Blog

  • India at UN: রাষ্ট্রসংঘে ভারতের কড়া বার্তা! ‘যাচাইহীন অভিযোগে কলঙ্কিত করা যাবে না বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রকে’

    India at UN: রাষ্ট্রসংঘে ভারতের কড়া বার্তা! ‘যাচাইহীন অভিযোগে কলঙ্কিত করা যাবে না বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রকে’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ভারতের বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কড়া অবস্থান নিল নয়াদিল্লি। যাচাই না করা অভিযোগ, অসম্পূর্ণ পরিসংখ্যান এবং নির্দিষ্ট দেশ সম্পর্কে পর্যবেক্ষণহীন রিপোর্টের ভিত্তিতে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল ভারত। একইসঙ্গে ভারতের বক্তব্য, মানবাধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনা ও সহযোগিতায় নয়াদিল্লি প্রস্তুত। তবে সেই প্রক্রিয়া হতে হবে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং তথ্যনির্ভর। মানবাধিকারকে কোনও দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি বা বেছে বেছে নিশানা করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বা জোরপূর্বক গুম সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচনা চলাকালীন ভারতের এই অবস্থান সামনে আসে। সেখানে বিদেশ মন্ত্রকের ডেপুটি সেক্রেটারি বরখা তামরাকার ভারতের বক্তব্য তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, যাচাই না করা অভিযোগকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরা এবং মানবিক উদ্বেগের ভিত্তিতে পাঠানো যোগাযোগকে দেশের বিরুদ্ধে রায়ের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

    ‘যাচাইহীন অভিযোগ দিয়ে ভারতকে কলঙ্কিত করা যাবে না’

    রাষ্ট্রসংঘে ভারতের প্রতিনিধি বরখা তামরাকার বলেন, “যাচাই না করা অভিযোগ, অসম্পূর্ণ পরিসংখ্যান কিংবা ভারত সম্পর্কে কোনও দেশ-নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ নেই এমন রিপোর্টকে ব্যবহার করে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির যে কোনও প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে ভারত।”

    একইসঙ্গে তিনি জানান, নির্দিষ্ট এবং যথাযথ নথিপত্র-সহ উপস্থাপিত ঘটনার বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাখ্যা দিতে ভারত প্রস্তুত। অর্থাৎ, মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে আলোচনার দরজা বন্ধ করতে চাইছে না নয়াদিল্লি। বরং ভারতের আপত্তি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই সেগুলিকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতায়।

    ভারতের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই সহযোগিতার ভিত্তি হতে হবে আলোচনা, পরামর্শ, পারস্পরিক সহযোগিতা, নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছতা। কোনও নির্দিষ্ট দেশকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলার উদ্দেশ্যে মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়কে ব্যবহার করা হলে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

    রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট নিয়ে ভারতের আপত্তি কোথায়?

    জোরপূর্বক গুম সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচনা ঘিরে ভারতের মূল আপত্তি রিপোর্ট ও অভিযোগের তথ্যগত ভিত্তি নিয়ে। ভারতের বক্তব্য, রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও বিশেষ প্রতিবেদক তাঁদের রিপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে কখনও কখনও অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি বা পক্ষের জমা দেওয়া তথ্যের উপর নির্ভর করেন। সেই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা না হলে তাকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

    তামরাকার রাষ্ট্রসংঘের সদস্য দেশগুলির প্রতিনিধিদের রিপোর্টের বক্তব্য যথাযথভাবে উদ্ধৃত করার আহ্বান জানান। তাঁর কথায়, কোনও মানবিক উদ্বেগের ভিত্তিতে পাঠানো যোগাযোগকে অতিরঞ্জিত করে একটি দেশের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায়ের মতো তুলে ধরা উচিত নয়।

    এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ভারত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার বিরোধিতা করার পরিবর্তে তার পদ্ধতি ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নয়াদিল্লির অবস্থান, মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগের গুরুত্ব থাকলেও প্রতিটি অভিযোগের মূল্যায়ন হওয়া উচিত প্রামাণ্য তথ্য, নির্দিষ্ট ঘটনা এবং যাচাইযোগ্য নথির ভিত্তিতে।

    সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ ও বিচারব্যবস্থার কথা তুলে ধরল ভারত

    ভারতের প্রতিনিধি আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষাকবচগুলির কথাও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, ভারত একটি প্রাণবন্ত গণতন্ত্র, যেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত এবং নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত।

    ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনও ব্যক্তির বেআইনি আটক বা নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগের ক্ষেত্রে বিচারবিভাগের হস্তক্ষেপ চাওয়ার সুযোগও রয়েছে। বিশেষত, হেবিয়াস কর্পাস বা বন্দি-উপস্থাপন সংক্রান্ত রিটের মাধ্যমে আদালত কোনও ব্যক্তিকে আটক রাখার বৈধতা খতিয়ে দেখতে পারে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারে।

    ভারতের বক্তব্য, এই স্বাধীন বিচারব্যবস্থা নাগরিকের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে কোনও নির্দিষ্ট ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে তার প্রকৃত মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথি পরীক্ষা করা জরুরি বলেও ভারতের অবস্থান থেকে স্পষ্ট।

    তথ্যের অধিকার থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, কী কী যুক্তি ভারতের?

    মানবাধিকার রক্ষায় ভারতের বিভিন্ন সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার উল্লেখ করেন বরখা তামরাকার। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    • ● তথ্যের অধিকার আইন (RTI): সরকারি কাজকর্মে স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    • ● জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC): মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পদক্ষেপের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক মঞ্চ রয়েছে।

    • ● রাজ্য মানবাধিকার কমিশন: রাজ্যস্তরেও মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

    • ● স্বাধীন বিচারব্যবস্থা: নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষায় আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ রয়েছে।

    • ● স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ও নাগরিক সমাজ: প্রশাসনের কাজকর্মের উপর নজরদারি, অভিযোগ প্রকাশ্যে আনা এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলি তুলে ধরার ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যম ও নাগরিক সংগঠনগুলির ভূমিকা রয়েছে।

    ভারতের মতে, এই ব্যবস্থাগুলি সম্মিলিতভাবে নাগরিকের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কোনও মূল্যায়ন করতে হলে এই প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনার বাস্তব তথ্যও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

    দিল্লিতে যুব বিক্ষোভ ঘিরে রাষ্ট্রসংঘের বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

    ভারতের এই কড়া অবস্থানের নেপথ্যে রয়েছে দিল্লিতে যুবকদের বিক্ষোভ ঘিরে মানবাধিকার সংক্রান্ত বিতর্কও। মঙ্গলবার জেনিভায় রাষ্ট্রসংঘের ২০ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞ দিল্লিতে যুবকদের কথিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের উপর পুলিশের বারবার কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    বিক্ষোভ চলাকালীন মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে অভিযোগ উঠেছে, তার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান তাঁরা। তাঁদের বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ এবং অভিযোগগুলির যথাযথ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার প্রশ্ন।

    অন্যদিকে, ভারতের বক্তব্য, যাচাইহীন বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে কোনও দেশ সম্পর্কে নেতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়। তবে দিল্লির বিক্ষোভ ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলির বিষয়ে ভারতের বক্তব্য এবং রাষ্ট্রসংঘের বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ—দুটি বিষয়কেই পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য নির্দিষ্ট ঘটনা, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ খতিয়ে দেখা জরুরি।

    ককরোচ জনতা পার্টি বিতর্কেও রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টকে ‘শোনা কথা’ বলেছিল ভারত

    রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত রিপোর্ট নিয়ে ভারতের আপত্তি এই প্রথম নয়। এর আগে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের এক বিশেষ প্রতিবেদকের রিপোর্টেরও বিরোধিতা করেছিল নয়াদিল্লি।

    সেই রিপোর্টে ভারতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ‘শোনা কথা’ বা ‘হিয়ারসে’ বলে অভিহিত করেছিল ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য ছিল, অজ্ঞাত পরিচয় সূত্রের উপর নির্ভর করে এবং যাচাই না করা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিরুদ্ধে বিস্তৃত অভিযোগ তোলা কোনওভাবেই নির্ভরযোগ্য প্রমাণের বিকল্প হতে পারে না।

    ভারতের প্রতিনিধি সেই সময় বলেছিলেন, “অজ্ঞাত এবং যাচাই না করা দাবির উপর ভিত্তি করে বিশ্বের বৃহত্তম যুব জনসংখ্যার বিরুদ্ধে এমন বিস্তৃত অভিযোগ কোনও প্রমাণ নয়। এটি রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টের মোড়কে সাজানো শোনা কথা।”

    এই অবস্থানের সঙ্গে বর্তমান বক্তব্যেরও মিল রয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই ভারতের মূল আপত্তি রিপোর্টের তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, অভিযোগ যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মঞ্চের নিরপেক্ষতা নিয়ে।

    জোরপূর্বক গুম সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন প্রসঙ্গ

    আলোচনায় জোরপূর্বক গুম সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের বিষয়টিও উঠে এসেছে। ভারত জানিয়েছে, নয়াদিল্লি International Convention for the Protection of All Persons from Enforced Disappearance-এর স্বাক্ষরকারী।

    এই কনভেনশন জোরপূর্বক গুমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার কাঠামো। তবে কোনও আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করা এবং সেটির অধীনে পূর্ণাঙ্গ আইনগত বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করা এক বিষয় নয়। কোনও রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে কনভেনশনের আইনগত বাধ্যবাধকতার পরিধি নির্ধারণে তার অনুমোদন বা অনুসমর্থনের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ।

    তাই ভারতের স্বাক্ষরকারী হওয়ার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য হলেও, একে কনভেনশনের সমস্ত বাধ্যবাধকতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণ করার সমতুল্য হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

     

  • MIB Advisory: টিভি চ্যানেলগুলিকে কেন্দ্রের কড়া বার্তা! জঙ্গিদমন অভিযান নিয়ে লাইভ সম্প্রচারে সতর্কতা, এআই ব্যবহারেও বিধি আরোপ

    MIB Advisory: টিভি চ্যানেলগুলিকে কেন্দ্রের কড়া বার্তা! জঙ্গিদমন অভিযান নিয়ে লাইভ সম্প্রচারে সতর্কতা, এআই ব্যবহারেও বিধি আরোপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলগুলির জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। জঙ্গি দমন অভিযান চলাকালীন সরাসরি সম্প্রচার, হিংসাত্মক ঘটনার দৃশ্য দেখানো এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে পারে এমন বিতর্কমূলক অনুষ্ঠান নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলিকে সতর্ক করেছে মন্ত্রক। একইসঙ্গে টেলিভিশন সংবাদ পরিবেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার নিয়েও নির্দিষ্ট সীমারেখা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বুধবার, ২১ অক্টোবর এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    মন্ত্রকের বক্তব্য, টেলিভিশনে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইন ও সম্প্রচারবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ক্ষেত্রে নিয়ম না মানার অভিযোগ সামনে আসার পরেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রের স্পষ্ট বার্তা, সংবাদ পরিবেশনের নামে এমন কোনও বিষয় প্রচার করা যাবে না, যা দেশের নিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি কিংবা সংবেদনশীল পরিস্থিতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    জঙ্গি দমন অভিযানের লাইভ সম্প্রচারে সতর্কতা

    নতুন নির্দেশিকায় সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান সংক্রান্ত খবর পরিবেশনের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। অভিযান চলাকালীন সরাসরি সম্প্রচার এড়িয়ে চলতে হবে সংবাদমাধ্যমগুলিকে। এ ধরনের অভিযানের সময় টেলিভিশনে প্রচারিত তথ্য বা দৃশ্য নিরাপত্তা বাহিনীর কাজকে প্রভাবিত করতে পারে। সেই কারণে অভিযানের গতিবিধি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য কিংবা ঘটনাস্থলের এমন কোনও বিবরণ প্রচার করা উচিত নয়, যা অভিযানের স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে।

    পাশাপাশি, অপরাধ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং হিংসাত্মক ঘটনার খবর দেখানোর ক্ষেত্রেও সংযম বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরতে গিয়ে অতিরিক্ত হিংসাত্মক বা বিভ্রান্তিকর দৃশ্য বারবার দেখানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

    সংবাদ পরিবেশনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত দর্শকদের নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়া। উত্তেজনা তৈরি করা বা দর্শক টানার জন্য ঘটনার সংবেদনশীল দিকগুলিকে অতিরঞ্জিত করা কোনওভাবেই কাম্য নয়—নির্দেশিকার মূল বক্তব্য এমনটাই।

    সাম্প্রদায়িক ও দেশবিরোধী মনোভাব ছড়ায়, এমন বিতর্কে নিষেধাজ্ঞার বার্তা

    টেলিভিশনের বিতর্কমূলক অনুষ্ঠান নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এমন কোনও আলোচনা, বিতর্ক বা প্যানেল শো সম্প্রচার করা যাবে না, যা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ কিংবা দেশবিরোধী মনোভাবকে উৎসাহিত করে।

    বর্তমানে বিভিন্ন সংবাদচ্যানেলে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে সরাসরি বিতর্কের চল রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং উস্কানিমূলক মন্তব্য আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। এর ফলে প্রকৃত বিষয়টি আড়ালে চলে যাওয়ার পাশাপাশি সামাজিক বিভাজনও বাড়তে পারে।

    এই পরিস্থিতিতে আলোচনার বিষয়বস্তু, অতিথিদের বক্তব্য এবং সঞ্চালকের ভূমিকার উপর সম্পাদকীয় নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে মন্ত্রক। তবে নির্দেশিকার এই অংশের মূল লক্ষ্য কেবল বিতর্কের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বরং সম্প্রচারের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক বা দেশবিরোধী মনোভাব ছড়িয়ে পড়া আটকানো।

    এআই দিয়ে সংবাদ পরিবেশনেও লাগাম

    টেলিভিশন সংবাদে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়তে থাকায় এই প্রযুক্তি নিয়েও সতর্ক করেছে কেন্দ্র। এআই-নির্ভর গ্রাফিক্স, ভার্চুয়াল সংবাদ উপস্থাপক এবং অন্যান্য কৃত্রিমভাবে তৈরি দৃশ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমগুলিকে নির্দিষ্ট নীতি মেনে চলতে বলা হয়েছে।

    মন্ত্রকের নির্দেশ, সংবাদ তৈরির ক্ষেত্রে এআই-কে সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবেই ব্যবহার করতে হবে। এই প্রযুক্তির প্রয়োগ যেন খবরের নির্ভুলতা, সত্যতা এবং সংবেদনশীলতা নষ্ট না করে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সম্প্রচারকারী সংস্থার।

    বিশেষ করে, কৃত্রিমভাবে তৈরি কোনও ছবি বা দৃশ্য যদি বাস্তব ঘটনার ছবি হিসেবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়, তাহলে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সংবেদনশীল ঘটনা, অপরাধ কিংবা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সঙ্গে সম্পর্কিত খবরের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভুল আরও গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এআই-নির্ভর উপাদান ব্যবহারের আগে তার যথার্থতা যাচাই এবং সম্পাদকীয় পর্যালোচনার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    ভারতের মানচিত্র থেকে যৌন নির্যাতনের শিকারদের পরিচয়—একাধিক বিষয়ে নির্দেশ

    নতুন নির্দেশিকায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতের মানচিত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ও প্রামাণ্য মানচিত্র ব্যবহার করতে হবে। মানচিত্রের ভুল উপস্থাপনা যাতে বিভ্রান্তি তৈরি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলিকে।

    যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিচয় গোপন রাখার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংবাদ পরিবেশনের সময় তাঁদের পরিচয় প্রকাশ পেতে পারে, এমন কোনও তথ্য বা দৃশ্য সম্প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

    এ ছাড়া সাম্প্রদায়িকভাবে সংবেদনশীল ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির সময় তথ্য যাচাই, ভাষার ব্যবহার এবং দৃশ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধ ও হিংসার খবরের ক্ষেত্রেও সংযত এবং দায়িত্বশীল উপস্থাপনার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রচারবিধি মানার ক্ষেত্রে আইডিসি-র পর্যবেক্ষণ

    মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ইন্টার-ডিপার্টমেন্টাল কমিটি বা আন্তঃবিভাগীয় কমিটি (IDC) সম্প্রচার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে দেখেছে। কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, একাধিক টেলিভিশন চ্যানেলে একই বিষয় নিয়ে প্রায় একই ধরনের খবর এবং দৃশ্য সম্প্রচার করা হচ্ছিল।

    এই পরিস্থিতিতে আইন ও সম্প্রচারবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে আরও কঠোর হওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। পাশাপাশি, টেলিভিশনের পর্দায় অনুপযুক্ত আচরণ এবং আপত্তিকর ভাষার ব্যবহার যেন ক্রমশ স্বাভাবিক বিষয় হয়ে না ওঠে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    অর্থাৎ, কেবল খবরের বিষয়বস্তু নয়, সংবাদ পরিবেশনের ভাষা, উপস্থাপনার ধরন এবং সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের মানও এই নির্দেশিকার আওতায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    সম্পাদকীয় নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ, নিয়ম ভাঙলে আইনি পদক্ষেপ

    নির্দেশিকা কার্যকর করতে সংবাদমাধ্যমগুলির অভ্যন্তরীণ সম্পাদকীয় ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার কথা বলেছে মন্ত্রক। সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা, প্রযোজনা, সম্প্রচার এবং টেলিকাস্টের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে।

    এর অর্থ, সম্প্রচারের আগে কোনও খবরের তথ্য, ভাষা, ছবি বা ভিডিও যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের। বিশেষত, সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান, হিংসাত্মক ঘটনা, সাম্প্রদায়িক সংঘাত এবং এআই-নির্ভর সংবাদ উপাদানের ক্ষেত্রে এই নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ।

    মন্ত্রক সতর্ক করে জানিয়েছে, নির্দেশিকা লঙ্ঘন করলে কেবল সতর্কবার্তাতেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রয়োজনে কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্কস (রেগুলেশন) অ্যাক্ট, ১৯৯৫-এর অধীনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

    সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন

    কেন্দ্রের এই নির্দেশিকা সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার অবকাশ তৈরি করেছে। একদিকে, সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানের সময় সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ না করা এবং হিংসাত্মক ঘটনার ক্ষেত্রে সংযম বজায় রাখা জননিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, সাম্প্রদায়িক বা দেশবিরোধী মনোভাবের সংজ্ঞা প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতার প্রশ্নও তাৎপর্যপূর্ণ।

    এআই-নির্ভর সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রেও তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং দর্শকদের বিভ্রান্ত না করার বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়বে, সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় দায়বদ্ধতাও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

    সব মিলিয়ে, কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য হল টেলিভিশন সংবাদ পরিবেশনে আইন মেনে চলা, সংবেদনশীল বিষয়ে সংযম বজায় রাখা এবং এআই-সহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারকে দায়িত্বশীল কাঠামোর মধ্যে রাখা। তবে এই নির্দেশিকা বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয় এবং নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কী ধরনের পদক্ষেপ করা হয়, তার উপরেই এর প্রভাব অনেকাংশে নির্ভর করবে।

  • CJP Leaders Peace Bond: আইন অমান্যের অভিযোগে আদালতের কড়া অবস্থান! কঠোর কঠোর শর্তসাপেক্ষে মুক্তি সিজেপির দুই নেতার

    CJP Leaders Peace Bond: আইন অমান্যের অভিযোগে আদালতের কড়া অবস্থান! কঠোর কঠোর শর্তসাপেক্ষে মুক্তি সিজেপির দুই নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারবার আইন অমান্য, নিষিদ্ধ ঘোষিত স্থানে বিক্ষোভের ডাক এবং শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা—এই সমস্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে কড়া অবস্থান নিল দিল্লির আদালত। ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হলেও, তার জন্য আদালতে লিখিত মুচলেকা দিতে হয়েছে তাঁদের। ভবিষ্যতে জনশান্তি বিঘ্নিত করবেন না, আইন মেনে চলবেন এবং আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ ঘোষিত থাকা পর্যন্ত যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেবেন না—এই মর্মে অঙ্গীকার করেছেন দুই নেতা। তাঁদের মুক্তির সিদ্ধান্তে শর্ত আরোপের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ আদালত।

    যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে বিতর্ক, সাত দিন হেফাজতে থাকার পর মুক্তি

    গত ১৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশের অভিযোগে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়েছিল। অভিযোগ, এর আগেও শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা দেওয়ার পরেও তাঁরা ফের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ওই এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন। সেই ঘটনার পর তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হয় এবং সাত দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকতে হয়।

    বুধবার, ২১ অক্টোবর, দিল্লির স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (SEM) আদালতে মুক্তির আবেদন নিয়ে শুনানি হয়। সেখানে দুই নেতা পৃথক লিখিত মুচলেকা জমা দেন। ভবিষ্যতে শান্তিভঙ্গ করবেন না এবং আদালতের প্রতি আস্থা বজায় রাখবেন বলে তাঁরা জানান। এরপরই তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং সমপরিমাণ জামিনদারের বন্ডে মুক্তির নির্দেশ দেন স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ঋতু রাজ, যিনি দিল্লি পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদেও রয়েছেন।

    লিখিত অঙ্গীকারে কী জানালেন সিজেপির দুই নেতা?

    আদালতে জমা দেওয়া পৃথক মুচলেকায় দুই নেতা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    • ● শান্তি বজায় রাখার অঙ্গীকার: তাঁরা কোনও ধরনের শান্তিভঙ্গ করবেন না বলে জানিয়েছেন।

    • ● যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক নয়: আইন অনুযায়ী যন্তর মন্তর নিষিদ্ধ ঘোষিত থাকা পর্যন্ত সেখানে বিক্ষোভের ডাক দেবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    • ● সংবিধানের কাঠামো মেনে আন্দোলন: ভবিষ্যতে কোনও প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ হলে তা সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

    • ● বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা: তাঁরা জানিয়েছেন, বিচারব্যবস্থা এবং তার সমস্ত অঙ্গ, এমনকী স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রতিও তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

    এই অঙ্গীকারগুলির ভিত্তিতেই আদালত মনে করেছে, আপাতত তাঁদের আরও কিছু দিন হেফাজতে রাখার প্রয়োজন নেই। তবে মুক্তি মানেই যে তাঁদের বিরুদ্ধে চলা আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেল, তা নয়।

    আদালতের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন, নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন আইনজীবী

    শুনানির সময় দিল্লি পুলিশের আইনজীবী ১৯ অক্টোবর সংবাদমাধ্যমে দেওয়া দুই নেতার কিছু বক্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন। পুলিশের অভিযোগ ছিল, ওই বক্তব্যগুলি স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই নেতার হয়ে উপস্থিত আইনজীবী মৌখিকভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণের পুনরাবৃত্তি হবে না বলেও আদালতকে আশ্বাস দেওয়া হয়।

    উল্লেখ্য, ১৯ অক্টোবরের নির্দেশে ম্যাজিস্ট্রেট দুই নেতার আচরণ নিয়ে গুরুতর আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ ছিল, তাঁদের কাজকর্মে আইনের প্রতি কোনও সম্মান দেখা যাচ্ছে না। নিষিদ্ধ ঘোষিত স্থানে বারবার বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার বিষয়টিও আদালতের উদ্বেগ বাড়িয়েছিল।

    এই প্রেক্ষাপটে বুধবারের শুনানি তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে আদালত মুক্তির ক্ষেত্রে লিখিত অঙ্গীকারকে গুরুত্ব দিয়েছে, অন্যদিকে আইন অমান্য এবং শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগকে উপেক্ষা করেনি।

    আরও তিন দিন হেফাজতে রাখার আর্জি খারিজ

    সিজেপির দুই নেতাকে আরও তিন দিন হেফাজতে রাখার আবেদন জানিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। কিন্তু স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সেই আবেদন মঞ্জুর করেননি।

    ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-র ১৩৫(৩) ধারায় বিবেচিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার উদ্দেশ্য নতুন করে দেওয়া শান্তির মুচলেকা এবং লিখিত অঙ্গীকারের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব বলে মনে করেছে আদালত। সেই কারণে এই পর্যায়ে তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজত অব্যাহত রাখার প্রয়োজন নেই বলে নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এখানে আদালতের অবস্থানটি গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তির সিদ্ধান্তকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি হিসেবে দেখা যাবে না। বরং আদালত মনে করেছে, আপাতত শান্তি বজায় রাখার নিশ্চয়তা আদায়ের জন্য বন্ড ও লিখিত অঙ্গীকার যথেষ্ট হতে পারে। ভবিষ্যতে সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের প্রশ্ন উঠতে পারে।

    দিল্লি হাইকোর্টেও প্রশ্নের মুখে দুই নেতা

    এর আগে বুধবারই দিল্লি হাইকোর্টে বিচারপতি সুব্রামনিয়ম প্রসাদ দুই নেতার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আগের শান্তির মুচলেকা ভঙ্গের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁরা ফের একই ধরনের পদক্ষেপ করলেন এবং প্রচলিত আইনি প্রতিকারের পথ অনুসরণ না করে সরাসরি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন করেন বিচারপতি।

    এর পরেই সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা তাঁদের আবেদন প্রত্যাহার করে নেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, হাইকোর্ট থেকে আবেদন প্রত্যাহারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লিখিত অঙ্গীকার জমা দিয়ে তাঁরা মুক্তি পান।

    এই ঘটনাপ্রবাহ থেকে স্পষ্ট, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি এবং পূর্ববর্তী মুচলেকা মেনে চলার বিষয়টি দুই নেতার আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে। তবে হাইকোর্টে আবেদন প্রত্যাহার করাকে আদালতের কোনও চূড়ান্ত রায় বা তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

    ২৩ অক্টোবর ফের শুনানি, জামিনদারদের যাচাই করবে পুলিশ

    মুক্তি পেলেও সিজেপির দুই নেতার বিরুদ্ধে চলা প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। আগামী ২৩ অক্টোবর ফের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

    দুই নেতার জামিনদারদের পরিচয় ও নথিপত্র যাচাই করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দিল্লি পুলিশকে। ফলে তাঁদের মুক্তির পরবর্তী আইনি পরিস্থিতিও নজরে থাকবে।

    সব মিলিয়ে, এই ঘটনায় আদালতের বার্তা স্পষ্ট—প্রতিবাদ বা রাজনৈতিক কর্মসূচির অধিকার থাকলেও তা আইন ও জনশৃঙ্খলার সীমার মধ্যে থাকতে হবে। পূর্ববর্তী মুচলেকা, নিষিদ্ধ ঘোষিত স্থানে প্রবেশের অভিযোগ এবং আদালতের মর্যাদা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের প্রেক্ষিতে সিজেপির দুই নেতাকে কঠোর শর্তে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সেই আইনি অবস্থানকেই সামনে এনেছে। এখন দেখার, আগামী শুনানিতে পুলিশ কী রিপোর্ট জমা দেয় এবং দুই নেতা তাঁদের দেওয়া অঙ্গীকার কতটা মেনে চলেন।

  • France Protests: ফ্রান্সে হিংসাত্মক বিক্ষোভ, ভারতীয়দের জন্য দূতাবাসের সতর্কবার্তা! প্যারিস-সহ একাধিক শহরে কার্ফু

    France Protests: ফ্রান্সে হিংসাত্মক বিক্ষোভ, ভারতীয়দের জন্য দূতাবাসের সতর্কবার্তা! প্যারিস-সহ একাধিক শহরে কার্ফু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, সরকারি পরিষেবার অবনতি এবং শিক্ষাব্যবস্থার একাধিক সমস্যা ঘিরে উত্তপ্ত ফ্রান্স। রাজধানী প্যারিস-সহ মার্সেই ও লিয়ঁর মতো শহরে বিক্ষোভ ঘিরে হিংসা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ফ্রান্সে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিক এবং দেশটিতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, এমন ভারতীয়দের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে প্যারিসে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। বিক্ষোভের এলাকা এড়িয়ে চলা, জনবহুল স্থানে না যাওয়া এবং ফরাসি প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    ভারতীয় দূতাবাসের পরামর্শ, কী জানানো হয়েছে?

    বুধবার সন্ধ্যায় জারি করা পরামর্শে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ফ্রান্সের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় স্তরে কার্ফু জারির বিষয়টি বিবেচনা করে ভারতীয় নাগরিকদের সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    দূতাবাসের তরফে আরও বলা হয়েছে, যেখানে বিক্ষোভ চলছে, সেই এলাকাগুলি থেকে দূরে থাকতে হবে। ফরাসি প্রশাসন এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যে নির্দেশিকা জারি করছে, তা যথাযথভাবে মেনে চলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

    বিক্ষোভের কারণে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে পরিবহণ পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। তাই যাতায়াতের পরিকল্পনা করার আগে সরকারি সূত্র থেকে সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেওয়ার কথা বলেছে দূতাবাস। বিশেষ করে পর্যটক, পড়ুয়া, কর্মসূত্রে ফ্রান্সে থাকা ভারতীয় এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য এই সতর্কবার্তা গুরুত্বপূর্ণ।

    জরুরি প্রয়োজনে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর ও ইমেল:

    • ● ফোন: +33 6 48 34 00 63

    • ● ইমেল: cons.paris@mea.gov.in

    কেন অশান্ত ফ্রান্স? ক্ষোভের কেন্দ্রে জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষা

    ফ্রান্সে সাম্প্রতিক অশান্তির পিছনে একাধিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি, সরকারি পরিষেবার অবনতি এবং শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। সেই অসন্তোষ থেকেই শুরু হওয়া বিক্ষোভের একাংশ হিংসাত্মক রূপ নিয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে।

    প্যারিস, মার্সেই ও লিয়ঁর মতো শহরে বিক্ষোভ চলাকালীন লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের খবর সামনে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হয়েছে। কয়েকটি বড় শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় এখনও কার্ফু জারি রয়েছে।

    এই অশান্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ছাত্রছাত্রীদের ক্ষোভ। স্কুলগুলিতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের অভাব, পরিকাঠামোর দুর্বলতা এবং শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মীর ঘাটতি নিয়ে অভিযোগ তুলেছে পড়ুয়াদের একাংশ। বিশেষত আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলির স্কুলে এই সমস্যাগুলি বেশি প্রকট বলে দাবি উঠেছে।

    পাশাপাশি, দীর্ঘক্ষণ স্কুলে থাকতে হওয়া নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে পড়ুয়াদের মধ্যে। অনেক ক্ষেত্রে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত স্কুলের সময়সূচি ক্লান্তিকর হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পদ্ধতির জটিলতা এবং সেই ব্যবস্থার ন্যায্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।

    অর্থাৎ, এই বিক্ষোভ শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়। এর পিছনে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি পরিষেবার মান এবং শিক্ষার সুযোগ নিয়ে জমে থাকা অসন্তোষও।

    দু’রাত শান্তি, তবুও কাটেনি উদ্বেগ

    সপ্তাহান্তে অশান্তির পর পরপর দু’রাত ফ্রান্সে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল। তবে তাতে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। একাধিক বড় শহরের কিছু অংশে কার্ফু এখনও বহাল রয়েছে। নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দেওয়ায় পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার ও শনিবার আরও বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলির পাশাপাশি ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ফ্রান্সে বড়সড় আন্দোলনের জন্ম দেওয়া ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলির তরফেও বিক্ষোভের ডাক এসেছে।

    উল্লেখ্য, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ঘিরে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করেছিল। সেই আন্দোলনের স্মৃতি এখনও ফরাসি প্রশাসনের কাছে উদ্বেগের কারণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে বড় জমায়েত হলে অশান্তি আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা, শনিবার বড় নিরাপত্তা অভিযান

    প্যারিসে বৃহস্পতিবারের জন্য পরিকল্পিত একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হবে না বলে বুধবার জানিয়েছে শহরের পুলিশ। জননিরাপত্তার ঝুঁকি এবং সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে, ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন জানিয়েছেন, বিক্ষোভ চলাকালীন এবং তার পরে আটক হওয়া ২,৫০০ জনের মধ্যে ১৭৪ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরও ৯১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে বুধবার ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু। শনিবার ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযান চালানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। বিক্ষোভের আড়ালে ছোট ছোট দুষ্কৃতী গোষ্ঠীর হিংসাত্মক কার্যকলাপ যাতে ফের বড় আকার না নেয়, তা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য।

    প্রশাসনের আশঙ্কা, অল্প কয়েকটি গোষ্ঠীর হিংসাত্মক কার্যকলাপও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু দুর্বলতা সামনে এসেছে বলেও মনে করা হচ্ছে।

    ইতালিতেও ভারতীয়দের জন্য সতর্কবার্তা

    ফ্রান্সের আগে চলতি সপ্তাহেই ইতালিতে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরামর্শ জারি করেছিল সেখানকার ভারতীয় দূতাবাস। ইতালিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিষেবার মান নিয়ে বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে ওই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

    সেখানেও ভারতীয় নাগরিকদের জনবহুল এলাকা এবং বিক্ষোভস্থল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজ রাখার কথা বলা হয়।

    ফ্রান্স ও ইতালি—দুই দেশেই বিক্ষোভের জেরে ভারতীয় দূতাবাসগুলির এই সতর্কবার্তা বিদেশে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

    ফ্রান্সে যাওয়া ভারতীয়দের কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন?

    বর্তমান পরিস্থিতিতে ফ্রান্সে বসবাসকারী ভারতীয়দের পাশাপাশি পর্যটক ও পড়ুয়াদেরও কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।

    • ● বিক্ষোভস্থল এড়িয়ে চলুন: মিছিল, জমায়েত বা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে, এমন এলাকায় যাবেন না।

    • ● কার্ফুর নিয়ম মানুন: স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী চলাফেরা করুন।

    • ● যাতায়াতের খবর রাখুন: ট্রেন, বাস এবং অন্যান্য পরিবহণ পরিষেবার সম্ভাব্য পরিবর্তন সম্পর্কে সরকারি সূত্র থেকে জেনে নিন।

    • ● সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করুন: স্থানীয় প্রশাসন ও ভারতীয় দূতাবাসের নতুন বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখুন।

    • ● জরুরি যোগাযোগের তথ্য সঙ্গে রাখুন: প্রয়োজন হলে দ্রুত ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

    সব মিলিয়ে, ফ্রান্সে আপাতত পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও নতুন করে বিক্ষোভের ডাক এবং কয়েকটি শহরে কার্ফু বহাল থাকায় উদ্বেগ রয়ে গিয়েছে। আগামী কয়েক দিনে প্রশাসন পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, তার উপরই নির্ভর করছে অশান্তি কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে। ফ্রান্সে থাকা ভারতীয়দের ক্ষেত্রে তাই আপাতত সতর্কতা, সরকারি নির্দেশ মেনে চলা এবং পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজ রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

  • Bharatiya Jan Sangh Foundation Day: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন থেকে মোদির ভারত— জনসংঘের ৭৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রা

    Bharatiya Jan Sangh Foundation Day: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন থেকে মোদির ভারত— জনসংঘের ৭৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতার পরবর্তী ভারতের রাজনীতিতে কংগ্রেসের আধিপত্যের মধ্যেই একটি বিকল্প জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর দিল্লিতে তাঁর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতীয় জনসংঘ। সেই সংগঠন পরবর্তী সময়ে জনতা পার্টির সঙ্গে মিশে যায় এবং ১৯৮০ সালে আত্মপ্রকাশ করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আজ নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। জনসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন ‘নেশন ফার্স্ট’ বা ‘রাষ্ট্র আগে’ ভাবনা কীভাবে সময়ের সঙ্গে বদলে গিয়ে বর্তমান বিজেপির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তি তৈরি করেছে, সেই ইতিহাস তাৎপর্যপূর্ণ।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও জনসংঘের প্রতিষ্ঠা

    ১৯৫০ সালে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে লিয়াকত-নেহরু চুক্তির বিরোধিতা করে কেন্দ্রীয় শিল্প ও সরবরাহমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর লক্ষ্য ছিল, দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়, জাতীয় ঐক্য এবং ভারতীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক বিকল্প তৈরি করা।

    রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক ব্যক্তিত্বের সহযোগিতায়, বিশেষত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের মতো নেতাদের সঙ্গে নিয়ে, ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠা করেন ভারতীয় জনসংঘ। জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণ একীকরণের দাবিও সংগঠনটির রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে ওঠে। শ্যামাপ্রসাদের বক্তব্য ছিল, একটি দেশে দুটি সংবিধান, দুটি প্রধান এবং দুটি পতাকা থাকতে পারে না।

    ১৯৫৩ সালে কাশ্মীরে তাঁর মৃত্যুকে জনসংঘের রাজনৈতিক আন্দোলনে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হয়। জাতীয় সংহতি, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা এবং কাশ্মীরের সাংবিধানিক অবস্থান নিয়ে তাঁর অবস্থান পরবর্তী কয়েক দশক ধরে বিজেপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে থাকে।

    জনসংঘ থেকে বিজেপি: রাজনৈতিক বিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ

    ১৯৫১–১৯৬৭: জনসংঘের উত্থান

    প্রথম সাধারণ নির্বাচনে তিনটি আসন পায় জনসংঘ। পরে দীনদয়াল উপাধ্যায় ‘একাত্ম মানবদর্শন’-এর ধারণাকে দলের আদর্শগত ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন। ১৯৬৭ সালে একাধিক রাজ্যে কংগ্রেসবিরোধী জোট সরকারেও অংশ নেয় জনসংঘ।

    ১৯৭৫–১৯৭৭: জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন

    ইন্দিরা গান্ধীর ঘোষিত জরুরি অবস্থার বিরোধিতায় জনসংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ১৯৭৭ সালে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্য গড়তে জনতা পার্টিতে মিশে যায় জনসংঘ। অটলবিহারী বাজপেয়ী ও লালকৃষ্ণ আডবাণীর মতো নেতারা পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান।

    ১৯৮০–১৯৯৬: বিজেপির আত্মপ্রকাশ ও বিস্তার

    জনতা পার্টির অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের পর প্রাক্তন জনসংঘ নেতারা ১৯৮০ সালে বিজেপি গঠন করেন। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন অটলবিহারী বাজপেয়ী। ১৯৮৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মাত্র দুটি আসন পেলেও, আডবাণীর নেতৃত্বে রাম জন্মভূমি আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের প্রসারের সঙ্গে দলের রাজনৈতিক উত্থান ঘটে। ১৯৯৬ সালে বিজেপি লোকসভার বৃহত্তম একক দল হয়ে ওঠে।

    ১৯৯৮–২০০৪: এনডিএ সরকারের অধ্যায়

    বাজপেয়ীর নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) সরকার দেখায়, কংগ্রেসের বাইরে থাকা একটি জোটও পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদ সম্পন্ন করতে পারে। পারমাণবিক সক্ষমতা, অর্থনৈতিক সংস্কার ও পরিকাঠামো উন্নয়ন এই সময়ের উল্লেখযোগ্য বিষয়।

    ২০১৪ থেকে বর্তমান: সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও আদর্শগত কর্মসূচি

    নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিজেপি। ২০১৯ সালে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ এবং ২০২৪ সালে রামমন্দিরের উদ্বোধন দলের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে তুলে ধরা হয়।

    অর্থনৈতিক দর্শন: স্বদেশি থেকে আত্মনির্ভর ভারত

    জনসংঘের অর্থনৈতিক দর্শন গড়ে উঠেছিল নেহরুর রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত পরিকল্পনা ও বৃহৎ সরকারি শিল্পকেন্দ্রিক মডেলের বিকল্প হিসেবে। ছোট ব্যবসা, কৃষি, গ্রামীণ শিল্প এবং স্থানীয় উৎপাদনের উপর জোর দিয়েছিল দলটি। অতিরিক্ত সরকারি নিয়ন্ত্রণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং বিদেশি সাহায্যের উপর নির্ভরতার বিরোধিতা করে স্বদেশি অর্থনীতির পক্ষে সওয়াল করা হয়েছিল।

    দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ‘একাত্ম মানবদর্শন’-এর পাশাপাশি ‘অন্ত্যোদয়’—সমাজের প্রান্তিকতম মানুষের উন্নয়ন—এই রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হয়ে ওঠে।

    তবে বর্তমান বিজেপির অর্থনৈতিক নীতি আগের জনসংঘের মডেলের হুবহু প্রতিরূপ নয়। বিশ্বায়ন, প্রযুক্তি ও বেসরকারি বিনিয়োগের বাস্তবতা মেনে নিয়ে সরকার একদিকে বাজারনির্ভর বৃদ্ধির উপর জোর দিয়েছে, অন্যদিকে মহাসড়ক, রেল, বন্দর এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোয় সরকারি মূলধনী ব্যয় বাড়িয়েছে।

    এই পরিবর্তনের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দিক হল:

    • ● আত্মনির্ভর ভারত: দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সরবরাহ-শৃঙ্খলে ভারতের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য।

    • ● প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI): নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়াতে আর্থিক প্রণোদনা।

    • ● ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার: আধার, ইউপিআই এবং ডিজিলকারের মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিষেবা প্রদান ও আর্থিক লেনদেনের ডিজিটাল সম্প্রসারণ।

    • ● কর ও ব্যবসায়িক সংস্কার: জিএসটি, করব্যবস্থার পরিবর্তন এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ।

    • ● অন্ত্যোদয় থেকে কল্যাণমূলক পরিষেবা: আবাসন, শৌচাগার, রান্নার গ্যাস, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যবিমা ও কৃষি সহায়তার মতো প্রকল্পের মাধ্যমে সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর।

    অর্থাৎ, জনসংঘের স্বদেশি ভাবনা বর্তমান বিজেপির কাছে কেবল আমদানি কমানো বা দেশীয় পণ্য ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং দেশীয় উৎপাদন, প্রযুক্তি, পরিকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে তা যুক্ত হয়েছে।

    ‘লাভার্থী’ রাজনীতি ও বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি

    ভারতের নির্বাচনী রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে জাতপাতভিত্তিক সমীকরণ, নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীর সমর্থন এবং আঞ্চলিক জোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিজেপি সেই পরিচিত সমীকরণের পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের সুবিধাপ্রাপকদের একটি বৃহত্তর ভোটার গোষ্ঠী হিসেবে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছে। এই গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক পরিভাষায় ‘লাভার্থী’ বলা হয়।

    প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, উজ্জ্বলা যোজনা, স্বচ্ছ ভারত অভিযান এবং পিএম-কিষান প্রকল্পের মতো কর্মসূচির সুবিধাপ্রাপকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে দলটি সামাজিক ভিত্তি বিস্তারের চেষ্টা করেছে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পাঠানো বা ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT), আধারভিত্তিক পরিষেবা এবং ডিজিটাল যোগাযোগ এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    এর পাশাপাশি বুথস্তরে ‘পন্না প্রমুখ’ ব্যবস্থা—ভোটার তালিকার নির্দিষ্ট পৃষ্ঠার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী—এবং ধারাবাহিক প্রচার বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে সাহায্য করেছে। নির্বাচনের সময়সীমার বাইরে গিয়েও ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার এই কৌশল দলটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

    সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর দিয়ে বিজেপি প্রশাসনিক পরিষেবা প্রদানকে রাজনৈতিক বার্তার অংশ করে তুলেছে। তবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন, সুবিধার প্রকৃত বণ্টন এবং তার নির্বাচনী প্রভাবের মূল্যায়ন করতে হলে সরকারি তথ্য ও স্বাধীন পর্যালোচনাও গুরুত্বপূর্ণ।

    ৩৭০ অনুচ্ছেদ থেকে রামমন্দির: আদর্শগত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন

    দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির একাধিক আদর্শগত প্রতিশ্রুতি বিরোধীদের কাছে রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সরকার গঠনের পর দলটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে।

    • ● ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ, ২০১৯: জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহার করা হয় এবং রাজ্যটিকে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ—এই দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পুনর্গঠন করা হয়। বিজেপি একে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পূর্ণ একীকরণের দাবির বাস্তবায়ন হিসেবে তুলে ধরে।

    • ● রামমন্দির, ২০২৪: অযোধ্যায় রামমন্দিরের উদ্বোধন দীর্ঘদিনের রাম জন্মভূমি আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি। সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে এটি বিজেপির রাজনৈতিক বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

    • ● নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA): পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের, আইন নির্ধারিত শর্তপূরণকারী ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ সহজ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইনটি নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কও রয়েছে।

    • ● পরিকাঠামো ও জাতীয় নিরাপত্তা: মহাসড়ক, বিমানবন্দর, রেল যোগাযোগ এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোর উন্নয়নকে প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    • ● বিদেশনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থান: জি২০ সভাপতিত্ব, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকারের পদক্ষেপকে ভারতের বিশ্বমঞ্চে প্রভাব বৃদ্ধির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বিজেপি।

    এই কর্মসূচিগুলি দলের মূল সমর্থকদের কাছে আদর্শগত ধারাবাহিকতার প্রতীক। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলি এর বিভিন্ন দিক নিয়ে সাংবিধানিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রশ্ন তুলেছে। ফলে এই পদক্ষেপগুলির তাৎপর্য বুঝতে হলে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও তার বাস্তব প্রভাব—দুই দিকই বিচার করা প্রয়োজন।

    বিজেপির সামনে পরবর্তী চ্যালেঞ্জ কী?

    উত্তর-পূর্ব ভারতের মতো অঞ্চলে সংগঠন বিস্তার, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) এবং দলিত ভোটারদের মধ্যে সমর্থন বৃদ্ধির চেষ্টা বিজেপিকে জাতীয় স্তরে আরও বিস্তৃত রাজনৈতিক ভিত্তি গড়তে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে বিজেপির রাজনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় বিরোধী দলগুলিও বৃহত্তর জোট গঠনের পথে হেঁটেছে। ‘ইন্ডিয়া’ (I.N.D.I.A.) জোট তার অন্যতম উদাহরণ।

    তবে রাজনৈতিক সাফল্যকে দীর্ঘমেয়াদি শাসনগত সাফল্যে পরিণত করার জন্য কর্মসংস্থান, কৃষকের আয়, মূল্যবৃদ্ধি, বৈষম্য, ক্ষুদ্র ব্যবসার সমস্যা এবং সরকারি পরিষেবার গুণমানের মতো বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। কল্যাণমূলক প্রকল্পের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি তার কার্যকারিতা ও আর্থিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯০১ সালের ৬ জুলাই। ২০২৬ সালে তাঁর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী এবং জনসংঘের প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পূর্তির প্রেক্ষাপট এই রাজনৈতিক যাত্রাকে নতুন করে পর্যালোচনার সুযোগ করে দিয়েছে।

    সব মিলিয়ে, জনসংঘ থেকে বিজেপির যাত্রা কেবল একটি রাজনৈতিক দলের উত্থানের ইতিহাস নয়। এটি জাতীয়তাবাদী আদর্শ, অর্থনৈতিক চিন্তা, সাংগঠনিক কৌশল এবং কল্যাণমূলক শাসনের পরিবর্তিত রূপেরও ইতিহাস। ১৯৫১ সালে যে ‘নেশন ফার্স্ট’ ভাবনাকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজকের বিজেপির কাছে তার পরবর্তী পরীক্ষা হল—জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্যকে কর্মসংস্থান, সমৃদ্ধি, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং নাগরিক পরিষেবার বাস্তব ফলাফলে কতটা রূপান্তরিত করা যায়।

  • Tiger Shroff Firing Case: টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি, অস্ত্র আসে ‘ডেড লেটার বক্সে’! তদন্তে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগ

    Tiger Shroff Firing Case: টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি, অস্ত্র আসে ‘ডেড লেটার বক্সে’! তদন্তে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মুম্বই পুলিশের দাবি, এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে পরিকল্পিত অস্ত্র সরবরাহের নেটওয়ার্ক। অমৃতসর থেকে ‘ডেড লেটার বক্স’ পদ্ধতিতে আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করে মুম্বইয়ে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। তদন্তে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহভাজন অনিল পণ্ডিতের নামও উঠে এসেছে।

    এই ঘটনায় রাজস্থানের কোটা থেকে ধৃত তিন অভিযুক্তকে বুধবার, ২১ অক্টোবর সকালে মুম্বইয়ে নিয়ে এসেছে পুলিশ। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এই মামলায় আরও চারজনকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের মধ্যে দু’জন মহিলা রয়েছেন।

    কী এই ‘ডেড লেটার বক্স’ পদ্ধতি?

    পুলিশ সূত্রে খবর, অস্ত্র পাচারের ক্ষেত্রে ‘ডেড লেটার বক্স’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। এই পদ্ধতিতে আগে থেকেই নির্দিষ্ট কোনও জায়গায় অস্ত্র রেখে দেওয়া হয়। যাঁদের অস্ত্র সংগ্রহ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাঁদের সেই জায়গার ঠিকানা জানিয়ে দেওয়া হয়। ফলে অস্ত্র কোথা থেকে এসেছে, তা সরাসরি জানা কঠিন হয়ে পড়ে।

    তদন্তকারীদের দাবি, অনিল পণ্ডিতের নির্দেশে কুণাল ও সুমিত অমৃতসরে গিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করেন। অস্ত্র কোথায় রাখা হয়েছিল, সেই তথ্য তাঁদের আগেই দেওয়া হয়েছিল। তবে অস্ত্রগুলি ঠিক কে সেখানে রেখে গিয়েছিল, তা কুণাল ও সুমিত জানেন না বলে দাবি।

    এই কাজের জন্য কুণাল ও সুমিতকে ৭০-৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রের খবর। ওই টাকা থেকে ১০-১২ হাজার টাকা দেওয়া হয় রাধা ও বাবিতাকে। অভিযোগ, এই দুই মহিলা অস্ত্রগুলি মুম্বইয়ে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন।

    কীভাবে অস্ত্র পৌঁছেছিল মুম্বইয়ে?

    তদন্তে জানা গিয়েছে, কুণাল চলতি বছরের জুলাই মাসে সোনিপতের জেল থেকে মুক্তি পান। এরপর এক বন্ধুর মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে অনিল পণ্ডিতের পরিচয় হয়। পরে একটি এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

    প্রায় দু’সপ্তাহ আগে কুণালকে অমৃতসর থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে মুম্বইয়ে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই কাজে নিজের বান্ধবী রাধাকে ব্যবহার করেন কুণাল। রাধার সঙ্গে বাবিতাও মুম্বইয়ে যান।

    পুলিশের দাবি, রাধা ও বাবিতা সোনিপতের একটি কারখানায় কাজ করতেন। তাঁদের উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা বলেও জানা গিয়েছে। অভিযোগ, তাঁরা মুম্বইয়ের দাদরে গিয়ে তিনজনের হাতে অস্ত্রের একটি বড় চালান তুলে দেন। এই অস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নেটওয়ার্কের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    কোটা থেকে মুম্বইয়ে তিন অভিযুক্ত

    টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় ধৃত তিন অভিযুক্ত হল রেহান ওরফে সুক্কা, হরিয়ানার বাসিন্দা ফুল সিং এবং বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা ঋত্বিক কুর্মি ওরফে রোশন, যিনি মুম্বইয়ে থাকতেন।

    কোটা পুলিশ তাঁদের মুম্বই পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করানো হলে অভিযুক্তদের মুম্বইয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর হয়। বুধবার সকালে সড়কপথে মুম্বইয়ে পৌঁছনোর পর তাঁদের জিটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। পরে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের অ্যান্টি-এক্সটরশন সেলের দফতরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

    শুধু টাইগার নয়, টার্গেটে ছিলেন সলমন-আমির-অক্ষয়ও!

    প্রায় ১৬ ঘণ্টার সড়কযাত্রার সময় জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা কয়েকজন বলিউড অভিনেতাকে নিশানা করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। সেই তালিকায় সলমন খান, অক্ষয় কুমার ও আমির খানের নাম রয়েছে বলে খবর। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    পুলিশ সূত্রের দাবি, সলমন খানের কড়া নিরাপত্তার কারণে তাঁকে নিশানা করা কঠিন বলে মনে হয়েছিল অভিযুক্তদের। এরপর তুলনামূলক কম নিরাপত্তা রয়েছে বলে মনে করে টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করার পরিকল্পনা করা হয়। জুহুতে একটি ফুটবল ম্যাচ খেলতে টাইগার আসবেন বলে কেউ তাঁদের জানিয়েছিল বলে অভিযোগ।

    এমনকী, গত ১১ অক্টোবর অভিযুক্তরা ওই ফুটবল মাঠে গিয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। তবে সেদিন অভিনেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গিয়েছে।

    জুহুতে কী ঘটেছিল?

    রবিবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে অন্তত দু’জন বাইক আরোহী গুলি চালায় বলে অভিযোগ। হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, গাড়িটি লক্ষ্য করে পাঁচ থেকে ছ’টি গুলি চালানো হয়েছিল। অভিনেতা বড়সড় আঘাত এড়ালেও তাঁর গাড়ির চালক এবং এক পথচারী আহত হন।

    ঘটনার পর অন্ধেরিতে একটি পরিত্যক্ত মোটরবাইক উদ্ধার করে পুলিশ। সেটি হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, হামলার পর অভিযুক্তরা প্রথমে সুরাটে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে জয়পুরগামী ট্রেনে ওঠে। পরে বাসে দিল্লি হয়ে নেপালে পালানোর পরিকল্পনা ছিল বলে অভিযোগ।

    এই ঘটনায় খুনের চেষ্টা এবং অস্ত্র আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করেছে মুম্বই পুলিশ।

    দিল্লি থেকে আরও চারজন গ্রেফতার

    মঙ্গলবার দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এই ঘটনায় কুণাল (২১), সুমিত (১৯), রাধা (২৩) এবং বাবিতা (২৩) নামে চারজনকে গ্রেফতার করে। তাঁদের দিল্লি ও হরিয়ানার বিভিন্ন জায়গা থেকে আটক করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

    অভিযোগ, অনিল পণ্ডিতের নির্দেশেই কুণাল ও সুমিত অস্ত্র সংগ্রহ করেছিলেন এবং রাধা ও বাবিতা তা মুম্বইয়ে পৌঁছে দিয়েছিলেন। অনিল পণ্ডিত বিদেশে বসে অপরাধচক্র পরিচালনা করেন বলে পুলিশের সন্দেহ। তবে এই অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।

    চারজনকে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ৩৫(১)(বি) ধারার অধীনে আদালতে পেশ করা হয় বলে সূত্রের খবর। পরে মহারাষ্ট্র পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), মুম্বই, তাঁদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং আনুষ্ঠানিক গ্রেফতারের অনুমতি চায়। আদালত সেই অনুমতি দেয়। এরপর মুম্বই পুলিশ তাঁদের তিন দিনের ট্রানজিট রিমান্ড পায়।

    তদন্তে কোন দিকগুলি গুরুত্বপূর্ণ?

    এই ঘটনায় তদন্তকারীদের মূল নজর তিনটি বিষয়ে—গুলি চালানোর সরাসরি নির্দেশদাতা কে, অস্ত্র সরবরাহের গোটা নেটওয়ার্কে আর কারা যুক্ত এবং হামলার পিছনে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের প্রকৃত ভূমিকা কী।

    রেহান ও অনিল পণ্ডিতের মধ্যে যোগাযোগ ছিল বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। অনিল পণ্ডিতকে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের এক সহযোগী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সমাজমাধ্যমে একটি অযাচাইকৃত পোস্টে ওই গ্যাং হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে খবর। তবে পোস্টটির সত্যতা এবং হামলার সঙ্গে গ্যাংয়ের প্রত্যক্ষ যোগ এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

    টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনা যে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন হামলা নয়, বরং এর পিছনে অস্ত্র সংগ্রহ, পরিবহণ এবং সম্ভাব্য নির্দেশদাতাদের নিয়ে একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক কাজ করেছে কি না, এখন সেই দিকেই নজর মুম্বই ও দিল্লি পুলিশের।

  • PM Modi Speech: জাতীয় সম্মান, সামাজিক ঐক্য ও ভারতীয় সংস্কৃতি— বিজয়া দশমীতে ‘নেশন ফার্স্ট’ ডাক মোদির

    PM Modi Speech: জাতীয় সম্মান, সামাজিক ঐক্য ও ভারতীয় সংস্কৃতি— বিজয়া দশমীতে ‘নেশন ফার্স্ট’ ডাক মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠানে দেশবাসীর উদ্দেশে ‘নেশন ফার্স্ট’ বা ‘সবার আগে দেশ’ শপথ নেওয়ার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের সম্মান ক্ষুণ্ণ করে, সমাজে বিভাজন তৈরি করে এবং ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, এমন শক্তিগুলিকে সম্মিলিতভাবে চিহ্নিত করে পরাস্ত করার ডাক দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার রাজধানীতে বিজয়া দশমী উদযাপনে অংশ নিয়ে মোদি বলেন, সত্য ও মানবতার পাশে দাঁড়ালে শেষ পর্যন্ত জয় হয় সত্যেরই।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে ভগবান রামের আদর্শ, সত্য ও ন্যায়ের প্রতি অবিচল থাকা এবং অন্যায়, অত্যাচার ও সন্ত্রাসের অবসানের বার্তা। তাঁর মতে, রামের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখা এবং চিরন্তন সত্যের মিথ্যার বিরুদ্ধে জয়ের বিশ্বাস শুধু উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা ভারতের প্রাণশক্তির অংশ।

    ‘নেশন ফার্স্ট’ শপথ, দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা

    বিজয়া দশমীর মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের উচিত ‘নেশন ফার্স্ট’ শপথ গ্রহণ করা। দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এমন শক্তিগুলিকে চিহ্নিত করতে হবে, যারা জাতীয় সম্মানের ক্ষতি করতে চায়, সমাজকে বিভক্ত করে এবং ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি ঘৃণা ছড়ায়।

    মোদি বলেন, “সত্য ও মানবতার পাশে যখন আমরা দাঁড়াই, তখন শেষ পর্যন্ত জয় আমাদেরই হয়।” তাঁর এই বক্তব্যে জাতীয় ঐক্য, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং দেশের অগ্রগতির প্রশ্নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর বার্তার মূল সুর, দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক সংহতি বজায় রাখতে নাগরিকদের সম্মিলিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় স্বার্থকে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বানও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট।

    ভগবান রামের আদর্শে সত্য, ন্যায় ও সহনশীলতার শিক্ষা

    বিজয়া দশমীর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভগবান রামের জীবনের নানা প্রতিকূলতার কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, রাজ্যাভিষেকের পরিস্থিতি হোক বা বনবাসের কঠিন সময়—রামচন্দ্র সত্য ও নৈতিকতার পথ থেকে কখনও সরে যাননি।

    সংস্কৃত শ্লোক উদ্ধৃত করে মোদি বোঝানোর চেষ্টা করেন, অনুকূল ও প্রতিকূল—উভয় পরিস্থিতিতেই নিজের কর্তব্য ও আদর্শে অবিচল থাকার শিক্ষা দিয়েছেন ভগবান রাম। তাঁর মতে, সংকটের মধ্যেও ন্যায় ও সত্যের পথ অনুসরণ করাই রামের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভগবান রাম দয়া, করুণা, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।”

    এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিজয়া দশমীর সাংস্কৃতিক ও নৈতিক তাৎপর্য তুলে ধরেন তিনি। অন্যায় ও অত্যাচারের অবসান, সত্যের প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখার বার্তাকেই উৎসবের মূল শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

    ‘অত্যাচার ও সন্ত্রাসের অবসান’, উৎসবের তাৎপর্য ব্যাখ্যা মোদির

    মোদি বলেন, ভগবান রামের আদর্শকে জীবন্ত রাখা, অত্যাচার ও সন্ত্রাসের অবসানের ঘোষণা এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে চিরন্তন সত্যের জয়ের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস—এই বিষয়গুলি ভারতের কাছে শুধুমাত্র উৎসবের উপলক্ষ নয়, বরং দেশের প্রাণশক্তি।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিজয়া দশমীকে কেবল ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। বরং সত্য, ন্যায়, নৈতিকতা ও সামাজিক ঐক্যের মতো মূল্যবোধের সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।

    ভারতীয় ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি সমাজের মধ্যে ইতিবাচক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।

    ‘সমুদ্র সামনে, লঙ্কা দূরে’, বাধা পেরিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছনোর বার্তা

    ভগবান রামের জীবন থেকে সাফল্যের সূত্র ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পথে বাধা এলেই যাত্রা থেমে যেতে পারে না। তাঁর কথায়, “সামনে সমুদ্র ছিল, লঙ্কা ছিল অনেক দূরে, কিন্তু সংকল্প ছিল অটুট।”

    রামের লঙ্কা অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে মোদি বোঝান, কঠিন পরিস্থিতিতে লক্ষ্য স্থির রাখা এবং সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগানোই সাফল্যের অন্যতম শর্ত। ভগবান রাম মানুষের সম্মিলিত শক্তিকে জাগ্রত করেছিলেন, জনসাধারণের অংশগ্রহণকে নিজের শক্তি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং উপলব্ধ সম্পদকে একত্রিত করে আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব লক্ষ্যকে সম্ভব করে তুলেছিলেন।

    প্রধানমন্ত্রীর মতে, সাফল্যের মৌলিক সূত্র হল নিজের শক্তির উপর আস্থা রাখা, নিজের সামর্থ্যের প্রতি বিশ্বাস বজায় রাখা, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করা এবং লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকা।

    এই বার্তাকে দেশের উন্নয়ন, সামাজিক উদ্যোগ এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক বলে ব্যাখ্যা করা যায়। তাঁর বক্তব্যে ব্যক্তিগত সংকল্পের পাশাপাশি জনঅংশগ্রহণের গুরুত্বও বিশেষভাবে উঠে এসেছে।

    রাজনৈতিক চাপের আবহে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে নজর

    প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা Special Intensive Revision (SIR)-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী পক্ষের নেতৃত্বে প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে প্রতিবাদকারীরা।

    অন্যদিকে, বিজেপির অভিযোগ, রাজধানী-সহ বিভিন্ন জায়গায় হওয়া এই প্রতিবাদ দেশের অগ্রগতি চায় না, এমন বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় পরিচালিত হয়েছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনও প্রমাণ এখানে উল্লেখ করা হয়নি।

    এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মোদির ‘নেশন ফার্স্ট’ আহ্বান এবং দেশের অগ্রগতির বিরোধী শক্তিগুলিকে চিহ্নিত করার বার্তা বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। যদিও প্রধানমন্ত্রীর বিজয়া দশমীর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল জাতীয় ঐক্য, ভগবান রামের আদর্শ এবং সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা, তবু চলতি রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে তাঁর মন্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্যও আলোচনায় আসতে পারে।

    সব মিলিয়ে, বিজয়া দশমীর মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্তা ছিল—দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া, বিভাজনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা। ভগবান রামের জীবন ও আদর্শকে সামনে রেখে তিনি দেশবাসীকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, দৃঢ় সংকল্প, সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে কঠিন বাধাও অতিক্রম করা সম্ভব।

  • Mohan Bhagwat: ‘পশ্চিম থেকে আসছে ঝড়’, ভারতকে নিয়ে বড় সতর্কবার্তা আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের

    Mohan Bhagwat: ‘পশ্চিম থেকে আসছে ঝড়’, ভারতকে নিয়ে বড় সতর্কবার্তা আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা সফল হবে না। ক্ষমতার পালাবদল হলেই পরিস্থিতি বদলে যাবে, এমন ধারণাও ভুল। মঙ্গলবার নাগপুরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) বিজয়াদশমী উৎসবে ভাষণ দিতে গিয়ে এই মন্তব্য করলেন সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর দাবি, ভারতের উন্নয়ন ও দৃঢ় নীতির অগ্রগতিতে বাধা দিতে একাধিক শক্তি সক্রিয় রয়েছে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আন্দোলন দেশে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে চলা প্রতিবাদের আবহে ভাগবতের এই বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    ‘পশ্চিম থেকে আসছে ঝড়’, ভারতকে নিয়ে সতর্কবার্তা ভাগবতের

    ভাগবতের বক্তব্য, ভারত ক্রমশ এগিয়ে চলেছে বলেই দেশকে বিপথে চালিত করার চেষ্টা করছে কিছু শক্তি। তাঁর কথায়, গত কয়েক দশকে দৃঢ় নীতি ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভারত যে অগ্রগতি করেছে, তা ব্যাহত করাই তাদের লক্ষ্য। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতকে ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি সঙ্ঘকেও দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।

    সঙ্ঘপ্রধানের কথায়, “পশ্চিম দিক থেকে একটি ঝড় আসছে, যা সংস্কৃতি, ব্যবস্থা ও নিরাপত্তাকে ঘৃণা করে। এই শক্তি ধ্বংস করতে চায়।” তাঁর দাবি, বিশ্বের একাধিক শক্তি চায় না ভারত নিজের উন্নয়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাক। এই পরিস্থিতিতে সমাজকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

    নিজের বক্তব্যের সমর্থনে ফ্রান্স, বাংলাদেশ ও নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ভাগবত। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনার সরকারের পতন এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালে জেন-জি আন্দোলনের পর কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতনের উদাহরণ দেন তিনি। ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জনপরিষেবার অবনতি ও শিক্ষাক্ষেত্রের সংস্কারকে ঘিরে বিক্ষোভের কথাও উল্লেখ করেন।

    ভাগবতের অভিযোগ, ভারতে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যাঁরা এই শক্তিগুলির উদ্দেশ্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। তাঁদের একাংশের মধ্যে ক্ষমতার লোভ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    আন্দোলন নয়, সমাজের ভিতর থেকেই সমাধানের বার্তা

    রাজনৈতিক প্রতিবাদ ও আন্দোলনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আরএসএস প্রধান। তাঁর বক্তব্য, আন্দোলন করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত বা উসকানিমূলক বিক্ষোভের ফলে উত্তেজনা, অরাজকতা এবং জনজীবনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।

    তাঁর মতে, সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে সমাজের ভিতর থেকেই। প্রতিবাদের মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলানোর পরিবর্তে সামাজিক ঐক্য ও দায়িত্ববোধের উপর জোর দিয়েছেন তিনি।

    এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ চলছে। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেছিলেন, দিল্লিতে এই প্রতিবাদ ক্রমশ ‘সরকার পরিবর্তনের লড়াই’-এ পরিণত হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়।

    বিজেপির তরফে এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং অভিযোগ করেন, কিছু গোষ্ঠী তরুণদের ব্যবহার করে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। বিজেপির মুখপাত্র সি আর কেশবনও দাবি করেন, সরকার ফেলার উদ্দেশ্য আড়াল করতেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এই অভিযোগগুলির প্রেক্ষিতে বিরোধীদের অবস্থান নিয়ে প্রতিবেদনে পৃথক কোনও বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

    উন্নয়ন বনাম পরিবেশ, ভারসাম্যের উপর জোর

    রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি উন্নয়নের মডেল নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন ভাগবত। তাঁর মতে, ভারতকে এমন উন্নয়নের পথ দেখাতে হবে, যা মানবসমাজের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠবে না। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি জরুরি হলেও পরিবেশ এবং নৈতিকতার প্রশ্নকে উপেক্ষা করা চলবে না।

    ভারতের ধর্মীয়, ভাষাগত ও খাদ্যাভ্যাসের বৈচিত্র্যকে সম্মান ও সুরক্ষিত রাখার উপরও জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দেশের বৈচিত্র্যকে স্বীকার করেই সামাজিক ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

    উন্নয়ন ও পরিবেশের ভারসাম্য বোঝাতে নেপালের সাম্প্রতিক বন্যার প্রসঙ্গ টানেন সঙ্ঘপ্রধান। হিমালয় অঞ্চলে ভারত, নেপাল ও চিন—তিন দেশের ক্ষেত্রেই অপরিকল্পিত উন্নয়ন নতুন সমস্যা তৈরি করছে বলে সতর্ক করেন তিনি। তাঁর মতে, উন্নয়নের মূল্য যেন মানুষের প্রাণ দিয়ে চোকাতে না হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    সব মিলিয়ে, বিজয়াদশমীর ভাষণে মোহন ভাগবতের বক্তব্যে উঠে এসেছে তিনটি প্রধান বিষয়—ভারতের অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টির আশঙ্কা, রাজনৈতিক আন্দোলনের পরিবর্তে সমাজের ভিতর থেকে সমস্যার সমাধান এবং পরিবেশ ও নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা। নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে চলা বিতর্কের আবহে তাঁর রাজনৈতিক মন্তব্যও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

  • Durga Puja: দুর্গাপুজোয় স্বেচ্ছাসেবককে শ্লীলতাহানি, গ্রেফতার এএসআই কবিরুল ইসলাম

    Durga Puja: দুর্গাপুজোয় স্বেচ্ছাসেবককে শ্লীলতাহানি, গ্রেফতার এএসআই কবিরুল ইসলাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার নিউ আলিপুর এলাকায় বিখ্যাত ‘সুরচি সঙ্ঘ’ দুর্গা পুজো (Durga Puja) মণ্ডপের বাইরে ২১ বছর বয়সী এক তরুণী স্বেচ্ছাসেবককে শ্লীলতাহানি করার গুরুতর অভিযোগে কলকাতা সশস্ত্র পুলিশের এক  এএসআই-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম কবিরুল ইসলাম, যিনি নথিপত্রে কবিরুল হাসান মণ্ডল নামেও পরিচিত। কলকাতা সশস্ত্র পুলিশের ৩য় ব্যাটালিয়নের ‘বি’ কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। গত ১৭ অক্টোবর রাত ১১টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে এই অনভিপ্রেত ঘটনাটি ঘটে। সেই সময় ওই তরুণী সুরচি সঙ্ঘের বহির্গমন বা এক্সিট গেটের কাছে একটি চেয়ারে বসে নিজের স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

    ভিডিও ভাইরাল ও আইনি ব্যবস্থা

    অভিযোগ অনুযায়ী, ডিউটিতে থাকা অবস্থাতেই ওই পুলিশ কর্মকর্তা তরুণীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ও আপত্তিজনক শারীরিক স্পর্শের মাধ্যমে অশালীন আচরণ করেন। ঘটনাটির একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ব্যস্ত রাস্তার ওপর পুলিশ কর্মকর্তার এই ধরনের আচরণের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়তেই চারদিকে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ অক্টোবর ওই নির্যাতিতা তরুণী নিউ আলিপুর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ জানান। তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৭৫(২) ধারায় শ্লীলতাহানির একটি মামলা দায়ের করে।

    পুলিশের তদন্ত ও পরিবারের অবগতি

    লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর নিউ আলিপুর থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে (Durga Puja) এবং অভিযুক্ত এএসআই কবিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে পুলিশ প্রশাসন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অভিযুক্তের পরিবারকেও তার গ্রেপ্তারের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে যে ঘটনাটির বিষয়ে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে পরবর্তী সমস্ত প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

  • Yusuf Pathan: বরোদার সেই বিতর্কিত জমি অবশেষে উপহার হিসেবে পেলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান

    Yusuf Pathan: বরোদার সেই বিতর্কিত জমি অবশেষে উপহার হিসেবে পেলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুজরাট সরকারের পক্ষ থেকে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার এবং রাজনীতিবিদ ইউসুফ পাঠানকে (Yusuf Pathan) একটি বড় স্বস্তি দেওয়া হয়েছে। বরোদার তন্দলজা এলাকায় অবস্থিত ৯৭৮ বর্গমিটারের একটি বিতর্কিত পৌর কর্পোরেশন বা মিউনিসিপ্যাল প্লট আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য সরকার। এই জমিটি নিয়ে বরোদায় দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা ও আইনি লড়াই চলছিল। ইউসুফ পাঠানের পরিবারের বাসভবনের পাশেই অবস্থিত এই সম্পত্তি ঘিরে অতীতে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বরোদা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এর আগে এই জমিতে অননুমোদিত দখলের অভিযোগ এনে নোটিশ পাঠিয়েছিল এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। তবে সম্প্রতি সমস্ত আইনি জটিলতা পাশ কাটিয়ে রাজ্য সরকারের বিশেষ অনুমোদনের মাধ্যমে এই জমিটি হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    উপহার ও বিশেষ মূল্যের শর্তে জমি বরাদ্দ

    নতুন সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বরোদার এই বিতর্কিত জমির সম্পূর্ণ অংশটি সাধারণ নিলাম প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে ইউসুফ পাঠানকে (Yusuf Pathan) প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে মোট ৯৭৮ বর্গমিটার জমির মধ্য থেকে ঠিক ৫০০ বর্গমিটার জমি তাকে সম্পূর্ণ আবাসিক ব্যবহারের জন্য ‘উপহার’ বা বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। বাকি থাকা ৪৭৮ বর্গমিটার জমি সাধারণ মূল্যে নয়, বরং নির্ধারিত মূল্যায়ন মূল্যের মাত্র ৫৫ শতাংশ দামে তাকে হস্তান্তর করা হবে। বরোদা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের স্থায়ী কমিটি ও সাধারণ বোর্ডে এই বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তকে বরোদার অন্য কোনো মামলার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত হিসেবে গণ্য করা হবে না এবং রাজ্য সরকার মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনকে এর সমপরিমাণ মূল্যের আরেকটি জমি ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করবে।

    রাজনৈতিক সমীকরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি

    বরোদার এই জমি বরাদ্দ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে। অতীতে বরোদা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এই জমির বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকার বেশি নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং বিনা নিলামে জমি হস্তান্তরের বিরোধিতা করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং আইনি লড়াইয়ে ইউসুফ পাঠানের (Yusuf Pathan) পক্ষ থেকে মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরেই এই বড় সিদ্ধান্তটি এল। দীর্ঘদিনের এই বিরোধ মিটে যাওয়ায় সাবেক এই তারকা ক্রিকেটারের আইনি জটিলতার অবসান ঘটেছে। বরোদা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সরকারি শর্তগুলো পূরণ সাপেক্ষে এই সম্পত্তি হস্তান্তরের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া খুব দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

LinkedIn
Share