Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • ECI Form 6: খসড়া ভোটার তালিকায় নাম নেই? ফর্ম ৬ জমা দিলেই চূড়ান্ত তালিকায় নাম তোলার সুযোগ, জানাল নির্বাচন কমিশন

    ECI Form 6: খসড়া ভোটার তালিকায় নাম নেই? ফর্ম ৬ জমা দিলেই চূড়ান্ত তালিকায় নাম তোলার সুযোগ, জানাল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশজুড়ে ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন ফর্ম ৬ জমা (ECI Form 6) দেওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা ও বিতর্ক কাটাতে বড় পদক্ষেপ করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া বাতিল এবং দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ নিয়ে বিক্ষোভের আবহে ফর্ম ৬ নিয়ে নয়া নির্দেশিকা জারি করল কমিশন। নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, খসড়া ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ফর্ম ৬ জমা দিয়ে চূড়ান্ত তালিকায় নাম তোলার আবেদন করতে পারবেন। এর জন্য আগে ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল কি না সেই বিষয়টি কোনও বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

    কী বলা হল নয়া নির্দেশিকায়

    নয়া নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, কমিশনের নজরে এসেছে, বহু পুরনো ভোটার, যাঁদের নাম এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ গিয়েছে নতুন করে ফর্ম ৬ পূরণ করতে ভয় পাচ্ছেন। তাঁরা মনে করছেন, এই ফর্মটিতে প্রথমবার ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার ঘোষণা করতে হয়। তাই অনেকেরই ধারণা যে পুরনো নাম থাকা সত্ত্বেও ফর্ম ৬ জমা দিলে তা ‘ফল্স ডিক্লেয়ারেশন’ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এর জেরে ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩১ নম্বর ধারায় আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়ার আশঙ্কা করছিলেন অনেকেই। এই বিতর্ক ও আশঙ্কা দূর করে কমিশন জানিয়েছে, তালিকায় নাম না থাকা ভোটাররা নতুন করে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ফর্ম ৬ জমা দিলে তা কোনওভাবেই ‘ফল্স ডিক্লেয়ারেশন’ বলে গণ্য হবে না। ইতিমধ্যেই দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে একটি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।

    আইনি সুরক্ষা নিয়ে স্পষ্ট ঘোষণা

    কমিশনের নয়া নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে একটি মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট পরিষ্কার জানিয়েছিল আবেদনকারী আগে ভোটার হয়ে থাকলেও ফর্ম ৬ জমা দিতে পারেন। এ নিয়ে আশঙ্কা করার কোনও ভিত্তি নেই। কমিশনের আরও বক্তব্য, আইন অনুযায়ী কোনও ব্যক্তি অতীতে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকলেও এসআইআর প্রক্রিয়া বা তার পরে যদি নতুন করে ফর্ম ৬ জমা দেন তবে সংশ্লিষ্ট ইআরও সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবেন না।

  • India Israel: রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের প্রস্তাবে ভারতের আপত্তি, পাশে ইজরায়েল, ১৮০ দেশের সমর্থনে পাশ প্রস্তাব

    India Israel: রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের প্রস্তাবে ভারতের আপত্তি, পাশে ইজরায়েল, ১৮০ দেশের সমর্থনে পাশ প্রস্তাব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত পাকিস্তান ও বেলারুশের যৌথ উদ্যোগে আনা একটি প্রস্তাবের বিরোধিতা করল ভারত ও ইজরায়েল (India Israel)। ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে একমাত্র এই দুই দেশই প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। অন্যদিকে, প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে ১৮০টি দেশ। কোনও (UN Arms Control Resolution) দেশ ভোটদানে বিরত থাকেনি। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের নিরস্ত্রীকরণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রথম কমিটিতে সোমবার এই ভোটাভুটি হয়।

    প্রস্তাবটির মূল উদ্দেশ্য ছিল আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক স্তরে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আরও জোরদার করা। তবে ভারতের বক্তব্য, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণকে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এটি একটি আন্তর্জাতিক বিষয়। প্রতিটি দেশের নিরাপত্তার স্বার্থ ও উদ্বেগকে বৃহত্তর বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের প্রথম সচিব অনমোল শের বেদি জানান, প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি মূলত আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার যুক্তি নিয়ে ভারত পুরোপুরি একমত নয়। তিনি বলেন, “আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত নই যে এই বিষয়টিকে প্রধানত আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক পরিসরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত।”

    রাষ্ট্রসংঘের পুরনো সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন ভারতের (India Israel)

    প্রস্তাবটির আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। সেখানে রাষ্ট্রসংঘের নিরস্ত্রীকরণ কমিশনকে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আঞ্চলিক চুক্তির জন্য নতুন কিছু নীতি ও নির্দেশিকা তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

    ভারতের বক্তব্য, এই বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিশন ইতিমধ্যেই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেছে। ১৯৯৩ সালে আঞ্চলিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে নির্দেশিকা ও সুপারিশ, ১৯৯৯ সালে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত নির্দেশিকা এবং ২০১৭ সালে প্রচলিত অস্ত্রের ক্ষেত্রে আস্থা বৃদ্ধির বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিয়ে সুপারিশ গ্রহণ করা হয়েছিল।

    এই পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বেদি। তাঁর কথায়, “আমরা এই অনুরোধটি কিছুটা কৌতূহলের সঙ্গে দেখছি।”

    তিনি আরও বলেন, একই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিশন ইতিমধ্যেই তিনটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তা হলে আবার কেন সেই আলোচনাকে প্রথম থেকে শুরু করতে হবে? দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত একটি বিষয় নিয়ে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা ভারত বুঝতে পারছে না বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, রাষ্ট্রসংঘের নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখাই যদি এর উদ্দেশ্য না হয়, তা হলে এই পুনরাবৃত্তির যৌক্তিকতা কোথায়?

    দেশের নিরাপত্তা

    প্রস্তাবে নির্দিষ্ট অঞ্চল ও উপ-অঞ্চলের মধ্যে প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার যে কথা বলা হয়েছে, তারও বিরোধিতা করেছে ভারত।

    বেদির বক্তব্য, কোনও দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে তার ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে আটকে রাখা যায় না। বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তার স্বার্থ অনেক সময় নিজস্ব অঞ্চলের বাইরেও বিস্তৃত হয়। ফলে নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলের মধ্যে সামরিক ভারসাম্য বজায় রাখার ধারণা বাস্তবে কতটা কার্যকর, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে (India Israel)।

    তিনি বলেন, “এই প্রস্তাবের ধারণা অনুযায়ী, রাষ্ট্রগুলির নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ যেন তাদের আঞ্চলিক সীমানায় এসে থেমে যায়। বাস্তবে তা হয় না।”

    তিনি আরও জানান, বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্বার্থ ও উদ্বেগ সংকীর্ণ ভৌগোলিক সীমানার বাইরে বিস্তৃত। তাই কোনও নির্দিষ্ট অঞ্চল বা উপ-অঞ্চলের মধ্যে সামরিক ভারসাম্য বজায় রাখার ধারণা বাস্তবসম্মত নয় বলেই মনে করে ভারত।

    আপত্তি ভারতের

    ‘সাধারণ ও পূর্ণাঙ্গ নিরস্ত্রীকরণ: আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক স্তরে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক প্রস্তাবে ঠান্ডা যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া অধিকাংশ হুমকি একই ভৌগোলিক অঞ্চলের দেশগুলির মধ্যে থেকেই এসেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদার করতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে চুক্তি গড়ে তোলার পক্ষে সওয়াল করা হয়েছে। একই সঙ্গে অস্ত্রশস্ত্র ও সামরিক বাহিনীর সংখ্যা যতটা সম্ভব সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

    তবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত প্রস্তাবের উল্লেখ থাকা একটি অনুচ্ছেদের বিরুদ্ধেও আলাদাভাবে ভোট দিয়েছে ভারত। ওই অনুচ্ছেদে লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশের মধ্যে আলোচনা-সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক উদ্যোগের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাবগুলিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছিল।

    এ ছাড়া, যেসব দেশের সামরিক সক্ষমতা বেশি এবং যারা সামরিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাদের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে বলেও প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    তবে ভারতের অবস্থান, প্রচলিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয়কে শুধুমাত্র আঞ্চলিক বা উপ-আঞ্চলিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। ইজরায়েলও ভারতের সঙ্গে একই অবস্থান নিয়ে প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছে। যদিও ১৮০টি দেশের সমর্থনে রাষ্ট্রসংঘের প্রথম কমিটিতে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়েছে (UN Arms Control Resolution)।

    এই ভোটাভুটি আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থানকেই ফের সামনে নিয়ে এসেছে। নয়াদিল্লির মতে, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের যে কোনও আন্তর্জাতিক কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে প্রতিটি দেশের (India Israel) বৃহত্তর নিরাপত্তা স্বার্থ ও ভৌগোলিক সীমার বাইরের উদ্বেগগুলিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

     

  • ABVP: লাদাখ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বড় জয় এবিভিপির

    ABVP: লাদাখ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বড় জয় এবিভিপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাদাখ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেল এবিভিপি (অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ)। মোট আটটি পদের মধ্যে পাঁচটিতেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন সংগঠনের প্রার্থীরা (ABVP)। এই জয়ের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতৃত্বে এবিভিপির অবস্থান আরও শক্তিশালী হল।

    যাঁরা জয়ী হয়েছেন (ABVP)

    নির্বাচনে সভাপতি পদে (Ladakh University Elections) জয়ী হয়েছেন ডাওয়া নামগিয়াল। সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ত্সেরিং ইয়াংদোল। সাধারণ সম্পাদক পদে জয় পেয়েছেন স্তানজিন রিগদোল। যুগ্ম সম্পাদক হয়েছেন রাবস্কিট দোলমা এবং ক্রীড়া সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন তেনজিন ত্সেওয়াং।

    এই নির্বাচনী ফল লাদাখে এবিভিপির সাংগঠনিক শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন বলেই মনে করছে সংগঠন। ছাত্র সংসদের আটটি পদের মধ্যে পাঁচটিতে জয় পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও প্রত্যাশা তুলে ধরার ক্ষেত্রে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবে বলেই আশা করা হচ্ছে (ABVP)।

    সংগঠনের সাফল্য

    এবিভিপি লাদাখের তরফে এই সাফল্যকে সংগঠনের সামগ্রিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। জয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি আগামী দিনে (Ladakh University Elections) তাঁরা ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন বলেও আশাপ্রকাশ করেছে এই ছাত্র সংগঠন (ABVP)।

     

  • Twin Cyclone in India: পরপর দুই ঘূর্ণিঝড় সামলে নজির ভারতের, বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা

    Twin Cyclone in India: পরপর দুই ঘূর্ণিঝড় সামলে নজির ভারতের, বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় (Twin Cyclone in India) মোকাবিলায় ভারতের প্রস্তুতি, নির্ভুল আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং আগাম সতর্কতা মূলক ব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করল বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO)। বিপর্যয়ের পূর্বাভাস দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে কীভাবে মানুষের প্রাণ ও জীবিকা রক্ষা করা সম্ভব, ভারত তার উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে বলে মনে করছে সংস্থাটি। পরপর দুটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় ভারতের ভূমিকার কথা তুলে ধরে এমনই মন্তব্য করেছেন বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো। তাঁর মতে, দুর্যোগের আগাম পূর্বাভাস এবং সময়মতো সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত এখন বিশ্বের বহু দেশের কাছে আদর্শ হয়ে উঠেছে।

    কী বললেন বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিব?

    সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ সোমবার গভীর রাতে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়ে। এর প্রভাবে উপকূলবর্তী এলাকায় শুরু হয় ঝড় ও বৃষ্টিপাত। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগেই একই অঞ্চলে আঘাত হেনেছিল আরও একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। পরপর দুটি ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও আগাম সতর্কতা জারি এবং প্রশাসনিক তৎপরতার মাধ্যমে বহু মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। ভারতের এই বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থারই প্রশংসা করেছেন সাউলো। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে সেলেস্তে সাউলো জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে কেবল আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়াই যথেষ্ট নয়। সেই পূর্বাভাসের ভিত্তিতে দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভারত এই গোটা প্রক্রিয়াটি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেছে। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি উল্লেখ করেছেন, বঙ্গোপসাগর থেকে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে এগিয়ে আসার কয়েক দিন আগেই ওই অঞ্চলে আছড়ে পড়েছিল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। এমন পরিস্থিতিতেও আগাম পূর্বাভাসের ভিত্তিতে প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। তাঁর মতে, বিপর্যয়ের আগাম সতর্কতা এবং দ্রুত পদক্ষেপের ক্ষেত্রে ভারতের এই সাফল্য বিশেষভাবে প্রশংসনীয়।

    বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে ভারত

    বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার মহাসচিবের মতে, দুর্যোগ মোকাবিলায় ভারতের এই অভিজ্ঞতা বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছেও অত্যন্ত শিক্ষণীয়। আবহাওয়ার পূর্বাভাস তৈরি করা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং বিপর্যয়ের সময় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভারতের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য। এই সাফল্য রাষ্ট্রপুঞ্জের ‘আর্লি ওয়ার্নিংস ফর অল’ উদ্যোগের লক্ষ্যপূরণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল, বিশ্বের প্রতিটি মানুষের কাছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া, যাতে দুর্যোগ আঘাত হানার আগেই মানুষ ও প্রশাসন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও সঠিক সময়ে নির্ভুল পূর্বাভাস এবং সতর্কবার্তা পৌঁছে দিতে পারলে প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো যায়। পরপর দুটি ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় ভারতের সাম্প্রতিক প্রস্তুতি সেই বার্তাই আরও একবার তুলে ধরেছে।

  • Indian Navy Rescue Operation: আরব সাগরে জলদস্যুদের কবলে ইরানি জাহাজ, ৪৮ ঘণ্টার দুর্ধর্ষ অভিযানে ২০ নাবিককে উদ্ধার ভারতীয় নৌসেনার

    Indian Navy Rescue Operation: আরব সাগরে জলদস্যুদের কবলে ইরানি জাহাজ, ৪৮ ঘণ্টার দুর্ধর্ষ অভিযানে ২০ নাবিককে উদ্ধার ভারতীয় নৌসেনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরব সাগরে সশস্ত্র জলদস্যুদের কবলে পড়া একটি ইরানি মাছ ধরার জাহাজ থেকে ২০ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করল ভারতীয় নৌসেনা। ২ নভেম্বর, সোমবার, টানা ৪৮ ঘণ্টার এক জটিল অভিযানের পর এই সাফল্য আসে। মুম্বই উপকূল থেকে প্রায় ৩,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে এই অভিযান চালানো হয়। জলদস্যুদের হাতে থাকা জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত করা থেকে শুরু করে সেটিকে আটকানো এবং সমস্ত নাবিককে নিরাপদে মুক্ত করা—প্রতিটি পর্যায়েই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ভারতীয় নৌসেনা। অভিযানে ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) সহযোগিতাও ছিল।

    ৪৮ ঘণ্টার অভিযানে উদ্ধার ২০ নাবিক, সক্রিয় ভূমিকা বায়ুসেনারও

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ভারতীয় নৌসেনার এই সাফল্যের কথা প্রকাশ্যে জানান। একইসঙ্গে অভিযানে যুক্ত নৌসেনার সমস্ত কর্মীকে অভিনন্দন জানান তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ রাজনাথ লেখেন, ২ নভেম্বর আরব সাগরে মুম্বই থেকে ৩,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে ছিনতাই হওয়া মাছ ধরার জাহাজ ‘আজ়িনি’ (Azini)-র ২০ জন নাবিককে উদ্ধারে ভারতীয় নৌসেনা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ৪৮ ঘণ্টার অভিযান চালিয়েছে।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযানটি কয়েকটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। প্রথমে জলদস্যুদের দখলে থাকা জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত করে ভারতীয় নৌসেনা। এরপর সেটিকে মাঝসমুদ্রে আটকানো হয়। শেষ পর্যন্ত সশস্ত্র জলদস্যুদের কবল থেকে জাহাজের ২০ জন নাবিককে নিরাপদে মুক্ত করা সম্ভব হয়।

    এই অভিযানে ভারতীয় বায়ুসেনার সময়োপযোগী সহযোগিতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রাজনাথ সিং জানান, জলদস্যুদের হাতে থাকা জাহাজটির দ্রুত অবস্থান নির্ণয়, সেটিকে আটকানো এবং নাবিক ও জাহাজকে নিরাপদে মুক্ত করার ক্ষেত্রে নৌসেনার দক্ষতার পাশাপাশি বায়ুসেনার সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। তাঁর মতে, এই অভিযান আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলির সমন্বয় এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতার পরিচয়।

    সোমালিয়ার উপকূলের কাছে ছিনতাই হয়েছিল ‘আজ়িনি’

    প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, উত্তর-পূর্ব সোমালিয়ার উপকূলবর্তী বান্দর বায়লা (Bandar Bayla) এবং হাফুন (Hafun) শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় জাহাজটি জলদস্যুদের কবলে পড়ে। পুন্তল্যান্ড মেরিটাইম পুলিশ ফোর্সের এক সামুদ্রিক নিরাপত্তা আধিকারিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (AP) এই তথ্য জানিয়েছিলেন।

    সোমালিয়ার উপকূল দীর্ঘদিন ধরেই জলদস্যুদের তৎপরতার কারণে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উদ্বেগের জায়গা। বিশেষত, বাণিজ্যিক জাহাজ এবং মাছ ধরার ট্রলারগুলিকে লক্ষ্য করে ছিনতাইয়ের ঘটনা আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপত্তার প্রশ্নকে বারবার সামনে এনেছে।

    সেই প্রেক্ষাপটে ‘আজ়িনি’ উদ্ধারের অভিযান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ঘটনাস্থল ভারতের পশ্চিম উপকূল থেকে অনেক দূরে হলেও দ্রুত পদক্ষেপ করে ভারতীয় নৌসেনা ২০ জনের প্রাণ রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে।

    ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের বার্তা

    অভিযানের সাফল্যকে শুধু একটি উদ্ধার অভিযান হিসেবে দেখছে না প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বৃহত্তর কৌশলগত অবস্থানও। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এই ভারত মহাসাগর। এই অঞ্চলে জলদস্যুতা, জাহাজ ছিনতাই এবং অন্যান্য সামুদ্রিক নিরাপত্তার হুমকি মোকাবিলা করা ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    রাজনাথ সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, মানবজীবন রক্ষা এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রশ্নে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর কথায়, অবাধ, উন্মুক্ত ও নিরাপদ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল নিশ্চিত করতে ভারত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ‘সেফ সিজ’ (SAFE SEAS) বা নিরাপদ সমুদ্রের বার্তাও পুনরায় তুলে ধরেছেন তিনি।

    বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, এই অভিযানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। প্রথমত, ভারতের উপকূল থেকে ৩,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অভিযান চালানোর সক্ষমতা। দ্বিতীয়ত, নৌসেনা ও বায়ুসেনার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক জলপথে বিপদে পড়া নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের দ্রুত হস্তক্ষেপ।

    সব মিলিয়ে, ‘আজ়িনি’ উদ্ধারের অভিযান ভারতীয় নৌসেনার দূরপাল্লার অভিযান পরিচালনা, সামুদ্রিক নজরদারি এবং জলদস্যুতা মোকাবিলার সক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপদ জলপথ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভারতের সক্রিয় ভূমিকার বার্তাও পৌঁছে দিল এই অভিযান।

  • 800 Km BrahMos: ৪৫০ থেকে বেড়ে ৮০০ কিমি পাল্লা! আরও বিধ্বংসী হচ্ছে ব্রহ্মস, ২০২৭ সালেই পরীক্ষা?

    800 Km BrahMos: ৪৫০ থেকে বেড়ে ৮০০ কিমি পাল্লা! আরও বিধ্বংসী হচ্ছে ব্রহ্মস, ২০২৭ সালেই পরীক্ষা?

    সুশান্ত দাস

    ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তিতে আরও বড়সড় সংযোজন হতে চলেছে ব্রহ্মস (BrahMos) সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়িয়ে ৪৫০ কিলোমিটার থেকে ৮০০ কিলোমিটার করার লক্ষ্যে দ্রুত কাজ করছে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সমুদ্র ও স্থলপথে শত্রুপক্ষের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আরও অনেক দূর থেকে নিখুঁত আঘাত হানতে পারবে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী। শুধু পাল্লা বৃদ্ধি নয়, নতুন সংস্করণে র‌্যামজেট ইঞ্জিনের উন্নয়ন এবং একাধিক প্রযুক্তিগত পরিবর্তনও আনা হচ্ছে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে শুরু হতে পারে নতুন সংস্করণের ডেভেলপমেন্ট টেস্টিং। ২০২৭ সালের শেষ অথবা ২০২৮ সালের গোড়ায় পরীক্ষার পর্ব সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

    কীভাবে বাড়বে ব্রহ্মসের পাল্লা?

    ব্রহ্মস একটি সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল, যা র‌্যামজেট ইঞ্জিন প্রযুক্তির সাহায্যে পরিচালিত হয়। নতুন সংস্করণে ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা ৮০০ কিলোমিটারে নিয়ে যেতে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা ও জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানোর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    র‌্যামজেট ইঞ্জিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, এটি বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করে জ্বালানি দহনের কাজে ব্যবহার করে। ফলে ক্ষেপণাস্ত্রকে জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কার্যকর করে তোলা সম্ভব। এই প্রযুক্তির উন্নত সংস্করণ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্রহ্মসের উড়ানপথ ও পাল্লা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    নতুন সংস্করণে ওজন নিয়ন্ত্রণ, উন্নত নেভিগেশন ব্যবস্থা এবং ওয়ারহেডের সক্ষমতা নিয়েও কাজ হতে পারে। এর ফলে দীর্ঘ দূরত্বে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পাশাপাশি নির্ভুলতা ও সামগ্রিক যুদ্ধক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

    পুরনো লঞ্চারেই ব্যবহার করা যাবে নতুন ব্রহ্মস!

    এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, পাল্লা বাড়লেও ক্ষেপণাস্ত্রটির লঞ্চার এবং সংশ্লিষ্ট সহায়ক ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না বলে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, ভারতীয় নৌসেনার যে যুদ্ধজাহাজগুলিতে বর্তমানে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন রয়েছে, সেগুলিতে নতুন সংস্করণ যুক্ত করার জন্য বড় ধরনের পরিকাঠামোগত পরিবর্তন করতে হবে না।

    এর ফলে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের ক্ষেত্রে সময় ও খরচ, দু’দিক থেকেই সুবিধা পাওয়া যাবে। বিদ্যমান যুদ্ধজাহাজের পরিকাঠামো ব্যবহার করেই উন্নত সংস্করণকে কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে।

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এর তাৎপর্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নতুন কোনও অস্ত্রব্যবস্থা তৈরি করলেই শুধু হয় না, সেটিকে বিদ্যমান সামরিক পরিকাঠামোর সঙ্গে দ্রুত সংযুক্ত করাও সমান জরুরি। সেই জায়গায় ব্রহ্মসের নতুন সংস্করণ ভারতীয় নৌসেনার জন্য বিশেষ সুবিধা এনে দিতে পারে।

    ২০২৭ সালেই শুরু হতে পারে পরীক্ষামূলক উড়ান

    নতুন ব্রহ্মস তৈরির ক্ষেত্রে প্রথমে উন্নত র‌্যামজেট ইঞ্জিন এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের দেশীয় স্তরে পরীক্ষা চালানো হবে। সেই পরীক্ষায় সাফল্য মিললে পরবর্তী পর্যায়ে ক্ষেপণাস্ত্রটির ডেভেলপমেন্ট টেস্টিং শুরু হবে।

    প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে এই পরীক্ষা শুরু হতে পারে। ২০২৭ সালের শেষ অথবা ২০২৮ সালের গোড়ার মধ্যে পরীক্ষার পর্ব শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

    পরীক্ষার সময় ক্ষেপণাস্ত্রটির গতি, পাল্লা, নেভিগেশন এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার নির্ভুলতা খতিয়ে দেখা হবে। সমস্ত পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল মিললে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ব্যবহারের জন্য উৎপাদন শুরু করার উপর জোর দেওয়া হবে। সম্ভাব্য সময়সীমা ২০২৮ সাল।

    রফতানির জন্য ২৯০ কিমি, ভারতের হাতে ৮০০ কিমির সংস্করণ

    ব্রহ্মসের নতুন সংস্করণের কৌশলগত গুরুত্বের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের বিষয়টিও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। রফতানির ক্ষেত্রে ভারত ২৯০ কিলোমিটার পাল্লার ব্রহ্মস সংস্করণের উৎপাদন অব্যাহত রাখবে। অন্যদিকে, ৮০০ কিলোমিটার পাল্লার উন্নত সংস্করণ মূলত ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজন মেটানোর জন্য তৈরি করা হবে।

    এর পিছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (MTCR)-এর বিধিনিষেধ। এই ব্যবস্থার আওতায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম রফতানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে দেশীয় সামরিক প্রয়োজন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা—দুই ক্ষেত্রেই আলাদা কৌশল বজায় রাখার সুযোগ পাবে ভারত।

    চিন ও পাকিস্তানের মোকাবিলায় বাড়বে কৌশলগত সুবিধা

    ব্রহ্মসের পাল্লা ৮০০ কিলোমিটারে পৌঁছলে ভারতের সামরিক সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। সমুদ্রপথে শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজকে অনেক বেশি দূর থেকে নিশানা করার সুযোগ তৈরি হবে। একইভাবে স্থলভাগে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পরিকাঠামো ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষেত্রেও বাড়বে সক্ষমতা।

    বিশেষ করে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নৌসেনার উপস্থিতি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করার ক্ষেত্রে এই ক্ষেপণাস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পাশাপাশি চিন ও পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলির সামরিক সক্ষমতার মোকাবিলায় ভারতের প্রতিরোধমূলক শক্তি (Deterrence Capability) আরও মজবুত হবে।

    স্থল, জল এবং আকাশ—তিন ক্ষেত্রেই ব্রহ্মসের ব্যবহারযোগ্যতা ভারতের সামরিক পরিকল্পনায় বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে। তবে নতুন সংস্করণের প্রকৃত কার্যকারিতা নির্ভর করবে পরীক্ষার ফলাফল এবং বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির পর তার বাস্তব প্রয়োগের উপর।

    আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পথে আরও এক ধাপ

    ভারত ও রাশিয়ার যৌথ সহযোগিতায় ব্রহ্মস প্রকল্পের সূচনা হলেও এর উন্নত সংস্করণ তৈরির ক্ষেত্রে দেশীয় প্রযুক্তি ও গবেষণার ভূমিকা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। উন্নত ইঞ্জিন, নেভিগেশন এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার পরীক্ষায় সাফল্য এলে ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থাও উপকৃত হবে।

    তবে এই প্রকল্পের সামনে প্রযুক্তিগত জটিলতা, দীর্ঘ পাল্লায় নির্ভুলতা বজায় রাখা এবং উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সমস্ত পরীক্ষা শেষ করে উৎপাদন শুরু করাও বড় বিষয়।

    সব মিলিয়ে, ৪৫০ কিলোমিটার থেকে ৮০০ কিলোমিটার পাল্লার ব্রহ্মস তৈরির উদ্যোগ ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে চলেছে। পরিকল্পনা সফল হলে ভারতীয় নৌসেনা, স্থলসেনা ও বায়ুসেনার আক্রমণাত্মক সক্ষমতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এই উন্নত সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র।

  • Cyclone Murasu: আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’! তছনছ অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকা, বাংলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস

    Cyclone Murasu: আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’! তছনছ অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকা, বাংলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যরাতেই অন্ধ্র্র উপকূলে আছড়ে পড়ল ঘূর্ণিঝড় মুরাসু (Cyclone Murasu)। সোমবার রাত ১টা নাগাদ প্রকাশম জেলার ওঙ্গোলের কাছে শুরু হয় ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া। ঝড়ের দাপট ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার গতিবেগ পৌঁছে যাচ্ছে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত। সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় প্রমাদ গুনছে অন্ধ্রবাসী। ইতিমধ্যেই দক্ষিণ উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের তরফে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কলকাতাতোও মঙ্গলের ভোর থেকেই আকাশ মেঘলা।

    নিচু এলাকাগুলিতে বন্যার আশঙ্কা

    ঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণ উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশের নিচু এলাকাগুলিতে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। বাপটলা, কৃষ্ণা এবং প্রকাশম জেলায় জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ার আশঙ্কা। প্রকাশম জেলার ওঙ্গোল-সহ বিভিন্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে অতিভারী বৃষ্টি হচ্ছে। মঙ্গলবার উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ ও ইয়ানামের অধিকাংশ জায়গায় এবং রায়লসীমার অনেক এলাকায় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পালনাড়ু, তিরুপতি ও নন্দিয়াল জেলায় এক-দু’টি জায়গায় অত্যন্ত ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এলুরু, এনটিআর, কৃষ্ণা, গুন্টুর, বাপটলা, প্রকাশম, নেল্লোর-সহ একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। ৪ ও ৫ নভেম্বরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সময় ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

    ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির জন্য ৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ

    অন্ধ্রপ্রদেশের সরকার উপকূলের বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বেরনোর পরামর্শ দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির জন্য ৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। ঝড়ের জেরে সোমবার বিজয়ওয়াড়া, তিরুপতি এবং বিশাখাপত্তনম বিমানবন্দরে অন্তত ১৯টি বিমান বাতিল করা হয়েছে। ট্রেন পরিষেবাতেও ব্যাঘাত ঘটেছে। বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চিরালা এলাকায় বেশ কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়েছে। সেগুলি সরানোর কাজ শুরু করেছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

    পশ্চিমবঙ্গে তেমন দুর্যোগের আশঙ্কা নেই

    মুরাসুর’-এর সরাসরি প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গে তেমন দুর্যোগের আশঙ্কা নেই (Bengal weather update)। তবে এর পরোক্ষ প্রভাবেই মঙ্গলবার পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গলবার উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার থেকে রাজ্যের আবহাওয়া শুকনো থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস।

  • Bombay HC: ভারতে থেকে প্রতিবাদে অংশ নিতে পারবেন না, ইমরান খানকে কড়া বার্তা বম্বে হাইকোর্টের!

    Bombay HC: ভারতে থেকে প্রতিবাদে অংশ নিতে পারবেন না, ইমরান খানকে কড়া বার্তা বম্বে হাইকোর্টের!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের নাগরিক নন, তিনি বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিক হিসেবে বিশেষ পরিচয়পত্রধারী। তাই ভারতের নির্বাচনী তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় তাঁর সরাসরি কোনও প্রভাব পড়ে না। এই যুক্তিতেই অভিনেতা ইমরান খানকে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নিয়ে কড়া বার্তা দিল বম্বে হাইকোর্ট (Bombay HC)। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ভারতীয় নাগরিক না হওয়ায় দেশের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রতিবাদে অংশগ্রহণের অধিকার তাঁর নেই।

    সোমবার প্রধান বিচারপতি মহেশ চন্দ্র ত্রিপাঠীর নেতৃত্বাধীন বিচারপতিদের বেঞ্চে ইমরানের দায়ের করা একটি মামলার শুনানি হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার (SIR Remarks) অভিযোগে মুম্বইয়ের বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন দফতর তাঁর উদ্দেশে ভারত ছাড়ার যে নোটিশ জারি করেছিল, তাকে চ্যালেঞ্জ করেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিনেতা। ওই নোটিশের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের মেয়াদ আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে আদালত।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ (Bombay HC)

    শুনানির সময় ইমরানের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার সঙ্গে অভিনেতার কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, “আপনি বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিক হিসেবে বিশেষ পরিচয়পত্রধারী। আপনি ভারতীয় নাগরিক নন। নির্বাচনী তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় আপনার কোনও প্রভাব পড়ছে না। সুতরাং, এই প্রতিবাদে অংশ নেওয়া বা বিক্ষোভ প্রদর্শনের অধিকার আপনার নেই।”

    এমনকী, অভিনেতাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতেও বলে আদালত। বিচারপতিদের মতে, তাঁর কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষকে প্ররোচিত করার শামিল।

    কেন্দ্রীয় সরকারের হয়ে আদালতে উপস্থিত অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অনিল সিং জানান, ইমরান খান বিভিন্ন সাক্ষাৎকার এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক বক্তব্য প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ওই বক্তব্যগুলির উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ নাগরিকদের উসকানি দেওয়া।

    কড়া বার্তা আদালতের

    শুনানিতে প্রধান বিচারপতি আরও স্পষ্ট করে দেন, ভারতে বসবাস করলেও বিশেষ পরিচয়পত্রধারী কোনও ব্যক্তি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এভাবে সমালোচনা বা প্রতিবাদে অংশ নিতে পারেন না বলে আদালত মনে করে। তিনি বলেন, “এই ধরনের আচরণ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আপনি আমেরিকায় গিয়ে সেখানে প্রতিবাদে অংশ নিতে পারেন, এমনকী ভোটও দিতে পারেন। কিন্তু ভারতে এভাবে কোনও বিষয়ে প্রতিবাদ করা মেনে নেওয়া হবে না।”

    এর পাশাপাশি, ইমরানের ভারতীয় নাগরিকত্বের আবেদন না করার বিষয়টিও আদালতের নজরে আসে। অভিনেতার জীবনের একটা বড় অংশ ভারতে কেটেছে। এখানেই তাঁর পড়াশোনা ও কর্মজীবন। সেই প্রসঙ্গ তুলে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “ছোটবেলা থেকেই আপনি ভারতে রয়েছেন। এখানে পড়াশোনা করেছেন, কাজ করেছেন এবং জীবনের প্রায় সবকিছুই এখানে। তা হলে ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করছেন না কেন?”

    আদালত আরও জানায়, ইমরান যদি বিশেষ পরিচয়পত্রধারী হিসেবেই ভারতে বসবাস চালিয়ে যেতে চান, তা হলে ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন না বলে তাঁকে লিখিত অঙ্গীকার দিতে হবে (Bombay HC)।

    প্রধান বিচারপতির কথায়, “আপনি যদি এই পরিচয়পত্রধারী হিসেবেই ভারতে থাকতে চান, তা হলে লিখিতভাবে জানাতে হবে যে ভবিষ্যতে আর এই ধরনের প্রতিবাদে অংশ নেবেন না।”

    নিঃশর্ত ক্ষমাও চাওয়ার নির্দেশ

    শুধু লিখিত অঙ্গীকার নয়, নিঃশর্ত ক্ষমাও চাইতে হবে অভিনেতাকে। আদালতের মতে, একজন পরিচিত তারকা হিসেবে ইমরানের বক্তব্য ও আচরণের প্রভাব অনেক বেশি। তাঁর অনুগামীর সংখ্যাও যথেষ্ট। তাই প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করার আগে তাঁর আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।

    প্রধান বিচারপতি বলেন, “একজন তারকার কাছ থেকে অন্তত এইটুকু দায়িত্ববোধ প্রত্যাশিত। আপনি এই দেশেই কাজ করেছেন, এখান থেকেই পরিচিতি ও স্বীকৃতি পেয়েছেন। আপনার প্রচুর অনুগামী রয়েছেন (SIR Remarks)। আপনার প্রতিটি বক্তব্যের প্রভাব পড়তে পারে। তাই এ দেশে কাউকে প্ররোচিত করার অধিকার আপনার নেই। আপনার জীবিকা ও উপার্জনের উৎসও এই দেশ।”

    উল্লেখ্য, বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিক হিসেবে বিশেষ পরিচয়পত্রধারীদের ভারতে বসবাস ও অন্যান্য অধিকার নিয়ে এই মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে বম্বে হাইকোর্ট। আপাতত (Bombay HC) ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁর ভারত ছাড়ার নোটিশের উপর বহাল থাকছে স্থগিতাদেশ।

     

  • Mahadev Betting Scam: মহাদেব বেটিং চক্রের চাঁই সৌরভ চন্দ্রকরকে ওমান থেকে ভারতে ফেরাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, নিশানায় সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবি উপ্পল

    Mahadev Betting Scam: মহাদেব বেটিং চক্রের চাঁই সৌরভ চন্দ্রকরকে ওমান থেকে ভারতে ফেরাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, নিশানায় সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবি উপ্পল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৬ হাজার কোটি টাকার মহাদেব অনলাইন বেটিং চক্রের অন্যতম প্রধান মাথা সৌরভ চন্দ্রকরকে ওমান থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে সফল হল ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি। রবিবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিশেষ দল তাঁকে ভারতে নিয়ে আসে (Mahadev Betting Scam)। এই ঘটনায় তদন্তে বড়সড় অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এবার তদন্তকারীদের নজর মহাদেব বেটিং চক্রের আর এক সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবি উপ্পলের দিকে। তদন্তকারীদের দাবি, উপ্পল বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাইয়ে রয়েছেন। তাঁকে দ্রুত ভারতে প্রত্যর্পণের জন্য সে দেশের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

    আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার জারি করা রেড কর্নার নোটিশের ভিত্তিতে গত জুন মাসের শেষ দিকে ওমানের রাজধানী মাসকাটে রয়্যাল ওমান পুলিশ সৌরভকে আটক করে। পরবর্তী সময়ে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি ওমান কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর প্রত্যর্পণের আবেদন জানায়। সেই আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিশেষ দল তাঁকে ভারতে ফিরিয়ে আনে। সোমবার তাঁকে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে বিশেষ আদালতে পেশ করার কথা। চন্দ্রকর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দু’টি মামলার পাশাপাশি ইডির একটি পৃথক মামলায়ও অভিযুক্ত (Money Laundering Case)। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং ছত্তিশগড়ের জুয়া নিষিদ্ধকরণ আইনের আওতায় অভিযোগপত্র জমা পড়েছে।

    রবি উপ্পলকে ফেরানোর তৎপরতা (Mahadev Betting Scam)

    সৌরভকে ভারতে ফিরিয়ে আনার পর তদন্তের পরবর্তী লক্ষ্য উপ্পল। ছত্তিশগড়ের ভিলাইয়ের বাসিন্দা উপ্পল ২০১৯ সালে চন্দ্রকরের সঙ্গে দেশ ছেড়ে দুবাইয়ে চলে যান। মহাদেব অনলাইন বেটিং ব্যবসার সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং অন্যতম মালিক হিসেবে তাঁর নাম উঠে এসেছে তদন্তে।

    ২০২৩ সালের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার রেড কর্নার নোটিশের ভিত্তিতে দুবাইয়ে তাঁকে আটক করা হয়েছিল। যদিও ৪৫ দিনের মধ্যেই তিনি মুক্তি পান। পরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের একাংশের দাবি, তাঁর কাছে ভানুয়াতুর পাসপোর্ট রয়েছে এবং তিনি সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, উপ্পল ফের দুবাইয়ে ফিরে এসেছেন।

    ইডির এক আধিকারিক জানান, “আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে উপ্পল বর্তমানে আবার দুবাইয়ে রয়েছেন। তাঁকে ভারতে ফেরানোর জন্য প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া চলছে। যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা জোরদার চেষ্টা চালাচ্ছি।”

    তদন্তকারীদের দাবি, এই বেটিং চক্রে চন্দ্রকর ও উপ্পলের ভূমিকা ছিল আলাদা। চন্দ্রকর মূলত ব্যবসার প্রচার এবং দৈনন্দিন পরিচালনার দায়িত্ব সামলাতেন। অন্যদিকে, উপ্পলের বিরুদ্ধে কয়েকশো কোটি টাকার হাওয়ালা লেনদেন পরিচালনা এবং ছত্তিশগড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার অভিযোগ রয়েছে। এই মামলার আর এক অভিযুক্ত বিকাশ ছাপারিয়াকেও দুবাই থেকে ভারতে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে ইডি।

    কীভাবে চলত মহাদেব বেটিং চক্র?

    তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, মহাদেব অনলাইন বুক ছিল দেশের অন্যতম বৃহৎ অবৈধ অনলাইন বেটিং চক্র। ভারতের বাইরে থেকে এই ব্যবসা পরিচালিত হলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্তৃত ছিল এর নেটওয়ার্ক। ফ্র্যাঞ্চাইজি বা শাখাভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ৩২০০টি প্যানেল ও শাখা ব্যবহার করে গ্রাহক সংগ্রহ এবং বাজির টাকা আদায় করা হত। ক্রিকেট, ফুটবল, তাসের খেলা-সহ বিভিন্ন খেলার উপর বাজি ধরার সুযোগ দেওয়া হত এই ব্যবস্থায়।

    ছত্তিশগড়ে কংগ্রেস পরিচালিত সরকারের আমলে এই বেটিং চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেলের নামও এই মামলায় অভিযুক্ত ও সুবিধাভোগী হিসেবে উঠে এসেছে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের এবং গ্রেফতারির ঘটনা ঘটেছে। তবে বাঘেল তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছেন। উল্লেখ্য, ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, জুয়া ও বাজি সংক্রান্ত বিষয় মূলত রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত।

    ৯৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি অপরাধলব্ধ অর্থের হিসাব

    এই বেটিং চক্রের আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ তদন্তকারীদের কাছেও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। ইডির সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, মহাদেব অনলাইন বুক এবং স্কাই এক্সচেঞ্জ ও লোটাস ৩৬৫-এর মতো সহযোগী প্ল্যাটফর্মগুলির মাধ্যমে গত প্রায় ১০ বছরে প্রায় ৯৪,৪০০ কোটি টাকার অপরাধলব্ধ অর্থ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। তবে সংস্থাটি আদালতে জানিয়েছে, এই হিসাব প্রাথমিক এবং নতুন তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তা পরিবর্তিত হতে পারে।

    তদন্তকারীদের দাবি, বিভিন্ন ভুয়ো বা অন্যের পরিচয়ে খোলা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রথমে বাজির টাকা জমা করা হত। পরে একাধিক লেনদেনের স্তর তৈরি করে সেই অর্থের উৎস আড়াল করা হত। শেষ পর্যন্ত হাওয়ালা চ্যানেলের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, এই অর্থের একটি অংশ ছত্তিশগড়ের সরকারি আধিকারিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ঘুষ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, যাতে অবাধে এই অবৈধ ব্যবসা (Mahadev Betting Scam) চালানো যায়।

    সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, গ্রেফতার ১৪

    মহাদেব বেটিং মামলায় আর্থিক তছরুপের তদন্তে এখনও পর্যন্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে ইডি। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটি এই মামলায় ছ’টি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। সেখানে মোট ১১৬ জন ব্যক্তি ও সংস্থার নাম অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে ১৪ জনকে। বাজেয়াপ্ত ও আটক করা সম্পত্তির মূল্য ২,১০০ কোটি টাকারও বেশি বলে সাম্প্রতিক তদন্তের তথ্যে উঠে এসেছে।

    এই তদন্তের সূত্রেই চন্দ্রকরের বিপুল বিলাসবহুল জীবনযাপনও নজরে আসে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাস আল খাইমায় তাঁর বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই অনুষ্ঠানে অতিথিদের যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত বিমান ব্যবহারের পাশাপাশি বিপুল অর্থ ব্যয়ের তথ্যও তদন্তকারীদের নজরে আসে।

    সৌরভকে দেশে ফিরিয়ে আনার ফলে মহাদেব বেটিং চক্রের আর্থিক লেনদেন, রাজনৈতিক যোগসূত্র এবং সম্ভাব্য সুবিধাভোগীদের বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে (Money Laundering Case) উপ্পলকে ভারতে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দুই প্রধান অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলে এই বিপুল অবৈধ বেটিং সাম্রাজ্যের নেপথ্যে থাকা গোটা চক্রের (Mahadev Betting Scam) আরও অনেক অজানা তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে।

     

  • India’s 1st Bullet Train: ২৫০ কিমি গতিতে ছুটবে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন! ৮টি কোচে সফর করতে পারবেন ৫৫৭ জন যাত্রী

    India’s 1st Bullet Train: ২৫০ কিমি গতিতে ছুটবে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন! ৮টি কোচে সফর করতে পারবেন ৫৫৭ জন যাত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। এবার ভারতের মাটিতেই তৈরি হচ্ছে প্রথম দেশীয় প্রযুক্তির বুলেট ট্রেন (India’s 1st Bullet Train)। মুম্বই-আমেদাবাদ হাইস্পিড রেল করিডরের জন্য তৈরি এই অত্যাধুনিক ট্রেনের উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বেঙ্গালুরুর ভারত আর্থ মুভার্স লিমিটেড (BEML)-এর কারখানায়। বিদেশি প্রযুক্তির উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীলতা কাটিয়ে ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ারদের হাত ধরেই তৈরি হচ্ছে এই ট্রেন। দেশের আবহাওয়া, জলবায়ু এবং রেল চলাচলের বিশেষ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এর নকশা তৈরি করা হয়েছে।

    কত গতিতে ছুটবে বুলেট ট্রেন?

    নতুন এই বুলেট ট্রেনের সর্বোচ্চ পরীক্ষামূলক গতি ঘণ্টায় ২৮০ কিলোমিটার। তবে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেনটি ঘণ্টায় ২৪৯ কিলোমিটার গতিতে চলবে। ট্রেনটির মোট দৈর্ঘ্য হবে ২০২ মিটার। থাকবে মোট ৮টি কোচ। এর মধ্যে চারটি মোটর কার এবং চারটি ট্রেলার কার। একসঙ্গে মোট ৫৫৭ জন যাত্রী সফর করতে পারবেন। বিশেষভাবে সক্ষম এবং চলাফেরায় অসুবিধা রয়েছে এমন যাত্রীদের জন্যও থাকছে দুটি নির্দিষ্ট আসন। ট্রেনটিতে সাতটি স্ট্যান্ডার্ড ক্লাসের কোচ থাকবে, যেখানে ৩×২ আসন বিন্যাসে বসার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি একটি এক্সিকিউটিভ ক্লাসের কোচে থাকবে ২×২ আসন বিন্যাস। ট্রেনের দু’প্রান্তেই থাকবে চালকের কেবিন। অত্যাধুনিক অনবোর্ড কন্ট্রোল সিস্টেমের মাধ্যমে ট্রেন পরিচালনা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যবস্থা থাকবে।

    যাত্রীদের আরামের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

    যাত্রীদের আরামদায়ক সফরের কথা মাথায় রেখে ট্রেনের ভিতরের নকশা তৈরি করা হয়েছে। থাকবে প্রশস্ত আসন, পর্যাপ্ত লেগরুম এবং আধুনিক অভ্যন্তরীণ সজ্জা। প্রতিটি কোচের মধ্যে সংযোগকারী বিশেষ সিল করা গ্যাংওয়ে থাকবে, যার সাহায্যে যাত্রীরা সহজেই এক কোচ থেকে অন্য কোচে যেতে পারবেন। প্রতিটি আসনের সারির পাশে থাকবে বড় জানালা। ফলে যাত্রাপথের প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন যাত্রীরা। আধুনিক এলইডি আলো, মাথার উপরে লাগেজ রাখার জায়গা এবং বড় ব্যাগ রাখার জন্য আলাদা স্ট্যান্ডের ব্যবস্থাও থাকছে। মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ চার্জ দেওয়ার জন্য প্রতিটি আসনের কাছে থাকবে পৃথক পাওয়ার আউটলেট। এছাড়াও পরিবেশবান্ধব বায়ো-ডাইজেস্টার টয়লেট থাকবে ট্রেনটিতে। এর ফলে বর্জ্যের পরিবেশগত প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।

    থাকছে আধুনিক তথ্য ও বিনোদন ব্যবস্থা

    যাত্রাপথে প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে প্রতিটি কোচে থাকবে এলসিডি ডিসপ্লে। ইংরেজি, হিন্দি এবং আঞ্চলিক ভাষায় ট্রেনের বিভিন্ন তথ্য দেখতে পারবেন যাত্রীরা। পাশাপাশি থাকবে পাবলিক অ্যাড্রেস এবং স্বয়ংক্রিয় ঘোষণার ব্যবস্থা। যাত্রীদের বিনোদনের জন্য থাকছে উচ্চগতির ওয়াই-ফাই নির্ভর ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম। এর মাধ্যমে আগে থেকে লোড করা বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন তাঁরা। জরুরি পরিস্থিতিতে ট্রেনের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য থাকবে বিশেষ ইমার্জেন্সি টক-ব্যাক ইউনিট।

    বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা

    সকলের যাতায়াত সহজ করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ট্রেনের মেঝে এবং প্ল্যাটফর্মের উচ্চতা একই রাখা হবে, যাতে সহজেই ওঠানামা করা যায়। ট্রেনের দরজায় থাকবে প্রত্যাহারযোগ্য ফুটস্টেপ, যা প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেনের মধ্যবর্তী ফাঁক কমাতে সাহায্য করবে। বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রীদের উপযোগী করে তৈরি করা হবে দরজা ও শৌচাগার। দৃষ্টিহীন যাত্রীদের জন্য থাকবে ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখা নির্দেশিকা ও তথ্যচিহ্ন। সারা বছর যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে প্রতিটি কোচে থাকবে ডুয়াল-ইউনিট এইচ-ভ্যাক ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে কোচের ভিতরের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। পাশাপাশি শব্দদূষণ কমানোর জন্য ট্রেনের বডি এবং মেঝেতে বিশেষ সাউন্ড ইনসুলেশন ও নয়েজ ড্যাম্পিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

    শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি

    ২৫ কেভি এসি ওভারহেড বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় চলবে এই বুলেট ট্রেন। শক্তি সাশ্রয়ের জন্য থাকছে অত্যাধুনিক রিজেনারেটিভ ব্রেকিং সিস্টেম। ট্রেনের গতি কমানোর সময় উৎপন্ন শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুতে রূপান্তর করে বৈদ্যুতিক গ্রিডে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ফলে বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো সম্ভব হবে। এছাড়াও ট্রেনের সামনের অংশ এবং সম্পূর্ণ বডি বিশেষ অ্যারোডাইনামিক পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়েছে। কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে এর নকশা তৈরি করেছেন ইঞ্জিনিয়াররা। এর ফলে বাতাসের বাধা কমবে, টানেলের মধ্যে প্রবেশের সময় বায়ুর চাপজনিত শব্দ ও অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। সব মিলিয়ে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই বুলেট ট্রেন ভারতের রেল পরিকাঠামোয় এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে চলেছে। গতি, আরাম, নিরাপত্তা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মেলবন্ধনে ভারতের হাইস্পিড রেল পরিষেবাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

LinkedIn
Share