West Bengal Dengue: জ্বর কমলেই সাবধান! ডেঙ্গির ‘বিপজ্জনক সময়’ কখন, কী কী লক্ষণে সতর্ক হবেন? জানুন

dengue-cases-rising-murshidabad-kolkata-west-bengal

তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

অগাস্ট মাসেই বিপদের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিলো। সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। এলাকার অবস্থা বিশ্লেষণ করে, রোগ মোকাবিলা করতে না পারলে, বিপদ আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজ্য জুড়ে ডেঙ্গির দাপট অব্যাহত। বিশেষত কয়েকটি জেলায় ডেঙ্গি সংক্রমণের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তাই স্বাস্থ্য দফতরের তরফে বাড়তি সক্রিয়তা নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত বুলেটিন প্রকাশ করে রাজ্যের ডেঙ্গি পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যবাসীকে ডেঙ্গি মোকাবিলায় প্রস্তুত করাও হচ্ছে।

কোথায় বাড়তি বিপদ?

স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে সেপ্টেম্বরের প্রথম ১২ দিনে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। যা যথেষ্ট উদ্বেগের বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্য কর্তারা।
স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ, কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং নদিয়া জেলায় ডেঙ্গি পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। পাশপাশি মালদা, হাওড়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং হুগলি জেলাতেও ডেঙ্গি ক্রমশ বাড়ছে।
স্বাস্থ্য কর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গি আক্রান্ত জেলা হল মুর্শিদাবাদ। এই জেলায় গত বারো দিনে এক হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। মুর্শিদাবাদের পরেই ডেঙ্গিপ্রবণ এলাকা হিসাবে রাজ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতা। কলকাতায় সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ৬০০ মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর চব্বিশ পরগনা। এই জেলায় চলতি মাসে প্রায় ৫৫০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপরেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নদিয়া। এই জেলাতেও ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সেপ্টেম্বর মাসে নদিয়া জেলায় ৪৫০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন।
বিপদ বাড়ছে মালদা, হাওড়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং হুগলি জেলাতেও। স্বাস্থ্য ভবনের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়েই এই চার জেলাতেও আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। যার জেরে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য প্রশাসন।

পরিস্থিতি কখন বাড়তি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে?

ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে রাজ্য জুড়ে বিপদ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি প্রতিরোধ ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।
তাঁরা জানাচ্ছেন, জ্বর কমার পরেই ডেঙ্গি বাড়তি বিপদ তৈরি করে। ডেঙ্গি শক সিন্ড্রোম সবচেয়ে বেশি গুরুতর হয়ে যায় ডেঙ্গি আক্রান্তের শরীরের তাপ স্বাভাবিক হওয়ার পরে। তাই ডেঙ্গি নিয়ে বাড়তি নজরদারি না রাখলেই, মৃত্যুর আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, যে সব এলাকায় ডেঙ্গি সংক্রমণ বেশি হচ্ছে, সেখানে জনসচেতনতা আরও বেশি জরুরি। মশাবাহিত রোগ রুখতে সমস্ত রকমের প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আশপাশ পরিষ্কার রাখা যেমন জরুরি, তেমনি সামান্য জ্বর হলেও দ্রুত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতো রক্ত পরীক্ষা করিয়ে, রোগ নির্ণয় প্রয়োজন।
দ্বিতীয় বার ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে তাঁর বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রথমের তুলনায় দ্বিতীয় বার আক্রান্ত হলে ডেঙ্গি বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তাই যাদের একবার ডেঙ্গি সংক্রমণ হয়েছে, এই মরশুমে, তাদের বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন জরুরি। সংক্রমণ হলে, জ্বর কমলে তারপরে পেটে ব্যথা করছে কিনা, মল-মূত্র ত্যাগ স্বাভাবিক হচ্ছে কিনা, বমি পাচ্ছে কিনা, এই দিনগুলোতে নজর দেওয়া জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি একাধিক অঙ্গের ক্ষতি করে। এই উপসর্গগুলো জানান দেয়, শরীরে ডেঙ্গি কতখানি প্রভাব ফেলেছে। আগাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে, প্রাণ সংশয়ও তৈরি হতে পারে।

কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলাবেন?

চিকিৎসকদের পরামর্শ, ডেঙ্গি পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রথমেই সচেতনতা জরুরি। মশার বংশবিস্তার আটকাতে পারলে, তবেই ডেঙ্গির প্রকোপ কমবে। তাই জমা জল পরিষ্কার করতেই হবে। চৌবাচ্চায় জল জমিয়ে রাখা যাবে না। বাড়ির ছাদ এবং বাগানে আবর্জনা রাখা চলবে না। টবে জল জমেছে কিনা সেটা দেখতে হবে। নিয়মিত বাড়ির আশপাশের এলাকা পরিষ্কারে নজর দিতে হবে। এর পাশপাশি এলাকায় ডেঙ্গি সংক্রমণ বাড়লে, প্রশাসনকে সবরকম সাহায্য করতে হবে। তথ্য জানাতে হবে। যাতে প্রশাসনের কাজে সুবিধা হয়।
তবে একাধিকবার ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। যাতে পরিস্থিতি কখনওই বিপজ্জনক হয়ে না‌ ওঠে। সেদিকে নজর দিতে হবে। শিশুদের জন্য বাড়তি সচেতনতা জরুরি। কারণ স্কুল থেকে অধিকাংশ সময়ে শিশুরা ডেঙ্গি আক্রান্ত হচ্ছে। তাই স্কুল কর্তৃপক্ষকেও ডেঙ্গি নিয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share