Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • India Pakistan: কার্গিল যুদ্ধে নিহত পাক সেনাদের দেহ ফিরিয়ে নেয়নি ইসলামাবাদ! রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তীব্র আক্রমণ ভারতের

    India Pakistan: কার্গিল যুদ্ধে নিহত পাক সেনাদের দেহ ফিরিয়ে নেয়নি ইসলামাবাদ! রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তীব্র আক্রমণ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরে নিহত ব্যক্তিদের শেষকৃত্য ও তাঁদের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল পাকিস্তান। রাষ্ট্রসংঘে সেই অভিযোগের কড়া জবাব দিল ভারত। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে নয়াদিল্লি মনে করিয়ে দিল, নিজেদের সেনাদের মৃত্যুর ঘটনাও একসময় স্বীকার করতে চায়নি ইসলামাবাদ। অথচ আজ তারাই ধর্মীয় স্বাধীনতা, বিশ্বাস ও শেষকৃত্যের অধিকার নিয়ে সরব হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রসংঘে বিশেষ পরিস্থিতিতে শেষকৃত্যের অধিকার সংক্রান্ত এক আলোচনায় ভারতের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি ভাবিকা মঙ্গলানন্দন।

    শেষকৃত্যের অধিকার খর্ব করার অভিযোগ

    ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বিশ্বাসের অধিকার সংক্রান্ত রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূত নাজিলা ঘানিয়ার একটি অন্তর্বর্তী রিপোর্টকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। ওই রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়, জম্মু-কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত ব্যক্তিদের শেষকৃত্যের অধিকার পদ্ধতিগতভাবে খর্ব করা হয়েছে। পরিবারের হাতে মৃতদেহ তুলে না দেওয়া এবং দূরবর্তী স্থানে গোপনে দেহ সমাধিস্থ করার মতো ঘটনাও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় রীতিনীতির সঙ্গে এই ধরনের ঘটনার অসঙ্গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

    পাকিস্তানকে নিশানা ভারতের

    এর জবাবে পাকিস্তানকে নিশানা করে ভাবিকা মঙ্গলানন্দন বলেন, “যে রাষ্ট্র ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধে নিহত নিজেদের সেনাদের মৃতদেহ পর্যন্ত গ্রহণ করেনি, সেই রাষ্ট্রই আজ ধর্মবিশ্বাস, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমাধিস্থ করার অধিকার নিয়ে জোরালো বক্তব্য রাখছে—এ এক গভীর পরিহাস।” উল্লেখ্য, কার্গিল যুদ্ধের সময় পাকিস্তান তাদের সেনা সদস্যদের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছিল। সেই পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী নিহত পাকিস্তানি সেনাদের দেহ উদ্ধার করে সামরিক মর্যাদায় এবং ইসলামি রীতি মেনে তাঁদের সমাধিস্থ করেছিল বলে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়। জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের লাগাতার মন্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেন ভারতের প্রতিনিধি। তিনি বলেন, ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের অতিরিক্ত আগ্রহ না দেখিয়ে তাদের উচিত পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন অঞ্চলের পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়া। এ প্রসঙ্গে তিনি রাওয়ালকোটের কথাও উল্লেখ করেন।

    সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়েও পাকিস্তানকে আক্রমণ

    রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মঙ্গলানন্দন। তাঁর অভিযোগ, দেশটিতে সংখ্যালঘুদের জনসংখ্যা ক্রমশ কমছে এবং তাঁদের অধিকার বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “যে রাষ্ট্র নিজের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, ভারতকে উপদেশ দেওয়ার কোনও নৈতিক অধিকার তার নেই।” পাকিস্তানে হিন্দু, খ্রিস্টান ও শিখ-সহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এই মন্তব্য করেন। এদিকে, হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তানের প্রকাশিত সপ্তম বার্ষিক রিপোর্টেও (Sanctuary Denied: Freedom of Religion or Belief in 2025/26) দেশটির সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। রিপোর্টে ধর্মনিন্দা সংক্রান্ত আইনের অপব্যবহার, জোরপূর্বক বিয়ে ও ধর্মান্তর এবং বৈষম্যমূলক আচরণের মতো বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়েছে।

    সন্ত্রাসবাদীদের শেষকৃত্য নিয়ে প্রশ্ন ভারতের

    রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শেষকৃত্যের অধিকার নিয়েও আপত্তি জানান ভারতের প্রতিনিধি। তাঁর বক্তব্য, রিপোর্টে রাষ্ট্রের তরফে সন্ত্রাসবাদীদের শেষকৃত্যের অধিকার সীমিত করার সুযোগ স্বীকার করা হলেও সেই ক্ষেত্রে আইনি সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়েছে। মঙ্গলানন্দনের মতে, এই আইনি সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সার্বভৌম অধিকারের বিষয়টিও বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদীরা নিরীহ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি একটি গোটা জাতির মানসিকতার উপর গভীর আঘাত হানে। ভারতের প্রতিনিধির অভিযোগ, রিপোর্টে সন্ত্রাসবাদীদের অধিকারের উপর যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, সন্ত্রাসের শিকার হওয়া মানুষদের অধিকারের ক্ষেত্রে ততটা গুরুত্ব দেখা যায়নি। তিনি আরও দাবি করেন, রিপোর্টে ভারতের প্রসঙ্গ টানতে প্রায় পাঁচ বছর আগের ঘটনাগুলির উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অঞ্চলে এবং উন্নত দেশগুলিতে ঘটে যাওয়া গুরুতর লঙ্ঘনের ঘটনাগুলিকে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি।

    কোভিড পরিস্থিতি নিয়েও রিপোর্টকে নিশানা

    কোভিড-১৯ মহামারির সময় মৃতদেহের শেষকৃত্য ও ধর্মীয় আচরণ নিয়ে বৈষম্যের প্রসঙ্গেও রিপোর্টের সমালোচনা করেন মঙ্গলানন্দন। তাঁর বক্তব্য, রিপোর্টে এমনভাবে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, যেন এই ধরনের ঘটনা মূলত গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলিতেই ঘটেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, উন্নত দেশগুলিতে একই ধরনের মর্মান্তিক পরিস্থিতির উল্লেখ করা হয়নি কেন। মানুষের যন্ত্রণা ও মৃত্যুকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন ভারতের প্রতিনিধি। রাষ্ট্রসংঘে এই বক্তব্যের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের অভিযোগের পাল্টা জবাব দেওয়ার পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের অধিকার, সন্ত্রাসবাদ এবং আন্তর্জাতিক রিপোর্টের নিরপেক্ষতা নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করল নয়াদিল্লি।

  • Tibet Earthquake: তিব্বতে ৭.০ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, মৃত অন্তত ১৬, ধ্বংস শতাধিক বাড়ি

    Tibet Earthquake: তিব্বতে ৭.০ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, মৃত অন্তত ১৬, ধ্বংস শতাধিক বাড়ি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনের তিব্বতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণ হারালেন অন্তত ১৬ জন। আহত হয়েছেন আরও ৫৪ জন। বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিট নাগাদ ৭.০ মাত্রার এই ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উত্তর তিব্বতের নাগকু শহর ও সংলগ্ন এলাকায়। সরকারি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পের জেরে অন্তত ৩৩৯টি বাড়ি এবং ২০টি পশু রাখার শেড ভেঙে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা জানতে চলছে তল্লাশি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য আশ্রয়, খাবার ও জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজও শুরু করেছে প্রশাসন।

    নাগকুতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, উদ্ধারকাজে ১,৬০০ জন

    ভূমিকম্পের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে নাগকু শহর ও তার আশপাশের এলাকায়। নাগকু প্রশাসনের মিডিয়া দফতর জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩৩৯টি বাড়ি ও ২০টি পশু রাখার শেড ধসে পড়ার খবর মিলেছে। বহু পরিবার ঘরছাড়া হয়েছেন। দুর্গম ও উচ্চ পার্বত্য এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানোও যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের হয়ে উঠেছে।

    উদ্ধার ও ত্রাণের কাজে সাহায্য করতে স্থানীয় জেলা থেকে ১,৬০০-রও বেশি মানুষকে পাঠানো হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কাজ করছেন তাঁরা। মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

    ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য বিপুল পরিমাণ জরুরি সামগ্রী পাঠিয়েছে প্রশাসন। এর মধ্যে রয়েছে ১,০০০টি প্রিফ্যাব্রিকেটেড আবাসন ইউনিট, প্রায় ৩,০০০টি তাঁবু, ভাঁজ করা বিছানা, টর্চ এবং শীতের পোশাক। তিব্বতের এই পার্বত্য অঞ্চলে ঠান্ডার মধ্যে বহু মানুষ ঘরছাড়া হওয়ায় অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    ধসের জেরে বন্ধ জাতীয় সড়ক, ব্যাহত রেল পরিষেবা

    ভূমিকম্পের প্রভাবে তিব্বতের একাধিক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে স্থানীয় রেল কর্তৃপক্ষও জরুরি পদক্ষেপ করেছে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে দিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    অন্যদিকে, ভূমিকম্পের জেরে পাহাড় থেকে পাথর গড়িয়ে পড়ায় জাতীয় সড়ক ৩১৭-এর একটি অংশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাস্তা থেকে পাথর ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছে। আপাতত ওই অংশ দিয়ে শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবার গাড়ি, উদ্ধারকারী দল এবং প্রশাসনের ত্রাণবাহী যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

    যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা এবং দুর্গত এলাকাগুলিতে দ্রুত পৌঁছনোর জন্য রাস্তা পরিষ্কারের কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং প্রতিকূল আবহাওয়া উদ্ধারকাজের গতি কমিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    কোথায় ছিল ভূমিকম্পের উৎস? জানাল ইউএসজিএস

    মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS)-এর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উপকেন্দ্র ছিল নাগকু শহর থেকে প্রায় ১৯১ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়।

    উত্তর তিব্বতের এই অঞ্চলটি উচ্চ পার্বত্য এবং তুলনামূলকভাবে কম জনবসতিপূর্ণ। তবে ভূমিকম্পের তীব্রতা এবং একাধিক বাড়ি ধসে পড়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

    প্রাথমিক কম্পনের পর অন্তত সাতটি পরবর্তী কম্পন বা আফটারশকেরও রেকর্ড পেয়েছে USGS। সেগুলির মাত্রা ছিল ৪.৩ থেকে ৫.২-এর মধ্যে। প্রতিটি আফটারশকের উৎপত্তি হয়েছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ১০ কিলোমিটার গভীরে।

    তুষারপাতের পূর্বাভাস, বাড়ছে উদ্ধারকাজের চ্যালেঞ্জ

    ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত তিব্বতের এলাকায় আগামী তিন দিন ধরে থেমে থেমে তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে চিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া। এর ফলে উদ্ধারকাজ এবং ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

    বিশেষত যাঁরা বাড়ি হারিয়ে অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁদের জন্য ঠান্ডা থেকে সুরক্ষা এবং পর্যাপ্ত আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই তাঁবু, অস্থায়ী আবাসন, বিছানা ও শীতের পোশাক সরবরাহের উপর জোর দিচ্ছে প্রশাসন।

    উদ্ধারকাজে সর্বশক্তি প্রয়োগের নির্দেশ শি জিনপিংয়ের

    ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও ত্রাণকাজে সর্বশক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার, আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্গত পরিবারগুলিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উপর জোর দিয়েছেন তিনি। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া বাসিন্দাদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারী দলগুলি।

    চিনের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে এই অঞ্চলে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এটি। তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে নাগকুর দূরত্ব ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি।

    প্রাণহানি, বাড়িঘর ধসে পড়া এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার ঘটনায় উত্তর তিব্বতের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আপাতত উদ্ধারকাজ, আহতদের চিকিৎসা এবং ঘরছাড়া পরিবারগুলির জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

  • India on Saudi Attack: সৌদিতে বিমানবন্দর ও তেলকূপে হামলায় মৃত এক ভারতীয়, নিন্দা নয়াদিল্লির

    India on Saudi Attack: সৌদিতে বিমানবন্দর ও তেলকূপে হামলায় মৃত এক ভারতীয়, নিন্দা নয়াদিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো, বিমানবন্দর ও তেলকূপে ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানাল ভারত। এই হামলায় এক ভারতীয় নাগরিক-সহ দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আটজন, যাঁদের মধ্যে দু’জন ভারতীয়। বুধবার রাতে সৌদি আরবের দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি একাধিক ব্যক্তি আহত হন। তাঁদের মধ্যে ভারতীয়, পাকিস্তানি, বাংলাদেশিও রয়েছেন। ২১ অক্টোবর সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সৌদি আরামকোর শায়বাহ তেলকূপেও হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। এই হামলার ঘটনায় নিন্দা করেছে ভারত।

    সৌদির ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তা

    বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর এই ধরনের হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। অবিলম্বে এই হামলা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশটির সরকার ও জনগণের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছে নয়াদিল্লি। হামলায় নিহত ভারতীয় নাগরিকের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়েছে। রিয়াধে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তা করছে বলেও জানানো হয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই হামলার নিন্দা করে বিবৃতি দিয়েছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, ‘‘আমরা আবারও জোর দিয়ে বলছি, সাধারণ নাগরিক এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর উপর এ ধরনের হামলা কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে এমন হামলা বন্ধ হওয়া উচিত। সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে আমরা সে দেশের জনগণ এবং সরকারের পাশে আছি। আশা করি, দ্রুত ওই অঞ্চলে শান্তি এবং স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে।’’

    হামলার নেপথ্যে কারা 

    রিয়াধে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তারা হামলার ঘটনা সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করছে। শুধু তা-ই নয়, নিহত এবং আহত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তবে কে বা কারা এই হামলার নেপথ্যে রয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও অতীতে সৌদির বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার দায় স্বীকার করেছিল ইরান সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। সৌদি আরবের অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, হামলার ফলে কিং ফাহদ বিমানবন্দরে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা মূল্যায়ন করে দেখা হচ্ছে। বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ ছিল। তবে কিছুক্ষণ পরে আবার পরিষেবা স্বাভাবিক হয় বিমানবন্দরের।

    সৌদি-আরবে অশান্তি চেষ্টা

    চলতি মাসে প্রায় প্রতি দিনই সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে হুথি। দিন কয়েক আগেই রিয়াধ থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে দামাম বিমানবন্দরে হামলা চালায় ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী। গত কয়েক দিন ধরেই সৌদির রাজধানী রিয়াদে কিং খলিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে নিশানা করে যাচ্ছে হুথি গোষ্ঠী। গত ১০ অক্টোবর বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তারা। তাতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়। জখম হন তিন শতাধিক। জখমদের মধ্যে রয়েছে ১১ জন ভারতীয়ও। হামলার নিন্দা জানিয়েছিল ভারতও। সৌদির দামাম বিমানবন্দর এবং জ্বালানি সংস্থা আরামকোর বেশ কয়েকটি শোধনাগারেও হামলা চালায় হুথি।

    নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা মোদির

    পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে ইতিমধ্যেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই নেতা ভারত-ইজরায়েল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং দুই দেশের বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের বিবৃতি অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়। অবিলম্বে ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার উপর তাঁরা জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি পুনরায় স্পষ্ট করে দেন, আলোচনার মাধ্যমে কূটনৈতিক পথেই এই সংকটের সমাধান খুঁজে বের করা উচিত।

    আটকে পড়া ওমরাহ যাত্রীদের ফেরাতে উদ্যোগ

    পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির অবনতির জেরে বিমান পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরবে আটকে পড়া ভারতীয় ওমরাহ যাত্রীদের দেশে ফেরাতে তৎপর হয়েছে কেন্দ্র। রিয়াধ ও জেদ্দায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস বিমান সংস্থা এবং ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে প্রায় ৩,০০০ আটকে পড়া ওমরাহ যাত্রী উপলব্ধ বিমান পরিষেবার মাধ্যমে সৌদি আরব থেকে ভারতে ফিরেছেন। পাশাপাশি, আগে থেকেই উপলব্ধ বিমানের টিকিট বুক করা আরও ১০,০০০-এর বেশি ওমরাহ যাত্রীও ওই সময়ের মধ্যে দেশে ফিরেছেন। বাকি যাত্রীদের দ্রুত দেশে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে। ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তার জন্য ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে এবং নিয়মিত সতর্কবার্তা ও পরামর্শ জারি করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক।

     কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফেরানোর বার্তা

    সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় বহু ভারতীয় তীর্থযাত্রী আটকে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM)-এর সভাপতি আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তাঁদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি। আটকে পড়া যাত্রীদের ফিরিয়ে আনতে অতিরিক্ত বিমানের ব্যবস্থা করারও আহ্বান জানিয়েছেন ওয়েইসি। পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে একদিকে সৌদি আরবে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে আটকে পড়া তীর্থযাত্রীদের দেশে ফেরানো—এই দুই বিষয়েই তৎপরতা বাড়িয়েছে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর বার্তাও দিয়েছে ভারত সরকার।

  • India at UN: রাষ্ট্রসংঘে ভারতের কড়া বার্তা! ‘যাচাইহীন অভিযোগে কলঙ্কিত করা যাবে না বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রকে’

    India at UN: রাষ্ট্রসংঘে ভারতের কড়া বার্তা! ‘যাচাইহীন অভিযোগে কলঙ্কিত করা যাবে না বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রকে’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ভারতের বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কড়া অবস্থান নিল নয়াদিল্লি। যাচাই না করা অভিযোগ, অসম্পূর্ণ পরিসংখ্যান এবং নির্দিষ্ট দেশ সম্পর্কে পর্যবেক্ষণহীন রিপোর্টের ভিত্তিতে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল ভারত। একইসঙ্গে ভারতের বক্তব্য, মানবাধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনা ও সহযোগিতায় নয়াদিল্লি প্রস্তুত। তবে সেই প্রক্রিয়া হতে হবে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং তথ্যনির্ভর। মানবাধিকারকে কোনও দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি বা বেছে বেছে নিশানা করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বা জোরপূর্বক গুম সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচনা চলাকালীন ভারতের এই অবস্থান সামনে আসে। সেখানে বিদেশ মন্ত্রকের ডেপুটি সেক্রেটারি বরখা তামরাকার ভারতের বক্তব্য তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, যাচাই না করা অভিযোগকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরা এবং মানবিক উদ্বেগের ভিত্তিতে পাঠানো যোগাযোগকে দেশের বিরুদ্ধে রায়ের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

    ‘যাচাইহীন অভিযোগ দিয়ে ভারতকে কলঙ্কিত করা যাবে না’

    রাষ্ট্রসংঘে ভারতের প্রতিনিধি বরখা তামরাকার বলেন, “যাচাই না করা অভিযোগ, অসম্পূর্ণ পরিসংখ্যান কিংবা ভারত সম্পর্কে কোনও দেশ-নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ নেই এমন রিপোর্টকে ব্যবহার করে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির যে কোনও প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে ভারত।”

    একইসঙ্গে তিনি জানান, নির্দিষ্ট এবং যথাযথ নথিপত্র-সহ উপস্থাপিত ঘটনার বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাখ্যা দিতে ভারত প্রস্তুত। অর্থাৎ, মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে আলোচনার দরজা বন্ধ করতে চাইছে না নয়াদিল্লি। বরং ভারতের আপত্তি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই সেগুলিকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতায়।

    ভারতের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই সহযোগিতার ভিত্তি হতে হবে আলোচনা, পরামর্শ, পারস্পরিক সহযোগিতা, নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছতা। কোনও নির্দিষ্ট দেশকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলার উদ্দেশ্যে মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়কে ব্যবহার করা হলে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

    রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট নিয়ে ভারতের আপত্তি কোথায়?

    জোরপূর্বক গুম সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচনা ঘিরে ভারতের মূল আপত্তি রিপোর্ট ও অভিযোগের তথ্যগত ভিত্তি নিয়ে। ভারতের বক্তব্য, রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও বিশেষ প্রতিবেদক তাঁদের রিপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে কখনও কখনও অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি বা পক্ষের জমা দেওয়া তথ্যের উপর নির্ভর করেন। সেই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা না হলে তাকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

    তামরাকার রাষ্ট্রসংঘের সদস্য দেশগুলির প্রতিনিধিদের রিপোর্টের বক্তব্য যথাযথভাবে উদ্ধৃত করার আহ্বান জানান। তাঁর কথায়, কোনও মানবিক উদ্বেগের ভিত্তিতে পাঠানো যোগাযোগকে অতিরঞ্জিত করে একটি দেশের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায়ের মতো তুলে ধরা উচিত নয়।

    এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ভারত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার বিরোধিতা করার পরিবর্তে তার পদ্ধতি ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নয়াদিল্লির অবস্থান, মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগের গুরুত্ব থাকলেও প্রতিটি অভিযোগের মূল্যায়ন হওয়া উচিত প্রামাণ্য তথ্য, নির্দিষ্ট ঘটনা এবং যাচাইযোগ্য নথির ভিত্তিতে।

    সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ ও বিচারব্যবস্থার কথা তুলে ধরল ভারত

    ভারতের প্রতিনিধি আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষাকবচগুলির কথাও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, ভারত একটি প্রাণবন্ত গণতন্ত্র, যেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত এবং নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত।

    ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনও ব্যক্তির বেআইনি আটক বা নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগের ক্ষেত্রে বিচারবিভাগের হস্তক্ষেপ চাওয়ার সুযোগও রয়েছে। বিশেষত, হেবিয়াস কর্পাস বা বন্দি-উপস্থাপন সংক্রান্ত রিটের মাধ্যমে আদালত কোনও ব্যক্তিকে আটক রাখার বৈধতা খতিয়ে দেখতে পারে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারে।

    ভারতের বক্তব্য, এই স্বাধীন বিচারব্যবস্থা নাগরিকের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে কোনও নির্দিষ্ট ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে তার প্রকৃত মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথি পরীক্ষা করা জরুরি বলেও ভারতের অবস্থান থেকে স্পষ্ট।

    তথ্যের অধিকার থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, কী কী যুক্তি ভারতের?

    মানবাধিকার রক্ষায় ভারতের বিভিন্ন সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার উল্লেখ করেন বরখা তামরাকার। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    • ● তথ্যের অধিকার আইন (RTI): সরকারি কাজকর্মে স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    • ● জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC): মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পদক্ষেপের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক মঞ্চ রয়েছে।

    • ● রাজ্য মানবাধিকার কমিশন: রাজ্যস্তরেও মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

    • ● স্বাধীন বিচারব্যবস্থা: নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষায় আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ রয়েছে।

    • ● স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ও নাগরিক সমাজ: প্রশাসনের কাজকর্মের উপর নজরদারি, অভিযোগ প্রকাশ্যে আনা এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলি তুলে ধরার ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যম ও নাগরিক সংগঠনগুলির ভূমিকা রয়েছে।

    ভারতের মতে, এই ব্যবস্থাগুলি সম্মিলিতভাবে নাগরিকের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কোনও মূল্যায়ন করতে হলে এই প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনার বাস্তব তথ্যও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

    দিল্লিতে যুব বিক্ষোভ ঘিরে রাষ্ট্রসংঘের বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

    ভারতের এই কড়া অবস্থানের নেপথ্যে রয়েছে দিল্লিতে যুবকদের বিক্ষোভ ঘিরে মানবাধিকার সংক্রান্ত বিতর্কও। মঙ্গলবার জেনিভায় রাষ্ট্রসংঘের ২০ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞ দিল্লিতে যুবকদের কথিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের উপর পুলিশের বারবার কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    বিক্ষোভ চলাকালীন মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে অভিযোগ উঠেছে, তার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান তাঁরা। তাঁদের বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ এবং অভিযোগগুলির যথাযথ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার প্রশ্ন।

    অন্যদিকে, ভারতের বক্তব্য, যাচাইহীন বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে কোনও দেশ সম্পর্কে নেতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়। তবে দিল্লির বিক্ষোভ ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলির বিষয়ে ভারতের বক্তব্য এবং রাষ্ট্রসংঘের বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ—দুটি বিষয়কেই পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য নির্দিষ্ট ঘটনা, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ খতিয়ে দেখা জরুরি।

    ককরোচ জনতা পার্টি বিতর্কেও রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টকে ‘শোনা কথা’ বলেছিল ভারত

    রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত রিপোর্ট নিয়ে ভারতের আপত্তি এই প্রথম নয়। এর আগে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের এক বিশেষ প্রতিবেদকের রিপোর্টেরও বিরোধিতা করেছিল নয়াদিল্লি।

    সেই রিপোর্টে ভারতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ‘শোনা কথা’ বা ‘হিয়ারসে’ বলে অভিহিত করেছিল ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য ছিল, অজ্ঞাত পরিচয় সূত্রের উপর নির্ভর করে এবং যাচাই না করা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিরুদ্ধে বিস্তৃত অভিযোগ তোলা কোনওভাবেই নির্ভরযোগ্য প্রমাণের বিকল্প হতে পারে না।

    ভারতের প্রতিনিধি সেই সময় বলেছিলেন, “অজ্ঞাত এবং যাচাই না করা দাবির উপর ভিত্তি করে বিশ্বের বৃহত্তম যুব জনসংখ্যার বিরুদ্ধে এমন বিস্তৃত অভিযোগ কোনও প্রমাণ নয়। এটি রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টের মোড়কে সাজানো শোনা কথা।”

    এই অবস্থানের সঙ্গে বর্তমান বক্তব্যেরও মিল রয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই ভারতের মূল আপত্তি রিপোর্টের তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, অভিযোগ যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মঞ্চের নিরপেক্ষতা নিয়ে।

    জোরপূর্বক গুম সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন প্রসঙ্গ

    আলোচনায় জোরপূর্বক গুম সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের বিষয়টিও উঠে এসেছে। ভারত জানিয়েছে, নয়াদিল্লি International Convention for the Protection of All Persons from Enforced Disappearance-এর স্বাক্ষরকারী।

    এই কনভেনশন জোরপূর্বক গুমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার কাঠামো। তবে কোনও আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করা এবং সেটির অধীনে পূর্ণাঙ্গ আইনগত বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করা এক বিষয় নয়। কোনও রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে কনভেনশনের আইনগত বাধ্যবাধকতার পরিধি নির্ধারণে তার অনুমোদন বা অনুসমর্থনের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ।

    তাই ভারতের স্বাক্ষরকারী হওয়ার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য হলেও, একে কনভেনশনের সমস্ত বাধ্যবাধকতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণ করার সমতুল্য হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

     

  • France Protests: ফ্রান্সে হিংসাত্মক বিক্ষোভ, ভারতীয়দের জন্য দূতাবাসের সতর্কবার্তা! প্যারিস-সহ একাধিক শহরে কার্ফু

    France Protests: ফ্রান্সে হিংসাত্মক বিক্ষোভ, ভারতীয়দের জন্য দূতাবাসের সতর্কবার্তা! প্যারিস-সহ একাধিক শহরে কার্ফু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, সরকারি পরিষেবার অবনতি এবং শিক্ষাব্যবস্থার একাধিক সমস্যা ঘিরে উত্তপ্ত ফ্রান্স। রাজধানী প্যারিস-সহ মার্সেই ও লিয়ঁর মতো শহরে বিক্ষোভ ঘিরে হিংসা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ফ্রান্সে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিক এবং দেশটিতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, এমন ভারতীয়দের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে প্যারিসে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। বিক্ষোভের এলাকা এড়িয়ে চলা, জনবহুল স্থানে না যাওয়া এবং ফরাসি প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    ভারতীয় দূতাবাসের পরামর্শ, কী জানানো হয়েছে?

    বুধবার সন্ধ্যায় জারি করা পরামর্শে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ফ্রান্সের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় স্তরে কার্ফু জারির বিষয়টি বিবেচনা করে ভারতীয় নাগরিকদের সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    দূতাবাসের তরফে আরও বলা হয়েছে, যেখানে বিক্ষোভ চলছে, সেই এলাকাগুলি থেকে দূরে থাকতে হবে। ফরাসি প্রশাসন এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যে নির্দেশিকা জারি করছে, তা যথাযথভাবে মেনে চলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

    বিক্ষোভের কারণে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে পরিবহণ পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। তাই যাতায়াতের পরিকল্পনা করার আগে সরকারি সূত্র থেকে সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেওয়ার কথা বলেছে দূতাবাস। বিশেষ করে পর্যটক, পড়ুয়া, কর্মসূত্রে ফ্রান্সে থাকা ভারতীয় এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য এই সতর্কবার্তা গুরুত্বপূর্ণ।

    জরুরি প্রয়োজনে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর ও ইমেল:

    • ● ফোন: +33 6 48 34 00 63

    • ● ইমেল: cons.paris@mea.gov.in

    কেন অশান্ত ফ্রান্স? ক্ষোভের কেন্দ্রে জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষা

    ফ্রান্সে সাম্প্রতিক অশান্তির পিছনে একাধিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি, সরকারি পরিষেবার অবনতি এবং শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। সেই অসন্তোষ থেকেই শুরু হওয়া বিক্ষোভের একাংশ হিংসাত্মক রূপ নিয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে।

    প্যারিস, মার্সেই ও লিয়ঁর মতো শহরে বিক্ষোভ চলাকালীন লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের খবর সামনে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হয়েছে। কয়েকটি বড় শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় এখনও কার্ফু জারি রয়েছে।

    এই অশান্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ছাত্রছাত্রীদের ক্ষোভ। স্কুলগুলিতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের অভাব, পরিকাঠামোর দুর্বলতা এবং শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মীর ঘাটতি নিয়ে অভিযোগ তুলেছে পড়ুয়াদের একাংশ। বিশেষত আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলির স্কুলে এই সমস্যাগুলি বেশি প্রকট বলে দাবি উঠেছে।

    পাশাপাশি, দীর্ঘক্ষণ স্কুলে থাকতে হওয়া নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে পড়ুয়াদের মধ্যে। অনেক ক্ষেত্রে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত স্কুলের সময়সূচি ক্লান্তিকর হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পদ্ধতির জটিলতা এবং সেই ব্যবস্থার ন্যায্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।

    অর্থাৎ, এই বিক্ষোভ শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়। এর পিছনে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি পরিষেবার মান এবং শিক্ষার সুযোগ নিয়ে জমে থাকা অসন্তোষও।

    দু’রাত শান্তি, তবুও কাটেনি উদ্বেগ

    সপ্তাহান্তে অশান্তির পর পরপর দু’রাত ফ্রান্সে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল। তবে তাতে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। একাধিক বড় শহরের কিছু অংশে কার্ফু এখনও বহাল রয়েছে। নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দেওয়ায় পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার ও শনিবার আরও বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলির পাশাপাশি ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ফ্রান্সে বড়সড় আন্দোলনের জন্ম দেওয়া ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলির তরফেও বিক্ষোভের ডাক এসেছে।

    উল্লেখ্য, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ঘিরে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করেছিল। সেই আন্দোলনের স্মৃতি এখনও ফরাসি প্রশাসনের কাছে উদ্বেগের কারণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে বড় জমায়েত হলে অশান্তি আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা, শনিবার বড় নিরাপত্তা অভিযান

    প্যারিসে বৃহস্পতিবারের জন্য পরিকল্পিত একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হবে না বলে বুধবার জানিয়েছে শহরের পুলিশ। জননিরাপত্তার ঝুঁকি এবং সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে, ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন জানিয়েছেন, বিক্ষোভ চলাকালীন এবং তার পরে আটক হওয়া ২,৫০০ জনের মধ্যে ১৭৪ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরও ৯১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে বুধবার ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু। শনিবার ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযান চালানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। বিক্ষোভের আড়ালে ছোট ছোট দুষ্কৃতী গোষ্ঠীর হিংসাত্মক কার্যকলাপ যাতে ফের বড় আকার না নেয়, তা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য।

    প্রশাসনের আশঙ্কা, অল্প কয়েকটি গোষ্ঠীর হিংসাত্মক কার্যকলাপও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু দুর্বলতা সামনে এসেছে বলেও মনে করা হচ্ছে।

    ইতালিতেও ভারতীয়দের জন্য সতর্কবার্তা

    ফ্রান্সের আগে চলতি সপ্তাহেই ইতালিতে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরামর্শ জারি করেছিল সেখানকার ভারতীয় দূতাবাস। ইতালিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিষেবার মান নিয়ে বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে ওই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

    সেখানেও ভারতীয় নাগরিকদের জনবহুল এলাকা এবং বিক্ষোভস্থল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজ রাখার কথা বলা হয়।

    ফ্রান্স ও ইতালি—দুই দেশেই বিক্ষোভের জেরে ভারতীয় দূতাবাসগুলির এই সতর্কবার্তা বিদেশে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

    ফ্রান্সে যাওয়া ভারতীয়দের কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন?

    বর্তমান পরিস্থিতিতে ফ্রান্সে বসবাসকারী ভারতীয়দের পাশাপাশি পর্যটক ও পড়ুয়াদেরও কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।

    • ● বিক্ষোভস্থল এড়িয়ে চলুন: মিছিল, জমায়েত বা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে, এমন এলাকায় যাবেন না।

    • ● কার্ফুর নিয়ম মানুন: স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী চলাফেরা করুন।

    • ● যাতায়াতের খবর রাখুন: ট্রেন, বাস এবং অন্যান্য পরিবহণ পরিষেবার সম্ভাব্য পরিবর্তন সম্পর্কে সরকারি সূত্র থেকে জেনে নিন।

    • ● সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করুন: স্থানীয় প্রশাসন ও ভারতীয় দূতাবাসের নতুন বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখুন।

    • ● জরুরি যোগাযোগের তথ্য সঙ্গে রাখুন: প্রয়োজন হলে দ্রুত ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

    সব মিলিয়ে, ফ্রান্সে আপাতত পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও নতুন করে বিক্ষোভের ডাক এবং কয়েকটি শহরে কার্ফু বহাল থাকায় উদ্বেগ রয়ে গিয়েছে। আগামী কয়েক দিনে প্রশাসন পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, তার উপরই নির্ভর করছে অশান্তি কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে। ফ্রান্সে থাকা ভারতীয়দের ক্ষেত্রে তাই আপাতত সতর্কতা, সরকারি নির্দেশ মেনে চলা এবং পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজ রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

  • Russia Ukraine War: ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অচল রাশিয়ার ‘গুগল’, চরম ভোগান্তিতে লাখ লাখ মানুষ

    Russia Ukraine War: ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অচল রাশিয়ার ‘গুগল’, চরম ভোগান্তিতে লাখ লাখ মানুষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার (Russia Ukraine War) প্রধান ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘Yandex’ (যা ‘রাশিয়ার গুগল’ নামে সুপরিচিত)-এর গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সেন্টারগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সা্যাসোভো ও কালুগা অঞ্চলে অবস্থিত ইয়ানডেক্সের ৫টি প্রধান ডেটা সেন্টারের মধ্যে ৩টিতেই পর পর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় প্রতিষ্ঠানটির একটি ডেটা সেন্টার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে এবং অন্যগুলোতে গুরুতর অগ্নিকাণ্ড ও অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে রাশিয়া জুড়ে এক নজিরবিহীন ডিজিটাল সংকট তৈরি হয়েছে।

    স্তব্ধ ব্যাংকিং ও দৈনন্দিন সেবা

    হামলার পর থেকে ‘Yandex Pay’ সহ প্রায় ৮৪টি ক্লাউড সার্ভিস ও অ্যাপ বিকল হয়ে পড়েছে। ফলে রাশিয়ার লাখ লাখ সাধারণ মানুষ চরম বিপদে পড়েছেন। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল পেমেন্ট মাধ্যম বন্ধ থাকায় মানুষ তাদের জমানো টাকা তুলতে পারছেন না এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটাও করতে পারছেন না। এর পাশাপাশি অ্যাপের মাধ্যমে ট্যাক্সি বুকিং ও রাইড শেয়ারিং পুরোপুরি থমকে গেছে। ফলে মস্কোর বহু ট্যাক্সিচালক তাদের দৈনিক আয় দেখতে বা টাকা তুলে নিতে পারছেন না। শুধু তা-ই নয়, স্মার্ট হোমের ডিজিটাল লক অচল হয়ে যাওয়ায় অনেক মানুষ নিজেদের বাড়িতে প্রবেশ করতেই সমস্যায় পড়ছেন। একই সাথে খাবার ডেলিভারি এবং অনলাইন ট্র্যাফিক ম্যাপের মতো প্রতিদিনের জরুরি পরিষেবাগুলোও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

    ইউক্রেনের প্রতিশোধ

    ইউক্রেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাশিয়া (Russia Ukraine War) এর আগে ইউক্রেনের বিভিন্ন ইন্টারনেট পরিকাঠামো ও ডেটা সেন্টারে আক্রমণ চালিয়ে প্রায় ১ লাখ পরিবারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ তুলেছিলেন যে রাশিয়া ইউক্রেনকে ডিজিটাল বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে। তারই প্রতিশোধমূলক উত্তর হিসেবে ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো রাশিয়ার প্রধান ডিজিটাল পরিকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। ইয়ানডেক্স ছাড়াও রাশিয়ার সর্ববৃহৎ ব্যাংক Sberbank এবং প্রযুক্তি সংস্থা VK-এর ডেটা সেন্টারেও হামলা হয়েছে।

    সরকারের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ উদ্বেগ

    ইয়ানডেক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনায় তাদের কোনো কর্মী নিহত হননি, তবে সা্সোভো অঞ্চলের হামলায় ৯ জন আহত হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত অন্যান্য ডেটা সেন্টারে কাজের চাপ স্থানান্তর করে ব্যাকআপ তৈরির চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও ইয়ানডেক্স একটি বড় কোম্পানি এবং এখনই কোনো সরকারি সাহায্যের কথা বলা তাড়াহুড়ো হবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, রাশিয়ার সমস্ত বড় ডেটা সেন্টার মস্কো ও তার কাছাকাছি অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত থাকায় এই ধরনের ড্রোন হামলা বারবার হলে রাশিয়ার (Russia Ukraine War) পুরো ইন্টারনেট ব্যবস্থাই ভেঙে পড়তে পারে।

  • Europe Crisis: ইউরোপের পাঁচ দেশে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ

    Europe Crisis: ইউরোপের পাঁচ দেশে বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, আবাসন সংকট, শিক্ষা খাতে সমস্যা এবং সরকারি পরিষেবার অবনতির অভিযোগে উত্তাল ইউরোপের (Europe Crisis) একাধিক দেশ। গত ১৭ অক্টোবর ফ্রান্স, আলবেনিয়া, ইতালি, পর্তুগাল ও বেলজিয়ামে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক দেশে পুলিশকে কড়া পদক্ষেপ করতে হয়েছে। কোথাও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন দু’পক্ষেরই অনেকে, কোথাও আবার গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জনজীবনের নানা সমস্যা নিয়ে ক্ষোভের পাশাপাশি রাজনৈতিক মেরুকরণও তীব্র হয়েছে। বামপন্থী দল, শ্রমিক সংগঠন ও ছাত্র আন্দোলনের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন দেশে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে বিক্ষোভের কারণ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট প্রতিটি দেশে আলাদা।

    ফ্রান্স: বিক্ষোভের আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ঐতিহাসিক ভবন

    ইউরোপের চলতি অস্থিরতার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতির খবর মিলেছে ফ্রান্স থেকে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষক সংকট, স্কুলের পরিকাঠামোর দুরবস্থা, বৈষম্য এবং সরকারি পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ থেকে পথে নামেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও শ্রমিক সংগঠন CGT-র হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার থেকে ৮ লক্ষের মধ্যে।

    অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ মিছিলের পাশাপাশি বিভিন্ন শহরে একদল বিক্ষোভকারী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। দোকানপাটে লুটপাট, গাড়ি ও ভবনে আগুন লাগানোর ঘটনাও ঘটে। লিমোজ শহরের ১৪০ বছরেরও বেশি পুরনো ঐতিহাসিক টাউন হল আগুনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্সেইয়ের টাউন হলে ভাঙচুরের পাশাপাশি লিয়ঁর একটি পর্যটন দফতরেও অগ্নিসংযোগের খবর সামনে এসেছে।

    প্যারিস, মার্সেই, নিস, নঁত, বোর্দো, লিল, তুলুজ-সহ একাধিক শহরে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হয়েছে বলে দাবি। সুপারমার্কেট, ফার্মেসি, পোশাকের দোকান এবং বৈদ্যুতিন পণ্যের বিপণিও হামলার লক্ষ্য হয়। প্যারিসে মুখোশধারী কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা ক্যামেরা বিচ্ছিন্ন করে দোকানের কাচ ভেঙে ভিতরে ঢোকার অভিযোগ উঠেছে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। সাঁ-এতিয়েন শহরে জনতা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত একটি গ্রেনেড বিস্ফোরণে ১৭ বছরের এক কিশোরের ডান হাত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমনকী হাতটি হারানোরও খবর পাওয়া গিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুর দাবি, চরম বামপন্থী গোষ্ঠী ও অপরাধীরা হিংসা ছড়ানোর জন্য দায়ী। তাঁর বক্তব্য, রাস্তায় হিংসার মাধ্যমে কোনও রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না। প্রতিবেদনে তাঁর উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, প্রায় ১,২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১৫০ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁও সরকারি সম্পত্তি ও জনসাধারণের উপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    এদিকে, ফ্রান্সের রাজনীতিতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। জাতীয়তাবাদী নেত্রী মারিন ল্য পেন বামপন্থী নেতা জঁ-লুক মেলঁশোঁর আন্দোলনের বিরুদ্ধে হিংসাকে বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, মেলঁশোঁ বিক্ষোভকারীদের লুটপাট থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্রান্সের ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলিও ‘ইয়েলো অ্যান্ড ইয়ুথ’ ব্যানারে প্রতিবাদে অংশ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি।

    বিক্ষোভের সঙ্গে প্যালেস্তাইনপন্থী আন্দোলন, অভিবাসন, জাতীয় পরিচয় এবং বামপন্থী রাজনীতির সম্পর্ক নিয়েও বিতর্ক বেড়েছে। তবে এসব রাজনৈতিক যোগসূত্র ও অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

    আলবেনিয়া: টানা পাঁচ দিন বিক্ষোভ, আহত বহু

    ফ্রান্সের পাশাপাশি আলবেনিয়াতেও সরকারবিরোধী আন্দোলন তীব্র হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগের দাবিতে টানা পাঁচ দিন ধরে বিক্ষোভ চলেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে ক্ষোভের জেরে উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও আন্দোলনে যোগ দেন।

    বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, পেট্রলবোমা, মলোটভ ককটেল ও আতশবাজি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। পাল্টা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করে। কয়েকটি গাড়ি ও আবর্জনার পাত্রে আগুন লাগানো হয়। সুপ্রিম কোর্ট, ব্যাঙ্ক এবং ডাকঘরও ভাঙচুরের শিকার হয়েছে বলে দাবি।

    আলবেনিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, সর্বশেষ সংঘর্ষে ৩৫ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন পুলিশকর্মী এবং ১৭ জন বিক্ষোভকারী। পুলিশ প্রধান স্কেন্দের হিতার বক্তব্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের মধ্যে ১৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৩৮৮ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাঁচ দিনে ১৩২ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সাত পুলিশকর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

    এই আন্দোলনের পিছনে রয়েছে আরও কিছু রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষ। আলবেনিয়ার দক্ষিণ উপকূলে একটি বিলাসবহুল পর্যটন প্রকল্পকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধিতা চলছে। প্রকল্পটির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের প্রতিষ্ঠিত একটি বিনিয়োগ সংস্থার যোগসূত্র রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী রামা পদত্যাগের দাবি নাকচ করে বিরোধী রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে সংঘর্ষে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। দুরেস শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ডাকঘরের জানলা ভাঙচুর এবং জ্বলন্ত ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা অবরোধের খবর পাওয়া গিয়েছে।

    ইতালি: মিলান ও বোলোনিয়ায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

    ইতালিতেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন হাজার হাজার মানুষ। মিলান ও বোলোনিয়ায় বিক্ষোভ চলাকালীন সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভকারীরা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং তরুণদের জন্য উন্নত অর্থনৈতিক সুযোগের দাবি তোলেন।

    পর্তুগাল: আবাসন সংকট ও বাড়িভাড়ার প্রতিবাদে মিছিল

    পর্তুগালের রাজধানী লিসবনেও আবাসনের ক্রমবর্ধমান খরচ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে পথে নামেন কয়েক হাজার মানুষ। দেশের বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন CGTP-র ডাকে এই মিছিলের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, মজুরি ও পেনশন বাড়াতে হবে এবং সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। পাশাপাশি বাড়িভাড়ার ঊর্ধ্বগতি এবং সাশ্রয়ী আবাসনের অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আবাসন আন্দোলনের কর্মীরা। বামপন্থী দল ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন এই অসন্তোষকে কেন্দ্র করে সরকারের নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পর্তুগালের বিক্ষোভের মূল কেন্দ্র ছিল আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয়। অন্যান্য দেশের মতো একই ধরনের হিংসাত্মক পরিস্থিতি সর্বত্র তৈরি হয়েছিল, এমন দাবি করার মতো তথ্য প্রতিবেদনে নেই।

    বেলজিয়াম: শিক্ষা সংস্কার নিয়ে ছাত্র বিক্ষোভ

    বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসেও ছাত্র বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। কয়েকশো তরুণ-তরুণী শিক্ষার খরচ বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষাকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলতে পারে—এমন সংস্কারের আশঙ্কায় প্রতিবাদে অংশ নেন। কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একটি গাড়ি উল্টে দেওয়ার ঘটনার পর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। লিয়ঁজ শহরেও শিক্ষা খরচ এবং পড়াশোনার প্রয়োজনীয় উপকরণের নাগাল নিয়ে ছাত্র বিক্ষোভ হয়। প্রতিবেশী ফ্রান্সের আন্দোলন বেলজিয়ামের প্রতিবাদকে কিছুটা প্রভাবিত করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    অর্থনৈতিক ক্ষোভ, রাজনৈতিক মেরুকরণ

    ফ্রান্স থেকে আলবেনিয়া, ইতালি, পর্তুগাল ও বেলজিয়াম—পাঁচটি দেশের বিক্ষোভের পিছনে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান, আবাসন, শিক্ষা এবং সরকারি পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ। কোথাও আন্দোলন সরকারবিরোধী রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে, কোথাও আবার ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠন নিজেদের নির্দিষ্ট দাবিতে পথে নেমেছে। বিভিন্ন দেশে বামপন্থী দল ও সংগঠনগুলির ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও, সব দেশের অস্থিরতাকে একটি অভিন্ন রাজনৈতিক পরিকল্পনার ফল হিসেবে দেখার আগে পৃথকভাবে ঘটনাগুলি যাচাই করা জরুরি। একইভাবে, ফ্রান্সে বামপন্থী ও ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর মধ্যে কথিত যোগসূত্র নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তারও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, ইউরোপের এই ঘটনাপ্রবাহ দেখিয়ে দিচ্ছে—অর্থনৈতিক চাপ ও জনপরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে দ্রুত উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।

  • France Protest: বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, পুড়ল ১৪০ বছরের ঐতিহাসিক টাউন হল

    France Protest: বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, পুড়ল ১৪০ বছরের ঐতিহাসিক টাউন হল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্তমানে ফ্রান্সজুড়ে (France Protest) সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং চরম মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এক তীব্র বিক্ষোভ ও আন্দোলন শুরু হয়েছে। রাজধানী প্যারিস সহ দেশের বিভিন্ন বড় শহরে এই আন্দোলন চরম হিংসাত্মক রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভের জেরে ফ্রান্সের (France Protest) লিমোগেস শহরের প্রায় ১৪০ বছরের পুরনো একটি ঐতিহাসিক টাউন হল সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অবাক করা বিষয় হলো, যে ভবনটি অতীতে দুটি বিশ্বযুদ্ধ সফলভাবে পার করে টিকে ছিল, তা আধুনিক ফ্রান্সের এই সংঘর্ষের হাত থেকে রক্ষা পেল না।
    বিক্ষোভের কারণ ও হিংসাত্মক পরিস্থিতি
    মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে ইউরোপজুড়ে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে গেছে। এর প্রতিবাদে এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ফ্রান্সের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। তবে এই আন্দোলন দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মুখোশধারী কিছু বিক্ষোভকারী জোর করে সরকারি ভবন ও বিভিন্ন দোকানে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। রাজধানী প্যারিস, মার্সেই, নিস, লিমোগেস এবং বোর্দোসহ বহু শহরে ব্যাপক লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস এবং জলকামান ব্যবহার করে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই সহিংস সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ১,২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় ১৫০ জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়া সেন্ট-এটিয়েন শহরে পুলিশের ছোঁড়া গ্রেনেডের আঘাতে এক ১৭ বছর বয়সী কিশোরের হাত উড়ে গেছে।
    রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
    ফ্রান্সের (France Protest) প্রধানমন্ত্রী এই চরম মাত্রার হিংসার তীব্র নিন্দা করেছেন। অন্যদিকে, দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সোশ্যাল মিডিয়ায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, যারা সরকারি অফিস বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং কঠোর আইনি শাস্তি দেওয়া হবে। সামনেই দেশটির রাষ্ট্রপতি নির্বাচন থাকায় এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনেও বড় ধরনের উত্তাপ সৃষ্টি করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি বর্তমান সরকারের নীতির কড়া সমালোচনা করে এই পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনকেই দায়ী করেছে।
  • Russia Oil Sanctions: রুশ তেল নিয়ে ট্রাম্পের নয়া চাল, শুল্কে ছাড়ের মাঝেই নজর ভারতের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যে

    Russia Oil Sanctions: রুশ তেল নিয়ে ট্রাম্পের নয়া চাল, শুল্কে ছাড়ের মাঝেই নজর ভারতের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর পরিকল্পনা থেকে আপাতত সরে এলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার সন্ধ্যায় জারি করা এক নির্বাহী নির্দেশে ২০২৬ সালের ‘Sanctioning Russia and Iran Act’-এর আওতায় প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ ও শুল্ক প্রয়োগে ছাড় ঘোষণা করেছেন তিনি। এর ফলে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা নিয়ে ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর নতুন করে মার্কিন বাণিজ্যিক চাপ তৈরির আশঙ্কা আপাতত কমল।

    ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই ছাড় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলে তিনি কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্তকে রাশিয়ার উপর থেকে সমস্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বলে দেখার সুযোগ নেই। নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়েছে, রাশিয়া সংক্রান্ত আগের নির্বাহী নির্দেশগুলির আওতায় আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলি বহাল থাকবে।

    কী ছিল গ্রাহাম আইনের প্রস্তাবিত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা?

    গত ১৮ সেপ্টেম্বর ‘Lindsey O. Graham Act’ নামে পরিচিত আইনটিতে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে মস্কোর উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোই ছিল এর অন্যতম লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যে রাশিয়ার জ্বালানি ক্ষেত্রকে নিশানা করার পাশাপাশি রুশ তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলির বিরুদ্ধেও কড়া শুল্ক আরোপের সংস্থান রাখা হয়েছিল।

    প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় রাশিয়া থেকে আসা পণ্যের উপর শুল্ক ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সম্ভাবনা ছিল। পাশাপাশি, ১৮ অক্টোবর বা তার পরে জেনেশুনে রাশিয়ার তেল বা গ্যাসের নতুন সরবরাহ কিনলে রুশ জ্বালানির পাঁচ বৃহত্তম আমদানিকারক দেশের পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। রাশিয়ার তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করা পাঁচ বৃহত্তম দেশের পণ্যের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্কের সংস্থান ছিল।

    ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নির্দেশে এই প্রস্তাবিত শুল্ক ও বিধিনিষেধ প্রয়োগে আপাতত ছাড় দেওয়া হয়েছে। ফলে ভারত ও চিনের মতো বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলির উপর সম্ভাব্য অতিরিক্ত বাণিজ্যিক চাপের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

    ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত?

    রাশিয়ার অন্যতম বড় তেল ক্রেতা ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, দেশের জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সরবরাহের নিরাপত্তা, প্রাপ্যতা ও সাশ্রয়ী দামের কথা মাথায় রেখে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ওঠানামা করলে তার প্রভাব ভারতের আমদানি ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি এবং পরিবহণ খরচের উপরেও পড়তে পারে।

    রুশ তেল কেনার কারণে ভারতের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে নয়াদিল্লি আগে থেকেই ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছিল। ভারতের বক্তব্য, জ্বালানি আমদানিকে শুধু ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের প্রশ্নটি উপেক্ষিত হতে পারে। চিনও প্রস্তাবিত ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছিল।

    ট্রাম্পের এই ছাড়ের ফলে ভারতের উপর তাৎক্ষণিকভাবে নতুন শুল্কের চাপ তৈরির আশঙ্কা কমেছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে ভারত-মার্কিন বাণিজ্যিক মতপার্থক্যের স্থায়ী সমাধান বলা যাবে না। কারণ, নির্বাহী নির্দেশে রুশ জ্বালানি কেনাকাটা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে পরবর্তী পদক্ষেপের পথ খোলা রাখা হয়েছে।

    আমেরিকায় জ্বালানির দাম, মধ্যবর্তী নির্বাচনও কি বড় কারণ?

    ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পিছনে মার্কিন অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানকে ঘিরে চলমান মার্কিন-ইজরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আমেরিকায় জ্বালানির দাম বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে রুশ তেল ও গ্যাসের ক্রেতা দেশগুলির উপর নতুন করে শুল্ক চাপালে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের উপর প্রভাব পড়তে পারে। তার জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কাও ছিল।

    নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন। তার আগে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে প্রশাসনের উপর চাপ বাড়ছে। জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা তাই ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ।

    সম্প্রতি রুশ ডিজেল রফতানি ফের চালু করার অনুমতি দেওয়ার বিষয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ বাড়িয়ে দাম কমানোর যুক্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও সমালোচকদের অভিযোগ, এর ফলে রাশিয়ার রাজস্ব বাড়বে এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর ক্ষেত্রে মস্কো সুবিধা পেতে পারে।

    মার্কিন প্রতিনিধি ডন বেয়ারও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এই পদক্ষেপ ইউক্রেনের অবস্থানকে দুর্বল করছে এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে কংগ্রেসের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রচেষ্টাকে খর্ব করছে।

    রুবিওর ভারত সফরে রিলায়্যান্সের শোধনাগার কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    এই পরিস্থিতিতে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর আসন্ন মুম্বই ও জামনগর সফর বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর জানিয়েছেন, রুবিওর সফরে ব্যবসা ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    মুম্বইয়ে একাধিক বৈঠকের পর রুবিও জামনগরে যাবেন। সেখানে রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজের আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। জামনগরেই রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম তেল পরিশোধন কমপ্লেক্সগুলির মধ্যে অন্যতম, যা রিলায়্যান্স পরিচালনা করে।

    গোর আরও জানিয়েছেন, আমেরিকায় গত ৫০ বছরের মধ্যে প্রথম নতুন তেল শোধনাগার খোলার পরিকল্পনা রয়েছে রিলায়্যান্সের। ফলে এই সফরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, জ্বালানি পরিকাঠামো এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের সম্ভাবনা গুরুত্ব পেতে পারে।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি এবং রুশ জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত অবস্থানের প্রেক্ষাপটে রুবিওর সফরকে তাই শুধুমাত্র কূটনৈতিক সৌজন্য সফর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। জ্বালানির জোগান, দাম নিয়ন্ত্রণ এবং ভারত-মার্কিন ব্যবসায়িক সম্পর্ক—এই তিনটি বিষয়ই আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে।

    নজরদারি চলবে, ভবিষ্যতে ফের কড়া পদক্ষেপের সম্ভাবনা

    ট্রাম্পের নির্বাহী নির্দেশ অনুযায়ী, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিভিন্ন দেশের রুশ তেল ও গ্যাস কেনার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। একই সঙ্গে রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করার কোনও প্রচেষ্টা হচ্ছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। পরিস্থিতির পরিবর্তন বা নতুন কোনও পদক্ষেপের প্রয়োজন দেখা দিলে প্রেসিডেন্টকে তা জানাতে হবে।

    এই ছাড় কত দিন বহাল থাকবে, তারও নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। ট্রাম্প বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক আধিকারিকরা যখন মনে করবেন যে আরও পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তখন এই অবস্থানের পরিবর্তন হতে পারে।

    সব মিলিয়ে, রাশিয়ার জ্বালানি কেনাকে কেন্দ্র করে ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর সম্ভাব্য মার্কিন শুল্কের চাপ আপাতত কমল। তবে ওয়াশিংটনের নীতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা, রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ এবং আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণ—এই তিনটি স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা স্পষ্ট। ভারতের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক স্বস্তি এলেও ভবিষ্যতে রুশ তেল আমদানি নিয়ে মার্কিন অবস্থান কোন দিকে যায়, তার উপরই পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকটা নির্ভর করবে।

  • US Midterm Elections: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তলানিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা, মূল্যবৃদ্ধি ও ইরান যুদ্ধ ঘিরে বাড়ছে ক্ষোভ

    US Midterm Elections: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তলানিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা, মূল্যবৃদ্ধি ও ইরান যুদ্ধ ঘিরে বাড়ছে ক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের (US Midterm Elections) আগে বড়সড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। এর জেরে একাধিক জনমত সমীক্ষায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কয়েকটি সমীক্ষায় তাঁর অনুমোদনের হার ৩১ থেকে ৩৪ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। ফলে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা রিপাবলিকানদের কাছে কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    মূল্যবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ

    ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের অসন্তোষ ক্রমশ প্রকট হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানির খরচ এবং পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বহু মানুষ। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্টের ভূমিকা নিয়েও সন্তুষ্ট নন অধিকাংশ ভোটার। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস-নরক-এর সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মাত্র ১৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর প্রতি সমর্থনের হার ২৬ শতাংশ। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের ৬৫ শতাংশের মতে, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য ট্রাম্পের নীতিই বহুলাংশে দায়ী। কর্মসংস্থানের ছবিও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। সেপ্টেম্বরে মার্কিন অর্থনীতিতে মাত্র ২৯ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রত্যাশার তুলনায় এই সংখ্যা অনেকটাই কম। ফলে মার্কিন শ্রমবাজারের শক্তি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

    ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন অত্যন্ত কম

    ফিনান্সিয়াল টাইমস-ফোকালডেটার একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন অত্যন্ত কম। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ভোটারদের ৪৫ শতাংশের ধারণা, ট্রাম্পের অবস্থান রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনী জয়ের সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলছে। অন্যদিকে, দেশের অর্থনীতি ভুল পথে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি উত্তরদাতা। এপি-নরক-এর ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের সমীক্ষা অনুযায়ী, ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, দেশ ভুল পথে এগোচ্ছে। প্রায় ৪৬ শতাংশের দাবি, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর সময়ের তুলনায় তাঁদের পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। জ্বালানি ও খাবারের খরচ বহন করা নিয়েও প্রায় অর্ধেক উত্তরদাতা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প

    ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আরেকটি বড় রাজনৈতিক সমস্যা হয়ে উঠেছে ইরানের সঙ্গে সংঘাত। যুদ্ধের মেয়াদ, আর্থিক ব্যয় এবং তার কৌশলগত পরিণতি নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রায় ৬৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মূল্য দেওয়া সার্থক হয়নি। মাত্র ২৮ শতাংশ এই সংঘাত মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এমনকী, রিপাবলিকান সমর্থকদের একাংশের মধ্যেও যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণে বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে তেল ও জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মার্কিন পরিবারগুলির দৈনন্দিন ব্যয়ে। প্রথমদিকে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানকে ঘিরে সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে। কিন্তু সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় যুদ্ধের আর্থিক ও কৌশলগত মূল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সমীক্ষায় প্রায় ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করছেন, ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিন চলতে পারে। রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যেও এই আশঙ্কা রয়েছে।

    শুল্কনীতি নিয়েও বাড়ছে বিরোধিতা

    ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি ও আমদানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তও জনসমর্থন হারানোর অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। সমীক্ষায় প্রায় ৬৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছেন। জানুয়ারিতে এই মত পোষণকারীর হার ছিল ৫৮ শতাংশ। অন্য দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩০ শতাংশের কাছাকাছি উত্তরদাতা। প্রশাসনের দাবি, শুল্কনীতি মার্কিন শিল্প ও উৎপাদন ক্ষেত্রকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। কিন্তু বিরোধীদের বক্তব্য, এই নীতির ফলে আমদানি করা পণ্য ও বিভিন্ন উপকরণের খরচ বাড়তে পারে, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের উপরেই পড়বে।

    হিস্পানিক ভোটারদের সমর্থনেও ভাঙন

    ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল হিস্পানিক বা লাতিনো বংশোদ্ভূত মার্কিন ভোটারদের মধ্যে সমর্থন কমে যাওয়া। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন ট্রাম্পের জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সমীক্ষায় মাত্র ২৪ শতাংশ হিস্পানিক মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মাত্র ২৬ শতাংশ হিস্পানিক ভোটার। অন্যদিকে, ৫২ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। বয়স্ক ভোটারদের মধ্যেও রিপাবলিকানদের ব্যবধান কমেছে। ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সি ভোটারদের মধ্যে রিপাবলিকানদের এগিয়ে থাকার ব্যবধান নেমে এসেছে মাত্র দুই শতাংশে। গত ডিসেম্বরে এই ব্যবধান ছিল আট শতাংশ। অন্যদিকে, ৫০ বছরের কম বয়সি ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা ১৮ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন।

    কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা নিয়ে উদ্বেগ

    আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সেনেটের ৩৫টি আসনে নির্বাচন হবে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই সামান্য। ফলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে ফলের পরিবর্তনই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করতে পারে। সাম্প্রতিক নির্বাচনী মূল্যায়নে ১৮টি প্রতিনিধি পরিষদের আসনের লড়াই ডেমোক্র্যাটদের অনুকূলে সরে গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেই মূল্যায়ন অনুযায়ী, নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা ৯ থেকে ১৯টি আসন বাড়াতে পারেন। মূল্যবৃদ্ধি, দুর্বল কর্মসংস্থান, ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ এবং হিস্পানিক ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে সমর্থন হ্রাস—সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে কঠিন পরিস্থিতির মুখে রিপাবলিকানরা। ট্রাম্পের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হল, অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে ভোটারদের আস্থা ফেরানো এবং দলের নির্বাচনী সমর্থন ধরে রাখা।

     

LinkedIn
Share