Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • BRICS: একতরফা নিষেধাজ্ঞা বন্ধের আহ্বান ব্রিকসের, সুরক্ষাবাদী নীতিতে উদ্বেগ

    BRICS: একতরফা নিষেধাজ্ঞা বন্ধের আহ্বান ব্রিকসের, সুরক্ষাবাদী নীতিতে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা (Unilateral Sanctions) অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে ব্রিকসের (BRICS) সদস্য দেশগুলি। বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সুরক্ষাবাদী নীতিতেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জোটটি। ব্রিকসের নেতাদের আশঙ্কা, নির্বিচারে শুল্ক বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব বাণিজ্য বাধার নামে আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির ক্ষতি করছে।

    নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্র (BRICS)

    নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে গৃহীত নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্রে নেতারা বলেন, বিশ্বব্যাপী বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছে। বিভিন্ন দেশ ক্রমশ এমন সব বাণিজ্য-নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে, যা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মের পরিপন্থী।

    ব্রিকসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হঠাৎ করে শুল্ক বৃদ্ধি, শুল্ক-বহির্ভূত বাণিজ্য বাধা এবং পরিবেশগত পদক্ষেপের আড়ালে সুরক্ষাবাদী বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। এই ধরনের পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে, দেশগুলির মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য আরও গভীর করছে এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে বাধা সৃষ্টি করছে।

    বিশ্ববাজারকে সুরক্ষিত রাখতে ব্রিকস দেশগুলি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকে বাণিজ্যগত অস্থিরতার প্রতি আরও কার্যকর ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল করে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে উদীয়মান বাজার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির অর্থনৈতিক ও উন্নয়নগত প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

    অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে ঘোষণাপত্রে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন বা ম্যান্ডেটের বাইরে আরোপিত একতরফা ও গৌণ নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। ব্রিকস নেতাদের মতে, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রসংঘের সনদের পরিপন্থী।

    নেতারা আরও উল্লেখ করেন, একতরফাভাবে আরোপিত এসব বিধিনিষেধ সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারের ওপর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে খাদ্যনিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।

    উন্নয়নশীল দেশগুলির অংশীদারিত্ব ক্রমশ বাড়ছে

    বিশ্ব অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে ব্রিকস (BRICS)। ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, বিশ্ব অর্থনীতির উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধিতে উদীয়মান বাজার এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির অংশীদারিত্ব ক্রমশ বাড়ছে।

    এই পরিস্থিতিতে ব্রেটন উডস প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের দাবি জানিয়েছে ব্রিকস। এসব প্রতিষ্ঠানকে আরও দ্রুত কার্যকর, দক্ষ, বিশ্বাসযোগ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক, উদ্দেশ্যোপযোগী, নিরপেক্ষ, জবাবদিহিমূলক এবং প্রতিনিধিত্বশীল করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, বিশ্ব অর্থনীতির প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে বর্তমানের যে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে, সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন যাতে ওই প্রতিষ্ঠানগুলির পরিচালন কাঠামোয় দেখা যায়, তার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

    ব্রিকসের পক্ষ থেকে এও বলা হয়েছে, ব্রেটন উডস প্রতিষ্ঠানগুলিতে উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল দেশগুলির কণ্ঠস্বর এবং প্রতিনিধিত্ব বিশ্ব অর্থনীতিতে তাদের প্রকৃত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং বিশ্বব্যাংকের নেতৃত্বে আরও বেশি আঞ্চলিক বৈচিত্র্য এবং উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

    বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারের প্রতিও সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে ব্রিকস। একটি আরও শক্তিশালী, উন্মুক্ত, ন্যায্য, স্বচ্ছ, সুবিচারপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, পূর্বানুমানযোগ্য এবং নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ব্যবস্থার কেন্দ্রে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকেই রাখার কথা বলা হয়েছে।

    ব্রিকস অবিলম্বে কার্যকর, সহজলভ্য এবং সম্পূর্ণভাবে সক্রিয় দুই-স্তরবিশিষ্ট বাধ্যতামূলক বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে। পাশাপাশি, আর কোনও বিলম্ব না করে আপিল সংস্থার নতুন সদস্য নিয়োগেরও দাবি জানানো হয়েছে।

    নয়াদিল্লিতে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অষ্টাদশ ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত এবারের সম্মেলনের থিম হল স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্বের ভিত্তিতে (Unilateral Sanctions) ভবিষ্যৎ নির্মাণ।

     

  • PM Modi: বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের ১০ প্রস্তাব মোদির, ‘নিয়মগ্রহীতা’ থেকে ‘নিয়মপ্রণেতা’ হোক গ্লোবাল সাউথ

    PM Modi: বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের ১০ প্রস্তাব মোদির, ‘নিয়মগ্রহীতা’ থেকে ‘নিয়মপ্রণেতা’ হোক গ্লোবাল সাউথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব শাসনব্যবস্থায় সংস্কারের লক্ষ্যে ১০টি প্রস্তাব প্রণয়নের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। শনিবার নয়াদিল্লিতে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব শাসন ও শক্তিশালীকরণ’ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, আগামী শীর্ষ সম্মেলনের মধ্যে ব্রিকসের (BRICS 2026) সদস্য দেশগুলি এই প্রস্তাবগুলিকে একটি সংস্কার রূপরেখায় পরিণত করতে পারে। একই সঙ্গে গ্লোবাল সাউথকে ‘নিয়মগ্রহীতা’ থেকে ‘নিয়মপ্রণেতা’য় রূপান্তরের আহ্বান জানান তিনি।

    সামনের সারিতে গ্লোবাল সাউথ (PM Modi)

    মোদি বলেন, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংকটের সম্মুখভাগে রয়েছে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলি। কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান এখনও পিছনের সারিতে। তাঁর কথায়, “গ্লোবাল সাউথ আজ বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সামনের সারিতে রয়েছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পিছনের সারিতে। আমাদের এই ‘সুবিধাভোগের পিরামিড’কে ‘অংশীদারির মঞ্চে’ রূপান্তর করতে হবে, যেখানে প্রতিটি দেশের কণ্ঠস্বর থাকবে, প্রতিটি সদস্যের অংশীদারি থাকবে এবং মানব উন্নয়ন প্রতিটি প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।”

    তিনি আরও বলেন, “এই লক্ষ্যেই আমি প্রস্তাব করছি, আমরা যৌথভাবে বিশ্ব শাসনব্যবস্থার সংস্কারের জন্য ১০টি প্রস্তাব তৈরি করি। আগামী শীর্ষ সম্মেলনের মধ্যে এগুলিকে ব্রিকসের সংস্কার রূপরেখায় পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।”

    প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত সংস্কার রূপরেখায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত—প্রতিনিধিত্ব, সাড়াদানের সক্ষমতা এবং নিয়ম প্রণয়ন।

    প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার আর বিলম্বিত করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন মোদি। তিনি বলেন, লিখিত প্রস্তাবভিত্তিক আলোচনা একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং সুস্পষ্ট ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন।

    আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভোটাধিকার, নেতৃত্বের পদ এবং নীতিগত অগ্রাধিকারও বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটানো উচিত বলে জানান তিনি। মোদির কথায়, “যে দেশগুলি বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বিশ্ব অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাদের উপযুক্ত ভূমিকা থাকা উচিত।”

    সাড়াদানের সক্ষমতার প্রসঙ্গে মোদি বলেন, বিশ্ব প্রতিষ্ঠানগুলি তখনই মানবজাতির আস্থা অর্জন করতে পারবে, যখন তারা বিভিন্ন সমস্যার কার্যকর সমাধান করতে সক্ষম হবে। তিনি (PM Modi) বলেন, “আমাদের সম্মিলিত সাড়ার গতি, ব্যাপ্তি এবং শেষ প্রান্তে তার প্রভাবের দিকে নজর দিতে হবে।”

    সমুদ্রযাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান

    বিশ্ব বাণিজ্যে সমুদ্রযাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরে একটি জরুরি সহায়তা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাবও দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই নেটওয়ার্ক সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ এবং দূতাবাস বা কূটনৈতিক মিশনগুলিকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে। এর মাধ্যমে বিপদসংকেত পাঠানো, চিকিৎসা সহায়তা, পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া এবং জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজে সহায়তা করা সম্ভব হবে।

    বিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়মকানুন তৈরির ক্ষেত্রে সমান অংশগ্রহণকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন মোদি। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার পরিসর, মহাকাশ, জৈবপ্রযুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগুলি শুধু ভবিষ্যতের সুযোগ তৈরি করছে না, ভবিষ্যতের নিয়মকানুনও নির্ধারণ করছে।

    মোদি বলেন, “গ্লোবাল সাউথকে নিয়মগ্রহীতা থেকে নিয়মপ্রণেতায় রূপান্তর করার জন্য আমাদের উদ্যোগ নিতে হবে।”

    তিনি আরও জানান, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির তরুণ কূটনীতিক ও নীতিনির্ধারকদের আলোচনার দক্ষতা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং আইনি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দিতে পারে ব্রিকস।

    ১২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার জন্য রাষ্ট্রসংঘের নির্ধারিত দিন হওয়ায় এই দিনেই বিশ্ব দক্ষিণকে কেন্দ্র করে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। তিনি বলেন, “এই বিষয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ভারত প্রস্তুত।”

    ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অষ্টাদশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছে ভারত। ভারতের সভাপতিত্বের মূল ভাবনা হল—স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ। উন্নয়ন, স্থায়িত্ব এবং উদ্ভাবনকে এবারের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে রাখা হয়েছে।

    প্রধান উদীয়মান অর্থনীতিগুলির মধ্যে সমন্বয় এবং বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ব্রিকস ইতিমধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে উঠে এসেছে। উন্নয়ন, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ-সহ একাধিক বিষয় ব্রিকসের আলোচ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত।

    বর্তমানে ব্রিকস (BRICS 2026) গোষ্ঠীতে ১১টি দেশ রয়েছে। দেশগুলি হল—ব্রাজিল, চিন, মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি।

     

  • 80s Style AI Photo: ৮০-এর দশকের AI ছবি সাময়িক, কিন্তু আপনার আসল ছবি কোথায় থাকে?

    80s Style AI Photo: ৮০-এর দশকের AI ছবি সাময়িক, কিন্তু আপনার আসল ছবি কোথায় থাকে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক : সামাজিক মাধ্যমে ফের জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ’৮০-এর দশকের নস্টালজিক লুকে (80s Style AI Photo) এআই-নির্মিত ছবি। নিজের বর্তমান ছবি আপলোড করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই নিজেকে পুরনো সময়ের পোশাক, চুলের স্টাইল বা ভিনটেজ গাড়ির সঙ্গে দেখা যাচ্ছে। এর আগে ‘ঘিবলিফাই’-এর মতো এআই-নির্ভর ছবির ট্রেন্ডও ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। কিন্তু এই ধরনের ছবি তৈরির সময় ব্যবহারকারীরা যে ব্যক্তিগত তথ্য এআই প্ল্যাটফর্মের হাতে তুলে দিচ্ছেন, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এনিয়ে চিন্তাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও ছবি শুধু একটি ছবি নয়—এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে একাধিক তথ্য।

    ছবির সঙ্গে যায় আরও অনেক তথ্য

    স্মার্টফোনে থাকা ছবিতে কখন সেটি তোলা হয়েছে, কোন ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছে এবং কোনও ক্ষেত্রে কোথায় ছবি তোলা হয়েছে—এ ধরনের মেটাডেটা থাকতে পারে। আর কোনও ছবিতে ব্যক্তির মুখ স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা গেলে সেটি ব্যক্তিগত তথ্য হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি আবু ধাবির সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা পপার-বলেছেন, এআই সিস্টেমে ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি একাধিক স্তরে ঘটতে পারে। ব্যবহারকারী কী লিখছেন এবং কী ছবি বা ফাইল আপলোড করছেন, তার পাশাপাশি সেশন-সংক্রান্ত তথ্য, যেমন আইপি ঠিকানা ও ডিভাইসের ধরনও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংরক্ষিত হতে পারে। সেই সঙ্গে ব্যবহারকারীর কার্যকলাপ থেকে কিছু তথ্য অনুমান করাও সম্ভব। ফলে কোনও জনপ্রিয় ট্রেন্ডে অংশ নিতে একটি ছবি আপলোড করলেও ব্যবহারকারী অজান্তেই ছবির বাইরের আরও কিছু তথ্য এআই পরিষেবার কাছে তুলে দিতে পারেন।

    মূল ছবি থেকে যেতে পারে

    এআই দিয়ে তৈরি ’৮০-এর দশকের ছবিটি হয়তো কয়েক দিনের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমের ফিড থেকে হারিয়ে যাবে। কিন্তু সেই ছবি তৈরির জন্য আপলোড করা মূল ছবিটি কতদিন এআই সংস্থার সার্ভারে থাকবে, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য সংরক্ষণ নীতির ওপর। বিভিন্ন এআই পরিষেবার তথ্য সংরক্ষণের সময়সীমার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, চ্যাটজিপিটি-তে চ্যাট ব্যবহারকারী নিজে মুছে না দেওয়া পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে ওপেন এআই-এর সার্ভারে তা ৩০ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। অ্যাকাউন্ট থেকে আলাদা করে দেওয়া তথ্য আরও দীর্ঘ সময় থাকতে পারে। জেমিনাই-এর ক্ষেত্রে চ্যাট ডেটা ডিফল্টভাবে ১৮ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণের কথা রয়েছে। ক্লড-এ মুছে দেওয়া চ্যাট সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে অ্যানথ্রোপিক-এর ব্যাক-এন্ড থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। তবে ব্যবহারকারী যদি নিজের চ্যাটকে মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে থাকেন, তাহলে পরিচয়বিহীন কপি দীর্ঘ সময়—সর্বোচ্চ পাঁচ বছর—সংরক্ষিত থাকতে পারে।

    এর অর্থ ছবি ফাঁস হবেই, এমন নয়

    তবে কোনও এআই প্ল্যাটফর্মে ছবি আপলোড করার অর্থ এই নয় যে সেই ছবি অবশ্যই ফাঁস হবে বা অপব্যবহার করা হবে। মূল বিষয়টি হল, ব্যবহারকারীর মুখের আরেকটি ডিজিটাল কপি তখন সংশ্লিষ্ট এআই সংস্থার সার্ভারে রয়েছে এবং সেটি সংস্থার তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারের নীতির আওতায় চলে যাচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ব্যবহারকারী কী ধরনের ছবি আপলোড করছেন এবং কী বিষয়ে এআই-কে প্রশ্ন করছেন—এই তথ্যের ধারাবাহিকতা থেকে তার অভ্যাস, আগ্রহ বা পেশা সম্পর্কে একটি ধারণা তৈরি হতে পারে। নাম বা সরাসরি পরিচয় না থাকলেও এই ধরনের তথ্যের সমন্বয়ে একজন ব্যবহারকারীর একটি বিস্তারিত প্রোফাইল তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এআই পরিষেবাগুলো এখন ই-মেল, কেনাকাটা, ছবি ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের সঙ্গে ক্রমশ বেশি যুক্ত হচ্ছে। ফলে এই প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে থাকা ব্যক্তিগত তথ্যের গুরুত্বও বাড়ছে।

    কীভাবে সতর্ক থাকবেন?

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এআই ট্রেন্ডে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা যেতে পারে—

    পরিচয়পত্র বা অত্যন্ত ব্যক্তিগত নথির ছবি এআই চ্যাটবটে আপলোড না করা।
    শিশু বা অন্য ব্যক্তির ছবি তাদের অনুমতি ছাড়া আপলোড না করা।
    যেখানে সুযোগ রয়েছে, সেখানে এআই মডেল প্রশিক্ষণে নিজের ডেটা ব্যবহারের অনুমতি বন্ধ রাখা।
    সংবেদনশীল তথ্যের ক্ষেত্রে সাময়িক বা প্রাইভেট চ্যাটের সুবিধা ব্যবহার করা।
    প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলে পুরনো চ্যাট ও আপলোড করা ফাইল মুছে ফেলা।
    কোনও এআই অ্যাপে ছবি আপলোড করার আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থার ডেটা ব্যবহারের নীতি ও সংরক্ষণ সংক্রান্ত নিয়ম দেখে নেওয়া।

    এআই চ্যাটবটকে অন্যান্য বহুল ব্যবহৃত অ্যাপের তুলনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেশি বিপজ্জনক বলা যায় না। তবে ব্যবহারকারীদের মনে রাখা জরুরি—এআই পরিষেবায় আপলোড করা তথ্য ব্যক্তিগত হলেও তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পরিবেশে থাকে না। তাই শুধুমাত্র কয়েক সেকেন্ডের মজার ছবি তৈরির জন্য ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো বিবেচনা করাই নিরাপদ।

     

     

     

     

     

  • BRICS Summit 2026: জি-৭-কে পুতিনের কটাক্ষ, বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্রিকসের অবদান ৪০ শতাংশ

    BRICS Summit 2026: জি-৭-কে পুতিনের কটাক্ষ, বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্রিকসের অবদান ৪০ শতাংশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির অর্থনৈতিক শক্তির প্রশংসা করে জি-৭-কে তীব্র কটাক্ষ করলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। নয়াদিল্লিতে ব্রিকস বিজনেস ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, গত পাঁচ বছরে বিশ্বের মোট জিডিপির ৪০ শতাংশেরও বেশি উৎপাদন করেছে ব্রিকস দেশগুলি। সেখানে জি-৭-এর অবদান ২৯ শতাংশ। পুতিন বলেন, একই সময়ে বিশ্ব অর্থনীতির মোট বৃদ্ধির অর্ধেকেরও বেশি এসেছে ব্রিকস দেশগুলি থেকে। জি-৭-এর ক্ষেত্রে এই অবদান মাত্র ১৮ শতাংশ। তাঁর বক্তব্য, ব্রিকস দেশগুলির জনসংখ্যা বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি। ফলে এই দেশগুলির অভ্যন্তরীণ বাজারও অত্যন্ত বড় এবং গতিশীল। জি-৭-কে ‘তথাকথিত জি-৭’ বলেও কটাক্ষ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। জি-৭-এর সদস্য হল আমেরিকা, কানাডা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপান।

    রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা নিয়েও সরব পুতিন

    ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার উপর পশ্চিমী দেশগুলির আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা নিয়েও সরব হন পুতিন। তাঁর দাবি, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ৩০ হাজারেরও বেশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যা বিশ্বের অন্যান্য সমস্ত দেশের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সম্মিলিত সংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। পুতিন বলেন, এত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও রাশিয়া সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব আরও শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে ‘নির্ভরযোগ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য’ অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কও বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, গত তিন বছরে রাশিয়ার অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার বিশ্ব অর্থনীতির গড় বৃদ্ধির হারের তুলনায় বেশি ছিল।

    আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা নীতির সমালোচনা

    আমেরিকার সম্ভাব্য নতুন নিষেধাজ্ঞারও সমালোচনা করেন পুতিন। বিশেষ করে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করা দেশগুলির বিরুদ্ধে ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ বা গৌণ নিষেধাজ্ঞার হুমকি নিয়ে আপত্তি জানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা কখনও কখনও ‘কুৎসিত রূপ’ নেয়। পাইপলাইন ধ্বংস, আন্তর্জাতিক পরিবহণ করিডর অবরুদ্ধ করার চেষ্টা, সামুদ্রিক জাহাজ আটক এবং নিজেদের স্বার্থ অনুসরণ না করা দেশগুলির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকিকে তিনি সেই প্রবণতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।

    ‘পুরনো অর্থনৈতিক শক্তির জায়গা নিচ্ছে নতুন ইঞ্জিন’

    পুতিনের বক্তব্যে উঠে আসে বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রসঙ্গও। তাঁর দাবি, বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে যেসব দেশ বিশ্ব অর্থনৈতিক বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল, তাদের জায়গায় ধীরে ধীরে নতুন অর্থনৈতিক শক্তিগুলি উঠে আসছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, পশ্চিমী দেশগুলির এখনও উন্নত পরিকাঠামো, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, বৈজ্ঞানিক পরিকাঠামো এবং শক্তিশালী গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু তাঁর মতে, বিশ্ব অর্থনীতি স্থির নয়—সময় ও পরিস্থিতির সঙ্গে তার চরিত্রও পরিবর্তিত হয়। শুক্রবারই ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন পুতিন। শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন।

  • BRICS Summit 2026: ব্রিকস সম্মেলনে কূটনীতির পাশাপাশি বন্ধুত্বের বার্তা দেবে ভারতের খাবার, জেনে নিন মেনু

    BRICS Summit 2026: ব্রিকস সম্মেলনে কূটনীতির পাশাপাশি বন্ধুত্বের বার্তা দেবে ভারতের খাবার, জেনে নিন মেনু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে শুরু হয়ে গিয়েছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন (BRICS Summit 2026), ২০২৬। চলবে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সেই উপলক্ষে রাজধানীর তাজমহল হোটেলে বিদেশি প্রতিনিধিদের সামনে ভারতের খাদ্যঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁদের ঘরের স্বাদও ফিরিয়ে দেওয়ার বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে (India Friendship Menu)।

    এই বিশেষ খাদ্যপরিকল্পনার নেতৃত্বে রয়েছেন হোটেলটির প্রধান রন্ধনশিল্পী কৌশিক মিশ্র। কয়েক মাস ধরে গবেষণা ও পরিকল্পনার পর তৈরি হয়েছে এমন এক মেনু, যেখানে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের আঞ্চলিক স্বাদ, পরিচিত ঘরোয়া খাবার এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলির খাদ্যাভ্যাস—সব কিছুকে একসূত্রে বাঁধা হয়েছে।

    কৌশিকের কাছে এই আয়োজন শুধুমাত্র বিপুল সংখ্যক পদ সাজিয়ে পরিবেশন করার বিষয় নয়। তাঁর লক্ষ্য, খাবারকে বন্ধুত্বের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করা। এর মাধ্যমে বিদেশি অতিথিদের ভারতীয় মশলা, ভেষজ উপাদান, ফুল, আঞ্চলিক ঐতিহ্য ও ঘরোয়া রান্নার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের নিজস্ব খাদ্যপছন্দকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    ‘ভারত বন্ধুত্ব মেনু’ (BRICS Summit 2026)

    কৌশিক বলেন, “এই ঐতিহ্য ৪৮ বছর ধরে চলে আসছে। আমাদের কাছে আসা এবং আসতে চলা অতিথিদের জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের খাদ্যভাবনা তৈরি করেছি। আমাদের দেশের নিজস্ব নানা স্বাদ—মশলা, ভেষজ উপাদান এবং ফুলকে মাথায় রেখেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, “প্রতিনিধিরা নিজেদের বাড়িতে যে ধরনের পরিচিত ও স্বস্তিদায়ক খাবার খান, তার সঙ্গে ভারতীয় স্বাদের সমন্বয় ঘটিয়ে আমরা ঘরে বসে খাবারের জন্য ‘ভারত বন্ধুত্ব মেনু’ তৈরি করেছি। এতে দিল্লি এবং গোটা ভারতের বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী পদ রয়েছে। নল্লি নিহারি, বাদাম দিয়ে গোলমরিচের ঝাল ভাজা-সহ আরও বেশ কিছু পদ রাখা হয়েছে।”

    বিদেশি প্রতিনিধিদের পছন্দ ও তাঁদের দেশের খাদ্যসংস্কৃতিকেও এই আয়োজনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত পদ্মফুল, অর্কিড-সহ নানা ফুল ও উপাদান থেকেও নেওয়া হয়েছে ভাবনা। সেই অনুপ্রেরণায় তৈরি হয়েছে বিশেষ ধরনের মিষ্টি, প্রালিন এবং নোনতা খাবার।

    কৌশিক বলেন, “এই উপাদানগুলিকে মাথায় রেখেই প্রালিন, মিষ্টি এবং নোনতা খাবারের সুন্দর নকশা তৈরি করা হয়েছে। আমরা ভারতের একটি মানচিত্রও তৈরি করেছি, যেখানে দেশের বিভিন্ন রাজধানী ও রাজ্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব বিশেষ খাবার রয়েছে—যেমন বিভিন্ন ধরনের নোনতা পদ ও কাজুবাদামের মিষ্টি। এর মাধ্যমে প্রতিনিধিদের ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে কী ধরনের খাবার পাওয়া যায়, সে সম্পর্কে জানানো হচ্ছে।”

    এই আয়োজনের সঙ্গে একটি ব্যাখ্যামূলক নথিও রাখা হয়েছে। সেখানে প্রতিটি খাবার ও উপাদান কেন বেছে নেওয়া হয়েছে এবং সম্মেলনের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী, তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ফলে খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়েই ভারতের বৈচিত্র্যময় খাদ্যসংস্কৃতি সম্পর্কে বিদেশি অতিথিদের ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

    এই সম্পূর্ণ আয়োজনের জন্য তিন থেকে ছ’মাস ধরে গবেষণা করেছে হোটেলের দল। প্রতিনিধিদের পছন্দ-অপছন্দ, তাঁদের পরিচিত খাবার এবং খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পর চূড়ান্ত মেনু তৈরি করা হয়েছে।

    কৌশিক বলেন, “প্রতিটি প্রতিনিধির পছন্দ-অপছন্দ নিয়ে আমরা অনেক গবেষণা করেছি, যাতে তাঁরা খাবার উপভোগ করতে পারেন। আমাদের টিম প্রচুর পরিশ্রম করেছে। ভারতীয় এবং তাঁদের নিজস্ব স্বাদের সমন্বয়ে এমন একটি বিস্তৃত আয়োজন করা হয়েছে, যাতে এখানে এসে তাঁরা দু’দেশের স্বাদই অনুভব করতে পারেন। আমরা অত্যন্ত উৎসাহিত এবং আত্মবিশ্বাসী যে এই আয়োজন তাঁদের মনে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।”

    প্রধান রন্ধনশিল্পীর বাছাই

    শুধু খাবার পরিবেশন করেই থেমে থাকছে না এই উদ্যোগ। প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হবে একটি বিশেষ রান্নার বই। তাতে প্রধান রন্ধনশিল্পীর বাছাই করা বিভিন্ন রান্নার প্রণালী রয়েছে। এর ফলে সম্মেলন শেষ হওয়ার পরেও ভারতীয় খাবারের স্বাদ ও স্মৃতি তাঁদের সঙ্গে দেশে ফিরে যাবে।

    ‘ভারত বন্ধুত্ব মেনু’তে দিল্লির ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের জনপ্রিয় পদ রাখা হয়েছে। নল্লি নিহারি এবং বাদাম দিয়ে গোলমরিচের ঝাল ভাজার মতো পদ যেমন থাকছে, তেমনই থাকছে নানা ধরনের আঞ্চলিক খাবার।

    খাবার পরিবেশনেও ভারতীয় সংস্কৃতির ছাপ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। পদ্মফুল, অর্কিড এবং অন্যান্য ফুল ও উপাদানের অনুপ্রেরণায় তৈরি করা হয়েছে নানা ধরনের মিষ্টি ও নোনতা খাবার। ফলে খাবার শুধু স্বাদের বিষয় থাকছে না, তার উপস্থাপনাও হয়ে উঠছে সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ।

    এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ভারতের বিশেষ খাদ্যমানচিত্র। দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও রাজধানীকে কেন্দ্র করে তৈরি এই মানচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে ভারতের ভৌগোলিক ও খাদ্যবৈচিত্র্য। দেশের একেক অঞ্চলের নিজস্ব খাবারের ঐতিহ্যকে ছোট ছোট বিশেষ পদ বা নোনতা খাবারের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

    প্রধান রন্ধনশিল্পীর কথায়, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য শুধু বিদেশি অতিথিদের আপ্যায়ন করা নয়, তাঁদের ভারতের খাদ্যসংস্কৃতি সম্পর্কে জানানোও। খাবারের সঙ্গে দেওয়া ব্যাখ্যামূলক নথিতে প্রতিটি উপাদান ও রান্নার পেছনের ভাবনা এবং তার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে (BRICS Summit 2026)।

    ব্রিকস সম্মেলনের মূল ভাবনা

    এবারের ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের মূল ভাবনা, “স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ”। উন্নয়ন, স্থায়িত্ব ও উদ্ভাবন সম্মেলনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পাবে।

    উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলির মধ্যে সমন্বয় এবং বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নশীল বিশ্বের স্বার্থ তুলে ধরার ক্ষেত্রে ব্রিকস বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে উঠে এসেছে। উন্নয়ন, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ—বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই জোটে আলোচনা হয়।

    ব্রিকসের সদস্য দেশ

    বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য দেশ ১১টি—ব্রাজিল, চিন, মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। সম্মিলিতভাবে এই দেশগুলির হাতে রয়েছে বিশ্বের প্রায় ৪৯.৫ শতাংশ জনসংখ্যা, ৪০ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন এবং ২৬ শতাংশ বৈশ্বিক বাণিজ্য।

    এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আবহে নয়াদিল্লির অন্যতম ঐতিহ্যবাহী হোটেলের রান্নাঘরও যেন কূটনীতির একটি নরম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। খাবারের মাধ্যমে ভারতের পরিচয়কে বিদেশি প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁদের নিজেদের স্বাদ ও খাদ্যাভ্যাসের প্রতিও সম্মান দেখানো হচ্ছে।

    ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের বিশেষ খাবারের সঙ্গে বিদেশি অতিথিদের পরিচিত স্বাদের মেলবন্ধন ঘটিয়ে এমন এক অভিজ্ঞতা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে, যেখানে নতুনত্বের পাশাপাশি থাকবে পরিচিতির স্বস্তিও (India Friendship Menu)।

    আর এই পুরো আয়োজনের সবচেয়ে ব্যক্তিগত ও আবেগঘন সংযোজন সম্ভবত সেই রান্নার বই। কৌশিকের বক্তব্য, বইটিতে তাঁদের মায়েদের রান্নার প্রণালীও রয়েছে। ফলে এটি শুধু একটি উপহার নয়, সম্মেলন শেষে প্রতিনিধিদের সঙ্গে (BRICS Summit 2026) দেশে ফিরে যাওয়া এক টুকরো স্মৃতিও।

     

  • XI Jinping: ব্রিকস সম্মেলনে যোগ, দিল্লিতে প্রেসিডেন্ট জিনপিং, মোদির সঙ্গে বৈঠকের আগে সহযোগিতার বার্তা

    XI Jinping: ব্রিকস সম্মেলনে যোগ, দিল্লিতে প্রেসিডেন্ট জিনপিং, মোদির সঙ্গে বৈঠকের আগে সহযোগিতার বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে শনিবার ভারতে পৌঁছলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (XI Jinping)। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদ। জিনপিংকে স্বাগত জানাতে উত্তর-পূর্ব ভারত-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যের সাংস্কৃতিক দল ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন করে (BRICS Summit)।

    বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানানো হয়েছে, “১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে আগত গণপ্রজাতন্ত্রী চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে উষ্ণ স্বাগত। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদ। ব্রিকস যখন সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং আরও ভারসাম্যপূর্ণ, প্রতিনিধিত্বশীল ও বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্ব গঠনে অবদান রাখছে, তখন আমরা গঠনমূলক আলোচনার দিকে তাকিয়ে রয়েছি।”

    জিনপিংয়ের সঙ্গী (XI Jinping)

    জিনপিংয়ের সঙ্গে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ দফতরের পরিচালক ছাই ছি এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ও কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ওয়াং ই-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক রয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়ে আশাব্যঞ্জক বার্তা দিয়েছেন চিনের সাংবাদিক ওয়েনতিং শিয়ে। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করলে তা ভারত ও চিন—উভয়েরই স্বার্থ রক্ষা করবে।

    তিনি বলেন, “চিন ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নত করার জন্য এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সুযোগ। দুই দেশই বৃহৎ উন্নয়নশীল দেশ এবং বিশ্ব দক্ষিণের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। আমার মনে হয়, চিন ও ভারত একসঙ্গে কাজ করলে দুই দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা হবে এবং বিশ্ব দক্ষিণের উন্নয়নেও তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”

    তিনি আরও বলেন, “চিন ভারতের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে প্রস্তুত। যোগাযোগ আরও জোরদার করা, সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, মতপার্থক্যগুলি যথাযথভাবে সামাল দেওয়া এবং একে অপরের সাফল্যে সহায়ক অংশীদার হিসেবে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। দুই দেশেরই উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। চিন ও ভারতের সহযোগিতা বিশ্ব দক্ষিণের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। আর গ্লোবাল সাউথও সেটিই দেখতে চায় (XI Jinping)।”

    চিনা সংবাদ সংস্থা শিনহুয়ার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে যে ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন জিনপিং, ব্রিকস সম্মেলনেও গ্লোবাল সাউথের সহযোগিতা নিয়ে একই ধরনের উদ্যোগের কথা তিনি তুলে ধরতে পারেন।

    দায়িত্বে চিন

    ২০২৭ সালে ব্রিকসের পর্যায়ক্রমিক সভাপতিত্বের দায়িত্ব নেবে চিন। চিনা সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, প্রকৃত বহুপাক্ষিকতার মাধ্যমে ঐক্যের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা এবং সহযোগিতার বিভিন্ন মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন কৌশলের মধ্যে আরও বেশি সমন্বয় গড়ে তোলার চেষ্টা করবে চিন।

    একই সঙ্গে অভিন্ন উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বিশ্ব উন্নয়ন উদ্যোগ, বিশ্ব নিরাপত্তা উদ্যোগ, বিশ্ব সভ্যতা উদ্যোগ এবং বিশ্ব শাসন উদ্যোগের মতো কর্মসূচির উপরও জোর দেওয়া হবে। ডিজিটাল অর্থনীতি, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, দারিদ্র্য হ্রাস এবং কৃষির উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির লক্ষ্যে কাজ করবে চিন।

    এদিকে, ভারতের আয়োজনে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের মূল ভাবনা— “সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের জন্য নির্মাণ”। এই ভাবনায় বিদ্যমান সাফল্যগুলিকে আরও শক্তিশালী করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা বৃদ্ধির উপর ভারতের গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়েছে।

    সম্মেলনের আলোচনায় উন্নয়ন, স্থায়িত্ব এবং উদ্ভাবনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গ্লোবাল সাউথের আকাঙ্ক্ষাকেও সামনে রাখা হয়েছে। ভারত ব্রিকসকে (BRICS Summit) আরও গঠনমূলক এবং সমস্যা সমাধানমুখী আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবে শক্তিশালী করতে চায় বলেই অভিমত (XI Jinping) বিশেষজ্ঞদের।

     

  • Modi Pezeshkian Meet: পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি, নাবিকদের সুরক্ষায় জোর মোদির! ব্রিকসের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক

    Modi Pezeshkian Meet: পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি, নাবিকদের সুরক্ষায় জোর মোদির! ব্রিকসের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের অবসানে ফের সংলাপ ও কূটনীতির উপর জোর দিল ভারত। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের (BRICS Summit New Delhi) ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian)-এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানেই তিনি বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সব সমস্যার সমাধান আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই করতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ নৌ চলাচল, বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ এবং সমুদ্রযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। দিল্লিতে পেজেশকিয়ান (Modi Pezeshkian Meet) পৌঁছনোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে এই বৈঠক হয়। প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটাই তাঁর প্রথম ভারত সফর। মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যে মোদি ও পেজেশকিয়ানের এটি দ্বিতীয় বৈঠক।

    পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

    বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা (India Iran Relations)। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) তরফে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ফের ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছেন—পশ্চিম এশিয়ার সমস্ত সমস্যার সমাধান সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে করতে হবে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ‘‘অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’’ পাশাপাশি নৌ চলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতা বজায় রাখা এবং সমুদ্রযাত্রীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। শুক্রবারের বৈঠকেও ভারতীয় পক্ষের তরফে জাহাজ চলাচল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ বজায় রাখার গুরুত্ব ফের তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কথা

    আলোচনায় আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ রক্ষা, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং সাগরে থাকা নাবিকদের নিরাপত্তার উপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য নিরবচ্ছিন্ন আন্তর্জাতিক প্রয়াসের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল, আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্য রক্ষা এবং জাহাজে কর্মরত নাবিকদের জীবন ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।” উল্লেখ্য, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে বহু ভারতীয় নাবিক এবং বাণিজ্যিক জাহাজ আন্তর্জাতিক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইরানের হরমুজ প্রণালী অবরোধের জেরে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট পেট্রোলিয়াম সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ যাতায়াত করে। ফলে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের উপরও গভীর প্রভাব ফেলছে।

    ভারত-ইরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক

    বৈঠকে ভারত-ইরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ব্রিকসের বিভিন্ন বৈঠকে ইরানের নিয়মিত ও উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণের জন্য পেজেশকিয়ানকে ধন্যবাদ জানান মোদি। তিনি ব্রিকস বিজনেস ফোরামের ‘লিডার্স সেশন’-এ অংশগ্রহণের জন্যও পেজেশকিয়ানকে ধন্যবাদ জানান। গ্লোবাল সাউথের (Global South) দেশগুলির মধ্যে সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের মানসিকতা গড়ে তুলতে ব্রিকস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বহুপাক্ষিক বিভিন্ন সংগঠনে, বিশেষ করে ব্রিকসের মতো মঞ্চে, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভারত ও ইরানের মধ্যে চলমান সহযোগিতারও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

    ভারতকে বিশেষ আহ্বান পেজেশকিয়ানের 

    দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে মোদি এবং পেজেশকিয়ানের মধ্যে এটি ছিল দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠক। এর আগে গত ৩১ আগস্ট বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মোদি। সেই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের অবসানে সমস্ত প্রচেষ্টাকে ভারত সমর্থন করে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক মঞ্চে ভারত ও ইরানের যৌথ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে পেজেশকিয়ান ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন পক্ষের বিস্তৃত যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে মোদিকে যুদ্ধ ও রক্তপাতের পথ থেকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে সরিয়ে সংলাপ ও সমঝোতার পথে ফেরাতে ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

    শান্তি ও কূটনীতির অনন্য ছবি

    নয়াদিল্লির ব্রিকস বিজনেস সামিট থেকে সামনে আসা একটি অনন্য ছবি এখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ফ্রেমে দেখা গেছে, বিভক্ত ও সংঘাতপূর্ণ বিশ্বের মাঝে দাঁড়িয়ে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানের প্রতীক হয়ে উঠেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে দেখা যায়, তিনি একহাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের হাত ধরে আছেন, আর তাঁদের পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। ছবিটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ একদিকে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্য বিঘ্নিত হচ্ছে, আর অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা বিশ্বের একের পর এক নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে রাশিয়া। কিন্তু ভারত অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে যেমন ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক ও কৌশলগত মিত্রতা বজায় রেখেছে, তেমনই অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমা শক্তিগুলির সঙ্গে নিজেদের সুদৃঢ় স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ অক্ষুণ্ণ রেখেছে।

    সমস্ত বিরোধী মেরুর দেশের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা

    নয়াদিল্লি বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে – ভারত বিশ্বের কোনও ভূরাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় বা নিষ্ফল নিরপেক্ষ নয়, বরং ভারত সবসময় সরাসরি ‘শান্তির পক্ষে’ দাঁড়ায়। কোনও বিশেষ শক্তিশালী বলয়ে বা ক্যাম্পে যোগ না দিয়ে ভারত পৃথিবীর সমস্ত বিরোধী মেরুর দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও সংলাপের পথ খোলা রেখেছে। নয়াদিল্লির ব্রিকস সম্মেলন এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং মার্কিন বাণিজ্য ও শুল্কনীতির প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে।

  • BRICS Summit Modi Putin: রুশ সফরে মোদিকে আমন্ত্রণ পুতিনের! ‘ফোর্ট্রেস অন হুইলস’-এ জমল কূটনীতির উষ্ণতা

    BRICS Summit Modi Putin: রুশ সফরে মোদিকে আমন্ত্রণ পুতিনের! ‘ফোর্ট্রেস অন হুইলস’-এ জমল কূটনীতির উষ্ণতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কূটনীতি সাধারণত বৈঠকের টেবিলেই হয়। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই ছবিও। এবার সেই কূটনীতির সাক্ষী হল একটি বিলাসবহুল সাঁজোয়া গাড়ি। দিল্লিতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাঁজোয়া অরাস সেনেট লিমুজিনে একসঙ্গে সফর করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পুতিন (BRICS Summit Modi Putin)। ১১ সদস্যের ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের এক দিন আগে এই দৃশ্য ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর দুই নেতা একই গাড়িতে করে দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ইনোপ্রোম (INNOPROM) প্রদর্শনীতে যান। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের ব্যবহৃত গাড়ি-কে নিরাপত্তার কারণে প্রায়ই ‘ফোর্ট্রেস অন হুইলস’ বা ‘চাকার উপর দুর্গ’ বলা হয়। গত বছর চিনে সাংহাই কর্পোরেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের সময়ও মোদিকে পুতিনের সঙ্গে এই গাড়িতে সফর করতে দেখা গিয়েছিল।

    মোদি-পুতিন বিশেষ বৈঠক

    ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১১ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা হয়। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশ, দক্ষতা ও কর্মী চলাচল এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ—সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন দুই রাষ্ট্রনেতা। চলতি বছরে এটি মোদি ও পুতিনের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। এর আগে ৩১ অগস্ট ২০২৬-এ বিশকেকে ২৬তম সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে তাঁদের বৈঠক হয়েছিল। বৈঠকে ভারত-রাশিয়া বাণিজ্য ও শিল্প সহযোগিতা আরও বাড়ানোর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। রাশিয়ার আন্তর্জাতিক শিল্প প্রদর্শনী ‘INNOPROM India’-কে স্বাগত জানান দুই নেতা। ৯ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো ভারতে আয়োজিত এই শিল্প প্রদর্শনী দুই দেশের বাণিজ্যিক ও শিল্প সম্পর্ক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তাঁরা। মোদি ও পুতিন দু’জনেই প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করেন এবং সেখানে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন।

    বন্ধু পুতিনকে বিশেষ উপহার মোদির

    ইনোপ্রোম (INNOPROM) হল আন্তর্জাতিক শিল্প প্রদর্শনী। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নির্মাতা ও ক্রেতাদের একত্রিত করার পাশাপাশি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করাই এই প্রদর্শনীর অন্যতম উদ্দেশ্য। এর আগে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পুতিনকে বিশেষ উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি রুশ প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দেন প্রাচীন তামিল শাস্ত্র ‘তিরুক্কুরাল’-এর রুশ অনুবাদ। তাঁতিবংশের সাধক ও কবি তিরুবল্লুভরের রচিত এই গ্রন্থে মানবজীবনের বিভিন্ন দিকের কথা তুলে ধরা হয়েছে। পুতিনকে উপহার দেওয়ার সময় মোদি বলেন, প্রায় দু’হাজার বছর আগে তিরুবল্লুভর ‘তিরুক্কুরাল’ রচনা করেছিলেন। মানবজীবনের বিভিন্ন দিক এই গ্রন্থে উঠে এসেছে। রুশ ভাষায় এর অনুবাদ ভারত ও রাশিয়ার মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়াবে এবং দুই দেশের সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী। পরে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে মোদি লেখেন, মহান তিরুবল্লুভরের চিরন্তন জ্ঞানকে ভাষা ও দেশের সীমানা পেরিয়ে পৌঁছে দিতে পুতিনকে ‘তিরুক্কুরাল’-এর রুশ অনুবাদ উপহার দিয়েছেন তিনি।

    ভারত ও রাশিয়া দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক

    ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লির বৈঠকে দুই নেতাকে হাসিমুখে পরস্পরের সঙ্গে কথা বলতে এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দেখা যায়। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ভারত-রাশিয়ার ‘স্পেশাল অ্যান্ড প্রিভিলেজড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ (Special and Privileged Strategic Partnership)-এর বিভিন্ন দিক নিয়ে মোদি ও পুতিনের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ—সহ একাধিক ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন তাঁরা। উল্লেখ্য, পুতিন শেষবার ভারত সফরে এসেছিলেন ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে। তবে চলতি মাসের শুরুতেই কিরগিজস্তানে এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে ফের মুখোমুখি বৈঠক হয়েছিল মোদী-পুতিনের। এবার দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের আগে তাঁদের বৈঠক এবং একই গাড়িতে সফর ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের উষ্ণতার নতুন ছবি তুলে ধরল।

    পশ্চিম এশিয়া এবং কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল নিয়ে আলোচনা

    এছাড়াও পশ্চিম এশিয়া এবং কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল-সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই রাষ্ট্রনেতা। পশ্চিম এশিয়া ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাতের কারণে সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রভাবিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। সংঘাতের সমাধানে আলোচনা ও কূটনীতিকেই এগিয়ে যাওয়ার পথ হিসেবে ভারত সমর্থন করে বলে ফের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় ভারত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

    রাশিয়া সফরে মোদিকে আমন্ত্রণ পুতিনের

    বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল রুশ প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণ। পুতিন প্রধানমন্ত্রী মোদিকে রাশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেখানে অনুষ্ঠিত হবে ২৪তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন। মোদী সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। দুই দেশের কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে সম্মেলনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে। বৈঠকে বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে ভারত-রাশিয়ার সহযোগিতা নিয়েও মতবিনিময় করেন মোদি ও পুতিন। বিশেষ করে ২০২৬ সালে ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের সময়ে দুই দেশের সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়। তিন দিনের ভারত সফরে শুক্রবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছন পুতিন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কে ভি সিং। পুতিনের সঙ্গে রয়েছেন উচ্চপর্যায়ের রুশ প্রতিনিধি দল। তাঁর এই সফরে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

  • Modi-Xi Meet: মোদি-জিনপিং বৈঠকে গুরুত্ব বাণিজ্য ও সীমান্ত পরিস্থিতিকে, শনিবার ভারতে আসছেন চিনা প্রেসিডেন্ট

    Modi-Xi Meet: মোদি-জিনপিং বৈঠকে গুরুত্ব বাণিজ্য ও সীমান্ত পরিস্থিতিকে, শনিবার ভারতে আসছেন চিনা প্রেসিডেন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ সাত বছর পর ভারতে আসছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Modi-Xi Meet)। আগামী ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণেই তাঁর এই সফর। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, শনিবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন মোদি। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের আলোচনায় বাণিজ্য, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেতে পারে। চিনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ৬৭ সদস্যের সরকারি প্রতিনিধিদল ভারতে আসছে। এই দলে রয়েছেন চিনের কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য এবং শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কাই চি এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। পাশাপাশি পৃথক একটি বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদলও ভারতে আসবে।

    মোদির আমন্ত্রণেই ভারতে শি

    প্রায় ২৪ ঘণ্টার ঝটিকা সফরে ভারতে থাকবেন শি। শনিবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তাঁর ভারতে পৌঁছনোর কথা। পরদিন রবিবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে তিনি ভারত ছাড়বেন। শনিবার দুপুর ২টা নাগাদ ভারত মণ্ডপমে তাঁকে এবং অন্যান্য রাষ্ট্রনেতাকে স্বাগত জানাবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, ব্রিকসের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধানমন্ত্রী মোদির দেওয়া নৈশভোজের আগে দুই নেতার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে। নৈশভোজেও উপস্থিত থাকবেন শি জিনপিং। গালওয়ান সংঘর্ষের পরে প্রথম ভারত সফরে আসছেন জিনপিং। গোটা বিশ্বের নজর থাকবে মোদি-জিনপিং বৈঠকের দিকে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা, কূটনৈতিক দূরত্ব এবং অর্থনৈতিক টানাপড়েনের পর ভারত ও চিন উভয় দেশ সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করতে পারে এই বৈঠকে।

    ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন

    শেষ বার সাত বছর আগে ২০১৯ সালে ভারতে এসেছিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট। তার পরের বছরেই পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে চিনের ফৌজ। রক্তক্ষয়ী ওই সংগ্রামে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান নিহত হন। চিন সরকারি ভাবে তাদের বাহিনীর চার জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করে। ওই সংঘর্ষের পর থেকেই ভারত এবং চিনের পারস্পরিক সম্পর্কের দ্রুত অবনতি হয়। এই অবস্থায় দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে জিনপিংয়ের ভারত সফর তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও প্রশ্ন উঠছে, ১৯৬২-র যুদ্ধের পর থেকে শুরু হওয়া অবিশ্বাসের কাঁটা, যা ২০২০ সালে গালওয়ানে দুই দেশের সেনার মধ্যে সংঘর্ষে কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অরুণাচল সীমান্তের অঞ্চলের দখলদারি নিয়েও দ্বন্দ্ব অব্যাহত। এর পরেও কি মধ্যপ্রাচ্যের একটানা চলা যুদ্ধের আবহে এশিয়ার দুই শক্তিশালী দেশ মধ্যবর্তী কোন সমঝোতায় আসবে?

    বাণিজ্যে ভারসাম্যের বার্তা দিতে পারেন মোদি

    ভারত-চিন সম্পর্কের সাম্প্রতিক উন্নতির মধ্যেও বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ রয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি চিনের বাজারে ভারতীয় পণ্যের জন্য আরও ন্যায্য ও সমান সুযোগ, সরবরাহ শৃঙ্খলের নির্ভরযোগ্যতা এবং দুই দেশের বাণিজ্যে ভারসাম্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। দুই দেশই অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহী। ফলে শি জিনপিংয়ের সফরকে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    আলোচনায় সীমান্ত সমস্যাও

    বাণিজ্যের পাশাপাশি সীমান্ত পরিস্থিতিও মোদি-শি বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। ২০২০ সালের পূর্ব লাদাখের সামরিক সংঘাতের পর ভারত ও চিনের মধ্যে সম্পর্কের যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, ২০২৪ সালে কাজানে মোদি-শি বৈঠকের পর তার বরফ গলতে শুরু করে। দুই দেশের সেনার সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নকরণ এবং সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। কাজান বৈঠকের পর দুই দেশ সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতের অবস্থান হল, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নতির পূর্বশর্ত। এরপর বিশেষ প্রতিনিধিরা তিন দফা সীমান্ত বৈঠক করেছেন। চলতি বছরের অগস্টে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বৈঠকে সীমান্ত নির্ধারণ ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে দ্রুত ও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির জন্য আলোচনার কাঠামো চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত-সহ মোট আটটি বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

    সম্পর্কের বরফ গলাতে গুরুত্বপূর্ণ

    গত বছর সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চিন সফর করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেই সফরেও শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি। দুই নেতার ধারাবাহিক বৈঠকে ভারত-চিন সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছে। দুই দেশের নেতাই ভারত ও চিনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার’ হিসেবে দেখার বার্তা দিয়েছেন। এবার শি জিনপিংয়ের ভারত সফর চিনের কাছেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আগামী বছর ব্রিকসের সভাপতিত্ব করবে চিন, ভারতের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করবে তারা। ফলে ব্রিকসের পাশাপাশি ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও এই সফরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কাই চির সঙ্গেও এর আগে প্রধানমন্ত্রী মোদির বৈঠক হয়েছে। সেই সময় দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানো এবং দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চিনের আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন কাই।

     

     

     

     

  • Modi Putin Meeting: এস-৪০০, এসইউ-৫৭ থেকে ব্রহ্মোস— শুক্রবার মোদি-পুতিন বৈঠকে প্রতিরক্ষায় হতে পারে বড় সিদ্ধান্ত

    Modi Putin Meeting: এস-৪০০, এসইউ-৫৭ থেকে ব্রহ্মোস— শুক্রবার মোদি-পুতিন বৈঠকে প্রতিরক্ষায় হতে পারে বড় সিদ্ধান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিল্লিতে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই বৈঠক হতে চলেছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আগে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্ব। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, জ্বালানি, পরমাণু সহযোগিতা থেকে শুরু করে পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি—একাধিক বিষয়ে আলোচনা হতে পারে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে।

    মোদি-পুতিন বৈঠকে বড় অংশ জুড়ে থাকবে প্রতিরক্ষা

    তবে মোদি-পুতিন বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাই বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে যৌথ উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং যৌথ উন্নয়নের দিকে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাশিয়ার এসইউ-৫৭ পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এবং ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির পরবর্তী পর্যায়।

    এস-৪০০-এর শেষ ইউনিট কবে? বড় প্রশ্ন বৈঠকে

    মোদি-পুতিন আলোচনায় সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়গুলির মধ্যে অন্যতম হতে পারে এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বাকি থাকা শেষ ইউনিটের সরবরাহ। ২০১৮ সালে প্রায় ৫.৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তিতে রাশিয়ার কাছ থেকে পাঁচটি এস-৪০০ ব্যবস্থা কেনার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। এর মধ্যে চারটি ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই ভারতে এসে পৌঁছেছে। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পঞ্চম এবং শেষ ইউনিটের সরবরাহে বিলম্ব হয়েছে।

    তবে মস্কো যে চুক্তির প্রতিশ্রুতি পূরণে এখনও দায়বদ্ধ, তা স্পষ্ট করেছে ক্রেমলিন। সম্প্রতি ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও জানিয়েছেন, রাশিয়া চুক্তি অনুযায়ী নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে। ভারতের জন্য এস-৪০০-এর গুরুত্বও যথেষ্ট বেশি। দীর্ঘ পাল্লায় বিমান এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের মতো আকাশপথের হুমকি শনাক্ত ও প্রতিহত করার ক্ষমতার কারণে এটি ভারতের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে শেষ এস-৪০০ ইউনিটের সরবরাহের সময়সূচি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    এসইউ-৫৭: শুধু যুদ্ধবিমান কেনা নয়, প্রযুক্তি হস্তান্তরেও নজর ভারতের

    মোদি-পুতিন বৈঠকে আরেকটি বড় বিষয় হতে পারে রাশিয়ার এসইউ-৫৭ পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান। ভারতের বাজারে এসইউ-৫৭-কে দীর্ঘদিন ধরেই তুলে ধরছে মস্কো। কিন্তু ভারতের আগ্রহ শুধু সরাসরি যুদ্ধবিমান কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। বরং প্রযুক্তি হস্তান্তর, দেশে উৎপাদন এবং ভারতীয় অস্ত্র ও প্রযুক্তির সঙ্গে রুশ যুদ্ধবিমানের সংযুক্তি—এই বিষয়গুলি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    ভারত গত কয়েক বছরে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এসইউ-৫৭ নিয়ে কোনও সম্ভাব্য চুক্তি হলে তার মূল্যায়ন শুধু কতগুলি বিমান কেনা হবে, সেই প্রশ্নে আটকে থাকবে না। ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে—কতটা প্রযুক্তি দেশে আসবে, উৎপাদনে ভারতীয় সংস্থাগুলির ভূমিকা কতটা থাকবে এবং ভবিষ্যতে এই যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে ভারত কতটা স্বাধীনতা পাবে। অর্থাৎ, এসইউ-৫৭ নিয়ে আলোচনা হলে তা ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে ক্রেতা-বিক্রেতা সম্পর্ক থেকে প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বের দিকে নিয়ে যাওয়ার একটি সম্ভাব্য পদক্ষেপ হতে পারে।

    ব্রহ্মোসে এবার নতুন ক্ষমতা, নতুন বাজারের লক্ষ্য

    ভারত ও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সবচেয়ে সফল উদাহরণগুলির একটি হল ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। দুই দেশ যৌথভাবে তৈরি করা এই ক্ষেপণাস্ত্র ইতিমধ্যেই ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠেছে। এবার ব্রহ্মোসের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

    ক্রেমলিনের তরফে ইতিমধ্যেই ব্রহ্মোসের উন্নয়ন এবং নতুন ক্ষমতা যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সামনে আসছে ব্রহ্মোস-এনজি—বর্তমান ব্রহ্মোসের তুলনায় ছোট ও হালকা সংস্করণ।এই কমপ্যাক্ট সংস্করণের অন্যতম সুবিধা হতে পারে আরও বেশি সংখ্যক যুদ্ধবিমানে এটিকে সংযুক্ত করার সুযোগ। ভারতের দেশীয় তেজস-এর মতো তুলনামূলক হালকা যুদ্ধবিমানেও এর ব্যবহার সম্ভব হলে ভারতীয় বিমানবাহিনীর আকাশভিত্তিক আক্রমণক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।

    শুধু ভারতীয় বাহিনীর প্রয়োজন নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও ব্রহ্মোসের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার দিকে নজর রয়েছে দুই দেশের। যৌথ উৎপাদন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং তৃতীয় দেশে রফতানি—এই মডেল ভবিষ্যতে ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।

    ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের নতুন মডেল: অস্ত্র কেনা থেকে যৌথ উৎপাদন

    ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বিপুল সংখ্যক প্ল্যাটফর্ম ও অস্ত্র ব্যবস্থার সঙ্গে রুশ প্রযুক্তির দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই সম্পর্কের চরিত্রও বদলাচ্ছে। ভারত এখন চায় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানির পাশাপাশি দেশের মাটিতে উৎপাদন, প্রযুক্তি অর্জন, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং রফতানি সক্ষমতা বাড়াতে।

    অন্যদিকে, রাশিয়াও শুধুমাত্র অস্ত্র বিক্রির পরিবর্তে যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তি ভাগাভাগি, উৎপাদন এবং তৃতীয় দেশের বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।  ব্রহ্মোস এই পরিবর্তিত মডেলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। বিশেষ করে ফিলিপিন্স ব্রহ্মোসের প্রথম বিদেশি ক্রেতা হওয়ার পর ভারতীয় প্রতিরক্ষা রফতানির ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পের গুরুত্ব বেড়েছে।

    ইউক্রেন যুদ্ধের পরও কেন গুরুত্বপূর্ণ রাশিয়া?

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে মস্কোর সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় সরবরাহ এবং রসদ সংক্রান্ত নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ভারত তার প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উৎস আরও বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করছে। তারপরও রাশিয়া ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অংশীদার।

    এই বাস্তবতায় মোদি-পুতিন বৈঠকের গুরুত্ব শুধু নতুন কোনও অস্ত্র চুক্তির সম্ভাবনায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং পুরনো চুক্তিগুলির বাস্তবায়ন, সরবরাহ ব্যবস্থার স্থায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার কাঠামো—সবই আলোচনায় আসতে পারে। বিশেষ করে এস-৪০০-এর শেষ ইউনিটের সরবরাহ এবং ভবিষ্যতের যৌথ উৎপাদন প্রকল্পগুলি নিয়ে স্পষ্টতা দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের পরবর্তী দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

    ব্রিকসের আগে মোদি-পুতিন বৈঠক, নজরে ভূ-রাজনীতিও

    ১১ সেপ্টেম্বর মোদি-পুতিন বৈঠকের পরই ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বসবে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। সেখানে বিশ্বের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনেতার উপস্থিতি প্রত্যাশিত। তাঁদের মধ্যে থাকবেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও। ফলে মোদি-পুতিন বৈঠককে শুধু দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা আলোচনার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে ছবির একটি বড় অংশ বাদ পড়বে।

    প্রতিরক্ষার পাশাপাশি বাণিজ্য, জ্বালানি, পরমাণু সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হতে পারে। বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যে ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক কোন পথে এগোবে, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আসতে পারে এই বৈঠক থেকে।

    প্রতিরক্ষায় দ্বিপাক্ষিক প্রযুক্তি ও শিল্প সহযোগিতায় জোর

    এস-৪০০-এর বাকি সরবরাহ, এসইউ-৫৭-এর প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ব্রহ্মোসের নতুন সংস্করণ ও রফতানি—তিনটি বিষয়ই আলাদা হলেও এর মধ্যে একটি অভিন্ন সূত্র রয়েছে। সেটি হল—ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে শুধুমাত্র অস্ত্র কেনাবেচার সম্পর্ক থেকে আরও গভীর প্রযুক্তিগত ও শিল্প সহযোগিতার দিকে নিয়ে যাওয়া। মোদি-পুতিন বৈঠকে সেই পরিবর্তনের কতটা স্পষ্ট রূপরেখা সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর প্রতিরক্ষা মহলের।

LinkedIn
Share