Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • India Canada: বছর শেষের আগেই ভারত-কানাডার বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি, জানালেন সীতারামন

    India Canada: বছর শেষের আগেই ভারত-কানাডার বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি, জানালেন সীতারামন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও কানাডার (India Canada) মধ্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই। মঙ্গলবার কানাডার টরন্টোয় এক অনুষ্ঠানে এই আশার কথা শুনিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তিন দিনের (Investment Protection Pact) কানাডা সফরের প্রথম দিনেই টরন্টোয় পৌঁছন তিনি। তাঁর এই সফর গত দশ বছরে কানাডায় প্রথম এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে প্রথম সফর। টরন্টোয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সীতারামন জানান, দুই দেশ চলতি বছরের মধ্যেই বিনিয়োগকারী সুরক্ষা সংক্রান্ত চুক্তির আলোচনা শেষ করার চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, “আমরা চলতি বছরের শেষের মধ্যেই বিনিয়োগকারী সুরক্ষা চুক্তিটি শেষ করার চেষ্টা করব।”

    বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির অগ্রগতি (India Canada)

    তবে চুক্তি সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ভর করবে কানাডার অর্থ ও জাতীয় রাজস্বমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেনের সম্মতির উপর। সীতারামনের সফরে তাঁর সঙ্গে একদল আধিকারিকও রয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনাকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। বৃহস্পতিবার টরন্টোয় দুই দেশের অর্থমন্ত্রীরা প্রথমবারের মতো অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংলাপের সূচনা করবেন। মঙ্গলবার পাল্টা শুল্ক ঘোষণার সময় কানাডার অর্থমন্ত্রী শ্যাম্পেনও জানিয়েছিলেন যে তিনি সীতারামনকে আতিথ্য দেবেন। টরন্টোয় ভারতের কনসুলেট জেনারেল আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেশের কর্পোরেট ও পেশাজীবী মহলের বিশিষ্ট প্রতিনিধিদের সামনে বক্তব্য রাখছিলেন সীতারামন। তাঁর বক্তব্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টিও উঠে আসে।

    অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি

    যদিও সীতারামন সরাসরি উল্লেখ করেননি, তাঁর বলা বছরের শেষের সময়সীমাটি ভারত ও কানাডার মধ্যে প্রস্তাবিত বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির সময়সীমার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ওই চুক্তি নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি চলতি বছরের শেষের মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, ডিসেম্বর মাসে কানাডা সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সফরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে যৌথভাবে বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিতে স্বাক্ষর করার সম্ভাবনা রয়েছে। সীতারামন জানান, ২০১৬ সালে বিনিয়োগ সুরক্ষা সংক্রান্ত যে কাঠামো গ্রহণ করা হয়েছিল, তার পর থেকে ভারত সরকার এই বিষয়ে আরও উদার, অগ্রসর এবং বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, “বিনিয়োগের আর্থিক সুরক্ষা নয়াদিল্লির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় (India Canada)।”

    কী বলছেন সীতারামন

    অনুষ্ঠানে সীতারামনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রকের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরনও। ভারত-কানাডা সম্পর্কের সাম্প্রতিক উন্নতির কথাও (Investment Protection Pact) তুলে ধরেন সীতারামন। ২০২৫ সালের মার্চে কার্নি কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন গতি পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সীতারামনের কথায়, “সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদের মতো অভিন্ন মূল্যবোধ, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক যোগাযোগ এবং উচ্চপর্যায়ের অভূতপূর্ব গতিশীল পারস্পরিক সফর ও আলোচনার ভিত্তিতে এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে।” ভারত ও কানাডাকে বিশ্বের স্বাভাবিক অংশীদার বলেও উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “আমি বিশ্বাস করি, ভারত ও কানাডা বিশ্বের সবচেয়ে স্বাভাবিক অংশীদার। আমরা দু’টি প্রাণবন্ত গণতন্ত্র, যেখানে আইনের শাসনের প্রতি গভীর আস্থা রয়েছে। আমাদের মধ্যে কমনওয়েলথের ঐতিহ্য, একই ধরনের সংসদীয় কাঠামো এবং একই সরকারি ভাষার ঐতিহ্য রয়েছে (India Canada)।”

    ভারত-কানাডার সম্পর্ক

    এদিকে, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যে কানাডার অর্থনীতিতে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, সেই বিষয়েও পরোক্ষভাবে মন্তব্য করেন সীতারামন। মঙ্গলবার সকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করেছে কানাডা। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে পুঁজি যখন নির্ভরযোগ্য অংশীদারের সন্ধান করছে এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ওঠানামা সামলানোর পথ খুঁজছে, তখন ভারত ও কানাডার সামনে আরও গভীর এবং বহুমুখী আর্থিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার বড় সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সীতারামন বলেন, এই সম্ভাবনা কেবল বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিকাঠামো, আর্থিক পরিষেবা, আর্থিক প্রযুক্তি, পরিচ্ছন্ন শক্তি, উদ্ভাবন এবং বৃহত্তর ডিজিটাল অর্থনীতির মতো ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভারত ও কানাডার সামনে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়ার সময়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহযোগিতা জোরদার করা গেলে তা উভয় দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থকেই এগিয়ে নিতে পারে (India Canada)।

    বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা

    এদিকে টরন্টোয় সীতারামনের বুধবারের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কানাডার কর্পোরেট জগতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক। কানাডা-ভারত ব্যবসায়িক পরিষদ এবং ভারতের শিল্প মহলের শীর্ষ সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আর্থিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। ভারত ও কানাডার মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক যোগাযোগও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি এবং বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি—দু’টি উদ্যোগই বাস্তবায়িত হলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে পরিকাঠামো, প্রযুক্তি, শক্তি এবং আর্থিক পরিষেবার মতো ক্ষেত্রে দুই দেশের সংস্থাগুলির পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও আরও প্রসারিত হতে পারে (Investment Protection Pact)। বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা, শুল্কনীতি এবং ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ছে, তখন ভারত-কানাডা সম্পর্কের এই নতুন অর্থনৈতিক অধ্যায়কে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। চলতি বছরের শেষের মধ্যেই বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি এবং বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির অগ্রগতি কতটা হয়, এখন সেটাই দেখার (India Canada)।

    ভারত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার

    অন্যদিকে, কানাডার বিনিয়োগকারীদের জন্য ভারতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। ভারত-কানাডা (India Canada) আর্থিক সহযোগিতা আরও গভীর করার ক্ষেত্রে গিফট সিটি এবং ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেসকে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। বুধবার টরন্টোয় ভারতীয় বংশোদ্ভূত এবং ব্যবসায়ীদের নিয়ে আয়োজিত এক সংবর্ধনায় বক্তব্য রাখেন সীতারামন। সেখানে তিনি বলেন, পরিসর, ধারাবাহিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, তরুণ জনসংখ্যা, ক্রমবর্ধমান ভোগব্যয় এবং দ্রুত সম্প্রসারিত পুঁজিবাজার—এই সবকিছুর এমন সমন্বয় ভারতকে তৈরি করেছে, যার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা অন্যদের পক্ষে কঠিন (Investment Protection Pact)।ভারতের আন্তর্জাতিক আর্থিক পরিষেবা কেন্দ্র গিফট সিটির গুরুত্ব তুলে ধরে সীতারামন বলেন, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য এটি ধীরে ধীরে একটি বৈশ্বিক মঞ্চ হিসেবে উঠে আসছে। সীমান্তপারের আর্থিক কর্মকাণ্ডের কথা মাথায় রেখে তৈরি নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং করব্যবস্থা গিফট সিটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তিনি বলেন, “কানাডার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি শুধু ভারতের প্রবৃদ্ধির অংশীদার হওয়ার সুযোগ তৈরি করছে না, ভারতকে বৃহত্তর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক আর্থিক কর্মকাণ্ডের মঞ্চ হিসেবেও ব্যবহার করার সুযোগ দিচ্ছে।”

    ইউপিআই

    ভারত-কানাডা সহযোগিতার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেসের কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ইউপিআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে (India Canada)। সীতারামন বলেন, “এখানে কানাডার ব্যাঙ্ক, আর্থিক প্রযুক্তি সংস্থা এবং নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে সহযোগিতার উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে। শুধু অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রেই নয়, আগামী প্রজন্মের ডিজিটাল আর্থিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে (Investment Protection Pact)।”

     

  • Mohan Bhagwat in US: গোটা বিশ্ব একটি পরিবার! ম্যাডিসন স্কোয়্যারে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস’ অনুষ্ঠানের আয়োজন, নিউইয়র্কে মোহন ভাগবত

    Mohan Bhagwat in US: গোটা বিশ্ব একটি পরিবার! ম্যাডিসন স্কোয়্যারে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস’ অনুষ্ঠানের আয়োজন, নিউইয়র্কে মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউ ইয়র্কে পা রাখলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat in US)। সংগঠনের শতবর্ষ উদযাপনে তিনটি দেশে সফর করছেন তিনি। তাঁর ১৭ দিনের সফরের প্রথম পর্বে মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে পৌঁছলেন ভাগবত। ‘তিলক’ পরিয়ে আমেরিকার মাটিতে অভ্যর্থনা জানানো হয় তাঁকে। আমেরিকা ছাড়াও কানাডা এবং ইউকে-তেও যাবেন তিনি। আগামী শনিবার নিউ ইয়র্কের ‘ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেন’-এ ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলেব্রেশনস’ (Universal Oneness Celebrations) নামে এক সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন মোহন ভাগবত। সংঘের তরফে জানানো হয়েছে, আরএসএস-এর শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে আয়োজিত নানা কর্মসূচির অংশ হিসেবেই ভাগবতের এই সফর। সফরকালে তিনি প্রবাসী ভারতীয় এবং বিভিন্ন স্থানীয় সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

    রাখি বন্ধনের আবহে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস’ অনুষ্ঠান

    ‘আমেরিকান হিন্দুস ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ’ (AHEAD) ফোরাম’-এর তরফে রাখিবন্ধন উৎসবের প্রেক্ষাপটে এক বিশাল কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের বার্তা দেওয়া হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন আধ্যাত্মিক বিষয়েও বক্তব্য রাখবেন অনেকে। অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও থাকবে। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষও অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী উৎসবের সঙ্গে ঐক্য, নাগরিক দায়িত্ব এবং বিশ্বশান্তির বার্তা তুলে ধরা হবে বলে আয়োজকদের দাবি।

    ভাগবতের সফরের উদ্দেশ্য

    আরএসএস-এর (RSS Chief Event in US) প্রচার প্রমুখ সুনীল আম্বেকর ‘এক্স’-এ পোস্ট করে জানান যে, প্রবাসীদের আমন্ত্রণে ২৫ অগাস্ট থেকে আমেরিকা, কানাডা ও ইউকে সফর করছেন আরএসএস প্রধান। আরএসএস সূত্রে জানানো হয়েছে, এই সফরের উদ্দেশ্য হল, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত, হিন্দু সমাজ এবং আরএসএস সম্পর্কে সঠিক ও ইতিবাচক তথ্য তুলে ধরা। ‘আমেরিকান হিন্দুস ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ’ (AHEAD) ফোরাম’-এর দাবি, গোটা বিশ্ব একটি পরিবার, এই কালজয়ী এবং সর্বজনীন বার্তা দিতেই তরা নিউ ইয়র্কের সভাটি করছে। কৃত্রিম বিভাজন, ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতার বন্ধন, পারস্পরিক সম্মান, সম্প্রীতি এবং ঐক্যের চেতনাকে জোরাল করে তোলাই লক্ষ্য।

    ভাগবতের অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তি মেয়র মামদানির

    তবে ভাগবতের নিউইয়র্ক সফর এবং ম্যাডিসন স্কোয়্যারের অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আরএসএস-এর অনুষ্ঠানের প্রতি তাঁর সমর্থন নেই এবং তিনি ‘বিভাজনমূলক মতাদর্শ’-এর বিরোধী। অনুষ্ঠানটি বাতিল করা উচিত কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে মামদানি বলেন, কোনও বেসরকারি অনুষ্ঠান বাতিল করার ক্ষমতা শহর প্রশাসনের রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। মামদানির বক্তব্য, তিনি নিউইয়র্কের প্রথম ভারতীয়-আমেরিকান মেয়র। তাঁর পরিবার তাঁকে এমন একটি বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের ধারণা দিয়েছে, যেখানে সকলের জন্য জায়গা রয়েছে। কোনও মানুষ বা গোষ্ঠীকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করে এমন মতাদর্শের তিনি বিরোধিতা করেন বলেও জানান। বিখ্যাত পরিচালক মীরা নায়ার এবং শিক্ষাবিদ মেহমুদ মামদানির ছেলে জোহরান। তাঁর মতে, নিউইয়র্কও জাতি, ধর্ম ও পরিচয় নির্বিশেষে সকলকে সমান সুযোগ দেওয়ার নীতিতে বিশ্বাসী।

    আরএসএস নিয়ে ইউএসসিআরএফ-এর মন্তব্য

    ভাগবতের আমেরিকা সফরের আগে ‘ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’ (USCIRF) আরএসএস-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানায়। গত ১৯ অগাস্ট সংস্থাটি মার্কিন সরকারকে আরএসএস নেতাদের সরকারি পর্যায়ে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সৌজন্য না দেখানো এবং তাঁদের সঙ্গে সরকারি বৈঠক না করারও পরামর্শ দেয়। ইউএসসিআরএফ-এর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায় ভারত। ২০ অগাস্ট বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ‘ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’-কে ‘পক্ষপাতদুষ্ট সংগঠন’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই সংস্থাটি ভারত সম্পর্কে ভুল ও উসকানিমূলক মন্তব্য করে আসছে। ফলে তাদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও জানান তিনি।

    মার্চের রিপোর্টেও আরএসএস নিয়ে সুপারিশ

    ইউএসসিআরএফ-এর মার্চ মাসে প্রকাশিত বার্ষিক রিপোর্টেও ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই রিপোর্টে আরএসএস এবং র (R&AW)-সহ কয়েকটি সংগঠন ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। তবে ভারত সরকার সেই রিপোর্টকে ‘বিকৃত ও বেছে নেওয়া তথ্যনির্ভর’ বলে প্রত্যাখ্যান করে। সরকারের বক্তব্য ছিল, রিপোর্টটি এমন কিছু সূত্রের উপর নির্ভর করেছে যাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং ভারতের পরিস্থিতির একটি একপেশে ছবি তুলে ধরা হয়েছে।

    ২০১৮ সালেও আমেরিকা সফর করেছিলেন ভাগবত

    এর আগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরেও আমেরিকা সফর করেছিলেন মোহন ভাগবত। সে সময় শিকাগোয় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। ৭ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে ৬০টি দেশের প্রায় ২,৫০০ প্রতিনিধি অংশ নিয়েছিলেন। উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল বক্তব্যও রাখেন ভাগবত। এবারও আগামী ২৯ অগাস্ট নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়্যার গার্ডেনে সভা রয়েছে ভাগবতের। সেখানে ৫০০০ মানুষের সামনে বক্তৃতা করার কথা তাঁর।

  • India China Talks: চিনা উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করলেন ডোভাল, জোর সীমান্তে শান্তি-দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে

    India China Talks: চিনা উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করলেন ডোভাল, জোর সীমান্তে শান্তি-দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বেজিংয়ে দু’দিনের সফরে গিয়ে মঙ্গলবার চিনের উপ-রাষ্ট্রপতি হান ঝেংয়ের সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA Ajit Doval) অজিত ডোভাল। বৈঠকে ভারত-চিন (India China Talks) সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অর্থনীতি, রাজনীতি এবং বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক আরও উন্নত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে বেজিংয়ে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস।

    ডোভালের চিন সফর (India China Talks)

    ডোভালের চিন সফর এমন একটা সময়ে হচ্ছে, যখন নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের মধ্যে কয়েক বছর ধরে চলা টানাপোড়েনের পর সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হল ভারত-চিন সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৫তম দফার বৈঠক। মঙ্গলবারই চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে সেই বৈঠকে বসার কথা ডোভালের। সীমান্ত-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক নিয়েও মতবিনিময় হওয়ার কথা রয়েছে। হান ঝেংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর চিনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ২৫ অগাস্ট ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং ভারত-চিন সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি অজিত ডোভাল চিনের উপ-রাষ্ট্রপতি হান ঝেংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুই পক্ষ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতাবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে। পাশাপাশি দুই দেশের নেতাদের মধ্যে ইতিমধ্যেই যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, তার ভিত্তিতে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রগুলিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

    গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ব্যবস্থা

    সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের এই আলোচনা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থা ২০০৩ সালে গড়ে ওঠে। এর উদ্দেশ্য হল ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যার একটি সামগ্রিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। এর আগে ২০২৫ সালের অগাস্টে ২৪তম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকে সীমান্ত প্রশ্ন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার বিষয়ে একাধিক সমঝোতা হয়েছিল (NSA Ajit Doval)। এবারের বৈঠকও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। চিনের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক দুই দেশের মধ্যে এই বিষয়ে আলোচনার প্রধান মাধ্যম। একই সঙ্গে এটি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগেরও গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। এবারের আলোচনায় সীমান্ত প্রশ্নের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হওয়ার কথা।

    “গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী” আলোচনা

    ডোভাল ও ওয়াং ই-র মধ্যে এর আগে জুন মাসে নয়াদিল্লিতে সাক্ষাৎ হয়েছিল। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকের ফাঁকে পার্শ্ববৈঠকে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। সেই বৈঠকের পর ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক দুই পক্ষের আলোচনাকে “গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী” বলে বর্ণনা করেছিল। তখন সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক ঘটনাপ্রবাহ পর্যালোচনা করে দুই দেশ ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানিয়েছিল। ভারতীয় পক্ষের বক্তব্য ছিল, স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য এবং গঠনমূলক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দুই দেশের মধ্যে আস্থা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে (India China Talks)। ভারত-চিন সম্পর্কের সাম্প্রতিক গতিপথে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্ক গভীর সংকটের মধ্যে পড়েছিল। পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক উত্তেজনা বজায় ছিল। পরবর্তী সময়ে একাধিক দফায় কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে আলোচনা হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে কাজানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ায় নতুন গতি দেখা যায়।

    মোদি-জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক

    এর পর ২০২৫ সালের ৩১ অগাস্ট চিনের তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ইতিবাচক গতি এবং অগ্রগতিকে স্বাগত জানান। তাঁরা দুই দেশকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং উন্নয়ন-সহযোগী হিসেবে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে মতপার্থক্য যাতে বিরোধে পরিণত না হয়, সেই বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয় (NSA Ajit Doval)। ওই বৈঠকে সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখাকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ এবং একে অপরের সংবেদনশীলতার প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছিল। ভারতীয় পক্ষের মতে, ভারত ও চিনের মধ্যে স্থিতিশীল সহযোগিতা শুধু দুই দেশের উন্নয়নের জন্যই নয়, বহুমেরু বিশ্ব এবং বহুমেরু এশিয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

    ডোভালের বেজিং সফরের গুরুত্ব

    অজিত ডোভালের এবারের বেজিং সফর সেই বৃহত্তর সম্পর্ক-স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে যেমন সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে, তেমনই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন করে আস্থা তৈরির চেষ্টা চলছে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান এখনও হয়নি। ফলে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রেখে আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য কমানোই আপাতত নয়াদিল্লি ও বেজিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য (India China Talks)।আগামী দিনের ভারত-চিন সম্পর্ক কতটা স্থিতিশীল হবে, তার ক্ষেত্রে এই আলোচনাগুলির ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা, সামরিক উত্তেজনা এড়ানো এবং নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপরই দুই দেশের সম্পর্কের পরবর্তী পর্ব অনেকটাই নির্ভর করছে। অজিত ডোভাল ও ওয়াং ই-র ২৫তম দফার বৈঠক তাই শুধু সীমান্ত সমস্যা নিয়ে (NSA Ajit Doval) আলোচনা নয়, বরং বৃহত্তর ভারত-চিন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ (India China Talks)।

     

  • Jaishankar Putin Meet: সেপ্টেম্বরেই ভারতে পুতিন! মস্কোয় বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্টকে মোদির বার্তা পৌঁছে দিলেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর

    Jaishankar Putin Meet: সেপ্টেম্বরেই ভারতে পুতিন! মস্কোয় বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্টকে মোদির বার্তা পৌঁছে দিলেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর (Jaishankar Putin Meet)। সোমবার ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর একটি ব্যক্তিগত বার্তাও পুতিনের হাতে তুলে দেন। একই সঙ্গে ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক অগ্রগতির কথাও রুশ প্রেসিডেন্টকে জানান জয়শঙ্কর। দু’দিনের রাশিয়া সফরের অংশ হিসেবে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিদেশমন্ত্রী। এর আগে তিনি রাশিয়ার প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেনিস মান্তুরভের সঙ্গে ভারত-রাশিয়া আন্তঃসরকারি কমিশনের ২৭তম বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন। বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে টানাপড়েনের আবহে পুতিন-জয়শঙ্করের সাক্ষাৎ ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মনে করছেন কূটনীতিবিদদের একাংশ।

    কী কী নিয়ে বৈঠকে আলোচনা

    বৈঠকে জয়শঙ্কর জানান, ভারত-রাশিয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাণিজ্য, জ্বালানি, সার, পরমাণু শক্তি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জয়শঙ্কর বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসন্ন সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) শীর্ষ সম্মেলনে পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য অপেক্ষা করছেন। পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানানোর জন্যও প্রধানমন্ত্রী মোদির আমন্ত্রণ তিনি পৌঁছে দেন। ভবিষ্যতে দুই দেশের বার্ষিক শীর্ষ বৈঠক নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানান বিদেশমন্ত্রী।

    পুতিন-জয়শঙ্কর সাক্ষাত

    এর আগে গত বছরের ২১ আগস্ট ক্রেমলিনে গিয়ে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর। এক বছর পরে পুতিনের মুখোমুখি হয়ে জয়শঙ্কর সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে রুশ প্রেসিডেন্টকে শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁর লেখা একটি ব্যক্তিগত চিঠি হাতে তুলে দেন। বৈঠকে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে (প্রায় ৯ লক্ষ ৫৭ হাজার কোটি টাকা) নিয়ে যাওয়ার রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা হয়। গুরুত্ব দেওয়া হয় ওষুধ (ফার্মাসিউটিক্যালস) এবং শিপিং সেক্টরকে (জাহাজ চলাচল)। পাশাপাশি, জ্বালানি ও পরমাণু সহযোগিতা বৃদ্ধি, দ্বিপাক্ষিক সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে গঠিত আন্তঃসরকারি কমিশনের রিপোর্ট, ইউক্রেন যুদ্ধের মতো বিষয়ও এসেছে আলোচনায়।

    মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের আশা পুতিনের

    জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জয়শঙ্করের সফর গত কয়েক দশকে গড়ে ওঠা দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতারই প্রতিফলন। সরকারি ও সংসদীয় যোগাযোগের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে চলেছে বলে জানান তিনি। চলতি বছরে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করেন পুতিন। ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যক্তিগত মনোযোগের প্রশংসা করে তিনি তাঁর শুভেচ্ছা মোদির কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন। পাশাপাশি এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের আশাও প্রকাশ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

    ভারতের পাশে থাকার বার্তা রাশিয়ার

    ফের ভারতের পাশে থাকার বার্তা রাশিয়ার। পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাতের কারণে যে ব্যাঘাত ঘটেছে তারমধ্যেই ভারতকে জ্বালানি ও সার সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ক্রমবর্ধমান ভারসাম্যহীনতা-যা ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, তা নিরসনের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছেন। পুতিন উল্লেখ করেছেন যে, ২০২৫ সালে কিছুটা কমে যাওয়ার পর এ বছর আবার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়েছে । তিনি জানান যে, রাশিয়া ভারতে সার সরবরাহ বাড়াচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইআরআইজিসি-টিইসি (IRIGC-TEC) বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, “এর মধ্যে বিষয় কেবল জ্বালানি নয়- অবশ্যই সার সরবরাহও… ভারতীয় কৃষক ও কৃষিখাতের স্বার্থে এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। আমরা এই সরবরাহ বৃদ্ধি করছি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত।”

    সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন

    আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলন। ভারত এই সম্মেলনের আয়োজক দেশ। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি—এই ১১টি দেশ বর্তমানে ব্রিকস-এর সদস্য। বিশ্ব ও আঞ্চলিক রাজনীতি, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সদস্য দেশগুলির মধ্যে আলোচনা ও সহযোগিতার অন্যতম মঞ্চ ব্রিকস। আসন্ন সম্মেলনে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং সহযোগিতা আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    ভারত-রাশিয়া সহযোগিতায় জোর

    ভারত-রাশিয়া আন্তঃসরকারি কমিশনের বৈঠকে বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি এদিন বৈঠকে পরমাণু সহযোগিতা বৃদ্ধি, দুই দেশের বাণিজ্যপথ সহজ করতে আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহণ করিডর ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করেন জয়শংকর-পুতিন।ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মতে, সমসাময়িক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক এখনও অত্যন্ত স্থিতিশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিরক্ষা, পরমাণু শক্তি ও মহাকাশের মতো ঐতিহ্যগত ক্ষেত্রের পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। পাশাপাশি বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও দুই দেশ পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে।

  • Piyush Goyal: ভারতে জাপানি সংস্থার সংখ্যা দ্বিগুণ করার আহ্বান পীযূষ গোয়েলের

    Piyush Goyal: ভারতে জাপানি সংস্থার সংখ্যা দ্বিগুণ করার আহ্বান পীযূষ গোয়েলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার লক্ষ্যে বড়সড় প্রস্তাব দিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল (Piyush Goyal)। ভারতে জাপানি সংস্থাগুলির উপস্থিতি আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি চলতি দশকের মধ্যে দেশে সক্রিয় জাপানি সংস্থার সংখ্যা (Infra Energy Tech) দ্বিগুণ করার কথা বলেছেন। জাপানে ভারতের এখনও পর্যন্ত বৃহত্তম ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন গোয়েল। দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ককে বিনিয়োগ, উৎপাদন, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের আরও শক্তিশালী ভিত্তিতে পরিণত করাই তাঁর সফরের অন্যতম লক্ষ্য।

    ভারতে জাপানি ব্যবসার পরিসর দ্বিগুণ করার লক্ষ্য (Piyush Goyal)

    বর্তমানে ভারতে ১,৪০০-র বেশি জাপানি সংস্থা কাজ করছে। তবে গোয়েলের মতে, দুই বৃহৎ এশীয় অর্থনীতির সম্ভাবনার তুলনায় এই উপস্থিতি এখনও খুবই সীমিত। জাপান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির জাপান-ইন্ডিয়া বিজনেস কনসালটেটিভ কমিটি এবং টোকিওয় ভারতীয় দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি বলেন, চলতি দশকেই ভারতে জাপানি সংস্থাগুলির উপস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ হওয়া উচিত। গোয়েল বলেন, “আমি মনে করি, চলতি দশকের মধ্যে বর্তমানে ভারতে কাজ করা জাপানি সংস্থার সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়া উচিত।” ২৪ থেকে ২৭ অগাস্ট পর্যন্ত চার দিনের সফরে তিনি ২০০-র বেশি সদস্যের একটি ভারতীয় ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই দলে উৎপাদন, অর্ধপরিবাহী শিল্প, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, ইস্পাত, গাড়ি শিল্প, আর্থিক পরিষেবা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং প্রযুক্তি-নির্ভর নতুন উদ্যোগের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

    জাপানকে পরবর্তী প্রবৃদ্ধির অংশীদার হিসেবে দেখছে ভারত

    ভারতের দ্রুত সম্প্রসারিত অর্থনীতি এবং উৎপাদনভিত্তিক পরিকাঠামোকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে জাপানি সংস্থাগুলির সামনে তুলে ধরেছেন গোয়েল। তাঁর বক্তব্য, ভারত ও জাপান পরস্পরের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে জাপানের দক্ষতা ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। জাপানি সংস্থাগুলিকে ভারতের উন্নয়নের যাত্রায় আরও ঘনিষ্ঠভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গোয়েল বলেন, ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তির সময় ভারত ৪ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থনীতি থেকে ৩০ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে (Infra Energy Tech)। দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে তিনি জাপানের ‘কাইজেন’ বা ধারাবাহিক উন্নতির নীতির কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, ভারতের সঙ্গে জাপানের সহযোগিতা শুধু পণ্য বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। উৎপাদন, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং ভারতকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও যৌথ উদ্যোগ বাড়াতে হবে (Piyush Goyal)।

    অর্ধপরিবাহী, এআই ও উন্নত উৎপাদনে নজর

    গোয়েলের চার দিনের সফরে টোকিও, নাগোয়া এবং ওসাকায় সরকারি ও ব্যবসায়িক স্তরে একাধিক বৈঠক রয়েছে। টোকিওয় তিনি জাপানের বড় শিল্পগোষ্ঠী ও শিল্প সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এছাড়া জাপান বিজনেস ফেডারেশনের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এই সংগঠনের সঙ্গে জাপানের ১,৫০০-র বেশি ব্যবসায়িক সংস্থা যুক্ত রয়েছে। টোকিও পর্বে অর্ধপরিবাহী শিল্প, এআই, নতুন উদ্যোগ এবং বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ নিয়ে পৃথক আলোচনা হচ্ছে। জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া রিয়োসেইয়ের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন গোয়েল। পাশাপাশি জাপান সরকারের শীর্ষ কর্তাব্যক্তি ও সংসদীয় নেতাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক রয়েছে। ভারতকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান উৎপাদন ও প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনার সঙ্গেই এই উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ। সূক্ষ্ম উৎপাদন, গাড়ি প্রযুক্তি, রোবোটিক্স, ইলেকট্রনিক্স এবং শিল্পক্ষেত্রে উদ্ভাবনে জাপানের দক্ষতা ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা কর্মসূচির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

    নাগোয়া ও ওসাকায় বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরবে ভারত

    পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিনিধি দল যাবে জাপানের গাড়ি ও শিল্প উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র নাগোয়ায়। সেখানে মধ্য জাপান অর্থনৈতিক ফেডারেশন এবং নাগোয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে ব্যবসায়িক প্রদর্শনী ও বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন গোয়েল। আইচি প্রদেশের প্রশাসনিক নেতৃত্ব এবং গাড়ি ও ইস্পাত শিল্পের বড় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। সফরের শেষ পর্বে ওসাকায় বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের নিয়ে একাধিক কর্মসূচি হবে। ইলেকট্রনিক্স, শিল্প সরঞ্জাম এবং ভোগ্যপণ্য খাতের জাপানি সংস্থাগুলির সঙ্গেও বৈঠক করবেন ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। এই বৈঠকগুলির মাধ্যমে ভারতের উৎপাদন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং ভোক্তা বাজারে বিনিয়োগের সুযোগগুলি তুলে ধরার পাশাপাশি জাপানি (Infra Energy Tech) বিনিয়োগকারীদের ভারতের দ্রুত বিকাশমান নতুন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রগুলির সঙ্গে যুক্ত করাই লক্ষ্য (Piyush Goyal)।

    ওষুধ, জ্বালানি ও পরিকাঠামোয়ও বাড়ছে সহযোগিতা

    টোকিওয় জাপানের একাধিক সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পীযূষ গোয়েল। তাঁদের মধ্যে রয়েছে মেইজি সেইকা ফার্মা এবং সুমিতোমো কর্পোরেশনের প্রতিনিধিরা। মেইজি সেইকার সঙ্গে বৈঠকে ভারতে তাদের উৎপাদন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সুমিতোমোর সঙ্গে আলোচনায় জ্বালানি রূপান্তর, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং শিল্প পরিকাঠামোয় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সুমিতোমো কর্পোরেশনের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শিনগো উএনোর সঙ্গে বৈঠকের পর গোয়েল বলেন, “ভারতের বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং সম্প্রসারিত উৎপাদন ব্যবস্থা আরও বৃহত্তর সহযোগিতার বিপুল সুযোগ তৈরি করছে। এর ফলে ভারত-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে।” মেইজি সেইকা ফার্মার সভাপতি ও প্রতিনিধি পরিচালক তোষিয়াকি নাগাসাতোর সঙ্গেও বৈঠক করেন গোয়েল। সেখানে ওষুধ শিল্পে ভারত-জাপান সহযোগিতা বাড়ানো এবং ভারতে সংস্থাটির উৎপাদন ও গবেষণা-উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। গোয়েল বলেন, ভারতের ওষুধ শিল্পের পরিকাঠামো জাপানি অংশীদারদের জন্য উৎপাদন বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি অর্জনের বড় সুযোগ তৈরি করছে। মিতসুবিশি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি পরিচালক জুরো বাবার সঙ্গেও বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী। ভারতে মিতসুবিশি কর্পোরেশনের নয় দশকেরও বেশি সময়ের উপস্থিতির ভিত্তিতে পরিবহণ, জ্বালানি এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। গোয়েল বলেন, “শিল্পের প্রবৃদ্ধি এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খলকে সমর্থন করে এমন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারতের অবস্থান শক্ত করার লক্ষ্য

    ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে (Piyush Goyal) বিশ্বের বড় সংস্থাগুলি বর্তমানে তাদের সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট কয়েকটি উৎপাদনকেন্দ্রের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর প্রবণতাও বাড়ছে (Infra Energy Tech)। ভারতের কাছে এই পরিস্থিতি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির বিকল্প উৎপাদনকেন্দ্র এবং রফতানি কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জাপানি বিনিয়োগ শুধু মূলধনই আনবে না, এর সঙ্গে উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, আধুনিক শিল্পকৌশল এবং আন্তর্জাতিক মূল্য শৃঙ্খলের সঙ্গে আরও (Infra Energy Tech) গভীর সংযোগও তৈরি হতে পারে। ভারত-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের পরবর্তী পর্যায়ে এই সহযোগিতাকেই আরও (Piyush Goyal) বিস্তৃত করতে চাইছে নয়াদিল্লি।

     

  • Baloch Liberation Army: বালোচিস্তানে সেনা কনভয়ে হামলা, ১৩ পাক সেনা নিহত, দাবি বিএলএর

    Baloch Liberation Army: বালোচিস্তানে সেনা কনভয়ে হামলা, ১৩ পাক সেনা নিহত, দাবি বিএলএর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশের (Pakistani Military Convoy) মাস্তুং জেলায় সেনাবাহিনীর একটি কনভয়ে ভয়াল হামলা এবং পরবর্তী অতর্কিত হামলায় ১৩ জন সামরিক সদস্য নিহত এবং অন্তত ১০ জন জখম হয়েছেন বলে দাবি করেছে বালোচ লিবারেশন আর্মি (Baloch Liberation Army)।

    সংগঠনের মুখপাত্র জিয়েন্দ বালোচ জানিয়েছেন, ২২ অগাস্ট রাতে মাস্তুং জেলার খাদকোচা এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি সাঁজোয়া গাড়িকে বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে আর একটি সাঁজোয়া গাড়ি ও কনভয়ের সঙ্গে থাকা অন্যান্য যানবাহনের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

    জিয়েন্দ বালোচ বলেন, “এই ভয়াবহ হামলায় দখলদার বাহিনীর ১৩ জন সদস্য নিহত এবং ১০ জনেরও বেশি জখম হয়েছে।” তিনি জানান, এই অভিযানে সংগঠনটির বিশেষ কৌশলগত অভিযান দল অংশ নেয়।

    এর আগে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র বালোচিস্তান পোস্টকে জানিয়েছিল, বিস্ফোরণে একটি সাঁজোয়া গাড়ি ধ্বংস এবং আর একটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে সশস্ত্র ব্যক্তিরা সেনা কনভয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে আরও একটি সামরিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত করে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের।

    হামলার পর অনির্দিষ্টকালের কারফিউ (Baloch Liberation Army)

    হামলার পর ২৩ অগাস্ট সকাল ৭টা থেকে খাদকোচা ও আশপাশ এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করেছে বালোচিস্তান স্বরাষ্ট্র দফতর। স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের মধ্যে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক ও বাজারে যাতায়াত করাও বন্ধ রাখা হয়েছে।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ এবং এলাকায় চলমান অভিযানের কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে (Pakistani Military Convoy)।

    এদিকে ২৩ অগাস্ট তুরবাতের হায়রাবাদ এলাকায় পৃথক একটি হামলায় তিন পাক সেনা নিহত এবং আরও তিনজন জখম হয়েছে বলেও দাবি করেছে বালোচ লিবারেশন আর্মি। যদিও সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, হায়দরাবাদে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একটি তল্লাশি দলের ওপর হামলা হলেও তিন সদস্যই আহত হয়েছেন।

    কর্তাদের বক্তব্য, তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা ছ’জন সশস্ত্র ব্যক্তি একটি গ্রেনেড নিক্ষেপের পর গুলি চালায়। পরে বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা গুলি চালালে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

    বালোচ লিবারেশন আর্মির আরও দাবি করেছে, নোশকি, কালাত, খারান, ওয়াশুক, জেহরি ও চাগাইসহ বিভিন্ন এলাকায় তারা আরও আটটি অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানের বিস্তারিত তথ্য সংগঠনটির পরবর্তী সাপ্তাহিক বিবৃতিতে জানানো হবে বলেও দাবি করা হয়েছে (Baloch Liberation Army)।

    সাঁজোয়া গাড়ি ধ্বংস

    স্থানীয় সূত্রে খবর, খাদকোচায় সামরিক কনভয়ের অংশ হিসেবে চলাচলকারী একটি বড় সাঁজোয়া গাড়ি বিস্ফোরণে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। অন্য একটি সাঁজোয়া গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে সশস্ত্র ব্যক্তিরা কনভয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালালে আরও একটি সামরিক গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    আঞ্চলিক সূত্রগুলি জানিয়েছে, দুই সামরিক সদস্যের মরদেহ এবং আটজন আহত সেনাকে মাস্তুংয়ের নওয়াব গাউস বখশ রাইসানি মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্য আহতদের হেলিকপ্টারে করে কোয়েটার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও খবর (Pakistani Military Convoy)। তবে এই হামলায় হতাহতের বিষয়ে পাক কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিক কিছু বলেননি।

    খাদকোচা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

    খাদকোচায় সর্বশেষ হামলার আগে ১৭ জুলাই ওই একই এলাকায় বড় ধরনের আর একটি হামলা হয়েছিল। সেদিন কোয়েটা থেকে করাচির দিকে যাওয়া ১৮টিরও বেশি বাস ও নিরাপত্তাবাহিনীর যানবাহন নিয়ে গঠিত একটি কনভয়ে হামলা হয়। সেই হামলার দায়ও বালোচ লিবারেশন আর্মি স্বীকার করেছিল এবং বহু সামরিক সদস্য নিহত বা আহত হওয়ার দাবি করেছিল সংগঠনটি।

    এদিকে ২২ অগাস্ট রাতেই মাস্তুং জেলার খাদকোচার কাছে আনজেরি ক্রস এলাকায় জাতীয় মহাসড়ক এন-২৫-এর একটি সেতু বিস্ফোরণে ধ্বংস করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা বিস্ফোরক ব্যবহার করে সেতুটিতে হামলা চালায়। যদিও, হতাহতের খবর  মেলেনি।

    সেতুটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা মহাসড়কে যান চলাচলে এর কী প্রভাব পড়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি কর্তৃপক্ষ। বালোচিস্তানকে (Baloch Liberation Army) করাচি ও পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথগুলির একটি হল এই মহাসড়ক (Pakistani Military Convoy)।

    এক সপ্তাহের মধ্যে এটি সেতুতে তৃতীয় হামলার ঘটনা বলে জানা গিয়েছে। ২১ অগাস্ট খুজদারের জিদি এলাকায় একটি সেতু বিস্ফোরণে ধ্বংস করা হয় বলে খবর মিলেছে। এর আগে খারানের সোটাগান এলাকায় খারান-করাচি মহাসড়কের একটি সেতু ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ভেঙে ফেলার খবরও পাওয়া যায়।

    তবে সেতুগুলিতে চালানো এসব হামলার কোনওটির দায় স্বীকার করে সোমবার সন্ধে (Baloch Liberation Army) পর্যন্তও বিবৃতি দেয়নি কোনও সংগঠন (Pakistani Military Convoy)।

     

  • Balochistan: বালুচিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি, ২০২৫ সালে ১,৪৮২ গুমের অভিযোগ

    Balochistan: বালুচিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি, ২০২৫ সালে ১,৪৮২ গুমের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বালুচিস্তানে ২০২৫ সালে মানবাধিকার পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে বলে দাবি করেছে বালুচিস্তানের মানবাধিকার পরিষদ। সংগঠনটির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর জোরপূর্বক গুম, হত্যা এবং নাগরিক (Balochistan) স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকেও সন্ত্রাসবাদ হিসেবে চিহ্নিত করে কর্মী ও অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

    “বালুচিস্তান: ২০২৫ সালে মানবাধিকারের (Human Rights Crisis) পরিস্থিতি” শীর্ষক প্রতিবেদনে বছরজুড়ে নথিভুক্ত বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এসব ঘটনার অনেকগুলির জন্য পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং রাষ্ট্রসমর্থিত সশস্ত্রবাদী গোষ্ঠীগুলিকে দায়ী করেছে সংগঠনটি।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বালুচিস্তানে জোরপূর্বক গুমের ১,৪৮২টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ৭৯ শতাংশ বেশি। নিখোঁজদের মধ্যে ১০৮ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক বলেও দাবি করা হয়েছে।

    একই সময়ে ৫৯৮টি হত্যার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার পরিষদ। ২০২৪ সালের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। নিহতদের মধ্যে ২৯ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নথিভুক্ত হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ৩২৫টির জন্য পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও রাষ্ট্রসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে দায়ী করা হয়েছে। এই সংখ্যা মোট হত্যাকাণ্ডের অর্ধেকেরও বেশি। মানবাধিকার পরিষদের নথিতে সবচেয়ে বেশি যে সংস্থার নাম এসেছে, সেটি হল ফ্রন্টিয়ার কর্পস। সংগঠনটির দাবি, ওই বাহিনীর সঙ্গে ৮৯৭টি জোরপূর্বক গুম এবং ১৯৫টি হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে।

    সাংবাদিক, আইনজীবী ও প্রতিবাদকারীরাও নিশানায় (Balochistan)

    শুধু গুম ও হত্যাকাণ্ড নয়, ২০২৫ সালে সাংবাদিক, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীরাও আইনি হয়রানি, নির্বিচারে আটক এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

    মানবাধিকার পরিষদের দাবি, বৃহৎ সামরিক অভিযান, যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ রাখা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধের মধ্যেই এসব ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মী ও মানবিক সহায়তাকর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহারের প্রবণতাও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    সংগঠনটি নিজেকে বালুচিস্তান (Balochistan) ও সুইডেনভিত্তিক একটি অলাভজনক ও নির্দলীয় মানবাধিকার সংগঠন হিসেবে পরিচয় দেয়।

    তবে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ধারাবাহিকভাবে পরিকল্পিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। তাদের দাবি, বালুচিস্তানে নিরাপত্তা অভিযান আইন মেনেই পরিচালিত হয় এবং এসব অভিযানের উদ্দেশ্য হল সশস্ত্র তৎপরতা দমন ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা।

    নজরদারি ও দমনের বিস্তৃত কাঠামোর অভিযোগ

    প্রতিবেদনে পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং গোয়েন্দা ব্যুরোর বিরুদ্ধে বালুচ সমাজের ওপর ব্যাপক নজরদারি চালানোর অভিযোগও করা হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, গোয়েন্দা সংস্থাগুলি ডিজিটাল ও মানবভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে অধিকারকর্মীদের আত্মীয়স্বজনের ওপর নজর রাখছে, বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে এবং গোপন আটককেন্দ্র পরিচালনা করছে।

    এ ছাড়া টেলিফোনে আড়িপাতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য ব্যবহার করে সম্ভাব্য রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিরোধীদের শনাক্ত করার অভিযোগও রয়েছে।

    এই নজরদারির পরিধি বালুচিস্তানের বাইরেও সিন্ধু ও পাঞ্জাব প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। সেখানে নিরাপত্তার সন্ধানে বালুচিস্তান থেকে পালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থী ও উদ্বাস্তুদেরও নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।

    করাচিতেও শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও রাজনৈতিক কর্মীদের নিয়মিত জোরপূর্বক গুম করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    নিরাপত্তা বাহিনী ও পাল্টা-সন্ত্রাস কাঠামোর বিরুদ্ধে অভিযোগ

    প্রতিবেদনে ফ্রন্টিয়ার কর্পসের বিরুদ্ধে বেআইনি তল্লাশি চৌকি পরিচালনা, তোলাবাজি এবং অপহরণের অভিযোগ তোলা হয়েছে। পাশাপাশি সন্ত্রাস দমন বিভাগকে বেআইনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত একটি কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    মানবাধিকার পরিষদের অভিযোগ, পাহাড়ি এলাকায় সামরিক বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির পর আগে অপহৃত বালুচ অসামরিক নাগরিকদের গোপন আটকস্থান থেকে বের করে হত্যা করা হয় এবং পরে তাদের সশস্ত্র সংঘর্ষে নিহত জঙ্গি হিসেবে দেখানো হয়। সংগঠনটির মতে, এই ধরনের সাজানো সংঘর্ষের মাধ্যমে সামরিক ব্যর্থতা আড়াল করার (Balochistan) চেষ্টা করা হয়।

    ২০২৬ সালেও গুমের ধারা অব্যাহত থাকার দাবি

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরুতেও কেচ, কোয়েটা ও গোয়াদরের মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জোরপূর্বক গুমের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    শিক্ষার্থী, অধ্যাপক, কবি ও চিকিৎসকদের রাতের অন্ধকারে সামরিক পোশাক পরা মুখোশধারী ব্যক্তিরা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এরপর তাদের গোপন আটককেন্দ্রে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।

    কিছু ক্ষেত্রে নিখোঁজ ব্যক্তিদের মৃতদেহ প্রত্যন্ত এলাকায় ফেলে রাখা বা অজ্ঞাত গণকবরে দাফন করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে (Human Rights Crisis)।

    রাষ্ট্রসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর অভিযোগ

    পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব স্থানীয় অপরাধী ও ভাড়াটে গোষ্ঠীগুলিকে ব্যবহার করে অসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে দমনমূলক অভিযান চালাচ্ছে—এমন অভিযোগও করেছে মানবাধিকার পরিষদ।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব রাষ্ট্রসমর্থিত গোষ্ঠীর মধ্যে মাদক পাচারকারী ও স্থানীয় ভাড়াটে যোদ্ধারাও রয়েছে। তারা রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের টার্গেট করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    সাংবাদিক আসিফ খান খেতরান এবং প্রয়াত সাংবাদিক সাজিদ হুসাইন বালুচের মতো ব্যক্তিদেরও এই ধরনের গোষ্ঠী টার্গেট করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিহত অধ্যাপক ও কবি ঘামখোয়ার হায়াতের হত্যাকাণ্ডেও এমন গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিশিষ্ট বালুচি নারী কবি হাবিবা পীরজানকে দ্বিতীয়বার অপহরণের সঙ্গেও এসব গোষ্ঠী জড়িত ছিল বলে দাবি করা হয়েছে (Balochistan)।

    দমন-পীড়নই কি উল্টো প্রতিরোধ বাড়াচ্ছে?

    প্রতিবেদনের শেষাংশে বলা হয়েছে, বালুচিস্তানে দমন-পীড়ন যত বাড়ছে, ততই তা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিরোধের মনোভাবকে শক্তিশালী করতে পারে।

    প্রতিবেদনটির বক্তব্য, একজন শিক্ষার্থীকে গুম করা, একজনের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ ফেলে রাখা কিংবা রাষ্ট্রসমর্থিত গোষ্ঠীর হামলা—এসব পদক্ষেপ সশস্ত্র প্রতিরোধকে দমন করার বদলে উল্টে সেটিকে আরও বৈধতা দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এতে নিখোঁজ বা নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও প্রতিরোধের মনোভাব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে মত প্রকাশ করা হয়েছে (Human Rights Crisis)।

    তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এই প্রতিবেদনে উপস্থাপিত হয়নি। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষও পরিকল্পিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করে বালুচিস্তানের নিরাপত্তা অভিযানকে আইনসম্মত এবং সশস্ত্র তৎপরতা মোকাবিলার (Balochistan) অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

     

  • Hindu Family Killed: বাংলাদেশে অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক-সহ হিন্দু পরিবারের চার সদস্যকে খুন

    Hindu Family Killed: বাংলাদেশে অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক-সহ হিন্দু পরিবারের চার সদস্যকে খুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) রংপুরে একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের চার সদস্যের পচাগলা দেহ উদ্ধার করেছে (Hindu Family Killed) পুলিশ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত এক স্কুলশিক্ষক, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও বছর বারোর ছেলে। শনিবার রাতে রংপুর শহরের কামালকাছনা মাচুয়াপাড়া এলাকার বাড়ি থেকে তাঁদের দেহ উদ্ধার হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, বাড়িটির মূল ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। বাড়ির ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে চারজনের দেহ উদ্ধার করে।

    নিহতরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তাঁর স্ত্রী প্রতিলতা চক্রবর্তী বালা, মেয়ে কান্তি চক্রবর্তী এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী।

    বাড়ির বিভিন্ন স্থান থেকে দেহ উদ্ধার (Hindu Family Killed)

    রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্তা নাজমুল কাদের জানান, বাড়ির ভেতরে ও আশপাশের বিভিন্ন জায়গা থেকে চারজনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

    গণপতির দেহ পাওয়া যায় বাড়ির ছাদে। প্রতিলতা ও তাঁর মেয়ের দেহ মেলে তিনতলায় ওঠার সিঁড়িতে। আর ছেলের দেহ উদ্ধার হয় একটি খাটের নীচ থেকে।

    পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কিছু সময় ধরে বাড়িটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। পরিবারের কাউকে বাড়ির বাইরে দেখা না যাওয়া এবং ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হওয়ায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়।

    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙে বাড়িতে ঢোকে, উদ্ধার করে দেহ।

    বৃহস্পতিবার রাতে শেষ কথা হয় পরিবারের সঙ্গে

    প্রতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট রাতে তিনি তাঁর দিদির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষবারের মতো ফোনে কথা বলেছিলেন।

    তিনি জানান, শনিবার পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে রাত ৯টার দিকে স্বামীর সঙ্গে গণপতির বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, বাড়ির মূল ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। তখনই সন্দেহ হওয়ায় পূজা বাংলাদেশের জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। তাঁকে কোতোয়ালি থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়। পরে পুলিশ আসে (Hindu Family Killed)।

    অবসর নেওয়ার পরেও চিকিৎসা পরিষেবা দিতেন গণপতি

    গণপতি গত বছরের ডিসেম্বরে রংপুর জেলা স্কুল থেকে অবসর নেন। এর পর তিনি রংপুর সমবায় বাজারে একটি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে চিকিৎসা পরিষেবা দিতেন।

    তাঁর মেয়ে কান্তি কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। ছেলে প্রিয়ম রংপুর জেলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়া ছিল।

    তদন্তে পুলিশ ও সিআইডি

    পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর কারণ জানতে বাড়ি থেকে বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করছে পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ। রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্তা নাজমুল কাদের বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর সময় মূল ফটকটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। অপরাধ তদন্ত বিভাগের কর্তারা ঘটনাস্থল থেকে নথি সংগ্রহ করছেন। শুরু হয়েছে তদন্ত।

    মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আপাতত একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিকল্পিত হত্যা, ডাকাতি কিংবা পারিবারিক কোনও ঘটনা।

    রংপুর অপরাধ তদন্ত বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক সুমিত চৌধুরী জানান, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে ডাকাতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তবে বিস্তারিত তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

    দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পরেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

    হিন্দু পরিবারকে ঘিরে হামলার উদ্বেগের মধ্যেই ঘটনা

    ২০২৪ সালের অগাস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকার পরিবর্তনের পর দেশটির হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর হামলা ও হিংসার অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত। সেই প্রেক্ষাপটে রংপুরের এই ঘটনা নতুন করে নজর কেড়েছে।

    তবে এই ঘটনায় পরিবারের হিন্দু পরিচয়ের সঙ্গে মৃত্যুর কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও তদন্তকারীরা নিশ্চিত করতে (Bangladesh) পারেননি। একইভাবে চারজনের মৃত্যুর পেছনে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা কারণও এখনও স্পষ্ট নয় (Hindu Family Killed)।

     

  • Indian Americans: ক্যালিফোর্নিয়ায় ৮ নভেম্বর ‘দীপাবলি দিবস’, উৎসবে যোগ দেওয়ার আহ্বান বাসিন্দাদের

    Indian Americans: ক্যালিফোর্নিয়ায় ৮ নভেম্বর ‘দীপাবলি দিবস’, উৎসবে যোগ দেওয়ার আহ্বান বাসিন্দাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট অ্যাসেম্বলি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের ৮ নভেম্বরকে ‘দীপাবলি দিবস’ (Deepawali) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যের বাসিন্দাদের আলোর উৎসব দীপাবলি উদ্‌যাপনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে ভারতীয়-আমেরিকান (Indian Americans) সম্প্রদায়ের কাছে দীপাবলির গভীর সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে তুলে ধরার পাশাপাশি ঐক্য, উদারতা, ইতিবাচকতা, জ্ঞান ও আত্মবিশ্লেষণের মতো সর্বজনীন মূল্যবোধের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার এই স্বীকৃতি ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সভ্যতাগত সমৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ‘সফট পাওয়ারে’রও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    দীপাবলির সর্বজনীন বার্তাকে স্বীকৃতি (Indian Americans)

    ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট অ্যাসেম্বলি ২০ অগাস্ট, বৃহস্পতিবার, এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করে। অ্যাসেম্বলি সদস্য দর্শনা প্যাটেল এবং অ্যাশ কালরা প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। দীপাবলিকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়-আমেরিকান এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বৃহত্তর ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায়ের প্রতি অ্যাসেম্বলি তার “গভীরতম শ্রদ্ধা” প্রকাশ করেছে।

    প্রস্তাবে বলা হয়েছে, “অ্যাসেম্বলি চলতি বছরের দীপাবলি উৎসবকে রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬ হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের এই আনন্দময় উদ্‌যাপনের দিনে অংশ নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করছে।”

    আমেরিকাজুড়ে দীপাবলির সাংস্কৃতিক গুরুত্ব ক্রমশ বাড়তে থাকার সময়েই ক্যালিফোর্নিয়ার এই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ ও জৈন সম্প্রদায়ের মানুষ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক রীতি ও ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে দীপাবলি উদ্‌যাপন করেন।

    প্রস্তাবে দীপাবলিকে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন উৎসব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই উৎসব পরিবার, বন্ধু ও বিভিন্ন সম্প্রদায়কে একত্রিত করে। উদারতা, ঐক্য, আনন্দ, কৃতজ্ঞতা এবং আত্মবিশ্লেষণকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই উৎসব বিভিন্ন সম্প্রদায় নিজেদের ঐতিহ্য অনুযায়ী পালন করে। সাধারণত ঘরবাড়ি মোমবাতি, তেলের প্রদীপ, মাটির প্রদীপ দিয়ে আলোকিত করা হয়। অনেক জায়গায় আতশবাজিও পোড়ানো হয় দীপাবলি উদ্‌যাপনের অন্যতম অংশ হিসেবে।

    প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই ঐতিহ্যগুলির মধ্যে নিহিত রয়েছে অশুভের বিরুদ্ধে শুভর জয়ের বৃহত্তর বার্তা। একই সঙ্গে সংগ্রাম অতিক্রম করা, নেতিবাচকতা থেকে মুক্তি, ইতিবাচকতা ও বিনয়কে গ্রহণ করা এবং ব্যক্তিগত প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষের প্রতি সদয় থাকার মতো মূল্যবোধের সঙ্গেও দীপাবলির সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।

    প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, “যাঁরা দীপাবলি উদ্‌যাপন করেন, তাঁদের কাছে এই উৎসব জ্ঞান, বিকাশ ও সুখের প্রতি অঙ্গীকারের সময়। এটি আত্মবিশ্লেষণেরও সময়, যা প্রজ্ঞা, দয়া এবং পরিবর্তনের গুরুত্বকে তুলে ধরে।”

    ভারতীয়-আমেরিকানদের অবদানেও জোর

    ক্যালিফোর্নিয়ার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে ভারতীয়-আমেরিকান সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও অ্যাসেম্বলি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে। ২০২৬ সালের দীপাবলিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে জাতি, সংস্কৃতি ও সামাজিক পার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের উৎসবে অংশ নেওয়ার এবং দীপাবলির সঙ্গে যুক্ত মূল্যবোধগুলি বোঝার আহ্বান জানানো হয়েছে (Indian Americans)।

    প্রস্তাবে দীপাবলিকে সুস্বাস্থ্য, সম্পদ, জ্ঞান, শান্তি ও সমৃদ্ধি উদ্‌যাপনের একটি সুযোগ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবার, বন্ধু ও বৃহত্তর সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    ফলে ২০২৬ সালের ৮ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দীপাবলি দিবস’ হিসেবে পালিত হবে। রাজ্যের বাসিন্দাদের উৎসবে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি আলো, আশা ও ইতিবাচকতার বার্তাকে উপলব্ধি করার আহ্বান জানিয়েছে স্টেট অ্যাসেম্বলি।

    ভারতীয়-আমেরিকান সম্প্রদায়ের কাছে এই স্বীকৃতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর মাধ্যমে তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে (Deepawali) গভীরভাবে যুক্ত একটি উৎসবকে সরকারি স্তরে মর্যাদা দেওয়া হলো। ক্যালিফোর্নিয়ার পাশাপাশি পেনসিলভানিয়া, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি এবং টেক্সাসও বিভিন্ন সময়ে দীপাবলিকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং সরকারি পর্যায়ে উৎসব উদ্‌যাপনের উদ্যোগও নিয়েছে (Indian Americans)।

     

  • Mohan Bhagwat: ভাগবতের কানাডা সফরের অনুমতি চেয়ে কার্নিকে চিঠি শতাধিক হিন্দু সংগঠনের

    Mohan Bhagwat: ভাগবতের কানাডা সফরের অনুমতি চেয়ে কার্নিকে চিঠি শতাধিক হিন্দু সংগঠনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কানাডায় আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের (Mohan Bhagwat) সফরের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে চিঠি দিল শতাধিক কানাডীয় (Canada Visit) হিন্দু সংগঠন ও নাগরিক অধিকার গোষ্ঠী। ভাগবতকে কানাডায় প্রবেশের অযোগ্য ঘোষণা করার যে দাবি উঠেছে, তা প্রত্যাখ্যান করে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত যেন রাজনৈতিক প্রভাবের ভিত্তিতে নয়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে নেওয়া হয়—চিঠিতে এমনই আবেদন জানানো হয়েছে।

    কানাডা সরকারকে চিঠি (Mohan Bhagwat)

    কার্নির পাশাপাশি জননিরাপত্তা মন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারী, অভিবাসন মন্ত্রী লেনা মেটলেজ দিয়াব এবং বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দের কাছেও চিঠির প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে। আরএসএস প্রধানকে কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি এবং সংগঠনটিকেও নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে কিছু খালিস্তানপন্থী নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাংসদ, যাঁদের মধ্যে জেনি কোয়ান ও হিদার ম্যাকফারসন রয়েছেন। কিছু ইসলামপন্থী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনও একই দাবি তুলেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, কানাডার বৃহৎ হিন্দু জনগোষ্ঠীর কাছে ভাগবতের প্রস্তাবিত সফর “যথেষ্ট আগ্রহের বিষয়”। শতাধিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, “আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারী ১০১টিরও বেশি কানাডীয় সংগঠন ও নাগরিক অধিকার গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবতের কানাডা সফরের প্রস্তাবের প্রতি আমাদের সমর্থন জানাতে লিখছি। এই সফর কানাডার হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, যার মধ্যে হিন্দু ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত ১০ লাখেরও বেশি কানাডীয় নাগরিক রয়েছেন।”

    আরএসএস ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন

    চিঠিতে আরএসএসকে ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, জনপরিসরে মতপ্রকাশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সামাজিক প্রকল্প এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য সংগঠনটি পরিচিত। সেখানে আরও বলা হয়েছে, “তাই আমরা নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাংসদ জেনি কোয়ান ও হিদার ম্যাকফারসন এবং কয়েকটি সংগঠনের সাম্প্রতিক সেই আহ্বান নিয়ে উদ্বিগ্ন, যেখানে কানাডা সরকারকে ভাগবতকে দেশে প্রবেশ করতে না দেওয়া এবং তাঁকে প্রবেশের অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।”

    ভাগবতের (Mohan Bhagwat) কানাডা সফর ঠেকানোর এই প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করেছে স্বাক্ষরকারী সংগঠনগুলি। তাদের বক্তব্য, ভাগবতের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি তোলা হয়েছে, সেগুলির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। দুই সাংসদের তরফে ভাগবতের বিরুদ্ধে ঘৃণাত্মক বক্তব্যের ইতিহাস, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসাকে সমর্থন, পরিকল্পিতভাবে ভয় দেখানো এবং সন্ত্রাসবাদী বা অপরাধমূলক সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের মতো অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।

    চিঠিতে যা লেখা হয়েছে

    এই বিষয়ে চিঠিতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, “গুরুতর অভিযোগের জন্য বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন।”

    আরও বলা হয়েছে, “এগুলি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ। স্পষ্ট, বিশ্বাসযোগ্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ ছাড়া এগুলিকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে ব্যবহার করা বা সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা উচিত নয় (Canada Visit)।”

    চিঠিতে কানাডীয় কর্তৃপক্ষকে অভিযোগগুলির সমর্থনে থাকা প্রমাণ খুঁজে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে তা যথাযথ আইনি ও সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল্যায়ন করতে হবে।

    ভাগবতের উপস্থিতি কানাডার জননিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে কিংবা সামাজিক অশান্তির কারণ হতে পারে—এমন আশঙ্কাও খারিজ করেছে সংগঠনগুলি। তাদের প্রশ্ন, কানাডায় ভাগবত বা আরএসএসের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার নির্দিষ্ট কোনও নজির রয়েছে কি না। তাঁর কানাডা সফর জননিরাপত্তাকে বিপন্ন করবে—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, “কানাডার অভিবাসন ও জননিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত আইন, বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে হওয়া উচিত,  অনুমান বা রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিত্তিতে নয়।”

    হিন্দু সংগঠনগুলির বক্তব্য

    সংগঠনগুলির বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক বা রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনাও বৈধ। তবে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও বিদেশি নেতাকে কানাডায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে তা (Mohan Bhagwat) বহুত্ববাদ ও ন্যায়সঙ্গত আচরণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলতে পারে।

    চিঠিতে আরও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, যথেষ্ট প্রমাণ ছাড়াই ভাগবতকে কানাডায় প্রবেশ করতে না দিলে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর তার বৃহত্তর প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে কানাডীয় হিন্দু ও তাঁদের সংগঠনগুলির সঙ্গে অন্য সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে—এমন ধারণা তৈরি হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    সংগঠনগুলির বক্তব্য, “কানাডার বহুসাংস্কৃতিক ব্যবস্থা এই নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত যে বিভিন্ন ধর্ম ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মানুষ জনজীবনে পূর্ণাঙ্গভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। অন্য সব ধর্মীয় বা অ-ধর্মীয় পটভূমির কানাডীয়দের মতো হিন্দুরাও মর্যাদা, নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সংগঠনের অধিকার এবং আইনের চোখে সমতার অধিকারী।”

    “হিন্দুফোবিয়া”য় উদ্বেগ

    ভাগবতের বিরুদ্ধে চলা প্রচারাভিযানকে কিছু কানাডীয় হিন্দু “হিন্দুবিরোধী পক্ষপাত” বা “হিন্দুফোবিয়া” হিসেবে দেখছেন বলেও চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, কয়েকটি সংগঠন বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মতামত দিয়ে কানাডার সব নাগরিক কিংবা সমস্ত কানাডীয় হিন্দুর অবস্থানকে প্রতিনিধিত্ব করা উচিত নয়।

    চিঠিতে ভাগবতের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, “ভাগবতের বক্তব্যের মূল গুরুত্ব সব সময় সামাজিক সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক পরিচয়, সমাজসেবা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগের উপর ছিল। তাই আমরা রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সংগঠনগুলিকে তাঁদের প্রকাশ্য বক্তব্যে দায়িত্বশীল হওয়ার এবং এমন ভাষা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানাই, যা কানাডার বৈচিত্র্যময় সম্প্রদায়গুলির মধ্যে বিভাজন আরও গভীর করতে পারে (Mohan Bhagwat)।”

    চিঠির শেষাংশে সংগঠনগুলি বলেছে, “কানাডার প্রয়োজন আরও আলোচনা, বিভাজন নয়; আরও প্রমাণ, অভিযোগ নয়; আরও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক চাপ নয়; এবং তার বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি আরও সম্মান। কোনও একটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক নেতাকে স্বাগত জানানোর বৈধ অধিকারকে স্তব্ধ করার প্রচেষ্টা নয়। আমরা সম্মানের সঙ্গে কানাডা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, মোহন ভাগবতের প্রস্তাবিত সফর বিবেচনার সময় সমতা, বহুত্ববাদ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সংগঠনের অধিকার এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার নীতিগুলি বজায় রাখা হোক।”

    চিঠিতে যারা স্বাক্ষর করেছে

    এই যৌথ উদ্যোগে কানাডা ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন, কানাডিয়ান আর্য সমাজ, ব্র্যাম্পটন হিন্দু সোসাইটি, হিন্দু সোসাইটি অব কানাডা, হিন্দু মিশন অব কানাডা, হিন্দু সভা টেম্পল, হিন্দু স্বয়ংসেবক সংঘ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ কানাডা-সহ একাধিক মন্দির, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক সংগঠন অংশ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে (Canada Visit)।

    চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ভাগবতের প্রস্তাবিত সফরকে কেন্দ্র করে ভারতবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী—ইসলামপন্থী, বামপন্থী ও খালিস্তানপন্থী সংগঠনগুলির সমন্বয়ে একটি প্রচারাভিযান চালানো হচ্ছে। অনলাইন আবেদন, লিখিত আবেদন এবং প্রতিবাদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্য—এই তিন দেশের সরকারের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

    তবে ভাগবতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং বিভিন্ন সংগঠনের পাল্টা দাবিগুলি চিঠিতে উল্লিখিত বক্তব্যের ভিত্তিতেই এসেছে, এগুলির সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাধীন যাচাই ও প্রমাণের মূল্যায়ন প্রয়োজন (Mohan Bhagwat)।

     

LinkedIn
Share