Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Pakistan: পাকিস্তানে শতাব্দীপ্রাচীন হিন্দু মন্দির ভাঙার অভিযোগ, কাঠগড়ায় উগ্রপন্থী, প্রশাসন

    Pakistan: পাকিস্তানে শতাব্দীপ্রাচীন হিন্দু মন্দির ভাঙার অভিযোগ, কাঠগড়ায় উগ্রপন্থী, প্রশাসন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) পাঞ্জাব প্রদেশের নারোয়াল জেলার সিরাজ গ্রামে শতাব্দীপ্রাচীন হিন্দু মন্দির ভেঙে ফেলার অভিযোগকে ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, ২১ অগাস্ট ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের একটি দল মন্দিরটি ভেঙে গুঁড়িয়ে (Hindu Temple Demolished) দেয়। সেই সময় স্থানীয় রাজস্ব দফতরের আধিকারিকদের একাংশ ঘটনাটি বন্ধ করার পরিবর্তে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন বলেও অভিযোগ করেছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার পর মন্দিরটি প্রবল বৃষ্টির কারণে নিজে থেকেই ভেঙে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয় রাজস্ব আধিকারিকদের কয়েকজন। যদিও সেই দাবি পত্রপাট খারিজ করে দিয়েছেন স্থানীয় মানুষ, সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষাকারী সংগঠন এবং একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। তাঁদের দাবি, মন্দিরটির কাঠামো যথেষ্ট মজবুত ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে আবহাওয়ার নানা প্রতিকূলতা সহ্য করেও সেটি দাঁড়িয়ে ছিল। মন্দিরের চূড়াও অক্ষত অবস্থায় স্পষ্টভাবে দেখা যেত।

    জমি দখলের কারণেই ভাঙা হল মন্দির! (Pakistan)

    অভিযোগ, মন্দিরটি ভেঙে ফেলার পিছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল তার জমি দখল করা। প্রায় এক হাজার বর্গমিটার জমির উপর অবস্থিত এই মন্দিরের জমি পাশের একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ১০০ থেকে ১২৫ বছরের পুরনো এই মন্দিরটি ছিল লাহোর থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে।

    ঘটনার সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্র ইসলামপন্থী সংগঠন তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তানের সদস্যদের যোগ থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্র এবং সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির দাবি, ২১ অগাস্ট একদল উগ্রপন্থী মন্দির চত্বরে পৌঁছে সেটি ভেঙে ফেলে। তাঁদের হাতে বিল্ডিং ভাঙার সরঞ্জাম এবং অন্যান্য উপকরণ ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অথচ মন্দির ভাঙার সময় পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার পক্ষ থেকে কোনও কার্যকর হস্তক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ।

    এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, মন্দিরটির সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা রাজস্ব দফতরের আধিকারিকরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কিংবা পুলিশের নজরে না এনে বৃষ্টির কারণে মন্দিরটি ধসে পড়েছে বলে দাবি করেন। অথচ ওই সময় ভারী বৃষ্টির কারণে আশপাশের অন্য কোনও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এলাকা জলমগ্ন হয়ে যাওয়া, নিকাশি ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা এমন কোনও পরিস্থিতিরও খবর নেই, যার ফলে মন্দিরের মতো একটি পুরনো অথচ শক্তপোক্ত কাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে (Hindu Temple Demolished)।

    দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

    পাকিস্তান মসীহা মিল্লাত পার্টি এই ঘটনায় পাঞ্জাব সরকারের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। দলের চেয়ারম্যান আসলাম পারভেজ সাহোত্রা জানিয়েছেন, তিনি গত ২৮ অগাস্ট পাঞ্জাবের অতিরিক্ত স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে দেখা করে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। সেখানে মন্দির ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মন্দিরটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মন্দির রক্ষায় ব্যর্থ হওয়া সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করার আবেদন জানানো হয়েছে।

    সাহোত্রার অভিযোগ, মন্দির ভেঙে ফেলার পর তার চূড়ার পিতলের ধাতব অংশ, অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী এবং ইটও ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এর উদ্দেশ্য ছিল মন্দিরটির অস্তিত্বের যতটা সম্ভব চিহ্ন মুছে ফেলা।

    তিনি আরও জানান, মন্দিরের লাগোয়া জমি অতীতে পাকিস্তানের পরিত্যক্ত সম্পত্তি ট্রাস্ট বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বছরের পর বছর ইজারার অর্থ পরিশোধ না করা এবং নির্ধারিত উদ্দেশ্যে জমি ব্যবহার না করার অভিযোগে পরে সেই ইজারা বাতিল করা হয়। এরপর সম্পত্তিটির বিভিন্ন অংশে একাধিক ব্যক্তি বেআইনিভাবে দখল করে বসেন বলে অভিযোগ।

    কী বলছে রাজস্ব দফতরের প্রতিবেদন

    সাহোত্রা রাজস্ব দফতরের একটি প্রতিবেদনের কথাও (Pakistan) উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, ওই প্রতিবেদনে মন্দিরের আবাসিক অংশ এবং সম্পত্তির অন্যান্য অংশে বেআইনি দখলদার হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম চিহ্নিত করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি শিয়ালকোটের পরিত্যক্ত সম্পত্তি ট্রাস্ট বোর্ডের উপ-প্রশাসক একটি নির্দেশ জারি করে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইজারার অধিকার বাতিল করেন। একই সঙ্গে বেআইনি দখলদারদের উচ্ছেদ এবং সম্পত্তিটি সিল করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই নির্দেশ বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সাহোত্রা।

    হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা রতন লালও মন্দির ধ্বংসের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, জেলা প্রশাসন এবং পরিত্যক্ত সম্পত্তি ট্রাস্ট বোর্ড মন্দির ও তার জমি রক্ষায় যথেষ্ট পদক্ষেপ করেনি। বেআইনি দখলদারদের সরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এর ফলেই শেষ পর্যন্ত এক শতাব্দীরও বেশি পুরানো ধর্মীয় কাঠামোটি ধ্বংসের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তাঁর দাবি (Hindu Temple Demolished)।

    রতন লাল বলেন, “জেলা প্রশাসন এবং পরিত্যক্ত সম্পত্তি ট্রাস্ট বোর্ড মন্দিরের স্থানটি রক্ষা করতে কিংবা সেখানে থাকা বেআইনি দখলদারদের সরিয়ে দিতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তাদের ব্যর্থতার সুযোগেই মন্দিরটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করতে হবে।”

    পরিত্যক্ত সম্পত্তি ট্রাস্ট বোর্ডের বক্তব্য

    অন্যদিকে পরিত্যক্ত সম্পত্তি ট্রাস্ট বোর্ডের এক প্রবীণ আধিকারিক রানা ইফতিখারের দাবি, মন্দিরটি প্রবল বৃষ্টির কারণেই ভেঙে পড়ে। তিনি জানান, সরকারি নথিতে মন্দিরটির কোনও নির্দিষ্ট নাম উল্লেখ নেই। যদিও তিনি কবুল করেছেন এটি অত্যন্ত পুরানো এবং আনুমানিক ১০০ থেকে ১২৫ বছরের পুরানো কাঠামো।

    ইফতিখার বলেন, “মন্দিরটির নাম আমাদের নথিতে নেই। তবে এটি খুবই পুরানো একটি স্থাপনা। এর বয়স আনুমানিক ১০০ থেকে ১২৫ বছর। প্রবল বৃষ্টির কারণেই এটি ভেঙে পড়েছে।”

    তবে সরকারি আধিকারিকের এই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা এবং সংখ্যালঘু সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁদের দাবি, মন্দিরটি কোনও দুর্যোগে হঠাৎ ধসে পড়েনি, বরং পরিকল্পিতভাবে সেটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। মন্দিরের ইট এবং চূড়ার ধাতব অংশ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকেও তাঁরা পরিকল্পিত ধ্বংসের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে দেখছেন (Pakistan)।

    হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

    পাকিস্তানে হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে পাঞ্জাবের গ্রামীণ অঞ্চলে বহু পুরনো মন্দির ইতিমধ্যেই অস্তিত্ব হারিয়েছে বলে সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির অভিযোগ। তাঁদের বক্তব্য, ধর্মীয় স্থাপনা সংরক্ষণের পরিবর্তে একের পর এক স্থাপনা অবহেলা, দখল কিংবা ধ্বংসের মুখে পড়ছে। এর ফলে পাকিস্তানের গ্রামীণ এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি বড় অংশ ক্রমশ বিলীন হয়ে যাচ্ছে (Pakistan)।

    সিরাজ গ্রামের এই মন্দিরটি প্রায় এক শতাব্দী বা তারও বেশি সময় ধরে ওই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। মন্দিরটির চূড়া দূর থেকেও দেখা যেত। তাই হঠাৎ প্রবল বৃষ্টিতে সেটি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে—এই সরকারি ব্যাখ্যা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

    প্রশ্ন যেখানে…

    প্রশ্ন হল, মন্দিরটি সত্যিই প্রাকৃতিক কারণে ভেঙে পড়েছিল, নাকি জমি দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে সেটি ধ্বংস করা হয়েছিল। একই সঙ্গে মন্দির ভাঙার সময় প্রশাসন ও পুলিশ কেন কোনও পদক্ষেপ করল না এবং জানুয়ারিতে সম্পত্তি খালি ও সিল করার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তা কেন কার্যকর করা হয়নি, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত (Hindu Temple Demolished) কারণ খুঁজে বের করে দোষীদের শাস্তি দিতে হবে এবং মন্দিরের জমি ও অবশিষ্ট কাঠামো পুনরুদ্ধার করতে হবে (Pakistan)।

     

  • PM Modi at SCO Summit: ‘সন্ত্রাসের পুরো ইকোসিস্টেম ভাঙতেই হবে, কোনও দুমুখো নীতি চলবে না’ এসসিও সম্মেলনে শেহবাজের সামনেই মোদির কড়া বার্তা

    PM Modi at SCO Summit: ‘সন্ত্রাসের পুরো ইকোসিস্টেম ভাঙতেই হবে, কোনও দুমুখো নীতি চলবে না’ এসসিও সম্মেলনে শেহবাজের সামনেই মোদির কড়া বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর শীর্ষ সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ, যুদ্ধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi at SCO Summit)। মঙ্গলবার কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এসসিও-র রাষ্ট্রপ্রধানদের পরিষদের বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সব দেশকে একসঙ্গে, একই সুরে কথা বলতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধান যুদ্ধের ময়দানে নয়, আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এসসিও-র (SCO) ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা।

    সন্ত্রাসবাদের ইকোসিস্টেম ভাঙতে হবে

    সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রসঙ্গের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ নিয়েও অত্যন্ত কড়া অবস্থান নেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে এবং এক ভাষায় কথা বলতে হবে। সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের ‘দুমুখো নীতি’ মেনে নেওয়া যায় না। শুধু সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেই হবে না, তাদের সম্পূর্ণ পরিকাঠামো ভেঙে দিতে হবে—সন্ত্রাসে অর্থ জোগান, নিয়োগ, উগ্রপন্থায় প্ররোচনা এবং নিরাপদ আশ্রয়—সবকিছুর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এককথায়, পাক প্রধানমন্ত্রীর সামনে বসে সন্ত্রাসবাদের ইকোসিস্টেম ভাঙার কথা বলেন মোদি। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে কোনও দ্বিচারিতার জায়গা থাকা উচিত নয়। সন্ত্রাসের গোটা পরিকাঠামো—অর্থ জোগান, নিয়োগ, উগ্রপন্থায় প্ররোচনা এবং নিরাপদ আশ্রয়—ধ্বংস করতে হবে।”

    ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ চলতে পারে না

    মোদির বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ। ভারত দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠী ও তাদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগ তুলে এসেছে। এসসিও-র মঞ্চে তাই ‘দুমুখো নীতি’র বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর বার্তাকে পাকিস্তানের উদ্দেশে কূটনৈতিক চাপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। শেহবাজ শরিফ যখন একই হলে উপস্থিত, তখন এই বক্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। পাকিস্তানের সরকারি তথ্যও নিশ্চিত করে যে শেহবাজ শরিফ এসসিও-র রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানের পটভূমিতে রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলা-সহ সীমান্তপারের জঙ্গি হামলার অভিজ্ঞতা। ২০২৫ সালের পহেলগাঁও হামলার পর ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসবাদ ও তাকে মদত দেওয়া শক্তির বিরুদ্ধে আরও জোরালো অবস্থান নেয়। এসসিও-র আগের সম্মেলনেও মোদি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, সন্ত্রাসবাদকে আশ্রয় দেওয়া বা সমর্থন করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর বিরুদ্ধে ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ চলতে পারে না। মোদির কথায়, যে দেশগুলি রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করে এবং সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও সহযোগিতা দেয়, তাদের কাছে স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। “সন্ত্রাসবাদ কখনও কারও কৌশলগত সম্পদ হতে পারে না,” বলেন প্রধানমন্ত্রী।

    যুদ্ধ নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান

    আন্তর্জাতিক সংঘাত প্রসঙ্গে মোদির বক্তব্য, যুদ্ধের ময়দানে কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সমস্ত যুদ্ধ ও সংঘাত আলোচনার টেবিল এবং কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করতে হবে বলে জানান তিনি। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে কোনও একটি অঞ্চলের সংঘাত আর সেই অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। তার প্রভাব পড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার উপর। এই ধরনের অস্থিরতার সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করতে হয় গ্লোবাল সাউথের দেশগুলিকে। সম্মেলনের মঞ্চ থেকে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, যুদ্ধক্ষেত্রের মাধ্যমে কোনও সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সমস্ত যুদ্ধ ও দ্বন্দ্বের অবসান ঘটাতে হবে একমাত্র আলোচনা এবং কূটনীতির মাধ্যমেই।

    মাদক পাচার নিয়েও উদ্বেগ

    মাদক পাচারকে শুধুমাত্র অপরাধ হিসেবে দেখলে হবে না বলেও সতর্ক করেন মোদি। তাঁর মতে, মাদক পাচার তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি এবং একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও তা গুরুতর সমস্যা তৈরি করছে।

    আফগানিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতার উপর জোর

    শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ইউরেশিয়ার লক্ষ্যের সঙ্গে আফগানিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতা সরাসরি যুক্ত বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আফগানিস্তানের মানুষের উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তায় ভারত ধারাবাহিকভাবে কাজ করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

    যোগাযোগ ব্যবস্থায় সার্বভৌমত্বের গুরুত্ব

    আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য প্রসঙ্গে মোদি বলেন, বাজারকে সংযুক্ত করা, বাণিজ্য সহজ করা এবং উন্নয়নের নতুন পথ তৈরি করার সমস্ত উদ্যোগকে ভারত সমর্থন করে। তবে একই সঙ্গে প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এসসিও-র সনদেরও এটাই মৌলিক চেতনা। আগামী দিনে যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিধি আরও বাড়বে। শুধু সড়ক, রেল ও বিমানপথ নয়, শুল্ক প্রক্রিয়া সরল করা, ডিজিটাল নথিপত্রের ব্যবহার বাড়ানো এবং লজিস্টিক ব্যবস্থা আরও দক্ষ করার উপরও জোর দিতে হবে।

    বিশ্ব-শান্তি ও উন্নয়নই ভারতের লক্ষ্য

    অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান জানিয়ে পরিকাঠামো প্রকল্পগুলোতে সহযোগিতার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। চিনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ বা পাকিস্তানের দখল করা কাশ্মীরের উপর দিয়ে যাওয়া ‘চিন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর’ (সিপিইসি)-এর মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোর ক্ষেত্রে ভারতের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এই মঞ্চ থেকেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ২০০১ সালে গঠিত ১০ সদস্যের এসসিও জোটে ২০১৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগ দেয়। চলতি বছরের এই শীর্ষ সম্মেলনটি সম্প্রসারিত ‘এসসিও-প্লাস’ ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে তুরস্ক, আজারবাইজান, আর্মেনিয়া, মঙ্গোলিয়া সহ এক ডজনেরও বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশ নিয়েছেন। এসসিও (SCO) সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্যে একদিকে যেমন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের আহ্বান উঠে এসেছে, অন্যদিকে যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিবর্তে কূটনীতি, আঞ্চলিক শান্তি এবং অর্থনৈতিক যোগাযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাও স্পষ্ট হয়েছে।

  • PM Modi: ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন বার্তা, আসন্ন ব্রিকসে মোদি-জিনপিং বৈঠকের সম্ভাবনা

    PM Modi: ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন বার্তা, আসন্ন ব্রিকসে মোদি-জিনপিং বৈঠকের সম্ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও চিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সীমান্ত উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে ব্যক্তিগত কূটনীতির ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত (SCO Summit) দেখা গেল। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ২৬তম শীর্ষ সম্মেলনে পারিবারিক ছবি তোলার আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে খানিক সময়ের জন্য হাত মেলাতে দেখা গেল। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অবস্থিত ইরিস অর্দো কংগ্রেস হলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ক্যামেরার সামনে দুই নেতার এই সাক্ষাৎ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সেই সময় তাঁদের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও উপস্থিত ছিলেন।

    সৌজন্য বিনিময় (PM Modi)

    ভারত ও চিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সংক্ষিপ্ত সৌজন্য বিনিময় এমন একটা সময়ে হয়েছে, যখন দুই দেশই সীমান্ত ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং পারস্পরিক যোগাযোগের নতুন পথ খোঁজার চেষ্টা করছে। সীমান্তে একাধিক পর্যায়ে সামরিক ও কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি বহুপাক্ষিক সংগঠনগুলিকেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চিনের প্রেসিডেন্টকে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। ভারত চলতি মাসের শেষ দিকে এই সম্মেলনের আয়োজন করবে। মোদির আমন্ত্রণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জিনপিং, আশ্বাস দেন চিনের পক্ষ থেকে ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের প্রতি সমর্থনের। এই ঘটনাকে ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন অনেকে। কারণ, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সীমান্ত বিরোধ। সেই পরিস্থিতিতে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হওয়া বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

    চিনা সাংবাদিকের বক্তব্য

    ভারত-চিন সম্পর্ক এবং আসন্ন ব্রিকস সম্মেলন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চিনা বিশ্ব টেলিভিশন নেটওয়ার্কের সাংবাদিক ঝাও ইউনফেই মঙ্গলবার বলেন, দুই দেশের উচিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা এবং ব্রিকসের মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং অভিন্ন স্বার্থ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা। ঝাও ইউনফেইয়ের মতে, এই দুই আন্তর্জাতিক মঞ্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মতো শীর্ষ নেতাদের মুখোমুখি হওয়ার এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

    তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, এর ফলে দুই প্রেসিডেন্টের সাক্ষাতের জন্য একাধিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভারত ও চিন প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় এটি দুই দেশের সম্পর্কের জন্য সত্যিই ভালো হবে। চিন সবসময় তার প্রতিবেশী দেশগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। আমরা প্রতিবেশী, তাই আমাদের সমস্ত মতপার্থক্য মিটিয়ে এক সঙ্গে অভিন্ন ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে হবে এবং এই অঞ্চলের মানুষের অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।” সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার ভূমিকা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা সত্যিই একটি মঞ্চ তৈরি করেছে। আশা করি, ব্রিকসও দুই পক্ষের জন্য একটি ভালো মঞ্চ হবে।”

    ভারতে আসবেন জিনপিং!

    ২০২৬ সালের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে চিনা প্রেসিডেন্ট ভারতে আসবেন কি না, সেই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ঝাও বলেন, চিনা নেতার কর্মসূচি সম্পর্কে (SCO Summit) তাঁর কাছে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য নেই। তবে ভবিষ্যতে এই বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসবে বলেই তিনি আশা প্রকাশ করেন (PM Modi)।

    ঝাও বলেন, “আমাদের কাছে এই বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে আমরা আশা করছি, প্রেসিডেন্ট শি-র কর্মসূচি সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসবে। অবশ্যই ব্রিকস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর সদস্যরা বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতিগুলির প্রতিনিধিত্ব করে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি বিশ্বের দক্ষিণের দেশগুলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ তৈরি করেছে।”

    ভারত ও চিনের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সীমান্ত ব্যবস্থাপনা। গত ২৬ অগাস্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে দুই দেশ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার লক্ষ্যে জেনারেল স্তরের ব্যবস্থা বা সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক করার জন্য আরও দু’টি বৈঠকস্থল নির্ধারণে সম্মত হয়েছে।

    গলছে সম্পর্কের বরফ!

    এর পাশাপাশি সীমান্তের পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে সামরিক হটলাইন যোগাযোগের জন্য আরও দু’টি ব্যবস্থা চালু করার বিষয়েও দুই দেশ সম্মত হয়েছে। এর ফলে সীমান্তে কোনও ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা তৈরি হলে দুই দেশের সামরিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এই সিদ্ধান্ত ভারত ও চিনের সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ২৫তম দফার আলোচনায় অর্জিত আটটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ঐকমত্যের অংশ। বেজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনায় ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন (SCO Summit)।

    সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সামরিক যোগাযোগের পথ খোলা রাখা এবং উচ্চপর্যায়ে রাজনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও ব্রিকসের মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চে দুই দেশের নেতাদের নিয়মিত যোগাযোগ ভারত-চিন সম্পর্কের জটিলতা কমানোর ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।

    দূর সীমান্তে আশার আলো

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সীমান্ত সমস্যা এখনও পুরোপুরি সমাধান না হলেও, সামরিক পর্যায়ে যোগাযোগের নতুন ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক স্তরে শীর্ষ নেতৃত্বের সাক্ষাতের সম্ভাবনা দুই দেশের সম্পর্ককে কিছুটা স্বাভাবিক করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এই যোগাযোগ কতটা স্থায়ী ও ফলপ্রসূ হবে, তা নির্ভর করবে সীমান্ত পরিস্থিতি, পারস্পরিক আস্থা এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অগ্রগতির ওপর (PM Modi)।

    সব মিলিয়ে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে মোদি ও জিনপিংয়ের করমর্দন যেমন প্রতীকী বার্তা বহন করছে, তেমনই ব্রিকসের আসন্ন মঞ্চ দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বকে আরও বিস্তৃত আলোচনার সুযোগ দিতে পারে। সীমান্তে উত্তেজনা কমানো থেকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা—দুই দেশের সামনে এখনও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ফলে আগামী দিনে (SCO Summit) বহুপাক্ষিক মঞ্চগুলি ভারত-চিন সম্পর্কের নয়া কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন (PM Modi)।

     

  • PM Modi: ‘‘অন্তহীন যুদ্ধ থেকে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগোতে হবে’’, পুতিনকে ফের বার্তা মোদির

    PM Modi: ‘‘অন্তহীন যুদ্ধ থেকে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগোতে হবে’’, পুতিনকে ফের বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের অবসানে সব ধরনের শান্তিপূর্ণ উদ্যোগকে ভারত সমর্থন করে এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থানই বজায় রাখবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে যুদ্ধের অবসানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। মানবতার স্বার্থেই যত দ্রুত সম্ভব এই (Ukraine War) যুদ্ধের অবসান হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন মোদি।

    ‘যুদ্ধের অবসান হোক’ (PM Modi)

    কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেই বৈঠকের পরেই রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করেন তিনি। মোদির বক্তব্যকে কয়েক বছর আগে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে দেওয়া তাঁর ‘‘এটি যুদ্ধের যুগ নয়’’ বার্তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলেও সেই বক্তব্য যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিল। যৌথ বিবৃতিতে মোদি বলেন, “আমাদের ‘অন্তহীন যুদ্ধে’র পরিস্থিতি থেকে ‘যুদ্ধের অবসানে’র দিকে এগিয়ে যেতে হবে। মানবতার প্রত্যাশা, যত দ্রুত সম্ভব এই যুদ্ধের অবসান হোক।” ইউক্রেন পরিস্থিতি নিয়ে পুতিনের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা হয় বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা ইউক্রেনের বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করি। আমরা যখন শেষবার দেখা করেছিলাম, তখনও আপনি পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাকে বিস্তারিত জানিয়েছিলেন। আপনারা জানেন, এই অচলাবস্থা নিরসনে ভারত সব ধরনের শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিকে সমর্থন করে।” ভারতের অবস্থান যে কেবল রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, তা স্পষ্ট করে মোদি বলেন, “ভারত সব সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। মানবতার স্বার্থে এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় (PM Modi)।”

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ভারতের ভূমিকা

    রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারত দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছে। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের পাশাপাশি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও আলোচনায় ভারত বারবার জানিয়েছে, যুদ্ধের পরিবর্তে সংলাপ ও কূটনীতির পথেই সমাধান খুঁজতে হবে। ২০২২ সালে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের সময়ও মোদি একই ধরনের বার্তা দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, “ভারত এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পক্ষে। আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট—এটি যুদ্ধের যুগ নয়। মানবতার সামনে যে সমস্ত চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলির মোকাবিলায় আমাদের একসঙ্গে এগিয়ে আসার সময় এসেছে। তাই ভারত কূটনীতি ও আলোচনায় বিশ্বাস করে।”

    মোদির মুখে শান্তির ললিত বাণী

    সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছিলেন, ভারত বুদ্ধের ভূমি। সহমর্মিতা ভারতীয়দের পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। বিশ্বের কোনও দেশে যখনই সংকট দেখা দেয়, ভারত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আসে। বুদ্ধের ঐতিহ্যে বিশ্বাসী ভারত যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তির পক্ষেই অবস্থান করে (Ukraine War)। এবারও মোদির বক্তব্যে মানবতার প্রসঙ্গ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবসভ্যতার অগ্রগতিকে পিছিয়ে দেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, “যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবতাকে পিছিয়ে দেয় এবং আমাদের অবশ্যই শত্রুতা ও সংঘাতের অবসানের জন্য কাজ করতে হবে (PM Modi)।” ভারতের শান্তির বার্তার সঙ্গে মহাত্মা গান্ধী ও গৌতম বুদ্ধের আদর্শের সম্পর্কও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “গান্ধীর ভূমি এবং বুদ্ধের ভূমি একই বার্তা বহন করে—শান্তির পথ।” বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান বরাবরই ভারসাম্যপূর্ণ। একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক রয়েছে, অন্যদিকে ইউরোপ এবং পশ্চিমি দেশগুলির সঙ্গেও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে যুদ্ধের বিষয়ে ভারত সরাসরি কোনও পক্ষের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত না করে শান্তিপূর্ণ সমাধান, আলোচনা এবং কূটনীতির ওপর জোর দিয়ে আসছে। মোদির সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই অবস্থানই আরও জোরালোভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর বার্তার মূল লক্ষ্য যে যুদ্ধের সমর্থন নয়, বরং সংঘাতের দ্রুত অবসান এবং শান্তির পরিবেশ তৈরি করা—তা তাঁর বক্তব্যের প্রতিটি অংশেই স্পষ্ট হয়েছে।

    শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান

    রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান আন্তর্জাতিক স্তরে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ভারত বরাবরই জানিয়েছে, যুদ্ধ কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। আলোচনার টেবিলে ফিরে আসা এবং পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমেই সংঘাতের অবসান সম্ভব (PM Modi)। এদিকে পুতিনের সঙ্গে মোদির এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের গুরুত্ব আরও বেড়েছে, কারণ এর এক সপ্তাহ পরেই রুশ প্রেসিডেন্টের নয়াদিল্লি সফরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সফরে তিনি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে বিশকেকে মোদি-পুতিন বৈঠককে দুই দেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে (Ukraine War)।

    নয়াদিল্লির অবস্থান

    রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাতের দ্রুত অবসান চেয়ে ভারতের এই বার্তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নয়াদিল্লির অবস্থানকে আরও একবার সামনে নিয়ে এল। যুদ্ধের পরিবর্তে আলাপ-আলোচনা, সংঘাতের পরিবর্তে কূটনীতি এবং প্রতিশোধের পরিবর্তে শান্তির পথ—এই নীতিকেই ভারত সামনে রেখে এগোতে চাইছে বলেই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট (PM Modi)।

  • Modi-Putin Car Diplomacy: মোদি-পুতিনের ‘কার ডিপ্লোম্যাসি’! এক গাড়িতে বিশ্ব নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনে দুই রাষ্ট্রনেতা

    Modi-Putin Car Diplomacy: মোদি-পুতিনের ‘কার ডিপ্লোম্যাসি’! এক গাড়িতে বিশ্ব নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনে দুই রাষ্ট্রনেতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর একই গাড়িতে চড়ে বিশ্ব নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Modi-Putin Car Diplomacy)। সোমবার বিশকেক অ্যারেনায় ষষ্ঠ ‘ওয়ার্ল্ড নোম্যাড গেমস’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে দুই রাষ্ট্রনেতার এই গাড়ি সফর আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ নজর কেড়েছে। কূটনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে ইতিমধ্যেই ‘কার ডিপ্লোম্যাসি’র আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর গাড়ির ভিতর থেকে পুতিনের সঙ্গে একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, “প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বিশ্ব নোম্যাড গেমসের পথে।”

    পারস্পরিক উষ্ণ সম্পর্কের ইঙ্গিত

    মোদির বিদেশ সফরে এই ধরনের অনানুষ্ঠানিক গাড়ি সফর অবশ্য নতুন নয়। এর আগে উজবেকিস্তান সফরেও প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়য়েভের সঙ্গে একই গাড়িতে যাত্রা করতে দেখা গিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীকে। তাসখন্দে পৌঁছনোর পর মিরজিয়য়েভ নিজে মোদিকে অভ্যর্থনা জানান এবং পরে দু’জনকে একসঙ্গে গাড়িতে যাত্রা করতে দেখা যায়। দুই নেতার এই আনুষ্ঠানিক মুহূর্ত তাঁদের পারস্পরিক উষ্ণ সম্পর্কেরই ইঙ্গিত বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। বিশ্ব নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট পুতিনের (Modi-Putin Meet) মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। বৈঠকে ভারত-রাশিয়া ‘স্পেশাল অ্যান্ড প্রিভিলেজড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

    মোদি-পুতিনের ‘কার ডিপ্লোম্যাসি’ নতুন নয়

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একসঙ্গে গাড়িতে সফর এই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার দুই রাষ্ট্রনেতাকে একই গাড়িতে যাত্রা করতে দেখা গিয়েছে। কূটনৈতিক মহলে যা ইতিমধ্যেই ‘কার ডিপ্লোম্যাসি’ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। গত বছর চিনের তিয়ানজিনে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের পর পুতিনের লিমুজিনে একসঙ্গে সফর করেছিলেন মোদি ও পুতিন। জানা যায়, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের স্থান হোটেলে যাওয়ার সময় দুই নেতাকে একসঙ্গে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন পুতিন নিজেই। গাড়িতে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত কথোপকথন হয় বলে সূত্রের খবর। এরপর ফের একই ধরনের দৃশ্য দেখা যায় পুতিনের ভারত সফরের সময়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রোটোকল ভেঙে দিল্লির পালাম বিমানবন্দরে পুতিনকে স্বাগত জানাতে নিজেই পৌঁছে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বিমানবন্দর থেকে দু’নেতা একসঙ্গে গাড়িতে করে ৭, লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানে মোদি ও পুতিনের মধ্যে একটি ব্যক্তিগত নৈশভোজও হয়। মোদি-পুতিনের ফের একই গাড়িতে বিশ্ব নোম্যাড গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাওয়ার ঘটনা ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের উষ্ণতা ও দুই নেতার ব্যক্তিগত যোগাযোগের ঘনিষ্ঠতাকেই আরও একবার সামনে এনে দিয়েছে।

  • SCO Summit: ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মোদির বৈঠক, আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আর কী?

    SCO Summit: ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে মোদির বৈঠক, আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আর কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের (SCO Summit) ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফেব্রুয়ারিতে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম দুই নেতার সরাসরি মুখোমুখি বৈঠক হল। বৈঠকে ভারত ও ইরানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের যৌথ সহযোগিতা আরও শক্তিশালী (PM Modi) ও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।

    দুই ‘হুজুরের গপ্পো’ (SCO Summit)

    ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী সেয়েদ আব্বাস আরাঘচি-সহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় কর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

    মধ্যপ্রাচ্যে যখন একের পর এক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে মোদি-পেজেশকিয়ান বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তার ওপরও।

    ভারত দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের অন্যতম। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দুই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নানা বাধার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং তেহরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার কারণে বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হিসেবে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে এই অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও।

    এর আগে জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছিল। সেই সময় ইরানি প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অবহিত করেন এবং সংঘাতের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি সংঘাতের অবসানের লক্ষ্যে যে সমঝোতা তৈরি হয়েছিল, তাকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য ধারাবাহিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছিলেন (SCO Summit) তিনি।

    আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসানের পক্ষে সওয়াল

    পেজেশকিয়ান বরাবরই আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসানের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে বৈঠকের আগেই তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না। একই সঙ্গে আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর দেশের অবস্থানও স্পষ্ট করে দেন। তাঁর কথায়, “ইরান যুদ্ধ চায় না, কিন্তু আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত জবাব দেবে।”

    এক মাসের মধ্যে প্রথম বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে আমেরিকা ইরানের একটি ছোট দ্বীপে হামলা চালানোর পর পেজেশকিয়ান এই মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যে চলা অস্থিরতা নিয়ে ইরানের উদ্বেগও স্পষ্ট হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্টের মতে, এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা কোনও দেশের জন্যই ভালো নয়। বরং এর প্রভাব গোটা অঞ্চলের দেশগুলির ওপর পড়ে। তাই অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত লক্ষ্য পূরণে দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানো জরুরি (PM Modi)।

    বৈঠকের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, “এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই অঞ্চলের অধিকাংশ নেতাই এতে উপস্থিত থাকবেন। এমন একটি পরিস্থিতিতে, যখন কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বিশ্বে একটি অভিন্ন পরিসর তৈরি করার চেষ্টা করছে, তখন এই বৈঠককে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন ও স্বাধীন কণ্ঠস্বরের অস্তিত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।”

    মোদির আঞ্চলিক কূটনীতিতে আর্মেনিয়াও গুরুত্বপূর্ণ

    সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই নেতা ভারত ও আর্মেনিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

    প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি, ওষুধশিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সংস্কৃতি এবং শিক্ষা—সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার সম্ভাবনা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি-সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন তাঁরা।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, ভারত আর্মেনিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে দিল্লি সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতে চায় বলেও জানান তিনি। এর ফলে মধ্য এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার বিস্তৃত ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও সক্রিয় হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে (SCO Summit)।

    পুতিনের সঙ্গেও বৈঠকে বসবেন মোদি

    এদিনই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। ভারত ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হবে বলেই খবর।

    রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের আমন্ত্রণে ষষ্ঠ বিশ্ব যাযাবর ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর।

    ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্কের বিস্তৃত ক্ষেত্র নিয়ে দুই নেতা পর্যালোচনা করতে পারেন। এর আগে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর রাশিয়ায় দু’দিনের সফরে গিয়ে ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সেই আলোচনার পর এবার দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে (PM Modi)।

    মোদি ও পুতিনের সর্বশেষ মুখোমুখি বৈঠক হয়েছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। সেই সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লি সফরে এসেছিলেন। আসন্ন বৈঠকটি চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দুই নেতার প্রথম বৈঠক হতে চলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। ফলে ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে (SCO Summit)।

    ইরান, আর্মেনিয়া ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একই সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর ধারাবাহিক বৈঠক ভারতের বহুমুখী কূটনৈতিক কৌশলের দিকটিও সামনে আনছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে মধ্য এশিয়া পর্যন্ত দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে ভারত একদিকে যেমন নিজের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে চাইছে, তেমনই সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও কৌশলগত সহযোগিতাও বজায় রাখার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে সংঘাতের সময়েও আলোচনার মাধ্যমে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া ভারতের বিদেশনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে উঠে আসছে (SCO Summit)।

     

  • PM Modi: বিশকেকে গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা মোদির, এসসিও সম্মেলনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা- সহযোগিতায় জোর

    PM Modi: বিশকেকে গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা মোদির, এসসিও সম্মেলনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা- সহযোগিতায় জোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনে (SCO Summit 2026) যোগ দিতে কিরগিজস্তানে সরকারি সফরে গিয়ে বিশকেকে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ৩০ অগাস্ট কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে পৌঁছন তিনি। এই সফরে ২৬তম সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সদস্য দেশগুলির নেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর।

    বিশকেকে মোদি (PM Modi)

    কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের আমন্ত্রণেই মোদির এই সফর। বিশকেকে পৌঁছনোর পর তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের মন্ত্রিসভার চেয়ারম্যান আদিলবেক কাসিমালিয়েভ। বিমানবন্দরে মোদিকে স্বাগত জানাতে আয়োজন করা হয়েছিল বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও। ঐতিহ্যবাহী কিরগিজ নৃত্যের মাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। স্থানীয় সংস্কৃতির এই উপস্থাপনা দুই দেশের সাংস্কৃতিক যোগাযোগের দিকটিও তুলে ধরে।বিমানবন্দর থেকে হোটেলে পৌঁছনোর পরেও মোদিকে ঘিরে ছিল উষ্ণ অভ্যর্থনার আয়োজন। সেখানে উপস্থিত ভারতীয় বংশোদ্ভূত ও প্রবাসী ভারতীয়রা “বন্দে মাতরম” ধ্বনি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। তাঁদের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি মোদি একটি যোগ প্রদর্শনীও দেখেন। দেশাত্মবোধক গান “মা তুঝে সালামে”র সঙ্গে পরিবেশিত হয় সেই যোগ প্রদর্শনী। পরে ভগবান শিবকে কেন্দ্র করে একটি সাংস্কৃতিক নৃত্যও দেখেন তিনি। এর মাধ্যমে ভারতের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ভাবধারার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

    ২৫ বছর পূর্ণ সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার

    এবারের সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কারণ, চলতি বছর এই আঞ্চলিক সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে। ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনে প্রথম দিকে ছিল চিন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তান। পরবর্তীতে সংগঠনের পরিধি আরও বৃদ্ধি পায়। ২০১৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগ দেয়। এরপর ২০২৩ সালে ইরান এবং ২০২৪ সালে বেলারুশ পূর্ণ সদস্য হওয়ায় সংগঠনটির পরিসর আরও বিস্তৃত হয়েছে।

    সম্মেলনের আগে সফর শুরুর সময় দেওয়া বিবৃতিতে মোদি এই অঞ্চলের জন্য ভারতের ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, আঞ্চলিক অগ্রগতির ভিত্তি হওয়া উচিত নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও সুযোগ। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং উগ্রবাদের মতো চ্যালেঞ্জমুক্ত একটি অঞ্চল গড়ে তুলতে সদস্য দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেন তিনি।

    মোদির এই বক্তব্যের তাৎপর্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মধ্য এশিয়া থেকে দক্ষিণ এশিয়া এবং ইউরেশিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সীমান্ত-সংক্রান্ত সমস্যা, সন্ত্রাসবাদ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। ফলে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চে সদস্য (SCO Summit 2026) দেশগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়টি ভারতের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ (PM Modi)।

    নিরাপত্তা থেকে বাণিজ্য, আলোচনায় একাধিক বিষয়

    সম্মেলনে সদস্য দেশগুলির নেতারা আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা ওয়াকিবহাল মহলের। বিশেষ করে পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক যোগাযোগ এবং পারস্পরিক বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

    এই সম্মেলনে মোদির উপস্থিতি ভারতের বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক অবস্থানেরও প্রতিফলন। সদস্য দেশগুলির সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করে অভিন্ন সমস্যাগুলির সমাধান খোঁজার বিষয়ে ভারতের আগ্রহ রয়েছে। নিরাপত্তার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এবং আঞ্চলিক উন্নয়নেও সহযোগিতা বাড়াতে চায় নয়াদিল্লি।

    উজবেকিস্তান সফরের পর কিরগিজস্তানে মোদি

    কিরগিজস্তানে পৌঁছনোর আগে মোদি শেষ করেন দু’দিনের উজবেকিস্তান সফর। সেখানে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উন্নত করে সর্বাঙ্গীণ কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার বিষয়ে সম্মত হয় (PM Modi)।

    দুই দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে। এর মাধ্যমে ভারত ও উজবেকিস্তান যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগ্রহী, তা স্পষ্ট হয়েছে। মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও এই সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

    উজবেকিস্তানের পর কিরগিজস্তান সফরও সেই একই কৌশলগত ধারার অংশ। কিরগিজস্তানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। শিক্ষা, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, সংস্কৃতি এবং জনসম্পর্কের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের যোগাযোগ রয়েছে। ফলে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়েও মোদির আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে (SCO Summit 2026)।

    প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গেও যোগাযোগ

    মোদির বিদেশ সফরে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কিরগিজস্তানেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিশকেকে ভারতীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। প্রবাসীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা সফরের আবেগঘন দিকটিও সামনে এনেছে।

    যোগ প্রদর্শনী এবং শিবকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক নৃত্যের আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভারতীয় সংস্কৃতির বহুমাত্রিক পরিচয় তুলে ধরা হয়। একদিকে প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগ, অন্যদিকে স্থানীয় সংস্কৃতির মাধ্যমে কিরগিজস্তানের পক্ষ থেকে অভ্যর্থনা—দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে এই ধরনের সাংস্কৃতিক বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে (PM Modi)।

    মধ্য এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব বৃদ্ধি

    মোদির এই সফরকে শুধু একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ হিসেবে দেখছে না নয়াদিল্লি। মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বৃহত্তর প্রয়াসের অংশ হিসেবেও এই সফরকে দেখা হচ্ছে।

    বিশ্ব রাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তন এবং বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে শক্তির ভারসাম্য তৈরি হওয়ার সময়ে মধ্য এশিয়া ভারতের কাছে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ, নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার মতো একাধিক ক্ষেত্রে এই অঞ্চলের দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

    সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মঞ্চ সেই সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করে। ফলে বিশকেক সম্মেলনে মোদির অংশগ্রহণের মাধ্যমে একদিকে যেমন ভারতের আঞ্চলিক স্বার্থ তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি সদস্য দেশগুলির সঙ্গে নতুন সমঝোতা ও সহযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি হতে পারে (SCO Summit 2026)।

    সম্মেলন শেষে বিভিন্ন চুক্তি, সমঝোতা এবং সহযোগিতামূলক উদ্যোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হতে পারে বলেও অনুমান। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভারত যেমন লাভবান হবে, তেমনই সম্ভাবনা রয়েছে বৃহত্তর সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশগুলির মধ্যেও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার (PM Modi)।

     

  • Nepal Flood: নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩! উদ্ধার দেহ শনাক্তে কাঠমান্ডুতে ভারতের ১৯ সদস্যের ফরেন্সিক দল

    Nepal Flood: নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩! উদ্ধার দেহ শনাক্তে কাঠমান্ডুতে ভারতের ১৯ সদস্যের ফরেন্সিক দল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপালে (Nepal Flood) মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০৩। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৪,২৪৭ জন। এঁদের মধ্যে ২৮৭ ভারতীয়ও রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি মৃতদেহের সন্ধান মিলেছে চিতওয়ান জেলায়। নদীর স্রোত বেশি থাকায় দেহগুলি অনেক দূর পর্যন্ত ভেসে গিয়েছে। দুর্গত এলাকাগুলিতে উদ্ধারকাজ ও নিখোঁজদের সন্ধান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার হওয়া দেহগুলি শনাক্ত করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। মৃতদেহ শনাক্ত করতে এবার নেপালের পাশে দাঁড়াল ভারত (Indian Forensics Team in Nepal)। নেপালের বন্যা পরিস্থিতিতে সহায়তার জন্য ভারত ১৯ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ ফরেন্সিক দল কাঠমান্ডুতে পাঠিয়েছে। উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের পরিচয় নির্ধারণে ডিএনএ বিশ্লেষণসহ প্রয়োজনীয় ফরেন্সিক পরীক্ষা চালাবে এই দল। নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিস্থিতিতে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সহায়তা করতে ভারত একের পর এক জরুরি সামগ্রীও পাঠিয়ে চলেছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬৮.৫ টন ত্রাণসামগ্রী নেপালে পৌঁছে দিয়েছে ভারত।

    কাজ শুরু করেছে ভারতের ফরেন্সিক দল

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সমাজমাধ্যমে ভারতের চলমান উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতার বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন। ইতিমধ্যেই ভারতীয় ফরেন্সিক দলের সদস্যরা কাঠমান্ডুতে নেপাল পুলিশের সেন্ট্রাল ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি এবং ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালের ফরেন্সিক বিভাগে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নেপালে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তবও দলের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করেছেন। ভারত ইতিমধ্যে নেপালে ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন ভারত থেকে বায়ুসেনার চারটি বিমান এখনও পর্যন্ত ত্রাণসামগ্রী ও বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে কাঠমান্ডু পৌঁছেছে।

    ফরেনসিক সহায়তার আশায় নেপাল

    বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যার পর উদ্ধার হওয়া মৃতদেহ শনাক্ত করতে ফরেনসিক ল্যাবরেটরি এবং দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নেপাল আরও সহায়তা চেয়েছে। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল বলেছেন, “আমরা ফরেনসিক ল্যাবরেটরিগুলোর জন্য অতিরিক্ত সহায়তা চাইছি। আমরা যা মৃতদেহ উদ্ধার করেছি, সেগুলোর মধ্যে বেশীরভাগই শনাক্ত করার মতো অবস্থায় ছিল না। আমাদের দ্রুত ডিএনএ বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন, তাই আমরা সেই ধরনের সহায়তা চাইছি এবং সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছি।” এই কঠিন সময়ে ভারতের সাহায্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেল এবং সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের এই দ্রুত সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।

    চিন থেকে নিরাপদে নেপালে ঢুকেছেন ৪০৩ ভারতীয়

    বন্যা ও দুর্যোগের কারণে নেপাল-চিন সীমান্তে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নজরে রাখছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক। মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, চিনের দিক থেকে ৪০৩ জন ভারতীয় নাগরিক নিরাপদে নেপালে প্রবেশ করেছেন। চিনের স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই সংখ্যা জানানো হয়েছে। এদিকে আরও প্রায় ৫০০ ভারতীয় নাগরিক এখনও চিনের দিকে রয়েছেন এবং তাঁরা নিরাপদে আছেন, বলে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। ১৪০ জন ভারতীয়কে ফেরত আনা হয়েছে দেশে।

    হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পের সুড়ঙ্গে উদ্ধার অভিযান

    নেপালের দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে ভারতীয় দল। চিলিমে ও লাংটাংয়ের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় নেপালি সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে ভারতের টানেল রেসকিউ টিম। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও লাংটাং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাছে একটি সুড়ঙ্গে প্রবেশ করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। সেখান থেকে এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। লাংটাং প্রকল্প সংলগ্ন এলাকায় এখনও তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় দল। বন্যার ভয়াবহতায় নেপালের আটটি ক্ষতিগ্রস্ত জেলা থেকেই দেহ উদ্ধার হয়েছে। বিপর্যয়ের মাত্রা এবং দুর্গম ভূপ্রকৃতি উদ্ধারকারীদের সামনে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। নিখোঁজ ও আটকে থাকা মানুষদের সন্ধানে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি ভারতীয় দলগুলিও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

    ভারত থেকে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছল নেপালে

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, রবিবার ১১ টন ত্রাণসামগ্রী নিয়ে চতুর্থ বিমানটি নেপালে পৌঁছেছে। এই ত্রাণের মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় ওষুধ, জরুরি খাদ্যসামগ্রী, তাঁবু, অস্থায়ী আশ্রয় তৈরির কিট, কম্বল, স্লিপিং ব্যাগ, জল পরিশোধক এবং জেনারেটর সেট। উদ্ধার ও চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে ভারত ইতিমধ্যেই ১১ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ প্রযুক্তিগত দল নেপালে পাঠিয়েছে। চিকিৎসক ও প্যারামেডিকদের নিয়ে গঠিত এই দলটি শুক্রবার কাঠমান্ডুতে পৌঁছে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে।

    যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারেও সাহায্য

    শুধু ত্রাণসামগ্রী নয়, নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারেও সাহায্য করছে ভারত। ২৩০ ফুট দীর্ঘ একটি মডিউলার স্টিল বেইলি ব্রিজ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১৭টি সেতু নির্মাণের সামগ্রী ১৬টি ট্রাক এবং চারটি বিমানে করে নেপালে পাঠানো হয়েছে। এর পাশাপাশি, ধ্বংসস্তূপ বা সুড়ঙ্গে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের জন্য ভারত বিশেষায়িত টানেল রেসকিউ দলও নেপালে পাঠিয়েছে। বিপর্যয়ের এই কঠিন সময়ে ভারতের এই ধারাবাহিক ত্রাণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নেপালের উদ্ধার ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Mohan Bhagwat: কানাডায় হিন্দু বিশ্ববন্ধু সমাবেশে মোহন ভাগবত, বার্তা বন্ধুত্ব-সম্প্রীতির

    Mohan Bhagwat: কানাডায় হিন্দু বিশ্ববন্ধু সমাবেশে মোহন ভাগবত, বার্তা বন্ধুত্ব-সম্প্রীতির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কানাডার টরন্টোয় আয়োজিত ‘হিন্দু বিশ্ববন্ধু’ শীর্ষক এক বিরাট সমাবেশে বক্তব্য রাখলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। ‘বন্ধুত্বের মাধ্যমে বিশ্বকে আপন করে নেওয়া’—এই ভাবনাকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কানাডার দশটি প্রদেশ থেকে দু’হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নেন। বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আলোচনা, আপনজনের মতো একাত্মতা এবং সমাজের প্রতি যৌথ দায়িত্ববোধকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান কানাডার হিন্দু সমাজের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য মিলনমেলায় পরিণত হয় (Hindu Vishwa Bandhu)।

    উদ্যোক্তাদের বক্তব্য (Mohan Bhagwat)

    কানাডার হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিনিধিদের একত্রিত করে এই সমাবেশের আয়োজন করে কানাডিয়ান হিন্দুজ ফর আউটরিচ, রিলেশনস অ্যান্ড ডায়লগ। সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কানাডার ১৭৫টিরও বেশি সংগঠন সহযোগিতা করে। আয়োজকদের বক্তব্য, কানাডার বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করা, পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ছিল ভারতীয় হিন্দু সভ্যতার চিরন্তন আদর্শ ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’। অর্থাৎ, “সমস্ত পৃথিবীই এক পরিবার।” এই দর্শনকে ভিত্তি করে আয়োজিত সমাবেশে হিন্দু পরিচয়, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার উদ্‌যাপনের পাশাপাশি কানাডার বৃহত্তর সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল ও অর্থবহ অবদানের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    ‘হিন্দু বিশ্ববন্ধু’

    অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভাগবত। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে হিন্দু সভ্যতা, সমাজ ও সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে আসা ভাগবতকে অনুষ্ঠানের আয়োজকদের পক্ষ থেকে সমাজগঠন ও সামাজিক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাবিদ হিসেবে তুলে ধরা হয়। চরিত্রগঠন, সামাজিক ঐক্য, সেবা, সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা এবং সমাজকে আরও শক্তিশালী করার মতো বিষয় তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। কানাডার মতো বহুসাংস্কৃতিক দেশে বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সহাবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সংলাপের গুরুত্ব রয়েছে। ‘হিন্দু বিশ্ববন্ধু’ সমাবেশে সেই বিষয়টিকেই বিশেষভাবে সামনে আনা হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের নিজস্ব ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে ধরে রেখেও কীভাবে বৃহত্তর কানাডীয় সমাজের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়া যায়, সেই ভাবনা অনুষ্ঠানের আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে ওঠে (Mohan Bhagwat)।

    অনুষ্ঠান মঞ্চ আলোকিত করেছিলেন যাঁরা

    অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন আলবার্টার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং কানাডার প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য জেসন কেনি। কানাডার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের জনজীবনের যোগাযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে কানাডা ও ভারতের মধ্যের সম্পর্ক নিয়েও তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিলেন (Hindu Vishwa Bandhu)। তাঁর উপস্থিতি অনুষ্ঠানে কানাডার বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থার সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পর্কের বিষয়টিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রী কাশ্মীর সিং ধালিওয়াল। তিনি খালসা দিওয়ান সোসাইটি এবং ঐতিহাসিক রস স্ট্রিট গুরুদ্বারের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁর উপস্থিতি কানাডায় হিন্দু ও শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়। আয়োজকদের মতে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই একটি সুস্থ ও ঐক্যবদ্ধ সমাজের ভিত্তি।

    হিন্দু পরিচয়ের গুরুত্ব

    সমাবেশে হিন্দু পরিচয় ও ঐতিহ্যের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। তবে এই পরিচয়কে কেবল নিজস্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৃহত্তর সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়। সেবা, সামাজিক দায়িত্ব, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজের প্রতিটি স্তরে ইতিবাচক অবদান রাখার আহ্বান জানানো হয়। আয়োজক সংগঠনটির লক্ষ্যও মূলত এই ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কানাডিয়ান হিন্দু সমাজের বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অবদানকে দেশের মূলধারার আলোচনায় আরও দৃশ্যমান করে তোলাই সংগঠনটির অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়, ধর্মীয় গোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান এবং প্রজন্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও কাজ করতে চায় সংগঠনটি (Mohan Bhagwat)। কানাডায় বসবাসকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভিন্ন ভাষা, অঞ্চল, সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিচয়ের মানুষ রয়েছেন। তাঁদের এই বৈচিত্র্যকে একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক বন্ধনে যুক্ত করার পাশাপাশি কানাডার সমাজজীবনে তাঁদের অবদানকে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন আয়োজকরা। তাঁদের মতে, নিজস্ব শিকড় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় অটুট রেখেও যে বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব, ‘হিন্দু বিশ্ববন্ধু’ তারই একটি উদাহরণ (Hindu Vishwa Bandhu)।

    দু’হাজারেরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সমাবেশ তাই শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। হিন্দু সমাজের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক সুদৃঢ় করা এবং কানাডার সামগ্রিক সমাজব্যবস্থায় আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের বার্তাও উঠে এসেছে অনুষ্ঠানে (Mohan Bhagwat)।

    লক্ষ্য, সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা

    ‘বসুধৈব কুটুম্বকমে’র আদর্শকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সমাবেশের মূল সুর ছিল—নিজের পরিচয় ও ঐতিহ্যকে সম্মান করার পাশাপাশি অন্যের পরিচয় ও বিশ্বাসের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল থাকা। পারস্পরিক বন্ধুত্ব, আলাপ-আলোচনা, সহযোগিতা এবং সামাজিক দায়িত্বের মাধ্যমে একটি আরও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাই এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। কানাডার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ এবং ১৭৫টিরও বেশি সংগঠনের সহযোগিতা এই উদ্যোগের ব্যাপকতাকেও স্পষ্ট করেছে। আয়োজকদের আশা, এই ধরনের সমাবেশ ভবিষ্যতে কানাডার হিন্দু সম্প্রদায় এবং বৃহত্তর কানাডীয় সমাজের মধ্যে আরও বেশি যোগাযোগ ও সহযোগিতার পথ তৈরি করবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন (Hindu Vishwa Bandhu) ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে (Mohan Bhagwat)।

     

  • Nepal Tibet Flood: সুড়ঙ্গে আটকে ৩৫০? হিমবাহ ধসের পর নেপালে ভয়াবহ উদ্ধার অভিযান, মৃত্যু ৯০০ পার

    Nepal Tibet Flood: সুড়ঙ্গে আটকে ৩৫০? হিমবাহ ধসের পর নেপালে ভয়াবহ উদ্ধার অভিযান, মৃত্যু ৯০০ পার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিমালয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর নেপাল ও তিব্বতে উদ্ধারকাজে নেমেছে হাজার হাজার উদ্ধারকর্মী। বুধবার হিমবাহ ধসের জেরে পাহাড়ি উপত্যকা ও নদীপথে নেমে আসে বরফ, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের ভয়ঙ্কর স্রোত। মুহূর্তের মধ্যে ভেসে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। রবিবার পর্যন্ত দুই দেশের প্রশাসনের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ৯০০ পার করেছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ।

    আবহাওয়ার অবনতি, পাহাড়ি এলাকার দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধির কারণে উদ্ধারকাজ বারবার বাধার মুখে পড়ছে। নতুন করে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় নেপালের ত্রিশূলী নদীর জলস্তরও বেড়েছে। ফলে উদ্ধারকারীদের একাংশকে নিরাপদ উঁচু এলাকায় সরিয়ে নিতে হয়েছে। একই সঙ্গে আরও বন্যার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

    নেপালেই মৃত ৭৮১, নিখোঁজ আড়াই হাজারের বেশি

    নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত দেশে ৭৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ২,৫০২ জন। অন্যদিকে তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৪৬ জন এখনও নিখোঁজ। বিপর্যয়ের ব্যাপকতা এতটাই বেশি যে চিন জানিয়েছে, তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিকেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। রেড ক্রসের হিসাব অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ে মোট ৯০ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন। ফলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা যতটা সামনে এসেছে, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা তার থেকেও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    নতুন করে বন্যার আশঙ্কা, থমকে যাচ্ছে উদ্ধারকাজ

    বিপর্যয়ের পর নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ধসের কারণে একটি জলাধারের মতো জল জমে যায়। সেই জলাধার উপচে পড়তে শুরু করলে নেপালের লেহেন্দে খোলা এবং ত্রিশূলী নদীতে নতুন করে জল বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। শুক্রবার থেকেই খারাপ আবহাওয়া এবং জলাধারটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় একাধিকবার উদ্ধারকাজ স্থগিত রাখতে হয়েছে। যদিও চিনের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে বিপজ্জনক জলাধারটির জল অনেকটাই নেমে গিয়েছিল। কিন্তু বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। ড্রোনের মাধ্যমে শনিবার রাতে আরও একটি বড় ধসের সন্ধান মেলে। জলাধারের প্রায় ২.৮ কিলোমিটার নীচের দিকে ধস নেমে নতুন করে একটি প্রাকৃতিক বাঁধ এবং জলাশয় তৈরি হয়েছে। ফলে ফের জলস্তর বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    আপার ত্রিশূলি প্রকল্পে সুড়ঙ্গে আটকে থাকতে পারেন ৩৫০ জন

    নেপালে উদ্ধার অভিযানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি। মোট পাঁচটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ভয়াবহভাবে প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে আপার ত্রিশূলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ঘিরে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার প্রশাসনের কাছে খবর আসে, প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রায় ৩৫০ জন আটকে থাকতে পারেন। রবিবার নেপালের সেনাবাহিনী দুর্গম এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি আকাশপথে পৌঁছে দিয়েছে।

    উদ্ধারকারীরা একটি সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখ পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষম হয়েছেন এবং সেখানে জমে থাকা ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু করেছেন। সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রবেশের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ এবং ক্যামেরা নিয়ে বিশেষ দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে ধ্বংসাবশেষের পরিমাণ এত বেশি যে দ্রুত ভিতরে ঢোকা সম্ভব হচ্ছে না। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান ধরম রাজ উপ্রেতি বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন। ধ্বংসাবশেষ এত বেশি যে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রাস্তা তৈরি করাও সম্ভব হচ্ছে না।

    ১০ হাজার নেপালি সেনা, পাশে ভারত ও চিন

    বিপর্যয়ের পর উদ্ধার ও ত্রাণকাজে প্রায় ১০ হাজার নেপালি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে কাজ করছে চিন ও ভারতের বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল। চরম দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি পৌঁছে দেওয়া, ধ্বংসাবশেষ সরানো এবং নিখোঁজদের সন্ধান করা—সবকিছুই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খারাপ আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

    নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী জানিয়েছেন, কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে সুড়ঙ্গে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার, ডিএনএ পরীক্ষা, মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য হিমঘর এবং পচন ধরা দেহের ফরেন্সিক সনাক্তকরণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়েছে নেপাল।

    শনাক্ত করা যাচ্ছে না দেহ, শুরু গণকবর

    বিপর্যয়ের কয়েক দিন পর নেপালে উদ্ধার হওয়া বহু মৃতদেহ দ্রুত পচতে শুরু করেছে। ফলে নিখোঁজ পরিজনদের খোঁজে হাসপাতাল, মর্গ ও ত্রাণকেন্দ্রে ঘুরে বেড়ানো পরিবারের সদস্যদের জন্য পরিস্থিতি আরও মর্মান্তিক হয়ে উঠেছে। চিটওয়ান জেলার দেবঘাট এলাকায় জঙ্গলের মধ্যে শত শত মৃতদেহের জন্য কবর খোঁড়া হয়েছে। বন্যায় ভেসে যাওয়া রাসুওয়া অঞ্চলের বহু দেহ নদীর স্রোতে বহু দূরে চলে এসেছিল।

    চিটওয়ানের জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে পরিচয়হীন মৃতদেহগুলির গণকবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার ৯৬টি অজ্ঞাতপরিচয় শবদেহ কবর দেওয়া হয়েছে। রবিবার আরও ১০০টির বেশি দেহ সমাধিস্থ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে পরিবারের সদস্যরা যাতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মৃতদেহ সনাক্ত করতে পারেন, সে জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রতিটি কবরের অবস্থান নথিভুক্ত করা হচ্ছে।

    নেপালের পুলিশ আধিকারিক অনিল থাপা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া মৃতদেহের অর্ধেকেরও বেশি এমন অবস্থায় রয়েছে যে তাঁদের সনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। অনেক দেহে মুখের কোনও চিহ্ন নেই। কোথাও শুধু হাত বা পা পাওয়া যাচ্ছে, আবার কোথাও দেহের বিচ্ছিন্ন অংশ উদ্ধার হয়েছে।

    জলবায়ু পরিবর্তনের যোগসূত্র খুঁজছে চিন

    এই বিপর্যয়ের সঙ্গে গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়নের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের সরাসরি যোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে চিন। চিনের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে হিমবাহের অস্থিতিশীলতা থেকে এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়েছে। তিব্বত মালভূমিতে বরফনির্ভর প্রাকৃতিক ব্যবস্থার বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা নতুন ও ক্রমবর্ধমান বৈশিষ্ট্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

    চিনের বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নেপালের দিক থেকে নেমে আসা কাদা, বরফ, পাথর ও জলের প্রবল স্রোত মাত্র ৬ থেকে ৭ মিনিটের মধ্যে গিরং সীমান্ত পারাপার এলাকায় পৌঁছে যায়। নজরদারি ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবিতে দেখা যায়, প্রবল স্রোত একের পর এক বাড়ি ও স্থাপনা গ্রাস করছে। প্রাণ বাঁচাতে মানুষকে ছুটে পালাতেও দেখা যায়।

    ‘সবচেয়ে ভয়াবহ আন্তঃসীমান্ত বিপর্যয়’

    চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই শনিবার নেপালের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। চিনা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি এই বিপর্যয়কে সাম্প্রতিক বছরগুলির “সবচেয়ে ভয়াবহ আন্তঃসীমান্ত দুর্যোগ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ওয়াং ই জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজের মাত্রা নজিরবিহীন এবং পরিস্থিতির জটিলতাও অত্যন্ত বেশি। সীমান্তের দুই পাশে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ধসে বন্ধ হয়ে যাওয়া রাস্তা, বাড়তে থাকা জলস্তর এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারীদের একসঙ্গে একাধিক ঝুঁকির মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

    তিব্বতে ২,১০০-এর বেশি চিনা উদ্ধারকর্মী মোতায়েন

    চিন জানিয়েছে, তিব্বতে ২,১০০-এর বেশি উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে অন্তত ২২ কোটি ইউয়ান বরাদ্দ করা হয়েছে। চিনের উদ্ধারকারী দল দুর্গম এলাকায় বিমানপথে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে। সেনাবাহিনী নিখোঁজদের সন্ধানে জীবন শনাক্তকরণ যন্ত্র ব্যবহার করছে। তবে উদ্ধারকাজের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্গম হিমালয়, নতুন ধসের আশঙ্কা এবং আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন।

    সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ

    এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হল নিখোঁজদের সন্ধান, বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও সুড়ঙ্গগুলিতে আটকে থাকা মানুষদের দ্রুত উদ্ধার করা। একই সঙ্গে নদীর জলস্তর এবং নতুন করে তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক বাঁধগুলির উপর নজর রাখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের কাছে এই বিপর্যয় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা—হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তনশীল বরফ ও জলবায়ু ব্যবস্থার সঙ্গে মানুষের বসতি, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং সীমান্তবর্তী পরিকাঠামোর ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে।

    একদিকে চলছে নিখোঁজদের উদ্ধারের মরিয়া চেষ্টা, অন্যদিকে পচনশীল মৃতদেহের গণসমাধি এবং নতুন বন্যার আশঙ্কা। ফলে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে এই মুহূর্তে উদ্ধার অভিযান শুধু একটি মানবিক সংকট মোকাবিলার লড়াই নয়, বরং দ্রুত পরিবর্তনশীল হিমালয় পরিবেশের বিরুদ্ধে এক কঠিন পরীক্ষাতেও পরিণত হয়েছে।

LinkedIn
Share