Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Bangladesh Hindu Crisis: বাংলাদেশে ফের নিখোঁজ হিন্দু পরিবার! ব্যবসায়ী-সহ নিখোঁজ চারজন, চাঁদপুরে উদ্বেগ

    Bangladesh Hindu Crisis: বাংলাদেশে ফের নিখোঁজ হিন্দু পরিবার! ব্যবসায়ী-সহ নিখোঁজ চারজন, চাঁদপুরে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে হিন্দু (Bangladesh Hindu Crisis) ব্যবসায়ী, তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলের নিখোঁজের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে চাঁদপুর জেলায়। গত ২৬ আগস্ট থেকে চাঁদপুর শহরের ভাড়া বাড়ি থেকে নিখোঁজ পিন্টু দাস, তাঁর স্ত্রী রিমি দাস এবং দুই ছেলে প্রিয়ম দাস ও রূপম দাস। এখনও পর্যন্ত তাঁদের কোনও সন্ধান মেলেনি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে আর্থিক সংকটের কারণে পরিবারটি আত্মগোপন করেছে, নাকি নিখোঁজের পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। চাঁদপুর শহরের মদিনা মার্কেটে ‘এসকে শিল্পালয়’ নামে ব্যবসা চালাতেন পিন্টু দাস। তাঁর বড় ছেলে প্রিয়ম দশম শ্রেণির ছাত্র। দুই ছেলেই কিশোর এবং পড়াশোনা করত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

    ঋণের চাপে ছিলেন ব্যবসায়ী?

    পরিবারের আত্মীয়দের দাবি, বেশ কিছুদিন ধরেই আর্থিক সমস্যায় ভুগছিলেন পিন্টু। ব্যবসার জন্য নেওয়া ঋণের চাপও বাড়ছিল। সম্প্রতি এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি হুমকিও পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ। পিন্টুর আত্মীয় এবং জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে জানিয়েছেন, চাঁদপুর শহরের ভাড়া বাড়ি থেকেই নিখোঁজ হয়েছে গোটা পরিবার। তাঁর দাবি, ঋণের কারণে পিন্টু মানসিক চাপে ছিলেন এবং তাঁকে হুমকি দেওয়ার কথাও তাঁরা শুনেছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিন্টু সোনা ভরাট এবং বন্ধক রাখার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অর্থের বিনিময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে সোনার গয়না বন্ধক রাখতেন তিনি। অভিযোগ, ব্যবসার নামে একাধিক সমবায় সমিতি ও বিভিন্ন সংগঠন থেকে ঋণ নিয়েছিলেন পিন্টু। ফলে তাঁর উপর বড়সড় আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।

    গ্রাহকদের সোনা ও টাকা আটকে

    পিন্টু দাসের নিখোঁজের ঘটনায় উদ্বেগে পড়েছেন তাঁর ব্যবসার গ্রাহকরাও। বহু মানুষ তাঁর কাছে সোনার গয়না বন্ধক রেখে টাকা নিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। রঘুনাথপুরের বাসিন্দা রাসেল খান জানান, তিনি ২৯.১৬ গ্রাম সোনার গয়না বন্ধক রেখে পিন্টুর কাছ থেকে ৫০ হাজার বাংলাদেশি টাকা নিয়েছিলেন। পরে গয়না ছাড়ানোর জন্য টাকা জোগাড় করে পিন্টুর কাছে গেলে তাঁকে পরের দিন আসতে বলা হয়। কিন্তু পরদিন তিনি জানতে পারেন, পিন্টু ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যই নিখোঁজ। এরপর তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হন। আরও দুই গ্রাহক জাহিদুল ইসলাম এবং শুভঙ্কর মজুমদারও পিন্টুর কাছে সোনা বন্ধক রাখার কথা জানিয়েছেন। জাহিদুলের দাবি, তিনি ১২ আনা সোনা দিয়েছিলেন। অন্যদিকে শুভঙ্কর জানিয়েছে, সে ১০ আনা সোনা বন্ধক রেখেছিল।

    একাধিকবার বদলেছিলেন ব্যবসার জায়গা

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঁদপুরের মদিনা মার্কেটে ব্যবসা শুরু করার আগে পিন্টু একাধিকবার তাঁর ব্যবসার জায়গা পরিবর্তন করেছিলেন। প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে মদিনা মার্কেটে ‘এসকে শিল্পালয়’ চালু করেন তিনি। পিন্টুর আদি বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। তাঁর কয়েকজন আত্মীয় কুমিল্লা ও মুরাদনগরেও থাকেন বলে জানা গিয়েছে। আত্মীয় এবং স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানিয়েছেন, পিন্টু, তাঁর স্ত্রী রিমি এবং দুই ছেলে—কেউই এখন তাঁদের ভাড়া বাড়িতে নেই। ২৬ আগস্ট থেকে তাঁদের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ ওই ব্যবসায়ীর আত্মীয়রা স্থানীয় থানায় মিসিং ডায়েরি করেছেন। তবে ওই ব্যবসায়ীর মাসতুতো বোন উপমা দে অভিযোগ করেছেন মোটা টাকা তোলা চেয়ে পিন্টু দাসকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। প্রসঙ্গত বাংলাদেশে শাসক দল বিএনপির বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ অতীতের সব নজির ছাপিয়ে গিয়েছে।

    তদন্তে পুলিশ

    চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারটির নিখোঁজ হওয়ার খবর তারা সম্প্রতি পেয়েছে। এরপরই চারজনকে খুঁজে বের করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক জানিয়েছেন, নিখোঁজ চারজনকে উদ্ধারের পাশাপাশি কী কারণে তাঁরা নিখোঁজ হয়েছেন, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের মধ্যেই চাঁদপুরের এই ঘটনা সামনে এসেছে। চাঁদপুরের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি যে পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে কোনও হুমকি, ঋণের চাপ বা অন্য কোনও ঘটনার সরাসরি যোগ রয়েছে কি না। চারজনেরই বর্তমান অবস্থান অজানা। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি পিন্টুর ব্যবসার গ্রাহকরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন—উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে নিখোঁজ চারজনের নিরাপত্তার পাশাপাশি বন্ধক রাখা সোনা ও আটকে থাকা টাকাও।

    বাংলাদেশে হিন্দু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

    চারদিন আগে বাংলাদেশের উত্তর ভাগের জেলার রংপুরের এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক এবং তাঁর স্ত্রী ও পুত্র কন্যাকে নিজের বাড়িতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় পুলিশ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুই তরুণকে গ্রেফতার করে দাবি করে তারা মাদকাসক্ত অবস্থায় গণপতি চক্রবর্তী নামে ওই শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছে। যদিও পুলিশের ওই বয়ান নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে রংপুরে। প্রকৃত হত্যাকারীদের আড়াল করতে পুলিশ নিরীহ দুই তরুণকে ফাঁসিয়েছে বলে নানা মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে। ধৃতদের পরিবারও খুনের মত গুরুতর অপরাধে ছেলে দুটি যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছে পরিবার। রংপুরের ঘটনার পর চাঁদপুরে হিন্দু পরিবারের চারজনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত চাঁদপুর বাংলাদেশে ইলিশ মাছের জন্য বিখ্যাত। ওই এলাকাকে ইলিশের বাড়ি বলা হয়ে থাকে। রংপুরের মত চাঁদপুরেও বহু হিন্দু বাস করেন এবং অনেকেই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল। কোনও কোনও মহল থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে সরাসরি সম্প্রদায়িক সহিংসতার পথে না হেঁটে প্রচলিত অপরাধে হিন্দুসহ সংখ্যালঘুদের বেশি করে নিশানা করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য তাদের ভয় দেখিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা।

  • Nepal Flood Alert: চিনে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্পের পরই তিব্বতে হ্রদ ভাঙার খবর! বন্যা-বিধ্বস্ত নেপালে নতুন করে প্লাবনের আতঙ্ক, বন্ধ উদ্ধারকাজ

    Nepal Flood Alert: চিনে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্পের পরই তিব্বতে হ্রদ ভাঙার খবর! বন্যা-বিধ্বস্ত নেপালে নতুন করে প্লাবনের আতঙ্ক, বন্ধ উদ্ধারকাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনের সিচুয়ান প্রদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর তিব্বতে ফের একটি জলাধার বা ব্যারেজ লেক ভেঙে যাওয়ার খবর ঘিরে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নেপাল প্রশাসন নদী তীরবর্তী এবং নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সম্ভাব্য ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায় নেপালের ধাদিং ও নুওয়াকোট জেলায় চলা উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধানের কাজও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তিব্বতের কিছু এলাকাতেও একই কারণে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।

    ভূমিকম্পের পর নতুন বিপদ

    শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ চিনের সিচুয়ান প্রদেশে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর পরেই তিব্বতের একটি নতুন হ্রদ ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে নেপালকে সতর্ক করে চিন। জানা গিয়েছে, শুওকেন এবং পোয়েক সাংপো নদীর সঙ্গমস্থলের কাছে তৈরি হওয়া একটি হ্রদে বিপুল পরিমাণ জল জমেছিল। সেই হ্রদের বাঁধ ভেঙে জল নীচের দিকে নেমে এলে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ বন্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নেপালজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন শাহ প্রশাসনের সমস্ত স্তরকে উচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। চিনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে নেপাল সরকার। পরিস্থিতির উপর প্রতি মুহূর্তে নজর রাখা হচ্ছে।

    নদীর ধারে থাকা মানুষদের সরে যাওয়ার নির্দেশ

    হ্রদ ভেঙে যাওয়ার খবর সামনে আসার পরই নেপালের রাসুয়া জেলার প্রশাসন নদীর কাছাকাছি এবং নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে বলেছে। তাঁদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চলমান উদ্ধার অভিযানে যুক্ত নিরাপত্তাকর্মীদেরও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে যেতে বলা হয়েছে। কারণ, আচমকা জলস্তর বেড়ে গেলে উদ্ধারকারীরাও বিপদের মুখে পড়তে পারেন।এদিকে, নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে থাকা আরও একটি ব্যারেজ লেকে জল ক্রমশ বাড়ছে। সেটিও ভেঙে গেলে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন।

    ৫০ লক্ষ ঘনমিটার পর্যন্ত জল জমতে পারে

    চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিনের জলসম্পদ মন্ত্রক জানিয়েছে, চোচেন খোলা এবং পুরপু সাংপো নদীর সঙ্গমস্থলের কাছে নতুন একটি হ্রদ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সেখানে আনুমানিক ২০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমেছিল। ইতিমধ্যেই হ্রদটি উপচে পড়তে শুরু করেছিল বলে জানানো হয়েছে। চিনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লক্ষ ঘনমিটার জল ওই হ্রদে ঢুকতে পারে। সেক্ষেত্রে হ্রদটির মোট জলধারণের পরিমাণ প্রায় ৫০ লক্ষ ঘনমিটার হয়ে যেতে পারে। ফলে হ্রদটির বাঁধ ভেঙে আকস্মিক বন্যা বা ‘গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট’ ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিনের জলসম্পদ মন্ত্রক হ্রদটির উপর নজরদারি চালাচ্ছে। সম্ভাব্য বন্যার গতিপথ বুঝতে জলপ্রবাহের সিমুলেশন এবং ঝুঁকি মূল্যায়নও করা হচ্ছে। জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ ব্যবস্থার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

    এখনও নিখোঁজ শত শত মানুষ

    নতুন করে বন্যার আশঙ্কা এমন সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন চিন ও নেপাল—দুই দেশেই আগের বিপর্যয়ের পর শত শত মানুষ এখনও নিখোঁজ। চিনা সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে এখনও ৫৫৮ জন নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। ওই এলাকায় এখনও পর্যন্ত অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। অন্যদিকে, চিনের বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, নেপালের ভূখণ্ডেও প্রায় ১০০ জন চিনা নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে হ্রদ ভেঙে বন্যা হলে নিখোঁজদের সন্ধান এবং উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। সেই কারণেই ধাদিং ও নুওয়াকোটে চলা উদ্ধার অভিযান আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল প্রশাসন।

    আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

    গত ২৬ তারিখ, চিন এবং নেপালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লেন্দে নদীর তীর থেকে বিশাল আকারের কাদা এবং ধ্বংসস্তূপ খসে পড়ার ফলেই নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের সৃষ্টি হয়। তীব্র স্রোত ভোটেকোশী এবং ত্রিশূলী নদীর গতিপথের গ্রাম এবং শহরগুলির ওপর আছড়ে পড়ে। বহু ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ভেসে যায় নিমেষে। ওই হড়পা বানে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ সহস্রাধিক। সেই ভয়াবহতার মধ্যেই এখন ভূমিকম্প, পাহাড়ি এলাকায় জল জমে হ্রদ তৈরি হওয়া এবং সেই হ্রদ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় নেপাল-তিব্বত সীমান্তে পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য এখন নদী তীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং সম্ভাব্য আকস্মিক বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমানো। নেপাল সরকার জানিয়েছে, চিনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। নতুন হ্রদের জলস্তর এবং সম্ভাব্য জলপ্রবাহের গতিপথের উপর নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ।

  • Mohan Bhagwat in US: ‘সতর্ক থাকুন’! ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে নিউইয়র্কের মেয়রকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আর্জি হিন্দু সংগঠনের

    Mohan Bhagwat in US: ‘সতর্ক থাকুন’! ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে নিউইয়র্কের মেয়রকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আর্জি হিন্দু সংগঠনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবতের (Mohan Bhagwat in US) নিউইয়র্ক সফর এবং ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে তাঁর প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানের আগে নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করল হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন (HAF)। নিউইয়র্ক প্রশাসনের কাছে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ২৯ আগস্ট ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে ভাগবতের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই কয়েকটি মহল থেকে বিরোধিতা এবং অনুষ্ঠান বাতিলের দাবি উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিন্দু অধিকার ও শিক্ষা বিষয়ক সংগঠন এইচএএফ (HAF)আমেরিকার হিন্দু সম্প্রদায়কে ‘সতর্ক থাকতে’ এবং চারপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

    মামদানিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আর্জি

    সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম-এ দেওয়া এক বার্তায় এইচএএফ (HAF) হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি সকলের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও সংযত আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে আয়োজিত ‘ইউনিভার্সাল ওয়ননেস সেলিবরেশন (Universal Oneness Celebration)’ অনুষ্ঠানটি আয়োজনে বাধা দেওয়া হবে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি (Zohran Mamdani)-র উদ্দেশে হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন -এর বার্তা, অনুষ্ঠানে উপস্থিত নিউইয়র্কের প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাঁর দায়িত্ব। একইসঙ্গে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের নাগরিক অধিকারও রক্ষা করতে হবে।

    অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেছেন মামদানি

    ভাগবতের অনুষ্ঠানের বিষয়ে প্রকাশ্যেই নিজের আপত্তির কথা জানিয়েছেন মামদানি। তবে একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, কোনও বেসরকারি অনুষ্ঠান বাতিল করার আইনি ক্ষমতা শহর প্রশাসনের আদৌ রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এক সাংবাদিক বৈঠকে মামদানি বলেন, তিনি এই সমাবেশকে সমর্থন করেন না। তবে একটি বেসরকারি অনুষ্ঠান বাতিল করার ক্ষেত্রে শহর প্রশাসনের কোনও আইনি এখতিয়ার রয়েছে কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। নিজের ভারতীয়-আমেরিকান পরিচয়ের কথাও তুলে ধরেন নিউইয়র্কের মেয়র। তাঁর বক্তব্য, তাঁর পরিবারের কাছে ভারতের পরিচয় ছিল একটি বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ হিসেবে, যেখানে প্রত্যেকেরই জায়গা রয়েছে। মামদানির অভিযোগ, বর্জনমূলক রাজনৈতিক আন্দোলনের উত্থান তাঁকে উদ্বিগ্ন করছে।

    নিউইয়র্কে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন

    এই পরিস্থিতিতে মার্কিন গায়িকা-অভিনেত্রী মেরি মিলবেন মেয়র মামদানি-সহ সমালোচকদের পাল্টা আক্রমণ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি-র প্রতি বিরোধিতার কারণেই মামদানি ও অন্যান্য সমালোচকরা ভাগবতের অনুষ্ঠানকে নিশানা করছেন। ২৯ আগস্টের নির্ধারিত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    প্রচার বন্ধের অসফল প্রয়াস

    রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর প্রধান মোহন ভাগবতের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে যায় আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ ফোরাম (American Hindus for Engagement and Dialogue Forum)-এর সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট। এই সংগঠন ভাগবতের অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। তবে পুনরায় তাদের অ্যাকাউন্ট চালু করেছে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স। বুধবার সংগঠনটির @AheadForum1 হ্যান্ডেলটি হঠাৎই অনুপলব্ধ হয়ে যায়। অ্যাকাউন্টটি বন্ধ হওয়ার পর সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, ঘটনাটি সম্ভবত ভুলবশত ঘটেছে। তাদের বক্তব্য ছিল, সংগঠনের যোগাযোগমূলক প্রচারে ‘সার্বজনীন শান্তি, একতা, সম্প্রীতি’ এবং আন্তঃধর্মীয় সংলাপের বার্তা তুলে ধরা হয়।

    বিশ্বসম্প্রীতি নিয়ে ভয় কেন

    পরে অ্যাকাউন্টটি পুনরায় চালু হলে আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ ফোরাম X-এ পোস্ট করে জানায়, “আমরা আবার ফিরে এসেছি!” একই সঙ্গে অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার এবং ‘বট’ সরিয়ে দেওয়ার জন্য সমাজ-মাধ্যম-কে ধন্যবাদ জানায় তারা। সংগঠনটির অভিযোগ, তাদের বিরোধীরা বিভ্রান্তিকরভাবে বট ব্যবহার করে X-এর অ্যালগরিদমকে প্রভাবিত করে অ্যাকাউন্টটি ব্লক করানোর চেষ্টা করেছিল। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ভারতীয় ঐতিহ্য, ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং আন্তঃধর্মীয় সংলাপকে সামনে আনা। অনুষ্ঠানে হিন্দু-আমেরিকান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন প্রতিনিধি, মন্দির, যোগ সংগঠন এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের উপস্থিত থাকার কথা। রাখিবন্ধন উপলক্ষেও অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং ঐক্য, নাগরিক দায়িত্ব ও বিশ্বসম্প্রীতি নিয়ে বক্তব্যের আয়োজন করা হয়েছে।

    কেন বন্ধ করা হয়েছে অ্যাকাউন্ট

    তবে X-এর পক্ষ থেকে অ্যাকাউন্টটি কেন সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে আসেনি। পাশাপাশি, এই পদক্ষেপের সঙ্গে ভাগবতের নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে চলা প্রতিবাদের সরাসরি কোনও যোগসূত্রেরও প্রকাশ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বেশ কয়েকটি নাগরিক অধিকার সংগঠন ভাগবতের অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে। তাদের অভিযোগ, আরএসএস একটি ‘বর্জনমূলক সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী’ মতাদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আরএসএসের শতবর্ষ উদযাপনের বছরেই আন্তর্জাতিক সফরে বেরিয়েছেন মোহন ভাগবত। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ব্রিটেন—এই তিন দেশ নিয়ে তাঁর এই সফর। বিদেশে বিভিন্ন সংগঠনের আমন্ত্রণে এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

  • Nepal-Tibet Flash Flood: নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ হড়পা বানে মৃত্যু বেড়ে ৪৬৯, এখনও নিখোঁজ ২৯০ ভারতীয় সহ ১,৪৬৮! নতুন বিপদ ‘ব্যারিয়ার লেক’

    Nepal-Tibet Flash Flood: নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ হড়পা বানে মৃত্যু বেড়ে ৪৬৯, এখনও নিখোঁজ ২৯০ ভারতীয় সহ ১,৪৬৮! নতুন বিপদ ‘ব্যারিয়ার লেক’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল ও তিব্বত। হিমবাহ ধসের পর বরফ-পাথরের বিশাল ধস এবং জলস্রোতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এখনও পর্যন্ত ৪৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুই দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও ১,৪৬৮ জন নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে ভোতে কোশি নদীর উৎসের কাছে তৈরি হওয়া একটি নতুন ‘ব্যারিয়ার লেক’। সেটি ভেঙে গেলে ফের ভয়াবহ বন্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নেপাল পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, হেলিকপ্টারে ৫০ জন বিদেশি-সহ ৭৯৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। স্থলপথে আরও ৭৯৬ জনকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নেপালে ৯১০ জন এবং তিব্বতে ৫৫৮ জনের এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি।

    ২৯০ ভারতীয় এখনও নিখোঁজ

    বন্যার জেরে নেপালে ২৯০ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। তাঁদের মধ্যে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী এবং বিভিন্ন রাজ্য থেকে যাওয়া পর্যটকরাও রয়েছেন। ভারত ইতিমধ্যেই ৮৪ জন নাগরিককে উদ্ধার করেছে। তাঁদের মধ্যে ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৬৩ জন কর্মী এবং তামিলনাড়ুর ২১ জন রয়েছেন। পাশাপাশি তিব্বতের দিকে আটকে থাকা প্রায় ২০০ ভারতীয়ও ভারতের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, নেপাল সরকার, বিভিন্ন মন্ত্রক, রাজ্য সরকার, পর্যটন সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিখোঁজ ভারতীয়দের সন্ধানে জরুরি পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তার জন্য ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুমও চালু করা হয়েছে।

    উদ্ধার ১১ ভারতীয় পর্যটক

    নেপালের রসুয়া জেলা থেকে ২৭ জন বিদেশি পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ১১ জন ভারতীয়। এছাড়া চার জন দক্ষিণ কোরীয়, দুই জন ইতালীয় এবং দুই জন মার্কিন নাগরিক ছিলেন। নেপাল আর্মির হেলিকপ্টারে তাঁদের কাঠমান্ডুতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বন্যার কারণে দিল্লি-কাঠমান্ডু বাস পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

    নতুন ব্যারিয়ার লেক নিয়ে বড় আশঙ্কা

    উদ্ধারকাজ চলার মধ্যেই নতুন বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভোতে কোশি নদী ব্যবস্থার উৎসের কাছে তৈরি হয়েছে একটি প্রাকৃতিক ব্যারিয়ার লেক। চিনা কর্তৃপক্ষের অনুমান, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সেখানে প্রায় ২০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমেছিল। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লক্ষ ঘনমিটার জল সেখানে জমতে পারে। প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে ফের প্রবল জলস্রোত নেমে আসতে পারে। নেপালের জল ও আবহাওয়া দফতর ভোতে কোশি এবং ত্রিশুলি নদীর তীরবর্তী মানুষকে সতর্ক করে নদীর কাছ থেকে দূরে নিরাপদ জায়গায় থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

    হিমবাহ ধসেই বিপর্যয়, ভূমিকম্প নয়

    প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প বলে মনে করা হলেও নেপালি কর্তৃপক্ষ এবং মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থার সংশোধিত বিশ্লেষণে জানা গিয়েছে, ভূমিকম্প নয়, হিমবাহ ধস এবং বরফ-পাথরের ধসই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। হিমবাহ ধসের পর লহেন্দে নদীর গতিপথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেই প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে বিপুল জল, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ ভোতে কোশি এবং ত্রিশুলি নদী ব্যবস্থার দিকে নেমে আসে।

    ধ্বংসস্তূপে চাপা রাস্তা, সেতু, বিদ্যুৎ প্রকল্প

    বন্যায় নেপালের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেত্রাবতী থেকে রাসুওয়াগাধি পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার রাস্তার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু কংক্রিট ও ঝুলন্ত সেতু ভেসে গিয়েছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩৫টি মোটরযোগ্য সেতু, ৪৫টি ঝুলন্ত সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ত্রিশুলি ও দেবীঘাট-সহ একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতির মুখে পড়েছে।

    এদিকে হাসপাতাল, উদ্ধারকেন্দ্র এবং নদীর তীরে নিখোঁজ পরিজনদের খুঁজছেন অসংখ্য পরিবার। বহু এলাকায় এখনও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। নেপাল আর্মি, পুলিশ, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং হেলিকপ্টার ও ড্রোনের সাহায্যে উদ্ধার অভিযান চলছে। ধ্বংসের পূর্ণ চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়। তবে শত শত পরিবার এখনও প্রিয়জনের খবরের অপেক্ষায়, আর নতুন ব্যারিয়ার লেকের আশঙ্কায় বিপর্যয় আরও ভয়াবহ আকার নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

  • Nepal Flash Floods: ‘বোমা বিস্ফোরণের মতো’—২,০০০ ফুট চওড়া হিমবাহ ভেঙেই নেপালে ভয়াবহ বন্যা! কী অনুমান বিশেষজ্ঞদের?

    Nepal Flash Floods: ‘বোমা বিস্ফোরণের মতো’—২,০০০ ফুট চওড়া হিমবাহ ভেঙেই নেপালে ভয়াবহ বন্যা! কী অনুমান বিশেষজ্ঞদের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিমালয়ের প্রায় ১৭,০০০ ফুট উচ্চতা থেকে বিশাল একটি হিমবাহের অংশ ভেঙে পড়ার ফলেই নেপালের হিমালয়-সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা (Nepal Flash Floods) হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বুধবারের এই বিপর্যয়ে নেপাল ও তিব্বতের বিস্তীর্ণ এলাকায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং শতাধিক মানুষ এখনও নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। নেপাল ও তিব্বতে এই ভয়াবহ বন্যায় ১৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ১,৫০০ জন এখনও নিখোঁজ। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, প্রায় ৩০০ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে খবর পাওয়া যায়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন ভারতীয়কে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে।

    হিমবাহ ধসেই ভয়াবহ বন্যা!

    বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এটি একটি ‘আইস অ্যাভাল্যাঞ্চ’ বা হিমবাহ ধসের ঘটনা হতে পারে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গিয়েছে, প্রায় ২,০০০ ফুট চওড়া হিমবাহের একটি অংশ প্রায় পরিষ্কারভাবে মূল হিমবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ১৭,০০০ ফুট উচ্চতা থেকে ভেঙে পড়া বরফের সেই বিশাল অংশ প্রায় ৪,০০০ ফুট নিচে উপত্যকার তলায় আছড়ে পড়ে। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ক্যালগারির ভূতত্ত্ববিদ ড্যানিয়েল শুগার স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, হিমবাহের ওই অংশটি প্রায় এক কিলোমিটার উল্লম্ব দূরত্ব অতিক্রম করে উপত্যকায় পড়ে। প্রচণ্ড অভিঘাতে বরফ কার্যত গুঁড়িয়ে গিয়ে জল, বরফ ও পাথরের ধ্বংসাবশেষের ভয়াবহ স্রোত তৈরি করে। শুগারের কথায়, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে “যেন একটি বোমা বিস্ফোরিত হয়েছে”—ভেঙে যাওয়া হিমবাহের বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে চারদিকে।

    কীভাবে বরফের ধস ভয়াবহ বন্যায় পরিণত হল?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এত উচ্চতা থেকে বিশাল বরফের খণ্ড নীচে পড়ায় প্রচুর সম্ভাব্য শক্তি তৈরি হয়। ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ সাইমন কুকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রচণ্ড আঘাতে বরফ গুঁড়িয়ে গিয়ে দ্রুতগতির জল ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে পরিণত হতে পারে। এই স্রোত উপত্যকা দিয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে লহেন্দে খোলা বা নদীতে গিয়ে পড়ে। পরে তা ভোটেকোশি নদী হয়ে নেপাল-চিন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। আচমকা নেমে আসা সেই স্রোতে বসতি, রাস্তা, সেতু এবং জলবিদ্যুৎ পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসনের তরফে আরও একটি বন্যার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে। কারণ, লহেন্দে খোলার উজানে এখনও একটি বড় বাধা আটকে রয়েছে বলে জানা গেছে।

    ভূমিকম্প নাকি হিমবাহ ধস?

    বিপর্যয়ের সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। বুধবার ভোরে ওই অঞ্চলে ৪.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল। ফলে ভূমিকম্পের সঙ্গে হিমবাহ ধসের কোনও সম্পর্ক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আবার জলবায়ু ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এটি বরফ-পাথরের ধস -এর ফলও হতে পারে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে কোনও একটি কারণকে চূড়ান্তভাবে দায়ী করা ঠিক হবে না।

    উষ্ণ হচ্ছে হিমালয়, বাড়ছে বিপদের আশঙ্কা

    এই বিপর্যয়ের সঙ্গে হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তিত জলবায়ুর সম্পর্ক নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক পর্বত উন্নয়ন সংস্থা আইসিআইএমওডি (ICIMOD)-এর বিশেষজ্ঞদের মতে, গত ১৪ মাসে লহেন্দে খোলা এলাকায় একই ধরনের ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। গত বছরের একটি আকস্মিক বন্যার সঙ্গে তিব্বতের একটি হিমবাহ-হ্রদের জল উপচে পড়ার সম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিশেষজ্ঞ শশ্বত সান্যালের মতে, নেপালের দিকের একটি হিমবাহ থেকে বরফ-পাথরের ধস নেমে নদীর গতিপথ আটকে দেওয়ার পর আচমকা সেই বাধা ভেঙে গিয়ে ভয়াবহ স্রোত তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তাঁর মতে, দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা হিমালয়ে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহ দ্রুত বরফ হারাচ্ছে। এর ফলে বন্যা, ভূমিধস, হিমবাহ-সংক্রান্ত বিপর্যয় এবং আকস্মিক জলস্রোতের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে।

    এখনও কতজন ভারতীয় নিখোঁজ?

    বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন, বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালে আটকে রয়েছেন তামিলনাড়ুর ৩৭ জন, পশ্চিমবঙ্গের ৩২ জন, কেরলের ৩৩ জন এবং বিভিন্ন রাজ্যের ৬১ জন বাসিন্দা। ত্রিশূলী নদীর উপর নির্মীয়মাণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করা ৭৩ জন ভারতীয়ও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন। অন্য দিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, এই রাজ্যের ৩২ জন বাসিন্দার সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা যায়নি। তাঁদের নাম-ঠিকানাও প্রকাশ করেছে রাজ্য প্রশাসন। রাজ্য প্রশাসনের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেট এলাকার ছ’জন বাসিন্দার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকার তিন বাসিন্দার এখনও খোঁজ নেই। কলকাতার চার বাসিন্দাও এই ৩২ জনের তালিকায় রয়েছেন।

    উদ্ধারকাজে বড় বাধা

    ভয়াবহ বন্যায় নেপাল ও তিব্বতে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আরও শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটক, শ্রমিক এবং তীর্থযাত্রীও রয়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলি ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর চেষ্টা চালালেও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, বিপুল পরিমাণ পলি ও ধ্বংসাবশেষ এবং এখনও অস্থিতিশীল পাহাড়ি পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। হিমালয়ের দুর্গম উপত্যকায় বসবাসকারী মানুষের কাছে এই বিপর্যয় ফের প্রমাণ করে দিল—পাহাড়ের অনেক উপরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে নীচের জনপদে জল, বরফ ও পাথরের ভয়াবহ মৃত্যুফাঁদ তৈরি করতে পারে।

  • Mohan Bhagwat in US: ‘খোলা আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান ও মতবিনিময়ের’ জন্যই ম্যাডিসন স্কোয়ারে সমাবেশ, অনুষ্ঠানকে স্বাগত মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেনের

    Mohan Bhagwat in US: ‘খোলা আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান ও মতবিনিময়ের’ জন্যই ম্যাডিসন স্কোয়ারে সমাবেশ, অনুষ্ঠানকে স্বাগত মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে আরএসএস-এর সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতকে (Mohan Bhagwat in US) নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)। বুধবার তারা জানায়, অনুষ্ঠানটি ‘খোলা আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান ও মতবিনিময়ের’ ভাবনায় আয়োজন করা হয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, আরএসএস সম্পর্কে জানতে আগ্রহী যে কেউ এই আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সরসংঘচালক ড. মোহন ভাগবতের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠান নিয়ে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির বিরোধিতার কড়া জবাব দিলেন মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেন। আগামী ২৯ অগাস্ট ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে আয়োজিত হতে চলা এই অনুষ্ঠানের বিরোধিতার জন্য মামদানি ও তাঁর সমর্থকদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপির প্রতি বিরোধিতাকেই দায়ী করেছেন তিনি।

    অনুষ্ঠানটি ভারতীয় ভাবধারার প্রতিফলন

    প্রচার বিভাগের প্রধান তথা প্রবীণ নেতা সুনীল আম্বেকর এক বিবৃতিতে বলেন, নিউইয়র্কের ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’ একটি আন্তঃধর্মীয় সমাবেশ। সেখানে সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মের মানুষের সামনে আরএসএস-এর ভাবনা ও দর্শন তুলে ধরবেন। আম্বেকরের কথায়, “খোলা আলোচনা ও পারস্পরিক সম্মানের পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান ভারতীয় ভাবধারার প্রতিফলন, যা মূলত অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সকলকে স্বাগত জানায়।” তিনি আরও বলেন, ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নানা সম্প্রদায়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে RSS যে সংলাপ ও যোগাযোগের মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং অভিন্ন উদ্দেশ্য গড়ে তোলার চেষ্টা করে আসছে, এই উদ্যোগও সেই ধারারই অংশ। আরএসএস-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “সংগঠনের দর্শন ও ভাবনা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী যে কেউ এই ধরনের উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিতে পারেন।”

    ভাগবতের অনুষ্ঠানের মূল ভাবনাকে সমর্থন

    ২৬ অগাস্ট ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে মিলবেন লেখেন, মোহন ভাগবতকে নিয়ে আয়োজিত ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানটির বিরোধিতা করছেন মামদানি এবং তাঁর মতো সমাজতন্ত্রীরা, কারণ তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপির বিরোধী। তাঁর দাবি, বিষয়টি “বেশ স্পষ্ট”। অনুষ্ঠানের বিরোধীদের সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শ নিয়েও কটাক্ষ করেন মিলবেন। তাঁর বক্তব্য, ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন “সমাজতান্ত্রিক স্লোগানের জবাব দেয় না, তারা পুঁজিবাদের নিয়মে চলে”। তাই তাঁর মতে, অনুষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়েই হবে। মামদানি ও তাঁর “সমাজতন্ত্রীদের দল”-কে উদ্দেশ করে মিলবেন বলেন, তাঁরা যদি এই অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেন, তাহলে পুঁজিবাদী পদ্ধতিতে অর্থ সংগ্রহ করে নিজেরাই ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন ভাড়া নিয়ে পাল্টা সমাবেশ করতে পারেন। ভাগবতের অনুষ্ঠানের মূল ভাবনাকেও সমর্থন করেছেন মিলবেন। অনুষ্ঠানের ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস’ বা ‘সর্বজনীন একতা’ (Universal Oneness) ভাবনাটি তাঁর পছন্দ হয়েছে বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে ভারতকে ঘিরে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে অর্থবহ আলোচনা অনুষ্ঠানের অংশ হোক, এমন আশাও প্রকাশ করেন মার্কিন এই গায়িকা।

    ২৯ অগাস্ট ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে ভাগবতের অনুষ্ঠান

    ড. মোহন ভাগবত আগামী ২৯ অগাস্ট ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে প্রায় ৫,০০০ ভারতীয়-আমেরিকানের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। আরএসএস (RSS)-এর শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে তাঁর আন্তর্জাতিক সফরের অংশ হিসেবেই এই অনুষ্ঠান। ২৫ অগাস্ট থেকে শুরু হওয়া তাঁর ১৭ দিনের সফরে আমেরিকা, কানাডা ও ইউকে রয়েছে। ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’ (Universal Oneness Celebration) নামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ ফোরাম (American Hindus for Engagement and Dialogue Forum)। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ভারতীয় ঐতিহ্য, ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং আন্তঃধর্মীয় সংলাপকে সামনে আনা। অনুষ্ঠানে হিন্দু-আমেরিকান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন প্রতিনিধি, মন্দির, যোগ সংগঠন এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের উপস্থিত থাকার কথা। রাখিবন্ধন উপলক্ষেও অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং ঐক্য, নাগরিক দায়িত্ব ও বিশ্বসম্প্রীতি নিয়ে বক্তব্যের আয়োজন করা হয়েছে।

    সর্বজনীন একতার পথে যাত্রা

    ভাগবতের এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক চলছে। ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’, ‘ইন্ডিয়ান আমেরিকান মুসলিম কাউন্সিল’ এবং ‘ইন্টারফেইথ সেন্টার অফ নিউ ইয়র্ক’-সহ বেশ কয়েকটি আন্তঃধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সংগঠন ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধানের অংশগ্রহণের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, তিনি এই সমাবেশকে সমর্থন করেন না। তবে একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কোনও বেসরকারি অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করে তা বাতিল করার আইনি ক্ষমতা নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের রয়েছে কি না। আরএসএস-এর ভাবনাকে তিনি “বর্জনমূলক” বলে মন্তব্য করে বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের ধারণার সঙ্গে তার পার্থক্যের কথাও তুলে ধরেছেন। তবে, আমেরিকান হিন্দুজ ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ ফোরামের তরফে ইতিমধ্যেই ড. মোহন ভাগবতকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয়েছে, “সর্বজনীন একতার পথে যাত্রা শুরু হচ্ছে।” ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানের পর নিউইয়র্কে আরও দু’টি ব্যক্তিগত কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ভাগবতের। এরপর তাঁর আন্তর্জাতিক সফরের পরবর্তী পর্ব শুরু হবে।

     

  • Nepal Flash Floods: “১৩৩ নয়, ৩০০-রও বেশি ভারতীয় নিখোঁজ”, বললেন নেপালের মন্ত্রী

    Nepal Flash Floods: “১৩৩ নয়, ৩০০-রও বেশি ভারতীয় নিখোঁজ”, বললেন নেপালের মন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে (Nepal Flash Floods) মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৭৮। বুধবারের এই বিপর্যয়ের পর এখনও নিখোঁজ প্রায় ৮০০ জন। তাঁদের মধ্যে ৩০০-রও বেশি ভারতীয় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল (Shishir Khanal)। ভয়াবহ বন্যায় হিমালয়ের পাদদেশের এই দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

    নেপালের বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য (Nepal Flash Floods)

    নেপালের বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, বন্যায় বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। এখনও বহু মানুষের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সংবাদ সংস্থাকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে এবং এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। বিপর্যয়ের সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি কতটা, তা নির্ধারণের চেষ্টা করছি।”

    ভারত ও চিনের মাঝখানে অবস্থিত স্থলবেষ্টিত নেপাল হড়পা বান-প্রবণ দেশ। প্রতি বছর বহু ভারতীয় পর্যটক ও তীর্থযাত্রী নেপালে যান। এর আগে জানা গিয়েছিল, নিখোঁজ ৭৫০-রও বেশি মানুষের মধ্যে অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার অন্তত ৫০ জন তীর্থযাত্রীও ছিলেন।

    পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে নেপালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। বিপদে পড়া ভারতীয়দের সাহায্যের জন্য দু’টি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে—৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭ এবং ৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০।

    নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিপর্যয়ের এই সময়ে কাঠমান্ডুকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

    ইতিমধ্যেই নেপালে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে ভারত। ভারতের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নেপালের বিদেশমন্ত্রী বলেন, “মাননীয় বিদেশমন্ত্রী এবং ভারত সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আমাদের বন্যা-ত্রাণের কাজে সাহায্যের জন্য ভারত যে উদার মানবিক সাহায্য এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী পাঠিয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Nepal Flash Floods)। এই কঠিন সময়ে ভারতের দ্রুত পদক্ষেপ দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্ব এবং পারস্পরিক সংহতির শক্তি তুলে ধরেছে।”

    ভারতের ৩ রাজ্যে সতর্কতা

    এদিকে নেপালের পরিস্থিতির জেরে ভারতের উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তিনটি রাজ্যেরই সঙ্গে নেপালের সীমান্ত রয়েছে। পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখছে প্রশাসন। আগামী ২৪ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানানো হয়েছে।

    বন্যার আশঙ্কাপ্রবণ এলাকাগুলিতে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দল মোতায়েন করা হয়েছে। নেপাল থেকে ভারতে প্রবাহিত নদীগুলির জলস্তরের উপরও কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

    জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট জ্ঞানেশ্বর সিংহ সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “কেন্দ্রীয় জল কমিশন গণ্ডক নদীতে জলস্তর বৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পর্কে পরামর্শ জারি করেছিল। সেই কারণে সকাল থেকেই আমরা নিয়মিত বিরতিতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং নদীগুলির জলস্তরের উপর বিশেষ নজর রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। রাজ্য সরকারগুলিও সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে।”

    নেপালের পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। নিখোঁজদের সন্ধানে (Shishir Khanal) উদ্ধারকাজ জোরদার করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্যগুলিতেও সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জোরদার করা হয়েছে প্রস্তুতি (Nepal Flash Floods)।

     

  • Nepal Flash Floods: ভোটে কোশীর কাছেই নিখোঁজ কলকাতার পর্যটক দল, নেপালের হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যবাসীকে নিয়ে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী

    Nepal Flash Floods: ভোটে কোশীর কাছেই নিখোঁজ কলকাতার পর্যটক দল, নেপালের হড়পা বানে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যবাসীকে নিয়ে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের হড়পা বানে (Nepal Flash Flood) ভয়ঙ্কর বিপর্যয়। উদ্বেগ বাড়ছে বাংলায়। নিখোঁজ ১০৫ ভারতীয়ের মধ্যে ৭১ জনই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। তাঁদের মধ্যে কলকাতার একটি ট্রাভেল ক্লাবের সঙ্গে কৈলাস-মানসরোবর যাত্রায় (Kailash Mansarovar yatra) যাওয়া ৩০ পর্যটক রয়েছেন। খোঁজ নেই ওই দলের দুই ম্যানেজারেরও। তাঁদের সঙ্গে শেষ বার যোগাযোগ হয়েছিল বুধবার সকাল ৮টা নাগাদ। নেপালের এই হড়পা বান ও বিপর্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একইসঙ্গে দিয়েছেন পাশে থাকার বার্তা।

    রাজ্যবাসীর পাশে থাকার বার্তা শুভেন্দুর

    নেপালে বিপর্যয়ের খবর পেয়েই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লেখেন, “নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ফলে ঘটে যাওয়া এই বিপর্যয়কর মর্মান্তিক ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাঁরা তাঁদের প্রিয়জনদের হারিয়েছেন, সেই সমস্ত শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাই। নেপালের মানুষের পাশে আমরা আছি।” কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নিতে যাওয়া তীর্থযাত্রীদের অধিকাংশই নিখোঁজ। ১০০-রও বেশি ভারতীয় পর্যটক নিখোঁজ। এই খবর শুনেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্য সরকার প্রতিবেশী নেপালের পাশে রয়েছে। তিনি লেখেন, “১০০-রও বেশি ভারতীয় পর্যটক তথা কৈলাস মানসরোবর যাত্রায় যাওয়া তীর্থযাত্রীদের নিখোঁজ হওয়ার খবরে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে যারা নেপাল ভ্রমণে গিয়েছেন, সেই সকল তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের অথবা কর্মসূত্রে যাওয়া ব্যবসায়ী ও কর্মীরা যারা এই দুর্যোগের দিনে বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন, সেই সকল ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।”

    মানস সরোবর যাত্রায় কলকাতার দল

    ‘চলো যাই’ নামে কলকাতার ওই ট্রাভেল ক্লাবের তরফে জানা গিয়েছে, ৩০ জনের দলে এক আমেরিকা-প্রবাসী ভারতীয়ও রয়েছেন। দলে আছেন কলকাতার কসবার কয়েক জন বাসিন্দা। এছাড়া, চন্দননগর এবং বারাসতের কয়েক জন পর্যটকও নেপালে আটকে পড়েছেন বলে খবর। তবে তাঁদের বিস্তারিত পরিচয় এখনও মেলেনি। পর্যটকদের দলটি ২১ আগস্ট কলকাতা থেকে রওনা হয়েছিল। ২২ আগস্ট পৌঁছয় নেপালে। মঙ্গলবার কাঠমান্ডুতে থাকার পর বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্ত পেরিয়ে মানসরোবরের দিকে যাওয়ার কথা ছিল। সকাল পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। কয়েক জন পর্যটক সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ও বিভিন্ন ভিডিও-ও পোস্ট করেছিলেন। তার পর থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

    পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

    দলের দুই ম্যানেজার জয়ন্ত সান্যাল ও নৃপেন সরকারের ফোনে রোমিং পরিষেবা ছিল। তবু তাঁদের ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ হড়পা বানের জেরে নেপালের ভোটে কোশী (Bhote Koshi River) নদীর জল হঠাৎ বেড়ে যায়। সেকেন্ডের মধ্যে ধুলিস্যাৎ হয় একাধিক গ্রাম। যে এলাকায় বিপর্যয় ঘটেছে গতকাল, পর্যটকদের রুটও সেই অঞ্চলের মধ্যেই পড়ে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পর্যটকদের খোঁজে নেপালের সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল সংস্থার তরফে হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি। বিপর্যয়ের পরে ওই এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কও কার্যত অচল। ফলে পর্যটকেরা কোথাও নিরাপদ জায়গায় আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

    বিভিন্ন এলাকায় আটকে পর্যটকরা

    হুগলির আরামবাগ থেকে যাওয়া আরও ৬৫ জন পর্যটক নেপালের চেতনপার্ক এলাকায় আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের পরিবারের সঙ্গে অবশ্য যোগাযোগ রয়েছে। বিপর্যয়স্থল থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে থাকায় সরাসরি হড়পা বানের কবলে পড়েননি এই পর্যটকেরা। তবে নেপালের বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় পর্যটকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। নেপালে ছবির শুটিং করতে গিয়ে আটকে পড়েছেন অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রীও। তাঁদের সঙ্গে কোনও রকম যোগাযোগ করা যায়নি। ছেলে তমোঘ্ন জানিয়েছেন, তাঁরা বিপর্যস্ত এলাকার কাছাকাছি নেই। মূল সমস্যা যোগাযোগ এবং বিমান পরিষেবায়। তাঁদের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে আপাতত আশঙ্কার কারণ নেই।

    রাজ্য সরকারের হেল্পলাইন নম্বর

    পশ্চিমবঙ্গ সরকার কাঠমাণ্ডুতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সমন্বয় রেখে কাজ করছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাঁরা আটকে পড়েছেন, তাঁদের সকলের নিরাপত্তা, দ্রুত উদ্ধার এবং সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গের ঠিক কতজন ব্যক্তি নিখোঁজ বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তা বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। আটকে পড়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং দ্রুত সহায়তা ও উদ্ধারকাজ নিশ্চিত করতে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের তরফে জরুরি হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে।

    ভারতীয় দূতাবাস, নেপাল (ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ) হল:

    +৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭ এবং +৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০

    ভবানী ভবনে পৃথক পুলিশ কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। এই নম্বরগুলি হল:

    ০৩৩২৪৭৯৩৩১১ এবং ৯১৪৭৮৯০১৮১।

    নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রবল বৃষ্টি এবং ভোটে কোশী নদীর জলস্তর আচমকা বেড়ে যাওয়ার জেরে এই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলের তোড়ে সেতু, গ্রাম এবং একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু মানুষ নিখোঁজ হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় আটকে পড়েছেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

  • Nepal Floods: নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ধসে মৃত ১৬০, পাশে থাকার আশ্বাস মোদির, ১০ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠাল ভারত

    Nepal Floods: নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ধসে মৃত ১৬০, পাশে থাকার আশ্বাস মোদির, ১০ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৬০। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন কয়েকশো মানুষ। এর (Nepal Floods) মধ্যে রয়েছেন অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিকও। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপালের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে ভারত (PM Modi)। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে প্রয়োজনীয় সব ধরনের মানবিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইতিমধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনার একটি সি-১৩০ সুপার হারকিউলিস (C-130 Super Hercules) বিমানে করে নেপালে ১০ টন ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী পাঠানো হয়েছে।

    নেপালকে সমবেদনা ভারতের (Nepal Floods)

    ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তাঁর সমবেদনা এবং সহায়তার প্রস্তাবের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই সংকটের সময়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির “উষ্ণ সংহতির বার্তা” এবং “উদার সহায়তার প্রস্তাবে”র জন্য কাঠমান্ডু গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। বলেন্দ্র বলেন, ‘‘এই সংহতির প্রকাশ আমাদের দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন। এই সম্পর্ককে আমরা গভীরভাবে মূল্য দিই।’’

    ‘‘নেপালের বোন ও ভাইদের পাশে ভারত’’

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং নেপালের মানুষের পাশে ভারতের থাকার কথা জানান। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে ভারত সব ধরনের সম্ভাব্য মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও আশ্বাস দেন তিনি। মোদি বলেন, ‘‘এই কঠিন সময়ে ভারতের মানুষ নেপালের তাঁদের বোন ও ভাইদের পাশে রয়েছে।’’ তিনি আরও জানান, ভারত নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট দল উদ্ধার ও ত্রাণকাজ নিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছে বলেও জানান তিনি।

    ভোটে কোশি নদীর জলস্ফীতিতে ভয়াবহ বন্যা

    বুধবার নেপালের মধ্যাঞ্চলে আচমকাই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। ভোটে কোশি নদীর জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ফলে রসুয়া ও ধাদিং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অঞ্চলগুলি তিব্বত সীমান্তের কাছে অবস্থিত। পাশাপাশি নুওয়াকোট জেলায়ও বন্যার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

    প্রবল জলের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু বসতি। একাধিক সেতু ভেসে গিয়েছে এবং অন্তত এক ডজন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যকলাপ ব্যাহত হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় বন্যার পাশাপাশি ভূমিধস পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গত এলাকায় উদ্ধার এবং ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছনোও কঠিন হয়ে উঠেছে।

    নেপাল-চিন সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। নেপালি পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১৫৭টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে, তিব্বতের সীমান্তবর্তী একটি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনায় আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম। সব (Nepal Floods) মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১৬০-এ পৌঁছেছে।

    তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, এখনও কয়েকশো মানুষ নিখোঁজ। উদ্ধারকারী বিভিন্ন দল দুর্গত এলাকাগুলিতে তল্লাশি চালাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ এবং কাদার নীচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে (PM Modi)।

    নিখোঁজ ১৩৩ ভারতীয় নাগরিক

    নেপালের এই ভয়াল বন্যায় অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে ভারতীয় প্রশাসনও পরিস্থিতির উপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। নিখোঁজ ভারতীয়দের সন্ধান এবং তাঁদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।

    ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং বিদেশমন্ত্রক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে উদ্ধার ও দেশে ফেরাতে জরুরি বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করছে। নেপালের পাশাপাশি চিনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, বিশেষ করে রসুয়াগঢ়ি সীমান্ত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে (Nepal Floods)।

    ১০ টন ত্রাণ সামগ্রী পাঠাল ভারত

    দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ করেছে ভারত। ভারতীয় বায়ুসেনার বিমানে করে প্রায় ১০ টন ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী নেপালে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা সরঞ্জাম, মেডিক্যাল কিট এবং সৌরচালিত বাতিও রয়েছে। দুর্গত এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় সৌরবাতি উদ্ধারকাজে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এছাড়াও একটি সি-১৭ (C-17) সামরিক পরিবহণ বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণ ও উদ্ধার সামগ্রী দ্রুত নেপালে পাঠানো হতে পারে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (National Disaster Response Force) এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেপালে নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকদের বিষয়ে পরিস্থিতির উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে উদ্ধারকারী দল ও বিশেষ সরঞ্জাম দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে।

    সীমান্তজুড়ে যৌথ উদ্ধার অভিযান

    রসুয়াগঢ়ি সীমান্ত অঞ্চল নেপাল ও চিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হওয়ায় সেখানে বন্যা ও ভূমিধসের প্রভাব বিশেষভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ওই এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালানোর জন্য ভারত নেপাল ও চিন—দুই দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গেই সমন্বয় রেখে চলেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় একাধিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় দ্রুত পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে স্থলপথের পাশাপাশি বিমানপথে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন

    এই পরিস্থিতিতে ভারতের দ্রুত সাহায্য শুধু উদ্ধার ও ত্রাণকাজেই নয়, দুই প্রতিবেশী দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নেপালের দুর্যোগের সময়ে ভারতের এই সহায়তা দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন বলেই মনে করছে কাঠমান্ডু (নেপালের রাজধানী)। নেপালে উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। নিখোঁজদের সন্ধান, আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্গতদের (PM Modi) নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য (Nepal Floods)। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা থাকায় উদ্ধারকারী দলগুলি ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকদের সন্ধান (PM Modi) এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ (Nepal Floods)।

     

  • Nepal Floods: নেপালে হড়পা বানে নিখোঁজ শতাধিক ভারতীয়-সহ ৩৮৪ পর্যটক

    Nepal Floods: নেপালে হড়পা বানে নিখোঁজ শতাধিক ভারতীয়-সহ ৩৮৪ পর্যটক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানে (Nepal Floods) অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ। নিখোঁজদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি বলে জানিয়েছে নেপাল পর্যটন বোর্ড। নিখোঁজ হয়ে যাওয়া বিদেশিদের তালিকায় রয়েছেন ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটক এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয়। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে ভোতে কোশি নদীর জল আচমকা বেড়ে গিয়ে রাসুয়া, ধাদিং এবং কাঠমান্ডুর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত নুয়াকোট জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াল বন্যার সৃষ্টি হয়। প্রবল স্রোতে নদীর আশপাশের (Indians Missing) বহু বসতি, বাড়িঘর, সড়ক ও সেতু ভেসে গিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, নদীতীরবর্তী একাধিক এলাকায় যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বন্যায় নেপালে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন প্রশাসনের কর্তারা। নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতীয়দের পাশাপাশি রয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, ব্রিটেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসের নাগরিকও। ফলে এই বিপর্যয়ের প্রভাব শুধু নেপালের পর্যটন ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, একাধিক দেশের নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

    নদীর জল বাড়তেই তছনছ বিস্তীর্ণ এলাকা (Nepal Floods)

    স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোতে কোশি নদীর জলস্তর আচমকা বেড়ে যাওয়ার পর প্রবল স্রোত আছড়ে পড়ে রাসুয়া ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়। নদী তীরবর্তী বসতিগুলির বহু বাড়িঘর মুহূর্তের মধ্যে জলের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহু যানবাহন স্রোতে ভেসে যায়, ভেঙে পড়ে একটি আস্ত ধাতব সেতু। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, নদীর দু’পাশে থাকা গোটা গোটা বসতি বানের জলে তলিয়ে যায়। টেলিভিশন সম্প্রচারে দেখা গিয়েছে, বহু বাড়ি চারদিক থেকে বন্যার জলের মধ্যে আটকে গিয়েছে। কোথাও আবার প্রবল স্রোতে যানবাহন ভেসে যাচ্ছে, কোথাও ভেঙে পড়ছে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ (Indians Missing) সেতু। রাসুয়া জেলার প্রশাসক নরেন্দ্র পারিয়ার পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে নদীর আশপাশে বসবাসকারী মানুষকে দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু এলাকায় সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এখানে ব্যাপক প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।” তাঁর এই সতর্কবার্তার পর নদীতীরবর্তী এলাকাগুলিতে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে (Nepal Floods)।

    আত্মীয় নিখোঁজ, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আতঙ্ক

    বন্যার ভয়াবহতা বোঝাতে গিয়ে রাসুয়ার এক স্বাস্থ্যকর্মী তুলা বাহাদুর বি কে জানিয়েছেন, নদীর পাশের বহু বসতি সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, “যেদিকেই তাকাই, সর্বত্র ধ্বংসের চিত্র দেখতে পাচ্ছি। নদীর পাশের বসতিগুলি সম্পূর্ণ ভেসে গিয়েছে। আমার নিজের পাঁচজন আত্মীয়ও নিখোঁজ।” এই পরিস্থিতিতে নিখোঁজ পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্ধানে উদ্বেগের সঙ্গে অপেক্ষা করছেন তাঁদের পরিবারগুলি। বিশেষ করে ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটক এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয়ের নিখোঁজ হওয়ার খবর সামনে আসার পর তাঁদের পরিবারের মধ্যে উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে।

    দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকাজে বাধা

    নেপালের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধারকাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একদিকে যেমন জলস্তর ক্রমেই বাড়ছে, অন্যদিকে দুর্গম পাহাড়ি পথের কারণে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছতে পারছে না। নেপালের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট জানিয়েছেন, শিয়াপ্রু বেসি এবং তিমুরে এলাকায় বন্যার জল না কমা পর্যন্ত উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার অবতরণ করানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আকাশপথে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানোর ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে (Nepal Floods)। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আকস্মিকভাবে এতটা বন্যা কেন হল, তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই একই নদীতে গত বছরও ভয়াবহ হড়পা বান হয়েছিল। পরবর্তী তদন্তে সেই বন্যার সঙ্গে একটি হিমবাহ-হ্রদের জল বেরিয়ে যাওয়ার যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছিল। এবারের ঘটনার ক্ষেত্রেও প্রাকৃতিক কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    তিব্বতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

    নেপালের পাশাপাশি প্রতিবেশী তিব্বতেও বন্যা ও ভূমিধসের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। নেপাল সীমান্তের কাছে গিরং এলাকায় প্রবল বন্যার সঙ্গে কাদামাটির ধস নামে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সেখানে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করেছেন (Indians Missing)। কয়েকজনের নিখোঁজ হওয়ার খবরও পাওয়া গিয়েছে। ফলে নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনও সামনে আসেনি।

    ভারতীয় পর্যটকদের খোঁজে জরুরি সহায়তা

    নিখোঁজদের তালিকায় ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটক এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয় থাকায় তাঁদের পরিবারগুলির জন্য জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা করেছে নেপাল পর্যটন বোর্ড। কোনও পর্যটকের বিষয়ে তথ্য জানতে বা সহায়তা চাইতে সংশ্লিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

    নেপাল পর্যটন বোর্ডের জরুরি সহায়তা নম্বর: ১২৩৪

    পর্যটক সহায়তা নম্বর: ১১৪৪

    পর্যটক পুলিশের নম্বর: ৯৮৫১২৮৯৪৪৫

    নেপাল প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্গমতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকায় এখনও পৌঁছনো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। উদ্ধারকারী দল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ধাপে ধাপে দুর্গত এলাকায় পৌঁছনোর চেষ্টা করছে (Nepal Floods)।

    নিখোঁজ ৩৮৪ জন

    নেপালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন অঞ্চলগুলির মধ্যে রাসুয়া ও তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকাগুলির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ফলে এই বন্যা শুধু স্থানীয় জনজীবনেই আঘাত করেনি, পর্যটন ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। রাস্তা, সেতু এবং অন্যান্য পরিকাঠামোর ক্ষতির কারণে আগামী দিনে উদ্ধার ও ত্রাণকাজের পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে (Indians Missing)। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ নিখোঁজ ৩৮৪ জনকে নিরাপদে খুঁজে বের করা। বিশেষ করে ভারতীয় পর্যটক ও অনাবাসী ভারতীয়দের পরিবারের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন এবং তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়াই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জলস্তর কমার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে (Nepal Floods)।

     

LinkedIn
Share