Tag: news in bengali

news in bengali

  • PM Modi: ২০তম রোজগার মেলায় ৫১ হাজারের বেশি নিয়োগপত্র, যুবশক্তিকে দেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তি বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: ২০তম রোজগার মেলায় ৫১ হাজারের বেশি নিয়োগপত্র, যুবশক্তিকে দেশের উন্নয়নের চালিকাশক্তি বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন সরকারি দফতর ও সংস্থায় নবনিযুক্ত ৫১ হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। শনিবার ২০তম রোজগার মেলার মাধ্যমে ভিডিও সম্মেলনে এই নিয়োগপত্র বিতরণ করা হয়। নবনিযুক্তদের উদ্দেশে ভাষণও দেন প্রধানমন্ত্রী। দেশজুড়ে ৪৫টি কেন্দ্রে এই রোজগার মেলার আয়োজন করা হয়েছিল (Rozgar Mela)।

    মোদি বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে দেশের যুবশক্তিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাঁর কথায়, নিয়োগপত্র পাওয়া তরুণদের জন্য এটি জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তাঁদের সাফল্যের পিছনে প্রার্থীদের কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি বাবা-মায়ের ত্যাগও রয়েছে।

    নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবারে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের সহকর্মী যুবসমাজ এবং দেশের নাগরিকদের প্রতি বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। ভারতীয় তরুণদের প্রতিভা ও দক্ষতার উপর বিশ্বের আস্থা তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা এবং যুবসমাজের কাছ থেকে বিশ্বের প্রত্যাশা ক্রমশ বাড়ছে।

    আন্তর্জাতিক সুযোগের উপর জোর (PM Modi)

    সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের প্রসঙ্গ তুলে মোদি বলেন, ভারতের লক্ষ্য এখন শুধুমাত্র সরকার-থেকে-সরকারের সম্পর্কের মধ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে সীমাবদ্ধ রাখা নয়। এর পরিবর্তে উদ্যোক্তা, কৃষক, মহিলা এবং যুবসমাজকেও আন্তর্জাতিক অংশীদারির সঙ্গে যুক্ত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    এক্ষেত্রে ব্রিকস সংযোগ এবং ব্রিকস ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ সহযোগিতা পোর্টালের মতো উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতীয় সমাজের বিভিন্ন অংশ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ পেতে পারে।

    প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নতুন বাজার ও অংশীদারির দরজা খুলছে। এর ফলে ভারতীয় উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি যুবকদের জন্য কর্মজীবনের নতুন সম্ভাবনাও সৃষ্টি হচ্ছে (Rozgar Mela)।

    কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা উন্নয়নে জোর

    পরিবর্তনশীল অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে যুবকদের দক্ষ করে তুলতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় শিক্ষানীতি, দক্ষতা ভারত অভিযান, প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা এবং শিক্ষানবিশ কর্মসূচির উল্লেখ করেন তিনি।

    সরকারি শিল্প প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলিকে আধুনিক করে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী সেতু প্রকল্পের কথাও বলেন মোদি। এই প্রকল্পে ১,০০০টি সরকারি শিল্প প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকীকরণে ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে এবং শিল্পক্ষেত্রের অংশগ্রহণও বাড়ানো হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, যুবকদের শিক্ষা ও দক্ষতা যেন পরিবর্তিত অর্থনীতির প্রয়োজনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোয়, সেটিই সরকারের লক্ষ্য (PM Modi)।

    বড় শহরের বাইরে ছড়াচ্ছে নতুন উদ্যোগ

    ভারত বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম নতুন উদ্যোগ-ভিত্তিক অর্থনৈতিক পরিমণ্ডল বলে উল্লেখ করেন মোদি। তাঁর বক্তব্য, নতুন উদ্যোগের বিস্তার আর শুধু বড় মহানগরগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। স্বীকৃত নতুন উদ্যোগগুলির প্রায় অর্ধেকই এখন দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের শহরগুলিতে রয়েছে।

    গ্রাম, ছোট শহর ও মফস্‌সলের তরুণরা নিজেদের নতুন ভাবনা নিয়ে সংস্থা তৈরি করছেন এবং অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

    বেসরকারি ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ

    বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত কর্মসংস্থান যোজনার কথা উল্লেখ করেন। প্রায় এক লাখ কোটি টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পের লক্ষ্য প্রথমবারের মতো প্রায় ২ কোটি যুবক-যুবতীকে আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের আওতায় নিয়ে আসা।

    প্রকল্পের আওতায় প্রথমবার চাকরিতে যোগ দেওয়া কর্মীরা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা পেতে পারেন। একইসঙ্গে অতিরিক্ত কর্মসংস্থান তৈরি করা নিয়োগদাতাদেরও আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

    মোদি বলেন, অর্থনীতির বৃদ্ধি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন শিল্পের প্রতিষ্ঠা এবং উদীয়মান ক্ষেত্রের সম্প্রসারণের সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়ে। প্রথম ত্রৈমাসিকে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ এবং বিনিয়োগ ১২ শতাংশ বেড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মূল্যায়নকারী সংস্থার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)।

    নাগরিককেন্দ্রিক প্রশাসনের বার্তা

    নবনিযুক্ত সরকারি কর্মীদের উদ্দেশে প্রশাসনিক সংস্কারকে ধারাবাহিক রাখার আহ্বান জানান মোদি। কর-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সরল করা, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করা, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে সংস্কার এবং নতুন ক্ষেত্রে উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরির উপর জোর দেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের প্রতিটি সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হওয়া উচিত নাগরিকদের সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা দূর করা, নতুন ভাবনাকে উৎসাহ দেওয়া এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী বিনিয়োগকে সহজতর করা। তাঁর কথায়, সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে যে সমস্যাগুলির মুখোমুখি হতে হয়েছে নতুন কর্মীদের, তাঁদের এমনভাবে কাজ করতে হবে যাতে পরবর্তী প্রজন্মের যুবকদের একই সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয় (Rozgar Mela)।

    শিক্ষার উপর গুরুত্ব

    পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি ও কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকারি কর্মীদের নিয়মিত নতুন দক্ষতা অর্জনের পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। কর্মযোগী কাঠামোর মাধ্যমে আজীবন শিক্ষার উপর জোর দেন তিনি।

    নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য কর্মযোগী প্রারম্ভ মডিউল তৈরি করা হয়েছে বলে জানান মোদি। পাশাপাশি, ১ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি সরকারি কর্মী ইতিমধ্যেই আইগট কর্মযোগী মঞ্চে যুক্ত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি (PM Modi)।

    নাগরিকের পরিষেবাই জাতীয় পরিষেবা

    প্রশাসনে জনআস্থার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। প্রবীণদের পেনশন, পড়ুয়াদের বৃত্তি কিংবা কৃষকদের ভর্তুকির মতো সরকারি পরিষেবা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে বলে জানান তিনি।

    সরকারি কর্মীদের আচরণ, দক্ষতা, সততা এবং সংবেদনশীলতার উপর নাগরিকের সরকারের প্রতি অভিজ্ঞতা অনেকটাই নির্ভর করে বলেও মন্তব্য করেন মোদি।

    ভাষণের শেষে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের “নাগরিক দেবো ভব” নীতি অনুসরণ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। নাগরিকের সেবাকে জাতীয় সেবার সমতুল্য বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আপনাদের কাজ যখন কোনও নাগরিকের জীবনকে আরও সহজ করে তুলবে, তখনই আপনাদের সাফল্য আরও বড় হয়ে উঠবে (Rozgar Mela)।”

    ২০তম রোজগার মেলার মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দফতর ও সংস্থায় মোট প্রায় ১২.৭৫ লাখ যুবক-যুবতী নিয়োগপত্র পেয়েছেন বলে সরকারি তথ্যে জানানো হয়েছে (PM Modi)।

     

  • Supreme Court: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়ে নয়া তথ্য, বাদ পড়া ২৭.১৬ লাখের মধ্যে সিংহভাগেরই পুনর্বহালের আবেদন

    Supreme Court: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়ে নয়া তথ্য, বাদ পড়া ২৭.১৬ লাখের মধ্যে সিংহভাগেরই পুনর্বহালের আবেদন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়া ভোটারদের আবেদনের সংখ্যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) নতুন তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে নাম অন্তর্ভুক্তি ও নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে (EC) চ্যালেঞ্জ করে মোট ৩৮.৩১ লাখ আবেদনপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২২.২১ লাখ আবেদন করেছেন সেই ভোটাররা, যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, বাদ পড়া ২৭.১৬ লাখ ভোটারের প্রায় ৮২ শতাংশ নিজেদের নাম ফের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আবেদন করেছেন।

    তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে এই তথ্য জানায়। কমিশনের বক্তব্য, আপিল ট্রাইব্যুনালগুলির সামনে থাকা মোট ৩৮.৩১ লাখ আবেদনের মধ্যে ২২.২১ লাখ আবেদন করেছেন বাদ পড়া ভোটাররা। অন্যদিকে, ১৬.১০ লাখ আবেদন করা হয়েছে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নামের বিরুদ্ধে। অর্থাৎ, ওই আবেদনগুলির উদ্দেশ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম আরও বাদ দেওয়ার দাবি জানানো। এই ১৬.১০ লাখ আবেদন কারা করেছেন, তা কমিশন স্পষ্ট করেনি। তবে কোনও ভোটার বা নির্বাচনী আধিকারিক কোনও ব্যক্তিকে ভোটার হিসেবে অযোগ্য বলে মনে করলে তাঁর নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন।

    আপিলের দ্রুত নিষ্পত্তিতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব (Supreme Court)

    আপিলের বিপুল সংখ্যা সামলাতে পশ্চিমবঙ্গে আপিল ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, আবেদনগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি করতে রাজ্যের লোকসভা কেন্দ্রের সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আপিল ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

    কমিশনের বক্তব্য, “বিচারাধীন আপিলগুলির নিষ্পত্তি আরও সুশৃঙ্খল ও দ্রুত করার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গে আপিল ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা রাজ্যের লোকসভা কেন্দ্রের সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এর ফলে বিচারাধীন আপিলগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে।”

    ৬০ লাখেরও বেশি ভোটারের যোগ্যতা যাচাই

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের ‘যুক্তিগত অসঙ্গতি’ চিহ্নিত করা ব্যবস্থার মাধ্যমে ৬০.০৬ লাখ ভোটারের নাম যাচাইয়ের আওতায় এসেছিল। ২০ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের মধ্যে একটি অংশের ভোটার হিসেবে যোগ্যতা বিচার করার দায়িত্ব বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের উপর দেয়। সেই সময় তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে আস্থার ঘাটতির কথাও আদালত উল্লেখ করেছিল।

    পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার প্রায় ৭০০ বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের যাচাইয়ের পর ২৭.১৬ লাখ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং বাকিদের নাম বহাল রাখা হয় (Supreme Court)।

    এর পর ১০ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট বাদ দেওয়া বা অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনতে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দেয়। ১৯টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় এবং ১৩ এপ্রিল থেকে সেগুলি কাজ শুরু করে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের ভোটগ্রহণের কয়েক দিন আগে থেকেই ট্রাইব্যুনালগুলি কাজ করছিল।

    ভোটের আগে মাত্র ১,৬০৭ জনের নাম ফেরানো সম্ভব

    নির্বাচনের আগে দায়ের হওয়া বিপুল সংখ্যক আবেদনের মধ্যে মাত্র ১,৬০৭ জন ভোটারের নাম সময়মতো ভোটার তালিকায় ফেরানো সম্ভব হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বহু আবেদনকারী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি।

    তবে পরবর্তী সময়ে ট্রাইব্যুনালগুলির নিষ্পত্তির সংখ্যা বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ অগাস্ট পর্যন্ত নিষ্পত্তি হওয়া ৮২,৭৮২টি আবেদনের মধ্যে ৭৫,৪৪৩ জনের নাম ফের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ৭,৩৩৯ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে (EC)।

    বর্তমানে অবশ্য আবেদনের বড় অংশই এখনও বিচারাধীন। ১৮ সেপ্টেম্বরের কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩৮,২০,৬৮৩টি আবেদনের মধ্যে ১,০২,২৩১টির নিষ্পত্তি হয়েছে এবং ৩৭,১৮,৪৫২টি আবেদন তখনও বাকি ছিল (Supreme Court)।

     

  • Operation Sindoor: অপারেশন সিঁদুরের ১৬ মাস পরও সারগোধা রানওয়ের মেরামতি চলছে, দাবি রিপোর্টে

    Operation Sindoor: অপারেশন সিঁদুরের ১৬ মাস পরও সারগোধা রানওয়ের মেরামতি চলছে, দাবি রিপোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) ১৬ মাস পরেও সারগোধায় পাকিস্তান বায়ুসেনার (PAF) মুশাফ ঘাঁটির রানওয়ের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে নতুন করে মেরামতির কাজ চলছে। সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে রানওয়ের একটি অংশে ফের খোঁড়াখুঁড়ি ও সংস্কারের চিহ্ন দেখা গিয়েছে। এনডিটিভির এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর উচ্চ-রেজোলিউশনের ভানতুর উপগ্রহচিত্রে মুশাফ ঘাঁটির মূল রানওয়ে ও ট্যাক্সি ট্র্যাকের সংযোগস্থলে একটি স্পষ্ট কালো অংশ দেখা যাচ্ছে। আশপাশের অ্যাসফল্টের তুলনায় ওই জায়গার রং ও গঠন আলাদা। এর ফলে সেখানে নতুন করে খনন বা রাস্তা পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কাজের জায়গার কাছে একটি লাল রঙের গাড়িও দেখা গিয়েছে। এই জায়গাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ২০২৫ সালের ১০ মে অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় বায়ুসেনার হামলায় মুশাফ ঘাঁটির মূল রানওয়ের যে দুটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তার মধ্যে এটি একটি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    আগের মেরামতির অংশেই ফের কাজ

    সারগোধায় অবস্থিত মুশাফ বিমানঘাঁটি লাহোর থেকে প্রায় ১৭২ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং অমৃতসরের কাছে ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে। সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে দেখা যাচ্ছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর যে অংশটি আগে মেরামত করা হয়েছিল, সেটিই ফের খুঁড়ে নিচের স্তর বা সাবগ্রেড পর্যন্ত কাজ করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর অর্থ হতে পারে, পাকিস্তান ওই অংশে শুধু নতুন করে অ্যাসফল্টের প্রলেপ দিচ্ছে না, বরং আরও বড় ধরনের পুনর্নির্মাণ করছে। তবে উপগ্রহচিত্র দেখে এই খননের সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। রানওয়ের নিচে বসে যাওয়া, অসমতল হয়ে যাওয়া, উপরের স্তরে ক্ষতি কিংবা আগের মেরামতির নীচে কোনও সমস্যা—এর মধ্যে একাধিক কারণ থাকতে পারে।

    উপগ্রহচিত্রে রানওয়ে মেরামতির  ছবি

    ছবিতে রানওয়ের বিভিন্ন অংশে ধাপে ধাপে সংস্কারের চিহ্নও দেখা যাচ্ছে। কোথাও তুলনামূলক গাঢ় ও মসৃণ পৃষ্ঠ দেখা যাচ্ছে, আবার অন্য একটি অংশে মেরামতির কাজ এখনও চলছে বলে মনে হচ্ছে। এর আগে ২৮ আগস্ট ২০২৬-এর উপগ্রহচিত্রে ওই হামলাস্থলটি মেরামত হয়ে গিয়েছে বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু সর্বশেষ ছবিতে একই জায়গায় ফের কাজ শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। সর্বশেষ উপগ্রহচিত্র অবশ্য রানওয়ের বর্তমান মেরামতির সুনির্দিষ্ট কারণ বা কাজের পূর্ণ পরিধি নিশ্চিত করে না।

    রানওয়ের দুটি জায়গায় আঘাত

    ২০২৫ সালের ১০ মে-র উপগ্রহচিত্রে মুশাফ ঘাঁটির প্রায় ৩,২০০ মিটার দীর্ঘ মূল রানওয়ের উপর দুটি পৃথক আঘাতের চিহ্ন দেখা গিয়েছিল। বিশ্লেষকদের অনুমান অনুযায়ী, রানওয়ের সংযোগস্থলে তৈরি গর্তটির প্রস্থ ছিল প্রায় ৮-৯ মিটার এবং গভীরতা ৪-৫ মিটার। আঘাতের জায়গার চারপাশে অ্যাসফল্ট ও কংক্রিটের ধ্বংসাবশেষ এবং বেশ কিছু স্থলযানও দেখা গিয়েছিল। রানওয়ের একই অংশে প্রায় ৬৬০ মিটার দূরে দ্বিতীয় একটি আঘাতের জায়গাও চিহ্নিত করা হয়েছিল। মুশাফ ঘাঁটিতে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট অস্ত্রের নাম ভারতীয় বায়ুসেনা প্রকাশ্যে জানায়নি। তবে গর্তের আকার ও ক্ষয়ক্ষতির ধরন বিশ্লেষণ করে কিছু বিশেষজ্ঞের ধারণা, এটি সুখোই-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষিপ্ত এয়ার-লঞ্চড ব্রহ্মোসের আঘাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। তবে এটি বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ মাত্র; সরকারি ভাবে অস্ত্রটির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি।

    এক বছরেরও বেশি সময় পর ফের সংস্কার

    সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্র থেকে মুশাফ ঘাঁটির ওই অংশে এখনও পুনর্গঠনের কাজ চলার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৫ সালের মে মাসের হামলার পর একবার মেরামত করা অংশে এক বছরেরও বেশি সময় পরে ফের খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে নজরে এসেছে। ভারতীয় সামরিক সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ মে অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের একাধিক সামরিক পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করা হয়েছিল। এর মধ্যে কয়েকটি বিমানঘাঁটিতে, রাডার ব্যবস্থা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোও ছিল। অপারেশন সিঁদুরের সময় সরগোধা এবং কিরানা হিলসের আশপাশে একাধিক ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। এই ড্রোনগুলির মূল কাজ ছিল পাকিস্তানের রাডার ব্যবস্থা খুঁজে বের করা।

    ভারতের সবচেয়ে বড় প্রত্যাঘাত

    ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরপরই ভারত সরকার প্রমাণের স্তূপ তুলে ধরেছিল। পাকিস্তানের নয়টি জঙ্গি ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলার বিস্তারিত ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের ১১টি সামরিক ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আসল ফুটেজও বিশ্ববাসীর সামনে এনেছিল ভারত। আন্তর্জাতিক মুক্ত তথ্যসূত্র গোয়েন্দা সংস্থা (OSINT) এবং উচ্চ-রেজোলিউশনের স্যাটেলাইট চিত্রেও পাকিস্তানের ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা প্রমাণিত হয়। ভোলারি, সারগোধা এবং নুর খানের মতো একাধিক পাক বিমানঘাঁটির রানওয়ে ও হ্যাঙ্গারে গভীর ক্ষতের ছবি ধরা পড়েছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ এই প্রত্যাঘাতকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তানি সামরিক পরিকাঠামোর ওপর ভারতের সবচেয়ে বড় হামলা বলে উল্লেখ করেছিল।

  • BCCI Chief Selector: প্রধান নির্বাচকের পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত আজিত আগরকরের, নতুন নির্বাচক খুঁজবে বিসিসিআই

    BCCI Chief Selector: প্রধান নির্বাচকের পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত আজিত আগরকরের, নতুন নির্বাচক খুঁজবে বিসিসিআই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বড়সড় পরিবর্তনের পথে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI Chief Selector)। জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচকের পদে আর থাকতে চান না আজিত আগরকর (Ajit Agarkar)। বিসিসিআইয়ের শীর্ষ কর্তাদের ইতিমধ্যেই নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তিনি। ফলে তাঁর উত্তরসূরি খুঁজতে শীঘ্রই প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে বোর্ড। আগরকরের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৪ অক্টোবর। শুক্রবার বিসিসিআইয়ের ৯৫তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)-তেও তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় বোর্ডের সদস্য ইউনিটগুলি নির্বাচক কমিটি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অফিস-বেয়ারারদের হাতে তুলে দেয়।

    জুনিয়র নির্বাচকদের নিয়েও সিদ্ধান্ত

    এজিএম শেষে এক সিনিয়র বিসিসিআই (BCCI) কর্তা বলেন, “নির্বাচক কমিটি সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অফিস-বেয়ারারদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।” তবে আগরকরের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি। সূত্রের খবর, আগরকর ইতিমধ্যেই বোর্ডকে জানিয়েছেন যে তিনি আর এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব চালিয়ে যেতে আগ্রহী নন। ২০২৩ সালে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ভারতীয় দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। এদিকে শুধু সিনিয়র নির্বাচক কমিটিই নয়, জুনিয়র নির্বাচক কমিটির পাঁচটি পদও পূরণ করতে চলেছে বিসিসিআই। এই পদের জন্য বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে বলে জানিয়েছেন বোর্ড সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া। তিনি বলেন, আবেদনকারীদের প্রাথমিক বাছাইয়ের পর তালিকা ক্রিকেট কমিটির কাছে পাঠানো হবে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বোর্ডের। কারণ বর্তমান জুনিয়র নির্বাচকদের পাঁচজনেরই মেয়াদ খুব শীঘ্রই শেষ হতে চলেছে।

    ফিল্ডিং কোচ নিয়োগ নিয়ে আলোচনা

    ভারতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ শুভদীপ ঘোষের নিয়োগ নিয়েও বিস্তারিত জানিয়েছেন সাইকিয়া। আপাতত তাঁকে স্বল্পমেয়াদি ভিত্তিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বেঙ্গালুরুর বিসিসিআইয়ের সেন্টার অব এক্সেলেন্সেও তিনি ফিল্ডিং কোচ হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। সাইকিয়া জানান, ভারতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ হিসেবে শুভদীপ ঘোষের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করা হবে। দলের ম্যানেজমেন্টের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামতের ভিত্তিতে তাঁর সঙ্গে চুক্তি দীর্ঘায়িত করা হবে কি না, সে বিষয়ে পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এজিএমে বিসিসিআইয়ের বিভিন্ন রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার প্রতিনিধিদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন ভারতীয় পেসার বেঙ্কটেশ প্রসাদও।

  • India: লোহিত সাগরে হুথি হামলা নিয়ে কড়া বার্তা ভারতের, মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টায়ও উদ্বেগ

    India: লোহিত সাগরে হুথি হামলা নিয়ে কড়া বার্তা ভারতের, মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টায়ও উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লোহিত সাগর অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ক্রমাবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারত। সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হুথিদের হামলার (Houthi Attacks) তীব্র নিন্দা করে নয়াদিল্লি (India) জানিয়েছে, এই ধরনের হামলা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ বাব আল-মান্দাব দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতাও এর ফলে হুমকির মুখে পড়ছে।

    ১৮ সেপ্টেম্বর বিদেশমন্ত্রকের তরফে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, লোহিত সাগর এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে ভারত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সৌদি আরবের সার্বভৌম ভূখণ্ডে হামলা, বিশেষ করে সাধারণ মানুষ ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে নিশানা করার ঘটনায় ভারতের নিন্দার কথাও জানান তিনি।

    উদ্বেগ প্রকাশ জয়সওয়ালের (India)

    জয়সওয়াল বলেন, “লোহিত সাগর এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সাধারণ মানুষ ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামো-সহ সৌদি আরবের সার্বভৌম ভূখণ্ডে হামলার আমরা নিন্দা জানিয়েছি। পবিত্র শহর মক্কায় হামলার চেষ্টার পরে আমরা যে বিবৃতি দিয়েছিলাম, সেটিও আপনারা দেখেছেন।”

    তিনি আরও বলেন, “এই ধরনের হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে বা দুর্বল করে এবং বাব আল-মান্দাব দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতার জন্যও হুমকি তৈরি করে। বিভিন্ন কারণেই বিষয়টি আমাদের কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আশা করি, খুব দ্রুত ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।”

    মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টায় উদ্বেগ

    লাল সাগর অঞ্চলে উত্তেজনার মধ্যেই ১৫ সেপ্টেম্বর সৌদি কর্তৃপক্ষ জানান, ইয়েমেন থেকে উৎক্ষেপণ করা একটি ড্রোন মক্কার দক্ষিণে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, ড্রোনটি পবিত্র শহরের নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি ঘটনাটিকে “শত্রুতামূলক ও জঙ্গি কর্মকাণ্ড” বলে অভিহিত করেন এবং দুই পবিত্র মসজিদ ও তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তাকে “লাল রেখা” বলে উল্লেখ করেন।

    ১৬ সেপ্টেম্বর ভারত ওই ঘটনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। জয়সওয়াল বলেন, সৌদি আরবের সার্বভৌম ভূখণ্ডে হামলা এবং সাধারণ মানুষের জীবন ও পরিকাঠামোকে বিপন্ন করে এমন কর্মকাণ্ডের নিন্দা করে ভারত। মক্কার বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    সৌদি আরবের দাবি অস্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনকারীরা। তাঁদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগকে “মনগড়া কথা ও মিথ্যা” বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, হুথিদের সামরিক অভিযান সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে এবং সেগুলি পবিত্র স্থানগুলি থেকে অনেক দূরে অবস্থিত।

    পশ্চিম এশিয়ায় বাড়ছে সংঘাত

    এই পরিস্থিতির মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। ইয়েমেনে হুথি বাহিনী ও সৌদি-সমর্থিত পক্ষগুলির মধ্যে লড়াই বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে হুথিরা রেড সি উপকূলের কৌশলগতভাবে (India) গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকায় অগ্রসর হয়েছে। বাব আল-মান্দাব প্রণালীর আশপাশে তাদের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও সৌদি আরবের তেল রফতানি নিয়েও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

    ভারতের উদ্বেগের অন্যতম কারণ বাব আল-মান্দাব। রেড সি ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে আঞ্চলিক সংঘাতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যও প্রভাবিত হতে পারে।

    সৌদি আরব ভ্রমণে সতর্ক করল আমেরিকা

    এদিকে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে আমেরিকাও সৌদি আরব ভ্রমণ নিয়ে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে। ১৫ সেপ্টেম্বর আমেরিকার বিদেশ দফতর সৌদি আরবের জন্য তৃতীয় স্তরের “ভ্রমণ পুনর্বিবেচনা করুন” সতর্কতা জারি করে। একই সঙ্গে ইয়েমেন সীমান্তবর্তী অঞ্চলের জন্য সর্বোচ্চ চতুর্থ স্তরের “ভ্রমণ করবেন না” সতর্কতা বহাল রাখা হয়েছে (India)।

    আমেরিকার সতর্কবার্তায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা, সশস্ত্র সংঘাত, সন্ত্রাসবাদ, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং সোশ্যাল মিডিয়া-সংক্রান্ত স্থানীয় আইনের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইয়েমেন সীমান্তবর্তী সৌদি এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলার আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে (Houthi Attacks)।

    সব মিলিয়ে লোহিত সাগর, ইয়েমেন ও সৌদি আরবকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভারত দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর আহ্বান জানিয়েছে, একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ ও নিরাপদ জাহাজ চলাচলের গুরুত্বের কথা (India)।

     

  • Suvendu Adhikari: হলদিয়ায় ৬ হাজার কোটির নতুন প্রকল্প, ১৪ অক্টোবর উদ্বোধনের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: হলদিয়ায় ৬ হাজার কোটির নতুন প্রকল্প, ১৪ অক্টোবর উদ্বোধনের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হলদিয়াকে ঘিরে একাধিক শিল্প ও পরিকাঠামো প্রকল্পের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুক্রবার হলদিয়ায় ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের বিশ্বকর্মা পুজোর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে (Haldia Plant) তিনি জানান, আগামী ১৪ অক্টোবর, ষষ্ঠীর ঠিক আগে হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে তৈরি নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন তিনি। প্রকল্পটি ফেনল ও অ্যাসিটোন উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে তৈরি হয়েছে।

    গর্বের প্রতিষ্ঠান আইওসি (Suvendu Adhikari)

    অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন গর্বের প্রতিষ্ঠান। জাতীয় নয়, আন্তর্জাতিক স্তরে এর সুনাম রয়েছে। ভারত সরকারের লাভদায়ক নবরত্ন প্রতিষ্ঠান।”

    হলদিয়ার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যোগাযোগের কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি জানান, হলদিয়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দায়িত্বে থাকার সময়ে এলাকায় ২ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগে ডাউনস্ট্রিম পেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প বা ক্র্যাকার ইউনিট স্থাপন করা হয়েছিল। আগামী দিনে হলদিয়ায় ইন্ডিয়ান অয়েলের আরও একটি বড় প্রকল্প আনার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে জমি-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

    হলদিয়ায় পেপসিকোর কারখানার সম্ভাবনা

    হলদিয়ায় নতুন শিল্প বিনিয়োগের সম্ভাবনা হিসেবে পেপসিকোর কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সংস্থার প্রতিনিধিদের ইতিমধ্যেই হলদিয়া ও কল্যাণীতে জমি দেখানো হয়েছে।

    শুভেন্দু বলেন, “আমার কাছে বহু নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান আসছে। গতকালও পেপসি কোম্পানিকে হলদিয়ায় পাঠিয়েছিলাম জায়গা দেখার জন্য। তারা কল্যাণী, হলদিয়ার জায়গা দেখে গিয়েছেন। যিনি জমি চাইবেন, সেখানে তাঁদের ৩০-৪০ একর জমি দেওয়া হবে। একটি বড় পেপসি প্ল্যান্ট আসবে।”

    বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংস্থাটি পছন্দের জায়গা চূড়ান্ত করলে জমি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।

    ৬ হাজার কোটির প্রকল্পের উদ্বোধন

    হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের নতুন প্রকল্প নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সংস্থার কর্ণধার পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই একাধিকবার তাঁর বৈঠক হয়েছে। ১৪ অক্টোবর হলদিয়ায় গিয়ে নতুন প্রকল্পটি রাজ্যবাসীর উদ্দেশে উৎসর্গ করার কথা তাঁর।

    মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আগামী ১৪ অক্টোবর, ষষ্ঠীর ঠিক আগেই ৬ হাজার কোটি টাকার প্ল্যান্টের উদ্বোধনে আমি উপস্থিত থাকব। এটিই রাজ্যবাসীর কাছে পুজোর উপহার হিসেবে তুলে দেব।”

    প্রকল্পটি হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের নতুন ফেনল ও অ্যাসিটোন কারখানা। সংস্থার প্রকল্প-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, নতুন ইউনিটে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৪৫ হাজার টন ফেনল উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    সঞ্জীব গোয়েঙ্কার নতুন প্রকল্পের ইঙ্গিত

    হলদিয়ায় শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েঙ্কার সংস্থার নতুন প্রকল্পের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, হলদিয়া এনার্জির হাতে থাকা কিছু উদ্বৃত্ত জমির পাশাপাশি আরও জমির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেখানে গোয়েঙ্কার সংস্থা নতুন একটি কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিল্পাঞ্চলের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়েও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। শিল্প দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ হয়ে থাকা ট্রমা সেন্টারের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ৫০ শয্যার ট্রমা সেন্টারের সঙ্গে বার্ন ইউনিটও চালু করা হবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই কাজ শেষ করা হবে (Suvendu Adhikari)।

    উন্নয়নের পরিকল্পনা

    সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে হলদিয়ার বিভিন্ন এলাকায় জল জমার প্রসঙ্গও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। হলদিয়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পুরসভাকে এই বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার কথাও জানান।

    হলদিয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বড় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, এমনভাবে সেতুটি তৈরি করা হবে যাতে জাহাজ চলাচলে কোনও সমস্যা না হয় এবং সাধারণ মানুষ নৌকার পরিবর্তে গাড়ি ও মোটরসাইকেলে সরাসরি যাতায়াত করতে পারেন (Haldia Plant)।

    এর পাশাপাশি রেলপথ, জাতীয় সড়ক এবং স্থানীয় রাস্তাঘাটের উন্নয়ন নিয়েও একাধিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

     

  • DUSU Elections 2026: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কলেজে জয়ী এবিভিপি, ডুসু নিয়েও ৪-০ জয়ের দাবি

    DUSU Elections 2026: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কলেজে জয়ী এবিভিপি, ডুসু নিয়েও ৪-০ জয়ের দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনেও জয় পেয়েছে এবিভিপি (অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ)। সংগঠনের দাবি, অদিতি মহাবিদ্যালয়, শ্রী অরবিন্দ (ABVP) কলেজের প্রাতঃকালীন শাখা, ভারতী কলেজ, শিবাজি কলেজ-সহ একাধিক (DUSU Election 2026) কলেজে তাদের প্রার্থীরা সবক’টি বা গুরুত্বপূর্ণ পদে জয় পেয়েছেন।

    এবিভিপির দাবি, অদিতি মহাবিদ্যালয়ে সবক’টি পদেই জয় পেয়েছে তাদের প্যানেল। শ্রী অরবিন্দ কলেজের প্রাতঃকালীন শাখায় ৬টি পদেই জয় পেয়ে ৬-০ ফল করেছে তারা। ভারতী কলেজে ৮টি পদেই এবিভিপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। শিবাজি কলেজেও ৬-০ ব্যবধানে সবক’টি পদ দখল করেছে এবিভিপি।

    ড. ভীমরাও আম্বেদকর কলেজে চারটি পদেই এবিভিপি প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। কেশব মহাবিদ্যালয়ে সভাপতি, সহ-সভাপতি ও সম্পাদক—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয় এসেছে বলে সংগঠনের দাবি। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি কলেজে সভাপতি ও সম্পাদক পদে জয় পাওয়ার পাশাপাশি দুই কেন্দ্রীয় কাউন্সিলর পদেও এবিভিপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

    শ্রীরাম কলেজ অব কমার্সেও সভাপতি, সম্পাদক এবং দুই কাউন্সিলর-সহ সবক’টি পদে এবিভিপি প্রার্থীদের জয় হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। গ্রন্থাগার বিজ্ঞান বিভাগেও সভাপতি, মন্ত্রী এবং দুই কেন্দ্রীয় কাউন্সিলর পদে এবিভিপি প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন বলে সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে।

    ডুসুতে চার পদেই জয়ের প্রত্যাশা (DUSU Elections 2026)

    কলেজগুলির নির্বাচনে পাওয়া সমর্থনের ভিত্তিতে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় প্যানেলেও পড়ুয়াদের সমর্থন পাওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী এবিভিপি। সভাপতি পদে যশ ডাবাস, সহ-সভাপতি পদে ইশু মৌর্য, সম্পাদক পদে রিয়া ছাবড়ি এবং যুগ্ম সম্পাদক পদে লক্ষ্যরাজ সিংকে প্রার্থী করেছে সংগঠনটি।

    এবিভিপির বক্তব্য, কলেজগুলির নির্বাচনে যেমন তাদের প্রার্থীরা সমর্থন পেয়েছেন, তেমনই ডুসুর চারটি পদেও পড়ুয়ারা তাদের প্যানেলের উপর আস্থা রাখবেন। সংগঠনটি চারটি পদেই জয়কে ৪-০ ব্যবধানে ‘ক্লিন সুইপ’ হিসেবে দেখার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে।

    তবে ১৯ সেপ্টেম্বর ভোটগণনা শুরু হওয়ার পর প্রাথমিক গণনায় বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে। ভোটের দিন, ১৮ সেপ্টেম্বর, কেন্দ্রীয় প্যানেলের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছিল (DUSU Election 2026)।

    ভুয়ো পরিচয়পত্র ও বিভ্রান্তিকর প্রচারপত্র নিয়ে অভিযোগ

    নির্বাচন চলাকালীন এনএসইউআই-ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টার অভিযোগও তুলেছে এবিভিপি। সংগঠনের দাবি, দয়াল সিং কলেজে এবিভিপির নাম ও প্যানেল সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া প্রচারপত্র বিলি করার অভিযোগে দু’জনকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। একই ধরনের ঘটনায় এর আগে আরও এক ব্যক্তিকেও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি সংগঠনের।

    এলসি-২-এর প্রাতঃকালীন শাখায় ভুয়ো পরিচয়পত্র নিয়ে ভোটকেন্দ্রে আসা এক ছাত্রীকে নিরাপত্তাকর্মীরা আটক করেন বলেও দাবি এবিভিপির। আরও দুই ছাত্রী ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।

    অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষ প্রমাণিত হলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এবিভিপি। একই সঙ্গে সংগঠনের প্রার্থীদের ও কর্মীদের দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত সব নিয়ম সম্পূর্ণভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আদালতের নির্দেশের মধ্যে বিজয় মিছিল নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও রয়েছে।

    এবিভিপির দিল্লি রাজ্য সম্পাদকের প্রতিক্রিয়া

    এবিভিপির দিল্লি রাজ্য সম্পাদক সার্থক শর্মা বলেন, “ডুসু নির্বাচন রাহুল গান্ধীর সভাপতির আসনের নির্বাচন নয়; এটি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের গণতান্ত্রিক নির্বাচন এবং এখানকার পড়ুয়ারাই এর ফল নির্ধারণ করবেন। কংগ্রেসের সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কাঠামো, যুব কংগ্রেস এবং এনএসইউআই নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা করেছে। কিন্তু দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা নিজেদের বিচারবুদ্ধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন।”

    তিনি আরও বলেন, “কলেজগুলির নির্বাচনে এবিভিপি পড়ুয়াদের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে এবং ডুসু নির্বাচনেও আমরা পড়ুয়াদের সমর্থন পাব। এনএসইউআইয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভুয়ো পরিচয়পত্র এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারপত্র সংক্রান্ত যে অভিযোগগুলি সামনে এসেছে, সেগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দোষী প্রমাণিত হলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা (ABVP) নেওয়া উচিত।”

    দিল্লি হাইকোর্টের নির্বাচনী নির্দেশনাকে স্বাগত জানিয়ে সার্থক বলেন, বিজয় মিছিল নিষিদ্ধ করার নির্দেশ-সহ আদালতের সব নির্দেশ মেনে চলতে সংগঠনের কর্মীদের বলা হয়েছে। তাঁর দাবি, ডুসুতে (DUSU Election 2026) এবিভিপির চার প্রার্থীই জয়ী হয়ে ৪-০ ফল করবেন।

     

  • Samik Bhattacharya: কলকাতাকে কেন্দ্র করে চার রুটে দ্রুতগতির রেল! কেন্দ্রকে প্রস্তাব শমীকের

    Samik Bhattacharya: কলকাতাকে কেন্দ্র করে চার রুটে দ্রুতগতির রেল! কেন্দ্রকে প্রস্তাব শমীকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরের মধ্যে যাতায়াত আরও দ্রুত ও মসৃণ করতে আঞ্চলিক দ্রুতগতির গণপরিবহণ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব। দিল্লি-সহ জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে চালু ‘নমো ভারত’-এর ধাঁচে পশ্চিমবঙ্গেও এমন রেলপথ গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রী মনোহর লালের কাছে চিঠি পাঠানোর পাশাপাশি একটি প্রাথমিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষার রিপোর্টও জমা দিয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রস্তাবিত চারটি করিডরের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে (NaMo-Bharat)।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, কলকাতার ময়দানকে কেন্দ্রীয় সংযোগস্থল ধরে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরকে চারটি করিডরের মাধ্যমে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিল্পাঞ্চল, বন্দর, শিক্ষা ও পর্যটনকেন্দ্রগুলির সঙ্গে কলকাতার দ্রুত যোগাযোগ গড়ে তোলাই এই প্রস্তাবের অন্যতম লক্ষ্য।

    প্রস্তাবিত চার রুট (Samik Bhattacharya)

    প্রথম করিডরটি হবে কলকাতা-ময়দান থেকে কল্যাণী, কৃষ্ণনগর হয়ে মায়াপুর পর্যন্ত। প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথে নদিয়া ও সংলগ্ন এলাকার সঙ্গে কলকাতার দ্রুত যোগাযোগ গড়ে তোলার প্রস্তাব রয়েছে।

    দ্বিতীয় করিডরটি কলকাতা থেকে বর্ধমান, দুর্গাপুর হয়ে আসানসোল পর্যন্ত। প্রায় ২৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলকে কলকাতার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। দুর্গাপুর ও আসানসোলের সঙ্গে পৃথক দ্রুতগতির গণপরিবহণ সংযোগের কথাও প্রস্তাবে রয়েছে।

    তৃতীয় করিডরটি কলকাতা থেকে ফলতা, ডায়মন্ড হারবার, হলদিয়া হয়ে নন্দীগ্রাম পর্যন্ত। প্রায় ১০২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটের মাধ্যমে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের শিল্প ও বন্দর এলাকার সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগ আরও সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    চতুর্থ করিডরটি কলকাতা থেকে সাঁতরাগাছি, কোলাঘাট, খড়গপুর হয়ে মেদিনীপুর পর্যন্ত। প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথে হাওড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

    রেললাইন-জাতীয় সড়কের পাশ দিয়ে করিডর তৈরির প্রস্তাব

    প্রস্তাবে জমি অধিগ্রহণের সমস্যা ও খরচ কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। জাতীয় সড়ক ও রেলপথের পাশ দিয়ে নতুন দ্রুতগতির রেল করিডর তৈরির কথা বলা হয়েছে। এতে নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কমতে পারে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    শমীকের বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের নগর ও পরিকাঠামোগত বিকাশ এখনও মূলত কলকাতাকেন্দ্রিক। অন্যদিকে দুর্গাপুর, আসানসোল, খড়গপুর, কৃষ্ণনগর ও হলদিয়ার মতো শহর শিল্প, শিক্ষা, বন্দর ও পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। এই শহরগুলির মধ্যে দ্রুত ও উচ্চক্ষমতার যাত্রী পরিবহণের প্রয়োজন রয়েছে বলে তাঁর প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে (Samik Bhattacharya)।

    যৌথ মালিকানায় নয়া সংস্থার প্রস্তাব

    প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের যৌথ মালিকানায় একটি বিশেষ উদ্দেশ্যভিত্তিক সংস্থা গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সংস্থার নাম ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল র‍্যাপিড ট্রানজিট কর্পোরেশন’। জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের পরিবহণ ব্যবস্থার আদলে এই সংস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রকল্পের প্রকৌশলগত দিক, সম্ভাব্য যাত্রীসংখ্যা এবং আর্থিক বিষয় খতিয়ে দেখে একটি পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (Samik Bhattacharya) করার জন্য কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রকের কাছে (NaMo-Bharat) আবেদন জানিয়েছেন শমীক।

     

  • India vs Brazil: ঢেলে সাজছে স্টেডিয়াম, টিকিটে সিট নম্বর! ব্রাজিল ম্যাচের আগে যুবভারতীতে আমূল পরিবর্তন

    India vs Brazil: ঢেলে সাজছে স্টেডিয়াম, টিকিটে সিট নম্বর! ব্রাজিল ম্যাচের আগে যুবভারতীতে আমূল পরিবর্তন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব ফুটবলের দুই মহাশক্তিকে বরণ করে নিতে তৈরি হচ্ছে শহর কলকাতা। নতুন সাজে সেজে উঠছে তিলোত্তমা। ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডোর প্রীতি ম্যাচে ভারতীয় ফুটবল দলের মুখোমুখি হতে শহরে পা রাখছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল (India vs Brazil)। দুর্গাপুজোর আগে এও এক যেন পুজো ফুটবলপ্রেমী মানুষের কাছে। আগামী ৩ অক্টোবর সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে হবে এই ম্যাচ। শুধু ব্রাজিলই নয়, এরপরের ৬ তারিখ এই একই ময়দানে খেলবে উরুগুয়েও। তবে মহারণের বাঁশি বাজার আগেই গ্যালারি ও দর্শক সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্তের কথা জানালেন সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF)-এর সভাপতি কল্যাণ চৌবে।

    ফুটবল ম্যাচের টিকিটে ‘সিট নম্বর’

    ফেডারেশন সভাপতি জানিয়েছেন, যুবভারতীর সুবিশাল ইতিহাসের পাতায় এই প্রথমবার কোনও ফুটবল ম্যাচের টিকিটে নির্দিষ্ট আসন বা ‘সিট নম্বর’ উল্লেখ করা থাকবে। এর আগে স্টেডিয়ামে সর্বসাধারণের জন্য মুক্ত বা ‘ফ্রি সিটিং’ ব্যবস্থা থাকত, অর্থাৎ দর্শকেরা নিজেদের পছন্দ মতো ফাঁকা আসনে গিয়ে বসতে পারতেন। তবে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে সেই নিয়মে আসছে আমূল বদল। ইতিমধ্যেই এই ম্যাচের সমস্ত টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, সমর্থকদের মাঠে আসার সময় ই-টিকিট সঙ্গে রাখতে হবে এবং গেটে তা স্ক্যান করিয়ে ভিতরে ঢুকতে হবে। এরপর টিকিটে বরাদ্দ থাকা নম্বর দেখেই নির্ধারিত চেয়ারটিতে বসতে হবে, অন্য কোথাও বসা যাবে না। প্রসঙ্গত, ইতিপূর্বে মেসি কলকাতায় আসার পর গ্যালারিতে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে ভেঙে গিয়েছিল একাধিক বাকেট চেয়ার। সেই অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে আইএফএ-র (IFA) মাধ্যমে ভাঙা চেয়ারগুলি মেরামতির পাশাপাশি প্রতিটিতে নিখুঁত নম্বর বসানোর কাজ দ্রুত গতিতে চালানো হচ্ছে।

    গেরুয়া রঙে সাজছে গ্যালারি

    রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যুবভারতীর পরিচিত নীল-সাদা রঙ বদলে এই প্রথমবার রূপ পাচ্ছে গৈরিকিকরণে। পুরো স্টেডিয়ামকে গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে তোলার পাশাপাশি ড্রেসিংরুম ও শৌচাগারগুলিকেও ঢেলে সাজিয়ে আন্তর্জাতিক মানের করে তোলা হচ্ছে। ম্যাচের আনন্দে সামিল করা হচ্ছে কলকাতার তিন প্রথাগত ফুটবল শক্তিকেও। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান এবং মহামেডান স্পোর্টিং – এই তিন প্রধানের সমর্থকদের জন্য ফেডারেশনের পক্ষ থেকে টিকিটের ওপর বিশেষ ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে। স্টেডিয়ামের ‘B2’ এবং ‘D2’ – এই নির্দিষ্ট দুটি গ্যালারির নির্ধারিত সংখ্যক টিকিটে দেওয়া হবে ১০ শতাংশ (10%) ছাড়। উদাহরণস্বরূপ, ওই টিকিটের দর যদি ১০ টাকা হয়ে থাকে, তবে ১০% ছাড়ের সুবিধায় তা কেনা যাবে। এই ছাড়ের টিকিটগুলি উপলব্ধ থাকবে তিন প্রধানের নিজস্ব ক্লাব টেন্ট এবং আইএফএ-র অফিস থেকে।

  • India US: রাশিয়ার তেল-গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর ১০০% পর্যন্ত শুল্ক! ‘জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করব’, আমেরিকাকে বার্তা ভারতের

    India US: রাশিয়ার তেল-গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর ১০০% পর্যন্ত শুল্ক! ‘জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করব’, আমেরিকাকে বার্তা ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া ও ইরান থেকে তেল কিনলে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ধার্য করতে পারবে আমেরিকা। বুধবার এমনই বিল পাশ হয়েছে মার্কিন আইনসভায়। রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার বিল মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে পাস হওয়ার পরই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈচিত্র্যময় উৎস থেকে আমদানি চালিয়ে যাবে ভারত। পাশাপাশি, পরিস্থিতির প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করা হবে। বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) পক্ষ থেকে জানানো হয়, মার্কিন কংগ্রেসে বিলটি পাস হওয়ার বিষয়টি ভারত নোট করেছে এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের উপর নজর রাখা হচ্ছে।

    কী রয়েছে মার্কিন বিলে

    ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংকসানিং রাশিয়া ও ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ (Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026) নামে বিলটি বুধবার মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ২৬২-১৫৯ ভোটে পাস হয়েছে। এর আগে গত ৭ আগস্ট মার্কিন সেনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি অনুমোদিত হয়েছিল। এবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে বিলটি। বিলটিতে রাশিয়ার নেতৃত্ব ও জ্বালানি খাতের উপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার পাশাপাশি, নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ থাকা জাহাজগুলির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় ক্রেতা—ভারত ও চিনের মতো দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে।

    বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতি

    বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “১৪০ কোটি ভারতীয়ের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে ভারত সরকার সম্পূর্ণরূপে অঙ্গীকারবদ্ধ।” ওই বিবৃতিতে একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, “আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন উৎস থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী অপরিশোধিত তেল ও শক্তি সম্পদ ক্রয় অব্যাহত রাখবে ভারত।” এই বিবৃতি থেকেই স্পষ্ট যে, ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ছাড়পত্রকে হাতিয়ার করে ট্রাম্প প্রশাসন চাপ তৈরি করলে বা দর কষাকষির পথে হাঁটলে তাতে নতিস্বীকার করবে না ভারত। বরং নিজস্ব প্রয়োজন অনুসারে রাশিয়া এবং অন্যান্য তেল আমদানিকারক দেশ থেকে জ্বালানিপণ্য কেনা অব্যাহত রাখবে। নতুন এই মার্কিন আইনের ফলে যদি ভারতের রফতানি বাণিজ্য বা জ্বালানি আমদানিতে কোনও প্রভাব পড়ে, তবে তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার কথাও জানানো হয়েছে মন্ত্রকের বিবৃতিতে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, উদ্ভূত এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং দেশীয় বাণিজ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভারতীয় বাণিজ্য ও শিল্প সংস্থাগুলির সঙ্গে সরকার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে যৌথ ভাবে কাজ করবে।

    আগে থেকেই সতর্ক বিদেশমন্ত্রক

    নয়াদিল্লির তরফে বলা হয়েছে, বিল পাসের বিষয়টির উপর সরকার নজর রাখছে। বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, বিলটি আইনসভায় পাস করানোর আগেই এর সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে মার্কিন আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা করা হয়েছিল। সেখানে নয়াদিল্লির তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয় যে, রাশিয়া থেকে তেল বা গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে আমেরিকা কোনও ধরনের শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে, তা কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না, একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী তেলের বাজারেও চরম অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে। আমেরিকার প্রাক্তন রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামাঙ্কিত এই বিল (লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬) গত মাসেই মার্কিন আইনসভার উচ্চকক্ষ সেনেটে পাস করানো হয়েছিল। বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন ৮৬ জন। আর বিপক্ষে ১১ জন। বুধবার এই বিল পেশ করা হয় নিম্নকক্ষে। সেখানে বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ২৬২টি। আর বিপক্ষে ১৫৯টি। ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির অধিকাংশ সদস্য তো বটেই, বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বেশ কয়েক জনও বিলের পক্ষে ভোট দেন।

    ভারত-মার্কিন-চিন-রাশিয়া সম্পর্কে প্রভাব

    রাশিয়ার উপর চাপ বাড়ানো এবং মস্কোর জ্বালানি রফতানি থেকে অন্যান্য দেশের নির্ভরতা কমানোই এই বিলের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে বিলটিতে ইরানের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের প্রস্তাব রয়েছে। বিলটি পাস হওয়ার পর মার্কিন ডেমোক্র্যাটিক সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল বলেন, “চিন ও ভারত, তোমরা বরং অন্য কোথাও থেকে তেল ও গ্যাস কিনো।” উল্লেখযোগ্যভাবে, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নির্ধারিত মার্কিন সফরের কয়েক দিন আগেই মার্কিন কংগ্রেসে এই বিল পাস হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি ভারত-মার্কিন ও চিন-মার্কিন সম্পর্কেও এই পদক্ষেপের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    মার্কিন বিলের বিরোধিতা চিন-রাশিয়ার

    এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনায় সরব চিন, রাশিয়ার মতো দেশ। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ সাফ জানিয়েছেন, রাশিয়া ও ইরানের তেল কেনায় নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিল একেবারেই বন্ধুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নয়। মার্কিন প্রশাসন এনিয়ে আরও বাড়াবাড়ি করলে ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি চুক্তি ব্যাহত হতে পারে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকোভ জানিয়েছেন, নয়া বিলের উপর কড়া নজর রাখছে রুশ প্রশাসন। আমেরিকার পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ চিনও। বেজিং জানিয়েছে, চিন সবসময় বাণিজ্যিক ও আর্থিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থ ও সাম্য বজায় রাখার পক্ষপাতি। তাতে তৃতীয় কোনো দেশের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। এব্যাপারে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জিউ জাইকুন জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন উড়িয়ে ও রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া তৃতীয় দেশের বিষয়ে নাক গলানোর বরাবর বিরোধিতা করেছে চিন।

LinkedIn
Share