Author: ishika-banerjee

  • WhatsApp: হোয়াটসঅ্যাপে বড় পরিবর্তন, ভারতে শুরু বয়স যাচাই পরীক্ষা! ডিপিডিপি আইনের আগে চাপে মেটা

    WhatsApp: হোয়াটসঅ্যাপে বড় পরিবর্তন, ভারতে শুরু বয়স যাচাই পরীক্ষা! ডিপিডিপি আইনের আগে চাপে মেটা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হোয়াটঅ্যাপ (WhatsApp) বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম। ব্যক্তিগত চ্যাট থেকে অফিসের কাজ…সব ক্ষেত্রেই এই অ্যাপের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। তবে, এবার হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে বয়স (WhatsApp Age Restriction) বাধা হতে পারে। সম্প্রতি, ব্যবহারকারীর কাছে একটি নোটিফিকেশন আসছে। সেখানে তাঁদের জন্মতারিখ দিতে বলা হচ্ছে। এরপর থেকেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, ভবিষ্যতে কি ভারতে বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করতে চলেছে হোয়াটসঅ্যাপ? যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ভারতে নির্বাচিত কিছু ব্যবহারকারীর জন্য বয়স যাচাই (Age Verification) ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে হোয়াটসঅ্যাপ।

    কেন বয়স যাচাই

    হোয়াটসঅ্যাপের অফিসিয়াল সাপোর্ট পেজ অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা অ্যাকাউন্ট খোলার সময় বা নির্দিষ্ট কিছু ফিচার ব্যবহার করার সময় সংস্থা বয়স বা জন্মতারিখ জানতে চাইতে পারে। প্রয়োজনে বয়স যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত তথ্যও চাওয়া হতে পারে। সংস্থার দাবি, এই তথ্য সংগ্রহের মূল উদ্দেশ্য হল বিভিন্ন দেশের আইনি নিয়ম মেনে চলা এবং ব্যবহারকারীদের বয়স অনুযায়ী পরিষেবা দেওয়া। উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের ১৩ মে থেকে কার্যকর হতে চলা ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন (DPDP) আইন মেনে চলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন আইন কার্যকর হলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির উপর কঠোর নিয়ম প্রযোজ্য হবে। হোয়াটসঅ্যাপের মূল সংস্থা মেটা জানিয়েছে, এই পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় কোনও পরিবর্তন আনবে না। তবে এর মাধ্যমে ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করা সহজ হবে এবং তাদের তথ্য ব্যবহারের আগে অভিভাবকের যাচাইকৃত সম্মতি নেওয়া সম্ভব হবে।

    ডিপিডিপি আইনে কী বদলাবে?

    নতুন আইনের আওতায় হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স-সহ সমস্ত বড় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীর তথ্য প্রক্রিয়াকরণের আগে অভিভাবকের সম্মতি নিতে হবে।

    আইনে আরও বলা হয়েছে—

    শিশুদের অনলাইন আচরণ পর্যবেক্ষণ বা ট্র্যাক করা যাবে না।
    ১৮ বছরের কম বয়সীদের লক্ষ্য করে টার্গেটেড বিজ্ঞাপন দেখানো নিষিদ্ধ হবে।
    ব্যবহারকারী নিবন্ধন, পরিচয় যাচাই এবং তথ্য সংরক্ষণের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনতে হবে প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে।

    তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস কৃষ্ণন বলেন, হোয়াটসঅ্যাপের এই বয়স যাচাই প্রক্রিয়া সম্ভবত ডিপিডিপি আইনের প্রস্তুতির অংশ। আইন কার্যকর হওয়ার আগে সংস্থার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সরকার খতিয়ে দেখবে।

    মেটার উপর বাড়ছে সরকারি নজর

    বয়স যাচাই পরীক্ষার পাশাপাশি আরও কয়েকটি কারণে মেটা বর্তমানে কেন্দ্রের নজরে রয়েছে। সরকার হোয়াটসঅ্যাপের প্রস্তাবিত ইউজারনেম ফিচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই ফিচার চালু হলে মোবাইল নম্বর প্রকাশ না করেও ব্যবহারকারীরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক দিক থেকে এর প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলান-সহ সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও এই বৈঠকে আলোচনায় আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    হঠাৎ অ্যাকাউন্ট ‘রিভিউ’-তে, ব্যাখ্যা হোয়াটসঅ্যাপের

    সম্প্রতি ভারত-সহ একাধিক দেশে হাজার হাজার হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট হঠাৎ ‘Account in review’ অবস্থায় চলে যায়। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অনেকেই বার্তা পাঠানো বা কল করতে পারেননি। স্ক্রিনে একটি বার্তায় জানানো হয়, ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট কার্যকলাপ ও ডিভাইস সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ব্যবহারকারী দাবি করেন, তাঁরা কোনও নিয়ম লঙ্ঘন করেননি। এর জবাবে হোয়াটসঅ্যাপ জানায়, অপব্যবহার রোধে তাদের স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে। তবে কখনও কখনও সেই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় ভুল হতে পারে। সংস্থার দাবি, সমস্যাটি দ্রুত সমাধান করে অধিকাংশ ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট পুনরায় সচল করা হয়েছে।

    শিশুদের গোপনীয়তা রক্ষায় নতুন অধ্যায়

    এর মধ্যে রয়েছে—উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য ফেসবুক,ইনস্টাগ্রাম,টিকটক,স্ন্যাপচাট,এক্স,ইউটিউব ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যদিও সেখানে হোয়াটসঅ্যাপ এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে ভারত যদি এ ধরনের নিয়ম আনে, তাহলে হোয়াটসঅ্যাপের পাশাপাশি টেলিগ্রাম,সিগনাল, ইনস্টাগ্রাম এবং স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্ল্যাটফর্মগুলিকেও বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করতে হতে পারে। তবে, এই মুহূর্তে ভারত সরকার বা হোয়াটসঅ্যাপ, কোনও পক্ষই এমন কোনও নতুন নিয়মের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। তবে ভারতে ডিপিডিপি আইন কার্যকর হতে আর এক বছরেরও কম সময় বাকি। ফলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ-সহ বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি বয়স যাচাই, অভিভাবকের সম্মতি সংগ্রহ এবং শিশুদের তথ্য সুরক্ষার জন্য নতুন ব্যবস্থা চালু করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হোয়াটসঅ্যাপের এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম কীভাবে ভারতের নতুন তথ্য সুরক্ষা আইন মেনে চলবে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

  • Assam Floods: অসম বন্যায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সংঘ, ৩৭৮টি গ্রামের ৪০ হাজারের বেশি পরিবারকে সহায়তা আরএসএস-এর

    Assam Floods: অসম বন্যায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সংঘ, ৩৭৮টি গ্রামের ৪০ হাজারের বেশি পরিবারকে সহায়তা আরএসএস-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসমের পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় (Assam Floods) ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS in Assam) ও সংঘ-ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সংগঠন। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১,৯১২ জন স্বয়ংসেবক ৩৭৮টি গ্রামের মোট ৪০,১৬৮টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিবসাগর, চরাইদেও এবং জোরহাট জেলা। বন্যার জেরে হাজার হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, নিরাপদ আশ্রয় এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    বিভিন্ন জেলায় সহায়তা শিবির

    আরএসএসের (RSS in Assam) বিবৃতি অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে স্বয়ংসেবকেরা উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ, ঘরবাড়ি পরিষ্কার এবং পুনর্গঠনের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। শিবসাগর জেলার বেতবাড়ি এলাকার কাকতি গাঁও, ২ নম্বর কনওয়ার গাঁও, নেপালি খুঁটি, বিহুবার এবং চেতিয়া কৈবর্ত গ্রাম থেকে প্রায় ২০০ জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়াও সুন্দর পুখুরি, বামুন পুখুরি, গেলেকি এবং রাজাবাড়ি এলাকার দুর্গতদের রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওষুধ, পোশাক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। জোরহাট জেলার এলেংমোরা, কাটিরাম চুক, কুলাই চুক, নালিয়া চুক, শেনচোয়া চুক এবং চারিঘোরিয়া চুক এলাকাতেও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সেখানে চাল, চিনি, পোরিজ, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য, বিস্কুট, লবণ, বিশুদ্ধ পানীয় জল, আলু, পোশাক, বিছানাপত্র, মোমবাতি, সাবান, ফিটকিরি, ওষুধ এবং মশা প্রতিরোধক কয়েল বিতরণ করা হয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    ৫০টিরও বেশি স্বাস্থ্য শিবির

    আরএসএস এর তরফে আরও জানানো হয়েছে, ন্যাশনাল মেডিকোস অর্গানাইজেশন (এনএমও)-এর সহযোগিতায় বন্যাকবলিত (Assam Floods) এলাকায় ৫০টিরও বেশি মেডিক্যাল ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। চিকিৎসকরা দুর্গতদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করছেন। সংগঠনের দাবি, প্রথমদিকে ছোট নৌকার মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় পৌঁছে খাদ্য ও পানীয় জল সরবরাহ করা হয়। পরে প্রবীণ, মহিলা, শিশু এবং অসুস্থদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে উত্তর অসম প্রান্তের স্বয়ংসেবকেরা দুর্গত পরিবারগুলিকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করছেন। পাশাপাশি গবাদি পশুর জন্য খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ এবং কৃষকদের ধান রোপণে সহায়তার কাজও চলছে। আরএসএস ও সেবা ভারতীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মানবসেবাই তাদের মূল লক্ষ্য।

  • Varanasi Cricket Stadium: ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন! ভগবান শিবের অনুপ্রেরণায় তৈরি হচ্ছে বারাণসীর অত্যাধুনিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম

    Varanasi Cricket Stadium: ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন! ভগবান শিবের অনুপ্রেরণায় তৈরি হচ্ছে বারাণসীর অত্যাধুনিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও পবিত্র শহর বারাণসীতে তৈরি হচ্ছে এক অনন্য আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম, যার নকশার মূল অনুপ্রেরণা ভগবান শিব ও কাশীর আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতে নির্মীয়মাণ এই স্টেডিয়াম শুধু ক্রিকেটের জন্যই নয়, স্থাপত্যশৈলী ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের কারণেও দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ক্রীড়া পরিকাঠামো হয়ে উঠতে চলেছে। প্রস্তাবিত স্টেডিয়ামের নকশায় আধুনিক ক্রীড়া পরিকাঠামোর সঙ্গে কাশীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অনন্য মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশে ভগবান শিবের প্রতীকী উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, যা একে দেশের অন্যান্য ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে আলাদা পরিচিতি দেবে।

    শিব-প্রেরণায় অনন্য স্থাপত্য

    আরও এক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম পাচ্ছে উত্তরপ্রদেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজের লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতে অত্যাধুনিক এই স্টেডিয়ামটি তৈরি হবে বেলপাতার আদলে। বারাণসী, যা কাশী বা মহাদেবের শহর নামেও পরিচিত, সেই ঐতিহ্যকে সামনে রেখেই স্টেডিয়ামের নকশা তৈরি করা হয়েছে। আধুনিক স্থাপত্যের পাশাপাশি শিবের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রতীককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে স্টেডিয়ামটি কেবল একটি ক্রীড়া ভেন্যু নয়, বরং কাশীর সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হয়।

    ডমরু আকৃতির মিডিয়া সেন্টার

    স্টেডিয়ামের অন্যতম আকর্ষণ হবে ডমরু-আকৃতির মিডিয়া সেন্টার। ভগবান শিবের অন্যতম প্রতীক ডমরুর আদলে তৈরি এই ভবন সাংবাদিক, সম্প্রচার সংস্থা এবং অন্যান্য গণমাধ্যমের কার্যক্রম পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে। একই সঙ্গে এটি স্টেডিয়ামের স্থাপত্যে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করবে।

    ত্রিশূলের আদলে ৬৫ মিটার উঁচু ফ্লাডলাইট

    স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইট টাওয়ারগুলিও বিশেষভাবে নজর কাড়বে। প্রায় ৬৫ মিটার উঁচু এই টাওয়ারগুলি ত্রিশূলের আদলে নির্মাণ করা হচ্ছে। রাতের ম্যাচে আলোকিত অবস্থায় এই টাওয়ারগুলি স্টেডিয়ামের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং কাশীর আধ্যাত্মিক আবহকে ফুটিয়ে তুলবে।

    গঙ্গার ঘাটের অনুপ্রেরণায় ৩২ হাজার আসন

    প্রায় ৩২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন স্টেডিয়ামের গ্যালারির নকশা গঙ্গার বিখ্যাত ঘাটগুলির আদলে তৈরি করা হচ্ছে। এতে দর্শকরা ক্রিকেট ম্যাচ উপভোগের পাশাপাশি কাশীর ঐতিহ্যবাহী পরিবেশের অনুভূতিও পাবেন। সব মিলিয়ে এই স্টেডিয়াম তৈরিতে খরচ ৪৫১ কোটি টাকা ধার্য্য করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ করতে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের খরচ হয়েছে ১২১ কোটি টাকা। স্টেডিয়াম তৈরির জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বরাদ্দ করেছে ৩৩০ কোটি টাকা।

    বর্ষাতেও দ্রুত ম্যাচের জন্য প্রস্তুত

    আধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত এই স্টেডিয়ামের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো, বৃষ্টির পর মাত্র প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যেই মাঠকে ম্যাচের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব হবে। বর্ষাকালে ক্রিকেট আয়োজনের ক্ষেত্রে এটি বড় সুবিধা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য ১৪টি পিচ রাখা হয়েছে। এছাড়াও বৃষ্টির পর মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে মাঠ খেলার জন্য প্রস্তুত করার মতো আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা রয়েছে।

    পর্যটন ও অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব

    আন্তর্জাতিক মানের এই স্টেডিয়াম চালু হলে বারাণসীতে দেশ-বিদেশের ক্রিকেটপ্রেমী, পর্যটক, সম্প্রচার সংস্থা এবং ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আনাগোনা বাড়বে। এর ফলে স্থানীয় পর্যটন, হোটেল, পরিবহণ ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কানপুর এবং লখনউয়ের পর এই স্টেডিয়াম হবে উত্তরপ্রদেশের তৃতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। উপর থেকে ওই স্টেডিয়াম দেখতে লাগবে অর্ধচন্দ্রের মতো। যেমন মহাদেবের জটায় থাকে অর্ধচন্দ্র।

    ঐতিহ্য ও আধুনিকতার নতুন প্রতীক

    গঙ্গার ঘাট, প্রাচীন মন্দির ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের জন্য বিশ্বজোড়া পরিচিত বারাণসীতে এই ক্রিকেট স্টেডিয়াম আধুনিক ভারতের নতুন প্রতীক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। শিব-অনুপ্রাণিত স্থাপত্য, বিশ্বমানের ক্রীড়া পরিকাঠামো এবং কাশীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ে এটি ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম দর্শনীয় ক্রীড়া স্থাপনা হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্টেডিয়ামটি উত্তরপ্রদেশকে ক্রীড়ার পাওয়ার হাউস বানানোর একটি নিদর্শন হতে চলেছে।

    কাজ প্রায় শেষের পথে

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজের শহর আমেদাবাদে তাঁরই নামাঙ্কিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম রয়েছে। এবার তাঁর নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসীতে একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি মনে করেন, ক্রিকেটের মাধ্যমে সারা বিশ্বের সঙ্গে ভারতের সংযোগ স্থাপন হচ্ছে। অনেক দেশ নতুন করে ক্রিকেট খেলা শুরু করছে। এই স্টেডিয়াম হচ্ছে মহাদেবের শহরে। মহাদেবকেই এই স্টেডিয়াম উৎসর্গ করা হচ্ছে। কাশীতে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম হলে এখানকার ক্রীড়াবিদদের উপকার হবে। বারাণসীর (বেনারস) গঞ্জারিতে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামটির নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে। এই প্রজেক্টের ডিরেক্টর সরোজ শুক্লা জানান, ট্রায়াল বা প্রদর্শনী ম্যাচ হিসেবে এটি ২০২৬ সালের শেষের দিকে চালু হতে পারে। শীতের সময়ে ডিসেম্বরে এখানে একটি পরীক্ষামূলক ম্যাচ খেলার কথা চলছে। ২০২৭ সালে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। আইসিসি তথা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সব নিয়ম মেনেই এই অভিনব স্টেডিয়াম তৈরি হচ্ছে।

     

     

     

     

     

  • Mark Zuckerberg Apologizes: মোদির ভিডিও বিতর্কে চাপে মেটা, দুঃখপ্রকাশ জুকেরবার্গের! শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট ও ডিপফেক নিয়েও কেন্দ্রের কড়া বার্তা

    Mark Zuckerberg Apologizes: মোদির ভিডিও বিতর্কে চাপে মেটা, দুঃখপ্রকাশ জুকেরবার্গের! শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট ও ডিপফেক নিয়েও কেন্দ্রের কড়া বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষ পর্যন্ত ভারত সরকারের চাপে নতিস্বীকার করলেন মেটা। ইনস্টাগ্রাম-সহ মেটার নানা সোশাল মিডিয়া প্লাটফর্মে ‘চাইল্ড পর্ন’-এর মতো নানা আপত্তিকর কন্টেন্ট আপলোড করার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন মেটাকর্তা মার্ক জুকেরবার্গ (Mark Zuckerberg)। সূত্রের খবর, এর পাশপাশি মোদির ভিডও সরানোর বিষয়ে প্রযুক্তি-প্রক্রিয়ার ত্রুটির কথাও বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও ভুলবশত সরিয়ে দেওয়া, শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট (CSAM) এবং ডিপফেক মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগে তীব্র চাপে পড়ে মেটা। কেন্দ্রের হুঁশিয়ারিতে অস্বস্তিতে বাড়ে সংস্থার। উল্লেখ্য, ভারত মেটার বৃহত্তম বাজার। এখানে কোটি কোটি মানুষ ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন।

    ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা-র জন্যই নতি স্বীকার!

    সরকারি সূত্রের দাবি, মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) মার্ক জুকেরবার্গ এই ঘটনাগুলির জন্য সরকারের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। সূত্রের দাবি, কেন্দ্র মেটাকে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, তারা কেবলমাত্র একটি নিরপেক্ষ ‘ইন্টারমিডিয়ারি’ হিসেবে কাজ করে না। বরং কোন ব্যবহারকারীর কাছে কোন কনটেন্ট পৌঁছবে, তা অ্যালগরিদমের মাধ্যমে বেছে দেয়। ফলে তথ্যপ্রযুক্তি আইন (IT Act)-এর ধারা ৭৯ অনুযায়ী যে ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা ইন্টারমিডিয়ারিদের দেওয়া হয়, তা মেটার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে।

    তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে ৪৫ মিনিট বৈঠক

    বুধবার মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল ক্যাপলানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের (MeitY) সচিব এস. কৃষ্ণনের সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক করে। বৈঠকে গত মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদির ভিডিও ভুলবশত সরিয়ে দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মেটা। মেটার তরফে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট নিল পটস, সিনিয়র ডিরেক্টর রাফায়েল ফ্রান্কেল, আমান জৈন ও প্রিয়া শ্রীনিবাসন। বৈঠকে কনটেন্ট মডারেশন নিয়ে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বাড়ানোর কথা বলা হয়। কেন্দ্রের তরফে মেটাকে কঠোরভাবে বলা হয় আইন-নিয়ম মেনে চলতে। বাক স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে না, তবে সমস্ত সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে আইন মেনে চলতে হবে। সূত্রের খবর, মেটার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, তাদের অভ্যন্তরীণ নিয়ম ও ফ্যাক্ট চেকিং মেকানিজম আগে থেকেই রয়েছে।

    কনটেন্ট বণ্টন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

    এর আগে সংসদের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান তথা বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে কড়া ভাষায় মেটাকে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও মুছে ফেলা কোনও ইন্টারমিডিয়ারির কাজ নয়, বরং প্রকাশকের (Publisher) মতো আচরণ। তাই তিন দিনের মধ্যে মার্ক জুকেরবার্গকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় মেটার ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হবে। দুবে বলেন, “সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি দীর্ঘদিন ধরে এই আইনি সুরক্ষার অপব্যবহার করছে। যদি এই সুরক্ষা তুলে নেওয়া হয়, তবে আপত্তিকর বা ক্ষতিকর কনটেন্টের জন্য সরাসরি সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করা সম্ভব হবে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওটি প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ফেসবুকে অনুপস্থিত ছিল। এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর এবং বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির কনটেন্ট বণ্টন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

    আপত্তিকর কনটেন্ট দ্রুত সরাতে ব্যর্থ

    শুধু ভিডিও বিতর্ক নয়, শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট (CSAM) এবং নারীদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর কনটেন্ট দ্রুত সরাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগও তোলেন দুবে। তাঁর দাবি, মেটা এবং ইউটিউব—উভয় প্ল্যাটফর্মেই এই ধরনের কনটেন্ট রয়ে যায়, যদিও এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের উদ্বেগ একাধিকবার জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ইন্সটাগ্রামে পেইড বিজ্ঞাপনে শিশুদের যৌন শোষণ ও নিপীড়ন নিয়ে ভিডিও দেখানো নিয়ে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের নজরদারিতে এসেছে মেটা। সরকারের তরফে গত মাসে এই ইস্যুতে নোটিসও পাঠানো হয়।

    ভুলস্বীকার জুকেরবার্গ-এর

    পরিচালনগত ত্রুটি এবং সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত তথ্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন মেটা-কর্তা মার্ক জুকেরবার্গ। বুধবার সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে এমনই জানিয়েছে বিভিন্ন সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম। সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, কেন্দ্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় মেটা-র সিইও শিশু যৌন নির্যাতনমূলক (সিএসএএম) এবং ডিপফেক কন্টেন্ট (মূলত ভিডিও) ছড়ানোর বিষয়ে তাঁদের ভুলস্বীকার করেছেন। জুকেরবার্গ বলেছেন যে, তাঁদের কোম্পানির প্ল্যাটফর্ম পরিচালনাগত ত্রুটি ছিল। পরবর্তী সময়ে এ নিয়ে তাঁরা আরও সতর্ক থাকবেন। বৃহস্পতিবার সরকারপক্ষের সঙ্গে আবার একপ্রস্ত আলোচনা হতে পারে মেটার।

    কোথা থেকে বিতর্কের সূত্রপাত

    প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুলাই প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওই ভিডিওটি ছিল নিট ইউজি ২০২৬ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে চলা ৩৬ দিনের ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তরুণদের উদ্দেশে তাঁর প্রথম সরাসরি বার্তা। ভিডিওতে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে কঠোর আইন আনার আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে কেন্দ্র পরীক্ষা (Prevention of Unfair Means) সংশোধনী বিল ২০২৬ অনুমোদন করে এবং বিলটি সংসদের উভয় কক্ষেই পাস হয়। গত ২৮ জুলাই মেটা এক বিবৃতিতে জানায়, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ভিডিওটি সরিয়ে গিয়েছিল এবং পরে তা পুনরায় পুনঃস্থাপন করা হয়। তবে এই ঘটনার পর সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির অ্যালগরিদমিক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে।

  • Women’s Quota Bills: ১৭ অগাস্ট সংসদে বিশেষ অধিবেশন! আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল পেশের পথে কেন্দ্র

    Women’s Quota Bills: ১৭ অগাস্ট সংসদে বিশেষ অধিবেশন! আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল পেশের পথে কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল ১৭ অগাস্ট সংসদে পেশ হতে পারে। এর জন্য তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হতে পারে। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসকে এই সংক্রান্ত বার্তা দিয়েছে মোদি সরকার। সূত্রের খবর, কংগ্রেস জানিয়েছে, দলে এবং অন্য বিরোধী দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করে সরকারকে সিদ্ধান্ত জানাবে তারা। এর আগে বাজেট অধিবেশনে এই বিল সরকার পাশ করাতে পারেনি। কারণ, সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করানোর জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না।

    রাজনৈতিক সমীকরণে জোর

    সূত্রের খবর, বর্ষাকালীন অধিবেশন শেষ হলেও সংসদকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুলতবি (Prorogue) না-ও করা হতে পারে। এতে প্রয়োজন অনুযায়ী খুব অল্প সময়ের নোটিশেই বিশেষ অধিবেশন ডাকা সম্ভব হবে। তবে এই সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পাস করাতে লোকসভা ও রাজ্যসভা—দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। সেই সমর্থন নিশ্চিত করার জন্যই সরকার রাজনৈতিক সমীকরণে জোর দিচ্ছে। উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল-এর অংশ হিসেবে ডিলিমিটেশন এবং মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত প্রস্তাব আনা হলেও, প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না থাকায় বিলটি পাস করা সম্ভব হয়নি। সে সময় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র কাছে লোকসভা ও রাজ্যসভা—কোনও কক্ষেই প্রয়োজনীয় সংখ্যা ছিল না।

    সংসদে বিজেপির শক্তিশালী অবস্থান

    সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর সংসদে বিজেপির অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বর্তমানে সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পাসের জন্য লোকসভায় ৩৬০ জন এবং রাজ্যসভায় ১৬৪ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে পৌঁছনোর ব্যবধান আগের তুলনায় কমেছে বলে সূত্রের দাবি। এদিকে, তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক সমীকরণও কেন্দ্রের নজরে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিনের দল ডিএমকে-র সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর, ডিএমকে-র ২২ জন লোকসভা সাংসদের সম্ভাব্য সমর্থন পাওয়ার দিকেও নজর রেখেছে বিজেপি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকার যদি প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে বিশেষ অধিবেশনেই এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

  • Indus Waters Treaty: সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের উদ্যোগে বাধা, দ্বিপাক্ষিক কাঠামোতেই অনড় ভারত

    Indus Waters Treaty: সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের উদ্যোগে বাধা, দ্বিপাক্ষিক কাঠামোতেই অনড় ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty-IWT) নিয়ে ফের আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) বিষয়টি উত্থাপন করে দাবি করেছে, চুক্তি নিয়ে ভারতের পদক্ষেপ আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পাকিস্তানের এই উদ্যোগ থেকে কোনও বাধ্যতামূলক বা কার্যকর হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তিতেই বিরোধ নিষ্পত্তির একটি সুস্পষ্ট ও বহুপাক্ষিক আইনি কাঠামো রয়েছে। ফলে সেই প্রক্রিয়া এড়িয়ে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। অতীতেও সীমান্তবর্তী নদীর জলবণ্টন সংক্রান্ত বিরোধে, যেখানে নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো বিদ্যমান, সেখানে নিরাপত্তা পরিষদ হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থেকেছে।

    ১৯৬০ সালের চুক্তিতেই বিরোধ মেটানোর পথ

    ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলচুক্তিকে বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী জলবণ্টন চুক্তি হিসেবে ধরা হয়। বিশ্বব্যাঙ্ক চুক্তির কিছু প্রক্রিয়াগত বিষয়ে স্বাক্ষরকারী হলেও, চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক ও ধাপে ধাপে এগোনোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রথম ধাপে রয়েছে পার্মানেন্ট সিন্ধু কমিশন (PIC), যেখানে দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করার চেষ্টা করে। প্রযুক্তিগত বিষয়ে সমাধান না হলে নিউট্রাল এক্সপার্ট নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। আর জটিল আইনি ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে বিষয়টি কোর্ট অব আরবিট্রেশন-এ নিয়ে যাওয়ার বিধানও রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশ স্বেচ্ছায় এই কাঠামো মেনে চুক্তি স্বাক্ষর করায় বিরোধ মেটানোর প্রধান পথও এটিই। ফলে নিরাপত্তা পরিষদের মতো রাজনৈতিক মঞ্চে বিষয়টি নিয়ে যাওয়ার আইনি ভিত্তি খুবই দুর্বল।

    রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা

    পাকিস্তান একাধিকবার রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে চিঠি দিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। ইসলামাবাদের দাবি, ভারতের পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে এবং তাই বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদের আওতায় আনা উচিত। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে এবং ভবিষ্যতের কূটনৈতিক ও আইনি অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে রাষ্ট্রসংঘের পক্ষ থেকে কোনও বাধ্যতামূলক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নেই বলেই মত তাঁদের।

    দ্বিপাক্ষিক অবস্থানেই অনড় ভারত

    ভারত বরাবরই জানিয়ে এসেছে, সিন্ধু জলচুক্তি সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় সম্পূর্ণভাবে দ্বিপাক্ষিক এবং চুক্তির নির্ধারিত ব্যবস্থার মাধ্যমেই তার সমাধান হওয়া উচিত। নয়াদিল্লির মতে, এই চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য পর্যাপ্ত আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। তাই তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ বা আন্তর্জাতিকীকরণের কোনও প্রয়োজন নেই। ভারতের এই অবস্থান তার দীর্ঘদিনের বিদেশনীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলিতে তৃতীয় পক্ষের ভূমিকার বিরোধিতা করা হয়।

    নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা কেন কম?

    আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান দায়িত্ব আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা। কিন্তু যেখানে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে, সেখানে সাধারণত নিরাপত্তা পরিষদ সরাসরি হস্তক্ষেপ করে না। উদাহরণ হিসেবে ইথিওপিয়ার গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম (GERD) সংক্রান্ত বিরোধের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা পরিষদ সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে বিদ্যমান আইনি ও আঞ্চলিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছিল। এছাড়া নিরাপত্তা পরিষদে কোনও বাধ্যতামূলক প্রস্তাব পাশ করাতে সদস্য দেশগুলির ব্যাপক সমর্থনের পাশাপাশি স্থায়ী পাঁচ সদস্যের ভেটো এড়ানোও জরুরি। দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে এমন ঐকমত্য গড়ে ওঠা অত্যন্ত কঠিন বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

    আইসিজিতেও যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিরোধ আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ)-এ পাঠানোর সম্ভাবনাও খুবই কম। কারণ, আইসিজি সাধারণত সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলির সম্মতি ছাড়া কোনও মামলার বিচার করে না। পাশাপাশি সিন্ধু জলচুক্তিতে ইতিমধ্যেই বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে আইন বিশেষজ্ঞ ও কূটনৈতিক মহলের মূল্যায়ন, পাকিস্তান রাষ্ট্রসংঘে বিষয়টি তুললেও সিন্ধু জলচুক্তির নির্ধারিত কাঠামোই বিরোধ নিষ্পত্তির প্রধান এবং কার্যকর পথ হিসেবে বহাল থাকবে। নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষে সেই ব্যবস্থাকে অগ্রাহ্য বা প্রতিস্থাপন করার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।

    আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা

    ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় সিন্ধু জলচুক্তিতে স্বাক্ষর করে ভারত ও পাকিস্তান। ঠিক হয়, রাভি, বিয়াস ও শতদ্রু নদীর জল ভারত ব্যবহার করবে। আর সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব নদীর অধিকাংশ জল যাবে পাকিস্তানে। এই জলের প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিকাজে ব্যবহার করত পাকিস্তান। পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যুর পরেই সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করে ভারত। তখন থেকেই জল সঙ্কটে ভুগছে পাকিস্তান। এই নিয়ে আগেই ভারতকে নিশানা করেছিল ইসলামাবাদ। সম্প্রতি এই ইস্যুতে ভারতকে ফের আক্রমণ করেছে পাকিস্তান। সিন্ধু জলচুক্তি পুনর্বহালের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা চালাচ্ছে ইসলামাবাদ।

  • Narendra Modi: সময়সীমা ৩ দিন! তার মধ্যে মোদির ভিডিও ডিলিটের জন্য ক্ষমা চাইতেই হবে জুকেরবার্গকে, জানাল সংসদীয় কমিটি

    Narendra Modi: সময়সীমা ৩ দিন! তার মধ্যে মোদির ভিডিও ডিলিটের জন্য ক্ষমা চাইতেই হবে জুকেরবার্গকে, জানাল সংসদীয় কমিটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফেসবুক লাইভ ডিলিট নিয়ে মেটা কর্ণধার মার্ক জুকেরবার্গকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে জানিয়েছে বিশেষ সংসদীয় কমিটি। ক্ষমা চাওয়ার জন্য তিনদিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় মামলা দায়ের হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, যে বা যাঁরা গোটা ঘটনার জন্য দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। নিশিকান্ত নেতৃত্বাধীন সংসদীয় তথ্যপ্রযুক্তি কমিটি জানিয়েছে, মোদি ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের প্রতিনিধি। তাঁর ভিডিও ডিলিট করে দেওয়ার অর্থ ‘গণতন্ত্রে’র উপর হামলা। জুকেরবার্গকে ক্ষমা চাইতেই হবে। অন্যথায় দায়ের করা হবে মামলা। যে বা যাঁরা দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না করলে আইনি রক্ষাকবচও মিলবে না।

    ক্ষমা চাইতেই হবে জুকেরবার্গকে

    নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে ছাত্র আন্দোলনের সূচনা ঘটে। সেই আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয় ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। সেই আবহেই গত ২৩ জুলাই দেশের যুবসমাজকে ভিডিও বার্তা দিতে ফেসবুক লাইভ করেন মোদি। কিন্তু সেই ভিডিও আচমকাই গায়েব হয়ে যায় ফেসবুক থেকে। বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা শুরু হলে, মেটা জানায়, ভুলবশত ভিডিওটি ডিলিট হয়ে গিয়েছিল। ভিডিওটি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে মেটা-র সাফাইয়ে সন্তুষ্ট নয় সংসদীয় তথ্যপ্রযুক্তি কমিটি। সংস্থার প্রতিনিধিদের ডেকে ক্ষোভ জানানো হয়। ক্ষমা চাইতে বলা হয় তাঁদের। মেটা জানায়, তারা আগেই দুঃখপ্রকাশ করেছে। আবারও ক্ষমা চাইতে রাজি। কিন্তু ওই কমিটি জানায়, মেটা নয়, ক্ষমা চাইতে হবে জুকেরবার্গকে। মেটা-র তরফে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কথা বলা হলেও কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের মনঃপুত হয়নি সেই যুক্তি।

    সার্বভৌম ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপের সমান

    সরকারের অভিযোগ, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মতো একটি সাংবিধানিক পদের শীর্ষ ব্যক্তিত্বের বক্তব্য এভাবে সরিয়ে ফেলা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং সার্বভৌম ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপের সমান। মেটা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখনো এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে আগামী ৩ দিন জুকেরবার্গ কী অবস্থান নেন এবং ভারতীয় সংসদীয় কমিটির কাছে ক্ষমা চান কি না, সেদিকেই নজর রাখছে বিশ্ব রাজনৈতিক ও প্রযুক্তি মহল।

     

  • Jantar Mantar Protest: জন্তর-মন্তর বিক্ষোভে পাক-যোগ! পুলিশের নজরে ৪০০-র বেশি সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট

    Jantar Mantar Protest: জন্তর-মন্তর বিক্ষোভে পাক-যোগ! পুলিশের নজরে ৪০০-র বেশি সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জুলাই মাসে দিল্লির জন্তর-মন্তরে অনুষ্ঠিত ছাত্র বিক্ষোভকে (Jantar Mantar Protest) ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে পরিকল্পিত ডিজিটাল প্রচার চালানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। তদন্তে শুধু সোশাল মিডিয়ার কার্যকলাপই নয়, আর্থিক লেনদেন এবং বিদেশি যোগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রায় ১৮০টি ইনফ্লুয়েন্সার ও ইউটিউব চ্যানেল, তিনটি বেসরকারি ডিজিটাল মার্কেটিং সংস্থা এবং পাকিস্তান-যোগের অভিযোগ থাকা ৪০০-র বেশি সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেল পুলিশের নজরে রয়েছে। পুলিশের সন্দেহ, জন্তর-মন্তরের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সমন্বিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু কনটেন্ট ছড়িয়ে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা হয়েছিল, যাতে ঘটনাটি বাস্তবের তুলনায় অনেক বড় জাতীয় সংকট হিসেবে প্রতীয়মান হয়।

    কী খতিয়ে দেখছে পুলিশ?

    তদন্তকারীরা ১৯ ও ২০ জুলাই জন্তর-মন্তরে হওয়া বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অনলাইনে একই ধরনের বার্তা কীভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল, তা বিশ্লেষণ করছেন। পুলিশের দাবি, বিদেশে পরিচালিত কিছু সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট অতীতেও ‘অপারেশন সিঁদুর’-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সময় সক্রিয় ছিল। সেই একই ধরনের অ্যাকাউন্ট জন্তর-মন্তর বিক্ষোভের সময়ও সক্রিয় হয়ে ওঠায় বিদেশি প্রভাব বা দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত প্রচারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। দিল্লি পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোনও ইনফ্লুয়েন্সার, সংস্থা বা সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের নাম প্রকাশ করেনি। তদন্তকারীদের বক্তব্য, আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলি কেবল তদন্তের অংশমাত্র।

    আর্থিক লেনদেনও তদন্তের আওতায়

    ডিজিটাল প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা সংস্থাগুলি কোনও গোপন আর্থিক সুবিধা পেয়েছিল কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা বিশেষভাবে নজর দিচ্ছেন— পিয়ার-টু-পিয়ার ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন, অ্যাফিলিয়েট বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থপ্রাপ্তি, তৃতীয় পক্ষের মার্কেটিং কনসালটেন্সি চুক্তি এবং এমন অন্যান্য ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি, যেগুলির প্রচলিত ব্যাংকিং নথি থাকে না।

    সোশাল মিডিয়া অ্যালগরিদমের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

    তদন্তে উঠে এসেছে, বিভ্রান্তিকর দাবি, সম্পাদিত ভিডিও, ডিপফেক বা অতিরঞ্জিত তথ্য প্রথমে অল্প কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে লাইক, শেয়ার, কমেন্ট ও ভিউ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম সেই কনটেন্টকে আরও বৃহৎ পরিসরে পৌঁছে দেয়। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, জন্তর-মন্তরের বিক্ষোভের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রক্রিয়া কাজ করেছিল কি না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে একই ধরনের বার্তার একাধিক সংস্করণ তৈরি করে ইনস্টাগ্রাম, এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউব-সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অল্প সময়ের ব্যবধানে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দিচ্ছে তদন্তকারীরা।

    তদন্তের মূল লক্ষ্য

    দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, তদন্তের উদ্দেশ্য শুধু ভুয়ো তথ্য শনাক্ত করা নয়। বরং জন্তর-মন্তরের তুলনামূলকভাবে সীমিত পরিসরের বিক্ষোভকে পরিকল্পিতভাবে বৃহত্তর অনলাইন আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল কি না এবং তার মাধ্যমে জনমনে উদ্বেগ, বিভ্রান্তি ও সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়েছিল কি না, সেটাই এখন তদন্তের মূল বিষয়। এখনও পর্যন্ত এই মামলায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি এবং কোনও চার্জশিটও দাখিল হয়নি। ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ, আর্থিক নথি এবং সোশাল মিডিয়ার কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করে দেশীয় বা বিদেশি কোনও সংগঠিত চক্র জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ।

  • Indian Vessel Sinks: ইয়েমেন উপকূলে হামলা! লোহিত সাগরে ডুবল ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ, নিন্দা নয়াদিল্লির

    Indian Vessel Sinks: ইয়েমেন উপকূলে হামলা! লোহিত সাগরে ডুবল ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ, নিন্দা নয়াদিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইয়েমেন উপকূল (Yemen) সংলগ্ন লোহিত সাগরে (Red Sea) ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ডুবে গেল ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এমএসভি ফাইজে নূরে ওলিয়া (MSV Faize Noore Oliya)। তবে জাহাজে থাকা ১৩ জন ভারতীয় নাবিক এবং একজন বিদেশি নাগরিককে নিরাপদে উদ্ধার করেছে ইয়েমেন কোস্ট গার্ড (National Resistance Force)। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের ইয়েমেনের মোখা বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, নিরস্ত্র একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এই হামলা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও নিন্দনীয়। তিনি জানান, জাহাজে থাকা ১৪ জন নাবিকই নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন।

    হামলার তীব্র নিন্দা বিদেশ মন্ত্রকের

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) এক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৪ আগস্ট ইয়েমেন উপকূলের কাছে লোহিত সাগরে ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এমএসভি ফাইজে নূরে ওলিয়া (MSV Faize Noore Oliya)-এর ওপর হামলার ঘটনায় ভারত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, জাহাজে থাকা ১৩ জন ভারতীয় নাগরিককেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। সৌদি আরবের রিয়াধে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ইয়েমেন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রেখে উদ্ধার হওয়া নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। পাশাপাশি দ্রুত উদ্ধারকাজের জন্য ইয়েমেন প্রশাসনকে ধন্যবাদও জানানো হয়েছে।

    নাবিকদের নিরাপত্তা সবার আগে

    কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেন, ‘‘বিনা প্ররোচনায় ভারতীয় জাহাজটিকে নিশানা করা হয়েছে। প্রতিরোধ ক্ষমতা বিহীন একটি জলযানের উপরে বিনা প্ররোচনায় এই হামলার তীব্র নিন্দা করছে ভারত। আমাদের নাবিকদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’’ তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া নাবিকদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-কে সংশ্লিষ্ট সমস্ত সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কারা চালাল হামলা?

    উপসাগরীয় এলাকায় ভারতীয় কোনও জাহাজে এইভাবে সরাসরি হামলার ঘটনা এই প্রথম৷ সৌদি থেকে তেল নিয়ে আসছিল ভারতীয় এই জাহাজটি৷ ইয়েমেনের বাব আল মানডাবের হোদেইদাহ থেকে ১৩ নটিক্যাল মাইল দূরে এই হামলার ঘটনা ঘটে৷ বিস্ফোরক বোঝাই যে নৌকা করে আত্মঘাতী এই হামলা চালানো হয়, সেটিও ইয়েমেনেরই বলে জানা গিয়েছে৷সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেন উপকূল এবং বাব-এল-মান্দেব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার জেরে গোটা লোহিত সাগর অঞ্চল অস্থির হয়ে উঠেছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই হামলার জন্য দায়ী গোষ্ঠীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি ভারত সরকার। লোহিত সাগরে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটছে। পরপর এমন ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এই ঘটনার পর ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগর?

    লোহিত সাগর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য পথ। সুয়েজ খালের মাধ্যমে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনের বড় অংশ এই পথেই হয়। কিন্তু ইয়েমেন উপকূলবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা এবং বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক আক্রমণের ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং শিল্পের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বহু আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থা জাহাজ ঘুরিয়ে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ হয়ে চলাচল করছে। ফলে পরিবহণ ব্যয়, বীমার খরচ এবং পণ্য সরবরাহের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে নিরাপত্তা জোরদার করতে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীগুলিও টহল বাড়িয়েছে।

    সঙ্কটে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ

    একই দিনে হরমুজ প্রণালীর কাছে আরেকটি ড্রাই বাল্ক কার্গো জাহাজও একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর। ওই জাহাজের কর্মীরা জাহাজ ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হন। তবে একজন নাবিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরাকের হরমুজ প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত তেল রফতানি প্রায় ৭১ শতাংশ কমে গেছে। সংস্থার হিসেব অনুযায়ী, ৪ জুলাই থেকে ৪ আগস্টের মধ্যে ইরাক প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে, যেখানে যুদ্ধের আগে মাসিক গড় রফতানি ছিল ১০.৫ কোটি ব্যারেল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ (Naval Blockade) কার্যকর করার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলেও চাপ তৈরি হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ বাণিজ্য জরুরি

    ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে, লোহিত সাগর অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর ধারাবাহিক হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ ও নিরাপদ বাণিজ্যিক নৌচলাচল দ্রুত পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন রয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক আইন মেনেই এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে চলাচল নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করছে দিল্লি। গত মাসেই ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা করে। তার পর থেকে লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। এই প্রণালী লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে হামলার ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে।

     

     

     

     

  • POK Unrest: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অশান্তি চরমে, নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে

    POK Unrest: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অশান্তি চরমে, নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (POK Unrest)-এ পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। মঙ্গলবারও বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের আবহ অব্যাহত রয়েছে। যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC)-র অভিযোগ, বাগ জেলায় চলমান বিক্ষোভ দমাতে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছে এবং কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। সংগঠনের দাবি, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। একই সঙ্গে মুজাফফরাবাদ জেলার মাকরি এলাকায় সাধারণ মানুষের মোটরসাইকেলে আগুন লাগানোরও অভিযোগ তোলা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি

    সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC) রাষ্ট্রসংঘ (UN), রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দফতর (OHCHR), আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং বিশ্ব মানবাধিকার সংগঠনগুলির কাছে পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তেরও দাবি জানানো হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন স্থানীয় ইস্যুকে কেন্দ্র করে পিওকে-র একাধিক এলাকায় বিক্ষোভ চলছে। JAAC-এর দাবি, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকশো মানুষ আহত হয়েছেন। এদিকে, পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত

    আগেও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে সরকার বিরোধী বিক্ষোভে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সেনা। সাধুনাটি জেলায় জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-র নিরস্ত্র জমায়েতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় তিন জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। রাওয়ালকোটের মাতিয়াল মিরা বাস টার্মিনালের সামনে গুলিবর্ষণেও মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) ইসলামাবাদের সেনার ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চেয়েছে ভারতও। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ‘‘নয়াদিল্লি আশা করে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সংঘটিত নির্যাতন ও অনাচারের জন্য আন্তর্জাতিক ভাবে পাকিস্তানকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। সেখানে কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানের পদ্ধতিগত শোষণ, মৌলিক অধিকার হরণ এবং অবৈধ ভাবে দখলে থাকা এলাকাগুলিতে প্রশাসনিক নিপীড়নের সরাসরি পরিণতি এই স্বতঃস্ফূর্ত গণবিক্ষোভ।’’ ভারতের অভিযোগ, স্থানীয় জনগণের ন্যায্য অভিযোগগুলোর সমাধান করার পরিবর্তে পাকিস্তানি রাষ্ট্র চরম দমনপীড়নের পথ নিয়েছে এবং নিরস্ত্র অসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করেছে। যার ফলে ধারাবাহিক ভাবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

    ১২টি সংরক্ষিত আসন-ই ইসলামাবাদের চাবিকাঠি

    দীর্ঘ দিন ধরেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দারা পাক সেনার অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-আন্দোলন করছেন। তাতে নতুন মাত্রা এনেছে, জম্মু ও কাশ্মীর থেকে স্থানান্তরিত সংরক্ষিত ১২টি আসন। সেই আসনগুলিই এখন পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সংগঠনের যৌথমঞ্চ, জেএএসি ওই ১২টি সংরক্ষিত আসন তুলে দেওয়ার দাবি তুলেছে। তাদের অভিযোগ, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সরকারের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে এবং সেখানকার রাজনীতিকে প্রভাবিত করতে ইসলামাবাদ এই আসনগুলিকে হাতিয়ার করছে। ১৯৪৭ এবং তার পর ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মীর থেকে বহু মানুষ পাকিস্তানে স্থানান্তরিত হয়েছেন। বিশেষ করে জম্মু, পুঞ্চ এবং রাজৌরি থেকে এই ঘটনা ঘটেছে। এই মানুষদের পাকিস্তানে ‘উদ্বাস্তু’ ঘোষণা করা হয়েছে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আইনসভায় মোট ৫৩ জন সদস্যের মধ্যে এই উদ্বাস্তুদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬টি আসন কাশ্মীর উপত্যকা এবং ৬টি আসন জম্মু থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত। ওই উদ্বাস্তুরা যেহেতু পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে বসতি স্থাপন করেছেন, তাই সংরক্ষিত আসনগুলির নির্বাচন পিওকে-র বাইরে হয়ে থাকে।

    কীভাবে ভুল পথে অধিকৃত কাশ্মীরকে নিয়ন্ত্রণ করে ইসলামাবাদ

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থানের সঙ্গে আসনগুলির যোগসূত্র রয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের উদ্বাস্তু প্রতিনিধিদের দেখিয়ে ইসলামাবাদ বলতে চায়, কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হয়নি। জেএএসি-র, এই উদ্বাস্তু আসনগুলি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। অভিযোগ, ওই আসনগুলি থেকে সাজানো নির্বাচনে জয়ী প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে ইসলামাবাদ। জেএএসি-র নেতা সর্দার আমান খান সম্প্রতি পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসেরও বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীই মূলত ওই স্থানান্তরিত কাশ্মীরিদের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাস রফতানি ও অস্ত্র সরবরাহ করে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তানি নির্যাতন প্রতিরোধে হস্তক্ষেপের জন্য নয়াদিল্লির কাছে আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। গত ৯ জুন থেকে ৩৮ দফা দাবিতে শুরু হয়েছে আন্দোলনে নতুন পর্যায়। তাতে ৫০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পাক সেনার বিরুদ্ধে।

    উদ্বেগ প্রকাশ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের

    আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি পাকিস্তান সরকারের কাছে দ্রুত, স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে। অ্যামনেস্টির আরও অভিযোগ, পিওকে-র কিছু এলাকায় ইন্টারনেট ও মোবাইল পরিষেবায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যার ফলে ঘটনাগুলির স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তারা তথ্যপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখারও আহ্বান জানিয়েছে। পিওকে-তে পরিস্থিতি ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় পাকিস্তানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক মহল নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি তুলেছে।

LinkedIn
Share