Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Trump Putin Deal: পুতিনের সঙ্গে তেল চুক্তি ট্রাম্পের, রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় ক্ষুব্ধ জেলেনস্কি

    Trump Putin Deal: পুতিনের সঙ্গে তেল চুক্তি ট্রাম্পের, রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় ক্ষুব্ধ জেলেনস্কি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাশিয়ার সঙ্গে তেল সরবরাহ চুক্তির কথা ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়া অবিলম্বে ৩ লক্ষ টনেরও বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। একই সঙ্গে মস্কোর উপর জারি থাকা জ্বালানি-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। জেলেনস্কির কথায়, এই পদক্ষেপ ‘সৎ নয়, অংশীদারদের প্রতি অযোগ্য এবং দুর্বল সিদ্ধান্ত’। রাশিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার পর মার্কিন প্রশাসনের এই অবস্থান পরিবর্তন আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

    ডিজেল সরবরাহে বড় ঘোষণা ট্রাম্পের

    সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাশিয়া অবিলম্বে ৩ লক্ষ টনেরও বেশি ডিজেল জ্বালানি আমেরিকা-সহ আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে আরও ৫ লক্ষ টন এবং পরবর্তী পর্যায়ে ১০ লক্ষ টন ডিজেল সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে সরবরাহের পরিমাণ আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও দাবি করেছেন তিনি। ক্রেমলিনের তরফেও জানানো হয়েছে, আমেরিকা-সহ আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরবরাহের জন্য রাশিয়া প্রস্তুত রয়েছে। এদিকে, শুক্রবার মার্কিন অর্থ দফতর একটি অস্থায়ী লাইসেন্স জারি করেছে, যার মাধ্যমে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত রুশ ডিজেল আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে। ট্রাম্পের বক্তব্য, মার্কিন নাগরিকদের পাশাপাশি কৃষক, পশুপালক ও পণ্য পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত ট্রাকচালকদের জন্য জ্বালানির দাম কমানো তাঁর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

    হরমুজ প্রণালিতে সঙ্কট, ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানির দাম

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ-পরিবহণে বিঘ্ন। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে লক্ষ্য করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার পর তেহরানের তরফে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ অবরুদ্ধ করার ঘটনা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে আমেরিকায় সাধারণ পেট্রোলের গড় দাম ৪৬ শতাংশেরও বেশি বেড়ে প্রতি গ্যালনে ৪.৩৭ ডলারে পৌঁছেছে। ডিজেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৬৭ শতাংশ, প্রতি গ্যালন ৬.২৮ ডলারে। রুশ তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকেও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জন্য দায়ী করেছেন ট্রাম্প। যদিও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের ক্ষেত্রে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনা ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে রিপাবলিকান পার্টিকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

    যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা, অমীমাংসিত ভূখণ্ডের প্রশ্ন

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে শুক্রবার মায়ামিতে বৈঠকে বসেন মার্কিন ও ইউক্রেনীয় আলোচকেরা। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানান, শীতের আগে সংঘাত প্রশমিত করা এবং যুদ্ধের অবসানের সম্ভাব্য পথ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। এর আগে গত মাসে উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার মস্কো ও কিয়েভ সফর করেছিলেন। তবে দীর্ঘদিনের আলোচনাতেও যুদ্ধের অবসানের প্রশ্নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। যুদ্ধবিরতির পথে অন্যতম বড় বাধা ইউক্রেনের ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধ। রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাসের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করে আসছে। অন্যদিকে, জেলেনস্কি ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূখণ্ড রাশিয়ার হাতে তুলে দিতে নারাজ। তাঁর আশঙ্কা, ওই অঞ্চলগুলির উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে ভবিষ্যতে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সুযোগ পাবে মস্কো। বর্তমানে ইউক্রেনের মোট ভূখণ্ডের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ রাশিয়ার দখলে রয়েছে।

    নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ও পুনর্গঠন নিয়েও আলোচনা

    উইটকফের বক্তব্য অনুযায়ী, মায়ামির বৈঠকে ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, ভবিষ্যতে সংঘাত এড়াতে ইউক্রেন ও ইউরোপের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেনের পুনর্গঠন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এরই মধ্যে ইউক্রেনে রুশ হামলায় প্রাণহানির ঘটনা যুদ্ধের অবসানের দাবিকে আরও জোরালো করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সামনের সারির শহর ক্রামাতোরস্কে বাসে রুশ হামলায় ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একদিকে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সমঝোতার পথে হাঁটছে ওয়াশিংটন, অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। এই দুই পদক্ষেপের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা ট্রাম্পের বিদেশনীতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

  • Navanethem Navi Pillay: ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিচারপতি নাভি পিল্লাই

    Navanethem Navi Pillay: ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিচারপতি নাভি পিল্লাই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার রক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট বিচারপতি নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত এই আইনজ্ঞ বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই, যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং গণহত্যার অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে নোবেল কমিটির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ৯ অক্টোবর, শুক্রবার এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। নোবেল কমিটির বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইনের পরিধি আরও বিস্তৃত করা এবং ক্ষমতাশালী ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও গুরুতর অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পিল্লাইয়ের অবদান উল্লেখযোগ্য। মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং মানবিক মর্যাদা রক্ষায় তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

    বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই থেকে আন্তর্জাতিক বিচারাঙ্গনে

    ১৯৪১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে জন্ম নাভি পিল্লাইয়ের। ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত একটি দরিদ্র পরিবারে তাঁর বেড়ে ওঠা। সেই সময় দক্ষিণ আফ্রিকায় চলছিল বর্ণবৈষম্যমূলক শাসনব্যবস্থা, যেখানে জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষের অধিকার ও সুযোগ সীমিত করা হতো। পিল্লাইয়ের বাবা নারায়ণস্বামী নাইডু বাসচালক হিসেবে কাজ করতেন এবং সংসার চালাতে মাছ ধরার মতো অতিরিক্ত কাজও করতেন। মা সন্থামা নাইডু ছিলেন গৃহবধূ। আট ভাইবোনের মধ্যে পিল্লাই ছিলেন পঞ্চম। তাঁর পূর্বপুরুষেরা উনিশ শতকের শেষভাগে ভারত থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তাঁরা মূলত নাটাল অঞ্চলের চিনির খেতে চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে গিয়েছিলেন। প্রতিকূল সামাজিক পরিস্থিতির মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যান পিল্লাই। পরবর্তী সময়ে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৮ সালে তিনি জুরিডিক্যাল সায়েন্সে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।

    দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম সারির নারী আইনজীবীদের একজন

    ১৯৬৭ সালে নাটাল প্রদেশে নিজস্ব আইনচর্চা শুরু করেন পিল্লাই। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ওই অঞ্চলে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস শুরু করা প্রথম মহিলা ছিলেন। বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী এবং নিপীড়িত মানুষের আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। বর্ণবৈষম্যের অবসানের পর দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টে বিচারপতি হিসেবে মনোনীত প্রথম অশ্বেতাঙ্গ মহিলাও ছিলেন তিনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর কর্মজীবনের এই অধ্যায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তি ও সমানাধিকারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

    রুয়ান্ডার গণহত্যার বিচারে ঐতিহাসিক ভূমিকা

    নাভি পিল্লাইয়ের আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও বৃদ্ধি পায় রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারপতি হিসেবে কাজ করার সময়। ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডায় সংঘটিত গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের জন্য এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি ট্রাইব্যুনালের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মামলা ছিল রুয়ান্ডার তাবা অঞ্চলের প্রাক্তন মেয়র জঁ-পল আকায়েসুর বিচার। তাঁর বিরুদ্ধে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যায় সরাসরি ও প্রকাশ্যে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। ১৯৯৮ সালের ঐতিহাসিক রায়ে আদালত জানায়, নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে সংঘটিত হলে ধর্ষণ ও যৌন হিংসা গণহত্যার অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। পরিস্থিতি ও অপরাধের প্রকৃতি অনুযায়ী এগুলি মানবতাবিরোধী অপরাধও হতে পারে। এই রায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে যৌন হিংসার বিচার এবং সংঘাতের সময় নারীদের ওপর সংঘটিত অপরাধের স্বীকৃতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করে। গণহত্যায় প্রচারমাধ্যম ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ভূমিকা এবং উসকানির জন্য তাঁদের দায়বদ্ধতা নির্ধারণের ক্ষেত্রেও ট্রাইব্যুনালের রায়গুলি তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।

    আন্তর্জাতিক আদালত ও রাষ্ট্রসংঘে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব

    ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন পিল্লাই। ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি ওই পদে ছিলেন। একই বছর রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি এবং ২০১৪ সাল পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, সংঘাত এবং নিপীড়নের ঘটনায় আন্তর্জাতিক নজরদারি ও জবাবদিহির প্রশ্নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগসংক্রান্ত মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গেও তাঁর নাম যুক্ত হয়। গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করে। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) পৃথক প্রতিষ্ঠান—প্রথমটি ব্যক্তির আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার করে, আর দ্বিতীয়টি মূলত রাষ্ট্রগুলির মধ্যে আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি করে। পিল্লাই রাষ্ট্রসংঘের প্যালেস্টাইন-বিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের নেতৃত্বও দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    যৌন হিংসা, গণহত্যা ও মানবাধিকারের প্রশ্নে অবদান

    নোবেল কমিটির বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধের সংজ্ঞা এবং আইনি মানদণ্ড বিকাশেও পিল্লাইয়ের অবদান রয়েছে। বিশেষ করে গণহত্যা, যৌন হিংসা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা আন্তর্জাতিক আইনকে আরও শক্তিশালী করেছে। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—কোনও ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের ক্ষমতা যেন গুরুতর অপরাধের বিচারের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই নীতির পক্ষে অবস্থান নেওয়া। অপরাধের শিকার মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার এবং রাষ্ট্রের আইনি দায়বদ্ধতার প্রশ্নেও তিনি বারবার গুরুত্ব দিয়েছেন।

    ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার বার্তা

    নাভি পিল্লাইয়ের কর্মজীবন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবৈষম্যমূলক সমাজে অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় মানবাধিকার রক্ষার বিস্তৃত পরিসর পর্যন্ত বিস্তৃত। তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন, গণহত্যার বিচার এবং অপরাধের শিকার মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারের বিষয়গুলি নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। নোবেল কমিটির বক্তব্যের সারমর্ম হলো, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবিক মর্যাদা রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি। সেই লক্ষ্যেই দীর্ঘদিন কাজ করে গিয়েছেন নাভি পিল্লাই।

     

     

     

     

     

  • Mahalaya 2026: ঢাকের বাদ্যি, ড্রোন শো, আতশবাজি! মহালয়ায় ইডেনে ৪৫হাজার দর্শকের সমাগম, কড়া নিরাপত্তা

    Mahalaya 2026: ঢাকের বাদ্যি, ড্রোন শো, আতশবাজি! মহালয়ায় ইডেনে ৪৫হাজার দর্শকের সমাগম, কড়া নিরাপত্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আশ্বিনের শারদ প্রাতে রেডিওয় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনীর স্তোত্রর। জানান দেয় পুজো এসেছে। শরতের শিউলি ফোটা ভোর শোনায় মহালয়ার সুর। বেজে ওঠে পুজোর দামামা। গঙ্গায় পিতৃতর্পণ সেরে সারাদিন চলে পুজোর কেনাকাটা। তবে, এবার মহালয়ার দিনটা একটু অন্যভাবে কাটতে চলেছে তিলোত্তমার। মহালয়ার সন্ধ্যা আরও মোহময় হয়ে উঠতে চলেছে ইডেন উদ্যানে রাজ্য সরকারের আয়োজিত মা দুর্গার আবাহনের অনুষ্ঠানে। সেখানে একছন্দে বাজবে তিন হাজার ঢাক। এক হাজার উলুধ্বনিতে মুখরিত হবে বাংলার আকাশ-বাতাস। শঙ্খধ্বনির আওয়াজ জানান দেবে, মা আসছে বাংলার ঘরে ঘরে। নাচে-গানে তিন হাজার ড্রোনের রঙিন আলোয় মাতৃ আবাহনের অভাবনীয় অভিনব দৃশ্যের সাক্ষী থাকবে গোটা বিশ্ব। ঢাকের বোল এবং শঙ্খের মিলিত ধ্বনি বিশ্বরেকর্ড গড়বে।

    ৪৫ হাজার দর্শকের সমাগম

    ১০ অক্টোবর ইডেন গার্ডেন্সে মহালয়া উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। দুর্গাপুজোর সূচনা উদ্‌যাপনে এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৪৫ হাজার দর্শকের সমাগম হতে পারে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি রেড রোডে শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পারেন ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। ভিড় সামলাতে টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের সময়কার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধাঁচেই প্রস্তুতি নিচ্ছে কলকাতা পুলিশ। স্টেডিয়াম চত্বরে দুই স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি রেড রোডে শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে আরও প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জমায়েত হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সেখানেও পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিবের নেতৃত্বে একটি সমন্বয় বৈঠক হয়। সেখানে কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পুরসভা, রাজ্যের পূর্ত দফতর-সহ একাধিক বিভাগের আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় এবং দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, স্টেডিয়ামের আশপাশে বিশেষ বাহিনী ও কুইক রেসপন্স টিম মোতায়েন থাকবে। দর্শকদের প্রবেশ, বেরিয়ে আসা এবং গোটা সন্ধ্যায় ভিড়ের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর রাখা হবে।

    অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ

    বাংলার সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক উৎসব দুর্গাপুজোর সূচনা উপলক্ষে মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে সাজানো হবে এই অনুষ্ঠান। ঢাকের বাদ্যি, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, থ্রিডি প্রজেকশন ম্যাপিং, ড্রোন শো এবং আতশবাজির প্রদর্শনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে। প্রায় চার ঘণ্টার এই অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক দর্শকের সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ১০ হাজার ঢাকি এবং এক হাজার মহিলা এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন। বাংলার বিভিন্ন জেলার নিজস্ব নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও তুলে ধরা হবে।

    রেড রোডে বিকেল ৪টেয় শোভাযাত্রা

    প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, রেড রোডে অনুষ্ঠান বিকেল ৪টে নাগাদ শুরু হবে। অনুষ্ঠানটি প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট চলার কথা। এরপর ইডেন গার্ডেন্সে মূল অনুষ্ঠান চলবে প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা। শনিবার আলোকোজ্জ্বল রেড রোড ধরে খোলা জিপে ইডেনের উদ্দেশে রওনা হবেন মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপাল আর এন রবি। রাস্তার পাশে একেকটি জেলার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, শিল্পকলা ও সেখানকার সংগীত-নৃত্য তুলে ধরতে সাজানো হয়েছে স্টেজ। রেড রোড হয়ে সেই শোভাযাত্রা যাবে ইডেনে। সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি থাকবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন শো থেকে থ্রি ডি প্রজেকশন ম্যাপিং শো। তাতে ফুটে উঠবে মা দুর্গার আবাহন।

    ইডেন থেকে বুর্জ খলিফায়

    এই অনুষ্ঠান ইডেন থেকে পৌঁছে যাবে প্রবাসেও। দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা, আমেরিকার বস্টন এবং নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারের একসঙ্গে এই অনুষ্ঠান দেখতে পাবেন সেখানকার মানুষও। কলকাতার মূল অনুষ্ঠানের সঙ্গেই জেলায় জেলায় শুরু হয়ে যাবে উৎসব। শুক্রবার পর্যন্ত যে তালিকা রয়েছে তাতে ঠিক আছে, ইডেনে আজকের অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন শান, লগ্নজিতা, কৌশিকী চক্রবর্তী, অন্তরা মিত্র। থাকবে বাংলা ব্যান্ড দোহার এবং শান্তনু মৈত্র ও তাঁর গ্রুপ। এছাড়াও যন্ত্রসঙ্গীতে দেবর্ষি ভট্টাচার্য-সহ অন্যরা।

    যান চলাচলে বিধিনিষেধ

    ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ময়দান এলাকায় একাধিক বিধিনিষেধ জারি করা হতে পারে। কিংসওয়ে দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। রেড রোডেও একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। শহরের বাস পরিষেবার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি করা হবে। ট্রাফিক পুলিশ চৌরঙ্গি রোড দিয়ে বাসের গতিপথ ঘুরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা ব্যক্তিগত গাড়ি ও ভাড়া করা গাড়ির পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। আইপিএলের ম্যাচের দিনের পার্কিং ব্যবস্থার ধাঁচে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। স্ট্র্যান্ড রোড সংলগ্ন এলাকাতেও গাড়ি রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

    আমন্ত্রণপত্র থাকলেই ইডেনে প্রবেশ

    মহালয়া উপলক্ষে কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। রেড রোডের শোভাযাত্রায় বাংলার বিভিন্ন জেলার নিজস্ব নৃত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে। এই শোভাযাত্রা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে ইডেন গার্ডেন্সের মূল অনুষ্ঠানে প্রবেশের ক্ষেত্রে আমন্ত্রণপত্র বাধ্যতামূলক থাকবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগমের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা, যান নিয়ন্ত্রণ, পানীয় জল, শৌচাগার এবং পরিচ্ছন্নতার মতো একাধিক বিষয়ে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন।

    ড্রোন দিয়ে আকাশপথে নজরদারি

    গঙ্গার দুই পাড়কেও উৎসবের রঙে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ রয়েছে। থাকছে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিভিন্ন শিল্পী ও ব্যান্ডের পরিবেশনার পাশাপাশি থাকছে গঙ্গা আরতি। এদিকে, ইডেনের এই মেগা অনুষ্ঠানের জন্য স্ট্যান্ড রোড-সহ একাধিক রাস্তায় পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ। কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্ট্র্যান্ড রোড, সেন্ট জর্জেস গেট রোডে রাজা উডমন্ট স্ট্রিট ও হেস্টিংস ক্রসিংয়ের মধ্যে কোনও পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকছে। শনিবার ভোর চারটে থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ জারি থাকছে। তবে জরুরি পরিষেবা দেওয়া পণ্যবাহী যানগুলিকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। বিটি রোড, খগেন চ্যাটার্জি রোড, কাশীপুর রোড, স্ট্র্যান্ড ব্যাঙ্ক রোড, রবীন্দ্র সরণি (কেভিভি অ্যাভিনিউ থেকে বি কে পাল অ্যাভিনিউ পর্যন্ত), শোভাবাজার স্ট্রিট, নিমতলা ঘাট স্ট্রিটও বন্ধ রাখা হচ্ছে। বাবুঘাট রুটের বাসগুলি হেয়ার স্ট্রিট এবং স্ট্র্যান্ড রোডের ক্রসিংয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। মহালয়া উপলক্ষে শহরে ১৫০০ পুলিশ মোতায়েন থাকছে। জলপথ, সড়কপথে নজরদারি চলছে। ড্রোন দিয়ে আকাশপথেও নজরদারি চলছে।

     

     

     

     

     

  • Rain in Durga Puja: মহালয়াতেও ঝড়বৃষ্টি কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে! পুজোয় বৃষ্টির সম্ভাবনা, কী বলছে হাওয়া-অফিস?

    Rain in Durga Puja: মহালয়াতেও ঝড়বৃষ্টি কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে! পুজোয় বৃষ্টির সম্ভাবনা, কী বলছে হাওয়া-অফিস?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর আমেজে মেতে উঠছে বাংলা। এর মধ্যেই আবহাওয়ার মতি গতি নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। ভোরের দিকে হালকা শীতের আমেজ থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে পারে পরিস্থিতি। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার পাশাপাশি রাজ্যের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির (Rain in Durga Puja) সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতাতেও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

    দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া

    আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বর্ধমান, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে। কয়েকটি জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। ফলে মহালয়ার দিন বাইরে বেরোনোর পরিকল্পনা থাকলে আবহাওয়ার দিকে নজর রাখা জরুরি।

    বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের সম্ভাবনা

    আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, থাইল্যান্ড উপসাগর ও সংলগ্ন অঞ্চলে একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। আগামী ১১ অক্টোবর নাগাদ আন্দামান সাগরের উপর আরও একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই দুই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে আগামী ১৩ অক্টোবর নাগাদ একটি নিম্নচাপ এলাকা তৈরি হতে পারে। এর জেরে পরবর্তী সময়ে বাংলার আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, উত্তর বাংলাদেশ ও সংলগ্ন অঞ্চলে একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। পাশাপাশি পশ্চিম অসম থেকে উত্তর বাংলাদেশ, উপ-হিমালয় পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ের উপর দিয়ে তেলঙ্গানা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা। এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতির জেরে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যদিও আপাতত দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির কোনও উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনার কথা জানানো হয়নি।

    দুর্গাপুজোতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা

    দুর্গাপুজোতেও (Durga Puja 2026) বৃষ্টির হাত থেকে রেহাই মিলছে না। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়ে দিল, অষ্টমী পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে। ভিজবে কলকাতাও। নবমী থেকে আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। দুর্গাপুজোর বিশেষ বুলেটিন শুক্রবার বিকেলে প্রকাশ করেছে হাওয়া অফিস। মহালয়া থেকে একাদশী পর্যন্ত কবে আবহাওয়া কেমন থাকবে, কোথায় কোথায় বৃষ্টি হতে পারে, বিশদ জানানো হয়েছে ওই বুলেটিনে। এ বার পুজোয় সপ্তমী দু’দিন।

    পঞ্চমী, ষষ্ঠী, প্রথম সপ্তমী (১৫ থেকে ১৭ অক্টোবর)— কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণের বাকি জেলাগুলিতেও বিক্ষিপ্ত বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

    দ্বিতীয় সপ্তমী, অষ্টমী (১৮ এবং ১৯ অক্টোবর)— দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

    নবমী, দশমী, একাদশী (২০ থেকে ২২ অক্টোবর)— দক্ষিণবঙ্গে মোটের উপর শুকনো আবহাওয়া। বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।

     

     

     

     

     

  • Mahalaya 2026: মহালয়ার দিন পিতৃ তর্পণ করেছিলেন শ্রীরাম! জানেন দুর্গাপুজোর আগে কী মাহাত্ম্য এই বিশেষ দিনের?

    Mahalaya 2026: মহালয়ার দিন পিতৃ তর্পণ করেছিলেন শ্রীরাম! জানেন দুর্গাপুজোর আগে কী মাহাত্ম্য এই বিশেষ দিনের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে গেল। মহালয়ার ভোর থেকেই চলে উমার মর্তে আগমনের প্রতীক্ষা। হিন্দু ধর্মে এই দিনটি অত্যন্ত তাত্‍পর্যপূর্ণ। মহালয়াতে পিতৃপক্ষের অবসানে দেবীপক্ষের সূচনা হয়। মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদ তিথি থেকে শুরু হয় শারদীয়া নবরাত্রি পালন। নয় রাত ধরে দেবীর নয়টি আলাদা আলাদা রূপের পুজো চলে। বাঙালিদের কাছে মহালয়ার (Mahalaya) বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। মনে করা হয়, মহালয়াতেই মহিষাসুরকে বধ করার জন্য পার্বতীর কাছে প্রার্থনা করা হয়। দেবীপক্ষের সূচনার এই দিনের ভোরে রেডিয়োতে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের (Birendra Krishna Bhadra) মহিষাসুরমর্দিনী শোনা বাঙালি সমাজের একটি প্রচলিত রেওয়াজ। মহিষাসুরমর্দিনী শুনেই যেন শুরু হয়ে যায় বাঙালির দুর্গোত্‍সব।

    সর্বপিতৃ অমাবস্যা, পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ

    পিতৃপক্ষের অমাবস্যায় পালিত হয় মহালয়া। এদিন প্রয়াত পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ শ্রাদ্ধ করা হয় বলে একে সর্বপিতৃ অমাবস্যাও বলা হয়। এদিন সেই সমস্ত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে শ্রাদ্ধ করা হয় যাঁদের মৃত্যুর তিথি জানা নেই বা কোনও কারণে কোনও পূর্ব পুরুষের শ্রাদ্ধ না-করলে এই তিথিতে তাঁদের শ্রাদ্ধ করবেন। মহালয়ার দিনে শ্রাদ্ধ করলে পূর্বপুরুষরা মুক্তি লাভ করেন। বিশ্বাস করা হয় যে পিতৃপক্ষে শ্রাদ্ধ শান্তি ও তর্পণ করলে পূর্ব পুরুষেরা খুশি হন এবং আশীর্বাদ করেন। তাঁদের কৃপায় জীবনের অনেক বাধা দূর হয়। জীবনের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থেকেও মুক্তি মেলে। পিতৃপক্ষের শ্রাদ্ধ ও তর্পণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এজন্যেই দেবীপক্ষ শুরুর আগে পূর্ব পুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করা হয়।

    মহালয়ার নানা আখ্যান

    দেবরাজ ইন্দ্রের অনুসারে মহালয়া: পুরাণ মতে, দেবরাজ ইন্দ্রকে ১৬ দিনের জন্য মর্তে গিয়ে তর্পণ করতে পাঠান যমরাজ। আর এই ১৬ দিনই পিতৃপক্ষ নামে পরিচিত হয় এবং সেই সময় থেকেই মহালয়ার দিন এবং তার আগে ১৫ দিন পিতৃপুরুষদের জলদান করা হয়।

    রামায়ণ অনুসারে মহালয়া: শাস্ত্রের নিয়মানুসারে, অকালে কোনও পুজো করলে ইষ্ট দেবতা ও প্রয়াত পিতা -মাতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তর্পণ করতে হয়। শ্রী রামচন্দ্র, দেবী দুর্গার অকাল বোধন করেছিলেন। আর নিয়ম মেনে তাঁকেও পুজোর আগে পিতৃপুরুষকে জলদান করতে হয়েছিল। কথিত আছে রামচন্দ্র, মহালয়ার দিন পিতৃ তর্পণ করেছিলেন। আর সেই থেকেই শুরু হয় এই রীতির।

    মহাভারত অনুসারে মহালয়া : কথিত আছে, স্বর্গে বসবাস করার সময় কর্ণের আত্মাকে খাবার হিসাবে শুধু সোনা ও রত্ন দেওয়া হয়। কারণ দাতা হিসাবে তিনি কখনও পিতৃপুরুষকে জল -খাবার দেননি, সকলকে সোনা -রত্ন দান করেছেন। আসলে কর্ণ, প্রথমে তাঁর পিতৃ পরিচয় জানতেন না। যুদ্ধের আগের রাতে কুন্তীর থেকে সে জানতে পারে সকল সত্যি। এরপরই ভুল সংশোধন করতে তর্পণের পরামর্শ আসে।

    প্রকৃতিতে আগমনীর সুর

    দুর্গাপুজো যেমন সব বাঙালির প্রাণের উত্‍সব, তেমনই বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে আছে মহালয়া। কারণ বাঙালিদের কাছে মহালয়া প্রয়াত পিতৃপুরুষকে জল দিয়ে তুষ্ট করার পাশাপাশি দেবীকে আবাহন করার দিন। সাধারণত মহালয়ার দিনই প্রতিমাশিল্পীরা দেবী দুর্গার চক্ষুদান করে থাকেন। এখানে উমা বাঙালির ঘরের মেয়ে, এক বছর পর তিনি বাপের বাড়ি ফিরছেন। সেই আনন্দে মেতে ওঠে সবাই। আগমনীর সুর বেজে ওঠে প্রকৃতিতেও। মহালয়া থেকে যে দেবীপক্ষের সূচনা হয়, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর মাধ্যমে তার অবসান হয়।

     

     

     

     

     

  • Nandigram-Rejinagar By-Election: রেকর্ড গড়ে নন্দীগ্রামে ১,২২, ৭৫৩ ভোটে জয়ী হাসিরানি রথ, ৭৪ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত রেজিনগরেও জিতল বিজেপি

    Nandigram-Rejinagar By-Election: রেকর্ড গড়ে নন্দীগ্রামে ১,২২, ৭৫৩ ভোটে জয়ী হাসিরানি রথ, ৭৪ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত রেজিনগরেও জিতল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে বিধানসভা উপ নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে (Nandigram-Rejinagar By-Election) রেকর্ড মার্জিনে জয় বিজেপির। ১৫ রাউন্ড গণনার শেষে নন্দীগ্রামে ১,২২৭৫৩ ভোটে জয়ী হলেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। ১৫ রাউন্ডের শেষে রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ৭৫,৭৪৮ ভোটে জয়ী হয়েছেন। উপনির্বাচনের ফল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “দুই কেন্দ্রেই রাষ্ট্রবাদী শক্তি জিতেছে। সংখ্যালঘুরাও সরকারের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে নিয়েছেন।” নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর, উভয় কেন্দ্রেই নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের বহু যোজন পেছনে ফেলে দিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন গেরুয়া শিবিরের প্রার্থীরা।

    নন্দীগ্রামে শুভেন্দুকেও পিছনে ফেললেন হাসিরানি

    নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর রেকর্ড ভাঙলেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। উপ নির্বাচনে ১ লক্ষ ২০ হাজার ভোটের মার্জিনে জয়ী হলেন হাসিরানি। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ৮১ হাজারের বেশি ভোটের মার্জিনে জিতেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম থেকেও ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। দু’টি কেন্দ্রেই জেতেন তিনি। পরে ভবানীপুর রেখে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। রেজিনগরেও অনুরূপ ঘটনা ঘটে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি) বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ওই কেন্দ্রের পাশাপাশি লড়েছিলেন নওদা থেকেও। নওদা নিজের হাতে রেখে তিনি রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন । ফলে নির্বাচন কমিশনকে এই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের আয়োজন করতে হয়।

    রেজিনগরেও রেকর্ড

    ৭৪ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত রেজিনগরেও জিতল বিজেপি, ব্যবধান ৭৫ হাজার। গত ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর দুই কেন্দ্রে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবার উপনির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে প্রায় ৭৯.৩৯ শতাংশ এবং রেজিনগর কেন্দ্রে প্রায় ৭৮.৪২ শতাংশ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলেন। রেজিনগরের ফল ঘোষণার পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্ন থেকে বললেন, ”রেজিনগরে এত বড় জয় আসত না, যদি সংখ্যালঘুরা আমাদের সঙ্গে না থাকতেন । সংখ্যালঘুদের নামে যে মিথ্যাচার করা হয়েছিল, তাকে আমল না দিয়ে সঙ্গে থেকেছেন সংখ্যালঘুরা । বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাঁরা”। তিনি আরও বলেন, ১৯৭২ সালে কংগ্রেসের সময়ে নির্বাচনে যে দৃশ্য দেখা গেছিল , তার কোনওটাই এই নির্বাচনে দেখা যায়নি। এখন রাজ্যে এখন ভয়মুক্ত, ভরসার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সংখ্যালঘুরা সরকারের সঙ্গে থাকতে চায়। তাই তাঁরা বিজেপিতে ভোট দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংখ্যালঘুদের ডিটেনশন সেন্টারের যে ভয় দেখানো হয়েছিল। তা মিথ্যে প্রমাণিত হয়েছে। তাঁর কথায়, ”বাংলার মানুষ আর পচা শামুকে পা কাটতে চান না”। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রেজিনগরের সংখ্যালঘুরা বিজেপির সঙ্গে আছেন।

    সংখ্যালঘুরা সাড়া দিয়েছেন,বললেন শুভেন্দু

    আজ যখন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ফলাফল প্রকাশ হচ্ছে, তখন কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ফ্রেন্ডশিপ বানালিয়া’। এবিভিপি-র একটি অনুষ্ঠানে এদিন আরজি কর হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রবেশ করার সময় দুই আঙুলে জয়ের চিহ্ন দেখান তিনি। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে যেভাবে সংখ্যালঘু ভোট বিজেপির দিকে এসেছে, সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘ফ্রেন্ডশিপ বানালিয়া’, সংখ্যালঘুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে ফেলেছি। উপনির্বাচনের ভোটপ্রচারে গিয়ে সংখ্যালঘুদের বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভোটের ফল প্রকাশ হতেই সেই বন্ধুত্বের ছবি স্পষ্ট। সংখ্যালঘুরা আবেদনে সাড়া দিয়েছেন। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে এমনটাই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী। করজোড়ে সংখ্যালঘুদের ধন্যবাদ জানালেন তিনি। বলেন, “সরকারের বন্ধুত্বের হাত ধরেছেন সংখ্যালঘুরা, সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে বন্ধুত্ব করতে চান, আমি খুশি”।

    সংখ্যালঘু ফ্যাক্টর

    উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়ে শুভেন্দু বলেন, ” ভারতীয় জনতা পার্টিকে জিতিয়েছিলেন ফলতার মানুষ। তারপর দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন ছিল। এই উপনির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক ভোটে নন্দীগ্রাম থেকে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে হাসিরানি রথ বিপুল সংখ্যক ভোটে জয়যুক্ত হয়েছেন।” সংখ্যালঘু ভোট প্রসঙ্গে বলেন, “২০২১ সালের পর প্রথম নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ৬০টি বুথে ভারতীয় জনতা পার্টি লিড নিয়েছে। আমরা সরকারের সঙ্গে থেকে থেকে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে সামিল হওয়ার যে আবেদন করেছিলাম, তা গ্রহণ করেছেন। রেজিনগর কেন্দ্রেও ঠিক একইভাবে চূড়ান্ত ফল প্রায় এসে গিয়েছে। শাখারভ সরকারকে জনতা আশীর্বাদ করেছেন। আমার যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, নির্বাচন বিধি প্রত্যাহার হয়নি, তাই যেতে পারিনি। কারণ নির্বাচনী বিধি থাকলে হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারি না। তাই এখান থেকে রেজিনগরের ভোটারদের প্রণাম করছি।” বাংলার যে কোনও নির্বাচনেই সংখ্যালঘু ভোট একটা বড় ফ্যাক্টর। ২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বড় জয় পেয়ে রাজ্যে সরকার গঠন করে, যেখানে তাদের ভোটব্যাংকে বড় ধরনের মেরুকরণ ও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছিল। উপনির্বাচনের আগে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে বার্তা দিয়ে তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সরকারের সঙ্গে থাকার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উন্নয়ন তথা ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের পক্ষ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন, “সংখ্যালঘু ভোটারদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ এবং তাদের প্রধানমন্ত্রী মোদীর উন্নয়নের ধারায় সামিল হতে হবে।” তাতে সাড়াও মিলল।

     

     

     

     

  • Flydubai Terror Attack: বীরত্বের স্বীকৃতি, ইজরায়েলের সর্বোচ্চ অসামরিক সাহসিকতা পুরস্কার পাচ্ছেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছর

    Flydubai Terror Attack: বীরত্বের স্বীকৃতি, ইজরায়েলের সর্বোচ্চ অসামরিক সাহসিকতা পুরস্কার পাচ্ছেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাঝ আকাশে বিমান ছিনতাই ও দুর্ঘটনার চেষ্টা রুখে দেওয়ার সাহসিকতার জন্য ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করতে চলেছে ইজরায়েল। তাঁকে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড ফর সিভিলিয়ান হিরোইজম’ বা অসামরিক বীরত্বের জন্য রাষ্ট্রপতির পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেছেন ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। ইজরায়েলের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা প্রতিহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন ছয় ইজরায়েলি যাত্রী। বৃহস্পতিবার তাঁদের হাতে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল ফর সিভিলিয়ান হিরোইজম’ তুলে দেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। সেই অনুষ্ঠানেই ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেন তিনি।

    ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতার প্রশংসা

    হারজগ বলেন, ক্যাপ্টেন মাচ্ছর যাতে দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন, সেই কামনা করছেন তাঁরা। তাঁর কথায়, “ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের অসামান্য সাহস, বীরত্ব এবং পেশাদারিত্ব এক ভয়াবহ বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছে। তিনি সুস্থ হয়ে উঠলে ইজরায়েলের জনগণের পক্ষ থেকে তাঁকে এই সম্মান প্রদান করা আমার কাছে গর্বের বিষয় হবে।” এই ঘটনায় সাহসিকতার পরিচয় দেওয়ার জন্য যে ছয় ইজরায়েলি নাগরিককে সম্মানিত করা হয়েছে, তাঁরা হলেন তালি মানেস, জভিকা মানেস, ইয়ানিভ হায়ুন, চিকিৎসক শোটা মুসায়েভ, আসাফ রাজুয়ান এবং অর পার্দিলভ।

    মাঝ আকাশে প্রাণঘাতী হামলা

    গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানে ঘটে যায় এক ভয়াবহ ঘটনা। অভিযোগ, বিমানের ওমানি সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি ককপিটের ভিতরে ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের উপর কুড়ুল দিয়ে হামলা চালান। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বিমানটিকে ভেঙে ফেলা। গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও পরিস্থিতির মোকাবিলা করেন ক্যাপ্টেন মাচ্ছর। তিনি ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এর পর যাত্রী এবং বিমানে থাকা কর্তব্যরত নন, এমন কয়েকজন ক্রু সদস্য ককপিটে ঢুকে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। এই সংঘর্ষের জেরে বিমানটি দ্রুত নীচের দিকে নামতে শুরু করে। মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার ফুট নীচে নামে বিমানটি। পরে ছিনতাই-সংক্রান্ত জরুরি সংকেত পাঠানো হয়। শেষ পর্যন্ত বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে নিয়ে গিয়ে জরুরি অবতরণ করানো হয়। বিমানে থাকা ১৮০ জন যাত্রী ও কর্মী নিরাপদে নেমে আসেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    আবুধাবির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাইলট

    বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আবুধাবির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। গুরুতর আঘাতের পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি। বুধবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, মাচ্ছরের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে এবং চিকিৎসায় তিনি ভালো সাড়া দিচ্ছেন। তাঁর কথায়, “ক্যাপ্টেন মাচ্ছর আবুধাবির হাসপাতালে রয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ভারতের দূতাবাস তাঁর পরিবার, চিকিৎসক, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।” এর আগে মঙ্গলবারও আবুধাবিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের তরফে তাঁর স্বাস্থ্যের বিষয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে জানানো হয়, ক্যাপ্টেন স্মিতের শারীরিক অবস্থার ধারাবাহিক উন্নতি হচ্ছে। তাঁর পরিবার, চিকিৎসক এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে দূতাবাস নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে।

    সাহসিকতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

    মাঝ আকাশে প্রাণঘাতী হামলার মুখেও নিজের কর্তব্যে অবিচল থেকে বড়সড় বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। তাঁর এই সাহসিকতাকে স্বীকৃতি জানিয়ে ইজরায়েলের রাষ্ট্রপতির বিশেষ সম্মান প্রদানের ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলে তাঁর ভূমিকার গুরুত্ব আরও একবার তুলে ধরল। এখন সুস্থ হয়ে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছেন ক্যাপ্টেন মাচ্ছর। তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে ভারতীয় দূতাবাসের আধিকারিকরা।

  • Ganga Underwater Road Tunnel: গঙ্গার নীচে ট্রাক টানেল তৈরিতে আগ্রহী আদানি! ১১ হাজার কোটির প্রকল্প ঘিরে বড় সম্ভাবনা

    Ganga Underwater Road Tunnel: গঙ্গার নীচে ট্রাক টানেল তৈরিতে আগ্রহী আদানি! ১১ হাজার কোটির প্রকল্প ঘিরে বড় সম্ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলায় ১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের আশ্বাস দিয়েছেন গৌতম আদানি। দার্জিলিংয়ের পাহাড়ে রোপওয়ে নির্মাণ থেকে নিউটাউনে হাসপাতাল, বাংলায় বিনিয়োগের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে আদানি গোষ্ঠী। এবার কলকাতা ও হাওড়ার মধ্যে গঙ্গার নীচ দিয়ে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলের জন্য প্রস্তাবিত সড়ক টানেল প্রকল্পেও আগ্রহ দেখাল শিল্পগোষ্ঠীটি। নবান্ন সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে এই প্রকল্পে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি। প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হলে তাতে অংশ নিতে প্রস্তুত গোষ্ঠী। তবে এখনও নির্মাণের বরাত বা বিনিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

    মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে টানেল প্রকল্প নিয়ে আলোচনা

    সূত্রের দাবি, কলকাতা সফরে এসে ‘সৌজন্য’ ভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন গৌতম আদানি ও তাঁর প্রতিনিধিরা। সেখানে কলকাতা বন্দর থেকে হাওড়ার দিকে পণ্য পরিবহণের বিকল্প পথ হিসেবে প্রস্তাবিত তারাতলা–সাঁকরাইল আন্ডারওয়াটার সড়ক টানেল প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রকল্পের পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পরে আদানি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা দরপত্রে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।

    সূত্রের আরও দাবি, এই প্রকল্প নিয়ে আগাম প্রস্তুতি নিয়েই বৈঠকে এসেছিলেন আদানি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা। যদিও সম্ভাব্য বিনিয়োগের অঙ্ক, প্রকল্পে অংশগ্রহণের ধরন কিংবা নির্মাণের সময়সীমা নিয়ে এখনও নির্দিষ্ট কোনও তথ্য সামনে আসেনি।

    ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলায় এক লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের পরিকল্পনা

    আদানিদের এই আগ্রহের পিছনে রয়েছে বাংলায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের বৃহত্তর পরিকল্পনা। গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিউটাউনে আদানি আরোগ্য মন্দিরের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে গৌতম আদানি জানিয়েছিলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করতে চায় তাঁর গোষ্ঠী।

    সেই ঘোষণায় বন্দর, পণ্য পরিবহণ, সড়ক, সেতু-সহ একাধিক পরিকাঠামো ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বণ্টন, সিমেন্ট, রোপওয়ে এবং হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টারের মতো ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য বিনিয়োগের কথা উঠে এসেছিল।

    নিউটাউনে হাসপাতাল নির্মাণের পাশাপাশি মহাকরণ সংস্কার ও দার্জিলিংয়ে রোপওয়ে তৈরির সম্ভাবনা নিয়েও আদানি গোষ্ঠীর আগ্রহের কথা সামনে এসেছে। এবার সেই তালিকায় গঙ্গার নীচ দিয়ে সড়ক যোগাযোগের প্রস্তাব যুক্ত হওয়ায় রাজ্যে গোষ্ঠীটির সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিধি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    কেন প্রয়োজন গঙ্গার নীচে সড়ক টানেল?

    কলকাতা বন্দরের পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করাই প্রস্তাবিত টানেল প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। বর্তমানে বন্দরে আসা এবং বন্দর থেকে বেরিয়ে যাওয়া ট্রাক ও কন্টেনারবাহী গাড়িকে শহরের একাধিক ব্যস্ত রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। গার্ডেনরিচ, খিদিরপুর, হেস্টিংস এবং বিদ্যাসাগর সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে চলাচলের ফলে অনেক সময় যানজটের মুখে পড়ে পণ্যবাহী গাড়ি।

    এর সঙ্গে রয়েছে ভারী যানবাহন চলাচলের সময়সীমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ। ফলে বন্দরের পণ্য নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া অনেক ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

    এই পরিস্থিতিতে গঙ্গার নীচ দিয়ে বিকল্প সড়কপথ তৈরি করা গেলে কলকাতা বন্দরের সঙ্গে হাওড়ার দিকের জাতীয় সড়ক ব্যবস্থার যোগাযোগ আরও সহজ হতে পারে। শহরের ব্যস্ত রাস্তার উপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি ভারী যানবাহনের চলাচলও আরও মসৃণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যানজট কতটা কমবে এবং প্রকল্পটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত নকশা ও পরিবহণ পরিকল্পনার উপর।

    ১১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প, কী ছিল প্রাথমিক পরিকল্পনা?

    গঙ্গার নীচ দিয়ে সড়ক টানেল তৈরির ভাবনা নতুন নয়। কয়েক বছর ধরেই কলকাতা বন্দরকে নদীর পশ্চিম পাড়ের জাতীয় সড়ক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পিএম গতিশক্তি পরিকল্পনার আওতায় এই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়টিও বিবেচনায় ছিল।

    প্রায় দু’বছর আগে করা সমীক্ষায় প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। সেই সময়ে রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল জানিয়েছিলেন, সম্ভাব্য রুটের খসড়া রিপোর্ট বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে জমা পড়েছে। প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও শুরু করার পরিকল্পনা ছিল।

    প্রাথমিক সমীক্ষা অনুযায়ী, টানেল এবং তার সঙ্গে যুক্ত সড়ক মিলিয়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব ছিল। অর্থাৎ, সম্পূর্ণ ১৫ কিলোমিটার পথ নদীর তলা দিয়ে যাওয়ার কথা নয়। কলকাতার দিকে মেটিয়াবুরুজ এবং হাওড়ার দিকে বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন এলাকায় সংযোগ তৈরির সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছিল।

    তবে বর্তমানে আলোচনায় থাকা তারাতলা–সাঁকরাইল প্রকল্পের চূড়ান্ত রুট, প্রবেশ ও প্রস্থানপথ এবং মোট দৈর্ঘ্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। অনুমোদিত নকশা ও বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট তৈরি হলে এই বিষয়গুলি স্পষ্ট হবে। একইভাবে, আগের সমীক্ষায় উল্লেখ করা ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যয়ই চূড়ান্ত প্রকল্পমূল্য হবে কি না, তা-ও এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

    আদানির বিনিয়োগ পরিকল্পনায় কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প?

    গৌতম আদানির ঘোষিত বিনিয়োগ পরিকল্পনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু পরিকাঠামো। উন্নত বন্দর, সড়ক ও সেতুর সঙ্গে পণ্য পরিবহণ এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটিয়ে শিল্পের বিকাশ ঘটানোই এই পরিকল্পনার মূল ভাবনা।

    নিউটাউনের অনুষ্ঠানে গৌতম আদানি বলেছিলেন, “পরিকাঠামো লক্ষ লক্ষ মানুষের সম্ভাবনাকে বদলে দিতে পারে। আদানি গোষ্ঠীতে আমরা যা করি, তার কেন্দ্রেই রয়েছে পরিকাঠামো।”

    তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা ছিল, উন্নত বন্দর পণ্য পরিবহণকে শক্তিশালী করে। সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা শিল্পকে আকর্ষণ করে এবং শিল্পের বিকাশের সঙ্গে বাড়ে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ। এর জন্য প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং উন্নত ডিজিটাল পরিকাঠামোও।

    ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকেও পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন আদানি। তাঁর মতে, ভারতের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ এবং বঙ্গোপসাগরের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে পৌঁছনোর সুযোগ রাজ্যকে বাড়তি সুবিধা দেয়।

    সেই দৃষ্টিকোণ থেকে কলকাতা বন্দর ও হাওড়ার দিকের জাতীয় সড়কের মধ্যে দ্রুত পণ্য পরিবহণের ব্যবস্থা গড়ে উঠলে তা বন্দরনির্ভর শিল্প, লজিস্টিক পরিষেবা এবং বাণিজ্যিক পরিবহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এই সম্ভাবনার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে প্রকল্পের অনুমোদন, অর্থের জোগান এবং নির্মাণের অগ্রগতির উপর।

    আগ্রহ প্রকাশ, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি

    নবান্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, আপাতত গঙ্গার নীচে প্রস্তাবিত সড়ক টানেলের দরপত্রে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে আদানি গোষ্ঠী। কিন্তু এই আগ্রহকে প্রকল্পের বরাত পাওয়া বা নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

    প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সম্ভাব্যতা, সরকারি অনুমোদন এবং দরপত্রের শর্ত চূড়ান্ত হওয়ার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। আদানি গোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত দরপত্রে অংশ নেয় কি না, অংশ নিলে কী ধরনের প্রস্তাব দেয়, সেদিকেও নজর থাকবে।

    একদিকে নিউটাউনে হাসপাতাল, অন্যদিকে দার্জিলিংয়ে রোপওয়ে এবং এবার গঙ্গার নীচে সড়ক টানেল—পরিকাঠামো ক্ষেত্রে আদানি গোষ্ঠীর আগ্রহের তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলায় এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের ঘোষণার পর এখন বড় প্রশ্ন, এই সম্ভাব্য প্রকল্পগুলির মধ্যে কোনগুলি বাস্তবে রূপ পায় এবং রাজ্যের পরিকাঠামো ও কর্মসংস্থানে কতটা প্রভাব ফেলে।

  • Elderly Health Care: বাড়িতে বয়স্ক বাবা-মা? পুজোর সময় বিপদ এড়াতে আগাম এই ৮টি প্রস্তুতি নিন

    Elderly Health Care: বাড়িতে বয়স্ক বাবা-মা? পুজোর সময় বিপদ এড়াতে আগাম এই ৮টি প্রস্তুতি নিন

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বাতাসে এখন পুজোর গন্ধ! ফুটে ওঠা পদ্ম আর মাঠের কাশফুল জানান দিচ্ছে মা আসছেন! আর মাত্র কয়েক দিন। শহর থেকে গ্রাম, উৎসবের আনন্দে সেজে উঠেছে‌। কিন্তু সব আনন্দের মাঝেও উদ্বেগ রয়েছে! বিশেষত বাড়িতে বয়স্ক বাবা-মায়ের স্বাস্থ্য নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন। পুজোর মরশুমে এলাকার পরিচিত চিকিৎসক, এমনকি নানান হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মীদের অনেকেই ছুটিতে থাকেন। ফলে, সহজেই স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। এমনকি পুজোর সময় বিশেষ দিনে ওষুধের দোকান ও বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য সঙ্কট তো যেকোনো সময় হতে পারে! তখন? এই প্রশ্ন ভাবিয়ে তোলে!
    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আগাম কিছু পরিকল্পনা করে রাখলে এবং কয়েকটি ব্যাপারে বাড়তি নজরদারি ও সচেতনতা বজায় রাখলে, পুজোর দিনগুলোতে বড় বিপদ আটকানো যেতে পারে। পরিবারের বয়স্ক সদস্যেরাও যাতে নির্বিঘ্নে পুজোর দিনগুলোতে আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, তার জন্য প্রয়োজন বাড়তি একটু সচেতনতা।

    পুজোর আগে কী পরিকল্পনা করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা!

    অধিকাংশ পরিবারের বয়স্ক সদস্যকে কোনো একজন নির্দিষ্ট চিকিৎসক দেখেন। তাঁর পরামর্শ মেনেই তিনি নিয়মিত ওষুধ খান। তাঁর সঙ্গে আগাম আলোচনা জরুরি। রোগীর শারীরিক অবস্থা কেমন,‌ কোন ধরনের বিপদ ঘটতে পারে, কোন দিকে বাড়তি নজর রাখতে হবে, সেগুলো চিকিৎসক সবচেয়ে ভালো পরামর্শ দিতে পারবেন। রোগীর শারীরিক পরিস্থিতির নিরিখে, সেগুলো বুঝতে পারলে বড় সঙ্কট এড়ানো সহজ হয়‌।

    ওষুধের তালিকা স্পষ্ট থাকা জরুরি!

    বহু পরিবারেই বয়স্কেরা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ কিংবা কিডনির অসুখে ভুগছেন। তাঁদের নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়। এই ওষুধ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। কোন ওষুধ কতটা পরিমাণে কখন খেতে হবে, সে ব্যাপারে চিকিৎসকের কাছে পরিষ্কার জেনে নেওয়া দরকার। ওষুধের তালিকা স্পষ্ট থাকা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে বাড়িতে রাখা দরকার। কারণ, পুজোর সময়ে অনেকক্ষেত্রে ওষুধের দোকান বন্ধ রাখা হয়। ফলে, হঠাৎ যাতে সমস্যা না হয়, সেটা দেখা জরুরি।

    জরুরি পরিস্থিতিতে কী করবেন, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা!

    রোগীর কোন ধরনের সমস্যা রয়েছে, কিডনি হোক বা হৃদরোগ, কখন বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে, কোন পরিস্থিতিতে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা জরুরি। কারণ, সেই অসচেতনতা অনেক সময় বড় বিপদ ঘটায়। তাই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। তাহলে বাড়তি উদ্বেগ কমবে আবার বিপদ ঘটলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ হবে‌।

    প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কিডনি, হার্টের সমস্যা বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে পুজোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো শারীরিক পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি। কারণ, শারীরিক পরীক্ষা করালে বিপদ সম্পর্কে আন্দাজ পাওয়া সহজ হয়। ফলে পরিকল্পনা সেই মতো করা যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কিনা, উচ্চ রক্তচাপ বাড়তি বিপদ তৈরি করছে কিনা কিংবা কিডনির সমস্যা থাকলে কতখানি সঙ্কট হতে পারে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। তাই আগাম আন্দাজ পেতে কিছু শারীরিক পরীক্ষা বাড়তি সাহায্য করবে।

    হাসপাতাল এবং অ্যাম্বুলেন্সের যোগাযোগ নম্বর এবং বিকল্প চিকিৎসকের খোঁজ রাখা জরুরি!

    দুর্গাপুজোর সময় অনেকেই ছুটিতে থাকেন। আবার কেউ কেউ কর্মরত থাকেন। এলাকায় বিকল্প কোন চিকিৎসকদের পুজোর মরশুমে সহজে পাওয়া যেতে পারে, সেই যোগাযোগ নম্বর রাখা জরুরি। তাহলে বড় সমস্যা হলে সহজেই পরামর্শ নেওয়া যাবে। আবার স্থানীয় কয়েকটি হাসপাতাল এবং অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর রাখা জরুরি। কারণ গভীর রাতে বা এমন কোনো সময় হঠাৎ সমস্যা হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য এগুলো অত‌্যন্ত জরুরি। পুজোর দিনে সেগুলোর পরিষেবা পাওয়া যাবে কিনা, সেটা আগাম যাচাই করে রাখতে হবে।

    প্রস্তুত রাখতে হবে চেক লিস্ট!

    • বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বাড়িতে বয়স্কেরা থাকলে পুজোর সময় একটা চেক লিস্ট রাখা জরুরি। অর্থাৎ, হঠাৎ বড় বিপদ হলে যাতে সহজেই সামলে দেওয়া যায়, তাই আগাম কয়েকটি জিনিস তৈরি করে রাখতে হবে।
      তাঁদের পরামর্শ,
      ● ১. প্রেসক্রিপশন ও ওষুধের তালিকা এমন জায়গায় রাখতে হবে, যাতে সহজেই পাওয়া যায়।
      ● ২. বয়স্ক সদস্য ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যায় আক্রান্ত হলে গ্লুকোমিটার, রক্তচাপ মাপার যন্ত্র বাড়িতে রাখতে হবে। যাতে আচমকা শর্করা বা রক্তচাপ ওঠানামা করছে কিনা সেটা যাচাই করতে হবে।
      ● ৩. পরিচয় পত্র ও স্বাস্থ্য বিমার কার্ড নির্দিষ্ট জায়গায় রাখতে হবে, যাতে বড় বিপদ হলেও পরিস্থিতি সামলানো সহজ হয়।
      ● ৪. হাসপাতাল ও ব্লাড ব্যাঙ্কের মতো জরুরি পরিষেবা পাওয়া যায়, এমন জায়গায় নম্বর ঠিকমতো জেনে রাখা দরকার। যাতে আপদকালীন সময়ে সাহায্য পাওয়া সহজ হয়।

    উৎসবের দিনগুলোতেও জীবন যাপনে বাড়তি নজর!

    উৎসবের দিনে অনিয়ম হয়ে যায়। কিন্তু বাড়ির বয়স্কদের সুস্থ রাখতে জীবন যাপনে নজরদারি প্রয়োজন। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, উৎসব বা আনন্দের দিনে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া, বিশেষত অনিয়মিতভাবে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া যাতে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। বয়স্কদের অতিরিক্ত তেল মশলা জাতীয় খাবার না দেওয়া বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে।
    বয়স্কদের পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কিনা সেদিকে নজর রাখতে হবে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম না হলে বয়স্কদের অনিয়মিতভাবে রক্তচাপ ওঠানামা করতে পারে। ফলে, নানান শারীরিক সমস্যা হতে পারে। তাই আনন্দ উদযাপনের মধ্যেও বয়স্কদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের দিকটি নজরে রাখতে হবে।
    জল খাওয়ার দিকে নজর দিতে হবে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা ‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, বহু অসুখ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণে জল না খাওয়া। তাই পরিবারের বয়স্কেরা ঠিকমতো জল পান করছেন কিনা সেটাও নজরে রাখা জরুরি।

    পড়ে যাওয়া আটকাতে বাড়তি সতর্কতা!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স্কদের বিপদ বাড়িয়ে দেয় হঠাৎ পড়ে যাওয়া। তাই বাড়িতে বয়স্ক বাবা-মা থাকলে অ্যান্টি স্কিপ ম্যাট লাগিয়ে রাখা দরকার। তাছাড়া মাথা ঘোরা বা এমন ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে কখনোই একা ছাড়া উচিত নয়। বিছানা থেকে শৌচালয় যাওয়ার পথে পর্যাপ্ত আলো রাখতে হবে। আবার বাথরুম যাতে শুকনো থাকে সেদিকেও নজর দিতে হবে। রাতের দিকে একা শৌচালয়ে যাওয়া চলবে না। বরং পরিবারের কেউ সঙ্গে থাকা দরকার। যাতে বড় বিপদ না হয়।

    কখন বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে?

    পরিবারের বয়স্ক সদস্য হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে গেলে কিংবা শ্বাসকষ্টের‌ মতো উপসর্গ দেখা দিলে বাড়তি সতর্ক হতে হবে। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা বারবার বমির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেয়ে হবে। অপেক্ষা করা উচিত নয়। বরং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Durga Puja 2026: ষষ্ঠী থেকে দশমী শিয়ালদা-হাওড়া ডিভিশনে সারা রাত ট্রেন, বড় সিদ্ধান্ত রেলের

    Durga Puja 2026: ষষ্ঠী থেকে দশমী শিয়ালদা-হাওড়া ডিভিশনে সারা রাত ট্রেন, বড় সিদ্ধান্ত রেলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোয় (Durga Puja 2026) যাঁরা রাত জেগে মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা দর্শনের কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য ভাল খবর নিয়ে এল পূর্ব রেল (Eastern Railway)। ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত দর্শনার্থীদের অনায়াস যাতায়াত সুনিশ্চিত করতে এবং স্টেশনগুলির উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে একগুচ্ছ বাড়তি ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাওড়া ডিভিশন। শুধু দিনে বা সন্ধ্যায় নয়, রাতে ঠাকুর দেখে নিরাপদে বাড়ি ফেরার সুবিধার্থে বিশেষ নাইট লোকাল ট্রেনের পরিষেবাও রাখা হচ্ছে। এর পাশাপাশি যাত্রীদের সুরক্ষার স্বার্থে স্টেশন প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা, অতিরিক্ত টিকিট কাউন্টার চালু করা এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা পরিষেবা সুনিশ্চিত করার মতো একাধিক প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

    নাইট লোকাল পরিষেবা ও যাত্রী নিরাপত্তা

    রেল সূত্রে খবর, পুজোর দিনগুলিতে রাত ১১টা থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত লোকাল ট্রেন পরিষেবা পাওয়া যাবে। পুজোর দিনগুলিতে একাধিক স্পেশাল ট্রেনের ঘোষণাও করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বার শিয়ালদা ডিভিশনে স্পেশাল ট্রেনের সংখ্যা বেড়েছে। পুজোর আগে লালগোলা ডিভিশনের জন্য স্পেশাল ট্রেন দেওয়া হয়েছে। রয়েছে আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। শিয়ালদা স্টেশনে প্রফুল্ল দ্বার, নর্থ, মেন, সেন্ট্রাল ও সাউথ গেট দিয়ে ঢোকার ও বেরনোর নির্দিষ্ট ব্যবস্থা হয়েছে। একটি বিশেষ ২৪ ঘণ্টা ওয়ার রুম চালু থাকবে। সিসিটিভি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ চলবে। গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে স্ট্যান্ডবাই ট্রেন রেক, রিজার্ভ লোকো ক্রু, মেডিক্যাল বুথ, হেল্প ডেস্ক এবং মোবাইল মেইনটেন্যান্স টিম থাকছে। শিয়ালদা, বালিগঞ্জ ও দমদম স্টেশনে অতিরিক্ত শৌচাগার ব্লক তৈরি হয়েছে। শিয়ালদা ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (DRM) রাজীব সাক্সেনা বলেন, ‘দুর্গাপুজো বাংলার সবচেয়ে বড় উৎসব। প্রত্যেক দর্শনার্থীর জন্য নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করাই অগ্রাধিকার। পুজোর সময়ে যাত্রীদের যাতে কোনওরকম অসুবিধা না হয়, তার জন্য আমাদের সব ফ্রন্টলাইন টিম ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত রয়েছে।’

    কখন কখন চলবে বিশেষ ট্রেন

    ১৬-২১ অক্টোবর: মোট ৫১টি স্পেশাল ট্রেন চলবে। গত বছর চলেছিল ৩১টি স্পেশাল ট্রেন। এগুলির মধ্যে যাত্রীদের সুবিধার জন্য মেন, নর্থ ও সাউথ সেকশনে ৩৮টি ওভারনাইট স্পেশাল এমু পরিষেবা চলবে। সন্ধ্যার সময়ে ১৩টি স্পেশাল ট্রেন চলবে।

    ১০-১৫ অক্টোবর: শিয়ালদা–লালগোলা সেকশনে প্রি-পুজো স্পেশাল ট্রেন চালানো হবে। এক্ষেত্রে চারটি স্পেশাল এমু ট্রেন চালানো হবে। পুজোর দিনে দুপুর ২টোর পর শহরতলির সব মেমু ও এমু ট্রেন সব স্টেশনে দাঁড়াবে। অর্থাৎ গ্যালোপিং ট্রেন থাকছে না।

    হাওড়া ডিভিশনেও বাড়তি নাইট পরিষেবা

    পুজো চলাকালীন হাওড়া স্টেশনে প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ লক্ষ মানুষের সমাগম হতে পারে বলে আগাম আঁচ করছেন আধিকারিকরা। ইতিমধ্যেই হাওড়া ডিভিশনের ওপর দিয়ে মোট ২৫ জোড়া পুজো স্পেশাল ট্রেন চলাচল করছে। ১৭ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত মোট সাত জোড়া বিশেষ দূরপাল্লার ট্রেন যাতায়াত করবে। এর পাশাপাশি স্থানীয় যাত্রীদের কথা ভেবে সাত জোড়া বিশেষ ইএমইউ (EMU) লোকাল ট্রেন চালুর বন্দোবস্ত করা হয়েছে। বিশেষ নাইট লোকাল ট্রেনের পরিষেবাও রাখা হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষের আশা, এই সমস্ত অতিরিক্ত ট্রেনের দৌলতে উৎসবের দিনগুলিতে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানো অনেক বেশি মসৃণ ও আরামদায়ক হবে। এছাড়া, যাত্রীদের সুরক্ষার স্বার্থে স্টেশন প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা, অতিরিক্ত টিকিট কাউন্টার চালু করা এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা পরিষেবা সুনিশ্চিত করার মতো একাধিক প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

LinkedIn
Share