Blog

  • Saffron Wave: ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে নাটকীয় পালাবদল, নজির গড়ল পদ্মময় বলয়

    Saffron Wave: ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে নাটকীয় পালাবদল, নজির গড়ল পদ্মময় বলয়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের রাজনৈতিক পরিসরে নাটকীয় মোড় (Saffron Wave)। পশ্চিমবঙ্গে নয়া অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে বিজেপি। ৩৪ বছরের বাম রাজত্ব, তার পরে ১৫ বছরের তৃণমূল জমানা শেষে বঙ্গে ফুটল পদ্ম (India Power Map)। বহুদিন ধরে বিজেপি-বিরোধী দুর্গ হিসেবে পরিচিত বাংলার পতন সূচনা করেছে পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক মৌলিক পুনর্বিন্যাসের, যেখানে বিজেপি এখন হিমালয় থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি ক্ষমতার বলয় তৈরি করেছে।

    বদলে গেল দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক  সমীকরণ (Saffron Wave)

    এদিকে, তামিলনাড়ুতে দেখা গিয়েছে বড়সড় পরিবর্তন। সেখানে ১০০-র বেশি আসন জিতে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের দীর্ঘস্থায়ী মৌরশিপাট্টায় আঘাত হেনেছে নয়া দল তামিল বিকাশ কাজাগম (TVK)। যার জেরে বদলে গিয়েছে দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক  সমীকরণ। কেরলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (UDF) ফের ক্ষমতায় ফিরেছে। এলডিএফের সঙ্গে পালাবদলের ধারা ভেঙে দিয়ে দক্ষিণে আবারও প্রাণপ্রতিষ্ঠা কংগ্রেসের।  এদিকে, অসম ও পুদুচেরিতে এনডিএর শাসনই জারি থাকছে। যা আদতে নির্দেশ করে উত্তর-পূর্ব এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তাদের মজবুত অবস্থানকে।

    বিজেপির জয়জয়কার

    এদিকে, সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলের জেরে বদলে গিয়েছে ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্র। বর্তমানে বিজেপি একাই ১৭টি রাজ্যে রাজ করছে। এগুলি হল— পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, অসম, ওড়িশা, ছত্তিশগড়, ত্রিপুরা, গোয়া, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর এবং উত্তরাখণ্ড। বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ শাসন করছে আরও পাঁচটি রাজ্য। এগুলি হল— বিহার, অন্ধ্রপ্রদেশ, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড এবং সিকিম। সব মিলিয়ে মোট ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের রাশ রয়েছে এনডিএর হাতে (India Power Map)। এই ২২টি অঞ্চল ভারতের মোট ভৌগোলিক এলাকার প্রায় ৭৩ শতাংশ, প্রতিনিধিত্ব করে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭৮ শতাংশের (Saffron Wave)। সাম্প্রতিক নির্বাচনের পরে বিজেপির রাজ্যস্তরের বিধায়কের সংখ্যা প্রায় ১৭০০-তে গিয়ে পৌঁছেছে, যা কংগ্রেসের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। পদ্মশিবিরের এই ফলের জেরে রাজ্যের আইনসভাগুলিতে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে বিজেপি (India Power Map)। বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জোট এখন দেশের প্রায় চার-পঞ্চমাংশ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছে, যেখানে বিরোধী শিবিরের আওতায় রয়েছে মাত্র এক-সপ্তমাংশের কিছু বেশি।

    গেরুয়াময় অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ

    পশ্চিমবঙ্গ জয়ের মাধ্যমে বিজেপি এখন উত্তর হিমালয় অঞ্চল থেকে গঙ্গা সমভূমি, পশ্চিম মালভূমি হয়ে উত্তর-পূর্ব ও পূর্ব উপকূল পর্যন্ত একটি ধারাবাহিক ক্ষমতার বলয় গড়ে তুলেছে। এর ফলে নীতিগত সমন্বয়, কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক এবং নির্বাচনী কার্যকলাপ আরও সহজ হয়েছে (Saffron Wave)। দিল্লিতে বিজয় ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী “বিকশিত ভারত” লক্ষ্যের সঙ্গে পূর্ব ভারতের পুনর্জাগরণের কথারও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “অতীতে বিহার, বাংলা ও ওড়িশা ভারতের গৌরবের তিন স্তম্ভ ছিল—অঙ্গ, বঙ্গ ও কলিঙ্গ। এই তিন রাজ্যের উন্নয়নই বিকশিত ভারত গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ (India Power Map)।” তিনি কলিঙ্গ (ওড়িশা)-কে সামুদ্রিক শক্তি, অঙ্গ (বিহার)-কে বস্ত্র বাণিজ্যের কেন্দ্র এবং বঙ্গ (পশ্চিমবঙ্গ)-কে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেন।

    বৃত্ত ছোট হচ্ছে কংগ্রেসের

    অন্যদিকে, কংগ্রেস এখন একাই শাসন করছে মাত্র চারটি রাজ্য। এগুলি হল, হিমাচল প্রদেশ, তেলঙ্গানা, কেরল এবং কর্নাটক। ‘ইন্ডি’ জোটের সঙ্গে যুক্ত আরও দু’টি অঞ্চলেও রয়েছে কংগ্রেস—ঝাড়খণ্ড এবং জম্মু-কাশ্মীর। এই ছ’টি অঞ্চল ভারতের মোট এলাকার প্রায় ১৯ শতাংশ, প্রতিনিধিত্ব করে মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশের। যদিও এই জোট দক্ষিণ, মধ্য ভারত এবং হিমালয় অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে, তবুও তাদের ভৌগোলিক এবং জনসংখ্যাগত প্রভাব এনডিএর তুলনায় ঢের কম (Saffron Wave)। তবে কংগ্রেস-‘ইন্ডি’ জোটের শক্তি কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যেই কেন্দ্রীভূত—কেরলের উন্নত সামাজিক সূচক, কর্ণাটকের প্রযুক্তি-ভিত্তিক অর্থনীতি, তেলঙ্গনার শিল্পভিত্তি এবং ঝাড়খণ্ডের খনিজ সম্পদ তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে (India Power Map)। পরিসংখ্যান বলছে, এনডিএর সঙ্গে ব্যবধান কমাতে চাইলে বিরোধী শিবিরকে মাত্র ১৪ শতাংশ জনসংখ্যা ও ১৯ শতাংশ এলাকা নিয়েই আগামী বছরগুলিতে (Saffron Wave) জাতীয় পর্যায়ে জনসমর্থন বাড়াতে হবে, করতে হবে জয়লাভও। তা না হলে অচিরেই স্রেফ সাইনবোর্ড সর্বস্ব হয়ে যাবে শতাব্দী-প্রাচীন দল কংগ্রেস।

     

  • Shuvendu Adhikari: “অভিষেক এত চুরি করেছে যে তাঁকে জেলে ঢোকাবে বিজেপি সরকার”, বলে দিলেন শুভেন্দু

    Shuvendu Adhikari: “অভিষেক এত চুরি করেছে যে তাঁকে জেলে ঢোকাবে বিজেপি সরকার”, বলে দিলেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গে গেরুয়া ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপির (Shuvendu Adhikari) আঁচে শুকিয়ে কাঠ ক্ষমতার দম্ভে মত্ত ঘাসফুল। বঙ্গে (Abhishek Banerjee) তুষ্টিকরণের যে রাজনীতির চল চালু হয়েছিল বাম জমানায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে যাতে ফলতে শুরু করেছিল বিষবৃক্ষের ফল, সেই তৃণমূলকে সমূলে উৎপাটিত করে আস্তাকুঁড়ে ফেলে দিয়েছে বিজেপি। যে ভবানীপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জিতে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি ধরে রেখেছিলেন মমতা, সেই ভবানীপুরেও প্রাক্তন সতীর্থ শুভেন্দু অধিকারির কাছে গোহারা হেরে কার্যত ঘরে ঢুকে গিয়েছেন তৃণমূলের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    শুভেন্দুর বাক্য-বাণ (Shuvendu Adhikari)

    এহেন আবহে তৃণমূলকেই নিশানা করলেন রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু। নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুরেও জয় নিশ্চিত হওয়ার পর ঘাসফুল শিবিরকে আক্রমণ করেন তিনি। বলেন, “যারা গুন্ডা, চোর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বিজেপি সরকার। রাহুল গান্ধী শেষ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও শেষ। আগামী নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে শেষ হয়ে যাবে অখিলেশ যাদবও।” শুভেন্দু বলেন, “পুরো হিন্দু সমাজ মিলে এক সঙ্গে বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খিদিরপুরে ২০ হাজার ভোটে লিড পেয়েছে, বাকি জায়গায় আমি লিড পেয়েছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো জরুরি ছিল।”

    অভিষেককে জেলে ঢোকাবে বিজেপি

    তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি শুভেন্দু। বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেখানেই থাকুক, এত চুরি করেছে যে আগামিদিনে তাঁকে জেলে ঢোকানোর কাজ করবে বিজেপি সরকার।” তিনি বলেন, “এই আসন না জিতলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নপূরণ হত না। বাংলায় এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে ৩০০ বিজেপি কর্মীর আত্মবলিদান। হিন্দু শহিদ হরগোবিন্দ দাস-সহ যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, এই জয় তাঁদের উৎসর্গ করছি।”

    প্রসঙ্গত, নির্বাচনের ঢের আগেই শুভেন্দু ঘোষণা করেছিলেন (Shuvendu Adhikari), দল যদি তাঁকে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও প্রার্থী করেন, তিনি তাঁকে প্রাক্তন করে ছাড়বেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কথা রেখেছেন শুভেন্দু। ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে মমতাকে হারিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমোর ফের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আশায় জল ঢেলে দিয়েছেন তিনি। তৃণমূলের ক্ষমতায় আসার অন্যতম ভরকেন্দ্র পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামেও তৃণমূলের পবিত্র করকে (Abhishek Banerjee) প্রায় ১০ হাজার ভোটে হারিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। দেখিয়ে দিয়েছেন তাঁর কলজের জোর (Shuvendu Adhikari)!

     

  • Modi on Bengal BJP Win: ভয়মুক্ত বাংলা থেকে আয়ুষ্মান ভারত, কর্মসংস্থান থেকে নারী সুরক্ষা! ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’-এর লক্ষ্যে বার্তা মোদির

    Modi on Bengal BJP Win: ভয়মুক্ত বাংলা থেকে আয়ুষ্মান ভারত, কর্মসংস্থান থেকে নারী সুরক্ষা! ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’-এর লক্ষ্যে বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়মুক্ত বাংলা গড়তে পরিবর্তনের পথে হেঁটেছে বঙ্গবাসী। বাংলায় উঠেছে গেরুয়া ঝড়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শক্ত কাঁধেই ভরসা রেখেছে বাঙালি। তাই বাঙালি অস্মিতাকে সম্মান জানিয়ে বঙ্গ জয়ের পর আদ্যোপান্ত বাঙালি সাজে নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদিও। বাংলায় পদ্মের এই বিপুল জয়ে বড় বার্তা দিয়েছেন তিনি (PM Modi)। আগামীর বাংলা গড়তে কী প্ল্যান, তা খোলসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন মোদির বঙ্গ জয়ের উৎযাপনে ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লাইন। প্রধানমন্ত্রীর মুখেও শোনা যায়,’চিত্ত যেথা ভয় শূন্য়-উচ্চ যেথা শির’। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুরুদেবের এই লাইনের মতোই বাংলার মানুষ এবার থেকে ভয় শূন্য হয়ে মাথা উঁচু করে জীবন যাপন করতে পারবেন। রাজ্য়বাসীর উন্নয়নের স্বার্থে দিনরাত কাজ করবে বিজেপি।

    কর্মসংস্থানের বার্তা

    পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের আগামীর রূপরেখা কেমন হবে, তার স্পষ্ট আভাস দিয়ে রাখলেন প্রধানমন্ত্রী। দিলেন তরুণদের কর্মসংস্থানের বার্তা। একই সঙ্গে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের জেরে পশ্চিমবঙ্গে যে কোনও প্রকল্প থমকে থাকবে না, সেই আভাসও দিয়ে রাখলেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন মোদির প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার বক্তৃতায় প্রত্যাশিত ভাবেই পশ্চিমবঙ্গের জন্য ছিল মোদির বিশেষ বার্তা। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যপূরণ করতে যে ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’-কেও সঙ্গে চাই, তা বুঝিয়ে দিলেন জয়ের পরে প্রথম বক্তৃতায়। স্পষ্ট করে দিলেন, ভারতের উন্নয়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে, তাল মিলিয়ে চলবে পশ্চিমবঙ্গ। জানালেন রাজ্যের যুবক-যুবতীদের কাজের জন্য রাজ্য ছাড়তে হবে না। এখানেই গড়ে উঠবে নতুন শিল্প। খুলবে বন্ধ কারখানা।

    আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প

    প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিলেন, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হবে। বস্তুত, রাজ্য-কেন্দ্রের টানাপড়েনের জেরে এই স্বাস্থ্য প্রকল্পটি দীর্ঘ দিন পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর হয়নি। তা নিয়ে নির্বাচনী প্রচারে এবং তারও আগে থেকে বার বার তৃণমূলকে বিঁধেছেন মোদি, অমিত শাহ এবং বিজেপির অন্য নেতারা। এবার পশ্চিমবঙ্গে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালু করার কথা বলে প্রধানমন্ত্রী এ-ও বুঝিয়ে দিতে চাইলেন যে আগামী দিনে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও প্রকল্প থেকে ‘বঞ্চিত’ থাকবে না রাজ্যবাসী।

    নারী শক্তির জয়গান

    এ বারের নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির বার বার মহিলাদের নিরাপত্তার বিষয়ে সরব হয়েছে। এ বার পশ্চিমবঙ্গ-জয়ের পরেও রাজ্যবাসীকে সেই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি জানান, নারী শক্তি আজ বিকশিত ভারতের সংকল্প নিয়ে এগিয়ে চলেছে। কংগ্রেস ও তার সহযোগীরা ‘নারী শক্তি বন্দন’ বিলে বাধা দিয়ে নারীশক্তির অপমান করেছিল, যার যোগ্য জবাব বাংলার মা-বোনেরা দিয়েছেন। মোদির কথায়, “কংগ্রেস, তৃণমূল (TMC) ও ডিএমকে (DMK)-কে এদেশের মা-বোনেরা আজ উচিত শিক্ষা দিয়েছেন।” বিপুল জয়ের পর পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে মোদি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে ৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা এক কথায় ঐতিহাসিক। এখানে মহিলাদের ভোটদান ছিল চোখে পড়ার মতো।

    রাজনৈতিক হিংসার অবসান

    বক্তৃতার সময়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজনৈতিক হিংসা এবং অশান্তি দূর করারও বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি বলেন, “পশ্চিমবাংলায় রাজনৈতিক হিংসায় অনেক জীবন নষ্ট হয়েছে। এ বার বদলা নয়, বদলের কথা হবে। ভয় নয়, ভবিষ্যতের কথা হবে।” পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে এই প্রথম বার ভয়ের বদলে গণতন্ত্রের জয় হল বলেও মনে করছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে ভোটের সময়ে আগে হিংসা, ভয় এবং নিরপরাধদের মৃত্যুর খবর পাওয়া যেত। কিন্তু এ বার গোটা দেশ এক অন্য ধরনের খবর পেয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। নির্বাচনী হিংসায় এক জনেরও মৃত্যু হয়নি— এমন ঘটনা এই প্রথম বার ঘটল। গণতন্ত্রের এই উৎসবে বন্দুকের আওয়াজ নয়, জনতা জনার্দনের কণ্ঠ শোনা গিয়েছে।” পশ্চিমবঙ্গের সব রাজনৈতিক দলকে ‘নির্বাচনী হিংসার অভ্যাস’ বদলে ফেলারও পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

    নিশানায় কংগ্রেস-কমিউনিস্টরা

    কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে মোদি বলেন, “কংগ্রেস আজ আর্বান নকশালদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। যে মাওবাদ জঙ্গল থেকে শেষ হয়ে যাচ্ছে, কংগ্রেস তাকে নিজেদের দলের অন্দরে জায়গা দিচ্ছে।” তিনি মনে করিয়ে দেন যে, আজ দেশে এমন একটিও রাজ্য নেই যেখানে কমিউনিস্ট শাসন টিকে আছে। এটি কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং চিন্তাধারার বদল।

    অনুপ্রবেশ নিয়ে সরব

    মোদির কথায়, “পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল।” বিজেপির এই জয়কে পশ্চিমবঙ্গে নতুন সূর্যোদয়ের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি। মোদি প্রতিশ্রুতি দেন, “আজ থেকে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যতের এমন একটি যাত্রার সূচনা হচ্ছে, যেখানে বিকাশ, অটুট বিশ্বাস পায়ে পা মিলিয়ে চলবে। অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধেও কড়া আইনি পদক্ষেপের বার্তা দিয়ে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। অনুপ্রবেশকারীরা গরিব মানুষদের রোজগার নষ্ট করছে। মোদি এদিনের সভা থেকে বলেন, ‘‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মা কতটা শান্তি পেয়েছে, সেটা ভাবছি। উনি ১৯৫১ সালে জনসংঘর স্থাপনা করে প্রতি কার্মীকে বলেছিলেন, দেশের জন্য বাঁচতে হবে, দেশের জন্য মরতে হবে। তিনি জীবন দিয়ে প্রমাণ দিয়েছেন, যাঁরা রাষ্ট্রকে সামনে রাখে, তাঁরা প্রাণ দিতে ভয় পায় না। পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ করে রাখতে শ্যামাপ্রসাদজি লড়াই করেছিলেন। উনি বাংলাকে কেন্দ্র করে যে সমৃদ্ধ ভারতের স্বপ্ন দেখেছেন, এবার তা পূরণ হবে।’’

  • BJP: বঙ্গে ইতিহাস গড়ল বিজেপি, কোন চালে বাজিমাত পদ্মশিবিরের?

    BJP: বঙ্গে ইতিহাস গড়ল বিজেপি, কোন চালে বাজিমাত পদ্মশিবিরের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ইতিহাস গড়েছে বিজেপি (BJP)। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, রাজ্যের মুখ এবং পর্দার আড়ালে থাকা কলা-কুশলীদের যৌথ প্রচেষ্টায় পদ্ম শিবিরের প্রচার অভিযান শান দিয়েছে গ্রাউন্ড লেভেলেও। তার জেরেই বিজেপির জয়ের পথে এগিয়ে যাওয়াটা হয়েছে (Key Leaders) অনায়াস।

    কোন অঙ্কে বাজিমাত? (BJP)

    স্বাধীনতার পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। এসআইআরের (SIR) আওতায় রেকর্ড সংখ্যক ভোটার বাদ যাওয়ার পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ১৫ বছরের শাসনের পর পরাজয়ের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাইভোল্টেজ সভা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সূক্ষ্ম সংগঠনমূলক পরিকল্পনার পাশাপাশি বিজেপির প্রচারে জাতীয় বার্তা ও স্থানীয় সংগঠন একসঙ্গে কাজ করেছে। ঝালমুড়ির মতো বাংলার সাংস্কৃতিক প্রতীক ব্যবহার, চাকরির নিশ্চয়তার প্রতিশ্রুতি এবং মা কালীর মন্দিরে প্রার্থনা—এই সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এমন এক প্রচার গড়ে তুলেছিলেন যা স্থানীয় সংযোগ ও জাতীয় বার্তার মিশ্রণ। বড় বড় জনসভায় সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি আবেগের স্তরেও ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি—কর্মসংস্থান, কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং “ডাবল ইঞ্জিন সরকার”-এর সুবিধার কথাও তুলে ধরেছিলেন। সাংস্কৃতিক প্রতীক, ধর্মীয় সংযোগ এবং অর্থনৈতিক আশ্বাস—সব মিলিয়ে তাঁর প্রচার বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করে।

    ‘মিশন বেঙ্গলে’র মূল লক্ষ্য

    প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বিজেপির প্রচারের মুখ। এর সঙ্গে সমানতালে সঙ্গত করেছে অমিত শাহের ‘চাণক্যসুলভ’ কৌশল। যার জেরেই দুরমুশ হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের একের পর  শক্ত ঘাঁটিও। জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সবচেয়ে সক্রিয় প্রচারক ছিলেন শাহ। তিনি এ রাজ্যে ৬৬টি সভা ও রোডশো করে ৬৩টি জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিলেন (Key Leaders)। শাহের ‘মিশন বেঙ্গলে’র মূল লক্ষ্যই ছিল বুথ স্তরে সংগঠন শক্তিশালী করা। তিনি ৪৫ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ সীমান্ত সিল করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং অনুপ্রবেশের অভিযোগ তোলেন। “কাটমানি” সংস্কৃতি, দুর্নীতি, মহিলাদের নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরেন। পাশাপাশি মহিলাদের জন্য মাসিক ৩,০০০ টাকা সহায়তা, সরকারি চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ, কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি এবং চা বাগানের শ্রমিকদের জমির অধিকার—এসব প্রতিশ্রুতিও দেন। সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ধর্মীয় স্বাধীনতার মতো বিষয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

    নেপথ্যের কারিগরেরা

    এ রাজ্যে নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। প্রার্থী নির্বাচন, জোট ব্যবস্থা এবং সাংগঠনিক সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি (BJP)। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি প্রার্থী নির্বাচন, কর্মী সংগঠন এবং বুথ প্রস্তুতি তদারকি করেন এবং তৃণমূল স্তরের কর্মী ও শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করেন। এই নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর অবদানও কম নয়। বস্তুত, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির অন্যতম প্রধান কৌশলবিদ হিসেবেই উঠে আসেন তিনি। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ এই সহযোগীর রাজনীতির জ্ঞান প্রখর (Key Leaders)। পূর্ব মেদিনীপুরে তাঁর শক্তিশালী সংগঠনও রয়েছে। গ্রামীণ ও আধা-শহুরে এলাকায় বিজেপির প্রভাব বাড়াতে সাহায্য করেন তিনি। নিজেকে বিজেপির প্রধান বাঙালি মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে শুভেন্দু নির্বাচনে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে পড়েন ভবানীপুর কেন্দ্রে। মমতার নির্বাচনী কেন্দ্র এই ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রামেও বিজেপির বাজি ছিলেন শুভেন্দুই। তৃণমূলের একের পর এক দুর্নীতি ও রাজনৈতিক হিংসার বিষয় তুলে ধরে তাঁর আক্রমণাত্মক প্রচার বিজেপির কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।

    বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচনের মাঝেও শুভেন্দু ছড়িয়ে দেন দলীয় বার্তা। চাঙা করে তোলেন হতাশ বিজেপি কর্মীদের। শুভেন্দুকে পেয়ে নিষ্ক্রিয় বিজেপি কর্মীরাও ফের সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি শুধু প্রচারকই নন, বরং একজন কেন্দ্রীয় কৌশলবিদ হিসেবেও কাজ করেছেন (BJP)। জাতীয় নেতৃত্ব ও বাংলার রাজনীতির মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজটিও করেছিলেন তিনিই (Key Leaders)।

     

  • Suvendu Adhikari: ‘এই জয় হিন্দুত্বের’ নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুরে মমতাকে হারিয়ে কী বললেন শুভেন্দু?

    Suvendu Adhikari: ‘এই জয় হিন্দুত্বের’ নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুরে মমতাকে হারিয়ে কী বললেন শুভেন্দু?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এই জয় হিন্দুত্বের। হিন্দুদের ভোটেই জয় পেয়েছেন ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট বার্তা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)। একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতাকে ১৯৫৬ ভোটে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। এদিন ভবানীপুরে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে জেতেন তিনি। তাঁর জয়ের পর বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন। আর কর্মীদের সেই উচ্ছ্বাসের মধ্যেই শুভেন্দু বলেন, “আমাকে ভবানীপুরের মুসলিমরা ভোট দেননি। আমাকে জিতিয়েছেন হিন্দু, জৈন, শিখ সমাজ। আমি তাঁদের প্রণাম করি। এই আসন জেতা দরকার ছিল। এই আসন না জিতলে ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন পূরণ হত না। এ জয় হিন্দুত্বের জয়, বাংলার জয়।”

    সিপিএম সমর্থকরাও ভোট দিয়েছেন

    তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর ‘ঘরের মাঠে’ ১৫ হাজারের বেশি ভোটে হারালেন শুভেন্দু। দ্বিতীয়বার মমতাকে হারিয়ে শুভেন্দু জানান, সিপিএম সমর্থকরাও তাঁকে ভোট দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “ধন্যবাদ জানাব বিশ্বের জনপ্রিয় নেতা নরেন্দ্র মোদিজিকে। আর কৃতজ্ঞতা জানাব আমার নেতা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহজিকে। তিনি আমাকে এই কেন্দ্রে দাঁড়াতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। উৎসাহিত করেছিলেন।” এতদিন রাজনৈতিক হিংসায় যেসব বিজেপি কর্মীর প্রাণ গিয়েছে, এদিন জয়ের পর তাঁদেরও স্মরণ করলেন শুভেন্দু। বলেন, “আমার এই জয় ৩০০ বিজেপি কর্মীকে উৎসর্গ করছি, যাঁদের আত্মবলিদানে আজকে বাংলায় পরিবর্তন হয়েছে।” এদিন জয়ের পর শুভেন্দুকে ঘিরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উৎসাহ ছিল চোখের পড়ার মতো।

    ভবানীপুরের মানুষকে কুর্নিশ শাহের

    ভবানীপুরে তাঁর হয়ে কাজ করতে আসা রাজস্থানের বিজেপি (BJP in Bengal) বিধায়কদের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে বলেও জানান শুভেন্দু। এদিন, শুভেন্দুর জয়ের পর এক্স হ্যান্ডলে অমিত শাহ লেখেন, “ভবানীপুরের মানুষকে কুর্নিশ। তাদের রায় স্পষ্ট করে দিয়েছে, একজন অরাজক শাসকের ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে।” বাংলায় বিজেপির জয়ের পর নরেন্দ্র মোদিও বলেন, “বাংলায় পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে, নতুন সূর্যোদয় হয়েছে।”

    কত ভোট পেলেন শুভেন্দু

    কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভবানীপুরে শুভেন্দু পেয়েছেন ৭৩৯১৭টি ভোট। মমতা ৫৮১১২টি। ভবানীপুরের পাশাপাশি এ বারও পূর্ব মেদিনীপুরর তাঁর পুরনো আসন নন্দীগ্রামে জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু। সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে জানিয়েছেন, সেখান থেকেই নন্দীগ্রামের গণনাকেন্দ্র হলদিয়ার উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন তিনি। ভবানীপুরে জয়ের ব্যবধান ১৫ হাজার ছাড়িয়ে গেলেও নিজের গড় নন্দীগ্রামে শুভেন্দু এ বার জিতেছেন ১০ হাজারেরও কম ভোটে। তা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় সরাসরি শুভেন্দু জানিয়ে দিয়েছেন, সংখ্যালঘুদের ভোট না পাওয়ার কারণেই নন্দীগ্রামে জয়ের মার্জিন কম হয়েছে তাঁর।

  • BJP Wins Bengal: বঙ্গজয়ের পর বিজেপির মহাপরিকল্পনা! রবীন্দ্রজয়ন্তীতেই শপথ বাংলার নতুন বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর?

    BJP Wins Bengal: বঙ্গজয়ের পর বিজেপির মহাপরিকল্পনা! রবীন্দ্রজয়ন্তীতেই শপথ বাংলার নতুন বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অঙ্গ-কলিঙ্গের পর বঙ্গ-জয় বিজেপির (BJP Wins Bengal)। ১৫ বছরের তৃণমূল সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছে। ২০০-র বেশি আসন নিয়ে বাংলায় ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। আজ পশ্চিমবঙ্গ পদ্ম-ময়। রাজ্যে পালাবদলের পর এবার নতুন সরকার গঠনের (BJP Government Formation Bengal) পালা। সেই নিয়ে জোর প্রস্তুতি বিজেপির অন্দরে। আর সেই প্রক্রিয়াকে ত্বরাণ্বিত করতে রাজ্যে আসছেন রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। পরিষদীয় দলের বৈঠক, মুখ্যমন্ত্রীর নাম নির্ধারনের পর তাঁরা যাবেন রাজ্যপালের কাছে। বিজেপি সূত্রে খবর, আজ, মঙ্গলবার বাংলায় আসছেন রাজনাথ সিং। পরিষদীয় দলের বৈঠক করবেন তিনি। নিউটাউনের হোটেলে বিজয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তাঁরা। সেখানে পরিষদীয় দলের বৈঠক হবে। আর সেই বৈঠকেই ঠিক হতে পারে পরিষদীয় দলের নেতার নাম। অর্থাৎ, ওই বৈঠকেই চূড়ান্ত হবে বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম। তারপরই তাঁরা সরকার গঠনের জন্য লোকভবনে যাবেন তাঁরা। বিজেপি সূত্রে খবর, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীতে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকার শপথগ্রহণ করতে পারে৷

    ২৫ বৈশাখেই নতুন সরকারের শপথ?

    বিজেপি সূত্রে খবর, আগামী শনিবার, ৯ মে, নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ হতে পারে। ৯ মে-ই বিজেপি-র মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিতে পারেন পশ্চিমবঙ্গে। ওই দিন ২৫ বৈশাখও, অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিবস। যা জানা যাচ্ছে, রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায়ী সরকারের মেয়াদ ৭ মে পর্যন্ত। ফলে মুখ্যমন্ত্রী বাছাই পর্ব দীর্ঘায়িত করা যাবে না। মমতা ইস্তফা দিলেই বিজেপির পরিষদীয় দলের নেতাকে ডেকে পাঠাবেন রাজ্যপাল এন রবি। তিনি সরকার গঠনের নির্দেশ দেবেন। কিন্তু হিসেব মতো ৭ মে সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে, ফলে ২ দিন দেরী হলে কোনও সাংবিধানিক সমস্যা হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সব মিলিয়ে বাঙালি আবেগকে ধরতে কোনও জায়গায় খামতি রাখছে না বিজেপি। প্রচারপর্বে বার বার বিজেপি-র গায়ে ‘বাংলাবিরোধী’, ‘অবাঙালি’ তকমা সেঁটে দেওয়া হয়। সেই তকমা কাটিয়ে বেরোতেই ২৫ বৈশাখ নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করানো হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। সেদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, বিজেপি বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং বিশিষ্ট ব্যাক্তিরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।

    বাঙালিয়ানায় মাতলেন মোদি…

    সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে উপস্থিত হয়ে বিজেপির কর্মীদের শুভেচ্ছা জানান মোদি। মোদির সাজে ছিল স্পষ্ট বাঙালিয়ানার ছাপ। তাঁর পরণে ছিল সাদা পাঞ্জাবি, ধাক্কাপাড়ের কোরা ধুতি। পাঞ্জাবির পকেটে গোঁজা ছিল ধুতির কোঁচা। একেবারে বাঙালি কায়দায়। এক কথায়, একেবারে বাঙালিবাবু সেজে জনগণের সামনে হাজির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর দেখা যায় মঞ্চে উঠে নিতিন নবীনের হাত থেকে দুর্গার ছবি উপহার নেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, শপথের দিন নির্ধারণের ক্ষেত্রেও বিশেষ ভাবনা রয়েছে বিজেপির। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলায় পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। আজ থেকে বাংলা ভয়মুক্ত হল।” তাঁর ঘোষণা, মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু হবে। সেই সঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মা শান্তি পেল।

    নির্বাচন কমিশনের তৎপরতা

    এদিকে, কমিশন সূত্রে খবর, আজ (মঙ্গলবার) আসছেন নির্বাচন কমিশনের প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি এসবি যোশী ও সেক্রেটারি সুজিত কুমার মিশ্র। এদিনই ২০২৬ সালের রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হবে। আগামিকাল, বুধবার সকালে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল এবং প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এসবি যোশী রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে সেই তালিকা নিয়ে উপস্থিত হবেন। এরপর গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশিত হবে।

  • Amit Shah: ১৫২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১৬টিতেই জয়! অমিত শাহের প্রথম দফার পূর্বাভাসকেও ছাপিয়ে বিজেপির জয়জয়কার

    Amit Shah: ১৫২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১৬টিতেই জয়! অমিত শাহের প্রথম দফার পূর্বাভাসকেও ছাপিয়ে বিজেপির জয়জয়কার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথম দফায় ভোট হওয়া আসনগুলিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের করা ভবিষ্যৎবাণীকেও ছাপিয়ে গেল ভারতীয় জনতা পার্টি। ১৫২টি আসনের মধ্যে বর্তমান প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১১৬টি আসনেই বিজেপি প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন বা এগিয়ে রয়েছেন (এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত)। উল্লেখ্য বিধানসভার নির্বাচনী (West Bengal Elections 2026) প্রচারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) আত্মবিশ্বাসী হয়ে বলেছিলেন, “১৫২-র মধ্যে ১১০ পাবই।” এবারে ফলাফলে একই চিত্র দেখা গিয়েছে।

    পূর্বাভাস ও বর্তমান চিত্র (Amit Shah)

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) পূর্বে যে জয়ের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছিলেন, গণনার প্রাথমিক ঝড়ে বিজেপি সেই গণ্ডিও অতিক্রম করে গিয়েছে। প্রথম দফার অন্তর্গত ১৫২টি আসনের মধ্যে ১১৬টিতে বিজেপির জয়লাভ করা বা এগিয়ে থাকা রাজনৈতিক মহলের অনেক সমীকরণই বদলে দিয়েছে। তবে এই ফলাফলে বিজেপি ৬টি আসন বেশি পেয়েছে বিজেপি। প্রথম পর্যায়েই বড়সড় পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। এই প্রথম পর্বে বিজেপি ১১৬টি পেলেও তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ৩২টি আসন। প্রবীণ বিজেপি নেতা শাহের বক্তব্যে সিলমোহর পড়েছে।

    শক্তিশালী নির্ণায়ক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব

    এই বিপুল ব্যবধান শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরের জন্যই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদি এই প্রবণতা বজায় থাকে, তবে তা চূড়ান্ত ফলাফলে (West Bengal Elections 2026) বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। প্রাথমিক এই ফলাফলের ঝোঁক বিজেপি শিবিরে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দফার এই ফলাফল সামগ্রিক নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে এক শক্তিশালী নির্ণায়ক হয়ে উঠতে পারে। যদিও চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এই পরিসংখ্যান পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Daily Horoscope 05 May 2026: কেরিয়ারের ভালো উন্নতি হবে এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 05 May 2026: কেরিয়ারের ভালো উন্নতি হবে এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) সামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে জড়িত তাঁদের আজকের দিনটি ভালো।

    ২) ধর্মীয় আস্থা বাড়বে, গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন।

    ৩) গুরুত্বপূর্ণ কাজে বহিরাগত ব্যক্তির পরামর্শ গ্রহণ করবেন না।

    বৃষ

    ১) আজকের দিনটি মিশ্র পরিণাম প্রদান করবে।

    ২) শ্বশুরবাড়ির তরফে আর্থিক লাভ অর্জন করতে পারেন।

    ৩) আলোচনার মাধ্যমে পারিবারিক কলহ সমাপ্ত করতে পারবেন।

    মিথুন

    ১) আজকের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ২) কেরিয়ারের ভালো উন্নতি হবে।

    ৩) বাড়ির ও বাইরের লোকেদের বিশ্বাস জয় করতে পারবেন।

    কর্কট

    ১) কারও কথায় এসে কোনও প্রকল্পে অর্থ লগ্নি করবেন না।

    ২) সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনও কাজে অগ্রসর হলে তাতে কোনও আপোস করবেন না।

    ৩) কারও কাছ থেকে টাকা ধার নেবেন না।

    সিংহ

    ১) গাড়ি চালানোর সময়ে সতর্ক থাকুন।

    ২) একাধিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত আপনার পক্ষে আসবে।

    ৩) ব্যবসায়ে মন্দার কারণে চিন্তিত থাকলে তা দূর হবে।

    কন্যা

    ১) অতীত ভুল থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে অগ্রসর হবেন।

    ২) এক সঙ্গে একাধিক কাজ করার চিন্তাভাবনা করবেন, যার ফলে সমস্যা বাড়বে।

    ৩) কর্মক্ষেত্রে নিজের চিন্তাভাবনার দ্বারা লাভান্বিত হবেন।

    তুলা

    ১) আজকের দিনটি ভালো কাটবে।

    ২) সমস্ত ক্ষেত্রে ভালো প্রদর্শন করবেন। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কর্মরত জাতকরা কোনও বড়সড় পদ লাভ করতে পারেন।

    ৩) সমস্ত ক্ষেত্রে ভালো প্রদর্শন করবেন। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কর্মরত জাতকরা কোনও বড়সড় পদ লাভ করতে পারেন।

    বৃশ্চিক

    ১) আজকের দিনটি মিশ্র পরিণাম প্রদান করবে।

    ২) পরিবারের কোনও সদস্যের বিবাহ প্রস্তাবে সকলে সম্মতি দেবে।

    ৩) কোনও বড় কাজে মনোনিবেশ করতে পারবেন না।

    ধনু

    ১)  কর্মক্ষেত্রের জন্য কিছু পরিকল্পনা তৈরি করতে ব্যস্ত থাকবেন।

    ২) সম্পর্কে সামঞ্জস্য বজায় রাখা উচিত হবে।

    ৩) টিম ওয়ার্ক করলে যে কোনও বড়সড় কাজ সহজে পূরণ করতে পারেন।

    মকর

    ১) কর্মক্ষেত্রে গাফিলতি করবেন না, বড়সড় লোকসান হতে পারে।

    ২) চাকরিজীবীরা ভালো প্রদর্শন করবেন।

    ৩) পরিশ্রম অনুযায়ী ফলাফল পাবেন।

    কুম্ভ

    ১) আজকের দিনটি কাজে উন্নতি নিয়ে আসবে।

    ২) আধুনিক জগতে রুচি থাকবে, আর্থিক গতিবিধিতেও আপনার প্রভাব থাকবে।

    ৩) বদলির কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের স্থানান্তর করতে হবে।

    মীন

    ১) আজকের দিনটি লাভজনক প্রমাণিত হবে।

    ২) আগের কোনও কাজের কারণে চিন্তিত হতে পারেন।

    ৩) কর্মক্ষেত্রে কোনও কাজ পেলে তা দায়িত্বসহকারে পূরণ করুন।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • Ramakrishna 639: “যদি কাশীতে কারু দেহত্যাগ হয় তাহলে মুক্তি হয়—আর আসতে হয় না, জ্ঞানীদের মুক্তি”

    Ramakrishna 639: “যদি কাশীতে কারু দেহত্যাগ হয় তাহলে মুক্তি হয়—আর আসতে হয় না, জ্ঞানীদের মুক্তি”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ১১ই মার্চ

    কাশীপুর উদ্যানে শ্রীযুক্ত নরেন্দ্র প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে
    নরেন্দ্রকে জ্ঞানযোগ ও ভক্তিযোগের সমন্বয় উপদেশ

    নরেন্দ্র — শুকনো।

    ঠাকুর (Ramakrishna) নরেন্দ্রের হাত-মুখ স্পর্শ করিতে লাগিলেন। আবার কথা কহিতেছেন — “এ-সব (নরেন্দ্রের সব) ভক্তের লক্ষণ। জ্ঞানীর সে আলাদা লক্ষণ, — মুখ, চেহারা শুকনো হয়।

    “জ্ঞানী জ্ঞানলাভ করবার পরও বিদ্যামায়া নিয়ে থাকতে পারে — ভক্তি, দয়া, বৈরাগ্য — এই সব নিয়ে থাকতে পারে। এর দুটি উদ্দেশ্য। প্রথম, লোকশিক্ষা হয়, তারপর রসাস্বাদনের জন্য।

    “জ্ঞানী যদি সমাধিস্থ হয়ে চুপ করে থাকে, তাহলে লোকশিক্ষা হয় না। তাই শঙ্করাচার্য (Kathamrita) ‘বিদ্যার আমি’ রেখেছিলেন।

    “আর ঈশ্বরের আনন্দ ভোগ করবার জন্য — সম্ভোগ করবার জন্য — ভক্তি-ভক্ত নিয়ে থাকে!

    “এই ‘বিদ্যার আমি’, ‘ভক্তের আমি’ — এতে দোষ নাই। ‘বজ্জাৎ আমি’তে দোষ হয়। তাঁকে দর্শন করবার পর বালকের স্বভাব হয়। ‘বালকের আমি’তে কোন দোষ নাই। যেমন আরশির মুখ — লোককে গালাগাল দেয় না। পোড়া দড়ি দেখতেই দড়ির আকার, ফুঁ দিলে উড়ে যায়। জ্ঞানাগ্নিতে অহংকার পুড়ে গেছে। এখন আর কারও অনিষ্ট করে না। নামমাত্র ‘আমি’।

    “নিত্যতে পৌঁছে আবার লীলায় থাকা। যেমন ওপারে গিয়ে আবার এপারে আসা। লোকশিক্ষা আর বিলাসের জন্য — আমোদের জন্য।”

    ঠাকুর (Ramakrishna) অতি মৃদুস্বরে কথা কহিতেছেন। একটু চুপ করিলেন। আবার ভক্তদের বলিতেছেন — “শরীরের এই রোগ — কিন্তু অবিদ্যা মায়া রাখে না! এই দেখো, রামলাল, কি বাড়ি, কি পরিবার, আমার মনে নাই! — কে না পূর্ণ কায়েত তার জন্য ভাবছি। — ওদের জন্য তো ভাবনা হয় না!

    “তিনিই বিদ্যামায়া (Kathamrita) রেখে দিয়েছেন — লোকের জন্য — ভক্তের জন্য।

    “কিন্তু বিদ্যমায়া থাকলে আবার আসতে হবে। অবতারাদি বিদ্যামায়া রাখে! একটু বাসনা থাকলেই আসতে হয়, ফিরে ফিরে আসতে হয়। সব বাসনা গেলে মুক্তি। ভক্তরা কিন্তু মুক্তি চায় না।

    “যদি কাশীতে কারু দেহত্যাগ হয় তাহলে মুক্তি হয় — আর আসতে হয় না। জ্ঞানীদের মুক্তি।”

    নরেন্দ্র — সেদিন মহিম চক্রবর্তীর বাড়িতে আমরা গিছলাম।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে) — তারপর?

    নরেন্দ্র — ওর মতো এমন শুষ্ক জ্ঞানী দেখি নাই!

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) — কি হয়েছিল?

    নরেন্দ্র — আমাদের গান গাইতে বললে। গঙ্গাধর গাইলে —

    শ্যামনামে প্রাণ পেয়ে ইতি উতি চায়,
    সম্মুখে তমালবৃক্ষ দেখিবারে পায়।

    “গান শুনে বললে — ও-সব গান কেন? প্রেম-ট্রেম ভাল লাগে না। তা ছাড়া, মাগছেলে নিয়ে থাকি, এ-সব গান এখানে কেন?”

    শ্রীরামকৃষ্ণ (মাস্টারের প্রতি) — ভয় দেখেছ!।

  • PM Modi: “বাংলায় রাজনৈতিক হিংসায় অনেক জীবন নষ্ট হয়েছে, তাই বদলা নয়, বদল”, বঙ্গজয়ের পর বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “বাংলায় রাজনৈতিক হিংসায় অনেক জীবন নষ্ট হয়েছে, তাই বদলা নয়, বদল”, বঙ্গজয়ের পর বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “বাংলায় রাজনৈতিক হিংসায় অনেক জীবন নষ্ট হয়েছে। তাই এবার বদলা নয়, বদল।” দিল্লিতে বিজেপির (BJP) সদর দফতরে ভাষণ দিতে গিয়ে কথাগুলি বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। রীতিমতো বাঙালি পোশাক (ধুতি-পাঞ্জাবি) পরে দফতরে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার বঙ্গ-ভোটের ফল পরিষ্কার হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছিলেন, ‘‘২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জনগণের শক্তির জয় হয়েছে, আর জয়ী হয়েছে বিজেপির সুশাসনের রাজনীতি। আমি পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রণাম জানাই।’’

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য (PM Modi)

    সমাজমাধ্যমে তিনি আরও লেখেন, ‘‘জনগণ বিজেপির পক্ষে অভূতপূর্ব রায় দিয়েছেন এবং আমি তাঁদের আশ্বাস দিচ্ছি যে, আমাদের দল পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বপ্ন এবং আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য সম্ভাব্য সব কিছু করবে। আমরা এমন একটি সরকার দেব, যা সমাজের সকল স্তরের মানুষের সুযোগ এবং মর্যাদা নিশ্চিত করবে।’’ এদিন বক্তৃতা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিহার, ওড়িশার মতো পশ্চিমবঙ্গের মানুষও এনডিএর ওপর ভরসা রেখেছেন।” এর আগেই তিনি বলেন, “বাংলায় রাজনৈতিক হিংসায় অনেক জীবন নষ্ট হয়েছে, এ বার বদলা নয়, বদল।” তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম বার ভয় নয়, লোকতন্ত্র জিতল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলায় পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। আজ থেকে বাংলা ভয়মুক্ত হল। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মা শান্তি পেল।”

    গণতন্ত্রের জয়, সংবিধানের জয়

    পশ্চিমবঙ্গে এবার ভোটদানের হার ৯৩ শতাংশ। একে ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। তিনি বলেন, “গণতন্ত্রে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক। এটা গণতন্ত্রের জয়, সংবিধানের জয়। গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর, সর্বত্রই পদ্ম ফুটেছে।” প্রধানমন্ত্রী জানান, বিহারে ভোটের ফলের দিনই তিনি বলেছিলেন যে, গঙ্গা বিহার হয়ে গঙ্গাসাগরে যায়। বিজেপির কোটি কোটি কর্মীকে ধন্যবাদও জানান প্রধানমন্ত্রী। এদিন প্রধানমন্ত্রীর আসার আগেই সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বঙ্গ জয়ের (BJP) জন্য দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গ-সহ চার রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত পুদুচেরির ভোটারদের ধন্যবাদ জানালেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন।

    ‘কোটি কোটি প্রণাম’

    পশ্চিমবঙ্গবাসীকে ‘কোটি কোটি প্রণাম’ জানিয়েছেন বিজেপির হেভিওয়েট নেতা অমিত শাহও। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, ‘‘এই বিপুল জনাদেশ ভয়, তোষণ এবং অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষকদের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষের জোরালো জবাব।’’ তাঁর দাবি, বিজেপির এই জয় তৃণমূলের ভয়ের ঊর্ধ্বে প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতি ভরসার জয় (PM Modi)। তিনি লিখেছেন, ‘‘আমার মতো প্রতিটি বিজেপি কর্মীর জন্য এটি গর্বের মুহূর্ত। যে গঙ্গোত্রীতে মা গঙ্গার উৎস, সেখান থেকে শুরু করে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত আজ সর্বত্র বিজেপির গেরুয়া পতাকা গর্বের সঙ্গে উড়ছে।’’

    ‘সোনার বাংলা’

    তিনি লিখেছেন, ‘‘বাংলায় বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয় আমাদের অসংখ্য কর্মীর ত্যাগ, সংগ্রাম এবং আত্মবলিদানের ফল। সেই সমস্ত পরিবারের ধৈর্যের জয়, যারা হিংসা সহ্য করেও গেরুয়া পতাকা ছাড়েনি। শূন্য থেকে আজ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছোনোর এই কঠিন যাত্রায় যে কর্মীরা নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, হিংসার শিকার হয়েছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন, তবুও আদর্শের পথ থেকে একচুলও সরেননি, সেই সকল কর্মী ও তাঁদের পরিবারকে প্রণাম জানাই। বাংলার মানুষ এই বিপুল জনসমর্থনের মাধ্যমে বিজেপির সেই সকল শহিদ কর্মীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন (BJP)।’’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘চৈতন্য মহাপ্রভু, স্বামী বিবেকানন্দ, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো মহাপুরুষের পবিত্রভূমি বাংলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা এবং ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে বিজেপি দিন-রাত এক করে দেবে (PM Modi)।’’

     

LinkedIn
Share