Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Terrorism Arrest Warrant: টেলিগ্রামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদতের অভিযোগ, জারি আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা

    Terrorism Arrest Warrant: টেলিগ্রামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদতের অভিযোগ, জারি আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টেলিগ্রামের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের (Pavel Durov) বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে মদত দেওয়ার অভিযোগ এনেছে রাশিয়ার ফেডারেল নিরাপত্তা সংস্থা (এফএসবি)। একই সঙ্গে তাঁকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় তোলার প্রক্রিয়াও শুরু (Terrorism Arrest Warrant) হয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস। এফএসবি জানিয়েছে, টেলিগ্রাম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দুরভের বিরুদ্ধে রুশ ফৌজদারি আইনের ২০৫.১ ধারার ১.১ অংশে মামলা করা হয়েছে। ওই ধারাটি সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে সাহায্যেপ সঙ্গে সম্পর্কিত। তাসের প্রতিবেদনে এফএসবির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “টেলিগ্রাম প্রশাসনের প্রধান পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে তদন্তাধীন একটি ফৌজদারি মামলার অংশ হিসেবে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর গ্রেফতারির জন্য আন্তর্জাতিক পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।”

    স্পুটনিকের বক্তব্য (Terrorism Arrest Warrant)

    রুশ আইনজীবী ভ্লাদিমির ঝেরেবেনকভ জানিয়েছেন, দুরভের অনুপস্থিতিতেও তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে। প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে এটি একটি প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়া বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাসকে ঝেরেবেনকভ বলেন, “রাশিয়ায় কোনও ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণের জন্য এটি একটি প্রচলিত প্রক্রিয়া। রুশ আদালত কারও অনুপস্থিতিতেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এরপর রুশ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ওই ব্যক্তিকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়, যার মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থা বা ইন্টারপোলের মাধ্যমও রয়েছে। দুরভের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতে পারে।” আইনি প্রতিনিধির বক্তব্য দিয়ে রুশ সংবাদ সংস্থা স্পুটনিক জানিয়েছে, দুরভের বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি অভিযোগ প্রমাণিত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। এদিকে, এফএসবির তথ্য উদ্ধৃত করে স্পুটনিক দাবি করেছে, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি রাশিয়ার অভ্যন্তরে জঙ্গি হামলা এবং ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা সমন্বয়ের জন্য টেলিগ্রামের বিভিন্ন চ্যানেল, চ্যাট ও বট ব্যবহার করলেও, সেগুলি সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেনি টেলিগ্রাম।

    রাশিয়ার দাবি

    রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই কর্মকাণ্ডের ফলে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে নারী এবং শিশুও রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকশ’ কোটি ডলারের সম্পদের ক্ষতি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা (Terrorism Arrest Warrant)। স্পুটনিক আরও জানিয়েছে, এফএসবির অভিযোগ অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা টেলিগ্রামের পরিচয়-পরিচয় সেবা ব্যবহার করে তরুণী সেজে রুশ পুরুষদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতেন। পরে তাঁদের জঙ্গি কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার চেষ্টা করা হত। এফএসবির আরও দাবি, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে রাশিয়ার ১৬টি অঞ্চলে ওই পরিচয়-পরিচয় সেবার ৪৬ জন তরুণ ব্যবহারকারীকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং অগ্নিসংযোগের মতো কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ফরাসি কৌঁসুলিদের বরাত দিয়ে জানা যায়, ৪১ বছর বয়সী এই ধনকুবেরের বিরুদ্ধে টেলিগ্রাম-সংক্রান্ত একাধিক অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে শিশুদের যৌন নিপীড়নের উপাদান ছড়িয়ে দেওয়া, প্রতারণা এবং মাদক বিক্রির অভিযোগও ছিল। সেই সময় দুরভ বলেছিলেন, বিশ্বজুড়ে যোগাযোগের একটি মঞ্চ পরিচালনার ক্ষেত্রে (Pavel Durov) ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন। তিনি আরও জানিয়েছিলেন, রাশিয়া ও ইরানের মতো দেশে সরকারি দাবি মেনে নেওয়ার চেয়ে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়াকেই (Terrorism Arrest Warrant) তাঁর সংস্থা বেছে নিতে প্রস্তুত ছিল।

  • US Resumes Airstrikes: ইরানে ফের মার্কিন বিমান হামলা, পাল্টা জবাবের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে প্রবল উত্তেজনা

    US Resumes Airstrikes: ইরানে ফের মার্কিন বিমান হামলা, পাল্টা জবাবের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে প্রবল উত্তেজনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক অভিযানে সাময়িক বিরতির পর বৃহস্পতিবার ইরানের বিভিন্ন টার্গেটে ফের বিমান হামলা চালাল আমেরিকা (US Resumes Airstrikes)। ওয়াশিংটনের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করার পর তার জবাবেই এই অভিযান (Missile Attack) শুরু করা হয়েছে। হামলা শুরুর পর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর মিলেছে।

    ইরানের বিরুদ্ধে হামলা (US Resumes Airstrikes)

    মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী তা শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টা। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড বলেছে, “আজ রাত ৮টায় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর ইরানের গতকালের হামলার চেষ্টার জোরালো জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।” মার্কিন হামলা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিস্ফোরণের খবর আসে। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। দ্বীপটির একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলি বুশেহর-সহ দক্ষিণাঞ্চলের আরও কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে। তবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি কোনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

    ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র

    এর কয়েক দিন আগে ইরানের ভূখণ্ড থেকে জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের দাবি, সবক’টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই প্রতিহত করা হয়। ফলে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গিয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে মার্কিন কমান্ড বিস্তারিত কিছু না জানালেও দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলি জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীও জানিয়েছে, তারা জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি এবং আরও একটি সামরিক প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে বোমাবর্ষণ সাময়িকভাবে স্থগিত করার পর এটিই ছিল ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন সামরিক প্রতিষ্ঠানে প্রথম সরাসরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা। ওই বিরতির উদ্দেশ্য ছিল কূটনৈতিক আলোচনার জন্য সুযোগ তৈরি করা।

    ট্রাম্পের বক্তব্য

    তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাল্টা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “এবার আমাদের পালা। আমরা তাদের খুব কঠোরভাবে আঘাত করব।” তবে সামরিক পাল্টা জবাবের কথা বললেও কূটনীতির দরজাও পুরোপুরি বন্ধ করেননি ট্রাম্প। তিনি জানান, সংঘাত শেষ করতে শেষ পর্যন্ত কোনও সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব কি না, তা ওয়াশিংটন পর্যালোচনা করবে। চলতি সপ্তাহের শুরুতেও ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, দুই পক্ষের মধ্যে “ভালো আলোচনা” চলছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, কূটনৈতিক সমঝোতার এখনও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে ফের সামরিক অভিযান (Missile Attack) শুরু করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমরা ভালো আলোচনা করছি। আমার মনে হয়, কিছু একটা হওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। আর যদি তা না হয়, তাহলে আমরা দু’দিন আগে যা করছিলাম, সেটাই আবার শুরু করব (US Resumes Airstrikes)।”

    মার্কিন সেনার দাবি

    গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের সুযোগ দেওয়ার জন্যই ওই বিরতি নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস বৈঠকের পর নতুন করে উত্তেজনা বাড়ল। ওই বৈঠকে ইরান ছিল আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হোয়াইট হাউস বৈঠকটিকে “ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ” বলে বর্ণনা করেছে (US Resumes Airstrikes)। এদিকে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে আমেরিকা ও সৌদি আরব ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে ইরাকে যৌথ হামলা চালায়। মার্কিন সেনা এবং সৌদি আরবের জ্বালানি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন হামলার পর ওই অভিযান চালানো হয়। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের দাবি, তিন দিনে ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলার পর ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলির ব্যবহৃত রসদ সরবরাহ কেন্দ্র এবং অস্ত্রভান্ডারকে লক্ষ্য করে যৌথ অভিযান চালানো হয়। ওয়াশিংটন ওই হামলাগুলির জন্য ইরানের ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীকে দায়ী করেছে। ইরাকের জনপ্রিয় জনসমাবেশ বাহিনী জানিয়েছে, ওই হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন (US Resumes Airstrikes)।

    ইরাকের ভূখণ্ড থেকে হামলা!

    এর আগে সৌদি আরব জানিয়েছিল, দেশটির পূর্বাঞ্চলে তেল কারখানাগুলি লক্ষ্য করে ছোড়া ড্রোন প্রতিহত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। রিয়াধের অভিযোগ, ইরানঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি ইরাকের ভূখণ্ড থেকে ওই হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাতের ক্ষেত্রে এই পাল্টাপাল্টি হামলা তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে (Missile Attack)। আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনও চলছে বলে জানা গেলেও, ইরানে মার্কিন বিমান হামলা ফের শুরু হওয়া এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক বিস্ফোরণের খবর নতুন করে তৈরি করেছে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা (US Resumes Airstrikes)।

     

  • Saudi Arabia: হুথি হামলায় সৌদির তেল রফতানি চাপে, ইজরায়েলের গোপন পাইপলাইনই কি হতে পারে নতুন ভরসা?

    Saudi Arabia: হুথি হামলায় সৌদির তেল রফতানি চাপে, ইজরায়েলের গোপন পাইপলাইনই কি হতে পারে নতুন ভরসা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের ধারাবাহিক হামলায় সৌদি আরবের (Saudi Arabia) তেল পরিকাঠামো ও জাহাজ চলাচল ক্রমশ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এর ফলে রিয়াধের অপরিশোধিত তেল (Hormuz Crisis) রফতানি নেটওয়ার্কে বড় ধরনের দুর্বলতা প্রকাশ্যে এসেছে, যা সৌদি নেতৃত্বের কাছে নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ইরান-সমর্থিত হুথিরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরামকোর জাজান ও ইয়ানবু অঞ্চলের একাধিক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে পাঠানো একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এমন সময় এই হামলা হয়েছে, যখন লোহিত সাগর দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। তেলবাহী জাহাজগুলিকে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে এবং ইউরোপে অপরিশোধিত তেল পাঠাতে রফতানিকারীদের খরচও বেড়ে যাচ্ছে।

    হুথিদের হামলার জের (Saudi Arabia)

    সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই হুথিদের হামলার পর দৈনিক চার লাখ ব্যারেল পরিশোধন ক্ষমতাসম্পন্ন জাজান শোধনাগার বন্ধ করে দেয় সৌদি আরামকো। হামলায় শোধনাগারের সমন্বিত গ্যাসীকরণ ও যৌথ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং তেল সংরক্ষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অগাস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত মেরামতের কাজ চলতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে পূর্বাঞ্চল থেকে ইয়ানবু পর্যন্ত তেল পরিবহণের জন্য সৌদি আরব যে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন তৈরি করেছিল, সেটিও এখন আর পুরো সমস্যার সমাধান করতে পারছে না। কারণ ইয়ানবুতে পৌঁছনোর পরও তেলবাহী জাহাজকে বাব-আল-মান্দেব প্রণালী পেরোতে হয়। হরমুজের মতো এই জলপথও এখন হুথিদের হামলার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে বিকল্প রুটের সন্ধানে সৌদি আরবকে ভাবতে হতে পারে। আর সেই বিকল্প বহু বছর ধরেই রয়েছে, যদিও এতদিন তা কার্যত আড়ালেই ছিল। ইজরায়েলের লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী এলাত থেকে ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী আশকেলন পর্যন্ত ২৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পাইপলাইন রয়েছে। প্রায় ছ’দশক আগে ইরানের অর্থায়ন ও ইজরায়েলের প্রযুক্তিগত দক্ষতায় গোপনে এটি নির্মিত হয়েছিল। তখনও ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে ইরান ও ইজরায়েলের সম্পর্ক বৈরিতার রূপ নেয়নি। এই পাইপলাইনের উদ্দেশ্য ছিল এলাতে আসা ইরানি অপরিশোধিত তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে আশকেলনে পৌঁছে সেখান থেকে ইউরোপে পাঠানো। এর ফলে সুয়েজ খাল এড়িয়ে দ্রুত তেল পরিবহণ সম্ভব হত। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলেও সবচেয়ে কম আলোচিত জ্বালানি পরিকাঠামো হিসেবে এটি পরিচিত। বর্তমানে হরমুজ ও বাব-আল-মান্দেব—দুই গুরুত্বপূর্ণ জলপথই সংঘাতের কারণে ঝুঁকিতে পড়ায় ইজরায়েলি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যেই বলছেন, একই পাইপলাইন সৌদি আরবের জন্য হতে পারে ইউরোপমুখী নয়া রফতানি পথ।

    সিআইএর নজরেও ছিল প্রকল্পটি

    মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর নথি অনুযায়ী, প্রকল্পটিকে এতটাই কৌশলগত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল যে তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের দৈনিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনের অংশ ছিল। সেই মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, বিশাল তেলবাহী জাহাজে ইরানি তেল এলাতে নামানো হবে, তারপর ৪২ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইনের মাধ্যমে তা আশকেলনে পৌঁছে ছোট জাহাজে ইউরোপে পাঠানো হবে। প্রথম ধাপে বছরে প্রায় দুই কোটি টন এবং পরবর্তীতে ছয় কোটি টন পর্যন্ত তেল পরিবহণের সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনা ছিল। একই সঙ্গে সুয়েজ খাল বা আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে যাওয়ার তুলনায় এই পথে খরচ কম হবে বলেও সিআইএ মনে করেছিল। পরে এই পরিকাঠামোর পরিচালনাকারী সংস্থার নাম হয় ইউরোপ-এশিয়া পাইপলাইন কোম্পানি (Saudi Arabia)। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হলে পুরো প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ইজরায়েল। পরবর্তীকালে সুইজারল্যান্ডের একটি সালিশি ট্রাইব্যুনাল ইরানকে একশো দশ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিলেও, শত্রুর সঙ্গে বাণিজ্য আইন দেখিয়ে সেই রায় মানতে অস্বীকার করে ইজরায়েল। আজও এই সংস্থা ইজরায়েলের অন্যতম গোপন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।

    কীভাবে কাজ করবে এই রুট?

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, সৌদি অপরিশোধিত তেল প্রথমে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে ইয়ানবু পৌঁছাবে। সেখান থেকে জাহাজে করে লোহিত সাগর পেরিয়ে আকাবা উপসাগরের এলাত বন্দরে আনা হবে। এরপর পাইপলাইনের মাধ্যমে আশকেলনে নিয়ে গিয়ে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে পাঠানো হবে। বর্তমানে উত্তরমুখী এই পাইপলাইনের দৈনিক পরিবহণ ক্ষমতা প্রায় বারো লাখ ব্যারেল (Hormuz Crisis)। তবে সৌদি আরবের দৈনিক ছয় থেকে সাড়ে সাত মিলিয়ন ব্যারেল তেল রফতানির তুলনায় এটি মাত্র পাঁচ থেকে পনেরো শতাংশ বহন করতে পারবে। ফলে এটি মূল রফতানি পথের বিকল্প নয়, বরং একটি সহায়ক রুট হিসেবেই কার্যকর হতে পারে।

    ইজরায়েলের প্রস্তাব কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে?

    মার্কিন বংশোদ্ভূত, ইজরায়েল-ভিত্তিক উন্মুক্ত উৎস গোয়েন্দা বিশ্লেষক এবং ওএসআইএনটি সিক্স ওয়ান থ্রির প্রতিষ্ঠাতা জে লেটনি সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “বিষয়টি নিয়ে ইজরায়েলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরুতে জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন ওয়াশিংটনের কাছে সৌদি আরব থেকে এলাত পর্যন্ত প্রায় সাতশো কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণের প্রস্তাব দেন। ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে ব্যর্থ সমঝোতার পর এটিই ইজরায়েল সরকারের সবচেয়ে জোরালো উদ্যোগ। তবে এর বাস্তবায়ন পুরোপুরি সৌদি আরবের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।” তিনি আরও বলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ইজরায়েল হয়ে ইউরোপে গেলে হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তায় ইজরায়েলের পরিকাঠামো কৌশলগত গুরুত্ব পাবে।”

    পরিকাঠামো এখনও বড় বাধা

    লেটনির মতে, এলাত বন্দরের বর্তমান পরিকাঠামো সৌদি আরবের মতো বড় রফতানি সামলানোর উপযুক্ত নয়। তাঁর কথায়, “হুথিদের হামলার কারণে এলাত বন্দরের কার্যক্রম নব্বই শতাংশেরও বেশি কমে গিয়েছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি আর্থিক সংকটের কারণে কার্যত বন্দরটি বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। সৌদি আরবের পরিমাণের তেল পরিবহণের জন্য গভীর নৌপথ, অতিবৃহৎ তেলবাহী জাহাজ ভেড়ানোর ব্যবস্থা, নতুন সংরক্ষণাগার এবং শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা-সহ কয়েকশো কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে (Saudi Arabia)।” তিনি আরও জানান, গত পাঁচ বছরে পাইপলাইনে অন্তত ১১টি যান্ত্রিক ত্রুটি এবং ন’টি নাশকতা বা মানবসৃষ্ট দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালে রকেট হামলাও হয়েছিল। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের হামলায় ইজরায়েলের বাজান জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।

    সবচেয়ে বড় বাধা রাজনীতি

    সৌদি আরব এখনও স্পষ্টভাবে জানিয়ে আসছে, স্বাধীন প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বাস্তব অগ্রগতি ছাড়া ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। গাজায় ইজরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আলোচনা কার্যত থমকে যায়। সম্প্রতি ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সৌদি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সৌদি আরব ও ইজরায়েলের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা আমার স্বপ্ন।” তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ বারবার জানিয়েছে, প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বাস্তব পথ না থাকলে ইজরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না (Hormuz Crisis)। লেটনির মতে, “আব্রাহাম চুক্তি মানসিক বাধা ভেঙে দিয়েছে। ইজরায়েলের অনেক নীতিনির্ধারক এখন মনে করেন, সৌদির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু বাস্তবে রিয়াধ বারবার বলেছে, প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি ছাড়া তা সম্ভব নয়। এই পাইপলাইন প্রস্তাবের মাধ্যমে ইজরায়েল যৌথ পরিকাঠামো, গোয়েন্দা সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সংযোগের মাধ্যমে সেই রাজনৈতিক শর্তকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে।”

    গোপনে কি সম্ভব এই সহযোগিতা?

    ইউরোপ-এশিয়া পাইপলাইন কোম্পানির দীর্ঘদিনের গোপনীয়তার ইতিহাস থাকলেও, বর্তমান প্রযুক্তির যুগে (Saudi Arabia) এত বড় প্রকল্প গোপন রাখা কঠিন বলে মনে করেন লেটনি। তাঁর ভাষায়, “সীমিত পরিসরে কিছুদিন গোপন রাখা সম্ভব হলেও, উপগ্রহ চিত্র ও আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে খুব দ্রুতই বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসবে। ইরান এটিকে সৌদি-ইজরায়েল জোট হিসেবে তুলে ধরবে এবং হুথিরাও নিজেদের অবস্থানকে আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে।”

    আমেরিকা ও ইরানের অবস্থান কী হতে পারে?

    লেটনির মতে, ইরান এমন কোনও চুক্তিকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মকভাবে দেখবে এবং তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলির মাধ্যমে পরিকাঠামো লক্ষ্য করে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করবে। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এই প্রকল্পের সঙ্গে অনেকটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ এতে হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমবে, সৌদি আরব ও ইজরায়েলের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে মার্কিন নৌবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির প্রয়োজন কমবে এবং ইউরোপ রাশিয়া বা মিশরের বিকল্প জ্বালানি পরিবহণ পথ পাবে (Saudi Arabia)। লেটনির ভাষায়, “ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে সামনে না এলেও, পর্দার আড়াল থেকে এই ধরনের উদ্যোগের পথে বাধা দূর করতে আগ্রহী হতে পারে (Hormuz Crisis)।”

     

  • POK Elections 2026: মুনিরের দমনপীড়নে রক্তাক্ত পিওকে, মৃত বেড়ে ৬৭! ‘লোক দেখানো নির্বাচন’ দাবি ভারতের

    POK Elections 2026: মুনিরের দমনপীড়নে রক্তাক্ত পিওকে, মৃত বেড়ে ৬৭! ‘লোক দেখানো নির্বাচন’ দাবি ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে নির্বাচন (POK Elections 2026) আসলে একটা প্রহসন। গায়ের জোরে অধিকৃত কাশ্মীরে ভোট করাচ্ছে পাক সরকার। শাহবাজ সরকারের বিরুদ্ধে সেখানকার জনগণের আগে থেকেই ক্ষোভ ছিল। ভোটের প্রথম দফায় সেই ক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে অধিকৃত কাশ্মীরে। এই পরিস্থিতিতে অধিকৃত কাশ্মীরের ভোট নিয়ে ইসলামাবাদকে তোপ দাগল নয়াদিল্লি। তারা জানিয়েছে, এই নির্বাচন দখলদারি আড়ালের চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। এই নির্বাচন শুধুই লোক দেখানো। ইতিমধ্যেই, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭-এ পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি।

    দখলদারি আড়ালের প্রচেষ্টা মাত্র

    অধিকৃত কাশ্মীরে ৩ দফা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট ছিল গত সোমবার। নির্বাচন শুরু হতেই নানা জায়গা থেকে হিংসার খবর আসতে থাকে। একাধিক জায়গায় ব্যালট পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “অধিকৃত কাশ্মীরে চলমান গণবিক্ষোভ হল পাক সরকারের অর্থনৈতিক শোষণ, জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্খন এবং দমন-পীড়নের প্রত্যক্ষ পরিণতি।” ভারত সরকার এই নির্বাচনকে “Cosmetic Electoral Exercise” বা লোক দেখানো নির্বাচন বলে উল্লেখ করেছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, পিওকের জনগণের মৌলিক অধিকার দীর্ঘদিন ধরে খর্ব করা হয়েছে বলেই সেখানে ব্যাপক জনবিক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ভারত। তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে সেখানে যে লোকদেখানো নির্বাচন হচ্ছে, তা আসলে দখলদারি আড়ালের প্রচেষ্টা মাত্র। সেখানে যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলি ঘটছে, সেগুলিও গোপন করার প্রচেষ্টা।” রণধীর স্পষ্ট করেছেন, “বর্তমানে পাকিস্তানের অবৈধ ও জোরপূর্বক দখলে থাকা এলাকাগুলি-সহ জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অংশ।”

    কার্যত যুদ্ধক্ষেত্র রাওয়ালকোট

    ভোটের দিন কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয় রাওয়ালকোট, কোটলির মতো এলাকাগুলি। গত ৫২ দিন ধরে রাওয়ালকোটে বিক্ষোভ কর্মসূচি চালাচ্ছিল জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি। এই বিক্ষোভ দমনে এলোপাথাড়ি গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ মিছিলে উপর অতর্কিতে গুলিবৃষ্টি শুরু করে পুলিশ। এই হামলায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ২৮ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। বহুমানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। সংগঠনটির দীর্ঘ মিছিল মুজাফফরাবাদের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পরই পাকিস্তানি বাহিনী আরও কঠোর দমন অভিযান চালায় বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার পিওকের মিরপুরের একটি ব্যস্ত বাজারে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৫ থেকে ৬ জন নিহত হন বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে ছুটতে থাকেন সাধারণ মানুষ। গুলির শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে, একটি দোকান থেকে ধোঁয়া উঠতেও দেখা যায়।

    ৩৮ দফা দাবিতে আন্দোলন

    পিওকের নাগরিক সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC)-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির প্রতিবাদে গত ৯ জুন থেকে হাজার হাজার সমর্থক রাওয়ালাকোটের ঈদগাহ ময়দানে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। সংগঠনটির ৩৮ দফা দাবির অন্যতম ছিল তথাকথিত আইনসভায় পাকিস্তানের প্রভাবাধীন ১২টি আসন বাতিল করা। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আলোচনার পথে না গিয়ে ইসলামাবাদ বলপ্রয়োগের পথই বেছে নিয়েছে।

    ভোট নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

    পিওকের নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC) এবং পাকিস্তান তেহরক-ই ইনসাফ (PTI)-এর পক্ষ থেকে প্রকাশিত একাধিক ভিডিওতে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র প্রায় ফাঁকা দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাপক কারচুপির অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ, প্রথম দফার ১৩টি আসনের মধ্যে ৯টিতেই জয়ী হয়েছে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (PML-N)।

    পাকিস্তানের হাত থেকে মুক্তি চাই

    এদিকে ফ্রান্সে দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন। এরপর পাকিস্তানের রাষ্ট্রসংঘে প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত মালিহা লোধি (Maleeha Lodhi) প্রশ্ন তোলেন, পিওকে-তে নিহত সাধারণ মানুষের জন্য একই ধরনের সহানুভূতি কেন দেখানো হচ্ছে না। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পিওকের বিভিন্ন এলাকায় “পাকিস্তানের হাত থেকে মুক্তি চাই” স্লোগানও শোনা গেছে। আন্দোলনকারীদের একাংশ পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীকে “অবৈধ দখলদার” বলেও অভিযোগ তুলেছেন।

    শুধু পিওকে নয়, কেপিতেও চাপ বাড়ছে

    পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকট কেবল পিওকেই সীমাবদ্ধ নয়। খাইবার পাখতুনখোয়ায় কারাবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান (Imran Khan)-এর বোন আলীমা খান (Aleema Khan) তাঁর মুক্তির দাবিতে প্রচার শুরু করেছেন। তিনি ইমরান খানের কথিত একাকী বন্দিত্বের অবসান এবং দ্রুত চিকিৎসার দাবিও জানিয়েছেন।

    বাড়ছে চাপ

    বালোচিস্তান, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, পিওকের নির্বাচন কি শুধুই আন্তর্জাতিক মহলের নজর ঘোরানোর চেষ্টা, নাকি ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ আড়াল করার একটি রাজনৈতিক কৌশল? একইসঙ্গে ভোটে কারচুপির অভিযোগ এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দমন অভিযানের জেরে পাকিস্তান আরও চাপে পড়েছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

  • India-US Relations: ভারতের সঙ্গে ফের পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতায় ইচ্ছুক ট্রাম্প প্রশাসন! আগ্রহ এআই, প্রতিরক্ষা নিয়েও, কারণ কী?

    India-US Relations: ভারতের সঙ্গে ফের পারমাণবিক শক্তি সহযোগিতায় ইচ্ছুক ট্রাম্প প্রশাসন! আগ্রহ এআই, প্রতিরক্ষা নিয়েও, কারণ কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে। বিশেষ করে অসামরিক পারমাণবিক শক্তি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-র মতো ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা দ্রুত বাড়ছে বলে জানালেন মার্কিন প্রশাসনের এক শীর্ষ আধিকারিক। এতে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন ভারতকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবেই দেখছে। এই মন্তব্য করেছেন মার্কিন বিদেশ দফতরের সহকারী সচিব এস পল কাপুর। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হুভার ইনস্টিটিউশনে ভারতকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মার্কিন বিদেশ সচিব কন্ডোলিজা রাইস এবং ভারতে নিযুক্ত প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড সি মালফোর্ড।

    ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক

    সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এস পল কাপুর বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক স্তরেই সীমাবদ্ধ নেই। এই সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান তৈরি করছে এবং এমন গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply Chain) শক্তিশালী করছে, যা শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘‘আমরা প্রতিরক্ষা এবং বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ করছি। পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী বিশ্বস্ত AI (Trusted AI) এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তির গ্রহণ ও উন্নয়নেও একসঙ্গে কাজ করছি।’’

    কেন গুরুত্বপূর্ণ অসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা?

    ভারতের বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মার্কিন সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের অসামরিক পারমাণবিক শক্তি খাতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় আগ্রহী। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন পারমাণবিক শিল্পের শীর্ষ আধিকারিকদের একটি প্রতিনিধিদল ভারতে এসে বেসরকারি শিল্পের সঙ্গে সম্ভাব্য অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করে। এই আগ্রহ আরও বেড়েছে, কারণ ভারত সম্প্রতি ‘শান্তি’ (SHANTI) আইন প্রণয়ন করে পারমাণবিক প্রকল্পে দায়বদ্ধতা (Liability) সংক্রান্ত বিধিতে পরিবর্তন এনেছে। এর ফলে বিদেশি সংস্থাগুলির জন্য ভারতীয় বাজারে কাজ করার পরিবেশ তুলনামূলকভাবে আরও অনুকূল হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সম্পর্ক ইতিমধ্যেই শক্ত ভিতের উপর

    ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ২০২৫ সালে দুই দেশ একটি নতুন প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব কাঠামোতে স্বাক্ষর করে, যার লক্ষ্য স্থল, নৌ, বায়ু, মহাকাশ এবং সাইবার—সব ক্ষেত্রেই পারস্পরিক সমন্বয় ও আন্তঃকার্যক্ষমতা (Interoperability) বৃদ্ধি করা। ২০০২ সালের পর থেকে ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে একাধিক অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

    • ● অ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টার
    • ● চিনুক হেভি-লিফট হেলিকপ্টার
    • ● সি-১৭ গ্লোবমাস্টার পরিবহণ বিমান
    • ● সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস
    • ● পি-৮আই সামুদ্রিক নজরদারি বিমান
    • ● এম-৭৭৭ আল্ট্রা-লাইট হাউইৎজার

    এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শুধুমাত্র অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; যৌথ মহড়া, প্রযুক্তি স্থানান্তর, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং গবেষণার ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে।

    এআই ও উদীয়মান প্রযুক্তিতে নতুন সমীকরণ

    বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি আগামী দিনের প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তারা ভারতের সঙ্গে বিশ্বস্ত এআই-এর মতো ক্ষেত্রেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায়। এর লক্ষ্য নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রযুক্তিগত পরিবেশ তৈরি করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-এর ক্ষেত্রে ভারতীয় সফটওয়্যার দক্ষতা এবং মার্কিন প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব একত্রিত হলে বিশ্ববাজারে দুই দেশই বড় সুবিধা পেতে পারে।

    ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়ছে

    বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা কেবল অর্থনৈতিক বা প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয় নয়। এর পেছনে রয়েছে বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য কৌশলগত অংশীদার হিসেবে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে ওয়াশিংটন। প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক শক্তি, এআই এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের মতো ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা বাড়িয়ে দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাইছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরে যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদন, উন্নত প্রযুক্তি ভাগাভাগি, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ এবং এআই-ভিত্তিক উদ্ভাবনে ভারত-মার্কিন সহযোগিতা আরও দৃশ্যমান হতে পারে।

  • Pakistan Nuclear Button: পাকিস্তানের ‘নিউক্লিয়ার বাটন’ সত্যিই চলে গেছে আসিম মুনিরের হাতে! ভারতের উদ্বেগ কতটা?

    Pakistan Nuclear Button: পাকিস্তানের ‘নিউক্লিয়ার বাটন’ সত্যিই চলে গেছে আসিম মুনিরের হাতে! ভারতের উদ্বেগ কতটা?

    সুশান্ত দাস

    পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা কাঠামোতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে একটি প্রশ্ন—দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবস্থার ওপর কি এখন কার্যত একক নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছেন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির? আর যদি তাই হয়, তাহলে ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত কি? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে পাকিস্তানের সাংবিধানিক পরিবর্তন, সামরিক কাঠামোর রদবদল, পারমাণবিক কমান্ড ব্যবস্থার প্রকৃতি এবং ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশল—সবকটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।

    কী বদলেছে পাকিস্তানে?

    বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান সরকার নতুন Chief of Defence Forces (CDF) পদ সৃষ্টি করে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে সেই দায়িত্ব দিয়েছে। এই পদে তিন বাহিনীর (স্থল, নৌ ও বিমান) সর্বোচ্চ সামরিক কর্তৃত্ব একত্রিত হয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগত কমান্ড ব্যবস্থার উপরও তাঁর প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বহু সংবাদমাধ্যমে এটিকে ‘‘পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার বাটন পুরোপুরি আসিম মুনিরের হাতে চলে গেছে’’ বলে বর্ণনা করা হলেও, বাস্তব চিত্র কিছুটা বেশি জটিল।

    ‘নিউক্লিয়ার বাটন’ বলতে কী বোঝায়?

    সাধারণ মানুষের কাছে ‘‘নিউক্লিয়ার বাটন’’ বলতে এমন একটি বোতামের ধারণা তৈরি হয়, যা একজন ব্যক্তি চাপলেই পারমাণবিক হামলা শুরু হয়ে যায়। বাস্তবে কোনও পারমাণবিক শক্তিধর দেশেই বিষয়টি এতটা সরল নয়। পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র পরিচালনা করে ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি (NCA) এবং তার অধীনস্থ স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান্স ডিভিশন (SPD)। এই ব্যবস্থায় সামরিক ও বেসামরিক উভয় স্তরের অংশগ্রহণ রয়েছে। যদিও নতুন কাঠামোতে আসিম মুনিরের প্রভাব অনেক বেড়েছে, তবুও পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত এখনও একটি প্রাতিষ্ঠানিক কমান্ড কাঠামোর মাধ্যমেই কার্যকর হয়। অর্থাৎ, ‘‘একটাই বোতাম টিপে যুদ্ধ শুরু’’— এমন ব্যাখ্যা বাস্তব পরিস্থিতিকে অতিরঞ্জিত করে।

    কেন উদ্বেগ বাড়ছে?

    বিশ্লেষকদের মতে উদ্বেগের মূল কারণ কেবল সাংবিধানিক পরিবর্তন নয়, বরং আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও তাঁর ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ। গত কয়েক মাসে ভারতের বিরুদ্ধে তাঁর একাধিক কড়া মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারতীয় সূত্রের দাবি, তিনি পারমাণবিক প্রতিরোধ নিয়ে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছেন। যদিও পাকিস্তান পরে জানায়, তাঁর বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা স্বাধীনভাবে ওই দাবিগুলি যাচাই করতে পারেনি। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি, নিরাপত্তা নীতি এবং আঞ্চলিক কৌশল নির্ধারণে আসিম মুনিরের প্রভাব বর্তমানে অভূতপূর্ব পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    ভারতের কি উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত?

    ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত কিনা এই প্রশ্নে বিশেষজ্ঞদের মতে উত্তরটি ‘‘হ্যাঁ, তবে আতঙ্কিত হওয়ার নয়।’’ কারণ—

    • প্রথমত, ভারত বহু বছর ধরেই পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে মাথায় রেখে নিজস্ব প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা তৈরি করে আসছে।
    • দ্বিতীয়ত, ভারতের রয়েছে বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, শক্তিশালী গোয়েন্দা নজরদারি, মহাকাশভিত্তিক পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্বাসযোগ্য পারমাণবিক প্রতিরোধ (Credible Minimum Deterrence) নীতি।
    • তৃতীয়ত, ভারত এখনও ‘‘নো ফার্স্ট ইউজ’’ (NFU) বা প্রথম ব্যবহার নয় নীতির কথা বললেও, পাকিস্তান বরাবরই প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিকল্প খোলা রেখেছে। ফলে পাকিস্তানের রাজনৈতিক-সামরিক নেতৃত্বে ক্ষমতার আরও কেন্দ্রীকরণ ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কাছে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রভাব

    পাকিস্তানে বহু দশক ধরেই সেনাবাহিনী দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। নতুন সাংবিধানিক পরিবর্তনের ফলে সামরিক নেতৃত্বের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বহু পর্যবেক্ষকের মত। এর ফলে নির্বাচিত সরকারের তুলনায় সেনাবাহিনীর প্রভাব ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।

    আন্তর্জাতিক মহল কী দেখছে?

    পশ্চিমা কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, পাকিস্তানের পারমাণবিক কমান্ড কাঠামো এখন আরও বেশি সামরিককেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য, চিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষায়ও আসিম মুনির ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন।

    ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে…

    ‘‘পাকিস্তানের নিউক্লিয়ার বাটন পুরোপুরি আসিম মুনিরের হাতে চলে গেছে’’— এমন দাবি বাস্তব পরিস্থিতিকে অতিসরল করে তুলে ধরে। তবে এটাও সত্য যে সাম্প্রতিক সাংবিধানিক ও সামরিক পরিবর্তনের ফলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা কাঠামোয় তাঁর প্রভাব আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। ভারতের জন্য এর অর্থ তাৎক্ষণিক যুদ্ধের আশঙ্কা নয়, বরং পাকিস্তানের সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন, পারমাণবিক নীতি এবং সীমান্ত পরিস্থিতির উপর আরও নিবিড় নজর রাখা। দক্ষিণ এশিয়ায় পারমাণবিক প্রতিরোধের ভারসাম্য এখনও বহাল থাকলেও, যখন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কয়েকজনের হাতে আরও কেন্দ্রীভূত হয়, তখন ভুল হিসাব বা সংকটের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

  • Pakistan: গোপন বৈঠকে ভারত-বিরোধী প্রচারের নির্দেশ! পাক সেনার প্রচারযন্ত্রের বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস

    Pakistan: গোপন বৈঠকে ভারত-বিরোধী প্রচারের নির্দেশ! পাক সেনার প্রচারযন্ত্রের বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) সেনাবাহিনীর প্রচারযন্ত্রের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন সে দেশের সাংবাদিক ইমরান রিয়াজ (Imran Riaz)। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগের ডিজি আইএসপিআর সম্প্রতি দেশের শীর্ষ সংবাদমাধ্যমের কর্তা এবং প্রভাবশালী সাংবাদিকদের নিয়ে একটি গোপন বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমগুলিকে ভারত-বিরোধী জোরদার প্রচার চালানোর স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়।

    পাক সাংবাদিকের বিস্ফোরক দাবি (Pakistan)

    রিয়াজের দাবি, বৈঠকে সংবাদমাধ্যমগুলিকে বারবার এমন একটি বয়ান প্রচার করতে বলা হয়, যাতে মনে হয় ভারত খুব শীঘ্রই ভেঙে পড়তে চলেছে। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের মনগড়া প্রচারের মাধ্যমে পাকিস্তানের সামরিক কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্র-সমর্থিত তথ্যযুদ্ধকে আরও তীব্র করার চেষ্টা করছে। রিয়াজের বক্তব্য অনুযায়ী, সাংবাদিকতার নীতিকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিবর্তে পাকিস্তানের সামরিক প্রচার বিভাগ দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অভ্যন্তরে এমন এক জনমত গড়ে তুলতে সচেষ্ট, যেখানে ভারতকে দুর্বল ও অস্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরা হয়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা থেকে সাধারণ মানুষের নজর ঘোরাতে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত প্রচারমাধ্যমকে ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগ ওঠে। ভারতকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত সঙ্কট আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেন রিয়াজ।

    পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    তাঁর বক্তব্য থেকে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগের ডিজি আইএসপিআরের দফতর বর্তমানে শুধু সেনাবাহিনীর সরকারি তথ্য প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, নিরাপত্তা সঙ্কট কিংবা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জাতীয় সংবাদমাধ্যমের বয়ান নির্ধারণেও এই দফতরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থা বহুদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, পাকিস্তানে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সংবাদমাধ্যমের ওপর প্রবল প্রভাব রয়েছে। সরকারি বয়ান থেকে সরে গেলে সংবাদমাধ্যমকে সেন্সরশিপ, প্রশাসনিক চাপ এমনকি ভয়ভীতি প্রদর্শনের মুখেও পড়তে হয়। রিয়াজের দাবি, ওই বৈঠকে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সঙ্কটের নিরপেক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের চেয়ে ভারতবিরোধী প্রচারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাঁর অভিযোগ, এই (Pakistan) ব্যবস্থার ফলে স্বাধীন সাংবাদিকতা কার্যত দমিয়ে রাখা হচ্ছে এবং রাষ্ট্র-অনুমোদিত প্রচারই টেলিভিশন, ডিজিটাল মাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রাধান্য পাচ্ছে।

    ভারতে বৈচিত্র্যের মধ্যেও ঐক্য

    ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের প্রচারকে পুরনো ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার বলেই মনে করা হয়। গত সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে পাকিস্তানের বিভিন্ন মহল বারবার ভারতের ভেঙে পড়ার ভবিষ্যদ্বাণী করেছে। কিন্তু ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা এবং নিয়মিত নির্বাচন সেই সমস্ত দাবিকে বারবার ভুল প্রমাণ করেছে (Imran Riaz)। ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও, দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলি ধারাবাহিকভাবে স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈচিত্র্যের মধ্যেও ভারতের ঐক্য পাকিস্তানের প্রচারিত বয়ানকে কার্যত অস্বীকার করে। বর্তমানে তথ্যযুদ্ধকে আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে ভারত। সেই কারণে টেলিভিশন, ডিজিটাল মিডিয়া, এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিদেশি বিভ্রান্তিমূলক প্রচারের মোকাবিলায় ভারত সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে বলেও অভিমত বিশ্লেষকদের।

    শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা!

    এদিকে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে (Pakistan), ভারতের বিরুদ্ধে লাগাতার প্রচার চালানোর নেপথ্যে রয়েছে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত সঙ্কট থেকে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা।বালুচিস্তানে দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন এখনও অব্যাহত। সেখানে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে। একইসঙ্গে সেনাবাহিনী, বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে সংঘাত দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে (Imran Riaz)। পাক-অধিকৃত কাশ্মীরেও অর্থনৈতিক দুরবস্থা, প্রশাসনিক দুর্নীতি এবং কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভিযোগে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। কিন্তু এই অভ্যন্তরীণ সঙ্কটগুলির পরিবর্তে ভারতের তথাকথিত অস্থিরতা নিয়ে প্রচার চালাতেই পাকিস্তানের সামরিক প্রচারযন্ত্র বেশি গুরুত্ব দিয়েছে বলে অভিযোগ।

    সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়

    রিয়াজের দাবি, দেশের প্রকৃত সমস্যার সমাধানের বদলে বিদেশবিরোধী প্রচারকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রযন্ত্র বাস্তব পরিস্থিতি থেকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। তাঁর বক্তব্য, ভারত যখন অর্থনীতি ও গণতন্ত্র—উভয় ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজের অবস্থান ক্রমশ শক্তিশালী করছে, তখন পাকিস্তানের সামরিক প্রচারযন্ত্র এখনও ভারতবিরোধী প্রচারের পুরনো কৌশলেই আটকে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল শুধু ভারতবিরোধী প্রচার নয়, বরং রাষ্ট্রের তরফে সংবাদমাধ্যমকে সত্যনিষ্ঠ সংবাদ (Imran Riaz) পরিবেশনের পরিবর্তে বিদেশবিরোধী প্রচারকে () অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য করার অভিযোগ।

     

  • Bangladesh: ঢাকার উল্টো রথযাত্রায় নাশকতার ছক কষেছিল দুষ্কৃতীরা, ছাতার ভেতরে মিলল শক্তিশালী IED!

    Bangladesh: ঢাকার উল্টো রথযাত্রায় নাশকতার ছক কষেছিল দুষ্কৃতীরা, ছাতার ভেতরে মিলল শক্তিশালী IED!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) রাজধানী ঢাকায় উল্টো রথযাত্রাকে ঘিরে বড়সড় নাশকতার ছক ভেস্তে দিল পুলিশ। শোভাযাত্রার নির্ধারিত পথের পাশে একটি ছাতার ভিতরে লুকিয়ে রাখা শক্তিশালী ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) উদ্ধার হওয়ায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। পুলিশের দাবি, হিন্দু ভক্তদের লক্ষ্য করেই এই বিস্ফোরকটি রাখা হয়েছিল।

    শোভাযাত্রা পৌঁছানোর আগেই উদ্ধার বিস্ফোরক

    শুক্রবার সন্ধ্যায় মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নীচে সন্দেহজনক একটি ছাতা পড়ে থাকতে দেখেন কয়েকজন পথচারী। ছাতার ভেতর থেকে আলো জ্বলতে-নিভতে দেখে বিষয়টি ট্রাফিক বিভাগকে জানানো হয়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ডিএমপি কন্ট্রোল রুমের আধিকারিকরা। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট নাগাদ এসআই মির্জা মহম্মদ মুক্তার নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে। মেট্রোরেল স্টেশনের জেনারেটর রুমের পাশে রাখা ছাতাটি পরীক্ষা করে তার ভিতরে বিস্ফোরক থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হন বোমা বিশেষজ্ঞরা।

    আতঙ্ক এড়াতে কৌশলী পদক্ষেপ পুলিশের

    শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া ভক্তদের মধ্যে যাতে আতঙ্ক না ছড়ায়, সেজন্য পুলিশ জানায় ওই এলাকায় বিদ্যুতের ত্রুটি হয়েছে। এরপর রথযাত্রার পথ সামান্য পরিবর্তন করে ভক্তদের নিরাপদে স্বামীবাগ আশ্রমের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে বিস্ফোরকটির কাছাকাছি দিয়ে কাউকেই যেতে হয়নি। উল্লেখ্য, উল্টো রথযাত্রাটি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শুরু হয়ে মতিঝিলের শাপলা চত্বর হয়ে স্বামীবাগ আশ্রমে যাওয়ার কথা ছিল।

    নিষ্ক্রিয় করা হয় আইইডি (IED)

    শোভাযাত্রা নিরাপদে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পর ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে আইইডিটি (IED) ধ্বংস করে। তবে এই অভিযানের সময় মিরাজ আহমেদ (৬৬) নামে এক পথচারী জখম হন। তাঁর বাঁ চোখে স্প্লিন্টারের আঘাত লাগে। প্রথমে তাঁকে বাংলাদেশের (Bangladesh) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগারগাঁওয়ের জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরিত করা হয়।

    কীভাবে তৈরি করা হয়েছিল বিস্ফোরক?

    শনিবার সন্ধ্যায় ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও সিটিটিসি প্রধান মহম্মদ শামসুল হক জানান, “এটি ছিল একটি পাইপ বোমা। এর ভিতরে সালফার, প্রচুর ধারালো ধাতব টুকরো এবং কাঁটা পেরেক ভরা ছিল, যাতে বিস্ফোরণের পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিস্ফোরকটি একটি ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক সার্কিটের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ছাতার বোতামে চাপ দিলেই বিস্ফোরণ ঘটবে, এমনভাবে সেটি তৈরি করা হয়েছিল। সময় মতো এটি উদ্ধার না হলে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারত।”

    মামলা দায়ের, তদন্ত শুরু

    ঘটনার পর মতিঝিল থানার এসআই মির্জা মহম্মদ মুক্তা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করেছেন। কারা এই বিস্ফোরক রেখেছিল, তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এর পিছনে কোনও সংগঠিত নাশকতা চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

  • Pakistan: পাকিস্তানে জঙ্গি হামলায় হত ১৫ নিরাপত্তাকর্মী, পাল্টা অভিযানে খতম ১৫ জঙ্গি

    Pakistan: পাকিস্তানে জঙ্গি হামলায় হত ১৫ নিরাপত্তাকর্মী, পাল্টা অভিযানে খতম ১৫ জঙ্গি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ট্যাঙ্ক জেলায় যৌথ নিরাপত্তা চেকপোস্টে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় (TTP Attack) অন্তত ১৫ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১২ জন সেনাকর্মী, দু’জন পুলিশ সদস্য এবং বন দফতরের এক সরকারি আধিকারিক। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান এই হামলা চালিয়েছে। হামলার এই ঘটনা ঘটে শুক্রবার ভোরে।

    “ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ” (Pakistan)

    সেনাবাহিনীর তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলাটি চালিয়েছে “ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ” নামে চিহ্নিত জঙ্গিরা। পাকিস্তান সরকার বর্তমানে নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের সদস্যদের বোঝাতে এই পরিভাষা ব্যবহার করে। এক সময় এই সংগঠনের প্রতি পাকিস্তান সরকারের নরম মনোভাব ছিল বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ উঠেছে। কারণ, সংগঠনটির বহু সদস্য আফগানিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমী দেশগুলির সেনাদের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত ছিল। সেই সময় পাক প্রশাসন তাদের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে অনীহা দেখিয়েছিল বলে বিভিন্ন মহলে সমালোচনাও হয়েছিল। ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, জঙ্গিরা প্রথমে যৌথ চেকপোস্টের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। কিন্তু সেখানে মোতায়েন নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত এবং দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাঁদের সতর্কতা, সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের কারণে জঙ্গিদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর পাল্টা অভিযানে নিরাপত্তাবাহিনী ১৫ জন জঙ্গিকে হত্যা করে।

    ভয়াবহ বিস্ফোরণ

    তবে প্রথম আক্রমণে ব্যর্থ হওয়ার পর জঙ্গিরা কৌশল পাল্টায়। বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে তারা চেকপোস্টের সীমানা প্রাচীরে গিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে। সঙ্গে সঙ্গে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে চেকপোস্টের পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই বিস্ফোরণেই ১২ জন সেনাসদস্য, দু’জন পুলিশ সদস্য এবং বন দফতরের এক সরকারি আধিকারিক নিহত হন। পাক সেনাবাহিনী নিহতদের “শহিদ” আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, তাঁরা দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন। সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, হামলার পর গোটা এলাকায় তল্লাশি ও সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। হামলায় জড়িত অন্য কোনও জঙ্গি আশপাশে লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলি “আজম-ই-ইস্তেহকাম” কর্মসূচির আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করবে বলেও জানানো হয়েছে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনা সংক্রান্ত ফেডারেল শীর্ষ কমিটির অনুমোদিত এই কর্মসূচির লক্ষ্য, বিদেশি মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল করা (Pakistan)। সেনাবাহিনীর জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমাদের সাহসী সেনাদের এই আত্মত্যাগ দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় আমাদের অটল অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করেছে। যে কোনও মূল্যে দেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (TTP Attack)।”

    আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনা বেড়েছে

    এদিকে, গত সপ্তাহেও খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু জেলা এবং সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনী বড়সড় অভিযান চালায়। সেনাবাহিনীর দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে সংঘর্ষে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের ২৪ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বান্নু জেলায় পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা এবং আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের হামলার নেপথ্যে থাকা জঙ্গি এবং তাদের সহায়ক নেটওয়ার্ককে চিহ্নিত করতে যৌথ গোয়েন্দা-তথ্যভিত্তিক ব্যাপক অভিযান শুরু হয়েছে। বান্নু জেলা এবং সংলগ্ন এলাকায় তীব্র গোলাগুলির পর ২৪ জন জঙ্গিকে হত্যা করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে সেনাবাহিনী (Pakistan)। চলতি বছরের মে মাসেও বান্নু জেলার ফতেহ খেল পুলিশ পোস্টে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ১৫ জন পুলিশকর্মী নিহত হয়েছিলেন। সেই হামলায়ও বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি গিয়ে পুলিশ পোস্টে ধাক্কা মেরে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। বর্তমান হামলার কৌশলের সঙ্গে সেই ঘটনার মিল রয়েছে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের অভিমত।

    একের পর এক জঙ্গি হামলা 

    গত এক বছরে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে জঙ্গি হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে। বর্তমানে প্রদেশটি পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কী ধরনের কৌশল নেওয়া উচিত, তা নিয়ে কেন্দ্রের সরকার এবং প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতপার্থক্য রয়েছে। এই রাজনৈতিক বিভাজনও সন্ত্রাস দমনের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা (TTP Attack)। গবেষণা ও নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের ২০২৫ সালের বার্ষিক নিরাপত্তা প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক ছবি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়ায় হিংসার মাত্রা গত বছর থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে হিংসায় মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬২০, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৩১-এ। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালুচিস্তানে জঙ্গি কার্যকলাপ নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এসব এলাকায় হামলার প্রধান লক্ষ্য থাকে সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। ফলে জঙ্গি দমনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সাম্প্রতিক সময়ে অভিযান আরও জোরদার করেছে। তবে ধারাবাহিক হামলা প্রমাণ করছে, জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি এখনও উল্লেখযোগ্য সংগঠনগত সক্ষমতা ধরে রেখেছে (TTP Attack) এবং নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে (Pakistan)।

     

  • India Pakistan: আসিয়ান মঞ্চে কাশ্মীর ও সিন্ধু জলচুক্তি ইস্যু তোলায় পাকিস্তানকে কড়া জবাব ভারতের

    India Pakistan: আসিয়ান মঞ্চে কাশ্মীর ও সিন্ধু জলচুক্তি ইস্যু তোলায় পাকিস্তানকে কড়া জবাব ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসিয়ান (ASEAN) আঞ্চলিক ফোরামের (ARF) বৈঠকে কাশ্মীর এবং সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty-IWT) স্থগিতের প্রসঙ্গ তোলায় পাকিস্তানকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করল ভারত। নয়াদিল্লির অভিযোগ, আন্তর্জাতিক মঞ্চকে ব্যবহার করে পাকিস্তান মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসে তাদের ভূমিকা থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করছে। ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান-সম্পর্কিত মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইন এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। ওই বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

    ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অখণ্ড অংশ

    পাকিস্তানের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রীর ভিত্তিহীন এবং অযৌক্তিক মন্তব্য ভারত সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।” তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তান বারবার বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক মঞ্চকে ব্যবহার করে রাষ্ট্র-সমর্থিত ভুয়ো তথ্য প্রচার করছে এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে নিজেদের ভূমিকা আড়াল করার চেষ্টা করছে। জয়সওয়াল স্পষ্ট করে বলেন, “জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অখণ্ড অংশ ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনও অধিকার পাকিস্তানের নেই।”

    সিন্ধু জলচুক্তি প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থান

    সিন্ধু জলচুক্তি প্রসঙ্গে ভারতের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন জয়সওয়াল। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের ধারাবাহিক সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে মদতের জবাব হিসেবেই ভারত এই চুক্তি স্থগিত রেখেছে। বিশেষ করে গত বছরের এপ্রিল মাসে পাহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যুর পর একাধিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জয়সওয়াল জানান, পারস্পরিক আস্থা, সদিচ্ছা এবং বিশ্বাসের ভিত্তিতেই দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা সম্ভব। কিন্তু যখন একটি দেশ নিয়মিতভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে ব্যবহার করে, তখন সেই পরিবেশে স্বাভাবিক সহযোগিতা বজায় রাখা কঠিন। তিনি বলেন, “পাকিস্তান যতদিন না বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ীভাবে সীমান্তপারের সন্ত্রাসে সমর্থন বন্ধ করছে, ততদিন সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতই থাকবে।”

    নিজেদের সমস্যার সমাধানে মনোনিবেশ করুক পাকিস্তান

    এছাড়াও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানোর অভিযোগ তোলে ভারত। বিশেষ করে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্থান’ (Fitna al-Hindustan) শব্দবন্ধ ব্যবহার করে পাকিস্তান যে প্রচার চালাচ্ছে, তাকে “ধর্মীয় পরিভাষার আড়ালে বিভ্রান্তিমূলক প্রচার” বলে অভিহিত করেন জয়সওয়াল। তাঁর দাবি, এই ধরনের প্রচারের উদ্দেশ্য পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সংকট এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে তাদের ভূমিকা থেকে নজর ঘোরানো। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক মঞ্চের অপব্যবহার বা প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার বদলে পাকিস্তানের উচিত নিজেদের মাটিতে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ভেঙে ফেলা এবং নিজেদের সমস্যার সমাধানে মনোনিবেশ করা।” উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্থান’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করে দাবি করে আসছেন যে, ভারতের সমর্থনে কিছু জঙ্গি সংগঠন পাকিস্তানে সক্রিয় রয়েছে। ভারত এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে।

    ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্থান’ কী

    বেশ কিছুদিন  ধরে পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলিকে ভারত সমর্থিত প্রক্সি সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে আসছে ইসলামাবাদ। এর গালভরা একটি নামও দিয়েছে শাহবাজ সরকার। তা হল, ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্থান’। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের তরফে আগেই বলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকার ধর্মীয় পরিভাষার আড়ালে মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে। পাকিস্তানের নাগরিক ও আন্তর্জাতিক মঞ্চকে বিভ্রান্ত করতে পরিকল্পিতভাবে এই মিথ্যে ছড়ানো হচ্ছে। কোনও প্রমাণ ছাড়া ভারতের বিরুদ্ধে আঙুল তোলা পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অভ্যাস। আসলে পাকিস্তান তাদের অভ্যন্তরীণ, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে না পেরে এইসব ধর্মীয় সুড়সুড়ি দিচ্ছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরু থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত সমস্যা চরম আকার নিয়েছে। সন্ত্রাস দমনের নামে আফগানিস্তানের সাধারণ নাগরিকদের টার্গেট করে দফায় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। শুরু থেকেই এই নৃশংসতার তীব্র প্রতিবাদ করে আফগানিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। তাই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতকে বিভ্রান্ত করতে ও ভুয়ো তথ্য প্রচার করতে নানা চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ। তবে, বারবারই পাকিস্তানের দাবিকে যুক্তি খণ্ডন করেছে ভারত।

    সন্ত্রাসী হামলার পরিণতি ভোগ করতে হবে

    এআরএফ বৈঠকে ভাষণ দিতে গিয়ে ইসহাক দার দাবি করেন, দক্ষিণ এশিয়ার অস্থিরতার মূল কারণ কাশ্মীর সমস্যা। রাষ্ট্রসংঘ সনদ, নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং কাশ্মীরের মানুষের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী এই সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি ভারতের বিরুদ্ধে সিন্ধু জলচুক্তিকে ‘জলের অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগও তোলেন এবং আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করেন। এই বৈঠকেই ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির উপর জোর দেন। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসবাদ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং প্রতিটি সন্ত্রাসী হামলার উপযুক্ত পরিণতি ভোগ করতেই হবে।

LinkedIn
Share