Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Jantar Mantar Protest: যন্তর মন্তরে হিংসার পর গোয়েন্দা ব্যবস্থায় বড় বদল দিল্লি পুলিশের, বিক্ষোভের আগে ১০ তথ্য জোগাড়ের নির্দেশ

    Jantar Mantar Protest: যন্তর মন্তরে হিংসার পর গোয়েন্দা ব্যবস্থায় বড় বদল দিল্লি পুলিশের, বিক্ষোভের আগে ১০ তথ্য জোগাড়ের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যন্তর মন্তরে গত ২০ জুলাইয়ের হিংসাত্মক পরিস্থিতি এবং তার পরবর্তী সময়ে ব্যাপক বিক্ষোভের (Jantar Mantar Protest) জেরে নিজেদের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। বড় মাপের বিক্ষোভ, সমাবেশ কিংবা পরিকল্পিত জনজমাবেশের ক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি আরও জোরদার করতেই এই উদ্যোগ বলে (Mobilisation Funding) পুলিশ সূত্রে খবর। এখন থেকে কোনও বড় বা পরিকল্পিত বিক্ষোভের আগে অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    সূত্রের খবর, দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমার গোয়েন্দা শাখা এবং বিশেষ শাখাকে এই বিষয়ে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু কোথায় বিক্ষোভ হবে, কখন হবে এবং আনুমানিক কত মানুষ সেখানে উপস্থিত হতে পারেন—এই প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। তার বদলে বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত মানুষ, সংগঠন, নেতৃত্ব, সমাবেশের প্রস্তুতি, অংশগ্রহণকারীদের সার পদ্ধতি এবং স্থানীয় যোগাযোগ-সহ আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।

    যন্তর মন্তরে জন জমাবেশ (Jantar Mantar Protest)

    গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তর এবং তার আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন। প্রশ্ন ফাঁস এবং বিভিন্ন পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে সংসদের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করেছিলেন। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে। এর পরেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।

    এই ঘটনার পর দিল্লি পুলিশের গোয়েন্দা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় আধিকারিকদের একাংশের মনে হয়েছে, বিক্ষোভের আগে অংশগ্রহণকারীদের সম্ভাব্য সংখ্যা, তাঁদের সংগঠিত করার প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন সংগঠনের ভূমিকা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ও নির্ভুল আগাম তথ্য পুলিশের হাতে ছিল না। তাই পরিস্থিতি কোন দিকে যেতে পারে, তা যথেষ্ট নির্ভুলভাবে অনুমান করা সম্ভব হয়নি।

    এই অভিজ্ঞতার পরেই বিশেষ শাখাকে আরও বিস্তারিত এবং ব্যবহারযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে কোনও বিক্ষোভের ক্ষেত্রে শুধু জনসমাগমের সম্ভাব্য আকার বা ঘটনাস্থলের তথ্য নয়, বরং বিক্ষোভের সামগ্রিক কাঠামো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের সম্পর্কে আলাদা করে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। কোন রাজ্য থেকে কত মানুষ আসছেন, তাঁদের কীভাবে সংগঠিত করা হচ্ছে, কারা তাঁদের নিয়ে আসছেন এবং বিক্ষোভের পিছনে কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বা সংগঠকের ভূমিকা রয়েছে—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে বিক্ষোভের মূল উদ্দেশ্য, নির্দিষ্ট দাবি এবং আন্দোলনের কর্মসূচি সম্পর্কে আগাম ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা হবে (Mobilisation Funding)।

    জোগাড় করা হবে যাবতীয় তথ্য

    বিক্ষোভকারীরা দিল্লিতে কোথায় থাকছেন, তাঁদের স্থানীয় যোগাযোগ কারা, দিল্লিতে তাঁদের কী ধরনের স্থানীয় সংযোগ রয়েছে—এই তথ্যও সংগ্রহ করবে পুলিশ। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ এবং বিক্ষোভের সম্ভাব্য অর্থের উৎস সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এত বড় জমায়েতের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবহণ, থাকা, খাবার এবং অন্যান্য ব্যবস্থাপনা কীভাবে করা হচ্ছে, সেই বিষয়েও নজর রাখা হবে।

    এক কথায়, দিল্লি পুলিশের নতুন গোয়েন্দা ব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু “কোথায় বিক্ষোভ হবে” বা “কখন বিক্ষোভ হবে”—এই দু’টি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা নয়। বরং বিক্ষোভের পিছনে কারা রয়েছেন, কারা মানুষকে সংগঠিত করছেন, কোন কোন এলাকা বা রাজ্য থেকে মানুষ আসছেন, তাঁদের স্থানীয় যোগাযোগ কারা, কোন সংগঠনগুলি যুক্ত এবং কীভাবে গোটা কর্মসূচির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে—তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করাই এখন পুলিশের লক্ষ্য (Jantar Mantar Protest)।

    বড় জনসমাগমের ক্ষেত্রে ফিল্ড লেভেলে থাকা পুলিশকর্মী এবং ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের মধ্যে দ্রুত তথ্য আদানপ্রদান নিশ্চিত করতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কমিশনার বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থার বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। বিক্ষোভের সময় ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশকর্মীদের কাছ থেকে ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের কাছে দ্রুত তথ্য পৌঁছনো এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দ্রুত নীচে পৌঁছে দেওয়ার জন্য গোটা বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় যে সমস্ত ত্রুটি বা ঘাটতি ধরা পড়েছে, সেগুলি দ্রুত সংশোধন করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    পুলিশের লক্ষ্য

    পুলিশের এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য অবশ্য কোনও ধরনের বিক্ষোভ বন্ধ করা নয় বলেই সূত্রের দাবি। বড় জনসমাবেশের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও নির্ভুল মূল্যায়ন করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আগাম প্রস্তুতি নেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে যে সমস্ত বিক্ষোভে দিল্লির বাইরের বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ আসেন অথবা একাধিক সংগঠন একই কর্মসূচিতে যুক্ত থাকে, সেগুলির ক্ষেত্রে আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে আগাম তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

    যন্তর মন্তরের ২০ জুলাইয়ের ঘটনা দিল্লি পুলিশের কাছে বড় ধরনের শিক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিপুল জনসমাগমের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করাই যথেষ্ট নয়—সমাবেশের আকার, অংশগ্রহণকারীদের উৎস, সংগঠকদের ভূমিকা, আন্দোলনের উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে আগাম নির্ভুল তথ্য থাকা জরুরি। সেই প্রয়োজন থেকেই গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পুরনো পদ্ধতিকে আরও বিস্তৃত এবং কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে (Jantar Mantar Protest)।

    নতুন ব্যবস্থায় বিক্ষোভের আগে পাওয়া তথ্যকে একাধিক স্তরে বিশ্লেষণ করা হবে। এর ফলে কোনও সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে হওয়ার সম্ভাবনা কতটা, কোথায় অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন এবং কোন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে—সেই সব বিষয়ে পুলিশের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করা হচ্ছে (Mobilisation Funding)।

    বদলাতে পারে দিল্লি পুলিশের কৌশল

    দিল্লি পুলিশের এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে বড় বিক্ষোভ ও জনসমাবেশ পরিচালনায় তাদের কৌশলেও পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষত দিল্লির বাইরে থেকে আসা বিপুল জনসমাগম এবং একাধিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিগুলির ক্ষেত্রে আগাম তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। যন্তর মন্তরের ঘটনার পর পুলিশের লক্ষ্য এখন একটাই—পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার পরে (Mobilisation Funding) ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে, সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আগে থেকেই স্পষ্ট ধারণা তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও বেশি করে প্রস্তুত থাকা (Jantar Mantar Protest)।

     

  • India Bangladesh Electricity: সস্তার দিন শেষ বাংলাদেশের! বিদ্যুৎ কিনতে ভারতকে দিতে হবে অতিরিক্ত টাকা

    India Bangladesh Electricity: সস্তার দিন শেষ বাংলাদেশের! বিদ্যুৎ কিনতে ভারতকে দিতে হবে অতিরিক্ত টাকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে রফতানি করা বিদ্যুতের উপর ইউনিট পিছু বাড়তি চার্জ ধার্য করল ভারত। বিদ্যুৎ রফতানি ক্ষেত্রে গ্রিড পরিচালনা ও বিদ্যুৎ লেনদেনের হিসেব-নিকাশ নিষ্পত্তির জন্য সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি (এসএনএ) চার্জ আরোপ করা হচ্ছে। যার জেরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ভারতীয় মুদ্রায় ০.০০৫ টাকা (New Charges on Electricity) বেশি দিতে হবে বাংলাদেশকে (India Bangladesh Electricity)। এমনিতেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে ভুগছে বাংলাদেশ। এরই মাঝে ভারতের এই আধা পয়সার অতিরিক্ত চার্জে বাংলাদেশের মাথায় হাত পড়তে পারে। এই নতুন চার্জ নিয়ে ইতিমধ্যেই চুক্তি করার আগে অর্থ মন্ত্রকের মতামত চেয়েছে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রক।

    কেন নেওয়া হচ্ছে এই নতুন চার্জ

    ভারত থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ কেনে বাংলাদেশ। এবার সেই বিদ্যুৎ কিনতেই জুড়তে চলেছে নতুন চার্জ। জানা যাচ্ছে, বিদ্যুতের মূল দামের থেকে আলাদাভাবে নেওয়া হবে এই এনএসএ চার্জ। গ্রিড পরিচালনা, শিডিউলিং, মিটারিং, বিদ্যুতের হিসাব-নিকাশ ও আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ লেনদেন নিষ্পত্তির ব্যয় মেটাতে এই বাড়তি অর্থ ধার্য করা হচ্ছে। এই বিষয়ে ভারতের সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থা এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি বা এসএনএ চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সংক্রান্ত একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট বাংলাদেশের অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। চিঠিতে বলা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে চুক্তিতে দেরি হলে এনভিভিএনের মাধ্যমে ১১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানিতে সমস্যা তৈরি হতে পারে। ভারত শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ০.০১ টাকা হারে এই চার্জ দাবি করেছিল। পরে তা কমিয়ে ০.০০৫ করা হয়।

    বাংলাদেশের খুব বেশি খরচ বাড়বে না

    বাংলাদেশি আধিকারীদের তরফে বলা হয়েছে, এই বাড়তি অর্থ বিদ্যুতের দাম নয়, এটি বিদ্যুৎ গ্রিড পরিচালনা ও অন্যান্য খরচের জন্য একটি বিশেষ চার্জ। আন্তদেশীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্যে গ্রিড পরিচালনা এবং লেনদেন নিষ্পত্তির খরচ হিসেবেই এই চার্জ নেওয়া হবে। শিডিউল ঠিক করা, মিটার থেকে তথ্য নেওয়া, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ব্যবহারের হিসেব মেলানো—সব কিছুর জন্যই এই টাকা। এতে বাংলাদেশের খুব বেশি খরচ বাড়বে না। বরং একবার এনভিভিএনের সঙ্গে চুক্তি হয়ে গেলে লেনদেন আরও সহজ হবে। আলাদা আলাদা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে বিল মেটানোর ঝামেলাও কমবে।

    নেপাল ও ভুটানের থেকেও এই চার্জ নেওয়া হয়

    এদিকে ভারতের তরফে জানানো হয়েছে, নেপাল ও ভুটানের থেকেও একই হারে এসএনএ চার্জ নেওয়া হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের জন্য বিষয়টা ভিন্ন কিছু নয়। প্রতিবেশী দেশগুলির বিদ্যুৎ বাণিজ্যে একই ব্যবস্থা চালু করেছে সিইআরসি। ভারতের আঞ্চলিক গ্রিডে বাংলাদেশকে একটি আলাদা কন্ট্রোল এরিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ আমদানির জন্য মিটারিং, এনার্জি অ্যাকাউন্টিং ও সেটেলমেন্টের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে।

    কোন কোন কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ যায় বাংলাদেশে

    বহু বছর ধরে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে বাংলাদেশ। বর্তমানে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে মোট ২ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে এনভিভিএনের মাধ্যমে এনটিপিসি থেকে ২৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন থেকে ৩০০ মেগাওয়াট, ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন থেকে ১৬০ মেগাওয়াট, পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়ার কেন্দ্র থেকে ২০০ মেগাওয়াট ও সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়া থেকে আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসে। এই পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য এসএনএ চার্জ বিষয়ক চুক্তি হচ্ছে। এর বাইরে আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে বাংলাদেশের। সেখানে অবশ্য আগে থেকেই যুক্ত রয়েছে এই চার্জ। ফলে গড্ডা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য আলাদা করে চুক্তির প্রয়জন পড়বে না।

    ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি অপরিহার্য

    বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গ্যাসের সংকট, জ্বালানি আমদানির ব্যয় ও দেশীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের চাহিদা পূরণে ভারতের বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা দেখা দিয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসেবে, আদানি পাওয়ার, এনভিভিএন, পিটিসি ইন্ডিয়া ও সেম্বকর্ণ—এই চার উৎস থেকে বাংলাদেশ প্রায় ১ হাজার ৬৪১ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ আমদানি করেছে। বিদ্যুতের মূল মূল্য হিসেবে এ সময় পরিশোধ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৯৯৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে আদানি পাওয়ার থেকে প্রায় ৮০৩ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনতে ব্যয় হয়েছে ১১ হাজার ৯৩৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এনভিভিএনের বিদ্যুতের জন্য ৩ হাজার ৪৫৭ কোটি ৮২ লাখ, পিটিসি ইন্ডিয়ার জন্য ১ হাজার ৬৫১ কোটি ৩২ লাখ এবং সেম্বকর্পের বিদ্যুতের জন্য ১ হাজার ৯৫৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এনভিভিএনের বিদ্যুতের জন্য হুইলিং চার্জ হিসেবে আরও ২১১ কোটি ৭১ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে চার উৎস থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে মোট ব্যয় হয়েছে ১৭ হাজার ২১১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। নতুন এ চুক্তি কার্যকর হলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির মূল বিদ্যুৎমূল্যের পাশাপাশি এসএনএ চার্জও বাংলাদেশের বিদ্যুৎ আমদানি ব্যয়ের একটি অংশ হিসেবে যুক্ত হবে।

  • Rajnath Singh: দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে বড় পদক্ষেপ, সব প্রচলিত মিসাইলের প্রযুক্তি ভারতীয় শিল্পকে হস্তান্তরের অনুমোদন রাজনাথের

    Rajnath Singh: দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে বড় পদক্ষেপ, সব প্রচলিত মিসাইলের প্রযুক্তি ভারতীয় শিল্পকে হস্তান্তরের অনুমোদন রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে আরও বড় পদক্ষেপ করল ভারত। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও (DRDO)-র তৈরি সমস্ত প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রযুক্তি ভারতীয় শিল্প সংস্থাগুলিকে হস্তান্তরের (Transfer of Technology বা ToT) অনুমোদন দিয়েছেন। এর ফলে নির্দিষ্ট যোগ্যতা, সার্টিফিকেশন এবং নিয়ন্ত্রক বিধি পূরণ সাপেক্ষে ভারতীয় সংস্থাগুলি দেশে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলির উৎপাদন করতে পারবে। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB) মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতীয় শিল্পের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন। এর মূল লক্ষ্য হল ডিআরডিও-র গবেষণাগারে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিকে উন্নয়ন পর্যায় থেকে সরিয়ে বাণিজ্যিক ও বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।

    দেশীয় সংস্থার হাতে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি

    এতদিন ডিআরডিও-র তৈরি বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার উৎপাদনে মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এবার সেই ব্যবস্থায় আরও বড় পরিসরে বেসরকারি ভারতীয় শিল্পকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্তের ফলে যোগ্য ভারতীয় সংস্থাগুলি ডিআরডিও-র কাছ থেকে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি গ্রহণ করে তার ভিত্তিতে দেশেই উৎপাদন করতে পারবে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে তেমনই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে ভারতীয় শিল্পের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। সরকারের বক্তব্য, এই উদ্যোগ আমদানি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। একইসঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সরবরাহ শৃঙ্খলে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা এমএসএমই (MSME) এবং অন্যান্য প্রযুক্তি অংশীদারদের অংশগ্রহণের সুযোগও বাড়বে।

    ডিআরডিও-শিল্প সহযোগিতায় জোর

    প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে ডিআরডিও এবং ভারতীয় শিল্পের মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর করার পরিকল্পনা রয়েছে। উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি শুধু গবেষণাগারে তৈরি করাই নয়, সেই প্রযুক্তিকে দ্রুত উৎপাদনযোগ্য করে তোলা এবং সেনাবাহিনীর প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত সংখ্যায় সরবরাহ করাই এখন অন্যতম লক্ষ্য। এই ব্যবস্থায় ডিআরডিও ভারতীয় শিল্পকে প্রযুক্তি গ্রহণ ও আত্মস্থ করতে সহায়তা করবে। ফলে ভবিষ্যতে দেশীয় সংস্থাগুলি আরও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরি এবং উৎপাদনের ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে পারবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন, প্রযুক্তি উন্নয়ন, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং প্রতিরক্ষা রফতানিতে।

    অ্যাস্ট্রা মার্ক-২ তৈরিতে বেসরকারি সংস্থার দৌড়?

    এই নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য ক্ষেত্র হতে পারে ভারতের দেশীয় অ্যাস্ট্রা মার্ক-২ (Astra Mark-2) ক্ষেপণাস্ত্র। একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক শীঘ্রই একটি রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল (RFP) জারি করতে পারে। সেখানে অ্যাস্ট্রা মার্ক-২ তৈরির জন্য বেসরকারি ক্ষেত্রের সংস্থা ও বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলিকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। ওই প্রতিবেদনে আইকম, আদানি, ভারত ফোর্জ, টাটা গোষ্ঠী ও মহিন্দ্রা গ্রুপ সহ একাধিক ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    অ্যাস্ট্রা মার্ক-২ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ১৮০–২০০ কিলোমিটার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বায়ুসেনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই দেশীয় আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন যদি বৃহৎ ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠীর হাতে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে এর উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে উৎপাদনে নামার আগে নির্ধারিত যোগ্যতা, সার্টিফিকেশন এবং সমস্ত নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে হবে।

    দেশীয় মিসাইলের চাহিদা বাড়ছে

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন ভারতীয় তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার চাহিদা দেশ এবং বিদেশ—দুই ক্ষেত্রেই বাড়ছে। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি দেশও ভারতের দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়া অ্যাস্ট্রা সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফলে শুধু ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রয়োজন মেটানো নয়, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্যও দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর প্রয়োজন তৈরি হচ্ছে। বেসরকারি শিল্পকে উৎপাদন ব্যবস্থায় আরও বেশি করে যুক্ত করলে সেই চাহিদা পূরণ করা সহজ হতে পারে।

    প্রতিরক্ষা রফতানিতেও বড় সুযোগ

    ভারত গত কয়েক বছরে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং রফতানির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। যুদ্ধবিমান, কামান, ড্রোন, যুদ্ধজাহাজসহ একাধিক ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশে ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রেও জোর দেওয়া হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো সেই নীতিরই পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পর্যাপ্ত উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি হলে ভবিষ্যতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলিতেও দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র রফতানির সুযোগ বাড়তে পারে।

    এতদিন কেন পিছিয়ে ছিল মিসাইল উৎপাদন?

    ভারতে বেসরকারি শিল্পের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিমান, ড্রোন এবং আর্টিলারি বা কামান উৎপাদনের মতো ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু ক্ষিপণাস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির ভূমিকা এতদিন তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। এবার ডিআরডিও-র তৈরি প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রযুক্তি বৃহত্তর ভারতীয় শিল্পের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সেই ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে গবেষণা ও উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা ডিআরডিও আরও বেশি করে নতুন প্রযুক্তি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্ত্র ব্যবস্থা এবং উন্নত প্রতিরক্ষা গবেষণায় মনোযোগ দিতে পারবে। অন্যদিকে শিল্প সংস্থাগুলি তুলনামূলকভাবে পরিণত প্রযুক্তির বৃহৎ পরিসরের উৎপাদনের দায়িত্ব নিতে পারবে।

    আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়

    রাজনাথ সিংয়ের অনুমোদিত এই প্রযুক্তি হস্তান্তর তাই শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়। এর মাধ্যমে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থায় গবেষণা থেকে উৎপাদন এবং উৎপাদন থেকে রফতানি—পুরো শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশীয় শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো, এমএসএমই-কে সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্ত করা, আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং বিদেশি বাজারে ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাবনা বাড়ানো— সব মিলিয়ে এই সিদ্ধান্ত ভারতের ‘আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা’ কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে অ্যাস্ট্রা মার্ক-২-এর মতো উন্নত দেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদনে যদি একাধিক ভারতীয় বেসরকারি শিল্পগোষ্ঠী যুক্ত হয়, তাহলে আগামী দিনে দেশের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন পরিকাঠামো আরও দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

  • UPI: দশ বছর পূর্ণ করল ইউপিআই, লেনদেনের পরিমাণ কত বেড়েছে জানেন?

    UPI: দশ বছর পূর্ণ করল ইউপিআই, লেনদেনের পরিমাণ কত বেড়েছে জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল ইউপিআই (UPI)। ২০১৬ সালের ২৫ অগাস্ট ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার উদ্যোগে চালু হওয়া এই ব্যবস্থা ২০২৬ সালে পূর্ণ করল দশ বছর। এক দশকের মধ্যেই ইউপিআই ভারতের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার মেরুদণ্ডে পরিণত হয়েছে (PM Modi)। একই সঙ্গে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে যেখানে মাত্র ১ কোটি ৭৮ লাখ  লেনদেন হয়েছিল, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ১৬২ কোটিরও বেশি। অর্থাৎ মাত্র এক দশকের ব্যবধানে লেনদেনের সংখ্যায় প্রায় ১৩ হাজার গুণ বৃদ্ধি ঘটেছে। ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে এই বিপুল সম্প্রসারণ ভারতের প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থার দ্রুত পরিবর্তনেরই প্রতিফলন।

    ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেন (UPI)

    শুধু লেনদেনের সংখ্যা নয়, ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেনের মোট আর্থিক মূল্যও গত দশ বছরে নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেনের মূল্য ছিল মাত্র ০.০৭ লাখ  কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে প্রায় ৩১৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ লেনদেনের আর্থিক মূল্যে চার হাজার গুণেরও বেশি বৃদ্ধি ঘটেছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের বক্তব্য, ইউপিআই এখন ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদানের পরিকাঠামোর অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। একই সঙ্গে এটি এমন একটি তাৎক্ষণিক ও পারস্পরিক সংযুক্ত অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে একটি মাত্র প্রয়োগের সাহায্যে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির এবং ব্যক্তি থেকে ব্যবসায়ীর মধ্যে দ্রুত ও নির্বিঘ্নে অর্থ লেনদেন করা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে দেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে ইউপিআই অর্থপ্রদানের অন্যতম পছন্দের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। দোকানে কেনাকাটা, পরিষেবার মূল্য মেটানো, ব্যক্তিগতভাবে টাকা পাঠানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন—সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার ক্রমশ বেড়েছে। এর ফলে নগদ অর্থের উপর নির্ভরতা কমেছে এবং দ্রুত, সহজ ও তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    কী বলছে অর্থমন্ত্রক

    অর্থমন্ত্রকের দাবি, ইউপিআই শুধু শহরাঞ্চলের মানুষের জীবনকে সহজ করেনি, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবার সুযোগ বাড়িয়েছে। প্রযুক্তিগত ব্যবধান কমিয়ে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়িয়ে এটি দেশের বিভিন্ন শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের মানুষকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে সাহায্য করেছে। এর ফলে অর্থনীতিতে বৃহত্তর মানুষের অংশগ্রহণের পথও আরও প্রশস্ত হয়েছে। ইউপিআইয়ের (UPI) সাফল্য এখন শুধু ভারতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল অর্থপ্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চ হিসেবেও এটি আত্মপ্রকাশ করেছে। বর্তমানে ১১টি দেশে ইউপিআই কার্যকর রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ফ্রান্স, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, সিঙ্গাপুর, মরিশাস, কাতার, কম্বোডিয়া, গ্রিস এবং মালদ্বীপে এর ব্যবহার চালু হয়েছে। ফলে ভারতের তৈরি এই ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ক্রমশ পক্ষ্ম বিস্তার করছে (PM Modi)।

    ইউপিআইয়ের গ্রহণযোগ্যতা

    বিশ্বব্যাপী ইউপিআইয়ের গ্রহণযোগ্যতাও ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ইউপিআইকে লেনদেনের পরিমাণের নিরিখে বিশ্বের বৃহত্তম তাৎক্ষণিক অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর ফলে ডিজিটাল জনপরিকাঠামো নির্মাণে ভারতের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক মহলেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের মোট তাৎক্ষণিক অর্থপ্রদানের লেনদেনের প্রায় ৪৯ শতাংশই ইউপিআইয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এই পরিসংখ্যান ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদানের বিস্তার এবং ইউপিআইয়ের আন্তর্জাতিক গুরুত্বের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। একই সঙ্গে এটি দেখায়, কীভাবে একটি দেশীয় ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ব্যবস্থা অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল সংখ্যক মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যেতে পারে।

    অর্থমন্ত্রকের বক্তব্য

    আকাশবাণীর এক প্রতিবেদনে অর্থমন্ত্রকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে (UPI) জানানো হয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত ইউপিআইয়ের লেনদেনের পরিমাণ এবং আর্থিক মূল্য—দুই ক্ষেত্রেই ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটেছে। ২০১৬ সালে চালু হওয়ার সময় যে ব্যবস্থা ছিল সীমিত পরিসরের, দশ বছর পরে সেটিই ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউপিআইয়ের সাফল্যের অন্যতম কারণ হল এর সহজ ব্যবহারযোগ্যতা। সাধারণ মানুষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পাঠাতে বা গ্রহণ করতে পারছেন। ছোট ব্যবসায়ী থেকে বড় প্রতিষ্ঠান—বিভিন্ন স্তরের ব্যবহারকারীর কাছে এই ব্যবস্থা পৌঁছে যাওয়ায় ডিজিটাল লেনদেনের পরিধিও দ্রুত বেড়েছে (PM Modi)।

    ডিজিটাল লেনদেন

    ইউপিআইয়ের (UPI) বিস্তার ভারতের আর্থিক ব্যবস্থায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। আগে ব্যাংকিং পরিষেবা থেকে দূরে থাকা বহু মানুষ এখন মোবাইলভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারছেন। ফলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পরিধি বাড়ছে। একই সঙ্গে ছোট ব্যবসা, খুচরো বিক্রি এবং দৈনন্দিন পরিষেবার ক্ষেত্রে ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ব্যবহার বাড়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি বড় অংশের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার মধ্যে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের মতে, ইউপিআইয়ের ব্যাপক পরিসর, নির্ভরযোগ্যতা এবং বিভিন্ন ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সক্ষমতা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। ভারতের ডিজিটাল জনপরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম সফল উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। একদিকে যেমন এটি কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনকে সহজ করেছে, অন্যদিকে তেমনই ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবার সুযোগকে আরও বিস্তৃত করেছে।

    ইউপিআইয়ের উত্থান

    দশ বছর আগে যে ব্যবস্থা পরীক্ষামূলক পর্যায়ে যাত্রা শুরু করেছিল, তা এখন দেশের আর্থিক লেনদেনের অভ্যাসই বদলে দিয়েছে। লেনদেনের সংখ্যা থেকে আর্থিক মূল্য, ব্যবহারকারীর পরিধি থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইউপিআইয়ের (UPI) উত্থান উল্লেখযোগ্য। আগামী দিনে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে এর ব্যবহার আরও বাড়লে ভারতের ডিজিটাল অর্থপ্রদানের এই মডেল বিশ্বের অন্যান্য দেশেও আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে, দশ বছরে ইউপিআইয়ের যাত্রা শুধু একটি ডিজিটাল অর্থপ্রদানের ব্যবস্থার সাফল্যের গল্প নয়। এটি ভারতের প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক রূপান্তর, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ডিজিটাল জনপরিকাঠামো নির্মাণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষের ১ কোটি ৭৮ লাখ লেনদেন থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২৪ হাজার ১৬২ কোটিরও বেশি লেনদেনে পৌঁছে যাওয়া সেই (PM Modi) পরিবর্তনেরই পরিসংখ্যানগত প্রমাণ। আর ৩১৪ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি বার্ষিক লেনদেনের মূল্য দেখিয়ে ইউপিআই ইতিমধ্যেই ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে ক্রমশ নিজের অবস্থান পোক্ত করেছে (UPI)।

     

  • Pakistani-Sindhi Brides: অপেক্ষার অবসান! অপারেশন সিঁদুরের পর ভিসা জট কাটিয়ে ভারতে এলেন ১৫০ পাকিস্তানি সিন্ধি কনে

    Pakistani-Sindhi Brides: অপেক্ষার অবসান! অপারেশন সিঁদুরের পর ভিসা জট কাটিয়ে ভারতে এলেন ১৫০ পাকিস্তানি সিন্ধি কনে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরের পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ভিসা পরিষেবা এবং ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত। এর জেরে পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের (Pakistani-Sindhi Brides) বহু পরিবারের মেয়েদের ভারতীয় পাত্রদের সঙ্গে বিয়ে কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। অবশেষে সেই জট কাটিয়ে অন্তত ১৫০ জন পাকিস্তানি সিন্ধি কনে ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বিকল্প ট্রানজিট রুটে ভারতে এসে পৌঁছেছেন। সিন্ধি সম্প্রদায়ের নেতা রাজেশ ঝামবিয়া সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার পরবর্তীতে ওই কনেদের এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ভিসা মঞ্জুর করে। তবে তাঁদের সরাসরি আটারি সীমান্ত দিয়ে নয়, তৃতীয় কোনও দেশের মাধ্যমে বিমানে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। ঝামবিয়ার কথায়, “অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হয়েছে।” তাঁর দাবি, কনে ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা মাসকাট, দুবাই, শ্রীলঙ্কা এবং অন্যান্য ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে ভারতে পৌঁছেছেন।

    আটারি সীমান্ত বন্ধের পর বদলে যায় পরিস্থিতি

    দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের সিন্ধি পরিবারগুলি বিয়ের জন্য ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত ব্যবহার করে ভারতে যাতায়াত করতেন। কিন্তু অপারেশন সিঁদুরের পর সেই পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। ঝামবিয়া বলেন, আটারি রুটে ভারতে আসার পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছিল। ফলে ভারতে বিয়ের জন্য অপেক্ষায় থাকা বহু পাকিস্তানি তরুণীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এরপর রায়পুরের সন্ত যুধিষ্ঠিরলাল শাদানি, যিনি পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের ঘোটকিতে অবস্থিত শাদানি দরবারের আধ্যাত্মিক প্রধান, এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগী হন। ভারতে যাঁদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছিল, এমন পাকিস্তানি তরুণীদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়।

    কেন্দ্রের কাছে আবেদন

    শাদানি দরবারের পক্ষ থেকে ওই তালিকা ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে পাঠানো হয়। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভারতে আসার জন্য ভিসা দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। ঝামবিয়ার দাবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আবেদন বিবেচনা করে তাঁদের ভারতে আসার অনুমতি দেয়। তবে শর্ত ছিল—সীমান্ত দিয়ে নয়, বিমানে করে তৃতীয় কোনও দেশের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ করতে হবে। তিনি জানান, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে প্রায় ১৫০ জন কনে ও তাঁদের পরিবারের সদস্য পাকিস্তান থেকে দুবাই, ওমান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন দেশের ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে ভারতে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে শুধু নাগপুরেরই প্রায় ১৫টি বিয়ের ঘটনা রয়েছে।

    এখনও অপেক্ষায় প্রায় ৩০০ কনে

    তবে সমস্যা পুরোপুরি মেটেনি। ঝামবিয়ার দাবি, পাকিস্তানে এখনও প্রায় ৩০০ জন সিন্ধি তরুণী রয়েছেন, যাঁদের ভারতীয় যুবকদের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছে। ভিসা জটিলতার কারণে তাঁরাও ভারতে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। এই তরুণীদেরও যাতে ভারতীয় ভিসা দেওয়া হয়, সেই জন্য ভারত সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিন্ধি সম্প্রদায়ের নেতারা। অপারেশন সিঁদুরের পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেও এই বিয়েগুলির ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ দুই দেশের সিন্ধি পরিবারগুলির জন্য স্বস্তির বার্তা এনেছে।

  • Piyush Goyal: ভারতে জাপানি সংস্থার সংখ্যা দ্বিগুণ করার আহ্বান পীযূষ গোয়েলের

    Piyush Goyal: ভারতে জাপানি সংস্থার সংখ্যা দ্বিগুণ করার আহ্বান পীযূষ গোয়েলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার লক্ষ্যে বড়সড় প্রস্তাব দিলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল (Piyush Goyal)। ভারতে জাপানি সংস্থাগুলির উপস্থিতি আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি চলতি দশকের মধ্যে দেশে সক্রিয় জাপানি সংস্থার সংখ্যা (Infra Energy Tech) দ্বিগুণ করার কথা বলেছেন। জাপানে ভারতের এখনও পর্যন্ত বৃহত্তম ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন গোয়েল। দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ককে বিনিয়োগ, উৎপাদন, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের আরও শক্তিশালী ভিত্তিতে পরিণত করাই তাঁর সফরের অন্যতম লক্ষ্য।

    ভারতে জাপানি ব্যবসার পরিসর দ্বিগুণ করার লক্ষ্য (Piyush Goyal)

    বর্তমানে ভারতে ১,৪০০-র বেশি জাপানি সংস্থা কাজ করছে। তবে গোয়েলের মতে, দুই বৃহৎ এশীয় অর্থনীতির সম্ভাবনার তুলনায় এই উপস্থিতি এখনও খুবই সীমিত। জাপান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির জাপান-ইন্ডিয়া বিজনেস কনসালটেটিভ কমিটি এবং টোকিওয় ভারতীয় দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি বলেন, চলতি দশকেই ভারতে জাপানি সংস্থাগুলির উপস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ হওয়া উচিত। গোয়েল বলেন, “আমি মনে করি, চলতি দশকের মধ্যে বর্তমানে ভারতে কাজ করা জাপানি সংস্থার সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়া উচিত।” ২৪ থেকে ২৭ অগাস্ট পর্যন্ত চার দিনের সফরে তিনি ২০০-র বেশি সদস্যের একটি ভারতীয় ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই দলে উৎপাদন, অর্ধপরিবাহী শিল্প, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, ইস্পাত, গাড়ি শিল্প, আর্থিক পরিষেবা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং প্রযুক্তি-নির্ভর নতুন উদ্যোগের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

    জাপানকে পরবর্তী প্রবৃদ্ধির অংশীদার হিসেবে দেখছে ভারত

    ভারতের দ্রুত সম্প্রসারিত অর্থনীতি এবং উৎপাদনভিত্তিক পরিকাঠামোকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে জাপানি সংস্থাগুলির সামনে তুলে ধরেছেন গোয়েল। তাঁর বক্তব্য, ভারত ও জাপান পরস্পরের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে জাপানের দক্ষতা ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। জাপানি সংস্থাগুলিকে ভারতের উন্নয়নের যাত্রায় আরও ঘনিষ্ঠভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে গোয়েল বলেন, ২০৪৭ সালে স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তির সময় ভারত ৪ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থনীতি থেকে ৩০ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে (Infra Energy Tech)। দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে তিনি জাপানের ‘কাইজেন’ বা ধারাবাহিক উন্নতির নীতির কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, ভারতের সঙ্গে জাপানের সহযোগিতা শুধু পণ্য বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। উৎপাদন, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং ভারতকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও যৌথ উদ্যোগ বাড়াতে হবে (Piyush Goyal)।

    অর্ধপরিবাহী, এআই ও উন্নত উৎপাদনে নজর

    গোয়েলের চার দিনের সফরে টোকিও, নাগোয়া এবং ওসাকায় সরকারি ও ব্যবসায়িক স্তরে একাধিক বৈঠক রয়েছে। টোকিওয় তিনি জাপানের বড় শিল্পগোষ্ঠী ও শিল্প সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এছাড়া জাপান বিজনেস ফেডারেশনের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এই সংগঠনের সঙ্গে জাপানের ১,৫০০-র বেশি ব্যবসায়িক সংস্থা যুক্ত রয়েছে। টোকিও পর্বে অর্ধপরিবাহী শিল্প, এআই, নতুন উদ্যোগ এবং বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ নিয়ে পৃথক আলোচনা হচ্ছে। জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া রিয়োসেইয়ের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন গোয়েল। পাশাপাশি জাপান সরকারের শীর্ষ কর্তাব্যক্তি ও সংসদীয় নেতাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক রয়েছে। ভারতকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান উৎপাদন ও প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনার সঙ্গেই এই উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ। সূক্ষ্ম উৎপাদন, গাড়ি প্রযুক্তি, রোবোটিক্স, ইলেকট্রনিক্স এবং শিল্পক্ষেত্রে উদ্ভাবনে জাপানের দক্ষতা ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা কর্মসূচির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

    নাগোয়া ও ওসাকায় বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরবে ভারত

    পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিনিধি দল যাবে জাপানের গাড়ি ও শিল্প উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র নাগোয়ায়। সেখানে মধ্য জাপান অর্থনৈতিক ফেডারেশন এবং নাগোয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে ব্যবসায়িক প্রদর্শনী ও বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন গোয়েল। আইচি প্রদেশের প্রশাসনিক নেতৃত্ব এবং গাড়ি ও ইস্পাত শিল্পের বড় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। সফরের শেষ পর্বে ওসাকায় বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের নিয়ে একাধিক কর্মসূচি হবে। ইলেকট্রনিক্স, শিল্প সরঞ্জাম এবং ভোগ্যপণ্য খাতের জাপানি সংস্থাগুলির সঙ্গেও বৈঠক করবেন ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। এই বৈঠকগুলির মাধ্যমে ভারতের উৎপাদন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং ভোক্তা বাজারে বিনিয়োগের সুযোগগুলি তুলে ধরার পাশাপাশি জাপানি (Infra Energy Tech) বিনিয়োগকারীদের ভারতের দ্রুত বিকাশমান নতুন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রগুলির সঙ্গে যুক্ত করাই লক্ষ্য (Piyush Goyal)।

    ওষুধ, জ্বালানি ও পরিকাঠামোয়ও বাড়ছে সহযোগিতা

    টোকিওয় জাপানের একাধিক সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পীযূষ গোয়েল। তাঁদের মধ্যে রয়েছে মেইজি সেইকা ফার্মা এবং সুমিতোমো কর্পোরেশনের প্রতিনিধিরা। মেইজি সেইকার সঙ্গে বৈঠকে ভারতে তাদের উৎপাদন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সুমিতোমোর সঙ্গে আলোচনায় জ্বালানি রূপান্তর, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং শিল্প পরিকাঠামোয় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সুমিতোমো কর্পোরেশনের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শিনগো উএনোর সঙ্গে বৈঠকের পর গোয়েল বলেন, “ভারতের বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং সম্প্রসারিত উৎপাদন ব্যবস্থা আরও বৃহত্তর সহযোগিতার বিপুল সুযোগ তৈরি করছে। এর ফলে ভারত-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে।” মেইজি সেইকা ফার্মার সভাপতি ও প্রতিনিধি পরিচালক তোষিয়াকি নাগাসাতোর সঙ্গেও বৈঠক করেন গোয়েল। সেখানে ওষুধ শিল্পে ভারত-জাপান সহযোগিতা বাড়ানো এবং ভারতে সংস্থাটির উৎপাদন ও গবেষণা-উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। গোয়েল বলেন, ভারতের ওষুধ শিল্পের পরিকাঠামো জাপানি অংশীদারদের জন্য উৎপাদন বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি অর্জনের বড় সুযোগ তৈরি করছে। মিতসুবিশি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি পরিচালক জুরো বাবার সঙ্গেও বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী। ভারতে মিতসুবিশি কর্পোরেশনের নয় দশকেরও বেশি সময়ের উপস্থিতির ভিত্তিতে পরিবহণ, জ্বালানি এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। গোয়েল বলেন, “শিল্পের প্রবৃদ্ধি এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খলকে সমর্থন করে এমন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারতের অবস্থান শক্ত করার লক্ষ্য

    ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে (Piyush Goyal) বিশ্বের বড় সংস্থাগুলি বর্তমানে তাদের সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট কয়েকটি উৎপাদনকেন্দ্রের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর প্রবণতাও বাড়ছে (Infra Energy Tech)। ভারতের কাছে এই পরিস্থিতি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির বিকল্প উৎপাদনকেন্দ্র এবং রফতানি কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার পাশাপাশি বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জাপানি বিনিয়োগ শুধু মূলধনই আনবে না, এর সঙ্গে উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, আধুনিক শিল্পকৌশল এবং আন্তর্জাতিক মূল্য শৃঙ্খলের সঙ্গে আরও (Infra Energy Tech) গভীর সংযোগও তৈরি হতে পারে। ভারত-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের পরবর্তী পর্যায়ে এই সহযোগিতাকেই আরও (Piyush Goyal) বিস্তৃত করতে চাইছে নয়াদিল্লি।

     

  • Kashmiri Pandits: জম্মুতে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ফের হুমকি, চিঠিতে বাড়ির নম্বর-ঠিকানারও উল্লেখ

    Kashmiri Pandits: জম্মুতে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের ফের হুমকি, চিঠিতে বাড়ির নম্বর-ঠিকানারও উল্লেখ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Kashmiri Pandits) লক্ষ্য করে ফের হুমকি চিঠি ঘিরে উদ্বেগ ছড়িয়েছে জম্মুতে। রবিবার, ২৩ আগস্ট, প্রকাশ্যে আসা এই চিঠিতে প্রায় ছয় জন কাশ্মীরি পণ্ডিতের ব্যক্তিগত তথ্য, বাড়ির নম্বর ও রাস্তার নাম উল্লেখ রয়েছে। এর প্রায় দু’সপ্তাহ আগে একই সম্প্রদায়ের কর্মীদের সতর্ক করে একটি হুমকি চিঠি প্রকাশ্যে এসেছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি চিঠিটির সত্যতা যাচাই করছে। পাশাপাশি, এর পিছনে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। জম্মুর বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী পণ্ডিতদের এই স্পর্শকাতর ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে দুষ্কৃতীদের হাতে পৌঁছল, তা নিয়ে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির অন্দরে বড়সড় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

    চিঠিতে নাম ও ঠিকানা

    চিঠিতে জম্মুর বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Fresh Threat to Kashmiri Pandits) নাম উল্লেখ করে তাঁদের ‘হোয়াইট-কলার সন্ত্রাসবাদী’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। দিল্লিতে তাঁদের ‘প্রভুদের’ হয়ে কাজ করার অভিযোগও তোলা হয়েছে। কাশ্মীরে ‘আরএসএসের এজেন্ডা’ বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ‘আহমেদ বিলাল’-এর নামে স্বাক্ষর করা চিঠিতে বলা হয়েছে, “আপনারা যেখানেই থাকুন, যেখানেই যান, আমরা আপনাদের প্রতিটি পদক্ষেপের উপর নজর রাখছি।” চিঠিটি ‘ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল’ বা ইউএলসি-এর নামে প্রকাশিত হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সন্দেহ, এটি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার (LeT) একটি ফ্রন্ট সংগঠন হতে পারে। চিঠিতে উপত্যকায় থেকে যাওয়া কাশ্মীরি পণ্ডিত এবং উপত্যকা ছেড়ে জম্মু-সহ অন্যত্র চলে যাওয়া পণ্ডিতদের মধ্যে বিভাজন তৈরিরও চেষ্টা করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, যারা উপত্যকায় থেকে গিয়েছেন তাঁরা নিরাপদ, কিন্তু সরকারি চাকরির জন্য উপত্যকায় ফিরে আসা অভিবাসী কাশ্মীরি পণ্ডিতরা হামলার নিশানায় রয়েছেন।

    কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশ

    এর আগে চলতি মাসেই প্রথম হুমকি চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর জম্মু-কাশ্মীর সরকার বিভিন্ন দফতরকে কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল। তাঁদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়। আগের চিঠিতে রাজস্ব দফতরের কয়েকজন কর্মীর নাম ও ফোন নম্বর উল্লেখ ছিল। পুলিশ সূত্রের দাবি, সন্ত্রাসবাদীদের সম্পত্তির বিরুদ্ধে সরকারি পদক্ষেপের সঙ্গে ওই কর্মীদের কাজকে যুক্ত করে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এর প্রায় এক সপ্তাহ আগে, ৩১ জুলাই, কুলগামে একটি ইটভাটায় দুই পরিযায়ী শ্রমিককে জঙ্গিরা হত্যা করে। জুলাই মাসে হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে একটি পোস্টার প্রকাশ করার পর ইউএলসি সংগঠনটি নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজরে আসে। এদিকে, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপত্যকায় ফেরানো ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারের উদ্যোগের মধ্যেই এই নতুন হুমকি সামনে এল। প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের আওতায় সরকারি চাকরি পেয়ে বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত ইতিমধ্যেই উপত্যকায় ফিরেছেন।

  • JK SIA: ফের শুরু ১৯৯৮-এর কাশ্মিরী পণ্ডিতদের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত, নজরে টিকালাল টাপলু-বিচারপতি গঞ্জুর খুন

    JK SIA: ফের শুরু ১৯৯৮-এর কাশ্মিরী পণ্ডিতদের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত, নজরে টিকালাল টাপলু-বিচারপতি গঞ্জুর খুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৯৮ সালের ওয়ান্ধামা হত্যাকাণ্ডের (Wandhama Massacre) তদন্ত ফের শুরু করেছে জম্মু-কাশ্মীর (JK SIA) রাজ্য তদন্তকারী সংস্থা। ওই হত্যাকাণ্ডে ২৩ জন কাশ্মীরি পণ্ডিত নিহত হয়েছিলেন। উপত্যকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসবাদের তুঙ্গপর্বে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের লক্ষ্য করে চালানো একাধিক হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত মামলার তদন্ত নতুন করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।

    সূত্রের খবর, কাশ্মীরি পণ্ডিত নেতা টিকালাল টাপলু এবং বিচারপতি নীলকণ্ঠ গঞ্জুর হত্যার মামলার তদন্তও জোরদার করেছে তদন্তকারী সংস্থা। এর আগে কাশ্মীরি পণ্ডিত নার্স সরলা ভাট এবং লেখক সর্বানন্দ কৌল প্রেমী ও তাঁর ছেলে বীরেন্দ্র কৌলের হত্যার মামলাও নতুন করে খোলা হয়েছিল।

    ওয়ান্ধামা হত্যাকাণ্ড ও টাপলুর হত্যার ঘটনায় কয়েক দিন আগে কাশ্মীর উপত্যকার একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীরা এখন হামলায় জড়িত জঙ্গি এবং তাঁদের সহযোগীদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি প্রত্যেকের ভূমিকা নির্ধারণের চেষ্টা করছেন।

    ওয়ান্ধামায় নিহত ২৩ কাশ্মীরি পণ্ডিত (JK SIA)

    ১৯৯৮ সালের ২৫ জানুয়ারি গান্দেরবল জেলার ওয়ান্ধামা গ্রামের কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিবারগুলির বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায় ভারী অস্ত্রে সজ্জিত জঙ্গিরা। হামলায় ২৩ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ৯ জন মহিলা এবং ৪ জন শিশুও।

    প্রজাতন্ত্র দিবসের আগের দিন এবং রমজান মাসের অন্যতম পবিত্র রাত শবে কদরের সময় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মামলাটির নিষ্পত্তি হয়নি (JK SIA)।

    নতুন করে তদন্ত শুরু করার ঘটনাটি উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদের সময়কালের বহু বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা মামলাগুলির পুনর্তদন্তের বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের পুরনো হত্যাকাণ্ডের একাধিক মামলায় সাম্প্রতিক সময়ে তৎপরতা বেড়েছে তদন্তকারী সংস্থার।

    জুন মাসে সরলা ভাট হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৭৩৭ পাতার অভিযোগপত্র পেশ করে ওই সংস্থা। ১৯৯০ সালের ওই হত্যাকাণ্ডে জেলবন্দি জম্মু-কাশ্মীর মুক্তি ফ্রন্টের প্রধান ইয়াসিন মালিককে মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে (Wandhama Massacre)।

    এর পর অগাস্ট মাসে কাশ্মীরি পণ্ডিত লেখক সর্বানন্দ কৌল প্রেমী ও তাঁর ছেলে বীরেন্দ্র কৌলের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জম্মু-কাশ্মীরের ন’টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়।

    টিকালাল টাপলু ও বিচারপতি গঞ্জুর মামলায়ও নজর

    কাশ্মীরের বিশিষ্ট আইনজীবী এবং তৎকালীন জম্মু-কাশ্মীর বিজেপির সহ-সভাপতি টিকালাল টাপলুকে ১৯৮৯ সালের সেপ্টেম্বরে শ্রীনগরে তাঁর বাড়ির কাছে গুলি করে হত্যা করা হয়। উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদের উত্থানের সময় কাশ্মীরি পণ্ডিতদের লক্ষ্য করে চালানো প্রথম দিকের একাধিক হত্যাকাণ্ডের মধ্যে টাপলুর হত্যাও ছিল অন্যতম (JK SIA)।

    বিচারপতি নীলকণ্ঠ গঞ্জুর হত্যাকাণ্ডের তদন্তও নতুন করে জোরদার করা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর মুক্তি ফ্রন্টের জঙ্গি মকবুল ভাটকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন বিচারপতি গঞ্জু।

    ১৯৮৯ সালের ৪ নভেম্বর শ্রীনগরের হরি সিং স্ট্রিটে সন্দেহভাজন জম্মু-কাশ্মীর মুক্তি ফ্রন্টের জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হন বিচারপতি গঞ্জু। তার আগে তাঁর বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছিল।

    কয়েক দশকের পুরনো মামলায় ফের তৎপরতা

    আটের দশকের শেষ এবং নয়ের দশকের সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অমীমাংসিত মামলাগুলিকে ফের তদন্তের আওতায় আনার বৃহত্তর উদ্যোগের মধ্যেই এই পদক্ষেপ। সরলা ভাট এবং সর্বানন্দ কৌল প্রেমীর হত্যার মামলায় সাম্প্রতিক তদন্ত ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। একটি মামলায় অভিযোগপত্র পেশের পাশাপাশি একাধিক জায়গায় তল্লাশিও চালানো হয়েছে। আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারী সংস্থা কয়েক দশকের পুরনো একাধিক মামলার সূত্র খতিয়ে দেখছে। জীবিত অভিযুক্ত, জঙ্গি এবং তাঁদের সহযোগীদের শনাক্ত করতে সন্ধান করা হচ্ছে (Wandhama Massacre) নতুন সূত্রের।

    ফলে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের হত্যার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত মামলা ফের সক্রিয় তদন্তের আওতায় এল। ওয়ান্ধামা হত্যাকাণ্ড, টিকালাল টাপলু ও বিচারপতি নীলকণ্ঠ গঞ্জুর হত্যার পুনর্তদন্ত সেই প্রক্রিয়াকেই আরও বিস্তৃত করল (JK SIA) বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • One Nation One Election: ভাবনায় ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’! ২০২৯ লোকসভার সঙ্গেই ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচন?

    One Nation One Election: ভাবনায় ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’! ২০২৯ লোকসভার সঙ্গেই ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই ২২টি এনডিএ-শাসিত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচন করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’-এর প্রথম ধাপ ২০৩৪-এর পরিবর্তে ২০২৯ সালেই শুরু হতে পারে বলে সূত্রের খবর। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তা ভেঙে দিয়ে লোকসভা নির্বাচনের সময়ের সঙ্গে ভোটের সময়সূচি মিলিয়ে দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ (One Nation One Election) সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটি (JPC) বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, বিধায়ক, সরকারি আধিকারিক এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে একসঙ্গে নির্বাচন করাতে কী ধরনের সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তন প্রয়োজন, তা-ও খতিয়ে দেখছে কমিটি।

    কীভাবে ২২টি রাজ্যকে ২০২৯-এর ভোটচক্রে আনা হতে পারে?

    বিবেচনায় থাকা ২২টি এনডিএ-শাসিত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে ১১টিতে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগের দুই বছরের মধ্যে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। অন্যদিকে অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচলপ্রদেশ, সিকিম এবং ওড়িশায় লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই বিধানসভা নির্বাচন হয়। প্রস্তাবটি কার্যকর করতে হলে বাকি কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা স্বাভাবিক মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে দিতে হতে পারে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যে এনডিএ সরকার ক্ষমতায় থাকলে এবং তারা এই পরিকল্পনায় সম্মতি দিলে ২০২৯ সালের জানুয়ারির মধ্যেই বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংবিধানের ১৭৪(২)(বি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাজ্যপাল বিধানসভা ভেঙে দিতে পারেন। সাধারণত মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার পরামর্শেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিধানসভা ভেঙে গেলে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নতুন নির্বাচন করতে হয়। এর ফলে কয়েকটি রাজ্যে বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ কয়েক বছর পর্যন্ত কমে যেতে পারে। যেমন গোয়া, গুজরাট, মণিপুর, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে প্রায় তিন বছর পর্যন্ত মেয়াদ কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, রাজস্থান ও ত্রিপুরায় এই মেয়াদ কমার পরিমাণ প্রায় চার বছর হতে পারে।

    একসঙ্গে নির্বাচনের পক্ষে কয়েক এনডিএ মুখ্যমন্ত্রী

    এই পরিকল্পনার প্রতি ইতিমধ্যেই কয়েকটি এনডিএ-শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সমর্থন জানিয়েছেন। গোয়া, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীরা সংসদীয় কমিটির সঙ্গে আলোচনায় নির্বাচনগুলির সময়সূচি সমন্বয়ের পক্ষে মত দিয়েছেন। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন হলে বিধানসভার মেয়াদে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে দিল্লি সরকার প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় স্তরে নির্বাচনের সময়সূচি এক করার জন্য দিল্লির মেয়াদে উপযুক্ত সমন্বয় প্রয়োজন হলে সরকার ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে তা বিবেচনা করবে। ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটের সঙ্গে দিল্লির বিধানসভা নির্বাচন করতে হলে বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ প্রায় এক বছর কমাতে হতে পারে। যৌথ সংসদীয় কমিটি ইতিমধ্যে মহারাষ্ট্র, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা, পঞ্জাব, হিমাচলপ্রদেশ, কর্নাটক, গুজরাট, দিল্লি, গোয়া এবং উত্তরপ্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে আলোচনা করেছে। বিধানসভা আগাম ভেঙে দেওয়া, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নির্বাচন এবং নির্বাচনী সময়সূচি সমন্বয়ের সাংবিধানিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

    বিরোধীদের আপত্তি: গণতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন

    বিধানসভাগুলির মেয়াদ আগাম শেষ করার সম্ভাবনা সামনে আসায় ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচিত রাজ্য সরকারের মেয়াদ কমিয়ে দিলে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ জানিয়েছেন, দলের অবস্থানের কোনও পরিবর্তন হয়নি। কংগ্রেস ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’-এর বিরোধী। তাঁর দাবি, এই প্রস্তাব অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক এবং জবাবদিহির পরিপন্থী। কংগ্রেস ও ডিএমকে-র সাংসদরা ২০২৪ সালে সংসদে বিলগুলি পেশ করার সময়ই আপত্তি জানিয়েছিলেন। কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারও যৌথ সংসদীয় কমিটি-র সামনে হাজির হয়ে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। পাঞ্জাব, হিমাচলপ্রদেশ, কর্নাটক, মিজোরাম এবং তেলঙ্গানার মতো বিরোধী-শাসিত রাজ্যগুলিতেও ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। তবে এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলির মতো এই রাজ্যগুলির সরকারগুলি স্বেচ্ছায় বিধানসভার মেয়াদ কমাতে আগ্রহী হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

    কী রয়েছে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ বিলের প্রস্তাবে?

    ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ ব্যবস্থার জন্য ২০২৪ সালে সংবিধান (১২৯তম সংশোধনী) বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন (সংশোধনী) বিল আনা হয়। তৎকালীন আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর লোকসভায় সংবিধান সংশোধনী বিলটি পেশ করেন। পরে ২৬৯ জন সাংসদ বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানোর পক্ষে ভোট দেন এবং ১৯৬ জন এর বিরোধিতা করেন। প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধনীতে ৮২, ৮৩, ১৭২ এবং ৩২৭ নম্বর অনুচ্ছেদে পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। এর লক্ষ্য হল লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলির নির্বাচনকে একটি নির্দিষ্ট সময়চক্রে নিয়ে আসা। প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনও সাধারণ নির্বাচনের পর লোকসভার প্রথম বৈঠকের পর যে বিধানসভাগুলি নির্বাচিত হবে, তাদের মেয়াদ প্রয়োজন অনুযায়ী সামঞ্জস্য করা যেতে পারে, যাতে পরবর্তী সময়ে লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই ওই বিধানসভাগুলির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই পরিকল্পনার ভিত্তি মূলত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশ। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ওই কমিটি গঠিত হয়েছিল। বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা ও গবেষণার পর কমিটি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে রিপোর্ট জমা দেয়। তবে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। যৌথ সংসদীয় কমিটি-র মেয়াদ সম্প্রতি শীতকালীন অধিবেশন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে আরও আলোচনা ও পরামর্শের পরই ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইলেকশন’ নিয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ সামনে আসবে। ২০২৯ সালেই একসঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন হবে কি না, এখন সেই প্রশ্নই জাতীয় রাজনীতিতে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

  • Ajit Doval: সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে দিল্লির বার্তা পৌঁছে দিতে বেজিং গেলেন অজিত ডোভাল

    Ajit Doval: সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে দিল্লির বার্তা পৌঁছে দিতে বেজিং গেলেন অজিত ডোভাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের (Xi Jinping) সম্ভাব্য ভারত সফরের আগেই সোমবার বেজিং গিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval)। চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা নিয়ে বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে চলা ভারত-চিন সীমান্ত বিরোধের অবসানে ২০০৩ সালে গড়ে ওঠা এই ব্যবস্থার অধীনে এটি হবে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের ২৫তম বৈঠক। ভারত ও চিনের মধ্যে ৩,৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ।

    জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফরের ঠিক আগে ডোভালের বেজিং সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও ভারত বা চিন—কোনও পক্ষই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে শি-র সফরের কথা ঘোষণা করেনি, সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে চিনের প্রেসিডেন্টের। সে ক্ষেত্রে সাত বছর পর প্রথম বার ভারতে আসবেন শি। গত বছর তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল তাঁর।

    অরুণাচলে ভারত-চিন সেনার মুখোমুখি অবস্থান (Ajit Doval)

    চিনের বিশেষ প্রতিনিধির সঙ্গে সীমান্ত বৈঠকের জন্য ডোভালের এই সফরের মধ্যেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অরুণাচল প্রদেশে ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে সাম্প্রতিক মুখোমুখি অবস্থানের খবর সামনে এসেছে। চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির তথাকথিত অনুপ্রবেশের মাত্রা নিয়ে এখনও প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফে কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। শনিবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ফের একবার স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, সীমান্তের পরিস্থিতিই সামগ্রিক ভারত-চিন সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণ করবে।

    জয়শঙ্কর বলেন, “আমার মনে হয়, ২০২০ সালের গ্রীষ্ম থেকে ২০২৪ সালের শরৎ কাল পর্যন্ত আমরা অত্যন্ত খারাপ একটি সময়ের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। এর প্রধান কারণ ছিল সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি।” লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সামরিক অচলাবস্থার প্রসঙ্গেই এই মন্তব্য করেন তিনি। ওই সংঘাতের জেরে গত ছ’দশকের মধ্যে ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

    সীমান্তে কি মিলবে সমাধানের পথ?

    ২০২৪ সালের অক্টোবরে লাদাখে সামরিক মুখোমুখি অবস্থানের অবসান ঘটাতে দুই দেশ সম্মত হওয়ার পর রাশিয়ায় জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই বৈঠকে দুই নেতা স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ মেটানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ করার বিষয়ে একমত হন।

    এর পর ভারত ও চিনের মধ্যে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা ফের চালু করা, চিনা নাগরিকদের জন্য ভিসা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা এবং সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনরায় চালুর মতো একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে এখনও চোখে পড়ার মতো কোনও অগ্রগতি হয়নি।

    ডোভালের বেজিং সফরে যদি সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কোনও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়, তা হলে আগামী মাসে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও জিনপিংয়ের সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পথ আরও মসৃণ হতে পারে।

    বৈঠকের আলোচনায় কী থাকবে?

    বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠকে মূলত দু’টি বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। প্রথমত, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পূর্ব লাদাখ ও অরুণাচল প্রদেশের পরিস্থিতি পর্যালোচনা। দ্বিতীয়ত, সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর জন্য কার্যকর ব্যবস্থা খুঁজে বের করা (Ajit Doval)।

    গত ৬ অগাস্ট নয়াদিল্লিতে ভারত-চিন সীমান্ত বিষয়ক কর্মব্যবস্থা সংক্রান্ত পরামর্শ ও সমন্বয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ভারতের বিবৃতি অনুযায়ী, বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আগের বৈঠকের পর দুই দেশ সীমান্তের সীমানা নির্ধারণ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সীমান্ত-পারাপার সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে।

    ডোভালের আসন্ন বেজিং সফরে সেই আলোচনাই আরও (Xi Jinping) এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা, উত্তেজনা কমানো এবং ভারত-চিন সম্পর্ককে স্বাভাবিক পথে ফেরানোর বিষয়ে দু’দেশের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আসে, সেটাই দেখার (Ajit Doval)।

LinkedIn
Share