Blog

  • Madrasas Closure: অনুমোদন-পরিকাঠামোহীন ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নোটিশ রাজ্যের, শোকজ আরও প্রায় ১০০-টিকে

    Madrasas Closure: অনুমোদন-পরিকাঠামোহীন ২৫২ মাদ্রাসা বন্ধের নোটিশ রাজ্যের, শোকজ আরও প্রায় ১০০-টিকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে অনুমোদনহীন ও ন্যূনতম পরিকাঠামোহীন মাদ্রাসাগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের পথে সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর। রাজ্যজুড়ে সমীক্ষা ও পরিদর্শনের পর ২৫২টি মাদ্রাসাকে বন্ধের নোটিশ (Madrasas Closure) দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়ম মেনে পরিচালিত না হওয়া আরও প্রায় ১০০টি মাদ্রাসাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না মিললে ওই প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন (West Bengal) দফতরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু।

    দফতর সূত্রে খবর, বন্ধের নোটিশ পাওয়া ২৫২টি মাদ্রাসার অধিকাংশের ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় ন্যূনতম পরিকাঠামো নেই। অন্যদিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজেদের অবস্থান জানাতে হবে। তাদের জবাব সন্তোষজনক না হলে পরবর্তী পদক্ষেপ করবে প্রশাসন।

    মন্ত্রীর বক্তব্য, মাদ্রাসার পড়ুয়ারাও যাতে অন্যান্য স্কুলের পড়ুয়াদের মতো আধুনিক ও মূলধারার শিক্ষার সুযোগ পায়, সেটাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। শিক্ষার পরিবেশ ও পরিকাঠামো উন্নত করার পাশাপাশি নিয়ম মেনে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

    সমীক্ষায় উঠে এল অনুমোদনের বিস্তর ফারাক (Madrasas Closure)

    রাজ্য প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ২,১৩২টি মাদ্রাসা প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিয়ে চলছে। অন্যদিকে প্রায় ২,৩৯৬টি মাদ্রাসা প্রয়োজনীয় সরকারি বা পর্ষদের নথিভুক্তি কিংবা সংযুক্তিকরণ ছাড়াই চলছে বলে প্রশাসনের সমীক্ষায় উঠে এসেছে। বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছিল খারিজি মাদ্রাসাগুলির উপর।

    জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কলকাতা-সহ রাজ্যের ২২টি জেলার মাদ্রাসাগুলির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রতিষ্ঠানের নথিভুক্তি, পরিচালন ব্যবস্থা, পড়ুয়ার সংখ্যা ও পরিচয়, শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা, পরিকাঠামো এবং অর্থের উৎস—সমীক্ষায় খতিয়ে দেখা হয় সবই।

    জেলা প্রশাসনের রিপোর্ট পাওয়ার পর তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে রাজ্যস্তর থেকেও বিশেষ পরিদর্শন ও তদন্তকারী দল পাঠানো হয়। মাদ্রাসাগুলির তরফে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল রয়েছে কি না, তা সরেজমিনে যাচাই করা হয় (Madrasas Closure)।

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সমীক্ষায় একাধিক সমস্যা সামনে এসেছে। কোথাও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই, কোথাও পড়ুয়া ও শিক্ষকের সংখ্যা অত্যন্ত কম। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানে রাজ্য নির্ধারিত পাঠ্যক্রম থেকে বড় ধরনের বিচ্যুতি এবং প্রশাসনিক নিয়ম না মানার অভিযোগও পাওয়া গিয়েছে। এই সমস্ত কারণেই একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    মালদায় সবচেয়ে বেশি বন্ধের নোটিশ

    জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে মালদায়। সেখানে ৪৪-৪৫টি মাদ্রাসা এই তালিকায় রয়েছে। এরপর উত্তর দিনাজপুরে প্রায় ৩৭টি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রায় ৩২টি এবং মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায় প্রায় ২৫টি করে মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।

    প্রশাসনের ব্যাখ্যা, খারিজি মাদ্রাসা বলতে এমন স্বাধীন ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়, যেগুলি সাধারণত সরকারি অর্থসাহায্য, আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি বা সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়। এই ধরনের প্রতিষ্ঠান অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের অনুদান বা ট্রাস্টের অর্থের উপর নির্ভরশীল।

    ভারতবিরোধী শিক্ষা’র অভিযোগও নজরে

    নবান্নের এক আধিকারিকের দাবি, কয়েকটি খারিজি মাদ্রাসায় ‘ভারতবিরোধী’ শিক্ষা দেওয়া এবং পড়ুয়াদের ‘মগজধোলাই’ করার অভিযোগ প্রশাসনের নজরে এসেছে। সেই কারণেও মাদ্রাসাগুলির কার্যকলাপ যাচাইয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল বলে দাবি ওই আধিকারিকের। তবে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, এই ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণ যাচাই করে এবং আইন মেনে তবেই কোনও পদক্ষেপ করা হবে।

    এদিকে, মাদ্রাসা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, এর আগে মাদ্রাসার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের বিরুদ্ধে উগ্রপন্থী কার্যকলাপের অভিযোগ সামনে এসেছিল। তিনি বলেন, “মাদ্রাসা নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। এর আগে অনেক উগ্রপন্থী ধরা পড়েছে, যারা মাদ্রাসার শিক্ষক ছিল। মাদ্রাসায় থেকে তারা ভারতবিরোধী কার্যকলাপ চালাত।”

    তাঁর আরও দাবি, “যারা সরকারের অনুমতি নিয়ে মাদ্রাসা চালাচ্ছেন, সেই মাদ্রাসা চলবেই। কিন্তু যেখানে-সেখানে মাদ্রাসা খুলে উৎপাত করার অনুমতি সরকার দেবে না।” তবে মাদ্রাসা নিয়ে ওঠা যে কোনও অভিযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ তদন্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে (Madrasas Closure)।

    অনুমোদিত মাদ্রাসা চালু থাকবে

    সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু বলেন, “ফিল্ড লেভেলে যাচাই করা হয়েছে। কলকাতা-সহ ২২টি জেলার সমস্ত মাদ্রাসার নথি সংগ্রহ করা হয়েছে। যে সমস্ত মাদ্রাসার অনুমোদন রয়েছে, সেগুলি চালু থাকবে।”  প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মাদ্রাসাগুলির (West Bengal) নথি যাচাই এবং পরিদর্শনের এই প্রক্রিয়া আগামী দিনেও চলবে। অনুমোদনহীন বা নিয়ম না মেনে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রমাণের ভিত্তিতে এবং আইন মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে (Madrasas Closure)।

     

  • Operation Sindoor: ৩১৪ কিমি দূর থেকে নিখুঁত আঘাত! কীভাবে সম্ভব হয়েছিল এস-৪০০-এর ‘লংগেস্ট কিল’? অপারেশন সিঁদুরের অজানা তথ্য প্রকাশ কেন্দ্রের

    Operation Sindoor: ৩১৪ কিমি দূর থেকে নিখুঁত আঘাত! কীভাবে সম্ভব হয়েছিল এস-৪০০-এর ‘লংগেস্ট কিল’? অপারেশন সিঁদুরের অজানা তথ্য প্রকাশ কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার জবাব দিতে শুরু হয়েছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ভারতে হামলার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংস করা। কিন্তু পাকিস্তান পাল্টা সামরিক আক্রমণ শুরু করতেই সংঘাতের পরিধি বাড়ে। এরপর পাকিস্তানের সামরিক পরিকাঠামোকেই নিশানা করে অভিযান চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা (আইএএফ)। এবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ২০২৫-২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্টে সেই অভিযানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে এল।

    ২২ এপ্রিল ২০২৫ পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। তার পর ৭ মে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে নির্ভুল হামলা চালায় ভারত। পাকিস্তান পাল্টা ভারতীয় সামরিক ও অসামরিক পরিকাঠামোয় হামলা চালালে শুরু হয় তীব্র চার দিনের সামরিক সংঘাত। ১০ মে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।

    ফাইটার জেট, এডব্লিউঅ্যান্ডসি ও ড্রোন ঘাঁটিতে হামলা

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১০ মে পাকিস্তানের চারটি বিমান হ্যাঙ্গারকে নিশানা করে আইএএফ। সেখানে যুদ্ধবিমান, এডব্লিউঅ্যান্ডসি (এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল) প্ল্যাটফর্ম এবং আনম্যানড কমব্যাট এরিয়াল ভেহিকল (ইউসিএভি) রাখা ছিল।

    রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, জ্যাকোবাবাদে একাধিক এফ-১৬, একটি এডব্লিউঅ্যান্ডসি বিমান এবং আকিঞ্চি ও টিবি-২ শ্রেণির একাধিক ইউসিএভি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাক বায়ুসেনার কয়েকজন কর্মীর মৃত্যুর কথাও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। জ্যাকোবাবাদ ছাড়াও ভোলারি, সুক্কুর ও মুরিদে থাকা হ্যাঙ্গারও হামলার নিশানায় ছিল।

    রানওয়েতেও নির্ভুল আঘাত

    পাকিস্তানের সারগোধা এবং রহিম ইয়ার খান সামরিক বিমানঘাঁটির রানওয়েতেও হামলা চালায় আইএএফ। লক্ষ্য ছিল রানওয়ের কার্যক্ষমতা ব্যাহত করে ওই ঘাঁটিগুলিকে লাগাতার সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহার করা কঠিন করে দেওয়া। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের রিপোর্টে এই হামলার নির্ভুলতাকে ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের বিমানঘাঁটি নিষ্ক্রিয় করার আইএএফের অভিযানের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

    পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স কমান্ডেও আঘাত

    শুধু বিমান বা রানওয়ে নয়, পাকিস্তানের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল পরিকাঠামোকেও নিশানা করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, চক্লালা এবং মুরিদে থাকা কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস করা হয়। বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল চক্লালার পরিকাঠামো, কারণ সেখানে পাকিস্তান বায়ুসেনার এয়ার ডিফেন্স কমান্ডের সদর দফতর ছিল।অর্থাৎ, ভারতীয় হামলার লক্ষ্য ছিল শুধু পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা নয়; বরং শত্রুপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা ও সমন্বয়ের পরিকাঠামোকেও দুর্বল করে দেওয়া।

    আকাশ প্রতিরক্ষায় আইএসিসিএস-এর বড় ভূমিকা

    অপারেশন সিঁদুরে ভারতের নিজস্ব ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (আইএসিসিএস) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, সামরিক ও অসামরিক সমস্ত নজরদারি সেন্সরকে এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে একটি ‘কমন রিকগনাইজড এয়ার সিচুয়েশন পিকচার’ তৈরি করা হয়েছিল। একাধিক আইএএফ নেটওয়ার্কড ট্যাকটিক্যাল নোডের মাধ্যমে আকাশপথের লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।

    ৩১৪ কিলোমিটার দূর থেকে ‘এস-৪০০ কিল’!

    অপারেশন সিঁদুর সংক্রান্ত রিপোর্টের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সম্ভবত এই ঘটনাটিই। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, একটি এস-৪০০ ইউনিট ৩১৪ কিলোমিটার দূর থেকে পাকিস্তানের একটি স্পেশাল-মিশন বিমানকে ধ্বংস করেরিপোর্টে এটিকে ‘লংগেস্ট সারফেস-টু-এয়ার কিল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এই ঘটনা ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শন বলে দাবি করেছে মন্ত্রক। রিপোর্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় রেডার নীরবে লক্ষ্যবস্তুটি ট্র্যাক করে এবং এস-৪০০-এর দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রকে তার ‘ফার বাউন্ডারি’ পর্যন্ত পরিচালিত করা হয়। অর্থাৎ, নজরদারি, ট্র্যাকিং, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল এবং দীর্ঘপাল্লার ইন্টারসেপশন—এই গোটা ব্যবস্থার সমন্বয়েই ওই হামলা সম্ভব হয়।

    বায়ুসেনার সদস্যদের সম্মান

    অপারেশন সিঁদুরের পর ১২ মে ২০২৫ এয়ারফোর্স স্টেশন আদমপুরে গিয়ে বায়ুসেনার জওয়ানদের সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁদের সাহস ও ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। পরে ১৫ অগস্ট ২০২৫ অপারেশন সিঁদুরে সাহসিকতা ও দৃঢ়তার জন্য ভারতীয় বায়ুসেনার ২১৯ জন সদস্যকে প্রেসিডেন্টস গ্যালান্ট্রি অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট, অপারেশন সিঁদুর শুধু জঙ্গি ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের বিমানঘাঁটি, রানওয়ে, যুদ্ধবিমান, ড্রোন পরিকাঠামো এবং এয়ার ডিফেন্স কমান্ড—সমগ্র সামরিক নেটওয়ার্ককেই চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছিল ভারত।

  • West Bengal Dengue: জ্বর কমলেই সাবধান! ডেঙ্গির ‘বিপজ্জনক সময়’ কখন, কী কী লক্ষণে সতর্ক হবেন? জানুন

    West Bengal Dengue: জ্বর কমলেই সাবধান! ডেঙ্গির ‘বিপজ্জনক সময়’ কখন, কী কী লক্ষণে সতর্ক হবেন? জানুন

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    অগাস্ট মাসেই বিপদের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিলো। সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। এলাকার অবস্থা বিশ্লেষণ করে, রোগ মোকাবিলা করতে না পারলে, বিপদ আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজ্য জুড়ে ডেঙ্গির দাপট অব্যাহত। বিশেষত কয়েকটি জেলায় ডেঙ্গি সংক্রমণের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তাই স্বাস্থ্য দফতরের তরফে বাড়তি সক্রিয়তা নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত বুলেটিন প্রকাশ করে রাজ্যের ডেঙ্গি পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যবাসীকে ডেঙ্গি মোকাবিলায় প্রস্তুত করাও হচ্ছে।

    কোথায় বাড়তি বিপদ?

    স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে সেপ্টেম্বরের প্রথম ১২ দিনে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। যা যথেষ্ট উদ্বেগের বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্য কর্তারা।
    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ, কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং নদিয়া জেলায় ডেঙ্গি পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। পাশপাশি মালদা, হাওড়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং হুগলি জেলাতেও ডেঙ্গি ক্রমশ বাড়ছে।
    স্বাস্থ্য কর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গি আক্রান্ত জেলা হল মুর্শিদাবাদ। এই জেলায় গত বারো দিনে এক হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। মুর্শিদাবাদের পরেই ডেঙ্গিপ্রবণ এলাকা হিসাবে রাজ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতা। কলকাতায় সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ৬০০ মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর চব্বিশ পরগনা। এই জেলায় চলতি মাসে প্রায় ৫৫০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপরেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নদিয়া। এই জেলাতেও ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সেপ্টেম্বর মাসে নদিয়া জেলায় ৪৫০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন।
    বিপদ বাড়ছে মালদা, হাওড়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং হুগলি জেলাতেও। স্বাস্থ্য ভবনের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়েই এই চার জেলাতেও আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। যার জেরে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য প্রশাসন।

    পরিস্থিতি কখন বাড়তি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে?

    ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে রাজ্য জুড়ে বিপদ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি প্রতিরোধ ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।
    তাঁরা জানাচ্ছেন, জ্বর কমার পরেই ডেঙ্গি বাড়তি বিপদ তৈরি করে। ডেঙ্গি শক সিন্ড্রোম সবচেয়ে বেশি গুরুতর হয়ে যায় ডেঙ্গি আক্রান্তের শরীরের তাপ স্বাভাবিক হওয়ার পরে। তাই ডেঙ্গি নিয়ে বাড়তি নজরদারি না রাখলেই, মৃত্যুর আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, যে সব এলাকায় ডেঙ্গি সংক্রমণ বেশি হচ্ছে, সেখানে জনসচেতনতা আরও বেশি জরুরি। মশাবাহিত রোগ রুখতে সমস্ত রকমের প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আশপাশ পরিষ্কার রাখা যেমন জরুরি, তেমনি সামান্য জ্বর হলেও দ্রুত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতো রক্ত পরীক্ষা করিয়ে, রোগ নির্ণয় প্রয়োজন।
    দ্বিতীয় বার ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে তাঁর বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রথমের তুলনায় দ্বিতীয় বার আক্রান্ত হলে ডেঙ্গি বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তাই যাদের একবার ডেঙ্গি সংক্রমণ হয়েছে, এই মরশুমে, তাদের বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন জরুরি। সংক্রমণ হলে, জ্বর কমলে তারপরে পেটে ব্যথা করছে কিনা, মল-মূত্র ত্যাগ স্বাভাবিক হচ্ছে কিনা, বমি পাচ্ছে কিনা, এই দিনগুলোতে নজর দেওয়া জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি একাধিক অঙ্গের ক্ষতি করে। এই উপসর্গগুলো জানান দেয়, শরীরে ডেঙ্গি কতখানি প্রভাব ফেলেছে। আগাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে, প্রাণ সংশয়ও তৈরি হতে পারে।

    কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলাবেন?

    চিকিৎসকদের পরামর্শ, ডেঙ্গি পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রথমেই সচেতনতা জরুরি। মশার বংশবিস্তার আটকাতে পারলে, তবেই ডেঙ্গির প্রকোপ কমবে। তাই জমা জল পরিষ্কার করতেই হবে। চৌবাচ্চায় জল জমিয়ে রাখা যাবে না। বাড়ির ছাদ এবং বাগানে আবর্জনা রাখা চলবে না। টবে জল জমেছে কিনা সেটা দেখতে হবে। নিয়মিত বাড়ির আশপাশের এলাকা পরিষ্কারে নজর দিতে হবে। এর পাশপাশি এলাকায় ডেঙ্গি সংক্রমণ বাড়লে, প্রশাসনকে সবরকম সাহায্য করতে হবে। তথ্য জানাতে হবে। যাতে প্রশাসনের কাজে সুবিধা হয়।
    তবে একাধিকবার ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। যাতে পরিস্থিতি কখনওই বিপজ্জনক হয়ে না‌ ওঠে। সেদিকে নজর দিতে হবে। শিশুদের জন্য বাড়তি সচেতনতা জরুরি। কারণ স্কুল থেকে অধিকাংশ সময়ে শিশুরা ডেঙ্গি আক্রান্ত হচ্ছে। তাই স্কুল কর্তৃপক্ষকেও ডেঙ্গি নিয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।

  • Mohsin Naqvi: এশিয়া কাপ জিতেও ট্রফি নিল না ভারতীয় মহিলা দল! কেন এমন সিদ্ধান্ত, মুখ খুলল বিসিসিআই

    Mohsin Naqvi: এশিয়া কাপ জিতেও ট্রফি নিল না ভারতীয় মহিলা দল! কেন এমন সিদ্ধান্ত, মুখ খুলল বিসিসিআই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে রেকর্ড অষ্টমবার মহিলা এশিয়া কাপ জিতেছে ভারত। কিন্তু দুবাইয়ে ট্রফি হাতে নিয়ে উদযাপনের বদলে তৈরি হল অন্য ছবি। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (ACC)-এর সভাপতি তথা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) প্রধান মোহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নেননি হরমনপ্রীত কৌরের দল। এবার সেই সিদ্ধান্তের কারণ স্পষ্ট করল বিসিসিআই।

    বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছেন, পুরুষদের এশিয়া কাপের ট্রফি নিয়ে তৈরি হওয়া অমীমাংসিত পরিস্থিতির সঙ্গে মহিলা দলের সিদ্ধান্তের সরাসরি যোগ রয়েছে। ২০২৫ সালে এশিয়া কাপ জিতেও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে সেই ট্রফি হাতে পায়নি ভারতীয় পুরুষ দল। সেই অবস্থানে কোনও পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত মহিলা দলও একই অবস্থান বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

    সাইকিয়ার বক্তব্য, ২০২৫ সালের এপ্রিলের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। সরকারি নীতির কারণে বহুদেশীয় প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেললেও, তার অর্থ এই নয় যে প্রতিপক্ষের সমস্ত শর্ত মেনে নিতে হবে। তাঁর কথায়, দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করা কোনও ব্যক্তির কাছ থেকে ভারত ট্রফি গ্রহণ করতে পারে না। মহিলা দলও পুরুষ দলের গত বছরের অবস্থানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    নাকভির বদলে অন্য কাউকে চেয়েছিল বিসিসিআই

    বিসিসিআই অবশ্য সরাসরি ট্রফি বিতর্কে যেতে চায়নি। পরিস্থিতি এড়াতে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান খালিদ আল জারুনিকে দিয়ে ট্রফি তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সাইকিয়া। কিন্তু সেই প্রস্তাব কার্যকর হয়নি।

    এরপর মূল মঞ্চের পরিবর্তে আলাদা জায়গায় ভারতীয় দলের পদক বিতরণ হয়। সেখানে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া এবং সহ-সভাপতি রাজীব শুক্ল উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, মোহসিন নাকভি শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্থুকে রানার্স-আপের চেক দেওয়ার পর মঞ্চ ছেড়ে চলে যান।

    ট্রফির থেকেও বড় ছিল ভারতের অবস্থান?

    ঘটনাটি নিছক একটি ট্রফি গ্রহণ না করার বিষয় নয়। বিসিসিআইয়ের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, পুরুষ ও মহিলা—দুই দলের ক্ষেত্রেই একই অবস্থান বজায় রেখে ভারত একটি কূটনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছে। একই সঙ্গে সাইকিয়া জোর দিয়ে বলেছেন, এর সঙ্গে ভারতীয় মহিলা দলের ঐতিহাসিক সাফল্যের কোনও সম্পর্ক নেই।

    ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে ভারত অপরাজিতভাবেই শিরোপা জিতেছে। ফলে ট্রফি বিতর্কের আড়ালে দলের পারফরম্যান্স যেন ঢাকা না পড়ে, সেটিও স্পষ্ট করেছেন বিসিসিআই সচিব। তাঁর দাবি, মহিলা ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং ভারতের আধিপত্যের সবচেয়ে বড় প্রমাণ এই এশিয়া কাপ জয়।

    সাইকিয়ার কথায়, “এটা আমাদের দলের পারফরম্যান্সকে কোনওভাবেই ছোট করে না।” একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, পুরুষদের এশিয়া কাপের ট্রফিও ভারত পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দুই ট্রফিই শেষ পর্যন্ত ভারতের হাতে ফিরবে—এমন আশাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

    অর্থাৎ, মহিলা এশিয়া কাপের ট্রফি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিক আবেগের নয়; বরং গত বছর থেকে চলে আসা বিসিসিআইয়ের অবস্থানের ধারাবাহিকতা এবং পুরুষ দলের সঙ্গে সংহতির প্রকাশ।

  • Ganesh Chaturthi 2026: আজ গণেশ চতুর্থী! সঙ্কটমোচকের পুজোয় এই নিয়মগুলি মানুন, দূর্বা নিবেদনের বিশেষ বিধি জানুন

    Ganesh Chaturthi 2026: আজ গণেশ চতুর্থী! সঙ্কটমোচকের পুজোয় এই নিয়মগুলি মানুন, দূর্বা নিবেদনের বিশেষ বিধি জানুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিদ্ধিদাতা গণেশকে বলা হয় সঙ্কটমোচক। জীবনের নানা বাধা-বিঘ্ন দূর করে সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তির পথ প্রশস্ত করেন গণপতি বাপ্পা—এমনই বিশ্বাস ভক্তদের। আজ, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর গণেশ চতুর্থী (Ganesh Chaturthi 2026)। ভাদ্রপদ মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে দেশজুড়ে সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে গণেশ উৎসব। বাড়ি থেকে শুরু করে মণ্ডপ—সর্বত্রই আজ গণপতির আরাধনায় মেতে উঠেছেন ভক্তরা।

    হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে গণেশ চতুর্থীর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এদিন নিষ্ঠাভরে গণপতির পুজো করলে জীবনের বাধা-বিপত্তি দূর হয়, মানসিক শান্তি আসে এবং সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়। অনেকেই সিদ্ধিদাতা গণেশের কাছে নিজেদের কষ্ট ও সমস্যার কথা জানিয়ে তাঁর আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।

    ২০২৬ গণেশ পুজোর তিথি

    ২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী পালিত হচ্ছে ১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার। পঞ্জিকা অনুযায়ী, চতুর্থী তিথি শুরু হয়েছে ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৬ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে। কলকাতায় গণেশ পুজোর মধ্যাহ্নকালীন শুভ সময় সকাল ১০টা ১৮ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিট। গণেশ চতুর্থী থেকেই শুরু হয় গণেশোৎসব। সাধারণভাবে এই উৎসব চলে ১০ দিন ধরে এবং অনন্ত চতুর্দশীর দিন গণেশ বিসর্জনের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি হয়। ২০২৬ সালে অনন্ত চতুর্দশী ও গণেশ বিসর্জন হবে ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার। অবশ্য বিভিন্ন পরিবার ও পুজো কমিটির রীতি অনুযায়ী একদিন, তিনদিন, পাঁচদিন বা সাতদিন পরেও গণেশ বিসর্জন করা হয়। এই কয়েক দিন ভক্তরা পুজো, উপবাস, প্রার্থনা, আরতি, ভজন, সঙ্গীত ও নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গণপতির আরাধনা করেন।

    গণেশ উৎসবের সঙ্গে জাতীয়তাবোধের যোগ

    ভারতের সামাজিক ও জাতীয়তাবাদী ইতিহাসের সঙ্গেও গণেশ উৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ রয়েছে। মহারাষ্ট্রে লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক ঔপনিবেশিক ভারতে গণেশ উৎসবকে বৃহত্তর জনসমাবেশ ও সামাজিক ঐক্যের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন। ব্যক্তিগত পরিসরের পুজোকে তিনি সর্বজনীন উৎসবের রূপ দেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সামাজিক ও জাতীয় চেতনা জাগরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র তৈরি হয়। মহারাষ্ট্রের গণেশোৎসবের ঐতিহাসিক ধারায় ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের সময়ের গণেশ আরাধনার কথাও বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সূত্রে উল্লেখ করা হয়। তবে সর্বজনীন গণেশোৎসবকে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে তিলকের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    গণেশ চতুর্থীর তাৎপর্য কী?

    পুরাণকথা অনুযায়ী, ভাদ্রপদ মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতেই দেবী পার্বতীর পুত্র গণেশের আবির্ভাব। দেবতাদের মধ্যে গণেশকে প্রথম পূজিত হওয়ার বর দেওয়া হয়েছিল বলে বিশ্বাস। সেই কারণেই কোনও শুভ কাজ, পুজো বা ধর্মীয় আচার শুরু করার আগে প্রথমে গণেশের পুজো করার রীতি রয়েছে।

    গণেশকে জ্ঞান, বুদ্ধি, সিদ্ধি, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের দেবতা হিসেবে মানা হয়। তাই গণেশ চতুর্থী শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, ভক্তদের কাছে নতুন কাজের সূচনা, বাধা কাটানো এবং শুভ শক্তির আহ্বানের দিনও।গণেশ চতুর্থী বিনায়ক চতুর্থী নামেও পরিচিত। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, চতুর্থী থেকে অনন্ত চতুর্দশী পর্যন্ত গণপতির আরাধনা করা হয়। বাড়ি ও প্যান্ডেলে গণেশের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে চলে বিশেষ পুজো ও নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান।

    গণেশ চতুর্থীর পুজো-বিধি

    গণেশ চতুর্থীর দিন সকালে স্নান সেরে পরিষ্কার পোশাক পরে বাড়ির মন্দিরে প্রদীপ জ্বালিয়ে পুজো ও ব্রতের সঙ্কল্প নেওয়া হয়। শুভ সময়ে গণেশের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর গণেশের মূর্তিতে জল বা গঙ্গাজল দিয়ে অভিষেক করে ফুল, দূর্বা, সিঁদুর ও অন্যান্য পুজোর সামগ্রী নিবেদন করা হয়। গণেশের অত্যন্ত প্রিয় বলে মনে করা হয় দূর্বা ঘাসকে। পুজোয় মোদক বা লাড্ডুও নিবেদন করা হয়। শেষে গণেশের আরতি করে প্রণাম ও প্রার্থনা করা হয় এবং প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

    গণেশ পুজোয় দূর্বা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

    শাস্ত্রীয় ও লোকাচারগত বিশ্বাস অনুযায়ী, দূর্বা ছাড়া গণেশের পুজো অসম্পূর্ণ বলে মনে করা হয়। সিদ্ধিদাতাকে দূর্বা নিবেদন করলে তিনি দ্রুত প্রসন্ন হন এবং ভক্তের বাধা-বিপত্তি দূর করেন—এমন বিশ্বাস প্রচলিত। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, দূর্বা সাধারণত জোড়ায় জোড়ায় নিবেদন করা হয়। দুটি দূর্বা একসঙ্গে নিয়ে একটি গাঁট তৈরি করে গণপতিকে অর্পণ করা হয়। ২২টি দূর্বা দিয়ে ১১ জোড়া তৈরি করে নিবেদন করার রীতিও রয়েছে। তা সম্ভব না হলে ৩ বা ৫ গাঁট দূর্বাও নিবেদন করা যায় বলে প্রচলিত বিশ্বাস।

    গণেশ পুজোয় তুলসী পাতা দেওয়া হয় না কেন?

    গণেশ পুজোর অন্যতম প্রচলিত নিয়ম হল তুলসী পাতা ব্যবহার না করা। পুরাণকথার সঙ্গে যুক্ত একটি প্রচলিত কাহিনির কারণে গণেশকে তুলসী নিবেদন না করার রীতি রয়েছে। অন্যদিকে দূর্বা, ফুল, সিঁদুর এবং মোদক গণপতির পুজোয় বিশেষ গুরুত্ব পায়। পুজোর সময় সাদা বা হলুদ পোশাক পরার রীতিও অনেক জায়গায় প্রচলিত। কালো পোশাক এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    গণেশ চতুর্থীতে চাঁদ দেখা নিষেধ কেন?

    গণেশ চতুর্থীর সঙ্গে চাঁদ না দেখার একটি প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস জড়িয়ে রয়েছে। পুরাণকথা অনুযায়ী, চন্দ্রদেব গণেশের রূপ নিয়ে উপহাস করেছিলেন। সেই ঘটনার পর গণেশের অভিশাপের সঙ্গে চাঁদ দেখার বিষয়টি যুক্ত হয়েছে বলে লোকবিশ্বাস। এই কারণেই গণেশ চতুর্থীর দিন বিশেষ করে সন্ধ্যার সময়ে চাঁদ না দেখার রীতি রয়েছে। ২০২৬ সালে কলকাতার ক্ষেত্রে সকাল ১০টা ১৮ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৩৩ মিনিট পর্যন্ত চাঁদ দেখা এড়িয়ে চলার সময় হিসেবে পঞ্জিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    গণেশ চতুর্থীর ব্রত কীভাবে করবেন?

    গণেশ চতুর্থীর দিন সকালে স্নান করে শুদ্ধ মনে ব্রতের সঙ্কল্প নেওয়া হয়। গণেশের মূর্তিতে সিঁদুর অর্পণ করে লাড্ডু বা মোদক নিবেদন করার রীতি রয়েছে। প্রচলিত একটি রীতিতে ২১টি লাড্ডু নিবেদনের কথা বলা হয়। এর মধ্যে কয়েকটি গণেশের সামনে রেখে বাকি লাড্ডু ব্রাহ্মণ বা ভক্তদের মধ্যে দান করার কথাও বলা হয়েছে।

    যাঁরা গণেশ চতুর্থীর উপবাস রাখেন, তাঁরা সারাদিন ভক্তিভরে গণেশের নাম স্মরণ করেন, পুজো করেন এবং গণেশ চতুর্থীর ব্রতকথা শোনেন। প্রচলিত বিশ্বাস, নিষ্ঠাভরে ব্রত ও পুজো করলে গণপতি বাপ্পার কৃপায় সংসারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে এবং জীবনের বাধা-বিপত্তি দূর হয়।

    তবে ব্রত বা পুজোর নিয়ম অঞ্চল, পরিবার ও সম্প্রদায়ের রীতি অনুযায়ী কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট কোনও আচার পালনের ক্ষেত্রে স্থানীয় পুরোহিত বা প্রচলিত পারিবারিক বিধি অনুসরণ করাই শ্রেয়। গণপতি বাপ্পা মোরিয়া! গণেশ চতুর্থীর পুণ্যতিথিতে সিদ্ধিদাতার আশীর্বাদে সকলের জীবন সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গলময় হয়ে উঠুক—এই প্রার্থনাই রইল।

  • Varanasi: বারাণসীতে নিকাশি নালা বন্ধের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, বস্তাভর্তি বালি উদ্ধার

    Varanasi: বারাণসীতে নিকাশি নালা বন্ধের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, বস্তাভর্তি বালি উদ্ধার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারাণসীতে ইচ্ছাকৃতভাবে নিকাশি নালার পথ বন্ধ করে নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত করার অভিযোগ উঠেছে। পুরসভার (Varanasi) সাফাই অভিযানের সময় শহরের একাধিক এলাকার মূল নিকাশি নালার ভিতর থেকে বালিভর্তি বস্তা, পাথর, কাঠের গুঁড়ো, প্লাইউড এবং প্লাস্টিকের বর্জ্য উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুরসভার আধিকারিকদের অনুমান, পরিকল্পিতভাবেই নালাগুলি (Waterlogging Investigation) আটকে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

    শিবালা, সরায়নন্দন এবং নাগওয়া-সহ প্রায় ছ’টি ওয়ার্ডে নিকাশি নালা পরিষ্কারের সময় এই ধরনের প্রতিবন্ধকতা নজরে আসে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরের নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত করা এবং জল জমিয়ে দেওয়ার সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন বারাণসী পুরসভা কর্তৃপক্ষ। পুলিশও ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।

    উদ্ধার ১২ বস্তা বালি (Varanasi)

    শুক্রবার রাতে, ১১ সেপ্টেম্বর, শিবালা ওয়ার্ডের ৭৫ নম্বর এলাকায় আগরওয়াল রেডিও এবং রত্নাকর পার্কের কাছে নিকাশি নালা পরিষ্কারের সময় প্রায় ১২ বস্তা বালি উদ্ধার করেন পুরসভার কর্মীরা। বস্তাগুলি মূল নিকাশি নালার ভিতরে রাখা ছিল।

    বারাণসীর মেয়র অশোক তিওয়ারি বলেন, নালার ভিতরে যেভাবে বস্তাগুলি রাখা হয়েছিল, তাতে মনে হচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবেই নালাটি বন্ধ করা হয়েছিল। তাঁর কথায়, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এটি একটি বড় ষড়যন্ত্রের অংশ। মূল নিকাশি নালা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নোংরা জল সংযোগকারী গলিগুলিতে উপচে পড়ে। এর ফলে জনজীবন ব্যাহত হয় এবং বিভিন্ন এলাকায় জল জমে যায়।”

    পুরসভার অভিযোগ অনুযায়ী, নিকাশি ব্যবস্থা ব্যাহত করার পাশাপাশি জলকল দফতর এবং শহর প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যও থাকতে পারে এই ঘটনার পিছনে।

    ষড়যন্ত্রের দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ

    বারাণসী পুরসভার জলকল দফতরের পক্ষ থেকে ভেলুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩২৬(গ) ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এই ধারাটি জলমগ্নতা ঘটিয়ে (Varanasi) ক্ষতিসাধনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

    ভেলুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক দুর্গা সিং বলেন, “এই ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩২৬(গ) ধারায় জলমগ্নতা ঘটিয়ে ক্ষতিসাধনের অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।”

    দোষীদের চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন পুলিশ ও পুরসভার আধিকারিকরা। আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, অন্য কয়েকটি ওয়ার্ডের নিকাশি নালার ভিতর থেকেও বালি, পাথর, প্লাইউড, কাঠের গুঁড়ো এবং প্লাস্টিকের বর্জ্য উদ্ধার হয়েছে।

    কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি পুর কমিশনারের

    বারাণসীর পুর কমিশনার হিমাংশু নাগপাল এই ঘটনার পিছনে সমাজবিরোধীদের হাত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। নিকাশি নালাগুলি কীভাবে এবং কারা বন্ধ করল, তা চিহ্নিত করতে পুরসভার পক্ষ থেকে তদন্ত চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।

    নিকাশি নালা পরিষ্কার করা এবং নিচু এলাকাগুলিতে জমে থাকা জল সরানোর কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মেয়র অশোক তিওয়ারি ও পুর কমিশনার হিমাংশু নাগপাল। পুরসভা এবং জলকল দফতরের কর্মীরা নিকাশি ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    পুর কমিশনার বাসিন্দাদের উদ্দেশে বলেন, কাউকে নিকাশি নালা কিংবা সরকারি সম্পত্তিতে ইচ্ছাকৃতভাবে হস্তক্ষেপ বা ক্ষতিসাধন করতে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে পুরনিসভাকে জানাতে হবে (Waterlogging Investigation)। এই ঘটনায় জড়িত কাউকে শনাক্ত করা গেলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও (Varanasi) হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

     

  • BRICS: “ব্রিকসের কাছে বিশ্বের প্রত্যাশা এখন সুনির্দিষ্ট ফলাফলে পৌঁছনোর”, বললেন মোদি

    BRICS: “ব্রিকসের কাছে বিশ্বের প্রত্যাশা এখন সুনির্দিষ্ট ফলাফলে পৌঁছনোর”, বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃতীয় দশকে প্রবেশ করতে চলেছে ব্রিকস (BRICS)। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের প্রত্যাশা এখন শুধু ভাবনা ও প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ না থেকে সুনির্দিষ্ট ফলাফলে পৌঁছনোর। রবিবার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের উন্মুক্ত অধিবেশনে এমনই মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। একই সঙ্গে ২০২৭ সালে পরবর্তী শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক দেশ চিনকে শুভেচ্ছা জানান তিনি।

    ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ব্রিকস তৃতীয় দশকে প্রবেশ করতে চলেছে। এখন বিশ্ব আমাদের কাছ থেকে শুধু ভাবনা ও প্রতিশ্রুতি নয়, সুনির্দিষ্ট ফলাফল প্রত্যাশা করে। আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা অবশ্যই এই প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হব।”

    চিনকে শুভেচ্ছা মোদির (BRICS)

    ২০২৭ সালে ব্রিকসের পরবর্তী আয়োজক দেশ হিসেবে চিনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মোদি নয়াদিল্লি সম্মেলন সফল করার জন্য সদস্য দেশগুলির নেতৃবৃন্দ এবং তাঁদের দলগুলির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “পরবর্তী আয়োজক দেশ হিসেবে চিনকে আবারও আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। নয়াদিল্লি সম্মেলনকে সফল করে তোলার জন্য আপনাদের প্রত্যেককে এবং আপনাদের দলগুলিকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাই। আপনাদের সকলের নিরাপদ ও আনন্দময় যাত্রা কামনা করি।”

    এর আগে রবিবার সকালে ভারত মণ্ডপমে ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির নেতৃবৃন্দ, আমন্ত্রিত দেশগুলির প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “ভারত মণ্ডপমে আরও একটি ফলপ্রসূ সকাল। ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির নেতৃবৃন্দ, আমন্ত্রিত দেশগুলির প্রতিনিধিদের এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির প্রধানদের স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত।”

    রবিবার ব্রিকস নেতাদের বৈঠকে “স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্ব: অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ভবিষ্যৎ নির্মাণ” শীর্ষক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় (BRICS)।

    অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্রিকসের প্রতি গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির আস্থা বেড়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মধ্যে সহযোগিতা এবং পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত ব্রিকসের মঞ্চের মাধ্যমে বন্ধুত্ব, অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার চেতনাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে।”

    সবাই ব্রিকসের সহযোগিতার অংশীদার হয়ে উঠুন

    তিনি বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছি, যাতে ব্রিকসের সহযোগিতা শুধু সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। আমরা চাই আমাদের উদ্যোগপতি, কৃষক, গবেষক, মহিলা, যুবসমাজ এবং সাধারণ নাগরিকরাও এর সক্রিয় অংশীদার হয়ে উঠুন।”

    গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির মধ্যে ব্রিকসের প্রতি আস্থা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যে ব্রিকসের প্রতি আস্থা বেড়েছে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির। কারণ এখানে তাদের কণ্ঠস্বর শোনা হয়, তাদের অভিজ্ঞতাকে সম্মান করা হয় এবং সমাধান শুধু তাদের জন্য তৈরি করা হয় না, তাদের সঙ্গে নিয়েই তৈরি করা হয়।”

    ব্রিকসের শক্তি তার বৈচিত্র্য ও সহযোগিতার মধ্যে নিহিত বলেও মন্তব্য করেন মোদি। তাঁর কথায়, “আমরা হয়তো ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত, কিন্তু সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যাই এবং মানবতার কল্যাণে বিকশিত হই। আমাদের বৈচিত্র্য যেন আমাদের পরিচয় হয়ে থাকে, আমাদের সহযোগিতা যেন আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায় এবং আমাদের অগ্রগতি যেন সমগ্র মানবজাতির উপকারে আসে।”

    এদিকে, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও ব্রিকসকে গ্লোবাল সাউথের স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ব্রিকস দেশগুলিকে “ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ” করার আহ্বান জানান।

    জিনপিং বলেন, ব্রিকসের উচিত আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি “সক্রিয়, স্থিতিশীল ও ইতিবাচক শক্তি” হয়ে ওঠা। চিনের বিদেশমন্ত্রকের প্রকাশিত সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই দুই দিনের সম্মেলনে স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গ্লোবাল সাউথের অগ্রাধিকার, বহুপাক্ষিকতা, টেকসই উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিকে ব্রিকসের আলোচনার কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

    ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দু’দিনের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর রবিবার নয়াদিল্লি ছেড়ে চিনে ফিরে যান জিনপিং। ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে অংশ নেন তিনি।

    সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) ও জিনপিং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন। দুই প্রতিবেশী দেশের (BRICS) মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • Muslim Group: ৯/১১-র ২৫ তম বার্ষিকীতে উত্তপ্ত নিউ ইয়র্ক, সিটি হলের সামনে ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি-পাল্টা বিক্ষোভ

    Muslim Group: ৯/১১-র ২৫ তম বার্ষিকীতে উত্তপ্ত নিউ ইয়র্ক, সিটি হলের সামনে ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি-পাল্টা বিক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০১-এর ভয়াবহ জঙ্গি হামলার (9/11 Anniversary) ২৫ বছর পূর্তিতে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে স্মরণসভা চলছিল, ঠিক তখনই উত্তপ্ত হয়ে উঠল নিউ ইয়র্ক সিটি হলের বাইরের এলাকা (Muslim Group)। প্রায় তিন হাজার মানুষের প্রাণহানির স্মৃতিতে আয়োজিত এই শোকের আবহেই সিটি হলের বাইরে জড়ো হন একদল মুসলিম বিক্ষোভকারী। তাঁরা বারবার “আল্লাহু আকবর” (যার অর্থ “ঈশ্বর মহান”) ধ্বনি দিতে থাকেন। অন্যদিকে, তাঁদের মুখোমুখি হয়ে একদল আন্দোলনকারী “সব মুসলিমকে বিতাড়িত করো” লেখা ব্যানার নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। জোড়া প্রতিবাদের জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শোকের অনুষ্ঠান।

    প্রকাশ্য রাজনৈতিক সংঘাত (Muslim Group)

    এই উত্তেজনার নেপথ্যে রয়েছে নিউ ইয়র্কের বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি এবং প্রাক্তন মেয়র রুডি জুলিয়ানির মধ্যের প্রকাশ্য রাজনৈতিক সংঘাত। এদিন ন্যাশনাল ৯/১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়ামের সামনে দু’জনকে হ্যান্ডশেক করতে দেখা গেলেও, ক্ষোভ চেপে রাখেননি জুলিয়ানি। নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র মামদানির এই মেমোরিয়ালে উপস্থিতি তাঁকে “অপারগ ও অপমানিত” করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানের কিছুদিন আগেই মামদানি ৯/১১ সম্পর্কিত ১৭০,০০০ পাতার গোপন নথি প্রকাশ করেন এবং অভিযোগ তোলেন যে, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংসের পরে তৎকালীন নেতারা বাতাস বিশুদ্ধ থাকার ভুয়া দাবি করে জনগণের কাছে “মিথ্যা” বলেছিলেন।

    ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদা জঙ্গিদের অপহৃত চারটি বিমানের তাণ্ডবে অন্তত ২,৯৭৭ জন নিহত হন। দুটি বিমান আছড়ে পড়ে নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে এবং একটি পেন্টাগনে। চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভ্যানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলে ভেঙে পড়ে (Muslim Group)।

    ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল সার্ভিসে যোগ দেননি ট্রাম্প

    এবারের ২৫তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল সার্ভিসে যোগ দেননি। সেখানে তাঁকে বক্তৃতা দিতে না দেওয়ায় তিনি অনুষ্ঠানে যোগ না দিয়ে পেন্টাগনে বক্তৃতা দেন। সব মিলিয়ে, এক ঐতিহাসিক শোকের দিনে সিটি হলের বাইরের এই বিভাজনমূলক স্লোগান ও বিক্ষোভ (9/11 Anniversary) গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেই যেন আবার একবার তুলে ধরল তামাম বিশ্বের কাছে (Muslim Group)।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ভারতের বাইরে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির উপর হামলা, হুমকি, ধর্মান্তরের চাপ, মন্দিরে ভাঙচুর, জমি দখল এবং বৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে একটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে (Hindus Under Attack)। ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের ঘটনাগুলিকে তুলে ধরে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন দেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে আক্রমণের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই (Roundup Week) করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদনটির দাবি, হিন্দুদের ওপর হিংসা ও বৈষম্যের মধ্যে খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি অবমাননা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং যৌন হিংসার মতো ঘটনাও রয়েছে।

    মুর্শিদাবাদে যুবক খুনের অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    মুর্শিদাবাদের সুজিত মণ্ডলকে খুন ও দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করার অভিযোগ উঠেছে জানি শেখ, সামাউল হক এবং তাজকিরা বিবির বিরুদ্ধে। পুলিশের অনুমান, ঘটনার নেপথ্যে অর্থনৈতিক বিবাদ থাকতে পারে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফরাক্কার বাসিন্দা সামাউল একটি পোশাকের দোকান চালান এবং এর আগে একটি বিড়ি কারখানায় গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন। সেই সময় থেকেই সুজিতের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। অভিযোগ, সুজিত সামাউলকে কয়েক হাজার টাকা ধার দিয়েছিলেন। টাকা ফেরত চাওয়ার পর দু’জনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

    জন্মাষ্টমীকে কেন্দ্র করে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগ

    স্বঘোষিত নারীবাদী চিন্ময়ী শ্রীপাদার বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্মীয় উৎসবকে অবমাননা করার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কয়েক দিন আগে বরলক্ষ্মী ব্রতের সময় তিনি হিন্দু মহিলাদের “পিতৃতন্ত্রের প্রহরী” বলে মন্তব্য করেছিলেন।

    এর পর জন্মাষ্টমীর সময় একটি ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিবেদনের দাবি, অভিযুক্তদের পরিচয় প্রকাশ না করে তিনি জানান, তারা মুসলিম হওয়ায় তাঁদের নাম প্রকাশ করা হবে না। এই বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    নেপালে বন্যাত্রাণে ধর্মভিত্তিক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    নেপালের বন্যাকবলিতদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাঁচ লাখ ডলারের ত্রাণ সহায়তা ঘোষণা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম দফার ত্রাণ ক্যাথলিক ত্রাণ পরিষেবা এবং তাদের স্থানীয় সহযোগী কারিতাস নেপালের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।

    এই ত্রাণ বণ্টনের মাধ্যমকে কেন্দ্র করে ভারতীয় উপমহাদেশে পুরনো বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। প্রশ্ন উঠেছে, ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলির মাধ্যমে দুর্যোগকবলিত এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছনোর ক্ষেত্রে সেই সাহায্য শুধুই মানবিক উদ্দেশ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি ধর্মপ্রচার ও ধর্মান্তরের ক্ষেত্রেও তা ব্যবহৃত হতে পারে।

    ঐতিহাসিক মন্দিরের জলাধার সংস্কারের দাবিতে দীর্ঘ লড়াই

    বছর তিয়াত্তরের ভক্ত বাসাই জয়রামনের কয়েক দশকের আন্দোলনের পর একটি ঐতিহাসিক মন্দিরের জলাধার সংস্কারের দাবিতে প্রশাসন পদক্ষেপ করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    জয়রামনের বক্তব্য, গত ৪৫ বছর ধরে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন বিধায়ক, মন্ত্রী এবং প্রশাসনিক আধিকারিকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, বহুবার আবেদন করেও এত দিন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি।

    সুক্র তীর্থম নামে পরিচিত ওই জলাধারটি এলাকার প্রায় ১,৪৫০ বছরের পুরনো একটি শিবমন্দিরের সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ওই জলাধারে স্নান করে দেবতার পুজো করলে মানসিক অসুস্থতা নিরাময় হয়।

    ধর্মান্তরের অভিযোগ

    উত্তরপ্রদেশের কুশীনগর জেলার বলুরওয়া গ্রামে একটি মাঠে ধর্মান্তরের চেষ্টা চালানোর অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা একটি খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ধর্মান্তরের সঙ্গে যুক্ত কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগ করেন।

    খবর পেয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দলের কর্মীরা সেখানে পৌঁছে পুলিশে খবর দেন। তাঁদের আসার পর কয়েকজন ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ভিঠা থানার পুলিশ সেখানে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক নরেশ কুমার জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে, তদন্ত চলছে।

    ধর্মান্তরের চাপে মৃত্যুর অভিযোগ

    অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া জেলায় নূকরাজু পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বছর আটত্রিশের সৌজন্যার নামে লেখা পাঁচ পাতার একটি আত্মহত্যার নোট প্রকাশ্যে আসার পর দীর্ঘদিনের ভয় দেখানো, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, তাঁর ছেলেকে হুমকি এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য চাপ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌজন্যা, তাঁর বাবা নূকরাজু, মা মীনা এবং নাতি রিয়ানশ রাজামহেন্দ্রবরমের সড়ক-রেল সেতু থেকে গোদাবরী নদীতে ঝাঁপ দেন বলে অভিযোগ।

    কর্নাটকে মহিলার মৃত্যু ঘিরে তদন্ত

    কর্নাটকের চিক্কবল্লাপুর জেলার চক্কাহল্লি গ্রামের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে চৈত্রা নামে এক মহিলার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় আট বছর ধরে স্বামীর থেকে আলাদা থাকছিলেন চৈত্রা এবং সন্তানদের নিয়ে ওই বাড়িতে বাস করতেন। তাঁর সঙ্গে সাব্বির নামে এক ব্যক্তির বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। নন্দী হিলস থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে (Hindus Under Attack)।

    মন্দিরের দানস্বরূপ ঘণ্টা বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন

    একটি মন্দিরের দানস্বরূপ পাওয়া ঘণ্টা আত্মসাৎ এবং বেআইনিভাবে পরিবহণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ঘটনায় মন্দিরের ৪০ লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হলেও, ফৌজদারি মামলার তদন্ত কার্যত থেমে গিয়েছে এবং বিভাগীয় তদন্তও অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে। নথিতে উল্লিখিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত আবু বকর নামে এক দরদাতার মাধ্যমে ঘণ্টাগুলি পরিবহণ ও বিক্রি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তবে পরবর্তী সময়ে তদন্ত থেকে আবু বকরের নাম বাদ পড়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ

    বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা নিয়ে প্রতিবেদনে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মন্দিরে ভাঙচুর, জমি দখল, ধর্মনিন্দার অভিযোগ তুলে গণহামলা, মহিলাদের ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মতো অভিযোগের উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারাকাতের একটি গবেষণার উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত নিপীড়নের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যেতে পারে। তবে এই পূর্বাভাস ও এর পদ্ধতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

    চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে সাময়িক মুক্তি

    বাংলাদেশের হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে তাঁর মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য চলতি সপ্তাহে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রায় দু’বছর কারাগারে থাকার পর প্যারোলে মুক্তি পান তিনি।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি আবেগঘন ভিডিওর উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধাম মন্দিরে রাধা-কৃষ্ণের মূর্তিতে প্রণাম করার সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে কাঁদতে দেখা যায়। পরে তাঁকে ফের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

    প্রতিবেদনটির দাবি, ঘটনাটি বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দুদের পরিস্থিতির একটি দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধের পিছনে ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    হিন্দু উৎসব নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ

    প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলিতে হিন্দুদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্বেষের পাশাপাশি নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে পরিচিত কিছু দেশেও হিন্দুদের বিরুদ্ধে অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম বৈষম্য দেখা যায়।

    এই ধরনের বৈষম্য আইন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং জনপরিসরের আচরণের মধ্যেও প্রকাশ পেতে পারে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারে ধীরে ধীরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    প্রতিবেদনটির বক্তব্য, উপরিতলে এই নিষেধাজ্ঞাকে পরিবেশ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে হতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে (Roundup Week) অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে অনুরূপ বিধিনিষেধ কতটা প্রয়োগ করা হয়, সেই তুলনামূলক ছবি বিবেচনা করলে উঠতে পারে বৈষম্যের প্রশ্ন।

     

  • Anthropic CEO: এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান অ্যানথ্রপিক কর্তার

    Anthropic CEO: এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান অ্যানথ্রপিক কর্তার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে (Anthropic CEO) নিরাপত্তাব্যবস্থা এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেনি। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নের গতি কিছুটা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন এআই সংস্থা অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও আমোদেই। তাঁর (AI Model Development) বক্তব্য, প্রযুক্তির অগ্রগতি থামানো নয়, বরং নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও প্রস্তুত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়াই এখন জরুরি।

    একটি ব্লগ পোস্টে আমোদেই জানান, মানুষের জীবনকে আমূল উন্নত করার সম্ভাবনায় বিশ্বাস করেন বলেই গত ১২ বছর ধরে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর মতে, এই প্রযুক্তি রোগ নিরাময়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি এবং মানুষের সুযোগের পরিসর সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    আমোদেইয়ের বক্তব্য (Anthropic CEO)

    এই বিশ্বাস তাঁর কাছে ব্যক্তিগতভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমোদেই জানান, তাঁর বাবা এমন একটি রোগে মারা গিয়েছিলেন, যার কয়েক বছর পরেই চিকিৎসা সম্ভব হয়েছিল। অন্যদিকে, তিনি নিজেও প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যানসার থেকে বেঁচে গিয়েছেন, যে রোগটি ৫০ বছর আগে হলে তাঁর চিকিৎসা করা সম্ভব হত না।

    তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনার পাশাপাশি এর ঝুঁকিও যে অত্যন্ত গুরুতর, তা স্পষ্ট করেছেন আমোদেই। এর মধ্যে রয়েছে এআই ব্যবস্থার ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা, সাইবার হামলা ও জৈব সন্ত্রাসে প্রযুক্তিটির অপব্যবহার এবং অর্থনীতিতে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা। তাঁর মতে, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা এই ঝুঁকিগুলিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

    আমোদেইয়ের এই সতর্কবার্তা এসেছে অ্যানথ্রপিকের প্রাক্তন গবেষক জ্যাকব কক্সনের একাধিক সতর্কবার্তার কয়েক দিন পর। কক্সন দাবি করেছেন, “এআই সমস্ত মানুষকে হত্যা করতে পারে।” তাঁর আরও বক্তব্য, “বর্তমানের সবচেয়ে উন্নত এআই তৈরি করা মানুষরা বিশ্বাস করেন, এই দশক শেষ হওয়ার আগেই এটি মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে।”

    অ্যানথ্রপিক শুরু থেকেই প্রযুক্তি তৈরি এবং তার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেছে বলে জানান আমোদেই। তবে সাম্প্রতিক কয়েক মাসে তাঁর নিজের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন এসেছে। তিনি লিখেছেন, “আমাদের এআই মডেলের সক্ষমতা উন্নত করার গতি কমাতেই হবে।” তাঁর মতে, গতি কমালেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি যথেষ্ট দ্রুতই থাকবে।

    এআইয়ের স্ব-উন্নয়ন নিয়ে উদ্বেগ

    আমোদেইয়ের সতর্কতার পেছনে দু’টি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমটি হল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নের গতি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া। বর্তমানে এআই ব্যবস্থাগুলিকে ব্যবহার করে পরবর্তী প্রজন্মের এআই মডেল তৈরির প্রবণতা বাড়ছে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় পুনরাবৃত্তিমূলক স্ব-উন্নয়ন।

    আমোদেইয়ের আশঙ্কা, এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এগোলে গবেষকরা এআই ব্যবস্থার কার্যপ্রণালী বোঝা এবং তার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার সক্ষমতার চেয়েও দ্রুত প্রযুক্তি এগিয়ে যেতে পারে।

    দ্বিতীয় উদ্বেগের বিষয়টি একটি সাম্প্রতিক ঘটনা, যেখানে অ্যানথ্রপিকের বক্তব্য অনুযায়ী, ওপেন এআই ও হাগিং ফেস-সংক্রান্ত একটি ঘটনায় একদল এআই এজেন্ট এমন কিছু লক্ষ্যের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল, যেগুলিতে হামলা করার নির্দেশ তাদের দেওয়া হয়নি। এমনকি নিজেদের কার্যক্ষমতা যাচাই করার জন্য ব্যবহৃত ব্যবস্থাতেও হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

    আমোদেই জানান, ওই ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও সীমিত ছিল। কিন্তু আরও সক্ষম এআই ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একই ধরনের ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে মাত্র ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে এমন একটি স্বয়ংক্রিয় এআই বাহিনী তৈরি হতে পারে, যা বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম হবে (Anthropic CEO)।

    তিনি বলেন, “এআইয়ের সক্ষমতা যে হারে দ্রুত বাড়ছে, তাতে আমার আশঙ্কা, আগামী ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে এমন একটি বাহিনী স্থায়ী সাইবার-জাল তৈরি করে গোটা ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। এর ফলে কয়েকশো বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে। আর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া এআই আরও শক্তিশালী হয়ে উঠলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়তে থাকবে।”

    উন্নয়ন থামানো নয়, নিরাপত্তাকে সময় দেওয়ার পরিকল্পনা

    এই ঝুঁকি মোকাবিলায় এআইয়ের উন্নয়নের গতি দায়িত্বশীলভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য তিন দফা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আমোদেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, উন্নয়নের গতি কমানো মানে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বন্ধ করে দেওয়া নয়। বরং নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য সংস্থাগুলিকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।

    তাঁর কথায়, “স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন, গতি নিয়ন্ত্রণের অর্থ মডেল প্রশিক্ষণ বা প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বন্ধ করে দেওয়া নয়। এর অর্থ হল, সংস্থাগুলি যেন তাদের মডেলগুলিকে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত করার জন্য পর্যাপ্ত সময় নেয় এবং তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়নকারীরা যাতে তা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা।”

    প্রথম ধাপে অ্যানথ্রপিক নিজেই বহিরাগত মূল্যায়নকারীদের সংস্থার কর্মীদের মতো নিয়মিত প্রবেশাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর ফলে তাঁরা স্বাধীনভাবে সংস্থার নিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা করতে পারবেন।

    দ্বিতীয় ধাপে গণতান্ত্রিক দেশগুলিতে কাজ করা এআই সংস্থাগুলিকে অভিন্ন নিরাপত্তামান তৈরির জন্য পারস্পরিক সমন্বয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে। শিল্প সংস্থাগুলির মাধ্যমে অথবা সরকারের সহায়তায় এই সমন্বয় করা যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতা-সংক্রান্ত আইনগত বাধা, যেমন একচেটিয়া ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের বিধিনিষেধ, কীভাবে সামলানো যায়, তাও বিবেচনায় রাখতে হবে।

    তৃতীয় ধাপে রয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বয়। এর আওতায় গণতান্ত্রিক দেশগুলির পাশাপাশি কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলির সঙ্গেও নিরাপত্তা নিয়ে সহযোগিতার কথা বলেছেন আমোদেই।

    সতর্কভাবে তৈরি হলেই এআইয়ের সুফল মিলবে

    সবশেষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা নিয়ে নিজের আশাবাদ পুনর্ব্যক্ত করেছেন আমোদেই। তাঁর মতে, সঠিকভাবে প্রযুক্তিটি তৈরি করা গেলে এটি মানুষের জীবনযাত্রার মান বিপুলভাবে উন্নত করতে পারে।

    তিনি বলেন, “আমি এখনও বিশ্বাস করি, এআই মানুষের জীবনযাত্রার মান বিপুলভাবে উন্নত করতে পারে। এই সুফল অর্জনের আকাঙ্ক্ষা আমার একটুও কমেনি। কিন্তু এই সুফল তখনই পাওয়া যাবে, যখন আমরা প্রযুক্তিটিকে সঠিকভাবে তৈরি করব। আর (AI Model Development) আমরা যে অতিরিক্ত সময় পাচ্ছি, সেটিকে যদি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি, তাহলে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রযুক্তিটিকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত (Anthropic CEO)।”

     

LinkedIn
Share