মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত তো বটেই, বিদেশেও হিন্দুদের উপর হামলা, হুমকি, ধর্মান্তরের চাপ, মন্দির ও মূর্তির অবমাননা এবং বৈষম্যের অভিযোগ ক্রমেই সামনে আসছে (Hindus Under Attack)। ৩০ অগাস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬—এই সময়সীমার ঘটনাবলি নিয়ে প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে ভারত ও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার একাধিক ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে (Weekly Roundup)। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ধরনের নিপীড়ন ধীরে ধীরে গুরুতর মানবাধিকার সংকটের রূপ নিচ্ছে।
গণেশ শোভাযাত্রায় ডিম ছোড়ার অভিযোগ (Hindus Under Attack)
মুম্বইয়ের মাজগাঁও এলাকায় গণেশ মূর্তি নিয়ে শোভাযাত্রায় ডিম ছোড়ার অভিযোগে বছর বাইশের দানিশ শের খানকে গ্রেফতার করেছে বাইকুল্লা পুলিশ। পুলিশের দাবি, ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং পাঁচটি পৃথক তদন্তকারী দলের তৎপরতায় তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ঘটনার কথা স্বীকার করেছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তামিলনাড়ু সরকার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় এবং তাঁর দল টিভিকে-কে ঘিরে প্রতিবেদনে ধর্মীয় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে খ্রিস্টধর্মীয় মৌলবাদের প্রভাবের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আরএসএসের পথসঞ্চালনে অংশ নেওয়ায় শিক্ষক সাসপেন্ড
আরএসএসের পথসঞ্চালনে অংশ নেওয়ার অভিযোগে কর্নাটকের দুই সরকারি স্কুলশিক্ষককে সাসপেন্ড করাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, কংগ্রেস সরকার আরএসএসের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে সরকারি কর্মীদের নিশানা করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুনসাগির সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গুরুংরাজ যোশী এবং সুরপুর তালুকের কুপি সরকারি নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অন্না সাহেব দেশমুখকে কর্নাটক শিক্ষা দফতর সাসপেন্ড করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আরএসএসের পথসঞ্চালনে অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ধর্মান্তরের জন্য অর্থ দেওয়ার অভিযোগ
কান্দিভলি পশ্চিমের সঞ্জয় নগরে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরের জন্য হিন্দুদের ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে স্থানীয় কর্মীরা আটক করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক। ঘটনাটি ২১ অগাস্টের বলে দাবি করা হয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অভিযোগ, ঘটনার ১০ দিন পরেও কান্দিভলি পুলিশ এফআইআর দায়ের করেনি। রাজনৈতিক চাপের কারণে পুলিশ তদন্তে গড়িমসি করছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
তেলঙ্গনায় নার্সের মৃত্যু, ধর্ষণ-খুনের অভিযোগ
তেলঙ্গনার রঙ্গারেড্ডি জেলার থুক্কুগুড়ায় বছর একুশের বেসরকারি হাসপাতালের নার্স শিরিষাকে তাঁর কর্মস্থলের আবাসনে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ২৯ আগস্ট ভোরে। যৌন নির্যাতনের পর তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে।অভিযোগের প্রায় ৩০ ঘণ্টার মধ্যে ৩৪ বছর বয়সি বাইক মেকানিক মহম্মদ সানাউল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। প্রযুক্তিগত তথ্য, ঘটনাস্থলের পুনর্গঠন এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগোয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। চিকিৎসা পরীক্ষায় ধর্ষণ ও একাধিক আঘাতের প্রমাণ মিলেছে বলেও দাবি করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।
বাংলাদেশি হিন্দুদের নিয়ে পোস্ট করা অ্যাকাউন্টে পুলিশের নোটিশ
‘ভয়েস অব বাংলাদেশি হিন্দুস’ নামে একটি এক্স অ্যাকাউন্ট বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে তথাকথিত অত্যাচারের ঘটনা তুলে ধরে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তপারের সম্ভাব্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয় নাগরিক ও প্রশাসনকে সতর্ক করে থাকে অ্যাকাউন্টটি। প্রতিবেদনের দাবি, এই অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারীদের মুম্বই এবং মধ্যপ্রদেশ পুলিশ নোটিশ দিয়েছে।
বাংলাদেশ
প্রতিবেদনে বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হামলা ও নিপীড়নের অভিযোগ তোলা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারাকতের একটি গবেষণার উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। মন্দিরে হামলা ও মূর্তির অবমাননা, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণহামলা, নারীকে ধর্ষণ বা জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে হিন্দুদের ভয় দেখানো ও দেশ ছাড়তে বাধ্য করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ করা হয়েছে।
নাবালককে মসজিদে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ
২৭ অগাস্ট বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জে নাবালক সৌরভ চন্দ্র রায়কে চুরির অভিযোগে চাপারহাট আল-হেরা জামে মসজিদের ভিতরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা এবং স্থানীয় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সাজুর দাবি, চুরির অভিযোগটি ভিত্তিহীন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌরভকে প্রথমে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে তাঁকে মসজিদের বারান্দায় নিয়ে গিয়ে ফের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সৌরভের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর হিন্দু পরিচয় নিশ্চিত করার পর তাঁকে আরও নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়।
হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষের অভিযোগ
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত বহু অপরাধের পেছনে ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শ থেকে সৃষ্টি বিদ্বেষ কাজ করে। মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলিতে হিন্দুবিদ্বেষের প্রকাশ অপেক্ষাকৃত স্পষ্ট হলেও, নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে পরিচয় দেওয়া রাষ্ট্রগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম বৈষম্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে প্রতিবেদনে দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারের উপর ধীরে ধীরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে (Weekly Roundup)। পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণের যুক্তিতে এই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও, প্রতিবেদনের দাবি—হিন্দু উৎসবের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের সামগ্রিক চিত্র এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে (Hindus Under Attack) নীতির প্রয়োগের পার্থক্য বিবেচনা করলে ‘দ্বৈত মানদণ্ডে’র প্রশ্ন উঠতেই পারে।









