Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Balochistan Independence Day: ‘স্বাধীনতা দিবস’ পালন বালুচিস্তানে, আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ‘স্বাধীন দেশ’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি

    Balochistan Independence Day: ‘স্বাধীনতা দিবস’ পালন বালুচিস্তানে, আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ‘স্বাধীন দেশ’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের শৃঙ্খল ভেঙে ১১ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবস পালন করল বালুচিস্তান (Balochistan Independence Day)। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও দাবি করল বালুচরা। বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মীর ইয়ার বালুচ জানান বালুচিস্তান, পাকিস্তান থেকে সম্পূর্ণভাবে আলাদা। মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট, ‘বালুচিস্তান স্বাধীনতা দিবস’ পালনের মধ্যেই এক বার্তায় রাষ্ট্রসংঘ, আশিয়ান, আফ্রিকান ইউনিয়ন, ওআইসি-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের কাছে এই দাবি জানান তিনি। এরপরই দেশের সবচেয়ে বড় প্রদেশ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় মরিয়া হয়ে মাঠে নেমে পড়েছে পাক সেনা। বালুচদের স্বাধীনতা উৎসব পালনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি কারফিউ জারি করা হয়েছে ওই অঞ্চলে। শুরু হয়েছে ব্যাপক ধরপাকড়, বন্ধ করা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা।

    আন্তর্জাতিক স্তরে সমর্থনের আহ্বান

    সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ প্রকাশিত বার্তায় মীর ইয়ার বালুচ বলেন, বালুচিস্তানকে আর পাকিস্তানের একটি প্রদেশ হিসেবে উল্লেখ না করে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, বালুচ স্বাধীনতা আন্দোলন এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে মূল লক্ষ্য আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বীকৃতি অর্জন। বালুচ নেতার বার্তায় পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করা হয়। বালুচিস্তানের মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক ‘নৈতিক সমর্থন’ অব্যাহত রাখার আবেদনও জানান তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের সদস্য দেশ, আশিয়ান, আফ্রিকান ইউনিয়ন, ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (OIC) এবং ইউরোপীয় দেশগুলির কাছে বালুচিস্তানের স্বাধীনতার দাবিকে সমর্থনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে ধন্যবাদ

    বালুচিস্তান ইস্যুকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরার ক্ষেত্রে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকারও প্রশংসা করেন মীর ইয়ার বালুচ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, গবেষক এবং বিভিন্ন থিঙ্ক ট্যাঙ্ককে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁদের প্রচারের ফলে বালুচিস্তানের পরিস্থিতি বিশ্ববাসীর নজরে এসেছে। বার্তায় আরও বলা হয়েছে, বালুচ রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিভিন্ন অংশকে একত্রিত করার চেষ্টা চলছে। স্বাধীন বালুচিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলে নিজস্ব পাসপোর্ট, মুদ্রা, সংবাদমাধ্যম, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং কূটনৈতিক মিশন গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে। বিদেশনীতি, প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি ও কূটনীতির দায়িত্বও স্বাধীন রাষ্ট্রের নিজস্ব প্রশাসন পরিচালনা করবে বলে দাবি করা হয়েছে।

    ১১ অগাস্টের ঐতিহাসিক দাবিকে সামনে রেখে প্রচার

    মীর ইয়ার বালুচের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের স্বাধীনতার দাবি ১৯৪৭ সালের ১১ অগাস্টের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের দাবি, ব্রিটিশ ভারতের বিভাজনের আগে ওই দিন বালুচিস্তান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল। এবার সেই ঐতিহাসিক দাবির স্মরণে সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের দিকে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে বালুচিস্তানের সম্পর্ক নিয়ে সংঘাত তৈরি হয় এবং ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানি বাহিনী কালাত দখল করে। অন্যদিকে, বালুচিস্তানে স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি ঠেকাতে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। কিছু এলাকায় মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। বালুচ গোষ্ঠীর দাবি, বিভিন্ন বাধা সত্ত্বেও বালুচিস্তানের একাধিক এলাকায় সমর্থকেরা ‘বালুচিস্তান স্বাধীনতা দিবস’ পালন করেছেন। তাঁরা ১৪ অগাস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস পালন না করার আহ্বানও জানিয়েছেন।

    দীর্ঘদিনের সংঘাত ও রাজনৈতিক বিরোধ

    তবে পাকিস্তান সরকার বরাবরই বালুচিস্তানকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে আসছে। প্রদেশটিতে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে। ফলে স্বাধীন বালুচিস্তানের দাবি নিয়ে ইসলামাবাদ ও বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত ও রাজনৈতিক বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশে ১১ অগাস্ট ‘বালুচিস্তান স্বাধীনতা দিবস’ পালনকে ঘিরে বিভিন্ন শহরে কর্মসূচি ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। বালুচ জাতীয়তাবাদী নেতারা দিনটিকে পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতার দাবির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তথাকথিত ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’-কে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। বালুচ নেতাদের দাবি, পাকিস্তানি প্রশাসন ও নিরাপত্তাবাহিনীর কড়া নজরদারি এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধ সত্ত্বেও কোয়েটা, নৌশকি, কালাত, গওয়াদর, তুরবত ও খুজদারসহ একাধিক এলাকায় স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কোথাও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কোথাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গান ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মিষ্টিও বিতরণ করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

    পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগ

    বালুচ মানবাধিকারকর্মী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা মীর ইয়ার বালুচ অভিযোগ করেছেন, স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি ব্যাহত করতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁর দাবি, বহু এলাকায় ভারী নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং জনসমাবেশ ও মিছিলের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখারও অভিযোগ উঠেছে। তবে বালুচ নেতৃত্বের দাবি, এসব পদক্ষেপ সত্ত্বেও স্বাধীনতার দাবিতে কর্মসূচি থামেনি। তাঁদের বক্তব্য, নিরাপত্তাবাহিনীর উপস্থিতির মধ্যেও সাধারণ মানুষের একাংশ স্বাধীনতার পক্ষে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করেছেন।

    ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’-এর দাবি

    সম্প্রতি মীর ইয়ার বালুচ ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’ নামে একটি নথি প্রকাশ করে স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবি আরও জোরদার করেছেন। ওই ঘোষণায় নতুন প্রশাসনিক কাঠামো, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীতের কথা বলা হয়েছে। এমনকি ‘বালুচি ফালুস’ নামে নতুন মুদ্রা চালুর দাবিও করা হয়েছে। মীর ইয়ার বালুচের পক্ষ থেকে বালুচিস্তানের প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা তাঁদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বালুচ নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে বালুচিস্তানকে না দেখে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করার আবেদন জানিয়েছে। তাঁদের দাবি, বালুচ জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। উল্লেখ্য, বালুচিস্তান বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বাধীন রাষ্ট্র নয়। পাকিস্তানের অংশ হিসেবেই স্বীকৃত। ‘রিপাবলিক অব বালুচিস্তান’-এর স্বাধীনতার ঘোষণা মূলত বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতৃত্বের রাজনৈতিক দাবি; এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। দীর্ঘদিনের বিদ্রোহ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, নিরাপত্তা অভিযান এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বালুচিস্তান পাকিস্তানের অন্যতম সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল। ১১ আগস্টের কর্মসূচি সেই দীর্ঘস্থায়ী স্বাধীনতার আন্দোলনকে ফের আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

  • Mecca Defence Agreement: ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নয়, আসলে কি ইরান-বিরোধী সুন্নি জোট? মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক

    Mecca Defence Agreement: ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নয়, আসলে কি ইরান-বিরোধী সুন্নি জোট? মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি (Mecca Joint Defense Agreement)-কে এর উদ্যোক্তারা প্যান-ইসলামিক যৌথ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছেন। কিন্তু পশ্চিম এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও কৌশলগত বিশ্লেষক এই চুক্তির প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। সমালোচকদের একাংশের দাবি, এটি আদৌ কোনও ঐক্যবদ্ধ ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নয়। বরং চুক্তিটি ইরানকে ঘিরে সুন্নি শক্তিগুলির একটি কৌশলগত জোট হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে মুসলিম বিশ্বের দীর্ঘদিনের সুন্নি-শিয়া বিভাজন কমার বদলে আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    যৌথ নিরাপত্তার আড়ালে কি সুন্নি সমীকরণ?

    রিয়াধ, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারা— তিন দেশের কর্তারা বারবার জানিয়েছেন, এই ত্রিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত ‘যৌথ প্রতিরোধ ক্ষমতা’ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই তৈরি। কিন্তু সমালোচকদের মতে, বাস্তব ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার সবচেয়ে ধনী সুন্নি রাজতন্ত্র সৌদি আরব, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সুন্নি সন্ত্রাসী শক্তি পাকিস্তান এবং ন্যাটোর  সুন্নি সদস্য তুরস্ককে একই নিরাপত্তা কাঠামোয় নিয়ে আসার ফলে ইরানকে ঘিরে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ‘ইসলামিক ন্যাটো’-র সঙ্গে তুলনা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কারণ মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি ইরান এই জোটের বাইরে। ফলে এই চুক্তিকে সর্বজনীন ইসলামি প্রতিরক্ষা জোট হিসেবে দেখার যুক্তি দুর্বল বলে মনে করছেন সমালোচকেরা। তাঁদের মতে, ধর্মীয় ঐক্যের কথা বলা হলেও বাস্তবে চুক্তিটির পেছনে রয়েছে সুন্নি-শিয়া ভারসাম্য, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং জাতীয় স্বার্থের হিসাব।

    তেহরান থেকে ইসলামাবাদ—চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন

    চুক্তি স্বাক্ষরের পরই এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান। ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি কমিশনের সদস্য এব্রাহিম রেজাই সৌদি আরবের নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। রেজাই বলেন, ‘‘তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে কাগজে একটি চুক্তি করলেই সৌদি আরব নিরাপত্তা পাবে না।’’ তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন আমেরিকার উপর নির্ভর করেও সৌদি আরব যে নিরাপত্তা সমস্যার স্থায়ী সমাধান পায়নি, অন্য দেশের উপর নির্ভর করে সেই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তিনি রিয়াধকে অন্যের কাছ থেকে নিরাপত্তা ‘চেয়ে নেওয়ার’ পরিবর্তে নিজেদের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে ভাবার পরামর্শ দেন। তবে শুধু ইরান থেকেই সমালোচনা আসেনি। চুক্তির অন্যতম অংশীদার পাকিস্তানের প্রাক্তন আমেরিকা-স্থিত রাষ্ট্রদূত এবং বিশিষ্ট কূটনীতিক হুসেন হাক্কানিও এই চুক্তিকে নিয়ে যথেষ্ট সংশয় প্রকাশ করেছেন। হাক্কানির মতে, সৌদি আরব-তুরস্ক-পাকিস্তান পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবের তুলনায় প্রতীকী দিক থেকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর যুক্তি, একটি কার্যকর যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির ক্ষেত্রে প্রথমেই প্রয়োজন একটি অভিন্ন শত্রু। কিন্তু তিন দেশের ক্ষেত্রে সেই অভিন্ন শত্রু কোথায়, তা স্পষ্ট নয়। তিনি বলেন, চুক্তির ফলে গোয়েন্দা তথ্য আদানপ্রদান এবং যৌথভাবে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের মতো সহযোগিতা বাড়তে পারে। কিন্তু এটিকে ‘মুসলিম ন্যাটো’ হিসেবে দেখার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।

    পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের স্বার্থ কি এক?

    সমালোচকদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখানেই। তিন দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, নিরাপত্তা অগ্রাধিকার এবং বৈদেশিক নীতি একে অপরের থেকে যথেষ্ট আলাদা। পাকিস্তানের প্রধান নিরাপত্তা উদ্বেগের একটি ভারতকে ঘিরে সীমান্ত বিরোধ। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিও ইসলামাবাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে তুরস্কের প্রতিরক্ষা নীতি গভীরভাবে যুক্ত ন্যাটো এবং পশ্চিমা নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে। ফলে আঙ্কারার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অগ্রাধিকার রিয়াধ বা ইসলামাবাদের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে মিলবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সৌদি আরবের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলা, তেল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর নিরাপত্তা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করা।ফলে তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়লেও একটি অভিন্ন সামরিক কৌশল বা একক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

    ‘ইসলামিক ন্যাটো’ কি শুধুই ভূ-রাজনৈতিক মিথ?

    বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি অভিন্ন প্রতিরক্ষা জোটের ধারণা নতুন নয়। কিন্তু বাস্তবে সুন্নি-শিয়া বিভাজন, জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং ভিন্ন ভিন্ন বৈদেশিক নীতি সেই সম্ভাবনাকে বারবার দুর্বল করেছে। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিও সেই একই সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, এই চুক্তি গোয়েন্দা সহযোগিতা, যৌথ সামরিক মহড়া, প্রতিরক্ষা শিল্পে অংশীদারিত্ব এবং অস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু সেটিকে একটি সর্বজনীন ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে চিহ্নিত করা বাস্তবতার তুলনায় অনেকটাই অতিরঞ্জিত। বরং সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি কৌশলগত ও লেনদেনভিত্তিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা হিসেবেই চুক্তিটিকে দেখা বেশি বাস্তবসম্মত বলে মনে করছেন সমালোচকেরা। শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তর ঐক্যের পথ তৈরি করবে, নাকি ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন আঞ্চলিক মেরুকরণ আরও বাড়াবে— সেই প্রশ্নের উত্তরই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপাতত ‘ইসলামিক ন্যাটো’-র স্বপ্নের চেয়ে বাস্তব ভূ-রাজনীতি ও জাতীয় স্বার্থের সমীকরণই এই জোটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

  • Gautam Adani: ১০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি, আদানির বিরুদ্ধে মার্কিন ফৌজদারি মামলা খারিজ

    Gautam Adani: ১০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি, আদানির বিরুদ্ধে মার্কিন ফৌজদারি মামলা খারিজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানির (Gautam Adani) বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি মামলা খারিজ করে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডেরাল আদালত। ১০ অগাস্ট আদালতের (US Court) এই রায়ের জেরে মার্কিন ফেডেরাল কৌঁসুলিরা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহারের সুযোগ পেয়ে গিয়েছেন। তবে মামলা খারিজের অনুমোদন দেওয়ার সময় বিচারক মার্কিন বিচার বিভাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি এই সিদ্ধান্তকে অস্বাভাবিক এবং উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেছেন। ব্রুকলিনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক নিকোলাস গারাউফিস মামলাটি খারিজের অনুমোদন দেন। তবে তিনি বিশেষভাবে মার্কিন বিচার বিভাগের কর্তা ট্রেন্ট ম্যাককটারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অভিযোগ প্রত্যাহারের আগে আদানির আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত ছিলেন ম্যাককটার। বিচারকের পর্যবেক্ষণ, মামলাটিতে আগে কাজ করা একাধিক ফেডেরাল কর্তা ও তদন্তকারীর মতামতকে ম্যাককটার উপেক্ষা করেছেন বলে মনে হয়েছে। পরিবর্তে তিনি নিজের মূল্যায়নের ওপর বেশি নির্ভর করেছেন বলে বিচারক মন্তব্য করেন।

    আদানির ১০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ ঘিরে প্রশ্ন (Gautam Adani)

    আদালতে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আমেরিকায় আদানি গোষ্ঠীর ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি। ২০২৪ সালের নভেম্বরে এই বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। এতে প্রায় ১৫ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে বলেও তখন জানানো হয়েছিল। ২০২৬ সালের এপ্রিলে গৌতম আদানির হয়ে মামলা লড়া আইনজীবী রবার্ট জে জিউফ্রা জুনিয়রের নেতৃত্বাধীন একটি দল মার্কিন বিচার বিভাগের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। সেই বৈঠকে জিউফ্রা ১০০ পাতার একটি নথি উপস্থাপন করেন। সেখানে যুক্তি (US Court) দেওয়া হয়, আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ কৌঁসুলিদের হাতে নেই। পাশাপাশি অভিযোগে উল্লেখ করা ঘটনাগুলি সম্পূর্ণভাবে ভারতে ঘটেছে বলে এই মামলার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার্য এক্তিয়ারও নেই বলে দাবি করা হয়েছিল। আদানির (Gautam Adani) পক্ষে আরও যুক্তি দেওয়া হয়, মামলায় উল্লেখ করা ঋণপত্রগুলি মার্কিন শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ছিল না এবং বিনিয়োগকারীদের অর্থ সম্পূর্ণ ফেরত দেওয়া হয়েছে। ফলে কোনও বিনিয়োগকারীর আর্থিক ক্ষতি হয়নি।

    ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি

    ১০০ পাতার ওই নথির একটি পাতায় আমেরিকায় আদানির ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির উল্লেখ ছিল। এর পরেই বিচারক প্রশ্ন তুলেছিলেন, এই বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি কি মার্কিন বিচার বিভাগের মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছিল? ম্যাককটার অবশ্য দাবি করেন, বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি তাঁর সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেনি। এই বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনও তিনি অস্বীকার করেন। তবে ১৫ জুলাই আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায় গৌতম আদানি স্বীকার করেন, তাঁর আইনজীবীরা মার্কিন বিচার বিভাগকে জানিয়েছিলেন যে এই বিনিয়োগ মামলাগুলির নিষ্পত্তির অংশ হতে পারে। জিউফ্রাও আদালতকে জানান, অভিযুক্ত পক্ষ মার্কিন বিচার বিভাগকে জানিয়েছিল যে সম্ভাব্য নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে আদানি গোষ্ঠী ওই বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত। বিচারক গারাউফিস বলেন, এই ধরনের প্রস্তাব দেওয়া যথাযথ কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনও সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না। তবে তাঁর মতে, শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে বিবেচনা করতে হবে—এই ধরনের প্রস্তাব সমান বিচার এবং আইনের শাসনের ক্ষেত্রে কী অর্থ বহন করতে পারে (US Court)।

    ২০২৪ সালে আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগ

    ২০২৪ সালে গৌতম আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল যে, আদানি গোষ্ঠীর একটি সহযোগী সংস্থার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন নিশ্চিত করতে তিনি ভারতীয় সরকারি আধিকারিকদের ঘুষ দিতে রাজি হয়েছিলেন (Gautam Adani)। মার্কিন কৌঁসুলিরা আরও অভিযোগ করেছিলেন, সংস্থার দুর্নীতিবিরোধী নীতি ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছিল। তবে আদানি গোষ্ঠী প্রথম থেকেই এই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ৪ জুলাই আদালতে দেওয়া এক নথিতে ম্যাককটার বলেন, মামলাটি মূলত বিদেশকেন্দ্রিক, অভিযোগ প্রমাণ করা কঠিন এবং এটি মার্কিন বিচার বিভাগের বর্তমান আইন প্রয়োগের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি জানান, প্রতিরক্ষা আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক, বিচার বিভাগের কর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ এবং নিজের আইনি গবেষণা ও বিশ্লেষণের পরেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    আদানি পরিবারের সদস্য ও সংস্থার বিরুদ্ধেও আলাদা মামলা

    এদিকে, আদানি পরিবারের সদস্য এবং গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থাকে ঘিরে মার্কিন বিচার বিভাগে আরও কয়েকটি পৃথক আইনি বিষয় রয়েছে। মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের দায়ের করা একটি দেওয়ানি মামলায় গৌতম আদানি ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিতে রাজি হয়েছেন। তাঁর ভাইপো সাগর আদানি ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিতে সম্মত হয়েছেন। এদিকে, ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত লঙ্ঘনের অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে আদানি এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড মার্কিন অর্থ দফতরকে ২৭৫ মিলিয়ন ডলার দিতে রাজি হয়েছে।

    আদালতের সিদ্ধান্তে স্বস্তি আদানির

    আদালতের রায়ের পর গৌতম আদানি (Gautam Adani) সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি বিনয় ও গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আদালতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন। এই মামলা খারিজের ফলে আপাতত গৌতম আদানির বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফৌজদারি অভিযোগের আইনি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এলেও, মামলাটি খারিজের পেছনে (US Court) বিচার বিভাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে বিচারকের মন্তব্য নতুন করে জন্ম দিয়েছে একরাশ প্রশ্নের (Gautam Adani)।

     

  • Colombia Earthquake: ভয়াবহ ভূমিকম্প! তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল একের পর এক বাড়ি, মৃত্যুপুরী কলম্বিয়া

    Colombia Earthquake: ভয়াবহ ভূমিকম্প! তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল একের পর এক বাড়ি, মৃত্যুপুরী কলম্বিয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তছনছ হয়ে গেল পশ্চিম কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। সোমবার এক বিধ্বংসী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে পুরো দেশ (Colombia Earthquake)। ৭.৪ মাত্রার এই ভয়াবহ কম্পনের বলি হয়েছেন অন্তত ১৩২ জন। মুহূর্তের মধ্যে গুঁড়িয়ে গিয়েছে একাধিক বহুতল ও ঘরবাড়ি। ইট-পাথরের স্তূপের নীচে এখনও আটকে রয়েছেন শয়ে শয়ে মানুষ (Earthquake In Colombia)। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পাবে বলে খবর। বিপর্যয়ের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরাসরি দায়িত্ব নিয়েছেন কলম্বিয়ার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবেলর্দো দে লা এস্প্রিয়েলা। সান হোসে দেল পালমারে জরুরি উদ্ধারকাজ তদারকির আশ্বাস দিয়ে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা কেউ একা নন। দেশ আপনাদের পাশে আছে এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

    ভূমিকম্পের উৎসস্থল 

    মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, ভারতীয় সময় অনুযায়ী সোমবার দুপুরের দিকে তীব্র ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তবে, কলম্বিয়ার স্থানীয় সময় ছিল সকাল ৭টা ৩৪ মিনিট। জানা গিয়েছে, চকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমারের প্রায় ৫ কিলোমিটার পূর্বে ছিল ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে ছিল কম্পনের উৎস। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কলম্বিয়ার অনেকটা এলাকাজুড়ে কম্পন অনুভূত হয়। ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর এবং পানামাতেও অনুভূত হয়েছে। উল্লেখ্য, কম্পনের উৎসস্থল স্যান হোসে দে পামার এলাকাটি প্রশান্ত মহাসাগরের অখ্যাত ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থান করার ফলে মহাসাগরকে ঘিরে থাকা ওই বলয়ের সবচেয়ে স্পর্শকাতর এলাকাগুলির মধ্যে একটি। তবে কলম্বিয়া প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী এটি গত এক দশকে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

    ধসে পড়েছে একাধিক বাড়ি

    ভূমিকম্পের জেরে বহু ঘর বাড়ি ভেঙে পড়েছে। ঘটনার পরই জোরকদমে শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করার কাজ চলছে। সবচেয়ে করুণ অবস্থা পেরেইরা শহরের। সেখানকার মেয়র মাউরিসিও সালাজার জানান, শুধুমাত্র পেরেইরাতেই অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। শহরের সামগ্রিক অবস্থাকে অত্যন্ত ‘সংকটময়’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে পেরেইরা, কালি এবং কিবদো শহরে চোখের সামনে ধসে পড়ছে বাড়িঘর। ভেঙে পড়া বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় ছুটছেন মানুষ। শোনা যআচ্ছে আর্তনাদ। অন্যদিকে, বোগোটা থেকে ৩০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত মানিজালেস শহরের বিখ্যাত নিও-গোথিক ক্যাথেড্রালের একটি টাওয়ার ভেঙে পড়েছে।

    দেশে জরুরি অবস্থা, বন্ধ বিমানবন্দর

    ভূমিকম্পের জেরে কলম্বিয়ার পাঁচটি বিমানবন্দরে নিয়মিত যাত্রী পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। পেরেইরা, মানিজালেস, আর্মেনিয়া, কার্তাগো এবং বুয়েনাভেনতুরা বিমানবন্দর আপাতত শুধুমাত্র চিকিৎসা ও সরকারি উড়ানের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। বিমানবন্দরগুলির পরিকাঠামোয় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিও বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কলম্বিয়া সরকার।

  • India Bangladesh Talks: ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী! কী নিয়ে হল দীনেশ-তারেক বৈঠক?

    India Bangladesh Talks: ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী! কী নিয়ে হল দীনেশ-তারেক বৈঠক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন করে তৎপরতা দেখা দিয়েছে ঢাকার সঙ্গে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে (India Bangladesh Talks)। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) সঙ্গে সোমবার বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। দুই দেশের সম্পর্কের নানা টানাপোড়েনের মধ্যে এই বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। সেপ্টেম্বর মাসে নয়াদিল্লিতে হবে ব্রিকস সম্মেলন। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ই হল এই বৈঠক। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা নয়াদিল্লিতে। সম্মেলনের আয়োজক দেশ হিসেবে ভারত ব্রিকসের সব সদস্য রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানাবে বলেই আশা। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলির সমন্বয়ে গঠিত এই আন্তঃসরকারি সংগঠনে বর্তমানে ১১টি দেশ সদস্য হিসেবে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, গত কয়েক মাসে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে অস্বস্তি ও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

    ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে তারেকের বৈঠক (India Bangladesh Talks)

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করছেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকের সময় ভারতীয় হাইকমিশনারকে দেখা যায় তারেককে একটি শাল উপহার দিতে। প্রধানমন্ত্রী তারেক হাসিমুখে সেই উপহার গ্রহণ করেন। এর এক দিন আগে, রবিবার বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেছিলেন ভারতীয় হাইকমিশনার। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বৈঠক প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনাকে অর্থবহ হিসেবে উল্লেখ করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা কমাতেও এই বৈঠকের ভূমিকা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রে খবর, আলোচনায় নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনে তারেকের অংশগ্রহণের বিষয়টিও উত্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে চলমান বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলেও খবর। তবে বৈঠকে ঠিক কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ কিংবা ভারত—কোনও পক্ষই এখনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।

    ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়া নিয়ে জল্পনা

    তারেকের সঙ্গে বৈঠকের আগে ভারতীয় হাইকমিশনার জানিয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলি দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। এর মধ্যেই শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ দাবির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ঢাকার পক্ষ থেকে হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানানো হলেও নয়াদিল্লির অবস্থানে এখনও বড় কোনও পরিবর্তন আসেনি বলেই কূটনৈতিক মহলে চলছে আলোচনা। হাসিনা বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। ভারত সরকার তাঁকে অতিথি হিসেবে বিবেচনা করছে এবং তাঁকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে নয়াদিল্লি এখনও পর্যন্ত কোনও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুটি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয় হয়েই রয়ে গিয়েছে। এদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে এই বার্তাও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেককে দিল্লিতে দ্বিপাক্ষিক সফরে স্বাগত জানাতে নয়াদিল্লি আগ্রহী। অর্থাৎ শুধু ব্রিকস সম্মেলনে যোগদানের জন্য নয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেকের পৃথক রাষ্ট্রীয় সফরের বিষয়েও ভারত আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে (Tarique Rahman)।তবে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেকের নয়াদিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা কম। যদিও ঢাকার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

    শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে নতুন করে অস্বস্তি

    বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের অন্যতম কারণ হিসেবে হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে দেখা হচ্ছে। গত বুধবার বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় হাসিনা জানিয়েছিলেন, তিনি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ (India Bangladesh Talks)। হাসিনার বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশকে আবার উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার পথে ফিরিয়ে নেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। দেশে ফেরার ক্ষেত্রে কারাবাস কিংবা মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি থাকলেও, পিছিয়ে যাবেন না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। হাসিনা বলেন, “আমি জানি, তারা আমাকে জেলে দিতে পারে অথবা হত্যা করতে পারে। তবে আমি আমার জনগণের সঙ্গে থাকার জন্য দেশে ফিরে যাব।” হাসিনার এই বক্তব্যের পর বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লিকে আগে থেকেই ওই অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল। তারপরেও অনুষ্ঠানটি হওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, হাসিনার ওই বক্তব্য দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতকে সতর্ক করা হয়েছিল। ফলে বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক অস্বস্তির জন্ম দেয়।

    ভারতকে ‘মহান বন্ধু’ আখ্যা হাসিনার

    তবে একই বক্তব্যে শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন। তিনি ভারতকে বাংলাদেশের “মহান বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করেন। সংকটের সময় ভারত সবসময় বাংলাদেশের পাশে থেকেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নিজের দেশে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য রাখেন হাসিনা। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ বর্তমানে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, সেগুলি নিয়েও তিনি কথা বলেন। তাঁর দাবি, দেশে ফেরার উদ্দেশ্য ক্ষমতা দখল করা নয়। বরং বাংলাদেশকে আবার উন্নয়ন, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে নেওয়াই তাঁর লক্ষ্য (India Bangladesh Talks)। হাসিনার এই বক্তব্যের পর থেকেই ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যেই ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং বিদেশমন্ত্রীর ধারাবাহিক বৈঠককে তাই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন কূটনৈতিক (Tarique Rahman) পর্যবেক্ষকেরা।

    সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বার্তা কি মিলছে?

    পরপর দু’দিনে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন কোনও কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ব্রিকস সম্মেলনে তারেকের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ এবং হাসিনাকে ঘিরে বিরোধ—এই দু’টি বিষয়ই এখন ঢাকা-নয়াদিল্লির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ হলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে বলে মনে (India Bangladesh Talks) করা হচ্ছে। আবার তিনি সম্মেলনে না গেলে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অস্বস্তির প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই। কারণ, ব্রিকস সম্মেলনে তারেকের অংশগ্রহণের বিষয়ে ঢাকার তরফে এখনও কোনও ঘোষণা করা আসেনি। আবার, ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠকে হাসিনা এবং তারেকের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে, তারও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আগামী কয়েক দিনে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে (Tarique Rahman) কূটনৈতিক যোগাযোগ কোন দিকে এগোয় এবং ব্রিকস সম্মেলনে তারেক যোগ দেন কি না, এখন সেটাই দেখার (India Bangladesh Talks)।

     

  • Russia-India Train Proposal: হরমুজ এড়িয়ে ভারত পর্যন্ত রেলপথ! রাশিয়ার প্রস্তাবে নতুন বাণিজ্য করিডরের ভাবনা

    Russia-India Train Proposal: হরমুজ এড়িয়ে ভারত পর্যন্ত রেলপথ! রাশিয়ার প্রস্তাবে নতুন বাণিজ্য করিডরের ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার জেরে হরমুজ প্রণালী ও বসফরাস প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যপথ নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। এই পরিস্থিতিতে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত একটি বিকল্প রেলপথ (Russia-India Train Proposal) তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী মারাত খুসনুলিন। তাঁর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে রাশিয়া থেকে স্থলপথে ভারত পর্যন্ত সরাসরি পণ্য পরিবহনের নতুন একটি করিডর তৈরি হতে পারে। রুশ সংবাদ সংস্থা তাস-কে (TASS) দেওয়া সাক্ষাৎকারে খুসনুলিন বলেন, ভারত মহাসাগর পর্যন্ত রেল যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। তাঁর মতে, বসফরাস ও হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি ভবিষ্যতে বিকল্প স্থলপথ খোঁজার প্রয়োজন তৈরি করতে পারে।

    কোন পথে যেতে পারে রেললাইন?

    রাশিয়ার প্রস্তাবিত সম্ভাব্য রুটটি তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে পৌঁছতে পারে। খুসনুলিনের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত পর্যন্ত পৌঁছনোর সুযোগ তৈরি করে এমন যে কোনও বিকল্প পথই বিবেচনা করা যেতে পারে।

    বাধা হতে পারে পাকিস্তান

    এই পরিকল্পনার (Russia-India Train Proposal) সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জই হতে পারে পাকিস্তান। রাশিয়া থেকে প্রস্তাবিত এই স্থলপথ ভারত পর্যন্ত পৌঁছতে গেলে পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে রেলপথ তৈরি ও পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসলামাবাদের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতায় এই সহযোগিতা আদায় করা কতটা সম্ভব, সেটিই হতে পারে প্রকল্পটির অন্যতম বড় প্রশ্ন।

    এখনও পরিকল্পনার স্তরেই

    রাশিয়ার এই প্রস্তাব এখনও কোনও চূড়ান্ত প্রকল্প নয়। এখনও নির্দিষ্ট রুট, নির্মাণ ব্যয় কিংবা সময়সীমা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে আপাতত এটিকে একটি সম্ভাব্য বিকল্প করিডর নিয়ে রাশিয়ার কৌশলগত ভাবনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে বাস্তবে এই ধরনের রেলপথ তৈরি হলে রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। সমুদ্রপথের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দুই দেশকে সরাসরি স্থলপথে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে। এই প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যাপ্তি বোঝাতে বিশ্বের দীর্ঘতম মালবাহী রেলপথগুলির অন্যতম চিন-স্পেনের ইউই-মাদ্রিদ (Yiwu–Madrid) রেলপথের উদাহরণ দেওয়া যায়। প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটটি একাধিক দেশ পেরিয়ে চিন ও স্পেনকে যুক্ত করেছে।

    কেন হরমুজ নিয়ে এত উদ্বেগ?

    রাশিয়ার এই প্রস্তাবের পেছনে অন্যতম বড় কারণ হল হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সংঘাতের পর ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনরিরি গার্ড কোর (IRGC) পাল্টা সামরিক অভিযান চালানোর পাশাপাশি আমেরিকা ও ইজরায়েল-সমর্থক দেশগুলির সঙ্গে যুক্ত জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার হুমকি ও পদক্ষেপ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালী বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ। এই পথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি-এর প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই জলপথে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা দেখা দিলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় প্রভাব পড়তে পারে।

    বসফরাস প্রণালী নিয়েও সমস্যা

    রাশিয়ার জন্য আর একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হল বসফরাস। তুরস্কের নিয়ন্ত্রণাধীন এই প্রণালী কৃষ্ণসাগরকে মারমারা সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। রাশিয়ার পণ্য রফতানি এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যে এই পথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই খুসনুলিনের প্রস্তাব শুধু নতুন একটি রেলপথ তৈরির পরিকল্পনা নয়। যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা বা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সমুদ্রপথ বন্ধ বা ব্যাহত হলে যাতে বিকল্প ব্যবস্থা থাকে, সেই লক্ষ্যেই স্থলপথে এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে চাইছে মস্কো। অন্য দিকে, রাশিয়ার থেকে তেল কেনে এমন দেশগুলির উপর চাপ বাড়িয়েছে আমেরিকাও। ৮৬-১১ ভোটে বিল পাশ হয়েছে সেনেটে। সেখানে ভারত ও চিনের মতো দেশগুলির উপরে ১০০ শতাংশ ট্যারিফ চাপানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত রেলপথ তৈরি হলে রাশিয়ার সুবিধা অনেক। সমুদ্রপথের বিকল্প হিসেবে যেমন স্থলপথ ব্যবহার করা যাবে, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের উপর নির্ভরতা কমবে। নিষেধাজ্ঞা বা যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলেও এশিয়ার বাজারের বাণিজ্য করতে কোনও অসুবিধা হবে না।

    ভারতের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    রাশিয়ার প্রস্তাবিত রেল করিডর বাস্তবায়িত হলে ভারতের জন্যও তা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগও বাড়তে পারে। বিশেষ করে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে এই ধরনের করিডর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ভবিষ্যতে যদি সত্যিই ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে স্থলপথে রেল যোগাযোগ তৈরি হয়, তাহলে পর্যটকদের যাতায়াতের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। বর্তমানে রাশিয়া-ভারত বাণিজ্যের একটি বড় অংশ সমুদ্রপথের উপর নির্ভরশীল। বিকল্প স্থলপথ তৈরি হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় একটি নতুন পথ যোগ হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ এড়িয়ে পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মতো একাধিক দেশের ভূখণ্ড পেরিয়ে এমন বিশাল রেলপথ তৈরি করা প্রযুক্তিগত, আর্থিক ও কূটনৈতিক—তিন দিক থেকেই অত্যন্ত কঠিন। তাই আপাতত রাশিয়ার প্রস্তাবকে ভবিষ্যতের একটি সম্ভাব্য ‘প্ল্যান-বি’ (Plan B) হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে ভারতমুখী এই বিকল্প রেল করিডরের ধারণা আগামী দিনে আরও গুরুত্ব পেতে পারে।

  • Qari Saeed Abdul Aziz: অচেনা রেস্তোরাঁর খাবার, তারপর মসজিদের গেটেই মৃত্যু! লস্কর কমান্ডারের রহস্যমৃত্যু- কী চলছে পাকিস্তানে?

    Qari Saeed Abdul Aziz: অচেনা রেস্তোরাঁর খাবার, তারপর মসজিদের গেটেই মৃত্যু! লস্কর কমান্ডারের রহস্যমৃত্যু- কী চলছে পাকিস্তানে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মসজিদের গেটেই আচমকা মৃত্যু! পাকিস্তানের ইসলামাবাদে (Islamabad) নমাজ পড়তে গিয়ে আচমকাই মৃত্যু হল লস্কর-ই-তৈবার (Lashkar-e-Taiba) শীর্ষ কমান্ডার ক্বারি সইদ আবদুল আজিজের (Qari Saeed Abdul Aziz)। কুবা মসজিদে নমাজ পড়তে গিয়েছিলেন তিনি। মসজিদের গেটের কাছে আচমকাই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপরেই তাঁর মৃত্যু হয়। তবে কী কারণে তাঁর মৃত্যু (Lashkar Commander Death) হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    মৃত্যুর (Lashkar Commander Death) আগে কোথায় গিয়েছিলেন?

    ক্বারি সইদ (Qari Saeed Abdul Aziz) মসজিদে পৌঁছনোর আগে একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। খাবার খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। তবে খাবারের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না? সেই বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য সামনে আসেনি।

    লস্করের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন

    লস্কর-ই-তৈবার (Lashkar-e-Taiba) গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতেন ক্বারি সইদ (Qari Saeed Abdul Aziz)। জম্মু ও কাশ্মীরে সংঘর্ষে নিহত জঙ্গিদের পরিবারের জন্য সাহায্য ও সহায়তার ব্যবস্থা করার দায়িত্বে থাকা বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। অর্থাৎ সংগঠনের অন্দরে তাঁর যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

    ‘অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের’ নিশানায় লস্কর?

    ক্বারি সইদের রহস্যমৃত্যুর (Lashkar Commander Death) খবরের মধ্যেই সামনে এসেছে আরও বিস্ফোরক দাবি। লস্করের (Lashkar-e-Taiba) সদস্য রিজওয়ান হানিফ একটি ভিডিয়োয় দাবি করেছেন, গত তিন থেকে চার বছরে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনের প্রায় ৩০ জন সদস্যকে ‘অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা’ হত্যা করেছে।

    একাধিক জায়গায় হত্যা

    রিজওয়ানের দাবি, পেশোয়ার, করাচি, রাওয়ালপিন্ডি, রাওয়ালাকোট এবং মুজাফফরাবাদে লস্কর সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে নিষিদ্ধ এই সংগঠনের বহু সদস্যকে টার্গেট করা হয়েছে।

    মুম্বই হামলার (Mumbai Terror Attack) সঙ্গে জড়িত সংগঠন

    লস্কর-ই-তৈবা (Lashkar-e-Taiba) সেই জঙ্গি সংগঠন, যার বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের মুম্বই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ওই ভয়াবহ হামলায় মৃত্যু হয়েছিল ১৬৬ জনের। রাষ্ট্রসংঘ ২০০৫ সালে আল-কায়দা ও তালিবানের সঙ্গে যোগ থাকার অভিযোগে লস্কর-ই-তৈবাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

    প্রথমবার প্রকাশ্যে এমন দাবি

    লস্কর-ই-তৈবার (Lashkar-e-Taiba) সঙ্গে যুক্ত কোনও সদস্যের মুখে পাকিস্তানের (Pakistan) মাটিতে সংগঠনের সদস্যদের ‘অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের’ হাতে ধারাবাহিক হত্যার দাবি প্রকাশ্যে আসার ঘটনা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। আর তার কয়েক দিনের মধ্যেই লস্করের এক গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডারের রহস্যমৃত্যু—দুই ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।

    মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে রহস্য

    অচেনা রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়া, কয়েক ঘণ্টা পরে মসজিদের গেটে আচমকা মৃত্যু (Lashkar Commander Death)—তার উপর সংগঠনের সদস্যদের একের পর এক ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ হামলায় নিহত হওয়ার দাবি। ক্বারি সইদ আবদুল আজিজের (Qari Saeed Abdul Aziz) মৃত্যু তাই নিছক একটি আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা নয়, বরং পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলির (Pakistan Terrorism) অন্দরমহলে কী চলছে, তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। রহস্যের জট খুলবে কবে, এখন সেটাই দেখার।

  • Baloch Students: রাত ২টোর অভিযান, তারপরই উধাও ৫ ছাত্র! করাচিতে বালোচ পড়ুয়াদের ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ

    Baloch Students: রাত ২টোর অভিযান, তারপরই উধাও ৫ ছাত্র! করাচিতে বালোচ পড়ুয়াদের ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) করাচিতে পাঁচ বালোচ ছাত্রকে (Baloch Students) জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পাক রেঞ্জার্সের বিরুদ্ধে। বালোচ ছাত্রদের সংগঠন বালোচ স্টুডেন্টস অ্যাকশন কমিটি (Baloch Students Action Committee) জানিয়েছে, ৫ অগাস্ট গভীর রাতে করাচির (Karachi) গুলশান-ই-ইকবাল এলাকার একটি আবাসনে অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচ ছাত্রকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তাঁদের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি সংগঠনটির।

    কারা নিখোঁজ? (Baloch Students)

    বিএসএসি (Baloch Students Action Committee)-র বিবৃতি অনুযায়ী, নিখোঁজ পাঁচ ছাত্র হলেন- আজহার বালোচ ও গওস বখশ বালোচ, দু’জনেই জনৈক হায়াতের ছেলে, শাহিদের ছেলে শেহজাদ বালোচ, আজিমের ছেলে আনিস বালোচ এবং মহম্মদ আমিনের ছেলে ওয়াসিম বালোচ। আজহার গওয়াদরের বাসিন্দা এবং করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করছেন। তাঁর ভাই গওস বখশ একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি নিয়ে পড়ছেন। গওয়াদরের বাসিন্দা শেহজাদ পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। নওশকির বাসিন্দা আনিস দর্শন নিয়ে পড়ছেন। আর কালাতের বাসিন্দা ওয়াসিম পলিটিক্যাল সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করছেন।

    গভীর রাতে আবাসনে অভিযান

    বিএসএসির দাবি, ৫ অগাস্ট রাত প্রায় ২টোর সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পাক রেঞ্জার্সের সদস্যরা গুলশান-ই-ইকবালের ওই আবাসনে ঢোকেন। সংগঠনটির অভিযোগ, সেখানে ছাত্রদের শারীরিকভাবে হেনস্থা ও ভয় দেখানোর পর তাঁদের সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র-সহ তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে ওই পাঁচ ছাত্র কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে পরিবারের কাছে কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছে বিএসএসি।

    আগে আরও দুই ছাত্র নিখোঁজ

    বিএসএসি জানিয়েছে, এই পাঁচজনের আগেও আরও দুই বালোচ ছাত্র নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের (Karachi University) এমফিলের ছাত্র খলিল বালোচ। সংগঠনটির দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকেই তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অন্য ছাত্র জুবেইর বালোচ নূর মহম্মদের ছেলে। তিনি হাব ডিগ্রি কলেজ থেকে রসায়নে স্নাতক। চতুর্থ তফশিলের একটি মামলায় শুনানি শেষে বাড়ি ফেরার সময় হাব এলাকা থেকে তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। ফলে বিএসএসির দাবি, মোট সাত বালোচ ছাত্র বর্তমানে নিখোঁজ।

    ‘শিক্ষার জন্য বাড়ি ছেড়েও নিরাপদ নন’

    বালোচ ছাত্রদের (Baloch Students) সংগঠনটির অভিযোগ, উচ্চশিক্ষার জন্য নিজেদের এলাকা ছেড়ে করাচিতে আসা ছাত্রদেরই বারবার নিশানা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্রাবাস এবং ব্যক্তিগত বাসস্থান- কোনও জায়গাই তাঁদের জন্য নিরাপদ থাকছে না বলে দাবি সংগঠনটির। বিএসএসি বলেছে, এই ধরনের ঘটনার ফলে শুধু ছাত্রদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, তাঁদের পরিবারও তীব্র মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে পড়ছে। সংগঠনটির দাবি, অবিলম্বে বালোচ ছাত্রদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে, সাতজনকেই নিরাপদে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং তাঁদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

    ‘এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়’

    বালোচ (Baloch) ইয়াকজেহতি কমিটির নেত্রী সাবিহা বালোচের দাবি, বালোচ ছাত্রদের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়, বরং একটি ধারাবাহিক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা তরুণদের বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্রাবাস এবং ব্যক্তিগত বাসস্থান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর ফলে পরিবারগুলির মধ্যে ভয় ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক আঘাত তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। আর এক বালোচ নেত্রী সামি দীন বালোচ জানিয়েছেন, নিখোঁজ সাতজনের মধ্যে ছয়জনই করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তাঁদের মধ্যে এমফিলের ছাত্র খলিল বালোচও রয়েছেন। তাঁর দাবি, রেঞ্জার্স এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সংস্থার সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর থেকেই খলিলকে নিয়ে গিয়েছিলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাত্রদের নিরাপদ জায়গা হওয়া উচিত, নিখোঁজ করে দেওয়ার কেন্দ্র নয়। কোনও ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়া মেনে আদালতে হাজির করা উচিত। অভিযোগ না থাকলে অবিলম্বে তাঁদের খুঁজে বের করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

    মানবাধিকার সংগঠনের উদ্বেগ

    হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল অব বালোচিস্তানও সাত ছাত্রের (Baloch Students) নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির দাবি, কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে ছাত্রদের অবস্থান জানাতে হবে এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও বৈধ অভিযোগ থাকলে আইন মেনে আদালতে হাজির করতে হবে। তা না হলে অবিলম্বে তাঁদের মুক্তি দিতে হবে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ, পাকিস্তান রেঞ্জার্স এবং করাচি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছাত্রদের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

    নিখোঁজ বৃদ্ধের দেহ উদ্ধার

    এরই মধ্যে বালোচিস্তানে (Balochistan) আরও একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত মাসে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নিখোঁজ হওয়া এক বৃদ্ধের দেহ লাসবেলা জেলা থেকে উদ্ধার হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম হাইবাতান। তিনি মালো মাররির ছেলে এবং বেলার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ৯ জুলাই বেলা ক্রস এলাকা থেকে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে হাব-সাকরান সড়কের গরিবাবাদ এলাকার কাছে রাস্তার ধারে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দেহে নির্যাতনের চিহ্ন এবং গুলির আঘাতের চিহ্ন ছিল।

    বালোচিস্তানে বাড়ছে উদ্বেগ

    বালোচিস্তানে (Balochistan) জোর করে নিখোঁজ করে দেওয়া ব্যক্তিদের পরে মৃত অবস্থায় উদ্ধারের অভিযোগ নতুন নয়। পরিবার এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলির অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়া অনেক ব্যক্তিকে পরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তা বেআইনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। করাচিতে সাত বালোচ ছাত্রের (Baloch Students) নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ এবং লাসবেলায় এক বৃদ্ধের দেহ উদ্ধারের ঘটনা নতুন করে সেই উদ্বেগই সামনে এনেছে।

  • Hindus Under Attack: দেশে-বিদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, ধর্মান্তর ও বৈষম্যের অভিযোগ

    Hindus Under Attack: দেশে-বিদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, ধর্মান্তর ও বৈষম্যের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের উপর হামলা, ধর্মীয় বিদ্বেষ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, মন্দির ও মূর্তির অবমাননা, উৎসবে বাধা, হিংসা এবং (Hindus Under Attack) প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের অভিযোগ ক্রমেই সামনে আসছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বহু ক্ষেত্রে এই ঘটনাগুলি বিচ্ছিন্ন নয়, বরং হিন্দু পরিচয় ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি বৈষম্যের বৃহত্তর চিত্রের অংশ (Roundup Week)। ১ থেকে ৮ অগাস্ট ২০২৬ সময়ের ঘটনাগুলির একটি সাপ্তাহিক সংকলনে এমনই কয়েকটি অভিযোগ ও বিতর্কের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

    বিবিসির সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    বিবিসির সাংবাদিক সৌতিক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মুঘল শাসকদের অত্যাচারকে আড়াল করা থেকে শুরু করে দোষী সাব্যস্ত তথ্য-জালিয়াতদের পক্ষ নেওয়া পর্যন্ত এমন এক ধরনের বয়ান প্রচার করেছেন, যা ধারাবাহিকভাবে হিন্দুদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে এবং ইসলামপন্থী চরমপন্থাকে আড়াল করে। প্রতিবেদনে তাঁর সাংবাদিকতার ধরনকে হিন্দুবিদ্বেষী মানসিকতার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে। হায়দরাবাদের দুধবাউলি এলাকার শান্তিনিকেতন হাইস্কুলে একটি অনুষ্ঠানকে ঘিরে গুরুতর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, বাধ্যতামূলক প্রাতঃকালীন সমাবেশে কয়েকশো অপ্রাপ্তবয়স্ক পড়ুয়ার সামনে একটি বিদেশি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট-সম্পর্কিত বক্তব্য তুলে ধরা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বহিরাগত অতিথিকে বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ে পড়ুয়াদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিয়োকে ঘিরে অভিযোগ ওঠে, পড়ুয়াদের মধ্যে ইরানের জাতীয় পতাকা বিলি করা হয়েছিল এবং বিদ্যালয় চত্বরে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের ছবি-সহ একটি পোস্টার প্রদর্শিত হয়েছিল। স্কুলের পরিবেশে এমন কর্মসূচির যথার্থতা নিয়ে এরপর প্রশ্ন ওঠে।

    ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করার অভিযোগ

    সংসদে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক অধ্যাপক ভি কামাকোটিকে গোমূত্র বিশেষজ্ঞ বলে কটাক্ষ করার ঘটনাও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এটি নিছক একটি রাজনৈতিক কটাক্ষ নয়, বরং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক পরিসরের একটি অংশে হিন্দু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতি দীর্ঘদিনের অবজ্ঞার প্রকাশ। তাঁদের আরও অভিযোগ, হিন্দু ঐতিহ্যের বৈচিত্র্যময় বিশ্বাস ও আচারকে বিদ্রূপ করার প্রবণতাও এর মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে। পাঞ্জাবের মোহালি জেলায় দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন, শারীরিক অত্যাচার এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারী মোহালির ধাকোলি এলাকার এক হিন্দু মহিলা। তিনি মোহালির পুলিশ সুপারের দফতরে লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন, বিহারের আরারিয়া জেলার বাসিন্দা মীর আরফাক আলি বিয়ের প্রতিশ্রুতির নামে প্রায় পাঁচ বছর ধরে তাঁকে একটি জবরদস্তিমূলক সম্পর্কে আটকে রাখেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং তড়িঘড়ি বিয়ের পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হয় (Hindus Under Attack)। অভিযুক্ত যুবক বর্তমানে বিহারের নিজের গ্রামে পালিয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ।

    শপিং মলে একী কাণ্ড!

    উত্তরপ্রদেশের ইন্দিরাপুরমের একটি শপিং মলে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রায় ২১ সেকেন্ডের ওই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, হাতে বড় একটি ছুরি নিয়ে এক যুবক ক্যালিফোর্নিয়া বুরিটো খাবারের দোকানের এক হিন্দু মহিলা কর্মীকে পরপর চড় মারছেন। এক মহিলা সহকর্মী তাঁকে থামানোর চেষ্টা করলে তাঁকেও ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। রাজস্থান-হরিয়ানা সীমান্তে গবাদি পশু পাচারচক্রের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় নুহ পুলিশ ৩০ বছর বয়সি জাবির নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের দাবি, জাবির দীগ জেলার পাহাড়ি থানার ঘাটমিকা গ্রামের বাসিন্দা এবং গরু পাচারের সঙ্গে যুক্ত। পুলিশের পাল্টা গুলিচালনার সময় তাঁর বাঁ হাঁটুতে গুলি লাগে। পরে তাঁকে নালহারের শহিদ হাসান খান মেওয়াতি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। তাঁর সহযোগী সাহুন পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। তাঁকে ধরতে শুরু হয়েছে (Roundup Week) তল্লাশি। বেঙ্গালুরুর দেবরা জীবনহল্লি এলাকায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা এক সরকারি আধিকারিক কর্তব্যরত অবস্থায় আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। ঘটনায় দস্তগীর, ইয়ারব এবং ইকবালের বিরুদ্ধে পুলিশ ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে।

    বিদেশের ছবি

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন চিকিৎসক করিশ্মা রেড্ডির অভিযোগ, তাঁর নিজের কপালের টিপ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ করার পর তিনি বর্ণবিদ্বেষী ও বিদেশিবিদ্বেষী আক্রমণের শিকার হন। পেশায় প্লাস্টিক সার্জন করিশ্মা জানান, ভিডিওটিতে তিনি এক রোগীর সঙ্গে একটি হালকা মেজাজের কথোপকথনের ঘটনা তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু তার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক বিদ্বেষমূলক মন্তব্য আসতে শুরু করে। কয়েকজন ইউজার তাঁকে ভারতে ফিরে যেতে বলেন। উল্লেখ্য, করিশ্মার জন্ম ও বেড়ে ওঠা (Hindus Under Attack) যুক্তরাষ্ট্রেই।

    হিন্দুবিদ্বেষ নিয়ে উদ্বেগ

    বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে নিহিত হিন্দুবিদ্বেষ বহু ঘৃণাজনিত অপরাধের অন্যতম চালিকাশক্তি। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুবিদ্বেষের প্রকাশ তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট হলেও, ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করা দেশগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও হিন্দুদের প্রতি অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম বৈষম্য দেখা যায় বলেই অভিযোগ। এই ধরনের দৈনন্দিন বৈষম্য অনেক সময় সরাসরি চোখে পড়ে না। তাই সংশ্লিষ্ট আইন, সরকারি নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে এর প্রকৃতি আরও স্পষ্ট হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি নিষিদ্ধ বা সীমিত করার প্রবণতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাইরে থেকে দেখলে এর কারণ পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু প্রতিবেদনের বক্তব্য, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবগুলির উপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং সেগুলির ক্ষেত্রে নীতির সমতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে বিষয়টি অন্যভাবে দেখা যায় (Hindus Under Attack)।

    মনে রাখতে হবে, ওপরের ঘটনাগুলির বেশিরভাগই অভিযোগ, দাবি কিংবা বিতর্কের ভিত্তিতে উপস্থাপিত, সংশ্লিষ্ট সব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যায়নি, আদালতেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে—এমন দাবিও এই প্রতিবেদনে করা হচ্ছে (Roundup Week) না।

     

LinkedIn
Share