Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • BrahMos-II Hypersonic Missile: ছোট হাইপারসনিক ব্রহ্মস বানাতে হাত মেলাল ভারত-রাশিয়া, কাঁপছে শত্রুশিবির

    BrahMos-II Hypersonic Missile: ছোট হাইপারসনিক ব্রহ্মস বানাতে হাত মেলাল ভারত-রাশিয়া, কাঁপছে শত্রুশিবির

    সুশান্ত দাস

    ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অন্যতম সফল প্রকল্প ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র এবার আরও আধুনিক রূপ পেতে চলেছে। দুই দেশ যৌথভাবে ব্রহ্মসের ছোট আকারের হাইপারসনিক সংস্করণ (BrahMos-II) তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ। এই নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে আরও দ্রুত, দূরপাল্লার এবং বহুমাত্রিক আঘাত হানার সক্ষমতা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রহ্মসের প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলিপভ বলেন, “ব্রহ্মস ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতার এক প্রতীকী উদাহরণ। বর্তমানে এর ছোট এবং হাইপারসনিক সংস্করণ তৈরির কাজ চলছে, যা ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর মাল্টি-ডোমেন স্ট্রাইক ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।”

    কী এই ব্রহ্মস?

    ব্রহ্মস হল ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি একটি সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। ব্রহ্মপুত্র এবং মস্কভা নদীর নামের সংমিশ্রণ থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে ‘ব্রহ্মস’। বর্তমানে এটি বিশ্বের দ্রুততম কার্যকর সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলির অন্যতম। ব্রহ্মস অ্যারোস্পেসের তথ্য অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্র স্থল, সমুদ্র, আকাশ এবং সাবমেরিন— সব ধরনের প্ল্যাটফর্ম থেকেই উৎক্ষেপণ করা যায়। ভারতীয় সেনা, নৌবাহিনী এবং বায়ুসেনা— তিন বাহিনীর কাছেই এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। ভারতীয় বায়ুসেনার সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান থেকে ব্রহ্মসের বিমান-উৎক্ষেপণযোগ্য সংস্করণ সফলভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন থেকেও এর বিভিন্ন সংস্করণ ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমান ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের গতি ঘণ্টায় প্রায় ম্যাক ৩, অর্থাৎ শব্দের গতির তিনগুণ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।

    অপারেশন ‘সিঁদুর’-এ ব্রহ্মসের ব্যবহার

    ডেনিস আলিপভ স্মরণ করিয়ে দেন, গত বছর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত স্বল্পস্থায়ী সামরিক সংঘর্ষ ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ব্রহ্মস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তাঁর দাবি, ওই সংঘর্ষে ভারত ১৫ থেকে ২০টি ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে এবং পাকিস্তানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য সব তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও ব্রহ্মসের কার্যকারিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র কী?

    সাধারণভাবে ম্যাক ৫ বা তার বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রকে হাইপারসনিক বলা হয়। ব্রহ্মস অ্যারোস্পেসের ভবিষ্যৎ প্রকল্প ‘ব্রহ্মস ২’-কে একটি হাইপারসনিক অস্ত্র হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে ব্যবহার করা হবে অত্যাধুনিক ‘এয়ার-ব্রিদিং স্ক্র্যামজেট’ ইঞ্জিন প্রযুক্তি।

    এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের মূল সুবিধা হল—

    • ● লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছতে অত্যন্ত কম সময় লাগে।
    • ● প্রতিপক্ষের প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ কমে যায়।
    • ● আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে আটকানো অনেক বেশি কঠিন হয়ে ওঠে।
    • ● উচ্চ গতি, নির্ভুলতা এবং বেঁচে থাকার ক্ষমতার সমন্বয় তৈরি হয়।

    সামরিক কৌশলবিদদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে হাইপারসনিক অস্ত্রই বড় শক্তিগুলির প্রতিযোগিতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ যৌথ উন্নয়নের এই সিদ্ধান্ত?

    সম্প্রতি ভারত ব্রহ্মস-২ প্রকল্পকে কিছুটা পিছিয়ে দিয়ে নিজস্ব হাইপারসনিক প্রযুক্তি উন্নয়নের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা মহলে আলোচনা চলছিল। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মার্কিন ডলার বা তারও বেশি হতে পারে। এত ব্যয়বহুল অস্ত্র সাধারণ লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা সবসময় অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়। এছাড়া স্ক্র্যামজেট ইঞ্জিন প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও উঠে এসেছিল। ফলে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতির আওতায় দেশীয় প্রযুক্তি বিকাশে জোর দিচ্ছে নয়াদিল্লি। তবে নতুন করে যৌথ উন্নয়নের ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দুই দেশই প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন পথ খুঁজে নিচ্ছে।

    ছোট ব্রহ্মস কেন বড় পরিবর্তন আনতে পারে?

    এমনিতে, ব্রহ্মসের ছোট সংস্করণ নিয়ে আগে থেকেই কাজ করছে ভারত। এই আরও ছোট, হালকা, পরবর্তী প্রজন্মের ‘ব্রহ্মস-এনজি’কে (BrahMos-NG) বুদ্ধিমান এবং স্টেলথ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র করে তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই ভারতে কাজ অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। মূলত, এয়ার লঞ্চড ভার্সান বা যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ সংস্করণ তৈরি করার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে ব্রহ্মস সুখোই সু-৩০ যুদ্ধবিমান থেইকে নিক্ষেপ করা যায়। কারণ, এত ভারী ক্ষেপণাস্ত্র বহন করার ক্ষমতা শুধুমাত্র সুখোইয়ের মতো ভারী যুদ্ধবিমানের রয়েছে। কিন্তু ভারত চাইছে, কেবলমাত্র সু-৩০ নয়, ব্রহ্মস যাতে বাকি যুদ্ধবিমান যেমন তেজস, রাফাল সর্বত্র প্ল্যাটফর্মেই বহনযোগ্য হয়। সেই জন্য হালকা, ছোট সংস্করণ তৈরি করা হচ্ছে।

    এই ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য সুবিধাগুলি হল—

    • ● একাধিক ধরনের যুদ্ধবিমানে সহজে বহন করা যাবে।
    • ● একই বিমানে আগের তুলনায় বেশি সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র বহন করা সম্ভব হবে।
    • ● দ্রুত মোতায়েন করা যাবে।
    • ● রেডারে ধরা পড়ার সম্ভাবনা কমবে।
    • ● সামরিক অভিযানে আরও বেশি নমনীয়তা তৈরি হবে।

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ছোট আকারের কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর অস্ত্রই ভবিষ্যতের চাহিদা।

    ১৯৯৮ থেকে আজ: ব্রহ্মসের যাত্রাপথ

    ১৯৯৮ সালে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির ভিত্তিতে ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস প্রতিষ্ঠিত হয়। গত আড়াই দশকে প্রকল্পটি শুধুমাত্র একটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উদ্যোগে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং এটি দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে ঐতিহ্যগত ‘ক্রেতা-বিক্রেতা’ মডেল থেকে প্রযুক্তি ভাগাভাগি, যৌথ গবেষণা এবং যৌথ উৎপাদনের স্তরে উন্নীত করেছে। আলিপভ বলেন, ব্রহ্মস প্রকল্পই পরবর্তীকালে সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান এবং টি-৯০ ট্যাঙ্কের ভারতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত উৎপাদনের পথ প্রশস্ত করেছিল। তিনি একে-২০৩ রাইফেলের যৌথ উৎপাদনকেও এই সহযোগিতার সফল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    সু-৫৭ যুদ্ধবিমান ও এস-৪০০ উৎপাদনের ইঙ্গিত

    রুশ রাষ্ট্রদূত জানান, ভবিষ্যতে রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান সু-৫৭-ভিত্তিক প্রকল্প এবং এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উৎপাদন ক্ষেত্রেও ভারত-রাশিয়া সহযোগিতা বাড়তে পারে। এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    রাশিয়াও কিনতে চায় ব্রহ্মস

    এক সময় রাশিয়া ছিল ব্রহ্মস প্রকল্পের প্রযুক্তিগত অংশীদার। এবার সেই রাশিয়াই নিজ সেনাবাহিনীতে ব্রহ্মস অন্তর্ভুক্ত করার আগ্রহ দেখিয়েছে। ব্রহ্মস অ্যারোস্পেসের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয়তীর্থ জোশী জানিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। যৌথ ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলেকজান্ডার ম্যাকসিচেভ জানান, রুশ নৌবাহিনী এবং স্থলবাহিনীর জন্য ব্রহ্মস সরবরাহ করতে কোম্পানি প্রস্তুত।

    বিশ্ববাজারে বাড়ছে ব্রহ্মসের চাহিদা

    শুধু ভারত নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ব্রহ্মস। ২০২২ সালে ফিলিপাইনস ৩৭৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ব্রহ্মস কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে প্রথম ব্যাচ সরবরাহ করা হয়। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে দ্বিতীয় ব্যাচ পৌঁছে যায়। সম্প্রতি ভিয়েতনামের সঙ্গে ৬২০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তির কথাও নিশ্চিত করেছে ভারত। এমনকি, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে উন্নত পর্যায়ের আলোচনা চলছে। ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক চাহিদার ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ব্রহ্মস অ্যারোস্পেসের আয় প্রায় ৪৮.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    ভারতের প্রতিরক্ষা কূটনীতির নতুন মুখ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রহ্মস এখন আর শুধু একটি ক্ষেপণাস্ত্র নয়। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং কৌশলগত কূটনীতির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। ছোট আকারের ব্রহ্মস-এনজি এবং ভবিষ্যতের হাইপারসনিক ব্রহ্মস-২ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ভারত শুধু নিজের সামরিক শক্তিই বাড়াবে না, বরং বৈশ্বিক অস্ত্রবাজারেও আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান অর্জন করতে পারবে। ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন অধ্যায় হিসেবে এই প্রকল্পগুলির দিকে এখন নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।

  • India-UK Free Trade: ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি! ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা প্রধানমন্ত্রীর

    India-UK Free Trade: ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি! ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত বছর ২৪ জুলাই সই হয়েছিল ভারত-ব্রিটেন অবাধ বাণিজ্য চুক্তি (FTA)। বুধবার এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রক জানাল, স্বাক্ষরিত হওয়ার এক বছরের মাথায় ১৫ জুলাই থেকে এই চুক্তি (India-UK Free Trade) কার্যকর হতে চলেছে। এর ফলে ‘কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট’(CETA)-এর অধীনে দুই দেশে একে অপরের পণ্য কম বা বিনা শুল্কে রফতানির সুযোগ পাবে সংশ্লিষ্ট শিল্প। পাশাপাশি, ১৫ জুলাই থেকে দু’দেশের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তিও (ডব্‌ল কন্ট্রিবিউশন কনভেনশন) কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। ব্রিটেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,চুক্তি কার্যকরের আগে ব্যবসায়ী ও শিল্পমহলকে প্রস্তুতির জন্য ২৮ দিনের সময় দেওয়া হল।

    ভারত-ব্রিটেন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

    দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচনার পর চূড়ান্ত হওয়া এই চুক্তিকে ভারত-ব্রিটেন সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইউকে-এর দাবি, এই চুক্তির ফলে দীর্ঘমেয়াদে ব্রিটেনের জিডিপি প্রায় ৪.৮ বিলিয়ন পাউন্ড বৃদ্ধি পাবে, প্রকৃত মজুরি বাড়বে ২.২ বিলিয়ন পাউন্ড, এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বছরে প্রায় ২৫.৫ বিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

    চুক্তির আওতায় কী কী

    চুক্তির আওতায় ভারতের বাজারে ব্রিটিশ পণ্যের উপর শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। এর মধ্যে স্কচ হুইস্কির উপর ১৫০ শতাংশ শুল্ক কমে ৪০ শতাংশে নামানো হবে। নির্দিষ্ট কোটার আওতায় গাড়ির উপর শুল্ক ১০০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামানো হবে। প্রসাধনী সামগ্রীর উপর সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। অন্যদিকে, ভারতীয় বস্ত্র, জুতো, খাদ্যপণ্যসহ একাধিক পণ্যের উপর যুক্তরাজ্য শুল্ক কমাবে। ফলে ব্রিটিশ বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ডাবল কনট্রিবিউশন কনভেনশন কী

    চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত ডাবল কনট্রিবিউশন কনভেনশন-এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কর্মসূত্রে যাতায়াতকারী পেশাদারদের সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত অবদান ও পেনশন সুবিধা সহজতর হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হতে চলা এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি শুধু দুই দেশের অর্থনীতিকেই শক্তিশালী করবে না, বরং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    ‘ইউকে-ইন্ডিয়া রোডশো’

    যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল জানিয়েছেন, চুক্তি কার্যকরের প্রথম বছরেই প্রায় ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের শুল্ক হ্রাসের সুবিধা পাবেন ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা। একইসঙ্গে ভারতের বিশাল বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এই উপলক্ষে যুক্তরাজ্যের চারটি অঞ্চলে ‘ইউকে-ইন্ডিয়া রোডশো’-ও আয়োজন করা হবে।

    ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের জন্য সুবিধা

    এই চুক্তির ফলে উৎপাদন, প্রযুক্তি, পরিষেবা, ওষুধ শিল্প এবং আর্থিক পরিষেবা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে দুই দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য বাণিজ্যিক বাধা কমবে এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সহজ হবে। ফলে সীমান্ত পেরিয়ে ব্যবসা পরিচালনা আরও সহজ হবে। এছাড়া ধাপে ধাপে শুল্ক কমার ফলে দুই দেশের ভোক্তারাও আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যে তুলনামূলক কম দাম পাওয়ার সুবিধা পেতে পারেন।

    ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য পূরণে সহায়ক

    সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রধানমন্ত্রী মোদি এই চুক্তিকে “ভারত-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “ভারত-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ১৫ জুলাই ২০২৬ থেকে ভারত-যুক্তরাজ্য কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট কার্যকর হবে জেনে আমি আনন্দিত।”মোদির মতে, এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি ভারতীয় কৃষক, শ্রমিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই), স্টার্টআপ এবং উদ্ভাবকদের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলে যাবে। তিনি বলেন, “এই চুক্তি বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, এই বাণিজ্য চুক্তি নয়াদিল্লি ও লন্ডনের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন গতি দেবে এবং দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করবে।

    মোদি ও স্টারমার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

    জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও স্টারমারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয় নেতা গত এক বছরে ভারত-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের অগ্রগতিকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, ব্রিটেন ২০২০ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে বেরিয়ে আসার পর এটিই হল কোনও দেশের সঙ্গে ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক চুক্তি। যার পোশাকি নাম ‘কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ (সিইটিএ)। বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রক বিবৃতিতে বলেছে, “ভারত এবং ব্রিটেন আজ ঘোষণা করছে, আগামী ১৫ জুলাই থেকে সিইটিএ কার্যকর হবে। বিশ্ব অর্থনীতিতে এটি ভারতের একটি বড় পদক্ষেপ।”

    দু’দেশেরই অর্থনীতিতে গতি

    দিল্লিতে ব্রিটিশ হাই কমিশনার লিন্ডি ক্যামেরনও পৃথক ভাবে এই বাণিজ্যচুক্তির কথা ঘোষণা করেছেন বুধবার। দিনক্ষণ ঘোষণা করে তিনি সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, “এ বার প্রহর গোনা শুরু! ব্রিটেন এবং ভারত আগামী ১৫ জুলাই থেকে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে।” এই পদক্ষেপকে দু’দেশের সম্পর্কের এক ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছেন ব্রিটিশ হাই কমিশনার। তাঁর মতে, এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার ফলে দু’দেশেরই অর্থনীতিতে গতি আসবে। এই চুক্তির ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৩,৪০০ কোটি ডলার বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী মোদি।

  • Jharkhand: ঝাড়খণ্ড রাজ্যসভা নির্বাচনে জয়ী এনডিএ-সমর্থিত নির্দল প্রার্থী, ক্রস-ভোটিং ঘিরে জোর চর্চা

    Jharkhand: ঝাড়খণ্ড রাজ্যসভা নির্বাচনে জয়ী এনডিএ-সমর্থিত নির্দল প্রার্থী, ক্রস-ভোটিং ঘিরে জোর চর্চা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) দু’টি রাজ্যসভা আসনের নির্বাচনের ফল বেরল। একটি আসনে জয়ী হয়েছেন এনডিএ-সমর্থিত নির্দল প্রার্থী পরিমল নাথওয়ানি। অন্য আসনটি দখল করেছে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)। জয়ী হয়েছেন বৈদ্যনাথ রাম। ভোটগ্রহণে ক্রস-ভোটিংয়ের (Cross Voting) অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

    পরাজিত কংগ্রেস (Jharkhand)

    পরিমল কংগ্রেস প্রার্থী প্রণব ঝাকে পরাজিত করেছেন। আর বৈদ্যনাথ জয়ী হয়েছেন নির্ধারিত আসনে। নির্বাচনের ফল বেরলে দেখা যায়, পরিমল মোট ২৮টি ভোট পেয়েছেন। অথচ ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় এনডিএর মোট বিধায়কের সংখ্যা ২৪। এই অতিরিক্ত চারটি ভোট কোথা থেকে এল, তা নিয়েই শুরু হয়েছে ক্রস-ভোটিংয়ের জল্পনা। পরিমলের কাছে হেরে গিয়েছেন কংগ্রেসের প্রার্থী প্রণব। তিনি পেয়েছেন মাত্র ২০টি ভোট। অন্য আসনে জেএমএম প্রার্থী বৈদ্যনাথ নির্বাচিত হয়েছে ৩০টি ভোট পেয়ে। নির্বাচন পরিচালনাকারী এক আধিকারিকের তথ্য অনুযায়ী, বিজেপির দুই এবং কংগ্রেসের এক বিধায়কের ভোট অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    ভোটের অঙ্ক

    ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় এনডিএর মোট ২৪ জন বিধায়ক রয়েছেন। এর মধ্যে বিজেপির ২১ জন, এবং এলজেপি (রামবিলাস), আজসু পার্টি এবং জেডিইউয়ের একজন করে বিধায়ক রয়েছেন। আর, ইন্ডিয়া জোটের মোট ৫৬ জন বিধায়কের মধ্যে জেএমএমের ৩৪, কংগ্রেসের ১৬, আরজেডির ৪ এবং সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের ২ জন সদস্য রয়েছেন। ভোটের আগে এনডিএ তাদের বিধায়কদের রাঁচির একটি হোটেলে রাখায় রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। বিরোধী শিবিরের তরফে বিধায়ক ভাঙানোর আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছিল। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব শুরু থেকেই দাবি করেছিলেন, এনডিএ সমর্থিত প্রার্থীই জয়ী হবেন (Jharkhand)।

    ক্রস-ভোটিং!

    ঝাড়খণ্ডে এ বার প্রার্থীদের জিততে হলে প্রয়োজন ছিল ২৮ জন করে বিধায়কের সমর্থন। এর মধ্যে ‘ইন্ডি’ জোটের পক্ষে ছিল ৫৬ জনের সমর্থন। যার মধ্যে রয়েছেন জেএমএমের ৩৪ জন, কংগ্রেসের ১৬ জন, আরজেডির ৪ জন, এবং সিপিআই (এমএল)-এর ২জন বিধায়ক। নির্বাচনে জেএমএমের বৈদ্যনাথ পেয়েছেন ৩০টি প্রথম পছন্দের ভোট। তাদের সহযোগী কংগ্রেসের প্রণব পেয়েছেন ২০টি। অথচ ‘ইন্ডি’ জোটের ৫৬ জন বিধায়ক ছিলেন। সেই হিসেবে জেএমএমের প্রার্থী ৩০টি ভোট পেলে, কংগ্রেস প্রার্থীর পাওয়ার কথা ছিল ২৬টি। উল্লেখ্য (Cross Voting), জেএমএমের সহ-প্রতিষ্ঠাতা শিবু সোরেনের মৃত্যুর কারণে রাজ্যসভার একটি আসন শূন্য হয়েছিল। আর, বিজেপি সাংসদ দীপক প্রকাশের মেয়াদ শেষ হবে ২১ জুন। তাই নির্বাচন হয়েছে সেই আসনেও (Jharkhand)।

     

  • Manipur: মণিপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান, ৩৬ ঘণ্টায় ধ্বংস ৬১টি অবৈধ বাঙ্কার, সরানো হল একাধিক চেকপোস্ট

    Manipur: মণিপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান, ৩৬ ঘণ্টায় ধ্বংস ৬১টি অবৈধ বাঙ্কার, সরানো হল একাধিক চেকপোস্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মণিপুরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বড়সড় অভিযান চালাল নিরাপত্তা বাহিনী। গত ৩৬ ঘণ্টায় রাজ্যের পাহাড়ি ও উপত্যকা অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে ৬১টি অবৈধ বাঙ্কার ধ্বংস করা হয়েছে এবং একাধিক বেআইনি চেকপোস্ট সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মণিপুর পুলিশের বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রায় ৬ হাজার নিরাপত্তা কর্মী এই যৌথ অভিযানে অংশ নেন। রাজ্যের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় তল্লাশি, কম্বিং অপারেশন এবং এলাকা দখলমুক্ত করার অভিযান চালানো হয়।

    যৌথ অভিযান উদ্ধার অস্ত্র

    অভিযানের মূল কেন্দ্র ছিল কাংপোকপি জেলার লেইমাখং এলাকা। লেইলন ভাইফেই, লেইলন খুনৌ, এল. মুনলুই এবং কনসাখুল গ্রামে অভিযান চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ৩০টি বাঙ্কার, আউটপোস্ট এবং কৌশলগতভাবে স্থাপিত ক্যাম্প ভেঙে দেয়। প্রশাসনের দাবি, এগুলি সমাজবিরোধী গোষ্ঠীগুলির ব্যবহার করা ঘাঁটি ছিল। অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামও উদ্ধার হয়েছে। বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১১টি ১২-বোর সিঙ্গল-ব্যারেল ব্রিচ-লোডিং (SBBL) বন্দুক, ২৯৪ রাউন্ড জীবন্ত গুলি, ৩৪টি ব্যবহৃত কার্তুজ, দুটি গানপাউডারের প্যাকেট এবং ৬টি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট। এছাড়া চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের পরিচয় ও ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে ১৭ জুন কাংপোকপির সাইকুল মহকুমায় অভিযান চালিয়ে থিংফাই ও সি. খোলেন গ্রামে মোট চারটি অবৈধ বাঙ্কার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি চুরাচাঁদপুর জেলায় এস. নাবিল এবং লইলামকোই এলাকায় একটি বাঙ্কার ও একটি বেআইনি চেকপোস্ট অপসারণ করা হয়।

    সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাই উদ্দেশ্য

    প্রশাসনের মতে, সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলিতে অবৈধভাবে তৈরি সুরক্ষিত ঘাঁটি ও চেকপোস্ট সরিয়ে দিয়ে শান্তি ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। উল্লেখ্য, ১৬ জুন উখরুল জেলায় নিরাপত্তা বাহিনী ২৬টি অবৈধ বাঙ্কার ধ্বংস করেছিল। তদন্তকারীদের দাবি, চলমান উত্তেজনার আবহে প্রতিদ্বন্দ্বী নাগা ও কুকি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত সমাজবিরোধীরা ওই বাঙ্কারগুলি তৈরি করেছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজ্যের অশান্ত ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে, যাতে সশস্ত্র কার্যকলাপ রোধ করা যায় এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

  • Operation Tiger: ‘অপারেশন টাইগার’ ঘিরে ফের জল্পনা মহারাষ্ট্রে, ভাঙনের আশঙ্কা উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনায়

    Operation Tiger: ‘অপারেশন টাইগার’ ঘিরে ফের জল্পনা মহারাষ্ট্রে, ভাঙনের আশঙ্কা উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘অপারেশন টাইগারে’র (Operation Tiger) পর বুধবার মহারাষ্ট্রের রাজনীতির আকাশে নতুন করে জমেছে ঘোর অনিশ্চয়তার মেঘ। পুনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলি ছয়লাপ ‘শুধু অপেক্ষা করুন এবং দেখুন’ লেখা পোস্টারে। এই ঘটনাই শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে (ইউবিটি) গোষ্ঠীর (Uddhav Thackeray) মধ্যে আরও এবার ভাঙনের জল্পনা উসকে দিয়েছে।এই পোস্টারগুলি এমন একটা সময়ে দেখা গেল, যখন শিবসেনার (ইউবিটি) কয়েকজন সাংসদ দল থেকে বেরিয়ে মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা গোষ্ঠীর সঙ্গে জোট বাঁধার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    ‘অপারেশন টাইগার’ (Operation Tiger)

    যদিও কোনও শিবিরের পক্ষ থেকেই এখনও এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা হয়নি, তবে পোস্টারগুলি এখন রাজনৈতিক মহলে ‘অপারেশন টাইগার’ নামে পরিচিত একটি উদ্যোগের উজ্জ্বল প্রতীক হয়েই উঠেছে। এটি আদতে শিবসেনার মধ্যে আর একটি বড় ধরনের ভাঙন ধরানোর চেষ্টা। ‘অপারেশন টাইগার’ বলতে বোঝায় শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে (ইউবিটি) শিবিরের কয়েকজন সাংসদ ও বিধায়ককে যাঁদের ওই গোষ্ঠী থেকে বের করে শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনায় নিয়ে যাওয়ার একটি ছক।২০২২ সালে একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বে বিদ্রোহ মাথা চাড়া দেয় শিবসেনায়। ভেঙে দু’খান হয়ে যায় প্রয়াত মারাঠি নেতা বালঠাকরের হাতে গড়া দল শিবসেনা। তার জেরে পতন হয় উদ্ধব ঠাকরে সরকারের।

    অশনি সঙ্কেত শিবসেনার সংসদীয় শাখায়

    তার পর এবার অশনি সঙ্কেত শিবসেনার সংসদীয় শাখায়। লোকসভায় রয়েছে শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠীতে রয়েছেন ৯জন সাংসদ। এর মধ্যে ৬জনই পৃথক একটি সংসদীয় দল গঠনের পক্ষে। যদি দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন নিশ্চিত হয়, তাহলে দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় আইনি সুরক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হল সংসদের মধ্যে একটি স্বীকৃত আলাদ দল গঠন করা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের নির্বাচনী লড়াইয়ের আগে উদ্ধব ঠাকরের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করে দেওয়া (Uddhav Thackeray)।

    নয়া গোষ্ঠীতে কারা?

    সংবাদমাধ্যমের দাবি, পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠীর স্বীকৃতির জন্য ইতিমধ্যেই একটি চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে এবং ১৬ জুন সেই চিঠির নীতিগত অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। এই গোষ্ঠীতে থাকতে পারেন বলে যাঁদের নাম উঠে এসেছে, তাঁরা হলেন— সঞ্জয় দিনা পাটিল (মুম্বই উত্তর-পূর্ব), ওমরাজে নিম্বালকর (ধারাশিব), ভাউসাহেব ওয়াকচৌরে (শিরডি), সঞ্জয় যাদব (পারভানি), নাগেশ পাটিল অষ্টিকার (হিঙ্গোলি), এবং সঞ্জয় দেশমুখ (যাবতমল-ওয়াশিম)। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর, শিবসেনার শিন্ডে গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতারা দিল্লিতে গিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে আইনজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন। এই প্রক্রিয়ারই অংশ হিসেবে ওই (বিদ্রোহী) সাংসদদের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সামনে হাজির হওয়ার কথা।

    এই স্বীকৃতির প্রয়োজন কী?

    প্রশ্ন হল, এই স্বীকৃতির প্রয়োজন কী? আসলে কোনও আনুষ্ঠানিক বিভাজনের আগে নীতিগত স্বীকৃতি পাওয়াটা বেশ কয়েকটি কৌশলগত উদ্দেশ্য পূরণ করে। প্রথমত, এটি শিবসেনা (ইউবিটি) নেতৃত্বের জারি করা যে কোনও হুইপের কার্যকারিতাকে দুর্বল করে দেবে। দ্বিতীয়ত, এটি দল ছেড়ে অন্য পার্টিতে যোগ দেওয়া সাংসদদের আইনি সুরক্ষা দেয়। তৃতীয়ত, দলটি যে একটি বৈধ গোষ্ঠী, এমন যুক্তিকেও জোরালো করে। উভয় শিবিরই যখন দলত্যাগ-বিরোধী আইন নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে রীতিমতো আস্তিন গুটিয়ে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখনই শিবসেনা (ইউবিটি) দ্রুত পদক্ষেপ করে সাংসদদের সমর্থন একটাই ঝুলিতে পুরতে। দলটি তার সব সাংসদকেই নয়াদিল্লিতে একটি জরুরি সংসদীয় দলীয় সভায় যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিন লাইনের একটি হুইপ জারি করে।

    চিফ হুইপের বক্তব্য

    চিফ হুইপ অনিল দেশাই সাফ জানিয়ে দেন, প্রত্যেক সাংসদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। এও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যেসব সাংসদ দলীয় হুইপ অমান্য করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, মায় দলত্যাগ বিরোধী আইনে ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে (Operation Tiger)। উদ্ধব ঠাকরের শিবিরের পক্ষ থেকে এই বৈঠকটিকে লোকসভায় তাঁদের প্রকৃত শক্তি ঠিক কতটা, তা যাচাই করা এবং আরও একটি সাংগঠনিক বিভাজন রোধ করার গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এদিকে, দুই শিবিরেই যখন তৎপরতা তুঙ্গে, তখন জল্পনা আরও বেড়েছে দুই গোষ্ঠীর সাংসদদের আলাদা আলাদাভাবে দিল্লিতে হাজির হওয়ার ঘটনায়। জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকজন সাংসদ ঘুরপথে দিল্লি গিয়েছেন। তাই রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে (Operation Tiger)।

    অল দ্য রোডস…

    জানা গিয়েছে, শিবসেনার এক সাংসদ দিল্লিতে বিমানে ওঠার আগে হাদগাঁও থেকে সড়কপথে হায়দরাবাদে গিয়েছিলেন। আরও দু’জন একটি চার্টার্ড বিমানে ওঠার আগে গাড়ি চালিয়ে নান্দেদ বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন। আরও এক সাংসদ মুম্বই থেকে এসেছিলেন, অন্য এক সাংসদ এসেছিলেন শিরডি থেকে (Uddhav Thackeray)। শিবসেনার প্রত্যেক সাংসদের দিল্লি যাত্রা আপাতভাবে সাধারণ মনে হলেও, একটু তলিয়ে দেখলে এটি স্পষ্ট হয়ে যায়, পর্দার আড়ালে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আলোচনা চলা জল্পনার নেপথ্যের কারণ ঠিক কী।

    বিদ্রোহের জল্পনা ওড়ালেন শিবসেনা সাংসদ

    ক্রমবর্ধমান জল্পনার আবহে শিবসেনা (ইউবিটি) সাংসদ রাজভাউ ওয়াজে বিদ্রোহের খবর উড়িয়ে দিয়েছেন। দিল্লি পৌঁছে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন উদ্ধবের প্রতি তাঁর সমর্থনের কথা। শিন্ডে শিবিরের সঙ্গে কোনওরকম যোগাযোগের কথাও অস্বীকার করেছেন তিনি। ওয়াজে বলেন, “আমি উদ্ধবজির সঙ্গেই আছি, তাঁর সঙ্গেই থাকব। অন্য কারও সঙ্গে আমার কোনও যোগাযোগ নেই। আমি কোনও ফোনও পাইনি, শিন্ডেজির পক্ষ থেকে আমার সঙ্গে কোনও যোগাযোগও করা হয়নি।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন, একটি কমিটির বৈঠকে যোগ দিতেই ঝটিকা সফরে দিল্লিতে এসেছেন (Uddhav Thackeray) তিনি। মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ২০২২ সালের রাজনৈতিক বিদ্রোহের স্মৃতি এখনও টাটকা। সেই প্রেক্ষাপটে ‘অপারেশন টাইগার’ আদৌ নতুন কোনও ভাঙনের রূপ (Operation Tiger) নেয়, নাকি শুধুই রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল—সেদিকেই তাকিয়ে তামাম ভারত।

  • Rare Earth Magnet: এবার কমবে চিনের একচেটিয়া দাপট! ভারতে ২২৫০ কোটির রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট কারখানা গড়ছে জাপানি সংস্থা

    Rare Earth Magnet: এবার কমবে চিনের একচেটিয়া দাপট! ভারতে ২২৫০ কোটির রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট কারখানা গড়ছে জাপানি সংস্থা

    সুশান্ত দাস

    ভারতের বিরল মাটি খনিজ (Rare Earth Elements) শিল্পে বড়সড় অগ্রগতির পথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হতে চলেছে। জাপানের শীর্ষস্থানীয় উন্নত উপকরণ প্রস্তুতকারী সংস্থা প্রোটেরিয়াল (Proterial) অন্ধ্রপ্রদেশে ২ হাজার ২৫০ কোটি বিনিয়োগ করে একটি স্থায়ী চুম্বক (Permanent Magnet) উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশে বিরল মাটি-ভিত্তিক চুম্বকের (Rare Earth Magnets) উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং চিনের ওপর আমদানি-নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে। সূত্রের খবর, অন্ধ্রপ্রদেশের অনাকাপল্লি জেলার আচ্যুতাপুরম (Achutapuram) এলাকায় এই উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত রাজ্যের স্টেট ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন কমিটির বৈঠকে প্রকল্পটির অনুমোদন মিলেছে। ফলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    বছরে ১২০০ টন বিরল মাটি চুম্বক উৎপাদনের লক্ষ্য

    প্রস্তাবিত কারখানায় ‘সিন্টার্ড’ (গুঁড়ো ধাতুকে উচ্চ তাপ ও উচ্চ চাপের মধ্য দিয়ে কঠিন পদার্থে পরিণত করা) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিওডিমিয়াম-আয়রন-বোরন (NdFeB) স্থায়ী চুম্বক উৎপাদন করা হবে। কারখানার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা হবে ১.২ কিলোটন বা ১,২০০ টন। বিশ্বজুড়ে নিওডিমিয়াম চুম্বককে (Rare Earth Magnets) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং উন্নত বিরল খনিজ চুম্বকগুলির অন্যতম বলে মনে করা হয়। বর্তমানে এটি বাণিজ্যিকভাবে উপলব্ধ বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী স্থায়ী চুম্বক। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এই চুম্বকের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমানে এটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিল্প উপাদানে পরিণত হয়েছে।

    বৈদ্যুতিক গাড়ি থেকে প্রতিরক্ষা—সব ক্ষেত্রেই অপরিহার্য

    নিওডিমিয়াম (NdFeB) চুম্বক আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বহু শিল্পে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। এর ব্যবহার দেখা যায়—

    • ● বৈদ্যুতিক যানবাহন(EV)
    • ● বায়ুশক্তি বা উইন্ড টারবাইন
    • ● শিল্প কারখানার মোটর
    • ● দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক্স ও গ্যাজেট
    • ● মহাকাশ ও বিমান প্রযুক্তি
    • ● প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম

    এই চুম্বকের শক্তিশালী চৌম্বকীয় ক্ষমতা উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতিকে আরও কার্যকর ও দক্ষ করে তোলে। বিশ্বজুড়ে যখন শিল্পক্ষেত্রে বিদ্যুতায়ন এবং উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদনের প্রবণতা বাড়ছে, তখন নিওডিমিয়াম চুম্বকের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে।

    বিরল মাটি চুম্বক আত্মনির্ভর ভারতের পথে বড় পদক্ষেপ

    বর্তমানে বিরল মাটি চুম্বকের (Rare Earth Magnets) ক্ষেত্রে বিশ্বের বৃহত্তম সরবরাহকারী দেশ চিন। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই এই গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের জন্য আমদানির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কেন্দ্রীয় সরকার দেশীয় বিরল মাটি শিল্পের উন্নয়নে জোর দিচ্ছে। খনিজ আহরণ থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াকরণ এবং চুম্বক উৎপাদন— পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলকে দেশীয়ভাবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প শুধু উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াবে না, বরং দেশের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা ও কৌশলগত নিরাপত্তাকেও শক্তিশালী করবে।

    কেন্দ্রের নতুন প্রণোদনা প্রকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য

    সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার দেশীয়ভাবে সিন্টার্ড বিরল মাটি স্থায়ী চুম্বক (Rare Earth Magnets) উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে একটি বিশেষ প্রণোদনা কর্মসূচি অনুমোদন করেছে। সরকারের লক্ষ্য, ভবিষ্যতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, বৈদ্যুতিক পরিবহণ এবং উন্নত ইলেকট্রনিক্স শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ দেশে উৎপাদন করা। প্রোটেরিয়ালের বিনিয়োগ সেই নীতিগত উদ্যোগের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    কে এই প্রোটেরিয়াল?

    প্রোটেরিয়াল বিশ্বব্যাপী উন্নত চৌম্বকীয় উপকরণ এবং বিশেষায়িত ধাতব প্রযুক্তির অন্যতম শীর্ষ সংস্থা। প্রতিষ্ঠানটির পূর্ব নাম ছিল ‘হিটাচি মেটালস’ (Hitachi Metals)। নিওডিমিয়াম (NdFeB) চুম্বক প্রযুক্তির পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে এটি অন্যতম হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং উৎপাদন দক্ষতার মাধ্যমে সংস্থাটি বিশ্ববাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। বর্তমানে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, চিনসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম রয়েছে। গত অর্থবছরে সংস্থার একত্রিত আয় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি ছিল বলে জানা গেছে।

    কর্মসংস্থান ও শিল্পোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব

    বিশ্লেষকদের মতে, অন্ধ্রপ্রদেশে এই বৃহৎ বিনিয়োগের ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি দেশীয় সরবরাহকারী, প্রযুক্তি সংস্থা এবং সহায়ক শিল্পগুলিও উপকৃত হবে। ভারতে বৈদ্যুতিক গাড়ি, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং উন্নত উৎপাদন শিল্প দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফলে বিরল মাটি চুম্বকের চাহিদা আগামী বছরগুলিতে আরও বাড়বে। সেই চাহিদা পূরণে এই কারখানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

    বিশ্বব্যাপী বিরল মাটি সরবরাহ: ভারতের অবস্থান শক্তিশালী হবে

    বিশ্বজুড়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির প্রসারের ফলে বিরল মাটি চুম্বক (Rare Earth Magnets) এখন কৌশলগত সম্পদে পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রোটেরিয়ালের মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংস্থার ভারতমুখী বিনিয়োগ দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারতের গুরুত্বও বাড়াবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ভারত শুধু আমদানি কমাতেই সক্ষম হবে না, ভবিষ্যতে বিরল মাটি-ভিত্তিক উন্নত প্রযুক্তি উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

  • Abhishek Banerjee: অভিষেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের, ঘোর বিপাকে ‘ভাইপো’!

    Abhishek Banerjee: অভিষেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের, ঘোর বিপাকে ‘ভাইপো’!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গা থেকে খসে পড়ছে একের পর এক রক্ষাকবচ। ক্রমেই শিরঃপীড়া বাড়ছে তৃণমূলের সেনাপতি তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। বুধবার এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানার ওপর দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। খারিজ করে দিয়েছে তাঁর আবেদনও (Defamation Case)।

    অভিষেকের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা (Abhishek Banerjee)

    জানা গিয়েছে, ভোপালের বিশেষ এমপি-এমএলএ আদালতে দায়ের হওয়া একটি মানহানি মামলায় অভিষেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে ওই পরোয়ানার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। তবে এবার বিচারপতি প্রমোদ কুমার আগরওয়ালের সিঙ্গল বেঞ্চ সেই স্থগিতাদেশ তুলে নিয়ে মামলার আবেদন খারিজ করে দেয়। মামলার সূত্রপাত ২০২১ সালে। বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়র ছেলে তথা প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক আকাশ বিজয়বর্গীয় ভোপালের এমপি-এমএলএ আদালতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ, ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে কলকাতার এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আকাশকে ‘গুন্ডা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন তৃণমূলের ভাতিজা।

    স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার

    এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ভোপাল আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর আইনজীবীদের দাবি ছিল, তিনি একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, এবং তাঁর পালিয়ে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। সেই যুক্তির ভিত্তিতেই অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছিল আদালত। বুধবার এই মামলার শুনানির সময় আবেদনকারীর (পড়ুন, অভিষেকের) পক্ষে কোনও আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, আবেদনকারী সম্ভবত মামলাটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়েছেন। এরপরই আদালত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে আবেদন খারিজ করে দেয় এবং আদেশের অনুলিপি অবিলম্বে ভোপাল আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় (Abhishek Banerjee)।

    আদালতের এহেন নির্দেশের ফলে আইনিভাবে অভিষেকের বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর হওয়ার পথ ফের খুলে গেল বলেই মনে করছে আইনজ্ঞদের একাংশ (Defamation Case)। রাজনৈতিক মহলেও এই রায়কে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে (Abhishek Banerjee)।

  • India Defence Production: ৫ বছরে দ্বিগুণ! প্রতিরক্ষা উৎপাদনে রেকর্ড ভারতের, বদলে যাচ্ছে শক্তির সমীকরণ

    India Defence Production: ৫ বছরে দ্বিগুণ! প্রতিরক্ষা উৎপাদনে রেকর্ড ভারতের, বদলে যাচ্ছে শক্তির সমীকরণ

    সুশান্ত দাস

    প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে ভারত। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের মোট প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূল্য পৌঁছেছে রেকর্ড ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায়, যা ২০২০-২১ অর্থবর্ষের ৮৪,৬৪৩ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ১১০ শতাংশ বেশি। সহজ ভাষায়, ৫ বছরে প্রতিরক্ষা উৎপাদন বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তির অন্যতম দ্রুততম সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই সাফল্যকে।

    বৃদ্ধির নেপথ্যে ৫ কারণ

    তবে শুধু সংখ্যার বিচারে এই অগ্রগতি বিচার করলে পুরো ছবিটা ধরা পড়বে না। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে কীভাবে ভারত প্রতিরক্ষা উৎপাদনে এত বড় লাফ দিতে সক্ষম হল? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ— সরকারি নীতিগত সংস্কার, বেসরকারি শিল্পের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ, প্রতিরক্ষা রফতানির বিস্তার, দেশীয় অস্ত্র ও সামরিক প্ল্যাটফর্মের উন্নয়ন এবং বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সামরিক ব্যয়ের প্রেক্ষাপটে নতুন সুযোগের সৃষ্টি।

    আমদানি-নির্ভরতা থেকে আত্মনির্ভরতার পথে

    দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিকারক দেশ ছিল ভারত। যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন, আর্টিলারি ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও উন্নত সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিদেশি সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরশীলতা ছিল অত্যন্ত বেশি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই নির্ভরতা একটি কৌশলগত দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত হতে শুরু করে। বিশেষ করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আবহে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে গত এক দশকে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের নকশা, গবেষণা, উন্নয়ন ও উৎপাদনকে উৎসাহিত করে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে যেখানে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূল্য ছিল ৪৩,৭৪৬ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.৭৮ লক্ষ কোটি টাকায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সম্প্রতি দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বলেন, স্থল, জল ও আকাশ—তিন ক্ষেত্রেই ভারত উল্লেখযোগ্য দেশীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তুলেছে এবং জাতীয় নিরাপত্তায় আত্মনির্ভরতার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই উৎপাদন-সাফল্যকে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা-শিল্পভিত্তির প্রমাণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এই অর্জনের পেছনে রয়েছে সরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থা, বেসরকারি শিল্প এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের আওতায় গৃহীত বিভিন্ন নীতিগত সংস্কারের সম্মিলিত অবদান।

    নীতিগত সংস্কারেই তৈরি হয়েছে ভিত

    প্রতিরক্ষা উৎপাদনে এই লাফের অন্যতম প্রধান কারণ হল ধারাবাহিক নীতিগত সংস্কার। কেন্দ্রীয় সরকার ‘পজিটিভ ইন্ডিজেনাইজেশন লিস্ট’ চালু করে, যার ফলে শতাধিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের আমদানি সীমিত বা নিষিদ্ধ করা হয় এবং সেগুলির ক্রয় দেশীয় প্রস্তুতকারকদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। এর পাশাপাশি, প্রতিরক্ষা ক্রয় প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে, যাতে দেশীয় সংস্থাগুলি দ্রুত চুক্তি পেতে পারে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI)-এর সীমাও শিথিল করা হয়েছে। স্টার্ট-আপ এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উন্নয়নের লক্ষ্যে চালু হয়েছে ‘ইনোভেশনস্ ফর ডিফেন্স এক্সিলেন্স’ (iDEX) প্রকল্প। ফলে নতুন প্রযুক্তি, গবেষণা এবং স্থানীয় উৎপাদনে বিনিয়োগের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

    বৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি বেসরকারি শিল্প

    ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলির মধ্যে অন্যতম হল বেসরকারি শিল্পের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা। যদিও এখনও মোট উৎপাদনের প্রায় ৭৬ শতাংশ আসে ডিফেন্স পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিংস (DPSU) এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার কাছ থেকে, তবু বেসরকারি সংস্থাগুলির অংশীদারিত্ব দ্রুত বাড়ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বেসরকারি শিল্পের অবদান রেকর্ড ৪২,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট উৎপাদনের ২৪ শতাংশ। এক বছর আগে এই অংশীদারিত্ব ছিল ২২ শতাংশ। বড় শিল্পগোষ্ঠী, বিশেষায়িত প্রতিরক্ষা সংস্থা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) এবং প্রযুক্তি-ভিত্তিক স্টার্ট-আপ মিলিয়ে এখন একটি বিস্তৃত প্রতিরক্ষা উৎপাদন পরিবেশ গড়ে উঠছে। শিল্পমহলের মতে, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয়করণের মতো উদ্যোগগুলিই এই সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করেছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং বেসরকারি খাতের বাড়তি অংশগ্রহণ ভারতের কৌশলগত সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

    দেশীয় যুদ্ধাস্ত্র প্রকল্পের পরিপক্বতা

    প্রতিরক্ষা উৎপাদন বৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ হল বহু বছর ধরে চলা দেশীয় অস্ত্র ও সামরিক প্ল্যাটফর্ম উন্নয়ন প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নের পালে হাওয়া লাগা। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হল হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর তৈরি তেজস হালকা যুদ্ধবিমান প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে বিলম্ব ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার পর বর্তমানে তেজস এমকে-১এ উৎপাদন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। পাশাপাশি আরও উন্নত এমকে-২ সংস্করণের কাজও এগোচ্ছে। একইভাবে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভে পরিণত হয়েছে। আগামী প্রজন্মের আকাশ-এনজি (Akash-NG) প্রকল্প এর পাল্লা, গতিশীলতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা আরও বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধজাহাজ, সাঁজোয়া যান, গোলাবারুদ, রেডার এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থার মতো একাধিক ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    প্রতিরক্ষা রফতানিতে রেকর্ড বৃদ্ধি

    প্রতিরক্ষা উৎপাদনের পাশাপাশি রফতানিতেও নজির গড়েছে ভারত। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশের প্রতিরক্ষা রফতানি পৌঁছেছে রেকর্ড ৩৮,৪২৪ কোটি টাকায়। এর ফলে দেশীয় প্রস্তুতকারকদের জন্য শুধু ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী নয়, আন্তর্জাতিক বাজারও উন্মুক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রফতানি বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে হলে কোনও পণ্যের গুণমান, নির্ভরযোগ্যতা এবং খরচ—তিন ক্ষেত্রেই সক্ষমতা প্রমাণ করতে হয়। বিদেশি ক্রেতারা ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামকে এখন ক্রমশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিচার করছে। এর ফলে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ছে, উৎপাদন খরচ কমছে এবং গবেষণা ও উন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

    বিশ্বজুড়ে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির সুযোগ

    ভারতের এই অগ্রগতি এমন সময়ে এসেছে, যখন গোটা বিশ্বে সামরিক ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় ২.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২.৮৮৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এটি টানা একাদশ বছরের বৃদ্ধির রেকর্ড। ভারতও বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ সামরিক ব্যয়কারী দেশের মধ্যে রয়েছে। চিন ও পাকিস্তান-সংক্রান্ত নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যয় ৮.৯ শতাংশ বেড়ে ৯২.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ইউরোপ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং বিশ্বের অন্যান্য অংশে সামরিক আধুনিকীকরণের প্রবণতা ভারতের মতো উদীয়মান প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্রগুলির জন্য নতুন বাজার ও সুযোগ তৈরি করছে।

    সামনে কী চ্যালেঞ্জ?

    যদিও বর্তমান সাফল্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তবু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন যে ভারতের সামনে এখনও বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। উন্নত এরো ইঞ্জিন, বিশেষ ধরনের প্রোপালশন প্রযুক্তি, অত্যাধুনিক সেমিকন্ডাক্টর, পরবর্তী প্রজন্মের সেন্সর, মাইক্রো-ইলেকট্রনিক্স এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারত এখনও বিদেশি সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরশীল। পরবর্তী ধাপে আরও বড় সাফল্য অর্জনের জন্য গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো, দেশীয় সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করা এবং উচ্চমূল্যের উন্নত প্রযুক্তি তৈরি করা অপরিহার্য।

    আত্মনির্ভরতা থেকে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা শক্তির পথে

    ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের এই রেকর্ড উৎপাদন শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রতিফলন। যে যাত্রা শুরু হয়েছিল আমদানি-নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে, তা এখন ধীরে ধীরে একটি বৃহত্তর শিল্পনীতিতে রূপ নিচ্ছে—যার লক্ষ্য ভারতকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করা। বিশ্ব যখন ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগ, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সামরিক আধুনিকীকরণের পথে এগোচ্ছে, তখন ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের এই উত্থান আগামী দশকে দেশের অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং কৌশলগত অবস্থানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

  • Absconding TMC Leader: কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ গ্রেফতার, পুরীতে গিয়ে ধরল এসটিএফ

    Absconding TMC Leader: কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ গ্রেফতার, পুরীতে গিয়ে ধরল এসটিএফ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুলিশের জালে কলকাতা পুরসভার আরও এক প্রাক্তন কাউন্সিলর (Absconding TMC Leader)। কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) পুরী থেকে গ্রেফতার করে সুশান্ত ঘোষ (Sushanta Ghosh) নামের ওই তৃণমূল নেতাকে। সূত্রের খবর, আজ, বুধবার পুরী থেকে গ্রেফতার করা হয় ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর সুশান্তকে। তোলাবাজি-সহ একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর থেকেই তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন বলে অভিযোগ।

    সুশান্তর বিরুদ্ধে অভিযোগ (Absconding TMC Leader)

    সুশান্তর বিরুদ্ধে অভিযোগ, হকারদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আদায় করতেন সুশান্তও। এই মামলায় নাম জড়ানোর পর থেকেই গা-ঢাকা দেন তিনি। তাঁকে ধরতে কলকাতা পুলিশ হানা দেয় ওড়িশায়। তদন্তকারীদের দাবি, পুলিশি তল্লাশির সময় সুশান্ত রাস্তায় গাড়ি ফেলেই পালিয়ে যান। গ্রেফতার করা হয় তাঁর গাড়ির চালক সুজিত চৌধুরীকে। জানা গিয়েছে, কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের হকারদের কাছ থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা তোলার অভিযোগে হকার্স কমিটির কয়েকজন সদস্য আনন্দপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শুরু হয় তদন্ত। সুশান্তকে ধরতে কোমর বেঁধে নেমে পড়ে পুলিশ। শেষমেশ এদিন পুরী থেকে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।

    সম্পদের পরিমাণ কয়েকশো কোটি টাকা

    প্রসঙ্গত, গত মাসে ১২ নম্বর বরো কমিটির চেয়ারম্যান পদে ইস্তফা দিয়েছিলেন সুশান্ত। যদিও আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন কাউন্সিলর পদ। পরে মেয়র ফিরহাদ হাকিম ইস্তফা দিতেই ভেঙে যায় কলকাতা পুরসভার বোর্ড। প্রশাসক পদে বসানো হয় পুর-কমিশনার স্মিতা পান্ডেকে (Absconding TMC Leader)। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তে সুশান্তর নামে এবং বেনামে একাধিক সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। তদন্তকারীদের অনুমান, তাঁর সঙ্গে যুক্ত সম্পদের পরিমাণ কয়েকশো কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে। তাঁকে হেফাজতে নিয়ে সম্পত্তি, আর্থিক লেনদেন এবং তোলাবাজির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

    প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালাবদলের পর একের পর এক প্রাক্তন মন্ত্রী, বিধায়ক, নেতা এবং কাউন্সিলরের (Sushanta Ghosh) বিরুদ্ধে তদন্ত ও গ্রেফতারের ঘটনা সামনে আসছে। কলকাতা পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের একাধিক প্রাক্তন কাউন্সিলরও ইতিমধ্যেই পুলিশের জালে। এই তালিকায় (Absconding TMC Leader) নবতম সংযোজন সুশান্ত ঘোষ।

  • State Budget: বাজেটের আগে দিল্লিতে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, বাড়ছে ‘চমক’ জল্পনা!

    State Budget: বাজেটের আগে দিল্লিতে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, বাড়ছে ‘চমক’ জল্পনা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এই প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিজেপি সরকার। ছাব্বিশে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট’ পেশ (State Budget) করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের সরকার। এই নির্বাচনে ধরাশায়ী হয়ে রণে ভঙ্গ দিয়েছেন ‘মেলা-খেলা’র মুখ্যমন্ত্রী মমতা। বিপুল পরিমাণ জনমত নিয়ে নবান্নের কুর্সিতে বসে ‘জায়ান্ট কিলার’ শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার (Swapan Dasgupta)।

    পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করবে শুভেন্দু সরকার (State Budget)

    পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করবে এই সরকারই। বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে ১৮ জুন, বৃহস্পতিবার থেকে। ২২ জুন বিধানসভায় বাজেট পেশ করবেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তার আগে বুধবার সকালে আচমকাই দিল্লি উড়ে গেলেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর এই ঝটিকা দিল্লি সফরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

    গুরুত্বপূর্ণ দুই বৈঠক

    সূত্রের খবর, দিল্লিতে অর্থমন্ত্রী দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। প্রথমে তিনি নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান তথা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, কেন্দ্রীয় অনুদান এবং আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর। পরে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের সঙ্গেও বৈঠক করেন স্বপন। রাজ্যের আর্থিক পুনর্গঠন, কেন্দ্রীয় করের বকেয়া অংশ, উন্নয়নমূলক প্রকল্পে অতিরিক্ত আর্থিক সাহায্য এবং নয়া সরকারের জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, নয়া সরকারের প্রথম বাজেটে একাধিক বড় চমক থাকবে। সেই মন্তব্যের পর বাজেট ঘোষণার মাত্র কয়েকদিন আগে অর্থমন্ত্রীর দিল্লি উড়ে যাওয়া উসকে দিয়েছে জল্পনার আগুন।

    রাজ্যের হাঁড়ির হাল

    চৌত্রিশ বছরের বাম রাজত্ব এবং তার পরের টানা পনেরো বছর তৃণমূল শাসনে রাজ্যের হাঁড়ির হাল হয়েছে বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশের। তৃণমূল জমানায় পাহাড়-প্রমাণ দুর্নীতি এবং রাজ্যের প্রাক্তন প্রশাসনিক প্রধান মমতার খয়রাতির রাজনীতির জেরে আক্ষরিক অর্থেই মাজা ভেঙে গিয়েছে বঙ্গের অর্থনীতির। একের পর এক নির্বাচনে ভোট ‘কিনতে’ও বিস্তর খরচ হয়েছে বলেও অভিযোগ। আরও অভিযোগ, হরির লুটের বাতাসার মতো করে ‘করে-কম্মে’ খেয়েছেন রাজ্যের তৎকালীন শাসক দলের ছোট-বড়-মাঝারি নেতারা। বস্তুত, তৃণমূলের আমলে রাজ্যের আহামরি কোনও উন্নতি হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই সরকারের ওপর রাজ্যবাসী ছিলেন অসন্তুষ্ট। সেই অসন্তোষের আগুনে ধামা চাপা দিতেই প্রথম দিকে মেলা-খেলায় মেতে যায় সরকার।

    তৃণমূল সরকারের সস্তার রাজনীতি!

    রাজ্যে বড় কোনও শিল্প না হওয়ায়, হাজার হাজার মানুষ ‘জন’ খাটতে পাড়ি দিয়েছিলেন দেশের বিভিন্ন রাজ্যে। শাসক দলের মেলা-খেলার রাজনীতির বিরুদ্ধে বিরোধীরা সোচ্চার হতেই, বন্ধ হয়ে যায় সেই ‘কালচার’। শুরু হয় খয়রাতির রাজনীতি। নানা রকম ‘শ্রী’-যুক্ত প্রকল্প চালু করে রাজ্যবাসীর দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয় কর্মসংস্থানের হা-পিত্যেশ দশার দিক থেকে। তাতেও বিশেষ চিড়ে না ভেজায়, শুরু হয় তোষণের রাজনীতি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে দেওয়া হতে থাকে হাত উপুড় করে। পায়ের নীচের মাটি আরও আলগা হয়ে যাচ্ছে (State Budget) টের পেয়ে মমতার সরকার চালু করে ক্লাবগুলিকে পুজো উপলক্ষে অনুদান দেওয়ার নয়া প্রথা। তার পরেও অবশ্য শেষ রক্ষে হয়নি। পদ্ম-ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে মমতার সাধের দল তৃণমূল। ওই ঝড়েই উড়ে গিয়ে দলনেত্রী স্বয়ং পড়েছেন কালীঘাটে, আদি গঙ্গার পাড়ে।

    জনমুখী বাজেট উপস্থাপনের প্রস্তুতি!

    এমতাবস্থায় রাজ্য শাসনের গুরু দায়িত্ব বঙ্গবাসী তুলে দেন বিজেপির হাতে। প্রত্যাশিতভাবেই বিরাট বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রাজ্যের আর্থিক (Swapan Dasgupta) অবস্থা। বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা সামলেও, জনমুখী বাজেট উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে পদ্ম সরকার। তাই বাজেটের আগে কেন্দ্রের শীর্ষ অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এদিকে, বুধবার ফলতার এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “২২ তারিখ বাজেট আছে। সেখানেও বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য নানা কর্মসূচি নেওয়া হবে। আরও কিছু নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করা হবে।” যদিও এখনই খোলসা করে কিছু জানাতে চাননি (State Budget) তিনি।

    প্রসঙ্গত, রাজ্যের বাজেট অধিবেশন চলবে ২৫ জুন পর্যন্ত। পরে ৬ জুলাই সকাল ১১টায় ফের বিধানসভা বসবে। সেটা বাদল অধিবেশন। তাই জুনের শেষ থেকে জুলাইয়ের শুরু পর্যন্ত রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড আরও গতি পাবে বলেই আশা। তাই ২২ জুন, বাজেট ঘোষণার দিন বিজেপির ‘রাম-বাক্স’ থেকে বেরনো (Swapan Dasgupta) সান্টাক্লজ দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া রাজ্যবাসীর জন্য কোন কোন উপহার আনেন, এখন তাই দেখার (State Budget)!

     

LinkedIn
Share