Blog

  • TMC Leader: গ্রেফতার প্রাক্তন মন্ত্রী তৃণমূলের উদয়ন গুহ, কোন মামলায় পুলিশের জালে উত্তরবঙ্গের ‘ক্রিমিনাল’?

    TMC Leader: গ্রেফতার প্রাক্তন মন্ত্রী তৃণমূলের উদয়ন গুহ, কোন মামলায় পুলিশের জালে উত্তরবঙ্গের ‘ক্রিমিনাল’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা (TMC Leader) উদয়ন গুহকে বুধবার কলকাতার ফুলবাগানের ফ্ল্যাট থেকে গ্রেফতার করল কোচবিহার জেলা পুলিশ। উদয়নকে (Udayan Guha) ধরে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় ফুলবাগান থানায়। সেখান থেকে কোচবিহারে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে পুলিশ।

    উদয়নের বিরুদ্ধে অভিযোগ (TMC Leader)

    পুলিশ সূত্রে খবর, উদয়নের বিরুদ্ধে নির্বাচনোত্তর হিংসা, তোলাবাজি, প্রতারণা এবং দুর্নীতির অভিযোগ-সহ একাধিক মামলা রয়েছে। বর্তমানে তাঁকে একটি তোলাবাজির মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালের শিশু বিভাগ নির্মাণের সময় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নাম করে অর্থ তোলার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। ১২ জুন দায়ের হয় অভিযোগ। তার পাঁচ দিনের মাথায়ই পুলিশের জালে ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রয়াত নেতা কমল গুহের ছেলে উদয়ন। কোচবিহার জেলা পুলিশের একটি সূত্রের খবর, অবাস যোজনায় মেলা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে উদয়নের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, আবাস যোজনায় বিপুল পরিমাণ টাকা কাটমানি পেয়েছেন তৃণমূলের এই নেতা। শুধু কাটমানি বাবদই তিনি কুড়ি কোটি টাকা তুলেছেন বলে অভিযোগ। এহ বাহ্য।

    তৃণমূলেরই বিক্ষুব্ধদের দাবি

    তৃণমূলের এই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ বিস্তর। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর কোচবিহারে সংঘটিত ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনায়ও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এ সংক্রান্ত তদন্তেও উঠে এসেছে উদয়নের নাম। রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় থাকার সময় একধিকবার বিরোধীদের নিশানা করে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন উদয়ন। তৃণমূলেরই বিক্ষুব্ধদের দাবি, উদয়ন এতটাই ক্ষমতাশালী যে উত্তরবঙ্গের কাজকর্ম তাঁকে না জানিয়ে করা যেত না। টাকা না দিলে কোনও কাজই হত না। ধরা পড়ার পর অবশ্য উদয়ন দাবি করেন, যে মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই মামলায় তাঁর আগাম জামিন রয়েছে। তাঁকে বেআইনিভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে উত্তরবঙ্গের এই ‘দাপুটে’ নেতা (এখন আর অবশ্য দাপট নেই) বলেন, “আমি জানিই না কেন আমায় গ্রেফতার করা হয়েছে।”

    উদয়নের ‘পালিয়ে’ আসার কারণ

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে দিনহাটা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীর কাছে হেরে যান উদয়ন। তার পর থেকেই তিনি ছিলেন কলকাতায়, তাঁর ফ্ল্যাটে। তারপর থেকে তাঁকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশের মতে, উদয়ন কোচবিহারে থাকলে সমস্যায় পড়তেন (TMC Leader)। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যেভাবে ‘কলঙ্কিত’ (অভিযোগ) তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়া হচ্ছে এবং ডিম ছুড়ে মারা হচ্ছে, সেই জনরোষের শিকার হতে পারতেন উদয়নও। তাই তৃণমূলের কোচবিহারের এই নেতা কলকাতায় ‘পালিয়ে’ এসেছিলেন বলে অসমর্থিত সূত্রের খবর (Udayan Guha)।

    ‘এক নম্বরের নটোরিয়াস ক্রিমিনাল’

    দিনহাটার বিধায়ক বিজেপির অজয় রায়ের দাবি, উদয়নের বিরুদ্ধে খুন, ভোট-পরবর্তী হিংসা, আবাস যোজনায় দুর্নীতি এবং অন্যান্য একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, “উনি (উদয়ন) অনেক দুর্নীতি করেছেন। উনি এক নম্বরের নটোরিয়াস ক্রিমিনাল। অনেক আগেই ওঁকে গ্রেফতার করা উচিত ছিল। ভেবেছিলেন বেঁচে যাবেন। কিন্তু আইন সবার জন্য এক, এটা পরিষ্কার।” উত্তরবঙ্গে এক সময় দাপিয়ে ফরওয়ার্ড ব্লক করতেন উদয়ন। কমল গুহের পর কোচবিহারে (TMC Leader) তিনিই ধরেছিলেন এই বাম দলের রাশ। ২০১১ সালে ফরওয়ার্ড ব্লকের টিকিটে জিতে বিধানসভায়ও গিয়েছিলেন কমল-পুত্র। ২০১৫ সালে ফরওয়ার্ড ব্লক ছেড়ে উদয়ন যোগ দেন তৃণমূলে। ২০১৬ সালে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে দিনহাটা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। পরে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় জায়গা পান উদয়ন। তাঁকে করা হয় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী। সেই উদয়নই গ্রেফতার হলেন বুধ-দুপুরে। এই (Udayan Guha) নিয়ে গত সরকারের চার মন্ত্রীর হাতে পড়ল (TMC Leader) ‘হাতকড়া’। উদয়নের পূর্বসূরিরা হলেন, সুজিত বসু, দিলীপ মণ্ডল এবং উজ্বল বিশ্বাস।

     

  • Modi-Meloni Meeting: ‘ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি আমরা’, জি-৭ সম্মেলনে ফের ‘মেলোডি’ মুহূর্ত

    Modi-Meloni Meeting: ‘ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি আমরা’, জি-৭ সম্মেলনে ফের ‘মেলোডি’ মুহূর্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আলাপচারিতা ও সৌজন্য বিনিময়ে ব্যস্ত জি৭ সম্মেলনে উপস্থিত রাষ্ট্রনেতারা। একে অপরের সঙ্গে চলছে করমর্দন। হালকা মেজাজে কথাবার্তা বলছেন। সেখানে ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। সেই জটলায় ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি হাজির হতেই মোদি এগিয়ে যান। সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক গ্রুপ ফটোর আগে দুই নেতাকে একে অপরের সঙ্গে উষ্ণ অভ্যর্থনা বিনিময় করতে দেখা যায়। সেই সময়েই ঘটে এক মজার মুহূর্ত, যা মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। মেলোনি হাসিমুখে মোদিকে বলেন, “আবার দেখা হয়ে ভালো লাগছে।” এরপর রসিকতার সুরে যোগ করেন, “আমরাই তো ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি!” প্রধানমন্ত্রী মোদিও হাসিমুখে সেই মন্তব্যের জবাব দেন।

    ফের ‘মেলোডি’

    গত কয়েক বছরে ‘মেলোডি’ (Melodi) শব্দটি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি জনপ্রিয় ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। ‘মোদি’ এবং ‘মেলোনি’— দুই নেতার পদবির সংমিশ্রণ থেকেই তৈরি হয়েছে এই নাম। মাসখানেক আগে ইটালি সফরে মেলোনির সঙ্গে মোদির ‘রসায়ন’ আলোচনায় ছিল। মেলোনিকে এক প্যাকেট মেলোডি চকোলেট উপহার দিয়েছিলেন মোদি। চকোলেট উপহার পেয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি হালকা মেজাজের ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী। সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছিল, পাশাপাশি দাঁড়িয়ে রয়েছেন মোদি এবং মেলোনি। একটি মেলোডি চকোলেটের প্যাকেট ধরে রেখেছেন দু’জনে। দু’জনেই হাসছেন।

    মোদি-মেলোনি সম্পর্ক, কূটনৈতিক গুরুত্ব

    মঙ্গলবার ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতারা। সম্মেলনের ফাঁকে তাঁরা একই মঞ্চে নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতা সেরে নেন। ‘গ্রুপ ফটো’ তোলেন। ছবি তোলার সময় যখন রাষ্ট্রনেতারা লাইন দিয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন তার ঠিক আগে মোদি-মেলোনি একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান। করমর্দন করেন দু’জনে। ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, তাঁরা দু’জনে কিছু কথা বলছেন। তবে কী কথা হয়েছে, তা খুব স্পষ্ট নয়। যুদ্ধ, অর্থনীতি, জলবায়ু সংকট— একের পর এক গুরুতর বিষয় নিয়ে আলোচনা আর কূটনৈতিক জটিল সমীকরণের হিসেবনিকেশের ফাঁকে এক টুকরো চেনা হাসি। বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলে ঠিক যেমন আগের আড্ডার রেশ থাকে, মেলোনিও সেই সুরে বলে ওঠেন, ‘আবার দেখা হয়ে গেল, খুব ভালো লাগছে।’ মোদি তোলেন ‘মেলোডি’ ভিডিওর ভাইরাল হওয়ার কথা। সুযোগ হাতছাড়া করেনননি ইটালির প্রধানমন্ত্রী। হাসতে হাসতে রসিকতার সুরে বলেন, ‘হ্যাঁ, ইনস্টাগ্রামে এখন আমরাই সবচেয়ে জনপ্রিয়।’ জি-৭ সম্মেলনের সাম্প্রতিক এই ঘটনা প্রমাণ করে, আন্তর্জাতিক কূটনীতির গম্ভীর পরিবেশের মাঝেও মোদি ও মেলোনির বন্ধুত্বপূর্ণ রসায়ন বিশ্বজুড়ে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, মোদি-মেলোনির সম্পর্ক নিছক ছবি বা ভিডিয়োয় সীমাবদ্ধ নয়। এই সম্পর্ক ইটালি এবং ভারতের চলমান বিদেশনীতির অংশ। ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ইটালি। উভয় দেশই ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে।

  • Suvendu Adhikari: প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরের আগে ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ অভিযান, বাগবাজার মায়ের ঘাটে সাফাই অভিযানে শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরের আগে ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ অভিযান, বাগবাজার মায়ের ঘাটে সাফাই অভিযানে শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বঙ্গে প্রথম বিজেপি-রাজ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম তিনি আসছেন। তাঁর এই সম্ভাব্য সফরের আগে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ কর্মসূচি। বুধবার কলকাতার বাগবাজারের মায়ের ঘাটে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ঘাট পরিষ্কার করার পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও দেওয়া (Swachhata Se Swagat Drive) হয় এই কর্মসূচির মাধ্যমে।

    স্বচ্ছতা অভিযান (Suvendu Adhikari)

    সূত্রের দাবি, ২০ জুন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে চলবে এই স্বচ্ছতা অভিযান। প্রধান উদ্দেশ্য পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং গঙ্গার ঘাট-সহ বিভিন্ন জনপরিসরকে জঞ্জালমুক্ত রাখা। বুধবারের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, পর্যটন দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী এবং কলকাতা পুরনিগমের প্রশাসক স্মিতা পান্ডে। কর্মসূচির শুরুতে বৃক্ষরোপণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে ঘাট পরিদর্শন করে নিজে হাতে ঝাঁটা নিয়ে নেমে পড়েন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত বিজেপির অন্যান্য নেতাও যোগ দেন স্বচ্ছতা অভিযানে।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

    পরে সাংবাদিকদের নয়া মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর বৃহত্তর প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা কোনও একদিনের বিষয় নয়, বরং এটি একটি সকলের নিয়মিত একটি অভ্যাস হওয়া উচিত। সমগ্র কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপরও জোর দেন রাজ্যের পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি পরিবেশের পরিচ্ছন্নতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গঙ্গা ও গঙ্গার ঘাটগুলিকে দূষণমুক্ত রাখতে আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান চলবে।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘পুরো কলকাতা, পুরো রাজ্যকে পরিষ্কার করতে হবে। উন্নয়নও হবে। তার সঙ্গে সঙ্গে স্বচ্ছতাও জরুরি।’’

    পুজো দিয়ে শুরু সাফাই অভিযান

    ‘নমামি গঙ্গে’ প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অতীতে এই প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে এগোয়নি। ভবিষ্যতে গঙ্গাকে আরও পরিষ্কার ও দূষণমুক্ত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানান তিনি (Suvendu Adhikari)।কয়েক দিন আগেই পাঁচ দিনের স্বচ্ছতা অভিযানের ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি মেনেই বুধবার বাগবাজার মায়ের ঘাট থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির সূচনা করা হয় (Swachhata Se Swagat Drive)। এদিন সাফাই অভিযান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী বাগবাজার ঘাটের পাশে থাকা মন্দিরে পুজো দেন, প্রার্থনা করেন মা গঙ্গার আশীর্বাদ। এরপরেই হাতে ঝাঁটা নিয়ে সহকর্মী এবং মন্ত্রীদের নিয়ে ঘাট পরিষ্কারের কাজে নেমে পড়েন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীকে স্বচ্ছতা উপহার

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “রাজ্যজুড়েই এই ধরনের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি চলছে। আমাদের সমাজ ও পরিবেশে স্বচ্ছতার অত্যন্ত প্রয়োজন রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কলকাতায় আসছেন। আমরা তাঁকে এই স্বচ্ছতা উপহার দিয়ে কলকাতায় স্বাগত জানাতে চাই।” তৃণমূল সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “বিগত সরকারের নেতিবাচক ভাবনার কারণে বাংলায় নমামি গঙ্গা প্রকল্পের কোনও কাজই হয়নি। আমরা আগামী দিনে গঙ্গাকে আরও নির্মল ও দূষণমুক্ত করব। সারা বছর ধরেই এই সাফাই অভিযান ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে জারি থাকবে।” রাজ্যে যে স্বচ্ছতা অভিযান শুরু হবে, তা আগেই জানিয়েছিল নবনির্বাচিত পদ্ম সরকার। সেই মতো এদিন শুরু হয় অভিযান। চলবে পাঁচ দিন ধরে। গঙ্গা পরিষ্কারের পাশাপাশি পরিষ্কার করা হবে কলকাতার প্রতিটি গঙ্গার ঘাটও। কলকাতা পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পান্ডে জানিয়েছিলেন, ২১ জুন যোগ দিবসে রাজ্যে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে এক স্বচ্ছ কলকাতা উপহার দেওয়া হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর স্বচ্ছ ভারত অভিযান

    প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। সেই বছরই দেশের শহরগুলিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে তোলার পরিকল্পনা সামনে রেখে ২ অক্টোবর স্বচ্ছ ভারত অভিযান শুরু করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী (Swachhata Se Swagat Drive)। ঝাঁটা হাতে নিজেই নেমে পড়েছিলেন রাস্তায়। তখন দিল্লি ভোটের তোড়জোড় চলেছে। অরবিন্দ কেজরিওয়ালার দল আম আদমি পার্টির নির্বাচনী প্রতীক ঝাঁটা। বস্তুত, এই ঝাঁটা হাতে তুলে নিয়েই পথে নেমে পড়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। যদিও সেবার দিল্লির নির্বাচনে তার বিশেষ প্রভাব পড়েনি।

    প্রশংসা কুড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রীর অভিযান

    তবে প্রধানমন্ত্রীর এই সাফা্ই অভিযান দেশ তো বটেই, বিদেশেও ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে (Suvendu Adhikari)। এই অভিযানের ১০ বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়েছিলেন বিশ্বব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ। তিনি জানিয়েছিলেন, প্ৰধানমন্ত্ৰী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এই মিশন একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক ছুঁয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর-জেনারেল ডঃ টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসাসও স্বচ্ছ ভারত অভিযানের দশ বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রীকে মোদীকে শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়েছিলেন (Swachhata Se Swagat Drive)। শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসও। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) এহেন অভিযানের ভূয়সী প্রশংসাও করেছিলেন বিল গেটস।

     

  • FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপে নেমেই হ্যাটট্রিক! মেসির পায়ে আলজেরিয়াকে হেলায় হারাল আর্জেন্টিনা, জয় পেল ফ্রান্সও

    FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপে নেমেই হ্যাটট্রিক! মেসির পায়ে আলজেরিয়াকে হেলায় হারাল আর্জেন্টিনা, জয় পেল ফ্রান্সও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কে বলবে ৩৯-এর কোঠায় তিনি! কে বলবে এটাই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ! যেন পার্কে বেড়াতে বেরিয়েছেন। লিয়োনেল মেসিকে দেখে এমনটাই মনে হচ্ছিল। আলজেরিয়ার ডিফেন্ডারদের মধ্যে কোনও পরিকল্পনাই দেখা যাচ্ছিল না তাঁকে আটকানোর। তার ফল যা হওয়ার তাই হল। আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের ২০০তম ম্যাচ খেলতে নেমে ৭৮ মিনিট মাঠে থাকলেন মেসি। করলেন হ্যাটট্রিক। বিশ্বকাপে প্রথম বার। মেসির পায়ে আলজেরিয়াকে হেলায় হারাল আর্জেন্টিনা। মেসি প্রথম ম্যাচেই বুঝিয়ে দিলেন, আরও এক বার চ্যাম্পিয়ন হতেই নেমেছেন তাঁরা। মঙ্গলবার বিশ্বকাপের অন্য ম্যাচে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারাল ফ্রান্স। জোড়া গোল করলেন কিলিয়ান এমবাপে।

    সমালোচকদের জবাব

    ৩৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপে খেলতে নেমেছেন। মেসি আদৌ ভাল খেলতে পারবেন তো? কত ক্ষণ খেলতে পারবেন? বিশ্বকাপের আগে চোট পেয়েছিলেন। সেই চোট কতটা সেরেছে? এমনই বেশ কিছু প্রশ্ন উঠেছিল গত বারের বিশ্বজয়ী অধিনায়ককে নিয়ে। তিন শটে তার জবাব দিয়ে দিলেন তিনি। আপাতত চুপ করে যাবেন সমালোচকেরা। মেসিকে শুরু থেকেই নামিয়ে দেন কোচ লিয়োনেল স্কালোনি। তিনি চাইছিলেন, শুরুতেই গোল তুলে নিতে। আর তার জন্য মেসির উপরেই ভরসা রাখেন তিনি। কোচকে হতাশ করেননি মেসি। চ্যাম্পিয়নের মতোই খেলল আর্জেন্টিনা। চ্যাম্পিয়নের মতোই খেললেন লিয়োনেল মেসি। তাঁর খেলার দেখে বাক্‌রুদ্ধ দলের কোচ লিয়োনেল স্কালোনি। খেলা শেষে বেশি কথা বলতে পারেননি তিনি। শুধু বলেছেন, “আমি ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। লিয়োকে নিয়ে আর কী বলব। আমি বাক্‌রুদ্ধ। ও দুর্দান্ত।”

    তিন গোল করে তিনটি রেকর্ড মেসির

    • বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলদাতা: আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিকের পর বিশ্বকাপে মেসির গোলের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬। বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলদাতার তালিকায় যুগ্মভাবে শীর্ষে তিনি। এত দিন এই রেকর্ড ছিল মিরোস্লাভ ক্লোজের দখলে। পরের ম্যাচেই জার্মানির ফুটবলারকে টপকে বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোলের মালিক হওয়ার সুযোগ মেসির সামনে।
    • বয়স্কতম ফুটবলার হিসাবে বিশ্বকাপে একাধিক গোল: সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপে একাধিক গোল করলেন মেসি। আগে এই রেকর্ড ছিল ক্যামেরুনের রজার মিল্লার দখলে। ৩৮ বছর ৩৪ দিন বয়সে ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে একাধিক গোল করেছিলেন মিল্লা। মেসির বয়স ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন। ৩৬ বছরের পুরনো রেকর্ড ভাঙলেন মেসি।
    • ছুঁয়ে ফেললেন রোনাল্ডোকে: সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ডে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে ছুঁয়ে ফেলেছেন মেসি। মোট পাঁচটি বিশ্বকাপে গোল করেছেন মেসি। সেগুলি হল ২০০৬, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ। রোনাল্ডো ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে গোল করেছেন। এ বারের বিশ্বকাপে গোল করলে অবশ্য মেসিকে ছাপিয়ে যাবেন রোনাল্ডো।

    চোখে জল লিয়োনেল মেসির

    প্রথম গোলের পর কয়েক সেকেন্ডের উল্লাস। তার পরেই দেখা গেল মাথা নিচু। চোখে জল লিয়োনেল মেসির। জার্সি দিয়ে মুছলেন জল। তার পর আবার শুরু করলেন খেলা। খেলার পর মেসি স্বীকার করে নিয়েছেন যে, কেঁদে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু তার নেপথ্যে ফুটবল নয়। মেসি বলেন, “হ্যাঁ, আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। তবে ফুটবলের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই। গত কয়েকটা দিন খুব কঠিন ছিল। কঠিন সময় কাটিয়েছি। জটিল সময় কাটিয়েছি। সেগুলোই মনে পড়ছিল। ফুটবলের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই।” সেই কঠিন সময়ের কথা বিস্তারিত ভাবে জানাননি মেসি। তবে কঠিন সময়ে কী ভাবে সতীর্থেরা তাঁর পাশে থেকেছেন সেই কথা শোনা গিয়েছে মেসির মুখে। তিনি বলেন, “আমি গোটা দলের কাছে কৃতজ্ঞ। সতীর্থদের কাছে কৃতজ্ঞ। ওরা অনেক চেষ্টা করেছে আমাকে ভাল রাখার। ওদের এই সাহায্যের কথা ভুলব না।” ৩৯ বছর বয়সেও গোল করে চলেছেন মেসি। এমনকি, বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিক এত দিনে এসেছে তাঁর। মেসি জানিয়েছেন, এখন খেলা উপভোগ করছেন তিনি। মেসি বলেন, “এখন খেলা উপভোগ করি। এটা কেকের উপর চেরির মতো বিষয়। দুর্দান্ত একটা দলের হয়ে খেলতে পেরে আমি খুব খুশি। খেলা উপভোগ করছি।”

    দেশঁর চালে ফ্রান্সের বাজিমাত

    মঙ্গলবার বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় বার মুখোমুখি হচ্ছিল ফ্রান্স ও সেনেগাল। আগের বারের স্মৃতি ফ্রান্সের জন্য সুখকর ছিল না। পাপা বৌবা দিওফের নাম জিদান অন্তত কোনও দিন ভুলবেন না। ২৪ বছর আগে সেনেগালের কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ যেতে হয়েছিল ফ্রান্সকে। কিন্তু এবার তা হল না। ফ্রান্সের এই দলের কোচের নাম দিদিয়ের দেশঁ। বিরতিতে দেশঁর একটি চালে সেনেগালকে ৩-১ গোলে হারাল ফ্রান্স। সেনেগাল জানতে ফ্রান্সের সব আক্রমণের লক্ষ্য থাকবেন এমবাপে। তাই তারা রক্ষণ সে ভাবেই সাজিয়েছিল। এমবাপের সঙ্গে জোঁকের মতো লেগেছিলেন কৌলিবালি। ব্যস, প্রথমার্ধে সেখানেই ঢাকা পড়ে গেলেন এমবাপে। প্রথমার্ধে খুব বেশি হলে চার থেকে পাঁচ বার বল পেয়েছেন এমবাপে। তা-ও রাখতে পারেননি। প্রথম টাচ দেখে মনে হচ্ছিল, এমবাপের মুখোশ পরে হয়তো অন্য কেউ খেলছেন।

    জোড়া গোল এম-বাপের

    বিরতিতে একটিই বদল করেন দেশঁ। প্রথমার্ধে দলের নম্বর ১০ পজিশনে খেলছিলেন এমবাপে। ফলে তাঁকে বল দিতে হলে সেন্টার অফ দ্য পার্ক দিয়ে খেলতে হচ্ছিল। সেই কারণে এমবাপে বল পেলেই কৌলিবালি তাঁকে আটকে দিচ্ছিলেন। দ্রুত তিন থেকে চার জন ঘিরে ধরছিলেন ফরাসি ফুটবলারদের। ফাঁকা জায়গা পাচ্ছিলেন না তাঁরা। দেশঁ এমবাপেকে প্রান্তে আনলেন। কখনও ডান, কখনও বাঁ প্রান্ত থেকে উঠলেন তিনি। নম্বর ১০ পজিশনে নিয়ে গেলেন ওলিসেকে। প্রথমার্ধে এমবাপেকে বোতলবন্দি করে রেখেছিলেন সেনেগালের সেন্টার ব্যাক কৌলিবালি। কিন্তু এমবাপে প্রান্তে চলে যাওয়ায় কৌলিবালির নাগপাশ থেকে মুক্ত হয়ে গেলেন। ওলিসের গতি কৌলিবালিকে সমস্যায় ফেলল। এই এক চালেই খেলার ছবি বদলে গেল। দ্বিতীয়ার্ধে অনেকটা ফাঁকা জায়গায় বল পেতে শুরু করলেন এমবাপে। দেখা গেল তাঁর পরিচিত দৌড়। ৬৬ মিনিটের মাথায় ওলিসের পাস ধরে মেন্ডির পায়ের পাশ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন এমবাপে। এগিয়ে যায় ফ্রান্স। এমবাপে অবশ্য বরাবরই দ্বিতীয়ার্ধের ফুটবলার। বিশ্বকাপে করা তাঁর ১৪ গোলের মধ্যে ১৩টিই দ্বিতীয়ার্ধে করা। এদিনও দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপের সর্বাধিক গোলের লড়াই জমিয়ে দিলেন এমবাপে।

  • Modi At G7: জি৭-এর মঞ্চে ট্রাম্প-মাক্রঁর সঙ্গে প্রথম সারিতে মোদি, বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের উত্থানের স্পষ্ট বার্তা

    Modi At G7: জি৭-এর মঞ্চে ট্রাম্প-মাক্রঁর সঙ্গে প্রথম সারিতে মোদি, বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের উত্থানের স্পষ্ট বার্তা

    সুশান্ত দাস 

    ফ্রান্সের এভিয়ঁ-লে-ব্যাঁ (সংক্ষেপে এভিয়ঁ) শহরে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে এক মঞ্চে দেখা গেল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক ‘লিডার্স ফটোগ্রাফ’-এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর পাশে প্রথম সারিতে মোদির উপস্থিতি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অবস্থান শুধু প্রোটোকলের বিষয় নয়, বরং বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের প্রতীক।

    সদস্য নয়, তাও ভারতকে আমন্ত্রণ

    বিশ্বের সাতটি প্রধান শিল্পোন্নত অর্থনীতির এই ফোরামে ভারত সদস্য না হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির গুরুত্ব ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। অর্থনীতি, প্রযুক্তি, বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভূ-রাজনৈতিক নানা ইস্যুতে ভারতের অবস্থান এখন বৈশ্বিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। সেই বাস্তবতাই যেন প্রতিফলিত হয়েছে জি৭ নেতাদের এই ঐতিহাসিক ছবিতে।

    মাক্রঁর বিশেষ অভ্যর্থনা, ভারত-ফ্রান্স সম্পর্কের নতুন বার্তা

    সম্মেলনের শুরুতেই ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁ ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানান। তিনি সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমেও শেয়ার করেন। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ভারত-ফ্রান্স কৌশলগত সম্পর্কের গভীরতা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে ভারতের গুরুত্বকেই তুলে ধরে। প্রতিরক্ষা, মহাকাশ গবেষণা, পারমাণবিক শক্তি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতার ক্ষেত্রে নয়াদিল্লি ও প্যারিসের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ হিসেবে ফ্রান্স বর্তমানে ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার।

    ১৬ মাস পর মুখোমুখি মোদি ও ট্রাম্প

    জি৭ সম্মেলনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক। প্রায় ১৬ মাস পর দুই নেতা সরাসরি মুখোমুখি হলেন। শুধু তাই নয়, সম্মেলনের মূল অধিবেশনেও তাঁদের পাশাপাশি বসতে দেখা যায়। এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার প্রশাসনের অধীনে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হতে পারে। চিনকে কেন্দ্র করে পরিবর্তিত বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য, ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক আগামী দিনে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অক্ষ হয়ে উঠতে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    কেন বারবার জি৭-এ আমন্ত্রিত হচ্ছেন মোদি?

    এবারের সম্মেলন ছিল প্রধানমন্ত্রী মোদির সপ্তম ধারাবাহিক জি৭ অংশগ্রহণ। জি৭-এর সদস্য না হয়েও এতবার আমন্ত্রিত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ—

    • ● বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতিগুলোর অন্যতম ভারত।
    • ● বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারতের ভূমিকা দ্রুত বাড়ছে।
    • ● প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং সবুজ শক্তি ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতি বিশ্বজুড়ে নজর কেড়েছে।
    • ● উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থের প্রতিনিধিত্বকারী শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে ভারতের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের বড় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রশ্নগুলোর সমাধানে ভারতের অংশগ্রহণ এখন প্রায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। ফলে জি৭-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে ভারতের উপস্থিতি ক্রমশ স্থায়ী চরিত্র ধারণ করছে।

    ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর মুখপাত্র হিসেবে ভারতের অবস্থান

    গত কয়েক বছরে প্রধানমন্ত্রী মোদি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। জলবায়ু অর্থায়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি সংকট, ডিজিটাল বৈষম্য এবং টেকসই উন্নয়নের মতো বিষয়গুলোতে ভারতের অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে গুরুত্ব পেয়েছে। জি২০-র সভাপতিত্বের সময়ও ভারত ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর উদ্বেগ ও প্রত্যাশাকে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছিল। জি৭ সম্মেলনেও সেই অবস্থানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখছেন মোদি।

    একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সূচি

    সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেরও কর্মসূচি রয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কৌশলগত সহযোগিতা এসব বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রের অনুমান।

    আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের উত্থানের প্রতীকী বার্তা

    এভিয়ানের জি৭ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মাক্রঁর পাশে প্রথম সারিতে নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতি নিছক একটি আনুষ্ঠানিক ছবি নয়। এটি এমন এক ভারতের প্রতিচ্ছবি, যা আজ বিশ্বের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ক্রমশ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশ্বের প্রভাবশালী শক্তিগুলোর সঙ্গে সমান গুরুত্বে আলোচনায় অংশগ্রহণ, বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা এবং উন্নয়নশীল বিশ্বের কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে ভারত যে আরও একধাপ এগিয়ে গেল, জি৭ সম্মেলনের এই দৃশ্য যেন সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিল।

  • Indian Rail: ভারতীয় রেলের ইতিহাস সৃষ্টি, ওভারহেড বিদ্যুতায়নে বিশ্বের প্রথম ‘ইলেকট্রিক ডাবল-স্ট্যাক কন্টেইনার ট্রেন’ চালুর রেকর্ড

    Indian Rail: ভারতীয় রেলের ইতিহাস সৃষ্টি, ওভারহেড বিদ্যুতায়নে বিশ্বের প্রথম ‘ইলেকট্রিক ডাবল-স্ট্যাক কন্টেইনার ট্রেন’ চালুর রেকর্ড

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রেলওয়ে প্রযুক্তি এবং পণ্য পরিবহনে এক অনন্য নজির স্থাপন করল ভারত। বিশ্বের প্রথম এবং একমাত্র দেশ হিসেবে ওভারহেড বৈদ্যুতিক তারের (Overhead Electrification) নিচে বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন চালিত ‘ডাবল-স্ট্যাক কন্টেইনার ট্রেন’ একটির ওপর আরেকটি কন্টেইনার চাপানো মালগাড়ি চালিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে ভারতীয় রেল (Indian Rail)। ভারতের এই অভাবনীয় ইঞ্জিনিয়ারিং সাফল্য ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

    বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় ভারতের সাফল্য যেখানে আলাদা (Indian Rail)

    আমেরিকা বা চীনের মতো উন্নত দেশগুলোতেও ডাবল-স্ট্যাক কন্টেইনার ট্রেন (Indian Rail) চালানো হয়, তবে সেগুলির বেশিরভাগই ডিজেল চালিত ইঞ্জিনে চলে। অথবা এমন রুটে চালানো হয় যেখানে মাথার ওপর কোনও বৈদ্যুতিক লাইনের (Overhead Electrification) বাধা থাকে না। কিন্তু ভারত সম্পূর্ণ বিদ্যুতায়িত রেল করিডোরে ওভারহেড তারের বাধা থাকা সত্ত্বেও এই ডাবল-স্ট্যাক কন্টেইনার ট্রেন সফলভাবে চালিয়ে এক জটিল প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জকে জয় করেছে। পরিবেশবান্ধব পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এটিকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    কীভাবে সম্ভব হলো এই অসাধ্য সাধন?

    জানা গিয়েছে, ‘ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড’ (DFCCIL) দ্বারা নির্মিত ওয়েস্টার্ন ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর (WDFC)-এ এই ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।

    হাই-রাইজ ওভারহেড ইকুইপমেন্ট (High-Rise OHE)

    ডাবল-স্ট্যাক ট্রেনের (Indian Rail) অতিরিক্ত উচ্চতার কথা মাথায় রেখে সাধারণ রেললাইনের চেয়ে অনেক উঁচুতে বৈদ্যুতিক তার বসিয়েছেন ইঞ্জিনিয়াররা। এই রুটে ওভারহেড তারের উচ্চতা রাখা হয়েছে প্রায় ৭.৪৫ মিটার, যা সাধারণ লাইনের চেয়ে অনেক বেশি।

    উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ ও হাই-রিচ প্যান্টোগ্রাফ

    এই উঁচু তার থেকে বিদ্যুৎ সংগ্রহের জন্য বিশেষ ধরনের শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন (Overhead Electrification) তৈরি করা হয়েছে, যাতে রয়েছে অত্যন্ত উঁচুতে পৌঁছাতে সক্ষম ‘হাই-রিচ প্যান্টোগ্রাফ’ (High-reach Pantograph)। এর ফলে ট্রেনগুলি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এবং কোনও বাধা ছাড়াই বিদ্যুৎ গ্রহণ করে কন্টেইনার নিয়ে ছুটতে পারে।

    দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে এর প্রভাব

    উত্তর প্রদেশের দাদরি থেকে মুম্বাইয়ের জওহরলাল নেহরু পোর্ট (JNPT) পর্যন্ত বিস্তৃত এই ওয়েস্টার্ন ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোরটি দেশের পণ্য পরিবহনের মূল ধমনীতে পরিণত হয়েছে। এই ব্যবস্থার প্রধান সুবিধাগুলি হলো—

    • ১. দ্বিগুণ ধারণক্ষমতা: সাধারণ মালগাড়ির তুলনায় এই ট্রেনগুলি (Indian Rail) প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ কন্টেইনার বহন করতে পারে।
    • ২. খরচ ও সময় সাশ্রয়: এক ট্রিপেই বিশাল পরিমাণ পণ্য পরিবহন সম্ভব হওয়ায় লজিস্টিকস বা পণ্য পরিবহনের খরচ একধাক্কায় অনেকটাই কমে যাচ্ছে এবং দ্রুত গতির কারণে সময় বাঁচছে।
    • ৩. সবুজ ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন: ডিজেলের ব্যবহার বন্ধ করে পুরোপুরি বৈদ্যুতিক শক্তিতে চলার কারণে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি কার্বন নির্গমন হ্রাস পাচ্ছে, যা ভারতের পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রাকে ত্বরান্বিত করবে।

    রেল বিশেষজ্ঞরা এই সাফল্যকে সাম্প্রতিক দশকের অন্যতম সেরা উদ্ভাবন বলে অভিহিত করেছেন। ভারত সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘পিএম গতি শক্তি’ প্রকল্পের (Overhead Electrification) অধীনে দেশকে একটি বৈশ্বিক ম্যানুফ্যাকচারিং ও লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে তোলার যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, এই ইলেকট্রিক ডাবল-স্ট্যাক ট্রেন ব্যবস্থা সেই স্বপ্নপূরণে এক বিরাট অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।

  • Charu Pandey: ১৯ সরকারি চাকরির পরীক্ষায় সাফল্য, রাষ্ট্রপতির হাত থেকে স্বর্ণপদক পাচ্ছেন চারু পান্ডে

    Charu Pandey: ১৯ সরকারি চাকরির পরীক্ষায় সাফল্য, রাষ্ট্রপতির হাত থেকে স্বর্ণপদক পাচ্ছেন চারু পান্ডে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের কাছে অনুপ্রেরণার আর এক নাম ছত্তিশগড়ের তিলদা-নেওরার বছর তেইশের তরুণী চারু পান্ডে (Charu Pandey)। এক বা দু’টি নয়, সব মিলিয়ে মোট ১৯টি প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরির পরীক্ষায় (Government Exams) উত্তীর্ণ হয়ে নজির গড়েছেন তিনি। চারু এখন বিশাখাপত্তনমে ভারতের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (CAG) দফতরে অ্যাসিস্ট্যান্ট অডিট অফিসার হিসেবে কাজ করছেন। এটি তাঁর স্বপ্নের চাকরি।

    স্বর্ণপদক পাচ্ছেন চারু (Charu Pandey)

    চারুর এই অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছরের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর হাতে তুলে দেবেন স্বর্ণপদক। গণিতে স্নাতক চারু কলেজে পড়াশোনা করা কালীনই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। কোনও কোচিং সেন্টারে ভর্তি না হয়ে সেল্ফ-স্টাডির মাধ্যমে একের পর এক পরীক্ষায় সফল হন তিনি। চারুর সাফল্যের তালিকায় রয়েছে এসএসসি সিজিএল, এসএসসি সিএইচএসএল, এসএসসি এমটিএস, এসএসসি জিডি, এসএসসি সিপিও, এসবিআই পিও, এসবিআই ক্লার্ক, আইবিপিএস পিও, আইবিপিএস ক্লার্কের পাশাপাশি বিভিন্ন রেলওয়ে এবং রাজ্যস্তরের নিয়োগ পরীক্ষা।

    চারুর কঠোর ‘সাধনা’

    চারু জানান, প্রথমে এতগুলি পরীক্ষায় বসার কোনও পরিকল্পনা তাঁর ছিল না। একটি পরীক্ষার ফল প্রকাশে দীর্ঘ সময় লাগত, তাই অপেক্ষা না করে তিনি পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতি সেরে ফেলতেন। এভাবেই একের পর এক সুযোগ কাজে লাগিয়ে তৈরি হয়েছে তাঁর এই অনন্য সাফল্যের ইতিহাস। প্রস্তুতির জন্য চারু ছত্তিশগড়ের রায়পুরে একটি গেস্ট হাউসে ছ’মাস একা একা কাটিয়েছেন, যাতে পড়াশোনায় কোনও বাধা না আসে। সেই সময় তিনি দিনে প্রায় ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত পড়াশোনা করতেন। তবে শুধু পড়াশোনা নয়, মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে অন্যান্য কাজেও সময় দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ওই সময় তিনি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পড়াতেন, যা তাঁর নিজের বিষয়ভিত্তিক ধারণাকেও আরও শক্তিশালী করেছিল।

    সাফল্যের মূল চাবিকাঠি

    চারুর (Charu Pandey) মতে, সফলতার মূল চাবিকাঠি হল গভীরভাবে পড়াশোনা করা। তিনি বলেন, “পুরো সিলেবাস শেষ করার পেছনে না ছুটে যতটুকু পড়বেন, সেটাকে একেবারে পোক্ত করে তুলুন।” কোচিং না করেও অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়েছেন চারু। বিভিন্ন শিক্ষকের ইউটিউব লেকচার দেখে প্রস্তুতি নিয়েছেন এবং কোনও বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হলে সাহায্য নিয়েছেন এআইয়ের (AI)। পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে তাঁর (Charu Pandey) পরামর্শ, সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে হবে, ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখতে হবে এবং মানসিক চাপের বিষয়ে পরিবারের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করতে হবে (Government Exams)। চারুর বাবা-মা জানান, তাঁরা মেয়েকে খুব বেশি বইপত্র নিয়ে বসে থাকতে দেখতেন না, যদিও তাঁর ওপর সবসময়ই আস্থা ছিল। ছোট শহরের এক সাধারণ পরিবারের মেয়ে থেকে দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সরকারি চাকরিতে চারুর (Charu Pandey) পৌঁছানোর এই যাত্রা প্রমাণ করে, ব্যয়বহুল কোচিং নয়, বরং ধারাবাহিকতা, আত্মনিয়োগ এবং সঠিক কৌশলই সাফল্যের আসল (Government Exams) চাবিকাঠি।

     

  • Modi-Trump Meeting: ‘‘বিশ্ব সম্পদের অভাবে নয়, বিশ্বাসের অভাবে ভুগছে’’ জি-৭ সামিটে ট্রাম্পকে পাশে বসিয়েই পরোক্ষ-বার্তা মোদির

    Modi-Trump Meeting: ‘‘বিশ্ব সম্পদের অভাবে নয়, বিশ্বাসের অভাবে ভুগছে’’ জি-৭ সামিটে ট্রাম্পকে পাশে বসিয়েই পরোক্ষ-বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জি-৭-এর মঞ্চে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পাশে বসিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফ্রান্সের এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি-৭ সামিটে (G7 Summit) মঙ্গলবার নজর কাড়লেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সম্মেলনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনের আগে দুই রাষ্ট্রনেতাকে করমর্দন করতে দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা যায় চেয়ারে বসে ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, মোদি সেখানে যেতেই উঠে দাঁড়িয়ে করমর্দন করেন। করমর্দনের পর দু’জনকে পাশাপাশি বসে কথোপকথন করতেও দেখা যায়। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল, জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য— এই সব বিষয়ই জি-৭ সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে।

    পারস্পরিক বিশ্বাস, সবচেয়ে দামি

    এদিন জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি, কার্যত তাঁর সমালোচনাও করেন মোদি। জি-৭ সামিটে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘‘আজ বিশ্ব আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে বেশি সংযুক্ত এবং পরস্পর নির্ভরশীল। একটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি শুধুমাত্র তার সীমানার মধ্যেই নির্ধারিত হয় না। তথ্য, পুঁজি এবং প্রযুক্তি—এই সবই আমাদের সংযুক্ত করে। ফলে এই বিশ্বে পার্টনারশিপের গুরুত্ব স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু পার্টনারশিপ তখনই সফল হয় যখন তার মূলে থাকে বিশ্বাস। আজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজিক সম্পদ খনিজ, প্রযুক্তি বা বাজার নয়, বরং পারস্পরিক বিশ্বাস।’’

    পার্টনারশিপের ভবিষ্যৎ বিশ্বাসের উপরই নির্ভরশীল

    প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘‘আমি বিশ্বাস করি প্রযুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থা অস্ত্র হিসেবে নয়, বরং বৈশ্বিক কল্যাণে ব্যবহৃত হবে। উন্নয়নের সুযোগ কয়েকটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বৈশ্বিক সংস্থাগুলো সকল দেশের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে সক্ষম হবে। গত শতাব্দীতে মানবজাতি দুটি বিশ্বযুদ্ধ সহ্য করেছে। বহু ত্যাগের পর, শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে বিশ্ব। এই ব্যবস্থাগুলোও বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল, কিন্তু বহু প্রজন্মের অবদানের মাধ্যমে কয়েক দশক ধরে গড়ে ওঠা সেই বিশ্বাস আজ ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। কোভিড আমাদের দেখিয়েছে, বিশ্বাস এবং সংহতির দাবিগুলো কতটা অন্তঃসারশূন্য ছিল। আজ বিশ্ব সম্পদের অভাবে নয়, বরং বিশ্বাসের অভাবে ভুগছে এবং আমাদের পার্টনারশিপের ভবিষ্যৎ এই বিশ্বাসের উপরই নির্ভর করছে।’’

    ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু নিয়ে সরব প্রধানমন্ত্রী মোদি

    প্রধানমন্ত্রী মোদি হরমুজ প্রণালী ও তার আশেপাশে ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে বলেন, ‘‘পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে, আমরা তাকে স্বাগত জানাই। এই সংঘাত পশ্চিম এশিয়ায় আমাদের মিত্র দেশগুলোর জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি করেছে। হরমুজ প্রণালীতে সামুদ্রিক বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। নাবিকদের নিরাপত্তা, যাঁরা বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক বাণিজ্যের মাধ্যমে সমস্ত দেশকে সংযুক্ত করেন, তা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে, সমুদ্রপথ যাতে নিরাপদ থাকে এবং নাবিকরা নির্ভয়ে তাঁদের কাজ করতে পারেন।’’

    ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক!

    ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ সম্মেলনে প্রায় ১৬ মাস পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেখা হল। সূত্রের খবর, দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে। বাণিজ্য, কৌশলগত সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনে সাক্ষাতের পরে এটাই মোদি ও ট্রাম্পের প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-মার্কিন সম্পর্ক বর্তমানে কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে দুই নেতার এই সাক্ষাৎ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, মোদী-ট্রাম্প পার্শ্ববৈঠকে বাণিজ্যচুক্তি, কৌশলগত সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধ-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

    বাণিজ্য ও কূটনৈতিক ইস্যুতে নজর

    এই বৈঠক এমন এক সময়ে হতে চলেছে, যখন ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনাও আলোচনায় উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা চাপের মুখে পড়েছিল। তার সঙ্গে ভারতীয় পণ্যের উপর মার্কিন প্রশাসনের উচ্চ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলেছে। বাণিজ্যিক সম্পর্ক এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে পারে। গত ফেব্রুয়ারিতে মোদি ও ট্রাম্প একটি অন্তর্বর্তীকালীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। বর্তমানে সেই চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। বৈঠকে সেই অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হতে পারে এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপায় নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

  • Swami Vivekananda: শিকাগোয় উন্মোচন হল স্বামী বিবেকানন্দের পূর্ণাবয়ব মূর্তির, বিশ্বজুড়ে ধ্বনিত হল সেবা ও সম্প্রীতির বার্তা

    Swami Vivekananda: শিকাগোয় উন্মোচন হল স্বামী বিবেকানন্দের পূর্ণাবয়ব মূর্তির, বিশ্বজুড়ে ধ্বনিত হল সেবা ও সম্প্রীতির বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার শিকাগোয় (Chicago) ভারতীয় কনস্যুলেট জেনারেলে উন্মোচিত হল স্বামী বিবেকানন্দের (Swami Vivekananda) একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি (Life-size statue)। বিবেকানন্দের সেই কালজয়ী বার্তা—বেদান্ত দর্শন, মানবসেবা এবং বৈশ্বিক সম্প্রীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৮৯৩ সালের শিকাগো (Chicago) বিশ্ব ধর্ম মহাসভায় স্বামীজির দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণের স্মৃতিবিজড়িত এই শহরে তাঁর মূর্তি উন্মোচন এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

    মানবসেবা এবং সর্বজনীন সম্প্রীতির উদাহরণ (Swami Vivekananda)

    আমেরিকায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিনয় মোহন কোয়াত্রা (Vinay Mohan Kwatra) আনুষ্ঠানিকভাবে এই মূর্তির উন্মোচন করেন। প্রবাসী ভারতীয়দের (Diaspora) আন্তরিক উপহার হিসেবে এই ভাস্কর্যটি কনস্যুলেট প্রাঙ্গণে স্থান পেয়েছে। মূর্তি উন্মোচন করে রাষ্ট্রদূত বিনয় মোহন কোয়াত্রা তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, “আমাদের শিকাগো (Chicago) কনস্যুলেটে স্বামী বিবেকানন্দের একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি উন্মোচন করতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত। এটি আমাদের প্রবাসী সম্প্রদায়ের একটি উদার উপহার। মানবসেবা এবং সর্বজনীন সম্প্রীতির বিষয়ে ওনার চিরন্তন বার্তা আমাদের সবার মধ্যে বেঁচে রয়েছে। আমাদের প্রাণবন্ত প্রবাসী সম্প্রদায়ের সাথে যুক্ত হতে পারার এই সুযোগের জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”

    অনুষ্ঠান ও প্রাসঙ্গিকতা

    মূর্তি উন্মোচনের পর স্বামী বিবেকানন্দের কালজয়ী আদর্শ নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনা সভার (Chicago) আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিকাগোর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিবর্গ এবং ভারতীয় সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সমবেত কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

    উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে আমেরিকার সিয়াটল (Seattle) শহরে স্বামী বিবেকানন্দের (Swami Vivekananda) আরও একটি মূর্তি উন্মোচন করা হয়েছিল, যা ছিল আমেরিকার কোনও নগর প্রশাসন (City Government) দ্বারা স্থাপিত প্রথম বিবেকানন্দ মূর্তি। ১৮৯৩ সালে শিকাগোর (Chicago) মাটিতে দাঁড়িয়েই স্বামীজি তাঁর বক্তৃতা শুরু করেছিলেন ‘‘আমেরিকার ভাই ও বোনেরা’’ বলে সম্বোধন করে। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়েও তাঁর সেই বিশ্বভ্রাতৃত্ব, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং সনাতন ধর্মের উদারতার বাণী সমানভাবে প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • Road Tunnel Beneath Hooghly: হুগলির তলদেশে দেশের প্রথম পণ্যবাহী সড়ক টানেল, খরচ প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা

    Road Tunnel Beneath Hooghly: হুগলির তলদেশে দেশের প্রথম পণ্যবাহী সড়ক টানেল, খরচ প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গঙ্গার তলদেশ দিয়ে মেট্রোর সফল চলাচলের পর এবার দেশের পরিবহণ পরিকাঠামোয় আরও এক নতুন মাইলফলক গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হুগলি নদীর তলদেশ দিয়ে ভারতের প্রথম পণ্যবাহী সড়ক টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য কলকাতা বন্দরকে জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে যুক্ত করা। সম্প্রতি নবান্নে কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়ালের সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে নীতিগত অনুমোদনের পর প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (এনএইচএআই)-এর যৌথ উদ্যোগে এই টানেল নির্মিত হবে।

    কেন এই টানেল?

    বর্তমানে কলকাতা বন্দরে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে পণ্যবাহী ট্রাকগুলিকে প্রায়শই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। নতুন টানেল চালু হলে ২৪ ঘণ্টাই নির্বিঘ্নে যান চলাচল সম্ভব হবে। ফলে বন্দরের সঙ্গে জাতীয় সড়কের সংযোগ আরও দ্রুত হবে এবং পণ্য পরিবহণে সময় ও খরচ—দুই-ই কমবে।

    প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্য

    প্রস্তাবিত সড়কপথের মোট দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১৫.৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে হুগলি নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত জোড়া টিউব টানেলের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৮.৫ কিলোমিটার। নদীর তলদেশ থেকে প্রায় ৩৮ মিটার গভীরে এই টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    কলকাতা প্রান্তে সংযোগ

    কলকাতা অংশে টানেলে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য দু’টি পৃথক র‌্যাম্প তৈরি হবে। একটি র‌্যাম্প থাকবে এনএসডি-র ৮ নম্বর গেট ও গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স সংলগ্ন এলাকায়।
    অন্য র‌্যাম্পটি শুরু হবে তারাতলা রোডের জিঞ্জিরা বাজার সংলগ্ন অঞ্চল থেকে। এই সংযোগস্থলে তারাতলা রোড, বজবজ রোড, হাইড রোড এবং উপেন ব্যানার্জি রোড মিলিত হওয়ায় এটি পণ্য পরিবহণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

    হাওড়া প্রান্তে সংযোগ

    নদী পার হওয়ার পর টানেলটি হাওড়ার সাঁকরাইল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় মাটির উপরে উঠে আসবে। সাঁকরাইল গুডস ইয়ার্ডের কাছেও দু’টি র‌্যাম্প নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে একটি র‌্যাম্প সরাসরি ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে। অন্যটি কলকাতামুখী যান চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হবে। এর ফলে কলকাতা বন্দর থেকে জাতীয় সড়কে দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হবে।

    ১০ হাজার ট্রাকের জন্য পার্কিং ব্যবস্থা

    প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল বৃহৎ ট্রাক পার্কিং অবকাঠামো। হাওড়া প্রান্তে টোল প্লাজার কাছে দু’টি বিশাল পার্কিং লট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ১০ হাজার ট্রাক ও অন্যান্য পণ্যবাহী যান রাখা যাবে। টোল প্লাজা অতিক্রম করার পর সংযোগকারী রাস্তা সরাসরি আলমপুরে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে।

    কমবে যানজট, বাড়বে বন্দরের ক্ষমতা

    বর্তমানে কলকাতা ও হাওড়ার মধ্যে যোগাযোগের প্রধান ভরসা হাওড়া ব্রিজ, বিদ্যাসাগর সেতু এবং বালি এলাকার সেতুগুলি। কিন্তু ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপে এই রুটগুলিতে প্রায়শই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন টানেল চালু হলে একদিকে যেমন সড়ক পরিবহণের গতি বাড়বে, অন্যদিকে কলকাতা বন্দরের পণ্য পরিবহণ ক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

    পূর্ব ভারতের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত

    শিল্প ও বাণিজ্য মহলের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পূর্ব ভারতের লজিস্টিকস ও বাণিজ্যিক পরিকাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসবে। যানজট হ্রাস, পরিবহণ ব্যয় কমানো এবং নতুন শিল্প বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে এই টানেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, হুগলি নদীর তলদেশের এই পণ্যবাহী সড়ক টানেল শুধু দেশের প্রথম প্রকল্প হিসেবেই নয়, পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন চালিকাশক্তি হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

LinkedIn
Share