Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • India-UK CETA: ব্রিটেনের বাজারে ভারতের বড় সুযোগ! শুল্কমুক্ত প্রবেশে টেক্সটাইল রফতানিতে বাড়তে পারে ১.৬ বিলিয়ন ডলার, চাপে পড়বে চিন-বাংলাদেশ?

    India-UK CETA: ব্রিটেনের বাজারে ভারতের বড় সুযোগ! শুল্কমুক্ত প্রবেশে টেক্সটাইল রফতানিতে বাড়তে পারে ১.৬ বিলিয়ন ডলার, চাপে পড়বে চিন-বাংলাদেশ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে হওয়া সমন্বিত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি (India-UK CETA) কার্যকর হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি আশাবাদী দেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্প। শিল্পমহল এবং অর্থনীতিবিদদের মতে, এই চুক্তির ফলে ব্রিটেনের বাজারে ভারতীয় বস্ত্রপণ্যের রফতানি (India Textile Exports) উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। আগামী কয়েক বছরে অতিরিক্ত ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত রফতানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা। তবে প্রশ্ন একটাই- শুল্ক উঠে যাওয়াই কি ভারতের জন্য যথেষ্ট? না কি এই সুযোগকে কাজে লাগাতে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে?

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি (India-UK CETA)?

    এতদিন ব্রিটেনে ভারতীয় বস্ত্র ও তৈরি পোশাক রফতানির (India Textile Exports) ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক দিতে হত। ফলে একই ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে ভারতীয় সংস্থাগুলি দামের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ত। এখন সেই শুল্কের বড় অংশ উঠে যাওয়ায় ভারতীয় পণ্য তুলনামূলক কম দামে ব্রিটেনের বাজারে পৌঁছতে পারবে। এর ফলে রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতার ক্ষমতা অনেকটাই বাড়বে।

    রফতানি কতটা বাড়তে পারে?

    শিল্পমহলের অনুমান, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ব্রিটেনে ভারতের বস্ত্র রফতানিতে (India Textile Exports) প্রায় ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিরিক্ত যোগ হতে পারে। ব্রিটেনের বাজারে ভারতের অংশীদারিত্ব প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তৈরি পোশাক, গৃহস্থালির বস্ত্র, সুতি কাপড়, কার্পেট এবং প্রযুক্তিনির্ভর বস্ত্রের চাহিদা সবচেয়ে বেশি বাড়তে পারে।

    প্রতিযোগিতায় কী বদলাবে?

    এতদিন বাংলাদেশ শুল্ক- সুবিধা পাওয়ায় ব্রিটেনের বাজারে অনেকটাই এগিয়ে ছিল। অন্যদিকে চিনের শক্তি তার বিশাল উৎপাদন ক্ষমতা ও দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থা। নতুন চুক্তির ফলে ভারতের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, দামের ক্ষেত্রে যে অসুবিধা ছিল, তা অনেকটাই কমে গেল। ফলে ব্রিটিশ ক্রেতাদের কাছে ভারত এখন আরও শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে উঠে আসতে পারে। বিশেষ করে যেসব সংস্থা এক দেশের উপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে, তারা ভারতের দিকে আরও বেশি নজর দিতে পারে।

    কোন কোন রাজ্য সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে?

    এই চুক্তির (India-UK CETA) ইতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে- তামিলনাড়ু, গুজরাট, পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানে। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের পাটশিল্প এবং কিছু তৈরি পোশাক রফতানিকারক সংস্থাও পরোক্ষভাবে সুবিধা পেতে পারে।

    লাভ হতে পারে আরও অনেক ক্ষেত্রে

    এই চুক্তির (India-UK CETA) ফলে উপকৃত হতে পারে- চামড়া শিল্প, রত্ন ও গয়না শিল্প, সামুদ্রিক খাদ্য রফতানি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিষেবা ক্ষেত্রও। অর্থাৎ, এটি শুধু একটি শিল্প নয়, দেশের সামগ্রিক রফতানির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    তবে কি সব সমস্যার সমাধান?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, একেবারেই নয়। শুধু শুল্ক কমে গেলেই রফতানি বাড়বে, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। ভারতের সামনে এখনও রয়েছে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ। উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে হবে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের উপর জোর দিতে হবে।

    সুযোগের পাশাপাশি কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ

    নতুন বাণিজ্য চুক্তির (India-UK CETA) ফলে ব্রিটেনের বাজারে ভারতের অবস্থান নিঃসন্দেহে আরও শক্তিশালী হবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য পেতে হলে শুধু শুল্ক-সুবিধা যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন বাড়ানো, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা, নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ এবং শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর আরও জোর দিতে হবে। এই ক্ষেত্রগুলিতে উন্নতি করতে পারলে ভারত ব্রিটেনের বাজারে নিজের অংশীদারিত্ব আরও বাড়াতে সক্ষম হবে এবং বিশ্ব বস্ত্র বাণিজ্যে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

    ভারত-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য চুক্তি

    ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি (India-UK CETA) ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাজ্য সফরের সময় লন্ডনে স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তী প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর চুক্তিটি ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই থেকে কার্যকর হয়। ভারত-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য চুক্তি দেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্পের সামনে একটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিঃসন্দেহে রফতানি বাড়াতে সাহায্য করবে এবং ব্রিটেনের বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই সুযোগের পূর্ণ সুফল পেতে হলে উৎপাদন, গুণমান, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। অর্থাৎ, চুক্তি সুযোগ এনে দিয়েছে, এখন সেই সুযোগকে সাফল্যে বদলে দেওয়াই ভারতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

  • NSA Ajit Doval: লোকমান্য তিলক পুরস্কারে সম্মানিত হচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তার ‘কৌশলী’ অজিত ডোভাল

    NSA Ajit Doval: লোকমান্য তিলক পুরস্কারে সম্মানিত হচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তার ‘কৌশলী’ অজিত ডোভাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বছরের পর বছর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। সন্ত্রাস দমন থেকে সীমান্ত নিরাপত্তা, কূটনৈতিক আলোচনা থেকে স্পর্শকাতর অভিযানে তাঁর ভূমিকা বারবার উঠে এসেছে আলোচনায়। সেই দীর্ঘ কর্মজীবন ও জাতীয় নিরাপত্তায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছরের মর্যাদাপূর্ণ লোকমান্য তিলক পুরস্কারে (Lokmanya Tilak Award) সম্মানিত হচ্ছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval)। আগামী ১ আগস্ট পুনেতে তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস, উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে এবং সুনেত্রা পওয়ার।

    লোকমান্য তিলক পুরস্কার

    জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করেছে লোকমান্য তিলক স্মারক ট্রাস্ট। ১ অগাস্ট, লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলকের ১০৬তম মৃত্যুবার্ষিকীতে পুনেতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই সম্মান প্রদান করা হবে। ১৯৮৩ সালে লোকমান্য তিলক স্মারক ট্রাস্ট এই জাতীয় সম্মান চালু করে। স্বাধীনতা সংগ্রামী লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলকের স্মৃতির উদ্দেশে প্রতি বছর ১ অগাস্ট, তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। দেশের অগ্রগতি, উন্নয়ন ও জনকল্যাণে অসাধারণ অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এই সম্মানে ভূষিত করা হয়। পুরস্কারের সঙ্গে দেওয়া হয়- একটি স্মারক, একটি সম্মানপত্র ও এক লক্ষ টাকা নগদ অর্থ। সমাজবাদী নেতা এস. এম. যোশি ছিলেন এই পুরস্কারের প্রথম প্রাপক।

    কেন এই সম্মান পাচ্ছেন অজিত ডোভাল (Ajit Doval)?

    অজিত ডোভাল (Ajit Doval) ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি। কর্মজীবনে তিনি মিজোরাম, সিকিম, পঞ্জাব এবং জম্মু-কাশ্মীরের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ইসলামাবাদ এবং লন্ডনে ভারতীয় দূতাবাসে একাধিক কূটনৈতিক দায়িত্বও সামলেছেন। ভারত-চিন সীমান্ত সংক্রান্ত আলোচনায় ভারতের বিশেষ প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেছেন। ডোকলাম অচলাবস্থা মেটাতে ভারতের কূটনৈতিক উদ্যোগে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে মনে করা হয়।

    পুরস্কার প্রাপকরা

    এই সম্মানে (Lokmanya Tilak Award) ভূষিত হয়েছেন দেশের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন- নরেন্দ্র মোদি, অটল বিহারী বাজপেয়ী, মনমোহন সিং, সোনিয়া গান্ধী, প্রণব মুখোপাধ্যায়, শরদ পাওয়ার, নিতিন গড়করি, এন. আর. নারায়ণ মূর্তি, সুধা মূর্তি-সহ আরও অনেকে।

    লোকমান্য তিলকের চার আদর্শ

    ট্রাস্টের সভাপতি রোহিত তিলক জানিয়েছেন, লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলকের চারটি মূল আদর্শ (স্বরাজ, স্বদেশি, জাতীয় শিক্ষা, বিদেশি পণ্য বর্জন) আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। জাতীয় নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং কূটনৈতিক ক্ষেত্রে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অজিত ডোভালের ভূমিকা ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। সেই অবদানের স্বীকৃতিতেই এ বছর দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ লোকমান্য তিলক পুরস্কারে (Lokmanya Tilak Award) সম্মানিত হতে চলেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। এই সম্মান শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যের স্বীকৃতি নয়, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তাঁর দীর্ঘদিনের ভূমিকারও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।

  • MEA: রুশ হামলায় বলি ৪ ভারতীয় নাবিক, মস্কোর দূতকে তলব করে ক্ষোভ প্রকাশ দিল্লির

    MEA: রুশ হামলায় বলি ৪ ভারতীয় নাবিক, মস্কোর দূতকে তলব করে ক্ষোভ প্রকাশ দিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেনে বাণিজ্যিক মালবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত চার ভারতীয় নাবিক। এই ঘটনায় এবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে কড়া কূটনৈতিক পদক্ষেপ ভারতের। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে রাশিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ভ্লাদিমির লাদানভ-কে তলব (India Summons Russian Envoy) করে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানায় বিদেশ মন্ত্রক (MEA)। একই সঙ্গে হামলার বিষয়ে রাশিয়ার কাছে ব্যাখ্যাও চেয়েছে ভারত।

    ঠিক কী ঘটেছিল?

    ১৯ জুলাই, ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর থেকে রওনা দিয়েছিল গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী মালবাহী জাহাজ MV Golden Leo। জাহাজটি ইউক্রেনের উপকূল ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়। ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়ার ছোড়া তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র জাহাজটিতে আঘাত হানে। হামলার পরেই জাহাজে আগুন ধরে যায়। জাহাজে মোট ছিলেন ১৭ জন নাবিক। তাঁদের মধ্যে ৫ জন ছিলেন ভারতীয়। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। অপর এক ভারতীয় গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    কী বলেছে বিদেশ মন্ত্রক?

    বিদেশ মন্ত্রক (MEA) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভারত এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো, নিরীহ নাবিকদের জীবন বিপন্ন করা এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও নৌ-চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো উচিত বলেও জানিয়েছে কেন্দ্র।

    রাশিয়ার কাছে কী দাবি ভারতের?

    ঘটনার জেরে রাশিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ভ্লাদিমির লাদানভ-কে তলব (India Summons Russian Envoy)। চার ভারতীয়র মৃত্যুর ঘটনায় কড়া কূটনৈতিক প্রতিবাদ নয়াদিল্লির। হামলার বিষয়ে রাশিয়ার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ভারতীয় নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার দাবিও তুলেছে ভারত।

    ভারতীয় দূতাবাসের ভূমিকা

    আহত ভারতীয় নাবিকের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি নজরে রাখছে ইউক্রেনের ভারতীয় দূতাবাস। পরিস্থিতির উপর কেন্দ্র সরকারও ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে।

    যুদ্ধের আবহেই নতুন উত্তেজনা

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন কৃষিপণ্য বহনকারী বাণিজ্যিক জাহাজে এই হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরীহ নাবিকদের প্রাণহানি এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

  • Delhi Violence: পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া-ভাঙচুর! একাধিক এফআইআর, দিল্লিতে ককরোচ পার্টি-র ‘সংসদ চলো’ মিছিল ঘিরে তাণ্ডব

    Delhi Violence: পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া-ভাঙচুর! একাধিক এফআইআর, দিল্লিতে ককরোচ পার্টি-র ‘সংসদ চলো’ মিছিল ঘিরে তাণ্ডব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানী দিল্লিতে সোমবার ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকা ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার একাধিক এফআইআর (FIR) দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। কনট প্লেস (Connaught Place) এবং পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আন্দোলন চলাকালীন দুষ্কৃতীরা পুলিশকর্মীদের উপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, পুলিশের গাড়িতে ক্ষয়ক্ষতি, সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি এবং পুলিশকর্মীদের জ্যাকেট ও হেলমেট ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনায় জড়িত ছিল। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    রণক্ষেত্র রাজধানী

    ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযানকে ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রাজধানী। দিল্লি পুলিশের দাবি, কনট প্লেসের আউটার সার্কেলের রিগ্যাল সিনেমা সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করে এবং একাধিক পুলিশ গাড়ি ভাঙচুর করে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে স্পেশাল কমিশনার, জয়েন্ট কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার, একাধিক আইপিএস অফিসার-সহ অন্তত ১১৮ জন পুলিশ কর্মী জখম হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন ৬০ জন আন্দোলনকারীও। ৭০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। আহত পুলিশকর্মীদের মেডিকো-লিগ্যাল পরীক্ষা (MLC) এখনও চলছে।

    সিসিটিভি ও মোবাইল ভিডিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

    ঘটনার তদন্তে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল ফোনের ভিডিও বিশ্লেষণ করছে। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪০টি ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। পুলিশের দাবি, অনেক দুষ্কৃতী মুখে রুমাল বা কাপড় বেঁধে নিজেদের পরিচয় গোপন করে ব্যারিকেড ভাঙচুর ও হামলায় অংশ নিয়েছিল। আন্দোলনকারীরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যারিকেড হামলা করেন, পাথর ছোড়েন বলে অভিযোগ করেছে দিল্লি পুলিশ। প্রায় ১৫-২০টি সরকারি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ। শাংগ্রি-লা হোটেলের কাছে এক মহিলা হেড কনস্টেবল মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে চার থেকে পাঁচটি সেলাই করতে হয়েছে। রাজীব চৌক, জনপথ, প্যাটেল চৌক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবা তীর্থ-সহ দিল্লি মেট্রোর পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন দীর্ঘক্ষণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ধাপে ধাপে স্বাভাবিক হয় পরিষেবা।

    দিল্লি পুলিশের বিবৃতি

    দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র বিক্ষোভকারীরা “উচ্ছৃঙ্খল, আক্রমণাত্মক এবং হিংসাত্মক আচরণ” করেছে। পুলিশের বারবার সতর্কবার্তা এবং আইনানুগ নির্দেশ উপেক্ষা করে তারা নিষেধাজ্ঞা ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। পুলিশ সাধারণ মানুষের উদ্দেশে গুজব বা ভুয়ো খবর ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়ে বলেছে, শুধুমাত্র সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যের উপর ভরসা করতে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করতে।

    ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে উত্তেজনা

    নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহির দাবিতে ককরোচ পার্টি-র ডাকা ‘সংসদ চলো’ মিছিল যন্তর মন্তর থেকে সংসদের উদ্দেশে রওনা দেয়। পুলিশের দাবি, পার্লামেন্ট স্ট্রিট এলাকায় কর্মসূচির অনুমতি না থাকায় বিক্ষোভকারীদের আটকানোর চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় এবং লাঠিচার্জ করে। এর পাল্টা বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

    বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদ অভিযান

    বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও হাজার হাজার আন্দোলনকারী যন্তর-মন্তরে জড়ো হন। সংসদমুখী রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে পুলিশও। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে সংসদের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। তখনই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংবিধান ক্লাব, প্যাটেল চৌক, শাস্ত্রী ভবন, আরবিআই ভবন এবং সংসদ মার্গ এলাকায় পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কিছু এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়।

    নিরাপত্তা জোরদার

    ঘটনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত এখনও চলছে।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আশ্বাস

    এরই মধ্যে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের তরফে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন। সৌরভ দাস জানিয়েছেন, নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকে তাঁরা দলের দাবিগুলি লিখিত ভাবে তুলে দিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সৌরভ দাস জানান, জেপি নাড্ডার সঙ্গে তাঁর বাসভবনে প্রায় ১০ মিনিট বৈঠক করেন তাঁরা। তাঁদের দাবি সম্বলিত একটি চিঠি নাড্ডার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। দলের দাবি, বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ ভাবে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

     

     

     

  • PM Narendra Modi: ‘ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনীতি করবেন না’, নিট বিতর্কে কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    PM Narendra Modi: ‘ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনীতি করবেন না’, নিট বিতর্কে কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্কের আবহে ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও ধরনের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। মঙ্গলবার সংসদ ভবনের লাইব্রেরি ভবনের জিএমসি বালাযোগী অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এনডিএ সংসদীয় দলের ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকে (NDA Parliamentary Party Meet) তিনি বলেন, ‘‘দেশের ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে কেন্দ্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’ প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ছাত্রদের ভবিষ্যৎ কোনওভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া যাবে না। নিট ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলিকে অযথা রাজনীতি না করারও আহ্বান জানান তিনি।

    ছাত্রদের স্বার্থ রক্ষার বার্তা

    বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, প্রধানমন্ত্রী নিট বিতর্কের কারণে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রিজিজু বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কোনও পরিস্থিতিতেই ছাত্রদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি নিট ইস্যুকে রাজনৈতিক হাতিয়ার না বানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি সরকারের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সরকারের লক্ষ্য পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা এবং ছাত্রদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা।’’

    কেন ডাকা হয়েছিল ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠক?

    এদিনের ‘মঙ্গল মিলন’ (Mangal Milan) বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানানো। সম্প্রতি তিনি ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। পাশাপাশি সদ্য নির্বাচিত রাজ্যসভার সদস্যদেরও স্বাগত জানানো হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং, কিরেন রিজিজু ও অর্জুন রাম মেঘওয়াল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, জি. কিষাণ রেড্ডি এবং বিজেপির জাতীয় সভাপতি রাহুল সিনহা। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের আগে এনডিএ-র সহযোগী দলগুলি মোদির এই ঐতিহাসিক মাইলফলককে স্বীকৃতি জানিয়ে একটি অভিনন্দন প্রস্তাবও গ্রহণ করে।

    প্রথম বৈঠক নিয়ে উচ্ছ্বসিত অশোক মিত্তল

    প্রথমবার এনডিএ–বিজেপির সংসদীয় দলের বৈঠকে যোগ দিয়ে বিজেপি সাংসদ অশোক মিত্তল বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও দলের নেতৃত্বের বক্তব্য শোনার সুযোগ পাওয়াকে তিনি বড় সম্মান বলে মনে করছেন। তিনি জানান, দেশের উন্নয়নে কীভাবে আরও কার্যকরভাবে কাজ করা যায় এবং একজন সাংসদ হিসেবে নিজের দায়িত্ব কীভাবে পালন করতে হবে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন।

    এনডিএ বৈঠকে অনুপস্থিত এনসিপিআই

    অন্যদিকে, সদ্য গঠিত ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া (NCPI)-র ২০ জন সাংসদ এদিনের বৈঠকে যোগ দেননি। প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদদের নিয়ে গঠিত এই দলটি বর্তমানে এনডিএ-কে সমর্থন করছে। তবে লোকসভার স্পিকার এখনও পর্যন্ত এনসিপিআই-এর একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়াকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দেওয়ায় তারা যৌথ বৈঠক থেকে দূরে থাকে। এর আগে রবিবার বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এনসিপিআই তাদের প্রথম পৃথক সংসদীয় দলের বৈঠক করে। বৈঠক শেষে তিনি জানান, সংসদে দলের বসার ব্যবস্থা, ডিভিশন নম্বর এবং পৃথক আইনসভার ব্লক অনুমোদিত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, সংসদে এনডিএ সরকারকে সমর্থন করলেও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কেন্দ্রের সমস্যা নিয়ে তাঁরা রাজ্য সরকারের কাছেই বিষয়গুলি তুলবেন।

    ১৩ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে বর্ষাকালীন অধিবেশন

    উল্লেখ্য, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন সোমবার শুরু হয়েছে এবং আগামী ১৩ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে। এই অধিবেশনে নিট বিতর্ক-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Human Trafficking In Bengal: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ চক্রের পর্দাফাঁস, এনআইএ-র জালে রাজ্যের ৭

    Human Trafficking In Bengal: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ চক্রের পর্দাফাঁস, এনআইএ-র জালে রাজ্যের ৭

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ (Human Trafficking In Bengal) করিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগে একটি বড় মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। তদন্তকারীদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এবং বাগদা সীমান্ত এলাকাকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই চক্র অবৈধ অনুপ্রবেশের কাজ চালিয়ে আসছিল। এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন মণ্ডল-সহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ, তারা একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের সদস্য। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের সীমান্তের অরক্ষিত অংশ দিয়ে ভারতে প্রবেশ করানো হতো।

    কীভাবে চলত অবৈধ অনুপ্রবেশ

    তদন্তে উঠে এসেছে, সীমান্ত (Indo-Bangladesh Border) পার হওয়ার পর অনুপ্রবেশকারীদের প্রথমে সড়কপথে হাওড়া স্টেশনে নিয়ে আসা হতো। সেখান থেকে ট্রেনের টিকিটের ব্যবস্থা করে তাদের দিল্লি, মুম্বই, পুণে, সুরাট, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদ-সহ দেশের বিভিন্ন শহরে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। এনআইএ-র প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, এই চক্র শুধুমাত্র অবৈধ অনুপ্রবেশেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং তারা এমন একটি সুসংগঠিত ট্রানজিট নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল, যার মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়েই দ্রুত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ত অনুপ্রবেশকারীরা। গোটা চক্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, অর্থ লেনদেন এবং বিদেশি যোগসাজশ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

    তদন্তকারী সংস্থার মতে, বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্তের অরক্ষিত অংশ দিয়ে সহজে অনুপ্রবেশের অভিযোগ সামনে আসায় সম্পূর্ণ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছে এনআইএ। অনুপ্রবেশ ঠেকানো মোদি সরকারের কাছে অন্যতম চ্যালেঞ্জ। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগেই এই কথা বারবার বলে এসেছেন বিজেপির নেতারা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেলন, সরকার ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট এই নীতির মাধ্যমে খুঁজে খুঁজে এক একজন অনুপ্রবেশকারীকে বাংলার (পশ্চিমবঙ্গ) বাইরে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। ইতিমধ্যেই সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ-কে দ্রুত ফেন্সিংয়ের কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন শাহ। উপদ্রুত এলাকায় ত্রিস্তরীয় ফেন্সিং-এর কথা বলেছেন। প্রয়োজনে আরও আধুনিক যন্ত্র আনার কথাও হয়েছে।

    ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণ

    এই ঘটনাকে ঘিরে ফের আলোচনায় এসেছে পশ্চিমবঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণের বিষয়টি। সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF)-র দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জমি না পাওয়ায় অনেক এলাকায় বেড়া নির্মাণের কাজ আটকে ছিল। রাজ্য সরকারের দাবি, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের জন্য প্রায় ১,০২৫ একর জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকা সফরেরও কথা রয়েছে, যেখানে বেড়া নির্মাণের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে প্রায় ৮৬৪ কিলোমিটার অরক্ষিত সীমান্ত পশ্চিমবঙ্গে। যার একটা বড় অংশ উত্তরবঙ্গের।

    প্রভাবশালী যোগাযোগ

    তবে তদন্তকারী মহলের একাংশের মতে, এত বড় মানবপাচার ও অনুপ্রবেশ চক্র কোনও প্রভাবশালী যোগাযোগ ছাড়া পরিচালনা করা সম্ভব নয়। ফলে এই চক্রের সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারির রাশ (India Bangladesh Border Security) আরও শক্ত করতে ইতিমধ্যেই বড়সড় পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের চেনা ছক সম্পূর্ণ বানচাল করতে এক অভিনব ও কঠোর যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সীমান্ত পেরিয়ে যাতে কোনওভাবেই অনুপ্রবেশ না ঘটতে পারে, তার জন্য নিশ্ছিদ্র ব্লু-প্রিন্ট তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে (Bengal Border Infiltration Plan)। সীমান্ত সংলগ্ন দুর্গম এলাকাগুলিতে নজরদারি দ্বিগুণ করা, সীমান্তে যে কোনও ধরনের সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে এলে দেরি না করে দ্রুত পদক্ষেপ করা, স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয় আরও মজবুত করা এবং সবচেয়ে বড় কথা, অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত যে কোনও গোপন বা গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের প্রক্রিয়াকে আরও বেশি গতিশীল ও মসৃণ করার উপর জোড় দেওয়া হয়েছে।

  • PM Modi: ‘৫৬ বছরের যুবক নন, ২৮-এর তরুণরাই মহাকাশ জয় করছে’, রাহুলকে তীব্র কটাক্ষ মোদির

    PM Modi: ‘৫৬ বছরের যুবক নন, ২৮-এর তরুণরাই মহাকাশ জয় করছে’, রাহুলকে তীব্র কটাক্ষ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হায়দরাবাদের মহাকাশ গবেষণা স্টার্টআপ স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের রকেট উৎক্ষেপণের সাফল্য উদযাপন করতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সোমবার সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগে প্রথাগত ভাষণে তিনি বলেন, “এই অভাবনীয় সাফল্য এনেছে একদল তরুণ উদ্ভাবক, যাঁদের গড় বয়স মাত্র ২৮ বছর, কোনও ৫৬ বছরের যুবক নন।”

    স্টার্টআপ সংস্কৃতির প্রশংসা (PM Modi)

    দেশের স্টার্টআপ সংস্কৃতির প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী স্কাইরুটের (Skyroot Launch) সাম্প্রতিক মাইলফলককে ভারতের যুবসমাজের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত বলে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে বাদল অধিবেশন যাতে ফলপ্রসূ হয়, সেজন্য বিরোধীদের কাছেও আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতের যুবসমাজ মহাকাশে এক নতুন যাত্রা শুরু করেছে। আমাকে বলা হয়েছে যে, স্কাইরুট স্টার্টআপে কর্মরত পুরো দলটির গড় বয়স মাত্র ২৮ বছর। এই ধরনের তরুণরাই এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে। আমি কোনও ৫৬ বছরের যুবকের কথা বলছি না।”

    প্রধানমন্ত্রীর নিশানায় রাহুল

    প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যে সরাসরি রাহুল গান্ধীর নাম নেওয়া না হলেও, লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে লক্ষ্য করেই যে এই কটাক্ষ বাণ হানা হয়েছে, তা স্পষ্ট। কারণ রাহুল গান্ধীর বয়স ৫৬ বছর। এই সাফল্যের পরিধি ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “বিশ্বের খুব কম দেশেই এই ধরনের বেসরকারি উদ্যোগ দেখা গিয়েছে। ভারতের যুবসমাজ মহাকাশে এক নতুন যাত্রা শুরু করেছে। এটি একটি বিরাট সাফল্য। বিশ্বমঞ্চে ভারতের ভাবমূর্তি সর্বজনীন স্বীকৃতি ও গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। এটি কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়, এটি একটি শক্তিশালী বার্তা যে আমাদের দেশের যুবসমাজের সম্ভাবনা এবং আকাঙ্ক্ষা মহাকাশের মতোই সীমাহীন।” প্রধানমন্ত্রী জানান, গত এক মাস ধরে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে দেশ এমন একাধিক মাইলফলক পেরিয়ে এসেছে, তা দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।

    রিফর্ম এক্সপ্রেস

    প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “মাত্র এক মাসের মধ্যে দেশ অসংখ্য মাইলফলক পেরিয়ে এসেছে, এমন এক ধারাবাহিক সাফল্য যা প্রত্যেক নাগরিককে গর্বে ভরিয়ে দেয়। জাতীয় মঞ্চ হোক বা আন্তর্জাতিক অঙ্গন, কিংবা এখন মহাকাশ, এগুলি সত্যিই ভারতের জন্য গর্বের মুহূর্ত (Skyroot Launch)।” তিনি এও বলেন, “বিশ্বের খুব কম দেশের কাছেই এই সুবিধা রয়েছে। এই অর্জন ভারতের বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ, উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা এবং শ্রমিকদের উৎসর্গের প্রমাণ, যাঁরা সবাই দেশের জন্য এক যৌথ লক্ষ্যে কাজ করছেন।” এই অর্জনগুলিকে সরকারের সংস্কার ভাবনার সঙ্গে যুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের তরুণ উদ্ভাবকরা ধারাবাহিক নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি অনুকূল পরিবেশের সুফল পাচ্ছেন।” তিনি বলেন, “দেশ রিফর্ম এক্সপ্রেসে চড়ার ফলেই ভারতের যুবসমাজ এই ধরনের দারুণ সাহস দেখাতে পারছে এবং সাফল্য অর্জন করছে।”

    অর্থনৈতিক পারফরম্যান্স

    সাম্প্রতিক পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তিগত মাইলফলকগুলির তালিকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) জানান, সম্প্রতি রাজস্থানে একটি বিশাল তেল শোধনাগার জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়েছে। উদ্বোধন করা হয়েছে দেশের তৃতীয় সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্টেরও। তিনি আরও জানান, ভারত বিশ্বের অন্যতম উন্নত গ্রিন হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন চালু করেছে, যার ইঞ্জিন অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এটি এই ধরনের ট্রেনের মধ্যে দীর্ঘতম। অর্থনৈতিক পারফরম্যান্স ভারতের স্থিতিস্থাপকতা এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে (Skyroot Launch)। দেশের সব ক’টি ক্ষেত্রে যখন এক গতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই শুরু (PM Modi) হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন।

     

  • India China Border Surveillance: গালওয়ানের পর বড় প্রস্তুতি! লাদাখ থেকে অরুণাচল— চিন-সীমান্ত জুড়ে নজরদারির বিশাল জাল গড়ছে ভারত

    India China Border Surveillance: গালওয়ানের পর বড় প্রস্তুতি! লাদাখ থেকে অরুণাচল— চিন-সীমান্ত জুড়ে নজরদারির বিশাল জাল গড়ছে ভারত

    ভারত-চিন সীমান্তে (LAC) শক্তি প্রদর্শনের প্রসঙ্গ উঠলেই সাধারণত সেনা মোতায়েন, যুদ্ধবিমান কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কথাই সামনে আসে। কিন্তু এর আড়ালেই নীরবে গড়ে উঠছে আরও বড় একটি প্রতিরক্ষা অবকাঠামো। লাদাখ থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত হিমালয় জুড়ে অত্যাধুনিক সেন্সর, রেডার, সামরিক স্যাটেলাইট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-নির্ভর একটি সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা তৈরি করছে ভারত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের সীমান্ত সংঘাতে শুধু অস্ত্রের শক্তি নয়, বরং কে আগে শত্রুকে শনাক্ত করতে পারবে, সেটাই নির্ধারণ করবে যুদ্ধের ফলাফল। সেই লক্ষ্যেই ভারত ধাপে ধাপে গড়ে তুলছে একটি বহুস্তরীয় নজরদারি নেটওয়ার্ক।

    গালওয়ান সংঘর্ষের পর বদলে যায় কৌশল

    ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর থেকেই সীমান্তে নজরদারি ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। একই সময়ে চিনের পশ্চিমাঞ্চলীয় থিয়েটার কমান্ড তিব্বত ও জিনজিয়াং অঞ্চলে নতুন বিমানঘাঁটি, ড্রোন বেস, শক্তিশালী সামরিক বাঙ্কার এবং অবকাঠামো নির্মাণ দ্রুত বাড়ায়। এই পরিস্থিতিতে ভারত শুধু টহল বা যুদ্ধবিমানের উপর নির্ভর না করে ‘সেন্সর ডমিন্যান্স’ বা সর্বব্যাপী নজরদারির কৌশল গ্রহণ করেছে। লক্ষ্য একটাই— চিনের স্টেলথ যুদ্ধবিমান, ড্রোন, হেলিকপ্টার কিংবা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সীমান্তের দিকে এগোনোর আগেই তা শনাক্ত করা।

    হিমালয়ের চ্যালেঞ্জ: পর্বতই সবচেয়ে বড় বাধা

    হিমালয়ের বিশাল পাহাড়, গভীর উপত্যকা এবং দুর্গম ভূপ্রকৃতি রেডারের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করে। পর্বতের আড়ালে নিচু উচ্চতায় উড়ে আসা বিমান বা ড্রোন অনেক সময় প্রচলিত রেডারের চোখ এড়িয়ে যায়। অর্থাৎ, একটি ব্লাইন্ডস্পট তৈরি হয়। একে বলা হয় ‘রেডার শ্যাডো’। এই সমস্যা কাটাতে ভারত বহুস্তরীয় সেন্সর নেটওয়ার্ক তৈরি করছে, যেখানে একটি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা অন্য ব্যবস্থা পূরণ করবে।

    প্রথম স্তর: মহাকাশ থেকেই নজরদারি

    ভারতের নজরদারি ব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে সামরিক ও দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য স্যাটেলাইট—

    • ● কার্টোস্যাট (CARTOSAT) শত্রুপক্ষের বিমানঘাঁটি, রাস্তা ও সামরিক অবকাঠামোর পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে।
    • ● রিস্যাট (RISAT) রেডার ইমেজিং প্রযুক্তির সাহায্যে মেঘ, বৃষ্টি কিংবা খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেও স্পষ্ট ছবি তুলতে সক্ষম।
    • ● আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট (EOS) সিরিজের স্যাটেলাইট নিয়মিত সীমান্ত পর্যবেক্ষণ চালায়।
    • ● এমিস্যাট (EMISAT) শত্রুপক্ষের ইলেকট্রনিক সিগন্যাল ও যোগাযোগ ব্যবস্থা শনাক্ত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

    আগামী দিনে আরও উন্নত ইলেকট্রনিক ও সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স স্যাটেলাইট যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার, বিমানে জ্বালানি ভরার প্রস্তুতি কিংবা সন্দেহজনক সামরিক কার্যকলাপও আগে থেকেই শনাক্ত করতে পারবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই তথ্য শুধু গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা সরাসরি ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম বা সংক্ষেপে আইএসিসিএস (IACCS)-এ পৌঁছবে, ফলে সীমান্তের পরিস্থিতির প্রায় রিয়েল-টাইম ছবি পাবে ভারতীয় সেনা।

    আকাশে ‘চোখ: এইডব্লিউ অ্যান্ড সি ও অ্যাওয়াক্স

    চিনের তিব্বতের উচ্চভূমিতে অবস্থিত বিমানঘাঁটিগুলি তাদের একটি কৌশলগত সুবিধা দেয়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারত আকাশে মোতায়েন করেছে এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল (AEW&C) বিমান।

    বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে রয়েছে—

    • ● নেত্র মার্ক ১ এইডব্লিউ অ্যান্ড সি (Netra Mk1 AEW&C)
    • ● ফ্যালকন অ্যাওয়াক্স (Phalcon AWACS)

    নেত্র মার্ক ১ সম্প্রতি ২০২৬ সালের জুন মাসে চূড়ান্ত অপারেশনাল ক্লিয়ারেন্স (FOC) অর্জন করেছে। অর্থাৎ, মোতােনের জন্য প্রস্তুত।এছাড়া, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে প্রায় ১৯,০০০ কোটি টাকার নেত্র মার্ক ২ (Netra Mk2) প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। পরিবর্তিত এয়ারবাস এ৩২১ (Airbus A321) বিমানে তৈরি এই প্ল্যাটফর্মে থাকবে ৩০০ ডিগ্রি কভারেজযুক্ত শক্তিশালী ডরসাল রেডার এবং বিশেষ নোজ অ্যান্টেনা।

    এর প্রধান কাজ হবে—

    • ● স্টেলথ বিমান শনাক্ত করা
    • ● পাহাড়ি উপত্যকার ভিতর নজরদারি চালানো
    • ● স্থলভিত্তিক রেডারের অদেখা এলাকা পর্যবেক্ষণ করা

    সীমান্তে শক্তিশালী রেডার চেইন

    স্থলভাগে ভারতের নজরদারির ভিত্তি তৈরি করছে মাউন্টেন রেডার নেটওয়ার্ক (Mountain Radar Network)। সম্প্রতি গুলমার্গ এবং নাগাল্যান্ডে বিশেষ মাউন্টেন রেডার স্থাপনের মাধ্যমে পশ্চিম ও পূর্ব—দুই দিকেই নজরদারি আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    • ● গুলমার্গ রেডার লাদাখ ও উত্তর কাশ্মীরের আকাশপথ পর্যবেক্ষণ করে।
    • ● নাগাল্যান্ডের রেডার অরুণাচলমুখী আকাশপথ নজরে রাখে।

    ভবিষ্যতে হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, সিকিম এবং অরুণাচল প্রদেশেও একই ধরনের রেডার বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    আরূদ্রা ও অশ্বিনী: নজরদারির নতুন ভরসা

    Mountain Radar-এর পাশাপাশি ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেডার ব্যবস্থা আরূদ্রা মিডিয়াম পাওয়ার রেডার (Arudhra Medium Power Radar)। আরূদ্রা বা আর্দ্রা হল হিন্দু জ্যোতিষশাস্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ নক্ষত্র এবং এটি ভগবান শিবের একটি অন্যতম পবিত্র নাম।

    এই রেডার—

    • ● একসঙ্গে একাধিক যুদ্ধবিমান ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ট্র্যাক করতে পারে।
    • ● সরাসরি আইএসিসিএস-এর সঙ্গে যুক্ত।
    • ● সীমান্তে ওভারল্যাপিং নজরদারি নিশ্চিত করে।

    অন্যদিকে, অশ্বিনী এইএসএ রেডার (Ashwini AESA Radar) অত্যন্ত মোবাইল। সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি হলে দ্রুত এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় নিয়ে গিয়ে মোতায়েন করা যায়।

    ড্রোন ও নিচু উচ্চতার হুমকির বিরুদ্ধে বিশেষ নজর

    আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন, হেলিকপ্টার এবং নিচু উচ্চতায় উড়ে আসা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বড় হুমকি হয়ে উঠছে।

    এজন্য ভারত ব্যবহার করছে—

    • ● ভরনী রেডার (Bharani Radar)
    • ● লো-লেভেল লাইটওয়েট রেডার মার্ক-২ (Low-Level Lightweight Radar Mk-II)

    এগুলির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তিও যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে পাহাড়ি গিরিপথ দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করা যে কোনও লক্ষ্যবস্তুকে দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

    স্টেলথ যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে ‘নিঃশব্দ’ নজরদারি

    সক্রিয় রেডারের পাশাপাশি ভারত গড়ে তুলছে প্যাসিভ সার্ভেল্যান্স নেটওয়ার্ক (Passive Surveillance Network)। এই স্টেশনগুলি কোনও সিগন্যাল পাঠায় না। বরং শত্রুপক্ষের যোগাযোগ ব্যবস্থা, রেডার সিগন্যাল ও ইলেকট্রনিক কার্যকলাপ নীরবে পর্যবেক্ষণ করে।এই প্রযুক্তি চিনের জে-২০ (J-20), ভবিষ্যতের জে-৩৫ (J-35) স্টেলথ যুদ্ধবিমান এবং উন্নত ড্রোন শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। এছাড়া ভেরি হাই ফ্রিকোয়েন্সি (VHF) ও মাল্টি-ব্যান্ড রেডারের সাহায্যে স্টেলথ বিমানের উপস্থিতির আভাস পেলেই আরও নির্ভুল সেন্সরকে সেই লক্ষ্যবস্তুর দিকে নির্দেশ করা সম্ভব হবে।

    আইএসিসিএস: পুরো ব্যবস্থার ‘মস্তিষ্ক

    এই বিশাল নজরদারি ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হল ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (Integrated Air Command and Control System)। স্যাটেলাইট, রেডার, এইডব্লিউ অ্যান্ড সি বিমান এবং অন্যান্য সেন্সর থেকে আসা সমস্ত তথ্য একত্রিত করে আইএসিসিএস (IACCS) কমান্ডারদের সামনে সীমান্তের একটি একক, লাইভ এবং সমন্বিত ছবি তুলে ধরে।

    এর ফলে—

    • ● দ্রুত হুমকি বিশ্লেষণ সম্ভব হয়।
    • ● মুহূর্তের মধ্যে ইন্টারসেপ্টর বিমান পাঠানো যায়।
    • ● বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী হয়।

    ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই হবে সবচেয়ে বড় অস্ত্র

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরে এই বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)।

    এআই-ভিত্তিক সিস্টেম—

    • ● সন্দেহজনক উড়ানপথ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করবে।
    • ● অস্বাভাবিক সেনা মোতায়েন চিহ্নিত করবে।
    • ● সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্ক করবে।
    • ● দ্রুততম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেবে।

    ভারতের লক্ষ্য কী?

    চিন তিব্বতের হোতান, লাসা-গংগারসহ একাধিক বিমানঘাঁটিকে শক্তিশালী করে সেখানে স্টেলথ যুদ্ধবিমান, উন্নত ড্রোন এবং আধুনিক অস্ত্র মোতায়েন করছে। এর জবাবে ভারত বিচ্ছিন্ন রেডারের উপর নির্ভর না করে মহাকাশ, আকাশ, স্থল এবং ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম—সব স্তরকে একসঙ্গে যুক্ত করে একটি সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের সীমান্ত নিরাপত্তায় এই ‘সেন্সর ওয়েব’ই ভারতের সবচেয়ে বড় কৌশলগত শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

  • Ram Mandir CEO: রাম মন্দিরের সিইও পদে ২,৩৫৭ আবেদন! দৌড়ে প্রাক্তন আইএএস-আইপিএস, সেনা আধিকারিক থেকে সিএ-রা-ও 

    Ram Mandir CEO: রাম মন্দিরের সিইও পদে ২,৩৫৭ আবেদন! দৌড়ে প্রাক্তন আইএএস-আইপিএস, সেনা আধিকারিক থেকে সিএ-রা-ও 

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাম মন্দিরের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পথে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট। মন্দিরের প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক (Ram Mandir CEO) পদে নিয়োগের জন্য জমা পড়েছে ২,৩৫৭টি আবেদনপত্র। আবেদনকারীদের তালিকায় রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস, আইপিএস আধিকারিক, সেনার প্রাক্তন কর্মী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA) এবং সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। ১৮ জুলাই ছিল আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এবার শুরু হয়েছে আবেদনপত্র যাচাইয়ের কাজ। যোগ্য প্রার্থীদের বেছে নিতে তৈরি হয়েছে তিন সদস্যের বিশেষ কমিটি।

    কারা রয়েছেন কমিটিতে?

    মন্দিরের প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক (Ram Mandir CEO) নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিন সদস্যের কমিটিকে। কমিটিতে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রমোদ কোহলি, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিষ্ণুকান্ত চতুর্বেদী ও সুরেশ হাওয়ারে। এই কমিটি আবেদনগুলি খতিয়ে দেখবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি প্রার্থীর সততা, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে জ্ঞানও যাচাই করা হবে।

    কীভাবে হবে নিয়োগ (Ram Mandir CEO)?

    প্রথম ধাপে আবেদনপত্র বাছাই করা হবে। এরপর যোগ্য প্রার্থীদের ডাকা হবে সাক্ষাৎকারে। সেখান থেকে তিনজনের নাম চূড়ান্ত করে ট্রাস্টের কাছে পাঠাবে নির্বাচন কমিটি। শেষ পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে একজনকে সিইও হিসেবে নিয়োগ করা হবে। জানা গিয়েছে, আবেদনপত্র যাচাইয়ের জন্য একজন সিনিয়র সচিব পর্যায়ের আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    সিইও-র হাতে থাকবে বড় দায়িত্ব

    নতুন সিইও-র দায়িত্ব শুধু প্রশাসনিক কাজ দেখাই নয়, রাম মন্দিরের (Ayodhya Ram Mandir) পুরো ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করা। তাঁকে ট্রাস্ট, সরকারি দফতর, স্থানীয় প্রশাসন এবং বিভিন্ন কমিটির মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে। তাঁর দায়িত্বের মধ্যে থাকবে- মন্দিরের প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা, আর্থিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা, ভক্তদের পরিষেবা উন্নত করা, নিরাপত্তা ও কর্মী ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা।

    যোগ্যতা 

    ট্রাস্টের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সিইও পদের জন্য প্রার্থীর বয়স হতে হবে ৫০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। থাকতে হবে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ডিগ্রি এবং বড় প্রতিষ্ঠান, সরকারি দফতর বা সংস্থায় অন্তত ২০ বছরের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা। প্রশাসন, অর্থ, হিসাবরক্ষণ, মানবসম্পদ, তথ্যপ্রযুক্তি, নিরাপত্তা এবং জনসংযোগের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মন্দির বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকলে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    ২২ জুলাই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

    সিইও নিয়োগের পাশাপাশি ট্রাস্টের বিভিন্ন কমিটিতেও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিষয়ে আলোচনা করতে ২২ জুলাই ট্রাস্টের বৈঠক ডাকা হয়েছে।

    দান চুরিকাণ্ডের পর বাড়ছে সংস্কারের গতি

    রাম মন্দিরে (Ayodhya Ram Mandir) প্রণামীর টাকা চুরি ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এই ঘটনায় তদন্ত শুরু হয় এবং বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়। তদন্তে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং প্রায় ৭৯.৮৫ লক্ষ টাকা উদ্ধারের কথা জানানো হয়। এরপর থেকেই মন্দির পরিচালনায় আরও স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিইও নিয়োগ সেই প্রক্রিয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে অনুমান ওয়াকিবহাল মহলের।

  • Panama Foreign Minister visit India: ভারত সফরে পানামার বিদেশমন্ত্রী, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে হাই-প্রোফাইল বৈঠক নয়াদিল্লিতে

    Panama Foreign Minister visit India: ভারত সফরে পানামার বিদেশমন্ত্রী, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে হাই-প্রোফাইল বৈঠক নয়াদিল্লিতে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঁচ দিনের সফরে ভারতে পানামার বিদেশমন্ত্রী (Panama Foreign Minister visit India) হাভিয়ের এদুয়ার্দো মার্তিনেজ-আচা ভাসকুয়েজ (Javier Eduardo Martinez-Acha Vasquez)। রবিবার ভোরে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তিনি। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী মিরেয়া পারিস দে মার্তিনেজ আচা-ও। বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, ভারত ও পানামার মধ্যে অংশীদারিত্ব অত্যন্ত দৃঢ়, যা অভিন্ন মূল্যবোধ, পারস্পরিক স্বার্থ এবং শুভেচ্ছার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এই সফর দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে (India-Panama Relationship) এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    কী কী কর্মসূচি রয়েছে পানামার বিদেশমন্ত্রীর?

    বিদেশমন্ত্রকের সূত্র অনুযায়ী, পাঁচ দিনের এই সফরে পানামার বিদেশমন্ত্রী (Panama Foreign Minister visit India) একাধিক হাই-প্রোফাইল বৈঠক করবেন।

    ২০ জুলাই (সোমবার): বিকেলে নয়া সংসদ ভবনে ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিই হবে এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য। সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন হাভিয়ের মার্তিনেজ-আচা ভাসকুয়েজ। সেখানে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি, দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক এবং যৌথ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।

    ২১ জুলাই (মঙ্গলবার): এই দিনে দিল্লিতে বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ সরকারি কর্মসূচি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে পানামার বিদেশমন্ত্রীর।

    ২২ জুলাই (বুধবার): ট্রান্সপোর্ট ভবনে ভারতের বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন পানামার বিদেশমন্ত্রী। সমুদ্র বাণিজ্য এবং লজিস্টিকস ক্ষেত্রে দুই দেশের কাজের পরিধি বাড়াতে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

    ২৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার): পাঁচ দিনের সফর শেষ করে দুপুর ১২:৩৫ নাগাদ দিল্লির বিমানবন্দর থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি।

    এই বছরের শুরুতে দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (WEF 2026) সাইডলাইনে ভারতের পক্ষ থেকে পানামার সঙ্গে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি (Clean Energy) এবং টেকসই প্রযুক্তি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছিল। বর্তমান সফরটি সেই আলোচনার সূত্র ধরেই দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্যকে (India-Panama Relationship) আরও গতিশীল করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

LinkedIn
Share