Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • UPI Transaction: ২,০০০ টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে এমডিআর চালুর সিদ্ধান্ত স্থগিত, দীপাবলির পর কার্যকর হতে পারে নতুন নিয়ম

    UPI Transaction: ২,০০০ টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে এমডিআর চালুর সিদ্ধান্ত স্থগিত, দীপাবলির পর কার্যকর হতে পারে নতুন নিয়ম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীপাবলির আগে ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিয়ে ২,০০০ টাকার বেশি মূল্যের নির্দিষ্ট ইউপিআই (UPI Transaction) মার্চেন্ট লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) চালুর প্রস্তাবিত সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখল ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI)-এর ইউপিআই অ্যান্ড সার্ভিসেস স্টিয়ারিং কমিটি। নতুন নিয়ম কার্যকর করার সম্ভাব্য সময় দীপাবলির পর, অর্থাৎ ৮ নভেম্বর, ২০২৬-এর পরে। তবে কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর এই সংক্রান্ত কাঠামো বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ১৫ অক্টোবর থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উৎসবের মরশুমে ব্যবসায়ীদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ এড়াতে তা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে মনে করা হচ্ছে। দীপাবলি ও বিয়ের মরশুমে খুচরো বাজারে কেনাকাটা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এই সময় ছোট দোকানদার থেকে শুরু করে বড় ব্যবসায়ীরা বিক্রি বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্য মজুত, কর্মী নিয়োগ এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় সামলাতে ব্যস্ত থাকেন। এই পরিস্থিতিতে নতুন লেনদেন-সংক্রান্ত খরচ চালু হলে ব্যবসায়ীদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারত। সিদ্ধান্ত পিছিয়ে যাওয়ায় আপাতত সেই আশঙ্কা কিছুটা কমল।

    ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির দাবি মেনে সিদ্ধান্ত?

    প্রস্তাবিত MDR কাঠামো নিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির তরফে আপত্তি জানানো হয়েছিল। কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (CAIT) উৎসবের মরশুমের পরে নতুন নিয়ম চালুর পক্ষে সওয়াল করে। সংগঠনটির মতে, উৎসবের ঠিক আগে মার্চেন্টদের উপর নতুন চার্জ কার্যকর হলে ব্যবসায়িক খরচ ও লেনদেনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। নিয়ম কার্যকরের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ায় ব্যবসায়ী, খুচরো বিক্রেতা এবং পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারীরা নতুন কাঠামো সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে এই সিদ্ধান্তকে এমডিআর চালুর প্রস্তাব বাতিল হিসেবে দেখার কোনও কারণ নেই। আপাতত শুধু কার্যকর করার সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    সাধারণ গ্রাহকদের ইউপিআই লেনদেন কি বিনামূল্যেই থাকবে?

    প্রস্তাবিত কাঠামোয় সমস্ত ইউপিআই লেনদেনের উপর চার্জ বসানোর কথা বলা হয়নি। বরং নির্দিষ্ট কিছু উচ্চমূল্যের মার্চেন্ট লেনদেনের ক্ষেত্রেই এমডিআর প্রযোজ্য হওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

    প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী—

    • ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে (P2P) লেনদেন: বিনামূল্যেই থাকবে।
    • ২,০০০ টাকা পর্যন্ত মার্চেন্ট লেনদেন: এমডিআর থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
    • যোগ্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী: ইউপিআই কিউআর কোডের মাধ্যমে মাসে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পি২পিএম শ্রেণির ব্যবসায়ীরা অব্যাহতির আওতায় থাকবেন।
    • ২,০০০ টাকার বেশি নির্দিষ্ট মার্চেন্ট লেনদেন: প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী এমডিআর প্রযোজ্য হতে পারে।

    প্রস্তাবিত কাঠামোয় উল্লেখিত হিসাব অনুযায়ী, লেনদেনের সংখ্যার নিরিখে ব্যক্তি থেকে ব্যবসায়ীর কাছে হওয়া প্রায় ৯৫–৯৬ শতাংশ ইউপিআই লেনদেনই এই চার্জের আওতার বাইরে থাকবে। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ছোটখাটো কেনাকাটা, দোকানে কিউআর কোড স্ক্যান করে টাকা দেওয়া কিংবা পরিচিতদের কাছে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে আপাতত বিনামূল্যে লেনদেনের ব্যবস্থাই বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রস্তাবিত নিয়মে মার্চেন্টদের গ্রাহকদের কাছ থেকে এমডিআর আদায় করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, এই চার্জ কার্যকর হলেও তা ব্যবসায়ীদের উপর প্রযোজ্য হওয়ার কথা; গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কথা নয়।

    প্রস্তাবিত এমডিআর-এর হার কত?

    প্রস্তাবিত কাঠামোয় নির্দিষ্ট উচ্চমূল্যের মার্চেন্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে ০.৪ শতাংশ MDR ধার্য করার কথা বলা হয়েছে। ৭৫,০০০ টাকা বা তার বেশি মূল্যের লেনদেনে এই চার্জের সর্বোচ্চ সীমা ৩০০ টাকা রাখার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়াও কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের জন্য পৃথক হার বা ছাড়ের ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হয়েছে। যেমন—

    • রেল, টেলিকম, বিমা, জ্বালানি, ইউটিলিটি এবং কৃষি উপকরণ: নির্দিষ্ট লেনদেনে ৫ টাকার ফ্ল্যাট চার্জের প্রস্তাব।
    • পুঁজিবাজার সংক্রান্ত লেনদেন: ০.০২ শতাংশ হারে ছাড়যুক্ত MDR, যার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সীমা প্রযোজ্য।

    অর্থাৎ, সব ধরনের ব্যবসার জন্য একই হারে চার্জ বসানোর প্রস্তাব নেই। লেনদেনের ধরন, ব্যবসার ক্ষেত্র এবং প্রযোজ্য ছাড়ের ভিত্তিতে চার্জের কাঠামো আলাদা হতে পারে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ছাড়ের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। পাড়ার দোকান, রাস্তার ধারের বিক্রেতা এবং ছোট খুচরো ব্যবসায়ীদের কাছে ইউপিআই কিউআর কোড এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থপ্রদানের মাধ্যম। অতিরিক্ত খরচের চাপ থেকে এই ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা দেওয়াই প্রস্তাবিত ছাড়ের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    ইউপিআই ব্যবস্থার আর্থিক স্থায়িত্ব কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় ইউপিআই বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মোবাইল ফোন ও কিউআর কোডের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা পাঠানোর সুবিধা শহর থেকে ছোট শহর এবং গ্রামীণ এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশে সক্রিয় ইউপিআই ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫৫ কোটির বেশি। মাসিক লেনদেনের মোট মূল্য প্রায় ৩০ লক্ষ কোটি টাকা এবং এর মধ্যে মার্চেন্ট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৯ লক্ষ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিপুল লেনদেনের পরিকাঠামো পরিচালনা করতে ব্যাঙ্ক, পেমেন্ট অ্যাগ্রিগেটর এবং অন্যান্য পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাকে নিয়মিত বিনিয়োগ করতে হয়। প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো বজায় রাখা, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা, প্রতারণা প্রতিরোধ এবং আরও বেশি ব্যবসায়ীকে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার আওতায় আনার জন্য খরচ প্রয়োজন। এত দিন ইউপিআই লেনদেনে এমডিআর না থাকায় এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলির জন্য সরাসরি মার্চেন্ট-সাইড রাজস্বের একটি সম্ভাব্য উৎস সীমিত ছিল। প্রস্তাবিত কাঠামোর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু লেনদেনে সীমিত চার্জ চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে সাধারণ ব্যবহারকারী এবং যোগ্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ছাড় বজায় রাখার কথাও বলা হয়েছে। মূল চ্যালেঞ্জ হল, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার আর্থিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে পরিষেবাটিকে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী রাখা।

    উৎসবের মরশুমে স্বস্তি, ভবিষ্যতে নতুন নিয়ম

    দীপাবলির আগে এমডিআর চালুর সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা বর্তমান নিয়মে আরও কিছুদিন লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে মার্চেন্ট ও পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলি নতুন নিয়ম সম্পর্কে নিজেদের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করার সময় পাবে। তবে নতুন কাঠামো কার্যকর হওয়ার আগে কোন ধরনের লেনদেনে কত চার্জ লাগবে, কোন ব্যবসায়ী ছাড় পাবেন এবং কীভাবে চার্জ গণনা করা হবে—এই বিষয়গুলি স্পষ্ট করা জরুরি।প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে নিয়মটি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা দীপাবলির পর চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। সংশোধিত তারিখ আলাদাভাবে জানানো হবে। সব মিলিয়ে, প্রস্তাবিত MDR কাঠামো বাতিল না করে তার বাস্তবায়ন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে উৎসবের মরশুমে ব্যবসায়ীরা সাময়িক স্বস্তি পেলেন। অন্যদিকে, সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বিনামূল্যে ইউপিআই লেনদেনের সুবিধা বজায় রাখা এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা—এই দুই লক্ষ্যকে একসঙ্গে সামনে রেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা রয়েছে।

  • Shah Attacks Rahul: ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে চতুর্থ পরাজয়ের জন্য প্রস্তুত থাকুক কংগ্রেস, রাহুলকে নিশানা শাহের

    Shah Attacks Rahul: ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে চতুর্থ পরাজয়ের জন্য প্রস্তুত থাকুক কংগ্রেস, রাহুলকে নিশানা শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরপর নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য কংগ্রেসকে আত্মসমীক্ষার পরামর্শ দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Shah Attacks Rahul)। মঙ্গলবার কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে তিনি বলেন, নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ খুঁজতে হবে দলের ভিতরেই। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR)-কে দায়ী করে রাজনৈতিক ব্যর্থতা আড়াল করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আরও একটি পরাজয়ের জন্য রাহুল গান্ধীকে প্রস্তুত থাকার কটাক্ষও করেন শাহ। রাহুলকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বললেন, ‘এসআইআর-কে দোষ দিচ্ছেন কেন? আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পরে থেকেই কংগ্রেস হারছে।’ গুজরাটের গান্ধীনগর পুরসভার ৪৪টি আসনের মধ্যে ৩৮টিতেই জিতেছে বিজেপি। ৫টি আসন গিয়েছে কংগ্রেসের ঝুলিতে। একটিতে জয়ী হয়েছেন নির্দল প্রার্থী। তার পরেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী আর কংগ্রেসকে একযোগে তুলোধনা করেন শাহ।

    এসআইআর-কে দায়ী করার যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়

    নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এসআইআর-কে কেন্দ্র করে রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের প্রতিবাদের মধ্যেই এই মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধন শুরু হওয়ার আগেও বিভিন্ন নির্বাচনে কংগ্রেস পরাজিত হয়েছে। ফলে প্রতিটি নির্বাচনী ব্যর্থতার জন্য এসআইআর-কে দায়ী করার যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। অমিত শাহ বলেন, “আমি বিষয়টি স্পষ্ট করে বলতে চাই এবং বিশেষ করে রাহুলজিকে জানাতে চাই, কংগ্রেস গত ৪১ বছরে গুজরাটে একটিও নির্বাচনে জয় পায়নি। ১৯৮৫ সালে শেষবার জিতেছিল তারা। তার পর থেকে গুজরাটে ধারাবাহিক ভাবে পরাজয়ের মুখে পড়েছে কংগ্রেস।” রাহুল গান্ধীকে আত্মসমীক্ষার পরামর্শ দিয়ে শাহের বক্তব্য, গুজরাটে কংগ্রেসের পরাজয়ের কারণ এসআইআর কি না, তা আগে খতিয়ে দেখা উচিত। নির্বাচন কমিশনকে দোষারোপ করার পরিবর্তে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা প্রয়োজন।

    ২০২৯-এর পরাজয় নিয়েও কটাক্ষ

    কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণের সুর আরও চড়িয়ে শাহ বলেন, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের জন্যও রাহুল গান্ধিকে প্রস্তুত থাকতে হবে। তাঁর অভিযোগ, রাহুল বারবার অসত্য প্রচার করছেন। এসআইআর-বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের সমর্থনে বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনও প্রমাণ তুলে ধরেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরির উপনির্বাচনে কংগ্রেসের পরাজয়ের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন শাহ। তাঁর যুক্তি, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হলেও তার আগেও কংগ্রেস নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে। এমনকী ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের সময়েও দলটি হেরেছে বলে দাবি করেন তিনি। কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থানকে আক্রমণ করে শাহ দলটির বিরুদ্ধে নেতিবাচক রাজনীতি, গণতন্ত্রবিরোধী এবং সংবিধানবিরোধী আচরণের অভিযোগ তোলেন। তাঁর মতে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরিবর্তে কংগ্রেসের উচিত নিজেদের নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কাঠামো এবং নির্বাচনী কৌশলের দুর্বলতা চিহ্নিত করা।

    গুজরাটের পুরসভা নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের দাবি

    গুজরাটের স্থানীয় নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যকেও নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, তিনটি স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় মোট ১০৪টি আসনের মধ্যে ৯০টিতে জয় পেয়েছে বিজেপি। এই তিনটি সংস্থার মধ্যে রয়েছে দুটি পুরসভা এবং একটি পুরনিগম। গান্ধীনগর পুরনিগমে বিজেপি ৪৪টি আসনের মধ্যে ৩৮টিতে জয় পেয়েছে বলে জানান শাহ। তাঁর আরও দাবি, আগের নির্বাচনের তুলনায় এই পুরনিগমে বিজেপির ভোটের হার ১০ শতাংশ বেড়েছে। আম আদমি পার্টিকেও কটাক্ষ করেন তিনি। শাহের দাবি, দলটি ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও প্রতিটি আসনেই জামানত হারিয়েছে। গুজরাটের নির্বাচনী ফলাফলকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি রাজ্যের ভোটারদের সমর্থনের প্রতিফলন বলে দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি, রাজস্থানের স্থানীয় নির্বাচনেও বিজেপি ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।  মঙ্গলবার গুজরাট পুরভোটে গান্ধীনগর–সহ তিন পুরসভায় বিজেপির জয়জয়কারকে তুলে ধরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তোপ— ‘এটা জনাদেশ, সার–এফেক্ট নয়, আর এটা যত তাড়াতাড়ি কংগ্রেস বুঝবে, ততই ভালো!’

    এসআইআর ঘিরে সংঘাত অব্যাহত

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিরোধীদের সংঘাত ক্রমশ বাড়ছে। রাহুল গান্ধী-সহ ইন্ডিয়া জোটের নেতারা এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, অমিত শাহের বক্তব্য, নির্বাচনে ধারাবাহিক পরাজয়ের কারণ খুঁজতে কংগ্রেসকে নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অবস্থান পর্যালোচনা করতে হবে। গুজরাটের নির্বাচনী ফলাফল এবং বিভিন্ন রাজ্যে উপনির্বাচনে কংগ্রেসের পারফরম্যান্সের প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদের যুক্তিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন তিনি। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই রাজনৈতিক বাক্‌যুদ্ধ আগামী দিনে আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাদের অভিযোগের পাশাপাশি কংগ্রেসের নেতৃত্ব ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে বিজেপির আক্রমণ—দুই বিষয়ই জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক হয়ে উঠেছে।

     

  • India China Relation: লাদাখের মানচিত্রে ভারতের বড় চাল? ২৮টি কৌশলগত স্থান চিহ্নিত করতেই ক্ষুব্ধ চিন

    India China Relation: লাদাখের মানচিত্রে ভারতের বড় চাল? ২৮টি কৌশলগত স্থান চিহ্নিত করতেই ক্ষুব্ধ চিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাদাখকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে ফের স্পষ্ট বার্তা দিল নয়াদিল্লি। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখের ২৮টি কৌশলগত স্থানের নাম সরকারি মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত ঘিরে ভারত ও চিনের মধ্যে নতুন করে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক চাপানউতোর। ভারতের এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ বলে দাবি করেছে বেজিং। পাল্টা চিনের আপত্তি খারিজ করে ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, চিনের অস্বীকারে লাদাখের উপর ভারতের সার্বভৌমত্বের বাস্তবতা বদলাবে না। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল (Randhir Jaiswal) সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। চিন যতই তা অস্বীকার করুক, এই প্রতিষ্ঠিত সত্য বদলানো সম্ভব নয়।”

    লাদাখের ২৮টি স্থানের নাম সরকারি মানচিত্রে

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বক্তব্য উল্লেখ করে জয়সওয়াল জানান, লাদাখের ২৮টি স্থানের নাম সরকারি মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসন এবং স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে। সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার সরকারি মানচিত্রে এই স্থানগুলিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করার উদ্দেশ্য হল, সেগুলির সঠিক পরিচিতি নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

    নামকরণের তালিকায় রয়েছে পর্বতশৃঙ্গ, হিমবাহ, গিরিপথ, উপত্যকা এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থান। এই তালিকায় গোগরা (Gogra) ও হট স্প্রিংসের (Hot Springs) মতো এলাকাও রয়েছে, যা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি-তে (LAC) ভারত-চিন সামরিক উত্তেজনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

    কেন গোগরা ও হট স্প্রিংস গুরুত্বপূর্ণ?

    ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে ভারত ও চিনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘাতের পর এই এলাকাগুলি বিশেষ কৌশলগত গুরুত্ব অর্জন করে। গোগরা ও হট স্প্রিংস ছিল দুই দেশের সেনার মুখোমুখি অবস্থানের অন্যতম প্রধান সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল। ফলে এই স্থানগুলিকে ভারতের সরকারি মানচিত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত বেজিংয়ের আপত্তির অন্যতম কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    ২০২০ সালের মে মাসে পূর্ব লাদাখে ভারত-চিন সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এরপর ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সেনার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। ওই সংঘর্ষে ভারতের ২০ জন সেনা জওয়ান শহিদ হন। চিনের পক্ষেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল, যদিও সংঘর্ষে নিহত সেনার প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে বেজিং দীর্ঘদিন বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

    দীর্ঘ কূটনৈতিক ও সামরিক আলোচনার পর ২০২২ সালে সংঘাতপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় সেনা সরানোর প্রক্রিয়া এগোয়। পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগও দেখা যায়। তবে সীমান্তে অমীমাংসিত বিষয়গুলি ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এখনও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

    কী বলছে চিন?

    ভারতের সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চিনের বিদেশ মন্ত্রক। মুখপাত্র মাও নিং (Mao Ning) দাবি করেছেন, ভারত একতরফাভাবে যে ‘তথাকথিত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখ’ প্রতিষ্ঠা করেছে, চিন তাকে কখনও স্বীকৃতি দেয়নি।

    চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাও নিং বলেন, ভারতের এই পদক্ষেপ অবৈধ এবং এর কোনও বৈধতা নেই। তাঁর দাবি, ভারত-চিন সীমান্তের পশ্চিম অংশের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলি বরাবরই চিনের অন্তর্ভুক্ত।

    বেজিংয়ের এই বক্তব্যের সঙ্গে নয়াদিল্লির অবস্থানের স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। ভারতের বক্তব্য, লাদাখ দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং সরকারি মানচিত্রে ভৌগোলিক স্থানগুলির নাম অন্তর্ভুক্ত করা প্রশাসনিক ও মানচিত্রগত স্বীকৃতির প্রক্রিয়া। চিনের আপত্তি সেই অবস্থান বদলাতে পারবে না বলেই জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক।

    কোন কোন স্থানের নাম রয়েছে তালিকায়?

    লাদাখের ২৮টি কৌশলগত স্থানের তালিকায় গোগরা, হট স্প্রিংস ছাড়াও রয়েছে আলিশা গিরি, ব্রাংসা, চাপচিংগাল পাস, কানিষ্ক পিক, কারুন পির পর্বত, কুকসেল, মার্তণ্ড গিরি, পারপিক হিমবাহ, স্কামরি হিমবাহ, শাচমিরিক পাস, শকোর্গা উপত্যকা এবং জোরাওয়ার পিক।

    এ ছাড়াও তালিকায় রয়েছে ডেহরা কম্পাস, দ্রাক কার্পো, জোলমোরি, কুমারায়ণ পয়েন্ট, পাংলুং, রিনচেন জাংপো, সাক্যশ্রী গিরি, গুরু রিনপোচে, শামাল লুংপা, ইয়াংপা নদী, মারপা লোৎসাভা রি, মিলারেপা কাংরি, শিব রি এবং মহেশ্বর রি।

    এই নামগুলির মধ্যে শামাল লুংপা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫০-এর দশকে এটি টহলদারি এবং সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতিমূলক পথ হিসেবে ব্যবহৃত হত। ফলে তালিকার কয়েকটি স্থানের গুরুত্ব শুধু ভৌগোলিক নয়, ঐতিহাসিক ও সামরিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।

    ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন করে চাপানউতোর?

    ভারত ও চিনের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একাধিক উদ্যোগ দেখা গিয়েছে। উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং বহুপাক্ষিক মঞ্চে দুই দেশের নেতৃত্বের যোগাযোগ সেই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। কিন্তু সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অবিশ্বাসের জায়গা এখনও রয়ে গিয়েছে।

    লাদাখের ২৮টি স্থানের নাম সরকারি মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তকে তাই কেবল নামকরণের প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখলে বিষয়টির সম্পূর্ণ তাৎপর্য বোঝা যাবে না। একদিকে রয়েছে ভৌগোলিক পরিচিতি ও প্রশাসনিক নথিভুক্তির প্রশ্ন, অন্যদিকে রয়েছে সীমান্তবর্তী এলাকার উপর সার্বভৌমত্ব নিয়ে ভারত ও চিনের পরস্পরবিরোধী দাবি।

    তবে এই নামকরণের ফলে সীমান্তের বাস্তব নিয়ন্ত্রণ বা দুই দেশের মধ্যে থাকা ভূখণ্ডগত বিরোধের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে, এমনটা বলা যায় না। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—লাদাখ দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অন্যদিকে, চিনও তাদের দাবি থেকে সরে আসেনি। ফলে সরকারি মানচিত্রে ২৮টি স্থানের নাম অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নতুন করে কূটনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিলেও, সীমান্ত সমস্যার সমাধান নির্ভর করবে দুই দেশের আলোচনা ও বাস্তব পরিস্থিতির উপরই।

  • CJP Leaders Tihar Jail: শান্তির বন্ডের শর্ত ভাঙায় ৫ দিনের জন্য তিহাড় জেলে দুই ‘আরশোলা’ সৌরভ, আশুতোষ

    CJP Leaders Tihar Jail: শান্তির বন্ডের শর্ত ভাঙায় ৫ দিনের জন্য তিহাড় জেলে দুই ‘আরশোলা’ সৌরভ, আশুতোষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির জন্তর মন্তরে অনুপ্রবেশ, নিষেধাজ্ঞা অমান্য এবং শান্তির বন্ডের শর্ত ভাঙার অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের জন্য তিহাড় জেলে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের সহযোগী অজিঙ্ক শিন্ডে অবশ্য শান্তির বন্ডে স্বাক্ষর করে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার তিনজনকেই স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের (SEM) সামনে পেশ করা হয়।

    দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, তিনজনের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ অমান্য, শান্তির বন্ড ভঙ্গ এবং সরকারি কর্মীকে কাজে বাধা দেওয়ার মতো ধারায় মামলা করা হয়েছে। এর আগে শনিবার বিক্ষোভের সময় আটক হওয়ার পর সৌরভ ও আশুতোষ এক বছরের জন্য শান্তি বজায় রাখার বন্ডে স্বাক্ষর করেছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

    তবে সিজেপি-র আইনি দলের প্রধান রত্না সিংহের অভিযোগ, তিনজনকে রাত ৩টের সময় একটি বেসরকারি ভ্যানে করে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং গভীর রাত পর্যন্ত আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, কর্তৃপক্ষ বেআইনিভাবে তাঁদের আটকে রেখেছিল। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন সমর্থন পাওয়া যায়নি।

    কেন বিতর্কের কেন্দ্রে জন্তর মন্তর?

    গত ১১ অক্টোবর দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমার একটি নির্দেশ জারি করে রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং সিবিডি গ্রাউন্ডকে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের নির্দিষ্ট স্থান হিসেবে চিহ্নিত করেন। এর ফলে জন্তর মন্তর নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ পড়ে।

    এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে সিজেপি। দলের দাবি, রাজধানীর রাজনৈতিক কেন্দ্র থেকে বিক্ষোভ সরিয়ে দিলে প্রতিবাদের দৃশ্যমানতা কমবে এবং সাধারণ মানুষের কাছে আন্দোলনের বার্তা পৌঁছনো কঠিন হবে।

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এ কথিত অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও সিজেপি-সহ একাধিক সংগঠন প্রতিবাদ করছে। তবে SIR-এ অনিয়মের অভিযোগের বিস্তারিত প্রমাণ এই মুহূর্তে সামনে নেই।

    সব মিলিয়ে, দুই নেতার গ্রেফতারি ও বিচারবিভাগীয় হেফাজতকে ঘিরে দিল্লিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে পুলিশের আইনশৃঙ্খলা ও বিধিনিষেধ কার্যকর করার যুক্তি, অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকবে, এখন সেই প্রশ্নই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • India UK Trade: ভারত-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন গতি, এআই-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১০০ কোটি পাউন্ডেরও বেশি চুক্তি

    India UK Trade: ভারত-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন গতি, এআই-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১০০ কোটি পাউন্ডেরও বেশি চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও যুক্তরাজ্যের (India UK Trade) মধ্যে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে বড় পদক্ষেপ। ভারতে আসা ব্রিটিশ বাণিজ্য প্রতিনিধিদল ১০০ কোটি পাউন্ডেরও বেশি মূল্যের নতুন বাণিজ্যিক চুক্তির কথা ঘোষণা করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই গবেষণা, কৃষি, শিক্ষা, উন্নত উৎপাদন শিল্প এবং বিমান পরিষেবা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, এই বাণিজ্যিক উদ্যোগের মধ্যে এআই গবেষণায় ৫ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগের ঘোষণা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি, বিমান পরিষেবা সংস্থা মেনজিস এভিয়েশন ভারতে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য। ১০০টিরও বেশি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ব্রিটিশ প্রতিনিধিদলে রয়েছেন যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্য সচিব জোনাথন রেনল্ডস, স্কটল্যান্ডের সচিব, পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক দফতরের সচিব, উত্তর ইংল্যান্ডের সাতজন মেয়র এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।

    পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে বৈঠক, জেটকোর ১৬তম সম্মেলন

    সফর চলাকালীন নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের সঙ্গে বৈঠক করেন ব্রিটিশ বাণিজ্য সচিব জোনাথন রেনল্ডস। পাশাপাশি, দুই দেশের যৌথ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য কমিটি বা জেটকোর (JETCO) ১৬তম বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন তাঁরা। পীযূষ গোয়েল জানান, ভারত ও যুক্তরাজ্যের অভিন্ন বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, ভারত-যুক্তরাজ্য সমন্বিত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তির (CETA) সুযোগ কার্যকরভাবে কাজে লাগানো, বাণিজ্যিক বাধা দূর করা এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধারাবাহিক আলোচনা, শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এবং যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

    চুক্তির পর প্রায় ১২০০ কোটি পাউন্ডের বাণিজ্যিক উদ্যোগ

    ভারত-যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্রমশ গতি পাচ্ছে। ব্রিটিশ হাইকমিশনের বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে প্রায় ১২০০ কোটি পাউন্ড মূল্যের বাণিজ্যিক চুক্তির ঘোষণা করা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় মেটা ফর ডেটা টেকনোলজিস (MFD) যুক্তরাজ্যে এআই গবেষণার জন্য ৫ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, ব্রিটেনের বিমান পরিষেবা সংস্থা মেনজিস এভিয়েশন ভারতে ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৬০ কোটি পাউন্ডেরও বেশি রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। উন্নত উৎপাদন শিল্প, প্রযুক্তি, বিমান পরিষেবা, শিক্ষা, কৃষি এবং খাদ্য ও পানীয় শিল্পে নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে উভয় দেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলি নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    স্কটল্যান্ডের রফতানি ও কর্মসংস্থানেও জোর

    ব্রিটিশ প্রতিনিধিদলে স্কটল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যের খাদ্য ও পানীয় শিল্পের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছে এগ্রিকালচার অ্যান্ড হর্টিকালচার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড, ব্রিটিশ মিট প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন, ফিভার-ট্রি, কেন্ডামিল, ন্যাশনাল ফার্মার্স ইউনিয়ন, স্যামন স্কটল্যান্ড, স্কচ হুইস্কি অ্যাসোসিয়েশন এবং ওয়াকার্স শর্টব্রেড। স্কটল্যান্ডের সচিব ডগলাস আলেকজান্ডার বলেন, এই বাণিজ্য চুক্তি স্কটল্যান্ডের রফতানিকারকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। বিশেষ করে স্যামন মাছ ও হুইস্কি উৎপাদকরা ভারতীয় বাজারে আরও বেশি ব্যবসার সুযোগ পেতে পারেন। একই সঙ্গে স্কটল্যান্ডে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও এই চুক্তি সহায়ক হবে বলে তিনি আশাবাদী। পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক সচিব অ্যাঞ্জেলা ঈগল জানান, ব্রিটিশ কৃষক এবং খাদ্য ও পানীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে কাজ করে চুক্তির প্রতিশ্রুতিগুলিকে বাস্তব রফতানির সুযোগে পরিণত করার চেষ্টা করছে সরকার। ভারতীয় বাজারে ব্রিটিশ পণ্যের পরিচিতি বাড়ানো এবং নতুন বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।

    বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা

    সফরের পরবর্তী পর্যায়ে ব্রিটিশ বাণিজ্য সচিব জোনাথন রেনল্ডস কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে ভারত-যুক্তরাজ্য বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন পরিষদের বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন। এ ছাড়া মুম্বইয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। সেখানে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি ব্রিটিশ পণ্য ও পরিষেবার প্রদর্শনীমূলক বাণিজ্য মঞ্চেও অংশ নেবেন তিনি।

    দীর্ঘমেয়াদে বছরে ২৫৫০ কোটি পাউন্ড বাণিজ্য বৃদ্ধির প্রত্যাশা

    ভারত-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হওয়ার তিন মাসের মাথায় এই প্রতিনিধিদলের সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রিটিশ হাইকমিশনের বিবৃতি অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদে এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ২৫৫০ কোটি পাউন্ড পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, চুক্তির সুফল বাস্তবায়িত হলে নতুন বিনিয়োগ, রফতানি বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে। এখন মূল লক্ষ্য, চুক্তির মাধ্যমে তৈরি হওয়া সম্ভাবনাগুলিকে বাস্তব বাণিজ্যিক সাফল্যে রূপান্তরিত করা।

  • IMF India GDP Forecast: বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় দ্বিগুণ গতিতে ছুটবে ভারত! ২০২৭ সালে জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭%

    IMF India GDP Forecast: বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় দ্বিগুণ গতিতে ছুটবে ভারত! ২০২৭ সালে জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭%

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির গতি নিয়ে আশাবাদী আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার (IMF)। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (GDP) বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৬.৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ শতাংশ করল সংস্থাটি। শুধু চলতি অর্থবর্ষ নয়, ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষেও ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার স্থিতিশীলতা, পরিষেবা ক্ষেত্রে শক্তিশালী কার্যকলাপ এবং অর্থনীতির ধারাবাহিক গতি এই আশাবাদের মূল কারণ।

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মাত্র এক সপ্তাহ আগেই ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস ৭.১ শতাংশে উন্নীত করেছিল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। এবার আইএমএফ-এর পূর্বাভাস বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলের ইতিবাচক মনোভাবকেই তুলে ধরল।

    কেন ভারতের বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়াল আইএমএফ?

    আইএমএফ-এর ওয়ার্ল্ড ইকোনমি আউটলুক (World Economic Outlook) রিপোর্টের সাম্প্রতিক আপডেটে বলা হয়েছে, প্রত্যাশার তুলনায় ভারতের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বেশি শক্তিশালী। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের ধারাবাহিক বৃদ্ধি অর্থনীতিকে গতি জুগিয়েছে।

    সংস্থাটির মতে, ভারতের বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—

    • ● বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার: দেশের বিপুল জনসংখ্যা ও ক্রমবর্ধমান বাজার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসারে সহায়তা করছে।
    • ● পরিষেবা ক্ষেত্রের শক্তি: পরিষেবা ক্ষেত্রে স্থিতিশীল কার্যকলাপ জিডিপি বৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি।
    • ● অনুকূল জনসংখ্যাগত পরিস্থিতি: কর্মক্ষম জনসংখ্যার সম্ভাবনা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির বৃদ্ধিকে সমর্থন করতে পারে।
    • ● কাঠামোগত সংস্কার: ধারাবাহিক অর্থনৈতিক সংস্কার দেশের উৎপাদনশীলতা ও বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করছে।

    আইএমএফ-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই সমস্ত উপাদানের সম্মিলিত প্রভাবে ভারত এমন একটি অর্থনীতি হিসেবে উঠে আসছে, যার বৃদ্ধির গতি আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী।

    বিশ্ব অর্থনীতির তুলনায় কোথায় দাঁড়িয়ে ভারত?

    ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস বৃদ্ধির তাৎপর্য আরও স্পষ্ট হয় বিশ্ব অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে। ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধির পূর্বাভাস আইএমএফ সামান্য বাড়িয়ে ৩.১ শতাংশ করেছে। জুলাইয়ের পূর্বাভাস ছিল ৩ শতাংশ। ২০২৭ সালের জন্য বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধির হার ৩.৪ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

    অর্থাৎ, বিশ্ব অর্থনীতির সম্ভাব্য বৃদ্ধির হার যেখানে ৩ শতাংশের আশপাশে, সেখানে ভারতের ক্ষেত্রে ৭ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেশটির তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থানকে তুলে ধরছে। এই কারণেই বিশ্ব অর্থনীতির বৃদ্ধিতে ভারতের ভূমিকা আগামী দিনেও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেও বৃদ্ধির আশা

    বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। জ্বালানি আমদানির উপর নির্ভরশীল ভারতের মতো দেশের ক্ষেত্রে এর প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    আইএমএফ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রের শক্তির উপর ভর করে ভারতের অর্থনীতি স্থিতিশীল থেকেছে।

    তবে তেলের দাম বৃদ্ধি ভারতের জন্য ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। অপরিশোধিত তেলের আমদানি ব্যয় বাড়লে বাণিজ্য ঘাটতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং পরিবহণ ও উৎপাদন খরচের উপর চাপ পড়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ইতিবাচক পূর্বাভাসের পাশাপাশি জ্বালানির দামের গতিপ্রকৃতিও নজরে রাখতে হবে।

    ২০২৬ সালে ব্যারেলপ্রতি ৯৫.৭৪ ডলার হতে পারে অপরিশোধিত তেলের দাম

    আইএমএফ-এর অনুমান অনুযায়ী, ব্রেন্ট, দুবাই ফতেহ এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)—এই তিন ধরনের অপরিশোধিত তেলের গড় দাম ২০২৬ সালে ব্যারেলপ্রতি ৯৫.৭৪ ডলার হতে পারে। ২০২৫ সালের তুলনায় তা প্রায় ৪১ শতাংশ বেশি।

    ২০২৭ সালে অবশ্য তেলের গড় দাম প্রায় ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৭.৩৯ ডলারে নেমে আসতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে।

    ভারতের অর্থনীতির ক্ষেত্রে এই পূর্বাভাস গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চস্তরে থাকলে আমদানি ব্যয় বাড়বে এবং তার প্রভাব পড়তে পারে দেশের মূল্যবৃদ্ধি, চলতি খাতের ভারসাম্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে।

    জার্মানি ও ব্রিটেনের বৃদ্ধির পূর্বাভাসও বাড়াল আইএমএফ

    শুধু ভারত নয়, কয়েকটি উন্নত অর্থনীতির ক্ষেত্রেও বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে আইএমএফ। ২০২৬ সালে জার্মানির অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস জুলাইয়ের ০.৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১.৩ শতাংশ করা হয়েছে। ব্রিটেনের ক্ষেত্রে পূর্বাভাস ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১.৩ শতাংশ হয়েছে।

    সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সালে উন্নত অর্থনীতিগুলির বৃদ্ধির পূর্বাভাস ১.৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২.১ শতাংশ করা হয়েছে।

    অন্যদিকে, উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলির সামগ্রিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস কিছুটা কমানো হয়েছে। জুলাইয়ে এই গোষ্ঠীর জন্য ৩.৮ শতাংশ বৃদ্ধির অনুমান করা হলেও, বর্তমানে তা কমিয়ে ৩.৭ শতাংশ করা হয়েছে।

    চিন, রাশিয়া ও ব্রাজিলের বৃদ্ধির গতি নিয়ে সংশয়

    উদীয়মান অর্থনীতিগুলির সামগ্রিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমার অন্যতম কারণ চিন, রাশিয়া ও ব্রাজিলের মতো দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে সংশয়। মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক অর্থনীতির ক্ষেত্রেও ধীরগতির বৃদ্ধি, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সংকোচনের আশঙ্কা রয়েছে। ভারতের বৃদ্ধির পূর্বাভাস উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও অন্যান্য বড় উদীয়মান অর্থনীতির দুর্বল সম্ভাবনা সামগ্রিক গোষ্ঠীর বৃদ্ধির উপর চাপ তৈরি করছে।

    অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাসেও ভারতের অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদ

    আইএমএফ-এর আগেও এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (ADB), অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (OECD) এবং দুই আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা  এসঅ্যান্ডপি  (S&P) ও ফিচ্ (Fitch) ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস প্রায় ৭ শতাংশের আশপাশে রেখেছে বা বাড়িয়েছে। জুনে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের শক্তিশালী গতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত সত্ত্বেও অভ্যন্তরীণ চাহিদার স্থিতিশীলতাকে এই মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হয়েছে।

    ভারতের অর্থনীতির সামনে কী বার্তা?

    আইএমএফ-এর পূর্বাভাস বৃদ্ধি ভারতের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা। অভ্যন্তরীণ বাজার, পরিষেবা ক্ষেত্র এবং কাঠামোগত সংস্কারের উপর নির্ভর করে বৃদ্ধির গতি ধরে রাখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতির তুলনায় ভারতের সম্ভাব্য বৃদ্ধির হার যথেষ্ট বেশি। তবে এই পূর্বাভাসকে নিশ্চিত ফলাফল হিসেবে দেখা উচিত নয়।

    আন্তর্জাতিক সংঘাত, অপরিশোধিত তেলের দাম, বিশ্ববাণিজ্যের পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে, আইএমএফ-এর নতুন পূর্বাভাসে স্পষ্ট—বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা থাকলেও ভারত আপাতত তুলনামূলক দ্রুত বৃদ্ধির পথে এগোচ্ছে। এখন নজর থাকবে, এই সম্ভাবনা বাস্তব অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে কতটা প্রতিফলিত হয়।

  • Rahul Gandhi’s Petition: ভুলে ভরা…! সুপ্রিম কোর্টে করা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪টি ত্রুটি, বকেয়া ২২০ টাকা কোর্ট ফি-ও

    Rahul Gandhi’s Petition: ভুলে ভরা…! সুপ্রিম কোর্টে করা রাহুল গান্ধীর আবেদনে ১৪টি ত্রুটি, বকেয়া ২২০ টাকা কোর্ট ফি-ও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী নেতাদের দায়ের করা যৌথ আবেদনে ১৪টি ত্রুটি চিহ্নিত করল সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি। এর মধ্যে রয়েছে ২২০ টাকা কোর্ট ফি কম জমা দেওয়া, নয়জন আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় অনুমোদনপত্র না থাকা এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের পরিচয়পত্রের অস্পষ্ট ফটোকপি। সোমবার দিল্লিতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করেন বিরোধী ‘ইন্ডি’-জোটের একাধিক নেতা ও সমর্থক। সেই সময়ই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে শীর্ষ আদালতে আবেদন জমা দেয় বিরোধী নেতাদের আইনজীবী দল।

    কী কী ত্রুটি চিহ্নিত হয়েছে?

    সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রির তরফে আবেদনে একাধিক নথিগত ও পদ্ধতিগত ত্রুটির কথা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কয়েকজন আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় ‘ভকালতনামা’ বা আইনজীবী নিয়োগের অনুমতিপত্র না থাকা, মল্লিকার্জুন খাড়গের পরিচয়পত্রের স্পষ্ট প্রতিলিপি জমা দেওয়ার নির্দেশ এবং কয়েকটি নথির রঙিন কপি জমা না দেওয়া। এ ছাড়াও আবেদনের কয়েকটি অংশের অক্ষর অত্যন্ত ছোট হওয়া, অস্পষ্ট বা ঝাপসা লেখা, কিছু পৃষ্ঠা অনুপস্থিত থাকা, আঞ্চলিক ভাষায় লেখা পৃষ্ঠা সংক্রান্ত সমস্যা এবং পৃষ্ঠার নম্বরের অসঙ্গতির মতো ত্রুটি তুলে ধরা হয়েছে। এই আবেদনে রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সৌগত রায়, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, তেজস্বী প্রসাদ যাদব, সুপ্রিয়া সুলে, শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) গোষ্ঠীর নেতা সঞ্জয় রাউত, ডি রাজা, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মহুয়া মাঝি, এম এ বেবি এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের নেতা ই টি মহম্মদ বশির-সহ একাধিক বিরোধী নেতা আবেদনকারী হিসেবে রয়েছেন। আবেদনে প্রতিপক্ষ হিসেবে নাম রয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীর। রেজিস্ট্রির চিহ্নিত ত্রুটিগুলি সংশোধন করার পরেই আবেদনটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হতে পারে।

    আবেদনে কী কী দাবি জানিয়েছে ‘ইন্ডি’ জোট?

    আবেদনকারীদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে— এসআইআর প্রক্রিয়া সংক্রান্ত সমস্ত নথি ও তথ্য আদালতে পেশ করার নির্দেশ। এসআইআর সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তগুলির সাংবিধানিক বৈধতা খতিয়ে দেখা। অনিয়মের জন্য দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ আবেদনকারীদের অভিযোগ ও সমস্যার প্রতিকার। গোটা প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন কমিটি গঠন-সহ অন্যান্য পদক্ষেপ। বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে একাধিক অনিয়ম ঘটেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা বিচারাধীন বিষয়।

    প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন খারিজ

    সোমবার সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার আগে বিরোধী নেতারা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আবেদন করেছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল, কথিত ‘ভোট চুরি’ বন্ধ করা, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ব্যালট পেপারে ভোট ফেরানোর দাবিতে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া। কিন্তু বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন থাকায় প্রধান বিচারপতি সাক্ষাতের অনুরোধ গ্রহণ করেননি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

  • Poonch Landmine Blast: ভারতে অনুপ্রবেশের ছক বানচাল? পুঞ্চে বিস্ফোরণে মৃত্যু লস্কর কমান্ডার-সহ ৪ পাকিস্তানি জঙ্গির

    Poonch Landmine Blast: ভারতে অনুপ্রবেশের ছক বানচাল? পুঞ্চে বিস্ফোরণে মৃত্যু লস্কর কমান্ডার-সহ ৪ পাকিস্তানি জঙ্গির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলায় নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) পেরিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টার সময় ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে মৃত্যু হল চার পাকিস্তানি জঙ্গির। নিহতদের মধ্যে রয়েছে লস্কর-ই-তৈবার এক শীর্ষ কমান্ডার বলে জানা গিয়েছে। সোমবার কৃষ্ণা ঘাঁটি সেক্টরের সাতওয়াল-নাকি এলাকায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের দিক থেকে একদল সন্দেহভাজন ব্যক্তি ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢোকার চেষ্টা করছিল। সেই সময়ই বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে বাহিনী।

    কারা নিহত? সামনে লস্কর কমান্ডারের নাম

    প্রাথমিক সূত্রে নিহত চারজনকে পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের (PoJK) পুঞ্চ জেলার হাজিরা তেহসিলের মান্ডলা, মদরপুর এলাকার বাসিন্দা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের নাম মহম্মদ ইশতিয়াক, মহম্মদ ফয়জান, মহম্মদ ওয়াকাস এবং মহম্মদ আসিম। নিহতদের মধ্যে মহম্মদ ফয়জান লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ কমান্ডার বলে দাবি করা হয়েছে। সোমবার নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন এলাকায় বিস্ফোরণের পরই ঘটনাটি ঘিরে নিরাপত্তা মহলে তৎপরতা শুরু হয়।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ সাতওয়াল-নাকি এলাকা?

    পুঞ্চের কৃষ্ণা ঘাঁটি সেক্টরের সাতওয়াল-নাকি এলাকাকে দীর্ঘদিন ধরেই অনুপ্রবেশের সম্ভাব্য পথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অতীতেও এই রুট ব্যবহার করে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢোকার চেষ্টা হয়েছে বলে নিরাপত্তা সূত্রে দাবি। ফলে এই অঞ্চলে যে কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি সেনাবাহিনীর কাছে বিশেষ গুরুত্ব পায়।

    নিয়ন্ত্রণরেখার এই অংশে পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, ঘন জঙ্গল এবং দুর্গম পথ নজরদারির ক্ষেত্রে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এই ধরনের ভূপ্রকৃতি কাজে লাগিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা হলে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি শনাক্ত করা এবং দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

    প্রাথমিক বিবরণ অনুযায়ী, একটি ভিডিও ফুটেজে (সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম) কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পাঠানি পোশাক পরা অবস্থায় জঙ্গলের মধ্যে চলাফেরা করতে দেখা গিয়েছে। তাঁদের কাছে পিস্তল ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। তারা আইইডি পুঁতে রাখার চেষ্টা করছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে ফুটেজের সত্যতা, সময় এবং বিস্ফোরণের সঙ্গে তার সম্পর্ক স্বাধীন ভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

    বিস্ফোরণের পর দেহ নিয়ে যাওয়ার দাবি

    বিস্ফোরণের পর পাকিস্তানি সেনার সদস্যরা নিহত সন্দেহভাজনদের দেহ সংগ্রহ করে নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে নিয়ে গিয়েছেন বলে কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাক সেনার ৬৬ ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, অতীতেও এই অঞ্চলে পাকিস্তানের বর্ডার অ্যাকশন টিম (BAT)-এর ছয় থেকে সাতজন সদস্য একই ধরনের ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বর্তমান বিস্ফোরণের সঙ্গে অতীতের সেই ঘটনার প্রকৃতি ও পরিস্থিতির মিল কতটা, তা স্পষ্ট নয়।

    নিয়ন্ত্রণরেখায় কেন গুরুত্বপূর্ণ ল্যান্ডমাইন?

    নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে একাধিক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে সামনের দিকের বিভিন্ন এলাকায় ল্যান্ডমাইন বসানো থাকে। সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের পথগুলিতে সন্দেহভাজনদের চলাচল বাধাগ্রস্ত করা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তোলাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

    তবে ল্যান্ডমাইন সব সময় নির্দিষ্ট জায়গায় স্থির থাকে না। ভারী বৃষ্টিতে মাটি ধুয়ে গেলে বা ভূমিক্ষয় ঘটলে কিছু মাইন মূল অবস্থান থেকে সরে গিয়ে অন্যত্র চলে আসতে পারে। ফলে যেখানে আগে বিস্ফোরক থাকার কথা ছিল না, সেখানেও বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়। সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা।

    নিরাপত্তা বাড়াল বাহিনী, নজরদারিতে নিয়ন্ত্রণরেখা

    বিস্ফোরণের পর সংশ্লিষ্ট সেক্টরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সন্দেহজনক গতিবিধির উপর নজর রাখছে নিরাপত্তাবাহিনী। জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গি কার্যকলাপ দমন এবং অনুপ্রবেশ রুখতে তল্লাশি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানও চালানো হচ্ছে।

    পুঞ্চের ঘটনাটি সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আনছে। প্রথমত, পরিচিত অনুপ্রবেশের রুটগুলিতে নজরদারি অব্যাহত রাখা জরুরি। দ্বিতীয়ত, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে থাকা ল্যান্ডমাইনও ভারী বৃষ্টি ও ভূমিক্ষয়ের কারণে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    মেন্ধরেও উদ্ধার দুটি পুরনো ল্যান্ডমাইন

    পুঞ্চের ঘটনাটির পাশাপাশি সোমবার মেন্ধর সেক্টরের বাসোনি এলাকায় সীমান্তের বেড়ার কাছে আরও দুটি পুরনো ল্যান্ডমাইন শনাক্ত করেন ভারতীয় সেনার জওয়ানরা। সূত্রের খবর, রাস্তা বা চলাচলের পথ নির্মাণের কাজ চলাকালীন সকাল ৮টা ২৫ মিনিট এবং দুপুর ১২টা ১০ মিনিট নাগাদ বিস্ফোরক দুটি নজরে আসে।

    এরপর সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞরা নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেগুলি নিষ্ক্রিয় করেন। এই ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন এলাকায় পুরনো বিস্ফোরক থেকে তৈরি হওয়া ঝুঁকির বিষয়টি।

    বিশেষ করে বর্ষার সময়ে ভারী বৃষ্টিতে মাটি সরে যাওয়া, ভূমিক্ষয় এবং জলস্রোতের কারণে ল্যান্ডমাইন স্থানচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্মাণকাজ, টহলদারি এবং নজরদারির সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

  • AI Qaeda: ভারতে প্রভাব বিস্তারে নয়া  কৌশল আল-কায়দার, বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠনগুলিকে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

    AI Qaeda: ভারতে প্রভাব বিস্তারে নয়া  কৌশল আল-কায়দার, বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠনগুলিকে ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-সহ গোটা উপমহাদেশে নিজেদের জঙ্গি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নয়া কৌশল আল-কায়দার। সর্বধর্মীয় সম্প্রীতির কথা নয়, বরং বৃহত্তর প্যান-ইসলামপন্থী আদর্শের প্রচার, বাংলাদেশভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলির মধ্যে ভাঙন তৈরি করে নতুন গোষ্ঠী গড়ে তোলা (AI Qaeda) এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে এই জঙ্গি সংগঠন। গত ১২ অক্টোবর ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা শাখার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে (Terror Groups)। নিরাপত্তা আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়দার শাখা সংগঠনটি নিজেদের আঞ্চলিক প্রভাব বাড়ানো, সমর্থনের ভিত্তি মজবুত করা এবং ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানকে আরও জটিল করে তোলার লক্ষ্যে কৌশলগত পরিবর্তন আনছে।

    আল-কায়দার উদ্দেশ্য (AI Qaeda)

    ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত আল-কায়দার ভারতীয় উপমহাদেশের শাখার উদ্দেশ্য ছিল ভারত-সহ বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশগুলিতে নিজেদের সাংগঠনিক প্রভাব বিস্তার করা। তবে আদর্শগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকলেও, গোড়ার দিকে উল্লেখযোগ্য আঞ্চলিক উপস্থিতি গড়ে তুলতে পারেনি তারা। এর অন্যতম কারণ ছিল ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে প্রতিযোগিতা। হিংসাত্মক কার্যকলাপ ও প্রচার কৌশলের মাধ্যমে ওই জঙ্গি সংগঠন বহু নতুন সদস্যকে আকৃষ্ট করেছিল।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতীতের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে আল-কায়দা এখন তুলনামূলকভাবে বৃহত্তর প্যান-ইসলামপন্থী আদর্শকে সামনে আনতে চাইছে। নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বা উপসম্প্রদায়ের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে জড়ানোর পরিবর্তে, বিভিন্ন গোষ্ঠীকে কাছে টানতে অপেক্ষাকৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক আদর্শগত অবস্থান গ্রহণের চেষ্টা করছে সংগঠনটি। এর মাধ্যমে স্থানীয় সহযোগিতা আদায়, সমর্থনের পরিধি বাড়ানো এবং নিজেদের কার্যকরী নেটওয়ার্ক বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

    নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, আফ্রিকায় প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে আল-কায়দা স্থানীয় জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার কৌশল নিয়েছিল। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতি নির্বিচারে শত্রুতা না দেখিয়ে স্থানীয় সংগঠনগুলির সঙ্গে সহযোগিতা বজায় রাখার ফলে তারা নিজেদের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে পেরেছিল। সেই অভিজ্ঞতাই এবার দক্ষিণ এশিয়ায় কাজে লাগাতে চাইছে আল-কায়দা।

    ইসলামিক স্টেটের আপসহীন শত্রুতার মনোভাব

    অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী সম্প্রদায় ও উপসম্প্রদায়ের প্রতি ইসলামিক স্টেটের আপসহীন শত্রুতার মনোভাব সম্ভাব্য সহযোগীদের দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। একাধিক অঞ্চলে তাদের হিংসাত্মক কার্যকলাপ ও সংঘাতমুখী অবস্থানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। ফলে আগের মতো প্রভাব বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে সংগঠনটির পক্ষে।

    আল-কায়দা এই দুই সংগঠনের কৌশলগত পার্থক্যকে কাজে লাগাতে চাইছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এই পরিবর্তনকে সংগঠনটির চরমপন্থী লক্ষ্য থেকে সরে আসা বলে মনে করছেন না নিরাপত্তা আধিকারিকেরা। বরং সম্ভাব্য সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার পথে আদর্শগত বাধা কমিয়ে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোই এর মূল উদ্দেশ্য।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আল-কায়দার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনের মতাদর্শে তথাকথিত ‘দূরবর্তী শত্রু’, বিশেষত পশ্চিমি শক্তিগুলিকে লক্ষ্য করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল। এখন উপমহাদেশে নিজেদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বজায় রেখেই আঞ্চলিক সহযোগীদের সমর্থনের ভিত্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে সংগঠনটি (AI Qaeda)।

    আল-কায়দার আঞ্চলিক কৌশলে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সে দেশের প্রতিষ্ঠিত জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার পাশাপাশি নতুন বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী তৈরিতে উৎসাহ জোগানোর চেষ্টা চলছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    বাংলাদেশের জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশকে আল-কায়দার অন্যতম প্রধান সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অতীতে এই সংগঠনের মধ্যেই ভাঙন দেখা দিয়েছিল। একটি অংশ ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে যুক্ত হয় এবং পরবর্তী সময়ে নব্য জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে পড়ে।

    বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীকে সংঘবদ্ধ করার চেষ্টা

    নিরাপত্তা আধিকারিকদের দাবি, জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এবং হরকত-উল-জিহাদ-আল-ইসলামি বাংলাদেশের মতো সংগঠনগুলিকে নিজেদের আদর্শ অনুসরণকারী আরও বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী গড়ে তুলতে উৎসাহিত করছে আল-কায়দা।

    প্রতিবেদনে ইমাম মাহমুদের কাফিলা নামে একটি গোষ্ঠীর উল্লেখ রয়েছে, যারা ভারতে নিজেদের কার্যকলাপ কেন্দ্রীভূত করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নেটওয়ার্কের বাইরে উপমহাদেশের আরও বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রভাব ছড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই ধরনের গোষ্ঠীগুলিকে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক গোয়েন্দা আধিকারিকের মতে, জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এবং হরকত-উল-জিহাদ-আল-ইসলামি বাংলাদেশের মতো সংগঠনগুলির ইতিমধ্যেই সদস্যসংখ্যা ও সাংগঠনিক কার্যক্ষমতা রয়েছে। ফলে আল-কায়দা সরাসরি প্রতিটি অভিযানের দায়িত্ব না নিয়েও আদর্শগত দিশা দেখানোর ভূমিকা নিতে পারে এবং বিদ্যমান নেটওয়ার্কগুলিকে নিজেদের বৃহত্তর উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে।

    একাধিক বিচ্ছিন্ন সংগঠন তৈরি হলে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির তদন্তও জটিল হয়ে উঠতে পারে। সংগঠনগুলির পারস্পরিক যোগসূত্র, নেতৃত্বের কাঠামো এবং মূল সংগঠনের সঙ্গে নতুন গোষ্ঠীগুলির সমন্বয়ের মাত্রা নির্ধারণ করা কঠিন হতে পারে। পাশাপাশি, বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীগুলির কার্যকলাপের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগও পেতে পারে মূল সংগঠনগুলি (Terror Groups)।

    ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা শাখার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উপমহাদেশে নিরাপদ আশ্রয়স্থল গড়ে তোলার পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা বজায় রাখতে চাইছে আল-কায়দা। এর মধ্যে শিয়া গোষ্ঠীর সঙ্গেও সম্পর্ক স্থাপনের প্রচেষ্টার উল্লেখ রয়েছে (AI Qaeda)।

    নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, এই ধরনের সম্পর্ক সংগঠনটিকে রসদ ও অন্যান্য সহায়তা জোগাতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেদের নেটওয়ার্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রেও সুবিধা হতে পারে তাদের।

    ছোট ছোট গোষ্ঠীর উত্থান

    বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং ছোট ছোট গোষ্ঠীর উত্থানে উৎসাহ দেওয়ার মাধ্যমে আল-কায়দা আরও বিস্তৃত ও ছড়িয়ে থাকা নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চাইছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে সংগঠনটির ভৌগোলিক পরিসর বাড়তে পারে এবং তাদের কার্যকলাপের প্রকৃত সাংগঠনিক কাঠামো শনাক্ত করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

    প্রতিবেদনে ইসলামিক স্টেটের আগের সদস্য সংগ্রহ অভিযানের সঙ্গেও আল-কায়দার বর্তমান কৌশলের তুলনা করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বহু যুবক ওই সংগঠনের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে কেরলের ২০ জনেরও বেশি যুবক উগ্রপন্থায় প্রভাবিত হয়ে আফগানিস্তানে গিয়ে সংগঠনটিতে যোগ দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আফগানিস্তান, ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটে যোগ দেওয়া কয়েকজন ভারতীয় পরে সংগঠনটির চরম হিংসা, বৈষম্যমূলক আচরণ এবং অবমাননাকর কাজের দায়িত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতায় হতাশ হয়ে পড়েন বলে দাবি করা হয়েছে।

    ইসলামিক স্টেট

    আল-কায়দা ইসলামিক স্টেটের এই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে অপেক্ষাকৃত বিস্তৃত আদর্শগত পরিসর তুলে ধরে নতুন সদস্য ও সহযোগী গোষ্ঠীগুলিকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা আধিকারিকেরা।

    সব মিলিয়ে, বাংলাদেশভিত্তিক জঙ্গি নেটওয়ার্ককে কেন্দ্র করে উপমহাদেশে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে (Terror Groups) আল-কায়দা—এমনই দাবি ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা শাখার প্রতিবেদনে। তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত কৌশলগত পরিবর্তন ও সাংগঠনিক তৎপরতার দাবিগুলি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এই পরিস্থিতি ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলির নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে (AI Qaeda)।

     

  • Jantar Mantar Protest: দিল্লিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা, প্রতিবাদের জন্য নির্ধারিত হল তিনটি বিকল্প স্থান

    Jantar Mantar Protest: দিল্লিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা, প্রতিবাদের জন্য নির্ধারিত হল তিনটি বিকল্প স্থান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিক্ষোভ কর্মসূচির জায়গা হিসেবে যন্তর-মন্তরকে (Jantar Mantar Protest) ডি-নোটিফাই করল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। দিল্লিতে এই এলাকায় আর বিক্ষোভ দেখানো যাবে না। বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য তিনটি জায়গাকে চিহ্নিত করল কেন্দ্র। দিল্লির যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের নির্ধারিত স্থান হিসেবে বাতিল করার কথা জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। পরিবর্তে রাজধানীর তিনটি পৃথক এলাকায় বিক্ষোভের জন্য নতুন স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী দিনে প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি বছর, ২৮ এপ্রিল দিল্লি পুলিশের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করে প্রতিবাদস্থল হিসাবে যন্তর মন্তরকেই নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। এ বার সেই নির্দেশিকায় বদল আনল অমিত শাহের অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশ। যন্তর মন্তরের কাছে রয়েছে বেশ কিছু সরকারি দফতর। মনে করা হচ্ছে, তার আশপাশে যাতে প্রতিবাদ কর্মসূচি না হয়, তাই এই পদক্ষেপ।

    দিল্লি পুলিশের বিশেষ নির্দেশিকা

    ১১ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে জারি করা এক নির্দেশ অনুযায়ী, নতুন নির্ধারিত স্থানগুলি হল পুরনো দিল্লির রামলীলা ময়দান, পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড এবং উত্তর দিল্লির বুরাড়ি গ্রাউন্ড। যন্তর মন্তর থেকে এই স্থানগুলির দূরত্ব যথাক্রমে প্রায় ৩ কিলোমিটার, ১৩.৫ কিলোমিটার এবং ৪৪ কিলোমিটার। দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমারের স্বাক্ষরিত এই নির্দেশে ২৮ এপ্রিল, ২০২২-এর পূর্ববর্তী নির্দেশ আংশিক সংশোধন করা হয়েছে। ওই নির্দেশে যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, নতুন তিনটি স্থানে বিক্ষোভ ও জমায়েত পরিচালনার জন্য সংশোধিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) পরে প্রকাশ করা হবে। দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারের প্রকাশিত নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ‘‘কমিটির সুপারিশ মোতাবেক যন্তর মন্তর আর প্রতিবাদস্থল থাকছে না। প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ কর্মসূচি করার জন্য এ বার তিনটি স্থান নির্ধারিত হয়েছে— রামলীলা ময়দান, বুরারি মাঠ এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি মাঠ।’’ ওই তিনটি স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি করতে হলে কী ভাবে অনুমতি নিতে হবে, বা কী কী করতে হবে, তা নিয়ে শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে নির্দেশিকা (এসওপি)।’’

    শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে সরব সিজেপি

    যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া নিয়ে কক্‌রোচ জনতা পার্টি (CJP) এবং দিল্লি পুলিশের মধ্যে টানাপোড়েনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। সোমবার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে এসে সিজেপি-র নেতারা বিক্ষোভের জন্য নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার দাবি জানান। দলের বক্তব্য, তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পরিকল্পনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশকে জানিয়েছিলেন এবং পুলিশ সেই বার্তা গ্রহণও করেছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বিক্ষোভের তারিখ জানানো হয়নি। অনুমতি না দেওয়ার কারণও তাদের স্পষ্ট করে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ। সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, বিক্ষোভের তারিখ জানানোর জন্য পুলিশকে ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তর না এলে দল মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। সম্প্রতি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগও তুলেছেন দাস। তাঁর দাবি, বিক্ষোভকারীদের বাসের ভিতরে মারধর করা হয়েছে। পাশাপাশি, দলের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কথা বলতে ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ এবং অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ এড়িয়ে গিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দাসের কথায়, “ভারত সরকার নিজের নাগরিকদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ চালাচ্ছে।” তবে দল শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে বলেও তিনি জানান।

    কেন যন্তর মন্তর-এ সভা নয়

    অন্যদিকে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে INDIA জোটের সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে প্রস্তাবিত মিছিলকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজধানীতে নিরাপত্তার কড়াকড়ি এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের উপর বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী নেতারা। যদিও দিল্লি পুলিশের নির্দেশে যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের স্থান হিসেবে বাতিল করার কারণ হিসেবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গঠিত একটি কমিটির সুপারিশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তবে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সিজেপি-র দাবির বা ইন্ডি জোটের প্রস্তাবিত মিছিলের সরাসরি যোগসূত্র নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে রাজধানীতে একের পর এক প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার আবহে এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    যন্তর মন্তর বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে শুনানি

    যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ বন্ধ করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা একটি মামলার শুনানি মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, দিল্লি হাই কোর্টে হওয়ার কথা। আবেদনকারীর আইনজীবীর যুক্তি ছিল, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ বন্ধ করা হলেও বিকল্প কোনও স্থান নির্ধারণ করা হয়নি। এ ছাড়াও, ১০ ও ১১ অক্টোবর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ কর্মসূচি সংক্রান্ত পৃথক একটি মামলাও মঙ্গলবার শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে আদালত জরুরি শুনানির আবেদন গ্রহণ করেনি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিষয়টি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনাধীন এবং শীর্ষ আদালত কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে হলফনামা চেয়েছে। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং বিকল্প স্থান নির্ধারণের সিদ্ধান্তকে ঘিরে আগামী দিনে আইনি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

     

     

     

     

     

     

LinkedIn
Share