Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Indresh Kumar: ‘নিট আন্দোলনের নেপথ্যে দেশি-বিদেশি শক্তি’, বিস্ফোরক দাবি প্রবীণ আরএসএস নেতার

    Indresh Kumar: ‘নিট আন্দোলনের নেপথ্যে দেশি-বিদেশি শক্তি’, বিস্ফোরক দাবি প্রবীণ আরএসএস নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: NEET ইস্যু নিয়ে আন্দোলনে এবার সরব হলেন আরএসএসের (RSS) প্রবীণ নেতা ইন্দ্রেশ কুমার (Indresh Kumar)। ‘‘এই আন্দোলনের পিছনে দেশীয় ও বিদেশি- উভয় ধরনের শক্তির মদত রয়েছে, এই শক্তিগুলি চায় না ভারত একটি উন্নত, শক্তিশালী ও শিক্ষিত দেশে পরিণত হোক।’’ বিস্ফোরক অভিযোগ প্রবীণ নেতার।

    নিটকে হাতিয়ার করে রাজনীতি

    আরএসএসের (RSS) প্রবীণ নেতা ইন্দ্রেশ কুমার (Indresh Kumar) বলেন, ‘‘প্রথমে বিরোধী দলগুলি নিট পরীক্ষার অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলেছিল। কিন্তু পরে তারা মূল বিষয় থেকে সরে গিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার চেষ্টা শুরু করে। দেশে ইতিবাচক রাজনীতির পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা চলছে।’’

    ‘ভারতকে দুর্বল করার চেষ্টা’

    আরএসএসের (RSS) এই প্রবীণ নেতার (Indresh Kumar) অভিযোগ, দেশের ভিতরে ও বাইরে এমন কিছু শক্তি সক্রিয় রয়েছে, যারা ভারতের অগ্রগতি চায় না। যুব সমাজের বোঝা উচিত, এই আন্দোলনের পিছনে এমন কিছু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শক্তি রয়েছে, যারা চায় না ভারত উন্নত, শক্তিশালী ও শিক্ষিত জাতি হয়ে উঠুক। বরং তারা ভারতের ক্ষতি করতে চায়।

    যুব সমাজের প্রতি বার্তা

    আন্দোলনরত যুবকদের উদ্দেশে ইতিবাচক ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান ইন্দ্রেশ কুমারের (Indresh Kumar)। তিনি বলেন, ‘‘দেশের উন্নয়নের কাজে অংশ নেওয়াই হওয়া উচিত যুব সমাজের লক্ষ্য। যদি ভালো কিছু করতে না পারেন, অন্তত ক্ষতি করবেন না। অন্য কেউ ভালো কাজ করলে তাকে নষ্ট করার চেষ্টা করবেন না। এ ধরনের মানসিকতা দুর্ভাগ্যজনক। আজ ভারত উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং স্টার্টআপ সংস্কৃতির মাধ্যমে বিশ্বের কাছে একটি উদাহরণ হয়ে উঠছে। সেই অগ্রগতির পথে যুব সমাজের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া উচিত।’’

    স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আদর্শ অনুসরণের আহ্বান

    যুবকদের ভগত সিং, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, বিনায়ক দামোদর সাভারকর, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো জাতীয় নেতাদের আদর্শ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে দেশ গঠনের কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বানও জানান আরএসএসের (RSS) প্রবীণ এই নেতা (Indresh Kumar)।

    সরকারের বার্তা: দ্রুত বিচার হবে

    এদিকে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল জানিয়েছেন, প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে প্রতিদিন শুনানির ব্যবস্থা করা হবে। তাঁর দাবি, এর ফলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত হবে এবং পরীক্ষার্থীরা সময়মতো ন্যায়বিচার পাবেন। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবও বিরোধীদের সমালোচনা করে বলেন, অযথা রাজনৈতিক সংঘাত না বাড়িয়ে সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পথ খোঁজা উচিত।

  • US National Arrested: ভারত-নেপাল সীমান্তে ফের ধরা পড়ল এক মার্কিন নাগরিক, খালিস্তানি যোগে চাঞ্চল্য, তদন্তে এনআইএ

    US National Arrested: ভারত-নেপাল সীমান্তে ফের ধরা পড়ল এক মার্কিন নাগরিক, খালিস্তানি যোগে চাঞ্চল্য, তদন্তে এনআইএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-নেপাল (India-Nepal Border) সীমান্তে যৌথ নিরাপত্তা অভিযানে বড়সড় সাফল্য পেল ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। উত্তরপ্রদেশের রূপাইডিহা (Rupaidiha) সীমান্ত এলাকা থেকে এক মার্কিন নাগরিক-সহ মোট পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে নিষিদ্ধ খালিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘ওয়ারিস পাঞ্জাব দে’ (Waris Punjab De)-র এক সদস্যও রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    যৌথ অভিযানে বড়সড় সাফল্য

    গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর সীমান্তরক্ষী বাহিনী সশস্ত্র সীমা বল (SSB) এবং উত্তরপ্রদেশ পুলিশের যৌথ বাহিনী রূপাইডিহা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযোগ, অভিযুক্তরা বৈধ ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া এড়িয়ে গোপনে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। সেই সময় একটি গাড়ি আটক করে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

    কারা ধরা পড়েছে?

    ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন বিক্রমজিৎ সিং, যিনি খালিস্তানপন্থী সংগঠন ওয়ারিস পাঞ্জাব দে-র সদস্য বলে তদন্তকারীদের দাবি। এছাড়া ধরা পড়েছেন মার্কিন নাগরিক মনবীর সিং ধিলোঁ, যাঁর আদি বাড়ি পঞ্জাবের মোগা জেলায়। এ ছাড়া অভিযানে আরও তিন ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে। তাঁদের নাম—

    • ● সুরেশ কুমার পাঠক
    • ● দিলীপ উপাধ্যায়
    • ● রাহুল কুমার (গাড়ির চালক)

    তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই তিনজন সীমান্ত পারাপারের জন্য লজিস্টিক ও স্থানীয় সহায়তা দিচ্ছিলেন।

    কীভাবে ভারতে ঢোকার পরিকল্পনা?

    প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা বীরগঞ্জ-রূপাইডিহা (Birgunj-Rupaidiha) করিডর ব্যবহার করে ভারতে ঢোকার পরিকল্পনা করেছিল। ভারত-নেপাল ১৯৫০ সালের শান্তি ও মৈত্রী চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশের নাগরিকদের অবাধ যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই খোলা সীমান্তকে কাজে লাগিয়ে চোরাচালান, মানবপাচার এবং বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা ভারতে ঢোকার চেষ্টা করে বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলির দাবি।

    মার্কিন নাগরিক ধরা পড়ায় বাড়ল কূটনৈতিক গুরুত্ব

    ঘটনায় এক মার্কিন নাগরিকের উপস্থিতি বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত অভিযোগ করে আসছে যে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ব্রিটেনে বসবাসকারী কিছু খালিস্তানপন্থী গোষ্ঠী বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ, প্রচার এবং সংগঠন বিস্তারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে খালিস্তানপন্থী নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুন-কে কেন্দ্র করে ভারত ও পশ্চিমা দেশগুলির মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনও বেড়েছে। সেই আবহেই এই গ্রেফতারিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

    নেপাল করিডর নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ

    ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মতে, নেপাল বহুদিন ধরেই বিভিন্ন জঙ্গি ও শত্রুভাবাপন্ন নেটওয়ার্কের জন্য একটি সম্ভাব্য ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কাঠমান্ডুতে তুলনামূলক সহজ প্রবেশের সুযোগ এবং ভারত-নেপালের ১,৭৫১ কিলোমিটার দীর্ঘ উন্মুক্ত সীমান্তকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সংগঠন অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে বলে তদন্তকারী সংস্থাগুলির ধারণা।

    এনআইএ-সহ কেন্দ্রীয় সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদ শুরু

    ধৃত পাঁচজনকে নিরাপত্তার কড়া নজরদারিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তে নেমেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

    তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন—

    • ● অভিযুক্তদের ডিজিটাল যোগাযোগের নেটওয়ার্ক
    • ● অর্থের উৎস ও লেনদেনের পথ
    • ● ভারতে সম্ভাব্য যোগাযোগকারী ও সহযোগীদের পরিচয়
    • ● অনুপ্রবেশের মূল উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য টার্গেট

    তদন্তকারী সংস্থাগুলির মতে, এই ঘটনায় সীমান্ত ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের কার্যকলাপ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। পাশাপাশি বিদেশে সক্রিয় খালিস্তানপন্থী সংগঠনগুলির সঙ্গে ভারতের অভ্যন্তরে সম্ভাব্য যোগাযোগের দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • National Honour (Amendment) Bill: রাজ্যসভায় পেশ ‘বন্দে মাতরম’ বিল, বিরোধীদের বিক্ষোভে সোমবার পর্যন্ত স্থগিত অধিবেশন

    National Honour (Amendment) Bill: রাজ্যসভায় পেশ ‘বন্দে মাতরম’ বিল, বিরোধীদের বিক্ষোভে সোমবার পর্যন্ত স্থগিত অধিবেশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর অপমান করলে পেতে হবে শাস্তি। এ বার এমন আইনি বন্দোবস্ত করতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র। সংসদের বাদল অধিবেশনে তুমুল বিক্ষোভের মধ্যেই শুক্রবার রাজ্যসভায় ‘জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’ বা ‘বন্দে মাতরম’ বিল পেশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পক্ষে তিনি বিলটি উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবিত এই বিলে জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ আইন, ১৯৭১-এ সংশোধনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারের দাবি, জাতীয় সঙ্গীতের মতোই ‘বন্দে মাতরম’ গানের জন্যও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই সংশোধনের মূল উদ্দেশ্য। তবে বিল পেশের সময়ই নিট-ইউ জি প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে স্লোগান তুলে প্রতিবাদ জানান বিরোধী সাংসদরা।

    নতুন বিলে কী প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে?

    এই বিলে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া ইচ্ছাকৃতভাবে আটকানো, বাধা দেওয়া বা তাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। অভিযুক্তকে সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল, জরিমানা অথবা দু’টিরই বিধান রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত বিলে। বর্তমান আইন মূলত জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-কে অসম্মান করা, গানে বাধা দেওয়া বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার মতো বিষয়ের উপর প্রযোজ্য। নতুন সংশোধনী বিলে সেই ধারার আওতা বাড়িয়ে ‘বন্দে মাতরম’-কেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, কেউ একবার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরে ফের একই অপরাধ করলে কমপক্ষে এক বছরের জেল বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, জাতীয় প্রতীকগুলির মর্যাদা রক্ষার জন্য এই সংশোধনী আনা হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নির্দেশ দিয়েছিল, সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর ছয়টি স্তবক গাওয়ার পরে ‘জন গণ মন’ পরিবেশিত হবে।

    বন্দে মাতরম-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন

    এ বছর বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দেশাত্মবোধক গান বন্দে মাতরম-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন চলছে। ১৮৭৫ সালে লেখা এই গান প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে। ১৮৯৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম এই গান গেয়েছিলেন। ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছিল বন্দে মাতরমের কথা ও ভাবনা। কংগ্রেস জমানায় জাতীয় গানের মর্যাদা বৃদ্ধির পক্ষে বার বার সওয়াল করে এসেছে বিজেপি।গত ফেব্রুয়ারিতে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার বিধি স্থির করে দিয়েছিল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক নির্দেশিকা জারি করে জানায়, ‘জনগণমন’-এর মতো সরকারি অনুষ্ঠানে পরিবেশন করতে হবে জাতীয় গানও। ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের সময়ে সকলকে উঠে দাঁড়ানোর কথাও বলা হয় ওই নির্দেশিকায়।

    জাতীয় গানের অপমান বরদাস্ত করা হবে না

    পরে গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, জাতীয় গানের অপমান বরদাস্ত করা হবে না। সূত্রের খবর, ওই দিনেই ১৯৭১ সালের আইনে সংশোধনের প্রস্তাবে অনুমোদন দেয় মোদির মন্ত্রিসভা। বর্তমানে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে কারাদণ্ড, জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডেরই বিধান আইনে রয়েছে। জাতীয় পতাকা বা সংবিধানের অবমাননার জন্যও অনুরূপ শাস্তির বিধান রয়েছে। আইন অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ায় বাধা দিলে অথবা জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার কোনও সমাবেশে বিঘ্ন ঘটালে, তাঁকে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। একই ব্যক্তি যদি পুনরায় একই অপরাধ করেন, তাঁকে ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

    অপ্রয়োজনীয় বিভাজন তৈরির চেষ্টা

    বিলটির বিরোধিতা করেন সিপিআই সাংসদ পি. সন্দোষ কুমার এবং জন ব্রিট্টাস। সন্দোষ কুমার বলেন, “আমি ‘বন্দে মাতরম’-কে শ্রদ্ধা করি, কিন্তু এই বিলের বিরোধিতা করছি।” তাঁর অভিযোগ, এই আইন আনার মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-কে ঘিরে অপ্রয়োজনীয় বিভাজন তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, চলমান ছাত্র আন্দোলন এবং নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্ক থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতেই এই বিল আনা হয়েছে। যদিও সভার চেয়ারম্যান তাঁকে বিলের বিষয়েই বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেন। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, এই বিলের মাধ্যমে “দেশপ্রেমকে আইনের মাধ্যমে চাপিয়ে দেওয়ার” চেষ্টা করা হচ্ছে এবং নিট প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থেকে নজর ঘোরানো হচ্ছে।

    রাজ্যসভার অধিবেশন মুলতবি

    বিরোধীদের লাগাতার স্লোগান ও বিক্ষোভের মধ্যেই বিলটি পেশ হয়। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় রাজ্যসভার অধিবেশন সোমবার সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি করে দেওয়া হয়। এর আগে দিনের প্রথমার্ধেও একই কারণে একবার অধিবেশন স্থগিত হয়েছিল। অন্যদিকে, লোকসভাতেও নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ব্যাপক অচলাবস্থা তৈরি হয়। বিরোধী সাংসদরা ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখালে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় অধিবেশন সোমবার সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

    প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন আনা হবে

    এদিকে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, সরকার নিট ইস্যুতে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তিনি বিরোধীদের শর্ত ছাড়াই আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। রিজিজু বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যেই দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন যে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন আনা হবে। পাশাপাশি পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধের দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের প্রস্তাবও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বিবেচনা করবে। উল্লেখ্য, নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬ প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে বাদল অধিবেশনের টানা পঞ্চম দিনও সংসদের দুই কক্ষেই অচলাবস্থা বজায় থাকল। বিরোধীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং গোটা বিষয়টি নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে সংসদে আলোচনা ব্যহত হচ্ছে।

  • Union Cabinet: প্রশ্নফাঁসে আর রেহাই নয়! আরও কঠোর অ্যান্টি-পেপার লিক আইনে ছাড়পত্র মোদি মন্ত্রিসভার

    Union Cabinet: প্রশ্নফাঁসে আর রেহাই নয়! আরও কঠোর অ্যান্টি-পেপার লিক আইনে ছাড়পত্র মোদি মন্ত্রিসভার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় জালিয়াতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিল কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে (Union Cabinet) নতুন অ্যান্টি-পেপার লিক বিলের খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই সংসদের চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশনে সংশোধনী বিলটি পেশ করা হতে পারে। এর মাধ্যমে বিদ্যমান পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) আইন (Anti Paper Leak Bill), ২০২৪-কে আরও শক্তিশালী করার পথে হাঁটছে কেন্দ্র। সরকারের লক্ষ্য, প্রশ্নফাঁস, সংগঠিত পরীক্ষা জালিয়াতি এবং পরীক্ষায় অসাধু উপায়ের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনের তুলনায় আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা। একইসঙ্গে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা আরও সুদৃঢ় করাই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য।

    কী কী বদল হতে পারে?

    সরকারি সূত্রের দাবি, সংশোধনী বিলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে প্রশ্নফাঁসের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন। দোষীদের জন্য বর্তমানের তুলনায় আরও দীর্ঘ কারাদণ্ডের বিধান। অন্তত ১০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি জরিমানার ব্যবস্থা। সংগঠিত বা বৃহৎ প্রশ্নফাঁস চক্রের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার প্রস্তাব।

    বর্তমান আইনে কী শাস্তি রয়েছে?

    দেশে ইতিমধ্যেই ‘পাবলিক এক্সামিনেশন আইন (Anti Paper Leak Bill), ২০২৪’ কার্যকর রয়েছে। ২০২৪ সালে এই আইন কার্যকর করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থাগুলির পরিচালিত বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, নকল এবং অন্যান্য অসাধু উপায় রোধ করা। এই আইনের আওতায় রয়েছে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC), স্টাফ সিলেকশন কমিশন (SSC), ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA), বিভিন্ন ব্যাঙ্ক নিয়োগকারী সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যান্য পরীক্ষাগ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ। বর্তমান আইনে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ৩ থেকে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। পরীক্ষা পরিচালনাকারী কোনও সংস্থা অপরাধে জড়িত বা তথ্য গোপন করলে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। সূত্রের খবর, সংশোধনের পর এই বিধান আরও কঠোর হতে পারে।

    প্রধানমন্ত্রী কী বলেছিলেন?

    মন্ত্রিসভার অনুমোদনের কয়েক ঘণ্টা আগেই, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছিলেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার পবিত্রতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি প্রশ্নফাঁসকে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুতর অপরাধ বলে উল্লেখ করেন। ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রশ্নফাঁস কোনও সাধারণ অপরাধ নয়। গত আড়াই মাসে সরকার একাধিক আইনি পদক্ষেপ করেছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে জেলে রয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর জন্য পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের মামলায় দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের উদ্যোগ ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে। সংশোধনী প্রস্তাব প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুত এবং মন্ত্রিসভার (Union Cabinet) অনুমোদনের পর তা সংসদে আনা হবে।” সেই মতোই শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠক (Union Cabinet) ডাকা হয়, সেখানেই মেলে অনুমোদন।

    কেন আনা হচ্ছে এই সংশোধনী?

    সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে আইনের ফাঁকফোকর দূর করে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। সরকারের মতে, সংগঠিত প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে কঠোর শাস্তির পাশাপাশি দ্রুত বিচারও জরুরি।

    বিরোধীদের আন্দোলন অব্যাহত

    সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, বিশেষ করে নিট-ইউজি-সহ একাধিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরীক্ষার্থী, ছাত্র সংগঠন এবং বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। দিল্লির যন্তর মন্তর-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলন হয়। বিরোধী দল Cockroach Janta Party (CJP)-র পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনও এই আন্দোলনে সামিল হয়েছে। আন্দোলনে সামিল হয়েছে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টিও। তাঁদের দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, প্রশ্নফাঁসের সমস্ত ঘটনার নিরপেক্ষ ও সময়বদ্ধ তদন্ত,  শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার ও সংগঠিত প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা। পাশাপাশি নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করা পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ। এই পরিস্থিতিতেই প্রশ্নফাঁস ও সংগঠিত পরীক্ষা জালিয়াতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে নতুন সংশোধনী বিল আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

    সরব রাহুল গান্ধী

    অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ফের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, গত এক দশকে দেশে প্রায় ১৫০টি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, অথচ কোনও ক্ষেত্রেই দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত হয়নি।

    বিল পেশের অপেক্ষা

    মন্ত্রিসভার (Union Cabinet) অনুমোদন মিলেছে, আগামী সপ্তাহেই সংশোধনী বিলটি সংসদে পেশ হওয়ার সম্ভাবনা। বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষায় কারচুপি এবং সংগঠিত জালিয়াতির বিরুদ্ধে দেশের আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রের আশা, কঠোর শাস্তি ও দ্রুত বিচারের মাধ্যমে পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতি কোটি কোটি পরীক্ষার্থীর আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।

  • Jantar Mantar Protest: যন্তর মন্তর প্রতিবাদে সামিল ৪৮০-র বেশি পাকিস্তানি সোশাল হ্যান্ডল চিহ্নিত, সক্রিয় ছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও!

    Jantar Mantar Protest: যন্তর মন্তর প্রতিবাদে সামিল ৪৮০-র বেশি পাকিস্তানি সোশাল হ্যান্ডল চিহ্নিত, সক্রিয় ছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যন্তর মন্তরে চলা আন্দোলনকে (Jantar Mantar Protest) কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো তথ্য, গুজব এবং সম্পাদিত ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ তুলল দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। পুলিশের দাবি, এ কাজে পাকিস্তান থেকে পরিচালিত ৪৮০টিরও বেশি সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট (Pakistan Social Media Accounts) সক্রিয় ছিল। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় এই একই অ্যাকাউন্টগুলি সক্রিয় ছিল বলেও দাবি দিল্লি পুলিশের (Delhi Police)।

    ৪৮০-র বেশি পাকিস্তানি অ্যাকাউন্ট 

    বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) এক আধিকারিক জানান, বর্তমানে চলা আন্দোলনের (Jantar Mantar Protest) সুযোগ নিয়ে পাকিস্তান থেকে পরিচালিত একাধিক সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট গুজব, ভুয়ো পোস্ট এবং সম্পাদিত ভিডিও ছড়াচ্ছে।  পুলিশের দাবি, এখনও পর্যন্ত ৪৮০টিরও বেশি পাকিস্তান-ভিত্তিক সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট (Pakistan Social Media Accounts) চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলি থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছিল। ইতিমধ্যেই এই অ্যাকাউন্টগুলি ব্লক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

    ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও ছিল সক্রিয়

    দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) দাবি, এই একই সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলি ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীনও সক্রিয় ছিল। পুলিশের অভিযোগ, ওই সময়ের মতো এবারও উদ্দেশ্য একটাই- ভুল তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলা।

    ছাত্রদের উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা!

    পুলিশের দাবি, ভুয়ো পোস্ট, সম্পাদিত ভিডিও এবং নাম-পরিচয়হীন সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ধরনের তথ্য বা ভিডিও দেখে প্রভাবিত না হওয়ার জন্য ছাত্রদের প্রতি বিশেষ আবেদন জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)।

    গুজব ছড়াবেন না, তথ্য যাচাই

    সাধারণ মানুষের উদ্দেশে দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) আবেদন, সামাজিক মাধ্যমে কোনও তথ্য শেয়ার বা ফরওয়ার্ড করার আগে অবশ্যই তার সত্যতা যাচাই করতে হবে। পুলিশের বার্তা, ভুয়ো খবর বা গুজব ছড়াবেন না এবং সমাজবিরোধী শক্তিকে মানুষের আবেগকে কাজে লাগানোর সুযোগ দেবেন না।

    শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার রয়েছে

    দিল্লি পুলিশ (Delhi Police) স্পষ্ট করেছে, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ বা আন্দোলন করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার, এবং সেই অধিকারকে তারা সম্মান করে। তবে একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকলকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বক্তব্য, শান্তি বজায় রাখা এবং যাচাই করা তথ্যের উপর ভরসা করাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি।

  • PM On NEET: নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে মধ্যরাতে ভিডিয়ো বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির, সরানো হল কেন্দ্রীয় শিক্ষা সচিব বিনীত যোশীকে

    PM On NEET: নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে মধ্যরাতে ভিডিয়ো বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির, সরানো হল কেন্দ্রীয় শিক্ষা সচিব বিনীত যোশীকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে (PM On NEET) কড়া পদক্ষেপ কেন্দ্রের। মন্ত্রিসভার বৈঠকে আজ, শুক্রবারই ঘোষণা করা হবে সেই কথা। মধ্যরাতে একটি ভিডিয়ো বার্তায় তা জানালেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, “প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ শুক্রবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঘোষণা করা হবে।” তিনি জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার (ফাস্ট-ট্র্যাক) আদালত গঠন এবং আরও কঠোর শাস্তির বিধান থাকা একটি খসড়া আইন নিয়ে শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আলোচনা হবে। চলতি বাদল অধিবেশনেই যত দ্রুত সম্ভব সংসদে এই আইনটি পাস করাতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির বার্তা

    সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা প্রায় তিন মিনিটের একটি ভিডিয়ো বার্তায় মোদি বলেন, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী এবং তাঁদের অভিভাবকদের গভীর কষ্ট দিয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী এও জানিয়েছেন, সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার ছিল যাতে কোনও শিক্ষার্থীর একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়। তিনি বলেন, “অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ২২ লক্ষ শিক্ষার্থীর জন্য পরীক্ষা আয়োজন করতে সরকার তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। ১৯ জুলাই, ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরীক্ষার্থীদের সাফল্যের খবর আসছে।” ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও।

    সরানো হল শিক্ষা সচিবকে

    নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিক্ষোভের মাঝেই বড় পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। শিক্ষা সচিব পদ থেকে সরানো হয়েছে বিনীত যোশীকে। তাঁর জায়গায় নয়া শিক্ষা সচিব (Education Secretary) হয়েছেন নরেশ গাঙ্গোয়ার। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই বদলির বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। ২০২৫-এর জানুয়ারিতে উচ্চশিক্ষা দফতরের সচিব পদে দায়িত্ব নেন বিনীত যোশী। তাঁকে শিক্ষা দফতর থেকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হল পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রকে। অন্যদিকে, স্কুলশিক্ষা দফতরের সচিব হলেন টি কে অনিল কুমার। গ্রামোন্নয়ন দফতরের সচিব ছিলেন তিনি। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে বলেন, “প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার জেরেই শিক্ষা সচিবকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যাঁরা প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।”

  • Kusha Missile Test: ৩৫০ কিমি দূরে শত্রুকে ধ্বংস! প্রথম পরীক্ষাতেই সফল দেশীয় এস-৪০০ ‘কুশা’ ক্ষেপণাস্ত্র

    Kusha Missile Test: ৩৫০ কিমি দূরে শত্রুকে ধ্বংস! প্রথম পরীক্ষাতেই সফল দেশীয় এস-৪০০ ‘কুশা’ ক্ষেপণাস্ত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পথে বড় সাফল্য এল। বৃহস্পতিবার প্রথমবার সফলভাবে পরীক্ষা করা হল সম্পূর্ণ স্বদেশে তৈরি কুশা (Kusha) দীর্ঘ-পাল্লার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (LRSAM) সিস্টেমের। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ওডিশার উপকূলে এপিজে আব্দুল কালাম দ্বীপ থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উড়ান পরীক্ষা করা হয়েছে।পরীক্ষার সময় একটি উচ্চগতির ও উচ্চ-উচ্চতায় উড়তে সক্ষম ইলেকট্রনিক লক্ষ্যবস্তুকে (Electronic Target) শত্রু বিমানের অনুকরণে ব্যবহার করা হয়। কুশা ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে সেই লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করে ধ্বংস করে।

    ৩৫০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুও ধ্বংস করতে সক্ষম

    প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, কুশা মিসাইল সিস্টেম ১৫০ থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে থাকা বিভিন্ন ধরনের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলা করতে সক্ষম। যুদ্ধবিমান, ক্রুজ মিসাইল, ড্রোন (UAV) থেকে শুরু করে বড় আকারের শত্রু বিমান—সবকিছুকেই নির্দিষ্ট উচ্চতায় শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারবে এই ব্যবস্থা। সূত্রের খবর, আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

    সম্পূর্ণ স্বদেশি প্রযুক্তিতে তৈরি

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, কুশা প্রকল্পের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ— ক্ষেপণাস্ত্র, রেডার, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারসহ সম্পূর্ণ অস্ত্র ব্যবস্থা প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)-র বিভিন্ন গবেষণাগার এবং দেশীয় শিল্প সংস্থার যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে।

    কী বললেন রাজনাথ সিং?

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, কুশা ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাঁর কথায়, বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশের কাছেই এই ধরনের দীর্ঘ-পাল্লার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল প্রযুক্তি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘এই সাফল্যের ফলে বিদেশি নির্ভরতা অনেকটাই কমবে এবং দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের শক্তিবৃদ্ধি হবে।’’ প্রতিরক্ষা সচিব তথা অতিরিক্ত ডিআরডিও প্রধান রাজেশ কুমার সিংও পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের অভিনন্দন জানান।

    এস-৪০০-এর পাশাপাশি নতুন শক্তি

    বর্তমানে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভরসা রাশিয়া থেকে কেনা এস-৪০০ (S-400) ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। ২০১৮ সালে প্রায় ৩৯,০০০ কোটি টাকার চুক্তিতে পাঁচটি এস-৪০০ ইউনিট কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে তিনটি ইউনিট রয়েছে, চতুর্থটি চলতি বছরের জুন মাসে পৌঁছেছে এবং পঞ্চম ইউনিটও বছরের শেষের মধ্যে হাতে আসতে পারে। এদিকে চলতি বছরের মার্চে প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ (DAC) প্রায় ২.৩৮ লক্ষ কোটি টাকার সামরিক আধুনিকীকরণ প্রকল্পে অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে আরও পাঁচটি এস-৪০০ ইউনিট কেনার প্রস্তাবও রয়েছে।

    ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষার শক্তি আরও বাড়বে

    ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বর্তমানে এস-৪০০ ছাড়াও আকাশ, সমর (Samar), ইজরায়েলের স্পাইডার (SpyDer), রাশিয়ার পেচোরা, ওএসএ-একেকে, টুঙ্গুস্কা, স্ট্রেলা, শিলকা, জেডইউ-২৩-২বি অ্যান্টি-এয়ারক্রাফ্ট গান, আধুনিকীকৃত এল-৭০ অ্যান্টি-এয়ারক্রাফ্ট গান এবং ইগলা ম্যানপ্যাডসের মতো একাধিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। সেই তালিকায় ভবিষ্যতে কুশা যুক্ত হলে ভারতের বহুস্তরীয় (Multi-layered) আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ-পাল্লার এই স্বদেশি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ভবিষ্যতে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল ও অন্যান্য আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় ভারতকে আরও আত্মনির্ভর করে তুলবে।

  • Sonam Wangchuk Breaks Fast: কেন্দ্রের আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক, দ্রুত সুস্থতা কামনা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    Sonam Wangchuk Breaks Fast: কেন্দ্রের আশ্বাসে অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক, দ্রুত সুস্থতা কামনা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রের তরফে আশ্বাস মিলতেই ২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিলেন সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। গুরগাঁওয়ের মেদন্ত হাসপাতালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং-এর উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার রাতে অনশন ভাঙেন তিনি। উপস্থিত ছিলেন ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি। ছবিতে দেখা যায়, অনশন প্রত্যাহারের সময় ওয়াংচুকের দিকে জলের গ্লাস বাড়িয়ে দিচ্ছেন জেপি নাড্ডা, তাঁকে উঠে বসতে সাহায্য করছেন জিতেন্দ্র সিং। শুক্রবার সকালে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে সরকারের সঙ্গে তাঁর শর্তগুলির কথা জানিয়েছেন ওয়াংচুক।

    মূলত তিনটি আশ্বাসেই অনশন প্রত্যাহার

    ওয়াংচুক জানিয়েছেন, কেন্দ্রের তরফে মূলত তিনটি আশ্বাস পাওয়ার পরেই তিনি অনশন প্রত্যাহার করলেন। ওয়াংচুক বলেছেন, যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে যোগ দেওয়া আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা রুজু হবে না বলে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কেন্দ্র। ২০ জুলাই সংসদ অভিযানে শামিল হওয়া আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না-করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ওই ভিডিয়োবার্তায় ওয়াংচুক জানিয়েছেন, দেশে পরীক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটির দিকগুলি নিয়ে সংসদে আলোচনা করবে সরকার এবং দেশের বিরোধী দলগুলি। এই বিষয়েও কেন্দ্রের তরফে লিখিত আশ্বাস মিলেছে বলে জানান তিনি। এর পাশাপাশি কেন্দ্র জানিয়েছে, নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর যে পড়ুয়ারা আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের পরিবারকে ‘পর্যাপ্ত’ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি ‘ইতিবাচক ভাবে বিবেচনা’ করে দেখছে কেন্দ্র।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির বার্তা

    ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার করার পরেই সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “সোনমজিকে আমার অনুরোধ, আপনি চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলুন। দৈনন্দিন কাজে ফিরুন।” টানা অনশনে ক্রমশ ওজন কমে যাওয়া ওয়াংচুক দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন বলেও আশাপ্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। গত ২৮ জুন থেকে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ও শিক্ষা সংক্রান্ত অনিয়মের প্রতিবাদে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কারের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে পড়ুয়াদের আন্দোলনে যোগ দিয়ে অনশন শুরু করেছিলেন ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার রাতে অনশন ভাঙার পর এক্স মাধ্যমে ওয়াংচুক লেখেন, “জেপি নাড্ডা, জিতেন্দ্র সিংহ ও লে লাদাখ অ্যাপেক্স বডির শীর্ষকর্তাদের উপস্থিতিতে আমি অনশন ভঙ্গ করলাম।” তিনি আরও জানান হাসপাতালে থাকাকালীন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬৫ জন সংসদ তাকে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছেন। ওয়াংচুক উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘ আলোচনার পর, হিংসার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। কোথাও যাতে কোনওভাবে হিংসা ছড়িয়ে না পড়ে, এই বার্তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন এক্স মাধ্যমে।

  • NEET Paper Leak Row: সংসদে প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আলোচনায় রাজি কেন্দ্র, সংসদে এনডিএ ও ইন্ডি জোটের মুখোমুখি বিক্ষোভ

    NEET Paper Leak Row: সংসদে প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আলোচনায় রাজি কেন্দ্র, সংসদে এনডিএ ও ইন্ডি জোটের মুখোমুখি বিক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে সংসদে আলোচনায় রাজি কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানালেন, শিক্ষার্থীরাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তবে সরকার শান্তিপূর্ণ সুষ্ঠ আলোচনা চাইলেও নিট ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সংসদের ভিতরে ও বাইরে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতের ছবি দেখা গেল। সংসদ ভবনের বাইরে এনডিএ (NDA) এবং ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের সাংসদরা পাল্টা বিক্ষোভে সামিল হন। উভয় পক্ষের স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে সংসদের নিরাপত্তারক্ষীরা মানবশৃঙ্খল তৈরি করে দুই পক্ষকে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত রাখেন।

    সংসদ চত্বরে উত্তেজনা

    বিক্ষোভ চলাকালীন সিপিআই(এম)-এর সাংসদ জন ব্রিটাসকে বিজেপি নেতা অরুণ সিংয়ের হাতে থাকা একটি পোস্টার টেনে নিতে দেখা যায়। এরপরই দুই পক্ষের সাংসদরা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তীব্র স্লোগান দিতে থাকেন, যার জেরে সংসদ চত্বরে উত্তেজনা আরও বাড়ে। এদিকে, নিট ইউজি NEET-UG) প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-এর সমর্থকদের জন্তর মন্তরে টানা ৩৪ দিনের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি একই দাবিতে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন বৃহস্পতিবার ২৬তম দিনে পড়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের স্বচ্ছ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

    সংসদে আলোচনায় রাজি কেন্দ্র

    কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, নিট ইউজি NEET-UG) প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে সংসদে আলোচনার জন্য তারা প্রস্তুত। একই সঙ্গে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এই বিতর্ক এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র বলেন, প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর বিষয় নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া উচিত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রুখতে কঠোর আইন প্রণয়ন প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস সংসদে আলোচনা না করে বিষয়টিকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করতে চাইছে।অন্যদিকে বিজেপি সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদীও দাবি করেন, এনডিএ সাংসদরা সংসদের বাইরে দাঁড়িয়ে নিট এবং শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার দাবি জানিয়েছেন, কিন্তু কংগ্রেস সেই আলোচনা আটকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

    মোদিকে পাল্টা আক্রমণ রাহুলের

    প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁর অভিযোগ, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজেই দায়ী এবং অভিযুক্তদের রক্ষা করেছেন। রাহুল গান্ধী বলেন, ছাত্রদের দাবি স্পষ্ট—

    • > শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ করতে হবে।
    • > ছাত্রদের কাছে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে।
    • > আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর হামলার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

    জয়রাম রমেশের কটাক্ষ

    কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশও প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বলেন, ছাত্র আন্দোলনের চাপে পড়েই ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়েছেন মোদি। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী সংসদে এসে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি আলোচনা করার সাহস দেখাননি। পাশাপাশি তিনি “ভোট চুরি, আসন চুরি, চাঁদা চুরি, প্রশ্নপত্র চুরি” ইস্যু তুলে কেন্দ্রকে নিশানা করেন।

    রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র

    নিট ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র আন্দোলন জোরদার হয়েছে। সংসদে সরকার ও বিরোধীদের এই মুখোমুখি অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আগামী দিনেও এই ইস্যু জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক হিসেবে সামনে থাকবে। নিট প্রশ্ন ফাঁস (NEET Paper Leak Case) নিয়ে প্রথম থেকেই সরব বিরোধীরা। সেই সঙ্গে আন্দোলন শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টিও (সিজেপি)। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি জানান তারা। নিট কাণ্ডের প্রতিবাদে সংসদীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু লেন, “আলোচনার সময় বিরোধীরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারে। তাদের কেউ বাধা দেবে না। কিন্তু আলোচনার আগেই যদি শর্তের পাহাড় তুলে ধরা হয়, তাহলে এর অর্থ হল – আপনারা আসলে আলোচনা চান না। আমরা খোলা মনেই জানিয়েছি যে, নিট প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে আমরা আলোচনায় প্রস্তুত।”

    সরকার আলোচনায় রাজি

    প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে সংসদে আলোচনার বার্তা দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডাও। তিনি জানিয়েছেন, সংসদে এই বিষয়ে আলোচনা করতে চান তাঁরা। নাড্ডা বলেন, ‘বিএসিতে সব দল মিলে আলোচনার সময় স্থির করুক, আমরা ১০ ঘণ্টা -১২ ঘণ্টা ধরে আলোচনা করব। সময় স্থির করুক বিরোধী শিবির। পড়ুয়ারা আমাদের সবার সন্তান, দেশের ভবিষ্যৎ।’  বুধবারই সাংবাদিক সম্মেলন করে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছিলেন গত ১০ বছরে ১৫২টি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। পাল্টা মন্ত্রী জেপি নাড্ডার অভিযোগ, জম্মু কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, তেলেঙ্গানা, কেরালা, কর্ণাটক, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ুতে আগে পেপার লিক হয়েছে – এই রাজ্যগুলিতে বিরোধী দলের সরকার ছিল। রাহুল যে দাবি করেছেন, সেটা তদন্তের বিষয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। রাহুল গান্ধী উদ্দেশ্য ছাত্রদের ভালোর জন্য নয় বলেও অভিযোগ তাঁর। তাঁর দাবি, ‘রাহুল গান্ধী রাজনৈতিক ফায়দা তুলছেন, পড়ুয়াদের স্বার্থ দেখছেন না।’

  • Weather Update: ১০ হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত বৃষ্টির মেঘ! ভারত সহ এশিয়া জুড়ে বাম্পার বর্ষার পূর্বাভাস

    Weather Update: ১০ হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত বৃষ্টির মেঘ! ভারত সহ এশিয়া জুড়ে বাম্পার বর্ষার পূর্বাভাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্ষা যেন এবার নতুন রূপে ধরা দিল মহাকাশ থেকে। বঙ্গোপসাগর থেকে আরব সাগর, আর সেখান থেকে সোজা উত্তর ভারত পেরিয়ে সুদূর দক্ষিণ কোরিয়া- আকাশ জুড়ে যেন মেঘের এক সুবিশাল মহাসড়ক (Rain Cloud Band)! সম্প্রতি উপগ্রহ চিত্রে (Satellite Image) এমনই এক বিরল ও অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য সামনে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, উত্তর ভারত থেকে শুরু করে হিমালয় পর্বতমালা, চিন এবং জাপান পার হয়ে দক্ষিণ কোরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে এক প্রকাণ্ড মেঘের বলয় (Rain Cloud Band)। দৈর্ঘ্য প্রায় ৭,০০০ থেকে ১০,০০০ কিলোমিটার। আবহাওয়ার এই বিশেষ অবস্থাকে বলা হয় ‘মনসুন কনভারজেন্স জোন’ (Monsoon Convergence Zone)। আবহাওয়াবিদদের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর এই তাণ্ডব আসলে এশিয়া জুড়ে বাম্পার বর্ষারই এক বড়সড় সংকেত।

    কীভাবে তৈরি হলো এই মেঘের সাগর?

    আবহাওয়াবিদদের মতে, ভারত মহাসাগর থেকে উঠে আসা প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ বাতাস এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলের আবহাওয়া ব্যবস্থার সঙ্গে মুখোমুখি ধাক্কা খেতেই এই কাণ্ড! বায়ুমণ্ডলে বাতাসের প্রবল মেলবন্ধনের কারণে জলীয় বাষ্প দ্রুত উপরে উঠে ঠান্ডা হয়ে জমাট বাঁধছে। আর তাতেই উত্তর ভারত, মধ্য ভারত, হিমালয় অঞ্চল, চিন হয়ে একেবারে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের তীরবর্তী দক্ষিণ কোরিয়া পর্যন্ত তৈরি হয়ে গিয়েছে বৃষ্টিবাহী ঘন মেঘের এক অবিচ্ছিন্ন করিডোর (Rain Cloud Band)।

    খরা কেটে বন্যার মেঘ! 

    এই সুবিশাল মেঘের সারণি (Rain Cloud Band) ভারতে যেন আক্ষরিক অর্থেই বর্ষার ‘অন্নপূর্ণা’ রূপ নিয়ে দেখা দিয়েছে। বিগত কয়েক সপ্তাহে দেশের একাধিক রাজ্যে বৃষ্টির মারাত্মক ঘাটতি দেখা গিয়েছিল, তা এবার এক ঝটকায় উধাও হওয়ার মুখে! গত ৪৮ ঘণ্টায় দেশজুড়ে গড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১৭০% থেকে ১৮০% বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এটিই চলতি বর্ষা মরশুমের সবচেয়ে জলীয় এবং আর্দ্রতম সময়। দাবি আবহাওয়া দফতরের।

    কোথায় কোথায় তাণ্ডব? উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, পঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি- এনসিআর এবং রাজস্থানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলমগ্নের সম্ভাবনা। অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া জোড়া নিম্নচাপের টানে ভারতের পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোতেও ঝরছে নাগাড়ে বৃষ্টি (Heavy Rainfall)।

    ধস আর ফ্ল্যাশ ফ্লাডের শঙ্কা! 

    তবে এই বাম্পার বৃষ্টি যেমন স্বস্তি এনেছে, তেমনই পাহাড়ি ও নিচু এলাকাগুলোতে বয়ে এনেছে মারাত্মক আশঙ্কার মেঘ! ইতিমধ্যেই পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে লাল সতর্কবার্তা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।

    বিপদের মেঘ কোথায় কোথায়? আবহাওয়া দফতরের মতে, উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশে টানা বর্ষণে নামতে পারে পাহাড়ি ধস (Landslides)। হতে পারে মেঘভাঙা বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা বা ‘ফ্ল্যাশ ফ্লাড’ (Flash Floods)। বিপদসীমার উপর দিয়ে বইতে পারে পাহাড়ি নদীগুলো। উত্তর ভারতের একাধিক বড় শহরের নিচু এলাকাগুলো জলমগ্ন হওয়ার প্রবল আশঙ্কা।

    চাষিদের মুখে হাসি, ভরছে জলাশয়!

    আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই বর্ষা দেশের কৃষির জন্য একপ্রকার বরদান হতে চলেছে। বর্ষার শুরুতে যেসব রাজ্যে বৃষ্টির ঘাটতি ছিল, সেখানে খরিফ মরশুমের (Kharif Crop) চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন কৃষকরা। এই লাগাতার বর্ষণে জলাশয় ও নদীগুলো যেমন দ্রুত কানায় কানায় পূর্ণ হচ্ছে, তেমনই ধানের চাষসহ অন্যান্য কৃষিকাজে এক অভূতপূর্ব গতি আসবে বলেও মনে করা হচ্ছে।

    শুধু ভারত নয়, জলচক্রে বাঁধা পুরো এশিয়া!

    সাধারণত ভারতের মৌসুমি বায়ুকে কেবল একটি আঞ্চলিক আবহাওয়া বলেই গণ্য করা হয়। কিন্তু মহাকাশ থেকে তোলা ১০,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিশাল মেঘের ছবি প্রমাণ করে দিল- আরব সাগর থেকে শুরু করে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত পুরো এশিয়া মহাদেশের আবহাওয়া আসলে অদৃশ্য এক সুতোয় বাঁধা! আগামী গোটা সপ্তাহ জুড়ে এই মেঘের দাপট বজায় থাকবে বলে পূর্বাভাস আবহাওয়া দফতরের। অর্থাৎ, এশিয়া জুড়ে ব্যাপক বর্ষা এখনই যে থামছে না, তা আর বলার অপেক্ষা থাকে না।

LinkedIn
Share