মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) ১৬ মাস পরেও সারগোধায় পাকিস্তান বায়ুসেনার (PAF) মুশাফ ঘাঁটির রানওয়ের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে নতুন করে মেরামতির কাজ চলছে। সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে রানওয়ের একটি অংশে ফের খোঁড়াখুঁড়ি ও সংস্কারের চিহ্ন দেখা গিয়েছে। এনডিটিভির এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর উচ্চ-রেজোলিউশনের ভানতুর উপগ্রহচিত্রে মুশাফ ঘাঁটির মূল রানওয়ে ও ট্যাক্সি ট্র্যাকের সংযোগস্থলে একটি স্পষ্ট কালো অংশ দেখা যাচ্ছে। আশপাশের অ্যাসফল্টের তুলনায় ওই জায়গার রং ও গঠন আলাদা। এর ফলে সেখানে নতুন করে খনন বা রাস্তা পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কাজের জায়গার কাছে একটি লাল রঙের গাড়িও দেখা গিয়েছে। এই জায়গাটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ২০২৫ সালের ১০ মে অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় বায়ুসেনার হামলায় মুশাফ ঘাঁটির মূল রানওয়ের যে দুটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তার মধ্যে এটি একটি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগের মেরামতির অংশেই ফের কাজ
সারগোধায় অবস্থিত মুশাফ বিমানঘাঁটি লাহোর থেকে প্রায় ১৭২ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং অমৃতসরের কাছে ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে। সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্রে দেখা যাচ্ছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর যে অংশটি আগে মেরামত করা হয়েছিল, সেটিই ফের খুঁড়ে নিচের স্তর বা সাবগ্রেড পর্যন্ত কাজ করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর অর্থ হতে পারে, পাকিস্তান ওই অংশে শুধু নতুন করে অ্যাসফল্টের প্রলেপ দিচ্ছে না, বরং আরও বড় ধরনের পুনর্নির্মাণ করছে। তবে উপগ্রহচিত্র দেখে এই খননের সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। রানওয়ের নিচে বসে যাওয়া, অসমতল হয়ে যাওয়া, উপরের স্তরে ক্ষতি কিংবা আগের মেরামতির নীচে কোনও সমস্যা—এর মধ্যে একাধিক কারণ থাকতে পারে।
উপগ্রহচিত্রে রানওয়ে মেরামতির ছবি
ছবিতে রানওয়ের বিভিন্ন অংশে ধাপে ধাপে সংস্কারের চিহ্নও দেখা যাচ্ছে। কোথাও তুলনামূলক গাঢ় ও মসৃণ পৃষ্ঠ দেখা যাচ্ছে, আবার অন্য একটি অংশে মেরামতির কাজ এখনও চলছে বলে মনে হচ্ছে। এর আগে ২৮ আগস্ট ২০২৬-এর উপগ্রহচিত্রে ওই হামলাস্থলটি মেরামত হয়ে গিয়েছে বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু সর্বশেষ ছবিতে একই জায়গায় ফের কাজ শুরু হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। সর্বশেষ উপগ্রহচিত্র অবশ্য রানওয়ের বর্তমান মেরামতির সুনির্দিষ্ট কারণ বা কাজের পূর্ণ পরিধি নিশ্চিত করে না।
রানওয়ের দুটি জায়গায় আঘাত
২০২৫ সালের ১০ মে-র উপগ্রহচিত্রে মুশাফ ঘাঁটির প্রায় ৩,২০০ মিটার দীর্ঘ মূল রানওয়ের উপর দুটি পৃথক আঘাতের চিহ্ন দেখা গিয়েছিল। বিশ্লেষকদের অনুমান অনুযায়ী, রানওয়ের সংযোগস্থলে তৈরি গর্তটির প্রস্থ ছিল প্রায় ৮-৯ মিটার এবং গভীরতা ৪-৫ মিটার। আঘাতের জায়গার চারপাশে অ্যাসফল্ট ও কংক্রিটের ধ্বংসাবশেষ এবং বেশ কিছু স্থলযানও দেখা গিয়েছিল। রানওয়ের একই অংশে প্রায় ৬৬০ মিটার দূরে দ্বিতীয় একটি আঘাতের জায়গাও চিহ্নিত করা হয়েছিল। মুশাফ ঘাঁটিতে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট অস্ত্রের নাম ভারতীয় বায়ুসেনা প্রকাশ্যে জানায়নি। তবে গর্তের আকার ও ক্ষয়ক্ষতির ধরন বিশ্লেষণ করে কিছু বিশেষজ্ঞের ধারণা, এটি সুখোই-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষিপ্ত এয়ার-লঞ্চড ব্রহ্মোসের আঘাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। তবে এটি বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ মাত্র; সরকারি ভাবে অস্ত্রটির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি।
এক বছরেরও বেশি সময় পর ফের সংস্কার
সাম্প্রতিক উপগ্রহচিত্র থেকে মুশাফ ঘাঁটির ওই অংশে এখনও পুনর্গঠনের কাজ চলার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৫ সালের মে মাসের হামলার পর একবার মেরামত করা অংশে এক বছরেরও বেশি সময় পরে ফের খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে নজরে এসেছে। ভারতীয় সামরিক সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ মে অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের একাধিক সামরিক পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করা হয়েছিল। এর মধ্যে কয়েকটি বিমানঘাঁটিতে, রাডার ব্যবস্থা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোও ছিল। অপারেশন সিঁদুরের সময় সরগোধা এবং কিরানা হিলসের আশপাশে একাধিক ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। এই ড্রোনগুলির মূল কাজ ছিল পাকিস্তানের রাডার ব্যবস্থা খুঁজে বের করা।
ভারতের সবচেয়ে বড় প্রত্যাঘাত
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরপরই ভারত সরকার প্রমাণের স্তূপ তুলে ধরেছিল। পাকিস্তানের নয়টি জঙ্গি ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলার বিস্তারিত ফুটেজ প্রকাশ করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের ১১টি সামরিক ঘাঁটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আসল ফুটেজও বিশ্ববাসীর সামনে এনেছিল ভারত। আন্তর্জাতিক মুক্ত তথ্যসূত্র গোয়েন্দা সংস্থা (OSINT) এবং উচ্চ-রেজোলিউশনের স্যাটেলাইট চিত্রেও পাকিস্তানের ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা প্রমাণিত হয়। ভোলারি, সারগোধা এবং নুর খানের মতো একাধিক পাক বিমানঘাঁটির রানওয়ে ও হ্যাঙ্গারে গভীর ক্ষতের ছবি ধরা পড়েছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ এই প্রত্যাঘাতকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তানি সামরিক পরিকাঠামোর ওপর ভারতের সবচেয়ে বড় হামলা বলে উল্লেখ করেছিল।









