Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Bangladesh: ফের অশান্তির আগুন বাংলাদেশে, পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তাল পদ্মাপারের দেশ

    Bangladesh: ফের অশান্তির আগুন বাংলাদেশে, পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তাল পদ্মাপারের দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত বাংলাদেশ। ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পথে নেমেছেন পোশাক (Bangladesh) কারখানার শ্রমিকরা। রবিবার সকাল থেকে ঢাকা, মিরপুর, গাজিপুর, সাভার, আশুলিয়া-সহ একাধিক শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভে শামিল হন শ্রমিকরা। তাঁদের দাবি, ন্যূনতম মাসিক মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। বিক্ষোভকে (Garment Workers Protest) কেন্দ্র করে একাধিক জায়গায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ বাঁধে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গাজিপুরে মোতায়েন করা হয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের।

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প সে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। সেই শিল্পের শ্রমিকদের একাংশের এই আন্দোলন ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। মিরপুরের ১০ নম্বর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। মিরপুরের ১১ নম্বর এলাকায় একটি মেট্রো স্টেশনের নীচে পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বেলা পৌনে ১২টা নাগাদ ওই ঘটনা ঘটে।

    উত্তপ্ত বাংলাদেশ, আগুন (Bangladesh) 

    গাজিপুরেও পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কোনাবাড়ি এলাকায় একটি পুলিশ বক্সে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। সফিপুর বাজার, চন্দ্রাপল্লি বিদ্যুৎ, মৌচাক ও তেলিচালা এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান শ্রমিকরা। আন্দোলনের জেরে ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। আশুলিয়া ও সাভারেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গাজিপুরে পাঁচ প্লাটুন সীমান্তরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে উৎপাদন ক্ষেত্রেও। গাজিপুর ও সাভার এলাকার অন্তত ৮০টি পোশাক কারখানায় রবিবার ছুটি ঘোষণা করা হয়। শ্রমিক অসন্তোষের জেরে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উদ্যোগী হয়েছে বাংলাদেশের সরকারও। শ্রমিকদের দাবি ও মজুরি সংক্রান্ত সমস্যা খতিয়ে দেখতে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সেই ঘোষণার পরেও বিক্ষোভ থামেনি। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় রবিবার রাতে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে উপস্থিত (Bangladesh) ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন-সহ সরকারের একাধিক প্রতিনিধি।

    রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা!

    এদিকে, এই অশান্তির পিছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশের সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সন্দেহ, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের একাংশ এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি।

    সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠক শেষে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এই ঘটনার পিছনে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তাঁর কথায়, “এটা স্পষ্টতই আওয়ামী ফ্যাসিবাদের লোকেদের কাজ। ডিসেম্বরকে সামনে রেখে এসব করা হয়েছে। পোশাক উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, যাতে অস্থিরতা তৈরি না হয়, সেই বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।”

    পোশাক শিল্পে ঘনাতে পারে দুর্দিন!

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রফতানি আয়ের একটি বড় অংশ আসে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে। এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন বিপুল সংখ্যক শ্রমিক। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব শুধু কারখানার উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, দেশের রফতানি বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের মজুরির দাবি এবং শিল্পের উৎপাদন স্বাভাবিক রাখার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন বাংলাদেশ সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ (Garment Workers Protest)।

    শ্রমিক অসন্তোষের জেরে নিজের সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সফর বাতিল করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। পরিস্থিতি (Bangladesh) সামাল দিতে সরকার কী পদক্ষেপ করে এবং শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এখন সেটাই দেখার।

     

  • Germany Left Wing Protests: জার্মানির বিভিন্ন শহরে তরুণদের বিক্ষোভের জেরে অশান্তি, ফ্রাঙ্কফুর্টে দোকানপাটে লুটপাট-ভাঙচুর

    Germany Left Wing Protests: জার্মানির বিভিন্ন শহরে তরুণদের বিক্ষোভের জেরে অশান্তি, ফ্রাঙ্কফুর্টে দোকানপাটে লুটপাট-ভাঙচুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তরুণ প্রজন্মের বিক্ষোভের জেরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে জার্মানির একাধিক শহরে। গত ৩১ অক্টোবর বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা চালু করার বিরোধিতা, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং সর্বোপরি, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন হাজার হাজার মানুষ। কয়েকটি শহরে সেই বিক্ষোভ হিংসাত্মক সংঘর্ষের (Germany Left Wing Protests) চেহারা নেয়। ফ্রাঙ্কফুর্টে মুখ ঢাকা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দোকানপাটে লুটপাট, বাণিজ্যিক সম্পত্তি ভাঙচুর এবং জরুরি পরিষেবার কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে (Shops Looted)।

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জার্মানিতে নতুন করে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, বামপন্থী চরমপন্থী সংগঠন এবং বিদেশের কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ থাকা সংগঠনগুলি সাধারণ মানুষের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার চেষ্টা করতে পারে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালীন একাধিক দোকানের কাচ ভাঙা হয়। জরুরি পরিষেবার কর্মীদের লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। হামবুর্গেও বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেয়।

    বিক্ষোভের নেতৃত্বে তরুণ প্রজন্ম (Germany Left Wing Protests)

    জার্মানির বামপন্থী প্রচার সংগঠন ‘জেন জি রেগেল্ট’-এর উদ্যোগে দেশের ৩৪টি শহরে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। বার্লিন, ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং মিউনিখের মতো বড় শহরগুলিতেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। সংগঠনটির নামের অর্থ, ‘নতুন প্রজন্মই এবার দায়িত্ব নেবে’।

    বিক্ষোভকারীদের মূল দাবিগুলির মধ্যে ছিল বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা চালুর প্রস্তাব প্রত্যাহার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ। সরকারি পরিষেবাগুলির উন্নতি এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।

    তবে ফ্রাঙ্কফুর্টে বিক্ষোভের মূল দাবিগুলিকে ছাপিয়ে যায় লুটপাট, ভাঙচুর এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা। এক প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ অনুযায়ী, শহরের অন্তত দু’টি দোকানে লুটপাট চালানো হয় এবং আরও কয়েকটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠলে ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশ সাধারণ মানুষকে সংঘর্ষপ্রবণ এলাকাগুলি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় পুলিশের তরফে জানানো হয়, শহরের কেন্দ্রস্থলে একাধিক দোকানের কাচ ভাঙচুর করা হয়েছে, জরুরি পরিষেবার কর্মীদের লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা ছোড়া হচ্ছে। পথচারীদের ওই এলাকা থেকে সরে যাওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয় (Germany Left Wing Protests)।

    বামপন্থী সংগঠনগুলির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    এই বিক্ষোভে বামপন্থী চরমপন্থী সংগঠনগুলির সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। জার্মানির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বক্তব্য, উগ্র বামপন্থী রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের কিছু অংশ এবং বিদেশের কয়েকটি চরমপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংগঠন বিক্ষোভের সমর্থনে জনমত সংগঠিত করার চেষ্টা করেছে।

    এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং দেশের বৃহত্তর ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষমতা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    প্রশাসনের আশঙ্কা, বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবার বিরোধিতা, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে কিছু সংগঠন বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাতের পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

    তবে বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক সংগঠন বা অংশগ্রহণকারীকে চরমপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করার মতো কোনও তথ্য সামনে আসেনি। অধিকাংশ শহরে জমায়েত শান্তিপূর্ণ ছিল বলেই প্রশাসন জানিয়েছে।

    তরুণদের ক্ষোভের কেন্দ্রে অর্থনৈতিক সঙ্কট

    ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতি জার্মানি বর্তমানে একাধিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি মন্থর। অন্যদিকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক পরিষেবার উপর সরকারি ব্যয় বাড়ানোর দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। এর পাশাপাশি অবসর গ্রহণকারী প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষম জনসংখ্যা কমে যাওয়ার ফলে পেনশন ব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, এই অর্থনৈতিক চাপের বড় অংশ বহন করতে হচ্ছে তরুণ প্রজন্মকে। অথচ তাঁদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বার্লিনের একটি বিক্ষোভসভায় আন্দোলনের অন্যতম মুখপাত্র লিনা ফ্রিডরিখ বলেন, “যুদ্ধ এবং জোরজবরদস্তির পরিবর্তে আমরা আজ শান্তি ও স্বাধীনতার দাবিতে পথে নেমেছি।” তিনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় সরকারি সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানান। একই সঙ্গে বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা চালুর বিরোধিতাও করেন (Germany Left Wing Protests)। মিউনিখের এক তরুণ বিক্ষোভকারী স্টিভও সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের উদ্বেগের কোনও সমাধান সরকার দিচ্ছে না। উল্টে সরকারি ব্যয় কমানো হচ্ছে এবং আমাদের উপর আরও বেশি আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।” সরকার বিক্ষোভকারীদের দাবির (Shops Looted) বিষয়ে পদক্ষেপ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

    প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম মানুষের উপস্থিতি

    আন্দোলনের উদ্যোক্তারা দেশজুড়ে প্রায় ১ লক্ষ ৮২ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে উপস্থিতির সংখ্যা ছিল অনেক কম। ফ্রাঙ্কফুর্ট, মিউনিখ ও বার্লিনে পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, তিন শহর মিলিয়ে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল আনুমানিক ১৮ হাজার। অন্যদিকে আন্দোলনের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই তিন শহরের জন্য প্রায় ৩৬ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের দাবি করা হয়েছিল। অর্থাৎ উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা এবং বাস্তব উপস্থিতির মধ্যে যথেষ্ট ফারাক ছিল।

    ফ্রান্সের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা

    জার্মানির হেসে প্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোসেক তরুণদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। উল্লেখ্য, এই প্রদেশের রাজধানী ভিসবাডেন এবং বৃহত্তম শহর ফ্রাঙ্কফুর্ট।

    ফ্রান্সে সাম্প্রতিক অতীতে তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভের সময় লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে পোসেক বলেন, “ফ্রান্সের সেই দৃশ্যগুলি আমাদের সকলের মনে রয়েছে। দোকান লুট করা, বাড়িতে আগুন লাগানো, পুলিশের গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া এবং পুলিশকর্মীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এই ক্ষেত্রে ফ্রান্সকে কোনওভাবেই আদর্শ হিসেবে তুলে ধরা উচিত নয়।”

    তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দাবিদাওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন যাতে বৃহত্তর আইনশৃঙ্খলার সমস্যায় পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করতে চাইছে (Germany Left Wing Protests) প্রশাসন।

    আগে থেকেই সতর্ক ছিল ব্যবসায়ী মহল

    বিক্ষোভের সম্ভাব্য প্রভাবের কথা মাথায় রেখে জার্মানির বিভিন্ন শহরের ব্যবসায়ীরা আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। কয়েকটি দোকানের সামনের অংশ কাঠের পাটাতন দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। কোথাও আবার নির্ধারিত সময়ের আগেই দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বার্লিনের অভিজাত কেনাকাটার এলাকা কুরফ্যুরস্টেনডামেও একাধিক ব্যবসায়ী একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে দুষ্কৃতীরা ভাঙচুর ও লুটপাট চালাতে পারে (Shops Looted)।

    ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও বিতর্ক

    এই আন্দোলন আদৌ জার্মানির বৃহত্তর ছাত্রসমাজের মতামত তুলে ধরছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দেশের জাতীয় ছাত্র সংগঠন বুন্ডেসশুলারকনফারেঞ্জ এই উদ্যোগ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, আগামী ২০ নভেম্বর তারা পৃথকভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে।

    অন্যদিকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামোর বেহাল দশাও অনেক ছাত্রছাত্রীকে আন্দোলনে যোগ দিতে উৎসাহিত করেছে।

    বার্লিনের প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া শন বেকার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ঢুকে বিভিন্ন ঘর দেখলে মনে হয় যেন কোনও পরিত্যক্ত বাড়িতে প্রবেশ করেছি। অথচ এই জায়গাতেই আমাদের নিয়মিত পড়াশোনা করার কথা।”

    ইউরোপজুড়েই বাড়ছে তরুণদের আন্দোলন

    ২০২৬ সালে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে একাধিক বিক্ষোভ কর্মসূচি দেখা গিয়েছে। ফ্রান্সে বামপন্থী ও ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলির অংশগ্রহণে হওয়া কয়েকটি বিক্ষোভ হিংসাত্মক সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনায় পর্যবসিত হয়েছে।

    জার্মানির সাম্প্রতিক আন্দোলনের মূল দাবি ছিল শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি, জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস এবং বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবার বিরোধিতা। কিন্তু ফ্রাঙ্কফুর্টের হিংসাত্মক ঘটনা গোটা আন্দোলনের চরিত্র, এর সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলির ভূমিকা এবং (Germany Left Wing Protests) সাধারণ মানুষের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলির অশান্তি ছড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

     

  • Israel Election 2026: ইজরায়েলে এখনও ঝুলে রয়েছে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া, বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ

    Israel Election 2026: ইজরায়েলে এখনও ঝুলে রয়েছে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া, বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েলের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরেও সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। কোনও রাজনৈতিক শিবিরই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরব দলগুলির ভূমিকা। এরই মধ্যে নির্বাচনে (Israel Election 2026) বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ইজরায়েলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি তথা কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান নোয়াম সোলবার্গ। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ (Netanyahu) নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতকে।

    নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন (Israel Election 2026)

    ইজরায়েলের ১২০ আসনবিশিষ্ট সংসদ নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন শিবির পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন নেতানিয়াহু-বিরোধী শিবিরের ঝুলিতে রয়েছে ৪৮টি আসন। আরব রাজনৈতিক দলগুলি সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ১৯টি আসন। গত নির্বাচনের তুলনায় তাদের আসনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে আরব দলগুলির সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনে বিদেশি অর্থের প্রভাব খাটানোর অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। হিব্রু সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আরব ভোটারদের প্রভাবিত করতে কাতার বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠিয়ে থাকতে পারে। অভিযোগ, আরব সম্প্রদায়ের ভোটারদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলির পক্ষে ভোটদানের পরিবেশ তৈরি করতেই এই অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রমাণিত হয়নি।

    গত ২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের দলের অবস্থান তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তাঁর দল লিকুদ এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে উল্লেখ করেছে। নেতানিয়াহুর বক্তব্য, বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ এবং অর্থের বিনিময়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ ইজরায়েলের নির্বাচনী ব্যবস্থার উপর বড়সড় আঘাত। তাঁর দাবি, এই ঘটনার ফলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিপদের মুখে পড়তে পারে।

    লিকুদের অভিযোগ

    লিকুদের তরফে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিদেশি শক্তির উদ্দেশ্য হল ইজরায়েলের সংসদে প্রভাব বিস্তার করা, দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা এবং দক্ষিণপন্থী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা। দলের বক্তব্য, এমন পরিস্থিতিতে কোনও জায়নবাদী রাজনৈতিক দলেরই রা’আম বা জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে সহযোগিতায় যাওয়া উচিত নয়। অর্থের বিনিময়ে রাজনৈতিক সমর্থন আদায় করে সংসদের নেতৃত্ব পরিবর্তন কিংবা নতুন সরকার গঠনের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছে (Israel Election 2026) দলটি।

    এদিকে, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গ। বুধবার শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনিকে পাঠানো একটি চিঠিতে তিনি জানান, বিদেশি শক্তির অর্থায়নের মাধ্যমে ইজরায়েলের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের গুরুতর সন্দেহ তাঁর নজরে এসেছে। যদিও অভিযোগগুলির সত্যতা সম্পর্কে তিনি নিজে নিশ্চিত নন, তবুও বিদেশি শক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

    চিঠিতে শিন বেত প্রধানকে সমস্ত প্রয়োজনীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে অভিযোগের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রমাণ সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন সোলবার্গ। তাঁর মতে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখতে তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্তের ফল জমা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

    ইজরায়েলের এক নিরাপত্তা আধিকারিক জানিয়েছেন, গত দু’সপ্তাহের মধ্যে নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমরা বুঝতে পারছি, বিষয়টির মধ্যে কিছু সমস্যাজনক দিক রয়েছে। তাই সমস্ত তথ্য সামনে আনার জন্য গুরুত্ব সহকারে তদন্ত চালানো হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।”

    অভিযোগের বিরোধিতা

    তবে এই অভিযোগের বিরোধিতা করেছে ইজরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রশাসনিক প্রধান ডিন লিভনে। তিনি নির্বাচনে ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ভোট চুরির যে অভিযোগ উঠেছে, তার পক্ষে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই। শিন বেতের তরফেও জানানো হয়েছে, বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে তদন্তের পরিধি সীমিত এবং এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগই প্রমাণিত হয়নি। একই সঙ্গে কাতারের বিদেশ মন্ত্রকও তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করেছে।

    এদিকে, হিব্রু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তা সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির একাধিক সূত্রের দাবি, আরব সংগঠনগুলির মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে বিপুল অর্থ পাঠানোর চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে। সংবাদমাধ্যমের একাংশের দাবি, এই অর্থ স্থানান্তরের জন্য যে আর্থিক মাধ্যমগুলি ব্যবহার করা হয়েছে, অতীতে সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগানের ক্ষেত্রেও সেগুলির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ মাধ্যম ব্যবহারের নজির রয়েছে।

    সব মিলিয়ে, ইজরায়েলের নির্বাচনের (Israel Election 2026) পর সরকার গঠনের অনিশ্চয়তার পাশাপাশি বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাতারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কিংবা নির্বাচনে অনিয়মের দাবিকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার (Netanyahu) অবকাশ নেই। তদন্তের ফল এবং রাজনৈতিক দলগুলির পরবর্তী অবস্থানই এখন ইজরায়েলের ভবিষ্যৎ সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই দাবি ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • Israel Election 2026: ‘ইজরায়েলের নির্বাচন চুরি করেছে বিদেশি শক্তি’, বিস্ফোরক নেতানিয়াহু! ভোটে কারচুপি ও বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ

    Israel Election 2026: ‘ইজরায়েলের নির্বাচন চুরি করেছে বিদেশি শক্তি’, বিস্ফোরক নেতানিয়াহু! ভোটে কারচুপি ও বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ইজরায়েলের নির্বাচন চুরি করেছে বিদেশি শক্তি’, বিস্ফোরক অভিযোগ নেতানিয়াহুর! ভোটে কারচুপি ও ঘুষের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশ দিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি। কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে কাতারকে। ইজরায়েলের নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে ক্রমশ জটিল হচ্ছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। কোনও রাজনৈতিক দলই এককভাবে সরকার গড়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। নির্বাচনের ফল অনুযায়ী,  প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন শিবির ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরের ঝুলিতে রয়েছে ৪৮টি আসন। আর আরব দলগুলি পেয়েছে ১৯টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে এখনও ৮টি আসন দূরে রয়েছে নেতানিয়াহুর শিবির। ইজরায়েলের সংসদ নেসেটে মোট ১২০টি আসন রয়েছে। সেখানে সরকার গঠন করতে প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। ফলে কোনও শিবিরই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।

    শিন বেটকে তদন্তের নির্দেশ

    এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ, ভোটারদের ঘুষ দেওয়া এবং ভোটে কারচুপির অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইজরায়েলের রাজনীতি। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি তথা সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটির (CEC) চেয়ারম্যান নোয়াম সোলবার্গ নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের ‘গুরুতর সন্দেহ’ খতিয়ে দেখার জন্য ইজরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেটকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। হিব্রু সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আরব ভোটারদের প্রভাবিত করতে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছিল কাতার। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির অভিযোগ, আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলি ভোটে কারচুপি এবং ভোটারদের ভয় দেখিয়ে নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে প্রভাবিত করেছে।

    ইজরায়েলের গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত

    গত ২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, সমাজমাধ্যমে দলের বক্তব্য তুলে ধরে নেতানিয়াহু লেখেন, “রামগেট কাণ্ড একটি ভূমিকম্পের সমান। ইজরায়েলের নির্বাচন চুরি করা হয়েছে। আরব দলগুলির পক্ষে ভোটারদের প্রভাবিত করতে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ ও ঘুষ দেওয়ার বিষয়ে বিচারপতি সোলবার্গের মন্তব্য নজিরবিহীন ধাক্কা।” লিকুদ পার্টির বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, এটি ইজরায়েলের গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত। এর উদ্দেশ্য বিদেশি শক্তির মাধ্যমে নেসেটে প্রভাব বিস্তার, ইজরায়েলের ইসলামিকরণ এবং দক্ষিণপন্থী শাসনের অবসান ঘটানো। পাশাপাশি, ইরান-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইজরায়েলি সেনাবাহিনীকে (IDF) পিছিয়ে আসতে বাধ্য করার চক্রান্তও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    বিদেশি শক্তি নেসেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টায়

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বিদেশি শক্তি নেসেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ সামনে আসার পর কোনও জায়নবাদী দলেরই রা’আম বা জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে হাত মেলানো উচিত নয়। নগদ অর্থের বিনিময়ে ভোট কিনে নেসেটের স্পিকার পরিবর্তন কিংবা ইজরায়েলের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক সরকার গঠনের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছে লিকুদ পার্টি। এই ঘটনায় অবিলম্বে শিন বেট ও পুলিশকে পূর্ণ ক্ষমতা প্রয়োগ করে তদন্তের দাবি জানিয়েছে তারা। বুধবার শিন বেটের প্রধান ডেভিড জিনিকে চিঠি দিয়ে বিচারপতি সোলবার্গ জানান, বিদেশি শক্তির অর্থায়নের মাধ্যমে ইজরায়েলের স্বার্থবিরোধী নির্বাচনী প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে তাঁর কাছে গুরুতর সন্দেহের তথ্য এসেছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে তিনি নিজে নিশ্চিত নন, তবে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি চিঠিতে শিন বেট প্রধানকে সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ করে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্তের ফলাফল জমা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

    অভিযোগ অস্বীকার করেছে কাতার

    এদিকে, ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যম কান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তদন্তের সঙ্গে যুক্ত এক সূত্র জানিয়েছে, গত দু’সপ্তাহের মধ্যে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। বিষয়টিতে কিছু সমস্যাজনক তথ্য পাওয়া গিয়েছে এবং সমস্ত তথ্য সামনে আনতে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে ওই সূত্র। ‘দ্য টাইমস অফ ইজরায়েল’-এ এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটির ডিরেক্টর জেনারেল ডিন লিভনে। কাতারের বিদেশ মন্ত্রকও তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করেছে। তা সত্ত্বেও ইজরায়েলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

    আরব সংগঠনে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছিল কাতার

    নিরাপত্তা সংস্থা এবং নির্বাচনী কমিশনের একাধিক সূত্রের দাবি, আরব ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করার নামে বিভিন্ন আরব সংগঠনের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠিয়েছিল কাতার। এর মাধ্যমে ভোটের হার ও নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। দাবি করা হয়েছে, ওই সংগঠনগুলির কাছে অর্থ পাঠানোর জন্য যে নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছিল, তার সঙ্গে অতীতে জঙ্গি সংগঠনগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত নেটওয়ার্কের যথেষ্ট মিল রয়েছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। ফলে ইজরায়েলের নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

     

  • Jiu-jitsu to Capt Smit: মাথার সেলাই দেখে চমকে উঠল বিশ্ব! সুস্থ হয়ে উঠলে জিউ-জিৎসু শেখাব, ভারতীয় পাইলটকে ইউএই প্রেসিডেন্টের বিশেষ প্রস্তাব

    Jiu-jitsu to Capt Smit: মাথার সেলাই দেখে চমকে উঠল বিশ্ব! সুস্থ হয়ে উঠলে জিউ-জিৎসু শেখাব, ভারতীয় পাইলটকে ইউএই প্রেসিডেন্টের বিশেষ প্রস্তাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েলগামী বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা রুখে দিয়ে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর (Captain Smit Machchhar)। তাঁর সাহসিকতার স্বীকৃতি দিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE)। তবে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সকলের নজর কাড়ল তাঁর মাথার পিছনে থাকা সেলাইয়ের দীর্ঘ দাগ। পাইলটের ভয়াবহ আঘাতের চিহ্ন দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। সেই সাক্ষাতেই স্মিতকে সুস্থ হয়ে ওঠার পর জিউ-জিৎসু (Jiu-jitsu to Capt Smit) শেখানোর প্রস্তাব দিলেন তিনি।

    জিউ-জিৎসু শেখানোর প্রস্তাব

    বুধবার ইউএই-তে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ভারতীয় পাইলট স্মিত মাচ্ছর এবং ফ্লাইদুবাইয়ের (Fly Dubai Attack) অন্যান্য কর্মীদের সম্মানিত করা হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইজরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে হামলার ঘটনায় ১৭৪ জন যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তাঁরা। সেই সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘ফার্স্ট ক্লাস অর্ডার অফ জায়েদ ২’ সম্মান। অনুষ্ঠানে স্মিতের বাঁ হাত ছিল স্লিংয়ে বাঁধা। মাথার পিছনে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল সেলাইয়ের দীর্ঘ দাগ। তাঁর এই শারীরিক অবস্থা থেকেই হামলার ভয়াবহতা সম্পর্কে প্রথমবার স্পষ্ট ধারণা পেল বিশ্ব। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে স্মিতের সঙ্গে ইউএই-র প্রেসিডেন্টের কথোপকথনের একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। সেখানে প্রেসিডেন্টকে স্মিতের মাথার আঘাতের দাগ ও হাতের স্লিংয়ের দিকে নজর দিতে দেখা যায়। স্মিত কবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন, তা জানতে চান তিনি। উত্তরে ভারতীয় পাইলট জানান, সুস্থ হতে সম্ভবত আরও দু’মাস সময় লাগতে পারে। এরপরই প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমার একটা পরিকল্পনা আছে। তুমি সুস্থ হয়ে উঠলে আমি তোমার সঙ্গে একটি সেশন করতে চাই। তোমাকে লড়াই করতে শেখাব—একটি জিউ-জিৎসু সেশন।” প্রেসিডেন্টের এই প্রস্তাবে হেসে ফেলেন স্মিত। তিনি বলেন, “এটা আমার কাছে সবচেয়ে বড় সম্মান।” এরপর দু’জনকে হাসিমুখে আলিঙ্গন করতেও দেখা যায়।

    মাথায় কুড়ুলের আঘাত, তবুও হাল ছাড়েননি স্মিত

    ঘটনাটি ঘটে যখন বিমানটি ইজরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশ করতে চলেছিল। অভিযোগ, সেই সময় ৩৮ বছর বয়সি স্মিত মাচ্ছরের উপর পিছন থেকে ক্র্যাশ অ্যাক্স বা ভারী কুড়ুল দিয়ে হামলা চালান তাঁর ওমানি সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি। বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তেল আভিভের একটি বহুতলে বিমানটি আছড়ে ফেলার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়া সত্ত্বেও স্মিত দমে যাননি। প্রচণ্ড যন্ত্রণা ও দ্রুত রক্তক্ষরণের মধ্যেও তিনি ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। এরপর বিমানকর্মী ও যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে কাবু করেন। এই তীব্র বিশৃঙ্খলার মধ্যে মাত্র দু’মিনিটে বিমানটি প্রায় ১৭ হাজার ফুট নীচে নেমে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিমানে থাকা দুই অফ-ডিউটি পাইলটের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    ভেঙে গিয়েছিল মাথার খুলি

    এই হামলায় স্মিতের মাথার খুলি ভেঙে যায়। তাঁর বাঁ হাতেও গুরুতর আঘাত লাগে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর ‘ডিপ্রেসড স্কাল ফ্র্যাকচার’ হয়েছিল। এই ধরনের আঘাতে খুলির ভাঙা হাড়ের একটি অংশ ভিতরের দিকে মস্তিষ্কের দিকে ঢুকে যায়। সৌদি আরবে জরুরি চিকিৎসার সময় চিকিৎসকেরা তাঁর খুলির পুনর্গঠন করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ইউএই-তে নিয়ে যাওয়া হয়। মাথা ও হাতের পাশাপাশি তাঁর হাত-পা, বুক এবং পেটের উপরিভাগেও আঘাতের চিহ্ন ছিল। স্মিত মাচ্ছরের মাথার আঘাতের একটি ক্লোজ-আপ ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন ব্রিটেনের অতি-ডানপন্থী নেতা টমি রবিনসন। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, সব নায়ক কেপ পরে থাকেন না, কেউ কেউ যুদ্ধের ক্ষতচিহ্ন বহন করেন। ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরকে নায়ক হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেন তিনি।

    জিউ-জিৎসু কী

    জিউ-জিৎসু একটি মার্শাল আর্ট বা আত্মরক্ষার কৌশল। ইউএই-তে, বিশেষত আবু ধাবিতে, এই খেলার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। দেশটি আন্তর্জাতিক স্তরেও জিউ-জিৎসুর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ইউএই-র এই সম্মান স্মিতের প্রাপ্ত স্বীকৃতির তালিকায় আরও একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন। গুজরাট সরকার তাঁকে ‘বিশিষ্ট গুজরাট গরিমা’ সম্মানে ভূষিত করেছে। অন্যদিকে, ইজরায়েল সরকারও তাঁকে বেসামরিক সাহসিকতার জন্য প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। গত সপ্তাহে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরকে ইজরায়েলের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মশাল প্রজ্বলনের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মাথায় গুরুতর আঘাত, শরীরে অসংখ্য ক্ষত—সবকিছুকে উপেক্ষা করে ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন রক্ষায় স্মিতের ভূমিকা আজ আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসিত। তাঁর সাহসিকতার কাহিনি আরও একবার প্রমাণ করল, বিপদের মুহূর্তে দায়িত্ববোধ ও উপস্থিত বুদ্ধিই হয়ে উঠতে পারে বহু মানুষের জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

  • Spain: স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, মৃত অন্তত ৬৮! পরিবহণমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব কর্মী সংগঠন

    Spain: স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, মৃত অন্তত ৬৮! পরিবহণমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব কর্মী সংগঠন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্পেনে পরপর দু’টি ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় বিপর্যস্ত রেল পরিষেবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বুধবার মধ্য স্পেনের কাস্তিয়া-লা মানচা অঞ্চলে দু’টি ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে (Spain)। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন যাত্রী। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দেশে দ্বিতীয় প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনার পর (Train Crash) পরিবহণমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তের পদত্যাগ দাবি করেছে দেশের শ্রমিক সংগঠন সিএসআইএফ। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দ্রুত, নিরপেক্ষ, কঠোর ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবিও জানিয়েছে তারা। দুর্ঘটনার জেরে রেলপথের নিরাপত্তা, পরিকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং কর্মীদের কাজের পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে তিনদিনের জাতীয় শোক পালনের কথা ঘোষণা করেছে স্পেন সরকার। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।

    দায় এড়ানোর চেষ্টা, অভিযোগ শ্রমিক সংগঠনের

    সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সিএসআইএফ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার দায় স্বীকার করার পরিবর্তে পরিবহণমন্ত্রী রেলকর্মীদের উপর দায়িত্ব চাপানোর চেষ্টা করছেন। রেল পরিকাঠামোর দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থা আদিফের ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ বিভাগের এক কর্মীকে সম্ভাব্য বলির পাঁঠা হিসেবে তুলে ধরা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে দোষী বিবেচনা না করার এবং নির্দোষ বলে গণ্য হওয়ার আইনি অধিকার বজায় রাখার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে তারা। পাশাপাশি, গত সেপ্টেম্বরেই আদিফের কর্মীদের অতিরিক্ত কাজের সময় নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে সিএসআইএফ। সংগঠনটির বক্তব্য, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে রেল পরিকাঠামোর উন্নয়ন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পুরনো ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য আরও অর্থ বরাদ্দ করা প্রয়োজন। তবে পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি পরিবহণমন্ত্রী পুয়েন্তে।

    কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?

    বুধবার কাস্তিয়া-লা মানচা অঞ্চলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সরকারি রেল সংস্থা রেনফের একটি ট্রেন গিয়ে ধাক্কা মারে বেসরকারি সংস্থা ইরিওর একটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের পিছনে। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে তল্লাশি চালান উদ্ধারকারীরা। হতাহতের সংখ্যা এবং দুর্ঘটনার ভয়াবহতার কারণে ঘটনাটিকে ২০১৩ সালের পর ইউরোপের অন্যতম প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিবহণমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রায় ৬৯ কিলোমিটার রেলপথে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরে নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকে ফের ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী পরিস্থিতিকে ‘ব্যাখ্যাতীত’ বলে উল্লেখ করেছেন। এরপর রেনফের ট্রেনটি প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে দাঁড়িয়ে থাকা ইরিওর ট্রেনটির সঙ্গে ধাক্কা খায়। নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ঠিক কী ধরনের ত্রুটি হয়েছিল এবং কেন ফের ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তদন্তে সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হবে বলে মনে করা হচ্ছে (Spain)।

    পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস সানচেজের

    প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হবে এবং তদন্তে কোনও গাফিলতি বা ব্যবস্থাগত ত্রুটি ধরা পড়লে তা সংশোধনের পদক্ষেপ করবে সরকার। মাদ্রিদের দক্ষিণে দুর্ঘটনাস্থলের কাছে এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। উদ্ধারকারী দল ও জরুরি পরিষেবার কর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। চলতি বছরে স্পেনে ঘটে যাওয়া দু’টি প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনার কারণ পরস্পরের থেকে আলাদা বলেই প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সানচেজ। তবে দেশের দ্রুতগতির রেল পরিষেবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও মজবুত করা এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্বীকার করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দ্রুতগতির রেল পরিষেবার উপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে যদি নিরাপত্তা আরও জোরদার করার প্রয়োজন হয়, আমরা তা করব। এক বছরে এই ধরনের দু’টি দুর্ঘটনা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” এদিকে, আগামী মাসে নির্ধারিত নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার চালাচ্ছিল বিরোধী দল পিপলস পার্টি। দুর্ঘটনার শোকের আবহে বৃহস্পতিবারের জন্য নির্ধারিত প্রচার কর্মসূচি বাতিল করেছে দলটি।

    দ্বিতীয় প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা

    স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে গত জানুয়ারিতে ঘটে যাওয়া আর একটি রেল দুর্ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। সেই ঘটনায় ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তার কয়েক মাসের মধ্যেই ফের এত বড় দুর্ঘটনা ঘটায় দেশের রেল নিরাপত্তা এবং দ্রুতগতির রেলপথের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সিএসআইএফের দাবি, রেল ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের পাশাপাশি কর্মীদের কাজের পরিবেশ উন্নত করা এবং নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। সরকারের বক্তব্য, জানুয়ারির দুর্ঘটনার তদন্ত থেকে আলাদাভাবে সাম্প্রতিক ঘটনার অনুসন্ধান করা হবে। তদন্তে যে সমস্ত ত্রুটি সামনে আসবে, সেগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    ভারতীয় নাগরিকদের জন্য জরুরি যোগাযোগ নম্বর জারি

    স্পেনে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, গত ২৮ অক্টোবর তোলেদোর উর্দা এলাকার কাছে দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রেনগুলিতে কোনও ভারতীয় নাগরিক যাত্রা করে থাকলে, তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দূতাবাসের যোগাযোগ করা উচিত (Spain)। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে দূতাবাস দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিক ও তাঁদের পরিবারের জন্য জরুরি যোগাযোগের তথ্য (Train Crash) জানিয়েছে। প্রয়োজনে ভারতীয় নাগরিকেরা দূতাবাসের সঙ্গে +34650339008 নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। এ ছাড়া cons.madrid@mea.gov.in-এ ইমেল পাঠিয়েও সাহায্য চাওয়া যাবে। দুর্ঘটনায় কোনও ভারতীয় নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে দ্রুত দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার আবেদনও জানিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস।

     

  • Muhammad Yunus: হাসিনার পতনের দু’দিন আগেই ইউনুসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল!

    Muhammad Yunus: হাসিনার পতনের দু’দিন আগেই ইউনুসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের দু’দিন আগেই নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসকে (Muhammad Yunus) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বুধবার, ২৮ অক্টোবর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে তিনি এই দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, হাসিনা সরকারের পতন (Hasina Ouster) এবং ইউনুসকে ক্ষমতার শীর্ষে নিয়ে আসার পরিকল্পনা অত্যন্ত গোপনে তৈরি হয়েছিল।

    শফিকুলের দাবি, হাসিনার বিদায়ের পর অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ইউনুসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বাংলাদেশের সাংবাদিক কাদারুদ্দিন শিশির। ছাত্রনেতাদের হয়ে ইউনুসকে এই দায়িত্ব গ্রহণের আমন্ত্রণ জানানোর জন্যই শিশিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে তাঁর বক্তব্য।

    আলমের কথায়, “হাসিনা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের কাছে পৌঁছতে ছাত্রনেতাদের একজন বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন ছিল। কাদারুদ্দিন শিশির সেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।” তাঁর আরও দাবি, গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে পরিচালনা করা হয়েছিল এবং হাতে গোনা কয়েকজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি ছাড়া কেউই এই পরিকল্পনার কথা জানতেন না।

    আলমের বিস্ফোরক দাবি (Muhammad Yunus)

    আলমের বক্তব্য, ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী ইউনুসের সঙ্গে ছাত্রনেতাদের প্রাথমিক আলোচনা শুরু করানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন শিশির। হাসিনা দেশ ছাড়ার দু’দিন আগেই এই যোগাযোগ ও আলোচনা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

    আলম আরও বলেন, “হাসিনা তখনও দু’দিন ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু গণহত্যা ও অপহরণের অভিযোগে অভিযুক্ত তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এই পরিকল্পনার কোনও খবরই পায়নি। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে শিশির এবং আমাদের পুরো এএফপি দলকে সম্ভবত আয়নাঘরে বন্দি হতে হত।”

    ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। তার আগে জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের একটি বড় দল প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের দিকে এগিয়ে গেলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী হাসিনাকে জানায়, বিক্ষোভকারীদের আর আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

    এরপর হাসিনা পদত্যাগ করেন এবং ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত দেশ ছাড়েন। প্রথমে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে তাঁদের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় (Muhammad Yunus)। পরে সামরিক পরিবহণ বিমানে তাঁরা বাংলাদেশ ছাড়েন। মানবিক কারণে ভারতে আশ্রয় পান হাসিনা।

    হিন্দু সংগঠনগুলিকে ‘হাসিনার পোষা কুকুর’ বলেছিলেন আলম

    হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসে। বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন এবং সংখ্যালঘু প্রতিনিধিরা একাধিক ঘটনার কথা তুলে ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    তবে আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির উদ্বেগকে গুরুত্ব না দিয়ে তাদের শেখ হাসিনা সরকারের “পোষা কুকুর” বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার অভিযোগ এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে তখনও প্রশ্ন উঠছিল।

    এর পাশাপাশি, আলম দাবি করেছিলেন, শেখ হাসিনার (Muhammad Yunus) শাসনকালের তুলনায় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশে হিন্দুরা বেশি নিরাপদে রয়েছেন। সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁর এই বক্তব্যও বিতর্কের জন্ম (Hasina Ouster) দিয়েছিল।

     

  • Israel Election Results: ইজরায়েলের নির্বাচনে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা, ৫৩ আসন পেয়েও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে নেতানিয়াহু

    Israel Election Results: ইজরায়েলের নির্বাচনে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা, ৫৩ আসন পেয়েও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে নেতানিয়াহু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের প্রাথমিক ফল (Israel Election Results) ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার পথে থাকলেও এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে (Netanyahu) পারেনি। এদিকে, প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরও সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক সংখ্যা ছুঁতে ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির আসনসংখ্যা এবং তাদের অবস্থানই নতুন সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত আংশিক হিসাব অনুযায়ী, ইজরায়েলের ১২০ আসনবিশিষ্ট সংসদে নেতানিয়াহুর জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৫৩। অন্যদিকে, আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। আরব নেতৃত্বাধীন দু’টি দল মিলিয়ে পেতে পারে ১৯টি আসন, যা তাদের সরকার গঠনের আলোচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। ফলে কোনও শিবিরই এখনও পর্যন্ত এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থানে নেই।

    নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশের আগে তাই দু’টি প্রশ্ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নেতানিয়াহু কি আরও একবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন? নাকি আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির সমর্থন নিয়ে বিরোধীরা বিকল্প সরকার গঠনের চেষ্টা করবে? শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোবে ইজরায়েলের রাজনীতি, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের জোট আলোচনা এবং রাজনৈতিক সমঝোতার উপর।

    সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে আট আসন দূরে নেতানিয়াহুর জোট (Israel Election Results)

    প্রাথমিক ফলে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তার দক্ষিণপন্থী ও অতি-রক্ষণশীল ধর্মীয় দলগুলির জোট এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনসংখ্যা থেকে তারা আটটি আসন পিছিয়ে রয়েছে। ফলে বর্তমান জোটের বাইরে অন্য কোনও দলের সমর্থন আদায় করা নেতানিয়াহুর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

    এতদিনের রাজনৈতিক সমীকরণে তাঁর প্রধান সহযোগী ছিল দক্ষিণপন্থী ও অতি-রক্ষণশীল দলগুলি। কিন্তু নির্বাচনের ফল বলছে, এই দলগুলির সম্মিলিত শক্তি দিয়ে সরকার গঠন করা সম্ভব নাও হতে পারে। অন্য দলগুলির সমর্থন পাওয়া অথবা নতুন কোনও রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছনো ছাড়া তাঁর সামনে বিকল্প সীমিত।

    তবে সরকার গঠনের দৌড় থেকে নেতানিয়াহু এখনই ছিটকে গিয়েছেন, এমনটা বলা যায় না। তিনি আরও বিস্তৃত জোট গঠনের চেষ্টা করতে পারেন, বিরোধী শিবিরের কোনও অংশের সঙ্গে সমঝোতার পথ খুঁজতে পারেন অথবা রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলাকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন (Israel Election Results)।

    বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ। নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলি যদি প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নির্বাচন এবং অভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে না পারে, তা হলে তাদের পক্ষে বিকল্প সরকার গঠন কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সেই সুযোগে নেতানিয়াহু নতুন করে সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করতে পারেন।

    আরব দলগুলির সমর্থনে কি বিকল্প সরকার গঠন সম্ভব?

    নির্বাচনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির সম্মিলিত আসনসংখ্যা বৃদ্ধি। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জয়েন্ট লিস্ট পেতে পারে ১২টি আসন এবং রা’আম পেতে পারে সাতটি আসন। সব মিলিয়ে ১৯টি আসন তাদের হাতে থাকায় সরকার গঠনের আলোচনায় এই দলগুলি নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে।

    বিরোধী জোটের ৪৮টি আসনের সঙ্গে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির ১৯টি আসন যোগ হলে মোট আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ৬৭। অর্থাৎ, এই দলগুলি একযোগে সমর্থন দিলে ৬১ আসনের প্রয়োজনীয় সীমা অতিক্রম করা সম্ভব। কিন্তু সংখ্যার এই সমীকরণ বাস্তবে কার্যকর করা সহজ নয়।

    বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা অতীতে আরব দলগুলির সঙ্গে সরাসরি জোট গঠন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। ফলে সরকার গঠনের জন্য তাঁদের আগের অবস্থান থেকে সরে এসে নিরাপত্তা, সরকারি ব্যয়, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং অন্যান্য নীতিগত বিষয়ে সমঝোতা করতে হতে পারে।

    অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান আরব নাগরিক এবং তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে বিরোধী সরকার গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন। জয়েন্ট লিস্টের নেতারাও নেতানিয়াহুর প্রত্যাবর্তন আটকানোর লক্ষ্যে বিকল্প সরকার গঠনে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্পষ্ট (Israel Election Results)।

    তবে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রশ্নে ঐকমত্য থাকলেই যে আরব দলগুলি সরকারে যোগ দেবে, তা নয়। তারা মন্ত্রিসভায় যোগ না দিয়েও সংসদে বিকল্প সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন করতে পারে। এই ধরনের সংখ্যালঘু সরকার গঠিত হলে তাকে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সংসদের সমর্থন বজায় রাখার জন্য রাজনৈতিক সমঝোতার উপর নির্ভর করতে হবে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলি?

    এবারের নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির সম্ভাব্য ১৯টি আসন তাদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এর ফলে একদিকে যেমন নেতানিয়াহুর জোটের সরকার গঠনের হিসাব জটিল হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই আরব দলগুলির সঙ্গে সহযোগিতা করতে অনিচ্ছুক বিরোধী নেতাদের উপরও চাপ বেড়েছে।

    আরব ভোটারদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণও এই ফলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। ভোটদানের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সংসদে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির প্রতিনিধিত্ব বেড়েছে এবং পরবর্তী সরকার গঠনের আলোচনায় তাদের প্রভাব বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    বিরোধীদের কাছে এই দলগুলির সমর্থন সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের একটি বাস্তবসম্মত পথ খুলে দিতে পারে। কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তা, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি এবং আরব রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য সেই সম্ভাবনায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে (Netanyahu)।

    ফলে ইজরায়েলের রাজনীতিতে এখন মূল প্রশ্ন হল, নেতানিয়াহুর বিরোধী দলগুলি কি তাঁকে সরানোর লক্ষ্যে একজোট হতে পারবে, নাকি নিজেদের মতপার্থক্যের কারণে বিকল্প সরকার গঠনের সুযোগ হারাবে (Israel Election Results)?

    কী হবে নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ?

    নতুন সরকার গঠনের পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছেন ইজরায়েলের রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজগ। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর তিনি বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং কাকে প্রথমে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সাংবিধানিক নিয়ম ও নির্ধারিত সময়সীমা মেনে অন্য কোনও নেতাকেও সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

    নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত নেতানিয়াহুর তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা। অর্থাৎ, সরকার গঠন নিয়ে টানাপড়েন চললেও প্রশাসনিক কাজকর্ম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে না। তবে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অচলাবস্থা বজায় থাকলে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

    আলোচনার মাধ্যমে কোনও কার্যকর জোট তৈরি করা সম্ভব না হলে ইজরায়েলে ফের সাধারণ নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

    কোন তিনটি সম্ভাবনা সামনে?

    বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রথমত, নেতানিয়াহু নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করে সরকার গঠন করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির আরব দলগুলির সমর্থনে বিকল্প সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারে। তৃতীয়ত, কোনও পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার পর ফের নির্বাচনের প্রয়োজন হতে পারে (Netanyahu)।

    তবে এই মুহূর্তে কোনও সম্ভাবনাকেই নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না। নির্বাচনে কোন দল সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে, তার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কোন রাজনৈতিক শিবির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন নিশ্চিত করতে পারছে। ইজরায়েলের পরবর্তী সরকার কারা গঠন করবে, তার উত্তর মিলবে আগামী দিনের রাজনৈতিক আলোচনা ও সমঝোতার মধ্যেই (Israel Election Results)।

     

  • Bangladesh: বাংলাদেশে জমি বিবাদের মীমাংসা করতে যাওয়া হিন্দু শিক্ষককে পিটিয়ে খুন

    Bangladesh: বাংলাদেশে জমি বিবাদের মীমাংসা করতে যাওয়া হিন্দু শিক্ষককে পিটিয়ে খুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) দিনাজপুর জেলায় জমি বিবাদের মীমাংসা করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল এক হিন্দু শিক্ষকের। মৃতের নাম মনোরঞ্জন রায় (৫৫)। রবিবার, ২৫ অক্টোবর, প্রতিবেশীদের মধ্যে বিবাদ মেটানোর চেষ্টা করার সময় তাঁকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় (Hindu Teacher) বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনায় আসাদুজ্জামান নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হামলায় জড়িত অন্যদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

    সালিশি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মনোরঞ্জন (Bangladesh)

    জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার রাবেয়া বাজারের সোনাপুকুর নয়াপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। মনোরঞ্জন চিরিরবন্দর উপজেলার পূর্ব সুখদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। এলাকার পরিচিত ও সম্মানীয় ব্যক্তি হিসেবে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে রাস্তা ও জমি সংক্রান্ত বিবাদ মেটানোর জন্য আয়োজিত সালিশি বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি।

    অভিযোগ, বৈঠক চলাকালীন বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং দু’পক্ষকে থামাতে এগিয়ে যান মনোরঞ্জন। সেই সময় আসাদুজ্জামান ও তাঁর সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষকের উপর লাঠি নিয়ে হামলা চালান। মাথা-সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগে তাঁর। মারধরের পর পাশের একটি ধানখেতে পড়ে যান তিনি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

    এই বিবাদের নেপথ্যে অবশ্য একাধিক কারণের কথা উঠে এসেছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আল রোমান নামে এক প্রতিবেশীর সঙ্গে জমি নিয়ে বিবাদ চলছিল আসাদুজ্জামানের। আল রোমানের বাড়িতে নির্মাণকাজ করা ছুতোর ফরতাজ হোসেনের সঙ্গেও পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ হয়েছিল রোমানের।

    প্রয়াত বন্ধুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি

    প্রায় ১৩ বছর আগে আল রোমানের বাবা আজিজুল মাস্টারের মৃত্যু হয়। মনোরঞ্জন ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আজিজুলের মৃত্যুর পর থেকে রোমান ও তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মনোরঞ্জন। পরিবারের অভিভাবকের মতো তাঁদের দেখাশোনা করতেন। রোমান ও তাঁর ভাইবোনদের পড়াশোনা-সহ নানা প্রয়োজনেও সাহায্য করতেন তিনি।

    এদিকে, ফরতাজ হোসেন আজিজুল মাস্টারের বাড়িতে নির্মাণকাজ করছিলেন। সেই কাজের পারিশ্রমিক নিয়ে (Bangladesh) তাঁর সঙ্গে আল রোমানের বিরোধ বাধে। বাড়ির পাশের এক টুকরো জমিতে থাকা কয়েকটি ইউক্যালিপটাস গাছ কাটা নিয়েও রোমানের সঙ্গে আসাদুজ্জামানের বিবাদ চলছিল। রোমানের অভিযোগ ছিল, তাঁর অনুমতি না নিয়েই ওই জমির গাছ কাটা হয়েছে। ফরতাজ গাছগুলি করাতকলে নিয়ে গিয়েছিলেন কাঠ চেরাই করানোর জন্য। পরে কাঠের পরিমাণ এবং তা বিক্রি করে পাওয়া টাকার হিসাব নিয়েও রোমানের সন্দেহ তৈরি হয়।

    রবিবার দুপুরে ফরতাজ হোসেন আসাদুজ্জামান ও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রোমানের বাড়িতে যান। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। গোলমালের খবর পেয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে যান মনোরঞ্জন। অভিযোগ, তখনই ফরতাজ, আসাদুজ্জামান ও তাঁদের সহযোগীরা তাঁর উপর হামলা চালান।

    গ্রেফতার অভিযুক্ত

    আল রোমানই পুলিশকে ঘটনার খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসাদুজ্জামানকে গ্রেফতার করে। হামলায় জড়িত অন্যদের সন্ধান চলছে (Hindu Teacher)।

    দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রয়াত বন্ধুর পরিবারের বিবাদ মেটাতে চিরিরবন্দর থেকে এসেছিলেন ওই শিক্ষক। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় (Bangladesh) তিনি আহত হন এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

     

  • India Pakistan Trade: বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা, তবু ভারত থেকে পণ্য আমদানি বাড়াল পাকিস্তান! কীভাবে পৌঁছচ্ছে ইসলামাবাদে?

    India Pakistan Trade: বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা, তবু ভারত থেকে পণ্য আমদানি বাড়াল পাকিস্তান! কীভাবে পৌঁছচ্ছে ইসলামাবাদে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদ ও বাণিজ্য একসঙ্গে চলতে পারে না—এই অবস্থানেই অনড় ভারত (India Pakistan Trade)। ২০২৫ সালে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য কার্যত বন্ধ। বন্ধ হয়েছে ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত দিয়ে পণ্য পরিবহণও। অথচ বাণিজ্য বন্ধ থাকার পরেও ভারত থেকে পাকিস্তানে পণ্য আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারত থেকে ৫,৮৭৬ কোটি টাকার পণ্য আমদানি (Pak’s India Imports Spike) করেছে পাকিস্তান। গত অর্থবর্ষের একই সময়ে এই আমদানির পরিমাণ ছিল ৩,৪৭৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরে আমদানি বেড়েছে প্রায় ৬৯ শতাংশ। অন্যদিকে, ওই সময়ে পাকিস্তান থেকে ভারতে কোনও পণ্য আমদানি হয়নি বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তৃতীয় দেশের মাধ্যমে আসছে ভারতীয় পণ্য?

    প্রশ্ন উঠছে, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য বন্ধ থাকলে কীভাবে পাকিস্তানে পৌঁছচ্ছে ভারতীয় পণ্য? পাকিস্তানের স্টেট ব্যাঙ্কের পরিসংখ্যানে এই পণ্য পরিবহণের নির্দিষ্ট পথের উল্লেখ নেই। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের অনুমান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সিঙ্গাপুর ও শ্রীলঙ্কার মতো তৃতীয় দেশের মাধ্যমে পাকিস্তানে পৌঁছচ্ছে ভারতীয় পণ্য। ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ রবিন্দর সিং রবিনের মতে, ভারতীয় পণ্যের চাহিদা পাকিস্তানে এখনও যথেষ্ট। সরাসরি বাণিজ্য বন্ধ থাকলে এই পণ্যগুলি কোন পথে পৌঁছচ্ছে এবং নথিতে উৎপত্তির দেশ হিসেবে কোন দেশের নাম উল্লেখ করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    কোন কোন ভারতীয় পণ্যের চাহিদা পাকিস্তানে বেশি?

    ভারত থেকে পাকিস্তানের আমদানি করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ওষুধ ও ওষুধ তৈরির কাঁচামাল, প্লাস্টিক, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, রং, জৈব রাসায়নিক, রবার, কফি, চা, শাকসবজি, মশলা, দুগ্ধজাত পণ্য এবং খাদ্যশস্য। বিশেষ করে ওষুধ ও ওষুধ তৈরির কাঁচামালের ক্ষেত্রে ভারতের উপর পাকিস্তানের নির্ভরতার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানে ভারতের ওষুধ রফতানির পরিমাণ ছিল ২০৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগেও নিষেধাজ্ঞার পর ভারত থেকে পাকিস্তানে পণ্য আমদানির নজির সামনে এসেছে। আরব নিউজের একটি প্রতিবেদনে পাকিস্তানের স্টেট ব্যাঙ্কের তথ্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছিল, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভারত থেকে প্রায় ৩৬.৬ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল পাকিস্তান। সেই আমদানির সিংহভাগই ছিল ওষুধ তৈরির কাঁচামাল।

    কীভাবে কার্যকর হচ্ছে ‘গ্রে-জোন’ কৌশল?

    গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (GTRI)-এর মতে, তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ঘুরপথে পাকিস্তানে ভারতীয় পণ্য রফতানির একটি বড় বাজার রয়েছে। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব এই পদ্ধতিকে ‘গ্রে-জোন স্ট্র্যাটেজি’ বলে উল্লেখ করেছেন। এই পদ্ধতিতে ভারতীয় পণ্য প্রথমে দুবাই, সিঙ্গাপুর বা কলম্বোর মতো বাণিজ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে বন্ডেড ওয়্যারহাউসে পণ্য মজুত রাখা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট পণ্যের নথি ও লেবেল পরিবর্তন করে অন্য দেশের পণ্য হিসেবে পুনরায় রফতানি করা হতে পারে। এর ফলে পণ্যের মূল উৎস আড়াল করে পাকিস্তানে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় বলে বিশেষজ্ঞদের দাবি। জিটিআরআই-এর অনুমান, এই ধরনের অনানুষ্ঠানিক ও ঘুরপথে বাণিজ্যের মাধ্যমে পাকিস্তানে ভারতীয় পণ্যের রফতানি বছরে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছতে পারে। তবে এই অঙ্ক একটি অনুমান, সরকারি ভাবে যাচাই করা সরাসরি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিসংখ্যান নয়।

    কেন বন্ধ হয়েছিল ভারত-পাকিস্তান বাণিজ্য?

    ২০১৯ সালে পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার পর পাকিস্তানকে দেওয়া ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ মর্যাদা প্রত্যাহার করে ভারত। এরপর দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। ২০২৫ সালে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৫ জন পর্যটকের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। এর পর ভারত ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত বন্ধ করে দেয় এবং পাকিস্তানে উৎপত্তি হওয়া বা পাকিস্তান থেকে রফতানি করা পণ্যের সরাসরি কিংবা পরোক্ষ আমদানি ও ট্রানজিটের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ৪ মে পাকিস্তানও তৃতীয় দেশের মাধ্যমে বাণিজ্য-সহ ভারতের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্য বন্ধ করার ঘোষণা করে।

    ক্রমশ কমেছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২.৪১ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ১.২ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। ২০১৯ সালে ভারতে পাকিস্তানের রফতানির পরিমাণ ছিল ৫৪৭.৫ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ সালে কমে মাত্র ৪৮০,০০০ ডলারে দাঁড়ায়। পাকিস্তান থেকে ভারতে রফতানি হওয়া পণ্যের মধ্যে ছিল কাচের সামগ্রী, তামা, গন্ধক, ফল ও বাদামজাতীয় পণ্য। ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ভারত পাকিস্তানে ৪৪৭.৬৫ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছিল। বিপরীতে পাকিস্তান থেকে ভারতে রফতানির পরিমাণ ছিল মাত্র ০.৪২ মিলিয়ন ডলার। সরাসরি বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ভারতীয় পণ্যের চাহিদা যে পাকিস্তানে এখনও রয়েছে, সাম্প্রতিক আমদানির পরিসংখ্যান সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। তবে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে আসা পণ্যগুলির প্রকৃত উৎস, পরিবহণের পথ এবং নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন।

LinkedIn
Share