Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • INDI Bloc Rally:  ‘ক্ষতিপূরণ দেবে কে?’ ইন্ডি জোটের সমাবেশে ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতির দাবি দিল্লির ব্যবসায়ীদের

    INDI Bloc Rally: ‘ক্ষতিপূরণ দেবে কে?’ ইন্ডি জোটের সমাবেশে ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতির দাবি দিল্লির ব্যবসায়ীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উৎসবের মরশুমে রাজধানী দিল্লিতে ইন্ডি জোটের (INDI Bloc Rally) সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক ব্যবসায়িক ক্ষতির অভিযোগ উঠল। রবিবার রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের সমাবেশের জেরে দিল্লিতে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করল ব্যবসায়ীদের সংগঠন চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (CTI)। সংগঠনের দাবি, সমাবেশের কারণে আশপাশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাজার বন্ধ থাকায় কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় ব্যবসা-বাণিজ্য। ব্যবসায়ীদের দাবি, দীপাবলির পর সমাবেশ করার জন্য আগেই বিরোধী নেতাদের কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল। এমনকী, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকেও একাধিক চিঠি দিয়ে সমাবেশ পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিল সিটিআই। কিন্তু সেই আবেদন কার্যকর হয়নি। ফলে উৎসব ও কেনাকাটার মরশুমে ব্যবসায়ীদের বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ।

    প্রায় আড়াই লক্ষ দোকান সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল

    সিটিআই-এর চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েলের দাবি, ১ নভেম্বর দিল্লিতে সরাসরি প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে। সংগঠনের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, খুচরো ও পাইকারি ব্যবসায় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮,৮০০ কোটি টাকা। রামলীলা ময়দানের পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ব্যবসায়িক কাজকর্ম প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। কাশ্মীরি গেট, মোরি গেট, চাঁদনি চক, চাওড়ি বাজার, খারি বাওলি, নয়াবাজার, সদর বাজার, আজমেরি গেট, দরিয়াগঞ্জ, পাহাড়গঞ্জ, কমলা মার্কেট, জামা মসজিদ, ভাগীরথ প্যালেস, লাজপত রাই মার্কেট, কিনারি বাজার, দারিবা কালান, বল্লিমারান, ফতেপুরি, কনট প্লেস, পালিকা বাজার, গাফফার মার্কেট এবং করোলবাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলিতে দোকানপাট বন্ধ ছিল বলে দাবি ব্যবসায়ী সংগঠনের। সিটিআই-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বাজারগুলিতে প্রায় ৩ লক্ষ দোকান রয়েছে। তার মধ্যে প্রায় আড়াই লক্ষ দোকান সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। ফলে প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবসায়িক কার্যকলাপ স্তব্ধ হয়ে যায়।

    পণ্য পরিবহণও ব্যাহত

    শুধু খুচরো ও পাইকারি ব্যবসা নয়, পরিবহণ ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাতেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে বলে দাবি সংগঠনের। তাদের হিসেব অনুযায়ী, ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে পণ্য পরিবহণ ব্যাহত হওয়ায় এই ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, হোটেল, রেস্তরাঁ, গেস্ট হাউস এবং পর্যটন শিল্পে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। মধ্য দিল্লির ২ হাজারেরও বেশি হোটেল, রেস্তরাঁ, গেস্ট হাউস ও ধাবায় বুকিং বাতিল হয়েছে বলেও জানিয়েছে সিটিআই। সমাবেশের প্রভাব পড়েছে অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের উপরেও। বণিক মহলের দাবি, প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন শ্রমিক, পণ্য ওঠানো-নামানোর কর্মী, অটো ও ই-রিকশা চালক, ফুটপাতের বিক্রেতা, কুলি এবং দিনমজুর, তাঁরা এক দিনের রোজগার হারিয়েছেন। এই ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকা।

     

  • Next Generation Corvettes Deal: বাড়ছে ভারতের নৌসেনার শক্তি, ৫৩,৮৬৬ কোটি টাকায় তৈরি হবে ৮টি যুদ্ধজাহাজ! গার্ডেনরিচ পেল ৫টির বরাত

    Next Generation Corvettes Deal: বাড়ছে ভারতের নৌসেনার শক্তি, ৫৩,৮৬৬ কোটি টাকায় তৈরি হবে ৮টি যুদ্ধজাহাজ! গার্ডেনরিচ পেল ৫টির বরাত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় নৌসেনার সামুদ্রিক শক্তি আরও বাড়াতে বড়সড় পদক্ষেপ করল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ শিল্পকে নতুন গতি দিতে গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (GRSE) এবং গোয়া শিপইয়ার্ড লিমিটেডের (GSL) সঙ্গে মোট ৫৩,৮৬৬.৫০ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর করল কেন্দ্র। এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় নৌসেনার জন্য তৈরি হবে ৮টি নেক্সট জেনারেশন করভেট (Next Generation Corvettes বা NGC)। সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, নয়াদিল্লির কর্তব্য ভবন-২-এ প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংয়ের উপস্থিতিতে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

    কোন সংস্থা কতগুলি যুদ্ধজাহাজ তৈরি করবে?

    চুক্তি অনুযায়ী, কলকাতার রাষ্ট্রায়ত্ত যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ সংস্থা জিআরএসই তৈরি করবে ৫টি নেক্সট জেনারেশন করভেট। অন্যদিকে, বাকি ৩টি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে গোয়ার জিএসএল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই প্রকল্পে প্রথমবার ভারতীয় নৌসেনার নিজস্ব নকশায় যুদ্ধজাহাজ তৈরি করা হবে এবং প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিরক্ষা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি (DPSUs) সেগুলি নির্মাণ করবে। ভারতের নিজস্ব যুদ্ধজাহাজের নকশা তৈরি এবং নির্মাণের সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    কী কী বিশেষ ক্ষমতা থাকবে নেক্সট জেনারেশন করভেটে?

    আধুনিক যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হবে এই ৮টি যুদ্ধজাহাজ। অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, উন্নত অস্ত্রশস্ত্র এবং আধুনিক সেন্সর স্যুটে সজ্জিত থাকবে নেক্সট জেনারেশন করভেটগুলি। ফলে আকাশপথ, সমুদ্রপৃষ্ঠ এবং সমুদ্রের গভীরে—তিনটি ক্ষেত্রেই সামরিক অভিযান চালানোর সক্ষমতা থাকবে এই যুদ্ধজাহাজগুলির।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক নৌযুদ্ধে শুধুমাত্র শক্তিশালী অস্ত্র থাকাই যথেষ্ট নয়। শত্রুপক্ষের গতিবিধি শনাক্ত করা, দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং বিভিন্ন সামরিক ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত সেন্সর ও অস্ত্র ব্যবস্থার সমন্বয় এই করভেটগুলিকে বহুমুখী সামুদ্রিক অভিযানে কার্যকর করে তুলবে।

    ভারতীয় নৌসেনার শক্তি কতটা বাড়বে?

    নতুন করভেটগুলি অন্তর্ভুক্ত হলে ভারতীয় নৌসেনার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অভিযান চালানোর ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে—

    • ● সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের সুরক্ষা: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নজরদারি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

    • ● অ্যান্টি-সারফেস ওয়ারফেয়ার: শত্রুপক্ষের জলযান ও যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো।

    • ● অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার: শত্রু ডুবোজাহাজ শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনে সেগুলির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান।

    • ● উপকূলীয় প্রতিরক্ষা: ভারতের দীর্ঘ উপকূলরেখার নিরাপত্তা আরও মজবুত করা।

    • ● অগভীর জলে যুদ্ধ: উপকূল সংলগ্ন অগভীর জলসীমায় সামরিক অভিযান পরিচালনা।

    • ● সামুদ্রিক নজরদারি: গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখা এবং সন্দেহজনক গতিবিধির উপর নজর রাখা।

    ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান নৌ-তৎপরতা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের কৌশলগত গুরুত্বের প্রেক্ষাপটে এই যুদ্ধজাহাজগুলি ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় জলসীমা থেকে শুরু করে বিস্তৃত সমুদ্রাঞ্চলে নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে নতুন সক্ষমতা তৈরি হবে।

    ১০ বছরে বিপুল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

    এই প্রকল্পের গুরুত্ব শুধু প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। ভারতের দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্প, বেসরকারি শিপইয়ার্ড, শিল্প সহযোগী সংস্থা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্রের (MSMEs) জন্যও বড় সুযোগ তৈরি হতে চলেছে।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে এই প্রকল্পের মাধ্যমে—

    • ● জাহাজ নির্মাণ সংস্থাগুলিতে প্রায় ৭২ লক্ষ কর্মদিবস কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

    • ● সহযোগী শিল্প এবং এমএসএমই ক্ষেত্রগুলিতে প্রায় ৪৬০ লক্ষ কর্মদিবস কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

    অর্থাৎ, প্রত্যক্ষভাবে শিপইয়ার্ডের পাশাপাশি যন্ত্রাংশ উৎপাদন, ইলেকট্রনিক্স, বিশেষায়িত সরঞ্জাম, প্রযুক্তি ও বিভিন্ন সহায়ক শিল্পের সঙ্গেও যুক্ত হবে বিপুল সংখ্যক কর্মী ও সংস্থা। ফলে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের সরবরাহ শৃঙ্খল আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বড় পদক্ষেপ

    এই প্রকল্পে দেশীয় উপকরণ, ভারতীয় প্রযুক্তি, সরঞ্জাম এবং দক্ষ মানবসম্পদের ব্যবহারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর ফলে বিদেশি প্রযুক্তি ও আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের সঙ্গেও এই প্রকল্পের সরাসরি যোগ রয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় নৌসেনার নিজস্ব নকশায় যুদ্ধজাহাজ তৈরি এবং দেশীয় শিল্প সংস্থাগুলির মাধ্যমে তার নির্মাণ—প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

    সব মিলিয়ে, ৫৩,৮৬৬.৫০ কোটি টাকার এই চুক্তি শুধুমাত্র ৮টি যুদ্ধজাহাজ কেনার প্রকল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, দেশীয় যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা। বিশেষ করে কলকাতার জিআরএসই-র হাতে ৫টি করভেট নির্মাণের দায়িত্ব আসায় বাংলার প্রতিরক্ষা শিল্পের কাছেও এই প্রকল্পের গুরুত্ব যথেষ্ট।

  • Cyclone Murasu: ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’! ল্যান্ডফল কখন-কোথায়? কালীপুজোর মুখে আবারও তুমুল ঝড়-বৃষ্টি?

    Cyclone Murasu: ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’! ল্যান্ডফল কখন-কোথায়? কালীপুজোর মুখে আবারও তুমুল ঝড়-বৃষ্টি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অর্ণবের ক্ষত শুকোতে এখনও সময় লাগবে, তার আগেই ফের ঘূর্ণিঝড় অন্ধ্র ঊপকূলে। বঙ্গোপসাগরে ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। ইতিমধ্যেই দক্ষিণ-পশ্চিম ও সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া এই ঘূর্ণিঝড় উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে। আজ, সোমবার সেটি শক্তি বাড়িয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের (আইএমডি) পূর্বাভাস, আগামিকাল, মঙ্গলবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে চলেছে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। তবে এই ঘূর্ণিঝড়ের (Cyclone Murasu) সরাসরি প্রভাব বাংলায় পড়বে না বলে মনে করছে হাওয়া অফিস।

    ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’-র গতিপথ ও শক্তি

    আবহাওয়া দফতরের ১ নভেম্বর, ২০২৬-এর বুলেটিন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ গত ৬ ঘণ্টায় ঘণ্টায় প্রায় ২৫ কিলোমিটার বেগে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়েছে। হাওয়া অফিসের (Weather Update) পূর্বাভাস মতোই আজ ২ নভেম্বর ভোরের মধ্যে এটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। এরপর উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২ নভেম্বর মধ্যরাত থেকে ৩ নভেম্বর ভোরের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। নেল্লোর ও নরসাপুরের মধ্যবর্তী এলাকায় ওঙ্গোলের কাছাকাছি স্থলভাগে প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০-১১০ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ পৌঁছতে পারে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

    কীভাবে সৃষ্টি হয় ঘূর্ণিঝড়

    আবহবিদরা জানাচ্ছেন, বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা বেশি থাকলেই বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের জোগান বাড়ে। এর পরে অনুকূল বায়ুপ্রবাহ, ‘ভার্টিক্যাল উইন্ড শিয়ার’ অর্থাৎ বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন উচ্চতায় বাতাসের গতিবেগ ও গতিপথের পরিবর্তন এবং বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতাও ঘূর্ণাবর্তকে শক্তি জুগিয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিমত হতে সাহায্য করে। তাই একটি ঘূর্ণিঝড় চলে গেলেই সমুদ্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অনুকূল পরিস্থিতি রাতারাতি বদলে যায় না। ফলে একই মরশুমে অল্প ব্যবধানে একাধিক ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে। অর্ণবের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই তাই নতুন বিপদের আশঙ্কা অন্ধ্র উপকূলে।

    ব্যাক-টু-ব্যাক ঘূর্ণিঝড়ের ইতিহাস

    সমুদ্রে পর পর ঘূর্ণিঝড়ের আবির্ভাব অস্বাভাবিক নয়। ১৯৭১–এ বঙ্গোপসাগরে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ নভেম্বরের মধ্যে তিনটি ঘূর্ণিঝড় এসেছিল। পুনের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মিটিওরোলজির (আইআইটিএম) রেকর্ড অনুযায়ী, প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘১০বি’ ৩০ সেপ্টেম্বর সুন্দরবন অঞ্চলে, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘১২বি’ ২৯–৩০ অক্টোবর ওডিশার পারাদ্বীপের কাছে এবং প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘১৪বি’ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ল্যান্ডফল করেছিল। এই তিন ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে ‘১২–বি’ সবচেয়ে বেশি বিধ্বংসী ছিল। এটির ল্যান্ডফলের সময়ে ২ থেকে ৬ মিটার উচ্চতার সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়। সেই জলোচ্ছ্বাস উপকূল থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার ভিতরে ঢুকে পড়েছিল। ঝড়ের ফলে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ‘ব্যাক–টু–ব্যাক’ ঘূর্ণিঝড়ের পর্ব এখানেই শেষ নয়। ২০২৩–এও অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের শুরুতে পর পর তৈরি হয়েছিল ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ ও ‘মিধিলি’।

    ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’-র নামকরণ

    ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ নাম রেখেছিল বাংলাদেশ। এবার ‘মুরাসু’র নামকরণ করল ভারত। মূলত তামিল শব্দ এটি। তামিলনাড়ুর ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের নাম ‘মুরাসু’। এককালে তা বাজিয়ে যুদ্ধ বা বড় কোনও সংবাদ দেওয়া হত জনগণকে। এর বাজনা শুনলেই বোঝা যেত, বড় কোনও খবর আসছে। এবার ঘূর্ণিঝড়ের আগমন বার্তা জানাতে এই ‘মুরাসু’ নামকরণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    কালীপুজোর মুখে ঘূর্ণিঝড়

    দুর্গা পুজোর পর ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ বেশ কিছুটা দাপট দেখিয়েছিল দক্ষিণবঙ্গে। ভিজেছিল বেশ কয়েকটি জেলা। এরপর ‘মুরাসু’র জেরে রাজ্যের আবহাওয়ায় কেমন প্রভাব পড়ে, কালীপুজোর আগে তা নিয়ে চিন্তা ছিল বঙ্গবাসীর। মেঘলা আকাশে বৃষ্টির ভ্রূকুটি কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিল বাজি ব্যবসায়ীদের। আপাতত চিন্তার নিরসন করেছে হাওয়া অফিস। পূর্বাভাস বলছে, চলতি সপ্তাহে উত্তরবঙ্গে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকবে, মূলত শুস্ক আবহাওয়া। দু, এক জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে পুরোপুরি শুকনো আবহাওয়া। দক্ষিণবঙ্গেও প্রায় একই আবহাওয়া থাকার সম্ভাবনা। সোম, মঙ্গল আংশিক মেঘলা আকাশ, দু-এক পশলা বৃষ্টির পর বুধবার থেকে মূলত শুষ্ক আবহাওয়া।

    বাংলার আবহাওয়ায় কী প্রভাব পড়বে?

    ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আপাতত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ৩ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ৩ নভেম্বর দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে কয়েক জায়গায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। তবে বাকি জেলাগুলিতে মূলত শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে। দক্ষিণবঙ্গেও ৩ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত সব জেলাতেই এক-দু’জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ৩ নভেম্বর থেকে ৪ নভেম্বরের মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার কিছু এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। এরপর ৪ নভেম্বর থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত দুই বঙ্গেই মূলত শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকার সম্ভাবনা।

    মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কবার্তা

    ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন সমুদ্র উত্তাল থেকে অতি উত্তাল হতে পারে। ২ নভেম্বর সকাল থেকে সমুদ্রে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার, দমকা হাওয়ার গতিবেগ ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ২ নভেম্বর সন্ধ্যা থেকে ৩ নভেম্বর দুপুর পর্যন্ত হাওয়ার গতিবেগ আরও বেড়ে ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ২ নভেম্বর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের পশ্চিম-মধ্য ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের দিকে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরে ২ নম্বর দূরবর্তী সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়েছে। সাগরদ্বীপ বন্দরে ২ নম্বর এবং ৪ নম্বর স্থানীয় সংকেত জারি রয়েছে।

     

     

     

     

  • INDIA Bloc Rally: দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশকে ‘সুপার ফ্লপ’ কটাক্ষ বিজেপির, কী বলল পদ্মশিবির?

    INDIA Bloc Rally: দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশকে ‘সুপার ফ্লপ’ কটাক্ষ বিজেপির, কী বলল পদ্মশিবির?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোট চুরির অভিযোগ এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রতিবাদে রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশ করেছিল বিরোধীদের ইন্ডিয়া জোট (INDIA Bloc Rally)। সেই সমাবেশ ‘সুপার ফ্লপ’ বলে দাবি করল (Ramlila Maidan) বিজেপি। সমাবেশে প্রত্যাশিত ভিড় না হওয়া নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষও করেন বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র।

    এদিনের সমাবেশে হাজির ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। ভাই রাহুল গান্ধীর ভোট চুরির অভিযোগকে সমর্থন করেন তিনিও। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক-সহ একাধিক রাজ্যে এবং চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ভোটার তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। রাহুলের অভিযোগের উল্লেখ করে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ১৫ শতাংশ। তাঁর বক্তব্য, বিরোধীদের তুলনায় এনডিএর ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। সেই পরিস্থিতিতে ১৫ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এই কারণেই তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনকে ‘অবৈধ’ বলে দেগে দিয়েছেন।

    সমাবেশে হাজির মমতাও (INDIA Bloc Rally)

    দিল্লির সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মমতাও। তিনি আক্রমণ শানান বিজেপিকে। ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্ব এবং নবীন প্রজন্মের আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) প্রক্রিয়াকে হাতিয়ার করে বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলিকে নিশানা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। মমতার অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিজেপি কার্যত বাংলাকে লুট করেছে। নির্বাচনী কারচুপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও করেন তিনি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “ভ্যানিশ কুমারজি, আপনি কবে ভ্যানিশ হবেন?” একই সঙ্গে গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর দাবি, শেষ পর্যন্ত বিজেপির পরাজয় নিশ্চিত।

    বিরোধীদের সমাবেশকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র। রাহুলের বক্তব্যের পাশাপাশি সমাবেশে লোকসমাগম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, সকাল থেকেই বিজেপি এই সমাবেশের দিকে নজর রেখেছিল এবং রাহুলের বক্তব্যও শোনা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গোটা অনুষ্ঠানকে সময়ের অপচয় বলেই মনে হয়েছে তাঁর।

    সম্বিতের দাবি, রামলীলা ময়দানের আয়তন ১০ থেকে ১২ একর। সেখানে প্রায় ২৮ হাজার আসনের ব্যবস্থা ছিল। মঞ্চ ও তার সামনের নির্দিষ্ট অংশ বাদ দিলে মাঠের প্রায় ৪০ শতাংশ জায়গাই ফাঁকা ছিল।তাঁর বক্তব্য, প্রায় ১৫ শতাংশ জায়গা মঞ্চ ও সংশ্লিষ্ট ঘেরাটোপের জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল। বিকেল ৩টে থেকে সাড়ে ৩টের মধ্যে তোলা একটি ভিডিয়োর উল্লেখ করে তিনি জানান, সেই ছবি দেখিয়েই সমাবেশে উপস্থিত মানুষের সংখ্যা নিয়ে নিজের হিসাব তুলে ধরবেন (INDIA Bloc Rally)।

    কংগ্রেসকে নিশানা বিজেপির

    রাহুলকে নিশানা করে সম্বিত বলেন, “রাহুল গান্ধী বক্তব্য রাখছেন, অথচ সামনে ফাঁকা চেয়ার পড়ে রয়েছে। রামলীলা ময়দানও কংগ্রেস সম্পূর্ণ ভরাতে পারেনি। এই সমাবেশ পুরোপুরি ব্যর্থ।”

    তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, বিরোধীরা যে ১০ লাখ মানুষের জমায়েতের দাবি করেছিল, সেই বিপুল সংখ্যক মানুষ কোথায় গেলেন? তাঁর কথায়, “১০ লাখ মানুষ কোথায়? তাঁদের দেখান। এই ধরনের কৌশল করে কেউ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন না। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অর্থ শুধু প্রধানমন্ত্রীর পদ পাওয়া নয়। এখানে ‘পি’ অর্থ ঘাম এবং ‘এম’ অর্থ পরিশ্রম। ঘাম ঝরিয়ে এবং কঠোর পরিশ্রম করেই প্রধানমন্ত্রী হওয়া যায়। এতগুলি রাজনৈতিক দল ও পতাকা একত্রিত করেও তাঁরা ১০ লাখ মানুষের জমায়েত করতে পারেননি।”

    সমাবেশে বেশি মানুষের উপস্থিতি দেখানোর জন্য ক্যামেরার বিশেষ দৃষ্টিকোণ ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিজেপি সাংসদ। তাঁর দাবি, ছবিতে ভিড় বেশি দেখানোর এই কৌশল আসলে দৃশ্যের কারসাজি। রাহুলকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “রাহুলজি, হিন্দুস্তান আপনার পূর্বপুরুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এই দেশ দেশের মানুষের। এখানে একজন চা-বিক্রেতাও প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। আর সেটাই আপনাদের অস্বস্তির কারণ।”

    শুধু সমাবেশের ভিড় নয়, রাহুলের বিদেশ সফর নিয়েও কটাক্ষ করেন সম্বিত। তাঁর পাসপোর্টে ভিয়েতনাম ও ব্যাঙ্ককের ছাপ থাকার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, রাহুল গান্ধী কখনও দিল্লির চাঁদনি চক বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়েছেন কি না। তাঁর দাবি, রাহুল কেনাকাটা করতে যাওয়ার কথা বললেও কোথায় কেনাকাটা করবেন, তা স্পষ্ট করেননি। তবে তাঁর গন্তব্য সম্পর্কে উপস্থিত সকলেই অবগত বলে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন বিজেপি সাংসদ।

    সম্বিতের নিশানায় মমতাও

    মমতা, রাহুল ও তাঁদের সহযোগী বিরোধী নেতাদেরও আক্রমণ শানান সম্বিত। তাঁর অভিযোগ, অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করছেন বিরোধীরা। তিনি বলেন, ভারতের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার শুধুমাত্র এ দেশের নাগরিকদের রয়েছে। অথচ অনুপ্রবেশকারীরা দেশে ঢুকে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মমতার কটাক্ষের জবাবে সম্বিত জানান, তাঁকে কী নামে ডাকা হচ্ছে, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। অনুপ্রবেশকারীরা যাতে ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে না পারে, তার জন্য বিজেপি প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করবে।

    উল্লেখ্য, ভোটার তালিকায় অনিয়ম এবং তথাকথিত ভোট চুরির অভিযোগকে সামনে রেখেই দিল্লিতে এই সমাবেশের (Ramlila Maidan) আয়োজন করেছিল ইন্ডিয়া জোট। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল দাবি করেন, ভবিষ্যতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানো হবে এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তাঁকে জেলের মুখোমুখি হতে হবে। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা (INDIA Bloc Rally) এবং গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত যে আরও বাড়তে চলেছে, তা স্পষ্ট।

     

  • 1984 Sikh Genocide: ১৯৮৪ সালের শিখ নিধন যজ্ঞ, অসহায় পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছিল আরএসএস, দাবি

    1984 Sikh Genocide: ১৯৮৪ সালের শিখ নিধন যজ্ঞ, অসহায় পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছিল আরএসএস, দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর। নিজের দেহরক্ষী বিয়ন্ত সিং ও সতবন্ত সিংয়ের গুলিতে নিহত হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। তাঁর হত্যার পরবর্তী পাঁচ দিন ভারতের স্বাধীনতা-উত্তর ইতিহাসে এক ভয়াবহ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে (1984 Sikh Genocide)। দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের উপর নেমে এসেছিল সংগঠিত হিংসার ভয়াবহতা। অভিযোগ, হাজার হাজার নিরপরাধ শিখকে খুন করা হয়, জীবন্ত পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁদের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা চালানো হয়। সেই সময় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও উঠেছিল গুরুতর প্রশ্ন (RSS)।

    এই পরিস্থিতিতে আরএসএস এবং তাদের স্বেচ্ছাসেবকরা শিখ পরিবারগুলিকে আশ্রয় ও নিরাপত্তা দিতে এগিয়ে এসেছিলেন বলে দাবি করা হয়। হিংসার পরিবেশে বহু শিখ পরিবারকে রক্ষা করতে সঙ্ঘের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন মহলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    পরিকল্পিত হিংসার অভিযোগ (1984 Sikh Genocide)

    ইন্দিরা হত্যার পর দিল্লিতে শিখবিরোধী হিংসা কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, তা নিয়ে একাধিক তদন্ত, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ এবং রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগ, তৎকালীন শাসকদল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতাদের একাংশ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে শিখ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। এমন কথাও বলা হয় যে, শিখদের এমন শিক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, যা তাঁরা কোনও দিন ভুলতে পারবেন না।

    অভিযোগ, দলীয় কর্মীদের সংগঠিত করা হয়েছিল এবং বস্তি ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলির সমাজবিরোধীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। শিখদের বাড়ি ও দোকান চিহ্নিত করা হয়। হামলার জন্য ট্রাক জোগাড় করা হয়েছিল। লোহার রড, কেরোসিন ও পেট্রল সংগ্রহেরও অভিযোগ ওঠে।

    ১ নভেম্বর ভোর থেকেই দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় হামলা শুরু হয়। লোহার রড এবং কেরোসিন ও পেট্রলভর্তি পাত্র নিয়ে দুষ্কৃতীরা দলবদ্ধভাবে ঘুরে গুরুদ্বার-সহ শিখদের ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ।

    রকাবগঞ্জ সাহিব গুরুদ্বারে হামলার চেষ্টার ঘটনাও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অভিযোগ অনুযায়ী, উত্তেজিত জনতা গুরুদ্বারের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করলে ভিতরে থাকা লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক এক ব্যক্তি হামলাকারীদের ভয় দেখাতে শূন্যে গুলি চালান। পরবর্তী সময়ে জনতার সংখ্যা আরও বাড়ে। ওই এলাকায় কংগ্রেস নেতা কমলনাথ ও বসন্ত সাঠেকেও দেখা গিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

    কমলনাথের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    রকাবগঞ্জ সাহিব গুরুদ্বারে হিংসার ঘটনায় কমলনাথের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তাঁর দেওয়া হলফনামায় উল্লেখ ছিল, ১ নভেম্বর দুপুরে গুরুদ্বার ও তার আশপাশে হিংসার খবর পেয়ে তিনি কংগ্রেসের একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে ঠিক কখন তিনি পৌঁছেছিলেন এবং কতক্ষণ সেখানে ছিলেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

    বিভিন্ন সাক্ষ্যপ্রমাণ অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত গুরুদ্বার চত্বরের পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত ছিল। অভিযোগ, দুপুর প্রায় ২টো নাগাদ কমলনাথকে উত্তেজিত জনতার মধ্যে দেখা গিয়েছিল। অন্যদিকে, পুলিশ কমিশনার সেখানে পৌঁছন বিকেল সাড়ে ৩টেয়। এই সময়ের ব্যবধানকে কেন্দ্র করে তাঁর উপস্থিতির উদ্দেশ্য ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে (1984 Sikh Genocide)।

    শিখদের রক্ষায় আরএসএসের ভূমিকা

    ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার সময় শিখ পরিবারগুলিকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন বিশিষ্ট শিখ বুদ্ধিজীবী তথা লেখক খুশবন্ত সিং। বিখ্যাত গ্রন্থ ‘এ হিস্ট্রি অব দ্য শিখস’-এর লেখক খুশবন্তের বক্তব্য অনুযায়ী, হিংসার সময় কংগ্রেসের সদস্যদের একাংশ যখন শিখদের নিশানা করছিলেন, তখন আরএসএসের সদস্যরা তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ঢাল হয়ে।

    খুশবন্ত সিংয়ের বক্তব্য ছিল, ইন্দিরা হত্যার আগে ও পরে দিল্লি-সহ বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু-শিখ ঐক্য বজায় রাখতে আরএসএস সম্মানজনক ভূমিকা পালন করেছিল। তাঁর অভিযোগ, ১৯৮৪ সালে কংগ্রেসের নেতাদের একাংশ জনতাকে উসকে দিয়েছিলেন, যার পরিণতিতে তিন হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

    তিনি আরও বলেছিলেন, “সেই কঠিন সময়ে অসহায় শিখদের রক্ষা করতে সাহস দেখানোর জন্য আরএসএস এবং বিজেপিকে যথাযথ কৃতিত্ব দেওয়া উচিত। অটলবিহারী বাজপেয়ীর মতো ব্যক্তিও কয়েকটি জায়গায় নিজে হস্তক্ষেপ করে অসহায় ট্যাক্সিচালকদের সাহায্য করেছিলেন।”

    সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ১৯৮৪ সালের সেই ভয়াবহ সময়ে দিল্লি-সহ বিভিন্ন শহরে শিখ পরিবারগুলিকে রক্ষা করতে আরএসএসের স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁদের এই উদ্যোগ হিন্দু-শিখ ভ্রাতৃত্বের এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে (RSS)।

    রাজীব গান্ধীর বিতর্কিত মন্তব্য

    ইন্দিরার মৃত্যুর পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর একটি মন্তব্যও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। ১৯৮৪ সালের ১৯ নভেম্বর এক ভাষণে তিনি বলেছিলেন, “ইন্দিরাজির হত্যার পর দেশে কিছু দাঙ্গা হয়েছিল। মানুষ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল এবং কয়েক দিন ধরে মনে হয়েছিল যেন গোটা ভারত কেঁপে উঠেছে। যখন একটি বিশাল গাছ পড়ে যায়, তখন তার আশপাশের মাটি কিছুটা কেঁপে ওঠা স্বাভাবিক।”

    এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা হয়েছিল। সমালোচকদের বক্তব্য, শিখদের উপর সংগঠিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করার পরিবর্তে রাজীবের বক্তব্যে সেই হিংসাকে একপ্রকার স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষের মৃত্যুর প্রেক্ষিতে এই মন্তব্য বিশেষভাবে সংবেদনশীল হয়ে ওঠে (1984 Sikh Genocide)।

    কংগ্রেস নেতাদের বৈঠক ও অস্ত্র বিলির অভিযোগ

    ১ নভেম্বর সকালে দিল্লির একাধিক এলাকায় কংগ্রেস সাংসদ সজ্জন কুমারকে দেখা গিয়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে উঠে এসেছে। পালাম কলোনিতে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে, কিরণ গার্ডেনে সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে এবং সুলতানপুরীতে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে তাঁর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    পালাম কলোনির বাসিন্দা রাজকুমার নামে এক হিন্দু প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান অনুযায়ী, পালাম রেলওয়ে প্রধান সড়কে পৌঁছে তিনি একটি জিপে সজ্জন কুমারকে দেখতে পান। জিপটির পিছনে স্কুটার ও মোটরসাইকেলে চড়ে একদল উত্তেজিত মানুষ যাচ্ছিলেন।

    অভিযোগ, সজ্জন কুমারের বক্তব্যে উজ্জীবিত হয়ে ওই জনতা শিখবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিল। তাদের মুখে শোনা যাচ্ছিল, “শিখদের মেরে ফেলো!” এবং “ইন্দিরা গান্ধী আমাদের মা, আর এরাই তাঁকে হত্যা করেছে!” এই প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়ানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।

    জগদীশ টাইটলারের ভূমিকা

    ১৯৮৪ সালের ৫ নভেম্বরের একটি ঘটনা তুলে ধরেছিলেন সাংবাদিক সুদীপ মজুমদার। তাঁর বিবরণ অনুযায়ী, ওই দিন বিকেল ৫টা নাগাদ দিল্লির পুলিশ কমিশনার এস সি ট্যান্ডন সাংবাদিকদের সঙ্গে শহরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছিলেন।

    সেই সময় এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, শিখবিরোধী হিংসার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া দুষ্কৃতীদের মুক্তি দিতে কংগ্রেস সাংসদ এবং দলের শীর্ষ নেতারা পুলিশকে চাপ দিচ্ছেন কি না। পুলিশ কমিশনার এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কংগ্রেস বা অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের তরফে পুলিশকে কোনও চাপ দেওয়া হচ্ছে না।

    কিন্তু তাঁর বক্তব্য শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে হাজির হন দিল্লির সদর কেন্দ্রের কংগ্রেস সাংসদ জগদীশ টাইটলার। তাঁর সঙ্গে আরও তিনজন ছিলেন।

    সাংবাদিকের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘরে ঢুকেই টাইটলার পুলিশ কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “ট্যান্ডন সাহেব, কী হচ্ছে? আমি যে কাজের কথা বলেছিলাম, তা এখনও করেননি কেন?”

    এই ঘটনায় পুলিশ কমিশনার অস্বস্তিতে পড়েন। উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যেও হাসির প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। টাইটলার এরপরও কমিশনারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। এক সাংবাদিক তাঁকে সংবাদ সম্মেলনে বিঘ্ন না ঘটানোর অনুরোধ জানালে তিনি পাল্টা বলেন, “এটা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

    এরপর সাংবাদিকরা টাইটলারকে সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়ে হিংসার ঘটনায় তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আহ্বান জানান। টাইটলার সেখানে বসে পুলিশ কমিশনারকে বলেন, “আমার লোকজনকে হেফাজতে রেখে আপনারা ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি করছেন।”

    সুদীপ মজুমদারের দাবি, এই ঘটনার পর কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে পুলিশ কমিশনারকে আর কোনও প্রশ্ন করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি সেই সময়ের প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করে (1984 Sikh Genocide)।

    দীর্ঘদিন পর বিচারপ্রক্রিয়ায় গতি

    নরেন্দ্র মোদি সরকারের আমলে ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার একাধিক পুরনো মামলা নতুন করে সক্রিয় হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কংগ্রেস নেতা সজ্জন কুমার এবং জগদীশ টাইটলারের বিরুদ্ধে চলা মামলাগুলিও ফের বিচারপ্রক্রিয়ার আওতায় আসে।

    ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লির একটি আদালত সরস্বতী বিহার এলাকায় বাবা ও ছেলেকে হত্যার মামলায় অভিযুক্ত কংগ্রেস নেতা সজ্জন কুমারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনায়। ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার সঙ্গে যুক্ত এই মামলার রায় দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রত্যাশী পরিবারগুলির কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

    অন্যদিকে, ২০২৩ সালে সিবিআই জগদীশ টাইটলারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে। কয়েক দশক ধরে অভিযুক্তদের রাজনৈতিক সুরক্ষা পাওয়ার অভিযোগের পর এই পদক্ষেপগুলি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির মধ্যে নতুন করে বিচারের আশা জাগায়।

    সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তথা শিখ অধিকারকর্মী এইচ এস ফুলকা অতীতে ১৯৮৪ সালের ঘটনাকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন শিখবিরোধী হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কংগ্রেসের কিছু মুসলিম সমর্থকও হিংসায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল। অন্যদিকে, বহু সাধারণ হিন্দু নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিখদের রক্ষা করেছিলেন (RSS)।

    ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায়

    ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হত্যাকাণ্ড ভারতের স্বাধীনতা-পরবর্তী ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কজনক অধ্যায়। শুধু ব্যাপক প্রাণহানি ও নৃশংসতাই নয়, এই হিংসার পিছনে রাজনৈতিক মদত এবং প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও ঘটনাটিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।

    সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আরএসএসের স্বেচ্ছাসেবকরা শিখ পরিবারগুলিকে আশ্রয় ও নিরাপত্তা দিয়েছিলেন বলে যে দাবি উঠে এসেছে, তা হিন্দু-শিখ সম্প্রীতি এবং বিপদের সময়ে মানবিক দায়িত্ব পালনের দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়।

    তবে ১৯৮৪ সালের ঘটনাবলির পূর্ণাঙ্গ বিচার এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায় নির্ধারণের প্রশ্ন আজও ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। নিহতদের পরিবারগুলির ন্যায়বিচার, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের মূল্যায়ন এবং ঐতিহাসিক সত্যের পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানই এই অধ্যায়ের প্রকৃত নিষ্পত্তির জন্য অপরিহার্য (1984 Sikh Genocide)।

     

  • Centre CESL MoU: পঞ্চায়েতের জমিতে বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জিং কেন্দ্র, হাল ফিরবে গ্রামীণ অর্থনীতির

    Centre CESL MoU: পঞ্চায়েতের জমিতে বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জিং কেন্দ্র, হাল ফিরবে গ্রামীণ অর্থনীতির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্রামীণ পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং পঞ্চায়েতের নিজস্ব আয়ের উৎস বাড়াতে নয়া উদ্যোগ কেন্দ্রের। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পঞ্চায়েতের জমিতে তৈরি করা হবে বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জ দেওয়ার (Centre CESL MoU) কেন্দ্র এবং ব্যাটারি বদলের পরিকাঠামো। এই প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন গ্রামীণ এলাকায় পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর (EV Charging) পরিকল্পনা রয়েছে, তেমনি অন্যদিকে পঞ্চায়েতগুলির জন্য নিয়মিত আয়ের পথও খুলে যাবে।

    এই মর্মে কনভার্জেন্স এনার্জি সার্ভিসেস লিমিটেডের সঙ্গে একটি সমঝোতাপত্রও স্বাক্ষর করেছে কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রক। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ৪০০-রও বেশি প্রতিনিধির উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি কর্মশালায় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং।

    সরকারি জমিতে চার্জিং কেন্দ্র (Centre CESL MoU)

    চুক্তি অনুযায়ী, পঞ্চায়েত ভবন চত্বর-সহ উপযুক্ত সরকারি জমিতে এই চার্জিং কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি রাজ্য ও জাতীয় সড়কের পাশেও উপযুক্ত জায়গা চিহ্নিত করে পরিকাঠামো তৈরি করা হবে। দু’চাকা, তিন চাকা, চার চাকা এবং মাঝারি ও ভারী বাণিজ্যিক বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য চার্জ দেওয়া ও ব্যাটারি বদলের ব্যবস্থা থাকবে।

    কনভার্জেন্স এনার্জি সার্ভিসেস লিমিটেড বিদ্যুৎ সাশ্রয় সংক্রান্ত পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা এনার্জি এফিসিয়েন্সি সার্ভিসেস লিমিটেডের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী সংস্থা। এটি কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রকের অধীনে কাজ করে। প্রকল্পের আওতায় সংস্থাটি সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন, চাহিদা নিরূপণ, যন্ত্রপাতি সরবরাহ, পরিকাঠামো স্থাপন, পরীক্ষা, চালু করা এবং পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সামলাবে।

    অন্যদিকে, পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রক রাজ্য সরকারগুলির সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে। অর্থাৎ, কোথায় চার্জিং কেন্দ্র তৈরি করা সম্ভব, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে পঞ্চায়েত ও রাজ্য প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।

    এই প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হল পঞ্চায়েতের আয়ের সংস্থান। কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, চার্জিং কেন্দ্র এবং ব্যাটারি বদলের পরিষেবার জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রির বদলে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত পাবে এক টাকা করে (Centre CESL MoU)।

    চার্জিং কেন্দ্র থেকে মাসে আয়

    প্রকল্পের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১০ বাই ১০ বর্গমিটার জায়গায় তৈরি একটি ছোট চার্জিং কেন্দ্র থেকে মাসে আনুমানিক ৩ হাজার টাকা আয় হতে পারে। অন্যদিকে, ২০ বাই ২৫ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে তৈরি বড় চার্জিং কেন্দ্র থেকে মাসিক প্রায় ১০ হাজার টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই হিসাবে বছরে একটি বড় কেন্দ্র থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হতে পারে।

    কেন্দ্রের এই যৌথ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল পঞ্চায়েতের অব্যবহৃত বা উপযুক্ত জমিকে আয়ের উৎস হিসেবে গড়ে তোলা। এর ফলে স্থানীয় প্রশাসনের হাতে নিয়মিত অর্থ আসবে, যা নাগরিক পরিষেবা, স্থানীয় পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।

    পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় বৈদ্যুতিক গাড়ির চার্জ দেওয়ার সুবিধা বাড়লে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহারও (EV Charging) উৎসাহিত হবে। জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রেও এই পরিকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। সব মিলিয়ে, পঞ্চায়েতের জমিকে সম্পদে পরিণত করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থার বিকাশ ঘটানোই এই (Centre CESL MoU) প্রকল্পের লক্ষ্য।

     

  • Simhastha Kumbh Mela: গোদাবরীর তীরে ভক্তির মহাসমারোহ, গিনেস বিশ্বরেকর্ডের লক্ষ্যে ৬৫০০ আদিবাসীর সমবেত আরতি

    Simhastha Kumbh Mela: গোদাবরীর তীরে ভক্তির মহাসমারোহ, গিনেস বিশ্বরেকর্ডের লক্ষ্যে ৬৫০০ আদিবাসীর সমবেত আরতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের নাসিকে গোদাবরী নদীর তীরে ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বিশাল ধর্মীয় সমাবেশ। ৬৫০টি গ্রামের প্রায় ৬৫০০ আদিবাসী পুরুষ ও মহিলা একসঙ্গে গোদাবরী আরতিতে অংশ নেন। সমবেত আরতির মাধ্যমে গিনেস বিশ্বরেকর্ডে জায়গা করে নেওয়াই ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। নাসিক-ত্র্যম্বকেশ্বর সিংহস্থ কুম্ভমেলার (Simhastha Kumbh Mela) আনুষ্ঠানিক সূচনাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গিনেস বিশ্বরেকর্ড কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা। তাঁদের উপস্থিতিতেই রেকর্ড গড়ার প্রচেষ্টা যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা হয় (Guinness World Record)।

    অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশের পরনেই ছিল সাদা পোশাক। স্থানীয় কমিটিগুলির তত্ত্বাবধানে কয়েক মাস ধরে তাঁরা এই বিশেষ আরতির প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। নাসিকের পঞ্চবটি এলাকার রামকুণ্ড সংলগ্ন নদীর ঘাটে একই ছন্দে প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি ও মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করেন তাঁরা।

    আরও এক রেকর্ড (Simhastha Kumbh Mela)

    এই সমবেত আরতির মাত্র ছ’দিন আগেই গোদাবরীর তীরে আরও একটি উল্লেখযোগ্য নজির তৈরি হয়েছিল। ২৫ অক্টোবর যশবন্ত মহারাজ পটাঙ্গণে একসঙ্গে শঙ্খধ্বনি করেছিলেন ৫১৭ জন ভক্ত। টানা সাড়ে পাঁচ মিনিট ধরে চলেছিল সেই শঙ্খধ্বনি। গিনেস বিশ্বরেকর্ড কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই এই কৃতিত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

    গিনেস বিশ্বরেকর্ডের নথি অনুযায়ী, একসঙ্গে সর্বাধিক মানুষের শঙ্খধ্বনির নতুন নজির গড়েছেন নাসিক ত্র্যম্বকেশ্বর কুম্ভমেলা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে অংশ নেওয়া ৫১৭ জন। এর আগে ২০১৯ সালে আমেরিকার নিউ জার্সিতে ৩০৩ জনের একযোগে শঙ্খধ্বনির রেকর্ড ছিল। নতুন নজির গড়ার জন্য বিশেষভাবে শংসাপত্রপ্রাপ্ত শঙ্খ সংগ্রহ করা হয়েছিল। অংশগ্রহণকারীদের নথিভুক্তকরণ, উপস্থিতি এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখেন বিচারকরা।

    নাসিক-ত্র্যম্বকেশ্বর সিংহস্থ কুম্ভমেলা কর্তৃপক্ষ, অনন্ত বিজয় শঙ্খনাদ পাঠক এবং নাসিক পুরনিগমের যৌথ উদ্যোগে এই শঙ্খধ্বনির আয়োজন করা হয়েছিল। কুম্ভমেলার পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানের আগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

    পরবর্তী সময়ে জানা যায়, এই আরতির ক্ষেত্রেও নাসিক নয়া বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। প্রায় ৬৫০০ জনের উপস্থিতিতে ৬২৩৩ জন ভক্ত একযোগে গোদাবরী আরতিতে অংশ নেন। ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে শঙ্খধ্বনি ও সমবেত আরতি—দুই ক্ষেত্রেই বিশ্বরেকর্ড গড়ার নজির গড়ল নাসিক।

    সিংহস্থ কুম্ভমেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা

    ৩১ অক্টোবর দুপুর ১২টা ২ মিনিটে নাসিকের রামকুণ্ড এবং ত্র্যম্বকেশ্বরের কুশাবর্ত তীর্থে একই সময়ে ধর্মীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে সিংহস্থ কুম্ভমেলার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। নাসিকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু পতাকা উত্তোলন করেন। অন্যদিকে ত্র্যম্বকেশ্বরে পতাকা উত্তোলন করেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীস। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, পূজার্চনা ও শঙ্খধ্বনির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

    রাষ্ট্রপতি নাসিকের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে গোদাবরীর পুজো দেন এবং ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন করেন। অনুষ্ঠানজুড়ে উপস্থিত ছিলেন সাধু-সন্ত, ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বহু ভক্ত।

    সিংহস্থ কুম্ভমেলা ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২০২৮ সালের ২৪ জুলাই পর্যন্ত চলার কথা। অর্থাৎ ২০ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলবে এই ধর্মীয় সমাবেশ। এই দীর্ঘ সময়ে পুণ্যস্নান, সাধুদের শোভাযাত্রা, ধর্মীয় আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন আধ্যাত্মিক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।

    গোদাবরী নদী ও রামকুণ্ডের ধর্মীয় গুরুত্ব

    হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্যে গোদাবরী নদীর বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা বা দক্ষিণ গঙ্গা হিসেবেও পরিচিত এই নদীর উৎপত্তি মহারাষ্ট্রের ত্র্যম্বকেশ্বরের কাছে ব্রহ্মগিরি পর্বতের পাদদেশে। সেখান থেকে ১৪০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করে নদীটি প্রবাহিত হয়েছে (Simhastha Kumbh Mela)।

    ধর্মীয় শাস্ত্র ও পুরাণে কুম্ভমেলার উৎপত্তি নিয়ে একাধিক কাহিনি রয়েছে। সমুদ্র মন্থনের সময় অমৃতের কলস থেকে অমৃতের কয়েক ফোঁটা পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় পড়েছিল বলে পুরাণে উল্লেখ রয়েছে। নাসিকও সেই পবিত্র স্থানগুলির অন্যতম বলে বিশ্বাস। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, বৃহস্পতি ও সূর্য যখন সিংহ রাশিতে প্রবেশ করে, তখন সিংহস্থ যোগ তৈরি হয়। এই বিশেষ মহাজাগতিক অবস্থানে গোদাবরীর জল বিশেষ পবিত্র হয়ে ওঠে বলে ভক্তদের বিশ্বাস। সেই সময়ে নদীতে স্নান করলে পাপমুক্তি ঘটে এবং মোক্ষলাভের পথ প্রশস্ত হয় বলে ধর্মীয় বিশ্বাস।

    নাসিকের রামকুণ্ডকে গোদাবরীর তীরবর্তী সবচেয়ে পবিত্র স্নানঘাটগুলির মধ্যে অন্যতম বলে মনে করা হয়। রামায়ণের কাহিনি অনুসারে, বনবাসের ১৪ বছরের একটি সময়ে সীতা ও লক্ষ্মণের সঙ্গে পঞ্চবটী অঞ্চলে অবস্থানকালে ভগবান রাম এই কুণ্ডে স্নান করেছিলেন। সেই স্মৃতিকে কেন্দ্র করেই জায়গাটির ধর্মীয় গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

    রামকুণ্ডের আর একটি পরিচয় হল অস্থিবিলয় তীর্থ। হিন্দু রীতি অনুযায়ী, প্রয়াত ব্যক্তিদের অস্থি এখানে বিসর্জন দেওয়া হয়, যাতে তাঁদের আত্মার শান্তি পায়। সারা বছর ধরে এখানে সকাল ও সন্ধ্যায় আরতি, পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে পিণ্ডদান এবং পবিত্র স্নানের মতো নানা ধর্মীয় আচার পালিত হয়।

    কুম্ভমেলার সময়ে রামকুণ্ড হয়ে ওঠে বৈষ্ণব আখড়াগুলির প্রধান স্নানস্থল। অন্যদিকে, শৈব আখড়াগুলির সাধু-সন্তরা ত্র্যম্বকেশ্বরের কুশাবর্ত তীর্থে পুণ্যস্নান করেন। দীর্ঘদিনের এই ধর্মীয় রীতিই নাসিক ও ত্র্যম্বকেশ্বরকে কেন্দ্র করে কুম্ভমেলার দু’টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছে।

    বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশগুলির অন্যতম কুম্ভমেলা

    বিশ্বের বৃহত্তম শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় সমাবেশগুলির মধ্যে কুম্ভমেলা অন্যতম। প্রতি ১২ বছর অন্তর নির্দিষ্ট জ্যোতিষশাস্ত্রীয় অবস্থানের ভিত্তিতে প্রয়াগরাজ, হরিদ্বার, উজ্জয়িনী এবং নাসিক-ত্র্যম্বকেশ্বরে পর্যায়ক্রমে এই মেলার আয়োজন করা হয়। লাখ লাখ পুণ্যার্থী, সাধু, নাগা সন্ন্যাসী এবং আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানী মানুষ এই সমাবেশে যোগ দেন।

    নাসিকের সিংহস্থ কুম্ভমেলা বিশেষত বৃহস্পতি ও সূর্যের সিংহ রাশিতে অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত। এখানে পবিত্র স্নান, যা শাহী স্নান বা অমৃতস্নান নামে পরিচিত, মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। পাশাপাশি বিভিন্ন আখড়ার শোভাযাত্রা, ধর্মীয় প্রবচন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সমাজসেবামূলক কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়।

    এ বারের কুম্ভমেলার প্রস্তুতিতে আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি পরিকাঠামো উন্নয়ন, বিপুল জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং নদী সংরক্ষণের মতো বিষয়গুলিতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গোদাবরীর পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

    আদিবাসী সংস্কৃতি, প্রকৃতিপূজা ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা

    ৩১ অক্টোবরের সমবেত গোদাবরী আরতির বিশেষ তাৎপর্য ছিল আদিবাসী সমাজের ব্যাপক অংশগ্রহণ। নাসিক জেলার পেঠ, সুরগানা, ত্র্যম্বকেশ্বর, দিণ্ডোরি ও নিফাড়-সহ বিভিন্ন এলাকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ এই কর্মসূচিতে যোগ দেন। আয়োজকদের উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় আদিবাসী সংস্কৃতি, প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং সামাজিক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে বৃহত্তর মঞ্চে তুলে ধরা।

    এই আরতির প্রস্তুতির জন্য অংশগ্রহণকারীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। যাতে প্রত্যেকে একই সময়ে প্রদীপ হাতে আরতি করতে পারেন এবং সমবেত মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে নদীর দুই তীরজুড়ে এক অভিন্ন দৃশ্য ও শব্দের আবহ তৈরি হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হয়েছিল। সাদা পোশাকে সজ্জিত হাজার হাজার ভক্তের হাতে জ্বলন্ত প্রদীপের আলোয় গোদাবরীর ঘাট কার্যত এক আধ্যাত্মিক মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়।

    একই সপ্তাহে শঙ্খধ্বনির বিশ্বরেকর্ড এবং বিপুল সংখ্যক আদিবাসীর অংশগ্রহণে সমবেত আরতি—এই দুই আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রাচীন ধর্মীয় ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মঞ্চে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে নাসিক। হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে শঙ্খকে শুভ সূচনা, জাগরণ এবং অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই শঙ্খধ্বনিকে একযোগে বিশ্বরেকর্ডের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং তার সঙ্গে আদিবাসী সমাজের সমবেত আরতির সংযোগ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে (Guinness World Record)।

    আগামী কয়েক মাস ধরে সিংহস্থ কুম্ভমেলাকে কেন্দ্র করে গোদাবরীর তীরে আরও বহু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও বহু পুণ্যার্থী ও পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। রামকুণ্ড ও আশপাশের পবিত্র ঘাটগুলিকে কেন্দ্র করে এই বিশাল আয়োজনের সূচনা পর্বেই ভক্তি, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং ভারতীয় ঐতিহ্যের (Simhastha Kumbh Mela) এক সম্মিলিত ছবি উঠে এল।

     

  • Rajasthan: দুর্নীতির অভিযোগে কাঠগড়ায় রাজস্থানের আইপিএস আধিকারিক, তদন্ত শুরু তাঁর আইএসএস স্বামীর বিরুদ্ধেও

    Rajasthan: দুর্নীতির অভিযোগে কাঠগড়ায় রাজস্থানের আইপিএস আধিকারিক, তদন্ত শুরু তাঁর আইএসএস স্বামীর বিরুদ্ধেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজস্থানে প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে আইপিএস কর্তা প্রশাখা মাথুরকে আপাতত নতুন পদে নিয়োগের নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে। প্রশাখা রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় আইএএস কর্তা শিখর আগরওয়ালের স্ত্রী। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, শিখরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের অনুমোদন দেওয়ার ঠিক এক দিন পরেই তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা (IPS Officer Prashakha Mathur) হল।

    ৩০ অক্টোবর রাজস্থান সরকার শিখরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন শাখাকে তদন্তের অনুমতি দেয়। একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগসাজশ এবং সরকারি পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওই সংস্থাকে অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    ১৯৯৫ সালের ব্যাচের আইপিএস আধিকারিক প্রশাখা পুলিশের অতিরিক্ত ডিজি পদে কর্মরত ছিলেন। পরিকল্পনা, আধুনিকীকরণ ও কল্যাণ বিভাগের দায়িত্বও তাঁর হাতে ছিল। তাঁকে অপেক্ষায় রাখার সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশাসনিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ, অনন্ত ব্র্যান্ডের অধীনে হোটেল ও রিসর্ট পরিচালনাকারী একটি বেসরকারি সংস্থাকে শিখর বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন।

    শিখরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন শাখার তদন্তে অনুমোদন (Rajasthan)

    গত ৩০ অক্টোবর রাজস্থান সরকার শিখরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন শাখার তদন্তে অনুমোদন দেয়। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুসন্ধানে ওই আধিকারিক এবং বেসরকারি সংস্থাটির মধ্যে যোগসাজশের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    রাজস্থান সরকারের কর্মিবর্গ দফতর প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে শিখরকেও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষায় রাখার নির্দেশ জারি করেছে।

    দুর্নীতি দমন শাখার অভিযোগ, নিজের সরকারি পদমর্যাদা ও প্রভাব খাটিয়ে শিখর নিজে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আর্থিক সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন। এর ফলে রাজ্য সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি তদন্তকারী সংস্থার।

    অভিযোগের মধ্যে রয়েছে রিসর্ট নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়মে ছাড় দেওয়া, প্রয়োজনীয় শংসাপত্র যথাযথভাবে যাচাই না করেই অনুমোদন দেওয়া এবং সংস্থাটিকে বিশেষ আর্থিক ছাড়ের সুযোগ করে দেওয়া।

    ৪০টি ভিলা-কটেজ কেনা নিয়েও প্রশ্ন

    দুর্নীতি দমন শাখার প্রাথমিক অনুসন্ধানে উদয়পুরের বুঝড়া এবং আলওয়ারের আজবগড় এলাকায় সংস্থাটির রিসর্টে ৪০টি ভিলা ও কটেজ কেনার বিষয়েও একাধিক অসঙ্গতির ইঙ্গিত মিলেছে।

    অভিযোগ, ওই সম্পত্তিগুলি শিখর, তাঁর স্ত্রী প্রশাখা, তাঁদের দুই পুত্র এবং মাথুরের বাবা-মায়ের নামে নথিভুক্ত করা হয়েছিল।

    দুর্নীতি দমন শাখার ডিজি গোবিন্দ গুপ্ত জানিয়েছেন, অভিযোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদন, শিল্প দফতরের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যভিত্তিক রিপোর্ট এবং গোপন সূত্রে সংগৃহীত তথ্য খতিয়ে দেখা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে (Rajasthan)।

    গোবিন্দের বক্তব্য, অভিযোগ রয়েছে, গত ২৭ মার্চ শিখরের নামে ২০টি ভিলা নথিভুক্ত করা হয়েছিল। আশ্চর্যের বিষয়, ওই একই দিনে অর্থ দফতর সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থাটিকে বিশেষ আর্থিক ছাড়ের প্যাকেজ দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছিল।

    সম্পত্তি কিনে ফের ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ

    শিখর ও তাঁর পরিবারের সম্পত্তি কেনাবেচার বিষয়টিও এখন তদন্তের আওতায়। এর আগে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, আইএএস-আইপিএস আধিকারিকের পরিবার একটি বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে ৪০টি ভিলা ও কটেজ কিনেছিল। পরে সেই সম্পত্তিগুলিই আবার সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে বার্ষিক ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়া দেওয়া হয়।

    সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনন্ত ব্র্যান্ডের অধীনে হোটেল ও রিসর্ট পরিচালনাকারী গোয়েল ফ্যাশনস প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে এই সম্পত্তিগুলি কেনা হয়েছিল। ৪০টি সম্পত্তি কেনার জন্য পরিবারটির মোট খরচ হয়েছিল ৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

    এর মধ্যে উদয়পুরের বুঝড়া রিসর্টে ছিল ২০টি কটেজ এবং আলওয়ারের আজবগড়ের সম্পত্তিতে ছিল ২০টি ভিলা।

    সম্পত্তিগুলি কেনার পর পরিবারের সদস্যরা ৪০টি ইউনিটই ফের গোয়েল ফ্যাশনসকে ভাড়া দেন বলে অভিযোগ। বুঝড়ার প্রতিটি কটেজের বার্ষিক ভাড়া নির্ধারিত হয়েছিল ৪ লাখ টাকা। অন্যদিকে, আজবগড়ের প্রতিটি ভিলার বার্ষিক ভাড়া ছিল ৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে এই সম্পত্তি থেকে বছরে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ভাড়া পাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল।

    আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সম্পত্তি বিক্রি এবং পুনরায় ভাড়া দেওয়ার নথিগুলি সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার দফতরে একই দিনে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। শিখর, প্রশাখা, তাঁদের দুই পুত্র এবং মাথুরের বাবা-মায়ের নামে এই নথিভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

    বার্ষিক সম্পত্তির বিবরণ জমা দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন

    এই সম্পত্তি কেনার ঘটনায় সরকারি আধিকারিকদের বার্ষিক স্থাবর সম্পত্তির বিবরণ জমা দেওয়ার নিয়ম যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

    মোট ৪০টি সম্পত্তির মধ্যে ২৮টি নথিভুক্ত হয়েছিল শিখর ও প্রশাখার নামে। দু’জনের নামেই ১৪টি করে সম্পত্তি ছিল।

    শিখর তাঁর বার্ষিক সম্পত্তির বিবরণীতে নিজের নামে থাকা ১৪টি সম্পত্তির তথ্য দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাখার জমা দেওয়া বিবরণীতে তাঁর নামে নথিভুক্ত ১৪টি সম্পত্তির উল্লেখ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ।

    এই বিষয়টিও নজরে রয়েছে তদন্তকারী সংস্থার।

    প্রশাসনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন শিখর

    রাজস্থান প্রশাসনে দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব সামলেছেন শিখর। উদয়পুরের জেলাশাসক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি তিনি রাজস্থান রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং শিল্প দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের দায়িত্বও পালন করেছেন।

    এছাড়াও শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, দিল্লি-মুম্বই শিল্প করিডর, বিনিয়োগ এবং দেশ-বিদেশে বসবাসকারী রাজস্থানিদের বিষয়ক দফতরের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

    রাজস্থান রাজ্য শিল্পোন্নয়ন ও বিনিয়োগ নিগমের চেয়ারম্যান, রাজস্থান ক্ষুদ্র শিল্প নিগমের চেয়ারম্যান তথা ব্যবস্থাপনা অধিকর্তা এবং ভিওয়াড়ি সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিশেষ কর্তব্যরত আধিকারিক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন (IPS Officer Prashakha Mathur) শিখর।

    সব মিলিয়ে, একটি বেসরকারি সংস্থাকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ থেকে শুরু করে পরিবারের নামে বিপুল সম্পত্তি কেনা, পুনরায় সেই সংস্থাকেই ভাড়া দেওয়া এবং সম্পত্তির বিবরণ প্রকাশ না করার অভিযোগ—সব কিছুই এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে। তদন্তের অগ্রগতিতে এই (Rajasthan) অভিযোগগুলির প্রকৃত সত্য কতটা সামনে আসে, এখন সেটাই দেখার।

     

  • New Pollution Rules: শীতের দূষণ রুখতে দিল্লি-এনসিআরে গুচ্ছের কড়া বিধিনিষেধ, জানুন বিশদে

    New Pollution Rules: শীতের দূষণ রুখতে দিল্লি-এনসিআরে গুচ্ছের কড়া বিধিনিষেধ, জানুন বিশদে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শীতের মরশুমে বায়ুদূষণের ভয়াবহতা মোকাবিলায় একাধিক কঠোর পদক্ষেপ করল দিল্লি সরকার। দিল্লি-সহ সংলগ্ন জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে ধোঁয়াশা নিয়ন্ত্রণ এবং বাতাসের গুণমান উন্নত করতে আগামী কয়েক (New Pollution Rules) মাসের জন্য জারি করা হয়েছে বিশেষ বিধিনিষেধ। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ নভেম্বর থেকে দিল্লিতে বিএস-৬ নির্গমন মান পূরণ করে না, এমন যানবাহনের প্রবেশ ও চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত (Vehicles Ban)।

    মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, বিধিনিষেধ কার্যকর করতে বিশেষ নজরদারি দল মোতায়েন করা হবে। স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ ক্যামেরা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর যৌথ নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি কেন্দ্রের সাহায্য নেওয়া হবে। নিয়ম অমান্য করে চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈদ্যুতিন জরিমানার নোটিশও পাঠানো হবে।

    পুরনো গাড়ির প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা (New Pollution Rules)

    দিল্লির বাইরে নথিভুক্ত এবং বিএস-৬ নির্গমন মান পূরণ করে না, এমন কোনও যানবাহন আর দিল্লিতে প্রবেশ করতে পারবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে নয়ডা, গুরুগ্রাম, ফরিদাবাদ ও গাজিয়াবাদ-সহ সংলগ্ন অঞ্চল থেকে আসা আনুমানিক ১০ লাখ পুরনো পেট্রল ও ডিজেলচালিত গাড়ি প্রভাবিত হতে পারে।

    তবে বৈদ্যুতিক গাড়ি, সিএনজি চালিত যানবাহন এবং অ্যাম্বুল্যান্স ও দমকলের মতো জরুরি পরিষেবার যানবাহনকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ধুলো সৃষ্টি হয়, এমন ভাঙার কাজ এবং খোলা জায়গায় নির্মাণ সংক্রান্ত সমস্ত অসামরিক কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট শর্ত মেনে জরুরি জনপরিকাঠামো প্রকল্পের কিছু কাজের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ধুলো নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়ম মেনে ঘরের ভিতরে নির্মাণের শেষ পর্যায়ের কাজ, জলের পাইপ বসানো এবং বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজ চালানো যাবে।

    সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, দিল্লির সরকারি ও বেসরকারি দফতরগুলিতে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ কর্মীকে সশরীরে উপস্থিত থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকি কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে হবে। তবে অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা এই নিয়মের আওতাভুক্ত নন।

    অফিসের সময়সূচি বদল, পার্কিং ফি দ্বিগুণ

    যানজট কমাতে এবং ব্যস্ত সময়ে রাস্তায় গাড়ির চাপ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। দিল্লি পুরনিগমের দফতরগুলি সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। অন্যদিকে, দিল্লি সরকারের দফতরগুলির কাজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত। পাশাপাশি, ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে একাধিক সরকারি পার্কিং এলাকায় গাড়ি রাখার খরচ দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে দিল্লি মেট্রো রেল নিগমের মালিকানাধীন ও পরিচালিত পার্কিং কেন্দ্রগুলিকে এই বর্ধিত মাশুলের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে (New Pollution Rules)।

    মিলবে না জ্বালানি!

    ১ নভেম্বর থেকে দিল্লির পেট্রল পাম্পগুলিতে কার্যকর হচ্ছে ‘দূষণ নিয়ন্ত্রণের শংসাপত্র নেই, জ্বালানিও নেই’ নীতি। এই নিয়ম কার্যকর করতে দিল্লির ৫০০টি পেট্রল পাম্পে স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এই ক্যামেরার মাধ্যমে গাড়ির নম্বরপ্লেট এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা হবে।

    কোনও গাড়ির দূষণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত শংসাপত্রের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে বা সেটি বৈধ না থাকলে সংশ্লিষ্ট পেট্রল পাম্প থেকে পেট্রল, ডিজেল কিংবা সিএনজি দেওয়া হবে না।

    ফলে দিল্লি ও সংলগ্ন শহরগুলির মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করেন যাঁরা, তাঁদের আগেভাগেই নিজেদের গাড়ির নির্গমন সংক্রান্ত মান যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় গাড়ি পরীক্ষা চলাকালীন জরিমানা কিংবা প্রবেশে বাধার মুখে পড়া এড়াতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে (Vehicles Ban)।

    মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত বাসিন্দাদের এই সমস্ত বিধিনিষেধ মেনে চলার আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি, যাতায়াত সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা এবং নিয়মিত পরিস্থিতির খবর জানতে দিল্লি ট্র্যাফিক পুলিশের সরকারি (New Pollution Rules) সোশ্যাল মিডিয়া পেজে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

     

  • Largest Green Hydrogen Order: বিশ্বে সব থেকে বেশি গ্রিন হাইড্রোজেন সরবরাহের চুক্তি ভারতীয় সংস্থাগুলির হাতে, বরাত ৫.৫৫ লাখ মেট্রিক টনের

    Largest Green Hydrogen Order: বিশ্বে সব থেকে বেশি গ্রিন হাইড্রোজেন সরবরাহের চুক্তি ভারতীয় সংস্থাগুলির হাতে, বরাত ৫.৫৫ লাখ মেট্রিক টনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি বাণিজ্যে ক্রমশ শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করছে ভারত। গ্রিন হাইড্রোজেন বা পরিবেশবান্ধব হাইড্রোজেন (Largest Green Hydrogen Order) সরবরাহের ক্ষেত্রে এখন বিশ্বের বৃহত্তম চুক্তিভিত্তিক বরাত রয়েছে ভারতীয় সংস্থাগুলির হাতে। কেন্দ্রীয় সরকারের ২৯ অক্টোবর, ২০২৬-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ভারতীয় সংস্থাগুলি বছরে মোট ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৬১০ মেট্রিক টন গ্রিন হাইড্রোজেনের সমতুল্য জ্বালানি সরবরাহের জন্য বাধ্যতামূলক ক্রয়চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই পরিসংখ্যান আন্তর্জাতিক পরিচ্ছন্ন জ্বালানির বাজারে ভারতের ক্রমবর্ধমান (Japan Germany Korea) প্রভাবেরই ইঙ্গিত।

    ২০২৩ সালে জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশন চালু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ২৩টি সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তার মধ্যে ১৮টিই স্বাক্ষরিত হয়েছে ২০২৬ সালে। এই চুক্তিগুলির আওতায় বছরে ৪ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি গ্রিন হাইড্রোজেনের সমতুল্য জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। মোট চুক্তিবদ্ধ জ্বালানির ৭০ শতাংশেরও বেশি বিদেশে রফতানির জন্য নির্ধারিত। এই বিপুল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত করতে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।

    ভারতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি কর্মসূচির সাফল্য (Largest Green Hydrogen Order)

    এই পরিসংখ্যান ভারতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি কর্মসূচির সাফল্য পরিমাপের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এত দিন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এবং সরকারি আর্থিক সহায়তার প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনার কথা সামনে আসছিল। কিন্তু এখন বিদেশি ও দেশীয় ক্রেতাদের সঙ্গে স্বাক্ষরিত নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি কেনার চুক্তি প্রমাণ করছে, ভারতীয় সংস্থাগুলির উৎপাদিত পরিবেশবান্ধব জ্বালানি কিনতে ক্রেতারা বাস্তবিক অর্থেই আগ্রহী।

    গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলতে বিপুল পরিমাণ মূলধনের প্রয়োজন হয়। কোনও নির্দিষ্ট ক্রেতার কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি কেনার নিশ্চয়তা না থাকলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিও সাধারণত এই ধরনের প্রকল্পে ঋণ দিতে আগ্রহী হয় না। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ বা ক্রয়চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই চুক্তির মাধ্যমে ক্রেতা নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি কেনার প্রতিশ্রুতি দেন। ফলে উৎপাদক সংস্থাগুলি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক নিশ্চয়তা পায়।

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন বহু গ্রিন হাইড্রোজেন প্রকল্প রয়েছে, যেগুলি দীর্ঘমেয়াদি ক্রয়চুক্তির অভাবে থমকে গিয়েছে। সেই জায়গায় ভারতীয় সংস্থাগুলির হাতে বিপুল পরিমাণ নিশ্চিত ক্রয়াদেশ থাকা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তাদের বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।

    রফতানিতে গুরুত্ব অ্যামোনিয়া-মিথানলের

    ভারতের মোট সরবরাহের পরিমাণ হাইড্রোজেনের সমতুল্য হিসাবে প্রকাশ করা হয়েছে। কারণ, ভারত থেকে রফতানি হতে চলা জ্বালানির অধিকাংশই সরাসরি হাইড্রোজেন গ্যাস নয়। দীর্ঘ দূরত্বে হাইড্রোজেন পরিবহণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন। তাই হাইড্রোজেনকে গ্রিন অ্যামোনিয়া ও গ্রিন মিথানলে রূপান্তরিত করে জাহাজে পরিবহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রচলিত পণ্যবাহী জাহাজেই এই দুই ধরনের জ্বালানি পরিবহণ করা সম্ভব।

    ওজনের হিসাবে অ্যামোনিয়ার প্রায় ১৮ শতাংশ হাইড্রোজেন। ফলে অ্যামোনিয়া সরবরাহের চুক্তিতে কয়েক লাখ মেট্রিক টনের উল্লেখ থাকলেও তার হাইড্রোজেন-সমতুল্য পরিমাণ তুলনায় অনেক কম হয়। মিথানলের ক্ষেত্রে হাইড্রোজেনের অনুপাত আরও কম, প্রায় ১২.৫ শতাংশ।

    জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশনের ২০৩০ সালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১১ শতাংশের সমান হল ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির পরিমাণ।

    ভারতের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হওয়ার পথে

    ভারতের গ্রিন জ্বালানি রফতানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাজার হয়ে উঠছে জাপান। দেশটি দীর্ঘমেয়াদি কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের পরিকল্পনায় আমদানি করা হাইড্রোজেন ও অ্যামোনিয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে একের পর এক সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষর করছে জাপানের বিভিন্ন সংস্থা।

    এসিএমই গোষ্ঠী জাপানের ইহাই কর্পোরেশনকে বছরে ৪ লাখ ৮৮ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহের চুক্তি করেছে। পাশাপাশি মিতসুবিশি গ্যাস কেমিক্যালকে বছরে ১ লাখ মেট্রিক টন গ্রিন মিথানল সরবরাহের জন্য পৃথক চুক্তিও (Largest Green Hydrogen Order) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

    এদিকে, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো এবং জাপানের বাণিজ্যিক সংস্থা ইতোকু যৌথভাবে একটি বিশেষ সংস্থা গঠন করেছে। এর মাধ্যমে বছরে ৩ লাখ মেট্রিক টন গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৯ সালের ডিসেম্বর থেকে এই সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা।

    জাপানের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদক সংস্থা জেরার সঙ্গেও দীর্ঘমেয়াদি গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহের বাধ্যতামূলক প্রাথমিক চুক্তি করেছে এএম গ্রিন। এই চুক্তির আওতায় বছরে ৭০ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহ করা হবে।

    জাপানে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির কার্বন নিঃসরণ কমানোর অন্যতম পদ্ধতি হিসেবে কয়লার সঙ্গে অ্যামোনিয়া মিশিয়ে জ্বালানোর প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই উদ্যোগেও ভারতীয় সংস্থাগুলির উৎপাদিত গ্রিন অ্যামোনিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে।

    ইউরোপের কঠোর পরিবেশবিধির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ভারত

    গ্রিন হাইড্রোজেনের ক্ষেত্রে ইউরোপের বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেখানে কোনও জ্বালানিকে পুনর্নবীকরণযোগ্য হাইড্রোজেন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য কঠোর পরিবেশগত মানদণ্ড রয়েছে। ভারতীয় উৎপাদকরা সেই মানদণ্ড পূরণে সক্ষম হয়েছে।

    ২০২৩ সালের অগাস্টে ভারত নিজস্ব গ্রিন হাইড্রোজেন মানদণ্ড ঘোষণা করে। সেই নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি কেজি হাইড্রোজেন উৎপাদনে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সমতুল্য নিঃসরণের পরিমাণ ২ কেজির মধ্যে থাকলেই তাকে গ্রিন হাইড্রোজেন হিসেবে গণ্য করা হবে।

    এই জাতীয় মানদণ্ড বিদেশি ক্রেতাদের কাছে ভারতীয় জ্বালানির গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। জার্মান সংস্থা হিন্টকো জিএমবিএইচ পরিচালিত এইচটু গ্লোবাল নিলামে এশীয় অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত বরাতের একমাত্র বিজয়ী হয়েছে এএম গ্রিন।

    এই চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে এএম গ্রিনের কাছ থেকে অন্তত ৫৮ কোটি ৫০ লাখ ইউরো মূল্যের পুনর্নবীকরণযোগ্য অ্যামোনিয়া কিনবে হিন্টকো। ২০২৯ সালে জার্মানিতে প্রথম দফার জ্বালানি সরবরাহ শুরু (Largest Green Hydrogen Order) হওয়ার কথা।

    এ ছাড়াও জার্মানির অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি সংস্থা ইউনিপারের সঙ্গে বছরে ২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহের চুক্তি করেছে এএম গ্রিন। অন্যদিকে, জৌনো জুলস প্রতিদিন ৬০০ টন, অর্থাৎ বছরে প্রায় ২ লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহের জন্য সিলেক্ট এনার্জি জিএমবিএইচের সঙ্গে চুক্তি করেছে।

    ইউরোপের মতো কঠোর নিয়ন্ত্রিত বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রে জয়ী হওয়া শুধু আর্থিক সাফল্য নয়। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে, ভারতীয় গ্রিন অ্যামোনিয়া আন্তর্জাতিক মানের শংসাপত্র, পরিবেশগত স্বচ্ছতা এবং সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে (Japan Germany Korea) সক্ষম।

    দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারেও ভারতের প্রবেশ

    এশিয়ার আর এক গুরুত্বপূর্ণ বাজার দক্ষিণ কোরিয়া। রিলায়্যান্স ইন্ডাস্ট্রিজ দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ ও ক্রয়চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আর্থিক মূল্য ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি। বিশ্বের বৃহত্তম গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহ চুক্তিগুলির মধ্যে এটি অন্যতম। ২০২৮ সালের মধ্যে সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা।

    জাপানের মতো দক্ষিণ কোরিয়াও জ্বালানি আমদানির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। দেশের অভ্যন্তরে পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ সীমিত হওয়ায় ভারতীয় গ্রিন জ্বালানি তাদের কাছে একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হয়ে উঠছে।

    প্রতিবেশী দেশগুলির বাজারেও ভারতীয় সংস্থাগুলি নিজেদের জায়গা তৈরি করছে। শ্রীলঙ্কার সার সংস্থাকে বছরে ২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন মিথানল সরবরাহের চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে অগস্ত্য। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি বাণিজ্য প্রতিবেশী দেশগুলিতেও আরও সম্প্রসারিত হবে।

    জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, পশ্চিম ইউরোপ এবং দক্ষিণ এশিয়া—বিভিন্ন অঞ্চলে ভারতের ক্রেতা তৈরি হওয়ায় একটি নির্দিষ্ট দেশের বাজারের উপর নির্ভরশীলতা কমবে। সরকারি ভর্তুকি এবং পরিবর্তনশীল পরিবেশবিধির উপর নির্ভরশীল এই আন্তর্জাতিক বাজারে এই বৈচিত্র্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

    দামের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে ভারত

    কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, গ্রিন অ্যামোনিয়া ও গ্রিন মিথানল সরবরাহের ক্ষেত্রে ভারতীয় সংস্থাগুলি আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক দাম দিতে পারছে। এর ফলে ইউরোপ ও জাপানের বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে (Largest Green Hydrogen Order)।

    এই শিল্পে উৎপাদন খরচই অন্যতম নির্ধারক বিষয়। পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি থেকে পাওয়া বিদ্যুৎ ব্যবহার করে জলের তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন করা হয়। উৎপাদন খরচের সবচেয়ে বড় অংশই বিদ্যুতের জন্য ব্যয় হয়।

    ভারতে প্রচুর সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুতের দাম ক্রমশ কমছে। তড়িৎ বিশ্লেষক যন্ত্র তৈরির ক্ষেত্রেও সরকারি নীতিগত সহায়তা রয়েছে। এই সমস্ত সুবিধা মিলিয়ে ভারতীয় উৎপাদকরা এমন অনেক দেশের তুলনায় কম খরচে গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন করতে পারছেন, যেখানে বিদ্যুতের দাম তুলনামূলক বেশি।

    উৎপাদনের পাশাপাশি ক্রেতার কাছে জ্বালানি পৌঁছে দেওয়ার খরচ কম রাখতে পারাও আন্তর্জাতিক দরপত্রে ভারতের সাফল্যের অন্যতম কারণ। এইচটু গ্লোবালের মতো সরকারি সহায়তাপুষ্ট আন্তর্জাতিক দরপত্রে মূলত দামের ভিত্তিতেই সরবরাহকারী নির্বাচন করা হয়।

    বাড়ছে গ্রিন জ্বালানির ব্যবহার

    গ্রিন হাইড্রোজেন থেকে উৎপাদিত জ্বালানির ব্যবহারও ক্রমশ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক জাহাজ পরিবহণ শিল্পে গ্রিন অ্যামোনিয়া ও গ্রিন মিথানল পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা ২০৫০ সালের মধ্যে জাহাজ পরিবহণ ক্ষেত্রে নিট-শূন্য কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করায় এই বিকল্প জ্বালানির চাহিদা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এ ছাড়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কয়লার সঙ্গে অ্যামোনিয়া মিশিয়ে জ্বালানোর প্রযুক্তি চালু হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সার উৎপাদন এবং পেট্রোলিয়াম পরিশোধন শিল্পেও গ্রিন হাইড্রোজেন ও তার উপজাত জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে। এই দুই শিল্পে কার্বন নিঃসরণ কমানো অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানির গুরুত্ব বিশেষভাবে বেড়েছে।

    দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও তৈরি হচ্ছে চাহিদা

    শুধু রফতানি নয়, দেশের অভ্যন্তরেও গ্রিন হাইড্রোজেনের বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রিন হাইড্রোজেন রূপান্তরের কৌশলগত উদ্যোগের আওতায় দেশের ১১টি সার কারখানায় গ্রিন অ্যামোনিয়া উৎপাদন ও সরবরাহের জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই প্রকল্পগুলির সম্মিলিত সরবরাহ ক্ষমতা বছরে ৬ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন।

    প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে উৎপাদিত প্রচলিত অ্যামোনিয়ার পরিবর্তে গ্রিন অ্যামোনিয়া ব্যবহার করা সম্ভব। ভারতকে বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করতে হয়। ফলে দেশীয় উৎপাদিত গ্রিন অ্যামোনিয়ার ব্যবহার বাড়লে আমদানিনির্ভরতাও কমতে পারে।

    একই কর্মসূচির আওতায় ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম এবং নুমালিগড় রিফাইনারির শোধনাগারগুলিতে বছরে ৩০ হাজার মেট্রিক টন গ্রিন হাইড্রোজেন সরবরাহের প্রকল্পও বরাদ্দ করা হয়েছে।

    ভারত সার তৈরির কাঁচামাল এবং অপরিশোধিত তেলের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করে বিদেশের উপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতিতে দেশীয় উৎপাদিত পরিবেশবান্ধব কাঁচামাল ব্যবহার বাড়ানো হলে একদিকে যেমন কার্বন নিঃসরণ কমবে, অন্যদিকে জ্বালানি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যও পূরণ হবে।

    জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশনে ১৯,৭৪৪ কোটি টাকার বরাদ্দ

    ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশনে অনুমোদন দেয়। ২০২৯-৩০ অর্থবর্ষ পর্যন্ত এই প্রকল্পের প্রাথমিক বরাদ্দ রাখা হয় ১৯ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল কৌশলগত উদ্যোগ বা সাইট কর্মসূচির জন্য। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তড়িৎ বিশ্লেষক যন্ত্রের উৎপাদন এবং গ্রিন হাইড্রোজেন তৈরিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

    অবশিষ্ট অর্থ পরীক্ষামূলক প্রকল্প, গবেষণা, উন্নয়ন এবং অন্যান্য কর্মসূচিতে ব্যয় করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ১৫টি সংস্থাকে বছরে ৩ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার তড়িৎ বিশ্লেষক যন্ত্র উৎপাদনের জন্য আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বছরে প্রায় ৮ লাখ ৬২ হাজার টন গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদনের ক্ষেত্রেও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে অন্তত ৫০ লাখ মেট্রিক টন গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদনের ক্ষমতা তৈরি করাই এই মিশনের প্রধান লক্ষ্য। এই প্রকল্পের মাধ্যমে অতিরিক্ত ১২৫ গিগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি, ৮ লাখ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ, ৬ লাখেরও বেশি স্থায়ী কর্মসংস্থান এবং প্রতি বছর প্রায় ৫ কোটি মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ এড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

    কেন্দ্রীয় সরকারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি সাশ্রয় হতে পারে।

    এবার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়ন

    চুক্তির পরিমাণের নিরিখে ভারত উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেলেও প্রকৃত উৎপাদন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে এখনও অনেকটা পথ চলা বাকি। অধিকাংশ আন্তর্জাতিক চুক্তির সরবরাহ ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে শুরু হওয়ার কথা। তাই এখন প্রধান কাজ হল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত করা।

    এর জন্য বৃহৎ পরিসরে পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি তড়িৎ বিশ্লেষক যন্ত্র বসানো, উৎপাদন কেন্দ্র চালু করা এবং অ্যামোনিয়া ও মিথানল জাহাজে তোলার উপযোগী বন্দর ও সংরক্ষণ পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই পরিকাঠামো অত্যন্ত জরুরি (Largest Green Hydrogen Order)।

    ২০২৬ সালের গোড়ায় দেশে চালু হওয়া গ্রিন হাইড্রোজেন উৎপাদন ক্ষমতা ছিল বছরে প্রায় ৮ হাজার টন। ফলে ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা এবং বাস্তব উৎপাদন ক্ষমতার মধ্যে এখনও যথেষ্ট ব্যবধান রয়েছে।

    এ ছাড়া ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১১ শতাংশের সমতুল্য সরবরাহের জন্য এখনও পর্যন্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অর্থাৎ জাতীয় গ্রিন হাইড্রোজেন মিশনের সিংহভাগ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে আগামী দিনে আরও বিপুল পরিমাণ ক্রয়চুক্তি সম্পাদন করতে হবে।

    তবে ভারতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হল, দেশ এখন আর শুধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে আন্তর্জাতিক পরিচ্ছন্ন জ্বালানির বাজারে প্রবেশ করছে না। বরং ইতিমধ্যেই জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজারে (Japan Germany Korea) নির্দিষ্ট ক্রেতা, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি এবং প্রতিযোগিতামূলক দামের সুবিধা নিয়ে এগোচ্ছে। এই চুক্তিগুলির যথাযথ বাস্তবায়ন সম্ভব হলে আগামী দিনে বিশ্ব গ্রিন হাইড্রোজেন বাণিজ্যে অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হয়ে উঠতে পারে ভারত।

     

LinkedIn
Share