Blog

  • Supreme Court on Hanging: মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ফাঁসিই বহাল, ‘আরও মানবিক’ পদ্ধতির আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

    Supreme Court on Hanging: মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ফাঁসিই বহাল, ‘আরও মানবিক’ পদ্ধতির আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মৃত্যুদণ্ড (Supreme Court on Hanging) কার্যকরের পদ্ধতি হিসেবে আপাতত ফাঁসিই বহাল থাকল। ‘আরও মর্যাদাপূর্ণ ও কম যন্ত্রণাদায়ক’ বিকল্প পদ্ধতির দাবি জানিয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে ভবিষ্যতে বৃহত্তর পর্যালোচনা করার স্বাধীনতা দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ বিদ্যমান পদ্ধতিতে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছে। তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এই রায়ের ফলে কেন্দ্র সরকার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে বৈজ্ঞানিক, চিকিৎসাবিজ্ঞানভিত্তিক ও আইনি পর্যালোচনা করতে বাধাপ্রাপ্ত হবে না।

    ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে যন্ত্রণা

    আবেদনকারীদের মূল যুক্তি ছিল, ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় যন্ত্রণা ও কষ্টের সম্ভাবনা রয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পরও একজন বন্দির মানবিক মর্যাদা কতটা সুরক্ষিত থাকছে, সেই প্রশ্নই তাঁরা আদালতের সামনে তুলেছিলেন। ফাঁসির বিকল্প হিসেবে আবেদনকারীরা লেথাল ইনজেকশন, গুলি করে মৃত্যু এবং ইলেকট্রোকিউশন-সহ বিভিন্ন পদ্ধতি বিবেচনার দাবি জানিয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট এর মধ্যে কোনও পদ্ধতিকেই বিকল্প হিসেবে নির্দিষ্ট বা অনুমোদন করেনি। একইসঙ্গে কেন্দ্রকে ফাঁসির বদলে অন্য কোনও পদ্ধতি চালু করার নির্দেশও দেয়নি। বরং আদালত বিষয়টি কেন্দ্রের বিবেচনার উপর ছেড়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন কোনও বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসাবিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য সামনে এলে এবং তাতে যদি প্রমাণিত হয় যে অন্য কোনও পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির যন্ত্রণা ও কষ্ট কমানো সম্ভব, তাহলে বিষয়টি ফের পর্যালোচনার সুযোগ থাকবে।

    মৃত্যুদণ্ড নয়, প্রশ্ন ছিল কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে

    এই মামলায় মূল প্রশ্ন ছিল না মৃত্যুদণ্ডের সাংবিধানিক বৈধতা। আবেদনকারীরা মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি বাতিলের দাবি জানাননি। তাঁদের আপত্তি ছিল কীভাবে সেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে, তা নিয়ে। আবেদনকারীদের বক্তব্য ছিল, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির ক্ষেত্রেও মানবিক মর্যাদা বজায় রাখা প্রয়োজন এবং এমন কোনও পদ্ধতি থাকলে, যাতে মৃত্যুর সময় যন্ত্রণা কম হয়, তা বিবেচনা করা উচিত। এই মামলায় দীর্ঘ শুনানির পর গত ২২ জানুয়ারি ২০২৬ সুপ্রিম কোর্ট রায় সংরক্ষণ করেছিল। সেই রায়েই আপাতত দেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচলিত পদ্ধতি হিসেবে ফাঁসিকে বহাল রাখা হয়েছে। ফলে এখনই ফাঁসির পদ্ধতিতে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। তবে কেন্দ্র চাইলে চিকিৎসাবিজ্ঞান, নতুন প্রযুক্তি এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে ভবিষ্যতে নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নীতিগত পর্যালোচনা করতে পারবে।

  • NTA: বড়সড় সংস্কারের পথে এনটিএ, সরানো হল ৫০-এর বেশি কর্মীকে

    NTA: বড়সড় সংস্কারের পথে এনটিএ, সরানো হল ৫০-এর বেশি কর্মীকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক একাধিক প্রশ্নের পর জাতীয় পরীক্ষা সংস্থায় (এনটিএ) বড়সড় সংস্কারের উদ্যোগ নিল (NTA) কেন্দ্র। সংস্থার পরীক্ষা পরিচালনা এবং গোপনীয় কার্যক্রমে একাধিক পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Exam Security)। সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই ৫০-এর বেশি কর্মীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৮ অগাস্ট শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এনটিএর পরীক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উচ্চশিক্ষা দফতরের সচিব, এনটিএ কর্তা-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। সংস্থার নেওয়া পদক্ষেপ এবং সামগ্রিক পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ (NTA)

    বৈঠকে জানানো হয়, যে সংস্কার প্রক্রিয়া চলছে, তার অংশ হিসেবে এনটিএর ৫০-এর বেশি কর্মীকে ইতিমধ্যেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংস্থার পেশাদার নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এজন্য ১০টি নতুন উচ্চপদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। এই পদগুলির মধ্যে রয়েছে প্রধান প্রযুক্তি আধিকারিক, প্রধান অর্থ আধিকারিক, এবং প্রধান তথ্য নিরাপত্তা আধিকারিকও। এনটিএর গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিকে আরও শক্তিশালী করতে বেসরকারি ক্ষেত্র থেকেও বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা হচ্ছে। বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা, মনোবৈজ্ঞানিক পরিমিতি এবং প্রশ্নপত্র প্রণয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তাঁদের কাজে লাগানো হবে। পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সব নিয়ম ও নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। পরীক্ষার পরিচালনা ও নিরাপত্তায় কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না—বৈঠকের নির্দেশনায় এমনই কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত মিলেছে।

    বড়সড় সংস্কার

    এনটিএর গোপন কার্যক্রমের কাঠামোয়ও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বড়সড় সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপদ ও বিচ্ছিন্ন কক্ষের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, বহিরাগত নেটওয়ার্ক থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন কম্পিউটার ব্যবস্থা ব্যবহার এবং সংবেদনশীল পরীক্ষা-সংক্রান্ত কাজের জায়গায় ব্যক্তিগত বৈদ্যুতিন যন্ত্র জমা রাখার নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা। এর লক্ষ্য, পরীক্ষার গোপনীয় প্রক্রিয়ায় অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকানো এবং নিরাপত্তা আরও জোরদার করা। এছাড়াও এনটিএর সমস্ত পরীক্ষা পরিচালনা প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথায় কী ধরনের ত্রুটি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে কী কী সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতেও বলা হয়েছে। এনটিএকে (NTA) ঘিরে পরীক্ষা পরিচালনা, নিরাপত্তা এবং নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই এই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হল। নতুন পদক্ষেপগুলির মাধ্যমে সংস্থার অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি, প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো এবং পরীক্ষা পরিচালনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র। শিক্ষামন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বৈঠকে মূলত এনটিএর সামগ্রিক পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে (Exam Security)। সংশোধনমূলক পদক্ষেপ দ্রুত কার্যকর করার জন্য সংস্থাকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে (NTA)।

     

  • Teesta Water Ties: “তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট করতে চায় না বাংলাদেশ”, বললেন ঢাকার জলসম্পদমন্ত্রী

    Teesta Water Ties: “তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট করতে চায় না বাংলাদেশ”, বললেন ঢাকার জলসম্পদমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “তিস্তা নদীর জলবণ্টন চুক্তিকে (Teesta Water Ties) কেন্দ্র করে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না বাংলাদেশ।” অন্তত এমনই বললেন বাংলাদেশের জলসম্পদমন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী আনে।তবে একইসঙ্গে নিজেদের স্বার্থের কথাও নয়াদিল্লিকে (India Bangladesh) বিবেচনা করতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।ঢাকায় আয়োজিত এক সেমিনারে মন্ত্রী বলেন, “প্রতিবেশী দেশ একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ। তাদের যেমন নিজেদের স্বার্থ রয়েছে, তেমনই আমাদেরও স্বার্থ রয়েছে—এই বিষয়টি তাদের ভাবতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “একজন বন্ধু আর এক বন্ধুর স্বার্থ রক্ষা করবে। তাদের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কখনও নষ্ট হোক, আমরা তা চাই না।”

    তিস্তা সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের তৎপরতা (Teesta Water Ties)

    দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের নতুন করে তৎপরতার মধ্যেই জলসম্পদমন্ত্রীর এহেন মন্তব্য সামনে এল। এর অংশ হিসেবে চিনের সহযোগিতায় প্রস্তাবিত তিস্তা নদীর যৌথ ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও করছে ঢাকা। এই প্রকল্পের লক্ষ্য, উত্তর বাংলাদেশের বারবার দেখা দেওয়া বন্যা, নদীভাঙন এবং শুকনো মরশুমে জলসংকট মোকাবিলা করা। মন্ত্রী জানান, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর প্রস্তাবিত প্রকল্প নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে সরকার একাধিক সেমিনার ও পরামর্শ বৈঠকের আয়োজন করেছে। এসব আলোচনায় পাওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে বিস্তারিত সমীক্ষা করা হবে। সেই সমীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে সরকার।তিস্তা প্রকল্পকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নদীভাঙন-সহ নানা সমস্যায় বছরের পর বছর ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরাঞ্চলের পাঁচ-ছ’টি জেলার মানুষের এই প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক প্রত্যাশা রয়েছে। তাঁর কথায়, “আমরা যদি এটি বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হই, তাহলে ওই এলাকার পরিবারগুলির ক্ষয়ক্ষতি ও সমস্যার পরিমাণ আরও বাড়তে থাকবে। যে কোনও মূল্যে আমাদের এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে (Teesta Water Ties)।”

    জলবণ্টন নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ বিরোধ

    তিস্তা নদীর জলবণ্টন নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কয়েক দশক ধরে বিরোধ রয়েছে। হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে নদীটি সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং পরে বাংলাদেশের যমুনা নামে পরিচিত ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। উত্তর বাংলাদেশের কৃষি ও মানুষের জীবিকার জন্য তিস্তার জল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে পশ্চিমবঙ্গেও সেচ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই নদীর জল গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের একাধিক জেলার মানুষের জীবন ও কৃষি নির্ভরশীল তিস্তার ওপর। আটের দশক থেকেই তিস্তার জল ভাগাভাগি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। ১৯৮৩ সালে একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই ব্যবস্থায় তিস্তার জলের ৩৯ শতাংশ ভারতের জন্য এবং ৩৬ শতাংশ বাংলাদেশের জন্য নির্ধারণ করা হয়। বাকি ২৫ শতাংশ জল বণ্টন করা হয়নি (India Bangladesh)।

    তিস্তার জল বণ্টন চুক্তি জরুরি প্রয়োজন

    এরপর ২০১১ সালে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। তাতে শুষ্ক মরশুমে তিস্তার জল ভাগাভাগির একটি সূত্র প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যে জলের প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ওই ব্যবস্থার বিরোধিতা করায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়নি (Teesta Water Ties)। জলসম্পদমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিত প্রস্তাবিত তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দফতর এবং বিভিন্ন মন্ত্রকের মধ্যে বৈঠকের মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিস্তা নিয়ে একটি চুক্তি “জরুরি প্রয়োজন” বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সেটিকে তিস্তা চুক্তি বা অন্য কোনও ব্যবস্থার নামে অভিহিত করা হোক না কেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চিন সফর

    জুন মাসে বেজিংয়ে সরকারি সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চিনের নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে প্রস্তাবিত তিস্তা পুনরুদ্ধার প্রকল্পের কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চিনের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছে বলে জানানো হয়েছে (India Bangladesh)। তিস্তা প্রকল্পে চিনকে যুক্ত করার সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিনের এই জলবণ্টন বিরোধে নতুন কৌশলগত মাত্রা যুক্ত হয়েছে। ভারতের কাছে বিষয়টি বিশেষভাবে সংবেদনশীল, কারণ উত্তর বাংলাদেশের ওই অঞ্চলের অবস্থান ভারতের শিলিগুড়ি করিডরের (চিকেন্স নেকের) কাছাকাছি। এই সরু স্থলপথই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করেছে (Teesta Water Ties)। ভারত বরাবরই বলে আসছে, তিস্তা সমস্যার সমাধান সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে করা উচিত। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গও রয়েছে।

    রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্য

    জুলাই মাসে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, প্রস্তাবিত তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের মতামত বাংলাদেশকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে ভারতের সামগ্রিক অবস্থানের অংশ হিসেবে “সংশ্লিষ্ট সব উন্নয়ন” বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। তিস্তা জলবণ্টন বিরোধ ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি থেকে আলাদা। ওই চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। ভারত ও বাংলাদেশের (India Bangladesh) মধ্যে মোট ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে। এসব নদী ও জলসম্পর্কিত বিষয় নিয়ে দুই দেশ প্রায়ই আলোচনা করে থাকে যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে (Teesta Water Ties)।

     

  • Suvendu Adhikari: ‘কত কর্মসংস্থান হচ্ছে, সেটাই আসল’, ইস্পাত কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে রাজ্যবাসীর কাছে ১ বছর সময় চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী

    Suvendu Adhikari: ‘কত কর্মসংস্থান হচ্ছে, সেটাই আসল’, ইস্পাত কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে রাজ্যবাসীর কাছে ১ বছর সময় চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালা বদলের পর শিল্পায়নের আরও একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো পুরুলিয়ায়। সোমবার ‘অমিত মেটালিকস’ কোম্পানির ইস্পাত কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এই কারখানা থেকে প্রায় ৫ হাজার কর্মসংস্থান হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল গ্রিনফিল্ড ইন্টিগ্রেটেড স্টিল প্ল্যান্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় এদিন। রাজ্যে শিল্পের জোয়ার আনতে বদ্ধপরিকর সরকার। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে বাংলায় শিল্পের জোয়ার আসবে বলেই আশা করনে শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যাবাসীর কাছে এক বছর সময় চেয়ে নেন। তার মধ্যেই কর্মসংস্থানের আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    রাজ্যবাসীর কাছে ১ বছর সময় নিলেন

    পুরুলিয়ার সভা থেকে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেন মুখ্য়মন্ত্রী। তিনি বলেন, “আগামী ২০২৭ সালের ৯ মে আমার মুখ্যমন্ত্রিত্বের ১ বছর হবে। মুখ্যমন্ত্রিত্বের ১ বছর হলে আপনাদের সামনে পরীক্ষায় বসব। পরীক্ষায় আপনারা আমাকে নম্বর দেবেন। ১০-এর মধ্যে ৯ না পেলে ক্ষমা চেয়ে নেব। বলব পারলাম না। আপনারাই বলবেন ভুল লোককে ঠিক করিনি। সঠিক লোককে সঠিক দলকে এনেছি। বিশ্বাস-ভরসা রাখুন। সময় দিন।” তিনি আবারও বলেন, “কেন্দ্র-রাজ্য একসঙ্গে মিলে আপনাদের কল্যাণ করব। আমরা বদ্ধপরিকর।”

    ল্যান্ড পার্চেস পলিসি চালু

    সোমবার পুরুলিয়ায় পরপর দুটো কর্মসূচি ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। প্রথমে মানবাজারে জলপ্রকল্পের উদ্বোধন করেন। পরে রঘুনাথপুরে তিনি একটি ইস্পাত কারখানার শিলান্যাস করেন। পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে ওই ইস্পাত কারখানায় প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ করা হচ্ছে। প্রায় ৫,০০০ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শিল্পায়নের জন্য আমরা সবরকম সাহায্য করব।” মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, “আমরা জোর করে শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করব না, আমরা ল্যান্ড পার্চেস পলিসি চালু করেছি। ল্যান্ড পুলিং পলিসি চালু করেছি। চাষিদের থেকে জমি নিয়ে ল্যান্ড ডেভলপমেন্টও চালু করব।”  শিল্পায়নের লক্ষ্যে রাজ্যে নতুন শিল্প নীতির কথা আগেই জানানো হয়েছিল। তৈরি হবে ল্যান্ড ব্যাঙ্কও। মুখ্যমন্ত্রী এ দিন জানান, জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান সরকার করবে। প্রয়োজনে সরকার সরাসরি জমি কিনে তা শিল্পের জন্য তুলে দেওয়া হবে। ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ হলে ওয়ান উইন্ডো সিস্টেমে যাবতীয় কাজ হয়ে যাবে। গ্রাম পঞ্চায়েত, জেলা পরিষদ— কোথাও যেতে হবে না।

    ভিন রাজ্যে যাবেন না

    পেটের টানে পুরুলিয়া-বাঁকুড়া-সহ জঙ্গলমহলের প্রচুর মানুষ ভিন রাজ্যে কর্মসূত্রে চলে গিয়েছেন। তাঁদের রাজ্যে ফিরে আসার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। তাঁর কথায়, “আপনারা ফিরে আসুন। শিল্পে ভরিয়ে দেব।” রাজ্যে শিল্পের উন্নয়নে রাজ্য সরকার কী কী করছে সেই খতিয়ানও তুলে ধরেন মুখ্য়মন্ত্রী। অমিত মেটালিকসের ইন্টিগ্রেড গ্রিনফিল্ড প্রকল্পের মধ্যে ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট ও ফেরো এলয় এবং স্পঞ্জ আয়রন রয়েছে। ১৪৮ একর জমির উপর ওই প্রকল্প গড়ে উঠবে। এই প্রকল্প থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হবে।

    ৮০০ দিনের মধ্যে কারখানা চালু

    সংস্থাটি ইতিমধ্যেই রঘুনাথপুরে বৃক্ষরোপণ, স্কিল ট্রেনিং সেন্টার, অটোমোবাইল ক্ষেত্র এবং সিএসআর (CSR) কার্যক্রমের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ১,০০০ দিনের নির্ধারিত সময়সীমা কমিয়ে মাত্র ৮০০ দিনের মধ্যে কারখানা চালু করার আহ্বান জানান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অদক্ষ কর্মী হিসেবে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দিতে হবে। সিএসআর-এ স্থানীয়দের মধ্যে কাজ করতে হবে।’ তাঁর সংযোজন, ‘আমার কাছে কত টাকার বিনিয়োগ হলো সেটা বিচার্য নয়, কত কর্মসংস্থান হচ্ছে, সেটাই আসল। শুভেন্দু বলেন, ‘আমাদের জমি রয়েছে, পরিকাঠামো রয়েছে, রঘুনাথপুরের পাশে জাতীয় সড়কের কানেক্টিভিটি আছে, চরৈবেতি মন্ত্রে আমরা এগিয়ে যাওয়ার শপথ নিয়েছি।’

    আশার আলো দেখছেন বঙ্গবাসী

    গত দেড় দশকের তৃণমূল সরকারের আমলে শিল্প স্থাপন নিয়ে যতটা প্রচার হয়েছিল, সে ভাবে শিল্প আসেনি। স্থানীয়দের কর্মসংস্থান নিয়েও রয়েছে ক্ষোভ। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে তিন মাসের মধ্যে এখানে লৌহ ইস্পাত শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ায় আশার আলো দেখছেন এলাকার মানুষ। এ দিনই মানবাজার ১ ব্লকের ধানাড়া পঞ্চায়েতের জামদা গ্রামের অদূরে গড়ে ওঠা পানীয় জল প্রকল্পটি উদ্বোধনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। পুরুলিয়ার মানবাজার ১, বরাবাজার, পুরুলিয়া ১, পুঞ্চা, আড়শা ব্লকে তীব্র সঙ্কট রয়েছে পানীয় জলের। এই এলাকাগুলি ছাড়া এই প্রকল্পের জল পৌঁছবে পুরুলিয়া শহরেও।

    ঘরে ঘরে পরিস্রুত পানীয় জল

    জামদা গ্রামের অদূরে গড়ে ওঠা এই জল প্রকল্প রূপায়ণের জন্য ১,২৯৬.২৫ কোটি টাকার চূড়ান্ত অনুমোদন মেলে। যার মধ্যে ‘জাইকা’র ঋণ ৮৮৯.০৬ কোটি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৪৫৮ মৌজার ৮ লক্ষ ১৩ হাজার ৪০৬ জন মানুষ প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা নলবাহিত পানীয় জল পাবেন। জাপানের সংস্থা ‘জাইকা’-র আর্থিক সহায়তায় রাজ্য সরকারের জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতর এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করেছে। মুকুটমণিপুর জলাধারের গভীর থেকে জল তুলে ১.২ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে তা অন্য একটি জলাধারে আনা হবে। সেখানে আধুনিক প্রযুক্তিতে পরিশোধিত সেই জল ২৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ পরিবাহী নলের মাধ্যমে ৪২টি ওভারহেড ট্যাঙ্কে পৌঁছবে। এই ট্যাঙ্কগুলি থেকে দৈনিক ৬ কোটি ৮০ লক্ষ লিটার জল পৌঁছে দিতে পাতা হয়েছে ১,৫৯৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন। রাজ্যের মন্ত্রী নদিয়ারচাঁদ বাউড়ি বলেন, ‘জল জীবন মিশন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মানুষের ঘরে ঘরে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেছেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেই কাজই করা হচ্ছে। আগামী দিনে জেলার বাকি অংশে একই ভাবে এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।’

  • Free Treatment: সরকারি হাসপাতালে বেড না মিললে নিখরচায় চিকিৎসা হবে বেসরকারি হাসপাতালে! বড় ঘোষণা শুভেন্দুর সরকারের

    Free Treatment: সরকারি হাসপাতালে বেড না মিললে নিখরচায় চিকিৎসা হবে বেসরকারি হাসপাতালে! বড় ঘোষণা শুভেন্দুর সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারি হাসপাতালে বেড না পেয়ে এ বার আর রোগী বা তাঁর পরিজনদের হন্যে হয়ে ঘুরতে হবে না এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে। সরকারি হাসপাতালে বেড, ভেন্টিলেটর বা প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো না থাকলে সরকারি হাসপাতাল থেকেই অ্যাম্বুল্যান্সে রোগীকে পাঠানো হবে বেসরকারি হাসপাতালে (Private Hospital)। সেখানে নিঃশুল্ক চিকিৎসার (Free Treatment) ব্যবস্থাও করবে সরকার। এমনই ঘোষণা করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।

    নিঃশুল্ক চিকিৎসা বেসরকারি হাসপাতালে (Free Treatment)

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সোমবার থেকেই এসএসকেএম হাসপাতালের সঙ্গে কেপিসি হাসপাতালের সমন্বয় শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে না পারা রোগীদের দ্রুত বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে। ধীরে ধীরে এই পরিষেবা শহর থেকে শহরতলি এবং বাংলার গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।সাংবাদিক বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা কম করে তিন থেকে চারটি বৈঠক করেছি বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলির সঙ্গে। আমরা আগেই বলেছিলাম, প্রায় আড়াই হাজার বেড সংরক্ষণ করেছি, যেগুলি নাগরিকদের নিঃশুল্ক চিকিৎসা দেবে। আজকের মহড়া সফল হয়েছে। এ বার থেকে সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী যাবে। আর সেটা আজ থেকেই চালু হল—একেবারে শহর থেকে শহরতলি, বাংলার গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত।”

    কীভাবে মিলবে সুবিধা

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, কোনও রোগী চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে গেলে এবং সেখানে বেড না থাকলে, কিংবা ভেন্টিলেটর খালি না থাকলে, সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বিষয়টি কন্ট্রোল রুমে জানাবে। সেখান থেকে খবর যাবে স্বাস্থ্য দফতরের কন্ট্রোল রুমে। কোন বেসরকারি হাসপাতালে বেড খালি রয়েছে, তা কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে জানা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে বেড সংরক্ষণ করে সরকারি হাসপাতালকে জানানো হবে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সরকারি হাসপাতাল থেকেই অ্যাম্বুল্যান্সে করে সরাসরি রোগীকে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হবে। প্রাথমিকভাবে এসএসকেএম হাসপাতালের সঙ্গে কেপিসি হাসপাতালকে যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনও রোগী এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি হতে এসে বেড না পেলে, বিষয়টি কন্ট্রোল রুমে জানানো হবে। কন্ট্রোল রুম বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে খালি থাকা বেডের খোঁজ করবে এবং বেডের ব্যবস্থা হলে এসএসকেএমের এমার্জেন্সি বিভাগকে জানাবে। এরপর সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সে করে রোগীকে সরাসরি ওই বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হবে (Free Treatment)।

    আরও সরকারি হাসপাতাল যুক্ত হবে

    সব বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে এই সমন্বয় তৈরি হবে কি না, সে প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রায় সব বেসরকারি হাসপাতালকেই এই ব্যবস্থার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তবে কিছু বেসরকারি হাসপাতাল এখনও এর আওতায় নেই। পরবর্তী সময়ে সেই তালিকাও জানানো হবে।

    পর্যায়ক্রমে মেডিক্যাল কলেজ, এনআরএস, আরজি কর, চিত্তরঞ্জন হাসপাতাল এবং সাগরদত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকেও শহরের সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালগুলির (Private Hospital) সঙ্গে যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি, সরকারি হাসপাতালে বেডের অভাবে কোনও রোগী যাতে ভর্তি হতে না পেরে ফিরে না যান। তবে এক দিনে সমস্যার পুরো সমাধান হবে না। ধীরে ধীরে সমাধানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় সুতো ছিঁড়তে পারে, আবার জুড়তে হবে।”

    সরকারি হাসপাতালে ‘অমৃত ফার্মেসি’

    এ দিন সরকারি হাসপাতালগুলিতে ‘অমৃত ফার্মেসি’ চালুর বিষয়েও বিস্তারিত জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। রাজ্যের প্রায় ১০০টি সরকারি হাসপাতালে এই ফার্মেসি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ওষুধ এবং চিকিৎসাসামগ্রী ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ে পাওয়া যাবে।

    সরকারি হাসপাতালে এই ফার্মেসি চালুর জন্য একটি সংস্থার সঙ্গে রাজ্য সরকারের মৌ-চুক্তি হয়েছে বলেও জানান তিনি। অমৃত ফার্মেসিতে স্টেন্টে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় মিলবে। পাশাপাশি ক্যানসারের ওষুধ এবং চোখের লেন্সও তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাবে।

    ইতিমধ্যেই রাজ্যে প্রায় ১০০টি এমন ফার্মেসি চিহ্নিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে। সাধারণত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলির আশপাশেই এই ধরনের ফার্মেসি চালুর জন্য জায়গা চিহ্নিত করা হচ্ছে। ছাড়ের সুবিধা পেতে রোগীর প্রেসক্রিপশন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে পারবেন পরিজনেরা (Free Treatment)।

    হাসপাতালগুলিতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি

    রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতির জন্য আরও একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সরকারি হাসপাতালগুলিতে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিটি হাসপাতালের পরিষেবার উপর নজরদারি রাখা হবে।

    হাসপাতালগুলিতে ২৪ ঘণ্টা সরাসরি নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে এবং মেডিক্যাল আধিকারিকরা সেই নজরদারির দায়িত্বে থাকবেন। হাসপাতাল পরিষেবার কার্যকারিতা, নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে কি না, ফিল্ড লেভেলের ইউনিটগুলির সঙ্গে সমন্বয় এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মদক্ষতার সূচকগুলির উপরও নজর রাখা হবে (Private Hospital)।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবি, সরকারি হাসপাতালগুলিতে বেডের অভাবের কারণে যাতে কোনও রোগী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই ধাপে ধাপে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে (Free Treatment)।

     

  • Donald Trump: ভারতের ভোটব্যবস্থার উদাহরণ টেনে আমেরিকায় কড়া ভোটার-আইডি আইন চাইলেন ট্রাম্প

    Donald Trump: ভারতের ভোটব্যবস্থার উদাহরণ টেনে আমেরিকায় কড়া ভোটার-আইডি আইন চাইলেন ট্রাম্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের প্রস্তাবিত ‘সেভ আমেরিকা আইন’ (America Act) পাশ করার দাবি তুললেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এ বার সেই দাবির স্বপক্ষে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। ট্রাম্পের বক্তব্য, ভারতে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র দেখানোর নিয়ম রয়েছে। সেই তুলনা টেনেই আমেরিকায় ভোটার পরিচয় যাচাই এবং নাগরিকত্বের প্রমাণ সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর করার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্পের দাবি, ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সম্প্রতি তাঁর প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র ছাড়া আমেরিকায় কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। ট্রাম্প লেখেন, “চলতি মাসের গোড়ায় ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আমাদের প্রশাসনকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন—বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র ছাড়া আমেরিকায় কীভাবে নির্বাচন হতে পারে?”

    ট্রাম্পের মুখে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ (Donald Trump)

    ভারতের সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গও টেনে আনেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ভারতের শেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ভোট দিয়েছিলেন এবং ১ শতাংশেরও কম ভোট ডাকযোগে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর আরও দাবি, প্রত্যেক ভোটারকেই বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র দেখাতে হয়েছিল। ট্রাম্প বলেন, “ভারতের শেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ছিল! ১ শতাংশেরও কম ভোট ডাকযোগে দেওয়া হয়েছিল এবং প্রত্যেক ভোটারকেই বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র দেখাতে হয়েছিল।” ভারতের উদাহরণ টেনে ট্রাম্প ফের তাঁর প্রস্তাবিত ‘সেভ আমেরিকা আইন’ পাশ করাতে ডাক দেন কংগ্রেসকে। তিনি লেখেন, “আমাদের এখনই সেভ আমেরিকা আইন পাশ করতে হবে!” ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরও। এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে ট্রাম্প “সম্পূর্ণ সঠিক” কথা বলেছেন। ভারতের শেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটারের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে গোর বলেন, প্রত্যেক ভোটারের পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। একই সঙ্গে আমেরিকান কংগ্রেসকে সেভ আমেরিকা আইন পাশ করার আহ্বান জানান তিনি।

    ‘সেভ আমেরিকা আইন’

    আমেরিকায় নির্বাচনী নিয়ম আরও কঠোর করার ক্ষেত্রে এই প্রস্তাবিত আইনটি ট্রাম্পের (Donald Trump) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হয়ে উঠেছে। ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ের পাশাপাশি ভোট দেওয়ার যোগ্যতা হিসেবে নাগরিকত্বের প্রমাণ দেওয়ার মতো বিষয়ও এই উদ্যোগের আওতায় রয়েছে। ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার সঙ্গে আমেরিকার নির্বাচনী প্রক্রিয়ার তুলনা করে ট্রাম্প মূলত আমেরিকায় ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের নিয়ম আরও কঠোর করার পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে চাইছেন (America Act)। ভারতের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণ এবং পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থাকে সামনে রেখে তাঁর এই রাজনৈতিক প্রচার নতুন করে দুই দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার পার্থক্য নিয়েও জন্ম দিয়েছে গভীর চর্চার (Donald Trump)।

     

  • Declassified Operation Sindoor: ‘এত ব্রহ্মোস আঘাতের পর এ বার তো থামুন’! ভারতকে ফোন বেগতিক পাক ডিজিএমও-র, খোলসা ডিসকভারির সিঁদুর-তথ্যচিত্রে

    Declassified Operation Sindoor: ‘এত ব্রহ্মোস আঘাতের পর এ বার তো থামুন’! ভারতকে ফোন বেগতিক পাক ডিজিএমও-র, খোলসা ডিসকভারির সিঁদুর-তথ্যচিত্রে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় দিল্লিকে লক্ষ্য করে পাকিস্তান একটি উচ্চগতির ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল! হরিয়ানার সিরসার আকাশে রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ সেই ক্ষেপণাস্ত্রকে ধ্বংস করে ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এরপরই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত ও সবচেয়ে তীব্র’ পাল্টা হামলা চালায় ভারত। অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) নিয়ে ডিসকভারির (Discovery) দুই পর্বের তথ্যচিত্র ‘Declassified: Operation Sindoor’-এ এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক নিতিন গোখলে। ১৫ অগাস্ট রাত ৯টায় তথ্যচিত্রটি প্রকাশিত হয়।

    দিল্লিকে লক্ষ্য করেই কি হাই-স্পিড ক্ষেপণাস্ত্র?

    তথ্যচিত্রে নিতিন গোখলে বলেন, “রাত প্রায় ১টা ৩০ বা ১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ পাকিস্তান একটি হাই-স্পিড ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। সেটির লক্ষ্য ছিল দিল্লি। হরিয়ানার সিরসার কাছে সেটিকে আটকানো হয়।” এর আগে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছিল, ১০ মে রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ পাকিস্তান ভারতীয় বায়ুসেনার ঘাঁটি, সেনাবাহিনীর গোলাবারুদ ডিপো, বিমানবন্দর এবং সামরিক ছাউনিকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, রকেট এবং অন্যান্য দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করেছিল পাকিস্তান। তবে সেই সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক প্রকাশ্যে কোনও ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্য দিল্লি ছিল বলে জানায়নি। ১০ মে সকালে সিরসার একটি মাঠে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকার ছবি ও ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সিরসায় মোতায়েন ভারতীয় বায়ুসেনার একটি ইউনিট ‘বারাক-৮’ ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Barak-8 surface-to-air missile) ব্যবহার করে ওই হামলা নিষ্ক্রিয় করেছিল।

    সিরসার হামলাই বদলে দেয় ভারতের কৌশল

    গোখলের দাবি, ভারতের রাজধানীকে লক্ষ্য করে এই হামলা ভারতকে ‘চূড়ান্ত পাল্টা আঘাত’ চালানোর সংকেত দেয়। এরপর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বড়সড় আক্রমণের দায়িত্ব দেওয়া হয় ভারতীয় বায়ুসেনাকে। তাঁর কথায়, “এ বার সম্পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বায়ুসেনাকে ব্রহ্মোস ক্রুজ মিসাইল ছোড়ার।” এর পরেই পাকিস্তানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, রাডার স্টেশন এবং কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টারে হামলা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। অপারেশন সিঁদুরের এই পর্যায়কে পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিতে ভারতের প্রথম বড় আকারের আঘাতগুলির অন্যতম হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে তথ্যচিত্রে।

    একের পর এক পাকিস্তানি বিমানঘাঁটিতে হামলা

    প্রথম দফায় পাকিস্তানের রফিকি, সুক্কুর, রহিম ইয়ার খান এবং নূর খান বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। দ্বিতীয় দফায় লক্ষ্যবস্তু করা হয় সারগোধা, ভোলারি এবং জাকোবাবাদকে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানের মোট ১১টি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করা হয়েছে তথ্যচিত্রে। এয়ার মার্শাল অবদেশ ভারতী বলেন, “উদ্দেশ্য ছিল আঘাতকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিমিত রাখা এবং স্পষ্ট বার্তা দেওয়া— আমরা চাইলে তোমাদের যেখানে খুশি আঘাত করতে পারি এবং এর কোনও জবাব তোমাদের কাছে নেই।”

    তথ্যচিত্রে ভারতীয় সেনা ও বায়ুসেনার শীর্ষ আধিকারিকরা দাবি করেছেন, পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটির রানওয়ে, হ্যাঙ্গার এবং সেখানে থাকা বিমান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ২০২৫ সালের মে মাসের শেষদিকে আজারবাইজানের লাচিনে পাকিস্তান-তুরস্ক-আজারবাইজান সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্রহ্মোস হামলায় রাওয়ালপিন্ডি বিমানবন্দর-সহ বিভিন্ন জায়গায় ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেছিলেন।

    ‘১,২০০ কিলোমিটার ফ্রন্ট, ২০০ কিলোমিটার ভিতরে’

    ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং তথ্যচিত্রে বলেন, “আমরা প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রন্টে এবং তাদের ভূখণ্ডের প্রায় ২০০ কিলোমিটার ভিতরে গিয়ে তাদের সঙ্গে মোকাবিলা করেছি।” তাঁর দাবি, ভারতের পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগিয়েছিল এবং “আমাদের সমস্ত অস্ত্র সঠিক জায়গায় পৌঁছেছিল।” এই হামলায় যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য ‘ব্রহ্মোস-এ’ ক্ষেপণাস্ত্র (BrahMos-A) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল বলে তথ্যচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে। এপি সিং বলেন, “ব্রহ্মোসের আক্রমণের গতি অত্যন্ত বেশি। ফলে সেটিকে আটকানোর সম্ভাবনা কম। অন্য কম গতির অস্ত্রের তুলনায় এর ক্ষয়ক্ষতির ক্ষমতাও অনেক বেশি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এটি আমাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্র।”

    পাকিস্তানের তরফেই প্রথম আসে যুদ্ধবিরতির আবেদন

    ভারতের পাল্টা হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান থেকে নয়াদিল্লির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু হয় বলে তথ্যচিত্রে দাবি করা হয়েছে। নিতিন গোখলের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর রুবিও ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে কথা বলে জানান, পাকিস্তান সংঘর্ষ থামাতে চাইছে।ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তৃতীয় কোনও দেশের মধ্যস্থতা মেনে নেওয়া হবে না। বরং পাকিস্তানের ডিজিএমওকে নির্ধারিত সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতের ডিজিএমও-র সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে বলা হয়।

    অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতের ডিজিএমও লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই জানান, সকাল প্রায় ৯টার দিকে তাঁকে জানানো হয় যে পাকিস্তানের ডিজিএমও তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন। বিদেশ মন্ত্রকও তাঁকে জানায়, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। তবে দুই দেশের হটলাইনে সাময়িক প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয়। রাজীব ঘাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে সেই সমস্যা মেরামত করা হয়। শেষ পর্যন্ত বিকেল প্রায় ৩টা ৩০ মিনিট নাগাদ দুই দেশের ডিজিএমও-র মধ্যে কথা হয়।

    ‘এত ব্রহ্মোস আঘাতের পর, এ বার তো থামুন’

    রাজীব ঘাই জানান, প্রথা অনুযায়ী যিনি ফোন করার অনুরোধ করেন, তিনিই প্রথম কথা বলেন। ফলে পাকিস্তানের ডিজিএমও মেজর জেনারেল কাশিফ আবদুল্লা প্রথমে কথা শুরু করেন। ঘাইয়ের দাবি, পাকিস্তানের ডিজিএমও খুব দ্রুতই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের এত ব্রহ্মোস মিসাইল দিয়ে আঘাত করেছেন, এতক্ষণে আপনারা নিশ্চয়ই সন্তুষ্ট। আমরা এখানেই এটা থামাতে পারি।” জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল জানান, পাকিস্তান বারবার যুদ্ধবিরতির আবেদন করার পর ভারত সেই অনুরোধ মেনে নেয়। ডোভালের কথায়, “ওরা যখন অনুরোধ করল এবং বারবার বলল, ‘এ বার যথেষ্ট হয়েছে, আপনারা যথেষ্ট ক্ষতি করেছেন, এ বার যুদ্ধবিরতি হোক’, তখন আমরা তাদের অনুরোধ মেনে নিয়েছিলাম। আমরাও খুব স্পষ্ট ছিলাম যে এই সংঘাতকে টেনে নিয়ে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।” শেষ পর্যন্ত ১০ মে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে দুই পক্ষই সংঘর্ষ বন্ধ করতে সম্মত হয়।

    ভারতের বার্তা—সহনশীলতাকে দুর্বলতা ভাববেন না

    অপারেশন সিঁদুর শেষ হলেও ভারতের তরফে যে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছিল, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন অজিত ডোভাল। তিনি বলেন, “ভারতের উদারতা বা ভারতের বেশি সহনশীলতাকে আমাদের দুর্বলতা হিসেবে ভুল করা উচিত নয়। ভারত ঝুঁকি নিতে পারে, ভারত কঠিন আঘাত হানতে পারে, তার পরিণতি যা-ই হোক না কেন।” অপারেশন সিঁদুর নিয়ে ডিসকভারির এই তথ্যচিত্রে দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, ১০ মে-র রাতের সেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুধু একটি প্রতিরোধমূলক অভিযান ছিল না; বরং তার পরেই ভারত পাকিস্তানের একাধিক সামরিক পরিকাঠামোয় পরিকল্পিত, নিয়ন্ত্রিত এবং গভীর পাল্টা আঘাত হানে।

  • Jharkhand Students Protest: ঝাড়খণ্ডে ছাত্র আন্দোলনে নয়া মোড়! ছাত্রদের দাবি মেনে বাতিল পরীক্ষা, অনশন প্রত্যাহার মাহাতোর

    Jharkhand Students Protest: ঝাড়খণ্ডে ছাত্র আন্দোলনে নয়া মোড়! ছাত্রদের দাবি মেনে বাতিল পরীক্ষা, অনশন প্রত্যাহার মাহাতোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাগাতার ছাত্র আন্দোলনের (Jharkhand Students Protest) সামনে পিছু হটল ঝাড়খণ্ড সরকার। ছাত্রদের দাবি মানতে হল হেমন্ত সোরেনকেও। দীর্ঘ ২৪ দিনের ছাত্র-যুব আন্দোলনের পর অবশেষে বড় সিদ্ধান্ত নিল ঝাড়খণ্ডের হেমন্ত সোরেন সরকার। নানা অভিযোগে কলুষিত জেএসএসসি-সিজিএল (JSSC-CGL) পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিল সোরেন সরকার। শুধু তাই নয়, ২০১৪ সাল থেকে বেসরকারি সংস্থা টিএসআর ডাটা প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেড (TSR Data Processing Private Limited বা TDPL)-এর মাধ্যমে নেওয়া পরীক্ষা, ফলাফল ও নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলিও বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। সরকারকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে ছাত্ররা। যন্তর মন্তরের পর রাঁচিতেও ছাত্র আন্দোলনে বড় সাফল্য মিলল।

    অনশন প্রত্যাহার দেবেন্দ্র মাহাতোর

    জেপিএসসি-জেএসএসসি (JPSC-JSSC) নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে টানা ২৪ দিন ধরে চলা ছাত্র আন্দোলনে বড়সড় মোড় নেয়। সোমবার রাতে দীর্ঘ বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন আন্দোলনরত পড়ুয়াদের অধিকাংশ দাবি মেনে নিয়েছেন। তবে পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে সিবিআই তদন্তের দাবি মেনে নেয়নি রাজ্য সরকার। আর এই একটি দাবিকে কেন্দ্র করেই আন্দোলনকারীদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও মন্ত্রীদের বৈঠকের পর সরকার পরীক্ষার বাতিলসহ নিয়োগ প্রক্রিয়া ও পরীক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির বিষয়ে একাধিক আশ্বাস দিয়েছে। এরপর আন্দোলনরত পড়ুয়াদের একাংশ সরকারের সিদ্ধান্তকে বড় জয় হিসেবে দেখছে। ওই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে থাকা দেবেন্দ্র মাহাতো অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং আন্দোলনও শেষ করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

    একাধিক দাবি মেনে নেওয়ায় স্বস্তি

    গত ২০ দিনেরও বেশি সময় ধরে জেপিএসসি-জেএসএসসি (JPSC-JSSC) নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন পড়ুয়ারা। সরকারের তরফে পরীক্ষা বাতিল, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংস্কার এবং ভবিষ্যতে পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করার আশ্বাস দেওয়ার পর আন্দোলনকারীদের একাংশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, দীর্ঘ আন্দোলনের পর সরকার তাঁদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নিয়েছে। সোমবারই ওই গোষ্ঠী আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করে। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে পথে নেমেছিল চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনই শেষ পর্যন্ত সরকারকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে বলে আন্দোলনকারীদের দাবি।

    সিবিআই তদন্ত নিয়ে এখনও অচলাবস্থা

    সরকার পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলেও আন্দোলনের পুরোপুরি অবসান হয়নি। কারণ, পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের অভিযোগে সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি এখনও পূরণ হয়নি। আন্দোলনরত পড়ুয়াদের আরেকটি অংশ স্পষ্ট জানিয়েছে, সিবিআই তদন্তের নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। অর্থাৎ, সরকারের সঙ্গে আলোচনায় অধিকাংশ বিষয়ে সমাধান হলেও সিবিআই তদন্তের দাবিকে কেন্দ্র করে এখনও তৈরি হয়নি পূর্ণ সমঝোতা। উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিতে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে‘জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্মস মঞ্চ’-এর ব্যানারে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন ছাত্র-যুবরা।

    সিবিআই তদন্ত না হলে আন্দোলন চলবে

    ১৭ অগাস্ট মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন জানান, রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে জেএসএসসি-সিজিএল (JSSC-CGL) পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে টিডিপিএল-এর মাধ্যমে ২০১৪ সাল থেকে নেওয়া বিভিন্ন পরীক্ষার প্রক্রিয়া, ফলাফল ও নিয়োগ নিয়েও ব্যাপক তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে , পরীক্ষার ক্ষেত্রে নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (Standard Operating Procedure বা SOP) যথাযথভাবে মানা হলে এই ধরনের অনিয়মের সুযোগ তৈরি হত না। ২০১৪ সালের পর থেকে পরীক্ষাগুলিতে কোথাও কোনও অনিয়ম হয়ে থাকলে তা খুঁজে বের করার জন্য পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে বলেও জানিয়েছে সরকার। ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করছিলেন ছাত্র ও চাকরিপ্রার্থীরা। রাঁচিতে আন্দোলনকারীদের অবস্থান-বিক্ষোভও চলছিল। বিতর্কিত পরীক্ষা বাতিল, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এবং অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করাই ছিল বিক্ষোভকারীদের দাবি। তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখনই আন্দোলন পুরোপুরি থেমে যাচ্ছে না। পরীক্ষা বাতিল হলেও, তাঁদের নজর থাকবে , অনিয়মের অভিযোগে সিবিআই তদন্ত চায় তারা। তাই পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আন্দোলনকারীরা এখন উৎসাহী।

    ২০ অগাস্ট মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও!

    এর মধ্যেই সামনে এসেছে আরও একটি বড় প্রশ্ন—আগামী ২০ অগাস্ট কি মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি হবে? গত সপ্তাহেই আন্দোলনরত পড়ুয়ারা ২০ অগাস্ট মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির দিকে মিছিলের ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু সোমবার সরকার অধিকাংশ দাবি মেনে নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলেছে। আন্দোলনকারীদের একটি অংশ ইতিমধ্যেই প্রতিবাদ কর্মসূচি শেষ করার ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে সিবিআই তদন্তের দাবিতে অনড় থাকা পড়ুয়ারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে ২০ অগস্টের কর্মসূচি আদৌ হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। একদিকে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার পর আন্দোলন প্রত্যাহার, অন্যদিকে সিবিআই তদন্তের দাবিতে অনড় পড়ুয়ারা—এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই এখন নজর ২০ অগাস্টের দিকে।

  • BJP: নতুন জাতীয় কমিটিতে বড়সড় রদবদল বিজেপির, বাংলায় গুরুত্ব উত্তরবঙ্গের

    BJP: নতুন জাতীয় কমিটিতে বড়সড় রদবদল বিজেপির, বাংলায় গুরুত্ব উত্তরবঙ্গের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সর্বভারতীয় সংগঠনে বড়সড় রদবদল করল বিজেপি (BJP)। সোমবার দলের নয়া  জাতীয় পদাধিকারীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে একদিকে যেমন একাধিক অভিজ্ঞ নেতাকে তাঁদের পুরনো দায়িত্বেই রাখা হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে জায়গা দেওয়া হয়েছে নতুন মুখকে। বিশেষ নজর কেড়েছে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুই নেতার অন্তর্ভুক্তি (New National Committee)। জাতীয় সহ-সভাপতি পদে জায়গা পেয়েছেন মধুছন্দা কর এবং জাতীয় সম্পাদক করা হয়েছে আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গাকে। ফলে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে বাংলার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গও বিশেষ গুরুত্ব পেল বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।

    নয়া কমিটিতে কারা (BJP)

    নতুন কমিটি ঘোষণা করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। সোমবার থেকেই নতুন কমিটি দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করেছে। আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, রাজ্যগুলিতে সাংগঠনিক বিস্তার বাড়ানো এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে দলের প্রভাব বাড়ানোই নতুন কমিটির অন্যতম লক্ষ্য বলেই অনুমান। নতুন তালিকায় জাতীয় সহ-সভাপতি পদে একাধিক পুরনো মুখকে বহাল রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া, তীর্থ সিং রাওয়াত, রাম মাধব, বৈজয়ন্ত জয় পাণ্ডা, ডি. পুরানদ্বেশ্বরী, রেখা বর্মা, বর্ষাবেন নরেন্দ্রভাই জোশী, ভারতী প্রবীণ পাওয়ার, মনপ্রীত সিং বাদল, লাল সিং আর্য, এম নাগরাজ এবং তারিক মনসুর। এই তালিকায়ই নতুন করে জায়গা পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মধুছন্দা। জাতীয় সহ-সভাপতিদের তালিকায় মোট ১৩ জনের মধ্যে পাঁচ জন মহিলা রয়েছেন। ফলে সংগঠনের শীর্ষস্তরে মহিলা নেতৃত্বকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাও এই তালিকা থেকে স্পষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মধুছন্দার অন্তর্ভুক্তি রাজ্য সংগঠনের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    বাংলার প্রতিনিধিত্ব

    জাতীয় সম্পাদক পদেও বাংলার প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজকে জাতীয় সম্পাদক করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের এই বিজেপি নেতার সর্বভারতীয় সংগঠনে অন্তর্ভুক্তি আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক গুরুত্ব আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরবঙ্গকে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে তুলে ধরা হয়। সেই অঞ্চলের এক সাংসদকে জাতীয় স্তরের সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়ার ফলে উত্তরবঙ্গে দলীয় সংগঠন আরও সক্রিয় করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা (BJP)। জাতীয় সাধারণ সম্পাদক পদেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে রাখা হয়েছে। বিনোদ তাওড়ে, সুনীল বনশল, বিপ্লব কুমার দেব, স্মৃতি ইরানি, সতীশ পুনিয়া, গজেন্দ্র প্যাটেল, হরিশ দ্বিবেদী এবং সঞ্জয় ভাটিয়া এই পদে থাকছেন। আট জন জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে একমাত্র মহিলা হিসেবে জায়গা পেয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। তাঁর অন্তর্ভুক্তি নতুন কমিটির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক। এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। এবার দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় তাঁকে জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হল।

    জাতীয় সাধারণ সম্পাদক

    জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিএল সন্তোষকেও বহাল রাখা হয়েছে। সংগঠনের ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের ভূমিকার উপর দল যে আস্থা রাখছে, নতুন তালিকায়ও তার প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। জাতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শিবপ্রকাশ ও সওদান সিংকে (New National Committee)। জাতীয় সম্পাদকদের তালিকায়ও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম রয়েছে। কবিতা পাটিদার, কে সুরেন্দ্রন, ভোলা সিং, প্রদীপ বর্মা, জগদীশ ঈশ্বরভাই প্যাটেল, সন্দীপ পাঠক, ফ্যাংনন কোন্যাক, সঙ্গীতা যাদব, অনিল অ্যান্টনি, এম ভেঙ্কটেশন, মনোজ টিগ্গা, সিদ্ধার্থ শম্ভু, স্বদেশ সিং, মৃগাঙ্ক দেব বর্মন, রোহন গুপ্ত এবং জয় প্রকাশকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায়ও বিভিন্ন রাজ্য ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব রাখার চেষ্টা করা হয়েছে (BJP)। দলের আর্থিক কাঠামোয়ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলকে জাতীয় কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর সহকারী হিসেবে জাতীয় যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ পদে রাজেশ মঙ্গলকে রাখা হয়েছে। পীযূষের মতো অভিজ্ঞ নেতাকে দলের আর্থিক দায়িত্বে আনা নতুন কমিটির অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত।

    কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দায়িত্বেও পরিবর্তন

    কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দায়িত্বেও পরিবর্তন হয়েছে। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকছেন তরুণ চুগ। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সম্পাদক করা হয়েছে মহেন্দ্র পাণ্ডেকে। উত্তর-পূর্ব ভারতের সংগঠনের ক্ষেত্রেও পৃথক দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। উত্তর-পূর্ব সমন্বয়কের দায়িত্ব পেয়েছেন সম্বিত পাত্র এবং যুগ্ম সমন্বয়কের দায়িত্ব পেয়েছেন রাজীব বব্বর। দলের বিভিন্ন শাখায়ও নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যুব মোর্চার সভাপতি হয়েছেন হেমাঙ্গ যোশী। মহিলা মোর্চার দায়িত্ব পেয়েছেন রূপকুমারী চৌধুরি। অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির মোর্চার দায়িত্বে রয়েছেন অমরপাল মৌর্য। কৃষক মোর্চার সভাপতি হয়েছেন বংশীলাল গুর্জর। তফশিলি জাতি মোর্চার দায়িত্ব পেয়েছেন শিবেশ কুমার রাম এবং তফশিলি জনজাতি মোর্চার সভাপতি হয়েছেন মান্নালাল রাওয়াত। সংখ্যালঘু মোর্চার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুঁওয়ার বাসিত আলিকে। গণমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রেও নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। গণমাধ্যম আহ্বায়ক হয়েছেন অনিল বলুনি। সহ-আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন আশিস ঊষা আগরওয়াল, প্রদীপ ভাণ্ডারী এবং সিদ্ধার্থ যাদব। সোশ্যাল মিডিয়ার আহ্বায়ক করা হয়েছে দীপক মাসকেকে। সহ-আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন প্রীতি গান্ধী, শিবানন্দ দ্বিবেদী, অলোক ভাট এবং অরুণ যাদব।

    ভারসাম্য রাখার চেষ্টা

    সব মিলিয়ে নতুন জাতীয় কমিটিতে অভিজ্ঞতা ও নতুন নেতৃত্বের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব (New National Committee)। পুরনো মুখের উপর আস্থা রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্য, মহিলা নেতৃত্ব এবং সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে মধুছন্দা এবং মনোজের অন্তর্ভুক্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মনোজের জাতীয় সম্পাদক হওয়া উত্তরবঙ্গের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের (BJP)। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এখনও দূরে। কিন্তু তার আগেই জাতীয় স্তরে সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিজেপি। নতুন কমিটির দায়িত্ব বণ্টন থেকে স্পষ্ট, রাজ্যভিত্তিক সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার পাশাপাশি মহিলা, যুব, কৃষক, অনগ্রসর শ্রেণি, তফশিলি জাতি, তফশিলি উপজাতি এবং সংখ্যালঘুদের মধ্যে দলের সাংগঠনিক উপস্থিতি বাড়ানোর উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও নতুন দুই মুখকে জাতীয় দায়িত্ব দিয়ে (New National Committee) রাজ্যে দলের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েছে পদ্ম-শিবির (BJP)।

     

  • Lashkar-e-Taiba: ‘দিল্লিকে কনে সাজানো হবে, মুম্বইয়ে উড়বে পাকিস্তানের পতাকা’! সীমান্তপার থেকে ফের ভারতকে হুমকি লস্কর জঙ্গির

    Lashkar-e-Taiba: ‘দিল্লিকে কনে সাজানো হবে, মুম্বইয়ে উড়বে পাকিস্তানের পতাকা’! সীমান্তপার থেকে ফের ভারতকে হুমকি লস্কর জঙ্গির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতকে ফের প্রকাশ্যে হুমকি দিল পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার ( Lashkar-e-Taiba) সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত ইমরান লিয়াকত ভাট্টি। ১৪ অগাস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে কাসুরের একটি লস্কর শিবির থেকে দেওয়া বলে দাবি করা একটি ভিডিওতে ভাট্টিকে উসকানিমূলক বক্তব্য দিতে দেখা গিয়েছে। সেখানে সে দাবি করে, একদিন দিল্লিকে ‘কনে সাজানো হবে’ এবং ‘মুম্বইয়ে পাকিস্তানের পতাকা উড়বে’। ভিডিও এবং অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ভাট্টি শুধু দিল্লি ও মুম্বই নয়, কাশ্মীর, গুজরাট, হায়দরাবাদ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল নিয়েও বিতর্কিত ও আগ্রাসী মন্তব্য করে। তার বক্তব্যে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রসঙ্গ টেনে ভারতের ভূখণ্ড দখলের উগ্রপন্থী বয়ান তুলে ধরা হয়। এই ভিডিও আবারও প্রমাণ করল প্রকাশ্যে পাকিস্তানের মাটি থেকে ভারত-বিরোধী প্রচার চালানো হচ্ছে।

    কাসুরের লস্কর শিবির থেকেই হুমকি

    ঘটনার সময় ও স্থানকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের দিন ভারতের সীমান্তের কাছাকাছি কাসুর শহর থেকে এই বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ, ভাট্টির বক্তব্যের সঙ্গে একটি লস্কর শিবিরের যোগসূত্রের কথাও উঠে এসেছে। ভাট্টি ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে নিশানা করার অভিযোগ তোলে এবং আফগানিস্তানে ‘অবিশ্বাসীদের’ উপস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করে। এরপর দেশভাগের ইতিহাসকে সামনে এনে কাশ্মীর-সহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল দখলের উগ্রপন্থী বক্তব্য দেয় বলে অভিযোগ।

    মুম্বইয়ে পাকিস্তানের পতাকা

    ভাট্টির বক্তব্যের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অংশ ছিল দিল্লি ও মুম্বইকে ঘিরে তার মন্তব্য। হুমকির সুরে বলে, ‘দিল্লিকে কনে সাজানো হবে’ এবং দাবি করে, মুম্বইয়ে একদিন পাকিস্তানের পতাকা উড়বে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দিল্লি ভারতের রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র এবং মুম্বই দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র। ফলে এই দুই শহরকে নিশানা করে এমন বক্তব্যকে শুধু ভূখণ্ডগত দাবি নয়, ভারতীয় রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে উসকানিমূলক প্রচার হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, কোনও জঙ্গি নেতার প্রকাশ্য হুমকি নিজে থেকেই আসন্ন হামলার প্রমাণ নয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সাধারণত প্রচার, নিয়োগের বার্তা, অপারেশনাল পরিকল্পনা এবং বিশ্বাসযোগ্য হামলার হুমকির মধ্যে পার্থক্য করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে।

    লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে ভাট্টির যোগসূত্র

    বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইমরান লিয়াকত ভাট্টিকে লস্করের ক্যাডার এবং পাকিস্তান মার্কাজি মুসলিম লিগের (PMML) দক্ষিণ পাঞ্জাবের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে বাহাওয়ালপুরে একটি জনসভায় সে হাফিজ মহম্মদ সইদকে পিএমএমএল-এর প্রকৃত নেতা বলে দাবি করেছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই বক্তব্যকে পিএমএমএল-এর সঙ্গে নিষিদ্ধ লস্কর নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য যোগসূত্রের একটি ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠনের যোগাযোগের অভিযোগ নতুন নয়। রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মতাদর্শ প্রচার, সমর্থক সংগঠিত করা এবং প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    মুম্বই হামলার ছায়া

    ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে লস্কর-ই-তৈবার। ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গেও সংগঠনটির নাম জড়িত। ওই হামলায় মুম্বইয়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জঙ্গি হামলা চালানো হয়েছিল। ফলে লস্কর ঘনিষ্ঠ কোনও ব্যক্তির মুখে দিল্লি ও মুম্বই নিয়ে প্রকাশ্য হুমকি ফের নিরাপত্তা মহলের নজর কাড়ার মতো ঘটনা। বিশেষ করে যখন বক্তব্যের সঙ্গে কাশ্মীর, দেশভাগ এবং ভারতের অন্যান্য অঞ্চল দখলের উগ্রপন্থী বয়ান যুক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি লস্করের পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলিকে শক্তিশালী করার বিষয়ে জুলাই ২০২৬-এ বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল। ওই রিপোর্টগুলিতে ভাট্টিকে কাসুরে দায়িত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংগঠনটি নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি রাজনৈতিক কাঠামোকেও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।

    নজরে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি

    ভাট্টির বক্তব্যে ভারতের একাধিক অঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ শহরকে সরাসরি নিশানা করা হয়েছে। ফলে ভিডিও এবং সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বক্তব্য ভারতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলির নজরে আসা স্বাভাবিক। ভিডিওর সঙ্গে সোশাল মিডিয়া পোস্টগুলিতে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককেও ট্যাগ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এই ঘটনায় মূল প্রশ্ন শুধু ভাট্টির বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পাকিস্তানের মাটিতে নিষিদ্ধ বা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত ব্যক্তিরা কীভাবে প্রকাশ্যে ভারত-বিরোধী প্রচার চালানোর সুযোগ পাচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

    পাকিস্তানের জঙ্গি-চ্যালেঞ্জ ফের সামনে

    ইমরান লিয়াকত ভাট্টির কথিত হুমকি পাকিস্তানে সক্রিয় ভারতবিরোধী উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কগুলির একটি বৃহত্তর চিত্র সামনে এনেছে। আন্তর্জাতিক চাপ, সন্ত্রাসবাদী অর্থায়নের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এবং নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পাকিস্তানভিত্তিক কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রকাশ্য উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। দিল্লি ও মুম্বইয়ে পাকিস্তানের পতাকা ওড়ানোর দাবি কিংবা কাশ্মীর ও ভারতের অন্যান্য অঞ্চল ‘দখল’ বা ‘মুক্ত’ করার উসকানিমূলক বক্তব্য তাই শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে দেখার বিষয় নয়। এর মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ, উগ্রপন্থী মতাদর্শ এবং সীমান্তপারের প্রচারের যে বৃহত্তর নেটওয়ার্ক কাজ করে, তারই আরেকটি দিক সামনে এসেছে। তবে ভাট্টির বক্তব্যকে তাৎক্ষণিক হামলার নিশ্চিত ইঙ্গিত হিসেবে না দেখে, উগ্রপন্থী প্রচার ও হুমকির অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করাই নিরাপত্তা সংস্থাগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাছে এখন মূল বিষয় হল—এই বক্তব্যের পিছনে কোনও বাস্তব অপারেশনাল পরিকল্পনা রয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলি কীভাবে কাজ করছে, তা খুঁজে দেখা।

LinkedIn
Share