Blog

  • Jharkhand: চটি খুলে খালি পায়ে ১,৬০০ মিটার দৌড়, নজর কাড়ল ঝাড়খণ্ডের বিধবা কবিতার লড়াই

    Jharkhand: চটি খুলে খালি পায়ে ১,৬০০ মিটার দৌড়, নজর কাড়ল ঝাড়খণ্ডের বিধবা কবিতার লড়াই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্টেডিয়ামে তখন চলছে হোমগার্ডে (Jharkhand) নিয়োগের শারীরিক পরীক্ষার প্রস্তুতি। হঠাৎই দর্শকদের নজর কেড়ে নিলেন নীল শাড়ি পরা এক মহিলা। কোমরে শাড়ি গুঁজে, পায়ের চটি খুলে খালি পায়ে দৌড় শুরু করলেন তিনি। একে একে টপকে গেলেন অন্য প্রার্থীদের। ১,৬০০ মিটার দৌড় শেষ করতেই স্টেডিয়ামজুড়ে শুরু হল হাততালি ও উচ্ছ্বাস। সেই মুহূর্তের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই (Home Guard Job) রাতারাতি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন ঝাড়খণ্ডের রামগড় জেলার বিধবা কবিতা কুমারী। কবিতার কাছে হোমগার্ডের চাকরি নিছকই একটি চাকরি নয়, বদলে দিতে পারে তাঁর জীবনের গতিপথ।

    অনুশীলনেই নজর কাড়লেন কবিতা (Jharkhand)

    রামগড় জেলার সোসো গ্রামের বাসিন্দা কবিতা প্রতিদিন ভোরে গ্রামের কাছাকাছি অসমতল জমিতে দৌড়ের অনুশীলন করেন। গত ৪ অক্টোবর তিনি সিধু কানহু স্টেডিয়ামে যান একটি বিনামূল্যের অনুশীলনী দৌড়ে অংশ নিতে। ক্রীড়াবিদদের পরিচালিত একটি প্রশিক্ষণ সংস্থার উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়েছিল। নিয়োগের শারীরিক পরীক্ষার আগে প্রার্থীরা যাতে মাঠের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন এবং নিজেদের শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই এই অনুশীলন। এই একই স্টেডিয়ামে ২৪ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত হোমগার্ড নিয়োগের শারীরিক পরীক্ষা হওয়ার কথা।

    শাড়ি ও চটি পরে সেদিন অনুশীলনে হাজির হয়েছিলেন কবিতা। তিনি বলেন, “স্টেডিয়ামে পৌঁছনোর পর থেকেই আমি খুব নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম। সবাই আমাকে শাড়ি পরা অবস্থায় দেখছিল। আর আমি দেখছিলাম, অন্যরা ট্র্যাকস্যুট পরে এসেছে, কারও হাতে ব্যাগ, জলের বোতল, পায়ে জুতো। এতে আমি কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে যাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দৌড়ে অংশ নিই।” মহিলা প্রার্থীদের ১,৬০০ মিটার দৌড় ১০ মিনিটের মধ্যে শেষ করতে হয়। কবিতা জানান, তিনি মাত্র আট মিনিটের মধ্যেই দৌড় শেষ করেন। এর ফলে পরীক্ষায় পূর্ণ নম্বর-সহ ‘উৎকৃষ্ট’ শ্রেণির ফল পান।

    কী বলছেন কবিতা

    কবিতার কথায়, “মানুষ আমাকে হাততালি না দেওয়া পর্যন্ত আমি বুঝতেই পারিনি যে আমি কী করেছি। শুধু চটি খুলে খালি পায়ে দৌড় শুরু করেছিলাম। দৌড়নোর সময় আমার মাথায় হোমগার্ডের চাকরি ছাড়া আর কিছুই ছিল না। কেউ আমার ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন। আমি আশা করি, শারীরিক পরীক্ষার দিনও একই শক্তি ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে দৌড়তে পারব।”

    ৪ অক্টোবরের এই অনুশীলনের আয়োজন করেছিলেন রামগড়ের অঙ্কিত সিং, যিনি অঙ্কিত রানার অ্যাকাডেমি পরিচালনা করেন। তাঁর বক্তব্য, উদ্দেশ্য শুধু অনুশীলনী দৌড় করানো ছিল না, প্রার্থীদের স্টেডিয়ামের মাঠের সঙ্গে পরিচিত করানোও ছিল (Jharkhand)।

    অঙ্কিত বলেন, “প্রকৃত শারীরিক পরীক্ষার আগে প্রার্থীদের জানা দরকার মাঠটি কেমন। মাঠের এক দিকে ঢাল রয়েছে। কোথাও বালি, কোথাও নুড়ি, আবার কোথাও অসমতল জমি। তাই অনেকেই ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার দূর থেকে এখানে অনুশীলন করতে আসেন। সেদিন প্রায় ১,৯০০ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১,১০০ জন মহিলা। অনেকেই গ্রামাঞ্চল থেকে এসেছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ শাড়ি পরেও এসেছিলেন। সেদিন ৫০ থেকে ৬০ জন মহিলা শাড়ি পরে দৌড়েছিলেন।”

    গ্রামাঞ্চলের মহিলাদের জন্য ট্র্যাকস্যুট ও দৌড়ের জুতো পরে নিয়মিত বাইরে গিয়ে অনুশীলন করা সবসময় সহজ নয় বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, প্রকৃত পরীক্ষার মাঠে অনুশীলনের সুযোগ পেলে প্রার্থীরা নিয়োগের দিন কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন, সে সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা পান।

    শূন্যপদ ২৮৪

    ঝাড়খণ্ডে হোমগার্ডে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় চলতি বছরের এপ্রিলে। রামগড় জেলায় শূন্যপদের সংখ্যা ২৮৪টি। এজন্য আবেদন জমা পড়েছে ১৬ হাজারেরও বেশি।

    নিয়োগের প্রথম পর্যায়ে রয়েছে শারীরিক পরীক্ষা। সেখানে ১,৬০০ মিটার দৌড়ের পাশাপাশি লং জাম্প, হাই জাম্প এবং শটপাট দিতে হবে। এরপর হবে লিখিত পরীক্ষা। মোট শূন্যপদের ৫০ শতাংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। এর মধ্যে ৫ শতাংশ পদ বিধবাদের জন্য নির্দিষ্ট।

    একের পর এক দুর্ভাগ্য, তবু থামেননি কবিতা

    কবিতা জানান, ২০০৯ সালে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থাতেই তাঁর বিয়ে হয়। বর্তমানে তাঁর বয়স তিরিশের কাছাকাছি। তিন বছর আগে মৃত্যু হয় স্বামী দীপক কুমার মাহাতর। তিনি ছিলেন পরিযায়ী শ্রমিক, কাজ করতেন গুজরাটে।

    কবিতা বলেন, “করোনার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর বারবার অসুস্থ হতে থাকেন এবং ২০২৩ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। তখন শ্বশুর-শাশুড়ির দেখাশোনা, সংসার ও সন্তানদের সামলানো এবং সংসারের খরচ চালানোর দায়িত্ব আমার উপর এসে পড়ে।”

    স্বামীর মৃত্যুর মাত্র ছ’মাস পরেই পরিবারে আরও একটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। দীপকের ছোট ভাইও মারা যান। কবিতা জানান, ভাইয়ের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রীও বাড়ি ছেড়ে চলে যান।

    চিকিৎসার পেছনে বিপুল অর্থ খরচ হওয়ায় তাঁদের পরিবারের প্রায় ৬ লক্ষ টাকা ঋণ হয়েছে বলেও জানান কবিতা।

    সংসারের খরচ চালানো এবং ঋণ শোধ করতে রামগড় শহরের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করেছেন তিনি। কিন্তু রাত করে কাজ শেষ হওয়ায় বাড়ি ফেরার জন্য যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকায় সেই কাজ ছেড়ে দিতে হয়। বর্তমানে মূলত ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করেন কবিতা। তাঁর দুই সন্তান রামগড়ের একটি বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করে (Jharkhand)।

    ইউটিউব দেখে নিজেই প্রস্তুতি

    শারীরিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কারও কাছে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সামর্থ্য ছিল না কবিতার। ইউটিউবের ভিডিও দেখেই নিজে নিজে অনুশীলন করেছেন তিনি।

    কবিতা বলেন, “আমি সন্তানদের ইউটিউব খুলে ভিডিও চালাতে বলি, কারণ নিজে খুব একটা ব্যবহার করতে জানি না। ভিডিও দেখে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিই। পোশাক, জুতো বা প্রশিক্ষণের জন্য খরচ করার মতো আমার কাছে একটি পয়সাও নেই। তাই নিজের চেষ্টাতেই প্রস্তুতি নিতে হয়।”

    তাঁর দৌড়ের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর একাধিক ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। দুমরির বিধায়ক জয়রাম কুমার মাহাত ফোনে কবিতার সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁকে একটি ট্র্যাকস্যুট ও দৌড়ের জুতো পাঠান।

    বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন হোমগার্ড কর্মী

    কবিতার প্রশিক্ষক অজয় কারমালি। ৩৮ বছর বয়সি অজয় রামগড়ে হোমগার্ডের চাকরি করেন। নিজের গ্রামের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে দুলমিতে এইচএমটি ফিজিক্যাল অ্যাকাডেমিও পরিচালনা করেন তিনি। চার-পাঁচ মাস আগে তিনি এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি শুরু করেন। গ্রামের বাসিন্দাদের বিনামূল্যে শারীরিক প্রশিক্ষণ দেওয়াই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় অজয়ের প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত পোস্ট দেখে কবিতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং প্রশিক্ষণে যোগ দেওয়ার সুযোগ চান (Home Guard Job)।

    অজয়ই তাঁকে নিয়োগের শারীরিক পরীক্ষার আগে স্টেডিয়ামে গিয়ে অনুশীলন করার পরামর্শ দেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল, কবিতা যেন মাঠের সঙ্গে পরিচিত হয়ে আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে পারেন।

    অজয় বলেন, “ওঁর দৌড়ের পোশাক ছিল না। কিন্তু আমি আশা করি, খুব শিগগিরই তিনি হোমগার্ডের পোশাক পরবেন (Jharkhand)।”

     

  • Lok Sabha Elections 2029: বাংলার ৪২ আসনই মোদিকে ‘উপহার’ দেওয়ার অঙ্গীকার শুভেন্দুর, উন্নয়নে গুজরাটের পথ অনুসরণের বার্তা

    Lok Sabha Elections 2029: বাংলার ৪২ আসনই মোদিকে ‘উপহার’ দেওয়ার অঙ্গীকার শুভেন্দুর, উন্নয়নে গুজরাটের পথ অনুসরণের বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছরের প্রশাসনিক যাত্রা পূর্তির অনুষ্ঠানে গুজরাটের ভাডনগরে দাঁড়িয়ে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে (Lok Sabha Elections 2029) পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনই বিজেপির দখলে আনার অঙ্গীকার করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মোদির নিজের রাজ্যে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর এই ঘোষণা রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি (Suvendu Adhikari) যে পথে গুজরাটের উন্নয়ন করেছিলেন, সেই পথ অনুসরণ করেই বাংলার উন্নয়ন করতে চান তিনি।

    সলতে পাকানোর কাজ শুরু বিজেপির (Lok Sabha Elections 2029)

    ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। বাংলার কোন কোন আসনে বিজেপির জয় তুলনামূলক ভাবে নিশ্চিত এবং কোথায় লড়াই কঠিন হতে পারে, তা নিয়েও দলের সাংগঠনিক স্তরে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে।

    এই আবহেই বুধবার শুভেন্দু দাবি করেন, আগামী লোকসভা নির্বাচনে বাংলার ৪২টি আসনেই বিজেপি প্রার্থীদের জেতানোর লক্ষ্যে তাঁরা সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করবেন। ভাডনগরের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, পরবর্তী লোকসভা ভোটে বাংলার সব আসন মোদিজিকে উপহার দেব।”

    মোদির প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে বিজেপির তরফে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মধ্যে দিয়ে মোদির প্রশাসনিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর সেই যাত্রার ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। সেই উপলক্ষেই বিজেপির তরফে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ভাডনগরের অনুষ্ঠানে শুভেন্দু তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতির অভিযোগও তোলেন। তাঁর কথায়, “বাংলায় এতদিন তুষ্টিকরণের রাজনীতি চলছিল। মোদিজি না-থাকলে বাংলাকে বাঁচানো মুশকিল হত। তাই মোদিকে কোটি কোটি প্রণাম। মোদিজি বাংলার সনাতনী এবং রাষ্ট্রবাদী জনতাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন।” এর পরেই মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ২০২৯ সালের ভোটে বাংলার সব আসন বিজেপিকে জেতানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

    ‘গুজরাটের মতো বাংলার উন্নয়ন করতে চাই’

    শুধু লোকসভা নির্বাচনের আসন জয়ের অঙ্গীকার নয়, বাংলার উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুজরাটকে অনুসরণ করার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। মোদির মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময় গুজরাটে যে ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, বাংলাতেও সেই ধাঁচে কাজ করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।

    শুভেন্দুর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি গুজরাটে যে রকম কাজ করেছেন, সে রকম কাজ আমি পশ্চিমবঙ্গে করার চেষ্টা করছি (Lok Sabha Elections 2029)।”

    ভাডনগরে পৌঁছে নিজের অনুভূতির কথাও জানান তিনি। শুভেন্দু বলেন, “ভাডনগরের হেলিপ্যাডে নেমে প্রথমে এই মাটিকে প্রণাম করেছি। কপালে সেই মাটি ঠেকিয়েছি।”

    মোদি ২০১৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে দীর্ঘ সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে গুজরাটের উন্নয়নকে বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে দলের অন্যতম প্রধান সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে আসছে। সেই উন্নয়নধারাকেই বাংলায় অনুসরণ করার কথা এ দিন স্পষ্ট করেন শুভেন্দু।

    ‘বিরোধীশূন্য বাংলা’র ডাক ঘিরে বিরোধীদের আক্রমণ

    তবে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলাকে কার্যত বিরোধীশূন্য করার যে বার্তা শুভেন্দু দিয়েছেন, তা নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছেন বিরোধীরা।

    সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “মাত্র দু’টি বিধানসভার উপনির্বাচনে আমরা দেখলাম, পুলিশকে দিয়ে পোলিং এজেন্ট, ভোটারদের উপরে অত্যাচার করা হয়েছে। বিরোধী-শূন্য করার জন্য শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের ঝান্ডা নিয়ে আগে যেভাবে পঞ্চায়েত দখল করতেন, এখন বিজেপির ঝান্ডা নিয়ে তা আরও চরমে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।”

    তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের দাবি, “বাংলার সব লোকসভা আসনে জেতার আশ্বাস তিনি জ্ঞানেশ কুমারের ভরসায় দিয়েছেন। কিন্তু জল অতদূর গড়াবে না। কেন্দ্রে বিজেপির সরকার হবে না। রাজ্যেও ওদের আসন কমবে।”

    কলকাতা থেকে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র সূচনা

    এর আগে বুধবার সকালে কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র সূচনা করেন শুভেন্দু। সেখানে মোদির কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “উনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন না। বলেন প্রধান সেবক। শুধু বলেন না, সেভাবেই নিজের কাজ করেন। আমাদের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা মোদিজি।”

    বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও এ দিন কোচবিহারে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’য় অংশ নেন। তিনি বলেন, “মোদিজির দীর্ঘ সেবাময় জীবনের এই অধ্যায় থেকে আমাদের শিক্ষা একটাই— সংগঠন তখনই শক্তিশালী হয়, যখন কর্মীরা মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হন। তাই আগামী দিনের পথেও আমাদের লক্ষ্য থাকবে মানুষের পাশে থাকা, সমাজের জন্য কাজ করা এবং দেশের উন্নয়নের যাত্রায় নিজেদের ভূমিকা পালন (Suvendu Adhikari) করা।”

    ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচন এখনও বছর তিনেক দূরে। তার আগেই বাংলার ৪২টি আসন জয়ের লক্ষ্য ঘোষণা করে বিজেপির রাজনৈতিক লড়াইয়ের রূপরেখা স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু। এখন দেখার, এই ‘৪২-এ ৪২’ লক্ষ্যকে সামনে রেখে (Lok Sabha Elections 2029) আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে বিজেপি কী কৌশল নেয়।

     

  • Virat Kohli: প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে যেতে ৫ কোটি টাকা নিয়েছিলেন বিরাট কোহলি? দাবি উড়িয়ে দিলেন ভারতীয় তারকা

    Virat Kohli: প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে যেতে ৫ কোটি টাকা নিয়েছিলেন বিরাট কোহলি? দাবি উড়িয়ে দিলেন ভারতীয় তারকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃন্দাবনে আধ্যাত্মিক গুরু প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে (Premanand Maharaj Ashram) যাওয়ার জন্য তাঁকে ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল—এমন অভিযোগ খারিজ করে দিলেন ভারতীয় ক্রিকেটার বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। কোহলির মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং তথ্যগতভাবে ভুল।

    প্রেমানন্দ মহারাজের রাধা কেলি কুঞ্জ আশ্রমের এক শিষ্যের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে যখন নানা প্রশ্ন উঠছে, সেই সময়েই কোহলিকে টাকা দেওয়ার এই অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগটি করেন শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি সংঘর্ষ ন্যাসের সভাপতি ফলাহারি মহারাজ দীনেশ শর্মা।

    কোহলির মুখপাত্রের সাফ কথা (Virat Kohli) 

    কোহলির মুখপাত্র অবশ্য স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, প্রেমানন্দ মহারাজের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর আশ্রমে যাওয়ার পিছনে কোনও আর্থিক লেনদেন নেই। তাঁর বক্তব্য, “এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং তথ্যগতভাবে ভুল।” কোহলির আশ্রমে যাতায়াতের কারণ শুধুমাত্র তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং আধ্যাত্মিক গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা।

    সংবাদমাধ্যমগুলিকে কোনও দাবি প্রকাশ বা প্রচার করার আগে তা যথাযথভাবে যাচাই করার আবেদন জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে সংবাদ পরিবেশনের সময় আরও দায়িত্বশীল হওয়ারও অনুরোধ করা হয়েছে।

    কোহলি এবং তাঁর স্ত্রী, অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মা, দীর্ঘদিন ধরেই প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে যাতায়াত করেন। ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি তাঁদের প্রথম প্রকাশ্যে আলোচিত আশ্রম-সফর হয়। এরপরও একাধিকবার তাঁরা সেখানে গিয়েছেন। কোহলি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরও আধ্যাত্মিক গুরুর সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ বজায় রয়েছে।

    তবে বর্তমানে এমন কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি, যার ভিত্তিতে বলা যায় যে আশ্রমে যাওয়ার জন্য কোহলি বা অনুষ্কাকে কোনও অর্থ দেওয়া হয়েছিল।

    কেন নজরে প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রম?

    কোহলিকে ঘিরে এই অভিযোগ এমন একটা সময়ে সামনে এসেছে, যখন এক শিষ্যের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে চলছে তদন্ত।

    রসিক দুলারি নামে ওই শিষ্য ২৫ সেপ্টেম্বর আশ্রমের চারতলা থেকে পড়ে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে মথুরা পুলিশ। তিনি মানসিক চাপ বা অবসাদে ভুগছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    আশ্রমে যোগ দেওয়ার আগে রসিকের জীবনযাপন কেমন ছিল (Virat Kohli) এবং মৃত্যুর আগে তাঁর আচরণ বা পরিস্থিতিতে কোনও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

    তদন্তের স্বার্থে তাঁর পুরনো মোবাইল ফোন, নতুন সিম কার্ড, ফোনে যোগাযোগের বিস্তারিত তথ্য, কথোপকথন এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যও খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর মাধ্যমে মৃত্যুর আগের দিনগুলিতে তাঁর গতিবিধি ও পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার চেষ্টা চলছে (Premanand Maharaj Ashram)।

    তদন্তের অংশ হিসেবে এখনও পর্যন্ত ৮৫ জনের বক্তব্য রেকর্ড করেছে পুলিশ। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কোনও অন্য বিষয় জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতেই চলছে তদন্ত (Virat Kohli)।

     

  • Air Force Chief: চার দশকের অভিজ্ঞতা, দেশের পরবর্তী বায়ুসেনা প্রধান এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত

    Air Force Chief: চার দশকের অভিজ্ঞতা, দেশের পরবর্তী বায়ুসেনা প্রধান এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের নতুন বায়ুসেনা প্রধান (Air Force Chief) হচ্ছেন এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত (Air Marshal Ashutosh Dixit)। এখন তিনি ভাইস চিফ অফ দ্য এয়ার স্টাফ পদে কর্মরত। আগামী ৩১ অক্টোবর বর্তমান বায়ুসেনা প্রধান অমরপ্রীত সিং অবসর নেবেন। ওই দিন বিকেলে তাঁর জায়গায় দায়িত্ব নেবেন আশুতোষ। পরম বিশিষ্ট সেবা মেডেল, অতি বিশিষ্ট সেবা মেডেল সহ একাধিক সম্মান রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ সদর দফতরে চিফ অফ ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ (সিআইএসসি) এবং সেন্ট্রাল এয়ার কমান্ডের এয়ার অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ সহ গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ও কৌশলগত পদেও কর্মরত ছিলেন এয়ার মার্শাল দীক্ষিত।

    কোন কোন অপারেশনে দায়িত্বে ছিলেন আশুতোষ

    ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির প্রাক্তনী আশুতোষ পরে বাংলাদেশে ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ কলেজ এবং নয়াদিল্লির ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৮৬-র ৬ ডিসেম্বর তিনি যোগ দেন বায়ুসেনার ফাইটার শাখায় (যুদ্ধবিমান)। দক্ষতার সঙ্গে টেস্ট পাইলট এবং ফ্লাইং ইনস্ট্রাক্টরের দায়িত্ব সামলেছেন। সব মিলিয়ে প্রায় চার দশকের কর্মজীবন তাঁর। ফাইটার জেট, প্রশিক্ষণ বিমান ও ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট মিলিয়ে ৩,৫০০ ঘণ্টারও বেশি বিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে আশুতোষের ঝুলিতে। এক সময়ে মিরাজ-২০০০ স্কোয়াড্রনেরও দায়িত্বে ছিলেন আশুতোষ। পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিমান ঘাঁটি এবং ফাইটার জেট ট্রেনিং ঘাঁটির কম্যান্ডারেরও দায়িত্বও সামলেছেন। অংশ নিয়েছেন অপারেশন সফেদ সাগর, অপারেশন রক্ষক এবং অপারেশন সিঁদুরে। মিরাজ-২০০০, বিভিন্ন মিগ বিমান, জাগুয়ার, তেজস, হক, অ্যান-৩২ এবং আইএল-৭৮ ওড়ানোর অভিজ্ঞতাও তাঁর রয়েছে।

    কোন কোন পদক রয়েছে আশুতোষের ক্যাবিনেটে

    আশুতোষ বর্তমানে ভাইস চিফ অফ দ্য এয়ার স্টাফের দায়িত্বে রয়েছেন। তার আগে সেন্ট্রাল এয়ার কম্যান্ডের এয়ার অফিসার কম্যান্ডিং ইন চিফ ছিলেন। পরে চিফস অফ স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যানের অধীনে চিফ অফ ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ করা হয় তাঁকে। এয়ার হেডকোয়ার্টার্সের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদেও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। এয়ার স্টাফের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণের দায়িত্বে থাকা প্রিন্সিপাল ডিরেক্টর, প্রজেক্টস এবং প্ল্যানস বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ অফ দ্য এয়ার স্টাফ এবং ডেপুটি চিফ অফ দ্য এয়ার স্টাফ হিসেবেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। দেশীয় যুদ্ধবিমান তেজস তৈরির প্রকল্পেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে জানা গিয়েছে। বিভিন্ন ভূমিকায় তাঁর অবদান ভারতীয় বিমান বাহিনীর পরিচালনগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। তাঁর বিশিষ্ট ও অসাধারণ সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে বায়ু সেনা পদক (২০০৬), বিশিষ্ট সেবা পদক (২০১১), অতি বিশিষ্ট সেবা পদক (২০২৩) এবং পরম বিশিষ্ট সেবা পদক (২০২৬)-এ ভূষিত করা হয়েছে।

  • Mithun Chakraborty: ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা! শুভেন্দুর সরকারে নয়া দায়িত্বে মিঠুন

    Mithun Chakraborty: ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা! শুভেন্দুর সরকারে নয়া দায়িত্বে মিঠুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিনেমার জগতের পাশাপাশি এবার সরাসরি রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty as Cultural Advisor)। রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উপদেষ্টা পদে নিয়োগ করা হল মহাগুরুকে। শুভেন্দু সরকারের এই নয়া পদে মিঠুন চক্রবর্তীকে নিয়োগের ঘোষণার পাশাপাশি সরকার জানিয়েছে, এবার থেকে মিঠুন, এই পদাধিকারে রাজ্যের পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদাও পাবেন। খুব শীঘ্রই নয়া পদে মিঠুন দায়িত্ব নেবেন বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। বর্তমানে আলিপুরদুয়ারে রয়েছেন মিঠুন চক্রবর্তী। সেখান থেকেই এই নয়া দায়িত্ব দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মিঠুন।

    প্রশাসনিক ভূমিকায় মহাগুরু

    রূপোলি পর্দার ‘ডিস্কো ড্যান্সার’ থেকে শুরু করে রাজনীতির আঙিনা—বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এবার এক্কেবারে নতুন ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন তিনি। নতুন এই দায়িত্ব সম্পর্কে মিঠুন চক্রবর্তী বলেছেন, ‘‘আমি খুব খুশি, মুখ্যমন্ত্রী আমাকে উপযুক্ত ভেবেছেন। আমি একই রকম থাকব, কাজ করব। মুখ্যমন্ত্রীর পাশে থেকে যতটা পারব সাহায্য করব।” রাজ্যের কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরের আইএএস সেলের তরফ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেই বিজ্ঞপ্তিতেই মিঠুন চক্রবর্তীর নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, রাজ্যপালের সসম্মান অনুমোদনক্রমেই অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে এই পদে বসানো হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের সই করা এই বিজ্ঞপ্তির কপি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতর ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর এবং স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এই নির্দেশিকা পৌঁছে গিয়েছে।

    দীর্ঘ ও সফল পথচলা

    অভিনয়ের দীর্ঘ ও সফল পথচলার পাশাপাশি বিগত কয়েক বছর ধরে সক্রিয় রাজনীতির ময়দানেও অত্যন্ত জোরালোভাবে নিজের উপস্থিতি বজায় রেখেছেন মিঠুন চক্রবর্তী। প্রাক্তন বলিউড সুপারস্টার এবং বাংলার আইকন ৭৬ বছর বয়সী চক্রবর্তী ৭ মার্চ, ২০২১ এ কলকাতার একটি সমাবেশে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন। এরপর বিজেপির সঙ্গে দীর্ঘ পথ চলেছেন তিনি। পাশাপাশি বাংলায় একাধিক ছবিতেও অভিনেতা মিঠুনকে সমান তালে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে। পদ্মশিবিরের এই তারকা নেতার সঙ্গে রাজ্য সরকারের এই প্রশাসনিক মেলবন্ধন রাজনৈতিক মহলেও এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এতদিন তাঁকে বাংলা তথা ভারতীয় সিনেমার আইকন এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেই দেখেছে মানুষ। তবে এবার থেকে সরকারি নীতি নির্ধারণ এবং সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।

  • PM Modi: ২৫ বছর ধরে সরকারের শীর্ষে মোদি, বিশ্বনেতাদের শুভেচ্ছার বন্যা

    PM Modi: ২৫ বছর ধরে সরকারের শীর্ষে মোদি, বিশ্বনেতাদের শুভেচ্ছার বন্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারের প্রধান হিসেবে টানা ২৫ বছর পূর্ণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁর সরকারের শীর্ষপদে থাকার যাত্রা। ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেও সেই দায়িত্ব অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর তাঁর এই ২৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রা পূর্ণ হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    ভুটান, জাপান, ফিলিপিন্স, নাইজেরিয়া, বতসোয়ানা, বেলজিয়াম, নেপাল, দক্ষিণ কোরিয়া, ডোমিনিকা-সহ একাধিক দেশের নেতারা মোদির দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁদের বার্তায় ভারতের উন্নয়ন, সুশাসন, পরিকাঠামো, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে।

    বিষ্ণুর অবতার বলে উল্লেখ ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi)

    ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে “আমাদের সময়ের এক অবতার” বলে উল্লেখ করেছেন। ২০১৯ সালে নয়াদিল্লিতে মোদির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কথাও স্মরণ করেন তিনি। সেই সময় মোদিকে নিজের দাদা এবং ভগবান বিষ্ণুর অবতার হিসেবে দেখেন বলে জানিয়েছিলেন তোবগে।

    মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্ঞান, সহমর্মিতা এবং সাহস—একজন আলোকিত নেতার এই গুণগুলির সমন্বয় তিনি মোদির মধ্যে দেখতে পান। তাঁর মতে, ‘বিকশিত ভারতে’র লক্ষ্যের মাধ্যমে ভারতের সামনে ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে (PM Modi)। তোবগে আরও বলেন, মোদির নেতৃত্বে ভারতীয়দের মধ্যে নিজেদের দেশ ও নিজেদের ক্ষমতার প্রতি আত্মবিশ্বাস আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    কী বললেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ভারতের উন্নয়নে অবদানের জন্য গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন।

    তিনি বলেন, “বহু বছর ধরে আপনি ভারতীয় সমাজ ও দেশের উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। ২০০১ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আপনি অসাধারণ রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রদর্শন করেছেন। ভারতের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের মর্যাদা বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে আপনার কৃতিত্বের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।”

    ভারত সফরের সময় উষ্ণ আতিথেয়তার জন্যও মোদিকে ধন্যবাদ জানান তাকাইচি। ভারত-জাপান সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মোদির সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

    মোদির প্রশংসা ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্টেরও

    ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রও মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। গুজরাট থেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নেতৃত্ব পর্যন্ত তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার উল্লেখ করে মার্কোস বলেন, মোদির নেতৃত্বে সুশাসন, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, পরিকাঠামো এবং উন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    মার্কোসের মতে, এই বিষয়গুলি ভারতের পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। নভেম্বরে আসিয়ান-ভারত এবং পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে মণিলায় মোদিকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও জানান (PM Modi) তিনি।

    ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’, বললেন নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট

    নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ তিনুবু মোদির ২৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রাকে সত্যিই ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    তিনি বলেন, “একটানা ২৫ বছর নেতৃত্বে থাকা যে কোনও গণতন্ত্রের ক্ষেত্রেই বিরল কৃতিত্ব। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশে এটি ভারতীয় জনগণের তাঁর প্রতি দীর্ঘস্থায়ী আস্থার একটি শক্তিশালী প্রমাণ।”

    তিনুবু আরও বলেন, এই ২৫ বছরে মোদি উন্নয়নের প্রতি অটুট দায়বদ্ধতা নিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরিকাঠামো, ডিজিটাল পরিষেবা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ভারত ও নাইজেরিয়ার কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার কথাও জানান নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট।

    মোদি স্তুতি বতসোয়ানার প্রেসিডেন্টের

    বতসোয়ানার প্রেসিডেন্ট ডুমা গিডিয়ন বোকো প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে ভারতীয় জনগণের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ও সেবার প্রশংসা (PM Modi) করেন।

    তিনি বলেন, “সরকারের শীর্ষে ২৫ বছর পূর্ণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন। ভারতীয় জনগণের প্রতি আপনার নিষ্ঠা ও সেবার আমরা প্রশংসা করি। আগামী বছরগুলিতে আপনার সাফল্য কামনা করি এবং আমাদের দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব আরও শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা রাখি।”

    ভারত-বেলজিয়াম সম্পর্ক আরও গভীর করার বার্তা

    বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট দে ভেভারও মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। গুজরাট থেকে নয়াদিল্লি—সরকারের নেতৃত্বে টানা ২৫ বছরের যাত্রার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গুজরাট থেকে নয়াদিল্লি পর্যন্ত সরকারের নেতৃত্বে টানা ২৫ বছর পূর্ণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। গত মাসে আমার ফলপ্রসূ ভারত সফরের পর দুই দেশের শক্তিশালী অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার অপেক্ষায় রয়েছি।” নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহও মোদিকে ২৫ বছরের জনসেবার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে ভারত সরকার ও মোদির আগামী দিনের সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।

    মোদির জার্নি, গুজরাট থেকে ‘কর্তব্যপথ’

    ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথমবার সরকারের প্রধানের দায়িত্ব নেন নরেন্দ্র মোদি। ওই দিন তিনি গুজরাটের  মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর গুজরাটে টানা তিন দফা মুখ্যমন্ত্রী থাকার পর ২০১৪ সালের মে মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন। সেই সময় থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে টানা তৃতীয় মেয়াদ সম্পূর্ণ করার পথে রয়েছেন। ২৫ বছর পূর্তিতে পাওয়া শুভেচ্ছার জবাবও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। নাইজেরিয়া, ভুটান, ফিলিপিন্স, বতসোয়ানা, বেলজিয়াম এবং ডোমিনিকার নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন (PM Modi)।

     

  • Nana Patekar Dies: প্রয়াত নানা পটেকর, গোয়ার বাড়ি থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার বর্ষীয়ান অভিনেতা

    Nana Patekar Dies: প্রয়াত নানা পটেকর, গোয়ার বাড়ি থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার বর্ষীয়ান অভিনেতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রয়াত হলেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর (Nana Patekar Dies)। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ৭৫ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। জানা গিয়েছে, গোয়ার ফ্ল্যাটে তীব্র বুকে ব্যথা অনুভব করার পর তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সং‌বাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, তার আগে ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর দিয়ে তাঁকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করেছিলেন সেখানকার চিকিৎসকেরা। কিন্তু চিকিৎসকদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। অভিনেতার ছেলে মালহার পাটেকর জানান, বুকে ব্যথা অনুভব করার পরেই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন নানা। তার পরেই চিকিৎসকদের একটি দল অভিনেতার গোয়ার বাড়িতে যায়। সেখানে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হবে। ইতিমধ্যেই তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোয়া মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে

    দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একের পর এক স্মরণীয় চরিত্র

    নানার আসল নাম বিশ্বনাথ পটেকর। তবে অভিনয়জীবনে নানা নামেই জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি। মূলত হিন্দি এবং মরাঠি সিনেমায় চুটিয়ে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন তামিল সিনেমাতেও। মুম্বইয়ের স্যার জে জে স্কুল অব আর্ট থেকে পড়াশোনা করার পর থিয়েটারের মাধ্যমে অভিনয় জগতে প্রবেশ করেন নানা পাটেকর। ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি সিনেমায় তাঁর অভিষেক। এরপর ‘আজ কি আওয়াজ’, ‘প্রতিঘাত’, ‘মোহরে’ এবং ‘ত্রিশাগ্নি’-র মতো ছবিতে অভিনয় করে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন। ১৯৮৬ সালের ‘অঙ্কুশ’ তাঁর কেরিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দেয়। তবে ১৯৮৯ সালে বিধু বিনোদ চোপড়ার ‘পরিন্দা’ ছবিতে গ্যাংস্টার ‘আন্না’র চরিত্রে অভিনয় তাঁকে জাতীয় স্তরে বিশেষ পরিচিতি দেয়। এই ছবির জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার সম্মান পান। একই সঙ্গে পান ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও।

    ‘ক্রান্তিবীর’ থেকে ‘অগ্নিসাক্ষী’

    নব্বইয়ের দশকে নানা পাটেকর হিন্দি সিনেমার অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৯২ সালে ‘অঙ্গার’ ছবির জন্য ফিল্মফেয়ারে সেরা খলনায়কের পুরস্কার পান। ১৯৯৩ সালের ‘তিরঙ্গা’র পর ১৯৯৪ সালে ‘ক্রান্তিবীর’-এ প্রতাপ নারায়ণ তিলকের চরিত্রে তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসিত হয়। এই ছবির জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার সম্মান এবং ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান। ১৯৯৬ সালের ‘অগ্নিসাক্ষী’র জন্য আবারও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’-এর মতো ছবিতেও তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করে। অভিনয়ের ক্ষেত্রে নানা পাটেকরের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল চরিত্রের বৈচিত্র্য। কখনও ভয়ঙ্কর খলনায়ক, কখনও জটিল মানসিকতার নায়ক, আবার কখনও আবেগপ্রবণ ও অসহায় চরিত্র—প্রতিটি ভূমিকাতেই নিজের স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলীর ছাপ রেখেছেন তিনি।

    ‘অব তক ছাপ্পন’ থেকে ‘ওয়েলকাম’

    ২০০০-এর দশকেও নানা পাটেকর ছিলেন হিন্দি সিনেমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতা। ২০০৪ সালের ‘অব তক ছাপ্পন’-এ মুম্বই পুলিশের কঠোর অফিসার সাধু আগাশের চরিত্রে অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা পায়। ২০০৫ সালের ‘অপরাধ’-এ রাজনৈতিকভাবে জটিল চরিত্রে অভিনয়ের জন্যও তিনি ফিল্মফেয়ারে সেরা খলনায়কের পুরস্কার পান। তবে তাঁর অভিনয়ের পরিসর শুধু গম্ভীর চরিত্রেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ২০০৭ সালের ‘ওয়েলকাম’ ছবিতে গ্যাংস্টার উদয় শেঠির চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। পরবর্তীতে ‘ওয়েলকাম ব্যাক’-এও একই চরিত্রে দেখা যায় তাঁকে। ২০১০ সালের ‘রাজনীতি’ ছবিতে আবারও রাজনৈতিক নাটকের জগতে নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দেন তিনি।

    মারাঠি ও তামিল সিনেমাতেও উজ্জ্বল উপস্থিতি

    হিন্দি সিনেমার পাশাপাশি মারাঠি চলচ্চিত্রেও নানা পাটেকরের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০১৬ সালের ‘নটসম্রাট’ ছবিতে অবসরপ্রাপ্ত এক থিয়েটার অভিনেতার চরিত্রে তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। বার্ধক্য, পরিবার ও জীবনের নানা হারানোর বেদনা—চরিত্রটির আবেগকে অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন তিনি। এই ছবির জন্য তিনি ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেতা (মারাঠি) পুরস্কার পান। নানা পাটেকর তামিল সিনেমাতেও কাজ করেছেন। ভরতীরাজার ‘বোম্মালাট্টম’-এর পর ২০১৮ সালে রজনীকান্ত অভিনীত ‘কালা’ ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যায় তাঁকে। ছবিতে হরিনাথ দেশাই নামে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি।

    পরিচালক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ

    অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাতেও নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছিলেন নানা পাটেকর। ১৯৯১ সালে ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ ছবির মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনার দায়িত্বও সামলেছিলেন। সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও সৈনিকদের জীবনকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই ছবি তাঁর সামরিক জীবনের প্রতি আগ্রহেরও প্রতিফলন ঘটায়। সামাজিক কাজেও সক্রিয় ছিলেন নানা পাটেকর। ২০১৫ সালে মারাঠি অভিনেতা মকরন্দ আনাসপুরের সঙ্গে তিনি ‘নাম ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। মহারাষ্ট্রের কৃষক, বিশেষ করে খরা-পীড়িত কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে এই সংস্থা কাজ করে।

    টেরিটোরিয়াল আর্মির সঙ্গে যুক্ত

    সেনাবাহিনীর সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তিনি টেরিটোরিয়াল আর্মির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তাঁকে সম্মানসূচক লেফটেন্যান্ট কর্নেলের পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। সাত দশক পেরিয়েও অভিনয় চালিয়ে গিয়েছেন নানা পাটেকর। তাঁর সাম্প্রতিক কাজের মধ্যে ছিল ‘ভানবাস’ (২০২৪), ‘হাউসফুল ৫’ (২০২৫), ‘ও’ রোমিও’ এবং ‘সুবেদার’ (২০২৬)। বহুমুখী অভিনয় প্রতিভা, স্বতন্ত্র সংলাপ বলার ধরন এবং পর্দায় তাঁর শক্তিশালী উপস্থিতির জন্য ভারতীয় সিনেমায় নানা পাটেকরের অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

  • Mohan Bhagwat: তিনদিনের সফরে বর্ধমানে মোহন ভাগবত, শাখা বিস্তার- সাংগঠনিক পরিবর্তন নিয়ে বৈঠক

    Mohan Bhagwat: তিনদিনের সফরে বর্ধমানে মোহন ভাগবত, শাখা বিস্তার- সাংগঠনিক পরিবর্তন নিয়ে বৈঠক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, বৃহস্পতিবার রাজ্যে আসছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। তিন দিনের সফরে বর্ধমানে থাকবেন তিনি। সফর ঘিরে একাধিক কর্মসূচি থাকলেও, মূলত সাংগঠনিক বিষয় নিয়েই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করার কথা সংঘপ্রধানের। উত্তরবঙ্গ, মধ্যবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের স্বয়ংসেবকদের পাশাপাশি পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান বিভাগের (Burdwan) ক্ষেত্রপ্রমুখদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি।

    বর্ধমানে ভাগবত (Mohan Bhagwat)

    জানা গিয়েছে, ট্রেনে সরাসরি বর্ধমান স্টেশনে পৌঁছবেন ভাগবত। সেখান থেকে বর্ধমান শহরের উল্লাসে সংঘের কার্যালয়ে যাবেন তিনি। সেখানে মূলত দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। রাজ্যে, বিশেষ করে পূর্ব বর্ধমান জেলা-সহ বিভিন্ন এলাকায় এখনও পর্যন্ত কতগুলি শাখা বৃদ্ধি পেয়েছে, সেই সংক্রান্ত সাংগঠনিক তথ্য নেবেন সংঘপ্রধান। পাশাপাশি আগামী এক বছরের কর্মসূচি নিয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

    বর্ধমান শহরের উল্লাসে সংঘের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পর বর্ধমান মডেল স্কুলেও যাবেন ভাগবত। সেখানে সংঘের কর্মীদের একটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। সন্ধ্যায় ফের বর্ধমানে সংঘের কর্মীদের স্থানীয়ভাবে আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

    পরদিন, শুক্রবার সকালে সংগঠনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ভাগবত। এরপর তিনি যাবেন সংঘের নতুন কার্যালয়ে। দিনভর সেখানে বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে একাধিক বৈঠক হওয়ার কথা। তাঁর সঙ্গে বর্ধমানে থাকার কথা সংঘের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলেরও।

    সংঘ সূত্রে খবর, সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোয় বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে চলেছে। বর্ধমান সফরে সেই বিষয়গুলিও আলোচনায় উঠে আসতে পারে। বৈঠক শেষে বর্ধমান বিভাগের সংঘকর্মীদের সঙ্গে আলাদা করে দেখা করার কথা রয়েছে ভাগবতের।

    সংঘ কর্তার ঠাসা কর্মসূচি

    এই সফরে মধ্যবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার কর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করবেন সংঘপ্রধান। দুই বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, হুগলি, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদের একাংশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা। দেওয়ানদিঘির একটি স্কুলের হলঘরেও প্রায় ১২০০ প্রতিনিধির সঙ্গে তাঁর বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। পরে উল্লাসে সংঘের কার্যালয়ে যাবেন তিনি। সেখানে বিভিন্ন রাজ্যের সংঘের শীর্ষ পদাধিকারীরাও উপস্থিত থাকবেন।

    সংঘ সূত্রের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের বহু শাখা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই শাখাগুলির বেশ কিছু ফের চালু হয়েছে। আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যায় শাখা খোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। সেই সাংগঠনিক বিস্তার নিয়েও ভাগবতের সফরে আলোচনা হতে পারে (Mohan Bhagwat)।

    বিধানসভা নির্বাচনের আগে বর্ধমানে এসে ভাগবত বলেছিলেন, “আরএসএসের দরজা সবার জন্য খোলা রয়েছে। যে কেউ প্রবেশ করতে পারেন।” সেই সফরে টানা কয়েক দিন বর্ধমানে ছিলেন সংঘপ্রধান।

    রাজ্যে সংঘের ভূমিকার দিক নির্দেশ

    সংঘের এক নেতার দাবি, রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতায় আসার পিছনে সংগঠনের কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে তাঁরা কাজ করেছেন। কিন্তু সরকার গঠনের পর স্থানীয় স্তরে সংঘের কর্মীরা আগের মতো গুরুত্ব পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকী তাঁদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি ওই নেতার। আগামী দিনে রাজ্যে সংঘের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও ভাগবতের সঙ্গে কর্মীদের আলোচনা হতে পারে। কর্মীদের বক্তব্য সরাসরি শোনার জন্যও সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে আরএসএস সূত্রে খবর(Mohan Bhagwat)।

    আর এক সংঘনেতার বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনের পর বিভিন্ন জেলায় একাধিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। তোলাবাজি বা জরিমানা আদায়ের মতো ঘটনায় বিজেপি নেতাদের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আগামী দিনে সংগঠন বিস্তারের ক্ষেত্রে পুরনো কর্মীদের আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় উঠতে পারে।

    বিজেপির জয়ে সংঘ প্রধানের অবদান

    তবে ভাগবতের এবারের সফরের সমস্ত কর্মসূচিই অভ্যন্তরীণভাবে আয়োজন করা হচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বর্ধমানে এসে সংঘপ্রধান প্রকাশ্যে সভা করেছিলেন এবং টানা কয়েক দিন সেখানে (Burdwan) ছিলেন। সেই সফরের পর বিজেপি বর্ধমান-সহ মধ্যবঙ্গে উল্লেখযোগ্য ফল করেছিল বলে মনে করে সংঘ ও বিজেপির একাংশ। এবার আগামী লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতেও এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে (Mohan Bhagwat) বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

     

  • OIC: সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ওআইসিকে রাষ্ট্রপুঞ্জে কড়া জবাব ভারতের, ‘আক্রান্ত ও সন্ত্রাসীকে আলাদা করতে ব্যর্থ’

    OIC: সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ওআইসিকে রাষ্ট্রপুঞ্জে কড়া জবাব ভারতের, ‘আক্রান্ত ও সন্ত্রাসীকে আলাদা করতে ব্যর্থ’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ভারতের পদক্ষেপ নিয়ে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাল ভারত। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর (OIC) রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতীয় জনতা পার্টির সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব বলেন, সন্ত্রাসবাদের জন্য দায়ী ব্যক্তি এবং সন্ত্রাসের শিকারদের মধ্যে পার্থক্য করতে ব্যর্থ হয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের ষষ্ঠ কমিটিতে আন্তর্জাতিক আইনি বিষয় নিয়ে (Pakistan Terror Infrastructure) আলোচনা চলাকালীন এই মন্তব্য করেন দেব। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় ভারতের জাতীয় বক্তব্য পেশ করছিলেন তিনি। এর আগে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার হয়ে সৌদি আরব একটি বক্তব্য পেশ করে। সেই বক্তব্যেরই জবাব দেন ভারতীয় সাংসদ।

    সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত (OIC)

    ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করে দেব বলেন, পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ভারত “সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত” পদক্ষেপ করেছে। তাঁর কথায়, “আমি এখন ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার সভাপতির দেওয়া সেই বক্তব্যের জবাব দিচ্ছি, যেখানে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতের সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। এই অঞ্চল থেকেই ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী হামলার পরিকল্পনা ও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার অবস্থানের সমালোচনা করে দেব আরও বলেন, “দুর্ভাগ্যজনক যে বক্তা সত্য ও কল্পনার মধ্যে পার্থক্য করতে পারছেন না এবং আক্রান্ত ও অপরাধীর মধ্যেও তফাত করতে পারছেন না।” তিনি বলেন, “পাকিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে আসা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজের নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখার পূর্ণ অধিকার ভারতের রয়েছে। সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত থাকার পরিণতি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”

    পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ তুলল ভারত

    রাষ্ট্রপুঞ্জে নিজের বক্তব্যে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং তার ভয়াবহ মানবিক মূল্যও তুলে ধরেন দেব। তাঁর বক্তব্য, ভারতের কাছে সন্ত্রাসবাদের হুমকি কোনও তাত্ত্বিক বিষয় নয়, বরং এটি “প্রতিনিয়ত এবং প্রতিদিনের বাস্তবতা”। দেবের মতে, সন্ত্রাসবাদ শুধু দেশের নিরাপত্তাকেই প্রভাবিত করে না, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং মানবাধিকারকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ প্রসঙ্গে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হওয়া সন্ত্রাসবাদী হামলার কথা উল্লেখ করেন তিনি। ওই হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হন। দেব এই হামলাকে ভারতের সার্বভৌমত্বের উপর পরিকল্পিত আক্রমণ বলে অভিহিত করেন। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিম সীমান্তের ওপার থেকে সমর্থন পাওয়া সংগঠনগুলিই এই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছিল। দেব বলেন, “সন্ত্রাসবাদ রাষ্ট্রপুঞ্জের মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। নিরীহ নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে নিশানা করার কোনওভাবেই ন্যায্যতা থাকতে পারে না। ভালো সন্ত্রাসবাদ ও খারাপ সন্ত্রাসবাদের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। ভারত সন্ত্রাসবাদী হামলাকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অবস্থানও পুনরায় তুলে ধরে তিনি বলেন, “একটিও হামলা অনেক বেশি, আর একটি প্রাণহানিও অনেক বেশি (OIC)।”

    জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির মন্তব্যের বিরোধিতা

    জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মন্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেন দেব। তিনি ওই মন্তব্যকে “অযাচিত উল্লেখ” বলে অভিহিত করেন। দেব বলেন, “ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার সভাপতির উচিত পাকিস্তানের বেআইনি দখলের দিকে আরও বেশি নজর দেওয়া। বিশেষ করে রাওয়ালাকোটে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড, নৃশংস হিংসা এবং সেখানে বসবাসকারী মানুষের মৌলিক অধিকার অস্বীকার করার বিষয়গুলি অত্যন্ত স্পষ্ট।” ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার বিরুদ্ধে “ইচ্ছাকৃত অন্ধত্বের” অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের অবস্থান পক্ষপাতিত্ব ও অসহিষ্ণুতারই প্রতিফলন।

    সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি

    রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক স্তরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবিরই অংশ। দেব দ্রুত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক সর্বাঙ্গীণ কনভেনশন গ্রহণের দাবি জানান। ভারত ১৯৯৬ সালেই এই প্রস্তাব প্রথম উত্থাপন করেছিল। শুধু সন্ত্রাসবাদীদের নয়, তাদের সংগঠক, অর্থদাতা এবং মদতদাতাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। এছাড়াও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলি কীভাবে নতুন প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে সদস্য সংগ্রহ, উগ্রপন্থায় প্ররোচনা, প্রচার, হামলার পরিকল্পনা এবং অর্থসংগ্রহ করছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত। রাষ্ট্রপুঞ্জের একটি পরিচিতিমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়া ১৫ সদস্যের ভারতীয় সংসদীয় প্রতিনিধিদলের অন্যতম (Pakistan Terror Infrastructure) সদস্য বিপ্লব কুমার দেব। জম্মু ও কাশ্মীর এবং পাকিস্তান-সংযুক্ত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারত ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মধ্যে চলতে থাকা কূটনৈতিক মতপার্থক্যের আবহেই রাষ্ট্রপুঞ্জে তাঁর এই বক্তব্য সামনে এল (OIC)।

     

  • Madrasa Service Commission: মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত, এবার মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগও স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে

    Madrasa Service Commission: মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত, এবার মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগও স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের পথে রাজ্য সরকার। মাদ্রাসায় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের দায়িত্বে থাকা মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন (Madrasa Service Commission) আর থাকছে না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক বৈঠকে জানিয়েছেন, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এবার থেকে অনুমোদিত মাদ্রাসাগুলিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমেই হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন তুলে দেওয়া হয়েছে, ওটা স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।” সরকারের যুক্তি, একই নিয়োগ কাঠামোর আওতায় স্কুল ও মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ হলে প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সমতা বাড়বে। নিয়োগের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা ব্যবস্থা থাকার কারণে যে প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা তৈরি হত, তা কমানো সম্ভব হবে। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত এমন একটা সময়ে এল, যখন মাদ্রাসাগুলির অনুমোদন, পরিকাঠামো এবং নিয়োগ ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে রাজ্যে ২৫২টি বেসরকারি, অনুদানহীন ও এখনও স্বীকৃতির অপেক্ষায় থাকা মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রে খবর, ওই মাদ্রাসাগুলির অধিকাংশই মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলায় অবস্থিত।

    কেন এই সিদ্ধান্ত? (Madrasa Service Commission)

    গত কয়েক বছর ধরে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ এবং মাদ্রাসাগুলির স্বীকৃতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে নথিতে প্রতিষ্ঠানের নাম থাকলেও বাস্তবে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে। অননুমোদিত ও বেসরকারিভাবে পরিচালিত মাদ্রাসাগুলির তথ্য যাচাই করতেও রাজ্য সরকার সম্প্রতি সমীক্ষা ও তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে। অতীতে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে হওয়া নিয়োগ নিয়েও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নিয়োগের ক্ষেত্রে পৃথক কমিশনের বদলে একক ব্যবস্থার দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    কী কী বদল আসতে পারে?

    এত দিন সাধারণ স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ এবং মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগ পৃথক কমিশনের মাধ্যমে পরিচালিত হত। নতুন ব্যবস্থায় মাদ্রাসার অনুমোদিত উচ্চ মাদ্রাসা, সিনিয়র মাদ্রাসা এবং জুনিয়র হাই মাদ্রাসায় শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগের দায়িত্ব স্কুল সার্ভিস কমিশনের হাতে যাওয়ার কথা। এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। প্রথমত, মাদ্রাসা ও সাধারণ স্কুলের জন্য পৃথক নিয়োগ প্রক্রিয়ার বদলে একই কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ পরিচালিত হতে পারে। মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগের জন্য পৃথক মেধাতালিকার পরিবর্তে অভিন্ন নিয়োগ কাঠামো চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, আবেদন, পরীক্ষা, মেধাতালিকা এবং পরবর্তী ধাপগুলি স্কুল সার্ভিস কমিশনের নির্ধারিত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। তবে মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগের নতুন বিধি, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়সসীমা ও পরীক্ষার ধাপ সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি। তৃতীয়ত, চাকরিপ্রার্থীদের আলাদা করে দু’টি নিয়োগ ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। একই ধরনের পরীক্ষা ও নিয়োগ কাঠামো চালু হলে আবেদন ও প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও সুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    চাকরিপ্রার্থীদের কী সুবিধা?

    একক কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ পরিচালিত হলে আবেদন থেকে মেধাতালিকা প্রকাশ পর্যন্ত প্রক্রিয়া আরও কেন্দ্রীভূত হবে। ফলে একই ধরনের নিয়ম মেনে নিয়োগ পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের মতে, আলাদা কমিশনের পরিবর্তে একটি কেন্দ্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থার ফলে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে। ভবিষ্যতে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাধারণ স্কুল ও মাদ্রাসার বিভিন্ন শূন্যপদের জন্য আবেদন করার সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে হলে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নতুন করে নিয়োগবিধি প্রকাশ করতে হবে (Madrasa Service Commission)। বর্তমানে স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও একাধিক পরিবর্তন চলছে। সংরক্ষণ নীতির পরিবর্তনের কারণে শিক্ষক নিয়োগের আগের তালিকা বাতিল করে নতুন তালিকা প্রকাশের ঘটনাও ঘটেছে। ফলে মাদ্রাসা নিয়োগকে নতুন ব্যবস্থায় কীভাবে যুক্ত করা হবে, তা কমিশনের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির উপরই নির্ভর করবে।

    মাদ্রাসা বোর্ডের ক্ষেত্রেও কি বদল?

    মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্তির সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশাসনিক কাঠামোয়ও পরিবর্তন আসতে পারে বলে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে নিয়োগ কমিশন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ভূমিকা এক বিষয় নয়। তাই মাদ্রাসা বোর্ডকে সরাসরি স্কুল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আনা হচ্ছে—এমন কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা সরকারি ভাবে স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। নতুন ব্যবস্থায় মূল পরিবর্তনটি আপাতত শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করেই। স্কুল সার্ভিস কমিশনের অধীনে মাদ্রাসার নিয়োগ প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, তার পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রকাশের পরই বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে (Madrasa Service Commission)।

    পরীক্ষার ধরন কী হবে?

    মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগে আগের বয়সসীমা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা একই থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনও নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়নি। তাই ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সসীমা বা সংরক্ষিত শ্রেণির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ছাড় বজায় থাকবে—এমন তথ্য এখনই চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। একইভাবে লিখিত পরীক্ষা, বাছাই, সাক্ষাৎকার এবং অন্যান্য ধাপ স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রচলিত কাঠামো অনুযায়ী হবে কি না, সেটিও নতুন নিয়োগবিধি প্রকাশের পর স্পষ্ট হবে। মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের অধীনে পূর্বে যে নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলি শুরু হয়েছিল, সেগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। বকেয়া নিয়োগ এবং নতুন নিয়োগ—দুই ক্ষেত্রেই কী নিয়ম কার্যকর হবে, সেই বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট নির্দেশিকার অপেক্ষায় রয়েছেন প্রার্থীরা। সব মিলিয়ে, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত করে স্কুল সার্ভিস কমিশনের অধীনে মাদ্রাসার নিয়োগ নিয়ে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের সূচনা হল। তবে এই সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রয়োগ নির্ভর করবে নতুন নিয়োগবিধি ও সরকারি বিজ্ঞপ্তির উপর (Madrasa Service Commission)।

     

LinkedIn
Share