Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Jharkhand Recruitment Row: ঝাড়খণ্ডে নিয়োগে বড়সড় পদক্ষেপ, বাতিল ৪৪ পরীক্ষা; অনিয়মের মামলায় ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট

    Jharkhand Recruitment Row: ঝাড়খণ্ডে নিয়োগে বড়সড় পদক্ষেপ, বাতিল ৪৪ পরীক্ষা; অনিয়মের মামলায় ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ ও দীর্ঘদিনের ছাত্র আন্দোলনের জেরে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল ঝাড়খণ্ড সরকার (Jharkhand Recruitment Row)। মঙ্গলবার রাতে একসঙ্গে আটটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্যে ২০১৪ সাল থেকে হওয়া ৪৪টি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বাতিল হওয়া পরীক্ষাগুলির মধ্যে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC)-এর পাশাপাশি আউটসোর্সিং সংস্থা টিডিপিএল (TDPL)-এর মাধ্যমে পরিচালিত পরীক্ষাও রয়েছে। বাতিলের তালিকায় রয়েছে ড্রাগ ইনস্পেক্টর, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, ডেপুটি কালেক্টর, ডেন্টাল ডাক্তার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, সিভিল জজ, অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর এবং ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগ পরীক্ষা। সরকারি পলিটেকনিকের লেকচারার, সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার-সহ আরও বেশ কিছু প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত পদে নিয়োগ পরীক্ষাও এই তালিকায় রয়েছে।

    ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের আবেদন

    শুধু পরীক্ষা বাতিল নয়, নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের কাছে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের আবেদন জানাবে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি জেপিএসসি এবং জেএসএসসি—দুই কমিশনেই একটি করে অভ্যন্তরীণ ভিজিল্যান্স সেল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেপিএসসি এবং জেএসএসসি (JPSC ও JSSC)-র নিয়োগ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ করার জন্য গঠিত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন প্রবীণ আইএএস আধিকারিক অমিতাভ কৌশল। ওই কমিটিকে আগামী দুই মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

    চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা

    এই সিদ্ধান্তের সূত্রপাত সোমবারের রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে। সেখানে জেএসএসসি কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল (JSSC Combined Graduate Level বা CGL) পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল এই পরীক্ষা বাতিল করা। একইসঙ্গে টিডিপিএল-এর মাধ্যমে পরিচালিত সমস্ত পরীক্ষা এবং ওই সংস্থার প্রকাশিত ফলাফলও বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তেই নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। জেএসএসসি কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল পরীক্ষায় সফল হয়ে ইতিমধ্যেই সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া ২,০০০-এরও বেশি প্রার্থী তাঁদের চাকরি নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন। সম্প্রতি তাঁরা রাজ্য সচিবালয় থেকে রাঁচির বিরসা চকের দিকে মিছিল করে তাঁদের নিয়োগ যাতে বহাল থাকে, সেই দাবি জানান।

    কেন এই দোলাচল

    পরীক্ষা পরিচালনাকারী এক বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে প্রশ্ন ফাঁস ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে অসন্তোষ দানা বেঁধেছিল। সিআইডি (CID) তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। জানা যায়, পরীক্ষার আগে পরীক্ষার্থীদের হাজারিবাগ, বোকারো, আসানসোল এমনকি নেপালের মতো বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে প্রায় ১৫০টির মধ্যে ১২০টি প্রশ্নের সঠিক উত্তর মুখস্থ করানো হয়। এই নিয়ে মামলা গড়ায় ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। গত ডিসেম্বর মাসে হাইকোর্ট সন্দেহজনকদের বাদ দিয়ে বাকিদের নিয়োগপত্র দেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শীর্ষ আদালতও পরীক্ষা বাতিলের আর্জি খারিজ করে দেয়। সেই আইনি সুরক্ষার ভরসাতেই চাকরিপ্রার্থীরা চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু রাজ্য সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে সেই স্বস্তি এক নিমেষে উধাও হয়ে গেছে।

    নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম

    গত কয়েক মাস ধরে ঝাড়খণ্ডে জেপিএসসি এবং জেএসএসসি (JPSC ও JSSC)-র নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ বাড়ছিল। পরীক্ষার ফল প্রকাশে দেরি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং দীর্ঘ অপেক্ষা নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর। বছরের পর বছর সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া প্রার্থীদের কাছে এই অভিযোগ ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। অনেকেই একাধিকবার পরীক্ষায় বসেছেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় ছিলেন। ফলে কোনও পরীক্ষা বাতিল হলে তাঁদের বহু বছরের প্রস্তুতি ও পরিশ্রম বিফলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    আন্দোলনে মাথা নোয়াল সরকার

    ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand Recruitment Row) এই আন্দোলন জাতীয় স্তরে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম নিয়ে চলা বিতর্কের মধ্যেই আরও বড় আকার নেয়। দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি (CJP)-র নেতৃত্বে চলা ছাত্র আন্দোলনও দেশের তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে পরীক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভকে সামনে এনেছিল। ঝাড়খণ্ডের আন্দোলনকারীরাও ওই আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। দুই আন্দোলনের ইস্যু আলাদা হলেও মূল দাবিতে মিল রয়েছে—স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য ও দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ ব্যবস্থা। ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনের সূচনা হয় ২৯ জুলাই, রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে। জেপিএসএসসি ও জেএসএসসি-র নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থার দাবিতে সেখানে আন্দোলনে বসেন চাকরিপ্রার্থীরা।

    পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা

    পরবর্তীতে আন্দোলনে রাজনৈতিক সমর্থনও বাড়ে। ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহতো ২ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন, যার ফলে সরকারের উপর চাপ আরও বাড়তে থাকে। অবশেষে ৪৪টি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল, জেপিএসএসসি-জেএসএসসি-তে ভিজিল্যান্স সেল গঠন এবং অনিয়মের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্টের উদ্যোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পথে হাঁটল ঝাড়খণ্ড সরকার। তবে বাতিল হওয়া পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত চাকরিপ্রার্থী এবং ইতিমধ্যেই চাকরিতে যোগ দেওয়া সফল প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • Education Minister: প্রশ্নপত্র যাচাইয়ে চার স্তরের ব্যবস্থা! ৬০০ বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর

    Education Minister: প্রশ্নপত্র যাচাইয়ে চার স্তরের ব্যবস্থা! ৬০০ বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরীক্ষার নিরাপত্তা ও প্রশ্নপত্র তৈরির প্রক্রিয়ায় বড়সড় সংস্কারের পথে হাঁটল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীর নির্দেশের পর পরীক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। এরই অংশ হিসেবে প্রায় ৬০০ জন বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে নতুন বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রশ্নপত্র খতিয়ে দেখতে চালু করা হচ্ছে চার স্তরের যাচাই ব্যবস্থা, যাতে ভুলের সম্ভাবনা আরও কমানো যায়। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) পর্যালোচনা বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী আধিকারিকদের পরীক্ষার নিরাপত্তা, পরিকাঠামো এবং গোপনীয়তা সংক্রান্ত সমস্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। বৈঠকে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি-র ডিরেক্টর জেনারেল সংস্থার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্য দেন।

    ২০ থেকে ২৫ জন আধিকারিককে নিয়োগ

    নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এনটিএ-তে ২০ থেকে ২৫ জন আধিকারিককে নিয়োগ করা হবে। সংস্থার আরও নিয়োগ ও নতুন কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করা হয়েছে। পরীক্ষাব্যবস্থাকে আরও পেশাদার করতে এনটিএ ইতিমধ্যেই ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পেশাদার নেতৃত্বের পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চিফ টেকনোলজি অফিসার, চিফ ফিনান্স অফিসার, চিফ ইনফরমেশন সিকিউরিটি অফিসার, জেনারেল ম্যানেজার (টেস্ট সিকিউরিটি) এবং জেনারেল ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ও সাইকোমেট্রিক্স)-এর মতো পদ। এছাড়া সাইবার সিকিউরিটি, সাইকোমেট্রিক্স এবং প্রশ্নপত্র তৈরির মতো বিশেষ ক্ষেত্রে বেসরকারি ক্ষেত্রের ডোমেন বিশেষজ্ঞদের এনটিএ-তে যুক্ত করা হচ্ছে।

    বহু কর্মীকে সরানোর সিদ্ধান্ত

    জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় স্বচ্ছতা আনতে ও বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-তে বড়সড় সংস্কারের উদ্যোগ নিল কেন্দ্র। একধাক্কায় ৬০০ জন বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে দেওয়া হল এনটিএ থেকে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী এক্স মাধ্যমে পোস্ট করে এই পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এনটিএ-র পরীক্ষার টিমে ইতিমধ্যেই পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রায় ৬০০ জন বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে নতুন বিশেষজ্ঞদের নিযুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আরও ২০ থেকে ২৫ জন আধিকারিককে এনটিএ-তে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    অফিস স্থানান্তর

    এনটিএ-র অফিসও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নতুন জায়গায় স্থানান্তর করা হবে। পরীক্ষার নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী (CISF)-এর দল মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। ১৭ অগাস্ট এনটিএ-র পরীক্ষা ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অডিট করার নির্দেশ দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। ৩০ দিনের মধ্যে সংশোধনমূলক পদক্ষেপের রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জুনে হওয়া ইউজিসি-নেট পরীক্ষার তিনটি বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ত্রুটির জেরে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারপরই এই সংস্কারের উদ্যোগ আরও জোরদার করা হয়েছে।

    চারটি স্তরে যাচাই

    এছাড়া পর্যালোচনা বৈঠকের পর প্রশ্নপত্র তৈরির ক্ষেত্রে চারটি স্তরের যাচাই করার ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র যাতে নির্ভুল হয়, তা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে চার স্তরের স্ক্রুটিনি। বর্তমানে এনটিএ-তে একাধিক পর্যায়ে যাচাই করা হয়। নতুন পদ্ধতিতে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। সম্প্রতি উচ্চশিক্ষাসচিব এবং স্কুল শিক্ষা সচিব-সহ অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানেই এনটিএ-র পরীক্ষা ব্যবস্থার নানা গলদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং কাজের পদ্ধতিতে একাধিক পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই এই সংস্থায় ব্যাপক রদবদল শুরু হয়েছে।

    প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষায় পদক্ষেপ

    প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষায়ও একাধিক কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। এনটিএ-কে কনফিডেনসিয়াল অপারেশন (CONOPS) আর্কিটেকচার সম্পূর্ণভাবে ঢেলে সাজাতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে পৃথক ও সুরক্ষিত কক্ষ, ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন এয়ার গ্যাপ সিস্টেম এবং পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের মোবাইল-সহ অন্যান্য ডিভাইস নির্দিষ্ট স্থানে জমা রাখার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একের পর এক সর্বভারতীয় পরীক্ষায় অস্বচ্ছতা, কখনও প্রশ্নপত্র ফাঁস তো কখনও প্রশ্নে ভুল। দু’বার করে একই পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে পরীক্ষার্থীদের। ফলত ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এই নিয়ে দেশ জুড়ে আন্দোলনের জেরে এবার বড় পরিবর্তনের পথে পরীক্ষক সংস্থা এনটিএ। বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় ভূমিকায় নতুন শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। কেন্দ্রীয় শিক্ষাসচিবদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করে তাঁর মন্ত্রক জানিয়েছে, এনটিএ-র কাজের ধারায় আমূল পরিবর্তন করা হবে।

    সরকারের লক্ষ্য, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ

    প্রহ্লাদ যোশী এনটিএ-কে পরীক্ষার সমস্ত নির্ধারিত প্রোটোকল কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সংস্থার গোটা পরীক্ষা পরিচালনা ব্যবস্থার একটি সমন্বিত অডিট করে কী কী সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, নিরাপত্তা ও পরিচালন পদ্ধতি নিয়ে ওঠা বিভিন্ন বিতর্কের পর ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির এই সংস্কারমূলক পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করে পরীক্ষার নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং নির্ভুলতা আরও শক্তিশালী করা।

    সাড়ে ৭ কোটি টাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা!

    প্রশ্নপত্র ফাঁস, জালিয়াতি এবং নিরাপত্তার ফাঁকফোকর রুখতে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলারও উদ্যোগ নিয়েছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। ইতিমধ্যেই এ জন্য টেন্ডারও ডাকা হয়েছে।এনটিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী দু’বছরের জন্য একটি পেশাদার নিরাপত্তা সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। দিল্লির মিন্টো রোডে এনটিএ-র প্রধান কার্যালয়, ওখলার আঞ্চলিক অফিস, প্রশ্নপত্র সংরক্ষণের স্ট্রং রুম, সার্ভার রুম, গুদাম এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রাখার জায়গায় ২৪ ঘণ্টা কড়া নিরাপত্তা ও নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে। লক্ষ্য একটাই, কোনওভাবেই যাতে প্রশ্নপত্র ফাঁস বা অন্য কোনও ধরনের জালিয়াতির সুযোগ না থাকে।

  • RSS: নিতিন নবীনের নয়া সাংগঠনিক দল, আরএসএসের সঙ্গে সমন্বয়-নির্বাচনী প্রস্তুতিতে জোর বিজেপির

    RSS: নিতিন নবীনের নয়া সাংগঠনিক দল, আরএসএসের সঙ্গে সমন্বয়-নির্বাচনী প্রস্তুতিতে জোর বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজেপির নয়া সাংগঠনিক দলকে নিছক নিয়মমাফিক রদবদল হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টির তাৎপর্য ধরা পড়বে না। নিতিন নবীনের (Nitin Nabin) নেতৃত্বে গঠিত নতুন দলে যাঁদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যাঁদের দায়িত্বে রাখা হয়েছে এবং যাঁদের পদোন্নতি হয়েছে, তাঁদের তালিকা থেকে বিজেপির সাংগঠনিক অগ্রাধিকারের একটি স্পষ্ট ছবি উঠে আসছে। দলের নতুন বিন্যাসে আরএসএসের (RSS) সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়, সংগঠনকে শক্তিশালী করার ওপর বাড়তি গুরুত্ব এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার প্রবণতা স্পষ্ট।

    নয়া সাংগঠনিক কাঠামোর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা (RSS)

    নয়া সাংগঠনিক কাঠামোর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তাগুলির একটি হল রাম মাধবের প্রত্যাবর্তন। তাঁকে দলের জাতীয় সহ-সভাপতি করা হয়েছে। আরএসএসের দীর্ঘদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ মুখ প্রায় এক দশক আগে বিজেপির সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনায় জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এসেছিলেন। সংঘের সঙ্গে বিজেপির সমন্বয় এবং দলের প্রচলিত হিন্দি বলয়ের বাইরে উত্তর-পূর্ব ভারত ও জম্মু-কাশ্মীরে সংগঠন বিস্তারের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। সংঘের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত একজন সাংগঠনিক কৌশলবিদ হিসেবে রাম মাধব বিজেপির ভিতরে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা তৈরি করে নিয়েছিলেন। এবার তাঁর প্রত্যাবর্তনের ফলে দলের জাতীয় কাঠামোর মধ্যে অভিজ্ঞ সংঘ-ঘনিষ্ঠ নেতৃত্ব আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পেল। ফলে তাঁর ফিরে আসাকে বিজেপি কিংবা সংঘ—কোনও পক্ষই বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক মহলে এই প্রত্যাবর্তনকে দুই সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় আরও দৃঢ় করার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

    সন্তোষ-তাওড়ে-বনসল

    রাম মাধবের পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক সংগঠন পদে বিএল সন্তোষকে বহাল রাখা এবং জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিনোদ তাওড়ে ও সুনীল বনসলকে দায়িত্বে রাখাও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে এই তিন নেতাকেই বিজেপির সাংগঠনিক মেরুদণ্ডের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে দেখা হয়। রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনজনেরই আরএসএসের সঙ্গে যোগাযোগ ও সাংগঠনিক সম্পর্ক রয়েছে। বিনোদ এবং সুনীলের মতো নেতাদের উপস্থিতি বিজেপির নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে আরও অভিজ্ঞ করে তুলছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে নির্বাচনী সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁদের অভিজ্ঞতা দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে নতুন কমিটিতে সংগঠন পরিচালনা এবং ভোটের ময়দানে কৌশল প্রয়োগ—দুই ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাকেই একসঙ্গে কাজে লাগানোর চেষ্টা রয়েছে।সতীশ পুনিয়াকেও নতুন সাংগঠনিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংগঠন এবং আরএসএসের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর পদোন্নতিও ইঙ্গিত করছে যে, বিজেপি শুধু জনসমক্ষে দৃশ্যমানতা বা নির্বাচনী জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে নতুন সাংগঠনিক দল তৈরি করছে না। দলের নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং আদর্শগত ভিত্তিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে (Nitin Nabin)।

    উত্তর-পূর্ব ভারতের ক্ষেত্রেও নয়া সাংগঠনিক বিন্যাস

    উত্তর-পূর্ব ভারতের ক্ষেত্রেও নতুন সাংগঠনিক বিন্যাসে বিশেষ নজর রয়েছে। স্বদেশ সিংহকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা এবং মৃগাঙ্ক দেও বর্মনকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে উন্নীত করা সেই দিকটিরই ইঙ্গিত। এঁরা এমন নেতা নন, যাঁদের নাম নিয়মিতভাবে টেলিভিশনের আলোচনাকেন্দ্রে বা বড় নির্বাচনী সমাবেশে সামনে আসে। কিন্তু সাংগঠনিক রাজনীতিতে তাঁদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দলের প্রচার-নির্ভর রাজনীতির বাইরে নিচুতলায় সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এই ধরনের নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি। একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে শিবপ্রকাশ ও সৌদান সিংহকে জাতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সংগঠন পদে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও। সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং সংঘের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে এমন নেতৃত্বকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রেখে বিজেপি মূলত দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও সুসংহত করতে চাইছে। নয়া তালিকায় বিপ্লব কুমার দেবের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে উন্নীত হওয়াও উল্লেখযোগ্য। ত্রিপুরায় বিজেপির সংগঠন গড়ে তোলা থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া এবং পরে জাতীয় স্তরের সংগঠনে ফিরে আসা—তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা দলের সাংগঠনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সরকারের কাজের অভিজ্ঞতার একটি সমন্বিত উদাহরণ। তাঁর দায়িত্ববৃদ্ধি থেকে বোঝা যায়, সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক ভিতরে কাজ করার অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে পদ্ম শিবির(RSS)। এদিকে, দলের রাজনৈতিকভাবে পরিচিত মুখগুলিকেও নতুন কাঠামো থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। স্মৃতি ইরানির প্রত্যাবর্তন এবং উত্তরপ্রদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের দায়িত্ব পাওয়া সংগঠনের মধ্যে নির্বাচনী শক্তিকে আরও জোরদার করবে। জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উত্তরপ্রদেশ। ফলে সেখানে সাংগঠনিক দায়িত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা যুক্ত করা দলের নির্বাচনী কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে (Nitin Nabin)।

    রাজনীতি ও সংগঠনের মেলবন্ধন

    বিজেপির নতুন সাংগঠনিক কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এখানেই। দলটি রাজনীতি ও সংগঠনের মধ্যে কোনও একটিকে বেছে নিচ্ছে না, বরং দুই ক্ষেত্রকে একসঙ্গে মেলানোর চেষ্টা করছে। নিতিন নবীনের নেতৃত্বে দলের নতুন সাংগঠনিক বিন্যাসের প্রকৃত তাৎপর্য সম্ভবত এই জায়গায়ই।

    বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই কর্মী সংগঠিত করা, আদর্শগত ঐক্য বজায় রাখা এবং বুথস্তর পর্যন্ত সাংগঠনিক উপস্থিতি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরএসএসের নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করে এসেছে। কিন্তু বর্তমানে ভারতের নির্বাচনী রাজনীতি ক্রমশ আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভোটের লড়াইয়ে রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনাও আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। এই পরিস্থিতিতে পুরনো সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও নিখুঁত ও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর প্রয়োজন বেড়েছে বিজেপির।

    নতুন দায়িত্ব বণ্টন সেই প্রয়োজনেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। শীর্ষস্তরে তুলনামূলকভাবে তরুণ নেতৃত্ব, গুরুত্বপূর্ণ পদে অভিজ্ঞ নির্বাচনী ব্যবস্থাপক এবং সংগঠন বা সংঘের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত নেতাদের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। এর ফলে বিজেপির রাজনৈতিক প্রচার, নির্বাচনী কৌশল এবং সাংগঠনিক কর্মসূচির মধ্যে আরও নিবিড় যোগাযোগ তৈরি করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে (RSS)।

    আরএসএসের দৃষ্টিকোণ থেকেও এই সাংগঠনিক বিন্যাস গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপি ও সংঘের মধ্যে যে প্রাতিষ্ঠানিক সেতু দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে, নতুন দল সেই সেতুকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। অন্যদিকে নিতিন নবীনের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ। নতুন সাংগঠনিক দল গঠনের মাধ্যমে তিনি নিজের সাংগঠনিক পরিচয় ও নেতৃত্বের ধরন স্পষ্ট করার সুযোগ পাচ্ছেন।

    বিজেপির বার্তা স্পষ্ট

    সব মিলিয়ে বিজেপির নতুন সাংগঠনিক দলের বার্তা যথেষ্ট পরিষ্কার। সামনে যে নির্বাচনী পর্ব আসছে, তার আগে দল সংগঠনের ওপর আরও জোর দিতে চাইছে। শুধু জনপ্রিয় মুখ বা নির্বাচনী প্রচারের ওপর নির্ভর না করে বুথস্তর থেকে জাতীয় স্তর পর্যন্ত সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সঙ্গে দলের সমন্বয়ও আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

    নিতিন নবীনের নেতৃত্বে এই নতুন বিন্যাস তাই কেবল কয়েকটি পদে পরিবর্তনের ঘটনা নয়। বরং এর মধ্যে দিয়ে বিজেপি আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্য সংগঠন, আদর্শ, নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকে একই কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। আগামী নির্বাচনী ফল এই কৌশল কতটা কার্যকর হয়েছে তা শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে (Nitin Nabin)। তবে নতুন সাংগঠনিক দল থেকে আপাতত যে বার্তাটি সবচেয়ে স্পষ্ট, তা হল—বিজেপি সংগঠনকে আরও আঁটসাঁট করছে এবং তার সঙ্গে আরএসএসের সম্পর্কও হয়ে উঠছে আগের তুলনায় ঢের বেশি গুরুত্বপূর্ণ (RSS)।

     

  • Supreme Court on Hanging: মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ফাঁসিই বহাল, ‘আরও মানবিক’ পদ্ধতির আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

    Supreme Court on Hanging: মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে ফাঁসিই বহাল, ‘আরও মানবিক’ পদ্ধতির আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মৃত্যুদণ্ড (Supreme Court on Hanging) কার্যকরের পদ্ধতি হিসেবে আপাতত ফাঁসিই বহাল থাকল। ‘আরও মর্যাদাপূর্ণ ও কম যন্ত্রণাদায়ক’ বিকল্প পদ্ধতির দাবি জানিয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে ভবিষ্যতে বৃহত্তর পর্যালোচনা করার স্বাধীনতা দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ বিদ্যমান পদ্ধতিতে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছে। তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এই রায়ের ফলে কেন্দ্র সরকার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে বৈজ্ঞানিক, চিকিৎসাবিজ্ঞানভিত্তিক ও আইনি পর্যালোচনা করতে বাধাপ্রাপ্ত হবে না।

    ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে যন্ত্রণা

    আবেদনকারীদের মূল যুক্তি ছিল, ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় যন্ত্রণা ও কষ্টের সম্ভাবনা রয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পরও একজন বন্দির মানবিক মর্যাদা কতটা সুরক্ষিত থাকছে, সেই প্রশ্নই তাঁরা আদালতের সামনে তুলেছিলেন। ফাঁসির বিকল্প হিসেবে আবেদনকারীরা লেথাল ইনজেকশন, গুলি করে মৃত্যু এবং ইলেকট্রোকিউশন-সহ বিভিন্ন পদ্ধতি বিবেচনার দাবি জানিয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট এর মধ্যে কোনও পদ্ধতিকেই বিকল্প হিসেবে নির্দিষ্ট বা অনুমোদন করেনি। একইসঙ্গে কেন্দ্রকে ফাঁসির বদলে অন্য কোনও পদ্ধতি চালু করার নির্দেশও দেয়নি। বরং আদালত বিষয়টি কেন্দ্রের বিবেচনার উপর ছেড়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন কোনও বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসাবিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য সামনে এলে এবং তাতে যদি প্রমাণিত হয় যে অন্য কোনও পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির যন্ত্রণা ও কষ্ট কমানো সম্ভব, তাহলে বিষয়টি ফের পর্যালোচনার সুযোগ থাকবে।

    মৃত্যুদণ্ড নয়, প্রশ্ন ছিল কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে

    এই মামলায় মূল প্রশ্ন ছিল না মৃত্যুদণ্ডের সাংবিধানিক বৈধতা। আবেদনকারীরা মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি বাতিলের দাবি জানাননি। তাঁদের আপত্তি ছিল কীভাবে সেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হচ্ছে, তা নিয়ে। আবেদনকারীদের বক্তব্য ছিল, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির ক্ষেত্রেও মানবিক মর্যাদা বজায় রাখা প্রয়োজন এবং এমন কোনও পদ্ধতি থাকলে, যাতে মৃত্যুর সময় যন্ত্রণা কম হয়, তা বিবেচনা করা উচিত। এই মামলায় দীর্ঘ শুনানির পর গত ২২ জানুয়ারি ২০২৬ সুপ্রিম কোর্ট রায় সংরক্ষণ করেছিল। সেই রায়েই আপাতত দেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচলিত পদ্ধতি হিসেবে ফাঁসিকে বহাল রাখা হয়েছে। ফলে এখনই ফাঁসির পদ্ধতিতে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। তবে কেন্দ্র চাইলে চিকিৎসাবিজ্ঞান, নতুন প্রযুক্তি এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে ভবিষ্যতে নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নীতিগত পর্যালোচনা করতে পারবে।

  • NTA: বড়সড় সংস্কারের পথে এনটিএ, সরানো হল ৫০-এর বেশি কর্মীকে

    NTA: বড়সড় সংস্কারের পথে এনটিএ, সরানো হল ৫০-এর বেশি কর্মীকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক একাধিক প্রশ্নের পর জাতীয় পরীক্ষা সংস্থায় (এনটিএ) বড়সড় সংস্কারের উদ্যোগ নিল (NTA) কেন্দ্র। সংস্থার পরীক্ষা পরিচালনা এবং গোপনীয় কার্যক্রমে একাধিক পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Exam Security)। সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই ৫০-এর বেশি কর্মীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৮ অগাস্ট শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এনটিএর পরীক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উচ্চশিক্ষা দফতরের সচিব, এনটিএ কর্তা-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। সংস্থার নেওয়া পদক্ষেপ এবং সামগ্রিক পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

    বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ (NTA)

    বৈঠকে জানানো হয়, যে সংস্কার প্রক্রিয়া চলছে, তার অংশ হিসেবে এনটিএর ৫০-এর বেশি কর্মীকে ইতিমধ্যেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংস্থার পেশাদার নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এজন্য ১০টি নতুন উচ্চপদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। এই পদগুলির মধ্যে রয়েছে প্রধান প্রযুক্তি আধিকারিক, প্রধান অর্থ আধিকারিক, এবং প্রধান তথ্য নিরাপত্তা আধিকারিকও। এনটিএর গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিকে আরও শক্তিশালী করতে বেসরকারি ক্ষেত্র থেকেও বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা হচ্ছে। বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা, মনোবৈজ্ঞানিক পরিমিতি এবং প্রশ্নপত্র প্রণয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তাঁদের কাজে লাগানো হবে। পরীক্ষা পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সব নিয়ম ও নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। পরীক্ষার পরিচালনা ও নিরাপত্তায় কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না—বৈঠকের নির্দেশনায় এমনই কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত মিলেছে।

    বড়সড় সংস্কার

    এনটিএর গোপন কার্যক্রমের কাঠামোয়ও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বড়সড় সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপদ ও বিচ্ছিন্ন কক্ষের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, বহিরাগত নেটওয়ার্ক থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন কম্পিউটার ব্যবস্থা ব্যবহার এবং সংবেদনশীল পরীক্ষা-সংক্রান্ত কাজের জায়গায় ব্যক্তিগত বৈদ্যুতিন যন্ত্র জমা রাখার নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা। এর লক্ষ্য, পরীক্ষার গোপনীয় প্রক্রিয়ায় অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকানো এবং নিরাপত্তা আরও জোরদার করা। এছাড়াও এনটিএর সমস্ত পরীক্ষা পরিচালনা প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথায় কী ধরনের ত্রুটি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে কী কী সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতেও বলা হয়েছে। এনটিএকে (NTA) ঘিরে পরীক্ষা পরিচালনা, নিরাপত্তা এবং নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই এই সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হল। নতুন পদক্ষেপগুলির মাধ্যমে সংস্থার অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি, প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো এবং পরীক্ষা পরিচালনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র। শিক্ষামন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বৈঠকে মূলত এনটিএর সামগ্রিক পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে (Exam Security)। সংশোধনমূলক পদক্ষেপ দ্রুত কার্যকর করার জন্য সংস্থাকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে (NTA)।

     

  • Declassified Operation Sindoor: ‘এত ব্রহ্মোস আঘাতের পর এ বার তো থামুন’! ভারতকে ফোন বেগতিক পাক ডিজিএমও-র, খোলসা ডিসকভারির সিঁদুর-তথ্যচিত্রে

    Declassified Operation Sindoor: ‘এত ব্রহ্মোস আঘাতের পর এ বার তো থামুন’! ভারতকে ফোন বেগতিক পাক ডিজিএমও-র, খোলসা ডিসকভারির সিঁদুর-তথ্যচিত্রে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সময় দিল্লিকে লক্ষ্য করে পাকিস্তান একটি উচ্চগতির ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল! হরিয়ানার সিরসার আকাশে রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ সেই ক্ষেপণাস্ত্রকে ধ্বংস করে ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এরপরই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত ও সবচেয়ে তীব্র’ পাল্টা হামলা চালায় ভারত। অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) নিয়ে ডিসকভারির (Discovery) দুই পর্বের তথ্যচিত্র ‘Declassified: Operation Sindoor’-এ এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক নিতিন গোখলে। ১৫ অগাস্ট রাত ৯টায় তথ্যচিত্রটি প্রকাশিত হয়।

    দিল্লিকে লক্ষ্য করেই কি হাই-স্পিড ক্ষেপণাস্ত্র?

    তথ্যচিত্রে নিতিন গোখলে বলেন, “রাত প্রায় ১টা ৩০ বা ১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ পাকিস্তান একটি হাই-স্পিড ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। সেটির লক্ষ্য ছিল দিল্লি। হরিয়ানার সিরসার কাছে সেটিকে আটকানো হয়।” এর আগে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছিল, ১০ মে রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ পাকিস্তান ভারতীয় বায়ুসেনার ঘাঁটি, সেনাবাহিনীর গোলাবারুদ ডিপো, বিমানবন্দর এবং সামরিক ছাউনিকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছিল। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, রকেট এবং অন্যান্য দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করেছিল পাকিস্তান। তবে সেই সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক প্রকাশ্যে কোনও ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্য দিল্লি ছিল বলে জানায়নি। ১০ মে সকালে সিরসার একটি মাঠে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকার ছবি ও ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সিরসায় মোতায়েন ভারতীয় বায়ুসেনার একটি ইউনিট ‘বারাক-৮’ ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Barak-8 surface-to-air missile) ব্যবহার করে ওই হামলা নিষ্ক্রিয় করেছিল।

    সিরসার হামলাই বদলে দেয় ভারতের কৌশল

    গোখলের দাবি, ভারতের রাজধানীকে লক্ষ্য করে এই হামলা ভারতকে ‘চূড়ান্ত পাল্টা আঘাত’ চালানোর সংকেত দেয়। এরপর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বড়সড় আক্রমণের দায়িত্ব দেওয়া হয় ভারতীয় বায়ুসেনাকে। তাঁর কথায়, “এ বার সম্পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বায়ুসেনাকে ব্রহ্মোস ক্রুজ মিসাইল ছোড়ার।” এর পরেই পাকিস্তানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, রাডার স্টেশন এবং কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টারে হামলা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। অপারেশন সিঁদুরের এই পর্যায়কে পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিতে ভারতের প্রথম বড় আকারের আঘাতগুলির অন্যতম হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে তথ্যচিত্রে।

    একের পর এক পাকিস্তানি বিমানঘাঁটিতে হামলা

    প্রথম দফায় পাকিস্তানের রফিকি, সুক্কুর, রহিম ইয়ার খান এবং নূর খান বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। দ্বিতীয় দফায় লক্ষ্যবস্তু করা হয় সারগোধা, ভোলারি এবং জাকোবাবাদকে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানের মোট ১১টি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করা হয়েছে তথ্যচিত্রে। এয়ার মার্শাল অবদেশ ভারতী বলেন, “উদ্দেশ্য ছিল আঘাতকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিমিত রাখা এবং স্পষ্ট বার্তা দেওয়া— আমরা চাইলে তোমাদের যেখানে খুশি আঘাত করতে পারি এবং এর কোনও জবাব তোমাদের কাছে নেই।”

    তথ্যচিত্রে ভারতীয় সেনা ও বায়ুসেনার শীর্ষ আধিকারিকরা দাবি করেছেন, পাকিস্তানের একাধিক বিমানঘাঁটির রানওয়ে, হ্যাঙ্গার এবং সেখানে থাকা বিমান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ২০২৫ সালের মে মাসের শেষদিকে আজারবাইজানের লাচিনে পাকিস্তান-তুরস্ক-আজারবাইজান সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্রহ্মোস হামলায় রাওয়ালপিন্ডি বিমানবন্দর-সহ বিভিন্ন জায়গায় ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেছিলেন।

    ‘১,২০০ কিলোমিটার ফ্রন্ট, ২০০ কিলোমিটার ভিতরে’

    ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং তথ্যচিত্রে বলেন, “আমরা প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রন্টে এবং তাদের ভূখণ্ডের প্রায় ২০০ কিলোমিটার ভিতরে গিয়ে তাদের সঙ্গে মোকাবিলা করেছি।” তাঁর দাবি, ভারতের পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগিয়েছিল এবং “আমাদের সমস্ত অস্ত্র সঠিক জায়গায় পৌঁছেছিল।” এই হামলায় যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য ‘ব্রহ্মোস-এ’ ক্ষেপণাস্ত্র (BrahMos-A) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল বলে তথ্যচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে। এপি সিং বলেন, “ব্রহ্মোসের আক্রমণের গতি অত্যন্ত বেশি। ফলে সেটিকে আটকানোর সম্ভাবনা কম। অন্য কম গতির অস্ত্রের তুলনায় এর ক্ষয়ক্ষতির ক্ষমতাও অনেক বেশি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এটি আমাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্র।”

    পাকিস্তানের তরফেই প্রথম আসে যুদ্ধবিরতির আবেদন

    ভারতের পাল্টা হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান থেকে নয়াদিল্লির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু হয় বলে তথ্যচিত্রে দাবি করা হয়েছে। নিতিন গোখলের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর রুবিও ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে কথা বলে জানান, পাকিস্তান সংঘর্ষ থামাতে চাইছে।ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তৃতীয় কোনও দেশের মধ্যস্থতা মেনে নেওয়া হবে না। বরং পাকিস্তানের ডিজিএমওকে নির্ধারিত সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতের ডিজিএমও-র সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে বলা হয়।

    অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতের ডিজিএমও লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই জানান, সকাল প্রায় ৯টার দিকে তাঁকে জানানো হয় যে পাকিস্তানের ডিজিএমও তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন। বিদেশ মন্ত্রকও তাঁকে জানায়, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। তবে দুই দেশের হটলাইনে সাময়িক প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয়। রাজীব ঘাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে সেই সমস্যা মেরামত করা হয়। শেষ পর্যন্ত বিকেল প্রায় ৩টা ৩০ মিনিট নাগাদ দুই দেশের ডিজিএমও-র মধ্যে কথা হয়।

    ‘এত ব্রহ্মোস আঘাতের পর, এ বার তো থামুন’

    রাজীব ঘাই জানান, প্রথা অনুযায়ী যিনি ফোন করার অনুরোধ করেন, তিনিই প্রথম কথা বলেন। ফলে পাকিস্তানের ডিজিএমও মেজর জেনারেল কাশিফ আবদুল্লা প্রথমে কথা শুরু করেন। ঘাইয়ের দাবি, পাকিস্তানের ডিজিএমও খুব দ্রুতই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের এত ব্রহ্মোস মিসাইল দিয়ে আঘাত করেছেন, এতক্ষণে আপনারা নিশ্চয়ই সন্তুষ্ট। আমরা এখানেই এটা থামাতে পারি।” জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল জানান, পাকিস্তান বারবার যুদ্ধবিরতির আবেদন করার পর ভারত সেই অনুরোধ মেনে নেয়। ডোভালের কথায়, “ওরা যখন অনুরোধ করল এবং বারবার বলল, ‘এ বার যথেষ্ট হয়েছে, আপনারা যথেষ্ট ক্ষতি করেছেন, এ বার যুদ্ধবিরতি হোক’, তখন আমরা তাদের অনুরোধ মেনে নিয়েছিলাম। আমরাও খুব স্পষ্ট ছিলাম যে এই সংঘাতকে টেনে নিয়ে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।” শেষ পর্যন্ত ১০ মে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে দুই পক্ষই সংঘর্ষ বন্ধ করতে সম্মত হয়।

    ভারতের বার্তা—সহনশীলতাকে দুর্বলতা ভাববেন না

    অপারেশন সিঁদুর শেষ হলেও ভারতের তরফে যে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছিল, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন অজিত ডোভাল। তিনি বলেন, “ভারতের উদারতা বা ভারতের বেশি সহনশীলতাকে আমাদের দুর্বলতা হিসেবে ভুল করা উচিত নয়। ভারত ঝুঁকি নিতে পারে, ভারত কঠিন আঘাত হানতে পারে, তার পরিণতি যা-ই হোক না কেন।” অপারেশন সিঁদুর নিয়ে ডিসকভারির এই তথ্যচিত্রে দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, ১০ মে-র রাতের সেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুধু একটি প্রতিরোধমূলক অভিযান ছিল না; বরং তার পরেই ভারত পাকিস্তানের একাধিক সামরিক পরিকাঠামোয় পরিকল্পিত, নিয়ন্ত্রিত এবং গভীর পাল্টা আঘাত হানে।

  • Jharkhand Students Protest: ঝাড়খণ্ডে ছাত্র আন্দোলনে নয়া মোড়! ছাত্রদের দাবি মেনে বাতিল পরীক্ষা, অনশন প্রত্যাহার মাহাতোর

    Jharkhand Students Protest: ঝাড়খণ্ডে ছাত্র আন্দোলনে নয়া মোড়! ছাত্রদের দাবি মেনে বাতিল পরীক্ষা, অনশন প্রত্যাহার মাহাতোর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাগাতার ছাত্র আন্দোলনের (Jharkhand Students Protest) সামনে পিছু হটল ঝাড়খণ্ড সরকার। ছাত্রদের দাবি মানতে হল হেমন্ত সোরেনকেও। দীর্ঘ ২৪ দিনের ছাত্র-যুব আন্দোলনের পর অবশেষে বড় সিদ্ধান্ত নিল ঝাড়খণ্ডের হেমন্ত সোরেন সরকার। নানা অভিযোগে কলুষিত জেএসএসসি-সিজিএল (JSSC-CGL) পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিল সোরেন সরকার। শুধু তাই নয়, ২০১৪ সাল থেকে বেসরকারি সংস্থা টিএসআর ডাটা প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেড (TSR Data Processing Private Limited বা TDPL)-এর মাধ্যমে নেওয়া পরীক্ষা, ফলাফল ও নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলিও বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। সরকারকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে ছাত্ররা। যন্তর মন্তরের পর রাঁচিতেও ছাত্র আন্দোলনে বড় সাফল্য মিলল।

    অনশন প্রত্যাহার দেবেন্দ্র মাহাতোর

    জেপিএসসি-জেএসএসসি (JPSC-JSSC) নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে টানা ২৪ দিন ধরে চলা ছাত্র আন্দোলনে বড়সড় মোড় নেয়। সোমবার রাতে দীর্ঘ বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন আন্দোলনরত পড়ুয়াদের অধিকাংশ দাবি মেনে নিয়েছেন। তবে পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে সিবিআই তদন্তের দাবি মেনে নেয়নি রাজ্য সরকার। আর এই একটি দাবিকে কেন্দ্র করেই আন্দোলনকারীদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও মন্ত্রীদের বৈঠকের পর সরকার পরীক্ষার বাতিলসহ নিয়োগ প্রক্রিয়া ও পরীক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির বিষয়ে একাধিক আশ্বাস দিয়েছে। এরপর আন্দোলনরত পড়ুয়াদের একাংশ সরকারের সিদ্ধান্তকে বড় জয় হিসেবে দেখছে। ওই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে থাকা দেবেন্দ্র মাহাতো অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং আন্দোলনও শেষ করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

    একাধিক দাবি মেনে নেওয়ায় স্বস্তি

    গত ২০ দিনেরও বেশি সময় ধরে জেপিএসসি-জেএসএসসি (JPSC-JSSC) নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন পড়ুয়ারা। সরকারের তরফে পরীক্ষা বাতিল, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংস্কার এবং ভবিষ্যতে পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করার আশ্বাস দেওয়ার পর আন্দোলনকারীদের একাংশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, দীর্ঘ আন্দোলনের পর সরকার তাঁদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি মেনে নিয়েছে। সোমবারই ওই গোষ্ঠী আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করে। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে পথে নেমেছিল চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনই শেষ পর্যন্ত সরকারকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে বলে আন্দোলনকারীদের দাবি।

    সিবিআই তদন্ত নিয়ে এখনও অচলাবস্থা

    সরকার পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিলেও আন্দোলনের পুরোপুরি অবসান হয়নি। কারণ, পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের অভিযোগে সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি এখনও পূরণ হয়নি। আন্দোলনরত পড়ুয়াদের আরেকটি অংশ স্পষ্ট জানিয়েছে, সিবিআই তদন্তের নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। অর্থাৎ, সরকারের সঙ্গে আলোচনায় অধিকাংশ বিষয়ে সমাধান হলেও সিবিআই তদন্তের দাবিকে কেন্দ্র করে এখনও তৈরি হয়নি পূর্ণ সমঝোতা। উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিতে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে‘জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্মস মঞ্চ’-এর ব্যানারে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন ছাত্র-যুবরা।

    সিবিআই তদন্ত না হলে আন্দোলন চলবে

    ১৭ অগাস্ট মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন জানান, রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে জেএসএসসি-সিজিএল (JSSC-CGL) পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে টিডিপিএল-এর মাধ্যমে ২০১৪ সাল থেকে নেওয়া বিভিন্ন পরীক্ষার প্রক্রিয়া, ফলাফল ও নিয়োগ নিয়েও ব্যাপক তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে , পরীক্ষার ক্ষেত্রে নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (Standard Operating Procedure বা SOP) যথাযথভাবে মানা হলে এই ধরনের অনিয়মের সুযোগ তৈরি হত না। ২০১৪ সালের পর থেকে পরীক্ষাগুলিতে কোথাও কোনও অনিয়ম হয়ে থাকলে তা খুঁজে বের করার জন্য পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে বলেও জানিয়েছে সরকার। ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন করছিলেন ছাত্র ও চাকরিপ্রার্থীরা। রাঁচিতে আন্দোলনকারীদের অবস্থান-বিক্ষোভও চলছিল। বিতর্কিত পরীক্ষা বাতিল, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এবং অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করাই ছিল বিক্ষোভকারীদের দাবি। তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখনই আন্দোলন পুরোপুরি থেমে যাচ্ছে না। পরীক্ষা বাতিল হলেও, তাঁদের নজর থাকবে , অনিয়মের অভিযোগে সিবিআই তদন্ত চায় তারা। তাই পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আন্দোলনকারীরা এখন উৎসাহী।

    ২০ অগাস্ট মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাও!

    এর মধ্যেই সামনে এসেছে আরও একটি বড় প্রশ্ন—আগামী ২০ অগাস্ট কি মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি হবে? গত সপ্তাহেই আন্দোলনরত পড়ুয়ারা ২০ অগাস্ট মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির দিকে মিছিলের ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু সোমবার সরকার অধিকাংশ দাবি মেনে নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলেছে। আন্দোলনকারীদের একটি অংশ ইতিমধ্যেই প্রতিবাদ কর্মসূচি শেষ করার ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে সিবিআই তদন্তের দাবিতে অনড় থাকা পড়ুয়ারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। ফলে ২০ অগস্টের কর্মসূচি আদৌ হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। একদিকে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার পর আন্দোলন প্রত্যাহার, অন্যদিকে সিবিআই তদন্তের দাবিতে অনড় পড়ুয়ারা—এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই এখন নজর ২০ অগাস্টের দিকে।

  • BJP: নতুন জাতীয় কমিটিতে বড়সড় রদবদল বিজেপির, বাংলায় গুরুত্ব উত্তরবঙ্গের

    BJP: নতুন জাতীয় কমিটিতে বড়সড় রদবদল বিজেপির, বাংলায় গুরুত্ব উত্তরবঙ্গের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সর্বভারতীয় সংগঠনে বড়সড় রদবদল করল বিজেপি (BJP)। সোমবার দলের নয়া  জাতীয় পদাধিকারীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে একদিকে যেমন একাধিক অভিজ্ঞ নেতাকে তাঁদের পুরনো দায়িত্বেই রাখা হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে জায়গা দেওয়া হয়েছে নতুন মুখকে। বিশেষ নজর কেড়েছে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দুই নেতার অন্তর্ভুক্তি (New National Committee)। জাতীয় সহ-সভাপতি পদে জায়গা পেয়েছেন মধুছন্দা কর এবং জাতীয় সম্পাদক করা হয়েছে আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গাকে। ফলে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে বাংলার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গও বিশেষ গুরুত্ব পেল বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলের।

    নয়া কমিটিতে কারা (BJP)

    নতুন কমিটি ঘোষণা করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। সোমবার থেকেই নতুন কমিটি দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করেছে। আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, রাজ্যগুলিতে সাংগঠনিক বিস্তার বাড়ানো এবং বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে দলের প্রভাব বাড়ানোই নতুন কমিটির অন্যতম লক্ষ্য বলেই অনুমান। নতুন তালিকায় জাতীয় সহ-সভাপতি পদে একাধিক পুরনো মুখকে বহাল রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া, তীর্থ সিং রাওয়াত, রাম মাধব, বৈজয়ন্ত জয় পাণ্ডা, ডি. পুরানদ্বেশ্বরী, রেখা বর্মা, বর্ষাবেন নরেন্দ্রভাই জোশী, ভারতী প্রবীণ পাওয়ার, মনপ্রীত সিং বাদল, লাল সিং আর্য, এম নাগরাজ এবং তারিক মনসুর। এই তালিকায়ই নতুন করে জায়গা পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মধুছন্দা। জাতীয় সহ-সভাপতিদের তালিকায় মোট ১৩ জনের মধ্যে পাঁচ জন মহিলা রয়েছেন। ফলে সংগঠনের শীর্ষস্তরে মহিলা নেতৃত্বকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাও এই তালিকা থেকে স্পষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মধুছন্দার অন্তর্ভুক্তি রাজ্য সংগঠনের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    বাংলার প্রতিনিধিত্ব

    জাতীয় সম্পাদক পদেও বাংলার প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজকে জাতীয় সম্পাদক করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের এই বিজেপি নেতার সর্বভারতীয় সংগঠনে অন্তর্ভুক্তি আগামী দিনে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক গুরুত্ব আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরবঙ্গকে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে তুলে ধরা হয়। সেই অঞ্চলের এক সাংসদকে জাতীয় স্তরের সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়ার ফলে উত্তরবঙ্গে দলীয় সংগঠন আরও সক্রিয় করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা (BJP)। জাতীয় সাধারণ সম্পাদক পদেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে রাখা হয়েছে। বিনোদ তাওড়ে, সুনীল বনশল, বিপ্লব কুমার দেব, স্মৃতি ইরানি, সতীশ পুনিয়া, গজেন্দ্র প্যাটেল, হরিশ দ্বিবেদী এবং সঞ্জয় ভাটিয়া এই পদে থাকছেন। আট জন জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে একমাত্র মহিলা হিসেবে জায়গা পেয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। তাঁর অন্তর্ভুক্তি নতুন কমিটির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক। এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। এবার দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় তাঁকে জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হল।

    জাতীয় সাধারণ সম্পাদক

    জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিএল সন্তোষকেও বহাল রাখা হয়েছে। সংগঠনের ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের ভূমিকার উপর দল যে আস্থা রাখছে, নতুন তালিকায়ও তার প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। জাতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শিবপ্রকাশ ও সওদান সিংকে (New National Committee)। জাতীয় সম্পাদকদের তালিকায়ও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম রয়েছে। কবিতা পাটিদার, কে সুরেন্দ্রন, ভোলা সিং, প্রদীপ বর্মা, জগদীশ ঈশ্বরভাই প্যাটেল, সন্দীপ পাঠক, ফ্যাংনন কোন্যাক, সঙ্গীতা যাদব, অনিল অ্যান্টনি, এম ভেঙ্কটেশন, মনোজ টিগ্গা, সিদ্ধার্থ শম্ভু, স্বদেশ সিং, মৃগাঙ্ক দেব বর্মন, রোহন গুপ্ত এবং জয় প্রকাশকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায়ও বিভিন্ন রাজ্য ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব রাখার চেষ্টা করা হয়েছে (BJP)। দলের আর্থিক কাঠামোয়ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলকে জাতীয় কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর সহকারী হিসেবে জাতীয় যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ পদে রাজেশ মঙ্গলকে রাখা হয়েছে। পীযূষের মতো অভিজ্ঞ নেতাকে দলের আর্থিক দায়িত্বে আনা নতুন কমিটির অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত।

    কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দায়িত্বেও পরিবর্তন

    কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দায়িত্বেও পরিবর্তন হয়েছে। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকছেন তরুণ চুগ। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সম্পাদক করা হয়েছে মহেন্দ্র পাণ্ডেকে। উত্তর-পূর্ব ভারতের সংগঠনের ক্ষেত্রেও পৃথক দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। উত্তর-পূর্ব সমন্বয়কের দায়িত্ব পেয়েছেন সম্বিত পাত্র এবং যুগ্ম সমন্বয়কের দায়িত্ব পেয়েছেন রাজীব বব্বর। দলের বিভিন্ন শাখায়ও নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যুব মোর্চার সভাপতি হয়েছেন হেমাঙ্গ যোশী। মহিলা মোর্চার দায়িত্ব পেয়েছেন রূপকুমারী চৌধুরি। অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির মোর্চার দায়িত্বে রয়েছেন অমরপাল মৌর্য। কৃষক মোর্চার সভাপতি হয়েছেন বংশীলাল গুর্জর। তফশিলি জাতি মোর্চার দায়িত্ব পেয়েছেন শিবেশ কুমার রাম এবং তফশিলি জনজাতি মোর্চার সভাপতি হয়েছেন মান্নালাল রাওয়াত। সংখ্যালঘু মোর্চার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কুঁওয়ার বাসিত আলিকে। গণমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রেও নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। গণমাধ্যম আহ্বায়ক হয়েছেন অনিল বলুনি। সহ-আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন আশিস ঊষা আগরওয়াল, প্রদীপ ভাণ্ডারী এবং সিদ্ধার্থ যাদব। সোশ্যাল মিডিয়ার আহ্বায়ক করা হয়েছে দীপক মাসকেকে। সহ-আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন প্রীতি গান্ধী, শিবানন্দ দ্বিবেদী, অলোক ভাট এবং অরুণ যাদব।

    ভারসাম্য রাখার চেষ্টা

    সব মিলিয়ে নতুন জাতীয় কমিটিতে অভিজ্ঞতা ও নতুন নেতৃত্বের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব (New National Committee)। পুরনো মুখের উপর আস্থা রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্য, মহিলা নেতৃত্ব এবং সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে মধুছন্দা এবং মনোজের অন্তর্ভুক্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মনোজের জাতীয় সম্পাদক হওয়া উত্তরবঙ্গের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের (BJP)। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এখনও দূরে। কিন্তু তার আগেই জাতীয় স্তরে সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিজেপি। নতুন কমিটির দায়িত্ব বণ্টন থেকে স্পষ্ট, রাজ্যভিত্তিক সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার পাশাপাশি মহিলা, যুব, কৃষক, অনগ্রসর শ্রেণি, তফশিলি জাতি, তফশিলি উপজাতি এবং সংখ্যালঘুদের মধ্যে দলের সাংগঠনিক উপস্থিতি বাড়ানোর উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও নতুন দুই মুখকে জাতীয় দায়িত্ব দিয়ে (New National Committee) রাজ্যে দলের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েছে পদ্ম-শিবির (BJP)।

     

  • Jharkhand: ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলন, এবার মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

    Jharkhand: ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষার অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলন, এবার মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাঁচিতে ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে (Student Protest)। রবিবার, ১৬ অগাস্ট বিক্ষোভকারীরা মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের কুশপুতুল পোড়ান। ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের নিয়োগ পরীক্ষায় সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা মঞ্চের নেতৃত্বে এই আন্দোলন টানা ২৩ দিনে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে তাঁদের একাধিক দাবির বিষয়ে ক্ষমতাসীন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-কংগ্রেস জোট এখনও পর্যন্ত কার্যকরী কোনও পদক্ষেপ করেনি। রবিবার রাঁচির জয়পাল সিং মুণ্ডা স্টেডিয়াম থেকে আলবার্ট এক্কা চকের দিকে মশাল মিছিল করেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে পৌঁছে তাঁরা কুশপুতুল পোড়ান এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি পূরণ না হলে ২০ অগাস্ট মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবন ঘেরাও করা হবে। অবশ্য ১৮ অগাস্টের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

    ক্ষমতাসীন জোটকে নিশানা (Jharkhand)

    নিয়োগ পরীক্ষার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের সমস্যার যথাযথ সমাধান করছে না ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-কংগ্রেস সরকার। কংগ্রেসের কাছেও তাঁরা ঝাড়খণ্ডে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা-নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন।

    রাহুল গান্ধী এবং তেজস্বী যাদবের কুশপুতুল পোড়ানোর ঘটনা থেকে স্পষ্ট, আন্দোলন এখন আর শুধু নিয়োগ পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সীমাবদ্ধ নেই। ক্ষমতাসীন জোটের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও সরাসরি নিশানা করছেন আন্দোলনকারীরা।

    এর আগে রাজ্য বিধানসভার দিকে মিছিল করার সময় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই ঘটনার পর থেকেই আন্দোলনের সুর আরও আক্রমণাত্মক হয়েছে।

    হেমন্ত সোরেন ও রাহুল গান্ধীর ‘শোক’ পালন

    রবিবারের বিক্ষোভে এক আন্দোলনকারী মাথা ন্যাড়া করে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। হেমন্ত ও রাহুলের প্রতি ‘শোক’ প্রকাশের প্রতীকী কর্মসূচি হিসেবে তিনি ন্যাড়া হন। নিজেকে দুই নেতারই “ছোট ভাই” বলে দাবি করে ওই আন্দোলনকারী অভিযোগ করেন, পড়ুয়াদের সমস্যার প্রতি তাঁরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

    তাঁর আরও অভিযোগ, সরকারি চাকরি প্রত্যাশী তরুণদের সমস্যা সমাধানের চেয়ে রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের রাজনৈতিক ও পারিবারিক স্বার্থ নিয়েই বেশি ব্যস্ত (Jharkhand)।

    আর এক বিক্ষোভকারী রাহুলের ছাত্র-সংক্রান্ত অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের অন্যত্র পরীক্ষা নিয়ে অনিয়মের বিরুদ্ধে রাহুল সরব হলেও, ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়াদের অভিযোগের সমাধানে তিনি যথেষ্ট উদ্যোগী নন।

    তবে এর আগে ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের মিছিলে পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছিলেন রাহুল। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ শোনার জন্য তিনি রাজ্য সরকারের কাছে আবেদনও জানিয়েছিলেন (Student Protest)।

    কী কী দাবি পড়ুয়াদের?

    নিয়োগ পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য একাধিক দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের প্রধান দাবিগুলি হল—১. অনিয়মের অভিযোগ ওঠা পরীক্ষাগুলি বাতিল করতে হবে।

    ২. নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করতে হবে।

    ৩. তদন্তের ফল প্রকাশ করতে হবে।

    ৪. অনিয়মের জন্য দায়ী আধিকারিক ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

    ৫. ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা আনতে হবে।

    ৬. অর্থ দফতরের শাখা আধিকারিক সন্তোষ কুমার মাস্তানার সাসপেনশন প্রত্যাহার করতে হবে। আন্দোলনকারীরা তাঁকে অনিয়মের বিষয়টি সামনে আনা এক তথ্যপ্রকাশকারী হিসেবে দাবি করছেন।

    ৭. মাস্তানার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহার করতে হবে।

    আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, তাঁদের সমস্যা কোনও একটি নির্দিষ্ট পরীক্ষাকে ঘিরে নয়। গোটা সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে এই দাবি যুক্ত (Jharkhand)। ২০ অগাস্টের প্রস্তাবিত ঘেরাও কর্মসূচিতে যোগ দিতে ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন প্রান্তের পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের রাঁচিতে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    ফের আলোচনায় বসার ডাক সরকারের

    পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার মধ্যেই ঝাড়খণ্ড সরকার ১৭ অগাস্ট আন্দোলনরত পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

    এর আগে সরকার ও পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হলেও অচলাবস্থা কাটেনি। সরকারের পক্ষ থেকে পড়ুয়াদের কয়েকটি দাবি মেটানোর চেষ্টা করা হলেও, আন্দোলনকারীরা পরীক্ষা বাতিল এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে অনড় রয়েছেন।

    ২০ অগাস্টের ঘেরাও কর্মসূচির আগে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়া ঠেকানোর চেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে (Student Protest)।

    নিয়োগ পরীক্ষায় সংস্কারের ঘোষণা হেমন্তর

    সরকারি নিয়োগ পরীক্ষাকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে তিনি স্বীকার করেন, নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সরকারি চাকরি প্রত্যাশী তরুণদের আস্থায় প্রভাব পড়েছে।

    তিনি জানান, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত নিরপেক্ষভাবে করা হবে এবং যে-ই দোষী প্রমাণিত হোন না কেন, তাঁর পদমর্যাদা বা প্রভাব বিবেচনা না করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট বার্ষিক পরীক্ষা-পঞ্জি, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সময়মতো উত্তরপত্রের কী ও ওএমআর শিট প্রকাশ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় একাধিক স্তরে জবাবদিহির ব্যবস্থা।

    পড়ুয়া, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের কাছ থেকে পরীক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করার পরামর্শ নিতে রাজ্য সরকার ‘পড়ুয়াদের সঙ্গে পড়ুয়াদের কণ্ঠস্বর’ উদ্যোগও শুরু করেছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলেও ফের জানিয়েছেন (Jharkhand) সোরেন।

    নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা করবে কংগ্রেস

    নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে আলোচনার কথা জানিয়েছে কংগ্রেসও। ঝাড়খণ্ড কংগ্রেসের গণমাধ্যম দায়িত্বপ্রাপ্ত রাকেশ সিং জানান, ১৮ অগাস্ট রাজ্য কংগ্রেস একটি বৈঠক করবে। সেখানে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের পরিচালিত পরীক্ষায় সংস্কার নিয়ে আলোচনা হবে।

    দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পড়ুয়াদের উদ্বেগের বিষয়গুলি নিয়ে  আলোচনা হবে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হবে (Student Protest)।

    রাজনৈতিক মাত্রা বাড়ছে আন্দোলনে

    দীর্ঘস্থায়ী এই আন্দোলন ক্রমশ রাজনৈতিক মাত্রা পাচ্ছে। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন এখন ক্ষমতাসীন জোটের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সরাসরি সমালোচনায় পরিণত হয়েছে। হেমন্তর পাশাপাশি রাহুল ও তেজস্বীর কুশপুতুল পোড়ানো সেই উত্তেজনা আরও ইন্ধন জুগিয়েছে।

    ১৭ অগাস্ট সরকারের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার সুযোগ অচলাবস্থা কাটাতে পারে। তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তাঁদের দাবি পূরণ না হলে ২০ অগাস্ট মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করা হবে (Jharkhand)।

     

  • Air India Pilots Drug Test: ফের অস্বস্তিতে এয়ার ইন্ডিয়া, প্রাথমিক দফার মাদক পরীক্ষায় ব্যর্থ আরও ২ পাইলট

    Air India Pilots Drug Test: ফের অস্বস্তিতে এয়ার ইন্ডিয়া, প্রাথমিক দফার মাদক পরীক্ষায় ব্যর্থ আরও ২ পাইলট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফুকেট-দিল্লি এয়ার ইন্ডিয়া বিমানে ভয়াবহ ঘটনার পর পাইলটদের মাদক পরীক্ষা আরও জোরদার করেছে টাটা গোষ্ঠীর মালিকানাধীন এয়ার ইন্ডিয়া। এরই মধ্যে আরও দুই পাইলটের প্রাথমিক ড্রাগ স্ক্রিনিং পরীক্ষায় রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলে সূত্রের খবর। তবে তাঁদের চূড়ান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও আসেনি। আপাতত দু’জনকেই ডিউটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফুকেট-দিল্লি বিমানের কমান্ডার অবতরণের পর করা পরপর দুটি ইউরিন ড্রাগ টেস্টে ব্যর্থ হওয়ার পরই পাইলটদের নিয়ে ব্যাপকভাবে ড্রাগ স্ক্রিনিং শুরু করে এয়ার ইন্ডিয়া। ওই পরীক্ষায় তাঁর শরীরে মারিজুয়ানা বা গাঁজার উপস্থিতি ধরা পড়েছিল বলে জানা যায়।

    কতজন পাইলটের ড্রাগ স্ক্রিনিং

    সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত ৩০০-রও বেশি এয়ার ইন্ডিয়া পাইলটের ড্রাগ স্ক্রিনিং করা হয়েছে। মাদক পরীক্ষার ক্ষেত্রে নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা এসওপি কার্যকর করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে সংস্থা। সাধারণত চূড়ান্ত পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে। এয়ার ইন্ডিয়া এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস-এর প্রায় ৫,০০০ পাইলটকে এই বিশেষ ড্রাগ টেস্টের আওতায় আনা হয়েছে। ১৩ অগস্ট থেকে শুরু হয়েছে এই পরীক্ষা।

    কেন শুরু হলো এই ড্রাগ টেস্ট?

    ঘটনার কেন্দ্রে থাকা এয়ার ইন্ডিয়ার এয়ারবাস এ৩২০এনইও (Airbus A320neo) বিমানটি গত ৪ অগাস্ট উড়ানের সময় আচমকাই প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে যায়। ফুকেট-দিল্লি বিমানের এক কেবিন ক্রু সদস্য আগেই অভিযোগ করেছিলেন যে ওই পাইলট ‘পট’ বা গাঁজা সেবন করেছিলেন। সেই অভিযোগের পর ঘটনাটি আরও গুরুত্ব পায়। এই ঘটনার পরে বিমানের মুখ্য পাইলটের ড্রাগ টেস্ট করা হয়। প্রথম পরীক্ষার পরে তাঁর নমুনার মারিজুয়ানার টেস্ট পজিটিভ আসে বলে সূত্রের খবর। এর পরেই এয়ার ইন্ডিয়া গোষ্ঠীর সমস্ত পাইলটের ড্রাগ স্ক্রিনিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    যান্ত্রিক ত্রুটিও ছিল

    ফুকেট-দিল্লি বিমানের ঘটনায় বিমানের টেকনিক্যাল বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিমানের সিস্টেম লগ এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, প্রায় চার সেকেন্ড ধরে বিমানের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনা ঘটেছিল। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিমানের তিনটি হাইড্রলিক সিস্টেমে একাধিক ত্রুটির পর পাইলটের কমান্ড ছাড়াই এলিভেটর এবং আইলারন নড়াচড়া করেছিল। এর পাশাপাশি স্পয়লারগুলিও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

    ক্রু সদস্যদের নিয়মিত ড্রাগ টেস্ট

    বিমানের প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ফ্লাইট কন্ট্রোল পরিচালনায় হাইড্রলিক সিস্টেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এলিভেটর বিমানের নাক ওপরে বা নীচে ওঠানামা করে পিচ নিয়ন্ত্রণ করে। আইলারন বিমানের ডান-বাঁ দিকের ভারসাম্য বা রোল নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে স্পয়লার লিফট কমিয়ে ড্র্যাগ বাড়াতে সাহায্য করে এবং অবতরণের সময় বিমানকে ধীর করা ও ব্রেকিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ‘তীব্র টার্বুলেন্স’-এর সঙ্গে যুক্ত করা হলেও পরে বিমানের সিস্টেম লগ থেকে উঠে আসে যান্ত্রিক ত্রুটির আরও স্পষ্ট ছবি। ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছিল, অসামরিক বিমান চলাচলের নিয়ম মেনে তাদের ক্রু সদস্যদের নিয়মিত ড্রাগ টেস্ট করা হয় এবং ফুকেট-দিল্লি বিমানের ঘটনার কারণেই এই পরীক্ষা শুরু করা হয়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাইলটদের উপর ব্যাপক ড্রাগ স্ক্রিনিং এবং দুই পাইলটের প্রাথমিক পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা বিমান সংস্থার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কড়াকড়ি করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

LinkedIn
Share