Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Narendra Modi: সময়সীমা ৩ দিন! তার মধ্যে মোদির ভিডিও ডিলিটের জন্য ক্ষমা চাইতেই হবে জুকেরবার্গকে, জানাল সংসদীয় কমিটি

    Narendra Modi: সময়সীমা ৩ দিন! তার মধ্যে মোদির ভিডিও ডিলিটের জন্য ক্ষমা চাইতেই হবে জুকেরবার্গকে, জানাল সংসদীয় কমিটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফেসবুক লাইভ ডিলিট নিয়ে মেটা কর্ণধার মার্ক জুকেরবার্গকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে জানিয়েছে বিশেষ সংসদীয় কমিটি। ক্ষমা চাওয়ার জন্য তিনদিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় মামলা দায়ের হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, যে বা যাঁরা গোটা ঘটনার জন্য দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। নিশিকান্ত নেতৃত্বাধীন সংসদীয় তথ্যপ্রযুক্তি কমিটি জানিয়েছে, মোদি ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের প্রতিনিধি। তাঁর ভিডিও ডিলিট করে দেওয়ার অর্থ ‘গণতন্ত্রে’র উপর হামলা। জুকেরবার্গকে ক্ষমা চাইতেই হবে। অন্যথায় দায়ের করা হবে মামলা। যে বা যাঁরা দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না করলে আইনি রক্ষাকবচও মিলবে না।

    ক্ষমা চাইতেই হবে জুকেরবার্গকে

    নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে ছাত্র আন্দোলনের সূচনা ঘটে। সেই আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয় ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। সেই আবহেই গত ২৩ জুলাই দেশের যুবসমাজকে ভিডিও বার্তা দিতে ফেসবুক লাইভ করেন মোদি। কিন্তু সেই ভিডিও আচমকাই গায়েব হয়ে যায় ফেসবুক থেকে। বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা শুরু হলে, মেটা জানায়, ভুলবশত ভিডিওটি ডিলিট হয়ে গিয়েছিল। ভিডিওটি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে মেটা-র সাফাইয়ে সন্তুষ্ট নয় সংসদীয় তথ্যপ্রযুক্তি কমিটি। সংস্থার প্রতিনিধিদের ডেকে ক্ষোভ জানানো হয়। ক্ষমা চাইতে বলা হয় তাঁদের। মেটা জানায়, তারা আগেই দুঃখপ্রকাশ করেছে। আবারও ক্ষমা চাইতে রাজি। কিন্তু ওই কমিটি জানায়, মেটা নয়, ক্ষমা চাইতে হবে জুকেরবার্গকে। মেটা-র তরফে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কথা বলা হলেও কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের মনঃপুত হয়নি সেই যুক্তি।

    সার্বভৌম ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপের সমান

    সরকারের অভিযোগ, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মতো একটি সাংবিধানিক পদের শীর্ষ ব্যক্তিত্বের বক্তব্য এভাবে সরিয়ে ফেলা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং সার্বভৌম ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপের সমান। মেটা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখনো এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে আগামী ৩ দিন জুকেরবার্গ কী অবস্থান নেন এবং ভারতীয় সংসদীয় কমিটির কাছে ক্ষমা চান কি না, সেদিকেই নজর রাখছে বিশ্ব রাজনৈতিক ও প্রযুক্তি মহল।

     

  • Jantar Mantar Protest: জন্তর-মন্তর বিক্ষোভে পাক-যোগ! পুলিশের নজরে ৪০০-র বেশি সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট

    Jantar Mantar Protest: জন্তর-মন্তর বিক্ষোভে পাক-যোগ! পুলিশের নজরে ৪০০-র বেশি সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জুলাই মাসে দিল্লির জন্তর-মন্তরে অনুষ্ঠিত ছাত্র বিক্ষোভকে (Jantar Mantar Protest) ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে পরিকল্পিত ডিজিটাল প্রচার চালানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। তদন্তে শুধু সোশাল মিডিয়ার কার্যকলাপই নয়, আর্থিক লেনদেন এবং বিদেশি যোগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রায় ১৮০টি ইনফ্লুয়েন্সার ও ইউটিউব চ্যানেল, তিনটি বেসরকারি ডিজিটাল মার্কেটিং সংস্থা এবং পাকিস্তান-যোগের অভিযোগ থাকা ৪০০-র বেশি সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেল পুলিশের নজরে রয়েছে। পুলিশের সন্দেহ, জন্তর-মন্তরের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সমন্বিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু কনটেন্ট ছড়িয়ে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা হয়েছিল, যাতে ঘটনাটি বাস্তবের তুলনায় অনেক বড় জাতীয় সংকট হিসেবে প্রতীয়মান হয়।

    কী খতিয়ে দেখছে পুলিশ?

    তদন্তকারীরা ১৯ ও ২০ জুলাই জন্তর-মন্তরে হওয়া বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অনলাইনে একই ধরনের বার্তা কীভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল, তা বিশ্লেষণ করছেন। পুলিশের দাবি, বিদেশে পরিচালিত কিছু সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট অতীতেও ‘অপারেশন সিঁদুর’-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সময় সক্রিয় ছিল। সেই একই ধরনের অ্যাকাউন্ট জন্তর-মন্তর বিক্ষোভের সময়ও সক্রিয় হয়ে ওঠায় বিদেশি প্রভাব বা দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত প্রচারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। দিল্লি পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোনও ইনফ্লুয়েন্সার, সংস্থা বা সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের নাম প্রকাশ করেনি। তদন্তকারীদের বক্তব্য, আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলি কেবল তদন্তের অংশমাত্র।

    আর্থিক লেনদেনও তদন্তের আওতায়

    ডিজিটাল প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা সংস্থাগুলি কোনও গোপন আর্থিক সুবিধা পেয়েছিল কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা বিশেষভাবে নজর দিচ্ছেন— পিয়ার-টু-পিয়ার ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন, অ্যাফিলিয়েট বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থপ্রাপ্তি, তৃতীয় পক্ষের মার্কেটিং কনসালটেন্সি চুক্তি এবং এমন অন্যান্য ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি, যেগুলির প্রচলিত ব্যাংকিং নথি থাকে না।

    সোশাল মিডিয়া অ্যালগরিদমের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

    তদন্তে উঠে এসেছে, বিভ্রান্তিকর দাবি, সম্পাদিত ভিডিও, ডিপফেক বা অতিরঞ্জিত তথ্য প্রথমে অল্প কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে লাইক, শেয়ার, কমেন্ট ও ভিউ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম সেই কনটেন্টকে আরও বৃহৎ পরিসরে পৌঁছে দেয়। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, জন্তর-মন্তরের বিক্ষোভের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রক্রিয়া কাজ করেছিল কি না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে একই ধরনের বার্তার একাধিক সংস্করণ তৈরি করে ইনস্টাগ্রাম, এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউব-সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অল্প সময়ের ব্যবধানে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দিচ্ছে তদন্তকারীরা।

    তদন্তের মূল লক্ষ্য

    দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, তদন্তের উদ্দেশ্য শুধু ভুয়ো তথ্য শনাক্ত করা নয়। বরং জন্তর-মন্তরের তুলনামূলকভাবে সীমিত পরিসরের বিক্ষোভকে পরিকল্পিতভাবে বৃহত্তর অনলাইন আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল কি না এবং তার মাধ্যমে জনমনে উদ্বেগ, বিভ্রান্তি ও সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়েছিল কি না, সেটাই এখন তদন্তের মূল বিষয়। এখনও পর্যন্ত এই মামলায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি এবং কোনও চার্জশিটও দাখিল হয়নি। ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ, আর্থিক নথি এবং সোশাল মিডিয়ার কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করে দেশীয় বা বিদেশি কোনও সংগঠিত চক্র জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ।

  • Indian Vessel Sinks: ইয়েমেন উপকূলে হামলা! লোহিত সাগরে ডুবল ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ, নিন্দা নয়াদিল্লির

    Indian Vessel Sinks: ইয়েমেন উপকূলে হামলা! লোহিত সাগরে ডুবল ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ, নিন্দা নয়াদিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইয়েমেন উপকূল (Yemen) সংলগ্ন লোহিত সাগরে (Red Sea) ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ডুবে গেল ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এমএসভি ফাইজে নূরে ওলিয়া (MSV Faize Noore Oliya)। তবে জাহাজে থাকা ১৩ জন ভারতীয় নাবিক এবং একজন বিদেশি নাগরিককে নিরাপদে উদ্ধার করেছে ইয়েমেন কোস্ট গার্ড (National Resistance Force)। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের ইয়েমেনের মোখা বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, নিরস্ত্র একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এই হামলা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও নিন্দনীয়। তিনি জানান, জাহাজে থাকা ১৪ জন নাবিকই নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন।

    হামলার তীব্র নিন্দা বিদেশ মন্ত্রকের

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) এক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৪ আগস্ট ইয়েমেন উপকূলের কাছে লোহিত সাগরে ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এমএসভি ফাইজে নূরে ওলিয়া (MSV Faize Noore Oliya)-এর ওপর হামলার ঘটনায় ভারত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, জাহাজে থাকা ১৩ জন ভারতীয় নাগরিককেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। সৌদি আরবের রিয়াধে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ইয়েমেন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রেখে উদ্ধার হওয়া নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। পাশাপাশি দ্রুত উদ্ধারকাজের জন্য ইয়েমেন প্রশাসনকে ধন্যবাদও জানানো হয়েছে।

    নাবিকদের নিরাপত্তা সবার আগে

    কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেন, ‘‘বিনা প্ররোচনায় ভারতীয় জাহাজটিকে নিশানা করা হয়েছে। প্রতিরোধ ক্ষমতা বিহীন একটি জলযানের উপরে বিনা প্ররোচনায় এই হামলার তীব্র নিন্দা করছে ভারত। আমাদের নাবিকদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’’ তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া নাবিকদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-কে সংশ্লিষ্ট সমস্ত সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কারা চালাল হামলা?

    উপসাগরীয় এলাকায় ভারতীয় কোনও জাহাজে এইভাবে সরাসরি হামলার ঘটনা এই প্রথম৷ সৌদি থেকে তেল নিয়ে আসছিল ভারতীয় এই জাহাজটি৷ ইয়েমেনের বাব আল মানডাবের হোদেইদাহ থেকে ১৩ নটিক্যাল মাইল দূরে এই হামলার ঘটনা ঘটে৷ বিস্ফোরক বোঝাই যে নৌকা করে আত্মঘাতী এই হামলা চালানো হয়, সেটিও ইয়েমেনেরই বলে জানা গিয়েছে৷সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেন উপকূল এবং বাব-এল-মান্দেব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার জেরে গোটা লোহিত সাগর অঞ্চল অস্থির হয়ে উঠেছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই হামলার জন্য দায়ী গোষ্ঠীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি ভারত সরকার। লোহিত সাগরে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটছে। পরপর এমন ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এই ঘটনার পর ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগর?

    লোহিত সাগর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য পথ। সুয়েজ খালের মাধ্যমে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনের বড় অংশ এই পথেই হয়। কিন্তু ইয়েমেন উপকূলবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা এবং বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক আক্রমণের ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং শিল্পের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বহু আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থা জাহাজ ঘুরিয়ে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ হয়ে চলাচল করছে। ফলে পরিবহণ ব্যয়, বীমার খরচ এবং পণ্য সরবরাহের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে নিরাপত্তা জোরদার করতে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীগুলিও টহল বাড়িয়েছে।

    সঙ্কটে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ

    একই দিনে হরমুজ প্রণালীর কাছে আরেকটি ড্রাই বাল্ক কার্গো জাহাজও একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর। ওই জাহাজের কর্মীরা জাহাজ ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হন। তবে একজন নাবিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরাকের হরমুজ প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত তেল রফতানি প্রায় ৭১ শতাংশ কমে গেছে। সংস্থার হিসেব অনুযায়ী, ৪ জুলাই থেকে ৪ আগস্টের মধ্যে ইরাক প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে, যেখানে যুদ্ধের আগে মাসিক গড় রফতানি ছিল ১০.৫ কোটি ব্যারেল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ (Naval Blockade) কার্যকর করার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলেও চাপ তৈরি হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ বাণিজ্য জরুরি

    ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে, লোহিত সাগর অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর ধারাবাহিক হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ ও নিরাপদ বাণিজ্যিক নৌচলাচল দ্রুত পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন রয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক আইন মেনেই এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে চলাচল নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করছে দিল্লি। গত মাসেই ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা করে। তার পর থেকে লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। এই প্রণালী লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে হামলার ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে।

     

     

     

     

  • Exclusive Breastfeeding: শুধু শিশুই নয়, মায়েরও বড় সুরক্ষা! প্রথম ছ’মাস শুধু মাতৃদুগ্ধ কেন জরুরি?

    Exclusive Breastfeeding: শুধু শিশুই নয়, মায়েরও বড় সুরক্ষা! প্রথম ছ’মাস শুধু মাতৃদুগ্ধ কেন জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সন্তান জন্মের পরে প্রথম ছ’মাস শুধুই মায়ের দুধ! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই পরামর্শ পৃথিবী জুড়ে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি ভারতে এই সচেতনতায় বেশ কিছুটা ঘাটতি দেখা গিয়েছে। যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর জন্মের পরের মুহূর্ত থেকে পরবর্তী ছ’মাস স্তন্যপান না করালে, পরবর্তী জীবনে একাধিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কিন্তু ভারতে সম্প্রতি এই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগের। অগাস্ট মাসে স্তন্যপান নিয়ে সচেতনতা কর্মশালা পালন হয়। এ বছরে তাই সুস্থ ও মজবুত আগামী প্রজন্ম গড়ে তুলতে স্তন্যপান করানো কতখানি জরুরি, সে নিয়েই লাগাতার সচেতনতা শিবির এবং কর্মশালার আয়োজন করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

    কী বলছে সাম্প্রতিক রিপোর্ট? কেন উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরা?

    সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, শহুরে ভারতীয়দের একাংশ, সন্তান জন্মের পরে প্রথম ছ’মাস শুধুমাত্র স্তন্যপান করান না। গত পাঁচ বছরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশ মাফিক জন্মের প্রথম ছ’মাস শুধুই স্তন্যপান করা শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এর প্রভাব আগামী কয়েক বছরে গভীর ভাবে পড়বে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে স্তন্যপান নিয়ে সচেতনতার হার এখনো পর্যাপ্ত নয়। আবার অনেকক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে মায়ের পেশাগত জীবনের ব্যস্ততা। তাঁরা, জানাচ্ছেন, জন্মের পরে মধু বা মিছরির জল নয়, শিশুকে প্রথমেই স্তন্যপান করানো প্রয়োজন। সদ্যোজাতের শরীরে প্রথমেই, মায়ের প্রথম দুধের পৌঁছলে একাধিক দীর্ঘমেয়াদি উপকার হয়। কিন্তু এখনো অনেকক্ষেত্রে শিশুকে প্রথমে মধু, মিছরির জল দেওয়া হয়। সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে!

    মাতৃত্বকালীন ছুটির অভাব বড় চ্যালেঞ্জ!

    তবে, জন্মের পরের প্রথম ছ’মাস টানা স্তন্যপান করানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মায়ের ছুটির অভাব। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, নতুন মায়ের ছুটি নিয়ে নানান জটিলতা তৈরি করা হয়। মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়া হয় না।‌ এর ফলে মা বাধ্য হয়ে কর্মজীবনে ফিরে যান। কিন্তু সন্তান জন্মের পরের ছ’মাস মায়ের সদ্যোজাতের সঙ্গে কাটানো‌ জরুরি। এই সময়ে শিশু সম্পূর্ণ স্তন্যপান করবে। জল বা অন্য কোনো খাবার খাবে না। তাতেই তার শরীরে একাধিক উপকার হবে। ভারতের আইন মহিলাদের মাতৃত্বকালীন ছুটির অধিকার দিয়েছে। কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই অভিযোগ ওঠে, সেই ছুটি মঞ্জুর করা হয় না। ফলে মা কাজের জায়গায় যেতে বাধ্য হন। অনেক সময়েই মা একসঙ্গে সারাদিনের দুধ পাম্প করে রেখে যেতে পারেন না। ফলে শিশু প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত মাতৃদুগ্ধ পায় না। শিশু ঠিকমতো মায়ের দুধ না পেলে আগামী প্রজন্ম একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগবে বলেই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা। তাই উদ্বেগ বাড়ছে!

    কেন আগামী মজবুত করতে স্তন্যপান জরুরি?

    চলতি বছরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, পৃথিবী জুড়ে চলবে প্রচার কর্মসূচি! যার মূল কথা হলো, আগামী প্রজন্মকে সুস্থ ও মজবুত গড়ে তুলতে স্তন্যপান জরুরি। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, শিশুর শরীরে সম্পূর্ণ পুষ্টি এবং অ্যান্টিবডি গড়ে তুলতে স্তন্যপান সবচেয়ে জরুরি। শিশুকে ঠিকমতো স্তন্যপান করালে তবেই ডায়ারিয়া, নিউমোনিয়া সহ একাধিক সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।
    শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে স্তন্যপানের কোনো বিকল্প নেই। জন্মের পরের প্রথম ছ’মাস শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। মায়ের দুধে এমন একাধিক উপাদান থাকে, যা শিশুর মস্তিষ্কের‌‌ বিকাশে বিশেষ সাহায্য করে। তাই আগামী দিনে শিশুর সুন্দর জীবনের জন্য স্তন্যপান অত্যন্ত জরুরি। মা ও শিশুর সম্পর্ক গভীর করতেও স্তন্যপান জরুরি বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, স্তন্যপান করালে মা ও শিশুর মানসিক সম্পর্ক গভীর ও দৃঢ় হয়। তাই স্তন্যপান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সন্তানকে স্তন্যপান করালে মায়ের স্বাস্থ্য লাভ কতখানি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশু জন্মের পরের প্রথম ছ’মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ খেলে দীর্ঘমেয়াদি উপকার হয়। তেমনি, মায়ের শরীরেও দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার চাবিকাঠি স্তন্যপান করানো। তাঁরা জানাচ্ছেন, স্তন্যপান করালে শুধু শিশুর শরীর সুস্থ থাকে এমন নয়, মায়ের শরীর ও ভালো থাকে। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানকে পর্যাপ্ত স্তন্যপান করালে মায়ের আগামী দিনে স্তন ক্যান্সার এবং ডিম্বাশয়, জরায়ুর ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। স্তন্যপান করালে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। ফলে, এই সমস্ত অঙ্গে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত পর্যাপ্ত স্তন্যপান করালে মায়ের প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণ সহজেই বন্ধ হয়ে যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, বহু মায়ের প্রসব পরবর্তী কালে প্রচন্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়। কিন্তু ঠিকমতো স্তন্যপান করালে সেই রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়। প্রসব পরবর্তী কালে মায়ের মানসিক অবসাদ হয়। সেই অবসাদ কমাতে স্তন্যপান সাহায্য করে বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, মায়ের শরীরে নানান হরমোনের পরিবর্তন হয়। ফলে, মানসিক অবসাদ‌ তৈরি হয়। সেই অবসাদ কাটাতে বাড়তি সাহায্য করে স্তন্যপান। তবে, সন্তানকে স্তন্যপান করানোর সময়ে মায়ের যত্ন জরুরি। মায়ের নিয়মিত পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি।‌ মায়ের পর্যাপ্ত জল খাওয়া দরকার। পাশপাশি মায়ের প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিশ্রাম। সেই দিকে পরিবারের খেয়াল রাখার দায়িত্ব রয়েছে। নতুন মা এবং সন্তানের যত্ন যাতে ঠিকমতো হয়, আগামী প্রজন্ম যাতে সুস্থ ও মজবুত হতে পারে, সে নিয়ে সব মহলে সচেতনতা জরুরি।

  • POK Unrest: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অশান্তি চরমে, নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে

    POK Unrest: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অশান্তি চরমে, নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (POK Unrest)-এ পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। মঙ্গলবারও বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের আবহ অব্যাহত রয়েছে। যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC)-র অভিযোগ, বাগ জেলায় চলমান বিক্ষোভ দমাতে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছে এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। সংগঠনের দাবি, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। একই সঙ্গে মুজাফফরাবাদ জেলার মাকরি এলাকায় সাধারণ মানুষের মোটরসাইকেলে আগুন লাগানোরও অভিযোগ তোলা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি

    সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC) রাষ্ট্রসংঘ (UN), রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দফতর (OHCHR), আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং বিশ্ব মানবাধিকার সংগঠনগুলির কাছে পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তেরও দাবি জানানো হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন স্থানীয় ইস্যুকে কেন্দ্র করে পিওকে-র একাধিক এলাকায় বিক্ষোভ চলছে। JAAC-এর দাবি, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকশো মানুষ আহত হয়েছেন। এদিকে, পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত

    আগেও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সেনা। সাধুনাটি জেলায় জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-র নিরস্ত্র জমায়েতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় তিন জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। রাওয়ালকোটের মাতিয়াল মিরা বাস টার্মিনালের সামনে গুলিবর্ষণেও মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) ইসলামাবাদের সেনার ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চেয়েছে ভারতও। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ‘‘নয়াদিল্লি আশা করে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সংঘটিত নির্যাতন ও অনাচারের জন্য আন্তর্জাতিক ভাবে পাকিস্তানকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। সেখানে কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানের পদ্ধতিগত শোষণ, মৌলিক অধিকার হরণ এবং অবৈধ ভাবে দখলে থাকা এলাকাগুলিতে প্রশাসনিক নিপীড়নের সরাসরি পরিণতি এই স্বতঃস্ফূর্ত গণবিক্ষোভ।’’ ভারতের অভিযোগ, স্থানীয় জনগণের ন্যায্য অভিযোগগুলোর সমাধান করার পরিবর্তে পাকিস্তানি রাষ্ট্র চরম দমনপীড়নের পথ নিয়েছে এবং নিরস্ত্র অসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করেছে। যার ফলে ধারাবাহিক ভাবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

    ১২টি সংরক্ষিত আসন-ই ইসলামাবাদের চাবিকাঠি

    দীর্ঘ দিন ধরেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দারা পাক সেনার অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-আন্দোলন করছেন। তাতে নতুন মাত্রা এনেছে, জম্মু ও কাশ্মীর থেকে স্থানান্তরিত সংরক্ষিত ১২টি আসন। সেই আসনগুলিই এখন পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সংগঠনের যৌথমঞ্চ, জেএএসি ওই ১২টি সংরক্ষিত আসন তুলে দেওয়ার দাবি তুলেছে। তাদের অভিযোগ, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সরকারের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে এবং সেখানকার রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে ইসলামাবাদ এই আসনগুলিকে হাতিয়ার করছে। ১৯৪৭ এবং তার পর ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মীর থেকে বহু মানুষ পাকিস্তানে স্থানান্তরিত হয়েছেন। বিশেষ করে জম্মু, পুঞ্চ এবং রাজৌরি থেকে এই ঘটনা ঘটেছে। এই মানুষদের পাকিস্তানে ‘উদ্বাস্তু’ ঘোষণা করা হয়েছে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আইনসভায় মোট ৫৩ জন সদস্যের মধ্যে এই উদ্বাস্তুদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬টি আসন কাশ্মীর উপত্যকা এবং ৬টি আসন জম্মু থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত। ওই উদ্বাস্তুরা যেহেতু পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে বসতি স্থাপন করেছেন, তাই সংরক্ষিত আসনগুলির নির্বাচন পিওকে-র বাইরে হয়ে থাকে।

    কীভাবে ভুল পথে অধিকৃত কাশ্মীরকে নিয়ন্ত্রণ করে ইসলামাবাদ

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থানের সঙ্গে আসনগুলির যোগসূত্র রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের উদ্বাস্তু প্রতিনিধিদের দেখিয়ে ইসলামাবাদ বলতে চায়, কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হয়নি। জেএএসি-র, এই উদ্বাস্তু আসনগুলি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। অভিযোগ, ওই আসনগুলি থেকে সাজানো নির্বাচনে জয়ী প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে ইসলামাবাদ। জেএএসি-র নেতা সর্দার আমান খান সম্প্রতি পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসেরও বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীই মূলত ওই স্থানান্তরিত কাশ্মীরিদের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাস রফতানি ও অস্ত্র সরবরাহ করে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তানি নির্যাতন প্রতিরোধে হস্তক্ষেপের জন্য নয়াদিল্লির কাছে আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। গত ৯ জুন থেকে ৩৮ দফা দাবিতে শুরু হয়েছে আন্দোলনে নতুন পর্যায়। তাতে ৫০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পাক সেনার বিরুদ্ধে।

    উদ্বেগ প্রকাশ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের

    আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি পাকিস্তান সরকারের কাছে দ্রুত, স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে। অ্যামনেস্টির আরও অভিযোগ, পিওকে-র কিছু এলাকায় ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যার ফলে ঘটনাগুলির স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তারা তথ্যপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখারও আহ্বান জানিয়েছে। পিওকে-তে পরিস্থিতি ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় পাকিস্তানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক মহল নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি তুলেছে।

  • Dallas Gita Event: ডালাসে ঐতিহাসিক গীতা পাঠ! ১৮ দেশের অংশগ্রহণ, একসঙ্গে উচ্চারিত হল শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ৭০০ শ্লোক

    Dallas Gita Event: ডালাসে ঐতিহাসিক গীতা পাঠ! ১৮ দেশের অংশগ্রহণ, একসঙ্গে উচ্চারিত হল শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ৭০০ শ্লোক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাস (Dallas Gita Event) শহরে অনুষ্ঠিত হল এক ঐতিহাসিক ও ব্যতিক্রমী শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পারায়ণ অনুষ্ঠান। অবধূত দত্ত পীঠমের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী গণপতি সচ্চিদানন্দ স্বামীজি-র (Sri Ganapathy Sachchidananda Swamiji) নেতৃত্বে কিউটেক্স (CUTEX) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার ভক্ত, ছাত্রছাত্রী এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। স্বামীজির যুক্তরাষ্ট্রে আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ১৮টি দেশের অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল—হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী স্মৃতি থেকে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ৭০০টি শ্লোক একযোগে আবৃত্তি করেন। পুরো অডিটোরিয়াম ভক্তি, আধ্যাত্মিকতা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের আবহে মুখর হয়ে ওঠে।

    সমগ্র বিশ্বই একটি পরিবার

    ডালাসে এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ছিল ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—অর্থাৎ, ‘সমগ্র বিশ্বই একটি পরিবার’। এই আদর্শকে সামনে রেখেই বিশ্বশান্তি, মানবকল্যাণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তা তুলে ধরা হয়। শ্রী গণপতি সচ্চিদানন্দ স্বামীজি বলেন, “ঈশ্বর ভারতকে আশীর্বাদ করুন, আমেরিকাকে আশীর্বাদ করুন এবং সমগ্র বিশ্বকে আশীর্বাদ করুন।” তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয়দের দায়িত্ব দুই দেশের মধ্যে আধ্যাত্মিক মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও দৃঢ় করা। অনুষ্ঠানে বিশ্বশান্তির উদ্দেশ্যে বিশেষ প্রার্থনারও আয়োজন করা হয়। স্বামীজি জানান, এই গীতা পারায়ণ প্রতিটি পরিবারের শান্তি, সমাজের কল্যাণ এবং বিশ্বের সমৃদ্ধি ও শান্তির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দেশটি আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিকাশের জন্য অনুকূল পরিবেশ ও সুযোগ করে দিয়েছে। তাঁর আহ্বান, শান্তি, সমৃদ্ধি, স্বাধীনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

    মার্কিন মুলুকে নিয়মিত গীতাপাঠ

    আমেরিকায় গীতাপাঠ অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং এটি ভারতীয় প্রবাসীদের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের একটি বড় অংশ। টেক্সাসের ডালাসে, শিকাগো বা মিশিগানের মতো শহরে শয়ে শয়ে মানুষের একসঙ্গে গীতা আবৃত্তির মতো বড় ইভেন্ট নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এদিনের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয় স্বামীজির আশীর্বাদ এবং সর্বজনীন শান্তির মন্ত্র ‘লোকাঃ সমস্তাঃ সুখিনো ভবন্তু’ উচ্চারণের মধ্য দিয়ে। যার অর্থ—“সমস্ত বিশ্বের সকল প্রাণী সুখী, সুস্থ ও শান্তিতে থাকুক।”

  • DRDO AI Swarm Drone: যুদ্ধের চেহারা বদলে দেবে ৫০ ড্রোনের ‘ঝাঁক’! এমএসএমই-দের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ‘এআই সোয়ার্ম ড্রোন’ বানাচ্ছে ডিআরডিও

    DRDO AI Swarm Drone: যুদ্ধের চেহারা বদলে দেবে ৫০ ড্রোনের ‘ঝাঁক’! এমএসএমই-দের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ‘এআই সোয়ার্ম ড্রোন’ বানাচ্ছে ডিআরডিও

    সুশান্ত দাস

    ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার (Atmanirbhar Bharat) পথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)। আধুনিক যুদ্ধের দ্রুত বদলে যাওয়া চাহিদার কথা মাথায় রেখে এ বার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর সোয়ার্ম ড্রোন (Swarm Drone) তৈরির জন্য দেশীয় বেসরকারি সংস্থা, বিশেষ করে স্টার্ট-আপ এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME)-গুলিকে আহ্বান জানিয়েছে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ডিআরডিও (DRDO)। এই প্রকল্প সফল হলে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যেমন বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসবে, তেমনই দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পও নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এমএসএমই-দের জন্য ডিআরডিও-র নতুন প্রকল্প

    ডিআরডিও এই প্রকল্পের নাম দিয়েছে ‘ডেভেলপমেন্ট অফ ক্লোজ ফর্মেশন ফ্লাইং অফ মাল্টিপল ড্রোনস্’ । এটি সংস্থার প্রযুক্তি উন্নয়ন তহবিল (TDF) প্রকল্পের অধীনে বাস্তবায়িত হবে। টিডিএফ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল দেশীয় এমএসএমই ও স্টার্টআপগুলিকে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরিতে উৎসাহ দেওয়া এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে তৃণমূল স্তরের উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধ ক্রমশ আকাশপথকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। সেই কারণে স্বল্প খরচে, এআই-নির্ভর এবং সমন্বিতভাবে পরিচালিত সোয়ার্ম ড্রোন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    কী এই সোয়ার্ম ড্রোন?

    সোয়ার্ম ড্রোন হল একসঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা একাধিক মানববিহীন বিমান (UAV)-এর একটি নেটওয়ার্ক। ডিআরডিও-র পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি ‘মাস্টার’ ড্রোন এবং প্রায় ৫০টি ‘স্লেভ’ ড্রোন মিলিয়ে একটি সোয়ার্ম তৈরি হবে। এই ড্রোনগুলি একে অপরের থেকে মাত্র অর্ধ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে উড়তে পারবে এবং রিয়েল-টাইমে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখবে। মাস্টার ড্রোনটি মূল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। এটি স্থলভিত্তিক কন্ট্রোল স্টেশন থেকে নির্দেশ গ্রহণ করে বাকি ড্রোনগুলিকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করবে। ফলে পুরো ড্রোন নেটওয়ার্কটি একযোগে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ বা আক্রমণ চালাতে সক্ষম হবে।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রযুক্তি?

    একটি মাত্র ড্রোনকে শত্রুপক্ষ সহজেই শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে সমন্বিতভাবে চলা ৫০টি ড্রোনের একটি সোয়ার্মকে থামানো অনেক বেশি কঠিন। কোনও একটি ড্রোন ধ্বংস হলেও বাকি ড্রোনগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিন্যাস করে মিশন চালিয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তিই সোয়ার্ম ড্রোনকে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর করে তুলেছে।

    কী কী করতে পারবে ডিআরডিও-র সোয়ার্ম ড্রোন?

    এই সোয়ার্ম ড্রোনগুলির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল—

    • ● প্রায় ৫,০০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত উড়তে সক্ষম।
    • ● পাহাড়ি এলাকা ও দুর্গম সীমান্ত অঞ্চলেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারবে।
    • ● প্রবল বাতাসেও স্থিতিশীলভাবে উড়তে সক্ষম।
    • ● প্রতিটি ড্রোনে ক্যামেরা, নজরদারি ব্যবস্থা বা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সরঞ্জাম বহন করা যাবে।
    • ● একসঙ্গে ১০০-রও বেশি শত্রু ড্রোন শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে পারবে।
    • ● প্রচলিত রেডারের নজর এড়িয়ে রেকি, আর্টিলারি সংশোধন, কামিকাজে হামলা এবং সমন্বিত সোয়ার্ম আক্রমণ চালাতে সক্ষম।
    • ● মাত্র ৫০০ মিলিসেকেন্ডের মধ্যে নিজেদের অবস্থানের ত্রুটি সংশোধন করতে পারবে।
    • ● ৭০ শতাংশেরও বেশি দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্য থাকায় সাইবার নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হবে।

    ইলেকট্রনিক যুদ্ধেও বড় অস্ত্র

    সোয়ার্ম ড্রোনের আর একটি বড় সুবিধা হল, একসঙ্গে উড়তে গিয়ে এগুলি কার্যত ‘ভার্চুয়াল অ্যান্টেনা’ হিসেবে কাজ করতে পারে। এর মাধ্যমে শক্তিশালী রেডিও সিগন্যাল তৈরি করে শত্রুপক্ষের যোগাযোগ ব্যবস্থা শনাক্ত করা বা জ্যাম করার মতো কাজও করা সম্ভব। ফলে ভবিষ্যতের ইলেকট্রনিক যুদ্ধেও এই প্রযুক্তির গুরুত্ব অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কম খরচে বেশি কার্যকর

    ভারী ও ব্যয়বহুল সামরিক প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তে তুলনামূলক কম খরচে বহু ড্রোন ব্যবহার করে একই সঙ্গে নজরদারি, বিভ্রান্তিমূলক অভিযান (Decoy Mission), নির্ভুল হামলা (Precision Strike) এবং আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এই সোয়ার্ম ড্রোনে ‘সফট কিল’ এবং ‘হার্ড কিল’— উভয় ধরনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাই থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

    আত্মনির্ভর ভারতের পথে বড় পদক্ষেপ

    প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ডিআরডিও-র এই উদ্যোগ শুধু নতুন প্রজন্মের যুদ্ধ প্রযুক্তি তৈরির দিকেই নয়, দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থায় এমএসএমই-দের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। এর ফলে একদিকে যেমন ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের দেশীয় উৎপাদন বাড়বে, তেমনই তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ। আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর স্বল্প ব্যয়ের সোয়ার্ম ড্রোনই আগামী দিনে ভারতের আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতার অন্যতম প্রধান শক্তি হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

  • PM Modi Video Row: ‘‘ক্ষমা চাইতে হবে জুকেরবার্গকে’’, মোদির ভিডিও-বিতর্কে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি কেন্দ্রের

    PM Modi Video Row: ‘‘ক্ষমা চাইতে হবে জুকেরবার্গকে’’, মোদির ভিডিও-বিতর্কে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও (PM Modi Video Row) মুছে ফেলার ঘটনায় সরাসরি মার্ক জুকেরবার্গের ক্ষমাপ্রার্থনা দাবি করল তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় প্যানেল। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে ওই প্যানেলের মাথায় রয়েছেন। মেটা এ ঘটনায় আগেই ক্ষমা চেয়েছে। কিন্তু প্যানেলের বক্তব্য, সংস্থার তরফে শুধু ক্ষমা চাইলে হবে না। কী ভাবে এটা ঘটল, তার জন্য কী আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে, জানাতে হবে। ক্ষমা চাইতে হবে মেটা-র মালিক স্বয়ং মার্ক জুকেরবার্গকে। জেন-জি পড়ুয়াদের উদ্দেশ্য করে বানানো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাইরাল সেলফি ভিডিও হঠাৎ করেই ফেসবুক থেকে গায়েব হয়ে যায়। এই নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়।

    শিশু যৌন নিপীড়নমূলক বিষয়বস্তু কেন?

    সোমবার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির বৈঠকের পর কমিটি প্রধান নিশীকান্ত দুবের সাফ কথা, এমন ঘটনায় ‘মেটা’র ক্ষমা প্রার্থনা যথেষ্ট নয়, এই ঘটনার দায় নিতে হবে তাদের। সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়াও প্রয়োজন। সোশাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সোমবার গুগল, মেটা ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলির প্রতিনিধি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও ‘মেইটি’ শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে শিশু যৌন নিপীড়নমূলক বিষয়বস্তু কেন রয়েছে? এই সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় মেটার কর্তাদের।

    ভারতকে অশান্ত করার চেষ্টা

    এমন ঘটনায় মেটার ক্ষমা প্রার্থনা যথেষ্ট নয়, বলে দাবি করে নিশিকান্ত জানান, গত বছরের (২০২৫) জানুয়ারিতে জুকেরবার্গ দাবি করেছিলেন, কোভিডের পরে বিভিন্ন দেশের দেওয়া সরকারি তথ্যের উপরে মানুষ আস্থা হারিয়েছে। তাঁর আরও দাবি ছিল, সেই কারণেই ২০২৪-এ যে সব দেশে নির্বাচন হয়েছে, সেখানে অনেক ক্ষমতাসীন সরকারই ভোটে ধাক্কা খেয়েছে। এই প্রসঙ্গে ভারতের নামও নিয়েছিলেন তিনি। সেই নিয়ে বিপুল শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ক্ষমাও চেয়েছিল মেটা। এ দিন সেই প্রসঙ্গও টেনে নিশিকান্ত বলেন, ‘‘জুকেরবার্গ দীর্ঘদিন ধরেই ভারতকে অশান্ত করার চেষ্টা করছেন।’’ নিশিকান্ত জানিয়ে দেন, জুকেরবার্গকেই ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি বলেন, ‘‘জুকেরবার্গ ক্ষমা না চাইলে মেটার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ নম্বর ধারায় যে আইনি সুরক্ষা (Safe Harbour Protection) রয়েছে, তা তুলে নেওয়া উচিত।’’

    মেটাকে ‘সেফ হারবার’ নয়

    তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ৭৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, এক্স-এর মতো সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কোনও ব্যবহারকারী বেআইনি বা আপত্তিকর কিছু পোস্ট করলে, শুধুমাত্র সেই পোস্টের জন্য প্ল্যাটফর্মকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দায়ী করা যায় না। এই আইনি সুরক্ষাকেই বলা হয় ‘সেফ হারবার’। ফলে, মেটার এই রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করা হলে, ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের বিতর্কিত বা বেআইনি কনটেন্টের জন্য মেটাকেও সরাসরি আইনি জবাবদিহি করতে হতে পারে।

    ‘প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও পাঁচ ঘণ্টা সরিয়ে রাখা অপরাধ’

    প্রসঙ্গত, নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে এবং তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবিতে গত একমাস ধরে যন্তর মন্তরে আন্দোলন করেছে সিজেপি। এর আঁচ ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে। এরমধ্যেই গত ২৩ জুলাই, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি ৩ মিনিটের একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী। ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘‘প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনও সাধারণ ঘটনা নয়। এটা লাখ লাখ ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।’’ তিনি জানান, দোষীদের ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সাড়ে ২২ লাখ পরীক্ষার্থীর এক বছর যাতে নষ্ট না হয়, তার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে ডিজিটাল মাধ্যমে যুক্ত হওয়ার প্রধানমন্ত্রীর এই প্রয়াস নিমেষেই রেকর্ড গড়ে ফেলে। ইনস্টাগ্রামে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিডিওটির ভিউ সংখ্যা ৩০৩ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়, যা এক নতুন বিশ্বরেকর্ড! এই আবহে সেই ভিডিও পাঁচ ঘণ্টা সরিয়ে রাখা গুরুতর অপরাধ, বলে দাবি করে সংসদীয় প্যানেল।

    প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও সরিয়ে ফেলার দায় কে নেবে!

    বৈঠকে বিজেপির এক প্রবীণ সাংসদ মেটার কাছে জানতে চান প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওটি সরিয়ে ফেলার দায় কে নেবে! সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে বিজেপি সাংসদ মেটা কর্তাদের প্রশ্ন করেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও ডিলিট করা হল কেন? ফেসবুক অন্য আপত্তিকর কনটেন্ট যেখানে সরায় না, সেক্ষেত্রে ওই ভিডিওটিই কেন সরানো হল প্ল্যাটফর্ম থেকে? এর দায় কে নেবে?” মেটার তরফে জানানো হয়, ওই ভুলের জন্য ইতিমধ্যেই দুঃখ প্রকাশ করেছে তারা। ক্ষমাও চাওয়া হয়েছে। কিন্তু বিজেপি সাংসদ দাবি করেন, শুধু দুঃখপ্রকাশ বা ক্ষমা চাইলেই হল না। দায় নিতে হবে। করতে হবে আইনি পদক্ষেপ। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও এভাবে সরানো গেলে, সাধারণ নেটিজেনদের সুরক্ষা কোথায়, জানতে চান ওই বিজেপি সাংসদ।

    মেটার অ্যালগরিদম নিয়েও প্রশ্ন

    মেটার অ্যালগরিদম নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নিশিকান্ত দুবে। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক দলগুলির কনটেন্টের ভিউয়ারশিপ প্রায় ২.৩ কোটি হলেও, কোনও রাজনৈতিক দল বা নথিভুক্ত সংগঠন নয়— এমন সংস্থাগুলির ভিউয়ারশিপ প্রায় ২.৭ কোটি। তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি, কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, আম আদমি পার্টির মতো দলগুলির মোট ভিউয়ারশিপ ২.৩ থেকে ২.৪ কোটির মধ্যে। কিন্তু রাজনৈতিক দল বা এনজিও নয়, এমন অ্যাকাউন্টের ভিউয়ারশিপ ২.৭ কোটি।’’ নিশিকান্তের অভিযোগ, নতুন বা অচেনা অ্যাকাউন্টকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার নীতির কারণেই এমন হচ্ছে। তিনি জানান, কয়েক দিন আগে তৈরি একটি সংরক্ষণ বিরোধী ফোরামের ভিউয়ারশিপও প্রায় ৭০ লক্ষে পৌঁছে গিয়েছে।

  • Lashkar-e-Taiba Claims: ‘ধুরন্ধর’ স্টাইল! ‘‘পাকিস্তানে থেকেই ৩০ সদস্যকে হত্যা ভারতীয় এজেন্টদের’’, বড় স্বীকারোক্তি লস্কর নেতার

    Lashkar-e-Taiba Claims: ‘ধুরন্ধর’ স্টাইল! ‘‘পাকিস্তানে থেকেই ৩০ সদস্যকে হত্যা ভারতীয় এজেন্টদের’’, বড় স্বীকারোক্তি লস্কর নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার টানটান অ্যাকশন দৃশ্য! পাকিস্তানের বুকে ‘অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজ’-দের (unknown gunmen model) একের পর এক সফল নিশানা। সিনেমার মতো বাস্তবেও এখন লস্কর-ই-তৈবার ( Lashkar-e-Taiba) সাজানো বাগান তছনছ। গত তিন-চার বছরে পাকিস্তানের (Pakistan) অভ্যন্তরেই খতম ৩০-এর বেশি জঙ্গি, অবশেষে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে এই বড়সড় হারের কথা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হল খোদ লস্কর-ঘনিষ্ঠ এক নেতা! তাঁদের কথায়, দলের মধ্যে ভারতের এজেন্ট ছদ্মবেশে থেকেই অধিকাংশকে হত্যা করেছে। তাঁর অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার তথাকথিত ‘অজানা বন্দুকধারী’ (unknown gunman model) কৌশল।

    পাক-অধিকৃত কাশ্মীরও নিরাপদ নয়!

    সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে, লস্কর-ঘনিষ্ঠ নেতা রিজওয়ান হানিফ দাবি করেন, পাকিস্তানের পেশোয়ার, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি, মুজাফ্ফরাবাদ এবং রাওয়ালাকোট-সহ একাধিক এলাকায় সংগঠনের সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। মে মাসে তৈরি ওই ভিডিওতে হানিফ বলেন, “গত তিন থেকে চার বছরে ভারতীয় গোয়েন্দা এজেন্টদের হাতে আমাদের ৩০ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছে।” হানিফ আরও দাবি করেন, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরেও (PoK) তাদের সদস্যরা নিরাপদে বসবাস করতে পারছেন না। তাঁর অভিযোগ, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি তাদের এজেন্টদের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে।

    ভাইরাল ভিডিও-য় বিরল স্বীকারোক্তি

    বিশ্লেষকদের মতে, লস্কর-ঘনিষ্ঠ কোনও ব্যক্তির মুখে সংগঠনের এত বড় ক্ষয়ক্ষতির প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি অত্যন্ত বিরল। গত কয়েক বছরে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক জঙ্গি নেতা ও সদস্য রহস্যজনকভাবে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের হাতে নিহত হন। এসব ঘটনার জন্য পাকিস্তান একাধিকবার ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেও, নয়াদিল্লি সেই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে। নিজের বক্তব্যে রিজওয়ান হানিফ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক ও অবমাননাকর মন্তব্যও করেন। তিনি দাবি করেন, লস্করের সদস্যদের একমাত্র ‘অপরাধ’ ছিল তাদের ধর্মীয় পরিচয়। পাশাপাশি তিনি হিন্দু ও ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের সম্পর্কেও আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্য রাখেন।

    কী এই লস্কর-ই-তৈবা?

    লস্কর-ই-তৈবা ১৯৮০-র দশকের শেষ দিকে পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে ছিলেন (Hafiz Muhammad Saeed), জাফর ইকবাল (Jaffar Iqbal) এবং আবদুল্লা আজ (Abdullah Azzam)। সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধের সময় গঠিত এই সংগঠন পরবর্তীতে জম্মু ও কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে জঙ্গি কার্যকলাপে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউনাইটেড নেশন এবং বিশ্বের একাধিক দেশ লস্কর-ই-তৈবাকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। ভারত-সহ একাধিক পশ্চিমা দেশ দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, পাকিস্তানের আইএসআই (Inter-Services Intelligence)-এর কাছ থেকে এই সংগঠন বিভিন্ন সময়ে মদত পেয়েছে। তবে পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে। ২০০৮ সালে মুম্বই জঙ্গি হামলায় ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই হামলা জড়িত ছিল লস্কর। ওই সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সদস্যরাই খুন হয়েছেন ও হচ্ছেন পাক অধিকৃত কাশ্মীর এবং পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে। আল-কায়েদা ও তালেবানের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে, ভারতে সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগে ২০০৫ সালে রাষ্ট্রসংঘ নিষেধাজ্ঞা চাপায় লস্করের উপরে।

    ‘টার্গেট কিলিং’

    সাধারণত দলের সদস্যদের খতম হওয়ার কথা স্বীকার করে না জঙ্গি সংগঠনগুলি। ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের সময়ে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে অভিযান চালিয়ে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে ভারত। ওই অভিযানে লস্কর-ই-তৈবা-সহ একাধিক জঙ্গি সংগঠনের অনেক সদস্যকে নিকেশ করা হয় বলেও জানিয়েছিল ভারতীয় সেনা। তবে এই দাবি উড়িয়ে দেয় লস্কর-ই-তৈবা (Lashkar-e-Taiba)। তবে এ বার অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারী পাকিস্তানের ভেতরেই সংগঠনটির প্রায় ৩০ সদস্যকে হত্যা করেছে বলে ক্যামেরার সামনে স্বীকার করেছেন লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত এক শীর্ষ জঙ্গি নেতা । একাধিক অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ী এই ‘টার্গেট কিলিং’ করেছে বলেও দাবি করেন হানিফ।

    ‘অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকবাজ’ ও টার্গেটে থাকা জঙ্গি 

    সম্প্রতি গুলিবিদ্ধ হন ভারতে একের পর এক হামলার নেপথ্যে থাকা লস্করের দ্বিতীয় নেতা আমির হামজা, হাফিজ সইদের পর যার নাম উঠে আসে। ২০০৫ সালে বেঙ্গালুরুর বুকে আইআইএসসির অন্দরে হামলার ঘটনার নেপথ্যেও হামজার হাত ছিল। যে হামলা চালিয়েছিল লস্কর ই তৈবা। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে, ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কাছে ওয়ান্টেড লস্করের শীর্ষ কমান্ডার জিয়া-উর-রহমান ওরফে নাদিম অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয়। তাকে ২০২৪ সালের ৯ই জুনের রিয়াসি বাস হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে মনে করা হত, যে হামলায় সন্ত্রাসীরা নয়জন তীর্থযাত্রীকে হত্যা এবং ৪১ জন আহত হন। হাফিজ সাইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মুফতি কায়সার ফারুকও করাচিতে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয় পাকিস্তানের মাটিতে। ২০১০ সালে ভারতের হেফাজতে ছিল শাহিদ লাতিফ। পরে তার ঠাঁই হয় পাকিস্তানে। ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর, ২০১৬ সালের পাঠানকোট বিমানঘাঁটি হামলার অন্যতম প্রধান ষড়যন্ত্রকারী, জইশ-ই-মহম্মদ (জেএম) জঙ্গি শাহিদ লতিফ শিয়ালকোটের দাসকা এলাকার একটি মসজিদের ভেতরে নিহত হয়। ২০২২ সালের মার্চ মাসে, ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট আইসি ৮১৪-এর অন্যতম ছিনতাইকারী জহুর মিস্ত্রি করাচির আখতার কলোনিতে দুই অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীর গুলিতে নিহত হয়। যে জাহুরকে পাকিস্তানি মিডিয়া, ‘ব্যবসায়ী’ হিসেবে দাবি করে।

    ভারতীয় গোয়েন্দাদের বক্তব্য

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োটি দেখেছে ভারতীয় কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। যে ব্যক্তিকে কথা বলতে দেখা গিয়েছে তিনি ভারতের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় আছেন বলেও জানিয়েছেন গোয়েন্দা আধিকারিকরা। ওই লস্কর সদস্যদের খতম করার পিছনে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি আছে বলে দাবি করেছেন হানিফ। তবে তার এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন গোয়েন্দা আধিকারিকরা। এরই পাশাপাশি,  ভারতের বিরুদ্ধে আপত্তিকর এবং বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেছেন হানিফ বলেও জানা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একের পর এক শীর্ষ ক্যাডারের মৃ‌ত্যুতে ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে লস্কর বাহিনী। তাই ধর্মীয় অনুভূতিকে উস্কে দিয়ে নতুন করে জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগ ও মৌলবাদ ছড়ানোর কৌশলকেই অস্ত্র করতে চাইছে লস্কর-ই-তৈবা।

  • UTI in Children: স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে বাড়ছে ইউটিআই! কোন খাবারে বাড়ছে ঝুঁকি, কোন ৪ ঘরোয়া উপায়ে মিলবে সুরক্ষা?

    UTI in Children: স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে বাড়ছে ইউটিআই! কোন খাবারে বাড়ছে ঝুঁকি, কোন ৪ ঘরোয়া উপায়ে মিলবে সুরক্ষা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে প্রত্যেক বছর কয়েক কোটি মানুষ ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনে (সংক্ষেপে ইউটিআই)  আক্রান্ত হন। মূত্রনালীর সংক্রমণের জেরে ভোগান্তি বাড়ে। অনেকেই বছর একাধিকবার এই সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক তথ্য জানাচ্ছে, কম বয়সি স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যেও এই ভোগান্তি বাড়ছে। শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায়, উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, একজন ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনে আক্রান্ত হলে ছ’মাস অন্তর আবার সেই সংক্রমণ ফিরে আসার আশঙ্কা থাকছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বারবার সংক্রমণ ফিরে আসছে। ফলে ভোগান্তি আরও বাড়ছে।

    কেন পড়ুয়াদের মধ্যে বাড়ছে এই ভোগান্তি?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কয়েকটি কারণে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের মতো সমস্যা বাড়তে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, কম বয়সি স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যেও এখন নরম পানীয় খাওয়ার প্রবণতা বেশি। অতিরিক্ত পরিমাণে নরম পানীয় খেলে এই ধরণের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। পাশপাশি, অতিরিক্ত মশলাদার এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত অতিরিক্ত পরিমাণ মশলাদার খাবার এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারে এই ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তবে সবচেয়ে বিপদ বাড়ায় চিনি এবং চকলেট। এমনটাই মত চিকিৎসকদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, চিনি শরীরের একাধিক ক্ষতি করে। নিয়মিত অতিরিক্ত পরিমাণ চিনি এবং চকলেট খেলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ভারতীয় শিশুদের অতিরিক্ত পরিমাণ মিষ্টি খাওয়ায় প্রবণতা রয়েছে। আর সেই অভ্যাস ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    রোগ রুখতে কোন ঘরোয়া উপাদানে ভরসা বিশেষজ্ঞদের?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে কয়েকটি ঘরোয়া উপাদানে ভরসা করা যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, কয়েকটি অভ্যাসে নজর দেওয়া এবং কিছু খাবার নিয়মিত খেলে এই ধরণের সংক্রমণের ঝুঁকি কমতে পারে।

    নিয়মিত পর্যাপ্ত জল খাওয়ার অভ্যাস!

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ছোটো থেকেই শিশুর জল খাওয়ার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।‌ শিশুর জন্মের ছ’মাস পর থেকেই সে নিয়মিত পর্যাপ্ত জল খাচ্ছে কিনা, সেই পরিমাপ সম্পর্কে সতর্ক থাকা দরকার। শরীরে জলের ঘাটতি হলেই একাধিক সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তার মধ্যে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন অন্যতম। তাই এই রোগের ভোগান্তি কমাতে নিয়মিত পর্যাপ্ত জল খেতে হবে। একজন স্কুল পড়ুয়ার নিয়মিত ৪ থেকে ৬ লিটার জল খাওয়া প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা।

    ভাতের পাতে টক দই জরুরি!

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন কমাতে টক দই জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, টক দইয়ে প্রচুর পরিমাণে উপকারি ব্যাকটেরিয়া থাকে। যা অন্ত্র, মূত্রনালী ও একাধিক অঙ্গের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নষ্ট করে। রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়িয়ে তোলে। ফলে, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের ঝুঁকিও কমে। তাই তাঁদের পরামর্শ, স্কুল থেকে ফিরে খাওয়ার শেষ পাতে নিয়মিত টক দই দেওয়া জরুরি। সন্তান নিয়মিত টক দই খেলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের ঝুঁকি কমবে।

    ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল!

    কমলালেবু, পেয়ারা, আমলকি কিংবা কিউই যেকোনো একটি ফল নিয়মিত খাবারের তালিকায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীরে ভিটামিন সি ঘাটতি হলে চলবে না। নিয়মিত তাই যেকোনো একটা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খেতে হবে। ছোটো থেকেই ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হবে। ফলে, সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

    পরিচ্ছন্নতায় বিশেষ নজর!

    স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে ছোটো থেকেই পরিচ্ছন্নতায় বিশেষ নজর দিতে হবে। বিশেষত মেয়েদের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে বিশেষ পাঠ দেওয়া জরুরি। কারণ মহিলারাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনে ভোগেন। তাই শৌচালয়ের পরিচ্ছন্নতার দিকে যেমন নজর দিতে হবে, তেমনি ভিজে কাপড়ে দীর্ঘ সময় থাকা যাবে না।‌ সুতির পরিচ্ছন্ন অন্তর্বাস পরার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। ঋতুস্রাবের সময় অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতার পাঠ জানা জরুরি।‌তাছাড়া, মল ও মূত্র ত্যাগের পরে পর্যাপ্ত জল দিয়ে ঠিকমতো পরিষ্কার করার অভ্যাস থাকাও জরুরি। তবেই একাধিক সংক্রমণ আটকানো সহজ হবে।

LinkedIn
Share