Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • HinduPACT to USCIRF: ভাগবতের মার্কিন সফরের পক্ষে সওয়াল, আরএসএসকে ঘিরে ইউএসসিআইআরএফ-এর সমালোচনার প্রতিবাদ হিন্দুপ্যাক্ট-এর

    HinduPACT to USCIRF: ভাগবতের মার্কিন সফরের পক্ষে সওয়াল, আরএসএসকে ঘিরে ইউএসসিআইআরএফ-এর সমালোচনার প্রতিবাদ হিন্দুপ্যাক্ট-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতের আসন্ন মার্কিন সফর (Mohan Bhagwat’s US Visit) নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (USCIRF)-এর কয়েকজন সদস্যের প্রকাশ্য আপত্তির তীব্র সমালোচনা করল হিন্দু অধিকারকেন্দ্রিক সংগঠন হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT)। সংগঠনটির দাবি, ইউএসসিআইআরএফ (USCIRF)-এর বক্তব্যে নিরপেক্ষতার অভাব রয়েছে। এই মন্তব্য আরএসএস (RSS) ও ভারতকে ঘিরে একটি ‘একপেশে’ প্রচারের অংশ।

    মার্কিন মুলুকে হিন্দু-বিদ্বেষ নিয়ে কেন বলে না ইউএসসিআইআরএফ

    এক বিবৃতিতে হিন্দু প্যাক্ট -এর (HinduPACT to USCIRF) অভিযোগ, ইউএসসিআইআরএফ -এর চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ এবং কমিশনার জিন মিলসের বক্তব্যে ভারসাম্যের পরিবর্তে আরএসএস-এর বিরুদ্ধে অভিযোগকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু-বিদ্বেষ, মন্দিরে ভাঙচুর এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত সমস্যাগুলির প্রতি একই ধরনের গুরুত্ব দেওয়া হয় না। হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT) আরও দাবি করেছে, আরএসএস-কে ঘিরে ইউএসসিআইআরএফ -এর অবস্থানের সঙ্গে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন (Council on American-Islamic Relations বা CAIR), ইন্ডিয়ান-আমরিকানমুসলি কাউন্সিল (Indian American Muslim Council বা IAMC)এর মতো সংগঠনের অবস্থানের মিল রয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, এই গোষ্ঠীগুলি দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও হিন্দু সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে একপেশে প্রচার চালিয়ে আসছে।

    আরএসএস-এর সামাজিক কাজ

    হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT)-এর বিবৃতিতে আরএসএস-এর সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। হিন্দু প্যাক্টের দাবি, শিক্ষা, ত্রাণ, গ্রামীণ উন্নয়ন, স্বেচ্ছাসেবা এবং সামাজিক সংগঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, শুধুমাত্র রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত অভিযোগের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ-কে বিচার করা উচিত নয়। ইউএসসিআইআরএফ কমিশনার জিন মিলসের আরএসএস সদস্যদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে হিন্দু প্যাক্ট। তাদের দাবি, কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর পদক্ষেপের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রমাণ, প্রক্রিয়াগত ন্যায়বিচার এবং নিরপেক্ষ তদন্ত থাকা জরুরি। তাদের মতে, আরএসএস-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা ‘গিল্ট বাই অ্যসোসিয়েশন’ (guilt by association)-এর সমান।

    কেন হিন্দুদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার

    মোহন ভাগবতের (Mohan Bhagwat’s US Visit) নিউ ইয়র্ক সফরের আগেই বড় অস্বস্তি। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন সেদেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক উপদেষ্টা সংস্থার এক কর্তা। পাশাপাশি ওই সংস্থা ওয়াশিংটনের কাছে আর্জি জানিয়েছেন- যেন আরএসএস নেতাদের কোনও কূটনৈতিক সৌজন্য দেখানো না হয় বা তাঁদের সঙ্গে কোনও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক না করা হয়। এ প্রসঙ্গে হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT) -এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অজয় শাহ বলেন, “ইউএসসিআইআরএফ তার নিরপেক্ষতার দায়িত্বকে ক্ষুণ্ণ করেছে। মোহন ভাগবত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। তাঁর সফরকে অপপ্রচারের মাধ্যমে বিতর্কিত করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি আরও দাবি করেন, আরএসএস দীর্ঘদিন ধরে ত্রাণ, শিক্ষা, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং সামাজিক সংগঠনের ক্ষেত্রে কাজ করেছে। মার্কিন মাটিতে হিন্দু সম্প্রদায়কে হেয় করার জন্য কোনও সরকারি অর্থপুষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী মোদিকেও অসম্মান!

    এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইউএসসিআইআরএফ কমিশনার জিন মিলসের মন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। মিলস জানান, কমিশনের চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আরএসএস-এর সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আরএসএস হল একটি মূল সংগঠন, যার সহযোগী বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে খ্রিস্টান ও মুসলিম-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। পোস্টটিতে উল্লেখ, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সদস্য। এটি ভারতের এমন একটি মূল সংগঠন যার বিভিন্ন উপ-গোষ্ঠী খ্রিস্টান ও মুসলিম-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আর এখন আরএসএস নেতা মোহন ভাগবত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরিকল্পনা করছেন।” এর আগে মার্চ মাসে ‘ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’ তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে ভারতের সমালোচনা করা হয়েছিল এবং আরএসএস ও ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং’ (র)-সহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার ওপর ‘সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের সুপারিশ করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক এই মন্তব্যগুলো সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। ভারত এই প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ‘ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’-এর বিরুদ্ধে “প্রশ্নবিদ্ধ উৎস ও আদর্শিক বয়ানের” ওপর ভিত্তি করে দেশটির একটি “বিকৃত ও বাছাইকৃত” ছবি তুলে ধরার অভিযোগ এনেছে।

    নিরপেক্ষ আচরণের দাবি হিন্দু প্যাক্ট-এর

    ‘আমেরিকান হিন্দুস ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ’-এর আয়োজনে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশনস’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের ২৯ আগস্ট নিউ ইয়র্ক সফরে যাবেন। হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT)-এর বক্তব্য, মোহন ভাগবতের মার্কিন সফর আমেরিকার জন্য কোনও হুমকি নয়, বরং ধর্মীয় স্বাধীনতার নামে হিন্দু সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে একতরফা অবস্থান নেওয়াই বড় প্রশ্ন তৈরি করছে। সংগঠনটি মার্কিন জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ নাগরিকদের ইউএসসিআইআরএফ-এর বক্তব্যকে সমালোচনামূলকভাবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে। হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT) জানিয়েছে, মোহন ভাগবতের সফরকে ঘিরে ইউএসসিআইআরএফ-এর সমালোচনাকে তারা প্রত্যাখ্যান করছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু সংগঠনগুলির প্রতি সমান মর্যাদা ও নিরপেক্ষ আচরণের দাবি জানাচ্ছে।

     

     

     

  • Mohan Bhagwat’s US Visit: ভাগবতের মার্কিন সফরের আগে ইউএসসিআইআরএফ-এর অবস্থান ঘিরে বিতর্ক, আরএসএস-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি

    Mohan Bhagwat’s US Visit: ভাগবতের মার্কিন সফরের আগে ইউএসসিআইআরএফ-এর অবস্থান ঘিরে বিতর্ক, আরএসএস-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সরসংঘচালক ড. মোহন ভাগবতের আসন্ন ব্রিটেন, আমেরিকা ও কানাডা সফর ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আগামী ২৫ আগস্ট থেকে তাঁর বিদেশ সফর শুরু হওয়ার কথা। এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন— ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশানাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (USCIRF)—আরএসএস-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে।

    আরএসএস-এর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত প্রচার

    ইউএসসিআইআরএফ-এর তরফে ওয়াশিংটনের কাছে আরএসএস নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক না করার আর্জি জানানো হয়েছে। তাঁদের কূটনৈতিক সৌজন্যও না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংস্থাটির বর্তমান চেয়ারম্যান পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন চিকিৎসক আসিফ মাহমুদ। ইউএসসিআইআরএফ-এর কমিশনার জিন মিলস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-এ দেওয়া এক বার্তায় আরএসএস সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আরএসএস-এর সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি দাবি করেন, ভারত সরকারের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আরএসএস নেতাদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বা কূটনৈতিক সৌজন্য দেওয়া উচিত নয়। উল্লেখ্য, আরএসএস-এর শতবর্ষ উদযাপনের আবহেই ড. মোহন ভাগবতের এই বিদেশ সফর। আরএসএস-এর প্রচারপ্রমুখ সুনীল আম্বেকর জানিয়েছেন, বিদেশের বিভিন্ন স্থানীয় সংগঠন ও ভারতীয় প্রবাসী সংগঠনের আমন্ত্রণে ২৫ আগস্ট থেকে আমেরিকা, কানাডা ও ব্রিটেনে সফর করবেন ভাগবত। সফরে তিনি ভারতীয় প্রবাসী এবং স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলে জানা গিয়েছে।

    ইউএসসিআইআরএফ-এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

    চলতি বছরের মার্চে প্রকাশিত ইউএসসিআইআরএফ-এর বার্ষিক রিপোর্টেও ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছিল। রিপোর্টে আরএসএস-সহ কয়েকটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘টার্গেটেড স্যাংশন’-এর সুপারিশ করা হয়। সেই রিপোর্ট অবশ্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিল ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ইউএসসিআইআরএফ-এর রিপোর্টকে ‘বিকৃত ও বাছাই করা’ চিত্র তুলে ধরার অভিযোগে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত সমালোচনা’ চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে ইউএসসিআইআরএফ-এর উচিত আমেরিকায় হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুর ও হামলা, ভারতকে লক্ষ্য করে বাছাই করা সমালোচনা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় প্রবাসীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা ও ভয় দেখানোর মতো ঘটনাগুলির দিকেও নজর দেওয়া। ভাগবতের সফরের ঠিক আগে আরএসএস-এর বিরুদ্ধে ইউএসসিআইআরএফ-এর এই অবস্থানকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে আগেও সংস্থাটির রিপোর্টের নিরপেক্ষতা ও তথ্যসূত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

  • Meta Lawsuit: মেটার বিরুদ্ধে ২৯টি মার্কিন অঙ্গরাজ্যের মামলা, ১.৪ লাখ কোটি ডলার ক্ষতির আশঙ্কা, জুকারবার্গের সামনে বড় আইনি চ্যালেঞ্জ

    Meta Lawsuit: মেটার বিরুদ্ধে ২৯টি মার্কিন অঙ্গরাজ্যের মামলা, ১.৪ লাখ কোটি ডলার ক্ষতির আশঙ্কা, জুকারবার্গের সামনে বড় আইনি চ্যালেঞ্জ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে দীর্ঘদিন ধরে সোশাল মিডিয়ার নীতিমালা ও বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা মেটার (Meta) চিফ এক্সিকিউটিভ মার্ক জুকারবার্গ (Zuckerberg) এবার আমেরিকায় বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। দেশটির ২৯টি অঙ্গরাজ্য মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মামলায় এমন কিছু প্রতিকারের দাবি জানানো হয়েছে, যার ফলে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আর্থিক দায়ের মুখে পড়তে পারে সংস্থাটি।ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে চলা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তরুণ ইউজারদের দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে মেটা ইচ্ছাকৃতভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে স্ক্রলিং, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়া এবং অ্যালগরিদম-নির্ভর সুপারিশের মতো বিভিন্ন সুবিধা তৈরি করেছে। অঙ্গরাজ্যগুলির অভিযোগ, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের দীর্ঘ সময় এবং অনেক ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে উৎসাহিত করার মতো করেই ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামকে নকশা করা হয়েছে।

    সম্ভাব্য সর্বোচ্চ আর্থিক দায় (Meta)

    তবে ১ দশমিক ৪ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের অঙ্কটি মেটার ওপর ইতিমধ্যেই আরোপিত কোনও জরিমানা নয়। আদালতে দাখিল করা নথিতে উল্লিখিত অভিযোগ ও প্রযোজ্য শাস্তির ভিত্তিতে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ আর্থিক দায় হিসাব করে এই অঙ্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। মেটা এই দাবিকে “অবাস্তব” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার আইনজীবী মেগান ও’নিলের মতে, বাস্তবসম্মত অঙ্ক ১৯৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি হতে পারে। বিচারক ইভন গনজালেস রজার্সও ১ দশমিক ৪ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি এই হিসাবকে “অযৌক্তিক” বলে মন্তব্য করেছেন। শেষ পর্যন্ত মেটাকে কত অর্থের আর্থিক দায় বহন করতে হবে, তা আদালতের পর্যবেক্ষণ ও বিচারকের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে।

    ভারতে মেটার কার্যকলাপ নিয়েও বাড়ছে প্রশ্নের বহর

    ভারতে মেটার কার্যক্রমও ক্রমশ সরকারি ও জনপর্যায়ের নজরদারির মধ্যে পড়ছে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ, ক্ষতিকর বিষয়বস্তু এবং পরিচালনাগত ত্রুটি নিয়ে বহুদিন ধরেই সমালোচনা রয়েছে।

    ২০২৬ সালের জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি পোস্ট সাময়িকভাবে ব্লক করে দিয়েছিল ফেসবুক। এরপর ভারত সরকার মেটার কর্তাদের তলব করে। পরে মেটা ক্ষমা চেয়ে জানায়, ঘটনাটি ছিল পরিচালনাগত ভুলের ফল।

    বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ ও প্ল্যাটফর্মের দায়বদ্ধতা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ২০২৬ সালের অগাস্টে জুকারবার্গ ভারতীয় কর্তাদের কাছেও ক্ষমা চান। তাঁর প্ল্যাটফর্মে শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদান, কৃত্রিমভাবে তৈরি (Meta) ভুয়া ভিডিও এবং অন্যান্য পরিচালনাগত ত্রুটির উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর এই ক্ষমাপ্রার্থনা করা হয়।

    বিতর্ক আরও তীব্র হয় যখন সরকারি আধিকারিকরা জানান, মেটা তাদের প্ল্যাটফর্মে নির্দিষ্ট ধরনের বিষয়বস্তুর প্রচার বাড়ানোর জন্য অর্থ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেছে। এর ফলে ভারতে আরও বড় একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—অর্থের বিনিময়ে যদি কোনও বিষয়বস্তুকে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলে কোটি কোটি ভারতীয় ইউজারের সামনে কোন বিষয়বস্তু দৃশ্যমান হবে, সেই সিদ্ধান্তে মেটার প্ল্যাটফর্মগুলি কতটাই বা নিরপেক্ষ?

    ভারত সোশাল মিডিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করেছে। সরকারি সংস্থা বা আদালতের নোটিশ পাওয়ার তিন ঘণ্টার মধ্যে বেআইনি বিষয়বস্তু সরিয়ে ফেলার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। ফলে ভারতের মতো মেটার অন্যতম বৃহৎ বাজারে সংস্থাটির জন্য নিয়ন্ত্রক পরিবেশ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ভারত সরকার সতর্ক করেছে, দেশের আইন লঙ্ঘন করলে মেটা তার দায়মুক্তির আইনি সুরক্ষাও হারাতে পারে।

    মেটার এআইয়ের কৌশলেও বড় ধাক্কার আশঙ্কা

    মামলাটির প্রভাব শুধু সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। মেটার ক্রমবর্ধমান এআই-ভিত্তিক পরিকল্পনার উপরও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।

    মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলি আদালতের কাছে এমন নির্দেশ দাবি করছে, যার ফলে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের পরিচালনপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হতে পারে। এর মধ্যে অল্পবয়সী ইউজারদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধিনিষেধ, সুপারিশ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং স্ক্রলিংয়ের মতো সুবিধায় নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিষয় রয়েছে।

    ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া সংগ্রহ করা ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলার দাবিও জানানো হয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ওই তথ্য ব্যবহার করে প্রশিক্ষিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল ও অ্যালগরিদমের ক্ষেত্রেও এই নির্দেশ প্রযোজ্য হতে পারে।

    আদালত যদি মনে করে শিশুদের তথ্য বেআইনিভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং পরে সেই তথ্য এআইয়ের মডেল বা অ্যালগরিদম প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হয়েছে, তাহলে মেটাকে তার এআই পরিকাঠামোর কিছু অংশ শনাক্ত, পর্যালোচনা, পরিবর্তন এমনকি প্রয়োজনে বাতিলও করতে হতে পারে (Meta)।

    সাক্ষ্য দিতে পারেন জুকারবার্গ ও মোসেরি

    পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ ধরে চলতে পারে এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া। সেখানে মেটা কর্তা জুকারবার্গ এবং ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরির সাক্ষ্য দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মেটার বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মী এবং প্রযুক্তি ও মনোবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরাও সাক্ষ্য দিতে পারেন।

    তরুণ ইউজারদের ওপর ইনস্টাগ্রামের প্রভাব নিয়ে এর আগেও জুকারবার্গকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। অন্য একটি মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি দাবি করেছিলেন, ইনস্টাগ্রামকে আসক্তি তৈরির জন্য নয়, বরং ইউজারদের উপকারে আসার মতো করে তৈরি করা হয়েছিল।

    ২৯ অঙ্গরাজ্যের অভিযোগ

    ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সি-সহ ২৯টি অঙ্গরাজ্যের অভিযোগ, মেটা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নিরাপত্তা সম্পর্কে ইউজারদের বিভ্রান্ত করেছে এবং এমন কিছু সুবিধা জেনেশুনে তৈরি করেছে, যা তরুণ ইউজারদের আরও বেশি সময় প্ল্যাটফর্মে কাটাতে উৎসাহিত করে। এসব কার্যকলাপের মাধ্যমে মেটা অঙ্গরাজ্যগুলির ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে (Zuckerberg)।

    অন্য একটি মামলায় ২৯টি অঙ্গরাজ্যই অভিযোগ করেছে, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে মেটা শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষাসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় আইন লঙ্ঘন করেছে।

    মেটা অবশ্য সব অভিযোগই অস্বীকার করেছে। সংস্থার দাবি, অঙ্গরাজ্যগুলির প্রধান আইন কর্তারা পর্যাপ্ত প্রমাণ হাজির করতে পারেননি এবং যে পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করা হচ্ছে, তা অভিযোগের তুলনায় অসমানুপাতিক। কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিজেদের ভূমিকারও সাফাই দিয়েছে মেটা। পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মের নকশা, বয়স যাচাই এবং ইউজারদের প্রতারণার অভিযোগও অস্বীকার করেছে সংস্থাটি।

    বড় প্রযুক্তি সংস্থা এবং এআইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা

    এই মামলার রায় মেটার জন্য শুধু বিপুল আর্থিক ক্ষতির প্রশ্নই নির্ধারণ করবে না, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের কার্যপদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে কি না, সেটিও নির্ধারণ করতে পারে (Meta)।

    এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল, মামলাটি এআই শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে। আদালত যদি এমন নির্দেশ দেয়, বেআইনিভাবে সংগ্রহ করা তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষিত এআই মডেল মুছে ফেলতে বা পরিবর্তন করতে হবে, তাহলে ভবিষ্যতে বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি কীভাবে এআই সিস্টেম তৈরি, প্রশিক্ষণ ও পরিচালনা করবে, তার ওপরও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, জুকারবার্গের জন্য এটি নিজের দেশের মাটিতেই এক বড় আইনি পরীক্ষা। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সোশাল মিডিয়া সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান এখন এমন এক আদালত-লড়াইয়ের মুখোমুখি, যা শুধু মেটার আর্থিক অবস্থাকেই নয়, সংস্থাটির ভবিষ্যতের অন্যতম (Zuckerberg) প্রধান বাজি এআই -কেন্দ্রিক কৌশলেরও একটি অংশকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে (Meta)।

     

  • Imran Khan: কারাগারে ফিরলেন ইমরান খান! হাসপাতাল থেকে ফের আদিয়ালা জেলে প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী

    Imran Khan: কারাগারে ফিরলেন ইমরান খান! হাসপাতাল থেকে ফের আদিয়ালা জেলে প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিকিৎসকদের পরীক্ষার পর ফের জেলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হল পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে (Imran Khan)। শুক্রবার ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল থেকে তাঁকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদিয়ালা জেলে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আপাতত তাঁকে জেল হেফাজতেই রাখা নিরাপদ। ইমরান খানকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য আদিয়ালা জেল থেকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ছয় সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল তাঁকে পরীক্ষা করে। পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, ইমরান খানকে হাসপাতালে ভর্তি করার মতো জরুরি পরিস্থিতি নেই। এরপরই তাঁকে ফের আদিয়ালা জেলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাঁর নির্ধারিত সেলে রাখা হয়।

    চিকিৎসা নিয়ে আইনি টানাপোড়েন

    ইমরান খানের চিকিৎসা নিয়ে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে তাঁর পরিবার ও দলের দীর্ঘদিনের মতবিরোধ রয়েছে। তাঁর আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যরা বারবার অভিযোগ করেছেন, জেলে থাকাকালীন তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যথাযথভাবে হচ্ছে না। অন্যদিকে, পাক কর্তৃপক্ষের দাবি, চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্টে এমন কোনও গুরুতর পরিস্থিতির কথা বলা হয়নি যার জন্য অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন। ইমরানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক-সহ একটি মেডিক্যাল প্যানেলকে তাঁকে পরীক্ষা করার অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল। এদিকে, ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের করা আবেদন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার অফিস আপত্তির কারণে ফেরত দিয়েছে বলে খবর। আপত্তিগুলি সংশোধন করে সরকার ফের আবেদন জানাতে পারে।

    চোখের সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ

    ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে জানুয়ারির শেষ দিকে তাঁর ডান চোখে সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন ধরা পড়ার পর। এরপর চিকিৎসার জন্য তাঁকে একাধিকবার ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (PIMS)-এ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইমরানের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে কোনও বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি জানানো হয়েছে। এমনকি প্রয়োজনে তাঁকে বিদেশে পাঠিয়ে চিকিৎসা করানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন ফেডারেল মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী।

    টানা ৩ বছর জেলে ইমরান

    ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে জেলে রয়েছেন ইমরান খান। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন তিনি। যদিও পাকিস্তান সরকার সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন প্রাক্তন ক্রিকেট তারকা ইমরান খান। তবে ২০২২ সালে সংসদে অনাস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি। ২০২৩ সালের ৯ মে তাঁর প্রথম গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক বিক্ষোভ ও হিংসার ঘটনা ঘটে। পরে ওই বছরের ৫ আগস্ট দুর্নীতির মামলা, যার মধ্যে তোষাখানা মামলাও ছিল, সেই মামলায় তাঁকে ফের গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে একাধিক মামলা ও সাজা নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ইমরান।

  • Indian Sailors Captured: ইয়েমেন ও সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুদের তাণ্ডব, পৃথক হামলায় অপহৃত ২২ ভারতীয় নাবিক

    Indian Sailors Captured: ইয়েমেন ও সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুদের তাণ্ডব, পৃথক হামলায় অপহৃত ২২ ভারতীয় নাবিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য। ইয়েমেন ও সোমালিয়ার উপকূলের কাছে পৃথক দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে সেগুলি দখল করেছে সশস্ত্র জলদস্যুরা। দুই ঘটনায় মোট ২২ জন ভারতীয় নাগরিক জলদস্যুদের কবলে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার কর্তৃপক্ষ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পরপর এই দুই ঘটনায় পূর্ব আফ্রিকার ‘হর্ন অফ আফ্রিকা’ অঞ্চল সংলগ্ন এডেন প্রণালী জলসীমায় ফের সক্রিয় হয়ে ওঠা সোমালি দস্যুদের  নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    ইয়েমেন উপকূলে তেলবাহী ট্যাঙ্কার দখল

    প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে এডেন প্রণালীতে। ইয়েমেন উপকূল থেকে প্রায় ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে ছয় সশস্ত্র জলদস্যু দখল করে নেয় ইরিত্রিয়ার পতাকাবাহী তেলজাত পণ্য পরিবহণকারী ট্যাঙ্কার এমটি সিবু ১। জাহাজটিতে মোট ২০ জনের কর্মী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন ভারতীয়, একজন সিরীয়, একজন সুদানি, একজন ইরাকি এবং আরও একজনের জাতীয়তা নিশ্চিত নয়। ডিরেক্টরেট অফ মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিএমএ) রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে জাহাজের সমস্ত কর্মী নিরাপদ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে জাহাজ ও নাবিকদের বর্তমান অবস্থান এবং সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

    ঘটনার পর রিক্রুটমেন্ট ও প্লেসমেন্ট সার্ভিস লাইসেন্স-প্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে ডিএমএ। পাশাপাশি ই-নাবিক অনলাইন মেরিন ক্যাজুয়ালটি রিপোর্টিং সিস্টেমের মাধ্যমে নিয়মিত আপডেট দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এসকেএস কৃষিভ মেরিন সার্ভিসের সুমিত কান্ত সিং জানিয়েছেন, তাঁদের সংস্থা জাহাজটির চারজন কর্মীকে নিয়োগ করেছিল। সংশ্লিষ্ট চার কর্মীর তথ্যও ডিএমএ-র কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

    সোমালিয়া উপকূলে দ্বিতীয় জাহাজ ছিনতাই

    অন্যদিকে, সোমবার সোমালিয়ার পন্টল্যান্ড অঞ্চলের আইল প্রদেশের মারায়া এলাকার কাছে দ্বিতীয় হামলাটি ঘটে। আট জলদস্যু ক্যামেরুনের পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ এমভি লুতুফ  দখল করে নেয়। হামলার সময় জাহাজটি উপকূল থেকে মাত্র ৩.৫ নটিক্যাল মাইল দূরে ছিল।  এক সোমালি আধিকারিক সংবাদসংস্থাকে জানিয়েছেন, জাহাজটি দখলের পর জলদস্যুরা সেটিকে নুগাল উপকূলের দিকে নিয়ে যায়।

    এমভি লুতুফ-এ মোট ১০ জনের কর্মী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয়, একজন তুরস্কের নাগরিক, একজন জর্জিয়ার নাগরিক এবং দুইজন সার্বিয়ান নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। জাহাজটির মালিক পোলার মুভমেন্ট শিপিং। জানা গিয়েছে, জাহাজটিতে যোগাযোগ ও স্যাটেলাইট সংক্রান্ত সরঞ্জামের পাশাপাশি অস্ত্রও ছিল। এগুলি মোগাদিশুতে একটি তুর্কি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য পাঠানো হচ্ছিল বলে দাবি করেছেন ওই সোমালি আধিকারিক।

    এপ্রিলেও একই ধরনের জাহাজ ছিনতাই

    তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এমভি লুতুফ ছিনতাইয়ের সঙ্গে যুক্ত জলদস্যুরা সম্ভবত সেই একই গোষ্ঠীর সদস্য, যারা চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এমভি স্বার্ড নামে একটি জাহাজ ছিনতাই করেছিল। এপ্রিলের ওই ঘটনায় জলদস্যুরা জাহাজটিকে পন্টল্যান্ডের দাঙ্গোরয়ো জেলার অন্তর্গত গারমাল-এর কাছাকাছি উপকূলের দিকে নিয়ে গিয়েছিল। তবে এমভি লুতুফ, তার কর্মী এবং জাহাজে থাকা পণ্য ও অস্ত্রের বর্তমান অবস্থা এখনও স্পষ্ট নয়। এই ঘটনা নিয়ে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

    ফের কি বাড়ছে সোমালি জলদস্যুদের দাপট?

    একই সময়ে ইয়েমেন ও সোমালিয়া উপকূলে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে জলদস্যু হামলা এবং ২২ জন ভারতীয়ের জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে এডেন প্রণালী, সোমালিয়া ও আফ্রিকার হর্ন সংলগ্ন জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় এই ধরনের হামলা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। পরপর দুটি ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। দুই জাহাজের কর্মীদের নিরাপত্তা এবং তাঁদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে আরও তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

  • Nasir Madni on Kashmir: ‘কাশ্মীরে ১০ হাজার জঙ্গি পাঠিয়েছিল হাফিজ সইদ’, বিস্ফোরক দাবি পাক ধর্মীয় প্রচারকের

    Nasir Madni on Kashmir: ‘কাশ্মীরে ১০ হাজার জঙ্গি পাঠিয়েছিল হাফিজ সইদ’, বিস্ফোরক দাবি পাক ধর্মীয় প্রচারকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাশ্মীরে জঙ্গি অনুপ্রবেশ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন পাকিস্তানের ধর্মীয় প্রচারক আল্লামা নাসির মাদনি। তাঁর দাবি, লস্কর-ই-তৈবার (LeT) প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদ কাশ্মীরে প্রায় ১০ হাজার জঙ্গিকে পাঠিয়েছিল। গত ১৪ অগাস্ট পাকিস্তানের বাহাওয়ালনগরে লস্কর-ঘনিষ্ঠ একটি সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় মাদনি এই মন্তব্য করেন বলে জানা গিয়েছে। বক্তৃতায় মাদনি হাফিজ সইদকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরেন, যে তথাকথিত ‘মাতৃভূমির’ জন্য আত্মত্যাগ করেছে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, সইদ হাজার হাজার জঙ্গিকে কাশ্মীরের দিকে পাঠিয়েছিল। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির প্রচার ও নিয়োগের অভিযোগ বহু পুরনো। নাসির মাদনির সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই বিতর্ককেই ফের উসকে দিল।

    পাকিস্তানের নজরে কাশ্মীর

    কাশ্মীর দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির প্রচার, নিয়োগ এবং জঙ্গি কার্যকলাপের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর মতো সংগঠনগুলি কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদকে ধর্মীয় বা জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। বাস্তবে এই সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিক, নিরাপত্তারক্ষী এবং রাজনৈতিক লক্ষ্যবস্তুর উপর একাধিক হামলার অভিযোগ রয়েছে। কাশ্মীরে জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য বারবার পড়শি দেশ পাকিস্তানের দিকে আঙুল তুলেছে ভারত। পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গিগোষ্ঠী যে ভারতে ক্রমাগত নাশকতা চালাতে চাইছে তার ভুরি ভুরি প্রমান রয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান কখনও জঙ্গিদের সঙ্গে যোগের কথা স্বীকার করেনি।

    ভারতের দাবিই সত্য প্রমাণিত

    একটা দেশ যারা জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে, সুযোগ সুবিধা দিয়ে, সবরকমের সাহায্য করে অন্য দেশে নাশকতার জন্য পাঠাচ্ছে, আন্তর্জাতিক চাপের ফলে তারা নিজেদের ভাল প্রমাণিত করার চেষ্টা করছে। কখনও বলছে, তাদের দেশই জঙ্গিদের নিশানায় রয়েছে। কখনও আবার কোনও জঙ্গিনেতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথা বলছে। ইসলামাবাদের বিপক্ষে এই অভিযোগ বহুবার করেছে ভারত। সেই অভিযোগ যে সত্যি তা এই ধরনের ভিডিও বারবার প্রমাণ করে।

    হাসপাতালের শয্যা থেকে ফের প্রকাশ্যে

    নাসির মাদনির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন কয়েক সপ্তাহ আগেই তাঁর শারীরিক অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। গত ৩ জুলাই পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের জাহানিয়ানের একটি মসজিদে শুক্রবারের ধর্মীয় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে পাক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে তাঁর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়া বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের আশঙ্কার কথা জানানো হয়। পরে তাঁকে মুলতানের চৌধরি পারভেজ এলাহি ইনস্টিটিউট অব কার্ডিওলজিতে ভর্তি করা হয় এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছিল। অসুস্থতার পর প্রকাশ্যে ফিরে এসে তাঁর এমন মন্তব্যই এখন বিতর্কের কেন্দ্রে।

    হাফিজ সইদকে ঘিরে বিতর্ক

    লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদ দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে আন্তর্জাতিকভাবে কুখ্যাত। ২০০৮ সালের মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গে লস্কর-ই-তৈবার জঙ্গিদের যোগ ছিল। ওই হামলায় ১৬০-রও বেশি মানুষ নিহত হন। পাকিস্তানের আদালতও সন্ত্রাসে অর্থ জোগানের মামলায় হাফিজ সইদকে দোষী সাব্যস্ত করে। বর্তমানে সে পাকিস্তানে কারাবন্দি রয়েছে, এমনই দাবি ইসলামাবাদের। তবে, বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, হাফিজ এখন আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করে। তার জীবন-যাপন আর পাঁচজনের মতোই। পাকিস্তান প্রশাসনের তরফে তাকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। এই জঙ্গির জন্য পাক সরকার ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা রেখেছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত রক্ষীও রয়েছে হাফিজের। তাদের ২৪ ঘণ্টা সঙ্গে রাখে সে।

    কাশ্মীরে হাজার হাজার জঙ্গি পাঠানোর দাবি

    নাসির মাদনির বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল, তিনি সইদকে সন্ত্রাসবাদী নেতা হিসেবে না দেখিয়ে তথাকথিত জাতীয় স্বার্থে আত্মত্যাগকারী ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন। একইসঙ্গে কাশ্মীরে হাজার হাজার জঙ্গি পাঠানোর যে দাবি তিনি করেছেন, তা পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির দীর্ঘদিনের কার্যকলাপ নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলেছে। তবে ‘১০ হাজার জঙ্গি’ পাঠানোর দাবিটি নাসির মাদনির বক্তব্যের ভিত্তিতেই সামনে এসেছে। এই নির্দিষ্ট সংখ্যার কোনও তথ্য এখনও সামনে আসেনি।

    নাসির মাদনি কে

    নাসির মাদনিকে বিভিন্ন রিপোর্ট ও অনলাইন সূত্রে লস্কর-ই-তৈবা এবং জইশ-ই-মহম্মদের মতো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমে মাদনির একটি উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় বক্তা ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতির কথাও উঠে এসেছে। ২০২০ সালে তাঁকে বন্দুকের মুখে অপহরণ ও মারধরের অভিযোগও প্রকাশ্যে এসেছিল। পরে এই ঘটনায় কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

    সতর্ক ভারতীয় গোয়েন্দারা

    স্বাধীনতা দিবসের আগে ও পরে পাকিস্তান থেকে লস্কর জঙ্গিদের বিভিন্ন দাবিকে উড়িয়ে না দিয়ে সতর্ক রয়েছে ভারত। নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC) থেকে শুরু করে উপত্যকার প্রধান শহর ও সড়কগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। সন্দেহভাজন গতিবিধির সুনির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে শ্রীনগর, উধমপুর, পুঞ্চ, ডোডা এবং রিয়াসির মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে সেনা, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ ও সিআরপিএফ যৌথভাবে বড় ধরনের তল্লাশি চালাচ্ছে। ড্রোনের মাধ্যমে সীমান্ত এবং পাহাড়ি বনাঞ্চলে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। সিসিটিভি এবং ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হয়েছে। অনলাইন র‍্যাডিক্যালাইজেশন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে জঙ্গি নিয়োগ রুখতে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স কাশ্মীর (CIK) উপত্যকার বিভিন্ন জেলায় দফায় দফায় অভিযান চালাচ্ছে।

     

     

  • Teesta Water Ties: “তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট করতে চায় না বাংলাদেশ”, বললেন ঢাকার জলসম্পদমন্ত্রী

    Teesta Water Ties: “তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট করতে চায় না বাংলাদেশ”, বললেন ঢাকার জলসম্পদমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “তিস্তা নদীর জলবণ্টন চুক্তিকে (Teesta Water Ties) কেন্দ্র করে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না বাংলাদেশ।” অন্তত এমনই বললেন বাংলাদেশের জলসম্পদমন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী আনে।তবে একইসঙ্গে নিজেদের স্বার্থের কথাও নয়াদিল্লিকে (India Bangladesh) বিবেচনা করতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।ঢাকায় আয়োজিত এক সেমিনারে মন্ত্রী বলেন, “প্রতিবেশী দেশ একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ। তাদের যেমন নিজেদের স্বার্থ রয়েছে, তেমনই আমাদেরও স্বার্থ রয়েছে—এই বিষয়টি তাদের ভাবতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “একজন বন্ধু আর এক বন্ধুর স্বার্থ রক্ষা করবে। তাদের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কখনও নষ্ট হোক, আমরা তা চাই না।”

    তিস্তা সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের তৎপরতা (Teesta Water Ties)

    দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের নতুন করে তৎপরতার মধ্যেই জলসম্পদমন্ত্রীর এহেন মন্তব্য সামনে এল। এর অংশ হিসেবে চিনের সহযোগিতায় প্রস্তাবিত তিস্তা নদীর যৌথ ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও করছে ঢাকা। এই প্রকল্পের লক্ষ্য, উত্তর বাংলাদেশের বারবার দেখা দেওয়া বন্যা, নদীভাঙন এবং শুকনো মরশুমে জলসংকট মোকাবিলা করা। মন্ত্রী জানান, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর প্রস্তাবিত প্রকল্প নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে সরকার একাধিক সেমিনার ও পরামর্শ বৈঠকের আয়োজন করেছে। এসব আলোচনায় পাওয়া সুপারিশের ভিত্তিতে বিস্তারিত সমীক্ষা করা হবে। সেই সমীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে সরকার।তিস্তা প্রকল্পকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নদীভাঙন-সহ নানা সমস্যায় বছরের পর বছর ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরাঞ্চলের পাঁচ-ছ’টি জেলার মানুষের এই প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক প্রত্যাশা রয়েছে। তাঁর কথায়, “আমরা যদি এটি বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হই, তাহলে ওই এলাকার পরিবারগুলির ক্ষয়ক্ষতি ও সমস্যার পরিমাণ আরও বাড়তে থাকবে। যে কোনও মূল্যে আমাদের এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে (Teesta Water Ties)।”

    জলবণ্টন নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ বিরোধ

    তিস্তা নদীর জলবণ্টন নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কয়েক দশক ধরে বিরোধ রয়েছে। হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে নদীটি সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এবং পরে বাংলাদেশের যমুনা নামে পরিচিত ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। উত্তর বাংলাদেশের কৃষি ও মানুষের জীবিকার জন্য তিস্তার জল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে পশ্চিমবঙ্গেও সেচ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই নদীর জল গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের একাধিক জেলার মানুষের জীবন ও কৃষি নির্ভরশীল তিস্তার ওপর। আটের দশক থেকেই তিস্তার জল ভাগাভাগি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। ১৯৮৩ সালে একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই ব্যবস্থায় তিস্তার জলের ৩৯ শতাংশ ভারতের জন্য এবং ৩৬ শতাংশ বাংলাদেশের জন্য নির্ধারণ করা হয়। বাকি ২৫ শতাংশ জল বণ্টন করা হয়নি (India Bangladesh)।

    তিস্তার জল বণ্টন চুক্তি জরুরি প্রয়োজন

    এরপর ২০১১ সালে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। তাতে শুষ্ক মরশুমে তিস্তার জল ভাগাভাগির একটি সূত্র প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যে জলের প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ওই ব্যবস্থার বিরোধিতা করায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়নি (Teesta Water Ties)। জলসম্পদমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিত প্রস্তাবিত তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দফতর এবং বিভিন্ন মন্ত্রকের মধ্যে বৈঠকের মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিস্তা নিয়ে একটি চুক্তি “জরুরি প্রয়োজন” বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সেটিকে তিস্তা চুক্তি বা অন্য কোনও ব্যবস্থার নামে অভিহিত করা হোক না কেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চিন সফর

    জুন মাসে বেজিংয়ে সরকারি সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চিনের নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে প্রস্তাবিত তিস্তা পুনরুদ্ধার প্রকল্পের কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চিনের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি পাওয়া গিয়েছে বলে জানানো হয়েছে (India Bangladesh)। তিস্তা প্রকল্পে চিনকে যুক্ত করার সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিনের এই জলবণ্টন বিরোধে নতুন কৌশলগত মাত্রা যুক্ত হয়েছে। ভারতের কাছে বিষয়টি বিশেষভাবে সংবেদনশীল, কারণ উত্তর বাংলাদেশের ওই অঞ্চলের অবস্থান ভারতের শিলিগুড়ি করিডরের (চিকেন্স নেকের) কাছাকাছি। এই সরু স্থলপথই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত করেছে (Teesta Water Ties)। ভারত বরাবরই বলে আসছে, তিস্তা সমস্যার সমাধান সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে করা উচিত। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গও রয়েছে।

    রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্য

    জুলাই মাসে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, প্রস্তাবিত তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের মতামত বাংলাদেশকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে ভারতের সামগ্রিক অবস্থানের অংশ হিসেবে “সংশ্লিষ্ট সব উন্নয়ন” বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। তিস্তা জলবণ্টন বিরোধ ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি থেকে আলাদা। ওই চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। ভারত ও বাংলাদেশের (India Bangladesh) মধ্যে মোট ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে। এসব নদী ও জলসম্পর্কিত বিষয় নিয়ে দুই দেশ প্রায়ই আলোচনা করে থাকে যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে (Teesta Water Ties)।

     

  • Donald Trump: ভারতের ভোটব্যবস্থার উদাহরণ টেনে আমেরিকায় কড়া ভোটার-আইডি আইন চাইলেন ট্রাম্প

    Donald Trump: ভারতের ভোটব্যবস্থার উদাহরণ টেনে আমেরিকায় কড়া ভোটার-আইডি আইন চাইলেন ট্রাম্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের প্রস্তাবিত ‘সেভ আমেরিকা আইন’ (America Act) পাশ করার দাবি তুললেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এ বার সেই দাবির স্বপক্ষে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। ট্রাম্পের বক্তব্য, ভারতে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র দেখানোর নিয়ম রয়েছে। সেই তুলনা টেনেই আমেরিকায় ভোটার পরিচয় যাচাই এবং নাগরিকত্বের প্রমাণ সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর করার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্পের দাবি, ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সম্প্রতি তাঁর প্রশাসনের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র ছাড়া আমেরিকায় কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। ট্রাম্প লেখেন, “চলতি মাসের গোড়ায় ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আমাদের প্রশাসনকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন—বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র ছাড়া আমেরিকায় কীভাবে নির্বাচন হতে পারে?”

    ট্রাম্পের মুখে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ (Donald Trump)

    ভারতের সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গও টেনে আনেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ভারতের শেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ভোট দিয়েছিলেন এবং ১ শতাংশেরও কম ভোট ডাকযোগে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর আরও দাবি, প্রত্যেক ভোটারকেই বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র দেখাতে হয়েছিল। ট্রাম্প বলেন, “ভারতের শেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ছিল! ১ শতাংশেরও কম ভোট ডাকযোগে দেওয়া হয়েছিল এবং প্রত্যেক ভোটারকেই বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র দেখাতে হয়েছিল।” ভারতের উদাহরণ টেনে ট্রাম্প ফের তাঁর প্রস্তাবিত ‘সেভ আমেরিকা আইন’ পাশ করাতে ডাক দেন কংগ্রেসকে। তিনি লেখেন, “আমাদের এখনই সেভ আমেরিকা আইন পাশ করতে হবে!” ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরও। এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে ট্রাম্প “সম্পূর্ণ সঠিক” কথা বলেছেন। ভারতের শেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটারের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে গোর বলেন, প্রত্যেক ভোটারের পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। একই সঙ্গে আমেরিকান কংগ্রেসকে সেভ আমেরিকা আইন পাশ করার আহ্বান জানান তিনি।

    ‘সেভ আমেরিকা আইন’

    আমেরিকায় নির্বাচনী নিয়ম আরও কঠোর করার ক্ষেত্রে এই প্রস্তাবিত আইনটি ট্রাম্পের (Donald Trump) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হয়ে উঠেছে। ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ের পাশাপাশি ভোট দেওয়ার যোগ্যতা হিসেবে নাগরিকত্বের প্রমাণ দেওয়ার মতো বিষয়ও এই উদ্যোগের আওতায় রয়েছে। ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার সঙ্গে আমেরিকার নির্বাচনী প্রক্রিয়ার তুলনা করে ট্রাম্প মূলত আমেরিকায় ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের নিয়ম আরও কঠোর করার পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে চাইছেন (America Act)। ভারতের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণ এবং পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থাকে সামনে রেখে তাঁর এই রাজনৈতিক প্রচার নতুন করে দুই দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার পার্থক্য নিয়েও জন্ম দিয়েছে গভীর চর্চার (Donald Trump)।

     

  • Lashkar-e-Taiba: ‘দিল্লিকে কনে সাজানো হবে, মুম্বইয়ে উড়বে পাকিস্তানের পতাকা’! সীমান্তপার থেকে ফের ভারতকে হুমকি লস্কর জঙ্গির

    Lashkar-e-Taiba: ‘দিল্লিকে কনে সাজানো হবে, মুম্বইয়ে উড়বে পাকিস্তানের পতাকা’! সীমান্তপার থেকে ফের ভারতকে হুমকি লস্কর জঙ্গির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতকে ফের প্রকাশ্যে হুমকি দিল পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার ( Lashkar-e-Taiba) সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত ইমরান লিয়াকত ভাট্টি। ১৪ অগাস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে কাসুরের একটি লস্কর শিবির থেকে দেওয়া বলে দাবি করা একটি ভিডিওতে ভাট্টিকে উসকানিমূলক বক্তব্য দিতে দেখা গিয়েছে। সেখানে সে দাবি করে, একদিন দিল্লিকে ‘কনে সাজানো হবে’ এবং ‘মুম্বইয়ে পাকিস্তানের পতাকা উড়বে’। ভিডিও এবং অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ভাট্টি শুধু দিল্লি ও মুম্বই নয়, কাশ্মীর, গুজরাট, হায়দরাবাদ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল নিয়েও বিতর্কিত ও আগ্রাসী মন্তব্য করে। তার বক্তব্যে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রসঙ্গ টেনে ভারতের ভূখণ্ড দখলের উগ্রপন্থী বয়ান তুলে ধরা হয়। এই ভিডিও আবারও প্রমাণ করল প্রকাশ্যে পাকিস্তানের মাটি থেকে ভারত-বিরোধী প্রচার চালানো হচ্ছে।

    কাসুরের লস্কর শিবির থেকেই হুমকি

    ঘটনার সময় ও স্থানকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের দিন ভারতের সীমান্তের কাছাকাছি কাসুর শহর থেকে এই বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ, ভাট্টির বক্তব্যের সঙ্গে একটি লস্কর শিবিরের যোগসূত্রের কথাও উঠে এসেছে। ভাট্টি ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে নিশানা করার অভিযোগ তোলে এবং আফগানিস্তানে ‘অবিশ্বাসীদের’ উপস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করে। এরপর দেশভাগের ইতিহাসকে সামনে এনে কাশ্মীর-সহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল দখলের উগ্রপন্থী বক্তব্য দেয় বলে অভিযোগ।

    মুম্বইয়ে পাকিস্তানের পতাকা

    ভাট্টির বক্তব্যের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অংশ ছিল দিল্লি ও মুম্বইকে ঘিরে তার মন্তব্য। হুমকির সুরে বলে, ‘দিল্লিকে কনে সাজানো হবে’ এবং দাবি করে, মুম্বইয়ে একদিন পাকিস্তানের পতাকা উড়বে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দিল্লি ভারতের রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র এবং মুম্বই দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র। ফলে এই দুই শহরকে নিশানা করে এমন বক্তব্যকে শুধু ভূখণ্ডগত দাবি নয়, ভারতীয় রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে উসকানিমূলক প্রচার হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, কোনও জঙ্গি নেতার প্রকাশ্য হুমকি নিজে থেকেই আসন্ন হামলার প্রমাণ নয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি সাধারণত প্রচার, নিয়োগের বার্তা, অপারেশনাল পরিকল্পনা এবং বিশ্বাসযোগ্য হামলার হুমকির মধ্যে পার্থক্য করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে।

    লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে ভাট্টির যোগসূত্র

    বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইমরান লিয়াকত ভাট্টিকে লস্করের ক্যাডার এবং পাকিস্তান মার্কাজি মুসলিম লিগের (PMML) দক্ষিণ পাঞ্জাবের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে বাহাওয়ালপুরে একটি জনসভায় সে হাফিজ মহম্মদ সইদকে পিএমএমএল-এর প্রকৃত নেতা বলে দাবি করেছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই বক্তব্যকে পিএমএমএল-এর সঙ্গে নিষিদ্ধ লস্কর নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য যোগসূত্রের একটি ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠনের যোগাযোগের অভিযোগ নতুন নয়। রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মতাদর্শ প্রচার, সমর্থক সংগঠিত করা এবং প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    মুম্বই হামলার ছায়া

    ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে লস্কর-ই-তৈবার। ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলার সঙ্গেও সংগঠনটির নাম জড়িত। ওই হামলায় মুম্বইয়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জঙ্গি হামলা চালানো হয়েছিল। ফলে লস্কর ঘনিষ্ঠ কোনও ব্যক্তির মুখে দিল্লি ও মুম্বই নিয়ে প্রকাশ্য হুমকি ফের নিরাপত্তা মহলের নজর কাড়ার মতো ঘটনা। বিশেষ করে যখন বক্তব্যের সঙ্গে কাশ্মীর, দেশভাগ এবং ভারতের অন্যান্য অঞ্চল দখলের উগ্রপন্থী বয়ান যুক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি লস্করের পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলিকে শক্তিশালী করার বিষয়ে জুলাই ২০২৬-এ বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল। ওই রিপোর্টগুলিতে ভাট্টিকে কাসুরে দায়িত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংগঠনটি নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি রাজনৈতিক কাঠামোকেও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।

    নজরে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি

    ভাট্টির বক্তব্যে ভারতের একাধিক অঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ শহরকে সরাসরি নিশানা করা হয়েছে। ফলে ভিডিও এবং সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বক্তব্য ভারতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলির নজরে আসা স্বাভাবিক। ভিডিওর সঙ্গে সোশাল মিডিয়া পোস্টগুলিতে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককেও ট্যাগ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এই ঘটনায় মূল প্রশ্ন শুধু ভাট্টির বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পাকিস্তানের মাটিতে নিষিদ্ধ বা জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত ব্যক্তিরা কীভাবে প্রকাশ্যে ভারত-বিরোধী প্রচার চালানোর সুযোগ পাচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

    পাকিস্তানের জঙ্গি-চ্যালেঞ্জ ফের সামনে

    ইমরান লিয়াকত ভাট্টির কথিত হুমকি পাকিস্তানে সক্রিয় ভারতবিরোধী উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কগুলির একটি বৃহত্তর চিত্র সামনে এনেছে। আন্তর্জাতিক চাপ, সন্ত্রাসবাদী অর্থায়নের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এবং নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পাকিস্তানভিত্তিক কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রকাশ্য উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। দিল্লি ও মুম্বইয়ে পাকিস্তানের পতাকা ওড়ানোর দাবি কিংবা কাশ্মীর ও ভারতের অন্যান্য অঞ্চল ‘দখল’ বা ‘মুক্ত’ করার উসকানিমূলক বক্তব্য তাই শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে দেখার বিষয় নয়। এর মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ, উগ্রপন্থী মতাদর্শ এবং সীমান্তপারের প্রচারের যে বৃহত্তর নেটওয়ার্ক কাজ করে, তারই আরেকটি দিক সামনে এসেছে। তবে ভাট্টির বক্তব্যকে তাৎক্ষণিক হামলার নিশ্চিত ইঙ্গিত হিসেবে না দেখে, উগ্রপন্থী প্রচার ও হুমকির অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করাই নিরাপত্তা সংস্থাগুলির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাছে এখন মূল বিষয় হল—এই বক্তব্যের পিছনে কোনও বাস্তব অপারেশনাল পরিকল্পনা রয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলি কীভাবে কাজ করছে, তা খুঁজে দেখা।

  • Imran Khan: মারা গিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান? পাক সাংবাদিকের নতুন দাবিতে ফের জল্পনা

    Imran Khan: মারা গিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান? পাক সাংবাদিকের নতুন দাবিতে ফের জল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের জেলবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের (Imran Khan) মৃত্যু নিয়ে নতুন দাবি ঘিরে দেশটিতে (Pakistan) ফের একবার উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানি সাংবাদিক ওয়াজাহাত সাঈদ খানের দাবি, দেশটির সামরিক বাহিনীর তিন প্রবীণ আধিকারিক মনে করেন, জেলেই হয়তো ইমরানের মৃত্যু হয়েছে। যদিও এই খবরের সত্যতা যাচাই করা যায়নি। সাংবাদিক নিজেও জানিয়েছেন, তাঁর সূত্রগুলির কেউই ব্যক্তিগতভাবে ইমরানকে দেখেননি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক, এমি পুরস্কারের জন্য মনোনীত সাংবাদিক ওয়াজাহাত ১০ আগস্ট প্রকাশিত একটি ইউটিউব ভিডিওয় এই দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, রাওয়ালপিন্ডিতে পাক সেনাবাহিনীর জেনারেল সদর দফতরে কর্মরত প্রবীণ আধিকারিকদের কাছ থেকেই এই তথ্য পেয়েছেন তিনি।

    সাংবাদিকের দাবি (Imran Khan)

    ওয়াজাহাতের দাবি, অন্তত তিনজন আধিকারিক আলাদাভাবে তাঁকে জানিয়েছেন যে ইমরান আর আমাদের মধ্যে নেই। তবে একইসঙ্গে তিনি কবুল করেছেন, তাঁর কোনও সূত্রই ইমরানকে নিজের চোখে দেখেননি। তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, তথ্যটি নিশ্চিত নয় এবং তিনি আশা করছেন, দাবিটি সত্য নয়। ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর পরিবার, আইনজীবী, দলের নেতারা এবং চিকিৎসকরা নানা সমস্যার কথা জানিয়ে আসছেন। তাঁর বোনেরা এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতারা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ চেয়ে বারবার আবেদন করেছেন। একইসঙ্গে তাঁর শারীরিক অবস্থার চিকিৎসা মূল্যায়নের দাবিও জানিয়েছে দলটি। ২০২৩ সালের ৫ অগাস্ট থেকে জেলে রয়েছেন ইমরান। বর্তমানে ১৯ কোটি পাউন্ডের আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তিনি ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। একই মামলায় তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকেও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দু’জনেই তাঁদের সাজাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। ইমরানের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৯ মে-র বিক্ষোভ-সংক্রান্ত একাধিক মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। ওই বিক্ষোভের সময় পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর দলের সমর্থকরা সামরিক কাঠামোয় হামলা চালিয়েছিলেন।

    মৃত্যুর দাবি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা

    ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ এবং পাকিস্তানের সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চলা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ নেতা সোহেল আফ্রিদির দাবি, ২০ লাখেরও বেশি মানুষ রাস্তায় নামতে প্রস্তুত। আফ্রিদির বক্তব্য, তাঁদের দাবি অসাংবিধানিক নয় এবং ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগকে রাজনৈতিক বার্তা আদান-প্রদানের কাজে ব্যবহার করা হবে না। পাকিস্তানের তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদ অভিমুখে দীর্ঘ পদযাত্রা করার কথা ঘোষণা করেছে। ইমরানের পরিবার ও চিকিৎসকদের তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া না হলে তার আগেই বিক্ষোভের হুমকিও দিয়েছে দলটি। ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ এখনও বড় প্রশ্ন হয়ে থাকায় নতুন এই দাবি ফের সেই প্রশ্নই সামনে (Pakistan) এনেছে—ইমরান কি সত্যিই মারা গিয়েছেন? তবে বর্তমানে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে তাঁর মৃত্যুর কোনও নির্ভরযোগ্য নিশ্চিতকরণ নেই।

    এর আগেও ছড়িয়েছিল একই ধরনের গুজব

    ইমরানের মৃত্যুর গুজব এই প্রথম নয়। গত বছরের নভেম্বরেও তাঁর পরিবার এবং দলীয় কর্মীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে সমস্যায় পড়ার পর একই ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে ২ ডিসেম্বর সেই জল্পনার অবসান ঘটে। ইমরানের বোন উজমা খানুম আদিয়ালা জেলে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। সাক্ষাতের পর তিনি জানান, ইমরান শারীরিকভাবে ভালো আছেন। তবে তাঁকে একাকী রাখা হয়েছিল বলে জানান তিনি। নভেম্বরেই ফের একটি বড় মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল। আফগানিস্তান টাইমস দাবি করেছিল, আদিয়ালা জেলের ভেতরে ইমরানকে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, জেলে নির্যাতনের পর ৭২ বছর বয়সী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে, এবং তাঁর মরদেহ জেলের বাইরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে পাক প্রশাসন এই দাবি অস্বীকার করে জানায়, ইমরান জীবিত রয়েছেন (Imran Khan)।

    ভুয়া সরকারি বিবৃতিতেও ইমরানের মৃত্যুর দাবি

    ২০২৫ সালের মে মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি হিসেবে একটি ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, বিচারাধীন অবস্থায় ইমরানের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকার নিশ্চিত করেছে (Pakistan)। তবে নথিটিতে বেশ কিছু অসঙ্গতি ছিল, যা এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। “৪২৭/২০২৫” নম্বর উল্লেখ থাকলেও, এতে যথাযথ তারিখ ছিল না। পাশাপাশি নথিতে বানান, বিরামচিহ্ন, ভাষা ও বিন্যাসের একাধিক ভুল দেখা যায়। পাকিস্তানের বা আন্তর্জাতিক কোনও বড় সংবাদমাধ্যম, বিদেশমন্ত্রক কিংবা প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেও এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি। পরে নথিটিকে প্রকৃত সরকারি বিবৃতি নয়, বরং এডিটেড ও বিকৃত ছবি হিসেবে শনাক্ত করা হয়। জেলে ইমরানের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে আরও কিছু দাবির মধ্যেই এটিও ছড়িয়েছিল। ফলে তাঁর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্যের বহর আরও বেড়ে যায়।

    কারাগারে হামলার দাবিও ছিল ভুয়া

    ইমরানের কারাবাসকে ঘিরে শুধু মৃত্যুর গুজবই নয়, আরও নানা দাবি ছড়িয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কথিত চিকিৎসা প্রতিবেদন ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, জেলে ইমরান যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন (Imran Khan)। পাক এমিরেটস সামরিক হাসপাতালের নামে প্রচারিত ওই নথিতে গুরুতর আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পাশাপাশি এইচআইভি, হেপাটাইটিস এবং অন্যান্য যৌন-সংক্রমণের পরীক্ষার কথাও বলা হয়। পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের অনুমোদন ছাড়া ইমরানের মুক্তি সম্ভব নয় বলেও দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু নথিটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি ছিল। এতে ২০২৫ সালের ৩ মে তারিখ উল্লেখ করা হলেও, সেটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে তার আগের দিনই, ২ মে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সরকারি তথ্য অনুযায়ী ইমরানের চিকিৎসা পরীক্ষা ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের চিকিৎসকরা করেছিলেন, পাক এমিরেটস সামরিক হাসপাতালে নয়।

    ভুয়া তথ্য!

    এই সব অসঙ্গতি থেকেই এটি স্পষ্ট হয় যে চিকিৎসা প্রতিবেদনটি আদতে ভুয়া। ইমরানের আইনজীবীরা যৌন নির্যাতনের দাবির স্বপক্ষে নিশ্চিত করে কোনও বিবৃতি দেয়নি। নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম কিংবা সরকারি কোনও বিবৃতিতেও এই দাবির সমর্থন মেলেনি (Imran Khan)। ইমরানের মৃত্যু, স্বাস্থ্য এবং জেলে তাঁর সঙ্গে আচরণ নিয়ে বারবার গুজব ছড়িয়েছে মূলত তখনই, যখন তাঁর পরিবার ও সমর্থকেরা তাঁর সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রে বাধার মুখে (Pakistan) পড়েছেন। ওয়াজাহাত সাঈদ খানের সর্বশেষ দাবিও সেই পুরনো প্রশ্নকে ফের একবার সামনে এনেছে (Imran Khan)।

LinkedIn
Share