Tag: madhyom bangla

madhyom bangla

  • Next Generation Corvettes Deal: বাড়ছে ভারতের নৌসেনার শক্তি, ৫৩,৮৬৬ কোটি টাকায় তৈরি হবে ৮টি যুদ্ধজাহাজ! গার্ডেনরিচ পেল ৫টির বরাত

    Next Generation Corvettes Deal: বাড়ছে ভারতের নৌসেনার শক্তি, ৫৩,৮৬৬ কোটি টাকায় তৈরি হবে ৮টি যুদ্ধজাহাজ! গার্ডেনরিচ পেল ৫টির বরাত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় নৌসেনার সামুদ্রিক শক্তি আরও বাড়াতে বড়সড় পদক্ষেপ করল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ শিল্পকে নতুন গতি দিতে গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (GRSE) এবং গোয়া শিপইয়ার্ড লিমিটেডের (GSL) সঙ্গে মোট ৫৩,৮৬৬.৫০ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর করল কেন্দ্র। এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় নৌসেনার জন্য তৈরি হবে ৮টি নেক্সট জেনারেশন করভেট (Next Generation Corvettes বা NGC)। সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, নয়াদিল্লির কর্তব্য ভবন-২-এ প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংয়ের উপস্থিতিতে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

    কোন সংস্থা কতগুলি যুদ্ধজাহাজ তৈরি করবে?

    চুক্তি অনুযায়ী, কলকাতার রাষ্ট্রায়ত্ত যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ সংস্থা জিআরএসই তৈরি করবে ৫টি নেক্সট জেনারেশন করভেট। অন্যদিকে, বাকি ৩টি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে গোয়ার জিএসএল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই প্রকল্পে প্রথমবার ভারতীয় নৌসেনার নিজস্ব নকশায় যুদ্ধজাহাজ তৈরি করা হবে এবং প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিরক্ষা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি (DPSUs) সেগুলি নির্মাণ করবে। ভারতের নিজস্ব যুদ্ধজাহাজের নকশা তৈরি এবং নির্মাণের সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    কী কী বিশেষ ক্ষমতা থাকবে নেক্সট জেনারেশন করভেটে?

    আধুনিক যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হবে এই ৮টি যুদ্ধজাহাজ। অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, উন্নত অস্ত্রশস্ত্র এবং আধুনিক সেন্সর স্যুটে সজ্জিত থাকবে নেক্সট জেনারেশন করভেটগুলি। ফলে আকাশপথ, সমুদ্রপৃষ্ঠ এবং সমুদ্রের গভীরে—তিনটি ক্ষেত্রেই সামরিক অভিযান চালানোর সক্ষমতা থাকবে এই যুদ্ধজাহাজগুলির।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক নৌযুদ্ধে শুধুমাত্র শক্তিশালী অস্ত্র থাকাই যথেষ্ট নয়। শত্রুপক্ষের গতিবিধি শনাক্ত করা, দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং বিভিন্ন সামরিক ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত সেন্সর ও অস্ত্র ব্যবস্থার সমন্বয় এই করভেটগুলিকে বহুমুখী সামুদ্রিক অভিযানে কার্যকর করে তুলবে।

    ভারতীয় নৌসেনার শক্তি কতটা বাড়বে?

    নতুন করভেটগুলি অন্তর্ভুক্ত হলে ভারতীয় নৌসেনার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অভিযান চালানোর ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে—

    • ● সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের সুরক্ষা: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নজরদারি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

    • ● অ্যান্টি-সারফেস ওয়ারফেয়ার: শত্রুপক্ষের জলযান ও যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো।

    • ● অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার: শত্রু ডুবোজাহাজ শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনে সেগুলির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান।

    • ● উপকূলীয় প্রতিরক্ষা: ভারতের দীর্ঘ উপকূলরেখার নিরাপত্তা আরও মজবুত করা।

    • ● অগভীর জলে যুদ্ধ: উপকূল সংলগ্ন অগভীর জলসীমায় সামরিক অভিযান পরিচালনা।

    • ● সামুদ্রিক নজরদারি: গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখা এবং সন্দেহজনক গতিবিধির উপর নজর রাখা।

    ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান নৌ-তৎপরতা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের কৌশলগত গুরুত্বের প্রেক্ষাপটে এই যুদ্ধজাহাজগুলি ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় জলসীমা থেকে শুরু করে বিস্তৃত সমুদ্রাঞ্চলে নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে নতুন সক্ষমতা তৈরি হবে।

    ১০ বছরে বিপুল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

    এই প্রকল্পের গুরুত্ব শুধু প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। ভারতের দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্প, বেসরকারি শিপইয়ার্ড, শিল্প সহযোগী সংস্থা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্রের (MSMEs) জন্যও বড় সুযোগ তৈরি হতে চলেছে।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে এই প্রকল্পের মাধ্যমে—

    • ● জাহাজ নির্মাণ সংস্থাগুলিতে প্রায় ৭২ লক্ষ কর্মদিবস কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

    • ● সহযোগী শিল্প এবং এমএসএমই ক্ষেত্রগুলিতে প্রায় ৪৬০ লক্ষ কর্মদিবস কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

    অর্থাৎ, প্রত্যক্ষভাবে শিপইয়ার্ডের পাশাপাশি যন্ত্রাংশ উৎপাদন, ইলেকট্রনিক্স, বিশেষায়িত সরঞ্জাম, প্রযুক্তি ও বিভিন্ন সহায়ক শিল্পের সঙ্গেও যুক্ত হবে বিপুল সংখ্যক কর্মী ও সংস্থা। ফলে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের সরবরাহ শৃঙ্খল আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বড় পদক্ষেপ

    এই প্রকল্পে দেশীয় উপকরণ, ভারতীয় প্রযুক্তি, সরঞ্জাম এবং দক্ষ মানবসম্পদের ব্যবহারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর ফলে বিদেশি প্রযুক্তি ও আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের সঙ্গেও এই প্রকল্পের সরাসরি যোগ রয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় নৌসেনার নিজস্ব নকশায় যুদ্ধজাহাজ তৈরি এবং দেশীয় শিল্প সংস্থাগুলির মাধ্যমে তার নির্মাণ—প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

    সব মিলিয়ে, ৫৩,৮৬৬.৫০ কোটি টাকার এই চুক্তি শুধুমাত্র ৮টি যুদ্ধজাহাজ কেনার প্রকল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, দেশীয় যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা। বিশেষ করে কলকাতার জিআরএসই-র হাতে ৫টি করভেট নির্মাণের দায়িত্ব আসায় বাংলার প্রতিরক্ষা শিল্পের কাছেও এই প্রকল্পের গুরুত্ব যথেষ্ট।

  • BJP Rally in Kolkata: আজ রাজপথে বিজেপি! ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ ইস্যুতে নিতিন নবীনের নেতৃত্বে মহা মিছিল, সভাতে শুভেন্দু- শমীকরা

    BJP Rally in Kolkata: আজ রাজপথে বিজেপি! ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ ইস্যুতে নিতিন নবীনের নেতৃত্বে মহা মিছিল, সভাতে শুভেন্দু- শমীকরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজপথে মহা মিছিলের (BJP Rally in Kolkata) ডাক দিল গেরুয়া শিবির। ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের (Nitin Nabin in Kolkata) নেতৃত্বে আদ, সোমবার কলকাতার কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ শীর্ষক মহামিছিল হতে চলেছে। গত কয়েক দিন ধরে জেলায় জেলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ ইস্যুকে সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করছে বিজেপি। আগামী দিনেও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে হবে মিছিল, সমাবেশ।

    কারা কারা থাকবেন?

    আজ মেগা এই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে মহা মিছিলে অংশ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব এদিনের মিছিলে পা মেলাবেন। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, শান্তনু ঠাকুর, রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য স্বপন দাশগুপ্ত, দিলীপ ঘোষ, তাপস রায়, অগ্নিমিত্রা পাল, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, দুধকুমার মণ্ডল, অর্জুন সিং, ক্ষুদিরাম টুডু, ইন্দ্রনীল খাঁ, সুমনা সরকার, মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, দীপঙ্কর জানা, উমেশ রাই-সহ মন্ত্রীরা। উপস্থিত থাকবেন সজল ঘোষ, বিজয় ওঝা, রীতেশ তিওয়ারি, পাপিয়া অধিকারী, শর্বরী মুখোপাধ্যায়, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, দেবাশিস ধর, শঙ্কর শিকদার, কৌস্তভ বাগচী, রাজেশ কুমার, দেবদাস মণ্ডল, শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়, পীযূষ কানোরিয়া, তরুণজ্যোতি তিওয়ারি, বিমান ঘোষ, সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়, বঙ্কিম ঘোষ – সহ বিধায়করা। এছাড়া, পাঁচ রাজ্য সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, বিজন গোস্বামী, শশী অগ্নিহোত্রী, সৌমিত্র খাঁ সহ বিভিন্ন পদাধিকারীদের থাকার কথা।

    বিশেষ বিমানে কলকাতায় নিতিন

    দুপুর আড়াইটে নাগাদ বিশেষ বিমানে কলকাতায় পৌঁছোনোর কথা বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের। বিকেলে কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করবে বিজেপি। সেখানে যোগ দেবেন নিতিন। মিছিল শেষে বক্তৃতাও করার কথা তাঁর। ইতিমধ্যেই রবিবার রাতে কর্মসূচি স্থলের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য ও জেলা নেতৃত্ব। সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, অমিতাভ চক্রবর্তী, তমোঘ্ন ঘোষ-সহ অন্যান্য পদ্ম নেতৃত্ব প্রস্তুতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। প্রসঙ্গত, দেশ জুড়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছে বিরোধীরা। সরব হচ্ছে ভোট চুরির অভিযোগ নিয়েও। রবিবার ইন্ডি জোটের দিল্লির আন্দোলনে শামিল হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এর ঠিক পরের দিনই কলকাতায় বিজেপির মেগা রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে রাজনীতির পারদ চড়ছে।

    বিরোধীদের আন্দোলন অরাজকতা সৃষ্টি করছে

    বিরোধীদের আন্দোলন বর্তমানে আর শুধু রাজনীতির দৈনন্দিন কর্মসূচিতে আটকে নেই। তা অরাজকতা সৃষ্টি করছে, তেমনটাই মনে করছেন দেশের শাসক দল বিজেপি। এই আবহে বিরোধীদের পাল্টা রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েছে পদ্ম শিবির। কর্মসূচির পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও অরাজকতা হটাও।’ গত শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের নিউ ইন্ডিয়ান মাঠে গণতন্ত্র বাঁচাও অরাজকতা হটাও শীর্ষক সভার আয়োজন করেছিল বিজেপি। গত শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতাতেও একই ইস্যুকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সভার আয়োজন করা হয়েছিল। যে দুই কর্মসূচির প্রধান বক্তা ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    একাধিক রাজ্যে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রা

    রবিবার একাধিক রাজ্যে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রা করে বিজেপি। একদিকে যখন ভোটচুরির অভিযোগকে হাতিয়ার করে দিল্লিতে মেগা কর্মসূচি করছে বিরোধী জোট, সেদিনই একাধিক রাজ্যে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রা করল বিজেপি। হরিয়ানার রোহতকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে হয় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রা। কোথাও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। সিমলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ যাত্রায় নেতৃত্ব দেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। মিছিলে ছিলেন অনুরাগ ঠাকুর-সহ অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্ব।

  • Diwali 2026: দীপাবলিতে বাজি পোড়ানোর আনন্দেই লুকিয়ে বিপদ! অগ্নিদগ্ধ থেকে শ্বাসকষ্ট, সুস্থ থাকতে মানুন চিকিৎসকদের পরামর্শ

    Diwali 2026: দীপাবলিতে বাজি পোড়ানোর আনন্দেই লুকিয়ে বিপদ! অগ্নিদগ্ধ থেকে শ্বাসকষ্ট, সুস্থ থাকতে মানুন চিকিৎসকদের পরামর্শ

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আর মাত্র কয়েক দিন! শহর থেকে জেলা, বহুতল থেকে পাড়া সেজে উঠবে আলোর উৎসবে! প্রদীপের আলো আর বাজির উৎসবে মাতবেন আট থেকে আশি, সকলেই। কিন্তু দীপাবলির এই আনন্দে বাধা হতে পারে অসাবধানতা! সামান্য অসতর্কতাও আনন্দের তাল কাটতে পারে। তাই কয়েকটি দিকে বাড়তি নজরদারির পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কোন বিপদের ইঙ্গিত করছেন বিশেষজ্ঞরা?

    অগ্নিদগ্ধের ঝুঁকি!

    সামান্য অসতর্কতাও বড় বিপদ তৈরি করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দীপাবলির পরেই প্রত্যেক বছর উল্লেখযোগ্য ভাবে অগ্নিদগ্ধ রোগীর সংখ্যা বাড়ে। শিশু থেকে প্রৌঢ়, সব‌ বয়সেই এই বিপদ দেখা দিতে পারে। তাই আগাম সতর্কতা জরুরি।

    শ্বাসকষ্টের রোগীর জটিলতা!

    দীপাবলির পরে অনেকেই হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভোগেন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাজি পোড়ানোর ফলে এক ধরনের ধোঁয়া হয়। সেই ধোঁয়া থেকেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ শিশু ও বয়স্কদের এই সমস্যা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

    শ্রবণশক্তি সংক্রান্ত সমস্যা!

    শব্দবাজির দাপটে শ্রবণশক্তি সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনটাই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত তীব্র শব্দ কানের ভিতরে গভীর ক্ষত তৈরি করে। এর ফলে শ্রবণশক্তি হারিয়ে যেতে পারে। তাই এই নিয়ে সচেতনতা জরুরি।

    ত্বক ও চোখের সংক্রমণ!

    বাজির মধ্যে থাকে নানান রাসায়নিক পদার্থ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকের সেই রাসায়নিক পদার্থ সংস্পর্শে এসে নানান ধরনের অ্যালার্জি হয়। আবার, চোখের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ও বছরের এই সময়ে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যায় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন বাজির ধোঁয়ায় চোখ জ্বালা করে। সেখান থেকেই সংক্রমণ ঘটতে থাকে।

    কীভাবে সুস্থ থেকে উৎসব উদযাপন সম্ভব?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখলেই দীপাবলির উৎসব নিশ্চিন্তে উদযাপন সম্ভব। এড়ানো যেতে পারে হয়রানি।

    খোলা জায়গায় বাজি পোড়ানো!

    বাজির উৎসবে সবচেয়ে বেশি চিন্তা বাড়ায় আগুন। অসাবধানতা বড় বিপদ‌ তৈরি করে। তাই খোলা জায়গায় বাজি পোড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাজি পোড়ানোর সময় হালকা সুতির কাপড় পরা জরুরি। পা ঢাকা জুতো পরতে হয়। এতে আগুন লাগার ঝুঁকি কমে।
    আবার বাজি পোড়ানোর সময় আশপাশে জলের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। যাতে বিপদ হলেও সামাল দেওয়া সহজ হয়‌।
    শিশুদের একেবারেই একা ছাড়া চলবে না। বাজি পোড়ানোর সময় অবশ্যই অভিভাবকদের সঙ্গে থাকতে হবে। ফুলবাজি, রং মশালের মতো বাজি তুলনামূলক নিরাপদ মনে হলেও এই বাজি আগুন ধরাতে পারে। বিপদের ঝুঁকি রয়েছে।

    সিওপিডি আক্রান্তদের বাড়তি সতর্কতা!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি আক্রান্ত। এই সময়ে তাঁদের বাড়তি শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। বাজির ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট শুরু হতে পারে। আবার নতুন করে সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। তাই চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, এই সময়ে বাড়ির বাইরে গেলেই মাস্ক পরা জরুরি। অস্বাস্থ্যকর ধোঁয়া আটকাবে। আবার সংক্রমণের ঝুঁকিও কমবে। তাছাড়া প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞর পরামর্শ মতো ইনহেলার ব্যবহার করতে হবে।

    বাজি পোড়ানোর পরে হাত ও চোখ জল দিয়ে পরিষ্কার করা!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাজি পোড়ানোর পরে ভালোভাবে হাত ও চোখ পরিষ্কার করা জরুরি। জল দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করলে বাজির রাসায়নিক থেকে ত্বক ও চোখের সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

    শব্দবাজির ব্যবহারে হ্রাস!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শব্দবাজি নিয়ে সচেতনতা জরুরি। আইন মেনে বাজির উৎসব উদযাপন করলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি এড়ানো সহজ হয়। পরিবেশবান্ধব বাজি পোড়ালে নানান ক্ষতির ঝুঁকি কমে। শব্দ বাজি এড়িয়ে চললে শুধু কানের ক্ষতি নয়। পাশপাশি হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো যায়। মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতিও এড়ানো যেতে পারে। তাই উৎসবের উদযাপনে সচেতন ও সতর্ক থাকলে যেকোনো বড় বিপদ আটকানো সহজ হবে বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা!

  • Cyclone Murasu: ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’! ল্যান্ডফল কখন-কোথায়? কালীপুজোর মুখে আবারও তুমুল ঝড়-বৃষ্টি?

    Cyclone Murasu: ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’! ল্যান্ডফল কখন-কোথায়? কালীপুজোর মুখে আবারও তুমুল ঝড়-বৃষ্টি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অর্ণবের ক্ষত শুকোতে এখনও সময় লাগবে, তার আগেই ফের ঘূর্ণিঝড় অন্ধ্র ঊপকূলে। বঙ্গোপসাগরে ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। ইতিমধ্যেই দক্ষিণ-পশ্চিম ও সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া এই ঘূর্ণিঝড় উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে। আজ, সোমবার সেটি শক্তি বাড়িয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের (আইএমডি) পূর্বাভাস, আগামিকাল, মঙ্গলবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে চলেছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। তবে এই ঘূর্ণিঝড়ের (Cyclone Murasu) সরাসরি প্রভাব বাংলায় পড়বে না বলে মনে করছে হাওয়া অফিস।

    ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’-র গতিপথ ও শক্তি

    আবহাওয়া দফতরের ১ নভেম্বর, ২০২৬-এর বুলেটিন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ গত ৬ ঘণ্টায় ঘণ্টায় প্রায় ২৫ কিলোমিটার বেগে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়েছে। হাওয়া অফিসের (Weather Update) পূর্বাভাস মতোই আজ ২ নভেম্বর ভোরের মধ্যে এটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এরপর উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২ নভেম্বর মধ্যরাত থেকে ৩ নভেম্বর ভোরের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। নেল্লোর ও নরসাপুরের মধ্যবর্তী এলাকায় ওঙ্গোলের কাছাকাছি স্থলভাগে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০-১১০ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ পৌঁছতে পারে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

    কীভাবে সৃষ্টি হয় ঘূর্ণিঝড়

    আবহবিদরা জানাচ্ছেন, বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা বেশি থাকলেই বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের জোগান বাড়ে। এর পরে অনুকূল বায়ুপ্রবাহ, ‘ভার্টিক্যাল উইন্ড শিয়ার’ অর্থাৎ বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উচ্চতায় বাতাসের গতিবেগ ও গতিপথের পরিবর্তন এবং বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতাও ঘূর্ণাবর্তকে শক্তি জুগিয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিমত হতে সাহায্য করে। তাই একটি ঘূর্ণিঝড় চলে গেলেই সমুদ্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অনুকূল পরিস্থিতি রাতারাতি বদলে যায় না। ফলে একই মরশুমে অল্প ব্যবধানে একাধিক ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে। অর্ণবের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই তাই নতুন বিপদের আশঙ্কা অন্ধ্র উপকূলে।

    ব্যাক-টু-ব্যাক ঘূর্ণিঝড়ের ইতিহাস

    সমুদ্রে পর পর ঘূর্ণিঝড়ের আবির্ভাব অস্বাভাবিক নয়। ১৯৭১–এ বঙ্গোপসাগরে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ নভেম্বরের মধ্যে তিনটি ঘূর্ণিঝড় এসেছিল। পুনের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মিটিওরোলজির (আইআইটিএম) রেকর্ড অনুযায়ী, প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘১০বি’ ৩০ সেপ্টেম্বর সুন্দরবন অঞ্চলে, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘১২বি’ ২৯–৩০ অক্টোবর ওডিশার পারাদ্বীপের কাছে এবং প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘১৪বি’ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ল্যান্ডফল করেছিল। এই তিন ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে ‘১২–বি’ সবচেয়ে বেশি বিধ্বংসী ছিল। এটির ল্যান্ডফলের সময়ে ২ থেকে ৬ মিটার উচ্চতার সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়। সেই জলোচ্ছ্বাস উপকূল থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার ভিতরে ঢুকে পড়েছিল। ঝড়ের ফলে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ‘ব্যাক–টু–ব্যাক’ ঘূর্ণিঝড়ের পর্ব এখানেই শেষ নয়। ২০২৩–এও অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের শুরুতে পর পর তৈরি হয়েছিল ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ ও ‘মিধিলি’।

    ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’-র নামকরণ

    ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ নাম রেখেছিল বাংলাদেশ। এবার ‘মুরাসু’র নামকরণ করল ভারত। মূলত তামিল শব্দ এটি। তামিলনাড়ুর ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের নাম ‘মুরাসু’। এককালে তা বাজিয়ে যুদ্ধ বা বড় কোনও সংবাদ দেওয়া হত জনগণকে। এর বাজনা শুনলেই বোঝা যেত, বড় কোনও খবর আসছে। এবার ঘূর্ণিঝড়ের আগমন বার্তা জানাতে এই ‘মুরাসু’ নামকরণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    কালীপুজোর মুখে ঘূর্ণিঝড়

    দুর্গা পুজোর পর ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ বেশ কিছুটা দাপট দেখিয়েছিল দক্ষিণবঙ্গে। ভিজেছিল বেশ কয়েকটি জেলা। এরপর ‘মুরাসু’র জেরে রাজ্যের আবহাওয়ায় কেমন প্রভাব পড়ে, কালীপুজোর আগে তা নিয়ে চিন্তা ছিল বঙ্গবাসীর। মেঘলা আকাশে বৃষ্টির ভ্রূকুটি কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিল বাজি ব্যবসায়ীদের। আপাতত চিন্তার নিরসন করেছে হাওয়া অফিস। পূর্বাভাস বলছে, চলতি সপ্তাহে উত্তরবঙ্গে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকবে, মূলত শুস্ক আবহাওয়া। দু, এক জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে পুরোপুরি শুকনো আবহাওয়া। দক্ষিণবঙ্গেও প্রায় একই আবহাওয়া থাকার সম্ভাবনা। সোম, মঙ্গল আংশিক মেঘলা আকাশ, দু-এক পশলা বৃষ্টির পর বুধবার থেকে মূলত শুষ্ক আবহাওয়া।

    বাংলার আবহাওয়ায় কী প্রভাব পড়বে?

    ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আপাতত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ৩ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ৩ নভেম্বর দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে কয়েক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। তবে বাকি জেলাগুলিতে মূলত শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে। দক্ষিণবঙ্গেও ৩ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত সব জেলাতেই এক-দু’জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ৩ নভেম্বর থেকে ৪ নভেম্বরের মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার কিছু এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। এরপর ৪ নভেম্বর থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত দুই বঙ্গেই মূলত শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকার সম্ভাবনা।

    মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কবার্তা

    ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন সমুদ্র উত্তাল থেকে অতি উত্তাল হতে পারে। ২ নভেম্বর সকাল থেকে সমুদ্রে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার, দমকা হাওয়ার গতিবেগ ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ৩ নভেম্বর দুপুর পর্যন্ত হাওয়ার গতিবেগ আরও বেড়ে ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ২ নভেম্বর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের পশ্চিম-মধ্য ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরে ২ নম্বর দূরবর্তী সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়েছে। সাগরদ্বীপ বন্দরে ২ নম্বর এবং ৪ নম্বর স্থানীয় সংকেত জারি রয়েছে।

     

     

     

     

  • Israel Election 2026: ‘ইজরায়েলের নির্বাচন চুরি করেছে বিদেশি শক্তি’, বিস্ফোরক নেতানিয়াহু! ভোটে কারচুপি ও বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ

    Israel Election 2026: ‘ইজরায়েলের নির্বাচন চুরি করেছে বিদেশি শক্তি’, বিস্ফোরক নেতানিয়াহু! ভোটে কারচুপি ও বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ইজরায়েলের নির্বাচন চুরি করেছে বিদেশি শক্তি’, বিস্ফোরক অভিযোগ নেতানিয়াহুর! ভোটে কারচুপি ও ঘুষের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ দিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি। কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে কাতারকে। ইজরায়েলের নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে ক্রমশ জটিল হচ্ছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। কোনও রাজনৈতিক দলই এককভাবে সরকার গড়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। নির্বাচনের ফল অনুযায়ী,  প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন শিবির ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরের ঝুলিতে রয়েছে ৪৮টি আসন। আর আরব দলগুলি পেয়েছে ১৯টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে এখনও ৮টি আসন দূরে রয়েছে নেতানিয়াহুর শিবির। ইজরায়েলের সংসদ নেসেটে মোট ১২০টি আসন রয়েছে। সেখানে সরকার গঠন করতে প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। ফলে কোনও শিবিরই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

    শিন বেটকে তদন্তের নির্দেশ

    এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ, ভোটারদের ঘুষ দেওয়া এবং ভোটে কারচুপির অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইজরায়েলের রাজনীতি। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি তথা সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটির (CEC) চেয়ারম্যান নোয়াম সোলবার্গ নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের ‘গুরুতর সন্দেহ’ খতিয়ে দেখার জন্য ইজরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেটকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। হিব্রু সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আরব ভোটারদের প্রভাবিত করতে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছিল কাতার। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির অভিযোগ, আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলি ভোটে কারচুপি এবং ভোটারদের ভয় দেখিয়ে নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে প্রভাবিত করেছে।

    ইজরায়েলের গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত

    গত ২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, সমাজমাধ্যমে দলের বক্তব্য তুলে ধরে নেতানিয়াহু লেখেন, “রামগেট কাণ্ড একটি ভূমিকম্পের সমান। ইজরায়েলের নির্বাচন চুরি করা হয়েছে। আরব দলগুলির পক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করতে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ ও ঘুষ দেওয়ার বিষয়ে বিচারপতি সোলবার্গের মন্তব্য নজিরবিহীন ধাক্কা।” লিকুদ পার্টির বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, এটি ইজরায়েলের গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত। এর উদ্দেশ্য বিদেশি শক্তির মাধ্যমে নেসেটে প্রভাব বিস্তার, ইজরায়েলের ইসলামিকরণ এবং দক্ষিণপন্থী শাসনের অবসান ঘটানো। পাশাপাশি, ইরান-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইজরায়েলি সেনাবাহিনীকে (IDF) পিছিয়ে আসতে বাধ্য করার চক্রান্তও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    বিদেশি শক্তি নেসেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টায়

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বিদেশি শক্তি নেসেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ সামনে আসার পর কোনও জায়নবাদী দলেরই রা’আম বা জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে হাত মেলানো উচিত নয়। নগদ অর্থের বিনিময়ে ভোট কিনে নেসেটের স্পিকার পরিবর্তন কিংবা ইজরায়েলের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক সরকার গঠনের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছে লিকুদ পার্টি। এই ঘটনায় অবিলম্বে শিন বেট ও পুলিশকে পূর্ণ ক্ষমতা প্রয়োগ করে তদন্তের দাবি জানিয়েছে তারা। বুধবার শিন বেটের প্রধান ডেভিড জিনিকে চিঠি দিয়ে বিচারপতি সোলবার্গ জানান, বিদেশি শক্তির অর্থায়নের মাধ্যমে ইজরায়েলের স্বার্থবিরোধী নির্বাচনী প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে তাঁর কাছে গুরুতর সন্দেহের তথ্য এসেছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে তিনি নিজে নিশ্চিত নন, তবে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি চিঠিতে শিন বেট প্রধানকে সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ করে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্তের ফলাফল জমা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

    অভিযোগ অস্বীকার করেছে কাতার

    এদিকে, ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যম কান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তদন্তের সঙ্গে যুক্ত এক সূত্র জানিয়েছে, গত দু’সপ্তাহের মধ্যে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। বিষয়টিতে কিছু সমস্যাজনক তথ্য পাওয়া গিয়েছে এবং সমস্ত তথ্য সামনে আনতে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে ওই সূত্র। ‘দ্য টাইমস অফ ইজরায়েল’-এ এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটির ডিরেক্টর জেনারেল ডিন লিভনে। কাতারের বিদেশ মন্ত্রকও তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করেছে। তা সত্ত্বেও ইজরায়েলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

    আরব সংগঠনে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছিল কাতার

    নিরাপত্তা সংস্থা এবং নির্বাচনী কমিশনের একাধিক সূত্রের দাবি, আরব ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করার নামে বিভিন্ন আরব সংগঠনের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছিল কাতার। এর মাধ্যমে ভোটের হার ও নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। দাবি করা হয়েছে, ওই সংগঠনগুলির কাছে অর্থ পাঠানোর জন্য যে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছিল, তার সঙ্গে অতীতে জঙ্গি সংগঠনগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত নেটওয়ার্কের যথেষ্ট মিল রয়েছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। ফলে ইজরায়েলের নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

     

  • India Poverty: বিশ্বে দ্রুততম দারিদ্র্য হ্রাসের নজির ভারতে, ১২ বছরে দারিদ্র্যসীমার উপরে ৪৯.৬ কোটি মানুষ

    India Poverty: বিশ্বে দ্রুততম দারিদ্র্য হ্রাসের নজির ভারতে, ১২ বছরে দারিদ্র্যসীমার উপরে ৪৯.৬ কোটি মানুষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দারিদ্র্য দূরীকরণে (India Poverty) উল্লেখযোগ্য সাফল্য ভারতের। বিশ্বের দ্রুততম দারিদ্র্য হ্রাসের নজির গড়েছে দেশ। বিশ্বব্যাঙ্কের (World Bank) সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে উঠে এসেছে এমনই তথ্য। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতে প্রায় ৪৯.৬ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠে এসেছেন। দৈনিক ৪.২ ডলারের কম আয়ে জীবনযাপন করা মানুষের হার ২০১১ সালে যেখানে ছিল ৫৭.৭ শতাংশ, ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৬.১ শতাংশে। ২০২৮ সালের মধ্যে এই হার আরও কমে ১২.১ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    কীভাবে সম্ভব হল এই সাফল্য?

    চরম দারিদ্র্যের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিশ্বব্যাঙ্কের সংজ্ঞা অনুযায়ী, দৈনিক ৩ ডলারের কম আয়ে জীবনযাপন করা মানুষের হার ২০১১ সালে ছিল ২৭.১ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা কমে হয়েছে মাত্র ২.৬ শতাংশ। দেশের অধিকাংশ রাজ্যেই মানুষের জীবনযাত্রার মানের উন্নতি হয়েছে। তবে উত্তরপ্রদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি ভৌগোলিক অঞ্চলে এখনও দেশের মোট দরিদ্র জনসংখ্যার প্রায় ৫৭ শতাংশ বসবাস করেন। ফলে দারিদ্র্য দূরীকরণে আঞ্চলিক বৈষম্য এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বব্যাঙ্কের রিপোর্টে দারিদ্র্য কমার অন্যতম কারণ হিসেবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশে অতিরিক্ত ১৩.৪ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এই বৃদ্ধির হার কর্মক্ষম জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রায় দ্বিগুণ। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় মহিলাদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। এর ফলে পরিবারের উপার্জনকারী সদস্যের সংখ্যাও বেড়েছে।

    ১৪০ কোটি দেশবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন

    পাশাপাশি মানুষের ভোগব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা ও খাদ্য ভর্তুকির সম্প্রসারণকেও দারিদ্র্য কমার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাঙ্ক। কোভিড অতিমারির সময় ২০২০ সাল থেকে কেন্দ্রীয় সরকার দেশের অন্তত ৮১ কোটি উপভোক্তাকে প্রতি মাসে পাঁচ কেজি করে বিনামূল্যে খাদ্যশস্য দিয়ে আসছে। এই বিনামূল্যের রেশন প্রকল্পও দরিদ্র পরিবারগুলির খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। এদিকে, সরকারি পরিষেবায় ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দারিদ্র্য দূরীকরণে ভারতের এই অগ্রগতিকে ১৪০ কোটি দেশবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছেন।

    বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার পথে ভারত

    তবে দারিদ্র্য হ্রাসের এই সাফল্যের পাশাপাশি সতর্কবার্তাও দিয়েছে বিশ্বব্যাঙ্ক। রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন আয়ের কর্মীদের মধ্যে উপার্জনের ব্যবধান এখনও যথেষ্ট বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ উপার্জনকারীর আয় সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ উপার্জনকারীদের তুলনায় প্রায় ১৩ গুণ। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে ভারত। সেই যাত্রাপথে দারিদ্র্য হ্রাসে এই অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও আয়বৈষম্য দূর করা এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়াই আগামী দিনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

  • Amit Shah Attacks Rahul: ‘ভোট চুরি’ নিয়ে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকতে প্রস্তুত বিজেপি! আগ্রহী নয় বিরোধীরা, দাবি শাহের

    Amit Shah Attacks Rahul: ‘ভোট চুরি’ নিয়ে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকতে প্রস্তুত বিজেপি! আগ্রহী নয় বিরোধীরা, দাবি শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ভোট চুরি’ বিতর্কে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার জন্য বিজেপি প্রস্তুত। কিন্তু বিরোধী দলগুলি সংসদে এই বিষয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী নয়। শুক্রবার লখনউয়ে দলীয় কর্মীদের সভায় এমনই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah Attacks Rahul)। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলিকে ভিত্তিহীন বলেও খারিজ করেছেন তিনি। এদিন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে অমিত শাহ বলেন, “সংসদের ভিতরে প্রতিটি অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করতে বিজেপি প্রস্তুত। আমরা কিছু লুকোতে চাই না। সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হোক। কিন্তু বিরোধীরা সেখানে আলোচনা করতে চায় না। তারা সংসদ চলতে দেয় না, বরং হইচই করে।”

    আম্পায়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে

    বিজেপির একাধিক নির্বাচনী জয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শাহ বলেন, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, বিহার, দিল্লি, পুদুচেরি, অসম এবং পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর বিরোধীরা বুঝতে পেরেছে যে তারা নির্বাচনে জিততে পারছে না। তাঁর কথায়, “কোনও দল বা টিম ম্যাচে হারলে তাদের আরও অনুশীলন করা উচিত। কিন্তু পরাজয় মেনে নেওয়ার পরিবর্তে তারা আম্পায়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। বলছে, ভোট চুরি হয়েছে।” অন্যদিকে, অমিত শাহের এই মন্তব্যের মধ্যেই শনিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘জনতার অভিশংসন’ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। পাশাপাশি রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।

    রাস্তায় নেমে বিশৃঙ্খলাই লক্ষ্য

    জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার ফলে বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। সেই অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগও দাবি করেছে বিরোধী দলগুলি। এই আবহে উত্তরপ্রদেশে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রণকৌশল ঠিক করতে শুক্রবার লখনউয়ে বৈঠকে বসেছিল রাজ্য বিজেপি। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শাহ। বৈঠকে বেশ কয়েকটি বিষয়ের উপর জোর দেন তিনি। তবে একই সঙ্গে বিরোধীদের আক্রমণও শানান। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিরোধী শিবির ভোট চুরির যে অভিযোগ তুলেছে, তা নিয়ে সরব হয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী নেতানেত্রীদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে শাহ সংসদে বিশেষ অধিবেশনের কথা বলেন। জানান, ‘ভোট চুরি’ নিয়ে সংসদে বিশেষ অধিবেশন ডাকতে প্রস্তুত তিনি। তবে তার পরেই বলেন, ‘‘রাহুল বাবা কখনওই রাজি হবেন না। সংসদে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা না-করে উনি রাস্তায় নেমে বিশৃঙ্খলা করতে চান।’’

    শাহী নিশানায় অখিলেশও

    শুধু রাহুল নন, সমাজবাদী পার্টির প্রধান তথা সাংসদ অখিলেশ যাদবকে নিশানা করেছেন শাহ। তাঁর কথায়, ‘‘রাহুল এবং অখিলেশকে প্রতিটি অভিযোগ নিয়ে সংসদের ভিতরে আলোচনার জন্য আমি চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি।’’ তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করা হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন। ওঁরা (বিরোধী) আলোচনা চান না, চান রাস্তায় নাটক করতে।’’উল্লেখ্য, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজের সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে রবিবারের মিছিলে বিপুল সংখ্যায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এই কর্মসূচি দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষার লড়াইয়ের অংশ।

    কীভাবে আটকানো হয়েছে তার প্রমাণ দিক কংগ্রেস

    রাহুলের অভিযোগ, সভায় যোগ দিতে আসা মানুষজনকে দিল্লি প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন যাতে মানুষ দিল্লিতে আসতে না পারে। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, হরিয়ানা, তেলেঙ্গানা, পাঞ্জাব থেকে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও আমাদের কর্মীদের আটকানো হচ্ছে। তবে সভায় আসা মানুষকে আটকানোর অভিযোগের পালটা বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, “ডাহা মিথ্যে কথা বলছেন উনি। কাকে, কোথায়, কীভাবে আটকানো হয়েছে তার প্রমাণ দিক কংগ্রেস।”

    ৩০ বছরেও উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় আসতে পারবেন না

    উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ায় দেশজুড়ে মোট ১৩.৩৯ কোটি ভোটারের নাম ‘অনুপস্থিত’, ‘স্থানান্তরিত’, ‘মৃত’ এবং ‘একাধিকবার নথিভুক্ত’ (ASDD) শ্রেণিতে চিহ্নিত হওয়ার পর থেকেই বিতর্ক তীব্র হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ভোটার তালিকা থেকে অযোগ্য ও ভুয়ো নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ। তবে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ে থাকলে তা পুনরায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছে কমিশন। প্রসঙ্গত, শুক্রবারের বৈঠকে উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন নিয়ে ভবিষ্যদ্ববাণী করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, আগামী ৩০ বছরেও উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় আসতে পারবেন না অখিলেশেরা। অখিলেশকে নিশানা করে শাহ বলেন, ‘‘আপনারা নিজের চেষ্টায় একটা নির্বাচনও জিততে পারেননি। রাহুল বাবার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।’’

    সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতিক্রমেই গৃহীত

    এদিকে, এসআইআর এবং ভোটার তালিকা পরিচালনা সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতিক্রমেই নেওয়া হয়েছিল। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।

     

     

     

  • ISRO NVS-03: আমজনতা থেকে সেনাবাহিনী, উপকৃত হবে কারা? এনভিএস-০৩ কেন ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

    ISRO NVS-03: আমজনতা থেকে সেনাবাহিনী, উপকৃত হবে কারা? এনভিএস-০৩ কেন ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

    সুশান্ত দাস

    মহাকাশ গবেষণায় আরও এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য ভারতের। দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অকেজো হয়ে পড়া দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইটভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থা নেভিগেশন উইথ ইন্ডিয়ান কনস্টেলেশন বা সংক্ষেপে ‘নাবিক’-কে (NavIC) পুনরুজ্জীবিত করার পথে বড় পদক্ষেপ করল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO)। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর রাত ১১টা ৫১ মিনিটে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হল এনভিএস-০৩ (NVS-03) স্যাটেলাইট।

    ইসরোর দ্বিতীয় প্রজন্মের নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিরিজের এই তৃতীয় উপগ্রহের সফল উৎক্ষেপণ দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট-নির্ভর পজিশনিং, নেভিগেশন এবং টাইমিং (PNT) পরিষেবা— অর্থাৎ ব্যক্তি বা বস্তুর অবস্থান নির্ণয়, নেভিগেশন ও সময় নির্ধারণের পরিষেবা ফের চালু করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    চলতি বছরে এটি ইসরোর তৃতীয় মহাকাশ অভিযান। ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন উৎক্ষেপণের পর সাংবাদিক বৈঠকে জানান, বর্তমানে ভারতের কাছে তিনটি কার্যকর নেভিগেশন স্যাটেলাইট রয়েছে। এনভিএস-০৩ সফলভাবে যুক্ত হওয়ায় ‘নাবিক’-এর পজিশনিং, নেভিগেশন এবং টাইমিং পরিষেবা পুনরায় চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সংখ্যক কার্যকর স্যাটেলাইট পাওয়া সম্ভব হবে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ ভারতের নিজস্ব ‘নাবিক’ ব্যবস্থা?

    ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা তৈরির ভাবনার পিছনে রয়েছে ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের অভিজ্ঞতা। সেই সময় পাকিস্তানি সেনার গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য পেতে সংঘর্ষপ্রবণ এলাকার মার্কিন জিপিএস (Global Positioning System) তথ্য ব্যবহারের চেষ্টা করেছিল ভারত। কিন্তু আমেরিকা সেই তথ্য দিতে অস্বীকার করে। এর ফলে যুদ্ধের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে বিদেশি নিয়ন্ত্রণাধীন নেভিগেশন ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল থাকার ঝুঁকি স্পষ্ট হয়ে যায়।

    এই অভিজ্ঞতা থেকেই ভারত নিজস্ব আঞ্চলিক স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। ২০০৬ সালে সরকার ইন্ডিয়ান রিজিওনাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম (IRNSS) প্রকল্পে অনুমোদন দেয়। প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল সাতটি স্যাটেলাইট নিয়ে একটি নক্ষত্রমণ্ডল তৈরি করা। এর মধ্যে তিনটি স্যাটেলাইট থাকবে জিওস্টেশনারি অরবিটে এবং চারটি থাকবে ইনক্লাইন্ড জিওস্টেশনারি অরবিটে।

    ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় পৃথিবীর বিষুবরেখার উপরে স্থির অবস্থানে থাকা কক্ষপথকে বলা হয় জিওস্টেশনারি অরবিট। অন্যদিকে, ইনক্লাইন্ড জিওস্টেশনারি অরবিটে হল এমন একটি কক্ষপথ, যা পৃথিবীর ঘূর্ণনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আবর্তিত হলেও নিরক্ষরেখার তুলনায় কিছুটা হেলানো অবস্থায় থাকে।

    ২০১৩ সালের জুলাই মাসে আইআরএনএসএস-১এ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে এই প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে আরও ছয়টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে প্রাথমিক সাতটি উপগ্রহের নক্ষত্রমণ্ডল সম্পূর্ণ করে ইসরো। পরবর্তীকালে এই ব্যবস্থারই নামকরণ করা হয় ‘নাবিক’।

    কী কী কাজে ব্যবহার করা যায় ‘নাবিক’?

    ‘নাবিক’ শুধুমাত্র সাধারণ জিপিএস-এর বিকল্প নয়, এর রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অসামরিক ও কৌশলগত ব্যবহার। এর মাধ্যমে যানবাহনের অবস্থান নির্ণয় ও ট্র্যাকিং, সামুদ্রিক নেভিগেশন, বিপর্যয় মোকাবিলা এবং সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

    এই ব্যবস্থায় মূলত দু’ধরনের পরিষেবা রয়েছে—

    • ● স্ট্যান্ডার্ড পজিশনিং সার্ভিস (এসপিএস): সাধারণ নাগরিক এবং অসামরিক ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত নেভিগেশন পরিষেবা।

    • ● রেসট্রিক্টেড সার্ভিস (আরএস): নির্দিষ্ট অনুমোদিত ব্যবহারকারীদের জন্য এনক্রিপ্টেড পরিষেবা। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী-সহ কৌশলগত ক্ষেত্রে এই পরিষেবা ব্যবহার করা যায়।

    অর্থাৎ, দেশের সাধারণ নাগরিকের দৈনন্দিন নেভিগেশন থেকে শুরু করে সামরিক ক্ষেত্রে নির্ভুল অবস্থান নির্ণয়—দু’ক্ষেত্রেই ‘নাবিক’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    কেন প্রয়োজন হল দ্বিতীয় প্রজন্মের এনভিএস স্যাটেলাইট?

    প্রাথমিক আইআরএনএসএস স্যাটেলাইটগুলির উৎক্ষেপণ ২০১৬ সালের মধ্যেই সম্পূর্ণ হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলির কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করে। মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইটগুলির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশে ত্রুটি দেখা দেওয়ার কারণে ‘নাবিক’-এর পরিষেবা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে।

    এই পরিস্থিতিতে পুরনো স্যাটেলাইটগুলির পরিবর্তে আরও উন্নত উপগ্রহ পাঠানোর পরিকল্পনা নেয় ইসরো। সেই পরিকল্পনার ভিত্তিতেই তৈরি হয় দ্বিতীয় প্রজন্মের নেভিগেশন স্যাটেলাইট বা এনভিএস (NVS) সিরিজ।

    নতুন প্রজন্মের স্যাটেলাইটগুলির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অ্যাটমিক ক্লক। পাশাপাশি, পুরনো এল৫ এবং এস ব্যান্ডের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে এল১ ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড। এই এল১ ব্যান্ডের সংযোজন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বিশ্বের অধিকাংশ সাধারণ নেভিগেশন ব্যবস্থা এবং স্মার্টফোনে এই ফ্রিকোয়েন্সি বহুল ব্যবহৃত হয়।

    ফলে এল১ সিগন্যাল যুক্ত হওয়ার কারণে ‘নাবিক’-এর সঙ্গে স্মার্টফোন এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক নেভিগেশন ডিভাইসের সামঞ্জস্য বাড়তে পারে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারে দেশের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থাকে আরও সহজলভ্য করে তোলার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    কেন কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছিল ‘নাবিক’?

    দ্বিতীয় প্রজন্মের স্যাটেলাইট পাঠানোর কাজ শুরু হলেও পুরনো স্যাটেলাইটগুলির একের পর এক যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ‘নাবিক’-এর স্বাধীন পজিশনিং পরিষেবা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

    ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে আইআরএনএসএস-১এ স্যাটেলাইটের তিনটি রুবিডিয়াম অ্যাটমিক ক্লক-ই বিকল হয়ে যায়। এর ফলে স্যাটেলাইটটি দিয়ে নির্ভুল অবস্থান নির্ণয়ের কাজ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীকালে সেটিকে মূলত মেসেজিং পরিষেবার জন্য ব্যবহার করা হয়।

    অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ১৩ মার্চ ইসরো জানায়, আইআরএনএসএস-১এফ স্যাটেলাইটের অনবোর্ড অ্যাটমিক ক্লক কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তার মাত্র তিন দিন আগেই স্যাটেলাইটটি তার নির্ধারিত ১০ বছরের কার্যক্ষমতার মেয়াদ সম্পূর্ণ করেছিল।

    একের পর এক স্যাটেলাইটে সমস্যা দেখা দেওয়ায় ‘নাবিক’-এর পিএনটি পরিষেবা দেওয়ার মতো কার্যকর উপগ্রহের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় মাত্র তিনটিতে। সেগুলি হল আইআরএনএসএস-১বি, আইআরএনএসএস-১আই এবং এনভিএস-০১।

    কেন চারটি স্যাটেলাইট ছাড়া সম্ভব নয় নির্ভুল অবস্থান নির্ণয়?

    স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থায় কোনও গ্রাহকের ত্রিমাত্রিক অবস্থান অর্থাৎ অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ ও উচ্চতা নির্ণয়ের জন্য অন্তত চারটি কার্যকর স্যাটেলাইটের সিগন্যাল প্রয়োজন। এর পাশাপাশি, নেভিগেশন রিসিভারের নিজস্ব ঘড়ির ত্রুটিও সংশোধন করতে হয়।

    সাধারণভাবে চারটি স্যাটেলাইটের সিগন্যাল ব্যবহার করে রিসিভার তার অবস্থান এবং সময় সংক্রান্ত ভুল হিসাব সংশোধন করতে পারে। কিন্তু ‘নাবিক’-এর ক্ষেত্রে পিএনটি পরিষেবা দেওয়ার মতো কার্যকর স্যাটেলাইটের সংখ্যা চারটির নীচে নেমে যাওয়ায় স্বাধীনভাবে অবস্থান নির্ণয়ের পরিষেবা ব্যাহত হয়।

    সেই জায়গাতেই এনভিএস-০৩-এর গুরুত্ব। ৩০ অক্টোবর জিএসএলভি-এফ১৮ (GSLV-F18) রকেটের মাধ্যমে সফল উৎক্ষেপণের পর এই স্যাটেলাইটটি কার্যকর হলে ‘নাবিক’-এর পিএনটি পরিষেবা পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম চারটি কার্যকর স্যাটেলাইটের সংখ্যা পূরণ হতে পারে।

    এরপর কী? প্রস্তুত এনভিএস-০৪ এবং এনভিএস-০৫

    এনভিএস-০৩-এর সফল উৎক্ষেপণই অবশ্য ‘নাবিক’-এর সম্পূর্ণ সক্ষমতা ফিরে পাওয়ার শেষ ধাপ নয়। ইসরোর পরিকল্পনায় রয়েছে আরও দুটি উন্নত নেভিগেশন স্যাটেলাইট—এনভিএস-০৪ এবং এনভিএস-০৫। ইসরো সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দুটি স্যাটেলাইটও উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং শীঘ্রই মহাকাশে পাঠানো হবে। এই স্যাটেলাইটগুলি যুক্ত হলে ‘নাবিক’-এর পরিষেবার নির্ভরযোগ্যতা ও কার্যক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

    সব মিলিয়ে, এনভিএস-০৩-এর সফল উৎক্ষেপণ ভারতের মহাকাশ গবেষণার পাশাপাশি দেশের প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কার্গিল যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে যে নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছিল, প্রায় আড়াই দশক পর সেই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তোলার পথে এগোল ভারত। এবার নজর এনভিএস-০৩-এর কার্যকর হয়ে ওঠা এবং পরবর্তী দুই স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণের দিকে।

  • Census 2027: ২৫ জানুয়ারি থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংখ্যা গণনা, থাকছে জাতিগত পরিচয়ের তথ্যও

    Census 2027: ২৫ জানুয়ারি থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংখ্যা গণনা, থাকছে জাতিগত পরিচয়ের তথ্যও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রথম ডিজিটাল জনগণনা বা সেনসাস (Census 2027)-এর চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল। আগামী ১০ জানুয়ারি, ২০২৭ থেকে শুরু হবে স্ব-গণনা বা সেল্ফ এনুমারেশন প্রক্রিয়া। এরপর ২৫ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশজুড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংখ্যা গণনা করবেন সরকারি কর্মীরা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এই সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের জনগণনায় তফসিলি জাতি (SC) ও তফসিলি উপজাতি (ST)-র পাশাপাশি অন্যান্য জাতিগত পরিচয়ের তথ্যও প্রথমবারের মতো সংগ্রহ করা হবে।

    কী কী প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে

    মোট ৪০টি প্রশ্নের একটি প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ১৩টি নতুন প্রশ্ন যুক্ত হয়েছে। জাতি, ধর্ম, জাতীয়তা, ডিজিটাল সাক্ষরতা, ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত তথ্য এবং ব্যক্তিগত পরিচয়পত্রের মতো বিষয়গুলি উঠে আসবে এই প্রশ্নপত্রে। পাশাপাশি জানতে চাওয়া হবে বাবা ও মায়ের জন্মস্থান ও জন্মতারিখ, স্বামী বা স্ত্রীর নাম, স্থায়ী ঠিকানা, কোভিড টিকাকরণের স্থান, পাসপোর্ট নম্বর এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে কি না, সেই তথ্যও। এছাড়াও, উত্তরদাতাদের কাছে মোবাইল নম্বর, আধার নম্বর এবং ভোটার কার্ডের নম্বর চাওয়া হতে পারে, যদি সেগুলি তাঁদের কাছে থাকে।

    ভোটমুখী রাজ্যে আগে শুরু প্রক্রিয়া

    চারটি ভোটমুখী রাজ্য—উত্তরপ্রদেশ, গোয়া, উত্তরাখণ্ড ও পাঞ্জাবে এই প্রক্রিয়া কিছুটা আগেই শুরু হবে। ওই রাজ্যগুলিতে ২০২৬ সালের ১৬ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে স্ব-গণনার সুযোগ। এরপর ১ ডিসেম্বর থেকেই শুরু হবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংখ্যা গণনা। অন্যদিকে, দেশের বাকি অংশে ১০ জানুয়ারি থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে স্ব-গণনা। এরপর ২৫ জানুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মূল জনসংখ্যা গণনার কাজ হবে। ১ থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে সংশোধনী বা পুনরীক্ষণ পর্ব। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৭ সালের ১ মার্চ মধ্যরাতকে জনগণনার নির্ধারিত রেফারেন্স তারিখ হিসেবে ধার্য করা হয়েছে। ১৯৪৮ সালের জনগণনা আইন এবং ১৯৯০ সালের জনগণনা বিধির সংশ্লিষ্ট ধারার ভিত্তিতে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।

    কয়েকটি জায়গায় চলছে কাজ

    ইতিমধ্যেই লাদাখ এবং জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের তুষারাবৃত দুর্গম এলাকাগুলিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর জনসংখ্যা গণনার কাজ শেষ হয়েছে। তবে হিংসা কবলিত মণিপুরে আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য এই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে প্রথম পর্যায়ের হাউস লিস্টিং অপারেশনস (HLO) বা বাড়ির তালিকাভুক্তির কাজ শুরু হয়েছিল। মণিপুর বাদে দেশের সর্বত্র ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ১৬ জুন ২০২৭ সালের জনগণনা সংক্রান্ত প্রথম বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল কেন্দ্র। এবার চূড়ান্ত পর্যায়ের সময়সূচিও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হল।

  • PM Modi on NVS-03 Launch: সফল উৎক্ষেপণ এনভিএস-০৩ উপগ্রহের! দেশের গর্ব ইসরোর বিজ্ঞানীরা, অভিনন্দন বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi on NVS-03 Launch: সফল উৎক্ষেপণ এনভিএস-০৩ উপগ্রহের! দেশের গর্ব ইসরোর বিজ্ঞানীরা, অভিনন্দন বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের মহাকাশ গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। জিএসএলভি এফ-১৮ (GSLV-F18) রকেটের মাধ্যমে সফলভাবে এনভিএস-০৩ (NVS-03) নেভিগেশন উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO)। এই সাফল্যের জন্য ইসরোর বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ারদের অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের মহাকাশ বিজ্ঞানীদের নিষ্ঠা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টা গোটা দেশকে গর্বিত করে। শনিবার সমাজমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই উৎক্ষেপণ ভারতের নিজস্ব স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা ‘ন্যাভিক’ (NavIC)-কে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

    প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর ভারত

    বিজ্ঞানীদের মতে, উন্নত প্রযুক্তি ও সক্ষমতাসম্পন্ন এনভিএস-০৩ (NVS-03) উপগ্রহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা অর্জনের প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। পাশাপাশি দেশবাসীর জন্য নেভিগেশন পরিষেবার মান ও কার্যকারিতা উন্নত করতেও সাহায্য করবে এই উপগ্রহ। প্রধানমন্ত্রী মোদি লেখেন, “আমাদের মহাকাশ বিজ্ঞানীদের নিষ্ঠা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বারবার দেশকে গর্বিত করে।” এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ইসরোর বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দনও জানান তিনি। শুক্রবার রাত ১১টা ৫১ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্রের দ্বিতীয় উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে যাত্রা শুরু করে জিএসএলভি এফ-১৮ (GSLV-F18) রকেট। উৎক্ষেপণের ২০ মিনিটের কিছু বেশি সময় পর নির্দিষ্ট জিওসিনক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটে (GTO) সফলভাবে এনভিএস-০৩ (NVS-03) উপগ্রহকে স্থাপন করে রকেটটি। মিশনের সাফল্য ঘোষণা করেন ইসরোর চেয়ারম্যান ড. ভি নারায়ণন। এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত শিল্প সংস্থা, বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ারদের অভিনন্দন জানান তিনি।

    ন্যাভিক পরিষেবার গুরুত্ব

    ভারতের জিওসিনক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল বা জিএসএলভি-এর এটি ছিল ২০তম উড়ান। প্রায় ২,২৫০ কেজি ওজনের এনভিএস-০৩ (NVS-03) হল ইসরোর দ্বিতীয় প্রজন্মের নেভিগেশন উপগ্রহ সিরিজের তৃতীয় উপগ্রহ। ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা নেভিগেশন উইথ ইন্ডিয়ান কনস্টিলেশন (Navigation with Indian Constellation) বা ন্যাভিক (NavIC)-এর পরিষেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং তার কার্যকারিতা ও পরিসর আরও উন্নত করাই এই উপগ্রহের অন্যতম লক্ষ্য। বর্তমানে নাগরিক পরিষেবা থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক ক্ষেত্র এবং দেশের কৌশলগত নিরাপত্তা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট-নির্ভর অবস্থান নির্ণয়, নেভিগেশন ও সময় নির্ধারণের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষিতে এনভিএস-০৩ (NVS-03)-এর সফল উৎক্ষেপণ ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার পথে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

LinkedIn
Share