Blog

  • Sreelekha Mitra: প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃতির অভিযোগে আইনি জটিলতা বাড়ল শ্রীলেখার, অভিযোগ দায়ের আরও তিন থানায়

    Sreelekha Mitra: প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃতির অভিযোগে আইনি জটিলতা বাড়ল শ্রীলেখার, অভিযোগ দায়ের আরও তিন থানায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসের (NEET Protest) প্রতিবাদে কলকাতার মিছিলে প্রধানমন্ত্রীর বিকৃত ছবি-সম্বলিত পোস্টার প্রদর্শনের অভিযোগে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের (Sreelekha Mitra) বিরুদ্ধে আইনি জটিলতা আরও বাড়ল। বিধাননগর সাইবার থানা ও আনন্দপুর থানার পর সোমবার আরও তিন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুরুলিয়া সদর থানা, মুর্শিদাবাদের বহরমপুর এবং মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগ দায়ের হয়েছে ঠাকুরপুকুর থানায়ও।

    একের পর এক থানায় দায়ের এফআইআর (Sreelekha Mitra)

    পুরুলিয়া সদর থানায় জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে বিজেপির সাংগঠনিক জেলার নেতারাও লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এর আগে রবিবার আনন্দপুর ও বিধাননগর সাইবার থানায় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ। তিনি জানিয়েছিলেন, প্রয়োজনে এই ঘটনায় আদালতেরও দ্বারস্থ হবেন। মুখ্যমন্ত্রীর “জিরো টলারেন্স” নীতির প্রসঙ্গ টেনে কেয়া বলেন, “দরকার হলে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে যাব।” শুক্রবার কলকাতায় নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রফাঁসকাণ্ডের প্রতিবাদে আয়োজিত ছাত্রছাত্রীদের মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন শ্রীলেখা। অভিযোগ, সেই মিছিলে তাঁর হাতে থাকা একটি পোস্টারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একাধিক কুরুচিকর ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হয় এবং একের পর এক থানায় অভিযোগ দায়ের হতে শুরু করে।

    শ্রীলেখার বক্তব্য

    যদিও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্রীলেখা। অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা একটি ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, পুরো বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝির ফল। তাঁর কথায়, “রাজনৈতিকভাবে আমি বিজেপির বিরোধিতা করলেও, প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃত করার অভিযোগ ঠিক নয়।” অভিনেত্রীর দাবি, তিনি সেদিন শুধুমাত্র ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনে সংহতি জানাতে গিয়েছিলেন (Sreelekha Mitra)। ভিড়ের মধ্যে তাড়াহুড়োয় একটি পোস্টার হাতে তুলে নিতে হয়েছিল। তিনি আরও জানান, সেদিন চশমা সঙ্গে নিতে ভুলে গিয়েছিলেন। তাঁর কাছে শুধু সানগ্লাস ছিল। তাই পোস্টারে কী লেখা বা কী ছবি ছিল, তা ঠিকঠাক দেখতে পারেননি। শ্রীলেখাকে ঘিরে বিতর্ক এই প্রথম নয়। অতীতেও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তিনি চর্চায় এসেছেন। তবে (NEET Protest) বর্তমান ঘটনায় একাধিক জেলায় অভিযোগ দায়ের হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের (Sreelekha Mitra)।

     

  • Suvendu in Jalpaiguri: ‘‘ঘরে ফিরুন, রাজ্যেই মিলবে কাজ’’ উত্তরবঙ্গের মাটি থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Suvendu in Jalpaiguri: ‘‘ঘরে ফিরুন, রাজ্যেই মিলবে কাজ’’ উত্তরবঙ্গের মাটি থেকে পরিযায়ী শ্রমিকদের বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সময় বদলেছে। রাজ্যে এখন ভয় আউট ভরসা ইন। নতুন নতুন কারখানা হচ্ছে। তাই আর বাংলার বাইরে যআওয়ার দরকার নেই। উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে ভিন্‌ রাজ্যে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের উদ্দেশে রাজ্যে ফিরে আসার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার তিনি জলপাইগুড়ি যান। গত ২০ জুলাই সিকিমের নামচির এনএইচপিসি প্রকল্পের একটি নির্মীয়মাণ টানেলে ভয়াবহ ধসের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের ডুয়ার্সের ১১ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। তাঁদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দেওয়ার পর, সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকের উদ্দেশ্যে ওই বার্তা দেন তিনি।

    রাজ্যে ফিরতে শুরু করুন

    জলপাইগুড়ি জেলাশাসকের দফতরে বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘প্রয়াত শ্রমিকেরা কাজের জন্য ভিন্‌ রাজ্যে গিয়েছিলেন। বাংলায় তো কাজ নেই, তবে আমরা সবে এসেছি—ধীরে ধীরে কাজের সুযোগ তৈরি করব এবং সবাই ফিরে আসবেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘পরিযায়ী শ্রমিকদের বলব, আপনারা রাজ্যে ফিরতে শুরু করুন। আমরা বড় কারখানা এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে কাজের ব্যবস্থা করব। পাশাপাশি সরকারি স্তরেও কর্মসংস্থান শুরু হবে। আমাদের সরকার দায়িত্বে আসার মাত্র ১০ সপ্তাহ পার হয়েছে। এতদিন ওবিসি সংক্রান্ত একটি আইনি জটিলতা ছিল। আগের রাজ্য সরকার তোষণের রাজনীতি করে ওবিসি নিয়ে জটিলতা তৈরি করেছিল। আমরা বিধানসভায় বিল পাস করে তা সংশোধন করেছি। এ বার আমরা দ্রুত সব কাজ শুরু করব।’’

    জব কার্ড বানিয়ে ফেলুন

    পরিযায়ী শ্রমিক ও বেকার যুবদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু আরও বলেন, ‘‘আপনারা সকলে জব কার্ড বানিয়ে ফেলুন। প্রধানমন্ত্রীর ‘বিকশিত ভারত’ এবং ‘জি রাম জি’ প্রকল্পে আপনারা কাজের সুযোগ পাবেন। কেউ কাজ পাবেন আর কেউ পাবেন না—এমনটা হবে না। আমরা নিয়ম সহজ করেছি, ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা দেব।’’

    ‘আমূল’-কে দুটি আইসক্রিম কারখানার জন্য জমি

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে ‘আমূল’-কে দুটি আইসক্রিম কারখানা তৈরির জন্য ১৫ একর করে মোট ৩০ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি কারখানা দক্ষিণবঙ্গে এবং অপরটি উত্তরবঙ্গে গড়ে উঠবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, শীঘ্রই জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ হবে এবং তখনই জানা যাবে কারখানা দুটি ঠিক কোথায় নির্মিত হচ্ছে।

    খুলবে চা-বাগান

    উত্তরবঙ্গের বন্ধ হয়ে থাকা চা বাগানগুলি নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘বর্তমানে মোট ২৫টি চা বাগান বন্ধ রয়েছে। শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং ও টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আগামী তিন মাসের মধ্যে ১২টি চা বাগান পুনরায় চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছেন।’’ এ ছাড়াও, কেন্দ্রীয় সরকার চা শ্রমিকদের কল্যাণে ৩৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে, যা এই বাগানগুলির শ্রমিকদের উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে।

    উত্তরবঙ্গে আর কোন কোন শিল্পের উপর জোর

    মালদায় আম-লিচুর ফুড প্রসেসিং, মাখানা, আনারস ও ভুট্টার উপরে ফুড প্রসেসিং এবং তুলাইপাঞ্জি চাল নিয়েও শিল্পের লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ

    অন্য দিকে, সিকিমে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘সম্পূর্ণ মানবিক কারণেই আমি আজ এখানে এসেছি। দুর্ঘটনার দিন থেকেই সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল। বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের প্রধান সচিব, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং নাগরাকাটার বিধায়ক অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কাজ করেছেন। নিহতদের দেহ উদ্ধার করে পরিবারগুলির কাছে পৌঁছে দেওয়া ও শেষকৃত্য সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে ২১ লক্ষ টাকা এবং মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে বাড়তি ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।’’এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, নিহতদের পরিবারের সাতজনকে হোমগার্ডের চাকরি দেওয়া হয়েছে এবং বাকিদের সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

    ১৬ই অগাস্ট ‘আয়ুষ্মান দিবস’

    এদিন উত্তরবঙ্গে দাঁড়িয়ে স্বাস্থ্য খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ১৬ অগাস্টকে ‘আয়ুষ্মান দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। তাঁর কথায়, “১৯৪৬ সালের ১৬ অগাস্ট সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’-এ হাজার হাজার হিন্দু প্রাণ হারিয়েছিলেন। বিগত সরকার ওই দিনটিকে ‘খেলা হবে দিবস’ করেছিল। আমরা সেই জায়গায় আয়ুষ্মান দিবস উদযাপন করে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেব।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের প্রায় ৪০ লক্ষ প্রবীণ নাগরিককে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া, যাঁরা এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় আসবেন না, তাঁদের জন্য ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা নিয়ে রাজ্য সরকার চালু করছে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা’।

    জল্পেশ মন্দিরে পুজো

    শ্রাবণের সোমবারে জল্পেশ মন্দিরে পুজো দিলেন রাজ্যের শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার দুপুর সোয়া দুটোর পরে মুখ্যমন্ত্রী জল্পেশে পৌঁছন। জল্পেশের গর্ভগৃহে গিয়ে পুজোয় বসেন তিনি। ভোগ নিবেদন করবেন বলে মন্দির সূত্রের খবর। আকন্দ ফুলের মালা, পদ্মফুল বাবা জল্পেশ্বরকে নিবেদন করেন তিনি । পুজোর পরে মন্দির লাগোয়া এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। শুভেন্দু বলেন, “জলপাইগুড়িতে এসেছি। বাবা জল্পেশের কাছে যাব না, তাই হয় নাকি?” উল্লেখ্য তাঁর আগে রাজ্যের কোনও প্রশাসনিক প্রধান এই ঐতিহাসিক মন্দির দর্শনে আসেননি ৷ এদিন শিলিগুড়ির বহু প্রতীক্ষিত বর্ধমান রোড উড়ালপুলের উদ্বোধন করবেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য ও কেন্দ্রের যৌথ অর্থায়নে নির্মিত এই উড়ালপুল চালু হলে যেমন শিলিগুড়ির যানজট অনেকটাই কমবে, তেমনই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • BJP Rally: ‘অরাজকতা মানা হবে না’, সাংবাদিক নিগ্রহের প্রতিবাদে জাতীয় পতাকা হাতে কলকাতার রাজপথে বিজেপি

    BJP Rally: ‘অরাজকতা মানা হবে না’, সাংবাদিক নিগ্রহের প্রতিবাদে জাতীয় পতাকা হাতে কলকাতার রাজপথে বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত শুক্রবার নিট আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ধর্মতলায় উত্তেজনা, হিংসা এবং সাংবাদিক নিগ্রহের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার কলকাতার দুই প্রান্তে জাতীয় পতাকা হাতে পালটা মিছিল করল বঙ্গ বিজেপি (BJP Rally)। দলীয় পতাকার পরিবর্তে জাতীয় পতাকা (National Flag March) নিয়েই শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা এবং গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত দুটি পৃথক মিছিলের আয়োজন করা হয়।

    দুই প্রান্তে বিজেপির মিছিল (BJP Rally)

    বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলার উদ্দেশে মিছিল (BJP Rally) শুরু হয়। এই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়, বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ, শঙ্কুদেব পণ্ডা, তমোঘ্ন ঘোষ-সহ একাধিক বিজেপি নেতা ও কর্মী। একই সময়ে গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত আরও একটি মিছিল (BJP Rally) বের করা হয়।

    হিংসা ও সাংবাদিক নিগ্রহের প্রতিবাদ

    বিজেপির অভিযোগ, গত শুক্রবার নিট আন্দোলনের নামে ধর্মতলায় অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। আন্দোলনের সময় হিংসা ছড়ানো, সাংবাদিকদের উপর হামলা এবং দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তারা। এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই জাতীয় পতাকা হাতে (National Flag March) পথে নামার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি বিজেপির।

    বিজেপি নেতাদের বক্তব্য

    মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, “নিট আন্দোলনের নামে অরাজকতা বা দেশবিরোধী স্লোগান কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যারা হিংসা ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এর আগে কংগ্রেস সরকারের আমলে বহুবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল।” বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের প্রশ্ন, যারা হিংসায় জড়িত, তারা কীভাবে নিজেদের ছাত্র বলে দাবি করতে পারে? তিনি অভিযোগ করেন, সিপিএম, কংগ্রেস এবং তৃণমূল একসঙ্গে আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দিয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিও জানান তিনি।

    ‘পড়ুয়াদের ব্যবহার করা হচ্ছে’ 

    বিজেপি নেত্রী তথা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলের অভিযোগ, দেশের পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা চলছে। পড়ুয়াদের সামনে রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    কড়া পদক্ষেপের দাবি

    মিছিল থেকে অভিযুক্তদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে অসম্মান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলে বিজেপি পালটা স্লোগান দেয়। আন্দোলনের নামে হিংসা ও অরাজকতার বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেয় দলের নেতৃত্ব।

  • Dharmendra Pradhan: ‘আমি স্ট্রিট ফাইটার’, সংসদে জয়রাম রমেশকে পাল্টা জবাব ধর্মেন্দ্র প্রধানের

    Dharmendra Pradhan: ‘আমি স্ট্রিট ফাইটার’, সংসদে জয়রাম রমেশকে পাল্টা জবাব ধর্মেন্দ্র প্রধানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট-সহ দেশের পরীক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর প্রথমবার সংসদে হাজির বিজেপি (BJP) সাংসদ ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)। আর প্রথম দিনেই কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বাক্যবিনিময়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন তিনি। ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) বলেন, ‘‘আমি স্ট্রিট ফাইটার, এসি ঘরের অ্যাক্টিভিস্ট নই।’’

    সংসদে উষ্ণ অভ্যর্থনা

    সোমবার সংসদের মকর দ্বার প্রবেশপথে ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপেক্ষায় ছিলেন এনডিএ (NDA)-র একাধিক সাংসদ। ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) পৌঁছতেই তাঁকে একটি আনুষ্ঠানিক টুপি পরিয়ে স্বাগত জানান দলীয় সহকর্মীরা। যা বিজেপির তরফে তাঁর প্রতি সংহতির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে হাসিমুখেই সহকর্মীদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করতে দেখা যায়।

    জয়রামের সহানুভূতি, প্রধানের পাল্টা জবাব

    এদিন সংসদে ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) কাছে পদত্যাগের জন্য সহানুভূতি প্রকাশ করেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। জয়রাম রমেশ বলেন, “এমনটা হয়েই থাকে।” জবাবে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, “কিছুই হয়নি। আমি একজন স্ট্রিট ফাইটার, এসি ঘরের অ্যাক্টিভিস্ট নই।” বিজেপি (BJP) নেতাদের মতে, এই সংক্ষিপ্ত কথোপকথনই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে মন্ত্রিসভা থেকে সরে গেলেও ধর্মেন্দ্র প্রধানের রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাসে কোনও ঘাটতি আসেনি।

    নতুন সাংগঠনিক দায়িত্বের জল্পনা

    ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) এই মন্তব্যের পর বিজেপির (BJP) অন্দরে তাঁর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে। ওড়িশায় বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা হওয়ার পাশাপাশি, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ও নির্বাচনী দায়িত্ব দিয়ে আসছে দল। বিজেপির অন্দরে এখন জোর জল্পনা, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দলের গুরুত্বপূর্ণ কোনও সাংগঠনিক পদ দেওয়া হতে পারে। আবার আগামী দিনে যে পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে, তার মধ্যে কোনও একটির নির্বাচনী দায়িত্বও তুলে দেওয়া হতে পারে ধর্মেন্দ্র প্রধানের হাতে।

    একাধিক রাজ্যে নির্বাচনী সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

    সম্প্রতি বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির নির্বাচনী দায়িত্বে ছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)। এরপর পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ২০২৬ সালের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার সরকার গঠন করে বিজেপি (BJP)। ২০২৪ সালে হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনের দায়িত্বও দেওয়া হয় তাঁকে। সেখানে বিজেপি ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়। এর আগেও উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং কর্ণাটকের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। ওই রাজ্যগুলিতে বিজেপির জয়ে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য বলে দলের দাবি।

    পাশে বিজেপি (BJP) নেতৃত্ব

    ২০২৬ সালের নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস এবং দেশের পরীক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিক্ষোভের পর ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন। তবে পদত্যাগের পর থেকেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে বিজেপির (BJP) শীর্ষ নেতৃত্ব। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা করেন। বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও প্রকাশ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবদানের প্রশংসা করেন। দলীয় নেতাদের বক্তব্য, এই পদত্যাগ তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব কমার ইঙ্গিত নয়। বরং এটি “রাজনৈতিক জবাবদিহি”, “ত্যাগ” এবং “জাতীয় স্বার্থে নেওয়া সিদ্ধান্ত”-এর উদাহরণ।

    বিরোধীদের বিক্ষোভের মধ্যেই নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত

    একদিকে যখন বিজেপি ধর্মেন্দ্র প্রধানকে (Dharmendra Pradhan) প্রকাশ্যে সমর্থন জানাচ্ছিল, অন্যদিকে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার নেতৃত্বে বিরোধী দল ছাত্র আন্দোলনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে সংসদের বাইরে বিক্ষোভ দেখায়। এই দুই বিপরীত রাজনৈতিক ছবির মধ্যেই লোকসভায় আলোচনার জন্য তোলা হয় পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬। প্রশ্নফাঁস রোধে বিদ্যমান আইনকে আরও কঠোর করার লক্ষ্যেই এই সংশোধনী বিল আনা হয়েছে।

  • Viral Video: আন্দোলনের পর ‘বিজয়োৎসব’? পাঁচতারা হোটেলে ‘ককরোচ-পার্টি’র ভাইরাল ভিডিও ছড়াতেই বিতর্কে সিজেপি

    Viral Video: আন্দোলনের পর ‘বিজয়োৎসব’? পাঁচতারা হোটেলে ‘ককরোচ-পার্টি’র ভাইরাল ভিডিও ছড়াতেই বিতর্কে সিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্দোলন শেষ, এবার পাঁচতারা হোটেলে ফুর্তিতে মজেছে তথাকথিত ‘ককরোচরা’। দীর্ঘ ৩৭ দিনের আন্দোলন, সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার আক্রমণ, সাধারণ ছাত্র-যুবকদের আবেগকে সামনে রেখে ‘ন্যায়ের লড়াই’-এর দাবি। পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের অজুহাতে টানা ৩৭ দিন ধরে শহরকে অচল করে রাখার পর, সাবেক কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বিক্ষোভের অবসান ঘটেছিল। কিন্তু আন্দোলন মিটতেই বেরিয়ে এলো এদের মূল চরিত্র। হঠাৎই সামনে এসেছে একাধিক ভাইরাল ভিডিও (Viral Video)। ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম। যেখানে দেখা যাচ্ছে নিট (NEET) পরীক্ষার্থীদের দুঃখ-কষ্টের তোয়াক্কা না করে, দিল্লির এক অতি-বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেলে মদ্যপ ও উন্মাদ উদযাপনে মেতে উঠেছে সিজেপি-র তথাকথিত নেতারা। সোশাল মিডিয়ায় সেই উদ্দাম ফুর্তির দৃশ্য ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে উঠেছে সমালোচনার ঝড়।

    নীতিশিক্ষার আড়ালে চরম ‘ভণ্ডামি’

    নিট পরীক্ষার অনিয়ম আর শিক্ষা সংস্কারের বড় বড় বুলি ঝেড়ে যন্তর মন্তরে খাড়া করা হয়েছিল এই আন্দোলনের মঞ্চ। ৩৭ দিন ধরে চলা এই অবস্থান, অনশন আর সস্তা পথসভার আসল উদ্দেশ্য যে আন্দোলন ছিল না, বরং রাজনৈতিক ঘোলা জলে মাছ ধরা ছিল—তা আজ স্পষ্ট। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে (Viral Video) দেখা যাচ্ছে, অনলাইনে সিজেপির (Cockroach Janta Party) শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত অশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস ও অর্পিত শর্মা-সহ কয়েকজন একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে নাচ-গান ও উদ্‌যাপন করছেন। ভিডিওগুলির সত্যতা নিয়ে সরকারি কোনও তদন্তের কথা সামনে না এলেও, সেগুলি ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। যে আন্দোলনের নামে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন, যেখানে বহু আন্দোলনকারী এখনও আইনি জটিলতার মুখে, সেই আন্দোলনের নেতাদের এই বিলাসী উদ্‌যাপন কি আদৌ শোভনীয়?

    রাজপথের হিংসা

    আন্দোলনের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ দেখা যায় গত ২০ জুলাই। তথাকথিত এই আন্দোলনকারীরা আন্দোলনের নামে রাজধানীজুড়ে তাণ্ডব চালায়। হাই-সিকিউরিটি জোন ভেঙে সংসদে ঢোকার চেষ্টা, পুলিশকে আক্রমণ করা, দিল্লির সরকারি বাস (DTC) ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মতো তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে। সাধারণ মানুষের করের টাকায় তৈরি সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি করাই ছিল এদের মূল উদ্দেশ্য। আজ সেই হিংসাত্মক ঘটনার জন্য একাধিক আইনি মামলা ঝুলছে সাধারণ কর্মীদের কাঁধে।

    ইস্তফার নাটকের পরই ফুর্তির বন্যা!

    এদিকে আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। পদত্যাগপত্রে তিনি সাফ জানান, চলমান অস্থিরতাকে এমন শক্তির হাতিয়ার হতে দিতে চান না, যারা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে পরিস্থিতিকে ব্যবহার করতে চাইছে। এরপর ছাত্রদের ক্ষতিপূরণ, পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি বিষয় নিয়ে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা হয়। এরপরই সিজেপি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করে। আর আন্দোলনের দাবি মেটানো ও আলোচনার আশ্বাস মিলতেই পাততাড়ি গোটায় সিজেপি (Cockroach Janta Party)। রাজপথের ধুলো ঝেড়ে ফেলতে না ফেলতেই সামনে এলো নেতাদের আসল রূপ।

    বিলাসবহুল হোটেলে ‘ককরোচ’ নেতাদের তাণ্ডব

    আর ঠিক এই সময়েই সামনে আসে বিলাসবহুল হোটেলের উদ্‌যাপনের ভিডিও (Viral Video)। দিল্লির একটি বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত প্রাইভেট পার্টিতে সিজেপি (Cockroach Janta Party)-র শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস এবং অর্পীত শর্মাদের চরম অনৈতিক ভঙ্গিতে নাচ-গান ও হুল্লোড় করতে দেখা যাচ্ছে। যেখানে শত শত পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত এবং সাধারণ ছাত্ররা আজ কোর্ট-কাছারির চক্কর কাটছে, সেখানে নিজেদের “ছাত্রনেতা” দাবি করা এই যুবকরা কোটি টাকার পাঁচতারা হোটেলে উৎসব পালন করছে! এই দায়িত্বজ্ঞানহীনতা প্রমাণ করে, সাধারণ পরীক্ষার্থীরা এদের কাছে কেবলই রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের ঘুঁটি ছিল।

    ‘ফুর্তির টাকা কোথা থেকে এল?’ প্রশ্ন মহেশ জেঠমালানির

    সোশাল মিডিয়ায় এই ভিডিও (Viral Video) ছড়িয়ে পড়তেই কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ তথা সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী মহেশ জেঠমালানি। সিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে সোশাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “”সিরিয়াসলি? দিল্লিতে টানা কয়েকদিন তাণ্ডব ও সহিংসতার পর সিজেপি নেতৃত্ব পাঁচতারা হোটেলে ভিক্টরি পার্টি দিচ্ছে! তথাকথিত এই যুব নেতারা ফুল ভলিউমে গান চালিয়ে নাচতে শুরু করে দিল? পুরো আন্দোলনজুড়ে হাজার হাজার মানুষের থাকার ব্যবস্থা, বিলাসবহুল খাবার, যাতায়াত, তাঁবু, মঞ্চ, কোটি টাকার সাউন্ড সিস্টেমের খরচ কে জোগালো? দিল্লিকে অশান্ত রাখতে আর এই নেতাদের ফুর্তি যোগাতে কে এত টাকা ঢালল?” টানা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রাজধানী স্থগিত করে রাখার পেছনে যে অঢেল কালো টাকার লেনদেন হয়েছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব জনসমক্ষে আনতে হবে, বলেও দাবি তোলেন তিনি।

    তদন্ত চলছে

    দিল্লি পুলিশ এখনও ২০ জুলাইয়ের হিংসার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ভিডিও এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ক্লিপ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভাঙচুর, পুলিশকর্মীদের উপর হামলা এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে। তবে ভিডিওটি তদন্তের অংশ কি না, সে সম্পর্কেও কোনও সরকারি মন্তব্য করা হয়নি।

    শিক্ষা ইস্যু থেকে নজর এখন অর্থের উৎসে

    ভিডিওটি সামনে আসার পর কেবল রাজনৈতিক দলগুলোই নয়, সাধারণ মানুষও এই ‘ভণ্ড’ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। নেটিজেনদের প্রশ্ন- যাদের সাধারণ কর্মী ও ছাত্ররা আজ পুলিশের মামলার মুখোমুখি, তারা কী করে এমনভাবে পার্টি করতে পারে? যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও শিক্ষাক্ষেত্রের সংস্কারের দাবিতে, সেই আন্দোলনের আলোচনা এখন অনেকটাই সরে এসেছে অন্য দিকে। ভাইরাল উদ্‌যাপনের ভিডিও সামনে আসার পর রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে আন্দোলনের নেতৃত্ব, অর্থের উৎস, সাংগঠনিক জবাবদিহি এবং জনআন্দোলনের নামে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহারের প্রশ্ন। আন্দোলনের সমর্থকদের একাংশ এখনও নেতৃত্বের পাশে থাকলেও, বিরোধীরা বলছেন- যাঁরা সাধারণ মানুষের আবেগকে সামনে রেখে আন্দোলন করেন, তাঁদের ব্যক্তিগত আচরণও জনসমক্ষে প্রশ্নের মুখে পড়ে। আর সেই কারণেই পাঁচতারা হোটেলের এই উদ্‌যাপন শুধু একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান নয়, বরং আন্দোলনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়েই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

  • CJP Protest: যন্তর-মন্তরে ৬০ মেট্রিক টন আবর্জনা ফেলে চলে গেল সিজেপি! রাতভর পরিষ্কার করল দিল্লি পুরসভা

    CJP Protest: যন্তর-মন্তরে ৬০ মেট্রিক টন আবর্জনা ফেলে চলে গেল সিজেপি! রাতভর পরিষ্কার করল দিল্লি পুরসভা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র আন্দোলন শেষ হওয়ার পর রাজধানীর যন্তর-মন্তরে শুরু হয়েছে এক বিশাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান। আন্দোলনকারীরা সরে যাওয়ার পর প্রায় ৬০ মেট্রিক টন আবর্জনা পরিষ্কার করতে রাতভর কাজ চালিয়েছে নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল (NDMC)। শতাধিক সাফাইকর্মী, প্রকৌশলী এবং ভারী যন্ত্রপাতি নামিয়ে যন্তর-মন্তর-সহ আশপাশের এলাকা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই গোটা অভিযানের ব্যয়ভার শেষ পর্যন্ত বহন করতে হচ্ছে করদাতাদের অর্থ থেকেই।

    রাতভর চলল পুনরুদ্ধারের কাজ

    শনিবার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর সিজেপি-র আন্দোলন শেষ হতেই নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের সহ-সভাপতি কুলজিৎ সিং চাহাল এবং ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিচ্ছন্নতা ফিরিয়ে আনার কাজ তদারকি করেন। স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং হর্টিকালচার বিভাগের ৫০০-রও বেশি কর্মী ও আধিকারিক এই অভিযানে অংশ নেন। শুধু আবর্জনা সরানোই নয়, রাস্তা ধোয়া, দেওয়ালে লেখা স্লোগান মুছে ফেলা, ক্ষতিগ্রস্ত ফুটপাত ও কার্বস্টোন মেরামত, সবুজ এলাকা পুনর্গঠন এবং ল্যান্ডস্কেপিংয়ের কাজও করা হয়। যন্তর-মন্তরের পাশাপাশি টলস্টয় মার্গ, সংসদ মার্গ, জয় সিং মার্গ এবং কনট প্লেসের কিছু অংশেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চালানো হয়।

    পাহাড়প্রমাণ আবর্জনা

    নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্দোলনস্থল ও আশপাশ থেকে প্রায় ৬০ মেট্রিক টন মিশ্র বর্জ্য অপসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ রাতেই সরিয়ে ফেলা হয়। আবর্জনার মধ্যে ছিল ফেলে দেওয়া খাবারের প্যাকেট, প্লাস্টিকের বোতল, কাগজের কাপ, ব্যানার, কাপড়, নির্মাণসামগ্রীর ধ্বংসাবশেষ, পাথর এবং অন্যান্য কঠিন বর্জ্য। ২৪ জুলাই একদিনেই প্রায় ২৭ মেট্রিক টন আবর্জনা সংগ্রহ করা হয়, যা আগের দিনের প্রায় ১৫ মেট্রিক টনের তুলনায় অনেক বেশি। এই বিপুল বর্জ্য সরাতে নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল নামায় ৮টি অটো-টিপার, ২টি ভারী ট্রাক, ১টি এক্সকাভেটর, ৩টি প্রেসার জেটিং মেশিন, মেকানিক্যাল রোড সুইপার। বহু সাফাইকর্মী, যারা রাতভর শিফটে কাজ করেন।

    করদাতাদের অর্থে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা

    বৃহৎ জনসমাবেশের পর এই ধরনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয় হয়। শুধু আবর্জনা সরানো নয়, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, ফুটপাত, পার্ক, সবুজ এলাকা এবং সরকারি সম্পত্তি মেরামতের জন্যও অতিরিক্ত অর্থ ও জনবল ব্যয় করতে হয়। ফলে শহরের অন্য এলাকাগুলিতে নিয়মিত নাগরিক পরিষেবাও সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের ভার শেষ পর্যন্ত বহন করেন সাধারণ করদাতারাই, যদি না সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের কোনও ব্যবস্থা থাকে।

    আন্দোলন চলাকালীনই আবর্জনার পাহাড়

    যন্তর মন্তরে আন্দোলন চলাকালীনও চোখে পড়েছিল আবর্জনার পাহাড়। প্রতিবাদস্থল জুড়ে প্লাস্টিকের বোতল, কাগজের প্লেট ও ​​খাবারের প্যাকেট পড়ে আছে, সাথে ছিল অবিরাম দুর্গন্ধ। ওই অঞ্চলের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা নয়াদিল্লি পৌর কর্পোরেশন (এনডিএমসি)-এর এক কর্মকর্তা বলেন, “যেখানে প্রতিদিন ৫,০০০-এর বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিল, সেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো নির্দিষ্ট নিয়মকানুন ছিল না। আগে আমরা টলস্টয় মার্গ, সংসদ মার্গ এবং জন্তর মন্তর রোড থেকে প্রায় ৫০০-৬০০ কেজি বর্জ্য সংগ্রহ করতাম। আন্দোলন চলাকালীন আমরা প্রতিদিন প্রায় ১৫,০০০ কেজি বর্জ্য অপসারণ করি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য এনডিএমসি তিনটি শিফটে অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করে। সকালে প্রায় ৫০ জন, বিকেলে ১৫ জন এবং সন্ধ্যায় ২০ জন কর্মী এলাকাটি পরিষ্কার করেন। আমরা ব্যাটারিচালিত ও পরিবেশবান্ধব আবর্জনা সংগ্রহকারী যন্ত্র ‘গবলার’ এবং দ্রুত কঠিন বর্জ্য সংগ্রহের জন্য তৈরি ভ্যাকুয়াম ডিভাইসও ব্যবহার করি। নিয়মিত বিরতিতে ফগিং মেশিন এবং জীবাণুনাশক স্প্রেও ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও, পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিবাদস্থলে অটো-টিপার এবং আবর্জনার ট্রাক আসে।” তবুও, গত কয়েকদিন ধরে আবর্জনা জমে উঠেছে, বিশেষ করে কেরালা হাউসের বিপরীতে একটি পরিত্যক্ত ভবনের পাশে।

    নতুন করে উঠছে জবাবদিহির প্রশ্ন

    যন্তর-মন্তরের এই ঘটনা আবারও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে। বৃহৎ জনসমাবেশের আগে কি আয়োজকদের বাধ্যতামূলকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা জমা দেওয়া উচিত? আন্দোলনের ফলে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি বা অতিরিক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার খরচ হলে তার দায় কি আয়োজকদেরই বহন করা উচিত? আন্দোলন শেষে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে কি সংগঠকদের স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে? এই প্রশ্নগুলির উত্তর শুধু একটি নির্দিষ্ট আন্দোলনের জন্য নয়, ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনুষ্ঠিত বৃহৎ গণআন্দোলনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    নেপথ্যের নায়ক পৌরকর্মীরা

    প্রতিবাদের ছবি যেমন সংবাদ শিরোনামে জায়গা করে নেয়, তেমনই আন্দোলনের পরে শহরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে রাতভর কাজ করা সাফাইকর্মী, প্রকৌশলী, যন্ত্রচালক এবং উদ্যান বিভাগের কর্মীদের অবদান অনেক সময়ই আড়ালেই থেকে যায়। তাঁদের নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমেই অল্প সময়ের মধ্যে যন্তর-মন্তর এবং আশপাশের এলাকা আবার সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা সম্ভব হয়েছে। যন্তর-মন্তরের এই ঘটনার পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বৃহৎ রাজনৈতিক বা সামাজিক আন্দোলনের পর জনপরিসর পরিষ্কার ও পুনরুদ্ধারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব কি শুধুই পুরসভা এবং করদাতাদের উপর বর্তাবে, নাকি ভবিষ্যতে আয়োজকদেরও এই দায়বদ্ধতার আওতায় আনার সময় এসেছে?

  • Anti Paper Leak Bill: প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে লোকসভায় আরও কঠোর বিল, ন্যূনতম পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব

    Anti Paper Leak Bill: প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে লোকসভায় আরও কঠোর বিল, ন্যূনতম পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের প্রস্তাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট-ইউজি স্তরের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্ক ও দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের আবহে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আরও কঠোর আইন (Anti Paper Leak Bill) আনার পথে হাঁটল কেন্দ্র। সোমবার, ২৭ জুলাই, লোকসভায় জনপরীক্ষা (অসাধু উপায় প্রতিরোধ) সংশোধনী বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। এই (Modi Government) সংশোধনী বিলের মাধ্যমে বর্তমানে চালু আইনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। সরকারের দাবি, জনপরীক্ষার স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতেই এই সংশোধনী প্রয়োজন।

    লোকসভায় তুমুল বিক্ষোভ (Anti Paper Leak Bill)

    এদিন বিল পেশের সময়ই লোকসভায় তুমুল বিক্ষোভ হয়। বিরোধী দলগুলির সদস্যরা নিট ইস্যুতে ছাত্রদের আন্দোলনের সময় পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদে সরব হন। তাঁদের অভিযোগ, ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের সময় ছাত্রদের ওপর পুলিশ যে ব্যবস্থা নিয়েছিল, তার জবাব সরকারকে দিতে হবে। বিরোধীদের লাগাতার স্লোগান ও বিক্ষোভের জেরে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা দুপুর ২টা পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং পরীক্ষায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে নিট-ইউজি স্তরের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই কঠোর আইনের দাবি জোরালো হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই প্রায় দু’বছর আগে প্রণীত আইনে আরও সংশোধন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

    সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন

    বিলে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিভিন্ন জনপরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অসাধু উপায়ের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। এর ফলে পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই আইনকে আরও শক্তিশালী করে পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই এই সংশোধনের মূল লক্ষ্য। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে মোট সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই পরিবর্তনগুলির মাধ্যমে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় যে ফাঁকফোকর ছিল, তা অনেকটাই দূর হবে। পাশাপাশি বিশেষ আদালতের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিচার শেষ করার ব্যবস্থাও করা হবে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলির মধ্যে রয়েছে শাস্তির মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা। বর্তমানে অসাধু উপায়ে পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধে তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। নতুন সংশোধনীতে সেই শাস্তি বাড়িয়ে ন্যূনতম পাঁচ বছর থেকে সর্বোচ্চ দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে (Anti Paper Leak Bill)। জরিমানার অঙ্কও বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারের মতে, কঠোর শাস্তির বিধান থাকলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে জড়িত থাকার প্রবণতা অনেকটাই কমবে।

    কোটি টাকা জরিমানা

    শুধু ব্যক্তি নয়, পরীক্ষা পরিচালনায় যুক্ত পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধেও আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বর্তমান আইনে এই ধরনের সংস্থার জন্য সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা জরিমানা এবং চার বছরের জন্য জনপরীক্ষা সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে নিষিদ্ধ করার বিধান রয়েছে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, সেই জরিমানার পরিমাণ বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা পরিচালনায় সরকারের যে ব্যয় হয়েছে, তার আনুপাতিক অংশও ওই সংস্থার কাছ থেকে আদায় করা হবে। একই সঙ্গে আট বছরের জন্য তাদের জনপরীক্ষা সংক্রান্ত যে কোনও দায়িত্ব পালন থেকে নিষিদ্ধ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে (Modi Government)। দ্রুত তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাও এই সংশোধনী বিলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেই কারণে বর্তমানে চালু আইনে নতুন দু’টি ধারা সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই নতুন ধারাগুলির মাধ্যমে তদন্ত এবং বিচার সম্পূর্ণ করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে (Anti Paper Leak Bill)।

    তদন্ত চালানো হবে সহজ

    প্রস্তাব অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার কোনও মামলার তদন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অথবা বিশেষ তদন্তকারী দলের হাতে তুলে দিলে, সেই তদন্ত রেফারেন্স পাওয়ার তারিখ থেকে সর্বোচ্চ দু’মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত ঝুলিয়ে রাখার সুযোগ কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। শুধু তদন্ত নয়, বিচার প্রক্রিয়াকেও দ্রুত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সংশোধনীতে বলা হয়েছে, অভিযোগপত্র আদালতে জমা পড়ার পর বিশেষ দ্রুত বিচার আদালতকে তিন মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এর ফলে বহু বছর ধরে মামলা ঝুলে থাকার প্রবণতা কমবে এবং অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা সরকারের। এছাড়া আন্তঃরাজ্য বা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজন হলে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করতে পারবে। এর মাধ্যমে একাধিক রাজ্যে বিস্তৃত পরীক্ষা জালিয়াতির ঘটনায় তদন্ত চালানো সহজ হবে। চালু আইনেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের বিধান ছিল, তবে নতুন সংশোধনীতে বিশেষ পরিস্থিতিতে পৃথক বিশেষ দল গঠনের ক্ষমতা আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    সরকারের বক্তব্য

    সংশোধনী বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সরকার জানিয়েছে, পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করা আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা শুধু পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নয়, গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাও নষ্ট করে। তাই কঠোর শাস্তি, সময়ে তদন্ত এবং দ্রুত বিচারের সমন্বয়ে একটি কার্যকর আইনি কাঠামো তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য (Modi Government)। এই বিলটি এমন একটি সময়ে লোকসভায় আনা হয়েছে, যখন নিট-সংক্রান্ত বিতর্ক দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ, পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়ম এবং তার জেরে ছাত্রদের দীর্ঘ আন্দোলন কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়েছিল। এই আবহেই সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। সেই ঘটনার পরপরই সরকার আরও কঠোর সংশোধনী বিল আনার সিদ্ধান্ত নেয়।

    বিরোধী দলগুলির দাবি

    বিরোধী দলগুলির দাবি, শুধু কঠোর আইন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। পরীক্ষা পরিচালনার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, নতুন সংশোধনী কার্যকর হলে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা জালিয়াতির বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী আইনি ব্যবস্থা গড়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে (Anti Paper Leak Bill)। এখন সংশোধনী বিলটি সংসদের পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনার পর অনুমোদনের জন্য বিবেচিত হবে। সংসদের দুই কক্ষের অনুমোদন এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতি মিললে কার্যকর হবে (Modi Government) নতুন বিধানগুলি।

     

  • CAG Report: স্বাস্থ্যসাথী থেকে আমফান ত্রাণ, একাধিক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, ক্যাগ রিপোর্টে বিস্ফোরক দাবি

    CAG Report: স্বাস্থ্যসাথী থেকে আমফান ত্রাণ, একাধিক প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, ক্যাগ রিপোর্টে বিস্ফোরক দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাস্থ্যসাথী থেকে যুবশ্রী, আমফানের ত্রাণ থেকে পিএম কেয়ার্সের অক্সিজেন প্ল্যান্ট—রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পে আর্থিক অনিয়ম, গাফিলতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে একের পর এক প্রশ্ন ক্যাগের রিপোর্টে (CAG Report)। শনিবার বিধানসভায় ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট ২৮টি ক্যাগ রিপোর্ট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। রিপোর্টগুলিতে সরকারি অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং রাজ্যের আর্থিক শৃঙ্খলা নিয়ে একাধিক গুরুতর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর কথায়, ‘‘এই রিপোর্টগুলো পড়লেই বোঝা যাবে কেন রাজ্যের ঋণের বোঝা এত বেড়েছে।’’

    পিএম কেয়ার্সের অক্সিজেন প্ল্যান্টের বড় অংশই চালু হয়নি

    ক্যাগ রিপোর্টে (CAG Report) বলা হয়েছে, কোভিডের সময় কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গকে (West Bengal) যে জরুরি আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল, ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত তার ৬৫৯.২৮ কোটি টাকা, অর্থাৎ মোট বরাদ্দের প্রায় ৬৫ শতাংশই খরচ হয়নি। রিপোর্ট অনুযায়ী, পিএম কেয়ার্স তহবিল এবং কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR)-এর অর্থে রাজ্যে ৭৫টি অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হলেও ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৩২টি চালু ছিল। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় অর্থে তৈরি হওয়া বহু পরিকাঠামো দীর্ঘদিন ব্যবহারই করা হয়নি বলে রিপোর্টে (CAG Report) উল্লেখ।

    স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে একাধিক অনিয়ম!

    স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প নিয়েও একাধিক গুরুতর পর্যবেক্ষণ করেছে ক্যাগ—

    • ভুয়ো সুবিধাভোগীর আশঙ্কা- ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত রাজ্যে রেশন কার্ডধারী পরিবারের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি স্বাস্থ্যসাথী সুবিধাভোগীর নাম নথিভুক্ত ছিল, যা ভুয়ো উপভোক্তার সম্ভাবনার ইঙ্গিত বলেই ক্যাগের রিপোর্টে (CAG Report) উল্লেখ।
    • অতিরিক্ত খরচ ও হাসপাতালের রেটিং নিয়ে প্রশ্ন- স্মার্ট কার্ড বিতরণে প্রায় ৪৭ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে। নমুনা হিসেবে পরীক্ষা করা ৫০টি বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে ৩১টিকে বিধিবহির্ভূতভাবে উচ্চতর শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত (Empanel) করা হয়েছিল। এর ফলে সরকারকে অতিরিক্ত ১৪ কোটি ৪৮ লক্ষ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।
    • হাসপাতালের সংখ্যায় ঘাটতি- মোট ২ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবারের জন্য ৩,০৩৮টি হাসপাতাল প্রয়োজন হলেও বাস্তবে তালিকাভুক্ত ছিল মাত্র ২,৬০৫টি হাসপাতাল। ফলে বহু মানুষ স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি বলে রিপোর্টে (CAG Report) ইঙ্গিত করা হয়েছে।
    • জনবল ও পরিকাঠামোর অভাব- পরিদর্শন করা হাসপাতালগুলির মধ্যে- ৩২টিতে চিকিৎসকের অভাব, ৩৬টিতে নার্সের ঘাটতি, ১৬টিতে ভেন্টিলেটরের মতো জরুরি সরঞ্জামের অভাব ধরা পড়েছে।

    বাজেটের অভাবে ঋণ

    স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় ২০২০-২২ সালে প্রায় ৭২১ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হয়। পরে সেই ঋণের সুদ বাবদ সরকারকে প্রায় ১০-১১ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়েছে।

    স্বাস্থ্য ব্যবস্থার করুণ চিত্র

    ক্যাগ রিপোর্ট অনুযায়ী—

    • ● বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ৩৬ শতাংশ পদ খালি
    • ● সাধারণ চিকিৎসকের ৪৯ শতাংশ পদ শূন্য
    • ● ৮৯ শতাংশ সাব-সেন্টারে পুরুষ স্বাস্থ্যকর্মী নেই
    • ● কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের ৫৪ শতাংশ চিকিৎসকের পদ ফাঁকা
    • ● ৯১ শতাংশ CHC-তে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই
    • ● ৮০ শতাংশের বেশি CHC-তে রক্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিল না

    এছাড়া জেলা হাসপাতালগুলিতে—

    • ● ৬৩ শতাংশ চিকিৎসকের পদ
    • ● ৪৪ শতাংশ প্যারামেডিক্যাল কর্মীর পদ
    • ● ৮০ শতাংশ প্রশাসনিক আধিকারিকের পদ খালি ছিল

    যুবশ্রী প্রকল্পেও প্রশ্ন

    ক্যাগ (CAG Report) রিপোর্টে উল্লেখ, যুবশ্রী প্রকল্পে আবেদনকারীদের যথাযথ যাচাইয়ের কোনও কার্যকর ব্যবস্থা ছিল না। রিপোর্টে বলা হয়েছে- একই ব্যক্তি বছরের পর বছর ভাতা পাচ্ছেন। নতুন আবেদনকারীদের সুযোগ কমে যাচ্ছে। ভুয়ো আবেদনকারী তালিকায় থেকে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    আমফান ও ইয়াসে ত্রাণে অনিয়ম!

    সুপার সাইক্লোন আমফান-এর ক্ষতিপূরণ নিয়েও একাধিক অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করেছে ক্যাগ (CAG Report)। রিপোর্ট অনুযায়ী- রাজ্য সরকার (West Bengal) কেন্দ্রের কাছে ৩৫,০১৮ কোটি টাকা দাবি করলেও নিরীক্ষায় দেখা যায়, প্রকৃত প্রাপ্য ছিল প্রায় ২,৭০৭.৭৭ কোটি টাকা। ৯,২২৬ জন উপভোক্তাকে একাধিকবার বাড়ি তৈরির অনুদান দেওয়া হয়েছে, যার পরিমাণ ১৮.০৭ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে ২১৮.০৪ কোটি টাকা নির্দিষ্ট তহবিলের বাইরে রাখা হয়েছিল, ফলে ৪.৫১ কোটি টাকার সুদের ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতিপূরণে হুগলি ও পূর্ব মেদিনীপুরে ১,৭৭৯ জন একই ব্যক্তি একাধিকবার আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন, যার ফলে ২২.৮৩ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে।

    শিল্পে জমি লিজে প্রায় ১৩ কোটি টাকার ক্ষতি

    ক্যাগ রিপোর্টে (CAG Report) আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নদিয়ার হরিণঘাটায় শিল্প পার্কের জমি ৯৯ বছরের জন্য একটি ই-কমার্স সংস্থাকে লিজ দেওয়ার সময় জলাভূমিও লিজের আওতায় চলে আসে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগমের প্রায় ১৩ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বিমা সংস্থার বকেয়া বেড়ে ৩১ কোটি টাকা

    ক্যাগের রিপোর্টে (CAG Report) বলা হয়েছে, বিমা সংস্থাগুলির কাছে রাজ্য সরকারের প্রায় ৭ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা বকেয়া ছিল। সময়মতো সেই অর্থ পরিশোধ না করায় জরিমানা-সহ বকেয়ার পরিমাণ ৩১ কোটিরও বেশি হয়ে যায়। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বকেয়া বৃদ্ধি পেলেও সেই অর্থ বিমা সংস্থাগুলিকে পরিশোধ করা হয়নি।

    বাজেট বাস্তবায়নেও অসঙ্গতি

    ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের স্টেট ফিনান্সেস অডিট রিপোর্টে বলা হয়েছে- বরাদ্দ ছিল ৩ লক্ষ ৯০ হাজার ৬৩৮.০৪ কোটি টাকা। ব্যয় হয়েছে ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৯৭৫.৭৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৭০ হাজার ৬৬২.২৫ কোটি টাকা (১৮.০৯ শতাংশ) অব্যবহৃত থেকে গেছে। এছাড়া ১৩ হাজার ৪৮৬.৯২ কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যয় এখনও বিধানসভার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রেও বহু হাজার কোটি টাকা অব্যবহৃত থাকার কথা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

    রাজ্যের আর্থিক অবস্থার চিত্র

    ক্যাগ রিপোর্ট অনুযায়ী- রাজস্ব ঘাটতি: ৩৯,৭২৭ কোটি টাকা। আর্থিক (Fiscal) ঘাটতি: ৬১,৯২৪ কোটি টাকা। মোট ঋণ: প্রায় ৭.৩৫ লক্ষ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত টানা ১০ বছর রাজস্ব ঘাটতির কথাও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে রাজস্ব আয়ের বড় অংশ বেতন, পেনশন, সুদ এবং ভর্তুকি খাতে ব্যয় হওয়ায় পরিকাঠামো উন্নয়নে পর্যাপ্ত মূলধনী বিনিয়োগ সম্ভব হয়নি বলেও পর্যবেক্ষণ করেছে ক্যাগ।

    বিজেপির প্রতিক্রিয়া

    বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) দাবি করেছেন, ক্যাগ রিপোর্ট পশ্চিমবঙ্গের আর্থিক ব্যবস্থাপনার ‘‘ভয়াবহ চিত্র’’ তুলে ধরেছে। তাঁর অভিযোগ, ঋণের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়লেও সেই অর্থ উৎপাদনশীল বিনিয়োগে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়নি। তাঁর মতে, প্রকৃত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন আর্থিক শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।

    ক্যাগ রিপোর্টে যেসব প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

    স্বাস্থ্যসাথী, যুবশ্রী, পিএম কেয়ার্সে অর্থে স্থাপিত অক্সিজেন প্ল্যান্ট, আমফান ও ইয়াস ত্রাণ, জল জীবন মিশন, সমগ্র শিক্ষা মিশন, অঙ্গনওয়াড়ি প্রকল্প, পূর্ত দপ্তরের বিভিন্ন কাজ, শিল্পোন্নয়ন নিগমের জমি লিজ ও রাজ্যের সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা- সব মিলিয়ে, ক্যাগের একাধিক রিপোর্টে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন, অর্থ ব্যয়, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, দুর্যোগ ত্রাণ, কর্মসংস্থান প্রকল্প এবং রাজ্যের আর্থিক ব্যবস্থাপনা—প্রায় সব ক্ষেত্রেই একাধিক অনিয়ম, গাফিলতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ উঠে এসেছে।

  • Jan Aushadhi Kendras: জন ঔষধি প্রকল্পে এক যুগে ওষুধের খরচে বেঁচেছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা, কেন্দ্রের সংখ্যা ছাড়াল ২০ হাজার

    Jan Aushadhi Kendras: জন ঔষধি প্রকল্পে এক যুগে ওষুধের খরচে বেঁচেছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা, কেন্দ্রের সংখ্যা ছাড়াল ২০ হাজার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন ঔষধি প্রকল্পের (Jan Aushadhi Kendras) মাধ্যমে দেশের মানুষের ওষুধ কেনার খরচে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। লোকসভায় লিখিত জবাবে এই তথ্য জানান (India) কেন্দ্রীয় রাসায়নিক ও সারমন্ত্রী জেপি নাড্ডা। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে জন ঔষধি কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার ১৪৯। দেশের ৭৮৪টি জেলার মধ্যে ৭৭৬টিতে ইতিমধ্যেই এই কেন্দ্রগুলির পরিষেবা পৌঁছে গিয়েছে। ২০০৮ সালে স্বল্পমূল্যে মান-নিয়ন্ত্রিত জেনেরিক ওষুধ বিক্রির উদ্দেশ্যে এই প্রকল্পের সূচনা হলেও, প্রথম দিকে এর অগ্রগতি ছিল ধীর। পরে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন ঔষধি প্রকল্প হিসেবে নতুনভাবে চালু হওয়ার পর দ্রুত সম্প্রসারণ শুরু হয়। ২০২১ সালের জুন মাসে কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৮৩৬। ২০২৪ সালে তা ১৪ হাজার ছাড়িয়ে যায়। একই বছরে বার্ষিক ওষুধ বিক্রি এক হাজার কোটি টাকার গণ্ডিও অতিক্রম করে। ২০২৫ সালের জুনে কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ হাজার, ৯১২ এবং তখন পর্যন্ত নাগরিকদের মোট সাশ্রয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এক বছরেরও কম সময়ে আরও তিন হাজারের বেশি নতুন কেন্দ্র চালু হওয়ায় কেন্দ্রের সংখ্যা ২০ হাজার পেরিয়েছে এবং মোট সাশ্রয়ের পরিমাণ পৌঁছেছে ৪৫ হাজার কোটি টাকায়।

    সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ে বড় স্বস্তি (Jan Aushadhi Kendras)

    সরকারের দাবি, জন ঔষধি কেন্দ্রগুলিতে বিক্রি হওয়া ওষুধের দাম বাজারে প্রচলিত ব্র্যান্ডেড ওষুধের তুলনায় ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কম। কিছু ক্ষেত্রে এই ব্যবধান আরও বেশি। ফলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ-সহ নানা রোগের চিকিৎসায় মানুষের ব্যক্তিগত খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষ করে ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকায়, যেখানে ব্র্যান্ডেড ওষুধের দোকান তুলনামূলক কম এবং চিকিৎসার খরচ পারিবারিক বাজেটের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করে, সেখানে এই প্রকল্প উল্লেখযোগ্য স্বস্তি এনে দিয়েছে বলে দাবি সরকারের (Jan Aushadhi Kendras)।

    ওষুধের পাশাপাশি দাম কম অস্ত্রোপচার সামগ্রীরও

    বর্তমানে জন ঔষধি প্রকল্পে ২ হাজার ১১০ ধরনের ওষুধ এবং ৩১৫ ধরনের অস্ত্রোপচার-সরঞ্জাম, চিকিৎসা উপকরণ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পাওয়া যায়। হৃদরোগ, ক্যানসার, ডায়াবেটিস, সংক্রমণ, অ্যালার্জি, পরিপাকতন্ত্রের রোগ থেকে শুরু করে পুষ্টি-সম্পূরক—প্রায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় জেনেরিক ওষুধই এখন এই প্রকল্পের আওতায় মেলে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কেন্দ্রীয় পরিচালকদের ২০০টি সর্বাধিক চাহিদাসম্পন্ন ওষুধ সবসময় মজুত রাখার জন্য বিশেষ আর্থিক অনুদানও চালু করেছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে প্রকল্পের ১০০টি সর্বাধিক বিক্রিত ও বাজারে সর্বাধিক ব্যবহৃত আরও ১০০টি ওষুধও।

    মান নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি

    কম দামের ওষুধের গুণগত মান নিয়ে মানুষের মধ্যে যে (India) সংশয় রয়েছে, তা দূর করতে সরকার একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রকল্পের আওতায় শুধুমাত্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উত্তম উৎপাদন পদ্ধতির শংসাপত্রপ্রাপ্ত সংস্থার কাছ থেকেই ওষুধ সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি ব্যাচ বাজারে আসার আগে জাতীয় পরীক্ষাগার স্বীকৃতি বোর্ড অনুমোদিত পরীক্ষাগারে মান যাচাই করা হয়। প্রকল্প পরিচালনাকারী ভারতীয় ঔষধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যুরো নিয়মিতভাবে কেন্দ্রগুলির কার্যকারিতা, সরবরাহ ব্যবস্থা ও গুণমান পর্যবেক্ষণ করে এবং কোথাও ঘাটতি ধরা পড়লে দ্রুত সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় (Jan Aushadhi Kendras)।

    নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ

    জন ঔষধি কেন্দ্রগুলি সরাসরি সরকার পরিচালনা করে না। ব্যক্তি উদ্যোক্তা, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, সমিতি, ট্রাস্ট এবং বেসরকারি সংস্থাগুলি অনলাইনে আবেদন করে এই কেন্দ্র পরিচালনার সুযোগ পায়। কেন্দ্রীয় পরিচালকরা বিক্রির ওপর নির্ধারিত কমিশনের পাশাপাশি কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে মাসিক প্রণোদনাও পান। উত্তর-পূর্বাঞ্চল, হিমালয় অঞ্চল, দ্বীপাঞ্চল, প্রাক্তন সেনাকর্মী, মহিলা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতির উদ্যোক্তাদের জন্য আসবাবপত্র ও কম্পিউটার কেনার উদ্দেশ্যে এককালীন ২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়। সম্প্রতি প্রাথমিক কৃষি ঋণ সমবায় সমিতির সঙ্গেও এই প্রকল্প যুক্ত হয়েছে। ফলে গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান ও আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে (Jan Aushadhi Kendras)। এ ছাড়া, মাত্র ১ টাকা দামে বিক্রি হওয়া জন ঔষধি সুবিধা স্যানিটারি ন্যাপকিন ইতিমধ্যেই ১০০ কোটিরও বেশি বিক্রি হয়েছে। এতে একদিকে যেমন মহিলাদের মাসিক স্বাস্থ্যবিধির সামগ্রী সহজলভ্য হয়েছে, অন্যদিকে ওষুধ বিক্রির কেন্দ্রগুলির আয়ও বেড়েছে।

    সরবরাহ ব্যবস্থা ও প্রযুক্তির উন্নয়ন

    দেশের প্রতিটি প্রান্তে ওষুধ পৌঁছে দিতে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। একটি কেন্দ্রীয় গুদাম এবং চারটি আঞ্চলিক গুদাম থেকে দেশের বিভিন্ন পরিবেশকের মাধ্যমে ওষুধ সরবরাহ করা হয়। প্রায় ৪০০টি সর্বাধিক চাহিদাসম্পন্ন ওষুধের মজুত নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। চাহিদার পূর্বাভাস নির্ধারণেও এখন ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য চালু হয়েছে জন ঔষধি সুগম মোবাইল অ্যাপ। ৩৮ লাখেরও বেশি মানুষ এই অ্যাপ ব্যবহার করছেন। এর মাধ্যমে নিকটতম কেন্দ্রের অবস্থান, ব্র্যান্ডেড ও জেনেরিক ওষুধের দামের তুলনা এবং ওষুধের তাৎক্ষণিক প্রাপ্যতার খবর জানা যায় (Jan Aushadhi Kendras)।

    সচেতনতা বাড়াতে দেশজুড়ে প্রচার

    শুধু ওষুধ বিক্রিই নয়, জেনেরিক ওষুধ সম্পর্কে মানুষের আস্থা বাড়াতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচিও চালানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় যোগাযোগ ব্যুরো, প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো, মাইগভ এবং মাই ভারত-এর সহযোগিতায় সংবাদপত্র, টেলিভিশন, বেতার, সামাজিক মাধ্যম, প্রচারফলক ও বিভিন্ন জনসংযোগ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে (India)। এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটবট এবং টেলিফোনের মাধ্যমেও নাগরিকদের তথ্য দেওয়া হচ্ছে। প্রতি বছর মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ ‘জন ঔষধি সপ্তাহ’ হিসেবে পালন করা হয়। এই উপলক্ষে স্বাস্থ্য শিবির, সচেতনতা র‍্যালি, ফার্মেসি কলেজে সেমিনার এবং বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ৭ মার্চ পালিত হয় ‘জন ঔষধি দিবস’।

    রাজ্যভিত্তিক বিস্তার

    জন ঔষধি কেন্দ্রের সংখ্যায় দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ, যেখানে ২ হাজার ৬০০-রও বেশি কেন্দ্র রয়েছে। এর পরে রয়েছে বিহার, গুজরাট এবং মহারাষ্ট্র। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, অরুণাচল প্রদেশ এবং লাদাখের মতো প্রত্যন্ত এলাকায়ও এখন জন ঔষধি কেন্দ্র চালু হয়েছে। ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায়ও মানুষ এখন ক্রমশ অনিয়ন্ত্রিত উৎসের পরিবর্তে এই কেন্দ্রগুলির ওপর নির্ভর করছেন। সরকারের লক্ষ্য, ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে দেশে ২৫ হাজার জন ঔষধি কেন্দ্র চালু করা। বর্তমানে মাত্র আটটি জেলায় এখনও কেন্দ্র খোলা বাকি রয়েছে। সেখানেও সরকারি হাসপাতালগুলিতে জায়গা চিহ্নিত করে দ্রুত কেন্দ্র চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে (Jan Aushadhi Kendras)। কেন্দ্রের মতে, গত এক দশকেরও বেশি সময়ে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন ঔষধি প্রকল্প একটি সীমিত পরিসরের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ থেকে দেশের অন্যতম বৃহৎ স্বল্পমূল্যের ওষুধ বিতরণ ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন ওষুধ মানুষের হাতের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই (India) দাবি সরকারের।

     

  • Punjab Police: জলন্ধরে আইইডি-সহ গ্রেফতার পাক সমর্থিত বব্বর খালসা জঙ্গি, বড় হামলা রুখে দেওয়ার দাবি পঞ্জাব পুলিশের

    Punjab Police: জলন্ধরে আইইডি-সহ গ্রেফতার পাক সমর্থিত বব্বর খালসা জঙ্গি, বড় হামলা রুখে দেওয়ার দাবি পঞ্জাব পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পঞ্জাবে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ (Punjab Police)। জলন্ধরে যৌথ অভিযানে গ্রেফতার পাকিস্তান-সমর্থিত বাব্বর খালসা ইন্টারন্যাশনাল (বিকেআই)-এর একটি জঙ্গি মডিউলের মূল সদস্য। জলন্ধরে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স (সিআই) এবং জালন্ধর গ্রামীণ পুলিশের যৌথ অভিযানে ধরা পড়ে সৎবীর সিং নামে এক ব্যক্তি। পুলিশের (Punjab Police) দাবি, এই অভিযানের ফলে বড়সড় নাশকতার পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

    কে সৎবীর সিং?

    পঞ্জাবের তথ্য ও জনসংযোগ দফতরের সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, ধৃতের নাম সৎবীর সিং। তিনি জলন্ধরের আদমপুর এলাকার পাডিয়ানা গ্রামের বাসিন্দা। পঞ্জাব পুলিশের ডিজিপি (DGP) গৌরব যাদব জানান, গোয়েন্দা সূত্রে খবর ছিল যে বিদেশে বসে থাকা জঙ্গি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে সৎবীর সিং বিস্ফোরকের একটি চালান সংগ্রহ করেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ধান্দৌর গ্রামের কাছে নাকা চেকিংয়ের সময় তাকে মোটরসাইকেল-সহ আটক করা হয়।

    নাশকতার আশঙ্কা, উদ্ধার IED

    তল্লাশিতে সৎবীর সিংয়ের ব্যাগ থেকে উদ্ধার ১.৩ কেজি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক-ভর্তি একটি ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED)। IED-র মধ্যে শার্পনেল ও বল বেয়ারিংও ছিল, যা বিস্ফোরণের ক্ষয়ক্ষতি বহুগুণ বাড়াতে পারে। এছাড়া ধৃতের ব্যবহৃত কালো রঙের একটি প্লাটিনা মোটরসাইকেলও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

    পুলিশের দাবি

    ডিজিপি গৌরব যাদব বলেন, “সময়মতো এই অভিযান চালানো সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছে। বহু নিরীহ মানুষের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।”

    তদন্তে বিদেশি যোগের খোঁজ

    পুলিশ (Punjab Police) জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বিদেশে থাকা হ্যান্ডলার এবং স্থানীয় সহযোগীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে। গোটা জঙ্গি নেটওয়ার্ক ভেঙে ফেলাই এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য। ঘটনার জেরে জলন্ধর গ্রামীণ জেলার পাতারা থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১১৩(১) ও ১১৩(৩) ধারা, বিস্ফোরক পদার্থ আইন এবং অস্ত্র আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

LinkedIn
Share