Blog

  • Kolkata Swine Flu: ১৯ জন হাসপাতালে! কলকাতায় বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু, শিশুদের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে বড় সতর্কতা

    Kolkata Swine Flu: ১৯ জন হাসপাতালে! কলকাতায় বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু, শিশুদের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে বড় সতর্কতা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের দাপট রয়েছে! কিন্তু তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে একাধিক ভাইরাস ঘটিত অসুখ। কলকাতায় বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু রোগের দাপট। ফলে উদ্বেগ আরও বাড়ছে‌।
    সোয়াইন ফ্লু সহ স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে নানান রোগের দাপট বাড়ছে। অনেক সময়েই ভাইরাস চরিত্র বদল করছে। ফলে অবস্থা আরও জটিল হয়ে যাচ্ছে।

    কী বলছে স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু রোগের প্রকোপ। কলকাতার একাধিক হাসপাতালে ১৯ জন সোয়াইন ফ্লু আক্রান্তের চিকিৎসা চলছে। আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসক মহল। তবে স্বাস্থ্য কর্তারা জানাচ্ছেন, আক্রান্তদের চিকিৎসা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। সোয়াইন ফ্লু আক্রান্ত হলেও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। রোগ যাতে আরও ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেদিকে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষত শিশুদের মধ্যে যাতে রোগের প্রকোপ না বাড়ে সেদিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    কোন বিপদ নিয়ে উদ্বিগ্ন চিকিৎসকেরা?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, গত পনেরো দিনে রাজ্য জুড়ে একাধিক ভাইরাস ঘটিত অসুখের দাপট উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।‌ বর্ষার মরশুমে ভাইরাসের দাপট বাড়ে। তার সঙ্গে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত অসুখের দাপট ও বাড়ে। তবে চলতি বছরে বাড়তি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ভাইরাসের চরিত্র বদল। মরশুমের চেনা ভাইরাস ঘটিত অসুখ হঠাৎ করেই জটিল হয়ে উঠছে। সংক্রমণের শক্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে ভোগান্তি আরও বাড়ছে। রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করতেই অনেকটা সময় চলে যাচ্ছে। যার জেরে শিশুদের ভোগান্তি বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার মতো সোয়াইন ফ্লু-তেও শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, আগাম সতর্ক না থাকলে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

    স্কুল থেকেই কি সংক্রমণ বেশি ছড়াচ্ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুদের মধ্যে সহজেই যেকোন ভাইরাস ঘটিত রোগের সংক্রমণ ঘটে। কারণ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ শক্তি প্রাপ্ত বয়স্কদের তুলনায় কম থাকে। ফলে, শিশুরা সহজেই আক্রান্ত হয়। শিশুদের স্কুল থেকেই রোগ সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি‌ ঝুঁকি থাকে। এমনটাই মনে করছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, দিনভর পাশপাশি বসে থাকা, হাতে স্পর্শ, খাবার ভাগ করে নেওয়া হয়। অনেক সময়েই শিশুরা হাঁচি-কাশির সময়ে ঠিকমতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে না। আবার অনেক সময়েই খাবার খাওয়ার আগে বা পরে ঠিকমতো হাত ধোয়া হয় না। যার জেরেই আরও বেশি সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই স্কুল থেকে সহজেই শিশুরা ভাইরাস ঘটিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া কিংবা সোয়াইন ফ্লু-র মতো ভাইরাসের পাশপাশি মরশুমের নানান ভাইরাস ও সংক্রমণের ক্ষমতা বাড়াচ্ছে। নিজেদের চরিত্র বদল করছে। এর জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।

    কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন?

    জ্বর হলেই বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, জ্বর হলেই বাড়তি সজাগ থাকতে হবে। কোনো রকম অবহেলা করা চলবে না। ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়া-সোয়াইন ফ্লু হোক কিংবা বর্ষার মরশুমের সাধারণ ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণ, প্রধান উপসর্গ হলো জ্বর। তাই রোগ নির্ণয়ের জন্য জ্বর হলেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি। নির্দিষ্ট শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই রোগ নির্ণয় সম্ভব হয়। তাই কেন জ্বর হয়েছে, সেটা জানা জরুরি।
    পাশপাশি, বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মাথা ব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। কারণ, পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে। যেকোনো সময়েই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কাজ কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই শ্বাসকষ্ট হলে হাসপাতালে ভর্তি করা জরুরি।

    আক্রান্তের থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকা!

    পরিবারের কেউ জ্বর বা অন্য কোনো ভাইরাস ঘটিত রোগে আক্রান্ত হলে শিশুদের আলাদা থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। আবার শিশুদের শিশুদের শরীরে ঢুকে ভাইরাস চরিত্র বদল করতে পারে। তাই আক্রান্তের থেকে শিশুকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা জরুরি।

    স্কুল যাওয়ার বিধি-নিষেধ!

    শিশুর সর্দি-কাশি হলে স্কুলে না পাঠানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, যেকোনো ভাইরাসে আক্রান্ত শিশু স্কুল বা যেকোনো ভিড় জায়গায় গেলে, সংক্রমণ যেমন ছড়াবে, তেমনি আক্রান্ত শিশুর ও শারীরিক পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। ভাইরাস আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। ক্লান্তি বাড়তে পারে। ফলে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে।

    ভিড় এড়িয়ে চলা!

    যেকোনো ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণ থেকে বাঁচতে ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, পার্ক, মেলা বা এমন যেসব জায়গায় ভিড় হয়, সেখানে গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই কয়েক দিন সেই সব জায়গা এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।

    মাস্ক পরা জরুরি!

    বাইরে মাস্ক পরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, সোয়াইন ফ্লু সহ একাধিক ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে। তাই মাস্ক ব্যবহার জরুরি।

    স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা!

    খাবার খাওয়ার আগে ও পরে ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই মরশুমের একাধিক ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।

  • Suvendu Adhikari: ‘সঠিক সময়ে বাংলায় পরিবর্তন, না হলে সংস্কার হারিয়ে যেত’ এক বছরের মধ্যে ১০০০ বিদ্যা ভারতী  তৈরির আহ্বান শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘সঠিক সময়ে বাংলায় পরিবর্তন, না হলে সংস্কার হারিয়ে যেত’ এক বছরের মধ্যে ১০০০ বিদ্যা ভারতী তৈরির আহ্বান শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগের সরকার বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিকল্পনামাফিক কিছু পরিবর্তন করে। এমনকী বাংলা মাধ্যমের সিলেবাসে বেশ কিছু শব্দ বদল করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনে আরএসএস-এর একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তৃণমূল আমলে বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কমিউনিস্টরা ৩৪ বছর ধরে বাংলা ভাষার প্রচার-প্রসারে বাধা দিয়েছিল, বিগত সরকারের শেষ ১০ বছরেও বাংলায় বেহাল শিক্ষা— এদিন আরএসএসের শাখা সংগঠন বিদ্যা ভারতীর অনুষ্ঠানে গিয়ে এমনটাই বললেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সঠিক সময়ে বাংলায় পরিবর্তন হয়েছে। আর কিছুদিন চললে সংস্কার হারিয়ে যেত।

    মানুষের চরিত্র গঠনে শিক্ষার প্রয়োজন

    শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে সংস্কৃতি চর্চাতেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। স্বামী বিবেকানন্দের ভাবনায় শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরির কথা বললেন তিনি। বৃহস্পতিবার গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “স্বামী বিবেকানন্দ সেই শিক্ষার কথা বলেন, যাতে মানুষের চরিত্র গঠিত হয়, মনের বল বৃদ্ধি পায়, মানুষ স্বনির্ভর হতে পারে।” এই অনুষ্ঠানেই একটি সাম্প্রতিক ভিডিয়োর কথা উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, “সংস্কার না আনতে পারলে, দেশপ্রেম না আনতে পারলে ভয়ঙ্কর অবস্থা হবে।”

    ভারতীয় সংস্কৃতির পরম্পরা বজায় রাখুন

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu on Education System) কলকাতার এক পড়ুয়ার ভিডিয়োর কথা উল্লেখ করেন। স্কুলের নাম না করে বলেন, “এক ছাত্র সেখানে অভিযোগ করছে, তার মাথায় চন্দনের টীকা মুছিয়ে দিচ্ছেন শিক্ষক। বলছেন, মুখ ধুয়ে এস, টীকা নিয়ে ক্লাসে আসা যাবে না। এই মাইন্ডসেট! কে টীকা রাখবে, কে তুলসী পরবে… সবই পরম্পরা, ঐতিহ্য।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি চাই, আগামী এক বছরের মধ্যে বিদ্যা ভারতী ১০০০ তৈরি হোক। গোশালা তৈরি করুন, গীতা বিতরণ করুন। ভারতীয় সংস্কৃতির পরম্পরা বজায় রাখুন।” রামকষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম পরিচালিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কথাও বলেন তিনি। পূর্বতন সরকারের আমলের সিলেবাস নিয়েও এদিন একের পর এক অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, আগের সিলেবাসে পরিকল্পনা করে অনেক কিছু বিকৃত করা হয়েছে।

    প্রকৃত শিক্ষায় কমিউনিস্টদের বাধা

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই রাজ্যে কমিউনিস্টরা যখন রাজত্ব করত, তারা আমাদের মাতৃভাষা বাংলার প্রচার-প্রসারকে যেমন বাধা দিয়েছে, তেমনই ইংরেজি পড়াশোনার ক্ষেত্রেও তালাচাবি লাগিয়ে রেখেছিল। কম্পিউটার শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করেছিল। পরবর্তীকালে যে সরকার এসেছিল, প্রথমের দিকে না হলেও শেষের ১০ বছর যে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিল, তা পশ্চিমবঙ্গে আরও কিছুদিন চললে, আমাদের সংস্কার, পরম্পরা, ঐতিহ্য, দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ সমস্ত কিছু হারিয়ে যেত।’ শিক্ষাঙ্গণে কোনও বৈষম্য চলবে না, ফেরানো হবে এনসিসি, তা-ও জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু জানান, দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কাছে তিনি আবেদন জানিয়েছেন, বাংলায় আরও সৈনিক স্কুল হোক। সব স্কুল-স্কুলেজে যাতে এনসিসি থাকে, তা নিয়েও চিঠি দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে।

    সিলেবাসে ভুল শব্দ চয়ন

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu on Education System) বলেন, “একটা সময়ে বামেরা বাংলার প্রচার-প্রসারে বাধা দিয়েছে। তৃণমূল যে শিক্ষা ব্যবস্থা শুরু করেছিল, তাতে রাষ্ট্রবাদ-দেশপ্রেম হারিয়ে যেতে বসেছিল।” এরপরই সিলেবাস প্রসঙ্গে পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন তিনি। তৃণমূল সরকারের আমলে তৈরি হওয়া সিলেবাস সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মা কে আম্মা, আকাশ কে আসমান… প্ল্যান করে ভাষার বিকৃতি করা হয়েছিল। এমনভাবে সিলেবাস তৈরি করা হয়েছিল, যে শিক্ষা ব্যবস্থার কথা বিদ্যাসাগর বা বিবেকানন্দ ভাবেনি। শিশুমনে বিভাজন ঘটানো হয়েছিল।” মুখ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেছেন, পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মুসলিম ছাত্রদের স্কলারশিপ দেওয়া হত। বাকি ধর্মের ছাত্রদের এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত রাখা হত। তিনি সিলেবাস সম্পর্কে আরও বলেন, “টাটাদের ইতিহাস ছিল, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কথা ছিল, অথচ শ্যামাপ্রসাদের পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ইতিহাস ছিল না।”

    প্রার্থনায় পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “সঠিক সময়ে পরিবর্তন এসেছে। সঠিক সময়ে আমরা বেঁচে গিয়েছি। বাংলাদেশের ইসলামিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে কোনও তফাৎ থাকত না।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকার প্রথমেই জাতীয় শিক্ষানীতি গ্রহণ করেছে। প্রার্থনায় পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক করেছে। এদিন বিদ্যা ভারতী প্রতিষ্ঠিত বিদ্যামন্দিরগুলির ভূমিকার প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি চান আগামী এক বছরের মধ্যে বিদ্যামন্দিরের সংখ্যা এক হাজারে পৌঁছক। জেলায় জেলায়, ব্লকে ব্লকে, পঞ্চায়েতেও এই বিদ্যামন্দিরের পরিকাঠামো তৈরি হোক। ভারতীয় শিক্ষা-সংস্কৃতির প্রসারে রাজ্য সরকার বিদ্যাভারতীকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে চায়, এদিন সে বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • Pakistan Electricity Crisis: একটানা ১৬-২৪ ঘণ্টা লোডশেডিং! দামি এলএনজি কেনার ক্ষমতা নেই, পাকিস্তানে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট

    Pakistan Electricity Crisis: একটানা ১৬-২৪ ঘণ্টা লোডশেডিং! দামি এলএনজি কেনার ক্ষমতা নেই, পাকিস্তানে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে বিদ্যুৎ সংকট (Pakistan Electricity Crisis) আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলা সংঘাতের জেরে কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ (Blackouts) ব্যাহত হওয়ার পর বিকল্প হিসেবে জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস কিনতে চেয়েছিল ইসলামাবাদ। কিন্তু বাজারদর অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় সেই উদ্যোগও আপাতত থমকে গিয়েছে। যার মাশুল গুণতে হচ্ছে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষকে।

    দরপত্রটি বাতিল (Pakistan Electricity Crisis)

    জানা গিয়েছে, পাকিস্তান একটি জরুরি চালানের জন্য মাত্র একটি প্রস্তাবই পেয়েছিল। ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম সংস্থাটি প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটের জন্য ২৭ ডলার দর দেয়। সংঘাত শুরুর আগের বাজারদরের তুলনায় এই দাম প্রায় তিন গুণ। ফলে পাকিস্তান রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পাকিস্তান এলএনজি লিমিটেড ৮ সেপ্টেম্বর সরবরাহের কথা থাকা জরুরি দরপত্রটি বাতিল করেছে। তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে। বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত না হলে সন্ধ্যার পর পাকিস্তানে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে। দিনের বেলায় সৌরবিদ্যুৎ কিছুটা ঘাটতি সামাল দিলেও, সূর্য ডোবার পর বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে গ্যাস ও অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভর করতে হয়। এলএনজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় সেই ব্যবস্থাই এখন বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে।

    কাতার থেকে গ্যাস সরবরাহে বড় ধাক্কা

    ইরানকে ঘিরে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থায়। পাকিস্তানের প্রধান এলএনজি সরবরাহকারী কাতার থেকে জ্বালানি আনা ব্যাহত হওয়ায় দেশটির বিদ্যুৎ খাত বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।

    কাতার চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, অনিয়ন্ত্রিত ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতির কারণে চুক্তিবদ্ধ সরবরাহ স্থগিত রাখার আইনি সুযোগ আরও বাড়ানো হয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য এই স্থগিতাদেশ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে।

    জুলাইয়ের শুরুতে কাতারের একটি এলএনজিবাহী জাহাজে হামলার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহণ কার্যত ব্যাপকভাবে কমে যায়। ফলে পাকিস্তানকে বিকল্প হিসেবে খোলা বাজার থেকে এলএনজি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। কিন্তু সংঘাতের পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় সেই বিকল্পও এখন অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে (Pakistan Electricity Crisis)।

    সন্ধ্যার পরই সবচেয়ে বড় সমস্যা

    পাকিস্তানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার একটি পুরোনো দুর্বলতাও এই সংকটে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জ্বালানি খাত নিয়ে কাজ করা ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিসিসের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চাহিদার ব্যবধান পূরণে এলএনজির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে সূর্যাস্তের পর সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেলে এই নির্ভরতা আরও বাড়ে।

    সংকটের প্রভাব ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের জীবনে স্পষ্ট। করাচির বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা ১৬ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ করেছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলি বলছে, দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষের কাজ, পড়াশোনা, দৈনন্দিন গৃহস্থালির কার্যক্রম এবং পানির সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে।

    শুধু করাচি নয়, লাহোরসহ পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকাতেও দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে। দেশটির জাতীয় বিদ্যুৎ ঘাটতি ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গিয়েছে।

    বিদ্যুতের দামও বাড়ছে

    জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ গ্রাহকের ওপর। পাকিস্তানের জাতীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থা জুন মাসের জ্বালানি ব্যয় সমন্বয়ের আওতায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম আরও শূন্য দশমিক ৭৫ পাকিস্তানি রুপি বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। ফলে একদিকে দীর্ঘ লোডশেডিং, অন্যদিকে বাড়তি বিদ্যুৎ বিল—দুই দিক থেকেই চাপের মুখে পড়েছেন গ্রাহকেরা।

    তেল আমদানি ও প্রবাসী আয় নিয়েও উদ্বেগ

    মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে পাকিস্তানের জন্য সমস্যা শুধু বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। জ্বালানি আমদানির ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রার উৎস প্রবাসী আয়ও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

    রাষ্ট্রসংঘের উন্নয়ন সমন্বয় কার্যালয়ের একটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সৌদি আরব থেকে পাকিস্তানে প্রায় ৯৪০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রবাসী আয়) এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও এসেছে প্রায় ৭৮৩ কোটি মার্কিন ডলার।

    ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা হলে পাকিস্তান একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানির বাড়তি ব্যয় এবং প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার চাপের মুখে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে (Blackouts) দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার মজুত, অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর আরও বড় চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের (Pakistan Electricity Crisis)।

     

  • ISRO Satellite Launch: সাফল্যের আশায় ইসরো! উৎক্ষেপণের প্রস্তুতিতে জিএসএলভি-এফ১৭, শুক্র ভোর-রাতে মহাকাশে পাড়ি দেবে ইওএস-০৫

    ISRO Satellite Launch: সাফল্যের আশায় ইসরো! উৎক্ষেপণের প্রস্তুতিতে জিএসএলভি-এফ১৭, শুক্র ভোর-রাতে মহাকাশে পাড়ি দেবে ইওএস-০৫

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রায় আট মাসের উৎক্ষেপণ-খরা কাটিয়ে ফের মহাকাশ অভিযানে ফিরতে চলেছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO Satellite Launch)। শুক্রবার ভোরে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে জিএসএলভি-এফ১৭ (GSLV-F17) রকেটের মাধ্যমে উৎক্ষেপণ করা হবে পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ ইওএস-০৫ (EOS-05)। এই উপগ্রহটি জিস্যাট-১এ (GISAT-1A) নামেও পরিচিত। ইসরো সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪ সেপ্টেম্বর রাত পেরিয়ে ভোর ২টা ৫৫ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার দ্বিতীয় লঞ্চ প্যাড থেকে জিএসএলভি-এফ১৭ (GSLV-F17)-এর উৎক্ষেপণের সময় নির্ধারিত হয়েছে। এটি ভারতের জিওসিঙ্ক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকলের ১৯তম উড়ান। সফল উৎক্ষেপণ হলে দীর্ঘ বিরতির পর ফের ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে গতি ফিরবে।

    ‘নটি বয়’-কে নিয়ে প্রত্যাশা

    জিএসএলভি-এফ১৭ (GSLV-F17)-কে ইসরোর অন্দরে অনেক সময় ‘নটি বয়’ বা ‘দুষ্টু ছেলে’ বলেও ডাকা হয়। কারণ, রকেটটির প্রাথমিক উড়ানগুলিতে একাধিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। প্রথম ১৮টি উড়ানের মধ্যে ছ’টি পূর্ণাঙ্গ সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। ফলে এবারের অভিযান নিয়ে বিজ্ঞানী ও মহাকাশপ্রেমীদের আগ্রহ যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে বাড়তি প্রত্যাশা। ৪ সেপ্টেম্বর রাত ঠিক ২টো ৫৫ মিনিটে যখন প্রায় গোটা দেশ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকবে, তখন শ্রীহরিকোটার দ্বিতীয় লঞ্চ প্যাড থেকে তৈরি হবে এক নতুন ইতিহাস (ISRO launch tonight)। অন্ধকারের বুক চিরে মহাকাশের উদ্দেশে রওনা দেবে ভারতের ভূ-সমলয় উপগ্রহ উৎক্ষেপণ যান ‘জিএসএলভি-এফ১৭’ (GSLV-F17)। সঙ্গে নিয়ে যাবে ৩৬ হাজার কিলোমিটার উঁচুতে অবস্থানকারী ভারতের প্রথম ইমেজিং স্যাটেলাইট ‘ইওএস-০৫’ (EOS-5)। পরপর কয়েকটি ব্যর্থতার পর ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর (ISRO) জন্য এই মিশন স্রেফ একটি উৎক্ষেপণ নয়, বরং হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস ও মর্যাদা পুনরুদ্ধারের এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা।

    জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথে নতুন সক্ষমতা

    ইওএস-০৫ (EOS-05)-এর এই অভিযান ভারতের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সফল হলে এটি হবে ভারতের প্রথম এমন ইমেজিং উপগ্রহ, যা জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথ থেকে পৃথিবী পর্যবেক্ষণ করবে। সাধারণত পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহগুলি লো আর্থ অরবিটে অবস্থান করে এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর কোনও অঞ্চলের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় ছবি সংগ্রহ করে। কিন্তু ইওএস-০৫ প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথে কাজ করবে। ফলে ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ও আশপাশের এলাকার উপর দীর্ঘ সময় ধরে বারবার নজর রাখা সম্ভব হবে। তবে জিএসএলভি-এফ১৭ সরাসরি ইওএস-০৫-কে তার চূড়ান্ত জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথে পৌঁছে দেবে না। রকেটটি প্রথমে উপগ্রহটিকে একটি সাব জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথে স্থাপন করবে। এরপর উপগ্রহটির নিজস্ব অনবোর্ড প্রপালশন ব্যবস্থা ব্যবহার করে ধীরে ধীরে কক্ষপথের উচ্চতা বাড়িয়ে নির্ধারিত অবস্থানে পৌঁছবে।

    ২০২১-এর ব্যর্থতার পর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা

    ভারতের জিওসিঙ্ক্রোনাস ইমেজিং সক্ষমতা তৈরির ক্ষেত্রে এই অভিযান কার্যত দ্বিতীয় বড় প্রচেষ্টা। এর আগে ২০২১ সালের আগস্টে জিএসএলভি-এফ১০ (GSLV-F10) রকেটের মাধ্যমে জিআইস্যাট (GISAT) উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু রকেটের ক্রায়োজেনিক আপার স্টেজে সমস্যার কারণে উপগ্রহটি নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছতে পারেনি। সেই ব্যর্থতার পর ইওএস-০৫-এর অভিযান তাই ইসরোর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এমনিও সাম্প্রতিক সময়ে ইসরোর দিনগুলো খুব একটা ভাল কাটেনি। বিগত বছরগুলোতে ইসরোর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ‘ওয়ার্কহর্স’ রকেট পিএসএলভি (PSLV) পর পর কয়েকটি অভিযানে চরম ব্যর্থতার মুখে পড়ে। ফলে সরকারের নির্দেশে সেটিকে আপাতত বসিয়ে রেখে শুরু হয়েছে তদন্ত। এই কঠিন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে জিএসএলভি-র এই যাত্রা ইসরোর আত্মবিশ্বাস ফেরানোর অন্যতম বড় সুযোগ। অবশ্য প্রযুক্তিগত দিক থেকে পিএসএলভি এবং জিএসএলভি সম্পূর্ণ আলাদা গোত্রের। ইঞ্জিনের গঠন বা চালিকাশক্তির ক্ষেত্রে এদের মধ্যে কোনও সরাসরি যোগাযোগ নেই। ফলে পিএসএলভির সমস্যা জিএসএলভির উপর প্রভাব ফেলবে না- এই ভাবনাই এখন ইসরোর বিজ্ঞানীদের একমাত্র ভরসা।

    কী কী কাজ করবে এই স্যাটেলাইট

    আবহাওয়া থেকে দুর্যোগ মোকাবিলা, সীমান্তে পাহারা—একাধিক ক্ষেত্রে নজরদারি চালাবে ইওএস-০৫। এটি সফলভাবে কার্যকর হলে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও জঙ্গল-আগুনের মতো বিপর্যয় নজরদারিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। একই বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে বারবার পর্যবেক্ষণ করার ক্ষমতার ফলে দ্রুত পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কে আরও কার্যকর তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশের উপর ধারাবাহিক নজরদারি দেশের পৃথিবী পর্যবেক্ষণ পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। তবে, এর গুরুত্ব শুধু সাধারণ পর্যবেক্ষণেই সীমাবদ্ধ নয়। সীমান্ত এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং কৌশলগত জায়গার উপর নিয়মিত নজর রাখার ক্ষেত্রেও এর তথ্য কাজে লাগতে পারে। বিশেষ করে কোনও এলাকায় হঠাৎ কোনও পরিবর্তন হলে তা দ্রুত নজরে আসার সম্ভাবনা বাড়বে। তবে এটিকে সরাসরি ‘গুপ্তচর উপগ্রহ’ বলা ঠিক হবে না। এটি মূলত পৃথিবী পর্যবেক্ষণের উপগ্রহ, যার তথ্যের বেসামরিক এবং কৌশলগত—দুই ধরনের ব্যবহার হতে পারে।

    নয়া অধ্যায়ের সূচনা

    কাউন্টডাউন এগিয়ে চলেছে। এখন সকলের নজর শ্রীহরিকোটার দিকে। সফল উৎক্ষেপণ শুধু ইসরোর দীর্ঘ উৎক্ষেপণ-বিরতির অবসান ঘটাবে না, একইসঙ্গে ভারতের মহাকাশভিত্তিক পৃথিবী পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

  • Food Safety Raids: শুভেন্দু প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপেই রাজ্যে পচা মাংসের রমরমা কারবারের পর্দাফাঁস! জানেন কী খাচ্ছিলেন এতদিন?

    Food Safety Raids: শুভেন্দু প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপেই রাজ্যে পচা মাংসের রমরমা কারবারের পর্দাফাঁস! জানেন কী খাচ্ছিলেন এতদিন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর মুখে রাজ্যে ফিরে এল সেই ভাগাড়ের পচা মাংসের আতঙ্ক! খাদ্য সুরক্ষা দফতর, পুরসভা এবং এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের যৌথ অভিযানে পর পর অভিযানে মিলল চোখ কপালে ওঠা ছবির হদিশ। শুভেন্দু প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপেই ফাঁস হয়ে গেল পচা মাংসের রমরমা কারবারের পর্দা। তাতেই উঠে এল ভয়াবহ ছবি। কয়েকদিন আগে মহারাষ্ট্রেও এমন অভিযানে দেশজুড়ে সাড়া পড়ে গিয়েছিল। এবার শুরু হয়ে গেল এরাজ্যেও। কলকাতা থেকে শুরু করে একাধিক জেলায় নামী রেস্তরাঁ, খাবারের (Food Safety Raids) দোকান ও মিষ্টির দোকানে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে কেজি কেজি পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত মাংস (Rotten Meat), মাছ, মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির, আইসক্রিম ও ঠান্ডা পানীয়। কোথাও ফ্রিজে ঠাসা ছিল পুরনো মাংস-মাছ, কোথাও আবার খাবারে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল হোলির রং। পর্যটনকেন্দ্র দিঘার একাধিক হোটেল ও রেস্তরাঁয় নিম্নমানের বিরিয়ানি বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। সব মিলিয়ে পুজোর আগে রাজ্যে খাবারের মান ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ল।

    ভাগাড়ের মাংসকাণ্ড (Food Safety Raids)

    ২০১৮ সালে ভাগাড়ের মাংস কাণ্ডে কার্যত তোলপাড় হয়েছিল কলকাতা-সহ গোটা রাজ্য। অভিযোগ উঠেছিল, ভাগাড়ে পড়ে থাকা মৃত পশুর মাংস সংগ্রহ করে রাস্তার ধারের খাবারের দোকান, রেস্তোরাঁ, ক্যাফে-সহ বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হচ্ছিল। সেই মাংস দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে নানা রাসায়নিক ব্যবহার করা হত বলেও অভিযোগ সামনে এসেছিল। পরে ওই মাংস মাছের স্তূপের আড়ালে করে অন্য রাজ্যেও পাচার করার অভিযোগ ওঠে। বসিরহাটের বাদুড়িয়ায় এই চক্রের বড়সড় হদিশ মেলার পর রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছিল ধরপাকড় ও নজরদারি।

    এবার ২০২৬ সালে পুজোর ঠিক আগে ফের সেই বাদুড়িয়াতেই উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ পচা মাংস ও মাছ। খাদ্য দফতর, পুরসভা এবং এনফোর্সমেন্ট শাখার যৌথ অভিযানে একটি নামী রেস্তরাঁ থেকে প্রায় ৪০ কেজি পচা মাংস উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে মুরগি ও খাসির মাংস ছিল বলে জানা গিয়েছে। বিপুল পরিমাণ পাঁঠার মাংস পচে যাওয়ার পরেও, তা ফ্রিজে মজুত করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই মাংস রান্না করে সাধারণ মানুষকে পরিবেশন করা হচ্ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযানের পর সংশ্লিষ্ট রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

    কলকাতা থেকে মধ্যমগ্রাম, একই ছবি

    শুধু বাদুড়িয়াতেই নয়, কলকাতা, সল্টলেক, মধ্যমগ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পূর্ব বর্ধমানের একাধিক নামী রেস্তরাঁতেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। কোথাও ফ্রিজ খুলতেই তীব্র দুর্গন্ধ বেরিয়েছে। কোথাও মাংসে ছত্রাক ধরেছে। আবার কোনও কোনও জায়গায় দীর্ঘদিনের পুরনো চিংড়ি মাছ ফ্রিজে মজুত করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

    কলকাতার ট্যাংরার চায়না টাউনে চাইনিজ খাবারের জন্য প্রতিদিনই বহু মানুষ যাতায়াত করেন। সেই ট্যাংরার একটি পরিচিত রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০০ কেজি মাছ-মাংস উদ্ধার করেছে কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য দফতর। উদ্ধার হওয়া কোনও প্যাকেটেই তারিখ উল্লেখ ছিল না বলে জানা গিয়েছে। পরে সেগুলি বাজেয়াপ্ত করে ধাপায় নিয়ে গিয়ে নষ্ট করে ফেলা হয়।

    রেস্তরাঁটির মালিক অবশ্য দাবি করেছেন, মাংসগুলি দীর্ঘদিনের পুরনো নয়। তাঁর বক্তব্য, তাঁদের রেস্তোরাঁয় প্রতিদিন প্রায় ৮০ কেজি মাংসের প্রয়োজন হয় এবং উদ্ধার হওয়া মজুত তিন দিনের মতো ছিল।

    মধ্যমগ্রামে ফ্রিজ খুলতেই দুর্গন্ধ

    উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের যশোর রোডের ধারে একটি শপিং মলের খাবারের জায়গায় খাদ্য দফতর, পুরসভা ও এনফোর্সমেন্ট শাখার যৌথ অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি নামী খাবারের দোকানের ফ্রিজ ও রান্নাঘরে ঢুকতেই খাদ্য দফতরের আধিকারিকদের নজরে আসে পচা মাংস এবং মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার (Food Safety Raids)।

    অভিযোগ, সেখানে ছত্রাক ধরা পচা মাংস, মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া খাবারের প্যাকেট এবং পানীয় জলের বোতল পাওয়া যায়। পরিস্থিতি দেখে ঘটনাস্থলেই সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হয়। আধিকারিকরা পৌঁছনোর পর কর্মীরা পচা খাবার ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    সল্টলেকের তথ্যপ্রযুক্তি এলাকাতেও পচা মাংস

    সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে একটি রেস্তরাঁয় অভিযান চালিয়েও মিলেছে পচা মাংস। আরডিবি ভবনের কাছে ওই রেস্তরাঁর সংরক্ষণাগারে কাঁচা মাংস ভর্তি ছিল। সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বেরোচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। খাবারের বিষয়ে কৈফিয়ৎ চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। এরপর তাঁর দোকানের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

    উদ্ধার হওয়া মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে আসার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর (Rotten Meat)।

    দিঘায় বিরিয়ানি নিয়েও উঠল অভিযোগ

    পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র দিঘাতেও খাবারের মান নিয়ে গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রায় সারা বছরই এখানে হাজার হাজার পর্যটক আসেন। সেই দিঘার ২০টি হোটেল ও রেস্তরাঁয় অভিযান চালিয়ে নিম্নমানের বিরিয়ানি বিক্রির অভিযোগ পেয়েছে খাদ্য সুরক্ষা দফতর।

    অভিযোগ, বিরিয়ানিতে খাবারের উপযোগী রঙের পরিবর্তে রাসায়নিক মেশানো বিষাক্ত রং ব্যবহার করা হচ্ছিল। অনেক ক্ষেত্রে বেশ কয়েক দিন আগে রান্না করা মাংস ফের গরম করে বিক্রি করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিক বিশ্বজিৎ মান্না বলেন, “দিঘার ২০টি হোটেল-রেস্তরাঁয় অভিযান চালিয়ে ১৫টি থেকে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে মান যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে। ১২টি হোটেলকে আইনি নোটিশ ধরানো হয়েছে (Rotten Meat)।”

    হুগলিতে মিষ্টিতে হোলির রং, বেকারিতে পোকা ধরা ময়দা

    বাঙালির অন্যতম প্রিয় খাবার মিষ্টি নিয়েও এবার উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হুগলির আরামবাগে কয়েকটি মিষ্টির দোকানে খাবারে ব্যবহারের জন্য রাখা রঙের মধ্যে হোলিতে খেলার রং পাওয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও দোকানদারদের দাবি, দোলের সময় ব্যবহারের পর ওই রঙের কৌটো রান্নাঘরে থেকে গিয়েছিল। মিষ্টি তৈরিতে সেই রং ব্যবহার করা হয় না বলেই তাঁদের দাবি।

    আরামবাগের খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক যদুনাথ হেমব্রম বলেন, “মিষ্টিতে রং মেশানো হচ্ছে। আর সেই রং হল হোলির রং। এই রং দিয়ে হোলি খেলা হয়। দোকানের তরফ থেকে দাবি করা হচ্ছে, হোলির সময় থেকে রঙের কৌটোটা কোনও ভাবে ওখানে রয়ে গিয়েছে। কিন্তু যেখানে মিষ্টি তৈরি হয়, সেই জায়গা থেকেই এই রং উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে সাজানো ছিল। অন্যান্য রঙের সঙ্গেই এই হোলির রংটা রাখা ছিল।”

    হুগলির ভদ্রেশ্বরেও একটি বেকারিতে অভিযান চালিয়ে কেক, বিস্কুট ও পাউরুটি তৈরির উপকরণে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। পোকা ধরা ময়দা ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে (Rotten Meat)।

    বর্ধমানে পচা মাংস, মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির

    পূর্ব বর্ধমানেও খাবারের মান নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। বর্ধমান শহরের কয়েকটি মিষ্টির দোকানে মেয়াদ উত্তীর্ণ পনির পাওয়া যায়। খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা সেই পনির নষ্ট করে দেন। পাশাপাশি মেয়াদ উত্তীর্ণ আইসক্রিম ও ঠান্ডা পানীয়ও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে (Food Safety Raids)।

    শুধু শহরেই নয়, বর্ধমানের শক্তিগড়ের বিখ্যাত ল্যাংচা এলাকাতেও অভিযান চালানো হয়। খাবারের গুণগত মান যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

    পুজোর আগে একের পর এক এমন ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, মানুষের খাবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি কতটা কার্যকর। বিশেষ করে উৎসবের মরসুমে রেস্তরাঁ ও খাবারের দোকানে ক্রেতার সংখ্যা যখন কয়েক গুণ বেড়ে যায়, তখন পচা, বাসি কিংবা মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার বিক্রির মতো অভিযোগ আরও উদ্বেগজনক। প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকলেও, পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর সাধারণ মানুষের (Rotten Meat)।

     

  • Uttam Kumar Tollygunge Tribute: জন্মশতবর্ষে মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে তারকার মেলা টালিগঞ্জে! শুভেন্দুর আবেদনে উত্তম কুমারকে প্রথম মাল্যদান রঞ্জিত মল্লিকের

    Uttam Kumar Tollygunge Tribute: জন্মশতবর্ষে মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে তারকার মেলা টালিগঞ্জে! শুভেন্দুর আবেদনে উত্তম কুমারকে প্রথম মাল্যদান রঞ্জিত মল্লিকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষে বৃহস্পতিবার আবেগ ও স্মৃতিতে ভাসল কলকাতা। টালিগঞ্জে মহানায়কের মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে এদিন টালিগঞ্জে কার্যত বসেছিল চাঁদের হাট। বাংলা চলচ্চিত্র জগতের একের পর এক তারকা, পরিচালক, শিল্পী ও কলাকুশলীর উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।

    রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ, ঋতুপর্ণা, দেব, জিৎ থেকে শুরু করে পরিচালক গৌতম ঘোষ—মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে হাজির ছিলেন টলিউডের বহু পরিচিত মুখ। উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী, অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ-সহ আরও অনেকে। উত্তম কুমারের সঙ্গে কাজ করা প্রবীণ শিল্পীদের পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উপস্থিতিও এদিনের অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।

    রঞ্জিত মল্লিকের হাতেই প্রথম মাল্যদান

    বাংলা চলচ্চিত্র জগতের প্রবীণ অভিনেতা এবং উত্তম কুমারের সহকর্মী হিসেবে রঞ্জিত মল্লিকের হাতেই প্রথম মাল্যদানের আবেদন করেন শুভেন্দু। সেই মতো নিজের সহকর্মী ও বাংলার মহানায়ক উত্তম কুমারের মূর্তিতে প্রথমে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান রঞ্জিত মল্লিক। এরপর মুখ্যমন্ত্রী নিজে মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানান। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাব রঞ্জিত মল্লিককে। প্রথা অনুযায়ী আমাকে বলা হয়েছিল মালা দিতে কিন্তু আমার মনে হয় ওঁর হাত দিয়েই সূচনা হওয়া উচিত।’এরপর অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের মতো একটি বিশেষ বছরে তাঁকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

    উত্তম কুমারের ব্যাপ্তি বাংলা ছাড়িয়ে দেশ-বিদেশে

    মহানায়ককে স্মরণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি শ্রদ্ধা জানানোর আগেই প্রধানমন্ত্রী উত্তম কুমারকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, মহানায়কের জনপ্রিয়তা ও সাংস্কৃতিক প্রভাব বাংলা কিংবা ভারতের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, তা ছড়িয়ে রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। শুভেন্দু বলেন, ‘মহানায়ক সম্পর্কে আমি পোস্ট করার আগে, একদম সকালে মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।’

    ‘গোটা দেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের দিন’, মহানায়ককে শ্রদ্ধা মুখ্যমন্ত্রীর

    জন্মশতবর্ষে উত্তম কুমারকে স্মরণ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘আজ শুধু বাংলার নয়, গোটা দেশের জন্যই অত্যন্ত গর্বের দিন। বাংলার মাটিতে জন্ম নেওয়া মহানায়কের শিল্পসৃষ্টি এখনও কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে অমলিন হয়ে রয়েছে।’’ উত্তম কুমারের জনপ্রিয়তা ও অবদান নিয়ে নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতিতে অমর হয়ে রয়েছেন উত্তম কুমার। সমস্ত বাঙালি গর্বিত।’’

    মহানায়কের জন্মশতবর্ষ বিশেষভাবে উদ্‌যাপন

    উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে রাজ্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, যেমন শ্যামাপ্রসাদের জন্মবার্ষিকীকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পালন করা হয়েছে, তেমনই মহানায়কের জন্মশতবর্ষও বিশেষভাবে উদ্‌যাপন করা হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমরা যেমন শ্যামাপ্রসাদের জন্মবার্ষিকীকে গুরুত্ব দিয়েছি, মহানায়কের ক্ষেত্রেও তাই। আগামিকাল উত্তমকুমার নামাঙ্কিত প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। তার ভূমি পুজো আছে, আমরা অনুষ্ঠান করব। অনেকগুলো প্রোগ্রাম নিয়েছি,  চারদিন ব্যাপী প্রোগ্রাম আছে।’

    একাধিক উদ্যোগের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    জন্মশতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজ্য সরকারের তরফে একাধিক উদ্যোগের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর চার দিনের অনুষ্ঠানেই আয়োজন সীমাবদ্ধ থাকছে না। বছরভর মহানায়ককে কেন্দ্র করে নানা কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তম মঞ্চের সংস্কার, মহানায়কের বিভিন্ন মূর্তি সাজানো এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে উত্তম কুমারের জীবন ও কর্মকে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    আহিরীটোলা থেকে টালিগঞ্জ, জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য

    উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। জন্মদিনের সকালে তাঁর জন্মস্থান আহিরীটোলা এবং দীর্ঘ কর্মজীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা টালিগঞ্জে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বিজলী সিনেমা হলের সামনেও মহানায়ককে স্মরণ করে বিশেষ আয়োজন রয়েছে। তাঁর জনপ্রিয় ছবির দৃশ্য ও চরিত্রকে সামনে রেখে সাজানো হচ্ছে এলাকা। পাশাপাশি কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরবে পাঁচটি বিশেষ এলইডি ভ্যান। সেখানে প্রদর্শিত হবে উত্তম কুমারের অভিনীত জনপ্রিয় ছবির নানা দৃশ্য এবং তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনের স্মরণীয় মুহূর্ত।

    নন্দন থেকে বিড়লা তারামণ্ডল, ‘ট্রিবিউট ওয়াক’

    জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের অন্যতম আকর্ষণ ‘ট্রিবিউট ওয়াক’। নন্দন চত্বর থেকে শুরু হয়ে এসএসকেএম, অ্যাকাডেমি, সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল এবং বিড়লা তারামণ্ডল হয়ে গগনেন্দ্র প্রদর্শনশালা পর্যন্ত এই পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। রবীন্দ্রসদন প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন এলাকাতেও এদিন বিশেষ কর্মসূচি রয়েছে। বাংলা চলচ্চিত্র জগতের তারকা ও কলাকুশলীদের পাশাপাশি লোকশিল্পী এবং উত্তম কুমারের সঙ্গে কাজ করা অভিনেতা, অভিনেত্রী ও প্রযুক্তিবিদরাও এই আয়োজনে অংশ নেবেন। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মহানায়কের পরিবারের সদস্যরাও এই পদযাত্রায় পা মেলাবেন বলে জানা গিয়েছে।

    প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, কেক-পায়েস, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    সন্ধ্যায় একতারা মুক্তমঞ্চে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। থাকবে কেক কাটা ও পায়েস খাওয়ার আয়োজনও। এরপর শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মহানায়ক উত্তম কুমারের জীবন ও কর্মকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ প্রদর্শনীরও উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিনয়জীবনের বিভিন্ন দিক, জনপ্রিয় ছবি এবং বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান তুলে ধরা হবে সেই প্রদর্শনীতে।

    নিউ টাউনে তৈরি হবে ‘উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার’

    জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের অন্যতম বড় ঘোষণা নিউ টাউনে প্রস্তাবিত ‘উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার’। আধুনিক চলচ্চিত্র পরিকাঠামোকে সামনে রেখে এই কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত ফিল্ম সেন্টারে প্রায় এক হাজার আসনের অডিটোরিয়াম, ওপেন-এয়ার থিয়েটার-সহ একাধিক আধুনিক পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। মহানায়কের নামে এই কেন্দ্র ভবিষ্যতে বাংলা চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক পরিসর হয়ে উঠবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

    নন্দন থেকে রাধা স্টুডিও, পর্দায় ফিরবেন মহানায়ক

    চার দিনের জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনে বিশেষ চলচ্চিত্র উৎসবেরও আয়োজন করা হয়েছে। নন্দন-১, নন্দন-২ এবং রাধা স্টুডিওতে প্রদর্শিত হবে উত্তম কুমারের একাধিক জনপ্রিয় ও নির্বাচিত ছবি। সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী ‘নায়ক’ দিয়ে এই বিশেষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর সূচনা হওয়ার কথা। পাশাপাশি নন্দন, রাধা স্টুডিও-সহ বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে মহানায়কের আরও একাধিক ছবি দেখানো হবে। বিজলী সিনেমা হলের সামনেও উত্তম কুমারের ছবি দিয়ে তৈরি বিশেষ কাটআউট বসানো হবে। সিনেমা, গান, নৃত্য, আলোচনা এবং প্রদর্শনীর মাধ্যমে মহানায়কের শিল্পজীবনকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

    উত্তমের সহশিল্পীদের বিশেষ সম্মান

    জন্মশতবর্ষে উত্তম কুমারের সঙ্গে কাজ করা প্রবীণ শিল্পীদেরও বিশেষভাবে সম্মান জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছেন সবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায়, লিলি চক্রবর্তী, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিক, দীপঙ্কর দে, শকুন্তলা বড়ুয়া এবং মিঠুন চক্রবর্তী-সহ একাধিক বিশিষ্ট শিল্পী।এছাড়াও ইন্ডিয়া পোস্টের উদ্যোগে মহানায়ককে উৎসর্গ করে প্রকাশ করা হবে বিশেষ স্মারক খাম ও ডাকটিকিট।

    ‘নায়িকাদের চোখে উত্তমকুমার’ থেকে ‘অভিনেতা উত্তমকুমার’

    ৬ সেপ্টেম্বর শিশির মঞ্চে হবে দুটি বিশেষ আলোচনা সভা। একটি ‘নায়িকাদের চোখে উত্তমকুমার’, অন্যটি ‘অভিনেতা উত্তমকুমার’। মহানায়কের সমসাময়িক শিল্পীদের পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও এই আলোচনায় অংশ নেবেন। চার দিনের এই বিশেষ উদ্‌যাপনের শেষ হবে রবীন্দ্রসদনে। সেখানে আয়োজিত হবে বিশেষ সঙ্গীত ও নৃত্যানুষ্ঠান।

  • BCCI on Players Fitness: ‘১০০ শতাংশ নয়, ২০০ শতাংশ নিশ্চিত হলেই দলে’, আফগানিস্তান সিরিজে ফিটনেস নিয়ে সতর্ক বিসিসিআই

    BCCI on Players Fitness: ‘১০০ শতাংশ নয়, ২০০ শতাংশ নিশ্চিত হলেই দলে’, আফগানিস্তান সিরিজে ফিটনেস নিয়ে সতর্ক বিসিসিআই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আসন্ন টি-২০ সিরিজের আগে ক্রিকেটারদের ফিটনেস নিয়ে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) এবং বেঙ্গালুরুর সেন্টার অব এক্সেলেন্স (CoE)। ১ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজের জন্য ভারতীয় দল ঘোষণা করা হলেও চার ক্রিকেটারের দলে থাকা এখনও তাঁদের ফিটনেসের উপর নির্ভরশীল। সেই তালিকায় রয়েছেন পেসার জসপ্রীত বুমরাহ, অলরাউন্ডার নীতীশ কুমার রেড্ডি, ওয়াশিংটন সুন্দর এবং পেসার হর্ষিত রানা। সাম্প্রতিক সময়ে চোটের কারণে শেষ মুহূর্তে ক্রিকেটার বদলের ঘটনা একাধিকবার ঘটায় এবার কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না সেন্টার অব এক্সেলেন্স। একজন ক্রিকেটারকে ফিট ঘোষণা করার আগে শুধু ১০০ শতাংশ নয়, বরং ‘২০০ শতাংশ নিশ্চিত’ হতে চাইছে তারা। বিসিসিআই সূত্রে খবর, “কোনও ক্রিকেটারকে দলে ফেরানোর আগে তাঁর ফিটনেস নিয়ে ১০০ শতাংশ নয়, ২০০ শতাংশ নিশ্চিত হতে চায় বোর্ড।”

    শেষ মুহূর্তে ক্রিকেটার বদলের জের

    সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক সফরে চোট ও ফিটনেস সমস্যার কারণে দল ঘোষণার পরেও ক্রিকেটার বদল করতে হয়েছে ভারতকে। ইংল্যান্ড সফরে ফিট না থাকায় হর্ষিত রানার পরিবর্তে দলে নেওয়া হয়েছিল প্রিন্স যাদবকে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচের পর অধিনায়ক শুভমন গিলও ক্রিকেটারদের ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর মতে, শেষ মুহূর্তে ক্রিকেটারদের বাদ পড়া দলের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলে। এছাড়াও সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুই টেস্টের সিরিজ থেকে জসপ্রীত বুমরাহ এবং সাই সুদর্শন ছিটকে গেলে তাঁদের পরিবর্তে দলে নেওয়া হয় অকিব নবি ও সরফরাজ খানকে। ইংল্যান্ড সফরে চোটের কারণে নীতীশ কুমার রেড্ডির পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছিলেন সূর্যাংশ শেডগে। আবার জিম্বাবোয়ে সিরিজে রবি বিষ্ণোইকে দলে নেওয়া হয়েছিল বরুণ চক্রবর্তীর পরিবর্তে।

    ফিটনেস নিয়ে ভিভিএস লক্ষ্মণ

    ক্রিকেটারদের দল ঘোষণার পর চোটের কারণে ছিটকে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আগেই মুখ খুলেছিলেন বেঙ্গালুরুর সেন্টার অব এক্সেলেন্স-এর প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণ। তাঁর বক্তব্য ছিল, দল পরিচালনাকারী টিম এবং সিওই-এর মধ্যে ক্রিকেটারদের ফিটনেস নিয়ে স্পষ্ট যোগাযোগ রয়েছে। লক্ষ্মণ জানিয়েছিলেন, অনেক সময় কোনও সিরিজ শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই দল নির্বাচন করতে হয়। সেই কারণে কিছু ক্রিকেটারকে ‘ফিটনেস সাপেক্ষে’ দলে রাখা হয়। নির্ধারিত ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলে তাঁদের পরিবর্তে অন্য ক্রিকেটারকে দলে নেওয়া হয়। লক্ষ্মণের কথায়, দল ঘোষণার সময়ই স্পষ্ট করে দেওয়া হয় যে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটাররা ফিটনেস সাপেক্ষে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে নির্বাচকদের কাছে বিকল্প ক্রিকেটারের নামও প্রস্তুত থাকে।

    রেড্ডি ও সুন্দরকে নিয়ে কোনও তাড়াহুড়ো নয়

    নীতীশ কুমার রেড্ডি ও ওয়াশিংটন সুন্দরকে নিয়েও কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না সিওই। কোয়াড্রিসেপসের চোটের কারণে রেড্ডি ইংল্যান্ড ও জিম্বাবোয়ে সফরে খেলতে পারেননি। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচেও খেলতে পারেননি সুন্দর। পরে জিম্বাবোয়ে টি-২০ সিরিজ থেকেও তাঁকে বাদ দেওয়া হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেড্ডি-সহ চোট থেকে ফেরা ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে কোনও রকম তাড়াহুড়ো করবে না সিওই। সম্পূর্ণ সুস্থতা নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরেই তাঁদের মাঠে ফেরানো হবে। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের টি-২০ সিরিজ শুরু হবে ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে। সিরিজ শুরুর আগে হাতে এখনও এক সপ্তাহের বেশি সময় থাকায় চোটগ্রস্ত ক্রিকেটারদের ফিট হয়ে ওঠার জন্য পর্যাপ্ত সময় রয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে কোনও ঝুঁকি না নিয়ে ফিটনেস পরীক্ষায় সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট হওয়ার পরেই তাঁদের খেলার অনুমতি দিতে চাইছে বিসিসিআই।

  • Ram Mandir Trust: অযোধ্যায় রামমন্দির প্রকল্পে বড় রদবদল, নয়া সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ দেব গিরি

    Ram Mandir Trust: অযোধ্যায় রামমন্দির প্রকল্পে বড় রদবদল, নয়া সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ দেব গিরি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রামমন্দির প্রকল্পের প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কাজ (Ram Mandir Trust) আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সিদ্ধান্ত নিল শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। ২ সেপ্টেম্বর অযোধ্যায় অনুষ্ঠিত ট্রাস্টের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে একাধিক নতুন পদাধিকারী নিয়োগ করা হয়েছে (Govind Dev Giri)। এর মধ্যে আধ্যাত্মিক নেতা গোবিন্দ দেব গিরিকে ট্রাস্টের নতুন সাধারণ সম্পাদক, মহেশ ভাগচন্দকাকে ট্রাস্টি ও কোষাধ্যক্ষ, আইনজীবী মদন মোহন পাণ্ডেকে ট্রাস্টি এবং নির্মলা যাদবকে ট্রাস্টি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্রকে ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (Ram Mandir Trust)

    নতুন নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সংগঠনের আন্তর্জাতিক সভাপতি তথা প্রবীণ আইনজীবী অলোক কুমার বিশেষভাবে গোবিন্দ দেব গিরিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁর আশা, গিরির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক দক্ষতা ট্রাস্টের কাজকে আরও সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    ট্রাস্টের এই সাংগঠনিক পরিবর্তনকে রামমন্দির প্রকল্পের পরবর্তী পর্যায়ের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মন্দির নির্মাণের পাশাপাশি অযোধ্যায় সংশ্লিষ্ট বৃহত্তর উন্নয়নমূলক কাজের দায়িত্বও ট্রাস্টের উপর রয়েছে। সেই কাজ আরও কার্যকর, স্বচ্ছ এবং সমন্বিতভাবে পরিচালনার লক্ষ্যেই নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে বলে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বক্তব্য।

    সাধারণ সম্পাদক পদে গোবিন্দ দেব গিরি

    গোবিন্দ দেব গিরির নিয়োগকে এই বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আধ্যাত্মিক ও সাংগঠনিক ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ জানিয়েছে, নতুন দায়িত্বে তিনি ট্রাস্টকে প্রয়োজনীয় দিশা দিতে পারবেন। অলোক কুমার তাঁর দায়িত্ব গ্রহণে শুভেচ্ছা জানিয়ে আস্থা প্রকাশ করেছেন যে, গিরির অভিজ্ঞতা ট্রাস্টের সাংগঠনিক কাজকে আরও শক্তিশালী করবে।

    রামমন্দির নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কাজ ক্রমশ বিস্তৃত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন্দির প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রশাসনিক সমন্বয়, বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যোগাযোগ এবং ভবিষ্যতের কাজের পরিকল্পনায় এই পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

    ট্রাস্টি ও কোষাধ্যক্ষ মহেশ ভাগচন্দকা

    বৈঠকে মহেশ ভাগচন্দকাকে ট্রাস্টি এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দাবি, রাম জন্মভূমি আন্দোলনের একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই তিনি এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    অশোক সিংঘল ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেও তিনি হিন্দুত্বের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কাজে অবদান রেখেছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সংগঠনের মতে, রাম জন্মভূমি আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং অভিজ্ঞতা ট্রাস্টের নতুন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মূল্যবান হবে (Govind Dev Giri)।

    কোষাধ্যক্ষ হিসেবে তাঁর দায়িত্বও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মন্দির প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট কাজের সমন্বয় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সেই জায়গায় তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে মনে করছে সংগঠনটি (Ram Mandir Trust)।

    আইনজীবী মদন মোহন পাণ্ডে হলেন ট্রাস্টি

    আইনজীবী মদন মোহন পাণ্ডেকেও ট্রাস্টি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। রামমন্দির নির্মাণের পক্ষে মামলার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।

    ট্রাস্টে তাঁর অন্তর্ভুক্তিকে আইনি ও বিচারিক অভিজ্ঞতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মন্দির প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিষয়ে আইনি পরামর্শ, নথিপত্র, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যতের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা ট্রাস্টকে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

    বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বক্তব্য, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া জ্ঞান ট্রাস্টের কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক ও আইনি দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করবে।

    নির্মলা যাদবের অন্তর্ভুক্তি, বাড়ল মহিলা প্রতিনিধিত্ব

    ট্রাস্টের নতুন ট্রাস্টি হিসেবে নির্মলা যাদবের নিয়োগও উল্লেখযোগ্য। তাঁর অন্তর্ভুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ জানিয়েছে, এর ফলে ট্রাস্টে প্রতিনিধিত্বের পরিসর আরও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে রামমন্দির প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কাজে মহিলাদের ভূমিকার স্বীকৃতিও এই নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে বলে সংগঠনটির বক্তব্য (Ram Mandir Trust)।

    অলোক কুমার মনে করেন, সীতা ও রামের পবিত্র ভূমির সঙ্গে যুক্ত এই বৃহৎ কাজে মহিলাদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, নির্মলা যাদবের উপস্থিতি ট্রাস্টের কাজের ক্ষেত্রে আরও সংবেদনশীলতা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং অন্তর্ভুক্তির মানসিকতা তৈরি করবে।

    প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র

    বৈঠকের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হল অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্রকে ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ তাঁকে অভিজ্ঞ, সম্মানিত এবং দক্ষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাঁর দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা ট্রাস্টের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে সাহায্য করবে বলে সংগঠনটির আশা।

    পূর্ণকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়টিও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের পরিধি ক্রমশ বাড়ছে। ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, বিভিন্ন কাজের মধ্যে সমন্বয়, সময়সীমা বজায় রাখা এবং কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য একজন পূর্ণকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে নতুন কাঠামো

    নতুন নিয়োগগুলির দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, আধ্যাত্মিক, আইনি, প্রশাসনিক, আর্থিক এবং সাংগঠনিক—বিভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাকে একই কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। গোবিন্দ দেব গিরির আধ্যাত্মিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, মহেশ ভাগচন্দকার দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও আর্থিক দায়িত্বের অভিজ্ঞতা, মদন মোহন পাণ্ডের আইনি জ্ঞান, নির্মলা যাদবের অন্তর্ভুক্তি এবং জিতেন্দ্র মিশ্রের প্রশাসনিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে ট্রাস্টের কাজের পরিধিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে (Ram Mandir Trust)।

    বিশ্ব হিন্দু পরিষদ জানিয়েছে, নতুন সদস্যদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শ্রী রামমন্দিরের সঙ্গে যুক্ত বৃহৎ প্রকল্পের কাজ আরও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অযোধ্যার বৃহত্তর উন্নয়নমূলক কাজকেও এগিয়ে (Govind Dev Giri) নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে আশা সংগঠনটির।

    অলোক কুমার সমস্ত নবনিযুক্ত সদস্যকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁদের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা ট্রাস্টের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আস্থা প্রকাশ করেন তিনি। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বক্তব্যে শেষ পর্যন্ত অযোধ্যার এই কর্মকাণ্ডকে বৃহত্তর আদর্শের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সংগঠনটির আশা, নতুন সাংগঠনিক কাঠামো এবং নেতৃত্বের মাধ্যমে অযোধ্যায় চলা কাজ এমন এক পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে, যা রামরাজ্যের সঙ্গে যুক্ত আদর্শগুলিকে প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে (Ram Mandir Trust)।

     

  • Durga Puja 2026: মহালয়ায় মেগা শো, দেবীপক্ষে মাতবে ইডেন! আগমনীর আয়োজনে শুভেন্দু সরকার, থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী মোদিও

    Durga Puja 2026: মহালয়ায় মেগা শো, দেবীপক্ষে মাতবে ইডেন! আগমনীর আয়োজনে শুভেন্দু সরকার, থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী মোদিও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতিমধ্যেই ইউনেস্কো (UNESCO)-র ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’-এর স্বীকৃতি পেয়েছে বাঙলার দুর্গাপুজো (Durga Puja 2026)। এবার উৎসবের দিনগুলোতে কলকাতাকে গ্লোবাল পুজো ডেস্টিনেশন করার ভাবনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Sevendu Adhikari)। রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলায় এই প্রথমবার দুর্গাপুজো (Durga Puja 2026)। এই আবহে পরিবর্তনের বাংলায় এবার বিজেপি সরকার (Government Of West Bengal) আনছে নয়া চমক। এই প্রথমবার মহালয়ার দিন কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে (Eden Gardens) নজিরবিহীন এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করছে সরকার। আগমনী সুর গঙ্গার প্রান্ত দিয়ে ভেসে যাবে শহরের আকাশে-বাতাসে। আগমনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নবান্নের শীর্ষ সূত্রের দাবি, বাংলার দুর্গাপুজোকে বিশ্বের সামনে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরাই হবে এই মেগা শোয়ের মূল উদ্দেশ্য।

    প্রস্তুতি শুরু, দরপত্র আহ্বান

    সরকারি সূত্রে খবর, মহালয়ার এই অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের তরফে প্রয়োজনীয় কাজের জন্য দরপত্র ডাকার প্রক্রিয়াও এগিয়েছে। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক চললে আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে হবে সেই মেগা অনুষ্ঠান (Mahalaya Agamani Event)। প্রতি বছর দুর্গাপুজোর শেষে কলকাতায় রেড রোডে পুজো কার্নিভালের আয়োজন করা হয়। সেখানে শহরের নির্বাচিত প্রতিমা ও পুজো কমিটিগুলি অংশ নেয়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকার এ বার শুধু বিসর্জন-পরবর্তী কার্নিভালের মধ্যে উৎসবের প্রচার সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না। বরং সরকারের শীর্ষ এক নেতার কথায়, কার্নিভাল ছিল সরকার পোষিত কিছু পুজোকে নিয়ে ভাঙা পুজোর হাট। তা গোটা রাজ্যের মানুষকে স্পর্শ করত না।

    কেন মহালয়ার দিনেই মেগা-শো

    মহালয়া বাঙালির কাছে শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় তিথি নয়। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’, তর্পণ এবং দেবীর আগমনী বার্তা—সব মিলিয়ে বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনের সঙ্গে দিনটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেই আবেগকে কেন্দ্র করেই ইডেনে আলো, সঙ্গীত, নৃত্য এবং বাংলার লোকসংস্কৃতির সমন্বয়ে একটি বৃহৎ উপস্থাপনার ভাবনা রয়েছে। নবান্নের পরিকল্পনা, মহালয়ার দিন থেকেই গোটা রাজ্যে পুজোর আবহকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরা। পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের সূচনার দিনটিকেই তাই বেছে নেওয়া হয়েছে।

    ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠান, সিএবি-র সম্মতির অপেক্ষা

    কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ইডেন গার্ডেন্স শুধু দেশের অন্যতম ঐতিহাসিক ক্রিকেট মাঠ নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও পরিচিত একটি জায়গা। বিপুল দর্শক ধারণের ক্ষমতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিশ্বজোড়া পরিচিতির কারণেই মেগা শোয়ের সম্ভাব্য মঞ্চ হিসেবে ইডেনকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে ক্রিকেটের মরশুম, মাঠের সুরক্ষা, সিএবি-র সম্মতি এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থার মতো একাধিক বিষয় রয়েছে। ফলে অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে রাজ্য সরকারকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

    কী থাকতে পারে মহালয়ার মেগা অনুষ্ঠানে

    অনুষ্ঠানের রূপরেখা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে সরকারি সূত্রের দাবি, বাংলার দুর্গাপুজোর ইতিহাস, দেবীর আগমনী, বিভিন্ন জেলার লোকসংস্কৃতি, ঢাক, ধুনুচি নাচ, ছৌ এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী শিল্পধারাকে একটি সুবিশাল সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্যে আনার পরিকল্পনা চলছে। শুধু কলকাতার শিল্পীরাই নন, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক শিল্পী ও ঢাকিকে এই অনুষ্ঠানে যুক্ত করা হতে পারে। একই সাজে এবং একই ছন্দে কয়েক হাজার শিল্পীর সমবেত পরিবেশনার কথাও ভাবা হচ্ছে। নবান্নের এক শীর্ষ সূত্রের কথায়, আয়োজনের ব্যাপ্তি এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, যাতে তা গোটা দেশের নজর কাড়ে। অনুষ্ঠানটি বিভিন্ন ডিজিটাল ও সম্প্রচার মাধ্যমে দেখানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যটন প্রচারের অংশ হিসেবেও ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

    অসমের রেকর্ড ভাঙবে বাঙলা

    ইডেনের অনুষ্ঠানের পরিকল্পনায় অসমের মেগা বিহু উৎসবের মডেলও আলোচনায় রয়েছে বলে খবর। ২০২৩ সালের ১৩ ও ১৪ এপ্রিল গুয়াহাটির সরুসজাই স্টেডিয়ামে অসম সরকার একটি বিশাল বিহু নৃত্য ও ঢোলবাদনের আয়োজন করেছিল। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সরকারের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার শিল্পী একই সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ১১,৩০৪ জন নৃত্যশিল্পী ও বাদ্যযন্ত্রী সমবেত বিহু পরিবেশনায় যোগ দেন। গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের (Guinness World Records) চূড়ান্ত নথিতে বৃহত্তম বিহু নৃত্যে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১১,২৯৮ বলে উল্লেখ রয়েছে। একই অনুষ্ঠানে ২,৫৪৮ জন ঢোলবাদক একসঙ্গে পরিবেশন করে আরও একটি রেকর্ড গড়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে অসম সরকারের হাতে রেকর্ডের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল। অসমের সংস্কৃতিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার ক্ষেত্রে সেই অনুষ্ঠান বড় সাফল্য পেয়েছিল। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, বাংলার অনুষ্ঠানটির ব্যাপ্তিও এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ভাবনা রয়েছে, যা অসমের আয়োজনকে ছাপিয়ে যেতে পারে।

    ৬৫ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড!

    মহালয়ার মেগা অনুষ্ঠান সফল হলে পুজোর প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকেই দেশ-বিদেশের পর্যটকদের নজর কলকাতার দিকে ঘোরানো সম্ভব হবে। এর ফলে হোটেল, বিমান পরিষেবা, রেল, পরিবহণ, খাদ্য এবং খুচরো ব্যবসায় অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হতে পারে। বিভিন্ন সমীক্ষা ও বাণিজ্যিক হিসাব অনুযায়ী, দুর্গাপুজোর সময় বাংলায় সংগঠিত ও অসংগঠিত ক্ষেত্র মিলিয়ে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হতে পারে। তাই উৎসবের প্রাণবন্ত চরিত্র বজায় রাখা সরকারের কাছেও একটি বড় অর্থনৈতিক প্রয়োজন। সেই কথা মাথায় রেখেই দেবীপক্ষের শুরুটা জমজমাট করতে চাইছে সরকার।

     

  • Uttam Kumar Birth Centenary: জন্মশতবর্ষে মহানায়ক উত্তম কুমারকে শ্রদ্ধা মোদি-শুভেন্দুর, আবেগঘন বার্তায় স্মরণ কিংবদন্তি অভিনেতাকে

    Uttam Kumar Birth Centenary: জন্মশতবর্ষে মহানায়ক উত্তম কুমারকে শ্রদ্ধা মোদি-শুভেন্দুর, আবেগঘন বার্তায় স্মরণ কিংবদন্তি অভিনেতাকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি এক অনন্য অধ্যায়। কোটি কোটি বাঙালির কাছে আজও তিনি শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি চিরকালের ‘মহানায়ক’। ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার ভবানীপুরে জন্ম নেওয়া অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায় পরবর্তীকালে উত্তম কুমার নামে রুপোলি পর্দায় এমন এক জাদু সৃষ্টি করেছিলেন, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সমান উজ্জ্বল। তাঁর জন্মের ১০০ বছর পূর্তিতে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

    জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বিশেষ ভিডিও পোস্ট প্রধানমন্ত্রীর

    মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সমাজমাধ্যমে একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই ভিডিওতে মহানায়কের জীবনের নানা মুহূর্ত, চলচ্চিত্রের বিভিন্ন স্থিরচিত্রের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নিজের কণ্ঠে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার প্রিয় দেশবাসী, ৩ সেপ্টেম্বর আমরা মহানায়ক উত্তম কুমারজির জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করব। বন্ধুরা, উত্তম কুমারজি ছিলেন একজন বহুমুখী অভিনেতা, যিনি তাঁর অভিনয়ের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন। চলচ্চিত্র প্রেমীদের বিশ্বাস যে, সত্যজিৎ রায়জি ‘নায়ক – দ্য হিরো’ চলচ্চিত্রের পুরো চিত্রনাট্য মহানায়ক উত্তম কুমারজি-কে মনে রেখেই লিখেছিলেন। শ্রীমান সত্যজিৎ রায় একবার বলেছিলেন যে, উত্তম কুমারের মধ্যে সংযম ও নীতিবোধের পাশাপাশি এক অদ্ভুত আবেগ ছিল। চরিত্রগুলোকে জীবন্ত করে তুলতে তিনি অত্যন্ত পরিশ্রম করতেন।”

    ‘কখনও হাল না ছাড়া’— উত্তমের জীবন থেকে শিক্ষার কথা মোদির

    শুধু অভিনয় প্রতিভাই নয়, উত্তম কুমারের ব্যক্তিত্ব এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতার কথাও নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মহানায়কের জীবন নতুন প্রজন্মের কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

    মোদির কথায়, “উত্তম কুমারজি শুধু তাঁর সহজ-স্বাভাবিক অভিনয়ের জন্যই পরিচিত ছিলেন না, বরং তাঁর জনকল্যাণমূলক কাজের জন্যও পরিচিত ছিলেন। তাঁর জীবন আমাদের এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাও দেয় — তা হল কখনও হাল না ছাড়া। তাঁর শুরুর দিকের চলচ্চিত্রগুলো খুব একটা সফল হয়নি, কিন্তু তিনি নিজের কাজে মনোযোগ বজায় রেখেছিলেন। আর সেই উৎসর্গই তাঁকে এত উচ্চতায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছিল।”

    ব্যক্তিগত স্মৃতি ভাগ করলেন মোদি

    প্রধানমন্ত্রী তাঁর কলকাতা সফরের একটি ব্যক্তিগত স্মৃতিও ভাগ করে নেন। তিনি বলেন, “বন্ধুরা, আমার মনে আছে যখন আমি কলকাতায় রোড শো করছিলাম, তখন আমি উত্তম কুমারজির বাড়ির সামনে দিয়েও গিয়েছিলাম। সেখানে একজন ব্যক্তি আমাকে তাঁর একটি ছবি উপহার দিয়েছিলেন। আমি আরও একবার মহানায়ক উত্তম কুমারজির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করছি। তিনি সর্বদাই আমাদের সবার হৃদয়ে রাজত্ব করবেন। মহানায়ক উত্তম কুমার চিরদিন মানুষের হৃদয়ে রাজ করবেন।”

    ভিডিওটির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী যে ক্যাপশনটি পোস্ট করেন, সেখানে লেখা হয়— “মহানায়ক উত্তম কুমার… এক কিংবদন্তি যাঁর কালজয়ী পরিবেশনা প্রজন্মান্তরের মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে চলেছে। তাঁর জন্মশতবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি। গত রবিবার মন কি বাত অনুষ্ঠানে আমি তাঁর সম্পর্কে যা বলেছিলাম, তাও শেয়ার করছি।”

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শ্রদ্ধার্ঘ্য

    মহানায়ক উত্তম কুমারের শতবর্ষ জন্মজয়ন্তীতে সমাজমাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। নিজের পোস্টে তিনি মহানায়কের অভিনয় প্রতিভা, ব্যক্তিত্ব এবং বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদানের কথা স্মরণ করেন। মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “তাঁর অনন্য অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও চিরস্মরণীয় উপস্থিতি বাংলা তথা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাঙালির হৃদয়ে তিনি চিরকাল মহানায়ক হয়েই বেঁচে থাকবেন।”

    ভবানীপুরের অরুণ থেকে বাংলা সিনেমার চিরন্তন মহানায়ক

    ১৯২৬ সালের এই দিনে কলকাতার ভবানীপুরের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম হয়েছিল অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়ের। পরবর্তীকালে ‘উত্তম কুমার’ নামেই তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা সিনেমার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী অভিনেতাদের অন্যতম। তাঁর স্বাভাবিক অভিনয়, সংযত অভিব্যক্তি, পর্দার ব্যক্তিত্ব এবং দর্শকের সঙ্গে গভীর আবেগের সংযোগ তাঁকে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।

    বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের প্রতীক উত্তম কুমার আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর অভিনীত অসংখ্য কালজয়ী চরিত্র এখনও বাঙালির সংস্কৃতি, আবেগ এবং স্মৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। জন্মশতবর্ষে প্রধানমন্ত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রী— সকলের শ্রদ্ধার্ঘ্য যেন আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিল, মহানায়ক কেবল রুপোলি পর্দাতেই নন, মানুষের হৃদয়েও আজীবন অমর।

LinkedIn
Share