Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • BRICS Membership: বছর তিন আগে আবেদন, এখনও ব্রিকসে জায়গা হয়নি পাকিস্তানের

    BRICS Membership: বছর তিন আগে আবেদন, এখনও ব্রিকসে জায়গা হয়নি পাকিস্তানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিকসের সদস্যপদের (BRICS Membership) জন্য ২০২৩ সালেই আবেদন করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু আবেদন করার প্রায় তিন বছর পরেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান অর্থনীতির এই জোটে জায়গা হয়নি ইসলামাবাদের। মূলত ভারতের আপত্তিই পাকিস্তানের ব্রিকস-এ প্রবেশের পথে সবচেয়ে বড় বাধা বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত ব্রিকস পরবর্তী সময়ে আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। গত বছর মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীকে অন্তর্ভুক্ত করার ফলে জোটটি ‘ব্রিকস+’-এ পরিণত হয়েছে। বর্তমানে আরও ২৯টি দেশ ব্রিকসের সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছে। সেই তালিকায় রয়েছে পাকিস্তানও।

    কেন ব্রিকসে যোগ দিতে চাইছে পাকিস্তান

    পাকিস্তানের ব্রিকসে যোগ দেওয়ার আগ্রহের পিছনে অন্যতম কারণ দেশের অর্থনৈতিক সংকট। পাকিস্তান ইকনমিক সার্ভে অনুযায়ী, দেশটির জিডিপি বৃদ্ধির হার ৩.৭০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাঙ্ক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডার বা আইএমএফ-এর উপর নির্ভরতা কমানো এবং বিকল্প অর্থের উৎস তৈরি করাও ইসলামাবাদের অন্যতম লক্ষ্য। পাকিস্তান ব্রিকস-সমর্থিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কে ৫৮ কোটি ডলারের অংশীদারিত্ব কিনেছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে নিজেদের বিকল্প বাড়াতে চাইছে ইসলামাবাদ।

    ব্রিকস-এ ভারতের বাণিজ্যও বেড়েছে

    ব্রিকসের সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে জোটটির বৈশ্বিক গুরুত্বও বেড়েছে। সম্প্রসারিত ব্রিকস বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৪৯ শতাংশ জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে। ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা PPP-এর ভিত্তিতে বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ৪০ শতাংশের অংশীদার এই গোষ্ঠী। ব্রিকস দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যও উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। জোটের সদস্য দেশগুলিতে ভারতের রফতানি ৪৮.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৬৪.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে তা বেড়ে হয়েছে ৯৫.৭ বিলিয়ন ডলার।

    ২০২৩ সালেই সদস্যপদের আবেদন

    ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, ইসলামাবাদ ব্রিকসে যোগ দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক ভাবে আবেদন করেছে। সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন, ব্রিকসের অধিকাংশ সদস্য দেশের সঙ্গেই পাকিস্তানের উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মুমতাজ জাহরা বালোচ ব্রিকসকে ‘উন্নয়নশীল দেশগুলির একটি গুরুত্বপূর্ণ গোষ্ঠী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, ব্রিকসে যোগ দিতে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে। তিনি জানিয়েছিলেন, ব্রিকসে যোগ দিলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ব্রিকস পাকিস্তানের আবেদনকে তাদের ‘ইনক্লুসিভ মাল্টিল্যাটারালিজম’-এর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিবেচনা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

    রাশিয়া-চিনের সমর্থন, তবুও থমকে পাকিস্তানের সদস্যপদ

    পাকিস্তানের রাশিয়ায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মহম্মদ খালিদ জামালি রুশ সংবাদ সংস্থা তাস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, পাকিস্তান ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির সমর্থন আদায়ের জন্য যোগাযোগ করছে। বিশেষ করে রাশিয়ার সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে ইসলামাবাদ। রাশিয়া ও চিনের সমর্থন পাকিস্তানের পক্ষে থাকলেও এখনও সদস্যপদ মেলেনি। কারণ ব্রিকসে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে সর্বসম্মতির নীতি কার্যকর। অর্থাৎ নতুন কোনও দেশকে সদস্য করতে হলে সমস্ত পূর্ণ সদস্যের সম্মতি প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিরোধিতাই পাকিস্তানের ব্রিকস-এ প্রবেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যতদিন নয়াদিল্লি পাকিস্তানের সদস্যপদের বিরোধিতা করবে, ততদিন সর্বসম্মতির নিয়মে ইসলামাবাদের আবেদন কার্যত আটকে থাকবে। ফলে রাশিয়া ও চিনের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানের ব্রিকস-এ প্রবেশের সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত। ভারতের আপত্তি কাটিয়ে ইসলামাবাদ শেষ পর্যন্ত এই জোটে জায়গা করে নিতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।

     

     

     

     

  • Chinese Tank Explodes: চিনা যুদ্ধাস্ত্রের অন্ধ মোহ! শত্রু নিধনের ট্যাঙ্ক যেভাবে নিজের সেনার জন্যই কাল হল বাংলাদেশের

    Chinese Tank Explodes: চিনা যুদ্ধাস্ত্রের অন্ধ মোহ! শত্রু নিধনের ট্যাঙ্ক যেভাবে নিজের সেনার জন্যই কাল হল বাংলাদেশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রচলিত প্রবাদ রয়েছে— ‘সস্তার তিন অবস্থা’। প্রতিরক্ষার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ক্ষেত্রে এই প্রবাদের নির্মম খেসারত যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার এক রক্তাক্ত উদাহরণ হয়ে থাকল চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জের দুর্ঘটনা। গত ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি সামরিক মহড়া চলাকালীন আচমকাই একটি চিনা প্রযুক্তির ট্যাঙ্ক বিস্ফোরিত হয়। বাংলাদেশের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (ISPR) অত্যন্ত সংযতভাবে ঘটনাটি নিশ্চিত করলেও, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বিস্ফোরণের শিকার হওয়া যুদ্ধযানটি চিনের তৈরি ‘টাইপ ৫৯’ (Type 59) বা ‘টাইপ ৬৯-আইআইজি’ (Type 69-IIG) গোত্রের যুদ্ধট্যাঙ্ক। শত্রুর মোকাবিলা করা তো দূরের কথা, মহড়ার মাঠেই নিজের ট্যাঙ্কের কামানের ভেতরের গোলা ফেটে প্রাণ হারিয়েছেন ২ জন বাংলাদেশি সেনা জওয়ান এবং গুরুতর আহত হয়েছেন ১ জন পদস্থ কর্মকর্তা। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি কেবল একটি দুর্ঘটনা মাত্র নয়, বরং এটি প্রতিবেশি দেশটির চিনা মরণফাঁদে পা দেওয়ার এক চরম ভূ-রাজনৈতিক সতর্কতা।

    বাংলাদেশ সেনার মূল ভরসা চিনা সামরাস্ত্র

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া বহরের (Armoured Inventory) দিকে তাকালে দেখা যায়, তাদের মূল শক্তিই দাঁড়িয়ে আছে চিনা প্রযুক্তির ওপর। ‘টাইপ ৫৯’, ‘টাইপ ৬৯’ থেকে শুরু করে ‘এমবিটি-২০০০’ বা ‘ভিটি-৫’—বাংলাদেশের প্রধান সবকটি ট্যাঙ্কই চিনের তৈরি বা চিনের সাথে যৌথভাবে উন্নত করা। সোভিয়েত আমলের পুরনো সোভিয়েত টি-৫৪ ট্যাঙ্কের চিনা সংস্করণ এই ‘টাইপ ৫৯’, যা দশকের পর দশক ধরে বাংলাদেশ ব্যবহার করছে। আন্তর্জাতিক সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অতি-পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ চিনা সরঞ্জামগুলোকে অবসরে পাঠানোর পরিবর্তে বারবার আধুনিকীকরণ (Upgrade) করে ব্যবহার করার যে অন্ধ মোহ, তারই চড়া মূল্য দিতে হল সেনাবাহিনীর তাজা দুটি প্রাণকে। চিনা যুদ্ধাস্ত্রের এই ‘ফাঁকিবাজি’ ও নিম্নমানের রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তি যে আসলে সুরক্ষার নামে এক একটি ‘টাইম বোম’, তা এই বিস্ফোরণ আবারও বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করে দিল।

    বাংলাদেশের আত্মোপলব্ধির সময়

    এই ঘটনা বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের জন্য এক বড় আত্মোপলব্ধির সময়। ভারত সর্বদা তার ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ (Neighbourhood First) নীতির মাধ্যমে প্রতিবেশিদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং টেকসই, নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। অথচ, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ নানাবিধ ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং অন্ধ ভারত-বিরোধিতার স্রোতে ভেসে সস্তা চিনা ঋণের ফাঁদে ও নিম্নমানের প্রতিরক্ষা সামগ্রীর দিকে ঝুঁকছেপাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার পর বাংলাদেশও এখন হাড়েনহাড়ে টের পাচ্ছে যে চিনা পণ্যের বাহ্যিক জাঁকজমক যতটা, কার্যকারিতা ততটাই শূন্য। প্রতিরক্ষার মতো সার্বভৌম বিষয়ে সস্তার চিনা অস্ত্র-সরঞ্জামের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের দেশের সার্বভৌমত্ব এবং জওয়ানদের জীবনকেই চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে। হাটহাজারীর এই ছাই হয়ে যাওয়া ট্যাঙ্কটি যেন বাংলাদেশের চিনা সামরিক মোহেরই এক জলজ্যান্ত উদাহরণ। ছবিটা কি দেখতে পাচ্ছেন তারেক রহমান!
  • Mohan Bhagwat: “বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য, ভিন্নতাকে সম্মান করাই ভারতীয় সভ্যতার মূল কথা”, লন্ডনে বললেন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: “বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য, ভিন্নতাকে সম্মান করাই ভারতীয় সভ্যতার মূল কথা”, লন্ডনে বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারতের সভ্যতাগত পরিচয়ের মূলে রয়েছে বৈচিত্র্য ও ঐক্যের সহাবস্থান। মানুষের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তাকে সম্মান করা উচিত। কারণ এই বৈচিত্র্য আসলে একই অন্তর্নিহিত ঐক্যের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ।” রবিবার লন্ডনে আয়োজিত ‘একাত্মতা উদ্‌যাপন’ অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)।

    তিনি বলেন, বৈচিত্র্য স্বাভাবিক বিষয়। তাই মানুষের মধ্যে কী কী পার্থক্য রয়েছে, তার বদলে কোন বিষয়গুলি তাঁদের একসূত্রে বাঁধে, সেদিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, “হিন্দু সভ্যতা সবসময় এই উপলব্ধির উপর প্রতিষ্ঠিত যে, অস্তিত্ব মূলগতভাবে এক, যদিও তা বিভিন্ন রূপে প্রকাশিত হয়। বৈচিত্র্য স্বাভাবিক; এই পার্থক্যগুলি একই অন্তর্নিহিত ঐক্যের বিভিন্ন প্রকাশ বা অলংকারমাত্র।”

    ভারতের অগ্রগতির সঙ্গে শান্তির সম্পর্ক (Mohan Bhagwat)

    ভারতের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন ভাগবত। তাঁর দাবি, ভারত এগিয়ে গেলে স্বৈরশাসন বা যুদ্ধের জন্ম হয় না। বরং ভারতের অগ্রগতি শান্তি, সমৃদ্ধি, আনন্দ এবং ভ্রাতৃত্বের বার্তা বহন করে।

    ভাগবত বলেন, “ভারত এগিয়ে গেলে কখনও কোনও স্বৈরশাসকের সৃষ্টি হয় না। ভারত এগিয়ে গেলে কখনও কোনও যুদ্ধ শুরু হয় না। ভারত সমগ্র মানবজাতির মধ্যে শান্তি, আনন্দ, সমৃদ্ধি ও ভ্রাতৃত্ব এবং প্রকৃতির সঙ্গে ভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলে।”

    তাঁর মতে, শাসক, সরকার কিংবা প্রশাসনিক ব্যবস্থা সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে, কিন্তু জাতি হিসেবে ভারতের অস্তিত্ব অব্যাহত থেকেছে।

    তিনি বলেন, “কখনও আমাদের প্রজাতন্ত্র ছিল। কখনও আমরা অন্যদের শাসনের অধীনে ছিলাম। কখনও স্বাধীনতার জন্য আমরা দীর্ঘ সংগ্রাম করেছি। কিন্তু সবসময়ই আমরা একটি জাতি হিসেবে ছিলাম।”

    হিন্দু রাষ্ট্র’ সম্পর্কে আরএসএসের অবস্থান ব্যাখ্যা

    ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে ভাগবত বলেন, এই শব্দবন্ধকে শুধুমাত্র একটি রাষ্ট্রের ধারণা হিসেবে দেখলে হবে না।

    তিনি বলেন, “রাষ্ট্র মানেই জাতি নয়। রাষ্ট্রের প্রথমেই একটি উদ্দেশ্য থাকে। হিন্দু রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য কী? বিশ্বের কাছে এই সত্য তুলে ধরা যে বৈচিত্র্য স্বাভাবিক এবং ঐক্যই সত্য। এতে সমগ্র বিশ্বেরই কল্যাণ হবে।”

    ভাগবতের বক্তব্য, হিন্দু পরিচয়কে শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের সংকীর্ণ অর্থে দেখলে হবে না। এটি একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত ধারণা।

    তিনি (Mohan Bhagwat) বলেন, “হিন্দু মূলত একটি সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত পরিচয়—জীবন, অস্তিত্ব এবং বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে বোঝার একটি পদ্ধতি।”

    ঐক্যের জন্য একরূপতা জরুরি নয়

    ঐক্য মানেই যে সকলকে একই রকম হতে হবে, এমন ধারণাও খারিজ করেন ভাগবত। তাঁর মতে, বৈচিত্র্য বজায় রেখেই ঐক্য সম্ভব।

    তিনি বলেন, “সকলকে একরকম করে দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা আমাদের নেই, কারণ ঐক্যের জন্য একরূপতা অপরিহার্য নয়। আমাদের সভ্যতাগত উপলব্ধি হল বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য—আমরা বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করি (RSS)।”

    সব পথকেই স্বীকৃতি দেয় হিন্দু চিন্তা

    হিন্দু চিন্তাধারা কোনও একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় পথ অনুসরণ করার জন্য মানুষকে বাধ্য করে না এবং অন্যদের ধর্মান্তরিত করারও চেষ্টা করে না বলে দাবি করেন ভাগবত।

    তিনি বলেন, “আমরা যখন ‘হিন্দু’ বলি, তখন সংকীর্ণ অর্থে কোনও একটি ধর্মকে বোঝাই না। হিন্দুদের মধ্যে বহু ধর্মীয় ধারা ও পরম্পরা রয়েছে, কিন্তু অন্তর্নিহিত হিন্দু চিন্তা সব পথকেই গ্রহণ করে।”

    তাঁর বক্তব্য, একই সত্যে পৌঁছনোর জন্য মানুষের বিভিন্ন পথ থাকতে পারে এবং হিন্দু চিন্তাধারা সেই সহাবস্থানকে স্বীকৃতি দেয়।

    ভাগবত বলেন, “আমরা যখন বলি হিন্দু কোনও ধর্ম নয়, তার অর্থ এই নয় যে হিন্দু ধর্ম থাকতে পারে না। হিন্দু ধর্ম বলে, অন্যান্য ধর্মগুলিও সত্য।”

    প্রকৃতির প্রতিও হিন্দু জীবনদর্শনে গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “একজন হিন্দু পরিবার, সম্প্রদায়, সমাজ এবং মানবতার সঙ্গে যুক্ত। একজন হিন্দু শুধু উপাসনা করে না, প্রকৃতিকেও ভালোবাসে।”

    বিভাজনের বদলে ঐক্যের জায়গাগুলিতে জোর দেওয়ার আহ্বান

    মানুষ একে অপরকে শত্রু হিসেবে দেখা বন্ধ করলে সংঘাত অনেক বেশি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন ভাগবত।

    তিনি (Mohan Bhagwat) বলেন, “অন্যকে সীমাবদ্ধ করা বা জয় করার চেষ্টা না করে আমাদের উপলব্ধি করা উচিত যে, শেষ পর্যন্ত আমরা সকলেই একই বিষয়গুলি অর্জন করতে চাই। তাই প্রশ্ন হওয়া উচিত অন্যকে কীভাবে পরাজিত করা যায়, তা নয়; বরং কীভাবে আমরা সবাই একসঙ্গে সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারি, তা।”

    সমাজের প্রতি তাঁর আহ্বান, মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে এমন বিষয়গুলির পরিবর্তে যে বিষয়গুলি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে, সেগুলিতে গুরুত্ব দিতে হবে।

    ভাগবত বলেন, “যে বিষয়গুলি আমাদের বিভক্ত করে, তার পরিবর্তে যে বিষয়গুলি আমাদের ঐক্যবদ্ধ করে, সেগুলির উপর গুরুত্ব দিন (RSS)।”

    ব্রিটিশ হিন্দুদের আনুগত্য নিয়ে ভাগবতের বক্তব্য

    ব্রিটেনে বসবাসকারী হিন্দুদের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য রাখেন ভাগবত। তাঁর মতে, একজন মানুষ যে দেশে বসবাস ও কাজ করেন, সেই দেশের প্রতি তাঁর আনুগত্য থাকা স্বাভাবিক।

    তিনি বলেন, “এখানে কোনও সংঘাত নেই। যদি কখনও এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তাহলে এটা স্পষ্ট যে ব্রিটিশ হিন্দু ব্রিটেনের পক্ষেই থাকবে।”

    এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আপনার কর্মভূমি যেখানে, আপনার আনুগত্যও সেখানে; আর জন্মভূমি সেই জায়গা, যেখানে আপনি আপনার মূল্যবোধ পেয়েছেন।”

    তরুণ প্রজন্ম নিয়ে আশাবাদী ভাগবত

    ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রসঙ্গেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ভাগবত। তাঁর মতে, সমাজকে আরও ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার তাগিদ তরুণদের মধ্যে রয়েছে এবং সেই কারণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর তাঁর আস্থা ক্রমশ বাড়ছে।

    তিনি বলেন, “আমি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর আরও বেশি আস্থা রাখি, কারণ এই পৃথিবীকে আরও ভালো জায়গায় পরিণত করার তাগিদ তাদের মধ্যে রয়েছে। তাদের লক্ষ্য দিন, পদ্ধতি নয়। তারা দ্রুত সর্বজনীন নৈতিকতা ও সমৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করবে।”

    সমাজের সেবা করতে হলে সেই কাজে এগিয়ে আসার মানসিকতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি (Mohan Bhagwat)। তাঁর মতে, তরুণ প্রজন্ম সামাজিক বিভাজন অতিক্রম করে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে সক্ষম।

    রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে বিদেশে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বর্তমানে ব্রিটেনে রয়েছেন ভাগবত। আজ, ৭ সেপ্টেম্বরই শেষ হবে তাঁর (Mohan Bhagwat) লন্ডন সফর।

  • Swaminarayan Temple: ‘নয়া উচ্চতায় ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক’, প্যারিসের স্বামীনারায়ণ মন্দির উদ্বোধনে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    Swaminarayan Temple: ‘নয়া উচ্চতায় ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক’, প্যারিসের স্বামীনারায়ণ মন্দির উদ্বোধনে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ফ্রান্সের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়া উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব দুই দেশের জন্যই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ (Swaminarayan Temple)।

    রবিবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্যারিসে স্বামীনারায়ণ মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্যারিসের এই নতুন মন্দির দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দাঁড়িয়ে থাকবে।

    ভারত ও ফ্রান্সের সম্পর্ক (Swaminarayan Temple)

    তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত ও ফ্রান্সের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আমার বন্ধু রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল মাক্রঁর সঙ্গে আমরা দুই দেশ মিলে একটি বিশেষ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছি।”

    প্রযুক্তি, এআই, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত ও ফ্রান্স নতুন গতি ও শক্তি নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে চলেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৬ সালকে দুই দেশ উদ্ভাবনের ভারত-ফ্রান্স বর্ষ হিসেবে উদযাপন করছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আমাদের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।”

    ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়েও বর্তমানে ব্যাপক আলোচনা চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্রান্সে ভারতীয় সেনাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস আজও সেখানকার মানুষের হৃদয়ে জীবন্ত (Swaminarayan Temple)। ফরাসি পণ্ডিতদের সংস্কৃত জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। রোমাঁ রোলাঁর রামকৃষ্ণ পরমহংস ও স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে লেখা দুই দেশের সমাজকে আরও কাছাকাছি এনেছিল বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

    ‘মা’-এর আধ্যাত্মিক যাত্রা

    তিনি আরও বলেন, প্যারিস থেকে পুদুচেরির শ্রীঅরবিন্দ আশ্রম পর্যন্ত ‘মা’-এর আধ্যাত্মিক যাত্রা অসংখ্য ভারতীয় ও ফরাসি সাধক-অনুসন্ধানীকে অনুপ্রাণিত করেছে। কয়েক দশক আগে শ্রীল প্রভুপাদ স্বামীও ফ্রান্স সফর করেছিলেন। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের মাধ্যমে তাঁর সেই সফর ভারত ও ফ্রান্সের আধ্যাত্মিক যোগাযোগে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল বলে জানান মোদি।

    যোগও দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হয়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে আইফেল টাওয়ারের সামনে যোগচর্চার ছবি ফ্রান্সে যোগের বিপুল জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    প্যারিসের স্বামীনারায়ণ মন্দিরকে ভারত ও ফ্রান্সের যৌথ সাংস্কৃতিক সম্পর্কের নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই মন্দির ভারতে নির্মিত এবং ফ্রান্সে প্রতিষ্ঠিত। এর বহু পাথর ভারতে খোদাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের প্রাচীন কারুশিল্পের সঙ্গে ফ্রান্সের আধুনিক প্রযুক্তির এক সুন্দর সমন্বয় ঘটেছে।”

    ভারতীয় সংস্কৃতির মূল্যবোধের বার্তা

    নবনির্মিত এই মন্দির থেকে ভারতীয় সংস্কৃতির যে মূল্যবোধের বার্তা ছড়িয়ে পড়বে, তা সমগ্র ইউরোপের মানুষের উপকারে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। ভবিষ্যতে সময়-সুযোগ হলে তিনি নিজে মন্দিরটি পরিদর্শন করে শ্রদ্ধা জানাবেন বলেও জানান মোদি।

    তিনি বলেন, “এই মহিমান্বিত বিএপিএস মন্দিরের মাধ্যমে আমাদের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক যুক্ত হল।”

    স্বামীনারায়ণ মন্দিরগুলি বরাবরই ভক্তির পাশাপাশি সমাজসেবার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্যারিসের মন্দিরটিও একইভাবে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক প্রকল্পের কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে বিএপিএসের মন্দির প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের প্রাচীন চিন্তাধারা ও মানবিক মূল্যবোধও সেখানে পৌঁছে যায় (Swaminarayan Temple)।

    প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “আজ ফ্রান্সে একটি মহিমান্বিত মন্দির প্রস্তুত হয়েছে। এটি শুধু ফ্রান্সের বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করবে না, ভারত ও ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককেও নতুন শক্তি দেবে।”

     

  • BLA: বালুচিস্তানে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ২৫ পাক সেনা নিহতের দাবি বিএলএ-র, পাল্টা অভিযানে ৫০ ‘জঙ্গি’ নিহতের দাবি ইসলামাবাদের

    BLA: বালুচিস্তানে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ২৫ পাক সেনা নিহতের দাবি বিএলএ-র, পাল্টা অভিযানে ৫০ ‘জঙ্গি’ নিহতের দাবি ইসলামাবাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বালুচিস্তানে ফের বড় ধরনের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল পাক সেনা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (BLA)। সংগঠনের দাবি, পৃথক দু’টি হামলায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অন্তত ২৫ জন সদস্য নিহত (Pakistani Soldiers Killed) হয়েছেন। এর মধ্যে জিয়ারত ক্রস এলাকায় সামরিক কনভয়ে হামলা চালিয়ে ১৮ জনকে হত্যার দাবি করেছে বিএলএ। এদিকে, হাজিকা এলাকায় আরও একটি হামলায় সাত পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর দ্রুত পাল্টা অভিযান শুরু করে পাক সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, বালুচিস্তানের মাস্তুং, সিবি, কোয়েটা ও কালাত জেলার বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গিদের ঘাঁটিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বিএলএ এবং তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-এর সদস্য রয়েছে বলে দাবি করেছে পাক সামরিক বাহিনী। ফলে দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বালুচিস্তানে নতুন করে নিরাপত্তা সংকট তীব্র হয়েছে।

    সশস্ত্র তৎপরতা আরও জোরদার করেছে বিএলএ (BLA)

    গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তানি সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র তৎপরতা আরও জোরদার করেছে বিএলএ। সংগঠনটির দাবি, তাদের ‘ফাতেহ স্কোয়াডে’র সদস্যরা জিয়ারত ক্রস এলাকায় একটি সামরিক কনভয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলায় দু’টি সামরিক যান ধ্বংস করা হয় এবং ১৮ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। আরও পাঁচ সেনা আহত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে পেরেছে বলেও জানিয়েছে বিএলএ।

    এই হামলার মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের চালানো সবচেয়ে বড় এবং দুঃসাহসিক হামলাগুলির একটি সামনে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। হামলার পর বিএলএর নিজস্ব গণমাধ্যম শাখা ‘হাক্কাল’ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে বিস্ফোরণ, গুলির শব্দ এবং আগুনে জ্বলতে থাকা একটি সামরিক ট্রাকের দৃশ্য দেখা গিয়েছে। ভিডিওর কয়েকটি দৃশ্যে সশস্ত্র যোদ্ধাদের সামরিক যানগুলির কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাক থেকে অস্ত্র সরিয়ে নিতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    আলোচনায় বিএলএর ফাতেহ স্কোয়াড এবং এসটিওএস

    জিয়ারত ক্রসের হামলার পর ফের আলোচনায় এসেছে বিএলএর বিশেষ যুদ্ধ ইউনিট ‘ফাতেহ স্কোয়াড’। বালুচিস্তানের দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় এই বাহিনী মূলত গেরিলা কৌশল, অতর্কিত হামলা এবং হাইরিস্কের সামরিক অভিযানে সক্রিয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    এর আগেও বড় হামলায় এই ইউনিটের নাম সামনে এসেছিল। ২০২৫ সালের মার্চে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ রেল পরিষেবা জাফর এক্সপ্রেস ছিনতাইয়ের ঘটনায় ফাতেহ স্কোয়াড জড়িত ছিল বলে দাবি করেছিল বিএলএ। ওই ঘটনায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল।

    অন্যদিকে হাজিকা এলাকায় পৃথক হামলায় বিএলএ দাবি করেছে, তাদের ‘স্পেশাল ট্যাকটিক্যাল অপারেশনস স্কোয়াড’ (STOS) একটি দূর-নিয়ন্ত্রিত যান ব্যবহার করে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে সাত পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন বলে সংগঠনটির দাবি। যদিও এই দাবিরও সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    পাকিস্তানি সেনাবাহিনী হামলাগুলির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে পাকিস্তানি সেনা সদস্যদের মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দৃশ্য দেখা গিয়েছে বলে সাংবাদিকদের পোস্টে দাবি করা হয়েছে। এই সব ভিডিওর সত্যতা এবং প্রেক্ষাপটও যাচাই করা যায়নি।

    ফের সামনে ‘অপারেশন হেরোফে’র স্মৃতি

    বালুচিস্তানে সাম্প্রতিক হিংসতার মাত্রা পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত মাসে বিএলএ দাবি করেছিল, পাকিস্তানি বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন এলাকায় তারা ৩৬টি অভিযান চালিয়েছে এবং এসব অভিযানে ৩৩ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন। এসব পরিসংখ্যানও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ২০২৪ সালে বিএলএর চালানো ‘অপারেশন হেরোফে’র কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছে। ওই অভিযানে বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ পরিকাঠামোকে টার্গেট করেছিল। করাচি-কোয়েটা সড়কের বিভিন্ন অংশে হামলার পাশাপাশি মাস্তুংয়ের একটি রেলস্টেশনেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। ওই অভিযানে ২৫ জনেরও বেশি পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং প্রচুর সেনাকর্মী জখম হওয়ার কথা জানিয়েছিল বিএলএ।

    পাল্টা অভিযানে পাকিস্তানের জবাব

    বিএলএর সাম্প্রতিক হামলার পর দ্রুত পাল্টা অভিযান চালায় পাক সেনা (Pakistani Soldiers Killed)। সেনাবাহিনীর দাবি, বালুচিস্তানের একাধিক জেলায় জঙ্গিদের আস্তানা লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। এতে প্রায় ৫০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তাদের বক্তব্য, নিহতদের মধ্যে বিএলএ (BLA) সদস্যদের পাশাপাশি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন টিটিপির সদস্যও রয়েছে। ফলে বালুচিস্তানের সংঘাত শুধু বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর জঙ্গিবাদ ও নিরাপত্তা সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গিয়েছে।

    বালুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলন চলছে। বালুচ সংগঠনগুলির অভিযোগ, ওই প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আকছার মানবাধিকার লঙ্ঘন, জোরপূর্বক গুম এবং রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটছে। পাকিস্তান সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে।

    আফগানিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত ভাগ করে নেওয়া বালুচিস্তান ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক (BLA) থেকেও পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরে স্বায়ত্তশাসন থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ স্বাধীনতার দাবিতে বিভিন্ন বালুচ সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে আসছে।

    বিএলএ-সহ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির সাম্প্রতিক তৎপরতা এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পাল্টা অভিযান সেই পুরনো সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে। দু’পক্ষের হতাহতের দাবি যদি আরও বড় আকার নেয়, তাহলে বালুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে সড়ক, রেলপথ ও সামরিক কনভয়কে লক্ষ্য করে হামলা বাড়লে ঝুঁকির মুখে (Pakistani Soldiers Killed) পড়তে পারে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও (BLA)।

     

  • Nepal Floods Rescue Operation: অলৌকিক অভিযান! ভয়াবহ বন্যার নয়দিন পর, নেপালের ত্রিশূলী-৩এ সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার দুই কর্মী

    Nepal Floods Rescue Operation: অলৌকিক অভিযান! ভয়াবহ বন্যার নয়দিন পর, নেপালের ত্রিশূলী-৩এ সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার দুই কর্মী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের ভয়াবহ বন্যার (Nepal Floods Rescue Operation) ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মিলল আশার আলো। ভয়াবহ বন্যার নয় দিন পর নেপালের রাসুয়া জেলার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ (Trishuli 3A tunnel in Nepal) থেকে জীবিত উদ্ধার হলেন দুই কর্মী। শুক্রবার উদ্ধারকাজের সময় তাঁদের সন্ধান মেলে। জীবিত অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার ঘিরে সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা আরও কর্মীদের বেঁচে থাকার আশা জোরালো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দুই কর্মী হলেন কাঠমান্ডুর বাসিন্দা ৪৫ বছরের কবীর মহার্জন এবং সপ্তরী জেলার ৩০ বছরের সঞ্জয় সাহ। কবীর আপার ত্রিশূলী-৩এ-এর হাইড্রোপাওয়ার অটোমেশন প্রকল্পের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করতেন। সঞ্জয় ছিলেন ফোরম্যান।

    মনের জোরেই উদ্ধার

    নেপালের জ্বালানি, জলসম্পদ ও সেচমন্ত্রীর সচিবালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, দু’জনকেই উদ্ধার করার পর বিমানপথে কাঠমান্ডু নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার প্রথমে সঞ্জয়কে উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা হয় কবীরকে। এর আগে সুড়ঙ্গের ভিতর থেকে মানুষের আওয়াজ শুনতে পান উদ্ধারকারীরা। এরপর ভিতরে আটকে থাকা কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগও স্থাপন করা সম্ভব হয়। তাঁদের আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য বারবার আশ্বস্ত করেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। নেপাল সেনা ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা এরপর আরও জোরদার করেন উদ্ধার অভিযান। শেষ পর্যন্ত সেই অভিযানেই মিলল সাফল্য। ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যা ও ধসের পর কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষে টানেলের মুখ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ১৭০ মিটার গভীরে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে দিন-রাত অভিযান চালায় নেপাল সেনা, প্রযুক্তিবিদ এবং উদ্ধারকারী দল। শেষ পর্যন্ত জীবিত অবস্থায় তাঁদের বের করে আনা হয়েছে।

    মৃতের সংখ্যা ১২০০ ছাড়িয়েছে

    গত ২৬ আগস্ট ত্রিশূলী নদীর উপত্যকা দিয়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা বা ফ্ল্যাশ ফ্লাড বয়ে যায়। প্রবল জলের তোড়ে নদী করিডরের বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই বিপর্যয়ে অন্তত ১,২৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫,০৫৩ জন এখনও নিখোঁজ। বন্যার পর থেকেই নেপালি সেনা, সশস্ত্র পুলিশ এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

    চলছে সুড়ঙ্গ ড্রিলিং ও হোলিংয়ের কাজ

    বন্যার ভয়াবহ প্রভাব পড়ে ৬০ মেগাওয়াটের আপার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেও। প্রকল্পের সুড়ঙ্গ ও অন্যান্য পরিকাঠামোয় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এরপর থেকেই সুড়ঙ্গ ও বিভিন্ন স্থাপনার ভিতরে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। উদ্ধার অভিযানে নেপাল সেনা ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি চিনা বিশেষজ্ঞরাও যুক্ত রয়েছেন। পাঁচটি এক্সক্যাভেটর, কম্প্রেসর ও ব্রেকার ব্যবহার করে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ পরিষ্কার করার কাজ চলছে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে সুড়ঙ্গ ড্রিলিং ও হোলিংয়ের কাজ। সুড়ঙ্গের বিভিন্ন অংশে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে থাকা বাকিদের সন্ধান চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকারী দলের কাছে আরও কয়েকজন শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকার তথ্য রয়েছে বলেও জানিয়েছেন নিউপানে। ফলে প্রতিটি অংশ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

    সুড়ঙ্গের ভিতরে বড় পাথর সরাতেই সাফল্য

    উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের ভিতরে একটি বড় পাথরও দেখতে পান। সেটি সরাতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করা হয়, যাতে আরও ভিতরে পৌঁছে আটকে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধান করা যায়। এদিকে, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থাগুলির সংগঠন ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত প্রায় ৯৪৫ জনের এখনও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। দুই কর্মীকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় তাই নতুন করে আশার আলো দেখছেন উদ্ধারকারীরা। সুড়ঙ্গের ভিতরে আরও কেউ আটকে থাকলে তাঁদেরও দ্রুত জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হবে—এখন সেই লক্ষ্যেই জোরকদমে চলছে অভিযান।

    এভাবেও ফিরে আসা যায়!

    ভূগোলের দৃষ্টিতে এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে টানেলের ভিতরে তৈরি হওয়া বদ্ধ বায়ুস্তর বা ‘এয়ার পকেট’। বাইরে থেকে বিপুল পরিমাণ জল, কাদা ও পলি ঢুকে টানেলের একাধিক অংশ বন্ধ করে দিলেও সব জায়গা যে একইভাবে জলে পূর্ণ হয়ে যাবে, এমন নয়। কোনও অংশ তুলনামূলকভাবে শুকনো থাকলে সেখানে আটকে থাকা মানুষের জন্য সীমিত পরিমাণে শ্বাস নেওয়ার বাতাসের জায়গা তৈরি হতে পারে। ভূ-প্রাকৃতিক দিক থেকেও ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। হিমালয়ের নদীখাত অত্যন্ত খাড়া হওয়ায় আকস্মিক বন্যার সময় জলের সঙ্গে পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের প্রবাহের গতি এবং ধ্বংসক্ষমতা অনেক বেশি হয়। ফলে টানেলের মুখের সামনে ৪০ মিটার দীর্ঘ ও প্রায় ২০ মিটার উচ্চতার ধ্বংসস্তূপ জমে যাওয়ায় উদ্ধারকারীদের প্রথম কাজ হয়ে দাঁড়ায় প্রবেশপথ তৈরি করা। রিপোর্ট অনুযায়ী, উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্যেই টানেলের ভিতরে ঢুকেছিল এবং আরও গভীরে পৌঁছনোর জন্য বোল্ডার সরানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। অবশেষে মিলল সাফল্য।

    উদ্ধার অভিযানে পাশে ভারত

    নেপালের চিলিমে ও লাংটাং এলাকার জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির সুড়ঙ্গে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালাল ভারতের উদ্ধারকারী দল। নেপালি সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথ ভাবে কাজ করছে তারা। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “চিলিম জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুরঙ্গে অবস্থান নেওয়ার পর ভারতীয় সুরঙ্গ উদ্ধারকারী দলকে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। অত্যন্ত সংকীর্ণ ও অপ্রশস্ত স্থান, দুর্গম ভৌগোলিক গঠনের কারণে বিশেষ সরঞ্জামের ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা এবং সুরঙ্গের ভেতরের কর্দমাক্ত মেঝের কারণে অনুসন্ধান প্রক্রিয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। উদ্ভাবনী কৌশল এবং তৈরি করা বিশেষ ভেলায় ভর দিয়ে দলটি সুরঙ্গের আরও গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। ভেতরে কেউ আটকে থাকলে তাকে উদ্ধারে দলটির প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

  • Jaishankar-Zelensky Meet: ‘১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি চাহিদা উপেক্ষা করা যায় না’ রুশ তেল কেনা নিয়ে জেলেনস্কিকে জবাব জয়শঙ্করের

    Jaishankar-Zelensky Meet: ‘১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি চাহিদা উপেক্ষা করা যায় না’ রুশ তেল কেনা নিয়ে জেলেনস্কিকে জবাব জয়শঙ্করের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে ইউক্রেনের উদ্বেগের জবাব দিল নয়াদিল্লি। ইউক্রেন সফরে গিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (Jaishankar-Zelensky Meet) স্পষ্ট করে জানালেন, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি কোনওভাবেই উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শুধুমাত্র বাণিজ্য ও জ্বালানি সম্পর্কের উপর চাপ তৈরি করে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধান সম্ভব নয়। বৃহস্পতিবার কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি এবং বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহার (Andrii Sybiha) সঙ্গে বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। বৈঠকে মূলত যুদ্ধের অবসান, শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা এবং ভারত-ইউক্রেন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান, দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের (Russia Ukraine War) অবসান ঘটাতে ভারত সব ধরনের সাহায্য করতে প্রস্তুত।

    রুশ তেল কেনে ভারত, ব্যাখ্যা জয়শঙ্করের

    রাশিয়া থেকে ভারতের অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে ইউক্রেনের উদ্বেগের প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, ভারতের সামনে রয়েছে বিপুল জ্বালানি চাহিদা। প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের দেশে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘‘১৪০ কোটি মানুষের জন্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন গোটা বিশ্বের জ্বালানি পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন।’’ ইউক্রেনের অবস্থান ভারত বুঝতে পারছে বলেও জানান বিদেশমন্ত্রী। তবে একই সঙ্গে ভারতের নিজস্ব স্বার্থ ও উদ্বেগগুলিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেন তিনি।

    ‘তেল কেনা বন্ধ করলেই যুদ্ধ শেষ হবে না’

    জয়শঙ্করের বক্তব্যে স্পষ্ট, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে যুদ্ধের সমাধানের সঙ্গে এক করে দেখতে নারাজ নয়াদিল্লি। তাঁর কথায়, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের অবসান শুধুমাত্র কেউ তেল, অ্যালুমিনা, খনিজ, ধাতু বা সার কিনছে কি না—তার উপর নির্ভর করবে না। বিদেশমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই সংঘাত ইতিমধ্যেই পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে। তাই অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুদ্ধের সমাধান হবে—এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই।’’রুশ তেল কেনা নিয়ে ইউক্রেনের আপত্তির মধ্যেই জয়শঙ্করের এই বক্তব্য ফের স্পষ্ট করে দিল—রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান স্বাধীন এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই নয়াদিল্লি তার বিদেশনীতি পরিচালনা করবে।

    আলোচনাই সমাধানের পথ, বার্তা ভারতের

    ভারতের (India Ukraine Relation) দীর্ঘদিনের অবস্থান ফের তুলে ধরে জয়শঙ্কর বলেন, যুদ্ধের পরিবর্তে আলোচনা, কূটনীতি এবং আলোচনার মাধ্যমেই স্থায়ী সমাধানের পথে এগোতে হবে। তিনি বলেন, ‘‘এই সংঘাতের সমাধান হবে আলোচনা, কূটনীতি এবং আলোচনার মাধ্যমেই। আর সেই কারণেই আমরা এই পথকে উৎসাহিত করতে চাই।’’ অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে সামরিক শক্তির পরিবর্তে কূটনৈতিক আলোচনাকেই ভারত সমাধানের প্রধান পথ হিসেবে দেখছে। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির দিকে ইঙ্গিত দিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যেদিন আলোচনার আশা জাগালেন, ঠিক সেই দিনেই দিল্লির এই অবস্থান বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।

    যুদ্ধ নয়, শান্তিই একমাত্র নীতি ভারতের

    বৈঠক শেষে জয়শঙ্কর বলেন, “ভারত শুরু থেকেই বলে আসছে যে এটি যুদ্ধের যুগ নয় এবং যুদ্ধক্ষেত্র থেকে স্থায়ী কোনও সমাধান বেরিয়ে আসবে না।” সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে বিশকেকে পুতিনের মুখোমুখি হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে শান্তির বার্তা দিয়েছিলেন, সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিদেশমন্ত্রী বলেন, “সংঘাতের প্রতিটি দিন মানেই আরও মানুষের মৃত্যু এবং বিপুল ধ্বংসযজ্ঞ। স্বাভাবিকভাবেই, সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষকেই নিজেদের মধ্যে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে; তবে সেই প্রক্রিয়ায় ভারত যদি কোনোভাবে সহায়তা করতে পারে, আমরা তার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।” রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ অবসান করার বার্তা দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দ্রুত ওই যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার পক্ষেও সওয়াল করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। আর, বৃহস্পতিবারই প্রায় সাড়ে ৫ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। ইউক্রেনের সঙ্গে চলা যুদ্ধের অবসানের জন্য শান্তি চুক্তির সম্ভবনা আছে বলেও জানিয়েছেন পুতিন।

    ভারতকে ধন্যবাদ জেলেনস্কির

    এদিকে জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের পর ভারতের শান্তি প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে ভারতের প্রতিশ্রুতির জন্য ইউক্রেন কৃতজ্ঞ। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এটি যুদ্ধের সময় নয়। শান্তি প্রয়োজন। এটাই ভারতের স্পষ্ট অবস্থান।’’ একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংঘাত থামিয়ে বিশ্বজুড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে অন্য দেশগুলিও ভারতের মতো এমন স্পষ্ট ও গঠনমূলক ভূমিকা গ্রহণ করবে। তবে জয়শঙ্করের কিয়েভ সফরের সময় রাশিয়ার হামলা নিয়েও দাবি করেন জেলেনস্কি। তাঁর অভিযোগ, ভারতীয় প্রতিনিধিদল কিয়েভে থাকাকালীন রাশিয়া জেট-চালিত শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালায়। যদিও ইউক্রেনের দাবি, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ড্রোনকে আটকে দেয় এবং ভারতীয় প্রতিনিধিদল নিরাপদেই ছিল।

    ভারত-ইউক্রেন দ্বিপাক্ষিক সহায়তা

    যুদ্ধ থামানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে ভারত ও ইউক্রেনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়েও বিস্তারিত কথা হয়। দুই দেশের প্রতিনিধিরা ওষুধ, খাদ্য, কৃষি, সার, ভারী যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক ও ভোগ্যপণ্যের বাণিজ্যে সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছেন। কূটনীতি ও ব্যবসার এই মেলবন্ধন প্রমাণ করে যে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও ইউক্রেনের সাথে ভারতের সামগ্রিক যোগাযোগের সমীকরণ আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।

  • Pakistan Electricity Crisis: একটানা ১৬-২৪ ঘণ্টা লোডশেডিং! দামি এলএনজি কেনার ক্ষমতা নেই, পাকিস্তানে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট

    Pakistan Electricity Crisis: একটানা ১৬-২৪ ঘণ্টা লোডশেডিং! দামি এলএনজি কেনার ক্ষমতা নেই, পাকিস্তানে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে বিদ্যুৎ সংকট (Pakistan Electricity Crisis) আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলা সংঘাতের জেরে কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ (Blackouts) ব্যাহত হওয়ার পর বিকল্প হিসেবে জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস কিনতে চেয়েছিল ইসলামাবাদ। কিন্তু বাজারদর অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় সেই উদ্যোগও আপাতত থমকে গিয়েছে। যার মাশুল গুণতে হচ্ছে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষকে।

    দরপত্রটি বাতিল (Pakistan Electricity Crisis)

    জানা গিয়েছে, পাকিস্তান একটি জরুরি চালানের জন্য মাত্র একটি প্রস্তাবই পেয়েছিল। ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম সংস্থাটি প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিটের জন্য ২৭ ডলার দর দেয়। সংঘাত শুরুর আগের বাজারদরের তুলনায় এই দাম প্রায় তিন গুণ। ফলে পাকিস্তান রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পাকিস্তান এলএনজি লিমিটেড ৮ সেপ্টেম্বর সরবরাহের কথা থাকা জরুরি দরপত্রটি বাতিল করেছে। তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হতে পারে। বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত না হলে সন্ধ্যার পর পাকিস্তানে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে। দিনের বেলায় সৌরবিদ্যুৎ কিছুটা ঘাটতি সামাল দিলেও, সূর্য ডোবার পর বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে গ্যাস ও অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর নির্ভর করতে হয়। এলএনজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় সেই ব্যবস্থাই এখন বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে।

    কাতার থেকে গ্যাস সরবরাহে বড় ধাক্কা

    ইরানকে ঘিরে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থায়। পাকিস্তানের প্রধান এলএনজি সরবরাহকারী কাতার থেকে জ্বালানি আনা ব্যাহত হওয়ায় দেশটির বিদ্যুৎ খাত বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।

    কাতার চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, অনিয়ন্ত্রিত ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা পরিস্থিতির কারণে চুক্তিবদ্ধ সরবরাহ স্থগিত রাখার আইনি সুযোগ আরও বাড়ানো হয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য এই স্থগিতাদেশ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে।

    জুলাইয়ের শুরুতে কাতারের একটি এলএনজিবাহী জাহাজে হামলার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহণ কার্যত ব্যাপকভাবে কমে যায়। ফলে পাকিস্তানকে বিকল্প হিসেবে খোলা বাজার থেকে এলএনজি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। কিন্তু সংঘাতের পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় সেই বিকল্পও এখন অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে (Pakistan Electricity Crisis)।

    সন্ধ্যার পরই সবচেয়ে বড় সমস্যা

    পাকিস্তানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার একটি পুরোনো দুর্বলতাও এই সংকটে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জ্বালানি খাত নিয়ে কাজ করা ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিসিসের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চাহিদার ব্যবধান পূরণে এলএনজির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে সূর্যাস্তের পর সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেলে এই নির্ভরতা আরও বাড়ে।

    সংকটের প্রভাব ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের জীবনে স্পষ্ট। করাচির বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা ১৬ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ করেছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলি বলছে, দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষের কাজ, পড়াশোনা, দৈনন্দিন গৃহস্থালির কার্যক্রম এবং পানির সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে।

    শুধু করাচি নয়, লাহোরসহ পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকাতেও দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে। দেশটির জাতীয় বিদ্যুৎ ঘাটতি ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গিয়েছে।

    বিদ্যুতের দামও বাড়ছে

    জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ গ্রাহকের ওপর। পাকিস্তানের জাতীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থা জুন মাসের জ্বালানি ব্যয় সমন্বয়ের আওতায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম আরও শূন্য দশমিক ৭৫ পাকিস্তানি রুপি বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। ফলে একদিকে দীর্ঘ লোডশেডিং, অন্যদিকে বাড়তি বিদ্যুৎ বিল—দুই দিক থেকেই চাপের মুখে পড়েছেন গ্রাহকেরা।

    তেল আমদানি ও প্রবাসী আয় নিয়েও উদ্বেগ

    মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে পাকিস্তানের জন্য সমস্যা শুধু বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। জ্বালানি আমদানির ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রার উৎস প্রবাসী আয়ও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

    রাষ্ট্রসংঘের উন্নয়ন সমন্বয় কার্যালয়ের একটি প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সৌদি আরব থেকে পাকিস্তানে প্রায় ৯৪০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রবাসী আয়) এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও এসেছে প্রায় ৭৮৩ কোটি মার্কিন ডলার।

    ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা হলে পাকিস্তান একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানির বাড়তি ব্যয় এবং প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার চাপের মুখে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে (Blackouts) দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার মজুত, অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর আরও বড় চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের (Pakistan Electricity Crisis)।

     

  • Sheikh Hasina: ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফিরতে চান হাসিনা, তারেকের দিল্লি সফরের সঙ্গে প্রত্যর্পণ জুড়ে দেওয়ায় তুললেন প্রশ্নও

    Sheikh Hasina: ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফিরতে চান হাসিনা, তারেকের দিল্লি সফরের সঙ্গে প্রত্যর্পণ জুড়ে দেওয়ায় তুললেন প্রশ্নও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামি লিগ সভাপতি শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) জানিয়েছেন, তিনি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নিজের দেশে ফিরতে চান। তাঁর প্রত্যাবর্তনকে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফরের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমে দেওয়া প্রথম টেলিফোন সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন, কোনও প্রত্যর্পণ চুক্তির শর্তে নয়, তিনি নিজের ইচ্ছাতেই দেশে ফিরতে চান। ২০২৪ সালের অগাস্টে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে আন্দোলনের পর তাঁর সরকারের পতন ঘটে। এরপর থেকেই হাসিনা ভারতে রয়েছেন। দীর্ঘদিন পর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, দেশে ফেরার ইচ্ছা, বিএনপি সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন।

    হাসিনার সাফ কথা (Sheikh Hasina)

    হাসিনা বলেন, তাঁর দেশে ফেরার ইচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনও কারণ নেই। তাঁর কথায়, “আমি আমার নিজের দেশে ফিরে যাচ্ছি। তিনি কেন এতে আপত্তি করছেন, তা আমি বুঝতে পারছি না। তারা প্রত্যর্পণ চুক্তির কথা বলছে। আমি নিজের ইচ্ছায় নিজের দেশে ফিরে যেতে চাই। আমি ফিরে যাব। আমি কি সারা জীবন বিদেশে থাকতে পারি? আমাকে আমার দেশে, আমার নিজের মানুষের কাছে ফিরতেই হবে।”

    হাসিনার উপস্থিতি সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নয়াদিল্লি থেকে ৫ অগাস্ট তাঁর ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই সময় বাংলাদেশ ও ভারত তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফর নিয়ে আলোচনা করছিল। কিন্তু হাসিনার ওই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন পুরো প্রক্রিয়াটিকে প্রভাবিত করেছে বলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

    এমনকি তারেকের ভারত সফরের সঙ্গে হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টিকেও শর্ত হিসেবে সামনে আনা হয়েছিল। ভারত ইতিমধ্যেই তারেককে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এর পাশাপাশি আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের বিশেষ যোগাযোগমূলক অধিবেশনেও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে এই দুই আমন্ত্রণের বিষয়ে ঢাকা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

    বিএনপি সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন

    হাসিনা অবশ্য বিএনপি সরকারের এই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিএনপি সরকার ভারতে বসে তাঁর ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের বিরোধিতা করলেও অতীতে তারেক নিজেই লন্ডনে থাকাকালীন বিএনপির বিভিন্ন ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ব্রিটেনে বসবাসের সময় রাজনীতিতে অংশ নেবেন না বলে অঙ্গীকার করার পরেও, তারেক বিএনপির ভার্চুয়াল রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন। ফলে তাঁর মতে, বর্তমান অবস্থান এবং অতীতের বক্তব্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে।

    বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন হাসিনা। তাঁর দাবি, সত্য কথা বলার কারণে দুই দেশের সম্পর্ক নষ্ট হয় না। বরং গণতন্ত্র ধ্বংস হলে, উগ্রপন্থার উত্থান ঘটলে, সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়লে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কাজে ব্যবহার করা হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষতি হয় (Sheikh Hasina)।

    সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণ

    হাসিনা বলেন, “সত্যের কারণে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। গণতন্ত্র ধ্বংস হলে, উগ্রপন্থার উত্থানের সুযোগ দেওয়া হলে, সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীন বোধ করলে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়লে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য ব্যবহার করা হলে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

    বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হাসিনা। তাঁর বক্তব্য, দেশে যখন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে, সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির চাপে রয়েছেন, তখন বিপুল অর্থ ব্যয় করে যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক (Tarique Rahman)।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিনের কাছ থেকে যুদ্ধবিমান কেনার জন্য প্রায় ২৩০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। এই সময়েই দেশের জ্বালানি সংকট এবং জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে এনে হাসিনা সরকারের অগ্রাধিকার নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।

    যুদ্ধবিমান কেনায় প্রশ্ন

    তিনি বলেন, “এমন কঠিন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিমান কেনার জন্য এত অর্থ ব্যয়ের এই সিদ্ধান্ত কেন? সেটাই আমার প্রশ্ন। তবে এই প্রশ্ন আপনারা বিএনপি সরকারকেও করুন।”

    বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাসিনা। তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের করা সতর্কবার্তার প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে “আর একটি পাকিস্তানে” পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে (Sheikh Hasina)।

    হাসিনা আরও বলেন, “রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নজরদারি ব্যবস্থাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়েদা বাংলাদেশকে ব্যবহার করে সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পারে। স্থানীয় তদন্তেও একই ধরনের বিপদের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে (Sheikh Hasina)।”

    হাসিনার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন তাঁর দেশে ফেরা, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং তারেকের সম্ভাব্য ভারত সফর—এই তিনটি বিষয়ই আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁর প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির অবস্থানও ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    তবে হাসিনার বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—তিনি তাঁর দেশে ফেরার প্রশ্নটিকে কোনও রাজনৈতিক সমঝোতা বা অন্য কোনও নেতার বিদেশ সফরের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছেন না। তাঁর দাবি, দেশের মানুষের কাছে ফিরে যাওয়া তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত এবং সেই কারণেই তিনি ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন (Tarique Rahman)।

    হাসিনার বার্তা

    এদিকে, তাঁর এই বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে গণতন্ত্র, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা, উগ্রপন্থা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবহার এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার—এই সব প্রশ্নকে সামনে রেখে হাসিনা বর্তমান সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁর বক্তব্যে একটি বার্তা রয়েছে। সেটি হল, দুই দেশের সম্পর্কের স্থায়িত্ব কেবল কূটনৈতিক যোগাযোগের ওপর নির্ভর করে না, বরং গণতন্ত্র, নিরাপত্তা, সংখ্যালঘু অধিকার এবং পারস্পরিক আস্থার মতো বিষয়গুলিও তার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত (Sheikh Hasina)।

     

  • Nepal Flood: নেপালের বন্যায় মৃত্যু ১১০০ পার, এবার হিমালয়জুড়ে নতুন বিপদের আশঙ্কা! পঞ্চম বিমান পাঠাল ভারত

    Nepal Flood: নেপালের বন্যায় মৃত্যু ১১০০ পার, এবার হিমালয়জুড়ে নতুন বিপদের আশঙ্কা! পঞ্চম বিমান পাঠাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের ভয়াবহ ভোটেকোশি বন্যায় মৃত্যুমিছিল আরও দীর্ঘ হচ্ছে। বুধবার পর্যন্ত নেপাল পুলিশের হিসাব অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১২৭। নিখোঁজ প্রায় ৪ হাজার। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের পর শুধু নেপাল নয়, গোটা হিমালয়জুড়ে বাড়ছে হিমবাহ-উদ্ভূত বন্যা বা গ্লেসিয়াল ফ্লাডের আশঙ্কা। বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সতর্কবার্তা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমালয়ের হিমবাহ ও হিমবাহ-সংলগ্ন হ্রদগুলির অস্থিতিশীলতা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

    ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১৬ লক্ষ!

    প্রায় ১৬ লক্ষ মানুষ নেপালের ভয়াবহ ভোটেকোশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে প্রাথমিক পরিস্থিতি রিপোর্টে জানানো হয়েছে। নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান, গোরখা, তানাহুন, নাওয়ালপরাসি ইস্ট ও নাওয়ালপরাসি ওয়েস্ট-সহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এমনকী ভারতের মাটিতেও ৯টি দেহ উদ্ধারের খবর মিলেছে। উদ্ধার হওয়া দেহগুলির মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র ৯৫টি দেহ শনাক্ত করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ফলে নিখোঁজদের সন্ধান এবং মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করা—দুই ক্ষেত্রেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে নেপাল প্রশাসন।

    হিমালয়জুড়ে বাড়ছে হিমবাহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

    নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয় নতুন করে সামনে এনেছে হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশের ঝুঁকি। রাষ্ট্রপুঞ্জের এক শীর্ষ আধিকারিক সতর্ক করেছেন, হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ হিমবাহ-উদ্ভূত বন্যার ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। এই ধরনের বিপর্যয়ের সম্ভাব্য শিকার হতে পারেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। ২০২০ সালে গবেষকরা নেপাল, চিন ও ভারতের হিমালয় অঞ্চলে ৪৭টি সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিমবাহ-হ্রদ চিহ্নিত করেছিলেন। তবে বর্তমানে সেই সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    হিমবাহ গলে তৈরি হওয়া জলাধার বা হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ জল নেমে আসতে পারে নিচের উপত্যকায়। এর ফলে নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে গিয়ে ভেসে যেতে পারে সেতু, রাস্তা, বসতি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতের বড় হিমবাহ-উদ্ভূত বন্যা নেপালের জলবিদ্যুৎ পরিকাঠামোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং নদীর তীরবর্তী বহু বসতিকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলতে পারে।

    চিনেও নতুন বিপদের সতর্কতা

    এদিকে চিনের তিব্বত অঞ্চলেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ছোচেন নদীর ক্রেটার সংলগ্ন বরফের গঠনগুলি এখনও ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে চিনা কর্তৃপক্ষ। সেগুলি ভেঙে গেলে ফের বড় ধরনের জলপ্রবাহ বা বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    তবে জিরং বন্দরের কাছে ভূমিধসের জেরে তৈরি হওয়া একটি ব্যারিয়ার লেক আপাতত স্বাভাবিকভাবে জল ছাড়ছে বলে খবর। বাধার বড় অংশ সরে যাওয়ায় হ্রদটির জলস্তর ও আয়তন কমেছে। শনিবার সকালে এর জলাধারের পৃষ্ঠের আয়তন প্রায় ৯৯ হাজার বর্গমিটার-এ নেমে এসেছে বলে জানা গিয়েছে।

    নেপাল থেকে বন্যার জল নেমে আসার পর ভারতের বিহারেও সতর্কতা জারি হয়েছে। বন্যার জলের সঙ্গে অচেনা প্রজাতির মাছ ভেসে আসায় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

    বিপর্যস্ত নেপালের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো

    বন্যার ধাক্কা পড়েছে নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাতেও। প্রায় ৪৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এর ফলে নেপালের জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিদ্যুৎ রফতানিতেও প্রভাব পড়তে পারে। একইসঙ্গে বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় এখনও বহু মানুষ আটকে রয়েছেন। প্রায় ৩০০ জন শ্রমিককে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানা গিয়েছে। পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং নতুন করে বন্যা বা ভূমিধসের আশঙ্কার কারণে উদ্ধার অভিযান আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

    ১০০ কোটি নেপালি টাকা ত্রাণে

    বিপর্যয় মোকাবিলায় নেপাল সরকার ১০০ কোটি নেপালি টাকা ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য বরাদ্দ করেছে। নিখোঁজ ও মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজও চলছে। এই কাজে নেপালকে সাহায্য করছে ভারতের একটি ১৯ সদস্যের ফরেনসিক দল। ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা নেপালি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করে ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করছেন। বিপুল সংখ্যক দেহ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    নেপালে পঞ্চম বিমান পাঠাল ভারত

    এদিকে, নেপালের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা আরও বাড়িয়েছে ভারত। বুধবার নেপালের উদ্দেশে পঞ্চম বিমান পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এই বিমানে রয়েছে ১১ সদস্যের বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল, উদ্ধারকাজে ব্যবহারের জন্য বিশেষ সরঞ্জাম এবং ৫.৫ টন অত্যাবশ্যক ওষুধ। জয়শঙ্কর জানান, নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা মোকাবিলায় চলমান উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযানে এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

    এর আগে ভারত নেপালে ৬৮ টনেরও বেশি জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কম্বল, স্লিপিং ব্যাগ, ভারী ত্রিপল, প্লাস্টিক শিট, স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী, ওষুধ, খাবারের প্যাকেট, সৌরবিদ্যুৎচালিত বাতি, জল পরিশোধন ট্যাবলেট এবং পোর্টেবল জেনারেটর। এখনও পর্যন্ত ১৬৩ জন ভারতীয়কে নেপাল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    ভারতের নদীতেও মিলছে বন্যার শিকারদের দেহ

    নেপালের বন্যার ভয়াবহতার প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের নদীগুলিতেও দেখা যাচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের গণ্ডক নদী থেকে উদ্ধার করা পাঁচ নেপালি বন্যার্তের দেহ নেপাল পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে প্রায় ৭৫ জন মার্কিন নাগরিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এই বিপর্যয়ের প্রভাব ছড়িয়েছে।

    শুধু নেপালের বিপর্যয় নয়, হিমালয়ের জন্য বড় সতর্কবার্তা

    নেপালের বর্তমান পরিস্থিতি তাই শুধুমাত্র একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটা ধরা পড়বে না। হিমবাহের দ্রুত পরিবর্তন, হিমবাহ-হ্রদের জল বৃদ্ধি, বরফ ও পাথরের স্তরের অস্থিতিশীলতা এবং পাহাড়ি নদীগুলির আকস্মিক জলপ্রবাহ—সব মিলিয়ে হিমালয় অঞ্চলে নতুন ধরনের জলবায়ুজনিত ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

    বিশেষ করে ভারত, নেপাল, ভুটান ও চিনের বিস্তীর্ণ হিমালয় অঞ্চলজুড়ে নদীর অববাহিকায় বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা বিপুল। ফলে একটি হিমবাহ-হ্রদের বাঁধ ভেঙে গেলে তার প্রভাব কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে বহু দূরে পৌঁছে যেতে পারে।

    নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয় সেই সম্ভাব্য ভবিষ্যতেরই একটি ভয়াবহ ছবি দেখাল। এখন নজর তাই শুধু উদ্ধার ও পুনর্বাসনে নয়—হিমবাহ পর্যবেক্ষণ, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং হিমালয়জুড়ে আন্তঃদেশীয় দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকাঠামো কত দ্রুত শক্তিশালী করা যায়, সেদিকেও।

LinkedIn
Share