Meta in Crisis: সামাজিক দূষণ ছড়ানোর অভিযোগ! ৮ হাজার কোটি টাকা জরিমানা মার্কিন আদালতের, মেটাকে নোটিস ভারতের মানবাধিকার কমিশনেরও

us court slaps with $567 million penalty over child safety failures nhrc issues notice to mark zukerburg company's

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর সোশাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সেই আবহেই শিশু সুরক্ষায় ব্যর্থতা, প্ল্যাটফর্মকে অতিরিক্ত আসক্তিকর করে তোলা এবং অনলাইন যৌন শোষণ ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগে বড় ধাক্কা খেল মেটা (Meta in Crisis)। বিপুল আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে হল ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপের মালিক সংস্থা মেটাকে (Meta)। সামাজিক দূষণের অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য নিউ মেক্সিকোর একজন বিচারক। ‌ভারতীয় মুদ্রায় ৭৮৬০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে মেটাকে। অন্যদিকে, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে শিশুদের জন্য অনুপযুক্ত বিষয় (কনটেন্ট) ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে পদক্ষেপ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। এই কনটেন্টের মধ্যে চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ মেটেরিয়াল (সিএসএএম) থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কমিশন। অভিযোগের তদন্তে মেটা-সহ আটটি রাজ্যের ডিজিপিকে নোটিস দেওয়া হয়েছে।

মেটাকে মার্কিন আদালতের নির্দেশ

শুধু জরিমানাই নয়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষায় একাধিক মৌলিক পরিবর্তন আনার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল টোরেজের দায়ের করা মামলায় বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড মেটার প্ল্যাটফর্মকে শিশু ও কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর বলে পর্যবেক্ষণ করেছেন। আদালতের মতে, বিষয়টি আর শুধুমাত্র কোনও ব্যক্তির সোশাল মিডিয়া ব্যবহারের সমস্যা নয়। এর প্রভাব শিশুদের পরিবার, স্কুল, হাসপাতাল এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উপরও পড়ছে। তাই মেটার কার্যকলাপকে ‘Public Nuisance’ বা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কার্যকলাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

কেন ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা?

মামলায় নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেলের অভিযোগ ছিল, তরুণ ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখার জন্য মেটা এমন কিছু ফিচার ও নকশা তৈরি করেছে, যা সোশাল মিডিয়া-নির্ভরতা বাড়িয়ে দিতে পারে। একইসঙ্গে শিশুদের অনলাইন হয়রানি, গ্রুমিং এবং যৌন শোষণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংস্থাটি ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এই মামলার দ্বিতীয় পর্যায়ের শুনানির পর ৫৬৭ মিলিয়ন ডলারের জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর প্রায় পাঁচ মাস আগে একই মামলার প্রথম পর্যায়ে নিউ মেক্সিকোর একটি জুরি মেটাকে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। জুরির পর্যবেক্ষণ ছিল, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা দাবি করে মেটা ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে।

মেটার প্ল্যাটফর্মে কী কী পরিবর্তন আনতে হবে?

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নিউ মেক্সিকোয় কিশোর-কিশোরীদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে মাসিক সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। একইসঙ্গে বারবার নোটিফিকেশন পাঠানোর ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। এই নির্দেশের মেয়াদ পাঁচ বছর। এছাড়াও— অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্কদের অপ্রাপ্তবয়স্কদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ সীমিত করতে হবে। শিশুদের সুরক্ষায় এআই চ্যাটবটের উপর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বসাতে হবে। শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত পর্যালোচনা করতে হবে।

সোশাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাব পরিবেশ দূষণের সামিল

মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল—সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম কি জনসাধারণের জন্য ক্ষতিকর কার্যকলাপ তৈরি করতে পারে? বিচারক বিডশেইড তাঁর রায়ে সোশাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাবকে শিল্প কারখানার দূষণের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর যুক্তি, কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া যেমন কারখানার সীমানা পেরিয়ে সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব ফেলে, তেমনই সোশাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাবও মোবাইলের স্ক্রিনে সীমাবদ্ধ থাকে না। তা বাস্তব জীবনে শিশু, পরিবার, স্কুল, হাসপাতাল এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উপর সামাজিক চাপ তৈরি করতে পারে।

মেটার বিরুদ্ধে ক্রমাগত মামলা

মেটা অবশ্য এই অভিযোগগুলি অস্বীকার করেছে। সংস্থার এক পদস্থ কর্তা বলেছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। ওই কর্তার কথায়, আমাদের সোশাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মগুলির কনটেন্টগুলির দিকে আমাদের অবিরাম নজর রয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের কন্টেন্টগুলি নিয়ে আমরা বাড়তি সতর্ক। যদিও নানা সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে মেটার বিরুদ্ধে আমেরিকার আদালতগুলিতে প্রতিনিয়ত মামলা হচ্ছে। অভিভাবক, শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং নানা সামাজিক সংগঠন হিংসা, বিকৃত যৌনতা, ধর্মীয়, জাতিগত, ভাষাগত বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করছেন।

ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নজরে মেটা

ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে পর্নোগ্রাফি, বয়স-অনুপযোগী এবং শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট (CSAM)-র রমরমা প্রচারের অভিযোগে এবার কড়া অবস্থান নিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। মেটা (Meta) কর্তৃপক্ষসহ দেশের ৮টি রাজ্যের পুলিশ প্রধানদের (DGP) নোটিস পাঠানো হয়েছে কমিশনের তরফে। এনএইচআরসি সদস্য প্রিয়ঙ্কা কানুনগো জানিয়েছেন, ইনস্টাগ্রামে অর্থের বিনিময়ে পাওয়া কনটেন্টে সিএসএএম থাকলে তা পকসো আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে। তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৫০টি বিষয় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তদন্তে গাফিলতি হলে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মী ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করবে এনএইচআরসি। তিনি স্পষ্ট জানান, কনটেন্টগুলির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক তদন্ত প্রয়োজন এবং প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে মেটা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরাসরি এফআইআর (FIR) দায়ের করা উচিত।

কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকেও অবগত করা হয়েছে

রাজ্যগুলির পুলিশ প্রধানদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের (MeitY) সচিবকেও এই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ করা হয়েছে। মানবাধিকার কমিশনের তরফে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষগুলির হাতে অন্তত ৫০টি নির্দিষ্ট ইউআরএল (URL) বা ওয়েবসাইটের লিঙ্ক তুলে দেওয়া হয়েছে। কানুনগো সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘‘প্রমাণ হিসেবে ৫০টি ইউআরএল সরবরাহ করার পরেও যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা রাজ্য পুলিশ তদন্ত শুরু না করে, তবে এনএইচআরসি সরাসরি ভারত সরকারের দ্বারস্থ হবে। পুলিশ আধিকারিক এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের দায়িত্বে থাকা আমলাদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ করতে কেন্দ্রকে সুপারিশ করা হবে।’’

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share