Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Ajinkya Shinde: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক, দিল্লিতে আটক আরশোলা পার্টির একাধিক নেতা, নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী

    Ajinkya Shinde: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক, দিল্লিতে আটক আরশোলা পার্টির একাধিক নেতা, নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জ্ঞানেশ কুমারকে কেন্দ্র করে বিতর্কের আবহে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচির আগেই আটক করা হয়েছে সংগঠনের তিন প্রধান মুখ অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে। তাঁদের অনুপস্থিতিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে (Ajinkya Shinde)। এদিকে, বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ব্যারিকেড, কাঁটাযুক্ত প্রতিবন্ধক এবং বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছে রাজধানীকে (Cockroach Janta Party Protest)।

    অভিযোগ, দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথেই আটক করা হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির দেড় হাজারেরও বেশি সমর্থককে। দলের নেতাদেরও দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পর আটক করা হয়। বিক্ষোভের মধ্যেই ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও গুরুগাঁওয়ের বাড়ি থেকে আটক করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নেত্রী নেহা বোরার মতো আরও কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়েছে বলে খবর।

    গ্রেফতারির আশঙ্কা (Ajinkya Shinde)

    গ্রেফতারির আশঙ্কা আগেই করেছিলেন দীপকে। সেই কারণে শুক্রবার রাতেই একটি ভিডিও রেকর্ড করে রেখেছিলেন তিনি। সেখানে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা যত দিন আটক থাকবেন, তত দিন যন্তর মন্তরের বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেবেন সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অজিঙ্ক শিন্ডে।

    ভিডিওতে অভিজিৎকে বলতে শোনা যায়, “আপনারা যদি এই ভিডিওটা দেখছেন, তার অর্থ আমি, আশুতোষ ও সৌরভ—আমরা তিনজনই গ্রেফতার হয়ে গিয়েছি। আমাদের পর এই আন্দোলনে অজিঙ্ক নেতৃত্ব দেবেন। আপনারা যাঁরাই এই ভিডিওটি দেখছেন, তাঁরা এ বার থেকে অজিঙ্ক শিন্ডেকে অনুসরণ করুন। আমি, আশুতোষ ও সৌরভের পর উনিই এখান থেকে ককরোচ জনতা পার্টিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।”

    যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা

    প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং মোতায়েন করা হয়েছে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর বিপুল সংখ্যক কর্মী। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চল্লিশ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। যন্তর মন্তর ও তার আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভকারীদের জমায়েত আটকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    কর্তব্যপথ সংলগ্ন এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার কথাও জানানো হয়েছে। প্রশাসনিক বিধিনিষেধের পাশাপাশি ট্রেন চলাচল নিয়েও নিয়ন্ত্রণের খবর সামনে এসেছে। দুপুর পর্যন্ত নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে কোনও ট্রেন প্রবেশ করবে না বলে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন (Ajinkya Shinde)।

    এমন পরিস্থিতিতেও আন্দোলনকারীদের পিছিয়ে না আসার বার্তা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। দলের নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বলেন, “দিল্লি পুলিশ যদি আপনাদের আটকানোর চেষ্টা করে, তা হলে যেখানে আপনাদের আটকানো হবে, সেই জায়গাটাই আপনাদের যন্তর মন্তর হয়ে উঠবে।” দীপকে আটক হওয়ার পর তিনিই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

    কেন ফের আন্দোলনে ককরোচ জনতা পার্টি?

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আসছে ককরোচ জনতা পার্টি। সংগঠনের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়ম হয়েছে। সেই দাবিতে বিভিন্ন সময়ে বিক্ষোভ ও জনসমাবেশ করেছে তারা। গত ২ অক্টোবর মুম্বইয়েও এই ইস্যুতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল।

    এ বার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হলেও, প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকায় দিল্লি পুলিশ সেই কর্মসূচির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জনস্বার্থের কথা উল্লেখ করেই অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

    জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে একটি ইংরেজি দৈনিকের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও পদ্ধতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী দশ মাসে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন।

    এই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ককরোচ জনতা পার্টির দাবি, গোটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং অনিয়মের অভিযোগের জবাব দিতে হবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে। সেই দাবিতেই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জারি রেখেছে সংগঠনটি।

    দিল্লিতে একের পর এক নেতা ও সমর্থক আটক হওয়ার পর আন্দোলন কোন পথে এগোয়, এখন সেটাই দেখার। নেতৃত্বে অজিঙ্ক শিন্ডেকে সামনে রেখে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party Protest)। অন্যদিকে, প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে  (Ajinkya Shinde) ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • Ambani: ‘ভারতের আসল বস কে?’ আম্বানিকে খোঁচা মাস্কের, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালু করতে ফের সরব ধনকুবের

    Ambani: ‘ভারতের আসল বস কে?’ আম্বানিকে খোঁচা মাস্কের, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালু করতে ফের সরব ধনকুবের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করার প্রতিযোগিতা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে (Ambani)। এই আবহে ফের সরব হলেন প্রযুক্তি দুনিয়ার ধনকুবের ইলন মাস্ক। সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে কটাক্ষের সুরে তিনি লিখেছেন, “প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আপনিই যে ভারতের প্রকৃত বস, তা বুঝতে না পারার জন্য আমার বিনম্র ক্ষমাপ্রার্থনা গ্রহণ করুন।” বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা এবং মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের প্রধানের এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে (Elon Musk)।

    ভারতে নিজের সংস্থা স্টারলিঙ্ককে পরিষেবা চালানোর সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে মাস্ক লিখেছেন, “স্বাভাবিকভাবেই, আপনি ভারতের সাধারণ মানুষের উপর নিজের একচেটিয়া শোষণ বজায় রাখতে চাইবেন। তা সত্ত্বেও, স্টারলিঙ্ককে প্রতিযোগিতায় নামার অনুমতি দেওয়ার কথা কি বিবেচনা করবেন?”

    তিনি আরও লিখেছেন, “অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও এমন বহু এলাকা রয়েছে, যেখানে ইন্টারনেট পরিষেবা নেই। এর ফলে শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিশ্ববাজারে নিজেদের পণ্য বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন না। স্টারলিঙ্ক তাদের জীবনকে আরও উন্নত করে তুলতে পারে।”

    ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা ঘিরে প্রতিযোগিতা (Ambani)

    স্পেসএক্সের মালিকানাধীন স্টারলিঙ্ক-সহ মোট তিনটি সংস্থা ভারতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ পরিষেবা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের কাছ থেকে টেলিযোগাযোগের অনুমোদন পেয়েছে। অন্য দু’টি সংস্থা হল ভারতী গোষ্ঠীর সমর্থনপুষ্ট ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব এবং জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস লিমিটেড। শেষের সংস্থাটি জিও প্ল্যাটফর্মসের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী সংস্থা।

    তবে অনুমোদন পেলেই পরিষেবা চালু করা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। স্যাটেলাইট পরিষেবার জন্য বেতার তরঙ্গ বরাদ্দ এবং বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরুর আগে এই শর্তগুলি মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, এই প্রক্রিয়ার অন্তর্গত নিরাপত্তা সংক্রান্ত মূল্যায়ন বর্তমানে চলছে (Ambani)।

    ‘একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখতেই বাধা’

    বিতর্কের সূত্রপাত বুধবার। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ইউজারের পোস্টের জবাব দিতে গিয়ে মাস্ক অভিযোগ করেন, ভারতের কয়েক জন একচেটিয়া ক্ষমতাধর ব্যক্তি স্টারলিঙ্কের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছেন।

    তিনি লেখেন, “দুর্ভাগ্যবশত, ভারতীয় জনগণের উপর নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখার জন্য কয়েক জন ক্ষমতাধর ব্যক্তি আমাদের আটকে দিচ্ছেন। তাঁরা কারা, তা আপনারা অনুমান করতে পারেন… এটি ভারতের মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধ!” মাস্কের এই অভিযোগের পর বৃহস্পতিবার সকালে বিবৃতি প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রক। সেখানে অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়।

    মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়, “স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার ক্ষেত্রে ভারতের নিয়ন্ত্রক কাঠামোর নিরপেক্ষতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, এই কাঠামো বৈষম্যমূলকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবা-সহ সমস্ত ধরনের টেলিযোগাযোগ পরিষেবার জন্য সরকার একটি ন্যায্য ও বৈষম্যহীন অনুমোদন কাঠামো চালু করেছে।”

    ‘সব আইন মেনেও কেন অনুমোদন মেলেনি?’

    কেন্দ্রের বিবৃতির পর বৃহস্পতিবার ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন মাস্ক। তাঁর দাবি, ভারতের সমস্ত আইন ও সরকারি শর্ত মেনে চলার পরেও স্টারলিঙ্ক এখনও পরিষেবা চালুর চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।

    তিনি লেখেন, “১৬৫টিরও বেশি দেশে স্টারলিঙ্ক অনুমোদিত। ভারতের সরকারের প্রতিটি আইন ও শর্ত মেনে চলার জন্য গত পাঁচ বছর ধরে আমরা কাজ করেছি। তা হলে এখনও অনুমোদন মিলছে না কেন? আম্বানিই কি ভারতের প্রকৃত বস?”

    শুক্রবারের পোস্টে মাস্ক আরও দাবি করেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময়, যখন অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থা কাজ করা বন্ধ করে দেয়, তখন মানুষের জীবন বাঁচাতে স্টারলিঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাঁর বক্তব্য, ভারতে স্টারলিঙ্ককে পরিষেবা চালানোর অনুমতি দেওয়া হলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বহু পুরুষ, মহিলা ও শিশুর জীবন রক্ষা করতেও তা সাহায্য করতে পারে (Elon Musk)।

    সব মিলিয়ে, ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালুর অনুমোদন ঘিরে স্টারলিঙ্কের দাবি, কেন্দ্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত মূল্যায়ন এবং মাস্কের একচেটিয়া আধিপত্যের অভিযোগকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। এহেন আবহে স্টারলিঙ্কের পরিষেবা কবে চালু হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয় (Ambani)।

     

  • Kerala HC: পিনারাই বিজয়ন, মেয়ে ও জামাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা, এফআইআর দায়েরের নির্দেশ কেরল হাই কোর্টের

    Kerala HC: পিনারাই বিজয়ন, মেয়ে ও জামাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা, এফআইআর দায়েরের নির্দেশ কেরল হাই কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, তাঁর মেয়ে টি বীণা, জামাই পিএ মহম্মদ রিয়াস-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিল কেরল হাই কোর্ট (Kerala HC)। শুক্রবার বিচারপতি এ বদরুদ্দিনের বেঞ্চ রাজ্য দুর্নীতি দমন ও সতর্কতা দফতরের (ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-কোরাপশন ব্যুরো) অধিকর্তাকে এই নির্দেশ দিয়েছে। আইনজীবী কেএম শাহজাহানের দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতেই আদালতের এই (Corruption Case) নির্দেশ।

    এর আগে কেরল সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতর আদালতে দাবি করেছিল, অপরাধ তদন্ত শাখার প্রাথমিক তদন্তই এই মামলার ক্ষেত্রে যথেষ্ট। এফআইআর দায়ের করা আইনত বাধ্যতামূলক নয় বলেও যুক্তি দিয়েছিল রাজ্য সরকার। তবে সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট। এফআইআর দায়ের না করেই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে প্রাথমিক তদন্ত চালানোর যে সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকার নিয়েছিল, তাও বাতিল করেছে আদালত।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ (Kerala HC)

    আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই মামলায় যে অপরাধের অভিযোগ উঠেছে, তা ১৯৮৮ সালের দুর্নীতি দমন আইনের আওতায় পড়ে। ফলে তদন্তের ক্ষেত্রে রাজ্য দুর্নীতি দমন ও সতর্কতা দফতরই উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের ৬৬(২) ধারার অধীনে থাকা তথ্যপ্রমাণ, যা বর্তমানে রাজ্য পুলিশের ডিজি অথবা বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রধানের হেফাজতে রয়েছে, তা অবিলম্বে দুর্নীতি দমন ও সতর্কতা দফতরের অধিকর্তার হাতে তুলে দিতে হবে। সেই নথির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট অধিকর্তাকে অবশ্যই এফআইআর দায়ের করতে হবে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি দুর্নীতি দমন দফতরের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। মামলায় এফআইআর দায়েরের আগে আর কোনও অতিরিক্ত তদন্তের প্রয়োজন নেই বলেও জানিয়েছে হাই কোর্ট।

    আদালতের বক্তব্য, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির জমা দেওয়া তথ্যপ্রমাণই এফআইআর দায়েরের জন্য যথেষ্ট। দীর্ঘ প্রাথমিক তদন্তের অজুহাতে এফআইআর দায়ের এড়িয়ে যাওয়া যায় না। বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “এই মামলার পরিস্থিতি ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে নতুন করে আর কোনও তদন্তের প্রয়োজন নেই। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের ৬৬(২) ধারায় প্রাপ্ত তথ্যে যে বিষয়গুলি উঠে এসেছে, তাতে রাজ্য পুলিশের এফআইআর দায়ের করা বাধ্যতামূলক। অন্য কোনও তদন্তের সুযোগ এখানে নেই।”

    কী এই মামলা?

    এই মামলার সূত্রপাত কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের প্রথম মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময়কার কয়েকটি আর্থিক লেনদেনকে ঘিরে। বেসরকারি খনি সংস্থা কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড এবং টি বীণার মালিকানাধীন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা এক্সালজিক সলিউশনের মধ্যে ওই লেনদেন হয়েছিল।

    মামলাটির তদন্ত করতে গিয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দাবি, কোনও পরিষেবা না দিয়েও এক্সালজিক সলিউশনস প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার অর্থ পেয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, ওই লেনদেনের মাধ্যমে বেআইনিভাবে অর্থ স্থানান্তর করা হয়। এর মধ্যে ৮৫ লাখ টাকা বিদেশে পাঠানো হয়েছিল এবং দেশের অভ্যন্তরে ২০ কোটিরও বেশি টাকা বণ্টন করা হয়েছিল বলে দাবি (Kerala HC) ইডির।

    কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আরও অভিযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়ার খরচ হিসেবে কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড এক্সালজিক সলিউশনসকে ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা দিয়েছিল। অথচ ওই সংস্থা কোনও পরিষেবাই দেয়নি। এই অর্থপ্রদানকে পরামর্শদানের খরচ বলে দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।

    গত মে মাসে বিজয়নের বাসভবন-সহ কোঝিকোড় জেলায় সিপিআইএমের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে যুক্ত আটটি জায়গায় তল্লাশি চালায় ইডি। তল্লাশির সময় হাওয়ালা চক্রের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করে (Corruption Case) সংস্থাটি।

    কেরল পুলিশকে ইডি জানিয়েছিল, বিজয়নের মেয়ে বীণার মাধ্যমে তাঁকে ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে দিয়েছিল কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড। সংস্থাটির প্রাক্তন প্রধান আর্থিক আধিকারিক তদন্তকারীদের কাছে স্বীকার করেছেন বলেও ইডির দাবি, বীণা ও অন্যদের মাধ্যমে রিয়াস ওই টাকা দুবাইয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।

    এফআইআর দায়েরের সুপারিশ

    ইডি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য রাজ্য প্রশাসনের হাতে তুলে দিয়ে বিজয়ন-সহ অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের সুপারিশ করেছিল। কিন্তু কেরল পুলিশ এফআইআর দায়ের করেনি। তার পরিবর্তে অপরাধ তদন্ত শাখার অতিরিক্ত মহাপরিচালক এইচ ভেঙ্কটেশের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করা হয়।

    এর পরেই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন আইনজীবী কেএম শাহজাহান। তাঁর বক্তব্য ছিল, পিনারাই বিজয়ন, তাঁর মেয়ে ও জামাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইন এবং অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের অধীনে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রাজ্য পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে (Kerala HC) এফআইআর দায়ের করা পুলিশের কর্তব্য।

    আবেদনকারীর সেই যুক্তি মেনে নিয়ে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। তবে আদালতের এই নির্দেশের অর্থ অভিযুক্তদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করা হবে (Corruption Case)।

    কী প্রভাব পড়তে পারে?

    কেরল হাই কোর্টের এই নির্দেশের ফলে মামলাটির তদন্তে নতুন গতি আসতে পারে। এত দিন প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর্যায়ে আটকে থাকা অভিযোগের ভিত্তিতে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে রাজ্য দুর্নীতি দমন ও সতর্কতা দফতরকে। ফলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের (Kerala HC) তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেটাই দেখার।

     

  • Naxal Hotbed: কল্পবৃক্ষের নারকেলেই বদলাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতির ছবি, রফতানিতে বিপুল লক্ষ্মীলাভ ভারতের

    Naxal Hotbed: কল্পবৃক্ষের নারকেলেই বদলাচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতির ছবি, রফতানিতে বিপুল লক্ষ্মীলাভ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খাদ্য, পানীয়, ওষুধ, তন্তু, কাঠ ও জ্বালানি—জীবনের প্রায় প্রতিটি প্রয়োজন মেটাতে পারে একটি গাছ। তাই (Naxal Hotbed) ভারতীয় সংস্কৃতিতে নারকেলকে বলা হয় ‘কল্পবৃক্ষ’, অর্থাৎ এমন এক বৃক্ষ যা মানুষের প্রায় সমস্ত প্রয়োজন পূরণ করতে পারে। ক্রান্তীয় অঞ্চলের বহু সভ্যতাই হাজারো ব্যবহারের কারণে নারকেল গাছকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। ভারতে এই গাছের চাষ ও ব্যবহার নিয়ে প্রায় তিন হাজার বছরের নথিবদ্ধ ইতিহাস রয়েছে (Coconut Hub)।

    বিয়ে থেকে মন্দিরের প্রবেশদ্বার, রান্নাঘর থেকে ওষুধের বাক্স—সর্বত্রই নারকেলের উপস্থিতি। বর্তমানে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এর গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। দেশের প্রায় ৩ কোটি মানুষ নারকেলভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত, যার মধ্যে প্রায় ১ কোটি কৃষক।

    এই ক্ষেত্রের বড় অংশই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের হাতে। ফলে নারকেল চাষকে অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক বৃদ্ধির একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে নারকেলের মূল্যশৃঙ্খলকে শক্তিশালী করা গেলে তার সুফল প্রথমে পৌঁছয় ক্ষুদ্রতম জমির মালিকের কাছেই। এই ভাবনা সরাসরি অন্ত্যোদয়ের দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    নারকেল উৎপাদনে বিশ্বসেরা ভারত (Naxal Hotbed)

    বিশ্বে নারকেল উৎপাদনে ভারত প্রথম এবং চাষের জমির পরিমাণের বিচারে তৃতীয়। বিশ্ব উৎপাদনের ৩১.২৪ শতাংশ এবং মোট চাষের জমির ১৭.৯০ শতাংশ ভারতের দখলে।

    কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ২১.৯ লক্ষ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ২০,৩০১.২২ মিলিয়ন নারকেল উৎপাদিত হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড় উৎপাদন হয়েছে ৯,২৪৯টি নারকেল।

    চাষের জমির পরিমাণে কেরল এগিয়ে। সেখানে প্রায় ৭.৫৪ লক্ষ হেক্টর জমিতে নারকেল চাষ হয় এবং উৎপাদন প্রায় ৫,১৪৯.৮৭ মিলিয়ন। উৎপাদনে তামিলনাড়ু এগিয়ে, আর উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রে শীর্ষে অন্ধ্রপ্রদেশ। এরপর রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু।

    একসময় মূলত উপকূলীয় অঞ্চলের ফসল হিসেবে পরিচিত নারকেল এখন ওড়িশা, গুজরাট, অসম এমনকি অরুণাচল প্রদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে এটি ক্রমেই জাতীয় জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত হচ্ছে।

    বস্তারে নারকেল চাষে নীরব বিপ্লব

    এই পরিবর্তনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ এসেছে ছত্তিশগঢ়ের বস্তার মালভূমি থেকে। একসময় নকশাল সমস্যার জন্য পরিচিত এই অঞ্চলের কৃষকেরা মূলত ধান, বিভিন্ন ধরনের বাজরা, ভুট্টা এবং ক্ষুদ্র বনজ পণ্য উৎপাদন করতেন।

    কোণ্ডাগাঁওয়ে নারকেল উন্নয়ন পর্ষদের প্রদর্শনী ও বীজ উৎপাদন খামারের উদ্যোগে সেখানে নারকেল চাষ একটি সম্ভাবনাময় জীবিকার পথ হিসেবে উঠে এসেছে। নতুন নারকেল গাছ ফলন দেওয়া শুরু করার আগে গাছের মধ্যবর্তী খালি জমিতে উপযুক্ত সাথি ফসল চাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় কৃষকদের। ফলে নারকেল গাছ থেকে ফলন আসার আগেই কৃষকের হাতে আয় আসতে শুরু করে।

    বাকাওয়ান্ড ব্লকের ৩৬ বছর বয়সি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক ঈশাংশ সিংহ রাঠোর এই উদ্যোগের অন্যতম উদাহরণ। কৃষক পরিবারের সন্তান রাঠোর কর্পোরেট ক্ষেত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে পর্ষদের কারিগরি সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে নারকেল চাষ শুরু করেন। তিনি ২,৫০০টি নারকেল গাছ লাগিয়েছেন, যার বেশিরভাগই খাটো জাতের। এর মধ্যে প্রায় ৫০০টি গাছে ইতিমধ্যেই ফলন শুরু হয়েছে।

    এর পর তিনি বহুস্তরীয় চাষপদ্ধতি গড়ে তোলেন। নারকেল বাগানের নীচে ৪,০০০টি আনারস, ৮০০টি ড্রাগন ফল, ১,০০০টি আমগাছ এবং ৬০০টি লেবুজাতীয় গাছ লাগিয়েছেন। পাশাপাশি রয়েছে কলা, পেয়ারা, পেপে, লিচু, কফি, স্ট্রবেরি ও মরসুমি সবজি।

    ফলে জমির উৎপাদনশীলতা বেড়েছে এবং সারা বছর আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাঁর খামার থেকে বছরে নারকেল বিক্রি করে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা আয় হয়। সাথি ফসল থেকে আরও প্রায় ১০ লাখ টাকা আসে (Naxal Hotbed)।

    রাঠোরের সাফল্য বস্তারের বহু কৃষককে এই নারকেলভিত্তিক চাষপদ্ধতি গ্রহণে উৎসাহিত করেছে। এর ফলে একসময় কৃষির দিক থেকে পিছিয়ে থাকা একটি জেলা উচ্চমূল্যের উদ্যানপালনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

    শুকনো নারকেল থেকে কুমারী তেল, রফতানিতে বড় লাফ

    নারকেলজাত পণ্যের রফতানিতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে নারকেলজাত পণ্যের রফতানি বেড়ে ৭,০৩৮.৩৫ কোটি টাকা বা ৭৯৪.৭০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। আগের বছর এই রফতানির পরিমাণ ছিল ৪,৩৪৯.০৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে বৃদ্ধি প্রায় ৬২ শতাংশ।

    ২০০১-০২ অর্থবর্ষে নারকেলজাত পণ্যের রফতানি ছিল মাত্র ২৫.৩ কোটি টাকা। তখন মূলত নারকেলের খোলের কাঠকয়লা ও নারকেল তেলের মতো ঐতিহ্যবাহী পণ্যই রফতানি হত। গত পাঁচ বছরেও এই খাতের লেনদেন ৩,২৩৬.৮৩ কোটি টাকা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

    রফতানি পণ্যের ধরনও বদলেছে। এখন ভারত বিশ্ববাজারে কুমারী নারিকেল তেল, নারিকেলের দুধ ও নারকেলের জল সরবরাহ করছে। সক্রিয় কার্বন, নারিকেল তেল, তাজা, হিমায়িত ও কোরানো নারিকেল, শুকনো নারকেল এবং শুষ্ক নারকেল অন্যতম প্রধান রফতানি পণ্য। এর মধ্যে সক্রিয় কার্বন ধারাবাহিকভাবে রফতানির পরিমাণে বড় অংশ দখল করে রয়েছে।

    আগে রফতানি মূলত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক ছিল। এখন ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াতেও বাজার বিস্তৃত হয়েছে। গত পাঁচ বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, শ্রীলঙ্কা, জার্মানি, রাশিয়া, তুরস্ক, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য এবং নেদারল্যান্ডস গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হয়ে উঠেছে।

    কাঁচা পণ্য রফতানি থেকে মূল্য সংযোজিত ও ব্র্যান্ডভিত্তিক পণ্যের দিকে এই পরিবর্তনকে আত্মনির্ভরতার বাস্তব রূপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ২ লাখ কোটি মার্কিন ডলার এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ২১ লাখ কোটি মার্কিন ডলারের রফতানির লক্ষ্যে এই খাতও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে (Naxal Hotbed)।

    বৃদ্ধির পিছনে নারকেল উন্নয়ন পর্ষদ

    ১৯৮১ সালের ১২ জানুয়ারি কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের অধীনে নারকেল উন্নয়ন পর্ষদ গঠিত হয়। কোচিতে সদর দফতর থাকা এই পর্ষদ দেশের ২২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নারকেল চাষ ও শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে।

    উন্নত মানের চারা সরবরাহ, চাষের এলাকা সম্প্রসারণ, পুরনো বাগানে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, কীটপতঙ্গ ও রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ—পর্ষদের মূল লক্ষ্যগুলির মধ্যে রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পর্ষদের বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য ১৪৭.২১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়।

    নারকেলের খোসা ও তন্তু থেকে তৈরি পণ্য বাদে অন্যান্য নারকেলজাত পণ্যের জন্য পর্ষদ রফতানি উন্নয়ন পরিষদ হিসেবেও কাজ করে। ২০২৫-২৬ পর্যন্ত ৮,২৯৯ জন রফতানিকারী পর্ষদের সঙ্গে নথিভুক্ত ছিলেন। ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮,৭০০।

    গত পাঁচ বছরে পর্ষদ দেশের ২০টি বাণিজ্য মেলায় ৭২ জন উদ্যোক্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ২২৪ জন রফতানিকারীর অংশগ্রহণে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি ৩৯২টি দেশীয় ক্রেতা-বিক্রেতা সম্মেলনও আয়োজিত হয়েছে (Coconut Hub)।

    ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে কৃষকের আয় সুরক্ষা

    নারকেল চাষিদের জন্য সবচেয়ে তাৎক্ষণিক সহায়তা হল দামের নিশ্চয়তা। শুকনো নারকেলের শাঁস, অর্থাৎ কোপরা, ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আওতাভুক্ত ২২টি নির্ধারিত ফসলের অন্যতম।

    ভারতে মূলত দুই ধরনের কোপরা উৎপাদিত হয়। একটি হল মিলিং কোপরা, যা খোল থেকে শাঁস বের করে শুকিয়ে তৈরি করা হয় এবং মূলত তেল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। অন্যটি বল কোপরা, যেখানে গোটা পাকা নারকেল শুকিয়ে ভিতরের শাঁস শক্ত করা হয়। এটি শুকনো ফল হিসেবে খাওয়া হয় এবং ধর্মীয় আচারেও ব্যবহার করা হয়।

    ২০২৬ মরসুমের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। মিলিং কোপরার দাম প্রতি কুইন্টালে ১২,০২৭ টাকা এবং বল কোপরার দাম ১২,৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের যথাক্রমে ১১,৫৮২ টাকা ও ১২,১০০ টাকার তুলনায় বৃদ্ধি হয়েছে ৪৪৫ টাকা ও ৪০০ টাকা। উভয় ক্ষেত্রেই উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ৫০ শতাংশ বেশি রাখা হয়েছে (Naxal Hotbed)।

    কেন্দ্রীয় সংগ্রহের জন্য নাফেড ও এনসিসিএফকে কেন্দ্রীয় নোডাল সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজ্যস্তরের সংস্থাগুলিও এই কাজে সহায়তা করছে।

    চারা উৎপাদন থেকে ভবিষ্যতের বাগান সম্প্রসারণ

    নারকেল চাষের ভিত্তি মজবুত করতে প্রথমেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উন্নত মানের চারা উৎপাদনে। প্রদর্শনী ও বীজ উৎপাদন খামার প্রকল্পের অধীনে নতুন তৈরি খামারগুলির জন্য প্রথম দুই বছরে ৩০ লাখ টাকা এবং তৃতীয় বছর থেকে ফলন স্থিতিশীল হওয়া পর্যন্ত প্রতি হেক্টরে বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়। ফলন স্থিতিশীল হতে সাধারণত ১৫ থেকে ২০ বছর সময় ধরা হয়।

    ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১১টি প্রদর্শনী ও বীজ উৎপাদন খামারে ২.৪১ লাখ উন্নত মানের চারা উৎপাদন করা হয়েছে।

    বীজ উদ্যানগুলির জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ২০.২৯ লাখ টাকা ব্যবহার হয়েছে। সহায়তার মাধ্যমে ১২টি নতুন নার্সারি তৈরি হয়েছে। এগুলির সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ১.০৬ লাক চারা। পাশাপাশি ছয়টি পুরনো নার্সারিও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে।

    সরকারি নার্সারিগুলিকে ২৩৯.৩৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ১১.৯৭ লাখ চারা উৎপাদনের ব্যবস্থা হয়েছে, যা আনুমানিক ৬,৮৫০ থেকে ৭,৫০০ হেক্টর জমির জন্য যথেষ্ট।

    চাষের এলাকা বাড়াতে প্রতি হেক্টরে ৫৬ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। দুই কিস্তিতে এই টাকা দেওয়া হয় এবং একজন সুবিধাভোগী সর্বোচ্চ দুই হেক্টর ও সর্বনিম্ন ০.০৮ হেক্টর জমির জন্য এই সহায়তা পেতে পারেন।

    ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ২০৯.২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে আরও ২,৯৭৯ হেক্টর জমি নারকেল চাষের আওতায় এসেছে। উপকৃত হয়েছেন ১৩,০৬৮ জন কৃষক। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কেরল ও কর্নাটক থেকে ওড়িশা, অসম ও অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিভিন্ন রাজ্যে প্রায় ২,১৭৫ হেক্টর জমিতে নতুন করে চাষ হয়েছে। এ জন্য ৬৩২.৭৭ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

    নারকেলভিত্তিক মিশ্র চাষে বাড়ছে উৎপাদনশীলতা

    নারকেলভিত্তিক ফসল ব্যবস্থা কর্মসূচির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর উদ্যোগও চলছে। গুচ্ছভিত্তিক এই কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ দুই হেক্টর জমির জন্য প্রতি হেক্টরে ৪২ হাজার টাকা, অর্থাৎ ১০০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হয়।

    ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২৬৬টি গুচ্ছে ১৮,৮০০ হেক্টর জমি এই কর্মসূচির আওতায় আসে। উপকৃত হন ৪৮,৬৯৬ জন কৃষক। এর জন্য খরচ হয়েছে ৩,৯৪৩ লাখ টাকা। রাজ্য সরকারের সমন্বিত সহায়তায় আরও ৫,৯৩৫ হেক্টর জমি যুক্ত হয়েছে এবং ব্যয় হয়েছে ১,২৪৬ লাখ টাকা।

    শুধু কেরলেই এই কর্মসূচির আওতায় এসেছে ৮,০৮৯ হেক্টর জমি এবং উপকৃত হয়েছেন ৩৩,২৫০ জন কৃষক। চলতি বছরে এই কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে ২২,৪৩০ হেক্টর করা হয়েছে।

    পুরনো ও বয়স্ক বাগানের জন্য পুনরায় চারা রোপণ ও পুনরুজ্জীবন কর্মসূচি রয়েছে। দুই বছরে প্রতি হেক্টরে সর্বোচ্চ ৫৪ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়। গত পাঁচ বছরে ২৫,৫১৭ হেক্টর জমি এই প্রকল্পের আওতায় এসেছে এবং খরচ হয়েছে ১৩০.৪৬ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষেই ১,৬৭২ হেক্টর জমি এই প্রকল্পের আওতায় এসেছে।

    এর পাশাপাশি জলসম্পদ তৈরি, জৈব চাষ এবং কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

    দক্ষতা, উদ্যোগ এবং ‘নীরা’-র সম্ভাবনা

    কেউ গাছে উঠতে না পারলে নারকেল গাছের পূর্ণ ব্যবহার সম্ভব নয়। তাই এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘নারকেল গাছের বন্ধু’ কর্মসূচির মাধ্যমে বেকার যুবকদের যন্ত্রের সাহায্যে নারকেল গাছে ওঠার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি গাছের সুরক্ষা ও উদ্যোগ গড়ে তোলার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে আরও ৩৭৮ জনকে গাছে ওঠার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

    একইসঙ্গে গাছের বিভিন্ন অংশ দিয়ে হস্তশিল্পের সামগ্রী তৈরির প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে তরুণদের।

    ২০২৫ সালে পর্ষদ একক প্রশিক্ষণ থেকে সংগঠিত উদ্যোগের দিকে এগিয়েছে। ‘কোকোমিত্র’ নামে নারকেল গাছে ওঠার কর্মীবাহিনী তৈরি করা হয়েছে। প্রশিক্ষিত কর্মীদের ছয় থেকে দশজনের নিবন্ধিত দলে সংগঠিত করা হচ্ছে। আধুনিক গাছে ওঠার যন্ত্র, উদ্ভিদ সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং চলাচলের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে তাদের।

    ‘কেরা কৌশল কেন্দ্রে’র মাধ্যমে খোল, কাঠ ও তন্তু দিয়ে তৈরি পণ্যের জন্য হস্তশিল্প কেন্দ্রের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। ১৫ সদস্যের দলকে আইনগত সংস্থা হিসেবে নথিভুক্ত করে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ থেকে ২.৬৭ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    নারিকেল গাছের পুষ্পমঞ্জরি থেকে সংগ্রহ করা অপরিশোধিত ও অপরিস্ফুটিত রস ‘নীরা’ নামেও পরিচিত। এতে অ্যালকোহল নেই এবং এটি পুষ্টিকর পানীয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নীরা সংগ্রহের জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত কৃষক উৎপাদক সংগঠনের মাধ্যমে সাত দিনের মাঠভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রস সংগ্রহের জন্য প্রযুক্তিবিদ তৈরি করাই এই প্রশিক্ষণের লক্ষ্য। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পর্ষদ ৪১৪টি সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করেছে।

    গাছে ওঠার শ্রমিক, নীরা সংগ্রহকারী প্রযুক্তিবিদ, সংকরায়ন কর্মী এবং নারকেল শ্রমিকদের দুর্ঘটনা থেকে সুরক্ষা দিতে ‘কেরা সুরক্ষা বিমা প্রকল্প’ চালু রয়েছে। পাশাপাশি কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ ও প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তির উন্নয়নে নারকেল বিষয়ক প্রযুক্তি মিশন কাজ করছে (Naxal Hotbed)।

    ২০২৬-২৭ বাজেটে নারকেলের জন্য নতুন উদ্যোগ

    ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে নারিকেল উন্নয়নের জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘নারকেল উন্নয়ন প্রকল্পে’র মাধ্যমে কীটপতঙ্গের আক্রমণ, শিকড় শুকিয়ে যাওয়ার রোগ এবং বয়স্ক বাগানের সমস্যা মোকাবিলায় বড় আকারে চারা উৎপাদন, সম্ভাবনাময় এলাকায় চাষ সম্প্রসারণ, ধাপে ধাপে পুনরায় চারা রোপণ, সমন্বিত ফসল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এবং মূল্য সংযোজন ও রফতানির জন্য সমন্বিত প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    কাজটি মোট ৩৫০ কোটি টাকার উচ্চমূল্যের কৃষি খাতের বৃহত্তর বরাদ্দের অংশ। এই বরাদ্দের আওতায় কাজুবাদাম ও কোকো চাষও রয়েছে। লক্ষ্য হল ২০৩০ সালের মধ্যে নারকেল ও নারকেল তন্তু রপ্তানিতে ভারতকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং একইসঙ্গে কৃষকদের আয় বাড়ানো (Coconut Hub)।

    পরিসংখ্যান বলছে, সেই লক্ষ্য এখন আর দূরের নয়। ২৫.৩ কোটি টাকার রফতানি থেকে ৭,০০০ কোটিরও বেশি টাকায় পৌঁছনো, উপকূলীয় ফসল থেকে অরুণাচল প্রদেশের মতো দূরবর্তী অঞ্চলে চাষের বিস্তার, কাঁচা কোপরা থেকে সক্রিয় কার্বন ও কুমারী নারকেল তেল উৎপাদন—সব মিলিয়ে ভারতের ‘কল্পবৃক্ষ’ তার প্রাচীন নামের যথার্থতা প্রমাণ করছে (Naxal Hotbed)।

     

  • Pak Espionage Case: সমাজমাধ্যমে বন্ধুত্ব, প্রেমের ফাঁদ, ভয় দেখিয়ে কৌশলে তথ্য হাতিয়ে নেওয়া! কীভাবে পাক গোয়েন্দাদের ফাঁদে ১৬ নৌসেনাকর্মী?

    Pak Espionage Case: সমাজমাধ্যমে বন্ধুত্ব, প্রেমের ফাঁদ, ভয় দেখিয়ে কৌশলে তথ্য হাতিয়ে নেওয়া! কীভাবে পাক গোয়েন্দাদের ফাঁদে ১৬ নৌসেনাকর্মী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঘটনার শুরু মাস ছয়েক আগে। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে নৌসেনাঘাঁটির এক গাড়িচালক আন্নাম সাই ভারাপ্রসাদের কাছে সমাজমাধ্যমে এক মহিলা ‘ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট’ পাঠান। নিজেকে ওই মহিলা জাহাজ নির্মাণ সংস্থার কর্মী বলে পরিচয় দেন। পাশের রাজ্যেরই বাসিন্দা বলে দাবি করেন। তদন্তকারী সূত্রের খবর, ভারাপ্রসাদের প্রথমে একটু সন্দেহ হয়েছিল। কিন্তু সেই মহিলা ধীরে ধীরে তাঁর বিশ্বাস অর্জন করেন। শুরু হয় সমাজমাধ্যমে দু’জনের কথোপকথন। তারপর প্রেম ও যৌনতার গল্প। এভাবেই বেড়ে চলে আলাপ। তারপর শুরু হয় অন্য খেলা (Pak Espionage Case)।

    সন্দেহ দূর করতে দেখা করার প্রতিশ্রুতি

    প্রথম দিকে, ওই মহিলা ভারাপ্রসাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জানতে চেয়েছিলেন। কোথায় থাকেন, কী করেন, কেন এখনও বিয়ে করছেন না ইত্যাদি। এ ছাড়াও তাঁর কাজ, বেতন, কী ধরনের গাড়ি চালান— ছোট ছোট এই তথ্যগুলি ভারাপ্রসাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন। তদন্তকারী সূত্রে খবর, একটু ঘনিষ্ঠতা বাড়তেই ওই মহিলা ভারপ্রসাদকে ইঙ্গিতপূর্ণ নানা রকম মেসেজ এবং ভিডিয়ো, ছবি পাঠানো শুরু করেন। শুধু তা-ই নয়, ভারাপ্রসাদের মনের সন্দেহ দূর করতে বিশাখাপত্তনমে তাঁর সঙ্গে দেখা করারও প্রতিশ্রুতি দেন। আলাপচারিতার সময় ভারাপ্রসাদ যখন জানিয়েছিলেন যে, তিনি নৌসেনা আধিকারিকদের গাড়ি চালান, তাঁর কাছ থেকে ওই আধিকারিকদের তথ্য কৌশলে সংগ্রহ করে নেন মহিলা।

    গ্রেফতারির ভয়, ব্ল্যাকমেল

    তার পর ভারাপ্রসাদের কাছে নৌঘাঁটি সম্পর্কে আরও কিছু জানতে চাইলে তিনি দিতে নারাজ হন। তখন ওই মহিলা ভারাপ্রসাদকে গ্রেফতারির ভয় দেখান। তাঁর সিনিয়রদের কাছে রিপোর্ট করার হুমকি দিতে থাকেন। তদন্তকারী সূত্রের খবর, এ ভাবে ক্রমাগত ব্ল্যাকমেল করে ভারাপ্রসাদের কাছ থেকে নৌসেনা সংক্রান্ত তথ্য, কোথায় রণতরী নোঙর করা, কোথায় রণতরী বানানো হচ্ছে ইত্যাদি তথ্য হাতিয়ে নেন মহিলা। নৌসেনা সংক্রান্ত আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করেন ওই মহিলা। তবে যেহেতু নৌঘাঁটির অভ্যন্তরীণ বিষয় ভারাপ্রসাদের নাগালের মধ্যে ছিল না, তাই সেই তথ্য পাচার করতে পারেননি বলেই তদন্তকারীরা মনে করছেন। ভারাপ্রসাদের গতিবিধির উপর এক মাস ধরে নজরদারি চালাচ্ছিল অন্ধ্রপ্রদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স (সিআই)।

    সমাজ মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি করে যৌনতার ফাঁদ

    তদন্তকারী সূত্রের খবর, ভারাপ্রসাদের মাধ্যমেই বাঙালি নৌসেনাকর্মী প্রদীপ মুখোপাধ্যায় সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন ওই মহিলা। তার পর ঠিক একই কৌশলে প্রদীপের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেন। তাঁর কাছ থেকে বিশাখাপত্তনম এবং কোয়েম্বাটুরের নৌসেনাঘাঁটি সম্পর্কে তথ্য আদায় করেন ব্ল্যাকমেল করে। ভারাপ্রসাদ এবং প্রদীপকে ঢাল বানিয়ে ঠিক একই কৌশলে দেশের ১০ রাজ্যে ১৬ নৌসেনাকর্মীকে যৌনতার ফাঁদে ফেলেন পাক গোয়েন্দারা। তার পর তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে ভারাপ্রসাদ এবং প্রদীপকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি করে যৌনতার ফাঁদে ফেলা এবং পরে ব্ল্যাকমেলের মাধ্যমে সামরিক তথ্য সংগ্রহই ছিল এই চক্রের কৌশল।

  • Star link Elon Musk: স্টারলিঙ্ক নিয়ে মাস্কের দাবি ঠিক নয়! ‘ভারতীয় ব্যবস্থায় নেই কোনও বৈষম্য’ জানাল মোদি সরকার

    Star link Elon Musk: স্টারলিঙ্ক নিয়ে মাস্কের দাবি ঠিক নয়! ‘ভারতীয় ব্যবস্থায় নেই কোনও বৈষম্য’ জানাল মোদি সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্টারলিঙ্ককে (Star link Elon Musk) ভারতীয় বাজারে প্রবেশে ‘বাধার’ অভিযোগ উড়িয়ে দিল দিল্লি। স্পষ্ট করে দেওয়া হল, এ দেশে স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবা-সহ সব ধরনের টেলিযোগাযোগ পরিষেবার জন্য একটি সুষ্ঠু এবং বৈষম্যহীন ব্যবস্থা রয়েছে। যদিও কেন্দ্রের বিবৃতিতে স্টারলিঙ্ক বা সংস্থার মালিক ইলন মাস্কের নামোল্লেখ করা হয়নি। তবে ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রক জানিয়েছে, বৈষম্যের যে দাবি সমাজমাধ্যমে করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

    কী বলল যোগাযোগ মন্ত্রক

    এক বিবৃতিতে যোগাযোগ মন্ত্রক বলেছে, “সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার ক্ষেত্রে ভারতের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই ব্যবস্থার বৈষম্যমূলক প্রয়োগ হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।” এর পরেই দিল্লির স্পষ্ট বার্তা, “স্যাটেলাইট যোগাযোগ-সহ সব ধরনের টেলিযোগাযোগ পরিষেবা প্রদানকারীদের জন্য ভারতে একটি সুষ্ঠু এবং বৈষম্যহীন কাঠামো রয়েছে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পরিষেবার প্রদানের লাইসেন্স পাওয়া প্রতিটি সংস্থাকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্তাবলি মেনে চলতে হয়। সাধারণ ব্যবহারকারী এবং তাঁদের তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নির্ধারিত মানদণ্ড রয়েছে, তা-ও বলা হয়েছে বিবৃতিতে। ২০২২ সাল থেকে অপেক্ষা করার পর গত বছরের জুনে ভারতীয় যোগাযোগ মন্ত্রকের ছাড়পত্র পায় স্টারলিঙ্ক। কেন্দ্র জানিয়েছে, স্যাটেলাইট-নির্ভর ইন্টারনেট পরিষেবার জন্য তিনটি সংস্থাকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে লাইসেন্সপ্রাপ্ত তিনটি সংস্থারই নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থা যাচাইয়ের কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলেই কোনও লাইসেন্সপ্রাপ্ত সংস্থা স্পেকট্রাম বরাদ্দের জন্য পরবর্তী ধাপে এগোতে পারবে।

    মার্কিন ধনকুবের মাস্কের দাবি

    বুধবার রাতে এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করেন মার্কিন ধনকুবের মাস্ক। সেখানে তিনি দাবি করেন, কিছু গোষ্ঠী তাঁর কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা সংস্থা স্টারলিঙ্ককে ভারতীয় বাজারে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। কাদের বিরুদ্ধে তাঁর ‘অভিযোগ’, তা ওই পোস্টে স্পষ্ট করেননি মাস্ক। হেঁয়ালি করে লেখেন, “আপনারাই বুঝে নিন কারা বাধা দিচ্ছে।” মার্কিন ধনকুবেরের ওই পোস্টের পর পরই এ বার নিরপেক্ষ সরকারি কাঠামো স্পষ্ট করে দিল ভারত। বুধবার অপর এক পোস্টে মাস্ক লেখেন, “যে ভারতীয়রা বর্তমান বাজারদরে ইন্টারনেট পরিষেবা কিনতে পারছেন না, বা যাঁদের কাছে কোনওরকম ইন্টারনেট পরিষেবাই পৌঁছোচ্ছে না, ভারতে তাঁদের জন্য স্বল্প খরচে হাই-স্পিড ইন্টারনেট পরিষেবার ব্যবস্থা করবে স্টারলিঙ্ক।”

  • Jharkhand: চটি খুলে খালি পায়ে ১,৬০০ মিটার দৌড়, নজর কাড়ল ঝাড়খণ্ডের বিধবা কবিতার লড়াই

    Jharkhand: চটি খুলে খালি পায়ে ১,৬০০ মিটার দৌড়, নজর কাড়ল ঝাড়খণ্ডের বিধবা কবিতার লড়াই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্টেডিয়ামে তখন চলছে হোমগার্ডে (Jharkhand) নিয়োগের শারীরিক পরীক্ষার প্রস্তুতি। হঠাৎই দর্শকদের নজর কেড়ে নিলেন নীল শাড়ি পরা এক মহিলা। কোমরে শাড়ি গুঁজে, পায়ের চটি খুলে খালি পায়ে দৌড় শুরু করলেন তিনি। একে একে টপকে গেলেন অন্য প্রার্থীদের। ১,৬০০ মিটার দৌড় শেষ করতেই স্টেডিয়ামজুড়ে শুরু হল হাততালি ও উচ্ছ্বাস। সেই মুহূর্তের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই (Home Guard Job) রাতারাতি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন ঝাড়খণ্ডের রামগড় জেলার বিধবা কবিতা কুমারী। কবিতার কাছে হোমগার্ডের চাকরি নিছকই একটি চাকরি নয়, বদলে দিতে পারে তাঁর জীবনের গতিপথ।

    অনুশীলনেই নজর কাড়লেন কবিতা (Jharkhand)

    রামগড় জেলার সোসো গ্রামের বাসিন্দা কবিতা প্রতিদিন ভোরে গ্রামের কাছাকাছি অসমতল জমিতে দৌড়ের অনুশীলন করেন। গত ৪ অক্টোবর তিনি সিধু কানহু স্টেডিয়ামে যান একটি বিনামূল্যের অনুশীলনী দৌড়ে অংশ নিতে। ক্রীড়াবিদদের পরিচালিত একটি প্রশিক্ষণ সংস্থার উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়েছিল। নিয়োগের শারীরিক পরীক্ষার আগে প্রার্থীরা যাতে মাঠের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন এবং নিজেদের শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই এই অনুশীলন। এই একই স্টেডিয়ামে ২৪ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত হোমগার্ড নিয়োগের শারীরিক পরীক্ষা হওয়ার কথা।

    শাড়ি ও চটি পরে সেদিন অনুশীলনে হাজির হয়েছিলেন কবিতা। তিনি বলেন, “স্টেডিয়ামে পৌঁছনোর পর থেকেই আমি খুব নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম। সবাই আমাকে শাড়ি পরা অবস্থায় দেখছিল। আর আমি দেখছিলাম, অন্যরা ট্র্যাকস্যুট পরে এসেছে, কারও হাতে ব্যাগ, জলের বোতল, পায়ে জুতো। এতে আমি কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে যাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দৌড়ে অংশ নিই।” মহিলা প্রার্থীদের ১,৬০০ মিটার দৌড় ১০ মিনিটের মধ্যে শেষ করতে হয়। কবিতা জানান, তিনি মাত্র আট মিনিটের মধ্যেই দৌড় শেষ করেন। এর ফলে পরীক্ষায় পূর্ণ নম্বর-সহ ‘উৎকৃষ্ট’ শ্রেণির ফল পান।

    কী বলছেন কবিতা

    কবিতার কথায়, “মানুষ আমাকে হাততালি না দেওয়া পর্যন্ত আমি বুঝতেই পারিনি যে আমি কী করেছি। শুধু চটি খুলে খালি পায়ে দৌড় শুরু করেছিলাম। দৌড়নোর সময় আমার মাথায় হোমগার্ডের চাকরি ছাড়া আর কিছুই ছিল না। কেউ আমার ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন। আমি আশা করি, শারীরিক পরীক্ষার দিনও একই শক্তি ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে দৌড়তে পারব।”

    ৪ অক্টোবরের এই অনুশীলনের আয়োজন করেছিলেন রামগড়ের অঙ্কিত সিং, যিনি অঙ্কিত রানার অ্যাকাডেমি পরিচালনা করেন। তাঁর বক্তব্য, উদ্দেশ্য শুধু অনুশীলনী দৌড় করানো ছিল না, প্রার্থীদের স্টেডিয়ামের মাঠের সঙ্গে পরিচিত করানোও ছিল (Jharkhand)।

    অঙ্কিত বলেন, “প্রকৃত শারীরিক পরীক্ষার আগে প্রার্থীদের জানা দরকার মাঠটি কেমন। মাঠের এক দিকে ঢাল রয়েছে। কোথাও বালি, কোথাও নুড়ি, আবার কোথাও অসমতল জমি। তাই অনেকেই ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার দূর থেকে এখানে অনুশীলন করতে আসেন। সেদিন প্রায় ১,৯০০ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১,১০০ জন মহিলা। অনেকেই গ্রামাঞ্চল থেকে এসেছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ শাড়ি পরেও এসেছিলেন। সেদিন ৫০ থেকে ৬০ জন মহিলা শাড়ি পরে দৌড়েছিলেন।”

    গ্রামাঞ্চলের মহিলাদের জন্য ট্র্যাকস্যুট ও দৌড়ের জুতো পরে নিয়মিত বাইরে গিয়ে অনুশীলন করা সবসময় সহজ নয় বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, প্রকৃত পরীক্ষার মাঠে অনুশীলনের সুযোগ পেলে প্রার্থীরা নিয়োগের দিন কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন, সে সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা পান।

    শূন্যপদ ২৮৪

    ঝাড়খণ্ডে হোমগার্ডে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় চলতি বছরের এপ্রিলে। রামগড় জেলায় শূন্যপদের সংখ্যা ২৮৪টি। এজন্য আবেদন জমা পড়েছে ১৬ হাজারেরও বেশি।

    নিয়োগের প্রথম পর্যায়ে রয়েছে শারীরিক পরীক্ষা। সেখানে ১,৬০০ মিটার দৌড়ের পাশাপাশি লং জাম্প, হাই জাম্প এবং শটপাট দিতে হবে। এরপর হবে লিখিত পরীক্ষা। মোট শূন্যপদের ৫০ শতাংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। এর মধ্যে ৫ শতাংশ পদ বিধবাদের জন্য নির্দিষ্ট।

    একের পর এক দুর্ভাগ্য, তবু থামেননি কবিতা

    কবিতা জানান, ২০০৯ সালে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থাতেই তাঁর বিয়ে হয়। বর্তমানে তাঁর বয়স তিরিশের কাছাকাছি। তিন বছর আগে মৃত্যু হয় স্বামী দীপক কুমার মাহাতর। তিনি ছিলেন পরিযায়ী শ্রমিক, কাজ করতেন গুজরাটে।

    কবিতা বলেন, “করোনার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বাড়ি ফিরে আসেন। এরপর বারবার অসুস্থ হতে থাকেন এবং ২০২৩ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। তখন শ্বশুর-শাশুড়ির দেখাশোনা, সংসার ও সন্তানদের সামলানো এবং সংসারের খরচ চালানোর দায়িত্ব আমার উপর এসে পড়ে।”

    স্বামীর মৃত্যুর মাত্র ছ’মাস পরেই পরিবারে আরও একটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। দীপকের ছোট ভাইও মারা যান। কবিতা জানান, ভাইয়ের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রীও বাড়ি ছেড়ে চলে যান।

    চিকিৎসার পেছনে বিপুল অর্থ খরচ হওয়ায় তাঁদের পরিবারের প্রায় ৬ লক্ষ টাকা ঋণ হয়েছে বলেও জানান কবিতা।

    সংসারের খরচ চালানো এবং ঋণ শোধ করতে রামগড় শহরের বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করেছেন তিনি। কিন্তু রাত করে কাজ শেষ হওয়ায় বাড়ি ফেরার জন্য যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকায় সেই কাজ ছেড়ে দিতে হয়। বর্তমানে মূলত ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করেন কবিতা। তাঁর দুই সন্তান রামগড়ের একটি বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করে (Jharkhand)।

    ইউটিউব দেখে নিজেই প্রস্তুতি

    শারীরিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কারও কাছে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সামর্থ্য ছিল না কবিতার। ইউটিউবের ভিডিও দেখেই নিজে নিজে অনুশীলন করেছেন তিনি।

    কবিতা বলেন, “আমি সন্তানদের ইউটিউব খুলে ভিডিও চালাতে বলি, কারণ নিজে খুব একটা ব্যবহার করতে জানি না। ভিডিও দেখে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিই। পোশাক, জুতো বা প্রশিক্ষণের জন্য খরচ করার মতো আমার কাছে একটি পয়সাও নেই। তাই নিজের চেষ্টাতেই প্রস্তুতি নিতে হয়।”

    তাঁর দৌড়ের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর একাধিক ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। দুমরির বিধায়ক জয়রাম কুমার মাহাত ফোনে কবিতার সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁকে একটি ট্র্যাকস্যুট ও দৌড়ের জুতো পাঠান।

    বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন হোমগার্ড কর্মী

    কবিতার প্রশিক্ষক অজয় কারমালি। ৩৮ বছর বয়সি অজয় রামগড়ে হোমগার্ডের চাকরি করেন। নিজের গ্রামের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে দুলমিতে এইচএমটি ফিজিক্যাল অ্যাকাডেমিও পরিচালনা করেন তিনি। চার-পাঁচ মাস আগে তিনি এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি শুরু করেন। গ্রামের বাসিন্দাদের বিনামূল্যে শারীরিক প্রশিক্ষণ দেওয়াই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় অজয়ের প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত পোস্ট দেখে কবিতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং প্রশিক্ষণে যোগ দেওয়ার সুযোগ চান (Home Guard Job)।

    অজয়ই তাঁকে নিয়োগের শারীরিক পরীক্ষার আগে স্টেডিয়ামে গিয়ে অনুশীলন করার পরামর্শ দেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল, কবিতা যেন মাঠের সঙ্গে পরিচিত হয়ে আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে পারেন।

    অজয় বলেন, “ওঁর দৌড়ের পোশাক ছিল না। কিন্তু আমি আশা করি, খুব শিগগিরই তিনি হোমগার্ডের পোশাক পরবেন (Jharkhand)।”

     

  • Lok Sabha Elections 2029: বাংলার ৪২ আসনই মোদিকে ‘উপহার’ দেওয়ার অঙ্গীকার শুভেন্দুর, উন্নয়নে গুজরাটের পথ অনুসরণের বার্তা

    Lok Sabha Elections 2029: বাংলার ৪২ আসনই মোদিকে ‘উপহার’ দেওয়ার অঙ্গীকার শুভেন্দুর, উন্নয়নে গুজরাটের পথ অনুসরণের বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছরের প্রশাসনিক যাত্রা পূর্তির অনুষ্ঠানে গুজরাটের ভাডনগরে দাঁড়িয়ে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে (Lok Sabha Elections 2029) পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনই বিজেপির দখলে আনার অঙ্গীকার করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মোদির নিজের রাজ্যে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর এই ঘোষণা রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি (Suvendu Adhikari) যে পথে গুজরাটের উন্নয়ন করেছিলেন, সেই পথ অনুসরণ করেই বাংলার উন্নয়ন করতে চান তিনি।

    সলতে পাকানোর কাজ শুরু বিজেপির (Lok Sabha Elections 2029)

    ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। বাংলার কোন কোন আসনে বিজেপির জয় তুলনামূলক ভাবে নিশ্চিত এবং কোথায় লড়াই কঠিন হতে পারে, তা নিয়েও দলের সাংগঠনিক স্তরে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে।

    এই আবহেই বুধবার শুভেন্দু দাবি করেন, আগামী লোকসভা নির্বাচনে বাংলার ৪২টি আসনেই বিজেপি প্রার্থীদের জেতানোর লক্ষ্যে তাঁরা সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করবেন। ভাডনগরের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, পরবর্তী লোকসভা ভোটে বাংলার সব আসন মোদিজিকে উপহার দেব।”

    মোদির প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে বিজেপির তরফে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মধ্যে দিয়ে মোদির প্রশাসনিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর সেই যাত্রার ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। সেই উপলক্ষেই বিজেপির তরফে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ভাডনগরের অনুষ্ঠানে শুভেন্দু তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতির অভিযোগও তোলেন। তাঁর কথায়, “বাংলায় এতদিন তুষ্টিকরণের রাজনীতি চলছিল। মোদিজি না-থাকলে বাংলাকে বাঁচানো মুশকিল হত। তাই মোদিকে কোটি কোটি প্রণাম। মোদিজি বাংলার সনাতনী এবং রাষ্ট্রবাদী জনতাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন।” এর পরেই মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ২০২৯ সালের ভোটে বাংলার সব আসন বিজেপিকে জেতানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

    ‘গুজরাটের মতো বাংলার উন্নয়ন করতে চাই’

    শুধু লোকসভা নির্বাচনের আসন জয়ের অঙ্গীকার নয়, বাংলার উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুজরাটকে অনুসরণ করার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। মোদির মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময় গুজরাটে যে ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, বাংলাতেও সেই ধাঁচে কাজ করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।

    শুভেন্দুর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি গুজরাটে যে রকম কাজ করেছেন, সে রকম কাজ আমি পশ্চিমবঙ্গে করার চেষ্টা করছি (Lok Sabha Elections 2029)।”

    ভাডনগরে পৌঁছে নিজের অনুভূতির কথাও জানান তিনি। শুভেন্দু বলেন, “ভাডনগরের হেলিপ্যাডে নেমে প্রথমে এই মাটিকে প্রণাম করেছি। কপালে সেই মাটি ঠেকিয়েছি।”

    মোদি ২০১৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে দীর্ঘ সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে গুজরাটের উন্নয়নকে বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে দলের অন্যতম প্রধান সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে আসছে। সেই উন্নয়নধারাকেই বাংলায় অনুসরণ করার কথা এ দিন স্পষ্ট করেন শুভেন্দু।

    ‘বিরোধীশূন্য বাংলা’র ডাক ঘিরে বিরোধীদের আক্রমণ

    তবে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলাকে কার্যত বিরোধীশূন্য করার যে বার্তা শুভেন্দু দিয়েছেন, তা নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছেন বিরোধীরা।

    সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “মাত্র দু’টি বিধানসভার উপনির্বাচনে আমরা দেখলাম, পুলিশকে দিয়ে পোলিং এজেন্ট, ভোটারদের উপরে অত্যাচার করা হয়েছে। বিরোধী-শূন্য করার জন্য শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের ঝান্ডা নিয়ে আগে যেভাবে পঞ্চায়েত দখল করতেন, এখন বিজেপির ঝান্ডা নিয়ে তা আরও চরমে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।”

    তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের দাবি, “বাংলার সব লোকসভা আসনে জেতার আশ্বাস তিনি জ্ঞানেশ কুমারের ভরসায় দিয়েছেন। কিন্তু জল অতদূর গড়াবে না। কেন্দ্রে বিজেপির সরকার হবে না। রাজ্যেও ওদের আসন কমবে।”

    কলকাতা থেকে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র সূচনা

    এর আগে বুধবার সকালে কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র সূচনা করেন শুভেন্দু। সেখানে মোদির কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “উনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন না। বলেন প্রধান সেবক। শুধু বলেন না, সেভাবেই নিজের কাজ করেন। আমাদের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা মোদিজি।”

    বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও এ দিন কোচবিহারে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’য় অংশ নেন। তিনি বলেন, “মোদিজির দীর্ঘ সেবাময় জীবনের এই অধ্যায় থেকে আমাদের শিক্ষা একটাই— সংগঠন তখনই শক্তিশালী হয়, যখন কর্মীরা মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হন। তাই আগামী দিনের পথেও আমাদের লক্ষ্য থাকবে মানুষের পাশে থাকা, সমাজের জন্য কাজ করা এবং দেশের উন্নয়নের যাত্রায় নিজেদের ভূমিকা পালন (Suvendu Adhikari) করা।”

    ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচন এখনও বছর তিনেক দূরে। তার আগেই বাংলার ৪২টি আসন জয়ের লক্ষ্য ঘোষণা করে বিজেপির রাজনৈতিক লড়াইয়ের রূপরেখা স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু। এখন দেখার, এই ‘৪২-এ ৪২’ লক্ষ্যকে সামনে রেখে (Lok Sabha Elections 2029) আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে বিজেপি কী কৌশল নেয়।

     

  • Virat Kohli: প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে যেতে ৫ কোটি টাকা নিয়েছিলেন বিরাট কোহলি? দাবি উড়িয়ে দিলেন ভারতীয় তারকা

    Virat Kohli: প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে যেতে ৫ কোটি টাকা নিয়েছিলেন বিরাট কোহলি? দাবি উড়িয়ে দিলেন ভারতীয় তারকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃন্দাবনে আধ্যাত্মিক গুরু প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে (Premanand Maharaj Ashram) যাওয়ার জন্য তাঁকে ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল—এমন অভিযোগ খারিজ করে দিলেন ভারতীয় ক্রিকেটার বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। কোহলির মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং তথ্যগতভাবে ভুল।

    প্রেমানন্দ মহারাজের রাধা কেলি কুঞ্জ আশ্রমের এক শিষ্যের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে যখন নানা প্রশ্ন উঠছে, সেই সময়েই কোহলিকে টাকা দেওয়ার এই অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগটি করেন শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি সংঘর্ষ ন্যাসের সভাপতি ফলাহারি মহারাজ দীনেশ শর্মা।

    কোহলির মুখপাত্রের সাফ কথা (Virat Kohli) 

    কোহলির মুখপাত্র অবশ্য স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, প্রেমানন্দ মহারাজের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর আশ্রমে যাওয়ার পিছনে কোনও আর্থিক লেনদেন নেই। তাঁর বক্তব্য, “এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং তথ্যগতভাবে ভুল।” কোহলির আশ্রমে যাতায়াতের কারণ শুধুমাত্র তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং আধ্যাত্মিক গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা।

    সংবাদমাধ্যমগুলিকে কোনও দাবি প্রকাশ বা প্রচার করার আগে তা যথাযথভাবে যাচাই করার আবেদন জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে সংবাদ পরিবেশনের সময় আরও দায়িত্বশীল হওয়ারও অনুরোধ করা হয়েছে।

    কোহলি এবং তাঁর স্ত্রী, অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মা, দীর্ঘদিন ধরেই প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে যাতায়াত করেন। ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি তাঁদের প্রথম প্রকাশ্যে আলোচিত আশ্রম-সফর হয়। এরপরও একাধিকবার তাঁরা সেখানে গিয়েছেন। কোহলি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরও আধ্যাত্মিক গুরুর সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ বজায় রয়েছে।

    তবে বর্তমানে এমন কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি, যার ভিত্তিতে বলা যায় যে আশ্রমে যাওয়ার জন্য কোহলি বা অনুষ্কাকে কোনও অর্থ দেওয়া হয়েছিল।

    কেন নজরে প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রম?

    কোহলিকে ঘিরে এই অভিযোগ এমন একটা সময়ে সামনে এসেছে, যখন এক শিষ্যের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে চলছে তদন্ত।

    রসিক দুলারি নামে ওই শিষ্য ২৫ সেপ্টেম্বর আশ্রমের চারতলা থেকে পড়ে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে মথুরা পুলিশ। তিনি মানসিক চাপ বা অবসাদে ভুগছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    আশ্রমে যোগ দেওয়ার আগে রসিকের জীবনযাপন কেমন ছিল (Virat Kohli) এবং মৃত্যুর আগে তাঁর আচরণ বা পরিস্থিতিতে কোনও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছিল কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

    তদন্তের স্বার্থে তাঁর পুরনো মোবাইল ফোন, নতুন সিম কার্ড, ফোনে যোগাযোগের বিস্তারিত তথ্য, কথোপকথন এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যও খতিয়ে দেখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর মাধ্যমে মৃত্যুর আগের দিনগুলিতে তাঁর গতিবিধি ও পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার চেষ্টা চলছে (Premanand Maharaj Ashram)।

    তদন্তের অংশ হিসেবে এখনও পর্যন্ত ৮৫ জনের বক্তব্য রেকর্ড করেছে পুলিশ। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কোনও অন্য বিষয় জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতেই চলছে তদন্ত (Virat Kohli)।

     

  • Air Force Chief: চার দশকের অভিজ্ঞতা, দেশের পরবর্তী বায়ুসেনা প্রধান এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত

    Air Force Chief: চার দশকের অভিজ্ঞতা, দেশের পরবর্তী বায়ুসেনা প্রধান এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের নতুন বায়ুসেনা প্রধান (Air Force Chief) হচ্ছেন এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত (Air Marshal Ashutosh Dixit)। এখন তিনি ভাইস চিফ অফ দ্য এয়ার স্টাফ পদে কর্মরত। আগামী ৩১ অক্টোবর বর্তমান বায়ুসেনা প্রধান অমরপ্রীত সিং অবসর নেবেন। ওই দিন বিকেলে তাঁর জায়গায় দায়িত্ব নেবেন আশুতোষ। পরম বিশিষ্ট সেবা মেডেল, অতি বিশিষ্ট সেবা মেডেল সহ একাধিক সম্মান রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ সদর দফতরে চিফ অফ ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ (সিআইএসসি) এবং সেন্ট্রাল এয়ার কমান্ডের এয়ার অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ সহ গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ও কৌশলগত পদেও কর্মরত ছিলেন এয়ার মার্শাল দীক্ষিত।

    কোন কোন অপারেশনে দায়িত্বে ছিলেন আশুতোষ

    ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির প্রাক্তনী আশুতোষ পরে বাংলাদেশে ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ কলেজ এবং নয়াদিল্লির ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৮৬-র ৬ ডিসেম্বর তিনি যোগ দেন বায়ুসেনার ফাইটার শাখায় (যুদ্ধবিমান)। দক্ষতার সঙ্গে টেস্ট পাইলট এবং ফ্লাইং ইনস্ট্রাক্টরের দায়িত্ব সামলেছেন। সব মিলিয়ে প্রায় চার দশকের কর্মজীবন তাঁর। ফাইটার জেট, প্রশিক্ষণ বিমান ও ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট মিলিয়ে ৩,৫০০ ঘণ্টারও বেশি বিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে আশুতোষের ঝুলিতে। এক সময়ে মিরাজ-২০০০ স্কোয়াড্রনেরও দায়িত্বে ছিলেন আশুতোষ। পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিমান ঘাঁটি এবং ফাইটার জেট ট্রেনিং ঘাঁটির কম্যান্ডারেরও দায়িত্বও সামলেছেন। অংশ নিয়েছেন অপারেশন সফেদ সাগর, অপারেশন রক্ষক এবং অপারেশন সিঁদুরে। মিরাজ-২০০০, বিভিন্ন মিগ বিমান, জাগুয়ার, তেজস, হক, অ্যান-৩২ এবং আইএল-৭৮ ওড়ানোর অভিজ্ঞতাও তাঁর রয়েছে।

    কোন কোন পদক রয়েছে আশুতোষের ক্যাবিনেটে

    আশুতোষ বর্তমানে ভাইস চিফ অফ দ্য এয়ার স্টাফের দায়িত্বে রয়েছেন। তার আগে সেন্ট্রাল এয়ার কম্যান্ডের এয়ার অফিসার কম্যান্ডিং ইন চিফ ছিলেন। পরে চিফস অফ স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যানের অধীনে চিফ অফ ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ করা হয় তাঁকে। এয়ার হেডকোয়ার্টার্সের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদেও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। এয়ার স্টাফের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণের দায়িত্বে থাকা প্রিন্সিপাল ডিরেক্টর, প্রজেক্টস এবং প্ল্যানস বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ অফ দ্য এয়ার স্টাফ এবং ডেপুটি চিফ অফ দ্য এয়ার স্টাফ হিসেবেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। দেশীয় যুদ্ধবিমান তেজস তৈরির প্রকল্পেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে জানা গিয়েছে। বিভিন্ন ভূমিকায় তাঁর অবদান ভারতীয় বিমান বাহিনীর পরিচালনগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। তাঁর বিশিষ্ট ও অসাধারণ সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে বায়ু সেনা পদক (২০০৬), বিশিষ্ট সেবা পদক (২০১১), অতি বিশিষ্ট সেবা পদক (২০২৩) এবং পরম বিশিষ্ট সেবা পদক (২০২৬)-এ ভূষিত করা হয়েছে।

LinkedIn
Share