Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • SIR: এসআইআর-এর তিন নির্দেশই সর্বসম্মত! ফর্ম ৬-এ কোনও সংশোধন হয়নি, সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা নির্বাচন কমিশনের

    SIR: এসআইআর-এর তিন নির্দেশই সর্বসম্মত! ফর্ম ৬-এ কোনও সংশোধন হয়নি, সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা নির্বাচন কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে জারি করা এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত তিনটি নির্দেশই সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছিল বলে সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় দাবি করেছে কমিশন। একই সঙ্গে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ব্যবহৃত ফর্ম-৬ (Form 6)-এ কোনও সংশোধন করা হয়নি বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার রাতে সুপ্রিম কোর্টে এই হলফনামা জমা দেয় নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ তুলে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলার জবাবে এই বক্তব্য পেশ করা হয়েছে। মামলাকারীদের অভিযোগ, খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩.৩৬ কোটি নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে এই সিদ্ধান্তগুলির সম্পর্ক রয়েছে। উপনির্বাচন কমিশনারের স্বাক্ষরিত এই যৌথ হলফনামাটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং দুই নির্বাচন কমিশনারের তরফে জমা দেওয়া হয়েছে। আজ, মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত এই মামলা এবং অন্যান্য আবেদনগুলির শুনানি হওয়ার কথা।

    এসআইআর-এর সিদ্ধান্ত নিয়ে কী জানাল কমিশন?

    নির্বাচন কমিশনের দাবি, ২০২৫ সালের ২৪ জুন, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর এবং ২০২৬ সালের ১৪ মে জারি করা SIR সংক্রান্ত নির্দেশগুলি যথাযথ অনুমোদন নিয়েই কার্যকর করা হয়েছিল। কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে হলফনামায় বলা হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের মতামত ও পরামর্শ বিবেচনা করার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোনও ক্ষেত্রে সর্বসম্মতিক্রমে, আবার কোনও ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে। হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, কোনও নির্বাচন কমিশনারের পর্যবেক্ষণ বা প্রশ্নকে একা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য করা যায় না। ২০২৩ সালের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের নিয়ে তৈরি (Appointment, Conditions of Service and Term of Office) আইনের ১৮ নম্বর ধারার উল্লেখ করে এই বক্তব্য পেশ করেছে কমিশন। জরুরি পরিস্থিতিতে কমিশনের সদস্যদের কাছ থেকে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অনুমোদন নেওয়া হয় এবং পরে তা সংশ্লিষ্ট নথিতে নথিভুক্ত করা হয় বলেও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নির্বাচন কমিশন।

    ফর্ম ৬ সংশোধন নিয়ে কী দাবি কমিশনের?

    এসআইআর বিতর্কে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ ছিল, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন ছাড়াই নির্বাচন কমিশন ফর্ম ৬ (Form 6)-এ পরিবর্তন এনেছে। এই ফর্মের মাধ্যমে নতুন ভোটাররা ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করেন। হলফনামায় কমিশনের দাবি, ফর্ম ৬-এ কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। বরং ভোটারদের দেওয়া তথ্য যাচাই এবং পূর্ববর্তী ভোটার তালিকার সঙ্গে তাঁদের যোগসূত্র প্রতিষ্ঠার জন্য একটি পৃথক ঘোষণাপত্র বা ডিক্লারেশন ফর্ম চালু করা হয়েছিল। এই ঘোষণাপত্রে আবেদনকারীরা নিজেদের অথবা বাবা-মা কিংবা দাদু-দিদা বা ঠাকুরদা-ঠাকুমার পূর্ববর্তী নিবিড় সংশোধনের সময়কার ভোটার তালিকায় থাকা তথ্য দিতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট যোগসূত্রের তথ্য পাওয়া না গেলে নির্ধারিত সহায়ক নথি জমা দিতে হতে পারে। বিহারে এসআইআর পরিচালনার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ঘোষণাপত্রের কাঠামো সহজ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে কমিশন। এর উদ্দেশ্য ছিল আবেদনকারীদের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং ভোটার তালিকার সঙ্গে তাঁদের যোগসূত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া দ্রুত করা। তবে অনলাইনে ফর্ম ৬ পূরণের সময় ঘোষণাপত্রটি যেভাবে দেখানো হচ্ছিল, তাতে মনে হতে পারে যে মূল ফর্মটিতেই সংশোধন আনা হয়েছে—হলফনামায় এই বিষয়টি স্বীকার করেছে কমিশন। এই বিভ্রান্তি দূর করতে ২০২৬ সালের ২১ অক্টোবর জারি করা নির্দেশের মাধ্যমে অনলাইনে ফর্ম ৬ পূরণের পদ্ধতি পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন ঘোষণাপত্রটি পৃথক অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে, যেমনটি কাগজে পূরণ করা ফর্মের ক্ষেত্রে করা হয়। এর ফলে আবেদনকারীদের একবারই ওটিপি এবং ই-সই ব্যবহার করতে হবে বলে আগে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে কমিশন।

    ভোটারদের নাম বাদ পড়া আটকাতে কী ব্যবস্থা?

    এসআইআর-এর কারণে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা নিয়েও নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দাবি, প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা রাখা হয়েছে। খসড়া ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম নেই এবং যাঁদের তথ্য পূর্ববর্তী ভোটার তালিকার সঙ্গে মেলানো যাচ্ছে না, তাঁদের ক্ষেত্রে ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ERO) নোটিস দিতে হবে। এ ছাড়া, বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-রা সংশ্লিষ্ট ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করবেন এবং তা যাচাইয়ের জন্য আপলোড করবেন। এই ধরনের ভোটারদের সশরীরে শুনানিতে হাজির হওয়ার প্রয়োজন হবে না বলেও জানিয়েছে কমিশন। প্রয়োজন অনুযায়ী অনলাইন ব্যবস্থার পাশাপাশি গৃহহীন ব্যক্তি এবং নাইট শেল্টারে বসবাসকারীদের মতো অসহায় গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ শিবিরের ব্যবস্থাও করা হবে।

    আধার কার্ডের প্রসঙ্গে কমিশনের বক্তব্য

    এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও যোগ্য ব্যক্তিরা ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানাতে পারবেন। তবে সেই আবেদন সংশ্লিষ্ট নিয়মের অধীন থাকবে। আধার কার্ডের প্রসঙ্গে কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, আধার নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। এটি শুধুমাত্র পরিচয় যাচাইয়ের নথি হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

    ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে কী বক্তব্য?

    ইসিআইনেট (ECINet) ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও হলফনামায় বক্তব্য রেখেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দাবি, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (Electoral Registration Officer)-এর নির্দেশ ছাড়া ইসিআইনেট-এ কোনও ভোটারের নাম যোগ করা, বাদ দেওয়া বা পরিবর্তন করা হয় না। এই ব্যবস্থার আইন মেনে চলা নিশ্চিত করতে ১৪ অক্টোবর একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে আইআইটি মুম্বই এবং আইআইএসসি বেঙ্গালুরুর দু’জন স্বাধীন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন বলে আদালতকে জানিয়েছে কমিশন।

    গোয়ার ৯৭ ভোটার এবং বাংলার আবেদন নিয়ে বক্তব্য

    গোয়ায় ৯৭ জন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার বিষয়টিও হলফনামায় উল্লেখ করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, তাঁদের মধ্যে ৮৮ জন ইতিমধ্যেই ফর্ম-৬ জমা দিয়েছেন এবং তাঁদের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। ছ’জন দেশের বাইরে রয়েছেন। বাকি তিনজন পর্তুগিজ পাসপোর্টধারী অথবা বিদেশি নাগরিক বলে জানানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দায়ের করা আপিল প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের আধিকারিকরা ওই আবেদনগুলি দায়ের করেছিলেন। বিষয়গুলি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরের নজরে আনা হয়নি বলেও হলফনামায় দাবি করা হয়েছে।

    সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উল্লেখ কমিশনের

    ভোটারদের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নথি নির্ধারণ করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে হলফনামায়। এ ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের চলতি বছরের মে মাসের রায়ের উল্লেখ করেছে কমিশন। তাদের বক্তব্য, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখা এবং আইন মেনে চলার উদ্দেশ্যে যুক্তিসংগত নথিপত্র চাওয়া যেতে পারে।

  • Neville Roy Singham Row: নেভিল রয় সিংহাম বিতর্ক! ভারতে ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর অভিযোগে কেন মার্কিন ধনকুবেরকে ঘিরে রাজনৈতিক শোরগোল?

    Neville Roy Singham Row: নেভিল রয় সিংহাম বিতর্ক! ভারতে ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর অভিযোগে কেন মার্কিন ধনকুবেরকে ঘিরে রাজনৈতিক শোরগোল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা নেভিল রয় সিংহামের নাম সামনে এনে বিজেপির অভিযোগ, আন্তর্জাতিক কর্মী সংগঠনগুলির একটি নেটওয়ার্ক ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। এই বিতর্কে কংগ্রেস, বিরোধী নেতাদের বিদেশি যোগাযোগ এবং বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রসঙ্গও তুলে ধরেছে গেরুয়া শিবির। সম্প্রতি বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে সাংবাদিক বৈঠকে নেভিল রয় সিংহামকে ঘিরে একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্কের অভিযোগ তোলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে রাহুল গান্ধী, ক্রিপ্টোকারেন্সি, বিটকয়েন, অনলাইন জুয়া এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলির প্রসঙ্গ। বিজেপির দাবি, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত কিছু সংগঠন ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে।

    কে এই নেভিল রয় সিংহাম?

    নেভিল রয় সিংহাম একজন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং আন্তর্জাতিক বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিচিত অর্থদাতা। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শদাতা সংস্থা থট ওয়ার্কস (Thoughtworks)-এর প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৭ সালে প্রাইভেট ইক্যুইটি সংস্থার কাছে প্রায় ৭৮৫ মিলিয়ন ডলারে সংস্থাটি বিক্রি করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সিংহাম নিউ ইয়র্কভিত্তিক বামপন্থী অলাভজনক সংগঠন দ্য পিপলস ফোরাম (The People’s Forum)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থদাতা হিসেবেও পরিচিত। তাঁর স্ত্রী জোডি ইভান্স যুদ্ধবিরোধী সংগঠন কোডপিঙ্ক (CODEPINK)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা। সংস্থা বিক্রির পর সিংহাম আন্তর্জাতিক স্তরে বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক প্রচার সংগঠন এবং থিঙ্কট্যাঙ্ককে অর্থসাহায্য করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কেন্দ্র সাংহাইয়ে সরিয়ে নেওয়ার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে। এই অর্থসাহায্য এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বিশেষ করে চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের পরিসরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। তবে সিংহম চিন সরকারের নির্দেশে কাজ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    কী এই ‘রেজিম চেঞ্জ’ অভিযোগ?

    বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, বিভিন্ন দেশের কিছু রাজনৈতিক ও কর্মী সংগঠন প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রচার এবং প্রসার ঘটাতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তাদের অভিযোগ, এই ধরনের কার্যকলাপ ভারতের নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে। বিজেপি মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারী ‘Global Chaos Inc Grows to 101 Groups’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করেছেন। ওই প্রতিবেদনে ১৩টি দেশের ১০১টি সংগঠনের একটি নেটওয়ার্কের কথা বলা হয়েছে, যারা বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রচার, সংগঠন বা প্রসারে ভূমিকা রাখছে বলে অভিযোগ। বিজেপির তরফে ভারত, ফ্রান্স, স্পেন এবং আলবেনিয়ায় প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি সিংহামের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দাবি করা কিছু সংগঠনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলির সঙ্গে বিরোধী নেতাদের যোগাযোগ এবং ভারতের বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্যে সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে বিভিন্ন দেশের প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্যে যোগসূত্র থাকার দাবি থেকেই ভারতে সরকার পরিবর্তনের কোনও পরিকল্পনা প্রমাণিত হয় না।

    রাহুল গান্ধীকে ঘিরে নিশিকান্ত দুবের প্রশ্ন

    এই বিতর্কে সরাসরি কংগ্রেস এবং রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেছেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি প্রশ্ন তোলেন, গত পাঁচ বছরে রাহুল গান্ধী ক্রিপ্টোকারেন্সি, অনলাইন জুয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা বিভিন্ন মহলের কার কার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দুবে আরও প্রশ্ন করেন, ওই মহলের কেউ রাহুল গান্ধীর ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ কিংবা অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন কি না। বিদেশ সফরের সময় তাঁর বৈঠকগুলির উদ্দেশ্য কী ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিজেপি সাংসদ। এ ছাড়া ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি সংক্রান্ত দাবিতে চলা প্রতিবাদ কর্মসূচিগুলিকেও বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তুলে ধরেছে বিজেপি।

    ২০২৩ সালেই ভারতে আলোচনায় উঠে আসে সিংহামের নাম

    ভারতে নেভিল রয় সিংহামকে ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত আরও আগে। ২০২৩ সালে মার্কিন সংবাদপত্র দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে সিংহামের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত বিভিন্ন সংগঠন এবং চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের পরিসরের সঙ্গে তাঁর কথিত যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রতিবেদনটিতে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম নিউজক্লিকের (NewsClick) সঙ্গে সিংহামের আর্থিক যোগসূত্রের অভিযোগও উঠে আসে। নিউজক্লিকের প্রতিষ্ঠাতা প্রবীর পুরকায়স্থ। অভিযোগ ছিল, আন্তর্জাতিক অর্থসাহায্যের একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমটি অর্থ পেয়েছিল। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিউজক্লিকের অর্থের উৎস এবং বিদেশি অর্থপ্রবাহ নিয়ে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি তদন্ত শুরু করে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে দিল্লি পুলিশ প্রবীর পুরকায়স্থ এবং নিউজক্লিকের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান অমিত চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করে। তাঁদের বিরুদ্ধে বেআইনি বিদেশি অর্থসাহায্য এবং চিনপন্থী প্রচার চালানোর অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্তের বিষয়টি আলাদা করে বিবেচনা করা জরুরি।

    ফ্রান্সের বিক্ষোভ ও দিল্লির প্রতিবাদের মধ্যে যোগসূত্র?

    এই বিতর্কে ফক্স নিউজ-এর একটি প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করেছে বিজেপি। ওই প্রতিবেদনে ফ্রান্সের দাঙ্গা এবং দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্যে সম্ভাব্য যোগাযোগের দাবি করা হয়েছে বলে বিজেপির বক্তব্য। প্রতিবেদনটির দাবি অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা ১০১টি সংগঠনের একটি নেটওয়ার্ক প্রতিবাদ কর্মসূচির সমন্বয়, আয়োজন অথবা প্রচারে ভূমিকা রাখছে। বিজেপি এই দাবিকে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য প্রভাবের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে। তবে এই দাবিগুলির স্বাধীন যাচাই, সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির নির্দিষ্ট ভূমিকা এবং প্রতিবাদ কর্মসূচিগুলির মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের প্রমাণ আলাদাভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কোনও সংগঠন প্রতিবাদের পক্ষে প্রচার চালালেই তার পিছনে বিদেশি সরকারের নির্দেশ বা সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই বিতর্ক?

    নেভিল রয় সিংহামকে ঘিরে বিতর্ক মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে।
    – বিদেশি অর্থসাহায্যের স্বচ্ছতা: আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলিকে দেওয়া অর্থ কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে তা পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
    – রাজনৈতিক প্রতিবাদের স্বাধীনতা: কোনও প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক সংগঠনের সমর্থন থাকলেই সেটিকে ষড়যন্ত্র বলা যায় না। অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য প্রমাণ থাকা জরুরি।
    – রাজনৈতিক যোগাযোগ ও জবাবদিহি: রাজনৈতিক নেতাদের বিদেশি যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে যোগাযোগের অস্তিত্ব এবং বেআইনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগ এক বিষয় নয়।
    সব মিলিয়ে, নেভিল রয় সিংহামকে কেন্দ্র করে বিতর্ক নতুন করে ভারতের রাজনীতিতে বিদেশি অর্থসাহায্য, আন্তর্জাতিক কর্মী সংগঠন এবং রাজনৈতিক প্রতিবাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিজেপি এই ঘটনাকে মোদি সরকারকে অস্থিতিশীল করার সম্ভাব্য প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে।

  • Modi Ka Baap Remark: খাড়গের ‘মোদির বাবাও চলে যাবেন’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক বিজেপির

    Modi Ka Baap Remark: খাড়গের ‘মোদির বাবাও চলে যাবেন’ মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের ‘মোদির বাবাও চলে যাবেন’ মন্তব্যকে (Modi Ka Baap Remark) কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। এই মন্তব্যের প্রতিবাদে সোমবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করার অভিযোগ তুলে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরপ্রদেশের বিজেপি নেতারা (BJP Protest)। খাড়গের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানিয়েছে গেরুয়া শিবির।

    বিজেপির তরফে দলের রাজ্য শাখাগুলিকে নিজ নিজ দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, খাড়গের মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত বাবাকে অপমান করেছে।

    রবিবার পটনায় বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিংয়ের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এই বিতর্কের সূত্রপাত। সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি কখনও পদ ছাড়বেন না। তার জবাব দিতে গিয়ে খাড়গে বলেন, “মোদির বাবাও চলে যাবেন।” তাঁর এই মন্তব্যের পরেই আপত্তি জানাতে শুরু করেন বিজেপি নেতারা।

    কংগ্রেসকে নিশানা বিজেপি নেতাদের (Modi Ka Baap Remark)

    খাড়গের মন্তব্যকে দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেছেন বিহারের সমবায়মন্ত্রী রাম কৃপাল যাদব। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস নেতৃত্ব রাজনৈতিক বিতর্কের মান ক্রমশ নামিয়ে আনছে।

    সংবাদ সংস্থাকে রাম কৃপাল যাদব বলেন, “কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি খাড়গে গতকাল প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিয়ে যে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এটি কংগ্রেস পার্টি, রাহুল গান্ধী এবং দলীয় সভাপতির মানসিকতার প্রতিফলন। এটাই কংগ্রেসের সংস্কৃতি, যে কারণে দলটি ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা করার জন্য শালীন ভাষা ব্যবহার করা উচিত। ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কটূক্তি রাজনৈতিক নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষও কংগ্রেস নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার কারণেই কংগ্রেস নেতারা ব্যক্তিগত আক্রমণের পথ বেছে নিচ্ছেন।

    দিলীপ বলেন, “আজ শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও মোদিজির নেতৃত্ব সম্মানিত। বিজেপি ধারাবাহিকভাবে জয়ী হচ্ছে এবং মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিচ্ছে। ফলে তারা রাজনৈতিক লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়েছে। সেই কারণেই মোদিজি এবং আমাদের অন্যান্য নেতাদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে, যা আমাদের ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

    উত্তরপ্রদেশের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী যোগেন্দ্র উপাধ্যায়ও কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মূল্যবোধের অভাবের অভিযোগ তুলেছেন।

    তিনি বলেন, “কটূক্তি করা ওদের সংস্কৃতির অংশ। কাউকে উপহার না দিলে সে কিছুক্ষণ কাঁদে। কাউকে মূল্যবোধের শিক্ষা না দিলে সে সারা জীবন কাঁদে। আর কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তির মধ্যে মূল্যবোধের অভাব থাকলে তিনি শুধু নিজেই কাঁদেন না, গোটা সমাজ ও দেশকেও কাঁদান। যাঁদের নেতৃত্বে মূল্যবোধের অভাব রয়েছে, তাঁরাই এই ধরনের মন্তব্য করেন।”

    বিজেপির বিরুদ্ধে বক্তব্য বিকৃতির অভিযোগ

    এদিকে, বিতর্কের মধ্যেই খাড়গের পাশে দাঁড়িয়েছে সমাজবাদী পার্টি (এসপি)। তাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়গুলি থেকে মানুষের নজর ঘোরাতে বিজেপি কংগ্রেস সভাপতির বক্তব্যের একটি অংশকে বেছে নিয়ে প্রচার করছে (Modi Ka Baap Remark)।

    সমাজবাদী পার্টির মুখপাত্র আশুতোষ বর্মা বলেন, সংবিধানকে দুর্বল করার চেষ্টার সমালোচনা করতে গিয়েই খাড়গে ওই মন্তব্য করেছিলেন। তাই তাঁর বক্তব্যকে সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপটে বিচার করা উচিত।

    বর্মার কথায়, “তাঁর বক্তব্যকে প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে তুলে ধরা হচ্ছে। বিজেপি স্লোগান বদলে সেগুলিকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে, যা রাজনীতির পক্ষে ঠিক নয়। রাজনীতি হওয়া উচিত বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে।”

    বিজেপি কংগ্রেস সভাপতির ওই মন্তব্যকে রাজনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে অগ্রহণযোগ্য বলে দাবি করেছে। ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে দলীয় রাজ্য শাখাগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে গেরুয়া পার্টি (Modi Ka Baap Remark)।

     

  • Weather Update: শক্তি বাড়াচ্ছে ‘অর্ণব’, ধেয়ে যাচ্ছে অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে! দুর্যোগের কবলে পড়বে উত্তর থেকে দক্ষিণ বঙ্গ

    Weather Update: শক্তি বাড়াচ্ছে ‘অর্ণব’, ধেয়ে যাচ্ছে অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে! দুর্যোগের কবলে পড়বে উত্তর থেকে দক্ষিণ বঙ্গ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়’–এ পরিণত হল ‘অর্ণব’ (Cyclone Arnab)। আজ, সোমবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান ছিল পূর্ব-মধ্য ও সংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর। আন্দামান থেকে ৫৯০ কিমি উত্তর পশ্চিমে, বিশাখাপত্তনম থেকে ৬৫০ কিমি পূর্ব-দক্ষিণপূর্বে, কাকিনাড়া থেকে ৭৩০ কিমি পূর্ব-দক্ষিণ পূর্বে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। মৌসম ভবন (Weather Update) জানাচ্ছে, ২৮ অক্টোবর সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল দিয়ে ওই ঘূর্ণিঝড়ের স্থলভাগে আছড়ে পড়ার আশঙ্কা খুব বেশি। ‘ল্যান্ডফলের’ সময় ঝড়ের গতি থাকবে ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার বেগ পৌঁছে যেতে পারে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারেও। ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার কারণে সমুদ্র এখন উত্তাল। বঙ্গোপসাগরের সংশ্লিষ্ট অংশের উপর ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হচ্ছে। উপকূলের দিকে যত এগোবে, ঝড়ের গতি আরও বাড়বে। অন্ধ্রপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে ঝড়ের তাণ্ডবের সম্ভাবনা রয়েছে। জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। পশ্চিমবঙ্গেও এই ঘূর্ণিঝড়ের কিছুটা প্রভাব পড়বে। একাধিক জেলায় হতে পারে ভারী বৃষ্টি।

    অর্ণব বলতে কী বোঝায়

    বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার বেগ কতটা হবে, পুরোটাই নির্ভর করছে সিস্টেমটির অভিমুখ কোন দিকে থাকবে তার ওপর। আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে যে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়, তার নামকরণ করে থাকে এই ১৩টি দেশ: বাংলাদেশ, ভারত, মলদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, তাইল্যান্ড, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব, ইয়েমেন ও ইরান। অর্ণব নামটি বাংলাদেশের দেওয়া। যার অর্থ সাগর বা সমুদ্র। ‘অর্ণব’ নামটি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছিল এবং এটি বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) ও রাষ্ট্রসঙ্ঘ  এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (ESCAP)-এর ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় প্যানেল কর্তৃক ২০২০ সালের এপ্রিলে গৃহীত ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের নামের সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সাধারণত অর্ণব নামটি সমুদ্র বা মহাসাগর বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। যদিও আইএমডি-র আনুষ্ঠানিক নামকরণ তালিকায় প্রস্তাবকারী দেশ এবং নামটির উচ্চারণ নিশ্চিত করা হয়েছে, কিন্তু শব্দটির কোনও সংজ্ঞা দেওয়া হয় না।

    কোথায় কোথায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব

    আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা থেকে বিশাখাপত্তনমের মধ্যে ২৮ অক্টোবর দুপুরের আগেই ঘূর্ণিঝড়টির ল্যান্ডফল হবে। সে সময়ে ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দমকা হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ পৌঁছতে পারে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারে। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস, ২৭ অক্টোবর কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, হাওড়া এবং হুগলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুতের পূর্বাভাস রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের এক-দু’টি জায়গায় ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। ২৮ অক্টোবর পরিস্থিতির অবনতি হবে। এ দিন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টি (৭-১১ সেমি) হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং দুই মেদিনীপুরে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবিদ্যুতের পূর্বাভাস রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

    কলকাতা-সহ সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি! 

    ২৯ অক্টোবর বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকবে। কলকাতা-সহ সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ায় বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং দুই মেদিনীপুরে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।৩০ অক্টোবর কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ার এক-দু’টি জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। উপকূলবর্তী এলাকায় মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবারের পর থেকে তাঁরা আপাতত আর সমুদ্রে যেতে পারবেন না। যাঁরা গিয়েছেন, তাঁদের মঙ্গলবারের মধ্যেই ফিরে আসতে হবে। দক্ষিণবঙ্গে ২৮ ও ২৯ অক্টোবর ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা ৩০ অক্টোবর।

    উত্তরবঙ্গে দুর্যোগের প্রভাব

    দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গে দুর্যোগের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কিছুটা দেরিতে। ৩০ অক্টোবর উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলাতেই অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারের বিক্ষিপ্ত কিছু জায়গায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এ দিন উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুতের আশঙ্কা। ৩১ অক্টোবরও উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। এ দিন দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে।

    ওড়িশায় ছুটি বাতিল করা হয়েছে

    প্রায় প্রতিবছরই কোনও না কোনও ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড হয় ওড়িশা। এখন শিয়রে আরও একটা ঘূর্ণিঝড়। চোখ রাঙাচ্ছে অর্ণব। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের পরিপ্রেক্ষিতে ওড়িশা সরকার সমস্ত কৃষি কর্মকর্তার ছুটি বাতিল করেছে এবং ২৫  অক্টোবর থেকে ৭ই নভেম্বর পর্যন্ত উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সৃষ্ট ভারী বৃষ্টিপাতের মোকাবিলায় প্রশাসন যেন দ্রুত সাড়া দিতে পারে, ফসলের ক্ষতি কমানো যায় এবং কৃষকদের সময়মতো সহায়তা প্রদান করা যায়। ওড়িশার দক্ষিণাঞ্চল ও উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। জেলায় জেলায় বন্ধ রাখা হয়েছে স্কুল।  ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রও গুলিও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।

  • Mallikarjun Kharge: মোদিকে নিয়ে খাড়্গের বিতর্কিত মন্তব্য, কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভাষা নিয়ে উঠল প্রশ্ন

    Mallikarjun Kharge: মোদিকে নিয়ে খাড়্গের বিতর্কিত মন্তব্য, কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভাষা নিয়ে উঠল প্রশ্ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে (Mallikarjun Kharge)। ২৬ অক্টোবর পাটনায় একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে তাঁর করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতাদের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশও দেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) বিরুদ্ধে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতার ব্যবহৃত ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

    বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিংয়ের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন খাড়্গে। সেই সময় শ্রোতাদের মধ্যে উপস্থিত এক ব্যক্তি তাঁকে বাধা দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি পদ ছাড়বেন না। এর জবাবে খাড়্গে বলেন, ‘‘মোদির বাবাও চলে যাবেন।’’ তাঁর এই মন্তব্যের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর।

    সমালোচকদের বক্তব্য, শ্রোতাদের কোনও মন্তব্যের জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রেও কংগ্রেস সভাপতির আরও সংযত ভাষা ব্যবহার করা উচিত ছিল। একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দলের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক পদে থাকা নেতার বক্তব্যে এমন ভাষার ব্যবহার কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

    মোদিকে নিয়ে কংগ্রেস নেতাদের অতীত মন্তব্যও বিতর্কে (Mallikarjun Kharge)

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে কংগ্রেস নেতাদের অতীতের একাধিক মন্তব্যও নতুন করে চর্চায় এসেছে। ২০০৭ সালে গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মোদিকে নিশানা করে সোনিয়া গান্ধীর “মওত কা সওদাগর” (মৃত্যুর সওদাগর) মন্তব্য, ২০১৭ সালে মণিশঙ্কর আইয়ারের “নীচ আদমি” মন্তব্য এবং ২০২২ সালে খাড়্গের মোদিকে “রাবণ”-এর সঙ্গে তুলনা করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করছেন সমালোচকেরা। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে রাহুল গান্ধীর “চৌকিদার চোর হ্যায়” স্লোগানও রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর পাটনায় খাড়্গের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধিতা গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও, ব্যক্তিগত আক্রমণের পরিবর্তে সরকারের নীতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং কাজের খতিয়ান নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা করা উচিত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

    আরএসএসের আদর্শ নিয়ে খাড়্গের বক্তব্য ঘিরেও বিতর্ক

    আরএসএসের আদর্শ নিয়েও খাড়্গের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, আরএসএসের মতাদর্শের অবসান না ঘটলে ভারতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়—এমন অবস্থান একটি সংগঠনের আদর্শকে সামগ্রিকভাবে বিপদের উৎস হিসেবে তুলে ধরে। তাঁদের মতে, এই ধরনের দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট প্রমাণ ও যুক্তি থাকা প্রয়োজন।

    ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত আরএসএস ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূর্ণ করেছে। সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকেরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সমাজসেবা, ত্রাণকাজ এবং নানা সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত বলে সংগঠনটির কার্যকলাপে উল্লেখ করা হয়।

    গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনও সংগঠনের মতাদর্শের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। তবে বিরোধী মতাদর্শকে সম্পূর্ণ নির্মূল করার আহ্বান গণতান্ত্রিক বহুত্ববাদের ধারণার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সমালোচকদের মতে, মতাদর্শগত বিরোধিতার জবাব যুক্তি, তথ্য ও আলোচনার মাধ্যমে দেওয়া উচিত (Mallikarjun Kharge)।

    খাড়্গের সমালোচনা

    বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জোটে নীতীশ কুমারের যোগদান নিয়েও খাড়্গের সমালোচনা তাঁর বক্তব্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে আরও স্পষ্ট করেছে। বিরোধী দলগুলির জোট এবং রাজনৈতিক অবস্থানকে নিশানা করেই তাঁর বক্তব্যের একটি বড় অংশ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।

    সব মিলিয়ে, খাড়্গের মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক শুধু প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ভাষার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। রাজনৈতিক বিরোধিতার সীমারেখা কোথায় টানা উচিত এবং মতাদর্শগত সংঘাতের মধ্যেও গণতান্ত্রিক সহনশীলতা কীভাবে বজায় রাখা যায়, সেই (PM Modi) প্রশ্নও সামনে এসেছে। আরএসএস-সহ যে কোনও সংগঠনের কাজকর্ম ও মতাদর্শের সমালোচনা তথ্যনির্ভর হওয়া প্রয়োজন—এমনটাই মত সমালোচকদের। তাঁদের বক্তব্য, কোনও মতাদর্শকে নির্মূল করার আহ্বান বিতর্কের নিষ্পত্তি না করে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে (Mallikarjun Kharge)।

     

  • Kashmir: শরজিল ইমামের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে বিতর্ক, জাতীয়তাবাদ, কাশ্মীর ও জিন্নাহ-ভাবনা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

    Kashmir: শরজিল ইমামের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে বিতর্ক, জাতীয়তাবাদ, কাশ্মীর ও জিন্নাহ-ভাবনা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের জাতীয় পরিচয়, ধর্মনিরপেক্ষতা, কাশ্মীরের (Kashmir) রাজনৈতিক পরিস্থিতি, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং মহম্মদ আলি জিন্নাহর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে শরজিল ইমামের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের বিভিন্ন পোস্ট, শেয়ার করা সংবাদ প্রতিবেদন এবং রাজনৈতিক মন্তব্যের ভিত্তিতে (Sharjeel Imam) তাঁর মতাদর্শ, ভারতীয় জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি এবং ধর্ম ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে একটি সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ। তবে পোস্টগুলির ব্যাখ্যা, সেগুলির প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের অবস্থান আলাদা করে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    কে এই শরজিল ইমাম? (Kashmir)

    শরজিল জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) প্রাক্তন ছাত্র, গবেষক এবং রাজনৈতিক কর্মী। ২০১৯-২০ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং প্রস্তাবিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি)-বিরোধী আন্দোলনের সময় জাতীয় স্তরে পরিচিতি পান তিনি। ওই আন্দোলনের সময় তাঁর কয়েকটি বক্তব্য, বিশেষত উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’ অবরোধের প্রসঙ্গে করা মন্তব্য, বিতর্কের জন্ম দেয়।

    ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরেরই ফেব্রুয়ারিতে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সংঘটিত দাঙ্গার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের মামলাতেও তাঁর নাম জড়ায়। ওই হিংসাত্মক ঘটনায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি এক নয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর নিয়মিত জামিনের আবেদন খারিজ করে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেও দিল্লি হাইকোর্ট তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ওই ঘটনায় উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

    ভারতীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন

    ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরের একটি ফেসবুক পোস্টে শরজিল দেশভাগের পর ভারতে থেকে যাওয়া মুসলিমদের প্রসঙ্গে ‘আমরা ভারতকে বেছে নিয়েছিলাম’—এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তাঁর মতে, ‘হামনে হিন্দোস্তান কো চুনা থা’ বা ‘আমরা হিন্দুস্তানকে বেছে নিয়েছিলাম’—এই বক্তব্যকে মুসলিমদের অপমান করার জন্য হিন্দু জাতীয়তাবাদী ভাষ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

    ইমামের যুক্তি ছিল, দেশভাগের সময় বহু পরিবার হিংসা, অনিশ্চয়তা এবং বাস্তুচ্যুতির আশঙ্কার মধ্যে পড়েছিল। ফলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাধীনভাবে একটি দেশ বেছে নেওয়ার সুযোগ সবার ছিল না। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সম্পত্তি এবং ঐতিহাসিক শিকড়ের মতো বিষয়গুলিও সহজে সীমান্তের অন্য পারে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব ছিল না।

    পোস্টে তিনি লেখেন, “ইসকো ‘দেশ’ কি মোহব্বত কহনা ঝুঠ হ্যায়, অউর উন মুসলমানোঁ কি তৌহিন হ্যায়।” অর্থাৎ, একে দেশের প্রতি ভালোবাসা বলা মিথ্যা এবং ওই মুসলিমদের অপমান করার শামিল।

    এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে দেশভাগ-পরবর্তী মুসলিমদের জাতীয় পরিচয় ও দেশপ্রেমের প্রচলিত ব্যাখ্যাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করান তিনি।

    কেন্দ্রের নীতির সমালোচনা

    ২০১৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বরের একটি পোস্টে ইমাম লেখেন, “কাশ্মীর বন্ধের এক মাস এবং কাশ্মীরে এক মাসের ভারতীয় অবরোধ।”

    ২০১৯ সালের অগাস্টে কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদের অধীনে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহার করে এবং রাজ্যটিকে জম্মু ও কাশ্মীর ও লাদাখ—এই দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পুনর্গঠিত করে। ওই সময় নিরাপত্তা বিধিনিষেধ এবং যোগাযোগের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল। এর প্রভাব পড়েছিল মানুষের চলাচল, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে।

    ইমামের পোস্টে ‘অবরোধ’ শব্দটির ব্যবহার বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই শব্দের মাধ্যমে তিনি কাশ্মীরের পরিস্থিতিকে কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও বলপ্রয়োগের দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরেন। সমালোচকদের মতে, এমন ভাষ্য কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং জঙ্গি কার্যকলাপের মতো অন্যান্য বিষয়কে যথেষ্ট গুরুত্ব না-ও দিতে পারে।

    ‘জিন্নাহর প্রশ্ন আজও প্রাসঙ্গিক’

    ২০১৮ সালের ১৩ মে একটি পোস্টে মহম্মদ আলি জিন্নাহকে নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ শেয়ার করেন ইমাম। সেখানে তিনি লেখেন, “জিন্নাহর উত্থাপিত প্রশ্নগুলি আজও প্রাসঙ্গিক।”

    তিনি আরও লেখেন, “প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি লক্ষ লক্ষ মুসলিমের সংগ্রামই বহুত্ববাদী গণতন্ত্রের অর্থ নির্ধারণ করবে।”

    একই পোস্টে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় (এএমইউ) থেকে জিন্নাহর প্রতিকৃতি সরানোর বিরোধিতা করে তিনি লেখেন, “বরং এমন আরও হাজার হাজার ছবি আমাদের প্রয়োজন (Sharjeel Imam)। ”

    জিন্নাহর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ভারতের ইতিহাসে বিতর্কিত। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রথম পর্বে সাংবিধানিক রাজনীতি ও হিন্দু-মুসলিম সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান থাকলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মুসলিম লিগের পাকিস্তান দাবির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হন। দেশভাগের পরিণতিতে ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি, হিংসা এবং ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বৈরিতার ইতিহাসও জড়িয়ে রয়েছে। তাই বর্তমান ভারতের রাজনীতিতে জিন্নাহর কোন রাজনৈতিক ভাবনাকে প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন ইমাম, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে (Kashmir)।

    ‘ধর্মনিরপেক্ষ কংগ্রেসের মিথ’

    ২০১৮ সালের ৫ জানুয়ারির একটি ফেসবুক পোস্টে ইমাম জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবনকে সামনে রেখে ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয়তাবাদের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

    তিনি জানান, জিন্নাহ পেপার্স পড়ার পর তাঁর মনে হয়েছে, জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবনের বড় অংশ ছিল প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজের সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষার জন্য এক সংখ্যালঘু নেতার লড়াই। ইমাম লেখেন, “৭০ বছর পর ভারতের মুসলিম এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুরা জিন্নাহ কী বোঝাতে চেয়েছিলেন, তা ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন।”

    তিনি আরও লেখেন, “ধর্মনিরপেক্ষ কংগ্রেসের মিথ বুঝতে হলে জিন্নাহকে গুরুত্ব দিয়ে অধ্যয়ন করা প্রয়োজন।”

    এই বক্তব্যে শুধু জিন্নাহর রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করার বিষয়টি নেই, বরং কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি মুসলিমদের জন্য বাস্তব রাজনৈতিক সমতা নিশ্চিত করতে পেরেছিল কি না, সেই প্রশ্নও রয়েছে।

    ‘ভারতীয় সংবিধানে মুসলিমবিরোধী পক্ষপাত’, বিতর্ক

    ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ইমাম টিআরটি ওয়ার্ল্ডে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ শেয়ার করেন। তার সঙ্গে তিনি লেখেন, “ভারতীয় সংবিধানে মুসলিমবিরোধী পক্ষপাত নিয়ে তাঁর লেখা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।” সেটি পড়ে শেয়ার করার আহ্বানও জানান তিনি।

    ভারতীয় সংবিধান ধর্মীয় স্বাধীনতা, আইনের চোখে সমতা এবং নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেয়। এই সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই মুসলিম-সহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নাগরিকেরা নিজেদের ধর্ম পালন ও জনজীবনে অংশগ্রহণের অধিকার ভোগ করেন।

    সংবিধান বা সরকারি নীতির সমালোচনা গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। তবে সংবিধানকেই সামগ্রিকভাবে মুসলিমবিরোধী বলে চিহ্নিত করা একটি বিস্তৃত অভিযোগ। এই ধরনের দাবি মূল্যায়নের জন্য নির্দিষ্ট সাংবিধানিক বিধান, তার প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

    ‘ধর্মনিরপেক্ষতা, দহর-পরস্তি’

    ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বরের একটি ফেসবুক পোস্টে ইমাম কয়েকটি রাজনৈতিক ও সামাজিক ধারণার সঙ্গে ধর্মীয় অনুষঙ্গযুক্ত শব্দ ব্যবহার করেন।

    তাঁর তালিকায় ছিল জাতীয়তাবাদ: ওয়াতান-পরস্তি, মূর্তিপূজা: বুত-পরস্তি, ধর্মনিরপেক্ষতা: দহর-পরস্তি বা জামানা-পরস্তি, বর্ণবাদ ও জাতপাতবাদ: নসল-পরস্তি, উদারবাদ: নফস-পরস্তি, মানবতাবাদ: ইনসান-পরস্তি

    এখানে ‘পরস্তি’ শব্দটি কোনও কিছুর প্রতি অতিরিক্ত আনুগত্য বা উপাসনার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, উদারবাদ এবং মানবতাবাদের মতো ধারণাগুলিকে ধর্মীয় পরিভাষার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

    তবে ধর্মনিরপেক্ষতা ও উদারবাদের মতো রাজনৈতিক দর্শনের বিভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতা রাষ্ট্র ও ধর্মের সম্পর্ক নির্ধারণের একাধিক পদ্ধতিকে বোঝাতে পারে। একইভাবে উদারবাদ ব্যক্তিস্বাধীনতা, অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমা নিয়ে বিভিন্ন মতের সমষ্টি।

    এই পোস্ট থেকে ধর্মীয় বিশ্বাস ও রাজনৈতিক নীতির সম্পর্ক নিয়ে ইমামের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে প্রশ্ন ওঠে। ভিন্ন ধর্মবিশ্বাসের নাগরিকদের সমান অধিকার বজায় রেখে ধর্মীয় আদর্শ অনুসরণ করা সম্ভব কি না, তা-ও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

    ইসলামের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য

    ২০১৯ সালের ২০ নভেম্বরের একটি স্ক্রিনশটে পুঁজিবাদ ও মার্কসবাদ-পরবর্তী রাজনৈতিক চিন্তার ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি বক্তব্য দেখা যায়।

    সেখানে বলা হয়েছে, “পুঁজিবাদ ও মার্কসবাদকে পরিত্যাগ করার মধ্য দিয়ে যে ভবিষ্যৎ শুরু হবে, তা আগে থেকে নির্ধারিত বা তৈরি করা নয়; বরং তা গড়ে তুলতে হবে।”

    এর পরেই বলা হয়েছে, “সেই ভবিষ্যৎ নির্মাণে ইসলামের উপযুক্ত ভূমিকা থাকবে।”

    বক্তব্যটিতে অন্যান্য মতাদর্শের সঙ্গে ইসলামের সংঘাত ও বিরোধিতার পরিসর নিয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে এই অংশ থেকে একা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে ইমাম একটি ইসলামভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে ছিলেন, নাকি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক চিন্তায় ইসলামের অবদান নিয়ে আলোচনা করছিলেন। বিষয়টি নির্ধারণের জন্য মূল লেখার পূর্ণ প্রেক্ষাপট ও তাঁর অন্যান্য বক্তব্য বিবেচনা করা প্রয়োজন (Kashmir)।

    গর্বাচেভকে খোমেইনির চিঠি শেয়ার

    ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর ইমাম সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভকে আয়াতোল্লা রুহোল্লা খোমেইনির ১৯৮৯ সালের চিঠির অংশবিশেষ শেয়ার করেন বলে স্ক্রিনশটে দেখা যায়।

    সেখানে বলা হয়েছিল, “আজকের বিশ্বে কমিউনিজম বলে আর কিছুই নেই।” একই সঙ্গে, গর্বাচেভকে ‘পশ্চিমের কারাগার এবং মহাশয়তানে’র ফাঁদে না পড়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল বলে উদ্ধৃতিতে উল্লেখ রয়েছে।

    ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সঙ্গে খোমেইনির রাজনৈতিক উত্তরাধিকার যুক্ত। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনে ধর্মীয় কর্তৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। চিঠিটিতে কমিউনিজমের সমালোচনার পাশাপাশি পশ্চিমী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মডেল গ্রহণের বিরুদ্ধেও সতর্কতা ছিল (Sharjeel Imam)।

    ইমামের এই পোস্টকে ইসলামের ভূমিকা নিয়ে তাঁর শেয়ার করা পূর্ববর্তী বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে পড়া যেতে পারে। তবে একটি ঐতিহাসিক চিঠি শেয়ার করাই তার সমস্ত বক্তব্য বা রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি সমর্থনের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।

    ‘সিয়াচেন সমাধানের পথে ভারতীয় সেনা বাধা’

    ২০১১ সালের ২ জুন ইমাম পাকিস্তানের সংবাদপত্র ডন-এর একটি শিরোনাম শেয়ার করেন বলে উল্লেখ রয়েছে। শিরোনামটি ছিল, “সিয়াচেন সমস্যার সমাধানের পথে ভারতীয় সেনাবাহিনী বাধা।”

    সিয়াচেন হিমবাহ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি সংবেদনশীল সামরিক ও কৌশলগত এলাকা। এই শিরোনামে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে বিরোধ নিষ্পত্তির পথে বাধা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।

    ইমাম কেন এই শিরোনামটি শেয়ার করেছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ। তবে কোনও সংবাদ প্রতিবেদন শেয়ার করার কারণ নির্ধারণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট পোস্টের পূর্ণ বক্তব্য এবং তৎকালীন প্রেক্ষাপট জানা প্রয়োজন। শুধু একটি শিরোনাম শেয়ার করার ভিত্তিতে তাঁর জাতীয় আনুগত্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

    কাশ্মীরের খবর পরিবেশন নিয়ে অভিযোগ

    ২০১৯ সালের ১৭ মার্চ ইমাম একটি প্রবন্ধ শেয়ার করে লেখেন, “কাশ্মীর সংঘাতের ক্ষেত্রে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের অসততা নিয়ে তাঁর লেখা প্রবন্ধ পড়া, মন্তব্য করা এবং শেয়ার করার আহ্বান জানান তিনি”।

    সংবাদমাধ্যমের খবর পরিবেশনে পক্ষপাত, অতিরঞ্জন, সরকারি সূত্রের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, তথ্য বাদ দেওয়া কিংবা উসকানিমূলক ভাষার ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলা গণতান্ত্রিক সমাজে স্বাভাবিক। তবে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে অসততার অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করতে হলে নির্দিষ্ট প্রতিবেদন, ভুল তথ্য বা বাদ পড়া তথ্যের প্রমাণ প্রয়োজন (Kashmir)।

    এই পোস্টের মাধ্যমে ইমাম কাশ্মীর নিয়ে মূলধারার সংবাদ পরিবেশনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্ন করেছিলেন। তাঁর অভিযোগের যথার্থতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন ও প্রমাণ বিশ্লেষণ করা জরুরি।

    ‘হিন্দুত্ববাদীর কেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত নয়’

    ২০১২ সালের ২৯ জুন ইমাম “হিন্দুত্ববাদীর কেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত নয়” শিরোনামের একটি লিঙ্ক শেয়ার করেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

    শিরোনামটি হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী কোনও ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিরোধিতা প্রকাশ করে। তাঁর অন্যান্য পোস্টের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে হিন্দুত্বের রাজনীতি, কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি এবং ভারতের সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

    তবে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিরোধিতা করা এবং বিকল্প হিসেবে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে থাকা এক বিষয় নয়। তাঁর প্রকৃত রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট বক্তব্যগুলির পূর্ণ প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    ‘ভারতকে হিন্দু সন্ত্রাসের মুখোমুখি হতে হবে’

    ২০১১ সালের ২৮ অগাস্ট ইমাম দ্য গার্ডিয়ান-এ প্রকাশিত “ভারতকে হিন্দু সন্ত্রাসের মুখোমুখি হতে হবে” শিরোনামের একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেন বলে স্ক্রিনশটে উল্লেখ রয়েছে। প্রতিবেদনের লেখক হিসেবে কপিল কোমিরেড্ডির নাম দেওয়া হয়েছে।

    ‘হিন্দু সন্ত্রাস’ শব্দবন্ধটি ভারতীয় রাজনৈতিক আলোচনায় বিতর্কিত। সমালোচকদের মতে, নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সংগঠনের হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডকে বৃহত্তর ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করলে একটি সম্পূর্ণ সম্প্রদায় সম্পর্কে সাধারণীকরণের ঝুঁকি তৈরি হয়।

    অন্যদিকে, কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের ধর্মীয় বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সন্ত্রাসবাদ ও হিংসার অভিযোগ প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করা জরুরি। ইসলামি চরমপন্থা-প্রণোদিত সন্ত্রাসবাদ যেমন নথিভুক্ত বাস্তবতা, তেমনই অন্য মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও পৃথকভাবে বিচার করা প্রয়োজন।

    ইমাম কেন এই শিরোনামটি শেয়ার করেছিলেন এবং তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় পরিচয় ও সন্ত্রাসবাদের সম্পর্ক কীভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল, তা নির্ধারণের জন্য মূল প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট পোস্টের সম্পূর্ণ বিষয়বস্তু যাচাই করা প্রয়োজন (Kashmir)।

    আল জাজিরার প্রতিবেদন শেয়ার

    ২০১১ সালের ১১ অগাস্ট ইমাম আল জাজিরা ইংলিশের “কাশ্মীরে দমন-পীড়ন ও প্রতিরোধ — কাশ্মীর: বিস্মৃত সংঘাত” শিরোনামের একটি প্রতিবেদন শেয়ার করেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

    প্রতিবেদনটির শিরোনামে কাশ্মীরের পরিস্থিতিকে দমন-পীড়ন ও প্রতিরোধের ভাষায় তুলে ধরা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে কাশ্মীরকে ‘ভারতীয় অবরোধে’র মধ্যে থাকা অঞ্চল হিসেবে বর্ণনা করা তাঁর পোস্টের সঙ্গে এই বিষয়টির তুলনা করা হয়েছে।

    কাশ্মীর নিয়ে ভারতের রাষ্ট্রীয় অবস্থান, স্থানীয় মানুষের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং মানবাধিকার—সব ক’টি বিষয়ই জটিল ও বহুমাত্রিক। কোনও নির্দিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদন শেয়ার করার মাধ্যমে ইমাম ঠিক কোন রাজনৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করেছিলেন, তা নির্ধারণ করতে তাঁর বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট জানা প্রয়োজন।

    হায়দরাবাদের সংযুক্তি ও সর্দার প্যাটেলের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য

    ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবরের একটি পোস্টে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ভূমিকার প্রশংসা করে করা একটি বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান ইমাম।

    তাঁর মন্তব্য ছিল, ‘কাজ করেছে’ বলতে যদি কিছু বোঝানো হয়, তবে তার অর্থ এই-ও যে রাষ্ট্র ব্রিটিশদের কাছ থেকে পাওয়া ক্ষমতা ব্যবহার করে হায়দরাবাদের নিরস্ত্র কৃষক ও সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছিল।

    ১৯৪৮ সালে হায়দরাবাদকে ভারতীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সংযুক্ত করার সময় সামরিক অভিযান ও তার পরিণতি নিয়ে ঐতিহাসিক বিতর্ক রয়েছে। ইমামের মন্তব্যে সেই প্রক্রিয়ায় বলপ্রয়োগ এবং সাধারণ মানুষের উপর তার প্রভাবের বিষয়টি সামনে আসে।

    হায়দরাবাদের সংযুক্তিকে কেবল রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হবে, নাকি সেই সময়ের সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা ও ক্ষয়ক্ষতিও বিবেচনা করা হবে—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক প্রশ্ন। তবে মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করতে ঐতিহাসিক নথি, অভিযানের প্রেক্ষাপট এবং নাগরিকদের উপর তার প্রভাব সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।

    ‘মোদির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি বাড়ছে’

    ২০১১ সালের ১৯ জুনের একটি স্ক্রিনশটে ইমামের শেয়ার করা এশিয়ান এজ-এর একটি শিরোনাম দেখা যায়: “মোদির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি জোরালো হচ্ছে।”

    এই পোস্টটি নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেকার। পরবর্তী সময়ে হিন্দুত্বের রাজনীতি এবং কাশ্মীর নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির সমালোচনার সঙ্গে এই পোস্টকে মিলিয়ে ইমামের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

    পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে হতাহতের পরিসংখ্যান তুলে ধরা

    ২০১১ সালের ১৪ জুলাই ইমাম পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদী হামলায় ৩৫ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর এবং ৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির দাবি-সংবলিত পরিসংখ্যান শেয়ার করেন বলে উল্লেখ রয়েছে। তিনি ‘২০০১ সাল থেকে পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলাগুলির তালিকা’ শিরোনামের একটি উইকিপিডিয়া পাতার লিঙ্কও দিয়েছিলেন।

    পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ বহু বছর ধরে নিরাপত্তা ও অর্থনীতির উপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। তবে ওই পোস্টে ব্যবহৃত পরিসংখ্যানের উৎস, সময়সীমা এবং হিসাবের পদ্ধতি যাচাই করা প্রয়োজন।

    এই পোস্টকে কেন্দ্র করে সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের শিকার মানুষের দুর্দশা তুলে ধরলেও ইমাম একইভাবে ভারতে সন্ত্রাসবাদী হামলায় নিহত নাগরিক ও নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়ে সরব হয়েছিলেন কি না।

    ২০০১ সালের সংসদ হামলা থেকে ২০০৮ সালের মুম্বই হামলা—ভারতেও সন্ত্রাসবাদী হিংসার কারণে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দুই দেশের সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতিই যথাযথ গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।

    তাই মূল প্রশ্নটি হল, ইমামের পোস্টে সন্ত্রাসবাদের মানবিক মূল্য নিয়ে আলোচনা কতটা সামগ্রিক ছিল এবং বিভিন্ন দেশের ভুক্তভোগীদের প্রতি তাঁর বক্তব্যে কোনও বাছাই করা দৃষ্টিভঙ্গি ছিল কি না (Sharjeel Imam)।

    ধর্মীয় ভাষা ব্যবহারের বিতর্ক

    ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বরের একটি রোমান উর্দু পোস্টে ইমাম লেখেন যে পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং উৎসবের পরে ফ্যাসিবাদ ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ‘বিপ্লবী সংগ্রাম’ আবার শুরু হবে।

    তিনি লেখেন, “পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তাই ফ্যাসিবাদ ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বিপ্লবী সংগ্রাম, ইনশাআল্লাহ, পুজোর পরে আবার শুরু করা হবে।”

    পোস্টের পরবর্তী অংশে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী)-এর কয়েকজন সহকর্মী পুজোর সময়ে হিন্দু ধর্মীয় আচারে অংশ নেন—এমন প্রসঙ্গ তুলে ব্যঙ্গ করা হয় বলে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে ‘বুত-পরস্তি’ বা মূর্তিপূজার মতো ধর্মীয় শব্দও ব্যবহার করা হয়েছে (Kashmir)।

    এই ভাষার ব্যবহারকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে, অন্য ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতি সম্মান দাবি করার পাশাপাশি হিন্দু ধর্মাচারকে ব্যঙ্গ করা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। ধর্মতাত্ত্বিক মতভেদ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই মতভেদ প্রকাশ এবং অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসকে উপহাস করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

    হিন্দুদের পুজো করার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনই মুসলিমদের ইসলাম পালন করার অধিকারও রয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতার নীতি সব সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।

    জিন্নাহর প্রতিকৃতি নিয়ে বিতর্ক

    ২০১৮ সালের ১৩ মে জিন্নাহর প্রতিকৃতি নিয়ে করা পোস্টে ইমাম লিখেছিলেন, “

    এএমইউ থেকে জিন্নাহর ছবি সরানো উচিত নয়; বরং এমন আরও হাজার হাজার ছবি প্রয়োজন।”

    ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর প্রতিকৃতি থাকা উচিত কি না, তা নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। জিন্নাহ ছিলেন পাকিস্তান আন্দোলনের প্রধান নেতাদের একজন। ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগের দাবি এবং তার পরিণতি তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবন ও দেশভাগে তাঁর ভূমিকা নিয়ে গবেষণা করা এক বিষয়; তাঁর প্রতিকৃতি স্থায়ীভাবে প্রদর্শনের দাবি অন্য বিষয়। ইমামের বক্তব্যে জিন্নাহকে সমসাময়িক মুসলিম রাজনীতির জন্য আদর্শ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা ছিল কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    তবে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে গবেষণা বা তাঁর ছবি রাখার পক্ষে মত প্রকাশ করলেই কোনও ব্যক্তির সম্পূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করা যায় না। এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে তাঁর বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন প্রয়োজন।

    জিন্নাহর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও বর্তমান মুসলিম রাজনীতি

    জিন্নাহকে নিয়ে ইমামের ২০১৮ সালের মে মাসের পোস্টের পাশাপাশি ওই বছরের জানুয়ারির বক্তব্যটিও গুরুত্বপূর্ণ। জানুয়ারির পোস্টে তিনি জিন্নাহর রাজনৈতিক প্রশ্নগুলিকে সমসাময়িক সংখ্যালঘু রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। মে মাসে তিনি এএমইউতে জিন্নাহর প্রতিকৃতি রাখার পক্ষে আরও জোরালো অবস্থান নেন।

    দেশভাগের ইতিহাসে জিন্নাহর ভূমিকা, পাকিস্তান আন্দোলনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং দেশভাগের পরিণতি নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।

    এই প্রেক্ষাপটে ইমামের বক্তব্য নিয়ে মূল প্রশ্ন হল, তিনি জিন্নাহকে ইতিহাসের একটি বিতর্কিত চরিত্র হিসেবে বিশ্লেষণের আহ্বান জানাচ্ছেন, নাকি তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে বর্তমান ভারতের মুসলিম পরিচয় ও রাজনৈতিক সংগঠনের আদর্শ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন।

    এই দুই অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই বক্তব্যের ব্যাখ্যা করতে হলে শুধু প্রতিকৃতি নিয়ে মন্তব্য নয়, জিন্নাহর রাজনৈতিক ভূমিকা সম্পর্কে ইমামের সামগ্রিক অবস্থানও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

    ‘কংগ্রেস পশ্চাৎমুখী হিন্দু গোষ্ঠী’

    ২০১৮ সালের ১২ নভেম্বরের একটি পোস্টে ইমাম কংগ্রেসকে “একটি পশ্চাৎপদ হিন্দু গোষ্ঠী” বলে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, কংগ্রেস একটি পশ্চাৎমুখী হিন্দু গোষ্ঠী, যারা নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করতে পারে।

    তিনি আরও লেখেন, “১৯৪৭ সালের পর মৌলানা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছেন।”

    পোস্টে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত এক মুসলিম নেতার রাজনৈতিক অবস্থানের তুলনা বিজেপির শাহনওয়াজ হুসেনের সঙ্গে করা হয়েছিল বলে উল্লেখ রয়েছে। এর মাধ্যমে মুসলিম নেতাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাস্তবে সম্প্রদায়ের স্বার্থ কতটা পূরণ করতে পেরেছে, সেই প্রশ্ন তোলা হয়।

    কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংখ্যালঘু স্বার্থের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার দাবি করে এসেছে। আবার বিরোধী দলগুলি প্রায়ই দলটির বিরুদ্ধে মুসলিম তোষণের অভিযোগ তোলে। ইমামের মন্তব্য এই প্রচলিত রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে একটি ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরে।

    তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেসে মুসলিম নেতাদের উপস্থিতি থাকলেই মুসলিমদের রাজনৈতিক স্বার্থ যথাযথভাবে পূরণ হচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

    এই মন্তব্য দেশভাগের পর ভারতে থেকে যাওয়া মুসলিম নেতাদের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় তাঁদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

    জাতীয় পরিচয়, ধর্মনিরপেক্ষতা ও কাশ্মীর নিয়ে বৃহত্তর বিতর্ক

    শরজিল ইমামের নামে প্রচারিত এই পোস্টগুলিতে ভারতীয় জাতীয়তাবাদ, কাশ্মীর, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক, জিন্নাহর উত্তরাধিকার, কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক পরিসরে ইসলামের ভূমিকা—বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।

    সমালোচনামূলক বিশ্লেষণটির দাবি, পোস্টগুলির মধ্যে এমন কিছু বক্তব্য রয়েছে, যা ভারতীয় রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থান ও জাতীয় পরিচয়ের প্রচলিত ব্যাখ্যাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে। বিশেষত কাশ্মীরকে ‘ভারতীয় অবরোধে’র মধ্যে থাকা অঞ্চল হিসেবে বর্ণনা, ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সমালোচনা করা পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম শেয়ার এবং জিন্নাহর প্রতিকৃতি নিয়ে তাঁর মন্তব্য আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে (Kashmir)।

    তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও বক্তব্য, সংবাদ শিরোনাম বা ঐতিহাসিক দলিল শেয়ার করার অর্থ সব ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের প্রতিটি অংশকে সমর্থন করা নয়। একইভাবে কোনও রাজনৈতিক মতের সমালোচনা করা এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগও পৃথক বিষয়। অভিযোগের ক্ষেত্রে আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রমাণ এবং চূড়ান্ত রায়কে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    শিলিগুড়ি করিডর অবরোধের প্রসঙ্গে ইমামের বক্তব্যও এই বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উত্তর-পূর্ব ভারতকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যুক্ত রাখার ক্ষেত্রে এই করিডর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ওই পথ অবরোধের আহ্বানকে কেন্দ্র করে জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    সব মিলিয়ে, ইমামের রাজনৈতিক বক্তব্যের মূল্যায়নে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—তাঁর প্রকাশিত বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ, সেই বক্তব্যের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং তাঁর বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলাগুলির অবস্থান। জাতীয় নিরাপত্তা, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণ ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখাই জরুরি।

     

  • LPG Distributors: দিল্লিতে এলপিজি সরবরাহ বন্ধের প্রতিবাদ-ধর্মঘটে আপত্তি, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার আর্জি এফএলডিআইয়ের

    LPG Distributors: দিল্লিতে এলপিজি সরবরাহ বন্ধের প্রতিবাদ-ধর্মঘটে আপত্তি, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার আর্জি এফএলডিআইয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডি জোটের সমাবেশের আগে এলপিজি সরবরাহ ও ডেলিভারি বন্ধ রেখে প্রতিবাদ এবং অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাকের বিরোধিতা করল ফেডারেশন অফ এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর্স অফ ইন্ডিয়া (FLDI)। গ্রাহকদের অসুবিধা এড়াতে সমস্ত এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরকে নিয়মিত সরবরাহ ও ডেলিভারি পরিষেবা চালু রাখার আবেদন জানিয়েছে সংগঠনটি (LPG Distributors)।

    এফএলডিআইয়ের বক্তব্য (LPG Distributors)

    জারি করা বিবৃতিতে এফএলডিআই জানিয়েছে, ডিস্ট্রিবিউটরদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে তেল বিপণন সংস্থাগুলি (OMCs) এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছে। সমস্যার দ্রুত সমাধানের আশ্বাসও মিলেছে বলে দাবি সংগঠনের। তাই আলোচনার সমস্ত পথ ব্যবহার করার আগেই প্রতিবাদ বা ধর্মঘটের পথে হাঁটাকে বাস্তবসম্মত বলে মনে করছে (Rahul Gandhi) না তারা। এফএলডিআইয়ের বক্তব্য, ডিস্ট্রিবিউটরদের ন্যায্য দাবিগুলি নিয়ে অর্থবহ আলোচনা, নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত এবং ধারাবাহিক উদ্যোগ প্রয়োজন। তবে এই প্রক্রিয়া চলাকালীন সাধারণ গ্রাহকদের এলপিজি পরিষেবা যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। সংবাদ সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে সংগঠনটি জানিয়েছে, ধর্মঘট বা কর্মসূচির আহ্বানে সাড়া না দিয়ে সমস্ত ডিস্ট্রিবিউটর যেন সরবরাহ ও ডেলিভারি স্বাভাবিক রাখেন। কোনও পরিবার যাতে রান্নার গ্যাস নিয়ে সমস্যায় না পড়ে, সেই বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।

    ইন্ডি জোটের সমাবেশ ঘিরে ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কা

    এদিকে, উৎসবের মরশুমে দিল্লিতে ইন্ডি জোটের সমাবেশকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শনিবার চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (CTI) কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর কাছে ১ নভেম্বরের সমাবেশ পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানায়। সিটিআইয়ের দাবি, দীপাবলির আগে কেনাকাটার ব্যস্ত সময়ে এই সমাবেশের কারণে দিল্লিতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সংগঠনের চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল জানিয়েছেন, অক্টোবর মাসেই কনট প্লেস, ইন্ডিয়া গেট এবং মধ্য দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় সমাবেশ, মিছিল ও রাস্তা বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীদের আনুমানিক ৩ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, উৎসবের মরশুমে যান চলাচলে বাধা এবং বাজারে ক্রেতাদের যাতায়াত কমে গেলে ব্যবসায়িক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে (LPG Distributors)।

    ‘ভোট চুরি’ ইস্যুতে ইন্ডি জোটের সমাবেশ

    উল্লেখ্য, নির্বাচনে তথাকথিত ‘ভোট চুরি’র অভিযোগকে কেন্দ্র করে নিজেদের আন্দোলন আরও জোরদার করতেই রামলীলা ময়দানে সমাবেশের আয়োজন করছে ইন্ডি জোট। এর পাশাপাশি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করছে বিরোধী জোট। এই পরিস্থিতিতে একদিকে ডিস্ট্রিবিউটরদের দাবি নিয়ে (Rahul Gandhi) আলোচনা, অন্যদিকে উৎসবের মরশুমে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড সচল রাখা—দিল্লিতে দুই বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এফএলডিআইয়ের সাফ কথা, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হোক, কিন্তু তার জন্য সাধারণ মানুষের এলপিজি পরিষেবা কোনওভাবেই ব্যাহত করা যাবে না (LPG Distributors)।

     

  • Naseeruddin Shah: কলকাতার সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র-টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানে অশান্তি, নাসিরুদ্দিন শাহের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক

    Naseeruddin Shah: কলকাতার সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র-টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানে অশান্তি, নাসিরুদ্দিন শাহের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানে (এসআরএফটিআই) আন্দোলনের নামে হিংসাত্মক ঘটনার জেরে পড়ুয়াদের সম্মিলিত ভবিষ্যৎ বিপন্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ। প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য সন্তোষ আজমেরার উপর শারীরিক হামলার কয়েক দিন পর অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহের (Naseeruddin Shah) মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনের দাবি, ৫০০-র বেশি পড়ুয়ার নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং শিক্ষাগত ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতেই সাম্প্রতিক নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে (Srfti Controversy)। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের অধীন এই প্রতিষ্ঠানের একটি রিপোর্টে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা জোরদার করতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর বিরোধিতা করেছিলেন পড়ুয়াদের একাংশ। ফলে তাঁদের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য, এই বিরোধিতার জেরে গোটা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়া ও কর্মীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে।

    আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে নাসিরুদ্দিন (Naseeruddin Shah)

    সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিয়োয় নাসিরুদ্দিন শাহ আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়ান। তাঁর অভিযোগ, “বাংলার নির্বাচনে জয়ের পর বিজেপি যেন তাদের বিশ্বাস ও নীতির সঙ্গে একমত নন, এমন প্রত্যেকের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে উঠেপড়ে লেগেছে।” পড়ুয়াদের তিনি ওই দলের প্রতিহিংসার শিকার বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর আরও অভিযোগ, “দেশের ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের হয় মগজধোলাই করার, নয়তো ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বিজেপি।” তবে অভিনেতার বক্তব্য, “আমি আপনাদের কথা দিতে পারি, এমনটা হতে দেব না।”

    শাহের মন্তব্যের জবাবে বিজেপির সাংসদ তথা মুখপাত্র রাহুল সিনহা তাঁর বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি করেছেন। এই মন্তব্যের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের যোগ থাকতে পারে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সিনহার দাবি, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর শাহ বিদেশি শক্তি এবং কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিআই(এম)-সহ বিরোধী দলগুলির সঙ্গে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়ে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। এদিকে, প্রতিষ্ঠানের সূত্রের অভিযোগ, অভিনেতা মিথ্যা কথা বলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করছেন, যার ফলে পড়ুয়াদের ক্ষতি এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হতে পারে। তাঁদের বক্তব্য, এই ঘটনায় শাহ সরাসরি সংশ্লিষ্ট পক্ষ নন এবং ক্ষতির দায়ও তাঁকে বহন করতে হবে না।

    প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে অশান্তির সূত্রপাত। ওই দিন যথাযথ অনুমতি নিয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের সময় বিক্ষোভকারী পড়ুয়ারা মূল প্রেক্ষাগৃহে ঢুকে পড়েন। এর জেরে হাতাহাতি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর পরেই উপাচার্যের উপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে (Naseeruddin Shah)।

    প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ

    ঘটনার পর অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। আহত পড়ুয়াদের চিকিৎসার খরচও প্রতিষ্ঠান বহন করে বলে জানা গিয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে মূল ফটকের উচ্চতা বাড়ানো, বেড়ার তার বসানো এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের মতো পদক্ষেপ করা হয়। একই সঙ্গে মহিলা পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

    তবে ৪ অক্টোবর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ওই দিন প্রায় ২৫০ জন পড়ুয়া রাত ১১টা পর্যন্ত মূল ফটকে উপাচার্য আজমেরাকে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ। ৬ অক্টোবর থেকে অন্তত ৫০-৬০ জন পড়ুয়া প্রায় দু’দিন তাঁর দফতর দখল করে রাখেন। সেই সময় তাঁর চেয়ার ভাঙচুর করা হয় এবং ঘরের ভিতরেও তাণ্ডব চালানো হয় বলে অভিযোগ। ১৫ অক্টোবর শুভম নামে এক পড়ুয়া আজমেরার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও ধস্তাধস্তি করেন বলে দাবি প্রতিষ্ঠানের। পরের দিন তাঁর দফতর লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটে।

    প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ

    প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালীন অনুমতি ছাড়াই মিছিল করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। সেই মিছিলে ক্যাম্পাসের বাইরের রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও অংশ নিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পুলিশ সংযত থাকার অনুরোধ জানালেও বিক্ষোভকারীরা উসকানিমূলক স্লোগান দেন বলে অভিযোগ।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অসদাচরণের অভিযোগে ছ’জন পড়ুয়াকে এক বছরের জন্য প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নিরাপদ ও ভয়মুক্ত শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ক্লাস স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে পড়ুয়াদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য বলে দাবি প্রতিষ্ঠানের।

    এদিকে, চলচ্চিত্র পরিচালক পায়েল কাপাডিয়াও পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়েছেন (Srfti Controversy)। বিজেপির আদর্শগত অভিভাবক হিসেবে পরিচিত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলির কথিত হামলার অভিযোগের জেরে পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনায় চলচ্চিত্র মহল ও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে (Naseeruddin Shah)।

     

  • CJP Opposition Ecosystem: দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ভুয়ো সাংবাদিক আইডি-এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও নিয়ে বিতর্ক, তদন্তে একাধিক অভিযোগ

    CJP Opposition Ecosystem: দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ভুয়ো সাংবাদিক আইডি-এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও নিয়ে বিতর্ক, তদন্তে একাধিক অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার বিরোধিতায় আয়োজিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ভুয়ো সাংবাদিক পরিচয়পত্র বিক্রি, রাজনৈতিক প্রচার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে (CJP Opposition Ecosystem)। অভিযোগ, সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা বা সংবাদমাধ্যমে কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই কয়েক হাজার টাকার বিনিময়ে সংবাদকর্মীর পরিচয়পত্র, সদস্যপদ শংসাপত্র এবং অন্যান্য নথি দেওয়া হচ্ছিল। বিক্ষোভের সময় সরকার ও দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে জনমত তৈরির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর প্রচার করার অভিযোগও উঠেছে (Independent Journalists)। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং বিরোধী শিবিরের সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে ঘিরে এই অভিযোগগুলি সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলনকে জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ হিসেবে তুলে ধরা হলেও, অভিযোগ, এর প্রচারে রাজনৈতিক বার্তা, সোশ্যাল মিডিয়ায় সংগঠিত প্রচার এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহৃত হয়েছে।

    পরিচয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন (CJP Opposition Ecosystem)

    অভিযোগ, ‘ইন্ডিয়ান প্রেস ইউনিয়ন’, ‘নিড২৪’ এবং ‘এফএনএফ’-এর মতো সংগঠন ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাংবাদিক পরিচয়পত্র, প্রতিবেদকের পরিচিতি, সদস্যপদ শংসাপত্র এবং গাড়ির স্টিকার বিক্রির ব্যবস্থা ছিল। পরিচয়পত্রের দাম ঘোরাফেরা করেছে ৫৯৯ টাকা থেকে ১,৭৯৯ টাকার মধ্যে। কিছু ক্ষেত্রে প্রতিবেদকের পরিচিতি তৈরির জন্য ৯৯৯ টাকা এবং ডিস্ট্রিক্ট ব্যুরো চিফ ব্যবহারের জন্য বার্ষিক ২৫ হাজার টাকার সদস্যপদের কথা বলা হয়েছে।

    ‘হিন্দ মিডিয়া নেটওয়ার্ক’ নামে একটি ওয়েবসাইটে ৫৯৯ টাকায় সংবাদকর্মীর পরিচয়পত্র ও প্রতিবেদকের পরিচিতির পাশাপাশি ৩,৫০০ টাকায় মাইক্রোফোনের সরঞ্জাম বিক্রির বিজ্ঞাপন থাকার অভিযোগ উঠেছে। ‘নিড২৪ নিউজ’-এর ক্ষেত্রে প্রতিবেদকের পরিচিতি এবং ডিস্ট্রিক্ট ব্যুরো চিফ ডেজিগনেশন দেওয়ার জন্য পৃথক মূল্য নির্ধারণের কথা সামনে এসেছে।

    অভিযোগের আরও একটি দিক হল, কয়েকটি সদ্য তৈরি সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট নিজেদের প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যম হিসেবে তুলে ধরতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি সাক্ষাৎকারের ভিডিও ব্যবহার করেছিল। একটি সংগঠন ২০১৬ সাল থেকে কাজ করার দাবি করলেও, সেই দাবির সমর্থনে পর্যাপ্ত প্রমাণ মেলেনি বলেই উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ভিডিও নিয়ে গ্রেফতার

    বিক্ষোভ ঘিরে বিভ্রান্তিকর প্রচারের অভিযোগের মধ্যে দিল্লি পুলিশ ২৪ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। অভিযোগ, তিনি সহকারী পুলিশ কমিশনার বিবেক ভগতকে এক মহিলা বিক্ষোভকারীর সঙ্গে অসদাচরণ করতে দেখা যাচ্ছে—এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছিলেন।

    ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামের ‘নিউজ আইনা টুডে’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো হয়। সেটিকে আসল সিসিটিভি ফুটেজ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ভিডিওতে এক পুলিশকর্মীর আপত্তিকর আচরণের দৃশ্যের সঙ্গে সহকারী পুলিশ কমিশনার বিবেক ভগতের ছবি, নাম ও পদবি দেখানো হয়েছিল। এর ফলে ওই পুলিশ আধিকারিককে মিথ্যাভাবে জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।

    ৪ অক্টোবর পুলিশের সোশ্যাল মিডিয়া পর্যবেক্ষণকারী দল ভিডিওটি চিহ্নিত করে। এর পর সাইবার থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়। তদন্তে অ্যাকাউন্টটির সঙ্গে হরিয়ানার পালওয়ালের বাসিন্দা নাদিম আহমেদ আমিনের যোগসূত্র মেলে। তাঁকে ৫ অক্টোবর মেওয়াট থেকে আটক করা হয় (CJP Opposition Ecosystem)।

    জিজ্ঞাসাবাদে আমিন স্বীকার করেছেন বলে তদন্তকারীদের দাবি, ৩ অক্টোবর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সরঞ্জাম ব্যবহার করে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছিল। দিল্লি পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা, বিক্ষোভকারীদের উত্তেজিত করা এবং অশান্তি সৃষ্টি করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল বলে অভিযোগ। অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মনজিৎ শেওরানের বক্তব্য, এই প্রচারের লক্ষ্য ছিল বিশৃঙ্খলা তৈরি করা এবং দাঙ্গা উসকে দেওয়া (Independent Journalists)।

    অভিযোগকারী মহিলার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও বিতর্ক

    সহকারী পুলিশ কমিশনার বিবেক ভগতের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তোলা এক মহিলার পরিচয় নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, তিনি নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিলেও, বাস্তবে ছিলেন সিজেপির সক্রিয় কর্মী।

    রোজি নামের ওই মহিলা সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত মুখ। তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ৬১ হাজারেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে। ৩ অক্টোবর অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের কর্মী নেহা বোরাকে আটক করার সময় বিবেক ভগত তাঁর সঙ্গে অসদাচরণ করেছিলেন বলে অভিযোগ রোজির। পরে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই পুলিশ আধিকারিককে ‘যৌন নিপীড়ক’ বলে আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ।

    ৬ সেপ্টেম্বর সিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া পরিচালনাকারী দলের পরিচয় প্রকাশ করে একটি পোস্ট করা হয়েছিল। সেখানে রোজিকে প্রচার ও সংবাদ সংগ্রহের সমন্বয়কারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন পোস্টেও সিজেপির প্রতি সমর্থনের পরিচয় পাওয়া যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

    ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে বিতর্ক

    সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২০ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনবিরোধী আন্দোলন এবং উত্তর-পূর্ব দিল্লির দাঙ্গার প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। অভিযোগ, সেই সময়ও বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক বিক্ষোভ, উত্তেজনামূলক ভাষণ এবং বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। পরে যান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

    ২০২০ সালের দাঙ্গায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং কয়েকশো মানুষ জখম হয়েছিলেন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন গোয়েন্দা ব্যুরোর কর্মী অঙ্কিত শর্মা এবং পুলিশকর্মী রতনলাল। উপ-পুলিশ কমিশনার অমিত শর্মাও গুরুতর আহত হন।

    দিল্লি পুলিশের অপরাধ দমন শাখা দাঙ্গার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ৫২/২০২০ নম্বর এফআইআর দায়ের করেছিল। প্রসিকিউশনের বক্তব্য ছিল, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জির বিরোধিতায় আয়োজিত বিক্ষোভের আড়ালে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হয়েছিল। উমর খালিদ, শার্জিল ইমাম, তাহির হুসেন, খালিদ সাইফি, ইশরাত জাহান, গুলফিশা ফতিমা, নাতাশা নারওয়াল, দেবাঙ্গনা কলিতা, আথার খান এবং সফুরা জারগর-সহ একাধিক ব্যক্তির নাম ওই মামলায় উঠে আসে। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও আইনি অবস্থান পৃথকভাবে বিবেচ্য।

    বর্তমান বিক্ষোভকে ঘিরে একই ধরনের পরিকল্পনার অভিযোগ উঠলেও, দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য তদন্তের ফল প্রয়োজন (CJP Opposition Ecosystem)।

    সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন

    এই বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা। গণতন্ত্রে সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব হল জনসাধারণকে তথ্য দেওয়া, ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজের পর্যালোচনা করা। সেই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তথ্যের নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা এবং সম্পাদকীয় স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    কিন্তু অর্থের বিনিময়ে সাংবাদিক পরিচয়পত্র দেওয়া হলে প্রকৃত সংবাদকর্মী ও রাজনৈতিক প্রচারকর্মীর মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে, কোনও ব্যক্তি নিজেকে স্বাধীন সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে রাজনৈতিক যোগসূত্র গোপন করলে বা যাচাই না করা তথ্যকে সত্য হিসেবে প্রচার করলে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ভিডিওকে আসল প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হলে সেই বিপদ আরও বাড়ে। এমন ভিডিও জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে, কোনও ব্যক্তির ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তেজনা ছড়াতে পারে। সংবাদমাধ্যমের পরিচয় ব্যবহার করে নিষিদ্ধ বা সীমাবদ্ধ এলাকায় প্রবেশ কিংবা নিয়ম ভাঙার চেষ্টা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।

    দিল্লি পুলিশের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র সংক্রান্ত নিয়ম কঠোর করার সিদ্ধান্তের পর কিছু সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার নিজেদের স্বাধীন সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেছেন বলেও অভিযোগ (Independent Journalists)।

    সব মিলিয়ে, বিক্ষোভ ঘিরে ভুয়ো পরিচয়পত্র, রাজনৈতিক প্রচার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ভিডিও ব্যবহারের অভিযোগ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ এবং প্রকৃত সাংবাদিকতার পরিচয় সুরক্ষিত রাখাই এখন গুরুত্বপূর্ণ (CJP Opposition Ecosystem)।

     

  • Arunachal Pradesh: অরুণাচলে বাঁধবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে তাণ্ডব, আগুনে পুড়ল জলবিদ্যুৎ সংস্থার দফতর-থানা

    Arunachal Pradesh: অরুণাচলে বাঁধবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে তাণ্ডব, আগুনে পুড়ল জলবিদ্যুৎ সংস্থার দফতর-থানা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্যাপক হিংসা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের জেরে উত্তপ্ত অরুণাচল প্রদেশের (Arunachal Pradesh) পূর্ব সিয়াং জেলার পাসিঘাট এলাকা। প্রস্তাবিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার এই ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত জনতার হামলায় জাতীয় জলবিদ্যুৎ নিগমের একটি দফতর, স্থানীয় থানার ভবন এবং পুলিশের সাতটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে একাধিক পুলিশকর্মী জখম হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়তে হয় পুলিশকে (Mob Attacks)।

    প্রস্তাবিত সিয়াং উচ্চ বহুমুখী প্রকল্পের বিরোধিতায় ১২ ঘণ্টার বন্‌ধকে কেন্দ্র করে অশান্তির সূত্রপাত। সিয়াং, পূর্ব সিয়াং ও উচ্চ সিয়াং—এই তিন জেলায় বন্‌ধের প্রভাব পড়ে। একাধিক এলাকায় দোকানপাট ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। ব্যাহত হয় স্বাভাবিক জনজীবন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশকে বাড়ির ভিতরেই থাকতে হয়।

    প্রশাসনের দাবি, বন্‌ধের নামে বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করে। পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয় এবং নিরাপত্তারক্ষীদের কাজে বাধা দেওয়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। তার পরেও অশান্তি থামেনি। রণগড় মোড়ে পুলিশের কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পাসিঘাটের থানা ও জলবিদ্যুৎ নিগমের দফতরেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

    রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িতেও হামলা (Arunachal Pradesh)

    হিংসার সময় একাধিক রাজনৈতিক নেতার বাড়ি এবং আবাসনেও হামলা এবং ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপি বিধায়ক নিনং এরিং, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির বিধায়ক ওনি প্যানিয়াং এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি কলিং মোয়ং।

    সিয়াং জেলার পুলিশ সুপার কামদাম শিখোমের বক্তব্য, উচ্চ সিয়াং জেলার গেকু ও কোমকার এলাকা থেকে ১৫০ থেকে ২০০ জনের একটি দল ডিতে-ডিমে এলাকায় জড়ো হয়েছিল। তারা সিয়াং জেলায় ঢোকার চেষ্টা করে। ওই দলের সদস্যদের হাতে ছিল দা, লাঠি, গুলতি-সহ বিভিন্ন সামগ্রী। তারা পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙা, নিরাপত্তাকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া এবং জেলাশাসকের জারি করা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ।

    প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার পূর্ব সিয়াংয়ের জেলাশাসক জয়ন্তী পার্টিন বন্‌ধ অবৈধ ঘোষণা করেন। শুক্রবার বন্‌ধ শেষ হওয়ার পরেও পাসিঘাটের বিভিন্ন এলাকায় একদল লোক জোর করে বন্‌ধ কার্যকর করার চেষ্টা করেন। তার জেরেই পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    কেন প্রকল্পের বিরোধিতা?

    সিয়াং উচ্চ বহুমুখী প্রকল্পের বিরোধিতায় স্থানীয় কয়েকটি সংগঠন ও বিক্ষোভকারী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চালাচ্ছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, প্রকল্পের বিরোধিতায় আগের আন্দোলনের সময় গ্রেফতার হওয়া ১০ জনকে মুক্তি দিতে হবে, সিয়াং অঞ্চল থেকে নিরাপত্তাবাহিনী প্রত্যাহার করতে হবে এবং প্রকল্পের প্রাক্‌সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

    এই দাবিগুলিকে সামনে রেখে তিন জেলায় বন্‌ধের ডাক দেওয়া হয়। গেকু যুব সংগঠন এবং জন অধিকার সংগঠনের সিয়াং শাখা এই কর্মসূচিকে সমর্থন করে বলে খবর।

    বিক্ষোভের কয়েকটি কর্মসূচিতে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পরিচয় সামনে আনা হয়। পাসিঘাট-রানাঘাট সড়কে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ থেকে ‘আজাদি’ স্লোগান-সহ একাধিক আপত্তিকর স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে স্লোগানগুলির প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

    চিনের সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতির আবহে প্রকল্পের গুরুত্ব

    অরুণাচল প্রদেশে (Arunachal Pradesh) প্রস্তাবিত এই প্রকল্পকে ঘিরে বিতর্ক এমন সময়ে বাড়ল, যখন ভারত-চিন সীমান্তে নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় চিনের পরিকাঠামো নির্মাণের মোকাবিলায় ভারতও সড়ক, যোগাযোগ ও অন্যান্য কৌশলগত পরিকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে।

    সিয়াং উচ্চ বহুমুখী প্রকল্পকে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। চিনের দিক থেকে ইয়ারলুং সাংপো নদীর উজানে জল নিয়ন্ত্রণ ও পরিকাঠামো নির্মাণের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় ভারতের জলনিরাপত্তা জোরদার করাও এই প্রকল্পের অন্যতম কৌশলগত উদ্দেশ্য।

    সিয়াং উচ্চ বহুমুখী প্রকল্প

    সিয়াং উচ্চ বহুমুখী প্রকল্প অরুণাচল প্রদেশের উচ্চ সিয়াং জেলায় সিয়াং নদীর উপর প্রস্তাবিত ১১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বৃহৎ জলবিদ্যুৎ ও পরিকাঠামো প্রকল্প। জাতীয় জলবিদ্যুৎ নিগমের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে ভারতীয় উপমহাদেশের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির অন্যতম হয়ে উঠতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ জল সংরক্ষণের ক্ষমতা বর্ষাকালে নদীর জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এর ফলে অরুণাচল প্রদেশ ও অসমের ভাটির এলাকায় বন্যার ঝুঁকি কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

    এছাড়া, উজানে চিনের বাঁধ থেকে হঠাৎ জল ছাড়া বা আকস্মিক বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হলে জলাধারটি জলপ্রবাহের প্রভাব সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে প্রকল্পের পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে (Mob Attacks)।

    প্রকল্পটির সমর্থকদের মতে, এটি অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান এবং স্বনিযুক্তির সুযোগ বাড়াতে পারে। তবে প্রকল্পের বিরোধীদের দাবি, তাঁদের উদ্বেগ ও দাবিগুলির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সমীক্ষা ও উন্নয়নের কাজ বন্ধ রাখা উচিত।

    বিক্ষোভ ঘিরে হিংসা, সরকারি সম্পত্তিতে (Arunachal Pradesh) অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়েছে। প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশাসন, স্থানীয় বাসিন্দা ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আলোচনার পথ কতটা প্রশস্ত হয়, এখন সেটাই দেখার।

     

LinkedIn
Share