Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Nigeria: নাইজেরিয়ায় এক সপ্তাহে ৫২ জনেরও বেশি খ্রিস্টান নিহত! বেনুয়ে ও কাদুনায় নতুন করে হিংসায় উদ্বেগ

    Nigeria: নাইজেরিয়ায় এক সপ্তাহে ৫২ জনেরও বেশি খ্রিস্টান নিহত! বেনুয়ে ও কাদুনায় নতুন করে হিংসায় উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নাইজেরিয়ার ( Nigeria Terror) মধ্যাঞ্চলে ফের রক্তক্ষয়ী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা ও বাসিন্দাদের দাবি, গত ২৪ থেকে ২৯ জুলাই-এর মধ্যে বেনুয়ে ও কাদুনা রাজ্যে ধারাবাহিক হামলায় ৫২ জনেরও বেশি খ্রিস্টান নিহত হয়েছেন। স্থানীয়রা এসব হামলার জন্য ফুলানি সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীকে দায়ী করছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা ট্রুথ নাইজেরিয়ার তথ্য অনুযায়ী, শুধু জুলাই মাসেই বেনুয়ে রাজ্যে অন্তত ৬১ জন খ্রিস্টান নিহত হয়েছেন। যদিও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সেনা ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনী একাধিক ক্ষেত্রে হামলা প্রতিরোধ বা দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

    ধর্মীয় ও জাতিগত উত্তেজনা

    ধর্মীয় ও জাতিগত উত্তেজনায় বিগত কয়েক বছর ধরেই জর্জরিত আফ্রিকার অন্যতম এই দরিদ্র দেশটি। যে অঞ্চলগুলিতে হামলা চালিয়েছে জঙ্গি গোষ্ঠী, সেখানে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় পাশাপাশি বসাবস করেন বলেই জানা গিয়েছে। স্থানীয় মুসলিম পশুপালক ফুলানি গোষ্ঠী এবং খ্রিস্টান কৃষক সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে বিবাদ। সূত্রের খবর, শরিয়তি আইন স্থাপনের জন্য খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর উপরে ভয়ানক হামলা চালানো হচ্ছে। গ্রামের পর গ্রাম মানুষজনের বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে গ্রামবাসীদের। সন্ত্রাসের রেশ এখনও রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, ঘরবাড়ি জ্বালানোর পাশাপাশি নির্বিচারে চলেছে গুলি।

    ওতুকপোতে ভোরের হামলায় বহু নিহত

    সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা ঘটে ২৮ জুলাই ভোরে বেনুয়ে রাজ্যের ওতুকপো কাউন্টির এফেই-উতিকপি গ্রামে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৫০ জন সশস্ত্র হামলাকারী ২৫টিরও বেশি মোটরসাইকেলে করে গ্রামে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায়। হামলার সময় তারা ধর্মীয় স্লোগান দিচ্ছিল বলেও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ওচে আদাহ জানান, হামলায় অন্তত ১৪ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রায় ৩০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরদিন এমিচি ও নওয়াবা ওজু এলাকাতেও হামলা চালিয়ে আরও তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এর আগে ২৭ জুলাই ইপোম গ্রামেও একজন নিহত হন। গত দুই সপ্তাহে একই অঞ্চলে আরও অন্তত ১৬ জন খ্রিস্টান নিহত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

    নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    বেনুয়ে রাজ্যের আইনসভার সদস্য মাইকেল অডু বলেন, “এই ধরনের হামলা আমাদের এলাকায় বারবার ঘটছে। মানুষ প্রতিনিয়ত স্বজন হারাচ্ছে এবং আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে।” ওতুকপো কাউন্টির চেয়ারম্যান ম্যাক্সওয়েল ওগিরি অভিযোগ করেন, এলাকায় সেনা, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও হামলা ঠেকানো যায়নি। তাঁর দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই হামলার আগাম তথ্য থাকার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    কৃষক ও গ্রামবাসীরাও হামলার শিকার

    কোয়ান্ডে কাউন্টির আবাজি এলাকায় ২৭ জুলাই খামারে কাজ করার সময় তেরেহেম্বা নামে এক খ্রিস্টান নারী নিহত হন বলে অভিযোগ। তাঁর সঙ্গে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী ইগবা তের্না জানান, তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। অন্যদিকে ওহিমিনি কাউন্টির আগাদাগবা ও ওচোবো এলাকায় ২৪ ও ২৫ জুলাই দুই দফা হামলায় একজন পথচারী ও দুজন স্থানীয় প্রতিরক্ষা স্বেচ্ছাসেবক নিহত হন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, হামলার পরও প্রায় ৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

    কাদুনায় রাতের হামলায় ৩০ জন নিহতের দাবি

    একই সময়ে কাদুনা রাজ্যের কৌরু এলাকায় ২৬ জুলাই রাতে আরেকটি বড় হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নারিডন গ্রামের ওপর হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে আটজন শিশু রয়েছে। আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন এবং বহু বাড়িঘর ধ্বংস হয়। গ্রামের প্রধানের সচিব ডোগন রানা জানান, এক পরিবারে এক রাতেই পাঁচ শিশু নিহত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নিকটবর্তী নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলের খুব কাছে অবস্থান করলেও দীর্ঘ সময় হামলা চলার পরও কার্যকর হস্তক্ষেপ করেনি।

    প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

    কাদুনা রাজ্যের গভর্নর উবা সানি হামলার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন এবং পার্শ্ববর্তী প্লেটো রাজ্যের প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেনুয়ে, কাদুনা, প্লেটো ও তারাবা রাজ্যে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ইঙ্গিত রয়েছে। তবে হামলাগুলোর উদ্দেশ্য, দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এবং হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি। সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক ও নিরাপত্তাজনিত সংকটকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

    নাইজেরিয়া জুড়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব

    ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, প্রায় দুই দশক ধরে নাইজেরিয়া জুড়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব চালাচ্ছে মূলত দু’টি জঙ্গি গোষ্ঠী। একটি হলো বোকো হারাম। নাইজেরিয়ায় ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অপহরণ, হামলা, আত্মঘাতী বিস্ফোরণের মতো ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে তারা। আর একটি সংগঠন হলো ইসলামিক স্টেট অফ ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স। এরা এক সময়ে বোকো হারামেরই অংশ ছিল। ২০১৬ সালে আলাদা হয়ে যায়। এদেরও ইসলামিক শাসন কায়েম করাই লক্ষ্য। তবে ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স সাধারণ মানুষের বদলে সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপরেই বেশি হামলা চালায়।

  • POJK Protests: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভোট ঘিরে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, রেশ পৌঁছল ইসলামাবাদেও

    POJK Protests: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভোট ঘিরে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, রেশ পৌঁছল ইসলামাবাদেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের (POJK Protests) নীলম উপত্যকার আথমুকাম তহশিলে বিক্ষোভকারীদের উপর পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিচালনায় এক বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। রাজা এহসান নামে ওই ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা অঞ্চলে। ব্যাপক হিংসা, কম ভোট পড়া এবং ভোটে কারচুপির অভিযোগের মধ্যেই শেষ হয়েছে পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের তথাকথিত বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা (News Portals Banned)। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আথমুকাম তহশিলে বিক্ষোভকারীদের উপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিচালনার সময় এহসানের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ভোটপর্ব চলাকালীন ওই এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

    নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি (POJK Protests)

    রবিবার শেষ হওয়া দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি, তীব্র অশান্তি এবং ভোটারদের কম অংশগ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। মোট ২১টি আসনে ভোটগ্রহণের কথা ছিল। এর মধ্যে মুজফফরাবাদ বিভাগের ৯টি আসনের পাশাপাশি ছিল ১২টি উদ্বাস্তু আসনও। এই উদ্বাস্তু আসনের মানদণ্ডের বিরুদ্ধে ভোটের দিনও তীব্র বিক্ষোভ চলে। অভিযোগ, এর মাধ্যমে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতির কারণে একাধিক এলাকা কার্যত উত্তেজনার মধ্যেই ছিল। পরিস্থিতির বিস্তার এতটাই বেড়েছে যে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের অশান্তির আঁচ এখন গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতেও পৌঁছে গিয়েছে। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডিতেও।

    একাধিক কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ব্যাহত

    ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে নতুন করে বিক্ষোভের আবহেই নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। স্থানীয় প্রতিরোধের তীব্রতা স্পষ্ট হয়েছে একাধিক নির্বাচনী এলাকায়। রাস্তা অবরোধ এবং ব্যাপক বিক্ষোভের কারণে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ব্যাহত হয়। সূত্রের খবর, এলএ-২৭ কোটলিতে বিক্ষোভকারীরা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অবরোধ করায় নির্বাচনী কর্মী ও ভোটগ্রহণ সামগ্রী কেন্দ্রে পৌঁছতে পারেনি। ফলে ওই আসনে ভোটগ্রহণ পুরোপুরি স্থগিত করতে বাধ্য হয় প্রশাসন। একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয় এলএ-২৮ মুজফফরাবাদ-২ অর্থাৎ লেচরাট এলাকায়। সেখানে ৭১টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী আধিকারিক ও ভোটগ্রহণের সামগ্রী পৌঁছতে পারেনি। অন্যান্য কয়েকটি নির্বাচনী এলাকায়ও কর্মীরা ভোটকেন্দ্রে পৌঁছতে ব্যর্থ হন বলে খবর। এর ফলে ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী গোষ্ঠী এবং বিক্ষোভকারী বিভিন্ন সংগঠন নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

    দিনভর বিক্ষোভ, দীর্ঘ মিছিলের ডাক

    এদিকে পাক সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় দিনভর বিক্ষোভ চলেছে। ডি-চকে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান-বিক্ষোভ করেন। মুজফফরাবাদের দিকে বিরাট মিছিল করার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। রাওয়ালাকোট থেকেও বিক্ষোভ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর বিক্ষিপ্ত গুলিচালনার খবর মিলেছে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিক্ষোভস্থল ড্রেক ইদগাহে প্রায় ৫০ দিন ধরে অবস্থান চলছে। সেখানেও আন্দোলনকারীরা নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছেন। নারী ও শিশুরাও বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চলবে। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে কয়েক মাস ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা। ফলে ভোটের দিনও সেই অশান্তির প্রভাব স্পষ্ট ছিল (POJK Protests)।

    ভারতের অবস্থান

    এই অস্থিরতার মধ্যেই ভারত ফের জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের সমগ্র কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ। ভারতের বক্তব্য, ওই অঞ্চলগুলির যে অংশ বর্তমানে পাকিস্তানের “অবৈধ ও জোরপূর্বক দখলে” রয়েছে, সেটিও ভারতেরই অংশ। ২৮ জুলাই নয়াদিল্লি ওই অঞ্চলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে পাকিস্তানের অবৈধ দখল আড়াল করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে চলা “গুরুতর” মানবাধিকার লঙ্ঘন আড়াল করারও চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে ভারত।

    ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে ছড়াল বিক্ষোভ

    ২ আগস্ট, রবিবার বিকেল ৫টা থেকে রাওয়ালপিন্ডি প্রেস ক্লাবের বাইরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল পড়ুয়ারা। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের পড়ুয়াদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হন। পুলিশ সেখানে ব্যাপক ধরপাকড় চালায় বলে অভিযোগ। বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জও করা হয় এবং বহু মানুষকে আটক করা হয়। তবে ওই ঘটনায় গুলিচালনার কোনও খবর পাওয়া যায়নি। করাচি, ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডিতেও বড় জমায়েতের খবর এসেছে। বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানান। সূত্রের খবর, বিক্ষোভ চলাকালীন বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী ও ছাত্রনেতাকে আটক করে পুলিশ।

    ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা

    পাকিস্তানে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের উপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার অভিযোগ উঠেছে। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের বর্তমান অশান্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ এবং প্রতিবেদন সম্প্রচারের পর দেশটির বিভিন্ন সংবাদ ওয়েবসাইটে অ্যাক্সেস রেস্ট্রিকটেড করা বলে জানা গিয়েছে (News Portals Banned)। স্থানীয় ও আঞ্চলিক ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটগুলিকে আটকে দেওয়ার পাশাপাশি দেশের কিছু অংশে আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যমের পরিষেবায়ও অ্যাক্সেস বন্ধ করা হয়েছে বলে খবর (POJK Protests)। সাম্প্রতিক বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষের বাড়তে থাকা ক্ষোভ নিয়ে যে সংবাদমাধ্যমগুলি প্রতিবেদন প্রকাশ করছে, মূলত তাদের উপরই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। পাকিস্তানের প্রধান বিরোধী দল, তার নেতা তথা জেলে থাকা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং সরকারের সমালোচক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে খবর। এদিকে ২৭ জন কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে ইউটিউব জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ মেনে না চললে তাঁদের চ্যানেল সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

    নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি মুজফফরাবাদে চলা হিংসা নিয়ে জরুরি তথ্য প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের এক নিরস্ত্র সাধারণ নাগরিককে রাস্তায় টেনে নিয়ে গিয়ে মারধর করতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।কমিটির দাবি, সাধারণ পোশাকে থাকা এক ব্যক্তিও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভকারীদের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র চালাচ্ছিলেন। পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিষদের ২ অগাস্ট পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সেখানে মোট ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ জুলাইয়ের আগে ৩৩ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু এবং ২৭ জুলাইয়ের পর রাওয়ালাকোট, মিরপুর ও মুজফফরাবাদে আরও ৪৩ জনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির। এই পরিস্থিতিতে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি রাষ্ট্রসংঘ, রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দফতর, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছে। সংগঠনের দাবি, প্রকাশিত ভিডিওগুলি খতিয়ে দেখে ঘটনার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হোক এবং অবিলম্বে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা করা হোক। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির কাছেও পরিস্থিতির অবনতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণের আবেদন জানানো (News Portals Banned) হয়েছে। আহত ব্যক্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও সহায়তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি (POJK Protests)।

     

  • Glasgow Restaurant: ভারতের ভুল মানচিত্র! লভলিনার আপত্তির পর ক্ষমা চাইল রেস্তরাঁ, মোছা হল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও

    Glasgow Restaurant: ভারতের ভুল মানচিত্র! লভলিনার আপত্তির পর ক্ষমা চাইল রেস্তরাঁ, মোছা হল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্লাসগোর একটি ভারতীয় রেস্তরাঁয় ভারতের মানচিত্রে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি বাদ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় বক্সার লভলিনা বরগোহাঁই বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরার পর রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ (Glasgow Restaurant) ক্ষমা চেয়ে মানচিত্র-সহ প্রতীক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমা চাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই রেস্তরাঁটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যায়। ফলে সেটি বন্ধ করা হয়েছে (Incomplete India Map), নাকি সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    ভারতীয় বক্সিং দলের গ্লাসগো সফর (Glasgow Restaurant)

    ঘটনার সূত্রপাত ভারতীয় বক্সিং দলের গ্লাসগো সফরকে ঘিরে। ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে দুর্দান্ত সাফল্যের পর ভারতীয় বক্সিং দল মোট ১০টি পদক—সাতটি সোনা ও তিনটি রুপো—জিতে দেশে গৌরব এনে দেয়। সেই সাফল্য উদ্‌যাপন করতেই দলের সদস্যরা গ্লাসগোর ‘মিস্টার সিংস ইন্ডিয়া, দ্য হোম অব কারি’ রেস্তরাঁয় গিয়েছিলেন। উৎসবের সেই আয়োজনই পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানের একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার পর দেখা যায়, লভলিনা রেস্তরাঁর ছাপানো একটি ন্যাপকিন হাতে নিয়ে তাতে থাকা ভারতের মানচিত্রের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।

    লভলিনার অভিযোগ

    তাঁর অভিযোগ, মানচিত্রে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। লভলিনা বলেন, “দয়া করে বিষয়টি অন্যভাবে নেবেন না। এতে আমি কিছুটা কষ্ট পেয়েছি। ভারতের মানচিত্রে আমাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চল নেই। হ্যাঁ, বাইরেও যে মানচিত্রটি প্রদর্শিত হয়েছে, সেখানেও উত্তর-পূর্বাঞ্চল বাদ দেওয়া হয়েছে। উত্তর-পূর্বের একজন মানুষ হিসেবে বিষয়টি আমাদের সত্যিই কষ্ট দেয়। আমি শুধু এটুকুই বলতে চেয়েছিলাম। পরের বার দয়া করে বিষয়টি মনে রাখবেন। আপনাদের অনেক ধন্যবাদ।” অসমের এই বক্সারের বক্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ভারতের মানচিত্রে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বাদ দেওয়া বা উপেক্ষা করার প্রবণতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যে অভিযোগ রয়েছে, লভলিনার বক্তব্য সেই বিতর্ককে ফের সামনে নিয়ে আসে (Glasgow Restaurant)।

    প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের

    সমালোচনার পর দ্রুত বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা চান রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৩২ বছর ধরে ভারতীয় সংস্কৃতি ও খাবারের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে তাঁরা ভুলের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, “সবার আগে আমরা ভারতের ভুল মানচিত্র প্রদর্শনের জন্য নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাইছি। এটি সংশোধনের জন্য আমরা অবিলম্বে পদক্ষেপ করব। আবারও আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। আমরা কাউকে আঘাত করতে চাইনি। বরং ভারতীয় দলের জন্য গর্বের সঙ্গে পরিষেবা দিতে চেয়েছিলাম।” ভারতীয় দলের সাফল্যের কথাও উল্লেখ করে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ জানান, বিজয়ী ক্রীড়াবিদদের আতিথেয়তা করতে পেরে তাঁরা গর্বিত। বিবৃতিতে বলা হয়, “সঠিক মানচিত্র-সহ প্রতীক পরিবর্তন করা হবে। কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় দলের অসাধারণ সাফল্যের পর তাঁদের পরিষেবা দিতে পারা আমাদের কাছে অত্যন্ত সম্মান ও সৌভাগ্যের বিষয়। সমস্ত ক্রীড়াবিদ এবং অতিথিরা তাঁদের সন্ধ্যাটি উপভোগ করেছেন। এই স্মৃতি আমাদের কাছে ভারতের সঙ্গে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।”

    অদৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট

    ক্ষমা চাওয়ার পরেই ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা। রেস্তরাঁটির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনলাইনে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, অ্যাকাউন্টটি কি কর্তৃপক্ষ নিজেই নিষ্ক্রিয় করেছেন, নাকি সম্পূর্ণ মুছে (Incomplete India Map) দিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত অ্যাকাউন্টটি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে তাঁরা আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় হবেন কি না, তাও এখনও স্পষ্ট নয় (Glasgow Restaurant)।

     

  • Indian Embassy Open House: চিনে ভারতবিদ্বেষী পোস্ট ও অপমানের অভিযোগ! বেজিংয়ে প্রথম ‘ওপেন হাউস’ ভারতীয় দূতাবাসের

    Indian Embassy Open House: চিনে ভারতবিদ্বেষী পোস্ট ও অপমানের অভিযোগ! বেজিংয়ে প্রথম ‘ওপেন হাউস’ ভারতীয় দূতাবাসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনে বসবাসকারী ভারতীয়দের (Indian diaspora in China) সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে সম্প্রতি বেজিংয়ে প্রথমবারের মতো ‘ওপেন হাউস’ (Indian Embassy Open House) কর্মসূচির আয়োজন করে ভারতীয় দূতাবাস। সেখানে বিভিন্ন পেশায় কর্মরত ভারতীয় নাগরিক, শিক্ষার্থী ও প্রবাসী প্রতিনিধিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের একাধিক সমস্যার কথা তুলে ধরেন। আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় সোশাল মিডিয়ায় ভারত ও ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা বিদ্বেষমূলক পোস্ট, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং অপমানজনক মন্তব্যের বিষয়টি।

    অনলাইনে ভারতবিরোধী প্রচার নিয়ে উদ্বেগ

    প্রবাসীদের অভিযোগ, চিনের একাধিক জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতকে নিয়ে ভুল তথ্য, নেতিবাচক প্রচার এবং ভারতীয়দের লক্ষ্য করে অবমাননাকর মন্তব্য ক্রমশ বাড়ছে। তাঁদের মতে, এই ধরনের কনটেন্ট শুধু ভারতীয়দের ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যেও ভুল ধারণা তৈরি করছে। তাই এই ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান তাঁরা।

    আলোচনায় ভিসা, চাকরি ও পারিবারিক সমস্যাও

    শুধু অনলাইন বিদ্বেষ নয়, বৈঠকে ভিসা সংক্রান্ত সমস্যাও জোরালোভাবে উঠে আসে। চিনে বসবাসকারী ভারতীয়দের (Indian diaspora in China) একাংশ জানান, ভারতীয় পেশাদারদের জন্য কাজের ভিসা পাওয়া আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি অনেকের স্বামী বা স্ত্রীর চাকরির ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ থাকায় পরিবার নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে চিনে বসবাস করাও চ্যালেঞ্জের হয়ে উঠছে। এসব সমস্যা নিয়ে দূতাবাসের হস্তক্ষেপ চান তাঁরা।

    কী জানাল ভারতীয় দূতাবাস?

    প্রবাসীদের বক্তব্য শোনার পর ভারতীয় দূতাবাসের কর্মকর্তারা আশ্বাস দেন, ভারতবিরোধী বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং অপপ্রচারের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে এবং প্রবাসীদের উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যাও যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে। ভবিষ্যতেও এই ধরনের সংলাপ চালিয়ে যাওয়ারও ইঙ্গিত দেয় দূতাবাস।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ?

    কূটনৈতিক মহলের মতে, বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করা এবং তাঁদের সমস্যার কথা শোনা যে কোনও দূতাবাসের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সেই দিক থেকে বেজিংয়ের এই ওপেন হাউস (Indian Embassy Open House) কর্মসূচি তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে প্রবাসীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর মঞ্চ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    নজরে ভবিষ্যতের পদক্ষেপ

    এই বৈঠকের পর প্রবাসী ভারতীয়দের প্রত্যাশা, ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা, কর্মসংস্থানের প্রতিবন্ধকতা এবং অনলাইনে ভারতবিদ্বেষী প্রচারের মতো বিষয়গুলিতে ভারতীয় দূতাবাস আরও সক্রিয় ভূমিকা নেবে। একই সঙ্গে নিয়মিত এই ধরনের ওপেন হাউস (Indian Embassy Open House) কর্মসূচি হলে প্রবাসীদের সমস্যার সমাধান আরও দ্রুত সম্ভব হবে বলেও মনে করছেন তাঁরা।

  • Nirmal Purja: ব্রড পিকেই অভিযান শেষ, আর ফেরা হল না! তুষারধসে মৃত্যু কিংবদন্তি পর্বতারোহী নির্মল পুরজার

    Nirmal Purja: ব্রড পিকেই অভিযান শেষ, আর ফেরা হল না! তুষারধসে মৃত্যু কিংবদন্তি পর্বতারোহী নির্মল পুরজার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আধুনিক পর্বতারোহণের জগতে এক যুগের অবসান। ব্রড পিক অভিযানে তুষারধসে প্রাণ হারালেন কিংবদন্তি ব্রিটিশ-নেপালি পর্বতারোহী নির্মল পুরজা (Nirmal Purja)। পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) ব্রড পিকের (Broad Peak Avalanche) ওয়েস্ট রিজ রুটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। শনিবার তাঁর সংস্থা এলিট এক্সপেড এক বিবৃতিতে তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তাঁর দুই বিশ্বস্ত সঙ্গী ও গাইড- পুর বাহাদুর গুরুং (যুক্তা) এবং নিমা শেরপাও।

    কীভাবে দুর্ঘটনা?

    ব্রড পিক অভিযানে (Broad Peak Avalanche) নির্মল পুরজার নেতৃত্বে নেপাল, আমেরিকা, পাকিস্তান, ওমান, চিন-সহ একাধিক দেশের পর্বতারোহীরা অংশ নিয়েছিলেন। অভিযান চলাকালীন প্রায় ৬,৫৮০ মিটার উচ্চতায় ক্যাম্প-২ ও ক্যাম্প-৩-এর মাঝামাঝি ভয়াবহ তুষারধস নামে। দলের জিপিএস ট্র্যাকার থেকে আচমকা উচ্চতা দ্রুত কমে যাওয়ার ইঙ্গিত মেলে। পরে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই উদ্ধারকারী দল একাধিক দেহ উদ্ধার করে।

    হিমালয়ের গ্রাম থেকে ব্রিটেনের এলিট বাহিনী

    নেপালের মিয়াগদি জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম নির্মলের (Nirmal Purja)। গোর্খা পরিবারে বেড়ে ওঠা নির্মল ২০০৩ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেড অব গোর্খাস-এ যোগ দেন। এরপর কঠিন নির্বাচনী প্রক্রিয়া পেরিয়ে ২০০৯ সালে ব্রিটেনের অভিজাত স্পেশাল বোট সার্ভিস (এসবিএস)-এর সদস্য হন। ১৬ বছরের সামরিক জীবনে অর্জিত মানসিক দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা এবং সহনশীলতাই পরবর্তীতে তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা পর্বতারোহী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।

    একটি ট্রেকই বদলে দিয়েছিল জীবন

    মজার বিষয় হল, নির্মল (Nirmal Purja) প্রথমে পেশাদার পর্বতারোহী হতে চাননি। ২০১২ সালে পর্যটক হিসেবে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই পাহাড়ের প্রতি গভীর টান তৈরি হয়। দেশে ফিরে না গিয়ে তিনি পর্বতারোহণের প্রশিক্ষণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর প্রথম সফল শৃঙ্গজয় ছিল ৬,১১৯ মিটার উচ্চতার লোবুচে ইস্ট। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বিশ্বের অন্যতম সফল উচ্চতাজয়ী পর্বতারোহী হয়ে ওঠেন।

    প্রজেক্ট পসিবল-এই ইতিহাস সৃষ্টি

    ২০১৯ সালে শুরু হয় তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অভিযান প্রজেক্ট পসিবল। সেই সময় বিশ্বের ৮,০০০ মিটারের বেশি উচ্চতার ১৪টি শৃঙ্গ জয়ের দ্রুততম রেকর্ড ছিল প্রায় আট বছর। নির্মল বিশ্বাস করতেন, এটি কয়েক মাসেও সম্ভব। অর্থের অভাবে স্পনসর না পেয়ে তিনি নিজের বাড়ি ফের বন্ধক রাখেন। স্ত্রী সুচির সমর্থনেই শুরু হয় অভিযান। অবিশ্বাস্যভাবে মাত্র ৬ মাস ৬ দিনে বিশ্বের ১৪টি আট-হাজারি শৃঙ্গ জয় করে তিনি ইতিহাস গড়েন। পরে এই রেকর্ড ভাঙলেও, অসম্ভবকে সম্ভব করার ধারণাই বদলে দিয়েছিল নির্মলের (Nirmal Purja) এই সাফল্য।

    এভারেস্টের সেই ভাইরাল ছবি

    ২০১৯ সালে এভারেস্ট অভিযানের সময় শৃঙ্গের ঠিক নীচে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা পর্বতারোহীদের একটি ছবি তুলেছিলেন নির্মল। সেই ছবি সারা বিশ্বে ভাইরাল হয়। এভারেস্টে অতিরিক্ত ভিড়, বাণিজ্যিক অভিযান এবং নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে নতুন করে বিতর্কের সূচনা হয়েছিল ওই ছবিকে কেন্দ্র করেই।

    রেকর্ডের পাশাপাশি মানবিকতার নজির

    শুধু রেকর্ড গড়াই নয়, বিপদে পড়া বহু পর্বতারোহীর জীবন বাঁচাতেও নিজের জীবন বাজি রেখেছিলেন নির্মল (Nirmal Purja)। অন্নপূর্ণা থেকে নামার সময় প্রায় ৪০ ঘণ্টা খাবার, জল ও অক্সিজেন ছাড়া আটকে থাকা এক পর্বতারোহীকে উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেন। পরে আরও দু’জন আটকে পড়া পর্বতারোহীকে বাঁচাতে নিজের অক্সিজেনও দিয়ে দেন।

    শেরপাদের প্রাপ্য সম্মানের দাবিতে সোচ্চার

    আন্তর্জাতিক খ্যাতি পাওয়ার পর নির্মল (Nirmal Purja) এলিট এক্সপেড, নিমসদাই ফাউন্ডেশন এবং একটি পর্বতারোহণ সরঞ্জাম সংস্থা গড়ে তোলেন। পাশাপাশি তিনি সবসময় দাবি করেছেন, নেপালি শেরপা ও পর্বত গাইডদের অবদানকে বিশ্বের সামনে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া উচিত। ২০১৮ সালে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাঁকে মেম্বার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার (MBE) সম্মানে ভূষিত করেন।

    শেষ অভিযানের আগে কী লিখেছিলেন?

    সম্প্রতি গাশেরব্রুম-২ জয় করেছিলেন নির্মল (Nirmal Purja)। এরপর ব্রড পিকে ওঠার সিদ্ধান্ত নেন। এই শৃঙ্গ জয় করতে পারলে অক্সিজেন ছাড়া দ্বিতীয়বার বিশ্বের ১৪টি আট-হাজারি শৃঙ্গ সম্পূর্ণ করা প্রথম পর্বতারোহী হওয়ার সুযোগ ছিল তাঁর সামনে। শেষবার সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছিলেন, ব্রড পিক (Broad Peak Avalanche) তাঁর মূল পরিকল্পনায় ছিল না। তবে সুযোগ যখন এসেছে, তখন সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতেই হবে। একই সঙ্গে পাহাড়ের কাছে নিরাপদ যাত্রার প্রার্থনাও করেছিলেন। তাঁর শেষ বার্তায় ছিল- “সমর্থক হোক বা সমালোচক, সকলের কাছেই আমি কৃতজ্ঞ। আপনাদের দু’পক্ষই আমাকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছে।”

    শোকে পর্বতারোহণ বিশ্ব

    তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শোকবার্তা আসতে শুরু করে। ব্রিটিশ অভিযাত্রী বেয়ার গ্রিলস নির্মল পুরজাকে (Nirmal Purja) অসাধারণ এবং অনন্য মানুষ বলে শ্রদ্ধা জানান। মাত্র ৪৩ বছর বয়সেই থেমে গেল নির্মল নিমসদাই পুরজার জীবনযাত্রা। কিন্তু তাঁর সাহস, আত্মবিশ্বাস, মানবিকতা এবং অসম্ভবকে সম্ভব করার অদম্য মানসিকতা ভবিষ্যতের প্রজন্মকে দীর্ঘদিন অনুপ্রাণিত করে যাবে।

  • Nepal: নেপালে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ, নিহত ৩, একাধিক জেলায় কারফিউ

    Nepal: নেপালে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ, নিহত ৩, একাধিক জেলায় কারফিউ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের (Nepal) সুনসারি জেলায় শুরু হওয়া সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার (Communal Clashes) আঁচ ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে মধেশ প্রদেশের বিভিন্ন জেলায়। সংঘর্ষ ও হিংসার পৃথক ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সুনসারি, সপ্তরী, সিরাহা ও ধনুষা জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। পারসা জেলার বীরগঞ্জের সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। পরিস্থিতির যাতে আরও অবনতি না হয়, তাই বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক নেপাল পুলিশ, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং নেপালি সেনা। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।

    পৃথক সংঘর্ষে নিহত তিন (Nepal)

    সিরাহা জেলায় বৃহস্পতিবার সংঘর্ষের সময় ১৭ বছর বয়সি গণেশ যাদবের মৃত্যু হয়েছে। সে অওরাহী রুরাল পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিল। গোলবাজারে সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছিল সে। পরে মৃত্যু হয় তার। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাঁর ঘাড়ে গুলি লেগেছিল। ধনুষা জেলার ধনুষাধাম পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বছর উনিশের সুভাষ ঠাকুরও গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর জখম হয়েছেন। তাঁর পিঠে গুলি লেগেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ধরানের বিপি কৈরালা স্বাস্থ্যবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাঁর অবস্থা সঙ্কটজনক বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। তবে সংঘর্ষের সময় আহত বা নিহত ব্যক্তিদের শরীরে যে গুলি লেগেছে, সেগুলি নেপাল পুলিশ, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী নাকি নেপালি সেনার অস্ত্র থেকে ছোড়া হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন। ফলে নিহত ও আহতদের ঘটনায় গুলি কোথা থেকে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

    কারফিউ অমান্য করে গোলবাজারে ফের উত্তেজনা

    সিরাহার গোলবাজারে বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুপুর ২টা থেকে সেখানে কারফিউ কার্যকর হওয়ার পরও বিক্ষোভকারীদের একাংশ তা অমান্য করে রাস্তায় নেমে আসে (Communal Clashes)। বৃহস্পতিবার সকালে উত্তেজনার সূত্রপাত। কাসাহা এলাকায় বিক্ষোভকারীরা পূর্ব-পশ্চিম হাইওয়ে অবরোধ করেন। পরে বিক্ষোভ ও উত্তেজনা গোলবাজারের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে একাধিক দোকানে ভাঙচুর চালানো হয় এবং কয়েকটি দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে এবি মলও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দুপুরের দিকে আরও একটি দল শহরে এসে পৌঁছয়। ওই দলের সদস্যদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ। প্রায় দু’ডজন মোটরসাইকেল এবং কয়েকটি অটোরিকশায় করে তারা শহরে আসে বলে দাবি স্থানীয়দের (Nepal)। এর পর গোলবাজারের দুই প্রান্তে পরস্পরবিরোধী দুই গোষ্ঠী অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তাকর্মীরা লাঠিচার্জ করেন এবং বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের ২১টি সেল ছোড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসন কারফিউ জারি করে এবং নেপালি সেনা মোতায়েন করা হয়। কিন্তু বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিক্ষোভকারীদের একটি দল ফের হাইওয়ের দিকে অগ্রসর হয়। প্রশাসনের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে জনতা এগিয়ে গেলে নিরাপত্তাকর্মীরা গুলি চালান বলে জানান আধিকারিকরা। এরপর পরিস্থিতি আরও অশান্ত হয়ে ওঠে। পরে এক ডজনেরও বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয় অথবা আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

    নিরাপত্তাবাহিনীকে সংযত থাকার নির্দেশ

    পরিস্থিতির মোকাবিলায় নিরাপত্তাবাহিনীকে আনুপাতিক ও প্রয়োজনীয় শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে নেপাল পুলিশের সদর দফতর। উত্তজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে প্রথমে কাঁদানে গ্যাস এবং লাঠিচার্জের মতো পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। লাহান এলাকায়ও দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে গুলিও ছোড়ে। সেখানেও কারফিউ জারি করা হয়েছে।

    জনকপুরে অনির্দিষ্টকালের কারফিউ

    মধেশ প্রদেশের রাজধানী ও প্রশাসনিক কেন্দ্র জনকপুরেও বৃহস্পতিবার সকালে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন বাজার বন্ধ করে দেয় এবং একাধিক জায়গায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রামানন্দ চক এবং বজরং চক-সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী জখম হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে জনকপুরধাম উপ-মহানগরীর সব ওয়ার্ড এবং সংলগ্ন এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় উত্তরে লক্ষ্মীনিয়া থেকে দক্ষিণে নাগরাইন পর্যন্ত এলাকা রয়েছে। পূর্ব দিকে বেলৌনি সড়ক করিডর থেকে পশ্চিমে সিনুরজোদা এবং দুধমতী সেতু এলাকা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে। কারফিউ কার্যকর করার সময় প্রয়োজন হলে নেপালি সেনাকে সরাসরি গুলি চালানোর অনুমতিও দিয়েছে প্রশাসন। তবে সেনা সদস্যদের শুধুমাত্র পরিস্থিতি সামাল দিতে যতটুকু শক্তি প্রয়োজন, ততটুকুই ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনকপুরে সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে সাঁজোয়া যান, হেলিকপ্টার এবং পায়ে হেঁটে টহল দেওয়ার জন্য সদস্য মোতায়েন করেছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

    পারসায়ও কঠোর বিধিনিষেধ

    পারসা জেলায়ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। বীরগঞ্জের সংবেদনশীল কিছু এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে (Communal Clashes)। এই আদেশ অনুযায়ী, পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত, বিক্ষোভ, মিছিল এবং অন্যান্য ধরনের প্রকাশ্য সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কেউ এই বিধিনিষেধ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এদিকে, সুনসারি জেলায় মঙ্গলবার রাতে কারফিউ জারির পর বৃহস্পতিবারও তা বহাল ছিল। জেলার ১০টি স্থানীয় প্রশাসনিক ইউনিটকে কারফিউয়ের আওতায় রাখা হয়েছে। টানা তৃতীয় দিন সেখানে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় রয়েছে (Nepal)।

    পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

    সুনসারি থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনা অল্প সময়ের মধ্যে মধেশ প্রদেশের একাধিক জেলায় ছড়িয়ে পড়ায় প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়ছে। একাধিক এলাকায় একই সময়ে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া নিরাপত্তাবাহিনীর কাছে আপাতত একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গোলবাজার, লাহান এবং জনকপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারফিউ ও অন্যান্য বিধিনিষেধ জারি করা হলেও, সেসব অমান্য করে বিক্ষোভ দেখানো অব্যাহত থাকার ঘটনায় প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হয়েছে। নিরাপত্তাবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি সংঘর্ষে প্রাণহানি ও আহতের ঘটনায় গুলির উৎস এবং দায় নির্ধারণ করাও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    চেষ্টা চলছে উত্তেজনা কমানোর

    নিহত ও আহতদের ঘটনায় নিরাপত্তাবাহিনীর গুলির ভূমিকা ছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রশাসনের তদন্তে এই বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন নেপালবাসী। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টাও চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মধেশ প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসন ও নিরাপত্তাবাহিনী সংঘর্ষ ঠেকাতে একদিকে যেমন কঠোর পদক্ষেপ (Communal Clashes) নিচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে চলে না যায়, সেদিকেও নজর রাখছে (Nepal)।

     

  • Spain: সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনে ঢুকল হাজার হাজার অভিবাসী, জরুরি অবস্থা জারির দাবি

    Spain: সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনে ঢুকল হাজার হাজার অভিবাসী, জরুরি অবস্থা জারির দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্পেনের (Spain) উত্তর আফ্রিকীয় ভূখণ্ড সেউতায় বৃহস্পতিবার সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে কার্যত হতচকিত করে দিয়ে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়লেন হাজার হাজার অভিবাসী (Morocco Migrants)। সাম্প্রতিক বছরে এটি স্পেনের এই ভূখণ্ডে সবচেয়ে বড় অভিবাসী অনুপ্রবেশগুলির একটি। ২০২১ সালের অভিবাসন সঙ্কটের পর এমন বড় আকারের প্রবেশ আর দেখা যায়নি। স্পেনের কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কতজন অভিবাসী প্রবেশ করেছেন, সেই সংখ্যা প্রকাশ করেননি। তবে দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের হিসেব অনুযায়ী, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার অভিবাসী সেউতায় ঢুকে পড়েন। অনেকেই সমুদ্রপথে সেউতায় পৌঁছন। অন্যরা মরক্কো থেকে সেউতাকে আলাদা করা সীমান্তের বেড়া ভেঙে প্রবেশ করেন। বিপুল সংখ্যক মানুষের একসঙ্গে প্রবেশে পুলিশ কার্যত চাপে পড়ে যায়। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আফ্রিকার একমাত্র স্থলসীমান্ত ঘিরে নতুন করে অভিবাসন-উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

    “স্পেন দীর্ঘজীবী হোক” (Spain)

    পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে সেউতার আঞ্চলিক সরকার মাদ্রিদকে জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জানায়। স্পেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, ওই এলাকায় মোতায়েন থাকা পুলিশ কর্মীদের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ার পর অভিবাসীরা তারাজাল বাঁধের দিক দিয়ে ব্যাপক হারে সমুদ্রপথে প্রবেশ করতে থাকেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অভিবাসীরা ফোলানো টিউব ও বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী ভাসমান সামগ্রী ব্যবহার করে বাঁধ ঘুরে সাঁতরে সেউতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। অন্য একটি দল সীমান্তের বেড়ার একটি ফটক জোর করে খুলে সেউতার ভেতরে ঢুকে পড়ে। প্রবেশের সময়  কয়েকজনকে “স্পেন দীর্ঘজীবী হোক” বলে স্লোগান দিতেও শোনা যায়। এই পরিস্থিতি ২০২১ সালের মে মাসের নজিরবিহীন অভিবাসন সঙ্কটের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। সেই সময় কয়েক দিনের মধ্যে মরক্কো ও সাহারা-দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১০ হাজার অভিবাসী সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন (Spain)। সেউতা এবং কাছাকাছি অবস্থিত স্পেনের আর একটি ভূখণ্ড মেলিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আফ্রিকার একমাত্র স্থলসীমান্ত। ইউরোপে পৌঁছনোর আশায় থাকা অভিবাসীদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই এই দুই ভূখণ্ড গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

    জরুরি অবস্থা জারির দাবি সেউতার

    অভিবাসীদের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সেউতার নেতা হুয়ান হেসুস ভিভাস মাদ্রিদ সরকারের কাছে জরুরি অবস্থা জারি ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েন, নিরাপত্তা জোরদার এবং আরও অভিবাসী প্রবেশ ঠেকাতে সাময়িকভাবে মরক্কোর সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করার আহ্বানও জানান তিনি। তবে স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, এই মুহূর্তে সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের কোনও পরিকল্পনা নেই (Morocco Migrants)। পরে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানান, বর্তমান সঙ্কটের তাৎক্ষণিক মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভিভাসের সঙ্গে কথা বলার পর সানচেজ বলেন, “আমরা প্রয়োজনীয় সব সম্পদ কাজে লাগাচ্ছি, মরক্কো ও আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছি এবং যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “এখন দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার সময়।” তবে ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেই বিষয়টি তিনি খোলসা করেননি (Spain)। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, মরক্কো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা হচ্ছে। মন্ত্রকের দাবি, সাম্প্রতিক দিনগুলিতে হাজার হাজার অবৈধ সীমান্ত পারাপারের চেষ্টা ইতিমধ্যেই ঠেকানো হয়েছে। অবৈধভাবে স্পেনে প্রবেশ করেছে এমন ব্যক্তিদের দ্রুত ফেরত পাঠানোর কথাও জানিয়েছে মন্ত্রক। একই সঙ্গে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে মানবপাচারকারী চক্রগুলি অভিবাসীদের ব্যবহার করছে (Morocco Migrants) বলেও অভিযোগ।

    সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়েও প্রশ্ন

    বৃহস্পতিবারের ব্যাপক অনুপ্রবেশের সঙ্গে সম্প্রতি দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করছেন কয়েকজন আধিকারিক। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, সেউতা বা মেলিয়ায় পৌঁছনোর চেষ্টা করার সময় সমুদ্রে আটক হওয়া অভিবাসীদের বিশেষ সীমান্ত-প্রত্যাখ্যান বিধির আওতায় কর্তৃপক্ষ ইচ্ছেমতো যখন খুশি ফেরত পাঠাতে পারবে না। রায়ে অভিবাসীদের স্পেনে থাকার অধিকার দেওয়া হয়নি। তবে আধিকারিকদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্ত আরও বেশি মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করতে উৎসাহিত করতে পারে। স্পেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক মুখপাত্র সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর থেকে ধীরে ধীরে লোকজন আসছিল, কিন্তু আজ তা বিস্ফোরণের মতো বেড়ে গিয়েছে (Spain)।” এই রায় বিশেষভাবে সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এমনকি তারা স্থলসীমান্ত এড়িয়ে বেড়ার চারপাশ দিয়ে সাঁতরে স্পেনের ভূখণ্ডে পৌঁছলেও তা প্রযোজ্য হবে।এদিকে স্পেনে আগে থেকেই বসবাসকারী প্রায় ৫ লাখ অভিবাসীর অবস্থান নিয়মিত করার একটি সরকারি কর্মসূচিও দেশটির রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। এই কর্মসূচি কার্যকর হওয়ার আগে থেকেই যারা স্পেনে বসবাস করছেন, কেবল তাদের ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য। তবে সমালোচকদের দাবি, এই উদ্যোগের ফলে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে অবৈধভাবে স্পেনে প্রবেশ করলেও, শেষ পর্যন্ত বৈধ বসবাসের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।

    সানচেজ সরকারের ওপর বাড়ছে চাপ

    সেউতার পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় সানচেজ সরকার অভিবাসীদের প্রতি তুলনামূলকভাবে উদার নীতি গ্রহণ করেছে। রক্ষণশীল বিরোধী দলের নেতা আলবের্তো নুনিয়েস ফেইহো পরিস্থিতিকে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “সেউতার পরিস্থিতি অত্যন্ত সঙ্কটজনক। সরকার বিষয়টি উপেক্ষা করতে পারে না… কারণ আমরা জাতীয় নিরাপত্তা সঙ্কটের মুখোমুখি (Spain)।” এদিকে, অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা কর্মী জাকারিয়া জাররুকি জানিয়েছেন, সেউতায় পৌঁছনোর আশায় মরক্কোর সীমান্তবর্তী শহর ফনিদেকে এখনও বহু মানুষ জড়ো হচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমরা যখন কথা বলছি, তখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরেই রয়েছে (Morocco Migrants)।” অভিবাসীদের একটি অংশ এখনও সেউতায় পৌঁছনোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ায় স্পেনের কর্তৃপক্ষের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং একই সঙ্গে নতুন করে সীমান্ত পারাপার ঠেকানো (Spain)।

     

  • Former Rafale Pilot: অপারেশন সিঁদুরে ভারতীয় বায়ুসেনাকে কটাক্ষ, চিনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বিপাকে প্রাক্তন ফরাসি পাইলট

    Former Rafale Pilot: অপারেশন সিঁদুরে ভারতীয় বায়ুসেনাকে কটাক্ষ, চিনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বিপাকে প্রাক্তন ফরাসি পাইলট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্সের নৌসেনার প্রাক্তন পাইলট পিয়ের-অঁরি শুয়ে (Pierre-Henri Chuet)-কে চিনের কাছে সংবেদনশীল সামরিক তথ্য পাচারের অভিযোগে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। পরে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হলেও বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে। পিয়ের-অঁরি হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি ২০২৫ সালের মে মাসে অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) রাফাল যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। পিয়ের-অঁরি সেই সময় দাবি করেছিলেন, পাকিস্তান বায়ুসেনার চিনা নির্মিত ‘জে-১০সি’ ও ‘জেএফ-১৭’ যুদ্ধবিমান এবং ‘পিএল-১৫’ ক্ষেপণাস্ত্র ‘‘রাফাল-কিলার’’ প্রমাণিত হয়েছে। যদিও ভারত ও ফ্রান্স— দুই দেশই তাঁর সেই দাবি খারিজ করে দেয়।

    কী অভিযোগ উঠেছে পিয়ের-অঁরির বিরুদ্ধে?

    ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘‘ল্য কানার অনশেনে’’ (Le Canard Enchaîné) এবং মিডিয়াপার্ট (Mediapart)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যারিসের প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেছেন যে, পিয়ের-অঁরি চিনের কাছে সংবেদনশীল সামরিক তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ করেছিলেন। দ্বৈত ফরাসি-কানাডীয় নাগরিক পিয়ের-অঁরি ২০২১ সাল পর্যন্ত ফরাসি নৌবাহিনীর নৌ-বিমান শাখায় কর্মরত ছিলেন। তিনি ফ্রান্সের একমাত্র বিমানবাহী রণতরী ‘শার্ল দ্য গল’ (Charles de Gaulle) থেকে সুপার এতেনদার এবং রাফাল-এম (Rafale M) যুদ্ধবিমান পরিচালনা করেছেন। অভিযোগ, তিনি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর এবং ২০১৯ সালের অগাস্টে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে অন্তত দু’বার চিন সফর করেন। সেই সময় তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার একটি বিমান প্রশিক্ষণ সংস্থা টেস্ট ফ্লাইং অ্যাকাডেমি অফ সাউথ আফ্রিকা (TFASA)-র মাধ্যমে চিনা সামরিক পাইলটদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন।

    কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল?

    ফরাসি সংবাদমাধ্যমের দাবি, প্রথম সফরে বিমানবাহী রণতরীতে অবতরণের প্রযুক্তি (Carrier Landing Technology) নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। দ্বিতীয় সফরে আরও বিস্তৃতভাবে বিমানবাহী রণতরী পরিচালনা, নৌবাহিনীর পাইলটদের প্রশিক্ষণ, ল্যান্ডিং সিগন্যাল অফিসারদের (LSO) ভূমিকা, ‘ই-২সি’ হকআই নজরদারি বিমান এবং সিরিয়ায় পশ্চিমা সামরিক অভিযানের কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ফরাসি গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিসিআই (DGSI) ২০২৬ সালের জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহে পিয়ের-অঁরিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তাঁর বাড়িতেও তল্লাশি চালায়। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগ করে নেওয়া, জাতীয় প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গোপন তথ্য ফাঁস, রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ এবং বিদেশি শক্তির কাছে তা সরবরাহ করার মতো একাধিক অভিযোগে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়। বর্তমানে তিনি বিচার বিভাগীয় তত্ত্বাবধানে মুক্ত রয়েছেন।

    কী বলছেন পিয়ের-অঁরি?

    পিয়ের-অঁরি অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি মাত্র দু’টি তিন দিনের সেমিনার পরিচালনা করেছিলেন। তাঁর কথায়, “২০১৯ সালের সফরটি ভালোভাবে শেষ হয়নি। এরপর আর কখনও চিনে যাইনি।”

    ২০২৩ সাল থেকেই নজরে ছিলেন

    পিয়ের-অঁরির বিরুদ্ধে চিনের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ প্রথম সামনে আসে ২০২৩ সালে। পরে ২০২৫ সালেও বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ল্য পারিজ়িয়াঁ (Le Parisien)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রক ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে প্যারিসের প্রসিকিউটরদের কাছে অভিযোগ পাঠায়। এরপরই প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়।

    অপারেশন সিঁদুরে কী বলেছিলেন তিনি?

    ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময় পরিচালিত অপারেশন সিঁদুর নিয়ে একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন পিয়ের-অঁরি। ১০ মে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের একটি জে-১০সি যুদ্ধবিমান পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ভারতীয় একটি রাফাল ভূপাতিত করেছে। যদিও সেই দাবির পক্ষে কোনও সরকারি প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি। পরবর্তী ভিডিওগুলিতে তিনি জে-১০সি ও জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান এবং পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রশংসা করে সেগুলিকে ‘‘রাফাল-কিলার’’  বলে উল্লেখ করেন।

    ভারত ও দাসো অ্যাভিয়েশনের জবাব

    ফ্রান্সের দাসো এভিয়েশন (Dassault Aviation)-এর প্রধান নির্বাহী এরিক ট্রাপিয়ে পাকিস্তানের দাবি সরাসরি খারিজ করে দেন। তাঁর বক্তব্য, অপারেশন সিঁদুরে ভারতীয় রাফাল ধ্বংস হওয়ার দাবি সঠিক নয়। ভারতও সংঘর্ষে যুদ্ধবিমান হারানোর কথা স্বীকার করলেও, বারবার জানিয়েছে যে হারানো বিমানগুলির মধ্যে কোনও রাফাল ছিল না। এছাড়া ২০২৬ সালের জুন মাসে ভারতীয় বায়ুসেনা ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমানের জন্য পাঁচ মাসের একটি ব্রিজ সাপোর্ট প্যাকেজের দরপত্র আহ্বান করে। সেই নথি থেকেই ইঙ্গিত মেলে যে, ফ্রান্স থেকে কেনা সবকটি ৩৬টি রাফালই ভারতীয় বায়ুসেনার বহরে রয়েছে।

    পশ্চিমী দেশগুলির উদ্বেগ বাড়ছে

    পিয়ের-অঁরি একমাত্র নন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক প্রাক্তন এফ-৩৫ পাইলটকেও চিনা সেনাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে ২০২৪ সালের জুনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, কানাডা এবং নিউজিল্যান্ড যৌথভাবে সতর্ক করে জানিয়েছিল, চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) নেটো এবং অন্যান্য পশ্চিমী দেশের বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক সদস্যদের লক্ষ্য করে সংবেদনশীল সামরিক দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছে।

    এখনও দোষী সাব্যস্ত নন পিয়ের-অঁরি

    ফরাসি আইনে কাউকে আনুষ্ঠানিক তদন্তের আওতায় আনা মানেই তিনি দোষী— এমন নয়।  এর অর্থ, তদন্তকারী বিচারকের মতে মামলাটি আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। এখন তদন্তের ভিত্তিতে বিচারক সিদ্ধান্ত নেবেন, এই মামলা আদালতে বিচারের জন্য পাঠানো হবে কি না।

  • POJK Polls: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা ইমরানের দলের, কারচুপির অভিযোগে সরব বিলাওয়াল

    POJK Polls: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা ইমরানের দলের, কারচুপির অভিযোগে সরব বিলাওয়াল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সাম্প্রতিক নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছে জেলবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। ২৯ জুলাই দলটি পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে “প্রহসন” বলে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে সাম্প্রতিক হিংসার নিন্দা করে পিটিআই বলেছে, গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তান সম্পর্কে ভুল বার্তা যাচ্ছে। পিটিআই চেয়ারম্যান গওহর আলি খানের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী সর্দার কাইয়ুম নিয়াজি বলেন, কাশ্মীরিদের নজিরবিহীন নিপীড়ন ও বর্বরতার মুখে পড়তে হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “কাশ্মীরিদের এমনভাবে পিষে ফেলা হচ্ছে, যার কোনও নজির নেই।” তিনি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির বিক্ষোভকারীরা সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য সব ধরনের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু নিজেদের দাবিদাওয়া আর শোনা হচ্ছে না বুঝতে পেরে তাঁরা ৯ জুন বিক্ষোভের কথা ঘোষণা করেন। নিয়াজির কথায়, “তাঁরা শান্তিপ্রিয় মানুষ এবং আজও শান্তিপূর্ণ রয়েছেন। বলুন তো, সেখানে আমাদের বাহিনীর কোনও সদস্য গুলিতে নিহত হয়েছেন, কিংবা লাঠির ঘায়ে আহত হয়েছেন? এই মানুষগুলি গুলি খাচ্ছেন, তবুও শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।”

    তিন দফায় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন (POJK Polls)

    পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে তিন দফায় নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নিয়াজি। তাঁর দাবি, ওই অঞ্চলের জনসংখ্যা মেরেকেটে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ। অথচ ২৫ কোটি মানুষের পাকিস্তানে এক দফায়ই নির্বাচন হয়। তিনি প্রশ্ন করেন, “পাকিস্তানের জনসংখ্যা ২৫ কোটি এবং সেখানে এক দফায় নির্বাচন হয়। এখানে তিন দফার কী প্রয়োজন? কাশ্মীরে কী ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে?” তিনি ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গও তোলেন। ওই নির্বাচনে একই সঙ্গে প্রাদেশিক পরিষদ ও জাতীয় পরিষদের ভোট হয়েছিল। নিয়াজির অভিযোগ, সেই নির্বাচনে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের পক্ষে ব্যাপক কারচুপি করা হয়েছিল। দলটির প্রধান নওয়াজ শরিফকে লন্ডন থেকে পাকিস্তানে ফিরে এসে নির্বাচনী প্রচারে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

    গওহরের বক্তব্য

    গওহরও সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, ২৭ জুলাইয়ের নির্বাচন ওই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে “প্রহসন” করা হয়েছে। তিনি বলেন, “২৭ তারিখে যে নির্বাচন হয়েছে, তা আপনারা সবাই দেখেছেন। নির্বাচনের নামে এটি ছিল একটি প্রহসন। এখন সবাইকে মেনে নিতে হবে যে গুলি ও লাঠি ব্যবহার করে, মানুষকে দমন করে, তাদের কণ্ঠরোধ করে এবং প্রতিবাদ করতে বাধা দিয়ে সমস্যার সমাধান করা যায় না। মানুষের কথা শোনাই গণতন্ত্র।” পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতির নিন্দা করে গওহর পাকিস্তান পিপলস পার্টি এবং পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক স্বার্থে পরিস্থিতিকে ব্যবহার করার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “আমরা প্রকাশ্যেই বলছি, সেখানে মৃতদেহ পড়ে ছিল, মানুষ রক্তে ভেসে যাচ্ছিল, আর রাজনৈতিক দলগুলি তা নিয়ে রাজনীতি করেছে। একজন আর একজনকে অভিনন্দন জানিয়েছে, অন্যজন অভিযোগ করেছে যে তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কারচুপি করা হয়েছে।” গওহরের দাবি, এই দুই দলই গত ৪০ বছর ধরে চলা রাজনৈতিক ব্যবস্থার অধীনে ক্ষমতায় থেকেছে এবং নিজেদের প্রদেশগুলিতে পরাজিত হয়েছে। তাঁর মতে, নির্বাচনে কম ভোটার উপস্থিতিই এই দুই দলের প্রতি মানুষের প্রত্যাখ্যানের প্রতিফলন। তিনি বলেন, “এত কম ভোটার উপস্থিতি পুরো ব্যবস্থা এবং এই দুই দলের ওপর অনাস্থার প্রতিফলন। এটি তাদের বিরুদ্ধে গণভোটের সমান।” গওহর আরও বলেন, বর্তমান রাজনীতি মূলত ব্যক্তিগত স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।

    পিপিপি ও পিএমএল-এনের সংঘাত

    এদিকে মিরপুর বিভাগের নির্বাচনী ফল নিয়ে পাকিস্তান পিপলস পার্টি এবং পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজের মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ শুরু হয়েছে। পিপিপি চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির অভিযোগ, সর্বত্র কারচুপি করে, ভয় দেখানো এবং রাজনৈতিক ঘুষকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে পিএমএল-এন জনগণের রায় চুরি করেছে। পিএমএল-এনের নির্বাচনী বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিলাওয়াল। পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের প্রথম দফার ভোটে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানান তিনি। ২৯ জুলাই মুজাফফরাবাদে পিপিপির এক কর্মী সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিলাওয়াল নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে বলেছিলেন, “আপনারা যদি এই কারচুপির সঙ্গে জড়িত না থাকেন, তাহলে মিরপুরে পুনর্নির্বাচনের আয়োজন করুন।” নির্বাচন কমিশনের কথিত নিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে এটিই এখন পর্যন্ত তাঁর সবচেয়ে সরাসরি ও কঠোর চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।

    শাহবাজ-মরিয়ম জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসেননি’

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফকে সরাসরি কটাক্ষ করেন বিলাওয়াল। তিনি বলেন, “আজ কেউ যদি প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসে থাকেন, কিংবা কেউ মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসে থাকেন, তা জনগণের ভোটে বা আপনাদের কর্মদক্ষতার কারণে নয়—এটি একটি ফর্ম-৪৭-এর ফল, এটা একটি শিশুও জানে।” ফর্ম-৪৭ হল কোনও নির্বাচনী এলাকার সব ভোটকেন্দ্রে গণনা করা ভোটের ফলের প্রাথমিক সমন্বিত বিবরণী, যা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং আধিকারিক প্রস্তুত করেন। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর থেকে পিটিআই-সহ বিরোধীরা এই শব্দটি ব্যবহার করে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে আসছে। বিলাওয়ালের অভিযোগ, পাঞ্জাব ও জাতীয় পরিষদের একাধিক আসনে পিএমএল-এন পরাজিত হলেও, রিটার্নিং আধিকারিকরা মিথ্যাভাবে দলটিকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। তাঁর দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় এই কারচুপির ফলেই শাহবাজ শরিফ প্রধানমন্ত্রী এবং মরিয়ম নওয়াজ পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে বিলাওয়াল দাবি করেছিলেন, দেশজুড়ে ব্যাপক জনসমর্থনের কারণে তাঁর দল কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করবে। তবে পরে ইমরানের পিটিআইও অভিযোগ করে, তাদের নির্বাচনী প্রতীক ক্রিকেট ব্যাটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না দেওয়া-সহ বিভিন্ন উপায়ে প্রাদেশিক পরিষদ ও জাতীয় পরিষদে তাদের জনগণের রায় থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

    এটা আপনার কথা নয়, ফর্ম-৪৭ কথা বলছে’

    বিলাওয়ালের বক্তব্যের আগেই মরিয়ম নওয়াজ সোশ্যাল মিডিয়ায় পিপিপিকে কটাক্ষ করে বলেন, “কারচুপির সূক্ষ্ম শিল্পে ওস্তাদ পিপিপি এখন অন্যায় হয়েছে বলে কান্নাকাটি করছে। প্রলয় কবে আসবে?” এর জবাবে পিপিপির শরজিল মেমন বলেন, “এটা আপনি বলছেন না, ফর্ম-৪৭ কথা বলছে। প্রলয় এসেছিল ২০২৪ সালে, যখন জনগণের রায় দান হিসেবে বিলিয়ে দেওয়া হচ্ছিল।” বিলাওয়ালও পিএমএল-এনকে “কারচুপির ফসল” বলে আখ্যা দেন। নিজের দলের সঙ্গে পিএমএল-এনের তুলনা করে তিনি বলেন, পিপিপির রাজনৈতিক ইতিহাস তিন প্রজন্মের। তাঁর দাবি, “এমন একটি নির্বাচনও নেই, যেখানে পিএমএল-এন জনগণের ভোটে জিতেছে—সবসময় কারচুপির মাধ্যমে জিতেছে।”

    কাশ্মীরের মানুষের রায় চুরি করতে দেওয়া হবে না’

    বিলাওয়াল প্রশ্ন করেন, “তারা কি মনে করে, কাশ্মীরে আমরা তাদের নির্বাচন কারচুপি করতে দেব?” তিনি আরও বলেন, “কাশ্মীরের মানুষ মাথা নত করবে না এবং কাউকে তাদের রায় চুরি করতে দেবে না।” মুজাফফরাবাদের উদ্দেশে ইঙ্গিত করে বিলাওয়াল বলেন, “এটি মুজাফফরাবাদ, শ্রীনগর নয়।” তাঁর দাবি, বিরোধী পক্ষের কারচুপির চেষ্টা ব্যর্থ করতে তাঁর দল সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। তিনি আরও দাবি করেন, ৩০টি ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৯০ শতাংশ, অথচ অধিকাংশ নির্বাচনী এলাকায় ভোটার উপস্থিতি ছিল ৪০ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যে। পিপিপি কর্মীদের উদ্দেশে বিলাওয়ালের প্রতিশ্রুতি, “আমি চুরি যাওয়া প্রতিটি ভোট ফিরিয়ে আনব”। তিনি বলেন, “আমি পরাজয় মেনে নিতে প্রস্তুত। কিন্তু আপনারা যদি নির্বাচন কারচুপি করে আমাদের রায় চুরি করতে চান, তাহলে আমি এই ফল মেনে নিতে পারি না।”

    সত্য ও পুনর্মিলন কমিশনের প্রস্তাব

    পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের চলমান অস্থিরতা মোকাবিলায় সত্য ও পুনর্মিলন কমিশন গঠনের প্রস্তাবও পুনর্ব্যক্ত করেন বিলাওয়াল। তিনি বলেন, “আমি এই প্রস্তাব রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বা বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে দিচ্ছি না। আমি এটি দিচ্ছি সেই প্রতিটি কাশ্মীরির পক্ষ থেকে, যারা এই দু’পক্ষের কোনওটির সঙ্গে যুক্ত নন।” সরকার এবং বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি—উভয় পক্ষকেই এই দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিলাওয়ালের প্রশ্ন, “আপনারা যদি সঠিক পথে থাকেন এবং সত্যের পক্ষে থাকেন, তাহলে কমিশন গঠন করছেন না কেন?”

    কাশ্মীরের অর্থনৈতিক সঙ্কট নিয়েও সরব বিলাওয়াল

    কাশ্মীরে কর্মসংস্থানের কথা পিপিপি কেন বলছে, তার ব্যাখ্যায় বিলাওয়াল বলেন, তাঁর দল এই অঞ্চলের “অর্থনৈতিক সঙ্কট” সম্পর্কে সচেতন। এরপরেও পিএমএল-এনকে আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন, দলটির অর্থনৈতিক দর্শন মূলত “ধনীদের আরও ধনী করা” নীতির ওপর নির্ভরশীল। বিলাওয়াল বলেন, “তারা আমাদের কটাক্ষ করে বলে, আমরা নাকি কাশ্মীরকে সিন্ধে পরিণত করতে চাই। না, আমি চাই কাশ্মীর কাশ্মীরই থাকুক এবং মানুষই তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করুক।” তিনি আরও বলেন, “পাঞ্জাব, ইসলামাবাদ, খাইবার পাখতুনখোয়া, সিন্ধ বা বালুচিস্তান কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না।” নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন পিপিপি নেতা। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সঙ্গে পাঞ্জাবের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের ভূমিকার তুলনাও করেন তিনি।

     

  • Iran US War: ইরানে ৪০০ এয়ার ডিফেন্স ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার পাঠাচ্ছে চিন! হতাশার সুর ট্রাম্পের, অস্বীকার করল বেজিং

    Iran US War: ইরানে ৪০০ এয়ার ডিফেন্স ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার পাঠাচ্ছে চিন! হতাশার সুর ট্রাম্পের, অস্বীকার করল বেজিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধের আবহে ইরানকে শক্তিশালী করতে পাকিস্তানের মাধ্যমে চিনের তৈরি কাঁধে বহনযোগ্য প্রায় ৪০০টি এয়ার ডিফেন্স ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার (MANPADS) পাঠানো হতে পারে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে চিন। একইভাবে পাকিস্তানও এই প্রতিবেদন অস্বীকার করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পাকিস্তান হয়ে ইরানের কাছে প্রথম চালান পৌঁছতে পারে। চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রায় ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আওতায় চিনের তৈরি ৩০০ থেকে ৪০০টি ম্যান-পোর্টেবল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (MANPADS) কেনার কথা রয়েছে।

    প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ইরানের উদ্যোগ

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তিটি হংকং-ভিত্তিক এক মধ্যস্থতাকারী সংস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। যদি এই সরবরাহ বাস্তবায়িত হয়, তবে তা ইরানের স্বল্প-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে। সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পর নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটিকে ইরানের অন্যতম বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে, পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে ইসলামাবাদ নিজেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরলেও, অন্যদিকে পাকিস্তান ইরানকে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের মে মাসে এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছিল যে, মার্কিন হামলা থেকে রক্ষা করতে পাকিস্তান তাদের বিমানঘাঁটিতে ইরানের সামরিক বিমান রাখার অনুমতি দিয়েছিল। তবে চিনের বিদেশ মন্ত্রক এই প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, “সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। চিন সবসময় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংঘাতের অবসানে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছে।”

    ট্রাম্পের হতাশার সুর

    ইরানের কাছে চিনের অস্ত্র সরবরাহের সম্ভাব্য খবর নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যদি চিন সত্যিই ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে তিনি অত্যন্ত হতাশ হবেন। এক সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে বেজিং এই সংঘাতে জড়াবে না। ট্রাম্পের কথায়, “তিনি (শি জিনপিং) খুব দৃঢ়ভাবে আমাকে বলেছেন যে তাঁরা এতে অংশ নেবেন না। যদি তাঁরা তা করেন, তাহলে আমি অবশ্যই হতাশ হব। তিনি সম্ভবত ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসছেন।” এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলেও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, শি জিনপিং তাঁকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন যে চিন তেহরানে অস্ত্র পাঠাচ্ছে না। একই সঙ্গে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানকে অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলির ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

LinkedIn
Share