Blog

  • Bangladesh PM: চিন সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তিস্তা প্রকল্পে নজর ভারতের

    Bangladesh PM: চিন সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তিস্তা প্রকল্পে নজর ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিন দিনের সরকারি সফরে চিনে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী (Bangladesh PM) বিএনপির তারেক রহমান। সোমবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রী জোবাইদা রহমানকে নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ (Teesta Project Talks) ফ্লাইট চিনের দালিয়ান ঝৌশুইজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

    তারেকের কর্মসূচি (Bangladesh PM)

    এই সফরে তারেক বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত ১৭তম অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স (সামার দাভোস ফোরাম ২০২৬)-এ অংশ নেবেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চিনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং আয়োজিত নৈশভোজেও যোগ দেওয়ার কথা তাঁর। সফরের মধ্যেই বেজিংয়ে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকও করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ২৪ জুন তিনি বৈঠক করবেন কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। পরে দ্রুতগতির ট্রেনে তিনি যাবেন দালিয়ান থেকে বেজিংয়ে। বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। চিনা বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানান, বাংলাদেশের নয়া সরকারের সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ আরও জোরদার করা, ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) সহযোগিতা সম্প্রসারণ, বহুমাত্রিক বিনিময় ও সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে সমন্বয় জোরদার করার সুযোগ হিসেবে চিন এই সফরকে দেখছে (Bangladesh PM)।

    ভারতের নজর

    এদিকে, তারেকের এই সফরে তিস্তা পরিকল্পনা নিয়ে কোনও অগ্রগতি বা ঘোষণা করা হয় কি না, সেদিকে কড়া নজর রাখছে ভারত। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ জল উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি) এবং চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পাওয়ারচায়না (POWERCHINA) তিস্তা যৌথ ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের (Teesta Comprehensive Management and Restoration Project) মউয়ের মেয়াদ বাড়ানোর চুক্তি করে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হল, তিস্তা নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, নদী খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ, নতুন বাঁধ নির্মাণ ও পুরোনো বাঁধ সংস্কার, খনন করা মাটি ব্যবহার করে জমি পুনরুদ্ধার এবং শুখা মরশুমে জল সংরক্ষণের জন্য পরিকাঠামো গড়ে তোলা (Bangladesh PM)। এই প্রকল্পে চিন যুক্ত হওয়ায় উদ্বেগে রয়েছে ভারত। কারণ তিস্তা অববাহিকার অবস্থান ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেকে’র কাছেই। বিশ্লেষকদের মতে, এই এলাকায় চিনের প্রভাব বাড়লে ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক কৌশলগত স্বার্থ নিয়ে নয়া উদ্বেগ তৈরি (Teesta Project Talks) হতে পারে।

    ‘গোল্ডেন ৫০ ইয়ার্স’

    সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাংলাদেশে চিনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। চিনের দাবি, দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা গভীর হয়েছে এবং বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা উভয় দেশের জনগণের জন্যই ইতিবাচক ফল নিয়ে আসছে। এই সফরে বাংলাদেশ ও চিনের মধ্যে একাধিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি এবং সমঝোতা সই হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। পরিকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য আর্থিক সাহায্য নিয়ে আলোচনা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে। ঢাকা চিনকে প্রযুক্তি, শিল্প বিনিয়োগ ও উন্নয়ন অর্থায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, বাংলাদেশ-চিন সম্পর্কের ‘গোল্ডেন ৫০ ইয়ার্সে’ প্রবেশের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

    এদিকে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে ভবিষ্যতে ভারত সফরের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। ওই সূত্রের বক্তব্য, কিছু অমীমাংসিত ইস্যু এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে বর্তমানে সেই পরিবেশ পুরোপুরি তৈরি হয়নি (Teesta Project Talks)। যদিও বাংলাদেশ মনে করে, ভারত ও চিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক কোনওভাবেই ‘জিরো-সাম গেম’ নয়, বরং (Bangladesh PM) উভয় দেশের সঙ্গেই ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ঢাকা।

     

  • POK Atrocities: যুদ্ধের হুমকি, পাকিস্তানকে মুখের মতো জবাব ভারতের, পিওকে-তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

    POK Atrocities: যুদ্ধের হুমকি, পাকিস্তানকে মুখের মতো জবাব ভারতের, পিওকে-তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাওয়াজা আসিফের সাম্প্রতিক যুদ্ধের হুমকির কড়া জবাব দিল (POK Atrocities) ভারত। মঙ্গলবার ভারতের (India) বিদেশমন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, এই ধরনের মন্তব্য পাকিস্তানের নিজস্ব ব্যর্থতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলি থেকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর ঘোরানোর মরিয়া চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।

    কড়া প্রতিক্রিয়া ভারতের (POK Atrocities)

    সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য সম্পর্কে আমরা রিপোর্ট দেখেছি। এই ধরনের বক্তব্য পাকিস্তানের ব্যর্থতা আড়াল করা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেওয়ার একটি মরিয়া চেষ্টা। আমরা এই সব ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি।” পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) যে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে, সে প্রসঙ্গ টেনে পাকিস্তানকে নিশানা করেন তিনি। জয়সওয়ালের দাবি, পিওকের বর্তমান পরিস্থিতি পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক শোষণ, মৌলিক অধিকার হরণ এবং প্রশাসনিক দমননীতিরই ফল।

    আন্দোলন দমনে পুলিশি নির্যাতন

    তাঁর অভিযোগ, আন্দোলন দমনে পাক প্রশাসন চরম পুলিশি নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে। প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহে বাধা, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা এবং নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের মতো ঘটনাও ঘটেছে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র বলেন, “এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। আমরা আশা করি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পাকিস্তানের এই কাজকর্ম, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং দমনপীড়ন নীতির জন্য জবাবদিহি চাইবে।”

    আসিফের হুঁশিয়ারি

    প্রসঙ্গত, গত শনিবার পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে দেওয়া (POK Atrocities) সাক্ষাৎকারে আসিফ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, সিন্ধু নদীর জল নিয়ে যদি ভারতের পদক্ষেপ পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে হুমকিস্বরূপ হয়ে ওঠে, তাহলে ইসলামাবাদ সামরিক পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না। তিনি বলেন, “যখনই আমরা অনুভব করব যে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জল নিরাপত্তা, হুমকির মুখে পড়েছে, তখন আমরা অবশ্যই ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে পারি।” প্রসঙ্গত, জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে গত বছরের জঙ্গি হামলার পর ভারত সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Waters Treaty) স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে। নয়াদিল্লির (India) অবস্থান, পাকিস্তান যতদিন না সীমান্তপারের সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার পরিকাঠামো ভেঙে ফেলার জন্য দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ করছে, ততদিন পর্যন্ত চুক্তি স্থগিতই থাকবে (POK Atrocities)।

     

  • Pakistan: বালোচ মানবাধিকার নেত্রী মাহরাং বালোচকে যাবজ্জীবন, পাকিস্তানের আওড়ানো অসার মানবাধিকার বুলি নিয়ে নয়া বিতর্ক

    Pakistan: বালোচ মানবাধিকার নেত্রী মাহরাং বালোচকে যাবজ্জীবন, পাকিস্তানের আওড়ানো অসার মানবাধিকার বুলি নিয়ে নয়া বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খসে পড়ল পাকিস্তানের (Pakistan) ভন্ডামির মুখোশ! মানবাধিকার নিয়ে ভারতের সমালোচনা করার কয়েক দিনের মধ্যেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হল পাকিস্তানে বালোচ অধিকার আন্দোলনের অন্যতম মুখ মাহরাং বালোচ (Mahrang Baloch) এবং বালোচ ইয়াকজেহতি কমিটি (বিওয়াইসি)-র নেতা সিবঘাতুল্লাহ শাহকে। পাকিস্তানের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত এই সাজা দিয়েছে। ২০২৪ সালে বালোচিস্তানের গওয়াদরে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় আধাসামরিক বাহিনীর এক সদস্য নিহত হন। ওই ঘটনায় মাহরাংদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

    পাক আদালতের রায় (Pakistan)

    পাক আদালতের এই রায় প্রকাশ্যে আসতেই সে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। কয়েকদিন আগেই পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি ভারতে সংখ্যালঘুদের অধিকার ও ঐতিহাসিক মুসলিম কাঠামো রক্ষার প্রসঙ্গ তুলে সমালোচনা করেছিলেন। তার পরপরই বালোচ মানবাধিকার কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাজা পাকিস্তানের অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলল বলেই মত পর্যবেক্ষকের। মামলার তদন্তে নেমে পাক কর্তৃপক্ষের দাবি, বিওয়াইসির বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে উত্তেজিত জনতা নিরাপত্তা বাহিনীর একটি গাড়িতে হামলা চালায়। পরে ওই বাহিনীর সদস্য শাব্বির বালোচকে গাড়ি থেকে নামিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, জনতাকে সংগঠিত করতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন মাহরাং ও সিবঘাতুল্লাহ।

    বালোচ জনগণের অধিকারের দাবির কণ্ঠরোধ!

    যদিও, শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এই দুই বালোচ নেতা। তাঁদের সমর্থক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, রাজনৈতিক মতপ্রকাশ এবং (Pakistan) বালোচ জনগণের অধিকারের দাবির কণ্ঠরোধ করতেই এই মামলা ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও বালোচিস্তান প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ জানান, এটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মামলা নয়, একজন নিরাপত্তা কর্মীর হত্যাকাণ্ডের বিচার। জানা গিয়েছে, প্রথমে গওয়াদরে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেও, নিরাপত্তার ‘অজুহাত’ দেখিয়ে মামলাটিকে স্থানান্তরিত করা হয় কোয়েটার একটি কারাগারে। সেখানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অভিযুক্ত ও সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

    বালোচ লিবারেশন আর্মি

    পাকিস্তান সরকারের অভিযোগ, বালোচ ইয়াকজেহতি কমিটি নিষিদ্ধ ঘোষিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-র ঘনিষ্ঠ বা তাদের ঢাল হিসেবে কাজ করে। বিওয়াইসি অবশ্য বারবার সেই অভিযোগ খারিজ করে নিজেদের শান্তিপূর্ণ অধিকার আন্দোলনের সংগঠন বলে দাবি করেছে। উল্লেখ্য, প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ ও জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধ বালোচিস্তান পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ। বহু দশক ধরে সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে (Mahrang Baloch) সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে আসছে। স্থানীয়দের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতা এবং সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণের দাবি (Pakistan) জানিয়ে আসছে।

     

  • Pune Murder: পরিকল্পিত খুন! কেতনকে বিয়ের আগে পাহাড় থেকে ফেলে দেন বাগদত্তা ও তাঁর বন্ধু, অনুমান তদন্তকারীদের

    Pune Murder: পরিকল্পিত খুন! কেতনকে বিয়ের আগে পাহাড় থেকে ফেলে দেন বাগদত্তা ও তাঁর বন্ধু, অনুমান তদন্তকারীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের পুণেতে ব্যবসায়ীর (Pune Murder) ছেলে কেতনবিশাল আগরওলকে (Ketan Bishal Agarwal) পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছিল বলে অনুমান পুলিশের। তদন্তকারী সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে এটিকে দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও, এটি নিছক কোনও দুর্ঘটনা নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে বড় কোনও ষড়যন্ত্র। পরিকল্পনা করেই খুন করা হয়েছে কেতনকে। পাহাড়ে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে তাঁকে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। আর এই ঘটনার স্মৃতি উস্কে দিয়েছে মেঘালয়ে রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ডকে। গত বছরের মে মাসে মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় স্বামী রাজা রঘুবংশীকে নিয়ে গিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে মিলে খুন করার অভিযোগ ওঠে সদ্যবিবাহিত স্ত্রী সোনম রঘুবংশীর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। গ্রেফতার হয়েছেন সোনম, তাঁর প্রেমিক-সহ ন’জন।

    কেতন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মেঘালয়ের মিল

    কেতন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মেঘালয়ের মিল পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। পুণে গ্রামীণ পুলিশের এক তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, ‘‘ব্যবসায়ীপুত্রের মৃত্যুর ঘটনায় বেশ কিছু নতুন তথ্য পাওয়া গিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর এটা নিশ্চিত যে, কেতনের মৃত্যু কোনও দুর্ঘটনা নয়, এটি পরিকল্পিত হত্যা। ইতিমধ্যেই কেতনের বাগদত্তা এবং তাঁর এক পুরুষ বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’’ প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুন বাগদত্তা সিয়া প্রবীণ বাসেশ্বর গয়াল এবং তাঁর বন্ধুর সঙ্গে পুণের লোহাগড় দুর্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন ব্যবসায়ীপুত্র কেতন। পাহাড়ের উপরে সেই দুর্গে নিজস্বী তুলতে গিয়ে পা পিছলে ৪৫০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যান। পরে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক ভাবে এটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্ত যত এগিয়েছে, এমন বেশ কিছু তথ্য মিলেছে, যা থেকে এই ঘটনাকে স্রেফ দুর্ঘটনা বলে মেনে নিতে পারেননি তদন্তকারীরা। তাঁদের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যা।

    কেতনের বাগদত্তা সিয়ার কথায় বেশ কিছু অসঙ্গতি

    তদন্তকারীদের দাবি, কেতনের বাগদত্তা সিয়ার কথায় বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। সিয়ার ফোন, সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং কল ডিটেল-সহ বেশ কিছু গতিবিধি পরীক্ষা করার পর তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অন্য এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল কেতনের বাগদত্তার। পুলিশের দাবি, সেই সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন সিয়া। কিন্তু কেতনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে পাকাপাকি হয়ে গিয়েছিল। জুলাইয়েই তাঁদের বিয়ের কথা ছিল। জয়পুরে একটি বড় মহলও বিয়ের জন্য বুক করেছিল কেতনের পরিবার। সিয়ার প্রেমের সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন কেতন। তাই তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। গত ১৯ জুন ছিল কেতনের জন্মদিন। সেই উপলক্ষে লোহাগড় দুর্গে ঘুরতে গিয়েছিলেন কেতন, তাঁর বাদগত্তা এবং কয়েক জন বন্ধু। বিয়ের আগে একটা ‘ট্যুর প্ল্যান’ করেছিলেন কেতন। সেখানেই এই ভয়াবহ পরিকল্পনাকে পরিণতি দেওয়া হয়, অনুমান তদন্তকারীদের।

  • Shyama Prasad Mukherjee: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্কুলে বিশেষ কর্মসূচি, ৬ জুলাই সরকারি ছুটি

    Shyama Prasad Mukherjee: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্কুলে বিশেষ কর্মসূচি, ৬ জুলাই সরকারি ছুটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম (Shyama Prasad Mukherjee) জন্মবার্ষিকীকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে (West Bengal) একাধিক কর্মসূচির কথা ঘোষণা করল রাজ্যের পালাবদলের সরকার। আগামী ৬ জুলাই তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে রাজ্য সরকারি ছুটি থাকবে। রাজ্যের স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বিশেষভাবে পালন করা হবে ‘শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ’। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানান, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার সেই কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে রাজ্যের স্কুলগুলিকেও। এই মর্মে জেলার স্কুল পরিদর্শকদের কাছে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে বলে শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর।

    ‘শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ’ (Shyama Prasad Mukherjee)

    জানা গিয়েছে, আগামী পনেরো দিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, কর্ম এবং চিন্তাধারা নিয়ে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। থাকছে আলোচনা সভা, প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, তাঁর লেখা ও বক্তৃতা পাঠের আয়োজন এবং দেশের শিক্ষা ও রাজনীতিতে তাঁর অবদান নিয়ে বিশেষ আলোচনা। সরকারের দাবি, নয়া প্রজন্মের কাছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভাবনা ও অবদান আরও বিশদে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সেই কারণেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে কেন্দ্র করে সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।

    পৈতৃক ভিটে অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত

    এদিকে, চলতি রাজ্য বাজেটে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতির সংরক্ষণ ও প্রচারের লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর জন্মস্থান হুগলির জিরাট। সেখানে রয়েছে তাঁর পৈতৃক ভিটে। সেটিও অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই ভিটেতেই গড়ে তোলা হবে রাষ্ট্রীয় স্মারক, সংগ্রহশালা এবং গ্রন্থাগার। ঐতিহ্যবাহী এই বাড়িটির সংস্কার করে আগের ভোল ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে (Shyama Prasad Mukherjee) রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের।

    মূর্তি স্থাপনের উদ্যোগ

    জিরাটে শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ ফুট উচ্চতার একটি মূর্তি স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। রাজ্যজুড়ে তাঁর স্মৃতিতে পার্ক, গ্রন্থাগার ও স্মারক নির্মাণের জন্য বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের খবর। প্রসঙ্গত, রবিবারই শ্রদ্ধার সঙ্গে ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা তথা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করে বিজেপি। এদিন ছিল (West Bengal) তাঁর ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। সেই উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মহান এই নেতাকে স্মরণ করেন (Shyama Prasad Mukherjee) পদ্ম নেতৃত্ব।

     

  • Shyama Prasad Mukherjee: ‘শ্যামাপ্রসাদকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল’, বলিদান দিবসে শ্রদ্ধা জানিয়ে আক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর

    Shyama Prasad Mukherjee: ‘শ্যামাপ্রসাদকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল’, বলিদান দিবসে শ্রদ্ধা জানিয়ে আক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘রহস্যমৃত্যুকে’ চক্রান্ত বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘বলিদান দিবসে’ পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে চড়া সুরে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার কলকাতার হাজরা মোড়ে বিজেপির যুব মোর্চার রক্তদান শিবিরে যোগ দিয়ে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, স্বামী প্রণবানন্দের কাজকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।’ শ্যামাপ্রসাদের আদর্শেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার, ২৩ জুন ‘ভারত কেশরী’ শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুদিনে শ্রদ্ধা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আক্ষেপ, ‘‘তাঁর (Shyama Prasad Mukherjee) মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। আসল ঘটনা আড়ালে ছিল। ইচ্ছে করে ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।”

    শ্যামাপ্রসাদের রাষ্ট্রবাদী চেতনা আর আদর্শই পথ

    বদলের বাংলায় ক্রমশ প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর জন্মদিন ৬ জুলাই সরকারি ছুটি, বিরাট মূর্তি গড়ায় উদ্যোগ আগেই গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। এবার শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুরহস্য নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আজ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুদিন। সকাল থেকে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর বিশাল মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানাতে একে একে বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরা জড়ো হন। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল প্রথমে মাল্যদান করেন। এরপর একে একে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন, ড: হরেকৃষ্ণ বেরা, কৌশিক চৌধুরীরা। মূর্তিতে মাল্যদান করে, প্রণাম জানিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী।

    তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ

    শ্যামাপ্রসাদ প্রসঙ্গে বিগত তৃণমূল সরকারকে জামাতের সঙ্গে তুলনা করে তাঁর বক্তব্য, ‘‘আগের সরকার শ্যামাপ্রসাদকে ভুলিয়ে রেখেছিল। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তিনি না হলে হিন্দু বাঙালি মাতৃভূমি পেত না। পাকিস্তানে চলে যেতে হতো। সেই জায়গা থেকে উনিই আমাদের বাঁচিয়েছেন। এখন থেকে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাষ্ট্রবাদী চেতনা আর আদর্শ নিয়ে আমরা চলব।” নাম না করে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন,‘‘ভবানীপুরে আমার কাছে দু’বার হেরেছেন। তিনি শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে দেননি।” যুব মোর্চা অনেক কষ্টে ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদের বাড়ির সামনে বলিদান দিবস পালন করতেন বলেও জানান তিনি।

    শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ পালন

    ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যের প্রত্যেক স্কুলে ‘শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ’ পালনের কথা জানিয়েছেন উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। কেওড়াতলার অনুষ্ঠান সেরে হাজরা মোড়ে যুব বিজেপির রক্তদান শিবিরে অংশ নেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তাঁকে ঘিরে রীতিমতো জনতার ভিড় দেখা যায়। এই অনুষ্ঠানেও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান নিয়ে কথা বলেন শুভেন্দু। এ বারই প্রথম কলকাতা পুরসভা এবং তথ্য সংস্কৃতি দফতর যৌথ ভাবে বলিদান দিবস পালন করেছে বলেও জানান তিনি।

    শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুতে ষড়যন্ত্রের দাবি

    জম্মু-কাশ্মীরে ঢোকার জন্য ‘পারমিট প্রথা’-র বিরোধিতা করে আন্দোলন শুরু করেন শ্যামাপ্রসাদ। মে মাসে তাঁকে গ্রেফতার করে শ্রীনগর পুলিশ। বন্দি থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। শ্রীনগরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। সেখানেই ১৯৫৩ সালের ২৩ জুন মৃত্যু হয় তাঁর। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যু হয়েছে বলে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করলেও বিজেপির তাতে তীব্র আপত্তি রয়েছে। শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুতে ষড়যন্ত্রের দাবি করে শুভেন্দু বলেন, ‘তিনি এক দেশ, এক নিশান (পতাকা), এক বিধান (সংবিধান)-এর দাবি করেছিলেন। তাই তাঁকে অসময়ে-অকালে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।’ ২৩ জুন বিজেপি ও জনসংঘের আদর্শে বিশ্বাসী কর্মী-সমর্থকদের কাছে ‘বলিদান দিবস’ হিসেবে পরিচিত।

    ‘বলিদান দিবস’-এর তাৎপর্য

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (Shyama Prasad)কলকাতায় তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তাঁর মৃত্যু নিয়ে ফের বিতর্ক উসকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু কোনও স্বাভাবিক ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি “ষড়যন্ত্রমূলক হত্যাকাণ্ড”। কাশ্মীরকে ভারতের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত করার আন্দোলনের কারণেই তাঁকে জীবন উৎসর্গ করতে হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ২৩ জুন বিজেপি ও জনসংঘের আদর্শে বিশ্বাসী কর্মী-সমর্থকদের কাছে ‘বলিদান দিবস’ হিসেবে পরিচিত। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “দেশের অখণ্ডতার জন্য লড়াই করতে গিয়ে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রাণ দিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু এবং তাঁর আদর্শ আজও ভারতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে বিজেপি ও তার আদর্শিক শিকড় জনসংঘের কাছে তিনি জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রতীক। তাই তাঁর মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক এবং রহস্যের প্রশ্নও সময় সময় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।

    শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে দেওয়া হয়নি

    হুগলির বলাগড়ের জিরাটে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটেতে ১২৫ ফুট উঁচু নতুন মূর্তি নির্মাণের ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পুরোনো বাড়ির আমূল সংস্কার ও আশপাশের এলাকার সৌন্দর্যায়নের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বাজেটে। আগামী ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদের জন্মদিনে তার কাজ শুরু হবে বলে ঘোষণা করলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘তাঁর আবির্ভাব দিবসেই ভূমি পুজোর কাজ শুরু হবে।’  বঙ্গীয় আইনসভায় ৫৮-২১ ভোটে পশ্চিমবঙ্গের ভারত-ভুক্তির প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তারকেশ্বরে হিন্দু মহা সম্মেলনে রেজোলিউশন পাশ করিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ। আপনারা বিশ্বাস রাখুন, এই সরকার তাঁর আদর্শে চলবে।’

  • Brahmos Akashteer Weapon Systems: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন শক্তির সমীকরণ! ভারতের ব্রহ্মস ও আকাশতীর চাইছে ইউএই

    Brahmos Akashteer Weapon Systems: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন শক্তির সমীকরণ! ভারতের ব্রহ্মস ও আকাশতীর চাইছে ইউএই

    সুশান্ত দাস

    আবুধাবি শুধু অস্ত্র কিনতে চাইছে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিবেশে ভারতের সঙ্গে আরও গভীর কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে…

    ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য বড় সাফল্যের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (ইউএই) ভারতের অন্যতম অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশতীর বিমান প্রতিরক্ষা কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে ভারতের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা শুরু করেছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে ইউএই। একই সঙ্গে দেশটি তার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের ক্ষেত্রে একক উৎসের উপর নির্ভরতা কমিয়ে বহুমুখী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চাইছে।

    দ্রুত এগোচ্ছে ভারত-ইউএই প্রতিরক্ষা আলোচনা

    সূত্রের খবর, ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একাধিক প্ল্যাটফর্মের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে আবুধাবি। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশতীর। এক সরকারি সূত্রের বক্তব্য, “ইউএই আমাদের বেশ কয়েকটি অস্ত্র ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। ব্রহ্মস এবং আকাশতীর নিয়ে আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও তা দ্রুত এগোচ্ছে।” যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ভারত সরকার বা ইউএই প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

    কেন প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াতে চাইছে ইউএই?

    সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘটিত সংঘাতের সময় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা ইউএইকে নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে বাধ্য করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউএই বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন হরমুজ প্রণালী-র নিরাপত্তা নিয়ে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস রফতানি হয়। ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়লে সরাসরি অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়া আবুধাবি এখন এমন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা খুঁজছে যা দ্রুতগতির ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য আকাশপথের হুমকিকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম।

    কী এই আকাশতীর?

    আকাশতীর হল ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি একটি অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় বিমান প্রতিরক্ষা কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

    এই ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য—

    • ● যুদ্ধক্ষেত্রের বিভিন্ন সেন্সর ও রাডার থেকে তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ
    • ● হুমকি শনাক্তকরণ ও বিশ্লেষণ
    • ● বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সমন্বয়
    • ● স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ
    • ● দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধি

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আকাশতীর মূলত একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক, যা বিভিন্ন অস্ত্র ও সেন্সরকে একত্রে যুক্ত করে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করে।

    ব্রহ্মস: ভারতের গর্ব

    ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি ব্রহ্মস বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম কার্যকর সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলির অন্যতম।

    ব্রহ্মসের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য—

    • ● গতি: শব্দের গতির প্রায় তিনগুণ
    • ● উৎক্ষেপণ মাধ্যম: স্থল, জল ও আকাশ
    • ● রফতানি সংস্করণের পাল্লা: প্রায় ২৯০ কিলোমিটার
    • ● অত্যন্ত নির্ভুল লক্ষ্যভেদ ক্ষমতা
    • ● শত্রুপক্ষের রাডার এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা

    যেহেতু ব্রহ্মস যৌথভাবে ভারত ও রাশিয়ার তৈরি, তাই ইউএই-কে এই ক্ষেপণাস্ত্র রফতানি করতে হলে মস্কোর অনুমোদন প্রয়োজন হবে। তবে সূত্রের দাবি, রাশিয়া ও ইউএই-এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে এই অনুমোদন বড় বাধা হওয়ার সম্ভাবনা কম।

    মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়

    বর্তমানে ইউএই-এর কাছে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—

    • ● থাড (টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স)
    • ● প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
    • ● এমজিএম-১৬৮ অ্যাটাকমস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

    বিশ্লেষকদের মতে, আকাশতীর এই বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলির মধ্যে আরও উন্নত সমন্বয় ঘটাতে পারে এবং আকাশপথে আসা হুমকি মোকাবিলার ক্ষমতা বাড়াতে পারে।

    ভারত-ইউএই সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

    গত কয়েক বছরে ভারত ও ইউএই-এর সম্পর্ক শুধু বাণিজ্য বা জ্বালানি সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। দুই দেশ প্রতিরক্ষা উৎপাদন, প্রযুক্তি বিনিয়োগ এবং কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দ্রুত এগিয়েছে। ইতিমধ্যেই দুই দেশ যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির জন্য একাধিক চুক্তি করেছে। ফলে সম্ভাব্য ব্রহ্মস ও আকাশতীর চুক্তিকে কেবল অস্ত্র বিক্রি হিসেবে নয়, বরং একটি বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    সৌদি আরব-পাকিস্তান সমীকরণের প্রভাব

    বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনার পেছনে বৃহত্তর আঞ্চলিক ভূরাজনীতিও কাজ করছে। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারত ও ইউএই-এর মধ্যে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক উভয় দেশের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বার্তা বহন করে। দক্ষিণ এশিয়ার সংঘাত ও নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পার্ল পাণ্ডিয়ার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে ভারত-ইউএই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও সম্পর্কের গভীরতাকেই তুলে ধরছে।

    প্রতিরক্ষা রফতানিতে ভারতের উত্থান

    গত এক দশকে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি অভূতপূর্ব হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী—

    • ● ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা রফতানি ছিল মাত্র ৬৮ কোটি টাকা
    • ● ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে ৩৭,৮৬৮ কোটিরও বেশি হয়েছে
    • ● প্রথমবারের মতো প্রতিরক্ষা রফতানি ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে সফল ব্যবহারের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় অস্ত্রের প্রতি আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

    কোন কোন দেশ ব্রহ্মস কিনছে?

    ভারত ইতিমধ্যেই ফিলিপিন্সকে ব্রহ্মস সরবরাহ করেছে। এছাড়া ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে রফতানি চুক্তি করেছে। পাশাপাশি তাইল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল এবং চিলি-সহ একাধিক দেশ ব্রহ্মসের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে।

    বিশ্ব অস্ত্রবাজারে ভারতের অবস্থান

    প্রতিরক্ষা রফতানিতে দ্রুত অগ্রগতি হলেও ভারত এখনও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অস্ত্র আমদানিকারক দেশ। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি)-এর তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক অস্ত্র আমদানির ৮ শতাংশেরও বেশি ভারতের দখলে।

    অন্যদিকে ২০২১-২৫ সময়কালে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে—

    • ● প্রথম স্থানে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (৫৪ শতাংশ)
    • ● দ্বিতীয় স্থানে ইতালি (১২ শতাংশ)
    • ● তৃতীয় স্থানে ফ্রান্স (১১ শতাংশ)

    ভারত-আমিরশাহী কূটনীতিতে নয়া মাইলফলক

    ব্রহ্মস ও আকাশতীর রফতানি নিয়ে ভারত-ইউএই আলোচনা সফল হলে তা শুধু ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য নয়, বরং ভারতের কৌশলগত কূটনীতির ক্ষেত্রেও একটি বড় মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোয় ভারতের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রতিরক্ষা উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে পারে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করবে যে ভারত এখন শুধু বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অস্ত্র আমদানিকারক নয়, বরং দ্রুত উত্থানশীল একটি প্রতিরক্ষা রফতানিকারক শক্তিও।

  • Shyama Prasad Mukherjee: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর, জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতাকে স্মরণ বিজেপি নেতৃত্বের

    Shyama Prasad Mukherjee: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর, জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতাকে স্মরণ বিজেপি নেতৃত্বের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা তথা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব (PM Modi)। রবিবার ছিল তাঁর ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। সেই উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করেন পদ্ম নেতৃত্ব।

    শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর (Shyama Prasad Mukherjee)

    এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লেখেন, “দেশের মহান সন্তান, বিশিষ্ট চিন্তাবিদ এবং শিক্ষাবিদ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের শাহাদত দিবসে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তিনি মাতৃভূমির সেবায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর গতিশীল ব্যক্তিত্ব দেশের প্রতিটি প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে।”

    শাহি স্মরণে শ্যামাপ্রসাদ

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, “দেশের ঐক্য, অখণ্ডতা ও আত্মমর্যাদার জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন।” তাঁর দাবি, ‘এক নিশান, এক বিধান, এক প্রধান’ স্লোগান তুলে জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে ধরে রাখার লড়াইয়েও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। শাহ বলেন, “সংবিধান সভার সদস্য হিসেবে ভাষা ও সংস্কৃতি সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ভারতীয় জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি দেশের মানুষের সামনে একটি বিকল্প রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরেছিলেন।”

    শ্রদ্ধা জানালেন নাড্ডাও

    শ্যামাপ্রসাদকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডাও। দিল্লিতে দলের সদর দফতরে শ্যামাপ্রসাদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন তিনি। দলীয় কর্মীদের মধ্যে গাছের চারাও বিলি করেন নাড্ডা। তিনি বলেন, “সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ ও জাতীয় ঐক্যের স্থপতি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ত্যাগ ও আদর্শ আগামিদিনেও দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করবে (Shyama Prasad Mukherjee)।”

    জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা

    প্রসঙ্গত, শ্যামাপ্রসাদ ছিলেন ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা, যা পরবর্তীকালে বিজেপির আদর্শগত ভিত্তি হিসেবে পরিচিত হয়। স্বাধীনতার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মন্ত্রিসভায় শিল্প ও সরবরাহ মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন। ১৯৫০ সালে দিল্লি চুক্তি নিয়ে মতবিরোধের জেরে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর দিল্লিতে ভারতীয় জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। দলের প্রথম সভাপতি হন শ্যামাপ্রসাদই। ১৯৫৩ সালে (PM Modi) জম্মু-কাশ্মীর সফরে গিয়েছিলেন তিনি। ১১ মে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। বন্দি ছিলেন জেলে। সেখানেই ওই বছরেরই ২৩ জুন মৃত্যু হয় তাঁর। শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যু নিয়ে আজও রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে (Shyama Prasad Mukherjee)।

     

  • Ritabrata Banerjee: সই জালিয়াতি বিতর্কের আবহে সতর্ক ‘আসল’ তৃণমূল! নিউটাউনের বৈঠকে কোর্ট পেপারে স্বাক্ষর করতে হল উপস্থিত নেতাদের

    Ritabrata Banerjee: সই জালিয়াতি বিতর্কের আবহে সতর্ক ‘আসল’ তৃণমূল! নিউটাউনের বৈঠকে কোর্ট পেপারে স্বাক্ষর করতে হল উপস্থিত নেতাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রস্তাব ঘিরে সই জালিয়াতির অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। ঘটনাটির তদন্তে নেমেছে সিআইডি (CID)। তদন্তকারীদের আতশ কাচের তলায় একাধিক রাজনৈতিক নেতা। এমন (Ritabrata Banerjee) পরিস্থিতিতেই সই জালিয়াতি বিতর্ক থেকে শিক্ষা নিয়ে সতর্ক পদক্ষেপ করল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূল (TMC)। অন্তত, রাজনৈতিক মহলের দাবি তো তেমনই।

    কোর্ট পেপারে সই (Ritabrata Banerjee)

    সূত্রের খবর, সোমবার নিউটাউনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে আয়োজিত গোপন বৈঠকে উপস্থিত প্রত্যেককে একটি কোর্ট পেপারে সই করিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে বলা ছিল, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা স্বেচ্ছায় বৈঠকে অংশগ্রহণ করছেন। শুধু তাই নয়, গোটা বৈঠকের ভিডিও রেকর্ডিংও করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে সই সংক্রান্ত কোনও ধরনের বিতর্ক এড়াতেই এই নজিরবিহীন ব্যবস্থা। তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের ওই বৈঠকে কলকাতা পুরসভার ৬০ থেকে ৭০ জন প্রাক্তন কাউন্সিলরও উপস্থিত ছিলেন বলে সূত্রের খবর। হাজির ছিলেন প্রাক্তন মেয়র তথা বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম, বিধায়ক জাভেদ খান, জুঁই বিশ্বাস, কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতানেত্রী। ঋতব্রতর পাশাপাশি কিছু বিধায়কও অংশ নেন সোম-সন্ধ্যার ওই বৈঠকে।

    নেপথ্য কথন

    প্রসঙ্গত, সই জালিয়াতি বিতর্কের সূত্রপাত বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম বিধানসভায় পাঠানোকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, যে রেজ্যুলিউশন বুকে ৭০ জন বিধায়কের সই দেখানো হয়েছিল, সেখানে কয়েকজন বিধায়ক বাস্তবে উপস্থিত না থাকলেও তাঁদের স্বাক্ষর ছিল। এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা এবং উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রতর দাবি, ওই রেজ্যুলিউশন বুকে তাঁদের সই জাল করা হয়েছে। তাঁরা স্পিকারের কাছেও এ ব্যাপারে অভিযোগ জানান। এরপরেই বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে, এবং (Ritabrata Banerjee) যার অনিবার্য পরিণতিতে কার্যত দুটুকরো হয়ে যায় তৃণমূল- একটি ঋতব্রত শিবির এবং অন্যটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির।

    নির্বাচন কমিশনের কাছে তৃণমূলের নয়া কর্মসমিতির তালিকা

    এদিকে দলীয় নিয়ন্ত্রণ ও সাংগঠনিক কর্তৃত্বের বার্তা দিতে সোমবারই নির্বাচন কমিশনের কাছে তৃণমূলের পরিমার্জিত কর্মসমিতির তালিকা পাঠিয়ে দিয়েছেন মমতা। কালীঘাট সূত্রে খবর, নতুন তালিকায় চেয়ারপার্সন হিসেবে রয়েছেন মমতা এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর গত ৫ জুন কালীঘাটে দলের নয়া কর্মসমিতি গঠন করেছিলেন মমতা। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলত্যাগী নেতাদের অবস্থান বদলের পর সেই তালিকা সংশোধন করা হয়েছে বলেই অনুমান। নতুন কর্মসমিতি থেকে বাদ পড়েছেন বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়া একাধিক নেতা। যুব সংগঠনের প্রাক্তন সভাপতি সায়নী ঘোষ এবং মহিলা সংগঠনের প্রাক্তন সভাপতি মালা রায় বর্তমানে (TMC) ঋতব্রত শিবির-ঘনিষ্ঠ ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এর সঙ্গে যুক্ত। একই কারণে নয়া তালিকায় ঠাঁই হয়নি প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও অন্যান্য বিদ্রোহী নেতাদেরও।

    পৃথক কর্মসমিতি ‘বিদ্রোহী’ শিবিরেরও 

    অন্যদিকে, ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরও নিজেদের পৃথক কর্মসমিতি ঘোষণা করেছে (Ritabrata Banerjee)। সেখানে চেয়ারম্যান করা হয়েছে মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে। সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন ঋতব্রত, জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা এবং সাবিনা ইয়াসমিন। সহ-সভাপতি করা হয়েছে অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম ও রথীন ঘোষকে। কোষাধ্যক্ষ আখরুজ্জামান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একদিকে সই জালিয়াতি বিতর্কের তদন্ত, অন্যদিকে তৃণমূলের অন্দরে সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব— এই দুইয়ের জেরে রাজ্যের শাসকদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল তুঙ্গে। তৃণমূলের যুযুধান মমতা ও ঋতব্রত শিবিরের উপুর্যপরি কর্মসমিতি গঠন (TMC) অদূর ভবিষ্যতে রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করতে পারে (Ritabrata Banerjee) বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।

     

LinkedIn
Share