘটিত জ্বর । কিন্তু দিন দুয়েক টানা জ্বর থাকলে সেটা অবহেলা করা যাবে না।‌ কারণ, তাতে করোনার মতো ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটলে প্রথম থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। প্রথমেই রোগ চিহ্নিত করে চিকিৎসা শুরু করলে বড় বিপদ আটকানো সহজ হবে। পাশপাশি চিকিৎসা দ্রুত শুরু হলে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকিও কমবে।

  • Nasir Madni on Kashmir: ‘কাশ্মীরে ১০ হাজার জঙ্গি পাঠিয়েছিল হাফিজ সইদ’, বিস্ফোরক দাবি পাক ধর্মীয় প্রচারকের

    Nasir Madni on Kashmir: ‘কাশ্মীরে ১০ হাজার জঙ্গি পাঠিয়েছিল হাফিজ সইদ’, বিস্ফোরক দাবি পাক ধর্মীয় প্রচারকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাশ্মীরে জঙ্গি অনুপ্রবেশ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন পাকিস্তানের ধর্মীয় প্রচারক আল্লামা নাসির মাদনি। তাঁর দাবি, লস্কর-ই-তৈবার (LeT) প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদ কাশ্মীরে প্রায় ১০ হাজার জঙ্গিকে পাঠিয়েছিল। গত ১৪ অগাস্ট পাকিস্তানের বাহাওয়ালনগরে লস্কর-ঘনিষ্ঠ একটি সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় মাদনি এই মন্তব্য করেন বলে জানা গিয়েছে। বক্তৃতায় মাদনি হাফিজ সইদকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরেন, যে তথাকথিত ‘মাতৃভূমির’ জন্য আত্মত্যাগ করেছে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, সইদ হাজার হাজার জঙ্গিকে কাশ্মীরের দিকে পাঠিয়েছিল। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির প্রচার ও নিয়োগের অভিযোগ বহু পুরনো। নাসির মাদনির সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই বিতর্ককেই ফের উসকে দিল।

    পাকিস্তানের নজরে কাশ্মীর

    কাশ্মীর দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির প্রচার, নিয়োগ এবং জঙ্গি কার্যকলাপের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর মতো সংগঠনগুলি কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদকে ধর্মীয় বা জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। বাস্তবে এই সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিক, নিরাপত্তারক্ষী এবং রাজনৈতিক লক্ষ্যবস্তুর উপর একাধিক হামলার অভিযোগ রয়েছে। কাশ্মীরে জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য বারবার পড়শি দেশ পাকিস্তানের দিকে আঙুল তুলেছে ভারত। পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গিগোষ্ঠী যে ভারতে ক্রমাগত নাশকতা চালাতে চাইছে তার ভুরি ভুরি প্রমান রয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান কখনও জঙ্গিদের সঙ্গে যোগের কথা স্বীকার করেনি।

    ভারতের দাবিই সত্য প্রমাণিত

    একটা দেশ যারা জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে, সুযোগ সুবিধা দিয়ে, সবরকমের সাহায্য করে অন্য দেশে নাশকতার জন্য পাঠাচ্ছে, আন্তর্জাতিক চাপের ফলে তারা নিজেদের ভাল প্রমাণিত করার চেষ্টা করছে। কখনও বলছে, তাদের দেশই জঙ্গিদের নিশানায় রয়েছে। কখনও আবার কোনও জঙ্গিনেতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথা বলছে। ইসলামাবাদের বিপক্ষে এই অভিযোগ বহুবার করেছে ভারত। সেই অভিযোগ যে সত্যি তা এই ধরনের ভিডিও বারবার প্রমাণ করে।

    হাসপাতালের শয্যা থেকে ফের প্রকাশ্যে

    নাসির মাদনির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন কয়েক সপ্তাহ আগেই তাঁর শারীরিক অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। গত ৩ জুলাই পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের জাহানিয়ানের একটি মসজিদে শুক্রবারের ধর্মীয় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে পাক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে তাঁর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়া বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের আশঙ্কার কথা জানানো হয়। পরে তাঁকে মুলতানের চৌধরি পারভেজ এলাহি ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওলজিতে ভর্তি করা হয় এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছিল। অসুস্থতার পর প্রকাশ্যে ফিরে এসে তাঁর এমন মন্তব্যই এখন বিতর্কের কেন্দ্রে।

    হাফিজ সইদকে ঘিরে বিতর্ক

    লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদ দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে আন্তর্জাতিকভাবে কুখ্যাত। ২০০৮ সালের মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে লস্কর-ই-তৈবার জঙ্গিদের যোগ ছিল। ওই হামলায় ১৬০-রও বেশি মানুষ নিহত হন। পাকিস্তানের আদালতও সন্ত্রাসে অর্থ জোগানের মামলায় হাফিজ সইদকে দোষী সাব্যস্ত করে। বর্তমানে সে পাকিস্তানে কারাবন্দি রয়েছে, এমনই দাবি ইসলামাবাদের। তবে, বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, হাফিজ এখন আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করে। তার জীবন-যাপন আর পাঁচজনের মতোই। পাকিস্তান প্রশাসনের তরফে তাকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। এই জঙ্গির জন্য পাক সরকার ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা রেখেছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত রক্ষীও রয়েছে হাফিজের। তাদের ২৪ ঘণ্টা সঙ্গে রাখে সে।

    কাশ্মীরে হাজার হাজার জঙ্গি পাঠানোর দাবি

    নাসির মাদনির বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, তিনি সইদকে সন্ত্রাসবাদী নেতা হিসেবে না দেখিয়ে তথাকথিত জাতীয় স্বার্থে আত্মত্যাগকারী ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। একইসঙ্গে কাশ্মীরে হাজার হাজার জঙ্গি পাঠানোর যে দাবি তিনি করেছেন, তা পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির দীর্ঘদিনের কার্যকলাপ নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলেছে। তবে ‘১০ হাজার জঙ্গি’ পাঠানোর দাবিটি নাসির মাদনির বক্তব্যের ভিত্তিতেই সামনে এসেছে। এই নির্দিষ্ট সংখ্যার কোনও তথ্য এখনও সামনে আসেনি।

    নাসির মাদনি কে

    নাসির মাদনিকে বিভিন্ন রিপোর্ট ও অনলাইন সূত্রে লস্কর-ই-তৈবা এবং জইশ-ই-মহম্মদের মতো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমে মাদনির একটি উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় বক্তা ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতির কথাও উঠে এসেছে। ২০২০ সালে তাঁকে বন্দুকের মুখে অপহরণ ও মারধরের অভিযোগও প্রকাশ্যে এসেছিল। পরে এই ঘটনায় কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    সতর্ক ভারতীয় গোয়েন্দারা

    স্বাধীনতা দিবসের আগে ও পরে পাকিস্তান থেকে লস্কর জঙ্গিদের বিভিন্ন দাবিকে উড়িয়ে না দিয়ে সতর্ক রয়েছে ভারত। নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC) থেকে শুরু করে উপত্যকার প্রধান শহর ও সড়কগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। সন্দেহভাজন গতিবিধির সুনির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে শ্রীনগর, উধমপুর, পুঞ্চ, ডোডা এবং রিয়াসির মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে সেনা, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ ও সিআরপিএফ যৌথভাবে বড় ধরনের তল্লাশি চালাচ্ছে। ড্রোনের মাধ্যমে সীমান্ত এবং পাহাড়ি বনাঞ্চলে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। সিসিটিভি এবং ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে। অনলাইন র‍্যাডিক্যালাইজেশন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে জঙ্গি নিয়োগ রুখতে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স কাশ্মীর (CIK) উপত্যকার বিভিন্ন জেলায় দফায় দফায় অভিযান চালাচ্ছে।

     

     

  • RSS: নিতিন নবীনের নয়া সাংগঠনিক দল, আরএসএসের সঙ্গে সমন্বয়-নির্বাচনী প্রস্তুতিতে জোর বিজেপির

    RSS: নিতিন নবীনের নয়া সাংগঠনিক দল, আরএসএসের সঙ্গে সমন্বয়-নির্বাচনী প্রস্তুতিতে জোর বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজেপির নয়া সাংগঠনিক দলকে নিছক নিয়মমাফিক রদবদল হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টির তাৎপর্য ধরা পড়বে না। নিতিন নবীনের (Nitin Nabin) নেতৃত্বে গঠিত নতুন দলে যাঁদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যাঁদের দায়িত্বে রাখা হয়েছে এবং যাঁদের পদোন্নতি হয়েছে, তাঁদের তালিকা থেকে বিজেপির সাংগঠনিক অগ্রাধিকারের একটি স্পষ্ট ছবি উঠে আসছে। দলের নতুন বিন্যাসে আরএসএসের (RSS) সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়, সংগঠনকে শক্তিশালী করার ওপর বাড়তি গুরুত্ব এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার প্রবণতা স্পষ্ট।

    নয়া সাংগঠনিক কাঠামোর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা (RSS)

    নয়া সাংগঠনিক কাঠামোর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তাগুলির একটি হল রাম মাধবের প্রত্যাবর্তন। তাঁকে দলের জাতীয় সহ-সভাপতি করা হয়েছে। আরএসএসের দীর্ঘদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ মুখ প্রায় এক দশক আগে বিজেপির সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনায় জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এসেছিলেন। সংঘের সঙ্গে বিজেপির সমন্বয় এবং দলের প্রচলিত হিন্দি বলয়ের বাইরে উত্তর-পূর্ব ভারত ও জম্মু-কাশ্মীরে সংগঠন বিস্তারের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। সংঘের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত একজন সাংগঠনিক কৌশলবিদ হিসেবে রাম মাধব বিজেপির ভিতরে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা তৈরি করে নিয়েছিলেন। এবার তাঁর প্রত্যাবর্তনের ফলে দলের জাতীয় কাঠামোর মধ্যে অভিজ্ঞ সংঘ-ঘনিষ্ঠ নেতৃত্ব আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পেল। ফলে তাঁর ফিরে আসাকে বিজেপি কিংবা সংঘ—কোনও পক্ষই বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক মহলে এই প্রত্যাবর্তনকে দুই সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় আরও দৃঢ় করার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    সন্তোষ-তাওড়ে-বনসল

    রাম মাধবের পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক সংগঠন পদে বিএল সন্তোষকে বহাল রাখা এবং জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিনোদ তাওড়ে ও সুনীল বনসলকে দায়িত্বে রাখাও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে এই তিন নেতাকেই বিজেপির সাংগঠনিক মেরুদণ্ডের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে দেখা হয়। রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনজনেরই আরএসএসের সঙ্গে যোগাযোগ ও সাংগঠনিক সম্পর্ক রয়েছে। বিনোদ এবং সুনীলের মতো নেতাদের উপস্থিতি বিজেপির নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে আরও অভিজ্ঞ করে তুলছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে নির্বাচনী সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁদের অভিজ্ঞতা দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে নতুন কমিটিতে সংগঠন পরিচালনা এবং ভোটের ময়দানে কৌশল প্রয়োগ—দুই ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাকেই একসঙ্গে কাজে লাগানোর চেষ্টা রয়েছে।সতীশ পুনিয়াকেও নতুন সাংগঠনিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংগঠন এবং আরএসএসের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর পদোন্নতিও ইঙ্গিত করছে যে, বিজেপি শুধু জনসমক্ষে দৃশ্যমানতা বা নির্বাচনী জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে নতুন সাংগঠনিক দল তৈরি করছে না। দলের নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং আদর্শগত ভিত্তিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে (Nitin Nabin)।

    উত্তর-পূর্ব ভারতের ক্ষেত্রেও নয়া সাংগঠনিক বিন্যাস

    উত্তর-পূর্ব ভারতের ক্ষেত্রেও নতুন সাংগঠনিক বিন্যাসে বিশেষ নজর রয়েছে। স্বদেশ সিংহকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা এবং মৃগাঙ্ক দেও বর্মনকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে উন্নীত করা সেই দিকটিরই ইঙ্গিত। এঁরা এমন নেতা নন, যাঁদের নাম নিয়মিতভাবে টেলিভিশনের আলোচনাকেন্দ্রে বা বড় নির্বাচনী সমাবেশে সামনে আসে। কিন্তু সাংগঠনিক রাজনীতিতে তাঁদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দলের প্রচার-নির্ভর রাজনীতির বাইরে নিচুতলায় সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এই ধরনের নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি। একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে শিবপ্রকাশ ও সৌদান সিংহকে জাতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সংগঠন পদে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও। সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং সংঘের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে এমন নেতৃত্বকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রেখে বিজেপি মূলত দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও সুসংহত করতে চাইছে। নয়া তালিকায় বিপ্লব কুমার দেবের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে উন্নীত হওয়াও উল্লেখযোগ্য। ত্রিপুরায় বিজেপির সংগঠন গড়ে তোলা থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া এবং পরে জাতীয় স্তরের সংগঠনে ফিরে আসা—তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা দলের সাংগঠনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সরকারের কাজের অভিজ্ঞতার একটি সমন্বিত উদাহরণ। তাঁর দায়িত্ববৃদ্ধি থেকে বোঝা যায়, সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক ভিতরে কাজ করার অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে পদ্ম শিবির(RSS)। এদিকে, দলের রাজনৈতিকভাবে পরিচিত মুখগুলিকেও নতুন কাঠামো থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। স্মৃতি ইরানির প্রত্যাবর্তন এবং উত্তরপ্রদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের দায়িত্ব পাওয়া সংগঠনের মধ্যে নির্বাচনী শক্তিকে আরও জোরদার করবে। জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উত্তরপ্রদেশ। ফলে সেখানে সাংগঠনিক দায়িত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা যুক্ত করা দলের নির্বাচনী কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে (Nitin Nabin)।

    রাজনীতি ও সংগঠনের মেলবন্ধন

    বিজেপির নতুন সাংগঠনিক কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এখানেই। দলটি রাজনীতি ও সংগঠনের মধ্যে কোনও একটিকে বেছে নিচ্ছে না, বরং দুই ক্ষেত্রকে একসঙ্গে মেলানোর চেষ্টা করছে। নিতিন নবীনের নেতৃত্বে দলের নতুন সাংগঠনিক বিন্যাসের প্রকৃত তাৎপর্য সম্ভবত এই জায়গায়ই।

    বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই কর্মী সংগঠিত করা, আদর্শগত ঐক্য বজায় রাখা এবং বুথস্তর পর্যন্ত সাংগঠনিক উপস্থিতি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরএসএসের নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করে এসেছে। কিন্তু বর্তমানে ভারতের নির্বাচনী রাজনীতি ক্রমশ আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভোটের লড়াইয়ে রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনাও আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। এই পরিস্থিতিতে পুরনো সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও নিখুঁত ও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর প্রয়োজন বেড়েছে বিজেপির।

    নতুন দায়িত্ব বণ্টন সেই প্রয়োজনেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। শীর্ষস্তরে তুলনামূলকভাবে তরুণ নেতৃত্ব, গুরুত্বপূর্ণ পদে অভিজ্ঞ নির্বাচনী ব্যবস্থাপক এবং সংগঠন বা সংঘের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত নেতাদের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। এর ফলে বিজেপির রাজনৈতিক প্রচার, নির্বাচনী কৌশল এবং সাংগঠনিক কর্মসূচির মধ্যে আরও নিবিড় যোগাযোগ তৈরি করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে (RSS)।

    আরএসএসের দৃষ্টিকোণ থেকেও এই সাংগঠনিক বিন্যাস গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপি ও সংঘের মধ্যে যে প্রাতিষ্ঠানিক সেতু দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে, নতুন দল সেই সেতুকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। অন্যদিকে নিতিন নবীনের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ। নতুন সাংগঠনিক দল গঠনের মাধ্যমে তিনি নিজের সাংগঠনিক পরিচয় ও নেতৃত্বের ধরন স্পষ্ট করার সুযোগ পাচ্ছেন।

    বিজেপির বার্তা স্পষ্ট

    সব মিলিয়ে বিজেপির নতুন সাংগঠনিক দলের বার্তা যথেষ্ট পরিষ্কার। সামনে যে নির্বাচনী পর্ব আসছে, তার আগে দল সংগঠনের ওপর আরও জোর দিতে চাইছে। শুধু জনপ্রিয় মুখ বা নির্বাচনী প্রচারের ওপর নির্ভর না করে বুথস্তর থেকে জাতীয় স্তর পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সঙ্গে দলের সমন্বয়ও আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

    নিতিন নবীনের নেতৃত্বে এই নতুন বিন্যাস তাই কেবল কয়েকটি পদে পরিবর্তনের ঘটনা নয়। বরং এর মধ্যে দিয়ে বিজেপি আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্য সংগঠন, আদর্শ, নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকে একই কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। আগামী নির্বাচনী ফল এই কৌশল কতটা কার্যকর হয়েছে তা শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে (Nitin Nabin)। তবে নতুন সাংগঠনিক দল থেকে আপাতত যে বার্তাটি সবচেয়ে স্পষ্ট, তা হল—বিজেপি সংগঠনকে আরও আঁটসাঁট করছে এবং তার সঙ্গে আরএসএসের সম্পর্কও হয়ে উঠছে আগের তুলনায় ঢের বেশি গুরুত্বপূর্ণ (RSS)।

     

  • Supreme Court on Hanging: মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ফাঁসিই বহাল, ‘আরও মানবিক’ পদ্ধতির আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

    Supreme Court on Hanging: মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ফাঁসিই বহাল, ‘আরও মানবিক’ পদ্ধতির আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মৃত্যুদণ্ড (Supreme Court on Hanging) কার্যকরের পদ্ধতি হিসেবে আপাতত ফাঁসিই বহাল থাকল। ‘আরও মর্যাদাপূর্ণ ও কম যন্ত্রণাদায়ক’ বিকল্প পদ্ধতির দাবি জানিয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে ভবিষ্যতে বৃহত্তর পর্যালোচনা করার স্বাধীনতা দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ বিদ্যমান পদ্ধতিতে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছে। তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এই রায়ের ফলে কেন্দ্র সরকার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে বৈজ্ঞানিক, চিকিৎসাবিজ্ঞানভিত্তিক ও আইনি পর্যালোচনা করতে বাধাপ্রাপ্ত হবে না।

    ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে যন্ত্রণা

    আবেদনকারীদের মূল যুক্তি ছিল, ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় যন্ত্রণা ও কষ্টের সম্ভাবনা রয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পরও একজন বন্দির মানবিক মর্যাদা কতটা সুরক্ষিত থাকছে, সেই প্রশ্নই তাঁরা আদালতের সামনে তুলেছিলেন। ফাঁসির বিকল্প হিসেবে আবেদনকারীরা লেথাল ইনজেকশন, গুলি করে মৃত্যু এবং ইলেকট্রোকিউশন-সহ বিভিন্ন পদ্ধতি বিবেচনার দাবি জানিয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট এর মধ্যে কোনও পদ্ধতিকেই বিকল্প হিসেবে নির্দিষ্ট বা অনুমোদন করেনি। একইসঙ্গে কেন্দ্রকে ফাঁসির বদলে অন্য কোনও পদ্ধতি চালু করার নির্দেশও দেয়নি। বরং আদালত বিষয়টি কেন্দ্রের বিবেচনার উপর ছেড়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন কোনও বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসাবিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য সামনে এলে এবং তাতে যদি প্রমাণিত হয় যে অন্য কোনও পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির যন্ত্রণা ও কষ্ট কমানো সম্ভব, তাহলে বিষয়টি ফের পর্যালোচনার সুযোগ থাকবে।

    মৃত্যুদণ্ড নয়, প্রশ্ন ছিল কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে

    এই মামলায় মূল প্রশ্ন ছিল না মৃত্যুদণ্ডের সাংবিধানিক বৈধতা। আবেদনকারীরা মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি বাতিলের দাবি জানাননি। তাঁদের আপত্তি ছিল কীভাবে সেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে, তা নিয়ে। আবেদনকারীদের বক্তব্য ছিল, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির ক্ষেত্রেও মানবিক মর্যাদা বজায় রাখা প্রয়োজন এবং এমন কোনও পদ্ধতি থাকলে, যাতে মৃত্যুর সময় যন্ত্রণা কম হয়, তা বিবেচনা করা উচিত। এই মামলায় দীর্ঘ শুনানির পর গত ২২ জানুয়ারি ২০২৬ সুপ্রিম কোর্ট রায় সংরক্ষণ করেছিল। সেই রায়েই আপাতত দেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচলিত পদ্ধতি হিসেবে ফাঁসিকে বহাল রাখা হয়েছে। ফলে এখনই ফাঁসির পদ্ধতিতে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। তবে কেন্দ্র চাইলে চিকিৎসাবিজ্ঞান, নতুন প্রযুক্তি এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে ভবিষ্যতে নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নীতিগত পর্যালোচনা করতে পারবে।

LinkedIn
Share