Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • IAF IL-76MD Historic Landing: বিশ্বরেকর্ড গড়ল ভারতীয় বায়ুসেনা! ১৩,৬২৯ ফুট উচ্চতায় লাদাখের নিয়োমায় অবতরণ করল ‘গজরাজ’

    IAF IL-76MD Historic Landing: বিশ্বরেকর্ড গড়ল ভারতীয় বায়ুসেনা! ১৩,৬২৯ ফুট উচ্চতায় লাদাখের নিয়োমায় অবতরণ করল ‘গজরাজ’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিন সীমান্তের কাছে সামরিক পরিকাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে আরও এক বড় মাইলফলক স্পর্শ করল ভারতীয় বায়ুসেনা (Indian Air Force)। লাদাখের মুধ-নিয়োমা (Mudh-Nyoma) বিমানঘাঁটিতে সফলভাবে অবতরণ করল ভারতীয় বায়ুসেনার অত্যাধুনিক ভারী পরিবহণ বিমান আইএল-৭৬এমডি (IL-76MD)। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৩,৬২৯ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই বিমানঘাঁটিতে রুশ নির্মিত ‘গজরাজ’ নামে পরিচিত বিমানটির অবতরণ শুধু ভারতের সামরিক পরিবহণ সক্ষমতারই পরিচয় নয়, বরং চিন সীমান্তে কৌশলগত অবস্থান আরও মজবুত করার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতীয় বায়ুসেনার দাবি, বিশ্বে এই প্রথম এত উচ্চতায় অবতরণ করল আইএল-৭৬এমডি বিমান। শনিবার (৭ নভেম্বর, ২০২৬) এই ঐতিহাসিক সাফল্যের কথা ঘোষণা করে বায়ুসেনা।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ গজরাজের এই অবতরণ?

    আইএল-৭৬এমডি একটি চার ইঞ্জিনবিশিষ্ট ভারী সামরিক পরিবহণ বিমান। সেনা জওয়ান, সামরিক সরঞ্জাম, ভারী যন্ত্রপাতি এবং প্রয়োজনীয় পণ্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দ্রুত পৌঁছে দিতে এই বিমানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষত দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যেখানে সড়কপথে যোগাযোগ কঠিন, সেখানে এই ধরনের ভারী পরিবহণ বিমানের সক্ষমতা সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    নিয়োমা বিমানঘাঁটিতে বিমানটির অবতরণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে চিনের সঙ্গে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC)-র নৈকট্যের কারণে। এই বিমানঘাঁটি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে মাত্র ২৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনা মোতায়েন, ভারী সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত রসদ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হল।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এত উচ্চতায় ভারী পরিবহণ বিমানের অবতরণ প্রমাণ করে যে প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিস্থিতিতেও ভারতীয় বায়ুসেনা তাদের পরিবহণ সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে এগোচ্ছে। তবে শুধু বিমান অবতরণ নয়, এই ধরনের বিমান নিয়মিত পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, আবহাওয়া এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

    ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর থেকে কীভাবে বদলাল নিয়োমার ছবি?

    নিয়োমার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারত-চিন সংঘাতের স্মৃতি। ১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধের পর দীর্ঘদিন এই বিমানপথটি কার্যত অচল ছিল। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবার এএন-৩২ (AN-32) পরিবহণ বিমান অবতরণের মাধ্যমে পুনরায় চালু হয় নিয়োমা বিমানপথ।

    এরও এক বছর আগে, ২০০৮ সালে লাদাখের আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানপথ পুনরায় সক্রিয় করে ভারতীয় বায়ুসেনা। সেগুলি হল দৌলত বেগ ওল্ডি (১৬,৬১৪ ফুট) এবং ফুকচে (১৩,০০০ ফুট)। দুর্গম সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এই বিমানপথগুলির পুনরুজ্জীবন ভারতের সামরিক পরিবহণ ব্যবস্থাকে নতুন মাত্রা দিয়েছিল।

    ২১৮ কোটি টাকায় তৈরি পূর্ণাঙ্গ বিমানঘাঁটি

    ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নিয়োমা বিমানঘাঁটির উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সেই সময় তিনি এই প্রকল্পকে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘গেম-চেঞ্জার’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

    প্রায় ২১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নিয়োমার পুরনো বিমানপথকে পূর্ণাঙ্গ বিমানঘাঁটিতে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এই প্রকল্পের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হল, মহিলা আধিকারিকদের নেতৃত্বাধীন একটি দল এই উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করেছে।

    নিয়োমা বিমানঘাঁটিতে রয়েছে ২.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ রানওয়ে। পাশাপাশি তৈরি করা হয়েছে বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ভবন এবং বিমান ও সামরিক যানবাহন রাখার জন্য শক্ত পাকা জায়গা বা হার্ড স্ট্যান্ডিং। এই পরিকাঠামোর ফলে এখানে যুদ্ধবিমান, পরিবহণ বিমান এবং হেলিকপ্টার পরিচালনার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিমানঘাঁটির উন্নয়ন শুধু সেনা ও রসদ পরিবহণের জন্য নয়, প্রয়োজনে সীমান্তবর্তী এলাকায় দ্রুত সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    চিন সীমান্তে পরিকাঠামো উন্নয়নে বাড়তি গুরুত্ব ভারতের

    ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারত ও চিনের মধ্যে দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থা চলেছিল। সেই অভিজ্ঞতার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় সামরিক পরিকাঠামো উন্নয়নে আরও বেশি গুরুত্ব দিয়েছে নয়াদিল্লি।

    সড়ক, সেতু, সুড়ঙ্গ, বিমানঘাঁটি এবং হেলিপ্যাড নির্মাণের মাধ্যমে দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে যোগাযোগ ও সেনা চলাচলের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে চিনও সীমান্তের ওপারে উন্নত সড়ক, বিমানঘাঁটি এবং অন্যান্য সামরিক পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে। ফলে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে ভারতের পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি।

    এই প্রেক্ষাপটে ১৩,৬২৯ ফুট উচ্চতায় আইএল-৭৬এমডি-র অবতরণ নিছক একটি বিমান চালনার কৃতিত্ব নয়। বরং সীমান্তে দ্রুত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। লাদাখের মতো দুর্গম ও সংবেদনশীল অঞ্চলে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করার ক্ষেত্রে নিয়োমা বিমানঘাঁটি আগামী দিনে কতটা কার্যকর হয়ে ওঠে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

  • Kali Puja: কালীপুজোয় কোন মন্দিরে মাকে কী ভোগ দেওয়া হয়? কালীঘাট থেকে তারাপীঠ, জানুন বিশেষ পদগুলি

    Kali Puja: কালীপুজোয় কোন মন্দিরে মাকে কী ভোগ দেওয়া হয়? কালীঘাট থেকে তারাপীঠ, জানুন বিশেষ পদগুলি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে বিশেষ জাঁকজমক সহকারে পালিত হয় দীপান্বিতা কালীপুজো (Kali Puja)। আজ কালীপুজো। দুর্গাপুজোর পাশাপাশি কালীপুজোতেও রয়েছে নানা আচার-নিয়ম। আর এই পুজোর অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হল মায়ের ভোগ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে শ্যামামায়ের অসংখ্য মন্দির। প্রতিটি মন্দিরেই নিজস্ব রীতি মেনে দেবীকে নিবেদন করা হয় নানা ধরনের ভোগ। কলকাতার সবচেয়ে বিখ্যাত কালীমন্দির হল কালীঘাট মন্দির। এটি অন্যতম সতীপীঠ। এছাড়া দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি, আদ্যাপীঠ, ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি, ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি-সহ কলকাতার একাধিক কালীমন্দির বিশেষভাবে পরিচিত। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের সেবকেশ্বরী কালীমন্দিরও বেশ বিখ্যাত।

    কোন মন্দিরে মাকে কী কী ভোগ নিবেদন করা হয়?

    কালীপুজোর সময় মায়ের ভোগের আয়োজন অন্যান্য পুজোর তুলনায় বেশ কিছুটা আলাদা। মন্দিরভেদে ভোগের পদেও রয়েছে বৈচিত্র্য। এক নজরে দেখে নিন, রাজ্যের কয়েকটি বিখ্যাত কালীমন্দিরে দেবীকে কী কী ভোগ নিবেদন করা হয়।

    • কালীঘাট মন্দির: সতীর একান্ন পীঠের অন্যতম হল কালীঘাট (Kalighat)। এখানে সকালে মাকে আমিষ পদ দিয়ে ভোগ নিবেদন করা হয়। সেই ভোগের তালিকায় রয়েছে বেগুনভাজা, পটলভাজা, কপি, আলু ও কাঁচকলাভাজা, ঘিয়ের পোলাও, ঘি-ডাল, শুক্তো, শাকভাজা, মাছের কালিয়া, পাঁঠার মাংস এবং চালের পায়েস। তবে রাতে মাকে নিরামিষ ভোগ নিবেদন করা হয়। লুচি, বেগুনভাজা, আলুভাজা, দুধ, ছানার সন্দেশ ও রাজভোগ থাকে কালীঘাটের রাতের ভোগে।
    • সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির: কথিত আছে, আনুমানিক ১৭০৩ সালে উদয়ননারায়ণ ব্রহ্মচারী নামে এক তান্ত্রিক সন্ন্যাসী সেই সময় জঙ্গলের মধ্যে পঞ্চমুণ্ডির আসনে ও ঘটে পুজো শুরু করেন। কালীপুজোর রাতে এখানে মাকে ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয় লুচি, পটলভাজা, ধোঁকা বা আলুভাজা, আলুর দম এবং মিষ্টি।
    • দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির: ভোরে দেবী ভবতারিণীর বিশেষ আরতি দক্ষিণেশ্বরের কালীপুজোর অন্যতম আকর্ষণ। আর মায়ের ভোগে নিবেদন করা হয় সাদা ভাত, ঘি, পাঁচ রকমের ভাজা, শুক্তো, তরকারি, পাঁচ রকমের মাছের পদ, চাটনি, পায়েস ও মিষ্টি।
    • তারাপীঠ মন্দির: কালীপুজোর দিন খুব সকালে ডাবের জল দিয়ে শুরু হয় মায়ের ভোগের আয়োজন। সকালের ভোগে থাকে পাঁচ বা ন’রকমের ভাজা, সাদা অন্ন, পায়েস ও মিষ্টি। এখানকার আমিষ ভোগের অন্যতম প্রধান উপাদান শোল মাছ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ভোগের পাতে এই মাছ না থাকলে মা তারা ভোগ গ্রহণ করেন না। কালীপুজোর দিন তারা মায়ের ভোগে থাকে পোলাও, খিচুড়ি, সাদা ভাত, পাঁচ রকমের ভাজা, পাঁচমিশালি তরকারি, মাছ, চাটনি, পায়েস এবং মিষ্টি। এখানকার অন্নভোগের বিশেষত্ব হল পোড়া শোলমাছ মাখা।
    • সেবকেশ্বরী কালীমন্দির: শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটক যাওয়ার পথে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে অবস্থিত এই কালীমন্দির। কালীপুজোর দিনগুলিতে সেবকেশ্বরী কালীমন্দিরে ভক্তদের ঢল নামে। সেবক পাহাড়ের নির্জন পরিবেশে হয় মা কালীর আরাধনা। অনেকেরই বিশ্বাস, দেবী অত্যন্ত জাগ্রত। এখানে মায়ের ভোগে থাকে সাদা ভাত, পাঁচ রকমের ভাজা, তরকারি, পায়েস, লুচি, দই ও মিষ্টি। তবে এখানকার ভোগের অন্যতম আকর্ষণ বোয়াল মাছ। কালীপুজোর দিন এই মাছ দেবীকে ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয়।
  • Kali Puja: দক্ষিণাকালী থেকে শ্মশানকালী, দেবী কালীর ১১ রূপের মাহাত্ম্য জানেন কি?

    Kali Puja: দক্ষিণাকালী থেকে শ্মশানকালী, দেবী কালীর ১১ রূপের মাহাত্ম্য জানেন কি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রামপ্রসাদের কন্যা, রামকৃষ্ণের মা ভবতারিণী, সাধক কমলাকান্তের সাধনার ধন। তিনি দশমহাবিদ্যার প্রথম দেবী, দেবী কালিকা। বাংলা জুড়ে কালীপুজোর (Kali Puja) মাহাত্ম্য অপরিসীম। শ্মশানবাসিনী থেকে ঘরে ঘরে পূজিত হওয়ার পিছনে রয়েছে নানা আখ্যান। কঠোর নিয়ম মেনে আরাধনা করা হয় দেবী কালিকার। কোথাও তিনি পূজিত হন চামুণ্ডা মতে, কোথাও আবার তন্ত্রমতে। কোথাও কোথাও দেবীকে কেন্দ্র করেই চলে তন্ত্রসাধনা। কোনও রূপে তিনি শ্যামবর্ণা, কোথাও তাঁর গায়ের রং নীল। মূলত ১১টি রূপে বিনাশকারী শক্তি হিসেবে দেবী কালীর আরাধনা করেন ভক্তরা।

    মায়ের নানা রূপের কথা (Maa Kali)

    • দক্ষিণা কালী: বাংলায় সবচেয়ে বেশি আরাধনা হয় দক্ষিণা কালীর। কালীর এই রূপ জায়গাভেদে শ্যামাকালী নামেও পরিচিত। তাঁর সারা শরীর নীল বর্ণের। মূর্তি ক্রুদ্ধ, ত্রিনয়নী ও মুক্তকেশী। দেবীর চারটি হাত এবং গলায় থাকে মুণ্ডমালা। বাম দিকের দুই হাতে থাকে নরমুণ্ড ও খড়্গ। ডান হাত দু’টিতে রয়েছে আশীর্বাদ ও অভয় মুদ্রা। দেবী মহাদেবের বুকে দণ্ডায়মানা।
    • শ্মশান কালী: মূলত প্রাচীনকালে ডাকাতেরা দেবীর এই রূপের আরাধনা করত। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দেবী চৌধুরানী’ উপন্যাসেও এই দেবীর উল্লেখ পাওয়া যায়। গৃহস্থের বাড়িতে সাধারণত কালীর এই রূপের পুজো হয় না। মূলত শ্মশানেই তাঁর আরাধনা করা হয়ে থাকে।
    • সিদ্ধ কালী: কালীপুজোর দিনে বহু জায়গায় সিদ্ধ কালীর আরাধনা করা হয়। কালীর এই রূপ ভুবনেশ্বরী নামেও পরিচিত। সাধারণত গৃহস্থের বাড়িতে এই রূপের পুজো হয় না। কালীমায়ের সাধকেরাই মূলত এই পুজো করে থাকেন। সিদ্ধকালীর দু’টি হাত এবং শরীর গয়নায় আবৃত। দেবীর ডান পা থাকে শিবের বুকে এবং বাঁ পা তাঁর দুই পায়ের মাঝখানে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দেবী রক্ত নয়, বরং অমৃত পানে সন্তুষ্ট হন।
    • ফলহারিণী কালী: ফলহারিণী কালীপুজো একটি বাৎসরিক পুজো। মূলত গৃহস্থের বাড়িতে সুখ-শান্তি বজায় রাখা এবং সংসারের কল্যাণ কামনায় কালীর এই রূপের আরাধনা করা হয়। জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথিতে ফলহারিণী কালীপুজো অনুষ্ঠিত হয়।
    • মহাকালী: দেবীর এই রূপের দশটি মাথা, দশটি হাত এবং দশটি পা রয়েছে। প্রতিমার সঙ্গে শিবের কোনও অস্তিত্ব নেই। দশ হাতে থাকে নানা অস্ত্র। দেবীর পায়ের তলায় থাকে অসুরের কাটা মুণ্ড। বিশেষ তান্ত্রিক আচার অনুযায়ী ভূত চতুর্দশীর সময় মহাকালীর সাধনা করা হয়। তবে সাধারণত গৃহস্থের বাড়িতে এই পুজো প্রচলিত নয়।
    • কাম্যা কালী: বিশেষ মনস্কামনা পূরণের উদ্দেশ্যে কালীর এই রূপের আরাধনা করা হয়। পুজোর নিয়মবিধি অনেকটাই দক্ষিণা কালীর মতো। সাধারণত অষ্টমী, চতুর্দশী, অমাবস্যা, পূর্ণিমা ও সংক্রান্তির মতো বিশেষ তিথিতে কাম্যা কালীর পুজো করা হয়ে থাকে।
    • গুহ্যকালী: এই দেবীর গায়ের রং গাঢ় কালো। গলায় থাকে ৫০টি নরমুণ্ডের হার এবং কানে শবদেহের আকৃতির অলঙ্কার। শাস্ত্রে কালীর এই রূপকে ভয়ঙ্করী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। মূলত তন্ত্রসাধনার সঙ্গে এই দেবীর আরাধনা বিশেষভাবে যুক্ত।
    • ভদ্রকালী: কালীর এই রূপ সাধারণত বিভিন্ন মন্দিরে এবং বারোয়ারি পুজোয় আরাধিত হন। ভদ্রকালী নামের ‘ভদ্র’ শব্দটি কল্যাণ বা মঙ্গল অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অন্যদিকে, ‘কালী’ শব্দটি জীবনের অন্তিম পরিণতির ইঙ্গিত বহন করে। দেবীর এই রূপের মধ্যে সংহার ও কল্যাণ—দুই শক্তিরই প্রকাশ দেখা যায়।
    • চামুণ্ডা কালী: চামুণ্ডা হলেন আদিশক্তির এক ভয়ঙ্করী রূপ। তিনি ভগবতী দুর্গারও এক বিশেষ প্রকাশ। চণ্ড ও মুণ্ড নামে দুই অসুরকে বধ করার পর দেবী ‘চামুণ্ডা’ নামে পরিচিত হন। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, পার্বতী, চণ্ডী, দুর্গা, চামুণ্ডা ও কালী—সবই আদিশক্তির বিভিন্ন প্রকাশ।
    • শ্রীকালী: দেবী দুর্গা বা পার্বতীর একটি বিশেষ রূপ হলেন শ্রীকালী। অনেকে মনে করেন, এই রূপ ধারণ করেই দেবী দারুক নামে এক অসুরকে বধ করেছিলেন। পুরাণের একটি আখ্যান অনুযায়ী, কালীর এই রূপ মহাদেবের কণ্ঠে প্রবেশ করে তাঁর কণ্ঠের বিষের সংস্পর্শে কৃষ্ণবর্ণা হন। পরবর্তীকালে মহাদেব শিশুরূপ ধারণ করে স্তন্যপান করেন এবং দেবীর শরীর থেকে বিষের প্রভাব গ্রহণ করেন।
    • রক্ষাকালী: দক্ষিণা কালীরই একটি বিশেষ রূপ হল রক্ষাকালী। কথিত রয়েছে, প্রাচীনকালে লোকালয়কে বিপদ-আপদ ও অশুভ শক্তির হাত থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে এই দেবীর পুজো করা হত। দেবীর বাহন সিংহ। মূলত মানুষের এবং জনপদের নিরাপত্তা ও মঙ্গল কামনায় রক্ষাকালীর আরাধনা করা হয়।
  • Kali Puja 2026: অমাবস্যা পড়ছে কখন? জেনে নিন কালীপুজোর নির্ঘণ্ট ও নিশীথপুজোর সময়

    Kali Puja 2026: অমাবস্যা পড়ছে কখন? জেনে নিন কালীপুজোর নির্ঘণ্ট ও নিশীথপুজোর সময়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবারই শ্যামাপুজো (Kali Puja 2026)। উৎসবের প্রস্তুতিতে সেজে উঠছে শহর থেকে শহরতলি। পাড়ায় পাড়ায় তৈরি মণ্ডপ, চলছে প্রতিমা সাজানোর শেষ মুহূর্তের কাজ। তবে পুজোর প্রস্তুতির পাশাপাশি অনেকের মনেই রয়েছে একটি প্রশ্ন—এ বছর অমাবস্যা তিথি কখন শুরু হচ্ছে? কলকাতায় নিশীথপুজোর শুভ সময়ই বা কখন? ২০২৬ সালে ৮ নভেম্বর, রবিবার পালিত হবে কালীপুজো। দৃক পঞ্চাঙ্গের কলকাতার সময়সূচি অনুযায়ী, রবিবার সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে শুরু হচ্ছে অমাবস্যা তিথি। এই তিথি স্থায়ী হবে পরের দিন, অর্থাৎ ৯ নভেম্বর সোমবার দুপুর ১২টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত। ফলে রবিবার রাতেই হবে শ্যামাপুজো।

    কালীপুজোর নির্ঘণ্ট একনজরে

    • কালীপুজো: রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
    • অমাবস্যা তিথি শুরু: ৮ নভেম্বর, সকাল ১১টা ২৭ মিনিট
    • অমাবস্যা তিথি শেষ: ৯ নভেম্বর, দুপুর ১২টা ৩১ মিনিট
    • কলকাতায় নিশীথপুজোর সময়: ৮ নভেম্বর, রাত ১০টা ৫৫ মিনিট থেকে ১১টা ৪৬ মিনিট

    নিশীথকাল মানেই কি রাত ১২টা?

    কালীপুজোর সঙ্গে গভীর রাতের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। তবে পঞ্জিকা অনুযায়ী নিশীথকাল বলতে ঠিক রাত ১২টাকে বোঝায় না। স্থানীয় সূর্যাস্ত এবং পরের দিনের সূর্যোদয়ের সময়ের হিসাব ধরে রাতের মধ্যভাগ নির্ধারণ করা হয়। সেই কারণেই বিভিন্ন শহরে নিশীথপুজোর সময়ের কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। কলকাতার ক্ষেত্রে এ বছর নিশীথপুজোর নির্ধারিত সময় রাত ১০টা ৫৫ মিনিট থেকে ১১টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত।

    কখন পুজোয় বসবেন?

    বাড়িতে কালীপুজোর আয়োজন হোক কিংবা পাড়ার বারোয়ারি পুজো, সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পুরোহিতের পরামর্শ এবং অনুসৃত পঞ্জিকার নিয়ম মেনে চলাই ভাল। বিভিন্ন মন্দিরে নিজস্ব রীতি অনুযায়ী পুজোর সময় নির্ধারিত হতে পারে। তাই মন্দিরের পুজোয় অংশ নিতে চাইলে আগে থেকেই সময় জেনে নেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, অমাবস্যা তিথির শুরু ও শেষের সময় এবং নিশীথপুজোর মুহূর্ত এক নয়। আবার কলকাতার সময়সূচি অন্য শহরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। তাই পুজোর প্রস্তুতির আগে নিজের এলাকার পঞ্জিকা ও নির্দিষ্ট পুজোর সময় মিলিয়ে নেওয়াই শ্রেয়।

  • Deepotsav In Ayodhya: ২১০০ ড্রোনের রামায়ণ প্রদর্শনী! ১০ম দীপোৎসবে ৩০ লক্ষ প্রদীপে আলোকিত অযোধ্যা

    Deepotsav In Ayodhya: ২১০০ ড্রোনের রামায়ণ প্রদর্শনী! ১০ম দীপোৎসবে ৩০ লক্ষ প্রদীপে আলোকিত অযোধ্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৪ বছরের বনবাস শেষে অযোধ্যায় রামচন্দ্রের প্রত্যাবর্তনের স্মরণে দীপাবলির (Deepotsav In Ayodhya) আবহে সেজে উঠছে রামনগরী। দশম বর্ষের দীপোৎসব উপলক্ষে শনিবার, ৭ নভেম্বর, অযোধ্যায় জ্বালানো হবে ৩০ লক্ষেরও বেশি মাটির প্রদীপ। সরযূ নদীর তীর থেকে রাম কি পৈড়ি-সহ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে চলেছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আলোর উৎসবকে বর্ণময় করে তুলতে থাকছে ২১০০টি ড্রোনের বিশেষ প্রদর্শনী, রামায়ণের বিভিন্ন দৃশ্যের উপস্থাপনা এবং পাঁচটি দেশের শিল্পীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গত ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী এই দীপোৎসব। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে এবারের আয়োজনকে বিশেষ রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার।

    দশম বর্ষে দীপোৎসব

    ২০১৭ সালে প্রথম দীপোৎসবে প্রায় ১ লক্ষ ৭১ হাজার প্রদীপ জ্বালানো হয়েছিল। সেখান থেকে সংখ্যাটা বেড়ে এ বছর পৌঁছেছে ৩০ লক্ষেরও বেশি। অযোধ্যার ৫৬টি ঘাট জুড়ে জ্বলবে এই প্রদীপ। উল্লেখ্য, গত বছর ২০২৫ সালে ২৬ লক্ষ ১৭ হাজার প্রদীপ জ্বালিয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছিল অযোধ্যা। এ বছর সেই রেকর্ডকেও ছাপিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রদীপ জ্বালানোর কাজে যুক্ত হয়েছেন অযোধ্যার বিভিন্ন কলেজের প্রায় ৩৫ হাজার পড়ুয়া। রাম কি পৈড়ির ৫৬টি ঘাটে প্রদীপ সাজানো এবং উৎসবের অন্যান্য প্রস্তুতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তাঁরা।

    সরযূ নদীর তীরে মহাআরতি

    এবারের দীপোৎসবের অন্যতম আকর্ষণ সরযূ নদীর তীরে মহাআরতি। এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ২১৪৭ জন। জনপ্রতিনিধি, কাউন্সিলর এবং সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে আরতির অনুষ্ঠান। আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনও থাকছে এবারের উৎসবে। দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, লাওস এবং থাইল্যান্ডের রামলীলা দল অংশ নেবে অনুষ্ঠানে। পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ২১০০টি ড্রোনের সাহায্যে রাতের আকাশে ফুটিয়ে তোলা হবে রামায়ণের বিভিন্ন পর্ব। ড্রোনের সমন্বিত আলোকসজ্জা ও বিশেষ বিন্যাসে তুলে ধরা হবে মহাকাব্যের নানা দৃশ্য। এ ছাড়াও থাকবে ভাসমান মঞ্চে রামচন্দ্রের অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তনের কাহিনি। নৃত্য, সঙ্গীত এবং হিন্দি ভাষায় বর্ণনার মাধ্যমে পরিবেশিত হবে সেই বিশেষ অনুষ্ঠান। থাকছে আট মিনিটের লেজার শো, ২০ মিনিটের প্রজেকশন ম্যাপিং এবং সঙ্গীতের তালে আতশবাজির প্রদর্শনী।

    ১৩টি থিমভিত্তিক প্রবেশদ্বার

    শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় তৈরি করা হয়েছে ১৩টি থিমভিত্তিক প্রবেশদ্বার এবং ২০টি সেলফি পয়েন্ট। লতা মঙ্গেশকর চক থেকে রাম কি পৈড়ি পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় রামায়ণের নানা ঘটনার আদলে তৈরি হয়েছে বিশেষ ইনস্টলেশন। সাতটি কাণ্ডের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে ২২টি ট্যাবলো। সেখানে থাকবে রামরথ, রাম দরবার এবং পুষ্পক বিমানের প্রতিরূপ। রামকথা পার্কে থাকছে বালির ভাস্কর্য এবং অন্যান্য আকর্ষণীয় শিল্পকর্ম।

    সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ২৫০০ শিল্পী

    সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রায় ২৫০০ শিল্পী। শহরের ১২টি মঞ্চে চলবে অনুষ্ঠান। এর মধ্যে ছ’টি ছোট, চারটি মাঝারি এবং দু’টি বড় মঞ্চ। উত্তরপ্রদেশের ১৬টি জেলার শিল্পীদের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য রাজ্যের শিল্পীরাও অংশ নেবেন। কর্নাটকের ডোল্লু কুনিথা, রাজস্থানের ঘুমর, বিহারের ঝিঝিয়া, পিলিভীতের থারু লোকসংস্কৃতি এবং গোরক্ষপুরের বনটাঙ্গিয়া সম্প্রদায়ের পরিবেশনা বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১০০০টি শিল্পীদলও এই উৎসবে অংশ নেবে বলে জানা গিয়েছে।

    বিশেষ ড্রোন শোয়ের আয়োজন

    শনিবার মূল অনুষ্ঠান হলেও ৯ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে দীপোৎসব। ৮ নভেম্বরও থাকছে একাধিক সাংস্কৃতিক কর্মসূচি। অন্যদিকে, ৯ নভেম্বর শুধুমাত্র অযোধ্যার বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ ড্রোন শোয়ের আয়োজন করা হয়েছে। দীপোৎসবে অংশগ্রহণের জন্য বিদেশে নিযুক্ত ৩৪ জন ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দীপোৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মৃৎশিল্পীদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে। অযোধ্যার গিয়াসপুর এবং বারাবাঁকির কাজিয়াপুর ও ভাগড় ঝিল এলাকার ২৫ জন মহিলা মৃৎশিল্পীর কাছ থেকে ১ লক্ষ ৬০ হাজার প্রদীপের বরাত দেওয়া হয়েছে। যার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। প্রদীপ উৎপাদন বাড়াতে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ১৯৭ জন মৃৎশিল্পীকে বৈদ্যুতিক কুমোরের চাকা দেওয়া হয়েছে।

    ৩০ লক্ষেরও বেশি প্রদীপে আলোকিত অযোধ্যা

    উত্তরপ্রদেশের পর্যটন, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিষয়ক দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব অমৃত অভিজাত জানিয়েছেন, পর্যটকদের জন্য অযোধ্যার পরিকাঠামো আরও উন্নত করাই সরকারের লক্ষ্য। তাঁর বক্তব্য, পর্যটন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ যাতায়াত, নির্ভরযোগ্য পরিষেবা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয়তার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।সব মিলিয়ে, ধর্মীয় আবেগ, লোকসংস্কৃতি এবং আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে দশম দীপোৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করতে প্রস্তুত অযোধ্যা। ৩০ লক্ষেরও বেশি প্রদীপের আলোয় সরযূর তীর হয়ে উঠবে আলোকময়।

  • Ladakh Rail: লাদাখে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলস্টেশন! উচ্চতা ১৭,২৪৪ ফুট, চিনের রেকর্ড ভাঙার পথে ভারত

    Ladakh Rail: লাদাখে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলস্টেশন! উচ্চতা ১৭,২৪৪ ফুট, চিনের রেকর্ড ভাঙার পথে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিমালয়ের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে রেল যোগাযোগের নতুন ইতিহাস তৈরি করতে চলেছে ভারত। সব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে লাদাখে (Ladakh Rail) তৈরি হবে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলস্টেশন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যার উচ্চতা হবে প্রায় ১৭,২৪৪ ফুট বা ৫,২৫৬ মিটার। এর ফলে চিনের তিব্বতে অবস্থিত বিশ্বের বর্তমান সর্বোচ্চ রেলস্টেশন (World’s Highest Railway Station) তাংগুলার রেকর্ড ভেঙে যাবে। লাদাখ পর্যন্ত রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক মানচিত্রে আরও একবার জায়গা করে নেবে ভারতীয় রেল। কেন্দ্রীয় আধিকারিক সূত্রে খবর, বিলাসপুর-মানালি-লে রেলপথ প্রকল্পকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

    আনুমানিক খরচ প্রায় ১ লক্ষ ৩১ হাজার কোটি টাকা

    প্রস্তাবিত এই রেলপথ (Ladakh Rail) হিমাচল প্রদেশের বিলাসপুর থেকে শুরু হয়ে মানালি, সিসু, দারচা, কেলং, সারচু, পাং, রুমসে, উপশি এবং খারু হয়ে পৌঁছবে লেহতে। মোট ৪৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। রেল মন্ত্রক সূত্রে খবর, প্রকল্পের বিস্তারিত সম্ভাব্যতা ও নির্মাণ সংক্রান্ত রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরি হয়ে গিয়েছে। সমীক্ষার কাজও শেষ। প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, এই প্রকল্পে খরচ হতে পারে প্রায় ১ লক্ষ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

    বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলস্টেশন!

    এই প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ টাংলাং লা গিরিপথের নীচে প্রস্তাবিত রেলস্টেশন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫,২৫৬ মিটার উচ্চতায় তৈরি হলে এটিই হবে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলস্টেশন (World’s Highest Railway Station)। বর্তমানে এই রেকর্ড রয়েছে চিনের তিব্বতে অবস্থিত তাংগুলা রেলস্টেশনের দখলে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যার উচ্চতা প্রায় ৫,০৬৮ মিটার। অর্থাৎ, চিনের সেই রেকর্ডের থেকেও প্রায় ১৮৮ মিটার বেশি উচ্চতায় রেলস্টেশন তৈরি করতে চলেছে ভারত।

    রেলপথের অর্ধেকেরও বেশি অংশ পাহাড়ের ভিতরে

    ভারতের অন্যতম উচ্চতম মোটরযান চলাচলের উপযোগী গিরিপথ টাংলাং লা লে-মানালি জাতীয় সড়কের উপর অবস্থিত। তবে সেখানে রেলপথ তৈরি করা মোটেই সহজ কাজ নয়। বরং ভৌগোলিক অবস্থান, আবহাওয়া এবং পাহাড়ের গঠন নির্মাণকাজকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং করে তুলবে। প্রস্তাবিত রেলপথের প্রায় ২৭০ কিলোমিটার অংশ সুড়ঙ্গের ভিতর দিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, মোট রেলপথের অর্ধেকেরও বেশি অংশ থাকবে পাহাড়ের ভিতরে।

    ভারতীয় রেলের অন্যতম কঠিন প্রকল্প

    হিমালয়ের কঠিন ভূপ্রকৃতি, পাহাড়ের ভিতরের শিলাস্তরের অনিশ্চয়তা, খাড়া ঢাল এবং প্রচণ্ড ঠান্ডার সঙ্গে মোকাবিলা করেই এগোতে হবে নির্মাণকাজ। ফলে প্রযুক্তিগত দিক থেকে এটি ভারতীয় রেলের অন্যতম কঠিন প্রকল্প হতে চলেছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথ

    শুধু পর্যটন নয়, জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকেও এই রেলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। লাদাখ ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী অঞ্চল। বর্তমানে দেশের অন্যান্য অংশ থেকে লেহতে পৌঁছনোর প্রধান মাধ্যম সড়ক ও বিমানপথ। শীতকালে তুষারপাত এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মানালি-লে সড়কপথে যাতায়াত অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে রেল যোগাযোগ চালু হলে যাত্রী পরিবহণের পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রী, নির্মাণের উপকরণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়া অনেক সহজ হবে। কমবে পরিবহণের খরচ। উপকৃত হবেন হিমাচল প্রদেশ ও লাদাখের প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দারা। পর্যটনের প্রসার, স্থানীয় অর্থনীতির উন্নতি এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগও তৈরি হবে।

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এই রেলপথের ভূমিকা

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও এই রেলপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রেলপথের মাধ্যমে দ্রুত ও বৃহৎ পরিমাণে সেনা, অস্ত্র, জ্বালানি এবং ভারী সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে লাদাখের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়। এমনকী রেলপথের কয়েকটি স্টেশনে সামরিক প্রয়োজনে বিশেষ লুপ লাইন তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এখনও এই প্রকল্পের নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন মেলেনি। কবে কাজ শুরু হবে বা কবে শেষ হবে, তা-ও নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।

    রেল যোগাযোগে গত এক দশকে বড় পরিবর্তন

    লাদাখের এই প্রস্তাবিত প্রকল্পের পাশাপাশি গত এক দশকে দেশের রেল পরিকাঠামো সম্প্রসারণেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি কেন্দ্রের। ২০১৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশে ৩৪,৪২৮ কিলোমিটার নতুন রেললাইন চালু হয়েছে। তুলনায় ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে নতুন রেললাইন চালু হয়েছিল ৭,৫৯৯ কিলোমিটার। অর্থাৎ, আগের পাঁচ বছরের তুলনায় নতুন রেললাইন সম্প্রসারণের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের উধমপুর-শ্রীনগর-বারামুলা রেলপথ এবং মিজোরামের বাইরাবি-সাইরাং রেলপথের মতো প্রকল্পের মাধ্যমে দুর্গম এলাকাও দেশের রেল মানচিত্রে যুক্ত হয়েছে। একসময় ভৌগোলিক প্রতিকূলতার কারণে যে সমস্ত অঞ্চলে রেল যোগাযোগ পৌঁছনো কঠিন ছিল, সেখানে এখন ট্রেন চলাচলের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    রেললাইনের সংস্কার ও পুনর্নবীকরণ

    ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ৫৪,৬০০ কিলোমিটার রেললাইনের সংস্কার ও পুনর্নবীকরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের ৮৫ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি রেলপথে ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে ট্রেন চালানোর পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে। ২০১৪ সালে এই পরিমাণ ছিল ৩১,৪৪৫ কিলোমিটার। ফলে ট্রেন চলাচলের গতি ও দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে।

    বন্দে ভারত, দেশে প্রথম সেমি হাইস্পিড ট্রেন 

    ২০১৯ সালে দেশে প্রথম সেমি হাইস্পিড ট্রেন বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালু করে কেন্দ্র। দেশীয় প্রযুক্তি ও উৎপাদনের উপর জোর দিয়ে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির আওতায় তৈরি এই ট্রেন ভারতীয় রেলের আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়। ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে বন্দে ভারত পরিষেবা। যাত্রীদের জন্য দ্রুত ও উন্নতমানের রেল পরিষেবার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    উত্তর-পূর্ব রেল মানচিত্রে নতুন সংযোজন

    উত্তর-পূর্ব ভারতেও রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। মিজোরামের সাইরাং পর্যন্ত রেল যোগাযোগ চালু হওয়া তার অন্যতম উদাহরণ। অন্যদিকে, সিকিমও শীঘ্রই দেশের রেল মানচিত্রে যুক্ত হতে চলেছে সেভক-রংপো রেলপথের মাধ্যমে। কাশ্মীর উপত্যকাকেও দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে রেলপথে যুক্ত করা হয়েছে। ভারত ও ভুটানের মধ্যে রেল যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনাও বৃহত্তর আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

    রেলপথের প্রায় ৯৯.৬ শতাংশ বিদ্যুতায়ন

    রেল পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণে আরও একটি বড় পদক্ষেপ হল রেলপথের বিদ্যুতায়ন। বর্তমানে দেশের ব্রডগেজ রেল নেটওয়ার্কের প্রায় ৯৯.৬ শতাংশ বিদ্যুতায়িত। ২০১৪ সালের আগে এই হার ছিল প্রায় ২০ শতাংশ। এর ফলে ডিজেলের উপর নির্ভরতা কমেছে। বিদ্যুৎচালিত ট্রেন পরিচালনায় খরচও তুলনামূলকভাবে কম। কেন্দ্রের দাবি, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে রেলের বিদ্যুতায়নের ফলে প্রায় ১৮০ কোটি গ্যালন ডিজেল সাশ্রয় হয়েছে। ডিজেলচালিত ট্রেনের তুলনায় বিদ্যুৎচালিত ট্রেন পরিচালনায় প্রায় ৭০ শতাংশ কম খরচ হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে বছরে প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে।

    পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর

    পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর (ডিএফসি)। পশ্চিম ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডরের শেষ তিনটি অংশ গত সেপ্টেম্বরে দেশকে উৎসর্গ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০০৬ সালে তৎকালীন মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার এই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছিল। জমি অধিগ্রহণ, চুক্তি সংক্রান্ত জটিলতা এবং নির্মাণের নানা সমস্যায় দীর্ঘদিন আটকে ছিল কাজ। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের বাকি কাজ সম্পন্ন হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য, রেলপথের বিদ্যুতায়ন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি বিদেশ থেকে তেল আমদানির উপর নির্ভরতা কমাতেও সাহায্য করেছে।

    চেনাব সেতুর পর লাদাখে নতুন রেকর্ডের অপেক্ষা

    ইতিমধ্যেই বিশ্বের সর্বোচ্চ রেল আর্চ ব্রিজের মালিক ভারত। জম্মু-কাশ্মীরে চেনাব নদীর উপর নির্মিত চেনাব রেল সেতু নদীর জলস্তর থেকে প্রায় ১,১৭৮ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। উচ্চতার নিরিখে প্যারিসের আইফেল টাওয়ারের থেকেও প্রায় ৩৫ মিটার উঁচু এই সেতু। গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই সেতুর উদ্বোধন করেন। এবার বিলাসপুর-মানালি-লে রেলপথ (Ladakh Rail) বাস্তবায়িত হলে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলস্টেশনের (World’s Highest Railway Station) রেকর্ডও ভারতের দখলে আসবে। তবে তার আগে রয়েছে কঠিন নির্মাণ চ্যালেঞ্জ, বিপুল আর্থিক বিনিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদনের প্রশ্ন। সব বাধা অতিক্রম করে প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভারতীয় রেলের ইতিহাসে তা নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে থাকবে।

  • Mohammed Shami: সাদা জার্সিকে বিদায়, টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর মহম্মদ শামির

    Mohammed Shami: সাদা জার্সিকে বিদায়, টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর মহম্মদ শামির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন মহম্মদ শামি (Mohammed Shami)। শুক্রবার রাতে নিজের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন ভারতের এই জোরে বোলার। দীপাবলির আগে ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন পোস্টে শামি লিখেছেন, “আমি সাদা জার্সি থেকে বিদায় নিচ্ছি। কিন্তু এর সঙ্গে জড়িত স্মৃতিগুলো রয়ে যাবে। যখন আমি প্রথম ভারতের টেস্ট জার্সি পরেছিলাম, তখন আমার একটাই স্বপ্ন ছিল— দেশের জন্য কিছু করা। তারপর থেকে প্রতিটা উইকেট, প্রতিটা লড়াই, প্রতিটা চোট এবং প্রতিটা প্রত্যাবর্তন আমাকে কিছু না কিছু শিখিয়েছে।” নিজের পোস্টে শামি লিখেছেন, “আমি সাদা জার্সিকে বিদায় জানাচ্ছি, কিন্তু তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিগুলিকে কখনও নয়।”

    অবসরের সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না

    অবসরের সিদ্ধান্ত যে সহজ ছিল না, তা-ও স্পষ্ট হয়েছে শামির (Shami Retirement) বার্তায়। লিখেছেন, “আজ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এবং অসংখ্য সুন্দর স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।” এই দীর্ঘ যাত্রায় যাঁরা পাশে থেকেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ভারতীয় পেসার। ভালো সময়ের পাশাপাশি কঠিন সময়েও যাঁরা তাঁর উপর আস্থা রেখেছেন, সেই ক্রিকেটপ্রেমীদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ৩৬ বছর বয়সী এই পেসার ২০২৩ সালে শেষ টেস্ট খেলেছিলেন। সেটি ছিল সে বারের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ওভালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফাইনাল। ২০১৩ সালে ইডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল শামির। প্রথম টেস্টেই ৯টি উইকেট নিয়েছিলেন। মোট ছ’বার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন। ২০১৮ সালে পার্থে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫৬ রানে ৬ উইকেট তাঁর সেরা বোলিং। ভারতের হয়ে ৬৪টি টেস্টে ২২৯টি উইকেট রয়েছে শামির।

    বিসিসিআই ও সিএবি-কে ধন্যবাদ

    ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এবং এই রাজ্যের ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা সিএবি-কে ধন্যবাদ জানিয়ে শামি লেখেন, “আমার উপর বিশ্বাস রাখা, আমাকে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া এবং আমার ক্রিকেট যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার জন্য বিসিসিআই এবং সিএবি-কে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের সমর্থন এবং বিশ্বাস সব সময় আমার হৃদয়ে বিশেষ হয়ে থাকবে।” বাংলার এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার তাঁর রাজ্যের হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন। যদিও জানা যাচ্ছে, শামি তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে দেড় বছর আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি পাঁচ দিনের ক্রিকেটের ধকল আর নিতে পারছেন না। নির্বাচকেরাও জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁকে আর টেস্ট ক্রিকেটের জন‍্য বিবেচনা করা হচ্ছে না। চলতি রঞ্জি ট্রফিতে শামি তিন ম্যাচে ১৪টি উইকেট নিয়েছেন। এর আগে দলীপ ট্রফিতে পূর্বাঞ্চলের হয়ে তিন ম্যাচে সাতটি উইকেট নিয়েছিলেন। শামি আধুনিক যুগের ভারতের অন্যতম সেরা এবং সফল ফাস্ট বোলার। নিখুঁত, সোজা সিম পজিশনে বলের পর বল করে গিয়েছেন শামি। যে কোনও পিচ থেকে মুভমেন্ট আদায় করার ক্ষমতা ছিল তাঁর। প্রায় এক দশক ধরে ভারতের পেস আক্রমণের মূল স্তম্ভ ছিলেন।

     

     

     

     

     

  • Bhoot Chaturdashi 14 Diya: আজ ভূত চতুর্দশী! কেন সন্ধ্যায় জ্বালানো হয় ১৪ বাতি? জানুন ধর্মীয় তাৎপর্য

    Bhoot Chaturdashi 14 Diya: আজ ভূত চতুর্দশী! কেন সন্ধ্যায় জ্বালানো হয় ১৪ বাতি? জানুন ধর্মীয় তাৎপর্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কালীপুজোর (Kali Puja) ঠিক আগের দিন পালিত হয় ভূত চতুর্দশী (Bhoot Chaturdashi) বা নরক চতুর্দশী (Naraka Chaturdashi)। বাঙালির ঘরে ঘরে এই বিশেষ দিনে দুপুরে ১৪ শাক খাওয়ার এবং সন্ধ্যায় ১৪ প্রদীপ জ্বালানোর রীতি প্রচলিত রয়েছে। কিন্তু কেন এই প্রথা? এর পিছনে রয়েছে একাধিক পৌরাণিক কাহিনি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও লোকাচার।

    দুপুরে ১৪ শাক, সন্ধ্যায় ১৪ বাতি

    ভূত চতুর্দশীর দিনে যে ১৪টি শাক খাওয়ার রীতি রয়েছে, সেগুলি হল— জয়ন্তী, শাঞ্চে, হিলঞ্চ, ওল, পুঁই, বেতো, সর্ষে, কালকাসুন্দে, নিম, পলতা, শুলকা, গুলঞ্চ, ভাঁটপাতা ও শুষণী। এই শাক খাওয়ার পাশাপাশি সন্ধ্যায় ১৪টি প্রদীপ জ্বালিয়ে অশুভ শক্তি ও অন্ধকার দূর করার প্রথাও প্রচলিত রয়েছে।

    শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর পর মানুষের শরীর পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে যায়। এই পঞ্চভূত হল মাটি, জল, বায়ু, অগ্নি ও আকাশ। প্রচলিত লোকবিশ্বাস অনুসারে, মাটি থেকে তুলে আনা ১৪ রকমের শাক খেলে অতৃপ্ত আত্মারা শান্তি পায়। যে জল দিয়ে এই শাক ধোয়া হয়, সেই জল অনেকে বাড়িতেও ছিটিয়ে দেন। তাঁদের বিশ্বাস, এর ফলে অশুভ শক্তির প্রভাব দূর হয় এবং জীবনের বাধা-বিঘ্ন কেটে যায়।

    ১৪ ভুবনের উদ্দেশ্যে ১৪ প্রদীপ!

    দুপুরে ১৪ শাক খাওয়ার পর ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যায় জ্বালানো হয় ১৪টি প্রদীপ। পুরাণে ১৪টি ভুবন বা লোকের উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে সাতটি ঊর্ধ্বলোক এবং সাতটি অধোলোক।

    ঊর্ধ্বলোকগুলি হল— ভূঃ, ভুবঃ, স্বঃ, মহঃ, জনঃ, তপঃ ও সত্য। অন্যদিকে অধোলোকগুলি হল— অতল, বিতল, সুতল, তলাতল, মহাতল, রসাতল ও পাতাল। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই ১৪ লোকের অধিবাসীদের স্মরণ ও সম্মান জানাতেই ভূত চতুর্দশীতে ১৪টি প্রদীপ জ্বালানো হয়।

    আরও একটি লোকবিশ্বাস রয়েছে। মনে করা হয়, ভূত চতুর্দশীর রাতে কিছু সময়ের জন্য স্বর্গ ও নরকের দ্বার উন্মুক্ত হয় এবং অতৃপ্ত আত্মারা মর্ত্যে নেমে আসে। রাজা বলি ও তাঁর অনুচরেরাও এই সময়ে মর্ত্যে আসেন বলে প্রচলিত ধারণা। এই রাতে অশুভ শক্তির প্রভাব বৃদ্ধি পায় বলে অনেকে বিশ্বাস করেন। সেই অশুভ শক্তিকে বাড়ি থেকে দূরে রাখতেই সন্ধ্যায় ১৪ প্রদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে।

    ১৪ পূর্বপুরুষের উদ্দেশ্যে জ্বালানো হয় প্রদীপ

    ভূত চতুর্দশীতে ১৪ প্রদীপ জ্বালানোর পিছনে আরও একটি প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে। অনেকে মনে করেন, পরিবারের ১৪ পুরুষ বা পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যেই এই প্রদীপ জ্বালানো হয়। এই তালিকায় রয়েছেন পিতা, পিতামহ, প্রপিতামহ, বৃদ্ধপ্রপিতামহ, পিতামহী, প্রপিতামহী, বৃদ্ধপ্রপিতামহী, মাতা, মাতামহ, প্রমাতামহ, বৃদ্ধপ্রমাতামহ, মাতামহী, প্রমাতামহী ও বৃদ্ধপ্রমাতামহী।

    অশুভ আত্মার ভয় দূর করতে ভূত চতুর্দশীর দিনে একটি মন্ত্র পাঠের প্রথাও রয়েছে। মন্ত্রটি হল—

    ‘শীতলঞ্চ সমাযুক্ত সকণ্টক দলান্বিত। হরপাপ সপামার্গে ভ্রাম্যমাণঃ পুনঃ পুনঃ।’

    প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মন্ত্র পাঠ করলে অশুভ আত্মার ভয় ও অশুভ শক্তির প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

    রাজা বলির মর্ত্যে আগমনের বিশ্বাসও রয়েছে

    হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভূত চতুর্দশীর রাতে শিবভক্ত রাজা বলি ও তাঁর অনুচরেরা পুজো নিতে মর্ত্যে আসেন। চতুর্দশী তিথির অমাবস্যার ঘন অন্ধকারে রাজা বলির অনুচরেরা যাতে পথ ভুল করে মানুষের বাড়িতে প্রবেশ না করেন, সেই উদ্দেশ্যেও প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা রয়েছে বলে মনে করা হয়।

    অন্য একটি প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, পিতৃপক্ষের সময়ে পিতৃপুরুষেরা মর্ত্যে আসেন এবং ভূত চতুর্দশীর তিথিতেই তাঁদের ফিরে যাওয়ার সময় হয়। সেই অন্ধকার পথে তাঁদের যাত্রা সুগম করতেই ১৪টি প্রদীপ জ্বালানো হয়।

    ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যায় কোথায় কোথায় জ্বালবেন ১৪ প্রদীপ?

    ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালানোর ক্ষেত্রে বাড়ির কয়েকটি বিশেষ জায়গাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী—

    • ● ঠাকুরঘর: বাড়ির ঠাকুরঘরে অবশ্যই একটি প্রদীপ জ্বালানো হয়।
    • ● তুলসীমঞ্চ: বাড়িতে তুলসীমঞ্চ থাকলে সেখানেও একটি প্রদীপ দিতে হয়।
    • ● সদর দরজা: বাড়ির প্রধান দরজার দু’পাশে দুটি প্রদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে। অনেকে প্রতিটি প্রদীপে একটি করে লবঙ্গও রাখেন।
    • ● কলতলা বা জলের জায়গা: বাড়িতে যেখানে জল ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে, অর্থাৎ কলতলায় একটি প্রদীপ দেওয়া হয়।
    • ● বাড়ির দক্ষিণ দিক: দক্ষিণ দিকে একটি প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা রয়েছে।
    • ● মাটির উনুন: বাড়িতে মাটির উনুন থাকলে সেখানেও একটি প্রদীপ জ্বালানো হয়।

    প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই প্রদীপগুলি পূর্বপুরুষদের স্মরণে জ্বালানো হয়। তাই ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যায় ১৪টি প্রদীপ জ্বালানোর মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন অশুভ শক্তিকে দূরে রাখার প্রার্থনা করা হয়, অন্যদিকে তেমনই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় পরিবারের প্রয়াত পূর্বপুরুষদের।

  • Bhoot Chaturdashi 14 Saag: ভূত চতুর্দশীতে কেন খাওয়া হয় চোদ্দ শাক? জানুন ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত রীতি

    Bhoot Chaturdashi 14 Saag: ভূত চতুর্দশীতে কেন খাওয়া হয় চোদ্দ শাক? জানুন ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত রীতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ ভূত চতুর্দশী। কালীপুজোর ঠিক আগের দিন পালিত হয় এই বিশেষ তিথি। বাংলার ঘরে ঘরে ভূত চতুর্দশী মানেই কয়েকটি চিরাচরিত আচার। দুপুরে চোদ্দ রকমের শাক খাওয়া এবং সন্ধ্যায় বাড়িতে চোদ্দটি প্রদীপ জ্বালানো—এই দুই প্রথা বহু বছর ধরে বাঙালির সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাতে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মারা মর্ত্যলোকে ফিরে আসেন। তাঁদের স্মরণ এবং অশুভ শক্তির বিনাশ কামনায় পালিত হয় নানা রীতি। পরদিন অমাবস্যা তিথিতে উদযাপিত হয় দীপান্বিতা কালীপুজো।

    কেন ভূত চতুর্দশীতে চোদ্দ শাক খাওয়ার রীতি?

    ভূত চতুর্দশীতে বাঙালি পরিবারগুলিতে মূলত দুটি বিশেষ প্রথা প্রচলিত—চোদ্দ রকমের শাক খাওয়া এবং চোদ্দটি প্রদীপ জ্বালানো। লোকাচার ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, চোদ্দ ভুবনের সঙ্গে এই চোদ্দ শাক ও চোদ্দ প্রদীপের একটি প্রতীকী সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়। তবে এই প্রথার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও নানা ব্যাখ্যা ও বিশ্বাস।

    বাঙালির সংস্কৃতিতে বিভিন্ন তিথি ও পার্বণকে কেন্দ্র করে বিশেষ খাবার খাওয়ার রীতি রয়েছে। যেমন, সরস্বতী পুজোর পরদিন গোটা সেদ্ধ খাওয়ার প্রচলন রয়েছে বহু পরিবারে। তেমনই ভূত চতুর্দশীতে চোদ্দ রকমের শাক খাওয়ার প্রথাও দীর্ঘদিনের। আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে, অর্থাৎ কালীপুজোর আগের দিন, এই বিশেষ খাবার খাওয়ার রীতি পালন করেন অনেকে। কিন্তু কেন এই চোদ্দ শাক? এর পিছনে কোন ধর্মীয় বিশ্বাস কাজ করে?

    পূর্বপুরুষদের আগমন ঘটে মর্ত্যলোকে, কী বলে লোকবিশ্বাস?

    প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর পর মানুষের দেহ পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে যায়। আকাশ, জল, বায়ু, অগ্নি ও মাটি—প্রকৃতির এই পাঁচ উপাদানের সঙ্গে মানুষের অস্তিত্ব জড়িয়ে রয়েছে। লোককথা অনুসারে, ভূত চতুর্দশীর রাতে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মারা মর্ত্যলোকে ফিরে আসেন। তাঁদের স্মরণ করতেই এই তিথিতে চোদ্দ শাক খাওয়ার রীতি চালু হয়েছে বলে মনে করা হয়।

    আরও একটি প্রচলিত ধারণা হল, চোদ্দ রকমের শাক জলে ধুয়ে সেই জল বাড়ির চারপাশে ছিটিয়ে দিলে অশুভ শক্তির প্রভাব থেকে পরিবার সুরক্ষিত থাকে। পূর্বপুরুষদের স্মরণে তাঁদের উদ্দেশে এই আচার পালন করা হয়। কথিত আছে, পূর্ববর্তী সাত পুরুষ এবং পরবর্তী সাত পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কিত বিশ্বাস থেকেই মোট চোদ্দ রকমের শাক খাওয়ার প্রথার প্রচলন।

    ভূত চতুর্দশীতে কোন কোন শাক খাওয়া হয়?

    ভূত চতুর্দশীর চোদ্দ শাকের তালিকায় রয়েছে—

    • ১. জয়ন্তী
    • ২. শাঞ্চে
    • ৩. হিলঞ্চ
    • ৪. ওল
    • ৫. পুঁই
    • ৬. বেতো
    • ৭. সর্ষে
    • ৮. কালকাসুন্দে
    • ৯. নিম
    • ১০. পলতা
    • ১১. শুলকা
    • ১২. গুলঞ্চ
    • ১৩. ভাঁটপাতা
    • ১৪. শুষণী

    অবশ্য অঞ্চল ও পারিবারিক প্রথা অনুযায়ী এই তালিকায় কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। কোথাও কোথাও কয়েকটি শাকের নাম বা বিকল্প শাকের ব্যবহারও আলাদা হতে পারে।

    কোন শাকে কী কী ভেষজ গুণ রয়েছে?

    চোদ্দ শাকের প্রতিটিরই কিছু না কিছু ভেষজ গুণ রয়েছে বলে লোকাচার ও প্রচলিত আয়ুর্বেদীয় ধারণায় উল্লেখ পাওয়া যায়। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক—

    • ● জয়ন্তী: লোকজ চিকিৎসায় জ্বর ও পেটের সমস্যায় এর ব্যবহারের উল্লেখ রয়েছে।

    • ● শাঞ্চে: পুষ্টিগুণের জন্য পরিচিত।

    • ● হিলঞ্চ: প্রচলিত ধারণায় পিত্তের সমস্যা প্রশমনে ব্যবহৃত হয়।

    • ● ওল: আঁশসমৃদ্ধ এই সবজি হজমে সাহায্য করে।

    • ● পুঁই: খাদ্যআঁশ ও বিভিন্ন ভিটামিনের উৎস। হজমের জন্য উপকারী।

    • ● বেতো: লোকজ চিকিৎসায় কৃমিনাশক হিসেবে ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে।

    • ● সর্ষে: ভিটামিন ও খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ। চোখ ও যকৃতের সুস্থতায় পুষ্টিগত ভূমিকা রয়েছে।

    • ● কালকাসুন্দে: লোকজ চিকিৎসায় কাশি ও ত্বকের কিছু সমস্যায় ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায়।

    • ● নিম: ত্বকের পরিচর্যায় ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত হয়।

    • ● পলতা: শ্বাসযন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যায় লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে।

    • ● শুলকা: এর ভেষজ ব্যবহার সম্পর্কে স্থানীয় লোকাচারে নানা ধারণা প্রচলিত।

    • ● গুলঞ্চ: আয়ুর্বেদীয় চিকিৎসায় বিভিন্ন ভেষজ প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়।

    • ● ভাঁটপাতা: লোকজ চিকিৎসায় বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় এর ব্যবহারের উল্লেখ রয়েছে।

    • ● শুষণী: আয়ুর্বেদীয় ও লোকজ চিকিৎসায় স্মৃতিশক্তি এবং স্নায়ুর পরিচর্যায় ব্যবহারের কথা বলা হয়।

    তবে মনে রাখতে হবে, এই শাকগুলির কোনওটি খেলেই নির্দিষ্ট রোগ সেরে যায় কিংবা ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনও জটিল রোগ প্রতিরোধ করা যায়—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। শাকসবজি সুষম খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এগুলিকে কোনও রোগের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়।

    ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি রয়েছে প্রকৃতির সঙ্গে যোগসূত্র

    ভূত চতুর্দশীতে চোদ্দ শাক খাওয়ার প্রথার সঙ্গে বাংলার ঋতুচক্র ও প্রকৃতির সম্পর্কও লক্ষ করা যায়। শরৎ থেকে হেমন্তে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখার একটি স্বাভাবিক গুরুত্ব রয়েছে। মরশুমি শাক থেকে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে পারে।

    তাই এই প্রাচীন রীতির মধ্যে একদিকে যেমন পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও ধর্মীয় বিশ্বাস জড়িয়ে রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে মরশুমি খাদ্যাভ্যাসের ঐতিহ্য। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই প্রথা আজও বাঙালির উৎসব-সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

    চোদ্দ শাকের স্বাদ, চোদ্দ প্রদীপের আলো আর পূর্বপুরুষদের স্মরণ—সব মিলিয়ে ভূত চতুর্দশী বাঙালির কাছে শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং ঐতিহ্য ও পারিবারিক সংস্কৃতির এক বিশেষ উদযাপন।

  • Amit Shah Attacks Rahul: ‘সত্যি আলোচনা চান, মোদিকে চিঠি লিখুন’, রাহুলকে পাল্টা বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের

    Amit Shah Attacks Rahul: ‘সত্যি আলোচনা চান, মোদিকে চিঠি লিখুন’, রাহুলকে পাল্টা বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর (SIR) নিয়ে সংসদে আলোচনার জন্য বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে (Amit Shah Attacks Rahul) সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই ইস্যুতে আলোচনার জন্য কেন্দ্র সরকার সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকতেও প্রস্তুত বলে জানিয়ে দিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) হরিয়ানার কর্নালে বিজেপির ‘লোকতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচির জনসভা থেকে এই বার্তা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে অযৌক্তিক জটিলতা

    সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্য বিতর্কে বসার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। সেই প্রসঙ্গ টেনেই অমিত শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন রাহুল। সত্যিই যদি আলোচনা করতে চান, তা হলে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি লিখুন। সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে আলোচনার ব্যবস্থা করতে কেন্দ্র প্রস্তুত। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও জবাবদিহির দাবি জানিয়েছে তারা। এই পরিস্থিতিতে সংসদে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে বিরোধীদের পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন শাহ।

    সংসদ অচল করার অভিযোগ কংগ্রেসের বিরুদ্ধে

    এদিনের সভা থেকে কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীকে নিশানা করতেও ছাড়েননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার পরিবর্তে বারবার অধিবেশনের কাজে বাধা তৈরি করছে কংগ্রেস। সংসদ অচল করে দেওয়াই তাদের রাজনৈতিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অমিত শাহ বলেন, “দেশের মানুষ পরপর তৃতীয়বার নরেন্দ্র মোদিকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছেন। কিন্তু রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের পরাজয়ের ধারা অব্যাহত রয়েছে।” কেন বিজেপি এই কর্মসূচি করছে, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়েই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সংসদের কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগ তোলেন তিনি।

    ভিয়েতনাম সফর নিয়ে রাহুলকে প্রশ্ন শাহের

    শুধু সংসদ বা এসআইআর নয়, রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফর নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অমিত শাহ। বিশেষ করে ভিয়েতনাম সফরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, রাহুল গান্ধী সম্প্রতি ভিয়েতনাম থেকে ফিরেছেন। তাঁর বিদেশ সফর সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জানার অধিকার রয়েছে। শাহের কথায়, বিরোধী দলনেতার মতো সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তির জনসাধারণের কাছে জবাবদিহি করা উচিত। জনজীবনে কোনও দায়িত্বপূর্ণ পদে থাকলে নিজের আচরণ ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    রাহুলের চ্যালেঞ্জের জবাব

    সম্প্রতি সমাজমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করেন রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি সাহায্যের উপর নির্ভর করেই প্রধানমন্ত্রী পদে এসেছেন মোদি। এমনকী, প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক ব্যবস্থাও বিদেশিদের নিয়ন্ত্রণ ও সমর্থনে চলছে বলে দাবি করেন তিনি। বিদেশি সমাজমাধ্যমও মোদিকে সমর্থন করছে বলে অভিযোগ তোলেন কংগ্রেস নেতা। এর পরেই প্রধানমন্ত্রীকে প্রকাশ্য বিতর্কে বসার চ্যালেঞ্জ জানান রাহুল। তাঁর বক্তব্য, যে কোনও জায়গায়, যে কোনও সময়ে এই বিতর্ক হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, সাহস থাকলে আলোচনায় আসুন। তাঁর দাবি, তাঁর জানা বিভিন্ন তথ্য সামনে আসার ভয়েই প্রধানমন্ত্রী এই বিতর্ক এড়িয়ে যাবেন। রাহুলের সেই চ্যালেঞ্জের জবাবে এবার সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডেকে আলোচনার প্রস্তাব দিলেন অমিত শাহ। ফলে এসআইআর ইস্যুতে বিজেপি ও কংগ্রেসের রাজনৈতিক সংঘাত এবার সংসদের বিশেষ অধিবেশন ঘিরে নতুন মাত্রা পেল।

LinkedIn
Share