Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • BJP: বঙ্গে ইতিহাস গড়তে চলেছে বিজেপি, কোন চালে বাজিমাত পদ্মশিবিরের?…

    BJP: বঙ্গে ইতিহাস গড়তে চলেছে বিজেপি, কোন চালে বাজিমাত পদ্মশিবিরের?…

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ইতিহাস গড়তে চলেছে বিজেপি (BJP)। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, রাজ্যের মুখ এবং পর্দার আড়ালে থাকা কলা-কুশলীদের যৌথ প্রচেষ্টায় পদ্ম শিবিরের প্রচার অভিযান শান দিয়েছে গ্রাউন্ড লেভেলেও। তার জেরেই বিজেপির জয়ের পথে এগিয়ে যাওয়াটা হয়েছে (Key Leaders) অনায়াস।

    প্রধানমন্ত্রীর হাইভোল্টেজ সভা (BJP)

    স্বাধীনতার পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। এসআইআরের (SIR) আওতায় রেকর্ড সংখ্যক ভোটার বাদ যাওয়ার পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ১৫ বছরের শাসনের পর পরাজয়ের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাইভোল্টেজ সভা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সূক্ষ্ম সংগঠনমূলক পরিকল্পনার পাশাপাশি বিজেপির প্রচারে জাতীয় বার্তা ও স্থানীয় সংগঠন একসঙ্গে কাজ করেছে। ঝালমুড়ির মতো বাংলার সাংস্কৃতিক প্রতীক ব্যবহার, চাকরির নিশ্চয়তার প্রতিশ্রুতি এবং মা কালীর মন্দিরে প্রার্থনা—এই সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এমন এক প্রচার গড়ে তুলেছিলেন যা স্থানীয় সংযোগ ও জাতীয় বার্তার মিশ্রণ। বড় বড় জনসভায় সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি আবেগের স্তরেও ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি—কর্মসংস্থান, কল্যাণমূলক প্রকল্প এবং “ডাবল ইঞ্জিন সরকার”-এর সুবিধার কথাও তুলে ধরেছিলেন। সাংস্কৃতিক প্রতীক, ধর্মীয় সংযোগ এবং অর্থনৈতিক আশ্বাস—সব মিলিয়ে তাঁর প্রচার বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করে।

    যোগ্য সঙ্গত অমিত শাহের

    প্রধানমন্ত্রী ছিলেন বিজেপির প্রচারের মুখ। এর সঙ্গে সমানতালে সঙ্গত করেছে অমিত শাহের ‘চাণক্যসুলভ’ কৌশল। যার জেরেই দুরমুশ হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের একের পর  শক্ত ঘাঁটিও। জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সবচেয়ে সক্রিয় প্রচারক ছিলেন শাহ। তিনি এ রাজ্যে ৬৬টি সভা ও রোডশো করে ৬৩টি জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিলেন (Key Leaders)। শাহের ‘মিশন বেঙ্গলে’র মূল লক্ষ্যই ছিল বুথ স্তরে সংগঠন শক্তিশালী করা। তিনি ৪৫ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ সীমান্ত সিল করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং অনুপ্রবেশের অভিযোগ তোলেন। “কাটমানি” সংস্কৃতি, দুর্নীতি, মহিলাদের নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরেন। পাশাপাশি মহিলাদের জন্য মাসিক ৩,০০০ টাকা সহায়তা, সরকারি চাকরিতে ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ, কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি এবং চা বাগানের শ্রমিকদের জমির অধিকার—এসব প্রতিশ্রুতিও দেন। সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ধর্মীয় স্বাধীনতার মতো বিষয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

    পদ্ম শিবিরের কান্ডারিরা

    এ রাজ্যে নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। প্রার্থী নির্বাচন, জোট ব্যবস্থা এবং সাংগঠনিক সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি (BJP)। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি প্রার্থী নির্বাচন, কর্মী সংগঠন এবং বুথ প্রস্তুতি তদারকি করেন এবং তৃণমূল স্তরের কর্মী ও শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করেন। এই নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর অবদানও কম নয়। বস্তুত, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির অন্যতম প্রধান কৌশলবিদ হিসেবেই উঠে আসেন তিনি। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ এই সহযোগীর রাজনীতির জ্ঞান প্রখর (Key Leaders)। পূর্ব মেদিনীপুরে তাঁর শক্তিশালী সংগঠনও রয়েছে। গ্রামীণ ও আধা-শহুরে এলাকায় বিজেপির প্রভাব বাড়াতে সাহায্য করেন তিনি। নিজেকে বিজেপির প্রধান বাঙালি মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে শুভেন্দু নির্বাচনে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে পড়েন ভবানীপুর কেন্দ্রে। মমতার নির্বাচনী কেন্দ্র এই ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রামেও বিজেপির বাজি ছিলেন শুভেন্দুই। তৃণমূলের একের পর এক দুর্নীতি ও রাজনৈতিক হিংসার বিষয় তুলে ধরে তাঁর আক্রমণাত্মক প্রচার বিজেপির কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।

    বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচনের মাঝেও শুভেন্দু ছড়িয়ে দেন দলীয় বার্তা। চাঙা করে তোলেন হতাশ বিজেপি কর্মীদের। শুভেন্দুকে পেয়ে নিষ্ক্রিয় বিজেপি কর্মীরাও ফের সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি শুধু প্রচারকই নন, বরং একজন কেন্দ্রীয় কৌশলবিদ হিসেবেও কাজ করেছেন (BJP)। জাতীয় নেতৃত্ব ও বাংলার রাজনীতির মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজটিও করেছিলেন তিনিই (Key Leaders)।

     

  • Delhi Govt: দিল্লিতে গণপরিবহণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে মেট্রো নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় অনুমোদন বিজেপি সরকারের

    Delhi Govt: দিল্লিতে গণপরিবহণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে মেট্রো নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় অনুমোদন বিজেপি সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে গণপরিবহণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে মেট্রো নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের বড় পরিকল্পনায় অনুমোদন দিল দিল্লির বিজেপি সরকার (Delhi Govt)। ফেজ ফাইভ (বি) (Phase V(B))-এর আওতায় শহরের বাইরের ও দ্রুত বিকাশমান এলাকাগুলিতে সংযোগ বাড়াতে মোট ৭টি নয়া মেট্রো (Metro Network) করিডর নির্মাণ করা হবে। সব মিলিয়ে প্রায় ৯৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পে তৈরি হবে ৬৫টি নতুন মেট্রো স্টেশন। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, এই প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৮,২০৪ কোটি টাকা।

    ডিপিআর তৈরি (Delhi Govt)

    জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই প্রকল্পের ডিপিআর (DPR) তৈরি করে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তা ইউনিয়ন ক্যাবিনেটের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। দিল্লি সরকার ও দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনের (DMRC) মধ্যে বৈঠকের পর এই প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। কেন্দ্রের অনুমোদন মিললে দিল্লি সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকার উভয়ের আর্থিক সম্মতির পর নির্মাণকাজ শুরু হবে। ফেজ ফাইভ (বি)-তে প্রস্তাবিত ৭টি নয়া মেট্রো করিডর হল ধানসা বাস স্ট্যান্ড থেকে নাংলোই, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট থেকে কিশনগড়, সমায়পুর বাদলি থেকে নরেলা, কীর্তিনগর থেকে পালম, জোরবাগ থেকে মিঠাপুর, শাস্ত্রী পার্ক থেকে ময়ূর বিহার ফেজ ২ এবং কেশবপুরম থেকে রোহিণী সেক্টর ৩৪।

    ৭টি করিডর

    ধানসা বাস স্ট্যান্ড–নাংলোই করিডরের দৈর্ঘ্য প্রায় ১১.৮৬ কিমি, স্টেশন থাকবে ৯টি। পুরো রুটটি হবে এলিভেটেড (Delhi Govt)। সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট–কিশনগড় করিডরের দৈর্ঘ্য ১৬ কিমি কাছাকাছি, স্টেশন থাকবে ১০টি। অধিকাংশ স্টেশনই হবে মাটির তলায় (Metro Network)। সমায়পুর বাদলি–নরেলা করিডরের দৈর্ঘ্য ১২.৮৯ কিমি, স্টেশন থাকবে ৮টি। সব স্টেশনই হবে এলিভেটেড। কীর্তিনগর–পালম করিডরের দৈর্ঘ্য ৯.৯৬ কিমি, স্টেশন থাকবে ৬টি। কিছু অংশ হবে এলিভেটেড, বাকিটা হবে মাটির তলায়।

    হাই প্রায়োরিটি রুট

    সরকারের মতে, যেসব এলাকায় এখনও মেট্রো পরিষেবা পর্যাপ্ত নয়, এই সম্প্রসারণে সেইসব অঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। মোট ৭টি করিডরের মধ্যে ৪টি রুটকে হাই প্রায়োরিটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলির নির্মাণকাজ শুরু হবে আগে। লক্ষ্য, ২০২৯ সালের মধ্যে কাজ শেষ করা। এই বিরাট সম্প্রসারণ প্রকল্প দিল্লির গণপরিবহণ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনবে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের (Metro Network)। সময় কম লাগায় সুবিধে হবে হাজার হাজার নিত্যযাত্রীর (Delhi Govt)।

     

  • Diljit Dosanjh: কানাডায় দিলজিতের কনসার্টে হাজির খালিস্তানপন্থীরাও, গান থামিয়ে কড়া বার্তা দিলেন গায়ক

    Diljit Dosanjh: কানাডায় দিলজিতের কনসার্টে হাজির খালিস্তানপন্থীরাও, গান থামিয়ে কড়া বার্তা দিলেন গায়ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কনসার্ট চলাকালীন খালিস্তানপন্থীদের পতাকা ওড়ানো দেখে থামলেন গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ (Diljit Dosanjh)। দর্শকদের উদ্দেশে দিলেন কড়া বার্তাও। কানাডার ক্যালগেরি শহরে এক বিশাল কনসার্টে পারফর্ম করছিলেন দিলজিৎ। চারদিকে হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাস, রঙিন স্পটলাইটের আলো আর ঐতিহ্যবাহী পোশাকে মঞ্চে ঘুরে ঘুরে গান গাইছিলেন শিল্পী। দর্শকরাও তাঁর সঙ্গে গলা মিলিয়ে গান ধরেছিলেন (Pro Khalistanis)।

    পতাকা ওড়ালো খালিস্তানপন্থীরা (Diljit Dosanjh)

    এই সময় কনসার্টস্থলে উপস্থিত ভিড়ের মধ্যে থেকে কয়েকজন খালিস্তানপন্থী নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতীকী পতাকা ওড়াতে শুরু করেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিষয়টি নজরে পড়তেই দিলজিৎ গান থামিয়ে দেন। তারপর মাইক্রোফোন হাতে তিনি ওই ব্যক্তিদের সাফ জানিয়ে দেন, এই ধরনের বিশৃঙ্খলা বন্ধ করতে হবে। এখানে নয়, অন্য কোথাও গিয়ে এসব করতে হবে। প্রসঙ্গত, এর আগেও দিলজিতের একাধিক কনসার্টে খালিস্তানপন্থীরা পতাকা নিয়ে উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠান ব্যাহত করার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    খালিস্তানপন্থী গোষ্ঠীগুলি সহিংস মতাদর্শ প্রচার করছে

    সম্প্রতি কানাডিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (CSIS)-এর ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডায় খালিস্তানপন্থী চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলির কার্যকলাপ এখনও উদ্বেগের কারণ। কানাডার পার্লামেন্টে জমা দেওয়া ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, কানাডা-ভিত্তিক খালিস্তানপন্থী গোষ্ঠীগুলি সহিংস চরমপন্থী মতাদর্শ প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে (Diljit Dosanjh)। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, এই গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে যুক্ত কিছু কানাডিয়ান নাগরিক দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে তহবিল সংগ্রহ করছে, যা পরে হিংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে (Pro Khalistanis)। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে খালিস্তানপন্থী ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারত-কানাডার সম্পর্কও তলানিতে ঠেকেছে। খালিস্তানপন্থীদের প্রতি কানাডার নমনীয় অবস্থান নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত (Diljit Dosanjh)।

     

  • Guinness World Record: আন্দামানে সমুদ্রের অতলে তেরঙা উড়িয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়ল ভারত

    Guinness World Record: আন্দামানে সমুদ্রের অতলে তেরঙা উড়িয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়ল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সমুদ্রের অতল গভীরে ভারতের তেরঙা উড়িয়ে এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড গড়ল ভারত। আন্দামান (Anandaman) ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের নীল জলরাশির নীচে বিশ্বের বৃহত্তম জাতীয় পতাকা উন্মোচন করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে (Guinness World Record) নাম তুলল ভারত।

    কীভাবে সম্পন্ন হল এই অভিযান (Guinness World Record)?

    ভারতীয় নৌবাহিনী এবং দক্ষ স্কুবা ডাইভারদের একটি বিশেষ দল এই দুঃসাহসিক অভিযানে অংশ নেন। আন্দামান সাগরের (Anandaman) প্রায় কয়েক ফুট গভীরে বিশালাকার এই জাতীয় পতাকাটি অতি সতর্কতার সঙ্গে উন্মোচন করা হয়। সমুদ্রের স্রোত এবং জলের চাপের প্রতিকূলতাকে জয় করে তেরঙা ওড়ানোর এই দৃশ্য ছিল যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনই গর্বের। গিনেস (Guinness World Record) কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে এই অভাবনীয় কৃতিত্বকে পর্যবেক্ষণ করেন এবং আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দান করেন।

    জাতীয় সংহতির বার্তা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে

    আন্দামান (Anandaman) ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা (Guinness World Record)। সেই পুণ্যভূমিতেই এই কৃতিত্ব অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় সংহতির বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    সাহস ও দক্ষতার পরিচয়

    জলের নীচে এত বড় মাপের একটি পতাকা সফলভাবে উন্মোচন করা ভারতের ডাইভারদের (Guinness World Record) পেশাদারিত্ব এবং কারিগরি দক্ষতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

    পর্যটন ও অনুপ্রেরণা

    এই বিশ্বরেকর্ড আন্দামানের (Anandaman) পর্যটনকে যেমন উৎসাহিত করবে, তেমনই দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম ও রোমাঞ্চকর কর্মকাণ্ডের (Guinness World Record) প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দেবে।

    বিশ্বের বুকে ভারতের ক্রমবর্ধমান শক্তি

    এই সাফল্যের পর আন্দামান (Anandaman) ও নিকোবর প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা এবং নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন (Guinness World Record)। তাঁরা জানান, এটি কেবল একটি রেকর্ড নয়, বরং বিশ্বের বুকে ভারতের ক্রমবর্ধমান শক্তি ও সাহসিকতার প্রতীক। ভারতের এই জয়গাথা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল, যা গর্বিত করছে প্রত্যেক ভারতীয়কে।

  • Brahmos: ভারত-ভিয়েতনাম কৌশলগত মৈত্রী, ৫,৮০০ কোটি টাকার ব্রহ্মোস চুক্তিতে সিলমোহর দিতে দিল্লি আসছেন প্রেসিডেন্ট তো লাম

    Brahmos: ভারত-ভিয়েতনাম কৌশলগত মৈত্রী, ৫,৮০০ কোটি টাকার ব্রহ্মোস চুক্তিতে সিলমোহর দিতে দিল্লি আসছেন প্রেসিডেন্ট তো লাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রতিরক্ষা সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। ভারতের তৈরি শক্তিশালী ‘ব্রহ্মোস’ (Brahmos) সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল কেনার লক্ষ্যে ৫,৮০০ কোটি টাকার ($700 Million) একটি বিশাল প্রতিরক্ষা চুক্তির পথে এগোচ্ছে ভিয়েতনাম। এই লক্ষ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত মিশনে ভারত সফরে আসছেন ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট তো লাম (To Lam)।

    উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Brahmos)

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চুক্তিটি সম্পন্ন হলে তা হবে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম মাইলফলক। এর আগে ফিলিপিন্স ভারতের থেকে ব্রহ্মোস কেনার চুক্তি করলেও, ভিয়েতনামের এই সম্ভাব্য চুক্তির আর্থিক মূল্য এবং কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি। মূলত সমুদ্রসীমায় নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতেই ভিয়েতনাম (To Lam) ভারতের এই সর্বাধুনিক প্রযুক্তির (Brahmos) ওপর আস্থা রাখছে।

    কেন এই সফর গুরুত্বপূর্ণ?

    কৌশলগত ভারসাম্য: দক্ষিণ চিন সাগরে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ভারত ও ভিয়েতনামের এই ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা (Brahmos)  সম্পর্ক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    মেক ইন ইন্ডিয়া: ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ব্রহ্মোস (Brahmos)  ক্ষেপণাস্ত্রের বিশ্ববাজারে চাহিদা বাড়ছে। ভিয়েতনামের সঙ্গে এই চুক্তি সম্পন্ন হলে ভারতের ‘প্রতিরক্ষা রফতানি লক্ষ্যমাত্রা’ অর্জনে এটি একটি বড় পদক্ষেপ হবে।

    দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক: প্রেসিডেন্ট তো লামের এই সফরে কেবল প্রতিরক্ষা নয়, বরং মহাকাশ গবেষণা, সাইবার নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক আদান-প্রদান নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের বিশেষত্ব

    ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রটি বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইলগুলির (Brahmos) মধ্যে অন্যতম। এটি জল, স্থল এবং আকাশ—তিনটি মাধ্যম থেকেই উৎক্ষেপণ করা যায়, যা ভিয়েতনামের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে কয়েক গুণ শক্তিশালী করে তুলবে।

    প্রেসিডেন্ট তো লামের এই ভারত সফরকে ঘিরে নয়াদিল্লির সাউথ ব্লকে প্রস্তুতি তুঙ্গে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ৫,৮০০ কোটি টাকার চুক্তি কেবল অস্ত্রের লেনদেন নয়, বরং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (Indo-Pacific Region) শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় দুই দেশের একজোট হওয়ার একটি জোরালো বার্তা। ফলে ভারতের প্রতিরক্ষা সুরক্ষার ক্ষেত্রে স্বদেশী অস্ত্র বিদেশের বাজারে বিরাট চাহিদা সৃষ্টি করেছে বলেই মনে করছেন অনেকে। এই রফতানি প্রতিরক্ষা দফতরের  বড় সাফল্য।

  • Hindus Under Attack: দেশ-বিদেশে চলছে হিন্দু-হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ

    Hindus Under Attack: দেশ-বিদেশে চলছে হিন্দু-হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশ-বিদেশে অব্যাহত হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ (Hindus Under Attack)। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন ধীরে ধীরে গণহত্যার রূপ নিচ্ছে, যা আমাদের চোখের সামনেই ঘটছে। দশকের পর দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও বিস্তারকে উপেক্ষা করেছে। অথচ এটি উদ্বেগজনকভাবে হিন্দুবিরোধী একাধিক সংগঠনের দ্বারা (Roundup Week) পরিচালিত। খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে আক্রমণ (Hindus Under Attack), মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত—হিন্দুরা তাদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের মুখে পড়ছে, শিকার হচ্ছে নজিরবিহীন হিন্দুবিদ্বেষের। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক ২৬ এপ্রিল থেকে ০২ মে, ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের সাপ্তাহিক ছবিটা।

    ভারতের ছবি (Hindus Under Attack)

    প্রথমেই দেখে নেওয়া যাক ভারতের ছবিটা। শবরীমালা মন্দিরে অনিয়মের অভিযোগে তপ্ত কেরল। মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া ‘নেই থেঙ্গা’ (ঘি-ভর্তি নারকেল) ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা অভিযোগ খতিয়ে দেখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হিন্দু মহিলাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা, ধর্ষণ ও আর্থিক শোষণের অভিযোগে কাঠগড়ায় কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিনিয়র অ্যাকাডেমিক। সাজ্জাদ মোহাম্মদ খান নামের ওই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেই পুলিশ সূত্রে খবর।পরীক্ষাকেন্দ্রে পৈতে খুলতে বাধ্য করার অভিযোগে উত্তপ্ত বেঙ্গালুরু। কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে সিইটি (CET) পরীক্ষাকেন্দ্রের তিন কর্মী ব্রাহ্মণ ছাত্রদের পৈতে খুলতে বাধ্য করেছেন বলে অভিযোগে। ওই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এলাকায় রয়েছে চাপা উত্তেজনা।

    ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ

    এদিকে, ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ উঠেছে খোদ দিল্লিতে। আম্বেদকরপন্থী কর্মী সতীশ বাউদ্ধর বিরুদ্ধে দিল্লির এক অনুষ্ঠানে সীতা ও কৃষ্ণকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ তুলে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বারাণসীতে পরিচয় গোপান করে বিয়ের অভিযোগ। জানা গিয়েছে, এক ব্যক্তি নিজের পরিচয় গোপন করে ‘অমিত’ বলে নিজেকে দাবি করে এক হিন্দু মহিলাকে বিয়ে করে। প্রতারণা ও জোরপূর্বক অশালীন আচরণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ পেয়ে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ হেফাজত থেকেও সে পালিয়েছে বলে অসমর্থিত সূত্রে খবর। ধর্মান্তরকরণে অর্থায়নের অভিযোগে এবার অভিযান চালাল ইডি। ‘দ্য টিমোথি ইনিশিয়েটিভ’ (TTI) নামের একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে বিদেশি অর্থ ব্যবহার করে ধর্মান্তরকরণ কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এই সংস্থা সূত্রেই মিলেছে এ খবর।

    বাংলাদেশেও ভালো নেই হিন্দুরা

    ভারতের পড়শি দেশ বাংলাদেশেও ভালো নেই হিন্দুরা। ফরিদপুরে সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে হামলার অভিযোগ। জানা গিয়েছে, ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইডাঙ্গি গ্রামে এক হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। তাঁর (Hindus Under Attack) ঘরের ভেতরে থাকা মন্দিরও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ মামলা না নেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা। কুড়িগ্রামে জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে এক হিন্দু পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে খবর। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি উপজেলার নওদাবাস গ্রামে এক হিন্দু পরিবারকে জমি দখলের উদ্দেশ্যে তিন সপ্তাহ ধরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রতিবেশীরা বাড়ির চারপাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি পরিবারটির (Roundup Week)।

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দু সম্প্রদায় ধর্মীয় স্বাধীনতা, সম্পত্তির নিরাপত্তা, মহিলা সুরক্ষা ও সামাজিক মর্যাদা নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন (Hindus Under Attack)। একই সঙ্গে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের দাবিও জানানো হয়েছে (Roundup Week)।

     

  • Venezuela: যুদ্ধের জের, বিশ্ববাজারে জোরালোভাবে ফিরছে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল

    Venezuela: যুদ্ধের জের, বিশ্ববাজারে জোরালোভাবে ফিরছে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ববাজারে জোরালোভাবে ফিরছে ভেনেজুয়েলার (Venezuela) অপরিশোধিত তেল(Crude Oil)। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেশটির তেল রফতানি দৈনিক ১৪ শতাংশ বেড়ে গিয়ে ১২ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে, যা গত সাত বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। শিপিং ডেটা (Crude Shipments) ও রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থা পিডিভিএসএর নথি থেকেই জানা গিয়েছে এই তথ্য।

    উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে রফতানির পরিমাণ (Venezuela)

    বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং ইউরোপে চাহিদা বাড়ার ফলেই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে রফতানির পরিমাণ। মার্চ মাসে যেখানে রফতানির পরিমাণ ছিল দৈনিক ১০ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল, এপ্রিলেই তা একলপ্তে বেড়ে গিয়েছে অনেকখানি। একই সময়ে ভেনেজুয়েলার বন্দর থেকে ৬৬টি ট্যাঙ্কার তেল নিয়ে গন্তব্যে রওনা দিয়েছে, মার্চ মাসে এর সংখ্যা ছিল ৬১। এপ্রিল মাসে ভেনেজুয়েলার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল আমেরিকা। দেশটি প্রতিদিন আমদানি করেছে প্রায় ৪ লাখ ৪৫ হাজার ব্যারেল, মার্চে এর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৬৩ হাজার ব্যারেল।

    আমদানির পরিমাণ বাড়িয়েছে ভারতও

    এদিকে ভারত প্রতিদিন আমদানির পরিমাণ বাড়িয়ে করেছে ৩ লাখ ৭৪ হাজার ব্যারেল। মার্চে এর পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪২ হাজার ব্যারেল। ইউরোপেও রফতানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ব্যারেল প্রতিদিন (Venezuela)। এপ্রিল মাসে মোট রফতানির ৫৬ শতাংশ বা প্রায় ৬ লাখ ৯১ হাজার ব্যারেল তেল পরিবহণ করেছে বড় ট্রেডিং বিভিন্ন হাউস। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ভিটল (Vitol) এবং ট্রাফিগুরা (Trafigura)। অন্যদিকে মার্কিন তেল কোম্পানি শেভরন (Chevron) প্রতিদিন একাই নিয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৮ হাজার ব্যারেল। এটি মোট রফতানির ২৫ শতাংশ (Crude Shipments)।

    বিশ্ববাজারে খদ্দের বাড়িয়েছে ভেনেজুয়েলা

    ভারতের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ (Reliance Industries) সরাসরি পিডিভিএসএ (PDVSA) থেকে একটি বড় কার্গো নিয়েছে। ট্রেডিং কোম্পানির মাধ্যমেও একাধিক চালান কিনেছে। মে মাসে আরও অন্তত তিনটি সুপারট্যাঙ্কার ভেনেজুয়েলা থেকে তেল তুলবে বলে খবর। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিল হওয়ায় এবং নতুন সরবরাহ চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলা আবারও আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রাহক বাড়াতে পেরেছে। যদিও দেশটির তেলের আয়ের ওপর এখনও রয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নজরদারি।

    অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি এপ্রিল মাসে ভেনেজুয়েলা ৩ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন ওয়েল বাইপ্রোডাক্টস এবং পেট্রোকেমিক্যালস রফতানি করেছে (Crude Shipments)। তবে ন্যাপথা (Naphtha) আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে দৈনিক ১ লাখ ৪১ হাজার ব্যারেলে (Venezuela)।

     

  • India: রেকর্ড গড়ল ইডি, গত অর্থবর্ষে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে সবচেয়ে বেশি সম্পত্তি, পরিমাণ জানেন?

    India: রেকর্ড গড়ল ইডি, গত অর্থবর্ষে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে সবচেয়ে বেশি সম্পত্তি, পরিমাণ জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রেকর্ড গড়ল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED)। গত অর্থবর্ষে আর্থিক তছরুপ রোধে আগের যে কোনও সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশি পরিমাণ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এই সংস্থা। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী (India), ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ইডি মোট ৮১ হাজার ৪২২ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে, যা সংস্থার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবে এই একই সময়ে গ্রেফতারির সংখ্যা কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

    ইডির রেকর্ড (India)

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশজুড়ে মোট ২ হাজার ৮৯২টি তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে ইডি। এই সময়সীমায় গ্রেফতার করা হয়েছে মাত্র ১৫৬ জনকে। অথচ ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে গ্রেফতার করা হয়েছিল ২১৪ জনকে, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে এই সংখ্যাটাই ছিল ২৭২।কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এই সংস্থার দাবি, এখন তারা ‘প্রমাণভিত্তিক ও লক্ষ্যভিত্তিক তদন্তে’র ওপর জোর দিচ্ছে। সেই কারণেই গ্রেফতারির সংখ্যা কমেছে, বেড়েছে তদন্তের কার্যকারিতা (ED)। জানা গিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৭১২টি নির্দেশের ভিত্তিতে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ৮১ হাজার ৪২২ কোটি টাকার সম্পত্তি। যা গত বছরের তুলনায় ১৭১ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ সালে বাজেয়াপ্ত হওয়া সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৩০ হাজার ৩৬ কোটি টাকা।

    ইডির দাবি

    প্রতারিতদের অর্থ ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি ইডির। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বিভিন্ন মামলায় প্রতারিতদের ফেরত দেওয়া হয়েছে ১৫ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এর পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি (India)। ইডির প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, মামলা নিষ্পত্তির সময়ও আগের চেয়ে কমেছে ঢের বেশি। আগে যেখানে একটি মামলা শেষ হতে গড়ে ৩ থেকে ৪ বছর লাগত, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ থেকে দেড় বছরে। ইডির দাবি, ২০২৫-২৬ সালে ৮১২টি চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। গত অর্থবর্ষে এর সংখ্যা ছিল ৪৫৭টি। ১ হাজার ৮০টি নতুন ইসিআইআর (ECIR) রুজু হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এর সংখ্যা ছিল ৭৭৫টি। তদন্তে শুধু তল্লাশি নয়, আর্থিক নথি, ডিজিটাল লেনদেন ও ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত তথ্যও (ED) খতিয়ে দেখা হয়েছে (India)।

    যে কারণে ফের একবার চর্চায় ইডি

    আন্তর্জাতিক তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন দেশে লেটার্স রেগাটোরি এবং মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ট্রিটি (Letters Rogatory ও Mutual Legal Assistance Treaty)-এর মাধ্যমে তথ্য চাওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৩৫৩টি মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬৯টি মামলা ঝুলে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে। এদিকে, বিদেশি তদন্তকারী সংস্থাগুলির কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতার অনুরোধ এসেছে ব্রিটেন থেকে। সব মিলিয়ে, একদিকে ইডি যেমন বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তিতে রেকর্ড গড়েছে, তেমনি অন্যদিকে কমেছে গ্রেফতারির সংখ্যা (India)। তদন্ত পদ্ধতির এই পরিবর্তন ফের একবার চর্চায় নিয়ে এসেছে ইডিকে (ED)।

     

  • Congress MLA Vinay Vulkarni: খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত, বিধায়ক পদ খোয়ালেন কর্নাটকের কংগ্রেস নেতা বিনয় কুলকার্নি

    Congress MLA Vinay Vulkarni: খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত, বিধায়ক পদ খোয়ালেন কর্নাটকের কংগ্রেস নেতা বিনয় কুলকার্নি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খুনের মামলায় আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় বিধানসভার সদস্যপদ হারালেন কর্নাটকের (Karnataka) প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা তথা বিধায়ক বিনয় কুলকার্নি (Congress MLA Vinay Vulkarni)। ভারতীয় সংবিধান ও জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, তাঁর বিধায়ক পদ খারিজ করার নির্দেশ জারি করেছে বিধানসভা সচিবালয়।

    ঘটনার বিবরণ ও আদালতের রায় (Congress MLA Vinay Vulkarni)

    ধারওয়াড় জেলা (Karnataka) পঞ্চায়েত সদস্য যোগেশ গৌড়া খুনের মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন বিনয় কুলকার্নি (Congress MLA Vinay Vulkarni)। ২০১৬ সালে একটি জিম থেকে বেরোনোর সময় যোগেশ গৌড়াকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্তের পর বিশেষ আদালত বিনয় কুলকার্নিকে এই অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন (Representation of the People Act, 1951) অনুযায়ী, কোনও সাংসদ বা বিধায়ক দুবছর বা তার বেশি মেয়াদে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে তিনি অবিলম্বে তাঁর পদের যোগ্যতা হারান। সেই আইনি প্রক্রিয়া মেনেই কুলকার্নির সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে।

    ১৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকেই এই পদচ্যুতি কার্যকর

    বিনয় কুলকার্নি (Congress MLA Vinay Vulkarni) কর্নাটকের ধারওয়াড় বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিনিধি ছিলেন। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তাঁর এই অপসারণ কর্নাটক (Karnataka) কংগ্রেসের পক্ষে একটি বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে লিঙ্গায়েত ভোটব্যাঙ্কের ক্ষেত্রে তাঁর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।

    কর্নাটক বিধানসভা থেকে বিনয়কে পদচ্যুত করা হয়েছে। ২ মে জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ভারতীয় সংবিধান এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের বিধান অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার তারিখ অর্থাৎ ১৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকেই এই পদচ্যুতি কার্যকর করা হয়েছে, যার ফলে ধরওয়াড় বিধানসভা আসনটি বর্তমানে শূন্য হয়ে পড়েছে।

    পরবর্তী পদক্ষেপ

    নির্বাচন কমিশন শীঘ্রই ধারওয়াড় আসনে উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে পারে। তবে কুলকার্নির (Congress MLA Vinay Vulkarni) আইনজীবীরা এই রায়কে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উচ্চ আদালত যদি নিম্ন আদালতের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়, তবেই তাঁর সদস্যপদ ফিরে পাওয়ার ক্ষীণ সম্ভাবনা থাকবে।

  • Rafale Deal Crisis: “আইসিডি না দিলে, রাফাল চুক্তি হবে না”, ফ্রান্সকে সাফ জানিয়ে দিল ভারত

    Rafale Deal Crisis: “আইসিডি না দিলে, রাফাল চুক্তি হবে না”, ফ্রান্সকে সাফ জানিয়ে দিল ভারত

    সুশান্ত দাস

    ১১৪টি অতিরিক্ত রাফাল এফ-৪ (Rafale F4) বহুমুখী যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনায় এখন এক বিরাট কৌশলগত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে। শুরুতে এটি ভারত-ফ্রান্স প্রতিরক্ষা সম্পর্কের অন্যতম বড় সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা হলেও, বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি অত্যন্ত প্রযুক্তিগত কিন্তু কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল বিষয়— ইন্টারফেস কন্ট্রোল ডকুমেন্ট (ICD) এবং সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ। কেন্দ্রীয় সূত্রের খবর, প্রতিরক্ষামন্ত্রকের স্পষ্ট অবস্থান— “আইসিডি না দিলে, চুক্তি হবে না”—প্রমাণ করছে যে আজকের ভারত আর শুধুমাত্র উন্নত প্ল্যাটফর্ম কেনায় আগ্রহী নয়। বরং যুদ্ধক্ষমতার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত স্বাধীনতাও নিশ্চিত করতে চাইছে।

    কেন রাফাল এফ-৪ চুক্তি ভারতের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারতীয় বায়ুসেনা দীর্ঘদিন ধরেই স্কোয়াড্রন ঘাটতি-র সমস্যায় ভুগছে। চিন ও পাকিস্তানের দ্বিমুখী সামরিক চাপের মধ্যে দ্রুত আধুনিকীকরণ ভারতের জন্য জরুরি। এই প্রেক্ষাপটে ১১৪টি রাফাল এফ-৪ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের পরিকল্পনা ছিল তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য নিয়ে—

    • ● বায়ুসেনার যুদ্ধক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো
    • ● উচ্চমানের বহুমুখী যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত করা
    • ● দেশীয় উৎপাদন ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে মেক ইন ইন্ডিয়া-কে এগিয়ে নেওয়া

    প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী—

    • ● ১৮টি বিমান সরাসরি ফ্রান্স থেকে সরাসরি সরবরাহ করা হবে।
    • ● ৬০ শতাংশ প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে ৯৬টি বিমান ভারতে তৈরি
    • ● রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা হ্যাল (HAL), টাটা (Tata) ও ফরাসি ইঞ্জিন প্রস্তুতকারী সংস্থা সাফরান (Safran)-এর শিল্প অংশীদারিত্ব
    • ● ভারতে নির্মিত জেটগুলিতে ৫০-৬০% দেশীয় উপাদান ব্যবহার করা হবে।
    • ● এটি সফল হলে ভারতীয় বিমান ও মহাকাশ শিল্পব্যবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হত।

    মূল বিরোধ: ইন্টারফেস কন্ট্রোল ডকুমেন্ট বা আইসিডি হস্তান্তর (ICD)

    এমআরএফএ চুক্তি আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বিমানের সোর্স কোড। এই সোর্স কোড হল যে কোনও যুদ্ধবিমানের মস্তিষ্ক। তবে, ফ্রান্স প্রথমেই জানিয়ে দিয়েছিল যে সোর্স কোড তারা কখনই হস্তান্তর করবে না। ভারত তা মেনে নিয়ে বিকল্প প্রস্তাব পেশ করে। আলোচনার সময় নয়াদিল্লির তরফে বলা হয়, সোর্স কোড দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু, রাফালের আইসিডি অ্যাক্সেস দেওয়া হোক। আইসিডি মূলত একটি প্রযুক্তিগত নকশাপত্র, যা নির্ধারণ করে—

    • ● অস্ত্র সংযোজন কাঠামো
    • ● সেন্সর যোগাযোগ ব্যবস্থা
    • ● মিশন কম্পিউটার সংযোগব্যবস্থা
    • ● এভিওনিক্স তথ্য প্রবাহ

    ভারত আইসিডি চায় কারণ এটি ছাড়া দেশীয় অস্ত্র স্বাধীনভাবে সংযোজন করা সম্ভব নয়। ভারত যে দেশীয় সিস্টেমগুলি সংযোজন করতে চায়—

    • ● অ্যাস্ট্রা (Astra) দূরপাল্লার আকাশযুদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র
    • ● রুদ্রম (Rudram) অ্যান্টি-রেডিয়েশন ক্ষেপণাস্ত্র
    • ● স্মার্ট অ্যান্টি-এয়ারফিল্ড অস্ত্র (SAAW)
    • ● ব্রহ্মোস-এনজি (BrahMos-NG)
    • ● দেশীয় ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ব্যবস্থা
    • ● ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দেশীয় বীরূপাক্ষ রেডার (Virupaksha Radar)

    ভারত জানে যে, আইসিডি না থাকলে প্রতিটি সংযোজনের জন্য রাফালের নির্মাণকারী সংস্থা দাসোর অনুমোদন লাগবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ভারতের একাধিক সমস্যা হবে। যেমন—

    • ● অভিযানগত বিলম্ব হবে।
    • ● পুনরাবৃত্ত ব্যয় বৃদ্ধি হবে।
    • ● সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরতা বাড়বে।
    • ● যুদ্ধকালীন ঝুঁকি থেকে যাবে।

    সব মিলিয়ে, ভারতের কাছে এটি শুধু প্রযুক্তিগত সুবিধা নয়, এটি যুদ্ধক্ষেত্রের সার্বভৌমত্ব-র প্রশ্ন।

    কেন ফ্রান্স প্রযুক্তিতে আপস করতে চাইছে না?

    কিন্তু এক্ষেত্রেও ফ্রান্স বেঁকে বসে। ফ্রান্সের অনীহার মূলত তিনটি কারণ হল—

    প্রথমত, স্পেকট্রা (SPECTRA) ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার গোপনীয়তা হ্রাস পেতে পারে। রাফালের সবচেয়ে সংবেদনশীল সক্ষমতা হল স্পেক্ট্রা। এটি নিয়ন্ত্রণ করে—

    • ● হুমকি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা
    • ● রেডার সতর্কীকরণ ব্যবস্থা
    • ● জ্যামিং ব্যবস্থা
    • ● প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
    • ● টিকে থাকার অ্যালগরিদম ব্যবস্থা

    ফ্রান্স মনে করে, এই জায়গায় প্রবেশাধিকার দিলে—

    • ● নিজস্ব মেধাস্বত্ব ফাঁস হতে পারে।
    • ● যুদ্ধনীতি প্রকাশ পেতে পারে।

    দ্বিতীয়ত, অনভিপ্রেত রফতানির নজির ঝুঁকি বাড়তে পারে। অর্থাৎ, ভারতকে যদি বেশি প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়, ভবিষ্যতে অন্যান্য ক্রেতারাও একই দাবি তুলতে পারে। এতে ফরাসি রপ্তানি মডেল দুর্বল হতে পারে।

    তৃতীয়ত, রুশ প্রযুক্তি ফাঁসের আশঙ্কা বাড়তে পারে। ভারত ব্রহ্মোস সংযোজন করতে চায়, যা ভারত-রাশিয়া যৌথ ব্যবস্থার অংশ। ফ্রান্স আশঙ্কা করছে, এর মাধ্যমে পশ্চিমা প্রযুক্তি পরোক্ষভাবে রুশ প্রকৌশল নেটওয়ার্কে পৌঁছাতে পারে।

    ভারতের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন

    ভারতের প্রতিরক্ষা ক্রয়নীতি স্পষ্টভাবে বদলেছে। আগে দেশের লক্ষ্য ছিল— কেবলমাত্র উন্নত বিদেশি প্ল্যাটফর্ম (সামরিক অস্ত্র, সামরিক যান) কেনা। কিন্তু, ২০২৬ সালে ভারতের লক্ষ্য হল—

    • ● সার্বভৌম জীবনচক্র নিয়ন্ত্রণ
    • ● স্বাধীন উন্নয়ন ও আপগ্রেড ক্ষমতা
    • ● স্থানীয় রক্ষণাবেক্ষণ শিল্পব্যবস্থা

    ভারত বুঝেছে, আমদানিকৃত প্ল্যাটফর্ম তখনই কৌশলগত সম্পদ যখন—

    • ● সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ থাকে
    • ● অস্ত্র সংযোজন স্বাধীন হয়
    • ● বিদেশি অনুমোদন-নির্ভরতা না থাকে

    ২০১৬ সালের ৩৬টা রাফাল চুক্তি থেকে ভারতের শিক্ষা হয়েছে যে, সীমিত প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রকৃত কৌশলগত স্বনির্ভরতা দেয় না। ফলে নয়াদিল্লি এখন শুধু সংযোজন লাইন নয়, ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব চাইছে। তবে, ভারতের এই দাবিও খারিজ করে ফ্রান্স। যার পরেই, ভারতের তরফে ফ্রান্স ও দাসোকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়— “আইসিডি না দিলে, চুক্তি হবে না”।

    চুক্তি ভেস্তে গেলে কী হতে পারে?

    এখন প্রশ্ন হচ্ছে, রাফাল চুক্তি না হলে ভারত কী করবে? এক্ষেত্রে ভারতের হাতে যে যে বিকল্প থাকবে, সেগুলি হল—

    প্রথমত, তেজস মার্ক ২ (Tejas Mk2) যুদ্ধবিমানের গতি বৃদ্ধি করতে পারে। রাফাল চুক্তি ভেঙে গেলে তেজস মার্ক ২-তে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন বাড়বে। এতে সুবিধা হবে—

    • ● পূর্ণ সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ
    • ● দেশীয় সংযোজন
    • ● জীবনচক্র সার্বভৌমত্ব

    অসুবিধাও আছে। যেগুলি হল—

    • ● উন্নয়নে বিলম্ব
    • ● সক্ষমতা পরিপক্বতার ঝুঁকি

    দ্বিতীয়ত, ভারত অ্যামকা (AMCA) কর্মসূচির গতি বৃদ্ধি করতে পারে। অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (AMCA) ভারতের দীর্ঘমেয়াদি সার্বভৌম যুদ্ধবিমান প্রকল্প। রাফাল ব্যর্থ হলে অ্যামকা আরও কৌশলগত অগ্রাধিকার পাবে।

    তৃতীয়ত, রাশিয়া বিকল্প হিসেবে ফিরে আসা। রাশিয়ার প্রস্তাবিত সুখোই সু-৫৭ই (Su-57E) নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে।

    রাশিয়ার সুবিধা—

    • ● গভীরতর প্রযুক্তি হস্তান্তর
    • ● স্থানীয় উৎপাদনে নমনীয়তা

    ঝুঁকি—

    • ● মার্কিন ক্যাটসা (CAATSA) নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি
    • ● রক্ষণাবেক্ষণ জটিলতা
    • ● ভূরাজনৈতিক বার্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ

    ফ্রান্সের জন্য চুক্তি বাতিলের ঝুঁকি কত বড়?

    অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে রাফাল চুক্তি বাতিল হলে, বড় সমস্যায় পড়ে যাবে ফ্রান্স। ফ্রান্সের কাছে এই চুক্তি শুধু রাজস্বের বিষয় নয়। ১১৪টি বিমানের অর্ডার মানে—

    • ● দাসো-র উৎপাদন ধারাবাহিকতা ব্যাহত হবে।
    • ● সরবরাহকারী শিল্পব্যবস্থার স্থায়িত্ব কমবে।
    • ● ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত উপস্থিতি হ্রাস পাবে ফ্রান্সের
    • ● ১৮ থেকে ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খোয়াবে ফ্রান্স, যা সেদেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেবে।
    • ● ভবিষ্যতে, ফ্রান্সের সঙ্গে সামরিক অংশিদারিত্বে যেতে চাইবে না অন্যান্য দেশ।

    ফ্রান্স ভালোই জানে যে, চুক্তি হারালে দেশের রফতানি বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একইসঙ্গে, উৎপাদন লাইনে চাপ বাড়বে। তা সত্ত্বেও কিন্তু প্যারিস সফটওয়্যার সার্বভৌমত্বে আপস করতেও অনিচ্ছুক। ফলে ফ্রান্স একটি ধন্দে পড়ে গিয়েছে। একদিকে, প্রযুক্তি সুরক্ষা অন্যদিকে রফতানি টিকিয়ে রাখা। কয়েক দিন আগে, রাফাল এফ-৫ কর্মসূচি থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেয় সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। সেখানেও কারণ একই। প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত বিরোধ, বিশেষ করে অপট্রনিক্সের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে। যা ইতিমধ্যেই ফরাসি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কাঠামোগত সীমাবদ্ধতাকে প্রকাশ করেছে। এবার একই ধরনের পরিস্থিতি এখন ভারতের ক্ষেত্রেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। আমিরশাহি এবং ভারতের ঘটনাগুলি পর্যবেক্ষণ করে অন্যান্য দেশও নিজেদের সিদ্ধান্ত নেবে এবং ভবিষ্যতে ফ্রান্সের সঙ্গে অনুরূপ কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার আগে আরও বিস্তৃত প্রযুক্তিগত প্রবেশাধিকার ও নিশ্চয়তা দাবি করতে পারে।

    বৃহত্তর কৌশলগত তাৎপর্য

    ভারত-ফ্রান্সের এই বিরোধ দেখাচ্ছে, ভবিষ্যতের অস্ত্রচুক্তি আর শুধুমাত্র হার্ডওয়্যার ক্রয় নয়। নতুন যুগের সামরিক শক্তি নির্ভর করছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর। যেমন—

    • ● সফটওয়্যার মালিকানা
    • ● ডিজিটাল স্থাপত্য নিয়ন্ত্রণ
    • ● স্বাধীন উন্নয়ন সক্ষমতা
    • ● ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার স্বায়ত্তশাসন

    ভারত এই আলোচনার মাধ্যমে একটি বড় বার্তা দিচ্ছে। তা হল— “ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব ছাড়া স্থানীয় সংযোজন প্রকৃত দেশীয়করণ নয়।” ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে, এটি আর শুধুমাত্র একটি প্রতিরক্ষা ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্ন। অস্ত্র সংযোজন এবং সফটওয়্যারের উপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে, সবচেয়ে উন্নত প্ল্যাটফর্মও সক্ষমতার পরিবর্তে নির্ভরশীলতায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। এটি শুধু রাফাল চুক্তি নয়, ভবিষ্যতের পশ্চিমি প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের জন্যও একটি মানদণ্ড।

    টার্নিং পয়েন্ট…

    রাফাল এফ-৪ আলোচনা ভারত-ফ্রান্স সম্পর্কের একটি টার্নিং পয়েন্ট। ভারত এখন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, উন্নত প্ল্যাটফর্ম ক্রয়ের চেয়ে অভিযানগত সার্বভৌমত্ব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রান্স মূল প্রযুক্তি সুরক্ষিত রাখতে চায়, আর ভারত বিদেশি-নিয়ন্ত্রিত যুদ্ধ স্থাপত্য মেনে নিতে রাজি নয়। ফলে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে একটি মৌলিক প্রশ্নের ওপর। তা হল— ফ্রান্স কি ভারতকে যথেষ্ট ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ দিতে প্রস্তুত, নাকি সফটওয়্যার সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে বিশ্বের অন্যতম বড় যুদ্ধবিমান চুক্তি ভেস্তে যাবে? বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত করছে—এই আলোচনা শুধু যুদ্ধবিমান কেনা নয়, বরং একবিংশ শতকের প্রতিরক্ষা শিল্পে সার্বভৌমত্ব বনাম নির্ভরতার নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করছে।

LinkedIn
Share