Blog

  • Donald Trump: নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, নরওয়েকে দিলেন হুঁশিয়ারি

    Donald Trump: নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, নরওয়েকে দিলেন হুঁশিয়ারি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবারেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাগ্যে ছিঁড়ল না নোবেল শান্তি পুরস্কারের শিকে। আর তাই যারপরনাই ক্ষুব্ধ ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। চলতি বছরের শান্তি পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্তকে “লজ্জাজনক ও বিব্রতকর” আখ্যা দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রাক্তন বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই একটি জনসভায় ট্রাম্প দাবি করেন, পুরস্কারজয়ী ওই রহস্যময় ব্যক্তিত্বের নাম তিনি আগে কখনও শোনেননি। একই সঙ্গে নরওয়েকে কটাক্ষ (Nobel Peace Prize) করে তিনি বলেন, “এটি নরওয়ের ইতিহাসে এক অমোচনীয় কলঙ্ক। আমরা তা ভুলব না।”

    অসন্তোষ প্রকাশ ট্রাম্পের (Donald Trump)

    ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার প্রকাশ্যে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। গত বছর ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে এই পুরস্কার দেওয়া হলেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সেই সময় নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে ট্রাম্পকে বুঝিয়ে বলেছিলেন, পুরস্কারপ্রাপকের নাম নির্ধারণ করে নরওয়ে সরকারের কোনও সংস্থা নয়, বরং নরওয়েতে অবস্থিত একটি স্বাধীন কমিটি।

    নিউ ইয়র্কের সিরাকিউজে আয়োজিত জনসভায় সমর্থকদের সামনে ফের নিজের কৃতিত্বের কথা তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, তিনি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন এবং আরও দু’টি যুদ্ধের নিষ্পত্তি করতে অথবা জয়লাভ করতে চলেছেন। তবে নিজের দাবির সমর্থনে কোনও প্রমাণ পেশ করেননি তিনি।

    নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, “গণতন্ত্রবিরোধী এবং সভ্যতার প্রকৃত শত্রু, এমন এক মুষ্টিমেয় উগ্র মতাদর্শীর কারণে নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিশ্বাসযোগ্যতা চিরতরে নষ্ট হয়ে গিয়েছে।”

    পুরস্কার নাভি পিল্লাইকে

    আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের প্রাক্তন বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নোবেল কমিটি। কমিটির বক্তব্য, তাঁর কাজ বিশ্বজুড়ে আরও সুসংহত আইনি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত করেছে।

    নরওয়ের নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ভাটনে ফ্রাইডনেস জানিয়েছেন, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার মতো অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক পিল্লাইয়ের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    পুরস্কার ঘোষণার কিছুক্ষণ পরে জার্মানির নুরেমবার্গের বিচার প্রাসাদ থেকে প্রতিক্রিয়া জানান ৮৫ বছর বয়সি পিল্লাই। প্রথমে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এটা নিশ্চয়ই মজা।” তাঁকে অভিনন্দন জানাতে উপস্থিত মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি। পরে হাস্যরসের ছলে বলেন, “আপনারা যদি আরও একটু জোরে হাততালি দেন, তা হলে হয়তো এই পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি (Donald Trump)।”

    অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন আগেও

    গত বছরও নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। সেই সময় হোয়াইট হাউসের তরফে নোবেল কমিটির বিরুদ্ধে শান্তির চেয়ে রাজনীতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

    চলতি বছরের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকের সময় ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো নিজের নোবেল পদক ট্রাম্পকে উপহার দেন। মাচাদোর বক্তব্য ছিল, তাঁর দেশের স্বাধীনতার প্রতি ট্রাম্পের অঙ্গীকারের স্বীকৃতি হিসেবেই এই উপহার। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প ওই পদক্ষেপকে পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক অসাধারণ নিদর্শন বলে বর্ণনা করেন।

    তবে পরে নোবেল কমিটি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, নোবেল পুরস্কার অন্য কাউকে হস্তান্তর করা যায় না। কমিটির বিবৃতিতে (Nobel Peace Prize) বলা হয়, “একবার নোবেল পুরস্কার প্রাপকের নাম ঘোষণা করা হলে তা বাতিল করা, অন্য কারও সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া কিংবা অন্যের কাছে হস্তান্তর করা যায় না। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং তা চিরকাল বহাল থাকবে (Donald Trump)।”

     

  • Ambani: ‘ভারতের আসল বস কে?’ আম্বানিকে খোঁচা মাস্কের, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালু করতে ফের সরব ধনকুবের

    Ambani: ‘ভারতের আসল বস কে?’ আম্বানিকে খোঁচা মাস্কের, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালু করতে ফের সরব ধনকুবের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করার প্রতিযোগিতা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে (Ambani)। এই আবহে ফের সরব হলেন প্রযুক্তি দুনিয়ার ধনকুবের ইলন মাস্ক। সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে কটাক্ষের সুরে তিনি লিখেছেন, “প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আপনিই যে ভারতের প্রকৃত বস, তা বুঝতে না পারার জন্য আমার বিনম্র ক্ষমাপ্রার্থনা গ্রহণ করুন।” বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা এবং মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের প্রধানের এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে (Elon Musk)।

    ভারতে নিজের সংস্থা স্টারলিঙ্ককে পরিষেবা চালানোর সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে মাস্ক লিখেছেন, “স্বাভাবিকভাবেই, আপনি ভারতের সাধারণ মানুষের উপর নিজের একচেটিয়া শোষণ বজায় রাখতে চাইবেন। তা সত্ত্বেও, স্টারলিঙ্ককে প্রতিযোগিতায় নামার অনুমতি দেওয়ার কথা কি বিবেচনা করবেন?”

    তিনি আরও লিখেছেন, “অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও এমন বহু এলাকা রয়েছে, যেখানে ইন্টারনেট পরিষেবা নেই। এর ফলে শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিশ্ববাজারে নিজেদের পণ্য বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন না। স্টারলিঙ্ক তাদের জীবনকে আরও উন্নত করে তুলতে পারে।”

    ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা ঘিরে প্রতিযোগিতা (Ambani)

    স্পেসএক্সের মালিকানাধীন স্টারলিঙ্ক-সহ মোট তিনটি সংস্থা ভারতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ পরিষেবা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের কাছ থেকে টেলিযোগাযোগের অনুমোদন পেয়েছে। অন্য দু’টি সংস্থা হল ভারতী গোষ্ঠীর সমর্থনপুষ্ট ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব এবং জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস লিমিটেড। শেষের সংস্থাটি জিও প্ল্যাটফর্মসের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী সংস্থা।

    তবে অনুমোদন পেলেই পরিষেবা চালু করা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। স্যাটেলাইট পরিষেবার জন্য বেতার তরঙ্গ বরাদ্দ এবং বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরুর আগে এই শর্তগুলি মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, এই প্রক্রিয়ার অন্তর্গত নিরাপত্তা সংক্রান্ত মূল্যায়ন বর্তমানে চলছে (Ambani)।

    ‘একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখতেই বাধা’

    বিতর্কের সূত্রপাত বুধবার। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ইউজারের পোস্টের জবাব দিতে গিয়ে মাস্ক অভিযোগ করেন, ভারতের কয়েক জন একচেটিয়া ক্ষমতাধর ব্যক্তি স্টারলিঙ্কের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছেন।

    তিনি লেখেন, “দুর্ভাগ্যবশত, ভারতীয় জনগণের উপর নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখার জন্য কয়েক জন ক্ষমতাধর ব্যক্তি আমাদের আটকে দিচ্ছেন। তাঁরা কারা, তা আপনারা অনুমান করতে পারেন… এটি ভারতের মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধ!” মাস্কের এই অভিযোগের পর বৃহস্পতিবার সকালে বিবৃতি প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রক। সেখানে অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়।

    মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়, “স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার ক্ষেত্রে ভারতের নিয়ন্ত্রক কাঠামোর নিরপেক্ষতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, এই কাঠামো বৈষম্যমূলকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবা-সহ সমস্ত ধরনের টেলিযোগাযোগ পরিষেবার জন্য সরকার একটি ন্যায্য ও বৈষম্যহীন অনুমোদন কাঠামো চালু করেছে।”

    ‘সব আইন মেনেও কেন অনুমোদন মেলেনি?’

    কেন্দ্রের বিবৃতির পর বৃহস্পতিবার ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন মাস্ক। তাঁর দাবি, ভারতের সমস্ত আইন ও সরকারি শর্ত মেনে চলার পরেও স্টারলিঙ্ক এখনও পরিষেবা চালুর চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।

    তিনি লেখেন, “১৬৫টিরও বেশি দেশে স্টারলিঙ্ক অনুমোদিত। ভারতের সরকারের প্রতিটি আইন ও শর্ত মেনে চলার জন্য গত পাঁচ বছর ধরে আমরা কাজ করেছি। তা হলে এখনও অনুমোদন মিলছে না কেন? আম্বানিই কি ভারতের প্রকৃত বস?”

    শুক্রবারের পোস্টে মাস্ক আরও দাবি করেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময়, যখন অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থা কাজ করা বন্ধ করে দেয়, তখন মানুষের জীবন বাঁচাতে স্টারলিঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাঁর বক্তব্য, ভারতে স্টারলিঙ্ককে পরিষেবা চালানোর অনুমতি দেওয়া হলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বহু পুরুষ, মহিলা ও শিশুর জীবন রক্ষা করতেও তা সাহায্য করতে পারে (Elon Musk)।

    সব মিলিয়ে, ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর অনুমোদন ঘিরে স্টারলিঙ্কের দাবি, কেন্দ্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত মূল্যায়ন এবং মাস্কের একচেটিয়া আধিপত্যের অভিযোগকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। এহেন আবহে স্টারলিঙ্কের পরিষেবা কবে চালু হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয় (Ambani)।

     

  • Kerala HC: পিনারাই বিজয়ন, মেয়ে ও জামাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা, এফআইআর দায়েরের নির্দেশ কেরল হাই কোর্টের

    Kerala HC: পিনারাই বিজয়ন, মেয়ে ও জামাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা, এফআইআর দায়েরের নির্দেশ কেরল হাই কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, তাঁর মেয়ে টি বীণা, জামাই পিএ মহম্মদ রিয়াস-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিল কেরল হাই কোর্ট (Kerala HC)। শুক্রবার বিচারপতি এ বদরুদ্দিনের বেঞ্চ রাজ্য দুর্নীতি দমন ও সতর্কতা দফতরের (ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-কোরাপশন ব্যুরো) অধিকর্তাকে এই নির্দেশ দিয়েছে। আইনজীবী কেএম শাহজাহানের দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতেই আদালতের এই (Corruption Case) নির্দেশ।

    এর আগে কেরল সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতর আদালতে দাবি করেছিল, অপরাধ তদন্ত শাখার প্রাথমিক তদন্তই এই মামলার ক্ষেত্রে যথেষ্ট। এফআইআর দায়ের করা আইনত বাধ্যতামূলক নয় বলেও যুক্তি দিয়েছিল রাজ্য সরকার। তবে সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট। এফআইআর দায়ের না করেই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে প্রাথমিক তদন্ত চালানোর যে সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকার নিয়েছিল, তাও বাতিল করেছে আদালত।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ (Kerala HC)

    আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই মামলায় যে অপরাধের অভিযোগ উঠেছে, তা ১৯৮৮ সালের দুর্নীতি দমন আইনের আওতায় পড়ে। ফলে তদন্তের ক্ষেত্রে রাজ্য দুর্নীতি দমন ও সতর্কতা দফতরই উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের ৬৬(২) ধারার অধীনে থাকা তথ্যপ্রমাণ, যা বর্তমানে রাজ্য পুলিশের ডিজি অথবা বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রধানের হেফাজতে রয়েছে, তা অবিলম্বে দুর্নীতি দমন ও সতর্কতা দফতরের অধিকর্তার হাতে তুলে দিতে হবে। সেই নথির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট অধিকর্তাকে অবশ্যই এফআইআর দায়ের করতে হবে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি দুর্নীতি দমন দফতরের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। মামলায় এফআইআর দায়েরের আগে আর কোনও অতিরিক্ত তদন্তের প্রয়োজন নেই বলেও জানিয়েছে হাই কোর্ট।

    আদালতের বক্তব্য, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির জমা দেওয়া তথ্যপ্রমাণই এফআইআর দায়েরের জন্য যথেষ্ট। দীর্ঘ প্রাথমিক তদন্তের অজুহাতে এফআইআর দায়ের এড়িয়ে যাওয়া যায় না। বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “এই মামলার পরিস্থিতি ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে নতুন করে আর কোনও তদন্তের প্রয়োজন নেই। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের ৬৬(২) ধারায় প্রাপ্ত তথ্যে যে বিষয়গুলি উঠে এসেছে, তাতে রাজ্য পুলিশের এফআইআর দায়ের করা বাধ্যতামূলক। অন্য কোনও তদন্তের সুযোগ এখানে নেই।”

    কী এই মামলা?

    এই মামলার সূত্রপাত কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের প্রথম মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময়কার কয়েকটি আর্থিক লেনদেনকে ঘিরে। বেসরকারি খনি সংস্থা কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড এবং টি বীণার মালিকানাধীন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা এক্সালজিক সলিউশনের মধ্যে ওই লেনদেন হয়েছিল।

    মামলাটির তদন্ত করতে গিয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দাবি, কোনও পরিষেবা না দিয়েও এক্সালজিক সলিউশনস প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার অর্থ পেয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, ওই লেনদেনের মাধ্যমে বেআইনিভাবে অর্থ স্থানান্তর করা হয়। এর মধ্যে ৮৫ লাখ টাকা বিদেশে পাঠানো হয়েছিল এবং দেশের অভ্যন্তরে ২০ কোটিরও বেশি টাকা বণ্টন করা হয়েছিল বলে দাবি (Kerala HC) ইডির।

    কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আরও অভিযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়ার খরচ হিসেবে কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড এক্সালজিক সলিউশনসকে ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা দিয়েছিল। অথচ ওই সংস্থা কোনও পরিষেবাই দেয়নি। এই অর্থপ্রদানকে পরামর্শদানের খরচ বলে দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।

    গত মে মাসে বিজয়নের বাসভবন-সহ কোঝিকোড় জেলায় সিপিআইএমের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে যুক্ত আটটি জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। তল্লাশির সময় হাওয়ালা চক্রের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করে (Corruption Case) সংস্থাটি।

    কেরল পুলিশকে ইডি জানিয়েছিল, বিজয়নের মেয়ে বীণার মাধ্যমে তাঁকে ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে দিয়েছিল কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড। সংস্থাটির প্রাক্তন প্রধান আর্থিক আধিকারিক তদন্তকারীদের কাছে স্বীকার করেছেন বলেও ইডির দাবি, বীণা ও অন্যদের মাধ্যমে রিয়াস ওই টাকা দুবাইয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।

    এফআইআর দায়েরের সুপারিশ

    ইডি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য রাজ্য প্রশাসনের হাতে তুলে দিয়ে বিজয়ন-সহ অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের সুপারিশ করেছিল। কিন্তু কেরল পুলিশ এফআইআর দায়ের করেনি। তার পরিবর্তে অপরাধ তদন্ত শাখার অতিরিক্ত মহাপরিচালক এইচ ভেঙ্কটেশের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করা হয়।

    এর পরেই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন আইনজীবী কেএম শাহজাহান। তাঁর বক্তব্য ছিল, পিনারাই বিজয়ন, তাঁর মেয়ে ও জামাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইন এবং অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের অধীনে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রাজ্য পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে (Kerala HC) এফআইআর দায়ের করা পুলিশের কর্তব্য।

    আবেদনকারীর সেই যুক্তি মেনে নিয়ে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। তবে আদালতের এই নির্দেশের অর্থ অভিযুক্তদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করা হবে (Corruption Case)।

    কী প্রভাব পড়তে পারে?

    কেরল হাই কোর্টের এই নির্দেশের ফলে মামলাটির তদন্তে নতুন গতি আসতে পারে। এত দিন প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর্যায়ে আটকে থাকা অভিযোগের ভিত্তিতে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে রাজ্য দুর্নীতি দমন ও সতর্কতা দফতরকে। ফলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের (Kerala HC) তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেটাই দেখার।

     

  • Riyadh Airport: রিয়াধের বিমানবন্দরে হুথি হামলায় পাইলট-সহ নিহত ৩, ইয়েমেনে সংঘর্ষ তীব্র

    Riyadh Airport: রিয়াধের বিমানবন্দরে হুথি হামলায় পাইলট-সহ নিহত ৩, ইয়েমেনে সংঘর্ষ তীব্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (Riyadh Airport) বৃহস্পতিবার হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক পাইলট-সহ তিনজন হত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দু’জন সৌদি নাগরিক। আহত হয়েছেন বিভিন্ন দেশের একাধিক নাগরিক। শুক্রবার সৌদি আরবের অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছেন। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জাতীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়ার একটি বিমান-সহ একাধিক সম্পত্তি। তবে বিমানবন্দরের কার্যক্রম ইতিমধ্যেই স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি (Houthi Attack) সংবাদমাধ্যম।

    শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত বিবৃতিতে সৌদি আরবের অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক বিমানচালক এবং আরও দুই সৌদি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন জাতীয়তার একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত সামান্য হলেও অনেকে গুরুতর জখম হয়েছেন।

    গভীর শোক প্রকাশ (Riyadh Airport)

    দেশের জাতীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়া এক বিবৃতিতে পাইলট ক্যাপ্টেন হামুদ আলি আলকালথামির মৃত্যুর খবর জানিয়ে বলেছে, রিয়াধ বিমানবন্দরের একটি ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। সংস্থার তরফে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

    গত কয়েক দিনে সৌদি আরবের একাধিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মনে করা হচ্ছে, সৌদি আরবের বিমান চলাচল পরিকাঠামোই এখন তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

    একাধিক বিমানবন্দরে হামলা, বাড়ছে উদ্বেগ

    সৌদি আরবের অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বুধবার জানিয়েছিলেন, সপ্তাহের গোড়ায় আবহা এবং কিং খালিদ বিমানবন্দরে হামলায় তিনজন অসামরিক নাগরিক নিহত হন। আহত হন অন্তত ৩৬ জন। ইয়েমেন সীমান্তের কাছে জিজান ও নজরান বিমানবন্দরেও হামলার ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার হুথিদের এক সামরিক মুখপাত্র দাবি করেন, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে সফল হয়েছে। এর ফলে ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বিমান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে।

    গত মাসেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। ১৮ সেপ্টেম্বর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটবাহিনী দাবি করেছিল, কিং খালিদ বিমানবন্দরের দিকে ছোড়া হুথিদের একটি সন্দেহভাজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে। এর পরের দিন রিয়াধ বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। জ্বালানি সংরক্ষণ এলাকায় কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী উঠতেও দেখা যায়।

    ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী, যারা ‘আনসার আল্লাহ’ নামেও পরিচিত, বিমান সংস্থাগুলিকে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের দাবি, মক্কা ও মদিনার পবিত্র শহরগুলির উপর দিয়ে যাওয়া বিমান ছাড়া সৌদি আকাশসীমায় চলাচলকারী অন্য যে কোনও বিমান তাদের হামলার লক্ষ্য হতে পারে।

    ইয়েমেনের রাজধানী সানা থেকে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদক ইউসুফ মাওরি জানিয়েছেন, সৌদি আরবের সমস্ত বিমানবন্দরে অবরোধ আরোপ করতে চাইছে হুথিরা।

    মাওরির কথায়, “এটি অবরোধের বদলে অবরোধ এবং বিমানবন্দরের বদলে বিমানবন্দরের সমীকরণের অংশ। সানা এখনও সৌদি আরবের অবরোধের মধ্যে রয়েছে। তাই আনসার আল্লাহ হুথিরা সৌদি আরবের সমস্ত বিমানবন্দরে অবরোধ আরোপ করতে চায়।”

    তাঁর আরও বক্তব্য, ইয়েমেনের সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং হুদেইদা বিমানবন্দরে সৌদি আরবের হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলে দাবি করছে (Riyadh Airport) হুথিরা।

    ইয়েমেনে সংঘর্ষ আরও তীব্র

    সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলিতে নতুন করে হামলার ঘটনা এমন সময় ঘটছে, যখন ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী হুথিদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

    শুক্রবার গভীর রাতে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিমান হামলার খবর পাওয়া যায়। ২০১৪ সালে শহরটির নিয়ন্ত্রণ দখল করেছিল হুথি বিদ্রোহীরা। এখনও তাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে সানা।

    এ ছাড়া ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরনগরী এডেনেও জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার এই শহর থেকেই কাজ চালায়।

    ইয়েমেন সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট শুক্রবার জানিয়েছে, হুথিদের ব্যবহৃত তিনটি রকেট উৎক্ষেপণ মঞ্চ ধ্বংস করা হয়েছে। জোটের দাবি, ওই মঞ্চগুলি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

    জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালিকির হুঁশিয়ারি, অসামরিক নাগরিক এবং অসামরিক পরিকাঠামোর উপর হুথিদের যে কোনও হামলার জবাব দৃঢ়ভাবে দেওয়া হবে (Houthi Attack)।

    গত মাসে ইরান-ঘনিষ্ঠ হুথি বিদ্রোহীরা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালীর কাছে ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ দখল করে। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এই প্রণালী। হুথিদের এই অগ্রগতির পরেই সরকারি বাহিনী এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট পাল্টা অভিযান শুরু করে।

    চলতি সপ্তাহে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী বাব আল-মান্দেব উপকূলবর্তী এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের দাবি করেছে। তবে সেখানে তীব্র সংঘর্ষ এখনও অব্যাহত (Riyadh Airport)।

    সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে আরও দেশ

    বহু বছর ধরে কার্যত স্তিমিত থাকা ইয়েমেনের সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যুদ্ধের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর ফলে এমন একটি অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়ছে, যা ইতিমধ্যেই গাজা ও লেবাননে ইজরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণে বিপর্যস্ত।

    এ বার এই সংঘাতের আঁচ আরও কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের গোড়ায় সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পাকিস্তান ও তুরস্ক সেনা মোতায়েনে সম্মত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    শুক্রবার পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান জানান, রিয়াধে এখন পাকিস্তানের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনা এবং সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে।

    তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “হুথিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য পাকিস্তানি সেনারা অন্য পক্ষের সীমান্ত অতিক্রম করবে না। তবে তারা অবশ্যই ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষায় কাজ করবে।”

    হুথি হামলার নিন্দা রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে

    এ দিকে শুক্রবার রাষ্ট্রসংঘে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকার এবং সৌদি আরব নিরাপত্তা পরিষদের কাছে ইয়েমেনের ক্রমবর্ধমান সংঘাত মোকাবিলায় পদক্ষেপ করার আবেদন জানিয়েছে।

    নিরাপত্তা পরিষদে সৌদি আরবের প্রতিনিধি আবদুলআজিজ আল-ওয়াসিল বলেন, “অসামরিক নাগরিকদের উপর ক্রমবর্ধমান হামলা, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তার উপর লাগাতার হুমকি এবং তার ফলে ইয়েমেন ও এই অঞ্চলের বাইরেও যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে (Riyadh Airport)।”

    ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারের রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আলি ফাদেল আল-সাদি বলেন, “হুথিদের কাছ থেকে তৈরি হওয়া হুমকি এখন আর ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, যা আমাদের দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব (Houthi Attack)।”

    সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলিতে ধারাবাহিক হামলা, ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর পাল্টা অভিযান এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলির সম্ভাব্য সামরিক সম্পৃক্ততা—সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে (Riyadh Airport) বলেই অভিমত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের।

     

  • Trump Putin Deal: পুতিনের সঙ্গে তেল চুক্তি ট্রাম্পের, রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় ক্ষুব্ধ জেলেনস্কি

    Trump Putin Deal: পুতিনের সঙ্গে তেল চুক্তি ট্রাম্পের, রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় ক্ষুব্ধ জেলেনস্কি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাশিয়ার সঙ্গে তেল সরবরাহ চুক্তির কথা ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়া অবিলম্বে ৩ লক্ষ টনেরও বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। একই সঙ্গে মস্কোর উপর জারি থাকা জ্বালানি-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। জেলেনস্কির কথায়, এই পদক্ষেপ ‘সৎ নয়, অংশীদারদের প্রতি অযোগ্য এবং দুর্বল সিদ্ধান্ত’। রাশিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার পর মার্কিন প্রশাসনের এই অবস্থান পরিবর্তন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

    ডিজেল সরবরাহে বড় ঘোষণা ট্রাম্পের

    সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাশিয়া অবিলম্বে ৩ লক্ষ টনেরও বেশি ডিজেল জ্বালানি আমেরিকা-সহ আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে আরও ৫ লক্ষ টন এবং পরবর্তী পর্যায়ে ১০ লক্ষ টন ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে সরবরাহের পরিমাণ আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও দাবি করেছেন তিনি। ক্রেমলিনের তরফেও জানানো হয়েছে, আমেরিকা-সহ আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরবরাহের জন্য রাশিয়া প্রস্তুত রয়েছে। এদিকে, শুক্রবার মার্কিন অর্থ দফতর একটি অস্থায়ী লাইসেন্স জারি করেছে, যার মাধ্যমে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত রুশ ডিজেল আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে। ট্রাম্পের বক্তব্য, মার্কিন নাগরিকদের পাশাপাশি কৃষক, পশুপালক ও পণ্য পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত ট্রাকচালকদের জন্য জ্বালানির দাম কমানো তাঁর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

    হরমুজ প্রণালিতে সঙ্কট, ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানির দাম

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ-পরিবহণে বিঘ্ন। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে লক্ষ্য করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার পর তেহরানের তরফে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ অবরুদ্ধ করার ঘটনা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে আমেরিকায় সাধারণ পেট্রোলের গড় দাম ৪৬ শতাংশেরও বেশি বেড়ে প্রতি গ্যালনে ৪.৩৭ ডলারে পৌঁছেছে। ডিজেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৬৭ শতাংশ, প্রতি গ্যালন ৬.২৮ ডলারে। রুশ তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকেও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জন্য দায়ী করেছেন ট্রাম্প। যদিও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের ক্ষেত্রে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনা ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে রিপাবলিকান পার্টিকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

    যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা, অমীমাংসিত ভূখণ্ডের প্রশ্ন

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে শুক্রবার মায়ামিতে বৈঠকে বসেন মার্কিন ও ইউক্রেনীয় আলোচকেরা। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানান, শীতের আগে সংঘাত প্রশমিত করা এবং যুদ্ধের অবসানের সম্ভাব্য পথ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। এর আগে গত মাসে উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার মস্কো ও কিয়েভ সফর করেছিলেন। তবে দীর্ঘদিনের আলোচনাতেও যুদ্ধের অবসানের প্রশ্নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। যুদ্ধবিরতির পথে অন্যতম বড় বাধা ইউক্রেনের ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধ। রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাসের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করে আসছে। অন্যদিকে, জেলেনস্কি ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূখণ্ড রাশিয়ার হাতে তুলে দিতে নারাজ। তাঁর আশঙ্কা, ওই অঞ্চলগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে ভবিষ্যতে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সুযোগ পাবে মস্কো। বর্তমানে ইউক্রেনের মোট ভূখণ্ডের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ রাশিয়ার দখলে রয়েছে।

    নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও পুনর্গঠন নিয়েও আলোচনা

    উইটকফের বক্তব্য অনুযায়ী, মায়ামির বৈঠকে ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, ভবিষ্যতে সংঘাত এড়াতে ইউক্রেন ও ইউরোপের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেনের পুনর্গঠন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এরই মধ্যে ইউক্রেনে রুশ হামলায় প্রাণহানির ঘটনা যুদ্ধের অবসানের দাবিকে আরও জোরালো করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সামনের সারির শহর ক্রামাতোরস্কে বাসে রুশ হামলায় ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একদিকে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সমঝোতার পথে হাঁটছে ওয়াশিংটন, অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। এই দুই পদক্ষেপের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা ট্রাম্পের বিদেশনীতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

  • Navanethem Navi Pillay: ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিচারপতি নাভি পিল্লাই

    Navanethem Navi Pillay: ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিচারপতি নাভি পিল্লাই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার রক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট বিচারপতি নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত এই আইনজ্ঞ বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই, যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং গণহত্যার অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে নোবেল কমিটির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ৯ অক্টোবর, শুক্রবার এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। নোবেল কমিটির বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইনের পরিধি আরও বিস্তৃত করা এবং ক্ষমতাশালী ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও গুরুতর অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পিল্লাইয়ের অবদান উল্লেখযোগ্য। মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং মানবিক মর্যাদা রক্ষায় তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

    বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে আন্তর্জাতিক বিচারাঙ্গনে

    ১৯৪১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে জন্ম নাভি পিল্লাইয়ের। ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত একটি দরিদ্র পরিবারে তাঁর বেড়ে ওঠা। সেই সময় দক্ষিণ আফ্রিকায় চলছিল বর্ণবৈষম্যমূলক শাসনব্যবস্থা, যেখানে জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষের অধিকার ও সুযোগ সীমিত করা হতো। পিল্লাইয়ের বাবা নারায়ণস্বামী নাইডু বাসচালক হিসেবে কাজ করতেন এবং সংসার চালাতে মাছ ধরার মতো অতিরিক্ত কাজও করতেন। মা সন্থামা নাইডু ছিলেন গৃহবধূ। আট ভাইবোনের মধ্যে পিল্লাই ছিলেন পঞ্চম। তাঁর পূর্বপুরুষেরা উনিশ শতকের শেষভাগে ভারত থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তাঁরা মূলত নাটাল অঞ্চলের চিনির খেতে চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে গিয়েছিলেন। প্রতিকূল সামাজিক পরিস্থিতির মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যান পিল্লাই। পরবর্তী সময়ে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৮ সালে তিনি জুরিডিক্যাল সায়েন্সে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।

    দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম সারির নারী আইনজীবীদের একজন

    ১৯৬৭ সালে নাটাল প্রদেশে নিজস্ব আইনচর্চা শুরু করেন পিল্লাই। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ওই অঞ্চলে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস শুরু করা প্রথম মহিলা ছিলেন। বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী এবং নিপীড়িত মানুষের আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। বর্ণবৈষম্যের অবসানের পর দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টে বিচারপতি হিসেবে মনোনীত প্রথম অশ্বেতাঙ্গ মহিলাও ছিলেন তিনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর কর্মজীবনের এই অধ্যায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তি ও সমানাধিকারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

    রুয়ান্ডার গণহত্যার বিচারে ঐতিহাসিক ভূমিকা

    নাভি পিল্লাইয়ের আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও বৃদ্ধি পায় রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারপতি হিসেবে কাজ করার সময়। ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডায় সংঘটিত গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের জন্য এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি ট্রাইব্যুনালের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মামলা ছিল রুয়ান্ডার তাবা অঞ্চলের প্রাক্তন মেয়র জঁ-পল আকায়েসুর বিচার। তাঁর বিরুদ্ধে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যায় সরাসরি ও প্রকাশ্যে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। ১৯৯৮ সালের ঐতিহাসিক রায়ে আদালত জানায়, নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে সংঘটিত হলে ধর্ষণ ও যৌন হিংসা গণহত্যার অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। পরিস্থিতি ও অপরাধের প্রকৃতি অনুযায়ী এগুলি মানবতাবিরোধী অপরাধও হতে পারে। এই রায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে যৌন হিংসার বিচার এবং সংঘাতের সময় নারীদের ওপর সংঘটিত অপরাধের স্বীকৃতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করে। গণহত্যায় প্রচারমাধ্যম ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ভূমিকা এবং উসকানির জন্য তাঁদের দায়বদ্ধতা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও ট্রাইব্যুনালের রায়গুলি তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।

    আন্তর্জাতিক আদালত ও রাষ্ট্রসংঘে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব

    ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন পিল্লাই। ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি ওই পদে ছিলেন। একই বছর রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি এবং ২০১৪ সাল পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, সংঘাত এবং নিপীড়নের ঘটনায় আন্তর্জাতিক নজরদারি ও জবাবদিহির প্রশ্নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগসংক্রান্ত মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গেও তাঁর নাম যুক্ত হয়। গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করে। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) পৃথক প্রতিষ্ঠান—প্রথমটি ব্যক্তির আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করে, আর দ্বিতীয়টি মূলত রাষ্ট্রগুলির মধ্যে আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি করে। পিল্লাই রাষ্ট্রসংঘের প্যালেস্টাইন-বিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের নেতৃত্বও দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    যৌন হিংসা, গণহত্যা ও মানবাধিকারের প্রশ্নে অবদান

    নোবেল কমিটির বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধের সংজ্ঞা এবং আইনি মানদণ্ড বিকাশেও পিল্লাইয়ের অবদান রয়েছে। বিশেষ করে গণহত্যা, যৌন হিংসা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা আন্তর্জাতিক আইনকে আরও শক্তিশালী করেছে। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—কোনও ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের ক্ষমতা যেন গুরুতর অপরাধের বিচারের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই নীতির পক্ষে অবস্থান নেওয়া। অপরাধের শিকার মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার এবং রাষ্ট্রের আইনি দায়বদ্ধতার প্রশ্নেও তিনি বারবার গুরুত্ব দিয়েছেন।

    ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার বার্তা

    নাভি পিল্লাইয়ের কর্মজীবন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবৈষম্যমূলক সমাজে অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় মানবাধিকার রক্ষার বিস্তৃত পরিসর পর্যন্ত বিস্তৃত। তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন, গণহত্যার বিচার এবং অপরাধের শিকার মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারের বিষয়গুলি নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। নোবেল কমিটির বক্তব্যের সারমর্ম হলো, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক মর্যাদা রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি। সেই লক্ষ্যেই দীর্ঘদিন কাজ করে গিয়েছেন নাভি পিল্লাই।

     

     

     

     

     

  • Mahalaya 2026: ঢাকের বাদ্যি, ড্রোন শো, আতশবাজি! মহালয়ায় ইডেনে ৪৫হাজার দর্শকের সমাগম, কড়া নিরাপত্তা

    Mahalaya 2026: ঢাকের বাদ্যি, ড্রোন শো, আতশবাজি! মহালয়ায় ইডেনে ৪৫হাজার দর্শকের সমাগম, কড়া নিরাপত্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আশ্বিনের শারদ প্রাতে রেডিওয় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনীর স্তোত্রর। জানান দেয় পুজো এসেছে। শরতের শিউলি ফোটা ভোর শোনায় মহালয়ার সুর। বেজে ওঠে পুজোর দামামা। গঙ্গায় পিতৃতর্পণ সেরে সারাদিন চলে পুজোর কেনাকাটা। তবে, এবার মহালয়ার দিনটা একটু অন্যভাবে কাটতে চলেছে তিলোত্তমার। মহালয়ার সন্ধ্যা আরও মোহময় হয়ে উঠতে চলেছে ইডেন উদ্যানে রাজ্য সরকারের আয়োজিত মা দুর্গার আবাহনের অনুষ্ঠানে। সেখানে একছন্দে বাজবে তিন হাজার ঢাক। এক হাজার উলুধ্বনিতে মুখরিত হবে বাংলার আকাশ-বাতাস। শঙ্খধ্বনির আওয়াজ জানান দেবে, মা আসছে বাংলার ঘরে ঘরে। নাচে-গানে তিন হাজার ড্রোনের রঙিন আলোয় মাতৃ আবাহনের অভাবনীয় অভিনব দৃশ্যের সাক্ষী থাকবে গোটা বিশ্ব। ঢাকের বোল এবং শঙ্খের মিলিত ধ্বনি বিশ্বরেকর্ড গড়বে।

    ৪৫ হাজার দর্শকের সমাগম

    ১০ অক্টোবর ইডেন গার্ডেন্সে মহালয়া উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। দুর্গাপুজোর সূচনা উদ্‌যাপনে এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৪৫ হাজার দর্শকের সমাগম হতে পারে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি রেড রোডে শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পারেন ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। ভিড় সামলাতে টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের সময়কার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধাঁচেই প্রস্তুতি নিচ্ছে কলকাতা পুলিশ। স্টেডিয়াম চত্বরে দুই স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি রেড রোডে শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে আরও প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জমায়েত হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সেখানেও পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিবের নেতৃত্বে একটি সমন্বয় বৈঠক হয়। সেখানে কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পুরসভা, রাজ্যের পূর্ত দফতর-সহ একাধিক বিভাগের আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় এবং দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, স্টেডিয়ামের আশপাশে বিশেষ বাহিনী ও কুইক রেসপন্স টিম মোতায়েন থাকবে। দর্শকদের প্রবেশ, বেরিয়ে আসা এবং গোটা সন্ধ্যায় ভিড়ের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর রাখা হবে।

    অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ

    বাংলার সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক উৎসব দুর্গাপুজোর সূচনা উপলক্ষে মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে সাজানো হবে এই অনুষ্ঠান। ঢাকের বাদ্যি, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, থ্রিডি প্রজেকশন ম্যাপিং, ড্রোন শো এবং আতশবাজির প্রদর্শনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে। প্রায় চার ঘণ্টার এই অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক দর্শকের সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ১০ হাজার ঢাকি এবং এক হাজার মহিলা এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন। বাংলার বিভিন্ন জেলার নিজস্ব নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও তুলে ধরা হবে।

    রেড রোডে বিকেল ৪টেয় শোভাযাত্রা

    প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, রেড রোডে অনুষ্ঠান বিকেল ৪টে নাগাদ শুরু হবে। অনুষ্ঠানটি প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট চলার কথা। এরপর ইডেন গার্ডেন্সে মূল অনুষ্ঠান চলবে প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা। শনিবার আলোকোজ্জ্বল রেড রোড ধরে খোলা জিপে ইডেনের উদ্দেশে রওনা হবেন মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপাল আর এন রবি। রাস্তার পাশে একেকটি জেলার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, শিল্পকলা ও সেখানকার সংগীত-নৃত্য তুলে ধরতে সাজানো হয়েছে স্টেজ। রেড রোড হয়ে সেই শোভাযাত্রা যাবে ইডেনে। সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি থাকবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন শো থেকে থ্রি ডি প্রজেকশন ম্যাপিং শো। তাতে ফুটে উঠবে মা দুর্গার আবাহন।

    ইডেন থেকে বুর্জ খলিফায়

    এই অনুষ্ঠান ইডেন থেকে পৌঁছে যাবে প্রবাসেও। দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা, আমেরিকার বস্টন এবং নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারের একসঙ্গে এই অনুষ্ঠান দেখতে পাবেন সেখানকার মানুষও। কলকাতার মূল অনুষ্ঠানের সঙ্গেই জেলায় জেলায় শুরু হয়ে যাবে উৎসব। শুক্রবার পর্যন্ত যে তালিকা রয়েছে তাতে ঠিক আছে, ইডেনে আজকের অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন শান, লগ্নজিতা, কৌশিকী চক্রবর্তী, অন্তরা মিত্র। থাকবে বাংলা ব্যান্ড দোহার এবং শান্তনু মৈত্র ও তাঁর গ্রুপ। এছাড়াও যন্ত্রসঙ্গীতে দেবর্ষি ভট্টাচার্য-সহ অন্যরা।

    যান চলাচলে বিধিনিষেধ

    ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ময়দান এলাকায় একাধিক বিধিনিষেধ জারি করা হতে পারে। কিংসওয়ে দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। রেড রোডেও একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। শহরের বাস পরিষেবার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি করা হবে। ট্রাফিক পুলিশ চৌরঙ্গি রোড দিয়ে বাসের গতিপথ ঘুরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা ব্যক্তিগত গাড়ি ও ভাড়া করা গাড়ির পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। আইপিএলের ম্যাচের দিনের পার্কিং ব্যবস্থার ধাঁচে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। স্ট্র্যান্ড রোড সংলগ্ন এলাকাতেও গাড়ি রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

    আমন্ত্রণপত্র থাকলেই ইডেনে প্রবেশ

    মহালয়া উপলক্ষে কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। রেড রোডের শোভাযাত্রায় বাংলার বিভিন্ন জেলার নিজস্ব নৃত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে। এই শোভাযাত্রা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে ইডেন গার্ডেন্সের মূল অনুষ্ঠানে প্রবেশের ক্ষেত্রে আমন্ত্রণপত্র বাধ্যতামূলক থাকবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগমের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা, যান নিয়ন্ত্রণ, পানীয় জল, শৌচাগার এবং পরিচ্ছন্নতার মতো একাধিক বিষয়ে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন।

    ড্রোন দিয়ে আকাশপথে নজরদারি

    গঙ্গার দুই পাড়কেও উৎসবের রঙে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ রয়েছে। থাকছে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিভিন্ন শিল্পী ও ব্যান্ডের পরিবেশনার পাশাপাশি থাকছে গঙ্গা আরতি। এদিকে, ইডেনের এই মেগা অনুষ্ঠানের জন্য স্ট্যান্ড রোড-সহ একাধিক রাস্তায় পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ। কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্ট্র্যান্ড রোড, সেন্ট জর্জেস গেট রোডে রাজা উডমন্ট স্ট্রিট ও হেস্টিংস ক্রসিংয়ের মধ্যে কোনও পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকছে। শনিবার ভোর চারটে থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ জারি থাকছে। তবে জরুরি পরিষেবা দেওয়া পণ্যবাহী যানগুলিকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। বিটি রোড, খগেন চ্যাটার্জি রোড, কাশীপুর রোড, স্ট্র্যান্ড ব্যাঙ্ক রোড, রবীন্দ্র সরণি (কেভিভি অ্যাভিনিউ থেকে বি কে পাল অ্যাভিনিউ পর্যন্ত), শোভাবাজার স্ট্রিট, নিমতলা ঘাট স্ট্রিটও বন্ধ রাখা হচ্ছে। বাবুঘাট রুটের বাসগুলি হেয়ার স্ট্রিট এবং স্ট্র্যান্ড রোডের ক্রসিংয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। মহালয়া উপলক্ষে শহরে ১৫০০ পুলিশ মোতায়েন থাকছে। জলপথ, সড়কপথে নজরদারি চলছে। ড্রোন দিয়ে আকাশপথেও নজরদারি চলছে।

     

     

     

     

     

  • Rain in Durga Puja: মহালয়াতেও ঝড়বৃষ্টি কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে! পুজোয় বৃষ্টির সম্ভাবনা, কী বলছে হাওয়া-অফিস?

    Rain in Durga Puja: মহালয়াতেও ঝড়বৃষ্টি কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে! পুজোয় বৃষ্টির সম্ভাবনা, কী বলছে হাওয়া-অফিস?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর আমেজে মেতে উঠছে বাংলা। এর মধ্যেই আবহাওয়ার মতি গতি নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। ভোরের দিকে হালকা শীতের আমেজ থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে পারে পরিস্থিতি। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার পাশাপাশি রাজ্যের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির (Rain in Durga Puja) সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতাতেও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

    দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া

    আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বর্ধমান, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে। কয়েকটি জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। ফলে মহালয়ার দিন বাইরে বেরোনোর পরিকল্পনা থাকলে আবহাওয়ার দিকে নজর রাখা জরুরি।

    বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের সম্ভাবনা

    আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, থাইল্যান্ড উপসাগর ও সংলগ্ন অঞ্চলে একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। আগামী ১১ অক্টোবর নাগাদ আন্দামান সাগরের উপর আরও একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই দুই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে আগামী ১৩ অক্টোবর নাগাদ একটি নিম্নচাপ এলাকা তৈরি হতে পারে। এর জেরে পরবর্তী সময়ে বাংলার আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, উত্তর বাংলাদেশ ও সংলগ্ন অঞ্চলে একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। পাশাপাশি পশ্চিম অসম থেকে উত্তর বাংলাদেশ, উপ-হিমালয় পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ের উপর দিয়ে তেলঙ্গানা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা। এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতির জেরে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যদিও আপাতত দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির কোনও উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনার কথা জানানো হয়নি।

    দুর্গাপুজোতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা

    দুর্গাপুজোতেও (Durga Puja 2026) বৃষ্টির হাত থেকে রেহাই মিলছে না। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়ে দিল, অষ্টমী পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে। ভিজবে কলকাতাও। নবমী থেকে আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। দুর্গাপুজোর বিশেষ বুলেটিন শুক্রবার বিকেলে প্রকাশ করেছে হাওয়া অফিস। মহালয়া থেকে একাদশী পর্যন্ত কবে আবহাওয়া কেমন থাকবে, কোথায় কোথায় বৃষ্টি হতে পারে, বিশদ জানানো হয়েছে ওই বুলেটিনে। এ বার পুজোয় সপ্তমী দু’দিন।

    পঞ্চমী, ষষ্ঠী, প্রথম সপ্তমী (১৫ থেকে ১৭ অক্টোবর)— কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণের বাকি জেলাগুলিতেও বিক্ষিপ্ত বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

    দ্বিতীয় সপ্তমী, অষ্টমী (১৮ এবং ১৯ অক্টোবর)— দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

    নবমী, দশমী, একাদশী (২০ থেকে ২২ অক্টোবর)— দক্ষিণবঙ্গে মোটের উপর শুকনো আবহাওয়া। বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।

     

     

     

     

     

  • Mahalaya 2026: মহালয়ার দিন পিতৃ তর্পণ করেছিলেন শ্রীরাম! জানেন দুর্গাপুজোর আগে কী মাহাত্ম্য এই বিশেষ দিনের?

    Mahalaya 2026: মহালয়ার দিন পিতৃ তর্পণ করেছিলেন শ্রীরাম! জানেন দুর্গাপুজোর আগে কী মাহাত্ম্য এই বিশেষ দিনের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে গেল। মহালয়ার ভোর থেকেই চলে উমার মর্তে আগমনের প্রতীক্ষা। হিন্দু ধর্মে এই দিনটি অত্যন্ত তাত্‍পর্যপূর্ণ। মহালয়াতে পিতৃপক্ষের অবসানে দেবীপক্ষের সূচনা হয়। মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদ তিথি থেকে শুরু হয় শারদীয়া নবরাত্রি পালন। নয় রাত ধরে দেবীর নয়টি আলাদা আলাদা রূপের পুজো চলে। বাঙালিদের কাছে মহালয়ার (Mahalaya) বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। মনে করা হয়, মহালয়াতেই মহিষাসুরকে বধ করার জন্য পার্বতীর কাছে প্রার্থনা করা হয়। দেবীপক্ষের সূচনার এই দিনের ভোরে রেডিয়োতে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের (Birendra Krishna Bhadra) মহিষাসুরমর্দিনী শোনা বাঙালি সমাজের একটি প্রচলিত রেওয়াজ। মহিষাসুরমর্দিনী শুনেই যেন শুরু হয়ে যায় বাঙালির দুর্গোত্‍সব।

    সর্বপিতৃ অমাবস্যা, পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ

    পিতৃপক্ষের অমাবস্যায় পালিত হয় মহালয়া। এদিন প্রয়াত পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ শ্রাদ্ধ করা হয় বলে একে সর্বপিতৃ অমাবস্যাও বলা হয়। এদিন সেই সমস্ত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে শ্রাদ্ধ করা হয় যাঁদের মৃত্যুর তিথি জানা নেই বা কোনও কারণে কোনও পূর্ব পুরুষের শ্রাদ্ধ না-করলে এই তিথিতে তাঁদের শ্রাদ্ধ করবেন। মহালয়ার দিনে শ্রাদ্ধ করলে পূর্বপুরুষরা মুক্তি লাভ করেন। বিশ্বাস করা হয় যে পিতৃপক্ষে শ্রাদ্ধ শান্তি ও তর্পণ করলে পূর্ব পুরুষেরা খুশি হন এবং আশীর্বাদ করেন। তাঁদের কৃপায় জীবনের অনেক বাধা দূর হয়। জীবনের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থেকেও মুক্তি মেলে। পিতৃপক্ষের শ্রাদ্ধ ও তর্পণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এজন্যেই দেবীপক্ষ শুরুর আগে পূর্ব পুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করা হয়।

    মহালয়ার নানা আখ্যান

    দেবরাজ ইন্দ্রের অনুসারে মহালয়া: পুরাণ মতে, দেবরাজ ইন্দ্রকে ১৬ দিনের জন্য মর্তে গিয়ে তর্পণ করতে পাঠান যমরাজ। আর এই ১৬ দিনই পিতৃপক্ষ নামে পরিচিত হয় এবং সেই সময় থেকেই মহালয়ার দিন এবং তার আগে ১৫ দিন পিতৃপুরুষদের জলদান করা হয়।

    রামায়ণ অনুসারে মহালয়া: শাস্ত্রের নিয়মানুসারে, অকালে কোনও পুজো করলে ইষ্ট দেবতা ও প্রয়াত পিতা -মাতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তর্পণ করতে হয়। শ্রী রামচন্দ্র, দেবী দুর্গার অকাল বোধন করেছিলেন। আর নিয়ম মেনে তাঁকেও পুজোর আগে পিতৃপুরুষকে জলদান করতে হয়েছিল। কথিত আছে রামচন্দ্র, মহালয়ার দিন পিতৃ তর্পণ করেছিলেন। আর সেই থেকেই শুরু হয় এই রীতির।

    মহাভারত অনুসারে মহালয়া : কথিত আছে, স্বর্গে বসবাস করার সময় কর্ণের আত্মাকে খাবার হিসাবে শুধু সোনা ও রত্ন দেওয়া হয়। কারণ দাতা হিসাবে তিনি কখনও পিতৃপুরুষকে জল -খাবার দেননি, সকলকে সোনা -রত্ন দান করেছেন। আসলে কর্ণ, প্রথমে তাঁর পিতৃ পরিচয় জানতেন না। যুদ্ধের আগের রাতে কুন্তীর থেকে সে জানতে পারে সকল সত্যি। এরপরই ভুল সংশোধন করতে তর্পণের পরামর্শ আসে।

    প্রকৃতিতে আগমনীর সুর

    দুর্গাপুজো যেমন সব বাঙালির প্রাণের উত্‍সব, তেমনই বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে আছে মহালয়া। কারণ বাঙালিদের কাছে মহালয়া প্রয়াত পিতৃপুরুষকে জল দিয়ে তুষ্ট করার পাশাপাশি দেবীকে আবাহন করার দিন। সাধারণত মহালয়ার দিনই প্রতিমাশিল্পীরা দেবী দুর্গার চক্ষুদান করে থাকেন। এখানে উমা বাঙালির ঘরের মেয়ে, এক বছর পর তিনি বাপের বাড়ি ফিরছেন। সেই আনন্দে মেতে ওঠে সবাই। আগমনীর সুর বেজে ওঠে প্রকৃতিতেও। মহালয়া থেকে যে দেবীপক্ষের সূচনা হয়, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর মাধ্যমে তার অবসান হয়।

     

     

     

     

     

  • Nandigram-Rejinagar By-Election: রেকর্ড গড়ে নন্দীগ্রামে ১,২২, ৭৫৩ ভোটে জয়ী হাসিরানি রথ, ৭৪ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত রেজিনগরেও জিতল বিজেপি

    Nandigram-Rejinagar By-Election: রেকর্ড গড়ে নন্দীগ্রামে ১,২২, ৭৫৩ ভোটে জয়ী হাসিরানি রথ, ৭৪ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত রেজিনগরেও জিতল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে বিধানসভা উপ নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে (Nandigram-Rejinagar By-Election) রেকর্ড মার্জিনে জয় বিজেপির। ১৫ রাউন্ড গণনার শেষে নন্দীগ্রামে ১,২২৭৫৩ ভোটে জয়ী হলেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। ১৫ রাউন্ডের শেষে রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ৭৫,৭৪৮ ভোটে জয়ী হয়েছেন। উপনির্বাচনের ফল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “দুই কেন্দ্রেই রাষ্ট্রবাদী শক্তি জিতেছে। সংখ্যালঘুরাও সরকারের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে নিয়েছেন।” নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর, উভয় কেন্দ্রেই নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের বহু যোজন পেছনে ফেলে দিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন গেরুয়া শিবিরের প্রার্থীরা।

    নন্দীগ্রামে শুভেন্দুকেও পিছনে ফেললেন হাসিরানি

    নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর রেকর্ড ভাঙলেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। উপ নির্বাচনে ১ লক্ষ ২০ হাজার ভোটের মার্জিনে জয়ী হলেন হাসিরানি। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ৮১ হাজারের বেশি ভোটের মার্জিনে জিতেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম থেকেও ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। দু’টি কেন্দ্রেই জেতেন তিনি। পরে ভবানীপুর রেখে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। রেজিনগরেও অনুরূপ ঘটনা ঘটে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি) বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ওই কেন্দ্রের পাশাপাশি লড়েছিলেন নওদা থেকেও। নওদা নিজের হাতে রেখে তিনি রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন । ফলে নির্বাচন কমিশনকে এই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের আয়োজন করতে হয়।

    রেজিনগরেও রেকর্ড

    ৭৪ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত রেজিনগরেও জিতল বিজেপি, ব্যবধান ৭৫ হাজার। গত ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর দুই কেন্দ্রে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবার উপনির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে প্রায় ৭৯.৩৯ শতাংশ এবং রেজিনগর কেন্দ্রে প্রায় ৭৮.৪২ শতাংশ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলেন। রেজিনগরের ফল ঘোষণার পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্ন থেকে বললেন, ”রেজিনগরে এত বড় জয় আসত না, যদি সংখ্যালঘুরা আমাদের সঙ্গে না থাকতেন । সংখ্যালঘুদের নামে যে মিথ্যাচার করা হয়েছিল, তাকে আমল না দিয়ে সঙ্গে থেকেছেন সংখ্যালঘুরা । বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাঁরা”। তিনি আরও বলেন, ১৯৭২ সালে কংগ্রেসের সময়ে নির্বাচনে যে দৃশ্য দেখা গেছিল , তার কোনওটাই এই নির্বাচনে দেখা যায়নি। এখন রাজ্যে এখন ভয়মুক্ত, ভরসার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সংখ্যালঘুরা সরকারের সঙ্গে থাকতে চায়। তাই তাঁরা বিজেপিতে ভোট দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংখ্যালঘুদের ডিটেনশন সেন্টারের যে ভয় দেখানো হয়েছিল। তা মিথ্যে প্রমাণিত হয়েছে। তাঁর কথায়, ”বাংলার মানুষ আর পচা শামুকে পা কাটতে চান না”। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রেজিনগরের সংখ্যালঘুরা বিজেপির সঙ্গে আছেন।

    সংখ্যালঘুরা সাড়া দিয়েছেন,বললেন শুভেন্দু

    আজ যখন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ফলাফল প্রকাশ হচ্ছে, তখন কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ফ্রেন্ডশিপ বানালিয়া’। এবিভিপি-র একটি অনুষ্ঠানে এদিন আরজি কর হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রবেশ করার সময় দুই আঙুলে জয়ের চিহ্ন দেখান তিনি। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে যেভাবে সংখ্যালঘু ভোট বিজেপির দিকে এসেছে, সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘ফ্রেন্ডশিপ বানালিয়া’, সংখ্যালঘুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে ফেলেছি। উপনির্বাচনের ভোটপ্রচারে গিয়ে সংখ্যালঘুদের বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভোটের ফল প্রকাশ হতেই সেই বন্ধুত্বের ছবি স্পষ্ট। সংখ্যালঘুরা আবেদনে সাড়া দিয়েছেন। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে এমনটাই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী। করজোড়ে সংখ্যালঘুদের ধন্যবাদ জানালেন তিনি। বলেন, “সরকারের বন্ধুত্বের হাত ধরেছেন সংখ্যালঘুরা, সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে বন্ধুত্ব করতে চান, আমি খুশি”।

    সংখ্যালঘু ফ্যাক্টর

    উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়ে শুভেন্দু বলেন, ” ভারতীয় জনতা পার্টিকে জিতিয়েছিলেন ফলতার মানুষ। তারপর দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন ছিল। এই উপনির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক ভোটে নন্দীগ্রাম থেকে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে হাসিরানি রথ বিপুল সংখ্যক ভোটে জয়যুক্ত হয়েছেন।” সংখ্যালঘু ভোট প্রসঙ্গে বলেন, “২০২১ সালের পর প্রথম নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ৬০টি বুথে ভারতীয় জনতা পার্টি লিড নিয়েছে। আমরা সরকারের সঙ্গে থেকে থেকে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে সামিল হওয়ার যে আবেদন করেছিলাম, তা গ্রহণ করেছেন। রেজিনগর কেন্দ্রেও ঠিক একইভাবে চূড়ান্ত ফল প্রায় এসে গিয়েছে। শাখারভ সরকারকে জনতা আশীর্বাদ করেছেন। আমার যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, নির্বাচন বিধি প্রত্যাহার হয়নি, তাই যেতে পারিনি। কারণ নির্বাচনী বিধি থাকলে হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারি না। তাই এখান থেকে রেজিনগরের ভোটারদের প্রণাম করছি।” বাংলার যে কোনও নির্বাচনেই সংখ্যালঘু ভোট একটা বড় ফ্যাক্টর। ২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বড় জয় পেয়ে রাজ্যে সরকার গঠন করে, যেখানে তাদের ভোটব্যাংকে বড় ধরনের মেরুকরণ ও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছিল। উপনির্বাচনের আগে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে বার্তা দিয়ে তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সরকারের সঙ্গে থাকার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উন্নয়ন তথা ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের পক্ষ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন, “সংখ্যালঘু ভোটারদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ এবং তাদের প্রধানমন্ত্রী মোদীর উন্নয়নের ধারায় সামিল হতে হবে।” তাতে সাড়াও মিলল।

     

     

     

     

LinkedIn
Share