Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দুদের ওপর বিরুদ্ধে হামলা, ভারত থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনার ঝলক

    Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দুদের ওপর বিরুদ্ধে হামলা, ভারত থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনার ঝলক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের ওপর হামলা, বৈষম্য ও বিদ্বেষের ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। অন্তত এমনই দাবি করা হয়েছে সাম্প্রতিক এক সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে (Hindus Under Attack)। খুন, ধর্মান্তরে চাপ, জমি দখল, মন্দির ও মূর্তির অবমাননা, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্যের একাধিক অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে (Weekly Roundup)।

    প্রতিবেদনটির দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দুদের বিরুদ্ধে এই ধরনের ঘটনাগুলি দীর্ঘদিন ধরে ঘটলেও, আন্তর্জাতিক পরিসরে এর ব্যাপকতা ও গভীরতা যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতিকে হিন্দুদের প্রতি ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষের প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনের সম্পাদকীয় নোট (Hindus Under Attack)

    প্রতিবেদনের সম্পাদকীয় নোটে জানানো হয়েছে, ভারতে এবং বিদেশে হিন্দুদের পরিস্থিতি তুলে ধরাই এই ধারাবাহিক প্রতিবেদনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    সেখানে আরও বলা হয়েছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় হওয়া সত্ত্বেও ভারতের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও হিন্দুরা বৈষম্য ও নিপীড়নের মুখোমুখি হচ্ছেন—এই বাস্তবতা সামনে আসা তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা।

    প্রতিবেদনে ধর্মনিরপেক্ষতা, সর্বধর্মসমভাব এবং “বসুধৈব কুটুম্বকমে”র মতো ধারণা নিয়ে নতুন করে ভাবনা-চিন্তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনের লেখকদের মতে, এর কয়েকটি ধারণাকে মূল প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে হিন্দু সমাজ দুর্বল হয়েছে।

    প্রতিবেদনটির দাবি, ধর্মনিরপেক্ষতার নামে অতিরিক্ত সহনশীলতার ফলে কিছু বিদ্বেষমূলক অপরাধ যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। হিন্দু সমাজকে ধর্ম ও সংস্কৃতি রক্ষায় আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিবেদনে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ ও ছত্রপতি সম্ভাজি মহারাজের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।

    ২৩ থেকে ২৯ আগস্ট ২০২৬ সময়কালের ঘটনাগুলির ভিত্তিতে প্রতিবেদনে ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের একাধিক ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।

    মেঘালয়ে জাতিগত ও ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ

    মেঘালয়ে পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং গির্জার প্রভাবের কারণে বিপুল সংখ্যক হিন্দু বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং অ-উপজাতি জনগোষ্ঠীর একাংশ পদ্ধতিগত জাতিগত ও ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    শিলংয়ে খাসি ছাত্র সংগঠনের একটি সমাবেশের পর অসমীয়া ও বাঙালি বাসিন্দা এবং শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগও তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ৩১টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এগুলির অধিকাংশই অসম থেকে আসা ব্যক্তিদের ব্যবহৃত গাড়ি বলে দাবি করা হয়েছে। বাঙালি ও অসমীয়াদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া এবং শারীরিক হামলার অভিযোগও রয়েছে।

    নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিবিজড়িত ভাস্কর্য ও মূর্তিতেও হামলা চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে।

    হোসুরে হিন্দু ধর্মীয় রীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রচারপত্র

    তামিলনাড়ুর হোসুরে হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা একটি প্রচারপত্র বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। মন্দিরে নারকেল ভাঙা, চুলে ফুল পরা, কর্পূর ও ধূপজাতীয় সামগ্রী ব্যবহার-সহ বিভিন্ন প্রচলিত আচারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ওই প্রচারপত্রে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন।

    মুম্বইয়ে গণেশ মূর্তির কাছে ডিম ছোড়ার অভিযোগ

    মুম্বইয়ের মাজগাঁওয়ে গণেশ মণ্ডলের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রায় উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, শোভাযাত্রার সময় এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি গণেশ মূর্তির কাছে ডিম ছুড়ে দেন। ঘটনায় উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

    বরলক্ষ্মী ব্রত নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক

    দেশ-বিদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বরলক্ষ্মী ব্রত পালন করার সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনেত্রী চিন্ময়ী শ্রীপাদার একটি মন্তব্য নিয়েও বিতর্কের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনটির দাবি, নিজেকে নারীবাদী হিসেবে পরিচয় দেওয়া চিন্ময়ী হিন্দু নারীদের “পিতৃতন্ত্রের প্রহরী” বলে মন্তব্য করেছেন। একই প্রতিবেদনে তাঁর পুরনো রমজান-সংক্রান্ত একটি মন্তব্যের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০১২ সালে তিনি লিখেছিলেন, “রমজানের উপবাসে থাকা বন্ধুদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তাদের উপবাস ভাঙার আগে পর্যন্ত তাদের সামনে খাওয়া বা পান না করি।”

    টিপু সুলতানকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টে গ্রেফতার

    কর্নাটকের চিক্কমাগালুরুতে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ৪০ ফুট উচ্চতার টিপু সুলতানের প্রতিকৃতি-সহ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন, যার সঙ্গে পাক সেনা ও মুজাহিদিনের সঙ্গে যুক্ত একটি গান ব্যবহার করা হয়েছিল (Weekly Roundup)।

    আফরিদ নামে ওই যুবককে আদালতে হাজির করা হলে তাঁকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    স্কুলের দেওয়ালে উসকানিমূলক স্লোগান

    পাঞ্জাবের বঠিন্ডা জেলার জয় সিংহ ওয়ালা গ্রামের একটি সরকারি স্কুল এবং অন্য একটি দেওয়ালে “শহিদ দিলাওয়ার বাব্বর” এবং শিখস ফর জাস্টিসের উল্লেখ-সহ উসকানিমূলক স্লোগান লেখার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

    শিক্ষা বাজেট নিয়ে বিচারপতির মন্তব্য

    সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালে মহারাষ্ট্রে শিক্ষা খাতে বাজেট কমে যাওয়া এবং মারাঠি-মাধ্যমের স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।প্রতিবেদনের বক্তব্য, নাসিক-ত্র্যম্বকেশ্বর সিংহস্থ কুম্ভমেলার জন্য বরাদ্দ অর্থের সামান্য অংশও যদি ওই স্কুলগুলির জন্য ব্যবহার করা যেত, তাহলে বেশ কয়েকটি স্কুলকে রক্ষা করা সম্ভব হত। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে হজ, মাদ্রাসা, মসজিদ ও গির্জার জন্য সরকারি অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    মাদ্রাসার অর্থায়ন খতিয়ে দেখছে এটিএস

    গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরপ্রদেশের সন্ত্রাসদমন শাখা রাজ্যের হাজার হাজার মাদ্রাসার ব্যাংক হিসাব, অর্থের উৎস এবং পড়ুয়াদের নথি পরীক্ষা শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    বিশেষ করে সরকারি অনুদান ছাড়াই পরিচালিত প্রায় ১৬ হাজার মাদ্রাসার অর্থের উৎস, আয়-ব্যয় এবং সেখানে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ঈদ-ই-মিলাদ মিছিল ঘিরে সংঘর্ষের অভিযোগ

    বেঙ্গালুরুর বাসবনগুড়ি এলাকায় ঈদ-ই-মিলাদ উপলক্ষে আয়োজিত মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    ঘটনাস্থলের বলে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে কয়েকজন হিন্দু যুবকের ওপর হামলা চালানোর দৃশ্য দেখা যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি লোহার রড দিয়ে হামলার অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে পরবর্তী পুলিশি পদক্ষেপে হামলার শিকার হিন্দু যুবক এবং ঘটনার প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট ও কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় ধর্মীয় স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আরএসএসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের পরিকল্পিত আমেরিকা সফরের কয়েক সপ্তাহ আগে এই আহ্বান জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে (Weekly Roundup)।

    সংস্থাটি আরএসএসের বিরুদ্ধে “ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখার” অভিযোগ তুলেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির প্রধান আসিফ মাহমুদের পাকিস্তানের সঙ্গে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    দীপাবলিতে আতশবাজি নিষেধাজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন

    প্রতিবেদনের শেষাংশে বলা হয়েছে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধের পেছনে কিছু ধর্মীয় শিক্ষা এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে বলে লেখকদের অভিমত। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুদের বিরুদ্ধে বৈরিতা তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট হলেও নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে পরিচয় দেওয়া রাষ্ট্রগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও সূক্ষ্ম হিন্দুবিদ্বেষ দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    এই ধরনের বৈষম্য অনেক সময় সরাসরি চোখে পড়ে না এবং প্রচলিত আইন ও নীতির ধরন বিশ্লেষণ করলেই তা বোঝা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারের ওপর ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞাকে এর একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের বক্তব্য, পরিবেশদূষণের দিক থেকে এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তিসঙ্গত বলে মনে হলেও, হিন্দু উৎসবগুলির ওপর আরোপিত অন্যান্য বিধিনিষেধ এবং সেগুলির যুক্তির মধ্যে থাকা সামঞ্জস্যহীনতা বিবেচনা করলে বিষয়টি নতুনভাবে দেখা (Weekly Roundup) প্রয়োজন।

    প্রতিবেদনটির এই সমস্ত অভিযোগ ও বক্তব্য সংশ্লিষ্ট ঘটনার স্বাধীন যাচাই বা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ছাড়া চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয় (Hindus Under Attack)।

     

  • Odisha: ওড়িশায় ফের মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডারের হদিস, পাঁচ দিনে মিলল তিন গোপন ডেরার হদিশ

    Odisha: ওড়িশায় ফের মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডারের হদিস, পাঁচ দিনে মিলল তিন গোপন ডেরার হদিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওড়িশার (Odisha) কান্ধমাল জেলায় জঙ্গলে লুকিয়ে রাখা মাওবাদীদের অস্ত্র (Maoist Arms) ও বিস্ফোরকের ভাণ্ডারের হদিস পেল নিরাপত্তা বাহিনী। দারিংবাড়ি থানার আওতায় মাতরাবাড়ি গ্রামের কাছে জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে এই অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গত পাঁচ দিনে ওড়িশার বিভিন্ন জঙ্গলে এটি তৃতীয় মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা।

    অভিযানে মিলল প্রচুর অস্ত্র (Odisha)

    ২৮ অগাস্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কান্ধমাল জেলার একাধিক জঙ্গল এলাকায় যৌথ তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। ওই এলাকায় মাওবাদীদের অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অন্যান্য সামগ্রী লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে তথ্য পাওয়ার পরেই অভিযান শুরু হয়। সশস্ত্র তল্লাশি অভিযানে বিশেষ অভিযান গোষ্ঠী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। রায়কিয়া, বালিগুড়া, দারিংবাড়ি এবং কোটগড় থানার আওতাধীন বিস্তীর্ণ জঙ্গল এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানের আওতায় বাবুতি, জিমাবাড়ি, কারাহাপাঙ্গা, গারারমহা, জিমারাহা, তেলসি, সিদুপদর, পদলামালা, মাতাবাড়ি, তেরানিপাঙ্গা, ঝাঝিবাড়ি, টুকুবাড়ি, সাতারি, সালাকিঙ্গিয়া, পরিগড়া এবং পেনামাল-সহ একাধিক এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। সেই সময় জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর সদস্যরা মাতরাবাড়ি গ্রামের কাছে মাটির নীচে বা জঙ্গলের আড়ালে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডারটির সন্ধান পান।

    উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও বিস্ফোরকের মধ্যে রয়েছে একটি ১২ বোরের রাইফেল, একটি একনলা রাইফেল এবং একটি এসবিএল গ্রেনেড। এছাড়াও উদ্ধার হয়েছে ১৯টি বৈদ্যুতিক ডেটোনেটর, দুটি টিফিন-বাক্স আইইডি, এক বান্ডিল কর্ডেক্স এবং দুটি জেলাটিন স্টিক। অস্ত্রভাণ্ডার থেকে ১৩ রাউন্ড শূন্য দশমিক ৩০৩ ক্যালিবারের গুলি এবং একনলা রাইফেলের ১০ রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি মাওবাদীদের শিবিরে ব্যবহৃত আরও বেশ কিছু সামগ্রী, যার মধ্যে বৈদ্যুতিক তার এবং অন্যান্য উপকরণ রয়েছে, সেগুলিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিস্ফোরক সামগ্রী থাকায় সেগুলি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় ও সরিয়ে নেওয়ার জন্য বোমা শনাক্তকরণ ও নিষ্ক্রিয়করণ দলকে অভিযানে মোতায়েন করা হয়।

    ন’টি দল নিয়ে অভিযান

    কান্ধমালের পুলিশ সুপার রমেন্দ্র প্রসাদ জানিয়েছেন, এই অভিযানে একাধিক নিরাপত্তা দল অংশ নিয়েছিল। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বিশেষ অভিযান গোষ্ঠীর পাঁচটি দল, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ১০৮ নম্বর ব্যাটালিয়নের তিনটি ইউনিট এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর একটি দল যৌথভাবে তল্লাশি চালায়।

    গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই জঙ্গলে মাওবাদীদের লুকিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডারের সন্ধানে এই অভিযান চালানো হয়েছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, কান্ধমালকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে মাওবাদীমুক্ত ঘোষণা করা হলেও, জেলায় তল্লাশি ও এলাকা নিয়ন্ত্রণের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে যেসব জঙ্গল এলাকায় অতীতে মাওবাদীদের সক্রিয়তা ছিল, সেখানে পুরনো অস্ত্রভাণ্ডার ও বিস্ফোরক উদ্ধারে নজর দেওয়া হচ্ছে।

    নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, সাম্প্রতিক এই উদ্ধার প্রাক্তন মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় পড়ে থাকা অবশিষ্ট পরিকাঠামো চিহ্নিত ও নিষ্ক্রিয় করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই অংশ।

    অভিযান চলবে

    জেলার স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে নজরদারি এবং নিয়মিত তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করার পাশাপাশি পুরনো মাওবাদী ঘাঁটিগুলিকে যাতে ফের সশস্ত্র কার্যকলাপের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা না যায়, তা নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য (Odisha)।

    পুলিশ সুপার রমেন্দ্র প্রসাদ জানিয়েছেন, জেলার ঝুঁকিপূর্ণ এবং অতীতে মাওবাদী প্রভাবিত এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে। সাম্প্রতিক অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা কান্ধমালে অবশিষ্ট মাওবাদী পরিকাঠামো ভেঙে ফেলার প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করবে বলে মনে করা হচ্ছে (Maoist Arms)।

    আগেও মিলেছে মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডারের খোঁজ

    কান্ধমালে চলতি বছরে মাওবাদীদের লুকিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা এই প্রথম নয়। ১৬ জুন নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীতাগুড়হা, গঞ্জুগুড়হা, কুটিবারহি, গুড়িকিয়া এবং লাঞ্জাম গ্রামের আশপাশের জঙ্গল থেকে আরও একটি মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়েছিল। এলাকাগুলি কোটগড়, বালিগুড়া এবং তুমুড়িবান্ধা থানার আওতাধীন।

    এর আগে ১১ জুন বালিগুড়া এলাকাতেও একটি মাওবাদী অস্ত্রভাণ্ডারের সন্ধান পেয়েছিল নিরাপত্তা বাহিনী। সেখান থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং বিভিন্ন ধরনের অভিযানে ব্যবহৃত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

    কান্ধমালকে ৩১ মার্চ ২০২৬ মাওবাদীমুক্ত ঘোষণা করা হলেও, বারবার অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা থেকে স্পষ্ট, জঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় পুরনো মাওবাদী পরিকাঠামোর সন্ধানে তল্লাশি এখনও জারি রয়েছে।

    ২৬ অগাস্ট মালকানগিরিতেও অস্ত্র উদ্ধার

    কান্ধমালের ঘটনার দু’দিন আগে, ২৬ অগাস্ট ওড়িশা-ছত্তিশগঢ় সীমান্তবর্তী মালকানগিরি জেলার একটি জঙ্গল থেকেও মাওবাদীদের লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও গোলাবারুদের ভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়।

    আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই অস্ত্রভাণ্ডারের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। এরপর জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর সদস্যরা মথিলি থানার আওতাধীন চেরকোটলা, কিরমিটি, কোটওয়াপদর এবং কাদাভাটা এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালান।

    কৌশলগত দিক থেকেও এলাকাটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি প্রতিবেশী ছত্তিশগঢ়ের বস্তার জেলার দরভা থানা এলাকা এবং সুকমা জেলার পুসপাল থানা এলাকার সংলগ্ন।

    অস্ত্র মিলেছিল সুন্দরগড়েও

    এর আগে ২৪ অগাস্ট সুন্দরগড় জেলার কে বালাং থানার আওতাধীন সিলকুটা সংরক্ষিত জঙ্গল থেকেও মাওবাদীদের একটি গোপন অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করা হয়। জেলা স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী এবং বোমা শনাক্তকরণ ও নিষ্ক্রিয়করণ দলের যৌথ অভিযানে এই উদ্ধার হয়।

    আত্মসমর্পণকারী নকশালদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ওই অভিযান চালানো হয়েছিল। পুলিশের মতে, অস্ত্রভাণ্ডারটি প্রায় চার বছরের পুরনো। সেখান থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক সামগ্রী, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং মাওবাদীদের ব্যবহৃত অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার হয়।

    অবশিষ্ট মাওবাদী পরিকাঠামো ভাঙতেই নজর

    মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে ওড়িশার তিনটি জঙ্গল এলাকা থেকে মাওবাদীদের গোপন অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনা নিরাপত্তা সংস্থাগুলির ধারাবাহিক তল্লাশি অভিযানের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। ঝুঁকিপূর্ণ জঙ্গল এলাকাগুলিতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, চিরুনি তল্লাশি এবং এলাকা নিয়ন্ত্রণের অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে।

    আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যও এই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিরাপত্তা বাহিনী মনে করছে, পুরনো অস্ত্রভাণ্ডার ও মাওবাদী পরিকাঠামোর অবশিষ্ট অংশগুলি (Maoist Arms) সম্পূর্ণভাবে চিহ্নিত ও নিষ্ক্রিয় করা গেলে ভবিষ্যতে নতুন করে মাওবাদী নেটওয়ার্ক সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা আরও কমানো সম্ভব হবে (Odisha)।

     

  • Mohan Bhagwat:  নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে মোহন ভাগবতের ছবি, ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ

    Mohan Bhagwat:  নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে মোহন ভাগবতের ছবি, ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কোয়ারে আজ, শুক্রবার আরএসএস (RSS) প্রধান মোহন ভাগবতের (Mohan Bhagwat) ছবি সম্বলিত বিশাল ডিজিটাল বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়েছে। এ দিনই নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্যও রাখবেন তিনি।

    সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ম্যানহাটনের ঐতিহাসিক এই সংযোগস্থলের একটি ডিজিটাল পর্দায় ভাগবতের ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে। আজ, ২৯ অগাস্ট আয়োজিত হতে চলা “বিশ্ব ঐক্য উদ্‌যাপন” অনুষ্ঠানের আগে এই প্রচার চালানো হয়েছে।

    তিনটি দেশ সফরের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন ভাগবত। তাঁর সফরসূচিতে কানাডা এবং ব্রিটেনও রয়েছে। আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপনের বছরেই তাঁর এই বিদেশ সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

    ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে বক্তব্য রাখবেন ভাগবত (Mohan Bhagwat)

    “বিশ্ব ঐক্য উদ্‌যাপন” অনুষ্ঠানে ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের ইনফোসিস থিয়েটারে বক্তব্য রাখার কথা আরএসএস প্রধানের। আমেরিকান হিন্দুদের মধ্যে সম্পৃক্ততা ও আলোচনার লক্ষ্যে গঠিত সংগঠন অ্যাহেড এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।

    স্থানীয় সময় দুপুর ২টো থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি চলবে। ভারতীয় সময় অনুযায়ী তা আজ, শনিবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে পরদিন ভোর ৩টা পর্যন্ত। অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক, সঙ্গীত ও শিল্পকলার বিভিন্ন পরিবেশনাও থাকবে।

    আয়োজকদের দাবি, বিভিন্ন সম্প্রদায় ও দেশের মধ্যে ঐক্যের বার্তা তুলে ধরাই এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। এর ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হয়েছে “বসুধৈব কুটুম্বকম” বা “সমস্ত পৃথিবী এক পরিবার”—এই প্রাচীন ভারতীয় ভাবনাকে। আয়োজকদের মতে, ২০০-রও বেশি হিন্দু-আমেরিকান সংগঠন এই কর্মসূচিকে সমর্থন করছে।

    ঐতিহাসিক ইসকন মন্দিরে মোহন ভাগবত

    ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানের আগে এদিন নিউইয়র্কের ২৬ সেকেন্ড অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক ইসকন মন্দির পরিদর্শন করেন ভাগবত।

    সেখানে ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীল প্রভুপাদের প্রতিকৃতিতে মাল্য দান করেন তিনি। অংশ নেন গৃহহীনদের মধ্যে খাবার বিতরণের একটি কর্মসূচিতেও।

    ইসকনের পরিচালন পর্ষদের কমিশনার গৌরাঙ্গ দাস এই স্থানটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৬৬ সালে স্বামী প্রভুপাদ এই স্থানেই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

    ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ

    ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে নিউইয়র্কে বিরোধিতাও শুরু হয়েছে। হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস এবং তাদের সহযোগী কয়েকটি সংগঠন শনিবার অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।

    সংগঠনটির দাবি, ৬১টি আন্তঃধর্মীয় ও ধর্মনিরপেক্ষ সংগঠন ভাগবতের অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করে একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে (Mohan Bhagwat)।

    নিউইয়র্কের মেয়রও এই অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, আরএসএস একটি “বর্জনমূলক দৃষ্টিভঙ্গির” ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা আন্দোলন।

    তবে একই সঙ্গে মেয়র জোহরান মামদানি স্বীকার করেছেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত কোনও অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার মতো (RSS) আইনি ক্ষমতা নিউইয়র্ক প্রশাসনের নেই।

    মার্কিন ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের হস্তক্ষেপ

    ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে বিতর্কে হস্তক্ষেপ করেছে মার্কিন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনও।

    কমিশনের চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ মার্কিন সরকারের কাছে আরএসএসের সদস্যদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে ভাগবতের ভিসা বাতিলের দাবিও তুলেছিলেন। পরে অবশ্য তিনি জানান, আলোচনার জন্য আরএসএস প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তিনি প্রস্তুত।

    কমিশনের এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। ভারতের বিদেশমন্ত্রক কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ তুলে বলেছে, ভারতকে নিয়ে ওই সংস্থা বারবার “ভুল ও উসকানিমূলক বক্তব্য” দিয়েছে।বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সংস্থাটিকে পক্ষপাতদুষ্ট এবং বিশ্বাসযোগ্যতাহীন বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই সংস্থা দীর্ঘদিন ধরেই ভারত সম্পর্কে ভুল এবং উসকানিমূলক মন্তব্য করে আসছে এবং নিজস্ব উদ্দেশ্য রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্ব না দেওয়াই উচিত।

    নিউ ইয়র্কের মেয়রের বক্তব্য

    এদিকে, নিউ ইয়র্কের মেয়র মামদানি মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছিলেন, তিনি ম্যাডিসন স্কোয়্যার গার্ডেনের এই অনুষ্ঠানকে সমর্থন করেন না। তবে একই সঙ্গে তিনি কবুল করেন, একটি বেসরকারি অনুষ্ঠানের আয়োজন বাতিল করার আইনি ক্ষমতা শহর প্রশাসনের আদৌ রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে (Mohan Bhagwat)।

    মামদানি আরও বলেন, তিনি নিউ ইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম ভারতীয়-আমেরিকান মেয়র। তাঁর মায়ের পরিবারের অধিকাংশ সদস্য এখনও ভারতে রয়েছেন। নিজের পারিবারিক পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারত সম্পর্কে তাঁর পরিবারের ধারণা ছিল একটি বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ দেশের, যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে (RSS) একটি বর্জনমূলক রাজনৈতিক ভাবনার উত্থান তাঁকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে এবং তিনি সেই মতাদর্শের বিরোধী (Mohan Bhagwat)।

     

  • India Kuwait Pact: ভারত-কুয়েতের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর, পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তির একদিন পরই টেক্কা দিল্লির

    India Kuwait Pact: ভারত-কুয়েতের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর, পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তির একদিন পরই টেক্কা দিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন পরেই ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার করল কুয়েত। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হল ভারত-কুয়েতের প্রথম যৌথ প্রতিরক্ষা কমিটি (JDC)-র বৈঠক। বৈঠকে দুই দেশ সামরিক প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া, সামরিক চিকিৎসা, স্টাফ পর্যায়ের আলোচনা, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং গবেষণা ও উন্নয়ন—একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এই বৈঠকটি ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-কুয়েত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সমঝোতাপত্র (MoU) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কুয়েত সফরের সময় ওই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

    প্রথমবার বৈঠকে যৌথ প্রতিরক্ষা কমিটি

    শুক্রবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত প্রথম JDC বৈঠকে ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের যুগ্মসচিব অমিতাভ প্রসাদ। কুয়েতের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রায়েদ আলসাকরান। ভারতীয় প্রতিনিধি দলে সেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনার আধিকারিকদের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা উৎপাদন দফতর, প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO), সশস্ত্র বাহিনীর চিকিৎসা পরিষেবা এবং বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যতে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার জন্য এই কমিটিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।

    প্রশিক্ষণ থেকে প্রতিরক্ষা গবেষণা—একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা

    বৈঠকে সামরিক প্রশিক্ষণ, যৌথ সামরিক মহড়া, সামরিক চিকিৎসা, স্টাফ পর্যায়ের আলোচনা, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং গবেষণা ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা শিল্প ও গবেষণা ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। দেশীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন এবং রফতানি বাড়ানোর লক্ষ্যে ভারত বর্তমানে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও উৎপাদন ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কুয়েতের প্রতিনিধি দল নয়াদিল্লির ডিপিএসইউ ভবন-ও পরিদর্শন করে। সেখানে ভারতীয় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। কুয়েতি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আরও একটি শিল্পক্ষেত্রভিত্তিক বৈঠকেরও আয়োজন করা হয়।

    ভারত-কুয়েত চুক্তির কৌশলগত গুরুত্ব

    ভারত-কুয়েত জেডিসি বৈঠকের ঠিক একদিন আগে কুয়েত ও পাকিস্তান প্রোটোকল এগ্রিমেন্ট ২০২৬ স্বাক্ষর করেছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের বিদ্যমান সামরিক সহযোগিতার কাঠামো আরও বিস্তৃত হয়েছে। পাকিস্তান-কুয়েত চুক্তিতে সামরিক প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং পারস্পরিক সম্মত অন্যান্য প্রতিরক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতার কথা রয়েছে। তবে ভারত-কুয়েতের সাম্প্রতিক বৈঠককে সরাসরি পাকিস্তান-কুয়েত চুক্তির প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখছে না সংশ্লিষ্ট মহল। কারণ ভারত ও কুয়েতের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি রয়েছে এবং ২০২৪ সালেই দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মউ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে সময়ের দিক থেকে পরপর এই দুই চুক্তি উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা সমীকরণের প্রেক্ষাপটে ভারত-কুয়েত বৈঠককে অবশ্যই বাড়তি কৌশলগত গুরুত্ব দিচ্ছে।

    ১৯৬২ থেকে সম্পর্ক, ২০২৪-এ ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’

    ভারত ও কুয়েতের কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা ১৯৬২ সালে। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং জনসংযোগের সম্পর্ক রয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী মোদির কুয়েত সফরের সময় দুই দেশের সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এ উন্নীত করা হয়। প্রতিরক্ষার পাশাপাশি জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক সহযোগিতাও এই অংশীদারিত্বের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। কুয়েতে বসবাসকারী বিপুল ভারতীয় সম্প্রদায়ও দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। একইসঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে কুয়েতের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভারতের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক স্বার্থের কারণে দেশটির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা নয়াদিল্লির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    উপসাগরে ভারতের প্রতিরক্ষা কূটনীতিতে আরও এক ধাপ

    জেডিসি গঠনের ফলে ভারত ও কুয়েতের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে নিয়মিত আলোচনার একটি স্থায়ী মঞ্চ তৈরি হল। এর মাধ্যমে শুধু সামরিক প্রশিক্ষণ বা মহড়াই নয়, দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় এবং পারস্পরিক পরিচিতিও আরও বাড়তে পারে। সামরিক চিকিৎসা ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথভাবে সেরা পদ্ধতিগুলি গ্রহণেরও সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্প ও গবেষণাকে আলোচনার আওতায় আনার ফলে দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহ্যগত সামরিক বিনিময়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    প্রতিরক্ষা শিল্পেও কুয়েতকে পাশে চাইছে ভারত

    ভারত বর্তমানে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির কাছে নিজেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির সম্ভাব্য সরবরাহকারী হিসেবে তুলে ধরছে। JDC বৈঠকে প্রতিরক্ষা উৎপাদন দফতর এবং ডিআরডিও-র প্রতিনিধিদের উপস্থিতি সেই বৃহত্তর কৌশলেরই ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির প্রয়োজন অনুযায়ী সরঞ্জাম, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে কোনও নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা প্রকল্প চূড়ান্ত হবে কি না, তা নির্ভর করবে পরবর্তী আলোচনা এবং কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনের উপর।

    উপসাগরীয় নিরাপত্তায় ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি

    সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ওমান এবং কুয়েতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা শিল্প—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এই সহযোগিতা বাড়ছে। কুয়েতের জন্য একাধিক দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রাখা নিরাপত্তা অংশীদারিত্বকে বৈচিত্র্যময় করার সুযোগ দেয়। অন্যদিকে ভারতের জন্য উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে গভীরতর প্রতিরক্ষা সম্পর্ক তার বৃহত্তর কৌশলগত উপস্থিতি শক্তিশালী করে। কারণ এই অঞ্চল ভারতের জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্যিক রুট এবং বিপুল প্রবাসী ভারতীয় জনগোষ্ঠীর দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ভারত-কুয়েতের প্রথম যৌথ প্রতিরক্ষা কমিটির বৈঠককে নিছক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। উপসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত বদলে যাওয়া নিরাপত্তা সমীকরণের মধ্যেই দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে একটি স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে এল এই জেডিসি।

  • India-Canada Ties: কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যে বড় বদল ভারতের, ২০ কোটি ডলার ঘাটতি থেকে ১৪০ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত

    India-Canada Ties: কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যে বড় বদল ভারতের, ২০ কোটি ডলার ঘাটতি থেকে ১৪০ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কানাডার সঙ্গে পণ্য বাণিজ্যে বড়সড় পালাবদল ঘটেছে ভারতের (India-Canada Ties)। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০ কোটি ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি থেকে ভারত পৌঁছে গিয়েছে প্রায় ১৪০ কোটি ডলার উদ্বৃত্তে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে (FY2026) কানাডা থেকে ভারতের (India-Canada Bilateral Trade) আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ার পাশাপাশি দেশটিতে ভারতের রফতানি বেড়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রকের তথ্যের ভিত্তিতে রুবিক্স ডেটা সায়েন্সেসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কানাডা থেকে ভারতের আমদানি আগের বছরের তুলনায় ২৬.১ শতাংশ কমে ৩৩০ কোটি ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে, কানাডায় ভারতের রফতানি ১০.৬ শতাংশ বেড়ে ৪৭০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এই আবহে আমেরিকার সঙ্গে কানাডার বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়া এবং দুদেশের মধ্যে শুরু হওয়া ট্যারিফ যুদ্ধের আবহে ভারতের সামনে বড় সুযোগ খুলল। দুদেশের অর্থমন্ত্রীর বৈঠকে অনেকটাই এগোল ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আলোচনা।

    অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন-এর কানাডা সফর

    এই পরিবর্তন এমন সময়ে ঘটেছে, যখন ভারত ও কানাডা দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার চেষ্টা করছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ২৫ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কানাডা ও আমেরিকা সফর করছেন। কানাডার অর্থ ও ন্যাশনাল রেভিনিউ মন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেনের সঙ্গে প্রথম ভারত-কনাডা অর্থনৈতিক ডায়ালগ (India-Canada Economic and Financial Dialogue)-এও অংশ নেওয়ার কথা তাঁর। এই বৈঠকে সামষ্টিক অর্থনীতি, আর্থিক ক্ষেত্রের সহযোগিতা, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

    বাণিজ্য ঘাটতি থেকে উদ্বৃত্ত—কীভাবে?

    ভারত-কানাডা বাণিজ্যের (India-Canada Bilateral Trade) এই পরিবর্তনের পিছনে মূল কারণ রফতানির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নয়, বরং আমদানির উল্লেখযোগ্য পতন। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে কানাডায় ভারতের রফতানি ছিল প্রায় ৩৮০ কোটি ডলার। ২০২৩-২৪ সালে তা কমে ৩৮০ কোটি ডলারে দাঁড়ালেও পরের বছর বেড়ে ৪২০ কোটি এবং ২০২৫-২৬ সালে তা ৪৭০ কোটি ডলারে পৌঁছয়। অর্থাৎ ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬-এর মধ্যে ভারতের রফতানি বেড়েছে বার্ষিক গড়ে প্রায় ৬ শতাংশ হারে। অন্যদিকে, কানাডা থেকে ভারতের আমদানি ২০২১-২২ সালে ৩১০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ২০২৩-২৪ সালে ৪৬০ কোটি ডলারে পৌঁছেছিল। ২০২৪-২৫ সালে তা সামান্য কমে ৪৪০ কোটি ডলার হলেও ২০২৫-২৬ সালে বড় ধাক্কা খেয়ে নেমে আসে ৩৩০ কোটি ডলারে। ফলে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ২০২৩-২৪ সালে যেখানে ছিল ৭০ কোটি ডলার, ২০২৪-২৫ সালে ২০ কোটি ডলার, সেখান থেকে ২০২৫-২৬ সালে ভারত ১৪০ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত অর্জন করেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে দুই দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্য বেড়েছে। বরং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দুই দেশের মোট পণ্য বাণিজ্য কমে ৮০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৮৭০ কোটি ডলার। অর্থাৎ আমদানি যতটা কমেছে, রফতানি বৃদ্ধির পরিমাণ তার তুলনায় কম।

    কানাডায় কী বিক্রি করছে ভারত?

    ভারতের কানাডা-রফতানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য হয়ে উঠেছে ওষুধ। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের মোট রফতানির প্রায় ১১ শতাংশ এসেছে ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য থেকে। ২০২১-২২ সালে এই হার ছিল ৮ শতাংশ। এ ছাড়াও অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, হিরে, মূল্যবান ধাতুর গয়না এবং ক্রাস্টেশিয়ান জাতীয় সামুদ্রিক খাদ্য—প্রতিটি পণ্যশ্রেণি ভারতের রফতানিতে প্রায় ৩ শতাংশ করে অবদান রেখেছে। অন্যদিকে, কানাডা থেকে ভারতের আমদানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে রয়েছে ডাল ও অন্যান্য শুকনো শুঁটি জাতীয় খাদ্যশস্য। ২০২৫-২৬ সালে কানাডা থেকে ভারতের মোট আমদানির প্রায় ১৯ শতাংশ ছিল এই পণ্যগুলি। ২০২১-২২ সালে যা ছিল ১৩ শতাংশ। কানাডা থেকে বিমানের যন্ত্রাংশ ও মহাকাশযান-সংক্রান্ত পণ্যের অংশও বেড়েছে—৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে। পটাশিয়াম-ভিত্তিক সারের অংশ ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৮ শতাংশ। তবে কয়লার ক্ষেত্রে চিত্র উল্টো। ভারতের মোট কানাডিয় আমদানিতে কয়লার অংশ ২০২১-২২ সালে ১৫ শতাংশ থাকলেও ২০২৫-২৬ সালে তা কমে ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া তামার আকরিক ও কনসেনট্রেটের অংশ ছিল প্রায় ৪ শতাংশ।

    আমেরিকা-কানাডা শুল্কযুদ্ধ

    ভারত-কানাডা বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার আরেকটি কারণ হয়ে উঠতে পারে আমেরিকা ও কানাডার মধ্যে চলা শুল্ক সংঘাত। ২২ আগস্ট থেকে আমেরিকা কানাডার প্রায় ২৭৬০ কোটি ডলারের পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। পাল্টা হিসেবে কানাডাও ৮ সেপ্টেম্বর থেকে নির্দিষ্ট মার্কিন পণ্যের উপর ১৫, ২৫ এবং ৫০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছে। ইস্পাত, কৃষি সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, পাল্প ও কাগজ এবং ইলেকট্রনিক্স-সহ বিভিন্ন পণ্য এই শুল্কের আওতায় রয়েছে। ফলে মার্কিন পণ্য কানাডায় ব্যয়বহুল হয়ে উঠলে কানাডিয় আমদানিকারকরা বিকল্প সরবরাহকারীর সন্ধান করতে পারেন। সেক্ষেত্রে ভারতীয় সংস্থাগুলির সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। রুবিক্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বৃহৎ পণ্যশ্রেণিগুলিতে ভারত ইতিমধ্যেই ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কানাডায় প্রায় ১০০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। এর মধ্যে যন্ত্রপাতি ও মেকানিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্সের রফতানি ছিল প্রায় ৩৭৯.৪৪ মিলিয়ন ডলার। লোহা ও ইস্পাতজাত পণ্য থেকে এসেছে ২৯২.৫১ মিলিয়ন ডলার, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি থেকে ২২৬.০১ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া লোহা ও ইস্পাতের রফতানি ছিল ১০২.৪৩ মিলিয়ন ডলার এবং কাগজ ও পেপারবোর্ডের রফতানি প্রায় ৩৮ মিলিয়ন ডলার।

    ১০০ কোটি ডলারের সুযোগ অনিশ্চিত

    আমেরিকা-কানাডা শুল্ক সংঘাতের কারণে ভারতীয় রফতানিকারকদের সামনে সরাসরি ১০০ কোটি ডলারের নতুন বাজার খুলে যাবে—এমন নিশ্চয়তা এখনও নেই। কারণ, এই হিসেব করা হয়েছে পণ্যের বৃহৎ দুই-অঙ্কের হারমোনাইজড সিস্টেম (HS) ধরে। অন্যদিকে কানাডার পাল্টা শুল্ক প্রায় ৬২৯টি নির্দিষ্ট ট্যারিফ লাইনের উপর কার্যকর হবে। ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলি বাস্তবে কতটা লাভবান হবে তা নির্ভর করবে কোন পণ্য শুল্কের আওতায় পড়ছে, মার্কিন পণ্যের তুলনায় ভারতীয় পণ্যের মূল্য কতটা প্রতিযোগিতামূলক, ভারতের উৎপাদন ক্ষমতা, কানাডার চাহিদা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক বিধিনিষেধের উপর। তবে আমেরিকা-কানাডা শুল্ক সংঘাত এমন এক সময়ে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে, যখন ভারত ও কানাডা নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

    ভারত-কানাডা বাণিজ্য সম্পর্ক

    ভারত ও কানাডা (India-Canada Ties) দুই দেশ বর্তমানে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (Comprehensive Economic Partnership Agreement বা CEPA) নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। জুলাইয়ে তৃতীয় দফার আলোচনা হয়েছে। ২০২৬ সালের শেষের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে দুই দেশের। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত-কানাডা পণ্য ও পরিষেবা বাণিজ্য ৫০০০ কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, গত দুই বছরে ভারত-কানাডা বাণিজ্যে ভারতের অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে বদলেছে। যে ভারত কিছুদিন আগেও কানাডার সঙ্গে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতিতে ছিল, এখন সেই ভারতই কানাডায় অনেক বেশি পণ্য বিক্রি করছে, আমদানি করছে তুলনামূলকভাবে কম। সিইপিএ এবং আন্তর্জাতিক শুল্ক-সমীকরণের পরিবর্তনের মধ্যে আগামী দিনে এই বাণিজ্য সম্পর্ক কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর।

  • FSSAI: প্যাকেটজাত খাবারে এবার লাল ষড়ভুজ সতর্কবার্তা! অতিরিক্ত চিনি, নুন ও চর্বিতে নজর এফএসএসএআই-এর

    FSSAI: প্যাকেটজাত খাবারে এবার লাল ষড়ভুজ সতর্কবার্তা! অতিরিক্ত চিনি, নুন ও চর্বিতে নজর এফএসএসএআই-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নোনতা, মিষ্টি ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত প্যাকেটজাত খাবারের ক্ষেত্রে এবার আরও স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিতে চলেছে ভারতের খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা। প্যাকেটের সামনের দিকে বড় করে লাল রঙের ষড়ভুজ চিহ্ন (Red Hexagon Labels) বসানোর প্রস্তাব দিয়েছে ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান কর্তৃপক্ষ। কোনও খাবারে অতিরিক্ত চিনি, চর্বি ও নুনের মাত্রা নির্দিষ্ট সীমা ছাড়ালে ক্রেতাদের সতর্ক করতেই এই উদ্যোগ।

    এফএসএসএআইয়ের প্রস্তাব (FSSAI)

    ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান কর্তৃপক্ষ বা এফএসএসএআইয়ের (FSSAI) এই প্রস্তাব এসেছে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের পর। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে বিভিন্ন জীবনযাপনজনিত রোগের সম্পর্ক নিয়ে আদালতে একটি আবেদন করা হয়েছিল। অতিরিক্ত নুন, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি খাওয়ার ফলে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ এবং কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে—আবেদনে সেই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় এফএসএসএআই জানিয়েছে, খাবারের প্যাকেটের সামনের দিকে ‘যোগ করা চিনি’, ‘যোগ করা চর্বি’ এবং ‘নুনে’র মাত্রা স্পষ্টভাবে তুলে ধরার জন্য একটি প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। সংস্থার লক্ষ্য, কোনও খাবারে উদ্বেগের কারণ হতে পারে এমন পুষ্টি উপাদানের মাত্রা বেশি থাকলে ক্রেতাদের জন্য একটি “সহজ, স্পষ্ট এবং সহজে বোঝা যায় এমন সতর্কবার্তা” দেওয়া।

    লাল রঙের ষড়ভুজ সতর্কচিহ্ন

    প্রস্তাবিত ব্যবস্থায়, প্রথম পর্যায়ে নির্ধারিত পুষ্টি উপাদানগুলির মধ্যে অন্তত দু’টির মাত্রা বেশি থাকলে সংশ্লিষ্ট খাবারের প্যাকেটে লাল রঙের ষড়ভুজ সতর্কচিহ্ন দেওয়া হবে।পুষ্টি উপাদান অনুযায়ী সতর্কবার্তায় লেখা থাকতে পারে “অতিরিক্ত চর্বি”, “অতিরিক্ত চিনি” অথবা “অতিরিক্ত নুন”। নির্দিষ্ট কিছু পানীয়ের ক্ষেত্রে আলাদা করে “অত্যধিক মিষ্টিযুক্ত পানীয়” লেখা সতর্কবার্তাও ব্যবহার করা হতে পারে। শুধু প্যাকেটের পিছনে থাকা বিস্তারিত পুষ্টিগুণের তালিকার উপর নির্ভর না করে যাতে কেনার আগেই ক্রেতার নজরে সতর্কবার্তা আসে, সে জন্য সামনের দিকের এই লেখাগুলি পিছনের পুষ্টি-তথ্য প্যানেলের তুলনায় বড় অক্ষরে ছাপানোর প্রস্তাব দিয়েছে এফএসএসএআই।

    কোন খাবারে নাও থাকতে পারে সতর্কবার্তা?

    প্রস্তাবিত নিয়ম সব ধরনের খাবারের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। একক উপাদানে তৈরি খাবার এবং স্বাভাবিকভাবেই চর্বি, চিনি বা নুনের মাত্রা বেশি এমন কিছু খাবারকে এই নিয়মের আওতার বাইরে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    এর মধ্যে ঘি, ভোজ্য তেল, নুন, চিনি, গুড় এবং মধুর মতো খাবার থাকতে পারে। তবে বিদ্যমান খাদ্য নিরাপত্তা ও প্যাকেটের গায়ে তথ্য দেওয়ার নিয়মের অন্যান্য শর্ত তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য থাকবে।

    ধাপে ধাপে চালু হতে পারে নতুন ব্যবস্থা

    একসঙ্গে সমস্ত প্যাকেটজাত খাবারের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা কার্যকর না করে ধাপে ধাপে সতর্কবার্তা চালুর সুপারিশ করেছে এফএসএসএআই (FSSAI)।

    প্রথম পর্যায়ে এমন খাবারকে আওতায় আনা হবে, যেগুলিতে নির্ধারিত দুই বা তার বেশি পুষ্টি উপাদান—যোগ করা চর্বি, যোগ করা চিনি এবং নুন—নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি রয়েছে। নির্দিষ্ট ধরনের মিষ্টিযুক্ত পানীয়ও এই পর্যায়ের আওতায় থাকবে।

    দ্বিতীয় পর্যায়ে নিয়ম আরও বিস্তৃত করা হবে। তখন নির্ধারিত পুষ্টি উপাদানগুলির মধ্যে যে কোনও একটির মাত্রা বেশি থাকলেও সংশ্লিষ্ট খাবারের প্যাকেটে সতর্কবার্তা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

    এফএসএসএআইয়ের মতে, ধাপে ধাপে ব্যবস্থা চালু হলে ক্রেতারা নতুন সতর্কচিহ্নের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সময় পাবেন। একইসঙ্গে প্রয়োজনে খাবারের উপাদান ও প্রস্তুতপ্রণালী পরিবর্তন করে পণ্য নতুনভাবে তৈরি করার জন্য খাদ্য প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিও পর্যাপ্ত সময় পাবে।

    ২০২৪ সালের খাদ্য নির্দেশিকার ভিত্তিতে সীমা নির্ধারণ

    এফএসএসএআই যে পুষ্টি-সীমার প্রস্তাব করেছে, তা ২০২৪ সালের ভারতীয়দের জন্য খাদ্য নির্দেশিকার ভিত্তিতে তৈরি। এই নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ এবং জাতীয় পুষ্টি সংস্থা।

    প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে কোনও খাবারে চর্বি, চিনি এবং বা নুনের মাত্রা নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে গেলে এবং চিহ্নিত পুষ্টি উপাদানগুলির মধ্যে অন্তত দু’টির মাত্রা বেশি হলে সেটিকে সতর্কবার্তা দেওয়ার আওতায় আনা হবে (FSSAI)।

    এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ভারতের খাদ্যপণ্যের গায়ে তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতদিন প্যাকেটের পিছনে থাকা বিস্তারিত পুষ্টি-তথ্য দেখে ক্রেতাকে নিজেই খাবারের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বুঝতে হত (Red Hexagon Labels)। নতুন ব্যবস্থায় প্যাকেটের সামনেই বড় ও স্পষ্ট সতর্কবার্তা থাকবে, ফলে খাবার কেনার আগেই অতিরিক্ত চিনি, নুন বা চর্বির উপস্থিতি সম্পর্কে (FSSAI) সহজে জানতে পারবেন ক্রেতারা।

     

  • Petroleum Supplier: সৌদি আরব-আমিরশাহিকে টপকে কেনিয়ায় সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ মোদির ভারত!

    Petroleum Supplier: সৌদি আরব-আমিরশাহিকে টপকে কেনিয়ায় সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ মোদির ভারত!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত ঘিরে জ্বালানি বাণিজ্যের প্রচলিত পথে বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় নতুন উৎসের দিকে ঝুঁকেছে পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়া (Petroleum Supplier)। আর সেই সুযোগে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিকে পেছনে ফেলে কেনিয়ার সবচেয়ে বড় শোধিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে ভারত।

    জ্বালানি অর্থনীতিবিদ আনাস আলহাজ্জির উদ্ধৃত বেলজিয়ামের পণ্যবাজার-তথ্য সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, কেনিয়ায় পেট্রোল, ডিজেল, বিমানের জ্বালানি এবং জ্বালানি তেল সরবরাহে ভারত এখন শীর্ষে। এর আগে এই বাজারে (Kenya) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির।

    কেনিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এই পরিবর্তনকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই উপসাগরীয় দেশগুলির ওপর জ্বালানির জন্য ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল কেনিয়া। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে সেই নির্ভরতার জায়গায় এখন বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে ভারতের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে।

    কেন ভারতের দিকে ঝুঁকল কেনিয়া (Petroleum Supplier)

    ঐতিহাসিকভাবে সৌদি আরামকো, আবুধাবির আদনক এবং এমিরেটস ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির মতো বড় উপসাগরীয় জ্বালানি সংস্থার মাধ্যমেম শোধিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সংগ্রহ করত কেনিয়া। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি বাণিজ্যের পথে বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করার প্রয়োজন দেখা দেয়। বিপুল পরিশোধন ক্ষমতা এবং শক্তিশালী রফতানি পরিকাঠামো থাকায় সেই বাড়তি চাহিদা পূরণের সুযোগ পায় ভারত।

    কেনিয়ার জ্বালানি বাজার দাপাচ্ছে ভারতের ‘সিক্কা’

    তথ্য অনুযায়ী, কেনিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহির জ্বালানি সরবরাহ জানুয়ারিতে দৈনিক প্রায় ৯০ হাজার ব্যারেল থেকে অগাস্টে নেমে প্রায় ১৫ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। কেনিয়ার জ্বালানি বাজারে ভারতের ভূমিকা যে বাড়ছে, তার প্রমাণ অবশ্য বছরের গোড়াতেই পাওয়া গিয়েছিল। ‘বিজনেস ডেইলি আফ্রিকা’র পর্যালোচনা করা সরকারি নথি অনুযায়ী, ভারতের সিক্কা বন্দর থেকে পাঠানো ৮ কোটি ২৩ লাখ ৮০ হাজার লিটার কেরোসিন গত ১৯ মার্চ কেনিয়ার মোম্বাসা বন্দরে খালাস করা হয়। এর পর এপ্রিল মাসে সিক্কা বন্দর থেকে আরও ১৫ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার লিটার কেরোসিন ও ডিজেল পাঠানো হয়েছিল।

    পরিশোধন ক্ষমতায় ভারতের সুবিধা

    ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশেরও বেশি আমদানি করে। তবে বিপুল পরিশোধন ক্ষমতা গড়ে তোলার ফলে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলকে প্রক্রিয়াজাত করে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশেও শোধিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রফতানি করতে পারে দেশটি। ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের হিসাব অনুযায়ী, ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম তেল পরিশোধনকারী এবং এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম পরিশোধনকারী দেশ।

    বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার ভারতেই!

    দেশে বর্তমানে ২২টি চালু তেল শোধনাগার রয়েছে। সব মিলিয়ে এ সবের বার্ষিক পরিশোধন ক্ষমতা ২৫ কোটি ৮১ লাখ টন। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত ৬ কোটি ১৫ লাখ টন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রফতানি করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার কমপ্লেক্সও ভারতে অবস্থিত। গুজরাটের জামনগরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের এই বিশাল পরিশোধন কমপ্লেক্স ভারতের জ্বালানি রফতানির সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে (Petroleum Supplier)।

    আফ্রিকায় ভারতীয় জ্বালানির বড় বাজার

    কেনিয়ার বাজারে ভারতের উত্থান আফ্রিকায় ভারতীয় পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের রফতানি বৃদ্ধির বৃহত্তর প্রবণতারই অংশ। আনাস আলহাজ্জির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে আফ্রিকায় ভারতের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রফতানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। এক বছরের এই একই সময়ের তুলনায় রফতানি বেড়েছে ৬৬ শতাংশ।

    ইউরোপের জ্বালানি বাজারের পরিবর্তনও এই প্রবণতার অন্যতম কারণ। রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল থেকে তৃতীয় কোনও দেশে পরিশোধিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিধিনিষেধের ফলে ভারতীয় জ্বালানির কিছু চালান ইউরোপের পরিবর্তে আফ্রিকা-সহ অন্য বাজারের দিকে যাচ্ছে (Kenya)। এদিকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান অপরিশোধিত তেল রফতানিকারী দেশ রাশিয়াও নিজেদের পরিশোধন ক্ষমতায় বিঘ্ন তৈরি হওয়ার পর ভারত থেকে কিছু পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানি শুরু করেছে। ইউক্রেনীয় হামলার কারণে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ তেল শোধনাগারগুলির কার্যক্রম ব্যাহত হওয়াই এর অন্যতম কারণ।

    কেনিয়ায় ভারতের রফতানি বাড়ল ১৫১ শতাংশ

    কেনিয়ার সঙ্গে ভারতের সামগ্রিক বাণিজ্যও সম্প্রতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ের তুলনায় ২০২৬ সালের জুলাইয়ে কেনিয়ায় ভারতের পণ্য রফতানি বেড়েছে ১৫১ দশমিক ৪১ শতাংশ। এই হিসাব শুধু পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য নয়, সব ধরনের পণ্য রফতানিকে অন্তর্ভুক্ত করে।

    তবে সামগ্রিক রফতানি বৃদ্ধিতে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। জুলাই মাসে ভারতের বিশ্বব্যাপী পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রফতানি ৬৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। আগের বছরের ৪১৩ কোটি ডলারের রফতানি বেড়ে চলতি বছরের জুলাইয়ে হয়েছে ৬৯২ কোটি ডলার।

    নাইরোবিতে ভারতের হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেনিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল ভারত। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৩১ কোটি ডলার। এর মধ্যে কেনিয়ায় ভারতের রফতানির পরিমাণ ছিল ৪০১ কোটি ডলার এবং কেনিয়া থেকে ভারতের আমদানির পরিমাণ ২৯ কোটি ডলার (Petroleum Supplier)। কেনিয়ায় ভারতের প্রধান রফতানি পণ্যের তালিকায় পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য অন্যতম।

    বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে ভারতের গুরুত্ব বাড়ছে

    কেনিয়ার শীর্ষ পেট্রোলিয়াম সরবরাহকারী হিসেবে ভারতের উঠে আসা বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে ভারতের তেল পরিশোধন শিল্পের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। অপরিশোধিত তেলের জন্য ভারত এখনও ব্যাপকভাবে আমদানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দেশের বিশাল পরিশোধন ক্ষমতার কারণে সেই অপরিশোধিত তেলকে উচ্চমূল্যের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যে রূপান্তর করে বিদেশের বাজারে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।

    কেনিয়ার পরিস্থিতি আরও দেখিয়ে দিচ্ছে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা কীভাবে খুব দ্রুত দীর্ঘদিনের জ্বালানি সরবরাহের পথ বদলে দিতে পারে। ভৌগোলিক নৈকট্য এবং দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে পূর্ব আফ্রিকায় উপসাগরীয় দেশগুলির জ্বালানি সরবরাহের ভূমিকা এতদিন গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা সেই ব্যবস্থায় ফাঁক তৈরি করেছে, আর সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলি।

    এই ঝোঁক ভারতের পরিশোধন শিল্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ

    আফ্রিকার দিকে ভারতীয় জ্বালানি রফতানির এই ঝোঁক ভারতের পরিশোধন শিল্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপের নতুন বিধিনিষেধের কারণে কিছু প্রচলিত রফতানি বাজারে প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়ায় আফ্রিকার বাড়তে থাকা চাহিদা ভারতীয় পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের জন্য বিকল্প বাজার তৈরি করছে। এর ফলে পরিশোধিত জ্বালানি রফতানিকারী হিসেবে বিশ্ববাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে (Kenya)।

    অন্যদিকে, কেনিয়ার জন্য ভারত থেকে বেশি জ্বালানি আমদানি করার অর্থ হল সরবরাহের উৎস আরও বৈচিত্র্যময় করা। বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তার সময়ে এটি দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। তবে এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে পরিবহণ খরচ, অপরিশোধিত তেলের দাম, তেল শোধনাগারের অর্থনীতি, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং উপসাগরীয় দেশগুলির জ্বালানি সরবরাহ আগের মাত্রায় ফিরে আসে কি না, তার ওপর (Petroleum Supplier)।

  • Sonia Gandhi Book Row: সোনিয়া গান্ধীর বই প্রকাশ ঘিরে বিতর্ক, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশকের দায়িত্ব

    Sonia Gandhi Book Row: সোনিয়া গান্ধীর বই প্রকাশ ঘিরে বিতর্ক, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশকের দায়িত্ব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোনও রাজনৈতিক নেতার স্মৃতিকথা তাঁর জীবন, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ দলিল হতে পারে। সেখানে ব্যক্তিগত স্মৃতি, রাজনৈতিক মূল্যায়ন এবং সমকালীন ঘটনাবলী সম্পর্কে লেখকের নিজস্ব ব্যাখ্যা থাকলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সেই বই প্রকাশে বাধা দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই। কিন্তু কোনও বইয়ে প্রধানমন্ত্রী, রাজনৈতিক সংগঠন (Congress), ভারত-চিন সীমান্ত কিংবা ভারতীয় ভূখণ্ডে চিনের তথাকথিত অনুপ্রবেশের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কোনও দাবি থাকলে বিষয়টি শুধুমাত্র মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তখন সামনে আসে তথ্য, প্রমাণ এবং প্রকাশকের দায়িত্বের প্রশ্ন। এই বিতর্কের কেন্দ্রেই রয়েছে সোনিয়া গান্ধীর (Sonia Gandhi Book Row) প্রস্তাবিত স্মৃতিকথা “বিলংগিং: এ জার্নি অফ লাভ”। বইটির আন্তর্জাতিক সংস্করণ আগামী ১০ নভেম্বর, ২০২৬ প্রকাশিত হওয়ার কথা। পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউসের আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটে বইটিকে ৫৪৪ পৃষ্ঠার একটি স্মৃতিকথা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ভারতীয় সংস্করণ প্রকাশ ঘিরে বিতর্ক (Sonia Gandhi Book Row)

    ভারতে বইটির প্রকাশনা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়, যখন বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া এবং সোনিয়া গান্ধীর মধ্যে পাণ্ডুলিপির কিছু অংশ নিয়ে সম্পাদকীয় মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ, ভারত-চিন সম্পর্ক এবং চিনের কথিত অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত কিছু অংশ নিয়ে সম্পাদকীয় পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে সোনিয়া সেই পরিবর্তনগুলি মেনে নেননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এর পরেই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রশ্ন ওঠে, একই বই বিদেশে প্রকাশিত হলেও ভারতে কেন প্রকাশিত হচ্ছে না। দলের কয়েকজন নেতা বিষয়টিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত করেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কোনও ধরনের চাপ দেওয়া হয়েছিল কি না, সেই অভিযোগও তোলেন। কিন্তু বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে প্রকাশকের বক্তব্যের পর।

    পেঙ্গুইনের বক্তব্যে নতুন প্রশ্ন

    ২৮ অগাস্ট পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া প্রকাশ্যে জানায় যে ভারতে “বিলংগিং” বইটির প্রকাশক তারা নয়। একই সঙ্গে সংস্থাটি জানায়, সোনিয়া সম্পাদকীয় পরিবর্তন মেনে না নেওয়ায় তারা বই প্রকাশের সিদ্ধান্ত বদল করেছে—এমন দাবি পুরো পরিস্থিতিকে সঠিকভাবে তুলে ধরে না। প্রকাশকের বক্তব্য অনুযায়ী, তথ্য যাচাই করা এবং লেখকদের সম্পাদকীয় পরামর্শ দেওয়া প্রকাশনা প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। সংশ্লিষ্ট আলোচনার সময় বইটি প্রকাশ করার বিষয়ে তারা আগ্রহী ছিল বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে। তবে গোপন আলোচনার বিষয়ে তারা আর কোনও মন্তব্য করতে চায়নি (Congress)। এই বক্তব্যের পর বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি সামনে এসেছে—প্রকাশক নিজেই যখন সরকারি চাপের অভিযোগ নিশ্চিত করছে না, তখন সরাসরি মোদি সরকারের সঙ্গে বই প্রকাশ না হওয়ার সিদ্ধান্তকে যুক্ত করার ভিত্তি কী?

    প্রশ্ন শুধু সোনিয়ার বই নিয়ে নয়

    মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অর্থ কি কোনও লেখক যে কোনও ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, সরকার বা সেনাবাহিনী সম্পর্কে যে কোনও দাবি করতে পারবেন এবং প্রকাশককে তা তথ্য যাচাই ছাড়াই প্রকাশ করতে হবে? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে সম্পাদকীয় প্রক্রিয়ার প্রয়োজনই বা কোথায়? বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দায়িত্বশীল প্রকাশনা সংস্থাগুলিতে সম্পাদকীয় পর্যালোচনা, তথ্য যাচাই এবং আইনি পর্যালোচনা প্রকাশনা প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ। কোনও বইয়ে জীবিত ব্যক্তিকে নিয়ে অভিযোগ, সরকারের কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে গুরুতর মন্তব্য, সামরিক অভিযান সংক্রান্ত তথ্য অথবা কোনও দেশের সীমান্ত নিয়ে দাবি থাকলে সেই দাবির ভিত্তি খতিয়ে দেখা স্বাভাবিক। লেখকের লেখার অধিকার রয়েছে, কিন্তু কোনও প্রকাশককে নির্দিষ্ট আকারে সেই লেখা প্রকাশ করতে বাধ্য করা যায় না।

    ভারত-চিন সীমান্তের প্রশ্ন শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়

    সোনিয়ার বইকে ঘিরে বিতর্কের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশটি ভারত-চিন সম্পর্ক এবং চিনের তথাকথিত অনুপ্রবেশের সঙ্গে যুক্ত বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সীমান্তে চিনের কার্যকলাপ, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা, ভারতীয় ভূখণ্ডের অবস্থান এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর পদক্ষেপ সাধারণ রাজনৈতিক মন্তব্যের বিষয় নয়। এই বিষয়গুলির সঙ্গে সরাসরি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোনও স্মৃতিকথায় যদি বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ে চিন ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল, কোনও সরকার পরিস্থিতি যথাযথভাবে সামাল দিতে পারেনি, অথবা কোনও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীকে সিদ্ধান্ত নিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল, তাহলে পাঠকের জানার অধিকার রয়েছে—এগুলি কি লেখকের ব্যক্তিগত স্মৃতি, রাজনৈতিক মূল্যায়ন, নাকি যাচাই করা তথ্য? এখানেই প্রকাশকের দায়িত্ব শুরু হয়। তথ্য চাওয়া সেন্সরশিপ নয়। বরং বহু ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করাই প্রকাশকের দায়িত্ব। কোনও রাজনৈতিক নেতা যদি লেখেন, কোনও নির্দিষ্ট বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট কথা বলেছিলেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার অংশ হতে পারে। কিন্তু একই বইয়ে কোনও সামরিক ঘটনা, সীমান্ত বিরোধ বা সরকারি সিদ্ধান্তকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে তুলে ধরা হলে সেই দাবির প্রকৃতি বদলে যায় (Sonia Gandhi Book Row)। তখন প্রশ্ন উঠবেই—এর উৎস কী? কোনও নথি রয়েছে কি? অন্যান্য সূত্র কী বলছে? সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া হয়েছিল কি? সরকারি নথি বা জনসমক্ষে থাকা তথ্য দিয়ে দাবিটির সত্যতা নিশ্চিত করা যায় কি? এই প্রশ্নগুলি করা লেখকের কণ্ঠরোধ করা নয়, বরং পাঠকের জানার অধিকার রক্ষা করা (Congress)।

    কংগ্রেসের যুক্তি এবং তার দুর্বল জায়গা

    কংগ্রেসের নেতারা গোটা ঘটনাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। অশোক গেহলট, কমল নাথ-সহ দলের একাধিক নেতার প্রশ্ন, বিদেশে বইটি প্রকাশিত হতে পারলে ভারতে প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা কোথায় এবং কোনও ধরনের চাপ দেওয়া হয়েছিল কি না। অবশ্যই এটি গুরুতর অভিযোগ। কিন্তু গুরুতর অভিযোগের জন্যও প্রয়োজন জোরালো প্রমাণ। যদি কেন্দ্রীয় সরকার পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়াকে বইয়ের কোনও অংশ বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে থাকে, তাহলে সেই নথি প্রকাশ করা উচিত। কোনও সরকারি আধিকারিক প্রকাশকের উপর চাপ দিয়ে থাকলে তার প্রমাণও সামনে আনা উচিত। কোনও মন্ত্রক বইটি আটকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে থাকলে সেই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসা উচিত। বর্তমানে প্রকাশকের যে বক্তব্য সামনে এসেছে, তাতে এমন কোনও সরকারি নির্দেশের উল্লেখ নেই। বরং সরকারি চাপের অভিযোগ নিশ্চিত করার পরিবর্তে প্রকাশক সম্পাদকীয় প্রক্রিয়া এবং তথ্য যাচাইকেই প্রকাশনার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। তাই এই পর্যায়ে “মোদি সরকার বইটি আটকে দিয়েছে”—এমন বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত সত্য নয়, বরং রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই দেখা যায়।

    লেখকের স্বাধীনতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশকের স্বাধীনতা

    এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলতে গিয়ে কি প্রকাশকের স্বাধীনতাকে উপেক্ষা করা যায় (Sonia Gandhi Book Row)? সোনিয়ার নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনই কোনও পাণ্ডুলিপিতে তথ্য যাচাই প্রয়োজন বলে মনে হলে প্রকাশকের লেখককে প্রশ্ন করার অধিকারও রয়েছে। লেখক কোনও পরিবর্তন গ্রহণ করতে না চাইলে সেটিও তাঁর অধিকার। একইভাবে, সেই আকারে বই প্রকাশ করতে প্রকাশক অনিচ্ছুক হলে সেটিও প্রকাশকের অধিকার। গণতন্ত্র উভয় পক্ষের স্বাধীনতার কথা বলে। এক পক্ষের স্বাধীনতা যখন অন্য পক্ষের উপর বাধ্যবাধকতায় পরিণত হয়, তখনই ব্যবস্থাটি অসুস্থ হয়ে ওঠে।

    পেঙ্গুইনের আগের বিতর্কও কি প্রাসঙ্গিক?

    পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়ার নাম এর আগেও বিতর্কিত প্রকাশনা সংক্রান্ত ঘটনায় উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের জুনে ২০১৩ সালের মুজফফরনগর দাঙ্গার উপর ভিত্তি করে জো সাকোর গ্রাফিক প্রতিবেদন “দ্য ওয়ান্স অ্যান্ড ফিউচার রায়ট” ভারতে বিতরণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল সংস্থাটি। সাকোর দাবি ছিল, বইয়ে ব্যবহৃত কয়েকটি উদ্ধৃতি নিয়ে পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া পরিবর্তন চেয়েছিল। অতএব, সোনিয়ার বইকে ঘিরে বর্তমান বিতর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়। তবে “মোদিকে প্রশ্ন করা” এবং “মোদিকে দোষারোপ করা”—এই দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। সরকারকে প্রশ্ন করা বিরোধী দলের অধিকার। প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করাও গণতান্ত্রিক অধিকার। ভারত-চিন নীতি নিয়ে সরকারের কাছে জবাব চাওয়াও সম্পূর্ণ বৈধ। কিন্তু কোনও প্রমাণ ছাড়াই প্রকাশকের সিদ্ধান্তকে সরকারের পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় (Congress)। প্রশ্ন করা গণতন্ত্রের অংশ। কিন্তু প্রমাণ ছাড়াই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা গণতন্ত্রের মানকে দুর্বল করে।

    সরকার বদলালেও কি তথ্য যাচাইয়ের মানদণ্ড বদলাবে?

    কংগ্রেস যদি মনে করে বইটি প্রকাশের ক্ষেত্রে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, তাহলে তাদের সেই দাবির প্রমাণ সামনে আনা উচিত। কিন্তু প্রমাণ না থাকলে প্রতিটি সম্পাদকীয় মতপার্থক্যকে মোদি সরকারের ষড়যন্ত্র হিসেবে তুলে ধরলে রাজনৈতিক বিতর্কের গভীরতা কমে যায়। আগামী দিনে সরকার বদলালে কি এই মানদণ্ডও বদলে যাবে? এই প্রশ্নটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তার আগে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার ছিল। ভবিষ্যতে অন্য কোনও দল ক্ষমতায় আসতে পারে। তাহলে কি সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে প্রকাশনার স্বাধীনতার মানদণ্ডও বদলে যাবে? উত্তর হওয়া উচিত—না। আজ বিজেপি সরকারের সঙ্গে যুক্ত কোনও নেতাকে নিয়ে প্রকাশিত বইয়ে গুরুতর অভিযোগ থাকলে তথ্য যাচাই প্রয়োজন। আগামীকাল যদি কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় থাকে এবং কোনও কংগ্রেস নেতাকে নিয়ে গুরুতর অভিযোগসম্বলিত বই প্রকাশিত হয়, তাহলেও তথ্য যাচাই প্রয়োজন হবে। এটাই গণতান্ত্রিক নীতি। রাজনৈতিক দল বদলায়। সরকার বদলায়। প্রধানমন্ত্রী বদলায়। কিন্তু তথ্য যাচাইয়ের মানদণ্ড বদলানো উচিত নয় (Sonia Gandhi Book Row)।

    সেনাবাহিনী নিয়ে কে কী লিখতে পারেন, প্রশ্নটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    চিন এবং ভারতীয় ভূখণ্ড সংক্রান্ত অংশের কথা সামনে আসায় জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও এই বিতর্ককে দেখা প্রয়োজন। ভারতীয় সেনাবাহিনী কোনও রাজনৈতিক দল নয়। সীমান্তে সেনাবাহিনীর অভিযান, সিদ্ধান্ত এবং মোতায়েন নিয়ে গুরুতর কোনও দাবি জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্মৃতিকথার অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী সম্পর্কিত কোনও বক্তব্য যাচাই না করেই গ্রহণ করা সমীচীন নাও হতে পারে। এখানে উদ্দেশ্য কোনও সরকারকে রক্ষা করা হওয়া উচিত নয়। কোনও সরকার সীমান্তে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রমাণভিত্তিক প্রশ্ন থাকা উচিত। সেনাবাহিনীর কোনও ত্রুটি হয়ে থাকলে তারও প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। চিন কোনও পদক্ষেপ নিয়ে থাকলে তারও প্রমাণ থাকা দরকার। আবার অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও প্রমাণের ভিত্তিতে খণ্ডন করা উচিত।দেশপ্রেমের অর্থ সরকারের বলা প্রতিটি কথাকে সঠিক বলে মেনে নেওয়া নয়। কিন্তু জাতীয় স্বার্থের নামে কোনও যাচাই না-করা দাবিকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাও দেশপ্রেম নয়। শেষ পর্যন্ত এই বিতর্কের মূল প্রশ্ন তাই শুধু সোনিয়ার বই প্রকাশিত হবে কি না, তা (Congress) নয়। প্রশ্ন হল—গণতন্ত্রে লেখকের স্বাধীনতা, প্রকাশকের স্বাধীনতা এবং পাঠকের সত্য জানার অধিকার—এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন রক্ষা করতে হবে, তেমনই সংবেদনশীল দাবির ক্ষেত্রে তথ্য ও প্রমাণের গুরুত্বও অস্বীকার করা যায় না (Sonia Gandhi Book Row)।

     

  • Delhi Couple Arrested: টাকার বিনিময়ে ভারতীয় সিম পাচার পাকিস্তানে! আইএসআই-চক্রে গ্রেফতার দিল্লির দম্পতি

    Delhi Couple Arrested: টাকার বিনিময়ে ভারতীয় সিম পাচার পাকিস্তানে! আইএসআই-চক্রে গ্রেফতার দিল্লির দম্পতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানীতে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-সমর্থিত একটি সন্দেহভাজন গুপ্তচরচক্রের হদিশ পাওয়ার দাবি করল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। এই ঘটনায় দিল্লির বাসিন্দা এক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে পাকিস্তান-ভিত্তিক গোয়েন্দা অপারেটিভদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ভারতের স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ ও পাচারের কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। গ্রেফতার হওয়া দু’জন হল ২৫ বছরের সাহিল এবং তার ২১ বছরের স্ত্রী সমীরা। পুলিশের দাবি, পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তারা একাধিক ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ করে পাকিস্তানে পাঠিয়েছিল। তদন্তে দিল্লি থেকে করাচি ও ইসলামাবাদ পর্যন্ত এই নেটওয়ার্কের যোগাযোগের সূত্র মিলেছে বলেও জানিয়েছে স্পেশাল সেল।

    পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছিল ৮টি ভারতীয় সিম কার্ড

    পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সাহিল ও সমীরা মোট ৮টি ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ করে দুবাইয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানে পাঠিয়েছিল। এর বিনিময়ে পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের কাছ থেকে তারা প্রায় ৩০ হাজার টাকা পেয়েছিল বলে অভিযোগ।  তদন্তকারীদের দাবি, পাকিস্তানে পৌঁছনোর পর ওই সিম কার্ড ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করা হয়। সেই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভরা ভারতের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করত এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাত। পুলিশের আরও অভিযোগ, ওই হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টগুলির কয়েকটি ভারতীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও প্রবেশের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন গ্রুপে থাকা তথ্য সংগ্রহ করা।

    সোশ্যাল মিডিয়া থেকে এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ— কীভাবে চলত নেটওয়ার্ক?

    স্পেশাল সেলের তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলাররা ভারতের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। এর মধ্যে কথিত ‘ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার’ এবং ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যরাও থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। সোশ্যাল মিডিয়া এবং এনক্রিপ্টেড কমিউনিকেশন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই যোগাযোগ চালানো হত বলে জানিয়েছে পুলিশ। অর্থাৎ, শুধু সিম কার্ড পাচার নয়, ভারতের মাটিতে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের যোগাযোগের জন্য একটি বিস্তৃত ডিজিটাল নেটওয়ার্ক তৈরির অভিযোগও সামনে এসেছে।

    সামরিক এলাকায় রেকি করার অভিযোগ

    এই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলির একটি হল ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সামরিক এলাকা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ। পুলিশের দাবি, সাহিলকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় গিয়ে রেকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি গুপ্তচরবৃত্তি এবং মাঠপর্যায়ের অপারেশনের জন্য নতুন লোক নিয়োগের দায়িত্বও তার উপর ছিল বলে অভিযোগ।

    তদন্তকারীদের আরও দাবি, সামরিক আদালত বা ট্রাইব্যুনালে চলা কোর্ট মার্শাল সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া কিছু ভারতীয় সেনাকর্মীর সম্পর্কেও সাহিল তথ্য সরবরাহ করেছিল। ফলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, এই নেটওয়ার্কের লক্ষ্য শুধুমাত্র সাধারণ তথ্য সংগ্রহ ছিল না। ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো, সেনা সদস্য এবং সামরিক কার্যকলাপ সম্পর্কে স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছিল বলেই অভিযোগ।

    ইনস্টাগ্রাম থেকেই শুরু যোগাযোগ

    পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সাহিলের সঙ্গে পাকিস্তানি এজেন্টের প্রথম যোগাযোগ হয় ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে ২০২৪ সালে। এই যোগাযোগের ক্ষেত্রে সমীরার ভূমিকা ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সাহিল ২০২২ সালে সমীরার সঙ্গে আলাপ হয় এবং পরবর্তীতে তারা বিয়ে করে। এরপর ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে পাকিস্তানি এক এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়। ওই এজেন্টই পরে দম্পতিকে পাকিস্তানের এক গোয়েন্দা অপারেটিভের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। অভিযোগ, ওই গোয়েন্দা অপারেটিভ আর্থিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দম্পতিকে গুপ্তচরচক্রে কাজ করতে রাজি করায়।  এরপর তাদের দায়িত্বের মধ্যে ছিল দিল্লিতে নেটওয়ার্ককে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া, ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ ও পাঠানো এবং নতুন ব্যক্তিদের গুপ্তচরবৃত্তি ও ফিল্ড অপারেশনে যুক্ত করার চেষ্টা।

    মোবাইল ফোন থেকেই মিলল গুরুত্বপূর্ণ সূত্র

    চাঁদ বিবি ক্যাম্প এলাকা থেকে সাহিলকে প্রথমে গ্রেফতার করে স্পেশাল সেল। তিনি মহম্মদ আশফাকের ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে।  সাহিলের মোবাইল ফোনের ফরেন্সিক পরীক্ষার সময় পাকিস্তানি এজেন্টদের সঙ্গে তার কথোপকথনের তথ্য তদন্তকারীদের হাতে আসে বলে দাবি। সেই চ্যাটের সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা সমীরার ভূমিকার বিষয়ে জানতে পারেন।

    এরপর সমীরাকেও গ্রেফতার করা হয়। তার মোবাইল ফোনে সাহিল এবং পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও কথোপকথনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। দম্পতির কাছ থেকে মোট দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ডিভাইসগুলিতে পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভদের সঙ্গে কথাবার্তা এবং ভারতে থাকা নেটওয়ার্কের বিভিন্ন যোগাযোগ ও কার্যকলাপের তথ্য রয়েছে।

    কারা এই সাহিল ও সমীরা?

    পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে জন্ম সাহিল দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি (IGNOU) থেকে কলায় স্নাতক পাশ করেছে। সে এক আইনজীবীর সঙ্গে কাজ করত এবং ভবিষ্যতে এলএলবি পড়ার পরিকল্পনা ছিল। ২০২৫ সালের জুনে সে চাকরি ছেড়ে দেয়। এরপর থেকে সে বেকার ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। অন্যদিকে, ২০০৫ সালে জন্ম সমীরা কেশবপুরমের কন্যা বিদ্যালয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে। পরে করেসপন্ডেন্স-এর মাধ্যমে বিএ ডিগ্রি অর্জন করে। গ্রেফতারের আগে নয়ডার একটি কল সেন্টারে কাজ করছিল।

    কীভাবে সামনে এল পুরো নেটওয়ার্ক?

    স্পেশাল সেলের কাছে প্রথমে খবর আসে, সন্ত্রাসবাদী সংগঠন, তাদের কথিত ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার  এবং স্লিপার সেলকে দিল্লি থেকে লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসে এমন কিছু স্থানীয় ব্যক্তির নাম, যারা ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ, পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ভারতের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সাহায্য করছিল বলে অভিযোগ। সেই তদন্তেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে সাহিলের নাম সামনে আসে। তার মোবাইলের ফরেন্সিক পরীক্ষার পর পাকিস্তানি এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে আসে। এরপর সেই সূত্র ধরে সমীরার কথিত ভূমিকা এবং বৃহত্তর নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় বলে দাবি করেছে স্পেশাল সেল।

    তদন্তে এখন নজর কোথায়?

    দিল্লি পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সাহিল ও সমীরাকে গ্রেফতার করার ফলে পাকিস্তান-ভিত্তিক গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক এবং ভারতে থাকা তাদের কথিত যোগাযোগকারীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া গিয়েছে।বিশেষ করে ভারতীয় সিম কার্ড কীভাবে পাকিস্তানে পৌঁছত, সেই সিম ব্যবহার করে কারা হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট চালাত, ভারতীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কী ধরনের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা হয়েছিল এবং সামরিক এলাকার কোন কোন তথ্য পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের কাছে পৌঁছেছিল— এই বিষয়গুলিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।

    তদন্তকারীদের দাবি সত্যি হলে, ঘটনাটি শুধুমাত্র দু’জনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ নয়; বরং পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে ভারতের মাটিতে থাকা সম্ভাব্য সহযোগীদের মধ্যে কীভাবে ডিজিটাল যোগাযোগ, সিম কার্ড এবং স্থানীয় লজিস্টিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছিল, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ছবি সামনে আনতে পারে এই মামলা। তবে এই সমস্ত অভিযোগই পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে; আদালতে অভিযোগগুলি প্রমাণিত হওয়া এখনও বাকি।

  • Nepal Flood: পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে বিদেশি সাহায্যে সায় নেপালের, ১১ জনের বিশেষজ্ঞ দল পাঠাল ভারত, প্রস্তুত আরও

    Nepal Flood: পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে বিদেশি সাহায্যে সায় নেপালের, ১১ জনের বিশেষজ্ঞ দল পাঠাল ভারত, প্রস্তুত আরও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালের পাশে আরও জোরালো ভাবে দাঁড়াল ভারত। বন্যায় ইতিমধ্যেই ৫০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একাধিক এলাকায় সড়ক ও সেতু যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজে সাহায্য করতে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা নেপালকে সহযোগিতা করবেন।

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে চিকিৎসক ও মেডিক্যাল টিমও পাঠানো হবে। নেপাল অনুরোধ করলে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফ-কেও পাঠাতে প্রস্তুত ভারত। পাশাপাশি বন্যায় ধুয়ে যাওয়া সেতুগুলির জায়গায় দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করতে বেইলি ব্রিজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সুড়ঙ্গে আটকদের উদ্ধারে বিশেষজ্ঞ দল

    নেপালের ভোতেকোশি অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার জেরে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই নেপাল সেনা প্রায় ৩৫০ জন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করেছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ভারতীয় নাগরিকও ছিলেন।  তবে ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় এখনও প্রায় ১০০ জন আটকে থাকতে পারেন বলে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে। তাঁদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নেপালি বাহিনী। এই পরিস্থিতিতে সুড়ঙ্গ উদ্ধারে বিশেষ দক্ষতা রয়েছে এমন ভারতীয় দল পাঠানো হচ্ছে।

    বিদেশি উদ্ধারকারী দল নিয়ে অবস্থান বদল নেপালের

    বন্যার পর প্রথমে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলকে ক্ষতিগ্রস্ত ভোতেকোশি এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দিতে চায়নি নেপাল সরকার। বুধবার নেপাল জানিয়েছিল, নিজেদের উদ্ধারকারী বাহিনীই পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম এবং বিদেশি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিমের প্রয়োজন নেই। কিন্তু বিভিন্ন দেশের নাগরিক নিখোঁজ থাকায় আন্তর্জাতিক মহলের চাপ বাড়তে থাকে। এরপরই অবস্থান বদল করে কাঠমান্ডু। এখন নির্দিষ্ট কিছু প্রযুক্তিগত ও বিশেষায়িত ক্ষেত্রে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    নেপালের এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মহলের কাছ থেকে বিদেশি উদ্ধারকারী দল এবং বিশেষজ্ঞদের অনুমতি দেওয়ার জন্য ব্যাপক চাপ এসেছিল। সেই কারণেই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সীমিত সংখ্যক বিশেষজ্ঞকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালও জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গ উদ্ধার, ডিএনএ পরীক্ষা এবং ফরেন্সিক তদন্তের মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। তবে সাধারণ সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অভিযানের জন্য নেপাল বিদেশি সাহায্য চাইছে না।

    জাতীয় বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভারত, চিন, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিবিদদের সাহায্য নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে নেপালের আন্তঃমন্ত্রক সমন্বয় কমিটি।

    সেতু পুনর্নির্মাণে ভারত পাঠাচ্ছে বেইলি ব্রিজ

    বন্যায় নেপালের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেসে যাওয়ায় বহু এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভারত বেইলি ব্রিজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেইলি ব্রিজ হল এমন এক ধরনের পোর্টেবল, প্রিফ্যাব্রিকেটেড ট্রাস ব্রিজ, যা ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়াই তুলনামূলক দ্রুত জোড়া লাগানো যায়। ফলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত পুনরুদ্ধারে এই সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, নেপালের প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার, চিকিৎসা এবং পরিকাঠামোগত সহায়তা দেওয়ার জন্য ভারত প্রস্তুত রয়েছে।

    তৃতীয় বিমানও পাঠাল ভারত

    নেপালে ইতিমধ্যেই দু’টি বিমানে ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে ভারত। শুক্রবার ২৮ অগস্ট আরও একটি বিমান কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা দেয়। তৃতীয় দফার এই ত্রাণবাহী বিমানে প্রায় ১০ টন মানবিক সহায়তা পাঠানো হয়েছে।

    এই বিমানে রয়েছে—

    • ● পোর্টেবল জেনারেটর সেট
    • ● ডিগনিটি কিট
    • ● খাদ্যসামগ্রী
    • ● জল পরিশোধনের ট্যাবলেট

    এছাড়াও ১১ সদস্যের একটি দল পাঠানো হয়েছে। সেই দলে চিকিৎসক, প্যারামেডিক এবং সুড়ঙ্গ উদ্ধারে বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন।

    এখনও যোগাযোগ নেই ৩১৫-র বেশি ভারতীয়র সঙ্গে

    নেপালে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের উদ্ধারের পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের কাজও চালাচ্ছে নয়াদিল্লি। জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, এখনও ৩১৫-র বেশি ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ৮৫ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে।

    উদ্ধার হওয়া ভারতীয়দের মধ্যে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা থেকে ফেরা ২১ জন তীর্থযাত্রীও রয়েছেন। তাঁদের নেপাল সেনা দুর্গম এলাকা থেকে উদ্ধার করে কাঠমান্ডুতে নিয়ে আসে। পরে কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাস তাঁদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে। নেপাল সেনার উদ্ধার অভিযানের জন্য ওই তীর্থযাত্রীরা বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ বলেও জানিয়েছেন জয়শঙ্কর।

    নেপালের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে জয়শঙ্করের কথা

    শুক্রবার নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি জানান, বিপর্যয়ের এই সময়ে ভারত নেপালের পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার, চিকিৎসা ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও জানিয়েছেন, নয়াদিল্লি নেপালকে সুড়ঙ্গ উদ্ধারের বিশেষজ্ঞ দল, মেডিক্যাল টিম এবং প্রয়োজন হলে NDRF পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে কোন ধরনের সহায়তা কখন প্রয়োজন, তা নেপাল সরকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঠিক করবে।

    পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বিদেশ মন্ত্রক

    নেপালের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকদের পাশাপাশি কাঠমান্ডু ও বেজিংয়ে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জয়শঙ্কর। বৈঠকে নেপালের পরিস্থিতি এবং সেখানে পাঠানো ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের জেরে নেপালের বিস্তীর্ণ অংশে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। একাধিক সেতু ও রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিশেষজ্ঞ দল, ত্রাণসামগ্রী এবং পরিকাঠামোগত সহায়তা নেপালের উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

LinkedIn
Share