Author: ishika-banerjee

  • Modi Trump Meeting: ট্রাম্পের মুখে মোদিস্তুতি! বললেন ‘খুবই কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী’; জি-৭ বৈঠকের পর নতুন মন্তব্য

    Modi Trump Meeting: ট্রাম্পের মুখে মোদিস্তুতি! বললেন ‘খুবই কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী’; জি-৭ বৈঠকের পর নতুন মন্তব্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে ফের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের পর একাধিক মন্তব্যে ট্রাম্প মোদিকে “খুবই কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী” (Very Tough Cookie) বলে উল্লেখ করেছেন। একইসঙ্গে তিনি চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বিশ্বের অন্যতম প্রশংসনীয় নেতা বলেও অভিহিত করেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প বলেছেন, “শি জিনপিং পুরোপুরি কাজমুখী নেতা। আর নরেন্দ্র মোদি অত্যন্ত কঠিন একজন মানুষ, আলোচনার টেবিলে তাঁকে হারানো সহজ নয়।”

    কঠোর ও দক্ষ আলোচক

    এর আগে ফ্রান্সের জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ও ট্রাম্প তাঁর প্রশংসা করেছিলেন। সে সময় ট্রাম্পের মন্তব্য ছিল, “তিনি দেখতে অত্যন্ত ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। কিন্তু বাস্তবে তিনি একজন কঠোর ও দক্ষ আলোচক। তিনি সবসময় ভারতের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখেন।” ট্রাম্প আরও বলেন, “তিনি অত্যন্ত কঠিন দর-কষাকষি করেন। আলোচনার টেবিলে তিনি সম্পূর্ণ ‘কিলার’। তবে তাঁর আচরণ খুবই শান্ত, সংযত এবং চিন্তাশীল।” ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, “যতদিন নরেন্দ্র মোদি ভারতের নেতা থাকবেন, ততদিন ভারতের নিরাপত্তার প্রশ্নে আমেরিকা পাশে থাকবে। যদি কেউ তাঁকে বা তাঁর নেতৃত্বাধীন ভারতকে আক্রমণ করে, আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত থাকব।”

    মোদি-ট্রাম্প বৈঠক

    উল্লেখ্য, ফ্রান্সের এভিয়ঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠক হয়। প্রায় ১৬ মাস পর দুই নেতার এটি ছিল প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি হোয়াইট হাউসে সরকারি সফরে গিয়েছিলেন। এদিকে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। সূত্রের খবর, প্রস্তাবিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান অস্থিরতা, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তার মধ্যে মোদি-ট্রাম্প বৈঠক কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারতের সঙ্গে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বার্তাই এই বৈঠকের মাধ্যমে তুলে ধরতে চেয়েছে ওয়াশিংটন।

  • Jyotipriya Mallick: ‘শারীরিক কারণে’ দলের সমস্ত পদ ছেড়ে দিলেন জ্যোতিপ্রিয়, পদত্যাগ শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবের

    Jyotipriya Mallick: ‘শারীরিক কারণে’ দলের সমস্ত পদ ছেড়ে দিলেন জ্যোতিপ্রিয়, পদত্যাগ শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সূত্রের খবর, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ বালু। সম্প্রতি, তৃণমূল কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটিতে স্থান পেয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয়। কিন্তু, শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি দায়িত্ব নিতে অপারগ। চিঠিতে এমনটাই জানিয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। অন্য দিকে, শুক্রবারই শিলিগুড়ির মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা গৌতম দেব। পুর কমিশনারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি।

    বিপদে দলনেত্রীর হাত ছাড়লেন কেন

    সূত্রের খবর, চিঠিতে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক লিখেছেন, “আমার ৩৫০-এর উপর সুগার, কিডনি খারাপ হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় দলের কোনও কাজকর্মে আমি এখন যুক্ত থাকতে পারছি না। তাই সব পদ ছেড়ে দিলাম।” গত শনিবারই জ্যোতিপ্রিয়কে দলের কর্মসমিতির সদস্য করেছিল তৃণমূল। এক সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই দলের সমস্ত পদ ছে়ড়ে দিলেন তৃণমূলের প্রথম দিকের ‘সৈনিক’ জ্যোতিপ্রিয়। তবে, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পদত্যাগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠদের মধ্যে প্রথম সারিতেই রয়েছে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নাম। তৃণমূলের শুরু থেকে, মমতার লড়াইয়ের দিনগুলিতে দলের অন্যতম সৈনিক হিসেবে মমতার পাশে ছিলেন তিনি। বালুর দুর্দিনে তাঁর হাত ছাড়েননি মমতাও। রেশন দুর্নীতি মামলায় জ্যোতিপ্রিয়র জেলযাত্রার পরেও তাঁর উপর ভরসা রেখেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। জ্যোতিপ্রিয়কে ফাঁসানো হয়েছে বলেও জোর গলায় দাবিও করেছিলেন। কিন্তু, দলের দুর্দিনে, মমতার দুর্দিনে সেই বালুও সঙ্গে থাকলেন না।

    মেয়র পদ ছাড়লেন গৌতম

    জ্যোতিপ্রিয়ের পদত্যাগ তৃণমূলের অনেককে বিস্মিত করলেও গৌতম যে মেয়র পদ ছাড়তে চলেছেন, তা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর বিভিন্ন পুরসভা এবং পুরনিগমের চেয়ারম্যান এবং মেয়রেরা পদত্যাগ করছেন। ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী, চন্দননগরের মেয়র রাম চক্রবর্তী। এ বার রাজ্যের আর এক পুরনিগম শিলিগুড়ির মেয়রও পদত্যাগ করলেন। অর্থাৎ, শিলিগুড়ির পুরবোর্ডও ভেঙে গেল। বৃহস্পতিবারই পুরনিগমের মেয়র পারিষদদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন গৌতম। ওই বৈঠকে তিনি পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ করলে মেয়র পারিষদদের একাংশ তাঁকে বাধা দেন। শিলিগুড়ি পুরনিগমের বর্তমান বোর্ডের আরও এক বছর কাজের মেয়াদ ছিল। তাই অনেক মেয়র পারিষদই ইস্তফা দিতে চাননি। তবে গৌতম সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। তৃণমূল সূত্রে খবর, তৃণমূলনেত্রী চাইছেন গৌতম দলীয় সংগঠনে আরও বেশি করে নজর দিন।

  • India Pakistan Relation: ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র, নিজেদের তৈরি দানবের কামড় খাচ্ছে’! রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত

    India Pakistan Relation: ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র, নিজেদের তৈরি দানবের কামড় খাচ্ছে’! রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জঙ্গি তৈরির কারখানা। একটা ‘ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন রাষ্ট্র’ (Frankenstein state)। রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ ভারতের। শুক্রবার ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি অনুপমা সিং বলেন, ‘‘ওই দেশটি এখন নিজের তৈরি দানবের (সন্ত্রাসবাদী) কামড় খেয়ে নিজেরাই চমকে উঠেছে।’’ রাষ্ট্রসংঘে দিল্লির প্রতিনিধি (India Pakistan Relation) অনুপমা সিং বলেন, “সন্ত্রাসবাদীদের প্রশিক্ষণ, মোতায়েন এবং আশ্রয়” দেওয়াই ইসালামাবাদের কাজ। সম্মেলনে পাক প্রতিনিধি কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলতেই পালটা আক্রমণ করেন ভারতের প্রতিনিধি।

    পাকিস্তানের হিংসা ও দমনপীড়ন

    পাকিস্তানের প্রতিনিধি জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গ তোলায় তার জবাব দিতে গিয়ে অনুপমা পাল্টা অভিযোগ করেন, ইসলামাবাদ ধারাবাহিক ভাবে সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয়, প্রশিক্ষণ-সহ বিভিন্ন সহায়তা দিয়ে চলেছে। তিনি বলেন, ‘‘জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। একমাত্র অমীমাংসিত বিষয় হল, ভারতের ভূখণ্ডে পাকিস্তানের অবৈধ দখলদারি।’’ তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান এমন এক দেশ, যার বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী “রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে জঙ্গিদের আশ্রয়, প্রশিক্ষণ এবং কাজে লাগানোর বিষয়ে গর্ব করেন। অথচ পাকিস্তান নিজেকেই সন্ত্রাসবাদের শিকার বলে দাবি করে। সত্যিই এক অদ্ভুত বৈপরীত্য, যা কেবল পাকিস্তানই জিইয়ে রাখতে পারে। ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ রাষ্ট্রের জীবন্ত উদাহরণ, নিজেরই সৃষ্টি করা দানবের পালটা কামড়ে হতবাক হয়ে পড়ে।” পহেলগাঁও হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে সিন্ধুচুক্তি বাতিলের পক্ষে সওয়াল করেন ভারতীয় প্রতিনিধি। ভারতের অনুপমা সিংয়ের বক্তব্যের সামনে কার্যত দাঁড়াতে পারেনি পাক প্রতিনিধি।

    গায়ের জোরে দখলদারি

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরে রাওয়ালাকোটের হিংসা ও দমনপীড়নের উল্লেখ তিনি পাকিস্তান সরকার এবং সেনার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। চলতি মাসের গোড়া থেকেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে সাধারণ জনতার। ওই অঞ্চলে আর্থিক দুর্দশা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চালাচ্ছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নাগরিক সংগঠন ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’। সম্প্রতি ওই সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। তার পর থেকেই বিক্ষোভ, প্রতিবাদ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে পাক সেনা এবং রেঞ্জার্স বাহিনীর হামলাও। নির্বিচার গুলিবর্ষণে এ পর্যন্ত শতাধিক সাধারণ নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে অভিযোগ। সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে অনুপমা বলেন, “রাওয়ালাকোটের এই ট্র্যাজেডি, শত শত সাধারণ নাগরিককে হত্যা এবং পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে চালানো নৃশংস দমন-পীড়ন আদতে প্রত্যাশিত পরিণতি। কারণ তা গায়ের জোরে দখলদারির উপর প্রতিষ্ঠিত। দমন-পীড়ন চালিয়েই শাসন টিকিয়ে রাখা হয়েছে।” একটি সূত্রে দাবি, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে মোট মৃতের সংখ্যা তিরিশ ছাড়িয়েছে। এই বিষয়ে অনুপমা বলেন, “কয়েক দশক ধরে সামরিক শক্তিতে ভূমি দখল, জনবিন্যাস নিয়ে কারসাজি এবং মৌলিক স্বাধীনতা হরণের ফলে পরিস্থিতি এই পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এমনকী খাদ্য, বিদ্যুৎ, নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও মর্যাদার মতো দাবিওগুলিও বন্দুক উঁচিয়ে চেপে দেওয়া হচ্ছে।”

  • Rain in Bengal: স্বস্তির বৃষ্টি দক্ষিণে, বর্ষায় বিপর্যস্ত পাহাড়! ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস, দার্জিলিং-শিলিগুড়ি যোগাযোগ ব্যাহত

    Rain in Bengal: স্বস্তির বৃষ্টি দক্ষিণে, বর্ষায় বিপর্যস্ত পাহাড়! ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ধস, দার্জিলিং-শিলিগুড়ি যোগাযোগ ব্যাহত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টি। প্রবল গরমের পর শুক্রবার সকাল থেকেই শহরজুড়ে বৃষ্টি (Kolkata Rain Update) শুরু হয়েছে। কোথাও হালকা, কোথাও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। শুধু কলকাতা নয়, দক্ষিণবঙ্গের (West bengal Weather Update) একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে বেশ কয়েক জায়গায় জলও জমে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতেও দক্ষিণের একাধিক জেলায় ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, বৃষ্টির (Rain Forecast) জেরে এক রাতেই তাপমাত্রা প্রায় ৫ডিগ্রি কমেছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ দিনভর বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে। দক্ষিণে স্বস্তির হলেও উত্তরবঙ্গে ভয়াল রূপ নিয়েছে বর্ষা (Rain in Bengal)। রাতভর ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পাহাড়। কোথাও ভেসে গেল সেতু। কোথাও জাতীয় সড়কে নামল ধস। এর ফলে শিলিগুড়ির-দার্জিলিং এবং শিলিগুড়ি-মিরিক সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে।

    উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে পাহাড়-সহ সমতলে প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বেশ কয়েকদিন ধরেই বৃষ্টি চলছে উত্তরের জেলাগুলিতে। গতকাল রাত থেকে বৃষ্টির পরিমাণ বেড়েছে। আজ, সারাদিন দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এই পাঁচ জেলাতে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শনিবার ও রবিবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে উত্তর দিনাজপুরে। মালদহ ও দুই দিনাজপুরে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে। ভুটান এবং সিকিম পাহাড়ে এখনও ঘন কালো মেঘ থাকায় ফের ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

    উত্তরবঙ্গের নদীগুলিতে জল বেড়েছে

    ভারী বর্ষণের জেরে উত্তরবঙ্গের নদীগুলিতে জল বেড়েছে। বালাসন নদীর জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে কার্শিয়াং জেলার দুধিয়ার বিকল্প সেতুটিও। বৃহস্পতিবার থেকেই ফুঁসছিল বালাসন নদী। রাতের দিকে মহানন্দার ফুলবাড়ি ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়া হয়। তার পরেই বালাসন নদীতে জলস্তর ক্রমশ বাড়তে থাকে। রাত থেকে দুধিয়ার বালাসন তীরবর্তী মানুষেরা আতঙ্কে ছিলেন। মধ্যরাতে জলের তোড় বাড়ায় হিম পাইপের তৈরি অস্থায়ী সেতুটি সম্পূর্ণ ভাবে জলে তলিয়ে যায়। আপাতত মিরিকের সঙ্গে দুধিয়া এবং শিলিগুড়ির যোগাযোগ প্রায় বন্ধ।

    জাতীয় সড়কে ধস, সমস্যায় পর্যটকরা

    ভারী বর্ষণ এবং মহানন্দা নদীতে জলস্তর বাড়ার কারণে ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক জায়গা ধসে গিয়েছে। আপাতত দার্জিলিং থেকে শিলিগুড়ির মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী এই রাস্তাটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক কিংবা কালিম্পং এবং সিকিমগামী রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। খারসাং থেকে শিলিগুড়িগামী তিন লেনের রাস্তার একটি বড় অংশ ভেঙে পড়েছে। প্রধান সড়কের উপর একটি বিশাল গাছ উপড়ে পড়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ ভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধস সরিয়ে এবং রাস্তা মেরামত করে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় লাগবে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন পর্যটকরা। বর্ষার পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বহু মানুষ এই সময়ে দার্জিলিং, মিরিক ও সংলগ্ন এলাকায় বেড়াতে গিয়েছেন। দুধিয়া রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের অনেককেই সুখিয়াপোখরি হয়ে শিলিগুড়ি ফিরতে হচ্ছে। তবে লাগাতার বৃষ্টি চললে সেই পথও কতটা নিরাপদ থাকবে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

    বন্ধ শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং টয়ট্রেন

    ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরেই টয়ট্রেন চলে দার্জিলিং থেকে শিলিগুড়ি এবং শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত। তা আপাতত টয়ট্রেন পরিষেবা বন্ধ করে রাখা রয়েছে। এই প্রসঙ্গে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী বলেন, “আজকে (শুক্রবার) সমস্ত পরিষেবাই বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ধস সরাতে সময় লাগবে। তবে আগামী কাল (শনিবার) থেকে দার্জিলিং থেকে কার্শিয়াঙের মধ্যে যে টয়ট্রেন পরিষেবা রয়েছে, তা চালু থাকবে।” উত্তরবঙ্গের দুর্যোগ পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে রাজ্য প্রশাসন। রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, “গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়েছে। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকেও জানানো হয়েছে। জেলার বিভিন্ন আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছি৷ সাংসদ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবেন। পর্যটকদের কাছে অনুরোধ, তাঁরা যে যেখানেই রয়েছেন, সুরক্ষিত ভাবে সেখানেই থাকুন। প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

    দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া

    আজ কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আলিপুর আবহাওযা দফতর জানিয়েছে, মূলত মেঘলা আকাশ থাকবে। দক্ষিণের বেশিরভাগ জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, শনিবার থেকে ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়াতে। এছাড়া বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে হুগলি, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং উত্তর চব্বিশ পরগনায়। তবে, আপাতত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।

    জলমগ্ন শহরের একাধিক জায়গা

    বৃষ্টি হলেও আগামী ২৪ ঘন্টায় আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিকর আবহাওয়া থাকবে দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলায়। ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে। তবে, শনি ও রবিবার থেকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে। শনিবার থেকে ঝড় বৃষ্টির বাড়বে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। রবিবারও একই পূর্বাভাস থাকবে।  তবে, বৃষ্টির জেরে শুক্রবার সকালে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪.৬ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, গিরীশ পার্ক, মানিকতলা, ঠনঠনিয়া-সহ উত্তর কলকাতার একাধিক এলাকায় ইতিমধ্যেই জল জমতে শুরু করেছে। দক্ষিণ কলকাতার একাধিক জায়গায় জমছে জল। জল জমেছে সল্ট লেক সেক্টর ফাইভের বেশকিছু জায়গায়। বৃষ্টি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎপর কলকাতা পুরসভা। পুরসভায় খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। দ্রুত জল নামানোর কাজে তৎপর কেএমসি।

  • Yoga Day 2026: শুরু যোগ দিবস কার্নিভ্যাল! ম্যারাথনে মুখ্যমন্ত্রী, করলেন প্রাণায়ামও, আজ থেকে ৩দিন নানা চমক

    Yoga Day 2026: শুরু যোগ দিবস কার্নিভ্যাল! ম্যারাথনে মুখ্যমন্ত্রী, করলেন প্রাণায়ামও, আজ থেকে ৩দিন নানা চমক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃষ্টিভেজা শুক্রের সকাল থেকেই শুরু হল ৩ দিন ব্যাপী যোগ দিবসের বর্ণাঢ্য কর্মসূচি। এদিন কলকাতা পুরসভা থেকে ‘দৌড় সে ধ্যান’ ম্যারাথনের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাইটার্স বিল্ডিং পর্যন্ত ২ কিলোমিটার পথে অনুষ্ঠিত হল এই ম্যারাথন। হাঁটালেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আয়ুশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী, রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় সহ অন্যরা। দৌড় শেষে হল প্রাণায়ম। যোগ কোনও চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকেই যে যোগচর্চার সূচনা হয়েছিল, তাকে তার যথাযথ মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার।

    কী কী চমক যোগ দিবস উপলক্ষে?

    এদিন প্রাণায়াম শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “যোগ দিবস পালন শুরু হয়ে গেল। ২ কিলোমিটার ম্যারাথন শুধু কলকাতায় নয় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হচ্ছে। নৌকায় যোগা, ড্রোন শো সহ একাধিক চমক রয়েছে। কলকাতা পুরসভার সমস্ত ওয়ার্ডে নানাবিধ অনুষ্ঠান হবে।” শুক্রবার শহরের ১১টি জায়গায় ম্যারাথন হয়েছে। ২০ তারিখ হবে যোগ কার্নিভ্যাল। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, যোগ দিবস পালন সারা পৃথিবীতে একটি সমাদৃত ও সময়োপযোগী কার্যক্রম হিসেবে গৃহীত হয়েছে। বিশ্বের ১৭৫টির বেশি দেশ যোগ দিবস পালনের মাহাত্ম্যকে গ্রহণ করেছে।

    যোগদিবসে বিশেষ ড্রোন শো

    শনিবার, ২০ জুন মূলত ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ ও পালিত হবে। ওই দিন সন্ধ্যায় সাড়ে পাঁচটার পরে গঙ্গাবক্ষে একটি অভিনব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ড্রোনের মাধ্যমে যোগব্যায়ামের বিষয়ে একটি দৃশ্যের আয়োজন করা হয়েছে। কলকাতার আকাশে উড়বে ৩ হাজার ড্রোন। মিলেনিয়াম পার্ক, প্রিন্সেপ ঘাট থেকে এই ড্রোন শো দেখা যাবে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কলকাতার ৪৫টা আলাদা জায়গায় এলসিডি স্ক্রিন লাগানো হচ্ছে। যেখানে যোগ দিবসের সমস্ত অনুষ্ঠান সরাসরি দেখানো হবে। ড্রোন শো-ও রয়েছে সেই তালিকায়।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগ

    আগামী রবিবার, ২১ জুন বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রেড রোডে যোগাসন করবেন ৩৫ হাজার মানুষ। ইতিমধ্যেই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য প্রায় ৩৮ হাজার মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছেন। মূল মঞ্চের সামনে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে কলকাতা পুর এলাকা এবং সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত কর্মসূচিগুলির মাধ্যমে কয়েক লক্ষ মানুষ এই যোগ উৎসবে যোগ দেবেন বলে আশা করছে প্রশাসন। গোটা রাজ্যে ১০ লক্ষ মানুষ যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করবেন, বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর। ৪৫ মিনিট যোগাসন করবেন প্রধানমন্ত্রী। ওই দিন রেড রোডে হবে যোগ প্রদর্শনী। ২১ তারিখ শহরের মোট ৪২টি পার্কে যোগাসন করতে পারবেন সাধারণ মানুষ।

    কেন রেড রোডে অনুষ্ঠান

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল কর্মসূচিটি হবে কলকাতার রেড রোডে। বর্ষাকাল এবং শহরের বিভিন্ন মাঠের কর্দমাক্ত পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই এই স্থান নির্বাচন করা হয়েছে।  ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ২১ জুন রেড রোডেই অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। ফলে রাজপথে আপাতত এই অনুষ্ঠানে কোনও বাধা রইল না। রেড রোড বন্ধ রাখার সরকারি বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে যে মামলা হয়েছিল, তাতে হস্তক্ষেপ করেনি কলকাতা হাই কোর্ট। কোনও ধরনের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়নি আদালত। তবে জনস্বার্থে পুলিশকে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যান চলাচলের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমস্যা হবে না

    আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছে প্রশাসন। ওই দিন নিটের পরীক্ষা রয়েছে। যোগ দিবসের জন্য পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে পরীক্ষার্থীদের সমস্যা পড়তে হবে না বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কারণ যোগ দিবসের পুরো অনুষ্ঠান সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার নবান্নে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতাপরাও যাদবকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “যোগ কোনও চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। এই পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকেই যে যোগের সূচনা হয়েছিল, তাকে আবার তার পুরোনো জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”

    নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত

    ২১ জুন রেড রোডের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের সকাল ৬টা ১৫ মিনিটের মধ্যে প্রবেশ করতে হবে। এর প্রায় আধ ঘণ্টা পরে মূল কর্মসূচি শুরু হবে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থাকবেন। তাঁর উপস্থিতিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত কয়েক দিন ধরেই জোরকদমে চলছে প্রস্তুতি। কর্মসূচি ঘিরে রেড রোডে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং বৃহৎ পরিসরে পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

    যোগে নজির গড়বে রাজ্য

    রাজ্য প্রশাসনের দাবি, কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রকের নির্ধারিত প্রোটোকল মেনেই এই যোগ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘ ১২ বছর পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদ্‌যাপনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করছে বলেও জানানো হয়েছে। সরকারের আশা, তিন দিনের এই কর্মসূচি এবং বিশেষ করে ২১ জুনের মূল কর্মসূচি সফল হলে যোগ দিবস উদ্‌যাপনের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ একটি নতুন আন্তর্জাতিক নজির গড়তে সক্ষম হবে।  মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যোগ নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। এই প্রথম ১২তম যোগ দিবসে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সরকারি ভাবে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছে। এ বার পশ্চিমবঙ্গ এই অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই কার্যক্রম সফল হবে।’

  • India-UK Free Trade: ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি! ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা প্রধানমন্ত্রীর

    India-UK Free Trade: ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি! ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত বছর ২৪ জুলাই সই হয়েছিল ভারত-ব্রিটেন অবাধ বাণিজ্য চুক্তি (FTA)। বুধবার এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রক জানাল, স্বাক্ষরিত হওয়ার এক বছরের মাথায় ১৫ জুলাই থেকে এই চুক্তি (India-UK Free Trade) কার্যকর হতে চলেছে। এর ফলে ‘কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট’(CETA)-এর অধীনে দুই দেশে একে অপরের পণ্য কম বা বিনা শুল্কে রফতানির সুযোগ পাবে সংশ্লিষ্ট শিল্প। পাশাপাশি, ১৫ জুলাই থেকে দু’দেশের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তিও (ডব্‌ল কন্ট্রিবিউশন কনভেনশন) কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। ব্রিটেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,চুক্তি কার্যকরের আগে ব্যবসায়ী ও শিল্পমহলকে প্রস্তুতির জন্য ২৮ দিনের সময় দেওয়া হল।

    ভারত-ব্রিটেন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

    দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচনার পর চূড়ান্ত হওয়া এই চুক্তিকে ভারত-ব্রিটেন সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইউকে-এর দাবি, এই চুক্তির ফলে দীর্ঘমেয়াদে ব্রিটেনের জিডিপি প্রায় ৪.৮ বিলিয়ন পাউন্ড বৃদ্ধি পাবে, প্রকৃত মজুরি বাড়বে ২.২ বিলিয়ন পাউন্ড, এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বছরে প্রায় ২৫.৫ বিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

    চুক্তির আওতায় কী কী

    চুক্তির আওতায় ভারতের বাজারে ব্রিটিশ পণ্যের উপর শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। এর মধ্যে স্কচ হুইস্কির উপর ১৫০ শতাংশ শুল্ক কমে ৪০ শতাংশে নামানো হবে। নির্দিষ্ট কোটার আওতায় গাড়ির উপর শুল্ক ১০০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামানো হবে। প্রসাধনী সামগ্রীর উপর সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। অন্যদিকে, ভারতীয় বস্ত্র, জুতো, খাদ্যপণ্যসহ একাধিক পণ্যের উপর যুক্তরাজ্য শুল্ক কমাবে। ফলে ব্রিটিশ বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ডাবল কনট্রিবিউশন কনভেনশন কী

    চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত ডাবল কনট্রিবিউশন কনভেনশন-এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কর্মসূত্রে যাতায়াতকারী পেশাদারদের সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত অবদান ও পেনশন সুবিধা সহজতর হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হতে চলা এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি শুধু দুই দেশের অর্থনীতিকেই শক্তিশালী করবে না, বরং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    ‘ইউকে-ইন্ডিয়া রোডশো’

    যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল জানিয়েছেন, চুক্তি কার্যকরের প্রথম বছরেই প্রায় ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের শুল্ক হ্রাসের সুবিধা পাবেন ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা। একইসঙ্গে ভারতের বিশাল বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এই উপলক্ষে যুক্তরাজ্যের চারটি অঞ্চলে ‘ইউকে-ইন্ডিয়া রোডশো’-ও আয়োজন করা হবে।

    ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের জন্য সুবিধা

    এই চুক্তির ফলে উৎপাদন, প্রযুক্তি, পরিষেবা, ওষুধ শিল্প এবং আর্থিক পরিষেবা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে দুই দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য বাণিজ্যিক বাধা কমবে এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সহজ হবে। ফলে সীমান্ত পেরিয়ে ব্যবসা পরিচালনা আরও সহজ হবে। এছাড়া ধাপে ধাপে শুল্ক কমার ফলে দুই দেশের ভোক্তারাও আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যে তুলনামূলক কম দাম পাওয়ার সুবিধা পেতে পারেন।

    ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য পূরণে সহায়ক

    সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রধানমন্ত্রী মোদি এই চুক্তিকে “ভারত-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “ভারত-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ১৫ জুলাই ২০২৬ থেকে ভারত-যুক্তরাজ্য কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট কার্যকর হবে জেনে আমি আনন্দিত।”মোদির মতে, এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি ভারতীয় কৃষক, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই), স্টার্টআপ এবং উদ্ভাবকদের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলে যাবে। তিনি বলেন, “এই চুক্তি বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, এই বাণিজ্য চুক্তি নয়াদিল্লি ও লন্ডনের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন গতি দেবে এবং দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করবে।

    মোদি ও স্টারমার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

    জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও স্টারমারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয় নেতা গত এক বছরে ভারত-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের অগ্রগতিকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, ব্রিটেন ২০২০ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে বেরিয়ে আসার পর এটিই হল কোনও দেশের সঙ্গে ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক চুক্তি। যার পোশাকি নাম ‘কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ (সিইটিএ)। বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রক বিবৃতিতে বলেছে, “ভারত এবং ব্রিটেন আজ ঘোষণা করছে, আগামী ১৫ জুলাই থেকে সিইটিএ কার্যকর হবে। বিশ্ব অর্থনীতিতে এটি ভারতের একটি বড় পদক্ষেপ।”

    দু’দেশেরই অর্থনীতিতে গতি

    দিল্লিতে ব্রিটিশ হাই কমিশনার লিন্ডি ক্যামেরনও পৃথক ভাবে এই বাণিজ্যচুক্তির কথা ঘোষণা করেছেন বুধবার। দিনক্ষণ ঘোষণা করে তিনি সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, “এ বার প্রহর গোনা শুরু! ব্রিটেন এবং ভারত আগামী ১৫ জুলাই থেকে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে।” এই পদক্ষেপকে দু’দেশের সম্পর্কের এক ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছেন ব্রিটিশ হাই কমিশনার। তাঁর মতে, এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার ফলে দু’দেশেরই অর্থনীতিতে গতি আসবে। এই চুক্তির ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৩,৪০০ কোটি ডলার বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী মোদি।

  • Manipur: মণিপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান, ৩৬ ঘণ্টায় ধ্বংস ৬১টি অবৈধ বাঙ্কার, সরানো হল একাধিক চেকপোস্ট

    Manipur: মণিপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান, ৩৬ ঘণ্টায় ধ্বংস ৬১টি অবৈধ বাঙ্কার, সরানো হল একাধিক চেকপোস্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মণিপুরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বড়সড় অভিযান চালাল নিরাপত্তা বাহিনী। গত ৩৬ ঘণ্টায় রাজ্যের পাহাড়ি ও উপত্যকা অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে ৬১টি অবৈধ বাঙ্কার ধ্বংস করা হয়েছে এবং একাধিক বেআইনি চেকপোস্ট সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মণিপুর পুলিশের বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রায় ৬ হাজার নিরাপত্তা কর্মী এই যৌথ অভিযানে অংশ নেন। রাজ্যের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় তল্লাশি, কম্বিং অপারেশন এবং এলাকা দখলমুক্ত করার অভিযান চালানো হয়।

    যৌথ অভিযান উদ্ধার অস্ত্র

    অভিযানের মূল কেন্দ্র ছিল কাংপোকপি জেলার লেইমাখং এলাকা। লেইলন ভাইফেই, লেইলন খুনৌ, এল. মুনলুই এবং কনসাখুল গ্রামে অভিযান চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ৩০টি বাঙ্কার, আউটপোস্ট এবং কৌশলগতভাবে স্থাপিত ক্যাম্প ভেঙে দেয়। প্রশাসনের দাবি, এগুলি সমাজবিরোধী গোষ্ঠীগুলির ব্যবহার করা ঘাঁটি ছিল। অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামও উদ্ধার হয়েছে। বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১১টি ১২-বোর সিঙ্গল-ব্যারেল ব্রিচ-লোডিং (SBBL) বন্দুক, ২৯৪ রাউন্ড জীবন্ত গুলি, ৩৪টি ব্যবহৃত কার্তুজ, দুটি গানপাউডারের প্যাকেট এবং ৬টি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট। এছাড়া চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের পরিচয় ও ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে ১৭ জুন কাংপোকপির সাইকুল মহকুমায় অভিযান চালিয়ে থিংফাই ও সি. খোলেন গ্রামে মোট চারটি অবৈধ বাঙ্কার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি চুরাচাঁদপুর জেলায় এস. নাবিল এবং লইলামকোই এলাকায় একটি বাঙ্কার ও একটি বেআইনি চেকপোস্ট অপসারণ করা হয়।

    সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাই উদ্দেশ্য

    প্রশাসনের মতে, সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলিতে অবৈধভাবে তৈরি সুরক্ষিত ঘাঁটি ও চেকপোস্ট সরিয়ে দিয়ে শান্তি ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। উল্লেখ্য, ১৬ জুন উখরুল জেলায় নিরাপত্তা বাহিনী ২৬টি অবৈধ বাঙ্কার ধ্বংস করেছিল। তদন্তকারীদের দাবি, চলমান উত্তেজনার আবহে প্রতিদ্বন্দ্বী নাগা ও কুকি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত সমাজবিরোধীরা ওই বাঙ্কারগুলি তৈরি করেছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজ্যের অশান্ত ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে, যাতে সশস্ত্র কার্যকলাপ রোধ করা যায় এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

  • Governor R N Ravi: রাজ্যে নতুন সরকারের ভূমিকাকে কুর্নিশ, বাজেট অধিবেশনের শুরুতে ‘ভয়’ কাটিয়ে ভরসা ফেরার বার্তা রাজ্যপালের

    Governor R N Ravi: রাজ্যে নতুন সরকারের ভূমিকাকে কুর্নিশ, বাজেট অধিবেশনের শুরুতে ‘ভয়’ কাটিয়ে ভরসা ফেরার বার্তা রাজ্যপালের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্নীতিদমন থেকে অনুপ্রবেশকারী বিতাড়ন, বেআইনি দখল উচ্ছেদ থেকে নারী নিরাপত্তা— রাজ্যে নতুন সরকারের গত দেড় মাসের প্রায় প্রতিটি উদ্যোগই মানুষের স্বার্থে। নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশনের সূচনায় এমনই দাবি করলেন রাজ্যপাল আর এন রবি (Governor R N Ravi)। রাজ্যের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিধানসভার প্রথম অধিবেশন শুরু হল বৃহস্পতিবার। রীতি মেনে অধিবেশনে প্রারম্ভিক ভাষণ পাঠ করলেন রাজ্যপাল। তাঁর ৩৬ মিনিটের ভাষণে বার বার প্রতিধ্বনিত হল ভয় কাটিয়ে ভরসায় ফেরার বার্তা।

    উন্নয়নের দিশায় এগোতে শুরু করেছে রাজ্য

    বৃহস্পতিবার বিধানসভায় প্রারম্ভিক ভাষণের শুরুতেই আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ দিবস (২০ জুন)-এর জন্য রাজ্যবাসীকে আগাম শুভেচ্ছা জানান রাজ্যপাল। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “গত দেড় দশকে এই প্রথম বার পশ্চিমবঙ্গবাসী নতুন সরকারের পক্ষে স্পষ্ট জনমত দিয়েছে। রাজ্যে দীর্ঘ সময় ধরে ভয় এবং হতাশার যে বাতাবরণ ছিল, তাকে স্পষ্ট ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে রাজ্যবাসী।” রাজ্যের নতুন সরকার ইতিমধ্যে যে উন্নয়নের দিশায় এগোতে শুরু করেছে, সে কথাও তুলে ধরেন রাজ্যপাল। ভাষণে তিনি বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার জাতি ধর্ম নির্বিশেষে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন করবে। আগামীর চ্যালেঞ্জ এবং দায়িত্বের বিষয়ে আমার সরকার অবগত।” তিনি আশ্বস্ত করেন রাজ্যে সকলের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করবে নতুন সরকার। রাজ্যের প্রত্যেক সাধারণ মানুষ যাতে সম্মানের সঙ্গে স্বাধীন ভাবে দৈনন্দিন জীবন কাটাতে পারেন, তা-ও নতুন সরকার নিশ্চিত করবে বলে আশাবাদী তিনি।

    আইনের শাসন ফিরিয়ে আনাই লক্ষ্য

    রাজ্যপাল তাঁর ভাষণে স্পষ্ট জানান, নতুন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো রাজ্য থেকে সিন্ডিকেট সংস্কৃতি, তোলবাজি এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিকে সমূলে উৎপাটন করে আইনের শাসন ফিরিয়ে আনা। রাজ্যের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলার বেশ কিছু অংশে জনবিন্যাসের পরিবর্তন (Demographic Changes) একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ (BSF)-কে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

    নারী নির্যাতনে ‘জিরো টলারেন্স’

    নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাজ্যপাল রবি মানব পাচার ও অপরাধমূলক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। ভাষণে বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালোচনা করে রাজ্যপাল অভিযোগ করেন, আগের জমানায় সাধারণ মানুষ অভিযোগ জানিয়েও ন্যায়বিচার পাননি। চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো উন্নয়নকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে থমকে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে রাজ্যের প্রভূত ক্ষতি হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই সেই সমস্ত থমকে থাকা মেট্রো ও পরিকাঠামো প্রকল্পগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করেছে।

    রাজ্যে নয়া শিল্প সম্ভাবনা

    রাজ্যে আগামিদিনে শিল্প সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন রাজ্যপাল। জানান, নতুন সরকার ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরির পরিকল্পনা করছে। সিঙ্গুরে একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। তুলে ধরেন জলপথে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বন্দর উন্নয়নে নতুন সরকারের উদ্যোগের কথাও। অতীতে নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির দিকে পরোক্ষ ইঙ্গিত করে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এবার থেকে সরকারি শূন্যপদগুলিতে স্বচ্ছ ও ত্রুটিহীন প্রক্রিয়ায় নিয়োগ করা হবে।

     

     

     

  • FIFA World Cup 2026: ম্লান রোনাল্ডো, জোড়া গোল হ্যারি কেনের! আটকে গেল পর্তুগাল, জয় দিয়ে শুরু ইংল্যান্ডের

    FIFA World Cup 2026: ম্লান রোনাল্ডো, জোড়া গোল হ্যারি কেনের! আটকে গেল পর্তুগাল, জয় দিয়ে শুরু ইংল্যান্ডের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হোঁচট খেয়ে শুরু করল পর্তুগাল। বুধবার ডিআর কঙ্গোর কাছে আটকে গেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দল। ১-১ ফলে শেষ হল ম্যাচ। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলেও খুঁজে পাওয়া গেল না রোনাল্ডোকে। অন্যদিকে, আট বছর আগে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) শেষ হয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ডের। বুধবার রাতে ডালাসে সেই ক্রোয়েশিয়াকেই চার গোল মেরে ইংল্যান্ড বুঝিয়ে দিল, এ বার তাদের হালকা ভাবে নিলে ভুগতে হবে। দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ড যে ফুটবল খেলেছে তা রোজ দেখা গেলে বিপক্ষ দলগুলির কপালে দুঃখ আছে। তরুণ দল নিয়েও ক্রোয়েশিয়ার কপালে হারই জুটল। রক্ষণ ডোবাল তাদের।

    মেসির সামনে ম্লান রোনাল্ডো

    লিয়োনেল মেসি, আর্লিং হালান্ড, কিলিয়ান এমবাপে— এই মুহূর্তে বিশ্ব ফুটবলে যাঁদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়, তাঁরা প্রত্যেকেই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে গোল পেয়েছেন। মেসি তো হ্যাটট্রিকও করেছেন। ফলে বুধবার রোনাল্ডো কী করেন সে দিকে অনেকেরই নজর ছিল। প্রথম দিনই তাঁরা হতাশ হলেন। রোনাল্ডো আগাগোড়া যা খেললেন তাতে তাঁকে প্রথম একাদশে জোর করে রাখা হচ্ছে কি না, সেটা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। কাতার বিশ্বকাপে রোনাল্ডোর সঙ্গে তৎকালীন পর্তুগালের কোচ ফের্নান্দো সান্তোসের ইগোর লড়াই নিয়ে চর্চা হয়েছিল। রোনাল্ডোকে প্রথম একাদশে রাখতেন না সান্তোস, যা নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। বিশ্বকাপের পর চাকরিও যায়। পর্তুগালের কোচ হওয়ার পর রবার্তো মার্তিনেজ ঘোষণা করেছিলেন, তাঁর দল হবে রোনাল্ডোকে ঘিরেই। তাই দলে একাধিক নেতা থাকা সত্ত্বেও ৪১ বছরের রোনাল্ডো প্রথম একাদশে তো ছিলেনই, তাঁর হাতেই উঠেছিল অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। খেলার শেষে কিন্তু নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারলেন না সিআর৭। পর্তুগাল-কঙ্গো ম্যাচ শেষ হওয়ার পর রোনাল্ডো যখন টানেলের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন গ্যালারিতে থাকা দর্শকেরা তাঁকে দেখে বিদ্রুপ করতে শুরু করেন। মেসির নামে চিৎকার শুরু করেন তাঁরা। রোনাল্ডোদের ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে খেলতে নেমেছিল আর্জেন্টিনা। হ্যাটট্রিক করে দলকে জিতিয়েছেন মেসি। সেই কারণেই হয়তো তাঁর নাম করে রোনাল্ডোকে টিটকিরি করেন দর্শকেরা।

    হ্যারি কেনের ঝড়

    চলতি বিশ্বকাপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো বাদে মোটামুটি সব বড় তারকা ফুটবলারই গোল করেছেন। চোখ ছিল হ্যারি কেনের দিকেও। হতাশ করলেন না ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে মরসুমটা ভাল গিয়েছে তাঁর। দেশের জার্সিতেও এই ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখলেন। দু’টি গোল এল তাঁর থেকে। ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে ১০টি গোল করে ফেললেন কেন। একটি করে গোল জুড বেলিংহ্যাম এবং মার্কাস রাশফোর্ডের। ডালাসে প্রথমার্ধেই হয় চার গোল। দু’বার পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ডের আগ্রাসী ফুটবলের সামনে দাঁড়াতে পারেনি তারা। খেলায় ইংল্যান্ডের দাপট ক্রমশ বাড়তে থাকে। বলের নিয়ন্ত্রণ থেকে গোল লক্ষ্য করে শট, সবেতেই তারা এগিয়ে ছিল। কেন যেখানে সাফল্য পেলেন, সেখানে মদ্রিচ একেবারেই নিষ্প্রভ। তাঁকে বাধ্য হয়ে দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি তুলে নিতে হল। বুধবারের প্রথম ম্যাচে বিশ্ব দেখেছে কী ভাবে ৪১ বছরের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো নিষ্প্রভ থেকেছেন। পরের ম্যাচে ৪০-এর মদ্রিচেরও একই অবস্থা হল। বয়স ছুঁয়েছে তাঁর খেলাকেও।

  • US Iran Peace Deal: অবশেষে মার্কিন-ইরান সংঘাতের অবসানে শান্তিচুক্তি! ডিজিটাল স্বাক্ষরে কার্যকর মউ, খুলছে হরমুজ প্রণালী

    US Iran Peace Deal: অবশেষে মার্কিন-ইরান সংঘাতের অবসানে শান্তিচুক্তি! ডিজিটাল স্বাক্ষরে কার্যকর মউ, খুলছে হরমুজ প্রণালী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবশেষে স্বাক্ষরিত হল ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তি । বুধবার সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। দুই দেশের আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, সমঝোতাপত্রে ডিজিটাল স্বাক্ষর করেছেন দুই প্রেসিডেন্ট। আমেরিকার তরফে জানানো হয়েছে, জি৭ সম্মেলনের পর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে নৈশভোজ করছিলেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি সমঝোতাপত্রের নথিতেও সম্মতিসূচক স্বাক্ষর করেন। চুক্তি হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছে তেহরানও। এর ফলে দীর্ঘ কয়েক মাসের উত্তেজনা ও সংঘাতের আপাত অবসান ঘটল। এই চুক্তি স্বাক্ষরের মূল লক্ষ্যই হল দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া।

    ভার্সাই প্রাসাদে ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর

    মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, বুধবার দুই রাষ্ট্রনেতার ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে চুক্তিটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। এর আগে রবিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর করেছিলেন। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গিয়েছে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর উপস্থিতিতে ভার্সাই প্রাসাদে এক নৈশভোজ অনুষ্ঠানে চুক্তির হার্ড কপিতেও স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, চুক্তিটি ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে এবং এর ছবি ইরান ও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলির কাছে পাঠানো হয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই সে দেশের সরকারি সংবাদসংস্থা আইআরএনএ-কে বলেছেন, “দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা চূড়ান্ত হয়েছে। দুই প্রেসিডেন্ট, ট্রাম্প এবং পেজেশকিয়ান চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। তা কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।”

    জেনেভা বৈঠক থাকলেও হবে না স্বাক্ষর অনুষ্ঠান

    প্রথমে জানা গিয়েছিল, চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে সুইৎজারল্যান্ডের জেনেভায়, দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে। তবে তার আগেই সমঝোতাপত্রে সিলমোহর পড়ায় জেনেভার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল হল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তেহরানের দাবি, জেনেভার শান্তিবৈঠক আগের সূচি মেনেই হবে। ইরানি কর্তারা জানিয়েছেন যে, শুক্রবার বৈঠকের উদ্দেশ্য চুক্তি স্বাক্ষর করা নয়। তারা জানায় যে দলিলটি ডিজিটালভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, তাই সুইৎজারল্যান্ডে কোনও মুখোমুখি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে না। ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমেই চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

    তেল রফতানি ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রতিশ্রুতি

    ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানান, চুক্তি অনুযায়ী ইরানকে বাধাহীনভাবে তেল রফতানির সুযোগ দিতে হবে এবং সেই বিক্রির অর্থ পাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে। তেহরানকে কোনও পরিবহন বা বিমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ ছাড়াই তার তেল বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া উচিত এবং সেই বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থের উপর তার পূর্ণ অধিকার থাকা উচিত। পাশাপাশি, ইরানের আটকে থাকা অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওয়াশিংটন। তিনি জানান, তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা দ্রুত তুলে নেওয়া হবে এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে বৃহত্তর চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে আলোচনা চলবে।

    ৬০ দিনের পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি

    সমঝোতা অনুযায়ী আগামী ৬০ দিন কোনও পক্ষই এমন পদক্ষেপ নেবে না যা চুক্তিকে দুর্বল করতে পারে। নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো থেকেও বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে। বাঘেই এই ব্যবস্থাকে “প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে প্রতিশ্রুতি” বলে উল্লেখ করেছেন।

    পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সংবেদনশীল অবস্থান

    ইরান স্পষ্ট করেছে যে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো হবে না। তবে ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমানোর বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তির ফারসি ও ইংরেজি উভয় সংস্করণেই একই ধরনের শর্ত রয়েছে এবং উভয় পক্ষই তাতে স্বাক্ষর করেছে।

    ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আলোচনার বাইরে

    ইরান জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে কোনও আলোচনা হবে না। বাঘেই বলেন, “ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আলোচনার জন্য নয়, ব্যবহারের জন্য তৈরি।” প্যারিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, যদি সৌদি আরব, কাতারসহ অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের কাছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকে, তাহলে ইরানকে সম্পূর্ণভাবে তা থেকে বঞ্চিত করা ন্যায্য হবে না। তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেছেন যে চুক্তি কার্যকর হলেও মার্কিন সেনাবাহিনী আপাতত উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন থাকবে।

    নতুন ব্যবস্থায় খুলবে হরমুজ প্রণালী

    প্রধান আলোচক কালিবাফ জানান, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুললেও তা যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরবে না। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন মেনেই ইরান সেখানে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। পাশাপাশি প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজগুলির কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিষেবা ফি নেওয়া হবে।

    ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা

    চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে বলে জানান কালিবাফ। যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন প্রকল্পেও এই অর্থের একটি বড় অংশ ব্যয় করা হবে।

    পাকিস্তানের দাবি

    পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যম এক্সে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারককে “ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি” বলা হচ্ছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান এই চুক্তিকে সমর্থন করেছে বলেও জানান তিনি। শরিফের মতে, চুক্তির প্রথম ধাপ হিসেবে ইরান অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপ পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা প্রশমনের পথে বড় ভূমিকা নেবে এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত কূটনৈতিক সমাধানের পথ প্রশস্ত করবে।

    যুদ্ধ উদ্বেগে গোটা বিশ্ব

    গত ১৫ সপ্তাহ ধরে পশ্চিম এশিয়ার এই যুদ্ধ উদ্বেগে রেখেছিল গোটা বিশ্বকে। এই যুদ্ধের জেরেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সঙ্কট দেখা যায়। এর প্রভাব পড়েছিল অর্থনীতিতেও। শান্তিচুক্তির অন্যতম শর্ত হিসাবে হরমুজ প্রণালীর উপর থেকেও অবরোধ এবং যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে এই জলপথ ধরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে আর কোনও বাধা রইল না বলেই মনে করা হচ্ছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, রবিবারই ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চুক্তি স্বাক্ষরিত করবে আমেরিকা। ঘটনাচক্রে, ওই দিনেই ৮০-তে পা দেন ট্রাম্প। আমেরিকা এবং ইরান অধিকাংশ বিষয়ে একমত হলেও বেশ কিছু বিষয়ে তাদের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়নি। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালীতে অবাধে জাহাজ চলাচল করতে দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে ইরান। চুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবে ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ৬০ দিন ধরে বোঝাপড়া করতে রাজি হয়েছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরানের তরফে অবশ্য বার বারই জানানো হচ্ছিল যে, তারা চুক্তির শর্তগুলি খতিয়ে দেখছে।

     

     

     

     

     

LinkedIn
Share