Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • PM Modi: ২৫ বছর ধরে সরকারের শীর্ষে মোদি, বিশ্বনেতাদের শুভেচ্ছার বন্যা

    PM Modi: ২৫ বছর ধরে সরকারের শীর্ষে মোদি, বিশ্বনেতাদের শুভেচ্ছার বন্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারের প্রধান হিসেবে টানা ২৫ বছর পূর্ণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁর সরকারের শীর্ষপদে থাকার যাত্রা। ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেও সেই দায়িত্ব অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর তাঁর এই ২৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রা পূর্ণ হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

    ভুটান, জাপান, ফিলিপিন্স, নাইজেরিয়া, বতসোয়ানা, বেলজিয়াম, নেপাল, দক্ষিণ কোরিয়া, ডোমিনিকা-সহ একাধিক দেশের নেতারা মোদির দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁদের বার্তায় ভারতের উন্নয়ন, সুশাসন, পরিকাঠামো, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে।

    বিষ্ণুর অবতার বলে উল্লেখ ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi)

    ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে “আমাদের সময়ের এক অবতার” বলে উল্লেখ করেছেন। ২০১৯ সালে নয়াদিল্লিতে মোদির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কথাও স্মরণ করেন তিনি। সেই সময় মোদিকে নিজের দাদা এবং ভগবান বিষ্ণুর অবতার হিসেবে দেখেন বলে জানিয়েছিলেন তোবগে।

    মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্ঞান, সহমর্মিতা এবং সাহস—একজন আলোকিত নেতার এই গুণগুলির সমন্বয় তিনি মোদির মধ্যে দেখতে পান। তাঁর মতে, ‘বিকশিত ভারতে’র লক্ষ্যের মাধ্যমে ভারতের সামনে ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে (PM Modi)। তোবগে আরও বলেন, মোদির নেতৃত্বে ভারতীয়দের মধ্যে নিজেদের দেশ ও নিজেদের ক্ষমতার প্রতি আত্মবিশ্বাস আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    কী বললেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ভারতের উন্নয়নে অবদানের জন্য গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন।

    তিনি বলেন, “বহু বছর ধরে আপনি ভারতীয় সমাজ ও দেশের উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। ২০০১ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আপনি অসাধারণ রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রদর্শন করেছেন। ভারতের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের মর্যাদা বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে আপনার কৃতিত্বের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।”

    ভারত সফরের সময় উষ্ণ আতিথেয়তার জন্যও মোদিকে ধন্যবাদ জানান তাকাইচি। ভারত-জাপান সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মোদির সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

    মোদির প্রশংসা ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্টেরও

    ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রও মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। গুজরাট থেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নেতৃত্ব পর্যন্ত তাঁর রাজনৈতিক যাত্রার উল্লেখ করে মার্কোস বলেন, মোদির নেতৃত্বে সুশাসন, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, পরিকাঠামো এবং উন্নয়নের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    মার্কোসের মতে, এই বিষয়গুলি ভারতের পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। নভেম্বরে আসিয়ান-ভারত এবং পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে মণিলায় মোদিকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও জানান (PM Modi) তিনি।

    ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’, বললেন নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট

    নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ তিনুবু মোদির ২৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রাকে সত্যিই ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    তিনি বলেন, “একটানা ২৫ বছর নেতৃত্বে থাকা যে কোনও গণতন্ত্রের ক্ষেত্রেই বিরল কৃতিত্ব। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশে এটি ভারতীয় জনগণের তাঁর প্রতি দীর্ঘস্থায়ী আস্থার একটি শক্তিশালী প্রমাণ।”

    তিনুবু আরও বলেন, এই ২৫ বছরে মোদি উন্নয়নের প্রতি অটুট দায়বদ্ধতা নিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরিকাঠামো, ডিজিটাল পরিষেবা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে তাঁর নেতৃত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ভারত ও নাইজেরিয়ার কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার কথাও জানান নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট।

    মোদি স্তুতি বতসোয়ানার প্রেসিডেন্টের

    বতসোয়ানার প্রেসিডেন্ট ডুমা গিডিয়ন বোকো প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে ভারতীয় জনগণের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ও সেবার প্রশংসা (PM Modi) করেন।

    তিনি বলেন, “সরকারের শীর্ষে ২৫ বছর পূর্ণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন। ভারতীয় জনগণের প্রতি আপনার নিষ্ঠা ও সেবার আমরা প্রশংসা করি। আগামী বছরগুলিতে আপনার সাফল্য কামনা করি এবং আমাদের দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব আরও শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা রাখি।”

    ভারত-বেলজিয়াম সম্পর্ক আরও গভীর করার বার্তা

    বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট দে ভেভারও মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। গুজরাট থেকে নয়াদিল্লি—সরকারের নেতৃত্বে টানা ২৫ বছরের যাত্রার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গুজরাট থেকে নয়াদিল্লি পর্যন্ত সরকারের নেতৃত্বে টানা ২৫ বছর পূর্ণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। গত মাসে আমার ফলপ্রসূ ভারত সফরের পর দুই দেশের শক্তিশালী অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার অপেক্ষায় রয়েছি।” নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহও মোদিকে ২৫ বছরের জনসেবার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে ভারত সরকার ও মোদির আগামী দিনের সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।

    মোদির জার্নি, গুজরাট থেকে ‘কর্তব্যপথ’

    ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথমবার সরকারের প্রধানের দায়িত্ব নেন নরেন্দ্র মোদি। ওই দিন তিনি গুজরাটের  মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এরপর গুজরাটে টানা তিন দফা মুখ্যমন্ত্রী থাকার পর ২০১৪ সালের মে মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন। সেই সময় থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে টানা তৃতীয় মেয়াদ সম্পূর্ণ করার পথে রয়েছেন। ২৫ বছর পূর্তিতে পাওয়া শুভেচ্ছার জবাবও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। নাইজেরিয়া, ভুটান, ফিলিপিন্স, বতসোয়ানা, বেলজিয়াম এবং ডোমিনিকার নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন (PM Modi)।

     

  • OIC: সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ওআইসিকে রাষ্ট্রপুঞ্জে কড়া জবাব ভারতের, ‘আক্রান্ত ও সন্ত্রাসীকে আলাদা করতে ব্যর্থ’

    OIC: সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ওআইসিকে রাষ্ট্রপুঞ্জে কড়া জবাব ভারতের, ‘আক্রান্ত ও সন্ত্রাসীকে আলাদা করতে ব্যর্থ’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ভারতের পদক্ষেপ নিয়ে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাল ভারত। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর (OIC) রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতীয় জনতা পার্টির সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব বলেন, সন্ত্রাসবাদের জন্য দায়ী ব্যক্তি এবং সন্ত্রাসের শিকারদের মধ্যে পার্থক্য করতে ব্যর্থ হয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের ষষ্ঠ কমিটিতে আন্তর্জাতিক আইনি বিষয় নিয়ে (Pakistan Terror Infrastructure) আলোচনা চলাকালীন এই মন্তব্য করেন দেব। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় ভারতের জাতীয় বক্তব্য পেশ করছিলেন তিনি। এর আগে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার হয়ে সৌদি আরব একটি বক্তব্য পেশ করে। সেই বক্তব্যেরই জবাব দেন ভারতীয় সাংসদ।

    সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত (OIC)

    ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করে দেব বলেন, পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ভারত “সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত” পদক্ষেপ করেছে। তাঁর কথায়, “আমি এখন ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার সভাপতির দেওয়া সেই বক্তব্যের জবাব দিচ্ছি, যেখানে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতের সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। এই অঞ্চল থেকেই ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী হামলার পরিকল্পনা ও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার অবস্থানের সমালোচনা করে দেব আরও বলেন, “দুর্ভাগ্যজনক যে বক্তা সত্য ও কল্পনার মধ্যে পার্থক্য করতে পারছেন না এবং আক্রান্ত ও অপরাধীর মধ্যেও তফাত করতে পারছেন না।” তিনি বলেন, “পাকিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে আসা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজের নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখার পূর্ণ অধিকার ভারতের রয়েছে। সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত থাকার পরিণতি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”

    পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ তুলল ভারত

    রাষ্ট্রপুঞ্জে নিজের বক্তব্যে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং তার ভয়াবহ মানবিক মূল্যও তুলে ধরেন দেব। তাঁর বক্তব্য, ভারতের কাছে সন্ত্রাসবাদের হুমকি কোনও তাত্ত্বিক বিষয় নয়, বরং এটি “প্রতিনিয়ত এবং প্রতিদিনের বাস্তবতা”। দেবের মতে, সন্ত্রাসবাদ শুধু দেশের নিরাপত্তাকেই প্রভাবিত করে না, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং মানবাধিকারকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ প্রসঙ্গে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হওয়া সন্ত্রাসবাদী হামলার কথা উল্লেখ করেন তিনি। ওই হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হন। দেব এই হামলাকে ভারতের সার্বভৌমত্বের উপর পরিকল্পিত আক্রমণ বলে অভিহিত করেন। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিম সীমান্তের ওপার থেকে সমর্থন পাওয়া সংগঠনগুলিই এই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছিল। দেব বলেন, “সন্ত্রাসবাদ রাষ্ট্রপুঞ্জের মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। নিরীহ নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে নিশানা করার কোনওভাবেই ন্যায্যতা থাকতে পারে না। ভালো সন্ত্রাসবাদ ও খারাপ সন্ত্রাসবাদের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। ভারত সন্ত্রাসবাদী হামলাকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অবস্থানও পুনরায় তুলে ধরে তিনি বলেন, “একটিও হামলা অনেক বেশি, আর একটি প্রাণহানিও অনেক বেশি (OIC)।”

    জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির মন্তব্যের বিরোধিতা

    জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মন্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেন দেব। তিনি ওই মন্তব্যকে “অযাচিত উল্লেখ” বলে অভিহিত করেন। দেব বলেন, “ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার সভাপতির উচিত পাকিস্তানের বেআইনি দখলের দিকে আরও বেশি নজর দেওয়া। বিশেষ করে রাওয়ালাকোটে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড, নৃশংস হিংসা এবং সেখানে বসবাসকারী মানুষের মৌলিক অধিকার অস্বীকার করার বিষয়গুলি অত্যন্ত স্পষ্ট।” ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার বিরুদ্ধে “ইচ্ছাকৃত অন্ধত্বের” অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের অবস্থান পক্ষপাতিত্ব ও অসহিষ্ণুতারই প্রতিফলন।

    সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি

    রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক স্তরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবিরই অংশ। দেব দ্রুত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক সর্বাঙ্গীণ কনভেনশন গ্রহণের দাবি জানান। ভারত ১৯৯৬ সালেই এই প্রস্তাব প্রথম উত্থাপন করেছিল। শুধু সন্ত্রাসবাদীদের নয়, তাদের সংগঠক, অর্থদাতা এবং মদতদাতাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। এছাড়াও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলি কীভাবে নতুন প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে সদস্য সংগ্রহ, উগ্রপন্থায় প্ররোচনা, প্রচার, হামলার পরিকল্পনা এবং অর্থসংগ্রহ করছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত। রাষ্ট্রপুঞ্জের একটি পরিচিতিমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়া ১৫ সদস্যের ভারতীয় সংসদীয় প্রতিনিধিদলের অন্যতম (Pakistan Terror Infrastructure) সদস্য বিপ্লব কুমার দেব। জম্মু ও কাশ্মীর এবং পাকিস্তান-সংযুক্ত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারত ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মধ্যে চলতে থাকা কূটনৈতিক মতপার্থক্যের আবহেই রাষ্ট্রপুঞ্জে তাঁর এই বক্তব্য সামনে এল (OIC)।

     

  • Pakistan-Linked Espionage Probe: পাকিস্তানে তথ্যপাচার! গুপ্তচরবৃত্তি, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের নজরে ১৩ নৌসেনাকর্মী-সহ ১৮ জন

    Pakistan-Linked Espionage Probe: পাকিস্তানে তথ্যপাচার! গুপ্তচরবৃত্তি, কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের নজরে ১৩ নৌসেনাকর্মী-সহ ১৮ জন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিন কয়েক আগেই বাঙালি এক নৌসেনাকর্মীকে পাকিস্তানে তথ্যপাচারের (Pakistan-Linked Espionage Probe) অভিযোগে তামিলনাড়ু থেকে গ্রেফতার করেছিল অন্ধ্রপ্রদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআই)। শুধু ওই নৌসেনাকর্মীই নন, গোয়েন্দাদের সন্দেহের তালিকায় উঠে এসেছে আরও ১৮ জনের নাম। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনই নৌসেনাকর্মী। ‘অপারেশন ফায়ারওয়াল-২০২৬’-এর আওতায় দেশের ১০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তল্লাশি চালিয়ে ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, অভিযুক্তদের কয়েকজন পাকিস্তান-ভিত্তিক গোয়েন্দা অপারেটিভদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিশাখাপত্তনমের নৌঘাঁটি ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত স্থাপনা সম্পর্কে সংবেদনশীল তথ্য আদানপ্রদান করে থাকতে পারেন। এখনও পর্যন্ত বিশাখাপত্তনমের নৌ-প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    অপারেশন ফায়ারওয়াল-২০২৬

    দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত খবর পাক গোয়েন্দা সংস্থার হাতে কারা পৌঁছে দিচ্ছেন, একের পর এক ঘটনায় তা প্রকাশ্যে আসতেই অভিযানে নামে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল। অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ফায়ারওয়াল ২০২৬’। ১২টি দলে ভাগ হয়ে দেশের ১০ রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তল্লাশি চালাচ্ছে তারা। মূলত অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে চরবৃত্তির অভিযোগে নৌসেনাকর্মী গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়েছে। সূত্রের খবর, অন্ধ্রপ্রদেশ ছাড়াও তল্লাশি চালানো হচ্ছে কেরল, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, গোয়া, দিল্লি, গুজরাট, তামিলনাড়ু, বিহার এবং ছত্তিশগড়ে। মূলত ‘এনক্রিপ্টেড’ প্ল্যাটফর্মগুলির মাধ্যমে পাক হ্যান্ডলার বা গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।

    গ্রেফতার দু’জন

    পুলিশের দাবি, বিশাখাপত্তনমের নৌঘাঁটির কর্মী প্রদীপ মুখার্জিকে তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোর থেকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, পাকিস্তান-যোগ থাকা এক ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করার জন্য প্রয়োজনীয় ওটিপি তিনি শেয়ার করেছিলেন। পাশাপাশি পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য আদানপ্রদানের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, অন্নম সাই বরপ্রসাদ নামে এক ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বিশাখাপত্তনমে নৌসেনার আধিকারিকদের জন্য চুক্তিভিত্তিক চালক হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে তিনি পাকিস্তান-যোগ থাকা এক ব্যক্তির কাছে সংবেদনশীল তথ্য পাঠিয়েছিলেন। দু’জনকেই ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

    ১০ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অভিযান

    তদন্ত শুরু হয় ২ সেপ্টেম্বর। অন্ধ্রপ্রদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স পুলিশ স্টেশনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (UAPA) এবং সরকারি গোপনীয়তা আইন (Official Secrets Act)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এফআইআর-এ অভিযোগ করা হয়, কিছু ব্যক্তি এনক্রিপ্টেড যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিশাখাপত্তনম-সহ বিভিন্ন এলাকার প্রতিরক্ষা স্থাপনা ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থান সম্পর্কে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ ও পাচার করছিলেন। এরপর ১ অক্টোবর শুরু হয় ‘অপারেশন ফায়ারওয়াল-২০২৬’। অভিযানে অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি কেরল, মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, গুজরাত, গোয়া, দিল্লি, তামিলনাড়ু, ছত্তীসগঢ় এবং বিহারে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের ১২টি দল তল্লাশি চালায়। স্থানীয় পুলিশ, রাজ্য পুলিশের সন্ত্রাসদমন শাখা এবং নৌসেনার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। তদন্তকারীরা ১৮ জনের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন। তাঁদের কাছ থেকে বেশ কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। ডিজিটাল যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে এখনও পর্যন্ত অন্তত দু’জনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলে কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।

    বিশাখাপত্তনমে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ

    বিশাখাপত্তনমের নৌ-প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান-যোগ থাকা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ২০১৯ সালের একটি মামলায় বিদেশি এজেন্ট এবং স্থানীয় সহযোগীদের মাধ্যমে নৌ-প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ওঠে। ওই মামলা পরে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ-এর হাতে যায়। ২০২৫ সালের নভেম্বরের মধ্যে বিশাখাপত্তনমের একটি বিশেষ এনআইএ আদালত ওই মামলায় গ্রেফতার হওয়া ১৫ জনের মধ্যে আটজনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। এছাড়াও ২০২১ সালের জানুয়ারিতে অন্ধ্রপ্রদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল একটি পৃথক গুপ্তচরবৃত্তির মামলা দায়ের করে। ২০২৩ সালের মে মাসে সেটিও এনআইএ-এর হাতে যায়। ওই মামলায় ভারতীয় নৌসেনার যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন সংক্রান্ত শ্রেণিবদ্ধ তথ্য পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করা হয়েছিল। সিম কার্ড, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট এবং আর্থিক লেনদেন ব্যবহারের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় ছিল।

    ডিজিটাল ও আর্থিক নথি বিশ্লেষণ

    ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এনআইএ (NIA) জানায়, ওই পৃথক মামলায় প্রতারণার মাধ্যমে সিম কার্ড, ওটিপি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অভিযোগে এক অভিযুক্তকে বিশেষ আদালত সাজা দিয়েছে। তবে বর্তমান ‘অপারেশন ফায়ারওয়াল-২০২৬’-এর সঙ্গে আগের মামলাগুলির কোনও প্রত্যক্ষ যোগসূত্র এখনও প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ১৮ জনকে ঘিরে চলা বর্তমান তদন্তে আরও তথ্য সংগ্রহ এবং ডিজিটাল ও আর্থিক নথি বিশ্লেষণের কাজ চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সন্দেহভাজনদের ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হয়নি।

     

     

     

     

     

     

  • PM Modi: ২০৪৭-এর মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার সংকল্প, ২৫ বছরের প্রশাসনিক যাত্রায় মোদি বললেন, “আমরা করবই”

    PM Modi: ২০৪৭-এর মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার সংকল্প, ২৫ বছরের প্রশাসনিক যাত্রায় মোদি বললেন, “আমরা করবই”

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে তাঁর অঙ্গীকার ফের স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। বুধবার প্রশাসনের প্রধান হিসেবে তাঁর টানা ২৫ বছরের যাত্রা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আমরা অবশ্যই তা অর্জন করব। আমরা করবই, আমরা করবই, আমরা করবই।” জাতীয় রাজধানীর ইন্দিরা গান্ধী ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘সেবা জ্যোতি’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জীবনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মোদি। তিনি বলেন, “আজ যখন পিছন ফিরে তাকাই, তখন শুধু কৃতজ্ঞতার অনুভূতিই জাগে। প্রত্যেক ব্যক্তি এবং প্রত্যেক ঘটনা (Viksit Bharat) আমাকে কিছু না কিছু শিখিয়েছে। আমি তাঁদের প্রত্যেকের কাছে কৃতজ্ঞ।”

    অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া শিক্ষার কথা (PM Modi)

    নিজের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া শিক্ষার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “যে আমাকে জয় এনে দিয়েছে, সে আমাকে বিনয়ী হতে শিখিয়েছে; যে আমাকে ফেলে দিয়েছে, সে আবার উঠে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। শুভাকাঙ্ক্ষীরা আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন, আর সমালোচকরা নিজের ভিতরে আরও গভীরভাবে তাকাতে শিখিয়েছেন। যাঁরা আমাকে সমর্থন করেছেন, তাঁরা বিশ্বাসের শক্তি দেখিয়েছেন, আর যাঁরা বিরোধিতা করেছেন, তাঁরা গণতন্ত্রের শক্তি বুঝতে সাহায্য করেছেন।”

    নিজেকে কখনও একা মনে হয়নি বলেও জানান মোদি। তিনি বলেন, “আমি কখনও অনুভব করিনি যে আমি একা। অসংখ্য স্বয়ংসেবক রয়েছেন, যাঁরা ভারতের সাংস্কৃতিক আত্মার রক্ষক। তাঁদের একমাত্র উদ্দেশ্য ভারতসেবা। তাঁরা এই চেতনা নিয়েই বাঁচেন এবং প্রতি মুহূর্তে নিজেদের মনে করিয়ে দেন—‘আমরা সেবক। আমরা মানবতার সেবক।’” দেশের প্রতি নিষ্ঠা ও কর্তব্যে অবিচল থাকা প্রত্যেক স্বয়ংসেবক ও কর্মীকে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।

    ভূমিকম্প, চন্দ্রযান থেকে করোনা—অভিজ্ঞতাই দিয়েছে শিক্ষা

    নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার উল্লেখ করে মোদি জানান, ২০০১ সালের ভুজ ভূমিকম্প তাঁকে পুনর্গঠনের কাজে দৃঢ় থাকার শিক্ষা দিয়েছে। চন্দ্রযান অভিযান তাঁকে ব্যর্থতা থেকে উঠে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। করোনা মহামারি তাঁকে দেশের সম্মিলিত চেতনার গুরুত্ব উপলব্ধি করিয়েছে। সুখ-দুঃখ মেশানো অভিজ্ঞতার মধ্যেও এগিয়ে যেতে তাঁকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে সংবাদমাধ্যম।

    ভারতের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও নিজের শক্তির উৎস হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “বেদ থেকে বিবেকানন্দ পর্যন্ত যে দেশ মহান চিন্তাকে ধারাবাহিকভাবে ধারণ করেছে, যে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হাজার হাজার বছর ধরে বিস্তৃত, যে দেশ মানবতার প্রতি মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করেছে—এমন একটি দেশের সেবা করার সময় আমি কখনও নিজেকে (Viksit Bharat) একা মনে করিনি।”

    তিনি বলেন, ৭ অক্টোবরের দিনটি শুধু অতীতের স্মৃতিচারণের দিন নয়, ভবিষ্যতের জন্য নতুন করে সংকল্প নেওয়ার দিনও। তাঁর কথায়, “এই দিন সেই প্রতিশ্রুতি আবারও স্মরণ করার দিন। এই দিন সেই সংকল্প প্রকাশ করার দিন, যা বলে—‘আমরা অবশ্যই তা অর্জন করব।’ আমরা অর্জন করব, আমরা করবই (PM Modi), আমরা করবই, আমরা করবই।”

    পুষ্পবৃষ্টিতে মোদিকে স্বাগত

    ‘সেবা সংকল্প অভিযানে’র অংশ হিসেবে বিজেপি আয়োজিত ‘বিকশিত ভারত সংকল্প সভা’য় যোগ দিতে পৌঁছনোর সময় মোদিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান দলের কর্মী-সমর্থকেরা। ফুল ছিটিয়ে, বিজেপির পতাকা হাতে এবং ‘ভারত মাতা কি জয়’, ‘স্বাগত হ্যায়, ভাই স্বাগত হ্যায়; মোদি জি কা স্বাগত হ্যায়’ স্লোগান দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়। মোদির আগমনের মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করতে বহু মানুষকে মোবাইল ফোন বের করতেও দেখা যায়।

    সভায় বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন প্রধানমন্ত্রীকে প্রশাসনের প্রধান হিসেবে ২৫ বছর পূর্ণ করার জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, “মানুষ আপনাকে আশীর্বাদ ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, যাতে আপনি আগের মতোই একই নিষ্ঠার সঙ্গে দেশসেবা চালিয়ে যেতে পারেন।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা আপনাকে ধারাবাহিকভাবে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি এবং সাফল্য কামনা করছি, যাতে আপনি বিকশিত ভারতের সংকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।”

    নিতিন নবীনের দাবি, গত ২৫ বছর ধরে মোদি নিজের জীবনকে প্রদীপের মতো জ্বালিয়ে ১৪০ কোটি ভারতীয়ের জীবনে উন্নয়ন, আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছেন। তিনি বলেন, “আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে আপনার দীর্ঘ ও সফল জনজীবনের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা এবং শুভেচ্ছা জানাই।”

    সংগ্রাম থেকে প্রশাসনের শীর্ষে

    বিজেপির জাতীয় সভাপতি বলেন, “আজ সমস্ত ভারতীয় এবং বিজেপির সমস্ত কর্মীর কাছে একটি অবিস্মরণীয় দিন। আজ এমন এক ব্যক্তিত্বের ২৫ বছরের যাত্রার সাক্ষী থাকার দিন, যাঁর পথচলা সংগ্রামের মধ্যে শুরু হয়েছিল (PM Modi) এবং যিনি প্রতিটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে এগিয়ে গিয়েছেন।”

    নবীনের বক্তব্য, তপস্যা, নিষ্ঠা (Viksit Bharat) ও সংকল্পের মাধ্যমে মোদি জনসেবাকেই জীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাঁর কথায়, “তাঁর কাছে জনসেবা হয়ে উঠেছিল দেশসেবার পথ। সেই সংকল্প নিয়ে রাজনীতি ও ক্ষমতাকে সেবার মাধ্যম করে তিনি দেশসেবার পথে এগিয়ে গিয়েছেন।”

    প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্যের উল্লেখ করে নবীন দাবি করেন, লোকসভা নির্বাচনের আগে দেশের সামনে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হওয়া ভারতের ইতিহাসে মোদিই প্রথম ব্যক্তি, এবং পরে জনগণ বিজেপিকে বিপুল জনাদেশ দিয়ে তাঁকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করে (PM Modi)।

    ২০০১-এ গুজরাট, ২০১৪-তে দিল্লি

    নরেন্দ্র মোদি ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার শপথ নেন। সেই সময় গুজরাট ভয়াবহ ভুজ ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলাচ্ছিল। পাশাপাশি রাজ্যটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ছিল।

    ২০১৪ সাল পর্যন্ত গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকার পর জাতীয় রাজনীতিতে আসেন মোদি। তারপর তিন দফায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর প্রশাসনের প্রধান হিসেবে তাঁর টানা ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক প্রস্তাবেও উল্লেখ করা হয়েছে (Viksit Bharat)। তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়ে ভারতের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিসরও সম্প্রসারিত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি গ্লোবাল সাউথে ভারতের ভূমিকা আরও দৃশ্যমান করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে তাঁর (PM Modi) সরকার।

     

  • Siliguri Corridor: মাটির নিচে রেল, বাঙ্কার, নতুন হাইওয়ে: শিলিগুড়ি করিডরকে দুর্ভেদ্য করতে ভারতের সাত স্তরের মাস্টারপ্ল্যান

    Siliguri Corridor: মাটির নিচে রেল, বাঙ্কার, নতুন হাইওয়ে: শিলিগুড়ি করিডরকে দুর্ভেদ্য করতে ভারতের সাত স্তরের মাস্টারপ্ল্যান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একমাত্র স্থলপথের যোগসূত্র শিলিগুড়ি করিডর। এই সংকীর্ণ পথটিকে আরও মজবুত করতে বহুস্তরীয় কৌশলগত পরিকাঠামো গড়ে তুলছে কেন্দ্র। বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান ভারত-বিরোধী মনোভাব ও নিরাপত্তা অস্থিরতা এবং চিনের আগ্রাসী সামরিক তৎপরতার মধ্যে এই উদ্যোগ বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। ভূগর্ভস্থ সামরিক পরিকাঠামো, অতিরিক্ত রেললাইন, বিকল্প হাইওয়ে, সীমান্ত সড়ক ও নতুন সেনা স্থাপনা— সব মিলিয়ে ‘চিকেন নেক’ বলে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডরকে ‘‘ফর্টেস’’ বা দুর্গে পরিণত করার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। মূল লক্ষ্য একটাই: কোনও একটি রুট বন্ধ হয়ে গেলেও যেন উত্তর-পূর্বের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগ অচল না হয়।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর?

    • ● সবচেয়ে সংকীর্ণ জায়গায় করিডরের প্রস্থ মাত্র ২২ কিলোমিটার
    • ● নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটান সীমান্তের খুব কাছে, পাশেই চিনের চুম্বি উপত্যকা
    • ● রেললাইন, হাইওয়ে, সামরিক ঘাঁটি ও লজিস্টিক রুট ঘনীভূত থাকায় একটি রুটে বিঘ্ন ঘটলেই বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে

    তাই এখন একটি রাস্তা, রেলপথ বা স্থাপনার ওপর নির্ভর না করে একাধিক সমান্তরাল রুট ও সুরক্ষিত স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলেই তৈরি হচ্ছে সাত স্তরের নিরাপত্তা কাঠামো।

    সাত স্তরের নিরাপত্তা কাঠামো

    ১. ভূগর্ভে গোলাবারুদ ও সামরিক সম্পদের সুরক্ষা

    বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৯৭ কোটি টাকার সেনা পরিকাঠামো প্যাকেজে রয়েছে:

    • ● ১২টি ভূগর্ভস্থ আর্মি ও এয়ার ডিফেন্স গোলাবারুদ মজুত কেন্দ্র
    • ● ১টি ভূগর্ভস্থ লং রেঞ্জ গোলাবারুদ মজুত কেন্দ্র
    • ● ২১টি ওভারগ্রাউন্ড লং রেঞ্জ ভূপৃষ্ঠস্থ ফায়ারিং পজিশন
    • ● ১২টি বোমা আশ্রয়কেন্দ্র (বাঙ্কার)
    • ● দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্টোরেজ স্পেস

    করিডরে জায়গা কম বলে মাটির নিচের স্থাপনা একইসঙ্গে সুরক্ষিত ও জায়গা-সাশ্রয়ী।

    ২. সুরক্ষিত কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক

    সংকটকালেও সামরিক সিদ্ধান্ত ও যোগাযোগ যাতে বজায় থাকে, সেটাই এই স্তরের উদ্দেশ্য। এর জন্য তৈরি হয়েছে বা হচ্ছে:

    • ● ৫টি ভূগর্ভস্থ কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টার
    • ● ৬টি ভূগর্ভস্থ কমিউনিকেশন সেন্টার
    • ● আরও কয়েকটি ভূগর্ভস্থ লং রেঞ্জ গোলাবারুদ মজুত কেন্দ্র

    আকাশপথে হামলা, ড্রোন বা ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতেও অপারেশনাল ধারাবাহিকতা রক্ষাই লক্ষ্য।

    ৩. ছ’লেনের রেলপথ: করিডরের নিচে ‘দ্বিতীয় লাইফলাইন’

    এই পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভূগর্ভস্থ রেলপথ।

    • ● ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, এই কৌশলগত করিডরের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা চলছে, যাতে থাকছে ভূগর্ভস্থ ট্র্যাক ও বিদ্যমান রেল পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ
    • ● রুট: টিন মাইল হাট (দুমদুমি) থেকে রাঙ্গাপানি হয়ে বাগডোগরা
    • ● ট্র্যাক থাকবে মাটির ২০ থেকে ২৪ মিটার নিচে
    • ● প্রকল্পটি ‘স্পেশাল রেলওয়ে প্রজেক্ট’ হিসেবে বিজ্ঞপ্তিভুক্ত। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের বিজ্ঞপ্তিতে দুমদুমি (টিন মাইল হাট)–রাঙ্গাপানি–বাগডোগরা অংশের দৈর্ঘ্য ৩৫.৭৬ কিলোমিটার
    • ● বর্তমান ডাবল লাইনকে চার লাইনে উন্নীত করার পাশাপাশি যোগ হবে দুটি ভূগর্ভস্থ লাইন, অর্থাৎ মোট ছ’টি লাইন (চারটি ওপরে, দুটি নিচে)

    ওপরের কোনও অংশ জটিলতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা নিরাপত্তাজনিত কারণে বিঘ্নিত হলে সুরক্ষিত বিকল্প রেলপথ কাজে লাগবে। এতে সামরিক রসদ চলাচলও নির্বিঘ্ন থাকবে।

    ৪. হাইওয়ের জাল: এক রুটের ওপর নির্ভরতা কমানো

    • ● প্রস্তাবিত গোরক্ষপুর–শিলিগুড়ি এক্সপ্রেসওয়ের বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (DPR) তৈরির কাজ চলছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে সংসদে এ কথা জানায় কেন্দ্র
    • ● শিলিগুড়ির সঙ্গে গুয়াহাটি ও শিলং সংযোগকারী বড় হাইওয়ে উদ্যোগেরও ঘোষণা হয়েছে

    একাধিক হাইওয়ে ও সেতু থাকলে সাধারণ ট্রাফিক, লজিস্টিক্স, জরুরি চলাচল ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণ ভাগ হয়ে যেতে পারবে।

    ৫. সিকিমমুখী এনএইচ-১০ ও পার্শ্ববর্তী সংযোগ সড়ক

    • ● সেবক থেকে রংপো পর্যন্ত এনএইচ-১০ উন্নয়নের পরিকল্পনা
    • ● প্রধান হাইওয়েগুলির মধ্যে অতিরিক্ত সংযোগ সড়ক, যাতে সিকিম সেক্টরে যাওয়ার বিকল্প পথ মেলে

    শিলিগুড়ি শুধু উত্তর-পূর্বের প্রবেশদ্বার নয়, উত্তর ও উত্তর-পূর্ব সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক কেন্দ্রও। ভারী যান চলার মতো বিকল্প রাস্তা তাই সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ পাঠানোয় বাড়তি নমনীয়তা দেবে।

    ৬. সীমান্ত সড়কে নিরাপত্তার জাল

    • ● ইন্দো-নেপাল বর্ডার রোড কর্মসূচির আওতায় ফতেপুর–গালগালিয়া সড়ক (৭৯.৫ কিলোমিটার)
    • ● ইন্দো-নেপাল সীমান্তে আরও সড়কের প্রস্তাব, যা টহলদারি ও সংযোগ বাড়াবে
    • ● ভুটান সীমান্ত বরাবর সংযোগ উন্নয়নেরও পরিকল্পনা

    দুর্গম সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পৌঁছতে পারবে, সীমান্ত-পারের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জে প্রতিক্রিয়াও দ্রুততর হবে।

    ৭. ভারত-ভুটান-চিন ত্রিসংযোগস্থল ঘিরে কৌশলগত সংযোগ

    সিকিম ও ভুটান সীমান্তের সংবেদনশীল পথে দ্রুত পৌঁছনো ও সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে অতিরিক্ত সামরিক স্থাপনার পরিকল্পনা রয়েছে। শিলিগুড়ি করিডর সিকিম-ভুটান-চিন ত্রিসংযোগের কাছেই, আর চুম্বি উপত্যকা ভারত ও ভুটান সীমান্তের নিকটে। তাই শিলিগুড়ির সুরক্ষাকে বিচ্ছিন্ন পরিকাঠামো প্রকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, সিকিম, ভুটান ও পূর্ব হিমালয় অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণ একই সূত্রে বাঁধা।

    কেন এই ‘রেজিলিয়েন্স’ কৌশল?

    এই পরিকল্পনার মূল ভাবনা একটি বিশাল দুর্গ গড়া নয়, বরং এমন ব্যবস্থা তৈরি করা যেখানে কোনও একটি রাস্তা, রেললাইন, সেতু বা সামরিক স্থাপনা দুর্বলতম বিন্দু হয়ে উঠবে না।

    • ● একটি হাইওয়ে বন্ধ হলে অন্য রুট দিয়ে যান চলবে
    • ● ওপরের রেলপথ বিঘ্নিত হলে ভূগর্ভস্থ লাইন বিকল্প হবে
    • ● ভূপৃষ্ঠের সামরিক স্থাপনা হুমকির মুখে পড়লেও ভূগর্ভস্থ কমান্ড, যোগাযোগ ও গোলাবারুদ কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ কাজ চালিয়ে যাবে

    সব মিলিয়ে বার্তা স্পষ্ট: একাধিক স্তরের সুরক্ষা ও একাধিক পথ থাকলে চোকপয়েন্টকে ‘চোক’ করা অনেক কঠিন।

  • By Election: উপনির্বাচনেও ব্যাপক ভোট পড়ল নন্দীগ্রামে, রেজিনগরেও হাত উপুড় ভোটারদের

    By Election: উপনির্বাচনেও ব্যাপক ভোট পড়ল নন্দীগ্রামে, রেজিনগরেও হাত উপুড় ভোটারদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর আসনে উপনির্বাচনকে (By Election) ঘিরে সকাল থেকেই উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল তুঙ্গে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত নন্দীগ্রামে ভোট পড়েছে (Latest Update) ৭৯.৩৯ শতাংশ। খুব একটা পিছিয়ে নেই রেজিনগরও। সেখানে ভোটদানের হার ৭৮.৪২ শতাংশ।

    নন্দীগ্রাম (By Election)

    নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের হয়ে রবিবার পদযাত্রা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হাসিরানি নিহত বিজেপি নেতা চন্দ্রনাথ রথের মা। প্রচারে গিয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করেন শুভেন্দু। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি। শুভেন্দুর অভিযোগ, একুশের ভোটের সময় মমতার পায়ে চোট লাগার দাবি “মিথ্যা” ছিল। সেই ঘটনার পর খুনের চেষ্টার একটি মামলায় বিজেপি নেতাদের ফাঁসানোর জন্য তৎকালীন তৃণমূল সরকার সিআইডির “অপব্যবহার” করেছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এদিন টোটোয় চড়ে নন্দীগ্রামের একটি বুথে গিয়ে ভোট দেন মুখ্যমন্ত্রী। আজীবন এই কেন্দ্রের ভোটার থাকতে চান বলেও জানান তিনি

    রেজিনগর

    এদিকে, রেজিনগর আসনটি ফাঁকা হয়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীরের কারণে। তিনি একই সঙ্গে রেজিনগর ও নওদা—দুই কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর নওদা আসনটি ধরে রাখেন। ফলে রেজিনগর আসনে উপনির্বাচন হয়েছে। এই কেন্দ্রে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হয়ে (By Election) লড়ছেন তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ। রেজিনগরে তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবিরের প্রার্থী রাবিউল আলম চৌধুরী। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের প্রার্থী সাফিউজ্জামান শেখও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। কংগ্রেসের প্রার্থী মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি। ফলে এই কেন্দ্রে বহুমুখী লড়াইয়ের ছবি স্পষ্ট।

    তামিলনাড়ুতেও জমজমাট লড়াই

    তামিলনাড়ুর মাদুরান্থকম এবং ধরাপুরম আসন দুটিতেও উপনির্বাচন হয়েছে। অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা সি জোসেফ বিজয়ের দল তামিলগা ভেত্রি কাজাগমে যোগ দেওয়ার পর এই দুই আসন ছেড়ে দেন প্রাক্তন এআইএডিএমকে বিধায়ক কে মারাগাথাম কুমারাভেল এবং পি সত্যবামা। তাঁদের নিজেদের পুরনো কেন্দ্র থেকেই প্রার্থী করেছে বিজয়ের দল। মাদুরান্থকমে প্রাক্তন বিধায়ক আই পরন্থামেনকে এবং ধরাপুরমে সুগণ্যাকে প্রার্থী করেছে ডিএমকে। ধরাপুরমে সত্যবামার হয়ে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথজুড়ে প্রচার চালান বিজয়। ডিএমকেকে নিশানা করে তিনি অভিযোগ করেন, ওই দল মহিলাদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করছে। তাঁর দাবি, মহিলাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের আক্রমণ সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই বিষয়ে আর নীরব থাকবেন না বলেও জানান বিজয়।

    অসমেও উপনির্বাচন

    অসমের নাগাঁও লোকসভা আসনটি মার্চ মাসে ফাঁকা হয়। কংগ্রেস সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলৈ দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনে দিসপুর আসন থেকে জয়ী হন। ফলে নাগাঁও লোকসভা আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে। এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী তথা প্রাক্তন আমলা দেবাশিস শর্মার হয়ে প্রচার করেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। নাগাঁওয়ে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিজেপির সামনে নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে কার্যত স্বীকার করলেও, হিমন্তর দাবি, শেষ পর্যন্ত বিজেপি বড় ব্যবধানে জয় পাবে (Latest Update)। তাঁর পূর্বাভাস, জয়ের ব্যবধান আড়াই লাখ থেকে তিন লাখ ভোটের হতে পারে (By Election)।

     

  • PM Modi: বুধে বাংলায় ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’, ২৩ জেলা সদরে বিশেষ আয়োজন বিজেপির

    PM Modi: বুধে বাংলায় ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’, ২৩ জেলা সদরে বিশেষ আয়োজন বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে ‘সেবা সংকল্প অভিযানে’র সমাপ্তি কর্মসূচি হিসেবে ৭ অক্টোবর, বুধবার ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র আয়োজন করবে বিজেপি (PM Modi)। সারা দেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি জেলার সদর দফতরেও এই কর্মসূচি পালিত হবে। সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে কর্মসূচির বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা জানান (Seva Jyoti Yatra) রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

    ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’ (PM Modi)

    বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, নরেন্দ্র মোদির সরকারের প্রধান হিসেবে একটানা ২৫ বছরের কার্যকাল পূর্ণ হওয়ার দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই কর্মসূচির আয়োজন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন থেকে শুরু হয়েছিল ‘সেবা সংকল্প অভিযান’। ৭ অক্টোবর তার সমাপ্তি হবে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র মাধ্যমে। শমীক বলেন, “সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি একটি বিরল দৃষ্টান্ত। ৭ অক্টোবর সারা দেশে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’ অনুষ্ঠিত হবে। পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি জেলার সদর দফতরে বিজেপি কর্মীদের উপস্থিতিতে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।”

    তিনি জানান, বিভিন্ন জেলা সদরে বড় পর্দায় সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য সম্প্রচার করা হবে। তাঁদের বক্তব্যের পর শুরু হবে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’। মশাল হাতে পদযাত্রায় অংশ নেবেন বিজেপি কর্মীরা।

    ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথম বার গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। টানা প্রায় ১৩ বছর ওই পদে থাকার পর ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে সামনে রেখে ভোটে লড়ে বিজেপি। ওই নির্বাচনে প্রথম বার লোকসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় পদ্মশিবির। এরপর টানা ১২ বছর দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নরেন্দ্র মোদি। ৭ অক্টোবর সরকারের প্রধান হিসেবে তাঁর টানা ২৫ বছরের কার্যকাল পূর্ণ হবে।

    বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন

    শমীক জানান, কলকাতার ভারতীয় জাদুঘরেও একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। সেখানে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনিক সাফল্য, গুজরাটের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, সেচব্যবস্থা, প্রান্তিক মানুষের কল্যাণ এবং পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর ২৫ বছরের জনসেবার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে (PM Modi)।

    একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের প্রথম ১০০ থেকে ১৪০ দিনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ও সাফল্যও প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি।

    রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে রাজনীতির প্রচলিত ধারণায় পরিবর্তন এসেছে এবং উন্নয়নকে রাজনীতির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। শমীক বলেন, “আজকের ধর্ম গণতন্ত্র এবং আজকের রাজনীতি উন্নয়ন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাজনীতির গতানুগতিক পরিভাষা বদলে উন্নয়নকে রাজনীতির মূল লক্ষ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত (Seva Jyoti Yatra) করেছেন।”

    তাঁর কথায়, “আজকের তরুণ প্রজন্ম আধুনিক জীবনযাত্রা, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ, অর্থনৈতিক বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ চায়। প্রধানমন্ত্রী সেই প্রত্যাশাকেই বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন (PM Modi)।”

     

  • Pakistan Trap: ‘হানিট্র্যাপ’-এ পড়ে পাকিস্তানে তথ্য পাচারের অভিযোগ! অসম পুলিশের হাতে ধৃত দু’জন, কোয়েম্বাটোরে গ্রেফতার নৌসেনা কর্মী

    Pakistan Trap: ‘হানিট্র্যাপ’-এ পড়ে পাকিস্তানে তথ্য পাচারের অভিযোগ! অসম পুলিশের হাতে ধৃত দু’জন, কোয়েম্বাটোরে গ্রেফতার নৌসেনা কর্মী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশে সক্রিয় হানি-ট্র্যাপ। সীমান্তের ওপার থেকে এই চক্র কাজ চালায়। দেশের নিরাপত্তায় প্রশ্ন তৈরির চেষ্টা করে। পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বিহারের দুই বাসিন্দাকে গ্রেফতার করেছে অসম পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় সেনাকর্মী। অবসরের পরও তিনি চুক্তিভিত্তিকভাবে সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাজ করছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার এক মহিলা অপারেটিভের কাছে ভারতীয় নৌবাহিনীর গোপন প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য পাচারের অভিযোগে এক কর্মরত নৌসেনা সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশ। শনিবার কোয়েম্বাটোরের রেড ফিল্ডস এলাকায় অবস্থিত উচ্চ-নিরাপত্তার আইএনএস অগ্রণী ক্যাম্পাসে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স (CI) সেলের একটি বিশেষ দল।

    এনআইএ-এর ইনপুটের ভিত্তিতে তদন্ত

    পুলিশ সূত্রে খবর, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অসম পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের মধ্যে ৩১ বছর বয়সি অভিষেক কুমার সিং-এর বাড়ি বিহারের মোতিহারিতে। অভিযোগ, তিনি গুয়াহাটিতে বসবাস করে ভারতীয় সেনাবাহিনী সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাকিস্তানে থাকা তাঁর হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠাচ্ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু সন্দেহজনক নথি ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্ত ৩৯ বছর বয়সি রীতেশ কুমার সিং। তিনি বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা। গুয়াহাটির সাতগাঁও এলাকায় একটি ভাড়া বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার এক অপারেটিভের নির্দেশে রীতেশ কাজ করছিলেন এবং অভিষেককেও বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছিলেন।

    অভিষেকের সূত্র ধরেই জালে রীতেশ

    প্রথমে অভিষেকের গতিবিধির উপর নজরদারি শুরু হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি অসমে বসে ভারতীয় সেনাবাহিনী সংক্রান্ত তথ্য পাকিস্তানের একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের কাছে পাঠাচ্ছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর গজরাজ কোর এবং অসম পুলিশ যৌথভাবে রীতেশের কথিত কার্যকলাপ নিয়েও তদন্ত চালাচ্ছিল। এরই মধ্যে শনিবার ও রবিবারের মধ্যবর্তী রাতে অভিষেককে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন, সিম কার্ড, পাকিস্তান-সম্পর্কিত কিছু নথি এবং অন্যান্য সন্দেহজনক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তদন্তভার আরও এগিয়ে নিয়ে যায় অসম পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। তদন্তের সূত্র ধরে রীতেশের সন্ধান পাওয়া যায় এবং তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়। অভিষেকের মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। কতদিন ধরে তিনি এই ধরনের কার্যকলাপে যুক্ত ছিলেন এবং পাকিস্তানে থাকা ঠিক কার কার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে ফাঁদে ফেলার অভিযোগ

    অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, এনআইএ-এর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অসম পুলিশ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। পরবর্তী তদন্তের জন্য তাঁদের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে দু’জনকেই কথিত ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে নিশানা করা হয়েছিল। সেই পদ্ধতিতে তাঁদের কাছ থেকে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। অভিষেকের গ্রেফতারের খবর সামনে আসতেই বিহারের মোতিহারি পুলিশও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। মোতিহারির পুলিশ সুপার স্বর্ণ প্রভাত জানিয়েছেন, অভিষেক সম্পর্কে পুলিশের কাছে তথ্য এসেছে। জেলার ঠিক কোন থানা এলাকায় তাঁর বাড়ি, তা যাচাই করা হচ্ছে। অসম পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মোতিহারি পুলিশও তথ্য সংগ্রহ করছে। তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় পরিচয় সম্পর্কেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তবে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই ঘটনায় নিশ্চিতভাবে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন মোতিহারি পুলিশ সুপার।

    হানিট্র্যাপে পশ্চিমবঙ্গ-যোগ

    অন্যদিকে, অন্ধ্র পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত নৌসেনা সদস্যের নাম প্রদীপ মুখার্জি (৩১)। তিনি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। ২০১৪ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। বর্তমানে বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন ন্যাভাল কমান্ডের অধীনে নাবিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সূত্রের খবর, গত এক সপ্তাহ ধরে কোয়েম্বাটোরের আইএনএস অগ্রণী (INS Agrani)-তে একটি ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট কোর্সে অংশ নিতে গিয়েছিলেন প্রদীপ। এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম।

    ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা তথ্য পাচার

    তদন্তকারীদের অভিযোগ, কয়েক মাস আগে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এক মহিলার সঙ্গে পরিচয় হয় প্রদীপের। ওই মহিলা নিজেকে সাধারণ পরিচিত হিসেবে পরিচয় দিলেও পরে তিনি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত এক অপারেটিভ বলে সন্দেহ করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ওই মহিলা ধীরে ধীরে প্রদীপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে এবং পরবর্তীতে তাঁকে ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে সংবেদনশীল প্রতিরক্ষা তথ্য দিতে প্ররোচিত করেন। অভিযোগ, প্রদীপ বিশাখাপত্তনমের নৌঘাঁটি-সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ওই মহিলার কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর সন্দেহজনক অনলাইন কার্যকলাপ নজরে আসার পর কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের পর নৌবাহিনীর কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কোয়েম্বাটোরের আইএনএস অগ্রণী (INS Agrani) ক্যাম্পাসে অভিযান চালানো হয় এবং সেখান থেকেই প্রদীপকে গ্রেফতার করা হয়। কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল মূলত সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক এবং সীমান্তপারের গুপ্তচরবৃত্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের তদন্ত করে থাকে। ধৃত নৌসেনা সদস্যের বিরুদ্ধে ঠিক কী কী তথ্য পাচারের অভিযোগ রয়েছে এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • BJP: উত্তরপ্রদেশে রাজ্যসভা ভোটে ৮ প্রার্থী ঘোষণা বিজেপির, সামাজিক সমীকরণে জোর

    BJP: উত্তরপ্রদেশে রাজ্যসভা ভোটে ৮ প্রার্থী ঘোষণা বিজেপির, সামাজিক সমীকরণে জোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশে আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য আট প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল বিজেপি (BJP)। প্রার্থী বাছাইয়ে অনগ্রসর শ্রেণি, দলিত, ব্রাহ্মণ এবং ঠাকুর সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি সামাজিক সমীকরণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে (Rajya Sabha)।

    বিজেপির ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশ সরকারের মন্ত্রী ধর্মপাল সিং, রাধাকান্ত ওঝা, প্রকাশ পাল, প্রাক্তন বিধান পরিষদ সদস্য বিদ্যাসাগর সোনকর, গোপী কৃষ্ণ পাণ্ডে, রাম প্রতাপ সিং চৌহান, প্রাক্তন লোকসভা সাংসদ প্রিয়াঙ্কা সিং রাওয়াত এবং ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল সন্তোষ গঙ্গওয়ারের কন্যা শ্রুতি গঙ্গওয়ার।উত্তরপ্রদেশের মোট ১০টি রাজ্যসভা আসনে ১৬ অক্টোবর নির্বাচন হবে। এর মধ্যে সাতটি আসনে বিজেপির জয় প্রায় নিশ্চিত। অষ্টম আসনটিও দখলের লক্ষ্যে এগোচ্ছে উত্তরপ্রদেশের ডাবল ইঞ্জিন সরকার।

    তালিকায় নেই পুরীর নাম (BJP)

    তবে ঘোষিত তালিকায় জায়গা হয়নি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ পুরীর। তাঁর নাম প্রার্থী হিসেবে উঠে আসছিল। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বিএল বর্মা এবং স্মৃতি ইরানির নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিল। তাঁদেরও তালিকায় রাখা হয়নি। হরদীপ পুরীর নাম বাদ পড়ায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদলের জল্পনাও তৈরি হয়েছে (BJP)।

    প্রার্থী তালিকায় বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব স্পষ্ট। ধর্মপাল সিং লোধ সম্প্রদায়ের। রাধাকান্ত ওঝা এবং গোপী কৃষ্ণ পাণ্ডে ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। প্রকাশ পাল উত্তরপ্রদেশে বিজেপির অনগ্রসর শ্রেণি মোর্চার প্রধান। শ্রুতি গঙ্গওয়ারও অনগ্রসর শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

    দলিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি

    বিদ্যাসাগর সোনকর এবং প্রিয়াঙ্কা সিং রাওয়াত দলিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। রাম প্রতাপ সিং চৌহান ঠাকুর সম্প্রদায়ের। বিজেপির প্রার্থীদের অভিনন্দন (Rajya Sabha) জানিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। নির্বাচনে তাঁদের সাফল্য কামনা করেছেন (BJP) তিনি।

     

  • Supreme Court: সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্দেশ দিতে পারে না আদালত, নির্বাচন কমিশনের জবাব তলব সুপ্রিম কোর্টের

    Supreme Court: সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্দেশ দিতে পারে না আদালত, নির্বাচন কমিশনের জবাব তলব সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কোনও সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরাসরি নির্দেশ দিতে পারে না সুপ্রিম কোর্ট। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কি এককভাবে এমন কিছু ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন, যা সাংবিধানিকভাবে গোটা বহু-সদস্যের নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যস্ত—এই অভিযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নির্বাচন কমিশনের জবাব প্রয়োজন বলে স্পষ্ট জানাল শীর্ষ আদালত (Supreme Court)।

    সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে নোটিস দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অপর দুই নির্বাচন কমিশনারের সম্মতি ছাড়াই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এককভাবে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন (Election Commission)।

    শীর্ষ আদালতের কাছে আবেদন (Supreme Court)

    পাটনার বাসিন্দা রাকেশ কুমার সিংয়ের দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় শীর্ষ আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের সামগ্রিকভাবে যে ক্ষমতা রয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তা এককভাবে প্রয়োগ করছেন কি না, তা নির্ধারণ করা হোক। যদি এমনটা হয়ে থাকে, তাহলে ওই সিদ্ধান্তগুলিকে অননুমোদিত ঘোষণা করে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও আবেদন জানানো হয়েছে।

    আদালত জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নেওয়ার কথা। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “আমরা ধরে নিচ্ছি, সমস্ত সিদ্ধান্ত এইভাবেই নেওয়া হয়েছে। যদি দেখা যায়, কোনও সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা যেতে পারে।”

    একই সঙ্গে আদালত সতর্ক করে বলেছে, “আমরা একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারি না যে সমস্ত সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়া হয়েছে।” আগে তথ্য যাচাই না করে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না বলেই আদালত কার্যত বুঝিয়ে দিয়েছে।

    এই বিতর্কের সূত্রপাত একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের পর। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, প্রায় ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার ভোটার তালিকা, ভোটার নথিভুক্তিকরণ এবং নির্বাচন কমিশনের প্রযুক্তি ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

    তবে নির্বাচন কমিশন সেই আপত্তিগুলিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ হিসেবে দেখানোর দাবি খারিজ করেছে। কমিশনের বক্তব্য, কোনও সিদ্ধান্তের খসড়া তৈরির পর্যায়ে প্রশাসনিক প্রশ্ন, মতামত এবং পরামর্শ দেওয়া তাদের স্বাভাবিক প্রশাসনিক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ারই অংশ। বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা অভিযানের সময়সূচি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছিল বলেও জানিয়েছে কমিশন।

    সুপ্রিম কোর্টের সাফ কথা

    সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, যে সিদ্ধান্তগুলি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলি সর্বসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছিল, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে—এ বিষয়ে প্রত্যয়িত তথ্য প্রয়োজন (Supreme Court)। মামলাকারীর উদ্দেশে আদালতের প্রশ্ন, “আপনি কি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের উপর নির্ভর করছেন?”

    জবাবে মামলাকারী বলেন, “নির্বাচন কমিশন সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেনি।”

    এরপর আদালত স্পষ্ট করে দেয়, “সংবাদপত্রের প্রতিবেদন সম্পূর্ণ সঠিক হতে পারে, আংশিক সঠিক হতে পারে, আবার ভুলও হতে পারে। আজ আমরা তার ভিত্তিতে কোনও নির্দেশ দিতে পারি না। আমরা অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের জবাব চাইব। যদি দেখা যায়, এমন কিছু ক্ষেত্রে আইন অনুসরণ করা হয়নি, তাহলে আমরা সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারি (Election Commission)।”

    অর্থাৎ, সংবাদপত্রে প্রকাশিত অভিযোগকে আপাতত চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করছে না শীর্ষ আদালত। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার পরই অভিযোগগুলির সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলি আইন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া মেনে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court)।

     

LinkedIn
Share