Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Jamia Millia Islamia: জামিয়ায় বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, অনলাইনে ক্লাসের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের

    Jamia Millia Islamia: জামিয়ায় বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, অনলাইনে ক্লাসের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালুর দাবিতে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া (Jamia Millia Islamia) বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের সংঘর্ষ বাধে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কয়েক জন অনশনেও বসেছিলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পরেই অনলাইনে ক্লাস চালানোর সিদ্ধান্ত নেন (Students Guards Clash) কর্তৃপক্ষ।

    উত্তেজনার সূত্রপাত (Jamia Millia Islamia)

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, বিক্ষোভরত পড়ুয়ারা যে তাঁবুগুলির নীচে অবস্থান করছিলেন, সেগুলি সরাতে শুরু করেন নিরাপত্তারক্ষীরা। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনা ছড়ায়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন পুনর্বহাল করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে এই দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছেন তাঁরা।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মেহতাব আলম রিজভির অভিযোগ, শুক্রবার কংগ্রেসের দুই সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ি এবং ইমরান মাসুদ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশ করেন। তাঁর দাবি, তাঁরা পাঁচিল টপকে ক্যাম্পাসে ঢুকে পরিবেশ উত্তপ্ত করেন। তাঁদের উপস্থিতি পড়ুয়াদের উসকে দিয়েছে বলেও অভিযোগ রিজভির। তাঁর বক্তব্য, পড়ুয়াদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ঘটনায় দিল্লি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    তবে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠন এআইএসএ। সংগঠনের অভিযোগ, কোনও প্ররোচনা ছাড়াই অনশনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কর্তৃপক্ষ।

    হিংসার জেরে ভাঙা হয়েছিল ছাত্র সংসদ

    উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে ক্যাম্পাসে হিংসার জেরে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া ছাত্র সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় হিংসার কারণে পঠনপাঠনও ব্যাহত হয়। আন্দোলনকারীরা এখন ওই ছাত্র সংসদ পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছেন (Jamia Millia Islamia)।

    এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে ভারতবিরোধী স্লোগান লেখাকে কেন্দ্র করেও সম্প্রতি উত্তেজনা ছড়ায়। ওই স্লোগানের সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরের যোগ রয়েছে বলে দাবি ওঠে। ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছে বিজেপি।

    গত ২১ অক্টোবর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে লেখা চিঠিতে সিপিআই(এম)-এর সাংসদ জন ব্রিটাস প্রায় দু’দশক ধরে (Students Guards Clash) বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচিত ছাত্র সংসদ না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন। বাক্‌স্বাধীনতা ও সংগঠন গঠনের সাংবিধানিক অধিকার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ছাত্র অধিকার সংক্রান্ত নির্দেশিকা এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে লিংডো কমিটির সুপারিশের উল্লেখ করে ছাত্র সংসদ পুনর্বহালের পক্ষে সওয়াল করেন (Jamia Millia Islamia) তিনি।

     

  • India-European Union Free Trade: যৌথ উদ্ভাবন ও উৎপাদনে জোর! ভারত-ইইউ কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে দিল্লি সফরে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদল

    India-European Union Free Trade: যৌথ উদ্ভাবন ও উৎপাদনে জোর! ভারত-ইইউ কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে দিল্লি সফরে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ভারতে কর্মরত রাষ্ট্রদূত জঁ-এরিক পাকে বলেছেন, আগামী ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বিদেশ বিষয়ক কমিটি (AFET)-এর প্রতিনিধিদলের আসন্ন সফরের দিকে তিনি আগ্রহের সঙ্গে তাকিয়ে রয়েছেন। ইইউ-ভারত কৌশলগত অংশীদারিত্বকে “একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক” হিসেবে বর্ণনা করেছেন পাকে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বিদেশ বিষয়ক কমিটি (AFET)-এর একটি প্রতিনিধিদল আগামী ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নয়াদিল্লি সফর করবে। এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কমিটির চেয়ারম্যান ডেভিড ম্যাকঅ্যালিস্টার (David McAllister)। ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সইয়ের আগের প্রস্তুতি এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করা নিয়ে আলোচনা করতে তারা ভারত সরকার, সংসদ ও শিল্পপতিদের সাথে বৈঠক (India-European Union Free Trade) করবেন। এর আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসেছিলেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্টা।

    একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক

    পাকে ইইউ-ভারত কৌশলগত অংশীদারিত্বকে “একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও ভূ-রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির মধ্যে এর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরেছেন পাকে। তাঁর কথায়, “বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, গবেষণা ও উদ্ভাবন—এই ক্ষেত্রগুলোতে অভূতপূর্ব অগ্রগতির মুহূর্তে ভারতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব করা একটি সম্মানের বিষয়। আমাদের যৌথ কর্মসূচি কেবল আকাঙ্ক্ষামূলক নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি একটি বাস্তব অঙ্গীকার, যা উভয় পক্ষের নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্ভাবন, সমৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতা আনবে।”

     ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা

    সম্প্রতি ভারত ও জার্মানির মধ্যে গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার হলে যৌথ উদ্ভাবন, নতুন পণ্যের বিকাশ এবং ভারতে উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হবে। এমনই আশার কথা শুনিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তাঁর মতে, জার্মানির উন্নত প্রযুক্তি ও ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতার সঙ্গে ভারতের দক্ষ মানবসম্পদ এবং সাশ্রয়ী উৎপাদন ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটলে বিশ্ববাজারে দুই দেশই বড় সুবিধা পেতে পারে। বার্লিন গ্লোবাল ডায়ালগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারত-জার্মানি সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক আস্থার কথা তুলে ধরেন গোয়েল। তিনি বলেন, ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সম্পন্ন হওয়ার ফলে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। বিশেষ করে গবেষণা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই চুক্তি নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ বাজারে ভারতের বাণিজ্যিক চুক্তির আওতা রয়েছে। আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে তা বিশ্বের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (GDP) প্রায় ৭৫ শতাংশের সমতুল্য বাজারে পৌঁছতে পারে বলে জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে বাস্তব বিনিয়োগ, শিল্প সহযোগিতা এবং নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ গড়ে তোলা যায়, তা নিয়েই মূলত আলোচনা করেন গোয়েল।

    বার্লিনে ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক গোয়েলের

    ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বাজারে প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারণ, সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে জানালেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। শনিবার বার্লিনে ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এক বৈঠকের পর গোয়েল জানান, ভারত-জার্মানি অংশীদারিত্বের ক্রমবর্ধমান গতি এবং ভারতীয় শিল্পের সামনে তৈরি হওয়া নতুন সুযোগগুলি নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বস্ত্রশিল্প থেকে শুরু করে ওষুধ, ইঞ্জিনিয়ারিং, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং উদীয়মান প্রযুক্তি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ করে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলিকে (এমএসএমই) এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জার্মান সংস্থাগুলির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

    দুই পক্ষের পরিপূরক শক্তিকে একত্রিত করার সুযোগ

    সমাজমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লেখেন, ভারতীয় সংস্থাগুলিকে গুণমান, নিয়ম মেনে চলা এবং নির্ভরযোগ্যতার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখতে হবে। এর মাধ্যমে প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী এবং বিশ্বের আস্থাভাজন অংশীদার হিসেবে ভারতের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। গোয়েল বলেন, দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারতের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে গবেষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে গবেষণা ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারিত্ব আরও গভীর করা সম্ভব। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি উন্নত উৎপাদন, ইঞ্জিনিয়ারিং, তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবা ক্ষেত্রে দুই পক্ষের পরিপূরক শক্তিকে একত্রিত করার সুযোগ তৈরি করবে বলেও জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এর ফলে উভয় পক্ষের মানুষের সমৃদ্ধি বাড়বে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।

  • Sharjeel Imam: শরজিল ইমামের সংবিধান-ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, আলোচনায় পুরনো সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টও

    Sharjeel Imam: শরজিল ইমামের সংবিধান-ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, আলোচনায় পুরনো সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সংবিধান, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ এবং হিন্দু ধর্মীয় আচার নিয়ে শরজিল ইমামের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারের বক্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি ভারতীয় সংবিধানকে ‘ফ্যাসিবাদী’ এবং মুসলিমদের মর্যাদাপূর্ণ অস্তিত্বের পথে বাধা বলে অভিহিত করেছেন বলে একটি নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে (Sharjeel Imam)। একই সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতাকে ‘মিথ্যা ও ফাঁদ’ বলে উল্লেখ করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তাঁর পুরনো সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট সামনে এনে সমালোচকেরা তাঁর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন (Anti Hindu Rhetoric)।

    সংবিধান ও ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য (Sharjeel Imam)

    প্রকাশিত নিবন্ধের দাবি, সাক্ষাৎকারে শরজিল ভারতীয় সংবিধানের কাঠামোকে মুসলিমদের মর্যাদাপূর্ণ অস্তিত্বের পথে বাধা হিসেবে দেখিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নিবন্ধটির লেখক দাবি করেছেন, ইমাম ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থাকে বৃহত্তর জাতীয়তাবাদী কাঠামোর অংশ বলে মনে করেন এবং সেই কাঠামোর সঙ্গে হিন্দুত্ববাদী ভাবধারার সম্পর্ক রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।

    এ ছাড়া, ভারতের প্রাচীন হিন্দু সভ্যতাভিত্তিক জাতীয় পরিচয়ের ধারণাকেও তিনি প্রশ্ন করেছেন বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশভাগের জন্য কংগ্রেসের অভ্যন্তরে ব্রাহ্মণ্যবাদী শক্তিকে দায়ী করা এবং মুসলিম লিগের ভূমিকা সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক অবস্থান নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    তবে এসব বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট, সাক্ষাৎকারের সম্পূর্ণ প্রতিলিপি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যাখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই না করে অভিযোগগুলিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না।

    দুর্গাপুজো সংক্রান্ত পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন

    শরজিল ইমামের পুরনো সোশ্যাল মিডিয়ার কার্যকলাপের উল্লেখ করে সমালোচকেরা দাবি করেছেন, হিন্দু ধর্মীয় আচার এবং প্রতিমা উপাসনা নিয়ে তাঁর আপত্তি নতুন নয়। ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বরের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।

    সমালোচকদের বক্তব্য, ওই পোস্টে দুর্গাপুজো এবং প্রতিমা উপাসনা সম্পর্কে অবমাননাকর ধর্মতাত্ত্বিক পরিভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল। তাঁদের মতে, নিজেকে মার্ক্সবাদী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির এমন ধর্মীয় অবস্থান তাঁর ঘোষিত রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।

    তবে মূল পোস্টের সম্পূর্ণ পাঠ এবং তার প্রেক্ষাপট যাচাই করা জরুরি। শুধু সমালোচকদের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তির সামগ্রিক রাজনৈতিক বা ধর্মীয় অবস্থান নির্ধারণ করা সমীচীন নয়।

    ‘শিরক’ ধারণা ও জাতীয়তাবাদ নিয়ে বিতর্ক

    নিবন্ধটিতে ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বরের আর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের উল্লেখ রয়েছে। সেখানে শরজিল ‘শিরকে’র বিভিন্ন মতাদর্শগত রূপ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

    ইসলামি ধর্মতত্ত্বে শিরক বলতে আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে উপাসনা বা ঐশ্বরিক মর্যাদায় অংশীদার করার ধারণাকে বোঝানো হয়। সমালোচকদের দাবি, সংশ্লিষ্ট পোস্টে প্রতিমা উপাসনা, জাতীয়তাবাদ, মানবতাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং বস্তুবাদকে এই ধারণার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল।

    নিবন্ধটির লেখকের মতে, জাতীয়তাবাদকে ‘ওয়াতান-পরস্তি’, মানবতাবাদকে ‘ইনসান-পরস্তি’ এবং বস্তুবাদকে ‘মাদ্দা-পরস্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করার মাধ্যমে ইমাম একাধিক মতাদর্শের সমালোচনা করেছেন। লেখক আরও দাবি করেছেন, বস্তুবাদকে শিরকের অন্তর্ভুক্ত করা মার্ক্সবাদের বস্তুবাদী ভিত্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক (Sharjeel Imam)।

    তবে এই ব্যাখ্যা সংশ্লিষ্ট পোস্টের মূল বক্তব্য, তার পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং পরিভাষাগুলির ব্যবহারের ওপর নির্ভরশীল। তাই মূল নথি যাচাই ছাড়া এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো কঠিন।

    মার্ক্সবাদ ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন

    নিজেকে মার্ক্সবাদী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এবং একই সঙ্গে ইসলামি ধর্মতাত্ত্বিক পরিভাষা ব্যবহার করার বিষয়টি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের বক্তব্য, মার্ক্সবাদের বস্তুবাদী দর্শনের সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাসের নির্দিষ্ট কিছু ব্যাখ্যার মধ্যে মতাদর্শগত টানাপোড়েন রয়েছে।

    এদিকে, কোনও ব্যক্তি নিজেকে মার্ক্সবাদী হিসেবে পরিচয় দিলেই তাঁর ধর্মীয় পরিচয় বা বিশ্বাস পরিত্যাগ করতে হবে—এমন অতিসরল সিদ্ধান্ত টানা যায় না। মতাদর্শ, ধর্মীয় পরিচয় এবং রাজনৈতিক অবস্থানের পারস্পরিক সম্পর্ক বিচার করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পূর্ণ বক্তব্য ও যুক্তি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

    বিতর্কের কেন্দ্রে সংবিধান, পরিচয় ও সহাবস্থান

    শরজিলকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ভারতীয় সংবিধান, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মীয় পরিচয়ের প্রশ্ন। সমালোচকেরা তাঁর বক্তব্যকে হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা করছেন। তবে তাঁর বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ ও উদ্দেশ্য নির্ধারণের জন্য সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকার, মূল সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট এবং সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাপট যাচাই করা জরুরি (Anti Hindu Rhetoric)।

    একটি বহুধর্মীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবিধান, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে বিতর্ক স্বাভাবিক। সেই বিতর্কে কোনও ব্যক্তির বক্তব্যের সমালোচনা করা যেতে পারে, কিন্তু অভিযোগ, মতামত এবং যাচাই করা তথ্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখাও সমান (Sharjeel Imam) গুরুত্বপূর্ণ।

     

  • Gwalior Madrasa Raid: গোয়ালিয়রের মাদ্রাসায় অনিয়মের অভিযোগ, ২৬ শিশু উদ্ধার, তালা ঝোলাল  প্রশাসন

    Gwalior Madrasa Raid: গোয়ালিয়রের মাদ্রাসায় অনিয়মের অভিযোগ, ২৬ শিশু উদ্ধার, তালা ঝোলাল  প্রশাসন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ধর্মীয় শিক্ষার নামে পরিচালিত একটি মাদ্রাসায় শিশুদের আবাসন, পড়াশোনা, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক গুরুতর অনিয়মের (Gwalior Madrasa Raid) অভিযোগ উঠল। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের ঝাঁসি রোডে অবস্থিত দার-উল-কোরান মাদ্রাসায় পরিদর্শন চালিয়ে একাধিক অসংগতি সামনে এনেছে প্রশাসন। শুক্রবারের ওই পরিদর্শনে উদ্ধার করা হয়েছে সাত থেকে ১৩ বছর বয়সি ১৮ বালক এবং চার থেকে ১৩ বছর বয়সি আট বালিকাকে (Girls Rescued)। গভীর রাতে মহকুমা শাসক অতুল সিং, ঝাঁসি রোডের নগর পুলিশ আধিকারিক এবং জেলা শিক্ষা আধিকারিকের উপস্থিতিতে মাদ্রাসাটি সিল করে দেওয়া হয়। শিশুদের শিশু কল্যাণ কমিটির তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। মধ্যপ্রদেশ রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন, শিক্ষা দফতর, নারী ও শিশু উন্নয়ন দফতর এবং শিশু কল্যাণ কমিটির যৌথ দল মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করে। কমিশনের চেয়ারপার্সন চিকিৎসক নিবেদিতা শর্মার নেতৃত্বে এই অভিযান চলে। শিশুদের প্রকৃত সংখ্যা, আবাসনের ব্যবস্থা, পড়াশোনা, কর্মীদের উপস্থিতি এবং প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখেন আধিকারিকেরা।

    দু’টি ঘরে বহু শিশু, শৌচাগারে দরজা নেই (Gwalior Madrasa Raid)

    পরিদর্শনে শিশুদের থাকার পরিবেশ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। ছোট ছোট ঘরে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছিল তাদের। মেঝেতে চাদর পেতে রাত কাটানোর ব্যবস্থা ছিল। রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতাও সন্তোষজনক ছিল না। শৌচাগারগুলিতেও দরজা ছিল না। শিশুদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, স্বাস্থ্যবিধি এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাবও নজরে এসেছে তদন্তকারীদের। পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন কমিশনের চেয়ারপার্সন নিবেদিতা শর্মা। তাঁর কথায়, “এভাবে শিশুদের শৈশব কেড়ে নেওয়া যায় না। আপনারা প্রতিষ্ঠান চালাতে পারেন, কিন্তু প্রত্যেককে নিয়ম মানতেই হবে।”

    তিনি আরও জানান, সরকারি কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই মাদ্রাসাটিকে আবাসিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। শিশুরা সেখানে সারাদিন থাকলেও, তারা বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ভর্তি বলে দেখানো হয়েছে। অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থেকেও তাদের উত্তীর্ণ করানোর ব্যবস্থা চলছিল। কয়েক জন বালিকাকে আদৌ বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়নি বলেও অভিযোগ সামনে এসেছে। কমিশনের চেয়ারপার্সনের বক্তব্য, পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা না থাকা এবং মাত্র দু’টি ঘরে এত শিশুকে রাখা তাদের প্রতি নিষ্ঠুরতার শামিল। কয়েক জন শিশু নিজেরাই জানিয়েছে, তারা সেখানে থাকতে চায় না এবং তাদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে।

    মসজিদের কুঠুরিতে আট বালিকা

    পরিদর্শনের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক ছিল বালিকাদের থাকার ব্যবস্থা। মসজিদের পিছনে এক কোণে ছোট একটি ঘরে আট বালিকাকে পাওয়া গিয়েছে। সেখানে পৌঁছতে চারটি দরজা পেরোতে হয়। বালিকাদের দেখাশোনার জন্য এক জন শিক্ষিকা প্রতিদিন প্রায় দু’ঘণ্টার জন্য আসতেন বলে জানা গিয়েছে। ঘরটিতে ঘুমোনোর জন্য কেবল চাদরের ব্যবস্থা ছিল। নিরাপত্তার জন্য লাগানো নজরদারি ক্যামেরাগুলিও বন্ধ ছিল। ফলে বালিকাদের নিরাপদ আবাসন, নিয়মিত তত্ত্বাবধান এবং মহিলা কর্মীর পর্যাপ্ত উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জরুরি পরিস্থিতিতে শিশুদের সাহায্য পাওয়ার ব্যবস্থা এবং প্রতিষ্ঠানে বাইরের লোকজনের প্রবেশের উপর কীভাবে নজর রাখা হয়, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    নথিতে গরমিল!

    মাদ্রাসার নথিতে ৪২ বালক এবং ১৫ বালিকার নাম রয়েছে। অর্থাৎ, নথি অনুযায়ী মোট পড়ুয়ার সংখ্যা ৫৭। অথচ পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিল মাত্রই ২৬ শিশু। প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের দাবি, শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় অনেক শিশু বাড়ি চলে গিয়েছিল। তবে নথিভুক্ত সংখ্যা ও বাস্তবে উপস্থিত শিশুদের সংখ্যার মধ্যে এত বড় ব্যবধান কেন, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। পরিদর্শনের সময় শিশুদের ভর্তি সংক্রান্ত নথি, উপস্থিতির খাতা এবং প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সংক্রান্ত কাগজপত্র নিজেদের হেফাজতে নেন আধিকারিকেরা। নথিতে থাকা বাকি শিশুরা কোথায় থাকে, কীসের ভিত্তিতে তাদের উপস্থিতি নথিভুক্ত করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানে শিশুদের আসা-যাওয়ার হিসাব কীভাবে রাখা হয়, তাও জানার চেষ্টা চলছে (Girls Rescued)। অভিযোগ, মাদ্রাসায় বালিকা থাকার বিষয়টিও আড়াল করার চেষ্টা হয়েছিল। পরিদর্শনকারী দলকে প্রথমে কয়েক জন জানিয়েছিলেন, সেখানে কোনও বালিকা নেই। কিন্তু পরে তল্লাশির সময় একটি ঘরে আট বালিকাকে পাওয়া যায় (Gwalior Madrasa Raid)।

    দুই বালিকার অভিযোগে বাড়ল উদ্বেগ

    পরিদর্শনের সময় কমিশনের সদস্যরা শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন। দুই বালিকা জানায়, তারা মাদ্রাসায় থাকতে চায় না এবং তাদের মারধর করা হয়েছে। তারা আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ করেছে। শিশুদের নিরাপত্তার দিকটি বিবেচনা করে অভিযোগগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    এর পর শিশুদের শিশু কল্যাণ কমিটির তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। তদন্তকারীদের মতে, কোনও আবাসিক প্রতিষ্ঠানে শিশুদের রাখা হলে তাদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।

    নিবন্ধন ও স্বীকৃতির নথি নিয়ে প্রশ্ন

    পরিদর্শনের সময় মাদ্রাসা পরিচালনাকারীদের কাছে প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ও সরকারি স্বীকৃতি সংক্রান্ত নথি চাওয়া হয়। যদিও, প্রয়োজনীয় নথি দেখানো যায়নি বলে অভিযোগ। সেখানে শিশুদের কোরান পড়ানো হয় বলে জানা গিয়েছে। সাধারণ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কতটা দেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় এসেছে।

    মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মহম্মদ সাবিরের দাবি, ৩৫ থেকে ৩৬ বছর ধরে ওয়াকফ বোর্ডের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, সেখানে প্রায় ৪০ বালক এবং ১৪ থেকে ১৫ বালিকা পড়াশোনা করে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি হিন্দি, ইংরেজি ও উর্দুও পড়ানো হয় (Gwalior Madrasa Raid)।

    বিদ্যালয়ে ভর্তি থাকলেও নিয়মিত পড়াশোনা নিয়ে সংশয়

    তদন্তে আরও উঠে এসেছে, কিছু শিশুর নাম বিদ্যালয়ে নথিভুক্ত থাকলেও, তারা নিয়মিত ক্লাসে যায় না বলে অভিযোগ। বিদ্যালয়ের নথিতে তাদের উপস্থিতি দেখানো হয় এবং সরাসরি পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।

    বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শিক্ষা দফতরকে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন কমিশনের চেয়ারপার্সন। উপস্থিতির নথিতে জালিয়াতির প্রমাণ মিললে বিষয়টি শুধু মাদ্রাসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হতে পারে।

    শিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি করার মূল উদ্দেশ্য নিয়মিত ও যথাযথ শিক্ষা নিশ্চিত করা। সেই উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে কি না, তা-ই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    ধর্মীয় বইয়ের বিষয়বস্তুও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

    মাদ্রাসায় শিশুদের কাছ থেকে মাসে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো বলে জানা গিয়েছে। পরিদর্শনের সময় একটি ঘরে রাখা বইপত্র পরীক্ষা করেন কমিশনের চেয়ারপার্সন। সেখান থেকে কয়েকটি হিন্দি ও উর্দু বই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

    অভিযোগ উঠেছে, কয়েকটি হিন্দি বইয়ে হিন্দুধর্ম, ইহুদিধর্ম ও খ্রিস্টধর্মের বিরুদ্ধে বক্তব্য রয়েছে। তবে বইগুলিতে ঠিক কী লেখা রয়েছে এবং শিশুদের কী ধরনের বিষয়বস্তু পড়ানো হচ্ছে, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় (Gwalior Madrasa Raid)।

    মাদ্রাসা সিল করাই শেষ পদক্ষেপ নয়

    দার-উল-কোরান মাদ্রাসা সিল করার ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। কোনও ধর্মীয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের রাখার ক্ষেত্রে নিরাপদ আবাসন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সম্মানজনক আচরণ (Girls Rescued) এবং নিয়মিত শিক্ষার নিশ্চয়তা থাকা জরুরি।

    পরিদর্শনে উঠে আসা অনিয়ম এবং শিশুদের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের চিহ্নিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে মাদ্রাসা সিল করা হলেও, এর পর প্রয়োজন কার্যকর নজরদারি, শিশুদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা যাচাই এবং তাদের অধিকার সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করা। শিশুদের ভবিষ্যৎ যাতে কোনওভাবেই অনিশ্চয়তার মুখে না পড়ে, তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব (Gwalior Madrasa Raid)।

     

  • Bastar Dussehra Celebration: নকশালমুক্ত বস্তারে ৭৫ দিনের দশেরা, ঐতিহ্যবাহী উৎসবে যোগ দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

    Bastar Dussehra Celebration: নকশালমুক্ত বস্তারে ৭৫ দিনের দশেরা, ঐতিহ্যবাহী উৎসবে যোগ দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলে উৎসবের আবহ। ৭৫ দিন ধরে চলা ঐতিহ্যবাহী বস্তার দশেরা উৎসবকে কেন্দ্র করে জড়ো হচ্ছেন বিভিন্ন গ্রামের মানুষ। গত ১২ অগস্ট পাট যাত্রার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হবে ২৭ অক্টোবর মা দন্তেশ্বরীর বিদায় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে (Bastar Dussehra Celebration)। উৎসবে যোগ দিতে দু’দিনের সফরে বস্তারে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ছয় শতাব্দীরও বেশি প্রাচীন এই উৎসব ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের দশেরা উদ্‌যাপনের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে রাবণবধ নয়, বরং বস্তারের আরাধ্য দেবী মা দন্তেশ্বরীর পুজোই উৎসবের মূল আকর্ষণ। বস্তারের রাজপরিবারের কুলদেবী মা দন্তেশ্বরীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে এই উৎসবের সূচনা। কাকতীয় রাজবংশের আমলে শুরু হওয়া এই ঐতিহ্য আজও স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের উদ্যোগে বহমান। বস্তারের আদিবাসী সমাজের ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং সামাজিক ঐক্যের সঙ্গে এই উৎসব গভীরভাবে জড়িত (Red Terror Eradication)।

    নানা আচার-অনুষ্ঠানে সমৃদ্ধ বস্তার দশেরা (Bastar Dussehra Celebration)

    পাটযাত্রা, রথযাত্রা, কাঞ্চন গাদি এবং মুরিয়া দরবার—একাধিক প্রাচীন আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হয় বস্তার দশেরা। পাশাপাশি থাকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের হরিয়ালি অমাবস্যায় পবিত্র কাঠের আনুষ্ঠানিক পুজো, অর্থাৎ পাটযাত্রার মাধ্যমে উৎসব শুরু হয়। বস্তার অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রাম থেকে দেবদেবী, পুরোহিত ও কারিগরেরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

    উৎসবের দিনগুলিতে তৈরি করা হয় বিশাল রথ। জগদলপুর শহরজুড়ে চলে শোভাযাত্রা। রাতে অনুষ্ঠিত হয় দেবীর বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান। বিভিন্ন গ্রামের আরাধ্য দেবদেবীর সমাবেশও এই উৎসবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

    উৎসবের শেষ পর্বে আয়োজিত হয় মুরিয়া দরবার। মূল রথযাত্রা ও দশেরার প্রধান আচার-অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর জগদলপুরে এই বিশেষ সমাবেশ বসে। ঐতিহ্যগতভাবে মুরিয়া আদিবাসী সম্প্রদায়-সহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা রাজদরবারে নিজেদের সমস্যা ও সামাজিক বিষয়গুলি তুলে ধরতেন। আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজদরবারের প্রশাসনিক ভূমিকা আর না থাকলেও, মুরিয়া দরবার বস্তারের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক কাঠামো, জনসংলাপ এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক অংশগ্রহণের প্রতীক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

    নকশাল আতঙ্ক কাটিয়ে উৎসবে ফিরছেন মানুষ

    দীর্ঘদিন ধরে নকশাল হিংসার কারণে বস্তারের বহু গ্রামের মানুষ এই উৎসবে যোগ দিতে পারতেন না। সুকমা, বিজাপুর ও নারায়ণপুরের মতো সংঘর্ষপ্রবণ এলাকার বহু জনপদ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। মাওবাদী হিংসার ছায়ায় বছরের পর বছর উৎসবের চেনা জৌলুসও ব্যাহত হয়েছে।

    তবে এ বছর পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। একসময় নকশাল-প্রভাবিত প্রায় ৫০টি গ্রামের দেবদেবী প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক বস্তার দশেরা উৎসবে অংশ নিয়েছেন। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ কেন্দ্রীয় সরকার দেশে নকশালবাদ অবসান করার কথা ঘোষণা করার পর এই অংশগ্রহণ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

    দীর্ঘদিন ধরে নকশাল সমস্যায় জর্জরিত অঞ্চলের আদিবাসীরা এখন স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার নিরাপত্তা অভিযান, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকায় মাওবাদী প্রভাব কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

    গত বছর জগদলপুরে বস্তার দশেরা উৎসবে যোগ দিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে নকশালবাদ নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়েছিলেন। মাওবাদী মতাদর্শে যুক্ত স্থানীয় আদিবাসীদের অস্ত্র ছেড়ে মূলস্রোতে ফেরার আহ্বানও জানান তিনি। নকশালমুক্ত ঘোষিত প্রতিটি গ্রামকে এক কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল রাজ্য সরকার (Bastar Dussehra Celebration)।

    নকশাল দমনে অভিযান, নিরাপত্তা জোরদার

    নকশালবাদের অবসান ঘটাতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান, কেন্দ্র ও রাজ্যের বাহিনীগুলির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ ছিল সেই কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একদিকে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটিগুলিতে অভিযান চালানো হয়েছে।

    ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নকশাল দমনে অভিযান আরও জোরদার করা হয়। কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী, বিশেষ কোবরা ইউনিট, জেলা রিজার্ভ গার্ড এবং রাজ্য পুলিশকে বিভিন্ন নকশাল-প্রভাবিত এলাকায় মোতায়েন করা হয়। তথ্য সংগ্রহ ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উপগ্রহচিত্রের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়।

    এই অভিযানে একাধিক শীর্ষ মাওবাদী নেতা নিহত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)-র সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের প্রধান নাম্বালা কেশব রাও, যিনি বাসবরাজু নামেও পরিচিত, এবং মাওবাদী কমান্ডার মাডভি হিডমা। তাঁদের মৃত্যুর ফলে মাওবাদী সংগঠনগুলির নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো বড় ধাক্কা খায়।

    ছত্তিশগড় ছাড়াও ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলঙ্গানার নকশাল-প্রভাবিত এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পাশাপাশি মাওবাদীদের আর্থিক জোগানের পথ বন্ধ করতে তল্লাশি ও তদন্ত চালায় সরকারি সংস্থাগুলি। বিভিন্ন অভিযানে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গত কয়েক বছরে বহু মাওবাদী সদস্য অস্ত্র সমর্পণ করেছেন, আবার নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অনেকে নিহতও হয়েছেন।

    জঙ্গলের জীবন থেকে স্বাভাবিক জীবনে

    নকশাল-প্রভাবিত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির প্রভাব এখন সাধারণ মানুষের জীবনেও দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের অগাস্টে ছত্তিশগড়ের রায়পুরে একটি আদিবাসী পোশাক প্রদর্শনীতে অংশ নেন মাওবাদী মতাদর্শের সঙ্গে একসময় যুক্ত কয়েকজন মহিলা। জাতীয় তাঁত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁরা ঐতিহ্যবাহী তাঁতের পোশাক পরে মঞ্চে হাঁটেন।

    একসময় যাঁদের হাতে অস্ত্র নিয়ে নকশাল-প্রভাবিত জঙ্গলে ঘুরতে হত, তাঁদের কাছে এই অংশগ্রহণ ছিল স্বাভাবিক জীবনে ফেরার এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। মাওবাদী সংগঠন ছেড়ে মূলস্রোতে ফেরার ফলে তাঁরা নতুন করে সামাজিক জীবন গড়ে তোলার সুযোগ (Red Terror Eradication) পাচ্ছেন।

    উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছচ্ছে প্রত্যন্ত গ্রামেও। চলতি বছরের এপ্রিলে নারায়ণপুর জেলার একটি দুর্গম গ্রামে প্রথমবার নলবাহিত পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছয়। নকশাল হুমকির কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত ছিল। মাওবাদী প্রভাবের জেরে বহু আদিবাসী গ্রামে উন্নয়নমূলক কাজ পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছিল।

    নকশাল হিংসা কমার পর কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, পানীয় জল ও অন্যান্য নাগরিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা জোরদার করা হয়েছে (Bastar Dussehra Celebration)।

    সব মিলিয়ে, বস্তার দশেরায় এ বছর প্রায় ৫০টি প্রাক্তন নকশাল-প্রভাবিত গ্রামের দেবদেবীদের অংশগ্রহণ শুধু একটি ধর্মীয় উৎসবের পরিসর বাড়ায়নি, বরং দীর্ঘ সংঘাতের পর ওই অঞ্চলে সামাজিক যোগাযোগ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসারও ইঙ্গিত দিচ্ছে। ছয় শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী এই উৎসব তাই এ বছর সাংস্কৃতিক উদ্‌যাপনের পাশাপাশি বস্তারের পরিবর্তিত পরিস্থিতিরও প্রতীক হয়ে উঠেছে বলেই অভিমত ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • ITBP: ড্রোন প্রযুক্তিতে চিনের মোকাবিলা করা সম্ভব, জানালেন আইটিবিপি প্রধান

    ITBP: ড্রোন প্রযুক্তিতে চিনের মোকাবিলা করা সম্ভব, জানালেন আইটিবিপি প্রধান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনের সঙ্গে প্রচলিত পদ্ধতিতে যুদ্ধে লড়াই করা ভারতের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং চালকবিহীন ড্রোনের সাহায্যে সেই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলাও করা সম্ভব। এমনই মন্তব্য করলেন ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (ITBP) ডিজি শত্রুজিৎ কাপুর। অরুণাচল প্রদেশে (Arunachal) ভারত ও চিনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পরিস্থিতিতে আইটিবিপির শৌর্য প্লাটুনের ভূমিকারও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। তাঁর দাবি, চিনা বাহিনীর অনুপ্রবেশ রুখতে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর এই বিশেষ বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজস্থানের আলওয়ারে আইটিবিপির ৬৫তম প্রতিষ্ঠা দিবসের আগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাহিনীর জওয়ানদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন মহাপরিচালক। ২৪ অক্টোবর বাহিনীর প্রতিষ্ঠা দিবস।

    শৌর্য প্লাটুনের কমান্ডোদের অসাধারণ দক্ষতা (ITBP)

    অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে অরুণাচল প্রদেশে সাম্প্রতিক মুখোমুখি সংঘাতের সময় শৌর্য প্লাটুনের কমান্ডোরা অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। চিনের মোকাবিলায় বাহিনীর প্রস্তুতি জোরদার করার কথা জানিয়ে শত্রুজিৎ বলেন, আইটিবিপির সমস্ত সদস্যকে বিশেষ আঘাত হানা ও প্রতিরোধমূলক অভিযানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ২০২৭ সালের শেষের মধ্যে এই প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। গালওয়ানের মতো পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য সীমান্তের সামনের সারির সমস্ত চৌকিতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করা হচ্ছে। ডিজি আরও জানান, উচ্চ পার্বত্য সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং দেশের সীমান্ত রক্ষার জন্য আইটিবিপি ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়েছে। প্রচলিত গেরিলা যুদ্ধকৌশলে আইটিবিপির বিশেষ দক্ষতার উল্লেখ করে তিনি বাহিনীকে দেশের অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

    ড্রোন প্রযুক্তিতে বড় শক্তিকেও চ্যালেঞ্জ

    চিনের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতের প্রসঙ্গে শত্রুজিৎ জানান, অরুণাচল প্রদেশে ভারত-চিন সীমান্তে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি এখনও অব্যাহত। তাঁর বক্তব্য, সামরিক শক্তির ব্যাপক সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের কারণে চিনের বিরুদ্ধে প্রচলিত যুদ্ধপদ্ধতিতে লড়াই করা কঠিন। তবে আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, বিশেষত চালকবিহীন ড্রোনের ব্যবহার এই সমীকরণ বদলে দিতে পারে। উদাহরণ হিসেবে ইউক্রেনের যুদ্ধের উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, ড্রোন প্রযুক্তির সাহায্যে ইউক্রেনের মতো দেশও রাশিয়ার মতো সামরিক শক্তিধর রাষ্ট্রকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পেরেছে। কাপুরের কথায়, “প্রচলিত পদ্ধতিতে চিনের মোকাবিলা করা এখন কঠিন হবে। চিন তার সামরিক বাহিনীর আধুনিকীকরণে বিপুল বিনিয়োগ করেছে এবং অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে। কিন্তু ড্রোনের সাহায্যে ছোট দেশও বড় দেশকে লড়াইয়ে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। রাশিয়া-ইউক্রেন এবং ইরান-আমেরিকার সংঘাতেও আমরা তার উদাহরণ দেখেছি।” ড্রোন প্রযুক্তির উন্নয়নে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়লেও, একই সঙ্গে জওয়ান ও সামরিক পরিকাঠামোকে ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখার নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে জানান আইটিবিপি প্রধান। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় সীমান্তের সামনের সারির কয়েকটি চৌকিতে মাটির নীচে সুরক্ষিত আশ্রয়স্থল তৈরি করেছে বাহিনী। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর বাহিনীর প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করতেই এই উদ্যোগ। নতুন ধরনের হুমকির মোকাবিলায় সরঞ্জাম, পরিকাঠামো এবং অভিযান পরিচালনার সক্ষমতাও উন্নত করা হচ্ছে (ITBP)।

    ১,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা

    ২০৩০ সালের মধ্যে বাহিনীর জন্য আরও বেশি আর্থিক বরাদ্দের প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন শত্রুজিৎ কাপুর। তাঁর বক্তব্য, ড্রোন এবং ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আইটিবিপি নির্দিষ্টভাবে ১,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে (Arunachal)। আধুনিকীকরণ পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বাহিনীর চলাচলের সক্ষমতা এবং উন্নত সরঞ্জাম সংগ্রহের উপর। এর মধ্যে রয়েছে দুর্গম ভূখণ্ডে চলাচলে সক্ষম যান, স্বয়ংক্রিয় স্থলযান, দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল যান এবং আধুনিক গোলাবারুদ সংগ্রহ। সীমান্তে পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাহিনীর সামরিক প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোই এই পরিকল্পনার মূল (ITBP) লক্ষ্য।

     

  • Bombay HC: জাল নথিতে আধার-প্যান- ভোটার কার্ড, ভারতে গভীরে অনুপ্রবেশ বিদেশিদের! কড়া তদন্তের নির্দেশ বম্বে হাইকোর্টের

    Bombay HC: জাল নথিতে আধার-প্যান- ভোটার কার্ড, ভারতে গভীরে অনুপ্রবেশ বিদেশিদের! কড়া তদন্তের নির্দেশ বম্বে হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাল নথি জমা দিয়ে আধার কার্ড, প্যান কার্ড ও ভোটার পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে বিদেশি নাগরিকেরা ভারতের অভ্যন্তরে গভীর পর্যন্ত অনুপ্রবেশ করতে পেরেছে। এই কাজে সাহায্যকারীদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়ে এমনই পর্যবেক্ষণ করেছে বম্বে হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ, বিদেশি নাগরিকদের ভারতে প্রবেশ ও বসবাসের সুযোগ করে দেওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে (Bombay HC)। অপরাধে তাঁদের যোগসূত্র প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। বিচারপতি এএস গড়করি এবং বিচারপতি কমল খাতার ডিভিশন বেঞ্চ ১২ অক্টোবরের রায়ে ভারতীয় স্বতন্ত্র পরিচয় কর্তৃপক্ষকে (ইউআইডিএআই) প্রয়োজনীয় আধার নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ২০১৮ সালে নবি মুম্বইয়ের সন্ত্রাসবিরোধী শাখা (এটিএস) বাংলাদেশের নাগরিকদের বেআইনি বসবাস সংক্রান্ত যে মামলা করেছিল, সেই তদন্তের স্বার্থেই এই নথি চাওয়া হয়েছিল (Aadhaar Voter IDs)। রায়ে আদালত বলেছে, “ভারতের সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকারী বিদেশি নাগরিকেরা দেশের অভ্যন্তরে গভীর পর্যন্ত প্রবেশ করেছে।” আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিযুক্তেরা জাল নথি জমা দিয়ে প্যান কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র এবং আধার কার্ড সংগ্রহ করেছিলেন। এর মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেন। বিষয়টিকে গুরুতর উদ্বেগের বলে উল্লেখ করে দ্রুত তদন্ত শেষ করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে আদালত।

    গ্রেফতার পাঁচ বাংলাদেশি (Bombay HC)

    মামলার সূত্রপাত ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রায়গড় জেলার পানভেলের জুইগাঁও এলাকায় অভিযান চালায় এটিএস। সেখানে পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিক বেআইনিভাবে বসবাস করছেন বলেও অভিযোগ। অভিযানে পাঁচ জনকেই গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, মহম্মদ আলাউদ্দিন ওরফে মুন্না বা মাস্টার উসমান আনসারি, প্রবীণ আনন্দ পাটিল, অজয় ভীমরাও সুরভে এবং বিশাল জনার্দন শেড়গের সহায়তায় অভিযুক্তেরা ভারতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছিলেন। এই পরিচয়পত্র তৈরির জন্য অভিযুক্তেরা আধার কার্ডের আবেদন করার সময় যে নথি জমা দিয়েছিলেন, সেগুলি হাতে পাওয়ার জন্য ২০১৮ সালে বিচার আদালতে ফৌজদারি বিবিধ আবেদন নম্বর ১৭৭ দায়ের করে প্রসিকিউশন পক্ষ। ওই বছরের ৪ এপ্রিল নবি মুম্বইয়ের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক পাঁচ অভিযুক্তের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করার নির্দেশ দেন ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে।

    অভিযুক্তের আধার নথি পায়নি তদন্তকারী সংস্থা

    তদন্তকারী সংস্থা ইয়াসিন জালাল শেখ, মহম্মদ রফিক আজ্জু শেখ, জামাল ইসমাইল হুসেন-সহ আরও এক অভিযুক্তের আধার সংক্রান্ত নথি পেয়েছিল। কিন্তু বাকার হাসান শেখ নামে অন্য এক অভিযুক্তের নথি কর্তৃপক্ষ দেননি। এর পর ২০১৯ সালে সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্দেশ জারির আবেদন জানিয়ে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় এটিএস। ২০১৯ সালের রিট পিটিশন নম্বর ৬০১৯-এ আধার আইন, ২০১৬-এর ৩৩(১) ধারা উল্লেখ করে বাকার হাসান শেখের পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য ও আধার যাচাইকরণের নথি প্রকাশের দাবি জানানো হয় (Bombay HC)। আট বছরেরও বেশি সময় আগে শুরু হওয়া তদন্তে আধার নথি পাওয়ার এই দাবি অবশেষে হাই কোর্টে নিষ্পত্তির পর্যায়ে পৌঁছয়।

    সাহায্যকারীদেরও জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

    রায়ের সপ্তম অনুচ্ছেদে আদালত বিদেশি নাগরিকদের ভারতে প্রবেশ এবং সরকারি পরিচয়পত্র সংগ্রহে সহায়তাকারীদের ভূমিকা নিয়ে পৃথকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিচারপতিদের নির্দেশ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এবং সহ-অভিযুক্তদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। অপরাধে তাঁদের জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা চালাতে হবে। আদালত আরও স্পষ্ট করে বলেছে, “তদন্তকে তার যৌক্তিক পরিণতি পর্যন্ত নিয়ে যেতে হবে।” এটিএসের আবেদন মঞ্জুর করে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, বাকার হাসান শেখের আধার কার্ড পাওয়ার জন্য জমা দেওয়া নথি রায়টি আদালতের সরকারি ওয়েবসাইটে আপলোড হওয়ার তারিখ থেকে দু’সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ করতে হবে (Aadhaar Voter IDs)। মহারাষ্ট্র সরকার বনাম ভারতীয় স্বতন্ত্র পরিচয় কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য মামলায় এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলাটির নম্বর রিট পিটিশন ৬০১৯/২০১৯। আপাতত আদালতের নির্দেশ এক অভিযুক্তের আধার সংক্রান্ত নথি প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, পর্যবেক্ষণে বিদেশি নাগরিকদের ভারতীয় পরিচয়পত্র পেতে সাহায্যকারী ব্যক্তিদের ভূমিকার বিষয়টিও উঠে এসেছে। তদন্তে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তাঁদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছে আদালত (Bombay HC)।

     

  • WhatsApp Telegram: ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে সক্রিয় সিম ছাড়া চলবে না হোয়াটসঅ্যাপ! কী বদল আসছে ব্যবহারকারীদের জন্য?

    WhatsApp Telegram: ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে সক্রিয় সিম ছাড়া চলবে না হোয়াটসঅ্যাপ! কী বদল আসছে ব্যবহারকারীদের জন্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp), টেলিগ্রাম (Telegram)-সহ একাধিক জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য আসতে চলেছে নতুন নিয়ম। কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ দফতর (DoT)-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মোবাইল নম্বরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সক্রিয় সিম কার্ডের সংযোগ বজায় রাখতে হবে নির্দিষ্ট মেসেজিং অ্যাপগুলিকে। সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা এবং ভুয়ো পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের মতো ঘটনা রুখতেই এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়েছে। এই নির্দেশিকা মেনে চলার সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর করা হয়েছে। ফলে নতুন বছরের শুরু থেকেই নিয়মটি কার্যকর হওয়ার কথা।

    কী এই সিম-বাইন্ডিং নিয়ম?

    এতদিন হোয়াটসঅ্যাপ-এর মতো অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় মোবাইল নম্বর যাচাই করলেই সাধারণত চলত। একবার অ্যাকাউন্ট চালু হয়ে গেলে, সংশ্লিষ্ট সিম কার্ড ফোন থেকে খুলে নিলেও অনেক ক্ষেত্রে অ্যাপ ব্যবহার করা যেত। একইভাবে লিঙ্কড ডিভাইসের মাধ্যমে ল্যাপটপ বা ট্যাবলেট থেকেও মেসেজিং পরিষেবা ব্যবহার করা সম্ভব হত। নতুন নিয়মে সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসতে পারে। সিম-বাইন্ডিং ব্যবস্থার অধীনে, অ্যাকাউন্টের পরিচয় হিসেবে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের সঙ্গে যুক্ত সক্রিয় সিম কার্ডের উপস্থিতি ও সংযোগ বজায় রাখার শর্ত কার্যকর হবে। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট সিম কার্ড সরিয়ে নেওয়া, নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া কিংবা নির্দিষ্ট ডিভাইসে সিমের সংযোগ না থাকলে অ্যাপ ব্যবহারে সমস্যা হতে পারে। তবে ঠিক কীভাবে এই নিয়ম কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলির বাস্তবায়ন পদ্ধতির উপর নির্ভর করবে। কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ দফতর (DoT)-এর নির্দেশিকার আওতায় রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp), টেলিগ্রাম (Telegram), সিগনাল (Signal), স্ন্যাপচ্যাট (Snapchat), শেয়ারচ্যাট (ShareChat), জিওচ্যাট (JioChat), আরাতাই (Arattai) এবং জোশ (Josh)-সহ মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করে এমন একাধিক পরিষেবা।

    কেন এই পদক্ষেপ কেন্দ্রের?

    সাইবার অপরাধ দমনে কড়া পদক্ষেপ হিসেবেই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতারকরা ভারতীয় মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে একবার অ্যাকাউন্ট যাচাই করার পর সংশ্লিষ্ট সিম সরিয়ে ফেলেও দূর থেকে সেই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারে। এর ফলে প্রতারণার উৎস শনাক্ত করা এবং অপরাধীদের নাগাল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষত, পরিচয় জালিয়াতি, ফিশিং, ভুয়ো বিনিয়োগের প্রলোভন এবং ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর নামে প্রতারণার মতো অপরাধ মোকাবিলায় এই ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছে সরকার। কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ দফতর (DoT)-এর বক্তব্য, দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত সাইবার প্রতারণার ক্ষেত্রেও এই ধরনের ব্যবস্থার অপব্যবহার হচ্ছে। তাই মোবাইল নম্বর, সক্রিয় সিম কার্ড এবং মেসেজিং পরিষেবার মধ্যে ধারাবাহিক সংযোগ বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দফতরের ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতে সাইবার প্রতারণার কারণে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২২,৮০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছিল।

    হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব ব্যবহারকারীদের কী হবে?

    নতুন নির্দেশিকায় ওয়েব-ভিত্তিক পরিষেবা এবং লিঙ্কড ডিভাইস ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। প্রাথমিক নির্দেশিকায় হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব (WhatsApp Web)-এর মতো পরিষেবার সেশন সর্বোচ্চ ছ’ঘণ্টার মধ্যে লগ-আউট করার কথা বলা হয়েছিল। লগ-আউটের পর কিউআর কোড স্ক্যান করে পুনরায় সংযোগ স্থাপনের সুযোগ রাখার কথাও ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সরকার জানিয়েছে, ওয়েব সেশনের লগ-আউটের সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে ঝুঁকি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে। ফলে সব ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ছ’ঘণ্টার সময়সীমা বাধ্যতামূলক হবে কি না, তা স্পষ্টভাবে আলাদা করে দেখা জরুরি। অর্থাৎ, অফিসে দীর্ঘক্ষণ হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব (WhatsApp Web) ব্যবহার করেন যাঁরা, তাঁদের ভবিষ্যতে নতুন করে কিউআর কোড স্ক্যান করে লগ-ইন করতে হতে পারে। তবে এর সুনির্দিষ্ট নিয়ম সংশ্লিষ্ট পরিষেবার বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করবে।

    সরকার কী জানিয়েছে?

    রাজ্যসভায় এক লিখিত উত্তরে কেন্দ্রীয় যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী পেম্মাসানি চন্দ্র শেখর জানান, গ্রাহক বা ব্যবহারকারীর পরিচয় নির্ধারণ কিংবা পরিষেবা প্রদানের জন্য ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিম কার্ডকে মেসেজিং অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশিকা মেনে চলার সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর।

    সাধারণ ব্যবহারকারীদের কী করণীয়?

    নতুন নিয়ম কার্যকর হলে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি—

    • ● সিম সক্রিয় রাখুন: যে মোবাইল নম্বর দিয়ে মেসেজিং অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, তার সঙ্গে যুক্ত সিম কার্ড সক্রিয় রাখুন।
    • ● সিম ছাড়া অন্য ডিভাইস ব্যবহারে সতর্ক থাকুন: ওয়াই-ফাই-নির্ভর ট্যাবলেট বা সিমবিহীন দ্বিতীয় ফোনে পরিষেবা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।
    • ● হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব (WhatsApp Web)-এর জন্য প্রস্তুত থাকুন: প্রয়োজনে পুনরায় কিউআর কোড স্ক্যান করে লগ-ইন করতে হতে পারে।
    • ● নম্বর পরিবর্তনের আগে সতর্ক হন: সিম নিষ্ক্রিয় করা বা মোবাইল নম্বর বদলানোর আগে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের পরিষেবা সংক্রান্ত নির্দেশিকা দেখে নিন।

    বন্ধ হচ্ছে না হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রাম

    নতুন নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার অর্থ এই নয় যে ভারতে হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রাম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বরং ভারতীয় মোবাইল নম্বরের সঙ্গে যুক্ত অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত কার্যকর হতে চলেছে। সাইবার প্রতারণা রুখতে সরকারের এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয় এবং একই সঙ্গে সাধারণ ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন কাজে কতটা প্রভাব ফেলে, তা বোঝা যাবে নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর।

  • India Poland: প্রতিরক্ষা, পরমাণু শক্তি, মহাকাশে সহযোগিতা বাড়াতে আলোচনায় ভারত-পোল্যান্ড, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য

    India Poland: প্রতিরক্ষা, পরমাণু শক্তি, মহাকাশে সহযোগিতা বাড়াতে আলোচনায় ভারত-পোল্যান্ড, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা, মহাকাশ ও পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করতে সম্মত হল ভারত ও পোল্যান্ড। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পোল্যান্ডের (India Poland) প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বর্তমান স্তর থেকে দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে জোর দেওয়া হয়। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার।

    ২০২৪ সালে মোদির পোল্যান্ড সফরের পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন গতি পায়। গত ৪৫ বছরে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সেটিই ছিল প্রথম পোল্যান্ড সফর। বর্তমানে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা হয়ে উঠেছে দুই দেশের সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পোল্যান্ড ইউরোপের বৃহত্তম সামরিক আধুনিকীকরণ কর্মসূচি চালাচ্ছে। দেশটি তার মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করছে।

    ‘চমৎকার’ আলোচনা (India Poland)

    টাস্কের সঙ্গে আলোচনাকে ‘চমৎকার’ বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি জানান, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, পরমাণু শক্তি, মহাকাশ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও আলোচনায় উঠে আসে। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতির জন্য ভারতের সাম্প্রতিক প্রস্তাবকে পোল্যান্ড স্বাগত জানিয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় আধিকারিকরা।

    টাস্কের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মোদি বলেন, “আজ আমরা প্রতিরক্ষা, মহাকাশ ও পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করতে সম্মত হয়েছি। এই সমস্ত কৌশলগত ক্ষেত্রে যৌথ উন্নয়ন ও যৌথ উৎপাদনের জন্য আমরা পোল্যান্ডের সংস্থাগুলিকে ভারতের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানাচ্ছি।”

    খনিজ ও কৌশলগত সম্পদের ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার গুরুত্ব তুলে ধরে টাস্ক বলেন, “রাজনৈতিক হুমকি সম্পর্কে আমরা যথেষ্ট সচেতন। খনিজ ও কৌশলগত সম্পদের ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব স্বাধীন হয়ে ওঠার প্রয়োজনীয়তাও আমরা বুঝি, যাতে পোল্যান্ড ও ভারত এই ক্ষেত্রগুলিতে আত্মনির্ভর হতে পারে।”

    কী বললেন মোদি

    মোদি বলেন, আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা ও পরিবর্তনের সময়ে ভারত এবং পোল্যান্ড, দুই দেশই অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তাঁর কথায়, “গত বছর পোল্যান্ডের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ঐতিহাসিকভাবে এক লাখ কোটি মার্কিন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। আর, গত ত্রৈমাসিকে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮ শতাংশ।”

    প্রস্তাবিত ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাণিজ্য চুক্তি পোল্যান্ডে যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক, প্লাস্টিক এবং প্রকৌশলজাত পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে ভারতের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে রেল, পরিবহণ ব্যবস্থা, উন্নত উৎপাদন শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং জৈবপ্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে পোল্যান্ডের কাছ থেকে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করবে ভারত।

    টাস্কের সঙ্গে প্রায় ১০০টি পোলিশ সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বড় ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল ভারতে এসেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য পূরণে নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে এই প্রতিনিধিদল গুরুত্ব দেবে বলেও জানান মোদি।

    নয়া অংশীদারিত্ব

    গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং পোল্যান্ডের প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে কয়লা থেকে গ্যাস উৎপাদনের ক্ষেত্রেও দুই দেশ নয়া অংশীদারিত্ব গড়ে তুলবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং আর্থিক প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশের মধ্যে একটি ‘প্রারম্ভিক উদ্যোগ সেতু’ গড়ে তোলা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

    পোল্যান্ডের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লি ও বেঙ্গালুরুতে আয়োজিত দু’টি ব্যবসায়িক সম্মেলনে অংশ নেবে। প্রতিরক্ষা, কৃষি প্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ওষুধশিল্প, খনি, প্রযুক্তি এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখাই এই সম্মেলনগুলির লক্ষ্য। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার। পোল্যান্ডে ভারতীয় বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়ে ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। সেখানে ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলিরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে (India Poland)।

    টাস্ক বলেন, দুই দেশের মধ্যে স্বার্থের সংঘাত বা এমন কোনও ঐতিহাসিক সমস্যা নেই, যা তাদের বিভক্ত করতে পারে। সেই কারণেই উভয় দেশ সহজেই পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে পেরেছে। বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে মোদির ভূমিকার প্রশংসা করে তাঁকে ‘আশার আলোকবর্তিকা’ বলেও উল্লেখ করেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।

    টাস্কের বক্তব্য

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রসঙ্গে টাস্ক বলেন, “সম্প্রতি আমাদের ড্রোনগুলি অত্যন্ত কার্যকর ছিল। আমি নিশ্চিত, উপগ্রহ ও ড্রোনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংকটের সময় আমাদের দেশগুলিকে সাহায্য করেছে।”

    গত বছর কাশ্মীরে পহেলগাঁও হামলার জবাবে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে জঙ্গি পরিকাঠামো লক্ষ্য করে ভারত পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুরে’র সময় ভারতীয় সেনার ব্যবহৃত পোলিশ ড্রোনের দিকেই টাস্ক ইঙ্গিত করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। পোল্যান্ডের ডব্লিউবি গোষ্ঠী ২০২২ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ১০০টি ‘ওয়ারমেট’ আত্মঘাতী ড্রোন সরবরাহ করেছিল। চলতি বছরের গোড়ায় পোল্যান্ডের আধিকারিকরা জানান, ভারতীয় সেনাবাহিনী আরও তিনটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

    ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে ইউক্রেনকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহের কারণে পোল্যান্ডের নিজস্ব মজুত কমেছে। সেই মজুত পূরণ করতে ভারতীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদকদের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়েও আগ্রহী ওয়ারশ। তবে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক নিয়ে পোল্যান্ডের কয়েকটি সংস্থার উদ্বেগ রয়েছে। প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়াতে নিরাপদে তথ্য আদানপ্রদানের বিষয়ে একটি চুক্তিও চূড়ান্ত করছে নয়াদিল্লি এবং ওয়ারশ।

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পশ্চিম বিভাগের সচিব সিবি জর্জ সাংবাদিকদের জানান, দুই দেশ গোপনীয় তথ্যের পারস্পরিক সুরক্ষা ও আদানপ্রদান নিয়ে একটি চুক্তি তৈরির কাজ করছে। প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ক্রমবর্ধমান আস্থার ভিত্তিতে এই চুক্তি গড়ে উঠবে বলেই আশা।

    যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম তৈরি ও উৎপাদনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে পারস্পরিক আস্থা এবং তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার ব্যবস্থা জরুরি বলেও জানান তিনি। দুই দেশ প্রতিরক্ষা শিল্প নিয়ে একটি সংলাপ এবং সন্ত্রাসবাদ দমন সংক্রান্ত একটি পৃথক আলোচনা চালু করতেও সম্মত হয়েছে। চলতি বছরের গোড়ায় ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে স্বাক্ষরিত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব পোল্যান্ডের সঙ্গে প্রতিরক্ষা, সন্ত্রাসবাদ দমন, প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, মহাকাশ এবং জাহাজ নির্মাণ ক্ষেত্রে কৌশলগত সহযোগিতার অতিরিক্ত কাঠামো তৈরি (India Poland) করেছে বলেও জানান জর্জ।

    শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভারতের করণীয়

    আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে মোদি বলেন, “ইউক্রেন হোক বা পশ্চিম এশিয়া, শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিটি অর্থবহ উদ্যোগকে ভারত সমর্থন করে যাবে।” রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের বিষয়ে ভারতের অবস্থানকে পোল্যান্ড ‘অত্যন্ত প্রশংসা’ করেছে বলে জানান জর্জ। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথনে মোদি ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ থেকে ‘যুদ্ধের অবসানের’ দিকে এগোনোর যে আহ্বান জানিয়েছেন, সেটিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা, খাদ্যশস্য ও জ্বালানি রফতানি এবং পরস্পরের উপর আক্রমণ না করার সম্ভাবনা নিয়েও ভারত রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রস্তাব ভাগ করে নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

    জনগণের সম্পর্কের গুরুত্ব

    দুই দেশের নেতাই জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জামনগর ও কোলহাপুরের রাজপরিবার হাজার হাজার পোলিশ শিশু ও পরিবারকে আশ্রয় দিয়েছিল। ২০২২ সালে ইউক্রেন থেকে হাজার হাজার ভারতীয় পড়ুয়াকে সরিয়ে আনতেও পোল্যান্ড কর্তৃপক্ষ সহায়তা করেছিলেন। বর্তমানে পোল্যান্ডে প্রায় ৩০ হাজার ভারতীয় বসবাস করেন, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩,৫০০ জনই পড়ুয়া।

    প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, জ্বালানি এবং বাণিজ্য—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর এই উদ্যোগ ভারত-পোল্যান্ড সম্পর্ককে আরও কৌশলগত ও অর্থনৈতিক ভিত্তি দিতে পারে। ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য পূরণে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ এখন বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে (India Poland) বলেই অভিমত বিশেষজ্ঞদের।

     

  • Hindu Code of Conduct: বারাণসীতে সংস্কৃতি সংসদের আয়োজন, ব্রিটেনে থাকা মনুস্মৃতি পাণ্ডুলিপি ফেরানোর উদ্যোগ

    Hindu Code of Conduct: বারাণসীতে সংস্কৃতি সংসদের আয়োজন, ব্রিটেনে থাকা মনুস্মৃতি পাণ্ডুলিপি ফেরানোর উদ্যোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সনাতন ঐতিহ্য সংরক্ষণ, প্রাচীন জ্ঞানচর্চার প্রসার এবং ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপি দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ সামনে রেখে আগামী ৩ থেকে ৫ নভেম্বর বারাণসীতে হবে সংস্কৃতি সংসদ ২০২৬। তিন দিনের এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সমাবেশে প্রস্তাবিত ‘হিন্দু আচরণবিধি’ (Hindu Code of Conduct), ব্রিটেনে সংরক্ষিত মনুস্মৃতির ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপি ভারতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ভারতীয় দর্শন ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলি গুরুত্ব পাবে। জানা গিয়েছে, বারাণসীর রুদ্রাক্ষ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এই সমাবেশে অংশ নেবেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ধর্মীয় নেতা, সাধুসন্ত, ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং যুব প্রতিনিধিরা। তাঁদের বক্তব্য, ভারতের সভ্যতাগত ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করা এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে দেশের আধ্যাত্মিক ও বৌদ্ধিক উত্তরাধিকারের সংযোগ স্থাপন করাই এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য (Varanasi Sanskriti Sansad)। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে অনুষ্ঠানের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন অখিল ভারতীয় সন্ত সমিতি ও গঙ্গা মহাসভার সাধারণ সম্পাদক স্বামী জিতেন্দ্রানন্দ সরস্বতী এবং সংস্কৃতি সংসদের আয়োজক কমিটির সভাপতি তথা বিজেপির প্রাক্তন জাতীয় সম্পাদক সুনীল দেওধর।

    হাজার হাজার সাধুসন্তের যোগদানের সম্ভাবনা (Hindu Code of Conduct)

    আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংস্কৃতি সংসদে ১২৭টি ধর্মীয় সম্প্রদায়, ১৩টি আখড়া এবং ১৮টি খালসার প্রতিনিধির অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে শিখ সম্প্রদায়ের তিনটি বিশিষ্ট আখড়ার প্রতিনিধিরাও থাকবেন। আয়োজকদের অনুমান, সমাবেশে ৩ হাজারেরও বেশি সাধুসন্ত এবং ৭ হাজারেরও বেশি যুব প্রতিনিধি যোগ দেবেন। ধর্মীয় ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা এবং ভারতের নিজস্ব জ্ঞানব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে এই অনুষ্ঠান।সাড়ে চারশো বছরেরও বেশি ঐতিহ্যসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান হিসেবে আয়োজকদের বর্ণনায় উঠে এসেছে শ্রী কাশী বিদ্বৎ পরিষদের নাম। অংশগ্রহণকারী ধর্মীয় সংগঠনগুলিকে দিশা দেখানোর দায়িত্বে থাকবে এই প্রতিষ্ঠানের।

    আলোচনায় প্রস্তাবিত ‘হিন্দু আচরণবিধি’

    সংস্কৃতি সংসদ ২০২৬-এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হতে চলেছে প্রস্তাবিত ‘হিন্দু আচরণবিধি’। উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, সামাজিক দায়িত্ব এবং সনাতন ঐতিহ্য পালনের ক্ষেত্রে এই আচরণবিধির মাধ্যমে দিশা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।অবশ্য এই প্রস্তাবিত আচরণবিধির নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু, পরিধি এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে সাংবাদিক সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হয়নি (Hindu Code of Conduct)।

    ব্রিটেন থেকে মনুস্মৃতির পাণ্ডুলিপি ফেরানোর উদ্যোগ

    সংস্কৃতি সংসদের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ঐতিহাসিক মনুস্মৃতির পাণ্ডুলিপি ভারতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ। আয়োজকদের দাবি, ১৭৯৩ সালে ব্রিটিশরা এই পাণ্ডুলিপিগুলি ভারত থেকে নিয়ে গিয়েছিল এবং বর্তমানে সেগুলি লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটির কাছে রয়েছে। পাণ্ডুলিপিগুলি দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ শুরু করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট পাণ্ডুলিপিগুলির প্রকৃত ইতিহাস, বর্তমান অবস্থান এবং মালিকানা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন (Varanasi Sanskriti Sansad)। বিদেশে সংরক্ষিত ভারতের অন্যান্য ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপি ও গুরুত্বপূর্ণ নথি শনাক্তকরণ, নথিভুক্তকরণ এবং সংরক্ষণের বিষয়েও আলোচনা হবে। সম্ভব হলে সেগুলি দেশে ফিরিয়ে আনার পথ খোঁজার কথা জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের মতে, এর মাধ্যমে ভারতের বৌদ্ধিক ঐতিহ্য রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রাচীন জ্ঞানসূত্রের সঙ্গে পরিচিত করানো সম্ভব হবে।

    তরুণ প্রজন্মকে ঐতিহ্য ও জ্ঞানচর্চায় যুক্ত করার পরিকল্পনা

    ধর্মীয় আলোচনা ছাড়াও তরুণ প্রজন্মকে ভারতের দর্শন, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক গ্রন্থ এবং দেশীয় জ্ঞানব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত করানোর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ৭ হাজারেরও বেশি যুব প্রতিনিধির সম্ভাব্য অংশগ্রহণের কথা জানিয়ে আয়োজকেরা দাবি করেছেন, ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান যেন কেবল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তার চর্চা ও সংরক্ষণ অব্যাহত থাকে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ (Hindu Code of Conduct)।

    ‘রাষ্ট্র আগে’ ভাবনার প্রসঙ্গ তুললেন সুনীল দেওধর

    সাংবাদিক সম্মেলনে সুনীল দেওধর সংস্কৃতি সংসদকে ভারতের সাংস্কৃতিক পরিচয় সুদৃঢ় করা এবং ‘রাষ্ট্র আগে’ ভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বারাণসী কেন্দ্র থেকে নরেন্দ্র মোদির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রসঙ্গ তুলে দেওধর দাবি করেন, সেই সময় কয়েকটি আদর্শগত আক্রমণের মোকাবিলা করতে সাধুসন্তরা একজোট হয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, সেই উদ্যোগ থেকেই সংস্কৃতি পরিষদের প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তী সময়ে সংস্কৃতি সংসদের সূচনা। বর্তমানে প্রতি দু’বছর অন্তর এই সমাবেশের আয়োজন করা হয় বলে জানান তিনি। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ এবং হিন্দুত্ব নিয়ে করা মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন দেওধর। তাঁর দাবি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ ও হিন্দুত্বের আদর্শে নারীশক্তির গুরুত্ব স্বীকৃত (Varanasi Sanskriti Sansad)।

    ত্রিপুরার ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক

    ত্রিপুরায় এক জনজাতি সম্প্রদায়ের বালককে ঘিরে একটি ঘটনা নিয়েও অভিযোগ তোলেন দেওধর। তাঁর দাবি, কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত এক মুসলিম ইউটিউবার ওই বালকের প্রতি অপমানজনক আচরণের জন্য দায়ী। ঘটনাটিকে উত্তর-পূর্ব ভারতের জনজাতি সম্প্রদায়গুলির সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের মানুষের বিভেদ তৈরির বৃহত্তর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ বলেও অভিযোগ করেন তিনি। হিন্দু উৎসব চলাকালীন ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন বক্তারা। তাঁদের বক্তব্য, এই ধরনের ঘটনা সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব ফেলতে পারে। ধর্মীয় উৎসবে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে অভিযুক্ত রাজনৈতিক শক্তিগুলিকে সতর্ক করে বক্তারা জানান, এই ধরনের হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে সাধুসন্ত ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিয়ে দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে (Hindu Code of Conduct)।

    ধর্ম, ইতিহাস ও জাতীয় পরিচয় নিয়ে আলোচনায় গুরুত্ব

    গঙ্গা মহাসভার আয়োজনে এবং অখিল ভারতীয় সন্ত সমিতি, অখিল ভারতীয় আখড়া পরিষদ ও শ্রী কাশী বিদ্বৎ পরিষদের নির্দেশে সংস্কৃতি সংসদ ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ধর্মীয় আচরণবিধি, ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণ, সাংস্কৃতিক শিক্ষা, যুবসমাজের অংশগ্রহণ এবং জাতীয় পরিচয়—বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই সমাবেশে আলোচনা হওয়ার কথা (Varanasi Sanskriti Sansad)। সূত্রের খবর, ৩ থেকে ৫ নভেম্বর বারাণসীতে এই আয়োজন ঘিরে প্রস্তাবিত হিন্দু আচরণবিধি এবং ঐতিহাসিক পাণ্ডুলিপি দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। একই সঙ্গে হিন্দুত্ব, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও ভারতের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার নিয়ে চলমান বৃহত্তর বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এই সমাবেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক তাৎপর্যও নজরে থাকবে (Hindu Code of Conduct)।

     

LinkedIn
Share