Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Gandhi Jayanti: “বাপুর চিরন্তন বার্তা বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাবে” গান্ধী জয়ন্তীতে রাজঘাটে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর, স্মরণ শাস্ত্রীকেও

    Gandhi Jayanti: “বাপুর চিরন্তন বার্তা বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাবে” গান্ধী জয়ন্তীতে রাজঘাটে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর, স্মরণ শাস্ত্রীকেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে শুক্রবার রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর (Gandhi Jayanti) সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী। শান্তি, অহিংসা ও স্বচ্ছতার বার্তা স্মরণ করে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে দেশের নানা প্রান্তে। রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে আয়োজিত সর্বধর্ম প্রার্থনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi’s Tribute To Bapu)। এরপর তিনি বিজয় ঘাটে গিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর জন্মবার্ষিকীতেও শ্রদ্ধা জানান। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও রাজঘাটে সর্বধর্ম প্রার্থনায় অংশ নিয়ে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে বিজয় ঘাটে গিয়ে লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর সমাধিতেও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। রাজঘাটে গান্ধীজিকে শ্রদ্ধা জানান দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর তরণজিৎ সিং সান্ধু, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

    বাপুর চিরন্তন বার্তা

    রাজঘাটে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের ছবি এবং ভিডিও ইতিমধ্যেই এক্স হ্যান্ডেলে সামনে এসেছে। ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতি সৌধে ফুল ছড়িয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেন। এক্সে মোদি জানান, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের এই আত্ম বলিদান দেশের প্রগতি এবং উন্নতির এবং ‘বিকশিত ভারতের’ ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। এই প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, “বাপুর চিরন্তন বার্তা আমাদের উন্নত এবং বিকশিত ভারত উন্নতির লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাবে।” একই সঙ্গে গত কয়েক বছরে গান্ধী জয়ন্তীর পালনের মুহূর্তের ছবিও এক্সে টুইট করেন মোদি।

    দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গান্ধী জয়ন্তী পালন

    রাজস্থানের জয়পুরে রাজ্য সচিবালয়ে মহাত্মা গান্ধীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা। একই সঙ্গে তিনি লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর জন্মবার্ষিকীতেও শ্রদ্ধা জানান। হরিয়ানার গুরুগ্রামে স্বচ্ছ ভারত অভিযানে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী নায়াব সিং সাইনি। শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানান তিনি। অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়ায় গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে ‘স্বচ্ছাথন ২০২৬’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ‘স্বচ্ছতা হি সেবা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গান্ধী জয়ন্তীতে কলকাতাতেও শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তিতে সম্মান জানাতে উপস্থিত হয়েছেন প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী।

    শান্তি ও অহিংসার বার্তা স্মরণ রাষ্ট্রপতির

    গান্ধী জয়ন্তীর প্রাক্কালে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গান্ধীজির শান্তি ও অহিংসার বার্তা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতির বার্তায় বলা হয়, মহাত্মা গান্ধীর জীবন ও আদর্শ বিশ্বজুড়ে সম্মানিত। বর্তমান সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিস্থিতির মধ্যে তাঁর শান্তি ও অহিংসার দর্শন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে দেশ। উন্নয়নের সুফল যাতে সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছয়, তার জন্য সহমর্মিতা ও অন্তর্ভুক্তির মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গান্ধীজির ‘সর্বোদয়’-এর আদর্শের সঙ্গে এই ভাবনার সামঞ্জস্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    গান্ধী জয়ন্তী থেকে ৩০ দিনের স্বচ্ছতা অভিযান

    গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে দেশজুড়ে ৩০ দিনের পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় কয়লা ও খনিমন্ত্রী জি কিশান রেড্ডি। ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তী থেকে ৩১ অক্টোবর সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মবার্ষিকী পর্যন্ত এই কর্মসূচি চালানোর জন্য সাধারণ মানুষ, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং অন্যান্য সংস্থাকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর গুজরাটের পোরবন্দরে জন্মগ্রহণ করেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। তাঁর জন্মদিনটি প্রতিবছর গান্ধী জয়ন্তী হিসেবে পালিত হয়। রাষ্ট্রসংঘও ২ অক্টোবরকে ‘আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস’ হিসেবে পালন করে। মহাত্মা গান্ধীকে ‘জাতির জনক’ আখ্যা দিয়েছিলেন স্বয়ং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। আর তাঁর জন্মদিন উপলক্ষেই দেশজুড়ে প্রতি বছর জাতীয় ছুটি পালন করা হয়।

    লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর ১২২তম জন্মবার্ষিকী

    এদিনই পালিত হচ্ছে ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর ১২২তম জন্মবার্ষিকী। ১৯০৪ সালের ২ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের মুঘলসরাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন শাস্ত্রী। স্বাধীনতার পর শাস্ত্রী উত্তর প্রদেশে এবং পরে কেন্দ্রীয় সরকারে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। রেলমন্ত্রী থাকাকালীন, ১৯৫৬ সালের একটি বড় ট্রেন দুর্ঘটনার পর তিনি সেই মর্মান্তিক ঘটনার নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এই দৃষ্টান্তটি আজও জনজীবনে জবাবদিহিতার এক উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। পরবর্তীতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ‘জয় জওয়ান, জয় কিষান’ স্লোগানের জন্য বিশেষভাবে স্মরণীয় লাল বাহাদুর শাস্ত্রী। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় তাঁর নেতৃত্ব এবং কৃষি ও আত্মনির্ভরতার ওপর জোর দেওয়ার জন্যও তিনি স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন।  তিনি খাদ্য স্বনির্ভরতার পক্ষে ছিলেন এবং সবুজ বিপ্লবের ভিত্তি স্থাপনে সহায়তা করেন। এছাড়াও তিনি দেশজুড়ে দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে শ্বেত বিপ্লবকেও সমর্থন করেছিলেন।

  • Modi Trump Phone Call: কমল শুল্ক উদ্বেগ! মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি নিয়ে আলোচনা

    Modi Trump Phone Call: কমল শুল্ক উদ্বেগ! মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি নিয়ে আলোচনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Modi Trump Phone Call)। ৩০ সেপ্টেম্বর দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে টেলিফোনে এই কথোপকথন হয়। প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO)-এর তরফে জানানো হয়েছে, দুই নেতা ভারত-মার্কিন ‘বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ (Comprehensive Global Strategic Partnership) আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। দুই দেশের মানুষের স্বার্থে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়েও তাঁরা সম্মত হয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির বার্তা

    ফোনালাপে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন মোদি ও ট্রাম্প। বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার চলমান প্রচেষ্টা নিয়েও তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজে সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা পর্যালোচনা করেছি। বৃহত্তর আন্তর্জাতিক পরিসরে কৌশলগত অংশীদারিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে আমরা একমত হয়েছি।’’ এর পরেই প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘‘আমরা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেছি। যার মধ্যে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার অগ্রগতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিক প্রচেষ্টাও রয়েছে।’’

    মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপের তাৎপর্য

    বিদেশ মন্ত্রকের একটি সূত্র জানাচ্ছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনার উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন দুই রাষ্ট্রনেতা। পাশাপাশি, আলোচনায় এসেছে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও। ঘটনাচক্রে, ইরানের পড়শি দেশ ইরাক থেকে আমেরিকার সেনা প্রত্যাহারপর্ব সাঙ্গ হওয়ার দিনেই মোদি ও ট্রাম্পের কথা হল। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষে পাশ হওয়া ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া এবং ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ শীর্ষক বিল ট্রাম্প সরকার কার্যকর করলে রাশিয়া থেকে তেল কেনার ‘অপরাধে’ ভারতীয় পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারে ওয়াশিংটন। বর্তমানে ভারতের পণ্যের উপর আমেরিকার শুল্কের পরিমাণ ১২ শতাংশের কাছাকাছি। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে মোদির ফোন ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মনে করছেন কূটনীতি পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

    বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা

    ভারত ও আমেরিকার মধ্যে (India-US Relation) দীর্ঘদিন ধরে একটি পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি মার্কিন সফরের সময় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছিলেন, দুই দেশ এখন একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। জয়শঙ্করের বক্তব্য অনুযায়ী, দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে যে প্রত্যাশা ছিল, বাস্তব পরিস্থিতি তার তুলনায় অনেক বেশি জটিল হয়েছে। তবে বর্তমানে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে “মোটামুটি একটি বোঝাপড়া” তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান। মার্কিন শুল্কনীতির পরিবর্তন এবং সেকশন ৩০১-এর প্রক্রিয়াকেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন বিদেশমন্ত্রী। মার্কিন বাণিজ্য নীতি ১৯৭১-এর সেকশন৩০১-এর অধীনে যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের এমন বাণিজ্যিক নীতি বা কার্যকলাপ তদন্ত করতে পারে, যেগুলিকে তারা অন্যায্য বলে মনে করে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত শুল্ক-সহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও এই ধারায় রয়েছে।

    রাশিয়া ও ইরান নিয়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব

    এদিকে রাশিয়া ও ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া আইন (SRIA) নিয়েও ভারতের উদ্বেগ রয়েছে। ওই আইনের আওতায় রাশিয়া এবং রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলির বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের সুযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে আসতে পারে। ভারত ও চিনও সম্ভাব্যভাবে এর প্রভাবের মধ্যে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের পক্ষ থেকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত বৈচিত্র্যময় উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের নীতি বজায় রাখবে এবং পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। ভারতের তরফে আরও জানানো হয়েছে, এই বিষয়টি সাম্প্রতিক কালে একাধিক মার্কিন প্রতিনিধির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় তোলা হয়েছে। সম্ভাব্য প্রভাব শুধু ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ভারতীয় পক্ষের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে।

    বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় ভারতের অবস্থান

    বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ভারতীয় শিল্প ও বাণিজ্য সংগঠনগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলেও জানানো হয়েছে। এদিকে বিদেশসচিব বিক্রম মিসরি মার্কিন কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করে এসআরআইএ-সংক্রান্ত ভারতের উদ্বেগ তুলে ধরেন। বিশেষ করে এই আইনের সম্ভাব্য প্রভাব ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে কীভাবে পড়তে পারে, তা নিয়ে ভারতের অবস্থান প্রতিনিধিদলের কাছে তুলে ধরা হয়। বর্তমানে কঠিন বৈশ্বিক কূটনৈতিক ঘূর্ণাবর্তে রয়েছে দেশ। একদিকে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতে আগ্রহী ভারত, অন্যদিকে রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানির কেনার রাস্তাও খোলা রাখতে চাইছে দিল্লি। ব্রিকস-এ জিনপিং আসার পর আন্তজার্তিক কূটনীতি কোন পথে এগোয় সেদিকে নজর ছিল গোটা বিশ্বের। এই অবস্থায় মোদি-ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ফোনালাপ দুই দেশ তথা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ।

     

     

     

     

  • Rafale Indian Weapons: পুরো সোর্স কোড নয়, তবু রাফালে যুক্ত হবে দেশীয় অস্ত্র! ভারতের জন্য ‘পথ’ খুলছে ফ্রান্স?

    Rafale Indian Weapons: পুরো সোর্স কোড নয়, তবু রাফালে যুক্ত হবে দেশীয় অস্ত্র! ভারতের জন্য ‘পথ’ খুলছে ফ্রান্স?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় বায়ুসেনার রাফাল যুদ্ধবিমানে দেশীয় অস্ত্র ও প্রযুক্তি সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে নয়াদিল্লিকে আরও বেশি স্বাধীনতা দেওয়ার পথ খোঁজা যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ফ্রান্স। ১১৪টি অতিরিক্ত রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব নিয়ে ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে আলোচনা চলার মধ্যেই এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ভবিষ্যতে বিদেশি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করলেও তার অস্ত্রভাণ্ডার ও প্রযুক্তিগত আপগ্রেডের ক্ষেত্রে ভারত আরও বেশি আত্মনির্ভর হতে চাইছে।

    ফরাসি এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সের ভাইস চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডমিনিক তার্দিফ বর্তমানে ভারতে রয়েছেন। ‘তরঙ্গ শক্তি’ মহড়ার আবহে তিনি জানিয়েছেন, ভারতীয় বায়ুসেনার প্রয়োজনীয়তা ফ্রান্স বুঝতে পারছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, রাফালকে এমনভাবে ব্যবহারের একটি ব্যবস্থা খোঁজা হচ্ছে, যাতে ভারত ভবিষ্যতে শুধু বিমানের সঙ্গে আগে থেকেই সংযুক্ত অস্ত্রের উপর নির্ভরশীল না থাকে।

    ভারতের ‘সার্বভৌমত্ব’ ও আত্মনির্ভরতার প্রশ্ন

    তার্দিফ বলেন, একটি দেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং সার্বভৌমত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রান্সও এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সার্বভৌমত্বের সঙ্গে দেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতাও ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।

    ভারত গত কয়েক বছরে প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আত্মনির্ভরতার উপর বিশেষ জোর দিয়েছে। দেশীয় অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র, সেন্সর, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিকে বিদেশি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংযুক্ত করার বিষয়টিও সেই বৃহত্তর নীতির অংশ। রাফাল যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রেও নয়াদিল্লির লক্ষ্য একই—বিদেশি বিমান ব্যবহার করলেও গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যাতে সম্পূর্ণভাবে বিদেশি সরবরাহকারীর উপর নির্ভর করতে না হয়।

    তার্দিফের বক্তব্য, এমন একটি ব্যবস্থা খুঁজে বের করাই মূল বিষয়, যার মাধ্যমে ভারতীয় বায়ুসেনা রাফালের সঙ্গে মূলত আগে থেকে সংযুক্ত নয়—এমন অস্ত্রও ব্যবহার করতে পারে। এই বিষয়ে ফরাসি প্রতিরক্ষা সংস্থা, ভারতীয় শিল্প সংস্থা এবং দুই দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনা হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    সম্পূর্ণ সোর্স কোড না পেলেও কি দেশীয় অস্ত্র যুক্ত করা সম্ভব?

    রাফাল নিয়ে আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক এখানেই। আধুনিক যুদ্ধবিমানের সফটওয়্যার অত্যন্ত জটিল। বিমানের মিশন সিস্টেম, রেডার, সেন্সর, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং অস্ত্র ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলি সফটওয়্যার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে কোনও নতুন অস্ত্রকে বিমানের সঙ্গে সংযুক্ত করতে গেলে বিমানের অভ্যন্তরীণ সফটওয়্যার সম্পর্কে নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত তথ্যের প্রয়োজন হয়।

    তবে এর অর্থ এই নয় যে পুরো যুদ্ধবিমানের ‘সোর্স কোড’ হাতে তুলে দিতে হবে। বরং একটি সম্ভাব্য সমাধান হতে পারে ইন্টারফেস কন্ট্রোল ডকুমেন্ট বা আইসিডি-র মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত তথ্য দেওয়া।

    সহজভাবে বললে, আইসিডি হল এমন একটি প্রযুক্তিগত নথি, যেখানে একটি অস্ত্র, সেন্সর বা অন্য কোনও সরঞ্জাম কীভাবে বিমানের বিভিন্ন সিস্টেমের সঙ্গে যোগাযোগ করবে, তার নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রয়োজনীয় তথ্য থাকে। এই ধরনের ইন্টারফেস-স্তরের তথ্য পাওয়া গেলে সম্পূর্ণ সোর্স কোডের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই দেশীয় অস্ত্রকে রাফালের সঙ্গে সংযুক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    ভারতের দৃষ্টিতে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সম্পূর্ণ সোর্স কোড পাওয়া একদিকে যেমন প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত নানা প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত, অন্যদিকে দেশীয় অস্ত্র সংযুক্ত করার জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সফটওয়্যার কাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া অপরিহার্য নাও হতে পারে।

    ১১৪ রাফালের প্রস্তাবিত চুক্তিতে কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারত ইতিমধ্যেই ফ্রান্সের কাছ থেকে পাওয়া ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে। এবার আরও ১১৪টি রাফাল কেনার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থাকার কথা রয়েছে। ফলে শুধু বিমান কেনাই নয়, ভারতের নিজস্ব শিল্পক্ষেত্রকে এর সঙ্গে কতটা যুক্ত করা যায়, সেটিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    এই বৃহত্তর কাঠামোর মধ্যেই দেশীয় অস্ত্র ও প্রযুক্তি রাফালে সংযুক্ত করার দাবি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ, ভারত যদি ভবিষ্যতে নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র, সেন্সর বা অন্যান্য যুদ্ধ-প্রযুক্তি তৈরি করে, তা হলে প্রতিটি নতুন ব্যবস্থাকে বিদেশি যুদ্ধবিমানের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হতে চাইছে না নয়াদিল্লি।

    অর্থাৎ, ১১৪ রাফালের সম্ভাব্য চুক্তিতে ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শুধু কতগুলি বিমান আসবে তা নয়। একইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে—বিমানগুলির সঙ্গে ভারতীয় শিল্পের সম্পর্ক কতটা গভীর হবে এবং ভবিষ্যতে ভারত নিজস্ব অস্ত্র ও প্রযুক্তি কতটা স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে পারবে।

    রাফাল এফ৪ থেকে এফ৫—ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

    রাফাল নিজেও ক্রমাগত আধুনিকীকরণের মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে ফ্রান্স রাফালের উন্নত এফ৪ মানের দিকে এগোচ্ছে। পাশাপাশি ২০৩০-এর দশকের জন্য পরবর্তী বড় আধুনিকীকরণ ধাপ হিসেবে এফ৫ নিয়ে কাজ চলছে।

    ফরাসি সংসদের নথি অনুযায়ী, রাফাল এফ৫ কর্মসূচিতে সেন্সর, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং প্রপালশন-সহ একাধিক ক্ষেত্রে উন্নতির পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে আজ রাফালের সঙ্গে কোন অস্ত্র বা প্রযুক্তি সংযুক্ত করা যাবে, সেই প্রশ্নটি শুধুমাত্র বর্তমান ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত নয়। আগামী এক-দুই দশকে ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধক্ষমতা কীভাবে গড়ে উঠবে, তার সঙ্গেও বিষয়টি সম্পর্কিত।

    ভারত ইতিমধ্যেই দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির পরিসর দ্রুত বাড়াচ্ছে। ভবিষ্যতে সেই প্রযুক্তি যদি রাফালের মতো অত্যাধুনিক বিদেশি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সহজে যুক্ত করা যায়, তা হলে একটি নির্দিষ্ট যুদ্ধবিমানকে কেন্দ্র করে তৈরি করা দেশীয় অস্ত্র ও প্রযুক্তির ব্যবহারিক পরিসরও বাড়তে পারে।

    শুধু রাফাল নয়, বৃহত্তর আত্মনির্ভরতার প্রশ্ন

    রাফালে দেশীয় অস্ত্র সংযুক্তির বিষয়টি তাই একটি নির্দিষ্ট চুক্তির প্রযুক্তিগত শর্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা-আত্মনির্ভরতার প্রশ্নও জড়িত।

    বিদেশি যুদ্ধবিমান কেনার পর তার অস্ত্র, সফটওয়্যার এবং আপগ্রেডের ক্ষেত্রে যদি ব্যবহারকারী দেশকে প্রতিবার মূল নির্মাতার অনুমতির উপর নির্ভর করতে হয়, তা হলে যুদ্ধবিমানের পূর্ণ অপারেশনাল স্বাধীনতা সীমিত হতে পারে। ভারত সেই নির্ভরতা কমিয়ে এমন একটি মডেল চাইছে, যেখানে বিদেশি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির সমন্বয় করা সম্ভব হবে।

    ফ্রান্সের সাম্প্রতিক বার্তা সেই আলোচনাকেই এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। তবে ঠিক কী ধরনের প্রযুক্তিগত তথ্য ভারত পাবে, দেশীয় কোন কোন অস্ত্র রাফালের সঙ্গে সংযুক্ত করা সম্ভব হবে এবং প্রস্তাবিত ১১৪টি বিমানের চুক্তিতে এই বিষয়টি কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে—তা এখনও আলোচনার বিষয়।

  • Smit Machchhar: ‘গোটা বিশ্ব গর্বিত’, স্মিত মাচ্ছরের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী, ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতাকে কুর্নিশ রাষ্ট্রপতির

    Smit Machchhar: ‘গোটা বিশ্ব গর্বিত’, স্মিত মাচ্ছরের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী, ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতাকে কুর্নিশ রাষ্ট্রপতির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাঝআকাশে ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়েও নিজের প্রাণের কথা না ভেবে যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ (FlyDubai FZ1073) বিমানে সহ-পাইলটের হামলায় গুরুতর জখম হওয়ার পরও ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এর ফলে যাত্রী ও কেবিন ক্রুরা ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুযোগ পান। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে। বিমানে থাকা ১৭৪ জনের প্রাণ রক্ষা পায়।

    এই অসাধারণ সাহসিকতার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা-সহ দেশের একাধিক শীর্ষ নেতা ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের প্রশংসা করেছেন। বর্তমানে তাবুকের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    মাচ্ছরের পরিবারের সঙ্গে কথা মোদির, দ্রুত আরোগ্যের জন্য প্রার্থনার আবেদন

    বৃহস্পতিবার ইউপিএসসির শতবর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, তিনি ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের বাবা-মা এবং স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। আহত পাইলটের দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীকে প্রার্থনা করার আবেদনও জানান তিনি।

    মোদি বলেন, ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত নিজের উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর এই ভূমিকার জন্য গোটা বিশ্ব গর্বিত। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও ঘটনার পর ভারতীয় পাইলটের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। মোদি জানান, মাচ্ছর বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন তিনি।

    কী ঘটেছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে?

    ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩। মাঝআকাশে ককপিটের ভিতরে ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সঙ্গে সহ-পাইলটের সংঘর্ষ বাধে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সহ-পাইলট মাচ্ছরকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং হামলার কারণ এখনও তদন্তাধীন।

    এরপর বিমানটির উচ্চতা অত্যন্ত দ্রুত কমে যায়। ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দশ সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি প্রায় ১৪,৩০০ ফুট নেমে যায়। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলেও ক্যাপ্টেন মাচ্ছর গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নেন—আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলে দেন।

    ককপিটের দরজা খুলে যাওয়ার পর যাত্রী ও কেবিন ক্রু সেখানে পৌঁছে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। বিমানে থাকা অন্য পাইলটরাও পরিস্থিতি সামলাতে সাহায্য করেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটিকে ইজরায়েলের পরিবর্তে সৌদি আরবের তাবুকে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করানো হয়।

    আহত অবস্থাতেও যাত্রীদের কথা মাথায়

    ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের দ্রুত সিদ্ধান্ত। গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি ককপিটের দরজা খুলে দেন, যাতে বাইরের মানুষ ভিতরে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বর্ণনা অনুযায়ী, সেই মুহূর্তে তিনি ককপিটের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় ছিলেন। তাঁর এই পদক্ষেপের ফলেই যাত্রী ও ক্রুদের হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হয়।

    প্রায় ১৭৪ জনকে নিয়ে উড়ছিল বিমানটি। ফলে পরিস্থিতি সামান্য অন্যরকম হলে বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। শেষ পর্যন্ত বিমানটি নিরাপদে তাবুকে অবতরণ করায় বিমানে থাকা প্রত্যেকের প্রাণ রক্ষা পায়।

    রাষ্ট্রপতি মুর্মুর কুর্নিশ

    ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও। তিনি জানান, গুরুতর বিপদের মধ্যেও মাচ্ছর অন্যদের জীবন রক্ষার জন্য দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    রাষ্ট্রপতির বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর সাহস এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বড় ধরনের বিপর্যয় ঠেকাতে সাহায্য করেছে। আহত অবস্থাতেও অন্যদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি এবং দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

    রাজনাথ, বিড়লা, যোগী থেকে খড়্গে—প্রশংসা সর্বত্র

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, নিজের জীবন বিপন্ন করেও ক্যাপ্টেন মাচ্ছর বিমানে থাকা সকলের জীবন রক্ষায় দায়িত্ব ও কর্তব্যের সর্বোচ্চ নজির তৈরি করেছেন।

    লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাও তাঁকে প্রকৃত নায়ক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মাচ্ছরের উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহস বহু মানুষের জীবন রক্ষা করতে সাহায্য করেছে।

    উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও ক্যাপ্টেনের সাহস, কর্তব্যবোধ এবং উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করেছেন। গুরুতর আহত হয়েও অন্য যাত্রীদের সুরক্ষার জন্য তাঁর ভূমিকার উল্লেখ করে দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়াল জানান, আচমকা বিমানটির উচ্চতা প্রায় ১৪ হাজার ফুট কমে যাওয়ার পরও মাচ্ছর পরিস্থিতি সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর মতে, এই সাহসিকতা ভারতীয় বিমানচালকের দায়িত্ববোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এবং শিবরাজ সিং চৌহানও একইভাবে ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে ক্যাপ্টেন, বিমানের ক্রু এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করা সকলের সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন।

    কে এই ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর?

    ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর একজন ভারতীয় নাগরিক এবং বর্তমানে ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট। এর আগে প্রায় ১১ বছর স্পাইসজেটে কাজ করেছেন তিনি। ২০২২ সালের জুন থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের বোয়িং ৭৩৭ বহরে ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর পেশাগত প্রোফাইল অনুযায়ী, ৭৩৭-৮০০ এবং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮/৯ বিমানে তাঁর প্রায় ৯,৭৫০ ঘণ্টার উড়ান অভিজ্ঞতা রয়েছে।

    এই দীর্ঘ উড়ান অভিজ্ঞতাই চরম সংকটের মুহূর্তে তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রতিটি খুঁটিনাটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।

    তদন্তে একাধিক প্রশ্ন

    ঘটনাটি ঘিরে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ককপিটের ভিতরে কীভাবে এই হামলা ঘটল, সহ-পাইলটের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং কীভাবে তিনি হামলা চালানোর সুযোগ পেলেন—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হামলার উদ্দেশ্য এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

    ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনা হিসেবে দেখছে। ঘটনার পর বিমান নিরাপত্তা এবং পাইলটদের ককপিটে প্রবেশ-সংক্রান্ত বিধি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলার উদ্দেশ্য বা ঘটনাটির নির্দিষ্ট চরিত্র নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা হচ্ছে না।

    আপাতত নজর ক্যাপ্টেন মাচ্ছরের সুস্থতার দিকে

    একদিকে ভয়াবহ মাঝআকাশের ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে, অন্যদিকে তাবুকের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের দ্রুত আরোগ্যের দিকে নজর রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দেশবাসীকে প্রার্থনার আবেদন জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা—দলমত নির্বিশেষে মাচ্ছরের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন।

    একটি উড়ন্ত বিমানে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তৈরি হওয়া চরম সংকটে আহত অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। তাই এফজেড ১০৭৩-এর এই ঘটনা শুধু বিমান নিরাপত্তার প্রশ্নই তুলছে না, চরম বিপদের মধ্যেও পাইলটের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দায়িত্ববোধ কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

  • S Jaishankar: বিশ্বে বড় খাদ্যসংকটের আশঙ্কা, দায়ী বিশ্ব অস্থিরতা ও জলবায়ু পরিবর্তন, মনে করালেন জয়শঙ্কর

    S Jaishankar: বিশ্বে বড় খাদ্যসংকটের আশঙ্কা, দায়ী বিশ্ব অস্থিরতা ও জলবায়ু পরিবর্তন, মনে করালেন জয়শঙ্কর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে চলা অস্থিরতার জেরে বড় ধরনের খাদ্যসংকটের (Food Crisis) মুখোমুখি হতে পারে পৃথিবী। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি। ফলে সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় পরিবর্তন আসতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে খাদ্য উৎপাদনে। এর পাশাপাশি জ্বালানি সংকটও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলবে। এমনই সতর্কবার্তা দিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)।

    নিউ ইয়র্কে এশিয়া সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জয়শঙ্কর বলেন, বিশ্বজুড়ে চলা বিভিন্ন সংঘাতের প্রভাব সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সীমানা ছাড়িয়ে বহু দূর পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে সমুদ্রের জল উষ্ণ হয়ে উঠলে বৃষ্টিপাতের ওপর তার ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে বহু দেশে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সঙ্কটে পড়তে পারে বহু দেশ (S Jaishankar)

    এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি সংকট। ফলে বিশ্বের বহু দেশ, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলি, প্রবল চাপের মুখে পড়তে পারে। পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য দায়ী নীতিনির্ধারকেরা শুধু এটা আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না বলে দায় এড়াতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর।

    তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, নীতিনির্ধারকেরা এটা বলতে পারেন না যে, এমনটা তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল না। অন্য দেশগুলির পরিস্থিতির কথাও তাঁদের বিবেচনা করতে হবে এবং তাঁদের সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বের অন্যান্য অংশে কী ধরনের পরিণতি হতে পারে, তা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। কোনও দেশ এতটা আত্মকেন্দ্রিক হতে পারে না যে, তারা নিজেদের জগতে থাকবে, নিজেদের সিদ্ধান্ত নেবে এবং পরে বলবে, ‘আপনাদের জীবন কঠিন করে তোলা আমার উদ্দেশ্য ছিল না।’”

    ইউক্রেন সংঘাত এবং ইরান-উপসাগরীয় সংকটের প্রভাব ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পড়ছে বলেও জানান ভারতের বিদেশমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কয়েকটি পরিস্থিতির কারণে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে (S Jaishankar)।

    জয়শঙ্কর বলেন, “বড় শস্য রফতানিকারক কয়েকটি দেশ তাদের পণ্য পাঠাতে পারবে না, বিশেষ করে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে। সারেরও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর অন্যতম কারণ, গুরুত্বপূর্ণ সার উৎপাদকদের একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় রয়েছে।”

    ক্রমেই জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি

    এর পাশাপাশি জ্বালানি সংকট এবং অর্থনৈতিক চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সংঘাতের সময় বিনিয়োগ ও অর্থ নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে চলে যায় এবং উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলি থেকে অর্থ সরে যায়। ফলে অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই পরিস্থিতির সামগ্রিক প্রভাব সম্পর্কে জয়শঙ্কর বলেন, “এর নিট ফল সত্যিই অত্যন্ত, অত্যন্ত চাপের (Food Crisis)।”

    তাঁর মতে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলিকে একই সঙ্গে খাদ্য, জ্বালানি, সার এবং অর্থসংস্থানের মতো একাধিক ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। নতুন করে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে তা সামাল দেওয়ার জন্য এই দেশগুলির হাতে থাকা আর্থিক সুরক্ষার ব্যবধানও এখন অনেক কমে এসেছে (S Jaishankar)।

     

  • UNGA: রাষ্ট্রসংঘে কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য এরদোয়ানের, ‘কোনও বাইরের পক্ষের অধিকার নেই’, সাফ জানাল ভারত

    UNGA: রাষ্ট্রসংঘে কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য এরদোয়ানের, ‘কোনও বাইরের পক্ষের অধিকার নেই’, সাফ জানাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে জম্মু ও কাশ্মীর (Kashmir Remark) প্রসঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করল (UNGA) ভারত। নয়াদিল্লি এই মন্তব্যকে অনভিপ্রেত বলে অভিহিত করে জানিয়েছে, ভারতের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত এই বিষয়ে কোনও বাইরের পক্ষের হস্তক্ষেপের অধিকার নেই।

    মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ভারতের এবং ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরের বিষয়ে যে অনভিপ্রেত উল্লেখ করেছেন, ভারত তা প্রত্যাখ্যান করছে।”

    রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্য (UNGA)

    তিনি আরও বলেন, “আপনারা বুঝতেই পারছেন, এটি ভারতের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। এই বিষয়ে কোনও বাইরের পক্ষের কোনও অধিকার বা হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।”

    এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় এরদোয়ান দক্ষিণ এশিয়ার সমস্ত বিরোধের, জম্মু ও কাশ্মীরের বিষয়টি-সহ, রাষ্ট্রসংঘের সনদ এবং সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবের কাঠামোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রসংঘের নথিতেও এরদোয়ানের ২০২৬ সালের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে।

    জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থান

    কাশ্মীর প্রসঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে এরদোয়ানের মন্তব্য অবশ্য নতুন নয়। ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সংক্রান্ত সাংবিধানিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের পর তিনি বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। সেই সময়ও নয়াদিল্লি তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল। ২০২১ সালেও রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে এরদোয়ান কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তবে ২০২৪ সালে তাঁর ভাষণে জম্মু ও কাশ্মীরের কোনও উল্লেখ ছিল (UNGA) না।

    জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট। নয়াদিল্লি অঞ্চলটিকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে উল্লেখ করে আসছে এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি দ্বিপাক্ষিকভাবে সমাধানের পক্ষে (Kashmir Remark) অবস্থান নিয়েছে। ভারত ১৯৭২ সালের সিমলা চুক্তির কথাও উল্লেখ করে থাকে। ওই চুক্তিতে ভারত ও পাকিস্তান শান্তিপূর্ণ উপায়ে এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য মেটানোর বিষয়ে সম্মত (UNGA) হয়েছিল।

     

  • S Jaishankar: “পাকিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আমেরিকার যথেষ্ট বোঝাপড়া নেই, এরই প্রভাব পড়েছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে”, বললেন জয়শঙ্কর

    S Jaishankar: “পাকিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আমেরিকার যথেষ্ট বোঝাপড়া নেই, এরই প্রভাব পড়েছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে”, বললেন জয়শঙ্কর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের উদ্বেগ আমেরিকা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে না বুঝলে ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তার প্রভাব পড়তে পারে। নিউ ইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। তিনি এও বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা ক্রমশ আরও বহুমেরুকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, পরস্পরনির্ভরতার কৌশলগত ব্যবহার, দুর্বল সরবরাহ-শৃঙ্খল এবং শক্তির পরিবর্তিত ভারসাম্য আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে (Indias Terrorism) আরও জটিল করে তুলেছে।

    ভারত-মার্কিন সম্পর্কের প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের পাশাপাশি বাণিজ্যিক জটিলতার কথাও উল্লেখ করেন। পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ থেকে দীর্ঘদিন ধরে যে ধরনের সন্ত্রাসবাদের মুখোমুখি ভারত হয়েছে, তা দেশের জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান উদ্বেগ।

    জয়শঙ্করের কথায়, “সম্ভবত খুব কম দেশই আছে, যারা বহু দশক ধরে কোনও প্রতিবেশী দেশের সুপরিকল্পিত ও সচেতন নীতির অংশ হিসেবে আমাদের মতো সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়েছে।”

    তিনি আরও বলেন, ভারতের কাছে যে বিষয়টি মৌলিক গুরুত্ব বহন করে, কোনও অংশীদার দেশ যদি সেটি যথেষ্ট পরিমাণে না বোঝে বা গুরুত্ব না দেয়, তাহলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তার প্রভাব পড়বেই। তাঁর কথায়, “আমার অন্যতম প্রধান উদ্বেগ যদি আমার অংশীদার সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি না করেন, তাহলে তার প্রভাব সম্পর্কের উপর পড়বে।”

    এই মন্তব্য এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার প্রশাসনের সময়ে আমেরিকা ও পাকিস্তানের মধ্যে যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। ভারতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিবর্তন পাকিস্তান থেকে আসা সন্ত্রাসবাদ নিয়ে নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে (S Jaishankar)।

    সীমান্তে স্বাভাবিক পরিস্থিতিই ভারত-চিন সম্পর্কের পূর্বশর্ত (S Jaishankar)

    ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, আগের কয়েক বছরের তুলনায় বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক ভালো অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও উন্নতি দেখা যাচ্ছে।

    জয়শঙ্কর বলেন, “আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, ২০২৫ সালের তুলনায় আজ সম্পর্ক কি ভালো? আমি বলব, হ্যাঁ। ২০২৪ সালের তুলনায় বললে, আরও বেশি।”

    তবে এই উন্নতিকে দুই দেশের সম্পর্কের মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্ক করেছেন বিদেশমন্ত্রী। তাঁর মতে, ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘাতের পর দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থার কারণে ভারত ও চিনের মধ্যে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছিল। সরকারি পর্যায়ের যোগাযোগ, ভিসা প্রদান এবং সরাসরি বিমান পরিষেবাতেও তার প্রভাব পড়েছিল।

    সীমান্ত পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বৃহত্তর কূটনৈতিক যোগাযোগও ধীরে ধীরে ফিরেছে বলে জানান তিনি। নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরেই বেজিংকে জানিয়ে এসেছে যে সীমান্তে উত্তেজনা দুই দেশের কারও স্বার্থে নয় (S Jaishankar)।

    জয়শঙ্কর বলেন, “যে সমস্যা অন্যদের সুবিধা দেয়, সেই সমস্যার মধ্যে নিজেদের আটকে রাখা উচিত নয়।”

    ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্যের মূল নীতি হল, “সীমান্তের পরিস্থিতিই সম্পর্কের পরিস্থিতি নির্ধারণ করে।” তাঁর কথায়, “সীমান্তে উত্তেজনা থাকবে, আবার সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকবে—এটা হতে পারে না।” সীমান্তে স্বাভাবিক পরিস্থিতি যত এগোবে, ততই বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নতির পরিবেশ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন।

    বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের দিকে এগোচ্ছে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা

    দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বাইরে বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন নিয়েও বক্তব্য রাখেন জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, বিশ্ব ক্রমশ আরও বহুমেরুকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে।

    একসময় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্থিতিশীল শক্তি এবং ব্যবস্থার রূপ নির্ধারণকারী দেশ হিসেবে আমেরিকার যে ভূমিকা ছিল, তাতেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিভিন্ন জোটের ক্ষেত্রে পরিবর্তনের পাশাপাশি আমেরিকা এখন আরও বেশি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা দেখাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    আমেরিকা ও চিনের সম্পর্কের প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, দুই দেশ কিছু বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছতে পারলেও সামগ্রিক সম্পর্ক এখনও প্রতিযোগিতামূলক। তাঁর কথায়, “বিশ্বের বাকি দেশগুলির বিষয়ে তারা দু’জনে কতটা একমত হতে পারে, তারও সীমা রয়েছে।”

    এই পরিস্থিতিতে ভারত-সহ অন্যান্য দেশের সামনে অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনা এবং কোনও একটি দেশের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।

    জয়শঙ্করের কথায়, “আমরা কীভাবে ঝুঁকি কমাব? কীভাবে অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনব? নতুন অংশীদার কারা হতে পারে? ইতিমধ্যে থাকা কোনও অংশীদারিত্ব থেকে কীভাবে আরও বেশি মূল্য পাওয়া যেতে (Indias Terrorism) পারে?”

    “পরস্পরনির্ভরতা বাস্তবতা, প্রতিযোগিতা মানসিকতা”

    বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জয়শঙ্কর যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ, দুর্বল সরবরাহ-শৃঙ্খল এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ককে কৌশলগত চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরেন।

    তিনি পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির উপর তৈরি হওয়া চাপের কথা উল্লেখ করেন। খাদ্য, জ্বালানি, সার ও অর্থব্যবস্থার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন দেশের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি (S Jaishankar)।

    জয়শঙ্কর বলেন, “আমাদের সময়ের পরস্পরবিরোধী বাস্তবতা হল, দেশগুলি গভীরভাবে পরস্পরনির্ভরশীল হয়েও একই সময়ে সেই পরস্পরনির্ভরতাকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে। পরস্পরনির্ভরতা বাস্তবতা, প্রতিযোগিতা হল মানসিকতা।”

    আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ, নিষেধাজ্ঞা, ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞা এবং বাজারে প্রবেশাধিকারের মতো বিষয়গুলিকেও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থার উপর যেসব দেশের প্রভাব রয়েছে, তারা প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের বিরুদ্ধে সেই প্রভাব ব্যবহার করার সুযোগ পায়।

    জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি আন্তর্জাতিক কৌশলগত হিসাবকে আরও জটিল করে তুলেছে বলেও মন্তব্য করেন বিদেশমন্ত্রী। নতুন সামরিক সক্ষমতা দেশগুলিকে আরও বেশি ঝুঁকি নেওয়ার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলেও (Indias Terrorism) সতর্ক করেন তিনি।

    এই পরিস্থিতিতে কূটনীতিকে তিনি চরম কঠিন এক খেলা হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, সরকারগুলিকে একদিকে তাৎক্ষণিক সংকট সামলাতে হয়, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি বিরোধ মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় ধৈর্যও (S Jaishankar) ধরে রাখতে হয়।

     

  • Indian Coast Guard: আরব সাগরে ৩০০০ কোটির মাদক আটক কোস্ট গার্ডের! ৫২৬ কেজি হেরোইন-মেথামফেটামিন উদ্ধার, ধৃত ৫ পাকিস্তানি

    Indian Coast Guard: আরব সাগরে ৩০০০ কোটির মাদক আটক কোস্ট গার্ডের! ৫২৬ কেজি হেরোইন-মেথামফেটামিন উদ্ধার, ধৃত ৫ পাকিস্তানি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরব সাগরে বড়সড় মাদক পাচারের চেষ্টা বানচাল করল ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী (ICG) এবং গুজরাটের অ্যান্টি-টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS)। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সমুদ্র ও আকাশপথে নজরদারি চালিয়ে একটি সন্দেহভাজন ইরানি নৌকা আটক করা হয়। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৫২৬ কেজি উচ্চমানের নিষিদ্ধ মাদক, যার আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি বলে জানিয়েছে আধিকারিকরা।

    সমুদ্রপথে নজরদারি, ধাওয়া করে আটক নৌকা

    ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর আরব সাগরে লক্ষদ্বীপের পশ্চিমে এই অভিযান চালানো হয়। নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সমুদ্র ও আকাশপথে একযোগে নজরদারি শুরু হয়। সন্দেহভাজন জলযানটির গতিবিধির উপর দীর্ঘক্ষণ নজর রাখার পর শুরু হয় ধাওয়া।

    শেষ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ইরানি নৌকাটিকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে প্রায় ৫২৬ কেজি উচ্চমানের মাদক উদ্ধার হয়। উদ্ধার হওয়া নিষিদ্ধ সামগ্রীর মধ্যে ছিল হেরোইন এবং মেথামফেটামিন। আন্তর্জাতিক বাজারে এই বিপুল পরিমাণ মাদকের আনুমানিক মূল্য ৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি।

    নৌকায় ছিল পাঁচ পাকিস্তানি নাগরিক

    অভিযানের সময় ওই জলযানে থাকা পাঁচ পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আধিকারিকরা। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ধৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও ব্যক্তি বা সংগঠনের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা চলছে। অভিযান শেষে নৌকা, পাঁচজন ধৃত এবং বাজেয়াপ্ত মাদককে সশস্ত্র নিরাপত্তার মধ্যে মুম্বইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ এবং একাধিক তদন্তকারী সংস্থার সমন্বয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই অভিযান?

    ভারতের পশ্চিম উপকূল এবং আরব সাগর দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের নজরে রয়েছে। সমুদ্রপথে বিপুল পরিমাণ মাদক একবার ভারতের উপকূলে পৌঁছে গেলে তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে উপকূল থেকে অনেক দূরে সন্দেহভাজন জলযান শনাক্ত করে আটক করা নিরাপত্তা এবং মাদকবিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    এই অভিযানের বিশেষ তাৎপর্য হল, মাদকগুলি ভারতীয় মূল ভূখণ্ডে পৌঁছনোর আগেই তা আটক করা হয়েছে। ফলে বিপুল পরিমাণ হেরোইন ও মেথামফেটামিন দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রবেশের আগেই পাচারচক্রের একটি বড় চালান আটকে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

    এটিএস-এর সঙ্গে সমন্বিত অভিযান

    ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই অভিযানে সমুদ্রপথের নজরদারি ও আটক প্রক্রিয়ার সঙ্গে গুজরাট এটিএস-এর গোয়েন্দা সক্ষমতাও যুক্ত ছিল। অর্থাৎ এটি শুধুমাত্র একটি সামুদ্রিক আটক অভিযান নয়, বরং গোয়েন্দা তথ্য, সমুদ্র ও আকাশ নজরদারি এবং যৌথ তদন্তের সমন্বিত প্রয়াস।

    উপকূলরক্ষী বাহিনীর দাবি, এই ধরনের অভিযানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারচক্রের আর্থিক ভিত্তিতে আঘাত করা সম্ভব। বিশেষ করে হেরোইন ও মেথামফেটামিনের মতো উচ্চমূল্যের মাদক আটক হওয়ায় পাচারকারীদের বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

    মাদক পাচারের সঙ্গে ‘নার্কো-টেরর’ যোগের তদন্ত

    ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী এই ধরনের আন্তর্জাতিক মাদক পাচার নেটওয়ার্ককে ‘ট্রান্সন্যাশনাল নার্কো-টেররিজম’-এর প্রেক্ষাপটে দেখছে। তবে এই নির্দিষ্ট চালানের সঙ্গে কোনও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।

    মুম্বইয়ে নিয়ে যাওয়া পাঁচ ধৃত পাকিস্তানি নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদে জলযানটির যাত্রাপথ, মাদকের উৎস, গন্তব্য এবং এর পিছনে থাকা নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসতে পারে। পাশাপাশি, পাচারকারীরা কোন সমুদ্রপথ ব্যবহার করেছিল এবং ভারতের উপকূলে তাদের সম্ভাব্য যোগাযোগ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।

    ‘নেশামুক্ত ভারত’ অভিযানের সঙ্গে যোগ

    ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, এই অভিযান কেন্দ্রীয় সরকারের ‘নেশামুক্ত ভারত অভিযান’-এর বৃহত্তর লক্ষ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাদের বক্তব্য, উপকূলীয় ও সামুদ্রিক এলাকায় মাদক পাচারের বিরুদ্ধে নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।

    ৫২৬ কেজি মাদক উদ্ধারের ঘটনাটি সেই নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। বিশেষ করে ভারতীয় জলসীমা ও তার সংলগ্ন সামুদ্রিক অঞ্চলে সন্দেহভাজন জলযানের উপর নজরদারি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতা যে মাদক পাচার রুখতে গুরুত্বপূর্ণ, এই অভিযান তা আরও একবার সামনে আনল।

    তদন্ত এখন মূলত তিনটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে— মাদকের উৎস কোথায়, গন্তব্য কোথায় ছিল এবং এই বিপুল চালানের পিছনে থাকা আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে আর কারা যুক্ত। মুম্বইয়ে যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ ও বহু-সংস্থার তদন্তে সেই উত্তরগুলি সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Budgam Encounter: বডগামে এনকাউন্টারে খতম দীর্ঘদিনের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ শীর্ষ লস্কর কমান্ডার ‘মুসা’

    Budgam Encounter: বডগামে এনকাউন্টারে খতম দীর্ঘদিনের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ শীর্ষ লস্কর কমান্ডার ‘মুসা’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরে বড়সড় সাফল্য নিরাপত্তাবাহিনীর। বডগাম জেলার উঁচু পার্বত্য এলাকায় এনকাউন্টারে খতম হল লস্কর-ই-তৈবার (LeT) এক শীর্ষস্তরের জঙ্গি কমান্ডার। নিরাপত্তা আধিকারিকদের দাবি, নিহত জঙ্গির নাম সুলেমান শাহ, ওরফে ‘মুসা’। তাকে ‘আসিফ ফৌজি’ নামেও উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন রিপোর্টে। একাধিক জঙ্গি হামলার সঙ্গে তার যোগ ছিল বলে দীর্ঘদিন ধরে তার খোঁজ চালাচ্ছিল নিরাপত্তাবাহিনী।

    তবে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—ভারতীয় সেনার চিনার কর্পস তাদের প্রাথমিক বিবৃতিতে নিহত জঙ্গির পরিচয় প্রকাশ করেনি। সেনা জানিয়েছে, বডগামের ইউসমার্গের কোরাগ এলাকায় নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযানের সময় সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসে এবং জঙ্গিদের চ্যালেঞ্জ করা হলে তারা গুলি চালায়। পাল্টা গুলির লড়াইয়ে এক জঙ্গি খতম হয়।

    কোরাগ থেকে দুধপাথরি—কীভাবে শুরু হল অভিযান?

    মঙ্গলবার ইউসমার্গের উঁচু এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধির খবর পাওয়ার পর অভিযান শুরু করে নিরাপত্তাবাহিনী। ভারতীয় সেনা, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফের যৌথ দল এলাকায় তল্লাশি চালায়। সেনার তরফে জানানো হয়েছে, কোরাগ এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি দেখতে পেয়ে জওয়ানরা এগিয়ে গেলে জঙ্গিরা গুলি চালায়। এরপরই শুরু হয় তীব্র গুলির লড়াই।

    নিরাপত্তা আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এনকাউন্টারের সময় বডগামের প্রত্যন্ত দুধপাথরি জঙ্গল এলাকায় সুলেমান শাহ ওরফে মুসা নিহত হয়। অভিযান শেষ হওয়ার পরও এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়, কারণ আরও কোনও জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে চেয়েছিল বাহিনী।

    সেপ্টেম্বরের গোড়াতেও হয়েছিল অভিযান, পালিয়ে গিয়েছিল মুসা

    মুসাকে ঘিরে নিরাপত্তাবাহিনীর তৎপরতা অবশ্য নতুন নয়। চলতি মাসের গোড়ায় ইউসমার্গের পাহাড়ি এলাকায় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছিল। সেই অভিযানে মুসা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইয়াসির নিহত হয়। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এরপর থেকেই মুসা-সহ তার সহযোগীদের গতিবিধির উপর নজর রাখছিল বলে আধিকারিকদের দাবি।

    প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইয়াসির এবং মুসা দু’জনেই পির পঞ্জাল পর্বতশ্রেণির দুর্গম জঙ্গলে সক্রিয় ছিল। নিরাপত্তাবাহিনীর চাপ বাড়ার পর তারা ইউসমার্গের দিকে সরে গিয়েছিল বলে নিরাপত্তা সূত্রের দাবি। ইয়াসির নিহত হওয়ার পর মুসাকে খুঁজে বের করার অভিযান আরও জোরদার করা হয়।

    পির পঞ্জালের দুই দিকেই হামলার অভিযোগ

    নিরাপত্তা আধিকারিকদের দাবি, সুলেমান শাহ ওরফে মুসা শুধু বডগাম বা কাশ্মীর উপত্যকার কোনও একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল না। পির পঞ্জাল পর্বতশ্রেণির দুই দিকেই একাধিক জঙ্গি হামলার সঙ্গে তার যোগ ছিল বলে অভিযোগ।

    ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পুঞ্চ-সহ জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীর উপর হামলায় তার সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীর ভূমিকা ছিল বলে আধিকারিকদের দাবি। ওই হামলাগুলিতে একাধিক সেনা ও নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছিলেন।

    এছাড়াও নিরাপত্তা সূত্রগুলি মুসার নাম ২০২৩ সালের ডেরা কি গলি হামলা, ২০২৪ সালের গান্ডেরবাল টানেল হামলা এবং ২০২৫ সালের পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে যুক্ত করেছে। তবে এই হামলাগুলিতে তার নির্দিষ্ট ভূমিকা নিয়ে তদন্তকারী সংস্থাগুলির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে সীমিত রয়েছে।

    পাকিস্তান-ভিত্তিক লস্কর নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগ

    বিভিন্ন নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, মুসা ছিল পাকিস্তানি লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত এক সক্রিয় অপারেটিভ। দুর্গম জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তার সক্রিয়তার কারণে তাকে ধরতে নিরাপত্তাবাহিনীকে একাধিক অভিযান চালাতে হয়েছে বলে রিপোর্টে উঠে এসেছে।

    তার মৃত্যুতে জম্মু ও কাশ্মীরে সক্রিয় লস্কর নেটওয়ার্কের উপর কী প্রভাব পড়ে, তা এখন নজরে রাখার বিষয়। বিশেষ করে পির পঞ্জাল সংলগ্ন জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকাগুলিতে মুসার সহযোগীদের গতিবিধি এবং কোনও নতুন অনুপ্রবেশ বা স্লিপার নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে নিরাপত্তা মহলে গুরুত্ব পাচ্ছে।

    অভিযান এখনও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে

    মুসা নিহত হলেও অভিযানকে শুধুমাত্র একজন জঙ্গির মৃত্যুতেই সীমাবদ্ধ রাখছে না নিরাপত্তাবাহিনী। এনকাউন্টারের পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। দুর্গম জঙ্গল এবং পাহাড়ি ভূখণ্ডে আরও কোনও জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে কি না, অস্ত্র বা গোলাবারুদ মজুত রয়েছে কি না—সেগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    সব মিলিয়ে, ইউসমার্গ-কোরাগ-দুধপাথরি অঞ্চলে ধারাবাহিক অভিযানের পর লস্কর-ই-তৈবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বলে চিহ্নিত এক জঙ্গির মৃত্যু ঘটল। সেপ্টেম্বরের গোড়ায় ইয়াসিরের মৃত্যুর পর এবার মুসারও মৃত্যু হওয়ায় পির পঞ্জাল অঞ্চলে সক্রিয় ওই জঙ্গি গোষ্ঠীর পরবর্তী গতিবিধির উপর নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নজর আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।

  • Social Media Accounts Rule: ১৮ বছরের নীচে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নয়? নাবালকদের আইনি সুরক্ষা নিয়ে কেন্দ্রকে বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

    Social Media Accounts Rule: ১৮ বছরের নীচে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নয়? নাবালকদের আইনি সুরক্ষা নিয়ে কেন্দ্রকে বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা স্ন্যাপচ্যাটের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এক ক্লিকেই অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলছে বাচ্চারা (Minors Social Media Account)। কিন্তু ভারতীয় আইন অনুযায়ী এটি কতটা সঙ্গত? ১৮ বছরের কম বয়সিরা (Social Media Age Limit) কি আদৌ কোনও ডিজিটাল চুক্তিতে সই করতে পারে? এই নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে বার্তা দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court)। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ১৮ বছর বয়সের কম বয়সি অর্থাৎ নাবালকরা কোনও আইনি চুক্তিতে আবদ্ধ হতে পারে না (Child Online Safety)। ফলে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খোলার আইনি শর্তাবলী মেনে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি ১৮ বছরের কম বয়সিদের জন্য বিধিবদ্ধ আইনি নিয়মের আওতায় আনা যায় কি না, তা কেন্দ্রকে খতিয়ে দেখতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনা-র বেঞ্চে এই বিষয়ে শুনানি হয়। জাস্ট রাইটস ফর চিল্ড্রেন অ্যালায়েন্স (Just Rights for Children Alliance বা JRCA)-এর দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে আদালত এই পর্যবেক্ষণ করে।

    কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

    শুনানিকালে বেঞ্চের অন্যতম সদস্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী কেন্দ্রের আইনজীবী অর্থাৎ ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “বিষয়টি আপনাদের গভীরভাবে খতিয়ে দেখা উচিত। কারণ যেকোনও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলেই ডিজিটাল ‘টার্মস অফ সার্ভিস’ বা ব্যবহারের শর্তাবলী মেনে নিতে হয়, যা মূলত একটি আইনি চুক্তি বা কন্ট্রাক্ট ছাড়া আর কিছুই নয়।” এরপরই ১৮৭২ সালের ঐতিহাসিক ‘ইন্ডিয়ান কন্ট্রাক্ট অ্যাক্ট’-এর (ভারতীয় চুক্তি আইন) প্রসঙ্গ টেনে বিচারপতি বাগচী বলেন, “এই আইনের ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনও ১২ বা ১৫ বছরের নাবালক বা অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি আইনি চুক্তি সই করতে পারে না। নাবালকদের সঙ্গে করা এই ধরনের যেকোনও চুক্তি বা চুক্তিপত্র শুরু থেকেই সম্পূর্ণ বেআইনি ও বাতিল বলে গণ্য হয় (void ab initio)।” ফলে একজন নাবালক একা কী করে সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে এই চুক্তিতে আবদ্ধ হচ্ছে, প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের।

    শুধু নির্দেশিকা নয়, প্রয়োজন আইনি কাঠামো

    বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, নাবালকদের সুরক্ষা শুধুমাত্র নির্দেশিকা বা গাইডলাইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। এই সুরক্ষাগুলিকে সোশ্যাল মিডিয়া ইন্টারমিডিয়ারিদের নিয়ন্ত্রণকারী আইনি কাঠামোর আওতায় আনা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে বলেন আদালত। ভারতে পরিষেবা পরিচালনা করা সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলতে হবে বলেও স্পষ্ট করেছে বেঞ্চ। বিশেষ করে শিশু ও নাবালকদের সংক্রান্ত আইনি বিধানগুলি মেনে চলার বিষয়টির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    ১৮ বছরের আইনি সীমা নিয়ে প্রশ্ন

    মামলাকারীদের মূল যুক্তির একটি হল, ভারতীয় আইনে ১৮ বছরের কম বয়সি ব্যক্তিরা স্বাধীনভাবে অনেক ধরনের আইনগত বাধ্যতামূলক চুক্তি করতে পারেন না। অথচ সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ব্যবহারকারীদের প্ল্যাটফর্মের শর্তাবলিতে সম্মতি দিতে হয়। তাহলে ১৮ বছরের কম বয়সি কোনও শিশু কীভাবে স্বাধীনভাবে এমন অ্যাকাউন্ট তৈরি ও পরিচালনা করতে পারে—সেই প্রশ্নই তুলেছে জাস্ট রাইটস ফর চিল্ড্রেন অ্যালায়েন্স। জেআরসিএ-র হয়ে সিনিয়র আইনজীবী এইচ এস ফুলকা আদালতে জানান, ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন কাঠামো সম্পূর্ণ কার্যকর হওয়ার জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। তাঁর যুক্তি, নাবালকদের চুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে বিদ্যমান ভারতীয় আইনেই প্রয়োজনীয় ভিত্তি রয়েছে।

    অভিভাবকের সম্মতির প্রস্তাব

    কেন্দ্রের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, সরকার বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। তিনি ডিজিটাল পার্সোনাল ডাটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট ২০২৩ (Digital Personal Data Protection Act, 2023)-এর কথাও উল্লেখ করেন। নাবালকদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি (parental consent)-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করা যায় কি না, সেটিও বিবেচনা করা হতে পারে বলে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে। এই ব্যবস্থায় কোনও শিশু সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট তৈরি করলে সংশ্লিষ্ট চুক্তিগত সম্পর্কটি বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবকের মাধ্যমে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা থাকতে পারে।

    আইটি অ্যাক্টের ৭৯ নম্বর ধারাও আলোচনায়

    শুনানিতে ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যাক্ট (Information Technology Act)-এর ৭৯ নম্বর ধারা নিয়েও আলোচনা হয়। এই ধারা অনলাইন ইন্টারমিডিয়ারিদের আইনি কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত। আদালত ইঙ্গিত দিয়েছে, নাবালকদের সুরক্ষায় পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে। তবে আদালতের সাম্প্রতিক শুনানির অর্থ এই নয় যে ১৮ বছরের কম বয়সিদের জন্য গোটা দেশে সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বরং কেন্দ্রকে এমন একটি বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে, যা ভারতীয় আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নাবালকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে।

    শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক উদ্বেগ

    জাস্ট রাইটস ফর চিল্ড্রেন অ্যালায়েন্সের (JRCA) আবেদনে শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ঝুঁকির কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— অনলাইন গ্রুমিং, যৌন শোষণ, শিশু পাচার, সেক্সটরশন বা অনলাইনে যৌন হয়রানির মাধ্যমে ব্ল্যাকমেল, আচরণগত প্রোফাইলিং, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, সাইবারবুলিং, বয়সের অনুপযুক্ত কনটেন্টের সংস্পর্শ। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, কিছু সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ১৩ বছর বয়স থেকেই অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ রয়েছে। এর সঙ্গে ভারতের নাবালকদের সম্পর্কিত আইনি কাঠামোর মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, সেটিও মামলাকারীরা আদালতের নজরে এনেছেন।

    ফের শুনানি কবে

    এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট প্রথমবার কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে চেয়েছিল ১০ সেপ্টেম্বর। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি ফের শুনানিতে ওঠে। এদিন বেঞ্চ নাবালকদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধিবদ্ধ সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রকে বলেছে শীর্ষ আদালাত। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মামলাটি ফের সুপ্রিম কোর্টে শুনানির জন্য উঠতে পারে।

     

     

     

     

     

LinkedIn
Share